(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
نزهة الأفكار في شرح قرة الأبصار   (عبد القادر المجلسي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: نزهة الأفكار في شرح قرة الأبصار

المؤلف: عبد القادر بن محمد بن محمد سالم المجلسي الشنقيطي المالكي الأشعري (ت 1337 هـ)

حققه وصححه: جماعة من ذوي المؤلف

قام بنشره وطباعته على نفقته: السيد الفاضل الشربف اعزيزي بن المامي السباعي - نواكشوط، موريتانيا (1422 هـ - 2001 م)

عدد الأجزاء: 2

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 جُمادَى الأولى 1440

নুযহাতুল আফকার ফি শারহি কুররাতিল আবসার   (আব্দুল কাদির আল-মাজলিসি)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


বই: নুযহাতুল আফকার ফি শারহি কুররাতিল আবসার

লেখক: আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ সালিম আল-মাজলিসি আশ-শিনকিতি আল-মালিকি আল-আশআরি (মৃত্যু ১৩৩৭ হিজরি)

সম্পাদনা ও সংশোধন: লেখকের উত্তরসূরিদের একটি দল

নিজ খরচে প্রকাশনা ও মুদ্রণ করেছেন: ফজিলতসম্পন্ন সাইয়্যেদ আশ-শরিফ আজিজি ইবনুল মামি আস-সিবাঈ - নুয়াকশুত, মৌরিতানিয়া (১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ)

খণ্ড সংখ্যা: ২

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আল-রাজহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ জুমাদাল উলা ১৪৪০

(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
نزهة الأفكار في شرح قرة الأبصار

 

تأليف

الشيخ الإمام المجدد عبد القادر بن محمد بن محمد سالم المجلسي الشنقيطي المالكي الأشعري المتوفى سنة 1337 هـ

 

شرح به النظم المسمى قرة الأبصار في سيرة النبي المختار للشيخ عبد العزيز اللمطي المالكي الأشعري

 

حققه وصححه جماعة من ذوي المؤلف
নুজহাতুল আফকার ফি শারহি কুররাতিল আবসার

 

রচনায়

শাইখ ইমাম মুজাদ্দিদ আবদুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ সালিম আল-মাজলিসি আশ-শিনকিতি আল-মালিকি আল-আশআরি (মৃত্যু ১৩৩৭ হিজরি)

 

এর মাধ্যমে তিনি শাইখ আবদুল আজিজ আল-লামতি আল-মালিকি আল-আশআরি কর্তৃক রচিত মনোনীত নবীর সীরাত বিষয়ক 'কুররাতুল আবসার' নামক কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা করেছেন

 

এটি যাচাই ও সংশোধন করেছেন লেখকের বংশধরদের একটি দল
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

صلى الله تعالى وسلم على محمد نبيه الكريم صلاة نستجير بها من عذاب الجحيم وتنال بها في الدارين نحن وأحبتنا أرفع التكريم بجاه من قال توسلوا بجاهي فإن جاهي عند الله عظيم.

الحمد لله الذى من علينا بجزيل الانعام وأتحفنا بما لا نطيق شكره من أياديه الجسام وتفضل علينا بالتوفيق لأجل نعمائه فآمنا به وبكتبه وملائكته وجميع أنبيائه وخصنا بخيرته من خلقه ونخبته من أصفيائه. ومن يكون آدم فمن دونه من الأنبياء في القيامة تحت لوائه أرسله إلى كافة الثقلين بشيرا ونذيرا وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا وجعله للمقربين إماما وللأنبياء والمرسلين ختاما ولما به صلاح العباد في الدارين قواما ونظاما وخصه بالشفاعة الكبرى في الموقف الهائل حين تبرأ منها أكابر الرسل الأماثل صلى الله تعالى وسلم عليه وعليهم وعلى آله وأزواجه وأصحابه الأخيار ما همعت ديم معارفه على قلوب الأبرار وما تغنى الحمام بالأسحار وما دام النظر في سيره وشمائله قرة للأبصار وروضة تنزه للأفكار وعدد ما وصل إلى العباد من المواهب في هذه الدار وما يصل إليهم في تلك الدار وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ولا نظير وأن محمدا عبده ورسوله شهادة عبد معترف بالتقصير ونتوسل إلى ربنا اللطيف القدير أن يثبتنا عليها في الحياة الدنيا وبعد الممات وأن يبدل بمحض فضله وكرمه سيائتنا حسنات، إنه جواد كريم ورؤوف رحيم، له الفضل العظيم والطول العميم.

أما بعد فيقول العبد الفقير إلى رحمة مولاه الحليم الكبير المجلسي المالكي الأشعري عبد القادر بن محمد بن محمد سالم بن محمد سعيد بن عمر بن أبي السيد بن أبي بكر بن علي بن يمغدش ومعناه بالعربية السالم بن وديعة الله بن عبد الله بن أحمد بن يفت، ومعناه أخيار بن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

মহান আল্লাহ তাঁর নবী করীম মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। এমন এক দরুদ, যার মাধ্যমে আমরা জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং যার বরকতে আমরা ও আমাদের প্রিয়জনরা উভয় জগতে সর্বোচ্চ সম্মান লাভ করি; তাঁর মর্যাদার উসিলায় যিনি বলেছেন, "তোমরা আমার মর্যাদার উসিলায় প্রার্থনা করো, কেননা আল্লাহর নিকট আমার মর্যাদা অত্যন্ত মহৎ।"

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ওপর প্রচুর নেয়ামত দান করে অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁর এমন সব বিশাল আল্লাহর হাত (অনুগ্রহ) দ্বারা আমাদের ভূষিত করেছেন যার শোকর আদায়ে আমরা সক্ষম নই। তিনি তাঁর নেয়ামতরাজির শোকর আদায়ের তাওফিক দিয়ে আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন; ফলে আমরা তাঁর প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহ, ফেরেশতামণ্ডলী এবং তাঁর সকল নবীগণের প্রতি ঈমান এনেছি। আর তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত মহাপুরুষের মাধ্যমে আমাদের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন। আদম (আ.) থেকে শুরু করে তাঁর পরবর্তী সকল নবী কিয়ামতের দিন যাঁর পতাকাতলে সমবেত হবেন। আল্লাহ তাঁকে জিন ও মানবজাতির নিকট সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং প্রদীপ্ত চেরাগ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁকে নৈকট্যপ্রাপ্তদের ইমাম, নবী ও রাসূলগণের সমাপনী এবং উভয় জগতে বান্দাদের কল্যাণের ভিত্তি ও শৃঙ্খলা হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। সেই ভয়াবহ অবস্থানে যেখানে বড় বড় শ্রেষ্ঠ রাসূলগণও তা থেকে পিছিয়ে যাবেন, তখন আল্লাহ তাঁকে মহান শাফায়াত (সুপারিশ)-এর বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর, অন্যান্য সকল নবীগণের ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, পত্নীগণ ও নেককার সাহাবীগণের ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, যতক্ষণ পুণ্যবানদের অন্তরে তাঁর মারেফাতের মেঘমালা বারিধারা বর্ষণ করতে থাকবে, যতক্ষণ প্রভাতে কপোতরা গুঞ্জন করতে থাকবে, যতক্ষণ তাঁর সীরাত ও শামায়েলে (চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য) দৃষ্টিপাত করা চোখের শীতলতা এবং চিন্তার প্রশান্তি হিসেবে বিদ্যমান থাকবে এবং এই দুনিয়া ও পরকালে বান্দাদের নিকট পৌঁছানো আল্লাহ প্রদত্ত উপহারসমূহের সংখ্যা অনুপাতে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার ও সমকক্ষ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল; এমন এক সাক্ষ্য যা নিজের ত্রুটি স্বীকারকারী বান্দার পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। আমরা আমাদের লতিফ ও সর্বশক্তিমান রবের নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি দুনিয়ার জীবনে ও মৃত্যুর পর আমাদের এই বিশ্বাসের ওপর অবিচল রাখেন এবং তাঁর একান্ত অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যের মাধ্যমে আমাদের মন্দ কাজগুলোকে নেকিতে পরিণত করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দাতা, সম্মানিত, পরম দয়ালু ও অতি করুণাময়। যাবতীয় মহান অনুগ্রহ ও ব্যাপক দানশীলতা কেবল তাঁরই।

অতঃপর, তাঁর সুমহান ও সহনশীল মাওলার রহমতের মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা আল-মাজলিসি আল-মালিকি আল-আশআরি আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ সালিম ইবনে মুহাম্মাদ সাঈদ ইবনে উমর ইবনে আবিস সাইয়্যিদ ইবনে আবি বকর ইবনে আলী ইবনে ইয়ামগাদাশ —যার আরবি অর্থ হলো আস-সালিম ইবনে ওয়াদিয়াতুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে ইয়াফাত, যার অর্থ হলো আখইয়ার ইবনে— বলছেন:
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ২)
يدر ومعناه بإعجام الدال الحسن وبإهمالها يعيش بن إبراهيم الأموي، وإبراهيم هذا يقال والله أعلم انه من ولد عمر بن عبد العزيز، لا يخفى أن الإشتغال بالعلوم من أشرف المكاسب والاعتناء بها من أفضل المراتب وشرف كل علم إنما هو بحسب شرف المعلوم فلهذا كان الإهتمام بعلم السيرة النبوية فضله عظيم وخطبه جسيم لأنه هو الكفيل ببيان أحوال نبينا العلية وأطواره الشريفة الزكية من لدن كان في بطن آمنة الشريفة حملا إلى انتقاله إلى دار كرامته ولحوقه بالرفيق الأعلى صلى الله تعالى عليه وسلم وشرف وكرم ومجد وعظم ولذا كان من أشرف العلوم قدرا وأرفعها منزلة وأطيبها ذكرا، فاليه ترتاح الأنفس والطباع وبه تلتذ الأفواه وتتشنف الأسماع وبرسمه ترشح المحابر والأقلام وباشادة ما اشتمل عليه تفرح الليالى واليام، فهو حديث لا يمل منه، يا ليتنا لم نله قط عنه، وقد اعتنى بالتأليف فيه من أهل الإسلام كثير من الأكابر الأجلة الأعلام فتبوؤوا من المجد السنام وحازوا من الشرف أعلى مقام وقربوا في تآليفهم للأنام ما كان من السيرة صعب المرام ما بين منثور يروق عند العيان ومنظوم يزري بالدر على نحور الخرد الحسان، جزاهم الله تعالى عنا أحسن الجزاء ومن علينا وعليهم بالعفو والإرضاء، ومن أجمع ما رأينا فيه كتاب "المواهب" وشرح الزرقاني عليه وفيه أنشد لسان الحال ما صدق المقال:

(هذا كتاب لو يباع بوزنه … ذهبا لكان البائع المغبون)

ومن أشهر المختصرات المؤلفة فيه في هذه الأقطار النظم المسمى ب: "قرة الأبصار" فقد تداولته الكبار والصغار وهو كتاب قد طابق منه الإسم المسمى، فكم احتوى عليه من أخبار صاحب العز الأحمى والقدر المنيف الأسمى عليه أفضل السلام وأعلاه وأزكى الثناء وأعذبه وأحلاه، لكنه في هذه الناحية لا شرح له يحل رموزه ويفتح ألفاظه ويبرز كنوزه فحملني التطفل على الدخول في خدمة هذا الجناب العالي والانتماء إلى ظل حماه المتعالي على أن صرفت قصدي إلى شرح هذا الكتاب فشرحته بعون الملك الوهاب شرحا يبين ألفاظه لمن يتعاطاه من
ইদর (Yadar) এর অর্থ দাল বর্ণে নুকতা থাকলে 'সুন্দর' এবং নুকতাহীন হলে তা ইয়াইশ বিন ইব্রাহিম আল-উমাওয়ীকে বোঝায়। আর এই ইব্রাহিম সম্পর্কে বলা হয়—আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত—যে তিনি উমর ইবনে আব্দুল আজিজের বংশধর। এটি অস্পষ্ট নয় যে, জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করা সর্বোত্তম অর্জন এবং এর প্রতি যত্নবান হওয়া শ্রেষ্ঠতম মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত। আর প্রতিটি ইলমের মর্যাদা নির্ভর করে উক্ত ইলমের আলোচ্য বিষয়ের মর্যাদার ওপর। এই কারণেই নববী সীরাত বা জীবনচরিত শাস্ত্রের প্রতি গুরুত্বারোপের ফযিলত অত্যন্ত মহান এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা এটিই আমাদের নবীর সুউচ্চ অবস্থাসমূহ এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন জীবনপরিক্রমা বর্ণনার জিম্মাদার; যা শুরু হয়েছে মহীয়সী আমিনার গর্ভে তাঁর অবস্থানকাল থেকে শুরু করে তাঁর সম্মানজনক আবাসে প্রস্থান এবং রফীকে আলার সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দরুদ, সালাম, মর্যাদা, সম্মান ও মহিমা বর্ষণ করুন। এই কারণেই মর্যাদার দিক থেকে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইলম, উচ্চমাকামের অধিকারী এবং স্মরণে অত্যন্ত সুমধুর। এর মাধ্যমেই আত্মা ও স্বভাব প্রশান্তি পায়, মুখমণ্ডল স্বাদ গ্রহণ করে এবং কর্ণকুহর সুশোভিত হয়। এর বর্ণনায় দোয়াত ও কলম সিক্ত হয় এবং এতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার প্রচার-প্রসারে রাত ও দিন আনন্দিত হয়। এটি এমন এক আলোচনা যাতে ক্লান্তি আসে না; হায়, আমরা যদি কখনো এটি থেকে বিমুখ না হতাম! ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে অনেক বড় বড় এবং প্রসিদ্ধ আলেম এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেছেন। তারা গৌরবের উচ্চশিখরে আরোহণ করেছেন এবং মর্যাদার সর্বোচ্চ স্থান দখল করেছেন। তারা তাদের রচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সীরাতের কঠিন বিষয়গুলোকে সহজবোধ্য করে দিয়েছেন; যার মধ্যে গদ্য যেমন রয়েছে যা দৃষ্টিকে মোহিত করে, তেমনি রয়েছে পদ্য যা সুন্দরী তরুণীদের গলার মুক্তার হারকেও হার মানায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের ও তাদের ওপর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে অনুগ্রহ করুন। এই বিষয়ে আমাদের দেখা সবচাইতে পূর্ণাঙ্গ কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে 'আল-মাওয়াহিব' এবং এর ওপর যুরকানীর শারহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আর সেখানেই অবস্থার প্রেক্ষাপট এমন পঙক্তি আবৃত্তি করেছে যা সত্য ভাষণকে প্রমাণ করে:

(এটি এমন এক কিতাব যা যদি এর ওজনের সমান … স্বর্ণের বিনিময়েও বিক্রি করা হয়, তবে বিক্রেতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।)

এই অঞ্চলে সীরাত বিষয়ে রচিত সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলো 'কুররাতুল আবসার' নামক কাব্যগ্রন্থটি। বড়-ছোট নির্বিশেষে সকলেই এটি পাঠ করে থাকে। এটি এমন এক কিতাব যার নাম তার বিষয়বস্তুর সাথে হুবহু মিলে গেছে। সুউচ্চ মর্যাদা ও মহান সম্মানের অধিকারীর কত সংবাদই না এতে সংকলিত হয়েছে! তাঁর ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ সালাম এবং পবিত্রতম ও সুমধুর প্রশংসা। কিন্তু এই অঞ্চলে এর এমন কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ ছিল না যা এর গূঢ় রহস্যসমূহ উন্মোচন করবে, শব্দাবলিকে স্পষ্ট করবে এবং এর লুকায়িত রত্নভাণ্ডার প্রকাশ করবে। তাই এই মহান খেদমতে নিজেকে সম্পৃক্ত করার এবং তাঁর সুউচ্চ আশ্রয়ে নিজেকে সঁপে দেওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা আমাকে এই কিতাবটির ব্যাখ্যা লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে। অতঃপর আমি মহান দাতা মালিকের সাহায্যে কিতাবটির এমন এক ব্যাখ্যা রচনা করেছি যা এর পাঠকদের নিকট শব্দার্থসমূহ স্পষ্ট করে তুলবে।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ৩)
الطلاب وذكرت فيه الغزوات النبوية وجل ما اطعلت عليه من بعث وسرية ولم آل جهدا في تبيين ما يحتاج إليه من البيان لكن من هو مثلي عرضة للذهول والنسيان وسميته "نزهة الأفكار في شرح قرة الأبصار" وإلى الله تعالى الضراعة في أن يجعله لوجهه الكريم وأن يحمينا نحن وأحبتنا من عذاب الجحيم وأن ينيلنا بمحض فضله رفيع الدرجات وأن يحلنا من الفردوس أعالي الغرفات. وجعلت اعتمادي في هذا الشرح على الزرقاني وشروحه وسيرة العراقي وشرح المناوي عليها وعيون الأثر وغير ذلك وحسبنا الله ونعم الوكيل ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

قال الناظم رحمه الله تعالى وهو الشيخ العابد الحافظ الفائق لأقرانه عبد العزيز اللمطي نسبا المالكي مذهبا الأشعري اعتقادا المدني دارا وقد ألف كتابه هذا في بيت عائشة رضي الله تعالى عنها، كذا قاله شارح لهذا النظم رأيته ولم يعرف بنفسه والله تعالى أعلم.
ছাত্রদের জন্য এবং এতে আমি নববী যুদ্ধসমূহ এবং আমার অবগত হওয়া অধিকাংশ অভিযান ও সারিয়্যা বর্ণনা করেছি। এর প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদানে আমি কোনো ত্রুটি করিনি, তবে আমার মতো মানুষ ভুলভ্রান্তি ও বিস্মৃতির শিকার হওয়া স্বাভাবিক। আমি এর নামকরণ করেছি "নুযহাতুল আফকার ফি শারহি কুররাতিল আবসার"। মহান আল্লাহর দরবারে বিনীত প্রার্থনা, তিনি যেন একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাদের ও আমাদের প্রিয়জনদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করেন, আর যেন নিজ অনুগ্রহে আমাদের সুউচ্চ মাকাম দান করেন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ কক্ষে স্থান দেন। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে আমি যুরকানী ও তাঁর ভাষ্যসমূহ, ইরাকীর সীরাত ও তার ওপর মুনাভীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, উইয়ুনুল আসার এবং অন্যান্য কিতাবের ওপর নির্ভর করেছি। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই।

গ্রন্থকার (নাযিম) রহিমাহুল্লাহু তা’আলা—যিনি হলেন ইবাদতগুজার শাইখ, হাফেজ এবং তাঁর সমসাময়িকদের মাঝে শ্রেষ্ঠ আব্দুল আযীয—বংশগতভাবে লামতী, মাযহাবগতভাবে মালিকী, আকিদাগতভাবে আশআরী এবং আবাসস্থল হিসেবে মাদানী। তিনি তাঁর এই কিতাবটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহার ঘরে রচনা করেছেন। এই কাব্যের জনৈক ব্যাখ্যাকার এমনই বলেছেন যাকে আমি দেখেছি, তবে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি। আর মহান আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌الكلام على البسملة هنا من ثمانية أوجه: معنى مفرداتها ومعنى تركيبها وإعرابها وسبب الإبتداء بها وحكمها وفضلها وقرآنيتها وكتابتها وأذكر جميعها إن شاء الله تعالى على طريق الاختصار وبالله تعالى التوفيق.

أما معنى مفرداتها فالباء يصح أنها للمصاحبة والمصطحبان هما العمل المبدو بها أو البادي ومدخول الباء والمراد منها التبرك والتبرك منسحب على جميع العمل فكأن المبتدئ بها يقول أفعل كذا متبركا فيه ببسم الله ويصح أن الباء للاستعانة وباء الاستعانة هي الداخلة على آلة الفعل، فكأن باسم الله هي الواسطة في حصول الفعل ببركة الإسم الشريفة فعآل المعنيين هنا واحد وقيل الباء للالصاق وقيل للاستعلاء المجازي والإسم هو اللفظ الدال بالوضع على معنى ما فيتناول الإسم النحوي وقسيميه وقوله تعالى وعلم آدم الأسماء كلها يعم جميع ذلك وهو هنا اسم جنيس أضيف إلى معرفة فيعم جميع أسماء الله تعالى فالتبرك بجيع الأسماء.

والله علم خاص بالذات الموصوفة بكل كمال المنزهة عن كل ما يتصف به الحوادث والأكثر على أنه غير مشتق وعلى أنه مشتق قال الإمام السنوسي الأقرب أنه مشتق من أله بالمكان إذا أقام به.

قال:

(ألهنا بدار لا تبين رسومها … كأن بقاياها وشام على اليد)

وقيل مشتق من أله إلهة كعبد عبادة وزنا ومعنى فإله بمعنى مالوه أي معبود وقيل من لاه بمعنى ارتفع ومنه قيل للشمس إلهة، قال:

(تروحنا من اللهباء قسرا … واعجلنا الإلهة أن تغيبا)

أو بمعنى احتجب، ومنه:

(لاهت فما عرفت يوما بخارجة … يا ليتها برزت حتى عرفناها)

وقيل من وله غذا تحير لأنه تتحير في عظمته العقول ومذهب سيبويه أنه هو أعرف المعارف وحكي أنه ريئ في النوم فأخبر ان الله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌বিসমিল্লাহ বা বাসমালাহ সংক্রান্ত আলোচনা এখানে আটটি দিক থেকে করা হবে: এর শব্দগুলোর অর্থ, এর কাঠামোগত অর্থ, এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই'রাব), এটি দিয়ে শুরু করার কারণ, এর বিধান, এর ফযিলত, এর কুরআনী হওয়া এবং এর লিখন পদ্ধতি। আল্লাহ তাআলা চাইলে আমি এই সবগুলো বিষয় সংক্ষেপে উল্লেখ করব। আল্লাহ তাআলার মাধ্যমেই তাওফিক লাভ হয়।

শব্দগুলোর অর্থের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, 'বা' (ب) বর্ণটি সঙ্গ দান বা 'মুসাহাবাত' অর্থে হওয়া সঠিক। এখানে পরস্পর সঙ্গ দানকারী দুটি বিষয় হলো—যা দিয়ে শুরু করা হচ্ছে সেই কাজ অথবা সূচনাকারী এবং 'বা' এর পরবর্তী শব্দ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বরকত অর্জন করা। এই বরকতের প্রভাব পুরো কাজের ওপর পরিব্যাপ্ত হয়। যেন কাজ শুরুকারী ব্যক্তি বলছেন, "আমি আল্লাহর নামের বরকত গ্রহণ করে এই কাজটি করছি।" এটিও সঠিক যে, 'বা' বর্ণটি সাহায্য প্রার্থনা বা 'ইস্তিয়ানা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সাহায্যের 'বা' হলো সেটি যা কোনো কাজের উপায়ের ওপর যুক্ত হয়। ফলে মনে হবে যেন আল্লাহর নামই এই সম্মানিত নামের বরকতে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যম। তাই এখানে উভয় অর্থের ফলাফল একই। কেউ কেউ বলেছেন 'বা' বর্ণটি সংশ্লিষ্ট করা বা 'ইলশাক' অর্থে ব্যবহৃত, আবার কেউ বলেছেন এটি রূপকভাবে উচ্চতা বা 'ইস্তিলা' অর্থে এসেছে। 'ইসম' (নাম) বলতে এমন শব্দকে বোঝায় যা প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে; এটি ব্যাকরণগত বিশেষ্য (ইসম) এবং এর অপর দুই প্রকারকেও (ক্রিয়া ও অব্যয়) অন্তর্ভুক্ত করে। মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছেন" এর মধ্যে এই সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত। এখানে 'ইসম' শব্দটি একটি সাধারণ বিশেষ্য যা একটি সুনির্দিষ্ট পরিচয়ের (আল্লাহ) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে, ফলে এটি আল্লাহর সমস্ত নামকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতএব, আল্লাহর সকল নামের মাধ্যমেই বরকত অন্বেষণ করা হয়।

'আল্লাহ' হলো সেই সত্তার সুনির্দিষ্ট নাম যিনি সকল পূর্ণতায় গুণান্বিত এবং যা কিছু সৃষ্টিজগতের বৈশিষ্ট্য বা নশ্বরতা, তা থেকে পবিত্র। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে এটি কোনো শব্দ থেকে উৎপন্ন নয়, আবার কারো মতে এটি উৎপন্ন শব্দ। ইমাম সেনুসী বলেন, অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো এটি 'আলাহা' (أله) থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ কোনো স্থানে অবস্থান করা।

তিনি বলেন:

(আমরা এমন এক আবাসে অবস্থান করেছি যার চিহ্নসমূহ স্পষ্ট নয় … যেন তার অবশিষ্টাংশ হাতের ওপর উল্কি বা কালির চিহ্নের মতো)

কেউ বলেছেন এটি 'আলাহা-ইলাহাতান' থেকে উৎপন্ন, যেমন ওজনে ও অর্থে 'আবাদা-ইবাদাতান'; সুতরাং 'ইলাহ' মানে 'মালুহ' অর্থাৎ উপাস্য। কেউ বলেন এটি 'লাহা' থেকে এসেছে যার অর্থ উপরে ওঠা; এ কারণেই সূর্যকে 'ইলাহা' বলা হতো। জনৈক কবি বলেছেন:

(আমরা লাহবা থেকে বাধ্য হয়ে অপরাহ্নে প্রস্থান করলাম … এবং সূর্য ডুবে যাওয়ার পূর্বেই আমাদের দ্রুত যাওয়ার তাগিদ দিল)

অথবা এর অর্থ হলো পর্দার অন্তরালে থাকা। সেখান থেকে বলা হয়েছে:

(সে পর্দার অন্তরালে চলে গেল, ফলে কোনো একদিনও তাকে বাইরে দেখা গেল না … হায়, যদি সে আত্মপ্রকাশ করত তবে আমরা তাকে চিনতে পারতাম)

আবার বলা হয়েছে এটি 'ওয়ালিহা' থেকে উৎপন্ন যার অর্থ বিস্ময়াভিভূত হওয়া, কারণ মানুষের বুদ্ধি আল্লাহর মহানুভবতায় দিশেহারা হয়ে যায়। সিবওয়াইয়ের অভিমত হলো, এটি সকল সুনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (মা'রিফাহ) মধ্যে সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট। বর্ণিত আছে যে, তাকে স্বপ্নে দেখা গিয়েছিল এবং তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন যে আল্লাহ...

