(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: -)
الأسهم - حكمها وآثارها القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الأسهم - حكمها وآثارها
المؤلف: أ. د. صالح بن محمد بن سليمان السلطان
الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م
عدد الصفحات: 141
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الآخرة 1436
শেয়ার - এর বিধান ও প্রভাবসমূহ বিভাগ: ফিকহী বিষয়াবলী
গ্রন্থ: শেয়ার - এর বিধান ও প্রভাবসমূহ
লেখক: অধ্যাপক ড. সালেহ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আল-সুলতান
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: -)
الأسهم - حكمهَا وآثارها
إعداد
أ. د. صَالح بن مُحَمَّد بن سُلَيْمَان السُّلْطَان
كُلية الشَّرِيعَة - جَامِعَة القصيم
শেয়ার: এগুলোর বিধান (حكم) এবং প্রভাবসমূহ
প্রস্তুতকারক
অধ্যাপক ডক্টর সালিহ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আস-সুলতান
শরীয়াহ অনুষদ - কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةجاء الإسلام تامًّا ومتكاملًا، بشرائعه وقيمه وأصوله، قائمًا برعاية أفراده، وصيانة حقوقهم، وبيانها جلية واضحة، ودعاهم إلى السعي في الأرض: {هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِنْ رِزْقِهِ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ} [الملك: 15]، وأمرهم بالعمل والأكل من الطيبات: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا} [المؤمنون: 51]، وحذَّرهم من الحرام: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [البقرة: 278].
واستثمار المال وتنميته في طرقه المشروعة هو نوع من العمل المأمور به: {وَابْتَغِ فِيمَا آَتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآَخِرَةَ} [القصص: 77].
وإذا كان الإسلام أمر بالاستثمار، فإنه حدده بالحلال، وجعله أصلًا له: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ} [البقرة: 275]، وترك للعباد تعيين طرق هذا الاستثمار بناء على هذا الأصل، وجريا على قواعده؛ فتنوعت طرق العباد في استثمارهم في كل زمان ومكان، وَجَدَّ لهم في هذا الزمان من المعاملات ما لم يكن معروفًا فيما مضى (1).
وكان من هذه المعاملات: الأسهم؛ استثمارًا في ريعها، ومضاربة على فروق الأسعار فيها؛ بل صارت هذه المعاملة أشهر هذه
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাইসলাম তার শরিয়াহ, মূল্যবোধ ও মূলনীতিসহ পূর্ণাঙ্গ ও সুসংহতভাবে আবির্ভূত হয়েছে; এটি তার অনুসারীদের তদারকি, তাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম মানুষকে পৃথিবীতে বিচরণ ও কর্মতৎপর হতে আহ্বান জানিয়েছে: {তিনিই তোমাদের জন্য পৃথিবীকে সুগম করেছেন, অতএব তোমরা তার দিক-দিগন্তে বিচরণ করো এবং তাঁর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করো; আর পুনরুত্থান তো তাঁরই দিকে} [আল-মূলক: ১৫]। ইসলাম মানুষকে কাজ করার এবং পবিত্র বস্তু থেকে আহার করার নির্দেশ দিয়েছে: {হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকাজ করো} [আল-মুমিনুন: ৫১]। আর তাদের সতর্ক করেছে হারাম থেকে: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা বর্জন করো, যদি তোমরা মুমিন হও} [আল-বাকারাহ: ২৭৮]।
সম্পদ বিনিয়োগ এবং বৈধ পন্থায় তা বৃদ্ধি করা মূলত আদিষ্ট কর্মেরই একটি প্রকার: {আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে পরকাল অনুসন্ধান করো} [আল-কাসাস: ৭৭]।
ইসলাম যখন বিনিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে, তখন সেটিকে বৈধতার (হালাল) গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করেছে এবং একেই এর মূল ভিত্তি হিসেবে সাব্যস্ত করেছে: {আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন} [আল-বাকারাহ: ২৭৫]। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে এবং এর নিয়মাবলি অনুসরণ করে বিনিয়োগের পদ্ধতি নির্ধারণের বিষয়টি বান্দাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিভিন্ন যুগে ও স্থানে মানুষের বিনিয়োগ পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য এসেছে এবং বর্তমান সময়ে এমন সব নতুন লেনদেনের উদ্ভব হয়েছে যা অতীতে পরিচিত ছিল না (১)।
এই লেনদেনগুলোর অন্যতম হলো: শেয়ার; এর লভ্যাংশ অর্জনের উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ এবং মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধির পার্থক্যের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন; বরং এই লেনদেনটি বর্তমানে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
المعاملات، ودخل فيها الكثير، وشغلت بالهم، واستغرقت أموالهم، وصارت حديث مجالسهم، ومحل حواراتهم.
ولما كان لها هذه الأهمية، وكانت تستغرق هذا الجزء الكبير من الاستثمار في السوق المالية، وكثر الحديث حولها، وتعددت الآراء في حكمها، واختلفت اختلافا متباينا، وكنت أرى أن تلك القواعد التي استدل بها المجيزون لها وجاهتها من حيث الجملة قبل إمعان النظر والتدقيق فيها ـ بدأت في مراجعة هذه المسألة ـ بل النازلة ـ ومراجعة ما كتب فيها، تحليلًا أو تحريمًا (1)، فبدأت الكتابة فيها مستمدًّا العون والتوفيق من الله؛ مشاركةً في إثراء هذا الموضوع، وتحديدًا لمسائله، وتحليلًا وتقويمًا لأدلته، وبيانًا لما يرد عليها؛ متحريًا في ذلك موافقة الأصول، ومحقِّقًا في تحرير المقاصد وكيفية مراعاتها، مستفيدًا وموثقًا مما كتبه العلماء المتقدمون والمعاصرون.
وقد قسَّمْتُ هذا البحث إلى تمهيد ومباحث:
التمهيد: في التعريف بالأسهم وأنواعها. وفيه مسائل:
المسألة الأولى: في تعريف الأسهم والمقصود بها.
المسألة الثانية: في خصائص الأسهم.
المسألة الثالثة: في قيمة الأسهم وأقسامها.
المسألة الرابعة: في أنواع الأسهم.
المسألة الخامسة: في محل العقد في بيع الأسهم.
المسألة السادسة: بيع الأسهم قبل تداولها.
المبحث الأول: حكم المساهمة في هذه الشركات؛ وفيه مسائل:
المسألة الأولى: في حكم هذه المساهمة.
المسألة الثانية: في فروع متعلقة بحكم هذه المسألة.
--------------------------------------------
লেনদেনসমূহ, এতে বহু মানুষ সম্পৃক্ত হয়েছে, এটি তাদের মনোজগতকে আচ্ছন্ন করেছে, তাদের অর্থসম্পদ এতে ব্যয়িত হয়েছে এবং এটি তাদের মজলিসগুলোর আলোচনার বিষয় ও কথোপকথনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
যেহেতু এর গুরুত্ব অপরিসীম এবং এটি আর্থিক বাজারে বিনিয়োগের এক বিশাল অংশ জুড়ে আছে, আর এ নিয়ে আলোচনাও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর শরয়ি বিধানের ব্যাপারে মতভেদ তৈরি হয়েছে ও দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপক ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে—আর আমি মনে করতাম যে, যারা এটি বৈধ বলেছেন তাদের উপস্থাপিত মূলনীতিসমূহ গভীরভাবে পর্যালোচনা ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের পূর্বে সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল—তাই আমি এই মাসআলা—বরং এই নতুন উদ্ভূত জটিল সমস্যাটি—পুনঃপর্যালোচনা শুরু করেছি এবং এ বিষয়ে যা কিছু লেখা হয়েছে, চাই তা বৈধতা কিংবা অবৈধতা বিষয়ক হোক, তা অধ্যয়ন করেছি (১)। অতঃপর আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য ও তৌফিক কামনা করে এ বিষয়ে লিখতে শুরু করি; যাতে এই বিষয়টি সমৃদ্ধ হয়, এর মাসআলাগুলো সুনির্দিষ্ট হয়, এর দলীলসমূহ বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করা যায় এবং এর ওপর উত্থাপিত আপত্তিসমূহ স্পষ্ট করা যায়। এক্ষেত্রে আমি মূলনীতিসমূহের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সচেষ্ট হয়েছি এবং শরিয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ নিরূপণ ও তা বজায় রাখার পদ্ধতির ব্যাপারে অনুসন্ধান করেছি। আমি এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ও সমসাময়িক আলেমদের রচনা থেকে উপকৃত হয়েছি এবং সেগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।
আমি এই গবেষণাপত্রটিকে একটি ভূমিকা ও কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
ভূমিকা: শেয়ারের পরিচয় ও এর প্রকারভেদ। এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:
প্রথম মাসআলা: শেয়ারের সংজ্ঞা ও এর তাৎপর্য।
দ্বিতীয় মাসআলা: শেয়ারের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
তৃতীয় মাসআলা: শেয়ারের মূল্য ও এর প্রকারভেদ।
চতুর্থ মাসআলা: শেয়ারের ধরনসমূহ।
পঞ্চম মাসআলা: শেয়ার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে চুক্তির বিষয়বস্তু।
ষষ্ঠ মাসআলা: বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পূর্বে শেয়ার বিক্রয়।
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই কোম্পানিগুলোতে অংশীদার হওয়ার বিধান; এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:
প্রথম মাসআলা: এই অংশীদারিত্বের বিধান প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় মাসআলা: এই মাসআলার বিধান সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
المسألة الثالثة: إذا دخل في شركة ثم تبين له وجود استثمار محرم.
المبحث الثاني: المعقود عليه في المضاربة على الأسهم.
المبحث الثالث: تصرفات المضاربين في سوق الأسهم وحكمها.
المبحث الرابع: حقيقة المضاربة في سوق الأسهم.
المبحث الخامس: في آثار المضاربة على الأسهم.
الخاتمة.
الفهارس.
* * * * *
তৃতীয় মাসআলা: যদি কেউ কোনো অংশীদারিত্বে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর নিকট হারাম বিনিয়োগের অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শেয়ার মুদারাবার ক্ষেত্রে চুক্তিভুক্ত বিষয়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শেয়ার বাজারে মুদারিবগণের কার্যক্রম ও সেগুলোর বিধান।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শেয়ার বাজারে মুদারাবার প্রকৃত স্বরূপ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শেয়ার মুদারাবার প্রভাবসমূহ।
উপসংহার।
নির্ঘণ্টসমূহ।
* * * * *
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
التمهيدوفيه ست مسائل:
المسألة الأولى: تعريف الأسهم
المسألة الثانية: خصائص الأسهم
المسألة الثالثة: قيمة السهم
المسألة الرابعة: أنواع الأسهم
المسألة الخامسة: محل العقد في بيع الأسهم
المسألة السادسة: بيع الأسهم قبل تداولها
প্রারম্ভিকা (التمهيد)এতে ছয়টি মাসয়ালা (مسائل) রয়েছে:
প্রথম মাসয়ালা (المسألة الأولى): শেয়ারের (الأسهم) সংজ্ঞা
দ্বিতীয় মাসয়ালা (المسألة الثانية): শেয়ারের (الأسهم) বৈশিষ্ট্যসমূহ
তৃতীয় মাসয়ালা (المسألة الثالثة): শেয়ারের (السهم) মূল্য
চতুর্থ মাসয়ালা (المسألة الرابعة): শেয়ারের (الأسهم) প্রকারভেদ
পঞ্চম মাসয়ালা (المسألة الخامسة): শেয়ার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে চুক্তির বিষয়বস্তু (محل العقد)
ষষ্ঠ মাসয়ালা (المسألة السادسة): হস্তান্তরের (تداول) পূর্বে শেয়ার বিক্রয়
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
تمهيد
المسألة الأولى: تعريف الأسهمفي اللغة: جمع سهم، وهو: النصيب المحكم، والسهم: الخط، والجمع سهمان وسهمة، والسهم في الأصل واحد السهام التي يضرب بها في الميسر، وهي القداح .... ثم كثر حتى سمي كلُّ نصيب سهمًا.
وفي الاصطلاح عُرِّفَ بتعريفات عدة، منها:
1 - السهم هو: النصيب الذي يشترك به المساهم في الشركة .... ويتمثل في صَكٍّ يعطى للمساهم، يكون وسيلة في إثبات حقوقه في الشركة (1).
2 - وعُرِّفَ بأنه: الجزء الذي ينقسم على قيمة مجموع رأس مال الشركة المثبت في صَكٍّ له قيمة اسمية، وتُمَثِّلُ الأسهمُ في مجموعها رأسَ مال الشركة، وتكون متساوية القيمة (2).
