(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: -)
الهدايا للموظفين - أحكامها وكيفية التصرف فيها القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الهدايا للموظفين - أحكامها وكيفية التصرف فيها
المؤلف: عبد الرحيم بن إبراهيم بن عبد الرحمن السيد الهاشم
الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1426 هـ
عدد الصفحات: 110
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الآخرة 1436
চাকুরিজীবীদের জন্য উপহার - এর বিধান এবং তা ব্যবহারের পদ্ধতি বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: চাকুরিজীবীদের জন্য উপহার - এর বিধান এবং তা ব্যবহারের পদ্ধতি
লেখক: আবদুর রহীম বিন ইব্রাহীম বিন আবদুর রহমান আস-সাইয়্যিদ আল-হাশিম
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন، সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৬ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: -)
الْهَدَايَا للموظفين
أَحْكَامهَا وَكَيْفِيَّة التَّصَرُّف فِيهَا
কর্মকর্তাদের জন্য উপঢৌকন
এর বিধানাবলি এবং তা ব্যবহারের পদ্ধতি
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
أصل هذا الكتاببحث محكم ومنشور في مجلة البحوث الأمنية بكلية الملك فهد الأمنية بالرياض في المجلد 13 العدد 19 ذو الحجة 1425 هـ
ومن البحوث التي حصل بها المؤلف على درجة أستاذ مشارك في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
طبعة منقحة بعد نشره في المجلة المذكورة
অত্র কিতাবের উৎসএটি রিয়াদের কিং ফাহদ সিকিউরিটি কলেজের ‘নিরাপত্তা গবেষণা সাময়িকী’-তে প্রকাশিত একটি পর্যালোচিত (محكم) গবেষণা প্রবন্ধ, যা ১৩তম ভলিউম, ১৯তম সংখ্যায় জিলহজ ১৪২৫ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে।
এটি লেখকের সেই সব গবেষণার অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে তিনি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদ লাভ করেছেন।
উল্লিখিত সাময়িকীতে প্রকাশের পর এটি একটি পরিমার্জিত সংস্করণ।
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
إهداءإلى كل موظف محب لنفسه؛ فيؤمن بالله تعالى واليوم الآخر، ويعمل بأمانة في وظيفته، ويسعى بإخلاص في نفع المجتمع، فيبني خيرًا، ويزرع طيبًا، ويكسب حلالاً، ويقطف ثناءً حسنًا، ويدخر ثوابًا عظيمًا، وأذكره بهذين الحديثين الشريفين:
عن عدي بن عمير رضي الله عنه (1) قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من استعملناه على عمل، فكتمنا مخيطًا فما فوقه، كان غلولاً يأتي به يوم القيامة» قال: فقام رجل أسود من الأنصار، كأني أنظر إليه، فقال: يا رسول الله اقبل عني عملك. قال: «وما لك؟» قال: سمعتك تقول كذا وكذا، قال: «وأنا أقوله الآن: من استعملناه منكم على عمل فليجئ بقليله وكثيره، فما أوتي منه أخذ، وما نهى عنه انتهى» (2).
--------------------------------------------
উৎসর্গসেই প্রত্যেক কর্মচারীর প্রতি যে নিজের কল্যাণকামী; ফলে সে মহান আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, স্বীয় কর্মস্থলে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে এবং সমাজের উপকারে নিষ্ঠার সাথে সচেষ্ট হয়; ফলে সে কল্যাণ গড়ে তোলে, পবিত্রতা বপন করে, হালাল রিযিক উপার্জন করে, উত্তম প্রশংসা কুড়ায় এবং মহা সওয়াব সঞ্চয় করে। আমি তাকে এই দুটি বরকতময় হাদিস দ্বারা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি:
আদী ইবনে উমাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) (১) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আমরা যাকে কোনো কাজে নিযুক্ত করি, অতঃপর সে যদি আমাদের নিকট একটি সুঁই বা তার চেয়ে বেশি কিছু গোপন করে, তবে তা হবে একটি আত্মসাৎকৃত বস্তু, যা নিয়ে সে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে।» তিনি বলেন: তখন আনসারদের একজন কৃষ্ণকায় ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেলেন, আমি যেন এখনো তাঁর দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার পক্ষ থেকে আপনার (প্রদত্ত) দায়িত্বটি ফেরত নিন। তিনি বললেন: «তোমার কী হয়েছে?» তিনি বললেন: আমি আপনাকে এমন এমন বলতে শুনেছি। তিনি বললেন: «আমি এখনো তা-ই বলছি: তোমাদের মধ্যে যাকে আমরা কোনো কাজে নিযুক্ত করি, সে যেন তার অল্প ও অধিক সবটুকুই নিয়ে আসে। অতঃপর তাকে যা প্রদান করা হয় সে তা গ্রহণ করবে, আর যা থেকে তাকে নিষেধ করা হয় তা থেকে সে বিরত থাকবে।» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
وعن بريدة رضي الله عنه (1) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من استعملناه على عمل، فرزقناه رزقًا، فما أخذ بعد ذلك فهو غلول» (2).
--------------------------------------------
বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত (১), নবী (সা.) বলেছেন: «যাকে আমরা কোনো কাজে নিযুক্ত করি এবং তাকে আমরা জীবিকা (বেতন) প্রদান করি, এরপর সে যা গ্রহণ করে তা-ই আত্মসাৎ (غلول)» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمةالحمد لله الذي حمانا باجتناب الحرام من الضر والآثام، وأمرنا بالأمانة في الأعمال؛ لنعيش في بركة ووئام، والصلاة والسلام على نبينا محمد الذي رغبنا في ترك الشبهات؛ لإبراء ديننا من النقصان، وأعراضنا من البهتان، وعلى آهل وصحبه وأتباعهم، أما بعد:
فإن من الأفراد والشركات والمحلات التجارية ونحوها، من يبذل هدايا لبعض موظفي الدولة أو الشركات أو المؤسسات ونحوها، أو لنفس هذه الجهات؛ إكرامًا لإخلاص في عمل أو قضاء مصلحة، أو ترغيبًا في حسن تعامل لإنهاء مهمة، أو ترويج بضاعة.
وقد اعتنى الفقهاء رحمهم الله تعالى بأحكام الهدايا للموظفين عند كلامهم في أدب القاضي. وذكروا أن الهدايا لسائر العمال كالهدية للقاضي، إلا أن جرمه أغلظ منهم (1)؛:
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি হারাম বর্জনের মাধ্যমে আমাদের অনিষ্ট ও পাপ থেকে রক্ষা করেছেন এবং কার্যাবলিতে আমানতদারিতার আদেশ দিয়েছেন; যেন আমরা বরকত ও সম্প্রীতির মাঝে জীবন যাপন করতে পারি। দরুদ ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর, যিনি আমাদের দ্বীনকে ত্রুটি থেকে এবং আমাদের সম্মানকে অপবাদ থেকে রক্ষা করার জন্য সন্দেহপূর্ণ বিষয়সমূহ (الشبهات) বর্জনে উৎসাহিত করেছেন; এবং তাঁর পরিবার, পরিজন ও অনুসারীদের ওপর। অতপর:
ব্যক্তি, কোম্পানি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সমজাতীয় পক্ষগুলোর মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা রাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা, কোম্পানি বা সংস্থার কর্মচারী অথবা সরাসরি ওই সকল প্রতিষ্ঠানকে উপহার প্রদান করে থাকেন; এটি কর্মে নিষ্ঠার মূল্যায়ন, কোনো স্বার্থ হাসিল, কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সুসম্পর্ক তৈরি অথবা পণ্যের প্রসারের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে।
ফকিহগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) বিচারকের শিষ্টাচার সংক্রান্ত আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের উপহার গ্রহণের বিধানাবলি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, অন্যান্য সাধারণ কর্মচারীদের উপহার গ্রহণ বিচারকের উপহার গ্রহণের মতোই, তবে বিচারকের অপরাধ তাদের তুলনায় অধিকতর গুরুতর (১);:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
* قال ابن الهمام: «وكل من عمل للمسلمين عملاً، حكمه في الهدية كالقاضي» (1) وأفردها السُّبكي برسالة عنوانها: «فصل المقال في هدايا العمال» واختصرها نفسه، بعنوان: (مختصر فصل المقال في هدايا العمال) (2) وهذه المختصرة جمعت نصوصًا من الكتاب والسنة وكلامًا لأهل العلم وردت في هدايا العمال. ولم أر لغيره رسالة مفردة في ذلك، وإنما تُطرق لها تبعًا، كما فعل النابلسي (3) في كتابه: (تحقيق القضية في الفرق بين الرشوة والهدية) وعبد الله الطريقي (4) في كتابه: (جريمة الرشوة في الشريعة الإسلامية).
