(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: -)
الإنباه إلى حكم تارك الصلاة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الإنباه إلى حكم تارك الصلاة، ويليه (ملحوظات على كتاب الصلاة)
المؤلف: أبو محمد، عبد الله بن مانع بن غلاب الغبيوي الروقي العتيبي
الناشر: دار ابن خزيمة للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 1992 م
عدد الصفحات: 62
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 جُمادَى الأولى 1436
সালাত বর্জনকারীর বিধানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ (مسائل فقهية)
বই: সালাত বর্জনকারীর বিধানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ, এবং এর পরবর্তী অংশ (সালাত অধ্যায়ের ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ)
লেখক: আবু মুহাম্মদ, আবদুল্লাহ বিন মানি বিন গাল্লাব আল-গাবিবি আল-রুকী আল-উতাইবি
প্রকাশক: দার ইবনে খুজাইমাহ প্রকাশনী ও বিতরণ কেন্দ্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ জুমাদাল উলা ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: -)
الإنباه إِلَى حكم تَارِك الصَّلَاة
ويليه
ملحوظات على كتاب الصَّلَاة
للعلامة مُحَمَّد نَاصِر الدّين الألباني
بقلم:
أبي مُحَمَّد عبد الله بن مَانع الروقي
সালাত পরিত্যাগকারীর বিধান (حكم) সম্পর্কে সচেতনতা
এবং এর পরবর্তী অংশ
কিতাবুস সালাত-এর ওপর কিছু টীকা
আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী-র
লেখনীতে:
আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মানে’ আর-রুকী
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمدلله نحمده ، ونستعينه، ونستغفره ، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ، وسيئات أعمالنا ، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له ، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ، كلمة قامت بها الأرض والسماوات ، وفطر الله عليها جميع المخلوقات ، وعليها أُسست المللة ، ونصبت القبلة ، ولأجلها جردت سيوف الجهاد، وبها أمر الله جميع العباد ، وهي كلمة الإسلام ، ومفتاح دار السلام ، وأساس الفرض والسنة ، ومن كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة.
وأشهد أن محمداً عبده ورسوله وخيرته من خلقه ، وأمينه على وحيه أرسله الله رحمة للعالمين ، وقدوة للسالكين ، وحجة على المعاندين ، وحسرة على الكافرين ، أشرقت برسالته الأرض بعد ظلمتها.
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এটি এমন এক বাণী যার ওপর ভিত্তি করে আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আল্লাহ এর ওপরই সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন। এর ওপরই মিল্লাত বা দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং কিবলা নির্ধারিত হয়েছে। এই বাণীর জন্যই জিহাদের তলোয়ার কোষমুক্ত করা হয়েছে এবং এরই মাধ্যমে আল্লাহ সকল বান্দাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এটিই ইসলামের বাণী এবং জান্নাতের চাবিকাঠি। এটিই সকল ফরয ও সুন্নতের (سنة) মূল ভিত্তি। যার শেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি তাঁর ওহীর আমানতদার; যাকে আল্লাহ বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে, সত্যপথের অনুসারীদের জন্য আদর্শ হিসেবে, হঠকারীদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে এবং কাফেরদের জন্য আক্ষেপের কারণ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে পৃথিবী ঘনীভূত অন্ধকারের পর আলোকিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
وتألفت به القلوب بعد شتاتها ، فصلوات الله وملائكته عليه وآله وسلم تسليماً كثيراً (1).
وعلى صحبة عصابة الإيمان ، وعسكر القرآن ، وجند الرحمن ، ألين الأمة قلوباً ، وأعمقها علماً، وأقلها تكلفاً ، وأحسنها بياناً، وأعمها نصيحة، وأقربها إلى الله وسيلة ، فالعلم علمهم ، والفهم فهمهم ، لما خصهم الله تعالى من توقد الأذهان ، وفصاحة اللسان ، وسعة العلم، وسهولة الأخذ ، وحسن الإدراك وسلامة القصد، وتقوى الرب، فالعربية طبيعتهم وسليقتهم، والمعاني الصحيحة مركوزة في فطرهم وعقولهم ، ولا حاجة بهم إلى النظر في الإسناد وعلله ، ولا إلى النظر في الأصول وقواعده ، بل قد غنوا عن ذلك كله ، فليس في حقهم ، إلا أمران:
أحدهما: قال تعالى كذا ، أو قال رسوله كذا.
الثاني: معناه كذا ، وكذا.
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে (নবীজির মাধ্যমে) বিক্ষিপ্ত হওয়ার পর অন্তরসমূহ সুসংহত হয়েছে; সুতরাং আল্লাহর রহমত ও তাঁর ফেরেশতাদের দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর—অবারিত সালাম (১)।
আর (সালাম বর্ষিত হোক) তাঁর সেই সাথীদের ওপর, যারা ছিলেন ঈমানের দল, কুরআনের বাহিনী এবং রহমানের সেনাদল। তাঁরা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে হৃদয়ের দিক থেকে সবচেয়ে কোমল, ইলমের (জ্ঞানের) দিক থেকে সবচেয়ে গভীর, কৃত্রিমতা ও লৌকিকতার দিক থেকে সবচেয়ে মুক্ত, বর্ণনার দিক থেকে সবচেয়ে সাবলীল, উপদেশের দিক থেকে সবচেয়ে ব্যাপক এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অসিলায় সবচেয়ে অগ্রবর্তী। প্রকৃত জ্ঞান তো তাঁদেরই জ্ঞান এবং সঠিক উপলব্ধি তো তাঁদেরই উপলব্ধি; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে প্রখর মেধা, প্রাঞ্জল ভাষা, ইলমের প্রশস্ততা, সহজে শিক্ষা গ্রহণ, উত্তম অনুধাবন ও বিশুদ্ধ সংকল্পের মাধ্যমে বিশিষ্টতা দান করেছেন। আরবি ভাষা ছিল তাঁদের প্রকৃতি ও মজ্জাগত স্বভাব এবং সঠিক অর্থ ও মর্ম তাঁদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও বিবেকের গভীরে প্রোথিত ছিল। সনদ (إسناد) ও তার ত্রুটিসমূহ (علل) নিয়ে অনুসন্ধান করার কোনো প্রয়োজন তাঁদের ছিল না, আর না ছিল উসুল (أصول) ও এর মূলনীতিসমূহ নিয়ে পর্যালোচনার কোনো আবশ্যকতা। বরং তাঁরা এ সবকিছু থেকেই অমুখাপেক্ষী ছিলেন। তাঁদের ক্ষেত্রে কেবল দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল:
প্রথমটি: আল্লাহ তাআলা এই বলেছেন অথবা তাঁর রাসুল এই বলেছেন।
দ্বিতীয়টি: এর অর্থ ও মর্ম হলো এরূপ এবং এরূপ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
وهم أسعد الناس بهاتين المقدمتين ، وأحظى الأمة بهما ، فقواهم مجتمعة عليهما، وأما المتأخرون فقواهم متفرقة ، وهممهم متشعبة ، فالعربية وتوابعها قد أخذت من قوى أذهانهم شعبة ، والأصول وقواعده قد أخذت منها شعبة ، وعلم الإسناد ، وأحوال الرواة قد أخذ منها شعبة.
فإذا وصلوا إلى النصوص النبوية-إن كان لهم همم تسافر إليها - وصلوا إليها بقلوب وأذهان قد كلَّت من السير في غيرها، وأوهن قواهم مواصلة السرى في سواها ، فأدركوا من النصوص ومعانيها بحسب تلك القوة.