--------------------------------------------
ভূমিকা
প্রথম মাসআলা: শেয়ারের (الأسهم) সংজ্ঞাশাব্দিক অর্থে: এটি ‘সাহম’ (سهم) এর বহুবচন; যার অর্থ: সুনির্ধারিত অংশ (النصيب المحكم)। ‘সাহম’ শব্দের অন্য অর্থ হলো রেখা (الخط); এর বহুবচন হলো ‘সুহমান’ (سهمان) ও ‘সুহমাহ’ (سهمة)। ‘সাহম’ মূলত লটারিতে ব্যবহৃত তীরগুলোর (السهام) একটিকে বলা হতো যা জুয়ায় ব্যবহৃত হয়, আর সেগুলো হলো তীরের ফলা (القداح)... পরবর্তীতে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিটি অংশকেই অংশ বা শেয়ার (سهم) বলা হতে থাকে।
পারিভাষিক অর্থে এর বেশ কিছু সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে, তন্মধ্যে রয়েছে:
১ - শেয়ার (السهم) হলো: সেই অংশ (النصيب) যার মাধ্যমে অংশীদার কোম্পানিতে অংশগ্রহণ করে... এবং এটি একটি সনদে (صك) প্রতিফলিত হয় যা অংশীদারকে প্রদান করা হয়, যা কোম্পানিতে তার অধিকার প্রমাণের মাধ্যম (وسيلة) হিসেবে কাজ করে (১)।
২ - এবং একে এভাবেও সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যে: এটি এমন একটি অংশ (الجزء) যা কোম্পানির মোট মূলধনের (رأس المال) মূল্যের ভিত্তিতে বিভক্ত এবং একটি সনদে (صك) লিপিবদ্ধ থাকে যার একটি অভিহিত মূল্য (قيمة اسمية) থাকে। শেয়ারগুলো (الأسهم) সামগ্রিকভাবে কোম্পানির মূলধনকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং এগুলোর মূল্য সমান হয়ে থাকে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
المسألة الثانية: خصائص الأسهمتَتَّصِفُ الأسهم بالخصائص الآتية:
1 - التساوي في القيمة الاسمية التي تصدر بها الأسهم؛ فلا يجوز نظامًا أن يكون لبعض الأسهم قيمة أعلى من قيمة البعض الآخر.
والتساوي في القيمة يترتب عليه التساوي في الحقوق والالتزامات؛ سواء من حيث توزيع أرباح الشركة، أو موجوداتها بعد تصفيتها، أو في التصويت، أو في تَحَمُّلِ الديون والالتزامات المترتِّبة على الشركة، والشريك يسأل عن ديون الشركة بمقدار أسهمه التي يملكها فقط (1).
2 - أنها غيرُ قابلة للتجزئة؛ بمعنى أنه لا يصح أن يملك جزءًا من سهم، ويجوز أن يشترك أكثر من واحد في ملكية سهم؛ لكن يُمَثِّلُهم تجاه الشركة شخص واحد، وكذلك الحال لو مات المالك للأسهم؛ فيتعيَّن على الورثة اختيار من يمثِّلُهم في الجمعية العمومية، وفي كل ما يتعلق بحقوق هذا السهم.
3 - أنها قابلة للتداول بالطرق التجارية بيعًا وشراءً ورهنًا وغيرها؛ بمعنى أنه يمكن انتقالها إلى شخص آخر بعيدًا عن سلطة الشركة، وسواء كان السهم صادرًا لحامله من غير اسم، أو كان السهم إذنيًّا - أي يصدر لإذن أو أمر المساهم - فيتم تداولُه بطريق التظهير (2).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মাসয়ালা: শেয়ারের বৈশিষ্ট্যসমূহশেয়ারের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১ - শেয়ার যে অভিহিত মূল্যে ইস্যু করা হয়, তাতে সমতা বজায় থাকা; সুতরাং আইনগতভাবে কিছু শেয়ারের মূল্য অন্য শেয়ারের মূল্যের চেয়ে অধিক হওয়া বৈধ নয়।
আর মূল্যের এই সমতার ফলে অধিকার ও দায়-দায়িত্বেও সমতা সৃষ্টি হয়; চাই তা কোম্পানির লভ্যাংশ বন্টন, কিংবা বিলুপ্তির পর তার বিদ্যমান সম্পদ বন্টন, অথবা ভোটাধিকার প্রয়োগ, কিংবা কোম্পানির ওপর বর্তানো ঋণ ও দায়-দেনার ভার বহনের ক্ষেত্রেই হোক না কেন। অংশীদার কেবল তার মালিকানাধীন শেয়ারের পরিমাণ অনুযায়ী কোম্পানির ঋণের জন্য দায়ী থাকবেন (১)।
২ - এটি অবিভাজ্য; অর্থাৎ শেয়ারের কোনো অংশের মালিক হওয়া সঠিক (صحيح) নয়। তবে একের অধিক ব্যক্তি একটি শেয়ারের মালিকানায় অংশীদার হতে পারেন; কিন্তু কোম্পানির নিকট একজন ব্যক্তিই তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন। একইভাবে শেয়ারের মালিক মৃত্যুবরণ করলে, ওয়ারিশদের ওপর আবশ্যক হলো সাধারণ সভায় এবং এই শেয়ারের অধিকার সংক্রান্ত সকল বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একজনকে নির্বাচন করা।
৩ - এটি ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে হস্তান্তরযোগ্য; অর্থাৎ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই এটি অন্য ব্যক্তির নিকট স্থানান্তর করা সম্ভব। শেয়ারটি বাহক-ভিত্তিক (নামবিহীন) ইস্যু করা হোক বা নির্দেশিত (অর্থাৎ যা শেয়ারহোল্ডারের নির্দেশে বা আদেশে ইস্যু করা হয়) হোক—তা পৃষ্ঠাঙ্কনের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয় (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
المسألة الثالثة: قيمة السهمالسهم له أكثر من قيمة؛ فقيمة السهم تطلب باعتبارات متعددة؛ فله قيمة اسمية، وقيمة إصدار، وقيمة دفترية، وقيمة حقيقية، وقيمة سوقية، وبيانها على النحو التالي:
1 - القيمة الاسمية:
هي القيمة التي تمت الموافقة عليها من الجهة المختصَّة، ويتم بها طرح السهم للمكتتبين، وتكون مدوَّنةً على الصَّكِّ (السهم)، ويحسب على أساسها مجموع رأس مال الشركة؛ فهي قيمة ثابتة، ويتساوى فيها جميع المساهمين، ولا يجوز إصدار الأسهم بأقل من قيمتها الاسمية.
2 - القيمة الدفترية:
وهي قيمة السهم طبقا لدفاتر الشركة المحاسبية، وهذه القيمة تحسب بقسمة حقوق المساهمين على عدد الأسهم المصدرة، وتتكون من: حقوق المساهمين من رأس المال المدفوع، والاحتياطات، والأرباح المجمعة.
3 - القيمة الحقيقية:
هي النصيب الذي يستحقه السهم في جميع موجودات الشركة وأرباحها بعد حسم ديونها؛ فإذا ربحت الشركة وصار لها أموال احتياطية وأصول، فإن القيمة الحقيقية للسهم ترتفع وتصبح أعلى من القيمة الاسمية، ولو خسرت لحدث العكس.
4 - قيمة الإصدار:
هي القيمة التي تصدر بها الأسهم، وعادة يصدر السهم بقيمته الاسمية، ولا يجوز إصدار السهم بأقل من قيمته الاسمية طبقًا لنظام الشركات بالمملكة العربية السعودية، وإن جاز إصداره بأكثر من قيمته
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শেয়ারের মূল্যশেয়ারের একাধিক মূল্য রয়েছে; বিভিন্ন দিক বিবেচনায় শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। শেয়ারের অভিহিত মূল্য (قيمة اسمية), ইস্যু মূল্য (قيمة إصدار), খতিয়ানভুক্ত মূল্য (قيمة دفترية), প্রকৃত মূল্য (قيمة حقيقية) এবং বাজার মূল্য (قيمة سوقية) রয়েছে। এর বিবরণ নিম্নরূপ:
১ - অভিহিত মূল্য (القيمة الاسمية):
এটি এমন একটি মূল্য যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হয় এবং এই মূল্যেই শেয়ার আবেদনকারীদের (المكتتبين) জন্য বাজারে ছাড়া হয়। এই মূল্যটি শেয়ার সার্টিফিকেটে (الصَّكِّ) লিখিত থাকে এবং এর ভিত্তিতেই কোম্পানির মোট মূলধন (رأس مال) গণনা করা হয়। এটি একটি স্থির মূল্য এবং এতে সকল শেয়ারহোল্ডার সমান অধিকার লাভ করেন। অভিহিত মূল্যের (القيمة الاسمية) চেয়ে কম মূল্যে শেয়ার ইস্যু করা বৈধ নয়।
২ - খতিয়ানভুক্ত মূল্য (القيمة الدفترية):
এটি কোম্পানির হিসাবরক্ষণ খতিয়ান অনুযায়ী শেয়ারের মূল্য। শেয়ারহোল্ডারদের মোট স্বত্বকে (حقوق المساهمين) ইস্যুকৃত শেয়ারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এটি পরিশোধিত মূলধন (رأس المال المدفوع) থেকে প্রাপ্ত শেয়ারহোল্ডারদের স্বত্ব, সঞ্চিতি (الاحتياطات) এবং পুঞ্জীভূত মুনাফার (الأرباح المجمعة) সমন্বয়ে গঠিত হয়।
৩ - প্রকৃত মূল্য (القيمة الحقيقية):
কোম্পানির যাবতীয় ঋণ পরিশোধের পর তার সকল সম্পদ ও মুনাফায় একটি শেয়ার যে অংশের অধিকারী হয়, তাকেই প্রকৃত মূল্য (القيمة الحقيقية) বলে। কোম্পানি যদি মুনাফা অর্জন করে এবং এর ফলে তার সঞ্চিত তহবিল ও সম্পদ বৃদ্ধি পায়, তবে শেয়ারের প্রকৃত মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং তা অভিহিত মূল্যের (القيمة الاسمية) চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। আর যদি লোকসান হয়, তবে এর উল্টোটি ঘটে।
৪ - ইস্যু মূল্য (قيمة الإصدار):
এটি সেই মূল্য যে মূল্যে শেয়ারগুলো ইস্যু করা হয়। সাধারণত শেয়ার তার অভিহিত মূল্যে (القيمة الاسمية) ইস্যু করা হয়। সৌদি আরব রাজ্যের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, শেয়ার তার অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ইস্যু করা জায়েজ নয়, তবে অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে ইস্যু করা জায়েজ।
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الاسمية، وفي هذه الحالة يطلق على فرق القيمة علاوة إصدار، وبالتالي فإن قيمة الإصدار تساوي القيمة الاسمية للسهم زائدًا علاوة الإصدار (1).
5 - القيمة السوقية:
هي قيمة السهم في سوق الأسهم، وهذه القيمة متغيرة ـ وقد تتغير في ثوان أو دقائق ـ بحسب قوة العرض والطلب وأحوال السوق وسمعة الشركة، ومدى قوة مركزها المالي وسلامته. وتظهر هذه القيمة في شاشات الأسهم التي تديرها إدارة سوق المال (2).
المسألة الرابعة: أنواع الأسهمتتنوع الأسهم إلى أنواع عدة باعتبارات مختلفة:
أولا: من حيث الشكل الذي تظهر به تنقسم إلى ثلاثة أقسام:
القسم الأول: السهم الاسمي، وهو السهم الذي كتب باسم صاحبه، كما هو مُدَوَّن في سجلات الشركة، ونقل ملكيته يكون بطريق القيد في سجل المساهمين في الشركة.
--------------------------------------------
অভিহিত মূল্য; এমতাবস্থায় মূল্যের পার্থক্যকে ইস্যু প্রিমিয়াম বলা হয়। ফলস্বরূপ শেয়ারের ইস্যু মূল্য শেয়ারের অভিহিত মূল্য এবং ইস্যু প্রিমিয়ামের সমষ্টির সমান হয় (১)।
৫ - বাজার মূল্য:
এটি হচ্ছে শেয়ার বাজারে শেয়ারের মূল্য। এই মূল্য পরিবর্তনশীল—যা সরবরাহ ও চাহিদার প্রভাব, বাজারের অবস্থা, কোম্পানির ভাবমূর্তি এবং এর আর্থিক ভিত্তির দৃঢ়তা ও স্বচ্ছতার প্রেক্ষিতে কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের ব্যবধানেও পরিবর্তিত হতে পারে। পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত শেয়ার বাজারের পর্দায় এই মূল্য প্রদর্শিত হয় (২)।
চতুর্থ মাসআলা: শেয়ারের প্রকারভেদবিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শেয়ার কয়েক প্রকার হয়ে থাকে:
প্রথমত: বাহ্যিক রূপের বিবেচনায় এটি তিন প্রকার:
প্রথম প্রকার: নামীয় শেয়ার, এটি সেই শেয়ার যা এর মালিকের নামে লিখিত থাকে, যেভাবে কোম্পানির নথিপত্রে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এর মালিকানা হস্তান্তর কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের রেজিস্টারে নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
القسم الثاني: السهم لحامله، ويكون مِلْكًا لحامله، ولا يكتب عليه اسم صاحبه، وملكيته تكون بحيازته.
