(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: -)
أمالي ابن بشران - الجزء الأول   (ابن بشران، أبو القاسم)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أمالي ابن بشران

المؤلف: أبو القاسم عبد الملك بن محمد بن عبد الله بن بشْران بن محمد بن بشْران بن مهران البغدادي (ت 430هـ)

ضبط نصه: أبو عبد الرحمن عادل بن يوسف العزازي

الناشر: دار الوطن، الرياض

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 416

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আমালি ইবনু বিশরান - প্রথম খণ্ড   (ইবনু বিশরান, আবুল কাসিম)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আমালি ইবনু বিশরান

লেখক: আবুল কাসিম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান বিন মুহাম্মাদ বিন বিশরান বিন মিহরান আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি)

পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা: আবু আব্দুর রহমান আদিল বিন ইউসুফ আল-আযযাযী

প্রকাশক: দারুল ওয়াতান، রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৬

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٥)
أَمَالِي ابْنِ بِشْرَانَ بِسْمِ اللَّهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ رَبَّ يَسِّرْ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ‌‌ الْمَجْلِسُ الثَّامِنُ وَالثَّلَاثُونَ وَالسّتمِائَةَ
ইবনে বিশরানের আমালি। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপায় ও শক্তি নেই। হে প্রতিপালক, সহজ করে দিন। হে চিরঞ্জীব, হে সর্বসত্তার ধারক।ছয়শত আটত্রিশতম মজলিস
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٥)
1 - حَدَّثَنَا أَبُو القَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَشْرَانَ الْمُعَدَّلُ إَمْلَاءً فِي جُمَادَى الْأُولَى سَنَةَ ثَمَانٍ وَعِشْرِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُكْرَمِ بْنِ حَسَّانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْوَاقِدِيُّ، ثنا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي شَجَرَةَ وَهُوَ يَزِيدُ بْنُ شَجَرَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ، رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْجَنَّةُ مِائَةُ دَرَجَةٍ، مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، وَالْفِرْدَوْسُ أَعْلَى الْجَنَّةِ، فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ عز وجل فَسَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ»
১ - আবুল কাসেম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাশরান আল-মুআদ্দাল চারশ আটাশ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন সালমান আল-ফকিহ: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন মুকরাম বিন হাসসান: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদি: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উসামা বিন যায়েদ, তিনি আবান বিন সালেহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু শাজারা—যিনি হলেন ইয়াজিদ বিন শাজারা—থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ বিন আল-জাররাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জান্নাত একশটি স্তরবিশিষ্ট, যার প্রতি দুই স্তরের মধ্যবর্তী ব্যবধান আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী ব্যবধানের ন্যায়। আর ফিরদাউস হলো জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর; সুতরাং তোমরা যখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, তখন তাঁর কাছে ফিরদাউসই প্রার্থনা করবে।»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٥)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ سَلَّامٍ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أنبا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه قَالَ: " جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ قَصِيرٌ بِرَجُلٍ أَسِيرٍ، فَقَالَ الْأَسِيرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَذَا أَسَرَنِي، لَقَدْ أَسَرَنِي رَجُلٌ أَجْلَحُ عَلَى فَرَسٍ أَبْلَقَ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ وَجْهًا، مَا أَرَاهُ فِي الْقَوْمِ، فَقَالَ الْأَنْصَارِيُّ: أَنَا أَسَرْتُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «اسْكُتْ، فَقَدْ أَيَّدَكَ اللَّهُ عز وجل بِمَلَكٍ كَرِيمٍ»
2 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ হামযা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান ইবনে সাল্লাম, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসরাঈল, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিসাহ ইবনে মুদাররিব থেকে, আর তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আনসারদের একজন খর্বকায় ব্যক্তি একজন বন্দীকে নিয়ে আসলেন। তখন বন্দীটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এ আমাকে বন্দী করেনি। বরং আমাকে এমন এক ব্যক্তি বন্দী করেছেন যার কপালের সম্মুখভাগ কেশহীন ছিল, তিনি একটি সাদা-কালো মিশ্রিত রঙের ঘোড়ায় আরোহী ছিলেন এবং তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দর চেহারার অধিকারী; আমি তাকে এই লোকদের মধ্যে দেখছি না। তখন আনসারী ব্যক্তিটি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমিই তাকে বন্দী করেছি। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'তুমি চুপ থাকো, কেননা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তোমাকে একজন সম্মানিত ফেরেশতার মাধ্যমে সাহায্য করেছেন'।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٥)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، ثنا مُوسَى بْنُ هَارُونَ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، ثنا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ يَحْيَى الْمَعَافِرِيَّ، أَخْبَرَهُ عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الْجُهَنِيِّ، ⦗ص: 26⦘ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، قَالَ «مَنْ حَمَى مُؤْمِنًا مِنْ مُنَافِقٍ يَعِيبُهُ بَعَثَ اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِ مَلَكًا يَحْمِي لَحْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ، وَمَنْ قَفَّا مُسْلِمًا بِشَيْءٍ يُرِيدُ شَيْنَهُ بِهِ حَبَسَهُ اللَّهُ عز وجل عَلَى جِسْرِ جَهَنَّمَ حَتَّى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ»
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ দালাজ ইবনে আহমাদ ইবনে দালাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে হারুন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে ঈসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব, আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণিত যে, ইসমাইল ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাআফিরি তাকে সংবাদ দিয়েছেন সাহল ইবনে মুআজ ইবনে আনাস আল-জুহানি থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে এমন কোনো মুনাফিকের হাত থেকে রক্ষা করবে যে তার নিন্দা করে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কিয়ামতের দিন তার শরীরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার জন্য তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠাবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের মর্যাদাহানি করার উদ্দেশ্যে তার পেছনে এমন কিছু বলবে যার দ্বারা সে তাকে কলঙ্কিত করতে চায়, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে জাহান্নামের পুলের ওপর আটকে রাখবেন যতক্ষণ না সে যা বলেছে তার দায় হতে মুক্ত হয় (অর্থাৎ তার শাস্তি ভোগ করে)»।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٦)
