(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح عمدة الفقه - ابن تيمية - كتاب الطهارة   (ابن تيمية)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: شرح العمدة في الفقه - كتاب الطهارة

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728 هـ)

المحقق: د. سعود بن صالح العطيشان

الناشر: مكتبة العبيكان - الرياض

الطبعة: الأولى، 1412 هـ

عدد الصفحات: 523

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 رمضان 1436

শারহুল উমদাহ ফিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - কিতাবুত তাহারাহ   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


বই: শারহুল উমদাহ ফিল ফিকহ - কিতাবুত তাহারাহ

লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হি.)

তাহকীক: ড. সাউদ বিন সালিহ আল-উতাইশান

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ওবাইকান - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২৩

[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ২৮ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌[مقدمة المؤلف]

بسم الله الرحمن الرحيم

رَبِّ يَسِّرْ وَأَعِنْ

الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى، الْحَمْدُ لِلَّهِ الْعَلِيمِ الْحَكِيمِ، الْغَفُورِ الرَّحِيمِ، الْعَظِيمِ الْحَلِيمِ، الْجَوَادِ الْكَرِيمِ الَّذِي عَمَّ بَرِيَّتَهُ فَضْلُهُ الْعَمِيمُ، وَوَسِعَ خَلِيقَتَهُ إِحْسَانُهُ الْقَدِيمُ، وَهَدَى صَفْوَتَهُ إِلَى صِرَاطِهِ الْمُسْتَقِيمِ، وَنَهَجَ شِرْعَتَهُ عَلَى الْمَنْهَجِ الْقَوِيمِ، وَوَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا عَلَى الْإِجْمَالِ وَالتَّقْسِيمِ، وَدَبَّرَ كُلَّ شَيْءٍ قُدْرَةً وَحُكْمًا بِالتَّقْدِيرِ وَالتَّعْلِيمِ، وَوَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ، أَحْمَدُهُ حَمْدًا يُكَافِئُ نِعَمَهُ وَيُوَافِي مَزِيدَ التَّكْرِيمِ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، أَرْسَلَهُ بِالْآيَاتِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيمِ، فَفَتَحَ بِهِ أَعْيُنًا عُمْيًا وَآذَانًا صُمًّا وَقُلُوبًا غُلْفًا، وَهَدَى بِهِ مِنَ الْجَهْلِ الصَّمِيمِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ أَفْضَلَ صَلَاةٍ وَتَسْلِيمٍ.

أَمَّا بَعْدُ فَقَدْ تَكَرَّرَتْ مَسْأَلَةُ بَعْضِ أَصْحَابِنَا وَصَدَقَتْ رَغْبَتُهُ فِي شَرْحِ كِتَابِ الْعُمْدَةِ، تَأْلِيفُ الْإِمَامِ الْأَوْحَدِ شَيْخِ الْإِسْلَامِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ قُدَامَةَ الْمَقْدِسِيِّ رضي الله عنه وَأَرْضَاهُ، وَجَعَلَ أَعْلَى الْفِرْدَوْسِ مُتَبَوَّءَهُ وَمَثْوَاهُ، شَرْحًا يُفَسِّرُ مَسَائِلَهَا وَيُقَرِّبُ دَلَائِلَهَا وَيُفَرِّعُ قَوَاعِدَهَا وَيُتِمُّ مَقَاصِدَهَا مُتَوَسِّطًا بَيْنَ الْإِيجَازِ وَالْإِطْنَابِ وَالْإِخْلَالِ وَالْإِسْهَابِ، فَاسْتَخَرْتُ اللَّهَ تَعَالَى وَأَجْمَعْتُ ذَلِكَ رَاجِيًا مِنَ اللَّهِ سُبْحَانَهُ تَحْقِيقَ مَحْمُودِ الْأَمَلِ، وَإِخْلَاصَ صَالِحِ الْعَمَلِ، وَالْإِعَانَةَ عَلَى الْإِبَانَةِ وَالْهِدَايَةَ إِلَى الدِّرَايَةِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ، وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ.
[লেখকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আমার রব! আপনি সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর নির্বাচিত বান্দাদের প্রতি সালাম। সকল প্রশংসা সর্বজ্ঞাত ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর জন্য, যিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু, মহান ও পরম ধৈর্যশীল, পরম দাতা ও মহানুভব; যাঁর ব্যাপক অনুগ্রহ তাঁর সকল সৃষ্টির ওপর পরিব্যাপ্ত এবং যাঁর অনাদি ইহসান তাঁর সকল মাখলুককে বেষ্টন করে আছে। তিনি তাঁর মনোনীত বান্দাদের সরল পথের দিশা দিয়েছেন এবং তাঁর শরীয়তকে সুদৃঢ় পথে পরিচালিত করেছেন। তাঁর দয়া ও জ্ঞান সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। তিনি তাঁর ক্ষমতা ও হিকমত দ্বারা প্রতিটি বিষয়কে নির্ধারণ ও নির্দেশনার মাধ্যমে পরিচালনা করেছেন। তাঁর কুরসী আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং এই দুইয়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না; আর তিনি সমুন্নত, সুমহান। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করি যা তাঁর নেয়ামতের উপযুক্ত এবং তাঁর সম্মান বৃদ্ধির সহায়ক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তিনি ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁকে নিদর্শনাবলি ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশসহ প্রেরণ করেছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখ, বধির কান ও মোহরাঙ্কিত অন্তরসমূহ খুলে দিয়েছেন এবং চরম মূর্খতা থেকে হিদায়াত দিয়েছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর সর্বোত্তম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, আমাদের কিছু সাথী বারবার অনুরোধ করেছেন এবং 'আল-উমদাহ' কিতাবের ব্যাখ্যা করার ব্যাপারে তাদের আন্তরিক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন; যা ইমাম, অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব, শাইখুল ইসলাম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসকে তাঁর আবাস্থল ও ঠিকানা বানান) এর একটি রচনা। এমন একটি ব্যাখ্যা যা এর মাসয়ালাসমূহ বিশ্লেষণ করবে, এর দলিলসমূহকে নিকটবর্তী করবে, এর মূলনীতিসমূহ থেকে শাখা-প্রশাখা নির্গত করবে এবং এর লক্ষ্যসমূহ পূর্ণ করবে; যা হবে সংক্ষিপ্ততা ও বাহুল্য এবং অসম্পূর্ণতা ও অতি দীর্ঘায়নের মাঝামাঝি। অতঃপর আমি আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং এই সংকলনের কাজ করার সংকল্প গ্রহণ করলাম। আমি মহান আল্লাহর কাছে উত্তম আশার প্রতিফলন, নেক আমলের একনিষ্ঠতা, স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার সামর্থ্য এবং সঠিক অনুধাবনের হিদায়াত কামনা করছি। সুউচ্চ মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই। আমার তাওফিক আল্লাহর পক্ষ হতেই; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করছি এবং তাঁরই দিকে আমি ফিরে যাই।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
‌‌(بَابُ أَحْكَامِ الْمِيَاهِ)

‌‌مَسْأَلَةٌ:

" خُلِقَ الْمَاءُ طَهُورًا
يُطَهِّرُ مِنَ الْأَحْدَاثِ وَالنَّجَاسَاتِ "

الطَّهُورُ هُوَ مَا يُتَطَهَّرُ بِهِ مِثْلُ الْفَطُورِ وَالسَّحُورِ وَالْوَجُورِ، فَأَمَّا الطَّهُورُ فَمَصْدَرُ طَهُرَ الشَّيْءُ، وَطَهُرَ طَهَارَةً وَطُهْرًا وَطَهُورًا لَيْسَ الطَّهُورُ هُوَ الطَّاهِرَ وَلَا مُبَالَغَةً فِيهِ. وَكَذَلِكَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم «لَمَّا سُئِلَ عَنْ مَاءِ الْبَحْرِ " هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتُهُ» "، وَقَالَ: " «جُعِلَتْ لَنَا الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا» " أَيْ مُطَهِّرَةً، وَهَذِهِ صِفَةٌ لِلْمَاءِ دُونَ غَيْرِهِ مِنَ الْمَائِعَاتِ، فَلِذَلِكَ طَهَّرَ غَيْرَهُ وَدَفَعَ النَّجَاسَةَ عَنْ نَفْسِهِ.

وَالْحَدَثُ: هُوَ مَعْنًى يَقُومُ بِالْبَدَنِ تَمْتَنِعُ مَعَهُ الصَّلَاةُ وَالطَّوَافُ.

وَالنَّجَاسَةُ: هِيَ أَعْيَانٌ مُسْتَخْبَثَةٌ فِي الشَّرْعِ يَمْتَنِعُ الْمُصَلِّي مِنِ اسْتِصْحَابِهَا، وَهِيَ فِي الْأَصْلِ مَصْدَرُ نَجُسَ الشَّيْءُ يَنْجُسُ نَجَاسَةً فَهُوَ نَجَسٌ، وَيُقَالُ نَجِسَ الشَّيْءُ يَنْجَسُ نَجَسًا ثُمَّ سُمِّيَ الشَّيْءُ النَّجِسُ نَجَاسَةً وَنَجِسًا فَلَا يُثَنَّى وَلَا يُجْمَعُ إِلَّا أَنْ يُرِيدَ الْأَنْوَاعَ، وَالْمَاءُ يُطَهِّرُ مِنَ الْحَدَثِ وَالنَّجَاسَةِ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا} [الفرقان: 48] وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ} [الأنفال: 11]
‌‌(পানির বিধানাবলি অধ্যায়)

‌‌মাসআলা:

"পানিকে পবিত্রকারী হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে
যা হাদাস (অপবিত্রতা) এবং নাজাসাত (নাপাকি) থেকে পবিত্র করে।"

তাহুর (পবিত্রকারী) হলো তা, যার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা হয়; যেমন ফাতুর (ইফতারের খাবার), সাহুর (সেহরির খাবার) এবং ওয়াজুর (মুখের ওষুধ)। আর তাহুর হলো 'বস্তুটির পবিত্র হওয়া' ক্রিয়ার মাসদার (ক্রিয়ামূল)। এটি পবিত্রতা ও পবিত্র হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাহুর (পবিত্রকারী) এবং তাহির (পবিত্র) এক নয়, আর এটি অতিশয়ার্থবোধক শব্দও নয়। অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সমুদ্রের পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "এর পানি পবিত্রকারী এবং এর মৃত (প্রাণী) হালাল।" তিনি আরও বলেছেন: "আমাদের জন্য জমিনকে সিজদাহগাহ এবং পবিত্রকারী করা হয়েছে" অর্থাৎ পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম। আর এটি পানির একটি বৈশিষ্ট্য যা অন্য কোনো তরল পদার্থের নেই। এ কারণেই এটি অন্যকে পবিত্র করে এবং নিজের থেকে নাপাকি দূর করে দেয়।

হাদাস (অপবিত্রতা): এটি শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি অবস্থা, যার উপস্থিতিতে সালাত এবং তাওয়াফ করা নিষিদ্ধ।

নাজাসাত (নাপাকি): এটি শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন কিছু নোংরা বস্তু যা বহন করা সালাত আদায়কারীর জন্য নিষিদ্ধ। এটি মূলত 'বস্তুটি নাপাক হওয়া' ক্রিয়ার মাসদার, তখন তাকে 'নাজাস' (নাপাক) বলা হয়। আবার একে 'নাজিসাশ শাইউ ইয়ানজাসু নাজাসান' ও বলা হয়। এরপর নাপাক বস্তুকে নাজাসাত এবং নাজিস নামে অভিহিত করা হয়েছে; এর দ্বিবচন বা বহুবচন হয় না, যতক্ষণ না এর প্রকারভেদ বোঝানো উদ্দেশ্য হয়। আর পানি হাদাস এবং নাজাসাত থেকে পবিত্র করে, কারণ মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রকারী পানি বর্ষণ করেছি} [সুরা আল-ফুরকান: ৪৮] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের পবিত্র করতে পারেন} [সুরা আল-আনফাল: ১১]
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَقَوْلِهِ فِي آيَةِ الْوُضُوءِ {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} [النساء: 43]. وَتَطَهُّرُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ بِالْمَاءِ مَشْهُورٌ وَأَجْمَعَتِ الْأُمَّةُ عَلَى ذَلِكَ.

 

‌‌[مَسْأَلَةٌ لَا تَحْصُلُ الطَّهَارَةُ بِمَائِعٍ غَير الماءِ]

مَسْأَلَةٌ:

" وَلَا تَحْصُلُ الطَّهَارَةُ بِمَائِعٍ غَيْرِهِ "

أَمَّا طَهَارَةُ الْحَدَثِ فَهِيَ كَالْإِجْمَاعِ لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَمَرَ بِالتَّيَمُّمِ عِنْدَ عَدَمِ الْمَاءِ، وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: («الصَّعِيدُ الطَّيِّبُ طَهُورُ الْمُسْلِمِ، إِذَا لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ عَشْرَ سِنِينَ»)، إِلَّا فِي النَّبِيذِ، نَبِيذِ التَّمْرِ فَإِنَّ بَعْضَ الْعُلَمَاءِ أَجَازَ الْوُضُوءَ بِهِ فِي الْجُمْلَةِ عَلَى تَفْصِيلٍ لَهُمْ لِمَا «رَوَى ابْنُ مَسْعُودٍ قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ لَقِيَ الْجِنَّ فَقَالَ: " أَمَعَكَ مَاءٌ؟ قُلْتُ: لَا، قَالَ: فَمَا فِي هَذِهِ الْإِدَاوَةِ؟ قُلْتُ: نَبِيذٌ، قَالَ: أَرِنِيهَا تَمْرَةٌ طَيِّبَةٌ وَمَاءٌ طَهُورٌ، فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى»، رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ وَابْنُ مَاجَهْ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ.

وَهَذَا الْحَدِيثُ قَدْ ضَعَّفَهُ جَمَاعَةٌ مِنَ الْحُفَّاظِ، ثُمَّ إِنْ صَحَّ فَلَعَلَّهُ كَانَ مَاءً قَدْ طُرِحَ فِيهِ تَمَرَاتٌ تُزِيلُ مُلُوحَتَهُ بِدَلِيلِ قَوْلِهِ تَمْرَةٌ طَيِّبَةٌ وَمَاءٌ طَهُورٌ، ثُمَّ هُوَ مَنْسُوخٌ بِآيَةِ
এবং ওজুর আয়াতের বিষয়ে তাঁর বাণী: {অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে তায়াম্মুম করো} [আন-নিসা: ৪৩]। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করার বিষয়টি প্রসিদ্ধ এবং উম্মত এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে।

 

‌‌[মাসআলা: পানি ছাড়া অন্য কোনো তরল দিয়ে পবিত্রতা অর্জিত হয় না]

মাসআলা:

" এবং পানি ব্যতীত অন্য কোনো তরল দ্বারা পবিত্রতা অর্জিত হয় না "

হদস থেকে পবিত্র হওয়ার বিষয়টি ইজমার মতো; কারণ আল্লাহ তাআলা পানি না পাওয়ার সময় তায়াম্মুম করার নির্দেশ দিয়েছেন, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: («পবিত্র মাটি একজন মুসলমানের জন্য পবিত্রকারী, যদিও সে দশ বছর পর্যন্ত পানি না পায়»), তবে নাবীয তথা খেজুরের নাবীযের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ কিছু আলেম তাদের নির্ধারিত বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী সাধারণভাবে এটি দিয়ে ওজু করা বৈধ বলেছেন। যেহেতু ইবনে মাসউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম সেই রাতে যখন তিনি জিনদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার কাছে কি পানি আছে?" আমি বললাম: "না", তিনি বললেন: "তাহলে এই পাত্রে কী আছে?" আমি বললাম: "নাবীয", তিনি বললেন: "আমাকে তা দেখাও; এটি উত্তম খেজুর এবং পবিত্র পানি।" অতঃপর তিনি ওজু করলেন এবং সালাত আদায় করলেন», এটি ইমাম আহমাদ, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ এবং তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

আর এই হাদিসটিকে একদল হাফেযে হাদিস যয়ীফ বলেছেন। অতঃপর এটি যদি সহীহও হয়, তবে সম্ভবত তা এমন পানি ছিল যাতে কিছু খেজুর ফেলা হয়েছিল যা তার লোনাভাব দূর করেছিল; যার প্রমাণ তাঁর এই উক্তি: "উত্তম খেজুর এবং পবিত্র পানি"। তদুপরি, এটি আয়াতের দ্বারা রহিত।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬২)
الْمَائِدَةِ الَّتِي فُرِضَ فِيهَا التَّيَمُّمُ عِنْدَ عَدَمِ الْمَاءِ، فَإِنَّ قِصَّةَ الْجِنِّ كَانَتْ بِمَكَّةَ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ. وَأَمَّا نَجَاسَةُ الْخَبَثِ فَعَنْهُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنْ تُزَالَ بِكُلِّ مَائِعٍ طَاهِرٍ يُزِيلُ كَالْخَلِّ وَنَحْوِهِ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ؛ لِأَنَّ الْمَقْصُودَ هُوَ زَوَالُ النَّجَاسَةِ، وَلِذَلِكَ يَحْصُلُ بِصَوْبِ الْغَمَامِ وَبِفِعْلِ الْمَجْنُونِ وَبِدُونِ النِّيَّةِ، وَظَاهِرُ الْمَذْهَبِ كَمَا ذَكَرَهُ الشَّيْخُ؛ لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِالْمَاءِ فِي حَدِيثِ الْأَعْرَابِيِّ الَّذِي بَالَ فِي الْمَسْجِدِ، وَفِي دَمِ الْحَيْضِ، وَغَسْلِ آنِيَةِ الْمَجُوسِ، وَلِأَنَّ الطَّهَارَةَ بِالْمَاءِ يَجُوزُ أَنْ تَكُونَ تَعَبُّدًا فَلَا يَلْحَقُ بِهِ غَيْرُهُ كَطَهَارَةِ الْحَدَثِ وَلِأَنَّ الْمَاءَ أَلْطَفُ وَأَنْفَذُ فِي الْأَعْمَاقِ، مَعَ أَنَّهُ لَيْسَ لَهُ فِي نَفْسِهِ طَعْمٌ وَلَا لَوْنٌ وَلَا رِيحٌ يَبْقَى بَعْدَ زَوَالِ النَّجَاسَةِ وَهُوَ مَخْلُوقٌ لِلطَّهَارَةِ دُونَ غَيْرِهِ مِنَ الْمَائِعَاتِ، فَإِنَّهَا خُلِقَتْ لِلْأَكْلِ وَلِلدِّهَانِ وَغَيْرِ ذَلِكَ، وَأَعَمُّهَا وُجُودًا وَهُوَ طَهُورٌ يَدْفَعُ النَّجَاسَةَ عَنْ نَفْسِهِ وَلَا يَتَنَجَّسُ فِي وُرُودِهِ عَلَيْهَا إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الصِّفَاتِ الَّتِي اخْتُصَّ بِهَا فَلَا يَجُوزُ إِلْحَاقُ غَيْرِهِ بِهِ.

 

‌‌[مَسْأَلَةٌ إذا بَلَغَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ أَوْ كَانَ جَارِيًا لم ينجسه شيء]

مَسْأَلَةٌ:

" فَإِذَا بَلَغَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ أَوْ كَانَ جَارِيًا لَمْ يُنَجِّسْهُ شَيْءٌ إِلَّا مَا غَيَّرَ لَوْنَهُ أَوْ طَعْمَهُ أَوْ رِيحَهُ وَمَا سِوَى ذَلِكَ يَتَنَجَّسُ بِمُخَالَطَتِهِ النَّجَاسَةَ ".

