(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأحكام المترتبة على الحيض والنفاس والاستحاضة   (صالح اللاحم)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الأحكام المترتبة على الحيض والنفاس والاستحاضة

المؤلف: صالح بن عبد الله اللاحم

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1429 هـ

عدد الصفحات: 298

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الآخرة 1436

হায়য, নিফাস ও ইস্তিহাযার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী   (সালিহ আল-লাহিম)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: হায়য, নিফাস ও ইস্তিহাযার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী

লেখক: সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযি প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র، সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৯ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة البحوث العلمية المحكمة (28)

 

الْأَحْكَام المترتبة على

الْحيض وَالنّفاس والاستحاضة

 

تأليف

الدكتور صَالح بن عبد الله اللاحم

الْأُسْتَاذ بكلية الْفِقْه فِي كُلية الشَّرِيعَة

جَامِعَة القصيم

 

دَار ابْن الْجَوْزِيّ
পিয়ার-রিভিউড (محكمة) বৈজ্ঞানিক গবেষণা সিরিজ (২৮)

 

সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ

ঋতুস্রাব (حيض), প্রসূতি অবস্থা (نفاس) এবং অনিয়মিত রক্তস্রাব (استحاضة)

 

রচনায়

ড. সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম

শরীয়াহ অনুষদের ফিকহ বিভাগের অধ্যাপক

কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়

 

দার ইবনুল জাওজি
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إنَّ الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يُضلل فلا هاديَ له، وأشهد ألَاّ إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله، صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد:

فإنَّ من أهم المهمَّات، وآكد الفرائض والواجبات، أن يعرف العبد حُكم ربِّ العالمين، ويتفقَّه فيما نزل به من مسائل الشرع والدين، حتى يعبد الله على بصيرة المهتدين، فيكون بذلك على نهج الأنبياء والمرسلين {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108].

ألا وإنَّ الناس بحاجةٍ إلى من يُعينهم على ذلك من العلماء والباحثين، فأرجو أن يكون عملي هذا من هذا السبيل.

 

‌‌الداعي لجمع مسائل هذا الموضوع والكتابة فيه:

هذا وقد دعاني إلى الكتابة في هذا الموضوع جُملة أمور من أهمها ما يلي:

1 - قلَّة اهتمام الباحثين - سابقيهم ولاحقيهم - بالتعرُّض لمسائل هذا الموضوع، حتى قال الدارمي: الحيض كتابٌ ضائعٌ لم يُصنَّف فيه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট সঠিক পথের দিশা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর অসংখ্য সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সর্বাধিক তাকিদপূর্ণ ফরজ ও ওয়াজিব কাজগুলোর অন্যতম হলো বান্দার জন্য তার রবের বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং দ্বীন ও শরীয়তের নাযিলকৃত মাসআলাসমূহ সম্পর্কে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করা; যাতে সে হেদায়েতপ্রাপ্তদের মতো স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে এবং এর মাধ্যমে নবী ও রাসুলগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, এটাই আমার পথ; আমি ও আমার অনুসারীরা আল্লাহর প্রতি আহ্বান করি জাগ্রত জ্ঞান বা স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির সাথে। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই} [ইউসুফ: ১০৮]।

জেনে রাখা ভালো যে, মানুষ এ ক্ষেত্রে আলেম ও গবেষকদের সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। তাই আমি আশা করি আমার এই কাজটুকু সেই মহৎ উদ্দেশ্যেরই অংশ হবে।

 

‌‌এই বিষয়ের মাসআলাসমূহ সংকলন ও এ বিষয়ে লেখার কারণসমূহ:

এই বিষয়ে লেখার জন্য বেশ কিছু বিষয় আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:

১ - এই বিষয়ের মাসআলাসমূহ নিয়ে অতীত ও বর্তমানের গবেষকদের মাঝে আলোচনার স্বল্পতা। এমনকি ইমাম দারেমি বলেছেন: "হায়েজ বা ঋতুস্রাব অধ্যায়টি একটি হারিয়ে যাওয়া কিতাব, যার ওপর তেমন কোনো কিতাব সংকলন করা হয়নি।"
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
تصنيف يقوم بحقِّه (1).

وقال ابن العربي: والتقصير في عُلومه ومسائله أمرٌ لم يزل يتقادم (2).

2 - إنَّه لَمَّا كان الحيض شيئًا قد كتبه الله على بنات آدم (3)؛ كما قال المصطفى صلوات الله وسلامه عليه، ولكون الشارع قد علَّق به جُملة من الأحكام، ولَمَّا كانت هذه الأحكام ممَّا يلزم جُملة النساء تعلمها، ولكون هذه الأحكام مُفرَّقة مبثوثة في أبواب الفقه، ولوقوع الخلاف في كثيرٍ من هذه المسائل؛ فقد توافرت الدواعي لجمع هذه الأحكام في مؤلَّفٍ مستقِل.

قال ابن قدامة: "وقد علَّق الشرع على الحيض أحكامًا وأجمل عدَّها"، ثم قال: وإذا ثبت هذا فالحاجة داعيةٌ إلى معرفة الحيض ليُعلم ما يتعلَّق به من الأحكام (4).

وقال ابن عابدين: ومعرفة مسائله من أعظم المهمات لِما يترتَّب عليها ما لا يُحصى من الأحكام (5).

وقال النووي: ومعلومٌ أنَّ الحيض من الأمور العامة المتكرِّرة، ويترتَّب عليه ما لا يُحصى من الأحكام، فيجب الاعتناء بما هذه حاله (6).

وقال ابن نجيم: ومعرفة مسائل الحيض من أعظم المهمات لما يترتَّب عليها ما لا يُحصى من الأحكام .. قال: وكان من أعظم الواجبات؛ لأنَّ عظم منزلة العلم بالشيء بحسب منزلة ضرر الجهل به،

--------------------------------------------

(1) المجموع (2/ 345).

(2) حاشية جامع الترمذي (1/ 231).

(3) أخرجه البخاري من حديث عائشة في كتاب الحيض، باب الأمر بالنساء إذا نفسن (1/ 77).

(4) المغني (1/ 386).

(5) رد المحتار (1/ 282).

(6) المجموع (2/ 345).
একটি সংকলন যা যথাযথ হক আদায় করে (১)।

ইবনুল আরাবী বলেছেন: এর জ্ঞান ও মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে অপূর্ণতা বা অবহেলা এমন একটি বিষয় যা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে (২)।

২ - যেহেতু ঋতুস্রাব (হায়েজ) এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ আদম-সন্তানদের (নারীদের) জন্য অবধারিত করেছেন (৩); যেমনটি মুস্তফা (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন। আর যেহেতু বিধানদাতা (শারী‘) এর সাথে একগুচ্ছ বিধান সংশ্লিষ্ট করেছেন, এবং যেহেতু এই বিধানগুলো জানা সকল নারীর জন্য আবশ্যক, আর যেহেতু এই বিধানগুলো ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং এই মাসআলাগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই মতভেদ বিদ্যমান; তাই এই বিধানগুলোকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করার প্রয়োজনীয়তা বা দাবি অনস্বীকার্য হয়ে পড়েছে।

ইবনু কুদামা বলেছেন: "শরীয়ত হায়েজের ওপর বিভিন্ন বিধানারোপ করেছে এবং সংক্ষেপে সেগুলো বর্ণনা করেছে", তারপর তিনি বলেন: আর এটি সাব্যস্ত হলে, হায়েজ সম্পর্কে অবগত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে যাতে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো জানা যায় (৪)।

ইবনু আবিদীন বলেছেন: এর মাসআলাগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এর ওপর অসংখ্য বিধান নির্ভর করে (৫)।

ইমাম নববী বলেছেন: এটি সুবিদিত যে, হায়েজ একটি সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক বিষয় এবং এর ওপর অগণিত বিধান নির্ভর করে, তাই এমন বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া আবশ্যক (৬)।

ইবনু নুজাইম বলেছেন: হায়েজের মাসআলাগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত কারণ এর ওপর অসংখ্য বিধান নির্ভর করে... তিনি বলেন: এটি অন্যতম প্রধান ওয়াজিব কাজ; কারণ কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানের মর্যাদা সেই বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞতার ক্ষতির মাত্রার ওপর নির্ভর করে।

--------------------------------------------

(১) আল-মাজমু (২/ ৩৪৫)।

(২) হাশিয়া জামে আত-তিরমিজি (১/ ২৩১)।

(৩) ইমাম বুখারি আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস হতে এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه); কিতাবুল হায়েজ, পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী হওয়ার পর নারীদের প্রতি নির্দেশ (১/ ৭৭)।

(৪) আল-মুগনি (১/ ৩৮৬)।

(৫) রাদ্দুল মুহতার (১/ ২৮২)।

(৬) আল-মাজমু (২/ ৩৪৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وضرر الجهل بمسائل الحيض أشدُّ من ضرر الجهل بغيرها (1).

وكلام هؤلاء الأئمَّة وإن كان بمجمله في الحثِّ على تعلُّم أحكام الحيض لِما يترتَّب عليه ما لا يُحصى من الأحكام، فإنَّ هذه الأحكام مفرَّقة مبثوثة في أبواب الفقه، فكان تفرُّقها أعظم داعيًا لي لجمعها في مؤلَّفٍ مستقل، لِما في ذلك من فائدةٍ في توفير الجهد والوقت للقارئ، وخاصة النساء.

قال الشربيني: يجب على المرأة أن تعلم ما تحتاج إليه من أحكام الحيض والاستحاضة والنفاس، فإن كان زوجها عالِمًا لزمه تعليمها، وإلَاّ فلها الخروج لسؤال العلماء، بل يجب ويحرم عليه منعها إلَاّ أن يسأل هو ويخبرها فتستغني بذلك (2).

3 - إنَّ النفاس قرين الحيض فيما يترتَّب عليه من أحكام؛ لأنه حيضٌ مُجتَمع، فحُكمه حكم الحيض إلَاّ في مسائل معدودة (3)، فكان ذِكرها متمِّمًا لهذا البحث.

4 - إنَّ الاستحاضة وإن كانت ظاهرةً مرضيَّةً وحدثًا عارضًا فقد أفردها الفقهاء بأحكام خاصة، وقد عمَّت بها البلوى في وقتنا هذا لابتعاد الناس عن الفطرة، وركونهم إلى نصائح الكفرة في تحديد النسل، وقد تفنَّنوا في موانع الحمل التي تسبَّب عنها اضطراب العادة عند كثيرٍ من النساء وشيوع مرض الاستحاضة، فكان بحث ما يتعلَّق بها من أحكام مُتمِّمًا لِما يُذكر للحيض والنفاس.

 

‌‌منهج البحث:

لا بدَّ لكلِّ باحثٍ من منهج يسلكه، يُحدِّد معالمه قبل الكتابة،

--------------------------------------------

(1) البحر الرائق (1/ 199).

(2) مغني المحتاج (1/ 120).

(3) انظر: الشرح الكبير لابن قدامة (1/ 157) مغني المحتاج (1/ 120) كشاف القناع (1/ 199).
ঋতুস্রাব (حيض) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞতার ক্ষতি অন্য বিষয়াদি সম্পর্কে অজ্ঞতার ক্ষতির চেয়ে অধিকতর ভয়াবহ (১)।

এই ইমামগণের বক্তব্য যদিও সামগ্রিকভাবে ঋতুস্রাবের (حيض) বিধানাবলি (أحكام) শিক্ষা করার প্রতি উৎসাহিত করার জন্য, যেহেতু এর ওপর অগণিত বিধান (أحكام) নির্ভরশীল; তবুও এই বিধানগুলো (أحكام) ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায়ে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় রয়েছে। তাই এই বিক্ষিপ্ততা আমাকে এগুলোকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করতে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে, যাতে পাঠকের—বিশেষ করে নারীদের—শ্রম ও সময় বাঁচে।

শিরবিনী বলেছেন: নারীর জন্য ঋতুস্রাব (حيض), ইস্তিহাজা (استحاضة) এবং নিফাস (نفاس) সংক্রান্ত যেসকল বিধান (أحكام) জানা প্রয়োজন, তা শিক্ষা করা ওয়াজিব (واجب)। যদি তার স্বামী আলেম (عالم) হন, তবে তাকে শেখানো স্বামীর ওপর আবশ্যক। অন্যথায়, আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করার জন্য সেই নারীর বের হওয়া জায়েজ; বরং এটি ওয়াজিব (واجب) এবং স্বামীর জন্য তাকে বাধা দেওয়া হারাম (حرام), যতক্ষণ না স্বামী নিজে জিজ্ঞাসা করে তাকে তা জানিয়ে দেয় এবং তাতে নারী অমুখাপেক্ষী হয়ে যায় (২)।

৩ - বিধিবিধানের (أحكام) ক্ষেত্রে নিফাস (نفاس) হলো ঋতুস্রাবের (حيض) সমতুল্য; কারণ এটি মূলত পুঞ্জীভূত রক্ত। তাই সীমিত কিছু মাসআলা ব্যতীত নিফাসের (نفاس) বিধান (حكم) ঋতুস্রাবের (حيض) বিধানের (حكم) অনুরূপ (৩)। সুতরাং এখানে তা উল্লেখ করা এই গবেষণাকে পূর্ণতা দান করবে।

৪ - ইস্তিহাজা (استحاضة) যদিও একটি রোগলক্ষণ এবং আকস্মিক অপবিত্রতা (حدث), তবুও ফকিহগণ (فقهاء) এর জন্য বিশেষ বিধান (أحكام) নির্ধারণ করেছেন। বর্তমান সময়ে মানুষের ফিতরাত থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কাফিরদের উপদেশের ওপর নির্ভর করার কারণে এটি একটি ব্যাপক সমস্যায় (عموم البلوى) পরিণত হয়েছে। তারা জন্মনিয়ন্ত্রণের এমন সব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে যা অনেক নারীর অভ্যাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং ইস্তিহাজা (استحاضة) রোগের প্রসার ঘটায়। তাই এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোর (أحكام) আলোচনা ঋতুস্রাব (حيض) ও নিফাসের (نفাস) আলোচনার পরিপূরক হবে।

 

‌গবেষণা পদ্ধতি (منهج البحث):

প্রত্যেক গবেষকের জন্য একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি (منهج) থাকা আবশ্যক যা তিনি অনুসরণ করবেন এবং লেখা শুরুর আগেই তার রূপরেখা নির্ধারণ করবেন।

--------------------------------------------

(১) আল-বাহরুর রাইক (১/ ১৯৯)।

(২) মুগনী আল-মুহতাজ (১/ ১২০)।

(৩) দেখুন: ইবনে কুদামা প্রণীত আশ-শারহুল কাবীর (১/ ১৫৭), মুগনী আল-মুহতাজ (১/ ১২০), কাশশাফুল কিনা (১/ ১৯৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وتتكامل صورته بعد انتهاء الموضوع، وإنَّ من أبرز ملامح منهجي في هذا البحث ما يلي:

أولاً- اقتصرتُ في بحثي على المذاهب الأربعة والمذهب الظاهري، كما أذكر رأي مشاهير فقهاء السلف من غير فقهاء المذاهب، ما وجدت في ذلك نقلاً.