فلما رأيت عدم إفراد البحث بأحكام الهدايا للموظفين، والحاجة داعية لبيانها؛ لتنوع وتجدد صورها، استعنت بالله تعالى وحده في إفراد ذلك؛ تبيانًا لحكمها، وكيفية التصرف الشرعي عند بذلها، وسميته: «الهدايا للموظفين؛ أحكامها
--------------------------------------------
ইবনুল হুমাম বলেন: «যে ব্যক্তিই মুসলিমদের জন্য কোনো কাজ করবে, উপহারের (الهدية) ক্ষেত্রে তার বিধান (حكم) বিচারকের (القاضي) মতোই» (১) আর সুবকী একে একটি স্বতন্ত্র রিসালা (رسالة) হিসেবে রচনা করেছেন যার শিরোনাম: «ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল»; তিনি নিজেই এর একটি সংক্ষিপ্তসার (مختصر) তৈরি করেছেন, যার শিরোনাম: (মুখতাসার ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল) (২)। এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণটিতে (مختصر) কুরআন, সুন্নাহ এবং আলেমদের (أهل العلم) এমন অনেক উদ্ধৃতি বা দলীল (نصوص) সংকলিত হয়েছে যা কর্মচারীদের উপহারের বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়ে আমি অন্য কারো কোনো স্বতন্ত্র রিসালা (رسالة) দেখিনি, বরং অনেকে প্রাসঙ্গিকভাবে এটি আলোচনা করেছেন; যেমনটি করেছেন নাবুলসী (৩) তার গ্রন্থে: (তাহকিকুল কাজিয়াহ ফিল ফারকি বাইনার রিশওয়াতি ওয়াল হাদিয়্যাহ) এবং আবদুল্লাহ আত-তারিকী (৪) তার গ্রন্থে: (জারিমাতুর রিশওয়াহ ফিশ শরীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ)।
যখন আমি দেখলাম যে কর্মচারীদের উপহারের বিধানসমূহ (أحكام) নিয়ে স্বতন্ত্র কোনো গবেষণা নেই, অথচ বর্তমানে এর বিভিন্ন রূপ ও নতুনত্বের কারণে বিষয়টি স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে; তখন আমি এর বিধান (حكم) এবং তা প্রদানের ক্ষেত্রে শরয়ী পদ্ধতি বর্ণনা করার লক্ষ্যে স্বতন্ত্রভাবে এই বিষয়টি রচনার জন্য কেবল মহান আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করলাম। আমি এর নামকরণ করেছি: «আল-হাদায়া লিল মুওয়াযযাফীন; আহকামুহা (কর্মচারীদের জন্য উপহার; এর বিধানসমূহ)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
وكيفية التصرف فيها».
ونهجت في كتابته: ذكر التعريفات اللغوية والاصطلاحية بإيجاز، وبيان أحكام المسائل الفقهية مقرونة بأدلتها، وما اختلف فيها الفقهاء رحمهم الله تعالى ذكرت أقوالهم وأدلتها والترجيح بينها ما أمكن، وعزوت الآيات الكريمة إلى مواضعها من المصحف الشريف، وخرجت بإيجاز الأحاديث الشريفة من مصادرها الأصلية؛ فاقتصرت على اسم المصدر، ورقم الحديث فيه، فإن لم تكن أحاديثه مرقمة، اقتصرت على رقم الجزء والصفحة. وبينت ما اطلعت عليه من درجة أحاديث غير الصحيحين، واقتصرت على روايتهما فيما أخرجه معهما غيرهما، ما لم يكن في لفظه زيادة. وما أخرج منها في أكثر من مصدر، اقتصرت على واحد منها. وعزوت ذلك كله إلى مصادره الأصلية. وما لم أجده في مصادره، عزوته إلى المصدر الذي ذكره. وما لم أنسبه لأحد، فهو من كلامي ومعرض للخطأ. وترضيت كتابة على الصحابة الكرام رضي الله عنهم وللإيجاز ذكرت غيرهم بأسمائهم، وترحمت عليهم شفهيًا، وعرفت بالأعلام غير المشهورين، وهم من يندر ورود اسمه، أو يستغرب، أو يشتبه بغيره.
এবং সেগুলোর ব্যবহারের পদ্ধতি।»
এটি রচনার ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছি তা হলো: আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞাসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করা, দলিলসহ ফিকহি মাসআলাসমূহের বিধান বর্ণনা করা; আর যেসব বিষয়ে ফকিহগণ (রহিমাহুমুল্লাহু তা'আলা) মতভেদ করেছেন, সেগুলোতে তাঁদের বক্তব্য ও দলিল উল্লেখ করা এবং সম্ভবপর ক্ষেত্রে সেগুলোর মধ্যে প্রাধান্য প্রদান (الترجيح) করা। আমি কুরআনের আয়াতসমূহকে পবিত্র মুসহাফে তাদের স্ব-স্ব স্থানে নির্দেশ (عزو) করেছি এবং সংক্ষেপে মূল উৎসসমূহ হতে হাদিসগুলোর তাখরিজ (تخريج) করেছি। এক্ষেত্রে আমি মূল উৎসের নাম এবং তাতে হাদিস নম্বরের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি; আর যদি হাদিসগুলো নম্বরকৃত না থাকে, তবে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। সহিহাইন ব্যতীত অন্যান্য হাদিসের মান (درجة) সম্পর্কে আমি যা অবগত হয়েছি তা বর্ণনা করেছি। যেসব হাদিস এই দুই কিতাবের পাশাপাশি অন্যরাও বর্ণনা (إخراج) করেছেন, সেক্ষেত্রে আমি তাঁদের বর্ণনার (رواية) ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি, যদি না অন্যের শব্দে অতিরিক্ত কোনো অংশ থাকে। আর যেসব হাদিস একাধিক উৎসে বর্ণিত হয়েছে, আমি সেগুলোর মধ্য হতে একটির ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং এই সবকিছুই আমি তাদের মূল উৎসের দিকে নিসবত (عزو) করেছি। যা আমি মূল উৎসে খুঁজে পাইনি, তা যে উৎসে উল্লিখিত হয়েছে সেটির দিকেই নিসবত (عزو) করেছি। আর যা আমি কারো দিকে নিসবত (عزو) করিনি, তা আমার নিজস্ব বক্তব্য এবং তা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) নামের শেষে আমি লিখিতভাবে দুআ লিখেছি এবং সংক্ষেপ করার জন্য অন্যদের ক্ষেত্রে কেবল নাম উল্লেখ করেছি আর তাঁদের জন্য মৌখিকভাবে রহমতের দুআ করেছি। এছাড়া আমি স্বল্পপরিচিত ব্যক্তিত্বদের পরিচয় প্রদান করেছি, যাদের নাম সচরাচর পাওয়া যায় না, অথবা যা অপরিচিত (غرابة) মনে হতে পারে, কিংবা অন্য কারো সাথে সংশয় (اشتباه) তৈরি করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وجعلت البحث بعد مقدمته مشتملاً على ثلاثة فصول، وخاتمة، وفهرسين:
الفصل الأول: الهدية، والرشوة، والفرق بينهما.
الفصل الثاني: الهدية إلى الموظف، وإلى جهة عمله.
الفصل الثالث: التصرف في الهدايا للموظف.
الخاتمة: أهم النتائج والتوصيات.
الفهرسان: أحدهما للمصادر والمراجع، وثانيهما للمحتويات.