(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ৫)
فعل به خيرا كثيرا لقوله إنه هو أعرف المعارف والرحمن هو المنعم بالنعم التى لا تدخل تحت كسب العباد كبعث الرسل والرحيم المنعم بالنعم التى تدخل تحت كسبهم وغيرها فهو أعم من الرحمن على هذا ولهذا صح إطلاقه على غيره تعالى.

أو الرحمن ذو الرحمة العامة في الدنيا على جميع الخلق والرحيم ذو الرحمة الخاصة بالمؤمنين في الآخرة أو الرحمن المنعم بجلائل النعم كمية وكيفية والرحيم المنعم بدقائقها كمية وكيفية وأخر عن الرحمن لاختصاص الرحمن به تعالى وأما معنى تركيبها فاعلم أنها نقلت من الخبر إلى الإنشاء في لإنشاء التبرك لأنه يحصل عند النطق بها واما اعرابها فالمجرور متعلق بمحذوف والمختار كونه فعلا ويقدر مؤخرا ليدل على الحصر والرد على الكفار في ابتدائهم بأسماء آلهتهم خاصا كأولف هنا لا عاما كأبدأ والعمل المشروع فيه يعين العامل المحذوف فكل فاعل يمر أي يقدر في ضميره عاملا مناسبا لما شرع فيه من أكل أو قراءة مثلا، وقيل المجرور خبر مبتدء محذوف واسم الجلالة مضاف إليه وليست إضافته بيانية لأن المقصود من الأول الأسماء ومن الثاني الذات ولذا وصف بما بعده على طريق النعت أو البيان أو البدل وقيل الأول بدل من الجلالة والرحيم نعت للرحمن. وأما سبب الابتداء بها فالاقتداء بالقرآن العظيم وسنة نبيه الكريم عليه أفضل الصلاة والتسليم وقد أجمع علماء كل أمة أن الله افتتح كل كتاب بها وكان صلى الله تعالى عليه وسلم يبدأ بها في رسائله وكان أولا يكتب باسمك اللهم حتى نزلت باسم الله مجريها فكتب بسم الله فلما نزل قل ادعوا الله أو ادعوا الرحمن كتب بسم الله الرحمن فلما نزلت بجملتها في سورة النمل كتبها.

وفي الحديث: "كل امر ذي بال لا يبدأ فيه ببِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ أقطع" وفي رواية "أبتر"، وفي رواية "أجذم" أي ناقص البركة وإن تم حسا، وأما حكمها فتجب مرة في العمر وتسن في الأكل والشرب وتندب في سوى ذلك مما تشرع فيه وتكره في المحرم والمكروه وقيل تحرم في
তিনি তার প্রতি অনেক কল্যাণ করেছেন যেহেতু তিনি বলেছেন যে তিনি সকল পরিচিত বিষয়ের মধ্যে অধিক পরিচিত। 'আর-রহমান' হলেন এমন সব নিয়ামত দানকারী যা বান্দার উপার্জনের আওতাধীন নয়, যেমন রাসূলদের প্রেরণ। আর 'আর-রহীম' হলেন এমন সব নিয়ামত দানকারী যা তাদের উপার্জনের আওতাধীন এবং অন্যান্য বিষয়াদি। এই বিচারে 'আর-রহীম' শব্দটি 'আর-রহমান' অপেক্ষা অধিক ব্যাপক, আর এজন্যই আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ সঠিক হয়।

অথবা 'আর-রহমান' হলেন দুনিয়াতে সমস্ত সৃষ্টির প্রতি সাধারণ করুণাময় এবং 'আর-রহীম' হলেন আখেরাতে মুমিনদের প্রতি বিশেষ করুণাময়। অথবা 'আর-রহমান' হলেন পরিমাণ ও গুণগত দিক থেকে বড় বড় নিয়ামত দানকারী এবং 'আর-রহীম' হলেন পরিমাণ ও গুণগত দিক থেকে সূক্ষ্ম নিয়ামত দানকারী। 'আর-রহমান'-এর পরে একে আনা হয়েছে কারণ 'আর-রহমান' নামটি আল্লাহ তাআলার জন্যই সুনির্দিষ্ট। আর এর বাক্যগঠনের অর্থের ব্যাপারে জেনে রাখুন যে, এটি বরকত অর্জনের উদ্দেশ্যে বর্ণনা (খবর) থেকে ইনশা (সৃষ্টি বা প্রার্থনা) এর দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে, কারণ এটি উচ্চারণের সময় বরকত অর্জিত হয়। আর এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের (ইরাব) ক্ষেত্রে, মাজরুর (সংযুক্ত পদটি) একটি উহ্য পদের সাথে সংশ্লিষ্ট। পছন্দনীয় মত হলো সেটি একটি ক্রিয়া এবং একে শেষে অনুমান (তাকদীর) করা হয় যাতে সীমাবদ্ধতা (হাসর) প্রকাশ পায় এবং কাফিররা তাদের উপাস্যদের নাম দিয়ে শুরু করার যে রীতি পালন করত তার প্রতিবাদ হয়। এটি সাধারণ কোনো কাজ (যেমন—আমি শুরু করছি) না হয়ে বরং সংশ্লিষ্ট বিশেষ কাজের (যেমন—আমি তিলাওয়াত করছি) সাথে সম্পর্কিত হবে। যে আমলটি শুরু করা হচ্ছে, সেটিই সেই উহ্য আমলটিকে নির্দিষ্ট করে দেয়। সুতরাং প্রত্যেক আমলকারী ব্যক্তি তার মনে এমন একটি ক্রিয়া অনুমান করবেন যা তার শুরু করা কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন—খাবার গ্রহণ বা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে। কেউ কেউ বলেছেন, মাজরুর পদটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর এবং আল্লাহ শব্দটি এর মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধ পদ)। এর সম্বন্ধটি বর্ণনামূলক নয়, কারণ প্রথমটি দ্বারা নামসমূহ এবং দ্বিতীয়টি দ্বারা সত্তা উদ্দেশ্য। আর এই কারণেই পরবর্তী শব্দগুলোকে গুণ, বর্ণনা বা বদল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, প্রথম শব্দটি আল্লাহ শব্দ থেকে বদল এবং 'আর-রহীম' শব্দটি 'আর-রহমান'-এর গুণ। আর এটি দিয়ে শুরু করার কারণ হলো মহান কুরআন এবং তাঁর সম্মানিত নবীর সুন্নাহর অনুসরণ করা। প্রত্যেক উম্মতের আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ প্রতিটি কিতাব এটি দিয়েই শুরু করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পত্রাবলীতে এটি দিয়েই শুরু করতেন। প্রথম দিকে তিনি 'তোমার নামে হে আল্লাহ' লিখতেন, যতক্ষণ না 'আল্লাহর নামেই এর গতি' আয়াতটি নাযিল হয়, তখন তিনি 'আল্লাহর নামে' লিখতেন। এরপর যখন 'বলুন, তোমরা আল্লাহকে ডাকো বা রহমানকে ডাকো' নাযিল হলো, তখন তিনি 'পরম করুণাময় আল্লাহর নামে' লিখলেন। অতঃপর যখন এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সূরা আন-নামলে নাযিল হলো, তখন থেকে তিনি এটি পূর্ণরূপে লিখতে শুরু করেন।

হাদিসে এসেছে: "যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে' শুরু করা হয় না, তা বিচ্ছন্ন।" অন্য বর্ণনায় এসেছে 'লেজকাটা', আর অন্য বর্ণনায় 'অঙ্গহীন' অর্থাৎ বরকতহীন, যদিও তা বাহ্যিকভাবে পূর্ণ মনে হয়। আর এর বিধানের ক্ষেত্রে, জীবনে অন্তত একবার এটি পাঠ করা ওয়াজিব। পানাহারের শুরুতে এটি সুন্নাত। এছাড়া অন্যান্য শরীয়তসম্মত কাজে এটি মুস্তাহাব। আর হারাম ও মাকরুহ কাজে এটি পাঠ করা মাকরুহ, এবং কেউ কেউ বলেছেন তা হারাম।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ৬)
المحرم، وذكر غير واحد أنها تجب في الذكاة، وقال الأمير: ان الواجب في الذكاة مطلق ذكر اسم الله تعالى ومما تشرع فيه: الشعر المحتوي على علم أو وعظ أو مدحه صلى الله عليه وسلم.

فائدة:

نظم بعضهم ما يج مرة في العمر من الكلام فقال:

(هاك جميع ما من القول يجب … في العمر مرة وما زاد استحب)

(بسملة حمدلة والهيلله … استغفر الله كذا والحوقله)

(والحكم في التسبيح والتكبير … كذا وتعويذ بذي التقدير)

(ثم الصلاة معها السلام … على الذي اقتدى به الأنام)

وأما فضلها فصحح الحاكم أنه صلى الله تعالى عليه وسلم قال: "من قرأ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ كتب الله له بكل حرف أربعة آلاف حسنة محى عنه أربعة آلاف سيئة ورفع له أربعة آلاف درجة". وقال: "من قال بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم صرف الله عنه سبعين بابا من البلاء أدناها الهم والغم واللمم". وقال: "ستر ما بينكم وبين الجن أن تقولوا بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ". وقال: "خير الناس وخير من مشى على الأرض المعلمون كلما خلق الدين جددوه أعطوهم ولا تستأجروهم فإن المعلم إذا قال للمعلم قل بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فقالها كتب الله للصبي ولوالديه وللمعلم براءة من النار".

وأما قرآنيتها فمذهبنا أنها ليست من القرآن وإنما هي رقية تنزل مع كل نبي وتتفع معه إلا نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم بقيت رحمة لأمته. ومذهب الشافعي أنها آية ن الفاتحة فمن تركها بطلت صلاته. وقيل آية من كل سورة وقيل بعض آية ن كل سورة وقيل آية في الفاتحة وجزء آية في غيرها وقيل بالعكس وقيل آية فذة. ومحل الخلاف في غير التى في "النمل" وأما هي فلا خلاف أنها من القرآن.

وأما كتابتها فعن معاوية أنه صلى الله عليه وسلم قال: "ألق الدواة
নিষিদ্ধ কাজ; এবং একাধিক আলিম উল্লেখ করেছেন যে এটি পশু জবাইয়ের সময় পাঠ করা ওয়াজিব। আল-আমির বলেছেন: জবাইয়ের সময় মহান আল্লাহর নাম উল্লেখ করা সাধারণভাবে ওয়াজিব। আর যেসব ক্ষেত্রে এটি শরীয়তসম্মত তার মধ্যে রয়েছে: জ্ঞানগর্ভ কবিতা, উপদেশমূলক কবিতা অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসামূলক কবিতা।

উপকারিতা:

কেউ কেউ জীবনে একবার বলা ওয়াজিব এমন সব উক্তি কাব্যাকারে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন:

(জীবনভর একবার বলা ওয়াজিব এমন সব কথা গ্রহণ করো … আর এর অতিরিক্ত যা কিছু তা মুস্তাহাব)

(বিসমিল্লাহ, আল্লাহর প্রশংসা এবং আল্লাহর একত্বের ঘোষণা … আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাঁর সাহায্য প্রার্থনার বাক্য তথা হাওকালাহ)

(আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার বিধানও একই … অনুরূপভাবে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা)

(অতঃপর সালাত ও তার সাথে সালাম … ঐ সত্তার ওপর যাঁর অনুসরণ সকল সৃষ্টি করে থাকে)

আর এর ফযীলত সম্পর্কে ইমাম হাকিম সহীহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ‘পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে’ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে চার হাজার নেকী লিখে দেবেন, তার চার হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেবেন এবং তার মর্যাদা চার হাজার গুণ উন্নীত করবেন।" তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলবে ‘পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং মহান উচ্চমর্যাদাশীল আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই’, আল্লাহ তার থেকে সত্তরটি বিপদের দরজা সরিয়ে দেবেন, যার সর্বনিম্ন হলো দুশ্চিন্তা, দুঃখ এবং মানসিক অস্থিরতা।" তিনি আরও বলেছেন: "তোমাদের এবং জিনদের মধ্যে আড়াল হলো তোমাদের ‘পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে’ বলা।" তিনি আরও বলেছেন: "মানুষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং জমিনের ওপর বিচরণকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন শিক্ষকগণ; যখনই দ্বীন পুরনো হয়ে যায় তারা তা নতুনভাবে উজ্জীবিত করেন। তোমরা তাদেরকে দান করো এবং তাদেরকে পারিশ্রমিকের চুক্তিতে আবদ্ধ করো না। কেননা শিক্ষক যখন শিক্ষার্থীকে বলেন, ‘বলো— পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে’, আর সে তা বলে, তখন আল্লাহ সেই শিশু, তার পিতা-মাতা এবং শিক্ষকের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরোয়ানা লিখে দেন।"

আর এটি কুরআনের অংশ হওয়া প্রসঙ্গে আমাদের মাযহাবের মত হলো এটি কুরআনের অংশ নয়, বরং এটি একটি দোয়াবিশেষ যা প্রত্যেক নবীর সাথে নাযিল হয়েছে এবং তাঁদের সাথে তা প্রস্থান করেছে; কেবল আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্ষেত্রে এটি তাঁর উম্মতের জন্য রহমত হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে। ইমাম শাফেঈর মাযহাব হলো এটি সূরা ফাতিহার একটি আয়াত, সুতরাং যে ব্যক্তি এটি পাঠ করা বর্জন করবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। কেউ বলেছেন এটি প্রতিটি সূরার একটি আয়াত, আবার কেউ বলেছেন এটি প্রতিটি সূরার একটি অংশ। কেউ বলেছেন এটি ফাতিহার একটি আয়াত এবং অন্য সূরার একটি অংশ, আবার এর বিপরীত মতও দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন এটি একটি স্বতন্ত্র আয়াত। আর এই মতভেদের ক্ষেত্র হলো সূরা "নামল"-এর আয়াতটি ব্যতীত অন্যগুলো; কেননা সেটি কুরআনের অংশ হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।

আর এটি লেখার ব্যাপারে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কালির দোয়াতে লিফ (পশম বা তুলা) রাখো...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ৭)
وحرف القلم وأقم الباء وفرق السين ولا تعور الميم وحسن الله ومد الرحمن وجود الرحيم وضع قلمك على أذنك اليسرى فإنه أذكر لك" اهـ يقال لاق الدواة ثلاثيا كباع وألاقها رباعيا أصلحها فلاقت هي أي صلحت والمراد أن يلزق مدادها على صوفة ونحوها، وتحريف القلم جعل أحد شقيه أطول من الأخر قال بعضهم الأقصر هو الأيسر وهو الذى يلي الكاغد، وإقامة الباء جعلها غير منعطفة، وتفريق السين إبعادها من الميم أو تفريق رؤوسها، ومعني لا تعور الميم اتركها مفتوحة، ومعنى حسن الله، اكتبها بخط حسن وقلم حسن ومداد حسن، ومد الرحمن أن يمد بين الميم والنون، وتجويد الرحيم كتابتها كتابة جيدة. والباء ترسم قدر نصف الألف فالقدر الذى جرى عرفك في كتابة الألف اجعل الباء نصفه وحروفها الرسمية تسعة عشر عدد الزبانية فمن ذكرها نجا منهم.

(الحمد لله الذى بأحمدا … هدى إلى أقوم نهج من هدى)

قوله الحمد لله مبتدأ وخبره، والذى نعت لله وهو موصول وصلته قوله هدى، ومن مفعوله، وبأحمدا يتعلق بهدى، وكذا إلى أقوم. ونهج بالتنوين مضاف إليه ما قبله ومعناه أن الوصف بكل كمال ثابت ومستحق لله تعالى الذى هدى أي أرشد من أراد هدايته إلى أقوم الطريق وهي طريق الإسلام بسبب نبينا أحمد صلى الله تعلى عليه وسلم. والنهج الطريق الواضح وهذا المعنى أخذه من قوله تعالى: {وإنك لتهدي إلى صراط مستقيم} وقوله تعالى: {إن هذا القرآن يهدي للتي هي أقوم}. قال صاحب الأنوار: الهداية دلالة بلطف ولذلك تستعمل في الخير. وقوله تعالى: {فاهدوهم إلى صراط الجحيم} وارد على التهكم، وهداية الله تعالى تتنوع أنواعا: الأول إفاضة القوى التى يتمكن بها المرء من الاهتداء إلى مصالحه كالعقل والحواس، والثاني نصب الدلائل الفارقة بين الحق والباطل وإليه أشار تعالى حيث قال: {وهديناه النجدين} وقال: {فهديناهم فاستحبوا العمى على الهدى}، والثالث الهداية بإرسال الرسل {إن هذا القرآن يهدي للتي هي أقوم}، {وإنك لتهدي إلى صراط مستقيم}. والمستقيم المستوي يعنى طريق الخير أو
“কলমের মাথাকে তির্যকভাবে কাটো, ‘বা’ অক্ষরকে সোজা করো, ‘সিন’-এর দাঁতগুলোকে আলাদা করো, ‘মিম’-এর ছিদ্র বন্ধ করো না, ‘আল্লাহ’ শব্দটি সুন্দর করে লেখো, ‘আর-রাহমান’-কে দীর্ঘ করো এবং ‘আর-রাহিম’-কে উত্তমভাবে লেখো। তোমার কলমটি বাম কানের ওপর রাখো, কারণ এটি তোমার জন্য স্মারক হিসেবে অধিক কার্যকর।” উদ্ধৃতি সমাপ্ত। বলা হয় ‘লা-কাদ দাওয়াত’ (তিন বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়া হিসেবে) যেমন ‘বা-আ’, এবং ‘আ-লা-ক্বাহা’ (চার বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়া হিসেবে), যার অর্থ হলো দোয়াত সংশোধন করা। ফলে সেটি ‘লা-ক্বাত’ (সংশোধিত হলো)। এর উদ্দেশ্য হলো দোয়াতের কালি যেন পশম বা অনুরূপ কিছুর গায়ে লেগে থাকে। কলমের মাথাকে তির্যক (তাহরিফ) করার অর্থ হলো এর এক পার্শ্বকে অন্য পার্শ্বের চেয়ে লম্বা করা। কেউ কেউ বলেছেন, অপেক্ষাকৃত খাটো অংশটি হবে বাম দিকে, যা কাগজের সংস্পর্শে থাকবে। ‘বা’ সোজা করার অর্থ হলো তাকে বাঁকা না করা। ‘সিন’ আলাদা করার অর্থ হলো একে ‘মিম’ থেকে দূরে রাখা অথবা এর দাঁতগুলোকে পৃথক করা। ‘মিম’-কে অন্ধ (বন্ধ) না করার অর্থ হলো এর ছিদ্রটি খোলা রাখা। ‘আল্লাহ’ শব্দকে সুন্দর করার অর্থ হলো তা সুন্দর হস্তাক্ষর, সুন্দর কলম ও সুন্দর কালিতে লেখা। ‘আর-রাহমান’ দীর্ঘ করার অর্থ হলো ‘মিম’ ও ‘নুন’-এর মধ্যবর্তী অংশ টেনে দীর্ঘ করা। আর ‘আর-রাহিম’ উত্তম করার অর্থ হলো তা সুন্দরভাবে লেখা। ‘বা’ অক্ষরটি ‘আলিফ’-এর অর্ধেক পরিমাণ আঁকতে হবে। সুতরাং তোমার হস্তাক্ষরে ‘আলিফ’ যতটুকু বড় হওয়ার প্রচলন আছে, ‘বা’-কে তার অর্ধেক করো। বিসমিল্লাহর লিখিত অক্ষরের সংখ্যা হলো ঊনিশ, যা জাহান্নামের প্রহরীদের সংখ্যার সমান। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি স্মরণ করবে সে তাদের থেকে মুক্তি পাবে।

(সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আহমদের মাধ্যমে... সঠিকতম পথের দিকে তাকেই হেদায়েত দান করেছেন যাকে তিনি পথ দেখাতে চেয়েছেন)

তাঁর উক্তি ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য’ হলো উদ্দেশ্য ও বিধেয়। ‘যিনি’ শব্দটি আল্লাহর গুণবাচক শব্দ, এটি সম্বন্ধসূচক অব্যয় এবং এর পরবর্তী অংশ ‘পথপ্রদর্শন করেছেন’ তার সম্বন্ধ। ‘যাকে’ শব্দটি কর্মপদ। ‘আহমদের মাধ্যমে’ কথাটি ‘পথপ্রদর্শন করেছেন’ ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত, একইভাবে ‘সঠিকতম দিকে’ কথাটিও। ‘পথ’ শব্দটি তানভিনসহ তার পূর্ববর্তী শব্দের সম্বন্ধী পদ। এর অর্থ হলো, সকল পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত ও তাঁরই প্রাপ্য, যিনি তাকেই পথনির্দেশ করেছেন যার হেদায়েত তিনি চেয়েছেন। আর এটি আমাদের নবী আহমদ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উসিলায় ইসলামের সঠিকতম পথের দিকে। ‘নাহজ’ অর্থ হলো স্পষ্ট পথ। এই অর্থটি আল্লাহর এই বাণী থেকে গ্রহণ করা হয়েছে: “নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করেন” এবং আল্লাহর এই বাণী: “নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথের দিকে পথপ্রদর্শন করে যা অধিকতর সুদৃঢ়”। ‘আনওয়ার’ গ্রন্থের লেখক বলেন: হেদায়েত হলো অনুগ্রহের সাথে পথপ্রদর্শন করা, তাই এটি কল্যাণকর বিষয়ে ব্যবহৃত হয়। আর মহান আল্লাহর বাণী: “অতঃপর তোমরা তাদেরকে জাহান্নামের পথের সন্ধান দাও”—এটি মূলত বিদ্রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তাআলার হেদায়েত কয়েক প্রকার: প্রথমত, মানুষকে এমন শক্তি প্রদান করা যার মাধ্যমে সে নিজের কল্যাণকর বিষয়ের পথ খুঁজে পেতে সক্ষম হয়, যেমন বুদ্ধি ও পঞ্চেন্দ্রিয়। দ্বিতীয়ত, সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী নিদর্শনসমূহ স্থাপন করা। এই দিকেই আল্লাহ ইঙ্গিত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: “আমি তাকে দুটি পথ প্রদর্শন করেছি” এবং বলেছেন: “আমি তাদের পথপ্রদর্শন করেছিলাম, কিন্তু তারা হেদায়েতের পরিবর্তে অন্ধত্বকেই পছন্দ করে নিয়েছে”। তৃতীয়ত, রাসুল প্রেরণের মাধ্যমে হেদায়েত দান করা: “নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথের দিকে পথপ্রদর্শন করে যা অধিকতর সুদৃঢ়”, “নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করেন”। আর ‘মুস্তাকিম’ অর্থ হলো সোজা, অর্থাৎ কল্যাণের পথ অথবা...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ৮)
الإسلام، والرابع كشف السرائر على القلوب وإراءة الأشياء كما هي بالوحي أو الإلهام. وهذا يختص به الأنبياء والأولياء وإياه عنى بقوله: {أولئك الذين هدى الله فبهديهم اقتده} وقوله: {والذين جاهدوا فينا لنهدينهم سبلنا} نقله الزرقاني في شرح المواهب.

فائدة:

لم يتسم أحد بأحمد قبله، صلى الله عليه وسلم قال ابن حجر: والمشهور أن أول من سمي به بعده، صلى الله عليه وسلم، والد الخليل بن أحمد لكن زعم الواقدي أنه كان لجعفر بن أبي طالب ابن اسمه أحمد وحكى ابن فتحون في ذيل الاستيعاب ان اسم أبي حفص بن المغيرة الصحابي أحمد، ويقال في والد أبي السفر إن اسمه أحمد. قال الترمذي: أبو السفر هو سعيد بن محمد ويقال ابن أحمد، اهـ من الزرقاني في موضع آخر.

