(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: -)
المختصر في أحكام السفر   (فهد بن يحيى العماري)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: المختصر في أحكام السفر

المؤلف: فهد بن يحيى العماري

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1429 هـ

عدد الصفحات: 151

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الآخرة 1436

আল-মুকতাসার ফি আহকামিস সাফার (সফর বা ভ্রমণের বিধানাবলির সংক্ষিপ্তসার)   (ফাহাদ বিন ইয়াহইয়া আল-আম্মারি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


কিতাব: আল-মুকতাসার ফি আহকামিস সাফার

লেখক: ফাহাদ বিন ইয়াহইয়া আল-আম্মারি

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনী এবং বিতরণ, সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫১

[কিতাবটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة البحوث العلمية المحكمة (30)

 

الْمُخْتَصر فِي أَحْكَام السّفر

 

تأليف

فَهد بن يحيى العماري

القَاضِي بالمحكمة الْعَامَّة بجدة

 

دَار ابْن الْجَوْزِيّ
পর্যালোচনা ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষণামালা (৩০)

 

সফরের বিধানাবলির সংক্ষিপ্তসার

 

রচনায়

ফাহাদ বিন ইয়াহইয়া আল-আম্মারি

জেদ্দার সাধারণ আদালতের বিচারক

 

দার ইবনুল জাওজি
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، أما بعد:

فالإنسان بطبعه يحب الترحال والانتقال من مكان إلى مكان ومن حال إلى حال بل أصبح ذلك عند الكثير متعة وراحة وأنسا فتجده كل شهر في بلد وكل صيف على أرض، طلبا لمرغوب كعبادة أو حج أو علم أو دعوة أو رزق أو سياحة أو صيد أو حاجة، أو فرارا من مرهوب كمرض أو قتال أو خوف فتنة من ظلم أو طغيان، وحري بالجميع أن يكونوا على علم وبصيرة ودراية بأحكام عبادتهم في ظعنهم وإقامتهم وحلهم وترحالهم.

ومما يفرح القلب ويثلج الصدر ما يشاهد من حرص الكثير على السؤال عما يشكل عبر الدرس واللقاء ووسائل الاتصال، بحثا عن الحلال والحرام والواجب والمندوب، ليفعل أو يترك في جميع المجالات من جميع الفئات، وهذا كله جاء بعد فضل الله نتيجة لدور العلماء والدعاة والمربين وأثرهم على الناس. بل نرى إحياء السنن قولا وفعلا ونشر العلم في شباب الأمة وشيبها ونسائها ظاهرا بعد غياب بعضها أو ضعفها وإقبالهم على دين الله سؤالا وتعلما فلك اللهم الحمد والمنة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার পর আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:

মানুষ স্বভাবগতভাবেই ভ্রমণ এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ও এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় স্থানান্তরিত হওয়া পছন্দ করে। বরং অনেকের কাছে এটি আনন্দ, আরাম ও সখ্যতার বিষয়ে পরিণত হয়েছে; ফলে আপনি তাকে প্রতি মাসে কোনো এক দেশে এবং প্রতি গ্রীষ্মে কোনো এক ভূখণ্ডে পাবেন। এটি কোনো কাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জনের জন্য হতে পারে—যেমন ইবাদত, হজ, জ্ঞান অন্বেষণ, দাওয়াত, জীবিকা নির্বাহ, পর্যটন, শিকার বা অন্য কোনো প্রয়োজন; অথবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় থেকে পলায়নের জন্য হতে পারে—যেমন রোগব্যাধি, যুদ্ধ অথবা জুলুম ও স্বৈরাচারজনিত ফিতনার ভয়। তাই প্রত্যেকের জন্যই সঙ্গত হলো তাদের যাত্রা, অবস্থান এবং ভ্রমণের সকল অবস্থায় ইবাদত সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সচেতনতা থাকা।

যা হৃদয়কে আনন্দিত এবং প্রশান্ত করে তা হলো পাঠদান, মজলিস ও যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে অস্পষ্ট বিষয়াবলি সম্পর্কে জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে অনেকের গভীর আগ্রহ প্রত্যক্ষ করা। তারা হালাল, হারাম, ওয়াজিব এবং পছন্দনীয় বিষয়সমূহ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে, যেন সকল স্তরের মানুষ সকল ক্ষেত্রে তা পালন করতে পারে অথবা বর্জন করতে পারে। আর এই সব কিছুই আল্লাহর অনুগ্রহের পর আলেম, দাঈ ও মুরব্বীদের ভূমিকা এবং মানুষের ওপর তাদের প্রভাবের ফলশ্রুতিতে অর্জিত হয়েছে। বরং আমরা উম্মতের যুবক, বৃদ্ধ ও নারীদের মাঝে সুন্নাহর কথা ও কাজের পুনর্জাগরণ এবং ইলমের প্রচার-প্রসার স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, যা এক সময় অনুপস্থিত বা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আল্লাহর দীনের দিকে জিজ্ঞাসা ও শিক্ষার মাধ্যমে তাদের এই যে মনোনিবেশ—হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা কেবল তোমারই জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ৬)
ومما لا شك فيه أن في إجابتهم تجنيبًا للسائل عن الوقوع في الزلل والخلل وعبادة الله وفق شرع الله.

وفي إجابتهم كشف لكربة السائلين وتفريج لهمهم وقضاء لحوائجهم ونيل للأجر وبذل للمعروف وكل ذلك صدقة.

ومما لا شك فيه أن في إجابتهم وتعليمهم عونًا للمفتي وطالب العلم على البحث والجمع والتأليف ومراجعة العلم ومدارسته مع العلماء وتزكيته وتبليغه.

ولقد شاهدت من يلقي بنفسه على العالم فيقبل رأسه ويده بحرارة بعد جوابه له وتفريج همه عنه.

لقد شاهدت من يبكي فرحا بعد جواب العالم له وكأنما ولد من جديد.

لقد شاهدت من يحتضن زوجته ويقبلها عند العالم وقد فقد شعوره لأنه أفتي بعدم وقوع الطلاق.

لقد رأيت من أهدى أحد طلبة العلم سيارة فاخرة لأنه دخل صلحًا في مشكلة له.

لقد رأيت من أصبح بارًا وفيًا لعالم وداعية لأنه كان سببًا في هدايته واستقامته وطلبه العلم.

لقد رأيت أسرًا متهاجرة وقبائل متقاطعة جمع الله شملها بسبب عالم وداعية.

لقد رأينا شرورًا دفنت ومنكرات رفعت وخيرات وقعت بسبب العلماء والدعاة بعد الله.
নিঃসন্দেহে তাঁদের (আলেমদের) উত্তর প্রদানের মধ্যে প্রশ্নকারীকে পদস্খলন ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করার এবং আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী তাঁর ইবাদত করার পথনির্দেশনা নিহিত রয়েছে।

আর তাঁদের উত্তর প্রদানের মধ্যে রয়েছে প্রশ্নকারীদের বিপদ থেকে মুক্তি, দুশ্চিন্তা লাঘব, প্রয়োজন পূরণ, সওয়াব অর্জন এবং কল্যাণ প্রচারের সুযোগ; আর এ সব কিছুই সদকা হিসেবে গণ্য।

নিঃসন্দেহে তাঁদের উত্তর প্রদান ও শিক্ষাদানের মধ্যে মুফতি এবং ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) জন্য গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ, রচনা, ইলম পর্যালোচনা ও আলেমদের সাথে পঠন-পাঠন এবং এই ইলমের পরিশুদ্ধি ও প্রচারের ক্ষেত্রে এক মহান সহযোগিতা রয়েছে।

আমি এমন অনেককে দেখেছি যারা আলেমের উত্তর পাওয়ার পর এবং দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়ে আবেগের আতিশয্যে আলেমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর মাথা ও হাতে পরম মমতায় চুমু খেয়েছেন।

আমি এমন ব্যক্তিকেও দেখেছি যিনি আলেমের ফতোয়া পাওয়ার পর আনন্দে কেঁদে ফেলেছেন, যেন তিনি নতুনভাবে জন্ম গ্রহণ করেছেন।

আমি এমন ব্যক্তিকেও দেখেছি যিনি আলেমের সামনেই তাঁর স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছেন এবং আত্মহারা হয়ে পড়েছেন, কারণ তাকে ফতোয়া দেওয়া হয়েছিল যে তার তালাক কার্যকর (وقوع) হয়নি।

আমি এমন ব্যক্তিকেও দেখেছি যিনি একজন ইলম অন্বেষণকারীকে (طالب العلم) একটি বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছেন, কারণ তিনি তাঁর একটি সমস্যার আপোস-নিষ্পত্তিতে (صلح) ভূমিকা রেখেছিলেন।

আমি এমন ব্যক্তিকেও দেখেছি যিনি কোনো আলেম বা দাঈর প্রতি অত্যন্ত অনুগত ও বিশ্বস্ত হয়ে গেছেন, কারণ সেই আলেম তাঁর হেদায়েত, অবিচলতা এবং ইলম অন্বেষণের (طلبه العلم) মাধ্যম ছিলেন।

আমি এমন অনেক বিচ্ছিন্ন পরিবার ও পরস্পর সম্পর্কহীন গোত্র দেখেছি যাদের আল্লাহ তাআলা একজন আলেম বা দাঈর মাধ্যমে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছেন।

আমরা দেখেছি যে, আল্লাহর অনুগ্রহে আলেম ও দাঈদের বদৌলতে বহু অকল্যাণ অপসারিত হয়েছে, গর্হিত কাজ (منكرات) দূরীভূত হয়েছে এবং প্রভূত কল্যাণ সাধিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ৭)
لقد رأينا أصحاب انحراف ومخدرات وضياع وقلق واضطراب كانت هدايتهم بسبب العلماء والدعاة بعد الله.

لقد رأينا من حكم عليهم بالقتل، فكان العلماء سببا في رفع القتل عنهم بإقناع الورثة بالتنازل عنهم.

لقد رأينا وسمعنا كيف يلهج الناس للعلماء ومن أفتاهم بالدعوات، وعظيم الجلال، والتقدير لهم.

لقد رأينا وشاهدنا رحمة العلماء والدعاة بالمستفتين، وكان محمد صلى الله عليه وسلم أعظمهم رحمة بالمستفتين وشفقة بالسائلين قال الله: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107].

لقد رأيت ورأيتم الكثير والكثير مما لا يسع المقام ذكره.

وهكذا العلماء والدعاة؛ هم ورثة الأنبياء، هم مصابيح الدجى وشموس الهدى، فلهم منا البر والوفاء والثناء والدعاء والتأدب معهم والذب عنهم وعدم الوقوع فيهم وعدم الفري في أعراضهم وعدم اتهامهم بما هم منه براء، كبراءة الذئب من دم يوسف عليه السلام، فلا ندع لحاقد وحاسد وعدو وكافر مجالا للمزهم وهمزهم وإسقاطهم والتشكيك في دعوتهم وآرائهم وعلمهم وعدم مشورتهم، ولنعلم أن العصمة من الله للأنبياء عليهم السلام، والعلماء بشر يعتريهم ما يعتري البشر من الخطأ والزلل، فاللهم احفظ العلماء وثبتهم على الحق وأيدهم واغفر لميتهم إنك سميع الدعاء.

قال ابن حجر: لا يزال الناس بخير ما كان فيهم أهل
আমরা পথভ্রষ্ট, মাদকাসক্ত, লক্ষ্যহীন এবং অস্থিরতা ও উদ্বেগে নিমজ্জিত এমন অনেককেই দেখেছি, যাদের হিদায়াতের কারণ আল্লাহ তাআলার পরে আলেম এবং দাঈগণই ছিলেন।

আমরা এমন ব্যক্তিদের দেখেছি যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আলেমগণ ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারীদের) ক্ষমার ব্যাপারে রাজী করিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করানোর কারণ হয়েছেন।

আমরা দেখেছি এবং শুনেছি যে, মানুষ কীভাবে আলেমদের প্রতি এবং যারা তাদের ফতোয়া দিয়েছেন তাদের জন্য দোয়ায় মগ্ন থাকে এবং তাদের প্রতি অত্যন্ত মহিমা ও উচ্চ শ্রদ্ধা পোষণ করে।

আমরা ফতোয়া যাচনাকারীদের প্রতি আলেম ও দাঈদের করুণা ও মমতা প্রত্যক্ষ করেছি। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন ফতোয়া যাচনাকারী ও প্রশ্নকারীদের প্রতি রহমত ও মমতার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তো আপনাকে কেবল বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।" [আল-আম্বিয়া: ১০৭]

আমি এবং আপনারা আরও অনেক কিছু দেখেছি যা এখানে বিস্তারিত বর্ণনা করার অবকাশ নেই।

আর এভাবেই আলেম ও দাঈগণ হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী। তাঁরা অন্ধকারের প্রদীপ এবং হিদায়াতের সূর্য। অতএব তাঁদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব হলো সদাচরণ, আনুগত্য, প্রশংসা, দোয়া, তাঁদের প্রতি শিষ্টাচার বজায় রাখা, তাঁদের পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করা, তাঁদের দোষচর্চায় লিপ্ত না হওয়া, তাঁদের সম্মানহানি না করা এবং তাঁদেরকে এমন সব বিষয়ে অভিযুক্ত না করা যা থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ মুক্ত—যেমন ইউসুফ আলাইহিস সালামের রক্ত থেকে নেকড়ে বাঘ মুক্ত ছিল। সুতরাং কোনো হিংসুক, বিদ্বেষী, শত্রু বা কাফেরকে তাঁদের প্রতি কটাক্ষ করা, বিদ্রূপ করা, তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা, তাঁদের দাওয়াত, মতামত ও ইলম নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করা এবং তাঁদের থেকে পরামর্শ গ্রহণ বর্জন করার কোনো সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। আর আমাদের জানা উচিত যে, নিষ্কলুষতা (عصمة) কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) জন্য নির্ধারিত। আলেমগণ মানুষ, মানুষের ন্যায় তাঁদেরও ভুল-ভ্রান্তি হওয়া স্বাভাবিক। হে আল্লাহ! আপনি আলেমদের রক্ষা করুন, তাঁদের হকের ওপর অটল রাখুন, তাঁদের সাহায্য করুন এবং তাঁদের মৃতদের ক্ষমা করে দিন; নিশ্চয়ই আপনি দোয়া শ্রবণকারী।

ইবনে হাজার বলেছেন: মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ তাদের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিগণ...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ৮)
فضل وصلاح وخوف من الله نلجأ إليهم عند الشدائد ويستهدى بآرائهم ويتوسل إلى الله بدعائهم ويؤخذ بتقويمهم وآرائهم (1).

وعلى السائل والمستفتي ألا يتتبع الرخص، فيسأل العلماء مرارا في المسألة الواحدة، ليختار ما يحلو له وتهواه نفسه، واتفق الفقهاء على أن من تتبع رخص العلماء فقد تزندق، وقيل: إن أخذت برخصة كل عالم اجتمع فيك الشر كله. وقد نقل ابن عبد البر إجماع العلماء على عدم جواز تتبع الرخص، ويعتبر فاسقا عند الإمام أحمد. وقد يسأل المستفتي من ظاهره الاستقامة وهو لا يعرفه أو لا يعرف أنه من طلبة العلم، فيتساهل في ذلك كله ويظن بهذا أن ذمته قد برئت، ولو مرض في بدنه لذهب إلى أفضل المستشفيات وأحسن الأطباء والله المستعان.

ما أشد تساهل الناس في أمر دينهم وأشدهم في أمر دنياهم؟!

ما أرخص دين الله في قلوب كثير من الناس.

وعلى السائل أن يختار الأوقات المناسبة للاتصال للاستفتاء إلا إذا كان الأمر ضرورة؛ لأنه وللأسف البعض يتصل بعد منتصف الليل أو قريبا منه أو وقت القيلولة لغير ضرورة.