وهذا البحث قدمته للتحكيم والنشر في مجلة البحوث الأمنية بكلية الملك فهد الأمنية بالرياض؛ وتم ذلك في مجلدها 13 العدد 29 ذو الحجة 1425هـ وأفدت كثيرًا من ملاحظات المحكمين، كما قدمته للمجلس العلمي بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية؛ ضمن البحوث للحصول على درجة أستاذ مشارك، وتم تحكيمه من اللجنة المختصة، وحصولي على الدرجة المذكورة، ثم طلب الإذن من المجلة المذكورة بطباعته في كتاب مستقل، فتمت الموافقة بخطابها رقم 17/ 3/253 وتاريخ 26/ 5/1426هـ فقمت بقراءة البحث وتنقيحه؛ رجاء
আমি এই গবেষণাটিকে এর ভূমিকার পর তিনটি অধ্যায়, একটি উপসংহার (خاتمة) এবং দুটি নির্ঘণ্ট (فهرسين)-এর সমন্বয়ে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: উপহার, ঘুষ এবং এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য।
দ্বিতীয় অধ্যায়: কর্মচারী এবং তার কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত উপহার।
তৃতীয় অধ্যায়: কর্মচারীর প্রাপ্ত উপহারের ব্যবহার বা ব্যবস্থাপনা।
উপসংহার (خاتمة): প্রধান ফলাফল ও সুপারিশসমূহ।
নির্ঘণ্ট (فهرسين) দুটি: একটি মূল উৎস (مصادر) ও সহায়ক গ্রন্থসমূহের (مراجع) জন্য এবং দ্বিতীয়টি সূচিপত্রের জন্য।
এই গবেষণাটি আমি রিয়াদের কিং ফাহাদ সিকিউরিটি কলেজের 'সিকিউরিটি রিসার্চ জার্নাল'-এ মূল্যায়ন (تحكيم) ও প্রকাশের জন্য পেশ করেছিলাম; এটি উক্ত জার্নালের ১৩তম ভলিউম, ২৯তম সংখ্যায় যুল হিজ্জাহ ১৪২৫ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে। আমি মূল্যায়নকারীদের (محكمين) পর্যবেক্ষণসমূহ থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছি। একইভাবে আমি এটি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে সহযোগী অধ্যাপক পদ লাভের উদ্দেশ্যে গবেষণাসমূহের অংশ হিসেবে পেশ করেছিলাম; সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে এর মূল্যায়ন (تحكيم) সম্পন্ন হয় এবং আমি উল্লিখিত পদমর্যাদা লাভ করি। অতঃপর উক্ত জার্নাল থেকে এটিকে স্বতন্ত্র বই হিসেবে ছাপানোর অনুমতি চাওয়া হলে তাদের ১৭/৩/২৫৩ নম্বর পত্রে এবং ২৬/৫/১৪২৬ হিজরি তারিখে সম্মতি প্রদান করা হয়। এরপর আমি গবেষণাটি পুনরায় পাঠ করি এবং এর পরিমার্জন (تنقيح) সম্পন্ন করি; এই আশায় যে...
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تدارك ما يسبق به القلم من أخطاء، وتسهيل الانتفاع به أكثر، ولا يزال من جهد بشر معرض للخطأ.
وإني أتقدم بالشكر لأعضاء هيئة تحرير مجلة البحوث الأمنية، ولأعضاء المجلس العلمي بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، وللمحكمين لهذا البحث، على ما بذلوه من جهد وتوجيه، والشكر موصول لرئيس هيئة تحرير المجلة المذكورة على إذنه بطباعة هذا البحث. وأسأل الله تعالى بكل وسيلة يرتضيها، أن يتقبل هذا البحث، وأن ينفع به ويجعله من الوسيلة الطيبة إلى رضاه، وأن يغفر لي ووالدي وأهلي ومشايخي والمسلمين، وأن يوفق ولاة أمرنا وموظفينا في هذه البلاد المباركة وسائر بلاد المسلمين إلى ما فيه الخير لهم ولشعوبهم، والحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين، آمين.
কলমের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি সংশোধন করা এবং এর দ্বারা উপকৃত হওয়া অধিকতর সহজ করা; তবে এটি মানুষের প্রচেষ্টা হওয়ায় সর্বদা ভুলের সম্ভাবনা থেকে মুক্ত নয়।
আমি 'মাজাল্লাতুল বুহুস আল-আমনিয়্যাহ'-এর সম্পাদনা পরিষদের সদস্যবৃন্দকে, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দকে এবং এই গবেষণাপত্রটির পর্যালোচনাকারীদের তাদের শ্রম ও নির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে উক্ত সাময়িকীর প্রধান সম্পাদককে এই গবেষণাটি মুদ্রণের অনুমতি প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে তাঁর সন্তুষ্টির সকল পন্থায় প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই গবেষণাটি কবুল করেন, এর দ্বারা উপকারের ব্যবস্থা করেন এবং একে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি উত্তম মাধ্যম বানান। তিনি যেন আমাকে, আমার পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজন, আমার শিক্ষকগণ ও সকল মুসলিমকে ক্ষমা করেন এবং আমাদের এই বরকতময় ভূখণ্ড ও অন্যান্য সকল মুসলিম দেশের শাসকবর্গ ও কর্মকর্তাদের তাদের নিজেদের এবং তাদের জনগণের কল্যাণ সাধনের তাওফিক দান করেন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক, আমিন।
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الفصل الأولالهدية، والرشوة، والفرق بينهماالحديث عن هذا الفصل في ثلاثة فروع:
الفرع الأول: الهديةفي هذا الفرع مبحثان:
المبحث الأول: التعريف بالهديةالهدية في اللغة: تمليك المرء ماله (1) لغيره بلا عوض؛ تلطفًا (2).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ (الفصل الأول)উপহার (الهدية), ঘুষ (الرشوة) এবং এ দুয়ের মধ্যকার পার্থক্য (الفرق بينهما)এই পরিচ্ছেদের আলোচনা তিনটি শাখায় (فرع) বিন্যস্ত করা হয়েছে:
প্রথম শাখা (الفرع الأول): উপহার (الهدية)এই শাখায় দুটি অনুচ্ছেদ (مبحث) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المبحث الأول): উপহারের (الهدية) পরিচিতিআভিধানিক অর্থে উপহার (الهدية) হলো: কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রতিদান (عوض) ব্যতিরেকে সৌজন্যবশত (تلطفا) অন্যকে স্বীয় সম্পদের (مال) (১) মালিকানা প্রদান করা (تمليك) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وفي الاصطلاح: عرفت بعدة تعريفات متقاربة (1) ويجمعها هذا التعريف: «تمليك ممن له التبرع في حياته لغيره، عينًا من ماله؛ إكرامًا بلا شرط ولا عوض» (2).
شرح التعريف:
تمليك ممن له التبرع: أخرج من ليس له التبرع كالمجنون.
في حياته لغيره: أخرج الوصية، فهي: تمليك للغير من المتبرع بعد موته.
عينًا من ماله: أخرج العارية، فهي: تمليك منفعة مال لا عينه.
إكرامًا: أخرج الصدقة، فهي: عطًا على الفقير؛ لوجه الله تعالى.
بلا شرط ولا عوض: أخرج الهبة على شرط، فهي: وعدٌ. والهبة على عوض، فهي: بيع.
--------------------------------------------
পারিভাষিক অর্থে: এর বেশ কয়েকটি কাছাকাছি সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে (১), যা এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা যায়: «দান করার বৈধ অধিকারসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার জীবদ্দশায় অন্য কাউকে কোনো শর্ত বা বিনিময়ের প্রত্যাশা ছাড়াই সম্মানস্বরূপ নিজের মালিকানাধীন কোনো বস্তুগত সম্পদের মালিকানা প্রদান করা» (২)।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
দান করার অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তি কর্তৃক মালিকানা প্রদান: এর মাধ্যমে এমন ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয়েছে যার দান করার অধিকার নেই, যেমন—পাগল।
তার জীবদ্দশায় অন্য কাউকে: এর মাধ্যমে অসিয়তকে বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ তা হলো দাতার মৃত্যুর পর অন্য কাউকে মালিকানা প্রদান করা।
নিজের মালিকানাধীন কোনো বস্তুগত সম্পদ: এর মাধ্যমে আরিইয়াহ (ব্যবহার্য ঋণ) বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ তা হলো সম্পদের উপযোগের (ব্যবহারের অধিকার) মালিকানা প্রদান করা, মূল সম্পদের মালিকানা নয়।
সম্মানস্বরূপ: এর মাধ্যমে সদকাকে বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ তা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দরিদ্র ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়।
কোনো শর্ত বা বিনিময় ছাড়া: এর মাধ্যমে শর্তযুক্ত দানকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ তা হলো একটি প্রতিশ্রুতি। আর বিনিময়ের বিনিময়ে দানকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ তা হলো ক্রয়-বিক্রয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وأخرج الرشوة، فهي: بشرط عوض محرم من إبطال حق، أو إحقاق باطل.