أَمَّا الْمَاءُ الدَّائِمُ فَظَاهِرُ الْمَذْهَبِ أَنَّهُ لَا يَتَنَجَّسُ بِوُقُوعِ النَّجَاسَةِ فِيهِ إِذَا كَانَ كَثِيرًا إِلَّا أَنْ يَظْهَرَ فِيهِ طَعْمُ النَّجَاسَةِ أَوْ لَوْنُهَا أَوْ رِيحُهَا وَأَنَّ الْقَلِيلَ يُنَجَّسُ
সুরা আল-মায়িদাহ যাতে পানি না থাকার সময় তায়াম্মুম ফরয করা হয়েছে, কারণ জিনের ঘটনাটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে মক্কায় ঘটেছিল। আর অপবিত্রতা দূর করার প্রসঙ্গে ইমাম আহমদের পক্ষ থেকে এমন বর্ণনা রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, শিরকা বা এই জাতীয় এমন প্রতিটি পবিত্র তরল পদার্থ যা অপবিত্রতা দূর করতে সক্ষম, তা দিয়ে নাপাকি দূর করা যায়। এটি ইমাম আবু হানিফারও অভিমত; কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো অপবিত্রতা দূর করা। আর একারণেই মেঘের বৃষ্টি দ্বারা, পাগলের কাজের মাধ্যমে এবং নিয়ত ছাড়াও অপবিত্রতা দূর হয়ে যায়। মাযহাবের প্রকাশ্য মতটি তাই যা শাইখ উল্লেখ করেছেন; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে প্রস্রাবকারী বেদুইনের হাদীসে, মাসিকের রক্তের ক্ষেত্রে এবং মজুসিদের পাত্র ধোয়ার ক্ষেত্রে পানি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। তদুপরি পানির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন একটি ইবাদতগত বিষয় হতে পারে, তাই হাদাছ (অজু-গোসল) এর পবিত্রতার মতো অন্য কিছুকে এর সমপর্যায়ভুক্ত করা যাবে না। এছাড়া পানি অধিকতর সূক্ষ্ম এবং গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম, অথচ নাপাকি দূর করার পর এর নিজস্ব কোনো স্বাদ, রং বা গন্ধ অবশিষ্ট থাকে না। পানি অন্যান্য তরল পদার্থের বিপরীতে পবিত্রতা অর্জনের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে, কারণ সেই তরলগুলো আহার, মালিশ বা অন্য কাজে ব্যবহারের জন্য সৃষ্ট। পানি সর্বাধিক সহজলভ্য এবং এটি এমন এক পবিত্রকারী যা নিজের থেকে নাপাকিকে প্রতিহত করে এবং নাপাকির সংস্পর্শে আসলেও নিজে নাপাক হয় না। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য ছাড়াও অন্যান্য গুণের কারণে যা কেবল পানিরই বৈশিষ্ট্য, অন্য কোনো কিছুকে এর সমপর্যায়ভুক্ত করা বৈধ নয়।

 

‌‌[মাসআলা: যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণে পৌঁছে অথবা প্রবহমান হয়, তখন কোনো কিছু তাকে নাপাক করে না]

মাসআলা:

"সুতরাং যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণে পৌঁছে অথবা প্রবহমান হয়, তখন স্বাদ, রং অথবা গন্ধ পরিবর্তন করা ছাড়া কোনো কিছুই তাকে নাপাক করতে পারে না। আর এর অতিরিক্ত যা আছে (অল্প পানি), তা নাপাকির সংমিশ্রণে নাপাক হয়ে যায়।"

স্থির পানির ক্ষেত্রে মাযহাবের প্রকাশ্য অভিমত হলো, যদি তা অধিক পরিমাণে হয় তবে তাতে নাপাকি পড়লে তা নাপাক হবে না, যতক্ষণ না তাতে নাপাকির স্বাদ, রং অথবা গন্ধ প্রকাশ পায়। তবে অল্প পরিমাণ পানি নাপাক হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
بِالْمُلَاقَاةِ. وَعَنْهُ رِوَايَةٌ أُخْرَى أَنَّ الْجَمِيعَ لَا يُنَجَّسُ إِلَّا بِالتَّغَيُّرِ لِمَا رَوَى أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ قَالَ: «قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ، وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيهَا الْحَيْضُ وَلُحُومُ الْكِلَابِ وَالنَّتَنُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " الْمَاءُ طَهُورٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ»، وَفِي رِوَايَةٍ «أَنَّهُ يُسْتَقَى لَكَ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُطْرَحُ فِيهَا مَحَائِضُ النِّسَاءِ وَلُحُومُ الْكِلَابِ وَعُذَرُ النَّاسِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ»، رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ، قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ هُوَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ.

وَالصَّحِيحُ الْأَوَّلُ لِمَا «رَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَسْأَلُ عَنِ الْمَاءِ يَكُونُ فِي الْفَلَا مِنَ الْأَرْضِ وَمَا يَنُوبُهُ مِنَ السِّبَاعِ وَالدَّوَابِّ فَقَالَ: " إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَثَ».
সংস্পর্শের মাধ্যমে। এবং তাঁর থেকে অন্য একটি বর্ণনা রয়েছে যে, (স্বাদ, বর্ণ বা গন্ধ) পরিবর্তন হওয়া ব্যতীত কোনো পানিই অপবিত্র হয় না। কারণ আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি বুদাআ কূপ থেকে অজু করব? অথচ এটি এমন একটি কূপ যাতে ঋতুস্রাবের ন্যাকড়া, কুকুরের গোশত এবং দুর্গন্ধময় বস্তু নিক্ষিপ্ত হয়। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না"», এবং অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে «যে, আপনার জন্য কি বুদাআ কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করা হবে? অথচ এটি এমন একটি কূপ যাতে নারীদের ঋতুস্রাবের ন্যাকড়া, কুকুরের গোশত এবং মানুষের মলমূত্র নিক্ষেপ করা হয়। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই পানি পবিত্র, কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করে না"», এটি আহমাদ, আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) একে হাসান হাদিস বলেছেন। ইমাম আহমাদ বলেছেন, এটি একটি সহিহ হাদিস।

এবং প্রথম মতটিই সঠিক, কারণ «আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যখন তাঁকে জনমানবহীন প্রান্তরের পানি এবং সেখানে হিংস্র প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর আনাগোনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বললেন: "যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না"»।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
رَوَاهُ الْأَئِمَّةُ الْخَمْسَةُ. وَلَفْظُ ابْنِ مَاجَهْ وَأَحْمَدَ فِي رِوَايَةٍ " لَمْ يُنَجِّسْهُ شَيْءٌ " قَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَدِيثٌ حَسَنٌ، فَلَوْ كَانَ الْقَلِيلُ لَا يَحْمِلُ الْخَبَثَ وَلَا يَتَنَجَّسُ لَمْ يَكُنْ لِتَقْدِيرِهِ فَائِدَةٌ، وَصَحَّ عَنْهُ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْبَوْلِ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ الِاغْتِسَالِ مِنْهُ، وَنَهَى عَنِ اغْتِسَالِ الْجُنُبِ فِيهِ، وَأَمَرَ الْمُسْتَيْقِظَ مِنْ نَوْمِ اللَّيْلِ أَلَّا يَغْمِسَ يَدَهُ فِيهِ، وَأَمَرَ بِإِرَاقَةِ الْإِنَاءِ مِنْ وُلُوغِ الْكَلْبِ فِيهِ، وَهَذَا كُلُّهُ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْقَلِيلَ تُؤَثِّرُ فِيهِ النَّجَاسَةُ وَلِأَنَّهُ لِقِلَّتِهِ قَدْ تَبْقَى النَّجَاسَةُ فِيهِ غَيْرَ مُسْتَهْلَكَةٍ فَيُفْضِي اسْتِعْمَالُهُ إِلَى اسْتِعْمَالِهَا، وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: " لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ " يُرِيدُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّ ذَاتَ الْمَاءِ لَا تَنْقَلِبُ نَجِسَةً بِالْمُلَاقَاةِ فَرْقًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمَائِعَاتِ حَيْثُ تَنْقَلِبُ نَجِسَةً بِوُقُوعِ النَّجَاسَةِ فِيهَا لِأَنَّهُ طَهُورٌ يُطَهِّرُ غَيْرَهُ فَنَفْسُهُ أَوْلَى، فَأَمَّا إِذَا تَغَيَّرَ بِالنَّجَاسَةِ فَإِنَّمَا حَرُمَ اسْتِعْمَالُهُ كَمَا يَحْرُمُ اسْتِعْمَالُ الثَّوْبِ الْمُلَطَّخِ بِالدَّمِ وَالْبَوْلِ، فَإِذَا زَالَ التَّغَيُّرُ كَانَ كَزَوَالِ النَّجَاسَةِ عَنِ الثَّوْبِ، وَلِهَذَا السَّبَبِ كَانَ سَائِرُ الْمَائِعَاتِ غَيْرَ الْمَاءِ
এটি পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ এবং আহমদের একটি বর্ণনায় শব্দগুলো হলো: "কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না।" ইমাম তিরমিযী বলেছেন: হাদিসটি হাসান। সুতরাং অল্প পানি যদি অপবিত্রতা বহন না করত এবং অপবিত্র না হতো, তবে তার পরিমাণ নির্ধারণ করার কোনো সার্থকতা থাকত না। এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত যে, তিনি বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে এবং পরবর্তীতে তা থেকে গোসল করতে নিষেধ করেছেন। তিনি তাতে অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তির গোসল করতেও নিষেধ করেছেন। তিনি রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তিকে তার হাত তাতে ডুবিয়ে না দিতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং কুকুরের মুখ দেওয়ার কারণে পাত্রের পানি ঢেলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব কিছুই প্রমাণ করে যে, অল্প পানিতে অপবিত্রতা প্রভাব বিস্তার করে। কেননা পানি অল্প হওয়ার কারণে অপবিত্রতা তাতে নিঃশেষ না হয়ে অবশিষ্ট থেকে যেতে পারে, ফলে সেই পানি ব্যবহার করলে মূলত সেই অপবিত্রতাই ব্যবহার করা হয়। আর তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না"—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো (আল্লাহই ভালো জানেন) যে, পানির সত্তা অপবিত্রতার সংস্পর্শে আসার কারণে অপবিত্র হয়ে যায় না; এটি পানি এবং অন্যান্য তরল পদার্থের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য, যেহেতু অন্যান্য তরলে অপবিত্রতা পড়লে তা অপবিত্র হয়ে যায়। কেননা পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী, তাই সেটি নিজে পবিত্র থাকার অধিক উপযোগী। তবে যখন নাপাকির কারণে পানির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়ে যায়, তখন তা ব্যবহার করা হারাম হয়ে যায়; যেমন রক্ত ও প্রস্রাব মাখা কাপড় ব্যবহার করা হারাম। অতঃপর সেই পরিবর্তন যখন দূর হয়ে যায়, তখন তা কাপড় থেকে নাপাকি দূর হওয়ার মতো হয়ে যায়। আর এই কারণেই পানি ব্যতীত অন্যান্য সকল তরল পদার্থের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
يُنَجَّسُ بِوُقُوعِ النَّجَاسَةِ فِيهِ قَلِيلًا كَانَ أَوْ كَثِيرًا فِي الْمَشْهُورِ مِنَ الْمَذْهَبِ، وَعَنْهُ اعْتِبَارُ الْقُلَّتَيْنِ فِيهَا كَالْمَاءِ، وَعَنْهُ اعْتِبَارُهَا فِيمَا أَصْلُهُ الْمَاءُ مِنْهَا كَخَلِّ التَّمْرِ دُونَ مَا لَيْسَ أَصْلُهُ الْمَاءَ كَالْعَصِيرِ، وَحَدُّ الْكَثِيرِ هُوَ الْقُلَّتَانِ فِي جَمِيعِ النَّجَاسَاتِ عَلَى إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ كَمَا ذَكَرَهُ الشَّيْخُ وَاخْتَارَهُ أَبُو الْخَطَّابِ، وَابْنُ عَقِيلٍ، وَأَكْثَرُ مُتَأَخِّرِي أَصْحَابِنَا عَلَى ظَاهِرِ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ، وَالرِّوَايَةُ الْأُخْرَى أَنَّ الْبَوْلَ مِنَ الْآدَمِيِّ وَالْعَذِرَةَ الرَّطْبَةَ خَاصَّةً يُنَجِّسَانِ الْمَاءَ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مِمَّا لَا يُمْكِنُ نَزْحُهُ كَالْمَصَانِعِ الَّتِي بِطَرِيقِ مَكَّةَ، وَأَكْثَرُ نُصُوصِ أَحْمَدَ عَلَى هَذَا، وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْمُتَقَدِّمِينَ مِنْ أَصْحَابِنَا، لِمَا رَوَى أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لَا يَجْرِي ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ» " رَوَاهُ الْجَمَاعَةُ. وَقَالَ الْخَلَّالُ: وَجَدْنَا

মাযহাবের প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী, এতে নাপাকি পতিত হওয়ার ফলে তা নাপাক হয়ে যায়—চাই তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি। ইমাম আহমাদ থেকে অন্য একটি বর্ণনা রয়েছে যে, পানির ন্যায় এতেও ‘দুই কুল্লা’র বিষয়টি ধর্তব্য হবে। তাঁর থেকে আরও একটি বর্ণনা এই যে, যার মূল উপাদান পানি (যেমন- খেজুরের সিরকা), সে ক্ষেত্রে এটি বিবেচিত হবে; কিন্তু যার মূল উপাদান পানি নয় (যেমন- ফলের রস), সে ক্ষেত্রে এটি বিবেচিত হবে না। দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী সকল প্রকার নাপাকির ক্ষেত্রে ‘বেশি’র সীমা হলো দুই কুল্লা, যেমনটি শাইখ উল্লেখ করেছেন এবং আবু আল-খাত্তাব, ইবন আকীল ও আমাদের পরবর্তী যুগের অধিকাংশ ফকীহগণ ইবনে উমরের হাদীসের বাহ্যিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে এটিই গ্রহণ করেছেন। অপর বর্ণনাটি হলো—বিশেষ করে মানুষের প্রস্রাব ও সিক্ত মল পানিকে নাপাক করে দেয়, তবে তা যদি এমন বড় জলাধার হয় যা সেচে খালি করা সম্ভব নয় (যেমন—মক্কার পথে অবস্থিত বিশাল জলাধারগুলো), তবে ভিন্ন কথা। ইমাম আহমাদের অধিকাংশ বক্তব্য এ বিষয়ের ওপরই এবং আমাদের পূর্ববর্তী যুগের অধিকাংশ ফকীহগণের অভিমতও এটিই। এর কারণ হলো আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস, যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন এমন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর আবার তাতে গোসল করে।" হাদীসটি ইমামগণের একটি বড় দল বর্ণনা করেছেন। আল-খাল্লাল বলেন: আমরা পেয়েছি

(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ صَبِيٍّ بَالَ فِي بِئْرٍ " فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَنْزَحُوهَا "، وَأَمَّا الْمَاءُ الْجَارِي فَعَنْ أَحْمَدَ مَا يَدُلُّ عَلَى رِوَايَتَيْنِ إِحْدَاهُمَا أَنَّهُ كَالدَّائِمِ إِذَا كَانَتْ عَيْنُ النَّجَاسَةِ فِي جَرْيِهِ مِنْهُ تَبْلُغُ قُلَّتَيْنِ وَلَمْ تَتَغَيَّرْ فَهِيَ طَاهِرَةٌ وَإِنْ نَقَصَتْ عَنْهَا فَهِيَ نَجِسَةٌ، وَإِنْ كَانَتِ النَّجَاسَةُ وَاقِعَةً بِكُلِّ جِرْيَةٍ تَمُرُّ عَلَيْهَا وَلَمْ تَتَغَيَّرْ إِنْ بَلَغَتْ قُلَّتَيْنِ فَهِيَ طَاهِرَةٌ وَإِلَّا فَهِيَ نَجِسَةٌ، وَالْجِرْيَةُ مَا تُحَاذِي النَّجَاسَةَ مِنْ فَوْقِهَا وَتَحْتِهَا وَعَنْ يَمِينِهَا وَعَنْ شِمَالِهَا مَا بَيْنَ جَانِبَيِ النَّهْرِ فَأَمَّا (مَا) أَمَامَهَا فَهُوَ طَاهِرٌ لِأَنَّهَا لَمْ تَلْحَقْهُ وَكَذَلِكَ مَا وَرَاءَهَا لِأَنَّهَا لَمْ تَصِلْ إِلَيْهِ وَإِنِ اجْتَمَعَتِ الْجَرَيَاتُ كُلُّهَا وَفِيهَا جِرْيَةٌ طَاهِرَةٌ تَبْلُغُ قُلَّتَيْنِ فَالْجَمِيعُ طَاهِرٌ مَا لَمْ يَتَغَيَّرْ وَإِلَّا فَهُوَ نَجِسٌ فِي الْمَشْهُورِ، وَعَلَى قَوْلِنَا إِنْ ضُمَّ الْقَلِيلُ إِلَى الْقَلِيلِ أَوِ الْكَثِيرِ النَّجِسِ يُوجِبُ طَهَارَةَ الْجَمِيعِ إِذَا زَالَ التَّغَيُّرُ فَهُنَا كَذَلِكَ.

وَقَالَ ابْنُ عَقِيلٍ: مَتَى بَلَغَ الْمَجْمُوعُ هُنَا قُلَّتَيْنِ وَكَانَتِ النَّجَاسَةُ فِي جِرْيَةٍ مِنْهُ فَهُوَ طَاهِرٌ لِأَنَّهُ مَاءٌ وَاحِدٌ. وَقَالَ السَّامِرِيُّ: " إِنْ كَانَتِ الْجِرْيَةُ الَّتِي فِيهَا النَّجَاسَةُ قُلَّتَيْنِ أَوْ مَجْمُوعُ الْمُتَقَدِّمِ وَالْمُتَأَخِّرِ قُلَّتَيْنِ فَهُوَ طَاهِرٌ وَإِلَّا فَلَا ".