والمقصود: أن الصحابة رضي الله عنهم -أغناهم الله عن ذلك كله، فاجتمعت قواهم على تينك المقدمتين فقط مع ماخصوا به من قوى الأذهان وصفائها ، صحتها وقوة إدراكها ، وقلة الصوارف ، وكثرة المعاون، وقرب العهد بنور النبوة (1)
--------------------------------------------
তাঁরা এই দুটি প্রারম্ভিক বিষয়ের (المقدمتان) ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান এবং এই উম্মতের মাঝে এ দুটি বিষয়ে সর্বাধিক লাভবান। ফলে তাঁদের পূর্ণ শক্তি এই দুই বিষয়ের ওপরই নিবদ্ধ ছিল। অন্যদিকে পরবর্তী প্রজন্মের (المتأخرون) শক্তি বিক্ষিপ্ত এবং তাঁদের সংকল্পগুলো বহু শাখায় বিভক্ত। ফলে আরবি ভাষা ও এর আনুষঙ্গিক জ্ঞানসমূহ তাঁদের মেধার শক্তির একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে, উসুল (الأصول) ও এর মূলনীতিসমূহ (القواعد) নিয়েছে আরেকটি অংশ এবং সনদ সংক্রান্ত জ্ঞান (الإسناد) ও বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرواة) নিয়েছে অন্য একটি অংশ।
সুতরাং যখন তাঁরা নববী নস (النصوص) তথা মূল ভাষ্য পর্যন্ত পৌঁছান—যদি সে পর্যন্ত সফর করার মতো হিম্মত তাঁদের থাকে—তখন তাঁরা সেখানে এমন অন্তর ও মেধা নিয়ে পৌঁছান যা অন্য পথে চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। অন্য বিষয়ের পথে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমে তাঁদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেছে। ফলে অবশিষ্ট মেধা ও শক্তির অনুপাতে তাঁরা সেই নস ও তার মর্মার্থগুলো অনুধাবন করেন।
মূল উদ্দেশ্য হলো: সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)—আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে এই সবকিছুর থেকে অমুখাপেক্ষী রেখেছেন। ফলে তাঁদের সকল শক্তি কেবল উক্ত দুটি প্রারম্ভিক বিষয়ের (المقدمتان) ওপরই নিবদ্ধ ছিল। এর পাশাপাশি তাঁদের ছিল বিশেষ মেধা ও তার স্বচ্ছতা, সুস্থতা ও প্রখর উপলব্ধি ক্ষমতা, একাগ্রতা নষ্টকারী উপকরণের স্বল্পতা, সহায়তাকারী উপকরণের প্রাচুর্য এবং নবুওয়তের নূরের নিকটতম সান্নিধ্য। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
فرضي الله عن القوم ، فإن فضائلهم لا يسطرها خطاب ، ولا يتسع لها كتاب.
أما بعد:
فإن الصلاة أمرها عظيم ، وخطبها جسيم ، وقد أنزلها الله من دينه المنزلة العلية ، والرتبة السَّنية ، فهي عمود الإسلام ، وشعار أهله ، وأول ما يحاسب عليه العبد من دينه يوم الدين ، والتي أخبر الرسول صلى الله عليه وسلم بأنها آخر ما يفقد من الدين، بل أخبر بكفر تاركها ، ونقل ذلك عن الأصحاب.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية (20/ 97 - مجموع الفتاوى): " وتكفير تارك الصلاة هو المشهور عن جمهور السلف من الصحابة والتابعين" أ. هـ.
وقد أبدى النبي صلى الله عليه وسلم في أمرها وأعاد حتى حفظ عنه في أمرها ما لم يحفظ عنه في غيرها من أبواب العلم ، فالآثار فيها أكثر الآثار ، وما نقل في فضلها ، وصفتها ،
আল্লাহ সেই মহান ব্যক্তিবর্গের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, কেননা তাঁদের গুণাবলি কোনো ভাষণে লিখে শেষ করা সম্ভব নয় এবং কোনো কিতাবেও তা সংকুলান হবে না।
অতঃপর: নামাজের বিষয়টি অত্যন্ত মহান এবং এর গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনের মধ্যে একে উচ্চ মর্যাদা ও সুউচ্চ স্তরে আসীন করেছেন। এটি ইসলামের স্তম্ভ এবং এর অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য। কিয়ামতের দিন বান্দার দ্বীন থেকে সর্বপ্রথম যার হিসাব নেওয়া হবে তা হলো নামাজ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, দ্বীনের বিষয়াবলির মধ্য থেকে নামাজই হবে সর্বশেষ বিলুপ্ত বিষয়; বরং তিনি নামাজ পরিত্যাগকারীকে কাফির সাব্যস্ত করার (تكفير) বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন এবং সাহাবীগণের পক্ষ থেকে তা বর্ণিত হয়েছে।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (মাজমুউল ফাতাওয়া, ২০/৯৭) বলেন: "নামাজ পরিত্যাগকারীকে কাফির সাব্যস্ত করা (تكفير) সাহাবী ও তাবিঈদের (تابعين) অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ (جمهور) পূর্বসূরিদের (سلف) নিকট একটি সুপ্রসিদ্ধ মত।" সমাপ্ত।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাজের ব্যাপারে বারবার গুরুত্বারোপ করেছেন, এমনকি নামাজের বিষয়ে তাঁর থেকে যা সংরক্ষিত হয়েছে তা ইলমের অন্য কোনো অধ্যায়ে সংরক্ষিত হয়নি। ফলে এই বিষয়ে বর্ণনাগুলো (آثار) সংখ্যায় সর্বাধিক, যা এর ফজিলত ও পদ্ধতির বিবরণে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
وأنواعها ، وأحكامها ، وسننها ، وتوابعها ، لا يدانيه نقل آخر، حتى قال أبو حاتم ابن حبًّان: " إن في أربع ركعات يصليها الإنسان ستمائة سُنَّة عن النبي" (1).
وقد ذكرت فيما بين يديك أخي جانباً من عظمة هذه الشعيرة، انتقيته من كلام الحبر البحر الذي لا ساحل له، فارس المعقول ، والمنقول، المتَفَنِّن الموهوب، الموفق ، الذي ملئ علماً وديناً وعقلاً من قرنه إلى قدمه، المجدد بلا شك ، شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية ، نّور الله ضريحه ، وأعلى درجته. آمين.
وذكرت ضابط تكفير تارك الصلاة وذكرت فيما بين ذلك فوائد ملحقة بالموضوع ، ومكملة له.
--------------------------------------------
এবং এর প্রকারভেদসমূহ, এর বিধানসমূহ, এর সুন্নতসমূহ (سنن) এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়াবলি; যার সমকক্ষ অন্য কোনো বর্ণনা নেই। এমনকি আবু হাতিম ইবনে হিব্বান বলেছেন: "মানুষ যে চার রাকাত সালাত আদায় করে, তাতে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত ছয়শটি সুন্নত (سنة) রয়েছে" (১)।
হে আমার ভাই, আমি আপনার সম্মুখে এই মহান ইবাদতের মহত্ত্বের কিছু দিক উপস্থাপন করেছি, যা আমি সেই কূলহীন সমুদ্রতুল্য বিদগ্ধ পণ্ডিত, যুক্তি ও শ্রুতিনির্ভর (منقول) জ্ঞানের অনন্য কারিগর, বহুবিদ শাস্ত্রের প্রতিভাধর ও সফল ব্যক্তিত্বের বাণী থেকে চয়ন করেছি, যিনি আপাদমস্তক জ্ঞান, ধর্মভীরুতা ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ ছিলেন। তিনি নিঃসন্দেহে একজন সংস্কারক, শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ; আল্লাহ তাঁর কবরকে আলোকিত করুন এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। আমিন।
আমি সালাত ত্যাগকারীকে কাফির সাব্যস্ত করার নীতিমালা বর্ণনা করেছি এবং এর পাশাপাশি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ও সম্পূরক কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা উল্লেখ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
والله أسأله أن يتقبله مني ، وأن ينفع به كاتبه وقارئه وسامعه ، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
قاله كاتبه:
أبو محمد عبدالله بن مانع الروقي
এবং আল্লাহর নিকট আমি প্রার্থনা করি যেন তিনি এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে এর লেখক, পাঠক ও শ্রোতাকে উপকৃত করেন। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
এটি এর লেখক বলেছেন:
আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মানি' আর-রুকি
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
فصلقال شيخ الإسلام رحمه الله (7/ 609):
" تنازع العلماء في تكفير من يترك شيئا من هذه الفرائض الأربع بعد الاقرار بوجوبها، فأما الشهادتان إذا لم يتكلم بهما مع القدرة فهو كافر باتفاق المسلمين، وهو كافر ظاهراً وباطناً عند سلف الأمة وأئمتها، وجماهير علمائها، وذهبت طائفة من المرجئة، وهم جهمية المرجئة: كجهم ، والصالحى، وأتباعهما إلى أنه إذا كان مصدقاً بقلبه كان كافرا في الظاهر دون الباطن، وقد تقدم التنبيه على أصل هذا القول، وهو قول مبتدع في الإسلام لم يقله أحد من الأئمة ، وقد تقدم أن الإيمان الباطن يستلزم الإقرار الظاهر بل وغيره، وأن وجود الايمان الباطن تصديقاً وحُباً وانقياداً بدون الإِقرار الظاهر ممتنع (1).
