(খণ্ড: ১)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: -)
لمعات التنقيح في شرح مشكاة المصابيح القسم: شروح الحديث
الكتاب: لمعات التنقيح في شرح مشكاة المصابيح
المؤلف: عبد الحق بن سيف الدين بن سعد اللَّه البخاري الدِّهلوي الحنفي «المولود بدهلي في الهند سنة (958 هـ) والمتوفى بها سنة (1052 هـ) رحمه اللَّه تعالى»
تحقيق وتعليق: الأستاذ الدكتور تقي الدين الندوي
الناشر: دار النوادر، دمشق - سوريا
الطبعة: الأولى، 1435 هـ - 2014 م
عدد الأجزاء: 10
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الأولى 1440
মিশকাতুল মাসাবীহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লুমআতুত তানকীহ বিভাগ: হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ
গ্রন্থ: মিশকাতুল মাসাবীহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লুমআতুত তানকীহ
লেখক: আবদুল হক ইবনে সাইফুদ্দীন ইবনে সাদুল্লাহ আল-বুখারী আদ-দেহলভী আল-হানাফী «যিনি ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহন করেন (৯৫৪ হিজরী) এবং সেখানেই মৃত্যু বরণ করেন (১০৫২ হিজরী) আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন»
তাহকীক ও তালীক: প্রফেসর ডক্টর তাকীউদ্দীন নদভী
প্রকাশক: দারুন নাওয়াদির, দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৫ হিজরী - ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১০
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতা আল-নাসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আল-রাজহী চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল উলা ১৪৪০
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١)
لمعات التنقيح في شرح مشكاة المصابيح
للخطيب التبريزي (ت: 741 هـ)
تأليف العلامة المحدث عبد الحق الدهلوي
عبد الحق بن سيف الدين بن سعد اللَّه البخاري الدهلوي الحنفي
المولود بدهلي في الهند سنة (958 هـ) والمتوفى بها سنة (1052 هـ) رحمه اللَّه تعالى
تحقيق وتعليق الأستاذ الدكتور تقي الدين الندوي
طبع على نفقة سمو الشيخ سلطان بن زايد آل نهيان
ممثل صاحب السمو رئيس دولة الإمارات العربية المتحدة
المجلد الأول
دار النوادر
লামাআতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
খতীব তাবরিযী (মৃত্যু: ৭৪১ হি.) প্রণীত মূল গ্রন্থের
রচনায়: আল্লামা মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী
আব্দুল হক ইবনে সাইফুদ্দীন ইবনে সাদুল্লাহ বুখারী দেহলভী হানাফী
ভারতের দিল্লিতে জন্ম ৯৫৮ হিজরীতে এবং সেখানেই মৃত্যু ১০৫২ হিজরীতে, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
তাহকীক ও তালীক: প্রফেসর ডক্টর তাকীউদ্দীন নদভী
মহামান্য শেখ সুলতান বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের অর্থায়নে মুদ্রিত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি
প্রথম খণ্ড
দারুন নাওয়াদির
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
لمعات التنقيح في شرح مشكاة المصابيح (1)
মিশকাতুল মাসাবীহ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লুমআতুত তানকীহ (১)
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
دار النوادر
المؤسس والمالك نور الدين طالب
مؤسسة ثقافية علمية تُعنى بالتراث العربي والإسلامي والدراسات الأكاديمية والجامعية المتخصصة بالعلوم الشرعية واللغوية والإنسانية تأسست في دمشق سنة 1422 هـ - 2002 م، وأُشهرت سنة 1426 هـ - 2006 م.
سوريا - دمشق - الحلبوني:
ص. ب: 34306
جميع الحقوق محفوظة للمحقق
يمنع طبع هذا الكتاب أو أي جزء منه بكافة طرق الطبع والتصوير والنقل والترجمة والتسجيل المرئي أو المسموع أو استخدامه حاسوبيًا بكافة أنواع الاستخدام وغير ذلك من الحقوق الفكرية والمادية إلا بإذن خطي من المؤسسة.
الطبعة الأولى
1425 هـ - 2014 م
E-mail: info@daralnawader.com
Website: www.daralnawader.com
شركات شقيقة
دار النوادر اللبنانية - لبنان - بيروت - ص. ب: 14/ 4462 - هاتف: 652528 - فاكس: 652529 (009611)
دار النوادر الكويتية - الكويت - ص. ب: 1008 - هاتف: 22453232 - فاكس: 22453323 (00965)
دار النوادر التونسية - تونس - ص. ب: 106 (أريانة) - هاتف: 70725546 - فاكس: 70725547 (00216)
مركز الشيخ أبي الحسن الندوي للبحوث والدراسات الإسلامية
مظفرفور - أعظم جراه - يوبي - الهند
الهاتف: 5462270104 - 0091
الفاكس: 5462270786 - 0091
متحرك: 9450876465 - 0091
البريد الإلكتروني: drnadwi@gmail.com
দারুন নাওয়াদির
প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক: নুর উদ্দীন তালিব
এটি একটি সাংস্কৃতিক ও তাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠান যা আরবি ও ইসলামি ঐতিহ্য এবং শরিয়ত, ভাষাগত ও মানবিক বিজ্ঞানে বিশেষায়িত একাডেমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের গবেষণার কাজ পরিচালনা করে। এটি ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৪২৬ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে আত্মপ্রকাশ করে।
সিরিয়া - দামেস্ক - আল-হালবুনি:
পো. বক্স: ৩৪৩০৬
সকল স্বত্ব গবেষকের নিকট সংরক্ষিত
প্রতিষ্ঠানের লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই বই বা এর যেকোনো অংশ মুদ্রণ, ফটোকপি, অনুলিপি, অনুবাদ, দৃশ্যমান বা শ্রবণযোগ্য রেকর্ডিং বা কম্পিউটারাইজড ব্যবহারসহ বুদ্ধিবৃত্তিক ও বস্তুগত অধিকারের সকল প্রকার ব্যবহার নিষিদ্ধ।
প্রথম সংস্করণ
১৪২৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
ই-মেইল: info@daralnawader.com
ওয়েবসাইট: www.daralnawader.com
সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ
দারুন নাওয়াদির আল-লুবনানিয়া - লেবানন - বৈরুত - পো. বক্স: ১৪/ ৪৪৬২ - টেলিফোন: ৬৫২৫২৮ - ফ্যাক্স: ৬৫২৫২৯ (০০৯৬১১)
দারুন নাওয়াদির আল-কুয়েতিয়া - কুয়েত - পো. বক্স: ১০০৮ - টেলিফোন: ২২৪৫৩২৩২ - ফ্যাক্স: ২২৪৫৩৩২৩ (০০৯৬৫)
দারুন নাওয়াদির আল-তুনুসিয়া - তিউনিসিয়া - পো. বক্স: ১০৬ (আরিয়ানা) - টেলিফোন: ৭০৭২৫৫৪৬ - ফ্যাক্স: ৭০৭২৫৫৪৭ (০০২১৬)
শেখ আবুল হাসান নদভী সেন্টার ফর ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ
মুজাফফরপুর - আজমগড় - ইউপি - ভারত
টেলিফোন: ৫৪৬২২৭০১০৪ - ০০৯১
ফ্যাক্স: ৫৪৬২২৭০৭৮৬ - ০০৯১
মোবাইল: ৯৪৫০৮৭৬৪৬৫ - ০০৯১
ই-মেইল: drnadwi@gmail.com
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
المقدمات* تقديم الأستاذ الدكتور عبد اللَّه بن عبد المحسن التركي (الأمين العام لرابطة العالم الإسلامي).
* تقديم الشيخ محمد الرابع الحسني الندوي (رئيس دار العلوم لندوة العلماء لكناؤ الهند).
* تقديم الأستاذ الدكتور موفق بن عبد اللَّه بن عبد القادر (جامعة أم القرى - مكة المكرمة).
* تقديم المحدث الفقيه الشيخ محمد تقي العثماني (شيخ الحديث بجامعة دار العلوم كراتشي في باكستان).
* مقدمة المحقق:
- ترجمة الإمام المحدث عبد الحق البخاري الدهلوي.
- ترجمة صاحب المشكاة.
- صور المخطوطات.
* مقدمة اللمعات.
* مقدمة في بيان بعض مصطلحات علم الحديث.
* مقدمة المشكاة.
উপস্থাপনা ও ভূমিকা* প্রফেসর ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি (রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী বা মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ-এর মহাসচিব)-এর মুখবন্ধ।
* শায়খ মুহাম্মদ রাবে হাসানী নদভী (দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা লাখনৌ, ভারত-এর সভাপতি)-এর মুখবন্ধ।
* প্রফেসর ডক্টর মুওয়াফফাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কাদির (উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় - মক্কা আল-মুকাররামা)-এর মুখবন্ধ।
* মুহাদ্দিস ও ফকীহ শায়খ মুহাম্মদ তাকী উসমানী (পাকিস্তানের করাচীস্থ জামিয়া দারুল উলুমের শায়খুল হাদীস)-এর মুখবন্ধ।
* মুহাক্কিকের (গবেষক ও সম্পাদক) ভূমিকা:
- ইমাম মুহাদ্দিস আব্দুল হক বুখারী দেহলভীর জীবনী।
- মিশকাত প্রণেতার জীবনী।
- পাণ্ডুলিপিগুলোর চিত্রসমূহ।
* আল-লামা'আত-এর ভূমিকা।
* ইলমে হাদীসের কিছু পরিভাষা বর্ণনার ক্ষেত্রে ভূমিকা।
* মিশকাত-এর ভূমিকা।
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم بقلم: أ. د. عَبْدِ اللَّهِ بنِ عَبْدِ المُحْسِنِ التُّرْكِيِّ (الأمِيْنِ العَامِّ لِرَابِطَةِ العَالَمِ الإسْلَامِيِّ)الحمد للَّه رب العالمين، وصلى اللَّه وسلم وبارك على نبينا المصطفى محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
وبعد:
فإن الصلة بين الأقطار الإسلامية المتباعدة، لم تكن في الأزمنة الغابرة بشيء من الأسباب أشدَّ قوة، ولا أمتنَ، منها بحبل العلم وأهله؛ فقد كانت الأبصار ترصد في المسالك إلى الأمصار، ورثة الأنبياء يتجشمون وعثاء الأسفار، مستعذبيها في سبيل ما يطلبون من فنون علوم الشريعة الشريفة، وما يرجون من مُشامّة الشيوخ ولُقي الأكابر للأخذ عنهم، ووصل إسناد العلم بهم:
تَهُونُ علينا فِي المَعَالِي نُفُوسُنا
… ومَن خَطَبَ الحَسْنَاءَ لَمْ يُغْلها المَهْرُ
وبعضهم رحل بعد ما تضلع مما في بلده وتشيخ، فكانت رحلته للاطلاع والاستزادة وإفادة غيره بما عنده، كما حصل بين القاضي أبي الوليد الباجي والخطيب البغدادي في بغداد، إذ تدبجا برواية كل منهما عن صاحبه ما ليس عنده.
وكانت الكتب ترحل من بلدان مصنفيها إلى أقطار بعيدة في مدد زمنية قصيرة، مما يدل على شدة الحرص عليها، والتلهف لاقتنائها، وما أكثر ما نجد في تراجم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনা: প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব)সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের মনোনীত নবী মুহাম্মাদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর:
অতীতকালে সুদূরপ্রসারী ইসলামী ভূখণ্ডগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক জ্ঞান এবং জ্ঞানীদের রজ্জুর চেয়ে শক্তিশালী বা মজবুত অন্য কোনো মাধ্যমে ছিল না। জনপদগুলোর পথে পথে মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকত নবীদের উত্তরাধিকারীদের দিকে; তাঁরা সফরের দীর্ঘ ক্লান্তি ও কষ্ট হাসিমুখে সহ্য করতেন শরিয়তের বিভিন্ন জ্ঞান অর্জনের নেশায় এবং মহান শায়খদের সান্নিধ্য লাভ ও তাঁদের সাথে সাক্ষাতের আশায়, যাতে তাঁদের নিকট থেকে ইলম আহরণ করা যায় এবং ইলমের সনদকে তাঁদের মাধ্যমে সংযুক্ত করা যায়:
উচ্চ মর্যাদা লাভের পথে আমাদের প্রাণ বিসর্জন দেওয়া আমাদের কাছে তুচ্ছ মনে হয়
… আর যে সুন্দরী নারীকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে, তার কাছে মোহরানা কখনো চড়া মনে হয় না।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিজ দেশের ইলম পূর্ণমাত্রায় অর্জন করে শায়খ হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার পর সফরে বের হতেন। তাঁদের সেই সফর ছিল মূলত নতুন কিছু দেখা, জ্ঞান বৃদ্ধি করা এবং নিজের কাছে যা আছে তা দিয়ে অন্যকে উপকৃত করার উদ্দেশ্যে। যেমনটি ঘটেছিল বাগদাদে কাজী আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি এবং খতিব আল-বাগদাদির মধ্যে; যখন তাঁরা একে অপরের নিকট থেকে এমন সব হাদিস বর্ণনা করেছিলেন যা অপরজনের কাছে ছিল না।
গ্রন্থসমূহ তাদের রচয়িতাদের দেশ থেকে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দূর-দূরান্তের অঞ্চলে পৌঁছে যেত, যা সেই কিতাবগুলোর প্রতি জ্ঞানপিপাসুদের তীব্র আগ্রহ ও তা সংগ্রহের ব্যাকুলতাকেই প্রমাণ করে। আমরা জীবনীগ্রন্থগুলোতে কতই না দেখতে পাই...
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
الأعلام، أن فلانًا أول من أدخل كتاب فلان إلى البلد الفلاني. وإن الحرمين الشريفين بما خصهما اللَّه تعالى به من عبادة الحج والعمرة، وتضاعف الصلاة وفضل السكنى والمجاورة، صارا مجمعًا للعلم تجبى إليه الكتب والمصنفات من مختلف أرجاء العالم الإسلامي، ويلتقي فيه وعاة العلم ورواته من كل مشرق ومغرب، فيحصل بذلك من النفع والفوائد العلمية ما يتجافى عن الحصر، مما صورته كتب أثبات الأسانيد العلمية، والرحلات، والتواريخ، وتراجم أعلام الحرمين الشريفين من أهلهما والطارئين عليهما.
وبهذا الحبل المكي والمدني، الواصل بين أعلام العالم الإسلامي، اتصل بعض علماء شبه القارة الهندية، فاستفادوا من علماء الحرمين الشريفين ثم عادوا إلى بلادهم فأفادوا. ومن أبرزهم نجمان ساطعان دهلويان، بزغ أحدهما في القرن الحادي عشر، وهو عبد الحق بن سيف الدين بن سعد اللَّه البخاري الدهلوي (ت: 1052 هـ)، وبزغ الآخر في القرن الذي بعده، وهو أحمد بن عبد الرحيم العمري الدهلوي، المشهور بشاه ولي اللَّه (ت: 1176 هـ).