وعلى العالم وطالب العلم ألا يعوقه ذلك التجاوز، وألا يضجر من السؤال وكثرة السائلين وجفائهم فإن على من منَّ الله

--------------------------------------------

(1) الفتح 13/ 16.
মর্যাদা, সততা এবং আল্লাহর ভয়; বিপদের সময় আমরা তাঁদের শরণাপন্ন হই, তাঁদের মতামতের মাধ্যমে সঠিক পথ খুঁজি, তাঁদের দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ওসিলা কামনা করি এবং তাঁদের মূল্যায়ন ও অভিমত গ্রহণ করা হয় (১)।

প্রশ্নকারী এবং ফতোয়া অন্বেষণকারীর উচিত নয় সহজ সুযোগ বা ছাড় (رخص) খুঁজে বেড়ানো। সে যেন একই বিষয়ে বারবার আলেমদের জিজ্ঞাসা না করে যাতে নিজের খেয়ালখুশি বা প্রবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী কোনো একটি বেছে নিতে পারে। ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি আলেমদের সহজ সুযোগ বা ছাড় (رخص) খুঁজে বেড়ায়, সে ধর্মদ্রোহী (تزندق) হয়ে যায়। বলা হয়েছে: যদি আপনি প্রতিটি আলেমের সহজ ছাড়গুলো (رخص) গ্রহণ করেন, তবে আপনার মধ্যে সকল মন্দের সমাবেশ ঘটবে। ইবনে আবদিল বার সহজ সুযোগ বা ছাড় (رخص) অন্বেষণ করার অবৈধতার বিষয়ে আলেমদের ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমাদের নিকট সে পাপাচারী (فاسق) হিসেবে গণ্য হয়। কখনও কখনও ফতোয়া অন্বেষণকারী এমন কাউকে প্রশ্ন করে যার বাহ্যিক বেশভূষা সঠিক দেখায়, অথচ সে তাকে চেনে না অথবা জানে না যে সে আদৌ ইলম অন্বেষণকারী (طالب العلم) কি না। সে এই সব বিষয়ে শিথিলতা করে এবং মনে করে যে তার জিম্মাদারি বা দায়িত্ব পালন হয়ে গেছে। অথচ সে যদি শারীরিকভাবে অসুস্থ হতো, তবে সে শ্রেষ্ঠ হাসপাতাল ও সর্বোত্তম চিকিৎসকের কাছে যেত। আল্লাহই সাহায্যকারী।

মানুষের দ্বীনি বিষয়ে তাদের শিথিলতা কতই না প্রকট, অথচ দুনিয়াবি বিষয়ে তারা কতই না যত্নশীল?!

অনেক মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর দ্বীন কতই না সস্তা।

প্রশ্নকারীর উচিত ফতোয়া চাওয়ার জন্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে উপযুক্ত সময় বেছে নেওয়া, যদি না বিষয়টি জরুরি হয়; কারণ দুঃখজনকভাবে কেউ কেউ মধ্যরাতের পর বা তার কাছাকাছি সময়ে কিংবা দুপুরের বিশ্রামের সময় কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়াই যোগাযোগ করেন।

আলেম এবং ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) উচিত নয় যে এই সীমা লঙ্ঘন তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়, আর প্রশ্নের আধিক্য ও প্রশ্নকারীদের রুক্ষতায় তার বিরক্ত হওয়াও উচিত নয়। কারণ আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ দান করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতহ ১৩/১৬।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ৯)
عليه بالعلم أن يجعل وقتًا ولو يسيرًا في كل أسبوع، يفتح هاتفه فيجيب السائلين فينال خيرا كثيرا وأجرا عظيما بإذن رب العالمين ومع هذا فلا بد أن يكون صبورا، رفيقا، حليما، فما كان الرفق في شيء إلا زانه، منبسطا، موجها، داعيا، لا مقتصرا على الجواب، منتهزا الفرصة في ذلك.

لذلك كله أقدم هذا المختصر في أحكام السفر، جمعته من كتب أهل العلم (1)، اقتصرت فيه على ما يحتاجه الناس غالبا في أسفارهم، ضمنته بعض الآداب والفوائد والمسائل المعاصرة، جردته من التفريع والخلاف إلا في مواضع يسيرة، فيه ما يزيد على مائة وخمسين مسألة وأدب وتوجيه وتنبيه وخطأ وفائدة، والتزمت فيه منهج الاختصار، ذكرت ما ترجح لدى الشيخين العالمين الفقيهين: الشيخ أبي عبد الله عبد العزيز بن باز والشيخ أبي عبد الله محمد بن عثيمين أو أحدهما عليهما سوابغ الرحمة والغفران، ليس تعصبا لهما أو ادعاء العصمة لهما، إنما لما حظي به علمهما من قبول في الأرض وصدقهما مع الله وتحريهما الدليل والقول الصحيح الموافق لسماحة الإسلام ومقاصد الشريعة، وإظهارا لعلمهما واختياراتهما رحمهما الله رحمة واسعة، مع ترجيحات اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء في كثير من المسائل.

حاولت جاهدا أن يجد

--------------------------------------------

(1) أحكام السفر أفردت برسائل كثيرة وتنوعت الكتابة فيه: فمنهم من جعله كتابا فقهيا، وهذا كثير جدا، ومنهم من جعله كتابا حديثيا، ومنهم من جعله كتابا في آداب السفر وهكذا.
জ্ঞান অন্বেষণকারীর উচিত প্রতি সপ্তাহে সামান্য হলেও কিছু সময় নির্ধারণ করা, যেন সে তার ফোন খোলে এবং প্রশ্নকারীদের উত্তর প্রদান করে। এর মাধ্যমে সে রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছায় প্রভূত কল্যাণ ও মহান প্রতিদান লাভ করবে। এর পাশাপাশি তাকে অবশ্যই ধৈর্যশীল, কোমল ও সহনশীল হতে হবে; কেননা কোমলতা কোনো জিনিসে থাকলে তা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। তাকে প্রফুল্লচিত্ত, পথপ্রদর্শক এবং দাঈ হতে হবে; কেবল উত্তর প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে।

এই সব কারণেই আমি সফরের বিধান বিষয়ক এই সংক্ষিপ্ত সারটি পেশ করছি, যা আমি আলেমদের (১) কিতাবসমূহ থেকে সংকলন করেছি। এতে আমি কেবল সেসব বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি যা মানুষের সফরে সাধারণত প্রয়োজন হয়। এতে কিছু আদব, উপকারিতা এবং সমসাময়িক মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করেছি। সামান্য কিছু স্থান ব্যতীত আমি একে শাখা-প্রশাখা ও মতভেদ মুক্ত রেখেছি। এতে একশত পঞ্চাশটিরও বেশি মাসআলা, আদব, নির্দেশনা, সতর্কতা, ভুল এবং ফায়দা রয়েছে। আমি এতে সংক্ষিপ্তকরণের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। আমি এতে এমন বিষয় উল্লেখ করেছি যা দুই বিজ্ঞ ফকীহ আলেম: শাইখ আবু আবদুল্লাহ আব্দুল আজিজ বিন বাজ এবং শাইখ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উসাইমিন অথবা তাঁদের কোনো একজনের নিকট প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) হয়েছে—তাঁদের ওপর আল্লাহর অঢেল রহমত ও মাগফিরাত বর্ষিত হোক। এটি তাঁদের প্রতি অন্ধভক্তি বা তাঁদের নিষ্পাপ হওয়ার দাবি থেকে নয়; বরং এ কারণে যে, তাঁদের ইলম পৃথিবীতে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, আল্লাহর প্রতি তাঁদের সততা এবং দলিল ও সহিহ (صحيح) মতের অনুসন্ধানের কারণে, যা ইসলামের উদারতা ও শরিয়তের মাকাসিদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া তাঁদের ইলম ও চয়নকৃত মতসমূহ ফুটিয়ে তোলার উদ্দেশ্যেও এটি করা হয়েছে—আল্লাহ তাঁদের ওপর প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন। সেই সাথে অনেক মাসআলায় লাজনা দাইমার (বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি) প্রাধান্যপ্রাপ্ত (ترجيحات) মতগুলোও যুক্ত করা হয়েছে।

আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি যেন খুঁজে পায়

--------------------------------------------

(১) সফরের বিধানাবলি নিয়ে অনেক স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে লেখাগুলো বৈচিত্র্যময়: কেউ একে ফিকহি কিতাব হিসেবে রচনা করেছেন—আর এ সংখ্যাই অনেক বেশি, কেউ একে হাদিস বিষয়ক (حديثي) কিতাব হিসেবে তৈরি করেছেন, আবার কেউ সফরের আদব সংক্রান্ত কিতাব হিসেবে লিখেছেন এবং এভাবেই।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ১০)
القارئ فيه بغيته وما قد يخطر بباله أو يسنح في خياله وحذفت ما لا يحتاجه إلا القليل من الناس، فأرجو الله أن ينفع به من كتبه وقرأه ونظر فيه، وأن يؤتي أكله كل حين بإذن ربه، فيكون زادًا للمسافر، مذكرًا للغافل، معلمًا للجاهل، هداية للمبتدئ وبلغة للمقتصد، خفيف المحمل، سهل المتناول، مفيدًا في الرحلات والأسفار، دافعًا للنقاش والتذاكر بين طلاب العلم في أسفارهم ومجالسهم، حتى يحيا العلم ويرسخ في الذهن وتحقق المسائل، فالعلم يحيا بالتذاكر والفكرة والدرس والمناقشة.

حاولت أن آتي ولو ببعض ما قال الأول:

في سبعة حصروا مقاصد العقلا … من التأليف فاحفظها تنل أملا

أبدع تمام بيان، لاختصارك في … جمع ورتب وأصلح يا أخي الخللا

وأشكر الشيخ: عبد الرحمن العجلان رئيس محاكم القصيم سابقا والمدرس حالا بالمسجد الحرام على قراءته الكتاب وغيره من طلبة العلم، وما قدموه من اقتراحات.

أيها الجيل: أحييكم والتحايا مفاتيح القلوب، وأهديكم والهدايا طريق القلوب، ونعم الوصال بالعلم والذكر والكتاب، فنعم الحداء ونعم المسير.

ما أهدى المرء المسلم لأخيه هدية أفضل من كلمة حكمة يزيده الله بها هدى أو يرده بها عن ردى.

سلام من الأعماق أزكى من الورد … وأزكى من الريحان أحلى من الشهد

لئن كان جل الوصل بيني وبينكم … مدارسة للعلم والنصح والرشد
পাঠক এতে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় এবং যা কিছু তার মনে উদয় হতে পারে বা ভাবনায় আসতে পারে তা খুঁজে পাবেন। আমি এমন বিষয়সমূহ বাদ দিয়েছি যার প্রয়োজন খুব অল্প সংখ্যক মানুষেরই পড়ে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি এর লেখক, পাঠক এবং পর্যালোচনাকারীকে এর মাধ্যমে উপকৃত করবেন এবং এটি যেন তার রবের নির্দেশে সর্বদা ফল দান করে। এটি যেন মুসাফিরের পাথেয়, উদাসীনদের জন্য স্মারক, জ্ঞানহীনের জন্য শিক্ষক, নবাগতের (المبتدئ) জন্য হেদায়েত এবং মিতব্যয়ীর জন্য পর্যাপ্ত রসদ হয়। এটি বহন করা সহজ, আয়ত্ত করা সহজবোধ্য, সফর ও ভ্রমণে ফলপ্রসূ এবং জ্ঞানান্বেষীদের (طلاب العلم) সফর ও মজলিসে আলোচনা ও পারস্পরিক স্মৃতিচারণের প্রেরণা হয়, যাতে ইলম (العلم) উজ্জীবিত থাকে, অন্তরে বদ্ধমূল হয় এবং মাসআলাসমূহ (المسائل) সঠিক রূপ লাভ করে। কেননা ইলম (العلم) পারস্পরিক আলোচনা, চিন্তা, পাঠ ও বিতর্কের মাধ্যমেই প্রাণবন্ত থাকে।

আমি পূর্ববর্তীদের উক্তির অন্তত কিছু অংশ হলেও তুলে ধরার চেষ্টা করেছি:

বিচক্ষণ ব্যক্তিরা রচনার উদ্দেশ্যসমূহকে (مقاصد) সাতটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ করেছেন … অতএব সেগুলো মুখস্থ রেখো, তবেই তুমি সফল হবে।

নতুন বিষয়ের উদ্ভাবন (أبدع), অসম্পূর্ণের পূর্ণতা দান (تمام), জটিল বিষয়ের বিশদ ব্যাখ্যা (بيان), দীর্ঘের সংক্ষিপ্তকরণ (اختصار) … সংগ্রহ (جمع), বিন্যাস (رتب) এবং ভুল সংশোধন (أصلح); হে প্রিয় ভাই! তুমি বিচ্যুতি সংশোধন করো।

আমি শায়খ আব্দুর রহমান আল-আজলানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি কাসিম আদালতের প্রাক্তন প্রধান এবং বর্তমানে মসজিদুল হারামের শিক্ষক, বইটি পাঠ করার জন্য। এছাড়াও অন্যান্য জ্ঞানান্বেষী (طلاب العلم) যারা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।

হে বর্তমান প্রজন্ম! আমি তোমাদের অভিবাদন জানাই, আর অভিবাদন হলো হৃদয়ের চাবিকাঠি। আমি তোমাদের উপহার দিচ্ছি, আর উপহার হলো হৃদয়ের পথ। ইলম (العلم), জিকির এবং কিতাবের মাধ্যমে এই সুসম্পর্ক কতই না চমৎকার! এই আহ্বান এবং এই পথচলা কতই না উত্তম!

একজন মুসলিম তার ভাইয়ের জন্য হিকমতপূর্ণ কথার চেয়ে উত্তম কোনো উপহার দিতে পারে না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তার হেদায়েত বৃদ্ধি করেন অথবা তাকে ধ্বংস থেকে ফিরিয়ে আনেন।

হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে সালাম যা গোলাপের চেয়েও পবিত্র … রায়হানের চেয়েও সুগন্ধি এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি।

যদি আমার ও তোমাদের মাঝে সম্পর্কের সিংহভাগই হয় ইলমচর্চা (مدارسة العلم), নসিহত এবং সঠিক পথনির্দেশনার ভিত্তিতে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ১১)
فذاك الوصال الحق لا وصل بعده … عساه يدوم الوصل في جنة الخلد

 

* * * * *

لا خيل عندك تهديها ولا مال … فليسعد النطق إن لم يسعد الحال

 

* * * * *

فيا أيها الناظر فيه بعين الرضا: أحسن بجامعه الظن، وإن لم يكن من أهل هذا الفن، فاصفح عما به من زلل وصحح ما طغى به القلم، جعله الله مباركا ونافعا على الدوام وخالصا لوجهه الكريم، وأن يلهمنا الصواب في النية والقول والعمل (1).

أقدم هذا المختصر في طبعة مزيدة، والعلم يتجدد بتجدد الأحوال والأزمان، شاكرا كل من أفاد وأجاد وأضاف وزاد، سائلا الله أن يكون من خير الزاد في الحياة وبعد الممات، ومن

--------------------------------------------

(1) اكتفيت في العزو في كثير من المسائل بكتب وفتاوى الشيخين، بل أهم المسائل والمراجع هي: مجموع فتاوى ومقالات ابن باز، والشرح الممتع لابن عثيمين، وفتاوى ابن عثيمين، وفتاوى اللجنة الدائمة، والشرح الكبير والإنصاف، أما سائر المسائل فهي منثورة في أي كتاب فقهي ولا تخفى مواضعها على طالب العلم.

درجت على لفظ الشيخين في هذا الكتاب وقصدي بهما الشيخ ابن باز وابن عثيمين، فإذا اتفقا على ترجيح مسألة قلت: رجحه الشيخان. وذكر أحدهما لا يعني عدم الموافقة أو الموافقة من الآخر وإنما هذا ما استطعت جمعه لهمها من مراجع بين يدي ولم أتقص ترجيحاتهما في كل مسألة.

 

اللجنة الدائمة هي لجنة دائمة، فرع من هيئة كبار العلماء، متفرغة للبحوث والفتوى، يرأسها رئيس هيئة كبار العلماء، وأعضاؤها خمسة من الهيئة وكان رئيسها الشيخ، عبد العزيز بن باز رحمه الله والآن الشيخ: عبد العزيز آل الشيخ، وأعضاؤها أصحاب الفضيلة كل من: عبد الله بن غديان وصالح الفوزان وبكر أبو زيد في وقت ترؤس ابن باز لها.
সেটিই হলো প্রকৃত মিলন যার পরে আর কোনো বিচ্ছেদ নেই … সম্ভবত চিরস্থায়ী জান্নাতে এই মিলন দীর্ঘস্থায়ী হবে।

 

* * * * *

আপনার কাছে উপহার দেওয়ার মতো না আছে ঘোড়া, না আছে সম্পদ … সুতরাং কথা দিয়েই তুষ্ট করুন যদি অবস্থা অনুকূল না হয়।

 

* * * * *

হে সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে পাঠকারী: এর সংকলকের প্রতি সুধারণা পোষণ করুন, যদিও তিনি এই শাস্ত্রের (الفن) পারদর্শী নন। সুতরাং এতে যে পদস্খলন রয়েছে তা ক্ষমা করুন এবং কলম যা ভুল করেছে তা সংশোধন করুন। আল্লাহ একে সর্বদা বরকতময় ও উপকারী এবং তাঁর সম্মানিত সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করুন। আর তিনি যেন আমাদের নিয়ত, কথা ও কাজে সঠিক বিষয়ের (الصواب) অনুপ্রেরণা দান করেন (১)।

আমি এই সারসংক্ষেপটি (المختصر) একটি পরিবর্ধিত সংস্করণে পেশ করছি। পরিস্থিতি ও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে জ্ঞানও নবায়িত হয়। যারা উপকৃত হয়েছেন, যারা চমৎকার কাজ করেছেন এবং যারা নতুন কিছু যোগ করেছেন, আমি তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে এটি যেন ইহকাল ও পরকালের সর্বোত্তম পাথেয় হিসেবে কবুল হয় এবং...