4 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْبُوشَنْجِيُّ، ثنا ابْنُ بُكَيْرٍ، ثنا سَعْدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ الْمَعَافِرِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ زَبَّانَ بْنِ فَائِدٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ تَرَكَ اللِّبَاسَ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَيْهِ تَوَاضُعًا، دَعَاهُ اللَّهُ عز وجل يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَتَخَيَّرُ فِي حُلَلِ الْإِيمَانِ يَلْبَسُ أَيَّهَا شَاءَ، وَمَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَى إِنْفَاذِهِ دَعَاهُ اللَّهُ عز وجل يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ فَيُخَيِّرُهُ فِي حُورِ الْعِينِ، يُزَوِّجُهُ مِنْهُنَّ أَيَّهَا شَاءَ»
৪ - দাল্লাজ ইবন আহমাদ ইবন দাল্লাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুল্লাহ আল-বুশানজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন বুকায়র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সা'দ ইবন আবদুল্লাহ ইবন সা'দ আল-মাআফিরি ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব থেকে, তিনি যাব্বান ইবন ফায়েদ থেকে, তিনি সাহল ইবন মুয়াজ ইবন আনাস আল-জুহানি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিনয়বশত পোশাক পরিধান বর্জন করে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা কিয়ামতের দিন তাকে সমস্ত সৃষ্টির সামনে ডাকবেন এবং ঈমানের পোশাকসমূহের মধ্য থেকে তাকে পছন্দ করার সুযোগ দেবেন, সে তার মধ্য থেকে যা ইচ্ছা পরিধান করবে। আর যে ব্যক্তি রাগ সংবরণ করে অথচ সে তা কার্যকর করতে সক্ষম ছিল, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা কিয়ামতের দিন তাকে সমস্ত সৃষ্টির সামনে ডাকবেন এবং ডাগর চোখবিশিষ্ট হুরদের ব্যাপারে তাকে পছন্দ করার সুযোগ দেবেন, তাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তিনি তার সাথে তার বিবাহ সম্পন্ন করবেন।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٦)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الصَّوَّافُ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ كِنَانَةَ، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ يَعْنِي، قَالَ: حَدَّثَنِي بَكْرُ بْنُ عَمْرٍو الْمَعَافِرِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي نُعَيْمَةَ الْمَعَافِرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَقَوَّلَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ، وَمَنِ اسْتَشَارَهُ أَخُوهُ الْمُسْلِمُ فَأَشَارَ عَلَيْهِ بِغَيْرِ رُشْدٍ فَقَدْ خَانَهُ، وَمَنْ أَفْتَى بِفُتْيَا غَيْرِ ثَبْتٍ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى مَنْ أَفْتَاهُ»
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান আস-সাউওয়াফ, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে কিনানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাকর ইবনে আমর আল-মাআফিরি আমাকে বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে আবি নুয়াইমাহ আল-মাআফিরি থেকে, আবু উসমান মুসলিম ইবনে ইয়াসার থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু আরোপ করল যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়। আর যার কাছে তার মুসলিম ভাই পরামর্শ চাইল এবং সে তাকে সঠিক পথ ব্যতীত অন্য কোনো পরামর্শ প্রদান করল, তবে সে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। আর যাকে সুদৃঢ় ভিত্তিহীন কোনো ফতোয়া প্রদান করা হলো, তার পাপ কেবল সেই ব্যক্তির ওপরই বর্তাবে যে তাকে ফতোয়া প্রদান করেছে»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٦)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوْحٍ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أنبا بِلَالُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم قَالَ: ⦗ص: 27⦘ «مَنْ جَاءَ بِشَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ»
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহীম আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন রাওহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন উমর, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন বিলাল বিন আমর, তিনি আবু বুর্দাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ «যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য নিয়ে উপস্থিত হবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٧)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قَانِعٍ الْقَاضِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ زَكَرِيَّا، ثنا ابْنُ عَائِشَةَ، ثنا أَبِي، عَنْ عَمِّهِ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ أَعْرَابِيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ يُحَاسِبُ الْخَلْقَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ: «اللَّهُ عز وجل» قَالَ: نَجَوْنَا وَرَبِّ الْكَعْبَةِ. قَالَ: «كَيْفَ ذَلِكَ يَا أَعْرَابِيُّ؟» قَالَ: لِأَنَّ الْكَرِيمَ إِذَا قَدَرَ عَفَا "
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আব্দুল বাকী বিন কানি আল-কাজী, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন যাকারিয়া, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে আইশাহ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমার পিতা, তিনি তার চাচা থেকে, তিনি রাবীআহ বিন আবী আব্দুর রহমান থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একজন গ্রাম্য আরব বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন সৃষ্টির হিসাব কে নিবেন? তিনি বললেন: «আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা।» তিনি (সেই আরব) বললেন: কাবার রবের কসম, আমরা মুক্তি পেয়ে গেছি! তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে গ্রাম্য আরব, তা কীভাবে?» তিনি বললেন: কারণ মহানুভব যখন সামর্থ্য লাভ করেন, তখন তিনি ক্ষমা করে দেন।