القسم الثالث: السهم الإذني أو للأمر، وهو ما يسبق اسم صاحبه بعبارة: لإذن أو لأمر، ونقل ملكيته تكون بتظهيره؛ وذلك بكتابة اسم المالك الجديد، وتوقيع المالك السابق، دون الحاجة إلى الرجوع إلى سجلات الشركة.
ثانيا: من حيث الحقوق التي تعطيها لصاحبها تنقسم إلى قسمين:
القسم الأول: أسهم عادية، وهي التي تعطى عادة لغالب المساهمين، وتخولهم حقوقا متساوية، ويوزع على أصحابها الأرباح التي تبقى بعد أرباح الأسهم الممتازة.
القسم الثاني: أسهم ممتازة، وهي الأسهم التي تختص ببعض المزايا التي لا تتمتع بها الأسهم العادية؛ كالأولوية في توزيع الأرباح بنسبة معينة كـ 5 % من قيمته، وحق استعادة قيمة السهم بكاملها عند التصفية، وما يبقى فللأسهم العادية بالتساوي، وأحيانًا بزيادة الأصوات، أو الأولوية في الاكتتاب عند تقرير زيادة رأس المال (1).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বাহক শেয়ার; এটি এর বাহকের মালিকানাধীন হয় এবং এতে মালিকের নাম লেখা থাকে না। এর দখল বা কব্জা থাকাই মালিকানার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নির্দেশিত বা আদেশমূলক শেয়ার; এতে মালিকের নামের পূর্বে 'আদেশক্রমে' বা 'নির্দেশক্রমে' শব্দগুলো যুক্ত থাকে। এর মালিকানা হস্তান্তর হয় পৃষ্ঠঙ্কনের মাধ্যমে; অর্থাৎ কোম্পানির নথিপত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজন ছাড়াই নতুন মালিকের নাম লিখে এবং পূর্বতন মালিকের স্বাক্ষরের মাধ্যমে এর মালিকানা পরিবর্তিত হয়।
দ্বিতীয়ত: অংশীদারকে প্রদত্ত অধিকারের ভিত্তিতে শেয়ারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণ শেয়ার; যা সাধারণত অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডারকে প্রদান করা হয় এবং যা তাদের সমান অধিকার প্রদান করে। অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ারের লভ্যাংশ প্রদানের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তা এই শেয়ারের মালিকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার; এই শেয়ারগুলো এমন কিছু বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন যা সাধারণ শেয়ারে থাকে না; যেমন লভ্যাংশের একটি নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ৫%) পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার লাভ, কোম্পানি বিলুপ্তির সময় শেয়ারের পূর্ণ মূল্য ফেরত পাওয়ার অধিকার লাভ এবং অবশিষ্ট যা থাকে তা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সাথে সমানভাবে বণ্টন করা। কখনো কখনো এতে ভোটাধিকার বৃদ্ধি বা মূলধন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সময় নতুন শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয় (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ثالثا: من حيث إرجاعها إلى أصحابها وعدم إرجاعها تنقسم إلى قسمين:
القسم الأول: أسهم رأس مال؛ وهي: الأسهم التي تستهلك قيمتها؛ بمعنى: أنها لا تعود إليه إلا عند فسخ الشركة أو انقضائها وتصفيتها لأي سبب من الأسباب.
القسم الثاني: أسهم تمتع؛ وهو: الصَّكُّ الذي يتسلمه المساهم بعد أن يستهلك قيمة سهمه (1). ويتأخر حق صاحبه في الربح وعند التصفية عن أصحاب الأسهم غير المستهلكة حسب نظام الشركة (2).
والمراد باستهلاك السهم هو: رد قيمته الاسمية إلى المساهم قبل انقضاء الشركة، وقد يكون الرد له دفعة واحدة، وقد يكون تدريجيا (3).
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া বা না দেওয়ার বিচারে শেয়ার দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার: মূলধনী শেয়ার (أسهم رأس مال); এগুলো হলো সেই সব শেয়ার যার মূল্য পরিশোধিত (استهلاك) হয়ে যায়। অর্থাৎ, কোম্পানি বিলুপ্ত হওয়া বা যেকোনো কারণে এর অবসায়ন ও হিসাব চুকানো ছাড়া এই শেয়ারের মূল্য মালিকের কাছে ফিরে আসে না।
দ্বিতীয় প্রকার: ভোগাধিকার শেয়ার (أسهم تمتع); এটি এমন একটি সনদ যা শেয়ারহোল্ডার তার শেয়ারের মূল্য বুঝে পাওয়ার (استهلاك) পর গ্রহণ করে (১)। কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী লভ্যাংশ এবং অবসায়নের ক্ষেত্রে এই শেয়ারের মালিকের অধিকার অপরিশোধিত শেয়ারহোল্ডারদের পরে বিবেচিত হয় (২)।
শেয়ারের পরিশোধ (استهلاك السهم) বলতে বোঝায়: কোম্পানি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই শেয়ারহোল্ডারকে তার শেয়ারের অভিহিত মূল্য ফেরত দেওয়া। এই অর্থ ফেরত প্রদান এককালীন হতে পারে আবার ধারাবাহিকভাবে (تدريجيا) হতে পারে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
حصص التأسيس:
هي: "نصيب مقدر في أرباح الشركة؛ فمثلًا تمنحه الشركة بموجب نظامها لبعض الأشخاص أو الهيئات مقابل ما يقدمونه من براءة اختراع أو التزام حصل عليه شخص اعتباري عام" (1). وهذه الحصص تعطى أيضًا للمؤسسين للشركة؛ مكافأة لهم على جهودهم التي بذلوها في تأسيس الشركة.
فما حكم هذه الحصص؟
لابد من بيان الآتي:
أولا: رأس مال الشركة المساهمة: هو ما جمعته من أموال نقدية وعينية من المساهمين، ولا يتكون إلا من هذين النوعين، وبالنظر إلى
--------------------------------------------
প্রতিষ্ঠাকালীন শেয়ারসমূহ (حصص التأسيس):
তা হলো: "কোম্পানির মুনাফার একটি নির্ধারিত অংশ; উদাহরণস্বরূপ, কোম্পানি তার বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে তাদের প্রদানকৃত উদ্ভাবনী স্বত্ব (পেটেন্ট) কিংবা কোনো সাধারণ আইনি সত্তা কর্তৃক প্রাপ্ত কোনো অঙ্গীকারের বিনিময়ে তা প্রদান করে থাকে" (১)। আর এই শেয়ারগুলো কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতাদেরও প্রদান করা হয়; কোম্পানির প্রতিষ্ঠালগ্নে তাদের প্রচেষ্টার পুরস্কারস্বরূপ।
এই শেয়ারগুলোর বিধান (حكم) কী?
নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করা আবশ্যক:
প্রথমত: যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন: এটি হলো শেয়ারহোল্ডারদের নিকট থেকে সংগৃহীত নগদ অর্থ ও বস্তুগত (عينية) সম্পদের সমষ্টি। এটি কেবল এই দুই প্রকারের মাধ্যমেই গঠিত হয়। এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ذلك نجد أن حصص التأسيس لا دخل لها أصلا في تكوين رأس مال الشركة.
ثانيا: أن نظام الشركات نص على جواز دفع جزء مقدر من الأرباح كنصيب ثابت لهؤلاء مقابل تأسيس الشركة.
الأصل أن الربح في هذه الشركات يستحق بمال يقدمه الشريك أو عمل يقدمه المضارب ـ المدير ـ خلال فترة المضاربة، هذا هو الأصل، وأصحاب حصص التأسيس لم يقدموا شيئًا من ذلك؛ فلم يقدموا مالا ولا عملا مستمرا مع أن العمل لا يجوز الاشتراك به في شركات المساهمة؛ حتى عند القانونيين (1)؛ فكيف يستحقون نصيبًا مستمرًّا من الربح مقابل ما قدَّموه، وكأن ما قدمه أصحاب هذه بيع لها على الشركة، والأصل في الثمن أن يكون معلومًا؛ لأن الجهالة غرر، وقد نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن بيع الغرر (2)، ووجه كونه مجهولا ظاهرٌ؛ لأنه لا يدري هل يحصل ربح أو لا، وإذا حصل فما مقداره .... ؟!
والحكم الصحيح فيها: أنه يستحق مبلغا مقطوعا متفقا عليه مقابل
--------------------------------------------
সেই হিসেবে আমরা দেখতে পাই যে, প্রতিষ্ঠাতা শেয়ারের (حصص التأسيس) কোম্পানির মূলধন গঠনে মূলত কোনো ভূমিকা নেই।
দ্বিতীয়ত: কোম্পানি আইন মোতাবেক এই ব্যক্তিদের কোম্পানি প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে লভ্যাংশের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্থায়ী অংশ হিসেবে প্রদানের বৈধতা উল্লেখ করা হয়েছে।
মূলনীতি হলো, এই জাতীয় কোম্পানিতে মুনাফার অধিকার অর্জিত হয় অংশীদারের প্রদানকৃত অর্থ অথবা মুদারিব (مضارب) —পরিচালক— কর্তৃক মুদারাবা (مضاربة) চলাকালীন প্রদানকৃত শ্রমের বিনিময়ে। এটিই হলো মূল নিয়ম। অথচ প্রতিষ্ঠাতা শেয়ারের (حصص التأسيس) মালিকগণ এর কোনোটিই প্রদান করেননি; তারা অর্থও দেননি, আবার নিরবচ্ছিন্ন শ্রমও দেননি; যদিও যৌথ মূলধনী কোম্পানিতে শ্রমের মাধ্যমে অংশীদারিত্ব বৈধ নয়, এমনকি আইনবিদদের (১) নিকটও। এমতাবস্থায়, তারা যা প্রদান করেছেন তার বিনিময়ে মুনাফার একটি স্থায়ী অংশ পাওয়ার যোগ্য কীভাবে হতে পারেন? মনে হচ্ছে যেন তারা যা প্রদান করেছেন তা কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। আর মূল্যের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো তা সুনির্দিষ্ট (معلوم) হতে হবে; কারণ অনিশ্চয়তা হলো ধোঁকা (غرر)। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধোঁকা বা অনির্দিষ্টতাপূর্ণ (غرر) ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন (২)। এখানে বিষয়টি অজ্ঞাত (مجهول) হওয়ার দিকটি স্পষ্ট; কারণ মুনাফা অর্জিত হবে কি হবে না তা জানা নেই, আর যদি অর্জিত হয়ও তবে তার পরিমাণ কত হবে...?!
আর এ বিষয়ে সঠিক (صحيح) বিধান হলো: বিনিময়ে সে একটি নির্দিষ্ট ও সর্বসম্মত এককালীন অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ما قدمه، وإن لم يتفق على مبلغ مقطوع فإن أصحاب الخبرة يقيِّمون هذا الجهد أو العمل، وما يُقيَّم به يكون هو النصيب المستحق، كما يُقيَّم ثمن المثل ومهر المثل وأجرة المثل، وهذا أصل شرعي.
وبعد تقييمه يكون هو بالخيار بين أخذ هذا المبلغ المقطوع، أو أخذ ما يعادلها من أسهم، ويكون كسائر الشركاء في استحقاق الأرباح وتحمل الخسائر، وجواز التداول وغير ذلك من خصائص الأسهم.
وبهذا يتحقق العدل، ويرتفع الغرر، ويندرج تحت أصول المعاملة في الشركات.
المسألة الخامسة: محل العقد في بيع الأسهمإن المحل المتعاقد عليه في بيع السهم: هو الحصة الشائعة من أصول الشركة، وشهادة السهم عبارة عن وثيقة للحق من تلك الحصة (1).
المسألة السادسة: حكم بيع الأسهم قبل تداولهاالأسهم إما أن تكون أموالا نقدية، أو ديونا، أو أعيانا، أو مختلطة منها:
1 - فإن كانت لا تزال نقودا، فإنه يعتبر بيعها مبادلة نقد بنقد، وتجري عليها أحكام الصرف إذا بيت بجنسها أو بغير جنسها (2).