وَهَذِهِ الرِّوَايَةُ اخْتِيَارُ الْقَاضِي وَجُمْهُورِ أَصْحَابِنَا لِعُمُومِ حَدِيثِ الْقُلَّتَيْنِ وَقِيَاسًا لِلْجَارِي عَلَى الدَّائِمِ، وَالرِّوَايَةُ الْأُخْرَى أَنَّ الْجَارِيَ لَا يُنَجَّسُ إِلَّا بِالتَّغَيُّرِ قَلِيلًا كَانَ أَوْ كَثِيرًا اخْتَارَهُ الشَّيْخُ وَغَيْرُهُ وَهُوَ أَظْهَرُ لِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ
আলী (রা.) থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত যে, তাঁকে এমন এক শিশু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে একটি কূপে প্রস্রাব করেছে; তখন তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা তা (কূপের পানি) সেচে ফেলে। আর প্রবহমান পানির ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত বিষয় দুটি বর্ণনার অবকাশ রাখে। তার একটি হলো, এটি স্থির পানির ন্যায়; যখন পানির প্রবাহের মধ্যে মূল নাপাকি বিদ্যমান থাকে এবং তা দুই কুল্লা পরিমাণ হয় ও পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পবিত্র। আর যদি তার চেয়ে কম হয় তবে তা অপবিত্র। আর যদি নাপাকি এমন হয় যা প্রতিটি প্রবাহের ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত হয় এবং তা পরিবর্তিত না হয়, তবে যদি তা দুই কুল্লা পরিমাণ হয় তবে পবিত্র, অন্যথায় তা অপবিত্র। এক প্রবাহ (জিরইয়াহ) হলো যা নাপাকির ওপর, নিচ, ডান এবং বাম দিক থেকে নদীর দুই তীরের মধ্যবর্তী অংশকে বেষ্টন করে থাকে। সুতরাং নাপাকির সামনের অংশ পবিত্র, কারণ তা নাপাকির সংস্পর্শে আসেনি। একইভাবে পেছনের অংশও পবিত্র, কারণ নাপাকি সেখানে পৌঁছায়নি। আর যদি সমস্ত প্রবাহ একত্রে মিলিত হয় এবং তাতে দুই কুল্লা পরিমাণ পবিত্র পানি থাকে, তবে যতক্ষণ না তা পরিবর্তিত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সবটুকুই পবিত্র। অন্যথায় প্রসিদ্ধ মতানুসারে তা অপবিত্র। আর আমাদের মতানুসারে, যদি অল্প পানির সাথে অল্প পানি অথবা বেশি অপবিত্র পানি যুক্ত করার ফলে পরিবর্তন দূর হয়ে যায় তবে তা সবটুকুর পবিত্রতা সাব্যস্ত করে; এক্ষেত্রেও হুকুম তাই।

ইবনে আকীল বলেন: "এখানে যখনই সমষ্টি দুই কুল্লায় পৌঁছাবে এবং নাপাকি তার কোনো এক প্রবাহে থাকবে, তবে তা পবিত্র; কারণ তা অভিন্ন পানি।" সামেরী বলেন: "যদি সেই প্রবাহটি যাতে নাপাকি রয়েছে তা দুই কুল্লা হয় অথবা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পানির সমষ্টি দুই কুল্লা হয় তবে তা পবিত্র, অন্যথায় নয়।"

আর এই বর্ণনাটিই কাজী এবং আমাদের অধিকাংশ ফকীহ পছন্দ করেছেন দুই কুল্লা সম্পর্কিত হাদিসের সাধারণ অর্থের কারণে এবং প্রবহমান পানিকে স্থির পানির ওপর কিয়াস করে। আর দ্বিতীয় বর্ণনাটি হলো, প্রবহমান পানি পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত অপবিত্র হয় না, তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি। শায়খ এবং অন্যান্যেরা এটিই পছন্দ করেছেন এবং এটিই অধিকতর স্পষ্ট, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ» " وَفِي لَفْظٍ " يَتَوَضَّأُ مِنْهُ "، وَمَفْهُومُهُ جَوَازُ ذَلِكَ فِي الْجَارِي مُطْلَقًا، وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ: " «لَا يَغْتَسِلْ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ» " وَمَفْهُومُهُ جَوَازُ الِاغْتِسَالِ فِي الْجَارِي وَإِنِ اسْتَدْبَرَ الْجِرْيَةَ، وَكَذَلِكَ نَهْيُهُ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُبَالَ فِي الرَّاكِدِ وَمَفْهُومُهُ الْإِذْنُ فِي الْبَوْلِ فِي الْمَاءِ الْجَارِي وَلَوْ يُنَجِّسُهُ لَمْ يَأْذَنْ فِيهِ وَكَذَلِكَ حَدِيثُ بِئْرِ بُضَاعَةَ عَامٌّ، وَمَفْهُومُ حَدِيثِ الْقُلَّتَيْنِ لَا يُعَارِضُ هَذَا لِأَنَّ قَوْلَهُ: " «إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَثَ» " دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ مَا دُونَ الْقُلَّتَيْنِ بِخِلَافِ ذَلِكَ، وَإِذَا فَرَّقْنَا بَيْنَ جَارِيهِ وَوَاقَفِهِ حَصَلَتِ الْمُخَالَفَةُ لَا سِيَّمَا وَسَبَبُ الْحَدِيثِ هُوَ السُّؤَالُ عَنِ الْمَاءِ الرَّاكِدِ، وَلِأَنَّ الْقَلِيلَ الْوَاقِفَ إِنَّمَا يُنَجَّسُ - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - لِضَعْفِهِ عَنِ اسْتِهْلَاكِ النَّجَاسَةِ، وَالْجَارِي لِقُوَّةِ جَرَيَانِهِ يُحِيلُهَا وَيَدْفَعُهَا إِذَا وَرَدَ عَلَيْهَا فَكَانَ كَالْكَثِيرِ.

 

‌‌[مَسْأَلَةٌ مقدار القلتين]

مَسْأَلَةٌ:

" وَالْقُلَّتَانِ مَا قَارَبَ مِائَةً وَثَمَانِيَةَ أَرْطَالٍ بِالدِّمَشْقِيِّ "

" الْقُلَّةُ " هِيَ الْجُبُّ وَالْخَابِيَةُ سُمِّيَتْ بِذَلِكَ لِأَنَّهَا تُقَلُّ بِالْيَدِ، وَالتَّقْدِيرُ بِقِلَالِ هَجَرَ، هَكَذَا رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ وَالدَّارَقُطْنِيُّ فِي حَدِيثٍ مُرْسَلٍ «إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ بِقِلَالِ هَجَرَ».
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে, অতঃপর তা থেকে গোসল করে।" অন্য শব্দে এসেছে "তা থেকে অজু করে।" এর মর্মার্থ হলো প্রবহমান পানিতে এটি সাধারণভাবে বৈধ। অনুরূপভাবে তাঁর কথা: "তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে।" এর মর্মার্থ হলো প্রবহমান পানিতে গোসল করা বৈধ, যদিও সে স্রোতের উল্টো দিকে থাকে। তেমনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্থির পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করার অর্থ হলো প্রবহমান পানিতে প্রস্রাব করার অনুমতি থাকা; কারণ যদি তা পানিকে অপবিত্র করত তবে তিনি এতে অনুমতি দিতেন না। একইভাবে বুদাআহ কূপ সংক্রান্ত হাদিসটি ব্যাপক। আর দুই কুল্লা সংক্রান্ত হাদিসের মর্মার্থ এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়, কারণ তাঁর কথা: "যখন পানি দুই কুল্লায় পৌঁছে যায়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না।" এটি এই বিষয়ের দলিল যে, দুই কুল্লার কম পানির ক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন। আর যদি আমরা প্রবহমান ও স্থির পানির মধ্যে পার্থক্য করি তবে বৈসাদৃশ্য স্পষ্ট হয়, বিশেষত এই হাদিসটির প্রেক্ষাপট ছিল স্থির পানি সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেয়া। তাছাড়া স্থির অল্প পানি নাপাক হয়ে যায়—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—নাপাকিকে আত্মস্থ করে নেয়ার ক্ষেত্রে তার দুর্বলতার কারণে। আর প্রবহমান পানি তার স্রোতের শক্তির কারণে নাপাকিকে রূপান্তর করে দেয় এবং তা আসলে তাকে হটিয়ে দেয়, ফলে এটি অধিক পানির মতো হয়ে যায়।

 

‌‌[মাসআলা: দুই কুল্লার পরিমাণ]

মাসআলা:

"আর দুই কুল্লা হলো দামেশকি পরিমাপে প্রায় একশ আট রতলের সমান।"

"কুল্লা" হলো বড় মটকা বা জালা, এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি হাত দিয়ে উঠানো হয়। আর এর পরিমাপ হলো হাজার অঞ্চলের মটকা অনুযায়ী; ইমাম শাফিঈ ও দারাকুতনী একটি মুরসাল হাদিসে এভাবেই বর্ণনা করেছেন: "যখন পানি হাজার অঞ্চলের দুই কুল্লা পরিমাণ হয়।"
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬৮)
وَهِيَ قِلَالٌ مَعْرُوفَةٌ عِنْدَهُمْ كَانُوا يَعْتَبِرُونَ بِهَا الْأَشْيَاءَ وَهِيَ أَكْثَرُ الْقِلَالِ وَأَشْهَرُهَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيثِ الْمِعْرَاجِ: " «ثُمَّ رُفِعَتْ لِي سِدْرَةُ الْمُنْتَهَى فَإِذَا نَبِقُهَا مِثْلُ قِلَالِ هَجَرَ، وَإِذَا وَرَقُهَا مِثْلُ آذَانِ الْفِيَلَةِ»، وَأَمَّا قِلَالُ هَجَرَ فَقَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: " رَأَيْتُ قِلَالَ هَجَرَ فَرَأَيْتُ الْقُلَّةَ مِنْهَا تَسَعُ قِرْبَتَيْنِ أَوْ قِرْبَتَيْنِ وَشَيْئًا " فَأَثْبَتْنَا الشَّيْءَ احْتِيَاطًا وَجَعَلْنَاهُ نِصْفًا لِأَنَّهُ أَقْصَى مَا يُطْلَقُ عَلَيْهِ اسْمُ شَيْءٍ مُنْكَرٍ فَصَارَتِ الْقُلَّتَانِ خَمْسَ قِرَبٍ بِقِرَبِ الْحِجَازِ، وَقِرَبُ الْحِجَازِ كِبَارٌ مَعْلُومَةٌ تَسَعُ الْقِرْبَةُ مِنْهَا نَحْوَ مِائَةِ رِطْلٍ كَذَا نَقَلَهُ الَّذِينَ حَدَّدُوا الْمَاءَ بِالْقِرَبِ، وَإِنَّمَا يُقَالُ ذَلِكَ بَعْدَ التَّجْرِبَةِ فَصَارَتِ الْقُلَّتَانِ خَمْسَمِائَةِ رِطْلٍ بِالْعِرَاقِيِّ، وَرِطْلُ الْعِرَاقِ الَّذِي يَعْتَبِرُ بِهِ الْفُقَهَاءُ تِسْعُونَ مِثْقَالًا فَيَكُونُ مِائَةً وَثَمَانِيَةً وَعِشْرِينَ دِرْهَمًا وَأَرْبَعَةَ أَسْبَاعِ دِرْهَمٍ، فَإِذَا حَسَبْتَ ذَلِكَ بِرِطْلِ دِمَشْقَ وَهُوَ سِتُّمِائَةِ دِرْهَمٍ كَانَتِ الْقُلَّتَانِ مِائَةً وَسَبْعَةَ أَرْطَالٍ وَسُبُعَ رِطْلٍ.

وَعَنْهُ رِوَايَةٌ أُخْرَى أَنَّهَا أَرْبَعُمِائَةِ رِطْلٍ لِأَنَّ يَحْيَى بْنَ عَقِيلٍ قَالَ: رَأَيْتُ
এগুলো তাদের নিকট পরিচিত মটকা বা পাত্র ছিল, যা দ্বারা তারা বিভিন্ন বস্তুর পরিমাপ নির্ধারণ করত এবং এগুলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ মটকা ছিল। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেরাজের হাদিসে বলেছেন: "অতঃপর আমার সামনে সিদরাতুল মুনতাহা উম্মোচন করা হলো, দেখা গেল তার ফলগুলো হাজার নামক স্থানের মটকার মতো এবং তার পাতাগুলো হাতির কানের মতো।" আর হাজার-এর মটকা সম্পর্কে ইবনে জুরাইজ বলেছেন: "আমি হাজারের মটকাগুলো দেখেছি এবং দেখেছি যে তার প্রতিটি মটকা দুই মশক অথবা দুই মশক ও সামান্য কিছু পরিমাণ পানি ধারণ করে।" তাই আমরা সতর্কতামূলকভাবে সেই 'সামান্য পরিমাণকে' সাব্যস্ত করেছি এবং তাকে অর্ধেক হিসেবে ধরেছি, কারণ কোনো অনির্দিষ্ট বস্তুর ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ পরিমাণ যা প্রয়োগ করা যায়। ফলে দুই মটকা হিজাজের মশক অনুযায়ী পাঁচ মশক সমপরিমাণ হলো। হিজাজের মশকগুলো বড় এবং সুপরিচিত, যার একেকটিতে প্রায় একশ রতল পানি ধরে; যারা মশকের মাধ্যমে পানির পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন তারা এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর এটি অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই বলা হয়েছে। ফলে দুই মটকা ইরাকি রতল অনুযায়ী পাঁচশ রতল সাব্যস্ত হলো। ফকিহগণ যে ইরাকি রতলের হিসাব বিবেচনা করেন তা হলো নব্বই মিদকাল, যা একশ আটাশ দিরহাম ও একটি দিরহামের সাত ভাগের চার ভাগ হয়। অতএব, আপনি যদি তা দামেস্কের রতলের হিসেবে গণনা করেন—যা ছয়শ দিরহামের সমান—তবে দুই মটকা হবে একশ সাত রতল এবং এক রতলের সাত ভাগের এক ভাগ।

তাঁর থেকে অন্য একটি বর্ণনা রয়েছে যে, এটি চারশ রতল; কারণ ইয়াহইয়া ইবনে আকীল বলেছেন: "আমি দেখেছি..."
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬৯)
قِلَالَ هَجَرَ وَأَظُنُّ كُلَّ قُلَّةٍ تَأْخُذُ قِرْبَتَيْنِ. وَالْأَوَّلُ أَحْوَطُ، فَإِنَّ الثَّانِيَ إِنَّمَا أَخْبَرَ عَنْ ظَنٍّ، وَهَذَا التَّحْدِيدُ تَقْرِيبٌ فِي الصَّحِيحِ مِنَ الْوَجْهَيْنِ، وَقِيلَ مِنَ الرِّوَايَتَيْنِ، فَلَوْ نَقَصَ الْمَاءُ نَقْصًا يَسِيرًا لَمْ يُؤَثِّرْ؛ لِأَنَّ تَقْدِيرَ الْقِلَالِ بِالْقِرَبِ إِنَّمَا كَانَ عَنْ رَأْيٍ وَحِسَابٍ يَقْبَلُ الزِّيَادَةَ وَالنَّقْصَ، وَتَقْدِيرُ الْقِرَبِ بِالْأَرْطَالِ تَقْرِيبٌ فَإِنَّ الْقِرَبَ وَغَيْرَهَا مِنْ أَوْعِيَةِ الْمَاءِ لَا تَكَادُ تَتَسَاوَى عَلَى التَّحْقِيقِ إِذْ لَا يُقْصَدُ كَيْلُ الْمَاءِ وَوَزْنُهُ غَالِبًا فِي تَطْهِيرِ الْمَاءِ، فَإِذَا كَانَ الْمَاءُ كَثِيرًا يَبْلُغُ قُلَّتَيْنِ فَإِنَّمَا يَنْجُسُ بِالتَّغَيُّرِ، فَإِذَا زَالَ التَّغَيُّرُ طَهُرَ؛ لِأَنَّ الْحُكْمَ إِذَا ثَبَتَ بِعِلَّةٍ زَالَ بِزَوَالِهَا، كَالْخَمْرِ إِذَا زَالَتْ عَنْهُ الشِّدَّةُ الْمُسْكِرَةُ صَارَ حَلَالًا طَاهِرًا أَوْ كَالثَّوْبِ النَّجِسِ إِذَا غُسِلَ طَهُرَ، وَذَلِكَ بِثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ أَحَدُهَا أَنْ يَزُولَ بِنَفْسِهِ فَيَطْهُرَ فِي أَصَحِّ الرِّوَايَتَيْنِ، وَالثَّانِيَةُ: لَا يَطْهُرُ لِأَنَّ النَّجَاسَةَ بِحَالِهَا لَمْ تُزَلْ وَلَمْ تُسْتَهْلَكْ، وَالصَّحِيحُ الْأَوَّلُ لِأَنَّهَا تُسْتَهْلَكُ بِمُرُورِ الزَّمَانِ عَلَيْهَا، الثَّانِي: أَنْ يُنْزَحَ الْمَاءُ وَيَزُولَ تَغَيُّرُهُ وَهُوَ قُلَّتَانِ فَصَاعِدًا لِأَنَّ بِالنَّزْحِ زَالَتِ النَّجَاسَةُ فَإِنْ لَمْ يَزُلْ تَغَيُّرُهُ حَتَّى نَقَصَ عَنِ الْقُلَّتَيْنِ كَانَ حِينَئِذٍ نَجِسًا بِالْمُلَاقَاةِ فَلَا يَطْهُرُ بِزَوَالِ تَغَيُّرِهِ بَعْدَ ذَلِكَ.

الثَّالِثُ: أَنْ يُضَمَّ إِلَيْهِ قُلَّتَا مَاءٍ طَهُورٍ جُمْلَةً أَوْ مُتَتَابِعًا بِحَسَبِ الْعَادَةِ بِصَبٍّ أَوْ إِجْرَاءٍ مِنْ عَيْنٍ أَوْ نَهْرٍ أَوْ نَبْعٍ وَيَزُولُ تَغَيُّرُهُ فَيَطْهُرُ سَوَاءٌ اخْتَلَطَ الْمَاءَانِ أَوْ لَمْ يَخْتَلِطَا بِأَنْ يَكُونَ أَحَدُهُمَا صَافِيًا وَالْآخَرُ كِدَرًا لِأَنَّهُمَا قُلَّتَانِ أُضِيفَتَا إِلَى مَائِعٍ نَجِسٍ وَلَمْ يُغَيِّرْهُمَا كَانَ الْجَمِيعُ طَاهِرًا كَمَا لَوْ أُضِيفَتَا إِلَى خَمْرٍ أَوْ دَمٍ، وَأَمَّا الْمَاءُ الْقَلِيلُ فَسَوَاءٌ كَانَ مُتَغَيِّرًا أَوْ لَمْ يَكُنْ لَا يَطْهُرُ حَتَّى يُضَمَّ إِلَيْهِ قُلَّتَا مَاءٍ طَهُورٍ وَيَزُولَ تَغَيُّرُهُ لِأَنَّ نَجَاسَتَهُ تَكُونُ بِمُلَاقَاةِ الْقَلِيلِ لِلنَّجَاسَةِ.
হাজরের কলসসমূহ, এবং আমার ধারণা প্রতিটি কলস দুটি মশকের সমপরিমাণ ধারণ করে। এবং প্রথমটি অধিকতর সতর্কতামূলক, কারণ দ্বিতীয়টি কেবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে সংবাদ দিয়েছে। আর এই নির্ধারণটি দুই মতের মধ্যে সঠিক মতানুযায়ী একটি আনুমানিক হিসাব, এবং বলা হয়েছে যে এটি দুটি বর্ণনার মধ্যে (একটি)। অতএব, পানির পরিমাণ যদি সামান্য কমে যায় তবে তা প্রভাব ফেলবে না; কারণ কলসসমূহকে মশকের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছিল এমন এক রায় এবং হিসাবের ভিত্তিতে যা কম-বেশি হওয়ার অবকাশ রাখে। আর মশকসমূহকে রতলের মাধ্যমে নির্ধারণ করাও আনুমানিক, কারণ মশক এবং পানির অন্যান্য পাত্রসমূহ সুনিশ্চিতভাবে সমান হয় না, যেহেতু পানি পবিত্র করার ক্ষেত্রে সাধারণত পানির পরিমাপ বা ওজনের উদ্দেশ্য থাকে না। সুতরাং যখন পানি প্রচুর হয় যা দুই কুল্লা পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন তা কেবল পরিবর্তনের মাধ্যমেই অপবিত্র হয়। আর যখন পরিবর্তন দূরীভূত হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়; কারণ কোনো বিধান যখন একটি কারণের ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়, তখন সেই কারণ দূর হওয়ার সাথে সাথে বিধানটিও দূর হয়ে যায়। যেমন মদের মাদকতার তীব্রতা যখন দূরীভূত হয়, তখন তা হালাল ও পবিত্র হয়ে যায়; অথবা যেমন অপবিত্র কাপড় ধৌত করলে তা পবিত্র হয়ে যায়। এবং সেটি তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে হয়: প্রথমটি হলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে (পরিবর্তন) দূর হওয়া, ফলে দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী তা পবিত্র হয়ে যাবে। দ্বিতীয় মতানুযায়ী: তা পবিত্র হবে না কারণ অপবিত্রতা বিদ্যমান ছিল, তা অপসারিত হয়নি এবং নিঃশেষও হয়নি। কিন্তু সঠিক হলো প্রথমটি, কারণ সময়ের পরিক্রমায় অপবিত্রতা নিঃশেষ হয়ে যায়। দ্বিতীয়টি হলো: পানি তুলে ফেলার পর তার পরিবর্তন দূর হয়ে যাওয়া এমতাবস্থায় যে তা দুই কুল্লা বা তার অধিক থাকে, কারণ পানি তুলে ফেলার মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যদি দুই কুল্লার নিচে নেমে যাওয়ার আগে পর্যন্ত পরিবর্তন দূর না হয়, তবে সেই মুহূর্তে তা স্পর্শের কারণেই অপবিত্র হয়ে যাবে, ফলে পরবর্তীতে পরিবর্তন দূর হলেও তা আর পবিত্র হবে না।