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٧)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْآجُرِّيُّ بِمَكَّةَ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، ثنا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَعَلِيُّ بْنُ نَصْرٍ، قَالَا: ثنا مُعَاذُ بْنُ هَانِي الْبَهْرَانِيُّ، ثنا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ حَدِيثٍ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ اللَّيْثِيِّ أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَبُوهُ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ فِيَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ، قَالَ: «إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ عز وجل الْمُصَلُّونَ» وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ يُقِمِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ اللَّاتِي كُتِبْنَ عَلَيْهِ، وَيَصُومُ رَمَضَانَ يَحْتَسِبُ صَوْمَهُ، وَيَرَى أَنَّهُ حَقٌّ عَلَيْهِ وَاجِبٌ، وَيُعْطِي زَكَاةَ مَالِهِ يَحْتَسِبُهَا، وَيَجْتَنِبُ الْكَبَائِرَ الَّتِي نَهَى اللَّهُ عز وجل عَنْهَا» ، ثُمَّ إِنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِهِ سَأَلَهُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْكَبَائِرُ؟ قَالَ: «هُنَّ تِسْعٌ، أَعْظَمُهُنَّ إِشْرَاكٌ بِاللَّهِ عز وجل، وَقَتْلُ نَفْسِ مُؤْمِنٍ بِغَيْرِ حَقٍّ، وَفِرَارُ يَوْمِ الزَّحْفِ، وَالسِّحْرُ، وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَقَذْفُ الْمُحْصَنَةِ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ الْمُسْلِمَيْنِ، وَاسْتِحْلَالُ الْبَيْتِ الْحَرَامِ قِبْلَتِكُمْ أَحْيَاءً وَأَمْوَاتًا» :، ثُمَّ قَالَ: «لَا يَمُوتُ رَجُلٌ لَمْ يَعْمَلْ هَذِهِ الْكَبَائِرَ، وَيُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَيُؤْتِي الزَّكَاةَ، إِلَّا رَافَقَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فِي دَارٍ بُحْبُوحَةٍ أَبْوَابُهَا مَصَارِيعُ مِنْ ذَهَبٍ»
৮ - মক্কায় আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আল-আজুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আবি দাউদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমর বিন আলী ও আলী বিন নাসর আমাদের বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: মুয়ায বিন হানি আল-বাহরানি আমাদের বর্ণনা করেছেন, হারব বিন শাদ্দাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল হামিদ বিন সিনান থেকে, তিনি উবাইদ বিন উমায়ের আল-লাইসির হাদীস থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা (যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম সাহাবী ছিলেন) তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, বিদায় হজের সময় তিনি বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর অলিগণ হলেন সালাত আদায়কারীগণ» আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার ওপর ফরজকৃত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করে, সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করে এবং মনে করে যে তা পালন করা তার ওপর অর্পিত সত্য ও ওয়াজিব দায়িত্ব, আর সওয়াবের আশায় তার সম্পদের জাকাত প্রদান করে এবং মহান আল্লাহ যেসব কবিরা গুনাহ থেকে নিষেধ করেছেন তা পরিহার করে», অতঃপর তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কবিরা গুনাহসমূহ কী কী? তিনি বললেন: «সেগুলো নয়টি; তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো মহান আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা (শিরক), কোনো মুমিন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা, জাদু করা, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, সুদ খাওয়া, সতী-সাধ্বী নারীর ওপর অপবাদ দেওয়া, মুসলিম পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং তোমাদের কিবলা বাইতুল হারামকে (পবিত্র ঘরকে) জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় হালাল মনে করা (মর্যাদাহানি করা)»। অতঃপর তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি এই কবিরা গুনাহসমূহ না করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতের সুপ্রশস্ত প্রাসাদে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গী হবে, যার দরজাগুলো স্বর্ণনির্মিত দুই পাল্লা বিশিষ্ট»।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٨)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ الْخِضْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَسْيُوطِيُّ بِمَكَّةَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ النَّسَائِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْمُعَلَّى بْنِ يَزِيدَ، ثنا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ، ثنا الْوَلِيدُ، ثنا مَالِكٌ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم: " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ ثُمَّ جَلَسَ فِي مُصَلَّاهُ لَمْ تَزَلِ الْمَلَائِكَةُ تُصَلِّي عَلَيْهِ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، وَإِنْ قَامَ فِي مُصَلَّاهُ فَجَلَسَ فِي مَجْلِسٍ مِنَ الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ لَمْ يَزَلْ فِي صَلَاةٍ حَتَّى يُصَلِّيَ "
৯ - মক্কায় আবু আলী আল-হাসান বিন আল-খিদর বিন আব্দুল্লাহ আল-আসয়ুতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন শুআইব আন-নাসায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আল-মুআল্লা বিন ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাফওয়ান বিন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুআইম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুজমির থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সালাত আদায় করে এবং তারপর তার সালাতের স্থানে বসে থাকে, ফেরেশতারা অনবরত তার জন্য দুআ করতে থাকে: হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন। আর যদি সে তার সালাতের স্থান থেকে উঠে মসজিদের কোনো মজলিসে সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে, তবে সে সালাত আদায় করা পর্যন্ত সালাতের মধ্যেই গণ্য হবে।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٨)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْفَاكِهِيُّ، ثنا أَبُو يَحْيَى بْنُ أَبِي سَبْرَةَ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اسْتَيْقَظَ مِنَ اللَّيْلِ قَالَ: «لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَغْفِرُكَ لِذَنْبِي، وَأَسْأَلُكَ رَحْمَتَكَ، اللَّهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا، وَلَا تُزِغْ قَلْبِي بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنِي، وَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً، إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ»
১০ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আল-ফাকিহি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াহইয়া ইবন আবি সাবরা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবন আবি আইয়ুব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন আল-ওয়ালিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ ইবন আল-মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত, আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) যখন রাতে জাগ্রত হতেন তখন বলতেন: «তুমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তুমি পরম পবিত্র। হে আল্লাহ, আমি আমার পাপের জন্য তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার রহমত ভিক্ষা করছি। হে আল্লাহ, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও এবং আমাকে হিদায়াত দান করার পর আমার অন্তরকে সত্যচ্যুত করো না, আর তোমার পক্ষ থেকে আমাকে রহমত দান করো। নিশ্চয়ই তুমি পরম দাতা।’