ثانيًا- أقوم بعرض المسألة الخلافية بذِكر القول أولاً فالقائل به، ثم أُتبِعه بالاستدلال، وما وَرد عليه من مناقشة، وما أُجِيب به عنها.

ثالثًا- اعتمدتُ في نسبة كلِّ قولٍ لكلِّ مذهبٍ على أمَّهات كتُب المذهب.

رابعًا- اجتهدتُ في التوفيق بين الأقوال اتِّباعاً للقاعدة، فإن تعذَّر ذلك رجح ما ظهر لي رجحانه، بناء على قوَّة الأدلَّة، وبما يتمشَّى مع قواعد الشريعة ومقاصدها العامة.

خامسًا- عزوتُ الآيات القرآنية إلى مواضعها في كتاب الله، بذكر السورة ورقم الآية.

سادسًا- خرَّجتُ جميع الأحاديث الواردة في البحث، وما كان منها في صحيح البخاري أو مسلم أكتفي به، وما لم يُخرِّجه أحدهما أو كلاهما خرَّجته من الصحاح والسنن والمسانيد المتبقية مع بيان درجة الحديث معتمدًا في ذلك على ما ذكره العلماء في ذلك.

سابعًا- خرجتُ الآثار الواردة في البحث من مصادرها، مع بيان درجة الأثر ما وجدتُ في ذلك نقلاً عن أهل هذا الفن.

ثامنًا- وضحتُ معنى ما يَرِد في هذا البحث من كلماتٍ وألفاظٍ غريبة، ولَمَّا كانت الغرابة وصفًا نسبيًا فقد اعتمدتُ على نفسي واجتهدتُ في حصر هذه الكلمات.

تاسعًا- ترجمتُ للأعلام الواردة في هذا البحث، باستثناء مشاهير
বিষয়টি সমাপ্ত হওয়ার পর এর পূর্ণ চিত্র ফুটে উঠবে। এই গবেষণায় আমার অনুসৃত পদ্ধতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

প্রথমত- আমি আমার গবেষণায় চার মাজহাব এবং জাহেরি মাজহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি। পাশাপাশি মাজহাবের বহির্ভূত পূর্বসূরি (سلف) প্রখ্যাত ফকিহগণের মতামতও উল্লেখ করেছি, যদি সে সম্পর্কে কোনো বর্ণনা পেয়েছি।

দ্বিতীয়ত- আমি মতপার্থক্যপূর্ণ মাসয়ালাগুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রথমে মতটি এবং এরপর সেটির প্রবক্তার নাম উল্লেখ করেছি; অতঃপর তার স্বপক্ষে দলীল উপস্থাপন এবং সেটির ওপর কৃত পর্যালোচনা ও তার প্রদত্ত উত্তরসমূহ উল্লেখ করেছি।

তৃতীয়ত- প্রতিটি মাজহাবের মতামত সংশ্লিষ্ট মাজহাবের প্রতি আরোপ করার ক্ষেত্রে আমি সেই মাজহাবের মূল ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি।

চতুর্থত- আমি মূলনীতির অনুসরণে বিভিন্ন মতের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি; আর যদি তা অসম্ভব হয়, তবে দলিলের সবলতা এবং শরিয়তের নিয়ম ও এর সাধারণ লক্ষ্যসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার ভিত্তিতে যে মতটি আমার কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে, তাকেই প্রাধান্য (رجحان) দিয়েছি।

পঞ্চমত- আমি আল-কুরআনের আয়াতসমূহকে আল্লাহর কিতাবে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে নির্দেশ করেছি এবং এক্ষেত্রে সুরা ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি।

ষষ্ঠত- আমি এই গবেষণায় বর্ণিত সকল হাদিস সূত্র অনুসন্ধান (تخريج) করেছি; যেসব হাদিস সহিহ বুখারি বা মুসলিমে রয়েছে, সেক্ষেত্রে কেবল তা উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি। আর যেসব হাদিস এই দুই কিতাবের কোনো একটিতে বা উভয়টিতে নেই, সেগুলো আমি অবশিষ্ট সহিহ, সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহ থেকে সূত্র অনুসন্ধান (تخريج) করেছি এবং এক্ষেত্রে আলেমগণের বর্ণনার ভিত্তিতে হাদিসের মান (درجة) বর্ণনা করেছি।

সপ্তমত- আমি গবেষণায় উল্লিখিত আসার (أثر) সমূহ তাদের মূল উৎস থেকে সূত্র অনুসন্ধান (تخريج) করেছি এবং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের বর্ণনা অনুযায়ী সেই আসারের মান (درجة) বর্ণনা করেছি।

অষ্টমত- এই গবেষণায় আগত অপরিচিত বা বিরল শব্দসমূহের (غريب) অর্থ স্পষ্ট করেছি। যেহেতু শব্দের এই জটিলতা একটি আপেক্ষিক বিষয়, তাই আমি নিজ বিচারবুদ্ধির ওপর ভিত্তি করে এই শব্দগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি।

নবমত- আমি এই গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছি, তবে অতি প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের ব্যতিরেকে।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
الصحابة والأئمَّة الأربعة، لكونهم لا يحتاجون إلى تعريف، وجعلتُ ذلك في مُلحق خاص في آخر البحث.

عاشرًا- عملتُ فهرسًا لهذا البحث اشتمل ما يلي:

1 - فهرسًا للآيات القرآنية.

2 - فهرسًا للأحاديث النبوية.

3 - فهرسًا للآثار.

4 - فهرسًا لمراجع البحث.

5 - فهرسًا لموضوعات البحث.

 

‌‌خطة البحث:

تشتمل خطة هذا البحث تمهيدًا وثلاثة فصول.

التمهيد: وفيه التعريف بالحيض والنفاس والاستحاضة.

الفصل الأول: في الأحكام المترتبة على الحيض، وفيه ثلاثة عشر مبحثًا:

المبحث الأول: في الأحكام المتعلقة بالطهارة؛ وفيه ثمانية مطالب:

المطلب الأول: في قراءة القرآن.

المطلب الثاني: في الذِّكر.

المطلب الثالث: في مسِّ المصحف.

المطلب الرابع: في طهارة بدن الحائض، وطهارة سؤرها (1)، وعرقها.

المطلب الخامس: في دخولها للمسجد.

المطلب السادس: في غسلها من المحيض.

المطلب السابع: في اغتسال الحائض للجنابة.

--------------------------------------------

(1) السؤر: ما بقي في الإناء، فهو بقية الشيء. انظر: لسان العرب (4/ 33) النهاية (2/ 327).
সাহাবী এবং চার ইমাম, যেহেতু তাঁরা পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নন, তাই আমি তাঁদের পরিচয় গবেষণার শেষে একটি বিশেষ পরিশিষ্টে যুক্ত করেছি।

দশম- আমি এই গবেষণার জন্য একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

1 - কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

2 - হাদিসে নববীর নির্ঘণ্ট।

3 - আছার (الآثار)-এর নির্ঘণ্ট।

4 - গবেষণার তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।

5 - গবেষণার বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।

 

‌‌গবেষণার রূপরেখা:

গবেষণার এই রূপরেখায় একটি ভূমিকা এবং তিনটি অধ্যায় রয়েছে।

ভূমিকা: এতে হায়েজ (ঋতুস্রাব), নেফাস (প্রসবোত্তর স্রাব) এবং ইস্তিহাজা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

প্রথম অধ্যায়: হায়েজ সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ; এতে তেরোটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্রতা সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ; এতে আটটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াত প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: জিকির প্রসঙ্গে।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: মুসহাফ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।

চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী নারীর শরীরের পবিত্রতা, তার উচ্ছিষ্ট বা সুইর (১) এবং ঘাম প্রসঙ্গে।

পঞ্চম উপ-অনুচ্ছেদ: তার মসজিদে প্রবেশ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ উপ-অনুচ্ছেদ: হায়েজ পরবর্তী গোসল প্রসঙ্গে।

সপ্তম উপ-অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী নারীর জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করা প্রসঙ্গে।

--------------------------------------------

(১) সুইর: যা পাত্রে অবশিষ্ট থাকে, তা-ই কোনো কিছুর অবশিষ্টাংশ। দেখুন: লিসানুল আরব (৪/৩৩), আন-নিহায়া (২/৩২৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
المطلب الثامن: في تغسيلها إذا ماتت.

المبحث الثاني: في الأحكام المتعلقة بالصلاة؛ وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: في حكم الصلاة في أثناء الحيض.

المطلب الثاني في قضاء ما فاتها أيام الحيض.

المطلب الثالث: في طهر الحائض قبل خروج وقت الصلاة.

المطلب الرابع: في نزول دم الحيض بعد دخول وقت الصلاة وقبل أن تصليها.

المبحث الثالث: في الأحكام المتعلقة بالصيام؛ وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأول: في حكم الصيام في أثناء الحيض.

المطلب الثاني: في قضاء ما فات بالحيض.

المطلب الثالث: في إمساك اليوم الذي طهرت في أثنائه.

المطلب الرابع: في طلوع الفجر قبل أن تغتسل.

المطلب الخامس: في سقوط كفارة الجماع بنزول الدم في يومه.

المبحث الرابع: في اعتكاف الحائض؛ وفيه مطلبان:

المطلب الأول: في حكم الاعتكاف.

المطلب الثاني: في طروء الحيض حال الاعتكاف.

المبحث الخامس: في الأحكام المتعلِّقة بالحج والعمرة، وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأول: في إحرام الحائض بالحج والعمرة.

المطلب الثاني: في حُكم الطواف حال الحيض.

المطلب الثالث: في حُكم السعي حال الحيض.

المطلب الرابع: في انتظار الرفقة لطهر الحائض.
অষ্টম অনুষঙ্গ: তার মৃত্যুর পর তাকে গোসল (غسل) করানো প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সালাত সংক্রান্ত বিধানাবলি; এতে চারটি অনুষঙ্গ রয়েছে:

প্রথম অনুষঙ্গ: ঋতুস্রাব (حيض) চলাকালীন সালাতের বিধান প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুষঙ্গ: ঋতুকালীন দিনগুলোতে ছুটে যাওয়া সালাত কাজা (قضاء) করা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অনুষঙ্গ: সালাতের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পূর্বে ঋতুমতী নারীর পবিত্র হওয়া প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অনুষঙ্গ: সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর কিন্তু সালাত আদায়ের পূর্বে ঋতুস্রাব (حيض) শুরু হওয়া প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সিয়াম সংক্রান্ত বিধানাবলি; এতে পাঁচটি অনুষঙ্গ রয়েছে:

প্রথম অনুষঙ্গ: ঋতুস্রাব (حيض) চলাকালীন সিয়ামের বিধান প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুষঙ্গ: ঋতুস্রাবের (حيض) কারণে ছুটে যাওয়া সিয়ামের কাজা (قضاء) করা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অনুষঙ্গ: দিনের যে সময়ে নারী পবিত্র হয়েছে, সে সময়ের অবশিষ্ট অংশে পানাহার থেকে বিরত (إمساك) থাকা প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অনুষঙ্গ: গোসল (غسل) করার পূর্বেই ফজর উদিত হওয়া প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অনুষঙ্গ: দিনের বেলায় রক্তস্রাব শুরু হওয়ার ফলে সহবাসের কাফফারা (كفارة) রহিত হওয়া প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ঋতুমতী নারীর ইতিকাফ (اعتكاف) প্রসঙ্গে; এতে দুটি অনুষঙ্গ রয়েছে:

প্রথম অনুষঙ্গ: ইতিকাফের (اعتكاف) বিধান প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুষঙ্গ: ইতিকাফ (اعتكاف) অবস্থায় ঋতুস্রাব (حيض) শুরু হওয়া প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হজ ও ওমরাহ সংক্রান্ত বিধানাবলি; এতে পাঁচটি অনুষঙ্গ রয়েছে:

প্রথম অনুষঙ্গ: ঋতুমতী নারীর হজ ও ওমরাহর জন্য ইহরাম (إحرام) বাঁধা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুষঙ্গ: ঋতুস্রাব (حيض) অবস্থায় তাওয়াফের (طواف) বিধান।

তৃতীয় অনুষঙ্গ: ঋতুস্রাব (حيض) অবস্থায় সাঈর (سعي) বিধান।

চতুর্থ অনুষঙ্গ: ঋতুমতী নারীর পবিত্র হওয়ার জন্য কাফেলার অপেক্ষা করা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
المطلب الخامس: في طواف الوداع على الحائض.

المبحث السادس: في الأحكام المتعلِّقة بالنكاح؛ وفيه مطلب واحد: وهو الاستمتاع بالحائض.

وفيه مسألتان:

المسألة الأولى: في الاستمتاع فيما فوق السرة ودون الركبة.

المسألة الثانية: في الاستمتاع فيما دون السرة وفوق الركبة.

المبحث السابع: في الأحكام المتعلقة بالطلاق، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: في تطليق الحائض.

المطلب الثاني: في وطء الزوج للمرأة حال الحيض هل يحلّها للأول.

المبحث الثامن: في الخلع في الحيض.

المبحث التاسع: في الأحكام المتعلقة بالإيلاء، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: في احتساب أيام الحيض من أجل المولي.

المطلب الثاني: في حصول الفيئة من المولي بالوطء حال الحيض.

المبحث العاشر: في الأحكام المتعلِّقة بالعدَّة.

المبحث الحادي عشر: في الأحكام المتعلقة بالاستبراء؛ وفي مطلبان:

المطلب الأول: في استبراء الثيب.

المطلب الثاني: في استبراء البكر.

المبحث الثاني عشر: في الأحكام المتعلِّقة بالنفقة.

المبحث الثالث عشر: في تذكية الحائض.

المبحث الرابع عشر: في أنه علامة على البلوغ.

الفصل الثاني: في الأحكام المترتبة على النفاس.
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী নারীর বিদায়ী তাওয়াফ (طواف الوداع) প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: বিবাহ (نكاح) সংক্রান্ত বিধানাবলী; এতে একটি অনুচ্ছেদ রয়েছে: আর তা হলো ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে আনন্দ লাভ (استمتاع)।

এতে দুটি মাসআলা (مسألتان) রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: নাভির ঊর্ধ্বাংশ এবং হাঁটুর নিম্নাংশ থেকে আনন্দ লাভ (استمتاع) প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় মাসআলা: নাভির নিম্নাংশ এবং হাঁটুর ঊর্ধ্বাংশ থেকে আনন্দ লাভ (استمتاع) প্রসঙ্গে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তালাক (طلاق) সংক্রান্ত বিধানাবলী, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী নারীকে তালাক (تطليق) প্রদান প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীর সাথে স্বামীর সহবাস (وطء) কি তাকে পূর্ববর্তী স্বামীর জন্য হালাল (يحلّها) করে?

