(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: -)
من معارك الإسلام الفاصلة = موسوعة الغزوات الكبرى   (محمد بن أحمد باشميل)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: من معارك الإسلام الفاصلة

المؤلف: محمد بن أحمد باشميل

الناشر: المكتبة السلفية - القاهرة

الطبعة: الثالثة، 1408 هـ - 1988 م (بعض الأجزاء تختلف، ينظر بداية كل جزء)

عدد الأجزاء: 10

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 جُمادَى الأولى 1440

ইসলামের মীমাংসাকারী যুদ্ধসমূহ = মহাযুদ্ধের বিশ্বকোষ   (মুহাম্মদ ইবনে আহমদ বাশামিল)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: ইসলামের মীমাংসাকারী যুদ্ধসমূহ

লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ বাশামিল

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ - কায়রো

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪০৮ হিজরী - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ (কিছু খণ্ড ভিন্ন হতে পারে، প্রতিটি খণ্ডের শুরু দেখুন)

খণ্ড সংখ্যা: ১০

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ، বাস্তবায়নে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিইয়াহ)، এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আল-রাজি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ জুমাদাল উলা ১৪৪০

(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১)
محمد أحمَد باشميل

الكتابُ الأول

مِنْ معارك الإسلام الفاصِلة

 

غَزْوَةُ بَدْرٍ الكُبْرَى

المَكْتَبَةُ السَّلَفِيَّة - وَمَطْبَعَتُهَا

21 شارع الفتح بالروضة * القاهرة * تليفون 840364
মুহাম্মদ আহমদ বাশমেইল

প্রথম গ্রন্থ

ইসলামের মীমাংসাকারী যুদ্ধসমূহের অন্যতম

 

বদরের মহাযুদ্ধ

আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ ও তার ছাপাখানা

২১ আল-ফাতহ সড়ক, আর-রওজাহ * কায়রো * টেলিফোন ৮৪০৩৬৪
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২)
(حقوق الطبع محفوظة)

(الطبعة الثامنة 1405 هـ - 1985 م)
(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)

(অষ্টম সংস্করণ ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ)
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৩)
غَزْوَةُ بَدْرٍ الكُبْرَى
বদরের মহাসংগ্রাম
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مُقَدِّمَة الطبعَة الثَّالِثَة

‌‌انتصار الإسلام في يوم بدر

بقلم

اللوَاء الرُّكن

محمُود شيت خَطَّاب

عضو المجْمَع العِلمي العِراقي

- 1 -

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام علي سيدي ومولاي رسول الله وعلى آله وأَصحابه أَجمعين ورضي الله عن قادة الفتح الإسلامي وجنوده الغر الميامين.

قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فترة حياته المباركة في مكة المكرمة من بعثته رحمة للعالمين إلى هجرته إلى المدينة المنورة في الجهاد الأكبر لوضع الأُسس السليمة لدولة الإسلام موحدًا من أجل الجهاد.

وفي هذه الفترة لاقى المسلمون أَذى كثيرًا: طوردوا وعذابوا، وأُخرجوا من ديارهم وأموالهم بغير حق إلا أن يقولوا ربنا الله.

وهاجر المسلمون إلى المدينة بأنفسهم تاركين ذويهم الأقربين تحت رحمة أعدائهم في خطر داهم مقيم، فابتدأَت في المدينة فترة الجهاد الأصغر من حياة سيد القادات وقائد السادات عليه أفضل الصلاة والسلام، فكانت حياته الغالية في المدينة من هجرته إليها حتى التحاقه بالرفيق الأعلى جهادًا من أجل التوحيد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা

‌‌বদর দিবসে ইসলামের বিজয়

লিখনী:

মেজর জেনারেল

মাহমুদ শিত খাত্তাব

ইরাকি বিজ্ঞান একাডেমির সদস্য

- ১ -

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমার নেতা ও অভিভাবক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন ইসলামী বিজয়ের নেতৃবৃন্দ এবং তাঁদের সম্মানিত ও বরকতপূর্ণ সৈন্যদের ওপর।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বরকতময় জীবনের মক্কী অধ্যায়—বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হওয়া থেকে শুরু করে মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরত পর্যন্ত সময়কাল—ব্যয় করেছেন এক বৃহত্তর জিহাদে, যাতে জিহাদের উদ্দেশ্যে তাওহীদপন্থীদের নিয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের এক সঠিক ও সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করা যায়।

এই সময়ে মুসলিমরা অনেক কষ্ট ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন: তাদের তাড়া করা হয়েছে, আযাব দেওয়া হয়েছে এবং কোনো সঙ্গত কারণ ছাড়াই তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে কেবল এ কারণে যে, তারা বলতেন—আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ।

অতঃপর মুসলিমরা নিজ নিজ প্রাণ নিয়ে মদীনায় হিজরত করেন এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের শত্রুদের করুণায় এক আসন্ন ও স্থায়ী বিপদের মুখে রেখে যান। তখন থেকেই মদীনায় মহান নেতৃবৃন্দের নেতা ও সরদারদের অধিনায়ক (তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর জীবনে ক্ষুদ্রতর জিহাদের অধ্যায় শুরু হয়। মদীনায় হিজরত থেকে শুরু করে মহান বন্ধুর (আল্লাহর) সান্নিধ্যে গমন পর্যন্ত তাঁর এই মূল্যবান জীবনকালটি ছিল মূলত তাওহীদের তরে এক নিরবচ্ছিন্ন জিহাদ।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৬)
وأُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ، فركبات خيل الله عليها فرسان النهار ورهبان الليل: البلايا تحمل المنايا، نواضح يثرب تحمل الموت الناقع، قوم ليس لهم منعة ولا ملجأ إلا سيوفهم، لا مدد لهم ولا كمين، يهدرون بالقرآن الكريم وبذكر الله ويرددون في دعائهم: "يا نصر الله اقترب".

وفي بدر، التقى الظلام بالنور، والكفر بالإيمان، والباطل بالحق، والتقت الجاهلية بالإسلام، فجاء الحق وزهق الباطل إن الباطل كان زهوقًا.

ودارت في بدر رحى معركة طاحنة بين فئتين غير متكافئتين: فئة قليلة مؤمنة، وفئة كثيرة كافرة، فانتصرت الفئة القليلة على الفئة الكثيرة بإذن الله: {وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ}.

ولست أعرف معركة حاسمة من معارك الحرب الحاسمة، كيوم بدر، انتصرت فيه العقيدة السليمة على العقيدة الفاسدة، فكانت العقيدة وحدها هي السلاح الأول والأخير للمنتصرين.

كان المشركون أكثر عددًا من المسلمين، وكانوا أحسن عددًا وأغنى في قضاياهم الإدارية: كان عدة أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثمائة وبضعة عشر، وكان عدة المشركين ألفًا، وكان مع المسلمين فرسان، وكان مع المشركين مائة فرس، وكان المسلمون حفاة عراة جياعًا، وكان المشركون ينحرون في يومًا عشرًا ويومًا تسعًا من الإبل، وكان المسلمون من قبائل شتى، وكان المشركون من قريش! ! .

إنه انتصار عقيدة لا مراء، فكيف كان ذلك؟

لقد بدل الإسلام العقول والنفوس من حال إلى حال! كان الرسول القائد صلى الله عليه وسلم مثالًا شخصيًا رائعًا لأصحابه في التضحية والفداء.
যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, তাদের (যুদ্ধের) অনুমতি প্রদান করা হলো, কারণ তাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম। অতঃপর আল্লাহর অশ্বারোহী দলগুলো ধাবিত হলো, যাদের উপরে ছিল দিনের অশ্বারোহী বীর এবং রাতের ইবাদতকারী সন্ন্যাসী। বিপদ-আপদসমূহ মৃত্যুকে বহন করে আনছিল, ইয়াসরিবের পানিবাহী উটগুলো বিষাক্ত মৃত্যু বহন করছিল। তারা এমন এক কওম যাদের তলোয়ার ছাড়া কোনো প্রতিরক্ষা বা আশ্রয় ছিল না, ছিল না কোনো সাহায্যকারী বাহিনী বা ওত পেতে থাকা সৈন্যদল। তারা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর যিকিরে প্রকম্পিত হচ্ছিল এবং তাদের দোয়ায় বারবার বলছিল: "হে আল্লাহর সাহায্য! তুমি নিকটবর্তী হও।"

আর বদরে অন্ধকারের সাথে আলোর, কুফরের সাথে ঈমানের এবং বাতিলের সাথে হকের মিলন হলো। জাহিলিয়াতের মুখোমুখি হলো ইসলাম। অতঃপর সত্য সমাগত হলো এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হলো; নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়।

আর বদরে দুই অসম দলের মধ্যে এক প্রলয়ঙ্কারী যুদ্ধের চাকা আবর্তিত হলো: একটি ক্ষুদ্র মুমিন দল এবং একটি বিশাল কাফির দল। অতঃপর আল্লাহর হুকুমে ক্ষুদ্র দলটি বিশাল দলটির ওপর বিজয়ী হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বদরে সাহায্য করেছেন যখন তোমরা ছিলে হীনবল।"

আমি ইতিহাসের কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধের কথা জানি না যা বদরের দিনের মতো ছিল, যেখানে বিশুদ্ধ আকিদা কলুষিত আকিদার ওপর বিজয় লাভ করেছিল। সেখানে আকিদাই ছিল বিজয়ীদের একমাত্র আদি ও অন্ত অস্ত্র।

মুশরিকরা সংখ্যায় মুসলমানদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল এবং তারা রণসজ্জায় উন্নত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অধিক সমৃদ্ধ ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সংখ্যা ছিল তিনশ দশের কিছু বেশি, আর মুশরিকদের সংখ্যা ছিল এক হাজার। মুসলমানদের সাথে ছিল সামান্য কয়েকজন অশ্বারোহী, অথচ মুশরিকদের সাথে ছিল একশটি ঘোড়া। মুসলমানরা ছিল খালি পা, বস্ত্রহীন ও ক্ষুধার্ত; আর মুশরিকরা একদিন দশটি এবং অন্যদিন নয়টি করে উট যবাই করত। মুসলমানরা ছিল বিভিন্ন গোত্র থেকে আগত, আর মুশরিকরা ছিল কেবল কুরাইশ বংশের!!

নিঃসন্দেহে এটি ছিল আকিদার বিজয়, কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব হয়েছিল?

নিশ্চয়ই ইসলাম মানুষের বুদ্ধি ও আত্মাকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত করে দিয়েছিল! সেনাপতি হিসেবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের জন্য আত্মত্যাগ ও কুরবানির এক অনন্য ব্যক্তিগত দৃষ্টান্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৭)
كان المسلمون يوم بدر كل ثلاثة على بعير، فكان إذا كانت عقبة النبي صلى الله عليه وسلم قال له صاحباه: "اركب حتى نمشي عنك"، فيقول: "ما أنتما بأقوى على المشي مني، وما أنا بأغنى عن الأَجر منكما".

وعند نشوب القتال يوم بدر، خرج ثلاثة من رجالات المشركين وقادتهم فدعوا إلى البراز، فخرج إليهم ثلاثة من الأنصار، فكره رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يكون أول قتال لقى فيه المسلمون المشركين في الأنصار، وأحب أن تكون الشوكة ببني عمه وقومه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا بني هاشم! قوموا قاتلوا بحقكم الذي بعث الله به نبيكم إذ جاؤوكم بباطلهم ليطفئوا نور الله".

وفي المعركة كان النبي صلى الله عليه وسلم يضرب بنفسه لأصحابه في الشجاعة والإقدام أروع الأمثال. قال الإمام علي بن أبي طالب رضي الله عنه: "ولمَّا كان يوم بدر وحضر البأس، اتقينا برسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان من أشد الناس بأسًا، وما كان أحد أقرب إلى المشركين منه".

وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم في أثر المشركين بعد انهيار صفوفهم يتلو الآية الكريمة: {سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ}، فأجاز على جريحهم وطلب مدبرهم.

وبعد المعركة سلم صلى الله عليه وسلم الغنيمة للمسلمين الذين حضروا بدرًا، وأخذ سهمه مع المسلمين، لا فرق بينه وبين أي مسلم آخر.

لم يستأثر بالدعة والأمن بل قاتل هو قتال الأبطال الصناديد أمام المقاتلين من أصحابه، ولم يؤثر ذوي قرباه بالراحة والاطمئنان بل آثرهم بالنزال والطعان، فلما انتصر المسلمون كان نصيبه من الغنائم نصيب أحدهم لا يزيد.
বদরের দিন মুসলমানরা প্রতি তিনজন একটি উটের ওপর আরোহী ছিলেন। যখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পালা আসত, তখন তাঁর দুই সাথী তাঁকে বলতেন: "আপনি আরোহণ করুন, আমরা আপনার পরিবর্তে পায়ে হেঁটে চলব।" তখন তিনি বলতেন: "তোমরা আমার চেয়ে হাঁটায় অধিক শক্তিশালী নও, আর আমিও তোমাদের চেয়ে প্রতিদানের দিক থেকে অমুখাপেক্ষী নই।"

বদরের যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় মুশরিকদের নেতাদের মধ্য থেকে তিনজন লোক বেরিয়ে এসে মল্লযুদ্ধের আহ্বান জানাল। তখন আনসারদের মধ্য থেকে তিনজন তাদের মোকাবিলায় বেরিয়ে এলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করলেন যে, মুশরিকদের সাথে মুসলমানদের প্রথম লড়াইটি আনসারদের মাধ্যমে হোক। তিনি চাইলেন যুদ্ধের মূল শক্তি বা অগ্রভাগ যেন তাঁর চাচাতো ভাই ও স্বগোত্রীয়দের দ্বারা পরিচালিত হয়। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে বনী হাশেম! ওঠো এবং তোমাদের সেই সত্যের খাতিরে লড়াই করো যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর নবীকে পাঠিয়েছেন; কেননা তারা তোমাদের কাছে তাদের মিথ্যা নিয়ে এসেছে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দেওয়ার জন্য।"

যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের সামনে সাহসিকতা ও বীরত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছিলেন। ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "যখন বদরের দিন যুদ্ধ শুরু হলো এবং প্রচণ্ড লড়াই উপস্থিত হলো, তখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আড়ালে থেকে আত্মরক্ষা করছিলাম। তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে সাহসী এবং মুশরিকদের সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থানে কেউ তাঁর চেয়ে বেশি ছিল না।"

মুশরিকদের কাতারগুলো ভেঙে পড়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পিছু ধাওয়া করার সময় এই পবিত্র আয়াত তেলাওয়াত করছিলেন: "এই সেনাদল অচিরেই পরাজিত হবে এবং তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে।" এরপর তিনি তাদের আহতদের ওপর দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং পলায়নকারীদের তালাশ করলেন।

যুদ্ধের পর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরে উপস্থিত মুসলমানদের মাঝে গণিমতের মাল বণ্টন করে দিলেন এবং মুসলমানদের সাথে নিজের অংশটিও নিলেন। তাঁর এবং অন্য কোনো মুসলমানের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না।

তিনি আরাম ও নিরাপত্তাকে নিজের জন্য একচেটিয়া বেছে নেননি, বরং তাঁর সাহাবী যোদ্ধাদের সম্মুখে বীর যোদ্ধাদের ন্যায় লড়াই করেছেন। তিনি তাঁর নিকটাত্মীয়দের আরাম ও প্রশান্তিকে অগ্রাধিকার দেননি, বরং যুদ্ধের ময়দানে লড়াই ও যুদ্ধের কঠিন কাজের ক্ষেত্রে তাদেরই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। যখন মুসলমানরা বিজয়ী হলেন, তখন গণিমতের মালের ক্ষেত্রে তাঁর অংশ ছিল সাধারণ যোদ্ধাদের একজনের সমান, কোনো বাড়তি অংশ নয়।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৮)
لقد كان الرسول القائد صلوات الله وتسليمه عليه أُسوة حسنة لأصحابه بأعماله لا بأقواله، وشتان بين الأعمال والأقوال، فلا موعظة في كلام لم يمتلئ من نفس صاحبه ليكون عملًا، ليتحول في النفوس الأُخرى عملًا ولا يبقى كلامًا.