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদশাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৭/ ৬০৯):
"এই চারটি ফরযের কোনোটি পালনে অনীহা প্রকাশকারীকে কাফির সাব্যস্ত করার (تكفير) বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন, যদি সে এগুলোর আবশ্যকতা স্বীকার করে নেওয়ার পর তা ত্যাগ করে। তবে শাহাদাতাইন বা দুই সাক্ষ্যের ব্যাপারে কথা হলো, যদি কেউ সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা উচ্চারণ না করে, তবে মুসলিমদের ঐকমত্যের (اتفاق) ভিত্তিতে সে কাফির (كافر)। উম্মতের (أمة) সলফ (سلف), ইমামগণ এবং অধিকাংশ (جماهير) আলেমদের নিকট সে বাহ্যত ও অভ্যন্তরীণভাবে কাফির (كافر)। মুরজিয়াদের (المرجئة) একটি দল—যারা মূলত মুরজিয়াদের অন্তর্ভুক্ত জাহমিয়া (جهمية), যেমন: জাহম, সালিহি এবং তাদের অনুসারীরা—তারা মনে করে যে, যদি সে অন্তরে বিশ্বাসী হয়, তবে সে কেবল বাহ্যিকভাবে কাফির (كافر), অভ্যন্তরীণভাবে নয়। এই মতের মূল ভিত্তি সম্পর্কে ইতিপূর্বেই সতর্ক করা হয়েছে; এটি ইসলামে একটি উদ্ভাবিত (مبتدع) মত যা ইমামদের কেউ বলেননি। ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভ্যন্তরীণ ঈমান (إيمان) বাহ্যিক স্বীকৃতিকে (الإقرار الظاهر) বরং তদুপরি অন্যান্য বিষয়কেও আবশ্যক করে। আর বাহ্যিক স্বীকৃতি (الإقرار الظاهر) ব্যতিরেকে কেবল বিশ্বাস, ভালোবাসা ও আনুগত্যের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঈমান (إيمان) থাকা অসম্ভব (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأما الفرائض الأربع فإذا جحد وجوب شيء منها بعد بلوغ الحجة فهو كافر، وكذلك من جحد تحريم شيء من المحرمات الظاهرة المتواتر تحريمها، كالفواحش والظلم والكذب والخمر ونحو ذلك.
وأما من لم تقم عليه الحجة مثل: أن يكون حديث عهد بالإسلام، أو نشأ ببادية بعيدة لم تبلغه فيها شرائع الاسلام ونحو ذلك (1)، أو غلط فظن أن الذين آمنوا وعملوا الصالحات يستثنون من تحريم الخمر، كما غلط في ذلك الذين استتابهم عمر ، وأمثال ذلك، فإنهم يستتابون وتقام الحجة عليهم، فإن أصروا كفروا
--------------------------------------------
আর চারটি ফরজের ক্ষেত্রে, অকাট্য দলিল (حجة) পৌঁছানোর পর যদি কেউ সেগুলোর কোনো একটির আবশ্যকতাকে অস্বীকার করে, তবে সে কাফির। একইভাবে, যে ব্যক্তি এমন কোনো প্রকাশ্য হারামের নিষিদ্ধতাকে অস্বীকার করে যার হারাম হওয়া অবিচ্ছিন্ন (متواتر) ভাবে প্রমাণিত, যেমন অশ্লীলতা, জুলুম, মিথ্যা, মদ এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ।
আর যাদের বিরুদ্ধে অকাট্য দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যেমন: কেউ নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছে, অথবা এমন কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে বড় হয়েছে যেখানে ইসলামের বিধানসমূহ তার কাছে পৌঁছায়নি এবং অনুরূপ (১), কিংবা কেউ ভুলবশত মনে করল যে, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তারা মদের নিষিদ্ধতার বিধান থেকে ব্যতিক্রম, যেমনটি ভুল করেছিলেন তারা যাদেরকে ওমর (রা.) তওবা করতে বলেছিলেন এবং এই জাতীয় অন্যান্যরা; তবে তাদের তওবা করার আহ্বান জানানো হবে এবং তাদের নিকট অকাট্য দলিল (حجة) পেশ করা হবে। এরপরও যদি তারা অস্বীকারে অনড় থাকে, তবে তারা কাফির বলে গণ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حينئذٍ ولا يحكم بكفرهم قبل ذلك، كما لم يحكم الصحابة بكفر قدامة بن مظعون وأصحابه لما غلطوا فيما غلطوا فيه من التأويل (1).
وأما مع الإقرار بالوجوب إذا ترك شيئاً من هذه الأركان الأربعة ففي التكفير أقوال للعلماء هي روايات عن أحمد
… :
أحدها: أنه يكفر بترك واحد من الأربعة حتى الحج-وإن كان في جواز تأخيره نزاع بين العلماء- فمتى عزم على تركه بالكلية كفر، وهذا قول طائفة من السلف، وهي إحدى الروايات عن أحمد اختارها أبو بكر.
الثاني: أنه لا يكفر بترك شيء من ذلك مع الاقرار بالوجوب، وهذا هو المشهور عند كثير من
--------------------------------------------
তখন এবং এর আগে তাদের কাফির হওয়ার ফয়সালা করা হবে না, যেমনিভাবে সাহাবীগণ কুদামা ইবনে মাজউন ও তাঁর সঙ্গীদের কাফির হওয়ার ফয়সালা করেননি যখন তাঁরা ব্যাখ্যার (تأويل) ক্ষেত্রে ভুল করেছিলেন (১)।
আর আবশ্যকতা (وجوب) স্বীকার করার সাথে এই চারটি রুকনের কোনোটি ত্যাগ করার ক্ষেত্রে কাফির সাব্যস্ত করার (تكفير) বিষয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন উক্তি রয়েছে যা আহমাদ থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত (روايات) হিসেবে পরিচিত
… :
প্রথমটি: এই চারটির মধ্যে কোনো একটি বর্জন করলেই সে কাফির হয়ে যাবে, এমনকি হজ্জও—যদিও তা বিলম্বিত করার বৈধতার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে—সুতরাং যখনই কেউ তা সম্পূর্ণরূপে বর্জনের দৃঢ় সংকল্প করবে, সে কাফির হয়ে যাবে। এটি সালাফদের (سلف) একটি দলের অভিমত এবং এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত অন্যতম রিওয়ায়াত (روايات) যা আবু বকর চয়ন করেছেন।
দ্বিতীয়টি: আবশ্যকতা (وجوب) স্বীকার করার সাথে এগুলোর কোনোটি বর্জন করলে সে কাফির হবে না, আর এটিই অনেকের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور) মত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الفقهاء من أصحاب أبي حنيفة، ومالك، والشافعي، وهو إحدى الروايات عن أحمد اختارها ابن بطة (1).
والثالث: لا يكفر إلا بترك الصلاة، وهي الرواية الثالثة عن أحمد وقول كثير من
السلف، وطائفة من أصحاب مالك، والشافعى، وطائفة من أصحاب أحمد.
والرابع: يكفر بتركها ، وترك الزكاة فقط
… .
والخامس: بتركها، وترك الزكاة إذا قاتل الإمام عليها دون ترك الصيام والحج وهذه المسألة لها طرفان
… :
أحدهما: في إثبات الكفر الظاهر
… .
والثاني: في إثبات الكفر الباطن
… .
--------------------------------------------
আবু হানিফা, মালিক এবং শাফিঈর অনুসারী ফকিহগণ (فقهاء); এবং এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর (روايات) একটি যা ইবনে বাত্তাহ্ পছন্দ করেছেন (১)।
এবং তৃতীয় (মতামত): সালাত বর্জন ব্যতীত অন্য কিছুতে সে কাফির (كافر) হবে না; এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত তৃতীয় বর্ণনা (رواية) এবং অনেক
সালাফের (سلف) অভিমত, এবং মালিক ও শাফিঈর অনুসারীদের একটি দল এবং আহমাদের অনুসারীদের একটি দলেরও এটি অভিমত।
এবং চতুর্থ (মতামত): শুধুমাত্র সালাত এবং জাকাত বর্জন করলেই সে কুফরিতে (كفر) লিপ্ত হবে
… ।
এবং পঞ্চম (মতামত): সালাত ও জাকাত বর্জন করলে, যদি ইমাম এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন, তবে সিয়াম ও হজ বর্জন করা ব্যতীত। আর এই মাসআলার (مسألة) দুটি দিক রয়েছে
… :
প্রথমটি: প্রকাশ্য কুফরি (كفر ظاهر) প্রমাণের ক্ষেত্রে
… ।
দ্বিতীয়টি: অভ্যন্তরীণ কুফরি (كفر باطن) প্রমাণের ক্ষেত্রে
… ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فأما الطرف الثاني فهو مبنى على مسألة كون الإيمان قولاً وعملاً كما تقدم ، ومن الممتنع أن يكون الرجل مؤمناً إيماناً ثابتاً في قلبه بأن الله فرض عليه الصلاة والزكاة والصيام والحج ويعيش دهره لا يسجد لله سجدة، ولا يصوم رمضان، ولا يؤدي لله زكاة، ولا يحج إلى بيته، فهذا ممتنع، ولا يصدر هذا إلا مع نفاق في القلب وزندقة لا مع إيمان صحيح، ولهذا إنما يصف سبحانه بالامتناع عن السجود الكفار كقوله:
{يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ} [القلم: 42، 43].