অষ্টম পরিচ্ছেদ: ঋতুবস্থায় খোলা (خلع) তালাক প্রসঙ্গে।

নবম পরিচ্ছেদ: ঈলা (إيلاء) সংক্রান্ত বিধানাবলী, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ঈলাকারী (مولي) ব্যক্তির মেয়াদের জন্য ঋতুস্রাবের (حيض) দিনগুলো গণনা করা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ঋতুবস্থায় সহবাসের (وطء) মাধ্যমে ঈলাকারী ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন (فيئة) সম্পন্ন হওয়া প্রসঙ্গে।

দশম পরিচ্ছেদ: ইদ্দত (عدة) সংক্রান্ত বিধানাবলী।

একাদশ পরিচ্ছেদ: ইস্তিবরা বা গর্ভাশয় পবিত্রতা নিশ্চিতকরণ (استبراء) সংক্রান্ত বিধানাবলী; এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطلبان) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অকুমারী (ثيب) নারীর ইস্তিবরা (استبراء) প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কুমারী (بكر) নারীর ইস্তিবরা (استبراء) প্রসঙ্গে।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: ভরণপোষণ (نفقة) সংক্রান্ত বিধানাবলী।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী নারীর পশু জবেহ (تذكية) করা প্রসঙ্গে।

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: ঋতুস্রাব সাবালকত্বের (بلوغ) লক্ষণ হওয়া প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: নেফাস বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব (نفاس) সংক্রান্ত বিধানাবলী।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الثالث: في الأحكام المترتبة على الاستحاضة؛ وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: في أن حكمها حكم الطاهرات.

المبحث الثاني: في كيفية تطهرها للصلاة.

المبحث الثالث: في وطء المستحاضة.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইস্তিহাযা (استحاضة) সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী; এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তার বিধান পবিত্র (طاهرة) নারীদের বিধানের অনুরূপ হওয়া প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সালাতের জন্য তার পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইস্তিহাযাগ্রস্ত (مستحاضة) নারীর সাথে সহবাস প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌التمهيد

في التعريف بالحيض، والنفاس، والاستحاضة

وفيه ثلاثة مطالب

* * *

 

‌‌المطلب الأول

في التعريف بالحيض

أولاً- التعريف اللغوي:

الحيض لغة: السيلان، من قولهم: «حاض الوادي» إذا سال وحيضان السيول ما سال منها، ومنه: «حاضت السمرة»، إذا سال منها شبه الدم، وهو الصمغ الأحمر.

وقيل للحوض، حوض؛ لأنَّ الماء يحيض إليه، أي: يسيل (1).

ثانيًا: أما الحيض في الاصطلاح:

فقد عُرِّف بتعاريف كثيرة تختلف فيما بينها حتى داخل المذهب الواحد، ونذكر هنا تعريفًا من كلِّ مذهب، ثم نُعقِب ذلك بالتعريف المختار.

فعرَّفه ابن الهمام من الحنفية: بأنه «الدم الذي ينفضه رحم امرأةٍ سالمة عن داء وصغر» (2).

--------------------------------------------

(1) لسان العرب مادة «حيض» (7/ 142، 143).

(2) فتح القدير (1/ 161).
ভূমিকা

ঋতুস্রাব (حيض), প্রসবোত্তর রক্তস্রাব (نفاس) এবং ইস্তিহাযা (استحاضة) এর পরিচয় প্রসঙ্গে

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে

* * *

 

প্রথম পরিচ্ছেদ

ঋতুস্রাব (حيض) এর পরিচয় প্রসঙ্গে

প্রথমত: শাব্দিক সংজ্ঞা:

শাব্দিক অর্থে ঋতুস্রাব (حيض) হলো: প্রবাহিত হওয়া (السيلان)। এটি আরবদের উক্তি: «حاض الوادي» (উপত্যকা প্রবাহিত হয়েছে) থেকে নির্গত, যখন তা প্রবাহিত হয়। স্রোতের প্রবাহকে 'হায়যানুস সুয়ুল' বলা হয়। এ থেকেই বলা হয়: «حاضت السمرة», যখন বাবলা গাছ থেকে রক্তের ন্যায় লাল রঙের আঠা নির্গত হয়।

হাউজ (حوض) কে 'হাউজ' বলা হয় কারণ পানি তাতে প্রবাহিত হয়, অর্থাৎ গড়িয়ে পড়ে (1)।

দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক সংজ্ঞায় ঋতুস্রাব (حيض):

এর অনেকগুলো সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে যা এমনকি একই মাযহাবের অভ্যন্তরেও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। আমরা এখানে প্রতিটি মাযহাব থেকে একটি করে সংজ্ঞা উল্লেখ করব এবং এরপর পছন্দনীয় সংজ্ঞা (التعريف المختار) পেশ করব।

হানাফী মাযহাবের ইমাম ইবনুল হুমাম এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন এভাবে যে: “এটি এমন রক্ত যা রোগব্যাধি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া থেকে মুক্ত এমন মহিলার জরায়ু থেকে নির্গত হয়” (2)।

--------------------------------------------

(1) লিসানুল আরব, ‘হায়য’ (حيض) শব্দমূল (৭/ ১৪২, ১৪৩)।

(2) ফাতহুল কাদির (১/ ১৬১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعرفه ابن جزي من المالكية: بأنه «الدم الخارج من فرج المرأة التي يمكن حملها عادةً من غير ولادةٍ ولا مرض» (1).

وعرفه الشربيني من الشافعية: بأنه «الخارج من فرج المرأة على سبيل الصحَّة من غير سبب الولادة (2).

وعرَّفه ابن قدامة من الحنابلة: بأنه «دم يُرخيه الرحم إذا بلغت المرأة ثم يعتادها في أوقات معلومة» (3).

وجلُّ هذه التعريفات لا تخلو من نقص، إما بكونها غير جامعة أو غير مانعة، ولعلَّ أجمع ما وقع عليه نظري من تعريف ما عرَّف به البهوتي من الحنابلة حيث قال:

هو دم طبيعةٍ وجبِلَّة، يخرج من قعر الرحم في أوقات معلومة (4).

فقوله: «دم طبيعة وجبلة» يخرج به ما كان على سبيل المرض ونحوه.

وقوله: «من قعر الرحم» يخرج به دم الاستحاضة؛ فإنه من أدنى الرحم، من عِرق يسمى «العاذل».

وقوله: «في أوقات معلومة»، أي: فليس دم فساد، وإنما خُلق لحكمة وهي تغذية الولد، ولذلك إذا حملت المرأة انقطع حيضها في الغالب (5).

ولو أضيف إلى التعريف لفظة: «من غير سبب ولادة» ليُخرج بذلك دم النفاس لكان أولى، فإنه دم طبيعة، يخرج من قعر الرحم، وفي وقت معلوم هو وقت الولادة، إلَاّ أنَّ سببه الولادة.

--------------------------------------------

(1) القوانين الفقهية (31).

(2) الإقناع (1/ 87).

(3) المغني (1/ 386).

(4) الروض المربع مع حاشية ابن قاسم (1/ 370) وقريب منه ما عرف به الشربيني في مغني المحتاج (1/ 108).

(5) انظر: كشاف القناع (1/ 196).
মালিকী মাযহাবের ইবনে জুযাই একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: "এটি এমন রক্ত যা সাধারণত গর্ভধারণে সক্ষম নারীর জরায়ু থেকে সন্তান প্রসব বা ব্যাধি ব্যতিরেকে নির্গত হয়" (১)।

শাফেয়ী মাযহাবের শারবিনী একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: "এটি সুস্থতা (صحة) অবস্থায় নারীর জরায়ু থেকে সন্তান প্রসবের কারণ ব্যতিরেকে নির্গত হওয়া রক্ত" (২)।

হাম্বলী মাযহাবের ইবনে কুদামা একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: "এটি এমন রক্ত যা নারী বালেগ হওয়ার পর জরায়ু থেকে নির্গত হয় এবং পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময়ে তার অভ্যাসে পরিণত হয়" (৩)।

এই সংজ্ঞাগুলোর অধিকাংশটিই ত্রুটিমুক্ত নয়, হয় সেগুলো পূর্ণাঙ্গ (جامعة) নয় অথবা অন্য বিষয়কে বাদ দিতে সক্ষম (مانعة) নয়। আমার দৃষ্টিতে আল-বুহুতী আল-হাম্বলী প্রদত্ত সংজ্ঞাটিই সবচেয়ে সংগতিপূর্ণ, যেখানে তিনি বলেছেন:

এটি একটি স্বাভাবিক এবং প্রকৃতিগত (جبلة) রক্ত, যা নির্দিষ্ট সময়ে জরায়ুর তলদেশ থেকে নির্গত হয় (৪)।

তাঁর উক্তি: "স্বাভাবিক ও প্রকৃতিগত রক্ত" দ্বারা অসুস্থতা বা এই জাতীয় কারণে নির্গত রক্ত বাদ পড়ে যায়।

আর তাঁর উক্তি: "জরায়ুর তলদেশ থেকে" দ্বারা ইস্তিহাযাহ (استحاضة) রক্ত বাদ পড়ে যায়; কারণ তা জরায়ুর নিম্নভাগের 'আযিল' নামক একটি শিরা থেকে নির্গত হয়।

তাঁর উক্তি: "নির্দিষ্ট সময়ে", অর্থাৎ: এটি কোনো দূষিত (فساد) রক্ত নয়, বরং তা একটি হিকমতের কারণে সৃষ্টি করা হয়েছে আর তা হলো সন্তানের পুষ্টিসাধন; এ কারণেই নারী গর্ভবতী হলে সাধারণত তার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায় (৫)।

যদি এই সংজ্ঞার সাথে "সন্তান প্রসবের কারণ ব্যতিরেকে" শব্দগুচ্ছটি যুক্ত করা হতো তবে তা নেফাস (نفاس) রক্তকে সংজ্ঞাবহির্ভূত করার জন্য অধিকতর উত্তম হতো। কারণ এটিও একটি স্বাভাবিক রক্ত যা জরায়ুর তলদেশ থেকে নির্গত হয় এবং প্রসবের সময়টি একটি নির্দিষ্ট সময়, তবে এর মূল কারণ হলো সন্তান প্রসব।

--------------------------------------------

(১) আল-কাওয়ানীন আল-ফিকহিয়্যাহ (৩১)।

(২) আল-ইকনা (১/ ৮৭)।

(৩) আল-মুগনী (১/ ৩৮৬)।

(৪) আর-রাওদুল মুরবি' মা'আ হাশিয়াত ইবনে কাসিম (১/ ৩৭০) এবং এর কাছাকাছি সংজ্ঞা দিয়েছেন শারবিনী মুগনী আল-মুহ্তাজ (১/ ১০৮) গ্রন্থে।

(৫) দেখুন: কাশশাফুল কিনা (১/ ১৯৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المطلب الثاني

في التعريف بالنفاس

النفاس لغة:

من «النَّفْس» وهو الدم، يقال: «سالت نفسه»، أي: دمه.

أو من النَّفَس؛ وهو الفرج من الكرب، يقال: «اللهم نَفِّس عني»، أي: فرِّج عني، ويقال: «نَفَّس الله عنه كربته»، أي: فرَّجها.

أو من «التنفيس»: وهو الخروج من الجوف (1).

أما في الاصطلاح الشرعي:

فقد عُرِّف بتعاريف متقاربة.

فعرفه المرغيناني من الحنفية: بأنه «الدم الخارج من الرحم بعد الولادة» (2).

وعرَّفه ابن جزي من المالكية: بأنه «الدم الخارج من الفرج بسبب الولادة» (3).

وعرفه الرملي من الشافعية: بأنه «الدم الخارج عقب فراغ الرحم من الحمل» (4).

وعرفه ابن مفلح من الحنابلة: بأنه «دم يُرخيه الرحم للولادة وبعدها إلى مدَّة معلومة» (5).

ولعلَّ أوفى هذه التعريفات ما عرَّف به الحنابلة؛ إذ إنه جعل منه ما

--------------------------------------------

(1) انظر: لسان العرب مادة «نفس» (6/ 236، 239) الصحاح مادة «نفس» (3/ 984، 985).

(2) الهداية مع فتح القدير (1/ 186).

(3) القوانين الفقهية (31).

(4) نهاية المحتاج (1/ 305).

(5) المبدع (1/ 293).
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

নিফাস (النفاس) এর পরিচয় প্রসঙ্গে

শাব্দিক অর্থে (لغة) নিফাস:

এটি ‘আন-নাফস’ (النفس) শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো রক্ত। বলা হয়ে থাকে: ‘তার রক্ত প্রবাহিত হয়েছে (سالت نفسه)’, অর্থাৎ: তার রক্ত (دمه)।

অথবা এটি ‘আন-নাফাস’ (النفس) থেকে উদ্ভূত; যার অর্থ হলো কষ্ট থেকে মুক্তি বা প্রশস্ততা। বলা হয়ে থাকে: ‘হে আল্লাহ, আমার কষ্ট লাঘব করুন (نفس عني)’, অর্থাৎ: আমাকে প্রশস্ততা দান করুন। আরও বলা হয়: ‘আল্লাহ তার বিপদ দূর করেছেন (نفس الله عنه كربته)’, অর্থাৎ: তা মোচন করেছেন।

অথবা এটি ‘আত-তানফিস’ (التنفيس) থেকে আগত: যার অর্থ হলো শরীরের অভ্যন্তর (الجوف) থেকে নির্গত হওয়া (১)।

আর শরীয়তের পারিভাষিক (اصطلاح) সংজ্ঞায়:

একে অপরের কাছাকাছি বিভিন্ন সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

হানাফি মাজহাবের আল-মারগিনানী এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: “সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর জরায়ু (الرحم) থেকে নির্গত রক্ত” (২)।

মালিকি মাজহাবের ইবনে জুযাই এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: “সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কারণে যৌনাঙ্গ (الفرج) থেকে নির্গত রক্ত” (৩)।

শাফিঈ মাজহাবের আর-রামলী এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: “গর্ভাশয় গর্ভ (الحمل) থেকে মুক্ত হওয়ার অব্যবহিত পরে নির্গত রক্ত” (৪)।

হাম্বলি মাজহাবের ইবনে মুফলিহ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: “এমন রক্ত যা জরায়ু সন্তান প্রসবের জন্য এবং প্রসব পরবর্তী একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নির্গত করে” (৫)।

সম্ভবত এই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে হাম্বলিদের দেওয়া সংজ্ঞাই সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ; কারণ এটি এমন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা

--------------------------------------------

(১) দেখুন: লিসানুল আরব, ‘নাফস’ (نفس) মূলধাতু (৬/২৩৬, ২৩৯), আস-সিহাহ, ‘নাফস’ (نفس) মূলধাতু (৩/৯৮৪, ৯৮৫)।

(২) আল-হিদায়াহ সাথে ফাতহুল কাদির (১/১৮৬)।

(৩) আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ (৩১)।

(৪) নিহায়াতুল মুহতাজ (১/৩০৫)।

(৫) আল-মুবদি (১/২৯৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
يكون قبل الولادة، مع وجود أمارة عليه بأن تعقبه ولادة، ويَصحبه الطَّلْق، وقد أشار إلى هذا أيضًا تعريف المالكية له.

ثم إنه حدَّد له مدَّة، وجعلها معلومة، فإن زاد عليها فإنَّ الزيادة لا تكون منه، بل قد تكون حيضًا أو استحاضة أو دم فساد.

ثم أيضًا قد تضمَّن اشتراط أن يكون خُروجه من الرحم، فلو كان من دونه فإنه لا يدخل في دم النفاس، وقد تضمَّن هذا المعنى أيضًا تعريف الحنفية.

 

‌‌المطلب الثالث

التعريف بالاستحاضة

الاستحاضة في اللغة:

قال في اللسان: الاستحاضة أن يستمر بالمرأة خروج الدم بعد أيام حيضها المعتاد. يقال: «استحيضت»؛ فهي مُستحاضة.