وأخرج الغلول، وهو: الخيانة في المال: ومنها الهدية للعامل المنهي عنها (1).
المبحث الثاني: بذل الهدية وقبولها والمكافأة عليهاالهدية مندوب إلى بذلها؛ فقد أمر بها الشارع الحكيم وحث عليها (2) وإن كانت قليلة، فعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يا نساء المسلمات لا تحقرن جارة لجارتها، ولو فرسن شاة» (3).
وجاء في فضل الهدية نصوص كثيرة، منها: عن أبي هريرة
--------------------------------------------
এবং তিনি ঘুষকে বাদ দিয়েছেন; তা হলো: কোনো সত্যকে নস্যাৎ করা বা কোনো মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার শর্তে কোনো হারাম বিনিময় গ্রহণ।
এবং তিনি আত্মসাৎকে (الغلول) বাদ দিয়েছেন, আর তা হলো: সম্পদে বিশ্বাসঘাতকতা করা; এর অন্তর্ভুক্ত হলো কর্মচারীকে প্রদানকৃত সেই উপহার যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে (১)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উপহার প্রদান, গ্রহণ এবং এর প্রতিদান দানউপহার প্রদান করা মুস্তাহাব (مندوب); কেননা প্রজ্ঞাবান শরিয়ত প্রণেতা এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন (২), যদিও তা সামান্য হয়। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে মুসলিম রমণীবৃন্দ! কোনো প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীর উপঢৌকনকে তুচ্ছ জ্ঞান না করে, যদিও তা বকরির পায়ের খুর হয়» (৩)।
উপহারের ফজিলত সম্পর্কে অনেক পাঠ বা দলিল (نصوص) বর্ণিত হয়েছে, তন্মধ্যে একটি হলো: আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «تهادوا تحابوا» (1).
ودل الإجماع على استحبابها (2).
ولما يترتب عليها من الآثار والمعاني الاجتماعية الحسنة؛ فهي تئول إلى التوسعة على الآخذ، ونفي الشح عن نفس الباذل (3) وهي وسيلة للإكرام والإجلال كالهدية للوالد والعالم، وللتلطف والتودد كالهدية للزوج والقريب والصديق والجار، وللمكافأة على فعل معروف أو دفع ضر ممن لا يجبان عليه بعمل في ولاية لسلطان ونحوه (4).
وكل هذه الأمور حث عليها الإسلام، ومن مقاصده العظام، وطرقه القويمة في تأليف المجتمع الذي امتن الله سبحانه عليه بالألفة؛ في قوله تعالى: {وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, তবেই তোমাদের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে" (১)।
এবং ঐক্যমত (إجماع) এর মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে (২)।
তদুপরি উপহারের ফলে যেসব উত্তম সামাজিক প্রভাব ও তাৎপর্য পরিলক্ষিত হয়; তা মূলত গ্রহণকারীর জন্য সচ্ছলতার কারণ হয় এবং দাতার অন্তর থেকে কৃপণতা দূর করে (৩)। এটি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি মাধ্যম, যেমন পিতা ও আলেমকে উপহার প্রদান; আবার এটি হৃদ্যতা ও ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম, যেমন জীবনসঙ্গী, নিকটাত্মীয়, বন্ধু ও প্রতিবেশীকে উপহার প্রদান। এ ছাড়া এটি কোনো উত্তম কাজ বা ক্ষতি প্রতিরোধের বিনিময় হিসেবে প্রদান করা হতে পারে এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে, যার ওপর সুলতান বা রাষ্ট্রপ্রধানের অধীনে কাজ করার কারণে এটি করা আবশ্যক নয় (৪)।
আর এই সমস্ত বিষয়ের প্রতি ইসলাম উৎসাহিত করেছে এবং এগুলো ইসলামের মহান উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد) অন্তর্ভুক্ত ও সমাজকে সুসংগঠিত করার সঠিক পথ, যার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সমাজের ওপর সম্প্রীতির অনুগ্রহ দান করেছেন; আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: "আর তিনি তাদের অন্তরের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন। যদি তুমি পৃথিবীর সমস্ত সম্পদও ব্যয় করতে, তবুও তাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করতে পারতে না; কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بَيْنَهُمْ إِنَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [الأنفال: 63].
والهدية وسيلة للتآلف؛ لأنها تجلب المحبة بين المتهادين، وتؤلف بينهم إذا تنافروا (1) والمحبة بين المسلمين وعدم تنافرهم، طريقان لأمنهم وسعادتهم في الدنيا، وفوزهم بالجنة في الآخرة؛ فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تدخلون الجنة حتى تؤمنوا، ولا تؤمنوا حتى تحابوا، أو لا أدلكم على شيء إذا فعلتموه تحاببتم؟ أفشوا السلام بينكم» (2) فإذا كانت الهدية بالسلام تفعل هذا، وهي مجرد كلام، فكذا الهدية بالمال تفعل مثله أو أكثر!
وقبول الهدية فيه إدخال للسرور على باذلها؛:
* قال الخطابي: «قبول النبي صلى الله عليه وسلم الهدية، نوع من الكرم، وباب من حسن الخلق؛ يتألف به القلوب
… وكان أكل الهدية شعارًا له صلى الله عليه وسلم وأمارة من أماراته، ووصف صلى الله عليه وسلم في الكتب المتقدمة: بأنه يقبل الهدية» (3).
--------------------------------------------
...তাদের মধ্যে। নিশ্চয়ই তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [আল-আনফাল: ৬৩]।
উপহার হলো হৃদ্যতা সৃষ্টির একটি মাধ্যম; কেননা এটি উপহার আদান-প্রদানকারীদের মধ্যে ভালোবাসা বয়ে আনে এবং তাদের মধ্যে বিমুখতা দেখা দিলে তাদের ঐক্যবদ্ধ করে (১)। আর মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা এবং অনৈক্য দূর হওয়া হলো দুনিয়াতে তাদের নিরাপত্তা ও সৌভাগ্যের এবং পরকালে জান্নাত লাভের পথ। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না ঈমান আনবে, আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও» (২)। সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে যদি এই হৃদ্যতা অর্জিত হয়, যা মূলত কেবলই কিছু কথা, তবে সম্পদের উপঢৌকন বিনিময় অনুরূপ বা তার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলবে!
আর উপহার গ্রহণের মধ্যে দাতার মনে আনন্দ সঞ্চারের বিষয়টি নিহিত রয়েছে;:
* আল-খাত্তাবী বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপহার গ্রহণ করা ছিল এক প্রকার মহানুভবতা এবং সচ্চরিত্রের একটি দিক; যার মাধ্যমে তিনি মানুষের অন্তর জয় করতেন
... আর উপহার গ্রহণ করা ছিল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর অন্যতম নিদর্শনগুলোর একটি। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি উপহার গ্রহণ করবেন» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فيستحب قبولها؛ ويكره ردها؛ فعن ابن مسعود رضي الله عنه مرفوعًا: «لا تردوا الهدية» (1).
وتمتلك ويباح التصرف فيها؛ قال الله تعالى: {وَآَتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَرِيئًا} [النساء: 4].
ففي الآية دلالة على إباحة قبول الهدية؛ لأن الله تعالى أمر الزوج بأكل ما طابت به نفس امرأته مما أعطته من مهرها، ووصفه بأنه هنيئًا مريئًا (2) وهو منها لزوجها هدية. وهذان: الأمر والوصف، من أقوى الأدلة على إباحة قبول الهدية.