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٨)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ الْفُضَيْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ خُزَيْمَةَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، ثنا عَبْدُ الْمُتَعَالِ بْنُ طَالِبِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ أَبُو إِسْمَاعِيلَ الْمُؤَدِّبُ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ قُعُودٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ أَتَتْهُ امْرَأَةٌ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا وَافِدَةُ النِّسَاءِ إِلَيْكَ، يَا رَسُولَ اللَّهِ؛ رَبُّ الرِّجَالِ وَرَبُّ النِّسَاءِ اللَّهُ عز وجل، وَآدَمُ أَبُو الرِّجَالِ وَأَبُو النِّسَاءِ، وَحَوَّاء أُمُّ الرِّجَالِ وَأُمُّ النِّسَاءِ، وَبَعَثَكَ عز وجل إِلَى الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ، فَالرِّجَالُ إِذَا خَرَجُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقُتِلُوا فَهُمْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ، وَإِذَا خَرَجُوا فَلَهُمْ مِنَ الْأَجْرِ مَا قَدْ عَلِمْتَ، وَنَحْنُ نَخْدُمُهُمْ وَنحْبِسُ ⦗ص: 29⦘ أَنْفُسَنَا عَلَيْهِمْ، فَمَاذَا لَنَا مِنَ الْأَجْرِ؟ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَقْرِئِي النِّسَاءَ مِنِّي السَّلَامَ وَقُولِي لَهُنَّ: إِنَّ طَاعَةَ الزَّوْجِ تَعْدِلُ مَا هُنَالِكَ، وَقَلِيلٌ مِنْكُنَّ تَفْعَلُهُ "
১১ - আবু আলী আহমদ বিন আল-ফুদ্বাইল বিন আল-আব্বাস বিন খুজাইমাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইবরাহীম আদ-দাওরাকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মুতাআল বিন তালিব বিন ইবরাহীম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন সুলায়মান আবু ইসমাঈল আল-মুয়াদ্দিব, তিনি হাজ্জাজ বিন দীনার থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আলী থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বসা ছিলাম, এমন সময় একজন নারী তাঁর নিকট এলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট নারীদের প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষদের প্রতিপালক এবং নারীদের প্রতিপালক হলেন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা। আদম পুরুষদের পিতা এবং নারীদেরও পিতা, আর হাওয়া পুরুষদের মাতা এবং নারীদেরও মাতা। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আপনাকে পুরুষ ও নারী উভয়ের নিকট প্রেরণ করেছেন। পুরুষরা যখন আল্লাহর পথে বের হয় এবং শহীদ হয়, তখন তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট জীবিত থাকে এবং রিজিকপ্রাপ্ত হয়। আর যখন তারা (যুদ্ধে) বের হয়, তখন তাদের জন্য কী সওয়াব রয়েছে তা আপনি জানেন। পক্ষান্তরে আমরা তাদের সেবা করি এবং ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ তাদের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করে আটকে রাখি; তবে আমাদের জন্য সওয়াবের কী রয়েছে? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: "তুমি নারীদের নিকট আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দাও এবং তাদের বলো যে, স্বামীর আনুগত্য করা ওই সব আমলের সমতুল্য; তবে তোমাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক নারীই তা পালন করে থাকে।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٩)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ حَاتِمٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ الْكُوفِيُّ، ثنا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْحَجَرُ يَمِينُ اللَّهِ عز وجل فِي الْأَرْضِ، يُصَافِحُ بِهِ عِبَادَهُ»
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জিয়াদ আল-কাত্তান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন হাতিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন বিশর আল-কুফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মা’শার, মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পাথরটি হলো পৃথিবীতে আল্লাহর ডান হাত, এর মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের সাথে মুসাফাহা করেন»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٢٩)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مِنْجَابٍ الطِّيبيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ شَاكِرٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زِيَادٍ النَّجَّارُ، قَالَا: ثنا الْحَسَنُ يَعْنِي ابْنَ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيَّ، ثنا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ ، وَوَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ قَالَا: ثنا شُعْبَةُ ، عَنِ الْحُرِّ بْنِ صَيَّاحٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَجُلًا مِنَّا يُقَالُ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْأَخْنَسِ، قَالَ: خَطَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَنَالَ مِنْ عَلِيٍّ؟ فَقَالَ لَهُ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ: مَا تُرِيدُ إِلَى هَذَا، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «النَّبِيُّ فِي الْجَنَّةِ، وَأَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ، وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ، وَعُثْمَانُ فِي الْجَنَّةِ، وَعَلِيٌّ فِي الْجَنَّةِ، وَطَلْحَةُ فِي الْجَنَّةِ، وَالزُّبَيْرُ فِي الْجَنَّةِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي الْجَنَّةِ، وَسَعْدٌ فِي الْجَنَّةِ» ، ثُمَّ سَكَتَ هُنَيْهَةً ثُمَّ قَالَ: وَلَوْ شِئْتُمْ لَسَمَّيْتُ الْعَاشِرَ، ثُمَّ سَمَّى نَفْسَهُ، ثُمَّ قَالَ: «سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ فِي الْجَنَّةِ»
১৩ - আবুল হাসান আহমদ ইবন ইসহাক ইবন মিনজাব আত-তীবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবন শাকির এবং আল-হাসান ইবন আলী ইবন যিয়াদ আন-নাজ্জার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আল-হাসান অর্থাৎ ইবন আলী আল-হুলওয়ানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াহাব ইবন জারীর এবং ওয়াক্বী ইবনুল জাররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুর ইবন সাইয়্যাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আমাদের মধ্যকার আবদুর রহমান ইবন আল-আখনাস নামক এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মুগীরাহ ইবন শু'বাহ খুতবা প্রদান করলেন এবং আলীর সমালোচনা করলেন। তখন সাঈদ ইবন যায়েদ তাঁকে বললেন: আপনি এর দ্বারা কী চাচ্ছেন? অথচ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নবী জান্নাতী, আবু বকর জান্নাতী, উমর জান্নাতী, উসমান জান্নাতী, আলী জান্নাতী, তালহা জান্নাতী, যুবাইর জান্নাতী, আবদুর রহমান ইবন আওফ জান্নাতী এবং সা’দ জান্নাতী।» এরপর তিনি সামান্য সময় নীরব থাকলেন এবং বললেন: তোমরা চাইলে আমি দশম ব্যক্তির নামও বলতে পারি। এরপর তিনি নিজের নাম উল্লেখ করলেন এবং বললেন: «সাঈদ ইবন যায়েদ জান্নাতী।»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌الْمَجْلِسُ التَّاسِعُ وَالثَّلَاثُونَ وَالسِّتُّمِائَةِ فِي جُمَادَى الْآخِرَةِ مِنَ السَّنَةِ