والمستحاضة التي لا يرقأ دم حيضها ولا يسيل من المحيض، ولكنه يُسَلُّ من عِرقٍ يُقال له «العاذل» (1).

أما في الاصطلاح الشرعي:

فقد عُرِّفت بتعاريفَ كثيرةٍ تختلف في ألفاظها حتى داخل المذهب الواحد، إلَاّ أنها ترجع إلى معنى واحد، وهو ما ذُكِرَ في تعريفها لغة .. ودونك تعريفًا لكلِّ مذهب.

فعرَّفها ابن نجيم من الحنفية بأنها «اسم لدمٍ خارجٍ من الفرج دون الرحم» (2).

--------------------------------------------

(1) مادة «حيض» (7/ 142، 143) وانظر: أيضًا الصحاح (3/ 1073).

(2) البحر الرائق (1/ 226).
এটি প্রসবের পূর্বে ঘটে থাকে, যেখানে একটি লক্ষণ (أمارة) বিদ্যমান থাকে যে এর পরেই প্রসব হবে এবং এর সাথে প্রসববেদনা (الطلق) যুক্ত থাকে। মালেকি মাযহাবের সংজ্ঞাও এই দিকেই ইঙ্গিত করেছে।

অতঃপর তিনি এর জন্য একটি সময়কাল নির্দিষ্ট করেছেন এবং একে সুনির্ধারিত করেছেন। সুতরাং যদি রক্তপাত এর চেয়ে বৃদ্ধি পায়, তবে সেই অতিরিক্ত অংশটি এর (নিফাসের) অন্তর্ভুক্ত হবে না; বরং তা ঋতুস্রাব (حيض) অথবা ইস্তিহাযা (استحاضة) অথবা রোগজনিত রক্ত (دم فساد) হতে পারে।

তদুপরি এতে জরায়ু (الرحم) থেকে নির্গত হওয়ার শর্তটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সুতরাং যদি তা জরায়ু ব্যতিরেকে অন্য কোনো স্থান থেকে নির্গত হয়, তবে তা নিফাস (نفاس)-এর রক্তের অন্তর্ভুক্ত হবে না। হানাফি মাযহাবের সংজ্ঞাও এই অর্থটি ধারণ করেছে।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

ইস্তিহাযার (الاستحاضة) পরিচয়

শাব্দিক অর্থে ইস্তিহাযা (الاستحاضة):

লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইস্তিহাযা (الاستحاضة) হলো নারীর নিয়মিত ঋতুস্রাবের (حيض) দিনগুলোর পরেও রক্ত নির্গত হওয়া অব্যাহত থাকা। বলা হয়: ‘ইস্তুহিযাত’ (استحيضت); সুতরাং তিনি একজন মুস্তাহাযাহ (مستحاضة)।

আর মুস্তাহাযাহ (مستحاضة) হলেন সেই নারী যার ঋতুস্রাবের রক্ত বন্ধ হয় না এবং রক্ত জরায়ু (المحيض) থেকে প্রবাহিত হয় না, বরং তা ‘আল-আযিল’ (العاذل) নামক একটি রগ থেকে নির্গত হয় (১)।

পারিভাষিক অর্থে (الاصطلاح الشرعي):

এর অনেকগুলো সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে যা শব্দের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন, এমনকি একই মাযহাবের মধ্যেও; তবে সেগুলো মূলত একটি অর্থের দিকেই ধাবিত হয়, আর তা হলো যা এর শাব্দিক সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে প্রতিটি মাযহাবের সংজ্ঞা পেশ করা হলো।

হানাফি মাযহাবের ইবনে নুজাইম একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো “জরায়ু (الرحم) ব্যতিরেকে লজ্জাস্থান (الفرج) থেকে নির্গত রক্তের নাম” (২)।

--------------------------------------------

(১) শব্দমূল ‘হায়য’ (حيض) (৭/ ১৪২, ১৪৩) এবং আরও দেখুন: আস-সিহাহ (৩/ ১০৭৩)।

(২) আল-বাহরুর রায়েক (১/ ২২৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وعرَّفها ابن جزي من المالكية: بأنها «الدم الخارج من الفرج على وجه المرض» (1).

وعرفها الشربيني من الشافعية: بأنها «دم علَّةٍ يسيل من عِرقٍ من أدنى الرحم يُقال له "العاذل"» (2).

وعرَّفها ابن مفلح من الحنابلة بأنها: «سيلان الدم في غير وقته من العرق العاذل» (3).

--------------------------------------------

(1) القوانين الفقهية ص 31.

(2) مغني المحتاج (1/ 108)

(3) المبدع (1/ 274).
মালেকি মাজহাবের ইবনে জুযাই একে সংজ্ঞায়িত করেছেন: এটি হলো «অসুস্থতা (مرض) হেতু যৌনাঙ্গ থেকে নির্গত রক্ত» (১)।

শাফেয়ি মাজহাবের আল-শিরবিনি একে সংজ্ঞায়িত করেছেন: এটি হলো «এমন ব্যাধিজনিত (علة) রক্ত যা জরায়ুর নিম্নদেশের একটি রগ থেকে প্রবাহিত হয় যাকে "আযিল" বলা হয়» (২)।

হাম্বলি মাজহাবের ইবনে মুফলিহ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: «নির্ধারিত সময় ব্যতিরেকে আযিল নামক রগ থেকে রক্ত প্রবাহিত হওয়া» (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩১।

(২) মুগনি আল-মুহতাজ (১/ ১০৮)

(৩) আল-মুবদি (১/ ২৭৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول

الأحكام المترتبة على الحيض

وفيه ثلاثة عشرة مبحثًا:
প্রথম পরিচ্ছেদ

ঋতুস্রাব সংক্রান্ত বিধিবিধানসমূহ

এতে তেরোটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الأول

في الأحكام المتعلقة بالطهارة

وفيه ثمانية مطالب:

المطلب الأول: في قراءة القرآن.

المطلب الثاني: في الذِّكر.

المطلب الثالث: في مسِّ المصحف.

المطلب الرابع: في طهارة بدن الحائض، وطهارة سؤرها، وعَرقها.

المطلب الخامس: في دخولها للمسجد.

المطلب السادس: في غسلها من المحيض. والتيمُّم عند فقد الماء.

المطلب السابع: في اغتسال الحائض للجنابة.

المطلب الثامن: في تغسيلها إذا ماتت

* * *

 

‌‌المطلب الأول

في قراءة الحائض للقرآن
(1)

وفيه فرعان:

 

‌‌الفرع الأول: في قراءة الكثير منه (ما كان أكثر من آية)

ولأهل العلم في حكم ذلك قولان:

--------------------------------------------

(1) نقصد بالقراءة ما كان معها حركة باللسان، فأما النظر في المصحف، وقراءته بالقلب دون حركة اللسان، فهذا لا خلاف بين أهل العلم في جوازه، انظر: المجموع (2/ 163).
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

পবিত্রতা সংক্রান্ত বিধানাবলি

এতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াত প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জিকর প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মুসহাফ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী মহিলার শরীরের পবিত্রতা এবং তার উচ্ছিষ্ট ও ঘামের পবিত্রতা প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তার মসজিদে প্রবেশ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: ঋতুস্রাব পরবর্তী গোসল এবং পানির অনুপস্থিতিতে তায়াম্মুম করা প্রসঙ্গে।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: জানাবাতের কারণে ঋতুবতী মহিলার গোসল করা প্রসঙ্গে।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: সে মারা গেলে তাকে গোসল দেওয়া প্রসঙ্গে

* * *

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ

ঋতুবতী মহিলার কুরআন তিলাওয়াত প্রসঙ্গে
(১)

এতে দুটি উপ-শাখা রয়েছে:

 

‌‌প্রথম উপ-শাখা: কুরআনের অধিক অংশ (এক আয়াতের বেশি) তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে

এ বিষয়ের বিধানে আলেমদের দুটি মত রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) তিলাওয়াত বলতে আমরা এমন পাঠ বুঝিয়েছি যার সাথে জিহ্বার নড়াচড়া রয়েছে। পক্ষান্তরে মুসহাফের দিকে তাকানো এবং জিহ্বা সঞ্চালন ব্যতিরেকে মনে মনে পাঠ করার বৈধতার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। দেখুন: আল-মাজমু (২/ ১৬৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
القول الأول: أنه لا يجوز:

ذهب إليه الحنفية (1)، ومالك في رواية عنه (2)، والشافعية (3)، وأحمد في رواية عنه، وهي المذهب (4)

وهو قول جمعٌ من فقهاء السلف منهم الحسن، والنخعي، والزهري، وقتادة، وعطاء، وسعيد بن جبير، وأكثر أهل العلم (5).

الأدلَّة:

1 - ما روي عن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقرأ الحائض ولا الجُنب شيئًا من القرآن» (6).

ونوقش بضعف الحديث فلا يصلح للاحتجاج؛ لأنَّ في إسناده إسماعيل بن عياش، وروايته عن الحجازيين ضعيفة، وهذا منها.

والطريق الأخرى فيها مُبهم، عن أبي معشر، وهو ضعيف.

ورُوِيَ الحديث عن جابر مرفوعًا، وفيه محمد بن الفضل، وهو متروك، وروي عنه موقوفًا، وفيه يحيى بن أبي أنيسة، وهو كذاب (7).

--------------------------------------------

(1) انظر: مختصر الطحاوي (18) بدائع الصنائع (1/ 37) المبسوط (3/ 152) البحر الرائق (1/ 210) الفتاوى الهندية (1/ 38).

(2) انظر: المنتقى (1/ 120، 345) المعونة (1/ 163) التفريع (1/ 206).

(3) انظر: الوجيز (1/ 18) المهذب (1/ 45) الحاوي (1/ 386) المجموع (2/ 158) مغني المحتاج (1/ 72).

(4) انظر: المغني (1/ 199) الإنصاف (1/ 243) المبدع (1/ 187) كشاف القناع (1/ 147، 197) الشرح الكبير (1/ 156).

(5) انظر: الأوسط (2/ 96) المجموع (2/ 158) المغني (1/ 199).

(6) أخرجه الترمذي في كتاب الطهارة باب ما جاء في الجُنب والحائض أنهما لا يقرءان القرآن (1/ 236) وابن ماجة في كتاب الطهارة، باب ما جاء في قراءة القرآن على غير طهارة (1/ 195) والدارقطني في كتاب الطهارة، باب في النهي للجنب عن قراءة القرآن (1/ 117) والبيهقي في كتاب الحيض، باب الحائض لا تمس المصحف، ولا تقرأ القرآن (1/ 309).

(7) التلخيص الحبير (1/ 138).
প্রথম অভিমত: এটি জায়েজ নয়:

হানাফি (১), মালেকি মাযহাবের একটি বর্ণনা মতে ইমাম মালেক (২), শাফেয়ি (৩) এবং হাম্বলি মাযহাবের একটি বর্ণনা মতে ইমাম আহমদ এই মত পোষণ করেছেন এবং এটিই (হাম্বলি) মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত (৪)।

এটি সালাফের একদল ফকিহদেরও উক্তি, যাদের মধ্যে রয়েছেন হাসান বসরী, নাখয়ি, যুহরি, কাতাদাহ, আতা, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং অধিকাংশ আহলে ইলম (৫)।

দলিলসমূহ:

১ - ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "ঋতুবতী নারী এবং নাপাক ব্যক্তি কুরআনের কিছুই পাঠ করবে না" (৬)।

এই হাদিসটির দুর্বলতার (ضعف) কারণে এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং এটি দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) উপযুক্ত নয়; কারণ এর সনদে (إسناد) ইসমাইল ইবনে আইয়াশ রয়েছেন, আর হিজাজি বর্ণনাকারীদের থেকে তার বর্ণনা দুর্বল (ضعيفة), আর এটি সেই পর্যায়েরই একটি বর্ণনা।

অন্য একটি সূত্রে একজন অস্পষ্ট (مبهم) বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি আবু মা’শার থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি দুর্বল (ضعيف)।

হাদিসটি জাবির (রা.) থেকে মরফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যার সনদে মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত (متروك)। আবার এটি তাঁর থেকে মাওকুফ (موقوفا) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যার সনদে ইয়াহইয়া ইবনে আবি আনিসাহ রয়েছেন, যিনি একজন মিথ্যাবাদী (كذاب) (৭)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুখতাসারুত তাহাবি (১৮), বাদায়েউস সানায়ে (১/৩৭), আল-মাবসুত (৩/১৫২), আল-বাহরুর রায়েক (১/২১০), আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া (১/৩৮)।

(২) দেখুন: আল-মুনতাকা (১/১২০, ৩৪৫), আল-মাউনা (১/১৬৩), আত-তাফরি (১/২০৬)।

(৩) দেখুন: আল-ওয়াজিজ (১/১৮), আল-মুহায্যাব (১/৪৫), আল-হাউয়ি (১/৩৮৬), আল-মাজমু (২/১৫৮), মুগনির মুহতাজ (১/৭২)।

(৪) দেখুন: আল-মুগনি (১/১৯৯), আল-ইনসাফ (১/২৪৩), আল-মুবদি (১/১৮৭), কাশশাফুল কিনা (১/১৪৭, ১৯৭), আশ-শারহুল কাবীর (১/১৫৬)।

(৫) দেখুন: আল-আউসাত (২/৯৬), আল-মাজমু (২/১৫৮), আল-মুগনি (১/১৯৯)।

(৬) তিরমিজি এটি কিতাবুত তাহারাহ এর 'নাপাক ব্যক্তি ও ঋতুবতী নারী কুরআন পাঠ করবেন না' অনুচ্ছেদে (১/২৩৬), ইবনে মাজাহ কিতাবুত তাহারাহ এর 'পবিত্রতা ব্যতীত কুরআন পাঠ' অনুচ্ছেদে (১/১৯৫), দারা কুতনি কিতাবুত তাহারাহ এর 'নাপাক ব্যক্তির কুরআন পাঠের নিষেধাজ্ঞা' অনুচ্ছেদে (১/১১৭) এবং বায়হাকি কিতাবুল হায়েয এর 'ঋতুবতী নারী কুরআন স্পর্শ করবে না এবং কুরআন পাঠ করবে না' অনুচ্ছেদে (১/৩০৯) বর্ণনা করেছেন।

(৭) আত-তালখিসুল হাবির (১/১৩৮)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
قال ابن تيمية عن الحديث: وهو ضعيفٌ باتفاق أهل المعرفة بالحديث (1).

وقال ابن حجر: وحديث ابن عمر ضعيف من جميع طُرقه (2).

2 - ما رُوِيَ عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه: «أنه دخل المخرج، ثم خرج فدعا بماء، فأخذ منه حفنة، فتمسح بها، ثم جعل يقرأ القرآن، فأُنكِر ذلك عليه فقال: «إنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يخرج من الخلاء فيُقرِئنا القرآن، ويأكل معنا اللحم، ولم يكن يحجبه - أو قال: يحجزه - عن القرآن شيء إلا الجنابة» (3).

وفي رواية: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرئنا القرآن على كلِّ حال ما لم

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (21/ 460).

(2) فتح الباري (1/ 409).

(3) أخرجه أبو داود في كتاب الطهارة، باب في الجُنب يقرأ القرآن (1/ 155) وسكت عنه.