ذلك هو الرسول القائد صلى الله عليه وسلم، أما جنوده فكان أمرهم كله عجبًا.

آخى النبي صلى الله عليه وسلم بين المهاجرين والأنصار، فآخى مثلًا بين عبد الرحمن بن عوف وسعد بن الربيع رضي الله عنهما، فقال سعد لعبد الرحمن: "إني أكثر الأنصار مالًا. فأُقسم مالي إلى نصفين، ولى امرأتان فانظر أعجبهما إليك قسمها لي أطلقها، فإذا انقضت عدتها فتزوجها".

هذا مثال واحد للإيثار الذي كان نتيجة من نتائج هذا التآخي.

وفي الطريق إلى بدر، هتف متكلم المهاجرين: "والذي بعثك بالحق، لو سرت بنا إلى برك الغماد لسرنا معك حتى تنتهي إليه". وهتف متكلم الأنصار: "فامضںى يا نبي الله لما أردت، فوالذي بعثك بالحق، لو استعرضت هذا البحر فخضته لخضناه معك، ما بقى منا رجل واحد".

ويوم بدر، قتل أبو عبيدة بن الجراح رضي الله عنه أباه، وكان أبو بكر رضي الله عنه مع المسلمين، وكان ابنه عبد الرحمن مع المشركين، وكان عتبة بن ربيعة مع قريش، وكان ولده أبو حذيفة مع المسلمين.

في هذه المعركة التقى الآباءُ بالأبناءِ، والإخوة بالإخوة! .

خالفت بينهم المبادئ، ففصلت بينهم السيوف! ..
সেনাপতি রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর কথা দ্বারা নয় বরং কাজের মাধ্যমে তাঁর সাহাবীদের জন্য এক উত্তম আদর্শ ছিলেন। কাজ এবং কথার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। সেই কথায় কোনো উপদেশ নেই যা বক্তার নিজের সত্তা থেকে কাজ হিসেবে উৎসারিত হয় না, যাতে তা অন্যের আত্মার মধ্যে কাজে রূপান্তরিত হয় এবং শুধু কথায় পর্যবসিত না থাকে।

তিনিই ছিলেন সেনাপতি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আর তাঁর সৈনিকদের ব্যাপারটি ছিল একেবারেই বিস্ময়কর।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আউফ ও সাদ ইবনে রাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করে দিয়েছিলেন। তখন সাদ আবদুর রহমানকে বলেছিলেন: "আমি আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের অধিকারী। আমি আমার সম্পদকে দুই ভাগে বিভক্ত করব। আমার দুজন স্ত্রী আছে, তুমি দেখ তাদের মধ্যে কাকে তোমার পছন্দ হয়, আমি তাকে তালাক দেব। এরপর তার ইদ্দত শেষ হলে তুমি তাকে বিয়ে করে নিয়ো।"

এটি ছিল সেই আত্মত্যাগের একটি উদাহরণ যা এই ভ্রাতৃত্বের অন্যতম ফলাফল ছিল।

বদর অভিমুখে যাত্রাপথে মুহাজিরদের মুখপাত্র বলে উঠলেন: "সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আপনি যদি আমাদের নিয়ে বারকুল গিমাদ পর্যন্তও যাত্রা করেন, তবে আমরা আপনার সঙ্গ দেব যতক্ষণ না আপনি সেখানে পৌঁছান।" আর আনসারদের মুখপাত্র বলে উঠলেন: "হে আল্লাহর নবী, আপনি যা চান সেদিকেই অগ্রসর হোন। সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আপনি যদি আমাদের নিয়ে এই সমুদ্রে ঝাঁপ দেন, তবে আমরাও আপনার সাথে এতে ঝাঁপ দেব; আমাদের একজন লোকও পিছিয়ে থাকবে না।"

বদরের দিন আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পিতাকে হত্যা করেছিলেন। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন মুসলিমদের সাথে, আর তাঁর ছেলে আবদুর রহমান ছিল মুশরিকদের সাথে। উতবাহ ইবনে রাবিয়াহ ছিল কুরাইশদের সাথে, আর তাঁর ছেলে আবু হুজাইফা ছিল মুসলিমদের সাথে।

এই যুদ্ধে পিতারা পুত্রদের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং ভাইয়েরা ভাইদের মুখোমুখি হয়েছিলেন!

আদর্শের ভিন্নতা তাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছিল, আর তলোয়ার তাদের চূড়ান্তভাবে পৃথক করে দিয়েছিল! ..
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৯)
وفي يوم بدر تسابق المسلمون إلى الشهادة، وكان كل واحد منهم يتمنى أن يموت قبل صاحبه، وكان كل واحد من المشركين يتمنى أن يموت صاحبه قبله، وكان الشهيد يردد وهو يحتضر: " {وَعَجِلْتُ إِلَيكَ رَبِّ لِتَرْضَى}.

وبعد معركة بدر، استشار النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه في مصير الأسرى، فقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه "أرى أن تمكني من فلان - قريب عمر - فأضرب عنقه، حتى يعلم الله أنه ليست في قلوبنا هوادة للمشركين، وهؤلاء صناديادهم وأئمتهم وقادتهم".

وكان فداء أسرى بدر أربعة آلاف إلى ما دون ذلك، فمن لم يكن عنده شيء كان فداؤه أن يعلم غلمان الأنصار الكتابة.

هكذا كان جنود الرسول القائد عليه الصلاة والسلام يؤثرون على أنفسهم ولو كانت بهم خصاصة، ويؤثرون عقيدتهم على آبائهم وأبنائهم وإخوانهم وعشيرتهم وأموالهم، بل يؤثرون عقيدتهم على أنفسهم، فيتسابقون إلى الشهادة، فيقول أحدهم للآخر: "هنيًا لك الشهادة"، وتقول الأُمهات والأخوات والزوجات حين يعلمن باستشهاد ذويهن: "الحمد لله الذي أكرمهم بالشهادة".

وهؤلاء قادة وجنودًا، يبنون للمستقبل، فيعتبرون العلم فريضة لا نافلة، ويعتبرونه عبادة لا تجارة، ويعتبرونه غاية لا وسيلة .. ! .

كانوا إخوة في الله يحب أحدهم لأخيه ما يحبه لنفسه، وكانوا كالبنيان المرصوص يشد بعضه بعضًا، وكانوا كالجسد السليم المعافى إذا اشتكي منه عضو تداعي له سائر الجسد بالسهر والحمي! …

هؤلاء قادة وجنودًا، كانوا يبنون ولا يهدمون ويعمرون ولا يخربون ويفعلون ولا يقولون ..
বদর যুদ্ধের দিনে মুসলিমগণ শাহাদাতের জন্য প্রতিযোগিতা করছিলেন, এবং তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁর সঙ্গীর আগে মৃত্যুবরণ করার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। পক্ষান্তরে মুশরিকদের প্রত্যেকেই চাইছিল যেন তাঁর সঙ্গী তাঁর আগেই মারা যায়। আর শহীদ মৃত্যুযন্ত্রণার সময় বারবার বলছিলেন: "হে আমার রব! আমি আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আপনার পানে দ্রুত ধাবিত হয়েছি।"

বদর যুদ্ধের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্দিদের ভাগ্যের ব্যাপারে তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, "আমার অভিমত হলো, আপনি আমাকে অমুকের—উমরের জনৈক আত্মীয়—ওপর ক্ষমতা দিন যেন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিতে পারি, যাতে আল্লাহ জানেন যে মুশরিকদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো কোমলতা নেই; আর এরা হলো তাদের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, নেতা ও অগ্রদূত।"

বদর যুদ্ধের বন্দিদের মুক্তিপণ ছিল চার হাজার থেকে শুরু করে তার নিচে পর্যন্ত। যার কাছে কিছুই ছিল না, তার মুক্তিপণ ধার্য করা হয়েছিল আনসারদের বালকদের লিখতে শেখানো।

এভাবেই সেনাপতি রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামের সৈন্যরা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দিতেন, যদিও তাঁরা নিজেরা অভাবগ্রস্ত ছিলেন। তাঁরা তাঁদের আকিদাকে তাঁদের পিতা, পুত্র, ভাই, বংশ ও সম্পদের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন; বরং তাঁরা তাঁদের আকিদাকে নিজেদের প্রাণের ওপরও অগ্রাধিকার দিতেন। তাঁরা শাহাদাতের দিকে ধাবিত হতেন এবং তাঁদের একজন অন্যজনকে বলতেন: "আপনার শাহাদাত মুবারক হোক।" আর মা, বোন ও স্ত্রীরা যখন তাঁদের স্বজনদের শাহাদাতের খবর শুনতেন, তখন বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁদের শাহাদাত দিয়ে সম্মানিত করেছেন।"

তাঁরা ছিলেন এমন সব নেতা ও সৈন্য, যাঁরা ভবিষ্যতের জন্য নির্মাণ করতেন; তাঁরা জ্ঞানার্জনকে নফল নয় বরং ফরজ মনে করতেন, একে ব্যবসা নয় বরং ইবাদত হিসেবে গণ্য করতেন এবং একে মাধ্যম নয় বরং লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতেন..!

তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এমন ভাই ভাই ছিলেন যে, তাঁদের প্রত্যেকেই নিজের ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করতেন যা নিজের জন্য করতেন। তাঁরা ছিলেন সীসাঢালা প্রাচীরের মতো, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে। তাঁরা ছিলেন একটি সুস্থ-সবল দেহের মতো, যার কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে সমস্ত শরীর অনিদ্রা ও জ্বরে কাতর হয়ে পড়ে! …

তাঁরা ছিলেন এমন সব নেতা ও সৈন্য, যাঁরা নির্মাণ করতেন, ধ্বংস করতেন না; আবাদ করতেন, বিরাণ করতেন না এবং কাজে বিশ্বাসী ছিলেন, কেবল কথায় নয়...
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১০)
كان انتصار المسلمين في بدر، إيذانًا بمولد دولة الإسلام عمليًّا، فقاد المسلمون بعدها العالم إلى الخير والصلاح والمدينة والنور قرونًا طويلة.

وكان انتصارهم بالإسلام، ولن ينتصروا بغيره، وتاريخ المسلمين خير دليل على ذلك.

كان العرب في الجاهلية متفرقين فتوحدوا بالإسلام، وكانوا أعداء فأَلف الإسلام بين قلوبهم، وكانوا على شفا حفرة من النار فأنقذهم الإسلام منها، فأصبح العرب بالإسلام (وحدة) رصينة، و (دولة) عظيمة و (أُمة) متماسكة و (قوة) ضاربة وجدت لها متنفسًا بالفتح الإسلامي العظيم، فسارت رايات العرب المسلمين تهدى الدنيا وتحضِّر العالم وتمدِّن الناس، فامتدت دولة الإسلام من سيبيريا شمالًا إلى فرنسا غربًا إلى الصين شرقًا إلى المحيط جنوبًا.

كانوا ضعفاء فأصبحوا بالإسلام أقوياء، وكانوا أعداء فأصبحوا إخوة، وكانوا مستعبدين فأصبحوا فاتحين .. ! .

ثم خلف من بعدهم خلف أضاعوا الصلاة واتبعوا الشهوات، فأصبحوا مستعمرين مستعبدين أذلاء غثاء كغثاء السيل، والله لا يغيِّر ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم.

أصبح هؤلاء الخلف يستوردون المبادئ من الشرق والغرب مبهورين متخاذلين، وأَصبحوا يتعشقون تراث الأجنبي ويحتقرون تراثهم، ويتدارسون تاريخ أعدائهم ويتركون تاريخ هم وراءَهم ظهريًا، حتى أصبحنا نسمع بعض العرب والمسلمين يقولون ويكتبون ويذيعون علنًا
বদর যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় বাস্তবিকভাবেই ইসলামি রাষ্ট্রের জন্মের পয়গাম ছিল; যার ফলে মুসলমানরা পরবর্তী কয়েক শতাব্দী ধরে বিশ্বকে কল্যাণ, পুণ্য, সভ্যতা ও আলোর পথে পরিচালিত করেছিল।

আর তাদের এই বিজয় অর্জিত হয়েছিল ইসলামের মাধ্যমেই, এবং ইসলাম ছাড়া তারা কখনোই বিজয়ী হতে পারবে না; মুসলমানদের ইতিহাসই এর সর্বোত্তম প্রমাণ।

জাহিলিয়াতের যুগে আরবরা ছিল বিচ্ছিন্ন, ইসলামের মাধ্যমে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল; তারা ছিল একে অপরের শত্রু, ইসলাম তাদের অন্তরের মধ্যে প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করেছিল; তারা ছিল অগ্নিকুণ্ডের কিনারায়, ইসলাম তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করেছিল। ফলে আরবরা ইসলামের মাধ্যমে একটি সুদৃঢ় (ঐক্য), একটি মহান (রাষ্ট্র), একটি সুসংহত (উম্মাহ) এবং একটি অপ্রতিরোধ্য (শক্তিতে) পরিণত হয়েছিল, যা মহান ইসলামি বিজয়ের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশের পথ খুঁজে পেয়েছিল। অতঃপর মুসলিম আরবদের বিজয় নিশান বিশ্বকে হেদায়েত দিতে, বিশ্বকে সুসভ্য করতে এবং মানুষকে সংস্কৃতিমনা করতে অগ্রসর হয়েছিল; ফলে উত্তর দিকে সাইবেরিয়া থেকে পশ্চিম দিকে ফ্রান্স, পূর্ব দিকে চীন এবং দক্ষিণ দিকে মহাসাগর পর্যন্ত ইসলামি রাষ্ট্রের বিস্তৃতি ঘটেছিল।

তারা ছিল দুর্বল, অতঃপর ইসলামের মাধ্যমে তারা শক্তিশালী হয়েছিল; তারা ছিল শত্রু, অতঃপর তারা ভাইয়ে পরিণত হয়েছিল; তারা ছিল পরাধীন, অতঃপর তারা বিজয়ী বীর হিসেবে আবির্ভূত হলো .. ! ।

পরবর্তীতে তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আবির্ভাব ঘটল যারা সালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল; ফলে তারা উপনিবেশিত, দাসত্বশৃঙ্খলে আবদ্ধ, লাঞ্ছিত এবং প্লাবনের স্রোতে ভেসে আসা ফেনার মতো তুচ্ছ হয়ে পড়ল। আর আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।

এই উত্তরসূরিরা মোহাচ্ছন্ন ও হীনম্মন্য হয়ে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য থেকে আদর্শ আমদানি করতে শুরু করল; তারা বিজাতীয় ঐতিহ্যের মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল এবং নিজেদের ঐতিহ্যকে তুচ্ছজ্ঞান করতে লাগল; তারা তাদের শত্রুদের ইতিহাস অধ্যয়ন করতে লাগল এবং নিজেদের ইতিহাসকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পেছনে ছুড়ে ফেলে দিল। এমনকি আজ আমরা কিছু আরব ও মুসলমানকে প্রকাশ্যে বলতে, লিখতে এবং প্রচার করতে শুনছি...
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১১)
باسم الثقافة وباسم التحرر ما لم يستطع أن يقوله أو يكتبه أو يذيعه المبشرون وأعداء الإسلام! ! ..

وإذا كان أكثر المستشرقين قد بذلوا قصارى جهودهم لتعميق آثار الاستعمار الفكري بين العرب والمسلمين، فما عذر المستغربين من العرب المسلمين؟ ! .

إن الدعوة إلى تبناها المبشرون وعملاء الاستعمار وأذنابهم في أبعاد الدين الإسلامي عن الحياة، دعوة مريبة هدفها إبعاد العرب عن الناحية المعنوية في حياتهم، فالعرب جسم والإسلام روحه، ولا بقاء للجسم بدون روح.