والحمد لغة هو الوصف بالجميل على الجميل الاختياري أو القديم، والوصف ذكر الصفة منسوبة الى المتصف بها فلا يكون إلا بالكلام، وبالجميل مخرج للوصف بالقبيح بذم وبما ليس جميلا ولا قبيحا كزيد تميمي غذا قصد مجرد الإعلام بنسبه، وعلى الجميل مخرج للوصف بالجميل لأجل قبيح كقولك للبخيل ما أجوده في مقام التهكم ومجموع الإختياري أو القديم مخرج للوصف برشاقة الخد. والحمد عرفا الثناء باللسان أو القلب أو غيرهما من الأركان بسبب ما أسدى إلى الحامد فالأول أخص موردا لأنه لا يكون إلا بالكلام وأعم متعلقا لأنه يكون في مقابلة نعمة وغيرها، والثاني أعم موردا لحصوله بالكلام وغيره وأخص متعلقا إذ لا يكون إلا في مقابلة نعمة فبينهما عموم وخصوص من وجه. (حمدا جديدا دائم البقاء)

قوله حمدا منصوب بفعل محذوف أي أحمده حمدا، ولا يصح أن يعمل فيه قوله الحمد لأن المصدر لا يخبر عنه إلا بعد تمام معمولاته. وقوله جديدا أي طارئا بعد الحمد الأول مع أنه دائم البقاء والظاهر أن الحمد
ইসলাম, এবং চতুর্থটি হলো হৃদয়ের ওপর গোপন রহস্যসমূহ উন্মোচন করা এবং ওহী বা ইলহামের মাধ্যমে বস্তুসমূহকে তাদের প্রকৃতরূপে দেখা। এটি নবীগণ এবং অলীদের জন্য নির্ধারিত এবং আল্লাহ তাঁর বাণীতে এটিই বুঝিয়েছেন: "তারাই যাদেরকে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন, সুতরাং আপনি তাদের হেদায়েত অনুসরণ করুন" এবং তাঁর বাণী: "আর যারা আমাদের পথে সংগ্রাম করে, আমরা অবশ্যই তাদেরকে আমাদের পথসমূহ দেখাবো"। এটি জুরকানী শারহুল মাওয়াহিবে উল্লেখ করেছেন।

উপকারিতা:

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্বে কেউ আহমদ নামে নামাঙ্কিত হননি। ইবনে হাজার বলেন: প্রসিদ্ধ মত হলো, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরে সর্বপ্রথম যাঁর এই নাম রাখা হয়েছে তিনি হলেন খলীল বিন আহমদের পিতা। তবে ওয়াকিদী দাবি করেছেন যে, জাফর বিন আবি তালিবের আহমদ নামে একজন পুত্র ছিল। ইবনে ফাতহুন 'যাইলুল ইস্তিআব'-এ বর্ণনা করেছেন যে, সাহাবী আবু হাফস বিন মুগিরার নাম ছিল আহমদ। আবার আবু সাফারের পিতার নাম আহমদ বলেও উল্লেখ করা হয়। তিরমিযী বলেন: আবু সাফার হলেন সাঈদ বিন মুহাম্মদ এবং তাঁকে ইবনে আহমদও বলা হয়। জুরকানী থেকে অন্য এক স্থানে এটি সমাপ্ত হলো।

আভিধানিক অর্থে 'হামদ' (প্রশংসা) হলো ঐচ্ছিক সুন্দর গুণাবলি অথবা অনাদি সুন্দরের জন্য সুন্দর গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করা। আর বর্ণনা বলতে গুণান্বিত ব্যক্তির দিকে গুণকে সম্বন্ধযুক্ত করে উল্লেখ করাকে বোঝায়, যা বাণী বা কথার মাধ্যমেই হয়ে থাকে। 'সুন্দরের মাধ্যমে' কথাটি দ্বারা মন্দ বা নিন্দার মাধ্যমে বর্ণনা করা এবং যা সুন্দরও নয় আবার মন্দও নয় এমন বর্ণনা বাদ পড়ে যায়, যেমন স্রেফ বংশপরিচয় জানানোর উদ্দেশ্যে বলা 'যায়েদ তামিমি বংশীয়'। আর 'সুন্দরের বিনিময়ে' কথাটি দ্বারা কোনো মন্দের কারণে সুন্দরের মাধ্যমে বর্ণনা করা বাদ পড়ে যায়, যেমন কোনো কৃপণ ব্যক্তিকে বিদ্রূপের ছলে আপনার বলা 'সে কতই না দানশীল'। আর 'ঐচ্ছিক অথবা অনাদি' সমষ্টিগতভাবে গালের লাবণ্য বর্ণনার মতো বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে দেয়। পরিভাষাগত অর্থে 'হামদ' হলো প্রশংসাকারীর প্রতি যা প্রদান করা হয়েছে তার কারণে জিহ্বা, অন্তর অথবা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে প্রশংসা করা। সুতরাং প্রথমটি উৎসের দিক থেকে বিশেষায়িত, কারণ এটি কথা বা বাণী ছাড়া হয় না; কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দিক থেকে সাধারণ, কারণ এটি নেয়ামত বা অন্যকিছুর বিনিময়েও হতে পারে। আর দ্বিতীয়টি উৎসের দিক থেকে সাধারণ, কারণ এটি কথা বা অন্য কিছুর মাধ্যমেও অর্জিত হয়; কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দিক থেকে বিশেষায়িত, কারণ এটি নেয়ামতের বিনিময়েই হয়ে থাকে। সুতরাং এ দুয়ের মাঝে একদিক থেকে সাধারণ ও অন্যদিক থেকে বিশেষত্বের সম্পর্ক রয়েছে। (নতুন প্রশংসা যা চিরস্থায়ী)

তাঁর উক্তি 'হামদান' (প্রশংসা) শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়ার কারণে মানসুব (যবরযুক্ত) হয়েছে, অর্থাৎ 'আমি তাঁর প্রশংসা করি প্রশংসা করার মতো'। আর 'আল-হামদু' (প্রশংসা) শব্দটির আমল বা প্রভাব এখানে খাটা সহীহ নয়, কারণ মাসদার (ক্রিয়ামূল) সম্পর্কে তার মামুল বা সংশ্লিষ্ট পদগুলোর পূর্ণতা প্রাপ্তি ছাড়া কোনো সংবাদ দেওয়া যায় না। আর তাঁর উক্তি 'জাদিদান' (নতুন) এর অর্থ হলো প্রথম প্রশংসার পর উদ্ভূত হওয়া, যদিও এটি চিরস্থায়ী। আর প্রকাশ্য হলো যে, প্রশংসা...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ৯)
الأول حمد منه لله تعالى لأنه يستحق الحمد لذاته والثاني حمد له لإنعامه فلا يتكرر مع الأول كما يرشد له قوله: (مكافيا) أي مساويا، (ترادف) أي تتابع، (الآلاء) أي النعم. فكلما تجددت لى نعمة منه تعالى تجدد مني حمد له تعالى. واعلم أن مقابلة الحمد لجميع النعم يعجز عنها الخلق غاية العجز لأن التوفيق للحمد نعمة جليلة تقتضي حمدا وهلم جرا .. قال:

(لك الحمد مولانا على كل نعمة … ومن جملة النعماء قولي لك الحمد)

(فلا حمد إلا أن تمن بنعمة … تعاليت لا يقوى على حمدك العبد)

تنبيه:

اختلف في تعيين الفاضل من الحمد، فقيل: الحمد لله بجميع محامده كلها ما علمت منها وما لم أعلم على جميع نعمه كلها ما علمت منها وما لم أعلم، وقيل: اللهم لا أحصى ثناء عليك أنت كما أثنيت على نفسك، وقيل: الحمد لله حمدا يوافي نعمه ويكافئ مزيده. قال الشيخ يوسف بن عمر وينبني على ذلك مسالة فقهية فيمن حلف ليحمدن الله تعالى بأفضل محامده، فمن أراد أن يخرج من الخلاف فليحمد بجميعها، اهـ نقله الحطاب.

وأتى الناظم رحمه الله بالحمدلة بعد البسملة اقتداء بالقرآن العظيم وعملا بقوله، صلى الله عليه وسلم: "كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بالحمد لله فهو أجذم" أو قال: "أبتر" أو قال: "أجدع" أو قال: "أقطع" أي ناقص الشرف.

(ثم الصلاة والسلام تترا … على أجل المرسلين قدرا)

أردف الحمد بالصلاة والسلام على من وصلت النعم المحمود عليها بواسطته، صلى الله عليه وسلم، امتثالا لقوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا صلوا عليه وسلموا تسليما} وعملا بقوله صلى الله تعالى عليه وسلم: "كل أمر ذي بال لا يبدأ بذكر الله ثم بالصلاة علي فهو أقطع". والصلاة من الله تعالى انعامه، ومن العبد طلبه منه تعالى كانت على
প্রথমটি হলো মহান আল্লাহর জন্য তাঁর পক্ষ থেকে প্রশংসা, কারণ তিনি স্বীয় সত্তার কারণেই প্রশংসার যোগ্য। আর দ্বিতীয়টি হলো তাঁর নেয়ামত প্রদানের কারণে তাঁর প্রশংসা, তাই এটি প্রথমটির সাথে পুনরাবৃত্তি হয় না; যেমনটি তাঁর কথা নির্দেশ করে: (মুক্বাফিয়ান) অর্থাৎ সমান হওয়া, (তারাদুফ) অর্থাৎ একের পর এক আসা, (আল-আলা) অর্থাৎ নেয়ামতসমূহ। সুতরাং যখনই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার প্রতি কোনো নেয়ামত নতুন করে আসে, তখনই আমার পক্ষ থেকে তাঁর জন্য নতুন করে প্রশংসা প্রকাশ পায়। আর জেনে রাখুন যে, সকল নেয়ামতের বিপরীতে প্রশংসা করা সৃষ্টির পক্ষে চূড়ান্তভাবে অসম্ভব, কারণ প্রশংসা করার তাওফিক পাওয়াও একটি মহান নেয়ামত যার জন্য পুনরায় প্রশংসার প্রয়োজন হয় এবং এভাবেই চলতে থাকে... তিনি বলেছেন:

(হে আমাদের রব! সকল নেয়ামতের জন্য আপনারই প্রশংসা … আর আপনার প্রশংসা করতে পারাও আপনার নেয়ামতরাজিরই অন্তর্ভুক্ত)

(কোনো প্রশংসাই সম্ভব নয় যদি না আপনি নেয়ামত দান করেন … আপনি সুউচ্চ ও মহান, কোনো বান্দাই আপনার যথাযথ প্রশংসা করতে সক্ষম নয়)

সতর্কতা:

প্রশংসার শ্রেষ্ঠ বাক্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর সকল প্রশংসার মাধ্যমে, যা আমি জানি এবং যা জানি না; তাঁর সকল নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ, যা আমি জানি এবং যা জানি না। আবার বলা হয়েছে: হে আল্লাহ! আমি আপনার গুণের প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না, আপনি তেমনই যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন। আরও বলা হয়েছে: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমান হয় এবং তাঁর বর্ধিত অনুগ্রহের সমকক্ষ হয়। শায়খ ইউসুফ ইবনে উমর বলেছেন: এর ওপর ভিত্তি করে একটি ফিকহি মাসয়ালা উদ্ভাবিত হয় যে, যদি কেউ কসম করে যে সে আল্লাহর সর্বোত্তম প্রশংসাবাক্য দ্বারা প্রশংসা করবে; তবে যে ব্যক্তি এই মতভেদ থেকে বাঁচতে চায়, সে যেন এর সবগুলো দ্বারাই আল্লাহর প্রশংসা করে। সমাপ্ত—এটি আল-হাত্তাব উদ্ধৃত করেছেন।

আর গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বিসমিল্লাহর পর আলহামদুলিল্লাহ এনেছেন মহান কুরআনের অনুসরণ করে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর ওপর আমল করে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা।" অথবা তিনি বলেছেন: "বরকতহীন" অথবা বলেছেন: "ত্রুটিযুক্ত" অথবা বলেছেন: "বিচ্ছিন্ন" অর্থাৎ এর মর্যাদা অসম্পূর্ণ।

(অতঃপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নিরন্তর … মর্যাদার দিক থেকে রাসূলগণের মধ্যে যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ তাঁর ওপর)

প্রশংসার পরপরই তিনি সেই সত্তার ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করেছেন যার মাধ্যমে প্রশংসিত নেয়ামতসমূহ লাভ হয়েছে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), মহান আল্লাহর এই বাণীর আনুগত্য স্বরূপ: {হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও} এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর ওপর আমল করে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর যিকির এবং অতঃপর আমার ওপর সালাত পাঠের মাধ্যমে শুরু করা হয় না, তা বিচ্ছিন্ন।" আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হওয়ার অর্থ হলো তাঁর অনুগ্রহ দান করা, আর বান্দার পক্ষ থেকে তা হলো আল্লাহর কাছে তাঁর কাছে প্রার্থনা করা...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ১০)
نبي أو غيره، وكل ما ذكروه فيها يرجع إلى هذا، قاله في "نور البصر". وهي وإن كان معناها طلب الرحمة التى هي الانعام فيها معنى زائد عليه وهو التعظيم ولذلك اختلفوا في جواز الدعاء له صلى الله عليه وسلم بالرحمة وإن كان الراجح جوازه. والسلام من الله تعالى انعامه بالسلامة، ومن العبد طلب ذلك منه تعالى قاله في "نور البصر" أيضا. والصلاة مبتدء والسلام عطف عليه وخبره المجرور بعده وتترا حال أي متتابعة فإن كانت ألفها للتأنيث فهي حال من الصلاة وإن كانت منونة، والألف فيها كالألف في زيدا من رأيت زيدا، فهي حال من السلام أو من كل منهما. وهذا كقوله تعالى: {أرسلنا رسلنا تترا} قال الخازن أي مترادفين يتبع بعضهم بعضا، وقال في "الضياء" تترا بلا تنوين للجمهور وبه لابن كثير وأبي عمرو أي متتابعين والتاء بدل من واو لأنه من المواترة وهي المتابعة بين الأشياء اهـ. وقال ابن جزي تترا مصدر وهو موضوع موضع الحال أي متواترين والتواتر التتابع اهـ.

وقال في القاموس وجاؤوا تترا وينون وأصله وترا أي متتابعين وواتره مواترة ووتارا تابع أو لا تكون المواترة بين الأشياء إلا إذا وقعت بينهما فترة وإلا فهي مداركة ومواصفة اهـ.

وقوله على أجل المرسلين قدرا أي أفضلهم منزلة عند الله تعالى. ولا شك أنه، صلى الله عليه وسلم، أفضل من جميع الرسل والملائكة وجميع الخلق اجماعا ولا يدخل في الخلاف الجاري في التفضيل بين الأنبياء والملائكة. قال السراج البلقيني: ولا تظن بأحد من أيمة المسلمين أنه يتوقف في أفضليته، صلى الله عليه وسلم، على جميع الملائكة وسائر الأنبياء ومن زعم أن هذا ليس مما كلفنا به فزعمه باطل بل هذا من مسائل أصول الدين الواجبة الاعتقاد على كل مكلف اهـ. نقله محمد الأيسي في شرحه للهمزية في البيت الأول. وكون هذا عقيدة نحوه للهيثمي عن الزركشي وغيره. وقال السنوسي في شرح الجزائري: أفضليته صلى الله عليه وسلم على جميع المخلوقات تكاد أن تكون مما علم من الدين ضرورة وهو صلى الله عليه وسلم خارج عن الخلاف في
নবী হোক বা অন্য কেউ, আর এই বিষয়ে তারা যা উল্লেখ করেছেন তার সবই এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, যা "নূরুল বাসার" গ্রন্থে বলা হয়েছে। আর যদিও এর অর্থ রহমত বা দয়া প্রার্থনা করা—যা মূলত অনুগ্রহ দান করা—তবুও এতে অতিরিক্ত একটি অর্থ রয়েছে, আর তা হলো সম্মান প্রদর্শন। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য রহমতের দোয়া করার বৈধতার বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন, যদিও এর বৈধতাই অধিকতর শক্তিশালী মত। আর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সালামের অর্থ হলো নিরাপত্তা প্রদান করা, আর বান্দার পক্ষ থেকে এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলার কাছে সেই নিরাপত্তা প্রার্থনা করা। এটিও "নূরুল বাসার" গ্রন্থে বলা হয়েছে। আর 'আস-সালাত' শব্দটি মুবতাদা এবং 'আস-সালাম' এর ওপর আতফ, আর এর খবর হলো পরবর্তী মাজরুর অংশটি। 'তাতরা' শব্দটি হাল, অর্থাৎ যা ক্রমাগত বা ধারাবাহিকভাবে ঘটে। যদি এর আলিফটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক হয়, তবে এটি 'সালাত' থেকে হাল হবে। আর যদি তা তানভীনযুক্ত হয় এবং এর আলিফটি 'রাইতু জাইদান'-এর আলিফের মতো হয়, তবে এটি 'সালাম' থেকে অথবা উভয়টি থেকেই হাল হবে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: "আমি আমার রাসূলগণকে একে অপরের পেছনে পাঠিয়েছি"। খাজেন বলেন, অর্থাৎ একে অপরের অনুগামী হয়ে। "আদ-দিয়া" গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, জুমহুর ক্বারীগণের মতে 'তাতরা' শব্দটি তানভীন ছাড়া এবং ইবনে কাসির ও আবু আমর-এর মতে এটি তানভীনসহ; অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে। আর এর 'তা' অক্ষরটি 'ওয়াও'-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, কারণ এটি 'মুওয়াতারা' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো বিষয়সমূহের মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। ইবনে জুযাই বলেন, 'তাতরা' হলো একটি মাসদার যা হালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে আগত; আর 'তাওয়াতুর' মানে হলো পর্যায়ক্রমিক হওয়া।

আর "আল-কামুস" গ্রন্থে বলা হয়েছে: তারা ধারাবাহিকভাবে এসেছে, শব্দটি তানভীনসহও পড়া হয়। এর মূল হলো 'ওয়াতরান', অর্থাৎ ক্রমাগতভাবে আসা। আর একের পর এক আসা অর্থে 'ওয়াতারা', 'মুওয়াতারা' ও 'উয়িতার' শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়। অথবা বিষয়সমূহের মধ্যে 'মুওয়াতারা' কেবল তখনই ঘটে যখন সেগুলোর মধ্যে সামান্য বিরতি থাকে, অন্যথায় তাকে 'মুদারাকা' বা 'মুওয়াসাফা' বলা হয়।

আর তাঁর উক্তি "মর্যাদার দিক থেকে রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ"—এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলার কাছে সম্মানের দিক থেকে তিনি সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বসম্মতিক্রমে সমস্ত রাসূল, ফেরেশতা এবং সমগ্র সৃষ্টির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। নবী ও ফেরেশতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে যে মতভেদ রয়েছে, তিনি এর অন্তর্ভুক্ত নন। সিরাজ আল-বুলকিনী বলেন: মুসলিম ইমামগণের কারো সম্পর্কে এমন ধারণা করো না যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমস্ত ফেরেশতা ও অন্যান্য নবীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকবেন। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে এটি আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত নয়, তার দাবি বাতিল; বরং এটি দ্বীনের মূলনীতিসমূহের এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওপর বিশ্বাস রাখা ওয়াজিব। মুহাম্মাদ আল-আইসি 'হামজিয়া'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রথম পংক্তিতে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটি আকীদার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি হাইতামি, যারকাশি এবং অন্যান্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইমাম সানুসি 'শারহুল জাযাইরিয়া' গ্রন্থে বলেন: সমস্ত সৃষ্টির ওপর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি এমন পর্যায়ে যে, তা দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞাত বিষয় হিসেবে গণ্য হওয়ার কাছাকাছি। আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই মতভেদের ঊর্ধ্বে যা...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ১১)
التفضيل بين الأنبياء والملائكة اهـ.

(وآله)، عطف على أجل، وآله الصحيح في مذهبنا أنهم بنو هاشم قيل وبنو المطلب وهو مذهب الشافعي، وقيل ما خرج من لؤي آل له، وهو قول أصبغ، وقيل ما خرج من غالب وقيل آله: أتباعه. قال الزرقاني في شرح المواهب: وفي انهم بنو هاشم أو والمطلب أو عترته وأهل بيته أو بنو غالب أو أتقياء أمته واختير في مقام الدعاء وأيد بأنه إذا اطلق شمل الصحب والتابعين لهم بإحسان أقوال اهـ منه.

(وصحبه) اسم جمع صاحب، والصاحب في الأصل الملازم وفي العرف إذا أضيف له صلى الله عليه وسلم كل من لقيه مؤمنا به وإن لم يلازمه لإسلام أبيه ومن ارتد منهم والعياذ بالله تعالى ثم أسلم عاد له اسم الصحابي على المرجح ولابد من كون اللقاء قبل الوفاة فيخرج من لقبه بعدها كأبي ذؤيب ولا يدخل الأنبياء الذين اجتمع بهم ليلة الإسراء ولا الملائكة لأن المراد الاجتماع على الوجه المتعارف.

(ومن سلك سبيلهم) أي ذهب واتبع طريقهم، وسلك يتعدى بنفسه وقد يتعدى بالهمزة وعداه بعضهم بالباء، والسبيل والطريق والصراط ألفاظ مترادفة كلها تذكر وتؤنث.

(ما دار) أي تقلب (نجم في فلك) والفلك جسم لطيف مستدير الشكل مشتمل على أجرام صقيلة نورانية تتحرك بتحركه دائما وتلك الأجرام هي الكواكب، والقمر في الفلك الذي يلينا وهو السماء الدنيا، والفلك الثاني السماء الثانية وهو العطارد والثالث وهو السماء الثالثة للزهرة كرطبة والرابع للشمس والخامس للمريخ وهو نجم الحمرة ويقال له كوكب الدم وكوكب النار للدلالة على ذلك في زعمهم والفلك السادس وهو السماء السادسة للمشتري والسابع لزحل اهـ.

وكل ما يظهر من المنازل والكواكب في الفلك الثامن وهو فوق السماء السابعة بألف عام كما قال بعضهم وأصغرها أكبر من الأرض بمائتين وعشرين مرة كما في بعض شراح الرسالة، عند قوله ولا ينظر
নবী ও ফেরেশতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বদান সংক্রান্ত আলোচনা সমাপ্ত।

(এবং তাঁর পরিবার-পরিজন), এটি ‘আজাল্ল’ শব্দের উপর সংযোজন। ‘আল’ (পরিবার) শব্দটির ক্ষেত্রে আমাদের মাযহাবের সঠিক মত হলো তারা বনু হাশিম। কেউ কেউ বলেছেন বনু মুত্তালিবও এর অন্তর্ভুক্ত, যা ইমাম শাফিঈর মাযহাব। আবার বলা হয়েছে, লুআই-এর বংশধরগণ তাঁর পরিবার, এটি আসবাগের অভিমত। কেউ বলেছেন গালিবের বংশধরগণ। আবার কারো মতে, তাঁর অনুসারীরাই তাঁর পরিবার। যুরকানি ‘শারহুল মাওয়াহিব’-এ বলেছেন: তারা বনু হাশিম, নাকি বনু মুত্তালিবও অন্তর্ভুক্ত, নাকি তাঁর বংশধর ও আহলে বাইত, নাকি বনু গালিব, নাকি তাঁর উম্মতের মুত্তাকিগণ—এসব নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। দোয়ার ক্ষেত্রে শেষোক্ত মতটিই গ্রহণ করা হয়েছে এবং সমর্থন করা হয়েছে যে, যখন এটি সাধারণভাবে বলা হয়, তখন এর মধ্যে সাহাবী এবং উত্তমরূপে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণও অন্তর্ভুক্ত হন। (যুরকানি থেকে সমাপ্ত)।

(এবং তাঁর সাহাবীগণ) এটি ‘সাহিব’ শব্দের সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। ‘সাহিব’ শব্দের মূল অর্থ হলো সংগী। তবে পরিভাষায় যখন এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধিত হয়, তখন এর অর্থ হলো—যিনি তাঁর প্রতি ঈমান রাখা অবস্থায় তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন, যদিও তিনি দীর্ঘ সময় তাঁর সাহচর্যে থাকেননি। এমনকি তাঁর পিতার ইসলামের কারণে (শিশুরাও এর অন্তর্ভুক্ত)। তাদের মধ্যে যারা ধর্মত্যাগী হয়েছিল—আল্লাহ তাআলা রক্ষা করুন—অতঃপর পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করেছে, অধিকতর শক্তিশালী মতানুসারে তাদের জন্য ‘সাহাবী’ নাম বহাল থাকবে। তবে এই সাক্ষাৎ অবশ্যই তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে হতে হবে। ফলে তাঁর ইন্তেকালের পর যারা তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন তারা সাহাবী হিসেবে গণ্য হবেন না, যেমন আবু যুআইব। মেরাজের রাতে যেসব নবীদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল তাঁরাও এর অন্তর্ভুক্ত হবেন না, এবং ফেরেশতারাও নন। কারণ এখানে সাক্ষাৎ বলতে প্রথাগত ও স্বাভাবিক সাক্ষাৎ উদ্দেশ্য।

(এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছে) অর্থাৎ যারা তাদের পথে চলেছে ও তা অনুসরণ করেছে। ‘সালাকা’ শব্দটি নিজেই কর্মপদ গ্রহণ করে, কখনো হামযাহ যোগে মুতাআদ্দি হয়, আবার কেউ কেউ একে ‘বা’ অব্যয় যোগে মুতাআদ্দি করেছেন। সাবিল, ত্বরিক এবং সিরাত শব্দগুলো সমার্থক; এগুলোর প্রতিটিই পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

(যতদিন আবর্তিত হবে) অর্থাৎ ঘুরবে (নক্ষত্র কক্ষপথে)। কক্ষপথ হলো একটি সূক্ষ্ম, গোলাকার বস্তু যা এমন কিছু মসৃণ ও জ্যোতির্ময় পিণ্ড ধারণ করে, যা কক্ষপথের গতির সাথে সর্বদা সচল থাকে। আর এই পিণ্ডগুলোই হলো গ্রহ-নক্ষত্র। আমাদের নিকটবর্তী কক্ষপথে রয়েছে চাঁদ, যা দুনিয়ার আসমান। দ্বিতীয় কক্ষপথ হলো দ্বিতীয় আসমান, যা বুধ গ্রহের। তৃতীয়টি হলো তৃতীয় আসমান যা শুক্র গ্রহের, যা তাজা খেজুরের ন্যায়। চতুর্থটি সূর্যের জন্য। পঞ্চমটি মঙ্গলের জন্য, যা লাল রঙের নক্ষত্র; তাদের ধারণা মতে একে রক্তের নক্ষত্র বা আগুনের নক্ষত্রও বলা হয়। ষষ্ঠ কক্ষপথ অর্থাৎ ষষ্ঠ আসমান বৃহস্পতির জন্য এবং সপ্তম আসমান শনির জন্য। (সমাপ্ত)।

আর চন্দ্রের অবস্থানসমূহ এবং নক্ষত্ররাজির যা কিছু দৃশ্যমান হয়, তা অষ্টম কক্ষপথে অবস্থিত। কারো মতে এটি সপ্তম আসমানের এক হাজার বছরের দূরত্বে অবস্থিত। যেমনটি ‘রিসালা’র কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার উল্লেখ করেছেন—নক্ষত্রগুলোর মধ্যে ক্ষুদ্রতমটিও পৃথিবীর চেয়ে ২২০ গুণ বড়। এটি ‘এবং তিনি তাকান না’ বাক্যটির আলোচনার প্রাক্কালে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ১২)
فى النجوم إلا ما يستدل به على القبلة نقله ف شرح المقنع. ولبعضهم بيت نقله الحفني في شرح الجامع الصغير في ترتيب الدراري في الأفلاك وهو:

(زحل اشترى مريخه من شمسه … فتزاهرت لعطار الأقمار)

ويسمى زحل كيوان والمقاتل والشيخ ويسمى المشتري البرجيس ويسمى عطارد بالكاتب وفي طوالع البيضاوي ممزوجا ببعض كلام الشيخ زكريا والأفلاك تسعة محيط بعضها ببعض الأول منها الفلك الأعظم وهو بلسان أهل الشرع العرش المجيد وهو الجسم المحيط بسائر الأجسام ويسمى الفلك الأطلس لكونه غير مكوكب وتحت الفلك الأعظم فلك الثوابت وسميت بذلك لبطء حركتها ثم بعده سبعة أفلاك: فلك زحل على الترتيب المار إلى أن وصل إلى فلك القمر وهو سماء الدنيا، اهـ.