ويكره قبول الهدية إذا ترتب عليها ما يناقض القصد الذي شرعت له؛ لأن المقاصد في العقود معتبرة (3).
ويجب ردها إن علم أنها بذلت بغير طيب نفس؛ لما روى أنس رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يحل مال امرئ مسلم إلا
--------------------------------------------
অতএব তা গ্রহণ করা মুস্তাহাব; এবং তা ফিরিয়ে দেওয়া মাকরুহ; ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণিত: «তোমরা উপহার ফিরিয়ে দিও না» (১)।
আর এর মালিকানা অর্জিত হয় এবং এতে স্বত্বাধিকার প্রয়োগ করা বৈধ; আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহরানা সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো। অতঃপর যদি তারা খুশি মনে তার কিছু অংশ তোমাদের জন্য ছেড়ে দেয়, তবে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে ও তৃপ্তিসহকারে ভোগ করো} [আন-নিসা: ৪]।
এই আয়াতে উপহার গ্রহণের বৈধতার প্রমাণ রয়েছে; কারণ আল্লাহ তাআলা স্বামীকে তার স্ত্রীর মোহরের সেই অংশ ভক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন যা সে সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করে, এবং একে স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক ও তৃপ্তিকর (২) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা মূলত স্ত্রীর পক্ষ থেকে তার স্বামীর জন্য একটি উপহার। আর এই নির্দেশ ও বিশেষণ—উভয়টিই উপহার গ্রহণের বৈধতার ব্যাপারে অন্যতম শক্তিশালী দলিল।
তবে উপহার গ্রহণ করা মাকরুহ হবে যদি তার ফলে এমন বিষয়ের উদ্ভব ঘটে যা এটি প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হয়; কারণ চুক্তিসমূহের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যসমূহ বিবেচনাযোগ্য (৩)।
আর যদি জানা যায় যে এটি আন্তরিক সন্তুষ্টি ব্যতিরেকে প্রদান করা হয়েছে, তবে তা ফেরত দেওয়া ওয়াজিব; যেমনটি আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ (গ্রহণ করা) বৈধ নয় যতক্ষণ না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
بطيب نفسه» (1) أو كانت مما لا يحل للمهدي أخذه (2).
ويباح ردها إن كان باذلها منانًا؛ دفعًا للمنة.
وتستحب المكافأة على الهدية (3) ولو بأقل منها؛ فعن عائشة رضي الله عنها قالت: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبل الهدية، ويثيب عليها» (4) وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أهدى إليكم فكافئوه، فإن لم تجدوا ما تكافئونه، فادعوا له حتى ترون أن قد كافأتموه» (5).
والأفضل أن تكون المكافأة على الهدية بأعلى منها وإلا فبمثلها (6)؛ وصدق الله العظيم: {وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا} [النساء: 86].
--------------------------------------------
সন্তুষ্ট চিত্তে (১) অথবা যদি তা এমন কিছু হয় যা গ্রহণ করা গ্রহণকারীর জন্য বৈধ নয় (২)।
আর উপহার ফেরত দেওয়া বৈধ (مباح) যদি দাতা খোটা দানকারী হয়; এর মাধ্যমে তার অনুগ্রহ প্রদর্শন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
উপহারের প্রতিদান দেওয়া পছন্দনীয় (مستحب) (৩), এমনকি তা যদি উপহারের চেয়ে কমও হয়; আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপহার গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদান দিতেন" (৪)। ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তোমাদেরকে কোনো উপহার দেয়, তোমরা তার প্রতিদান দাও। যদি প্রতিদান দেওয়ার মতো কিছু না পাও, তবে তার জন্য দোয়া করো যতক্ষণ না তোমরা মনে করো যে তোমরা তাকে উপযুক্ত প্রতিদান দিয়েছ" (৫)।
আর উত্তম হলো উপহারের প্রতিদান হিসেবে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু দেওয়া, অন্যথায় তার সমপরিমাণ দেওয়া (৬); আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {আর যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয়, তখন তোমরাও তার চেয়ে উত্তম অভিবাদন করো অথবা তারই অনুরূপ ফিরিয়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী} [আন-নিসা: ৮৬]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفرع الثاني: الرشوةالحديث عن هذا الفرع في ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: التعريف بالرشوةالرشوة في اللغة: بكسر الراء وضمها وفتحها (1): ما يعطيه الشخص لحاكم أو غيره؛ ليحكم له، أو يحمله على ما يريد (2).
وفي الاصطلاح: عرفت بعدة تعريفات لا يخلو معظمها من نقد؛ لكونها غير جامعة أو غير مانعة (3) وأحسنها ما نسبه ابن عابدين لصاحب المصباح (4) وهو التعريف اللغوي المذكور. وعليه لا يعدو معنى الرشوة في الاصطلاح معناها اللغوي.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় শাখা: ঘুষএই শাখা সম্পর্কে আলোচনা তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ঘুষের সংজ্ঞাআভিধানিক (لغة) অর্থে ঘুষ: 'রা' বর্ণে কাসরাহ, দ্বম্মাহ অথবা ফাতহাহ যোগে (১): যা কোনো ব্যক্তি বিচারক বা অন্য কাউকে প্রদান করে; যাতে সে তার অনুকূলে রায় দেয় অথবা তাকে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের দিকে ধাবিত করে (২)।
আর পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে: এর বেশ কিছু সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে যার অধিকাংশটিই সমালোচনা মুক্ত নয়; কারণ সেগুলো ব্যাপক বা অন্তর্ভুক্তকারী (جامعة) নয় অথবা অনাবশ্যক বর্জনকারী (مانعة) নয় (৩)। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো যা ইবনে আবিদিন আল-মিসবাহ্-এর লেখকের প্রতি নিসবত করেছেন (৪), আর তা হলো উল্লিখিত আভিধানিক সংজ্ঞাটিই। সেই অনুযায়ী পরিভাষায় (اصطلاح) ঘুষের অর্থ তার আভিধানিক অর্থের ঊর্ধ্বে নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الثاني: أضرار الرشوةالرشوة من المكاسب المحرمة، والمتوعد عليها بلعنة الله تعالى، وفيها أضرار عظيمة، ومفاسد وخيمة على الفرد والمجتمع؛ فهي مما يخل بأمن المجتمع وسعادته؛ بينما الإسلام يؤكد الأخوة والأمانة بين المسلمين؛ قال الله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [الحجرات: 10].
* ومما تعنيه الأُخوة: التعاون على قضاء حاجات الإخوان بأمانة، وبدون رشوة؛ عن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يؤمن أحدكم حتى يحب لأخيه ما يحب لنفسه» (1)، والمؤمن لا يحب أن تقضى حاجته برشوة، فكيف هو لا يقضي حاجة أخيه إلا بها!
وبينما يأمر الإسلام بالعزة وعلو النفس والكرامة، وبأسباب المحبة بين المسلمين من التزاور والتواضع، ومن التعاون بالهدية والصدقة والشفاعة الحسنة وقضاء الحاجات والنصح لهم وأداء الأمانة، ويحرم عليهم القطيعة والخيانة والغش
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঘুষের অপকারিতাঘুষ হলো নিষিদ্ধ (محرمة) উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত, যার জন্য মহান আল্লাহর অভিশাপের হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে। এতে ব্যক্তি ও সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি ও ভয়াবহ অনিষ্ট নিহিত রয়েছে; এটি সমাজের নিরাপত্তা ও সুখ-শান্তি বিঘ্নিত করে। অথচ ইসলাম মুসলিমদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও আমানতদারিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; সুতরাং তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।} [সূরা আল-হুজুরাত: ১০]।
* আর ভ্রাতৃত্বের অন্যতম দাবি হলো: বিশ্বস্ততার সাথে এবং কোনো প্রকার ঘুষ ছাড়াই ভাইদের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করা। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে» (১)। আর একজন মুমিন কখনোই পছন্দ করে না যে, ঘুষের বিনিময়ে তার নিজের প্রয়োজন পূরণ করা হোক; তবে সে কীভাবে তার ভাইয়ের প্রয়োজন ঘুষ ছাড়া পূরণ করবে না!