والدعوة التي تبناها هؤلاء لاستعمال العامية بدل العربية الفصحى دعوة مريبة، هدفها أن يجعلوا من الأُمة العربية أُممًا، ومن الشعب العربي شعوبًا ، لأَن العربية لغة القرآن الكريم ولغة الرسول صلى الله عليه وسلم ، ولغة قادة الفتح وجنوده ولغة الفكر وجنوده.

والدعوة التي تبناها هؤلاء لإشاعة الفحشاء والتخنيث في العرب خلافًا لعقيدتهم وتقاليدهم، دعوة مريبة لا تخدم غير الاستعمار وأعداء العرب وإسرائيل، وكيف تنتظر من الديوثين والبغايا أن يبذلوا أرواحهم في ميادين الشرف والفداء لا؟ ! !

إني أتحدى كل من يزعم أن هناك عقيدة أفضل من عقيدتنا، وأن هناك رجالا أعظم من رجالنا وأن هناك تاريخًا أنصع من تاريخنا، وأن هناك تراثًا أروع من تراثنا ..

والذين يزعمون أنهم طردوا الاستعمار العسكري والاستعمار السياسي والاستعمار الاقتصادي من بلادهم ثم يعملون ليلًا ونهارًا
সংস্কৃতি ও মুক্তির নামে এমন সব কথা বলা, লেখা বা প্রচার করা হচ্ছে যা মিশনারি এবং ইসলামের শত্রুরাও করতে সক্ষম হয়নি! ! ..

অধিকাংশ প্রাচ্যবিদ যদি আরব ও মুসলিমদের মাঝে বুদ্ধিবৃত্তিক সাম্রাজ্যবাদের প্রভাবকে গভীর করার জন্য তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করে থাকেন, তবে সেইসব পশ্চিমাপন্থী আরব মুসলিমদের অজুহাত কী? ! .

জীবন থেকে ইসলামি দ্বীনকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মিশনারি, সাম্রাজ্যবাদের দালাল এবং তাদের অনুসারীরা যে আহ্বান গ্রহণ করেছে, তা এক সন্দেহজনক আহ্বান। এর উদ্দেশ্য হলো আরবদের তাদের জীবনের আধ্যাত্মিক দিক থেকে বিচ্যুত করা। কারণ আরব জাতি হলো একটি দেহ আর ইসলাম হলো তার রূহ, আর রূহ ছাড়া দেহের কোনো অস্তিত্ব থাকে না।

প্রমিত আরবির পরিবর্তে আঞ্চলিক উপভাষা ব্যবহারের জন্য তারা যে আহ্বান গ্রহণ করেছে তাও এক সন্দেহজনক আহ্বান। এর লক্ষ্য হলো আরব উম্মাহকে বিভিন্ন জাতিতে এবং আরব জনগণকে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত করা। কারণ আরবি হলো পবিত্র কুরআনের ভাষা, আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভাষা, বিজয়ী সেনাপতি ও সৈনিকদের ভাষা এবং চিন্তা ও তার বাহকদের ভাষা।

আরবদের আকিদা ও ঐতিহ্যের বিপরীতে তাদের মাঝে অশ্লীলতা ও নপুংসকতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারা যে আহ্বান গ্রহণ করেছে, তা এক সন্দেহজনক ডাক যা সাম্রাজ্যবাদ, আরবদের শত্রু এবং ইসরায়েল ছাড়া আর কারো স্বার্থ রক্ষা করে না। যারা দাইয়ূস ও লম্পট, তাদের কাছ থেকে সম্মান ও আত্মত্যাগের ময়দানে জীবন বিলিয়ে দেওয়ার আশা কীভাবে করা যায়? ! !

আমি সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছি যে দাবি করে যে, আমাদের আকিদার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো আকিদা আছে, আমাদের পুরুষদের চেয়ে মহান কোনো পুরুষ আছে, আমাদের ইতিহাসের চেয়ে উজ্জ্বল কোনো ইতিহাস আছে এবং আমাদের ঐতিহ্যের চেয়ে চমৎকার কোনো ঐতিহ্য আছে ..

আর যারা দাবি করে যে তারা তাদের দেশ থেকে সামরিক সাম্রাজ্যবাদ, রাজনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ এবং অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদকে বিতাড়িত করেছে, অথচ তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে...
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১২)
على ترسيخ الاستعمار الفكري في بلادهم، لم يصنعوا شيئًا أكثر من إخراج الاستعمار من باب ضيق، وإدخاله بمحض إرادتهم من باب فسيح.

نطرد الاستعمار ثم نترجم قوانينه ونعمل بها نصًّا وروحًا، فنشيع في بلادنا فجور القانون … !

ونتخلص من الاستعمار ثم نستورد مبادئه ونطبقها حرفيًّا.

فنستبدل الذي هو أدنى بالذي هو خير.

ونحارب الاستعمار ثم نستورد منه التحلل الخلقي، فنفسد جيلنا الصاعد ونشيع بينهم الفاحشة والمنكر! عقوبة السارق في الإسلام قطع اليد، فيقول عن ذلك الجهلاء منا: أن ذلك رجعية، وهذا همجية وهو لا يتفق مع روح القرن العشرين! !

وعقوبة السارق في أعظم دول الاشتراكية الإعدام، فيقول عن ذلك الجهلاء منا: هذه تقدمية، وهذه مثالية، وهذا يتفق مع روح القرن العشرين! !

فلمصلحة من هذا التهافت الذليل؟ ؟ ! ! وأَي استعمار فكري شنيع نعاني؟ ؟ ! !

أن الذين يدّعون بأن السلوك السياسي لا علاقة له بالسلوك الشخصي التزامًا بالمبادئ الخلقية الرفيعة، واهمون كل الوهم أو أغبياء كل الغباوة أو عملاء كل العمالة.

والذين يريدون إشاعة الفحشاء والتخنث في أبنائنا لا يخدمون غير الاستعمار وإسرائيل.

إن عقيدتنا المستمدة من رسالة السماء، وتاريخنا الذي هو التطبيق العملي لتعاليم الإسلام، ورجالنا الذين هم الترجمة العملية لروح
তাদের দেশে বুদ্ধিবৃত্তিক সাম্রাজ্যবাদকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে তারা এক সংকীর্ণ দ্বার দিয়ে সাম্রাজ্যবাদকে বের করে দেওয়া এবং নিজেদের ইচ্ছায় এক প্রশস্ত দ্বার দিয়ে তাকে পুনরায় ভেতরে প্রবেশ করানো ছাড়া আর কিছুই করেনি।

আমরা সাম্রাজ্যবাদকে বিতাড়িত করি, এরপর তার আইনসমূহ অনুবাদ করি এবং সেগুলোর শব্দ ও মর্ম অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করি; ফলে আমরা আমাদের দেশে আইনের পাপাচার ছড়িয়ে দেই … !

আমরা সাম্রাজ্যবাদ থেকে মুক্তি লাভ করি, এরপর তার আদর্শসমূহ আমদানি করি এবং অক্ষরে অক্ষরে তা প্রয়োগ করি।

ফলে আমরা যা উত্তম তার পরিবর্তে যা অধম তা গ্রহণ করি।

আমরা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি, এরপর তার থেকে নৈতিক অবক্ষয় আমদানি করি; ফলে আমরা আমাদের উদীয়মান প্রজন্মকে কলুষিত করি এবং তাদের মধ্যে অশ্লীলতা ও পাপাচার ছড়িয়ে দেই! ইসলামে চোরের শাস্তি হলো হাত কাটা, অথচ আমাদের মধ্য থেকে মূর্খরা সে সম্পর্কে বলে: এটি পশ্চাৎপদতা এবং এটি বর্বরতা, যা বিংশ শতাব্দীর চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়! !

অথচ সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রগুলোতে চোরের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড, সে সম্পর্কে আমাদের মধ্য থেকে মূর্খরা বলে: এটি প্রগতিশীলতা, এটি আদর্শবাদ এবং এটি বিংশ শতাব্দীর চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ! !

এই হীন পদানত অবস্থা কার স্বার্থে? এবং আমরা কোন জঘন্য বুদ্ধিবৃত্তিক সাম্রাজ্যবাদে ভুগছি? ! !

যারা দাবি করে যে উচ্চতর নৈতিক আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আচরণের সাথে রাজনৈতিক আচরণের কোনো সম্পর্ক নেই, তারা হয় চরম বিভ্রান্ত, অথবা চূড়ান্ত রকমের নির্বোধ, কিংবা পুরোপুরিভাবে দালাল।

আর যারা আমাদের সন্তানদের মাঝে অশ্লীলতা ও নারীসুলভ স্বভাব ছড়িয়ে দিতে চায়, তারা সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরায়েল ছাড়া আর কারো সেবা করছে না।

নিশ্চয় আমাদের আকিদা—যা আসমানি বার্তা থেকে গৃহীত, আমাদের ইতিহাস—যা ইসলামের শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ এবং আমাদের ব্যক্তিবর্গ—যারা হচ্ছে চেতনার বাস্তব অনুবাদ
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৩)
الإسلام، وتراثنا الذي هو حصيلة الفكر الإسلامي، هي أَعظم وأَرفع وأَنصع وأَروع وأَنقى وأَطهر وأَسمى وأَبهر من كل ما وجد على الأَرض من عقائد وتواريخ وتراث.

وأَتحدى كل من يدعي خلاف ذلك، إلا أَن يكون جاهلًا أَو غبيًا أَو عميلًا، فلا يجدى شيء مع الجهلاء والأَغبياء والعملاء ..

إن الماضي هو أَساس الحاضر والمستقبل، فكيف نتنكر لماضينا الجيد؟ .

وهل هناك عاقل يبدأُ ببناء البنيان أَول ما يبدأُ من قمته؟ ! !

إننا سدنا بالإسلام عقيدة وعملًا وتضحية وفداء، ولن نسود بغيره أَبدًا مهما نحاول من محاولات ..

إن الإسلام مفخرة الدنيا ومعجزة العالم، فيجب أَن نهاجم به أَعداء الإسلام.

يا أَتباع محمد صلى الله عليه وسلم في كل مكان من دار الإسلام:

يجب أَن تهاجموا بالإسلام أَعداء الإسلام، فلا يقولن قائل بعد اليوم، إني أُدافع عن الإسلام، لأَن الإسلام أَقوى من أَن يدافع عنه إنسان: {إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُورٍ (38) أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ (39)}.

تمسكوا بالإسلام بما فيه من تكاليف التضحية والفداء، وبذلك وحده تعودوا إلى قيادة العالم كما فعل أجدادكم من قبل، وصدق الله العظيم: {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ (96)}.

رددوا معي ما كان يردده السلف الصالح من رجالنا الغر الميامين: "يا نصر الله اقترب".
ইসলাম এবং আমাদের ঐতিহ্য যা ইসলামি চিন্তাধারার ফসল, তা পৃথিবীতে বিদ্যমান সমস্ত আকিদা, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের চেয়ে মহান, উচ্চতর, উজ্জ্বলতর, চমৎকার, বিশুদ্ধতর, পবিত্রতর, মহত্তর এবং অধিকতর বিস্ময়কর।

এর বিপরীত দাবি করে এমন প্রত্যেককে আমি চ্যালেঞ্জ করছি, যদি না সে মূর্খ, নির্বোধ অথবা শত্রুর দালাল হয়; আর মূর্খ, নির্বোধ ও দালালদের ক্ষেত্রে কোনো কিছুই ফলপ্রসূ হয় না।

নিশ্চয়ই অতীত হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভিত্তি, সুতরাং আমরা কীভাবে আমাদের গৌরবময় অতীতকে অস্বীকার করতে পারি?

এমন কোনো বুদ্ধিমান কি আছে যে কোনো অট্টালিকা নির্মাণের শুরুতে তার চূড়া থেকে কাজ শুরু করে? ! !

আমরা আকিদা, আমল, কুরবানি ও আত্মোৎসর্গের মাধ্যমে ইসলামের দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছি, এবং আমরা এটি ছাড়া অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে কখনোই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারব না, আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন।

নিশ্চয়ই ইসলাম হলো দুনিয়ার গৌরব এবং বিশ্বের এক মুজিজা, তাই আমাদের উচিত এর মাধ্যমে ইসলামের শত্রুদের মোকাবিলা করা।

হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীরা, ইসলামি ভূখণ্ডের সর্বত্র যারা রয়েছেন:

আপনাদের উচিত ইসলামের মাধ্যমে ইসলামের শত্রুদের মোকাবিলা করা। আজকের পর কেউ যেন এ কথা না বলে যে, "আমি ইসলামের প্রতিরক্ষা করছি", কারণ ইসলাম একজন মানুষের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা পাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না। যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো কারণ তারা নির্যাতিত, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম।

আপনারা ইসলামকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন এর ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের বিধানাবলি সহকারে; তবেই একমাত্র আপনারা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থানে ফিরে যেতে পারবেন যেমনটি আপনাদের পূর্বসূরিরা অতীতে করেছিলেন। আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "আর যদি জনপদবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম; কিন্তু তারা অস্বীকার করল, ফলে আমি তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করলাম।"

আমার সাথে আপনারা সেই ধ্বনি দিন যা আমাদের মহান ও বরকতময় পূর্বসূরি সলফে সালেহীনরা দিতেন: "হে আল্লাহর সাহায্য, আপনি নিকটবর্তী হোন।"
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৪)
إننا مع المسلمين في كل مكان على أعدائهم في كل مكان فهم إخوتنا في الدين، وهم إخوتنا في الله، والله يقول: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ}، وعلينا واجب نصرهم، والذي لا ينصر أخاه ظالمًا أو مظلومًا عليه ألا يدّعى الإسلام.

إننا مع لغة القرآن، لغة النبي صلى الله عليه وسلم، ولغة العرب الفاتحين، على دعاة العامية الذين يتظاهرون بالشعارات الزائفة ويخفون ما لا يظهرون.

وكل من لا يكون مع مبادي القرآن ولغة القرآن، منحرف عن الحق، يعمل لحساب الاستعمار وإسرائيل ولو تظاهر بالعروبة والإسلام.

وإلى هؤلاء المنحرفين، أقول مذكرًا ومنذرًا ما قاله الله في القرآن الكريم: {وَسَكَنْتُمْ فِي مَسَاكِنِ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ وَتَبَيَّنَ لَكُمْ كَيفَ فَعَلْنَا بِهِمْ وَضَرَبْنَا لَكُمُ الْأَمْثَال}.

وحّد الله العرب من المحيط إلى الخليج تحت لواء الإسلام، وجعل وحدتهم قاعدة رصينة لوحدة المسلمين من المحيط إلى المحيط، فالعرب بالاسلام كل شيء، والعرب بغير إسلام لا شيء …

والحمد لله كثيرًا، وصلى الله على سيدي ومولاي رسول الله: سيد القادات وقائد السادات، ورجل الرجال وبطل الأبطال، ورضي الله عن أصحابه وعن كل من يخدم العرب والإسلام بأمانة وإخلاص.
আমরা সর্বস্থানে মুসলিমদের সাথে তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে আছি, কেননা তারা দ্বীনের ক্ষেত্রে আমাদের ভাই, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমাদের ভাই। আর আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই।" তাদের সাহায্য করা আমাদের উপর অর্পিত এক আবশ্যিক কর্তব্য; আর যে ব্যক্তি তার ভাইকে সাহায্য করে না—সে জালেম হোক বা মজলুম—তার উচিত নয় নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করা।

আমরা কুরআনের ভাষা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভাষা এবং বিজয়ী আরবদের ভাষার পক্ষে আছি; যারা আঞ্চলিক ভাষার প্রবক্তা, যারা মিথ্যা স্লোগান প্রদর্শন করে এবং যা প্রকাশ করে না তা অন্তরে গোপন রাখে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা।

যে ব্যক্তি কুরআনের আদর্শ ও কুরআনের ভাষার সাথে নেই, সে সত্য বিচ্যুত; সে সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করছে, যদিও সে আরব পরিচয় বা ইসলামের ভান করে।

এই বিচ্যুতদের প্রতি আমি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এবং সতর্ক করছি যা আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন: "আর তোমরা তাদের বাসস্থানে বসবাস করতে যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, এবং তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে আমি তাদের সাথে কীরূপ আচরণ করেছিলাম, আর আমি তোমাদের জন্য অনেক উদাহরণ পেশ করেছিলাম।"

আল্লাহ মহাসাগর থেকে উপসাগর পর্যন্ত আরবদের ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং তাদের ঐক্যকে মহাসাগর থেকে মহাসাগর পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য এক শক্তিশালী ভিত্তি বানিয়েছেন। সুতরাং আরবরা ইসলামের মাধ্যমে সবকিছু, আর ইসলাম ছাড়া আরবরা কিছুই নয় …

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। আর আমার নেতা ও অভিভাবক আল্লাহর রাসুলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, যিনি সকল নেতার নেতা এবং প্রধানদের সেনাপতি, শ্রেষ্ঠ পুরুষ এবং বীরদের বীর। আর তাঁর সাহাবীগণের প্রতি এবং যারা আমানত ও নিষ্ঠার সাথে আরব জাতি ও ইসলামের খেদমত করে, তাদের সকলের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مقدمةہ المؤلف عن الطبعة الثانيةہ

الحمد لله نستعينه ونستهديه، ونعوذ به من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، ونصلي ونسلم على نبينا محمد وآله الطيبين الطاهرين وأصحابه الذين نصروه في كل موطن وحين.