--------------------------------------------

(১) আমি অনেক মাসআলার (مسائل) ক্ষেত্রে উদ্ধৃতি প্রদানের (العزو) জন্য কেবল ‘দুই শাইখ’-এর গ্রন্থসমূহ ও ফতোয়ার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি; বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা (مسائل) ও রেফারেন্সসমূহ হলো: মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত ইবনে বাজ, ইবনে উসাইমিনের আশ-শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমিনের ফাতাওয়া, আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ-এর ফাতাওয়া, আশ-শারহুল কাবীর এবং আল-ইনসাফ। আর অবশিষ্ট মাসআলাসমূহ (مسائل) ফিকহের যেকোনো কিতাবে ছড়িয়ে আছে এবং ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) কাছে এগুলোর স্থান গোপন নয়।

আমি এই কিতাবে ‘দুই শাইখ’ পরিভাষাটি ব্যবহার করেছি এবং এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো শাইখ ইবনে বাজ এবং ইবনে উসাইমিন। সুতরাং যখন তাঁরা কোনো একটি মাসআলায় প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন, তখন আমি বলেছি: ‘দুই শাইখ এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন (رجحه)’। তাঁদের কোনো একজনের কথা উল্লেখ করার অর্থ এই নয় যে অপরজন তাতে একমত বা দ্বিমত পোষণ করেছেন; বরং আমার কাছে বিদ্যমান উৎসগুলো থেকে আমি তাঁদের যে মতগুলো সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি এটি কেবল তা-ই। আর আমি প্রতিটি মাসআলায় তাঁদের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ (ترجيحات) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করিনি।

 

আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ হলো একটি স্থায়ী কমিটি, যা হাইয়াতু কিবারিল উলামা (জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদ)-এর একটি শাখা; এটি গবেষণা ও ফতোয়া প্রদানের জন্য নিবেদিত। হাইয়াতু কিবারিল উলামার প্রধান এর সভাপতিত্ব করেন এবং এর সদস্যগণ উক্ত পরিষদের পাঁচজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত। শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) এর সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে শাইখ আব্দুল আজিজ আশ-শাইখ এর দায়িত্বে আছেন। ইবনে বাজের সভাপতিত্বের সময়ে এর সম্মানিত সদস্যগণ ছিলেন: আব্দুল্লাহ বিন গুদাইয়ান, সালিহ আল-ফাওজান এবং বকর আবু যায়িদ।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ১২)
الباقيات الصالحات ليوم تعز فيه الحسنات، وأن يعفو عما فيه من الزلات والهفوات، وأن يكون كتابا مباركا على مر الأزمان والعصور.

فأقول والله خير معين:

فسهل يا إلهي كل صعب … فمن غير الرؤوف لنا يسهل

ويسر إلهي مقالي وسهل مهماتي … واجعل مقالي في أعلى المقامات

 

اللهم لا سهل إلا ما جعلته سهلا وأنت تجعل الحزن إذا شئت سهلا.

يا عاشق الترحال والأسفار … أنخ المطية واستمع أخباري

إن كنت في سفر فكل مسافر … يحتاج زادا بلغة للدار

والزاد علم قد جمعت أصوله … آي الكتاب وسنة المختار

وجمعت فيه فوائدا وفرائدا … ومسائلا غابت عن الأنظار

وذكرت في الترجيح قول أئمة … هم في الظلام كواكب ودراري

وهما ابن باز والعثيمين وقد … شدا رحالهما إلى الغفار

يا ليتني أخطو بدربهم خطى … لأنال رفقتهم بدار قرار

والله أسأل أن يكون كنجمة … وسط السماء هداية للساري

قال شيخ الإسلام: " وقد يقول كثير من علماء المسلمين أهل العلم والدين من الصحابة والتابعين وسائر أئمة المسلمين كالأربعة وغيرهم أقوالا باجتهادهم، فهذه يسوغ القول بها، فهذا شرع دخل فيه التأويل والاجتهاد، وقد يكون في نفس الأمر موافقا للشرع المنزل فيكون لصاحبه أجران، وقد لا يكون موافقا له لكن لا يكلف الله نفسا إلا وسعها، فإذا اتقى العبد الله
সেই সব নেক আমল যা চিরকাল অবশিষ্ট থাকে, সেই দিনের জন্য যেদিন নেকি লাভ করা কঠিন হবে; আর এতে যে সব ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতি রয়েছে তা যেন তিনি ক্ষমা করেন এবং একে যেন যুগ-যুগান্তরের জন্য একটি বরকতময় কিতাব হিসেবে কবুল করেন।

অতঃপর আমি বলছি এবং আল্লাহই সর্বোত্তম সাহায্যকারী:

হে আমার ইলাহ! সকল কঠিন কাজ সহজ করে দিন … কেননা পরম দয়ালু ছাড়া আমাদের জন্য আর কে সহজ করবেন?

হে ইলাহ! আমার কথাকে সাবলীল করুন এবং আমার কাজগুলো সহজ করুন … আর আমার বক্তব্যকে সর্বোচ্চ মাকামে আসীন করুন।

 

হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করেছেন তা ব্যতীত কোনো কিছুই সহজ নয়, আর আপনি চাইলে কঠিনকেও সহজ করে দেন।

হে ভ্রমণ ও সফরের প্রেমিক … সওয়ারি থামান এবং আমার সংবাদ শুনুন।

আপনি যদি সফরে থাকেন, তবে জেনে রাখুন প্রত্যেক মুসাফিরেরই … গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পাথেয় প্রয়োজন।

আর সেই পাথেয় হলো ইলম, যার মূলনীতিসমূহ আমি সংকলন করেছি … আল্লাহর কিতাবের আয়াত এবং মনোনীত নবীর সুন্নাহ থেকে।

এতে আমি বিভিন্ন উপযোগিতা ও বিরল রত্নরাজি সংকলন করেছি … এবং এমন সব মাসআলা যা দৃষ্টির আড়ালে ছিল।

আমি (মতামত) অগ্রগণ্য করার ক্ষেত্রে এমন ইমামগণের কথা উল্লেখ করেছি … যারা অন্ধকারের মাঝে উজ্জ্বল নক্ষত্র ও জ্যোতিষ্কের মতো।

তাঁরা হলেন ইবনে বাজ ও উসাইমীন এবং তাঁরা … মহা ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে পাড়ি জমিয়েছেন।

হায়! আমি যদি তাঁদের পথে পদচিহ্ন রেখে চলতে পারতাম … তবে চিরস্থায়ী আবাসে তাঁদের সাহচর্য লাভ করতে পারতাম।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এটি আকাশের মাঝে একটি নক্ষত্রের মতো হয় … যা পথিকের জন্য হেদায়েত বা পথপ্রদর্শক হবে।

শায়খুল ইসলাম বলেন: "নিশ্চয়ই মুসলিম উম্মাহর অনেক আলেম, যারা সাহাবী (صحابة), তাবেয়ী (تابعين) এবং চার ইমামসহ অন্যান্য ইমামগণের মধ্য থেকে ইলম ও দ্বীনের অধিকারী, তাঁরা নিজেদের ইজতিহাদের (اجتهاد) ভিত্তিতে বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন। এসব মত ব্যক্ত করা বৈধ; কারণ এটি এমন শরয়ি বিষয় যেখানে ব্যাখ্যা (تأويل) ও ইজতিহাদের (اجتهاد) অনুপ্রবেশ ঘটেছে। বাস্তব ক্ষেত্রে তা অবতীর্ণ শরিয়তের অনুকূলে হতে পারে, এমতাবস্থায় এর প্রবক্তা দ্বিগুণ সওয়াব পাবেন। আবার কখনো তা শরিয়তের অনুকূলে নাও হতে পারে, তবে আল্লাহ কোনো নফসের ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না। সুতরাং বান্দা যখন আল্লাহকে ভয় করবে..."
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ১৩)
ما استطاع آجره الله على ذلك وغفر له خطأه، ومن كان هكذا لم يكن لأحد أن يذمه ولا يعيبه ولا يعاقبه، ولكن إذا عرف الحق بخلاف قوله لم يجز ترك الحق الذي بعث الله به رسوله لقول أحد من الخلق، وذلك هو الشرع المنزل من عند الله وهو الكتاب والسنة، وهو دين الله ورسوله لتكون كلمة الله هي العليا ويكون الدين كله لله، لا يجاهدون على قول عالم ولا شيخ ولا متأول بل يجاهدون ليعبد الله وحده ويكون الدين لله (1).

- السفر موطن للتأمل والتفكير والاعتبار في ملكوت الله في جو أو بر أو بحر.

- السفر موطن للتفكير في النفس ومحاسبتها.

- السفر موطن تذكر السفر للدار الآخرة، فمن دار إلى دار حتى نصل دار القرار، إما نعيم وإما نار، أجارنا الله وإياكم من النار وبئس القرار.

- السفر موطن التفكر في نعمة الأمن في هذه البلاد زادها الإله أمنا ورخاء وسلاما وعزا ونصرا وتمسكا بالإسلام.

- السفر عبادة وسياحة، صلة للأرحام وزيارة للإخوان.

- السفر للبلد الحرام رحلة إيمانية ودورة تربوية للنفس والسلوك.

- السفر موطن للتعرف على البلدان وحضاراتها وأنسابها وأخلاقها وأعلامها.

--------------------------------------------

(1) الفتاوى 35/ 366.
সাধ্যানুযায়ী তিনি যা করেছেন, আল্লাহ তাকে তার জন্য প্রতিদান দেবেন এবং তার ভুল ক্ষমা করবেন। যার অবস্থা এমন, তাকে নিন্দা করা, দোষারোপ করা কিংবা শাস্তি দেওয়া কারো জন্য সমীচীন নয়। কিন্তু যখন কারো বক্তব্যের বিপরীতে সত্য স্পষ্টভাবে জানা যায়, তখন সৃষ্টির কোনো ব্যক্তির কথার খাতিরে আল্লাহ তাঁর রাসূলের মাধ্যমে যে সত্য পাঠিয়েছেন তা বর্জন করা বৈধ নয়। আর সেটিই হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ শরিয়ত (الشرع المنزل), যা কিতাব ও সুন্নাহ (السنة); আর এটিই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দ্বীন, যাতে আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ হয় এবং দ্বীন পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। তারা কোনো আলেম, শায়খ কিংবা কোনো ব্যাখ্যাককারীর (متأول) বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে লড়াই করে না, বরং তারা লড়াই করে যাতে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা হয় এবং দ্বীন আল্লাহর জন্য হয় (১)।

- সফর হলো আকাশ, স্থল কিংবা সমুদ্রে আল্লাহর রাজত্ব সম্পর্কে গভীর চিন্তা, গবেষণা ও শিক্ষা গ্রহণের স্থান।

- সফর হলো নিজের নফ্‌স বা আত্মা সম্পর্কে চিন্তা ও তার হিসাব গ্রহণের (আত্মসমালোচনার) স্থান।

- সফর হলো পরকালের সফরের কথা স্মরণ করার স্থান; এক ঘর থেকে অন্য ঘরে স্থানান্তর হওয়া যতক্ষণ না আমরা চিরস্থায়ী আবাসে পৌঁছি—যা হয় জান্নাতের নেয়ামত অথবা জাহান্নামের আগুন। আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন, যা অতি নিকৃষ্ট আবাস।

- সফর হলো এই ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নামক নেয়ামত নিয়ে চিন্তা করার স্থান; আল্লাহ এই জনপদের নিরাপত্তা, সচ্ছলতা, শান্তি, মর্যাদা, বিজয় এবং ইসলামের ওপর অবিচল থাকাকে বৃদ্ধি করে দিন।

- সফর হলো ইবাদত ও পর্যটন, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং ভাইদের সাথে সাক্ষাতের মাধ্যম।

- পবিত্র নগরীর অভিমুখে সফর হলো একটি ঈমানি যাত্রা এবং আত্মা ও আচরণের জন্য একটি তর্বিয়তি কোর্স।

- সফর হলো বিভিন্ন দেশ, তাদের সভ্যতা, বংশ পরিচয়, চরিত্র এবং মনীষীদের সম্পর্কে জানার ক্ষেত্র।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতাওয়া ৩৫/৩৬৬।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ১৪)
- السفر موطن لتربية النفس على الصبر والتجلد والبعد عن كثير من الكماليات.

- السفر موطن لاكتشاف النفوس وتحملها وقدراتها ومعدنها وهذه للآباء والمربين.

- السفر رياضة قلبية ومتعة بدنية، يوصي بها الأطباء لمن ثقلت عليه نفسه وأطبقت عليه الهموم والأحزان وعلاج ناجع لأصحاب الأمراض النفسية.

لا يصلح النفس إن كانت مولية … إلا التنقل من حال إلى حال

كان بشر يقول: سيحوا تطيبوا، فإن الماء إذا ساح طاب، وإذا طال مقامه في موضع تغير.

إذا ما ضاق صدرك من بلاد … ترحل طالبا أرضا سواها

عجبت لمن يقيم بدار ذل … وأرض الله واسعة فضاها

فذاك من الرجال قليل عقل … بليد ليس يعلم ما طحاها

فنفسك فر بها إن خفت ضيما … وخل الدار تنعى من بناها

فإنك واجد أرضا بأرض … ونفسك لم تجد نفسا سواها

ومن كانت منيته بأرض … فليس يموت في أرض سواها

 

* عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن رجلا زار أخا له في قريبة أخرى، فأرصد الله على مدرجته ـ أي طريقه ـ ملكا فلما أتى عليه قال: أين تريد؟ قال: أريد أخا لي في هذه القرية. قال: هل لك من نعمة تربها عليه. قال: لا، غير أني أحببته في الله قال: فإني رسول الله إليك بأن الله قد أحبك كما أحببته فيه» رواه مسلم.
সফর হলো নফসকে ধৈর্য, সহনশীলতা এবং বিবিধ বিলাসিতা থেকে দূরে রাখার মাধ্যমে গড়ে তোলার একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র।

সফর হলো মানুষের নফসের প্রকৃত অবস্থা, ধৈর্য ও সহনক্ষমতা এবং তার সক্ষমতা ও চারিত্রিক গুণাগুণ আবিষ্কারের স্থান; এটি পিতা-মাতা এবং শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

সফর হলো একটি আত্মিক সাধনা ও শারীরিক প্রশান্তি; চিকিৎসকরা সেই ব্যক্তির জন্য সফরের পরামর্শ দেন যার মন ভারাক্রান্ত এবং যাকে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। এটি মানসিক রোগীদের জন্য একটি অব্যর্থ চিকিৎসা।

বিমুখ নফস বা আত্মার কোনো সংশোধন হয় না … এক অবস্থা হতে অন্য অবস্থায় পরিভ্রমণ ব্যতীত।

বিশ্‌র (রহ.) বলতেন: তোমরা পরিভ্রমণ করো, পবিত্র হবে; কেননা পানি যখন প্রবাহিত হয় তখন তা স্বচ্ছ ও পবিত্র থাকে, আর যখন দীর্ঘক্ষণ একস্থানে স্থির থাকে তখন তার রঙ ও স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে যায়।

কোনো জনপদে যদি তোমার মন সংকুচিত হয়ে আসে … তবে অন্য ভূমির সন্ধানে সেখান থেকে প্রস্থান করো।

আমি সেই ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই যে লাঞ্ছনার ঘরে বসবাস করে … অথচ আল্লাহর জমিন ও তার আকাশ অত্যন্ত প্রশস্ত।

এমন ব্যক্তি তো সেইসব পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত যাদের বুদ্ধি অতি সামান্য … সে এক স্থবির সত্তা যে জানে না কে এই পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন।

যদি তুমি কোনো অবিচারের আশঙ্কা করো তবে নিজের প্রাণ নিয়ে পলায়ন করো … আর ঘরটিকে তার নির্মাতার জন্য বিলাপ করতে ছেড়ে দাও।

কেননা তুমি এক ভূমির পরিবর্তে অন্য ভূমি অবশ্যই খুঁজে পাবে … কিন্তু নিজের প্রাণের বদলে দ্বিতীয় কোনো প্রাণ পাবে না।

আর যার মৃত্যু কোনো নির্দিষ্ট ভূমিতে নির্ধারিত হয়ে আছে … সে অন্য কোনো ভূমিতে মৃত্যুবরণ করবে না।

 

* আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত (رواه), তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "এক ব্যক্তি অন্য এক গ্রামে অবস্থানরত তার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেল। আল্লাহ তাআলা তার যাত্রাপথে —অর্থাৎ তার রাস্তায়— একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করলেন। যখন সেই ব্যক্তি ফেরেশতার নিকট পৌঁছাল, তখন ফেরেশতা জিজ্ঞেস করল: 'তুমি কোথায় যাওয়ার সংকল্প করেছ?' সে উত্তর দিল: 'আমি এই গ্রামে আমার এক ভাইয়ের কাছে যাচ্ছি।' ফেরেশতা পুনরায় জিজ্ঞেস করল: 'তার কাছে কি তোমার কোনো অনুগ্রহ বা সম্পদ আছে যা তুমি দেখাশোনা বা বৃদ্ধি করতে যাচ্ছ?' সে বলল: 'না, আমি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তাকে ভালোবাসি।' তখন ফেরেশতা বললেন: 'নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার কাছে এই সংবাদ দিতে প্রেরিত হয়েছি যে, আল্লাহ তোমাকে ভালোবেসেছেন ঠিক যেমনটি তুমি তাঁকে সন্তুষ্ট করার জন্য তোমার ভাইকে ভালোবেসেছ'।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ১৫)
وعنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من زار مريضا أو عاد أخا له في الله ناداه مناد: أن طبت وطاب ممشاك، وتبوأت من الجنة منزلا» رواه الترمذي وحسنه الألباني. إنها فضائل وسنن لطالما نسيت!!