তৃতীয়টি হলো: তার সাথে একত্রে অথবা সাধারণ অভ্যাস অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে ঢেলে বা কোনো ঝরনা, নদী বা প্রস্রবণ থেকে প্রবাহিত করে দুই কুল্লা পবিত্র পানি যুক্ত করা এবং তাতে পরিবর্তন দূর হওয়া, ফলে তা পবিত্র হয়ে যাবে। পানি দুটি মিশ্রিত হোক বা না হোক, যেমন একটি স্বচ্ছ এবং অন্যটি ঘোলা হওয়া—কারণ এটি হলো একটি অপবিত্র তরলের সাথে দুই কুল্লা পানি যুক্ত করা যা সেই পানিকে পরিবর্তিত করেনি, ফলে সম্পূর্ণ পানিই পবিত্র হয়ে যাবে, যেমনটি যদি মদ বা রক্তের সাথে যুক্ত করা হতো। আর সামান্য পানির ক্ষেত্রে—তা পরিবর্তিত হোক বা না হোক—তা পবিত্র হবে না যতক্ষণ না তার সাথে দুই কুল্লা পবিত্র পানি যুক্ত করা হয় এবং তার পরিবর্তন দূর হয়; কারণ এর অপবিত্রতা সাব্যস্ত হয় সামান্য পানির সাথে অপবিত্রতার স্পর্শ লাগার কারণেই।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭০)
فَإِذَا كَانَ الْمُضَافُ إِلَيْهِ كَثِيرًا دَفَعَ النَّجَاسَةَ عَنْ نَفْسِهِ وَعَمَّا يَرِدُ عَلَيْهِ، فَأَمَّا إِنْ أُضِيفَ إِلَى الْكَثِيرِ الْمُتَغَيِّرِ أَوْ إِلَى الْقَلِيلِ مَا دُونَ الْقُلَّتَيْنِ وَزَالَ تَغَيُّرُهُ لَمْ يَطْهُرْ فِي ظَاهِرِ الْمَذْهَبِ، وَقِيلَ يَطْهُرُ فِيهِمَا وَقِيلَ يَطْهُرُ فِي الصُّورَةِ الْأُولَى دُونَ الثَّانِيَةِ. فَأَمَّا إِنْ طُرِحَ فِيهِ تُرَابٌ فَقَطَعَ تَغَيُّرَهُ لَمْ يَطْهُرْ وَلَا يَجِبُ غَسْلُ جَوَانِبِ النَّهْرِ فِي أَصَحِّ الرِّوَايَتَيْنِ.

 

فَصْلٌ:

فَإِنْ تَغَيَّرَ بَعْضُ الْمَاءِ الْكَثِيرِ بِالنَّجَاسَةِ لَمْ تَنْجُسْ بَقِيَّتُهُ إِذَا بَلَغَ قُلَّتَيْنِ فِي أَصَحِّ الْوَجْهَيْنِ، وَقَالَ ابْنُ عَقِيلٍ: يَنْجُسُ لِأَنَّهُ مَاءٌ وَاحِدٌ وَإِذَا لَمْ يَتَغَيَّرِ الْمَاءُ الْكَثِيرُ بِالنَّجَاسَةِ وَكَانَتْ مُسْتَهْلَكَةً فِيهِ كَالْبَوْلِ وَالْخَمْرِ جَازَ اسْتِعْمَالُ جَمِيعِهِ وَلَمْ يَجِبْ أَنْ يَبْقَى قَدْرُهَا. وَإِنْ كَانَتِ النَّجَاسَةُ قَائِمَةً فِيهِ وَهُوَ قَدْرُ الْقُلَّتَيْنِ فَاغْتُرِفَتْ مِنْهُ فِي إِنَاءٍ فَهُوَ طَهُورٌ، وَإِنْ كَانَ أَكْثَرَ مِنْ قُلَّتَيْنِ جَازَ التَّنَاوُلُ مِنْ جَمِيعِ جَوَانِبِهِ سَوَاءٌ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّجَاسَةِ قُلَّتَانِ أَوْ لَا، وَسَوَاءٌ فِي نَجَاسَتِهِ مَا يُدْرِكُهُ الطَّرْفُ وَمَا لَا يُدْرِكُهُ، إِذَا تُيُقِّنَ وُصُولُهُ إِلَى الْمَاءِ فِي الْمَشْهُورِ مِنَ الْمَذْهَبِ وَلَوْ سَقَطَتْ عَذِرَةٌ أَوْ قِطْعَةٌ مَيِّتَةٌ فِي مَاءٍ يَسِيرٍ فَانْتُضِحَ مِنْهُ بِسُقُوطِهَا شَيْءٌ فَهُوَ نَجِسٌ وَإِذَا شَكَّ هَلْ مَا وَقَعَتْ فِيهِ النَّجَاسَةُ قُلَّتَانِ أَوْ أَنْقَصُ؟ فَهُوَ نَجِسٌ فِي أَصَحِّ الْوَجْهَيْنِ.
সুতরাং যার সাথে এটি মিশ্রিত করা হয়েছে তা যদি প্রচুর হয়, তবে তা নিজের থেকে এবং যা তাতে পতিত হয় তা থেকে অপবিত্রতা দূর করে দেয়। তবে যদি একে এমন প্রচুর পানির সাথে মিশ্রিত করা হয় যার গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়ে গেছে, অথবা যদি দুই কুল্লা অপেক্ষা কম অল্প পানির সাথে মিশ্রিত করা হয় এবং এর গুণাগুণের পরিবর্তন দূরীভূত হয়ে যায়, তবে মাযহাবের সুস্পষ্ট মত অনুযায়ী তা পবিত্র হবে না। আর বলা হয়েছে যে, উভয় ক্ষেত্রেই তা পবিত্র হয়ে যাবে। আবার বলা হয়েছে যে, প্রথম অবস্থায় পবিত্র হবে কিন্তু দ্বিতীয় অবস্থায় নয়। তবে যদি এতে মাটি নিক্ষেপ করা হয় এবং এর মাধ্যমে এর পরিবর্তন দূর হয়, তবে তা পবিত্র হবে না। এবং অধিকতর বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী নদীর তীরসমূহ ধৌত করা আবশ্যক নয়।

 

পরিচ্ছেদ:

যদি অধিক পানির একাংশ অপবিত্রতার কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে অবশিষ্ট অংশ অপবিত্র হবে না যদি তা দুই কুল্লা পরিমাণ হয়; এটিই দুই মতের মধ্যে অধিকতর সঠিক। ইবনে আকীল বলেছেন: এটি অপবিত্র হয়ে যাবে কারণ এটি অভিন্ন পানি। যখন অপবিত্রতার কারণে অধিক পানির গুণাগুণ পরিবর্তিত না হয় এবং অপবিত্রতা তাতে বিলীন হয়ে যায় যেমন প্রস্রাব বা মদ, তবে তার পুরোটাই ব্যবহার করা বৈধ এবং অপবিত্রতার সমপরিমাণ পানি অবশিষ্ট রাখা আবশ্যক নয়। আর যদি অপবিত্রতা তাতে বিদ্যমান থাকে এবং পানির পরিমাণ দুই কুল্লা হয়, আর তা থেকে কোনো পাত্রে পানি তোলা হয়, তবে সেই পানি পবিত্র। আর যদি পানি দুই কুল্লা অপেক্ষা বেশি হয়, তবে তার সকল দিক থেকে পানি গ্রহণ করা বৈধ, চাই গ্রহণকারী এবং অপবিত্রতার মাঝে দুই কুল্লা পরিমাণ ব্যবধান থাকুক বা না থাকুক। আর অপবিত্রতার ক্ষেত্রে তা দৃষ্টিগোচর হোক বা না হোক উভয়ই সমান, যদি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী পানিতে তার পৌঁছানো নিশ্চিত হয়। যদি অল্প পানিতে মল বা মৃতদেহের অংশ পতিত হয় এবং এর পতনের কারণে কিছু পানি ছিটকে পড়ে, তবে তা অপবিত্র। আর যদি সন্দেহ হয় যে যাতে অপবিত্রতা পড়েছে তা কি দুই কুল্লা ছিল নাকি তার চেয়ে কম? তবে দুই মতের মধ্যে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী তা অপবিত্র।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌[مَسْأَلَةٌ إذا طَبَخَ فِي الْمَاءِ مَا لَيْسَ بِطَهُورٍ أَوْ خَالَطَهُ]

مَسْأَلَةٌ:

" وَإِنْ طَبَخَ فِي الْمَاءِ مَا لَيْسَ بِطَهُورٍ أَوْ خَالَطَهُ فَغَلَبَ عَلَى اسْمِهِ أَوِ اسْتَعْمَلَ فِي رَفْعِ حَدَثٍ سَلَبَ طَهُورِيَّتَهُ "

أَمَّا إِذَا طَبَخَ فِيهِ كَمَاءِ الْبَاقِلَّى الْمَغْلِيِّ فَإِنَّهُ قَدْ صَارَ أُدْمًا وَمَرَقَةً لَيْسَ بِمَاءٍ حَقِيقَةً وَلَا اسْمًا. وَأَمَّا إِذَا خَالَطَهُ فَغَلَبَ عَلَى اسْمِهِ إِمَّا بِأَنْ سَلَبَ الْمَاءَ رِقَّتَهُ وَجَرَيَانَهُ فَتَصِيرُ صِبْغًا وَحِبْرًا إِنْ كَانَ كَثِيفًا أَوْ تَكُونُ أَجْزَاؤُهُ أَكْثَرَ مِنْ أَجْزَاءِ الْمَاءِ إِنْ كَانَ لَطِيفًا حَتَّى يُقَالَ: حَلَّ فِيهِ مَاءٌ أَوْ مَاءُ وَرْدٍ فِيهِ مَاءٌ، فَهَذَا لَمْ تُنْفَ فِيهِ حَقِيقَةً وَلَا اسْمًا. وَإِنْ غَيَّرَ طَعْمَهُ أَوْ لَوْنَهُ أَوْ رِيحَهُ سَلَبَهُ التَّطْهِيرَ أَيْضًا فِي أَشْهَرِ الرِّوَايَتَيْنِ لِأَنَّهُ لَيْسَ بِمَاءٍ مُطْلَقٍ.

وَالرِّوَايَةُ الْأُخْرَى هُوَ بَاقٍ عَلَى تَطْهِيرِهِ وَكَذَلِكَ عَلَى هَذِهِ إِنْ غَيَّرَ صِفَاتِهِ الثَّلَاثَ فِي أَشْهَرِ الطَّرِيقَيْنِ. وَعَنْهُ أَنَّهُ طَهُورٌ إِذَا لَمْ يَجِدِ الْمُطَلَقَ هَكَذَا حَكَى بَعْضُ أَصْحَابِنَا ثَلَاثَ رِوَايَاتٍ، وَحَكَى السَّامِرِيُّ طَرِيقَيْنِ أَحَدُهُمَا أَنَّ الرِّوَايَتَيْنِ عَلَى الْإِطْلَاقِ، وَالثَّانِيَةُ أَنَّ الرِّوَايَتَيْنِ فِيمَا إِذَا عُدِمَ الْمَاءُ الْمُطْلَقُ فَقَطْ وَهِيَ طَرِيقَةُ ابْنِ أَبِي مُوسَى، وَعَلَى الْأُولَى فِي التَّغَيُّرِ الْيَسِيرِ ثَلَاثَةُ أَوْجُهٍ أَحَدُهَا
[মাসআলা: যদি পানিতে এমন কিছু রান্না করা হয় যা পবিত্রকারী নয় অথবা যা পানির সাথে মিশে যায়]

মাসআলা:

"আর যদি পানিতে এমন কিছু রান্না করা হয় যা পবিত্রকারী নয় অথবা তা পানিতে মিশে যায় এবং পানির নামের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, অথবা তা অপবিত্রতা দূর করতে ব্যবহৃত হয়, তবে তা পানির পবিত্রকারী গুণ ছিনিয়ে নেয়।"

পক্ষান্তরে যদি তাতে কিছু রান্না করা হয় যেমন শিমের সিদ্ধ পানি, তবে তা তরকারি বা ঝোলে পরিণত হয়; যা বাস্তবেও পানি নয় এবং নামেও পানি নয়। আর যদি তা পানিতে মিশে যায় এবং পানির নামের ওপর প্রাধান্য পায়—হয়তো পানির সূক্ষ্মতা ও প্রবাহমানতা কেড়ে নেয়ার মাধ্যমে, ফলে তা যদি ঘন হয় তবে রঙ বা কালিতে পরিণত হয়; অথবা যদি তা সূক্ষ্ম হয় তবে তার উপাদান পানির উপাদানের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, এমনকি বলা হয়: 'এতে পানি মেশানো হয়েছে' অথবা 'এটি গোলাপ জল যাতে পানি আছে'—তবে এর দ্বারা পানির বাস্তবতা ও নাম বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর যদি তা পানির স্বাদ, বর্ণ বা গন্ধ পরিবর্তন করে দেয়, তবে দুই বর্ণনার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী তাও তার পবিত্র করার ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়, কারণ তা আর সাধারণ পানি থাকে না।

অন্য বর্ণনাটি হলো, এটি পবিত্রকারী হিসেবেই অবশিষ্ট থাকে। তদ্রূপ এই বর্ণনা অনুযায়ী, যদি পানির তিনটি গুণই পরিবর্তিত হয়ে যায়—এটিও দুই পদ্ধতির মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ পদ্ধতি। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন সাধারণ পানি পাওয়া যাবে না তখন এটি পবিত্রকারী; আমাদের কোনো কোনো সাথী এভাবে তিনটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। আর সামিরী দুটি পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন; একটি হলো, দুই বর্ণনা নিঃশর্তভাবে প্রযোজ্য। দ্বিতীয়টি হলো, দুই বর্ণনা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন সাধারণ পানি পাওয়া যায় না এবং এটি ইবনে আবি মূসার পদ্ধতি। আর প্রথম পদ্ধতি অনুযায়ী সামান্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তিনটি অভিমত রয়েছে, যার একটি হলো—
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭২)
أَنَّهُ كَالْكَثِيرِ، وَالثَّانِي فِي الْفَرْقِ بَيْنَ الرَّائِحَةِ وَغَيْرِهَا، وَالثَّالِثُ الْعَفْوُ عَنْهُ مُطْلَقًا وَهُوَ أَصَحُّ.

 

فَصْلٌ:

فَأَمَّا إِنْ تَغَيَّرَ بِمَا لَا يُمْكِنُ صَوْنُهُ عَنْهُ فَهُوَ بَاقٍ عَلَى طَهُورِيَّتِهِ كَالْمَاءِ الْمُتَغَيِّرِ بِالطُّحْلُبِ وَوَرَقِ الْأَشْجَارِ الْمُنْجَابَةِ فِيهِ وَمَا يَحْمِلُهُ الْمَدُّ مِنَ الْغُثَاءِ وَمَا يَنْبُتُ فِيهِ وَكَذَلِكَ إِنْ تَغَيَّرَ بِطُولِ مُكْثِهِ وَكَذَلِكَ مَا تَغَيَّرَ بِمَجَارِيهِ كَالْقَارِ وَالنِّفْطِ لِأَنَّ هَذَا التَّغَيُّرَ لَا يُمْكِنُ صَوْنُ الْمَاءِ عَنْهُ وَهُوَ مِنْ فِعْلِ اللَّهِ ابْتِدَاءً، فَأَشْبَهَ التَّغَيُّرَ الَّذِي خَلَقَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْمَاءَ حَتَّى لَوْ طُرِحَتْ فِيهِ هَذِهِ الْأَشْيَاءُ عَمْدًا سَلَبَتْهُ التَّطْهِيرَ إِلَّا الْمِلْحُ الْمُنْعَقِدُ مِنَ الْمَاءِ لِأَنَّهُ مَاءٌ فَهُوَ كَذَوْبِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَفِي التُّرَابِ وَجْهَانِ لِكَوْنِهِ طَهُورًا فِي الْجُمْلَةِ.