وبعد، لقد كان صدور كتابنا هذا - وهو الكتاب الأول من سلسلة معارك الإسلام الفاصلة - تجربة شجعنا نجاحها على المضہي فيما اعتزمنا القيام بتنفيذه من إصدار سلسلة كاملة عن معارك الإسلام الفاصلة.

لقد صدرت الطبعة الأُولى من هذا الكتاب في شهر محرم 1383، ولم يأْت شهر شوال من السنة نفسها إلا وقد نفدت نسخ هذه الطبعة، فشجعنا ذلك النجاح على المسارعة إلى إصدار الطبعة الثانية هذه، التي أضفنا إليها زيادات بلغت أكثر من ضعف الطبعة الأُولى.

فقد كانت صفحات الكتاب من الطبعة الأُولى لا تزيد على 160 صفحة، بينما بلغت صفحات الكتاب في هذه الطبعة (كما يرى القاريء) أكثر من 296 صفحة، كما شجعنا ذلك النجاح على المسارعة إلى إصدار كتابنا (غزوة أُحد) وهو الكتاب الثاني من سلسلة معارك الإسلام الفاصلة، وعلى المضي في إخراج كتابنا (غزوة الأحزاب) وهو الكتاب الثالث من هذه السلسلة، والذي سيأخذ طريقه إلى المطابع قريبًا إن شاء الله.
দ্বিতীয় সংস্করণ সম্পর্কে লেখকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট হিদায়াত প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে তাঁর নিকট আশ্রয় চাই। আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করি আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ এবং তাঁর সেই সকল সাহাবীদের প্রতি, যারা তাঁকে প্রতিটি স্থানে ও সময়ে সাহায্য করেছেন।

অতঃপর, আমাদের এই গ্রন্থটির প্রকাশ—যা ইসলামের চূড়ান্ত যুদ্ধসমূহ সিরিজের প্রথম গ্রন্থ—ছিল এমন এক অভিজ্ঞতা যার সফলতা আমাদের ইসলামের চূড়ান্ত যুদ্ধসমূহ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ প্রকাশের যে সংকল্প আমরা করেছিলাম, তা বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করেছে।

এই গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণ ১৩৮৩ হিজরীর মুহাররম মাসে প্রকাশিত হয়েছিল এবং একই বছরের শাওয়াল মাস আসার আগেই এই সংস্করণের কপিগুলো নিঃশেষ হয়ে যায়। সেই সফলতা আমাদের এই দ্বিতীয় সংস্করণটি দ্রুত প্রকাশ করতে উৎসাহিত করেছে, যাতে আমরা এমন কিছু সংযোজন করেছি যা প্রথম সংস্করণের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রথম সংস্করণে গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৬০-এর বেশি ছিল না, অথচ এই সংস্করণে (পাঠক যেমনটি দেখতে পাচ্ছেন) গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৯৬-এর অধিক হয়েছে। সেই সাথে এই সফলতা আমাদের 'উহুদের যুদ্ধ' গ্রন্থটি—যা ইসলামের চূড়ান্ত যুদ্ধসমূহ সিরিজের দ্বিতীয় গ্রন্থ—দ্রুত প্রকাশ করতে এবং আমাদের 'আহযাবের যুদ্ধ' গ্রন্থটি—যা এই সিরিজের তৃতীয় গ্রন্থ—প্রকাশের পথে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করেছে, যা ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই ছাপাখানায় যাবে।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৬)
فشكرًا لله أُولًا وآخرًا ، وله الحمد والمنة ، على ما تفضل به علينا من نعمه الظاهرة والباطنة ونسأله تعالى أن يمدنا بعونه ويسندنا بتوفيقه، وأن يحمينا من مضلات الفتن ومزالق الغرور. وأن يجعل أعمالنا خالصة لوجهه تعالى، وأن يكون نصيرنا -ما دمنا على الحق- إنه نعم المولى ونعم النصير.

محمد أحمد باشميل

مكة المكرمة: ربيع الثاني 1384 هـ

آب - أغسطس 1964 م
শুরুতে ও শেষে আল্লাহরই শুকরিয়া, আর সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ তাঁরই প্রাপ্য, তিনি আমাদের প্রতি যে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ দান করেছেন তার জন্য। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে মদদ দেন এবং তাঁর তাওফিকের মাধ্যমে আমাদের সহায়তা করেন, আর তিনি যেন আমাদের পথভ্রষ্টকারী ফিতনা ও অহংকারের স্খলন থেকে রক্ষা করেন। তিনি যেন আমাদের আমলসমূহকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন, আর আমরা যতক্ষণ হকের ওপর অবিচল থাকব ততক্ষণ তিনি যেন আমাদের সাহায্যকারী হন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।

মুহাম্মদ আহমদ বাশমাইল

মক্কা মুকাররমা: রবিউস সানি ১৩৮৪ হিজরি

আগস্ট ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌مقدمة الطبعة الأَولى

اللهم صل على محمد سيد المكافحين وإمام المجاهدين وعلى آله الطيبين الطاهرين وأَصحابه الأوفياء الصامدين.

اللهم نستمد منك العون والتوفيق.

وبعد، لقد عزمنا (بعون الله تعالى) على وضع سلسلة تاريخية مفصلة عن معارك الإسلام الفاصلة، التي قلبہت موازين القوى وغيرت ارتكزت عليها وحملت لواءَها في العالمين.

إن هذه السلسلة لن تقتصر على المعارك الكبرى التي تم الفوز فيها للإسلام فقط، كمعركة بدر الكبرى.

بل سنتناول كبريات المعارك الهائلة الشهيرة الأَخرى التي خاضها المسلمون وتمت الغلبة فيها لأعدائهم كمعركة أُحد في يثرب، ومعركة بلاط الشهداء في فرنسا.

والهدف الأَول من وضع هذه السلسلة هو إزاحة الستار (وخاصة أَمام الشباب المثقف ثقافة عصرية) عن جزء ثمين من كنوز تاريخنا الإسلامي الزاخر بالبطولات والتضحيات، والذي تآمر عليه العدو من الخارج بالاتفاق مع فئات آثمة في الداخل.

فئات اصطنعها العدو الخارجي (أَيام حكمه) وأَجلسها أَمام قيادات التربية والتعليم، وجعل لها الهيمنة على مركز الصحافة وقيادة الإذاعة والنشر.
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

হে আল্লাহ, আপনি রহমত বর্ষণ করুন সংগ্রামীদের সরদার ও মুজাহিদদের ইমাম মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবার-পরিজনের ওপর এবং তাঁর অনুগত ও অবিচল সাহাবীদের ওপর।

হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছেই সাহায্য ও তাওফিক কামনা করছি।

অতঃপর, আমরা (আল্লাহ তাআলার সাহায্যে) ইসলামের সেই সকল ফয়সালাকারী যুদ্ধসমূহ সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা রচনার সংকল্প করেছি, যা শক্তির ভারসাম্যকে উল্টে দিয়েছিল এবং সে সকল ভিত্তিকে পরিবর্তন করে দিয়েছিল যার ওপর বিশ্ব ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে ছিল এবং যা বিশ্বে ইসলামের বিজয় নিশান বহন করেছিল।

এই ধারাবাহিকতা কেবল সেই সকল মহাযুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না যেগুলোতে কেবল ইসলামের বিজয় অর্জিত হয়েছিল, যেমন বদরের মহাযুদ্ধ।

বরং আমরা মুসলমানদের লড়া অন্যান্য সুবিখ্যাত ও বিশাল মহাযুদ্ধগুলো নিয়েও আলোচনা করব যেগুলোতে তাদের শত্রুরা জয়লাভ করেছিল, যেমন ইয়াসরিবের ওহুদ যুদ্ধ এবং ফ্রান্সের বালাতুশ শুহাদা যুদ্ধ।

এই ধারাবাহিকতা রচনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো (বিশেষ করে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের সামনে) আমাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগে ভরপুর ইসলামি ইতিহাসের ভাণ্ডারের এক মূল্যবান অংশ থেকে পর্দা উন্মোচন করা, যার বিরুদ্ধে বহিঃশত্রুরা দেশের ভেতরের একদল পাপিষ্ঠ গোষ্ঠীর সাথে যোগসাজশ করে ষড়যন্ত্র করেছিল।

এই গোষ্ঠীগুলোকে বহিঃশত্রুরা (তাদের শাসনামলে) তৈরি করেছিল এবং তাদেরকে শিক্ষা ও দীক্ষা ব্যবস্থার নেতৃত্বে বসিয়েছিল, আর সংবাদ মাধ্যম, বেতার ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোর ওপর তাদের আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮)
فأَجرمت في حق تاريخنا الإسلامي إجرامًا كبيرًا، إذ طمست (في فصل المدرسة ومدرج الكلية)، عن عمد وإصرار، كل جانب مشرق من جوانب هذا التاريخ العظيم، وخاصة جانب البطولة والفداء والنجدة الذي يتمثل في المعارك الفاصلة إلى خاضها الإيمان ضد الكفر، وقادها العدل ضد الطغيان، والتي تجلى فيها زخم العقيدة وشرف المبدأَ.

فقد رأَينا ولا نزال نرى حتى هذا اليوم، هذه الفئات التي شاء لها الأَجنبي أَن تضع (حسب وحيه ورغبته) برامج التعليم ومقررات التدريس للنشء الإسلامي في كثير من أَقطارنا الإسلامية.

نعم رأَينا ولا نزال نرى هذه الفئات الآثمة، تجعل هذا الجيل الناشئ يتلهى (في مراحل دراسته التاريخية)، بالنظر في وقائع تاريخ مبتوت الصلة كليًّا بتاريخنا الإسلامي.

وإذا ما تعرضت هذه الفئات الخطيرة للتاريخ الإسلامي، (سواء تدريسًا أَو محاضرة أَو إذاعة) لا تتعرض (في الغالب) إلا لما كان نزاعًا واختلافًا بين المسلمين.

كالحوادث المؤسفة التي حدثت أَيام عمان وبعد موته، بين علي ومعاوية (1)

--------------------------------------------

(1) هو معاوية بن أَبي سفيان، صخر بن حرب الأَموى القرشي، أَول من وضع أَسس الدولة الأَموية العظيمة في الشام، ولد بمكة وأَسلم يوم فتحها، وكان أحد كتاب الوحي، تولى قيادة إحدى الكتائب تحت قيادة أَخيه يزيد في حرب الروم في الشام، بأَمر من الخليفة أَبي بكر، كان على رأَس الجيوش التي فتحت بيروت وصيداء وعرفة وجبيل، قاد الجناح الأَكبر من المعارضة المسلحة لخلافة علي، بعد أَن اتهمه بدم عثمان، بايعه المسلمون بالخلافة العامة سنة إحدى وأَربعين من الهجرة، وذلك بعد وفاة أَمير المؤمنين علي، فقد تنازل له الحسن بن علي وبايعه بالخلافة إطفاء للفتنة وحقنا لدماء المسلمين، كان معاوية أَحد عظماء الفاتحين في الإسلام، فقد وصلت طلائع جيوشه إلى شواطئ المحيط الأَطلسي في الشمال الإفريقي، وفي أَيامه ثم فتح السودان، وكان أَول من حاصر القسطنطينية (أَسطنبول) برًا وبحرًا، ومعاوية هو الذي قام بإنشاء أَول أَسطول بحري =
অতএব আপনি আমাদের ইসলামি ইতিহাসের হকের ক্ষেত্রে এক বিরাট অপরাধ করেছেন। কারণ আপনি (স্কুলের শ্রেণীকক্ষে এবং কলেজের বক্তৃতামঞ্চে) সুচিন্তিতভাবে এবং অটল সংকল্পের সাথে এই মহান ইতিহাসের প্রতিটি উজ্জ্বল দিককে মুছে ফেলেছেন; বিশেষ করে বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং সহমর্মিতার সেই দিকটি, যা ঈমান বনাম কুফরের সেই চূড়ান্ত লড়াইগুলোতে মূর্ত হয়ে উঠেছিল, যেখানে ন্যায়বিচার পরিচালিত হয়েছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এবং যাতে আকিদার উদ্দীপনা ও আদর্শের মর্যাদা প্রকাশিত হয়েছিল।

আমরা দেখেছি এবং আজও দেখছি সেই সকল গোষ্ঠীকে, যাদেরকে বিদেশীরা চেয়েছিল যেন তারা (তাদের ইশারা ও ইচ্ছা অনুযায়ী) আমাদের অনেক ইসলামি ভূখণ্ডে মুসলিম তরুণ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা সিলেবাস এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে।

হ্যাঁ, আমরা দেখেছি এবং আজও দেখছি এই পাপিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোকে, যারা এই উদীয়মান প্রজন্মকে (তাদের ঐতিহাসিক শিক্ষা গ্রহণের স্তরগুলোতে) এমন সব ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহ দেখার মাধ্যমে মগ্ন করে রাখছে, যার সাথে আমাদের ইসলামি ইতিহাসের কোনোই সম্পর্ক নেই।

আর যখন এই বিপজ্জনক গোষ্ঠীগুলো ইসলামি ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে আনে (তা পাঠদান, বক্তৃতা কিংবা প্রচারণার মাধ্যমেই হোক), তারা (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) কেবল সেইসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করে যা ছিল মুসলমানদের মধ্যকার বিরোধ ও মতভেদ।

যেমন উসমানের আমলে এবং তাঁর শাহাদাতের পর আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে সংঘটিত দুঃখজনক ঘটনাবলি। (১)

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, সাখর ইবনে হারব আল-উমাইয়ি আল-কুরাশি। তিনি সিরিয়ায় মহান উমাইয়া রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপনকারী প্রথম ব্যক্তি। তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ওহী লেখকদের একজন ছিলেন। খলিফা আবু বকরের নির্দেশে সিরিয়ায় রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি তাঁর ভাই ইয়াজিদের অধীনে একটি ব্যাটালিয়নের নেতৃত্ব দেন। তিনি সেই সব সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন যারা বৈরুত, সাইদা, আরাফাহ এবং জুবাইল জয় করেছিল। তিনি আলী-র খিলাফতের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিরোধিতার বড় অংশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যখন তিনি তাঁর বিরুদ্ধে উসমানের রক্তের অভিযোগ তুলেছিলেন। আমিরুল মুমিনীন আলীর ইনতিকালের পর হিজরি একচল্লিশ সালে মুসলমানরা তাঁকে সাধারণ খিলাফতের বায়আত প্রদান করে। কেননা হাসান ইবনে আলী ফিতনা দমন এবং মুসলমানদের রক্ত রক্ষার উদ্দেশ্যে খিলাফত ত্যাগ করেন এবং তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। মুয়াবিয়া ইসলামের মহান বিজেতাদের একজন ছিলেন। তাঁর সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী দল উত্তর আফ্রিকার আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে পৌঁছেছিল। তাঁর সময়ে সুদান বিজিত হয়। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি স্থল ও জলপথে কনস্টান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) অবরোধ করেছিলেন। আর মুয়াবিয়া-ই প্রথম নৌবহর গঠন করেছিলেন =
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৯)
وعائشة (1) وطلحة والزبير رضي الله عنهم أَجمعين.