ছয়শত ঊনচল্লিশতম মজলিস, বছরের জুমাদাল আখিরাহ মাসে
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٠)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، ثنا يُوسُفُ الْقَاضِي، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، ثنا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ زَبَّانَ، أَنَّ لَهِيعَةَ بْنَ عُقْبَةَ، حَدَّثَهُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ قَيْصَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ عز وجل بَاعَدَهُ اللَّهُ عز وجل مِنْ جَهَنَّمَ كَبُعْدِ غُرَابٍ طَارَ وَهُوَ فَرْخٌ حَتَّى مَاتَ هَرِمًا»
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ দালাজ ইবনে আহমাদ ইবনে দালাজ, ইউসুফ আল-কাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়া আমাকে সংবাদ দিয়েছেন জাব্বান থেকে, লাহিআহ ইবনে উকবাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে রাবিয়াহ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কায়সার থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর চেহারা কামনায় একদিন রোজা রাখে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে ততটুকু দূরে সরিয়ে দেন, যতটুকু দূরত্ব একটি কাক ছানা অবস্থায় উড়া শুরু করে বৃদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া পর্যন্ত অতিক্রম করে থাকে।’
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٠)
15 - وَأَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، ثنا جَعْفَرٌ الْفِرْيَابِيُّ، ثنا قُتَيْبَةُ، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ رَجُلًا، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوْصِنِي. قَالَ: «أُوصِيكَ أَنْ تسْتَحْيَ مِنَ اللَّهِ عز وجل كَمَا تَسْتَحْي رَجُلًا مِنْ صَالِحِي قَوْمِكَ»
১৫ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দাউলাজ ইবন আহমদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর আল-ফিরইয়াবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতায়বা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন লাহিআহ, তিনি ইয়াজিদ ইবন আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি সাঈদ ইবন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন: "আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তুমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহকে লজ্জা করো, ঠিক যেমন তুমি তোমার কওমের একজন নেককার ব্যক্তির সম্মুখে লজ্জা বোধ করো।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٠)
16 - وَأَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، ثنا عُبَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ شَرِيكٍ، ثنا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسَ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الْمُطْعِمِ بْنِ الْمِقْدَامِ، وَعَنْبَسَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْكَلَاعِيِّ، عَنْ نُصَيْحٍ الْعَنْسِيِّ، عَنْ رَكْبٍ الْمِصْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طُوبَى لِمَنْ تَوَاضَعَ فِي غَيْرِ مَنْقَصَةٍ، وَذَلَّ فِي نَفْسِهِ فِي غَيْرِ مَسْكَنَةٍ، وَأَنْفَقَ مِنْ مَالٍ جَمَعَهُ فِي غَيْرِ مَعْصِيَةٍ، وَخَالَطَ أَهْلَ الْفِقْهِ وَالْحِكْمَةِ، وَرَحِمَ أَهْلَ الذُّلِّ وَالْمَسْكَنَةِ، طُوبَى لِمَنْ طَابَ كَسْبُهُ، وَصَلُحَتْ سَرِيرَتُهُ، وَكَرُمَتْ عَلَانِيَتُهُ، وَعَزَلَ عَنِ النَّاسِ شَرَّهُ، طُوبَى لِمَنْ عَمِلَ بِعَمَلِهِ وَأَنْفَقَ الْفَضْلَ مِنْ مَالِهِ، وَأَمْسَكَ الْفَضْلَ مِنْ قَوْلِهِ»
১৬ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দা’লাজ বিন আহমাদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উবাইদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন শারীক, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আদম বিন আবি ইয়াস, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন আইয়াশ, তিনি মুতঈম বিন মিকদাম ও আনবাসাহ বিন সাঈদ আল-কালাঈ থেকে, তারা নুসাইহ আল-আনসি থেকে, তিনি রাক্বব আল-মিসরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের সুসংবাদ (তূবা), যে নিজের মর্যাদাহানি না করে বিনয় অবলম্বন করে, কোনো প্রকার দৈন্যদশা ছাড়াই নিজেকে বিনীত রাখে, আল্লাহর অবাধ্যতা ব্যতীত উপার্জিত সম্পদ থেকে ব্যয় করে, ফিকহ (গভীর জ্ঞান) ও হিকমতের (প্রজ্ঞা) অধিকারীদের সাথে মেলামেশা করে এবং লাঞ্ছিত ও অভাবী লোকদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে। জান্নাতের সুসংবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যার উপার্জন পবিত্র, যার গোপন অবস্থা সৎ ও সংশোধিত, যার প্রকাশ্য আচরণ মর্যাদাপূর্ণ এবং যে মানুষের থেকে নিজের অনিষ্টকে দূরে সরিয়ে রাখে। জান্নাতের সুসংবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যে নিজের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে, তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় করে এবং অনর্থক কথা বলা থেকে বিরত থাকে।»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٠)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الصَّوَّافُ، ثنا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثنا أَبُو زَكَرِيَّا، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ: " أَنَّ خَصْمَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَضَى لِأَحَدِهِمَا، فَقَالَ لَهُ الْمَقْضِيُّ عَلَيْهِ: رُدَّنَا إِلَى عُمَرَ، فَقَالَ لَهُمَا ⦗ص: 31⦘ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم «اذْهَبَا إِلَى عُمَرَ» فَأَتَيَا عُمَرَ رضي الله عنه، فَقَالَ الْمَقْضِيُّ لَهُ: إِنَّا أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَضَى لِي عَلَى هَذَا، وَقَالَ لَهُ هَذَا: رُدَّنَا إِلَى عُمَرَ فَرَدَّنَا إِلَيْكَ، فَقَالَ لَهُ: أَهَكَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَاجْلِسَا حَتَّى أَخْرُجَ لَكُمَا فَأَقْضِيَ بَيْنَكُمَا، قَالَ: فَدَخَلَ وَخَرَجَ وَقَدِ اشْتَمَلَ عَلَى سَيْفِهِ، قَالَ: فَضَرَبَهُ حَتَّى قَتَلَهُ، وَعَادَ الْآخَرُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَتَلَ وَاللَّهِ عُمَرُ صَاحِبِي، فَلَوْلَا مَا سَبَقْتُ لَقَتَلَنِي ، قَالَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَا كُنْتُ أَرَى أَنَّ عُمَرَ يَجْتَرِئُ عَلَى أَهْلٍ مُؤْمِنِينَ» فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65] قَالَ: فَبَرَّأَ اللَّهُ عز وجل مِنْ دَمِ هَذَا؛ أَنَّ عُمَرَ لَمْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا فِي الْإِسْلَامِ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: {وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ اقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ أَوِ اخْرُجُوا مِنْ دِيَارِكُمْ مَا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِنْهُمْ} [النساء: 66]