وقد كان لهذين الرجلين رحمهما اللَّه فضل كبير على أهل الهند، في تجديد علوم الشريعة ولا سيما في علوم الحديث التي كان الناس قد عزفوا عن الاشتغال بها، دهرًا طويلًا، وأولعوا بالعلوم العقلية والوضعية.
ولئن كان للشيخ عبد الحق فضل السبق بحكم التقدم الزمني، حيث كان أول من نشر علم الحديث بأرض الهند تصنيفًا وتدريسًا، كما وصفه صاحب نزهة الخواطر في ترجمته، فإن للعلامة شاه ولي اللَّه شهرة لا تدانيها شهرة أحد من أهل تلك الديار، قبله ولا بعده إلى عهدنا هذا، تقررت له من جهة سعة علمه وتبحره في الكثير من الفنون، وتميزه بإعمال آلة الاجتهاد التي أظهرت إبداعًا واضحًا في مصنفاته، وفي آثاره التي تمثلت في كثرة كتبه ونجابة تلاميذه؛ فإن عددًا كبيرًا من أعلام الهند من
বরেণ্য মনীষীদের জীবনীগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, অমুক ব্যক্তি প্রথম অমুক কিতাব অমুক দেশে নিয়ে এসেছিলেন। আর হারামাইন শরিফাইনকে মহান আল্লাহ হজ ও ওমরাহ পালন, নামাজের সওয়াবের আধিক্য এবং সেখানে বসবাস ও অবস্থানের যে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, তার ফলে এই দুই পবিত্র ভূমি ইলমের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সেখানে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বই-পুস্তক ও রচনাবলি সংগৃহীত হয় এবং পূর্ব ও পশ্চিমের জ্ঞানপিপাসু ও বর্ণনাকারীদের মিলন ঘটে। এর মাধ্যমে এমন অগণিত জ্ঞানতাত্ত্বিক উপকার ও সুফল অর্জিত হয় যা গণনা করা অসম্ভব। জ্ঞানতাত্ত্বিক সনদের গ্রন্থসমূহ (আসবাত), ভ্রমণকাহিনী, ইতিহাস এবং হারামাইন শরিফাইনের স্থানীয় ও বহিরাগত মনীষীদের জীবনীগ্রন্থে এই চিত্রটি ফুটে উঠেছে।
মক্কা ও মদিনার এই যোগসূত্রের মাধ্যমে, যা মুসলিম বিশ্বের মনীষীদের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে, ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু আলেম সংযুক্ত হয়েছিলেন। তাঁরা হারামাইন শরিফাইনের আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে জ্ঞান বিতরণ করেন। তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত উজ্জ্বল দুই নক্ষত্র হলেন দিল্লির দুইজন মনীষী। তাঁদের একজন একাদশ হিজরি শতাব্দীতে আবির্ভূত হন, তিনি হলেন আব্দুল হক বিন সাইফ উদ্দিন বিন সাদুল্লাহ বুখারি দেহলভি (মৃত্যু: ১০৫২ হি.)। আর অপরজন পরবর্তী শতাব্দীতে আবির্ভূত হন, যিনি শাহ ওয়ালিউল্লাহ নামে খ্যাত আহমদ বিন আব্দুর রহিম উমরি দেহলভি (মৃত্যু: ১১৭৬ হি.)।
এই দুই মহান ব্যক্তি (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) ভারতবাসীর ওপর শরিয়তের জ্ঞান পুনর্জাগরণে, বিশেষত হাদিস বিজ্ঞানে বড় ধরনের অবদান রেখেছেন। অথচ মানুষ দীর্ঘকাল ধরে হাদিস চর্চা থেকে বিমুখ হয়ে যুক্তিবিদ্যা ও জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিমগ্ন ছিল।
সময়ের দিক থেকে অগ্রবর্তী হওয়ার কারণে যদিও শায়খ আব্দুল হকের অগ্রবর্তিতার কৃতিত্ব রয়েছে, কারণ তিনি কিতাব রচনা ও পাঠদানের মাধ্যমে ভারতের মাটিতে হাদিস শাস্ত্র প্রচারের প্রথম ব্যক্তি ছিলেন—যেমনটি 'নুজহাতুল খাওয়াতির' গ্রন্থকার তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন—তবে আল্লামা শাহ ওয়ালিউল্লাহর খ্যাতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যার সমকক্ষ সেই অঞ্চলের আগের বা পরের কেউ হতে পারেননি আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত। তাঁর এই খ্যাতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাঁর জ্ঞানের বিশালতা, বহু শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং ইজতিহাদি শক্তির প্রয়োগের কারণে, যা তাঁর রচনাবলিতে সুস্পষ্ট সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছে। তাঁর এই প্রভাব ফুটে উঠেছে তাঁর অসংখ্য কিতাব এবং মেধাবী ছাত্রদের মাঝে; কেননা ভারতের এক বিশাল সংখ্যক বরেণ্য মনীষী...
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
بعده من رجال العلم والدعوة والإصلاح، يرتبطون بولي اللَّه وأسرته التي كانت منارة علم وصلاح إلى عهد قريب.
والذي يلفت النظر في السيرة العلمية لهذين العالمين، ذلك الجزء الذي يتصل منها برحلتهما إلى الحرمين الشريفين، لأداء الحج والمجاورة حينًا من الدهر في طلب العلم. فقد كان لتلك الرحلة وذلك التتلمذ أثر بارز في صقل الموهبة العلمية لديهما، والتضلع من العلوم النقلية الأثرية، وفي مقدمتها علوم السنة والحديث التي كان الاهتمام بها بين أهل الهند، ضئيلًا إلى ذلك العهد، فقد كاد الناس يقتصرون منها على الكتاب الجامع للسنن في الترغيب والترهيب والأحكام، الذي انتخبه من دواوين السنة المشهورة، محيي السنة الإمام أبو محمد الحسين بن مسعود البغوي (ت: 510 هـ) وسماه (مصابيح السنن) ثم جاء ولي الدين أبو عبد اللَّه محمد بن عبد اللَّه، الشهير بالخطيب التبريزي (ت: 741 هـ) فأتم ما أغفله البغوي من عزو كل حديث لمخرجه وتسمية الصحابي الذي رواه، وسمى كتابه (مشكاة المصابيح).
وقد اتخذ الناس المشكاة إمامًا في الحديث، يحفظه الطلاب، ويقرر عليهم في المدارس، ويشرح للناس في حلق الدروس.
ولما كانت كتب السنة بحاجة إلى شروح تستخرج كنوزها، وتفسر غريب ألفاظها، وتجلي إشكالاتها المختلفة، وتكشف عن وجه دلالتها على السنن والأحكام التي استنبطها منها الفقهاء، فقد انتدب لشرح هذا الكتاب الجليل جماعة من الأفذاذ، فشرحوه شروحًا تنوعت بين الإيجاز والإسهاب، بعضها باللغة العربية وبعضها بالفارسية التي كانت سائدة في بعض الأقطار الهندية وما يتاخمها، على عهد الدولة المغولية.
ومن أشهر تلك الشروح، الشرح الذي ألفه شرف الدين الحسين بن محمد الطِّيبي (ت: 743 هـ) شيخ التبريزي صاحب المشكاة، فقد بلغ من الأهمية بحيث اعتمد
তাঁর পরে ইলম, দাওয়াত এবং ইসলাহ বা সংস্কারের সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ আল্লাহর অলি ও তাঁর পরিবারের সাথে সম্পর্কিত ছিলেন, যারা নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত ইলম ও সততার বাতিঘর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এই দুই আলেমের ইলমি জীবনচরিতে যা বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তা হলো তাঁদের হারামাইন শরীফাইন সফরের অংশটি; যা তাঁরা হজ পালন এবং ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার জন্য করেছিলেন। তাঁদের ইলমি প্রতিভাকে বিকশিত করতে এবং নকলি বা ঐতিহ্যবাহী শাস্ত্রসমূহে পারদর্শিতা অর্জনে সেই সফর ও ছাত্রত্বের এক উজ্জ্বল প্রভাব ছিল। বিশেষ করে সুন্নাহ ও হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে, যার প্রতি সেই সময় পর্যন্ত ভারতের অধিবাসীদের মনোযোগ ছিল খুবই নগণ্য। সেই সময়ে লোকেরা কেবল তারগিব (উৎসাহ), তারহিব (ভীতি প্রদর্শন) এবং আহকাম (বিধি-বিধান) বিষয়ক একটি সংকলিত হাদিস গ্রন্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যা বিখ্যাত সুন্নাহর দিওয়ানসমূহ থেকে নির্বাচন করেছিলেন মুহইউস সুন্নাহ ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন বিন মাসউদ আল-বাগভী (ওফাত: ৫১০ হিজরি) এবং এর নাম দিয়েছিলেন (মাসাবিহুস সুন্নাহ)। এরপর ওয়ালিউদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, যিনি খতিব তাবরিজি (ওফাত: ৭৪১ হিজরি) নামে পরিচিত, তিনি আগমন করেন। ইমাম বাগভী প্রতিটি হাদিসকে তার মূল সূত্রের দিকে সম্বন্ধ করা এবং বর্ণনাকারী সাহাবীর নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে যেটুকু অপূর্ণতা রেখেছিলেন, তিনি তা পূর্ণ করেন এবং তাঁর কিতাবটির নাম দেন (মিশকাতুল মাসাবিহ)।
মানুষ মিশকাতকে হাদিসের ক্ষেত্রে একটি ইমাম বা আদর্শ গ্রন্থ হিসেবে গ্রহণ করেছিল; ছাত্ররা এটি মুখস্থ করত, মাদরাসাসমূহে এটি পাঠ্যভুক্ত ছিল এবং দরসের হালকাগুলোতে মানুষের সামনে এর ব্যাখ্যা করা হতো।
যেহেতু সুন্নাহর কিতাবগুলোর গুপ্তধন উন্মোচন, কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান, বিভিন্ন জটিলতা নিরসন এবং ফকিহগণ যে সুন্নাত ও আহকামসমূহ সেখান থেকে ইস্তিনবাত বা আহরণ করেছেন সেগুলোর নির্দেশনার ধরন স্পষ্ট করার জন্য ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, তাই এই মহান কিতাবটির ব্যাখ্যার জন্য একদল অনন্য প্রতিভাবান আলেম এগিয়ে আসেন। তাঁরা এর এমন সব ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন যা সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতের মাঝে বৈচিত্র্যময় ছিল; যার কিছু ছিল আরবি ভাষায় এবং কিছু ছিল ফারসি ভাষায়, যা মুঘল আমলের ভারতের কিছু অঞ্চলে এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে প্রচলিত ছিল।
সেই সব শারহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলো সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি, যা রচনা করেছেন মিশকাত রচয়িতা তাবরিজির উস্তাদ শরফুদ্দিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আত-তিবি (ওফাত: ৭৪৩ হিজরি)। এটি এতটাই গুরুত্ব লাভ করেছিল যে, এর ওপর নির্ভর করা হতো।
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
عليه كثير من شراح كتب السنن الذين جاءوا من بعده، سواء في شرح هذا الكتاب كالشيخ ملا علي القاري الهروي ثم المكي (ت: 1014 هـ) أو غيره من دواوين السنة، كصاحب (عون المعبود)، وصاحب (تحفة الأحوذي)، بل أفاد منه الحافظ ابن حجر في شرح البخاري، وهو الذي وصف مؤلفه في ترجمته من الدرر الكامنة، بأنه كان آية في استخراج الدقائق من القرآن والسنة، كريمًا متواضعًا حسن المعتقد شديد الرد على الفلاسفة والمبتدعة، مظهرًا فضائحهم مع استيلائهم في بلاد المسلمين حينئذ.
ومن شروح المشكاة هذا الذي بين أيدينا، للشيخ عبد الحق الدهلوي السالف الذكر، سماه لمعات التنقيح، وكان قبل ذلك في أثناء اشتغاله بكتاب المشكاة وضع عليه تعاليق باللغة الفارسية، حتى تم له منها شرح كامل في أربعة أسفار سماه (أشعة اللمعات)، انتخب منه الشيخ محمد قلي الدهلوي (ت: 1073 هـ) زبدة فوائده ونوادره، وأودعها في كتابه (سراج المشكاة)، ولخصه الشيخ أمين الدين بن غياث الدين محمود العمري الحنفي الجونبوري، في كتابه (المقتنيات).
ثم سنحت له سانحة أن يصنع صنيعًا شبيهًا بسالفه، يكون بالعربية، فبلغه اللَّه مأموله، وفتح له فيه من التحقيقات والتدقيقات العلمية، فوق ما فتح له في صنوه الفارسي، وهو أكبر كتبه وأحظاها عنده؛ قال عنه في دفتر مصنفاته المسمى (تأليف القلب الأليف بكتابة فهرست التواليف): وقد جاء -بتوفيق اللَّه وتأييده- كتابًا حافلًا شاملًا مفيدًا نافعًا، في شرح الأحاديث النبوية، على مُصدِرها الصلاةُ والتحية، مشتملة على تحقيقات مفيدة، وتدقيقات بديعة، وفوائد شريفة، ونِكات لطيفة.
وقد اعتنى أهل الهند بالشرح الفارسي أيما اعتناء، لكونه أخصر وأسهل عبارة وأقرب تناولًا، ولما ظهرت الطباعة طبعوه مرارًا. وأما الشرح العربي فلم يبلغ في الانتشار مبلغ صنوه، بل بقي تداوله مقتصرًا على ذوي الهمم في البحث والولوع باقتناء
তার পরবর্তী সুনান গ্রন্থসমূহের অনেক ব্যাখ্যাকারী তার ওপর নির্ভর করেছেন, চাই সেটি এই গ্রন্থের ব্যাখ্যায় হোক—যেমন শেখ মোল্লা আলী আল-কারী আল-হারাভী অতঃপর আল-মাক্কী (মৃত্যু: ১০১৪ হি.)—অথবা সুন্নাহর অন্যান্য সংকলনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে, যেমন 'আউনুল মাবুদ' ও 'তুহফাতুল আহওয়াযী' গ্রন্থের লেখকগণ। বরং হাফেজ ইবনে হাজারও বুখারীর ব্যাখ্যায় তার থেকে উপকৃত হয়েছেন। তিনিই তার জীবনী বর্ণনায় 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ' গ্রন্থে লেখককে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উদ্ভাবনে এক অনন্য নিদর্শন ছিলেন; তিনি ছিলেন দানশীল, বিনয়ী ও সঠিক আকিদার অধিকারী এবং দার্শনিক ও বিদআতিদের কঠোর প্রতিবাদকারী। তৎকালীন মুসলিম দেশগুলোতে তাদের আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও তিনি তাদের অপকর্মগুলো প্রকাশ করে দিতেন।
মিশকাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো আমাদের সামনে থাকা এই গ্রন্থটি, যা পূর্বে উল্লেখিত শেখ আব্দুল হক দেহলভীর রচিত। তিনি এর নামকরণ করেছেন 'লুমআতুত তানকীহ'। এর পূর্বে মিশকাত গ্রন্থ নিয়ে ব্যাপৃত থাকার সময় তিনি এর ওপর ফারসি ভাষায় কিছু টীকা লিখেছিলেন, এমনকি এর মাধ্যমে তার চারটি খণ্ডে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ তৈরি হয় যার নাম তিনি রেখেছিলেন 'আশ্আতুল লুমআত'। শেখ মুহাম্মদ কুলি দেহলভী (মৃত্যু: ১০৭৩ হি.) সেখান থেকে এর নির্যাস ও দুর্লভ উপকারিতাগুলো চয়ন করে তার 'সিরাজুল মিশকাত' গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেন। আর শেখ আমীনুদ্দীন বিন গিয়াসুদ্দীন মাহমুদ আল-উমরি আল-হানাফী আল-জৌনপুরী তার 'আল-মুক্তানিয়াত' গ্রন্থে এর সারসংক্ষেপ তৈরি করেন।
অতঃপর তার মনে একটি ইচ্ছা জাগল যে তিনি তার পূর্ববর্তী কাজের অনুরূপ একটি কাজ করবেন যা হবে আরবি ভাষায়। আল্লাহ তাকে তার আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিলেন এবং এতে তার জন্য এমন জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণা ও সূক্ষ্মতা উন্মোচন করলেন, যা তার সমজাতীয় ফারসি গ্রন্থটির চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এটিই তার সবচেয়ে বড় এবং তার নিকট সবচেয়ে সমাদৃত কিতাব। তিনি তার গ্রন্থতালিকা সম্বলিত পুস্তিকা 'তালিফুল কালবিল আলিফ বি কিতাবাতি ফিহরিসতিত তাওয়ালিফ'-এ এটি সম্পর্কে বলেছেন: আল্লাহর তাওফিক ও সমর্থনে এটি নববী হাদিসসমূহের ব্যাখ্যায়—হাদিস প্রদানকারীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—একটি সমৃদ্ধ, ব্যাপক, ফলপ্রসূ ও উপকারী কিতাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, চমৎকার সূক্ষ্মতা, মহৎ শিক্ষা ও সূক্ষ্ম পয়েন্টসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
ভারতের অধিবাসীরা ফারসি ব্যাখ্যাটির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছিলেন, কারণ এটি ছিল অধিকতর সংক্ষিপ্ত, সহজবোধ্য এবং আয়ত্ত করা সহজ। যখন মুদ্রণব্যবস্থা চালু হলো, তখন তারা এটি বারবার ছাপিয়েছেন। পক্ষান্তরে আরবি ব্যাখ্যাটি তার ফারসি সংস্করণের মতো এতটা প্রসার লাভ করেনি, বরং এর ব্যবহার কেবল উচ্চাকাঙ্ক্ষী গবেষক এবং কিতাব সংগ্রহের প্রতি অনুরাগী ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
الكتب، ولهذا السبب ظل بعيدًا عن القراء العرب، إذ لم يجد يدًا تمتد إلى طباعته في العالم العربي ونشره بينهم، حتى تنبه لذلك رئيس ندوة العلماء الحالي، سماحة الشيخ محمد الرابع الندوي -حفظه اللَّه- فأشار على أخينا الفاضل العالم المحقق الدكتور تقي الدين الندوي، أن يضطلع بهذه المهمة، فأجابه -وهو ابنُ بَجْدَتِها وأبو عُذرَتِها- وعكف على خدمة الكتاب بضع سنين، حتى أخرجه في عشرة أسفار، مضبوطًا في نصه، موشى في حواشيه بتوثيقات وتعليقات رافدة، كدأبه فيما سلف له من الكتب التي خدمها، وقدم له بمقدمة حافلة عن المؤلف وأصل الكتاب وشرحه، وختمه بفهارس متنوعة تكون مفاتيح لما انطوى عليه من معلومات. فالتحق هذا الكتاب بسوالفه المطبوعة قديمًا كشرح القاري المسمى (مرقاة المفاتيح)، أو حديثًا كشرح الطيبي المسمى (الكاشف عن حقائق السنن)، وشرح أبي الحسن المباركفوري (ت: 1414 هـ) المسمى (مرعاة المفاتيح).
رحم اللَّه البغوي في تأليف كتابه (المصابيح)، والتبريزي في تكميله، والشيخ عبد الحق الدهلوي في شرحه، وغيره من شراحه، وبارك في عمر الدكتور الندوي وأجزل له المثوبة فيما بذل من جهد في إخراج هذا الكتاب بهذه الصورة المتقنة. والحمد للَّه رب العالمين.
أ. د. عبد اللَّه بن عبد المحسن التركي
الأمين العام لرابطة العالم الإسلامي
مكة المكرمة في 27/ 09/ 1435 هـ
* * *
বইসমূহ; আর এই কারণেই এটি আরব পাঠকদের নিকট থেকে দূরে রয়ে গিয়েছিল, কারণ আরব বিশ্বে এটি মুদ্রণ এবং তাদের মাঝে প্রচারের জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণকারী পাওয়া যায়নি। অবশেষে ‘নদওয়াতুল উলামা’-র বর্তমান সভাপতি, মহামান্য শায়খ মুহাম্মদ রাবে’ আন-নাদভী —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন— বিষয়টি অনুধাবন করলেন এবং আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় ও বিজ্ঞ মুহাক্কিক আলেম ডক্টর তাকিউদ্দীন আন-নাদভীকে এই গুরুদায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিলেন। তিনি তার আহ্বানে সাড়া দিলেন —আর তিনি ছিলেন এই বিষয়েরই অনন্য বিশেষজ্ঞ ও যোগ্যতম ব্যক্তি— এবং দীর্ঘ কয়েক বছর এই কিতাবটির খিদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখলেন, যতক্ষণ না তিনি একে দশটি খণ্ডে প্রকাশ করলেন। তিনি এর পাঠ্য (মতল) সুসংহত করেছেন এবং এর টীকাগুলোকে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ও সহায়ক ব্যাখ্যা দ্বারা সুশোভিত করেছেন, যা ইতিপূর্বে তার সম্পাদিত অন্যান্য কিতাবগুলোর মতোই মানসম্মত হয়েছে। এছাড়াও তিনি লেখক, মূল গ্রন্থ ও এর ব্যাখ্যা সম্পর্কিত একটি পূর্ণাঙ্গ ভূমিকা এতে যুক্ত করেছেন এবং শেষে বিভিন্ন ধরনের নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র সংযোজন করেছেন যা কিতাবটিতে নিহিত তথ্যাবলির চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে এই কিতাবটি পূর্বে মুদ্রিত এর প্রাচীন ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর কাতারে শামিল হলো, যেমন কারীর ‘মিরকাতুল মাফাতিহ’, অথবা আধুনিক কালের তিবীর ‘আল-কাশিফ আন হাকায়িকিস সুনান’ এবং আবু হাসান মুবারকপুরী (মৃ. ১৪১৪ হি.) রচিত ‘মিরআতুল মাফাতিহ’।
আল্লাহ তাআলা ইমাম বাগভীর প্রতি রহম করুন তার ‘আল-মাসাবিহ’ গ্রন্থ রচনার জন্য, খতীব তাবরিযীর প্রতি এর পরিপূরক রচনার জন্য, শায়খ আব্দুল হক দেহলভীর প্রতি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের জন্য এবং এর অন্যান্য ব্যাখ্যাকারদের প্রতিও। আল্লাহ ডক্টর নাদভীর হায়াতে বরকত দান করুন এবং এই কিতাবটি এমন নিপুণভাবে প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি যে অক্লান্ত শ্রম ব্যয় করেছেন তার জন্য তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
প্রফেসর ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি
মহাসচিব, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ
মক্কা আল-মুকাররামা, ২৭/০৯/১৪৩৫ হিজরি
* * *
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
تَقْدِيْمٌ بِقَلَمِ: سَمَاحَةِ الشَّيْخِ مُحَمَّدٍ الرَّابِعِ الحَسَنِيِّ النَّدْوِيِّ رَئِيْسِ نَدْوَةِ العُلَمَاءِ بِالهِنْدِالحمد للَّه رب العالمين والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد:
فلا شك أن منارة الحديث الشريف ارتفعت بجهود الإمام ولي اللَّه الدهلوي وأولاده وتلاميذه في العالم الإسلامي، ونفقت سوقه في بلاد الهند أيضًا، وقد صدرت بأقلام علماء الهند مؤلفات وشروح في كتب الحديث لا نجد لها نظيرًا في المكتبة الإسلامية العالمية، ولكن غرس الإمام المحدث عبد الحق الدهلوي جذور الحديث الشريف قبله في القرن العاشر الهجري، وهو الذي تصدى للدرس والإفادة في دار الملك دهلي وقصر همته على ذلك، وصنّف وخرّج ونشر هذا العلم الشريف على ساق الجد، فنفع اللَّه به وبعلومه كثيرًا من عباده المؤمنين، ثم إن إخلاص الشيخ المحدث عبد الحق الدهلوي وصدقه وجهوده المباركة صرفته إلى العناية بالحديث الشريف، فأثار رغبة قوية وحركة جديدة إلى مطالعته ودراسته وتدريسه وشرحه وتحشيته. واختار لمؤلفاته اللغة الفارسية السائدة في ذلك الزمان وقد جاءت تفاصيله في تقديم هذا الكتاب الذي كتبه أخونا الأستاذ الدكتور تقي الدين الندوي.
ومن جملة مؤلفاته في شرح الحديث (لمعات التنقيح شرح مشكاة المصابيح).
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনা: ভারতের নদওয়াতুল উলামার সভাপতি শাইখ মুহাম্মদ রাবে হাসানি নদভীসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মোহর আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
অতঃপর:
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিম বিশ্বে ইমাম ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি, তাঁর সন্তান ও তাঁর ছাত্রদের প্রচেষ্টায় হাদিসে শরীফের মিনার সুউচ্চ হয়েছে এবং ভারতের ভূখণ্ডেও এর ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটেছে। ভারতীয় ওলামায়ে কেরামের লেখনীতে হাদিস শাস্ত্রের এমন সব গ্রন্থ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হয়েছে যার কোনো নজির বিশ্বব্যাপী ইসলামি গ্রন্থাগারগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে তাঁর পূর্বে হিজরি দশম শতাব্দীতে ইমাম মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভি হাদিসে শরীফের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তিনি দিল্লির রাজধানী শহরে শিক্ষা ও জ্ঞান বিতরণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এর ওপরই নিজ একাগ্রতা নিবদ্ধ করেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব ও নিষ্ঠার সাথে এই মহান ইলমের সংকলন, তথ্যসূত্র যাচাই ও প্রচার-প্রসারের কাজ করেন, ফলে আল্লাহ তাঁর ও তাঁর ইলমের মাধ্যমে তাঁর বহু মুমিন বান্দাকে উপকৃত করেছেন। অতঃপর শাইখ মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভির একনিষ্ঠতা, সত্যবাদিতা ও মোবারক প্রচেষ্টাসমূহ তাঁকে হাদিসে শরীফের প্রতি বিশেষ মনোযোগী করে তোলে, যা হাদিস পাঠ, গবেষণা, অধ্যাপনা এবং এর ব্যাখ্যা ও টীকাগ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে এক প্রবল আগ্রহ ও নতুন আন্দোলনের সৃষ্টি করে। তিনি তাঁর রচনাবলির জন্য তৎকালীন প্রচলিত ফারসি ভাষাকে বেছে নিয়েছিলেন, যার বিস্তারিত বিবরণ আমাদের ভাই উস্তাদ ডক্টর তাকিউদ্দীন নদভী কর্তৃক লিখিত এই কিতাবটির মুখবন্ধে বর্ণিত হয়েছে।
হাদিসের ব্যাখ্যায় তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে অন্যতম হলো 'লামআতুত তানকীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ'।
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ذكر الشيخ المحدث سبب تأليفه في تقديمه على شرحه (أشعة اللمعات): لما اشتغلت بتأليف هذا الشرح ألقى اللَّه في رُوعي معاني وأسرارًا أكبر وأعظم من أن يستوعبها الشرح الفارسي، فاللَّه سبحانه وتعالى وفقنا لشرحها باللغة العربية باسم (لمعات التنقيح شرح مشكاة المصابيح)، أما شرح المشكاة بالفارسية فطبع مرارًا عديدة، وصار مرجعًا للمدرسين والباحثين في شبه القارة الهندية، وأما شرح المشكاة باللغة العربية فكان بحاجة إلى تحقيق وتعليق وضبط نصوصه مع الفهارس ليقدم إلى العالم العربي والإسلامي، وكان من أعظم أماني كثير من المحدثين والعلماء أن ينشر هذا الكتاب ويطبع. وقد طلبت من أخي الأستاذ الدكتور تقي الدين الندوي أداء هذا الواجب وتحقيق هذا الأمل، فأدى هذه الرسالة على خير الوجوه. وقد صدرت بتحقيقه عدة كتب في الحديث الشريف وعلومه، كما حقق عدة شروح قيمة لأمهات كتب السنة النبوية مثل تعليقات الإمام المحدث أحمد علي السهارنفوري (ت: 1297 هـ) على (الجامع الصحيح) للبخاري، و (بذل المجهود شرح سنن أبي داود) للشيخ المحدث خليل أحمد السهارنفوري (ت: 1346 هـ) و (أوجز المسالك شرح موطأ مالك) للشيخ المحدث محمد زكريا بن محمد يحيى الكاندهلوي (ت: 1402 هـ).
إن فضيلة الدكتور حفظه اللَّه تعالى خدم هذا الشرح الجليل بالتحشية والإيضاح فجاء عملًا مباركًا ذا قيمة عالية، يستحق التقدير والثناء، فإن خدمة الحديث الشريف تعدّ توفيقًا من اللَّه تعالى، وتكريمًا للذي يشتغل به، تحقيقًا لوعده تعالى بحفظ الكتاب وبيانه المبين وهو السنة النبوية المطهرة، فالذي يوفقه اللَّه تعالى لحفظ القرآن والحديث فكأنه يجعله أداة لتحقيق وعده. وهو شرف جليل جدًّا، يستحق القائم به التقدير والثناء والتهنئة، وإني أَعُدّ عمل الشيخ الدكتور تقي الدين الندوي هذا مبعث كرامة له من اللَّه تعالى، تقبله اللَّه تعالى منه وجزاه جزاءً كبيرًا.
শায়খ মুহাদ্দিস তাঁর রচিত ‘আশিআতুল লুমআত’ শারহ্-এর ভূমিকায় এটি রচনার কারণ উল্লেখ করে বলেছেন: যখন আমি এই শারহ্ রচনায় ব্যস্ত ছিলাম, তখন আল্লাহ আমার অন্তরে এমন সব গূঢ় অর্থ ও রহস্য ঢেলে দিলেন যা ফারসি শারহ্-এ সংকুলান হওয়ার চেয়েও অনেক বেশি বড় ও মহান ছিল। তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সেগুলোকে আরবি ভাষায় ‘লুমআতুত তানকীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবিহ’ নামে ব্যাখ্যা করার তাওফিক দান করেছেন। ‘মিশকাতুল মাসাবিহ’-এর ফারসি শারহ্-টি বারবার মুদ্রিত হয়েছে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে শিক্ষক ও গবেষকদের নিকট এটি একটি নির্ভরযোগ্য উৎস গ্রন্থে পরিণত হয়েছে। তবে আরবি ভাষায় রচিত ‘মিশকাত’-এর শারহ্-টি আরব ও মুসলিম বিশ্বের সামনে উপস্থাপনের জন্য এর পাণ্ডুলিপি যাচাই, টিকা সংযোজন, মূল পাঠ সংশোধন এবং নির্ঘণ্ট তৈরির প্রয়োজনীয়তা ছিল। অনেক মুহাদ্দিস ও আলেমের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল যেন এই বইটি প্রকাশিত ও মুদ্রিত হয়। আমি আমার ভাই উস্তায ডক্টর তাকিউদ্দীন নদভীকে এই দায়িত্ব পালন এবং এই আশা পূরণ করার অনুরোধ করেছিলাম, আর তিনি সর্বোত্তম পন্থায় এই দায়িত্বটি আঞ্জাম দিয়েছেন। তাঁর সম্পাদনায় হাদীসে নববী ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানতত্ত্বের ওপর বেশ কিছু কিতাব প্রকাশিত হয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি সুন্নাতে নববীর মৌলিক গ্রন্থসমূহের বেশ কিছু মূল্যবান শারহ্-এরও সম্পাদনা করেছেন। যেমন: ইমাম মুহাদ্দিস আহমদ আলী সাহারানপুরী (মৃত্যু: ১২৯৭ হিজরি) রচিত বুখারীর ‘আল-জামি আস-সহীহ’-এর ওপর টীকা, শায়খ মুহাদ্দিস খলীল আহমদ সাহারানপুরী (মৃত্যু: ১৩৪৬ হিজরি) রচিত সুনানে আবু দাউদের শারহ্ ‘বাযলুল মাজহুদ’, এবং শায়খ মুহাদ্দিস মুহাম্মদ যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইয়াহইয়া কান্ধলভী (মৃত্যু: ১৪০২ হিজরি) রচিত মুয়াত্তা মালিকের শারহ্ ‘আওজাযুল মাসালিক’।
নিশ্চয়ই ফযীলাতুশ শায়খ ডক্টর (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন) টীকা সংযোজন ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই মহান শারহ্-এর যে খিদমত করেছেন, তা অত্যন্ত উচ্চমানের একটি বরকতময় কাজে পরিণত হয়েছে, যা প্রশংসা ও গুণকীর্তনের যোগ্য। নিশ্চয়ই হাদীসে নববীর খিদমত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত একটি তাওফিক এবং যারা এতে ব্যাপৃত থাকেন তাদের জন্য সম্মানের বিষয়। এটি মূলত আল্লাহ তাআলার সেই ওয়াদারই বাস্তবায়ন যে তিনি কিতাব এবং এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা তথা পবিত্র সুন্নাতে নববীকে হিফাযত করবেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যাকে কুরআন ও হাদীস হিফাযতের জন্য তাওফিক দান করেন, তিনি যেন তাকে তাঁর ওয়াদা বাস্তবায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেন। এটি অত্যন্ত সুমহান এক মর্যাদা, যার অধিকারী ব্যক্তি প্রশংসা, গুণগান ও অভিনন্দনের উপযুক্ত। আমি শায়খ ডক্টর তাকিউদ্দীন নদভীর এই কাজটিকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর জন্য একটি বিশেষ সম্মান হিসেবে গণ্য করি। আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন এবং তাঁকে মহা প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
أدعو اللَّه تعالى أن يجعل هذا العمل مباركًا له وينفع به سائر الطالبين.
كَتَبَهُ محمد الرابع الحسني الندوي
رئيس ندوة العلماء، لكناؤ (الهند)
19/ 6/ 1435 هـ = 20/ 4/ 2014 م
يوم الأحد
* * *
আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে তাঁর জন্য বরকতময় করেন এবং এর দ্বারা সকল জ্ঞানপিপাসুকে উপকৃত করেন।
এটি লিখেছেন মুহাম্মদ রাবে হাসানী নদভী
সভাপতি, নদওয়াতুল উলামা, লক্ষ্ণৌ (ভারত)
১৯/ ০৬/ ১৪৩৫ হিজরি = ২০/ ০৪/ ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
রবিবার
* * *
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
تَقدِيْمٌ بِقَلَمِ: أ. د. موَفَّقِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بنِ عَبْدِ القَادِرِ مَكَّةُ المُكَرَّمَةُ - جَامِعَةُ أُمِّ القُرَىالحمد للَّه ربِّ العالمين، والصَّلاةُ والسَّلامُ على سَيّدِ الأولين والآخرين نبيِّنا مُحَمَّدٍ وعلى آلهِ وصحبه أجمعين.
أمّا بعد:
لقد اعتنى المُحَدِّثون عناية فائقة بشرح السُّنَّة النَّبويَّة المطهرةِ، واتبعوا في ذلكَ مناهج متنوعة تدل على عُلُوِّ الفِكْرِ، واتساع الأفقِ، فمنهم مَن صَنَّفَ في غريب الحديثِ، ومنهم مَن أَلَّفَ في النَّاسِخِ والمنسوخِ، ومنهم مَن ألَّفَ في مُشكل الآثار، ومنهم مَن ألَّف في السُّنَّةِ، ويريد بها خلاف البدْعَةِ، ومنهم مَن ألَّف في جزءٍ من الأجزاء الحديثية، والتي يُريد بها جَمع الأحاديث التي تشتمل على مُعيَّنٍ مِنَ المطالبِ، ومنهم مَن صَنَّفَ في الجوامع والمُصَنَّفات، وهي مرتبة على الأبواب الفقهية، مشتملة على السنن وما هو في حيزها، أو له تعلق بها، بعضها يُسَمَّى مُصَنَّفًا، وبعضها جامِعًا، ومنهم مَن صَنَّفَ كتبًا تعرف بـ (السنن)، وهي في اصطلاحهم: الكتب المرتبة على الأبواب الفقهية، من الإيمان، والطهارة، والصلاة، والزكاة، إلى آخرها، وليس فيها شيء من الموقوف، لأن الموقوف لا يسمى في اصطلاحهم سُنَّة، ويسمى حديثًا. . . وغير ذلِكَ مِنَ المؤلَّفات التي يطول ذِكْرها. . .
وكثير مِنَ المُصَنَّفات اتبعت عناوينَ الكُتُبِ، والأبواب، أو الفصول، التي تدلُّ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনা: প্রফেসর ড. মুওয়াফফাক বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল কাদির, মক্কা মুকাররমা - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সহচরদের ওপর।
অতঃপর:
মুহাদ্দিসগণ পবিত্র সুন্নাহর ব্যাখ্যায় অত্যন্ত নিবিড় যত্ন নিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তাঁরা বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন যা চিন্তার উচ্চতা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রশস্ততা প্রমাণ করে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ 'গারীবুল হাদীস' বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, কেউ কেউ 'নাসিখ ও মানসুখ' বিষয়ে লিখেছেন, কেউ কেউ 'মুশকিলুল আসার' বিষয়ে গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন, কেউ কেউ 'সুন্নাহ' শিরোনামে গ্রন্থ লিখেছেন—যা দ্বারা তাঁরা বিদআতের বিপরীত পথ বুঝিয়েছেন—আবার কেউ কেউ হাদীসের ক্ষুদ্র অংশ বা সংকলন (জুজ) তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে তাঁরা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের হাদীসসমূহকে একত্রিত করার সংকল্প করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ 'জাওয়ামে' এবং 'মুসান্নাফাত' সংকলন করেছেন, যা ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী সাজানো এবং সুন্নাহ ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী ধারণ করে; এর কোনোটিকে 'মুসান্নাফ' এবং কোনোটিকে 'জামে' বলা হয়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এমন কিতাব সংকলন করেছেন যা (সুনান) নামে পরিচিত। তাঁদের পরিভাষায় এটি হলো এমন কিতাব যা ঈমান, পবিত্রতা, সালাত, জাকাত থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী সাজানো, এবং তাতে 'মাওকুফ' (সাহাবীর বক্তব্য) বর্ণনা থাকে না; কারণ মাওকুফ বর্ণনাকে তাঁদের পরিভাষায় সুন্নাহ বলা হয় না বরং হাদীস বলা হয়। . . এছাড়াও আরও অনেক ধরণের রচনা রয়েছে যার বর্ণনা দীর্ঘ হবে. . .
এবং অনেক সংকলকই কিতাব, অধ্যায় বা পরিচ্ছেদের এমন শিরোনাম অনুসরণ করেছেন যা নির্দেশ করে
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
على المرادِ مِن الشَّرحِ والبيانِ. . .
وصنَّفَ الإمامُ الحسين بن مسعود الفرَّاء البغويّ (ت: 516 هـ) كتاب (مصابيح السُّنَّة) (1)، جمع فيها أحاديث النَّبيّ صلى الله عليه وسلم تحت أبواب الفقه والعقيدة والأخلاق دُون ذكر الصَّحابي ولا المسند ولا الكتاب الذي خرّج الحديث. . .
ولم يذكر الإمامُ البَغَويُّ في مقدمة كتابه اسمًا صَريحًا للكتاب، بل قال: ". . . هُنَّ مصابيح الدُّجَى"، ولذا فقد اختلفت الأقوال في تسميته، فمنهم من سَمَّاه (المصابيح)، ومنهم مَن سَمَّاهُ (المصابيح في الصِّحاح والحسان)، ومنهم من أطلق عليه (المصابيح المقتبسة)، و (مصابيح السُّنَّة)، وكل هذه المسميات تدور حول المضمون العلمي للكتاب.
وقد شرح (مصابيح السُّنَّةِ) كثير من الشُّرَّاح، ذكر حاجي خليفة وبروكلمان أكثر من اثنين وأربعين شرحًا ومختصرًا وتخريجًا لهذا الكتاب (2).
وجاء الإمام وليّ الدين أبو عبد اللَّه محمد بن عبد اللَّه الخطيب العُمري التبريزي، المتوفى سنة (741 هـ)، فتمم كتابه بأن ذكر اسم الصحابي والكتاب الذي خرّجه وأضاف عليه بعض الأحاديث وسماها (مشكاة المصابيح) (3).
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা এবং বর্ণনার অভিপ্রায় অনুসারে...
ইমাম হুসাইন ইবন মাসউদ আল-ফাররা আল-বাগাউই (মৃত্যু: ৫১৬ হিজরী) 'মাসাবিহুস সুন্নাহ' (১) নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন। এতে তিনি সাহাবীর নাম, মুসনাদ কিংবা হাদীসটি কোন কিতাব থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে তা উল্লেখ ছাড়াই ফিকহ, আকীদা এবং আখলাকের অধ্যায়সমূহের অধীনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসসমূহ সংকলন করেছেন...
ইমাম বাগাউই তাঁর কিতাবের ভূমিকায় গ্রন্থটির কোনো সুস্পষ্ট নাম উল্লেখ করেননি, বরং তিনি বলেছেন: "...এগুলো হলো অন্ধকারের প্রদীপ।" এজন্য এর নামকরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। কেউ এর নাম রেখেছেন 'আল-মাসাবিহ', কেউ নামকরণ করেছেন 'আল-মাসাবিহ ফিস সিহাহ ওয়াল হিসান', আবার কেউ একে 'আল-মাসাবিহ আল-মুকতাবাসাহ' এবং 'মাসাবিহুস সুন্নাহ' নামে অভিহিত করেছেন। আর এই সবকটি নামই কিতাবটির ইলমী বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে।
অনেক ব্যাখ্যাকারী 'মাসাবিহুস সুন্নাহ' গ্রন্থের ব্যাখ্যা লিখেছেন। হাজী খলিফা এবং ব্রোকলম্যান এই কিতাবটির বিয়াল্লিশটিরও বেশি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, সংক্ষিপ্তসার এবং তাখরিজের কথা উল্লেখ করেছেন (২)।
অতঃপর ইমাম ওয়ালিউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-খতীব আল-উমরি আল-তাবরিযী (মৃত্যু: ৭৪১ হিজরী) আগমন করেন এবং তিনি সাহাবীর নাম ও উৎস গ্রন্থের উল্লেখের মাধ্যমে কিতাবটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দান করেন। এছাড়াও তিনি এতে আরও কিছু হাদীস যোগ করেন এবং এর নাম দেন 'মিশকাতুল মাসাবিহ' (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
واعتنى بشأن (مشكاة المصابيح) العلماء فقاموا بشرحه والتعليق عليه. . .
ولقد لقي كتاب (مشكاة المصابيح) كلّ عناية وإكرام مِن قِبَلِ عُلماء القارة الهنديَّة، فقاموا بشرحه في أكثر من شرح رائق عذبٍ متلألئ، جمعوا فيه فِكر المتقدمينَ، ومحاسِنَ المتأخرين. . .
إنَّ عُلماء هذه القارة احتفوا بالسُّنَّة النَّبويَّة أيَّما حفاية، فنالت منهم صدق الرِّعاية، فقاموا بخدمتها عبر السنين الطوال، ولا عجب في ذلك، فروح الكرم فيهم نزاعة، وروح المبرة فيهم مستمرة، وحبهم للسُّنَّة مُخيم لا ينقطع، وهذا من تمام الدِّين. . .
ومن هؤلاء الشُّرَّاح الشَّيخ عبد الحقّ بن سيف الدِّين الدَّهْلوي (958 - 1052 هـ)، رحمه اللَّهُ تعالى مؤلِّف كتاب (لمعات التَّنقيح في شرح مشكاة المصابيح) كانَ مُحَدِّثَ الهند في عصره، جاور في الحرمين الشَّريفين أربع سنوات، فنال جزيل الأجرِ، وأخذ عن علمائها، فقصدهُ النَّاسُ وائتموا به، كانَ واسع النَّفَس، ذو باعٍ طويلٍ، كتبَ بالعربية، والفارسيَّةِ، وقيلَ: بلغت مُصنَّفاته مئة مُجلَّدٍ، كان بارعا بالحديثِ وعلومهِ، عارفًا بالمسائل واختلاف العلماء والفتاوى، قدمهُ عُلماء بلدهِ، وزارهُ الأمراءُ والأشرافُ، وأثنَى عليه غيرهم من عُلماء الدِّيار الإسلاميَّة. . .
بلغ التّسعينَ من عُمُرهِ، وكان يتمتعُ بالصِّحَّةِ وروح الشَّبابِ، وللَّهِ في خلْقِهِ أسرار. . .
وكتابهُ (لمعات التَّنقيح في شرح مشكاة المصابيح)، هو واحد من الشروح التي أثنى عليها عدد من أهل العلمِ. . . شرحٌ عذبٌ لباغي الحديثِ وطالبِ السُّنَّة، تشرق منه الفوائد، وتغيبُ فيه الغوامض، وتُرْتَشفُ من ثناياه الدُّرر، فيكرع طلاب العلم من زلاله العذبِ، فتخصب العقول، {وَمَا يَسْتَوِي الْبَحْرَانِ هَذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ سَائِغٌ شَرَابُهُ وَهَذَا مِلْحٌ
উলামায়ে কেরাম 'মিশকাতুল মাসাবিহ'-এর প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, অতঃপর তাঁরা এর ব্যাখ্যা ও টীকা প্রণয়ন করেছেন। . .
'মিশকাতুল মাসাবিহ' গ্রন্থটি ভারতীয় উপমহাদেশের উলামায়ে কেরামের নিকট থেকে পূর্ণ যত্ন ও সমাদর লাভ করেছে। তাঁরা একাধিক চমৎকার, প্রাঞ্জল ও দ্যুতিময় ব্যাখ্যাগ্রন্থের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা করেছেন, যাতে তাঁরা পূর্ববর্তীদের চিন্তাধারা এবং পরবর্তীদের উৎকর্ষসমূহকে একত্রিত করেছেন। . .
নিশ্চয়ই এই উপমহাদেশের উলামায়ে কেরাম সুন্নতে নববিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উদযাপন করেছেন, যা তাঁদের পক্ষ থেকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছে। তাঁরা দীর্ঘকাল ধরে এর খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তাঁদের মধ্যে মহানুভবতার স্পৃহা প্রবল এবং কল্যাণকামিতার ধারা নিরবচ্ছিন্ন। সুন্নাহর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা সুদৃঢ় ও অবিচ্ছিন্ন, আর এটি দ্বীনের পূর্ণতারই অংশ। . .
এই ব্যাখ্যাকারদের অন্যতম হলেন শায়খ আব্দুল হক বিন সাইফউদ্দীন দেহলভি (৯৫৮ - ১০৫২ হি.), আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি 'লামাআতুত তানকিহ ফি শারহি মিশকাতিল মাসাবিহ' গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি আপন যুগের ভারতের মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি হারামাইন শরিফাইনে চার বছর অবস্থান করেন এবং প্রভূত সওয়াব লাভ করেন। তিনি সেখানকার উলামায়ে কেরামের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন, ফলে মানুষ তাঁর দিকে ধাবিত হয় এবং তাঁকে অনুসরণ করে। তিনি অত্যন্ত বিশাল মনের অধিকারী ও সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় রচনা করেছেন এবং বলা হয় যে, তাঁর গ্রন্থসমূহ একশত খণ্ডে পৌঁছেছে। তিনি হাদিস ও হাদিসশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন এবং মাসআলাসমূহ, আলেমদের মতভেদ ও ফাতাওয়া সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন। তাঁর দেশের আলেমগণ তাঁকে অগ্রাধিকার দিতেন, আমির ও অভিজাত ব্যক্তিবর্গ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং ইসলামি বিশ্বের অন্যান্য উলামায়ে কেরামও তাঁর প্রশংসা করেছেন। . .
তিনি তাঁর জীবনের নব্বই বছরে পদার্পণ করেছিলেন এবং সুস্বাস্থ্য ও যৌবনের প্রাণশক্তি উপভোগ করতেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে অনেক রহস্য নিহিত রয়েছে। . .
তাঁর 'লামাআতুত তানকিহ ফি শারহি মিশকাতিল মাসাবিহ' গ্রন্থটি এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার প্রশংসা ইলমের অধিকারী বহু ব্যক্তি করেছেন। . . এটি হাদিস অন্বেষণকারী ও সুন্নাহর শিক্ষার্থীর জন্য এক সুমিষ্ট ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা থেকে নানাবিধ উপকারিতা উদ্ভাসিত হয় এবং জটিলতাসমূহ দূরীভূত হয়। এর প্রতিটি ভাঁজ থেকে মণিমুক্তা আহরণ করা যায়। ফলে জ্ঞানপিপাসুরা এর সুমিষ্ট স্বচ্ছ ধারা হতে পান করে এবং তাদের বুদ্ধি উর্বর হয়। {আর দুই সমুদ্র সমান নয়; এটি অত্যন্ত মিষ্টি, তৃষ্ণা নিবারক ও সুপেয়, আর এটি লোনা...}
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
أُجَاجٌ وَمِنْ كُلٍّ تَأْكُلُونَ لَحْمًا طَرِيًّا وَتَسْتَخْرِجُونَ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَا وَتَرَى الْفُلْكَ فِيهِ مَوَاخِرَ لِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} [فاطر: 12]. . . .
إنَّ هذا الشَّرح كنزٌ مِن كنوز الدَّهرِ، ثقيلةٌ مؤنتهُ، خفيفةٌ حمولتهُ، وسطٌ بينَ الشُّروح، و"البَرَكَةُ تَنْزِلُ وَسَطَ الطّعَامِ، فكُلُوا مِنْ حَافتَيْهِ". . .
وأمَّا مُحقق الكتابِ، فهو الشَّيخُ الأستاذ الدكتور، تَقيُّ الدِّين النَّدويّ، سَمعتُ به وعرفتهُ من خلالِ كُتُبهِ النَّافعةِ، قَدِمَ لمكة المُكَرَّمَةِ مُعتمرًا في شَهْرِ رَمَضَان المبارك، فاتصل بني رَاغبًا مُخاطبًا. . . فطرتُ كأني قانص طيرٍ، فلمَّا رأيتُه وقع في قلبي "طُوبَى لِمَنْ طَالَ عُمْرُهُ وَحَسُنَ عَمَلُهُ". . . واستضفتُهُ في دَارِنا فجلسنا وتحدثنا، فرأيتُ رجلًا مُتقدِّمًا بالسِّنِّ والفضلِ، وصِناعَةِ الحديثِ، عَيْنًا من عيون الهندِ، تاريخهُ تاريخ العلماء ورواةِ الآثار. . . فقلتُ: النَّاس سابق أو مسبوقٌ، وأنا أرتقب الفرصة لألج بابَها، فطلبتُ منه الإجازة في الحديث عن شيوخه، فلم يبخل بجوابهِ، ومدَّ يدهُ الكريمة فأخذَ القَلمَ وجَمع الكَلم، وما جف المداد حتَّى نلتُ المراد البعيد. . .
نَعم سُررت، فقد أجازني بمروياته قبلهُ شيخنا العلامة أبو الحسن النَّدويّ رحمه اللَّه تعالى، فكان العهد المعقودُ بالإجازة والسَّماعِ للأسانيد الهنديَّةِ، نسأل اللَّه تعالى أن نكون ممن نستحق أن يُسند إلينا باللِّقاءِ والإجازة. . .
إنَّ تحقيق ونشر كُتُب التُّراث على مشقته قد غَلبَ على قلبِ الشَّيخ النَّدويّ، وزيَّنَ عقلهُ، فهو يتقلُبُ فيه، ويمشي مَعهُ، ولا عجب في ذلكَ فقد نشأ الشَّيخ وترعرع وهو يكتب الحديثَ ويسعى فيه {أَوَمَنْ يُنَشَّأُ فِي الْحِلْيَةِ وَهُوَ فِي الْخِصَامِ غَيْرُ مُبِينٍ} [الزخرف: 18]. . .
لقد اعتنى الشَّيخُ يحفظه اللَّه تعالى في تحقيق كتاب (لمعات التَّنقيح في شرح
...লোনা পানি। আর তোমরা প্রত্যেকটি থেকে তাজা গোশত খাও এবং এমন অলঙ্কার বের করে আনো যা তোমরা পরিধান করো। আর তোমরা তাতে জাহাজকে পানি চিরে চলতে দেখো, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ করো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। [ফাতির: ১২]...
নিশ্চয়ই এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি কালের রত্নভাণ্ডারগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি রত্নভাণ্ডার; যার বিষয়বস্তু ভারী কিন্তু বহনযোগ্যতা হালকা, যা ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী। আর "বরকত খাবারের মাঝখানে নাযিল হয়, সুতরাং তোমরা এর চারপাশ থেকে খাও।"...
আর এই গ্রন্থের গবেষক হলেন শায়খ প্রফেসর ডক্টর তাকীউদ্দীন নদভী। আমি তাঁর উপকারী গ্রন্থসমূহের মাধ্যমে তাঁর নাম শুনেছিলাম এবং তাঁকে চিনেছিলাম। তিনি পবিত্র রমযান মাসে উমরা পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা মুকাররামায় আগমন করেন এবং অত্যন্ত আগ্রহের সাথে আমার সাথে যোগাযোগ করেন... আমি তখন খুশিতে আত্মহারা হলাম যেন কোনো শিকারী পাখি। যখন আমি তাঁকে দেখলাম, আমার হৃদয়ে উদিত হলো: "সুসংবাদ তার জন্য যার বয়স দীর্ঘ হয়েছে এবং কর্ম সুন্দর হয়েছে।"... আমি তাঁকে আমাদের বাড়িতে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করলাম। আমরা বসলাম এবং কথা বললাম। আমি এমন একজন ব্যক্তিকে দেখলাম যিনি বয়সে প্রবীণ, মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ এবং ইলমে হাদীসের শিল্পে দক্ষ; যিনি হিন্দুস্তানের প্রখ্যাত মনীষীদের অন্যতম। তাঁর ইতিহাস হচ্ছে আলেম ও আসার (সাহাবী ও তাবেঈদের বর্ণনা) বর্ণনাকারীদের ইতিহাস... আমি বললাম: মানুষ হয় অগ্রগামী অথবা অনুগামী। আর আমি এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম যাতে এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারি। তাই আমি তাঁর কাছে তাঁর শায়খদের সূত্রে হাদীস বর্ণনার ইজাযত (অনুমতি) প্রার্থনা করলাম। তিনি উত্তর দিতে কোনো কার্পণ্য করেননি; তিনি তাঁর সম্মানিত হাত প্রসারিত করলেন, কলম ধরলেন এবং শব্দমালা সংকলন করলেন। আর কালি শুকানোর আগেই আমি আমার সুদূরপ্রসারী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করলাম...
হ্যাঁ, আমি আনন্দিত হয়েছি। কেননা তাঁর আগে আমাদের শায়খ আল্লামা আবুল হাসান নদভী (রহমাতুল্লাহি তাআলা) আমাকে তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহের ইজাযত দিয়েছিলেন। ফলে ভারতীয় সনদসমূহের ইজাযত ও শ্রবণের একটি সুদৃঢ় ধারা তৈরি হলো। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, আমরা যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি যারা সাক্ষাত ও ইজাযতের মাধ্যমে সনদ লাভ করার যোগ্য...
নিশ্চয়ই ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থসমূহের সম্পাদনা ও প্রকাশনার কষ্টসাধ্য কাজ শায়খ নদভীর হৃদয়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং তাঁর মেধাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। তিনি এর মাঝেই নিমগ্ন থাকেন এবং এর সাথেই পথ চলেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কেননা শায়খ এমনভাবে লালিত-পালিত ও বড় হয়েছেন যে তিনি হাদীস লিখতেন এবং এর পেছনে নিরলস শ্রম দিতেন। "তবে কি (আল্লাহর সন্তান হওয়ার যোগ্য সে) যাকে অলঙ্কারের মধ্যে লালন-পালন করা হয় এবং সে বিতর্কের সময় স্পষ্ট কথা বলতে পারে না?" [যুখরুফ: ১৮]...
শায়খ—আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন—(লুমআতুত তানকীহ ফী শারহি...) কিতাবটির সম্পাদনায় অত্যন্ত যত্নবান হয়েছেন।
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
مشكاة المصابيح)، فَوَفَّر الأصول الخطية لهُ، وسارَ على نهج النَّص المُختار، وعارض بينَ النُّسخِ المتعددة، وأعادَ النَّظر أكثر مِن مَرَّةٍ، لتجنبِ الخطأ والخلافات والتَّفاوتِ التي تقع أحيانًا بينَ النُّسَخِ. . . واستعان بفريق يعينهُ، وَمَنَحَ طبعته هذهِ مميزات: من تعليقٍ نافعٍ، وتخريجٍ موجزٍ، وتعريفٍ للأعلامِ، مقرونة بمقدمة ماتعةٍ عن الكتابِ ومؤلِّفهِ. . .
فجزى اللَّه الشَّيخ تقي الدِّين خير الجزاء، وبارك في أعماله وجهده. . .
والشُّكر موصول لِمَن أعانَ الشَّيخ وسَعَى في طباعة الكتابِ ونشره، وقد قال عُرْوَةُ بنُ الزُّبير: "الشُّكر وإنْ قل، ثمنٌ لكل نوال وإنْ جَل". . .
وأختم هذه المقدمة بحديث عَائِشَة رضي الله عنها: أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا رَأَى الْغَيْثَ قَالَ: "اللَّهُمَّ صَيِّبًا هَنِيئًا" (1).
واللَّه تعالى الموفق والهادي إلى سواء السَّبيل. . .
كَتَبَهُ أ. د. موفق بن عبد اللَّه بن عبد القادر
مكة المكرمة - جامعة أم القرى - قسم الكتاب والسنة
حرر في: 9/ 8/ 1435 هـ
* * *
--------------------------------------------
(মিশকাতুল মাসাবীহ), তিনি এর জন্য মূল পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং নির্বাচিত পাঠের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তিনি বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির মধ্যে তুলনা করেছেন এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে কখনও কখনও পরিলক্ষিত ভুল, বৈসাদৃশ্য ও তারতম্য এড়াতে একাধিকবার তা পুনঃনিরীক্ষণ করেছেন। . . এবং তিনি তাঁকে সাহায্য করার জন্য একটি দলের সহায়তা নিয়েছেন। তিনি তাঁর এই সংস্করণটিকে কিছু বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন: যেমন উপকারী টীকা, সংক্ষিপ্ত তাখরীজ (উৎস সূত্রায়ন), এবং বরেণ্য ব্যক্তিদের পরিচিতি, সেই সাথে কিতাব ও এর লেখক সম্পর্কে একটি মনোমুগ্ধকর ভূমিকা। . .
আল্লাহ শায়খ তাকিউদ্দীনকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর কাজ ও প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন। . .
এবং কৃতজ্ঞতা তাঁদের প্রতিও রইল যাঁরা শায়খকে সহায়তা করেছেন এবং কিতাবটি মুদ্রণ ও প্রকাশের চেষ্টা করেছেন। উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর বলেছেন: "কৃতজ্ঞতা যদিও অল্প হয়, তবুও তা প্রতিটি মহান প্রাপ্তির বিনিময়।" . .
আমি এই ভূমিকাটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে সমাপ্ত করছি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বৃষ্টি দেখতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! একে কল্যাণকর ও স্বস্তিদায়ক বৃষ্টি বানিয়ে দিন" (১)।
আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী। . .
লিখেছেন: প্রফেসর ডক্টর মুওয়াফফাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কাদির
মক্কা আল-মুকাররামা - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় - কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগ
সম্পাদিত হয়েছে: ৯/ ৮/ ১৪৩৫ হিজরি
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
بسم الله الرحمن الرحيم
تَقْدِيمٌ بِقَلَمِ: فَضِيلَةِ الأُسْتَاذِ المُحَدِّثِ الفَقِيْهِ الشَّيْخِ مُحَمَّد تَقِي العُثْمَانِيِّ شَيْخِ الحَدِيثِ بِجَامِعَةِ دَارِ العُلُومِ كراتشي في باكستانالحمد للَّه رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله الكريم، وعلى آله وصحبه أجمعين، وعلى كل من تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أمّا بعد:
فإن علماء شبه القارة الهندية لهم خدمات جليلة في جميع العلوم الإسلاميّة والعربيّة، دراسة وتدريسًا وتأليفًا. واهتمامهم بعلوم القرآن والسنة أنشأ من المؤلفات في علم التفسير والحديث ما يملأ المكتبات، ولكنّ معظم هذه المؤلفات لم تزل مقتصرة على البلاد الهندية، ومختفية عن أنظار أهل العلم خارجها، ولم يبلغ إليهم إلا عدد قليل. وذلك أوّلًا لقلّة وسائل الاتصال في الماضي، وثانيًا لأن مستوى الطباعة والنشر في بلاد شبه القارة كان ضعيفًا -ولا يزال- بالنسبة إلى البلاد العربيّة.
وجزى اللَّه سبحانه وتعالى فضيلة العلامة الشيخ تقي الدين الندوي حفظه اللَّه تعالى أنّه أولى اهتمامه البالغ لإخراج هذه الكنوز المخبوءة إلى حيّز النشر مراعيًا في ذلك المذاق المعاصر لإخراجها في حُلّة قشيبة من الطّباعة بعد تحقيق واف لضبط نصوصها. فقد وفّقه اللَّه تعالى لنشر (بذل المجهود) و (أوجز المسالك) و (إزالة الخفاء عن خلافة الخلفاء) وعدّة كتب أخرى.
وهو الآن في سبيل كتاب قيّم آخر من تراثنا الثّمين، ألا وهو (لمعات التنقيح،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনা: বরেণ্য উস্তাদ, মুহাদ্দিস, ফকিহ, শায়খ মুহাম্মদ তাকি উসমানি, শায়খুল হাদিস, জামিয়া দারুল উলুম করাচি, পাকিস্তানসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত রাসুলের প্রতি, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সবার প্রতি।
অতঃপর:
ভারতীয় উপমহাদেশের উলামায়ে কেরামের সমস্ত ইসলামি ও আরবি বিদ্যায়—অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে—মহান অবদান রয়েছে। কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানচর্চায় তাঁদের গভীর মনোযোগ তাফসির ও হাদিস শাস্ত্রে এমন বিপুল সংখ্যক রচনাবলি তৈরি করেছে যা গ্রন্থাগারসমূহকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু এই রচনাবলির অধিকাংশই ভারতীয় অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে এবং এর বাইরের জ্ঞানান্বেষীদের দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে; তাদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে যৎসামান্যই। এর প্রথম কারণ হলো অতীতে যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা, আর দ্বিতীয় কারণ হলো আরব দেশগুলোর তুলনায় ভারতীয় উপমহাদেশে মুদ্রণ ও প্রকাশনার মান ছিল অনুন্নত—যা এখনও বিদ্যমান।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা শ্রদ্ধেয় আল্লামা শায়খ তাকিউদ্দিন নদভী (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন)-কে উত্তম প্রতিদান দান করুন যে, তিনি এই লুকায়িত রত্নভাণ্ডারগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর গভীর মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন। তিনি এর পাঠ্যসমূহ যথাযথভাবে সম্পাদনার পর আধুনিক রুচি অনুযায়ী অত্যন্ত চমৎকার মুদ্রণ ও সাজসজ্জায় তা প্রকাশের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ‘বাযলুল মাজহুদ’, ‘আওজাযুল মাসালিক’, ‘ইযালাতুল খাফা আন খিলাফাতিল খুলাফা’ এবং আরও বেশ কিছু কিতাব প্রকাশের তাওফিক দান করেছেন।
আর তিনি এখন আমাদের মূল্যবান ঐতিহ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাব প্রকাশের পথে রয়েছেন, আর তা হলো ‘লামআতুত তানকিহ’,
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
شرح مشكاة المصابيح) للعلاّمة المحدّث الكبير الشّيخ عبد الحقّ المحدث الدهلويّ رحمه اللَّه تعالى من علماء القرن العاشر والمتوفّى في بداية القرن الحادي عشر. وهو الّذي حصل على علم الحديث من مشايخه في مكة المكرمة، ثمّ جاء به إلى الهند، واشتهر بأنّه أول من أتى بعلم الحديث إلى هذه البلاد. والحقّ أن علم الحديث كان متداولًا في الهند بفضل علماء المسند والكَجرات منذ قديم، ولكن الشيخ رحمه اللَّه تعالى جاء به في المناطق الشمالية من الهند، وفى عاصمتها دلهي، فالظّاهر أنه أول من شرع بتدريس الحديث فيها، بعد ما كان النّاس فيها مُكبّين على العلوم العقلية فقط، ولم تكن لهم بضاعة في علم الحديث. فوفق اللَّه تعالى الشيخ رحمه اللَّه تعالى لملء هذه الدّيار بالسنّة النبوية على صاحبها الصلاة والسلام.
وإنّ كتاب (مشكاة المصابيح) للخطيب التبريزي رحمه اللَّه تعالى كما يعرفه أهل العلم من أحسن مجموعات الحديث فإنّ دراسته تُمِدّ طلبة العلم بمعرفة مضمون معظم الأحاديث النبوية التي تتعلق بحياة الإنسان العملية. ولذاك تصدى جمع كبير من العلماء لشرحه، ومنهم معاصر مؤلف المشكاة العلاّمة الطّيبيّ، والعلامة الشيخ المنلا علي القاري وغيرهما.
وإنّ (مشكاة المصابيح) لم تزل من المقررات الدراسية في المدارس الدينية في شبه القارة الهندية.
وإن الشيخ عبد الحق المحدث الدهلويّ رحمه اللَّه تعالى ألّف شرحه أولًا باللغة الفارسية باسم (أشعة اللمعات) ثم ألّف شرحًا عربيًا باسم (لمعات التنقيح) وذكر بنفسه أنّه أتى في شرحه العربيّ بمضامين لم يستطع أن يأتي بها في الشرح الفارسيّ، لكونها فوق إدراك العامّة. وكنت أثناء تدريسي لـ (مشكاة المصابيح) أنتفع بشرحيه جميعًا،
(মিশকাতুল মাসাবীহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ) দশম শতাব্দীর আলেম এবং একাদশ শতাব্দীর শুরুতে মৃত্যুবরণকারী প্রখ্যাত আলেম ও মহান মুহাদ্দিস শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহমাতুল্লাহি তা'আলা)-এর একটি রচনা। তিনি মক্কা মুকাররমার শায়খদের নিকট থেকে হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন, অতঃপর তা হিন্দুস্তানে নিয়ে আসেন এবং তিনি এই ভূখণ্ডে ইলমে হাদীস আনয়নকারী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। প্রকৃত সত্য হলো, মুসনাদ ও গুজরাটের আলেমদের অবদানে হিন্দুস্তানে ইলমে হাদীসের চর্চা প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত ছিল। তবে শায়খ (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) এটি ভারতের উত্তরাঞ্চল এবং এর রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে আসেন। সম্ভবত তিনিই সেখানে সর্বপ্রথম হাদীস পাঠদানের সূচনা করেন, কারণ তৎকালে সেখানকার মানুষ কেবল যুক্তিনির্ভর শাস্ত্রসমূহের প্রতি ঝুঁকে ছিল এবং ইলমে হাদীসে তাদের কোনো পুঁজি ছিল না। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা শায়খকে (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) এই জনপদকে নববী সুন্নাহ দ্বারা পূর্ণ করার তাওফিক দান করেন—তার (রাসূলের) ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
খতীব তাবরিযী (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) রচিত 'মিশকাতুল মাসাবীহ' গ্রন্থটি আলেমদের নিকট হাদীস সংকলনগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এর অধ্যয়ন ইলম অন্বেষণকারীদের মানুষের ব্যবহারিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ নববী হাদীসের মর্মার্থ অনুধাবনে সহায়তা করে। এই কারণেই এক বিশাল সংখ্যক আলেম এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেছেন। তাদের মধ্যে মিশকাতের লেখকের সমসাময়িক আল্লামা তীবী, আল্লামা শেখ মোল্লা আলী কারী এবং অন্যান্যরা রয়েছেন।
ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বীনি মাদ্রাসাগুলোতে 'মিশকাতুল মাসাবীহ' অদ্যাবধি পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) প্রথমে ফারসি ভাষায় 'আশয়াতুল লামআত' নামে এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন। অতঃপর তিনি 'লামআতুত তানকীহ' নামে এর একটি আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেন। তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থে এমন সব সূক্ষ্ম বিষয়বস্তু নিয়ে এসেছেন যা তিনি ফারসি ব্যাখ্যাগ্রন্থে আনতে সক্ষম হননি; কারণ সেগুলো সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার ঊর্ধ্বে ছিল। আমি যখন 'মিশকাতুল মাসাবীহ' পাঠদান করতাম, তখন তার উভয় ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকেই উপকৃত হতাম।
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
فوجدتهما نافعين للغاية، وشارحين للبّ الحديث بعبارة موجزة دون إطناب مملّ. فجزاه اللَّه سبحانه خيرًا.
وإن فضيلة العلامة الشيخ تقي الدين الندوي حفظه اللَّه تعالى قام بإخراج هذا الكتاب على طراز ما أخرجه من قبل، وأضاف في بدايته مقدمة ضافية في تعريف (مشكاة المصابيح) ومؤلفه، ثمّ بالشيخ عبد الحق رحمه اللَّه تعالى وبمؤلفاته، وبشرحيه لـ (مشكاة المصابيح)، كما أنه ذكر خلاصة تاريخ رواية علم الحديث في البلاد الهندية.
وأدعو اللَّه سبحانه وتعالى أن يتقبل هذا الجهد المشكور وأن ينفع به العباد والبلاد. وصلى اللَّه تعالى على سيدنا ومولانا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
محمد تقي العثماني
22/ 08/ 1435 هـ = 20/ 06/ 2014 م
يوم الجمعة
* * *
আমি এই দু'টিকে অত্যন্ত উপকারী এবং ক্লান্তিকর দীর্ঘসূত্রিতা ব্যতিরেকে সংক্ষিপ্ত শব্দে হাদীসের সারমর্ম ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে পেয়েছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
নিশ্চয়ই ফযীলতশায়খ আল্লামা তকিউদ্দীন নদভী (আল্লাহ তা'আলা তাঁকে হিফাযত করুন) এই কিতাবটিকে তাঁর পূর্ববর্তী প্রকাশিত কাজগুলোর আদলে সম্পাদনা করেছেন এবং এর শুরুতে ‘মিশকাতুল মাসাবীহ’ ও এর গ্রন্থকারের পরিচয়ে, এরপর শায়খ আব্দুল হক (আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহম করুন) ও তাঁর রচনাবলি এবং ‘মিশকাতুল মাসাবীহ’-এর ওপর তাঁর দু’টি ভাষ্যগ্রন্থের পরিচয়ে একটি বিস্তারিত ভূমিকা যুক্ত করেছেন। পাশাপাশি তিনি হিন্দুস্তান ভূখণ্ডে ইলমে হাদীসের বর্ণনার ইতিহাসের সারাংশ উল্লেখ করেছেন।
আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই প্রশংসনীয় প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে বান্দাদের ও দেশসমূহের উপকার সাধন করেন। আমাদের সরদার ও অভিভাবক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহ তা'আলার রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মুহাম্মাদ তকি উসমানী
২২/ ০৮/ ১৪৩৫ হিজরী = ২০/ ০৬/ ২০১৪ ঈসায়ী
শুক্রবার
* * *
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدِّمَةُ المُحَقّقْالحمد للَّه ربّ العالمين، والصّلاة والسّلام على سيد المرسلين محمد وآله وأتباعه أجمعين.
وبعد:
فإن كتاب (مشكاة المصابيح) هو أجمع كتاب للأحاديث النبوية، لذا عُني بشرحه والتعليق والتخريج عليه منذ ظهور هذا الكتاب إلى عصرنا هذا كثيرٌ من المحدثين والعلماء، وكلٌّ عَمِلَ على حسب اجتهاده، وأوفى شرحٍ لهذا الكتاب هو للعلامة علي بن سلطان المعروف بالقاري المتوفى سنة 1014 هـ، وكذلك من مؤلفات الشيخ عبد الحق المحدث الدهلوي البخاري كتابه (لمعات التنقيح في شرح مشكاة المصابيح) هو شرح نفيس قد أورد فيه بعض التحقيقات والنكات والفرائد والفوائد ربما لا توجد في كتاب آخر، فقد اعتنى فيه بتحقيق المفردات من الألفاظ لغةً ونحوًا وفقهًا، وأدّى حق شرح الحديث والجمع بين حديثين متعارضين مع الإنصاف، ولم يخرج عن دائرة الاعتدال، وهذا الكتاب دليل بيّن على أن الشيخ المحدث له رسوخ في فن الحديث الشريف.
ولا شك أن لشرح علي القاري ترجيحًا على هذا الكتاب، ولكن الشارح اختار في هذا الكتاب حُسْنَ الاختيار والانتخاب من شروح الحديث، والظاهر أنه شرح لـ (مشكاة المصابيح) يغني عن جملة من شروح الكتب الستة، يقول الشيخ المحدث: وهو أجلُّ وأعظمُ وأطولُ وأكبرُ تصنيفاته، وقد جاء بتوفيق اللَّه وتأييده كتابًا حافلًا شاملًا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সর্দার মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সকল অনুসারীদের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই 'মিশকাতুল মাসাবিহ' গ্রন্থটি নববী হাদিসসমূহের সবচেয়ে সংকলিত কিতাব। এজন্য এই কিতাবটি আত্মপ্রকাশের পর থেকে আমাদের যুগ পর্যন্ত বহু মুহাদ্দিস ও আলিম এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা, টীকা লিখন এবং তাহরিজ বা সূত্র নির্দেশ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ইজতিহাদ অনুযায়ী কাজ করেছেন। এই কিতাবটির সবচেয়ে পরিপূর্ণ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হলো আল্লামা আলী বিন সুলতান আল-ক্বারী (মৃত্যু: ১০১৪ হিজরি)-এর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। অনুরূপভাবে শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী বুখারী-র রচনাবলির অন্যতম হলো তাঁর কিতাব 'লামআতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবিহ'। এটি একটি মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ যাতে তিনি এমন কিছু তাহকীক (গবেষণা), সূক্ষ্ম বিষয়, অনন্য আলোচনা ও উপকারী তথ্য প্রদান করেছেন যা সম্ভবত অন্য কোনো কিতাবে পাওয়া যাবে না। তিনি এতে শব্দাবলির শাব্দিক, নাহবী (ব্যাকরণিক) ও ফিকহী বিশ্লেষণের প্রতি যত্নবান হয়েছেন। তিনি ইনসাফের সাথে হাদিসের ব্যাখ্যা এবং দুটি আপাত বিরোধী হাদিসের মাঝে সমন্বয় করার হক আদায় করেছেন এবং মধ্যপন্থা থেকে বিচ্যুত হননি। এই কিতাবটি একটি স্পষ্ট দলিল যে, মুহাদ্দিস শেখের হাদিস শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য রয়েছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই কিতাবটির ওপর মোল্লা আলী ক্বারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থের এক প্রকার অগ্রাধিকার রয়েছে, তবে ব্যাখ্যাকার (দেহলভী) এই কিতাবে হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে অতি চমৎকার চয়ন ও নির্বাচন করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি 'মিশকাতুল মাসাবিহ'-এর এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা কুতুবে সিত্তাহ বা ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থের অনেকগুলো ব্যাখ্যাগ্রন্থের অভাব পূরণ করে। মুহাদ্দিস শেখ বলেন: এটি তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, মহান, দীর্ঘ এবং বৃহত্তম সংকলন। আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্যে এটি একটি সমৃদ্ধ ও ব্যাপক গ্রন্থ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
مفيدًا نافعًا في شرح الأحاديث النبوية، على صاحبها الصلاة والسلام، مشتملةً على تحقيقات مفيدة، وتدقيقات بديعة، وفوائد شريفة، ونكات لطيفة. (تأليف القلب الأليف) (ص: 30).
ولذا فقد عُني علماء الحديث في الهند بهذا الكتاب منهم الإمام المحدث الشيخ أحمد علي السهارنفوري (ت: 1297 هـ) أخذ منه في حاشية (مشكاة المصابيح) وفي هوامش (جامع الترمذي) و (الجامع الصحيح) للبخاري، وكذلك استفاد منه الإمام المحدث الفقيه الشيخ خليل أحمد السهارنفوري (ت: 1346 هـ) في (بذل المجهود) وصاحب (عون المعبود) وصاحب (تحفة الأحوذي) وغيرهم في شروحهم.
فكان من أماني كثير من العلماء تحقيق هذا الكتاب وإخراجه إلى العالم الإسلامي، فلما تمت طباعة كتاب (إزالة الخفاء) ألقى اللَّه في رُوعي تحقيق هذا الكتاب وإخراجه إلى النور. وأصر على ذلك أيضًا ولدي العزيز الدكتور ولي الدين الندوي فبدأنا هذا الأمر منذ سنتين بمساعدة الباحثين الذين يشتغلون معي في مركز الشيخ أبي الحسن الندوي، أخص منهم بالذكر الأخ الكريم شمس الرحمن المظاهري والعزيز محمد حسان أختر الندوي وكان لهما سهم بارز في هذا العمل، وساعدهما الأعزة: عبيد اللَّه القاسمي ومحمد هاشم القاسمي وأبو ثاقب الندوي ومحمد حمزة وغيرهم من الباحثين والطباعين من مركز الشيخ أبي الحسن الندوي.
وبحثنا عن مخطوطات هذا الكتاب وبذلنا جهودًا جبّارة في تحصيلها، وكذلك حصلنا على النسخة المخطوطة لكتاب (الإكمال في أسماء الرجال) للشيخ المحدث عبد الحق بمساعدة نائب الرئيس الهندي السيد حامد الأنصاري، جزاهم اللَّه خير الجزاء في الدنيا والآخرة.
নববী হাদীসসমূহের ব্যাখ্যায় একটি অতি উপকারী ও ফলপ্রসূ কাজ, যার প্রবর্তকের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। এটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা, চমৎকার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, মহৎ ফায়দা এবং সূক্ষ্ম তত্ত্ব সমৃদ্ধ। (তালিফুল কালবিল আলিফ) (পৃষ্ঠা: ৩০)।
এ কারণে ভারতের হাদীস বিশারদগণ এই কিতাবটির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম মুহাদ্দিস শায়খ আহমাদ আলী সাহারানপুরী (মৃত্যু: ১২৯৭ হিজরী), যিনি 'মিশকাতুল মাসাবিহ'-এর টীকা এবং 'জামে তিরমিযী' ও বুখারীর 'আল-জামেউস সহীহ'-এর পার্শ্বটীকায় এখান থেকে গ্রহণ করেছেন। একইভাবে ইমাম মুহাদ্দিস ফকীহ শায়খ খলীল আহমাদ সাহারানপুরী (মৃত্যু: ১৩৪৬ হিজরী) 'বাযলুল মাজহুদ'-এ, এবং 'আওনুল মাবুদ'-এর লেখক ও 'তুহফাতুল আহওয়াযী'-এর লেখকসহ অন্যান্যরা তাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন।
তাই অনেক আলেমেরই আকাঙ্ক্ষা ছিল এই কিতাবটির তাহকীক (সম্পাদনা) সম্পন্ন করা এবং একে মুসলিম বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করা। যখন 'ইযালাতুল খাফা' কিতাবটির মুদ্রণ সম্পন্ন হলো, তখন আল্লাহ আমার অন্তরে এই কিতাবটির তাহকীক ও তা আলোর মুখ দেখানোর পরিকল্পনা ঢেলে দিলেন। আমার প্রিয় পুত্র ডক্টর ওয়ালীউদ্দীন নদভীও এ বিষয়ে বিশেষ তাগিদ দিলেন। অতঃপর আমরা দুই বছর আগে শায়খ আবুল হাসান নদভী সেন্টারে আমার সাথে কর্মরত গবেষকদের সহায়তায় এই কাজ শুরু করি। তাদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি শ্রদ্ধেয় ভাই শামসুর রহমান মাযাহেরী এবং প্রিয় মুহাম্মদ হাসসান আখতার নদভীকে, এই কাজে যাদের বিশেষ অবদান রয়েছে। এছাড়া আমাদের প্রিয় উবাইদুল্লাহ কাসেমী, মুহাম্মদ হাশেম কাসেমী, আবু সাকিব নদভী, মুহাম্মদ হামযা এবং শায়খ আবুল হাসান নদভী সেন্টারের অন্যান্য গবেষক ও মুদ্রণকারীরাও এতে সহায়তা করেছেন।
আমরা এই কিতাবটির পাণ্ডুলিপিগুলো অনুসন্ধান করেছি এবং সেগুলো সংগ্রহে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। একইভাবে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ হামিদ আনসারীর সহযোগিতায় আমরা শায়খ মুহাদ্দিস আব্দুল হকের 'আল-ইকমাল ফি আসমার রিজাল' কিতাবের পাণ্ডুলিপিটিও সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি। আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وفي الأخير عرضنا هذا المشروع على حضرة سمو الشيخ سلطان بن زايد آل نهيان -حفظه اللَّه- ممثل صاحب السمو رئيس دولة الإمارات العربية المتحدة، فوافق سموه على طباعة ثلاثة آلاف نسخة على نفقته وتوزيعها في العالم الإسلامي، ولسُمُوّه مكارمُ كثيرةٌ وخدماتٌ جليلةٌ عديدةٌ لميراث النبوة، فقد أذن بطباعة عَدَدٍ من كتب الحديث والفقه بتحقيقنا. واللَّه يطوّل حياته ويبارك في أمواله وأولاده، آمين.
* * *
পরিশেষে আমরা এই প্রকল্পটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, মাননীয় শেখ সুলতান বিন জায়েদ আল নাহিয়ান -আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন- এর নিকট পেশ করলাম। অতঃপর তিনি তাঁর নিজ ব্যয়ে তিন হাজার কপি মুদ্রণ এবং মুসলিম বিশ্বে তা বিতরণের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেন। নবুওয়াতের মিরাসের খিদমতে মহামান্যের অনেক মহৎ কাজ এবং অসংখ্য মহান সেবা রয়েছে। তিনি আমাদের তাহকীককৃত বেশ কিছু হাদিস ও ফিকহের কিতাব মুদ্রণের অনুমতি প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন এবং তাঁর সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত দান করুন, আমীন।
* * *
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
عَمَلي في هَذا الكِتَاب1 - قد جعلنا نسخة المحدث أحمد علي السهارنفوري لمشكاة المصابيح أصلًا وأمًّا للتحقيق، ثم قارَنَّا بين النسخ المطبوعة، وبيَّنا ما بينهن من اختلاف.
2 - صححت الكتاب بقدر الإمكان، وإذا وجدت فيه تحريفًا أو تغييرًا نبّهتُ عليه.
3 - نسخت هذا الشرح من أول الكتاب إلى آخره، وقارنت بين النسخ المخطوطة التي ذكرناها في التقدمة، ورجحت بعد المقارنة بين النسخ، فما كان صوابًا فمن اللَّه سبحانه وتعالى، وما كان خطأ فمن الشيطان، واللَّه يغفر لنا.
4 - علقت على مواضع كثيرة من الكتاب بما يستكمل مقاصده ويزيد فرائده وفوائده.
5 - قد استفدنا في هذا الشرح من شروح (المشكاة) وغيرها من الشروح، أخص منها بالذكر (مرقاة المفاتيح) للعلامة علي القاري، وحاشية على (المشكاة) لشيخنا الإمام محمد زكريا الكاندهلوي، فما كان فيها من جديد أشرنا إليه بـ (التقرير).
6 - إذا ترددت في كلمة من الشرح رجعنا إلى المصادر التي نَقَلَ منها الشارح، وتأكدت من صحتها.
7 - كان للشيخ المحدث بعض الرموز التي يستخدمها في الشرح وقد أشار إليها في مقدمة الكتاب فاكتفينا بذكرها.
এই কিতাবে আমার কর্মপদ্ধতি১ - আমি মিশকাতুল মাসাবিহ-এর জন্য মুহাদ্দিস আহমদ আলী সাহারানপুরীর পাণ্ডুলিপিকে সম্পাদনার মূল ভিত্তি ও প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছি। অতঃপর বিভিন্ন মুদ্রিত সংস্করণের মধ্যে তুলনা করেছি এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো স্পষ্ট করেছি।
২ - আমি সাধ্যমতো কিতাবটি সংশোধন করেছি। যদি কোথাও কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তন দেখতে পেয়েছি, তবে সে বিষয়ে সতর্ক করেছি।
৩ - আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুলিপি তৈরি করেছি এবং ভূমিকায় উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে তুলনা করেছি। পাণ্ডুলিপিগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণের পর আমি অধিকতর সঠিকটিকে প্রাধান্য দিয়েছি। যা সঠিক হয়েছে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা ভুল হয়েছে তা শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।
৪ - আমি কিতাবটির অনেক স্থানে এমন টীকা যুক্ত করেছি যা এর উদ্দেশ্যকে পূর্ণতা দান করে এবং এর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা বৃদ্ধি করে।
৫ - এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ তৈরিতে আমরা (মিশকাত)-এর বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং অন্যান্য শরাহ থেকে উপকৃত হয়েছি। বিশেষভাবে আল্লামা আলী আল-কারীর (মিরকাতুল মাফাতিহ) এবং আমাদের উস্তাদ ইমাম মুহাম্মাদ যাকারিয়া কান্ধলভীর (মিশকাত)-এর ওপর লিখিত হাশিয়া বা টীকা উল্লেখযোগ্য। সেখানে যা কিছু নতুন তথ্য ছিল, সেটিকে আমরা (আত-তাকরীর) হিসেবে নির্দেশ করেছি।
৬ - ব্যাখ্যার কোনো শব্দ নিয়ে সংশয় দেখা দিলে আমি সেই মূল উৎসগুলোর দিকে ফিরে গিয়েছি যেখান থেকে ব্যাখ্যাকার তা উদ্ধৃত করেছেন এবং তার নির্ভুলতা নিশ্চিত করেছি।
৭ - মুহাদ্দিস শাইখের কিছু নির্দিষ্ট প্রতীক চিহ্ন ছিল যা তিনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেন এবং তিনি কিতাবটির ভূমিকায় সেগুলো নির্দেশ করেছেন; আমি শুধু সেগুলো উল্লেখ করাকেই যথেষ্ট মনে করেছি।
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
8 - تخريج الأحاديث من الكتب الستة ومن غيرها تخريجًا موجزًا.
9 - وضعت فهرسًا عامًّا للكتاب.
وأخيرًا ندعو اللَّه سبحانه وتعالى أن يتقبل منا هذا العمل، ويتجاوز عما وقع منا من الخطأ والزلل، وينفع اللَّه بهذا الكتاب الباحثين والدارسين، آمين يا رب العالمين.