وقال العضد في المواقف ممزوجا ببعض كلام غيره المقصد الأول أن الحكماء زعموا أن الأفلاك تسعة: فلك الأفلاك وهو المسمى عندهم بالفلك الأطلسي لأنه غير مكوكب والمسمى بالعرش المجيد في لسان الشرع وتحته فلك الثوابت وهو الكرسي ثم فلك زحل إلى أن وصل إلى فلك القمر، قال وهو سماء الدنيا. اهـ.

وفي الطوالع والمواقف أن الأفلاك شفافة لا لون لها إذ لو كانت ملونة لحجبت الأبصار عن رؤيتها ورؤية ما وراءها لأن كل ملون كذلك واللازم باطل ولم ير شيء من الكواكب فكذلك الملزوم اهـ ومقتضاهما أن الأفلاك السبعة هي السماوات وفي كلام بعضهم أنها أجسام لاصقة بالسماوات والله أعلم.

وقال الزرقاني في شرح المواهب: ذهبت طائفة من أهل الكلام إلى أن العرش فلك مستدير من جميع جوانبه محيط بالعالم من كل جهة وربما سموه الفلك التاسع والفلك الأطلس قاله ابن كثير وليس يجيد لأنه قد ثبت في الشرع ان له قوائم تحمله الملائكة والفلك لا قوائم له وأيضا فالعرش في اللغة سرير الملك وليس فلكا والقرآن إنما نزل بلغة العرب
নক্ষত্ররাজির বিষয়ে কেবল সেই অংশটি ছাড়া যা কিবলা নির্ধারণে সহায়ক হয়, যা শারহুল মুকনি-তে বর্ণিত হয়েছে। আর জনৈক কবির একটি কবিতা হাফনী শারহুল জামিউস সাগির-এ গ্রহ-নক্ষত্রের বিন্যাস বর্ণনায় উদ্ধৃত করেছেন, যা হলো:

(শনি তার মঙ্গলকে তার সূর্য থেকে ক্রয় করেছে … ফলে চন্দ্রসমূহ বুধের জন্য উজ্জ্বল হয়েছে)

শনিকে কায়ওয়ান, আল-মুকাতিল এবং আশ-শাইখ বলা হয়। বৃহস্পতিকে আল-বারজিস এবং বুধকে আল-কাতিব বলা হয়। তাওয়ালিউল বায়জাবিতে শায়খ যাকারিয়ার কিছু কথার সাথে মিশ্রিতভাবে উল্লিখিত আছে যে, আকাশমণ্ডল বা কক্ষপথসমূহ নয়টি, যার একটি অপরটিকে পরিবেষ্টন করে আছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো মহান কক্ষপথ, যা শরীয়তবিদদের ভাষায় আরশে মাজীদ। এটি এমন এক বস্তু যা অন্যান্য সকল দেহ বা বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে। একে নক্ষত্রহীন কক্ষপথ বলা হয় কারণ এতে কোনো নক্ষত্র নেই। মহান কক্ষপথের নিচে রয়েছে স্থির নক্ষত্রদের কক্ষপথ, এবং এদের গতির ধীরতার কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে। এরপর রয়েছে আরও সাতটি কক্ষপথ: শনির কক্ষপথ থেকে শুরু করে পূর্বে বর্ণিত ক্রমধারা অনুযায়ী চন্দ্রের কক্ষপথ পর্যন্ত, যা দুনিয়ার আসমান। সমাপ্ত।

আদুদ আল-মাওয়াকিফ গ্রন্থে অন্যদের কিছু বক্তব্যের সাথে মিলিয়ে বলেছেন, প্রথম উদ্দেশ্য হলো: দার্শনিকগণ মনে করেন যে আকাশমণ্ডল নয়টি: কক্ষপথসমূহের কক্ষপথ, যাকে তাদের কাছে নক্ষত্রহীন কক্ষপথ বলা হয় কারণ এটি নক্ষত্রহীন, আর শরীয়তের পরিভাষায় একে আরশে মাজীদ বলা হয়। এর নিচে রয়েছে স্থির নক্ষত্রদের কক্ষপথ, যা হলো কুরসী। এরপর শনির কক্ষপথ থেকে শুরু করে চন্দ্রের কক্ষপথ পর্যন্ত। তিনি বলেন, এটিই হলো দুনিয়ার আসমান। সমাপ্ত।

আত-তাওয়ালি এবং আল-মাওয়াকিফ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, কক্ষপথসমূহ স্বচ্ছ ও বর্ণহীন; কেননা এগুলো যদি রঙিন হতো তবে তা দৃষ্টিকে তাদের দেখতে এবং তাদের পেছনে যা আছে তা দেখতে বাধা দিত। কারণ প্রতিটি রঙিন বস্তুর ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটে, আর এই ফলাফলটি অসম্ভব, কারণ এমতাবস্থায় নক্ষত্ররাজির কিছুই দেখা যেত না। সুতরাং এর কারণটিও বাতিল। সমাপ্ত। এই দুই কিতাবের বক্তব্যের সারমর্ম হলো যে, সাতটি কক্ষপথই হলো আসমানসমূহ। আর কারো কারো মতে, এগুলো আসমানসমূহের সাথে লেগে থাকা কিছু বস্তু। আল্লাহই ভালো জানেন।

যারকানী শারহুল মাওয়াহিব-এ বলেছেন: ইলমে কালামের একদল পণ্ডিতের অভিমত হলো যে, আরশ এমন একটি গোলাকার কক্ষপথ যা সকল দিক থেকে জগতকে পরিবেষ্টন করে আছে। তারা একে সম্ভবত নবম কক্ষপথ এবং নক্ষত্রহীন কক্ষপথ বলে থাকেন। ইবনে কাসীর এটি উল্লেখ করেছেন, তবে এটি সঠিক নয়। কারণ শরীয়তে এটি প্রমাণিত যে, আরশের পায়া রয়েছে যা ফেরেশতাগণ বহন করেন, অথচ কক্ষপথের কোনো পায়া থাকে না। অধিকন্তু, আরবি ভাষায় আরশ মানে হলো রাজসিংহাসন, কোনো কক্ষপথ নয়। আর কুরআন তো আরবি ভাষাতেই নাজিল হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ১৩)
فهو سرير تحمله الملائكة كالقبة على العالم وهو سقف المخلوقات اهـ.

تنبيهان:

الأول: قال في المواهب اللدنية: قال الحليمي المقصود بالصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم التقرب إلى الله تعالى وقضاء بعض حق النبي صلى الله عليه وسلم علينا وتبعه ابن عبد السلام فقال ليست صلاتنا على النبي صلى الله عليه وسلم شفاعة له فإن مثلنا لا يشفع لمثله لكن الله تعالى أمرنا بمكافأة من أحسن إلينا فإن عجزنا عنها كافيناه بالدعاء، فأرشدنا الله لما علم من عجزنا عن مكافأة نبينا إلى الصلاة عليه ونحوه للشيخ المرجاني وقال ابن العربي: فائدة الصلاة عليه ترجع إلى المصلي عليه لدلالة ذلك على نصوص العقيدة وإظهار المحبة والاحترام للواسطة الكريمة صلى الله عليه وسلم اهـ منه. ونقله العارف بالله أبو زيد الفاسي في حاشيته على كيمياء السعادة.

الثاني: سئل الإمام السنوسي عن قول الفقهاء ان الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم مقبولة قطعا هل هو صحيح أم لا؟ فأجاب: بأنه رأى ذلك منصوصا للإمام الشاطبي، قال وهو مشكل إذ لو قطع بقبولها لقطع للمصلي عليه بحسن الخاتمة، ثم أجاب بأن معنى القطع بالقبول أنه إذا ختم له بحسن الخاتمة وجد حسناتها مقبولة حتما بخلاف سائر الحسنات لا يوثق بقبوله ولو مات صاحبه على الإيمان ويحتمل أن قبولها إذا صدرت من صاحبها على وجه محبته له عليه السلام فيقطع بانتفاعه بها في الآخرة، ولو في تخفيف العذاب إذا قضي عليه به. ولو على وجه الخلود لعظم موضع محبة أشرف الخلق. ألا ترى أن تخفيف العذاب عن أبي لهب يوم الاثنين لعتقه من بشرته بولادته عليه الصلاة والسلام اهـ.

وبحث اللمطي في هذا الجواب بأنه احتمال عقلي لا دليل عليه، لأن النصوص مصرحة بإحباط عمل الكافر. قال وأما أبو لهب فخرج بالنص فلا يقاس عليه.
এটি একটি আরশ যা ফেরেশতাগণ বহন করেন, যা জগতের উপরে একটি গম্বুজের মতো এবং এটি সৃষ্টিজগতের ছাদ। সমাপ্ত।

দুটি সতর্কবার্তা:

প্রথমটি: 'মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আল-হালিমি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠের উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা এবং আমাদের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে হক বা অধিকার রয়েছে তার কিয়দংশ আদায় করা। ইবনে আব্দুস সালাম তাঁর অনুসরণ করে বলেছেন, নবীর ওপর আমাদের দরূদ পাঠ করা তাঁর জন্য কোনো শাফায়াত বা সুপারিশ নয়; কারণ আমাদের মতো কেউ তাঁর মতো মহৎ সত্তার জন্য শাফায়াত করতে পারে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমাদের আদেশ করেছেন যেন আমরা আমাদের প্রতি ইহসান বা অনুগ্রহকারীর প্রতিদান দেই। যদি আমরা তা করতে অপারগ হই, তবে যেন দোয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রতিদান দেই। যেহেতু আল্লাহ আমাদের নবীকে প্রতিদান দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের অক্ষমতা সম্পর্কে অবগত, তাই তিনি আমাদের তাঁর ওপর দরূদ পাঠের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। শেখ আল-মারজানিও অনুরূপ কথা বলেছেন। ইবনে আল-আরাবি বলেছেন: দরূদ পাঠের উপকারিতা স্বয়ং দরূদ পাঠকারীর দিকেই ফিরে আসে; কারণ এটি আকিদার মূল ভাষ্যসমূহের প্রমাণ বহন করে এবং সেই সম্মানিত মধ্যস্থতাকারীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করে। এটি সেখান থেকেই সমাপ্ত। আর আরিফ বিল্লাহ আবু যায়েদ আল-ফাসি এটি 'কিমিয়ায়ে সাআদাত'-এর টীকায় উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়টি: ইমাম সানুসিকে ফকিহগণের এই উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, নবীর ওপর দরূদ পাঠ কি নিশ্চিতভাবে কবুল হয়? এটি কি সঠিক নাকি নয়? তিনি উত্তর দিলেন: তিনি ইমাম শাতিবির কিতাবে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত দেখেছেন। তিনি (সানুসি) বলেন, এটি একটি জটিল বিষয়; কারণ যদি দরূদ কবুল হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যেত, তবে দরূদ পাঠকারীর জন্য ঈমানের সাথে মৃত্যুও নিশ্চিত হয়ে যেত। অতঃপর তিনি উত্তর দেন যে, কবুল হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার অর্থ হলো—যদি তার মৃত্যু ঈমানের সাথে হয়, তবে সে এই দরূদের সওয়াব অবশ্যই কবুল করা হয়েছে বলে দেখতে পাবে; অথচ অন্যান্য নেক আমলের কবুল হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় না, যদিও ব্যক্তি ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করে। আরও একটি সম্ভাবনা আছে যে, যদি দরূদ পাঠকারীর পক্ষ থেকে নবীর প্রতি ভালোবাসার কারণে দরূদটি উৎসারিত হয়, তবে পরকালে সে এর দ্বারা উপকৃত হবে বলে নিশ্চিত করা যায়, এমনকি যদি তার জন্য আজাব নির্ধারিত হয়ে থাকে তবুও সেই আজাব লাঘব করার মাধ্যমে। এমনকি তা যদি চিরস্থায়ী আজাবও হয়, কারণ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তার প্রতি ভালোবাসার মর্যাদা অত্যন্ত বিশাল। আপনি কি দেখেন না যে, প্রতি সোমবার আবু লাহাবের আজাব লাঘব করা হয় কারণ সে নবীর জন্মের সুসংবাদ পেয়ে দাসীকে মুক্ত করেছিল। সমাপ্ত।

আল-লামতি এই উত্তরের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন যে, এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্ভাবনা যার কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল নেই; কারণ পবিত্র গ্রন্থসমূহের বাণী কাফেরের আমল বাতিল হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট। তিনি বলেন, আর আবু লাহাবের বিষয়টি বিশেষ নস বা দলীল দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে, তাই একে অন্য কিছুর সাথে তুলনা করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ১৪)
(وبعد) ظرف زمان بنى لشبهة بحرف الجواب، كنعم في الاستغناء به عما بعده وعامله محذوف، أي وأقول بعد البسملة والحمدلة والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم تنبه (فاعلم) أيها المخاطب أي تحقق؛ (ان خير) أي أفضل، (ما اقتفى) من العلوم أي اتبعه وتعلمه أو علمه وألف فيه؛ (ذو) أي صاحب؛ (همة) هي قوة الانبعاث في الشيء وطلبه بالصدق بقطع الشواغل عما سواه؛ (سيرة) خبر أن وهو مضاف لقوله (خير مقتفي) بصيغة اسم مفعول أي متبع وهو نبينا محمد صلى الله عليه وسلم؛ والسيرة بكسر السين هيأة السير وجمعها سير أي طريقته وهيأته وحالته ثم خصت بحاله في غزواته ونحوها نقله الشيخ محمد بن عبد الباقي في شرح المواهب ولا يخفى عظيم فضل الاهتمام بسيرته صلى الله عليه وسلم لأن شرف كل علم بحسب شرف معلومه وهذا العلم هو الكفيل ببيان أحواله صلى الله عليه وسلم العلية وأطواره الشريفة من لدن كان في بطن أمه إلى انتقاله إلى درا كرامته ولحوقه بالرفيق الأعلى صلى الله عليه وسلم تسليما. (وها أنا) ها حرف تنبيه وأنا مبتدأ وخبره قوله (أذكر) أي أبين ويكثر استعمال ها التنبيه مع ضمير رفع منفصل بشرط أن يكون مرفوعا بالإبتداء بخلاف ما قام إلا أنا فلا تدخل على أنا ويشرط أن يخبر عنه باسم إشارة نحوها أنتم هؤلاء، وشذ قوله:

أبا حكم ها أنت خصم مجادل

قاله الدماميني واستعملها الناظم بدون اسم إشارة (في هذا الرجز) أحد البحور المعروفة يعنى نظمه هذا (من ذاك) أي من علم السيرة النبوية (ما) مفعول أذكر أي الذى (فيه) لمن حفظه وشرحه (سداد) بكسر السين وفتحها أي غنى وكفاية (من عوز) أي احتياج وعدم يعنى انه جمع في هذا النظم من علم السيرة ما يغني من تعلمه ويكفيه حتى لا يحتاج إلى غيره قال في المصباح السداد بالكسر ما تسد به القارورة وغيرها واختلف في سداد من عيش وسداد من عوز لما يرمق به العيش وتسد به الخلة فقال ابن السكيت والفارابي وتبعه الجوهري بالفتح
(অতঃপর) এটি সময়ের একটি পাত্র (যরফে যমান), যা উত্তরসূচক হরফের সাথে সাদৃশ্যের কারণে 'মাবনী' বা অপরিবর্তনীয় হয়েছে; যেমন উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে পরবর্তী অংশ থেকে অমুখাপেক্ষিতার দিক দিয়ে 'না'আম' (হ্যাঁ) শব্দের মতো। এর আমিল বা ক্রিয়ামূলটি উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ: বিসমিল্লাহ, হামদ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের পর আমি বলছি, আপনি সচেতন হোন; (জেনে রাখুন) হে সম্বোধিত ব্যক্তি, অর্থাৎ সুনিশ্চিত হোন; (নিশ্চয়ই সর্বোত্তম) অর্থাৎ সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ, (যা অনুসরণ করা হয়) জ্ঞানসমূহের মধ্য থেকে, অর্থাৎ যা অনুসরণ করা হয়, শিক্ষা করা হয় অথবা যা শিক্ষা দেওয়া হয় এবং যাতে গ্রন্থ রচনা করা হয়; (অধিকারী) অর্থাৎ মালিক; (দৃঢ় সংকল্পের) এটি হলো কোনো বিষয়ের প্রতি ধাবিত হওয়ার শক্তি এবং অন্যান্য সকল ব্যস্ততা ত্যাগ করে সততার সাথে তা অন্বেষণ করা; (সীরাত বা জীবনচরিত) এটি 'ইন্না'-এর খবর (সংবাদ), যা তার পরবর্তী শব্দ (সর্বোত্তম অনুসৃত ব্যক্তি)-এর দিকে মুযাফ বা সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে; এখানে অনুসৃত ব্যক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। 'সীরাত' শব্দটি 'সীন' বর্ণে কাসরা বা যের সহযোগে অর্থ হলো চলার ধরণ বা আকৃতি, এর বহুবচন হলো 'সিয়ার'। অর্থাৎ তাঁর পথ, আকৃতি ও অবস্থা। অতঃপর এটি বিশেষভাবে তাঁর যুদ্ধাভিযান ও এই জাতীয় বিষয়গুলোর অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছে। এটি শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী 'শারহুল মাওয়াহিব'-এ উল্লেখ করেছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের মহান মর্যাদা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়; কারণ প্রতিটি ইলম বা জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে তার আলোচ্য বিষয়ের মর্যাদার ওপর। আর এই ইলম বা জ্ঞান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুউচ্চ অবস্থাসমূহ এবং তাঁর মায়ের গর্ভে থাকা থেকে শুরু করে তাঁর সম্মানজনক আবাসে প্রস্থান এবং মহান বন্ধুর (আল্লাহর) সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত তাঁর পবিত্র পর্যায়সমূহ বর্ণনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। আল্লাহ তাঁর ওপর যথাযথভাবে শান্তি বর্ষণ করুন। (আর এই যে আমি) এখানে 'হা' বর্ণটি সতর্ককারী অব্যয় এবং 'আমি' শব্দটি মুবতাদা বা উদ্দেশ্য, যার খবর বা বিধেয় হলো (উল্লেখ করছি) অর্থাৎ বর্ণনা করছি। আর 'হা' সতর্ককারী অব্যয়টি পৃথক কর্তৃবাচক সর্বনামের সাথে অধিক ব্যবহৃত হয়, শর্ত হলো সেটি মুবতাদা হিসেবে 'রাফা' বা পেশ যুক্ত অবস্থায় থাকবে; পক্ষান্তরে 'আনা' (আমি) ব্যতীত অন্য কেউ দাঁড়ায়নি—এমন ক্ষেত্রে 'আনা'-এর শুরুতে এটি প্রবেশ করবে না। আর শর্ত হলো এর সংবাদ বা খবরটি ইশারা বা নির্দেশক বিশেষ্য হতে হবে, যেমন: 'হা আনতুম হাউলাই'। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে যেমন কবি বলেছেন:

হে আবাহাকাম! এই যে আপনি একজন বিবাদী শত্রু

এটি দামামীনী বলেছেন, আর কাব্য রচয়িতা একে ইশারা বা নির্দেশক বিশেষ্য ছাড়াই ব্যবহার করেছেন। (এই রজয ছন্দে) যা পরিচিত ছন্দগুলোর অন্যতম একটি; অর্থাৎ তাঁর এই কাব্যখণ্ডে; (তা থেকে) অর্থাৎ নববী সীরাত শাস্ত্র থেকে; (যা) এটি 'উল্লেখ করছি' ক্রিয়ার কর্মপদ, অর্থাৎ যা (তাতে রয়েছে) হিফযকারী ও ব্যাখ্যাকারীর জন্য (পর্যাপ্ততা) 'সীন' বর্ণে যের বা যবর উভয়ভাবেই পড়া যায়, যার অর্থ হলো সচ্ছলতা ও প্রয়োজনীয় জিনিসের প্রাচুর্য; (অভাব থেকে) অর্থাৎ প্রয়োজন ও শূন্যতা থেকে। অর্থাৎ তিনি এই কাব্যে সীরাত শাস্ত্রের এমন বিষয়াদি সংকলন করেছেন যা শিক্ষার্থীকে সচ্ছল করে তুলবে এবং তার জন্য যথেষ্ট হবে, এমনকি সে অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী হবে না। 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'সিদাদ' (যের যোগে) হলো যা দ্বারা বোতল বা অন্য কিছু বন্ধ করা হয়। তবে জীবনযাত্রার বা অভাবের 'সাদাদ' বা 'সিদাদ' (যার দ্বারা জীবন অতিবাহিত হয় এবং অভাব দূর হয়) এর ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। ইবনুল সিক্কিত এবং আল-ফারাবী বলেছেন এটি যবর যোগে 'সাদাদ' হবে এবং জাওহারীও তাঁদের অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ১৫)
والكسر واقتصر الأكثر على الكسر منهم ابن قتيبة وثعلب والأزهري لأنه مستعار من سداد القارورة. اهـ من شرح الزرقاني للمواهب بلفظه. وفي القاموس وسداد من عوز وعيش لما يسد به الخلة قد يفتح أو يجر وإذا تأملته علمت أن قول مولاي إبراهيم في شرحه هو بكسر السين لا بالفتح مخالف لما مر وذكر في شرحه هنا أن المامون قال يوما بحضرة النضر بن شميل انه صلى الله عليه وسلم قال: "ان الرجل إذا تزوج المرأة لدينها وجمالها كان فيه سداد من عوز" بفتح السين، فقال النضر بكسر السين، فقال له المامون أو تلحنني يا نضر؟ قال لا ولكن لحن هشيم الذى حدثك. فأجازه المامون بجائزة سنية وقال النضر سبحان الله كسرت سين أعطاني الله عليها كذا وكذا ..

(لمبتغي التحصيل من أولي الهدى)

المجرور متعلق بقوله سداد والمبتغى الطالب والتحصيل تمييز ما أراد حصوله ومعرفته وأولى الهدى أصحابه والهدى التوفيق، يعنى أنه يبين في هذا النظم من علم السيرة النبوية ما فيه الكفاية لمن يطلب معرفة ما يريد حصوله من أصحاب التوفيق حتى لا يحتاج إلى غير هذا النظم لكثرة ما جمع من مسائل هذا الفن إذ قد حضل له من هذا النظم ما يسد خلته ويغنيه من احتياجه. وفي القاموس العوز بالتحريك الحاجة عوز الشيء كفرح لم يوجد والرجل افتقر كأعوز.

(عسى بنفعهم به أن أرشدا) هذا في المعنى بيان للسبب الحامل له على النظم فأفاد أنه إنما نظمه لأجل رجائه أن يرشد أي يوفق بسبب نفعه للناس بنشر العلم لكثرة ثواب من يعلم الناس الخير والنفع إيصال الخير ودفع الضر وأن أرشدا خبر عسى وبنفعهم معمول أرشدا وقدم على أن لأنه مجرور يتسع فيه ما لا يتسع في غيره كقوله:

كان جزائي بالعصا أن أجلدا

وفي القاموس رشد كنصر وفرح اهتدى وأرشده الله، والرشد الاستقامة على طريق الحق مع تصلب فيه اهـ.