والترمذي في أبواب الطهارة، باب ما جاء في الرجل يقرأ القرآن على كل حال ما لم يكن جنبًا (1/ 98، 99) وقال: حديث حسن صحيح.

وابن ماجة في كتاب الطهارة وسننها باب ما جاء في قراءة القرآن على غير طهارة (1/ 195).

والنسائي في كتاب الطهارة، باب حجب الجُنب من قراءة القرآن (1/ 157).

والدارقطني في كتاب الطهارة، باب النهي للجنب والحائض عن قراءة القرآن (1/ 119).

والحاكم في كتاب الأطعمة (4/ 107) وقال: صحيح الإسناد ولم يخرِّجاه.

قال الحافظ في الفتح (1/ 348) رواه أصحاب السنن وصححه الترمذي: وابن حبان، وضعف بعضهم أحد رواته، والحق أنه من قبيل الحسن يصلح للحجة.

قال الألباني: هذا رأي الحافظ في الحديث، ولا نوافقه عليه، فإن الراوي المشار إليه وهو عبد الله بن سلمة، قد قال الحافظ نفسه في ترجمته: من التقريب "صدوق تغير حفظه" وقد سبق أن حدث بهذا الحديث في حال التغير فالظاهر هو أن الحافظ لم يستحضر ذلك حين حكم بحسن الحديث، والله أعلم، ولذلك لما حكى النووي في المجموع (2/ 159) عن الترمذي تصحيحه للحديث تعقبه قوله: وقال غيره من الحفاظ المحققين: هو حديث ضعيف (2/ 242).
ইবনে তাইমিয়্যাহ হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: হাদিস বিশেষজ্ঞদের ঐকমত্যে এটি দুর্বল (ضعيف) (১)।

ইবনে হাজার বলেন: ইবনে উমরের হাদিসটি এর সকল সূত্র (طرق) থেকেই দুর্বল (ضعيف) (২)।

২ - আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে: "তিনি শৌচাগারে প্রবেশ করলেন, অতঃপর বের হয়ে পানি চাইলেন এবং এক আঁজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে (হাত-মুখ) মুছলেন। এরপর তিনি কুরআন তিলাওয়াত করতে শুরু করলেন। বিষয়টি তাঁর কাছে অপছন্দনীয় মনে করা হলে তিনি বললেন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচাগার থেকে বের হয়ে আমাদের কুরআন পড়াতেন এবং আমাদের সাথে গোশত খেতেন; অপবিত্রতা (جنابة) ছাড়া কোনো কিছুই তাঁকে কুরআন থেকে বিরত রাখত না—অথবা তিনি বলেছেন—বাধা দিত না'।" (৩)।

অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সর্বাবস্থায় কুরআন পড়াতেন যতক্ষণ না...

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (২১/ ৪৬০)।

(২) ফাতহুল বারী (১/ ৪০৯)।

(৩) এটি আবু দাউদ কিতাবুত তাহারাহ-এর 'অপবিত্র অবস্থায় কুরআন পাঠ' অনুচ্ছেদে (১/ ১৫৫) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এ বিষয়ে নীরবতা পালন (سكت عنه) করেছেন।

তিরমিজি তাহারাহ অধ্যায়ে 'সর্বাবস্থায় কুরআন পাঠ করা যতক্ষণ অপবিত্র না হয়' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন (১/ ৯৮, ৯৯) এবং বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।

ইবনে মাজাহ কিতাবুত তাহারাহ ওয়া সুনানিহা-এর 'পবিত্রতা ছাড়া কুরআন পাঠ' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন (১/ ১৯৫)।

নাসায়ি কিতাবুত তাহারাহ-এর 'অপবিত্র ব্যক্তিকে কুরআন পাঠ থেকে বিরত রাখা' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন (১/ ১৫৭)।

দারা কুতনি কিতাবুত তাহারাহ-এর 'অপবিত্র ও ঋতুবতী নারীর কুরআন পাঠে নিষেধাজ্ঞা' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন (১/ ১১৯)।

হাকেম কিতাবুল আত-ইমাহ (৪/ ১০৭) অংশে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح), যদিও তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।

হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারীতে (১/ ৩৪৮) বলেন, এটি সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি ও ইবনে হিব্বান একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। কেউ কেউ এর একজন বর্ণনাকারীকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন। তবে সঠিক কথা হলো এটি হাসান (حسن) পর্যায়ের এবং দলিল (حجة) হিসেবে পেশ করার উপযুক্ত।

আলবানী বলেন: হাদিসটি সম্পর্কে এটি হাফেজের অভিমত, তবে আমরা তাঁর সাথে একমত নই। কেননা যে বর্ণনাকারীর (راوي) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন সালামাহ। হাফেজ নিজেই তাঁর জীবনীতে 'তাকরিব' গ্রন্থে বলেছেন: "সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়েছিল (تغير حفظه)"। এবং এটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি এই হাদিসটি তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তনের অবস্থায় বর্ণনা করেছেন। তাই প্রতীয়মান হয় যে, হাফেজ যখন হাদিসটিকে হাসান (حسن) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন তখন বিষয়টি তাঁর স্মরণে ছিল না। আল্লাহই ভালো জানেন। এই কারণেই নববী যখন 'আল-মাজমু' গ্রন্থে (২/ ১৫৯) তিরমিজির পক্ষ থেকে হাদিসটি সহিহ (صحيح) হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি এর সমালোচনা করে বলেছেন: "অন্যান্য গবেষক (محقق) হাফেজগণ বলেছেন: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস (২/ ২৪২)।"
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
يكن جُنبًا» (1).

والشاهد منه: منع الجُنب من قراءة القرآن، فالحائض مثله؛ لأنَّ حدثها أغلظ (2).

ونوقش الاستدلال: من ثلاثة أوجه:

الوجه الأول: ضعف الحديث؛ لأنه من رواية عبد الله بن سلمة، وقد تغيَّر عقله في كبره، وروايته إياه حال تغيُّره (3).

الوجه الثاني: أنه لا حجَّة فيه على منع الجُنب من القراءة؛ لأنه ليس فيه نهي عن أن يقرأ الجُنب القرآن، وإنما هو فعلٌ منه عليه السلام لا يُلزم؛ فلم يُبيِّن عليه السلام أنه إنما يمتنع من قراءة القرآن من أجل الجنابة.

وقد يتفق له عليه السلام ترك القراءة في تلك الحال ليس من أجل الجنابة، وهو عليه السلام لم يصم شهرًا كاملاً غير رمضان، ولم يزد في قيامه على ثلاثة عشرة ركعة .. أفيحرم أن يُصَام شهر كامل غير رمضان، أو أن يتهجَّد المرء بأكثر من ثلاث عشرة ركعة؟ هذا لا يقوله المانعون، ومثل هذا كثير جدًّا (4).

3 - ما رُوِيَ عن علي رضي الله عنه قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم توضَّأ، ثم قرأ شيئًا من القرآن، ثم قال: «هكذا لمن ليس بِجُنب، فأمَّا الجُنب فلا، ولا آية» (5).

فالحديث نصَّ في منع الجُنب، فالحائض من باب أولى؛ لأن حدثها أغلظ.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي في أبواب الطهارة، باب ما جاء في الرجل يقرأ القرآن على كل حال ما لم يكن جنبًا (1/ 98).

(2) المغني (1/ 200) فتح الباري (1/ 407).

(3) انظر: التلخيص الحبير (1/ 139) إرواء الغليل (2/ 242).

(4) المحلى (1/ 103) وانظر أيضًا: نيل الأوطار (1/ 226) والسيل الجرار (1/ 110).

(5) أخرجه أحمد في المسند (1/ 110) وقد عزاه الهيثمي في مجمع الزوائد لأبي يعلي، وقال: رجاله رجال موثقون (1/ 276).
জুনুবি (অপবিত্র) ছিলেন না» (১)।

এর থেকে দালিলিক প্রমাণ (الشاهد) হলো: জুনুবি ব্যক্তিকে কুরআন পাঠ থেকে বিরত রাখা। সুতরাং ঋতুবতী নারীও তাঁর সমপর্যায়ের; কারণ তাঁর অপবিত্রতা অধিক গুরুতর (২)।

আর এই দলিল উপস্থাপনের বিষয়ে তিনটি দিক থেকে আলোচনা করা হয়েছে:

প্রথম দিক: হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) হওয়া; কারণ এটি আবদুল্লাহ বিন সালামাহ-এর বর্ণনা থেকে এসেছে, আর বার্ধক্যের কারণে তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। আর তাঁর এই বর্ণনাটি স্মৃতি পরিবর্তনের সময়কার (৩)।

দ্বিতীয় দিক: জুনুবি ব্যক্তির কুরআন পাঠ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে এতে কোনো প্রমাণ (حجة) নেই; কারণ এতে জুনুবি ব্যক্তির কুরআন পাঠের ব্যাপারে কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি আমল মাত্র, যা বাধ্যতামূলক নয়। তিনি এটি স্পষ্ট করেননি যে, তিনি শুধুমাত্র জানাবাত (অপবিত্রতা)-এর কারণেই কুরআন পাঠ থেকে বিরত থাকতেন।

কখনো এমন হতে পারে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই অবস্থায় পাঠ ত্যাগ করেছেন জানাবাতের কারণে নয়, বরং অন্য কোনো কারণে। তিনি রমজান ব্যতীত অন্য কোনো পূর্ণ মাস রোজা রাখেননি এবং তাঁর রাতের সালাতে (কিয়াম) তেরো রাকাতের বেশি বৃদ্ধি করেননি... তাহলে রমজান ব্যতীত অন্য কোনো পূর্ণ মাস রোজা রাখা কি হারাম হয়ে যাবে? অথবা কোনো ব্যক্তি কি তেরো রাকাতের বেশি তাহাজ্জুদ পড়তে পারবে না? যারা এ ক্ষেত্রে নিষেধ করেন তাঁরাও এমনটি বলেন না। আর এ ধরনের উদাহরণ অনেক রয়েছে (৪)।

৩ - আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি তিনি ওজু করলেন, অতঃপর কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করলেন এবং বললেন: «এটি তার জন্য যে জুনুবি নয়; কিন্তু জুনুবি ব্যক্তি পাঠ করবে না, এমনকি এক আয়াতও নয়» (৫)।

এই হাদিসটি জুনুবি ব্যক্তিকে নিষেধ করার ব্যাপারে একটি স্পষ্ট দলিল (نص), সুতরাং ঋতুবতী নারী এক্ষেত্রে আরও বেশি অগ্রগণ্য; কারণ তাঁর অপবিত্রতা অধিক গুরুতর।

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিজি তাহারাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: জুনুবি না হওয়া পর্যন্ত সর্বাবস্থায় কুরআন পাঠ করা (১/ ৯৮)।

(২) আল-মুগনি (১/ ২০০), ফাতহুল বারি (১/ ৪০৭)।

(৩) দেখুন: আত-তালখিসুল হাবির (১/ ১৩৯), ইরওয়াউল গালিল (২/ ২৪২)।

(৪) আল-মুহাল্লা (১/ ১০৩) এবং আরও দেখুন: নাইলুল আওতার (১/ ২২৬) ও আস-সাইলুল জাররার (১/ ১১০)।

(৫) ইমাম আহমাদ মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (১/ ১১০) এবং হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ গ্রন্থে একে আবু ইয়ালা-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (موثقون) (১/ ২৭৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ونوقش من أوجه:

الوجه الأول: عدم التسليم بصحَّة الحديث؛ لأنه من رواية أبي الغريف عن علي، ولم يوثقه غير ابن حبان، وعليه اعتمد من قال بصحته، وابن حبان متساهل في التوثيق فلا يُعتمد عليه، لاسيَّما إذا عارضه غيره من الأئمَّة.

الوجه الثاني: أنه لو صحَّ فليس صريحًا في الرفع، أي: موضع الشاهد منه.

الوجه الثالث: على فرض كونه صريحًا في الرفع فهو شاذ أو مُنكَر؛ لأنَّ في إسناده عائذ بن حبيب، وإن كان ثقة، فقد قال فيه ابن عدي: روى أحاديث أُنكِرت عليه، ولعلَّ هذا منها، فقد رواه من هو أوثق منه وأحفظ موقوفًا على علي (1).

الوجه الرابع: على التسليم بالجميع وأنه نصَّ في منع الجُنب فلا دلالة فيه على منع الحائض؛ إذ تحتاج هذه الدعوة إلى دليل، وللفارق، ومن أهمه: قدرته على التطهُّر دونها.

4 - ما أخرجه البيهقي عن عبد الله بن مالك الغافقي أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إذا توضَّأت وأنا جُنب أكلت وشربت، ولا أصلِّي ولا أقرأ حتى اغتسل» (2).

ونوقش: بأنَّ الحديث ضعيف (3).

5 - ما رُوِيَ عن عبد الله بن رواحة رضي الله عنه: أنه كان مضطجعًا إلى جُنب امرأته، فقام إلى جاريةٍ له في ناحية الحجرة فوقع عليها، وفزعت امرأته فلم تجده في مضجعه فقامت وخرجت، فرأته على جاريته

--------------------------------------------

(1) إرواء الغليل (2/ 243، 244).

(2) السنن الكبرى (1/ 308).

(3) المجموع (2/ 159).
একে কয়েকটি দিক থেকে পর্যালোচনা করা হয়েছে:

প্রথম দিক: হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না; কারণ এটি আলীর সূত্রে আবু গারিফ বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য (وثق) আখ্যা দেননি। যারা হাদিসটিকে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন, তারা তার ওপরই নির্ভর করেছেন। অথচ ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেওয়ার (توثيق) ক্ষেত্রে শিথিলকারী (متساهل); তাই তার ওপর নির্ভর করা যায় না, বিশেষ করে যখন অন্য ইমামগণ তার বিরোধিতা করেন।

দ্বিতীয় দিক: হাদিসটি যদি বিশুদ্ধ (صحيح) বলেও গণ্য হয়, তবুও এটি মারফু হওয়া (رفع) বা নবীজির বক্তব্য হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট (صريح) নয়, অর্থাৎ এর প্রমাণস্থলটি সুস্পষ্ট নয়।

তৃতীয় দিক: হাদিসটিকে মারফু হওয়া (رفع) বা নবীজির বক্তব্য হওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ধরে নিলেও, এটি শায (شاذ) অথবা মুনকার (منكر); কারণ এর সনদে (إسناد) আইজ বিন হাবিব রয়েছেন। যদিও তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে ইবনে আদি তার সম্পর্কে বলেছেন: 'তিনি এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন যা মুনকার (منكر) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।' সম্ভবত এটিও সেগুলোর একটি। কেননা তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) এবং অধিক প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أحفظ) বর্ণনাকারীগণ হাদিসটি আলীর ওপর মাওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণনা করেছেন (১)।

চতুর্থ দিক: সবকিছু মেনে নিয়ে যদি হাদিসটিকে অপবিত্র ব্যক্তির জন্য নিষেধাজ্ঞার সুস্পষ্ট পাঠ (نص) হিসেবেও গণ্য করা হয়, তবুও এতে ঋতুবতী মহিলার জন্য নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। কারণ এই দাবির জন্য প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া উভয়ের মধ্যে পার্থক্যও বিদ্যমান; যার মধ্যে প্রধান হলো: অপবিত্র ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জনে সক্ষম, কিন্তু ঋতুবতী মহিলা নয়।

৪ - বায়হাকি আবদুল্লাহ বিন মালিক আল-গাফেকি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «আমি অপবিত্র অবস্থায় অজু করলে আহার করি এবং পান করি; তবে গোসল না করা পর্যন্ত সালাত আদায় করি না এবং কিরাত পড়ি না» (২)।

পর্যালোচনা করা হয়েছে যে: হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) (৩)।

৫ - আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে: তিনি তার স্ত্রীর পাশে শুয়ে ছিলেন, এরপর তিনি কামরার এক কোণে তার এক দাসীর কাছে গিয়ে তার সাথে মিলিত হলেন। তার স্ত্রী ঘাবড়ে গিয়ে তাকে বিছানায় না পেয়ে বের হলেন এবং তাকে তার দাসীর সাথে দেখলেন

--------------------------------------------

(১) ইরওয়াউল গালিল (২/ ২৪৩, ২৪৪)।

(২) আস-সুনানুল কুবরা (১/ ৩০৮)।

(৩) আল-মাজমু (২/ ১৫৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فرجعت إلى البيت فأخذت الشفرة ثم خرجت، وفرغ فقام، فلقيها تحمل الشفرة، فقال: مهيم؟ فقالت: مهيم! لو أدركتك حيث رأيتك لوجئت بين كتفيك بهذه الشفرة، فقال: وأين رأيتني؟ قالت: على الجارية، فقال: ما رأيتني، وقد نهى النبي صلى الله عليه وسلم أن يقرأ أحدنا القرآن وهو جُنب، فقالت: فاقرأ، فقرأ لها بعض الأبيات، فقالت: آمنت بالله وكذَّبت بصري، ثم غدا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبره، فضحك حتى بدت نواجذه صلى الله عليه وسلم» (1).

والدلالة فيه من وجهين:

الوجه الأول: أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم لم يُنكر عليه قوله "وقد نهى رسول الله أن يقرأ أحدنا القرآن وهو جُنب".

الوجه الثاني: أنَّ هذا كان مشهورًا عندهم يعرفه رجالهم ونساؤهم.

ونوقش: بأن هذا الحديث ضعيف لضعف إسناده وانقطاعه، فلا يصحُّ للاحتجاج (2).

6 - ولأنَّ الحيض حدث يوجب الغسل فوجب أن يمنع قراءة القرآن كالجنابة (3).

ونوقش من وجهين:

الوجه الأول: عدم التسليم بصحَّة الحكم المقيس عليه؛ إذ لا نسلم بمنع الجُنب من القراءة.

الوجه الثاني: لو سلم بمنع الجُنب من القراءة فالقياس لا يصح للفارق، وهو قدرة الجُنب على التطهر دونها.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الدارقطني في سُننه، كتاب الطهارة، باب في النهي للجنب والحائض عن قراءة القرآن (1/ 120).

(2) المجموع (2/ 159).

(3) المجموع (2/ 159) المعونة (1/ 163).
অতঃপর আমি বাড়িতে ফিরে গেলাম এবং ছুরিটি নিলাম, তারপর বেরিয়ে এলাম। তিনি (কাজ) শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি তাকে (স্ত্রীকে) ছুরি হাতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কী ব্যাপার? তিনি বললেন: কী ব্যাপার! আমি যদি তোমাকে সেখানে পেতাম যেখানে দেখেছি, তবে এই ছুরি তোমার দুই কাঁধের মাঝখানে বিদ্ধ করতাম। তিনি বললেন: তুমি আমাকে কোথায় দেখেছ? তিনি বললেন: দাসীর ওপর। তিনি বললেন: তুমি আমাকে দেখনি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাউকে জুনুব (جنب) অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বললেন: তাহলে পাঠ করো। তিনি তাকে কিছু কবিতা পাঠ করে শোনালেন। তখন স্ত্রী বললেন: আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম এবং আমার দৃষ্টিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলাম। অতঃপর তিনি সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তাঁকে বিষয়টি জানালেন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা গেল (১)।

এতে দলিল প্রদানের দুটি দিক রয়েছে:

প্রথম দিক: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই কথার প্রতি আপত্তি জানাননি যে, "রাসূলুল্লাহ আমাদের কাউকে জুনুব (جنب) অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন।"

দ্বিতীয় দিক: বিষয়টি তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল যা তাঁদের পুরুষ ও নারীগণ জানতেন।

তবে এটি পর্যালোচিত হয়েছে যে: এই হাদিসটি এর সনদের (إسناد) দুর্বলতা এবং বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) কারণে দুর্বল (ضعيف); সুতরাং এটি দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) যোগ্য নয় (২)।

৬ - আর কারণ এই যে, ঋতুস্রাব হলো এমন একটি অপবিত্রতা (حدث) যা গোসল ওয়াজিব করে, তাই এটি জানাবাতের (جنابة) মতো কুরআন তিলাওয়াত নিষিদ্ধ করা আবশ্যক করে (৩)।

এটি দুটি দিক থেকে পর্যালোচিত হয়েছে:

প্রথম দিক: যার সাথে তুলনা করা হয়েছে (المقيس عليه) তার বিধানের বিশুদ্ধতা স্বীকার না করা; কারণ আমরা জুনুব (جنب) ব্যক্তির জন্য তিলাওয়াত নিষিদ্ধ হওয়াকে স্বীকার করি না।

দ্বিতীয় দিক: যদি জুনুব (جنب) ব্যক্তির জন্য তিলাওয়াত নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও এই কিয়াস (قياس) পার্থক্যের কারণে সঠিক নয়; আর তা হলো জুনুব (جنب) ব্যক্তির পবিত্রতা অর্জনের সক্ষমতা থাকলেও ঋতুবতী মহিলার তা নেই।

--------------------------------------------

(১) দারাকুতনি এটি তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুত তাহারাত, জুনুব (جنب) ও ঋতুবতী মহিলার কুরআন তিলাওয়াত নিষেধ সম্পর্কিত অধ্যায় (১/ ১২০)।

(২) আল-মাজমু (২/ ১৫৯)।

(৩) আল-মাজমু (২/ ১৫৯), আল-মাউনা (১/ ১৬৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
القول الثاني: أنه يجوز لها ذلك

ذهب إليه الإمام مالك في الرواية المشهورة عنه، وعليها أكثر أصحابه (1)، والشافعي في قول (2)، وأحمد في رواية عنه اختارها ابن تيمية (3)، والظاهرية (4)، وهو قول ابن المسيب وابن المنذر (5).

الاستدلال:

1 - ما أخرجه البخاري من حديث كتاب النبي صلى الله عليه وسلم إلى هرقل:

وقد ضمَّنه قوله تعالى: {يَا أَهْل الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 64] الحديث (6).

ووجه الدلالة منه:

أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم كتب إلى الروم وهم كفار، والكافر جُنب، وإذا جاز له مسُّ الكتاب مع اشتماله على آيتين، فكذلك يجوز له قراءته لأنه إنما كتبه إليهم ليقرءوه.

ونُوقش من أوجه:

الوجه الأول: أنَّ الكتاب اشتمل على أشياء غير الآيتين فأشبه ما لو ذكر بعض القرآن في كتاب في الفقه أو التفسير، فإنه لا يُمنع قراءته لأنه لا يُقصد منه التلاوة.

--------------------------------------------

(1) انظر: بداية المجتهد (1/ 49) المنتقى (1/ 120، 245) حاشية الدسوقي (1/ 174) الشرح الصغير (1/ 372) شرح الخرشي (1/ 209).

(2) انظر: الأوسط (2/ 97) المجموع (2/ 356).

(3) الإنصاف (1/ 243، 347) مجموع فتاوى ابن تيمية (31/ 459).

(4) المحلى (1/ 102).

(5) المغني (1992) الأوسط (2/ 97).

(6) صحيح البخاري كتاب «بدء الوحي»، باب كيف بدء الوحي إلى رسول الله (1/ 5، 6، 7).
দ্বিতীয় মত: এটি তার জন্য বৈধ।

ইমাম মালেক তাঁর থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী এই মত পোষণ করেছেন এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারীগণও (১) এই মতের ওপর রয়েছেন। ইমাম শাফেয়ীও একটি মত (قول) অনুযায়ী এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী, যা ইবনে তাইমিয়া (৩) পছন্দ করেছেন। জাহেরি মাযহাবের (৪) অনুসারীগণ এবং ইবনে মুসাইয়িব ও ইবনুল মুনযিরও (৫) এই মত ব্যক্ত করেছেন।

দলিল পেশ:

১ - ইমাম বুখারি হিরাক্লিয়াসের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত পত্রের যে হাদিসটি বর্ণনা (أخرج) করেছেন:

তাতে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন: {হে কিতাবধারীগণ! এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক ও অভিন্ন যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না, আর আমাদের কেউ আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না। তারপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তোমরা বল, তোমরা সাক্ষী থাক যে আমরা মুসলিম} [আল-ইমরান: ৬৪] হাদিস (৬)।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোমীয়দের কাছে পত্র লিখেছিলেন যখন তারা কাফির ছিল; আর কাফির ব্যক্তি জুনুব (جنب) অবস্থায় থাকে। যদি তার জন্য পত্রটি স্পর্শ করা জায়েজ হয় যাতে দুটি আয়াত অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে সেটি পাঠ করাও তার জন্য জায়েজ হবে। কারণ তিনি তাদের কাছে এটি লিখেছিলেন যাতে তারা তা পাঠ করে।

এর কয়েকটি দিক থেকে আলোচনা করা হয়েছে:

প্রথম দিক: পত্রটিতে উক্ত আয়াত দুটি ছাড়াও অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে এটি ফিকহ (فقه) বা তাফসির (تفسير) গ্রন্থে কুরআনের কিছু অংশ উল্লেখ করার মতো হয়েছে। এমতাবস্থায় এটি পাঠ করা নিষিদ্ধ নয়, কারণ এর মাধ্যমে তেলাওয়াত (تلاوة) উদ্দেশ্য নয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/ ৪৯), আল-মুনতাকা (১/ ১২০, ২৪৫), হাশিয়াতুদ দিসুকি (১/ ১৭৪), আশ-শারহুস সাগির (১/ ৩৭২), শারহুল খারশি (১/ ২০৯)।

(২) দেখুন: আল-আওসাত (২/ ৯৭), আল-মাজমু (২/ ৩৫৬)।

(৩) আল-ইনসাফ (১/ ২৪৩, ৩৪৭), মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া (৩১/ ৪৫৯)।

(৪) আল-মুহাল্লা (১/ ১০২)।

(৫) আল-মুগনি (১৯৯২), আল-আওসাত (২/ ৯৭)।

(৬) সহিহ বুখারি, কিতাব: ‘বদউল ওহী’, অধ্যায়: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কীভাবে ওহী শুরু হয়েছিল (১/ ৫, ৬, ৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الوجه الثاني: أنَّ ذلك يجوز إذا كان فيه مصلحة كتبليغ الدعوة.

الوجه الثالث: أنَّ هذا خاص بالقليل منه كالآية والآيتين.

الوجه الرابع: أنه لا دلالة فيه على جواز القراءة للجنب، لأنَّ الجُنب إنما مُنِع التلاوة إذا قصدها وعرف أنَّ الذي يقرؤه قرآن، أما لو قرأ في ورقة ما لا يعلم أنه من القرآن فإنه لا يمنع (1).

2 - حديث عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر الله على كلِّ أحيانه (2).

ووجه الدلالة:

إخبار عائشة أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم كان يذكر الله في كلِّ أحواله، ومنه وقت الجنابة، فيدخل في ذلك قراءة القرآن، لأنه من ذكر الله (3).

ونوقش من وجهين:

الوجه الأول: أنَّ المراد بالذكر غير القرآن، فإنه المفهوم عند الإطلاق (4).

الوجه الثاني: أنه عام خصَّته الأحاديث السابقة في منع الجُنب.

3 - ما ورد عن ابن عباس رضي الله عنه أنه كان يقرأ وهو جُنب (5).

وإذا جاز ذلك للجنب جاز للحائض من باب أولى لقدرته على التطهر دونها.

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (1/ 408).

(2) أخرجه مسلم في كتاب الحيض، باب ذكر الله تعالى في حال الجنابة وغيرها (1/ 282).

والبخاري معلقًا، بصيغة الجزم، في كتاب الحيض، باب تقضي الحائض المناسك كلها إلا الطواف بالبيت (1/ 79).

(3) المجموع (2/ 159).

(4) سبل السلام (1/ 71).

(5) المحلى (1/ 105).
দ্বিতীয় দিক: এটি জায়েজ হবে যদি এতে দাওয়াতের তাবলিগের মতো কোনো কল্যাণ থাকে।

তৃতীয় দিক: এটি কুরআনের অল্প অংশের জন্য নির্দিষ্ট, যেমন একটি বা দুটি আয়াত।

চতুর্থ দিক: এতে অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য কিরাত পাঠের বৈধতার কোনো প্রমাণ নেই; কারণ অপবিত্র (جنب) ব্যক্তিকে তিলাওয়াত থেকে তখনই নিষেধ করা হয় যখন সে তিলাওয়াতের নিয়ত করে এবং জানে যে সে যা পাঠ করছে তা কুরআন। তবে সে যদি এমন কোনো কাগজে পাঠ করে যা সম্পর্কে সে জানে না যে তা কুরআন, তবে তাকে নিষেধ করা হবে না (১)।

২ - আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতেন (২)।

প্রমাণের ধরন:

আয়েশা (রা.)-এর সংবাদ যে, নবী (সা.) তাঁর সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতেন এবং এর মধ্যে অপবিত্রতার (جنابة) সময়ও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কুরআন পাঠও এর অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ এটিও আল্লাহর জিকিরের অন্তর্ভুক্ত (৩)।

এর ওপর দুটি দিক থেকে আলোচনা করা হয়েছে:

প্রথম দিক: এখানে জিকির দ্বারা কুরআন ব্যতীত অন্য জিকির উদ্দেশ্য, কারণ সাধারণভাবে এটিই বোঝা যায় (৪)।

দ্বিতীয় দিক: এটি একটি সাধারণ (عام) বর্ণনা যা অপবিত্র (جنب) ব্যক্তিকে নিষেধকারী পূর্ববর্তী হাদিসসমূহ দ্বারা সুনির্দিষ্ট (خاص) করা হয়েছে।

৩ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি অপবিত্র (جنب) অবস্থায় কিরাত পাঠ করতেন (৫)।

আর যদি এটি অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য জায়েজ হয়, তবে ঋতুবতী (حائض) নারীর জন্য তা অধিকতর সঙ্গতভাবে জায়েজ হবে; কারণ অপবিত্র (جنب) ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জনে সক্ষম কিন্তু ঋতুবতী নারী তা পারে না।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি (১/ ৪০৮)।

(২) মুসলিম এটি কিতাবুল হায়েদ, জানাবাত ও অন্যান্য অবস্থায় মহান আল্লাহর জিকির অধ্যায়ে (১/ ২৮২) বর্ণনা করেছেন।

এবং বুখারি এটি কিতাবুল হায়েদ, ঋতুবতী নারী বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজের সমস্ত কাজ সম্পন্ন করবে অধ্যায়ে (১/ ৭৯) সনদবিহীন (معلقًا) ভাবে এবং দৃঢ়তাপূর্ণ ভাষায় (بصيغة الجزم) বর্ণনা করেছেন।

(৩) আল-মাজমু (২/ ১৫৯)।

(৪) সুবুলুস সালাম (১/ ৭১)।

(৫) আল-মুহাল্লা (১/ ১০৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ونوقش: بأنَّ فعل صحابي، وقد اختُلف في الاحتجاج به، كيف وقد رُوِيَ عن غيره ما يعارضه، وهو ما رُوِيَ عن عمر وعلي (1)، أضف إليه مخالفة المرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم.