وقد ثبت في الصحيحين وغيرهما، من حديث أبي هريرة وأبي سعيد وغيرهما في الحديث الطويل-حديث التجلي-: (أنه إذا تجلى تعالى لعباده يوم القيامة سجد له المؤمنون ، وبقي ظهر من كان يسجد في الدنيا رياء
দ্বিতীয় পক্ষটি মূলত ইমান যে কথা ও কাজের সমষ্টি—এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যেমনটি ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। এটা অসম্ভব যে, কোনো ব্যক্তি তার অন্তরে এই অটল (ثابت) বিশ্বাসের সাথে মুমিন হবে যে আল্লাহ তার ওপর সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজ ফরজ করেছেন, অথচ সে তার জীবন কাটিয়ে দেবে কিন্তু আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সিজদাও করবে না, রমজানের রোজা রাখবে না, আল্লাহর প্রাপ্য জাকাত আদায় করবে না এবং তাঁর ঘরের হজ পালন করবে না; এটা অসম্ভব। অন্তরে কপটতা (نفاق) ও ধর্মদ্রোহিতা (زندقة) ব্যতীত সঠিক (صحيح) ইমানের সাথে এমন আচরণ প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব। এই কারণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সিজদা করতে অক্ষম হওয়াকে কেবল কাফিরদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন:
“যেদিন পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহ্বান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে; অথচ যখন তারা সুস্থ-সবল ছিল তখন তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহ্বান জানানো হতো।” [আল-কালাম: ৪২, ৪৩]।
আর সহিহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে আবু হুরাইরা, আবু সাঈদ এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে—তাজাল্লির হাদিসে—সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে: “কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ যখন তাঁর বান্দাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন, তখন মুমিনগণ তাঁকে সিজদা করবেন; কিন্তু যে ব্যক্তি দুনিয়াতে লোক দেখানোর জন্য সিজদা করত, তার পিঠ অবশিষ্ট রয়ে যাবে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وسمعة مثل الطبق لا يستطيع السجود
…) (1).
فإذا كان هذا حال من سجد رياء، فكيف حال من لم يسجد قط؟
وثبت أيضاً: (أن النار تأكل من ابن آدم كل شيء إلا موضع السجود، فان الله حرم على النار أن تأكله) (2) فعلم أن من لم يكن يسجد لله تأكله النار كله، وكذلك ثبت في الصحيح:" أن النبي صلى الله عليه وسلم يعرف أمته يوم القيامة غراً محجلين من آثار الوضوء" (3)
،
فدل على أن من لم يكن غراً محجلاً لم يعرفه النبى صلى الله عليه وسلم، فلا يكون من أمته.
وقوله تعالى: {كُلُوا وَتَمَتَّعُوا قَلِيلًا إِنَّكُم مُّجْرِمُونَ وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ارْكَعُوا لَا
--------------------------------------------
...এবং লোক শোনানোর জন্য (তার পিঠ) তক্তার মতো হয়ে যাবে, সে সিজদা করতে সক্ষম হবে না
…) (১)।
সুতরাং যদি লোকদেখানোর জন্য সিজদাকারীর অবস্থা এমন হয়, তবে যে ব্যক্তি কখনও সিজদা করেনি তার অবস্থা কেমন হবে?
আরও প্রমাণিত হয়েছে যে: (নিশ্চয়ই জাহান্নামের আগুন বনী আদমের শরীরের প্রতিটি অংশ গ্রাস করবে সিজদার স্থানসমূহ ব্যতীত; কেননা আল্লাহ তাআলা আগুনের জন্য সিজদার চিহ্নগুলো ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন) (২)। এ থেকে জানা যায় যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করেনি, আগুন তাকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করবে। একইভাবে সহিহ গ্রন্থে প্রমাণিত হয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের দিন তাঁর উম্মতকে ওযুর চিহ্নের কারণে উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও উজ্জ্বল হাত-পা বিশিষ্ট অবস্থায় চিনতে পারবেন" (৩)
،
এটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি এমন উজ্জ্বলতা লাভ করবে না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চিনতে পারবেন না; ফলে সে তাঁর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আহার করো ও ভোগ করো অল্প কিছুকাল, নিশ্চয়ই তোমরা অপরাধী। সেদিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য দুর্ভোগ! আর যখন তাদের বলা হয় রুকু করো, তখন তারা রুকু করে না...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يَرْكَعُونَ وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ} [المرسلات: 46 - 49]
وقوله تعالى: {فَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ وَإِذَا قُرِئَ عَلَيْهِمُ الْقُرْآنُ لَا يَسْجُدُونَ بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُكَذِّبُونَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُوعُونَ} [الإنشقاق: 20 - 23] ، وكذلك قوله تعالى: {فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلَّى وَلَكِن كَذَّبَ وَتَوَلَّى} [القيامة: 31 - 32] ،وكذلك قوله تعالى: {مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ} [المدثر: 42 - 47] ، فوصفه بترك الصلاة، كما وصفه بترك التصديق، ووصفه بالتكذيب والتولي والمتولي هو: العاصي الممتنع من الطاعة ، كما قال تعالى: {سَتُدْعَوْنَ إِلَى قَوْمٍ أُوْلِي بَاسٍ شَدِيدٍ تُقَاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ فَإِن تُطِيعُوا يُؤْتِكُمُ اللَّهُ أَجْرًا حَسَنًا وَإِن تَتَوَلَّوْا كَمَا تَوَلَّيْتُم مِّن قَبْلُ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا} [الفتح: 16]
...তারা রুকু করে। সেদিন মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের (مكذبين) জন্য রয়েছে দুর্ভোগ।} [আল-মুরসালাত: ৪৬ - ৪৯]
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তাদের কী হলো যে তারা ঈমান আনে না? আর যখন তাদের নিকট কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তারা সিজদাহ করে না। বরং যারা কুফরি করেছে তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে (يكذبون)। আর তারা যা (তাদের অন্তরে) জমা করে রাখে, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।} [আল-ইনশিক্বাক্ব: ২০ - ২৩], তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: {সে বিশ্বাসের সত্যতা প্রতিপাদন করেনি এবং সালাতও আদায় করেনি। বরং সে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে (كذب) এবং বিমুখ হয়েছে (تولى)} [আল-ক্বিয়ামাহ: ৩১ - ৩২], তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: {কিসে তোমাদেরকে সাক্বারে (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করল? তারা বলবে: আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবীদের আহার দান করতাম না, আমরা অনর্থক আলোচনাকারীদের সাথে আলোচনায় মগ্ন থাকতাম এবং আমরা বিচার দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম (نكذب), যতক্ষণ না আমাদের নিকট সুনিশ্চিত মৃত্যু (يقين) উপস্থিত হয়েছে।} [আল-মুদ্দাসসির: ৪২ - ৪৭]। এখানে তাকে সালাত বর্জনকারী হিসেবে বর্ণিত করা হয়েছে, যেমনটি তাকে সত্যায়ন (تصديق) বর্জনকারী হিসেবে বর্ণিত করা হয়েছে। এবং তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা (تكذيب) ও বিমুখতা (تولي) দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে। আর বিমুখ (متولي) ব্যক্তি হলো: সেই অবাধ্য (عاصي) যে আনুগত্য হতে বিরত থাকে (ممتنع من الطاعة), যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {শীঘ্রই তোমাদেরকে এক শক্তিশালী যোদ্ধা জাতির বিরুদ্ধে আহ্বান করা হবে; তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করবে। এমতাবস্থায় তোমরা যদি আনুগত্য করো তবে আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেবেন। আর যদি তোমরা ইতিপূর্বে যেমন বিমুখ হয়েছিলে তেমন বিমুখ হও (تتولوا), তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন।} [আল-ফাতহ: ১৬]
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وكذلك وصف أهل سقر بأنهم لم يكونوا من المصلين، وكذلك قرن التكذيب بالتولي في قوله: {أَرَأَيْتَ الَّذِي يَنْهَى عَبْدًا إِذَا صَلَّى أَرَأَيْتَ إِن كَانَ عَلَى الْهُدَى أَوْ أَمَرَ بِالتَّقْوَى أَرَأَيْتَ إِن كَذَّبَ وَتَوَلَّى أَلَمْ يَعْلَمْ بِأَنَّ اللَّهَ يَرَى كَلَّا لَئِن لَّمْ يَنتَهِ لَنَسْفَعًا بِالنَّاصِيَةِ نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍ} [العلق: 9: 16] ، وأيضاً في القرآن علق الأخوة في الدين على نفس إقام الصلاة وإيتاء الزكاة، كما علق ذلك على التوبة من الكفر، فاذا انتفي انتفت الأخوة (1)
، وأيضا فقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (العهد الذي بيننا وبينهم
--------------------------------------------
তেমনিভাবে সাকার (জাহান্নাম)-বাসীদের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে যে তারা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। একইভাবে মহান আল্লাহর বাণীতে সত্যকে অস্বীকার করা ও মুখ ফিরিয়ে নেওয়াকে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে: {তুমি কি দেখেছ তাকে, যে এক বান্দাকে সালাত আদায় করতে নিষেধ করে? তুমি কি দেখেছ—যদি সে হিদায়াতের ওপর থাকে অথবা তাকওয়ার নির্দেশ দেয়? তুমি কি দেখেছ—যদি সে সত্যকে অস্বীকার করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়? সে কি জানে না যে আল্লাহ দেখছেন? কক্ষনো না, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাকে কপালে ধরে টেনে নিয়ে যাব—মিথ্যাবাদী, পাপিষ্ঠ কপাল।} [আলাক: ৯-১৬]। এছাড়াও কুরআনে দ্বীনি ভ্রাতৃত্বকে সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদানের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে, যেমনটি কুফর থেকে তওবা করার বিষয়ের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং, যদি এসব শর্ত অনুপস্থিত থাকে, তবে ভ্রাতৃত্বও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। (১)
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (আমাদের এবং তাদের মধ্যে যে অঙ্গীকার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الصلاة فمن تركها فقد كفر) (1) ، وفي المسند:" من ترك الصلاة متعمداً فقد برئت منه الذمة" (2).
وأيضا فإن شعار المسلمين الصلاة، ولهذا يعبر عنهم بها فيقال: اختلف أهل الصلاة، واختلف أهل القبلة، والمصنفون لمقالات المسلمين يقولون: مقالات الإسلاميين واختلاف المصلين وفي الصحيح: (من صلى صلاتنا، واستقبل قبلتنا، وأكل ذبيحتنا، فذلك المسلم له ما لنا، وعليه ما علينا) (3) ، وأمثال هذه النصوص كثيرة في الكتاب والسنة.
وأما الذين لم يُكفِّروا بترك الصلاة ونحوها، فليست لهم حجة إلا وهي متناولة للجاحد كتناولها
--------------------------------------------
সালাত; সুতরাং যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করল সে কুফরি (كفر) করল) (১), এবং মুসনাদ গ্রন্থে রয়েছে: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করল, তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারি বা নিরাপত্তা উঠে গেল" (২)।
সালাত হলো মুসলিমদের নিদর্শন, এ কারণেই তাদের পরিচয় এর মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়; তাই বলা হয়: সালাত আদায়কারীদের (আহলুস সালাত) মধ্যে মতভেদ হয়েছে, এবং কিবলা অনুসারীদের (আহলুল কিবলা) মধ্যে মতভেদ হয়েছে। ইসলামপন্থীদের মতাদর্শ বিষয়ক গ্রন্থকারগণ বলেন: ইসলামপন্থীদের বক্তব্য এবং সালাত আদায়কারীদের মতভেদ। আর সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি আমাদের ন্যায় সালাত আদায় করল, আমাদের কিবলার দিকে মুখ করল এবং আমাদের জবেহ করা পশু ভক্ষণ করল, সেই মুসলিম; আমাদের জন্য যা (অধিকার) রয়েছে তার জন্যও তা-ই এবং আমাদের ওপর যা (দায়িত্ব) রয়েছে তার ওপরও তা-ই" (৩)। কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে এই জাতীয় দলিলের (نصوص) আধিক্য রয়েছে।
আর যারা সালাত পরিত্যাগকারী বা এই জাতীয় ব্যক্তিদের কাফির (كافر) বলেন না, তাদের নিকট এমন কোনো প্রমাণ নেই যা অস্বীকারকারীর (جاحد) ক্ষেত্রে যতটুকু প্রযোজ্য, ততটুকুই একেও অন্তর্ভুক্ত করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
للتارك، فما كان جوابهم عن الجاحد كان جواباً لهم عن التارك؛ مع أن النصوص علقت الكفر بالتولي كما تقدم، وهذا مثل استدلالهم بالعمومات التي يحتج بها المرجئة كقوله: (من شهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وأن عيسى عبد الله ورسوله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه. . . أدخله الله الجنة) (1) ونحو ذلك من النصوص.
وأجود ما اعتمدوا (2) عليه قوله صلى الله عليه وسلم: (خمس صلوات كتبهن الله على العباد في اليوم والليلة فمن حافظ عليهن كان له عند الله عهد أن يدخله الجنة ومن لم يحافظ عليهن لم يكن له عند الله عهد إن شاء عذبه وإن شاء أدخله الجنة) (3)
…--------------------------------------------
সালাত পরিত্যাগকারীর ক্ষেত্রে। সুতরাং অস্বীকারকারীর ব্যাপারে তাদের উত্তর যা ছিল, তা-ই তাদের উত্তর সালাত পরিত্যাগকারীর ক্ষেত্রেও; যদিও ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, দলিলসমূহ কুফরকে বিমুখ হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত করেছে। এটি তাদের সেই সাধারণ বর্ণনাসমূহ (العمومات) দ্বারা দলিল পেশ করার মতো যা দ্বারা মুরজিয়ারা দলিল পেশ করে থাকে, যেমন তাঁর বাণী: (যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল এবং ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ হতে রূহ... আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন) (১) এবং এই জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা।
আর তারা সবচেয়ে শক্তিশালী (أجود) যা কিছুর ওপর নির্ভর করেছেন তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর দিন ও রাতে ফরজ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে হিফাজত করবে, আল্লাহর কাছে তার জন্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে ব্যক্তি তা হিফাজত করবে না, আল্লাহর কাছে তার জন্য কোনো প্রতিশ্রুতি নেই; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন) (৩)
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
قالوا: فقد جعل غير المحافظ تحت المشيئة، والكافر لا يكون تحت المشيئة، ولا دلالة في هذا ، فإن الوعد بالمحافظة عليها (1)، والمحافظة فعلها في أوقاتها كما أمر وكما قال تعالى: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ والصَّلَاةِ الْوُسْطَى} [البقرة: 238] وعدم المحافظة يكون مع فعلها بعد الوقت، كما أخر النبي صلى الله عليه وسلم صلاة العصر يوم الخندق، فأنزل الله آية الأمر بالمحافظة عليها، وعلى غيرها من الصلوات، وقد قال تعالى: {فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا} [مريم: 59] فقيل لابن مسعود وغيره: ما إضاعتها؟ فقال: تأخيرها عن وقتها. فقالوا: ما كنا نظن ذلك إلا تركها. فقال: لو تركوها لكانوا كفاراً (2).
--------------------------------------------
তারা বলেন: তিনি নামাজে যত্নশীল নয় এমন ব্যক্তিকে [আল্লাহর] ইচ্ছাধীন রেখেছেন, আর অবিশ্বাসী (كافر) আল্লাহর ইচ্ছাধীন হতে পারে না। তবে এতে কোনো প্রমাণ নেই; কারণ নামাজের হেফাজত বা যত্নশীল হওয়ার (১) বিষয়েই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আর যত্নশীল হওয়া বা হেফাজত করা হলো নামাজগুলোকে তার সঠিক সময়ে আদায় করা, যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যেভাবে মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা সকল নামাজের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজের প্রতি} [আল-বাকারা: ২৩৮]। আর যত্নশীল না হওয়া বা হেফাজত না করা বলতে নামাজ ওয়াক্ত পার করে আদায় করাকেও বোঝায়, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খন্দকের যুদ্ধের দিন আসরের নামাজ বিলম্বিত করেছিলেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই নামাজ এবং অন্যান্য নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আয়াত নাজিল করেন। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {অতঃপর তাদের পরে আসলো এমন এক অপদার্থ উত্তরসূরি যারা নামাজ নষ্ট করলো এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসারী হলো, সুতরাং তারা শীঘ্রই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে} [মারইয়াম: ৫৯]। ইবনে মাসউদ এবং অন্যদের জিজ্ঞাসা করা হলো: নামাজ নষ্ট করা কী? তিনি বললেন: নামাজকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করা। তারা বললেন: আমরা মনে করতাম এটি কেবল নামাজ ছেড়ে দেওয়াকে বোঝায়। তিনি বললেন: যদি তারা তা ছেড়ে দিত তবে তারা অবিশ্বাসী (كفاراً) হয়ে যেত (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
وكذلك قوله: {فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ} [الماعون: 4 - 5] ذمهم مع أنهم يصلون، لأنهم سهوا عن حقوقها الواجبة، مِن فعلها في الوقت، وإتمام أفعالها المفروضة، كما ثبت في صحيح مسلم عن النبي صلى صلى الله عليه وسلم أنه قال: (تلك صلاة المنافق ، تلك صلاة المنافق يرقب الشمس حتى إذا كانت بين قرني شيطان قام فنقرها أربعاً لا يذكر الله فيها إلا قليلاً) (1) فجعل هذه صلاة المنافقين لكونه أخرها عن الوقت، ونقرها.