ইসলাম যেখানে আত্মমর্যাদা, মহানুভবতা ও সম্মানের নির্দেশ দেয় এবং মুসলিমদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধির মাধ্যমসমূহ—যেমন যাতায়াত, বিনয়, উপহার বিনিময়, সদকা, উত্তম সুপারিশ, প্রয়োজন পূরণ, নসিহত প্রদান ও আমানত আদায়ের মাধ্যমে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়; সেখানে তাদের জন্য পারস্পরিক সম্পর্কচ্ছেদ, খেয়ানত ও প্রতারণাকে হারাম (يحرم) ঘোষণা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بينهم. تأتي الرشوة مناقضة لذلك، فتفسد الخلق؛ روي عن كعب (1): «الرشوة تسفه الحليم، وتعمي عين الحكيم» (2)، وتحدث في المجتمع القهر والحقد في النفوس، وتنتشر العداوة والظلم والأنانية؛:
* قال الطريقي: «والرشوة من أهم العوامل التي تنشر الفساد، وتضيع الحقوق، وتنصر الظالم على المظلوم
… ولأن أخذ الرشوة، خيانة لهذه الأمانة - أمانة الوظيفة - وفيه غش وخديعة للأمة» (3).
* وقال القرضاوي: «ولا غرابة في تحريم الإسلام للرشوة، وتشديده على كل من اشترك فيها، فإن شيوعها في مجتمع،
--------------------------------------------
তাদের মাঝে। ঘুষ এর পরিপন্থী হিসেবে আসে, ফলে তা চরিত্রকে কলুষিত করে; কাব (১) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে: «ঘুষ ধৈর্যশীলকে নির্বোধ বানিয়ে দেয় এবং প্রজ্ঞাবানের চোখ অন্ধ করে দেয়» (২), এবং এটি সমাজে নিপীড়ন ও মনের মাঝে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং শত্রুতা, অবিচার ও স্বার্থপরতা ছড়িয়ে পড়ে;
* আল-তারিকি বলেন: «ঘুষ হলো অন্যতম প্রধান উপাদান যা দুর্নীতি ছড়ায়, অধিকার নষ্ট করে এবং মজলুমের বিপক্ষে জালেমকে সাহায্য করে
… আর যেহেতু ঘুষ গ্রহণ করা এই আমানতের—চাকরির আমানতের—খেয়ানত, তাই এতে উম্মাহর সাথে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি রয়েছে» (৩)।
* আল-কারাদাভি বলেন: «ইসলামে ঘুষ নিষিদ্ধ হওয়া এবং এতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের ওপর কঠোরতা আরোপ করাতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কেননা কোনো সমাজে এর বিস্তার,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
شيوع للفساد والظلم: من حكم بغير حق، أو امتناع عن الحكم بالحق، وتقديم من يستحق التأخير، وتأخير من يستحق التقديم، وشيوع روح النفعية في المجتمع، لا روح الواجب» (1).
* والنفعية: تقديم الشخص منفعة نفسه على ما يجب عليه من نفع غيره. فيصير الموظف لا يقوم بحقوق غيره الواجبة عليه بطريق وظيفته مقابل راتبه، بل مقابل انتفاعه بما يتقاضاه منهم من رشوة أو هدية محرمة؛ فيكون كل من الموظف والباذل له قد عملا لمنفعتهما لا للمصلحة العامة، بل على حسابها! فيضران غيرهما، ويحدثان في المجتمع الأنانية التي هي من أوائل أسباب الفساد فيه.
المبحث الثالث: بذل الرشوة وقبولهاالرشوة محرم بذلها وقبولها؛ دل عليهما القرآن الكريم، والسنة المطهرة، والإجماع.
فمن القرآن الكريم: قول الله جل وعز: {وَلَا تَاكُلُوا أَمْوَالَكُمْ
--------------------------------------------
দুর্নীতি ও অবিচারের ব্যাপকতা: অন্যায়ভাবে বিচার করা, অথবা হকের ভিত্তিতে ফয়সালা করা থেকে বিরত থাকা, যাকে পেছনে রাখা আবশ্যক তাকে সামনে এগিয়ে দেওয়া এবং যাকে সামনে রাখা আবশ্যক তাকে পেছনে সরিয়ে দেওয়া, আর সমাজে উপযোগবাদী মানসিকতার বিস্তার ঘটা, কর্তব্যের চেতনার পরিবর্তে। (১)
* আর উপযোগবাদিতা হলো: কোনো ব্যক্তির অন্যের উপকারের পরিবর্তে নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। ফলে একজন কর্মকর্তা তার বেতনের বিনিময়ে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অন্যের প্রাপ্য অধিকার পূরণ করেন না, বরং তাদের কাছ থেকে ঘুষ বা নিষিদ্ধ উপহার হিসেবে যা গ্রহণ করেন তার বিনিময়ে তা করেন। এর ফলে সেই কর্মকর্তা এবং দাতা উভয়ই জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে বরং জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাজ করে! এভাবে তারা অন্যের ক্ষতি সাধন করে এবং সমাজে স্বার্থপরতা তৈরি করে, যা দুর্নীতির অন্যতম প্রাথমিক কারণ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ঘুষ প্রদান ও গ্রহণঘুষ প্রদান ও গ্রহণ করা নিষিদ্ধ (محرم); যা পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ (سنة) এবং সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) দ্বারা সাব্যস্ত।
পবিত্র কুরআন থেকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {তোমরা নিজেদের মধ্যে তোমাদের সম্পদ গ্রাস করো না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَاكُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [البقرة: 188].
ففي الآية نهي عن أكل الأموال بالباطل ولو طابت به نفس باذلة كالرشوة (1)؛:
* قال البغوي: «أي لا تعطوها الحكام على سبيل الرشوة؛ ليغيروا الحكم لكم» (2).
ومن السنة: عن ثوبان رضي الله عنه قال: «لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم الراشي، والمرتشي، والرائش» (3).
* ففيه أن: الرشوة من كبائر الذنوب؛ لأن اللعن، وهو الطرد من رحمة الله جل وعز، لا يكون إلا على كبيرة (4) وقد
--------------------------------------------
{তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের সম্পদের একাংশ জেনে-শুনে পাপের মাধ্যমে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের নিকট পেশ করো না।} [আল-বাকারাহ: ১৮৮]।
এই আয়াতে অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রাস করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, যদিও তা দাতার সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করা হয়, যেমন: ঘুষ (الرشوة) (১);:
* ইমাম বগভি বলেন: «অর্থাৎ তোমরা বিচারকদের নিকট ঘুষ (الرشوة) হিসেবে তা প্রদান করো না; যাতে তারা তোমাদের জন্য ফায়সালা পরিবর্তন করে দেয়» (২)।
সুন্নাহ হতে বর্ণিত: সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুষদাতা (الراشي), ঘুষগ্রহীতা (المرتشي) এবং তাদের মধ্যস্থতাকারীর (الرائش) উপর অভিশাপ (لعن) করেছেন» (৩)।
* এতে প্রমাণিত হয় যে: ঘুষ (الرشوة) কবিরা গুনাহের (كبائر الذنوب) অন্তর্ভুক্ত; কারণ অভিশাপ (لعن) - যা মহান আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হওয়া বুঝায় - তা কেবল কবিরা গুনাহের (كبيرة) ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
شمل هذا اللعن جميع المتعاونين على الرشوة، وهم: الراشي: معطي الرشوة. والمرتشي: آخذها. والرائش: السفير الذي يأخذ الرشوة من الراشي ويذهب بها إلى المرتشي (1).
وأجمعت الأمة على تحريم الرشوة في الجملة (2)؛ لما جاء من النصوص في النهي عنها والتحذير منها، ولما تفضي إليه من أضرار على الفرد والمجتمع، ومن الفساد في الأرض.
