(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: -)
أحكام العبادات المترتبة على طلوع الفجر الثاني   (ناصر بن مشري الغامدي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحكام العبادات المترتبة على طلوع الفجر الثاني

المؤلف: ناصر بن محمد بن مشري الغامدي

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1429 هـ

عدد الصفحات: 158

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الآخرة 1436

দ্বিতীয় ফজর উদয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ইবাদতসমূহের বিধান   (নাসের বিন মিশরি আল-গামদি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: দ্বিতীয় ফজর উদয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ইবাদতসমূহের বিধান

লেখক: নাসের বিন মুহাম্মাদ বিন মিশরি আল-গামদি

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة البحوث العلمية المحكمة (33)

 

أَحْكَام الْعِبَادَات المترتبة على طُلُوع الْفجْر الثَّانِي

دراسة فقهية تأصيلية موازنة «مُحكم ومقبول للنشر فِي مجلة الْأُصُول والنوازل بجدة»

 

تأليف

الدكتور نَاصِر بن مُحَمَّد بن مشري الغامدي

الْأُسْتَاذ المشارك بقسم الْقَضَاء

وَكيل كُلية الشَّرِيعَة والدراسات الإسلامية

جَامِعَة أم الْقرى بِمَكَّة المكرمة

 

دَار ابْن الْجَوْزِيّ
উচ্চতর পর্যালোচিত (محكم) বৈজ্ঞানিক গবেষণা সিরিজ (৩৩)

 

দ্বিতীয় প্রভাত (ফজর-এ-সানি) উদিত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল ইবাদতসমূহের বিধানসমূহ

একটি মৌলিক ও তুলনামূলক ফিকহী গবেষণা «জেদ্দার ‘মাজাল্লাতুল উসুল ওয়ান নাওয়াযিল’-এ পর্যালোচিত (محكم) এবং প্রকাশের জন্য গৃহীত»

 

রচনায়

ডক্টর নাসের বিন মুহাম্মদ বিন মিশরি আল-গামদি

বিচার বিভাগ (কাজা)-এর সহযোগী অধ্যাপক

শরিয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ভাইস-ডিন

মক্কা মুকাররমাহর উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়

 

দার ইবনে আল-জাওজি
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

أهمية الموضوع، وأسباب الكتابة فيه:

الحمد لله رب العالمين، شرع لنا دينًا قويمًا، وهدانا إليه صراطًا مستقيمًا، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، لم يزل عليًا قديرًا، قويًا عزيزًا، إلهًا حكيمًا، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله بعثه الله بين يدي الساعة بشيرًا ونذيرًا وداعيًا إلى الله بإذنه وسراجًا منيرًا، صلي الله عليه وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد: فإن الله تبارك وتعالى أمر عباده المؤمنين بجملة من العبادات العظيمة، والأركان الجليلة لهذا الدين؛ صلاة، وزكاة وصيامًا، وحجًا، وغيرها، وجعل لها أجلاً مضروبًا، وموعدًا محدودًا، بيَّنه سبحانه في كتابه الكريم، وعلى لسان رسوله الأمين صلى الله عليه وسلم أتم البيان وأوضحه.

قال الله تعالى: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا} [النساء: 103] أي مؤقتًا بوقت محدد مبين (1).

وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير القرآن العظيم (2/ 404).
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

বিষয়বস্তুর গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে রচনার কারণসমূহ:

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন বিধিবদ্ধ করেছেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি সর্বদা সমুন্নত, সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় ইলাহ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল; আল্লাহ তাঁকে কিয়ামতের প্রাক্কালে সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং তাঁর অনুমতিক্রমে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপরূপে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী (صحابة) ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের (التابعين) ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের এই দ্বীনের বেশ কিছু মহান ইবাদত ও গুরুত্বপূর্ণ রুকন পালনের আদেশ দিয়েছেন; যেমন সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ ইত্যাদি। তিনি এগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট সময় ও নির্ধারিত মেয়াদ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা তিনি তাঁর পবিত্র কিতাবে এবং তাঁর বিশ্বস্ত রাসুল (সা.)-এর পবিত্র জবানে অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত একটি বাধ্যতামূলক কাজ} [আন-নিসা: ১০৩]। অর্থাৎ এটি একটি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্ধারিত (১)।

আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরুল কুরআনিল আজিম (২/৪০৪)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ৬)
أتاه سائل يسأله عن مواقيت الصلاة، فلم يرد عليه شيئًا، قال: «فأقام الفجر حين انشق الفجر، والناس لا يكاد يعرف بعضهم بعضًا، ثم أمره فأقام بالظهر حين زالت الشمس، والقائل يقول: قد انتصف النهار، وهو كان أعلم منهم، ثم أمره فأقام بالعصر والشمس مرتفعة، ثم أمره فأقام بالمغرب حين وقعت الشمس ثم أمره فأقام العشاء حين غاب الشفق، ثم أخَّر الفجر من الغد حتى انصرف منها، والقائل يقول: قد طلعت الشمس أو كادت، ثم أخَّر الظهر حتى كان قريبًا من وقت العصر بالأمس، ثم أخَّر العصر حتى انصرف منها، والقائل يقول: قد احمرت الشمس، ثم أخَّر المغرب حتى كان عند سقوط الشفق، ثم أخَّر العشاء حتى كان ثلث الليل الأول، ثم أصبح فدعا السائل فقال: الوقت بين هذين» (1).

بل نص أهل العلم على أن من شروط صحة الصلاة: دخول الوقت، فلا يجوز أداء الصلاة قبل وقتها المحدد لها شرعًا، كما لا يجوز بعد خروج وقتها، وهذه المسألة مما اتفق عليه الفقهاء في الجملة سلفًا وخلفًا، استنادًا إلى الحديث الشريف الذي سبق، في تحديد مواقيت الصلاة، وغيره من الأدلة المعروفة في هذا الخصوص.

قال ابن قدامة رحمه الله: "أجمع المسلمون على أن

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه (244) كتاب المساجد، ومواضع الصلاة، باب أوقات الصلوات الخمس (178) (614).
তাঁর নিকট এক প্রশ্নকারী সালাতের ওয়াক্তসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এলেন, তিনি তাকে কোনো উত্তর দিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন: "অতঃপর যখন সুবহে সাদিক উন্মেষিত হলো, তখন তিনি ফজরের সালাত কায়েম করলেন, তখন অবস্থা এমন ছিল যে মানুষ একে অপরকে চিনতে পারছিল না। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন এবং সূর্য ঢলে পড়ার সময় যোহরের সালাত কায়েম করলেন; তখন কোনো বক্তা বলছিল: দুপুর হয়ে গেছে, অথচ তিনি তাদের চেয়ে অধিক অবগত ছিলেন। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন এবং সূর্য উজ্জ্বল ও উঁচুতে থাকাবস্থায় আসরের সালাত কায়েম করলেন। এরপর সূর্য অস্তমিত হলে তিনি নির্দেশ দিলেন এবং মাগরিবের সালাত কায়েম করলেন। অতঃপর লাল আভা (শাফাক) অদৃশ্য হয়ে গেলে তিনি এশার সালাত কায়েম করার নির্দেশ দিলেন। পরবর্তী দিন তিনি ফজরের সালাত বিলম্বিত করলেন এমনকি যখন সালাত শেষ করলেন তখন কেউ কেউ বলছিল: সূর্য উদিত হয়ে গেছে বা প্রায় উদিত হওয়ার উপক্রম। এরপর তিনি যোহরের সালাত বিলম্বিত করলেন এমনকি তা গতদিনের আসরের ওয়াক্তের কাছাকাছি হলো। অতঃপর তিনি আসরের সালাত বিলম্বিত করে তা শেষ করলেন যখন কেউ কেউ বলছিল: সূর্য লাল হয়ে গেছে। এরপর তিনি মাগরিবের সালাত বিলম্বিত করলেন এমনকি তা শাফাক বিলুপ্ত হওয়ার পূর্বমুহূর্তে পৌঁছাল। অতঃপর তিনি এশার সালাত রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্বিত করলেন। এরপর সকাল হলে তিনি প্রশ্নকারীকে ডেকে বললেন: ওয়াক্ত হলো এই দুই সীমার মধ্যবর্তী সময়" (১)।

বরং আলিমগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার (صحة) শর্তাবলির অন্যতম হলো: ওয়াক্তের প্রবেশ। সুতরাং শরয়িভাবে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে সালাত আদায় করা যেমন বৈধ নয়, তেমনি ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তা বৈধ নয়। সালাতের ওয়াক্ত নির্ধারণ বিষয়ে পূর্বে অতিবাহিত হওয়া হাদিস এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য সুপরিচিত দলিলের ভিত্তিতে এই মাসআলাটি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকিহদের সাধারণ ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মুসলিমগণ এই মর্মে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে—

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (২৪৪), মাসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ অধ্যায়, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময় পরিচ্ছেদ (১৭৮) (৬১৪)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ৭)
الصلوات الخمس مؤقتة بمواقيت معلومة محددة، وقد ورد ذلك في أحاديث صحاح جياد (1).

ونص الفقهاء، رحمهم الله، على أن المكلف إذا شك في دخول وقت الصلاة، لم يصل حتى يتيقن دخوله، أو يغلب على ظنه ذلك (2).

قال العلامة ابن قدامة رحمه الله: "ومن صلى قبل الوقت لم تجزئه صلاته، في قول أكثر أهل العلم؛ سواء فعله عمدًا أو خطأ، كل الصلاة أو بعضها. وبه قال الزهري، والأوزاعي، والشافعي، وأصحاب الرأي .. وعن مالك كقولنا، وعنه فيمن صلى العشاء قبل مغيب الشفق جاهلاً أو ناسيًا، يعيد ما كان في الوقت، فإن ذهب الوقت قبل علمه، أو ذكره فلا شيء عليه، ولنا أن الخطاب بالصلاة يتوجه إلى المكلف عند دخول وقتها، وما وجد بعد ذلك ما يزيله ويبرئ الذمة منه، فيبقى على حاله (3).

هذا في الصلاة:

وأما في الصيام؛ فقد قال الله سبحانه: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى الليْلِ} [البقرة: 187] فحدد الله تبارك وتعالى بهذه

--------------------------------------------

(1) المغني (2/ 8) وانظر: البيان (2/ 20، 22).

(2) انظر: البيان (2/ 20، 34، 36) المغني (2/ 30).

(3) المغني (2/ 45، 46).
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সুনির্দিষ্ট ও সুপরিজ্ঞাত সময়ে পালনীয়; এটি বিশুদ্ধ (صحاح) ও উত্তম (جياد) হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে (১)।

ফকিহগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি যদি নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান হন, তবে তিনি যতক্ষণ ওয়াক্ত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত না হন অথবা প্রবল ধারণা পোষণ না করেন, ততক্ষণ নামাজ পড়বেন না (২)।

আল্লামা ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "অধিকাংশ আলেমদের মতানুসারে, যে ব্যক্তি ওয়াক্ত হওয়ার আগে নামাজ আদায় করবে, তার নামাজ যথেষ্ট হবে না; সে ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করুক বা ভুলবশত করুক, সম্পূর্ণ নামাজ হোক বা তার অংশবিশেষ। ইমাম যুহরি, আওজায়ি, শাফেয়ি এবং আসহাবুর রায়ও অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম মালিক থেকেও আমাদের অনুরূপ বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে তাঁর থেকে অন্য একটি বর্ণনাও আছে—যে ব্যক্তি না জেনে বা ভুলে গোধূলির আভা অদৃশ্য হওয়ার আগে এশার নামাজ আদায় করবে, ওয়াক্ত অবশিষ্ট থাকলে সে নামাজ পুনরায় আদায় করবে। আর যদি জানার আগে বা মনে পড়ার আগে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই। আমাদের দলিল হলো, নামাজের নির্দেশ ব্যক্তির প্রতি তখনই কার্যকর হয় যখন তার ওয়াক্ত শুরু হয়; আর এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা এই নির্দেশকে নাকচ করবে বা তাকে দায়মুক্ত করবে, তাই নির্দেশটি তার পূর্বাবস্থায় বহাল থাকবে (৩)।

এটি নামাজের ক্ষেত্রে:

আর রোজার ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়। অতঃপর রোজা পূর্ণ করো রাত পর্যন্ত} [আল-বাকারাহ: ১৮৭]। সুতরাং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এর মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন—

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনি (২/ ৮) এবং দেখুন: আল-বায়ান (২/ ২০, ২২)।

(২) দেখুন: আল-বায়ান (২/ ২০, ৩৪, ৩৬), আল-মুগনি (২/ ৩০)।

(৩) আল-মুগনি (২/ ৪৫, ৪৬)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ৮)
الآية الكريمة وقت الصيام اليومي للمسلم تحديدًا واضحًا بينًا.

وفي الحج: حج المصطفى صلى الله عليه وسلم حجته المشهورة (حجة الوداع) وأدى مناسك الحج في أوقات محددة وكان صلى الله عليه وسلم يتحيَّن في بعض الأحكام، حتى يحين وقتها، فيفعلها؛ كالدفع من عرفة، ورمي الجمار بعد الزوال أيام منى، وغيرها، مما أوضحه الصحابي الجليل جابر بن عبد الله رضي الله عنه في صفة حجة النبي صلى الله عليه وسلم التي نقلها ورواها في الصحيح (1).

وكان صلى الله عليه وسلم يقول للصحابة الذين حجوا معه بين الحين والآخر: «خذوا عني مناسككم» (2).

وهذا كله يدل على أهمية الوقت في الإسلام، وأن لله تعالى عملاً بالليل لا يقبله بالنهار، وعملاً بالنهار لا يقبله بالليل، وأن العبادات، في الغالب، مؤقتة بأجل محدود، لا يجوز تأخيرها عنه، ولا تقديمها عليه إلا لعذر وضرورة، كما بين أهل العلم، رحمهم الله.

وقد رسم الشرع الحنيف التوقيت وحدده في تكاليف كثيرة، غير الصلاة والصيام والحج، لا سيما في أبواب

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه (483، 485) كتاب الحج، باب حجة النبي صلى الله عليه وسلم (1218).

(2) أخرجه مسلم في صحيحه (483) كتاب الحج، باب حجة النبي صلى الله عليه وسلم (1218).
সম্মানিত আয়াতটি মুসলিমদের দৈনন্দিন সিয়ামের সময়কে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে।

আর হজের ক্ষেত্রে: আল-মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রসিদ্ধ হজ (বিদায় হজ) পালন করেন এবং হজের বিধানসমূহ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু বিধানের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা করতেন এবং সময় উপস্থিত হলে তা পালন করতেন; যেমন আরাফা থেকে প্রস্থান এবং মিনার দিনগুলোতে সূর্য ঢলে পড়ার পর কঙ্কর নিক্ষেপসহ অন্যান্য কার্যাবলী। এ বিষয়গুলো মহান সাহাবী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হজের বিবরণীতে বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি সহিহ গ্রন্থে নকল (نقل) এবং বর্ণনা করেছেন (روى) (১)।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাথে হজ পালনকারী সাহাবীদের মাঝেমধ্যেই বলতেন: «তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলী গ্রহণ করো» (২)।

আর এ সবই ইসলামে সময়ের গুরুত্ব নির্দেশ করে। মহান আল্লাহর নিকট রাতের এমন কিছু আমল রয়েছে যা তিনি দিনে গ্রহণ করেন না এবং দিনের এমন কিছু আমল রয়েছে যা তিনি রাতে গ্রহণ করেন না। ইবাদতসমূহ সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা থেকে তা বিলম্বিত করা কিংবা সময়ের আগে সম্পাদন করা বৈধ নয়, কেবল ওজর বা জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত; যেমনটি বিজ্ঞ আলেমগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন।

সুনিপুণ শরীয়ত সালাত, সিয়াম ও হজ ছাড়াও আরও অনেক ধর্মীয় কর্তব্যের ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ ও সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে, বিশেষ করে...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) (৪৮৩, ৪৮৫), কিতাবুল হজ, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হজ (১২১৮)।

(২) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) (৪৮৩), কিতাবুল হজ, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হজ (১২১৮)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ৯)
العبادات؛ فوقت في كثير من أحكام الزكاة عمومًا، وزكاة الفطر خصوصًا، والأضحية والتيمم، والمسح على الخفين، والطلاق، والعدد، ونحو ذلك، وما ذاك إلا لأهمية الوقت في نظر الشارع واعتباره.

هذا، وإن من المسائل المهمة في المواقيت مسألة طلوع الفجر الثاني الصادق؛ حيث رتب الشارع عليها جملة من الأحكام الشرعية المتعلقة بأركان الإسلام العظيمة، ودعائمه الأساسية التي قام عليها؛ في الصلوات المفروضة والنافلة، وفي الصيام، وفي الحج؛ بحيث يبدأ وقت بعض هذه الأحكام أو ينتهي بطلوعه.

ونظرًا لأن الفجر فجران؛ صادق وكاذب، والتفريق بينهما من المسائل الدقيقة، ونظرًا لكثرة المسائل الفقهية المتعلقة بطلوعه وأهميتها؛ حيث إنها من العبادات الشرعية التي تعبدنا الله تعالى بها، ونظرًا لأنه لا يوجد حسب علمي وبحثي واطلاعي بحث علمي يفرق بين الفجرين، ويجمع شتات هذه المسائل المؤقتة بطلوع الفجر الثاني، ويحرر أحكامها، ويؤصل مسائلها، ولأهمية هذا الموضوع لكل مسلم، باعتباره جزءًا عظيمًا من عبادته لربه، لا يستغني عن معرفته وضبطه - رغبت في بحث المسائل والأحكام الفقهية التي رتبها الشارع الحكيم على طلوع الفجر الثاني (الصادق)، جمعت
ইবাদতসমূহ; সময়কে যাকাতের অনেক বিধানের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে, এবং বিশেষভাবে সদাকাতুল ফিতর, কোরবানি, তায়াম্মুম, মোজার ওপর মাসেহ, তালাক, ইদ্দত এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত করা হয়েছে। আর এটি কেবলমাত্র শরীয়তদাতার দৃষ্টিতে সময়ের গুরুত্ব ও বিবেচনার কারণেই করা হয়েছে।

তদুপরি, সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলোর মধ্যে একটি হলো দ্বিতীয় প্রভাত বা সুবহে সাদিকের (الصادق) উদয় হওয়া; যেখানে শরীয়তদাতা এর ওপর ইসলামের মহান রোকন এবং এর মৌলিক স্তম্ভসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট একগুচ্ছ শরয়ি বিধান বিন্যস্ত করেছেন যার ওপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত; যেমন—ফরজ ও নফল সালাত, রোজা এবং হজ। এই বিধানগুলোর কোনো কোনোটির সময় এর উদয়ের মাধ্যমেই শুরু হয় অথবা শেষ হয়।

যেহেতু ফজর দুই প্রকার; সুবহে সাদিক (صادق) ও সুবহে কাযিব (كاذب), এবং এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা একটি সূক্ষ্ম বিষয়; এবং যেহেতু এর উদয় সংশ্লিষ্ট ফিকহি মাসআলাসমূহের প্রাচুর্য ও গুরুত্ব রয়েছে—কারণ এগুলো সেই শরয়ি ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁর ইবাদত করার বিধান দিয়েছেন; এবং যেহেতু আমার জ্ঞান, গবেষণা ও পর্যালোচনামতে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা নেই যা এই দুই ফজরের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে এবং দ্বিতীয় ফজরের উদয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট এই বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোকে একত্রিত করে, সেগুলোর বিধানসমূহ সুবিন্যস্ত করে এবং মাসআলাগুলোর তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রদান করে; আর যেহেতু এই বিষয়টি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি তার রবের ইবাদতের এক মহান অংশ এবং এটি জানা ও আয়ত্ত করা অপরিহার্য—তাই আমি প্রজ্ঞাবান শরীয়তদাতা দ্বিতীয় সুবহে সাদিক (الصادق) উদয়ের ওপর যেসব ফিকহি মাসআলা ও বিধান নির্ধারণ করেছেন, সেগুলো নিয়ে গবেষণার ইচ্ছা পোষণ করেছি এবং আমি সংগ্রহ করেছি...
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ১০)
فيه ما تناثر من هذه المسائل في أبواب العبادات، وأصَّلتها بأدلتها الصحيحة، وفوائدها الشرعية؛ سواء في ذلك ما كان فائتًا بطلوع الفجر الثاني، أو كان وقته يبدأ بطلوع الفجر الثاني، وسرت في بحث هذه المسألة بعد هذه المقدمة المشتملة على أهمية البحث وسببه على الخطة التالية

 

‌‌خطة البحث ومسائله:

المطلب الأول: تعريف الفجر، وبيان نوعيه، والفرق بينهما.

المطلب الثاني: أحكام الصلاة المترتبة على طلوع الفجر الثاني.

المطلب الثالث: أحكام الصيام المترتبة على طلوع الفجر الثاني.

المطلب الرابع: أحكام الحج المترتبة على طلوع الفجر الثاني.

المطلب الخامس: مسائل متفرقة تترتب على طلوع الفجر الثاني.

 

‌‌منهج البحث

سرت في بحث هذا الموضوع وفق المنهج التالي:

1 - قصرت البحث على المسائل الفقهية التي رتبها الشارع سبحانه على طلوع الفجر الثاني مباشرة، سواء منها ما كان وقته ينتهي بطلوع الفجر الثاني، أو كان يبدأ بطلوعه،
এতে ইবাদত অধ্যায়সমূহে এ সংক্রান্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাসআলাগুলো সংকলিত হয়েছে, যা আমি বিশুদ্ধ (صحيحة) দলীল ও শারয়ি ফায়দাসমূহ দ্বারা সুসংহত করেছি; এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার মাধ্যমে যেগুলোর সময় শেষ হয়ে যায় কিংবা যেগুলোর সময় শুরু হয় উভয়ই সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত। এই গবেষণার গুরুত্ব ও কারণ সম্বলিত এই ভূমিকার পর আমি নিম্নলিখিত রূপরেখা অনুযায়ী এই মাসআলাটি নিয়ে গবেষণায় অগ্রসর হয়েছি:

 

‌‌গবেষণার রূপরেখা ও এর মাসআলাসমূহ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ফজরের সংজ্ঞা, এর প্রকারদ্বয়ের বর্ণনা এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট নামাজের বিধানসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট রোজার বিধানসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট হজের বিধানসমূহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট বিবিধ মাসআলাসমূহ।

 

‌‌গবেষণা পদ্ধতি

আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুযায়ী এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণায় অগ্রসর হয়েছি:

1 - আমি এই গবেষণাকে কেবলমাত্র সেই সকল ফিকহি মাসআলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি যা মহান শারিব সুবহানাহু সরাসরি দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন; চাই সেটির সময় দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়ে যাক অথবা এর উদিত হওয়ার মাধ্যমে শুরু হোক,
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ১১)
دون المسائل التي قد يرتبها المكلف على نفسه بنذر أو شرط أو سبب.

وحسب الاستقراء والتتبع والبحث فإن هذه المسائل محصورة في ثلاثة أبواب: الصلاة، والصيام، والحج، إضافة إلى أربع مسائل؛ تتنازعها هذه الأبواب مع أبواب أخرى، وقد جري الخلاف بين أهل العلم في ترتبها على طلوع الفجر الثاني؛ وهي وقت غسل يوم الجمعة، ووقت غسل العيدين، ووقت إخراج زكاة الفطر، ووقت ذبح الأضحية؛ فلأجل هذا آثرت أن أفردها في مطلب مستقل.

ولم أستطرد في الخلافات والمسائل المتفرعة عن هذه المسائل؛ حتى لا يطول البحث، وقصرًا للمسائل على موضوع البحث.

2 - اجتهدت قدر الطاقة في بيان الخلاف المعتبر، مع بيان الراجح في كل مسألة بدليله من الكتاب والسنة، وعدم التوسع في الخلافات المذهبية الضعيفة، إلا ما دعت إليه الضرورة وخدمة البحث وتأصيله؛ لأن في بعض مسائل البحث خلافات شاذة، وأقوالا ضعيفة، وقد أعرضت عنها؛ لأن العبرة بالراجح الذي يؤيده الدليل، فليس كل قول معتبرًا، إلا قولاً له حظ من النظر.

3 - رجعت إلى كتب أهل العلم المعتبرة قديمًا مع الاستفادة من الدراسات والمؤلفات الحديثة.
মানত, শর্ত বা কোনো কারণে মুকাল্লাফ নিজের ওপর যে বিষয়গুলো ধার্য করে নেয়, সেগুলো ব্যতিরেকে।

নিবিড় পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও গবেষণার আলোকে এই মাসআলাগুলো তিনটি অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ: সালাত, সিয়াম ও হজ। এর সাথে আরও চারটি মাসআলা যুক্ত রয়েছে যা এই অধ্যায়গুলোর পাশাপাশি অন্যান্য অধ্যায়ের সাথেও সংশ্লিষ্ট। দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার সাথে এই বিষয়গুলো কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে আলেমগণের মধ্যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়; সেগুলো হলো: জুমার দিনের গোসলের সময়, দুই ঈদের গোসলের সময়, জাকাতুল ফিতর আদায়ের সময় এবং কুরবানির পশু জবেহ করার সময়। এ কারণে আমি এগুলোকে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে আলোচনা করা পছন্দ করেছি।

আমি এই মাসআলাগুলো থেকে উদ্ভূত মতভেদ ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করিনি, যাতে গবেষণাটি দীর্ঘায়িত না হয় এবং আলোচনাটি কেবল মূল বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

2 - আমি গ্রহণযোগ্য মতভেদসমূহ বর্ণনা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি এবং প্রতিটি মাসআলায় কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ভিত্তিতে অগ্রগণ্য (راجح) মতটি স্পষ্ট করেছি। মাযহাবগত দুর্বল (ضعيفة) মতভেদগুলো বিস্তারিত আলোচনা করিনি, কেবল প্রয়োজন এবং গবেষণার ভিত্তি সুদৃঢ় করার স্বার্থে যতটুকু দরকার ততটুকুই এনেছি; কারণ গবেষণার কিছু কিছু বিষয়ে শায (شاذة) মতভেদ এবং দুর্বল (ضعيفة) মতামত রয়েছে যা আমি পরিহার করেছি। কেননা মানদণ্ড হলো সেই অগ্রগণ্য (راجح) মত যা দলিলের মাধ্যমে সমর্থিত। সব মতামতই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং কেবল সেই মতই গ্রহণযোগ্য যার পেছনে শক্তিশালী বিচার-বিশ্লেষণ ও দলিল রয়েছে।

3 - আমি প্রাচীন যুগের প্রথিতযশা আলেমদের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের সাহায্য নিয়েছি এবং সেই সাথে আধুনিক গবেষণা ও রচনাবলি থেকেও উপকৃত হয়েছি।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ১২)
4 - عزوت الآيات إلى سورها في صلب البحث، وخرَّجت الأحاديث النبوية في هامش البحث من مصادرها المعتمدة؛ فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بهما دون غيرهما، وإن كان في غيرهما من كتب السنة، وضحت جانبًا كافيًا من تخريجه، مع بيان درجته صحة وضعفًا، ملتزمًا في ذلك بطريقة الاستدلال والرجوع إلى كتب الحديث، ولم أستدل في هذا البحث إلا بدليل ثابت؛ سواء كان صحيحًا أو حسنًا، معرضًا عن كثير من الأدلة الضعيفة، لأن في الحديث الثابت، والحمد لله، غنية عن الضعيف.

إلا إذا كان الحديث الضعيف دليلاً لقول من أقوال أهل العلم في المسألة، فإني أورده، كدليل لهم، ثم أبين حكمه ودرجته.

5 - بدأت في ترتيب المراجع في الهامش إذا اختلطت: بكتب اللغة، ثم كتب التفسير، ثم كتب الحديث، ثم شروحه ثم كتب الفقه مرتبة على المذاهب الفقهية، ثم الدراسات الحديثة.

6 - عرَّفت بالغريب من المفردات والأماكن التي تحتاج إلى تعريف وبيان، ولم أترجم للأعلام الواردة في البحث؛ لأن البحث فقهي، ومنعًا للإطالة، ولكون أغلب الأعلام الواردة فيه من المشهورين.

7 - ختمت البحث بأهم النتائج المستخلصة منه، ثم بينت المصادر والمراجع.
4 - আমি গবেষণার মূল পাঠে আয়াতসমূহকে তাদের নিজ নিজ সূরার বরাতে উল্লেখ করেছি এবং গবেষণার পাদটীকায় নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ থেকে হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) করেছি; যদি হাদিসটি সহিহাইন বা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে সেগুলোর উল্লেখকেই যথেষ্ট মনে করেছি। আর যদি তা অন্যান্য সুনান গ্রন্থে থাকে, তবে হাদিস কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি ও ইস্তিদলাল (استدلال) বা প্রমাণ গ্রহণের পদ্ধতি অনুসরণ করে সেই হাদিসের মান (درجة) তথা বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعفًا) স্পষ্ট করার পাশাপাশি এর তাখরিজের (تخريج) প্রয়োজনীয় দিকগুলো পর্যাপ্তরূপে বর্ণনা করেছি। আমি এই গবেষণায় কেবল সাব্যস্ত (ثابت) দলিল দ্বারাই প্রমাণ পেশ করেছি; তা সহিহ (صحيح) হোক বা হাসান (حسن) হোক। আমি অনেক দুর্বল (ضعيف) দলিল বর্জন করেছি; কারণ আলহামদুলিল্লাহ, সাব্যস্ত (ثابت) হাদিসের উপস্থিতিতে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের কোনো প্রয়োজন নেই।

তবে যদি কোনো মাসআলায় আলেমগণের কোনো মতের সপক্ষে কোনো দুর্বল (ضعيف) হাদিস দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে আমি তাদের পক্ষ থেকে দলিল হিসেবে সেটি উল্লেখ করেছি এবং পরবর্তীতে এর হুকুম (حكم) ও মান (درجة) স্পষ্ট করেছি।

5 - পাদটীকায় রেফারেন্সের ক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে যখন বিভিন্ন বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটেছে, তখন আমি প্রথমে ভাষাতত্ত্বের গ্রন্থ, তারপর তাফসির গ্রন্থ, এরপর হাদিস গ্রন্থ, তারপর তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এরপর ফিকহী মাযহাব অনুযায়ী বিন্যস্ত ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ এবং সবশেষে আধুনিক গবেষণাপত্রসমূহ সাজিয়েছি।

6 - আমি দুর্বোধ্য (غريب) শব্দাবলি এবং যেসব স্থানের পরিচয় ও ব্যাখ্যা প্রয়োজন তার সংজ্ঞা প্রদান করেছি। তবে আমি গবেষণায় উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করিনি; কারণ গবেষণাটি ফিকহ-বিষয়ক এবং দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করার লক্ষ্যে এটি করা হয়েছে, তাছাড়া উল্লিখিত ব্যক্তিদের অধিকাংশই সুপরিচিত।

7 - আমি গবেষণালব্ধ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে গবেষণাটি সমাপ্ত করেছি এবং এরপর এর উৎস ও সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مصطلحات البحث ورموزه:

للبحث مصطلحات ورموز، بيانها على النحو التالي:

1 - حرف (ح): المقصود به رقم الحديث في الكتاب الذي أخرجه، أو تكلم عليه، إذا كان مرقمًا.

2 - حرف (ت): في صلب البحث اختصارًا لكلمة الوفاة، وفي قائمة المراجع اختصارًا لكلمة تحقيق.

3 - حرف (ض): في فهرس المصادر اختصارًا لكلمة ضبط.

4 - حرف (د): في قائمة المصادر اختصارًا للقب الدكتور.

5 - حرف (ط): في قائمة المصادر المقصود به رقم الطبعة.

6 - حرف (هـ، م) يقصد به بيان التاريخ؛ هجري أو ميلادي.

هذا واسأل الله تعالى القبول والتوفيق والسداد في القول والعمل، وأن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، وخدمة للعلم وأهله، وأن ينفع به من كتبه وقرأه واطلع عليه.

ما كان فيه من صواب فمن الله وحده، له الفضل والحمد والمنة، وما كان فيه من خطأ وتقصير فمن نفسي والشيطان، واستغفر الله منه، واسأله التجاوز عنه، والتوفيق لتداركه وتصحيحه.

وإلى مسائل البحث، سائلا من الله التوفيق والسداد.
গবেষণার পরিভাষা ও সংকেতসমূহ:

গবেষণায় ব্যবহৃত পরিভাষা ও সংকেতগুলোর বর্ণনা নিম্নরূপ:

১ - (ح) অক্ষর: এর দ্বারা ওই কিতাবের হাদিস নম্বর উদ্দেশ্য, যেখান থেকে এটি উদ্ধৃত করা হয়েছে অথবা যেখানে এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে (যদি কিতাবটি নম্বরযুক্ত হয়)।

২ - (ت) অক্ষর: এটি মূল গবেষণার ভেতরে 'মৃত্যু সাল'-এর সংক্ষেপ রূপ এবং তথ্যসূত্র তালিকায় 'সম্পাদনা' (تحقيق) শব্দের সংক্ষেপ রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

৩ - (ض) অক্ষর: এটি উৎস তালিকায় 'নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ' (ضبط) শব্দের সংক্ষেপ রূপ।

৪ - (د) অক্ষর: এটি তথ্যসূত্র তালিকায় 'ডক্টর' পদবির সংক্ষেপ রূপ।

৫ - (ط) অক্ষর: এটি তথ্যসূত্র তালিকায় সংস্করণ নম্বর বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

৬ - (هـ، م) অক্ষরগুলো দ্বারা তারিখ তথা হিজরি বা ঈসায়ী সন প্রকাশ করা হয়েছে।

আমি মহান আল্লাহর নিকট এর কবুলিয়ত, তাওফিক এবং কথা ও কাজে সঠিকতা কামনা করছি। তিনি যেন এই আমলটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য এবং ইলম ও আহলে ইলমদের খেদমতের জন্য কবুল করেন। আর যিনি এটি লিখেছেন, পাঠ করেছেন বা এটি থেকে অবগত হয়েছেন, আল্লাহ যেন একে তাদের সবার জন্য কল্যাণকর করেন।

এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে; সকল শ্রেষ্ঠত্ব, প্রশংসা ও অনুগ্রহ তাঁরই। আর যা কিছু ভুল ও ত্রুটি রয়েছে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি সেজন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তা মার্জনা করার প্রার্থনা করছি। সেই সাথে তা কাটিয়ে ওঠা ও সংশোধনের তাওফিক কামনা করছি।

এখন গবেষণার মূল বিষয়গুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছি এবং আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিকতা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المطلب الأول

تعريف الفجر، وبيان نوعيه، والفرق بينهما

‌‌أولا: تعريف الفجر:

الفجر في اللغة: قال ابن فارس الرازي رحمه الله: "فَجَرَ: الفاء، والجيم، والراء: أصل واحد؛ وهو التفتح في الشيء، ومن ذلك الفجر؛ انفجار الظلمة عن الصبح، ومنه انفجر الماء انفجارًا: تفتح" (1).

والفجر: ضوء الصباح، وهو حمرة الشمس في سواد الليل؛ والفجر في آخر الليل كالشفق في أوله، وقد انفجر الصبح وتفجَّر وانفجر عنه الليل، وانفجروا: دخلوا في الفجر، كما تقول: أصبحنا من الصبح، والفجر: انكشاف ظلمة الليل عن نور الصبح؛ وشق الشيء شقًا واسعًا كفجر الإنسان سَكْرَ النهر الذي يُسَّدُّ به، ويقال: طريق فجْر، واضح، وفَجَرْتُهُ فانفجر، وفَجَّرْتُهُ فتَفَجَّر؛ قال الله تعالى: {وَفَجَّرْنَا الْأَرْضَ عُيُونًا} [القمر: 12] وقال تعالى: {وَقَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنَا مِنَ الْأَرْضِ يَنْبُوعًا} [الإسراء: 90].

--------------------------------------------

(1) معجم مقاييس اللغة (4/ 475) باب الفاء والجيم وما يثلثهما.
‌‌প্রথম অন্বেষণ

ফজরের সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ এবং উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যের বর্ণনা

‌‌প্রথমত: ফজরের সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে ফজর: ইবনে ফারিস আর-রাজি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ফাজার (ফ-জ-র): ফা, জিম এবং রা—একটিই মূল ধাতু; আর তা হলো কোনো বিষয়ের উন্মোচন বা বিদীর্ণ হওয়া। সেখান থেকেই ‘ফজর’ শব্দটি এসেছে; যা হলো সকালের আগমনে অন্ধকারের বিদীর্ণ হওয়া। আর সেখান থেকেই পানি সজোরে প্রবাহিত হওয়াকে ‘ইনফিজার’ বলা হয়: যার অর্থ উন্মুক্ত হওয়া" (১)।

আর ফজর হলো সকালের আলো, যা রাতের অন্ধকারের মাঝে সূর্যের লোহিত আভা; রাতের শেষভাগের ফজর হলো রাতের শুরুর দিকের গোধূলির ন্যায়। সকাল প্রস্ফুটিত ও বিদীর্ণ হয়েছে এবং রাত তা থেকে অপসারিত হয়েছে। ‘আনফাজারু’ অর্থ তারা ফজরের সময়ে প্রবেশ করেছে, যেমনটি বলা হয়: ‘আসবাহনা’ অর্থাৎ আমরা সকালে উপনীত হয়েছি। ফজর হলো সকালের শুভ্রতা দ্বারা রাতের অন্ধকারের বিদূরণ; এবং কোনো কিছুকে প্রশস্তভাবে বিদীর্ণ করা, যেমন মানুষ নদীর বাঁধ উন্মুক্ত করে দেয় যা দিয়ে তা বন্ধ করা ছিল। আর বলা হয়ে থাকে: ‘সুস্পষ্ট পথ’। আমি তা বিদীর্ণ করেছি ফলে তা বিদীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {এবং আমি ভূমি থেকে প্রস্রবণসমূহ উৎসারিত করলাম} [আল-কামার: ১২] এবং তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {এবং তারা বলল, আমরা কখনোই তোমার প্রতি ঈমান আনব না, যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি থেকে একটি প্রস্রবণ প্রবাহিত করবে} [আল-ইসরা: ৯০]।

--------------------------------------------

(১) মু'জাম মাকায়িস আল-লুগাহ (৪/ ৪৭৫), ‘ফা’ ও ‘জিম’ এবং এ দুটির তৃতীয় বর্ণ সংশ্লিষ্ট অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومنه قيل للصبح: فجْر؛ لكونه فَجَرَ الليل؛ قال تعالى: {وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا} [الإسراء: 78] (1).

وقيل للطالع من تباشير ضياء الشمس من مطلعها: فجْر؛ لانبعاث ضوئه ونوره عليهم بطرقهم وفجاجهم. وهذا ابتداء تنفس الصبح، قال الحق سبحانه {وَالصُّبْحِ إِذَا تَنَفَّسَ} [التكوير: 18] (2).

وهما فجران: أحدهما المستطيل؛ وهو الكاذب الذي يسمى ذنب السرحان. والآخر المستطير؛ وهو الصادق المنتشر في الأفق؛ ولا يكون الصبح إلا الصادق (3).

وكانت العرب تسمي الفجر (أول بياض النهار) الخيطَ الأبيض والصَّديع؛ ومنه قولهم: انصدع الفجر، ويقولون للأمر الواضح: هذا كفلق الصبح، وكانبلاج الفجر، وتباشير الصبح (4).

وأما تعريف الفجر في اصطلاح أهل العلم: فلا يخرج عن معناه في لغة العرب؛ فهو عند الفقهاء فجران:

الفجر الأول: وهو البياض المستدق المتنفس صُعُدًا من

--------------------------------------------

(1) انظر في معاني الفجر لغة: مفردات ألفاظ القرآن (625، 626) لسان العرب (10/ 187) المعجم الوسيط (2/ 675) جميعها (فجر).

(2) انظر: تفسير الطبري (جامع البيان) (3/ 262، 263).

(3) انظر: مفردات ألفاظ القرآن (625، 626) لسان العرب (10/ 187) جميعها فجر.

(4) انظر: تفسير القرطبي (الجامع لأحكام القرآن) (3/ 197 - 199).
এ থেকেই ভোরকে 'ফজর' বলা হয়; কারণ এটি রাতকে বিদীর্ণ করে; মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর ভোরের কুরআন পাঠ (সালাত) কায়েম করো; নিশ্চয়ই ভোরের কুরআন পাঠ উপস্থিত হওয়ার সময়।} [আল-ইসরা: ৭৮] (১)।

আর সূর্যোদয়কালে সূর্যের আলোর প্রথম যে আভাস উদিত হয় তাকে 'ফজর' বলা হয়; কারণ এর আলো ও কিরণ মানুষের পথ ও গিরিপথগুলোতে বিচ্ছুরিত হয়। আর এটিই ভোরের প্রশ্বাস ছাড়ার শুরু, মহান সত্য (আল্লাহ) ইরশাদ করেছেন: {আর শপথ ভোরের, যখন তা প্রশ্বাস ছাড়ে।} [আত-তাকভীর: ১৮] (২)।

আর ফজর দুই প্রকার: একটি হলো লম্বালম্বি; যা মিথ্যা (كاذب) ফজর এবং একে 'নেকড়ের লেজ' বলা হয়। অন্যটি হলো বিচ্ছুরিত; যা দিগন্তে ছড়িয়ে পড়া সত্য (صادق) ফজর; আর ফজর বলতে কেবল এই সত্য ফজরকেই গণ্য করা হয় (৩)।

আরবরা ফজরকে (দিনের প্রথম শুভ্রতা) 'সাদা সুতা' এবং 'বিদীর্ণকারী' নামে অভিহিত করত; এ থেকেই তাদের প্রবাদ: "ফজর বিদীর্ণ হয়েছে", এবং তারা কোনো স্পষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে বলত: "এটি প্রভাতের আলোর মতো স্পষ্ট", "ভোরের শুভ্রতার মতো" এবং "ভোরের সুসংবাদের মতো" (৪)।

আর আলেমগণের পরিভাষায় ফজরের সংজ্ঞা আরবি ভাষায় এর আভিধানিক অর্থ থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়; ফকিহগণের নিকট ফজর দুই প্রকার:

প্রথম ফজর: এটি হলো সেই সরু শুভ্রতা যা উপরের দিকে খাড়াভাবে উঠে যায়...

--------------------------------------------

(১) ফজরের আভিধানিক অর্থের জন্য দেখুন: মুফরাদাতু আলফাজিল কুরআন (৬২৫, ৬২৬), লিসানুল আরব (১০/ ১৮৭), আল-মু'জামুল ওয়াসিত (২/ ৬৭৫), সবগুলোই 'ফজর' শব্দের অধীনে।

(২) দেখুন: তাফসীরে তাবারী (জামেউল বয়ান) (৩/ ২৬২, ২৬৩)।

(৩) দেখুন: মুফরাদাতু আলফাজিল কুরআন (৬২৫, ৬২৬), লিসানুল আরব (১০/ ১৮৭), সবগুলোই 'ফজর' শব্দের অধীনে।

(৪) দেখুন: তাফসীরে কুরতুবী (আল-জামে লি আহকামিল কুরআন) (৩/ ১৯৭-১৯৯)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ১৭)
غير اعتراض كذنب السرحان (وهو الذئب) ويسمى الفجر الكاذب؛ لأنه يضيء ثم يسود، ويسمى الخيط الأسود، ولا يتعلق به حكم.

والفجر الثاني: هو البياض المستطير المنتشر في الأفق، ويسمى الخيط الأبيض، والفجر الصادق؛ لأنه صدَقَك عن الصبح وبيَّنه لك، والصبح: ما جمع بياضًا وحمرة (1).

وظهور الفجر بعد الظلام الدامس من آيات الله عز وجل العظيمة التي تستحق الشكر والثناء؛ فإن هذا النور الساطع بعد الظلام الدامس لا أحد يستطيع أن يأتي به إلا الله سبحانه؛ قال تعالى: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللهُ عَلَيْكُمُ الليْلَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللهِ يَاتِيكُمْ بِضِيَاءٍ أَفَلَا تَسْمَعُونَ} [القصص: 71].

 

‌‌ثانيًا: نوعا الفجر، وبيان الفرق بينهما:

مر معنا في تعريف الفجر: أن الفجر في لغة العرب، وفي اصطلاح أهل العلم نوعان؛ الفجر الأول: وهو الفجر الكاذب، والفجر الثاني: وهو الفجر الصادق.

وقد أشار الله سبحانه إلى هذين النوعين في قوله تعالى: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى الليْلِ} [البقرة: 187].

--------------------------------------------

(1) انظر: المبسوط (1/ 141) البيان (2/ 32) المغني (2/ 30).
এটি নেকড়ের লেজের মতো খাড়া নয় (যা একটি নেকড়ে বিশেষ), একে মিথ্যা ভোর (الفجر الكاذب) বলা হয়; কারণ এটি প্রথমে আলোকিত হয় এবং পরে অন্ধকার হয়ে যায়। একে কালো সুতাও বলা হয় এবং এর সাথে কোনো শরয়ি বিধান (حكم) সম্পৃক্ত নয়।

আর দ্বিতীয় ভোর হলো দিগন্তে ছড়িয়ে পড়া প্রসারিত শুভ্রতা, একে সাদা সুতা এবং সত্য ভোর (الفجر الصাদق) বলা হয়; কারণ এটি আপনার কাছে ভোরের আগমনের সত্যতা প্রকাশ করে এবং তা স্পষ্ট করে দেয়। আর সকাল (সুবহ) হলো যা শুভ্রতা ও লালিমাকে একত্রিত করে (১)।

নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের পর ভোরের প্রকাশ মহান আল্লাহ তা’আলার মহান নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা শুকরিয়া ও প্রশংসার দাবি রাখে। কারণ নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের পর এই উজ্জ্বল আলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ব্যতীত আর কেউ আনতে সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন: {বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, আল্লাহ যদি রাতকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোন উপাস্য আছে যে তোমাদের জন্য আলো এনে দিতে পারে? তবুও কি তোমরা কর্ণপাত করবে না?} [আল-কাসাস: ৭১]।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: ভোরের প্রকারভেদ এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্যের বর্ণনা:

ভোরের সংজ্ঞায় আমরা জেনেছি যে, আরবি ভাষায় এবং আলেমদের পরিভাষায় (اصطلاح) ভোর দুই প্রকার; প্রথম ভোর: যা মিথ্যা ভোর (الفجر الكاذب) এবং দ্বিতীয় ভোর: যা সত্য ভোর (الفجر الصادق)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর এই বাণীতে এই দুই প্রকারের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন: {আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না ভোরের কালো সুতা থেকে সাদা সুতা তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর} [আল-বাকারা: ১৮৭]।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাবসুত (১/ ১৪১), আল-বায়ান (২/ ৩২), আল-মুগনি (২/ ৩০)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ১৮)
قال عدي بن حاتم رضي الله عنه: لما نزلت {حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ} عمدت إلى عقال أسود، وإلى عقال أبيض، فجعلتهما تحت وسادتي، فجعلت انظر في الليل فلا يستبين لي، فغدوت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرت له ذلك، فقال: «إنما ذلك سواد الليل، وبياض النهار» (1).

وعن محمد بن عبد الرحمن بن ثوبان، رحمه الله تعالى عليه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الفجر فجران؛ فالذي كأنه ذنب السرحان، لا يحرم شيئًا، وأما المستطير الذي يأخذ الأفق، فإنه يحل الصلاة، ويحرم الطعام» (2).

والتفريق بين الفجرين: الأول، والثاني (الكاذب والصادق)

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه (461) في تفسير الآية من كتاب الصوم (1916) ومسلم في صحيحه (422) كتاب الصوم، باب بيان أن الدخول في الصوم يحصل بطلوع الفجر (1090).

(2) أخرجه ابن جرير الطبري بسنده في تفسيره (3/ 252، 253) ومن طريقه ابن كثير في تفسيره (1/ 520) وقال: وهذا مرسل جيد اهـ.

وأخرجه بنحوه ابن أبي شيبة في المصنف (2/ 289) كتاب الصيام، باب ما قالوا في الفجر ما هو (9071) والحاكم بنحوه عن ابن عباس مرفوعًا، في كتاب الصوم (1549) وصححه ووافقه الذهبي في التلخيص، المستدرك ومعه التلخيص (1/ 587).

والبيهقي في السنن الكبرى (1/ 377) كتاب الصوم، باب الفجر فجران، ودخول وقت الصبح بطلوع الآخر منهما، وصححه مرسلاً. وصححه بشواهد الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة (5/ 8 - 9) (2002).
আদি বিন হাতিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: যখন অবতীর্ণ হলো {যতক্ষণ না তোমাদের কাছে ফজরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হয়}, তখন আমি একটি কালো রশি ও একটি সাদা রশি নিলাম এবং তা আমার বালিশের নিচে রাখলাম। আমি রাতে সেদিকে তাকাচ্ছিলাম কিন্তু তা আমার কাছে স্পষ্ট হচ্ছিল না। সকালে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন: "তা তো হলো রাতের অন্ধকার এবং দিনের শুভ্রতা।" (১)

মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন সাওবান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ফজর দুই প্রকার; একটি হলো নেকড়ের লেজের মতো, যা কোনো কিছুকে হারাম করে না। আর অন্যটি হলো প্রশস্ত যা দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, সেটিই নামাজের সময় হওয়াকে হালাল করে এবং আহারকে হারাম করে।" (২)

আর দুই ফজরের মধ্যে পার্থক্য: প্রথম ও দ্বিতীয় (মিথ্যা ও সত্য ফজর)

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪৬১) কিতাবুস সাওমের (১৯১৬) আয়াতের তাফসির অধ্যায়ে এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪২২) কিতাবুস সাওম, ফজর উদিত হওয়ার মাধ্যমে রোজা শুরু হওয়ার বর্ণনা অধ্যায়ে (১০৯০) বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি ইবনে জারির আত-তাবারি তাঁর তাফসির গ্রন্থে (৩/২৫২, ২৫৩) তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে ইবনে কাসির তাঁর তাফসির গ্রন্থে (১/৫২০) এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি উত্তম বিচ্ছিন্ন (مرسل جيد)। সমাপ্ত।

এবং ইবনে আবি শায়বা অনুরূপ বর্ণনা করেছেন আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে (২/২৮৯) কিতাবুস সিয়াম, ফজর সম্পর্কে তাঁরা যা বলেছেন অধ্যায়ে (৯০৭১)। আল-হাকিম অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ইবনে আব্বাস থেকে মারফু (مرفوعًا) হিসেবে কিতাবুস সাওম-এ (১৫৪৯) এবং একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং আয-যাহাবি আত-তালখিস-এ তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, আল-মুস্তাদরাক ওয়া মাআহু আত-তালখিস (১/৫৮৭)।

এবং আল-বাইহাকি এটি সুনানুল কুবরা-তে (১/৩৭৭) কিতাবুস সাওম, ফজর দুই প্রকার এবং পরেরটি উদিত হওয়ার মাধ্যমে সকালের সময় শুরু হওয়া অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বিচ্ছিন্ন (صحيح مرسلاً) বলেছেন। আলবানি সিলসিলাহ আল-আহাদিস আস-সহিহাহ-তে (৫/৮ - ৯) (২০০২) বিভিন্ন শাহেদের ভিত্তিতে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ১৯)
من المسائل الشرعية الدقيقة التي يحتاج إلى معرفتها كل مسلم؛ لما ينبني على ذلك من صحة إيقاع العبادات المحددة المرتبة على طلوع الفجر في وقتها الشرعي الصالح لها؛ ولأن التشابه بين الفجرين يخدع من ليس عنده خبرة للتمييز بينهما، ويغره؛ ولأجل هذا فقد نبه المصطفى صلى الله عليه وسلم إلى هذا في حديث سمرة بن جندب رضي الله عنه قال: «لا يغرنكم من سحوركم أذان بلال، ولا بياض الأفق المستطيل هكذا، حتى يستطير هكذا؛ يعني: معترضًا» (1).

وفي رواية عنه قال: «لا يغرنكم نداء بلال، ولا هذا البياض حتى يبدو الفجر، أو قال: حتى ينفجر الفجر» (2).

وعن طلق بن علي، رضي الله تعالى عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كلوا واشربوا ولا يهيدنكم الساطع المصعد، وكلوا واشربوا حتى يعترض لكم الأحمر» (3).

قال الإمام الترمذي رحمه الله: "والعمل على هذا عند أهل

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه (424) كتاب الصيام، باب بيان أن الدخول في الصوم يحصل بطلوع الفجر (43) (1094).

(2) أخرجه مسلم في صحيحه (424) كتاب الصيام باب بيان أن الدخول في الصوم يحصل بطلوع الفجر، (44) (1094).

(3) أخرجه الترمذي في الجامع الصحيح (3/ 85) كتاب الصوم، باب ما جاء في بيان الفجر، (705) وأبو داود في سننه (342) كتاب الصوم، باب وقت السحور، (2348) وقال الألباني في صحيح سنن أبي داود (2/ 56) (2348) حسن صحيح.
এটি একটি সূক্ষ্ম শরয়ি মাসআলা যা প্রতিটি মুসলিমের জানা প্রয়োজন; কারণ এর ওপর সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট ইবাদতসমূহ তাদের জন্য নির্ধারিত সঠিক শরয়ি সময়ে সম্পাদন করার বিশুদ্ধতা নির্ভর করে। আর যেহেতু দুই ফজরের (সুবহে কাজিব ও সুবহে সাদিক) মধ্যকার সাদৃশ্য এমন ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করতে পারে যার এগুলো পৃথক করার অভিজ্ঞতা নেই। এজন্যই মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামুরা বিন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, তিনি বলেন: "তোমাদের সাহরির ক্ষেত্রে বিলালের আজান এবং দিগন্তের লম্বালম্বি শুভ্রতা যেন তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে যতক্ষণ না তা এভাবে প্রশস্ত হয়; অর্থাৎ আড়াআড়িভাবে ছড়িয়ে পড়ে।" (১)।

তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ তিনি বলেন: "বিলালের আহ্বান এবং এই শুভ্রতা যেন তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে যতক্ষণ না ফজর স্পষ্ট হয়, অথবা তিনি বলেছেন: যতক্ষণ না ফজর বিদীর্ণ হয়" (২)।

এবং তালক বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আহার করো ও পান করো, এবং ঊর্ধ্বমুখী দীর্ঘ শুভ্রতা যেন তোমাদের বিচলিত না করে; তোমরা আহার ও পান করতে থাকো যতক্ষণ না তোমাদের সামনে লাল আভা আড়াআড়িভাবে প্রকাশ পায়" (৩)।

ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "বিদ্বানদের নিকট এর ওপরই আমল..."

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪২৪) কিতাবুস সিয়াম, অধ্যায়: রোজা শুরু হওয়া ফজর উদিত হওয়ার মাধ্যমে সাব্যস্ত হওয়া (৪৩) (১০৯৪) বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪২৪) কিতাবুস সিয়াম, অধ্যায়: রোজা শুরু হওয়া ফজর উদিত হওয়ার মাধ্যমে সাব্যস্ত হওয়া (৪৪) (১০৯৪) বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি তিরমিজি তাঁর জামে সহিহ গ্রন্থে (৩/ ৮৫) কিতাবুস সওম, অধ্যায়: ফজর স্পষ্ট করা সম্পর্কিত (৭০৫) এবং আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে (৩৪২) কিতাবুস সওম, অধ্যায়: সাহরির সময় (২৩৪৮) বর্ণনা করেছেন। আলবানি সহিহ সুনান আবু দাউদ (২/ ৫৬) (২৩৪৮) গ্রন্থে এটিকে হাসান সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ২০)
العلم؛ أنه لا يحرم على الصائم الأكل والشرب حتى يكون الفجر الأحمر المعترض، وبه يقول عامة أهل العلم (1).

قال الإمام أبو سليمان الخطابي رحمه الله: "قوله: (لا يهيدنكم) معناه: لا يمنعكم الأكل، وأصل الهَيْد: الزجر؛ يقال: هِدْتُ الرجل، أَهِيدُه هيْدًا، إذا زجرته، ويقال في زجر الدواب: هَيْدَ هَيْدَ، والساطع المرتفع، وسطوعها ارتفاعها مصعدًا، مثل أن يعترض، ومعنى الأحمر ههنا، أن يستبطن البياض المعترض أوائل الحمرة؛ وذلك أن البياض إذا تتام طلوعه، ظهرت أوائل الحمرة، والعرب تشبه الصبح بالبلق في الخيل، لما فيه من بياض وحمرة (2).

وعن ابن مسعود رضي الله تعالى عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الفجر ليس الذي يقول هكذا؛ وجمع أصابعه، ثم نكسها إلى الأرض، ولكن الذي يقول هكذا؛ ووضع المُسَبِّحة على المُسَبِّحة، ومد يديه» وفي لفظ: «الفجر هو المعترض وليس بالمستطيل» (3).

--------------------------------------------

(1) الجامع الصحيح (3/ 86).

(2) معالم السنن (2/ 90).

(3) أخرجه بهذا اللفظ مسلم في صحيحه (423، 424) كتاب الصيام، باب بيان أن الدخول في الصوم يحصل بطلوع الفجر، (39) (1093) والبخاري بنحوه في صحيحه (157، 158) كتاب الأذان باب الأذان قبل الفجر (621).
জ্ঞানের কথা এই যে; আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত লালচে ফজর (الفجر الأحمر المعترض) উদিত না হওয়া পর্যন্ত রোজাদারের (الصائم) জন্য পানাহার হারাম হয় না এবং এটিই অধিকাংশ আলিমের অভিমত (১)।

ইমাম আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবি (রহ.) বলেন: "তাঁর বাণী: (তা যেন তোমাদের বিচলিত না করে (لا يهيدنكم)) এর অর্থ হলো: তা যেন তোমাদের পানাহার থেকে বিরত না রাখে। 'হায়দ' (الهيد) শব্দের মূল অর্থ হলো ধমক বা বাধা প্রদান (الزجر); বলা হয়ে থাকে: 'আমি লোকটিকে বাধা দিয়েছি' (هِدْتُ الرجل), যখন আপনি তাকে ধমক দেন। পশুপাখি হাঁকানোর ক্ষেত্রেও 'হায়দ হায়দ' (هيد هيد) বলা হয়। আর 'সাত্বে' (الساطع) হলো উর্ধ্বমুখী হওয়া এবং এর 'সুতু' (سطوع) হলো এর উপরের দিকে উঠা, যতক্ষণ না তা আড়াআড়িভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আর এখানে 'লালচে' (الأحمر) বলতে বোঝানো হয়েছে যে, আড়াআড়ি শুভ্রতার মাঝে লালিমা প্রকাশ পাওয়া; কারণ শুভ্রতা যখন পূর্ণভাবে উদিত হয়, তখন লাল আভা দৃশ্যমান হতে শুরু করে। আর আরবরা ভোরকে ঘোড়ার সাদা-কালো বর্ণের (البلق) সাথে তুলনা করে, কারণ তাতে শুভ্রতা ও লালিমা উভয়ই বিদ্যমান থাকে (২)।

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই ফজর (الفجر) এমন নয় যা এভাবে হয়; (একথা বলে তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলো একত্রিত করলেন এবং সেগুলোকে নিচের দিকে অবনমিত করলেন), বরং ফজর হলো যা এভাবে হয়; (একথা বলে তিনি এক তর্জনী আঙ্গুলকে (المُسَبِّحة) অন্য তর্জনী আঙ্গুলের (المُسَبِّحة) ওপর রাখলেন এবং হাত দুটি প্রসারিত করলেন)»। অন্য এক শব্দে বর্ণিত হয়েছে: «ফজর হলো যা আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত (المعترض), লম্বালম্বিভাবে বিস্তৃত (المستطيل) নয়» (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-জামি আস-সহিহ (৩/ ৮৬)।

(২) মাআলিমুস সুনান (২/ ৯০)।

(৩) মুসলিম এই শব্দে তাঁর সহিহ (৪২৩, ৪২৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সিয়াম, অধ্যায়: ফজরের উদয়ের মাধ্যমে রোজা শুরু হওয়া সংক্রান্ত বর্ণনা, (৩৯) (১০৯৩) এবং বুখারি তাঁর সহিহ (১৫৭, ১৫৮) গ্রন্থে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল আজান, অধ্যায়: ফজরের পূর্বে আজান (৬২১)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ২১)
واستنادًا إلى هذه النصوص الشرعية: وغيرها مما هو في معناها، فقد ذكر أهل العلم جملة من الفروق بين الفجرين؛ الكاذب والصادق، يتبين من خلالها صفات كل منهما؛ بيانها على النحو التالي.

1 - أن الفجر الكاذب مستطيل ساطع، ممتد من الشرق إلى الغرب، مصعد كالعمود إلى أعلى، جهته وسط السماء، أو يميل قليلاً.

أما الفجر الصادق فإنه يخرج معترضًا مستطيرًا في الأفق، معترضًا من الجنوب إلى الشمال، يملأ بياضه وضوؤه الطرق والأسواق.

2 - أن الفجر الكاذب ساطع له بياض ونور، لكن بياضه ونوره يزول بالظلمة التي تعقبه، وتكون في أسفله مما يلي المشرق في الأفق.

أما الفجر الصادق فإن نوره وبياضه يزداد وربما كان في نوره توريد بحمرة بديعة، خاصة إذا كانت السماء صافية، وقد تظهر هذه الحمرة كما لو كانت كدرًا وغالبًا ما يكون في أفق المشرق في موضع طلوع الشمس، وينتقل بانتقالها، وهو مقدمة ضوئها.

3 - أن الفجر الكاذب له رأس مستدق إلى أعلى في السماء يشبه ذنب السرحان (الذئب) والفجر الصادق ليس كذلك.
এই শরয়ি বর্ণনা এবং সমজাতীয় অন্যান্য দলীলসমূহের ভিত্তিতে আলেমগণ দুই ফজরের—মিথ্যে ফজর (الفجر الكاذب) ও সত্য ফজর (الفجر الصادق)—মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য উল্লেখ করেছেন, যার মাধ্যমে উভয়ের বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্ট হয়; এর বর্ণনা নিম্নরূপ।

1 - মিথ্যে ফজর (الفجر الكاذب) হলো লম্বালম্বি উজ্জ্বল আলো, যা পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত থাকে এবং স্তম্ভের ন্যায় উপরের দিকে উঠে যায়। এর অবস্থান আকাশের মধ্যভাগে থাকে অথবা কিছুটা হেলে থাকে।

পক্ষান্তরে সত্য ফজর (الفجر الصادق) দিগন্তে আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত হয়ে উদিত হয়। এটি দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রসারিত থাকে এবং এর শুভ্রতা ও আলো রাস্তাঘাট ও বাজারসমূহকে আলোকিত করে দেয়।

2 - মিথ্যে ফজর (الفجر الكاذب) উজ্জ্বল হয় এবং এতে শুভ্রতা ও আলো থাকে, কিন্তু এর শুভ্রতা ও আলো পরবর্তী অন্ধকারের মাধ্যমে বিলীন হয়ে যায়। আর এই অন্ধকারটি দিগন্তের পূর্ব দিক সংলগ্ন নিচের অংশে অবস্থান করে।

পক্ষান্তরে সত্য ফজরের (الفجر الصادق) আলো ও শুভ্রতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিশেষ করে আকাশ পরিষ্কার থাকলে কখনও কখনও এর আলোতে চমৎকার রক্তিম আভা দেখা যায়। এই রক্তিমাভতা কখনও কিছুটা ঘোলাটে বর্ণে প্রকাশ পেতে পারে। এটি সাধারণত পূর্ব দিগন্তের সূর্যোদয়ের স্থানে উদিত হয় এবং সূর্যের গতির সাথে সাথে স্থান পরিবর্তন করে। মূলত এটি সূর্যের আলোর পূর্বাভাস।

3 - মিথ্যে ফজরের (الفجر الكاذب) উপরিভাগ আকাশের দিকে সরু হয়ে থাকে যা নেকড়ের লেজের (ذنب السرحان) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ; কিন্তু সত্য ফজর (الفجر الصادق) এমন নয়।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ২২)
4 - أن الفجر الكاذب يتشكل في الفلك، وليس في الأفق القريب من الأرض، بخلاف الفجر الصادق؛ فإنه يتشكل في الأفق القريب.

5 - أن الفجر الكاذب يؤثر فيه ضوء القمر، وفي ليالي وجود القمر جهة الشرق آخر الليل تصعب معرفته إلا على من لديه خبرة ودراية كافية بأوصافه وأحواله.

أما الفجر الصادق فإن تأثير ضوء القمر عليه محدود وضعيف، حتى لو كان القمر في جهة الشرق آخر الليل.

6 - أن الفجر الكاذب يخرج قبل الفجر الصادق بنحو ساعة، أو ساعة، إلا ربعًا، أو قريبًا من ذلك.

بينما يكون خروج الفجر الصادق بعد الكاذب، وقبل طلوع الشمس بوقت محدود، يزيد هذا الوقت وينقص بمقدار معلوم حسب دورة الشتاء والصيف (1).

وإذا تقررت هذه الفروق المهمة بين الفجرين الكاذب والصادق (الأول والثاني) فإن جميع الأحكام الشرعية المنوطة بطلوع الفجر إنما تتعلق بطلوع الفجر الصادق (الثاني)

--------------------------------------------

(1) انظر في الفروق بين الفجرين: جامع البيان (3/ 251، 252) تفسير سورة البقرة لابن عثيمين (2/ 357) شرح النووي على صحيح مسلم (3/ 163 - 167) بدائع الصنائع (1/ 122) بداية المجتهد (1/ 240) التمهيد (2/ 99، 100) الحاوي الكبير (2/ 28، 29) الشرح الممتع على زاد المستنقع (2/ 107) المحلى (2/ 223، 224) مشروع دراسة الشفق، المرحلة الأولى (11 - 14).
৪ - মিথ্যা ফজর জ্যোতিষ্কমণ্ডলে দৃশ্যমান হয়, পৃথিবীর নিকটবর্তী দিগন্তে নয়; পক্ষান্তরে সত্য ফজর নিকটবর্তী দিগন্তেই দৃশ্যমান হয়।

৫ - চাঁদের আলো মিথ্যা ফজরের ওপর প্রভাব ফেলে। রাতের শেষভাগে যখন পূর্ব আকাশে চাঁদের উপস্থিতি থাকে, তখন এর বৈশিষ্ট্য ও অবস্থা সম্পর্কে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ও পর্যাপ্ত জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া এটি চেনা কঠিন হয়ে পড়ে।

পক্ষান্তরে সত্য ফজরের ওপর চাঁদের আলোর প্রভাব সীমিত ও দুর্বল (ضعيف), এমনকি রাতের শেষভাগে চাঁদ পূর্ব আকাশে থাকলেও।

৬ - মিথ্যা ফজর সত্য ফজরের প্রায় এক ঘণ্টা অথবা পৌনে এক ঘণ্টা বা এর কাছাকাছি সময় আগে উদিত হয়।

অন্যদিকে সত্য ফজরের উদয় ঘটে মিথ্যা ফজরের পরে এবং সূর্যোদয়ের একটি নির্দিষ্ট সময় আগে। শীত ও গ্রীষ্মের আবর্তন অনুযায়ী এই সময়টি একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় বৃদ্ধি পায় বা হ্রাস পায় (১)।

যখন মিথ্যা ও সত্য (প্রথম ও দ্বিতীয়) এই দুই ভোরের মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যসমূহ সুনিশ্চিত হলো, তখন ফজর উদিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল শরয়ি বিধান মূলত সত্য ফজর (দ্বিতীয়) উদিত হওয়ার সাথেই সম্পৃক্ত।

--------------------------------------------

(১) দুই ফজরের মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে দেখুন: জামিউল বায়ান (৩/ ২৫১, ২৫২); ইবনে উসাইমীন কৃত তাফসীরে সূরা আল-বাকারা (২/ ৩৫৭); সহীহ মুসলিমের শারহুন নববী (৩/ ১৬৩ - ১৬৭); বাদায়িউস সানায়ি (১/ ১২২); বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/ ২৪০); আত-তামহীদ (২/ ৯৯, ১০০); আল-হাবি আল-কাবীর (২/ ২৮, ২৯); আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুসতানকি (২/ ১০৭); আল-মুহাল্লা (২/ ২২৩, ২২৪); মাশরু দিরাসাতুশ শাফাক, প্রথম পর্যায় (১১ - ১৪)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ২৩)
باتفاق أهل العلم، وأما الفجر الكاذب (الأول) فلا يتعلق بطلوعه حكم شرعي، وقد نصت الأحاديث السابقة على هذا (1).

 

‌‌ثالثًا: تحديد الفجر الصادق (ومقارنته بالتقاويم المتداولة):

كان المسلمون على مدى أربعة عشر قرنًا مضت يعتمدون في تحديد وقت صلاة الفجر على الرؤية بالعين المجردة حيث لم يكن يوجد ما يشوش عليهم رؤية ضوء الفجر، ولكن بعد ظهور الكهرباء وانتشار الضوء الصناعي لم يعد بالإمكان تحديد وقت صلاة الفجر داخل المدن والقرى، مما اضطر الناس إلى الاستعانة بالتقاويم شيئًا فشيئًا حتى أصبح الاعتماد عليها في تحديد مواقيت الصلاة اعتمادًا كليًا (2).

ومعظم التقاويم المستخدمة حاليًا لم تبن على دراسات ميدانية، إنما بنيت على ما يعرف عند الفلكيين بالشفق الفلكي، الذي يبدأ في الظهور عندما تكون الشمس على (18)

--------------------------------------------

(1) وسيأتي مزيد أدلة أثناء مسائل البحث إن شاء الله.

 

وانظر في اتفاق أهل العلم على هذه المسألة: تفسير القرآن العظيم (1/ 520) الجامع الصحيح (3/ 86) ابن بطال، شرح صحيح البخاري (2/ 251، 252) شرح النووي على صحيح مسلم (3/ 163، 167)؛ بدائع الصنائع (1/ 122) المغني (2/ 30) المحلى (2/ 224).

(2) انظر: مشروع دراسة الشفق، المرحلة الأولى (30).
আলেমগণের ঐকমত্য (اتفاق أهل العلم) অনুযায়ী, তবে প্রথম সুবহে কাযিব (ফজরুল কাযিব) উদিত হওয়ার সাথে কোনো শরয়ি বিধান (حكم شرعي) সংশ্লিষ্ট নয় এবং পূর্ববর্তী হাদিসসমূহ এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে (১)।

 

‌‌তৃতীয়ত: সুবহে সাদিক (ফজরুস সাদিক) নির্ধারণ (এবং প্রচলিত ক্যালেন্ডারসমূহের সাথে এর তুলনা):

বিগত চৌদ্দশ বছর যাবত মুসলমানগণ ফজরের নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরাসরি খালি চোখে দেখার ওপর নির্ভর করতেন, কারণ তখন ফজরের আলো দেখার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টির মতো কিছু ছিল না। তবে বিদ্যুতের আবিষ্কার এবং কৃত্রিম আলোর বিস্তারের পর শহর ও গ্রামগুলোতে ফজরের নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকার সাহায্য নিতে বাধ্য হয়, এমনকি বর্তমানে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে এগুলোর ওপর নির্ভরতা পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করেছে (২)।

বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ ক্যালেন্ডার মাঠপর্যায়ের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়নি, বরং এগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিকট 'অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টুইলাইট' বা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঊষা (الشفق الفلكي) হিসেবে পরিচিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা শুরু হয় যখন সূর্য ১৮ ডিগ্রিতে অবস্থান করে।

--------------------------------------------

(১) ইনশাআল্লাহ গবেষণার মাসয়ালাসমূহ (مسائل البحث) আলোচনার সময় এ বিষয়ে আরও অনেক দলিল আসবে।

 

এই মাসআলায় আলেমগণের ঐকমত্যের (اتفاق أهل العلم) বিষয়ে দেখুন: তাফসিরুল কুরআনিল আজিম (১/ ৫২০); আল-জামিউস সহিহ (৩/ ৮৬) ইবনে বাত্তাল; শারহু সহিহিল বুখারি (২/ ২৫১, ২৫২); শারহু নববী আলা সহিহি মুসলিম (৩/ ১৬৩, ১৬৭); বাদাইউস সানায়ি (১/ ১২২); আল-মুগনি (২/ ৩০); আল-মুহাল্লা (২/ ২২৪)।

(২) দেখুন: মাশরু দিরাসাতুশ শাফাক, প্রথম ধাপ (৩০)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ২৪)
درجة تحت الأفق، ورغم اتفاق الفلكيين على تعريف وتحديد أنواع الشفق، إلا أنه لا توجد دراسة فلكية علمية عملية مؤصلة تحدد الوقت الذي يبدأ أو ينتهي عنده الشفق (1).

والشفق ينقسم عند الفلكيين إلى ثلاثة أقسام:

الأول: الشفق المدني (civil twilight) ويحدث عندما يكون مركز الشمس تحت الأفق بست درجات قوسية قبل الشروق أو بعد الغروب؛ أي: أن الزاوية السمتية للشمس تساوي (96 درجة).

الثاني: الشفق البحري (Nautical Twilight)؛ ويحدث عندما يكون مركز الشمس تحت الأفق باثنتي عشرة درجة قوسية قبل الشروق أو بعد الغروب؛ أي: أن الزاوية السمتية للشمس تساوي (102 درجة).

الثالث: الشفق الفلكي (Astronoomical Twilight) ويحدث عندما يكون مركز الشمس تحت الأفق بثماني عشرة درجة قوسية قبل الشروق أو بعد الغروب، أي: أن الزاوية السمتية للشمس تساوي (108 درجات) (2).

ويعتبر الشفق الفلكي أول إضاءة من جهة الشرق، بينما

--------------------------------------------

(1) انظر: مشروع دراسة الشفق، المرحلة الأولى (30) أوقات الصلاة في البلاد ذات خطوط العرض العالية (14).

(2) انظر: علم الفلك والتقاويم (244، 245) مشروع دراسة الشفق، المرحلة الأولى (31).
...ডিগ্রি দিগন্তের নিচে। শফকের (الشفق) সংজ্ঞা এবং এর প্রকারভেদ নির্ধারণের বিষয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও, শফক কখন শুরু বা শেষ হয় তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো মৌলিক বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা নেই (১)।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিকট শফক (الشفق) তিন ভাগে বিভক্ত:

প্রথম: নাগরিক শফক (الشفق المدني) (civil twilight); এটি তখন সংঘটিত হয় যখন সূর্যোদয়ের পূর্বে বা সূর্যাস্তের পরে সূর্যের কেন্দ্র দিগন্তের নিচে ছয় ডিগ্রি কৌণিক অবস্থানে থাকে; অর্থাৎ সূর্যের জেনিথ কোণ (৯৬ ডিগ্রি)-এর সমান হয়।

দ্বিতীয়: সামুদ্রিক শফক (الشفق البحري) (Nautical Twilight); এটি তখন সংঘটিত হয় যখন সূর্যোদয়ের পূর্বে বা সূর্যাস্তের পরে সূর্যের কেন্দ্র দিগন্তের নিচে বারো ডিগ্রি কৌণিক অবস্থানে থাকে; অর্থাৎ সূর্যের জেনিথ কোণ (১০২ ডিগ্রি)-এর সমান হয়।

তৃতীয়: জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক শফক (الشفق الفلكي) (Astronomical Twilight); এটি তখন সংঘটিত হয় যখন সূর্যোদয়ের পূর্বে বা সূর্যাস্তের পরে সূর্যের কেন্দ্র দিগন্তের নিচে আঠারো ডিগ্রি কৌণিক অবস্থানে থাকে; অর্থাৎ সূর্যের জেনিথ কোণ (১০৮ ডিগ্রি)-এর সমান হয় (২)।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক শফক (الشفق الفلكي)-কে পূর্ব দিগন্তের প্রথম আলোকচ্ছটা হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শফক গবেষণা প্রকল্প, প্রথম পর্যায় (৩০); উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলোতে নামাজের সময়সূচি (১৪)।

(২) দেখুন: জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পঞ্জিকা (২৪৪, ২৪৫); শফক গবেষণা প্রকল্প, প্রথম পর্যায় (৩১)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ২৫)
الشفق البحري تظهر خلال مدته الخطوط الخارجية للأشكال دون الحاجة إلى الاستعانة بالضوء، كما تتلألأ نجوم القدر الأول في صفحة السماء. بينما يتميز الضوء خلال مدة الشفق المدني بأنه ضوء النهار، ولكنه مشوب بحمرة (1).

ومعظم التقاويم وضعت بداية توقيت صلاة الفجر على الشفق الفلكي، وبعضها يقدمه إلى (19 درجة) كتقويم أم القرى، من باب الاحتياط لعبادة الصيام، أو إلى (19.5 درجة) كتقويم هيئة المساحة المصرية (2).

وأشهر التقاويم التي يعتمد عليها الناس في مواقيت الصلاة في الوقت الراهن ما يلي:

1 - تقويم أم القرى؛ وهو أشهرها وزاوية الشمس تحت الأفق عند الفجر (19) درجة.

2 - تقويم رابطة العالم الإسلامي؛ وزاوية الشمس تحت الأفق عند الفجر (18 درجة).

3 - تقويم المساحة العامة المصرية؛ وزاوية الشمس تحت الأفق عند الفجر (19.5 درجة).

4 - تقويم جامعة العلوم الإسلامية بباكستان كراتشي، وزاوية

--------------------------------------------

(1) انظر: الموسوعة الفلكية (170، 171) مشروع دراسة الشفق، المرحلة الأولى (31، 32).

(2) انظر: أوقات الصلاة في البلاد ذات خطوط العرض العالية (14) مشروع دراسة الشفق، المرحلة الأولى (32).
সামুদ্রিক গোধূলিকালীন সময়ে কৃত্রিম আলোর সাহায্য গ্রহণ ছাড়াই বস্তুর বাহ্যিক সীমারেখা পরিলক্ষিত হয়, সেই সাথে প্রথম মাত্রার নক্ষত্রসমূহ আকাশের দিগন্তে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। পক্ষান্তরে, নাগরিক গোধূলিকালীন সময়ের আলো দিবালোকের ন্যায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়, তবে তা কিছুটা লালচে আভা মিশ্রিত থাকে (১)।

অধিকাংশ ক্যালেন্ডার ফজর সালাতের ওয়াক্তের শুরু জ্যোতির্বিজ্ঞানীয় গোধূলির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করেছে। আবার রোজা বা সিয়ামের ইবাদতের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোনো কোনো ক্যালেন্ডার একে (১৯ ডিগ্রি) পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে আসে, যেমন- উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার; অথবা (১৯.৫ ডিগ্রি) পর্যন্ত, যেমন- মিশরীয় জরিপ কর্তৃপক্ষের ক্যালেন্ডার (২)।

বর্তমান সময়ে সালাতের ওয়াক্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানুষ যে সকল প্রসিদ্ধ ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করে, সেগুলো নিম্নরূপ:

১ - উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার; এটি সেগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং এতে ফজরের সময় দিগন্তের নিচে সূর্যের কোণ (১৯) ডিগ্রি ধরা হয়।

২ - মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ (রাবিতা আল-আলাম আল-ইসলামি) ক্যালেন্ডার; এতে ফজরের সময় দিগন্তের নিচে সূর্যের কোণ হলো (১৮ ডিগ্রি)।

৩ - মিশরীয় সাধারণ জরিপ কর্তৃপক্ষের ক্যালেন্ডার; এতে ফজরের সময় দিগন্তের নিচে সূর্যের কোণ হলো (১৯.৫ ডিগ্রি)।

৪ - পাকিস্তানের করাচি জামিয়া উলুম ইসলামিয়া-এর ক্যালেন্ডার, এবং কোণ...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাওসুআ আল-ফালাকিয়্যাহ (১৭০, ১৭১), গোধূলি পর্যবেক্ষণ প্রকল্প, প্রথম পর্যায় (৩১, ৩২)।

(২) দেখুন: আওকাত আস-সালাত ফি আল-বিলাদ জাত খুতুুত আল-আরদ আল-আলিয়াহ (১৪), গোধূলি পর্যবেক্ষণ প্রকল্প, প্রথম পর্যায় (৩২)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ২৬)
الشمس تحت الأفق عند الفجر (18 درجة).

5 - تقويم الجمعية الإسلامية بأميركا الشمالية (المعروفة بالإسنا)؛ وزاوية الشمس تحت الأفق عند الفجر (15 درجة) (1).

ويلاحظ التفاوت الكبير بين هذه التقاويم؛ ما بين (19.5 إلى 15 درجة) وهذا يدل على أن هناك خللا فيها؛ إذ لا يعقل أن يبلغ التفاوت بين تقويمين قرابة عشرين دقيقة؛ ولعل السبب في هذا التفاوت الكبير والخلل أن معظم هذه التقاويم قد وضعت على الفجر الكاذب المعروف بـ (الشفق الفلكي) مع تقديم يسير في بعضها (2).

وهذه الإشكالية تفطن لها بعض أهل العلم المحققين، ونبهوا إلى وجودها، وأنه ينبغي عدم التعجل في إقامة صلاة الفجر اعتمادًا عليها.

قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "من البدع المنكرة ما أحدث في هذا الزمان من إيقاع الأذان الثاني قبل الفجر بنحو ثلث ساعة في رمضان، وإطفاء المصابيح التي جعلت علامة

--------------------------------------------

(1) انظر: التقاويم قديمًا وحديثًا (41، 48) مشروع دراسة الشفق، المرحلة الأولى (32) مواقيت الصلاة بين علماء الشريعة والفلك (19، 20).

(2) انظر: أوقات الصلاة في البلاد ذات خطوط العرض العالية (15) مشروع دراسة الشفق المرحلة الأولى (33).
সুবহে সাদিকের সময় দিগন্তের নিচে সূর্যের অবস্থান (১৮ ডিগ্রি)।

৫ - ইসলামিক সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা (যা ইসনা নামে পরিচিত) এর ক্যালেন্ডার; এবং সুবহে সাদিকের সময় দিগন্তের নিচে সূর্যের কোণ (১৫ ডিগ্রি) (১)।

এই ক্যালেন্ডারগুলোর মধ্যে বিশাল বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়; যা ১৯.৫ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে বিদ্যমান। এটি প্রমাণ করে যে, এগুলোতে ত্রুটি রয়েছে; কেননা দুটি ক্যালেন্ডারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় বিশ মিনিট হওয়া কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। সম্ভবত এই বিশাল বৈষম্য ও ত্রুটির কারণ হলো, এই ক্যালেন্ডারগুলোর অধিকাংশ ‘জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত গোধূলি’ হিসেবে পরিচিত মিথ্যা ভোর (الفجر الكاذب)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং কোনো কোনোটিতে সময় কিছুটা এগিয়ে দেওয়া হয়েছে (২)।

এই সমস্যাটি কিছু বিজ্ঞ গবেষক (المحققين) আলেম অনুধাবন করেছেন এবং তারা এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন যে, এই ক্যালেন্ডারগুলোর ওপর নির্ভর করে ফজর সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়।

হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই যুগে প্রবর্তিত গর্হিত (المنكرة) বিদআত (البدع) সমূহের অন্যতম হলো রমজান মাসে সুবহে সাদিকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘণ্টা আগে দ্বিতীয় আজান দেওয়া এবং সেহরির শেষ সময়ের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারিত প্রদীপগুলো নিভিয়ে ফেলা..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তাকাউইম কাদিমান ওয়া হাদিসান (৪১, ৪৮); মাশরু দিরাসাত আশ-শাফাক, প্রথম পর্যায় (৩২); মাওয়াকিত আস-সালাত বাইনা উলামা আশ-শারিয়াহ ওয়াল ফালাক (১৯, ২০)।

(২) দেখুন: আওকাত আস-সালাত ফিল বিলাদ জাতি খাতুত আল-আরদ আল-আলিয়া (১৫); মাশরু দিরাসাত আশ-শাফাক প্রথম পর্যায় (৩৩)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ২৭)
لتحريم الأكل والشرب على من يريد الصيام، زعمًا ممن أحدثه أنه للاحتياط في العبادة، ولا يعلم بذلك إلا آحاد الناس، وقد جرهم ذلك إلى أن صاروا لا يؤذنون إلا بعد الغروب بدرجة؛ لتمكين الوقت زعموا، فأخروا الفطر، وعجلوا السحور وخالفوا السنة، فلذلك قل عنهم الخير وكثر فيهم الشر (1).

وقال الشيخ الألباني رحمه الله: "وقد رأيت ذلك بنفسي مرارًا، من داري في جبل هملان، جنوب شرق عمان، ومكنني ذلك من التأكد من صحة ما ذكره بعض الغيورين على تصحيح عبادة المسلمين، أن أذان الفجر في بعض البلاد العربية يرفع قبل الفجر الصادق بزمن يتراوح بين العشرين والثلاثين دقيقة؛ أي قبل الفجر الكاذب أيضًا! وكثيرًا ما سمعت إقامة صلاة الفجر في بعض المساجد مع طلوع الفجر الصادق، وهم يؤذنون قبلها بنصف ساعة، وعلى ذلك فقد صلوا سنة الفجر قبل وقتها، وقد يستعجلون بأداء الفريضة أيضًا قبل وقتها في شهر رمضان .. وفي ذلك تضييق على الناس بالتعجيل بالإمساك عن الطعام، وتعريض لصلاة الفجر للبطلان، وما ذلك إلا بسبب اعتمادهم على التوقيت الفلكي، وإعراضهم عن التوقيت الشرعي … (2).

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (4/ 235).

(2) سلسلة الأحاديث الصحيحة (5/ 52) (2031).
যারা সিয়াম পালন করতে চায় তাদের জন্য পানাহার নিষিদ্ধ করার নিমিত্তে—এটি প্রবর্তনকারীদের দাবি হলো এটি ইবাদতের ক্ষেত্রে একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা—অথচ গুটি কয়েক ব্যক্তি (آحاد) ব্যতীত এ সম্পর্কে কেউ জানে না। এর ফলে তারা সূর্যাস্তের পর এক ডিগ্রি (সময়) অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত আজান দেয় না; তাদের দাবি অনুযায়ী সময় নিশ্চিত হওয়ার জন্য। ফলে তারা ইফতার বিলম্বিত করে এবং সাহরি দ্রুত গ্রহণ করে সুন্নাহর বিরুদ্ধাচরণ করে। এই কারণেই তাদের মাঝে কল্যাণ হ্রাস পেয়েছে এবং অনিষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে (১)।

শাইখ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমি আম্মানের দক্ষিণ-পূর্বে জাবালে হামলানে অবস্থিত আমার নিজ বাসভবন থেকে বহুবার এটি স্বচক্ষে দেখেছি। এটি আমাকে মুসলিমদের ইবাদত সংশোধনে সচেষ্ট কিছু ব্যক্তির বক্তব্যের বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করতে সক্ষম করেছে যে, কিছু আরব দেশে ফজর সাদিকের বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট আগে আজান দেওয়া হয়; অর্থাৎ ফজর কাযিবের আগেও! আমি অনেক সময় কিছু মসজিদে ফজর সাদিক উদিত হওয়ার সাথে সাথেই ফজরের নামাজের ইকামত হতে শুনেছি, অথচ তারা তার আধা ঘণ্টা পূর্বেই আজান দিয়েছে। এমতাবস্থায় তারা ফজরের সুন্নাত নামাজ ওয়াক্ত হওয়ার আগেই আদায় করেছে, এমনকি তারা রমজান মাসে ওয়াক্ত হওয়ার আগেই ফরজ সালাত আদায়ের ক্ষেত্রেও তাড়াহুড়ো করে থাকে... এতে খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার সময় এগিয়ে এনে মানুষের ওপর সংকীর্ণতা সৃষ্টি করা হয় এবং ফজরের সালাত বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আর এর মূল কারণ হলো জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক সময়ের ওপর তাদের নির্ভরতা এবং শরয়ি সময় থেকে বিমুখতা... … (২)।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (৪/২৩৫)।

(২) সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ (৫/৫২) (২০৩১)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال الشيخ محمد بن صالح العثيمين رحمه الله: بالنسبة لصلاة الفجر، المعروف أن التوقيت الذي يعرفه الناس ليس بصحيح، فالتوقيت مقدم على الوقت بخمس دقائق على أقل تقدير، وبعض الإخوان خرجوا إلى البر، فوجدوا أن الفرق بين التوقيت الذي بأيدي الناس، وبين طلوع الفجر نحو ثلث ساعة فالمسألة خطيرة، ولهذا لا ينبغي للإنسان في صلاة الفجر أن يبادر في إقامة الصلاة، وليتأخر نحو ثلث ساعة أو (25) دقيقة، حتى يتيقن أن الفجر قد حضر وقته (1).

ونظرًا لخطورة هذه المسألة وتعلقها بالصلاة التي هي آكد أركان الإسلام بعد الشهادتين؛ فقد اهتم بها أهل العلم قديمًا وحديثًا، وعقد من أجلها العديد من الندوات والمؤتمرات، وصدر فيها العديد من الفتاوى من الهيئات العلمية الشرعية المتخصصة (2).

نذكر منها بعض ما صدر في هذه البلاد المباركة؛ حيث أصدرت هيئة كبار العلماء قرارها رقم (61) وتاريخ (12/

--------------------------------------------

(1) شرح رياض الصالحين (3/ 216) وانظر: الشرح الممتع على زاد المستقنع (2/ 48).

(2) يطول البحث بذكرها وعرض ما جاء فيها من توصيات وقرارات، وهي ليست مقصود البحث، وقد جمعها الأستاذ الدكتور محمد الهواري، في بحثه القيم: مواقيت الصلاة بين علماء الشريعة والفلك، المقدم للمجتمع الفقهي بمكة في دورته التاسعة عشرة، المنعقدة في مكة (22 - 27) (10/ 1428 هـ).
শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ফজর সালাতের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন যে, মানুষ যে সময়সূচি জানে তা সঠিক (صحيح) নয়। কারণ সময়সূচিটি প্রকৃত সময়ের অন্তত পাঁচ মিনিট আগে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু ভাই মরুভূমিতে গিয়েছেন এবং তারা দেখেছেন যে, মানুষের হাতে থাকা সময়সূচি এবং সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার মধ্যে প্রায় বিশ মিনিটের ব্যবধান রয়েছে। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। একারণে ফজর সালাতের ক্ষেত্রে মানুষের উচিত হবে না দ্রুত সালাত শুরু করা, বরং প্রায় বিশ মিনিট বা ২৫ মিনিট বিলম্ব করা উচিত, যাতে ফজর উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত (تيقن) হওয়া যায় (১)।

এই বিষয়ের গুরুত্ব এবং শাহাদাতাইনের পর ইসলামের সর্বাপেক্ষা সুদৃঢ় রুকন সালাতের সাথে এর সংশ্লিষ্টতার কারণে প্রাচীন ও বর্তমানকালের আলিমগণ এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। এ উদ্দেশ্যে বহু সেমিনার ও কনফারেন্স আয়োজিত হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ শরয়ি ইলমি সংস্থাগুলো থেকে এ বিষয়ে অনেক ফতোয়া (فتوى) প্রকাশিত হয়েছে (২)।

আমরা এই বরকতময় রাষ্ট্রে যা প্রকাশিত হয়েছে তার কিছু উল্লেখ করছি; যেখানে 'হাইআতু কিবারিল উলামা' তাদের ৬১ নম্বর সিদ্ধান্ত জারি করেছে যার তারিখ (১২/

--------------------------------------------

(১) শারহু রিয়াদিস সলিহিন (৩/ ২১৬) এবং দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি আলা জাদিল মুস্তাকনি (২/ ৪৮)।

(২) এ সংক্রান্ত সুপারিশ ও সিদ্ধান্তগুলো উল্লেখ ও পর্যালোচনা করলে আলোচনা দীর্ঘায়িত হবে, যা এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য নয়। প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আল-হাওয়ারি তাঁর মূল্যবান গবেষণা: 'মাওয়াকিতুস সালাতি বাইনা উলামায়িশ শারিয়াহ ওয়াল ফালাক'-এ এগুলো সংকলন করেছেন, যা মক্কায় (২২ - ২৭/ ১০/ ১৪২৮ হিজরি) অনুষ্ঠিত 'মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী'র ঊনবিংশতম অধিবেশনে পেশ করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ২৯)
4/ 1398 هـ) بعد دراسة أعدتها اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء جاء فيه مختصرًا:

أولاً: من كان يقيم في بلاد يتمايز فيها الليل من النهار بطلوع فجر وغروب شمس، إلا أن نهارها يطول جدًا في الصيف ويقصر في الشتاء، وجب عليه أن يصلي الصلوات الخمس في أوقاتها المعروفة شرعًا.

ثانيًا: من كان يقيم في بلاد لا تغيب عنها الشمس صيفًا، ولا تطلع فيها الشمس شتاء، أو في بلاد يستمر نهارها إلى ستة أشهر، ويستمر ليلها ستة أشهر مثلاً، وجب عليهم أن يصلوا الصلوات الخمس في كل أربع وعشرين ساعة، وأن يقدروا لها أوقاتها ويحددوها، معتمدين في ذلك على أقرب البلاد إليهم، تتمايز فيها أوقات الصلوات المفروضة بعضها من بعض (1).

وأما المجمع الفقهي الإسلامي، برابطة العالم الإسلامي فقد أولى هذا الموضوع عنايته الفائقة؛ فدرسه في الدورة الخامسة المنعقدة في الفترة (8 - 16/ 1402 هـ) وأصدر بشأنه قرارًا. ثم أعاد دراسته في الدورة التاسعة المنعقدة في الفترة (12 - 19/ 7/ 1406 هـ) وأصدر بشأنه قرارًا، ولا زالت بعض إشكالات هذا الموضوع قائمة لدى المسلمين

--------------------------------------------

(1) انظر: أبحاث هيئة كبار العلماء (4/ 459 - 462).
(৪/ ১৩৯৮ হিজরি) বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইফতা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত একটি পর্যালোচনার পর তাতে সংক্ষেপে যা বর্ণিত হয়েছে:

প্রথমত: যারা এমন সব দেশে বসবাস করেন যেখানে সুবহে সাদেক উদয় এবং সূর্যান্তের মাধ্যমে দিন ও রাত পৃথক করা যায়, তবে গ্রীষ্মকালে দিন অত্যন্ত দীর্ঘ হয় এবং শীতকালে অত্যন্ত ছোট হয়, তাদের জন্য শরয়িভাবে সুপরিচিত নির্দিষ্ট সময়েই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা আবশ্যক।

দ্বিতীয়ত: যারা এমন দেশে বসবাস করেন যেখানে গ্রীষ্মকালে সূর্য অস্ত যায় না এবং শীতকালে সূর্য উদিত হয় না, অথবা এমন দেশে যেখানে উদাহরণস্বরূপ দিন টানা ছয় মাস এবং রাত টানা ছয় মাস স্থায়ী হয়, তাদের জন্য প্রতি চব্বিশ ঘণ্টায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা আবশ্যক। তারা নামাজের সময়গুলো অনুমান করে নির্ধারণ করবেন এবং এক্ষেত্রে তারা তাদের নিকটবর্তী এমন দেশের সময়ের ওপর নির্ভর করবেন যেখানে ফরজ নামাজের ওয়াক্তসমূহ একটি থেকে অন্যটি পৃথকভাবে চিহ্নিত করা যায় (১)।

আর রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর অধীনে পরিচালিত ইসলামি ফিকহ একাডেমি এই বিষয়টির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে; তারা ১৪০২ হিজরির ৮-১৬ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পঞ্চম অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করেছে এবং এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত জারি করেছে। এরপর ১৪০৬ হিজরির ১২-১৯/৭ তারিখে অনুষ্ঠিত নবম অধিবেশনে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে আরেকটি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। তবে মুসলিমদের মধ্যে এই বিষয়ের কিছু জটিলতা এখনও বিদ্যমান রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আবহাস হাইআতি কিবারিল উলামা (৪/ ৪৫৯ - ৪৬২)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ৩০)
المقيمين في البلاد ذات خطوط العرض العالية؛ ولأجل هذا فقد أعاد المجمع الفقهي دراسة الموضوع في دورته التاسعة عشرة المنعقدة في الفترة (22 - 27/ 10/ 1428 هـ) وأصدر بشأنه القرار الثاني، والذي جاء فيه مختصرًا ما يلي:

يؤكد المجلس على ما جاء في القرار الثالث في دورته الخامسة، والقرار السادس في دورته التاسعة؛ حيث قسم القرار المناطق ذات الدرجات العالية إلى ثلاث مناطق، وذكر أحكامها.

الأولى: البلاد الواقعة: ما بين خطي العرض (45) و (48) درجة شمالاً وجنوبًا، وتتميز فيها العلامات الظاهرة للأوقات في (24 ساعة) طالت الأوقات أو قصرت؛ فهذه يجب على أهلها الالتزام بالصلاة في مواقيتها الشرعية، وفي الصوم بوقته الشرعي من تبين الفجر الصادق إلى غروب الشمس، عملاً بالنصوص الشرعية في أوقات الصلاة والصوم.

الثانية: البلاد الواقعة: ما بين خطي العرض (48 درجة) و (66 درجة) شمالاً وجنوبًا، وتنعدم فيها بعض العلامات الفلكية للأوقات في عدد من الأيام؛ كأن لا يغيب الشفق الذي يبتدئ به العشاء، وتمتد نهاية وقت المغرب حتى يتداخل مع الفجر؛ فالحكم في هذه البلاد أن تقدر مواقيت الصلاة فيها بالقياس الزمني على نظائرها في خط عرض (45
উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলোতে বসবাসকারীদের জন্য; এই কারণে ফিকহ একাডেমি ২২-২৭/ ১০/ ১৪২৮ হিজরী তারিখে অনুষ্ঠিত তার উনবিংশতম অধিবেশনে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করেছে এবং এ বিষয়ে দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত জারি করেছে, যার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:

কাউন্সিল তার পঞ্চম অধিবেশনের তৃতীয় সিদ্ধান্ত এবং নবম অধিবেশনের ষষ্ঠ সিদ্ধান্তে যা বর্ণিত হয়েছে তা পুনর্ব্যক্ত করছে; যেখানে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উচ্চ অক্ষাংশের অঞ্চলগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বিধান বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রথম: উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের (৪৫) এবং (৪৮) ডিগ্রির মধ্যে অবস্থিত দেশসমূহ; এখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সময়ের স্পষ্ট চিহ্নসমূহ প্রকাশ পায়, সময় দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত। এই অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য নামাজের শরয়ী ওয়াক্তসমূহ মেনে চলা এবং রোজার ক্ষেত্রে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শরয়ী সময় অনুযায়ী রোজা রাখা আবশ্যক, নামাজ ও রোজার সময়ের ব্যাপারে শরয়ী দলীলসমূহের ওপর আমল করার নিমিত্তে।

দ্বিতীয়: উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের (৪৮ ডিগ্রি) এবং (৬৬ ডিগ্রি) এর মধ্যে অবস্থিত দেশসমূহ; যেখানে বছরের কিছু দিন সময়ের কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞানসম্মত চিহ্ন অদৃশ্য হয়ে যায়; যেমন- এশার ওয়াক্ত শুরু হওয়ার শফক বা গোধূলি অদৃশ্য হয় না এবং মাগরিবের সময়ের শেষ সীমা সুবহে সাদিকের সাথে মিশে যাওয়া পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়। এই অঞ্চলের দেশগুলোর বিধান হলো, এখানে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হবে ৪৫ ডিগ্রি অক্ষাংশের সমপর্যায়ের দেশগুলোর সাথে সময়ের তুলনামূলক পরিমাপের মাধ্যমে (৪৫
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ৩১)
درجة) باعتباره أقرب الأماكن التي تتيسر فيها العبادة أو التمييز؛ فإذا كان العشاء يبدأ مثلاً بعد ثلث الليل في خط عرض (45 درجة) يبدأ كذلك بالنسبة إلى ليل خط عرض المكان المراد تعيين الوقت فيه، ومثل هذا يقال في الفجر.

والثالثة: البلاد الواقعة: فوق خط عرض (66) درجة شمالاً وجنوبًا إلى القطبين، وتنعدم فيها العلامات الظاهرة للأوقات في فترة طويلة من السنة نهارًا أو ليلاً، فتقدر فيها جميع الأوقات بالقياس الزمني على نظائرها، في خط عرض (45 درجة) وذلك بأن تقسم الأربع والعشرون ساعة في المنطقة من (66 درجة) إلى القطبين، كما تقسم الأوقات الموجودة في خط عرض (45 درجة) فإذا كان وقت الفجر في خط عرض (45 درجة) في الساعة الثانية صباحًا مثلاً كان الفجر كذلك في البلد المراد تعيين الوقت فيه، وبديء الصوم منه حتى وقت المغرب المقدر.

ويوصي مجلس المجمع برابطة العالم الإسلامي بإنشاء مركز في مكة المكرمة للعناية بالعلوم الشرعية الفلكية؛ ليكون مرجعًا للمسلمين في مواقيت الصلاة في جميع مدن العالم، وخاصة البلاد غير الإسلامية، ولإصدار تقويم هجري موحد لجميع المسلمين، وللسعي إلى التقريب بين بلدان العالم الإسلامي في شأن رؤية الهلال، والتعاون مع المراصد الفلكية في سبيل تحقيق هذا الغرض. كما يرى المجلس تكليف
(ডিগ্রি অক্ষাংশ) কারণ এটি ইবাদত পালন বা সময়ের পার্থক্য অনুধাবনের জন্য সহজলভ্য নিকটতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। উদাহরণস্বরূপ, যদি ৪৫ ডিগ্রি অক্ষাংশে রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর এশার ওয়াক্ত শুরু হয়, তবে যে নির্দিষ্ট স্থানের ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হচ্ছে তার রাতের বেলাতেও একইভাবে তা শুরু হবে; ফজরের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য হবে।

তৃতীয় ক্ষেত্র: ৬৬ ডিগ্রি উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে মেরুদ্বয় পর্যন্ত অবস্থিত দেশসমূহ, যেখানে বছরের দীর্ঘ সময় দিনে বা রাতে ওয়াক্তের স্পষ্ট আলামতসমূহ অনুপস্থিত থাকে। সেক্ষেত্রে ৪৫ ডিগ্রি অক্ষাংশের সমজাতীয় সময়ের সাথে সময়ের পরিমাপের ভিত্তিতে সকল ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হবে। আর তা এভাবে যে, ৬৬ ডিগ্রি থেকে মেরু অঞ্চল পর্যন্ত চব্বিশ ঘন্টাকে এমনভাবে বিভক্ত করা হবে যেমনটি ৪৫ ডিগ্রি অক্ষাংশের বিদ্যমান ওয়াক্তসমূহকে বিভক্ত করা হয়। যদি ৪৫ ডিগ্রি অক্ষাংশে ফজরের ওয়াক্ত উদাহরণস্বরূপ ভোর দুইটায় শুরু হয়, তবে যে দেশের ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হচ্ছে সেখানেও ফজর একইভাবে শুরু হবে এবং সেখান থেকেই সিয়াম শুরু হয়ে নির্ধারিত মাগরিবের ওয়াক্ত পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।

রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর ফিকহ একাডেমি কাউন্সিল মক্কাতুল মোকাররমায় শরয়ী জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণার জন্য একটি কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করছে; যেন এটি বিশ্বের সকল শহরের, বিশেষ করে অমুসলিম দেশগুলোর নামাজের সময়ের ক্ষেত্রে মুসলমানদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে এবং সকল মুসলমানদের জন্য একটি অভিন্ন হিজরি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা যায়। পাশাপাশি চাঁদ দেখার বিষয়ে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা এবং এই লক্ষ্য অর্জনে জ্যোতির্বিদ্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সাথে সহযোগিতা করার আহ্বান জানায়। এছাড়া কাউন্সিল দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে...
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ৩২)
الأمانة العامة للمجمع بتكوين لجنة شرعية فلكية لإعداد تقويم للصلوات في البلاد ذات خطوط العرض العالية، على ما ورد في القرار (1).

وبعد هذا العرض الملخص عن الموضوع، فإن تحديد الفجر الصادق يختلف عما هو مثبت في التقاويم، ولم يصدر بحقه إلى الآن تقويم زمني شامل معتمد موحد، وأقرب التقاويم إلى تحديده: تقويم رابطة العالم الإسلامي، وتقويم جامعة العلوم الإسلامية بالباكستان.

ومن خلال بعض القواعد والضوابط التي وضعها أهل العلم والمختصون، يمكن تحديد وقت طلوع الفجر الصادق على ما يلي:

أولا: من خلال كلام الشيخين الجليلين؛ الألباني، وابن عثيمين عليهما رحمة الله، فيما سبق، فإن الفجر الصادق يكون بعد وقت الأذان المحدد في التقاويم (خصوصًا تقويم أم القرى) بمدة تتراوح بين (20 إلى 30 دقيقة) حسب اختلاف الصيف والشتاء (2).

ثانيًا: من خلال الاستقراء والتجارب التي قام بها بعض علماء الفلك المختصين، تبين أن وقت الفجر والعشاء يرتبطان

--------------------------------------------

(1) ملخصًا من نسخة مكتوبة على الآلة لقرارات المجمع في دورته (19) وانظر: قرارات المجمع الفقهي الإسلامي (203 - 205).

(2) انظر: ما سبق عنهما في هذا البحث.
একাডেমির সাধারণ সচিবালয় উচ্চ অক্ষাংশ বিশিষ্ট দেশসমূহে নামাজের সময়সূচী প্রস্তুতের জন্য একটি শরয়ি ও জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক কমিটি গঠন করেছে, যা সিদ্ধান্ত (১)-এ বর্ণিত হয়েছে।

এই বিষয়ের উপর সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার পর প্রতীয়মান হয় যে, প্রকৃত প্রভাত (الفجر الصادق) নির্ধারণের বিষয়টি ক্যালেন্ডারগুলোতে যা লিপিবদ্ধ রয়েছে তার থেকে ভিন্ন। এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সর্বজনীন, স্বীকৃত ও সমন্বিত সময়সূচী প্রকাশিত হয়নি। তবে এটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী সময়সূচীসমূহ হলো: রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামীর ক্যালেন্ডার এবং পাকিস্তানের জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়ার ক্যালেন্ডার।

আলেমগণ এবং বিশেষজ্ঞগণ কর্তৃক নির্ধারিত কিছু নিয়ম ও মানদণ্ডের মাধ্যমে প্রকৃত প্রভাত (الفجر الصادق) উদিত হওয়ার সময় নিম্নরূপভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব:

প্রথমত: ইতিপূর্বে উল্লিখিত দুই জন সম্মানিত শাইখ; আলবানী এবং ইবনে উসাইমীন (আল্লাহ তাঁদের উপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, প্রকৃত প্রভাত (الفجر الصادق) ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত আযানের সময়ের (বিশেষ করে উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার) ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরে হয়, যা গ্রীষ্ম ও শীতকালের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে (২)।

দ্বিতীয়ত: বিশেষজ্ঞ জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণের কৃত অনুসন্ধান ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ফজর ও ইশার সময় দুটি একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত

--------------------------------------------

(১) একাডেমির ১৯তম অধিবেশনের সিদ্ধান্তসমূহের টাইপকৃত কপির সংক্ষিপ্তসার। আরও দেখুন: ইসলামি ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্তসমূহ (২০৩ - ২০৫)।

(২) এই গবেষণাপত্রে তাঁদের সম্পর্কে ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে তা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইবাদাতিল মুতারাত্তিবাতি আলা তুলুইল ফাজরিস সানি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بانتشار الضوء في ظلام الليل أو اختفائه كليًا، نتيجة انعكاس ضوء الشمس غير المباشر على طبقات الغلاف الجوي، المحيطة بالكرة الأرضية.

وأن وقت الشفق الأبيض والفجر الصادق يتساويان في المكان الواحد تقريبًا، وأنهما يرتبطان بحركة الشمس الظاهرية تحت الأفق. وأن ضوء الشمس غير المباشر والمنعكس على الغلاف الجوي ينتهي أو يبدأ عندما تصل درجة ميل الشمس تحت الأفق بما يعادل (18 درجة) (1).

وأن الشعاع الضوئي عندما يقابل الغلاف الجوي، بزاوية أكبر من (18 درجة) وهي ما يعرف بالزاوية الحرجة، فإنه ينعكس إلى الفضاء الخارجي، ولا يصل إلى سطح الأرض؛ وهو ما يعرف بالفجر الكاذب، ويستمر هكذا مع حركة الشمس الظاهرية، حتى تكون هذه الزاوية مساوية (18 درجة) وعند ذلك ينعكس الشعاع الشمس على الطبقة الهوائية، ويتجه إلى سطح الأرض حيث يبدأ ظهور الفجر الصادق (2).

إذًا من خلال ذلك فإن الفلكيين يرون أن الفجر الصادق يبدأ عندما تكون زاوية الشمس تحت الأفق الشرقي (18 درجة) ويوافق بزوغ أول خيط من النور الأبيض وانتشاره

--------------------------------------------

(1) انظر: مواقيت الصلاة بين علماء الشريعة والفلك (17).

(2) بتصرف من مواقيت الصلاة بين علماء الشريعة والفلك (19).
পৃথিবীর চারদিকের বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলোর ওপর সূর্যের পরোক্ষ আলোর প্রতিফলনের ফলে রাতের অন্ধকারে আলোর বিস্তরণ বা এর সম্পূর্ণ বিলুপ্তির মাধ্যমে।

একই স্থানে সাদা গোধূলি (الشفق الأبيض) এবং সুবহে সাদিক (الفجر الصادق)-এর সময় প্রায় সমান হয়ে থাকে এবং এই উভয়ই দিগন্তের নিচে সূর্যের দৃশ্যমান গতির সাথে সম্পৃক্ত। আর বায়ুমণ্ডলে প্রতিফলিত সূর্যের পরোক্ষ আলো তখন শেষ হয় বা শুরু হয় যখন দিগন্তের নিচে সূর্যের অবনতি বা কোণ ১৮ ডিগ্রির (১) সমান হয়।

আলোক রশ্মি যখন ১৮ ডিগ্রির বেশি কোণে—যা 'সংকট কোণ' হিসেবে পরিচিত—বায়ুমণ্ডলের সম্মুখীন হয়, তখন তা মহাশূন্যে প্রতিফলিত হয় এবং ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায় না; একেই সুবহে কাজিব (الفجر الكاذب) বলা হয়। সূর্যের দৃশ্যমান গতির সাথে পরিস্থিতি এমনভাবে চলতে থাকে যতক্ষণ না এই কোণটি ১৮ ডিগ্রির সমান হয়। তখন সূর্যের রশ্মি বায়ুমণ্ডলের স্তরে প্রতিফলিত হয়ে ভূপৃষ্ঠের দিকে ধাবিত হয় এবং তখনই সুবহে সাদিক (الفجر الصادق) (২) প্রকাশ পেতে শুরু করে।

সুতরাং এর মাধ্যমে জ্যোতির্বিদগণ মনে করেন যে, সুবহে সাদিক (الفجر الصাদق) তখনই শুরু হয় যখন পূর্ব দিগন্তের নিচে সূর্যের কোণ ১৮ ডিগ্রি হয় এবং এটি সাদা আলোর প্রথম রেখা প্রকাশ পাওয়া ও তা ছড়িয়ে পড়ার সাথে সংগতিপূর্ণ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাওয়াকিতুস সালাতি বাইনা উলামায়িশ শারীয়াহ ওয়াল ফালাক (১৭)।

(২) মাওয়াকিতুস সালাতি বাইনা উলামায়িশ শারীয়াহ ওয়াল ফালাক (১৯) থেকে সংক্ষেপিত।