(سميته) أي هذا النظم أي وضعت له هذا الاسم (بقرة الأبصار) جمع
এবং কাসরা (জের)। ইবনে কুতায়বা, ছা'লাব এবং আল-আজহারীসহ অধিকাংশ আলেম কেবল কাসরার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, কারণ এটি বোতলের ছিপির (সিদাদ) শব্দ থেকে রূপকার্থে নেওয়া হয়েছে। আল-মাওয়াহিবের ওপর যুরকানী-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) থেকে এটি হুবহু উদ্ধৃত। কামুস গ্রন্থে আছে: অভাব ও জীবিকার ক্ষেত্রে 'সিদাদ' বলতে ওই জিনিসকে বোঝায় যা দ্বারা প্রয়োজন মেটানো হয়। এটি ফাতহা (যবর) বা কাসরা (জের) উভয়ভাবেই পড়া যায়। আপনি যদি বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন, তবে জানতে পারবেন যে মাওলায় ইব্রাহীম তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে সিন বর্ণে কেবল কাসরা হওয়ার এবং ফাতহা না হওয়ার যে কথা বলেছেন, তা পূর্বে বর্ণিত বিষয়ের পরিপন্থী। তিনি এখানে তার ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, একদিন খলিফা মামুন নাদর ইবনে শুমাইলের উপস্থিতিতে বললেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নারীকে তার দ্বীনদারি ও সৌন্দর্যের কারণে বিবাহ করে, তবে তাতে অভাব পূরণের উপাদান (সিদাদ) রয়েছে" —খলিফা এখানে সিন বর্ণে ফাতহা দিয়ে উচ্চারণ করলেন। তখন নাদর বললেন: সিন বর্ণে কাসরা হবে। তখন মামুন তাকে বললেন: হে নাদর! তুমি কি আমার ভুল ধরছ? তিনি বললেন: না, বরং হুশাইম ভুল করেছেন যিনি আপনাকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর মামুন তাকে একটি উচ্চমানের পুরস্কার প্রদান করলেন। তখন নাদর বললেন: সুবহানাল্লাহ! আমি একটি সিনের নিচে কাসরা দিয়েছি, যার বিনিময়ে আল্লাহ আমাকে অমুক অমুক জিনিস দান করেছেন।

(হেদায়েতপ্রাপ্তদের মধ্য হতে জ্ঞান অর্জনে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য)

মাজরুর শব্দটি 'সিদাদ' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। 'মুবতাগী' অর্থ অন্বেষণকারী। 'তাহসীল' হলো তিনি যা অর্জন করতে এবং জানতে চেয়েছেন তার স্বরূপ। 'উলুল হুদা' অর্থ হেদায়েতের অনুসারীগণ এবং 'হুদা' অর্থ তাওফিক। এর অর্থ হলো, তিনি সীরাতুন্নবী বিষয়ক এই কাব্যগ্রন্থে এমন সব পর্যাপ্ত বিষয় বর্ণনা করছেন যা সেই তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হবে যে কাঙ্ক্ষিত জ্ঞান অর্জন করতে চায়; যাতে করে এই শাস্ত্রের বহুবিধ মাসআলা সংকলিত হওয়ার কারণে তাকে এই কাব্যগ্রন্থ ছাড়া অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী হতে না হয়। কেননা এই কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমেই তার প্রয়োজন পূরণ হবে এবং সে অমুখাপেক্ষী হয়ে যাবে। কামুস গ্রন্থে আছে: 'আওয়ায' (হরকতের সাথে) অর্থ প্রয়োজন। 'আওয়াযাশ শায়য়ি' (ফারাযা-এর ওজনে) অর্থ কোনো কিছু না পাওয়া। আর 'রাজুলুন আওয়াযা' অর্থ ব্যক্তিটি দরিদ্র হয়ে পড়েছে, যেমন 'আ'ওয়াযা' বলা হয়।

(আশা করা যায় তাদের উপকারের মাধ্যমে আমি সঠিক পথ পাব) এটি অর্থগতভাবে কাব্যটি রচনার পেছনের কারণের বর্ণনা। তিনি বুঝিয়েছেন যে, তিনি এটি কেবল এই আশায় রচনা করেছেন যে তাকে সঠিক পথ দেখানো হবে অর্থাৎ জ্ঞান প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে উপকৃত করার কারণে তাকে তাওফিক দেওয়া হবে। কেননা মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেওয়ার সওয়াব অনেক বেশি। 'নাফউ' অর্থ কল্যাণ পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতি দূর করা। 'আন আরশাদা' হলো 'আসা'-এর খবর। আর 'বিনাফয়িহিম' হলো 'আরশাদা'-এর মামূল, যা 'আন'-এর আগে আনা হয়েছে। কারণ এটি মাজরুর, আর এক্ষেত্রে এমন প্রশস্ততা বজায় রাখা যায় যা অন্য ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। যেমন কবি বলেছেন:

লাঠি দ্বারা আমার শাস্তি ছিল চাবুক মারা হওয়া

কামুস গ্রন্থে আছে: 'রাশাদা' (নাসারা ও ফারিহা-এর ওজনে) অর্থ পথ পাওয়া। আর 'আরশাদাহুল্লাহ' অর্থ আল্লাহ তাকে পথ দেখিয়েছেন। 'রুশদ' অর্থ হকের পথে অবিচলতার সাথে স্থির থাকা। সমাপ্ত।

(আমি এর নামকরণ করেছি) অর্থাৎ এই কাব্যগ্রন্থের, অর্থাৎ আমি এর এই নাম রেখেছি (কুররাতুল আবসার) এটি বহুবচন।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ১৬)
بصر يقال قرت عينه تقر بالكسر والفتح قرة بالضم وقرورا أي سكنت وثبتت لأنها رأت ما كانت متشوفة إليه وأقر الله عينه، واسمها طابق مسماها، فإن من حصلها وفهم معناها تم مرامه وشفي غليله لكثرة ما حصل له من علم السير وسكن بصره فلم يتشوف إلى غيره (في سيرة المشفع المختار) أي طريقته وأحواله والمشفع من قبلت شفاعته والشفاعة لغة الضم ومنه الشفع ضد الوتر لأنه ضم واحد لآخر وكذا الشفعة لأنها ضم أحد الشريكين نصيب صاحبه إلى نصيبه هو والشفاعة ضمك للغير في جاهك قاله القرطبي في المفهم في شرح مسلم، والجاه الشرف ورفعة القدر، والمختار المفضل على جميع الخلائق يعنى بهذا نبينا وحبيبنا وقرة أعيننا وملاذنا ووسيلتنا إلى ربنا محمدا صلى الله عليه وسلم وشرف وكرم ومجد وعظم ولاشك أنه المنفرد بالشفاعة العظمى في الموقف الهائل حين ضاق بالخلائق الخناق واتهم البرآء أنفسهم وكشف عن ساق نسأل الله تعالى بمنه أن يميتنا على ملته ومحبته وأن يحشرنا في زمرته نحن وأحبتنا بجاهه العظيم فقد قال عليه أفضل الصلاة وأزكى التسليم: "توسلوا بجاهي فإن جاهي عند الله عظيم" (مرتبا) حال من فاعل أذكر (له) أي لهذا الرجز (على الأبواب) جمع باب وهو في اللغة فرجة في ساتر يتوصل بها من داخل إلى خارج وبالعكس حقيقة في الذوات كباب الدار ومجازا في المعاني كما هنا فقوله بيان نسبة إلخ .. هو الباب الذى يتوصل منه إلى معرفة نسبه، صلى الله عليه وسلم، التى هي وراء الساتر الحائل دون معرفته والساتر هو الجهل فمن دخل من هذا الباب توصف إلى ما وراء ذلك الساتر، ورتب الناظم رحمه الله مسائل السيرة النبوية على أحواله، صلى الله عليه وسلم، فذكر كل حال في باب معبرا عن الباب بالبيان لأن ذلك أيسر لمن أراد الوقوف على مسألة منه فإنه إذا كانت أبوابه مرتبة مذكورا كل نوع منها خاص في باب بإنفراده سهل طلب تلك المسألة على طالبها إذ لا يبحث عنها إلا في باب واحد بخلاف ما إذا كانت أنواع مسائله كلها مذكورة في باب واحد من غير ترتيب فإنه يعسر على الطالب الوقوف على تلك المسألة
দৃষ্টি। বলা হয়, তার চোখ শীতল হয়েছে, যা কাসরা (জের) বা ফাতহা (যবর) যোগে উচ্চারিত হতে পারে, যার অর্থ হলো স্থির হওয়া ও প্রশান্ত হওয়া; কারণ চোখ এমন কিছু দেখেছে যার জন্য সে ব্যাকুল ছিল। আল্লাহ তার চোখকে প্রশান্ত করুন। আর এই নামটি এর নামকরণের বিষয়ের সাথে হুবহু মিলে গেছে। কেননা যে ব্যক্তি এটি অর্জন করবে এবং এর অর্থ অনুধাবন করবে, তার উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে এবং তার পিপাসা মিটবে; কারণ সে সীরাত শাস্ত্র থেকে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করবে এবং তার দৃষ্টি প্রশান্ত হবে, ফলে সে অন্য কিছুর প্রতি আর লালায়িত হবে না (মনোনীত সুপারিশকারীর সীরাতে) অর্থাৎ তাঁর জীবনপদ্ধতি ও অবস্থাসমূহ। 'মুশাফফা' হলেন তিনি যার সুপারিশ কবুল করা হয়েছে। আভিধানিক অর্থে 'শাফায়াত' হলো কোনো কিছুকে যুক্ত করা। এখান থেকেই 'শাফ' (জোড়) শব্দটি এসেছে যা 'উইতর' (বিজোড়) এর বিপরীত; কারণ এটি এককে অন্যের সাথে যুক্ত করা। তেমনিভাবে 'শুফআ' শব্দটিও এসেছে; কেননা এতে এক অংশীদার অপর অংশীদারের অংশকে নিজের অংশের সাথে যুক্ত করে। আল-কুরতুবী সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-মুফহিম'-এ বলেছেন: 'শাফায়াত হলো অন্যের উপকারের জন্য নিজের পদমর্যাদাকে যুক্ত করা।' আর 'জাহ' মানে হলো সম্মান ও সুউচ্চ মর্যাদা। আর 'আল-মুখতার' হলেন তিনি যাকে সমস্ত সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। এর দ্বারা আমাদের নবী, আমাদের প্রিয়তম, আমাদের চোখের প্রশান্তি, আমাদের আশ্রয়স্থল এবং আমাদের রবের নিকট আমাদের মাধ্যম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বোঝানো হয়েছে; আল্লাহ তাঁকে অধিক সম্মানিত, উচ্চ মর্যাদাশীল ও মহিমান্বিত করুন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সেই ভয়াবহ হাশরের ময়দানে তিনিই এককভাবে মহান সুপারিশের অধিকারী হবেন, যখন সমস্ত সৃষ্টির প্রাণ কণ্ঠাগত হবে, নির্দোষ ব্যক্তিরা নিজেদের দোষারোপ করবে এবং আল্লাহর পা উন্মোচিত হবে। আমরা মহান আল্লাহর অনুগ্রহে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাঁর দ্বীন ও মহব্বতের ওপর মৃত্যু দান করেন এবং আমাদের ও আমাদের প্রিয়জনদের তাঁর মহান মর্যাদার উসিলায় তাঁর দলের অন্তর্ভুক্ত করে হাশরে একত্রিত করেন। তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক। তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার মর্যাদার উসিলায় প্রার্থনা করো, কারণ আল্লাহর নিকট আমার মর্যাদা অনেক মহান।" (সুসংবদ্ধভাবে) এটি বর্ণনাকারীর একটি অবস্থা। (তার জন্য) অর্থাৎ এই কাব্যগ্রন্থের জন্য। (অধ্যায়সমূহে বিভক্ত করে) এটি 'বাব' শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে এটি আবরণের মাঝে এমন প্রবেশপথ যার মাধ্যমে ভেতর থেকে বাইরে এবং বাইরে থেকে ভেতরে যাতায়াত করা যায়। এটি বস্তুগত জিনিসের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত হয় যেমন ঘরের দরজা, আর অর্থগত বা বিমূর্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয় যেমনটি এখানে হয়েছে। সুতরাং তাঁর উক্তি "বংশ পরিচয় বর্ণনা..." হলো এমন একটি অধ্যায় যার মাধ্যমে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশ পরিচয় জানার পথে পৌঁছানো যায়, যা জানার পথে অন্তরায় হওয়া এক আবরণের আড়ালে ছিল। আর সেই আবরণ হলো অজ্ঞতা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই অধ্যায় বা দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, সে সেই আবরণের পেছনের বিষয়গুলো জানতে পারবে। গ্রন্থকার (রহমতুল্লাহি আলাইহি) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সীরাতে নববীর বিষয়গুলোকে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি প্রতিটি অবস্থাকে একেকটি অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন এবং অধ্যায়কে 'বর্ণনা' হিসেবে ব্যক্ত করেছেন। কেননা যে ব্যক্তি কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে জানতে চায়, তার জন্য এটি সহজতর। কারণ যখন অধ্যায়গুলো সুশৃঙ্খল থাকে এবং প্রতিটি প্রকারের আলোচনা পৃথক পৃথক অধ্যায়ে থাকে, তখন জ্ঞানপিপাসুর জন্য সেই নির্দিষ্ট বিষয়টি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়; কেননা তাকে কেবল একটি অধ্যায়ই খুঁজতে হয়। এর বিপরীতে যদি সমস্ত বিষয় কোনো সুশৃঙ্খল বিন্যাস ছাড়াই একটিমাত্র অধ্যায়ে উল্লেখ করা হতো, তবে ছাত্রের জন্য কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পাওয়া কঠিন হতো।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ১৭)
التى يريد الوقوف عليها إذ لا يدري في أي موضع من الكتاب كما أشار له بقوله: (مقربا) حال أيضا ومفعوله قوله، (مقاصد الطلاب) والمقاصد جمع مقصد بكسر الصاد كما قاله الزرقاني على المواهب وهو الأمر الذي يقصد ولاطلاب جمع طالب يعنى أنه رتبه على أبواب فذكر كل نوع خاص في باب بعد باب آخر حال كونه مقربا أي مسهلا ما يقصده طلاب الوقوف على كل مسألة بانفرادها إذ لا يطلب إلا في باب نوعها الخاص بها، ولما ذكر أنه يذكر في هذا الرجز ما يسد خلة المحتاج إلى معرفة هذا العلم وأنه يرتبه على أبواب متعددة ليسهل طلبه على طالبه وكان مقصده ذلك لا قدرة له على اتمامه إلا بعون الله تعالى تبرأ من حوله وقوته تواضعا لله تعالى فقال سائلا منه تعالى أن يعينه على ذلك:

(ومن ممد الكون في انعامه … استوهب العون على اتمامه)

المجرور معمول لقوله استوهب وقدمه لإفادة الحصر والامداد من معانيه الإعطاء {أمدكم بأنعام وبنين} ويعدى لمفعول ثان بالباء والناظم عداه بفي وعليه، ففي بمعنى الباء، ومن معانيه الإمهال وهو اللائق بفي. والله تعالى أعلم والكون المكون فهو يعم جميع الحوادث، والعون التقوية على الأمر ومعنى البيت عليه أنه يسأل العون على اتمام هذا الرجز على وفق مراده من الله تعالى لا من سواه فهو الذى امهل جميع الخلائق في انعامه أي أخرهم ولم يعاجلهم بالعقوبة مع كثرة الكفر والعصيان في إنسهم وجنهم وهذا استعطاف منه لله تعالى ليحصل له مراده، وممد اسم فاعل من أمده رباعيا ومعنى أستوهب العون أطلب منه أن يهبني أي يعطيني العون الله تعالى وفي هذا المعنى قال بعضهم:

(إذا كان عون الله للمرء خادما … تهيأ له من كل صعب مراده)

(وإن لم يكن عون من الله للفتى … فأول ما يجني عليه اجتهاده)
যে বিষয়ে তিনি অবগত হতে চান, যেহেতু তিনি জানেন না কিতাবের কোন স্থানে তা রয়েছে, যেমনটি তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: (নিকটবর্তীকারী হিসেবে)। এটিও একটি 'অবস্থা' (হাল) এবং এর কর্মপদ (মাফউল) হলো তাঁর বাণী—(ছাত্রদের উদ্দেশ্যসমূহ)। 'মাকাসিদ' শব্দটি 'মাকসাদ' এর বহুবচন—'সয়াদ' বর্ণে কাসরা সহকারে—যেমনটি যুরকানী 'মাওয়াহিব' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন। আর তা হলো এমন বিষয় যা উদ্দেশ্য করা হয়। 'তুল্লাব' শব্দটি 'তালিব' এর বহুবচন। অর্থাৎ তিনি এটিকে বিভিন্ন অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। ফলে তিনি প্রতিটি বিশেষ প্রকারকে একের পর এক অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন এমন অবস্থায় যে তা নিকটবর্তীকারী, অর্থাৎ প্রতিটি স্বতন্ত্র মাসআলা সম্পর্কে অবগত হতে ইচ্ছুক ছাত্রদের জন্য তাদের উদ্দিষ্ট বিষয়কে সহজতরকারী। কারণ সেই মাসআলাটি কেবল তার সংশ্লিষ্ট বিশেষ প্রকারের অধ্যায় ছাড়া অন্য কোথাও অন্বেষণ করা হবে না। আর যেহেতু তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই 'রাজায' কবিতায় তিনি এমন বিষয় বর্ণনা করবেন যা এই জ্ঞান অর্জনেচ্ছুদের অভাব পূরণ করবে এবং তিনি এটিকে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করছেন যাতে ছাত্রের জন্য তা অন্বেষণ করা সহজ হয়; আর এটিই ছিল তাঁর লক্ষ্য—কিন্তু মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত এটি সম্পন্ন করার সামর্থ্য তাঁর নেই—তাই তিনি আল্লাহর প্রতি বিনয়বশত নিজের শক্তি ও সামর্থ্যের অহমিকা থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন এবং আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে সাহায্যের প্রার্থনা করে বলেছেন:

(এবং সেই সত্তার নিকট হতে যিনি তাঁর নিআমতের মাধ্যমে মহাবিশ্বকে অবকাশ দেন … আমি এটি সম্পন্ন করার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছি)

পূর্বের অব্যয়যুক্ত (মাজরুর) অংশটি 'আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি' এর সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং সীমাবদ্ধতা বা একান্ততা বোঝানোর জন্য এটিকে আগে আনা হয়েছে। 'ইমদাদ' শব্দের একটি অর্থ হলো প্রদান করা—{তিনি তোমাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করেছেন বা প্রদান করেছেন}। এটি 'বা' অব্যয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় কর্মপদে পৌঁছায়, কিন্তু কবি এখানে 'ফী' অব্যয় ব্যবহার করেছেন। সেই অনুযায়ী 'ফী' এখানে 'বা' এর অর্থে ব্যবহৃত। 'ইমদাদ' এর আরেকটি অর্থ হলো অবকাশ দেওয়া, যা 'ফী' অব্যয়ের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। 'কাওন' বলতে সৃষ্টজগত বোঝায়, যা সকল সৃষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। 'আওন' অর্থ কোনো কাজে শক্তি প্রদান করা। এই পঙক্তির অর্থ হলো, তিনি এই 'রাজায' কবিতাটি তাঁর অভিপ্রায় অনুযায়ী সম্পন্ন করার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছেন, অন্য কারো কাছে নয়। কারণ তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর নিআমতের মধ্যে সকল সৃষ্টিকে অবকাশ দিয়েছেন, অর্থাৎ তিনি তাদের দ্রুত শাস্তি না দিয়ে বিলম্বিত করেছেন, যদিও মানুষ ও জিনের মাঝে কুফরি ও পাপাচার প্রচুর। এটি তাঁর পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলার প্রতি করুণা ভিক্ষার একটি মাধ্যম যাতে তাঁর উদ্দেশ্য সফল হয়। 'মুমಿದ್ದ' শব্দটি 'আমাদদা' ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত কর্তৃবাচক বিশেষ্য। আর 'সাহায্য প্রার্থনা করা'র অর্থ হলো—আমি তাঁর কাছে চাইছি যে তিনি আমাকে সাহায্য দান করবেন অর্থাৎ প্রদান করবেন। এই মর্মে জনৈক কবি বলেছেন:

(যদি আল্লাহর সাহায্য কোনো ব্যক্তির সেবক হয় … তবে প্রতিটি কঠিন বিষয় থেকে তার উদ্দেশ্য তার জন্য সহজ হয়ে যায়)

(আর যদি কোনো যুবকের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য না থাকে … তবে তার পরিশ্রমই তার জন্য প্রথম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়)
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ১৮)
(والنفع للراوي وللمروي … عنه بجاه المصطفى النبي)

قوله والنفع بالنصب عطف على العون، أي ومن الله تعالى أسأل النفع لكل من روى شيئا من علم السيرة أي نقله ولكل مروري أي منقول عنه ممن تقدم أو تأخر فيدخل فيه الناظم ومن نقل هو عنه ومن نقل عن الناظم هذا النظم المحتوي على السيرة الغراء وهو دعاء عام بعد خاص وهو قوله أستوهب العون على اتمامه. وبدأ بنفسه لأنه صلى الله عليه وسلم كان إذا دعى بدأ بنفسه، وقال تعالى حكاية عن نوح: {رب اغفر لي ولوالدي ولمن دخل بيتي مؤمنا وللمؤمنين والمؤمنات} وفي الخبر: "الدعاء إذا عم نفع وإذا خص ارتفع" وتوسل في هذا المطلب بجاه أشرف الخلق صلى الله عليه وسلم تسليما، والنفع إيصال الخير ودفع الضر والجاه الشرف ورفعه القدر، والمصطفى المخلص من الكدر، ولفظ النبي على وجهين في اللغة: مهموز وغير مهموز، فأما المهموز فيصح أنه بمعنى مفعل بصيغة اسم المفعول لأنه منبأ أي مخبر ويصح أنه من نبا بمعنى ارتفع ففي القاموس نبا الشيء يعنى بالهمزة بمعنى ارتفع ويصح أنه مأخوذ من النبيء بالهمز على وزنه وهو الطريق الواضح لأنه طريق إلى الله تعالى وأما غير المهموز فيصح أن أصله الهمز وترك الهمز وترك الهمز تسهيلا ويصح أن يكون واويا فيحتمل معنيين أحدهما أنه من النبوة وهي الارتفاع والثاني أنه من النبى على وزنه وهو الطريق أيضا قاله المحقق اليوسي في حواشي الكبرى (عليه) الضمير للنبي صلى الله عليه وسلم (أزكى) أي أكثر وأفضل (صلوات البارئ) أي رحماته المقترنة بالتعظيم والإجلال والباري الخالق لجميع المخلوقات من برأ الله الخلق خلقهم (وآله وصحبه) تقدم قريبا تفسيرهما (الأبرار) أهل الصدق والطاعة والإحسان الذين اختارهم الله تعالى لصحبة خير خلقه صلى الله عليه وسلم، وفي الحديث: "إن الله اختار أصحابي على جميع العالمين سوى النبيئين والمرسلين واختار لى منهم أربعة أبا بكر وعمر وعثمان وعليا فجعلهم خير أصحابي وفي أصحابي
(এবং বর্ণনাকারী ও যার নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে তার জন্য কল্যাণ … মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানের উসিলায়)

তাঁর উক্তি ‘কল্যাণ’ (আন-নাফউ) শব্দটি নসব (জবর) অবস্থায় রয়েছে এবং তা ‘সাহায্য’ (আল-আউন) শব্দের ওপর আতফ (সংযোজিত) হয়েছে। অর্থাৎ, আমি মহান আল্লাহর কাছে সীরাত শাস্ত্রের কোনো কিছু বর্ণনাকারী বা তা প্রচারকারী প্রত্যেকের জন্য এবং যার নিকট থেকে সীরাত বর্ণিত হয়েছে তাদের প্রত্যেকের জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করছি, চাই তিনি পূর্ববর্তী হোন বা পরবর্তী। সুতরাং এর অন্তর্ভুক্ত হবেন স্বয়ং গ্রন্থকার (নাজিম), যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন এবং যারা গ্রন্থকারের নিকট থেকে এই উজ্জ্বল সীরাত সম্বলিত কাব্যটি বর্ণনা করবেন। এটি একটি বিশেষ দোয়ার পর সাধারণ দোয়া; আর বিশেষ দোয়াটি ছিল তাঁর এই উক্তি— ‘আমি গ্রন্থটি পূর্ণ করার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছি’। তিনি নিজেকে দিয়ে শুরু করেছেন, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই দোয়া করতেন, তখন নিজেকে দিয়েই শুরু করতেন। আর মহান আল্লাহ নূহ আলাইহিস সালামের কথা বর্ণনা করে বলেন: “হে আমার পালনকর্তা! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করেছে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের ক্ষমা করুন।” হাদিসে এসেছে: “দোয়া যখন ব্যাপক হয় তখন তা কল্যাণ বয়ে আনে, আর যখন তা নির্দিষ্ট করা হয় তখন তা ব্যাপকতা থেকে উঠে যায়।” তিনি এই প্রার্থনায় সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানের উসিলা দিয়েছেন। ‘নাফউ’ (কল্যাণ) মানে হলো কল্যাণ পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতি প্রতিহত করা। ‘জাহ’ শব্দের অর্থ হলো সম্মান ও মর্যাদার উচ্চতা। ‘মুসতফা’ অর্থ হলো যাকে আবিলতা থেকে মুক্ত ও পবিত্র করা হয়েছে। ‘নবী’ শব্দটি আরবী ভাষায় দুইভাবে ব্যবহৃত হয়: হামযাহ যুক্ত (মাহমুয) এবং হামযাহ বিহীন। হামযাহ যুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে এটি ইসমে মাফ’উল হিসেবে ‘মুফআ’ল’ এর অর্থ প্রদান করে, কারণ তিনি আল্লাহ কর্তৃক সংবাদপ্রাপ্ত। এটি ‘নাবাআ’ শব্দ থেকেও হতে পারে যার অর্থ ‘উন্নত হওয়া’। ‘আল-কামুস’ অভিধানে এসেছে, হামযাহ যোগে ‘নাবাআ আল-শাইয়ু’ মানে হলো বস্তুটি উচ্চ বা উন্নত হলো। আবার এটি ‘আন-নবীউ’ (হামযাহ সহ) শব্দ থেকেও গৃহীত হতে পারে, যার অর্থ হলো স্পষ্ট পথ; কারণ তিনি মহান আল্লাহর দিকে পৌঁছানোর পথ। আর হামযাহ বিহীন শব্দের ক্ষেত্রে এর মূল সম্ভবত হামযাহ যুক্ত ছিল যা সহজ উচ্চারণের জন্য বর্জন করা হয়েছে। অথবা এটি ‘ওয়াও’ মূলধাতু থেকেও হতে পারে। এমতাবস্থায় এর দুটি অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে: প্রথমত এটি ‘নুবুওয়াহ’ থেকে উদ্গত যার অর্থ উচ্চতা বা আভিজাত্য। দ্বিতীয়ত এটি ‘আন-নাবিয়্যু’ (হামযাহ বিহীন) এর ওজনে যার অর্থও পথ। মুহাক্কিক ইউসী তাঁর ‘হাওয়াশিল কুবরা’ গ্রন্থে এ কথা উল্লেখ করেছেন। ‘তাঁর ওপর’ (আলাইহি) এখানে সর্বনামটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরেছে। ‘পবিত্রতম’ (আযকা) অর্থাৎ অধিকতর এবং শ্রেষ্ঠতর। ‘সৃষ্টিকর্তার সালাতসমূহ’ (সালাওয়াতুল বারী) অর্থাৎ মহান আল্লাহর সেই রহমতসমূহ যা সম্মান ও মহিমার সাথে যুক্ত। ‘আল-বারী’ অর্থ সকল সৃষ্টির স্রষ্টা; ‘বারা-আল্লাহুল খালকা’ অর্থ আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন। ‘তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর’—এ দুটির ব্যাখ্যা নিকট অতীতেই অতিবাহিত হয়েছে। ‘পুণ্যবানগণ’ (আল-আবরার) তারা হলেন সত্যবাদিতা, আনুগত্য ও ইহসানের অধিকারী সেই ব্যক্তিবর্গ যাদেরকে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন। হাদিসে এসেছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত সমস্ত জগতের ওপর আমার সাহাবীদের মনোনীত করেছেন এবং তাদের মধ্য থেকে আমার জন্য চারজনকে মনোনীত করেছেন: আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী। অতঃপর তাদেরকে আমার শ্রেষ্ঠ সাথী বানিয়েছেন এবং আমার সাহাবীদের মাঝে...”
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ১৯)
كلهم خير"، وفي الحديث: "مثل أصحابي مثل الملح في الطعام لا يصلح الطعام إلا به" وفيه: "أصحابي كالنجوم بأيهم اقتديتم اهتديتم" ذكرها في الشفا.