 

‌‌همم حتى في السفر:

صاحب الهمة العالية تسافر همته معه عبر البحار والقفار وفي الوديان والجبال وفي الحل والترحال لأنها جزء لا يتجزأ من حياته بل تجري في دمه وعروقه.

فهذا ابن القيم رحمه الله كتب زاد المعاد في ست مجلدات كبار في سفره للحج، وكتب البخاري التاريخ الكبير في روضة مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومفتاح دار السعادة بمكة، وروضة المحبين وبدائع الفوائد وتهذيب سنن أبي داود وهو مسافر، واختصر السيوطي في رحلته لمكة الألفية، وكتب في مكة النفحة المسكية والتحفة المكية في يوم واحد (1)، وطاف الإمام أحمد الدنيا مرتين حتى جمع المسند، وهذا ابن منده المحدث خرج من بلده في طلب العلم وهو ابن عشرين فرجع إليها وهو ابن ستين، وكتب الحافظ ابن حجر النخبة وهو في سفره، قال الصنعاني رحمه الله في نظم قصب السكر:

وبعد فالنخبة في علم الأثر … مختصر يا حبذا من مختصر

ألفها الحافظ في حال السفر … وهو الشهاب بن علي بن حجر

--------------------------------------------

(1) ابن القيم حياته وآثاره لبكر أبو زيد، والتحدث بنعمة الله للسيوطي.
তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায় অথবা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার কোনো ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে, জনৈক ঘোষণাকারী তাকে ডেকে বলেন: তুমি ধন্য হও, তোমার পথচলা কল্যাণময় হোক এবং তুমি জান্নাতে একটি আবাস নিশ্চিত করে নিয়েছ» তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে সুন্দর (حسن) হিসেবে অভিহিত করেছেন। এগুলো এমন কিছু ফযিলত ও সুন্নাত যা দীর্ঘকাল ধরে বিস্মৃত হয়ে আছে!!

 

‌‌এমনকি সফরেও সুউচ্চ হিম্মত:

সুউচ্চ সংকল্পের অধিকারী ব্যক্তির হিম্মত তাঁর সাথে সমুদ্র ও মরুভূমি পাড়ি দিয়ে, উপত্যকা ও পাহাড়ে এবং অবস্থানকালে ও প্রবাসকালীন সময়ে সফর করে। কারণ এটি তাঁর জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, বরং এটি তাঁর রক্তে ও শিরায় প্রবাহিত হয়।

এই তো ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.), তিনি হজের সফরে থাকাকালীন ছয়টি বিশাল খণ্ডে 'যাদুল মাআদ' রচনা করেছেন; আর ইমাম বুখারি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মসজিদের রওজায় বসে 'আত-তারিখুল কবির' রচনা করেছেন; মক্কায় 'মিফতাহু দারিস সাআদাহ' এবং সফররত অবস্থায় 'রওজাতুল মুহিব্বিন', 'বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ' ও 'তাহজিবু সুনানি আবি দাউদ' লিখেছেন; সুয়ূতী তাঁর মক্কা সফরে 'আলফিয়া'-র সংক্ষিপ্তসার করেছেন এবং মক্কায় একদিনেই 'আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ' ও 'আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ' রচনা করেছেন (১); ইমাম আহমাদ 'মুসনাদ' সংকলন করতে দুইবার পৃথিবী ভ্রমণ করেছেন; আর এই হলেন মুহাদ্দিস (محدث) ইবনে মান্দাহ, যিনি ইলম অন্বেষণে বিশ বছর বয়সে নিজের দেশ ছেড়ে বের হয়েছিলেন এবং ষাট বছর বয়সে সেখানে ফিরে এসেছিলেন; হাফিজ (حافظ) ইবনে হাজার সফররত অবস্থায় 'নুখবাহ' রচনা করেছেন; আস-সানআনি (রহ.) 'কাসবাস সুকার' কাব্যে বলেছেন:

অতঃপর ইলমে আছার (علم الأثر)-এর ক্ষেত্রে 'নুখবাহ' হলো এক সংক্ষিপ্তসার … কতই না চমৎকার সেই সারসংক্ষেপ

হাফিজ (حافظ) এটি সফরের অবস্থায় সংকলন করেছেন … আর তিনি হলেন শিহাব ইবনে আলী ইবনে হাজার

--------------------------------------------

(১) বকর আবু যায়িদ রচিত 'ইবনুল কাইয়্যিম: হায়াতুহু ওয়া আসারুহু' এবং সুয়ূতী রচিত 'আত-তা হাদদুছু বি-নিয়ামাতিল্লাহ'।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ১৬)
وكانت كثير من المؤلفات والمشروعات بدايتها فكرة طرأت في السفر، أو موقف أو حدث أو ردة فعل أو سؤال كان في السفر.

كان سفيان كثيرا ما ينشد:

إذا المرء كانت له فكرة … ففي كل شيء له عبرة

 

* حال سماحة الشيخ ابن باز رحمه الله في سفره:

جاء في كتاب جوانب من سيرة الإمام ابن باز للحمد برواية الشيخ محمد الموسى مدير مكتب بيت الشيخ ابن باز وقد لازم الشيخ قرابة ستة عشر عاما، وهو أفضل كتاب تحدث عن سيرة الإمام يحتاجه العالم والقاضي، الشيخ والداعية ورجل الحسبة، الأب والمربي والطالب، الرئيس والمرؤوس، الأمير والوزير، الذكر والأنثى، الصغير والكبير فهو كتاب ماتع رائع نافع سهل المنهل عذب المورد. فما أن يبدأ به الإنسان لا يكاد يفارقه حتى يغلبه صلاة أو نوم، فما أن يقرأه إلا ويجد عبراته تنهمر على خديه ووجنتيه ويدعو للشيخ بالرحمة والغفران ومجازاته خير الجزاء عن الإسلام والمسلمين، ويشعر بالنقص والتقصير ويزداد بذلا ونشاطا وجدا واجتهادا، علما وعبادة ودعوة وصبرا وتواضعا، حقا إنه فقيد الأمة، حقا إنه بقية السلف، حقا لم نعرفه حقا حتى فقدناه .. فرحمك الله شيخنا رحمة واسعة، تعجز الكلمات والأشعار ويكل القلم عن ذكر فضائله ومآثره.
অনেক রচনা এবং প্রকল্পের সূচনা ছিল সফর বা ভ্রমণের সময় উদিত হওয়া কোনো চিন্তা, অথবা কোনো পরিস্থিতি, ঘটনা, প্রতিক্রিয়া কিংবা সফরের সময় জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্ন।

সুফিয়ান (রহ.) প্রায়ই আবৃত্তি করতেন:

যদি কোনো ব্যক্তির চিন্তা-ভাবনা করার শক্তি থাকে … তবে প্রতিটি জিনিসের মধ্যেই তার জন্য শিক্ষা (عبرة) রয়েছে।

 

* সফরকালীন সময়ে শাইখ ইবনে বায (রহ.)-এর অবস্থা:

হামদ প্রণীত ‘জাওয়ানিবে মিন সিরাতিল ইমাম ইবনে বায’ গ্রন্থে শাইখ ইবনে বাযের দপ্তরের পরিচালক শাইখ মুহাম্মাদ আল-মুসা’র বর্ণনায় এসেছে—যিনি প্রায় ষোলো বছর শাইখের সান্নিধ্যে ছিলেন। এটি ইমামের জীবনী নিয়ে রচিত সর্বোত্তম গ্রন্থ, যা আলেম (عالم), বিচারক (قاضي), শাইখ ও দাঈ (داعية), হিসবাহ কর্মকর্তা (رجل الحسبة), পিতা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী, ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন কর্মকর্তা, আমির (أمير) ও মন্ত্রী, নারী-পুরুষ এবং ছোট-বড় সকলেরই প্রয়োজন। এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার, আকর্ষণীয় ও উপকারী গ্রন্থ যার উৎস সাবলীল এবং বর্ণনা অত্যন্ত সুপেয়। মানুষ যখন এটি পড়া শুরু করে, তখন নামাজ বা ঘুম তাকে পরাভূত না করা পর্যন্ত সে এটি ছেড়ে উঠতে পারে না। যে-ই এটি পাঠ করে, সে অশ্রুসজল হয়ে পড়ে এবং শাইখের জন্য রহমত ও মাগফেরাত কামনা করে এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে আল্লাহ যেন তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন সেই দোয়া করে। পাঠক নিজের মধ্যে অপূর্ণতা ও ত্রুটি অনুভব করে এবং তার মধ্যে ত্যাগ, কর্মচাঞ্চল্য, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম, ইলম (علم), ইবাদত (عبادة), দাওয়াত (دعوة), ধৈর্য (صبر) ও বিনয় (تواضع) বৃদ্ধি পায়। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন উম্মাহর এক অপূরণীয় ক্ষতি, তিনি ছিলেন সালাফদের (سلف) সুযোগ্য উত্তরসূরি। আমরা তাঁকে প্রকৃতপক্ষে তখনই যথাযথভাবে চিনেছি যখন তাঁকে হারিয়েছি। হে আমাদের শাইখ! আল্লাহ আপনার প্রতি ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন। আপনার গুণাবলি ও অবদান উল্লেখ করতে শব্দ ও পদ্য অক্ষম এবং কলম পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ১৭)
جاء فيه: إن سماحة الشيخ يلزم الاعتدال في حال سفره وحضره، فلا يظهر عليه القلق أو كثرة الاهتمام، إذا جاء موعد السفر خرج سماحته متأنيا مطمئنا، مهللا؛ مسبحا، مستغفرا.

فإذا استقل السيارة أو الطائرة دعا بدعاء السفر، ثم التفت إلى من بجانبه من المرافقين وقال: ماذا معك؟ فيبدأ بقراءة الصحف وبعض الكتب والمعاملات؛ لأن سماحة الشيخ لا يركب سيارة أو طائرة إلا ومعه كاتب أو كاتبان يعرضان عليه ما تيسر من المعاملات أو الكتب أو غيرها.

فإذا كان يريد السفر على الطائرة ـ على سبيل المثال ـ فإنه فور ركوبه السيارة التي ستوصله إلى المطار يبدأ بسماع ما يعرض عليه حتى يصل إلى المطار، فإذا وصل إلى المطار وبقي على موعد إقلاع الطائرة وقت ولو كان يسيرا جلس بجانبه كاتب أو كاتبان ومعهما الكثير من المعاملات يقرآنها على سماحته، فإذا جاء وقت صعود الطائرة، وأخذ مكانه في الطائرة استأنف سماع القراءة، وعرض المعاملات حتى يصل إلى البلد الذي يريد السفر إليه سواء كان الرياض أو الطائف، ثم إن سماحة الشيخ يلزم السكينة في سفره؛ فلا يضيق ولا يضجر ولا يكدر على من معه حتى إنه ربما مكث في الطائرة أكثر من ساعة ينتظر بعض من معه ممن قد يتأخرون لعارض أو غيره عن موعد الإقلاع في الطائرة الخاصة التي تقل سماحته، ومع ذلك لا ترى على سماحته أي تكدر أو تغير بل يواصل سماع ما يعرض عليه حتى يصل من تأخر، وإذا وصل لم يبادره الشيخ
এতে বর্ণিত হয়েছে যে: নিশ্চয়ই মহামান্য শাইখ তাঁর সফরে এবং অবস্থানে ভারসাম্য বজায় রাখতেন; ফলে তাঁর মাঝে কোনো উদ্বেগ বা অতি-উৎকণ্ঠা পরিলক্ষিত হতো না। সফরের সময় উপস্থিত হলে তিনি অত্যন্ত ধীরস্থির ও প্রশান্ত চিত্তে এবং আল্লাহ্‌র মহিমা ঘোষণা (تهليل), পবিত্রতা বর্ণনা (تسبيح) ও ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار) করতে করতে বের হতেন।

অতঃপর যখন তিনি গাড়ি বা বিমানে আরোহণ করতেন, তখন সফরের দোয়া পাঠ করতেন। এরপর তাঁর পাশে থাকা সফরসঙ্গীদের দিকে ফিরে বলতেন: "আপনার নিকট কী (কাজ) আছে?" অতঃপর তিনি সংবাদপত্র এবং কিছু কিতাব ও দাপ্তরিক নথিপত্র পাঠ শুরু করতেন; কেননা মহামান্য শাইখ এমন কোনো গাড়ি বা বিমানে আরোহণ করতেন না যার সাথে একজন বা দুইজন লেখক (كاتب) থাকত না, যারা তাঁর সামনে সহজলভ্য দাপ্তরিক কার্যাবলি বা কিতাবসমূহ উপস্থাপন করতেন।

উদাহরণস্বরূপ, তিনি যদি বিমানে সফর করতে চাইতেন, তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর গাড়িতে আরোহণের পর থেকেই তাঁর সামনে উপস্থাপিত বিষয়গুলো শোনা শুরু করতেন যতক্ষণ না বিমানবন্দরে পৌঁছাতেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যদি বিমান উড্ডয়নের আগ পর্যন্ত সামান্য সময়ও বাকি থাকত, তবে তাঁর পাশে একজন বা দুইজন লেখক বসতেন এবং তাঁদের কাছে থাকা প্রচুর দাপ্তরিক কাজ মহামান্যের সামনে পাঠ করতেন। অতঃপর যখন বিমানে ওঠার সময় হতো এবং বিমানে নিজের আসন গ্রহণ করতেন, তখন পুনরায় পাঠ্য বিষয় শোনা ও পর্যালোচনা শুরু করতেন, যতক্ষণ না তিনি গন্তব্যস্থলে—তা রিয়াদ হোক বা তায়েফ—পৌঁছাতেন। তদুপরি, মহামান্য শাইখ তাঁর সফরে গাম্ভীর্য ও প্রশান্তি (سكينة) বজায় রাখতেন; তিনি সংকীর্ণমনা হতেন না, বিরক্ত হতেন না এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রতি রূঢ়তা প্রদর্শন করতেন না। এমনকি এমনও হতো যে, তাঁকে বহনকারী বিশেষ বিমানে কোনো সফরসঙ্গীর অনিবার্য কারণে বিলম্ব হলে তিনি বিমানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতেন। তা সত্ত্বেও মহামান্যের মাঝে কোনো বিরক্তি বা মেজাজের পরিবর্তন দেখা যেত না, বরং বিলম্বিত ব্যক্তি আসা পর্যন্ত তিনি তাঁর সামনে উপস্থাপিত বিষয়াদি শোনা অব্যাহত রাখতেন। আর যখন সে উপস্থিত হতো, শাইখ তার প্রতি কোনো বিরূপ আচরণ করতেন না।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ১৮)
بعتاب أو نحوه بل لا يسأله عن سبب تأخره البتة.

ثم إذا وصل إلى مطار البلد المسافر إليه نزل بسكينة ونصلي إن كان وقت صلاة، وإذا كان ليس بصحبته أهله، فإنه يتصل بهم ويسلم عليهم فور وصوله ويخبرهم بأنه قد وصل بالسلامة.

وفي إحد الأسفار كنا قادمين من الطائف للرياض فصلى بنا الظهر بالمطار ومن ثم ركبنا السيارة فالتفت وقال: ما عندكم؟ فشرعنا نقرأ عليه حتى وصلنا منزله فأخذ مكانه بالمجلس وسلم على من ينتظره من الأبناء والأقارب وطلبة العلم والمحبين، وبعد ذلك مد يده إلى سماعة الهاتف ليتأكد هل هو يستقبل المكالمات؟ فإن كان مغلقا قال: افتحوه لكي يستقبل أسئلة الناس، وكل هذا قبل الدخول لمنزله وهذا دأبه في السفر .. اهـ. ولنا وقفة أخرى مع جانب من سفره بإذن الله.

جمال ذي الأرض كانوا في الحياة وهم … بعد الممات جمال الكتب والسير

وإذا أردنا الوقوف مع هذا الإمام في هذا الجزء من حياته لوجدنا الكثير من الفوائد والآداب والأخلاق والجد والمثابرة وهذا في سفره العام. أما في سفره للحج ورمضان فلا يكاد يوصف من الجد والبذل فلنستق منها الدروس والعبر، اللهم فاغفر له وارحمه وارفع درجته في المهديين، واجعله مع النبيين والصديقين.