--------------------------------------------
এই অভিশাপ ঘুষের কাজে সংশ্লিষ্ট সকল সহযোগীকে অন্তর্ভুক্ত করে, তারা হলেন: আল-রাশি: অর্থাৎ যে ঘুষ প্রদান করে; আল-মুরতাশি: অর্থাৎ যে ঘুষ গ্রহণ করে; এবং আল-রাইশ: সেই মধ্যস্থতাকারী যে ঘুষদাতার কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করে তা ঘুষগ্রহীতার নিকট পৌঁছে দেয় (১)।
আর উম্মাহ সামগ্রিকভাবে ঘুষ হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে (২); যেহেতু এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কবাণী সম্বলিত বহু শরয়ি দলিল বর্ণিত হয়েছে এবং এটি ব্যক্তি ও সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির কারণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفرع الثالث: الفرق بين الهدية والرشوةمعرفة الفرق بين الهدية والرشوة مما يعين على بذل الهدية وتجنب الرشوة؛ فيسعد المجتمع بوجود المحبة بين أفراده، وتظهر الأمانة فيعم الأمن في المجتمع. ومما تقدم من الحديث عن الهدية والرشوة، يتبين أن بينهما فوارق كثيرة، أهمها خمسة:
الأول: الهدية: أمر بها الشارع الحكيم، ورغب فيها، وهي من المكاسب الطيبة. والرشوة: نهى عنها الشارع الحكيم، وحذر منها، وهي من المكاسب الخبيثة.
الثاني: الهدية: لا شرط في بذلها. والرشوة: مشروطة بعوض غير شرعي، إما لفظًا وإما معنى. وعوضها إما عمل منهي عنه، أو أداء واجب متعين (1).
الثالث: الهدية: تبذل في حق كتودد وتلطف لنحو قريب أو جار أو صديق. أو تعطي إكرامًا لمن أسدى معروفًا متبرعًا به
--------------------------------------------
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: উপহার এবং ঘুষের মধ্যে পার্থক্যউপহার এবং ঘুষের মধ্যে পার্থক্য জানা উপহার প্রদানে সহায়তা করে এবং ঘুষ পরিহার করতে সাহায্য করে; ফলে সমাজের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা বিদ্যমান থাকার মাধ্যমে সমাজ সুখী হয় এবং আমানতদারিতা প্রকাশ পায়, ফলে সমাজে নিরাপত্তা ছড়িয়ে পড়ে। উপহার ও ঘুষ সম্পর্কে পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, উভয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান পাঁচটি হলো:
প্রথমত: উপহার: প্রজ্ঞাময় শরিয়ত প্রণেতা এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং এতে উৎসাহিত করেছেন, আর এটি উত্তম উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত। ঘুষ: প্রজ্ঞাময় শরিয়ত প্রণেতা এটি নিষেধ করেছেন এবং এ থেকে সতর্ক করেছেন, আর এটি নিকৃষ্ট উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়ত: উপহার: এটি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত থাকে না। ঘুষ: এটি কোনো শরয়ি পরিপন্থী বিনিময়ের সাথে শর্তযুক্ত থাকে, তা মৌখিকভাবে হোক বা অর্থগতভাবে। আর এর বিনিময় হয় কোনো নিষিদ্ধ কাজ অথবা কোনো অবধারিত দায়িত্ব পালন (১)।
তৃতীয়ত: উপহার: এটি কোনো হকের ক্ষেত্রে প্রদান করা হয়, যেমন আত্মীয়, প্রতিবেশী বা বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও সৌজন্য প্রকাশ স্বরূপ। অথবা এমন ব্যক্তিকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য দেওয়া হয় যিনি স্বেচ্ছায় কোনো উপকার করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ليس واجبًا عليه بوظيفة لدولة أو فرد. والرشوة: تبذل للتقرب والاستعطاف في الباطل؛:
* قال البغوي: «فيعطي الراشي؛ لينال باطلاً، أو ليمنع حقًا يلزمه. ويأخذ الآخذ على أداء حق يلزمه، فلا يؤديه إلا برشوة يأخذها، أو على باطل يجب عليه تركه، ولا يتركه إلا بها» (1) وذلك كدفع مال لموظف مسئول عن التوظيف؛ ليقدم توظيف الدافع على غيره المستحق للوظيفة؛ بتميزه أو تقدم زمن طلبه. أو تبذل جزاء عمل واجب؛ بوظيفة لدولة أو فرد كدفع مال إلى عامل أو موظف؛ عوضًا عن قيامه بمهمة واجبة عليه بجهة وظيفته (2).
الرابع: الهدية: ظاهرة معلنة، ومبنية على الجود والكرم والسماحة وطيب نفس، ويمدح باذلها وآخذها، فيبارك فيها. والرشوة مخفاة، ومبنية على المشاحّة والمنَّة، وغالبًا على عدم طيب نفس، ويعاب باذلها وآخذها، فتمحق بركتها (3).
--------------------------------------------
এটি রাষ্ট্র বা কোনো ব্যক্তির অধীনে থাকা কোনো পদের আবশ্যিক দায়িত্ব নয়। আর ঘুষ (رشوة): যা অন্যায়ভাবে নৈকট্য লাভ ও কৃপা পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়;
* আল-বাগাউই বলেন: «ঘুষদাতা (الراشي) অর্থ প্রদান করে যাতে সে কোনো বাতিল (باطل) বা অন্যায় অর্জন করতে পারে, অথবা তার ওপর অর্পিত কোনো হক বা অধিকার রোধ করতে পারে। আর গ্রহণকারী তা গ্রহণ করে এমন কোনো হক আদায়ের বিনিময়ে যা আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব (واجب), কিন্তু সে ঘুষ গ্রহণ করা ছাড়া তা আদায় করে না; অথবা এমন কোনো বাতিলের (باطل) বিনিময়ে যা বর্জন করা তার জন্য আবশ্যক, কিন্তু সে ঘুষ গ্রহণ করা ছাড়া তা বর্জন করে না» (১)। আর এটি এমন, যেমন—নিয়োগের দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তাকে অর্থ প্রদান করা; যাতে সে অর্থপ্রদানকারীকে অন্য এমন ব্যক্তির ওপর অগ্রাধিকার দেয় যে তার মেধা বা আবেদনের অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে ওই পদের জন্য অধিক যোগ্য। অথবা এটি কোনো ওয়াজিব (واجب) কাজের বিনিময় হিসেবে প্রদান করা; যা রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত কোনো পদের দায়িত্ব, যেমন—কোনো শ্রমিক বা কর্মচারীকে এমন কাজের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা যা তার পেশাগত দায়িত্বের কারণে সম্পাদন করা তার ওপর ওয়াজিব (واجب) (২)।
চতুর্থত: উপহার (هدية): এটি একটি প্রকাশ্য বিষয়, যা বদান্যতা, মহানুভবতা, উদারতা ও স্বতঃস্ফূর্ত মনের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়। এর দাতা ও গ্রহীতা প্রশংসিত হয় এবং এতে বরকত প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, ঘুষ (رشوة) হলো গোপনীয় বিষয়, যা কৃপণতা ও উপকারের খোঁটা দেওয়ার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা স্বতঃস্ফূর্ত মনের বহিঃপ্রকাশ নয়। এর দাতা ও গ্রহীতা নিন্দিত হয় এবং এর বরকত বা কল্যাণ মিটে যায় (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الخامس: بذلك الرشوة أو اشتراطها يسبق العمل، والهدية تكون بعده (1).
--------------------------------------------
পঞ্চম: এক্ষেত্রে ঘুষ প্রদান বা এর শর্তারোপ কাজের পূর্বে হয়ে থাকে, আর উপহার প্রদান করা হয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الفصل الثانيالهدية إلى الموظف، وإلى جهة عملهالكلام عن هذا الفصل، في ثلاثة فروع:
الفرع الأول: التعريف بالموظفالموظف في اللغة: مشتق من وظّف توظيفًا وظيفة وموظفًا، والتوظيف: تعيين الوظيفة. وهي ما يُقدر للإنسان من عمل، أو رزق، أو طعام. والجمع وظائف. وتأتي بمعنى العهد والشرط، وبمعنى المنصب والخدمة المعينة. وهذا المعنى مولّد (1).