تنبيهان:

الأول: قال في الشفا عامة أهل العلم متفقون على جواز الصلاة غير النبي صلى الله عليه وسلم قال شارحه ابن سلطان أي من سائر الأنبياء بل هي مستحبة لما روى البيهقي والخطيب مرفوعا صلو على أنبياء الله ورسله فإن الله بعثهم كما بعثني فيستحقون الصلاة كما استحقها اهـ وفي الشرح بعد هذا ما يفيد أنه لا خلاف في جواز الصلاة على غير الأنبياء تبعا وفي الشفا ان الذي ذهب إليه المحققو ما قاله مالك وسفيان وروي عن ابن عباس واختاره غير واحد من الفقهاء والمتكلمين أنه لا يصلى على غير الأنبياء قال شارحه المذكور أي افرادا وإنما تجوز اتباعا اهـ.

الثاني: أتى الناظم بالصلاة عليه صلى الله عليه وسلم عقب الدعاء لأن ذلك أرجى لإجباته ففي الحديث: "كل دعاء محجوب دون السماء فإذا جاءت الصلاة علي صعد الدعاء"، وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه الدعاء والصلاة معلق بين السماء والأرض لا يصعد الى الله منه شيء حتى يصلى على النبي صلى الله عليه وسلم؛ وعن علي كرم الله تعالى وجهه عن النبي صلى الله عليه وسلم بمعناه وقال وعلى آل محمد قاله في الشفا، وقوله الصلاة أي المفروضة والنافلة وقوله معلق أي كل منهما وقوله إلى الله أي محل قبوله أو مكان عرشه وقوله منه أي كل منهما وقوله إلى الله أي محل قبوله أو مكان عرشه وقوله منه أي مما ذكر قاله ابن سلطان. ولما فرغ من خطبة نظمه شرع في ذكر نسب هذه الدرة الشريفة والذات المطهرة المنفيفة لينجز ما بذكره وعد ويتمم من مرامه ما قصد فقال:

(بيان نسبة النبي المصطفي … صلى عليه ربنا وشرفا)

قوله بيان خبر مبتدء محذوف والنسب محركة والنسبة بالكسر
"তারা সবাই কল্যাণময়", এবং হাদিসে এসেছে: "আমার সাহাবীদের উদাহরণ খাবারে লবণের মতো, লবণ ছাড়া খাবার সঠিক হয় না" এবং এতে আরও আছে: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাদের মধ্যে যারই অনুসরণ করবে, হেদায়েত পাবে" - এটি আশ-শিফা গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুটি সতর্কতা:

প্রথমটি: আশ-শিফা গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, সাধারণ আলেম সমাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্যদের ওপর দরুদ পাঠ বৈধ হওয়ার বিষয়ে একমত। এর ব্যাখ্যাকার ইবনুল সুলতান বলেন, অর্থাৎ অন্যান্য সকল নবীর ওপর, বরং এটি মুস্তাহাব। কারণ বায়হাকি ও খতিব মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: তোমরা আল্লাহর নবী ও রাসুলদের ওপর দরুদ পাঠ করো, কেননা আল্লাহ তাদের পাঠিয়েছেন যেমন আমাকে পাঠিয়েছেন, সুতরাং তারা দরুদের তেমনি হকদার যেমন আমি এর হকদার (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এবং এর পরবর্তী ব্যাখ্যায় এমন বক্তব্য রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, অনুগামী হিসেবে নবীগণ ব্যতীত অন্যদের ওপর দরুদ পাঠের বৈধতার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। আশ-শিফা গ্রন্থে আরও আছে যে, গবেষক আলেমদের অভিমত হলো যা মালিক ও সুফিয়ান বলেছেন এবং যা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং অনেক ফকিহ ও কালামশাস্ত্রবিদ পছন্দ করেছেন তা হলো, নবীগণ ব্যতীত অন্য কারও ওপর (স্বতন্ত্রভাবে) দরুদ পাঠ করা যাবে না। উক্ত ব্যাখ্যাকার বলেছেন, অর্থাৎ এককভাবে; এটি কেবল অনুগামী হিসেবেই জায়েজ (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

দ্বিতীয়: গ্রন্থকার দোয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ এনেছেন, কারণ এটি দোয়া কবুলের জন্য অধিক আশাব্যঞ্জক। হাদিসে এসেছে: "প্রত্যেক দোয়া আকাশের নিচে অবরুদ্ধ থাকে, অতঃপর যখন আমার ওপর দরুদ পাঠ করা হয়, তখন দোয়া উপরে উঠে যায়।" উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, দোয়া এবং সালাত আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে ঝুলন্ত থাকে, আল্লাহর দিকে তা থেকে কিছুই উপরে উঠে না যতক্ষণ না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করা হয়। আলী কাররামাল্লাহু তায়ালা ওয়াজহাহু থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই অর্থে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি বলেছেন: "এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের ওপর"; এটি আশ-শিফা গ্রন্থে বলা হয়েছে। আর তার বক্তব্য "সালাত" অর্থাৎ ফরজ ও নফল (দোয়া/নামাজ) এবং তার কথা "ঝুলন্ত" অর্থাৎ উভয়ের প্রতিটি এবং তার কথা "আল্লাহর দিকে" অর্থাৎ তাঁর কবুল করার স্থানে অথবা তাঁর আরশের স্থানে এবং তার কথা "তা থেকে" অর্থাৎ যা উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে; এটি ইবনুল সুলতান বলেছেন। যখন তিনি তাঁর কাব্যের ভূমিকা শেষ করলেন, তখন তিনি এই সম্মানিত মুক্তা এবং পবিত্র ও সুউচ্চ সত্তার বংশপরিচয় বর্ণনায় প্রবৃত্ত হলেন যাতে তিনি যা উল্লেখ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা সম্পন্ন করতে পারেন এবং তাঁর উদ্দিষ্ট লক্ষ্য পূর্ণ করতে পারেন, অতঃপর তিনি বললেন:

(নির্বাচিত নবী মোস্তফার বংশপরিচয় বর্ণনা ... আমাদের রব তাঁর ওপর রহমত ও সম্মান বর্ষণ করুন)

তাঁর উক্তি "বিয়ান" শব্দটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর এবং "নাসাব" শব্দটি হরকতযুক্ত (ফাতহা দিয়ে) এবং "নিসবাহ" শব্দটি কাসরা (জের) দিয়ে।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ২০)
والضم القرابة أو في الآباء خاصة قاله في القاموس أي هذا بيان نسب النبي صلى الله عليه وسلم المجمع عليه إلى عدنان إذ بذكر نسبه يقع تمييزه عن غيره ويظهر شرفه على من سواه بانتقاله من الأصلاب الطيبة إلى الأرحام الطاهرة وبالعكس وفي معالم التنزيل كان آدم يسمع من تخطيط أسارير جبهته نشيشا فقال يارب ما هذا فنودي يا آدم هذا تسبيح ولدك محمد مزج بمائك فيكون لك ولدا وأنت له أب فنعم الوالد ونعم المولود، ثم انتقل ذلك الجزء من صلب آدم إلى رحم حواء ومنها إلى صلب شئت ومنه إلى رحم قيصلة ومنها إلى صلب أنوش وهكذا كان ينتقل وكان يؤخذ في كل مرتبة عهد وميثاق على أن لا يوضع ذلك الجزء إلا في المطهرات اهـ نقله مولاي ابراهي في شرحه، والنشيش: الصوت. وقوله صلى الله عليه وسلم تقدم معناه، وربنا مالكنا جميع الحوادث ومبلغنا إلى كمالنا شيئا فشيئا وأصل الرب مصدر يقال ربه ربا ورباه تربية وربيه تربيبا وربته ترتبيتا وربته ربتا أي بلغه إلى كماله شيئا فشيئا فمن الأول لئن يربني رجل من قريش أحب إلى من أن يربني رجل من هوازن، ومن الثاني:

(ربيته حتى إذا تمعددا … وآض نهدا كالحصان أجردا)

ومن الثالث:

(بيضا مرازبة غلبا أساورة … أسدا تربب في الغيضات أشبالا)

ومن الرابع:

(ألا ليت شعري هل أبيتن ليلة … بجمهور حزوى حيث ربتني أهلي)

وقيل أصله راب فخفف بحذف الألف كما فعل في بر. وقوله وشرفا أي أعلاه والشرف العلو وهذا دعاء بلف الخبر وهو صلى الله عليه وسلم أشرف الخلق نسبا وأعزهم نفرا من قبل أبيه وأمه فهو نخبه بنى هاشم خلاصة قريش وصميمها ولله در القائل:

(قد أورث المجد عبد الله شيبة عن … عمرو بن عبد مناف عن قصيهم)

(فجاء فيهم بمن جال السماء ومن … سمى على النجم في سامي بيوتهم)

فالعرب خير أناس ثم خيرهم … قريشهم وهو فيهم خيرهم)
আত্মীয়তা বা বিশেষভাবে পিতৃপুরুষের সংমিশ্রণ—যা আল-কামুসে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ, এটি আদনান পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বসম্মত বংশধারার বর্ণনা; কেননা তাঁর বংশসূত্র উল্লেখ করার মাধ্যমে তিনি অন্যের থেকে পৃথক হন এবং অন্যদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়—পবিত্র পৃষ্ঠদেশসমূহ থেকে পবিত্র গর্ভাশয়সমূহে এবং বিপরীতক্রমে তাঁর স্থানান্তরের মাধ্যমে। এবং 'মাআলিমুত তানযিল'-এ বর্ণিত হয়েছে যে, আদম তাঁর ললাটের রেখাসমূহ থেকে একটি মৃদু শব্দ শুনতে পেতেন। তিনি বললেন, "হে প্রতিপালক! এটি কী?" তখন ঘোষণা করা হলো, "হে আদম! এটি তোমার সন্তান মুহাম্মাদের তাসবিহ, যা তোমার বীর্যের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি তোমার সন্তান হবেন এবং তুমি তাঁর পিতা হবে; কতই না উত্তম পিতা এবং কতই না উত্তম সন্তান!" অতঃপর সেই অংশটি আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে হাওয়ার গর্ভে এবং তাঁর থেকে শীসের পৃষ্ঠদেশে, আর তাঁর থেকে কায়সালার গর্ভে এবং তাঁর থেকে আনুশের পৃষ্ঠদেশে স্থানান্তরিত হলো। এভাবে এটি স্থানান্তরিত হতে থাকে এবং প্রতিটি স্তরে এই মর্মে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি নেওয়া হতো যে, সেই অংশটি কেবল পবিত্রাদের মাধ্যমেই রক্ষা করা হবে। সমাপ্ত—এটি মাওলায় ইবরাহিম তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। আর 'নাশিশ' অর্থ শব্দ। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর অর্থ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর আমাদের প্রতিপালক হলেন সমস্ত নশ্বর বস্তুর মালিক এবং তিনি আমাদের পর্যায়ক্রমে পূর্ণতার দিকে পৌঁছে দেন। 'রব' শব্দের মূল হলো মাসদার বা ক্রিয়ামূল। বলা হয়ে থাকে 'রববাহু রব্বান', 'রব্বাহু তারবিয়্যাতান', 'রব্বিয়াহু তারবিবান', 'রব্বাতাহু তারতিবীতান' এবং 'রব্বাতাহু রব্বাতান', অর্থাৎ তিনি তাকে ধীরে ধীরে পূর্ণতায় পৌঁছে দিয়েছেন। প্রথম রূপটির উদাহরণ হলো: "কুরাইশ বংশীয় কোনো ব্যক্তি আমাকে লালন-পালন করা আমার কাছে হাওয়াজিন গোত্রের কোনো ব্যক্তির লালন-পালনের চেয়ে অধিক প্রিয়।" দ্বিতীয় রূপটির উদাহরণ হলো:

(আমি তাকে লালন-পালন করেছি যতক্ষণ না সে মা'আদ বংশীয়দের মতো শক্তিশালী হয়েছে... এবং সে বলিষ্ঠ ঘোড়ার ন্যায় সুঠাম দেহী হয়েছে।)

তৃতীয় রূপটির উদাহরণ হলো:

(শ্বেতবর্ণের আমীরগণ, বিজয়ী সেনাপতিগণ... তারা এমন সিংহের ন্যায় যারা ঝোপঝাড়ে শাবকদের লালন-পালন করে।)

চতুর্থ রূপটির উদাহরণ হলো:

(আফসোস! আমি যদি জানতাম, আমি কি কোনো রাত কাটাতে পারব... হাজওয়ার সেই জনপদে যেখানে আমার পরিবার আমাকে বড় করেছিল।)

কারো মতে এর মূল হলো 'রা-ইব', যা আলিফ বিলুপ্ত করে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, যেমনটি 'বার' শব্দের ক্ষেত্রে করা হয়। আর 'শারাফ' অর্থ হলো তাঁকে উচ্চতা দান করা; শারাফ মানে আভিজাত্য ও উচ্চতা। এটি সংবাদ প্রদানের ভঙ্গিতে করা একটি দোয়া। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বংশের দিক থেকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং পিতা ও মাতা—উভয় দিক থেকেই সর্বাপেক্ষা সম্মানিত। তিনি বনু হাশিমের মনোনীত, কুরাইশের নির্যাস এবং তাদের প্রাণপুরুষ। কবির এই পংক্তিটি কতই না চমৎকার:

(আবদুল্লাহ মহানুভবতা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন শায়বাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে আবদে মানাফ থেকে এবং তিনি তাঁদের কুসাই থেকে।)

(অতঃপর তাঁদের মাঝে এমন একজনের আগমন ঘটল যিনি আসমান পরিভ্রমণ করেছেন এবং যিনি তাঁদের সুউচ্চ বংশমর্যাদায় নক্ষত্রকেও ছাড়িয়ে গিয়েছেন।)

(সুতরাং আরব হলো মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ, আর তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো কুরাইশ, এবং কুরাইশদের মধ্যে তিনিই হলেন সর্বোত্তম।)
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ২১)
(قوم إذا قيل من قالوا نبيكم … منا فهل هذه تلفى لغيرهم)

وفي الحديث: "إن الله اصطفى من ولد ابراهيم إسماعيل واصطفى من ولد إسماعيل بنى كنانة واصطفى من بنى كنانة قريشا واصطفى من قريش بنى هاشم واصطفاني من بنى هاشم". قال الترمذي حديث صحيح. وفي حديث الطبراني ان الله اختار خلقه فاختار منهم بنى آدم ثم اختار من بنى آدم العرب ثم اختارني من العرب فلم أزل خيارا من خيار. وقوله ان الله اختار خلقه أي ممن لو تعلقت بهم الإدارة ووجدوا كانوا دونهم في الفضل لكونهم لم يختاروا أي اختارهم ممن يقدر وجودهم فلا يراد أن الاختيار إنما يكون من شيء إذ لابد من مختار ومختار منه اهـ حرره الزرقاني في شرح المواهب وفي الحديث: "كنت نبيا وآدم بين الروح والجسد" بمعنى أن ببوءته محكوم بها ظاهرة بين خلق روح آدم وخلق جسده حيث نبأه في عالم الأرواح وأطلعها على ذلك وأمرها بمعرفة نبوأته والاقرار بها فمن خصائصه صلى الله عليه وسلم إلى خروجه من ظهر آدم قبل نفخ الروح ونبأه وأخذ عليه الميثاق قبل نفخ الروح في آدم إذ هو المقصود من خلق النوع الإنساني إذ لولاه ما خلق، انظر الزرقاني. ولبعضهم:

(ألا بأبي من كان ملكا وسيدا … وآدم بين الماء والطين واقف)

(فذاك النبي الأبطحي محمد … له في العلا مجد تليد وطارف)

(أتى بزمان السعد في آخر المدى … وكان له في كل عصر مواقف)

(أتى لانكسار الدهر يجبر صدعه … فأثنت عليه ألسن وعوارف)

(إذا رام أمرا لا يكون خلافه … وليس لذاك الأمر في الكون صارف)

أنشدها القسطلاني في المواهب لغيره. وقوله في آخر المدى بفتحتين يعني الزمان الأخير من أزمنة الأنبياء وقوله مواقف أي أحوال لتقدم خلقه وقوله وعوارف جمع عارفة ومعناه أن الأمور المعروفة في الشرع أثنت عليه لإظهاره لها وذبه عن معارضتها قاله الزرقاني.

(ونسب المختار محفوظ إلى … عدنان بالإجماع عند الفضلا)

يعني أن آباءه صلى الله عليه وسلم إلى جده عدنان أجمع العلماء وهم
(এমন এক জাতি, যাদের বলা হলে তারা বলে—তোমাদের নবী … আমাদের মধ্য থেকেই; এটি কি অন্য কারও মাঝে পাওয়া যায়?)

আর হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইব্রাহিমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাইলকে বেছে নিয়েছেন, আর ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে বনু কিনানাহকে বেছে নিয়েছেন, বনু কিনানাহ থেকে কুরাইশকে বেছে নিয়েছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে বেছে নিয়েছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে বেছে নিয়েছেন।" ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এটি একটি সহীহ হাদিস। তাবারানীর হাদিসে এসেছে যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে বাছাই করেছেন, অতঃপর তাদের মধ্য থেকে আদম সন্তানদের বেছে নিয়েছেন, এরপর আদম সন্তানদের মধ্য থেকে আরবদের বেছে নিয়েছেন, এরপর আরবদের মধ্য থেকে আমাকে বেছে নিয়েছেন; ফলে আমি সর্বদা সর্বোত্তমদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম হয়েই আসছি। তাঁর উক্তি 'আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে বাছাই করেছেন' এর অর্থ হলো—যাদের প্রতি ইচ্ছা (ইরাদা) সম্পৃক্ত হলে এবং তারা অস্তিত্ব লাভ করলে মর্যাদার দিক থেকে তাদের চেয়ে নিচে হতো; কারণ তাদের বেছে নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, তিনি তাদের মধ্য থেকে বেছে নিয়েছেন যাদের অস্তিত্ব তিনি নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং এটি উদ্দেশ্য নয় যে, বাছাই অবশ্যই কোনো বিদ্যমান বস্তু থেকে হতে হবে, কারণ বাছাইকারী এবং যা থেকে বাছাই করা হবে তার অস্তিত্ব আবশ্যক।—এটি আল-যুরকানী 'শারহুল মাওয়াহিব'-এ বর্ণনা করেছেন। আর হাদিসে আছে: "আমি তখনো নবী ছিলাম যখন আদম রুহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন।" এর অর্থ হলো, তাঁর নবুওয়াত তখন নির্ধারিত ও প্রকাশিত ছিল যখন আদমের রুহ ও দেহের সৃষ্টি চলছিল। তিনি রুহদের জগতে তাঁকে নবুওয়াত প্রদান করেছিলেন এবং রুহদের তা অবগত করেছিলেন, আর তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর নবুওয়াতকে চেনার ও তা স্বীকার করার। সুতরাং এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্যতম বৈশিষ্ট্য যে, আদমের পিঠ থেকে বের হওয়া এবং রুহ ফুঁক দেওয়ার পূর্বেই তাঁকে নবুওয়াত দান করা হয়েছিল এবং তাঁর থেকে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল। কারণ তিনি মানবজাতি সৃষ্টির মূল লক্ষ্য; যদি তিনি না হতেন তবে কিছুই সৃষ্টি করা হতো না। আল-যুরকানী দেখুন। কোনো কোনো কবির পঙ্ক্তিমালা:

(সাবধান! আমার পিতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক, যিনি অধিপতি ও নেতা ছিলেন … যখন আদম পানি ও কাদার মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলেন)

(তিনিই সেই আবতাহী নবী মুহাম্মদ … শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে যাঁর রয়েছে সুপ্রাচীন ও নবীন গৌরব)

(তিনি শেষ সময়ে সৌভাগ্যের যুগ নিয়ে এসেছেন … অথচ প্রতিটি যুগেই তাঁর বিশেষ অবস্থান ছিল)

(তিনি মহাকালের ভাঙন রোধ করতে ও ফাটল মেরামত করতে এসেছেন … ফলে সকল জিহ্বা ও গুণীজন তাঁর প্রশংসা করেছে)

(তিনি যখন কোনো কাজের ইচ্ছা করেন, তার অন্যথা হয় না … আর মহাবিশ্বে সেই কাজকে ফেরানোর কেউ নেই)

আল-কাসতালানী 'আল-মাওয়াহিব'-এ এটি অন্যের কবিতা হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন। 'আখিরিল মাদা' বলতে নবীদের যুগের সর্বশেষ সময়কে বোঝানো হয়েছে। 'মাওয়াকিফ' বলতে তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাঁর পূর্ববর্তী অবস্থাসমূহকে বোঝানো হয়েছে। 'আওয় আরিফ' হলো 'আরিফাহ'-এর বহুবচন, যার অর্থ শরিয়তের সুপরিচিত বিষয়গুলো তাঁর প্রশংসা করেছে, কারণ তিনি সেগুলো প্রকাশ করেছেন এবং বিরোধীদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।—এটি আল-যুরকানী বলেছেন।

(মনোনীত নবীর বংশধারা আদনান পর্যন্ত … বিদ্বানদের ঐকমত্যে সংরক্ষিত রয়েছে)

এর অর্থ হলো, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পিতৃপুরুষগণ তাঁর দাদা আদনান পর্যন্ত এমন এক ধারা যার ব্যাপারে আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, আর তাঁরা হলেন—
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ২২)
مراده بالفضلاء على عددهم ومعرفتهم وإن اختلفوا في أسماء بعضهم وأما ما فوق ذلك ففيه اختلاف كثير، قال ابن دحية أجمع العلماء والاجماع حجة على أن رسول الله صلى الله عليه وسلم إنما انتسب إلى عدنان ولم يجاوزه، وعن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما أنه صلى الله عليه وسلم كان إذا انتسب لم يجاوز معد بن عدنان ثم يمسك ويقول كذب النسابون، قال الله تعالى {وقرونا بين ذلك كثيرا}.

وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قال: إنما ينسب إلى عدنان وما فوق ذلك لا يدرى ما هو. وقوله إنما ينسب بتحتية فنون النبي صلى الله عليه وسلم أو بنونين أي معاشر قريش وقوله لا يدرى بياء ونون وفي سيرة العسقلاني اختلف فيما بين عدنان وإسماعيل اختلافا كثيرا ومن إسماعيل إلى آدم متفق على أكثره وفيه خلاف يسير في عدد الآباء وفيه خلف يسير في عدد الآباء وفيه خلف أيضا في ضبط بعض الأسماء. وقال عروة بن الزبير ما وجدنا أحدا يعرف بعد معد بن عدنان.

وسئل مالك عن الرجل يرفع نسبه إلى آدم فكره ذلك، قيل له فإلى اسماعيل فكره ذلك أيضا وقال على سبيل الانكار من أخبره حتى يعتمد عليه وكذا روي عنه أنه كره ذلك في رفع نسب الأنبياء عليهم الصلاة والسلام إلى آدم وإذا كان كذلك فالذي ينبغي لنا الاعراض عن ما فوق عدنان لما فيه من التخليط والتغيير للألفاظ وصعوبة تلك الأسماء مع قلة الفائدة في ذكرها اهـ من المواهب وشرحها.

ورأيت في شرح لهذا النظم لم يسم مؤلفه نفسه أن معرفة آبائه صلى الله عليه وسلم المجمع عليهم واجبة على كل مؤمن. وفي مطالع المسرات بعد قول دلائل الخيرات النبي العربي القرشي الزمزمي المكي التهامي ما نصه هذه الأوصاف المذكورة هنا مما يجب اعتقاده في حقه صلى الله عليه وسلم إذ هي من جملة مشخصاته المعينة له اهـ.