4 - أنَّ قراءة القرآن من ذِكر الله وذكره مندوب إليه مأجور فاعله، فمن ادَّعى المنع في بعض الأحوال فعليه الدليل (2).

ولم يَرِد عن النبي صلى الله عليه وسلم في منعها من القرآن شيء أصلاً .. وقد كان النساء يحضن في عهده صلى الله عليه وسلم، فلو كانت القراءة محرَّمة عليهنَّ كالصلاة لكان هذا مما بيَّنه النبيُّ لأمته، وتعلمه أمهات المؤمنين، وكان ذلك مما ينقلونه في الناس، فلما لم ينقل أحد عن النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك نهيًا لم يجز أن تجعل حرامًا، مع العلم أنه لم ينهَ عن ذلك، وإذا لم ينهَ عنه مع كثرة الحيض عُلِم أنه ليس بمحرَّم (3).

5 - أنَّ الحيض ضرورة، فهو يأتي بغير اختيار المرأة، ويطول أمره، فلو مُنعت من قراءة القرآن لنسيت ما تعلَّمت من كتاب الله تعالى بخلاف الجُنب؛ فإنه يأتي الجنابة باختياره غالبًا، وكذلك يمكنه إزالتها في الحال بالاغتسال، أو التيمُّم عند فقد الماء أو عدم القدرة على استعماله (4).

ونوقش:

بأنَّ المقصود يحصل بالتفكر في ذلك .. فلا تنسى (5).

وأجيب: بأنَّ هذا غير مُسلَّم؛ إذ المقصود لا يحصل بذلك.

--------------------------------------------

(1) المحلى (1/ 102، 104).

(2) المحلى (1/ 102).

(3) مجموع فتاوى ابن تيمية (30/ 191).

(4) مجموع فتاوى ابن تيمية (21/ 460) عارضة الأحوذي (1/ 213) معالم السنن (1/ 76) المجموع (2/ 159) المعونة (1/ 163).

(5) المجموع (2/ 159).
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে: এটি একজন সাহাবীর কর্ম, আর তা দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে তাঁর থেকে ভিন্ন মত বর্ণিত হয়েছে যা এর পরিপন্থী, আর তা উমর ও আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে (১)। এর সাথে যোগ করা যায় যে, এটি নবী (সা.)-এর নিকট হতে বর্ণিত মারফু (المرفوع) হাদিসেরও বিরোধী।

৪ - কুরআন তিলাওয়াত করা আল্লাহর জিকিরের অন্তর্ভুক্ত, আর তাঁর জিকির করা মুস্তাহাব (مندوب) এবং এর আমলকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হন। সুতরাং কেউ যদি কোনো অবস্থায় এটি নিষিদ্ধ হওয়ার দাবি করে, তবে তাকে এর প্রমাণ (الدليل) পেশ করতে হবে (২)।

নবী (সা.) থেকে ঋতুবতী নারীর কুরআন পাঠ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে আদতে কিছুই বর্ণিত হয়নি। অথচ নবী (সা.)-এর যুগেও নারীদের মাসিক হতো। যদি তিলাওয়াত তাদের জন্য সালাতের মতো হারাম (محرم) হতো, তবে নবী (সা.) অবশ্যই তা তাঁর উম্মতের নিকট বর্ণনা করতেন এবং উম্মুল মুমিনীনগণ তা জানতেন এবং মানুষের মধ্যে তা প্রচারিত হতো। যেহেতু এ ব্যাপারে নবী (সা.) থেকে কোনো নিষেধ বর্ণিত হয়নি, তাই একে হারাম (حرام) সাব্যস্ত করা বৈধ নয়। বিশেষ করে যখন এটি জানা যায় যে, তিনি তা নিষেধ করেননি। ঋতুবতী হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক হওয়া সত্ত্বেও যখন তিনি তা নিষেধ করেননি, তখন স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে তা হারাম (محرم) নয় (৩)।

৫ - হায়েজ বা ঋতুস্রাব একটি প্রাকৃতিক ও অনিবার্য বিষয়, যা নারীর ইচ্ছা ছাড়াই ঘটে এবং এর স্থায়িত্ব দীর্ঘ হয়। এমতাবস্থায় যদি তাকে কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করা হয়, তবে সে আল্লাহর কিতাব থেকে যা শিখেছে তা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে; যা জুনুব (الجُنب) বা নাপাক ব্যক্তির অবস্থার বিপরীত। কেননা জুনুব ব্যক্তি সাধারণত নিজ ইচ্ছায় অপবিত্র হয় এবং সে পানি পাওয়া সাপেক্ষে গোসল করার মাধ্যমে অথবা পানি না পেলে বা পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে তায়াম্মুমের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ তা দূর করতে সক্ষম (৪)।

এর বিপরীতে আলোচনা করা হয়েছে যে:

এর উদ্দেশ্য কেবল চিন্তাভাবনার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে... সুতরাং সে ভুলে যাবে না (৫)।

এর জবাবে বলা হয়েছে যে: এই দাবি স্বীকৃত (مسلم) নয়; কারণ এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সাধিত হয় না।

--------------------------------------------

(১) আল-মুহাল্লা (১/১০২, ১০৪)।

(২) আল-মুহাল্লা (১/১০২)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ (৩০/১৯১)।

(৪) মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ (২১/৪৬০), আরিদাতুল আহওয়াযি (১/২১৩), মাআলিমুস সুনান (১/৭৬), আল-মাজমু (২/১৫৯), আল-মাউনা (১/১৬৩)।

(৫) আল-মাজমু (২/১৫৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
6 - ولأنَّ الحيض كدم الاستحاضة وهو لا يمنع قراءة القرآن (1).

الترجيح:

والذي يظهر لي رجحانه ما ذهب إليه القائلون بالجواز لقوَّة ما ذكروه من أدلَّة، وأقواها ولا شك عدم ورود دليلٍ صحيحٍ في المنع.

فإن طهرت حرمت عليها القراءة حتى تغتسل؛ لأن الأمر صار بيدها فهي كالجُنب.

 

‌‌الفرع الثاني: في قراءة الآية فما دونها:

هذا وقد اختلف القائلون بعدم جواز القراءة من الحائض، في قراءتها للآية فما دونها على الأقوال التالية.

القول الأول: أنه لا يجوز لها قراءة الآية فما دونها إذا كان بقصد التلاوة مطلقًا، فأما إذا لم تقصد بأن قالت: «بسم الله» لافتتاح الأعمال تبركًا أو قالت: «الحمد لله» .. لا بأس.

ذهب إليه أكثر الحنفية (2)، والشافعية (3) وهو رواية عن أحمد اختارها بعض أصحابه (4).

الأدلَّة:

1 - حديث ابن عمر السابق أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقرأ الحائض والجُنب شيئًا من القرآن» (5).

--------------------------------------------

(1) المنتقى (1/ 345).

(2) بدائع الصنائع (1/ 38) فتح القدير (1/ 167) المبسوط (3/ 152) الفتاوى الهندية (1/ 38).

(3) روضة الطالبين (1/ 85) نهاية المحتاج (1/ 220) مغني المحتاج (1/ 72).

(4) الفروع (1/ 201) الإنصاف (1/ 243) المبدع (1/ 187) كشاف القناع (1/ 147).

(5) سبق تخريجه.
৬ - কারণ ঋতুস্রাব হলো ইস্তিহাযার রক্তের মতো, আর তা কুরআন পাঠে বাধা দেয় না (১)।

অগ্রাধিকার (الترجيح):

আমার কাছে যা অগ্রগণ্য মনে হয় তা হলো বৈধতার প্রবক্তাদের অভিমত। কারণ তাদের পেশকৃত দলীলসমূহ শক্তিশালী, আর সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো নিষেধাাজ্ঞার বিষয়ে কোনো সহিহ (صحيح) দলীলের অনুপস্থিতি।

তবে যদি সে পবিত্র হয়, তবে গোসল করার আগ পর্যন্ত তার জন্য তিলাওয়াত করা হারাম হবে; কারণ বিষয়টি এখন তার আয়ত্তে এবং সে এখন জুনুব (جنب) ব্যক্তির মতো।

 

‌‌দ্বিতীয় শাখা: একটি আয়াত বা তার চেয়ে কম পাঠ করার বিধান:

ঋতুবতী নারীর জন্য কুরআন পাঠ জায়েজ নয় বলে যারা মনে করেন, তারা একটি আয়াত বা তার চেয়ে কম তিলাওয়াত করার বিষয়ে নিম্নলিখিত মতভেদ করেছেন।

প্রথম মত: যদি তিলাওয়াতের নিয়তে হয় তবে তার জন্য একটি আয়াত বা তার চেয়ে কম অংশ পাঠ করাও সাধারণভাবে জায়েজ নয়। তবে যদি তিলাওয়াতের নিয়ত না থাকে, যেমন বরকতের জন্য কাজ শুরু করার সময় «বিসমিল্লাহ» বলা বা «আলহামদুলিল্লাহ» বলা, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

অধিকাংশ হানাফি (২), শাফেয়ি (৩) এবং আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা অনুযায়ী এ মত পোষণ করা হয়েছে, যা তার কিছু অনুসারী গ্রহণ করেছেন (৪)।

দলীলসমূহ:

১ - ইবনে উমরের পূর্বোল্লিখিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ঋতুবতী নারী এবং জুনুব (جنب) ব্যক্তি কুরআনের কিছুই পাঠ করবে না» (৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুন্তাকা (১/৩৪৫)।

(২) বাদাইউস সানায়ি (১/৩৮), ফাতহুল কাদির (১/১৬৭), আল-মাবসুত (৩/১৫২), আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ (১/৩৮)।

(৩) রওদাতুত তালিবিন (১/৮৫), নিহায়াতুল মুহতাজ (১/২২০), মুগনিউল মুহতাজ (১/৭২)।

(৪) আল-ফুরু (১/২০১), আল-ইনসাফ (১/২৪৩), আল-মুবদি (১/১৮৭), কাশশাফুল কিনা (১/১৪৭)।

(৫) এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ووجه الدلالة:

أنَّ الحديث عام في النهي عن قراءة القرآن، لا فرق بين الآية وما دونها، لأنَّ قوله: «شيئًا» نَكِرَةٌ في سياق النفي؛ فتعمُّ القليل والكثير (1).

ونوقش: بضعف الحديث فلا يصلح للاحتجاج (2).

2 - حديث علي السابق؛ قال: "رأيت النبي صلى الله عليه وسلم توضَّأ، ثم قرأ شيئًا من القرآن ثم قال: «هكذا لمن ليس بجنب، فأما الجُنب فلا ولا آية» " (3).

ووجه الدلالة واضح: وإذا ثبت هذا في الجُنب فالحائض مثله.

ونوقش: بضعفه فلا يصلح للاحتجاج (4).

3 - حديث قصَّة عبد الله بن رواحة مع زوجته، وفيه قوله لها: "وقد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يقرأ أحدنا القرآن وهو جُنب" (5).

وهذا نصٌّ عام يشمل القليل والكثير.

ونوقش: بضعفه أيضًا كما أسلفنا (6).

4 - ولأنه قرآن فمُنع من قراءته كالآية (7).

القول الثاني: أنه يجوز لها قراءة ما دون الآية، دون الآية التامة:

ذهب إليه أبو حنيفة في رواية عنه، اختارها بعض أصحابه (8).

والإمام أحمد في رواية عنه، وهي المذهب عند أصحابه (9).

--------------------------------------------

(1) فتح القدير (1/ 167) المغني (1/ 200).

(2) انظر: (21).

(3) سبق تخريجه.

(4) انظر: (23).

(5) سبق تخريجه.

(6) انظر (23).

(7) المغني (1/ 200).

(8) مختصر الطحاوي (18) بدائع الصنائع (1/ 38) فتح القدير (1/ 167) المبسوط (152) اللباب (1/ 48).

(9) الإنصاف (1/ 243) المبدع (1/ 188) الفروع (1/ 201) المغني (1/ 200)
দলীলের পরিপ্রেক্ষিত:

হাদিসটি কুরআন তিলাওয়াত নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সাধারণ (عام), এতে পূর্ণ আয়াত এবং আয়াতের কম অংশের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ তাঁর বাণী: «شيئًا» (কিছুই) শব্দটি না-বোধক (نفي) বাক্যের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্টবাচক (نكرة) হিসেবে এসেছে; ফলে এটি অল্প ও অধিক উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে (১)।

এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে: হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) হওয়ার কারণে তা দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) যোগ্য নয় (২)।

২ - আলী (রা.)-এর পূর্বোক্ত হাদিস; তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম তিনি অজু করলেন, অতঃপর কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন: «এটি তাদের জন্য যারা অপবিত্র (জুনুবি) নয়, আর যারা অপবিত্র (জুনুবি) তাদের জন্য নয়, এমনকি একটি আয়াতও নয়»" (৩)।

দলীলের ধরনটি সুস্পষ্ট: আর যদি এটি অপবিত্র (জুনুবি) ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়, তবে ঋতুবর্তী নারীও তার অনুরূপ।

এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে: এর দুর্বলতার (ضعف) কারণে এটি দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) যোগ্য নয় (৪)।

৩ - আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা এবং তাঁর স্ত্রীর ঘটনার হাদিস, যাতে তাঁর প্রতি রাওয়াহার উক্তি রয়েছে: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাউকে অপবিত্র (জুনুবি) অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেছেন" (৫)।

এটি একটি সাধারণ (عام) বক্তব্য যা অল্প ও অধিক উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

এর ওপরও আপত্তি তোলা হয়েছে: আমরা পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি যে এটিও দুর্বল (ضعيف) (৬)।

৪ - আর যেহেতু এটি কুরআন, তাই আয়াতের মতোই তা তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ (৭)।

দ্বিতীয় মত: ঋতুবর্তী নারীর জন্য পূর্ণ আয়াতের কম অংশ তিলাওয়াত করা বৈধ, তবে পূর্ণ আয়াত নয়:

ইমাম আবু হানিফা তাঁর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা অনুযায়ী এই মত ব্যক্ত করেছেন, যা তাঁর কোনো কোনো অনুসারী পছন্দ করেছেন (৮)।

এবং ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনাও এটিই, যা তাঁর অনুসারীদের নিকট মাযহাব (مذهب) হিসেবে স্বীকৃত (৯)।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল কাদির (১/ ১৬৭) আল-মুগনি (১/ ২০০)।

(২) দেখুন: (২১)।

(৩) এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(৪) দেখুন: (২৩)।

(৫) এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(৬) দেখুন (২৩)।

(৭) আল-মুগনি (১/ ২০০)।

(৮) মুখতাসারুত তহাবি (১৮) বাদায়েউস সানায়ে (১/ ৩৮) ফাতহুল কাদির (১/ ১৬৭) আল-মাবসুত (১৫২) আল-লুবাব (১/ ৪৮)।

(৯) আল-ইনসাফ (১/ ২৪৩) আল-মুবদি (১/ ১৮৮) আল-ফুরু (১/ ২০১) আল-মুগনি (১/ ২০০)
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الأدلَّة:

احتج الحنفية لما ذهبوا إليه:

1 - بأنَّ المتعلِّق بالقرآن حُكمان هما: جواز الصلاة، ومنع الحائض عن قراءته، ثم في حقِّ أحد الحكمين يفصل بين الآية وما دونها. وكذلك في الحكم الآخر (1).