وفي الاصطلاح: عرف عند الفقهاء، وعند الإداريين:
فعند الفقهاء: الموظف: اسم لكل عمل من أعمال الدولة
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদকর্মচারী এবং তার কর্মস্থলকে প্রদত্ত উপঢৌকনএই পরিচ্ছেদের আলোচনা তিনটি শাখায় বিভক্ত:
প্রথম শাখা: কর্মচারীর পরিচয়শাব্দিক অর্থে কর্মচারী (মুয়াযযাফ): এটি ওয়াজ্জাফা, তাওযীফ, ওয়াযীফাহ এবং মুয়াযযাফ শব্দ থেকে উদ্ভূত। তাওযীফ অর্থ হলো কর্ম নির্ধারণ করা। মানুষের জন্য যে কাজ, জীবিকা বা খাদ্য বরাদ্দ করা হয় তাকে ওয়াযীফাহ বলা হয়। এর বহুবচন হলো ওয়াযাইফ। এটি অঙ্গীকার ও শর্তের অর্থে এবং নির্দিষ্ট পদ ও সেবার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আর এই অর্থটি পরবর্তীকালে উদ্ভাবিত হয়েছে (১)।
পরিভাষায়: এটি ফকীহ এবং প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের নিকট সংজ্ঞায়িত হয়েছে:
ফকীহগণের নিকট: কর্মচারী হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিটি কাজের জন্য একটি সাধারণ নাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
في الحكم أو الأمن أو المال. سواء أقدر العمل بزمن كشهر، أم عمل كصدقة هذه السنة، أم مطلقًا كحماية مكة (1)؛:
قال ابن تيمية: «ومثل صاحب الديوان: الذي وظيفته أن يكتب المستخرج والمصروف، والنقيب والعريف: الذي وظيفته إخبار ذي الأمر بالأحوال» (2).
والقائم بذلك يسمى في الجملة: عاملاً، وواليًا (3) وفي هذه العصر يسمى موظفًا.
والعامل معناه في اللغة: من يتولى أمور الرجل في ماله، وملكه، وعمله (4).
ومعناه في اصطلاح الفقهاء: من يتعاطى أمرًا يتعلق
--------------------------------------------
বিচারকার্য, নিরাপত্তা অথবা অর্থ সংক্রান্ত। কাজের পরিধি সময় দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে যেমন এক মাস, অথবা কাজের ধরন দ্বারা যেমন এই বছরের সদকা আদায় করা, কিংবা কোনো শর্তহীন কাজ যেমন মক্কা রক্ষা করা (১);
ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: «এবং সাহেবুদ দিওয়ানের (দপ্তরের কর্মকর্তা) ন্যায়: যার কাজ হলো আয় ও ব্যয়ের হিসাব লিপিবদ্ধ করা, এবং নাকীব ও আরিফের (তত্ত্বাবধায়ক) মতো: যাদের কাজ হলো বিষয়াবলি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা» (২)।
আর এই দায়িত্ব সম্পাদনকারীকে সাধারণভাবে ‘আমেল’ (কর্মকর্তা) এবং ‘ওয়ালী’ (প্রশাসক) (৩) বলা হয়; আর বর্তমান যুগে তাকে ‘মুওয়াজ্জাফ’ (কর্মচারী) বলা হয়।
অভিধান অনুযায়ী ‘আমেল’ শব্দের অর্থ হলো: যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তির সম্পদ, মালিকানা এবং কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করে (৪)।
আর ফকীহগণের (ইসলামী আইনজ্ঞ) পরিভাষায় এর অর্থ হলো: এমন ব্যক্তি যে কোনো বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بالمسلمين في أعمال الدولة (1).
لكن هذا التعريف غير جامع؛ لأنه لا يشمل العامل الذي يعمل لدى غير الدولة من الشركات والمؤسسات والأفراد ونحوها.
والموظف عند الإداريين: «من يقدم طاقة عمل نظير أجر» (2).
وهذا التعريف غير مانع؛ لدخول من يعمل بأجرة لدى عدة جهات كالمقاولين، وأصحاب الورش ونحوهم، وهؤلاء لا يطلق عليهم موظفون.
ويمكن التعريف بالموظف: «من يختص عمله بغيره من دولة أو شركة أو مؤسسة أو فرد، في محل تجاري أو مزرعة أو مصنع أو ورشة ونحوها» (3).
--------------------------------------------
রাষ্ট্রীয় কাজে মুসলিমদের জন্য (১)।
তবে এই সংজ্ঞাটি সর্বব্যাপী (جامع) নয়; কারণ এটি রাষ্ট্র ব্যতীত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেমন কোম্পানি, সংস্থা, ব্যক্তি এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করে না।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে কর্মচারী হলেন: «যিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রম প্রদান করেন» (২)।
আর এই সংজ্ঞাটি ব্যাবর্তক (مانع) নয়; কারণ এতে এমন ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যারা বিভিন্ন পক্ষের অধীনে মজুরিতে কাজ করে, যেমন ঠিকাদার, ওয়ার্কশপের মালিক এবং তাদের সদৃশ ব্যক্তিরা, অথচ তাদের কর্মচারী বলা হয় না।
কর্মচারীর সংজ্ঞা এভাবেও দেওয়া যেতে পারে: «যার কাজ রাষ্ট্র, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তির ন্যায় অন্যের জন্য নির্দিষ্ট, কোনো বাণিজ্যিক দোকান, খামার, কারখানা বা ওয়ার্কশপ ইত্যাদিতে» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদায়া লিল মুওয়াজ্জাফিন - আহকামুহা ওয়া কাইফিয়্যাতুত তাসাররুফি ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وهذا التعريف بالموظف موافق للتعريف اللغوي له، لكن اللغوي جعله للعمل؛ وهنا أريد به القائم بالعمل. وهو بهذا موافق أيضًا للتعريف اللغوي للعامل.
فشمل هذا التعريف جميع من يعمل لدى تلك الجهات من الموظفين على اختلاط طبقاتهم، وتنوع أعمالهم. وإن كان كل قائم بعمل من أعمال الدولة وغيرها يختص باسم، فيقال: والي القضاء وعامل الزكاة وحامي البلد (1) ومشايخ البلدان والقرى والأسواق والحرف ومباشرو الأوقاف (2) ومنهم المحاسبون والأطباء والمدرسون والمهندسون والكتاب والعمال ورجال الأمن (3).
وخرج بذلك من يعمل لصالح نفسه؛ فإنه لا يُسمى منظفًا، بل صاحب عمل حر، كالمقاولين ومالكي المستشفيات والشركات والمؤسسات والورش ونحوهم.
والحديث في هذا الفصل عن الهدية للموظف لا لصاحب
--------------------------------------------
চাকুরিজীবীর এই সংজ্ঞাটি এর আভিধানিক সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; তবে আভিধানিক সংজ্ঞায় একে কাজের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, আর এখানে এর দ্বারা কাজ সম্পাদনকারীকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। আর এটি এই দিক থেকে শ্রমিকের আভিধানিক সংজ্ঞার সাথেও সংগতিপূর্ণ।
এই সংজ্ঞাটি ওই সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের এবং বৈচিত্র্যময় পেশার সকল চাকুরিজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করে। যদিও রাষ্ট্রীয় বা অন্যান্য কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিই স্বতন্ত্র নামে পরিচিত হন, যেমন বলা হয়ে থাকে: বিচারিক প্রশাসক, জাকাত কর্মকর্তা, দেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারী (১), বিভিন্ন জনপদ, গ্রাম, বাজার ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রধানগণ এবং ওয়াকফ সম্পত্তির পরিচালকবৃন্দ (২); এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন হিসাবরক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী, লেখক, শ্রমিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ (৩)।
এর মাধ্যমে যারা নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করেন তারা বহির্ভূত হবেন; কারণ তাদেরকে চাকুরিজীবী বলা হয় না, বরং তারা স্বাধীন পেশাজীবী হিসেবে গণ্য, যেমন: ঠিকাদার এবং হাসপাতাল, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, কর্মশালা ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ।
আর এই পরিচ্ছেদের আলোচনা চাকুরিজীবীর প্রতি উপহার প্রদান সম্পর্কে, কোনো মালিকের প্রতি নয়...
--------------------------------------------