فتطنب هذه الفئات في ذكر تلك الحوادث وتتفلسف في أَسبابها ومسبباتها، وتنشرها بين الطلبة تدريسًا ومطالعة ومحاضرة، وكأَنها وحدها هي التاريخ الإسلامي.

بينما تهمل إهمالًا كاملًا. باقي الجوانب الوضاءَة المشرقة التي يمكن أن تكون حافزًا للشباب المسلم على السير في طريق الرجولة والتضحية والاستقامة تحت لواء القرآن.

ولا شك أَن هذا عمل تخريبي مقصود، سارت عليه هذه الفئات الآثمة في المدرسة والجامعة، منذ عشرات السنين، لتثبيت دعائم الاستعمار الثقافي والفكري -الذي هو الاستعمار الأَكبر- والذي قرر الأَعداء أَن يكون خليفة الاستعمار السياسي - الذي هو الاستعمار الأَصغر وهذا ما حدث فعلًا، عندما رحل الأَجنبي بجلدته عن أَكثر الأَوطان الإسلامية.

إن القصد من إهمال التاريخ الإسلامي - إلا ما كان نادرًا، أَو خلافًا بين المسلمين أَو مجونًا ولهوًا من بعض حكامهم -هو قطع الصلة

--------------------------------------------

= للإسلام، وهو أَول حاكم مسلم قام بأَول حملة بحرية ضد الرومان في البحر الأَبيض المتوسط، وقام أسطوله باحتلال جزائر كريت ورودس وقبرص، وجزر الدردنيل، ويقدر بعض المؤرخين أَسطول الإسلام الذي أَنشأَه معاوية بأَلف وسبعمائة سفينة يعيب عليه الكثير أَخذه البيعة لابنه يزيد الذي لم يكن أَهلا لها، ومطاعن الشيعة فيه أَكثر من أَن تحصى وغلاتهم يعتبرونه كافرًا، مات معاوية بدمشق سنة ستين من الهجرة.

(1) هي أَم المؤمنين، عائشة بنت أَبي بكر الصديق غنية عن التعريف، أَفقه نساء المسلمين وأَكثرهن علمًا بالدين والأَدب، تزوجها النبي صلى الله عليه وسلم في السنة الثانية من الهجرة، كانت أَكثر النساء حديثًا عن رسول الله. روى المحدثون عنها 2210 حديثًا. كانت أَحب نساء رسول الله صلى الله عليه وسلم إليه، شهدت معركة الحمل، وكانت من الناقمين على قتلة عثمان توفيت رضي الله عنها سنة ثمان وخمسين من الهجرة =
এবং আয়েশা (১), তালহা ও যুবায়ের—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

ফলে এই গোষ্ঠীগুলো সেই সকল ঘটনার বর্ণনায় অতিরঞ্জন করে এবং সেগুলোর কার্যকারণ নিয়ে দার্শনিক আলোচনায় মেতে ওঠে। তারা এগুলোকে পাঠদান, অধ্যয়ন ও বক্তৃতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রচার করে, যেন মনে হয় শুধুমাত্র এগুলোই ইসলামি ইতিহাস।

অথচ তারা অন্যান্য উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত দিকগুলোকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে, যা মুসলিম তরুণদের কুরআনের পতাকাতলে বীরত্ব, ত্যাগ ও সততার পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক ধ্বংসাত্মক কাজ, যা গত কয়েক দশক ধরে বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই পাপিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো লালন করে আসছে। এর উদ্দেশ্য ছিল সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উপনিবেশবাদের ভিত মজবুত করা—যা হলো বৃহত্তর উপনিবেশবাদ—এবং যা শত্রুরা রাজনৈতিক উপনিবেশবাদের (ক্ষুদ্রতর উপনিবেশবাদ) উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে এটিই ঘটেছে যখন বিদেশিরা শারীরিকভাবে অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ড থেকে বিদায় নিয়েছে।

ইসলামি ইতিহাসকে উপেক্ষা করার উদ্দেশ্য হলো—ব্যতিক্রমী কিছু ঘটনা, অথবা মুসলিমদের মধ্যকার বিরোধ কিংবা তাদের কিছু শাসকের আমোদ-প্রমোদ ও বিলাসিতা ছাড়া—মূল ধারার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা।

--------------------------------------------

= ইসলামের প্রতি; তিনি ছিলেন প্রথম মুসলিম শাসক যিনি ভূমধ্যসাগরে রোমানদের বিরুদ্ধে প্রথম নৌ-অভিযান পরিচালনা করেন। তাঁর নৌবাহিনী ক্রিট, রোডস, সাইপ্রাস ও দারদানেলস দ্বীপপুঞ্জ জয় করে। কিছু ঐতিহাসিক মুয়াবিয়া কর্তৃক গঠিত ইসলামি নৌবহরের সংখ্যা সতেরো শত জাহাজ বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই তাঁর পুত্র ইয়াজিদের জন্য বাইয়াত গ্রহণ করার কারণে তাঁর সমালোচনা করেন, যে এর যোগ্য ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে শিয়াদের কুৎসা অপরিসীম এবং তাদের চরমপন্থীরা তাঁকে কাফির গণ্য করে। মুয়াবিয়া হিজরি ৬০ সালে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।

(১) তিনি হলেন উম্মুল মুমিনিন আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক, যাঁর নতুন করে পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। তিনি ছিলেন মুসলিম নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ফকিহ এবং দ্বীন ও সাহিত্য বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞানী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরি দ্বিতীয় সালে তাঁকে বিবাহ করেন। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী নারী। মুহাদ্দিসগণ তাঁর থেকে ২২১০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। তিনি উটের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি উসমান (রা.)-এর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি হিজরি ৫৮ সালে ইন্তেকাল করেন। =
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০)
بين الشباب المسلم وبين الاطلاع على الصفحات الناصعة المشرقة، من تاريخ أَسلافهم المجيد، الذي يخشى الأَجنبي الحاقد على الإسلام، أَن يحملهم النظر في هذا التاريخ على التأَسي بأَولئك الأَبطال الميامين الذين اجتذبهم الإِسلام من الكهوف وأَغوار الوديان، حفاة أَشباه عراة، ثم أَقعدهم (بعد أَن صهرهم في بوتقة الإيمان) أَمام دفة قيادة الدنيا، فصنعوا بالإِسلام، وصنع الإسلام بهم تاريخًا، لم تشهد الدنيا مثله في البناءِ والعظمة والنزاهة والإشراق، من لدن آدم حتى يومنا هذا.

تاريخًا لو اعتنى به الأَستاذ في مدرسته والعميد في جامعته؛ لصنعت لنا هذه المدارس والجامعات، شبابًا قويًّا في عقيدته، متينًا في خلقه، عظيمًا في بطولته، فذًا في استقامته، مفلح في قيادته.

شبابًا بإمكانه أَن يجمع بين صدق أَبي بكر، وعدل عمر، ونبل عثمان، وبسالة عليّ، وفروسية خالد، وحنكة عمرو، وحلم معاوية، وإقدام ابن الزبير.

ولما خلقت لنا هذه المشكلة الخطيرة التي نواجهها في كل قطر إسلامي .. مشكلة هذا القطيع الهائج، ممن يسمون أَنفسهم التقدميين، المتحررين، الذين أَصبحوا، أَشد ضررًا على الإسلام، وأَعظم تجريحًا لتاريخه من أَعدائه الأَصليين الذين قاموا بتفريخهم في معامل استعمارهم الثقافي ، أَيام سيطرتهم وحكمهم.

ولكنه الاستعمار الحقود، وسماسرته من المحسوبين علينا، دبروا (في غفلة منا طويلة) خطة اغتيال هذا التاريخ، ونجحوا في إهالة التراب عليه، بأَيدي رجال ينتسبون إلينا، فلم يبقوا منه في مقررات التدريس، إلا مقاطع لا تصلح لشيء، إلا للنيل من ماضي الإسلام والطعن على بناة دولته، والتشهير بمن قادوا معارك الإسلام والحط من
মুসলিম যুবক এবং তাদের পূর্বসূরিদের মহিমান্বিত ইতিহাসের সেই প্রোজ্জ্বল ও উজ্জ্বল অধ্যায়গুলো পর্যালোচনার মাঝে (বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়া হয়েছে), যে ইতিহাস সম্পর্কে ইসলামবিদ্বেষী বিদেশিরা এই আশঙ্কা করে যে, সেই ইতিহাসের ওপর দৃষ্টিপাত এই যুবকদের সেই সব বরকতময় বীরদের পদাঙ্ক অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করবে যাদের ইসলাম গুহা ও উপত্যকার গভীর থেকে বের করে এনেছিল যখন তারা ছিল রিক্তপদ ও প্রায় বিবস্ত্র; অতঃপর (ঈমানের চুল্লিতে তাদের বিগলিত করার পর) তাদের আসীন করেছিল বিশ্ব-নেতৃত্বের আসনে। তারা ইসলামের বদৌলতে এবং ইসলাম তাদের মাধ্যমে এমন এক ইতিহাস বিনির্মাণ করেছিল, যার ন্যায় গঠনশৈলী, মহানুভবতা, নিষ্কলুষতা ও ঔজ্জ্বল্য আদম থেকে শুরু করে আজ অবধি এই পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেনি।

এমন এক ইতিহাস, যদি বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনগণ এর প্রতি মনোযোগী হতেন, তবে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের উপহার দিত এমন এক যুবক শ্রেণি যারা আকিদায় বলীয়ান, চরিত্রে দৃঢ়, বীরত্বে মহান, সততায় অনন্য এবং নেতৃত্বে সফল হতো।

এমন এক যুবক শ্রেণি, যারা নিজেদের মাঝে আবু বকরের সত্যবাদিতা, উমরের ন্যায়বিচার, উসমানের আভিজাত্য, আলীর বীরত্ব, খালিদের রণকৌশল, আমরের বিচক্ষণতা, মুআবিয়ার সহনশীলতা এবং ইবনুল জুবাইরের সাহসিকতাকে ধারণ করতে সক্ষম হতো।

এবং প্রতিটি মুসলিম জনপদে আজ আমরা যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি সেই গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হতো না; অর্থাৎ সেই উন্মত্ত পালের সমস্যা যারা নিজেদের প্রগতিশীল ও মুক্তমনা হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা ইসলামের জন্য এবং এর ইতিহাসের বিকৃতি সাধনে সেই মূল শত্রুদের চেয়েও অধিক ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা তাদের শাসন ও আধিপত্যের যুগে তাদের সাংস্কৃতিক উপনিবেশবাদের গবেষণাগারে এদের লালন-পালন করেছিল।

কিন্তু এটি সেই হিংসুক সাম্রাজ্যবাদ এবং আমাদেরই অন্তর্ভুক্ত তাদের দালালদের কারসাজি; তারা (আমাদের দীর্ঘ গাফলতের সুযোগে) এই ইতিহাসকে সমূলে বিনাশ করার নীল নকশা তৈরি করেছিল। আমাদেরই একদল লোকের হাত দিয়ে তারা এর ওপর ধুলোর আস্তরণ ফেলে দিতে সক্ষম হয়েছে। ফলে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলীতে তারা এর এমন কিছু খণ্ডিতাংশ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি যা ইসলামের গৌরবময় অতীতকে কলঙ্কিত করা, এর রাষ্ট্র নির্মাতাদের ওপর অপবাদ আরোপ করা এবং ইসলামের যুদ্ধসমূহের সেনানায়কদের চরিত্রহনন ও মানহানি করা ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য সাধন করে না।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২১)
مكانتهم (1) كتطاولهم على عثمان وابن الزبير (2) ومعاوية وعمرو بن العاص (3) وتوسعهم في نشر ما يظنه خصومهم طعنًا في دينهم وأَمانتهم، وكتعمدهم الإسهاب في نظرية أَبي ذر الغفاري رضي الله عنه

--------------------------------------------

(1) قرأت مرة قصة فِلم في مجلة المصور، عن خالد بن الوليد وإذا أبرز ما في الفلم قصة قتل مالك بن نويرة وغرام خالد بزوجة القتيل نوار التي يقول بعض المؤرخين إن خالدًا تزوجها بعد قتله ابن نويرة (كمرتد) في حروب الردة، وأوجع منظر رأيته أن ممثل البطل في الفلم، قد ظهر ملتصقًا (في حالة مزرية) بممثلة أخرى، على اعتبار أن هذا الممثل هو خالد بن الوليد، والممثلة نوار، زوجة القتيل مالك بن نويرة، وهكذا يشن فروخ الاستعمار حربًا واسعة على قادة الإسلام وأبطاله حتى في الأفلام السينمائية.

فقد عز علي هؤلاء العملاء أن يمر هذا الفلم في جميع أدواره مرور البطولة الكاملة المنزهة عن نزوات الجنس، فأفسدوه بذلك المنظر الذي كان من أسباب كساده.

(2) هو عبد الله بن الزبير بن العوام أشهر من نار علي علم، كأن فارس قريش في زمنه، كان أحد القادة الذين اشتركوا في فتح تونس، وهو الذي قتل جرجس ملك الرومان هناك، نازع بني أمية الخلافة، أعلن نفسه خليفة عقيب موت يزيد بن معاوية فتمت له السيطرة على الحجاز ومصر والعراق واليمن وخراسان وأكثر الشام، كانت له مع الأمويين وقائع رهيبة، تغلب عليه عبد الملك بن مروان في آخر الأمر، حاصرته جيوش الشام في الحرم بقيادة الحجاج، فقاتل قتال الأبطال حتى قتل وهو في الثمانين وذلك سنة ثلاث وسبعين: كان أول مولود في المدينة بعد الهجرة استمرت خلافته تسع سنين:

(3) هو عمرو بن العاص بن وائل السهمي القرشي، قال صاحب كتاب (الأعلام) كان أحد عظماء العرب ودهاتها وأولي الرأي والحزم والمكيدة فيهم، كان عمرو من أشد الناس على رسول الله صلى الله عليه وسلم في الجاهلية، سافر إلى الحبشة للإيقاع بالمسلمين فيها عند النجاشي فلم يفلح، أسلم في هدنة الحديبية وكان إسلامه وخالد بن الوليد في آن واحد، ولاه الرسول قيادة جيش (ذات السلاسل) وأمده بأبي بكر وعمر، ثم جعله عاملا علي منطقة عمان، كان أحد القادة الأربعة الكبار الذين تولوا فتح الشام، إليه يعود الفضل في فتح فلسطين ومصر، ولاه ابن الخطاب إمارة فلسطين ثم مصر، عزله عثمان عن الإمارة، كان في جانب معاوية أيام الفتنة، وتولي مصر بعد أن تم الأمر لمعاوية ومات وهو أمير عليها، كان ابن الخطاب من المعجبين برجاحة عقله ودهائه، كان يقول إذا رأى رجلا يتلجلج كلامه: .. إن خالق هذا وخالق عمرو بن العاص واحد، توفي رضي الله عنه في مصر سنة ثلاث وأربعين من الهجرة.
তাদের মর্যাদা (১) যেমন উসমান, ইবনুল জুবাইর (২), মুয়াবিয়া এবং আমর ইবনুল আস (৩)-এর বিরুদ্ধে তাদের ধৃষ্টতা প্রদর্শন, এবং তাদের বিরোধীরা যা কিছুকে তাদের দীন ও আমানতদারিতার প্রতি আঘাত মনে করে, সেগুলো প্রচারে তাদের ব্যাপকতা, এবং আবু যর আল-গিফারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতবাদের বর্ণনায় তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দীর্ঘসূত্রিতা।