(وها أنا أشير لاسم كل … منهم بحرف منه مستقل)

ها حرف تنبيه وأنا مبتدء وأشير خبره ومر ما يقال فيه، وبحرف متعلق بأشير ومنهم صلة لحرف أي حرف من اسم كل واحد منهم
গুণীজনদের দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো তাদের সংখ্যা এবং তাদের পরিচিতি, যদিও তাদের কারো কারো নামের ব্যাপারে তাঁরা মতভেদ করেছেন। তবে এর ঊর্ধ্বের বংশপরম্পরার ব্যাপারে অনেক মতভেদ বিদ্যমান। ইবনে দাহইয়া বলেন, উলামায়ে কিরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন—আর এই ইজমা বা ঐকমত্য একটি অকাট্য দলিল—যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদনান পর্যন্তই নিজের বংশ পরিচয় প্রদান করেছেন এবং এর ঊর্ধ্বে যাননি। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বংশ পরিচয় দিতেন, তখন মা'আদ ইবনে আদনানের ঊর্ধ্বে যেতেন না, অতঃপর থেমে যেতেন এবং বলতেন: বংশবিদগণ মিথ্যা বলেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, "এবং এর মধ্যবর্তী বহু প্রজন্ম।"

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: বংশ কেবল আদনান পর্যন্তই বর্ণনা করা হয়, আর এর ঊর্ধ্বে যা আছে তা জানা নেই। তাঁর উক্তি "ইউনসাবু" শব্দটির শুরুতে 'ইয়া' বর্ণ দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বোঝানো হয়েছে অথবা 'নুন' বর্ণ দ্বারা অর্থাৎ "নুন্সিবি" (আমরা বংশ বর্ণনা করি) দ্বারা কুরাইশ বংশের সকলকে বোঝানো হয়েছে। আর তাঁর উক্তি "লা ইউদরি" শব্দটি 'ইয়া' এবং 'নুন' (লা নুদরি) উভয়ভাবে পঠিত হয়। আসকালানির সিরাতে বর্ণিত হয়েছে যে, আদনান ও ইসমাইলের মধ্যবর্তী বংশধারা নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। তবে ইসমাইল থেকে আদম পর্যন্ত অধিকাংশ বিষয়ের ওপর ঐকমত্য রয়েছে, কিন্তু পিতৃপুরুষদের সংখ্যার ব্যাপারে সামান্য মতভেদ আছে। এছাড়া কিছু নামের উচ্চারণের শুদ্ধতার ব্যাপারেও মতপার্থক্য রয়েছে। উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর বলেন: আমরা মা'আদ ইবনে আদনানের পর কাউকেই সঠিকভাবে চিনতে পারিনি।

ইমাম মালিককে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে নিজের বংশধারা আদম পর্যন্ত নিয়ে যায়, তিনি তা অপছন্দ করলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো ইসমাইল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্পর্কে, তিনি সেটিও অপছন্দ করলেন এবং বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন: কে তাকে এই তথ্য জানাল যার ওপর সে নির্ভর করছে? অনুরূপভাবে বর্ণিত আছে যে, তিনি আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামের বংশধারা আদম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াকেও অপছন্দ করতেন। বিষয়টি যখন এরূপ, তখন আমাদের জন্য আদনানের ঊর্ধ্বের বংশধারা সম্পর্কে আলোচনা থেকে বিমুখ থাকাই শ্রেয়, কারণ তাতে সংমিশ্রণ, শব্দের পরিবর্তন ও নামগুলোর কাঠিন্য রয়েছে এবং তা উল্লেখ করার উপকারিতাও খুব কম। এটি 'আল-মাওয়াহিব' ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ হতে সংকলিত।

আমি এই কাব্যগ্রন্থের এমন একটি ব্যাখ্যায় দেখেছি যার লেখক নিজের নাম প্রকাশ করেননি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই সকল পিতৃপুরুষ যাদের ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে, তাঁদের পরিচয় জানা প্রত্যেক মুমিনের জন্য ওয়াজিব। 'মাতালিউল মাসাররাত' গ্রন্থে 'দালাইলুল খাইরাত'-এর বক্তব্য "নবী আরবি, কুরাইশি, যমযমি, মক্কি, তিহামি"-এর অধীনে বলা হয়েছে: এখানে উল্লিখিত এই বিশেষণগুলো তাঁর ব্যাপারে বিশ্বাস রাখা ওয়াজিব, কারণ এগুলো তাঁর সেই সকল বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত যা তাঁকে এককভাবে চিহ্নিত করে।

(আর এই যে আমি তাদের প্রত্যেকের নামের প্রতি ইঙ্গিত করছি তা থেকে একটি … স্বতন্ত্র বর্ণ দ্বারা)

'হা' শব্দটি সতর্ককারী অব্যয়, 'আনা' শব্দটি উদ্দেশ্য (মুবতাদা) এবং 'উশিরু' শব্দটি তার বিধেয় (খবর), যার ব্যাখ্যা পূর্বে প্রদান করা হয়েছে। 'বর্ণ দ্বারা' শব্দটি 'ইঙ্গিত করছি' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং 'তাদের মধ্য হতে' শব্দসমষ্টিটি বর্ণের সাথে যুক্ত, অর্থাৎ তাদের প্রত্যেকের নামের একটি বর্ণ।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ২৩)
ومستقل صفة لحرف والإشارة تأدية المعنى بلفظ غير صريح.

أخبر الناظم رحمه الله أنه يشير –أي في البيت الآتي – لاسم كل واحد من آباء النبي صلى الله عليه وسلم تسليما وآبائهم إلى عدنان بحرف من اسم كل واحد مستقل بذلك الحرف أي كاف في تعيين من أشير إليه به لقصد الاختصار وضيق النظم والبيت الذى فيه الحروف المشار بها إلى أسمائهم هو قوله: من إلخ.

ولنذكر عمود نسبه صلى الله عليه وسلم أولا على طريق الاختصار متواليا فأقول كما قال في المواهب: اعلم أنه عليه الصلاة والسلام لم يشترك معه في ولادته من أبويه أخ ولا أخت لانتهاء صفوتهما إليه وقصور نسبهما عليه ليكون مختصا بنسب جعله الله تعالى للنبوأة غاية ولتمام الشرف نهاية فغذا علمت شرف نسبه وطهارة مولده علمت أن هذا النبي العربي الأبطحي القرشي الهاشمي المنتخب من خير بطون العرب حسبا وأعرقها نسبا وأكرمها من قبل أبيه وأمه ومن أكرم بلاد الله تعالى على الله هو محمد صلى الله عليه وسلم ابن عبد الله بن عبد المطلب بن اهشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان.

(مع) أما الميم فهي إشارة لاسم نبينا صلى الله عليه وسلم محمد الذى سماه به جده عبد المطلب فطابق ما سماه الله تعالى به فقيل له لم سميت ابنك محمدا وليس من أسماء آبائك ولا قومك؟ فقال رجوت أن يحمده أهل السماء والأرض فحقق الله رجاءه والمحمد الذى تكاملت فيه الخصال المحمودة، قال الأعشى:

(إليك أبيت اللعن كان وجيفها … إلى الماجد القرم الجواد المحمد)

وأما العين فهي إشارة إلى والد المصطفى صلى الله عليه وسلم عبد الله، قال الحافظ لم يختلف في اسمه الذبيح وكنيته أبو قثم بقاف فمثلثة وهو من أسمائه صلى الله عليه وسلم مأخوذ من القثم وهو الإعطاء أو الجمع، يقال للرجل الجموع للخير قثوم وقثم وقيل كنيته أبو
'মুস্তাকিল' (স্বতন্ত্র) শব্দটি 'হরফ' (বর্ণ) এর একটি বিশেষণ, আর 'ইশারা' (ইঙ্গিত) বলতে অস্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করাকে বুঝায়।

নাযিম (রহিমাহুল্লাহ) সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি—অর্থাৎ পরবর্তী চরণে—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রত্যেক পূর্বপুরুষ এবং আদনান পর্যন্ত তাঁদের পিতৃপুরুষদের নামের প্রতি প্রত্যেকের নামের একটি করে স্বতন্ত্র বর্ণ দ্বারা ইঙ্গিত করবেন। অর্থাৎ সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এবং ছন্দের সংকীর্ণতার কারণে যাঁকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তাঁকে নির্দিষ্ট করার জন্য সেই বর্ণটিই যথেষ্ট হবে। আর যে চরণে তাঁদের নামের দিকে ইঙ্গিতকারী বর্ণগুলো রয়েছে তা হলো তাঁর কথা: 'মিন' (হতে) ইত্যাদি।

আমরা প্রথমে ধারাবাহিকভাবে সংক্ষেপে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বংশপরম্পরার মূল ধারাটি উল্লেখ করব। আমি বলছি যেমনটি 'মাওয়াহিব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: জেনে রাখুন যে, তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) পিতা-মাতা থেকে তাঁর জন্মের ক্ষেত্রে কোনো ভাই বা বোন তাঁর সাথে শরীক ছিল না। কারণ তাঁদের উভয়ের নির্যাস তাঁর মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছে এবং তাঁদের বংশধারা তাঁর ওপরই সীমাবদ্ধ হয়েছে; যাতে তিনি এমন এক বিশেষ বংশের অধিকারী হন যাকে আল্লাহ তাআলা নবুওয়াতের জন্য চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং পূর্ণ মর্যাদার শেষ সীমা নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং আপনি যখন তাঁর বংশের মর্যাদা এবং তাঁর জন্মের পবিত্রতা সম্পর্কে জানবেন, তখন আপনি অনুধাবন করতে পারবেন যে, এই আরবি, আবতাহী, কুরাইশি, হাশেমি নবী—যিনি আভিজাত্যে আরবের সর্বোত্তম গোত্রসমূহ থেকে এবং বংশমর্যাদায় তাদের সবচেয়ে প্রাচীন মূল থেকে নির্বাচিত এবং যিনি তাঁর পিতা ও মাতা উভয় দিক থেকেই সবচেয়ে সম্মানিত এবং আল্লাহর কাছে আল্লাহর জমিনের সবচেয়ে সম্মানিত ভূখণ্ডের অধিবাসী—তিনি হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশেম বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুআই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন আন-নাদর বিন কিনানা বিন খুজাইমা বিন মুদরিকা বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিজার বিন মাআদ বিন আদনান।

(মা'আ) আর 'মীম' বর্ণটি আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামের প্রতি ইঙ্গিত, যে নামে তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর নামকরণ করেছিলেন। ফলে এটি আল্লাহ তাআলা তাঁকে যে নামে নামকরণ করেছিলেন তার সাথে হুবহু মিলে যায়। দাদাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "আপনি কেন আপনার সন্তানের নাম মুহাম্মাদ রাখলেন, অথচ এটি আপনার পূর্বপুরুষ বা আপনার সম্প্রদায়ের কারো নাম নয়?" তিনি উত্তরে বলেছিলেন, "আমি আশা করেছি যে আকাশ ও পৃথিবীর অধিবাসীগণ তাঁর প্রশংসা করবে।" অতঃপর আল্লাহ তাঁর সেই আশা পূর্ণ করেছেন। আর 'মুহাম্মাদ' হলেন তিনি যাঁর মধ্যে সমস্ত প্রশংসনীয় গুণাবলি পূর্ণতা লাভ করেছে। আল-আ'শা বলেছেন:

(আপনার দিকেই—হে অভিশাপমুক্ত সম্রাট—উষ্ট্রীর দ্রুত পদযাত্রা ছিল … সেই মহানুভব, সর্দার, দানশীল ও প্রশংসিত ব্যক্তিত্বের পানে।)

আর 'আইন' বর্ণটি মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিতা আবদুল্লাহর প্রতি ইঙ্গিত। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন, তাঁর 'যাবিহ' নামটির ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। তাঁর উপনাম (কুনিয়া) ছিল আবু কুসাম—'ক্বাফ' এবং এরপর 'সা' (তিন নুক্তাওয়ালা) যোগে। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামসমূহেরও অন্তর্ভুক্ত যা 'আল-কাসাম' শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো প্রদান করা বা সংগ্রহ করা। যে ব্যক্তি কল্যাণ আহরণকারী হয় তাকে 'কাসূম' ও 'কাসাম' বলা হয়। আবার বলা হয়েছে তাঁর উপনাম ছিল আবু...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ২৪)
محمد وقيل أبو أحمد، قاله ابن الأثير اهـ فإن قلنا بالمشهور من وفاته والمصطفى صلى الله عليه وسلم حمل فلعله كنى بالإلهام وإلا فالأمر ظاهر قاله الزرقاني.

(شه) أما الشين فهي إشارة لاسم جده شيخ البطحاء عبد المطلب بكسر اللام بصيغة اسم الفاعل كما في المصباح وفي "الحلة السيراء" انه بفتح اللام شيبة الحمد مركب إضافي سمي به كما قال ابن قتيبة لأنه كان يرفع من مائدته للطيرر والوحوش في رؤوس الجبال فكان يقال مطعم طير السماء والفياض لجوده وفيه يقول الشاعر:

(على شيبة الحمد الذى كان وجهه … يضيئ ظلام الليل كالقمر البدر)

وهو قول ابن اسحاق وهو الصحيح كما قال السهيلي وقيل سمي به لأنه ولد في راسه شيبة وقيل لأن آباه أوصى أمه بذلك ولعل وجه إضافته إلى الحمد رجاء أنه يكبر ويشيخ ويكثر حمد الناس له فحقق الله ذلك. فكثر حمدهم له لأنه مفزع قريش في النوائب وسيدهم كما لا وفعالا وكان مجاب الدعوى وحرم الخمر على نفسه، قال ابن الأثير وهو أول من تحنث بحراء كان إذا دخل رمضان صعده وأطعم المساكين وقال ابن قتيبة اسم شيبة عامر وتابعه على ذلك صاحب القاموس وقال أبو عمران ذلك لا يصح وكنية شيبة أبو الحارث وهو أكبر ولده وقيل كنيته أبو البطحاء وسمي عبد المطلب لأن أباه هاشما لما حضرته الوفاة قال لأخيه المطلب أدرك عبدك يشرب، وقال له ذلك استعطافا وقيل إن عمه المطلب جاء به إلى مكة رديفه وهو بهيأة بذة فكان يسأل عنه فيقول هو عبدي حياء من أن يقول ابن أخي فلما أدخله مكة أحسن حاله وأظهر أنه ابن أخيه فلذلك قيل له عبد المطلب وعاش مائة وعشرين وصدر به مغلطاي نقله الزرقاني وأما الهاء فإشارة لهاشم واسمه عمر وسمى هاشما لأنه أول من هشم الثريد بمكة لأهل الموسم ولقومه أولا في سنة المجاعة فإنه لما أصاب أهل مكة شدة رحل إلى فلسطين فاشترى منها
মুহাম্মাদ, আর কেউ কেউ বলেন আবু আহমাদ; এটি ইবনুল আসির বর্ণনা করেছেন। যদি আমরা তাঁর মৃত্যু এবং মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গর্ভে আসার মধ্যবর্তী সময়ের প্রসিদ্ধ মতটি গ্রহণ করি, তবে সম্ভবত তাঁর এই উপনাম (কুনিয়া) ইলহামের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছিল; অন্যথায় বিষয়টি সুস্পষ্ট, যা যুরকানী উল্লেখ করেছেন।

(শা) আর 'শীন' বর্ণটি তাঁর দাদা বাত্বহার শাইখ আবদুল মুত্তালিবের নামের প্রতি ইঙ্গিত, যাতে 'লাম' বর্ণটি ইসমে ফায়িল-এর ওজনে যের (মুত্তালিব) যুক্ত, যেমনটি মিসবাহ গ্রন্থে রয়েছে। আর 'আল-হিল্লাহ আস-সিয়ারা' গ্রন্থে রয়েছে যে, এটি 'লাম' বর্ণে যবর সহযোগে 'শাইবাতুল হামদ'—যা একটি ইযাফী (সমাসবদ্ধ) নাম। ইবনে কুতাইবাহ বলেন, তাঁকে এই নামে ডাকার কারণ হলো, তিনি তাঁর দস্তরখান থেকে পাহাড়ের চূড়ায় পাখি ও হিংস্র প্রাণীদের জন্য খাবার তুলে রাখতেন। এ কারণে তাঁকে 'আকাশের পাখিদের অন্নদাতা' এবং তাঁর দানশীলতার জন্য 'আল-ফায়্যায' (অঢেল দাতা) বলা হতো। তাঁর সম্পর্কে কবি বলেন:

(শাইবাতুল হামদ-এর প্রতি, যাঁর চেহারা ছিল … পূর্ণিমার চাঁদের মতো অন্ধকার রাতকে আলোকিতকারী)

এটি ইবনে ইসহাকের অভিমত এবং এটিই সঠিক, যেমনটি সুহাইলী বলেছেন। বলা হয়ে থাকে, তাঁকে এই নামে ডাকা হতো কারণ তাঁর মাথায় একটি সাদা চুল (শাইবাহ) নিয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আবার কেউ কেউ বলেন, তাঁর পিতা তাঁর মাতাকে এই নাম রাখার অসিয়ত করেছিলেন। প্রশংসার (হামদ) সাথে শাইবাহ যুক্ত করার কারণ সম্ভবত এই আশা ছিল যে, তিনি বড় হবেন, বার্ধক্যে পৌঁছাবেন এবং মানুষের কাছে তাঁর প্রশংসা বৃদ্ধি পাবে; আল্লাহ তাআলা তা বাস্তবায়ন করেছেন। ফলে তাঁর প্রতি মানুষের প্রশংসা অঢেল হয়েছিল, কারণ তিনি ছিলেন বিপদ-আপদে কুরাইশদের আশ্রয়স্থল এবং গুণ ও কর্মে তাদের নেতা। তিনি ছিলেন মুজাবুদ দাওয়াহ (যাঁর দোয়া কবুল হয়) এবং তিনি নিজের ওপর মদ হারাম করেছিলেন। ইবনুল আসির বলেন, তিনিই সর্বপ্রথম হেরা গুহায় 'তাহান্নুছ' (নির্জন ইবাদত) শুরু করেন; যখন রমজান মাস শুরু হতো, তিনি সেখানে আরোহণ করতেন এবং অভাবীদের খাবার খাওয়াতেন। ইবনে কুতাইবাহ বলেন, শাইবাহর নাম ছিল আমির এবং কামুস প্রণেতাও তাঁর অনুসরণ করেছেন। কিন্তু আবু ইমরান বলেন, এটি সঠিক নয়। শাইবাহর উপনাম ছিল আবুল হারিস, যিনি তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন। কারো মতে তাঁর উপনাম ছিল আবু বাত্বহা। তাঁকে আবদুল মুত্তালিব ডাকার কারণ হলো, তাঁর পিতা হাশিম যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তিনি তাঁর ভাই মুত্তালিবকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, "তোমার গোলামকে পান করা অবস্থায় ধরো।" তিনি মমতাবশত তাঁকে এ কথা বলেছিলেন। আবার বলা হয় যে, তাঁর চাচা মুত্তালিব তাঁকে যখন মক্কায় নিয়ে আসেন, তখন তিনি তাঁর উটের পেছনে বসা ছিলেন এবং তাঁর বেশভূষা ছিল জীর্ণ। তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি লজ্জাবশত "সে আমার গোলাম" না বলে বলতেন "সে আমার ভাতিজা"। অতঃপর যখন তিনি তাঁকে মক্কায় প্রবেশ করালেন, তাঁর অবস্থার উন্নতি করলেন এবং প্রকাশ করলেন যে তিনি তাঁর ভাতিজা, তখন থেকেই তাঁকে আবদুল মুত্তালিব বলা হতে থাকে। তিনি একশ বিশ বছর জীবিত ছিলেন এবং মুগলত্বাই এটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, যা যুরকানী উদ্ধৃত করেছেন। আর 'হা' বর্ণটি হাশিমের প্রতি ইঙ্গিত, যাঁর নাম ছিল আমর। তাঁকে হাশিম বলা হতো কারণ তিনিই সর্বপ্রথম মক্কায় হজের মৌসুমে এবং দুর্ভিক্ষের বছরগুলোতে তাঁর কওমের জন্য রুটি গুঁড়ো করে 'ছারিদ' (ঝোলযুক্ত রুটি) তৈরি করেছিলেন। যখন মক্কাবাসীরা চরম সংকটে পড়েছিল, তখন তিনি ফিলিস্তিনে যাত্রা করেন এবং সেখান থেকে ক্রয় করেন
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ২৫)
دقيقا كثيرا وكعكا وقدم به مكة فأمر به فخبز ثم نحر جزورا وجعلها ثريدا عم به أهل مكة ولم يزل يفعل ذلك حتى استقلوا، وفي يقول ابن الزبعرى:

(عمرو العلا هشم الثريد لقومه … ورجال مكة مسنتون عجاف)

والثريد بمثلثة ما اتخذ من لحم وخبز، قال:

(إذا ما الخبز تادمه بلحم … فذاك أمانة الله الثريد)

وفي المنتقى كان هاشم أفخر قومه وأعلاهم وكانت مائدته منصوبة لا ترفع لا في السراء ولا في الضراء وكان نور رسول الله صلى الله عليه وسلم في وجهه يتوقد شعاعه ولا يراه حبر إلا قبل يده ولا يمر بشيء إلا سجد له تغدوا إليه قبائل العرب ووفود الأحبار يحملون بناتهم يعرضون عليه أن يتزوج بهن حتى بعث إليه هرقل ملك الروم وقال إن لى ابنة لم تلد النساء أجمل منها ولا أبهى وجها فاقدم علي حتى أزوجكها فقد بلغني جودك وكرمك وإنما أراد نور المصطفى الموصوف عندهم في الأنجيل فأبى هاشم، قال ابن اسحاق وهو أول من مات من بنى عبد مناف واختلف في سنه فقيل عشرون وقيل خمس وعشرون سنة قاله الزرقاني.

(عق) أما العين فإشارة لعبد مناف من أناف ينيف إذا ارتفع لقب بذلك لأن أمه حبى بضم الحاء المهملة وموحدة مشددة ممالة أخدمته صنما عظيما لهم يسمى مناة ثم نظر أبوه قصي يوما فرأه يوافق عبد مناة بن كنانة فحوله إلى عبد مناف واسمه كما قال الشافعي المغيرة منقول من الوصف والهاء للمبالغة سمي به تفاؤلا أنه يغير على الأعداء وساد في حياة أبيه وكان مطاعا في قريش ويدعى القمر لجماله، قال الواقدي وكان فيه نور رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي يده لواء نزار وقوس إسماعيل وذكر الزبير عن موسى بن عقبة أنه وجد في كتابه في حجر أنا المغيرة بن قصي آمر بتقوى الله العظيم، وبصلة الرحم وإياه عنى القائل بقوله:

(كانت قريش بيضة فتفلقت … فالمخ خالصه لعبد مناف)
প্রচুর আটা এবং পিঠা নিয়ে তিনি মক্কায় উপস্থিত হলেন। এরপর তিনি সেগুলো দিয়ে রুটি তৈরির নির্দেশ দিলেন। অতঃপর একটি উট জবাই করলেন এবং তা দিয়ে 'সারিদ' (ঝোলযুক্ত রুটি) তৈরি করে মক্কাবাসীদের মাঝে বিলিয়ে দিলেন। তারা সচ্ছল না হওয়া পর্যন্ত তিনি এটি অব্যাহত রাখলেন। এই প্রসঙ্গে ইবনে আয-যিবা'রা বলেন:

(উচ্চমর্যাদাবান আমর তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য রুটি চূর্ণ করে সারিদ তৈরি করেছিলেন … যখন মক্কার পুরুষরা দুর্ভিক্ষ ও কৃশতায় আক্রান্ত ছিল।)

'সারিদ' হলো গোশত এবং রুটি দিয়ে প্রস্তুতকৃত খাবার। জনৈক কবি বলেন:

(যখন রুটিকে গোশতের সাথে সালুন হিসেবে গ্রহণ করা হয় … আল্লাহর কসম, সেটিই হলো সারিদ।)

'আল-মুনতাকা' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, হাশিম তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে গৌরবময় ও উচ্চমর্যাদাবান ছিলেন। তাঁর দস্তরখান সবসময় বিছানো থাকত, সচ্ছলতা কিংবা অভাব—কোনো অবস্থাতেই তা উঠিয়ে নেওয়া হতো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নূর তাঁর চেহারায় প্রোজ্জ্বলভাবে চকমক করত। কোনো বিজ্ঞ আলেমই তাঁকে দেখলে তাঁর হাতে চুম্বন না করে পারতেন না। তিনি যে জিনিসের পাশ দিয়ে যেতেন, সেটিই তাঁকে সিজদাহ করত। আরবের গোত্রসমূহ এবং আলেমদের প্রতিনিধিদল তাঁদের কন্যাদের নিয়ে তাঁর কাছে আসতেন এবং তাঁদের সাথে তাঁর বিবাহের প্রস্তাব দিতেন। এমনকি রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস তাঁর নিকট এই বলে বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে, "আমার এমন এক কন্যা রয়েছে যার চেয়ে সুন্দর এবং যার চেহারার চেয়ে উজ্জ্বল চেহারার কোনো নারী আর নেই। আপনি আমার কাছে আসুন যাতে আমি আপনার সাথে তাঁর বিবাহ দিতে পারি। কারণ আপনার দানশীলতা ও উদারতার সংবাদ আমার কাছে পৌঁছেছে।" মূলত হিরাক্লিয়াস সেই নূরে মুস্তফা লাভ করতে চেয়েছিলেন যা তাঁদের কিতাব ইঞ্জিলে বর্ণিত ছিল। কিন্তু হাশিম তা প্রত্যাখ্যান করেন। ইবনে ইসহাক বলেন, তিনি বনু আবদে মানাফের মধ্যে প্রথম মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি। তাঁর বয়সের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন বিশ বছর, আবার কেউ বলেছেন পঁচিশ বছর—একথা যারকানী বর্ণনা করেছেন।

(আ-ক্ব) 'আইন' অক্ষরটি আবদে মানাফের প্রতি ইঙ্গিতস্বরূপ, যা 'আনাফা' (অত্যুচ্চ হওয়া) ধাতু থেকে আগত। তিনি এই উপাধিতে ভূষিত হন কারণ তাঁর মা 'হুব্বা' (পেশযোগে হা এবং তাশদীদযুক্ত বা) তাঁকে তাঁদের 'মানাত' নামক এক বিশাল মূর্তির সেবায় নিযুক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর পিতা কুসাই একদিন লক্ষ্য করলেন যে, এই নামটি আবদে মানাত বিন কিনানার নামের সাথে মিলে যাচ্ছে, তাই তিনি এটি পরিবর্তন করে 'আবদে মানাফ' রাখেন। ইমাম শাফি'য়ী (রহ.)-এর মতে তাঁর নাম ছিল 'মুগীরা', যা গুণবাচক শব্দ থেকে গৃহীত এবং শেষে 'হা' বর্ণটি আধিক্য বুঝাতে যুক্ত হয়েছে। শত্রুদের ওপর আক্রমণ করবেন—এই শুভকামনায় তাঁর এই নামকরণ করা হয়েছিল। তিনি তাঁর পিতার জীবদ্দশাতেই নেতৃত্ব লাভ করেন এবং কুরাইশ বংশে তাঁর আদেশ মান্য করা হতো। তাঁর সৌন্দর্যের কারণে তাঁকে 'চন্দ্র' বলা হতো। আল-ওয়াকিদি বলেন, তাঁর মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নূর বিদ্যমান ছিল এবং তাঁর হাতে নিযার-এর পতাকা ও ইসমাইল (আ.)-এর ধনুক ছিল। যুবাইর, মুসা বিন উকবা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর কিতাবে পাথরের গায়ে খোদাই করা অবস্থায় পেয়েছেন: "আমি কুসাই-এর পুত্র মুগীরা, আমি মহান আল্লাহকে ভয় করার এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার নির্দেশ দিচ্ছি।" তাঁর সম্পর্কেই জনৈক কবি বলেছেন:

(কুরাইশ ছিল একটি ডিমের মতো, যা পরবর্তীতে ফেটে যায় … আর তার ভেতরের খাঁটি নির্যাসটুকু ছিল আবদে মানাফের জন্য।)
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومات بغزة. وأما القاف فإشارة لقصي تصغير قصى بفتح فكسر فياء ساكنة أي بعيد لأنه بد عن عشيرته في بلاد قضاعة حين احتملته فاطمة بنت سعد العذري وكرهوا اجتماع ثلاث ياءات فصغروه على فعيل مثل فليس واسمه مجمع قال الشاعر:

(أبوكم قصي كان يدعى مجمعا … به جمع الله القبائل من فهو)

في مكة بعد تفرقهم في البلدان، ذكر ثعلب في أماليه أنه كان يجمع قومه يوم العروبة فيذكرهم ويأمرهم بتعظيم الحرم ويخبرهم أنه سيبعث فيهم نبي، وقوله به جمع بالتثقيل للمبالغة وفي الخميس كان اسمه زيد فسمي مجمعا لما جمع من أمر قريش فسمي مجمعا، اهـ.