ونسألك اللهم الهمة العالية، والعزيمة الماضية، والنفس الصادقة، والنية الخالصة، واغتنام الأوقات، والثبات حتى الممات.
তিরস্কার (عتاب) বা তদ্রূপ কিছু ছাড়াই, বরং তিনি কেন দেরি করেছেন সে বিষয়ে তিনি তাকে মোটেও জিজ্ঞাসা করতেন না।

অতঃপর তিনি যখন সফরকৃত দেশের বিমানবন্দরে পৌঁছাতেন, তখন প্রশান্তির (سكينة) সাথে নামতেন এবং নামাজের সময় হলে আমরা নামাজ আদায় করতাম। যদি তার সাথে তার পরিবার না থাকত, তবে পৌঁছানোর পরপরই তিনি তাদের সাথে যোগাযোগ করতেন, তাদের সালাম দিতেন এবং নিরাপদে পৌঁছানোর সংবাদ জানাতেন।

একটি সফরে আমরা তায়েফ থেকে রিয়াদের দিকে আসছিলাম; তিনি বিমানবন্দরে আমাদের নিয়ে জোহরের নামাজ পড়লেন এবং এরপর আমরা গাড়িতে উঠলাম। তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেন: "তোমাদের কাছে কী আছে?" এরপর আমরা তার কাছে পাঠ করতে শুরু করলাম যতক্ষণ না তার বাড়িতে পৌঁছালাম। তিনি মজলিসে (المجلس) নিজের স্থান গ্রহণ করলেন এবং যারা তার অপেক্ষায় ছিলেন—সন্তানাদি, আত্মীয়-স্বজন, ইলম অন্বেষী (طلبة العلم) ও অনুরাগী—তাদের সালাম দিলেন। এরপর তিনি টেলিফোনের রিসিভারের দিকে হাত বাড়ালেন এটা নিশ্চিত হতে যে, তিনি কল গ্রহণ করতে পারছেন কি না। যদি তা বন্ধ থাকত, তবে তিনি বলতেন: "এটি খুলে দাও যাতে মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়।" এই সবকিছুই তার ঘরে প্রবেশের আগে সম্পন্ন হতো এবং সফরে এটাই ছিল তার অভ্যাস (دأب)। সমাপ্ত (اهـ)। ইনশাআল্লাহ, তার সফরের অন্যান্য দিক নিয়ে আমাদের আরও আলোচনার সুযোগ আসবে।

তারা জীবদ্দশায় এই পৃথিবীর সৌন্দর্য ছিলেন এবং … মৃত্যুর পর তারা কিতাব ও জীবনীসমূহের (السير) সৌন্দর্য।

আমরা যদি এই ইমামের জীবনের এই অংশটি নিয়ে পর্যালোচনা করতে চাই, তবে আমরা অনেক উপকার (فوائد), শিষ্টাচার (آداب), আখলাক (أخلاق), কর্মতৎপরতা (الجد) ও অধ্যবসায় (المثাবرة) খুঁজে পাব; আর এটি ছিল তার সাধারণ সফরের অবস্থা। তবে তার হজ ও রমজানের সফরের ক্ষেত্রে কর্মতৎপরতা (الجد) ও ত্যাগের (البذل) বিষয়টি বর্ণনা করা প্রায় অসম্ভব। অতএব, আসুন আমরা এ থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করি। হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, তার প্রতি দয়া করুন এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের (المهديين) মধ্যে তার মর্যাদা উচ্চ করুন এবং তাকে নবী ও সত্যবাদীদের (الصديقين) সঙ্গী করুন।

হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে উচ্চ হিম্মত (الهمة), সুদৃঢ় সংকল্প (العزيمة), সত্যনিষ্ঠ আত্মা (النفس الصادقة), বিশুদ্ধ নিয়ত (النية الخالصة), সময়ের সদ্ব্যবহার এবং মৃত্যু পর্যন্ত অটল থাকার (الثبات) তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ১৯)
إن قل نفعك في أرض حللت بها … سافر لتدرك قصدا أم ترى أملا

فالبيض لو لازمت أغمادها تلفت … والشمس لو لم تسر ما حلت الحملا

 

* * * * *

وإذا رأيت الرزق ضاق ببلدة … وخشيت فيها أن يضيق المكسب

فارحل فأرض الله واسعة الفضا … طولا وعرضا شرقها والمغرب

 

وجماع ذلك:

تغرب عن الأوطان تكتسب العلى … وسافر ففي الأسفار خمس فوائد

تفرج هم واكتساب معيشة … وعلم وآداب وصحبة ماجد

فإن قيل: في الأسفار ذل وخسة … وقطع الفيافي وارتكاب الشدائد

فموت الفتى خير له من حياته … بدار هوان بين واش وحاسد

 

ولكن ظهرت فئة أفرادا وجماعات أرادوا أن يركبوا السفر لغير ذاك.

لقد فسد وأفسد من ظن السفر للسياحة في الأرض لهوا وفسادا وخروجا عن أوامر رب العباد!!.

لقد ضل وأضل من ظن السفر للسياحة في الأرض تبرجا وسفورا وغناء ومزامير!!.

لقد زل وأزل من ظن السفر للسياحة في الأرض حرية لا تخضع لشرع أو نظام!!.

إن الأمة المسلمة المؤمنة تريد سياحة للهو المباح المنضبط بأوامر الشرع.

تريد سياحة تكسب الثقافة والمعرفة.
যদি তোমার অবস্থানরত ভূমিতে তোমার উপকারিতা কমে যায় … তবে কোনো লক্ষ্য অর্জন কিংবা আশার সন্ধানে দেশান্তর হও।

কেননা উজ্জ্বল তরবারি যদি সর্বদা তার খাপের ভেতরেই অবস্থান করে তবে তা নষ্ট হয়ে যায় … আর সূর্য যদি পরিভ্রমণ না করত তবে তা কক্ষপথে তার উচ্চ গন্তব্যে পৌঁছাত না।

 

* * * * *

আর যখন তুমি দেখবে কোনো জনপদে রিযিক সংকুচিত হয়ে গেছে … এবং সেখানে উপার্জনের পথ সংকীর্ণ হওয়ার আশঙ্কা করবে—

তবে সেখান থেকে প্রস্থান করো, কেননা আল্লাহর জমিন এক বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তর … দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে, তার প্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যে।

 

সারকথা হলো:

স্বদেশ ত্যাগ করো তুমি উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে … আর সফর করো, কেননা সফরে পাঁচটি উপকারিতা রয়েছে:

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি লাভ ও জীবিকা অর্জন … এবং জ্ঞান অর্জন, শিষ্টাচার শিক্ষা ও মহৎ ব্যক্তির সাহচর্য লাভ।

যদি বলা হয়: সফরে অপমান ও হীনতা রয়েছে … বিজন প্রান্তর পাড়ি দেওয়া এবং কঠোর কষ্টের সম্মুখীন হওয়া;

তবে একজন যুবকের জন্য তার মৃত্যু জীবনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ … কুৎসা রটনাকারী ও হিংসুকের মাঝে লাঞ্ছনার গৃহে বসবাস করার চেয়ে।

 

কিন্তু বর্তমানে এমন কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে যারা এ সকল মহৎ উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কারণে সফরের পথ বেছে নিতে চেয়েছে।

সে ব্যক্তি নিজে কলুষিত হয়েছে এবং অন্যদেরও কলুষিত করেছে যে মনে করে পৃথিবীতে পর্যটন হলো খেল-তামাশা, বিপর্যয় এবং বান্দাদের প্রতিপালকের আদেশের অবাধ্যতা!!.

সে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করেছে যে মনে করে পৃথিবীতে পর্যটন হলো সৌন্দর্য প্রদর্শন, অনাবৃত হওয়া এবং গান ও বাদ্যযন্ত্রের আসর!!.

সে ব্যক্তি পদস্খলিত হয়েছে এবং অন্যকেও পদস্খলিত করেছে যে মনে করে পৃথিবীতে পর্যটন এমন এক স্বাধীনতা যা শরীয়ত বা কোনো সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার অনুগত নয়!!.

নিশ্চয়ই মুমিন মুসলিম উম্মাহ এমন পর্যটন প্রত্যাশা করে যা শরীয়তের নির্দেশাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বৈধ বিনোদনের অন্তর্ভুক্ত হবে।

তারা এমন পর্যটন চায় যা সংস্কৃতি ও জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ২০)
تريد سياحة تكسب النفس الطمأنينة والراحة، ورضا الرب سبحانه وتعالى.

تريد سياحة تكسب الجيل والشباب الانضباط والأخلاق والآداب، لا التمرد والتسيب والضياع.

ولقد ظهرت بوادر رائعة رائدة متميزة نافعة جادة في أنشطة ومخيمات لمشاريع سياحية يتخللها الجانب التوجيهي والترفيهي والدعوى في قدرة على التكيف مع جميع الفئات والأحوال وفق الضوابط الشرعية، وهذا ما أغاظ البعض حينما رموها بالاتهامات الكاذبة وقد أظهرت الألسن ما أخفته القلوب في قالب ظاهره الرحمة وباطنه العذاب.

يرى ناصحا فيما بدا فإذا خلا … فذاك سكين على الحلق حاذق

 

فيا أبطال أمتنا: واصلوا المسير دون عجز أو كلل أو ملل في قوة وهمة وصبر وثبات، في وحدة وائتلاف، والبعد البعد عن الخلاف فهو شر وهلاك وتعطيل وخسران، وضياع للجهود وفتح فرص للأطراف الأخرى لنشر الإرهاب بجميع صوره وأطيافه، فالميدان ميدان تنافس {كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [المؤمنون: 53].

والحق ممتحن ومنصور فلا … تجزع فهذي سنة الرحمن

 

إن ذلك الإقبال على تلك المشاريع السياحية النقية من المحرمات من الصغير والكبير، والرئيس والمرؤوس، والوزير والأمير، والعالم والقاضي لهي أكبر دليل على نجاحها وصلاح المجتمع وإقباله على الفضيلة، وكراهيته ورفضه للرذيلة،
আপনি এমন এক পর্যটন চান যা অন্তরে প্রশান্তি ও আরাম দান করে এবং মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়ক হয়।

আপনি এমন এক পর্যটন চান যা নতুন প্রজন্ম ও যুবসমাজকে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও আদব শিক্ষা দেয়; অবাধ্যতা, লাগামহীনতা ও বিচ্যুতি নয়।

পর্যটন প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ক্যাম্পিংগুলোতে চমৎকার, অগ্রগামী, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, উপকারী ও বলিষ্ঠ কিছু শুভ লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে শরয়ি নীতিমালার আলোকে সকল শ্রেণি ও অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে দিকনির্দেশনামূলক, বিনোদনমূলক ও দাওয়াতি দিকগুলো সমন্বয় করা হয়েছে। আর এটাই এক শ্রেণির মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে, যখন তারা এই উদ্যোগগুলোর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে। তাদের জিহ্বা তাই প্রকাশ করে দিয়েছে যা তাদের অন্তরসমূহ গোপন করেছিল—এমন এক আবরণে যার বাহ্যিক রূপ রহমত মনে হলেও অভ্যন্তরীণ রূপ আজাব বা যন্ত্রণাদায়ক।

প্রকাশ্যে তাকে হিতাকাঙ্ক্ষী মনে হয়, কিন্তু যখন সে নির্জনে যায় … তখন সে গলার ওপর এক ধারালো ছুরির মতো ধারক।

 

হে আমাদের উম্মাহর বীর সন্তানেরা: কোনো অক্ষমতা, ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই শক্তি, হিম্মত, ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে এবং ঐক্য ও সংহতির সাথে পথ চলা অব্যাহত রাখুন। আর মতপার্থক্য থেকে অনেক দূরে থাকুন; কারণ এটি অনিষ্ট, ধ্বংস, অচলবস্থা ও ক্ষতির কারণ। এটি প্রচেষ্টাকে বিনষ্ট করে এবং অন্যদের জন্য সকল প্রকার সন্ত্রাসবাদ প্রচারের সুযোগ তৈরি করে দেয়। কারণ এ ময়দান হলো প্রতিযোগিতার ময়দান—{প্রত্যেক দলই নিজ নিজ যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত} [সূরা আল-মুমিনুন: ৫৩]।

সত্য পরীক্ষিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়, তাই … ঘাবড়াবেন না, কারণ এটিই দয়াময় আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম।

 

ছোট-বড়, উচ্চপদস্থ-নিম্নপদস্থ, মন্ত্রী-আমির এবং আলেম-বিচারক নির্বিশেষে সকলের পক্ষ থেকে হারামমুক্ত সেই পর্যটন প্রকল্পগুলোর প্রতি এমন ব্যাপক আগ্রহ এর সফলতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এটি সমাজের সংশোধন এবং তাদের সচ্চরিত্রের প্রতি অনুরাগ এবং অশ্লীলতার প্রতি ঘৃণা ও তা প্রত্যাখ্যানেরই বহিঃপ্রকাশ।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ২১)
وبراءتها من الإرهاب وأهله، بل عالجت الإرهاب بجميع صوره وأشكاله الفكري والأخلاقي والاجتماعي والأسري، والواقع خير شاهد ولا ينكر المحسوس إلا مكابر أو ممسوس، فكانت بداية مشرقة لقوافل التائبين، وحين الاتهام البينة على المدعي والحكم على الشيء فرع عن تصوره، ولو يعطى الناس بدعواهم لادعى أناس دماء آخرين وأموالهم ولكن البينة على المدعي، والتثبت التثبت قبل إصدار الأحكام يا أولي الألباب.

إن المشاركين بالتوجيه في تلك البرامج والمخيمات هم كبار العلماء والقضاة والدعاة وأساتذة الجامعات وأعضاء مجلس الشورى، أيكون هؤلاء دعاة للإرهاب؟! فجزى الله كل مسؤول وكل مشارك وحاضر محفز ومؤيد وناصر ومشرف وموجه وداعم وعامل وباذل خير- الجزاء والإحسان، ولهم منا ومن كل مسلم ومسلمة تحية إجلال وإكبار وشكر وتقدير ودعاء ووفاء.

ودعوتي ونصيحتي لدعاة الغناء والسياحة المحرمة ألا يكونوا دعاة على أبواب جهنم بل يكونوا دعاة على أبواب الجنة والموعد الله، ولا يهووا بأخلاق الأمة إلى الحضيض ويركبوا بها مركب الضياع، وعلى الأمة وخاصة الشباب هجر تلك المواطن ومقاطعتها، وعلى العلماء وأصحاب الكلمة نصح القائمين عليها وألا يشذ أصحابها على ما قامت به هذه البلاد والولاة على الشريعة الغراء والمحجة البيضاء وإلى الله المشتكى.
এবং সন্ত্রাসবাদ ও এর অনুসারীদের থেকে এর নির্দোষিতা ও পবিত্রতা অনস্বীকার্য; বরং এটি সন্ত্রাসবাদের সকল রূপ ও পদ্ধতি—বুদ্ধিবৃত্তিক, নৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক—সবকিছুরই চিকিৎসা করেছে। বাস্তবতাই এর শ্রেষ্ঠ সাক্ষী, আর যা প্রত্যক্ষ করা যায় তা কেবল অহংকারী বা বিভ্রান্ত ব্যক্তি ব্যতীত কেউ অস্বীকার করে না। এটি ছিল তওবাকারীদের কাফেলার জন্য এক উজ্জ্বল সূচনা। যখন অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তখন প্রমাণ (البينة) উপস্থাপনের দায়িত্ব অভিযোগকারীর ওপর বর্তায়; আর কোনো বিষয় সম্পর্কে হুকুম প্রদান করা সেই বিষয়টি যথাযথ অনুধাবন করারই একটি শাখা। যদি মানুষকে কেবল তাদের দাবির ভিত্তিতেই সব দেওয়া হতো, তবে মানুষ অন্যের রক্ত ও সম্পদের দাবি করে বসত; কিন্তু প্রমাণ (البينة) প্রদানের দায়ভার অভিযোগকারীর ওপর। অতএব হে প্রজ্ঞাবানগণ! কোনো সিদ্ধান্ত বা হুকুম জারির পূর্বে যথাযথ অনুসন্ধান ও নিশ্চিতকরণ (التثبت) একান্ত প্রয়োজন।

নিশ্চয়ই ওই সকল কর্মসূচি ও শিবিরে দিকনির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীরা হলেন বরেণ্য উলামায়ে কেরাম, বিচারকবৃন্দ, দাঈগণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ এবং মজলিসে শুরার সদস্যবৃন্দ। এরা কি কখনো সন্ত্রাসবাদের দিকে আহ্বানকারী হতে পারেন?! আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক দায়িত্বশীল, অংশগ্রহণকারী, উপস্থিত উৎসাহদাতা, সমর্থক, সাহায্যকারী, তত্ত্বাবধায়ক, নির্দেশক, পৃষ্ঠপোষক, কর্মী এবং কল্যাণকামীকে সর্বোত্তম প্রতিদান ও অনুগ্রহ দান করুন। আমাদের পক্ষ থেকে এবং প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি রইল সশ্রদ্ধ সালাম, সম্মাননা, কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধাঞ্জলি, দোয়া ও বিশ্বস্ততা।

গান-বাজনা ও নিষিদ্ধ পর্যটনের প্রবক্তাদের প্রতি আমার আহ্বান ও নসিহত হলো—আপনারা জাহান্নামের দ্বারের দিকে আহ্বানকারী হবেন না, বরং জান্নাতের দ্বারের দিকে আহ্বানকারী হোন; আল্লাহর সাথেই আমাদের সাক্ষাতের নির্ধারিত সময়। আপনারা উম্মাহর চরিত্রকে অধঃপতনের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করবেন না এবং তাদের ধ্বংসের বাহনে আরোহণ করাবেন না। উম্মাহর ওপর, বিশেষ করে যুবকদের ওপর ওই সকল স্থান ত্যাগ করা এবং তা বর্জন করা আবশ্যক। আর আলেম সমাজ ও চিন্তাবিদদের দায়িত্ব হলো এর সাথে সংশ্লিষ্টদের নসিহত করা, যেন তারা এই দেশ ও শরিয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত শাসকবর্গের গৃহীত পথ এবং উজ্জ্বল শরিয়ত ও সুস্পষ্ট আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়। আল্লাহর নিকটই যাবতীয় অভিযোগ।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ২২)
تنبيهات قبل البدء بالسفر:

* حاول أن تحدد أهداف الرحلة والسفر الأساسية والجانبية وضع خطة لذلك.