--------------------------------------------

(১) আমি একবার 'আল-মুসাউয়ির' ম্যাগাজিনে খালিদ বিন ওয়ালিদ সম্পর্কে একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী পড়েছিলাম। সেই চলচ্চিত্রের প্রধান বিষয় ছিল মালিক বিন নুওয়াইরাকে হত্যা এবং নিহতের স্ত্রী নাওয়ারের প্রতি খালিদের আসক্তির কাহিনী; কিছু ঐতিহাসিক বলেন যে, রিদ্দার যুদ্ধে মালিক ইবনে নুওয়াইরাকে (মুরতাদ হিসেবে) হত্যার পর খালিদ তাকে বিয়ে করেছিলেন। আমার দেখা সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক দৃশ্য ছিল এই যে, চলচ্চিত্রের নায়ক অভিনেতাটি অন্য এক অভিনেত্রীর সাথে (একটি শোচনীয় অবস্থায়) ঘনিষ্ঠভাবে উপস্থিত হয়েছেন—এই বিবেচনায় যে এই অভিনেতা হলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং অভিনেত্রী হলেন নিহতের স্ত্রী নাওয়ার। এভাবেই সাম্রাজ্যবাদের দালালরা এমনকি চলচ্চিত্রের মাধ্যমেও ইসলামের নেতা ও বীরদের বিরুদ্ধে ব্যাপক যুদ্ধ পরিচালনা করে।

এই দালালদের পক্ষে এটি মেনে নেওয়া কঠিন ছিল যে, এই চলচ্চিত্রটি তার সমস্ত পর্বে যৌন লালসা থেকে মুক্ত এক পূর্ণাঙ্গ বীরত্বের কাহিনী হিসেবে অতিক্রান্ত হবে; তাই তারা সেই দৃশ্যের মাধ্যমে এটিকে কলুষিত করেছে, যা এর ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল।

(২) তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আল-জুবাইর ইবনুল আওয়াম, যিনি প্রদীপ্ত অগ্নিশিখার চেয়েও বেশি প্রসিদ্ধ। তিনি তার সময়ের কুরাইশ অশ্বারোহী ছিলেন। তিনি তিউনিসিয়া বিজয়ে অংশগ্রহণকারী সেনাপতিদের একজন ছিলেন এবং তিনিই সেখানে রোমান রাজা জুরজিসকে হত্যা করেছিলেন। তিনি উমাইয়াদের সাথে খিলাফত নিয়ে বিবাদ করেন এবং ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন। ফলে হিজাজ, মিশর, ইরাক, ইয়েমেন, খোরাসান এবং শামের অধিকাংশ অঞ্চলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। উমাইয়াদের সাথে তার ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান তার ওপর জয়লাভ করেন। হাজ্জাজের নেতৃত্বে শামের বাহিনী তাকে হারামে অবরুদ্ধ করে। তিনি বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন এবং তেহাত্তর হিজরি সনে আশি বছর বয়সে শহীদ হন। হিজরতের পর মদিনায় তিনিই ছিলেন প্রথম নবজাতক। তার খিলাফত নয় বছর স্থায়ী হয়েছিল।

(৩) তিনি হলেন আমর ইবনুল আস ইবনে ওয়ায়েল আস-সাহমি আল-কুরাশি। 'আল-আলাম' গ্রন্থের লেখক বলেন, তিনি ছিলেন আরবদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, চতুর এবং বিচক্ষণ চিন্তাশীল ও দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী। জাহিলিয়াতের যুগে আমর ইবনুল আস রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি কঠোরতম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি নাজ্জাশির কাছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য হাবাশায় (আবিসিনিয়া) গিয়েছিলেন কিন্তু সফল হননি। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন; তিনি এবং খালিদ বিন ওয়ালিদ একই সময়ে ইসলাম কবুল করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে 'জাতুস সালাসিল' যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করেন এবং আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) দ্বারা তাকে সাহায্য করেন। এরপর তাকে ওমান অঞ্চলের গভর্নর নিযুক্ত করেন। তিনি শাম (সিরিয়া) বিজয়ে নেতৃত্বদানকারী চারজন বড় সেনাপতির একজন ছিলেন। ফিলিস্তিন ও মিশর বিজয়ের কৃতি তারই প্রাপ্য। ইবনুল খাত্তাব তাকে ফিলিস্তিন এবং পরে মিশরের শাসনভার প্রদান করেন। উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে শাসনভার থেকে অব্যাহতি দেন। ফিতনার দিনগুলোতে তিনি মুয়াবিয়ার পক্ষে ছিলেন এবং মুয়াবিয়ার শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি মিশরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেখানে আমির থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ইবনুল খাত্তাব তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার গুণমুগ্ধ ছিলেন। যখন তিনি দেখতেন কোনো লোক কথা বলতে তোতলামি করছে বা ইতস্তত করছে, তখন তিনি বলতেন: "এর স্রষ্টা এবং আমর ইবনুল আসের স্রষ্টা একই।" তিনি ৪৩ হিজরি সনে মিশরে ইন্তেকাল করেন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২২)
التي خالف بها جميع الصحابة ونفاه الخليفة الثالث من أَجل التمسك بها .. إلى الربذة.

وكتوسعهم في تدريس القصص والتمثيليات (المفتعل أَكثرها) التي تصور بذخ ومجون بعض الخلفاء من بني أُمية وقادتهم الذين لم يكره الصليبيون والوثنيون والمجوس، محاربين إسلاميين أَعظم منهم. لأَن زحف الإِسلام وقوته العسكرية وهيبته السياسية وصلت (أَيام هؤلاء الخلفاءِ والقادة) إِلى درجة لم يصل إليها أَحد قبلهم ولا بعدهم.

فبينما كانت جيوشهم تتوغل في أَحشاءِ أوروبا الغربية، ويقف منها (أَيام بني أُمية) خمسمائة أَلف مقاتل علي بعد ثلاثمائة كيلو مترًا من باريس، كانت مئات الآلاف من جنود دمشق الأُموية .. وقادتها تندفع كالطوفان نحو الشرق جارفة أَمامها معالم الوثنية وآثار المجوسية.

وهذا هو السبب في الحقد المشبوب من هذا الثالوث المعادي علي هؤلاءِ القادة والخلفاءِ، هذا الحقد الذي نراه متمثلًا فيما يدرسه وينشره ويذيعه فروخ الصليبيين من أَدعياءِ الإِسلام، من طعن في خلفاءِ الإِسلام وكبار قادته ممن خاض الإِسلام بقيادتهم أعنف المعارك ضد الصليبيين في الغرب والوثنيين والمجوس في الشرق.

إن إِهمال التاريخ الإِسلامي في فصل المدرسة ومدرج الكلية أَو الاقتصار على مقاطع مشوهة مما نسب إليه، إنما يخدم الأَعداءَ ويزهد الشباب المسلم، بل ويكرهه في تاريخ الإِسلام.

وهذا أَقصي ما يهدف إليه أَعداءُ الإِسلام الذين نجحوا (بواسطة المخربين من أَبنائه) في أَن ينحرفوا بالشباب المسلم (إلا من عصم الله، وقليل ما هم) عن الاتجاه الإِسلامي الصحيح، واتجهوا به نحو أَوروبا
যার মাধ্যমে তিনি সমস্ত সাহাবীর বিরোধিতা করেছিলেন এবং এর ওপর অটল থাকার কারণে তৃতীয় খলিফা তাঁকে নির্বাসিত করেছিলেন... রাবাযাহ পর্যন্ত।

এবং যেমনটি তারা গল্প ও নাটিকা (যার অধিকাংশ কাল্পনিক) শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা এনেছে, যা বনু উমাইয়াদের কিছু খলিফা ও তাদের সেনাপতিদের বিলাসিতা এবং লালসা চিত্রিত করে; যাদের চেয়ে বড় কোনো ইসলামি যোদ্ধাকে ক্রুসেডার, মূর্তিপূজারি ও অগ্নিউপাসকরা ঘৃণা করেনি। কারণ ইসলামের অগ্রযাত্রা, এর সামরিক শক্তি এবং এর রাজনৈতিক দাপট (এই খলিফাদের এবং সেনাপতিদের যুগে) এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখানে তাদের আগে বা পরে কেউ পৌঁছাতে পারেনি।

যখন তাদের সেনাবাহিনী পশ্চিম ইউরোপের গভীরে প্রবেশ করছিল এবং বনু উমাইয়াদের যুগে তাদের পাঁচ লক্ষ যোদ্ধা প্যারিস থেকে মাত্র তিনশ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল, তখন উমাইয়া দামেস্কের লক্ষ লক্ষ সৈন্য এবং তাদের সেনাপতিরা প্লাবনের মতো পূর্ব দিকে ধাবিত হচ্ছিল, তাদের সামনে থেকে মূর্তিপূজার চিহ্ন এবং অগ্নিউপাসনার নিদর্শনসমূহ বিলুপ্ত করে দিচ্ছিল।

আর এটাই হলো সেই জ্বলন্ত বিদ্বেষের কারণ যা এই শত্রু ত্রয়ীর মনে সেই সেনাপতি ও খলিফাদের প্রতি বিদ্যমান। এই বিদ্বেষ আমরা লক্ষ্য করি ক্রুসেডারদের অনুসারী সেই সব ইসলাম নামধারীদের পাঠদান, প্রকাশনা এবং প্রচারে, যেখানে ইসলামের খলিফা এবং বড় বড় সেনাপতিদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হয়—যাদের নেতৃত্বে ইসলাম পশ্চিমে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে এবং পূর্বে মূর্তিপূজারি ও অগ্নিউপাসকদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ডতম যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।

বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে এবং কলেজের বক্তৃতামঞ্চে ইসলামি ইতিহাসের প্রতি অবহেলা করা অথবা এর প্রতি আরোপিত বিকৃত উদ্ধৃতিসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা মূলত শত্রুদেরই সেবা করে এবং মুসলিম তরুণদের মনে অনীহা সৃষ্টি করে, বরং তাদেরকে ইসলামের ইতিহাসের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে।

আর এটাই ইসলামের শত্রুদের চূড়ান্ত লক্ষ্য, যারা (ইসলামের সন্তানদের মধ্য থেকেই থাকা ধ্বংসকারীদের মাধ্যমে) মুসলিম তরুণদের (আল্লাহ যাদের রক্ষা করেছেন তারা ব্যতীত, আর তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য) সঠিক ইসলামি আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে সফল হয়েছে এবং তাদেরকে ইউরোপের দিকে ধাবিত করেছে।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২৩)
وحضارة وعظمة رجالها، حتى أَصبحوا لا يرون شيئًا جديرًا بالدرس وأَولى بالإِعجاب والتقدير إلا ما كان آتيًا عن أَوروبا، وأَوروبا وحدها.

والسبب في ذلك أَنهم (منذ تفتح أَعين عقولهم)، وطيلة مراحل التدريس لم يسمعوا ولم يقرأُوا في معرض تاريخ البطولات والمعارك والحضارات والتضحية والعلوم إلا عن معارك الطرف الأغر، ووقائع (واترلو) وبطولات انطونيو، وغرام كليوبترا، وشجاعة نابليون وثبات ولنجتون، وبسالة نلسون، ومغامرات كرستوف كولمبس، وحضارات الفراعنة، ومدنيات روما، وفلسفات اليونان، وصلاح سانت ماريا، وعفة جان دارك، وغير ذلك مما لا يجعلون معه أَي مكان في ذهن الطالب المسلم لما يجب أَن يعرفه عن تاريخ دينه، وأَخبار بطولات رجالاته، وشجاعة قادته، ونزاهة حكامه، وعدل خلفائه وإِشراق حضاراته وعظمة مدنياته ونباهة علمائه، وذكاءِ فلاسفته.

والأَغرب من هذا أَن هؤلاء الآثمين في حق التاريخ الإِسلامي، عندما يضطرون إِلى التحدث عن تاريخ الإسلام، يتجنبون ذكر الإِسلام كليًا، ويتحدثون عنه كتاريخ قومي مجرد وكأَنه قد بنته سواعد لا علاقة لها بهذا الدين البتة.

سأَلت (مرة) أحد هؤلاءِ الحائزين علي الشهادات العالية من تلك الجامعات، سأَلته عن معركة الصواري، فاستغرب هذا الاسم، وقال ضاحكًا، إنه لم يسمع بمعركة تحمل هذا الاسم الغريب.

بينما هذه المعركة تعد من أَهم المعارك البحرية الفاصلة في تاريخ حروب الإِسلام والإِمبراطورية الرومانية، فقد هزم الأسطول الإِسلامي الأُسطول الروماني في هذه المعركة شر هزيمة لم تقم بعدها للرومان
এবং এর ব্যক্তিত্বদের সভ্যতা ও মহিমা, এমনকি তারা ইউরোপ এবং একমাত্র ইউরোপ থেকে আগত বিষয় ছাড়া আর কোনো কিছুই অধ্যয়নের যোগ্য এবং প্রশংসা ও মূল্যায়নের দাবিদার হিসেবে দেখে না।

এর কারণ হলো, তারা (তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের শুরু থেকেই) এবং শিক্ষা জীবনের প্রতিটি স্তরে বীরত্ব, যুদ্ধ, সভ্যতা, ত্যাগ ও বিজ্ঞানের ইতিহাসে ট্রাফালগারের যুদ্ধ, ওয়াটারলুর ঘটনা, অ্যান্টনিওর বীরত্ব, ক্লিওপেট্রার প্রেম, নেপোলিয়নের সাহসিকতা, ওয়েলিংটনের দৃঢ়তা, নেলসনের বীরত্ব, ক্রিস্টোফার কলম্বাসের অভিযান, ফেরাউনদের সভ্যতা, রোমের নগরসভ্যতা, গ্রিসের দর্শন, সেন্ট মেরিয়ার সাধুতা, জোয়ান অব আর্কের সতীত্ব এবং এই জাতীয় বিষয় ছাড়া আর কিছুই শোনেনি বা পড়েনি। এসব বিষয় মুসলিম শিক্ষার্থীর মনে তার নিজের ধর্মের ইতিহাস, তার বীরপুরুষদের বীরত্বগাথা, তার সেনাপতিদের সাহস, তার শাসকদের সততা, তার খলিফাদের ন্যায়বিচার, তার সভ্যতার ঔজ্জ্বল্য, তার নগরসভ্যতার মহিমা এবং তার আলেমদের প্রজ্ঞা ও দার্শনিকদের মেধা সম্পর্কে যা জানা উচিত ছিল, তার জন্য কোনো স্থানই অবশিষ্ট রাখে না।

এর চেয়েও আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ইসলামী ইতিহাসের প্রতি এই অপরাধকারীরা যখন ইসলামি ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়, তখন তারা ইসলাম শব্দটির উল্লেখ পুরোপুরি এড়িয়ে যায়। তারা একে একটি নিছক জাতিগত ইতিহাস হিসেবে বর্ণনা করে, যেন এটি এমন সব হাতের মাধ্যমে নির্মিত হয়েছে যাদের সাথে এই ধর্মের কোনো সম্পর্কই ছিল না।

আমি (একবার) এই সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী এক ব্যক্তিকে 'মাস্তুলের যুদ্ধ' (যাতুস সাওয়ারী) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি এই নামটি শুনে অবাক হলেন এবং হেসে বললেন যে, তিনি এই অদ্ভুত নামের কোনো যুদ্ধের কথা শোনেননি।

অথচ এই যুদ্ধটি ইসলাম এবং রোমান সাম্রাজ্যের মধ্যকার যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত নৌযুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত। এই যুদ্ধে মুসলিম নৌবাহিনী রোমান নৌবাহিনীকে এমন শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছিল যে, এরপর রোমানদের পক্ষে আর মাথা তুলে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২৪)
قائمة وذلك في عصر الخليفة عثمان بن عمان وبقيادة الأَمير عبد الله بن سعد بن أَبي سرح بالقرب من المياه التونسية.