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবনুল হাসান আস-সাওওয়াফ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বিশর ইবন মুসা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জাকারিয়া, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবন লাহীআহ, আবুল আসওয়াদ থেকে বর্ণিত: "দুইজন বিবাদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একটি বিবাদ নিয়ে এল। তিনি তাদের একজনের পক্ষে ফয়সালা দিলেন। যার বিপক্ষে ফয়সালা দেওয়া হলো সে বলল: আমাদের ওমরের কাছে পাঠিয়ে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ «তোমরা ওমরের কাছে যাও»। তারা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এল। যার পক্ষে ফয়সালা দেওয়া হয়েছিল সে বলল: আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়েছিলাম এবং তিনি আমার পক্ষে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফয়সালা দিয়েছেন। আর এই ব্যক্তি বলল: 'আমাদের ওমরের কাছে পাঠিয়ে দিন', তাই তিনি আমাদের আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। ওমর তাকে জিজ্ঞেস করলেন: বিষয়টি কি এমনই? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা বসো যতক্ষণ না আমি তোমাদের কাছে বের হয়ে আসি এবং তোমাদের মাঝে ফয়সালা করি। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি ভেতরে ঢুকলেন এবং নিজের তলোয়ার নিয়ে বের হয়ে এলেন। তিনি তাকে আঘাত করলেন এমনকি তাকে হত্যা করলেন। অন্য ব্যক্তিটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে গিয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কসম, ওমর আমার সাথীকে হত্যা করেছেন। আমি যদি দ্রুত না পালাতাম তবে তিনি আমাকেও হত্যা করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি মনে করিনি যে ওমর মুমিনদের বিরুদ্ধে এমন দুঃসাহস দেখাবে» তখন এই আয়াত নাজিল হলো {অতএব তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক মানবে, তারপর তোমার দেওয়া ফয়সালার ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো কুণ্ঠা বোধ করবে না এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে} [আন-নিসা: ৬৫]। তিনি বলেন: তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে এই রক্ত থেকে নির্দোষ ঘোষণা করলেন; কারণ ওমর ইসলামে কোনো মুমিনকে হত্যা করেননি। এরপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নাজিল করলেন: {আর আমি যদি তাদের ওপর লিখে দিতাম যে, তোমরা নিজেদের হত্যা করো অথবা তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে যাও, তবে তাদের অল্প সংখ্যক ছাড়া কেউ তা করত না} [আন-নিসা: ৬৬]।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣١)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ خُزَيْمَةَ، ثنا أَبُو إِسْمَاعِيلَ التِّرْمِذِيُّ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ أَبِي السَّرِيِّ الْعَسْقَلَانِيُّ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنِي مَرْوَانُ بْنُ جُنَاحٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ مَوْلًى لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَكَانَ ثِقَةً، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بُرْدَةَ بنَ أَبِي مُوسَى يُحَدِّثُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ دُعِيَ بِالْأَنْبِيَاءِ وَأُمَمِهَا ثُمَّ يُدْعَى بِعِيسَى صلى الله عليه وسلم، فَيُذَكِّرُهُ اللَّهُ عز وجل نِعْمَتَهُ عَلَيْهِ فَيُقِرُّ بِهَا وَيُعَرِّفُهُ، فَيَقُولُ: {يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ وَعَلَى وَالِدَتِكَ} [المائدة: 110] الآْيَةَ، ثُمَّ يَقُولُ: {أَأَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِنْ دُونِ اللَّهِ} [المائدة: 116] فَيُنْكِرُ أَنْ يَكُونَ قَالَ ذَلِكَ، فَيُؤْتَى بِالنَّصَارَى فَيُسْأَلُونَ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ، هُوَ أَمَرَنَا بِذَلِكَ، قَالَ: فَيَطُولُ شَعْرُ عِيسَى حَتَّى يَأْخُذَ كُلُّ مَلَكٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ بِشَعْرَةٍ مِنْ شَعْرِ رَأْسِهِ وَجَسَدِهِ، فَيُجَاءُ بِهِمْ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ عز وجل مِقْدَارَ أَلْفِ عَامٍ حَتَّى يُوقِعَ عَلَيْهِمُ الْحُجَّةَ، وَيُرْفَعُ لَهُمُ ⦗ص: 32⦘ الصَّلِيبُ، وَيُنْطَلَقُ بِهِمْ إِلَى النَّارِ "
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আহমদ ইবনুল ফদল ইবনুল আব্বাস ইবনে খুজাইমা, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ইসমাইল আত-তিরমিজি, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবিস সারি আল-আসকালানি, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, তিনি বলেন, মারওয়ান ইবনে জানাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনে আব্দুল আজিজের আযাদকৃত দাস আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি—আর তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত—তিনি বলেন: আমি আবু বুর্দা ইবনে আবি মুসাকে উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কিয়ামত দিবস আসবে, তখন নবীগণ ও তাঁদের উম্মতদের ডাকা হবে। এরপর ঈসা আলাইহিস সালামকে ডাকা হবে এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁকে তাঁর প্রতি দেওয়া নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। তখন তিনি তা স্বীকার করবেন এবং আল্লাহ তাঁকে তা চিনিয়ে দেবেন। এরপর তিনি বলবেন: {হে ঈসা ইবনে মারিয়াম, তোমার প্রতি ও তোমার জননীর প্রতি আমার নেয়ামত স্মরণ করো} [আল-মায়িদাহ: ১১০]—পুরো আয়াত। এরপর তিনি বলবেন: {তুমি কি মানুষকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহকে ছাড়া আমাকে ও আমার মাতাকে দুই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো?} [আল-মায়িদাহ: ১১৬]। তখন তিনি তা বলেছিলেন বলে অস্বীকার করবেন। এরপর খ্রিস্টানদের নিয়ে আসা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে। তারা বলবে: হ্যাঁ, তিনিই আমাদের এই আদেশ দিয়েছিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন ঈসার চুল দীর্ঘ হয়ে যাবে, এমনকি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে প্রত্যেক ফেরেশতা তাঁর মাথার ও শরীরের একেকটি চুল ধরে রাখবেন। এরপর তাদের আল্লাহর দুই হাতের সামনে এক হাজার বছর পরিমাণ সময় উপস্থিত রাখা হবে, যাতে তাদের বিরুদ্ধে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর তাদের জন্য ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ ক্রুশ তোলা হবে এবং তাদের জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٢)