* حاول أن تكتب كل ما تحتاج حمله في سفرك من أغراض وكتب وبحوث وصور معاملات فقد ينشرح صدرك وتجد حلا لما أشكل فيها، وتجهزها قبل السفر بزمن فقد تنسى بعض المستلزمات إذا كان إعدادك متأخرا ، فيختل كثير من برنامجك وقد تضطر للرجوع في منتصف الطريق أو قطع السفر.

* حاول أن تجتمع بأفراد عائلتك أو من يريد السفر معك للاتفاق لتوزيع المهام، وكتابة ما تحتاج، وخطة السير، وحاول أن تتفقد سيارتك.

* حاول أن تتصل بمن تريد زيارتهم في سفرك وتحدد مواعيد الزيارة ولذلك فوائد كثيرة لا يسع المقام ذكرها.

* حاول أن تتأكد من إغلاق نوافذ وأبواب منزلك والأجهزة الكهربائية وغير ذلك.

وبعد هذه المقدمة حان البدء بالشروع في الأحكام:

 

* * *
সফর শুরু করার পূর্বে কিছু সতর্কতা:

* সফরের মৌলিক এবং আনুষঙ্গিক লক্ষ্যসমূহ নির্ধারণ করার চেষ্টা করুন এবং এর জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন।

* আপনার সফরে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, কিতাবাদি, গবেষণা ও নথিপত্রের অনুলিপি—যা কিছু সাথে নিতে হবে, তা লিখে রাখার চেষ্টা করুন। এতে আপনার চিন্তা স্বচ্ছ হতে পারে এবং কোনো জটিল বিষয়ে সমাধানও পেয়ে যেতে পারেন। সফরের বেশ আগে থেকেই এগুলো প্রস্তুত করে রাখুন; কারণ প্রস্তুতিতে দেরি হলে আপনি হয়তো কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসের কথা ভুলে যেতে পারেন, যা আপনার অনেক কর্মসূচিকে ব্যাহত করতে পারে এবং আপনাকে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বা সফর স্থগিত করতে বাধ্য করতে পারে।

* আপনার পরিবারের সদস্য অথবা যারা আপনার সাথে সফর করবেন, তাদের নিয়ে একটি বৈঠক করার চেষ্টা করুন যাতে কাজের দায়িত্ব বণ্টন, প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা এবং যাত্রাপথ নিয়ে একমত হওয়া যায়। সেই সাথে আপনার গাড়িটিও পরীক্ষা করে নিন।

* সফরে আপনি যাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে চান, তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন এবং সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করে নিন। এর বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে যা এখানে বিস্তারিত আলোচনা করার অবকাশ নেই।

* আপনার ঘরের দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং অন্যান্য বিষয়গুলো সঠিকভাবে বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন।

এই ভূমিকার পর এখন বিধানসমূহ (أحكام) আলোচনা শুরু করার সময় হয়েছে:

 

* * *
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌أولا: الضابط في السفر الذي يترخص فيه:

كل ما عده الناس سفرا فهو سفر، سواء طالت المسافة أم قصرت، طال الوقت أم قصر، والعبرة في ذلك العرف العام، والغالب عند الناس، وتقييده بالزمن أو العمل أو المسافة - قول ضعفه المحققون من أهل العلم كابن قدامة وابن تيمية وابن القيم والسعدي وابن عثيمين رحمهم الله، وهذا يشمل البر والبحر وذلك لعدم الدليل على التحديد، وكل ما ورد في ذلك فهو إما حديث ضعيف أو غير صريح في التحديد، وإنما كان اتفاقا من النبي عليه الصلاة والسلام ولم يقصد بالتحديد بالزمن أو المسافة، ولأن الناس ليسوا كلهم يدركون مقدار المسافات، ولأن أدلة السفر مطلقة في الترخص، لم تقيده بأي قيد، قال تعالى: {وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ} [النساء:101] (1). وبعض العلماء حد ذلك بما زاد عن ثمانين كيلو متر، فمتى سافر هذه المسافة كان مسافرا، ورجحه شيخنا ابن باز وكثير من المعاصرين وقالوا هذا الأضبط لحال الناس.

والخلاصة أن العرف في ذلك لا يخلو من ثلاث حالات:

أ- العرف متفق على أن المسافة مسافة سفر فيقصر.

--------------------------------------------

(1) فتاوى شيخ الإسلام 24/ 12، الممتع 4/ 497.
প্রথমত: যে সফরে রুখসত বা শিথিলতা পাওয়া যায় তার মানদণ্ড (الضابط):

মানুষ যাকে সাধারণত সফর হিসেবে গণ্য করে তাই সফর, চাই তার দূরত্ব বেশি হোক বা কম, সময় দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত। এক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হলো সাধারণ সামাজিক প্রথা (العرف العام) এবং মানুষের মাঝে যা প্রচলিত। আর একে সময়, কর্ম বা দূরত্বের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা এমন একটি মত যাকে মুহাক্কিক (المحققون) আলেমগণ যেমন ইবনে কুদামা, ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনুল কাইয়্যিম, সা'দী এবং ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুমুল্লাহ) দুর্বল (ضعيف) বলে অভিহিত করেছেন। এটি স্থল ও জল উভয় পথকেই শামিল করে, কারণ সীমা নির্ধারণের পক্ষে কোনো দলিল নেই। এই বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা হয় দুর্বল (ضعيف) হাদিস অথবা সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অস্পষ্ট (غير صريح)। আর এটি ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে একটি ঘটনাচক্র মাত্র এবং তিনি সময় বা দূরত্বের সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য করেননি। কেননা সব মানুষের পক্ষে দূরত্বের পরিমাণ উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তাছাড়া সফরে শিথিলতা পাওয়ার দলিলসমূহ নিঃশর্ত (مطلقة), কোনো শর্ত দ্বারা সেগুলোকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যখন তোমরা জমিনে সফর করবে, তখন তোমাদের ওপর কোনো পাপ নেই যে তোমরা নামাজ কসর (সংক্ষিপ্ত) করবে।" [আন-নিসা: ১০১] (১)। কোনো কোনো আলেম একে আশি কিলোমিটারের অধিক বলে নির্ধারিত করেছেন। সুতরাং যখন কেউ এই দূরত্ব অতিক্রম করবে তখন সে মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে। আমাদের শায়খ ইবনে বাজ এবং বর্তমান সময়ের অনেক আলেম এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তারা বলেছেন যে মানুষের অবস্থার প্রেক্ষিতে এটিই অধিকতর সঠিক।

সারকথা হলো, এক্ষেত্রে সামাজিক প্রথা (العرف) তিনটি অবস্থার বাইরে নয়:

ক- সামাজিক প্রথা (العرف) যদি এ বিষয়ে একমত হয় যে উক্ত দূরত্ব সফরের দূরত্ব, তবে কসর করবে।

--------------------------------------------

(১) ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম ২৪/১২, আল-মুমতি' ৪/৪৯৭।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ২৪)
ب- العرف متفق على أن المسافة ليست مسافة سفر فلا يقصر.

ج- العرف مختلف في أن المسافة مسافة قصر فالأحوط عدم القصر.

مسألة: إذا شك الإنسان في المسافة التي تجاوزها، هل تعتبر مسافة سفر عرفا وهل يعتبر بها مسافرا أو مقيما؟ فيقال: يعتبر مقيما، فلا يترخص لا بقصر ولا فطر ولا غيره احتياطا وبراءة للذمة، والاحتياط في مسائل الشك من تمام الديانة، والأصل أن الإنسان مقيم فيستصحب الحال الأصلية له وهي الإقامة كما هو مقرر عند أهل الفقه والأصول، ورجحه الشيخ ابن عثيمين رحمه الله (1).

مسألة: من له طريقان: بعيد مسافة قصر، وقريب لا يبلغ مسافة القصر فله حالات:

أ- إن كان لا يمكن سلوك القريب لعذر ككونه مغلقا أو شاقا أو مخوفا أو غير ذلك وليس قصده الحيلة للترخص، جاز له الترخص لأنه قطع مسافة قصر.

ب- إن كان يمكنه سلوك القريب ولا يوجد عذر يمنعه وسلك البعيد ففيه خلاف بين الفقهاء، ورجح ابن قدامة في الشرح القصر واختاره ابن عثيمين رحمه الله، وهو مذهب الحنابلة.

ج- إن سلك البعيد حيلة لقصد الترخص فليس له الترخص،

--------------------------------------------

(1) الممتع 4/ 499، الممتع 4/ 512.
খ- প্রচলিত প্রথা (العرف) অনুযায়ী ঐক্যমত্য এই যে, দূরত্বটি যদি ভ্রমণের দূরত্ব (سفر) না হয়, তবে কসর (قصر) করা যাবে না।

গ- প্রচলিত প্রথা (العرف) অনুযায়ী দূরত্বটি কসরের (قصر) দূরত্ব কি না সে বিষয়ে যদি মতভেদ থাকে, তবে সাবধানতা (احتياط) স্বরূপ কসর (قصر) না করাই শ্রেয়।

মাসআলা: যদি কোনো ব্যক্তি তার অতিক্রম করা দূরত্বের ব্যাপারে সংশয়ে থাকে যে, সেটি প্রচলিত প্রথা (العرف) অনুযায়ী ভ্রমণের দূরত্ব (سفر) হিসেবে গণ্য হবে কি না, এবং এর মাধ্যমে সে মুসাফির (مسافر) হিসেবে গণ্য হবে নাকি মুকিম (مقيم)? এমতাবস্থায় বলা হবে: সে মুকিম (مقيم) হিসেবেই গণ্য হবে। সুতরাং সাবধানতা (احتياط) অবলম্বন এবং জিম্মাদারী থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সে কসর (قصر), রোজা ভঙ্গ (فطر) কিংবা অন্য কোনো সুযোগ গ্রহণ করবে না। আর সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে সাবধানতা (احتياط) অবলম্বন করা দ্বীনদারীর পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত। আর মূল নীতি হলো মানুষ মুকিম (مقيم) হিসেবে থাকবে; সুতরাং সে তার মৌলিক অবস্থার ওপরই বহাল থাকবে, আর তা হলো অবস্থান বা ইকামত (إقامة), যেমনটি ফিকহ (فقه) ও উসুল (أصول) শাস্ত্রবিদদের নিকট নির্ধারিত। শেখ ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন (১)।

মাসআলা: যার যাতায়াতের জন্য দুটি পথ রয়েছে—একটি দীর্ঘ যা কসরের (قصر) দূরত্বের সমান, অন্যটি নিকটবর্তী যা কসরের (قصر) দূরত্ব পর্যন্ত নয়—তবে তার কয়েকটি অবস্থা রয়েছে:

ক- যদি কোনো ওজরের (عذر) কারণে নিকটবর্তী পথ দিয়ে চলা সম্ভব না হয়, যেমন পথটি বন্ধ থাকা, কষ্টসাধ্য হওয়া বা ভীতিপ্রদ হওয়া ইত্যাদি কারণে, এবং তার উদ্দেশ্য যদি সফরের সুযোগ লাভের কোনো কৌশল (حيلة) না হয়, তবে তার জন্য সেই সুযোগ গ্রহণ করা বৈধ। কারণ সে কসরের (قصر) দূরত্ব অতিক্রম করেছে।

খ- যদি নিকটবর্তী পথ দিয়ে যাতায়াত করা সম্ভব হয় এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা (عذر) না থাকে, তাসত্ত্বেও সে দীর্ঘ পথ দিয়ে চলে, তবে এ বিষয়ে ফকিহদের (فقهاء) মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইবনে কুদামা ‘আশ-শারহ’ গ্রন্থে কসর (قصر) করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) এটিই গ্রহণ করেছেন; আর এটিই হাম্বলি মাজহাবের অভিমত।

গ- যদি কেউ নিছক সফরের সুযোগ গ্রহণের কৌশল (حيلة) হিসেবে দীর্ঘ পথ অবলম্বন করে, তবে তার জন্য সেই সুযোগ গ্রহণ করা বৈধ হবে না।

--------------------------------------------

(১) আল-মুমতি' ৪/ ৪৯৯, আল-মুমতি' ৪/ ৫১২।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ২৫)
نقله في الإنصاف ومال إليه ابن عثيمين (1).

فرع: قال في الشرح الكبير: وحكم سفر البحر حكم سفر البر إن بلغت مسافة سفره مسافة القصر أبيح له وإلا فلا.

 

‌‌ثانيا: بداية أحكام السفر:

إذا فارق الإنسان بنيان بلده ترخص، وإذا ولي البنيان مزارع وبساتين لا يسكنها أهلها طوال العام فلا عبرة بها لأن العبرة بما أعد للسكن، وأما التي تسكن في بعض الأحيان وكذا البيوت الخربة فلا يشترط مجاوزتها لأنه لا عبرة بها، فالترخص يكون بمجاوزة البنيان المسكون طيلة العام، وأما المصانع والشركات فإنه لا يعتد بها إلا إذا وجد فيها مقر سكن للعمال وغيرهم، والمقصود بالبنيان الظاهر والواضح على الطريق أما لو كان مخفيا مثلا وراء الجبال وليس محاذيا للطريق فلا عبرة به كما جاء في الفروع لابن مفلح 2/ 48.

وكل ما ينسب للبلد عرفا أو تنظيما إداريا فهو منه.

قال الشيخ ابن عثيمين رحمه الله: والعبرة بالمفارقة البدنية ـ للبنيان ـ لا البصرية؛ أي: لا يشترط في المفارقة ألا ترى المنازل بل تكفي المفارقة بالبدن (2)، وورد في البخاري: «خرج علي رضي الله عنه فقصر الصلاة وهو يرى البيوت، فلما رجع قيل له: هذه الكوفة قال: لا، حتى ندخلها» قال ابن حجر رحمه الله: وعند

--------------------------------------------

(1) الإنصاف مع الشرح 5/ 65، والممتع 4/ 542.

(2) الممتع 4/ 512.
আল-ইনসাফ গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত হয়েছে এবং ইবনে উসাইমিন এর দিকেই ঝুঁকেছেন (১)।

শাখা আলোচনা: আশ-শারহুল কাবীর-এ বলা হয়েছে: সমুদ্র সফরের বিধান স্থলপথের সফরের বিধানের অনুরূপ; যদি সফরের দূরত্ব কসর করার দূরত্ব (مسافة القصر)-এ পৌঁছায়, তবে তার জন্য তা বৈধ হবে, অন্যথায় নয়।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: সফরের বিধানাবলীর (أحكام) শুরু:

যখন মানুষ তার জনপদের জনবসতি অতিক্রম করে, তখন সে সংক্ষেপণের অনুমতি বা রুখসত (رخصة) গ্রহণ করবে। যদি জনবসতির পরে এমন খামার বা বাগান থাকে যেখানে অধিবাসীরা সারা বছর বসবাস করে না, তবে তার কোনো ধর্তব্য নেই; কারণ ধর্তব্য হলো যা বসবাসের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আর যেগুলোতে মাঝেমধ্যে বসবাস করা হয় কিংবা জরাজীর্ণ বাড়িঘর, সেগুলো অতিক্রম করা শর্ত নয়; কারণ সেগুলোর কোনো ধর্তব্য নেই। সুতরাং সংক্ষেপণের অনুমতি বা রুখসত (رخصة) গ্রহণ করা হবে সারা বছর বসবাস করা হয় এমন বসতি অতিক্রম করার মাধ্যমে। আর কলকারখানা ও কোম্পানিগুলোর কোনো ধর্তব্য নেই, যদি না সেখানে শ্রমিক বা অন্যদের জন্য বসবাসের আবাসন থাকে। আর বসতি বলতে রাস্তার ধারে দৃশ্যমান ও স্পষ্ট জনপদ বোঝানো হয়েছে, কিন্তু তা যদি পাহাড়ের আড়ালে লুকানো থাকে এবং রাস্তার সমান্তরালে না হয়, তবে তার কোনো ধর্তব্য নেই, যেমনটি ইবনে মুফলিহ-এর আল-ফুরূ গ্রন্থে ২/৪৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

এবং প্রথাগতভাবে (عرفا) বা প্রশাসনিক বিন্যাসের দিক থেকে যা কিছু শহরের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হয়, তা শহরের অংশ বলেই বিবেচিত হবে।

শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ধর্তব্য হলো বসতি থেকে শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া, দৃষ্টিগতভাবে নয়; অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে ঘরবাড়ি না দেখতে পাওয়া শর্ত নয়, বরং শারীরিকভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াই যথেষ্ট (২)। এবং সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে: “আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বের হলেন এবং ঘরবাড়ি দৃশ্যমান থাকা সত্ত্বেও সালাত সংক্ষিপ্ত বা কসর (قصر) করলেন। যখন তিনি ফিরে আসলেন, তখন তাকে বলা হলো: ‘এটি কুফা শহর।’ তিনি বললেন: ‘না, যতক্ষণ না আমরা এতে প্রবেশ করি’।” ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আর...