وقد ثبت في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه ذكر الأمراء بعده الذين يفعلون ما ينكر، وقالوا يا رسول الله أفلا نقاتلهم؟ قال: (لا ما صلوا) (2) وثبت عنه أنه قال:
(سيكون أمراء يؤخرون الصلاة عن وقتها فصلوا الصلاة لوقتها ثم اجعلواصلاتكم معهم
--------------------------------------------
একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর সেই মুসল্লিদের জন্য দুর্ভোগ, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন} [আল-মাউন: ৪ - ৫] তিনি তাদের নিন্দা করেছেন অথচ তারা সালাত আদায় করে; কারণ তারা সালাতের ওয়াজিব হকসমূহ পালনে উদাসীনতা প্রদর্শন করেছে, যেমন তা সময়মতো আদায় করা এবং এর ফরজ কার্যাবলি পূর্ণ করা। যেমনটি সহিহ মুসলিমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (এটি মুনাফিকের সালাত, এটি মুনাফিকের সালাত; সে সূর্যের প্রতীক্ষায় থাকে, অবশেষে যখন সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে পৌঁছে, তখন সে দাঁড়িয়ে চারবার ঠোকর দেয়, সেখানে সে আল্লাহকে সামান্যই স্মরণ করে)। (১) সুতরাং তিনি একে মুনাফিকদের সালাত হিসেবে গণ্য করেছেন, যেহেতু সে তা সময়মতো আদায় করতে বিলম্ব করেছে এবং ঠোকর দিয়ে দ্রুত আদায় করেছে।
আর সহিহ গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, তিনি তাঁর পরবর্তী এমন শাসকদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা অপছন্দনীয় কাজ করবে। তারা আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? তিনি বললেন: (না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায় করবে)। (২) এবং তাঁর থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন:
(শীঘ্রই এমন কিছু শাসক আসবে যারা সালাতকে তার সঠিক সময় থেকে বিলম্বিত করবে, সুতরাং তোমরা সালাত তার মুস্তাহাব সময়ে আদায় করে নিও, অতঃপর তাদের সাথে তোমাদের সালাতকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
نافلة) (1) فنهى عن قتالهم إذا صلوا، وكان في ذلك دلالة على أنهم إذا لم يصلوا قوتلوا، وتبين أنهم يؤخرون الصلاة عن وقتها، وذلك ترك المحافظة عليها لا تركها ، وإذا عرف الفرق بين الأمرين، فالنبى صلى الله عليه وسلم، إنما أدخل تحت المشيئة من لم يحافظ عليها لا من ترك، ونفس المحافظة يقتضي أنهم صلوا، ولم يحافظوا عليها ولا يتناول من لم يحافظ، فإنه لو تناول ذلك قتلوا كفاراً مرتدين بلا ريب، ولا يتصور في العادة أن رجلاً يكون مؤمناً بقلبه، مقراً بأن الله أوجب عليه الصلاة، ملتزماً لشريعة النبي صلى الله عليه وسلم وما جاء به، يأمره ولي الأمر بالصلاة فيمتنع، حتى يقتل، ويكون مع ذلك مؤمناً في الباطن قط لا يكون
--------------------------------------------
নফল (نافلة)) (১) অতঃপর তারা যখন সালাত আদায় করবে, তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নিষেধ করেছেন। এতে এ বিষয়ে দলিল বিদ্যমান যে, তারা যদি সালাত আদায় না করে তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে। আর এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করে; আর এটি হলো সালাতের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বর্জন করা, সরাসরি সালাত ত্যাগ করা নয়। যখন এই দুই বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্য জানা গেল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলত তাদেরকেই মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন করেছেন যারা সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করেনি, তাদের নয় যারা সালাত পুরোপুরি বর্জন করেছে। স্বয়ং রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়টিই দাবি করে যে, তারা সালাত আদায় করেছে কিন্তু তাতে যত্নবান ছিল না, আর এটি ওই ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে না যে রক্ষণাবেক্ষণ (একবারেই) করেনি। কারণ যদি এটি তাকে অন্তর্ভুক্ত করত, তবে তারা কোনো সন্দেহ ছাড়াই কাফির ও মুরতাদ (مرتدين) হিসেবে নিহত হতো। সাধারণত এমনটি কল্পনা করা যায় না যে, কোনো ব্যক্তি অন্তরে মুমিন হবে, আল্লাহ তার ওপর সালাত ফরজ করেছেন বলে স্বীকার করবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত ও তাঁর আনীত দ্বীনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে—অথচ উলিল আমর তাকে সালাতের নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও সে তা আদায়ে অস্বীকৃতি জানাবে এবং নিহত হওয়া পর্যন্ত অটল থাকবে, আর এতদসত্ত্বেও সে প্রকৃতপক্ষে মুমিন থাকবে; এটি কখনোই হতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إلا كافراً، ولو قال: أنا مقر بوجوبها غير أني لا أفعلها، كان هذا القول مع هذه الحال كذباً منه، كما لو أخذ يلقي المصحف في الحش ويقول: أشهد أن ما فيه كلام الله، أو جعل يقتل نبياً من الأنبياء ويقول: أشهد أنه رسول الله، ونحو ذلك من الأفعال التي تنافي إيمان القلب، فإذا قال: أنا مؤمن بقلبي مع هذه الحال كان كاذباً فيما أظهره من القول.
فهذا الموضع ينبغي تدبره فمن عرف ارتباط الظاهر بالباطن زالت عنه الشبهة في هذا الباب، وعلم أن من قال من الفقهاء: أنه إذا أقرّ بالوجوب وامتنع عن الفعل لا يقتل، أو يقتل مع إسلامه ، فإنه دخلت عليه الشبهة التي دخلت على المرجئة والجهمية، والتي دخلت على من جعل الإرادة الجازمة مع القدرة التامة التي لا يكون بها شيء من الفعل، ولهذا كان الممتنعون من قتل هذا من الفقهاء بنوه على
কেবলমাত্র কাফির (كافر) ব্যতীত। আর যদি সে বলে: "আমি এর আবশ্যকতা (وجوب) স্বীকার করি কিন্তু আমি তা পালন করব না," তবে এই পরিস্থিতির সাথে তার এই উক্তিটি হবে তার পক্ষ থেকে একটি মিথ্যাচার (كذب); ঠিক যেমনটি ঘটে যদি কেউ মলকূপের (حش) মধ্যে কুরআন নিক্ষেপ করতে থাকে এবং বলে: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি এতে যা আছে তা আল্লাহর কালাম," অথবা যদি কেউ কোনো নবীকে হত্যা করতে শুরু করে এবং বলে: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি আল্লাহর রাসূল," এবং এই জাতীয় অন্যান্য কাজ যা অন্তরের ঈমানের (إيمان) পরিপন্থী। সুতরাং যদি সে এই অবস্থায় বলে: "আমি অন্তরে মুমিন (مؤمن)," তবে সে তার প্রকাশিত উক্তিতে মিথ্যাবাদী (كاذب) বলে গণ্য হবে।
অতএব এই বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করা উচিত। যে ব্যক্তি বাহ্যিকের (ظاهر) সাথে অভ্যন্তরের (باطن) গভীর সম্পর্ক সম্পর্কে অবগত হবে, তার থেকে এই অধ্যায়ের সংশয় (شبهة) দূরীভূত হবে। সে তখন জানতে পারবে যে, ফকিহগণের (فقهاء) মধ্যে যারা বলেছেন: 'যদি সে আবশ্যকতা (وجوب) স্বীকার করে এবং আমল থেকে বিরত থাকে তবে তাকে হত্যা করা হবে না, অথবা তাকে তার ইসলামের (إسلام) অবস্থাতেই হত্যা করা হবে,' তারা মূলত সেই সংশয়ে (شبهة) নিপতিত হয়েছেন যা মুরজিয়াহ (مرجئة) ও জাহমিয়্যাহদের (جهمية) মাঝে প্রবেশ করেছিল। এবং যারা মনে করে যে, পূর্ণ সামর্থ্যের (قدرة تامة) সাথে সুদৃঢ় সংকল্প (إرادة جازمة) থাকা সত্ত্বেও কোনো আমল সংঘটিত না হওয়া সম্ভব, তারা মূলত একই সংশয়ে (شبهة) নিপতিত হয়েছে। আর এই কারণেই ফকিহগণের (فقهاء) মধ্যে যারা একে হত্যা করা থেকে বিরত থেকেছেন, তারা এর ভিত্তি স্থাপন করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قولهم في [مسألة الإيمان] وأن الأعمال ليست من الإيمان وقد تقدم أن جنس الأعمال من لوازم إيمان القلب، وأن إيمان قلب التام بدون شيء من الأعمال الظاهرة ممتنع، سواء جعل الظاهر من لوازم الإيمان أو جزء من الإيمان كما تقدم بيانه.
وحينئذٍ فإذا كان العبد يفعل بعض المأمورات، ويترك بعضها، كان معه من الإيمان بحسب ما فعله، والإيمان يزيد وينقص، ويجتمع في العبد إيمان ونفاق؛ كما ثبت عنه في الصحيح أنه قال: (أربع من كن فيه كان منافقاً خالصاً ومن كانت فيه خصلة منهن كانت فيه خصلة من النفاق حتى يدعها، إذا حدّث كذب، وإذا ائتمن خان، وإذا عاهد غدر، وإذا خاصم فجر) (1).
--------------------------------------------
[ঈমানের মাসয়ালা] সম্পর্কে তাদের বক্তব্য এবং আমলসমূহ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়—এ প্রসঙ্গে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, আমল সামগ্রিকভাবে অন্তরের ঈমানের একটি আবশ্যিক অনুষঙ্গ, এবং বাহ্যিক কোনো আমল ব্যতিরেকে অন্তরের পরিপূর্ণ ঈমান থাকা অসম্ভব; চাই বাহ্যিক আমলকে ঈমানের আবশ্যিক অনুষঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হোক কিংবা ঈমানের অংশ হিসেবে গণ্য করা হোক, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
এমতাবস্থায়, যখন কোনো বান্দা নির্দেশিত বিষয়সমূহের কিছু সম্পাদন করে এবং কিছু বর্জন করে, তখন তার কৃত আমল অনুযায়ী তার মাঝে ঈমান বিদ্যমান থাকে। আর ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়; এবং একজন বান্দার মধ্যে ঈমান ও নিফাক (نفاق) উভয়ই একত্রিত হতে পারে। যেমনটি সহিহ (صحيح) হাদিসে তাঁর থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে, সে খাঁটি মুনাফিক (منافق) হিসেবে গণ্য হবে। আর যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে, যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে ততক্ষণ তার মধ্যে নিফাকের (نفاق) একটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে, যখন সে অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন সে বিবাদে লিপ্ত হয় তখন পাপাচার করে) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وبهذا تزول الشبهة في هذا الباب، فإنّ كثيراً من الناس بل أكثرهم في كثير من الأمصار لا يكونون محافظين على الصلوات الخمس، ولا هم تاركيها بالجملة بل يصلون أحياناً، ويدعون أحياناً، فهؤلاء فيهم إيمان ونفاق، وتجري عليهم أحكام الإسلام الظاهرة في المواريث ونحوها من الأحكام ، فإن هذه الأحكام إذا جرت على المنافق المحض ـ كابن أُبي وأمثاله من المنافقين ـ فلأن تجرى على هؤلاء أولى وأحرى "أ. هـ.
এর মাধ্যমেই এই বিষয়ের সংশয় দূরীভূত হয়। কারণ অনেক মানুষ, বরং বিভিন্ন জনপদের অধিকাংশ মানুষই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ব্যাপারে নিয়মিত যত্নবান নয়; আবার তারা তা পুরোপুরি বর্জনও করে না, বরং কখনো সালাত আদায় করে এবং কখনো তা বর্জন করে। সুতরাং এদের মধ্যে ঈমান (إيمان) ও নিফাক (نفاق) উভয়ই বিদ্যমান। আর উত্তরাধিকার ও এজাতীয় অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে ইসলামের প্রকাশ্য বিধানসমূহ তাদের ওপর কার্যকর হবে। কারণ এই বিধানসমূহ যদি খাঁটি মুনাফিকের (المنافق المحض) — যেমন ইবনে উবাই ও তার সদৃশ মুনাফিকদের (منافقين) — ওপর কার্যকর হয়, তবে এদের ওপর তা কার্যকর হওয়া আরও বেশি সংগত ও যুক্তিযুক্ত। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فصلوقال رحمه الله في موضع آخر (22/ 19):
"ودل الكتاب والسنة، واتفاق السلف على الفرق بين من يضيع الصلاة فيصليها بعد الوقت (1)، والفرق بين من يتركها. ولو كانت بعد الوقت لا تصح بحال لكان الجميع سواء لكن المضيع لوقتها كان ملتزماً لوجوبها، وإنما ضيّع بعض حقوقها وهو الوقت، وأتى بالفعل فأما من لم يعلم وجوبها عليه جهلاً وضلالاً، أو علم الإيجاب ولم يلتزمه فهذا إن كان كافراً فهو مرتد، وفي وجوب القضاء عليه الخلاف المتقدم لكن هذا شبيه بكفر النفاق ".
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদএবং তিনি রহিমাহুল্লাহ অন্য এক স্থানে (২২/ ১৯) বলেছেন:
"কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফদের (السلف) ঐক্যমত (اتفاق) সেই ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে যে সালাতকে নষ্ট করে এবং সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তা আদায় করে (১), আর যে ব্যক্তি সালাত পরিত্যাগ করে তাদের মধ্যে পার্থক্য। যদি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনোভাবেই তা বৈধ (صحيح) না হতো, তবে উভয়ই সমান হতো। কিন্তু যে ব্যক্তি ওয়াক্ত বা সময় নষ্ট করেছে, সে এর আবশ্যকতা (وجوب) মেনে নিয়েছিল এবং শুধুমাত্র এর কিছু হক তথা ওয়াক্ত নষ্ট করেছে এবং সালাত সম্পাদন করেছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মূর্খতা ও বিভ্রান্তিবশত নিজের ওপর এর আবশ্যকতা (وجوب) জানত না, অথবা এর আবশ্যকতা (وجوب) জানত কিন্তু তা মেনে নেয়নি, এমতাবস্থায় সে যদি কাফির হয়ে থাকে তবে সে মুরতাদ (مرتد)। তার ওপর কাজা (قضاء) আদায়ের আবশ্যকতা (وجوب) সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্বোক্ত মতভেদ রয়েছে, তবে এটি নিফাকি কুফরের (كفر النفاق) সদৃশ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فصلوقال رحمه الله في موضع آخر (3/ 427):
"وعماد الدين الذي لا يقوم إلا به هو الصلوات الخمس المكتوبات، ويجب على المسلمين من الاعتناء بها ما لا يجب من الاعتناء بغيرها. وكان عمر بن الخطاب رضي الله عنه يكتب إلى عماله: "إن أهم أمركم عندي الصلاة، فمن حفظها وحافظ عليها حفظ دينه، ومن ضيعها كان لما سواها من عمله أشد إضاعة (1).
وهي أول ما أوجبه الله من العبادات، والصلوات الخمس تولى الله إيجابها بمخاطبة رسوله صلى الله عليه وسلم ليلة المعراج. وهي آخر ما وصى به النبي صلى الله عليه وسلم أُمته وقت فراق الدنيا، جعل يقول: (الصلاة الصلاة وما ملكت أيمانكم) (2)
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদএবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) অন্য স্থানে (৩/৪২৭) বলেছেন:
"দ্বীনের স্তম্ভ, যা ব্যতীত তা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, তা হলো পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত। মুসলমানদের উপর এর প্রতি যত্নবান হওয়া যতটা আবশ্যক, অন্য কিছুর ক্ষেত্রে ততটা নয়। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর গভর্নরদের নিকট লিখে পাঠাতেন: "আমার নিকট তোমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সালাত। যে ব্যক্তি এর হিফাযত করবে এবং এর প্রতি যত্নবান হবে, সে তার দ্বীনকে রক্ষা করল। আর যে ব্যক্তি একে বিনষ্ট করল, সে অন্যান্য আমলকে আরও বেশি বিনষ্ট করবে (১)।
ইবাদতসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম যা আল্লাহ তাআলা ফরয করেছেন। আর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করার দায়িত্ব আল্লাহ স্বয়ং মিরাজর রাতে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধনের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন। এটিই সেই শেষ বিষয় যার অসিয়ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুনিয়া ত্যাগের সময় তাঁর উম্মতকে করেছিলেন। তিনি বলতে থাকলেন: (সালাত, সালাত এবং তোমাদের অধীনস্থ দাস-দাসীদের ব্যাপারে সাবধান) (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وهي أول ما يحاسب عليه العبد من عمله (1)، وآخر ما يفقد من الدين (2)، فإذا ذهبت ذهب الدين كله وهي عمود الدين فمتى ذهبت سقط الدين .... " (3)
--------------------------------------------
এবং এটিই বান্দার আমলসমূহের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম বিষয় যার হিসাব নেওয়া হবে (১), এবং দ্বীন থেকে সর্বশেষ যা হারিয়ে যাবে তা হলো এটি (২)। সুতরাং যখন এটি চলে যাবে, তখন পূর্ণ দ্বীনই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ; অতএব যখন এটি চলে যাবে, তখন দ্বীনই ধ্বংস হয়ে যাবে... " (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فصلاستدل بعضهم (1) بألفاظ وردت في بعض الأحاديث، كقوله صلى الله عليه وسلم:"إذا خلص المؤمنون من النار وأمنوا فوالَّذي نفسي بيدِه ما مجادَلةُ أحدِكم لصاحبِه في الحقِّ يكونُ له في الدُّنيا بأشدَّ من مجادلةِ المؤمنين لربَّهم في إخوانِهم الَّذين أُدخِلوا النَّارَ".
قال: يقولون: ربَّنا! إخوانُنا كانوا يُصلُّون معنا، ويصومون معنا، ويحُجُّون معنا، ويجاهدون معنا فأدخلتهم النَّارَ! قال: فيقولُ: اذهبوا، فأخرِجوا من عرفتم منهم.
وقال بعد ذلك: فيقولون: ربَّنا! قد أخرجنا من أمرتَنا. قال: ثمَّ يعودون فيتكلَّمون ، فيقولُ: أخرِجوا من كان في قلبِه مثقالُ دينارٍ من إيمانِ ،فيُخرِجون خلقًا كثيرًا .. الحديث (2).
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদতাদের কেউ কেউ (১) কিছু হাদিসে বর্ণিত শব্দাবলির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যখন মুমিনগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে এবং নিরাপদ হবে, তখন সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, দুনিয়াতে হকের ব্যাপারে তোমাদের কেউ তার সঙ্গীর সাথে যতটা জোরালোভাবে বিতর্ক করে, জাহান্নামে প্রবেশ করানো নিজেদের ভাইদের ব্যাপারে মুমিনগণ তাদের রবের সাথে তার চেয়েও বেশি জোরালোভাবে বিতর্ক করবে।"
তিনি বলেন: তারা বলবে: "হে আমাদের রব! আমাদের ভাইয়েরা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, রোজা রাখত, হজ করত এবং আমাদের সাথে জিহাদ করত, অথচ আপনি তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছেন!" তিনি বলবেন: "তোমরা যাও এবং তাদের মধ্য থেকে যাদের তোমরা চিনতে পারো তাদের বের করে আনো।"
এরপর তিনি বলেন: তারা বলবে: "হে আমাদের রব! আপনি যাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন আমরা তাদের বের করে এনেছি।" তিনি বলবেন: "আবার যাও এবং যার অন্তরে এক দিনার পরিমাণ ঈমান আছে তাকে বের করে আনো।" তখন তারা বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে বের করে আনবে... হাদিস (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قال: إن المؤمنين لما شفعهم الله في إخوانهم المصلين ، والصائمين ، وغيرهم في المرة الأولى ، فأخرجهم من النار بالعلامة ، فلما شفعوا في المرات الأخرى، وأخرجوا بشراً كثيراً ، لم يكن فيهم مصلون بداهة، وإنما فيهم من الخير كل حسب إيمانهم .. الخ
والجواب أولاً عن هذا أن يقال: " ليس في الحديث أن الآخرين لا يصلون ، فقوله: لم يكن فيهم مصلون بداهة ، إنما هو تحميل للنص مالا يحتمل ، وتعلق بما لا متعلق فيه.
ثانياً: يقال: إن الأولين كانوا يصلون ، ويصومون ، فهم عندهم محافظة في الجملة ، وهذا ظاهر فإنه عبّر عنهم بلفظة: "كان" وبعدها صيغة المضارع.
قال الشنقيطي -العلامة الأصولي-في أضواء البيان (2/ 243): "وقد تقرر في الأصول أن صيغة
তিনি বললেন: আল্লাহ যখন মুমিনদেরকে তাদের সেইসব ভাইদের ব্যাপারে সুপারিশ করার অনুমতি দিলেন যারা সালাত আদায় করত, সিয়াম পালন করত এবং অন্যান্য নেক আমল করত, তখন প্রথমবার তিনি তাদের নিদর্শনের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বের করে আনেন। এরপর যখন তারা পরবর্তী সময়গুলোতে সুপারিশ করল এবং অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হলো, তখন স্বভাবতই তাদের মধ্যে আর কোনো সালাত আদায়কারী ছিল না; বরং তাদের প্রত্যেকের মধ্যে ঈমান অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার কল্যাণ ছিল... ইত্যাদি।
প্রথমত, এর উত্তরে বলা যায় যে: হাদিসের মধ্যে এমন কোনো বক্তব্য নেই যে পরবর্তী ব্যক্তিরা সালাত আদায় করত না। সুতরাং তাঁর এই দাবি—'স্বভাবতই তাদের মধ্যে কোনো সালাত আদায়কারী ছিল না'—মূলত মূল পাঠের (نص) ওপর এমন অর্থ চাপিয়ে দেওয়া যা তা বহন করে না এবং এমন বিষয়ের ওপর নির্ভর করা যার কোনো ভিত্তি নেই।
দ্বিতীয়ত: বলা হয় যে, প্রথমোক্ত ব্যক্তিরা সালাত আদায় করত এবং সিয়াম পালন করত, তাই সামগ্রিকভাবে তাদের মধ্যে ইবাদতের প্রতি যত্নশীলতা ছিল। আর এটি সুস্পষ্ট (ظاهر), কারণ তিনি তাদের ক্ষেত্রে 'কানা' শব্দের পর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালবাচক রূপ (صيغة المضارع) ব্যবহার করেছেন।
উসূলবিদ (الأصولي) আল্লামা শানকীতি আদওয়াউল বায়ান গ্রন্থে (২/২৪৩) বলেছেন: "উসূল (أصول) শাস্ত্রে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, শব্দরূপটি
(খণ্ড: ১)
আল-ইনবাহু ইলা হুকমি তারিকিস সালাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المضارع بعد لفظة كان في نحو يفعل كذا ، تدل على كثرة التكرار ، والمداومة على ذلك الفعل" (1)
وأما من بعد هؤلاء، فليسوا كذلك فعندهم تقصير ونقص وإخلال بالفروض المذكورة ، أما أنهم لا يصلون أبداً فهذا لا يفيده النص بوجه.
ويقال كذلك: هذا مفهوم - لو فهم منه ترك الصلاة ، وقد عرفت أن ذلك لا يفهم منه- وهو معارض بمنطوق الأحاديث المصرحة بالكفر ، والمنطوق مقدم على المفهوم ، وقد ذكر أهل العلم أن مثل هذه النصوص من العام المخصوص بالنصوص الدالة على الكفر.
وكذلك استدلاله برواية أحمد عن عائشة رضي الله عنها مرفوعاً بلفظ: "الدواوين عند الله عز وجل ثلاثة
… " الحديث وفيه:" وأما الديوان الذي لا يعبأ
--------------------------------------------
"কানা" শব্দের পর বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع) আসা—যেমন সে এমনটি করত—তা কাজটির অধিকবার পুনরাবৃত্তি হওয়া এবং সেই কাজের ওপর অবিচল থাকার প্রমাণ দেয়।" (১)
আর যারা এদের পরবর্তী, তারা এমন নয়; বরং তাদের মাঝে উল্লিখিত ফরজগুলোর ক্ষেত্রে অবহেলা, ত্রুটি ও বিচ্যুতি রয়েছে। তবে তারা যে একেবারেই সালাত আদায় করত না, এই পাঠ (نص) কোনোভাবেই তা প্রমাণ করে না।
অনুরূপভাবে বলা হয়: এটি একটি অনুমিত অর্থ (مفهوم)—যদি এর দ্বারা সালাত ত্যাগ করা বোঝা যেত, অথচ আপনি জেনেছেন যে এর দ্বারা তা বোঝা যায় না—যা কুফর সুস্পষ্টকারী হাদিসসমূহের শাব্দিক অর্থের (منطوق) পরিপন্থী। আর শাব্দিক অর্থ (منطوق) অনুমিত অর্থের (مفهوم) ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য। আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের পাঠগুলো (নস) হলো সাধারণ (عام) যা কুফরের প্রমাণবাহী দলিলসমূহ দ্বারা বিশেষায়িত (مخصوص) করা হয়েছে।
অনুরূপভাবে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত আহমদের সেই বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর দলিল পেশ করা, যা রাসুল পর্যন্ত পৌঁছানো (مرفوع) সূত্রে এই শব্দে এসেছে: "মহান আল্লাহর নিকট আমলনামা তিন প্রকার
… " হাদিসটি শেষ পর্যন্ত, যাতে রয়েছে: "আর সেই আমলনামা যার কোনো পরোয়া করা হবে না..."
--------------------------------------------