واحتج الحنابلة:

2 - بأنَّ ما دون الآية لا يحصل به الإعجاز، ولا يجزئ في الخطبة، ويجوز إذا لم يُقَصد به القرآن وكذلك إذا قصد (2).

ونوقش من أوجه:

الوجه الأول: بأنَّ مبني التفريق على التعليل، والتعليل في مقابلة النص مردود (3).

الوجه الثاني: أنَّ من الآيات ما هو كلمة واحدة فقط، مثل قوله تعالى: {وَالضُّحَى} [الضحى: 1] وقوله: {مُدْهَامَّتَانِ} [الرحمن: 64] وقوله: {وَالْعَصْرِ} [العصر: 1] وقوله: {وَالْفَجْرِ} [الفجر: 1] ومنها كلمات كثيرة كآية الدَّين، فإذ لا شكَّ في هذا، فإن في إباحتهم لها قراءة آية الدين، والتي بعدها أو آية الكرسي، أو بعضها ولا تتمها، ومنعهم إياها من قراءة: {وَالْفَجْرِ * وَلَيَالٍ عَشْرٍ * وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ} أو منعهم لها من إتمام {مُدْهَامَّتَانِ} [الرحمن: 64] لعجبًا (4).

الوجه الثالث: أنَّ بعض الآية، والآية قرآن بلا شك، ولا فرق أن يُباح لها آية، أو أن يباح لها أخرى، أو بين أن تمنع من آية، أو تمنع من أخرى (5).

--------------------------------------------

(1) المبسوط (3/ 152) رد المحتار (1/ 172).

(2) المغني (1/ 200).

(3) رد المحتار (1/ 172).

(4) المحلى (1/ 104).

(5) المحلى (1/ 103).
প্রমাণসমূহ:

হানাফিগণ তাদের গৃহীত মতের স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন:

১ - কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান (حكم) দুটি: সালাত বৈধ হওয়া এবং ঋতুবতী নারীর জন্য তা পাঠ করা নিষিদ্ধ হওয়া। অতঃপর এই দুই বিধানের (حكم) একটির ক্ষেত্রে পূর্ণ আয়াত এবং আয়াতের কম অংশের মধ্যে পার্থক্য করা হয়। অন্য বিধানের (حكم) ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ (১)।

হাম্বলিগণ দলিল পেশ করেছেন:

২ - আয়াতের চেয়ে কম অংশ দ্বারা অলৌকিকত্ব (إعجاز) প্রকাশ পায় না এবং তা খুতবার জন্য যথেষ্ট নয়; আর যদি তা কুরআন পাঠের উদ্দেশ্য ছাড়া পাঠ করা হয় তবে তা বৈধ, অনুরূপভাবে যদি কুরআন পাঠের উদ্দেশ্য করা হয় তবুও তা বৈধ (২)।

এটি কয়েকটি দিক থেকে পর্যালোচিত হয়েছে:

প্রথম দিক: পার্থক্যের ভিত্তি হলো কারণ দর্শানো (تعليل), আর স্পষ্ট দলিলের (نص) বিপরীতে কারণ দর্শানো (تعليل) প্রত্যাখ্যাত (مردود) (৩)।

দ্বিতীয় দিক: আয়াতের মধ্যে এমন কিছু আছে যা কেবল একটি শব্দ মাত্র, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {ওয়াদ-দুহা} [আদ-দুহা: ১], {মুদহাম্মাতান} [আর-রাহমান: ৬৪], {ওয়াল-আসর} [আল-আসর: ১] এবং {ওয়াল-ফজর} [আল-ফজর: ১]। আবার কোনো কোনো আয়াত অনেকগুলো শব্দের সমষ্টি যেমন ঋণের আয়াত (আয়াতুদ দাইন)। এ বিষয়ে যখন কোনো সন্দেহ নেই, তখন তাদের পক্ষ থেকে ঋণের আয়াত ও তার পরবর্তী আয়াত অথবা আয়াতুল কুরসি বা এর কিছু অংশ অপূর্ণাঙ্গভাবে পাঠ করার অনুমতি দেওয়া এবং একই সাথে {ওয়াল-ফজরি, ওয়া লায়ালিন আশরিন, ওয়াস-শাফয়ি ওয়াল-ওয়াতরি} পাঠ করতে অথবা {মুদহাম্মাতান} পূর্ণ করা থেকে তাদের বিরত রাখা অত্যন্ত বিস্ময়কর (৪)।

তৃতীয় দিক: আয়াতের অংশবিশেষ এবং পূর্ণ আয়াত উভয়ই নিঃসন্দেহে কুরআন। সুতরাং এক আয়াত পাঠের অনুমতি দেওয়া এবং অন্যটি অনুমতি দেওয়ার মধ্যে অথবা এক আয়াত থেকে নিষেধ করা এবং অন্যটি থেকে নিষেধ করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই (৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত (৩/ ১৫২), রাদ্দুল মুহতার (১/ ১৭২)।

(২) আল-মুগনি (১/ ২০০)।

(৩) রাদ্দুল মুহতার (১/ ১৭২)।

(৪) আল-মুহাল্লা (১/ ১০৪)।

(৫) আল-মুহাল্লা (১/ ১০৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌المطلب الثاني

في الذِّكر

لا خلاف بين أهل العلم في أنَّ للحائض أن تذكر الله، ولو اشتمل ذلك على بعض آية إذا كان ممَّا لا يتميَّز به القرآن عن غيره كالتسمية والحمد لله وسائر الذكر إذا لم تقصد به القرآن (1).

قال ابن قدامة: فإنه لا خلاف في أنَّ لهم ذِكر الله تعالى، ويحتاجون إلى التسمية عند اغتسالهم، ولا يمكنهم التحرُّز من هذا (2).

* * *

 

‌‌المطلب الثالث

في مس المصحف

‌‌المسألة الأولى في كون ذلك حالة الضرورة:

لا خلاف بين أهل العلم في أنه يجوز للحائض مس المصحف حالة الضرورة، وقد مثل لذلك بما إذا خيف على المصحف من الحرق أو الغرق أو وقوعه في نجاسة، أو حصوله في يد كافر (3).

على أنَّ عليها أن تتيمَّم لذلك إذا لم تخشَ الفوات (4).

 

‌‌المسألة الثانية: في مسِّه في غير حالة الضرورة:

وفيها فرعان:

الفرع الأول: في مسِّه إذا لم يخالطه غيره من كلام الناس.

--------------------------------------------

(1) المغني (1/ 200) وانظر: المجموع (2/ 163) والمحلى (1/ 77) المنتقى (1/ 344).انظر: التبيان في آداب حملة القرآن للنووي (154) والمجموع (2/ 70) حاشية الدسوقي (1/ 125)

(2) المغنى (1/ 200).

(3) انظر: التبيان في آداب حملة القرآن للنووي (154) والمجموع (2/ 70) حاشية الدسوقي (1/ 125) المغنى (2/ 204)

(4) المغني (2/ 204).
‌‌দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

জিকির প্রসঙ্গে

বিজ্ঞ আলিমগণের মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, ঋতুবতী নারীর জন্য আল্লাহর জিকির করা বৈধ। এমনকি যদি তাতে কোনো আয়াতের অংশবিশেষও অন্তর্ভুক্ত থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত তা এমন বিষয় হয় যা দ্বারা কুরআনকে অন্য কালাম থেকে পৃথক করা যায় না; যেমন—তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ পাঠ), আল-হামদুলিল্লাহ এবং অন্যান্য জিকির, যদি এর দ্বারা কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য না থাকে (১)।

ইবনে কুদামা বলেন: "নিশ্চয়ই এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, তারা মহান আল্লাহর জিকির করতে পারবেন। তাদের গোসলের সময় তাসমিয়াহ পাঠ করার প্রয়োজন হয় এবং তাদের পক্ষে এটি পরিহার করা সম্ভব নয় (২)।"

* * *

 

‌‌তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মুসহাফ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে

‌‌প্রথম মাসআলা: জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে:

বিজ্ঞ আলিমগণের মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, জরুরি অবস্থায় ঋতুবতী নারীর জন্য মুসহাফ স্পর্শ করা বৈধ। এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—যদি মুসহাফ পুড়ে যাওয়ার, ডুবে যাওয়ার, নাপাকিতে পড়ার কিংবা কোনো কাফিরের হাতে পড়ার আশঙ্কা থাকে (৩)।

তবে সময় অতিবাহিত হওয়ার (বা সুযোগ হারানোর) ভয় না থাকলে তাকে এর জন্য তায়াম্মুম করতে হবে (৪)।

 

‌‌দ্বিতীয় মাসআলা: জরুরি অবস্থা ব্যতিরেকে মুসহাফ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে:

এতে দুটি শাখা রয়েছে:

প্রথম শাখা: মুসহাফ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে যখন এর সাথে মানুষের অন্য কোনো কথা মিশ্রিত না থাকে।

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনি (১/ ২০০); আরও দেখুন: আল-মাজমু (২/ ১৬৩), আল-মুহাল্লা (১/ ৭৭), আল-মুনতাকা (১/ ৩৪৪)। দেখুন: ইমাম নববী রচিত আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন (১৫৪), আল-মাজমু (২/ ৭০), হাশিয়াতুদ দিসুকি (১/ ১২৫)।

(২) আল-মুগনি (১/ ২০০)।

(৩) দেখুন: ইমাম নববী রচিত আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন (১৫৪), আল-মাজমু (২/ ৭০), হাশিয়াতুদ দিসুকি (১/ ১২৫), আল-মুগনি (২/ ২০৪)।

(৪) আল-মুগনি (২/ ২০৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল মুতারাত্তিবাতি আলাল হায়দি ওয়ান নিফাসি ওয়াল ইসতিহাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الفرع الثاني: إذا كان مُختلِطًا بغيره.

 

‌‌الفرع الأول: وفيه جانبان:

‌‌الجانب الأول: في مسِّه مع عدم وجود حائل:

وقد اختلف أهل العلم في حُكم مسِّ الحائض له في هذه الحالة على ثلاثة أقوال:

القول الأول: أنه يحرم.

ذهب إليه جمهور أهل العلم (1)، ومنهم أصحاب المذاهب الأربعة (2).

إلَاّ أنَّ المالكية استثنوا من ذلك المتعلِّمة وكذلك المعلمة في قول.

الاستدلال:

1 - قوله تعالى: {لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ} [الواقعة: 79].

وجه الدلالة:

أنَّ الضمير (الهاء) يعود إلى القرآن الكريم، والمقصود

--------------------------------------------

(1) انظر: الأوسط (2/ 101) المغني (1/ 202) المجموع (2/ 72).

(2) انظر للحنفية: الهداية (1/ 31) بدائع الصنائع (1/ 33، 44) البحر الرائق (1/ 211) المبسوط (3/ 152) الاختيار لتعليل المختار (1/ 13) اللباب (1/ 43).

 

وانظر للمالكية: مختصر خليل (17) الكافي (1/ 172) المنتقى (1/ 343) بداية المجتهد (1/ 41) حاشية الدسوقي (1/ 125، 174) القوانين (31) وقد استثنوا من ذلك ما إذا كانت معلمة أو متعلمة، انظر: حاشية الدسوقي (1/ 174) حاشية الصاوي (1/ 312) المنتقى (1/ 344).

وانظر للشافعية: الوجيز (1/ 17) المهذب (1/ 32) المجموع (2/ 67) الحاوي (1/ 384) مغني المحتاج (1/ 76).

وانظر للحنابلة: الفروع (1/ 188) المبدع (1/ 137) الإنصاف (1/ 223) المغني (1/ 202).
দ্বিতীয় শাখা: যখন এটি অন্য কিছুর সাথে মিশ্রিত থাকে।

 

‌‌প্রথম শাখা: এবং এতে দুটি দিক রয়েছে:

‌‌প্রথম দিক: কোনো অন্তরায় (حائل) ব্যতীত তা স্পর্শ করার বিধান প্রসঙ্গে:

এই অবস্থায় ঋতুবতী মহিলার তা স্পর্শ করার বিধান সম্পর্কে আলেমগণ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: এটি হারাম বা নিষিদ্ধ।

অধিকাংশ আলেম (جمهور) এই মত পোষণ করেছেন (১), যাদের মধ্যে চার মাযহাবের ইমামগণও (২) রয়েছেন।

তবে মালেকী মাযহাবের আলেমগণ শিক্ষার্থী এবং একটি মতানুসারে শিক্ষিকাকে এই বিধান থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন।

দলীল গ্রহণ:

১ - মহান আল্লাহর বাণী: {পবিত্রগণ ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না} [আল-ওয়াকিয়াহ: ৭৯]।

দলীল প্রয়োগের ধরণ:

এখানে সর্বনাম (হা) পবিত্র কুরআনকে নির্দেশ করছে, এবং উদ্দেশ্য হলো...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-আওসাত (২/ ১০১), আল-মুগনী (১/ ২০২), আল-মাজমু (২/ ৭২)।

(২) হানাফী মাযহাবের জন্য দেখুন: আল-হিদায়াহ (১/ ৩১), বাদায়েউস সানায়ে (১/ ৩৩, ৪৪), আল-বাহরুর রায়েক (১/ ২১১), আল-মাবসুত (৩/ ১৫২), আল-ইখতিয়ার লি-তা’লীলিল মুখতার (১/ ১৩), আল-লুবাব (১/ ৪৩)।

 

মালেকী মাযহাবের জন্য দেখুন: মুখতাসার খলীল (১৭), আল-কাফী (১/ ১৭২), আল-মুনতাকা (১/ ৩৪৩), বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/ ৪১), হাশিয়াতুদ দিসুকী (১/ ১২৫, ১৭৪), আল-কাওয়ানীন (৩১)। তারা শিক্ষিকা বা শিক্ষার্থী হওয়ার বিষয়টি ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন, দেখুন: হাশিয়াতুদ দিসুকী (১/ ১৭৪), হাশিয়াতুস সাভী (১/ ৩১২), আল-মুনতাকা (১/ ৩৪৪)।

শাফেয়ী মাযহাবের জন্য দেখুন: আল-ওয়াজিজ (১/ ১৭), আল-মুহাদ্দাব (১/ ৩২), আল-মাজমু (২/ ৬৭), আল-হাবী (১/ ৩৮৪), মুগনী আল-মুহতাজ (১/ ৭৬)।

হাম্বলী মাযহাবের জন্য দেখুন: আল-ফুরু (১/ ১৮৮), আল-মুবদি (১/ ১৩৭), আল-ইনসাফ (১/ ২২৩), আল-মুগনী (১/ ২০২)।