--------------------------------------------

(১) আশ-শারহ্ এর সাথে আল-ইনসাফ ৫/৬৫, এবং আল-মুমতি' ৪/৫৪২।

(২) আল-মুমতি' ৪/৫১২।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ২৬)
البيهقي: "حتى إذا رجعنا ونظرنا إلى الكوفة حضرت الصلاة. قالوا: يا أمير المؤمنين: هذه الكوفة أتم الصلاة قال: لا، حتى ندخلها" (1).

* مسائل في تقطع البيان وتجاور البنيان:

الأولى: إذا كان البنيان كله تابعا للبلد وينسب له عرفا، فإذا كان الانقطاع بين البنيان يسيرا أو كبيرا، فإن الترخص يبدأ بمفارقة آخر بنيان للبلد؛ لأن الحكم للخروج من البلد، وهذا ظاهر فعل الرسول صلى الله عليه وسلم وصحابته.

الثانية: إذا كانت البلد بجوارها بلد آخر سواء كانت متصلة بها أو كان الانقطاع بينهما يسيرا، فيكون الترخص من مفارقته مدينته، ورجحه الإمام النووي والمرداوي والشيخ ابن عثيمين رحمهم الله (2).

 

‌‌ثالثا: أقسام الناس من حيث الاستيطان والسفر والإقامة:

أ- استيطان الإنسان بلده الأصلي، فمثلا الرسول صلى الله عليه وسلم وطنه الأصلي مكة وسكنها في بداية حياته.

حكمه: إذا خرج منه، وفي نيته العودة إليه، ولم يتخذ وطنا غيره، فإن حكمه حكم المسافر.

ب- استيطان الإنسان بلدا غير بلده الأصلي، واتخاذه بلدا

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 2/ 663.

(2) المجموع 4/ 287، الإنصاف 2/ 321، الممتع 4/ 513.
আল-বায়হাকি: "এমনকি যখন আমরা ফিরে এলাম এবং কুফার দিকে তাকালাম, তখন সালাতের সময় হলো। তারা বলল: হে আমিরুল মুমিনিন! এটি কুফা, সালাত পূর্ণ করে পড়ুন। তিনি বললেন: না, যতক্ষণ না আমরা এতে প্রবেশ করি।" (১)।

* ঘরবাড়ির বিচ্ছিন্নতা এবং পার্শ্ববর্তী দালানকোঠা সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ:

প্রথমত: যদি সমস্ত স্থাপনা শহরের অধীন হয় এবং প্রথাগতভাবে সেই শহরের অংশ হিসেবে গণ্য হয়, তবে স্থাপনাগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সামান্য বা বেশি যা-ই হোক না কেন, শহরের শেষ স্থাপনা অতিক্রম করার পর থেকে সফরের অবকাশ (الترخص) গ্রহণ শুরু হবে; কারণ বিধানটি শহর থেকে বের হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এটিই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবিদের কর্ম থেকে স্পষ্ট হয়।

দ্বিতীয়ত: যদি একটি শহরের পাশে অন্য একটি শহর থাকে, তা সেটির সাথে সংযুক্ত হোক বা তাদের মাঝে সামান্য ব্যবধান থাকুক, সেক্ষেত্রে নিজ শহর ত্যাগ করার পর থেকেই সফরের অবকাশ (الترخص) শুরু হবে। ইমাম নববী, মারদাভী এবং শেখ ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুমুল্লাহ) একেই প্রধান্য দিয়েছেন (২)।

 

‌‌তৃতীয়ত: আবাসন, সফর ও অবস্থানের দিক থেকে মানুষের প্রকারভেদ:

ক- মানুষের নিজ আদি বাসভূমিতে বসবাস করা, যেমন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদি স্বদেশ ছিল মক্কা এবং তিনি তাঁর জীবনের প্রথম ভাগে সেখানে বসবাস করেছেন।

এর বিধান: যদি তিনি সেখান থেকে বের হন এবং পুনরায় সেখানে ফিরে আসার নিয়ত থাকে, আর অন্য কোনো স্থানকে স্বদেশ হিসেবে গ্রহণ না করেন, তবে তাঁর বিধান মুসাফিরের (المسافر) বিধানের অনুরূপ হবে।

খ- মানুষের আদি আবাসভূমি ব্যতীত অন্য কোনো দেশে বসতি স্থাপন করা এবং সেটিকে নিজের দেশ হিসেবে গ্রহণ করা...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি ২/ ৬৬৩।

(২) আল-মাজমু ৪/ ২৮৭, আল-ইনসাফ ২/ ৩২১, আল-মুমতি ৪/ ৫১৩।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ২৭)
له وليس من قصده الارتحال عنه، فمثلا الرسول صلى الله عليه وسلم هاجر من مكة إلى المدينة واتخذ المدينة وطنا له.

حكمه: حكم وطنه الأصلي فإذا خرج منه كان مسافرا، فإذا رجع لوطنه الأصلي للزيارة وغيرها، وليس قصده الاستيطان فيه فحكمه حكم المسافر، كالرسول صلى الله عليه وسلم عندما خرج من مكة واستوطن المدينة إذا رجع إلى مكة كان مسافرا.

ج- من سافر إلى بلد ونوى الإقامة به مطلقا فهذا حكمه حكم المستوطن.

د- مسافر أجبر على الإقامة يقصر الصلاة كالأسير وغيره.

هـ- المسافر على الطريق، وهذا يقصر الصلاة اتفاقا.

و- إذا دخل المسافر بلده ولو ليوم واحد لحاجة أو مرور ثم أراد السفر مرة أخرى فإنه يتم لأنه دخل بلده (1).

ز- أصحاب السفر الدائم كسائقي سيارات الأجرة وملاحي الطائرات والسفن لهم حالتان:

1 - إن كان معهم أهلهم في تنقلهم فتعتبر مراكبهم أوطانهم، فلا يترخصون بأحكام السفر لأنهم غير مسافرين.

2 - إن كان لهم أهل ولكنهم لا يحملونهم فلهم الترخص بأحكام السفر فيقصرون الصلاة، وأما صيام رمضان إن كان يشق عليهم أثناء السفر فإنهم يفطرونه ويقضونه في

--------------------------------------------

(1) كشاف القناع 3/ 272.
তার জন্য এবং তা থেকে প্রস্থান করার ইচ্ছা তার নেই। উদাহরণস্বরূপ, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছেন এবং মদিনাকে নিজের স্বদেশ (وطن) হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

তার বিধান: এটি তার মূল স্বদেশের (وطن أصلي) বিধানের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যখন সে তা থেকে বের হবে, সে মুসাফির (مسافر) হিসেবে গণ্য হবে। আর যখন সে তার মূল স্বদেশে ভ্রমণ বা অন্য কোনো কারণে ফিরে আসবে এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের (استيطان) ইচ্ছা থাকবে না, তবে তার বিধান মুসাফিরের (مسافر) বিধান হবে। যেমন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মক্কা থেকে বের হয়ে মদিনায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন, তখন তিনি যখনই মক্কায় ফিরে আসতেন, তিনি মুসাফির (مسافر) হতেন।

গ- যে ব্যক্তি কোনো শহরে সফর করল এবং সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থানের (إقامة) নিয়ত করল, তবে তার বিধান স্থায়ী নিবাসীর (مستوطن) বিধান হবে।

ঘ- যে মুসাফিরকে (مسافر) অবস্থানের (إقامة) জন্য বাধ্য করা হয়েছে, সে সালাত কসর (قصر الصلاة) করবে, যেমন বন্দি (أسير) বা অন্য কেউ।

ঙ- পথিমধ্যে থাকা মুসাফির (مسافر); সে সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاقا) সালাত কসর (قصر الصلاة) করবে।

চ- মুসাফির (مسافر) যদি কোনো প্রয়োজন বা অতিক্রম করার জন্য তার নিজ শহরে প্রবেশ করে, এমনকি একদিনের জন্যও হয়, অতঃপর পুনরায় সফরের ইচ্ছা করে, তবে সে সালাত পূর্ণ (إتمام) করবে; কারণ সে তার নিজ শহরে প্রবেশ করেছে (১)।

ছ- যারা সর্বদা সফরে থাকেন, যেমন ট্যাক্সি চালক এবং বিমান বা জাহাজের নাবিক, তাদের দুটি অবস্থা রয়েছে:

১ - যদি তাদের যাতায়াতের সময় তাদের পরিবার সাথে থাকে, তবে তাদের যানবাহনগুলোই তাদের স্বদেশ (وطن) হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় তারা সফরের রুখসাত (رخص السفر) গ্রহণ করবেন না, কারণ তারা মুসাফির (مسافر) নন।

২ - যদি তাদের পরিবার থাকে কিন্তু তারা তাদের সাথে না নেয়, তবে তাদের জন্য সফরের রুখসাত (رخص السفر) গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। ফলে তারা সালাত কসর (قصر الصلاة) করবেন। আর রমজানের সাওমের (صيام) ক্ষেত্রে যদি সফরের সময় তা তাদের জন্য কষ্টকর হয়, তবে তারা সাওম ভঙ্গ (إفطار) করবেন এবং পরবর্তীতে তা কাজা (قضاء) করবেন...

--------------------------------------------

(১) কাশশাফ আল-কিনা ৩/ ২৭২।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ২৮)
أيام الشتاء لأنها أيام قصيرة وباردة، وأما إذا قدموا بلدهم في رمضان فإنهم يلزمهم الصوم وهو قول في مذهب الحنابلة ورجحه الشيخ ابن عثيمين رحمه الله (1).

ح- إذا سافر الإنسان من بلده وفي الطريق أراد الرجوع إليه لحاجة وغيرها فهل يقصر؟ له حالتان:

1 - إن بلغ مسافة القصر له القصر.

2 - إن لم يبلغ مسافة القصر فلا يقصر (2).

ط- من سافر لبلد للعمل أو الدراسة وغيرها سواء مقيدا سفره بزمن أو عمل فهذه محل خلاف:

قيل: حكمه حكم المسافر في قصر الصلاة، وعليه حضور الجماعة في المسجد، وله المسح على الخفين، والجمع عند المشقة، والصوم في حقه أفضل إن لم يشق عليه، ولا ينبغي أن يؤخر القضاء إلى رمضان آخر لأن ذلك يوجب تراكم الشهور، فيثقل القضاء عليه أو يعجز عنه، ورجحه شيخ الإسلام وابن القيم وابن سعدي وابن عثيمين رحمهم الله والدليل أن الإقامة غير محددة في الشرع لا بزمن ولا عمل، وما ورد فيها إما دليل صريح غير صحيح أو صحيح غير صريح، والناس في الشرع إما مسافر أو مستوطن (3) وهو مذهب ابن عمر وابن عباس وأنس، وإن كانت تعددت الروايات عن ابن عمر.

--------------------------------------------

(1) الإنصاف 5/ 82، الممتع 4/ 539.

(2) كشاف القناع 3/ 270.

(3) الممتع 4/ 512.
শীতের দিনগুলো কারণ তা ছোট ও শীতল; আর যদি তারা রমজান মাসে নিজ শহরে ফিরে আসে তবে তাদের ওপর রোজা রাখা আবশ্যক হয়ে যায়। এটি হাম্বলী মাজহাবের একটি অভিমত এবং শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.) একে প্রাধান্য দিয়েছেন (১)।

জ- যদি কোনো ব্যক্তি নিজ শহর থেকে সফরে বের হয় এবং পথিমধ্যে কোনো প্রয়োজন বা অন্য কোনো কারণে ফিরে আসতে চায়, তবে সে কি কসর করবে? তার জন্য দুটি অবস্থা রয়েছে:

১ - যদি সে কসরের দূরত্ব অতিক্রম করে থাকে, তবে তার জন্য কসর করার বিধান রয়েছে।

২ - যদি সে কসরের দূরত্ব অতিক্রম না করে থাকে, তবে সে কসর করবে না (২)।

ঝ- যে ব্যক্তি কাজ বা পড়াশোনা অথবা অন্য কোনো কারণে কোনো দেশে সফর করেছে, চাই তার সফর কোনো সময়ের সাথে বা কাজের সাথে সীমাবদ্ধ হোক না কেন, এটি মতপার্থক্যের বিষয়:

বলা হয়েছে: নামাজের কসরের ক্ষেত্রে তার বিধান একজন মুসাফিরের বিধানের মতোই হবে; তার ওপর মসজিদে জামাতে উপস্থিত হওয়া আবশ্যক, সে মোজার ওপর মাসেহ করতে পারবে এবং কষ্টের সময় দুই নামাজ একত্রে জমা করতে পারবে। যদি কষ্টকর না হয় তবে রোজা রাখা তার জন্য উত্তম। তার জন্য কাজা রোজা পরবর্তী রমজান পর্যন্ত বিলম্বিত করা উচিত নয়, কারণ এতে মাসগুলো পুঞ্জীভূত হয়ে যায়, ফলে কাজা আদায় করা তার জন্য ভারী হয়ে পড়ে অথবা সে তাতে অক্ষম হয়ে যায়। শায়খুল ইসলাম, ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনে সাদী এবং ইবনে উসাইমীন (রহ.) একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। এর দলিল হলো এই যে, শরিয়তে অবস্থানের (ইকামত) বিষয়টি সময় বা কাজ কোনোটি দিয়েই সুনির্দিষ্ট নয়। আর এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা হয় স্পষ্ট (صريح) কিন্তু বিশুদ্ধ (صحيح) নয়, অথবা বিশুদ্ধ (صحيح) কিন্তু স্পষ্ট (صريح) নয়। শরিয়তে মানুষ হয় মুসাফির নতুবা স্থায়ী বাসিন্দা (৩)। এটি ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস ও আনাস (রা.)-এর মাজহাব, যদিও ইবনে উমর (রা.) থেকে একাধিক বর্ণনা (روايات) রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-ইনসাফ ৫/ ৮২, আল-মুমতি ৪/ ৫৩৯।

(২) কাশশাফুল কিনা ৩/ ২৭০।

(৩) আল-মুমতি ৪/ ৫১২।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقيل: إن نوى إقامة أربعة أيام فأكثر فيتم، ولهم أدلة لكنها غير صريحة في التقييد، وهو مذهب الحنابلة ورجحه ابن باز قال: وهو الأحوط وذهب لهذا القول كثير من العلماء المعاصرين.

ي- إذا سافر الإنسان إلى بلد وأقام فيها لحاجة لا يدري متى تنقضي، جاز له القصر والترخص بأحكام السفر، سواء طالت المدة أم قصرت. بل حكى شيخ الإسلام رحمه الله الاتفاق على ذلك ورجحه الشيخان ـ رحمهما الله ـ (1) والدليل "أنه صلى الله عليه وسلم أقام في بعض أسفاره تسعة عشر يوما يصلي ركعتين" رواه البخاري.

قال ابن المنذر: أجمع أهل العلم أن للمسافر أن يقصر ما لم يُجْمع إقامة ولو أتى عليه سنون. وقال أنس: أقام أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم برامهرمز سبعة أشهر يقصرون الصلاة، رواه البيهقي وصححه النووي وابن حجر الخلاصة 2/ 734 الدراية 1/ 212. وعن أبي جمرة نصر بن عمران قال لابن عباس: إنا نطيل القيام بالغزو بخراسان فكيف ترى، فقال: صل ركعتين وإن أقمت عشر سنين، رواه ابن أبي شيبة. وهذه الأدلة هي أدلة المسألة السابقة، وقد ذكرها ابن حجر في الدراية.