2 - وإذا كانت الأموال ديونًا في الذمم، فإنه يطبق عليها أحكام التعامل بالديون؛ فلا يجوز بيع الدَّيْن المؤجَّل من غير المدين بنقد معجل من جنسه أو من غير جنسه؛ لإفضائه إلى الربا، كما لا يجوز بيعه بنقد
--------------------------------------------
তিনি যা প্রদান করেছেন, যদি কোনো নির্দিষ্ট অংকের বিষয়ে একমত হওয়া না যায়, তবে বিশেষজ্ঞগণ এই শ্রম বা কাজের মূল্যায়ন করবেন। আর যা মূল্যায়ন করা হবে, সেটিই হবে তার প্রাপ্য অংশ, যেমনটা করা হয় সমজাতীয় মূল্য (ثمن المثل), সমজাতীয় মোহর (مهر المثل) এবং সমজাতীয় পারিশ্রমিক (أجرة المثل) নির্ধারণের ক্ষেত্রে। এটি একটি শরয়ী মূলনীতি (أصل شرعي)।
মূল্যায়নের পর তিনি এই নির্দিষ্ট অংকের অর্থ গ্রহণ করা অথবা এর সমপরিমাণ শেয়ার গ্রহণ করার বিষয়ে ইখতিয়ার (الخيار) পাবেন। লভ্যাংশ প্রাপ্তি এবং লোকসান বহনের ক্ষেত্রে তিনি অন্যান্য অংশীদারদের মতোই গণ্য হবেন। এছাড়াও শেয়ারের লেনদেনযোগ্যতা এবং শেয়ারের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমূহ তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়, অস্পষ্টতা (الغرر) দূরীভূত হয় এবং এটি কোম্পানি সংক্রান্ত লেনদেনের মূলনীতির (أصول المعاملة) অন্তর্ভুক্ত হয়।
পঞ্চম মাসআলা: শেয়ার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে চুক্তির মূল বিষয় (محل العقد)শেয়ার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ বিষয়টি হলো: কোম্পানির মূল সম্পদের একটি অবিভক্ত অংশ (الحصة الشائعة); আর শেয়ার সার্টিফিকেট হলো সেই অংশের মালিকানার একটি দলিল (১)।
ষষ্ঠ মাসআলা: লেনদেন শুরু হওয়ার আগে শেয়ার বিক্রয়ের বিধানশেয়ারসমূহ হয়তো নগদ অর্থ, অথবা ঋণ (ديونا), অথবা নির্দিষ্ট সম্পদ (أعيانا), অথবা এগুলোর সমষ্টি হতে পারে:
১ - যদি সেগুলো এখনো নগদ অর্থ হিসেবে থাকে, তবে এর বিক্রয়কে নগদের বিনিময়ে নগদ বিনিময় হিসেবে গণ্য করা হবে। সমজাতীয় বা ভিন্নজাতীয় মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রয় করা হলে তার ওপর মুদ্রা বিনিময়ের বিধানসমূহ (أحكام الصرف) প্রযোজ্য হবে (২)।
২ - আর যদি সম্পদগুলো দায়বদ্ধ ঋণ (ديون في الذمم) হিসেবে থাকে, তবে সেগুলোর ক্ষেত্রে ঋণ সংক্রান্ত লেনদেনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে। সুতরাং দেনাদার ব্যতীত অন্য কারো কাছে মেয়াদী ঋণ (الدين المؤجل) সমজাতীয় বা ভিন্নজাতীয় নগদ মূল্যে বিক্রয় করা বৈধ নয়; কারণ এটি সুদের (الربا) দিকে ধাবিত করে। তেমনিভাবে এটি নগদে বিক্রয় করাও জায়েজ নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مؤجل من جنسه أو من غير جنسه على المدين وغير المدين؛ لأنه من باب بيع الكالئ بالكالئ المتفق على تحريمه؛ حيث يؤول إلى الربا، ولا فرق في ذلك بين كون الدين ناشئا عن قرض أو بيع آجل (1).
ويجوز بيعها بأموال أو عروض لا تتحد معها في علة الربا.
3 - إذا أصبح المال موجودات مختلطة من النقود والديون والأعيان والمنافع، فإنه يجوز تداولها بالسعر المتفق عليه؛ على أن يكون الغالب في هذه الحالة أعيانا ومنافع.
هذا الأصل في حكم بيع الأسهم قبل تداولها؛ لكن هناك أمر ينبغي مراعاته وعدم إغفاله عند بيان الحكم في هذه المسألة؛ وهو الاسم التجاري للشركة المساهمة؛ فإن له قيمة مالية كبيرة؛ حيث يستغرق تسجيل الاسم وقتا وجهدا كبيرا ومالا.
حيث يمكن بيع هذا الاسم بمال ربما يساوي الأموال المطروحة للاكتتاب أو يزيد أو ينقص؛ فلابد من مراعاة هذه الحقوق، ولابد من تقييمها من أصحاب الشأن؛ حتى يتسنَّى الحكم في جواز البيع قبل التداول؛ أما إطلاق القول بعدم الجواز إذا كانت الأموال نقودا أو ديونا أو منهما - فغير سائغ شرعا مع مالية الاسم التجاري في عرف السوق، وقد يكون لها موجودات ولديها موظفون عاملون يتقاضون رواتب، ولا شك أنهم داخلون في حساب مالية الشركة.
--------------------------------------------
একই জাতীয় বা ভিন্ন জাতীয় বিলম্বিত (مؤجل) পরিশোধের ভিত্তিতে দেনাদার বা অন্য কারও নিকট বিক্রি করা; কারণ এটি ঋণের বিনিময়ে ঋণ বিক্রয় (بيع الكالئ بالكالئ) এর অন্তর্ভুক্ত, যার নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত রয়েছে; যেখানে এটি সুদের (الربا) দিকে ধাবিত হয়। এক্ষেত্রে ঋণটি করজ (قرض) থেকে তৈরি হোক বা বিলম্বিত বিক্রয় (بيع آجل) থেকে—তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই (১)।
আর এগুলো অর্থ বা এমন পণ্যসামগ্রীর (عروض) বিনিময়ে বিক্রয় করা বৈধ (يجوز), যেগুলোর সুদের কারণ (علة الربا) অভিন্ন নয়।
৩ - যদি সম্পদটি নগদ অর্থ (النقود), ঋণ (الديون), দৃশ্যমান সম্পদ (الأعيان) এবং উপযোগ (المنافع) এর সমন্বয়ে একটি মিশ্র সম্পদে পরিণত হয়, তবে তা সম্মত মূল্যে লেনদেন করা বৈধ (يجوز); তবে শর্ত হলো এই অবস্থায় দৃশ্যমান সম্পদ (الأعيان) ও উপযোগ (المنافع) প্রধান হতে হবে।
শেয়ার লেনদেন শুরু হওয়ার আগে তা বিক্রির বিধানের ক্ষেত্রে এটিই মূলনীতি; তবে এই বিষয়ের বিধান বর্ণনার সময় একটি বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত এবং তা উপেক্ষা করা সমীচীন নয়; আর তা হলো জয়েন্ট স্টক কোম্পানির বাণিজ্যিক নাম (الاسم التجاري); কারণ এর একটি বড় আর্থিক মূল্য রয়েছে। যেহেতু নাম নিবন্ধনে অনেক সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়।
যেখানে এই বাণিজ্যিক নাম এমন মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব যা পাবলিক সাবস্ক্রিপশনের জন্য প্রস্তাবিত অর্থের সমান, বেশি বা কম হতে পারে; তাই এই অধিকারগুলো বিবেচনা করা আবশ্যক এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মাধ্যমে এগুলোর মূল্যায়ন করা প্রয়োজন, যাতে লেনদেনের আগে বিক্রয় বৈধ হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু যদি সম্পদ কেবল নগদ অর্থ বা ঋণ কিংবা উভয়ের সমষ্টি হয়, তবে ঢালাওভাবে অবৈধ হওয়ার কথা বলা শরয়িভাবে সংগত নয়; কারণ বাজার রীতি অনুযায়ী বাণিজ্যিক নামের (الاسم التجاري) একটি আর্থিক মূল্য রয়েছে। তাছাড়া কোম্পানির অন্যান্য সম্পদ থাকতে পারে এবং বেতনভুক্ত কর্মরত কর্মচারী থাকতে পারে, যারা নিঃসন্দেহে কোম্পানির আর্থিক মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الأولحكم المساهمة في هذه الشركاتوفيه مسائل:
المسألة الأولى: في حكم هذه المساهمة
المسألة الثانية: في فروع متعلقة بحكم هذه المسائل
المسألة الثالثة: إذا دخل في شركة ثم تبين له وجود استثمار محرم
প্রথম পরিচ্ছেদএই সকল কোম্পানিতে অংশীদারিত্বের বিধানআর এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:
প্রথম মাসআলা: এই অংশীদারিত্বের বিধান প্রসঙ্গে
দ্বিতীয় মাসআলা: এই মাসআলাগুলোর বিধান সংশ্লিষ্ট শাখা-প্রশাখা প্রসঙ্গে
তৃতীয় মাসআলা: যদি কেউ কোনো কোম্পানিতে অংশীদার হয়, অতঃপর তার নিকট সেখানে হারাম বিনিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الأول
حكم المساهمة في هذه الشركات
المسألة الأولى: في حكم هذه المساهمةالحديث هنا في بيان حكم الأسهم استثمارا ومضاربة ليس في الشركات التي تستثمر في أمور محرمة كشركات صناعة الخمور، أو المصارف الربوية؛ وإنما هو في حكم الشركات التي أصل نشاطها مباح، لكنها تمارس أعمالا محرمة كالاقتراض بفوائد من أجل زيادة نشاط الشركة الاستثماري، أو تقوم بإيداع بعض أموالها في المصارف الربوية وتأخذ على هذه الأموال فوائد ربوية، كما هو حال كثير من الشركات الصناعية والخدماتية وغيرها.
فهل يجوز الاتجار في أسهمها استثمارا ومضاربة أم لا؟
على قولين:
القول الأول: تحريم الاتِّجار فيها مطلقا:وهو قول جماهير أهل العلم، والقول الذي صدرت به قرارات المجامع الفقهية (1)، واللجنة العلمية الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء (2)، والهيئة الشرعية لبيت التمويل الكويتي (3)، والهيئة الشرعية لبنك دبي
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ
এই কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগের বিধান
প্রথম মাসআলা: এই বিনিয়োগের বিধান প্রসঙ্গেবিনিয়োগ এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে শেয়ারের বিধান সম্পর্কে এখানে যে আলোচনা করা হচ্ছে, তা ঐ সকল কোম্পানি প্রসঙ্গে নয় যারা মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা সুদি ব্যাংকের মতো হারাম বিষয়ে বিনিয়োগ করে; বরং এটি ঐ সকল কোম্পানির বিধান সম্পর্কে যাদের মূল কার্যক্রম বৈধ, কিন্তু তারা কিছু হারাম কারবার পরিচালনা করে; যেমন—কোম্পানির বিনিয়োগ কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুদের ভিত্তিতে ঋণ গ্রহণ করা অথবা সুদি ব্যাংকে তাদের কিছু অর্থ জমা রাখা এবং সেই অর্থের ওপর সুদ গ্রহণ করা, যেমনটি অনেক শিল্প ও সেবামূলক এবং অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখা যায়।
সুতরাং এগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ ও লেনদেন করা কি বৈধ হবে কি না?
এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:
প্রথম মত: এতে লেনদেন করা সম্পূর্ণরূপে হারাম:এটি অধিকাংশ আলেমের অভিমত এবং বিভিন্ন ফিকহ একাডেমি (১), স্থায়ী ফতোয়া কমিটি (২), কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসের শরিয়াহ বোর্ড (৩) এবং দুবাই ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তের সারকথা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الإسلامي (1)، وهيئة الرقابة الشرعية للبنك الإسلامي السوداني (2)، وبه قال عدد من الفقهاء المعاصرين (3)، وقول أئمة السلف على التحريم، أو دال عليه.
قال في الجامع الصغير (4):
(وكذلك مفاوضة الحر والمكاتب، وكذلك مفاوضة العبدين والمكاتبين، وكذلك مفاوضة الصبي التاجر والبالغ، ومفاوضة الحرين الكبيرين المسلمين أو الذميين صحيح؛ لوجود شرائط المفاوضة، وأما بين المسلم والذمي لا يصح عند أبي حنيفة ومحمد خلافا لأبي يوسف).
(واشترط أن يتساويا في الدين؛ لأن الاختلاف فيه يؤدي إلى الاختلاف في التصرف؛ فإن الكافر إذا اشترى خمرا أو خنزيرا لا يقدر المسلم أن يبيعه، ومن شرطها أن يقدر على بيع جميع ما اشتراه شريكه؛ لكونه وكيلا له في البيع والشراء، وكذا المسلم لا يقدر على شرائهما، كما يقدر الكافر عليه؛ ففات الشرط، وهذا عندهما. وقال أبو يوسف: تجوز).