19 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْآجُرِّيُّ بِمَكَّةَ، ثنا الْفِرْيَابِيُّ، ثنا أَبُو أَيُّوبَ سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي جُبَيْرٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، أَنَّهُ لَقِيَ أَبَا أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ فَسَأَلَهُ عَنْ حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ عَنْبَسَةَ السُّلَمِيِّ حِينَ حَدَّثَ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ، وَأَصْحَابَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «» مَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عز وجل فَبَلَغَ أَخْطَأَ أَوْ أَصَابَ كَانَ سَهْمُهُ ذَلِكَ لَهُ كَعَدْلِ رَقَبَةٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ، وَمَنْ خَرَجَتْ بِهِ شَيْبَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عز وجل كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مَسْلَمَةً كَانَتْ لَهُ فِكَاكَهُ مِنْ جَهَنَّمَ، وَمَنْ قَامَ إِلَى الْوُضُوءِ يَرَاهُ حَقًا عَلَيْهِ فَمَضْمَضَ فَاهُ غُفِرَتْ لَهُ ذُنُوبُهُ مَعَ أَوَّلِ قَطْرَةٍ مِنْ طَهُورِهِ، فَإِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ فَمِثْلُ ذَلِكَ، فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ فَمِثْلُ ذَلِكَ، فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ فَمِثْلُ ذَلِكَ، فَإِنْ جَلَسَ جَلَسَ سَالِمًا، وَإِنْ صَلَّى تُقُبِّلَ مِنْهُ، قَالَ شَهْرٌ: فَحَدَّثَنِي أَبُو أُمَامَةَ بِهَذَا الْحَدِيثِ، سَمِعَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "
১৯ - মক্কায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আল-আজুরি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-ফিরইয়াবি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আইয়ুব সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান আদ-দিমাশকি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আইয়াশ, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আবু জুবাইর থেকে, তিনি শাহর বিন হাওশাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু উমামা আল-বাহিলির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে আমর বিন আবাসা আস-সুলামির সেই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন যখন তিনি শুরাহবিল বিন আস-সিমত ও তার সঙ্গীদের নিকট বর্ণনা করেছিলেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «যে ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পথে একটি তীর নিক্ষেপ করবে, তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হোক কিংবা লক্ষ্যভেদী হোক, তার সেই তীরটি তার জন্য ইসমাইলের বংশধর হতে একজন দাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে। আর আল্লাহর পথে যার একটি চুল পেকে সাদা হয়েছে, তা কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম দাস মুক্ত করবে, তা তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাধ্যম হবে। আর যে ব্যক্তি ওযুর জন্য দণ্ডায়মান হয় এবং একে নিজের ওপর কর্তব্য মনে করে, অতঃপর কুলি করে, তার পবিত্রতার প্রথম ফোঁটা পানির সাথেই তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখনও অনুরূপ হয়। যখন সে তার হাত দু’টি ধৌত করে, তখনও অনুরূপ হয়। যখন সে তার পা দু’টি ধৌত করে, তখনও অনুরূপ হয়। অতঃপর যদি সে বসে থাকে, তবে নিরাপদ (পাপমুক্ত) অবস্থায় বসে। আর যদি সে সালাত আদায় করে, তবে তা কবুল করা হয়।’ শাহর বলেন: আবু উমামা আমার নিকট এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, যা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٢)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْفَاكِهِيُّ بِمَكَّةَ، ثنا أَبُو يَحْيَى بْنُ أَبِي مَسَرَّةَ، ثنا خَلَّادُ بْنُ يَحْيَى، ثنا قَطَرُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الطُّفَيْلِ، قَالَ: قُلْنَا أَوَ قِيلَ لِعَلِيٍّ: هَلْ تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كِتَابًا عِنْدَكُمْ؟ قَالَ: مَا تَرَكَ كِتَابًا نَكْتُمُهُ إِلَّا شَيْئًا فِي عِلَاقَةِ سَيْفِي فَوَجَدْنَا صَحِيفَةً صَغِيرَةً فِيهَا: «لَعَنَ اللَّهُ مَنْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ، لَعَنَ اللَّهُ مَنْ أَهَلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ، لَعَنَ اللَّهُ مَنْ زَحْزَحَ مَنَارَ الْأَرْضِ»
২০ - আমাদের নিকট মক্কায় আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক আল-ফাকিহী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াহইয়া ইবন আবি মাসাররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খাল্লাদ ইবন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাতার ইবন খলিফা আল-কাসিম ইবন আবি বাজাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু তুফায়েলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা আলীকে বললাম অথবা তাকে বলা হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনাদের নিকট কোনো কিতাব রেখে গেছেন? তিনি বললেন: তিনি এমন কোনো কিতাব রেখে যাননি যা আমরা গোপন করছি, তবে আমার তরবারির হাতলে রক্ষিত এই বিষয়টি ব্যতীত। এরপর আমরা তাতে একটি ছোট সহীফা বা লিপি পেলাম যাতে রয়েছে: «যে ব্যক্তি তার আসল অভিভাবক বা মনিব ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন; যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে পশু জবেহ বা উৎসর্গ করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন; এবং যে ব্যক্তি জমির সীমানা চিহ্ন পরিবর্তন করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন।»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٢)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُعَدَّلُ، ثنا أَبُو ⦗ص: 33⦘ يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَيْمُونٍ الْحَرْبِيُّ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ ثَمَانِينَ وَمِائَتَيْنِ، ثنا سُلَيْمُ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سُوَيْدٍ الْحَرَّانِيِّ، عَنْ أَبِي سَاجٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " يُنْشِيءُ اللَّهُ تَعَالَى لِأَهْلِ النَّارِ سَحَابَةً سَوْدَاءَ مُظْلِمَةً، فَإِذَا أَظَلَّتْهُمْ قَالَتْ: يَا أَهْلَ النَّارِ مَاذَا تَسْأَلُونَ وَمَاذَا تَطْلُبُونَ؟ فَيَذْكُرُونَ بِهَا سَحَابَةَ الدُّنْيَا وَالْمَاءَ الَّذِي كَانَ يَنْزِلُ عَلَيْهِمْ، فَيَقُولُونَ: نَسْأَلُ بَارِدَ الشَّرَابِ، فَتُمْطِرُهُمْ أَغْلَالًا تَزِيدُ فِي أَغْلَالِهِمْ، وَقُيُودًا تَزِيدُ فِي قُيُودِهِمْ، وَسَلَاسِلَ تُزَادُ فِي سَلَاسِلِهِمْ، وَجَمْرًا يُلْهِبُ النَّارَ عَلَيْهِمْ "
২১ - আমাদের অবহিত করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল খালিক বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দাল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ ইয়াকুব ইসহাক বিন আল-হাসান বিন মাইমুন আল-হারবী ২৮০ হিজরীর মুহাররম মাসে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইম বিন মানসুর বিন আম্মার, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি সুওয়াইদ আল-হাররানী থেকে, তিনি আবু সাজ থেকে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা জাহান্নামীদের জন্য একটি অন্ধকার কালো মেঘ সৃষ্টি করবেন। অতঃপর যখন সেটি তাদের ওপর ছায়া দান করবে, তখন সেটি বলবে: হে জাহান্নামীরা! তোমরা কী প্রার্থনা করছ এবং কী অন্বেষণ করছ? তখন তারা এর মাধ্যমে দুনিয়ার মেঘমালা এবং যে পানি তাদের ওপর বর্ষিত হতো তার কথা স্মরণ করবে। তারা বলবে: আমরা শীতল পানীয় প্রার্থনা করছি। তখন সেটি তাদের ওপর বেড়ি বর্ষণ করবে যা তাদের বেড়িগুলোকে বাড়িয়ে দেবে, বন্ধনী বর্ষণ করবে যা তাদের বন্ধনীগুলোকে বাড়িয়ে দেবে, শিকল বর্ষণ করবে যা তাদের শিকলগুলোর সাথে যুক্ত হবে এবং জলন্ত অঙ্গার বর্ষণ করবে যা তাদের ওপর আগুনকে প্রজ্বলিত করে দেবে।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٣)