وَإِنْ تَغَيَّرَ بِطَاهِرٍ لَا يُخَالِطُهُ كَالْخَشَئبِ وَالْأَدْهَانِ وَقِطَعِ الْكَافُورِ فَهُوَ بَاقٍ عَلَى طَهُورِيَّتِهِ فِي أَشْهَرِ الْوَجْهَيْنِ وَلَا أَثَرَ لِمَا غَيَّرَ الْمَاءَ فِي مَحَلِّ التَّطْهِيرِ، مِثْلُ أَنْ يَكُونَ عَلَى بَدَنِ الْمُغْتَسِلِ زَعْفَرَانٌ أَوْ سِدْرٌ أَوْ خِطْمِيٌّ فَتَغَيَّرَ بِهِ؛ لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِغَسْلِ الْمُحْرِمِ وَغَسْلِ ابْنَتِهِ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ، وَأَمَرَ قَيْسَ بْنَ عَاصِمٍ أَنْ يَغْتَسِلَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَلِأَنَّ هَذَا تَدْعُو إِلَيْهِ الْحَاجَةُ.
এটি অধিক পরিমাণের মতো; দ্বিতীয়টি ঘ্রাণ ও অন্যান্য বিষয়ের পার্থক্যের ক্ষেত্রে; আর তৃতীয়টি হলো এটি ঢালাওভাবে ক্ষমাযোগ্য বা মার্জনীয়, আর এটাই অধিকতর বিশুদ্ধ।

 

পরিচ্ছেদ:

তবে পানি যদি এমন জিনিসের কারণে পরিবর্তিত হয় যা থেকে একে রক্ষা করা সম্ভব নয়, তবে তা পবিত্রকারী হিসেবেই অবশিষ্ট থাকবে। যেমন শেওলার কারণে পরিবর্তিত পানি, তাতে ঝরে পড়া গাছের পাতা, জোয়ারের মাধ্যমে ভেসে আসা খড়কুটো এবং তাতে যা জন্মায়। অনুরূপভাবে পানি যদি দীর্ঘকাল পড়ে থাকার কারণে পরিবর্তিত হয়। একইভাবে তার গতিপথের কারণে যা পরিবর্তিত হয়, যেমন আলকাতরা ও খনিজ তেল; কারণ পানিকে এই পরিবর্তন থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয় এবং এটি মূলত আল্লাহর কাজ। ফলে এটি সেই পরিবর্তনের সাদৃশ্যপূর্ণ যার ওপর আল্লাহ পানিকে সৃষ্টি করেছেন। এমনকি যদি এই বস্তুগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে পানিতে নিক্ষেপ করা হয়, তবে তা তার পবিত্র করার ক্ষমতা কেড়ে নেবে; তবে পানি থেকে জমাট বাঁধা লবণের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তা পানিই, তাই এটি গলে যাওয়া বরফ বা শিলার মতো। আর মাটির ব্যাপারে দু’টি অভিমত রয়েছে, যেহেতু এটি সামগ্রিকভাবে পবিত্রকারী।

আর যদি পানি এমন কোনো পবিত্র বস্তুর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয় যা তার সাথে মিশে যায় না, যেমন কাঠ, তেল এবং কর্পূরের টুকরো, তবে দু’টি অভিমতের মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী তা পবিত্রকারী হিসেবেই অবশিষ্ট থাকবে। আর পবিত্র করার স্থানে যা পানিকে পরিবর্তিত করে তার কোনো প্রভাব নেই। যেমন গোসলকারীর শরীরে জাফরান, কুল পাতা বা খিতমি ঘাস লেগে থাকা এবং এর দ্বারা পানি পরিবর্তিত হওয়া। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহরাম গ্রহণকারীকে এবং তাঁর কন্যাকে পানি ও কুল পাতা দিয়ে গোসল করানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এবং তিনি কায়েস বিন আসিমকে পানি ও কুল পাতা দিয়ে গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর যেহেতু এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭৩)
فَصْلٌ:

وَأَمَّا الْمُسْتَعْمَلُ فِي رَفْعِ الْحَدَثِ فَهُوَ طَاهِرٌ فِي ظَاهِرِ الْمَذْهَبِ لِمَا «رَوَى جَابِرٌ قَالَ: جَاءَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَرِيضٌ لَا أَعْقِلُ، فَتَوَضَّأَ وَصَبَّ وَضُوءَهُ عَلَيَّ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

وَفِي الصَّحِيحِ أَيْضًا عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ " «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا تَوَضَّأَ كَادُوا يَقْتَتِلُونَ عَلَى وَضُوئِهِ» " وَلِأَنَّ بَدَنَ الْمُحْدِثِ طَاهِرٌ فَلَا يَنْجُسُ الْمَاءُ بِمُلَاقَاتِهِ كَسَائِرِ الطَّاهِرَاتِ، وَدَلِيلُ طَهَارَتِهِ مَا رَوَى الْجَمَاعَةُ «عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: " لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا جُنُبٌ فَانْسَلَلْتُ فَأَتَيْتُ الرَّحْلَ فَاغْتَسَلْتُ ثُمَّ جِئْتُ وَهُوَ قَاعِدٌ فَقَالَ: أَيْنَ كُنْتَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟ فَقَالَ: كُنْتُ جُنُبًا، فَقَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَنْجُسُ» وَهُوَ مَعَ طَهَارَتِهِ غَيْرُ مُطَهِّرٍ فِي الْمَشْهُورِ أَيْضًا، لِمَا «رَوَى أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَا يَغْتَسِلْ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ " قَالُوا يَا أَبَا
পরিচ্ছেদ:

আর যে পানি অপবিত্রতা দূরীকরণে ব্যবহৃত হয়েছে, মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তা পবিত্র। কারণ জাবির (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার নিকট আসলেন যখন আমি অসুস্থ ছিলাম এবং আমার কোনো জ্ঞান ছিল না। এরপর তিনি ওযু করলেন এবং তাঁর ওযুর ব্যবহৃত পানি আমার ওপর ঢেলে দিলেন।" এটি সর্বসম্মত হাদিস।

সহীহ গ্রন্থে মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, "নবী (সা.) যখন ওযু করতেন, তখন তারা (সাহাবীগণ) তাঁর ওযুর পানির জন্য প্রায় যুদ্ধ করার উপক্রম করতেন।" আর যেহেতু অপবিত্র (হাদাসগ্রস্ত) ব্যক্তির শরীর পবিত্র, তাই অন্যান্য পবিত্র বস্তুর সংস্পর্শে আসার ন্যায় এর সংস্পর্শে আসার কারণে পানি নাপাক হয় না। এর পবিত্রতার দলিল হলো যা ইমামগণের একদল আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো যখন আমি জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় ছিলাম। তখন আমি অলক্ষ্যে সরে পড়লাম এবং নিজ আবাসে গিয়ে গোসল করলাম। এরপর আমি ফিরে এলাম যখন তিনি বসা ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু হুরায়রা! তুমি কোথায় ছিলে? তিনি বললেন: আমি জানাবাত অবস্থায় ছিলাম। তখন নবী (সা.) বললেন: সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয়ই মুমিন নাপাক হয় না।" আর এই (ব্যবহৃত) পানি পবিত্র হওয়ার পাশাপাশি প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তা পবিত্রকারী নয়। কারণ আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে জানাবাত অবস্থায় গোসল না করে।" তারা বলল: হে আবু...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
هُرَيْرَةَ، كَيْفَ يَفْعَلُ؟ قَالَ: يَتَنَاوَلُهُ تَنَاوُلًا»، رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَلَوْ كَانَ الْغُسْلُ فِيهِ يُجْزِئُ وَلَا يُغَيِّرُ الْمَاءَ لَمْ يَنْهَ عَنْهُ، وَلِأَنَّ الصَّحَابَةَ مَا زَالُوا تَضِيقُ بِهِمُ الْمِيَاهُ فِي أَسْفَارِهِمْ فَيَتَوَضَّئُونَ وَلَا يَجْمَعُونَ مِيَاهَ وُضُوئِهِمْ وَلَوْ كَانَتْ مُطَهِّرَةً لَجَمَعُوهَا، وَلِأَنَّهُ مُسْتَعْمَلٌ لِإِزَالَةِ مَانِعٍ مِنَ الصَّلَاةِ فَانْتَقَلَ حُكْمُ الْمَنْعِ إِلَيْهِ كَالْمُسْتَعْمَلِ فِي إِزَالَةِ النَّجَاسَةِ، وَمَا دَامَ الْمَاءُ يَجْرِي عَلَى بَدَنِ الْمُغْتَسِلِ وَعُضْوِ الْمُتَوَضِّئِ عَلَى وَجْهِ الِاتِّصَالِ فَلَيْسَ بِمُسْتَعْمَلٍ حَتَّى يَنْفَصِلَ.

فَإِنِ انْتَقَلَ مِنْ عُضْوٍ إِلَى عُضْوٍ لَا يَتَّصِلُ بِهِ مِثْلُ أَنْ يَعْصِرَ الْجُنُبُ شَعْرَ رَأْسِهِ عَلَى لُمْعَةٍ مِنْ بَدَنِهِ أَوْ يَمْسَحَ الْمُحْدِثُ رَأْسَهُ بِبَلِّ يَدِهِ بَعْدَ غَسْلِهَا فَهُوَ مُسْتَعْمَلٌ فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ، كَمَا لَوِ انْفَصَلَ إِلَى غَيْرِ مَحَلِّ التَّطْهِيرِ مِثْلُ أَنْ يَمْسَحَ رَأْسَهُ بِبَلٍّ يَأْخُذُهُ مِنْ لِحْيَتِهِ أَوْ يَعْصِرَ شَعْرَهُ فِي كَفِّهِ ثُمَّ يَرُدُّهُ عَلَى اللُّمْعَةِ، وَفِي الْأُخْرَى لَيْسَ بِمُسْتَعْمَلٍ. وَهُوَ أَصَحُّ لِمَا رَوَتِ الرُّبَيِّعُ بِنْتُ مُعَوِّذٍ " «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ رَأْسَهُ بِمَا بَقِيَ مِنْ وَضُوئِهِ فِي يَدَيْهِ» " رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ، وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: " «اغْتَسَلَ رَسُولُ
আবু হুরায়রা (রা.), তিনি কীভাবে করবেন? তিনি বললেন: "তিনি তা অল্প অল্প করে গ্রহণ করবেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর যদি তাতে গোসল করা যথেষ্ট হতো এবং পানিকে পরিবর্তন না করত, তবে তিনি তা থেকে নিষেধ করতেন না। এবং এজন্য যে, সাহাবীগণ তাঁদের সফরসমূহে সবসময়ই পানির সংকটে পড়তেন, তবুও তাঁরা অযু করতেন কিন্তু তাঁদের অযুর পানি সংগ্রহ করে রাখতেন না; যদি তা পবিত্রকারী হতো তবে তাঁরা অবশ্যই তা সংগ্রহ করতেন। আর যেহেতু এটি সালাতের জন্য প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই সালাত নিষিদ্ধ হওয়ার হুকুম পানির দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে, যেমন নাপাকি দূর করতে ব্যবহৃত পানির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর যতক্ষণ পানি গোসলকারীর শরীর এবং অযুকারীর অঙ্গের ওপর প্রবহমান অবস্থায় অবিচ্ছিন্ন থাকে, ততক্ষণ তা ব্যবহৃত পানি হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তা বিচ্ছিন্ন হয়।

যদি পানি এক অঙ্গ থেকে অন্য এমন অঙ্গে স্থানান্তরিত হয় যা পূর্ববর্তী অঙ্গের সাথে যুক্ত নয়—যেমন জুনুব ব্যক্তি তার মাথার চুল নিংড়ে শরীরের কোনো শুকনা জায়গায় পানি দেয়, অথবা অপবিত্র ব্যক্তি তার হাত ধোয়ার পর হাতের সেই সিক্ততা দিয়ে মাথা মাসাহ করে—তবে দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী তা ব্যবহৃত পানি; যেমনটা হয় যদি পানি পবিত্র করার স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যেমন কেউ তার দাড়ি থেকে সিক্ততা নিয়ে মাথা মাসাহ করে অথবা তার চুল হাতের তালুতে নিংড়ে এরপর তা শরীরের কোনো শুকনা জায়গায় ফিরিয়ে দেয়। আর অন্য বর্ণনা অনুযায়ী তা ব্যবহৃত পানি নয়। আর এটিই অধিকতর সঠিক, কারণ রুবাই বিনতে মুআউওয়িয (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দুই হাতে অযুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে মাথা মাসাহ করেছিলেন।" এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। এবং ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গোসল করেছেন...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ جَنَابَةٍ فَلَمَّا خَرَجَ رَأَى لُمْعَةً عَلَى مَنْكِبِهِ الْأَيْسَرِ لَمْ يُصِبْهَا الْمَاءُ فَعَصَرَ شَعْرَهُ عَلَيْهَا» رَوَاهُ أَحْمَدُ وَابْنُ مَاجَهْ.

وَلِأَنَّهُ مَا زَالَ يَتَنَقَّلُ فِي مَوَاضِعِ التَّطْهِيرِ فَأَشْبَهَ انْتِقَالَهُ إِلَى مَحَلٍّ مُتَّصِلٍ. وَإِنِ اغْتَمَسَ الْجُنُبُ فِي مَاءٍ يَسِيرٍ بِنِيَّةِ الطَّهَارَةِ صَارَ الْمَاءُ مُسْتَعْمَلًا وَلَمْ يَرْتَفِعْ حَدَثُهُ لِنَهْيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ، وَالنَّهْيُ يَقْتَضِي الْفَسَادَ، وَهَلْ يَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا بِانْفِصَالِ أَوَّلِ جُزْءٍ مِنْهُ أَوْ بِمُلَاقَاةِ أَوَّلِ جُزْءٍ مِنْهُ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ أَنْسَبُهُمَا بِكَلَامِهِ الْأَوَّلُ، وَصَارَ هُنَا مُسْتَعْمَلًا قَبْلَ انْفِصَالِ جَمِيعِ الْبَدَنِ بِخِلَافِ مَا إِذَا اغْتَسَلَ لَا يَصِيرُ حَتَّى يَنْفَصِلَ، كَمَا أَنَّ الْمَاءَ إِذَا وَرَدَ عَلَى النَّجَاسَةِ لَمْ يَنْجُسْ حَتَّى يَنْفَصِلَ، وَإِذَا وَرَدَتْ عَلَى قَلِيلِهِ نَجَّسَتْهُ، وَلَوْ لَمْ يَنْوِ الِاغْتِسَالَ حَتَّى انْغَمَسَ كَانَ كَمَنْ صُبَّ عَلَيْهِ الْمَاءُ فَتَرْتَفِعُ الْجَنَابَةُ وَيَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا فِي وَجْهٍ، وَفِي وَجْهٍ لَا يَرْتَفِعُ إِلَّا عَنْ أَوَّلِ جُزْءٍ مُنْفَصِلٍ. وَإِذَا غَمَسَ الْمُتَوَضِّئُ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ بَعْدَ غَسْلِ وَجْهِهِ وَلَمْ يَنْوِ غَسْلَهَا فِيهِ لَمْ يَصِرْ
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাবাত থেকে (গোসল করছিলেন), যখন তিনি বের হলেন তখন তাঁর বাম কাঁধে একটি শুকনো স্থান দেখতে পেলেন যেখানে পানি পৌঁছায়নি, তখন তিনি তাঁর চুল থেকে সেখানে পানি নিংড়ে দিলেন। এটি আহমাদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

কারণ তিনি তখনও পবিত্রতা অর্জনের স্থানসমূহের মধ্যেই স্থানান্তরিত হচ্ছিলেন, যা একটি সংযুক্ত স্থানের দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার সদৃশ। আর যদি কোনো জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জনের নিয়তে অল্প পানিতে ডুব দেয়, তবে সেই পানি ব্যবহৃত হয়ে যাবে এবং তার অপবিত্রতা দূর হবে না। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে নিষেধ করেছেন, আর এই নিষেধ আমলের অসারতাকে আবশ্যক করে। আর পানি কি শরীরের প্রথম অংশ আলাদা হওয়ার মাধ্যমে ব্যবহৃত হবে, নাকি প্রথম অংশের সংস্পর্শের মাধ্যমেই? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে তাঁর (লেখকের) বক্তব্যের সাথে প্রথমটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এখানে পুরো শরীর আলাদা হওয়ার পূর্বেই পানি ব্যবহৃত হয়ে যাচ্ছে; অথচ সাধারণ গোসলের ক্ষেত্রে পানি আলাদা না হওয়া পর্যন্ত তা ব্যবহৃত হয় না। যেমন পানি যখন অপবিত্রতার ওপর পতিত হয়, তখন আলাদা না হওয়া পর্যন্ত তা অপবিত্র হয় না; কিন্তু অপবিত্রতা যখন অল্প পানির ওপর পতিত হয়, তখন তা পানিকে অপবিত্র করে দেয়। আর যদি সে ডুব দেওয়া পর্যন্ত গোসলের নিয়ত না করে, তবে সে ওই ব্যক্তির মতো হবে যার ওপর পানি ঢালা হয়েছে। ফলে একটি অভিমত অনুযায়ী তার জানাবাত দূর হয়ে যাবে এবং পানি ব্যবহৃত হয়ে যাবে। আর অন্য একটি অভিমত অনুযায়ী, শরীরের আলাদা হওয়া প্রথম অংশ ব্যতীত অপবিত্রতা দূর হবে না। আর ওজুকারী ব্যক্তি যদি মুখ ধোয়ার পর পাত্রের মধ্যে হাত ডুবিয়ে দেয় এবং তাতে হাত ধোয়ার নিয়ত না করে, তবে তা ব্যবহৃত হবে না।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬)
مُسْتَعْمَلًا وَقِيلَ يَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا كَمَا لَوِ اغْتَرَفَ بِهَا الْجُنُبُ بَعْدَ النِّيَّةِ، وَالصَّحِيحُ الْأَوَّلُ؛ لَأَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ لَمَّا تَوَضَّأَ وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اغْتَرَفَ بِيَدِهِ مِنَ الْإِنَاءِ بَعْدَ غَسْلِ وَجْهِهِ، وَقَالَ: هَكَذَا كَانَ يَتَوَضَّأُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ الْجُنُبُ فِي رِوَايَةٍ، وَالرِّوَايَةُ الْأُخْرَى الْفَرْقُ لِلْعُسْرِ وَالْمَشَقَّةِ فِي الْوُضُوءِ، وَلِأَنَّ الْأَثَرَ جَاءَ فِيهِ: وَإِذَا كَانَ الِانْغِمَاسُ فِي مَاءٍ كَثِيرٍ لَمْ يُغَيِّرْهُ كَالنَّجَاسَةِ وَأَوْلَى.

وَلَوْ جُمِعَ حَتَّى بَلَغَ قُلَّتَيْنِ كَانَ كَالْمَاءِ الْقَلِيلِ النَّجِسِ إِذَا جُمِعَ إِلَى مِثْلِهِ حَتَّى بَلَغَ قُلَّتَيْنِ لَا يَصِيرُ طَهُورًا فِي ظَاهِرِ الْمَذْهَبِ.

فَصْلٌ:

فَأَمَّا الْمُسْتَعْمَلُ فِي طُهْرٍ مُسْتَحَبٍّ كَغُسْلِ الْجُمُعَةِ وَتَجْدِيدِ الْوُضُوءِ فَهُوَ طَهُورٌ فِي أَظْهَرِ الرِّوَايَتَيْنِ؛ لِأَنَّهُ لَمْ يَزَلْ مَانِعًا، وَفِي الْأُخْرَى هُوَ غَيْرُ مُطَهِّرٍ لِأَنَّهُ مُسْتَعْمَلٌ فِي طَهَارَةٍ شَرْعِيَّةٍ فَأَشْبَهَ الْأَوَّلَ، وَعَلَى هَذَا إِذَا قُلْنَا: إِنَّ وَطْءَ الذِّمِّيَّةِ لَا يَجُوزُ حَتَّى تَغْتَسِلَ مِنَ الْحَيْضِ وَهُوَ إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ فَاغْتَسَلَتْ كَانَ ذَلِكَ الْمَاءُ مُسْتَعْمَلًا لِأَنَّهُ أَزَالَ الْمَانِعَ، وَقِيلَ لَا يَكُونُ مُسْتَعْمَلًا لِأَنَّهُ لَيْسَ بِعِبَادَةٍ.