وجاء في المدونة (5):
(في شركة المسلم النصراني والرجل المرأة قلت: أتصلح شركة النصراني المسلم، واليهودي المسلم في قول مالك؟ قال: قال: لا، إلا أن يكون لا يغيب النصراني واليهودي على شيء، في شراء ولا بيع ولا
--------------------------------------------
ইসলামী (১), এবং সুদান ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড (২), সমকালীন বেশ কিছু ফকিহগণও এই মত পোষণ করেছেন (৩), আর সালাফ ইমামদের বক্তব্যও নিষিদ্ধতার পক্ষে অথবা এর প্রতি নির্দেশক।
আল-জামি আল-সগির (৪)-এ বলা হয়েছে:
(অনুরূপভাবে স্বাধীন ব্যক্তি ও মুকাতাব দাসের মুফাওয়াদা [অংশীদারিত্ব], তদ্রূপ দুই ক্রীতদাস ও দুই মুকাতাব দাসের মুফাওয়াদা, ব্যবসায়ী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কের মুফাওয়াদা, এবং দুই প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম অথবা দুই জিম্মি স্বাধীন ব্যক্তির মধ্যে মুফাওয়াদা সঠিক (صحيح); মুফাওয়াদার শর্তাবলি বিদ্যমান থাকার কারণে। তবে ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম মুহাম্মাদের মতে মুসলিম ও জিম্মির মধ্যে এটি সঠিক (صحيح) নয়, যা ইমাম আবু ইউসুফের মতের পরিপন্থী।)
(তিনি শর্ত দিয়েছেন যে, উভয়কে দ্বীনের ক্ষেত্রে সমান হতে হবে; কারণ দ্বীনের ভিন্নতা লেনদেন বা পরিচালনার ক্ষেত্রে ভিন্নতার দিকে নিয়ে যায়। কেননা কোনো কাফির যদি মদ বা শুকর ক্রয় করে, তবে মুসলিম তা বিক্রি করার ক্ষমতা রাখে না। আর এর শর্তের অন্তর্ভুক্ত হলো অংশীদার যা ক্রয় করবে তার সবটুকুই বিক্রি করতে সক্ষম হওয়া; যেহেতু সে ক্রয়-বিক্রয়ে তার অংশীদারের উকিল [প্রতিনিধি]। তদ্রূপ মুসলিম সেই দুটি বস্তু ক্রয় করতে সক্ষম নয়, যা ক্রয় করতে কাফির সক্ষম। ফলে শর্তটি লঙ্ঘিত হয়; আর এটি তাঁদের উভয়ের [ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মাদ] অভিমত। ইমাম আবু ইউসুফ বলেন: এটি বৈধ।)
আল-মুদাওওয়ানা (৫)-তে বর্ণিত হয়েছে:
(মুসলিম ও খ্রিস্টান এবং পুরুষ ও নারীর অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে: আমি বললাম, ইমাম মালিকের অভিমত অনুযায়ী খ্রিস্টানের সাথে মুসলিমের এবং ইহুদির সাথে মুসলিমের অংশীদারিত্ব কি সঠিক হবে? তিনি বললেন: না, তবে শর্ত হলো খ্রিস্টান বা ইহুদি যেন ক্রয়-বিক্রয় বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে মুসলিমের অনুপস্থিতিতে একচ্ছত্র কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قبض ولا صرف ولا تقاضي دين إلا بحضرة المسلم معه؛ فإن كان يفعل هذا الذي وصفت لك وإلا فلا).
قال في المهذب (1):
(ويكره أن يشارك المسلم الكافر؛ لما روى أبو جمرة عن ابن عباس رضي الله عنه أنه قال: لا تشاركن يهوديا ولا نصرانيا ولا مجوسيا! قلت: لم؟ قال: لأنهم يربون، والربا لا يحل) (2).
قال في المغني (3):
(قال أحمد: يشارك اليهودي والنصراني، ولكن لا يخلو اليهودي والنصراني بالمال دونه، ويكون هو الذي يليه؛ لأنه يعمل بالربا. وبهذا قال الحسن والثوري).
وما باعوه من الخمر والخنزير قبل مشاركة المسلم فثمنه حلال؛ لاعتقادهم حله، ولهذا قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: وَلُّوهم بيعها وخذوا أثمانها.
فأما ما يشتريه أو يبيعه من الخمر بمال الشركة أو المضاربة، فإنه
--------------------------------------------
কোনো লেনদেন, মুদ্রা বিনিময় বা ঋণ পরিশোধ যেন সাথে থাকা মুসলিমের উপস্থিতি ছাড়া না হয়; যদি সে আপনার বর্ণনা অনুযায়ী এই নিয়ম মেনে চলে তবে ঠিক আছে, অন্যথায় নয়।)
আল-মুহাজ্জাব (১) গ্রন্থে বলা হয়েছে:
(একজন মুসলিমের জন্য একজন অমুসলিমের সাথে অংশীদারত্ব করা মাকরুহ; কারণ আবু জামরা ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "তুমি কোনো ইহুদি, নাসারা বা অগ্নিউপাসকের সাথে অংশীদারত্ব করো না!" আমি বললাম: "কেন?" তিনি বললেন: "কারণ তারা সুদি কারবার করে, আর সুদ হালাল নয়") (২)।
আল-মুগনি (৩) গ্রন্থে বলা হয়েছে:
(আহমাদ বলেছেন: ইহুদি ও নাসারার সাথে অংশীদারত্ব করা যাবে, কিন্তু ইহুদি ও নাসারা যেন মুসলিমকে ছাড়া একাকী সম্পদের দায়িত্ব না নেয়; বরং মুসলিম ব্যক্তিই যেন তার তদারকি করে, কেননা তারা সুদি কারবার করে। হাসান এবং সাওরিও একই মত পোষণ করেছেন)।
আর মুসলিমের সাথে অংশীদারত্বের আগে তারা মদ ও শূকর যা কিছু বিক্রি করেছে তার মূল্য হালাল; কারণ তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী তা হালাল ছিল। এ কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) বলেছিলেন: "তাদেরকে এগুলো বিক্রির দায়িত্ব দাও এবং তোমরা এর মূল্য গ্রহণ করো।"
তবে অংশীদারত্ব বা মুদারাবার অর্থে সে যে মদ ক্রয় বা বিক্রয় করবে, তা নিশ্চয়ই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يقع فاسدا، وعليه الضمان؛ لأن عقد الوكيل يقع للموكِّل، والمسلم لا يثبت ملكه على الخمر والخنزير، فأشبه ما لو اشترى به ميتة، أو عامل بالربا
…وقال إبراهيم بن هانئ: سمعت أبا عبد الله قال في شركة اليهودي والنصراني: أكرهه، لا يعجبني؛ إلا أن يكون المسلم الذي يلي البيع والشراء. وقال الأثرم: سألت أبا عبد الله عن مشاركة اليهودي والنصراني، قال: شاركهم، ولكن لا يخلو اليهودي والنصراني بالمال دونه يكون هو يليه؛ لأنه يعمل الربا) (1).
قال ابن القيم: (قلت: الذين كرهوا مشاركتهم لهم مأخذان: أحدهما: استحلالهم ما لا يستحله المسلم من الربا والعقود الفاسدة).
قال في المحلى (2):
(مسألة: ومشاركة المسلم للذِّمِّيِّ جائزة، ولا يَحِلُّ للذِّمِّيِّ من البيع والتصرف إلا ما يحل للمسلم؛ لأنه لم يأت قرآن ولا سنة بالمنع من ذلك).
ويلاحظ أنه قيّد الجواز بالمعاملات الجائزة عند المسلمين، وإلا فلا تحل.
فهذه نصوص أئمة وفقهاء المذاهب في منعهم وكراهتهم لمشاركة أهل الذمة لأنهم يربون؛ أي: لاحتمال إجرائهم عقودا ربوية في غيبة شريكهم المسلم؛ فكيف الحال بمن يدخل في شركة يعلم علم اليقين أنها تجري عقودا ربوية قرضا وإقراضا، ويقدم ماله لها على سبيل المشاركة والتوكيل طواعية واختيارا؟!
--------------------------------------------
এটি ত্রুটিপূর্ণ (فاسدا) হিসেবে গণ্য হবে এবং তার ওপর ক্ষতিপূরণ প্রদান ওয়াজিব হবে; কারণ প্রতিনিধির চুক্তি মূলত মুয়াক্কিলের পক্ষেই সম্পাদিত হয়, আর মদ ও শূকরের ওপর কোনো মুসলিমের মালিকানা সাব্যস্ত হয় না। সুতরাং এটি এমন হলো যেন সে তা দিয়ে মৃত প্রাণী ক্রয় করল অথবা সুদের (الربا) কারবার করল
…ইব্রাহিম বিন হানি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের সাথে অংশীদারিত্ব সম্পর্কে বলতে শুনেছি: আমি এটি অপছন্দ করি, এটি আমার নিকট পছন্দনীয় নয়; তবে মুসলিম ব্যক্তি যদি নিজে কেনাবেচার দায়িত্ব পালন করে (তবে তা ভিন্ন)। আল-আছরাম বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের সাথে অংশীদারিত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: তাদের সাথে অংশীদারিত্ব করো, তবে ইয়াহুদি বা খ্রিষ্টান যেন মুসলিমকে ছাড়া একা সম্পদ নিয়ে কারবার না করে, বরং মুসলিম ব্যক্তিই যেন তার তদারকি করে; কারণ সে সুদের (الربا) কারবার করে। (১)।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: (আমি বলি: যারা তাদের সাথে অংশীদারিত্ব করাকে অপছন্দ করেছেন তাদের দুটি ভিত্তি রয়েছে: একটি হলো: তারা সুদ (الربا) ও ত্রুটিপূর্ণ (الفاسدة) চুক্তির মতো এমন বিষয়গুলোকে বৈধ মনে করে যা একজন মুসলিম বৈধ মনে করে না)।
আল-মুহাল্লা গ্রন্থে বলা হয়েছে (২):
(মাসআলা: জিম্মির (الذمي) সাথে মুসলিমের অংশীদারিত্ব জায়েজ, এবং একজন জিম্মির (للذمي) জন্য কেনাবেচা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে কেবল তাই হালাল যা একজন মুসলিমের জন্য হালাল; কারণ এ থেকে নিষেধ করে কোনো কুরআন বা সুন্নাহ আসেনি)।
লক্ষণীয় যে, তিনি এই বৈধতাকে মুসলিমদের নিকট জায়েজ লেনদেনের সাথে শর্তযুক্ত করেছেন, অন্যথায় তা হালাল হবে না।
এগুলো হলো বিভিন্ন মাযহাবের ইমাম ও ফকিহগণের বক্তব্য, যেখানে তারা জিম্মিদের (أهل الذمة) সাথে অংশীদারিত্ব করতে নিষেধ করেছেন অথবা অপছন্দ করেছেন; কারণ তারা সুদ কারবার করে। অর্থাৎ: তাদের মুসলিম অংশীদারের অনুপস্থিতিতে সুদি চুক্তিতে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকার কারণে। তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে, যে নিশ্চিতভাবে জেনেবুঝে এমন কোনো কোম্পানিতে অংশীদার হয় যারা ঋণ গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে সুদি চুক্তি পরিচালনা করে, এবং সে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে অংশীদারিত্ব ও প্রতিনিধিত্বের (التوكيل) ভিত্তিতে সেখানে নিজের সম্পদ অর্পণ করে?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فهذا الذي لا يُشَكُّ في تحريمه عندهم، والمنع منه، ووقوعه فاسدًا، كما صرح بذلك ابن قدامة وغيره.
القول الثاني: التفريق بين ما كانت نسبة الاستثمار المحرم فيه كثيرة فيحرم، وبين ما كانت فيه قليلة، فيجوز: مع أن الورع تركها، مع اختلاف أصحاب هذا القول في تحديد هذه النسب، وكذلك اختلافهم في تطبيق هذه النسب على الاستثمار في عائد المساهمة وعلى المضاربة، أو في قصره على الاستثمار في العائد فقط دون المضاربة.
وهو قول طائفة من المعاصرين؛ منهم: الشيخ عبد الله بن منيع، والدكتور علي القره داغي، والشيخ مصطفى الزرقا (1)، والدكتور تقي الدين العثماني، والدكتور نزيه حماد (2)، وعدد من الهيئات الشرعية، منها:
الهيئة الشرعية لشركة الراجحي (3)، والهيئة الشرعية للبنك الإسلامي الأردني (4) والمستشار الشرعي لدلة البركة (5).
أدلة القول الثاني:
استدل أصحاب هذا القول بالأدلة الآتية:
1 - حديث ابن عمر: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عامل أهل خيبر بشطر ما
--------------------------------------------
এটি এমন একটি বিষয় যার হারাম (تحريم) হওয়ার ব্যাপারে তাদের নিকট কোনো সন্দেহ নেই, এবং এর নিষিদ্ধতা (المنع) ও এটি অবৈধ (فাসد) হওয়া প্রসঙ্গেও কোনো সংশয় নেই, যেমনটি ইবনে কুদামা এবং অন্যরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয় মত: যে ক্ষেত্রে হারাম (المحرم) বিনিয়োগের অনুপাত বেশি সেটি হারাম (يحرّم) হওয়া এবং যে ক্ষেত্রে অনুপাতটি কম সেটি জায়েজ (يجوز) হওয়ার মধ্যে পার্থক্য করা; যদিও তাকওয়া (الورع) হলো তা বর্জন করা। তবে এই মতের প্রবক্তাদের মধ্যে এই অনুপাত নির্ধারণের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে, এবং একইভাবে লভ্যাংশের ক্ষেত্রে এই অনুপাত প্রয়োগ করা এবং মুদারাবা (المضاربة)-এর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা অথবা শুধুমাত্র লভ্যাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে মুদারাবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ না করার বিষয়েও তাদের মাঝে মতভেদ বিদ্যমান।
এটি সমকালীন একদল আলিমের মত; তাদের মধ্যে রয়েছেন: শেখ আবদুল্লাহ বিন মানি‘, ড. আলী আল-কারাদাগি, শেখ মুস্তফা আয-যারকা (১), ড. তাকীউদ্দীন উসমানী, ড. নাযীহ হাম্মাদ (২) এবং বেশ কিছু শরয়ি বোর্ড, যার মধ্যে রয়েছে:
আল-রাজহি কোম্পানির শরয়ি বোর্ড (৩), জর্ডান ইসলামিক ব্যাংকের শরয়ি বোর্ড (৪) এবং দাল্লাহ আল-বারাকা (৫)-এর শরয়ি উপদেষ্টা।
দ্বিতীয় মতের দলিলসমূহ:
এই মতের প্রবক্তাগণ নিম্নোক্ত দলিলসমূহ পেশ করেছেন:
১ - ইবনে উমরের হাদিস: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারবাসীদের সাথে এই শর্তে কাজ করেছিলেন যে তারা যা [উৎপাদন করবে তার] অর্ধেক...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يخرج منها من ثمر أو زرع»، وفي لفظ: «أعطى خيبر اليهود على أن يعملوها ويزرعوها ولهم شطر ما خرج منها» (1).
والجواب عنه من وجوه:
1 - أن الحديث لا يدل على كل المدعى به، فلا دلالة فيه على مشاركة من يأخذ الأموال ويودعها في البنوك ونحوها، ويأخذ عليها فوائد ربوية، كما هو الحال في هذه الشركات موضوع البحث.
2 - أن الحديث ليس فيه أنهم اعتملوها - زرعوها - من مال حرام يعلمه النبي صلى الله عليه وسلم؛ بأن اقترضوا بالربا، وزرعوا به، ودفعوا الفوائد منه، وأقرهم النبي صلى الله عليه وسلم (2).
وكون الربا يوجد في معاملاتهم الأخرى لا مدخل له في هذا العقد، وفرق بين معاملة من يرابي وبين مشاركته في تصرفه المحرم.
3 - أن هذه المزارعة ليست مشاركة من كل وجه؛ بل هي معاملة فيها شبه بالمشاركة في الناتج فقط؛ وأما الأصل فهو للمسلمين، وفيها شبه بالإجازة بجزء من الخارج، ومن ثم فليس فيها شيوع المالين معا واختلاطهما، أو أن النبي صلى الله عليه وسلم أعطاهم مالا ليتاجروا به مع أموالهم، كما هو الحال في الشركات المساهمة؛ حيث يشارك في رأس مال الشركة وربحها ويكون ماله شائعًا في الشركة.
2 - استدلوا ببعض القواعد الفقهية على النحو الآتي:
القاعدة الأولى: يجوز تبعًا ما لا يجوز استقلالا (3):
لهذه القاعدة مجموعة تطبيقات منها:
--------------------------------------------
সেখান থেকে যা ফল বা ফসল উৎপন্ন হয়", এবং অন্য শব্দে: "তিনি খায়বারের ভূমি ইহুদিদের এই শর্তে দিয়েছিলেন যে, তারা সেখানে কাজ করবে ও চাষাবাদ করবে এবং তার বিনিময়ে সেখান থেকে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তারা পাবে" (১)।
এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়:
১ - এই হাদিসটি দাবিকৃত সমস্ত বিষয়ের ওপর প্রমাণ বহন করে না। এতে এমন ব্যক্তির অংশীদারিত্বের কোনো প্রমাণ নেই, যে অর্থ গ্রহণ করে তা ব্যাংকে বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানে জমা রাখে এবং তার ওপর সুদি মুনাফা গ্রহণ করে, যেমনটি আলোচ্য কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
২ - এই হাদিসে এমন কোনো উল্লেখ নেই যে, তারা এমন কোনো হারাম সম্পদ দ্বারা সেখানে কাজ বা চাষাবাদ করেছিলেন যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন; অর্থাৎ তারা সুদে ঋণ নিয়েছিলেন এবং তা দিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন এবং সেখান থেকে সুদ প্রদান করেছিলেন, আর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সমর্থন (إقرار) করেছিলেন (২)।
তাদের অন্যান্য লেনদেনে সুদের অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি এই চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলে না। আর সুদখোর ব্যক্তির সাথে লেনদেন করা এবং তার হারাম কর্মকাণ্ডে অংশীদার হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
৩ - এই মুজারাআ (مزارعة) সব দিক থেকে অংশীদারিত্ব (مشاركة) নয়; বরং এটি এমন একটি লেনদেন যাতে কেবল উৎপাদিত ফসলে অংশীদারিত্বের সাদৃশ্য রয়েছে। আর মূল সম্পদ (ভূমি) তো মুসলিমদের মালিকানাধীন ছিল। এতে উৎপাদিত ফসলের একটি অংশের বিনিময়ে ইজারা (إجارة)-এর সাদৃশ্য রয়েছে। ফলে এখানে দুই পক্ষের সম্পদ একত্রে মিশ্রিত হওয়ার কোনো বিষয় নেই, অথবা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কোনো পুঁজি দেননি যাতে তারা তাদের নিজেদের সম্পদের সাথে মিলিয়ে ব্যবসা করতে পারে, যেমনটি যৌথ মূলধনী কোম্পানির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে; যেখানে অংশীদার কোম্পানির মূলধন ও লাভে শরিক হয় এবং তার সম্পদ কোম্পানিতে অবিভক্ত (شائع) অবস্থায় থাকে।
২ - তারা নিম্নোক্তভাবে কিছু ফিকহশাস্ত্রীয় মূলনীতি (القواعد الفقهية) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
প্রথম মূলনীতি: যা স্বতন্ত্রভাবে বৈধ নয়, তা কোনো কিছুর অনুগামী হিসেবে বৈধ হতে পারে (৩):
এই মূলনীতির বেশ কিছু প্রয়োগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
جواز بيع العبد مع ما له من مال؛ فيبيعه سيده ومعه ماله بثمن نقدي، هذا الثمن هو ثمن العبد وماله، فهذا المال للعبد يعتبر تبعا للعبد الذي يجوز بيعه استقلالا، ولا يجوز بيع ماله استقلالا إلا بشروط الصرف، ولتبعيته للعبد جاز بيعه بغضِّ النظر عن توفر شروط الصرف في هذا المال. والأصل في جوازه حديثا ابن عمر في بيع العبد ومعه مال، وبيع الثمر قبل تأبيره.
ومنها: جواز بيع الحامل؛ سواء أكانت أمة أو حيوانا، ولا يخفى أنه لا يجوز بيع الحمل في بطن أمه إلا أن يكون تبعا غير مقصود فيجوز ذلك؛ إذ يغتفر في التبعية ما لا يغتفر في الاستقلال (1).
--------------------------------------------
দাসের সাথে তার সম্পদ বিক্রয় করার বৈধতা; তার মালিক তাকে তার সম্পদসহ নগদ মূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করেন, এই মূল্যটি দাস এবং তার সম্পদের মূল্য হিসেবে গণ্য। দাসের এই সম্পদটি দাসের অনুগামী হিসেবে বিবেচিত হয় যাকে স্বতন্ত্রভাবে বিক্রয় করা বৈধ, এবং দাসের সম্পদ স্বতন্ত্রভাবে বিক্রয় করা বৈধ নয় যদি না মুদ্রা বিনিময়ের শর্তাবলি পাওয়া যায়। আর দাসের অনুগামী হওয়ার কারণে এটি বিক্রয় করা বৈধ, এই সম্পদের ক্ষেত্রে মুদ্রা বিনিময়ের শর্তাবলি বিদ্যমান থাকার বিষয়টি বিবেচনা করা ছাড়াই। এর বৈধতার মূল ভিত্তি হলো ইবনে উমর বর্ণিত দাসের সম্পদসহ বিক্রয় এবং পরাগায়ন করার পূর্বে ফল বিক্রয় সংক্রান্ত দুটি হাদিস।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো: গর্ভবতীকে বিক্রয় করার বৈধতা; চাই সে দাসী হোক বা পশু, এবং এটি গোপন নয় যে মায়ের গর্ভে থাকা ভ্রূণ বিক্রয় করা বৈধ নয়, যদি না এটি অনুগামী ও অনভিপ্রেত বিষয় হয় তবে তা বৈধ; কেননা অনুগামী হওয়ার ক্ষেত্রে যা ক্ষমাযোগ্য তা স্বতন্ত্র হওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমাযোগ্য নয় (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ويمكن اعتبار بيع سهم في شركة تجاوز مجلس إدارتها صلاحيته الشرعية؛ فتأخذ الربا من البنوك الربوية، أو تعطيه حيث يعتبر ذلك يسيرا ومغموسا في حجم الشركة ذات الأغراض المباحة. يمكن اعتبار ذلك من جزئيات هذه القاعدة؛ إذ الغالب على هذه الشركة الاستثمار بطرق مباحة، وما طرأ عليها من تجاوز إداري آثم في الأخذ من البنوك بفائدة أو إعطائها بفائدة يعتبر يسيرا، وهو في حجم السهم المباع تبعا، ويغتفر في التبعية ما لا يغتفر في الاستقلال.
يناقش من ثلاثة أوجه:
الوجه الأول:
إثبات دعوى الحجة، وهي لا تثبت؛ لأمرين:
1 - أن زيادة رأس المال من أجل التوسع في النشاط ليس حاجة تستدعي الولوغ في المحرم المجمع على تحريمه.
2 - أنه يمكن للشركة زيادة رأس مالها عن طريق تمويل إسلامي، أو عن طريق اكتتاب جديد، وطرق زيادة رأس المال الحلال أكثر من أن تحصى.
الوجه الثاني:
القول بأنه تبع غير مسلَّم؛ بل هو مقصود لأرباب الشركة وإدارتها
একটি কোম্পানির শেয়ার বিক্রয়কে এমন একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে যার পরিচালনা পর্ষদ তাদের শরয়ি এখতিয়ার লঙ্ঘন করেছে; ফলে তারা সুদি ব্যাংক থেকে সুদ গ্রহণ করে অথবা প্রদান করে, যেখানে একে সামান্য (يسيرا) এবং বৈধ উদ্দেশ্যসম্পন্ন কোম্পানির বিশাল আয়তনের মধ্যে নিমজ্জিত বলে গণ্য করা হয়। এটিকে এই মূলনীতির একটি উপ-শাখা হিসেবে গণ্য করা যায়; কারণ এই কোম্পানির অধিকাংশ বিনিয়োগই বৈধ পদ্ধতিতে পরিচালিত, আর ব্যাংক থেকে সুদ গ্রহণ বা প্রদানের ক্ষেত্রে যে গুনাহযুক্ত প্রশাসনিক বিচ্যুতি ঘটেছে তা সামান্য (يسير) হিসেবে গণ্য। বিক্রিত শেয়ারের পরিমাণের ক্ষেত্রে এটি আনুষঙ্গিক (تبعا) হিসেবে বিবেচিত, আর যা স্বতন্ত্র (الاستقلال) ভাবে ক্ষমার অযোগ্য, তা আনুষঙ্গিক (التبعية) অবস্থায় ক্ষমাযোগ্য।
একে তিনটি দিক থেকে পর্যালোচনা করা যেতে পারে:
প্রথম দিক:
যুক্তির দাবি সাব্যস্ত করা, যা দুটি কারণে সাব্যস্ত হয় না:
1 - ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মূলধন বৃদ্ধি করা এমন কোনো প্রয়োজন (حاجة) নয় যা সর্বসম্মতভাবে নিষিদ্ধ (المحرم المجمع على تحريمه) বিষয়ে লিপ্ত হওয়াকে অনিবার্য করে তোলে।
2 - কোম্পানির পক্ষে ইসলামি অর্থায়ন বা নতুন শেয়ার বিলির (ইকুইটি) মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধি করা সম্ভব, আর হালাল উপায়ে মূলধন বৃদ্ধির পথ অসংখ্য।
দ্বিতীয় দিক:
একে আনুষঙ্গিক (تبع) বলার দাবিটি অগ্রহণযোগ্য; বরং এটি কোম্পানির মালিক ও ব্যবস্থাপনার নিকট উদ্দেশ্যমূলক।
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومستقل بذاته، ولو كان غير مقصود لما استقل بعقد تأخذ الشركة فيه قرضا ربويا أو فائدة ربوية مقابل إيداع الفائض لديها.