وبعد البيت المتقدم:

(وأنتم بنو زيد وزيد أبوكم … به زيدت البطحاء فخرا على فخر)

وقيل اسمه يزيد وكان قصي أول بنى كعب أصاب ملكا طاع له به قومه وكانت إليه الحجابة والسقاية والرفادة والندوة واللواء وحاز شرف مكة جميعا وكان جلدا جميلا وعالم قريش وأقولها بالحق.

(كم) أما الكاف فإشارة لكلاب وهو إما منقول من مصدر كالبيت العدو مكالبة وكلابا ومعناه المشارة وإما من جمع كلب للحيوان المعروف كأنهم يريدون الكثرة كما يسمون بسباع وأنمار. وسئل اعرابي لم تسمون أبناءكم بشر الأسماء، نحو كلب وذئب وعبيدكم بأحسن الأسماء نحو مرزوق ورباح؟ فقال إنما نسمي أبناءنا لأعدائنا وعببيدنا لأنفسنا يريد أن الأبناء عدة للأعداء وسهام في نحورهم فاختاروا لهم هذه الأسماء دون عبيدهم لأنهم لا يقصد منهم قتال غالبا بل كان ذلك عارا عند العرب وقيل لقبل بكلاب لمحبته كلاب الصيد وكان يجمعها فمن مرت به قال هذه كلاب ابن مرة واسمه حكيم وقيل عروة، هذا كله من المواهب وشرحها.

وأما الميم فإشارة لمرة بضم الميم علم منقول من وصف الرجل بالمرارة والتاء للمبالغة وكنيته أبو يقظة وأولاد مرة ثلاثة: كلاب وتميم ويقظة.

(كل) أما الكاف فإشارة لكعب قال ابن دريد منقول من كعب القناة
এবং তিনি গাজায় ইন্তেকাল করেন। আর 'কাফ' বর্ণটি কুসাই-এর দিকে ইঙ্গিতবাহী, যা 'কুসা' শব্দের তাসগীর বা ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ। এটি কাফ-এ ফাতহা (যবর), সাদ-এ কাসরা (যের) এবং এরপর সাকিন 'ইয়া' যোগে গঠিত, যার অর্থ দূরবর্তী। তাকে এই নামে ডাকার কারণ হলো তিনি কুদাআহ গোত্রের এলাকায় নিজ বংশ থেকে দূরে অবস্থান করছিলেন যখন ফাতেমা বিনতে সাদ আল-উযরি তাকে সাথে নিয়ে সেখানে চলে গিয়েছিলেন। তারা তিনটি 'ইয়া' একত্রে থাকাকে অপছন্দ করতেন, তাই তারা একে 'ফুয়াইল' এর ওজনে তাসগীর করেছেন যেমন 'ফুলুইস'। তার আসল নাম ছিল মুজাম্মি (একত্রকারী)। জনৈক কবি বলেন:

(তোমাদের পিতা ছিলেন কুসাই, যাকে মুজাম্মি বলা হতো … তার মাধ্যমেই আল্লাহ ফিহর এর গোত্রসমূহকে একত্রিত করেছেন)

বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর মক্কায় তাদের একত্রিত করা হয়েছিল। সা'লাব তার 'আমালি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জুমার দিন (ইয়াওমুল আরুবাহ) তার কওমকে একত্রিত করতেন এবং তাদের নসীহত করতেন ও হারাম শরীফের সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দিতেন। তিনি তাদের সংবাদ দিতেন যে, তাদের মধ্য থেকে একজন নবী প্রেরিত হবেন। আর কবির উক্তি 'বিহি জাম্মা'য়া' (তিনি একত্রিত করেছেন) শব্দটিতে তাশদীদ ব্যবহার করা হয়েছে আধিক্য বুঝানোর জন্য। 'আল-খামিস' গ্রন্থে আছে যে তার নাম ছিল যায়েদ, আর কুরাইশদের বিষয়াদি একত্রিত করার কারণে তার নাম মুজাম্মি রাখা হয়েছিল। (সমাপ্ত)

পূর্বোক্ত পংক্তির পরের অংশ:

(তোমরা যায়েদের সন্তান এবং যায়েদ তোমাদের পিতা … যার কারণে বাতহা উপত্যকার গৌরব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে)

কারো মতে তার নাম ইয়াজিদ। কুসাই ছিলেন বনু কাবের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যিনি রাজত্ব লাভ করেছিলেন এবং তার কওম তার আনুগত্য করেছিল। হিজাবাহ (কাবা ঘরের চাবিকাঠি রক্ষা), সিকায়াহ (হাজীদের পানি পান করানো), রিফাদাহ (মেহমানদারি), নাদওয়াহ (পরামর্শ সভা) এবং লিওয়া (পতাকা) - সব দায়িত্বই তার হাতে ছিল এবং তিনি মক্কার সমস্ত সম্মান ও মর্যাদা লাভ করেছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও সুদর্শন এবং কুরাইশদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ও সত্যবাদী।

(কাম) এখানে 'কাফ' বর্ণটি কিলাব-এর দিকে ইঙ্গিতবাহী। এটি হয় 'মুকালাবাহ' বা 'কিলাব' এর মতো মাসদার থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো একে অপরের সাথে শত্রুতা করা; অথবা এটি সুপরিচিত প্রাণী 'কালব' (কুকুর) শব্দের বহুবচন 'কিলাব' থেকে নেওয়া হয়েছে। সম্ভবত এর মাধ্যমে সংখ্যাধিক্য বুঝানো উদ্দেশ্য, যেমন তারা 'সিবা' (হিংস্র প্রাণী) বা 'আনমার' (চিতাবাঘ) নামে নামকরণ করত। জনৈক বেদুইনকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনারা কেন আপনাদের সন্তানদের মন্দ নামে ডাকেন, যেমন কুকুর (কালব) ও নেকড়ে (যিব), অথচ আপনাদের দাসদের সুন্দর নামে ডাকেন, যেমন মারযুক ও রাবাহ? উত্তরে তিনি বললেন, আমরা আমাদের সন্তানদের নাম রাখি আমাদের শত্রুদের মোকাবিলা করার জন্য, আর দাসদের নাম রাখি আমাদের নিজেদের সেবার জন্য। অর্থাৎ সন্তানরা হলো শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং তাদের কণ্ঠনালীর জন্য তীরের মতো। তাই তারা সন্তানদের জন্য এই জাতীয় নাম পছন্দ করতেন যা দাসদের জন্য করতেন না, কারণ দাসদের দিয়ে সাধারণত যুদ্ধ করানো হতো না বরং আরবদের কাছে তা ছিল লজ্জাজনক। আবার বলা হয় যে, শিকারি কুকুরের প্রতি তার ভালোবাসার কারণে তাকে কিলাব বলা হতো এবং তিনি সেগুলো লালন-পালন করতেন। কেউ তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলত "এগুলো মুররাহর পুত্র কিলাব-এর কুকুর"। তার আসল নাম ছিল হাকীম, কারো মতে উরওয়াহ। এই সব তথ্য 'আল-মাওয়াহিব' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

আর 'মীম' বর্ণটি মুররাহ-এর দিকে ইঙ্গিতবাহী যা মীম-এ পেশ যোগে গঠিত। এটি মানুষের তিক্ততা (মারারাহ) গুণ থেকে বর্ণিত একটি নাম এবং এর শেষে থাকা 'তা' বর্ণটি আধিক্য বুঝানোর জন্য যুক্ত হয়েছে। তার কুনিয়াত ছিল আবু ইয়াকযাহ। মুররাহ-এর সন্তান ছিল তিনজন: কিলাব, তামীম এবং ইয়াকযাহ।

(কুল) এখানে 'কাফ' বর্ণটি কাব-এর দিকে ইঙ্গিতবাহী। ইবনে দুরিদ বলেন, এটি 'কাবুল কানাত' (বল্লমের গিট) থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ২৭)
سمي بذلك لشرفه وارتفاعه في قومه فكانوا يخضعون له حتى أرخوا بموته إلى عام الفيل فأرخوا به، ثم بموت عبد المطلب، وقيل من الكعب الذى هو قطعة السمن الجامد وهو أول من جمع الناس لمجرد الوعظ يوم العروبة وكانت تجتمع إليه قريش فيه فيخطبهم ويذكرهم بمبعث النبي صلى الله عليه وسلم ويعلمهم بأنه من ولده ويأمرهم بالإيمان به إن أدركوه وينشد مع ذلك أبياتا منها قوله:

(يا ليتني شاهد نجواء دعوته … إذا قريش تبغي الحق خذلانا)

وقوله نجواء بنون وجيم أي دعوته السر إشارة إلى ما في ابتداء الدعوة من الخفاء قبل الأمر بالصدع ومدة ضرورة وفي نسخة فحواء بفاء فحاء مهملة أي معنى ومده ضرروه. وقوله تبغي بضم الفوقية وفتح الموحدة وكسر الغين المعجمة من بغاه الشيء بالتخفيف طلبه شدد مبالغة وفي نسخة: حين العشيرة تبغي الحق خذلانا، بفتح فسكون فكسر مخففا، والمراد أنه يتمنى إدراك زمن دعوته صلى الله عليه وسلم للناس وقريش يعارضونه ويطلبون خذلان دينه لينصره ويظهر دينه وكان كعب فصيحا خطيبا وكان يأمر بتعظيم الحرم وعلمه هو به صلى الله عليه وسلم من الوصية المستمرة من آدم أن من كان فيه النور لا يضعه إلا في المطهرات لأن ختام الأنبياء منه وكان طاهارا أو من الكتب القديمة أن من كان بصفة كذا كانمحمد من ولده والأول أظهر، وروى أبو نعيم عن كعب الأحبار أن بين موت كعب ومبعث النبي صلى الله عليه وسلم خمس مائة وستين سنة، انظر الزرقاني. وأما اللام فإشارة إلى لؤي بضم اللام وبالهمز وتبدل واوا، تصغير لأي كعصي وهو الثور الوحشي قاله ابن الانباري، قال ويحتمل أنه تصغير لأي بوزن عبد وهو البطء ويؤيده قوله:

(فدونكم بنى لؤي أخاكم … ودونك مالكا يا أم عمرو)

واختار السهيلي الثاني وقال أبو حنيفة اللأ البقرة وقال الأصمعي هو تصغير لواء الجيش وقيل منقول من لوى الرمل وكنيته أبو كعب وكان له سبعة ذكور.
তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর উচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে এই নামে অভিহিত হয়েছিলেন। ফলে তারা তাঁর প্রতি অনুগত ছিল, এমনকি তারা তাঁর মৃত্যু থেকে হস্তীবর্ষ পর্যন্ত সময় গণনা করত, অতঃপর তারা হস্তীবর্ষ থেকে সাল গণনা শুরু করে। এরপর আব্দুল মুত্তালিবের মৃত্যু থেকে সাল গণনা করা হতো। বলা হয়েছে, 'কাব' শব্দটি সেই শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ ঘনীভূত মাখনের টুকরা। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি শুক্রবার মানুষকে কেবল নসিহতের জন্য একত্রিত করেছিলেন। কুরাইশরা তাঁর নিকট সমবেত হতো, তিনি তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের কথা তাদের স্মরণ করিয়ে দিতেন। তিনি তাদের জানাতেন যে, নবী তাঁরই বংশধরদের মধ্য থেকে হবেন এবং যদি তারা তাঁকে পায় তবে তাঁর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিতেন। এর সাথে তিনি কিছু কবিতা আবৃত্তি করতেন, যার মধ্যে তাঁর এই উক্তিটি রয়েছে:

(হায়, আমি যদি তাঁর গোপন আহ্বানের সাক্ষী হতে পারতাম … যখন কুরাইশরা সত্যের অবমাননা ও লাঞ্ছনা কামনা করবে।)

তাঁর উক্তি 'নাজওয়া' (যা নুন ও জিম সহযোগে) এর অর্থ হলো তাঁর গোপন দাওয়াত। এটি দাওয়াতের সূচনালগ্নে তা প্রকাশ্যে প্রচারের আদেশের পূর্বকার গোপন অবস্থার দিকে এবং এর আবশ্যিক সময়সীমার দিকে ইঙ্গিত। অন্য একটি কপিতে 'ফাহওয়া' (যা ফা ও হাহ সহযোগে) রয়েছে যার অর্থ হলো মর্মার্থ, আর ছন্দের প্রয়োজনে একে দীর্ঘ করা হয়েছে। তাঁর উক্তি 'তুবগি' (যা তায়ের উপর পেশ, বায়ের উপর জবর এবং গাইনের নিচে জের সহযোগে) যা এমন একটি শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ কোনো কিছু অনুসন্ধান করা; আধিক্য বোঝাতে এখানে তাশদীদ ব্যবহার করা হয়েছে। অন্য একটি কপিতে রয়েছে: 'যখন গোত্র সত্যের অবমাননা কামনা করবে' (যা ফাতহা, সুকুন ও কাসরা সহযোগে হালকা উচ্চারণে)। এর উদ্দেশ্য হলো, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মানুষের প্রতি দাওয়াতের সময়কাল পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতেন যখন কুরাইশরা তাঁর বিরোধিতা করবে এবং তাঁর দ্বীনকে লাঞ্ছিত করতে চাইবে, যাতে তিনি তাঁকে সাহায্য করতে পারেন এবং তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করতে পারেন। কাব ছিলেন একজন বাগ্মী বক্তা এবং তিনি হারামের সম্মান করার নির্দেশ দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তাঁর এই জ্ঞান ছিল আদম আলাইহিস সালাম থেকে চলে আসা সেই নিরবচ্ছিন্ন ওয়াসিয়ত থেকে যে, যার মধ্যে এই নূর থাকবে সে যেন তা কেবল পবিত্র গর্ভসমূহে ব্যতীত অন্য কোথাও স্থাপন না করে, কারণ শেষ নবী তাঁর থেকেই আসবেন এবং তিনি ছিলেন পবিত্র। অথবা প্রাচীন কিতাবসমূহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যে ব্যক্তির গুণাবলী এমন হবে, মুহাম্মাদ তাঁরই বংশধর হবেন। প্রথম মতটিই অধিকতর স্পষ্ট। আবু নুআয়ম কাব আল-আহবার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কাবের মৃত্যু এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির মাঝে পাঁচশত ষাট বছরের ব্যবধান ছিল। বিস্তারিত যুরকানি দ্রষ্টব্য। আর 'লাম' অক্ষরটি 'লুআই' এর দিকে ইঙ্গিত দেয়, যা লামে পেশ এবং হামযাহ সহযোগে গঠিত এবং হামযাহকে 'ওয়াও' দ্বারা পরিবর্তন করা যায়। এটি 'লাই' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ যেমন 'উসাই', যার অর্থ হলো বুনো ষাঁড়। ইবনুল আম্বারি এটি বলেছেন। তিনি আরও বলেন, এটি 'লাই' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে যা 'আবদ' এর ওজনে, যার অর্থ হলো ধীরগতি। এর সমর্থনে তাঁর এই উক্তিটি রয়েছে:

(হে লুআইয়ের বংশধরগণ! তোমাদের ভাই তোমাদের নিকটেই … আর হে উম্মে আমর! মালিক তোমার নিকটেই।)

সুহাইলি দ্বিতীয় মতটি পছন্দ করেছেন। আবু হানিফা বলেন, 'আল-লা' অর্থ গাভী। আসমায়ি বলেন, এটি হলো সেনাবাহিনীর পতাকার ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ। আবার বলা হয়েছে এটি বালুর টিলা থেকে সংগৃহীত। তাঁর উপনাম ছিল আবু কাব এবং তাঁর সাতজন পুত্রসন্তান ছিল।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আফকার ফী শারহি কুররাতিল আবসার (পৃষ্ঠা: ২৮)
(غف) أما الغين فإشارة لغالب منقول من اسم فاعل مشتق من الغلب بالتحريك أو بفتح فسكون يقال غلبة بهاء وأما الفاء فإشارة إلى فهر بكسر الفاء وسكون الهاء فراء منقول من الفهر الحجر الطويل الألمس، قاله السهيلي وقال الخشني الفهر حجر ملء الكف يذكر ويؤنث وخطأ الأصمعي من أنثه وفي الفتح الفهر الحجر الصغير وفي الإرشاد الطويل والأملس واسمه قريش. وعن الزهري أن أمه سمته قريشا وأبوه سماه فهرا وقيل فهر لقبله وقيل بالعكس وإليه تنسب قريش ونسب للأكثر، قال الزهري وهو الذى أدركت عليه من أدركت من نساب العرب أن من جاوز فهرا فليس من قريش فما كان فوقه فكناني لا قرشي على الصحيح قاله في المواهب. قال الزرقاني صححه الدمياطي والعراقي وغيرهما. (من) أما الميم فإشارة لمالك، اسم فاعل من ملك، قال الخميس سمي مالكا لأنه كان ملك العرب وأما النون فإشارة للنضر واسمه قيس ولقب بالنضر لنضارة وجهه وجماله وله من الذكور مالك والصلت ويخلد بفتح التحتية وسكون المعجمة وضم اللام فدال مهملة وبه يكنى أبوه ولكن لم يعقب إلا من مالك وذهب الأكثرون إلى أن النضر هو قريش وبه قال الشافعي قال النووي وهو الصحيح المشهور وصححه أيضا الحافظ العلائي وعزاه للمحققين وللعراقي.

(أما قريش فالأصح فهر … جماعها والأكثرون النضر)

قال الحفاظ: وعندي أنه لا خلف في ذلك لأن فهرا جماع قريش ثم أن أباهم مالكا لم يعقب غيره وكذلك النضر لا عقب له إلا مالك فاتفق القولان بحمد الله تعالى فقريش ينتهي نسبها كلها إلى فهر وقيل قريش هو إلياس وقيل مضر وقيل قصي، قال البرهان وهو باطل وكأنه قول رافضي لأنه يقتضي أن أبا بكر وعمر ليسا من قريش فإمامتهما باطلة وهو خلاف إجماع المسلمين. واختلف في سبب تسمية قريش أخرج البخاري في تاريخه أن ابن عباس سأله عمرو بن العاص فقال انه
(গফ) ‘গাইন’ বর্ণটি ‘গালিব’ এর প্রতি ইঙ্গিতবাহী, যা হরকতযুক্ত অথবা যবর ও সাকিন সহযোগে ‘গালব’ (বিজয়) ধাতু হতে উদ্ভূত ‘ইসমে ফায়েল’ বা কর্তৃবাচক বিশেষ্য। একে ‘গালবাহ’ও বলা হয়। আর ‘ফা’ বর্ণটি ‘ফিহর’ এর প্রতি ইঙ্গিতবাহী। ‘ফিহর’ শব্দটি দীর্ঘ ও মসৃণ পাথর অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি সুহায়লী বলেছেন। আল-খুশানী বলেন, ‘ফিহর’ হলো হাতের তালু পূর্ণকারী পাথর; এটি পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়, তবে আসমায়ী যারা একে স্ত্রীলিঙ্গ বলেন তাদের ভুল সাব্যস্ত করেছেন। ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে রয়েছে যে, ‘ফিহর’ হলো ছোট পাথর। আর ‘ইরশাদ’ গ্রন্থে রয়েছে যে, এটি দীর্ঘ ও মসৃণ পাথর; আর তার নাম কুরাইশ। যুহরী থেকে বর্ণিত যে, তার মা তার নাম রেখেছিলেন কুরাইশ এবং তার পিতা তার নাম রেখেছিলেন ফিহর। কেউ বলেছেন ফিহর ছিল তার উপাধি, আবার কেউ এর বিপরীতটি বলেছেন। তার দিকেই কুরাইশ বংশকে সম্পৃক্ত করা হয় এবং অধিকাংশের মত এটিই। যুহরী বলেন, আমি আরবের বংশবিদদের যাদের সান্নিধ্য পেয়েছি তারা এই মতের ওপর ছিলেন যে, ফিহর-এর ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিগণ কুরাইশ নন। সুতরাং তার উপরের স্তরের ব্যক্তিগণ ‘কিনানী’, কুরাইশী নন—এটিই বিশুদ্ধ মত, যা ‘মাওয়াহিব’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আল-যারকানী বলেন, দিমইয়াতি, ইরাকি ও অন্যান্যগণ একে বিশুদ্ধ বলেছেন। (মন) ‘মীম’ বর্ণটি ‘মালিক’ এর প্রতি ইঙ্গিতবাহী, যা ‘মালিক’ (অধিপতি) শব্দ থেকে উৎপন্ন ‘ইসমে ফায়েল’। ‘খামিস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, তাকে মালিক নাম দেওয়া হয়েছে কারণ তিনি আরবদের রাজা ছিলেন। আর ‘নুন’ বর্ণটি ‘নযর’ এর প্রতি ইঙ্গিতবাহী, যার প্রকৃত নাম ছিল ‘কাইস’। তার চেহারার উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্যের কারণে তাকে ‘নযর’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তার পুত্রদের মধ্যে ছিল মালিক, আল-সালত এবং ইয়াখলুদ। তার পিতা তাকে দিয়েই কুনিয়াত বা উপনাম গ্রহণ করতেন, কিন্তু মালিক ব্যতীত তার আর কোনো উত্তরসূরি ছিল না। অধিকাংশ আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে ‘নযর’ ই হলেন কুরাইশ। ইমাম শাফেয়ী এই মত প্রদান করেছেন। ইমাম নববী বলেন, এটিই বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মত। হাফেয আল-আলায়ীও একে বিশুদ্ধ বলেছেন এবং একে গবেষক আলেমগণ ও ইরাকি-র অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

(কুরাইশ কে—এ বিষয়ে বিশুদ্ধ মত হলো ফিহর … যিনি তাদের বংশের মূল একত্রিতকারী, আর অধিকাংশের মতে নযর)

হাদিস বিশারদগণ বলেন: আমার নিকট এতে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ ফিহর হলেন কুরাইশদের মূল সমন্বয়কারী। অতঃপর তার পিতা মালিকের তিনি ব্যতীত আর কোনো উত্তরসূরি ছিল না। অনুরূপভাবে নযরেরও মালিক ব্যতীত কোনো উত্তরসূরি ছিল না। সুতরাং আল্লাহর প্রশংসায় উভয় বক্তব্যই একবিন্দুতে মিলিত হয়। কারণ কুরাইশদের সমস্ত বংশধারা ফিহর-এ গিয়ে শেষ হয়। কেউ কেউ বলেছেন কুরাইশ হলেন ইলিয়াস, আবার কেউ বলেছেন মুযার, কেউ বলেছেন কুসাই। আল-বুরহান বলেন, এটি বাতিল মত এবং সম্ভবত এটি রাফেযীদের উক্তি। কারণ এটি মেনে নিলে সাব্যস্ত হয় যে, আবু বকর ও উমর কুরাইশ বংশীয় নন, ফলে তাদের ইমামত বা খিলাফত বাতিল হয়ে যায়—যা মুসলমানদের ঐকমত্যের (ইজমা) পরিপন্থী। কুরাইশ নামকরণের কারণ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ইমাম বুখারী তার ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন যে, আমর ইবনুল আস ইবনে আব্বাসকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন যে...