22 - وَأَخْبَرَنَا عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ الْحَسَنِ، ثنا إِسْحَاقُ، ثنا سُلَيْمٌ، ثنا أَبِي، عَنْ هِقْلِ بْنِ زِيَادٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ بِلَالِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: " تُنَادَى النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَرْبَعَةِ أَصْوَاتٍ: يَا نَارُ أَنْضِجِي، يَا نَارُ أَحْرِقِي، يَا نَارُ اشْتَفِي، يَا نَارُ كُلِي وَلَا تَقْتُلِي "
২২ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল খালিক ইবনুল হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি হিকল ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আওজায়ি থেকে, তিনি বিলাল ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে চারটি আহ্বানে সম্বোধন করা হবে: হে আগুন, পরিপক্ব করো; হে আগুন, দগ্ধ করো; হে আগুন, পরিতৃপ্ত হও; হে আগুন, ভক্ষণ করো কিন্তু প্রাণ হরণ করো না।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٣)
23 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا حَجَّاجُ، قَالَ يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ: أَخْبَرَنِي عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَذْنَبَ فِي الدُّنْيَا ذَنْبًا فَعُوقِبَ بِهِ فَاللَّهُ عز وجل أَعْدَلُ مِنْ أَنْ يُثَنِّيَ عُقُوبَتَهُ عَلَى عَبْدِهِ، وَمَنْ أَذْنَبَ ذَنْبًا فِي الدُّنْيَا فَسَتَرَ اللَّهُ عز وجل عَلَيْهِ ، وَعَفَا عَنْهُ، فَاللَّهُ عز وجل أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يَعُودَ فِي شَيْءٍ قَدْ عَفَا عَنْهُ»
২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ, তিনি বলেন, ইউনুস বিন আবি ইসহাক বলেছেন: আমাকে আবু ইসহাক থেকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে, তিনি আবু জুহাইফাহ থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো পাপ করল এবং তার জন্য তাকে শাস্তি প্রদান করা হলো, তবে আল্লাহ (মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) তাঁর বান্দার ওপর সেই শাস্তি দ্বিতীয়বার প্রদানের ক্ষেত্রে অধিকতর ন্যায়পরায়ণ। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো পাপ করল এবং আল্লাহ (মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) তা তার জন্য গোপন রাখলেন ও তাকে ক্ষমা করে দিলেন, তবে আল্লাহ (মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) সেই বিষয়ে পুনরায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে অধিকতর মহানুভব যা তিনি ইতিমধ্যে ক্ষমা করে দিয়েছেন»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٣)
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ الْكِنْدِيُّ بِمَكَّةَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ الْخَرَائِطِيُّ، ثنا أَبُو زَيْدٍ عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، ثنا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيُّ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ الْمُزَنِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رَضِيَ اللَّهُ ⦗ص: 34⦘ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نَظَرُ الرَّجُلِ فِي مَحَاسِنِ الْمَرْأَةِ سَهْمٌ مِنْ سِهَامِ إِبْلِيسَ مَسْمُومٌ، فَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذَلِكَ الْسَّهْمِ أَعَقْبَهُ اللَّهُ عِبَادَةً تَسُرُّهُ»
২৪ - আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আলী আল-কিন্দী মক্কায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে সাহল আল-খারাইতী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু যায়েদ উমর ইবনে শাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনবাসাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-কুরাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাসান আল-মুযানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নারীর সৌন্দর্যের প্রতি পুরুষের দৃষ্টিপাত ইবলিসের বিষাক্ত তীরসমূহের মধ্য হতে একটি বিষাক্ত তীর। সুতরাং যে ব্যক্তি সেই তীর হতে বিমুখ থাকে, আল্লাহ তাকে বিনিময়ে এমন ইবাদত দান করবেন যা তাকে আনন্দিত করবে।»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٤)
25 - وَأَخْبَرَنَا الْكِنْدِيُّ، ثنا مُحَمَّدٌ، ثنا حَمَّادُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَنْبَسَةَ الْوَرَّاقُ، ثنا سَيَّارُ بْنُ حَاتِمٍ الْعَنَزِيُّ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، ثنا أَبُو طَارِقٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اتَّقِ الْمَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ»
২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কিন্দি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন আনবাসাহ আল-ওয়াররাক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাইয়ার বিন হাতিম আল-আনাযি, হুসাইন বিন সুলাইমান আদ-দুবায়ী হতে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু তারিক, আল-হাসান হতে, তিনি আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তুমি হারাম কাজসমূহ থেকে বেঁচে থাকো, তবেই তুমি মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী হতে পারবে।»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌الْمَجْلِسُ الْأَرْبَعُونَ وَالسِّتُّمِائَةِ فِي جُمَادَى الْآخِرَةِ مِنَ السَّنَةِ
বছরের জুমাদাল আখিরাহ মাসে অনুষ্ঠিত ছয়শত চল্লিশতম মজলিস
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউল আওয়াল (পৃষ্ঠা: ٣٥)
26 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ الْحَارِثِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثنا يَعْلَى بْنُ عَبَّادِ الْكُلَائِيُّ، ثنا شُعْبَةُ، عَنْ جَبَلَةَ بْنِ سُحَيْمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ يَقُولُ: «وَيَحْكُمْ، لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ»
২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ হামযাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস বিন আল-ফাদল বিন আল-হারিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আল-ওয়ালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়ালা বিন আব্বাদ আল-কুলাই, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, জাবালাহ বিন সুহাইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিদায় হজ্জের সময় বলতে শুনেছি: «তোমাদের প্রতি আক্ষেপ! আমার পর তোমরা কাফির হয়ে ফিরে যেও না, যেখানে তোমরা একে অপরের গর্দান আঘাত করবে (একে অপরকে হত্যা করবে)।»