وشتان ما بين تصرُّف الشركة الربوي، وبين من يشتري عبدا يقصده ويكون له مال، ولذلك لو صرح بقصده المال لما صح العقد بإجماله.
الوجه الثالث:
أن تجويز هذه الأسهم بناء على اندراجها تحت هذه القاعدة مجرد اجتهاد ظني منازع فيه، وأدلة تحريم الربا - قليله وكثيره - صحيحة صريحة قطعية الدلالة والثبوت، والمساهم مكَّن الشركات من المراباة بأمواله، وأخذ الفوائد الربوية عليها باختيارها، وكذلك خلطها بأموال ربوية تقترضها وتستثمرها؛ ومن ثَمَّ فلا مجال لاجتهاد في مقابل نص؛ إذ الاجتهاد في مقابل النص غير سائغ بالإجماع.
القاعدة الثانية (1): الحاجة العامة تنزل منزلة الضرورة الخاصة (2):
هذه القاعدة ذكرها كثير من علماء الفقه والأصول، وذكروا لها جزئيات؛ منها:
إباحة العرايا للحاجة العامة؛ بالرغم من أن العرايا بيع مال ربوية بجنسه غير متحقق تماثلهما.
وفيما يلي بعض نصوصهم في ذلك:
قال شيخ الإسلام ابن تيمية:
"الشريعة جميعها مبنية على أن المفسدة المقتضية للتحريم إذا عارضتها حاجة راجحة أبيح المحرم" (3).
--------------------------------------------
এবং এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বতন্ত্র। যদি এটি উদ্দেশ্য না হতো, তবে এটি এমন একটি চুক্তির মাধ্যমে স্বতন্ত্র রূপ ধারণ করত না যার বিপরীতে কোম্পানি সুদি ঋণ গ্রহণ করে অথবা তাদের কাছে থাকা উদ্বৃত্ত আমানত রাখার বিনিময়ে সুদি মুনাফা লাভ করে।
কোম্পানির সুদি কার্যকলাপ এবং সেই ব্যক্তির মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে যে কোনো দাস ক্রয় করার ইচ্ছা পোষণ করে যার নিকট কিছু সম্পদ রয়েছে; আর একারণেই সে যদি স্পষ্টভাবে সেই সম্পদের ইচ্ছা প্রকাশ করত, তবে সামগ্রিকভাবে সেই চুক্তিটি সহিহ (صحيح) হতো না।
তৃতীয় দিক:
এই শেয়ারগুলোকে এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ভিত্তিতে বৈধতা প্রদান করা কেবল একটি ধারণাপ্রসূত ইজতিহাদ (اجتهاد) যা বিতর্কিত; পক্ষান্তরে সুদের—তা অল্প হোক বা বেশি—হারাম হওয়ার দলিলসমূহ সহিহ (صحيح), সুস্পষ্ট এবং সাব্যস্ত হওয়া (ثبوت) ও দালালাত (دلالة)-এর দিক থেকে অকাট্য (قطعي)। শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানিগুলোকে তাদের অর্থ দিয়ে সুদি কারবার করার এবং স্বেচ্ছায় তার ওপর সুদি মুনাফা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। তেমনিভাবে কোম্পানিগুলো সেই অর্থকে সুদি অর্থের সাথে মিশ্রিত করে যা তারা ঋণ হিসেবে গ্রহণ করে এবং বিনিয়োগ করে। ফলে নস (نص)-এর বিপরীতে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর কোনো অবকাশ নেই; কারণ নস (نص)-এর বিপরীতে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে বৈধ নয়।
দ্বিতীয় মূলনীতি (১): সাধারণ প্রয়োজন বিশেষ জরুরতের স্থলাভিষিক্ত হয় (২):
ফিকহ ও উসুল (أصول)-এর অনেক আলিম এই মূলনীতিটি উল্লেখ করেছেন এবং এর বিভিন্ন প্রয়োগস্থল বর্ণনা করেছেন; যার মধ্যে রয়েছে:
সাধারণ প্রয়োজনে 'আরাইয়া' (العرايا) ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়া; যদিও আরাইয়া হলো একই জাতীয় সুদি মালের এমন বিক্রয় যেখানে সমতা নিশ্চিত নয়।
এ বিষয়ে তাদের কিছু নস (نص) নিম্নে প্রদত্ত হলো:
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন:
"সমগ্র শরিয়ত এই বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, হারাম হওয়ার দাবিদার অনিষ্টের বিপরীতে যদি কোনো জোরালো প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে হারামকৃত বিষয়টি বৈধ হয়ে যায়" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقال: "ويجوز للحاجة ما لا يجوز بدونها كما جاز بيع العرايا بالتمر" (1).
وقال: "الشارع لا يحرم ما يحتاج الناس إليه من البيع لأجل نوع من الغرر؛ بل يبيح ما يحتاج إليه في ذلك" (2).
وقال الزركشي:
"الحاجة العامة تنزل منزلة الضرورة الخاصة في حق آحاد الناس" (3).
ويناقش من سبعة أوجه:
1 - هذه القاعدة أصلا هي محل خلاف، وقد ذكر بعض الشافعية أن أكثر العلماء على خلافها فقال: (الأكثر: أن الحاجة لا تقوم الضرورة) (4).
2 - بيان معنى الحاجة والمقصود بها، وهل هو متحقق هنا:
قال الشاطبي في بيان معنى الحاجة: (ما يفتقر إليها من حيث التوسعة، ورفع الضيق المؤدي في الغالب إلى الحرج والمشقة اللاحقة بفوت المطلوب، فإذا لم تراع دخل على المكلفين على الجملة الحرج والمشقة).
فهل الحاجة بهذا المعنى موجودة؟!
وهل أفراد المجتمع يدخل عليهم الحرج والمشقة بترك المساهمة والمضاربة في هذا النوع من الشركات؟!
وأين هذا الحرج قبل وجود هذه الشركات قبل وقت قريب جدا؟!
--------------------------------------------
তিনি বলেন: "প্রয়োজনের (حاجة) খাতিরে এমন বিষয় জায়েজ হয় যা প্রয়োজন ছাড়া জায়েজ নয়, যেমন খেজুরের বিনিময়ে আরয়া (العرايا) বিক্রয় জায়েজ করা হয়েছে" (১)।
তিনি আরও বলেন: "শারীআহ প্রণেতা এমন কোনো ক্রয়-বিক্রয় হারাম করেন না যার প্রতি মানুষের প্রয়োজন রয়েছে কেবল এক প্রকারের অনিশ্চয়তা (غرر)-এর কারণে; বরং তিনি এর মধ্যে যার প্রতি মানুষের প্রয়োজন রয়েছে তা বৈধ করেন" (২)।
এবং যারকাশী বলেন:
"সাধারণ প্রয়োজন (حاجة) নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে বিশেষ অপরিহার্যতা (ضرورة)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়" (৩)।
এবং এটি সাতটি দিক থেকে পর্যালোচিত হয়:
১ - এই মূলনীতিটি মূলত মতপার্থক্যের বিষয়, এবং কোনো কোনো শাফিঈ আলেম উল্লেখ করেছেন যে অধিকাংশ আলেম এর পরিপন্থী। তিনি বলেন: (অধিকাংশের মতে: প্রয়োজন অপরিহার্যতা (ضرورة)-এর স্থলাভিষিক্ত হয় না) (৪)।
২ - প্রয়োজন (حاجة)-এর অর্থের বর্ণনা ও এর উদ্দেশ্য, এবং এটি এখানে বিদ্যমান কি না:
শাতীবী প্রয়োজন (حاجة)-এর অর্থের বর্ণনায় বলেন: (স্বাচ্ছন্দ্য বিধান এবং সংকীর্ণতা দূর করার ক্ষেত্রে যা অত্যাবশ্যক হয়, যা সাধারণত উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়ার ফলে সৃষ্ট সংকট ও কষ্টের দিকে পরিচালিত করে। সুতরাং যদি এটি বিবেচনা করা না হয়, তবে সামগ্রিকভাবে মুকাল্লাফদের ওপর সংকট ও কষ্ট আপতিত হবে)।
তবে কি এই অর্থে প্রয়োজন এখানে বিদ্যমান?!
আর সমাজের ব্যক্তিরা কি এই ধরনের কোম্পানিগুলোতে অংশীদারিত্ব ও মুদারাবাহ (مضاربة) পরিত্যাগ করার কারণে সংকট ও কষ্টের সম্মুখীন হবে?!
আর খুব নিকটবর্তী সময়ে এই কোম্পানিগুলো অস্তিত্ব লাভের আগে এই সংকট কোথায় ছিল?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بل إن القاعدة حتى عند القائلين بها ليست على إطلاقها؛ بل هي مقيدة بما لم يرد فيه نص يمنع منه بخصوصه.
ففي شرح القواعد الفقهية (1): (
… والظاهر أن ما يجوز للحاجة إنما يجوز فيما ورد فيه نص يجوِّزه، أو تعامل، أو لم يرد فيه شيء منهما، ولكن لم يرد فيه نص يمنعه بخصوصه، وكان له نظير في الشرع يمكن إلحاقه به، وجعل ما ورد في نظيره واردا فيه .... وأما ما ورد فيه نص يمنعه بخصوصه فعدم الجواز فيه واضح، ولو ظننت فيه مصلحة؛ لأنها حينئذ وهم ....).
والربا وردت فيه نصوص قطعية تمنع فيه بخصوصه قليله وكثيره
… ومن ثم فلا يدخل تحت قاعدة الحاجة حتى عند القائلين بها.
3 - لو سلم بوجود الحاجة إلى المساهمة في هذه الشركات ـ وهو غير مسلَّم ـ فيجاب عنه من ثلاثة وجوه:
أ- أنه لا يتعين ارتفاع حاجته إذا ساهم فيها؛ بل إن احتمال الخسارة فيها وارد، بل قوي جدا، ومن ثم فحاجته لا ترتفع؛ بل قد تزداد.
يؤكد ذلك واقع ما يجري في الأسواق من مضاربات مشبوهة وغير نزيهة، والتلاعب بصغار المضاربين والتغرير بهم مما زاد من معاناتهم، ولم يرفع حاجتهم ويحقق مرادهم وطموحهم.
ب- أن وجود شركات لا تمارس أعمالا ربوية يمكن الاستثمار فيها، وهذا ينفي وجود الحاجة إلى المشاركة في هذه الشركات المشبوهة.