ك- من له دار في وطنه الأصلي ودار في البلد الذي انتقل إليه وتأهل واستقر فيه، إذا انتقل إلى وطنه الأصلي للإقامة في الإجازات والأعياد وغيرها فإنه يقصر لأنه يعتبر

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى ومقالات ابن باز 12/ 274، الممتع 4/ 545، موسوعة الإجماع عند شيخ الإسلام للبوصي، الإنصاف مع الشرح الكبير 5/ 75.
বলা হয়েছে যে, যদি কেউ চার দিন বা তার অধিক সময় অবস্থানের নিয়ত করে তবে সে পূর্ণ নামাজ আদায় করবে। তাদের নিকট কিছু দলীল রয়েছে তবে সেগুলো এই সময়সীমা নির্ধারণের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নয়। এটি হাম্বলি মাজহাবের অভিমত এবং ইবনে বাজ একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: এটিই অধিক সতর্কতামূলক এবং বর্তমান সময়ের অনেক আলেম এই মতটি গ্রহণ করেছেন।

য- যদি কোনো ব্যক্তি কোনো শহরে সফর করে এবং সেখানে কোনো প্রয়োজনে অবস্থান করে অথচ সে জানে না যে কখন সেই প্রয়োজন শেষ হবে, তবে তার জন্য নামাজ কসর করা এবং সফরের সুবিধাসমূহ গ্রহণ করা বৈধ, চাই সেই সময় দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত। বরং শায়খুল ইসলাম (রহ.) এই বিষয়ে ঐক্যমত (الاتفاق) বর্ণনা করেছেন এবং শায়খদ্বয় (রহ.) একেই প্রাধান্য দিয়েছেন (১)। এর দলীল হলো: "রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কোনো এক সফরে উনিশ দিন অবস্থান করেছিলেন এবং দুই রাকাত করে নামাজ পড়েছিলেন।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

ইবনুল মুনজির বলেছেন: বিদগ্ধ আলেমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন (أجمع) যে, মুসাফির ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে অবস্থানের সংকল্প না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত নামাজ কসর করতে পারবে, এমনকি তার ওপর দিয়ে যদি বহু বছরও অতিবাহিত হয়ে যায়। আনাস (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ রাম-হুরমুজ নামক স্থানে সাত মাস অবস্থান করেছিলেন এবং তারা নামাজ কসর করতেন। এটি বায়হাকি বর্ণনা করেছেন এবং নববী ও ইবনে হাজার একে সহিহ (صححه) বলেছেন (আল-খুলাসাহ ২/৭৩৪, আদ-দিরাইয়াহ ১/২১২)। আবু জামরা নাসর ইবনে ইমরান থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাসকে বললেন: আমরা খোরাসানে যুদ্ধাভিযানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করি, এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: তুমি দুই রাকাত পড়ো, এমনকি যদি দশ বছরও অবস্থান করো। এটি ইবনে আবি শাইবাহ বর্ণনা করেছেন। আর এই দলীলগুলোই পূর্বোক্ত মাসআলার দলীল, যা ইবনে হাজার আদ-দিরাইয়াহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

ক- যার নিজের আদি জন্মভূমিতে একটি বাড়ি রয়েছে এবং যে শহরে সে স্থানান্তরিত হয়েছে, বিয়ে করেছে ও স্থায়ীভাবে বসবাস করছে সেখানেও একটি বাড়ি রয়েছে; সে যদি ছুটি বা ঈদ ইত্যাদি উপলক্ষে অবস্থানের জন্য তার আদি জন্মভূমিতে যায়, তবে সে নামাজ কসর করবে কারণ তাকে গণ্য করা হয়...

--------------------------------------------

(১) মাজমু ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত ইবনে বাজ ১২/২৭৪, আল-মুমতি ৪/৫৪৫, মাওসুআতুল ইজমা ইনদা শায়খিল ইসলাম লিল বুসি, আল-ইনসাফ মাআশ শারহিল কাবির ৫/৭৫।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ৩০)
مسافرا، وتملك الدار ليس موجبا للإتمام على الصحيح كما هو مذهب الجمهور (1)، وكذلك إذا مر ببلدة له فيها زوجة أو ولد أو مال فإنه يقصر على الصحيح ما لم ينو الإقامة المطلقة.

ل- إذا استقر الإنسان في بلد وعزم على الإقامة فيه، ثم رجع إلى وطن والديه لزيارتهما وغير ذلك فإنه يترخص بأحكام السفر في مقر إقامة والديه، وهو قول عند الحنابلة ورجحه الشيخ ابن عثيمين رحمه الله (2).

م- من سافر مسافة تعتبر سفرا ولو ليوم واحد ثم رجع إلى بلده فإنه يقصر ما دام يعد مسافرا عرفا، كمن سافر من مكة إلى المدينة ورجع من يومه، ورجحه الشيخان ـ رحمهما الله. وورد عند ابن أبي شيبة في مصنفه عن علي رضي الله عنه أنه خرج إلى النخيلة فصلى بها الظهر والعصر ركعتين ثم رجع من يومه، فقال: أردت أن أعلمكم سنة نبيكم صلى الله عليه وسلم (3).

ن- من يتردد يومياً مسافة قصر كبعض العاملين والمدرسين الدارسين لا يقصر ويجوز الجمع عند المشقة بلا قصر لحديث ابن عباس رضي الله عنه: "أن الرسول صلى الله عليه وسلم جمع بين الظهر والعصر والمغرب والعشاء من غير خوف ولا مطر، فسئل ابن عباس عن ذلك فقال: أراد ألا يحرج أمته" رواه مسلم، وفي

--------------------------------------------

(1) إقامة المسافر وسفر المقيم للفالح ص92، الإنصاف مع الشرح 5/ 77.

(2) كشاف القناع 1/ 509، فتاوى ابن عثيمين 15/ 346.

(3) مجموع فتاوى ومقالات ابن باز 12/ 264، فتاوى ابن عثيمين 15/ 258، 263.
মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন। ঘর-বাড়ির মালিক হওয়া বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুযায়ী নামাজ পূর্ণ করার কারণ নয়, যেমনটি জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলেমদের (الجمهور) মাযহাব (১)। অনুরূপভাবে, তিনি যদি এমন কোনো শহর অতিক্রম করেন যেখানে তাঁর স্ত্রী, সন্তান বা সম্পদ রয়েছে, তবে বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুযায়ী তিনি কসর করবেন, যতক্ষণ না তিনি নিঃশর্ত অবস্থানের (الإقامة المطلقة) নিয়ত করেন।

ল- যদি কোনো ব্যক্তি একটি শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে অবস্থানের সংকল্প করেন, অতঃপর নিজের পিতামাতার সাথে সাক্ষাৎ বা অন্য কোনো প্রয়োজনে তাঁদের জন্মভূমিতে ফিরে যান, তবে তিনি তাঁর পিতামাতার আবাসস্থলে সফরের বিধানাবলি বা রুকসত গ্রহণ করবেন। এটি হাম্বলি মাযহাবের একটি অভিমত এবং শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহ.) একে প্রাধান্য দিয়েছেন (২)।

ম- যে ব্যক্তি এমন দূরত্বে সফর করেন যা সফর হিসেবে গণ্য হয়, এমনকি তা যদি একদিনের জন্যও হয় এবং এরপর তিনি স্বদেশে ফিরে আসেন, তবে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী (عرفا) যতক্ষণ তিনি মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন, ততক্ষণ তিনি কসর করবেন। যেমন— কেউ মক্কা থেকে মদিনায় সফর করলেন এবং সেদিনই ফিরে এলেন; শায়খাইন (রহ.) এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ইবনে আবি শায়বার মুসান্নাফ-এ আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নুখায়েলা নামক স্থানে বের হলেন এবং সেখানে জোহর ও আসরের নামাজ দুই রাকাত করে আদায় করলেন, অতঃপর সেদিনই ফিরে এলেন। এরপর তিনি বললেন: "আমি তোমাদেরকে তোমাদের নবীর সুন্নাত (سنة) শিক্ষা দিতে চেয়েছি" (৩)।

ন- যারা প্রতিদিন সফরের সমপরিমাণ দূরত্বে যাতায়াত করেন, যেমন কিছু চাকুরিজীবী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, তারা কসর করবেন না। তবে কষ্টের ক্ষেত্রে কসর ছাড়াই দুই নামাজ একত্র করা জায়েজ। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয় বা বৃষ্টি ছাড়াই জোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশা একত্র করেছেন। এ সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তিনি চেয়েছিলেন যেন তাঁর উম্মত কষ্টে না পড়ে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এবং

--------------------------------------------

(১) ইকামাতুল মুসাফির ওয়া সাফারুল মুকিম, ফালিহ, পৃ. ৯২; আল-ইনসাফ মা'আশ শারহ ৫/৭৭।

(২) কাশশাফুল কিনা ১/৫০৯; ফাতাওয়া ইবনে উসাইমিন ১৫/৩৪৬।

(৩) মাজমু' ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত ইবনে বাজ ১২/২৬৪; ফাতাওয়া ইবনে উসাইমিন ১৫/২৫৮, ২৬৩।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ৩১)
رواية له: "ولا سفر" والجمع أخف من القصر ورجحه الشيخ ابن عثيمين رحمه الله احتياطا وبراءة للذمة (1)، وقال ابن باز: له القصر في مكان عمله وفي الطريق، وأما إذا وصل بلده فلا يقصر (2).

س- من يقطع مسافة قصر للعمل أو الدراسة ويجلس أيام الدوام والعمل ثم يرجع إلى بلده في عطلة الأسبوع، فإنه يقصر في بلد العمل لكن يجب عليه حضور الجماعة في المسجد ويتم إذا رجع إلى بلد إقامته ووطنه الأصلي ورجحه الشيخ ابن عثيمين رحمه الله (3).

 

‌‌رابعا: الآداب:

*‌‌ حكم استئذان الوالدين في السفر له حالات:

1 - السفر للحج الواجب محل خلاف، وسببه هل الحج على الفور أو التراخي؟ والصحيح أنه لا تجب طاعتهما لو منعاه؛ لأنه لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق؛ ولأن الحج واجب على الفور على الصحيح كما هو مذهب طائفة من الفقهاء، أما النافلة فيجب طاعتهما لو منعاه لأن طاعتهما واجبة وهنا نافلة.

2 - السفر للعلم الواجب ولا يوجد تحصيله في بلده فلا يجب طاعتهما حين المنع، وأما النافلة والفرض الكفائي إن

--------------------------------------------

(1) فتاوى ابن عثيمين 15/ 267، والجمع ذكره الشيخ في فتاوى نور على الدرب.

(2) فتاوى اللجنة 8/ 95.

(3) فتاوى ابن عثيمين 15/ 267.
তাঁর একটি বর্ণনা (رواية)-তে রয়েছে: "এবং কোনো সফর নেই"। দুই সালাত একত্র করা কসর করার চেয়ে সহজতর এবং শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.) সতর্কতা ও দায়মুক্তির খাতিরে একেই প্রাধান্য দিয়েছেন (১)। ইবনে বাজ বলেন: কর্মস্থলে এবং পথে তিনি কসর করতে পারবেন, তবে যখন তিনি নিজ শহরে পৌঁছাবেন তখন আর কসর করবেন না (২)।

প্রশ্ন- যে ব্যক্তি কাজ বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে সফরের দূরত্ব অতিক্রম করে এবং কর্মদিবসগুলোতে সেখানে অবস্থান করে, এরপর সাপ্তাহিক ছুটিতে নিজ শহরে ফিরে আসে; সে কর্মস্থলে কসর করবে। তবে তার জন্য মসজিদে জামাতে উপস্থিত হওয়া আবশ্যক এবং যখন সে তার আবাস্থল ও মূল জন্মভূমিতে ফিরে আসবে তখন পূর্ণ সালাত আদায় করবে। শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.) একেই প্রাধান্য দিয়েছেন (৩)।

 

চতুর্থত: আদবসমূহ:

*সফরের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অনুমতি নেওয়ার বিধানের কয়েকটি অবস্থা রয়েছে:

১ - ফরজ হজের জন্য সফরের বিষয়টি মতভেদপূর্ণ। এর কারণ হলো— হজ কি অবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব নাকি বিলম্বে? সঠিক (الصحيح) মত হলো, তারা নিষেধ করলে তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব নয়; কারণ স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির কোনো আনুগত্য নেই। আর বিশুদ্ধ (الصحيح) মত অনুযায়ী হজ অবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব, যেমনটি একদল ফকিহগণের মাযহাব। তবে নফল হজের ক্ষেত্রে তারা নিষেধ করলে তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব; কারণ তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব আর হজের বিষয়টি এখানে নফল।

২ - আবশ্যকীয় জ্ঞান (ইলম) অর্জনের জন্য সফর করা, যা নিজ শহরে অর্জন করা সম্ভব নয়; এক্ষেত্রে তারা নিষেধ করলে তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব নয়। আর নফল ও ফরজে কিফায়ার ক্ষেত্রে যদি

--------------------------------------------

(১) ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ১৫/২৬৭, এবং দুই সালাত একত্র করার বিষয়টি শায়খ 'ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব'-এ উল্লেখ করেছেন।

(২) ফাতাওয়া আল-লাজনাহ ৮/৯৫।

(৩) ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ১৫/২৬৭।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারু ফি আহকামিস সাফার (পৃষ্ঠা: ৩২)
كان لا يوجد في بلده أو ممن تحتاجه الأمة لتعلمه وقدرته ونبوغه على تحصيله فلا يشترط إذنهما لقوله تعالى: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122].

3 - السفر للتجارة: إن كان لدفع حاجات نفسه أو أهله بحيث لو تركه تأذى بتركه كان له مخالفتهما للحديث المشهور: «لا ضرر ولا ضرار» رواه أحمد وابن ماجة وصححه الألباني في غاية المرام، وإن أراد به تكثراً فلا بد من الإذن.

4 - السفر للجهاد: إذا توفرت شروط الجهاد في البلد الذي وقع فيه القتال وقرر العلماء ذلك فإنه لا بد من الإذن نص حديث رسول الله عليه الصلاة والسلام: «جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستأذنه في الجهاد فقال: أحي والداك؟ قال: نعم، قال: ففيهما فجاهد» رواه البخاري. وعند أبي داود «ارجع فاستأذنهما فإن أذنا لك فجاهد وإلا فبرهما» قال ابن حجر: قال جمهور العلماء يحرم الجهاد إذا منع الأبوان أو أحدهما بشرط أن يكونا مسلمين لأن برهما فرض عين والجهاد فرض كفاية. اهـ (1). ورجحه الشيخان، والمسألة هنا لها تفريعات مظانها في كتب أهل العلم رحمهم الله.

5 - السفر المباح: يشترط إذنهما.

--------------------------------------------

(1) الفتح 6/ 163، ورجحه الشيخان.
যদি জ্ঞানার্জনের বিষয়টি এমন হয় যা তার নিজ শহরে নেই অথবা যা উম্মাহর জন্য শেখা প্রয়োজন এবং তা অর্জন করার মতো সক্ষমতা ও প্রতিভা তার থাকে, তবে সেক্ষেত্রে পিতা-মাতার অনুমতির শর্ত নেই। কেননা মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর মুমিনদের পক্ষে সম্ভব নয় যে, তারা সকলে একযোগে অভিযানে বের হবে। অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের মধ্য হতে একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের নিকট ফিরে আসবে তখন যেন তারা তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে।" [আত-তাওবা: ১২২]।

৩ - ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর: যদি তা নিজের বা নিজ পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর জন্য হয়, যা পরিত্যাগ করলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তবে পিতা-মাতার অসম্মতি সত্ত্বেও সে সফর করতে পারে। এটি ঐ প্রসিদ্ধ হাদিসের কারণে: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না।" এটি আহমাদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী গায়াতুল মারাম-এ একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন। তবে যদি উদ্দেশ্য কেবল সম্পদ বৃদ্ধি হয়, তবে অবশ্যই অনুমতি প্রয়োজন।

৪ - জিহাদের জন্য সফর: যে জনপদে যুদ্ধ শুরু হয়েছে সেখানে যদি জিহাদের শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে এবং উলামায়ে কেরাম তা সাব্যস্ত করেন, তবুও পিতা-মাতার অনুমতি আবশ্যক। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্পষ্ট হাদিসে রয়েছে: "এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে জিহাদের অনুমতি চাইল। তিনি বললেন: তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে তাদের সেবায় তুমি জিহাদ (পরিশ্রম) করো।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ-এ বর্ণিত হয়েছে: "তুমি ফিরে যাও এবং তাদের কাছে অনুমতি চাও। যদি তারা অনুমতি দেয় তবে জিহাদ করো, অন্যথায় তাদের সেবা করো।" ইবনে হাজার বলেন: জুমহুর বা অধিকাংশ আলেমদের মতে, পিতা-মাতা বা তাদের কোনো একজন যদি নিষেধ করেন তবে জিহাদ করা হারাম, শর্ত হলো তাদের মুসলিম হতে হবে। কারণ তাদের সেবা করা ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (فرض عين), আর জিহাদ হলো সামষ্টিকভাবে আবশ্যক (فرض كفاية)। সমাপ্ত (১)। শায়খাইন একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গের বিবিধ শাখা-প্রশাখা রয়েছে যা বিজ্ঞ আলেমদের (আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন) কিতাবসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

৫ - বৈধ (مباح) সফর: এক্ষেত্রেও তাদের অনুমতি শর্ত।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী ৬/১৬৩, শায়খাইন একেই প্রাধান্য দিয়েছেন।