وَإِذَا غَسَلَ رَأْسَهُ بَدَلًا عَنِ الْمَسْحِ فَفِي الْمَسْأَلَةِ وَجْهَانِ: فَأَمَّا فَضْلُ الطَّهُورِ وَهُوَ مَا تَبَقَّى فِي الْإِنَاءِ فَهُوَ طَهُورٌ سَوَاءٌ كَانَ الْمُتَطَهِّرُ رَجُلًا أَوِ امْرَأَةً، لِمَا رَوَى
ব্যবহৃত বলে গণ্য হবে। তবে বলা হয়েছে যে, তা ব্যবহৃত হয়ে যাবে—যেমন যদি কোনো অপবিত্র ব্যক্তি নিয়ত করার পর হাত দিয়ে পাত্র থেকে পানি নেয়। তবে সঠিক মত হলো প্রথমটি। কারণ আবদুল্লাহ ইবনে যায়দ (রা.) যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর মতো ওযু করেছিলেন, তখন তিনি মুখ ধোয়ার পর পাত্র থেকে নিজ হাত দিয়ে পানি তুলেছিলেন এবং বলেছিলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই ওযু করতেন।" তেমনিভাবে এক বর্ণনা মতে অপবিত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই বিধান। অন্য বর্ণনায় ওযুর ক্ষেত্রে কাঠিন্য ও কষ্টের কারণে পার্থক্য করা হয়েছে। তাছাড়া এ বিষয়ে বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে। আর যদি বিপুল পানিতে ডুব দেওয়া হয় তবে তা পানিকে পরিবর্তন করে না, যেমন অপবিত্রতার ক্ষেত্রে হয়, বরং এটি তার চেয়েও অগ্রগণ্য।

আর যদি এই পানি একত্রিত করে দুই কুল্লা পরিমাণও হয়, তবে তা ঐ অল্প নাপাক পানির মতো হবে যাকে সমজাতীয় পানির সাথে একত্রিত করে দুই কুল্লা পূর্ণ করা হলেও মাযহাবের প্রকাশ্য মতানুসারে তা পবিত্রকারী হবে না।

পরিচ্ছেদ:

আর মুস্তাহাব পবিত্রতার কাজে ব্যবহৃত পানি—যেমন জুমার গোসল বা পুনরায় ওযু করার ক্ষেত্রে—তা দুই বর্ণনার মধ্যে অধিকতর স্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী পবিত্রকারী। কারণ এটি কোনো শরয়ী বাধা দূর করেনি। অন্য বর্ণনায় এটি পবিত্রকারী নয়, কারণ এটি শরয়ী পবিত্রতার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে তা প্রথম প্রকারের সদৃশ। এর ওপর ভিত্তি করে, আমরা যদি বলি যে যিম্মি স্ত্রীর সাথে সহবাস বৈধ নয় যতক্ষণ না সে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার গোসল করে—যা দুই বর্ণনার একটি—এমতাবস্থায় সে গোসল করলে সেই পানি ব্যবহৃত বলে গণ্য হবে, কারণ তা বাধাকে দূর করেছে। তবে বলা হয়েছে যে, তা ব্যবহৃত হবে না কারণ এটি ইবাদত নয়।

আর যদি সে মাসাহ করার পরিবর্তে মাথা ধুয়ে ফেলে, তবে এই মাসআলায় দুটি মত রয়েছে। আর পবিত্র করার পানির অবশিষ্টাংশ—যা পাত্রে অবশিষ্ট থাকে—তা পবিত্রকারী, পবিত্রতা অর্জনকারী পুরুষ হোক বা নারী, কারণ বর্ণিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭)
ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ: «اغْتَسَلَ بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ صَحْفَةٍ فَأَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَوَضَّأَ مِنْهُ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا فَقَالَ: " إِنَّ الْمَاءَ لَا يُجْنِبُ»، رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. لَكِنْ إِذَا خَلَتْ بِالطَّهَارَةِ مِنْهُ امْرَأَةٌ لَمْ يَجُزْ لِلرَّجُلِ أَنْ يَتَطَهَّرَ بِهِ فِي وُضُوءٍ وَلَا غُسْلٍ فِي أَشْهَرِ الرِّوَايَتَيْنِ.

لِمَا رَوَى الْحَكَمُ بْنُ عَمْرٍو الْغِفَارِيُّ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَهَى أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ»، رَوَاهُ الْخَمْسَةُ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক স্ত্রী একটি বড় পাত্র থেকে গোসল করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে অজু করতে চাইলেন। তখন তিনি (স্ত্রী) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি অপবিত্র ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই পানি অপবিত্র হয় না"»। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান সহিহ হাদিস বলেছেন। তবে দুই বর্ণনার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ বর্ণনা মতে, যখন কোনো নারী নির্জনে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করে, তখন পুরুষের জন্য সেই অবশিষ্ট পানি দিয়ে অজু বা গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ নয়।

কারণ হাকাম ইবনে আমর আল-গিফারি (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর পবিত্রতা অর্জনের পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষের অজু করতে নিষেধ করেছেন»। এটি পাঁচজন (ইমাম) বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন: এটি
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮)
حَدِيثٌ حَسَنٌ. قَالَ أَحْمَدُ: " أَكْثَرُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُونَ إِذَا خَلَتْ بِالْمَاءِ فَلَا يُتَوَضَّأُ مِنْهُ " وَيُحْمَلُ تَوَضُّؤُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِفَضْلِ وَضُوءِ مَيْمُونَةَ عَلَى أَنَّهَا لَمْ تَخْلُ بِهِ تَوْفِيقًا بَيْنَ الْحَدِيثَيْنِ، وَإِنْ تَعَارَضَا فَحَدِيثُ الْمَنْعِ أَوْلَى لِأَنَّهُ حَاضِرٌ وَلِأَنَّهُ نَاقِلٌ عَنِ الْأَصْلِ فَيَكُونُ أَوْلَى مِنَ الْمُبْقِي عَلَى الْأَصْلِ؛ لِأَنَّ الْأَصْلَ الْحِلُّ فَالْحَظْرُ بَعْدَهُ، فَإِنْ كَانَ الْحِلُّ بَعْدَهُ لَزِمَ الْبُعْدُ مَرَّتَيْنِ وَإِنْ كَانَ الْحِلُّ قَبْلَ الْحَظْرِ لَزِمَ مَرَّةً وَاحِدَةً.

وَالْخَلْوَةُ لَا يُشَارِكُهَا الرَّجُلُ سَوَاءٌ شَاهَدَهَا أَوْ لَمْ يُشَاهِدْهَا فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ لِعُمُومِ الْحَدِيثِ خُصِّصَ مِنْهُ حَالُ الْمُشَارَكَةِ «لِقَوْلِ عَائِشَةَ: " كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ تَخْتَلِفُ
এটি একটি হাসান হাদিস। আহমাদ বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকাংশ সাহাবী বলেন, যদি কোনো নারী পানি নিয়ে একাকী নির্জনে থাকে, তবে তা দিয়ে যেন ওযু না করা হয়।" আর মায়মুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ওযুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওযু করার বিষয়টি এই অর্থে গ্রহণ করা হবে যে, তিনি সেই পানি নিয়ে একাকী ছিলেন না—যাতে উভয় হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায়। আর যদি হাদিস দুটি পরস্পরবিরোধী হয়, তবে নিষেধাজ্ঞার হাদিসটিই অগ্রাধিকারযোগ্য; কারণ এটি একটি নিষেধাজ্ঞা এবং এটি মূল অবস্থা (আসল) থেকে বিচ্যুতকারী। আর যা মূল অবস্থা থেকে বিচ্যুতকারী, তা মূল অবস্থার ওপর বহাল রাখার চেয়ে অগ্রগণ্য; কেননা মূলগতভাবে কোনো বিষয় বৈধ, আর নিষেধাজ্ঞা তার পরে আসে। সুতরাং যদি বৈধতা নিষেধাজ্ঞার পরে আসত, তবে দুইবার বিচ্যুতি আবশ্যক হতো। আর যদি বৈধতা নিষেধাজ্ঞার পূর্বে থাকে, তবে তা একবার বিচ্যুতি আবশ্যক করে।

আর একাকী থাকা বলতে এমন অবস্থাকে বোঝায় যেখানে কোনো পুরুষ তার সাথে অংশগ্রহণ করে না, চাই সে তাকে দেখুক বা না দেখুক—এটি দুই বর্ণনার একটিতে বলা হয়েছে। এর কারণ হলো হাদিসটির ব্যাপকতা, যেখান থেকে একত্রে অংশগ্রহণের অবস্থাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর উক্তির মাধ্যমে: «আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতাম এবং আমাদের হাতগুলো অদলবদল হতো...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭৯)
أَيْدِينَا فِيهِ مِنَ الْجَنَابَةِ»، مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَرْجِسَ: " اغْتَسِلَا جَمِيعًا هِيَ هَكَذَا وَأَنْتَ هَكَذَا فَإِذَا خَلَتْ بِهِ فَلَا تَقْرَبْهُ ". وَالرِّوَايَةُ الْأُخْرَى أَلَّا تُشَاهَدَ عِنْدَ الطَّهَارَةِ وَهِيَ أَصَحُّ؛ لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ بِفَضْلِ مَيْمُونَةَ.

وَمَتَى شَاهَدَتْهَا امْرَأَةٌ أَوْ صَبِيٌّ مُمَيِّزٌ أَوْ كَافِرٌ فَهُوَ كَالرَّجُلِ عِنْدَ الشَّرِيفِ أَبِي جَعْفَرٍ وَغَيْرِهِ كَخَلْوَةِ النِّكَاحِ.

وَقَالَ الْقَاضِي: يَخْتَصُّ بِالرَّجُلِ الْمُسْلِمِ لِأَنَّ الْحُكْمَ يَخْتَصُّ بِهِ بِخِلَافِ خَلْوَةِ النِّكَاحِ، وَهَلْ يَخْتَصُّ ذَلِكَ بِفَضْلِ طَهَارَةِ الْحَدَثِ أَوْ يَعُمُّ طَهَارَتَيِ الْحَدَثِ وَالْخَبَثِ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ، وَكَذَلِكَ هَلْ لِلرَّجُلِ اسْتِعْمَالُهُ فِي الْخَبَثِ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ. وَفِيمَا خَلَتْ بِهِ الْكَافِرَةُ وَجْهَانِ. فَأَمَّا مَا خَلَا بِهِ خُنْثَى مُشْكِلٌ فَلَا
«আমাদের হাত জানাবাত অবস্থায় তাতে (পাত্রে) পর্যায়ক্রমে প্রবেশ করছিল»; এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)। আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা.) বলেন: "তোমরা উভয়ে একত্রে গোসল করো, সে এভাবে এবং তুমি এভাবে। তবে যখন সে (নারী) তা (পানি) নিয়ে নির্জনে একা হয়ে যায়, তখন তুমি তার নিকটবর্তী হয়ো না।" অন্য বর্ণনাটি হলো যে, পবিত্রতা অর্জনের সময় যেন তাকে দেখা না যায় (অর্থাৎ সে নির্জনে থাকে), আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমুনাহ (রা.)-এর অবশিষ্টাংশ পানি দিয়ে অযু করেছিলেন।

যখন কোনো নারী অথবা সমঝদার শিশু কিংবা কাফির তাকে দেখে ফেলে, তখন শরীফ আবু জাফর ও অন্যদের মতে তা পুরুষের দেখার মতোই বিবেচিত হবে, যেমনটি বিবাহের নির্জনবাসের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

কাজী বলেন: এটি মুসলিম পুরুষের সাথে নির্দিষ্ট, কারণ এই বিধানটি কেবল তার সাথেই সংশ্লিষ্ট, যা বিবাহের নির্জনবাসের হুকুমের বিপরীত। আর এটি কি কেবল হাদাছ (শরীয়তসম্মত অপবিত্রতা) হতে পবিত্রতা অর্জনের অবশিষ্টাংশের সাথে নির্দিষ্ট, নাকি এটি হাদাছ ও খাবাছ (নাজাসাত)—উভয় প্রকার পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। একইভাবে, পুরুষের জন্য কি তা খাবাছ দূর করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা বৈধ? এ বিষয়েও দুটি অভিমত রয়েছে। আর কাফির নারী যে পানি নিয়ে নির্জনে একা হয়েছে, সেটির বিষয়েও দুটি অভিমত রয়েছে। তবে যা নিয়ে কোনো খুনছা মুশখিল (জটিল উভলিঙ্গ) নির্জনে একা হয়েছে, তার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮০)
بَأْسَ بِهِ. وَلَا يُؤَثِّرُ التَّطْهِيرُ مِنَ الْمَاءِ الْكَثِيرِ فِي أَصَحِّ الْوَجْهَيْنِ.

فَأَمَّا فَضْلُ طَهُورِ الرَّجُلِ لِلْمَرْأَةِ فَلَا بَأْسَ بِهِ فِي الْمَنْصُوصِ الْمَشْهُورِ، وَقِيلَ: تُمْنَعُ مِنْهُ. وَلَا بَأْسَ بِشُرْبِهِ فِي أَصَحِّ الرِّوَايَتَيْنِ وَيُكْرَهُ فِي الْأُخْرَى إِذَا خَلَتْ بِهِ.

فَأَمَّا الْمُسْتَعْمَلُ فِي غَيْرِ الْحَدَثِ فَلَا بَأْسَ بِهِ إِلَّا مَا غَمَسَ الْقَائِمُ مِنْ نَوْمِ اللَّيْلِ يَدَهُ فِيهِ قَبْلَ غَسْلِهَا ثَلَاثًا فَفِي بَقَاءِ طَهُورِيَّتِهِ رِوَايَتَانِ فَإِنْ قُلْنَا يُؤَثِّرُ فَسَوَاءٌ غَمَسَهَا قَبْلَ نِيَّةِ غَسْلِهَا أَوْ بَعْدَهُ فِي الْمَشْهُورِ، وَقِيلَ: لَا يُؤَثِّرُ إِلَّا بَعْدَ نِيَّةِ غَسْلِهَا، وَقِيلَ: بَعْدَ نِيَّةِ الْوُضُوءِ نَوَى غَسْلَهَا أَوْ لَمْ يَنْوِهْ. وَحَدُّ هَذِهِ الْيَدِ إِلَى الْكُوعِ. وَفِي غَمْسِ الْيَسِيرِ كَالْأُصْبُعِ وَالْأُصْبُعَيْنِ وَجْهَانِ وَفِي غَمْسِ مَنْ لَيْسَ مِنْ أَهْلِ الطَّهَارَةِ الشَّرْعِيَّةِ كَالْكَافِرِ وَالْمَجْنُونِ وَالصَّبِيِّ غَيْرِ الْمُمَيِّزِ وَجْهَانِ، وَلَا يُؤَثِّرُ الْغَمْسُ فِي الْكَثِيرِ - نَصَّ عَلَيْهِ - بَلْ يَصِحُّ وُضُوؤُهُ فِيهِ وَيُجْزِئُ عَنْ غَسْلِهِمَا
এতে কোনো দোষ নেই। এবং দুই মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী অধিক পরিমাণ পানি থেকে পবিত্রতা অর্জন কোনো প্রভাব ফেলে না।

আর পুরুষের পবিত্রতা অর্জনের পর অবশিষ্ট পানি নারীর ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ সুস্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী কোনো সমস্যা নেই; এবং বলা হয়েছে: তাকে তা থেকে বারণ করা হবে। আর দুই বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধটি অনুযায়ী তা পান করতে কোনো অসুবিধা নেই, তবে অন্য বর্ণনা মতে তা মাকরূহ হবে যদি সে তা নিয়ে নির্জন হয় (একাকী ব্যবহার করে)।

আর যা অপবিত্রতা দূর করা ব্যতীত অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়েছে তাতে কোনো সমস্যা নেই; তবে যে ব্যক্তি রাতের ঘুম থেকে জেগে হাত তিনবার ধোয়ার আগে তাতে হাত ডুবিয়েছে তা ব্যতীত। সেটির পবিত্রতা বজায় থাকার ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে। যদি আমরা বলি যে এটি প্রভাব ফেলবে, তবে প্রসিদ্ধ মতে হাত ধোয়ার নিয়ত করার আগে হাত ডুবানো হোক বা পরে—তা সমান। এবং বলা হয়েছে: হাত ধোয়ার নিয়ত করার পর ডুবানো ছাড়া এটি প্রভাব ফেলবে না। আবার বলা হয়েছে: ওযুর নিয়ত করার পরে, হাত ধোয়ার নিয়ত করুক বা না করুক। আর এই হাতের সীমা হলো কবজি পর্যন্ত। আর সামান্য অংশ যেমন একটি বা দুটি আঙুল ডুবানোর ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে। এবং যারা শরয়ি পবিত্রতা অর্জনের যোগ্য নয়, যেমন কাফির, পাগল এবং বোধশক্তিহীন শিশু—তাদের হাত ডুবানোর ব্যাপারেও দুটি মত রয়েছে। আর অধিক পানির মধ্যে হাত ডুবানো কোনো প্রভাব ফেলে না—এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে—বরং তাতে তার ওযু সহিহ হবে এবং তা উভয় হাত ধোয়ার জন্য যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮১)
وَكَذَلِكَ مَا لَوْ وَقَفَ تَحْتَ أُنْبُوبٍ أَوْ مِيزَابٍ فَتَوَضَّأَ وَلَمْ يَنْقُلِ الْمَاءَ بِيَدِهِ. فَأَمَّا إِذَا نَقَلَهُ بِيَدِهِ أَوْ صَبَّهُ فِيهِمَا مِنَ الْإِنَاءِ صَبًّا وَتَوَضَّأَ قَبْلَ غَسْلِهِمَا فَهَلْ يُجْزِئُهُ عَنْ غَسْلِهِمَا وَيَصِحُّ وُضُوؤُهُ؟ عَلَى رِوَايَتَيْنِ، وَيَجُوزُ اسْتِعْمَالُ هَذَا الْمَاءِ فِيمَا تُسْتَعْمَلُ فِيهِ الْمِيَاهُ الطَّاهِرَةُ فِي أَشْهَرِ الْوَجْهَيْنِ وَفِي الْآخَرِ يُرَاقُ بِكُلِّ حَالٍ، وَإِذَا لَمْ يَجِدْ إِلَّا هَذَا الْمَاءَ عَلَى الْقَوْلِ بِأَنَّهُ غَيْرُ طَهُورٍ تَوَضَّأَ بِهِ وَتَيَمَّمَ، وَالْمُنْفَصِلُ مِنَ الْيَدِ الْمَغْسُولَةِ كَالْمُغْتَسَلِ بِهِ فِي رَفْعِ الْحَدَثِ إِنْ قِيلَ بِوُجُوبِهِ وَإِلَّا فَكَالْمُسْتَحَبِّ.

 

فَصْلٌ:

وَلَا يُكْرَهُ الْمُسَخَّنُ بِالشَّمْسِ فِي الْمَنْصُوصِ الْمَشْهُورِ، وَقَالَ التَّمِيمِيُّ وَحَفِيدُهُ رِزْقُ اللَّهِ: يُكْرَهُ؛ لِأَنَّهُ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ: " لَا تَغْتَسِلُوا بِالْمُشَمَّسِ فَإِنَّهُ يُورِثُ الْبَرَصَ " وَلَيْسَ بِشَيْءٍ لِأَنَّ النَّاسَ مَا زَالُوا يَسْتَعْمِلُونَهُ وَلَمْ يُعْلَمْ أَنْ
অনুরূপভাবে, যদি কেউ কোনো নল বা পানিনালীর নিচে দাঁড়ায় এবং অজু করে, আর নিজের হাত দিয়ে পানি সরিয়ে না নেয় (তবে তা জায়েজ হবে)। কিন্তু যদি সে হাত দিয়ে পানি সরিয়ে নেয় অথবা পাত্র থেকে হাতে পানি ঢালে এবং হাত ধোয়ার পূর্বেই তা দিয়ে অজু শুরু করে, তবে কি তা হাত ধোয়ার স্থলাভিষিক্ত হবে এবং তার অজু কি সহিহ হবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। প্রসিদ্ধ দুটি মতের অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী, এই পানি পবিত্র পানির মতো ব্যবহার করা জায়েজ। আর অন্য মতে, এটি সর্বাবস্থায় ঢেলে দিতে হবে। আর যদি এই পানি ব্যতীত অন্য পানি না পাওয়া যায় এবং একে 'তহুর' (পবিত্র ও পবিত্রকারী) না হওয়ার মত প্রদান করা হয়, তবে সে তা দিয়েই অজু করবে এবং তায়াম্মুমও করবে। আর ধৌত হাত থেকে বিচ্যুত পানি হদস দূর করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানির সমতুল্য, যদি তা ওয়াজিব হওয়ার কথা বলা হয়; অন্যথায় তা মুস্তাহাব (কাজে ব্যবহৃত পানির) মতো।

 

পরিচ্ছেদ:

সুস্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী রোদে গরম করা পানি ব্যবহার করা মাকরুহ নয়। তবে আত-তামীমি এবং তাঁর পৌত্র রিজকুল্লাহ বলেছেন: এটি মাকরুহ; কারণ উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, 'তোমরা রোদে গরম করা পানি দিয়ে গোসল করো না, কেননা এটি শ্বেতী রোগ সৃষ্টি করে।' কিন্তু এটি (এই বর্ণনাটি) ধর্তব্য নয়; কেননা মানুষ সর্বদা এটি ব্যবহার করে আসছে এবং এমনটি জানা যায়নি যে...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮২)
أَحَدًا بَرِصَ، وَلِأَنَّ ذَلِكَ لَوْ صَحَّ لَمْ يُفَرَّقْ بَيْنَ مَا قُصِدَ بِتَشْمِيسِهِ وَمَا لَمْ يُقْصَدْ، وَالْأَثَرُ إِنْ صَحَّ فَلَعَلَّ عُمَرَ بَلَغَهُ ذَلِكَ فَنَهَى عَنْهُ كَمَا «نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ تَأْبِيرِ النَّخْلِ وَقَالَ: " مَا أَرَاهُ يُغْنِي شَيْئًا» "، ثُمَّ قَالَ: " «أَنْتُمْ أَعْلَمُ بِأَمْرِ دُنْيَاكُمْ» " لِأَنَّ الْمَرْجِعَ فِي ذَلِكَ إِلَى الْعَادَةِ، وَكَذَلِكَ الْمُسَخَّنُ بِالنَّارِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ شَدِيدَ الْحَرَارَةِ يَمْنَعُ إِسْبَاغَ الْوُضُوءِ.

لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَذِنَ فِي دُخُولِ الْحَمَّامِ بِالْأُزُرِ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَقُودُ نَجِسًا فَيُكْرَهُ فِي أَصَحِّ الرِّوَايَتَيْنِ لِاحْتِمَالِ وُصُولِ بَعْضِ أَجْزَاءِ النَّجَاسَةِ إِلَى الْمَاءِ، فَإِنْ كَانَ بَيْنَهُمَا حَاجِزٌ حَصِينٌ كُرِهَ أَيْضًا فِي أَحَدِ الْوَجْهَيْنِ لِأَنَّ سُخُونَتَهُ إِنَّمَا كَانَتْ بِاسْتِعْمَالِ النَّجَاسَةِ. وَإِيقَادُهَا هَلْ هُوَ مَكْرُوهٌ أَوْ مُحَرَّمٌ عَلَى وَجْهَيْنِ، وَفِي كَرَاهَةِ الِاغْتِسَالِ وَالتَّوَضُّؤِ مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ رِوَايَتَانِ، وَأَمَّا إِزَالَةُ النَّجَاسَةِ بِهِ فَتُكْرَهُ قَوْلًا وَاحِدًا.
কেউ শ্বেত রোগে আক্রান্ত হতো; কারণ এটি যদি সঠিক হতো তবে যা রৌদ্রে উত্তপ্ত করার সংকল্প করা হয়েছে এবং যা করা হয়নি তার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকতো না। আর আসারটি (বিবরণী) যদি সহীহ হয়ে থাকে, তবে সম্ভবত উমর (রা.)-এর কাছে বিষয়টি পৌঁছেছিল বিধায় তিনি তা নিষেধ করেছিলেন, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খেজুর গাছের পরাগায়ন করতে নিষেধ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমি মনে করি না এটি কোনো উপকারে আসবে।" অতঃপর তিনি বলেছিলেন: "তোমরা তোমাদের দুনিয়াবি বিষয়ে অধিক অবগত।" কারণ এক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো অভ্যাস বা অভিজ্ঞতা। অনুরূপভাবে আগুনের মাধ্যমে উত্তপ্ত করা পানির বিধানও তাই, যদি না তা অত্যন্ত উত্তপ্ত হয় যা যথাযথভাবে ওযু সম্পন্ন করতে বাধা প্রদান করে।

কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিম্নবসন পরিহিত অবস্থায় হাম্মামে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন। তবে জ্বালানি যদি অপবিত্র হয়, তবে দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী তা মাকরূহ হবে, কারণ পানির মধ্যে অপবিত্রতার কিছু অংশ পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি উভয়ের মাঝে কোনো মজবুত আড়াল বা প্রতিবন্ধক থাকে, তবুও দুটি অভিমতের একটি অনুযায়ী তা মাকরূহ হবে, কারণ এর উষ্ণতা অপবিত্রতা ব্যবহারের মাধ্যমেই হয়েছে। আর সেই অপবিত্রতা জ্বালানো কি মাকরূহ নাকি হারাম—এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। যমযম পানি দিয়ে গোসল ও ওযু করার মাকরূহ হওয়ার ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে; তবে তা দিয়ে অপবিত্রতা দূর করার বিষয়টি সর্বসম্মতভাবে মাকরূহ।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮৩)
‌‌[مسألة إذا شَكَّ فِي طَهَارَةِ الْمَاءِ أَوْ غَيْرِهِ بَنَى عَلَى الْيَقِينِ]

مَسْأَلَةٌ:

(وَإِذَا شَكَّ فِي طَهَارَةِ الْمَاءِ أَوْ غَيْرِهِ أَوْ نَجَاسَتِهِ بَنَى عَلَى الْيَقِينِ).

يَعْنِي إِذَا تَيَقَّنَ الطَّهَارَةَ ثُمَّ شَكَّ هَلْ تَنَجَّسَ أَمْ لَا بَنَى عَلَى مَا تَيَقَّنَهُ مِنْ طَهَارَتِهِ، وَكَذَلِكَ إِذَا تَيَقَّنَ النَّجَاسَةَ، وَكَذَلِكَ الْبَدَنُ وَالثَّوْبُ وَالْأَرْضُ وَجَمِيعُ الْأَعْيَانِ، وَهَذِهِ قَاعِدَةٌ مُمَهَّدَةٌ فِي الشَّرْعِ وَهِيَ اسْتِصْحَابُ الْحَالِ الْمَعْلُومَةِ وَاطِّرَاحُ الشَّكِّ، وَلِذَلِكَ لَمْ يُكْرَهِ التَّوَضُّؤُ بِمَاءِ سِقَايَاتِ الْأَسْوَاقِ وَالْحِيَاضِ الْمَوْرُودَةِ، وَكَذَلِكَ إِذَا تَيَقَّنَ الْحَدَثَ أَوِ الطَّهَارَةَ وَشَكَّ فِي زَوَالِهِ بَنَى عَلَى الْمُسْتَيْقَنِ، فَإِذَا شَكَّ فِي عَدَدِ الرَّكَعَاتِ أَوِ الْأَطْوَافِ أَوِ الطَّلَقَاتِ بَنَى عَلَى الْيَقِينِ وَهُوَ الْأَقَلُّ.

وَكَذَلِكَ إِذَا شَكَّ فِي حَيَاةِ الرَّجُلِ وَمَوْتِهِ لِتَوْرِيثِهِ بَنَى عَلَى يَقِينِ الْحَيَاةِ، وَإِذَا شَكَّ فِي خَلْقِ الْجَنِينِ وَقْتَ مَوْتِ مُوَرِّثِهِ بَنَى عَلَى الْيَقِينِ وَهُوَ الْعَدَمُ، وَفُرُوعُ هَذَا الْأَصْلِ كَثِيرَةٌ جِدًّا، وَالسَّبَبُ فِي ذَلِكَ أَنَّ الشَّيْءَ إِذَا كَانَ عَلَى حَالٍ فَانْتِقَالُهُ عَنْهَا يَفْتَقِرُ إِلَى زَوَالِهَا وَحُدُوثِ الْأُخْرَى، وَبَقَاءُ الثَّانِيَةِ وَبَقَاءُ الْأُولَى لَا يَفْتَقِرُ إِلَّا إِلَى مُجَرَّدِ الْإِبْقَاءِ، فَيَكُونُ الْبَقَاءُ أَيْسَرَ مِنَ الْحُدُوثِ فَيَكُونُ أَكْثَرَ، وَالْأَصْلُ إِلْحَاقُ الْفَرْدِ بِالْأَعَمِّ الْأَغْلَبِ، فَإِنْ أَخْبَرَهُ مُخْبِرٌ بِنَجَاسَتِهِ لَمْ يَجِبْ أَنْ يَقْبَلَ مِنْهُ حَتَّى يُبَيِّنَ السَّبَبَ فَيَقْبَلُ سَوَاءٌ كَانَ رَجُلًا أَوِ امْرَأَةً مَسْتُورًا أَوْ مَعْرُوفًا بِالْعَدَالَةِ بِخِلَافِ الْفَاسِقِ، وَخَبَرُ الصَّبِيِّ كَشَهَادَتِهِ.

 

‌‌[مسألة إذا خَفِيَ مَوْضِعُ النَّجَاسَةِ مِنَ الثَّوْبِ أو غيره]

مَسْأَلَةٌ:

(وَإِنْ خَفِيَ مَوْضِعُ النَّجَاسَةِ مِنَ الثَّوْبِ أَوْ غَيْرِهِ غَسَلَ مَا تَيَقَّنَ بِهِ غَسْلَهَا)

لِأَنَّهُ اشْتَبَهَ الطَّاهِرُ بِالنَّجِسِ فَوَجَبَ اجْتِنَابُ الْجَمِيعِ حَتَّى يَتَيَقَّنَ الطَّهَارَةَ، إِمَّا
[একটি মাসআলা: যখন পানি বা অন্য কিছুর পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ হয়, তখন নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করতে হবে]

মাসআলা:

(আর যখন পানি বা অন্য কিছুর পবিত্রতা অথবা অপবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ হয়, তখন সে নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করবে।)

অর্থাৎ, যদি সে পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে, অতঃপর সন্দেহ করে যে তা অপবিত্র হয়েছে কি না, তবে সে তার নিশ্চিত পবিত্রতার ওপরই ভিত্তি করবে। একইভাবে যদি সে অপবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে (তবে তা অপবিত্রই গণ্য হবে)। আর শরীর, কাপড়, জমিন এবং সমস্ত বস্তুর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। এটি শরিয়তের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতি, আর তা হলো—জানা অবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং সন্দেহকে বর্জন করা। এই কারণেই বাজারের পানি সরবরাহ কেন্দ্র এবং লোকসমাগমপূর্ণ হাউজগুলোর পানি দিয়ে অজু করা অপছন্দনীয় বা মাকরুহ নয়। একইভাবে যখন কেউ অজু ভঙ্গ হওয়া বা পবিত্রতার বিষয়ে নিশ্চিত থাকে এবং তা দূর হওয়া নিয়ে সন্দেহ করে, তবে সে নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করবে। সুতরাং যদি কেউ রাকাত সংখ্যা, তাওয়াফের সংখ্যা বা তালাকের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ করে, তবে সে নিশ্চিত সংখ্যার ওপর ভিত্তি করবে, আর তা হলো সর্বনিম্নটি।

একইভাবে উত্তরাধিকার প্রদানের জন্য যদি কোনো ব্যক্তির জীবিত বা মৃত থাকা নিয়ে সন্দেহ হয়, তবে তার জীবনের নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করতে হবে। আর যদি কোনো উত্তরাধিকারী মারা যাওয়ার সময় গর্ভস্থ ভ্রূণ সৃষ্টির ব্যাপারে সন্দেহ হয়, তবে নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করতে হবে, আর তা হলো ভ্রূণ না থাকা। এই মূলনীতির শাখা-প্রশাখা অত্যন্ত ব্যাপক। এর কারণ হলো, কোনো বস্তু যখন একটি অবস্থায় থাকে, তখন সেই অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হতে হলে পূর্বের অবস্থা দূর হওয়া এবং নতুন অবস্থার সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন। আর পূর্বের অবস্থার স্থায়িত্বের জন্য কেবল কোনো পরিবর্তন না ঘটাই যথেষ্ট। ফলে কোনো কিছুর স্থায়িত্ব তার নতুন অবস্থার সৃষ্টির চেয়ে সহজতর, তাই স্থায়িত্বই বেশি ঘটে থাকে। মূলনীতি হলো—বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয়কে সাধারণ ও অধিকাংশের অবস্থার সাথে যুক্ত করা। সুতরাং যদি কোনো সংবাদ দাতা তাকে কোনো কিছুর অপবিত্রতা সম্পর্কে খবর দেয়, তবে তার কারণ স্পষ্ট না করা পর্যন্ত তা গ্রহণ করা আবশ্যক নয়। কারণ স্পষ্ট করলে তখন তা গ্রহণ করা হবে; চাই সংবাদ দাতা পুরুষ হোক বা নারী, জনসমক্ষে অপরিচিত হোক বা ন্যায়নিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হোক। তবে ফাসিকের বিষয়টি ভিন্ন, আর শিশুর সংবাদ তার সাক্ষ্যের মতোই গণ্য।

 

[একটি মাসআলা: যখন কাপড় বা অন্য কিছুতে অপবিত্রতার স্থান অস্পষ্ট হয়ে যায়]

মাসআলা:

(আর যদি কাপড় বা অন্য কোনো বস্তুতে অপবিত্রতার স্থান অস্পষ্ট হয়ে যায়, তবে সে ততটুকু অংশ ধৌত করবে যা দ্বারা অপবিত্রতা ধৌত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।)

কেননা পবিত্র অংশটি অপবিত্র অংশের সাথে সংশয়যুক্ত হয়ে গেছে, তাই পবিত্রতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সবটুকু পরিহার করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। হয়...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮৪)
بِالْغَسْلِ أَوِ الْيَقِينِ كَمَا لَوِ اشْتَبَهَ الْمُذَكَّى بِالْمَيِّتِ، وَلِأَنَّا قَدْ تَيَقَّنَّا النَّجَاسَةَ فَلَا يَزُولُ حُكْمُهَا إِلَّا بِيَقِينِ الطَّهَارَةِ بِنَاءً عَلَى الْيَقِينِ، فَعَلَى هَذَا إِنْ كَانَ رَآهَا عَلَى يَدَيْهِ أَوْ عَلَى ثَوْبِهِ الْمَلْبُوسِ غَسَلَ مَا يُمْكِنُ رُؤْيَتُهُ وَإِنْ رَآهَا عَلَى أَحَدِ كُمَّيْهِ غَسَلَ الْكُمَّيْنِ وَإِنْ رَآهَا عَلَى بُقْعَةٍ غَسَلَهَا جَمِيعَهَا، فَأَمَّا إِذَا تَيَقَّنَ أَنَّهَا أَصَابَتْ مَوْضِعًا بِعَيْنِهِ وَشَكَّ هَلْ أَصَابَتْ غَيْرَهُ لَمْ يَجِبْ أَنْ يَغْسِلَ إِلَّا مَا تَيَقَّنَ نَجَاسَتَهُ.

وَقَدْ نَبَّهَ الشَّيْخُ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى أَنَّهُ إِذَا اشْتَبَهَ الطَّاهِرُ بِالنَّجِسِ اجْتَنَبَهُمَا جَمِيعًا، وَهَذَا ظَاهِرُ الْمَذْهَبِ، وَقَالَ جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِنَا: يَتَحَرَّى إِذَا كَانَتْ أَوَانِي الْمَاءِ الطَّهُورِ أَكْثَرَ، وَالْأَوَّلُ أَصَحُّ لِمَا تَقَدَّمَ، وَيَلْزَمُهُ أَنْ يَعْدَمَ الطَّهُورَ بِخَلْطِهِ بِالنَّجِسِ أَوْ بِإِرَاقَتِهِمَا فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ وَهَذَا إِذَا لَمْ يَكُنْ مُحْتَاجًا إِلَيْهِ لِلشُّرْبِ وَنَحْوِهِ. فَإِنَّهُ حِينَئِذٍ لَا يُرِيقُهُ، وَيَجِبُ التَّحَرِّي لِلْأَكْلِ وَالشُّرْبِ فِي أَصَحِّ الرِّوَايَتَيْنِ وَلَا يَلْزَمُهُ غَسْلُ مَا أَصَابَهُ إِذَا وَجَدَ الْمَاءَ فِي أَصَحِّ الْوَجْهَيْنِ.

 

‌‌[مسألة إذا اشْتَبَهَ طَهُورٌ بِطَاهِرٍ]

مَسْأَلَةٌ:

" وَإِنِ اشْتَبَهَ طَهُورٌ بِطَاهِرٍ تَوَضَّأَ مِنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا "

لِأَنَّهُ أَمْكَنَهُ تَأْدِيَةُ فَرْضِهِ بِيَقِينٍ مِنْ غَيْرِ ضَرَرٍ فَأَشْبَهَ مَا لَوْ نَسِيَ صَلَاةً مِنْ يَوْمٍ لَا يَعْلَمُ عَيْنَهَا ثُمَّ إِنْ شَاءَ تَوَضَّأَ مِنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا وُضُوءًا كَامِلًا
ধৌত করার মাধ্যমে অথবা নিশ্চিত হওয়ার দ্বারা, যেমনটি ঘটে যখন জবাইকৃত পশুর সাথে মৃত পশু মিশে যায়। যেহেতু আমরা নাপাকি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি, তাই কেবল পবিত্রতার নিশ্চয়তা লাভের মাধ্যমেই সেই হুকুম দূরীভূত হবে, যা নিশ্চিত জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে। অতএব, এর ভিত্তিতে যদি কেউ তার দুই হাতে অথবা পরিহিত পোশাকে নাপাকি দেখে, তবে যতটুকু দেখা সম্ভব তা ধৌত করবে। আর যদি তার দুই আস্তিনের কোনো একটিতে তা দেখে, তবে উভয় আস্তিনই ধৌত করবে। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট স্থানে দেখে, তবে তার পুরো স্থানটিই ধৌত করবে। পক্ষান্তরে, সে যদি নিশ্চিত হয় যে নাপাকি নির্দিষ্ট একটি স্থানে লেগেছে এবং অন্য কোথাও লেগেছে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ করে, তবে যে স্থানের নাপাকি সম্পর্কে সে নিশ্চিত হয়েছে তা ব্যতীত অন্য কিছু ধৌত করা তার জন্য ওয়াজিব নয়।

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) সতর্ক করেছেন যে, যখন পবিত্র বস্তু নাপাকের সাথে মিশে অস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন উভয়টিই বর্জন করতে হবে। এটিই মাযহাবের প্রকাশ্য মত। আমাদের একদল সঙ্গী বলেছেন: যদি পবিত্র পানির পাত্রের সংখ্যা বেশি হয় তবে অনুসন্ধান করবে। তবে পূর্বোক্ত কারণে প্রথম মতটিই অধিকতর সহীহ। দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী, পবিত্র পানিকে নাপাকের সাথে মিশিয়ে দিয়ে অথবা উভয়টিকে ঢেলে দিয়ে পবিত্র পানি নিঃশেষ করা তার জন্য আবশ্যক। এটি তখন প্রযোজ্য যখন পান করা বা এই জাতীয় প্রয়োজনে তার দরকার না হয়। এমতাবস্থায় সে তা ঢেলে দেবে না। দুই বর্ণনার মধ্যে অধিকতর সহীহ মত অনুযায়ী, পানাহারের প্রয়োজনে অনুসন্ধান করা ওয়াজিব। আর দুই অভিমতের মধ্যে অধিকতর সহীহ মতটি হলো, পানি পাওয়া গেলে (নাপাক মিশ্রিত পানি) যা লেগেছে তা ধৌত করা তার ওপর আবশ্যক নয়।

 

‌‌[মাসআলা: যখন পবিত্রকারী পানি ও পবিত্র পানি অস্পষ্ট হয়ে যায়]

মাসআলা:

"আর যদি পবিত্রকারী পানি ও পবিত্র পানি অস্পষ্ট হয়ে যায়, তবে সে প্রত্যেকটি পানি দিয়ে ওজু করবে।"

কারণ কোনো ক্ষতি ছাড়াই নিশ্চিতভাবে ফরজ আদায় করা তার পক্ষে সম্ভব। এটি সেই ব্যক্তির সদৃশ, যে কোনো একদিনের একটি সালাত ভুলে গেছে কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কোনটি তা জানে না। অতঃপর সে চাইলে প্রত্যেকটি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ওজু করবে।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮৫)
وَإِنْ شَاءَ غَسَلَ الْعُضْوَ مِنْ هَذَا ثُمَّ مِنْ هَذَا ثُمَّ يُصَلِّي صَلَاةً وَاحِدَةً فِي أَصَحِّ الْوَجْهَيْنِ، هَذَا إِذَا لَمْ يَكُنْ مُحْتَاجًا إِلَى أَحَدِهِمَا لِلشُّرْبِ، فَإِنْ كَانَ مُحْتَاجًا إِلَيْهِ تَوَضَّأَ بِمَا يَرَى أَنَّهُ الْمُطَّهِّرُ وَإِلَّا بِأَيِّهِمَا شَاءَ وَيَتَيَمَّمُ فِي الصُّورَتَيْنِ.