ولكني عندما سأَلت هذا الجامعي المثقف (الذي يجهل معركة الصواري) عندما سأَلته عن معركة الطرف الأَغر (1) أَخذ يشرح لي تفاصيل هذه المعركة وكأَنه أَحد الذين شهدوها، فقد اندفع يتحدث عن بسالة نلسون وثباته وكيف جرح وهو على ظهر سفينة القيادة يدير دفة العركة، وكيف انهزم الأُسطول الفرنسي بعد أَن خسر ثماني عشرة سفينة وكيف أَسر الإِنكليز قائد الأُسطول الفرنسي.

وما هذا الجهل بالتاريخ الإِسلامي والإِلمام بالتاريخ الأَجنبي إلا حصيلة التثقيف الحديث الذي أَخذه شبابنا المسلم حسب المخطط التعليمي الذي وضعه أَعداءُ الإِسلام منذ عشرات السنين.

نسأَل الله تعالى بأَسمائه الحسني وصفاته المثلي أَن يثبتنا علي ديننا ويأْخذ بأَيدينا للسير علي الصراط السوي إنه على كل شي قدير.

محمد أحمد باشميل

مكة المكرمة … رمضان المبارك 1382 هـ - 1963 م

--------------------------------------------

(1) معركة بحرية شهيرة دارت بين الأسطول الفرنسي والبريطاني بالقرب من الشواطئ الأسبانية في عهد نابليون بونابرت عام 1805 م.
স্থাপিত এবং এটি খলীফা উসমান বিন আফফানের যুগে আমীর আবদুল্লাহ বিন সা’দ বিন আবি সারহ-এর নেতৃত্বে তিউনিসিয়ার জলসীমার সন্নিকটে সংঘটিত হয়েছিল।

কিন্তু আমি যখন এই শিক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ব্যক্তিকে (যিনি সাওয়ারী যুদ্ধ সম্পর্কে অজ্ঞ) ট্রাফালগার যুদ্ধ (১) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি এই যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনা দিতে শুরু করলেন যেন তিনি নিজেই তা প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি নেলসনের বীরত্ব ও দৃঢ়তা এবং কমান্ড জাহাজে থাকা অবস্থায় যুদ্ধ পরিচালনা করার সময় তিনি কীভাবে আহত হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে সবিস্তারে বলতে লাগলেন। এছাড়া ফরাসি নৌবাহিনী তাদের আঠারোটি জাহাজ হারানোর পর কীভাবে পরাজিত হলো এবং ব্রিটিশরা কীভাবে ফরাসি নৌ-প্রধানকে বন্দি করল, তাও তিনি বর্ণনা করলেন।

ইসলামি ইতিহাস সম্পর্কে এই অজ্ঞতা এবং বিজাতীয় ইতিহাস সম্পর্কে এই সম্যক জ্ঞান মূলত আধুনিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিরই ফল, যা আমাদের মুসলিম যুবকেরা সেই শিক্ষা পরিকল্পনার অধীনে গ্রহণ করেছে যা ইসলামের শত্রুরা কয়েক দশক আগে নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের দ্বীনের ওপর অবিচল রাখেন এবং সঠিক পথে চলার জন্য আমাদের হাত ধরেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশীল।

মুহাম্মদ আহমদ বাশমেইল

মক্কা মুকাররমা ... রমজানুল মুবারক ১৩৮২ হিজরি - ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দ

--------------------------------------------

(১) এটি একটি বিখ্যাত নৌ-যুদ্ধ যা ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের শাসনামলে স্পেনের উপকূলের কাছে ফরাসি এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌بَدْر

 

بدر -بفتح أَوله وسكون ثانيه- ماء من مياه العرب الشهيرة وأَسواقهم المشهورة، وقد أُطلق على هذا المكان اسم أَول من حفر بئرًا فيه وهو رجل من غفار، واسمه: بدر بن قريش بن مخلد بن النضر بن كنانة.

وقال الزبير بن بكار، هو قريش بن الحارث … سميت به قريش قريشًا، فغلب عليها، لأَنه كان دليلها وصاحب ميرتها، وكانوا يقولون جاءَت عبر قريش، وخرجت عبر قريش، وابنه بدر بين قريش به سميت بدر التي كانت بها الواقعة المباركة (1).

تقع بدر جنوب غرب المدينة، والمسافة بينها وبين المدينة - بطرق القوافل التي سلكها الرسول صلى الله عليه وسلم حوالي 160 ميلًا.

كما أَن بدرًا تقع شمالي مكة، والمسافة بينها وبين مكة - بطرق القوافل القديمة التي سلكها المشركون - حوالي 250 ميلًا.

أَما المسافة اليوم بين مكة وبدر - بطرق السيارات - فهي 343 كيلو مترًا، والمسافة بين المدينة وبدر بهذا الطريق فهي 153 كيلو مترًا.

أَما المسافة بين بدر وساحل البحر الأَحمر الواقع غربيها فهي حوالي ثلاثين كيلو مترًا.

--------------------------------------------

(1) عمدة الأخبار ص 238.
বদর

 

বদর -প্রথম বর্ণের ওপর ফাতহা (যবর) এবং দ্বিতীয় বর্ণের ওপর সুকুন (জযম) সহ- আরবদের প্রসিদ্ধ জলাশয়সমূহ এবং তাদের সুপরিচিত বাজারসমূহের অন্যতম। এই স্থানটির নামকরণ করা হয়েছে সেই ব্যক্তির নামে যিনি সেখানে সর্বপ্রথম কূপ খনন করেছিলেন, তিনি গিফার গোত্রের একজন লোক ছিলেন এবং তাঁর নাম ছিল: বদর বিন কুরাইশ বিন মুখাল্লাদ বিন আন-নাদর বিন কিনানা।

জুবায়ের বিন বাক্কার বলেন, তিনি কুরাইশ বিন আল-হারিস ... যাঁর নামানুসারে কুরাইশ বংশের নামকরণ করা হয়েছে এবং এটিই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; কারণ তিনি ছিলেন তাদের পথপ্রদর্শক ও খাদ্যদ্রব্য সরবরাহকারী। তারা বলত, কুরাইশের কাফেলা এসেছে এবং কুরাইশের কাফেলা বেরিয়ে গেছে। তাঁর পুত্র ছিলেন বদর বিন কুরাইশ, যাঁর নামে ‘বদর’ প্রান্তরের নামকরণ করা হয়েছে যেখানে বরকতময় যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল (১)।

বদর মদীনার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এবং মদীনা থেকে এর দূরত্ব —রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাফেলা পথ দিয়ে গিয়েছিলেন সেই পথ অনুযায়ী— প্রায় ১৬০ মাইল।

অনুরূপভাবে বদর মক্কার উত্তরে অবস্থিত এবং মক্কা থেকে এর দূরত্ব —মুশরিকদের ব্যবহৃত প্রাচীন কাফেলা পথ অনুযায়ী— প্রায় ২৫০ মাইল।

আর বর্তমানে মক্কা ও বদরের মধ্যবর্তী দূরত্ব —মোটরগাড়ির পথ অনুযায়ী— ৩৪৩ কিলোমিটার এবং এই পথে মদীনা ও বদরের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো ১৫৩ কিলোমিটার।

বদর এবং এর পশ্চিমে অবস্থিত লোহিত সাগরের উপকূলের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার।

--------------------------------------------

(১) উমদাতুল আখবার, পৃষ্ঠা ২৩৮।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الفَصْل الأوّل مَا قبْل المَعْركة

• بدء الصراع بين الإسلام والوثنية في مكة.

• حرب الدعاية والتشويش والإيذاء ضد النبي صلى الله عليه وسلم.

• قريش تنذر أبا طالب بحرب أهلية.

• أبو طالب يرفض الإنذار.

• فرض العزل المدني والحصار الاقتصادي علي بني هاشم وبني المطلب.

• فشل سياسة العزل والحصار.

قبل الدخول في تفاصيل هذه المعركة، لا بد من إلقاءِ نظرة عابرة علي الحوادث والتطورات الهامة التي سبقت هذه المعركة مما له علاقة بها ويعد بعضًا من أَسبابها.

لقد استمر الرسول صلى الله عليه وسلم في منطقة مكة ثلاث عشرة سنة، وهو يدعو إِلى ربه مناضلًا ومجاهدًا من أَجل نشر العقيدة التي ألقى الله تعالى على عاتقه مهمة نشرها.

وقد كان جهاده (طيلة تلك السنين) جهادًا سلميًا بحتًا لم يشهر فيه سلاحًا. وكان خصوم دعوته من جانبهم (كذلك) يسلكون كافة السبل ويعملون بكل الوسائل لمقاومة دعوة الإِسلام وقطع تيار نورها عن أَقوامهم، (بالإِيذاءِ، بالتهديد، بالمقاطعة) إلا الحرب.

فقد اقتصرت قريش (أول الأمر) في مقاومتها لدعوة الإسلام،
প্রথম পরিচ্ছেদ যুদ্ধের পূর্বের অবস্থা

• মক্কায় ইসলাম ও পৌত্তলিকতার মধ্যে সংগ্রামের সূচনা।

• নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বিভ্রান্তি এবং নির্যাতনের যুদ্ধ।

• কুরাইশ কর্তৃক আবু তালিবকে গৃহযুদ্ধের হুমকি প্রদান।

• আবু তালিব কর্তৃক সেই হুমকি প্রত্যাখ্যান।

• বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের ওপর সামাজিক বর্জন এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ।

• বর্জন ও অবরোধ নীতির ব্যর্থতা।

এই যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণে প্রবেশ করার আগে, এই যুদ্ধের পূর্বে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও বিবর্তনের ওপর এক নজর বুলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, যা এই যুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এর অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা অঞ্চলে তেরো বছর অবস্থান করেছিলেন। এ সময় তিনি তাঁর রবের দিকে দাওয়াত দিচ্ছিলেন এবং সেই আকিদা প্রচারের জন্য সংগ্রাম ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, যা প্রচারের দায়িত্ব মহান আল্লাহ তাঁর ওপর অর্পণ করেছিলেন।

সেই দীর্ঘ বছরগুলোতে তাঁর সংগ্রাম ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, যেখানে তিনি কোনো অস্ত্র ধারণ করেননি। অন্যদিকে তাঁর দাওয়াতের বিরোধীরাও ইসলামের দাওয়াতের প্রতিরোধ করার জন্য এবং তাদের সম্প্রদায়ের নিকট এর আলোর প্রবাহ বন্ধ করার জন্য সকল প্রকার পথ ও উপায় অবলম্বন করছিল (নির্যাতন, হুমকি ও বর্জনের মাধ্যমে), যুদ্ধ ছাড়া।

ইসলামের দাওয়াত প্রতিরোধে কুরাইশরা (প্রাথমিক পর্যায়ে) কেবল সীমাবদ্ধ ছিল,
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২৮)
على استخدام وسائل الإعلام والنشر للتشويش علي صوت هذه الدعوة الكريمة لئلا يصل (أَو لكي يصل علي غير حقيقته) إلي الأَسماع.

ففي داخل مكة جندت قريش السفهاء، واستخدمت القاصين والشعراءِ ليقوموا بحملات السخرية والاستهزاءِ ضد النبي صلى الله عليه وسلم ويشنوا عليه حرب أعصاب قاسية بغية إقلاقه ومضايقته والتضييق علي الذين اتبعوه رجاء أَن ينفضوا من حوله.

ولقد لاقت هذه الحملات من قريش نجاحًا كبيرًا في أَول الأَمر، حيث تمكنت من عزل الناس عن النبي صلى الله عليه وسلم ودعوته عزلًا يكاد يكون تامًّا … قال ابن هشام:

"إن أَشد ما لقى رسول الله صلى الله عليه وسلم من قريش أَنه خرج يومًا فلم يلقه أَحد من الناس إلا كذبه وآذاه، لا حر ولا عبد فرجع صلى الله عليه وسلم إلي منزله (مغتمًّا) فتدثر من شدة ما أصابه، فأَنزل الله تعالى عليه {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ، قُمْ فَأَنْذِرْ}، الآية".

 

‌‌تنظيم الحملات الدعائية ضد النبي صلى الله عليه وسلم

أما في مجال الدعاية الخارجية (ونعني بها العمل علي صد غير القرشيين عن دعوة الإِسلام) فقد كان القرشيون (في هذا المجال) يقومون بأَعمال المقاومة على شكل وفود وبعثات تشويش وتضليل، وكانت أهم حركات تلك المقاومة، هي حركات تلك الجماعات المنظمة التي كانت قريش تشكلها كل عام عند اقتراب موسم الحج لبلبلة أَفكار الحجاج وتشويش أَذهانهم وتشكيكهم فيما يقوله النبي صلى الله عليه وسلم ويدعو إِليه.

لقد فشلت قريش في إِيقاف تيار دعوة محمد صلى الله عليه وسلم بالرغم من النجاح الذي أَحرزته ضدها أَول الأَمر - عن طريق حرب الاستهزاءِ
এই মহৎ দাওয়াতের আওয়াজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য প্রচারমাধ্যম ও প্রকাশনা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল, যাতে তা শ্রবণগোচর না হয় (অথবা যাতে তা বিকৃতরূপে পৌঁছায়)।

মক্কার অভ্যন্তরে কুরাইশরা নির্বোধদের নিয়োগ করেছিল এবং গল্পকার ও কবিদের ব্যবহার করেছিল যাতে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে বিদ্রূপ ও উপহাসের অভিযান পরিচালনা করতে পারে এবং তাঁর ওপর কঠোর স্নায়ুযুদ্ধ চালিয়ে তাঁকে বিচলিত ও হয়রানি করতে পারে এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর সংকীর্ণতা সৃষ্টি করতে পারে এই আশায় যে তারা তাঁর চারপাশ থেকে সরে যাবে।

কুরাইশদের এই অভিযানগুলো প্রথম দিকে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছিল, কারণ তারা মানুষকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর দাওয়াত থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয়েছিল … ইবনে হিশাম বলেন:

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে কঠিন যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন তা হলো—তিনি একদিন বাইরে বের হলেন, তখন স্বাধীন হোক বা দাস, যার সাথেই তাঁর দেখা হলো সেই তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং কষ্ট দিল। ফলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে নিজ গৃহে ফিরে আসলেন এবং যে পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন তার তীব্রতায় চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লেন। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর অবতীর্ণ করলেন {হে চাদর আবৃতকারী! উঠুন এবং সতর্ক করুন}, এই আয়াতটি।"

 

‌‌নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে প্রচার অভিযানের সুসংগঠিত রূপ

বাহ্যিক প্রচারণার ক্ষেত্রে (যার অর্থ হলো কুরাইশ বহির্ভূত ব্যক্তিদের ইসলামের দাওয়াত থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা), কুরাইশরা এক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিনিধি দল ও মিশনের মাধ্যমে প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করত। সেই প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সুসংগঠিত দলগুলোর তৎপরতা, যা কুরাইশরা প্রতি বছর হজের মৌসুম ঘনিয়ে এলে হাজীদের চিন্তাধারাকে বিভ্রান্ত করতে, তাদের মনে সংশয় তৈরি করতে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলতেন ও যার দিকে আহ্বান জানাতেন সে বিষয়ে তাদের সন্দিহান করে তুলতে গঠন করত।

উপহাসের যুদ্ধের মাধ্যমে প্রথম দিকে সাফল্য অর্জন করা সত্ত্বেও কুরাইশরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতের স্রোত থামিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২৯)
والسخرية والاستعداءِ والتنفير التي كانت تقوم بها داخل مكة - فقد ظل النبي صلى الله عليه وسلم ثابتًا علي دعوته لم يتزحزح.

فبدلا من أَن ينكمش نشاط دعوته ويتلاشي داخل مكة (كما كانت تطمع قريش) نقل هذا النشاط إِلي خارج النطاق القرشي، حيث أَخذ في الاتصال بوفود الحجيج من مختلف قبائل العرب التي كانت كلها يوم ذاك علي دين الوثنية، وصار يشرح لهم دعوته وأَهدافها ويدعوهم إلي اعتناق الإِسلام.

 

‌‌برلمان مكة يجتمع

وهنا اتسع نطاق دائرة الخطر بالنسبة لمركز قريش الروحي الممتاز بين العرب، فقد خافت قريش مغبَّة تزايد هذا النشاط النبوي بين وفود الحجيج، ولذلك سارع زعماءُ مكة إِلي الاجتماع في برلمان قريش (دار الندوة) للتشاور فيما يجب اتخاذه من وسائل فعالة يضعون بها حدًّا للنشاط المتزايد الذي يقوم به صاحب الدعوة الجديدة النبي محمد صلى الله عليه وسلم مما اعتبروه خطرًا علي دينهم وشتمًا لآلهتهم.

وقد استعرض المجتمعون الموقف من جميع نواحيه وناقشوه مناقشة طويلة واستمعوا إِلي مختلف الحلول والاقتراحات التي تقدم بها بعض الرؤساءِ والقادة.

وكان أَول الخطباءِ في (برلمان مكة) الوليد بن المغيرة المخزومي الذي تحدث إلي المجتمعين قائلًا:

يا معشر قريش إِنه قد حضر هذا الموسم (يعني الحج) وإِن وفود العرب ستقدم عليكم فيه، وقد سمعوا بأَمر صاحبكم هذا (يعني النبي صلى الله عليه وسلم)، فأجمِعوا فيه رأْيًا واحدًا ولا تختلفوا فيكذّب بعضكم
মক্কার অভ্যন্তরে তারা যে বিদ্রূপ, শত্রুতা এবং ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল—তার সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাওয়াতের ওপর অটল ছিলেন এবং একচুলও বিচ্যুত হননি।

তাঁর দাওয়াতী কর্মকাণ্ড মক্কার ভেতরে সংকুচিত ও বিলীন হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে (যেমনটি কুরাইশরা আশা করেছিল), তিনি এই তৎপরতাকে কুরাইশদের গণ্ডির বাইরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি আরবের বিভিন্ন গোত্র থেকে আগত হাজীদের কাফেলাগুলোর সাথে যোগাযোগ শুরু করেন, যারা তখন মূর্তিপূজার অনুসারী ছিল। তিনি তাদের নিকট তাঁর দাওয়াত ও এর লক্ষ্যসমূহ ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন এবং তাদের ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান।

 

‌‌মক্কার সংসদ অধিবেশন

এখানে আরবদের মধ্যে কুরাইশদের অনন্য আধ্যাত্মিক অবস্থানের জন্য বিপদের পরিধি বিস্তৃত হয়। হাজীদের কাফেলাগুলোর মধ্যে নববী দাওয়াতের এই ক্রমবর্ধমান তৎপরতার পরিণতির কথা ভেবে কুরাইশরা ভীত হয়ে পড়ে। তাই মক্কার নেতারা এই নতুন দাওয়াতের প্রবর্তক নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্রমবর্ধমান তৎপরতার লাগাম টেনে ধরার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ করতে দ্রুত কুরাইশ সংসদ (দারুন নদওয়া)-এ সমবেত হন; যে তৎপরতাকে তারা তাদের ধর্মের জন্য বিপদ এবং তাদের উপাস্যদের জন্য গালি হিসেবে গণ্য করেছিল।

সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ পরিস্থিতিটি সব দিক থেকে পর্যালোচনা করেন এবং দীর্ঘ আলোচনা পরিচালনা করেন। তাঁরা কয়েকজন প্রধান ও নেতার পক্ষ থেকে পেশ করা বিভিন্ন সমাধান ও প্রস্তাবসমূহ শোনেন।

মক্কার সংসদে প্রথম বক্তা ছিলেন ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা মাখজুমি, যিনি সমবেতদের উদ্দেশ্য করে বললেন:

হে কুরাইশ সম্প্রদায়! এই (হজ্জের) মওসুম উপস্থিত হয়েছে এবং আরবের বিভিন্ন প্রতিনিধি দল তোমাদের কাছে আসবে। তারা তোমাদের এই সাথী (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে শুনেছে। সুতরাং তোমরা এ বিষয়ে একমত হও এবং মতভেদ করো না, অন্যথায় তোমাদের একে অপরের কথা মিথ্যা প্রমাণিত হবে।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৩০)
بعضًا، ويرد قولكم بعضه بعضًا، قالوا: فأَنت يا أَبا عبد شمس، فقال وأَقم لنا رأْيًا نقول به، قال .. بل أَنتم فقولوا أَسمع، وهنا تعاقب الخطباءُ للإِدلاء بآرائهم، فقال أحدهم .. نقول كاهن .. فقال الوليد .. لا والله ما هو بكاهن. لقد رأَينا الكهّان فما هو بزمزمة الكهان (1) ولا سجعه، فقالوا .. نقول مجنون .. قال: ما هو بمجنون، لقد رأَينا الجنون وعرفناه، فما هو بخنقه، ولا تخالجه، ولا وسوسته، قالوا .. فنقول شاعر، قال ما هو بشاعر، لقد عرفنا الشعر كله، رجزه وهزجه وقريضه ومقبوضه ومبسوطه، فما هو بالشعر، قالوا .. فنقول ساحر، قال .. ما هو بساحر، لقد رأَينا السحار وسحرهم، فما هو بنفثهم ولا عقدهم، قالوا، فما نقول يا أبا عبد شمس؟ ؟ فقال لهم (في صراحة): والله إن لقوله لحلاوة، وإِن أَصله لعذق (2)، وإِن فرعه لجناة، وما أَنتم بقائلين من هذا شيئًا إلا عرف أَنه باطل، ثم قال لهم الوليد:

وإِن أقرب القول فيه لأَن تقولوا ساحر، جاء بقول هو سحر يفرق بين المرءِ وأَبيه، وبين المرءِ وأخيه، وبين المرءِ وزوجته، وبين المرءِ وعشيرته، وقد وافق المجتمعون علي هذا الاقتراح الذي قدمه الوليد بن المغيرة بالإِجماع.

 

‌‌منظمات التشويش

وتنفيذًا لهذا الاقتراح نظمت قريش جماعات مخصوصة كَلفتها بالمرابطة في كل سبيل يمر به القادمون إلي الحج لتذكر لهم أَمر

--------------------------------------------

(1) الزمزمة، الكلام الخفي الذي لا يسمع.

(2) العذق (بفتح أوله) النخلة: يشبهه بالنخلة التي ثبت أصلها وقوي وطاب فرعها إذا جني.
একে অপরের সাথে বিরোধ সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের কথার এক অংশ অপর অংশকে খণ্ডন করবে। তারা বলল: হে আবু আবদ শামস, তাহলে আপনিই আমাদের জন্য একটি মত স্থির করে দিন যা আমরা বলব। তিনি বললেন: বরং তোমরাই বলো, আমি শুনি। তখন বক্তারা একে একে তাদের মতামত দিতে লাগলেন। তাদের একজন বলল: আমরা বলব সে একজন গণক। আল-ওয়ালিদ বললেন: না, আল্লাহর কসম, সে গণক নয়। আমরা গণকদের দেখেছি, তার কথা গণকদের অস্ফুট গুঞ্জন (১) কিংবা তাদের অন্ত্যমিলযুক্ত চরণের মতো নয়। তারা বলল: তাহলে আমরা বলব সে একজন উন্মাদ। তিনি বললেন: সে উন্মাদ নয়। আমরা উন্মাদনা দেখেছি এবং তা জানি; তার মাঝে উন্মাদের দমবন্ধ হওয়া, ছটফটানি বা কুমন্ত্রণা নেই। তারা বলল: তাহলে আমরা তাকে কবি বলব। তিনি বললেন: সে কবি নয়। আমরা কবিতার সকল প্রকার—রজজ, হাজজ, ক্বারিদ, মাকবুদ ও মাবসুত—সম্পর্কে অবগত আছি। তার বাণী কবিতা নয়। তারা বলল: তাহলে আমরা তাকে জাদুকর বলব। তিনি বললেন: সে জাদুকর নয়। আমরা জাদুকর ও তাদের জাদু দেখেছি, তার মাঝে তাদের মতো ফুঁ দেওয়া বা গিঁট দেওয়ার কোনো বিষয় নেই। তারা বলল: তাহলে হে আবু আবদ শামস, আমরা কী বলব? তিনি তাদের (স্পষ্টভাবে) বললেন: আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তার বাণীর মধ্যে এক অনন্য মাধুর্য রয়েছে। এর মূল যেন একটি সতেজ খেজুর গাছ (২), আর এর শাখাগুলো ফলদায়ী। তোমরা এর সম্পর্কে যা-ই বলো না কেন, তা যে ভিত্তিহীন তা সহজেই চেনা যাবে। অতঃপর ওয়ালিদ তাদের বললেন:

আর তার ব্যাপারে সবচেয়ে নিকটবর্তী কথা হলো তোমরা বলো যে সে একজন জাদুকর; সে এমন এক বাণী নিয়ে এসেছে যা এক প্রকার জাদু, যা মানুষ ও তার পিতার মধ্যে, মানুষ ও তার ভাইয়ের মধ্যে, মানুষ ও তার স্ত্রীর মধ্যে এবং মানুষ ও তার গোত্রের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেয়। উপস্থিত সকলে ওয়ালিদ বিন মুগিরার দেওয়া এই প্রস্তাবের ওপর ঐকমত্য পোষণ করল।

 

‌‌বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুসংগঠিত দল

এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কুরাইশরা বিশেষ কিছু দল গঠন করল এবং তাদের দায়িত্ব দিল হজের উদ্দেশ্যে আগতরা যে পথ দিয়ে অতিক্রম করে, সেই প্রতিটি পথে অবস্থান নিতে, যাতে তারা আগতদের কাছে সেই বিষয়টি উল্লেখ করতে পারে...

--------------------------------------------

(১) যামযামাহ: অস্ফুট কথা যা স্পষ্টভাবে শোনা যায় না।

(২) আল-আযক্ব (প্রথম বর্ণে যবরসহ) অর্থ খেজুর গাছ: তিনি একে এমন খেজুর গাছের সাথে তুলনা করেছেন যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখাগুলো ফল আহরণের সময় অত্যন্ত মজবুত ও উত্তম হয়।
(খণ্ড: ১) মিন মাআরিকিল ইসলামিল ফাসিলাহ = মাওসূআতুল গাযাওয়াতিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৩১)
النبي صلى الله عليه وسلم وأنه ساحر يفرق بين المرء وأبيه الخ، وتحذرهم الاستماع إليه والإصغاء لما يقول:

قال ابن إسحاق .. فجعل أُولئك النفر يقولون ذلك في رسول الله صلى الله عليه وسلم لمن لقوا من الناس. . وصدرت العرب من ذلك الموسم بأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم، فانتشر ذكره في بلاد العرب كلها.

غير أن كل هذه المقاومة الدعائية أو الحرب الباردة (كما يسمونها اليوم) لم تستفد قريش منها شيئًا، فلم تفتَّ في عضد النبي صلى الله عليه وسلم ولم توهن من عزمه كل المشاغبات والعراقيل والاتهامات الي قامت بها قريش لصد الناس عن الإسلام، والتأثير على حامل رسالته رجاء أن يتخاذل فيتخلى عن دعوته، بل ظل النبي الأعظم صلى الله عليه وسلم صامدًا في وجه كل هذه الأحداث المتعبة، يواصل الدعوة إلى ربه صابرًا محتسبًا، غير آبه بكل ما يعترضه من عراقيل، فزاد أمره انتشارًا، وتزايد عدد الذين اتبعوه على دينه، مما ضاعف قلق قريش وزاد من حيرتها.

 

‌‌التهديد بالحرب الأهلية

ولما رأى قادة مكة أنهم قد فشلوا في حربهم الدعائية المنظمة التي شنوها على النبي صلى الله عليه وسلم ودعوته، وتأكد لديهم تصميم الرسول على المضي في دعوته مهما كلفه الأمر، سلكوا سبيلًا آخر لإجبار النبي محمد صلى الله عليه وسلم على التخلي عن دعوة الإسلام التي قامت على أساس هدم الوثنية التي هي دين القرشيين يوم ذاك … سلكوا سبيل التهديد بالحرب أن لم يكف محمد صلى الله عليه وسلم عن عيب آلهتهم ودعوة الناس إلى اعتزالها.

ولما كان أبو طالب (وهو عم النبي وكافله بعد جده عبد المطلب) بمثابة الحامي لرسول الله صلى الله عليه وسلم والذائد عنه بين هذه القبائل الناقمة
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তিনি একজন জাদুকর, যিনি মানুষ ও তার পিতার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটান ইত্যাদি, এবং তারা মানুষকে তাঁর কথা শ্রবণ করা ও তাতে কর্ণপাত করা থেকে সতর্ক করছিল:

ইবনে ইসহাক বলেন... এরপর সেই একদল লোক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে যার সঙ্গেই তাদের দেখা হতো তাকেই এসব কথা বলতে লাগল। সেই মৌসুম শেষে আরবরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদ নিয়ে প্রস্থান করল, ফলে সমগ্র আরব ভূখণ্ডে তাঁর আলোচনা ছড়িয়ে পড়ল।

তবে এই সমস্ত প্রচারণামূলক প্রতিরোধ বা স্নায়ুযুদ্ধ (যেমনটি আজ তারা বলে থাকে) থেকে কুরাইশরা কোনো সুফল লাভ করতে পারেনি। মানুষকে ইসলাম থেকে বিরত রাখার জন্য এবং তাঁর রিসালাত বহনকারীর ওপর প্রভাব বিস্তারের আশায়—যাতে তিনি হতোদ্যম হয়ে দাওয়াত পরিত্যাগ করেন—কুরাইশরা যেসব গোলযোগ, প্রতিবন্ধকতা ও অভিযোগ উত্থাপন করেছিল, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শক্তিকে নড়বড়ে করতে পারেনি এবং তাঁর সংকল্পকেও শিথিল করতে পারেনি। বরং মহান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সকল ক্লান্তিকর পরিস্থিতির মুখে অবিচল রইলেন, ধৈর্য ও সওয়াবের প্রত্যাশায় তাঁর রবের দিকে দাওয়াত অব্যাহত রাখলেন। তাঁর সামনে আসা কোনো প্রতিবন্ধকতারই তিনি তোয়াক্কা করলেন না। ফলে তাঁর দাওয়াত আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ল এবং তাঁর দ্বীনের অনুসারীদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকল, যা কুরাইশদের উদ্বেগ দ্বিগুণ করে দিল এবং তাদের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা বাড়িয়ে দিল।

 

‌‌গৃহযুদ্ধের হুমকি

মক্কার নেতৃবৃন্দ যখন দেখল যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর দাওয়াতের বিরুদ্ধে পরিচালিত সুসংগঠিত প্রচার যুদ্ধে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের নিকট এটি নিশ্চিত হয়ে গেল যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেকোনো মূল্যে তাঁর দাওয়াত নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, তখন তারা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসলামের দাওয়াত ত্যাগে বাধ্য করার জন্য ভিন্ন পথ অবলম্বন করল। সেই দাওয়াত যা মূর্তিপূজা সমূলে উৎপাটনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা ছিল তৎকালীন কুরাইশদের ধর্ম … তারা যুদ্ধের হুমকির পথ বেছে নিল যদি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উপাস্যদের নিন্দা করা এবং মানুষকে তা বর্জনের আহ্বান জানানো থেকে ক্ষান্ত না হন।

আর যেহেতু আবু তালিব (যিনি ছিলেন নবীর চাচা এবং তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের পর তাঁর অভিভাবক) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রক্ষক এবং এই ক্ষুব্ধ গোত্রগুলোর আক্রমণ থেকে তাঁর প্রতিরক্ষা দানকারী হিসেবে ছিলেন...