كَتَبَهُ أ. د. تقي الدين الندوي
يوم الثلاثاء بعد العصر 10/ جمادى الأولى 1435 هـ الموافق 11/ مارس 2014 م في مدينة العين الإمارات العربية المتحدة
* * *
৮ - কুতুবে সিত্তা এবং অন্যান্য উৎস থেকে হাদিসসমূহের সংক্ষিপ্ত উৎসনির্দেশ (তাখরিজ) করা।
৯ - বইটির জন্য একটি সাধারণ নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) প্রস্তুত করেছি।
পরিশেষে আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের পক্ষ থেকে এই কাজ কবুল করেন, আমাদের ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতিসমূহ ক্ষমা করেন এবং আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উপকৃত করেন। আমীন, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
এটি লিখেছেন প্রফেসর ড. তাকিউদ্দিন নদভী
মঙ্গলবার আসরের পর, ১০ জুমাদাল উলা ১৪৩৫ হিজরি মোতাবেক ১১ মার্চ ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ, আল আইন শহর, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
* * *
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
تَرْجَمَةُ الإمَامِ المُحَدِّثِ عَبْدِ الحَقِّ البُخَارِيِّ الدِّهْلَوِيِّ*
كيف دخل الإسلام الهند:فقد دخل الإسلام في الهند بطريق البر والبحر، كان طريق البر هو ممر خيبر، فقد دخل الإسلام من هذا الطريق إلى الهند في أواخر القرن الرابع وبداية القرن الخامس، ولكن قد دخل تجار العرب المسلمون إلى المسند ومليبار حتى شواطئ كَجرات، وانتشروا في هذه المناطق، وقد جاؤوا بدينهم والقرآن الكريم والعلوم الإسلامية، واستوطنوا هذه البلاد، وأسسوا المساجد فكانت حافلة بالدروس الملتزمة بِقَالَ اللَّه وقال الرسول، وأيضًا قد دخل الجيش الإسلامي في عصر سيدنا عمر بن الخطاب إلى سواحل الهند.
فدخل علم الحديث في أوائل الفتح الإسلامي في بلاد الهند، وكان من جملة من وفد إليها من المجاهدين في سبيل اللَّه الربيع بن صبيح السعدي الذي قال عنه حاجي خليفة في (كشف الظنون): هو أول من صنف في الإسلام (1)، ولا شك أنه كان من أوائل المصنفين في علم الحديث إذ لم يكن أولهم بإطلاق، وهو من أتباع التابعين، ومات وفى فن في الهند سنة 160 هـ (2).
وقد رافق علمُ الحديث العربَ الذين فتحوا هذه البلاد فامتزج بلحمهم ودمهم،
--------------------------------------------
ইমাম মুহাদ্দিস আব্দুল হক বুখারি দেহলভীর জীবনী*
ভারতে ইসলাম কীভাবে প্রবেশ করেছে:ভারতে ইসলাম প্রবেশ করেছে স্থল ও জলপথ উভয় দিক দিয়ে। খাইবার গিরিপথ ছিল স্থলপথ, যার মাধ্যমে চতুর্থ শতাব্দীর শেষভাগে এবং পঞ্চম শতাব্দীর শুরুতে ভারতে ইসলামের প্রবেশ ঘটে। তবে আরব মুসলিম বণিকগণ সিন্ধু ও মালাবার হয়ে গুজরাটের উপকূল পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন এবং এসব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা তাঁদের ধর্ম, পবিত্র কুরআন এবং ইসলামি জ্ঞান নিয়ে এসেছিলেন এবং এ দেশে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তাঁরা মসজিদসমূহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীর পাঠে মুখরিত ছিল। এছাড়াও, সাইয়্যিদুনা উমর ইবনুল খাত্তাব-এর যুগেও ভারতের উপকূলে মুসলিম সেনাবাহিনী প্রবেশ করেছিল।
ফলে ভারতে ইসলামি বিজয়ের প্রাথমিক যুগেই হাদিস শাস্ত্রের আগমন ঘটে। আল্লাহর পথে জিহাদ করতে আসা মুজাহিদদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রাবি বিন সাবিহ আস-সাদি, যার সম্পর্কে হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন'-এ বলেছেন: তিনি ইসলামে সর্বপ্রথম গ্রন্থ সংকলনকারী (১)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি হাদিস শাস্ত্রের প্রথম দিকের সংকলকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, যদিও তাঁকে নিরঙ্কুশভাবে প্রথম বলা না হয়। তিনি ছিলেন একজন তাবি-তাবিঈ। তিনি ১৬০ হিজরিতে ভারতে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয় (২)।
হাদিস শাস্ত্র সেই সব আরবদের সঙ্গী ছিল যারা এই দেশ জয় করেছিলেন, ফলে এটি তাঁদের রক্ত ও মাংসের সাথে মিশে গিয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
فحملوا معهم هذا العلم الشريف، وكان يرافقهم في كل غزوة علماء ومحدثون، وكان فيهم من سكن الهند ومات فيها. وانتشر علم الحديث في دولة العرب وحكمهم (1).
فلما انقرضت دولة العرب من بلاد السند، صارت صناعة أهل الهند حكمة اليونان والإضراب عن علوم السنة والقرآن إلا ما يذكر من الفقه على القلة، وكان قصارى نظرهم في الحديث في (مشارق الأنوار) للصغاني، فإن ترفَّع أحد إلى (مصابيح السنة) للبغوي أو إلى (مشكاة المصابيح) ظنّ أنه وصل إلى درجة المحدثين، وما ذلك إلا لجهلهم بالحديث (2).
* * *
*
علم الحديث في القرن العاشر الهجري:ذكر العلامة عبد الحي الحسني (3): أن اللَّه منّ على الهند بإفاضة هذا العلم، فورد به بعض العلماء في القرن العاشر، كالشيخ عبد المعطي بن الحسن بن عبد اللَّه باكثير المكي المتوفى بأحمد آباد سنة 989 هـ، والشهاب أحمد بن بدر الدين المصري المتوفى بأحمد آباد سنة 992 هـ، والشيخ محمد بن أحمد بن علي الفاكهاني الحنبلي المتوفى بأحمد آباد سنة 992 هـ، والشيخ محمد بن محمد عبد الرحمن المالكي المصري المتوفى بأحمد آباد سنة 919 هـ، والشيخ رفيع الدين الجشتي الشيرازي المتوفى بأكبر آباد سنة 954 هـ، والشيخ إبراهيم بن أحمد بن الحسن البغدادي، والشيخ ضياء الدين
--------------------------------------------
তারা এই মহিমান্বিত জ্ঞান সাথে নিয়ে এসেছিলেন। প্রত্যেক যুদ্ধাভিযানে তাদের সাথে আলেম ও মুহাদ্দিসগণ থাকতেন। তাদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা ভারতে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। আরবদের রাষ্ট্র ও শাসনের সময়কালে সেখানে ইলমে হাদিস ছড়িয়ে পড়েছিল (১)।
যখন সিন্ধু দেশ থেকে আরবদের শাসনের অবসান ঘটল, তখন ভারতের অধিবাসীদের প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ালো গ্রিক দর্শন, আর তারা সুন্নাহ ও কুরআনের জ্ঞানসমূহ বর্জন করল—কেবল ফিকহের কিছু বিষয় ছাড়া যা যৎসামান্যই আলোচিত হতো। হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞানের সর্বোচ্চ সীমা ছিল সাগানী রচিত 'মাশারিকুল আনওয়ার' পর্যন্ত। যদি কেউ উন্নতি করে বাগভী রচিত 'মাসাবীহুস সুন্নাহ' কিংবা 'মিশকাতুল মাসাবীহ' পর্যন্ত পৌঁছাতো, তবে সে মনে করত যে সে মুহাদ্দিসদের স্তরে পৌঁছে গেছে। আর তা ছিল কেবল হাদিস সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণেই (২)।
* * *
*
হিজরি দশম শতাব্দীতে ইলমে হাদিস:আল্লামা আব্দুল হাই আল-হাসানী (৩) উল্লেখ করেছেন: আল্লাহ তাআলা এই ইলমের প্রসারের মাধ্যমে ভারতের ওপর অনুগ্রহ করেছেন। ফলে দশম শতাব্দীতে বেশ কিছু আলেম এটি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন, যেমন শেখ আব্দুল মুতি ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ বাকাসীর আল-মাক্কী (মৃত্যু ৯৮৯ হিজরি, আহমদাবাদ), শিহাব আহমদ ইবনে বদরুদ্দিন আল-মিসরী (মৃত্যু ৯৯২ হিজরি, আহমদাবাদ), শেখ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আলী আল-ফাকিহানী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৯৯২ হিজরি, আহমদাবাদ), শেখ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আবদুর রহমান আল-মালিকী আল-মিসরী (মৃত্যু ৯১৯ হিজরি, আহমদাবাদ), শেখ রফিউদ্দিন আল-চিশতী আশ-শিরাজী (মৃত্যু ৯৫৪ হিজরি, আকবরাবাদ), শেখ ইবরাহিম ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান আল-বাগদাদী এবং শেখ জিয়াউদ্দিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
লামায়াতুত তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
المدني المدفون بكاكوري، والشيخ بهلول البدخشي، والخواجه ميركلان الهروي المتوفى بأكبر آباد سنة 981 هـ، وخلق آخرون.
ثم وفق اللَّه سبحانه بعض العلماء من أهل الهند أن رحلوا إلى الحرمين الشريفين، وأخذوا الحديث وجاؤوا به إلى الهند، وانتفع به خلق كثير، كالشيخ عبد اللَّه بن سعد اللَّه السندي، والشيخ رحمة اللَّه بن عبد اللَّه بن إبراهيم السندي، المهاجرين إلى الحجاز، فإنهما قدما الهند ودرّسا بكَجرات مدة طويلة ثم رجعا إلى الحجاز، والشيخ يعقوب ابن الحسن الكشميري المتوفى سنة 1003 هـ، والشيخ جوهر الكشميري المتوفى سنة 1026 هـ، والشيخ عبد النبي بن أحمد الكَنكَوهي، والشيخ عبد اللَّه بن شمس الدين السلطان بوري، والشيخ قطب الدين العباسي الكَجراتي، والشيخ أحمد بن إسماعيل المندوي، والشيخ راجح بن داود الكَجراتي، والشيخ عليم الدين المندوي، والشيخ المعمَّر إبراهيم بن داود المنكبوري المدفون بأكبر آباد، والشيخ محمد بن طاهر بن علي الفتني صاحب (مجمع البحار)، والسيد عبد الأول بن علي بن العلاء الحسيني وغيرهم.
لا سيما الشيخ محمد بن طاهر المذكور المتوفى سنة 986 هـ، فإنه درّس وخرّج وصنف كتبًا عديدة في ذلك العلم الشريف، كـ (مجمع البحار) في غريب الحديث، و (المغني) في أسماء الرجال، و (التذكرة) في الموضوعات، وكانت له يد جارحة ويُمنَى عاملة في الحديث، ما نهض من الهند مثله في سعة المعلومات وبلوغ النظر غير شيخه حسام الدين علي المتقي الكَجراتي، ولكنه انقطع إلى الحجاز، وعمت فيوضه لأهل الحرمين الشريفين، والشيخ محمد بن طاهر أقام بالهند.
وأما الشيخ عبد الأول بن علي بن العلاء الحسيني المتوفى سنة 968 هـ، فأخذ عن
মাদানী, যিনি কাকোরিতে সমাহিত, এবং শায়খ বাহলুল বাদাকশি, এবং খাজা মিরকালান আল-হারাবী, যিনি ৯৮১ হিজরি সালে আকবরাবাদে ইন্তেকাল করেন, এবং আরও অনেকে।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ভারতের কিছু আলেমকে তাওফিক দান করেন যে তাঁরা হারামাইন শরিফাইন সফর করেন এবং হাদিস গ্রহণ করে তা ভারতে নিয়ে আসেন, যার মাধ্যমে বহু মানুষ উপকৃত হন। যেমন শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে সাদুল্লাহ আস-সিন্ধি এবং শায়খ রহমতুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আস-সিন্ধি, যাঁরা হিজাজে হিজরত করেছিলেন। তাঁরা উভয়ে ভারতে আসেন এবং দীর্ঘকাল গুজরাটে দরস প্রদান করেন, অতঃপর পুনরায় হিজাজে ফিরে যান। এবং শায়খ ইয়াকুব ইবনুল হাসান আল-কাশ্মীরি (মৃত্যু ১০০৩ হিজরি), এবং শায়খ জাওহার আল-কাশ্মীরি (মৃত্যু ১০২৬ হিজরি), এবং শায়খ আব্দুল নবী ইবনে আহমদ আল-গাঙ্গুহি, এবং শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে শামসুদ্দিন আস-সুলতানপুরি, এবং শায়খ কুতুবুদ্দিন আল-আব্বাসি আল-গুজরাতি, এবং শায়খ আহমদ ইবনে ইসমাইল আল-মান্দুয়ি, এবং শায়খ রাজেহ ইবনে দাউদ আল-গুজরাতি, এবং শায়খ আলিমুদ্দিন আল-মান্দুয়ি, এবং প্রবীণ শায়খ ইবরাহিম ইবনে দাউদ আল-মানকবুরি যিনি আকবরাবাদে সমাহিত, এবং 'মাজমাউল বিহার' গ্রন্থের লেখক শায়খ মুহাম্মদ ইবনে তাহের ইবনে আলী আল-ফাতানি, এবং সাইয়্যেদ আব্দুল আউয়াল ইবনে আলী ইবনুল আলা আল-হুসাইনি ও অন্যান্যরা।
বিশেষ করে উল্লিখিত শায়খ মুহাম্মদ ইবনে তাহের (মৃত্যু ৯৮৬ হিজরি); কেননা তিনি এই মহান ইলম (হাদিস) বিষয়ে দরস দিয়েছেন, হাদিস সংকলন করেছেন এবং বহু কিতাব রচনা করেছেন, যেমন— গারিবুল হাদিস বিষয়ে 'মাজমাউল বিহার', আসমাউর রিজাল বিষয়ে 'আল-মুগনি', এবং জাল হাদিস বিষয়ে 'আত-তাযকিরা'। হাদিস শাস্ত্রে তাঁর ছিল শক্তিশালী হাত এবং সক্রিয় দক্ষিণ হস্ত; তথ্যের ব্যাপকতা এবং দৃষ্টির গভীরতার ক্ষেত্রে তাঁর সমতুল্য ভারত থেকে আর কেউ উঠে আসেননি, কেবল তাঁর উস্তাদ হুসামুদ্দিন আলী আল-মুত্তাকি আল-গুজরাতি ব্যতীত। তবে তিনি হিজাজে স্থায়ী হন এবং তাঁর জ্ঞান ও অনুগ্রহ হারামাইন শরিফাইনের অধিবাসীদের জন্য ব্যাপক হয়ে পড়ে, আর শায়খ মুহাম্মদ ইবনে তাহের ভারতেই অবস্থান করেন।
আর শায়খ আব্দুল আউয়াল ইবনে আলী ইবনুল আলা আল-হুসাইনি (মৃত্যু ৯৬৮ হিজরি) এর কথা বললে, তিনি গ্রহণ করেছেন...