ج- لو سلم بالحاجة إلى المساهمة في هذه الشركات ـ وهو غير مسلم ـ فإن الإقراض بالربا الذي تمارسه هذه الشركات محرم لا
--------------------------------------------
প্রকৃতপক্ষে, এই নীতিমালাটি যারা সমর্থন করেন তাদের নিকটও এটি নিরঙ্কুশ নয়; বরং এটি এমন বিষয়ের সাথে সীমাবদ্ধ (مقيدة) যে বিষয়ে বিশেষভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞামূলক স্পষ্ট দলিল (نص) বর্ণিত হয়নি।
শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (১)-এ বর্ণিত হয়েছে: (
… আর বাহ্যত বিষয়টি এমন যে, প্রয়োজনের (الحاجة) খাতিরে যা জায়েজ বা বৈধ হয়, তা কেবল তখনই জায়েজ হয় যখন সে বিষয়ে অনুমোদনের পক্ষে কোনো স্পষ্ট দলিল (نص) বিদ্যমান থাকে, অথবা সেটির প্রচলন থাকে, কিংবা উভয়ের কোনোটিই না থাকে কিন্তু সে বিষয়ে বিশেষভাবে নিষেধাজ্ঞামূলক কোনো স্পষ্ট দলিল (نص) বর্ণিত না হয় এবং শরীয়তের (الشرع) বিধানে তার কোনো অনুরূপ (نظير) দৃষ্টান্ত থাকে যার সাথে একে যুক্ত করা সম্ভব হয় এবং অনুরূপ বিষয়ের বিধান এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে গণ্য করা হয় .... আর যে বিষয়ে বিশেষভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞামূলক স্পষ্ট দলিল (نص) বর্ণিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে বৈধতা না থাকাটা অত্যন্ত স্পষ্ট, যদিও সেখানে কোনো জনকল্যাণ (مصلحة) বিদ্যমান বলে ধারণা করা হয়; কারণ সেক্ষেত্রে তা কেবলই অমূলক কল্পনা (وهم) ....)।
আর সুদ (الربا) সম্পর্কে এমন অকাট্য দলিলসমূহ (نصوص قطعية) বর্ণিত হয়েছে যা এর সামান্য বা অধিক—সবটুকুই বিশেষভাবে নিষিদ্ধ করে
… অতএব, যারা প্রয়োজনের নীতিমালার প্রবক্তা তাদের নিকটও এটি উক্ত নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত হবে না।
৩ - যদি এই সকল কোম্পানিতে অংশীদার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা মেনে নেওয়া হয়—যদিও এটি স্বীকৃত (مسلَّم) নয়—তবে তার উত্তর তিনটি দিক থেকে দেওয়া যায়:
ক- এতে অংশ নিলেই যে তার প্রয়োজন দূর হবে এমনটি নিশ্চিত নয়; বরং এতে লোকসানের সম্ভাবনা বিদ্যমান, এমনকি তা অত্যন্ত প্রবল। ফলস্বরূপ, তার প্রয়োজন তো দূর হয়ই না; বরং তা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাজারগুলোতে বর্তমানে যে ধরণের সন্দেহজনক ও অস্বচ্ছ ফটকাবাজি চলছে তা এই বিষয়টিকে আরও সুনিশ্চিত করে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নিয়ে কারসাজি এবং তাদের সাথে প্রতারণা (التغرير) করার ফলে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে, কিন্তু তাদের প্রয়োজন মেটেনি এবং তাদের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষাও পূরণ হয়নি।
খ- এমন অনেক কোম্পানির অস্তিত্ব রয়েছে যারা সুদী (ربوية) লেনদেন করে না এবং সেগুলোতে বিনিয়োগ করা সম্ভব। এটি উক্ত সন্দেহজনক কোম্পানিগুলোতে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে নাকচ করে দেয়।
গ- যদি এই কোম্পানিগুলোতে অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা মেনেও নেওয়া হয়—যদিও তা স্বীকৃত (مسلم) নয়—তবে এই কোম্পানিগুলো সুদের (الربا) ভিত্তিতে যে ঋণ আদান-প্রদান করে তা নিষিদ্ধ (محرم), যা কোনোক্রমেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
تبيحه حاجة ولا ضرورة، والاقتراض الذي تمارسه هذه الشركات محرم كذلك، ولا يرتفع إثمه عن المقترض إلا إذا دعت الضرورة، ولا ضرورة لهذه الشركات لهذه القروض؛ ومن ثم فالداخل في هذه الشركات داخل في هذا التحريم.
هذا ما اتفق عليه علماء مؤتمر البحوث الإسلامية الثاني في مصر في قرار مجمع البحوث الإسلامية (1).
4 - أن زيادة رأس مال المرء والتوسع فيه ليس حاجة ولا مقصودا للشارع: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56]؛ وإنما أباح منها ما لا يشغل عن المقصود الأسمى، فقال تعالى: {وَابْتَغِ فِيمَا آَتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآَخِرَةَ}، ثم قال: {وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا} [القصص: 77]، وهذا لا يعني عدم أهمية المال في حياة الأمة؛ وإنما يعني وجوب العناية به وتنميته وتقويته؛ حتى تكون الأمة قادرة على الجهاد والبناء والمعرفة والتطور.
لكن لا يكون هو الهدف المطلق؛ بحيث تصادَمُ من أجلِه النصوص وتُعَطَّلُ القواعد والأصول.
5 - أن استثمار المال ليس مقصورا على أسهم خالطها الحرام، وشاع فيها، حتى أصبح لا يمكن تمييزه؛ بل مجالات استثمار المال في وجوه مباحة أرحب وأوسع.
6 - أن الفرق بين الاستثمار في هذه الشركة وبين العرايا واضح وبَيِّنٌ؛ إذ إن حاجة الناس للرطب في وقته ظاهرة وماسَّة لجميع الناس؛ لأنهم يقتاتونه ويطعمونه؛ بل قد يكون مما به قوامهم، وهو خاص
--------------------------------------------
কোনো প্রয়োজন (حاجة) বা আবশ্যকতা (ضرورة) একে বৈধ করে না। এই কোম্পানিগুলো যে ঋণ গ্রহণ করে তাও নিষিদ্ধ (محرم)। কোনো জরুরি আবশ্যকতা (ضرورة) ছাড়া ঋণগ্রহীতার ওপর থেকে এই পাপ দূর হয় না। আর এই কোম্পানিগুলোর জন্য এই ঋণের কোনো আবশ্যকতা (ضرورة) নেই; অতএব, যে ব্যক্তি এই কোম্পানিগুলোতে অংশগ্রহণ করবে সেও এই হারামের অন্তর্ভুক্ত হবে।
মিশরের দ্বিতীয় ইসলামিক রিসার্চ কনফারেন্সের ওলামায়ে কেরাম ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির সিদ্ধান্তে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন (১)।
৪ - কোনো ব্যক্তির মূলধন বৃদ্ধি করা এবং এর প্রসার ঘটানো শরীয়ত প্রণেতার (شارع) কোনো জরুরি প্রয়োজন (حاجة) বা লক্ষ্য নয়: {আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬]; তিনি পার্থিব বিষয়ের কেবল ততটুকুই বৈধ করেছেন যা সর্বোচ্চ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তা দ্বারা পরকাল অনুসন্ধান করো}, এরপর তিনি বলেন: {এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেও না} [আল-কাসাস: ৭৭]। এর অর্থ এই নয় যে, উম্মতের জীবনে সম্পদের গুরুত্ব নেই; বরং এর অর্থ হলো এর প্রতি যত্নশীল হওয়া, একে বৃদ্ধি করা এবং শক্তিশালী করা আবশ্যক (واجب); যাতে উম্মত জিহাদ, গঠনমূলক কাজ, জ্ঞান ও উন্নয়নের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
তবে এটি যেন চূড়ান্ত লক্ষ্য না হয়ে দাঁড়ায়; যার ফলে এর জন্য দলীলসমূহের (نصوص) সাথে সংঘাত সৃষ্টি হয় এবং মূলনীতি (قواعد) ও উসূল (أصول) অকেজো হয়ে পড়ে।
৫ - অর্থ বিনিয়োগ করা কেবল এমন শেয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় যার মধ্যে হারাম (حرام) মিশ্রিত হয়েছে এবং ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি তা পৃথক করাও সম্ভব নয়; বরং বৈধ (مباحة) পন্থায় অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রসমূহ আরও অনেক বেশি প্রশস্ত ও ব্যাপক।
৬ - এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ এবং আরাইয়া (العرايا) লেনদেনের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট ও সুনিশ্চিত; কেননা মৌসুমে তাজা খেজুরের প্রতি মানুষের প্রয়োজন (حاجة) সুস্পষ্ট এবং সকল মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি; কারণ তারা একে প্রধান খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং খেয়ে থাকে; বরং এটি তাদের জীবন ধারণের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে এবং এটি বিশেষ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আস-হুম - হুকমুহা ওয়া আছারুহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
بالعرايا بالنص، فلا يجوز العدول به إلى غيره، ولذلك قال زيد بن ثابت: إن النبي صلى الله عليه وسلم رخَّصَ بعد ذلك في بيع العرية بالرطب أو بالتمر، ولم يرخص في غير ذلك (1).
ومع ذلك لم يجوِّز المفاضلة المتيقَّنة؛ بل سَوَّغَ المساواة بالخرص في القليل الذي تدعو إليه الحاجة (2).
بخلاف المساهمة والاستثمار في هذه الشركات؛ فالحاجة فيه إن وجدت فهي يسيرة لا تستدعي هذا القياس؛ وذلك لتعدد مجالات استثمار المال وطرق تنميته.
وأما النقل المذكور عن شيخ الإسلام، فهو من أبعد ما يكون عن هذه المسألة، وهو تحميل لقوله بما لا يحتمله، ولا يقوله رحمه الله؛ فإنَّه بَيِّنٌ أن الحاجة راجحة، وهي غير موجودة هنا، وبَيِّنٌ أن هذا الكلام يكون فيما فيه نوع غرر، لا فيما خالطه الربا المجمع على تحريمه، وشاع فيه؛ بل شدَّد في كل ما فيه ربا تشديدا بَيِّنًا لا يحتمل التأويل، كما شدد فيه القرآن، فقال رحمه الله: "وأكل المال بالباطل في المعاوضة نوعان ذكرهما الله في كتابه هما: الربا والميْسِر؛ فذكر تحريم الربا الذي هو ضِدُّ الصَّدقة في آخر "سورة البقرة" و "سورة آل عمران" و "الروم" و "المدثر". وذم اليهود عليه في "سورة النساء" وذكر تحريم الميسر في "سورة المائدة".
وقال: "وأما الربا: فتحريمه في القرآن أشد، ولهذا قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} {فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَاذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ}، وذكره النبي صلى الله عليه وسلم في الكبائر كما
--------------------------------------------
স্পষ্ট দলিলের (النص) মাধ্যমে 'আরাইয়া' (গাছে থাকা তাজা ফল শুকনো ফলের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয়) সংক্রান্ত বিধান সাব্যস্ত হয়েছে, তাই এটি বর্জন করে অন্য কোনো দিকে ফিরে যাওয়া বৈধ নয়। একারণেই জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপরে 'আরিয়াহ' পদ্ধতিতে তাজা খেজুর বা শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রির অনুমতি (رخصة) দিয়েছেন, কিন্তু অন্য কোনো ক্ষেত্রে অনুমতি দেননি (১)।
তা সত্ত্বেও তিনি নিশ্চিত কম-বেশি হওয়াকে বৈধ করেননি; বরং প্রয়োজনের তাগিদে সামান্য পরিমাণের ক্ষেত্রে অনুমানের (الخرص) ভিত্তিতে সমতা রক্ষা করাকে অনুমোদন করেছেন (২)।
পক্ষান্তরে এই কোম্পানিগুলোতে অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগের বিষয়টি ভিন্ন; সেখানে প্রয়োজনের অস্তিত্ব থাকলেও তা অত্যন্ত সামান্য, যা এই কিয়াস (القياس) করার দাবি রাখে না; আর তা এজন্য যে, অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্র এবং তা বৃদ্ধির বহুমুখী উপায় বিদ্যমান রয়েছে।
আর শায়খুল ইসলাম থেকে যে বর্ণনাটি উল্লেখ করা হয়েছে, তা এই মাসআলার সাথে দূরতম সম্পর্কও রাখে না। এটি তাঁর বক্তব্যের ওপর এমন অর্থ চাপিয়ে দেওয়া যা তা বহন করে না এবং তিনি (রহ.) এমনটি বলেনওনি। কেননা এটি স্পষ্ট যে, প্রয়োজনটি হতে হবে প্রাধান্যযোগ্য, যা এখানে বিদ্যমান নেই। আরও স্পষ্ট যে, তাঁর এই কথাটি কেবল সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাতে এক প্রকারের অনিশ্চয়তা (غرر) রয়েছে, সেই ক্ষেত্রে নয় যাতে সুদের (الربا) মিশ্রণ ঘটেছে যার হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (الإجماع) রয়েছে এবং যা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বরং তিনি সুদের সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যাতে কোনো অপব্যাখ্যার (التأويل) সুযোগ নেই, যেমনটি কুরআনে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তিনি (রহ.) বলেছেন: "বিনিময় চুক্তিতে অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ দুই প্রকার যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন: সুদ (الربا) ও জুয়া (الميسر)। সূরা বাকারাহ, সূরা আলে ইমরান, সূরা আর-রুম এবং সূরা আল-মুদ্দাসসির এর শেষে তিনি সুদের হারামের কথা উল্লেখ করেছেন যা সদকার বিপরীত। আর সূরা নিসা-তে এ কারণে ইহুদিদের নিন্দা করেছেন এবং সূরা মায়িদাহ-তে জুয়ার (الميسر) হারামের কথা উল্লেখ করেছেন।"
তিনি আরও বলেছেন: "আর সুদের কথা বললে, কুরআনে এর হারাম হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত কঠোর। একারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হও} {অতঃপর যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও}। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে কবিরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেমনটি..."
--------------------------------------------