 

‌‌[مسألة إذا اشْتَبَهَتِ الثِّيَابُ الطَّاهِرَةُ بِالنَّجِسَةِ]

مَسْأَلَةٌ:

" وَإِنِ اشْتَبَهَتِ الثِّيَابُ الطَّاهِرَةُ بِالنَّجِسَةِ صَلَّى فِي ثَوْبٍ بَعْدَ ثَوْبٍ بِعَدَدِ النَّجِسِ وَزَادَ صَلَاةً ".

لِأَنَّهُ إِذَا صَلَّى صَلَاةً زَائِدَةً عَلَى عَدَدِ النَّجِسِ تَيَقَّنَ أَنَّهُ صَلَّى فِي ثَوْبٍ طَاهِرٍ وَلَمْ تَتَعَدَّ إِلَيْهِ النَّجَاسَةُ بِخِلَافِ الْأَوَانِي، وَلَا يُجْزِئُهُ أَنْ يَتَحَرَّى كَالْقِبْلَةِ لِلْعِلَّةِ الَّتِي تَقَدَّمَتْ، لِأَنَّ الْقِبْلَةَ يَغْلِبُ اشْتِبَاهُهَا وَعَلَيْهَا دَلَائِلُ مَنْصُوبَةٌ، وَإِصَابَةُ عَيْنِ الْكَعْبَةِ لَا يَحْصُلُ بِالتَّكْرَارِ، وَسَوَاءٌ قَلَّتِ النَّجَاسَةُ أَوْ كَثُرَتْ فِي الْمَشْهُورِ، وَقَالَ ابْنُ عَقِيلٍ: إِذَا كَثُرَتْ وَلَمْ يُعْلَمْ عَدَدُهَا أَجْزَأَ التَّحَرِّي، وَهَذَا التَّكْرَارُ فِي الْمِيَاهِ وَالثِّيَابِ إِنَّمَا يُجْزِئُ إِذَا لَمْ يَكُنْ طَاهِرًا بِيَقِينٍ، فَأَمَّا مَعَ وُجُودِهِ فَلَا يُجْزِئُ إِلَّا بِهِ لِأَنَّهُ لَا بُدَّ مِنَ الْجَزْمِ بِالنِّيَّةِ إِذَا أَمْكَنَ إِلَّا أَنْ يَتَوَضَّأَ بِغَرْفَةٍ مِنْ هَذَا وَغَرْفَةٍ مِنْ هَذَا.

 

‌‌[مسألة نَجَاسَةُ الْكَلْبِ وَالْخِنْزِيرِ]

مَسْأَلَةٌ:

" وَتُغْسَلُ نَجَاسَةُ الْكَلْبِ وَالْخِنْزِيرِ سَبْعًا إِحْدَاهُنَّ بِالتُّرَابِ ".

أَمَّا الْكَلْبُ وَالْخِنْزِيرُ فَلَا يَخْتَلِفُ الْمَذْهَبُ فِي نَجَاسَتِهِمَا وَفِي وُجُوبِ غَسْلِ الْإِنَاءِ مِنْ نَجَاسَتِهِمَا سَبْعًا إِحْدَاهُنَّ بِالتُّرَابِ لِمَا رَوَى أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ
এবং তিনি চাইলে অঙ্গটি এটি দিয়ে ধৌত করবেন, অতঃপর ওটি দিয়ে, তারপর তিনি এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করবেন—দুটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী। এটি তখন, যখন তিনি পানের জন্য এগুলোর কোনো একটির মুখাপেক্ষী না হন। আর যদি তিনি তার মুখাপেক্ষী হন, তবে যা পবিত্র মনে হয় তা দিয়ে অজু করবেন, অন্যথায় যে কোনোটি দিয়ে করবেন এবং উভয় ক্ষেত্রেই তায়াম্মুম করবেন।

 

‌‌[মাসআলা: যখন পবিত্র পোশাক ও অপবিত্র পোশাকের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়]

মাসআলা:

"এবং যদি পবিত্র পোশাক ও অপবিত্র পোশাকের মধ্যে সংশয় দেখা দেয়, তবে অপবিত্র পোশাকের সংখ্যা অনুযায়ী একটির পর একটি পোশাকে সালাত আদায় করবেন এবং অতিরিক্ত এক ওয়াক্ত সালাত পড়বেন।"

কারণ, তিনি যদি অপবিত্র পোশাকের সংখ্যার চেয়ে এক ওয়াক্ত বেশি সালাত আদায় করেন, তবে তিনি নিশ্চিত হবেন যে তিনি পবিত্র পোশাকে সালাত আদায় করেছেন এবং তার কাছে নাপাকি পৌঁছায়নি—পাত্রের বিষয়টি এর বিপরীত। আর কিবলার মতো এখানে অনুসন্ধান করা তার জন্য যথেষ্ট হবে না—পূর্বে বর্ণিত কারণে; কারণ কিবলার ক্ষেত্রে সংশয় প্রবল থাকে এবং তার জন্য নির্দিষ্ট আলামত স্থাপন করা আছে, আর কাবার মূল অবস্থান প্রাপ্তি পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে সম্ভব নয়। নাপাকি কম হোক বা বেশি হোক—প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী হুকুম একই। ইবনে আকিল বলেন: যদি নাপাকি অনেক হয় এবং তার সংখ্যা জানা না থাকে, তবে অনুসন্ধান বা ধারণা করাই যথেষ্ট হবে। পানি ও পোশাকের ক্ষেত্রে এই পুনরাবৃত্তি কেবল তখনই যথেষ্ট হবে যখন নিশ্চিতভাবে পবিত্র কিছু পাওয়া না যায়। কিন্তু নিশ্চিত পবিত্র কিছু বর্তমান থাকা অবস্থায় তা ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না; কারণ সম্ভব হলে নিয়ত দৃঢ় হওয়া আবশ্যক, যদি না তিনি এটি থেকে এক আজলা এবং ওটি থেকে এক আজলা পানি নিয়ে অজু করেন।

 

‌‌[মাসআলা: কুকুর ও শুকরের অপবিত্রতা]

মাসআলা:

"কুকুর ও শুকরের অপবিত্রতা সাতবার ধৌত করতে হবে, যার মধ্যে একবার হবে মাটি দিয়ে।"

কুকুর ও শুকরের ব্যাপারে তাদের নাপাকি এবং তাদের নাপাকি থেকে পাত্র সাতবার ধৌত করা—যার একবার হবে মাটি দিয়ে—ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে মাযহাবে কোনো মতভেদ নেই। কারণ আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮৬)
اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " «إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعًا» " رَوَاهُ الْجَمَاعَةُ، وَلِمُسْلِمٍ: " «طَهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ أَنْ يَغْسِلَهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أُولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ» "، وَلِمُسْلِمٍ أَيْضًا: " «إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيُرِقْهُ ثُمَّ لِيَغْسِلْهُ سَبْعَ مِرَارٍ» ".

فَلَمَّا أُمِرَ بِإِرَاقَةِ الْإِنَاءِ وَسُمِّيَ الْغَسْلُ طَهُورًا دَلَّ عَلَى النَّجَاسَةِ؛ إِذِ الطَّهَارَةُ الْوَاجِبَةُ فِي عَيْنِ الْبَدَنِ لَا تَكُونُ إِلَّا عَنْ نَجَاسَةٍ، وَعَنْهُ: أَنَّهُ يَجِبُ غَسْلُهَا ثَمَانِيًا لِمَا رَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُغَفَّلٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " «إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَاغْسِلُوهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ وَعَفِّرُوهُ الثَّامِنَةَ فِي التُّرَابِ» " رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَغَيْرُهُ، وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ عَدَّ التُّرَابَ ثَامِنَةً وَإِنْ لَمْ تَكُنْ غَسْلَةً كَمَا قَالَ تَعَالَى: {ثَلَاثَةٌ رَابِعُهُمْ كَلْبُهُمْ} [الكهف: 22] يُحَقِّقُ ذَلِكَ أَنَّ أَهْلَ اللُّغَةِ قَالُوا: إِذَا كَانَ اسْمُ فَاعِلٍ عَلَى الْعَدَدِ مِنْ غَيْرِ جِنْسِ الْمَفْعُولِ يَجْعَلُهُ زَائِدًا كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ} [المجادلة: 7]، وَإِنْ كَانَ مِنْ جِنْسِهِ جَعَلَهُ أَحَدَهُمْ لِقَوْلِهِ {ثَانِيَ اثْنَيْنِ} [التوبة: 40]، فَلَمَّا قَالَ: " سَبْعَ مَرَّاتٍ " عُلِمَ أَنْ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর পান করে, তবে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে।" এটি জামাআতের ইমামগণ বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: "তোমাদের কারো পাত্র পবিত্র করার পদ্ধতি হলো—যখন তাতে কুকুর মুখ দেয়—সে যেন তা সাতবার ধৌত করে, যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে।" ইমাম মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় এটিও রয়েছে: "তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর মুখ দেয়, তবে সে যেন তা ফেলে দেয় এবং এরপর সাতবার ধৌত করে।"

যেহেতু পাত্রের বস্তু ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ধৌত করাকে 'পবিত্রতা' বলে অভিহিত করা হয়েছে, তা বস্তুর অপবিত্রতা (নাজাসাত) হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে। কেননা কোনো বস্তুর মূল সত্তার ওপর আবশ্যিক পবিত্রতা কেবল অপবিত্রতার কারণেই হয়ে থাকে। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে একটি বর্ণনা এই যে, তা আটবার ধৌত করা ওয়াজিব। কারণ আব্দুল্লাহ বিন মুগাফফাল (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দেয়, তখন তোমরা তা সাতবার ধৌত করো এবং অষ্টম বার মাটি দিয়ে মেজো।" এটি মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। বিশুদ্ধ মত হলো এই যে, তিনি মাটিকে অষ্টম হিসেবে গণনা করেছেন যদিও তা কোনো স্বতন্ত্র ধৌতকরণ নয়; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা ছিল তিনজন, তাদের চতুর্থটি ছিল তাদের কুকুর।" [আল-কাহফ: ২২]। এর সমর্থনে যুক্তি এই যে, ভাষাবিদগণ বলেছেন: যখন সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে গঠিত কর্তৃবাচক বিশেষ্য গণনাকৃত বস্তুর ভিন্ন জাতীয় হয়, তখন তা অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হয়; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি তাদের চতুর্থ না থাকেন।" [আল-মুজাদালাহ: ৭]। আর যদি তা সমজাতীয় হয়, তবে তাকে তাদেরই একজন হিসেবে গণ্য করা হয়; যেমন আল্লাহর বাণী: "দুইজনের দ্বিতীয়জন।" [আত-তাওবাহ: ৪০]। সুতরাং যখন তিনি বলেছেন "সাতবার", তখন জানা গেল যে...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮৭)
التُّرَابَ سَمَّاهُ ثَامِنًا لِأَنَّهُ مِنْ غَيْرِ الْجِنْسِ وَإِلَّا قَالَ: فَاغْسِلُوهُ ثَمَانِيًا وَعَفِّرُوهُ الثَّامِنَةَ، كَمَا رَوَى أَبُو دَاوُدَ فِي حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ: " «إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الْإِنَاءِ فَاغْسِلُوهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ السَّابِعَةُ بِالتُّرَابِ» ".

وَإِذَا ثَبَتَ هَذَا الْحُكْمُ فِي الْكَلْبِ فَالْخِنْزِيرُ الَّذِي لَا يُبَاحُ اقْتِنَاؤُهُ وَالِانْتِفَاعُ بِهِ أَصْلًا وَنَصَّ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ أَوْلَى، وَلَهُ أَنْ يَسْتَعْمِلَ التُّرَابَ فِي أَيِّ غَسْلِهِ شَاءَ فَإِنْ كَانَ الْمَحَلُّ يَتَضَرَّرُ بِالتُّرَابِ لَمْ يَجِبِ اسْتِعْمَالُهُ فِي أَصَحِّ الْوَجْهَيْنِ.

وَيُجْزِئُ مَوْضِعَ التُّرَابِ الْأُشْنَانُ وَالصَّابُونُ وَنَحْوُهُمَا فِي " أَقْوَى الْوُجُوهِ ".

وَقِيلَ: لَا يُجْزِئُ مُطْلَقًا، وَقِيلَ: لَا يُجْزِئُ إِلَّا عِنْدَ عَدَمِ التُّرَابِ، وَأَمَّا الْغَسْلَةُ الثَّامِنَةُ فَلَا تُجْزِئُ بَدَلَ التُّرَابِ فِي الْأَصَحِّ وَيَجِبُ التَّسْبِيعُ، وَالتُّرَابُ فِي جَمِيعِ نَجَاسَاتِ الْكَلْبِ مِنَ الرِّيقِ وَالْعَرَقِ وَالْبَوْلِ وَغَيْرِهَا، وَكَذَلِكَ فِي جَمِيعِ مَوَارِدِ نَجَاسَتِهِ الَّتِي لَا تَتَضَرَّرُ بِالتُّرَابِ فِي الْمَشْهُورِ، وَقِيلَ عَنْهُ: لَا يَجِبُ التُّرَابُ إِلَّا فِي الْإِنَاءِ خَاصَّةً، وَأَمَّا سَائِرُ الْحَيَوَانَاتِ فَعَلَى قِسْمَيْنِ: أَحَدُهُمَا: مَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ فَهَذَا طَاهِرٌ، وَكَذَلِكَ مَا لَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ لِشَرَفِهِ وَهُوَ الْإِنْسَانُ سَوَاءٌ كَانَ مُسْلِمًا أَوْ كَافِرًا وَلَا يُكْرَهُ سُؤْرُهُ فِي ظَاهِرِ الْمَذْهَبِ وَعَنْهُ يُكْرَهُ سُؤْرُ الْكَافِرِ.

وَالثَّانِي مَا لَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ وَهُوَ ضَرْبَانِ: أَحَدُهُمَا مَا هُوَ طَوَّافٌ عَلَيْنَا كَالْهِرِّ وَمَا دَوَنَهَا فِي الْخِلْقَةِ مِثْلُ الْحَيَّةِ وَالْفَأْرَةِ وَالْعَقْرَبِ وَشِبْهُ ذَلِكَ، فَهَذَا لَا يُكْرَهُ سُؤْرُهُ إِلَّا مَا تَوَلَّدَ مِنَ النَّجَاسَاتِ كَدُودِ النَّجَاسَةِ وَالْقُرُوحِ فَإِنَّهُ يَكُونُ نَجِسًا لِنَجَاسَةِ أَصْلِهِ لِمَا «رَوَتْ كَبْشَةُ بِنْتُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهَا سَكَبَتْ وَضُوءًا لِأَبِي قَتَادَةَ
মাটি বা ধূলিকে তিনি অষ্টম বলেছেন কারণ এটি ধৌত করার মূল উপাদান পানির সমজাতীয় নয়; অন্যথা তিনি বলতেন: 'তোমরা একে আটবার ধৌত করো এবং অষ্টম বারে মাটি মাখো'। যেমনটি ইমাম আবু দাউদ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন: "যখন কুকুর কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তখন তোমরা তা সাতবার ধৌত করো, যার সপ্তমটি হবে মাটি দিয়ে।"

যদি কুকুরের ক্ষেত্রে এই বিধান সাব্যস্ত হয়, তবে শূকরের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য হবে; কারণ শূকর পালন করা বা তা থেকে কোনো প্রকার উপকার গ্রহণ করা মোটেও বৈধ নয় এবং পবিত্র কুরআনে এর কথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর ব্যক্তি চাইলে ধৌত করার যেকোনো পর্যায়ে মাটি ব্যবহার করতে পারে। তবে যদি সংশ্লিষ্ট স্থানটি মাটি ব্যবহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে দুটি মতের মধ্যে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী মাটি ব্যবহার করা ওয়াজিব নয়।

এবং "সবচেয়ে শক্তিশালী মত" অনুযায়ী, মাটির পরিবর্তে উশনান (এক প্রকার ক্ষারীয় উদ্ভিদ), সাবান এবং এই জাতীয় বস্তু ব্যবহার করা যথেষ্ট হবে।

আবার বলা হয়েছে: এটি মোটেও যথেষ্ট হবে না। অন্য এক মতে বলা হয়েছে: মাটি না পাওয়া গেলেই কেবল তা যথেষ্ট হবে। আর অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী, মাটির পরিবর্তে শুধু অষ্টম বার ধৌত করা যথেষ্ট নয় বরং সাতবার ধৌত করা ওয়াজিব। কুকুরের সব ধরনের নাপাকি যেমন—লালা, ঘাম, প্রস্রাব এবং অন্যান্য জিনিসের ক্ষেত্রে মাটি ব্যবহার করতে হবে। একইভাবে প্রসিদ্ধ মতানুসারে, কুকুরের নাপাকি লেগেছে এমন সব স্থানেই মাটি ব্যবহার করতে হবে যা মাটি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আবার তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: পাত্র ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে মাটি ব্যবহার করা ওয়াজিব নয়। আর অবশিষ্ট প্রাণীকুল দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমত—যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হয়, সেগুলো পবিত্র। একইভাবে যার শ্রেষ্ঠত্বের কারণে গোশত খাওয়া হয় না অর্থাৎ মানুষ; সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম, সেও পবিত্র। মাযহাবের প্রকাশ্য বর্ণনা অনুযায়ী মানুষের উচ্ছিষ্ট বা এঁটো পানি অপছন্দনীয় বা মাকরুহ নয়, তবে তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনা মতে অমুসলিমের উচ্ছিষ্ট মাকরুহ।

দ্বিতীয় প্রকার হলো: যাদের গোশত খাওয়া হয় না। এরা আবার দুই প্রকার: প্রথমত—যারা সচরাচর আমাদের চারপাশে বিচরণ করে, যেমন বিড়াল এবং শারীরিক গঠনে এর চেয়ে ছোট প্রাণীসমূহ, যেমন সাপ, ইঁদুর, বিচ্ছু এবং এই জাতীয় অন্যান্য। এগুলোর উচ্ছিষ্ট মাকরুহ নয়; তবে নাপাকি থেকে জন্ম নেওয়া প্রাণীর কথা ভিন্ন, যেমন নাপাকির পোকা ও ক্ষতস্থানের পোকা, কারণ এগুলোর মূল উৎস নাপাক হওয়ার কারণে এরাও নাপাক বলে গণ্য হবে। যেমনটি কাবশাহ বিনতে কাব বিন মালিক (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু কাতাদা (রা.)-এর ওজুর জন্য পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন...