(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: -)
الإنجاد في أبواب الجهاد   (ابن المناصف)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الإنجاد في أبواب الجهاد وتفصيل فرائضه وسننه وذكر جمل من آدابه ولواحق أحكامه

المؤلف: محمد بن عيسى بن محمد بن أصبغ، أبو عبد الله بن المناصف الأزدي القرطبي (ت 620هـ)

المحقق: (مشهور بن حسن آل سلمان ومحمد بن زكريا أبو غازي) (ضبط نصه وعلق عليه ووثق نصوصه وخرج أحاديثه وآثاره)

الناشر: دار الإمام مالك، مؤسسة الريان

عدد الصفحات: 685

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইনজাদ ফি আবওয়াবিল জিহাদ   (ইবনুল মুনাসিফ)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


কিতাব: আল-ইনজাদ ফি আবওয়াবিল জিহাদ ওয়া তাফসিলু ফরাইদিহি ওয়া সুনানিহি ওয়া যিকরু জুমালিন মিন আদাবিহি ওয়া লাওয়াহিকি আহকামিহি

লেখক: মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আসবাগ, আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-মুনাসিফ আল-আজদি আল-কুরতুবি (মৃত্যু ৬২০ হিজরি)

গবেষক (মুহাক্কিক): (মাশহুর বিন হাসান আল সালমান এবং মুহাম্মদ বিন জাকারিয়া আবু গাজি) (মূল পাঠ বিন্যাস করেছেন, এর ওপর টীকা প্রদান করেছেন, এর বর্ণনাগুলোর প্রামাণ্যতা যাচাই (توثيق) করেছেন এবং এর হাদিস ও আছার (آثار) সমূহের তাখরিজ (تخريج) করেছেন)

প্রকাশক: দারুল ইমাম মালেক, মুয়াসসাসাতুর রায়য়ান

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ১)
كتاب

الانجاد

في أبواب الجهاد

 

تصنيف

الإمام المجاهد

أبي عبد الله محمد بن عيسى بن محمد بن أصبغ الأزدي القرطبي

المعروف

بابن المناصف -رحمه الله تعالى-

(563-620هـ)

 

ضبط نصّه وعلّق عليه ووثق نصوصه وخرّج أحاديثه وآثاره

مشهور بن حسن آل سلمان ومحمد بن زكريا أبو غازي
কিতাব

আল-ইনজাদ

জিহাদের অধ্যায়সমূহ প্রসঙ্গে

 

রচনা

ইমাম ও মুজাহিদ

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আসবাগ আল-আজদি আল-কুরতুবি

পরিচিত

ইবনুল মুনাসিফ হিসেবে -রহমাতুল্লাহি তাআলা-

(৫৬৩-৬২০ হিজরি)

 

মূল পাঠের সম্পাদনা, টীকা প্রদান, পাঠ্যের নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) যাচাই এবং এর হাদিস ও আসারসমূহের সূত্র নির্দেশ (تخريج) সম্পন্ন করেছেন

মাশহুর বিন হাসান আল-সালমান এবং মুহাম্মদ বিন জাকারিয়া আবু গাজি
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

صلّى الله على سيّدنا محمّد، وعلى آله وسلَّم تسليماً

 

الحمد للِّه ربِّ العالمين، وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت؛ وإليه أنيب، وحسبنا الله ونعم الوكيل.

ونسألُ الله الصلاة على رسول الله وخاتم النبيين، وعلى آله الطيبين الطاهرين، ورضي الله عن الإمام المهدي (1) ، وعن الأئمة الخلفاء الراشدين.

أمَّا بعد:

فإن تقوى الله والتزام أمره هو جماع الخير، ومِلاكُ الأمر، وفوزٌ في الدَّارين، {وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَاّ الَّذِينَ صَبَرُواْ وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَاّ ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ} [فصلت: 35] .

ولمَّا آتى الله في ذلك عبده: السيّد الأجل، المجاهد في سبيل الله، الحريص (2) في التزام حدود الله أبا عبد الله ابن السيّد الأجلِّ أبي حفصٍ ابن الإمام الخليفة أمير المؤمنين رضي الله عنهم، أوفر حظٍّ، وهداه من ذلك إلى أرشد سبيل، فاعتصم -في مراقبة حدود الشرع فيما يأتي ويذر (3) - بالعُروة التي لا انفصام لها، وكان مما يسَّره الله له واستعمله فيه ملازمة أجلّ الأعمال، وأفضل أنواع الطاعات: جهاد عدو الله في عقر دورهم، وحراسة المسلمين في أقصى ثغورهم، تقبَّل الله قصده وعمله، وأبلغه من مراتب السعادة أمله؛ أجدّ في العزم، وأحفى في الإرشاد على تقييد مجموعٍ في الجهاد وأبوابه، وتفصيل فرائضه وسننه، وذكر

--------------------------------------------

(1) في هامش النسخة عبارة لم أستطع قراءتها، إلا أنه في أولها: يعني بالمهدي....

(2) في هامش النسخة عبارة لم أستطع قراءتها.

(3) في هامش النسخة كلمة لم أستطع قراءتها، وبعدها: أو كلمة نحوها بالأصل.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক।

 

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী (خاتم النبيين), তাঁর পুত-পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ইমাম মাহদী (১) ও খুলাফায়ে রাশিদিন (الأئمة الخلفاء الراشدين) ইমামদের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহভীতি (تقوى الله) এবং তাঁর নির্দেশ পালন করাই সকল কল্যাণের আধার, দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং উভয় জগতে সাফল্য। {আর এটি কেবল তারাই প্রাপ্ত হয় যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং কেবল তারাই এটি প্রাপ্ত হয় যারা মহা ভাগ্যবান।} [সূরা ফুসসিলাত: ৩৫]।

যখন আল্লাহ এই ক্ষেত্রে তাঁর বান্দাকে—যিনি সুমহান নেতা, আল্লাহর পথে মুজাহিদ, আল্লাহর সীমারেখা রক্ষায় অত্যন্ত যত্নশীল, আবু আব্দুল্লাহ বিন সুমহান নেতা আবু হাফস বিন ইমাম খলিফা আমিরুল মুমিনিন (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—প্রচুর সৌভাগ্য দান করেছেন এবং তাঁকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। ফলে তিনি শরিয়তের বিধিবিধান পালনে ও বর্জনে তীক্ষ্ণ নজর রাখার মাধ্যমে এমন এক মজবুত রজ্জুকে ধারণ করেছেন যা ছিন্ন হওয়ার নয়। আল্লাহ তাঁর জন্য যা সহজ করে দিয়েছেন এবং যে কাজে তাঁকে নিয়োজিত করেছেন তার মধ্যে রয়েছে মহানতম আমল ও শ্রেষ্ঠতম ইবাদতসমূহে অবিচল থাকা: আর তা হলো আল্লাহর শত্রুদের তাদের নিজ ভূখণ্ডে গিয়ে মোকাবিলা করা এবং মুসলিমদের দূরবর্তী সীমান্তসমূহ রক্ষা করা। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য ও কর্ম কবুল করুন এবং তাঁর কাঙ্ক্ষিত সৌভাগ্যের উচ্চ মাকামে তাঁকে পৌঁছে দিন। তিনি সুদৃঢ় সংকল্প এবং যথাযথ নির্দেশনার মাধ্যমে জিহাদ ও এর সংশ্লিষ্ট অধ্যায়সমূহ, এর ফরজ (فرائض) ও সুন্নাহ (سنن) সমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং এর আলোচনা সংবলিত একটি সংকলন প্রস্তুত করার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় একটি বাক্য রয়েছে যা আমি পড়তে পারিনি, তবে এর শুরুতে রয়েছে: অর্থাৎ মাহদী দ্বারা উদ্দেশ্য...

(২) পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় একটি বাক্য রয়েছে যা আমি পড়তে পারিনি।

(৩) পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় একটি শব্দ রয়েছে যা আমি পড়তে পারিনি, এরপরে রয়েছে: অথবা মূল কপিতে এর সদৃশ কোনো শব্দ।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
جُملٍ من آدابه ولواحق أحكامه، استظهاراً على ما يخصه من ذلك فيما وليه وأخلص فيه عمله، وسباقاً لإحراز الأجرين والجمع بين الحسنيين.

فانتدبت لذلك موجهاً قصدي وعملي في سبيل الله، ومشاركاً قدر وسعي ولو بالنية والقول في جهاد عدو الله، وأضرع مع ذلك إلى الله ربنا جل جلاله في قبول ذلك لوجهه الكريم، وأن يوفر (1) الأجر، ويجزل المثوبة لسيدنا المبارك، فيما دعا من ذلك إليه، ودلَّ برأيه الموفق عليه، فجمع له بكرمه -تعالى- فضيلة

العلم إلى الجهاد، وتوخّي القول في الطاعة إلى العمل {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحاً} [فصلت: 33] .

ومِنَ الله ربِّنا جلَّت قدرته نرجوا الإجابة وكمال الزُّلْفَى (2) بِمَنِّه.

ولمّا توخيتُ أن يكون هذا المجموع مبنياً على دلائل الكتاب والسُّنّة، مُنزَّهاً عن شبه التقليد واتباع مذهبٍ بغير دليل، قدّمت في عُمَدِ أبوابه، وأصول مسائله، ذِكْرَ ما بُنِيَتْ عليه من الكتاب والسنة وتجرَّد، وما يكون فيه من ذلك خلافٌ سَوْقَ (3) المشهور من مذاهب العلماء، والإشارةَ إلى مستند كل فريقٍ من وجوه الأدلة، بأقرب اختصار يمكن، وربما نَبَّهتُ في مواضع من ذلك على الأرجح عندي، ووجه الترجيح متى أمكن، مالم تدع في كشف وجهِ الترجيح الضرورة لإطالةٍ، أو لم يظهر عندي للترجيح وجهٌ، فأترك القول فيه، وقد أقْتَصِر تارة في فروع المسائل، فلا أتعرض في بعضها لذكر الخلاف، إمّا لأن المذكور أظهر دليلاً، وتتبع الخلاف فيه يُفْضي إلى التطويل، وإما لأن خلافاً في ذلك لا أقف عليه، وهو مع ذلك حَرِيٌّ أن يكون؛ لأن ما لا خلاف فيه: إما لأنه إجماع، أو لأنَّ الخلاف في مثله غير معروف عند أهل العلم، فقد أُنبّه على أنه كذلك -إن شاء الله-.

--------------------------------------------

(1) بعدها في هامش المنسوخ كتب الناسخ: «كلمة متآكلة» .

(2) في منسوخ أبي خبزة: «الرِّضا» ، ثم صحَّحها في الهامش إلى: «الزُّلْفى» .

(3) سَوْقَ، معطوف على ذِكر. كما في هامش المنسوخ.
এর আদব (শিষ্টাচার) এবং এর আনুষঙ্গিক বিধানাবলি সম্পর্কিত বিষয়াবলি, যা তাকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে এবং সেই কাজে নিষ্ঠা প্রদর্শনে সহায়তা করবে, এবং দ্বিগুণ প্রতিদান ও দুটি কল্যাণ একসাথে অর্জনের প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে।

অতএব, আমি আল্লাহর পথে আমার সংকল্প ও কর্মকে নিবেদিত করে এই কাজে অগ্রসর হয়েছি এবং আমার সাধ্যমতো অন্তত নিয়ত ও বক্তব্যের মাধ্যমে আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদে শরিক হয়েছি। এর পাশাপাশি আমি আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এটি তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এবং পূর্ণ (১) সওয়াব দান করেন এবং আমাদের বরকতময় সাইয়্যেদকে মহত্তম প্রতিদান দান করেন, যা তিনি আহ্বান করেছেন এবং যার দিকে তিনি তাঁর সঠিক সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে তাঁর জন্য জিহাদের মর্যাদার সাথে ইলমের (জ্ঞানের) মর্যাদাকে

একত্রিত করেছেন, এবং আনুগত্যের ক্ষেত্রে কথার সাথে কাজকে যুক্ত করেছেন: {ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে এবং নেক আমল করে} [ফুসসিলাত: ৩৩]।

আর আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট, যাঁর ক্ষমতা সুমহান, তাঁর অনুগ্রহে দোয়া কবুল হওয়া এবং নৈকট্যের (২) পূর্ণতা কামনা করছি।

যেহেতু আমি এই সংকলনটিকে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করার সংকল্প করেছি, যা অন্ধ অনুকরণের সন্দেহ এবং দলিলবিহীন কোনো মাযহাবের অনুসরণ থেকে মুক্ত হবে; তাই আমি এর মূল অধ্যায়গুলো এবং মৌলিক মাসআলাসমূহের শুরুতে কুরআন ও সুন্নাহর সেই ভিত্তিগুলো উল্লেখ করেছি যার ওপর এগুলো প্রতিষ্ঠিত। আর যে সকল বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, সেখানে আলেমদের প্রসিদ্ধ মাযহাবসমূহ উপস্থাপন (৩) করেছি এবং সংক্ষিপ্ততম উপায়ে প্রতিটি পক্ষের দলিলের উৎস নির্দেশ করেছি। কোনো কোনো স্থানে আমি আমার নিকট যা অগ্রগণ্য তা উল্লেখ করেছি এবং সম্ভব হলে তার কারণও বর্ণনা করেছি; যতক্ষণ না তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হয়। আর যেখানে আমার কাছে কোনোটিই অগ্রগণ্য মনে হয়নি, সেখানে আমি কোনো মন্তব্য করিনি। কখনো কখনো আমি শাখা মাসআলাগুলোতে সংক্ষেপ করেছি, তাই কিছু ক্ষেত্রে মতভেদের কথা উল্লেখ করিনি। হয় একারণে যে, উল্লিখিত বিষয়টি দলিলে অধিকতর স্পষ্ট এবং তার মতভেদ বর্ণনা করলে তা দীর্ঘ হয়ে যাবে, অথবা একারণে যে, বিষয়টি সম্পর্কে আমার কোনো দ্বিমত জানা নেই, যদিও সম্ভাবনা থাকে যে সেখানে মতভেদ থাকতে পারে। কারণ যে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই, তা হয় সর্বসম্মতি (إجماع), অথবা আলেমদের নিকট সেই বিষয়ে কোনো মতভেদ জানা নেই। আমি ইনশাআল্লাহ সেদিকে ইঙ্গিত প্রদান করব।

--------------------------------------------

(১) এরপর পাণ্ডুলিপির হাশিয়াতে লিপিকার লিখেছেন: "ক্ষয়প্রাপ্ত শব্দ"।

(২) আবু খুবযাহ-এর পাণ্ডুলিপিতে ছিল: "সন্তুষ্টি", পরবর্তীতে তিনি হাশিয়াতে সংশোধন করে একে "নৈকট্য" লিখেছেন।

(৩) "উপস্থাপন" (سَوْقَ), এটি "উল্লেখ করা" শব্দের ওপর আতফ (সংযুক্ত); যেমনটি পাণ্ডুলিপির হাশিয়াতে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
ومهما ذكرت دليلاً أو توجيهاً لقولٍ فهو على ضربين: منه ما وقفت عليه نقلاً، ومنه ما استدللت عليه انتزاعًا من أصولهم (1) ، وإنما نبهت على هذا رفعاً لعمدة الحمل فيه.

وأكثر ما أوردته دليلاً في هذا من حديثٍ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهو حجّة ثابتة؛ لأني قد خرَّجته من «الصحيحين» : البخاري ومسلم، أو مما هو صحيحٌ من غيرهما، وإن كان قد يكون في بعضها اختلاف بين أهل الحديث في إثبات القول بصحَّته؛ لاختلافهم في بعض رجال سنده، إلاّ أن ما هذه سبيلهُ، مما لم يَتَرقَّ إلى الصِّحَّة المتفق عليها عندهم؛ فله مع ذلك درجة في العلو والحُجَّة عن كثير مما يتسامح به بعض أصحاب المذاهب في كتبهم، ثم أرجو أن يكون وقوعُ هذا النوع الذي اعتذرتُ منه في هذا المجموع قليلاً جداً، وأكثر ما يقع إن وجد في أبواب الرَّغائب والآداب، مما لا يقع مواقع الفصل في الأحكام من الحلال والحرام، والواجب والمحظور (2) .

ومع هذا؛ فأنا -إن شاء الله- أنسبُ كل حديثٍ إلى الأصل الذي نقلته منه، كالبخاري، ومسلم، والنسائي، وأبي داود، والترمذي، وغيرهم؛ ليكون ذلك سهلاً لمن أراد الوقوفَ عليه هنالك، بحول الله وقوّته، وسَمَّيْتُ هذا المجموع، ملاءمة لِقصدي، وملاحظةً لما أرجو أن تبلغ به عند الله نِيَّتي:

كتاب «الإنجاد في أبواب الجهاد» .

وقَسَّمتُ فصوله ومسائله على عشرة أبواب:

الباب الأول: في حدِّ الجهاد ووجوبه، وتفصيل أحكامه: من فرضٍ على الأعيان، وعلى الكفاية، ونَفْلٍ، وصِفَةِ مَنْ يجب ذلك عليه، وهل تجب الهجرة؟

--------------------------------------------

(1) بعدها في الأصل كلمة مَمْحُوَّة. وكذا في هامش نسخة أبي خبزة.

(2) بيّنَّا درجة هذه الأحاديث، وكلام الأئمّة النقاد عليها، مع ذكر عللها، على وجه فيه إيجاز، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.
আমি যখনই কোনো উক্তি বা মতের স্বপক্ষে কোনো দলিল বা দিকনির্দেশনা উল্লেখ করেছি, তা দুই প্রকার: এর কোনোটি বর্ণনার (نقلاً) মাধ্যমে আমি অবগত হয়েছি, আর কোনোটি তাদের মূলনীতিসমূহ (أصولهم) থেকে নির্যাস হিসেবে উদ্ভাবন (استدلال) করেছি। এই বিষয়টি আমি কেবল এজন্যই সতর্ক করেছি যাতে এর দায়ভার বহনের বোঝা লাঘব হয়।

আর এ ক্ষেত্রে আমি প্রমাণ হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে হাদিসগুলো অধিক পরিমাণে উল্লেখ করেছি, সেগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত দলিল; কারণ আমি তা 'সহিহাইন': বুখারি ও মুসলিম থেকে অথবা অন্য কিতাবের বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস থেকে চয়ন করেছি। যদিও কোনো কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) বিষয়ে হাদিসবিশারদদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে—তাদের বর্ণনাসূত্রের (سنده) কোনো কোনো রাবির বিষয়ে ভিন্নমতের কারণে। তবে যেগুলোর অবস্থা এমন—অর্থাৎ যা তাদের নিকট সর্বসম্মত বিশুদ্ধতার (الصحة) স্তরে পৌঁছায়নি—সেগুলোরও মর্যাদা ও নির্ভরযোগ্যতা (الحجة) এমন অনেক বিষয়ের চেয়ে উচ্চতর, যা বিভিন্ন মাজহাবের অনুসারীগণ তাদের কিতাবসমূহে শিথিলভাবে গ্রহণ করে থাকেন। অতঃপর আমি আশা করি যে, এই সংকলনে আমি যে ধরনের হাদিস সম্পর্কে ওজর পেশ করেছি তা খুবই কম হবে। আর এর অধিকাংশ—যদি পাওয়া যায়—তা ফাজায়েল ও আদব (শিষ্টাচার) সম্পর্কিত অধ্যায়ে হবে, যা হালাল-হারাম এবং ওয়াজিব ও নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের (الفصل) পর্যায়ে পড়ে না।

তথাপি, আমি—ইনশাআল্লাহ—প্রত্যেকটি হাদিসকে তার মূল উৎসের সাথে সম্পৃক্ত করব যেখান থেকে আমি তা গ্রহণ করেছি; যেমন: বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং অন্যান্য কিতাব। যাতে আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে, যারা তা অনুসন্ধান করতে চায় তাদের জন্য সহজ হয়। আর আমি আমার উদ্দেশ্যের সাথে মিল রেখে এবং আল্লাহর নিকট আমার নিয়ত কবুল হওয়ার প্রত্যাশা করে এই সংকলনের নামকরণ করেছি:

কিতাব ‘আল-ইনজাদ ফি আবওয়াবিল জিহাদ’।

আমি এর পরিচ্ছেদ ও মাসআলাগুলোকে দশটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: জিহাদের সংজ্ঞা ও এর আবশ্যকতা (وجوبه), এবং এর বিধানাবলির বিস্তারিত বিবরণ: যেমন—ফরজে আইন (فرض على الأعيان), ফরজে কিফায়া (على الكفاية), নফল (نفل), এবং যাদের ওপর এটি আবশ্যক তাদের গুণাবলি, আর হিজরত কি ওয়াজিব?

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপির মূলে এর পরবর্তী শব্দটি মুছে গেছে। আবু খুবজা এর পাণ্ডুলিপির টীকাতেও অনুরূপ রয়েছে।

(২) আমরা এই হাদিসগুলোর মান এবং এগুলোর ওপর সমালোচক ইমামগণের (النقاد) মন্তব্য উল্লেখ করেছি, পাশাপাশি সংক্ষেপে এগুলোর ত্রুটিসমূহও (عللها) বর্ণনা করেছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
الباب الثاني: في فضل الجهاد والرِّباط، والنفقة في سبيل الله، وماجاء في طلب الشهادة وأجر الشهداء.

الباب الثالث: في صحة الجهاد، وما يَحِقُّ فيه من طاعة الإمام، ومياسرة الرفقاء، وما جاء في آداب الحرب، والدعوة (1) قبل القتال.

الباب الرابع: في وجوب الثبوت والصبر عند اللقاء، وحكم المبارزة، وما يحرم من الإنهزام، وهل يباح الفرار إذا كثر عدد الكفار؟

الباب الخامس: فيما يجب، وما يجوز أو يحرم من النكاية في العدو، والنيل منهم، ومعرفة أحكام الأسرى والتصرف فيهم.

الباب السادس: في الأمان وحكمه، وما يلزم من الوفاء به، والفرق بينه وبين مواقع الخديعة في الحرب، وهل تجوز المهادنة والصلح؟

الباب السابع: في الغنائم وأحكامها، ووجه القسم، ومن يستحق الإسهام، وبم يستحق، وسهمان الخيل، وما جاء في تحريم الغُلول.

الباب الثامن: في النَّفَل والسَّلَب، وأحكام الفئ والخمس، ووجوه مصارفهما، وتفصيل أحكام الأموال المستولى عليها من الكفار.

الباب التاسع: في حكم ضرب الجزية، وشرط قبولها، وممَّن يحق أن تُقبل من أصناف الكفر، ومقاديرها على الرؤوس، وما يجب لأهلها وعليهم.

الباب العاشر: في المرتدين والمحاربين، وقتال أهل البغي، وتفصيل أحكامهم، وذكر ما يتعلق بجناياتهم، ويلزم من عقوباتهم.

وبالله -تعالى- نستعين، وعليه نتوكل، وهو حسبنا ونعم الوكيل.

 

*****

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل والمنسوخ -وهو في الكتاب (ص 133) -: «والأمر بالدعوة قبل القتال» .
দ্বিতীয় অধ্যায়: জিহাদ ও রিবাত (সীমান্ত পাহারা), আল্লাহর পথে ব্যয় এবং শাহাদাত অন্বেষণ ও শহীদদের প্রতিদান প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: জিহাদের বিশুদ্ধতা (صحة), এতে ইমামের আনুগত্যের আবশ্যকতা, সহযোদ্ধাদের সাথে সহমর্মিতা এবং যুদ্ধের আদব ও যুদ্ধের আগে দাওয়াহ (১) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময় অবিচল থাকা ও ধৈর্য ধারণের আবশ্যকতা, দ্বন্দ্বযুদ্ধের বিধান, পরাজয় বরণ করে পলায়ন করা যা হারাম এবং কাফিরদের সংখ্যা বেশি হলে পলায়ন কি বৈধ?

পঞ্চম অধ্যায়: শত্রুকে পর্যুদস্ত করা, তাদের ওপর বিজয় লাভের ক্ষেত্রে যা ওয়াজিব, জায়েজ বা হারাম এবং যুদ্ধবন্দীদের বিধান ও তাদের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ সম্পর্কে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: নিরাপত্তা প্রদান ও এর বিধান, তা রক্ষার আবশ্যকতা, যুদ্ধে রণকৌশলগত প্রতারণা ও নিরাপত্তার মধ্যকার পার্থক্য এবং যুদ্ধবিরতি ও সন্ধি কি জায়েজ?

সপ্তম অধ্যায়: গনিমত ও এর বিধানাবলি, বণ্টনের পদ্ধতি, কারা হিস্যা পাওয়ার যোগ্য ও কিসের ভিত্তিতে যোগ্য, ঘোড়ার হিস্যা এবং আত্মসাৎ করা হারামের বর্ণনা।

অষ্টম অধ্যায়: নফল ও সালব (নিহত শত্রুর সম্পদ), ফাই ও খুমুসের বিধান, এগুলোর ব্যয়ের খাতসমূহ এবং কাফিরদের থেকে দখলকৃত সম্পদের বিস্তারিত বিধান।

নবম অধ্যায়: জিজিয়া আরোপের বিধান, তা গ্রহণের শর্তাবলি, কুফরের কোন কোন শ্রেণী থেকে তা গ্রহণ করা যাবে, মাথাপিছু এর পরিমাণ এবং জিজিয়া প্রদানকারীদের অধিকার ও দায়িত্বাবলি।

দশম অধ্যায়: মুরতাদ ও মুহরিব (বিদ্রোহী), বাগী (বিদ্রোহী মুসলিম) দের সাথে যুদ্ধ, তাদের বিধানের বিস্তারিত বিবরণ, তাদের অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়াবলি এবং তাদের জন্য নির্ধারিত শাস্তি প্রসঙ্গে।

আর আমরা আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁরই ওপর ভরসা করছি, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

 

*****

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপি ও অনুলিপিতে এভাবেই রয়েছে—আর তা কিতাবের (পৃষ্ঠা ১৩৩) এ রয়েছে—: «যুদ্ধের আগে দাওয়াহ দেওয়ার নির্দেশ»।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الباب الأول

في حدِّ الجهاد ووجوبه، وتفصيل أحكامه من فرض على الأعيان

وعلى الكفاية، ونَفل، وصفة من يجب ذلك عليه، وهل تجب الهجرة
؟
প্রথম অধ্যায়

জিহাদের সংজ্ঞা ও এর আবশ্যকতা (وجوب) এবং এর বিধানসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা—ব্যক্তিগত আবশ্যকতা (فرض على الأعيان)

ও সামষ্টিক আবশ্যকতা (فرض كفاية), এবং নফল (نفل) প্রসঙ্গে; এছাড়া যার ওপর এটি আবশ্যক তার বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং হিজরত (هجرة) কি আবশ্যক
?
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
قال الله -ربنا جل جلاله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ هَلْ أَدُلُّكمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ. تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ. يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ. وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِّن اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} [الصف: 10-13] .

وخرَّج النَّسائي وأبو داود كلاهما عن أنس، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «جاهدوا المشركين بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم» ، قال النسائي: «بأموالكم وأيديكم وألسنتكم» (1) .

*****

--------------------------------------------

(1) أخرجه النسائي في «المجتبى» (6/7 رقم 3096) ، وأبو داود في «سننه» (رقم 2504) ، وأحمد في «المسند» (3/124، 153، 251) ، والدارمي في «مسنده» (رقم 2436) ، وابن حبان (1618- موارد) ، والحاكم في «المستدرك» (2/81) ، وابن عدي في «الكامل» (3/916) ، والجصّاص في «أحكام القرآن» (4/314) ، والخطيب في «الفقيه والمتفقه» (1/233) ، والبغوي في «شرح السنة» (12/378) ، والبيهقي في «الكبرى» (9/20) ، وابن عساكر في «الأربعين في الحث على الجهاد» (ص 103) الحديث رقم (31) ، والضياء في «المختارة» (1902 و1905) من طرقٍ عن أنس بن مالك.

وأخرجه النسائي (6/51) بدون لفظ «المشركين» . وفي بعض روايات الحديث: «جاهدوا المشركين بأيديكم» . وصححه الحاكم على شرط مسلم، ووافقه الذهبي، وهو كما قالا.
আল্লাহ তাআলা —আমাদের প্রতিপালক জাল্লা জালালুহু— ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর পথে তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করবে; এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয় এবং চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম বাসস্থানেও (প্রবেশ করাবেন)। এটা মহাসাফল্য। আর অন্য আরেকটি (নেয়ামত) যা তোমরা পছন্দ করো: আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং নিকটবর্তী বিজয়; আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও।} [আস-সাফ: ১০-১৩] ।

নাসাঈ এবং আবু দাউদ উভয়ই আনাস (রা.) থেকে উদ্ধৃত (تخريج) করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদ, জীবন এবং জিহ্বা দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো।” নাসাঈর বর্ণনায় রয়েছে: “তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদ, হাত এবং জিহ্বা দিয়ে (জিহাদ করো)।” (১) ।

*****

--------------------------------------------

(১) নাসাঈ আল-মুজতাবা-তে (৬/৭, নম্বর ৩০৯৬), আবু দাউদ তাঁর সুনান-এ (নম্বর ২৫০৪), আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ (৩/১২৪, ১৫৩, ২৫১), দারেমী তাঁর মুসনাদ-এ (নম্বর ২৪৩৬), ইবনে হিব্বান (১৬১৮- মাওয়ারিদ), হাকেম আল-মুস্তাদরাক-এ (২/৮১), ইবনে আদী আল-কামিল-এ (৩/৯১৬), জাসসাস আহকামুল কুরআন-এ (৪/৩১৪), খতিব আল-ফাকিহ ওয়াল মুতাফাককিহ-এ (১/২৩৩), বাগাভী শারহুস সুন্নাহ-তে (১২/৩৭৮), বায়হাকী আল-কুবরা-তে (৯/২০), ইবনে আসাকির আল-আরবাঈন ফি আল-হাস আলা আল-জিহাদ-এ (পৃ. ১০৩, হাদিস নম্বর ৩১) এবং যিয়া আল-মুখতারা-তে (১৯০২ ও ১৯০৫) আনাস বিন মালিক থেকে বিভিন্ন সূত্রে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

নাসাঈ (৬/৫১) এটি 'মুশরিকিন' শব্দ ব্যতিরেকে উদ্ধৃত করেছেন। হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী শব্দগুলো হলো: “তোমরা তোমাদের হাত দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো।” হাকেম একে মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন; আর বিষয়টি তেমনই যেমন তাঁরা বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
فصلٌ: في معنى الجهاد وحدِّه لغة وشرعاً

قال الله -تعالى-: {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ} [الحج: 78] ، وقال

-تعالى-: {وَمَن جَاهَدَ فَإِنَّمَا يُجَاهِدُ لِنَفْسِهِ إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [العنكبوت: 6] ، وقال -تعالى-: {يا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ} [التوبة: 73] .

فالجهاد في اللغة، أصله: الجَهْد (1) ، وهو: المَشَقَّة، يقال: جهدتُ الرجلَ: بَلغْتُ مشقته، وكذلك الجهاد في الله -تعالى-؛ إنما هو بذل الجهدِ في إذلالِ النفس وتذليلها في سُبلِ الشرع، والحملِ عليها بمخالفة الهوى، ومن الركون إلى الدَّعة واللذات، واتباع الشهوات (2) .

خرَّج الترمذي عن فضالة بن عُبيد: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «المجاهد من جاهد نَفْسَه» (3) .

--------------------------------------------

(1) الجِهاد -بكسر الجيم- مصدر: جاهدت العدوَّ مجاهدة، وجهاداً، وأصله: جيهاد، كقيتال، فخُفِّفَ بحذف الياء، وهو مشتق من الجَهْد -بفتح الجيم- وهو التّعب والمشقة، لما فيه من ارتكابها، أو من الجُهد -بالضّم- وهو الطاقة، لأنّ كل واحد منهما بذل طاقته في دفع صاحبه، قاله القسطلاني في «إرشاد الساري» (5/30) .

(2) انظر: «لسان العرب» (3/134) ، و «المحيط في اللغة» (3/369) ، و «المصباح المنير» (ص 155) مادة (جهد) .

وانظر تعريفه الاصطلاحي في: «تحفة الفقهاء» (3/293) ، «بدائع الصنائع» (6/57) ، «اللباب في شرح الكتاب» (114) ، «شرح الزرقاني على الموطأ» (1/424) ، «فتاوى البرزلي» (2/8) ، «بلغة السالك» للصاوي (1/354) ، «تهذيب الأسماء واللغات» (3/56) ، «فتح الباري» (6/3) ، «شرح منتهى الإرادات» (1/617) .

وانظر: «تفسير النيسابوري» (11/126) ، «المفردات» للراغب (101) ، «حاشية الجمل على الجلالين» (3/441) ، «دستور العلماء» (1/291) ، «طلبة الطلبة» (165) ، «القاموس الفقهي» (71) ، «معجم المصطلحات والألفاظ الفقهية» (1/543-544) ، «أحكام المجاهد بالنفس» (1/26-27) ، «الجهاد والقتال في السياسة الشرعية» (1/38-39) .

(3) أخرجه الترمذي (رقم 1621) ، وابن حبان (6424) ، وأحمد (6/20) ، والحاكم (2/ 144) من حديث فضالة بن عبيد به. وهو قطعة من حديث أخرجه أحمد (6/21) وابن المبارك في =
পরিচ্ছেদ: জিহাদের আভিধানিক ও শরয়ি অর্থ ও সংজ্ঞা প্রসঙ্গে

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেমন জিহাদ করা উচিত} [হজ: ৭৮], এবং তিনি আরও ইরশাদ করেছেন:

{যে ব্যক্তি জিহাদ করে, সে তো নিজের কল্যাণার্থেই জিহাদ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন} [আনকাবুত: ৬], এবং তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {হে নবী! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন} [তওবা: ৭৩]।

আভিধানিক দৃষ্টিতে জিহাদের মূল হলো: আল-জাহদ, যার অর্থ: কষ্ট বা পরিশ্রম। বলা হয়ে থাকে: 'আমি লোকটিকে পরিশ্রান্ত করে ফেলেছি', অর্থাৎ আমি তাকে কষ্টের চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছি। তেমনিভাবে আল্লাহর পথে জিহাদ করার অর্থ হলো—শরয়ি পথে নফসকে দমিত ও বশীভূত করার জন্য নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা, এবং কুপ্রবৃত্তির বিরোধিতা করে এবং বিলাসিতা ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি ঝোঁক ও কামনার অনুসরণ থেকে বিমুখ করে নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

তিরমিজি ফাদালাহ ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "প্রকৃত মুজাহিদ সেই, যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।"

--------------------------------------------

(১) জিহাদ —'জিম' অক্ষরে কাসরা (জের) যোগে— এটি একটি ক্রিয়ামূল: 'আমি শত্রুর সাথে জিহাদ করেছি', এর মূল রূপ ছিল 'জিহাদ' (জিম-ইয়া-হা-দ), যেমন 'কিতাল'। এখানে 'ইয়া' বিলুপ্ত করে শব্দটিকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। এটি 'আল-জাহদ' —'জিম' অক্ষরে ফাতহা (জবর) যোগে— থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ক্লান্তি ও কষ্ট; কারণ এতে কষ্টের সম্পৃক্ততা রয়েছে। অথবা এটি 'আল-জুহদ' —পেশ যোগে— থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যার অর্থ শক্তি বা সামর্থ্য; কেননা জিহাদকারী ও তার শত্রু উভয়েই একে অপরকে প্রতিহত করতে নিজ নিজ শক্তি ব্যয় করে। এটি কাসতালানি তাঁর 'ইরশাদুস সারি' (৫/৩০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(২) দেখুন: 'লিসানুল আরব' (৩/১৩৪), 'আল-মুহিত ফিল লুগাহ' (৩/৩৬৯), 'আল-মিসবাহুল মুনির' (পৃ. ১৫৫), 'জাহদ' সংশ্লিষ্ট আলোচনা।

এর পারিভাষিক সংজ্ঞা দেখতে দেখুন: 'তুহফাতুল ফুকাহা' (৩/২৯৩), 'বাদাইউস সানাই' (৬/৫৭), 'আল-লুবাব ফি শারহিল কিতাব' (১১৪), মুওয়াত্তার ওপর জুরকানির ব্যাখ্যাগ্রন্থ (১/৪২৪), 'ফাতাওয়া আল-বারজালি' (২/৮), আস-সাওয়ির 'বুলগাতুস সালিক' (১/৩৫৪), 'তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত' (৩/৫৬), 'ফাতহুল বারি' (৬/৩), 'শারহু মুনতাহাল ইরাদাত' (১/৬১৭)।

আরও দেখুন: 'তাফসিরে নাইসাবুরি' (১১/১২৬), রাগিরের 'মুফরাদাত' (১০১), জালালাইনের ওপর 'হাশিয়াতুল জামাল' (৩/৪৪১), 'দাস্তুরুল উলামা' (১/২৯১), 'তলাবাতুত তলাবাহ' (১৬৫), 'আল-কামুসুল ফিকহি' (৭১), 'মুজামুল মুসতলাহাত ওয়াল আলফাজুল ফিকহিয়্যাহ' (১/৫৪৩-৫৪৪), 'আহকামুল মুজাহিদ বিন নাফস' (১/২৬-২৭), 'আল-জিহাদ ওয়াল কিতাল ফিস সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ' (১/৩৮-৩৯)।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি (হাদিস নং ১৬২১), ইবনে হিব্বান (৬৪২৪), আহমাদ (৬/২০) এবং হাকেম (২/১৪৪); ফাদালাহ ইবনে উবাইদ-এর বর্ণিত হাদিস থেকে। এটি আহমাদ (৬/২১) এবং ইবনুল মুবারক কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসের অংশ বিশেষ =
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
وخرَّج النسائي عن سبرة بن أبي فاكِهٍ قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:..

فذكر حديثاً طويلاً في وسوسة الشيطان للمؤمن، وفيه: «ثم قعد له بطريق الجهاد، فقال: تجاهد. فهو جهد النفس والمال … » (1) الحديث.

والجهاد في الشرع يقع على ثلاثة أنْحاء: جهادٍ بالقلب، وجهادٍ باللسان، وجهادٍ باليد.

والدليلُ على هذه القسمة، وتسمية كل واحدٍ منها جهاداً: ماخرَّجه مسلم (2) ، عن عبد الله بن مسعود، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «مامن نبي بعثه الله في أمة قبلي إلا كان له من أمته حواريون، وأصحابٌ، يأخذون بسُنَّته، ويقتدون بأمره، ثم إنها تخْلفُ من بعدهم خُلوفٌ، يقولون مالايفعلون، ويفعلون مالايؤمرون، فمن

--------------------------------------------

= «الزهد» (826) -ومن طريقه ابن حبان (4862) ، والبغوي في «شرح السنة» (14) -، وابن عبد الحكم في «فتوح مصر» (ص 277) ، ويعقوب بن سفيان الفسوي في «المعرفة والتاريخ» (1/341-342) ، والطبراني في «الكبير» (18/ رقم 796) ، والحاكم (1/10-11) ، والبيهقي في «الشعب» (11123) .

وأخرجه مطولاً ومختصراً: ابن ماجه (3934) ، والبزار في «مسنده» (3752) وابن منده في «الإيمان» (315) ، والقضاعي في «مسند الشهاب» (131) .

والحديث صحيح، انظر: «المشكاة» (34- التحقيق الثاني لشيخنا الألباني رحمه الله) ، و «التعليق الرغيب» (2/150) ، و «الصحيحة» (549) ، و «صحيح أبي داود» (1258) .

(1) أخرجه النسائي في «المجتبى» (6/21/ رقم 3134) ، وأحمد (3/483) ، والبخاري في «التاريخ الكبير» (4/187-188) ، وابن أبي شيبة في «المصنف» (5/293) ، وابن أبي عاصم في «الآحاد والمثاني» (1043 و 2675) ، وفي «الجهاد» (13) ، وابن حبان (4593) ، والطبراني في «الكبير» (6558) ، والبيهقي في «شعب الإيمان» (4246) ، والمزي في «تهذيب الكمال» (10/ 202) ، من حديث سبرة بن أبي فاكه. وإسناده قوي.

وانظر: «صحيح سنن النسائي» (41432) لشيخنا الألباني -رحمه الله تعالى-.

وسبرة بن أبي فاكِه. قال ابن الأثير: هو سبرة بن الفاكِهِ. ويقال: ابن أبي الفاكِه. قيل: إنه مخزومي، وذكر ابن أبي عاصم أنه أسدي، من أسد بن خزيمة، يُعدُّ في الكوفيين.

(2) في الهامش: «متآكل في الأصل» . والحديث في «صحيح مسلم» .
নাসাঈ সাবরা বিন আবি ফাকিহ থেকে বর্ণনা (خرج) করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:..

অতঃপর তিনি মুমিনের প্রতি শয়তানের কুমন্ত্রণা সম্পর্কে একটি দীর্ঘ হাদিস উল্লেখ করেছেন, যাতে রয়েছে: «অতঃপর সে জিহাদের পথে তার জন্য ওত পেতে বসল এবং বলল: তুমি কি জিহাদ করবে? অথচ এটি হলো জান ও মালের পরিশ্রম … » (১) হাদিসটির শেষ পর্যন্ত।

শরিয়তের পরিভাষায় জিহাদ তিন প্রকারের হয়ে থাকে: অন্তরের মাধ্যমে জিহাদ, জিহ্বার মাধ্যমে জিহাদ এবং হাতের মাধ্যমে জিহাদ।

এই বিভাজন এবং প্রত্যেকটিকে জিহাদ হিসেবে নামকরণের দলিল হলো যা মুসলিম বর্ণনা (خرج) করেছেন (২), আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার পূর্বে আল্লাহ কোনো উম্মতের মধ্যে এমন কোনো নবী পাঠাননি যার উম্মতের মধ্যে তার এমন কিছু একনিষ্ঠ সহচর ও সাথী ছিল না, যারা তার সুন্নাতকে গ্রহণ করত এবং তার আদেশ অনুসরণ করত। অতঃপর তাদের পরে এমন কিছু অপদার্থ উত্তরসূরি আসে, যারা যা বলে তা করে না এবং যা করে তা করার জন্য আদিষ্ট নয়। সুতরাং যে...

--------------------------------------------

= 'আয-যুহদ' (৮২৬) - এবং তার মাধ্যমেই ইবনে হিব্বান (৪৮৬২), বাগভী 'শারহুস সুন্নাহ' (১৪)-তে, ইবনে আবদুল হাকাম 'ফুতুহু মিসর' (পৃ. ২৭৭)-এ, ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আল-ফাসাউয়ী 'আল-মা'রিফাহ ওয়াত তারিখ' (১/৩৪১-৩৪২)-এ, তাবারানি 'আল-কাবীর' (১৮/ নং ৭৯৬)-এ, হাকেম (১/১০-১১)-এ এবং বায়হাকী 'আশ-শুআব' (১১১২৩)-এ।

এটি দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত উভয়ভাবে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: ইবনে মাজাহ (৩৯৩৪), বাজ্জার তার 'মুসনাদ' (৩৭৫২)-এ, ইবনে মানদাহ 'আল-ঈমান' (৩১৫)-এ এবং কুযায়ী 'মুসনাদুশ শিহাব' (১৩১)-এ।

এবং হাদিসটি সহিহ (صحيح), দেখুন: 'আল-মিশকাত' (৩৪- আমাদের শাইখ আলবানী রহ.-এর দ্বিতীয় তাহকিক), 'আত-তালিকুর রাগীব' (২/১৫০), 'আস-সহিহাহ' (৫৪৯) এবং 'সহিহ আবি দাউদ' (১২৫৮)।

(1) নাসাঈ এটি 'আল-মুজতাবা' (৬/২১/ নং ৩১৩৪)-এ বর্ণনা (أخرج) করেছেন, আহমদ (৩/৪৮৩), বুখারি 'আত-তারিখুল কাবীর' (৪/১৮৭-১৮৮)-এ, ইবনে আবি শাইবাহ 'আল-মুসান্নাফ' (৫/২৯৩)-এ, ইবনে আবি আসিম 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানি' (১০৪৩ ও ২৬৭৫)-এ এবং 'আল-জিহাদ' (১৩)-এ, ইবনে হিব্বান (৪৫৯৩), তাবারানি 'আল-কাবীর' (৬৫৫৮)-এ, বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান' (৪২৪৬)-এ এবং মিযযী 'তাহযীবুল কামাল' (১০/২০২)-এ সাবরা বিন আবি ফাকিহ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন। এবং এর সনদ (إسناد) শক্তিশালী (قوي)।

এবং দেখুন: আমাদের শাইখ আলবানী রহ.-এর 'সহিহ সুনানুন নাসাঈ' (৪১৪৩২)।

সাবরা বিন আবি ফাকিহ। ইবনুল আসীর বলেন: তিনি হলেন সাবরা বিন আল-ফাকিহ। তাকে ইবনে আবি ফাকিহ-ও বলা হয়। বলা হয়েছে: তিনি মাখযুমি গোত্রের, তবে ইবনে আবি আসিম উল্লেখ করেছেন যে তিনি আসাদি, আসাদ বিন খুযাইমা গোত্রের, তাকে কুফাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়।

(2) টীকায় আছে: «মূল কপিতে এটি ক্ষয়প্রাপ্ত»। এবং হাদিসটি 'সহিহ মুসলিম'-এ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
جاهدهم بيده فهو مؤمن، ومن جاهدهم بلسانه فهو مؤمن، ومن جاهدهم بقلبه فهو مؤمن، وليس وراءَ ذلك من الإيمان حبَّة خَرْدل» (1) .

فالقول أولاً: في معنى جهاد القلب، وذلك راجعٌ إلى مغالبة الهوى، ومدافعة الشيطان، وكراهية ما خالف حدود الشرع، والعقدِ على إنكار ذلك، حيث لا يستطيع القيام في تغييره بقول ولا فعل، وهذا الضرب واجب على كل مسلم إجماعاً، وهو مما يتناوله قوله -تعالى-: {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ} [الحج: 78] ، وقوله -سبحانه-: {وَمَن جَاهَدَ فَإِنَّمَا يُجَاهِدُ لِنَفْسِهِ} [العنكبوت: 6] ، وقال -سبحانه-: {وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى} [النازعات: 40] ، وقوله صلى الله عليه وسلم: «ومن جاهدهم

بقلبه فهو مؤمن، وليس وراء ذلك من الإيمان حبَّة خردل» (2) .

الثاني: جهادٌ باللسان، وذلك كالأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر (3) ، وزجرِ

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في «صحيحه» في كتاب الإيمان (باب بيان كون النهي عن المنكر من الإيمان، وأن الإيمان يزيد وينقص، وأن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر واجبان) (50) (80) ، وأحمد في «المسند» (1/458 و 461) ، وأبو عوانة (1/35، 36) ، وابن منده في «الإيمان» (183و 184) ، والطبراني في «الكبير» (9784) ، والبيهقي في «الكبرى» (10/90) ، من حديث أبي رافع، عن ابن مسعود، به.

قال السندي: قوله: «ما من نبيٍّ … » إلخ: لا بُدَّ من تخصيص الكلام بمن آمن من أمته قوم، وإلاّ فقد جاء أنَّ بعضهم ما آمن به أحد، أو آمن به واحد.

وكلمة: خُلوف، كعُدُول: جمع خَلْف -بالسكون- كَعَدْل. والخَلْفُ: كل مايجيء بعد من مَضَى، إلا أنه بالتحريك في الخير، وبالتسكين في الشر، وجمع المتحرك أخلاف، والمعنى: يجيء بعد أولئك السَّلف الصالح أناسٌ لا خير فيهم، والله أعلم.

(2) سبق تخريجه قريباً.

(3) ذكر المصنف في كتابه: «تنبيه الحكام على مآخذ الأحكام» (320-323) ، أن مراتب تغيير المنكر على خمسة أقسام:

1) التعريف والبيّنة. … ... 2) الوعظ والتخويف. … ... 3) الزجر والتقريع باللسان.

4) التغيير بمباشرة اليد. … 5) التغيير بالضرب وإيقاع التنكيل والعقوبة بالفاعل، وذلك في حقِّ من تلبَّس ولم يقدر على دفعه عنه إلا بذلك. وفصّل في هذه الأقسام الخمسة.
যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ হাত দিয়ে জিহাদ করে সে মুমিন, আর যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ জিহ্বা দিয়ে জিহাদ করে সে মুমিন, এবং যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ অন্তর দিয়ে জিহাদ করে সে মুমিন। আর এর ঊর্ধ্বে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান নেই» (১) ।

প্রথমত আলোচনা হলো: অন্তরের জিহাদের মর্ম নিয়ে। আর এটি কুপ্রবৃত্তির ওপর বিজয় অর্জন, শয়তানকে প্রতিরোধ করা, শরয়ি সীমার পরিপন্থী বিষয়কে ঘৃণা করা এবং সেই কাজকে মনে মনে অস্বীকার করার দৃঢ় সংকল্পের দিকে প্রত্যাবর্তন করে; যখন সে কথা বা কাজের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করার সামর্থ্য রাখে না। এই প্রকারটি সকল মুসলিমের ওপর ঐকমত্যে (إجماع) ওয়াজিব। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো, যেমন জিহাদ করা উচিত} [হজ: ৭৮], এবং তাঁর বাণী: {আর যে জিহাদ করে, সে তো তার নিজের কল্যাণেই জিহাদ করে} [আনকাবুত: ৬]। তিনি আরও বলেছেন: {এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নফসকে বিরত রাখে} [নাযিয়াত: ৪০]। এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: «আর যে তাদের বিরুদ্ধে নিজ অন্তর দিয়ে জিহাদ করে সে মুমিন, আর এর ঊর্ধ্বে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান নেই» (২) ।

দ্বিতীয়ত: জিহ্বা দ্বারা জিহাদ। যেমন সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা (৩) , এবং তিরস্কার করা...

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের ঈমান অধ্যায়ে (পরিচ্ছেদ: অসৎ কাজের নিষেধ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়া এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত) (৫০) (৮০) বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আহমদ মুসনাদ গ্রন্থে (১/৪৫৮ ও ৪৬১), আবু আওয়ানা (১/৩৫, ৩৬), ইবনে মানদাহ আল-ঈমান গ্রন্থে (১৮৩ ও ১৮৪), তাবারানি আল-কাবীর গ্রন্থে (৯৭৮৪) এবং বায়হাকি আল-কুবরা গ্রন্থে (১০/৯০) আবু রাফে-এর সূত্রে ইবনে মাসউদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

সিন্দী বলেন: তাঁর বাণী: «এমন কোনো নবী নেই … » ইত্যাদি: এই কথাটিকে ওই নবীদের সাথে নির্দিষ্ট করা আবশ্যক যাদের উম্মতের কিছু লোক ঈমান এনেছে, অন্যথায় হাদিসে এসেছে যে নবীদের কারো ওপর কেউ ঈমান আনেনি, অথবা মাত্র একজন ঈমান এনেছেন।

আর 'খুলুফ' (خلوف) শব্দটি 'উদুল'-এর ওজনে 'খালফ' (خَلْف) -সুকুন যোগে- শব্দের বহুবচন। 'খালফ' অর্থ হলো যারা পূর্ববর্তীদের পরে আসে। তবে শব্দের মাঝে হরকত (যবর) থাকলে তা সুসংবাদ বা ভালো উত্তরসূরিদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং সুকুন থাকলে তা মন্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যবরযুক্ত শব্দের বহুবচন হলো 'আখলাফ'। অর্থ হলো: ওই নেককার পূর্বসূরিদের (السلف الصالح) পরে এমন একদল লোকের আগমন ঘটবে যাদের মাঝে কোনো কল্যাণ নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) এর উৎস নির্দেশ বা তাখরিজ (تخريج) একটু আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) মুসান্নিফ (গ্রন্থকার) তাঁর 'তানবিহুল হুক্কাম আলা মাআখিজিল আহকাম' গ্রন্থে (৩২০-৩২৩) উল্লেখ করেছেন যে, অসৎ কাজ পরিবর্তনের স্তর পাঁচটি:

১) পরিচয় দান ও প্রমাণ উপস্থাপন। … ... ২) উপদেশ দান ও ভীতি প্রদর্শন। … ... ৩) জিহ্বা দ্বারা ভর্ৎসনা ও তিরস্কার।

৪) হাত দ্বারা সরাসরি পরিবর্তন। … ৫) প্রহার করা এবং অপরাধীকে শাস্তি ও দণ্ড দেওয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন করা; এটি তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে পাপে লিপ্ত হয়েছে এবং তাকে বিরত রাখা এটি ছাড়া সম্ভব নয়। তিনি এই পাঁচ প্রকারের বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أهل الباطل، والإغلاظ عليهم، وما أشبه ذلك، مما يجب إبراء القول فيه.

وهذا الضرب واجب على المكلَّف بشروط:

منها: أن يكون عالماً بطرق الإنكار، ووجه القيام في ذلك، من التَرَفُّقِ تارة، والغلظة أخرى، بحسب المُنكر في نفسه، والأحوال التي تَعترض، فإنْ لم يكن كذلك لم يجب، بل قد يحرم عليه القيام؛ لأنه ربما وقع في أَشدّ مما أنكر (1) ،

قال

--------------------------------------------

(1) قرر ابن القيّم -رحمه الله تعالى- في كتابه المستطاب: «إعلام الموقعين» (4/339-340- بتحقيقي) أنّ إنكار المنكر أربع درجات، هي:

الأولى: أن يزول ويخلفه ضده.

الثانية: أن يقل وإن لم يُزل بجملته.

الثالثة: أن يخلفه ما هو مثله.

الرابعة: أن يخلفه ما هو شرٌّ منه.

قال: «فالدرجتان الأولتان مشروعتان، والثالثة موضع اجتهاد، والرابعة محرمة» .

قال: «فإذا رأيت أهل الفجور والفسوق يلعبون بالشّطرنج كان إنكارك عليهم من عدم الفقه والبصيرة إلا إذا نقلتهم منه إلى ما هو أحبّ إلى الله ورسوله كرمي النّشاب وسباق الخيل ونحو ذلك، وإذا رأيت الفسّاق قد اجتمعوا على لهو ولعب أو سماع مُكاءٍ وتصدية فإن نقلتهم عنه إلى طاعة الله فهو المراد، وإلا كان تركهم على ذلك خيراً من أن تفرغهم لما هو أعظم من ذلك فكان ماهم فيه شاغلاً لهم عن ذلك، وكما إذا كان الرجل مشتغلاً بكتب المجون ونحوها وخِفتَ من نقله عنها انتقاله إلى كتب البدع والضلال والسّحر فدعه وكتبه الأولى، وهذا باب واسع؛ وسمعت شيخ الإسلام ابن تيمية قدّس الله روحه ونوّر ضريحه يقول: مررت أنا وبعض أصحابي في زمن التّتار بقوم منهم يشربون الخمر، فأنكر عليهم من كان معي، فأنكرت عليه، وقلت له: إنّما حرّم الله الخمر لأنها تصدّ عن ذكر الله وعن الصّلاة، وهؤلاء يصدهم الخمر عن قتل النفوس وسبي الذرية وأخذ الأموال فدعهم» وانظر في هذا: «الاستقامة» (2/165-168) ، و «مجموع الفتاوى» (20/57-61) ، و «الأمر بالمعروف» (ص 17-18) كلها لابن تيمية.

وفصّل المصنف في ذلك في كتابه المفيد «تنبيه الحكام على مآخذ الأحكام» (ص 320) فقال:

«فأمّا إن خيف مع الرّفق فوات عين المنكر، أو اتّصال الاستطالة على مثله لاستخفاف المقوّم عليه وقلّة التفاته ومبالاته، وعلم أن الرّفق لا ينفع في مثل ذلك، وأمن أن يثير الإغلاظ منكراً أشدّ من الحاضر، فينبغي المعالجة بما يقاومه ويصلح به ذلك الأمر من الشدّة والعنف، وبحسب عظم المنكر=
ভ্রান্ত পথের অনুসারী (أهل الباطل), তাদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়, যেগুলোর ক্ষেত্রে সত্য প্রকাশ করা ওয়াজিব।

আর এই বিষয়টি মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) ওপর কতিপয় শর্তসাপেক্ষে ওয়াজিব:

তার মধ্যে একটি হলো: অন্যায় প্রতিরোধ (إنكار المنكر) করার পদ্ধতি এবং তা কার্যকর করার উপায় সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। কখনো কোমলতা অবলম্বনের মাধ্যমে, আবার কখনো কঠোরতার মাধ্যমে—যা মূলত সেই অন্যায় (المنكر) এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। যদি বিষয়টি এমন না হয় (অর্থাৎ সে অভিজ্ঞ না হয়), তবে তা ওয়াজিব হবে না, বরং অনেক সময় তা করা হারামও হতে পারে; কারণ এতে হয়তো সে যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে চাচ্ছে, তার চেয়েও বড় কোনো অন্যায়ে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (১)।

তিনি বলেন

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব 'ইলামুল মুওয়াক্কিইন'-এ (৪/৩৩৯-৩৪০ - আমার তাহকিক অনুযায়ী) উল্লেখ করেছেন যে, অসৎ কাজের প্রতিবাদ বা অন্যায় প্রতিরোধ করার (إنكار المنكر) চারটি স্তর রয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথম: অন্যায়টি দূরীভূত হবে এবং তার স্থলে এর বিপরীত (ভালো কাজ) স্থলাভিষিক্ত হবে।

দ্বিতীয়: অন্যায়টি পুরোপুরি দূরীভূত না হলেও তা হ্রাস পাবে।

তৃতীয়: অন্যায়টি দূরীভূত হয়ে সমপর্যায়ের অন্য কোনো অন্যায় (المنكر) প্রকাশ পাবে।

চতুর্থ: অন্যায়টি দূরীভূত হয়ে তার চেয়েও ভয়াবহ কোনো অন্যায় (المنكر) প্রকাশ পাবে।

তিনি বলেন: «প্রথম দুটি স্তর শরিয়তসম্মত, তৃতীয়টি ইজতিহাদের (اجتهاد) বিষয় এবং চতুর্থটি হারাম» ।

তিনি আরও বলেন: «আপনি যদি পাপাচারী ও ফাসিক লোকদের দাবা খেলায় মত্ত দেখেন, তবে তাদের প্রতি আপনার প্রতিবাদ করাটা সঠিক বুঝ ও দূরদর্শিতার (البصيرة) অভাব হিসেবে গণ্য হবে; যদি না আপনি তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অধিক প্রিয় কোনো কাজ যেমন—তিরন্দাজি, ঘোড়দৌড় বা এ জাতীয় কাজে অভ্যস্ত করতে পারেন। আর যখন দেখবেন ফাসিকরা খেল-তামাশা কিংবা শিস বাজানো ও তালি বাজানোর মতো গান-বাজনায় লিপ্ত হয়েছে, তখন যদি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে নিয়ে আসতে পারেন তবে সেটাই উদ্দেশ্য। অন্যথায়, তাদের ওই অবস্থায় ছেড়ে দেওয়াটা তাদেরকে আরও বড় কোনো গুনাহের জন্য ফুরসত করে দেওয়ার চেয়ে উত্তম; কারণ তারা বর্তমানে যা করছে তা-ই তাদের বড় কোনো গুনাহ থেকে বিরত রাখছে। ঠিক তেমনি যখন কোনো ব্যক্তিকে অশ্লীল সাহিত্য বা এ জাতীয় কিতাবপাঠে ব্যস্ত দেখবেন এবং আপনি ভয় পান যে, তাকে সেখান থেকে ফিরালে সে বিদআত (البدع), ভ্রষ্টতা (الضلال) ও জাদুর কিতাবের দিকে ধাবিত হবে, তবে তাকে তার আগের কিতাব নিয়েই থাকতে দিন। এটি একটি সুবিস্তৃত অধ্যায়। আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: তাতারীদের শাসনামলে আমি ও আমার কিছু সঙ্গী তাদের একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যারা মদ্যপান করছিল। আমার সাথে থাকা একজন তাদের বাধা দিতে চাইলে আমি তাকে নিষেধ করলাম এবং বললাম: আল্লাহ তাআলা মদ হারাম করেছেন কারণ তা আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে মানুষকে বিমুখ রাখে; অথচ এই মদই বর্তমানে তাদেরকে মানুষ হত্যা, নারী-শিশু বন্দি করা এবং সম্পদ লুণ্ঠন থেকে বিরত রাখছে, সুতরাং তাদের এই অবস্থাতেই ছেড়ে দাও»। এ সম্পর্কে আরও দেখুন: ইবনে তাইমিয়ার 'আল-ইস্তিকামাহ' (২/১৬৫-১৬৮), 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (২০/৫৭-৬১) এবং 'আল-আমর বিল মা'রুফ' (পৃ. ১৭-১৮)।

গ্রন্থকার তাঁর তথ্যবহুল কিতাব 'তানবিহুল হুক্কাম আলা মাআখিজিল আহকাম'-এ (পৃ. ৩২০) এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন:

«তবে যদি আশঙ্কা করা হয় যে, কোমলতা দেখালে উদ্ভূত অন্যায়টি (المنكر) আর প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না, অথবা অন্যায়ে লিপ্ত ব্যক্তি উপদেশদাতার প্রতি তুচ্ছজ্ঞান ও ভ্রূক্ষেপ না করার কারণে অন্যায় দীর্ঘায়িত হবে, আর এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে কোমলতা এখানে কার্যকর হবে না এবং কঠোরতা প্রদর্শন করলে বর্তমান অন্যায়ের চেয়ে বড় কোনো অন্যায় (المنكر) সৃষ্টি হওয়ার ভয় নেই—তবে কঠোরতা ও দৃঢ়তার সাথে তা মোকাবিলা করা এবং পরিস্থিতি সংশোধন করা উচিত, যা সেই অন্যায়ের ভয়াবহতার মাত্রা অনুযায়ী হবে»।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الله -تعالى-: {كُونُواْ قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ} [النساء: 135] ، وقال -سبحانه-: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ} [الأعراف: 199] .

ومنها: أن تكون له قوة في نفسه، وحالة يأمن معها أن يُسْطَاع ذلك، فإن لم يكن كذلك لم يجب عليه، لكنه إن فعل صابراً محتسباً قيامه في ذلك عند الله عز وجل: صحَّ، وكان مأجوراً. قال الله عز وجل: {وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ} [البقرة: 207] ، وقال -تعالى-: {وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الأُمُورِ} [لقمان: 17] .

وخرَّج الترمذي عن أبي سعيد الخدري أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن من أعظم الجهاد كلمة عدلٍ عند سلطان جائر» (1) ، قال فيه: حسن غريب.

--------------------------------------------

= وما يليق في مثله، ويؤدّي إلى إزالة فعله، قال الله -تعالى- في صفة القوم يحبهم ويحبونه ويجاهدون في سبيل الله ولا يخافون لومة لائم: {ذلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ} » .

ثم نقل رحمه الله عن شيخه المشتهر بابن أبي درقة رحمه الله قال: «كنت مرَّةً في غرَّة الشباب، ومبادي الطلب، فتشاغلت عن إحدى صلاتي العشاء إلى أن شارفت الفوات، فأتيت عَجِلاً إلى بعض المساجد، واعتمدت بعض زواياه، فصلّيتها مبادراً متجوّزاً في بعض أركانها، وإذا بعض الشّيوخ يسارقني النَّظر، بحيث لم أشعر به، فلمّا أتممت صلاتي، وهممت بالانصراف استدعاني، فأتيته، فسألني قليلاً، ثم قال: يا بنيّ، رجلٌ تسلّف دراهم إلى وقتٍ، فلمّا حلّ الأجل، والغريم موسر قادرٌ على الأداء، تهاون بذلك واستخفّ، ولم يزل يتراخى به إلى أن استحق ذمّ التأخير، ثم أتاه بها بعد ذلك ناقصةً، زيُوفاً، فجميعٌ بين جنسي الإساءة في القضاء، فهل يكون لهذا حظٌّ في القبول؟ فما أتم كلامه حتى فهمت مقصده وتعريضه بما فعلت في صلاتي، فخجلت، ثم قلت له: فهمت يا عمّ، فما زاد على أن قال: قم يا بنيّ بارك الله فيك، فعدت لإتمام صلاتي، وأثّر ذلك عندي خير تأثير» .

ثم قال: «فهذا النوع من الرِّفق والتلطّف في التّعليم بحسب فهم صاحب النّازلة وما يليق به، أوقع في النفوس وأقرب إلى الإجابة من كثير من العنف والشِّدَّة» .

(1) أخرجه الترمذي في «الجامع» (رقم 2174) ، وأبو دواد في «سننه» (رقم 4344) ، وابن ماجه في «سننه» (رقم 4011) ، والخطيب في «التاريخ» (7/238) ، والمزي في «تهذيب الكمال» (17/405) من طريق عطية العوفي، عن أبي سعيد الخدري، به.

وفيه زيادة عند أبي داود، والخطيب: «أو أمير جائر» . وقال الترمذي: «حسن غريب من هذا =
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো} [আন-নিসা: ১৩৫], এবং তিনি সুবহানাহু বলেছেন: {তুমি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করো, সৎকাজের আদেশ দাও এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলো} [আল-আরাফ: ১৯৯]।

এর মধ্যে একটি হলো: তার নিজের মধ্যে শক্তি থাকা এবং এমন অবস্থা থাকা যাতে সে নিরাপদ বোধ করে যে এটি করতে সক্ষম হবে। যদি এমনটি না হয় তবে তার জন্য এটি আবশ্যক নয়। কিন্তু যদি সে ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় সওয়াব লাভের নিয়তে তার এই অবস্থানে অটল থাকে, তবে তা সঠিক হবে এবং সে পুরস্কৃত হবে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়} [আল-বাকারা: ২০৭]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে বাধা দাও এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ করো; নিশ্চয়ই এটি দৃঢ় সংকল্পের কাজ} [লুকমান: ১৭]।

ইমাম তিরমিজি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «অত্যাচারী শাসকের সামনে হকের কথা বলাই হলো সর্বোত্তম জিহাদ» (১), তিনি এই হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: সুন্দর ও একক (حسن غريب)।

--------------------------------------------

= এবং তার মতো ব্যক্তির ক্ষেত্রে যা মানানসই এবং যা তার কৃতকর্ম দূরীকরণে সাহায্য করে। আল্লাহ তাআলা এমন এক জাতির গুণাবলী বর্ণনা করেছেন যাদের তিনি ভালোবাসেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসে, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দায় ভয় পায় না: {এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন}।

এরপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তার উস্তাদ যিনি 'ইবনে আবি দারকাহ' (রাহিমাহুল্লাহ) নামে পরিচিত ছিলেন, তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «আমি তখন ভরা যৌবনে এবং ইলম অন্বেষণের শুরুর দিকে ছিলাম। একবার আমি এশার নামাজের একটির প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়েছিলাম যতক্ষণ না তার সময় শেষ হওয়ার উপক্রম হলো। আমি তড়িঘড়ি করে একটি মসজিদে গেলাম এবং একটি কোণে দাঁড়িয়ে দ্রুততার সাথে এর কিছু রোকন সংক্ষেপে আদায় করে নামাজ পড়ে নিলাম। এমতাবস্থায় এক বৃদ্ধ লোক আড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন, যা আমি লক্ষ্য করিনি। যখন আমি নামাজ শেষ করে চলে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর কাছে গেলাম। তিনি আমাকে সামান্য কিছু জিজ্ঞাসা করলেন, তারপর বললেন: হে প্রিয় বৎস! এক ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিছু দিরহাম ঋণ নিয়েছিল। যখন পরিশোধের সময় এল এবং ঋণদাতা সচ্ছল ও পরিশোধে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও সে অবহেলা ও তুচ্ছজ্ঞান করল এবং বিলম্ব করতে থাকল যতক্ষণ না সে বিলম্বের জন্য নিন্দার যোগ্য হলো। এরপর সে সেই দিরহামগুলো নিয়ে এল যা ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও মেকি। ফলে সে পরিশোধের ক্ষেত্রে দুই ধরনের অন্যায় একত্র করল। এমতাবস্থায় এর কি কবুল হওয়ার কোনো সুযোগ আছে? তিনি কথা শেষ করার আগেই আমি তাঁর উদ্দেশ্য এবং আমার নামাজের প্রতি তাঁর ইঙ্গিত বুঝতে পারলাম। আমি লজ্জিত হলাম। তারপর তাঁকে বললাম: হে চাচা, আমি বুঝতে পেরেছি। এরপর তিনি কেবল এতটুকুই বললেন: যাও হে প্রিয় বৎস, আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন। আমি পুনরায় আমার নামাজ পূর্ণ করতে ফিরে গেলাম। এই ঘটনাটি আমার ওপর অত্যন্ত সুন্দর প্রভাব ফেলেছিল»।

এরপর তিনি বলেন: «শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোমলতা ও নম্রতা—যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বোধগম্যতা এবং তার অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ—তা হৃদয়ে বেশি প্রভাব ফেলে এবং কঠোরতা ও উগ্রতার চেয়ে সাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রে অধিক ফলপ্রসূ»।

(1) ইমাম তিরমিজি এটি জামে-তে (নম্বর ২১৭৪), আবু দাউদ তাঁর সুনান-এ (নম্বর ৪৩৪৪), ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান-এ (নম্বর ৪০১১), খতিব তারিখে (৭/২৩৮) এবং মিযযি তাহযিবুল কামাল-এ (১৭/৪০৫) আতিয়্যাহ আল-আউফির মাধ্যমে আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু দাউদ ও খতিবের বর্ণনায় কিছু অতিরিক্ত শব্দ আছে: «বা অত্যাচারী নেতার সামনে»। ইমাম তিরমিজি বলেছেন: এটি এই সূত্র থেকে সুন্দর ও একক (حسن غريب)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ومنها: أن يرجو في قيامه كَفَّ ذلك المنكر وإزالته، فإن أَيِسَ من ذلك، فقد قيل: لا يجب عليه -أيضاً- إلا تبرُّعاً.

والأظهر عندي في هذا الوجه: أنه يجب عليه القول، وإن كان يائساً من

كفّ ذلك المنكر؛ لأن الإنكار أخصُّ فريضةً، لا يسقطه عدم تأثر المنكر عليه، ألا ترى أنّ إنكار القلب حيث لا يستطاع الإنكار بالقول واجبٌ باتفاق، وهو لا أثَرَ له في دفع ذلك المنكر! فكذلك يجب القول إذا أمكنه، وإن لم يؤثر، وأيضاً ففي إعلان الإنكار تقريرُ معالم الشرع، فلو وقع التَّمالؤ في مثل هذا على التَّرْكِ حيث لا [يغني الكف] (1) والإقلاع، لأوشك دروسها. قال الله عز وجل: {وَلْتَكُن مِّنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} [آل عمران: 104] ، فالقول إذا قدر عليه واجب، أثّر أو لَم يؤثر (2) .

--------------------------------------------

= الوجه» .

وعطية: هو ابن سعد بن جنادة: صدوق يخطئ كثيراً ويدلس، وكان شيعياً مدلساً. كما قال الحافظ في «التقريب» (4616) .

فإسناده ضعيف؛ لضعف عطية هذا. ولكن تحسين الترمذي له؛ لأحاديث الباب؛ ففي الباب عن أبي أمامة صدي بن عجلان رضي الله عنه.

انظر: «صحيح الترمذي» (2174) ، و «صحيح أبي داود» (4344) كلاهما لشيخنا الألباني

رحمه الله.

(1) كتب أبو خبزة في هامش نسخته: «كلمة غير ظاهرة» ، ولعلها كما أثبتنا.

(2) اختلف العلماء فيما إذا كان القائم بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر متأكداً من عدم التأثير؛ أو إنَّ أمره ونهيه لا يفيد، ولا يعود بطائل، على قولين:

الأول: لا يجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في هذه الحالة، وهو قول أبي حامد الغزالي في «إحياء علوم الدين» (2/280) ، إذ قال -رحمه الله تعالى-: « … أنْ يعلم أنه لا يفيد إنكاره، ولكنه لا يخاف، فلا تجب عليه الحسبة، لعدم فائدتها، ولكن تستحب لإظهار شعائر الإسلام، وتذكير الناس بأمر الدين» ، وهو اختيار عزالدين عبد اللطيف بن عبد العزيز المعروف بابن ملك (ت 797هـ) في «مبارق الأزهار في شرح مشارق الأنوار» (1/50) حيث قال: «وأما النهي عن المنكر فلوجوبه شرائط منها: أنْ يغلب على ظنه أنَّ نهيه مؤثر لاعبث» ، وإليه مال التفتازاني في «شرح المقاصد» =
এবং এর মধ্যে একটি হলো: সে তার পদক্ষেপে উক্ত অসৎকাজ (منكر) রোধ ও তা দূর করার আশা করবে। যদি সে এ বিষয়ে নিরাশ হয়, তবে বলা হয়েছে: এটি তখন তার জন্য ওয়াজিব হবে না—বরং তা কেবল নফল হিসেবে গণ্য হবে।

এই দৃষ্টিভঙ্গিতে আমার নিকট অধিক স্পষ্ট মত হলো: তার জন্য প্রতিবাদ করা বা কথা বলা ওয়াজিব, যদিও সে উক্ত অসৎকাজ (منكر) রোধ করার বিষয়ে নিরাশ থাকে; কারণ প্রতিবাদ করা একটি সুনির্দিষ্ট আবশ্যিক দায়িত্ব (فريضة), যা অপকর্মকারীর ওপর প্রভাব না পড়ার কারণে রহিত হয় না। আপনি কি দেখেন না যে, যেখানে মুখে প্রতিবাদ করার সক্ষমতা থাকে না, সেখানে অন্তরের ঘৃণা বা প্রতিবাদ সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াজিব? অথচ উক্ত অসৎকাজ (منكر) প্রতিরোধে এর কোনো (দৃশ্যমান) প্রভাব নেই! একইভাবে, যখন তার পক্ষে কথা বলা সম্ভব, তখন তা ওয়াজিব হবে, যদিও তা কোনো প্রভাব না ফেলে। অধিকন্তু, প্রতিবাদের ঘোষণার মধ্যে শরীয়তের নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিহিত রয়েছে। সুতরাং, যেখানে প্রতিরোধ ও বর্জন ফলপ্রসূ হয় না, সেখানে যদি এ জাতীয় বিষয়ে প্রতিবাদ ছেড়ে দেওয়ার ওপর সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়, তবে শরীয়তের নিদর্শনসমূহ অচিরেই বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হবে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "আর তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের আদেশ দিবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে।" [আল-ইমরান: ১০৪]। সুতরাং, যখন সক্ষমতা থাকবে, তখন কথা বলা বা প্রতিবাদ করা ওয়াজিব, চাই তা প্রভাব ফেলুক বা না ফেলুক।

--------------------------------------------

= দৃষ্টিভঙ্গি»।

আর আতিয়্যাহ: তিনি হলেন ইবনে সাদ ইবনে জুনদাহ: তিনি সত্যবাদী (صدوق) কিন্তু প্রচুর ভুল করেন (يخطئ كثيراً) এবং তিনি তাদলীস করেন (يدلس), আর তিনি একজন শিয়া তাদলীসকারী (مدلس) ছিলেন। যেমনটি হাফিয (الحافظ) আত-তাকরীব (৪৬১৬) গ্রন্থে বলেছেন।

সুতরাং এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); এই আতিয়্যাহ-এর দুর্বলতার (ضعف) কারণে। কিন্তু ইমাম তিরমিযী কর্তৃক এটিকে হাসান (حسن) বলা (تحسين) এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য হাদিসের কারণে; কারণ এই অনুচ্ছেদে আবু উমামাহ সুদী ইবনে আজলান (রা.) থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

দেখুন: সহিহ তিরমিযী (২১৭৪) এবং সহিহ আবু দাউদ (৪৩৪৪), উভয়টিই আমাদের শায়খ আলবানীর (রহিমাহুল্লাহ) সম্পাদিত।

(১) আবু খুবযাহ তার পাণ্ডুলিপির হাশিয়ায় লিখেছেন: "শব্দটি স্পষ্ট নয়", এবং সম্ভবত এটি আমরা যেভাবে সাব্যস্ত করেছি তেমনই হবে।

(২) সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকারী ব্যক্তি যখন নিশ্চিত হন যে তার এই পদক্ষেপের কোনো প্রভাব পড়বে না, অথবা তার আদেশ ও নিষেধ কোনো উপকারে আসবে না এবং কোনো সুফল বয়ে আনবে না, তখন করণীয় সম্পর্কে আলেমগণ দুটি মতের ওপর ভিন্নমত পোষণ করেছেন:

প্রথম মত: এই অবস্থায় সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ওয়াজিব নয়। এটি আবু হামিদ আল-গাযালীর মত যা তিনি ইহয়াউ উলূমিদ্দীন (২/২৮০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: « … সে যদি জানে যে তার প্রতিবাদ ফলপ্রসূ হবে না, কিন্তু সে (কোনো ক্ষতির) ভয় পায় না, তবে তার ওপর ইহতিসাব (حسبة) ওয়াজিব হবে না, কারণ এর কোনো উপকারিতা নেই। তবে ইসলামের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ এবং মানুষকে দ্বীনের বিষয়াশয় স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এটি মুস্তাহাব।» আর এটি ইযযুদ্দীন আব্দুল লতীফ ইবনে আব্দুল আযীয—যিনি ইবনুল মালিক (মৃত্যু ৭৯৭ হিজরি) নামে পরিচিত—তার পছন্দকৃত মত, যা তিনি মাবারিকুল আযহার ফী শারহি মাশারিকিল আনওয়ার (১/৫০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «আর অসৎকাজের নিষেধ করার ক্ষেত্রে এটি ওয়াজিব হওয়ার কিছু শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: তার প্রবল ধারণা থাকতে হবে যে তার নিষেধ কার্যকর হবে, বৃথা যাবে না।» আর আল-তাফতাযানী শারহুল মাকাসিদ গ্রন্থে এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন। =
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= (2/281) ، بقوله وهو يتحدث عن شروط وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر: «منها تجويز التأثير، بأن لا يعلم عدم التأثير قطعاً، لئلا يكون عبثاً واشتغالاً بما لا يعني، فإن قيل: يجب، وإن لم يؤثر، إعزازاً للدين، قلنا: ربما يكون إذلالاً» .

الثاني: ويرى بعض العلماء أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، واجب في هذه الحالة، وهذا رواية عن الإمام أحمد، وصححه أبو يعلى، وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية، وعزاه ابن رجب إلى أكثر العلماء، كما في «لوامع الأنوار البهية» (2/435) ، وهو اختيار المصنّف.

يقول الإمام النووي -رحمه الله تعالى- في «شرح صحيح مسلم» (2/23) : «قال العلماء: ولا يسقط عن المكلف الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، لكونه لا يفيد في ظنه، بل يجب عليه فعله، فإن الذكرى تنفع المؤمنين، وقد قدمنا أن الذي عليه الأمر والنهي لا القبول، وكما قال الله عز وجل: {مَّا عَلَى الرَّسُولِ إِلَاّ الْبَلَاغُ} [المائدة: 99] » .

والذي أراه راجحاً في هذه المسالة القول الثاني؛ لما يلي:

أولاً: إذا جرى الحديث عن تأثير الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر أو عدم تأثيره، أريد به ظهور المعروف حينما أمر به، وانتفاء المنكر حينما نهى عنه، وبالعكس، ولكن لننظر في الأمر من وجهة نظر أخرى، وهي أن المسلم -ولو لم يؤثر فيه الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر تأثيراً عاجلاً- لا بدَّ أن يتأثر في شعوره إلى حدٍّ ما، ومن الممكن أن يصير هذا التأثير، سبباً لفعله المعروف، وتركه المنكر فيما بعد، ومن هذه الناحية درس الإمام محمد بن الحسن الشيباني في «شرح السير الكبير» (3/239-240) ، نفسيَّة الأمة المسلمة، مراعاة كاملة، فقال: «وفي الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر يسعه الإقدام، وإن كان يعلم أن القوم يقتلونه، وأنَّه لا يتفرق جمعهم بسببه؛ لأنَّ القوم هناك مسلمون، معتقدون لما يأمرهم به، فلا بد من أنَّ فعله ينكئ في قلوبهم، وإن كانوا لا يظهرون ذلك» .

ثانياً: إذا أهمل السعي للأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بحجة عدم جدواه، تقطعت أسباب الرجاء عن الإصلاح، وهلك المجتمع كله.

ثالثاً: لا يصح بناء الحكم الفقهي على (التأثير) و (عدمه) فنقول: يجب الأمر بالمعروف عند حصول التأثير والإفادة، والعكس بالعكس؛ لأن التأثير وعدمه أمر غير ظاهر وغير منضبط، فكم من مأمور بالمعروف يُرجى فيه الخير ومنهيٍّ عن المنكر لا يرجى فيه ذلك، ولا يستجيب الأول ويستجيب الثاني.

رابعاً: إن صح القول الأول فيحمل على أنَّ العامة عليهم أن يحافظوا على دينهم وإيمانهم، ولا يصح أن يلقى عليهم أعباء الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، ولكن الخاصة منهم -أيضاً- إن لم يتقدموا إلى ذلك ظلموا أنفسهم وقدراتهم وإمكاناتهم.

وانظر بسطاً للمسألة في: «أحكام القرآن» (2/797) ، و «مختصر الفتاوى المصرية» (58) ، و «اقتضاء الصراط المستقيم» (1/148، 149) ، و «طبقات الحنابلة» (2/280) ، و «الآداب الشرعية» =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= (২/২৮১), তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে যেখানে তিনি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন: «তার মধ্যে একটি হলো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকা, অর্থাৎ প্রভাব না পড়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা না থাকা; যাতে এটি নিরর্থক কাজে লিপ্ত হওয়া এবং অর্থহীন বিষয়ে ব্যস্ত থাকা না হয়। যদি বলা হয়: দ্বীনের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার খাতিরে প্রভাব না পড়লেও এটি ওয়াজিব, তবে আমরা বলব: অনেক সময় এটি অবমাননার কারণ হতে পারে»।

দ্বিতীয়ত: কিছু আলেম মনে করেন যে, এ অবস্থায় সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা ওয়াজিব। এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية), যেটিকে আবু ইয়ালা সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করেছেন। এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যারও মনোনীত মত এবং ইবনে রজব একে অধিকাংশ আলেমের অভিমত বলে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি «লওয়ামেউল আনোয়ার আল-বাহিয়্যাহ» (২/৪৩৫) গ্রন্থে রয়েছে। এটি গ্রন্থকারেরও পছন্দ।

ইমাম নববী—রাহিমাহুল্লাহ—«শারহু সহিহ মুসলিম» (২/২৩) গ্রন্থে বলেন: «ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির ওপর থেকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের দায়িত্ব রহিত হয়ে যায় না কেবল এই কারণে যে, তার ধারণা অনুযায়ী এটি ফলপ্রসূ হবে না। বরং তার ওপর এটি পালন করা ওয়াজিব; কেননা উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, দায়িত্ব হলো আদেশ ও নিষেধ করা, তা গ্রহণ করে নেওয়া নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল পৌঁছে দেওয়া} [আল-মায়িদাহ: ৯৯]»।

এই মাসআলায় আমি দ্বিতীয় মতটিকেই অগ্রগণ্য (راجح) মনে করি; যার কারণসমূহ নিম্নরূপ:

প্রথমত: যখন সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের প্রভাব থাকা বা না থাকা নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে আদেশ করার পর সৎকাজটি প্রকাশ পাওয়া এবং নিষেধ করার পর অসৎকাজটি দূরীভূত হওয়া, কিংবা এর বিপরীত। কিন্তু আমাদের বিষয়টি অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত, তা হলো: একজন মুসলিম—যদিও তার ওপর সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব না ফেলে—তবুও অবধারিতভাবে তার অনুভূতিতে কোনো না কোনো মাত্রায় প্রভাব পড়বেই। হতে পারে এই প্রভাব পরবর্তীতে তার সৎকাজ করা এবং অসৎকাজ বর্জনের কারণ হবে। এই দিকটি বিবেচনা করেই ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান আশ-শায়বানি «শারহুস সিয়ারিল কাবীর» (৩/২৩৯-২৪০) গ্রন্থে মুসলিম উম্মাহর মনস্তত্ত্বের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করে বলেছেন: «সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির জন্য অগ্রসর হওয়া বৈধ, যদিও সে জানে যে তারা তাকে হত্যা করবে এবং তার এই কাজের কারণে তাদের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হবে না। কারণ সেখানে অবস্থানকারীরা মুসলিম এবং তিনি যা আদেশ করছেন তারা তা বিশ্বাস করে; তাই তার এই কাজ তাদের অন্তরে অবশ্যই রেখাপাত করবে, যদিও তারা তা প্রকাশ না করে»।

দ্বিতীয়ত: যদি ফলপ্রসূ না হওয়ার অজুহাতে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের প্রচেষ্টাকে অবহেলা করা হয়, তবে সংশোধনের আশার সব পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে এবং গোটা সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।

তৃতীয়ত: কোনো ফিকহি বিধানকে (হুকুম) 'প্রভাব' বা 'প্রভাবহীনতার' ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা সঠিক নয় যে, আমরা বলব: প্রভাব ও উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেই কেবল সৎকাজের আদেশ ওয়াজিব হবে, অন্যথায় নয়। কারণ প্রভাব পড়া বা না পড়া একটি অস্পষ্ট ও অনিয়মিত বিষয়। এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের কাছ থেকে সৎকাজের আদেশের জবাবে কল্যাণের আশা করা যায়, কিন্তু তারা সাড়া দেয় না। আবার অনেকের ক্ষেত্রে অসৎকাজের নিষেধ ফলপ্রসূ হওয়ার আশা করা যায় না, কিন্তু তারাই সাড়া দিয়ে থাকে।

চতুর্থত: যদি প্রথম মতটিকে সঠিক (صح) ধরে নেওয়া হয়, তবে এর ব্যাখ্যা হবে এমন যে, সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হলো নিজেদের দ্বীন ও ঈমান রক্ষা করা; তাদের ওপর সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ভারী বোঝা চাপিয়ে দেওয়া সঠিক হবে না। কিন্তু বিশেষ স্তরের ব্যক্তিবর্গ—তারাও যদি এক্ষেত্রে এগিয়ে না আসেন, তবে তারা নিজেদের নফস, সামর্থ্য ও যোগ্যতার ওপর জুলুম করবেন।

এই মাসআলার বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন: «আহকামুল কুরআন» (২/৭৯৭), «মুখতাসারুল ফাতাওয়াল মিসরিয়্যাহ» (৫৮), «ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম» (১/১৪৮, ১৪৯), «তাবাকাতুল হানাবিলাহ» (২/২৮০), এবং «আল-আদাবুশ শারইয়্যাহ» =
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
خرَّج مسلم، عن أبي سعيد الخدري قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من رأى منكم منكراً فليغيِّرُه بيده، فإن لَمْ يستطع فبلسانه، فإن لَمْ يستطع فبِقلْبِه، وذلك أضعف الإيمان» (1) .

وعلى هذا الضَّرب حَمَلَ جماعةٌ من العلماء ما أمر الله -تعالى- به نبيه صلى الله عليه وسلم من جهاد المنافقين في قوله -تعالى-: {جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ} [التوبة: 73] ، فهذا إنما يكون في المنافقين بالقول من الزجر والوعيد والتهديد، وما أشبه ذلك؛ لأنه صلى الله عليه وسلم لم يؤمر بقتلهم؛ لِمَا كانوا يظهرونه من الإسلام، قال ابن عباس (2) ،

--------------------------------------------

= (1/178) ، و «نصاب الاحتساب» (313) ، و «أضواء البيان» (1/175) ، و «الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر» (ص: 157 ومابعدها) لجلال العمري، و «الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وواقع المسلمين اليوم» (ص: 103 ومابعدها) لصالح الدرويش، و «الأمر بالمعروف» لعبد الرحمن المقيط (ص 50) ، و «الأمر بالمعروف» (ص 386) لخالد السبت، و «الجواب الأبهر لمن سأل عن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر» (ص 57-61) ، و «أصول الدعوة» (190، 312) لعبد الكريم زيدان.

(1) أخرجه مسلم في «صحيحه» في كتاب الإيمان (باب بيان كون النهي عن المنكر من الإيمان، وأن الإيمان يزيد وينقص، وأن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر واجبان) (رقم 49) .

(2) أخرجه ابن جرير في «التفسير» (10/183) عن ابن جريج عن ابن عباس قال: الكفار بالقتال، والمنافقين: أن تغلظ عليهم بالكلام.

وأخرجه ابن أبي حاتم في «تفسيره» (6/1841/ رقم 10301) ، وابن جرير في الموطن السابق، والبيهقي في «السنن الكبرى» (9/11) عن علي بن أبي طلحة عن ابن عباس في قوله

-تعالى-: {يا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ} قال: فأمره الله أن يجاهد الكفار بالسيف، والمنافقين باللسان، وأذهب الرفق عنهم.

وعزاه السيوطي في «الدر المنثور» (4/239) إلى ابن المنذر، وابن مردويه.

ولكن علي بن أبي طلحة: قال دُحيم: لم يسمع التفسير من ابن عباس. وقال الفسوي: روى عن ابن عباس الناسخ والمنسوخ، ولم يره. وقال أبو حاتم: علي بن أبي طلحة عن ابن عباس: مرسل، إنما يروي عن مجاهد والقاسم بن محمد.

انظر: «جامع التحصيل» (ص 240 رقم542) ، و «تحفة التحصيل» (ص 234) .

ولكن ابن أبي طلحة يروي من صحيفة عن ابن عباس. قال الحافظ ابن حجر في «العجاب» (1/207) : «وعليٌّ صدوق، لم يَلْق ابن عباس، لكنه إنَّما حمل عن ثقات أصحابه، فلذلك كان البخاري =
ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অন্যায় দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়। যদি তাতে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দ্বারা; আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দ্বারা। আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর» (১)।

একদল আলেম মহান আল্লাহর তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাকে এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো} [আত-তাওবাহ: ৭৩]। এটি মূলত মুনাফিকদের ক্ষেত্রে কথার মাধ্যমে শাসন করা, ধমক দেওয়া, ভীতি প্রদর্শন করা এবং এই জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের হত্যা করার জন্য আদিষ্ট হননি, যেহেতু তারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করত। ইবনে আব্বাস (২) বলেছেন,

--------------------------------------------

= (১/১৭৮), এবং «নিসাবুল ইহতিসাব» (৩১৩), এবং «আদওয়াউল বায়ান» (১/১৭৫), এবং জালাল আল-উমরির «আল-আমর বিল মা'রুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার» (পৃ. ১৫৭ এবং পরবর্তী), এবং সালেহ আদ-দারউইশের «আল-আমর বিল মা'রুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ওয়া ওয়াকিউল মুসলিমিনাল ইয়াওম» (পৃ. ১০৩ এবং পরবর্তী), এবং আবদুর রহমান আল-মুকাইতের «আল-আমর বিল মা'রুফ» (পৃ. ৫০), এবং খালিদ আস-সাবতের «আল-আমর বিল মা'রুফ» (পৃ. ৩৮৬), এবং «আল-জাওয়াবুল আবহার লিমান সাআলা আনিল আমর বিল মা'রুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার» (পৃ. ৫৭-৬১), এবং আবদুল করিম যায়দানের «উসুলুদ দাওয়াহ» (১৯০, ৩১২)।

(১) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের কিতাবুল ঈমান (অন্যায় প্রতিরোধ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বর্ণনা এবং ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়া এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ওয়াজিব হওয়ার অধ্যায়) অংশে এটি বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং ৪৯)।

(২) ইবনে জারির তাঁর তাফসির (১০/১৮৩) গ্রন্থে ইবনে জুরাইজ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: কাফিরদের সাথে যুদ্ধ দ্বারা এবং মুনাফিকদের সাথে তাদের ওপর কথার কঠোরতা প্রয়োগের মাধ্যমে জিহাদ করতে হবে।

ইবনে আবি হাতিম তাঁর তাফসির (৬/১৮৪১/ নং ১০৩০১) গ্রন্থে, ইবনে জারির পূর্বোক্ত স্থানে এবং বায়হাকি আস-সুনান আল-কুবরা (৯/১১) গ্রন্থে আলি বিন আবি তালহা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন:

-মহান আল্লাহ বলেছেন-: {হে নবী, কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো}। তিনি বলেন: আল্লাহ তাকে কাফিরদের বিরুদ্ধে তলোয়ার দ্বারা এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহ্বা দ্বারা জিহাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের প্রতি কোমলতা পরিহার করতে বলেছেন।

সুয়ুতি আদ-দুররুল মানসুর (৪/২৩৯) গ্রন্থে এটি ইবনে মুনজির এবং ইবনে মারদুওয়াইহর দিকে নিসবত করেছেন।

কিন্তু আলি বিন আবি তালহা সম্পর্কে: দুহাইম বলেছেন: তিনি ইবনে আব্বাসের কাছ থেকে তাফসির শোনেননি। ফাসাউয়ি বলেছেন: তিনি ইবনে আব্বাস থেকে নাসিখ ও মানসুখ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাকে দেখেননি। আবু হাতিম বলেছেন: ইবনে আব্বাস থেকে আলি বিন আবি তালহার বর্ণনা বিচ্ছিন্ন (مرسل), তিনি মূলত মুজাহিদ এবং কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন।

দেখুন: «জামি’ আত-তাহসিল» (পৃ. ২৪০ নং ৫৪২), এবং «তুহফাত আত-তাহসিল» (পৃ. ২৩৪)।

কিন্তু ইবনে আবি তালহা ইবনে আব্বাস থেকে একটি পাণ্ডুলিপির (সহিফা) মাধ্যমে বর্ণনা করেন। হাফেজ ইবনে হাজার আল-উজাব (১/২০৭) গ্রন্থে বলেছেন: «আলি সত্যবাদী (صدوق), তিনি ইবনে আব্বাসের সাথে সাক্ষাৎ করেননি, তবে তিনি কেবল তাঁর নির্ভরযোগ্য (ثقات) সঙ্গীদের থেকেই এটি গ্রহণ করেছেন, এজন্যই বুখারি ছিলেন...»
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وغيره (1) : معناه: «جاهد الكفار بالسَّيف، والمنافقين باللسان» .

وبسْط الكلام في ذلك، وفي الكفّ عن قتل المنافقين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يقتضي مأخذاً واسعاً غير ما قُصد له في هذا الباب.

الثالث: جهاد باليد، وهو أنواع:

منه ما يرجع إلى إقامة الحدود، ونحوها من التعزيرات، وذلك إنما يجب على الولاة والحُكَّام، ومنه: مايدخل في باب تغيير المناكر، وذلك يجب حيث لا يُغني التغيير بالقول، وعلى الشروط التي قدَّمنا في حق القائم في ذلك، والقيام فيه بحسب الأحوال، وتدريج الانتقال.

ومنه: قتال الكفار، والغزو. ويقتضي أنَّ لفظ الجهاد إذا أُطلق، إنما يُحمل على هذا النوع بخاصَّة، وهو الذي نُصِبَ له هذا المجموع، فَلنأْخُذ في ذلك على حسب ما يرزقنا الله فيه من الإمداد بالمعونة والتوفيق، لا ربَّ غيره.

--------------------------------------------

= وابن أبي حاتم وغيرهما يعتمدون على هذه النسخة» .

فالأثر صحيح عن ابن عباس رضي الله عنه. انظر: تفسير ابن عباس المسمى «صحيفة علي ابن أبي طلحة عن ابن عباس» (ص 268/ رقم 582) ، «فتح الباري» (8/438-439) .

وابن جريج: عبد الملك بن عبد العزيز بن جريج: ثقة فقيه فاضل، وكان يدلس ويرسل كما في «التقريب» (4193) .

وقال العلائي في «جامع التحصيل» (229/ رقم 472) : ذكر ابن المديني أنه لم يَلقَ أحداً من الصحابة.

(1) كقتادة والضحاك والحسن البصري. أخرجه عنهم: ابن جرير في «التفسير» (6/183-184) ، وعزاه السيوطي في «الدر المنثور» (6/240) إلى عبد بن حميد، وابن المنذر، عن قتادة.

وأخرج ابن جرير (10/183) وابن أبي حاتم (6/184/رقم 10300) في «تفسيريهما» ، وابن المبارك في «الزهد» (1377) ، والطبراني -كما في «مجمع الزوائد» (7/276) -، وابن أبي الدنيا في «الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر» (رقم 109) ، وعبد الغني المقدسي في «الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر» (18) ، وابن المنذر، وأبو الشيخ، وابن مردويه في «تفاسيرهم» -كما في «الدر المنثور» (6/ 239) - بأسانيد ضعيفة نحوه عن ابن مسعود رضي الله عنه. وانظر: «الكشف والبيان» (5/69) .
এবং অন্যদের (১) মতে এর অর্থ হলো: "তলোয়ারের মাধ্যমে কাফিরদের বিরুদ্ধে এবং জবানের মাধ্যমে মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো।"

এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মুনাফিকদের হত্যা করা থেকে বিরত থাকার বিষয়টি এক বিস্তৃত আলোচনার দাবি রাখে, যা এই অধ্যায়ের মূল উদ্দেশ্যের বাইরে।

তৃতীয় প্রকার: হাত দ্বারা জিহাদ, আর এটি কয়েক প্রকারের:

এর একটি অংশ হলো হুদুদ (দণ্ডবিধি) কার্যকর করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (তা'যীর), যা কেবল শাসক ও বিচারকদের ওপর ওয়াজিব। আরেকটি অংশ হলো মন্দ বিষয় পরিবর্তনের (তত্-গয়ীরুল মুনকার) অন্তর্ভুক্ত, যা তখন ওয়াজিব হয় যখন মৌখিক পরিবর্তন কার্যকর হয় না। তবে এটি সেই সকল শর্ত সাপেক্ষে যা আমরা এই কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে পূর্বে উল্লেখ করেছি এবং এটি অবস্থা ভেদে ও পর্যায়ক্রমে পালনীয়।

এর আরেকটি প্রকার হলো: কাফিরদের সাথে লড়াই এবং যুদ্ধ। এর দাবি হলো, যখন জিহাদ শব্দটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি বিশেষভাবে এই প্রকারের অর্থেই ব্যবহৃত হয় এবং এই সংকলনটি মূলত এরই জন্য তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং, আমরা আল্লাহর সাহায্য ও তাওফীকের ওপর ভরসা করে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করছি, তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই।

--------------------------------------------

= এবং ইবনে আবি হাতিম ও অন্যান্যরা এই পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন।

ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই আছারটি সঠিক (صحيح)। দেখুন: ইবনে আব্বাসের তাফসীর যা 'সহিফা আলী ইবনে আবি তালহা আন ইবনে আব্বাস' নামে পরিচিত (পৃষ্ঠা ২৬৮/ নম্বর ৫৮২), 'ফাতহুল বারী' (৮/৪৩৮-৪৩৯)।

ইবনে জুরাইজ: আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজিজ বিন জুরাইজ: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), ফকীহ ও মর্যাদাবান ছিলেন। তিনি তাদলীস করতেন (يدلس) এবং মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করতেন (يرسل), যেমনটি 'আত-তাকরীব' (৪১৯৩) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

আল-আলাঈ 'জামি’ আত-তাহসীল' (২২৯/ নম্বর ৪৭২) গ্রন্থে বলেছেন: ইবনুল মাদীনী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ পাননি।

(1) যেমন কাতাদাহ, যাহহাক এবং হাসান বসরী। ইবনে জারীর তাঁর 'তফসীর' (৬/১৮৩-১৮৪) গ্রন্থে তাঁদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতী 'আদ-দুররুল মানসুর' (৬/২৪০) গ্রন্থে একে কাতাদাহর সূত্রে আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনুল মুনযিরের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।

এবং ইবনে জারীর (১০/১৮৩) ও ইবনে আবি হাতিম (৬/১৮৪/নম্বর ১০৩০০) তাঁদের 'তফসীর' গ্রন্থসমূহে, ইবনুল মুবারক 'আয-যুহদ' (১৩৭৭) গ্রন্থে, তাবারানী—যেমনটি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৭/২৭৬) গ্রন্থে রয়েছে—, ইবনে আবিদ দুনিয়া 'আল-আমর বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার' (নম্বর ১০৯) গ্রন্থে, আব্দুল গনি আল-মাকদিসী 'আল-আমর বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার' (১৮) গ্রন্থে, এবং ইবনুল মুনযির, আবুশ শায়খ ও ইবনে মারদুওয়াই তাঁদের 'তফসীর' গ্রন্থসমূহে—যেমনটি 'আদ-দুররুল মানসুর' (৬/২৩৯) গ্রন্থে রয়েছে—ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে দুর্বল সনদসমূহের (أسانيد ضعيفة) মাধ্যমে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। দেখুন: 'আল-কাশফ ওয়াল বায়ান' (৫/৬৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فصلٌ: في ابتداء الأمر بالقتال والتدريج فيه

قال الله عز وجل: {قُلْ يا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُواْ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [الأعراف:

158] ، وقال -تعالى-: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَاّ كَافَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيراً وَنَذِيراً وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [سبأ: 28] ، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أُعطيتُ خَمْساً لم يُعطهنَّ أحدٌ قبلي: كان كلّ نبيٍّ يبعث إلى قومه خاصة، وبُعثت إلى كل أحمر وأسود» الحديث. خرَّجه مسلم (1) .

فَثَبتَ بالبراهين القاطعة والآيات البيِّنة ومن الكتاب والسنَّة والإجماع القاطع المتواتر: أنَّ محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الخلق أجمعين؛ إنْسِهم وجِنِّهم، أحمرهم وأسودهم، عَربهم وعجمهم، من كان منهم في عصره، ومن يأتي بعده إلى يوم القيامة، قال الله -تعالى-: {قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لأُنذِرَكُم بِهِ وَمَن بَلَغَ} [الأنعام: 19] .

فذكر أهل العلم والنقل، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بعثه الله عز وجل -وهو على رأس أربعين سنة-، أقام بمكة يدعو إلى الله -تعالى-، ويُبيِّن عن ربه عز وجل ما أرسله به من الهدى، ويتلو عليهم القرآن، وينهاهم عن الشِّركِ وعبادة

--------------------------------------------

(1) في «صحيحه» في كتاب المساجد ومواضع الصلاة (رقم 521) من حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه، وتتمة الحديث: « … وأُحلّت لي الغنائم، ولم تحل لأحدٍ قبلي، وجُعلت لي الأرض طيبة؛ طهوراً ومسجداً، فأيما رجلٍ أدركته الصلاة صلَّى حيث كان، ونُصرت بالرعب بين يديَّ مسيرة شهر، وأُعطيت الشفاعة» .

وأخرجه البخاري في «صحيحه» في كتاب التيمم (الطهارة) (باب التيمم) (رقم 335) ، وفي كتاب الصلاة (باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: «جعلت لي الأرض مسجداً وطهوراً» ) (رقم 438) ، وفي كتاب فرض الخمس (باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: «أُحلت لي الغنائم» ) (رقم 3122) مختصراً ومقتصراً على العبارة المذكورة في الباب.
পরিচ্ছেদ: যুদ্ধের নির্দেশনার সূচনা এবং এর ক্রমধারা প্রসঙ্গে

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {বলুন, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল, যাঁর রয়েছে আসমান ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই; তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যেন তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও।} [আল-আরাফ: ১৫৮], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।} [সাবা: ২৮], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে এমন পাঁচটি বস্তু দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কাউকে দেওয়া হয়নি: প্রত্যেক নবীকে কেবল তাঁর নিজ কওমের প্রতি বিশেষভাবে প্রেরণ করা হতো, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে লাল ও কালো (অর্থাৎ সকল বর্ণের) মানুষের প্রতি» — হাদিস। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।

অকাট্য প্রমাণাদি, সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এবং কিতাব, সুন্নাহ ও অকাট্য মুতাওয়াতির (متواتر) ইজমার দ্বারা এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আব্দু মানাফ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর রাসূল; তাদের মানুষ ও জিন, লাল ও কালো, আরব ও অনারব—যারা তাঁর সমসাময়িক ছিল এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পরে আসবে—সবার জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আর আমার নিকট এই কুরআন ওহী হিসেবে পাঠানো হয়েছে যেন এর মাধ্যমে আমি তোমাদেরকে এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাদেরকে সতর্ক করতে পারি।} [আল-আনআম: ১৯]।

জ্ঞান ও বর্ণনার বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা প্রেরণ করেন—তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশের শুরুতে—তিনি মক্কায় অবস্থান করে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে থাকেন এবং তাঁর প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা তাঁকে যে হিদায়াত দিয়ে পাঠিয়েছেন তা বর্ণনা করতে থাকেন, তাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং তাদেরকে শিরক ও মূর্তিপূজা থেকে নিষেধ করেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থের ‘মসজিদ ও সালাতের স্থান’ অধ্যায়ে (৫২১ নং হাদিস), জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে। হাদিসটির অবশিষ্টাংশ হলো: « … এবং আমার জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল ছিল না; আমার জন্য জমিনকে পবিত্রকারী, পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম ও সিজদাহর স্থান বানানো হয়েছে; তাই যে কোনো ব্যক্তির যেখানে সালাতের সময় হবে সে সেখানেই সালাত আদায় করবে; আমাকে এক মাসের দূরত্ব পর্যন্ত শত্রুর অন্তরে প্রভাব-ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে এবং আমাকে শাফায়াত (সুপারিশ) করার অধিকার দান করা হয়েছে»।

এবং ইমাম বুখারী এটি তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থের তায়াম্মুম (পবিত্রতা) অধ্যায়ে (অনুচ্ছেদ: তায়াম্মুম) (৩৩৫ নং হাদিস), এবং সালাত অধ্যায়ে (অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে») (৪৩৮ নং হাদিস), এবং খুমুস ফরয হওয়া অধ্যায়ে (অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «আমার জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে») (৩১২২ নং হাদিস) সংক্ষিপ্তভাবে এবং কেবল এই পরিচ্ছেদে উল্লিখিত শব্দাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
الأوثانِ، والفواحش -التي حرّم الله تعالى- مدّة طويلةً، لم يُؤمر في شيءٍ من تلك المدّة بقتال؛ بل كان يؤمر بالإعراض عنهم، وبالصَّفح الجميل، والصَّبرِ على أذاهم؛ إمهالاً من الله -تعالى-، وإبلاغاً في الحجَّة، وإعذاراً في المُدَّة.

قال الله -تعالى-: {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} [الحجر: 94] ، وقال -تعالى-: {فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ} [البقرة: 109] ، وقال -سبحانه-: {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُوْلُوا الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلا تَسْتَعْجِل لَهُمْ} [الأحقاف: 35] .

ولم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم مُعلناً بالرسالة والنَّذارة، صابراً على ما يناله في ذلك من الأَذى، ناصِحاً لهم، مُحتسباً ما أصابه فيهم، إلى أن آمن بالله وبما جاء به رسول الله صلى الله عليه وسلم مَنْ أراد الله -تعالى- به خيراً، وجعل له نوراً، وعاندَ من شاء الله

-تعالى-، وأقام رسول الله صلى الله عليه وسلم على ذلك بمكة عشر سنين، وقيل: ثلاث عشر سنة، وفي ذلك يقول أبو قيس صِرمة بن أبي أنس بن صِرمة؛ من بني النَّجار (1) :

--------------------------------------------

(1) قال ابن هشام في «السيرة النبوية» (ص 510) في نَسَبِه: أبو قيس، صِرمة بن أبي أنس بن صِرمة بن مالك بن عَديِّ بن عامر بن غنم بن عدي بن النجار. وقال ابن إسحاق: وكان رجلاً قد ترهَّب في الجاهلية، ولبس المسوح، وفارق الأوثان، واغتسل من الجنابة، وتطهّر من الحائض من النساء، وهمَّ بالنصرانية، ثم أمسك عنها، ودخل بيتاً له، فاتخذه مسجداً، لا تدخل عليه طامث ولا جنب، وقال: أعبد ربَّ إبراهيم، حين فارق الأوثان وكرهها، حتَّى قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة، فأسلم وحَسُنَ إسلامه، وهو شيخٌ كبير، وكان قوَّالاً بالحق، معظماً لله عز وجل في جاهليته، يقول أشعاراً في ذلك حِساناً.

أخرج الحاكم في «المستدرك» (2/683/ رقم 4255- ط دار الكتب العلمية) -وعنه البيهقي في «دلائل النبوة» (2/513) - عن إبراهيم بن ديزيل، عن إبراهيم بن المنذر، ثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو بن دينار؛ قال: قلت لعروة بن الزبير: كم لبث النبي صلى الله عليه وسلم؟ قال: عشر سنين. قلت: فإن ابن عباس يقول: لبث بضع عشرة حجة. قال: إنما أخذه من قول الشاعر. قال سفيان بن عيينة: ثنا يحيى بن سعيد؛ قال: سمعتُ عجوزاً من الأنصار تقول: رأيت ابن عباس يختلف إلى صرمة بن قيس يتعلم منه هذه الأبيات … » وساق سبعة أبيات، أولها البيت المذكور.

قلت: وهذا إسناد ضعيف من أجل المبهم الذي فيه. =
প্রতিমা এবং অশ্লীলতা—যা মহান আল্লাহ হারাম করেছেন—দীর্ঘ সময় ধরে এগুলোর মধ্যে থাকাকালীন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যুদ্ধের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি; বরং তাঁকে তাদের থেকে বিমুখ থাকার, সুন্দরভাবে ক্ষমা করার এবং তাদের নির্যাতনে ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবকাশ দান, অকাট্য প্রমাণ পৌঁছানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওজর পেশের সুযোগ দান।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব তোমাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে প্রচার করো এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও} [আল-হিজর: ৯৪]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {অতএব তোমরা ক্ষমা করো এবং মার্জনা করো, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর কোনো ফয়সালা নিয়ে আসেন} [আল-বাকারাহ: ১০৯]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ করো, যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসুলগণ, আর তাদের জন্য তড়িঘড়ি করো না} [আল-আহকাফ: ৩৫]।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিসালাত ও সতর্কবাণী প্রচার অব্যাহত রাখেন এবং এতে যে কষ্ট আসত তাতে ধৈর্য ধারণ করতেন। তিনি তাদের কল্যাণকামী ছিলেন এবং তাদের পক্ষ থেকে যে বিপদের সম্মুখীন হতেন তাতে আল্লাহর নিকট প্রতিদানের আশা রাখতেন। অবশেষে মহান আল্লাহ যার জন্য কল্যাণ চেয়েছেন এবং যার জন্য হেদায়াতের নূর রেখেছেন, সে আল্লাহর প্রতি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমান আনল। আর যার ব্যাপারে আল্লাহ চাইলেন সে হঠকারিতা করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেন; কেউ কেউ বলেন তেরো বছর। এই প্রসঙ্গে বনু নাজ্জারের (১) আবু কায়স সিরমা ইবনে আবি আনাস ইবনে সিরমা বলেন:

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ-তে (পৃ. ৫১০) তাঁর বংশপরিচয় প্রসঙ্গে বলেছেন: আবু কায়স, সিরমা ইবনে আবি আনাস ইবনে সিরমা ইবনে মালিক ইবনে আদি ইবনে আমির ইবনে গানম ইবনে আদি ইবনে আন-নাজ্জার। ইবনে ইসহাক বলেন: তিনি জাহেলি যুগে বৈরাগ্য অবলম্বন করেছিলেন, পশমের কাপড় পরিধান করতেন, প্রতিমা ত্যাগ করেছিলেন, জানাবাত থেকে গোসল করতেন এবং ঋতুবতী নারীদের থেকে পবিত্র থাকতেন। তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করেন, পরে তা থেকে বিরত থাকেন। তিনি একটি ঘরে প্রবেশ করেন এবং সেটিকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করেন, সেখানে কোনো ঋতুবতী বা অপবিত্র ব্যক্তি প্রবেশ করত না। প্রতিমা ত্যাগ করে ও তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে তিনি বলতেন: 'আমি ইবরাহিমের রবের ইবাদত করছি'। অবশেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণ অত্যন্ত সুন্দর ছিল। তিনি ছিলেন একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি এবং সত্যের প্রবক্তা। জাহেলি যুগেও তিনি মহান আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করতেন এবং এ বিষয়ে চমৎকার কবিতা রচনা করতেন।

হাকেম আল-মুস্তাদরাক-এ (২/৬৮৩/ নং ৪২৫৫- দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে বায়হাকি দালাইলুন নুবুওয়াহ-তে (২/৫১৩) বর্ণনা করেছেন—ইবরাহিম ইবনে দিজিল থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে আল-মুনজির থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আমি উরওয়াহ ইবনে আজ-যুবাইরকে জিজ্ঞাসা করলাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত বছর অবস্থান করেছিলেন? তিনি বললেন: দশ বছর। আমি বললাম: ইবনে আব্বাস তো বলেন দশ বছরের কিছু বেশি বছর (হজ্জের মৌসুম) অবস্থান করেছিলেন। তিনি বললেন: তিনি এটা একজন কবির কথা থেকে গ্রহণ করেছেন। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি আনসারদের একজন বৃদ্ধাকে বলতে শুনেছি: আমি ইবনে আব্বাসকে সিরমা ইবনে কায়সের নিকট যাতায়াত করতে দেখেছি, তিনি তাঁর কাছ থেকে এই কবিতাগুলো শিখছিলেন... অতঃপর তিনি সাতটি পঙক্তি উল্লেখ করেন যার প্রথম পঙক্তিটি উপরে বর্ণিত হয়েছে।

আমি বলছি: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সূত্র (إسناد), কারণ এতে জনৈক অস্পষ্ট বা নামহীন বর্ণনাকারী (مبهم) রয়েছে। =
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
ثَوَى في قريشٍ بِضْعَ عشرةَ حِجَّةً … يذكِّر لو يَلْقى صديقاً مُواتيا (1)

 

ثم لما أراد الله -تعالى- إنفاذَ الوعيد فيمن أهلكه من كفار قريش، وعظماء أهل الشرك بمكة: أذِن الله تعالى لرسوله صلى الله عليه وسلم في الهجرة منها إلى المدينة، فخرج، ولمَّا يؤمر حينئذٍ بقتال، ثم أذن له في القتال بَعْدُ.

خرّج النسائي (2) عن ابن عباس قال: لما أخرج النبي صلى الله عليه وسلم من مكة؛ قال أبو

بكر:

--------------------------------------------

= وقال الحاكم: «هذا حديث صحيح على شرط الشيخين، ولم يخرجاه» .

قلت: خرَّجه مسلم في «صحيحه» (4/1825-1826) مختصراً هكذا: حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو؛ قال: «قلتُ لعروة: كم لبث النبي صلى الله عليه وسلم بمكة؟ قال: عشراً. قلت: فإنَّ ابن عباس يقول: بضع عشرة. قال: فغفَّره. وقال: إنما أخذه من قول الشاعر» .

وأخرجه البيهقي في «الدلائل» (2/513) عن عبد الله بن الزبير الحميدي، والشجري في «أماليه» (1/74) عن أبي مطرف محمد بن أبي الوزير؛ والدينوري في «المجالسة» (رقم 779- بتحقيقي) من طريق إبراهيم بن المنذر، كلهم عن سفيان، عن يحيى بن سعيد، به.

وقال ابن إسحاق -وهو في «سيرة ابن هشام» (2/158) - ومن طريقه البيهقي في «الدلائل» (2/515) -: «وقال صرمة بن قيس … » ، وذكر البيت ضمن أبياتٍ يذكر فيها ما أكرمهم الله تبارك وتعالى به من الإسلام، وما خصَّهم الله به من نزول رسول الله صلى الله عليه وسلم.

والخبر في: «المعارف» (ص 61، 151) ، و «التعازي والمراثي» (126) للمبرد، و «أسد الغابة» (3/18) ، و «الإصابة» (2/183) ، و «سيرة ابن كثير» (2/283) ، و «منح المدح» (129-130) .

(1) ثَوى: أي: أقام. ومواتياً: موافقاً.

(2) في «المجتبى» في كتاب الجهاد (باب وجوب الجهاد) (6/2/رقم 3085) ، وفي «الكبرى» : كتاب «التفسير» ، تفسير سورة الحج (144/363) .

وأخرجه أحمد (1/216) ، والترمذي (3171) -وقال: هذا حديث حسن-، وابن جرير في «التفسير» (17/172) ، وابن حبان (4710) ، والحاكم (2/66، 246، 390 و3/7-8) ، والطبراني (12336) ، والبزار في «البحر الزخار» (1/69/ رقم 16) ، من طرق عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، به.

ولم يرد عندهم قول ابن عباس: هي أول آية نزلت في القتال.

وقال الحاكم: على شرط الشيخين، وأقره الذهبي. وهو كما قالا.

وأخرجه الترمذي (3172) ، والطبري (17/172) عن سعيد بن جبير مرسلاً. =
তিনি কুরাইশদের মাঝে দশ বছরের কিছু অধিক কাল অবস্থান করেছিলেন … তিনি উপদেশ দিতেন যদি কোনো অনুকূল বন্ধু খুঁজে পেতেন। (১)

 

অতঃপর আল্লাহ তাআলা যখন কুরাইশ কাফের এবং মক্কার অংশীবাদী নেতাদের মধ্য থেকে যাদের ধ্বংস করবেন বলে নির্ধারিত ছিল, তাদের ব্যাপারে তাঁর সতর্কবাণী বাস্তবায়নের ইচ্ছা করলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার অনুমতি দান করলেন। ফলে তিনি বের হলেন, আর তখন পর্যন্ত যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়নি, পরবর্তীতে তাঁকে যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

নাসাঈ (২) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা থেকে বের করে দেওয়া হলো, তখন আবু বকর বললেন:

--------------------------------------------

= হাকিম বলেছেন: "এটি শায়খাইনের শর্তানুযায়ী একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস, তবে তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি।"

আমি বলছি: মুসলিম তাঁর সহিহ (৪/১৮২৫-১৮২৬) গ্রন্থে সংক্ষেপে এভাবে বর্ণনা করেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি উমর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আমর থেকে; তিনি বলেন: "আমি উরওয়াহকে জিজ্ঞেস করলাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় কতদিন অবস্থান করেছিলেন? তিনি বললেন: দশ বছর। আমি বললাম: ইবনে আব্বাস তো বলছেন দশ বছরের কিছু অধিক। তিনি (উরওয়াহ) তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং বললেন: তিনি মূলত এটি কবির কথা থেকে গ্রহণ করেছেন।"

বায়হাকি আদ-দালাইল (২/৫১৩) গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের আল-হুমাইদি থেকে, শাজারি তাঁর আমালি (১/৭৪) গ্রন্থে আবু মুতাররিফ মুহাম্মদ ইবনে আবিল উযাইর থেকে এবং দিনাওয়ারি আল-মুজালাসা (নং ৭৭৯ - আমার সম্পাদনায়) গ্রন্থে ইব্রাহিম ইবনুল মুনযিরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই সুফিয়ান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে ইসহাক বলেন - এবং এটি সিরাত ইবনে হিশাম (২/১৫৮) গ্রন্থে রয়েছে এবং তাঁর সূত্রে বায়হাকি আদ-দালাইল (২/৫১৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন - : "সিরমাহ ইবনে কাইস বলেছিলেন … ", এবং তিনি এই কবিতাটি এমন কিছু চরণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইসলাম প্রদানের মাধ্যমে তাঁদেরকে কীভাবে সম্মানিত করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের মাধ্যমে তাঁদেরকে কী কী বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন।

আর এই বর্ণনাটি আল-মাআরিফ (পৃ. ৬১, ১৫১), মুবাররাদের আত-তাআজি ওয়াল মারাছি (১২৬), আসাদুল গাবাহ (৩/১৮), আল-ইসাবাহ (২/১৮৩), সিরাত ইবনে কাসির (২/২৮৩) এবং মিনহুল মাদহ (১২৯-১৩০) গ্রন্থে রয়েছে।

(১) ছাওয়া: অর্থাৎ অবস্থান করা। আর মুওয়াতিয়ান: অর্থাৎ অনুকূল।

(২) আল-মুজতাবা গ্রন্থের কিতাবুল জিহাদ (জিহাদ ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ) (৬/২/নং ৩০৮৫) এবং আল-কুবরা গ্রন্থের কিতাবুত তাফসির, সূরা আল-হজ্জের তাফসির (১৪৪/৩৬৩) অংশে।

আহমদ (১/২১৬) এটি বর্ণনা করেছেন, আর তিরমিজি (৩১৭১) বর্ণনা করে বলেছেন: "এটি একটি উত্তম (حسن) হাদিস।" ইবনে জারির তাঁর তাফসির (১৭/১৭২) গ্রন্থে, ইবনে হিব্বান (৪৭১০), হাকিম (২/৬৬, ২৪৬, ৩৯০ এবং ৩/৭-৮), তাবারানি (১২৩৩৬) এবং বাযযার তাঁর আল-বাহরুয যাখখার (১/৬৯/ নং ১৬) গ্রন্থে সাঈদ ইবনে জুবায়েরের একাধিক সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

তাদের বর্ণনায় ইবনে আব্বাসের এই কথাটি নেই যে: "এটিই যুদ্ধের বিষয়ে নাযিল হওয়া প্রথম আয়াত।"

হাকিম বলেছেন: এটি শায়খাইনের শর্তানুযায়ী, আর যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। বিষয়টি তেমনই যেমনটি তাঁরা উভয়ে বলেছেন।

তিরমিজি (৩১৭২) এবং তাবারানি (১৭/১৭২) এটি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। =
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
«أَخْرَجُوا نبيَّهم، إنا لله وإنا إليه راجعون، ليهلكنّ» ؛ فنزلت: {أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُواْ وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ} [الحج: 39] . قال: «فَعَرفْتُ أنه سيكون قتال» . قال ابن عباس: فهي أول آية نزلت في القتال.

وكذلك روى القاضي إسماعيل في «أحكام القرآن» (1) عن عروة بن الزبير: أنها أوَّل آيةٍ نزلت في القتال، وقاله قتادة وغيره (2) . وقد روي عن الربيع بن أنس (3) وغيرهِ أن أول آيةٍ نزلت في القتال: {وَقَاتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ

--------------------------------------------

= وعزاه ابن كثير في «التفسير» (3/225) ، والسيوطي في «الدر المنثور» (6/57) إلى ابن أبي حاتم.

وهو في «تفسيره» (8/2496/ رقم 13961) .

وأخرجه عبد الرزاق في «تفسيره» (2/39) مقتصراً على قول ابن عباس.

وذكره الدارقطني في «العلل» (1/214-215/ السؤال 22) ، ومال إلى ترجيح الوصل.

وعزاه السيوطي في «الدر المنثور» (6/57) إلى ابن المنذر، وابن مردويه، والطبراني.

وانظر: «الإقناع» لابن المنذر (2/447) ، و «لباب النقول في أسباب النزول» للسيوطي (ص 150) ، و «الصحيح المسند من أسباب النزول» للشيخ مقبل بن هادي الوادعي -رحمه الله تعالى- (ص 101) .

(1) قال الذهبي في «السير» (13/340) عنه: «لم يسبق إلى مثله» .

قلت: ومنه قطعة لا بأس بها في الزيتونة بتونس، ولم ينشر الكتاب بعد، يسّر الله له جادّاً من طلبة العلم.

وأثر عروة، أخرجه ابن أبي حاتم في «التفسير» (8/2496) رقم (13963) ولم يعزه السيوطي في «الدر» (6/57) إلَاّ له، وهو عند ابن إسحاق في «السيرة» (2/467-468- ط. حميد الله) ، والبلاذري في «أنساب الأشراف» (1/286) ، وسنده صحيح.

وذكره الزرقاني في «شرح المواهب اللدنية» (1/317، 387) ، وهو في «مغازي عروة» (ص 124/ رقم 107) تجميع سلوى الطاهر.

(2) أخرج عبد الرزاق في «تفسيره» (2/39) عن معمر عن قتادة قال: هي أول آية نزلت في القتال، وأذن لهم أن يُقاتلوا. وعزاه السيوطي في «الدر المنثور» (6/58) إلى ابن المنذر وعبد الرزاق، عن أبي هريرة رضي الله عنه.

(3) أخرجه ابن جرير في «التفسير» (2/189) عن أبي جعفر، عن الربيع قوله. وأخرجه ابن =
«তারা তাদের নবীকে বের করে দিয়েছে; ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, তারা অবশ্যই ধ্বংস হবে»; অতঃপর অবতীর্ণ হলো: {যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হলো, কারণ তারা নির্যাতিত; আর আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম} [হজ্জ: ৩৯]। তিনি বলেন: «আমি বুঝতে পারলাম যে শীঘ্রই যুদ্ধ সংঘটিত হবে»। ইবনে আব্বাস বলেন: এটিই যুদ্ধের বিষয়ে অবতীর্ণ প্রথম আয়াত।

একইভাবে কাজী ইসমাইল তার ‘আহকামুল কুরআন’ (১) গ্রন্থে উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এটি যুদ্ধের বিষয়ে অবতীর্ণ প্রথম আয়াত; কাতাদাহ এবং অন্যান্যরাও (২) একই কথা বলেছেন। আর রাবি বিন আনাস (৩) এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যুদ্ধের বিষয়ে অবতীর্ণ প্রথম আয়াত হলো: {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে...}

--------------------------------------------

= এবং ইবনে কাসীর ‘তাফসির’ গ্রন্থে (৩/২২৫) এবং সুয়ূতী ‘আদ-দুররুল মানসুর’ গ্রন্থে (৬/৫৭) একে ইবনে আবি হাতিমের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন।

এটি তাঁর ‘তাফসির’ গ্রন্থে (৮/২৪৯৬/ নম্বর ১৩৯৬১) রয়েছে।

এবং আবদুর রাজ্জাক এটি তাঁর ‘তাফসির’ গ্রন্থে (২/৩৯) কেবল ইবনে আব্বাসের উক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে উদ্ধৃত করেছেন।

আর দারাকুতনি এটি ‘আল-ইলাল’ গ্রন্থে (১/২১৪-২১৫/ প্রশ্ন ২২) উল্লেখ করেছেন এবং একে সংযুক্ত (موصول) হিসেবে বর্ণনা করার দিকেই মত দিয়েছেন।

এবং সুয়ূতী ‘আদ-দুররুল মানসুর’ গ্রন্থে (৬/৫৭) একে ইবনে মুনজির, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং তাবারানির দিকে সম্বন্ধিত করেছেন।

আরও দেখুন: ইবনে মুনজিরের ‘আল-ইকনা’ (২/৪৪৭), সুয়ূতীর ‘লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুযুল’ (পৃষ্ঠা ১৫০) এবং শেখ মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিয়ি—রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা—এর ‘আস-সহিহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল’ (পৃষ্ঠা ১০১)।

(১) জাহাবি ‘আস-সিয়ার’ গ্রন্থে (১৩/৩৪০) এর সম্পর্কে বলেছেন: «এর অনুরূপ আগে কেউ কাজ করেনি»।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তিউনিসিয়ার যাইতুনায় রয়েছে এবং বইটি এখনও প্রকাশিত হয়নি; আল্লাহ কোনো পরিশ্রমী ইলম অন্বেষীর জন্য এর কাজ সহজ করে দিন।

আর উরওয়াহ-এর বর্ণনা (أثر) ইবনে আবি হাতিম ‘তাফসির’ গ্রন্থে (৮/২৪৯৬) নম্বর (১৩৯৬৩) উদ্ধৃত করেছেন এবং সুয়ূতী ‘আদ-দুরর’ গ্রন্থে (৬/৫৭) কেবল তাঁর দিকেই এটি সম্বন্ধিত করেছেন। এটি ইবনে ইসহাকের ‘আস-সিরাহ’ (২/৪৬৭-৪৬৮ - হামিদুল্লাহ সংস্করণ) এবং বালাযুরির ‘আনসাবুল আশরাফ’ (১/২৮৬) গ্রন্থে রয়েছে এবং এর সনদটি বিশুদ্ধ (صحيح)।

এবং যারকানি এটি ‘শারহুল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়াহ’ (১/৩১৭, ৩৮৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এটি সালওয়া আত-তাহিরের সংকলিত ‘মাগাজি উরওয়াহ’ (পৃষ্ঠা ১২৪/ নম্বর ১০৭) গ্রন্থে রয়েছে।

(২) আবদুর রাজ্জাক তার ‘তাফসির’ গ্রন্থে (২/৩৯) মা'মার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি যুদ্ধের বিষয়ে অবতীর্ণ প্রথম আয়াত এবং তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। আর সুয়ূতী ‘আদ-দুররুল মানসুর’ গ্রন্থে (৬/৫৮) একে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করে ইবনে মুনজির ও আবদুর রাজ্জাকের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন।

(৩) ইবনে জারির তার ‘তাফসির’ গ্রন্থে (২/১৮৯) আবু জাফর থেকে, তিনি রাবি-এর উক্তি হিসেবে এটি উদ্ধৃত করেছেন। এবং ইবনে...
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَلَا تَعْتَدُواْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [البقرة: 190] ، أي: قاتلوا من قاتلكم، وكُفَّوا عمَّن كفَّ عنكم، لا تعتدوا بقتاله. هذا أحد التأويلات في الآية.

قال إسماعيل: إنما أَذِنَ الله -تبارك اسمه- للنبي صلى الله عليه وسلم في القتال بعد قدومه المدينة، ثم أُمِرَ صلى الله عليه وسلم بالقتال على أحوالٍ كانت؛ كان يؤمر فيها بالقتال، فمنها -والله

أعلم- هذه الآية وغيرها، يعني: قوله -تعالى-: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا} [البقرة: 190] ، ثُمَّ نسِخ ذلك كلُّه، وأمر بقتال المشركين كافَّة. وإلى ما ذكر القاضي إسماعيل ذهبَ كثيرٌ من أهل العلم في حمل الآيات الواردة في ذلك على أحوال؛ فمنها قوله -تعالى-: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُواْ} [البقرة: 190] ، فهذا لم يؤذن فيه في قتال من لم يقاتل، بل قال -تعالى-: {فَإِنِ اعْتَزَلُوكُمْ فَلَمْ يُقَاتِلُوكُمْ وَأَلْقَوْا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ فَمَا جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلاً} [النساء: 90] ، وقال -تعالى- فيمن يقاتل: {فَإِن لَّمْ يَعْتَزِلُوكُمْ وَيُلْقُواْ إِلَيْكُمُ السَّلَمَ وَيَكُفُّواْ أَيْدِيَهُمْ فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأُوْلَئِكُمْ جَعَلْنَا لَكُمْ عَلَيْهِمْ سُلْطَاناً مُّبِيناً} [النساء: 91] ، وكذلك قوله -تعالى-: {وَلَا تُقَاتِلُوهُمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّى يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ فَإِن قَاتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ} [البقرة: 191] ، فلم يؤمروا أن يبدؤوهم عند المسجد الحرام بقتال، حتى يكونوا هم يقاتلون، وكذلك قوله -تعالى-: {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ قَاتِلُواْ الَّذِينَ يَلُونَكُمْ مِّنَ الْكُفَّارِ} [التوبة: 123] ، ففي هذا بعض التوسيع عمّا تضمَّنتهُ الآي قبل هذا؛ من أنه لا يُقاتلُ إلا من قاتل، فكان الأمر هنا أعمَّ في الكفار الأدْنَين، فالآية تتضمن قتالهم على كل حال؛ قاتلوا أو لم يُقاتلوا، ثم نَسَخَ الله -تعالى- كلَّ كفٍّ ومهادنةٍ بقي في أمر الكفار بعد الإمهال والإعذار، وإيعاب البلاغ والإنذار، فقال -تعالى-: {فَإِذَا انسَلَخَ الأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُواْ الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُواْ لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ} [التوبة: 5] ، وقال -تعالى-: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ

--------------------------------------------

= أبي حاتم في «تفسيره» (1/325/ رقم 1719) عن الربيع، عن أبي العالية، من قوله.
{আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।} [আল-বাকারা: ১৯০], অর্থাৎ: যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং যারা তোমাদের থেকে বিরত থাকে তোমরাও তাদের থেকে বিরত থাকো; তাকে হত্যার মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন করো না। এটি আয়াতের অন্যতম ব্যাখ্যা (تأويل)।

ইসমাইল বলেন: আল্লাহ — তাঁর নাম বরকতময় হোক — নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কেবল মদীনায় আগমনের পরেই যুদ্ধের অনুমতি প্রদান করেছেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বিভিন্ন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; যে সকল পরিস্থিতিতে তাঁকে যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে — আল্লাহ সর্বজ্ঞ — এই আয়াত এবং অন্যান্য আয়াতও রয়েছে। অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং সীমালঙ্ঘন করো না।} [আল-বাকারা: ১৯০]। অতঃপর এই সবকিছুই রহিত (نسخ) হয়ে যায় এবং সমস্ত মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাজী ইসমাইল যা উল্লেখ করেছেন, অনেক আলেমই এই বিষয়ে বর্ণিত আয়াতসমূহকে বিভিন্ন পরিস্থিতির ওপর প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে একই মত পোষণ করেছেন। তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং সীমালঙ্ঘন করো না।} [আল-বাকারা: ১৯০]। এখানে যারা যুদ্ধ করেনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি; বরং মহান আল্লাহ বলেছেন: {সুতরাং তারা যদি তোমাদের থেকে পৃথক থাকে (যুদ্ধ না করে) এবং তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে তোমাদের কাছে সন্ধি প্রস্তাব পাঠায়, তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে (যুদ্ধের) কোনো পথ রাখেননি।} [আন-নিসা: ৯০]। আর যারা যুদ্ধ করে তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক না হয়, তোমাদের কাছে সন্ধি প্রস্তাব না পাঠায় এবং তাদের হাত গুটিয়ে না রাখে, তবে তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাও ধরো এবং হত্যা করো। আর আমি তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ ও অধিকার দিয়েছি।} [আন-নিসা: ৯১]। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর মসজিদে হারামের নিকট তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করা পর্যন্ত তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো না। তবে যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তবে তোমরা তাদেরকে হত্যা করো।} [আল-বাকারা: ১৯১]। সুতরাং তারা যুদ্ধ শুরু না করা পর্যন্ত মসজিদে হারামের নিকট তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, কাফেরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের সাথে যুদ্ধ করো।} [আত-তাওবাহ: ১২৩]। এতে পূর্ববর্তী আয়াতগুলোর তুলনায় কিছুটা প্রশস্ততা রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে কেবল তাদের সাথেই যুদ্ধ করা যাবে যারা যুদ্ধ করে। এখানে নির্দেশটি নিকটবর্তী কাফেরদের ক্ষেত্রে ব্যাপক ছিল; ফলে আয়াতটি সকল অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে অন্তর্ভুক্ত করে, তারা যুদ্ধ করুক বা না করুক। অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবকাশ ও অজুহাত পেশের সুযোগ দেওয়ার পর এবং দাওয়াত ও সতর্কবার্তা পরিপূর্ণরূপে পৌঁছানোর পর কাফেরদের ব্যাপারে অবশিষ্ট সকল প্রকার যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা ও সন্ধিচুক্তি রহিত (نسخ) করে দেন। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের যেখানেই পাবে হত্যা করো, তাদেরকে ধরো, তাদেরকে ঘেরাও করো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওত পেতে বসে থাকো।} [আত-তাওবাহ: ৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন [আল্লাহর জন্য নির্ধারিত হয়]...}

--------------------------------------------

= ইবনে আবি হাতিম তাঁর 'তাফসির'-এ (১/৩২৫/ নম্বর ১৭১৯) রাবী' থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে তাঁর উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
كُلُّهُ لله} [الأنفال: 39] ، وقال -تعالى-: {وَقَاتِلُواْ الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ} [التوبة: 36] (1) .

فصلٌ: في بيان ما استقرّ عليه الأمر بالجهاد

اختلف أهل العلم في مقتضى الآيات الواردة بالتشديد والتعميم في الأمر

--------------------------------------------

(1) ذكر الإمام ابن جرير في «التفسير» (2/189-190) قول من قال بالنسخ، وقول من قال: يقاتل من قاتله، ويكفّ عمَّن كفَّ عنه، حتى نزلت آية التوبة. وأخرج بسنده إلى سعيد بن عبد العزيز قال: كتب عمر بن عبد العزيز إلى عديّ بن أرطاة: إني وجدت آية في كتاب الله {وَقَاتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُواْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [البقرة: 190] أي: لا تقاتل من لا يقاتلك، يعني: النساء، والصبيان، والرهبان.

ثم قال: وأولى هذين القولين بالصواب: القول الذي قاله عمر بن عبد العزيز؛ لأن دعوى المدعي نسخ آية يحتمل أن تكون غير منسوخة بغير دلالة على صحة دعواه تحكم، والتحكم لا يعجز عنه أحد.

فتأويل الآية إذا كان الأمر على ماوصفنا: وقاتلوا أيها المؤمنون في سبيل الله، وسبيله: طريقه الذي أوضحه، ودينه الذي شرعه لعباده، يقول لهم تعالى ذكره: قاتلوا في طاعتي، وعلى ما شرعت لكم من ديني، وادعوا إليه من ولى عنه، واستكبر بالأيدي والألسن، حتى ينيبوا إلى طاعتي، أو يعطوكم الجزية صغاراً إن كانوا أهل كتاب. وأمرهم -تعالى ذكره- بقتال من كان فيه قتال من مقاتلة أهل الكفر دون من لم يكن فيه قتال من نسائهم وذراريهم، فإنهم أموال وخول لهم إذا غلب المقاتلون منهم فقهروا، فذلك معنى قوله: {وَقَاتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ} [البقرة: 190] ؛ لأنه أباح الكفّ عمن كفّ، فلم يقاتل من مشركي أهل الأوثان والكافين عن قتال المسلمين من كفار أهل الكتاب، على إعطاء الجزية صغاراً.

فمعنى قوله {وَلَا تَعْتَدُواْ} : لا تقتلوا وليداً ولا امرأة ولا من أعطاكم الجزية من أهل الكتابين والمجوس، {إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} : الذين يجاوزون حدوده. فيستحلون ماحرمه الله عليهم من قتل هؤلاء الذين حرم قتلهم من نساء المشركين وذراريهم.

وانظر: «تفسير ابن كثير» (1/242) .

وسيأتي في الباب كلام للمصنف أنه لا نسخ في آية القتال ولا آية الكف، ولا المنّ ولا الفداء، وأنها كلها محكمة، وأن إعمال بعض الآيات دون بعض يكون في بعض المواطن في القتال دون بعض، وأن هذا راجع إلى رأي الإمام في ذلك، وهو الصواب، والله الموفّق والهادي.
...সবকিছুই আল্লাহর জন্য হবে} [আল-আনফাল: ৩৯], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করো, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে। আর জেনে রাখো যে, আল্লাহ মুত্তাকীদের (সাবধানীদের) সাথে আছেন} [আত-তাওবাহ: ৩৬] (১)।

পরিচ্ছেদ: জিহাদের নির্দেশ যে বিষয়ের ওপর স্থির হয়েছে তার বর্ণনায়

আলেমগণ এই নির্দেশের কঠোরতা ও ব্যাপকতা সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াতসমূহের দাবি বা উদ্দেশ্য নিয়ে মতভেদ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম ইবনে জারীর তাঁর ‘তাফসীর’-এ (২/১৮৯-১৯০) যারা রহিতকরণের (النسخ) কথা বলেন তাদের অভিমত উল্লেখ করেছেন, আবার যারা বলেন: যে যুদ্ধ করবে তার সাথেই যুদ্ধ করা হবে এবং যে বিরত থাকবে তার থেকে বিরত থাকা হবে (যতক্ষণ না সূরা তাওবাহ-এর আয়াত নাযিল হয়) তাদের মতও বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তাঁর সনদ (سند) এর মাধ্যমে সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আযীয আদী ইবনে আরতাহ-এর নিকট লিখেছিলেন: আমি আল্লাহর কিতাবে একটি আয়াত পেয়েছি {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তবে সীমালঙ্ঘন করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} [আল-বাকারা: ১৯০] অর্থাৎ: যে তোমার সাথে যুদ্ধ করে না তার সাথে যুদ্ধ করো না; অর্থাৎ নারী, শিশু এবং সন্ন্যাসীগণ।

অতঃপর তিনি বলেন: এই দুই অভিমতের মধ্যে সঠিকতার নিকটতর হলো উমর ইবনে আব্দুল আযীয যা বলেছেন সেই অভিমতটি; কারণ কোনো আয়াতের রহিতকরণের (نسخ) দাবি করা এমন অবস্থায় যখন তা রহিত না হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ (دلالة) নেই, তা কেবল একটি একতরফা সিদ্ধান্ত (تحكم), আর একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে কেউ অক্ষম নয়।

সুতরাং আয়াতের ব্যাখ্যা (تأويل) যদি আমাদের বর্ণিত অবস্থা অনুযায়ী হয় তবে তা হলো: হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো। আর তাঁর পথ হলো সেটি যা তিনি স্পষ্ট করেছেন এবং তাঁর দ্বীন যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বিধান হিসেবে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলছেন: তোমরা আমার আনুগত্যে এবং আমি তোমাদের জন্য যে দ্বীন প্রবর্তন করেছি তার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধ করো, আর যারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং হাত ও জিহ্বা দ্বারা অহংকার প্রদর্শন করে তাদের সেই দ্বীনের দিকে আহ্বান করো, যতক্ষণ না তারা আমার আনুগত্যের দিকে ফিরে আসে অথবা তারা যদি আহলে কিতাব হয় তবে বিনীতভাবে জিযিয়া প্রদান করে। এবং মহান আল্লাহ তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে কুফফারদের মধ্যে যারা যুদ্ধ করতে সক্ষম (মুকাতিল) তাদের সাথে যুদ্ধ করতে, তাদের নারী ও সন্তানদের বাদ দিয়ে যারা যুদ্ধে লিপ্ত নয়; কারণ তারা তো বিজয়ী হওয়ার পর মুমিনদের জন্য সম্পদ ও দাস হবে। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ: {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে} [আল-বাকারা: ১৯০]; কারণ তিনি তাদের থেকে বিরত থাকার অনুমতি দিয়েছেন যারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকে, ফলে তিনি মূর্তিপূজক মুশরিকদের মধ্যে যারা বিরত থাকে এবং আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা জিযিয়া দিয়ে মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকে তাদের সাথে যুদ্ধ করতে বলেননি।

সুতরাং তাঁর বাণী {আর সীমালঙ্ঘন করো না}-এর অর্থ হলো: তোমরা কোনো শিশু, নারী কিংবা আহলে কিতাব ও অগ্নিপূজকদের মধ্যে যারা জিযিয়া দিয়েছে তাদের হত্যা করো না। {নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না}: অর্থাৎ যারা তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে এবং মুশরিকদের নারী ও সন্তানদের মধ্য হতে যাদের হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাদের হত্যা করাকে বৈধ (হালাল) মনে করে।

আরও দেখুন: ‘তাফসীর ইবনে কাসীর’ (১/২৪২)।

সামনে এই অধ্যায়ে গ্রন্থকারের আলোচনা আসবে যে, যুদ্ধের আয়াতে বা বিরত থাকার আয়াতে, কিংবা অনুগ্রহ প্রদর্শন (المنّ) বা মুক্তিপণ (الفداء) গ্রহণের আয়াতে কোনো রহিতকরণ (نسخ) নেই; বরং এগুলোর সবগুলোই সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة)। কিছু আয়াতের প্রয়োগ অন্যগুলোর পরিবর্তে যুদ্ধের বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে হয় এবং এটি ইমাম বা নেতার মতামতের ওপর নির্ভরশীল। আর এটিই সঠিক মত; আল্লাহই তাওফিকদাতা ও সঠিক পথপ্রদর্শক।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بالقتال من قوله -تعالى-: {وَقَاتِلُواْ الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً} [التوبة: 36] ، وقوله

-تعالى-: {انْفِرُواْ خِفَافاً وَثِقَالاً} [التوبة: 41] ، و {إِلَاّ تَنفِرُواْ يُعَذِّبْكُمْ} [التوبة: 39] ، و {مَا كَانَ لأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَنْ حَوْلَهُمْ مِّنَ الأَعْرَابِ أَن يَتَخَلَّفُواْ عَن رَّسُولِ اللَّهِ وَلَا يَرْغبُواْ بِأَنْفُسِهِمْ عَن نَّفْسِهِ} [التوبة: 120] ؛ فقيل: كان فرض الجهاد في أول الأمر على جميع المسلمين كافة؛ إلا من عَذَرَه الله -تعالى-، ثم نسخ ذلك بالكفاية، قال الله -تعالى-: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ} [التوبة: 122] ، رُوي ذلك عن ابن عباس؛ خرَّجه عنه أبو داود (1) .

--------------------------------------------

(1) في «سننه» في كتاب الجهاد (باب في نسخ نَفير العامَّة بالخاصة) (رقم 2505) ، ومن طريقه ابن الجوزي في «نواسخ القرآن» (ص 175) من حديث عكرمة، عن ابن عباس.

وقال شيخنا الألباني رحمه الله في «صحيح سنن أبي داود» : «حسن» .

وأخرجه أبو عبيد في «الناسخ والمنسوخ» (ص 205/ رقم 385) -ومن طريقه ابن المنذر في «التفسير» (2/785-786) (رقم 1985) من حديث عطاء الخراساني، عن ابن عباس. وفيه زيادة أن ابن عباس قال: تنفر طائفة وتمكث طائفة مع النبي صلى الله عليه وسلم. قال: فالماكثون: هم الذين يتفقهون في الدين وينذرون إخوانهم إذا رجعوا إليهم من الغزو بما نزل من قضاء الله وكتابه وحدوده. اهـ. وروى نحوه ابن أبي حاتم في «التفسير» (3/998) (رقم 5582) ، والبيهقي في «الكبرى» (9/47) في كتاب السير (باب النفير وما يستدل على أن الجهاد فرض على الكفاية) . فمذهب ابن عباس ومقصده في النسخ فيما إذا خرجت سرية للجهاد، ولكن إذا احتيج للمسلمين: لم يسع أحداً التخلف عن الجهاد.

وما ذهب إليه المصنف من عدم النسخ هو الصواب، وهو مذهب جمهور العلماء.

قال أبو جعفر النحاس في «الناسخ والمنسوخ» (ص 209) في قوله تعالى: {مَا كَانَ لأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَنْ حَوْلَهُمْ مِّنَ الأَعْرَابِ أَن يَتَخَلَّفُواْ عَن رَّسُولِ اللَّهِ وَلَا يَرْغَبُواْ بِأَنْفُسِهِمْ عَن نَّفْسِهِ} [التوبة: 120] قال: مذهب ابن زيد أنه نسخها {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَافَّةً} [التوبة: 122] ، ومذهب غيره أنه ليس ها هنا ناسخ ولا منسوخ، وأن الآية الأولى توجب إذا نفر النبي صلى الله عليه وسلم، أو احتيج إلى المسلمين واستنفروا: لم يَسع أحداً التخلف، وإذا بعث النبي صلى الله عليه وسلم سرية تخلَّفت طائفة، وهذا مذهب ابن عباس والضحّاك وقتادة. اهـ. كلامه. ومذهب ابن زيد ذكره ابن العربي المالكي في «الناسخ والمنسوخ» (ص 263) ، وابن أبي زيد القيرواني في «النوادر والزيادات» (3/18) .

وذهب إلى النسخ -أيضاً-: الإمام المازري كما في «الذخيرة» (3/385) ، والنحاس في «معاني القرآن» (1058) ، وغيرهم. =
যুদ্ধের নির্দেশের মাধ্যমে, মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সকলে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো} [আত-তাওবাহ: ৩৬], এবং মহান আল্লাহর বাণী:

{তোমরা অভিযানে বের হয়ে পড়ো, হালকা বা ভারী যে অবস্থাতেই থাকো না কেন} [আত-তাওবাহ: ৪১], এবং {যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন} [আত-তাওবাহ: ৩৯], এবং {মদিনাবাসী ও তাদের পার্শ্ববর্তী পল্লীবাসীদের জন্য সমীচীন নয় যে, তারা আল্লাহর রাসূলের পশ্চাতে থেকে যাবে এবং তাঁর প্রাণের চেয়ে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করবে} [আত-তাওবাহ: ১২০]; তখন বলা হয়েছে: প্রথম দিকে জিহাদ সকল মুসলিমের ওপর ব্যাপকভাবে ফরজ ছিল; কিন্তু যাদেরকে মহান আল্লাহ ওজর দিয়েছেন তারা ব্যতীত। এরপর তা 'কিফায়া' (পর্যাপ্ততা) এর বিধান দ্বারা রহিতকরণ (نسخ) করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুমিনদের পক্ষে এটা সম্ভব নয় যে, তারা সকলে একযোগে অভিযানে বের হবে; তবে কেন তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ অভিযানে বের হয় না?} [আত-তাওবাহ: ১২২]। এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে; আবু দাউদ (১) এটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর 'সুনান' এর কিতাবুল জিহাদে (সাধারণ অভিযানে বের হওয়ার নির্দেশ বিশেষ দল দ্বারা রহিত হওয়া বিষয়ক অনুচ্ছেদ) (হাদিস নং ২৫০৫), এবং তাঁরই সূত্রে ইবনুল জাওযী 'নাওয়াসিখুল কুরআন' (পৃ. ১৭৫)-এ ইকরিমা-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং আমাদের শাইখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) 'সহীহ সুনান আবু দাউদ'-এ বলেছেন: "হাসান (حسن)"।

আবু উবাইদ এটি 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ' (পৃ. ২০৫/ নং ৩৮৫)-এ বর্ণনা করেছেন—এবং তাঁর সূত্রে ইবনুল মুনযির 'আত-তাফসীর' (২/৭৮৫-৭৮৬) (নং ১৯৮৫)-এ আতা আল-খুরাসানীর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। এতে অতিরিক্ত বর্ণনা রয়েছে যে, ইবনে আব্বাস বলেছেন: একটি দল অভিযানে বের হবে এবং আরেকটি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অবস্থান করবে। তিনি বলেন: যারা অবস্থানকারী, তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করবে এবং তাদের ভাইয়েরা যখন যুদ্ধ থেকে তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিধান, কিতাব ও সীমারেখা সম্পর্কে সতর্ক করবে। সমাপ্ত। অনুরূপ বর্ণনা ইবনে আবি হাতিম 'আত-তাফসীর' (৩/৯৯৮) (নং ৫৫৮২) এবং বায়হাকী 'আল-কুবরা' (৯/৪৭)-তে কিতাবুস সিয়ারে (অভিযানে বের হওয়া এবং জিহাদ ফরজে কিফায়া হওয়ার দলীল বিষয়ক অনুচ্ছেদ) উল্লেখ করেছেন। রহিতকরণ (نسخ) বিষয়ে ইবনে আব্বাসের মাযহাব ও উদ্দেশ্য হলো যখন জিহাদের জন্য ছোট বাহিনী প্রেরণ করা হয় তখনকার ক্ষেত্রে; কিন্তু যদি সকল মুসলিমের প্রয়োজন পড়ে, তবে জিহাদ থেকে পশ্চাতে থাকা কারো জন্য বৈধ নয়।

আর লেখক রহিতকরণ (نسخ) না হওয়ার যে মত গ্রহণ করেছেন সেটিই সঠিক এবং এটি জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) ওলামায়ে কেরামের মাযহাব।

আবু জাফর আন-নাহহাস 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ' (পৃ. ২০৯)-এ মহান আল্লাহর বাণী: {মদিনাবাসী ও তাদের পার্শ্ববর্তী পল্লীবাসীদের জন্য সমীচীন নয় যে, তারা আল্লাহর রাসূলের পশ্চাতে থেকে যাবে এবং তাঁর প্রাণের চেয়ে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করবে} [আত-তাওবাহ: ১২০] সম্পর্কে বলেন: ইবনে যায়দ-এর মাযহাব হলো এটি {আর মুমিনদের পক্ষে এটা সম্ভব নয় যে, তারা সকলে একযোগে অভিযানে বের হবে} [আত-তাওবাহ: ১২২] আয়াতটি দ্বারা রহিত (منسوخ) হয়েছে। আর অন্যদের মাযহাব হলো এখানে কোনো রহিতকারী (ناسخ) বা রহিত (منسوخ) আয়াত নেই; বরং প্রথম আয়াতটি তখন আবশ্যক করে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিযানে বের হন, অথবা যখন মুসলিমদের প্রয়োজন পড়ে এবং সাধারণ ডাক দেওয়া হয়, তখন কারো পশ্চাতে থাকা বৈধ নয়। আর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ছোট বাহিনী প্রেরণ করেন, তখন একটি দল পেছনে থেকে যায়। এটি ইবনে আব্বাস, দাহহাক এবং কাতাদাহ-এর মাযহাব। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত। ইবনে যায়দ-এর মাযহাব ইবনুল আরাবী আল-মালিকী 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ' (পৃ. ২৬৩)-এ এবং ইবনে আবি যায়দ আল-কায়রাওয়ানী 'আন-নাওয়াদির ওয়াজ যিয়াদাত' (৩/১৮)-এ উল্লেখ করেছেন।

ইমাম আল-মাযিরীও রহিতকরণের (النسخ) মত ব্যক্ত করেছেন যেমনটি 'আয-যখীরা' (৩/৩৮৫) গ্রন্থে রয়েছে, এবং আন-নাহহাস 'মাআনিল কুরআন' (১০৫৮)-এ এবং আরও অনেকে। =
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وروي عن عطاء (1) ، أن الجهاد إنما كان فرضاً على الصحابة، قيل: يعني على الأعيان، فلما استقرَّ الشرعُ صار على الكفاية، وقال الجمهور: بل كذلك كان فرض القتال على الكفاية في أوّل الإسلام، وحملوا ما وقع في ذلك من التشديد والتعميم على أحوال، وذلك إذا احتيج إلى الجميع، إمَّا لقلة المسلمين، كما كان ذلك في أول الإسلام، أَوْ لما عَسَى أنْ يَعْرض، أوْ يكونَ ذلك خاصاً بأهل النَّفير

--------------------------------------------

= وهذا مذهب أبي عبيد في «الناسخ والمنسوخ» . وقال ابن الجوزي في النَّسْخ: إنه روي عن الحسن وعكرمة، وهذا ليس بصحيح. وذهب إلى إحكام الآيتين، وقال: وقد ذهب إلى إحكام الآيتين، ومنع النسخ جماعة: منهم: ابن جرير، وأبو سليمان الدمشقي، وحكى القاضي أبو يعلى عن بعض العلماء أنهم قالوا: ليس ها هنا نسخ، ومتى لم يقاوم أهل الثغور العدو، ففرض على الناس النفير إليهم، ومتى استغنوا عن إعانة من وراءهم، عذر القاعدون عنهم.

وانظر: «الناسخ والمنسوخ» لأبي عبيد (ص 206) ، و «الإيضاح لناسخ القرآن ومنسوخه» لمكي بن أبي طالب (ص 314-315) ، و «الناسخ والمنسوخ» لابن العربي (ص 263) .

(1) قال النحاس في «الناسخ والمنسوخ» (ص 38) : وأما قول عطاء أنها فرض على الصحابة فقول مرغوب عنه، وقد ردَّه العلماء، وعزاه السيوطي في «الدر المنثور» (1/493) إلى ابن أبي حاتم، وإلى آدم بن أبي إياس في «تفسيريهما» عن أبي العالية في الآية {وَقَاتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ} [البقرة: 190] ؛ قال: لأصحاب محمد، أمروا بقتال الكفار.

وأخرج أبو عبيد في «الناسخ والمنسوخ» (ص 204) (رقم 381) -ومن طريقه الجصاص في «أحكام القرآن» (4/311) - عن حجاج، عن ابن جريج قال: قلت لعطاء: أواجب الغزو على الناس؟ فقال هو وعمرو بن دينار: ما علمناه.

وأخرجه -أيضاً- عبد الرزاق في «المصنف» (5/171) (رقم 9271) .

وقال الجصاص (4/312) : «وجائز أن يكون قول … عطاء … في أن الجهاد ليس بفرض، يعنون به أنه ليس فرضه متعيناً على كل أحد، كالصلاة والصوم، وأنه فرض على الكفاية» .

وأخرجه ابن جرير (2/190) ، وابن أبي حاتم (1/325/رقم 1720) عن مجاهد قوله.

وهو مذهب الأوزاعي، نقله عنه الطبري في «التفسير» (3/38) ، وهو أحد قولي الشافعي، والمشهور عنه خلافه، كما هو مذهب الجمهور.

انظر: «الهداية» (2/135) ، «شرح الدردير» (2/173) ، «مغني المحتاج» (4/209) ، «المغني» (10/364- مع الشرح الكبير) ، «فقه الإمام الأوزاعي» (2/471) .
আতা (১) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জিহাদ কেবল সাহাবীদের ওপর আবশ্যিক (فرض) ছিল; বলা হয়েছে: অর্থাৎ ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যিক (فرضاً على الأعيان), অতঃপর যখন শরিয়ত সুপ্রতিষ্ঠিত হলো তখন তা সামষ্টিক আবশ্যিকতায় (على الكفاية) পরিণত হলো। জমহুর (উলামায়ে কেরাম) বলেছেন: বরং এভাবেই জিহাদ ইসলামের প্রাথমিক যুগেও সামষ্টিক আবশ্যিক (على الكفاية) ছিল। এ বিষয়ে যে কঠোরতা ও ব্যাপকতা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোকে তাঁরা বিশেষ অবস্থার ওপর প্রয়োগ করেছেন; আর তা হলো যখন সকলের প্রয়োজন হতো—হয় মুসলমানদের সংখ্যাস্বল্পতার কারণে যেমনটা ইসলামের শুরুতে ছিল, অথবা কোনো আকস্মিক পরিস্থিতির আশঙ্কায়, কিংবা এটি কেবল যুদ্ধে আহ্বানকৃতদের (أهل النفير) জন্য নির্দিষ্ট ছিল।

--------------------------------------------

= এটি ‘আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ’ গ্রন্থে আবু উবাইদ-এর অভিমত। ইবনুল জাওযি ‘আন-নাসখ’ গ্রন্থে বলেছেন: এটি হাসান এবং ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তবে এটি সঠিক (صحيح) নয়। তিনি আয়াত দুটির বিধান বহাল থাকার (إحكام) পক্ষে মত দিয়েছেন এবং বলেছেন: একদল আলেম আয়াত দুটির বিধান বহাল থাকার এবং রহিতকরণ (نسخ) না হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে জারীর, আবু সুলাইমান আদ-দিমাশকী। কাজী আবু ইয়ালা জনৈক আলেমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা বলেছেন: এখানে কোনো রহিতকরণ (نسخ) নেই; যখনই সীমান্তরক্ষী বাহিনী শত্রুর মোকাবিলায় সক্ষম হবে না, তখন মানুষের ওপর তাদের দিকে বেরিয়ে পড়া আবশ্যিক (فرض) হয়ে যাবে। আর যখন তারা অন্যদের সাহায্য ছাড়াই সক্ষম হবে, তখন যারা যুদ্ধে যায়নি তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে।

দেখুন: আবু উবাইদ-এর ‘আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ’ (পৃ. ২০৬), মক্কী বিন আবি তালিব-এর ‘আল-ইজাহ লি নাসিখিল কুরআন ওয়া মানসুখিহ’ (পৃ. ৩১৪-৩১৫), এবং ইবনুল আরাবীর ‘আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ’ (পৃ. ২৬৩)।

(1) আন-নাহহাস ‘আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ’ (পৃ. ৩৮) গ্রন্থে বলেছেন: আতা-এর এই বক্তব্য যে জিহাদ সাহাবীদের ওপর আবশ্যিক (فرض) ছিল, তা একটি বর্জনীয় (مرغوب عنه) মত এবং উলামায়ে কেরাম তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আস-সুয়ূতী ‘আদ-দুররুল মানসুর’ (১/৪৯৩) গ্রন্থে ইবনে আবি হাতিম এবং আদম ইবনে আবি ইয়াস-এর ‘তাফসীর’দ্বয় থেকে আবুল আলীয়াহ-এর সূত্রে এই আয়াতের {وَقَاتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ} [বাকারা: ১৯০] ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের জন্য; তাঁদের কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আবু উবাইদ ‘আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ’ (পৃ. ২০৪) (নং ৩৮১) গ্রন্থে—এবং তাঁর সূত্রে আল-জাসসাস ‘আহকামুল কুরআন’ (৪/৩১১) গ্রন্থে—হাজ্জাজ থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, মানুষের ওপর কি যুদ্ধ করা আবশ্যিক (واجب)? তখন তিনি এবং আমর ইবনে দিনার বললেন: আমরা তা জানি না।

আব্দুর রাজ্জাকও এটি ‘আল-মুসান্নাফ’ (৫/১৭১) (নং ৯২৭১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

আল-জাসসাস (৪/৩১২) বলেন: «এটি সম্ভব যে আতা-এর বক্তব্য... জিহাদ আবশ্যিক (فرض) না হওয়ার অর্থ হলো—এটি প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যিক (فرضاً متعيناً) নয়, যেমন নামাজ ও রোজা; বরং এটি একটি সামষ্টিক আবশ্যিক (على الكفاية) বিধান»।

ইবনে জারীর (২/১৯০) এবং ইবনে আবি হাতিম (১/৩২৫/নং ১৭২০) মুজাহিদ থেকে তাঁর এই বক্তব্যটি বর্ণনা করেছেন।

এটি ইমাম আওযায়ীরও অভিমত, তাবারী ‘আত-তাফসীর’ (৩/৩৮) গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। এটি ইমাম শাফেয়ীর দুটি মতের একটি, তবে তাঁর থেকে প্রসিদ্ধ মতটি এর বিপরীত, যা জমহুর উলামায়ে কেরামেরও মাযহাব।

দেখুন: ‘আল-হিদায়া’ (২/১৩৫), ‘শারহুদ দারদীর’ (২/১৭৩), ‘মুগনী আল-মুহতাজ’ (৪/২০৯), ‘আল-মুগনী’ (১০/৩৬৪- শারহুল কবীর সহ), ‘ফিকহুল ইমাম আল-আওযায়ী’ (২/৪৭১1)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الذين يُعيِّنُهمُ الإمامُ في الاستنِفار، وإذا لم يكن شيءٌ من ذلك فهو على أصل الكفاية، ولا نَسْخَ على هذا في شيءٍ من الآيات، بل هو راجعٌ إلى الأحوال، وما يجبُ في مقاومة الكفار، وهذا الأرجح، والله أعلم؛ لأن النَّسخ لا يُصارُ إليه إلا بتوقيفٍ أو اضطرار لا يمكن معه الجمع بين الأمرين، ويعلم مع

ذلك المتأخّر، فيكون هو الناسخ، وإلَاّ فلا.

وعلى كلا القولين، فلم يُختلف في أنَّ فرض الجهاد استقرَّ في الجملة على الكفاية، يحمله من قام بهِ من المسلمين عن سائرهم، هذا هو المشهور المعروف الذي عليه جماعة أهل العلم (1) .

--------------------------------------------

(1) قال الإمام الشافعي في «الأم» (4/176) :

«قال الله تبارك وتعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ} [البقرة: 216] ، مع ما أوجب من القتال في غير آية، قال: فكان فرض الجهاد محتملاً لأن يكون -كفرض الصلاة وغيره- عاماً، ومحتملاً لأن يكون على غير العموم، فدل كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم على أن فرض الجهاد إنما هو على أن يقوم به من فيه كفاية للقيام به، حتى يجتمع أمران:

أحدهما: أن يكون بإزاء العدو والخوف على المسلمين من يمنعه.

والآخر: أن يجاهد من المسلمين من في جهاده كفاية؛ حتى يسلم أهل الأوثان، أو يعطي أهل الكتاب الجزية.

فإذا قام بهذا من المسلمين من فيه كفاية له، خرج المتخلف منهم من المأثم، وكان الفضل للذين وُلُّوا الجهاد على المتخلفين عنه، قال الله تبارك وتعالى: {لَاّ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُوْلِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ} إلى قوله: {وَكُلاًّ وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى} [النساء: 95] . قال الشافعي: فبين إذ وعد الله القاعدين غير أولي الضرر الحسنى: أنهم لا يأثمون بالتخلف، ويوعدون بالحسنى في التخلف؛ بل وعدهم بما وسع لهم من التخلف الحسنى، إذا كانوا مؤمنين لم يتخلفوا شكاً ولاسوء نية، وإن تركوا الفضل في الغزو. قال الشافعي: ولم يغز رسول الله صلى الله عليه وسلم غزاة علمتها إلا تخلف عنه فيها بشر، فغزا بدراً وتخلف عنه رجال معروفون، وكذلك تخلف عنه عام الفتح وغيره من غزواته.

وقال في غزاة تبوك، وفي تجهيزه في الجمع للروم: «ليخرج من كل رجلين رجل، فيخلف الباقي الغازي في أهله وماله» ، قال الشافعي: ففرض الجهاد على ما وصفت، يُخرج المتخلفَ من المأثم القائمُ فيه بالكفاية، ويأثمون معاً إذا تخلفوا معاً» ا. هـ كلامه رحمه الله. =
ইমাম যুদ্ধের ডাক (استنفار) দেওয়ার সময় যাদেরকে নির্দিষ্ট করে দেন তারা এর অন্তর্ভুক্ত, আর যদি এর কোনোটিই না থাকে তবে তা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)-র মূলনীতির ওপর বহাল থাকবে। আর এই কারণে কোনো আয়াতের ক্ষেত্রেই রহিতকরণ (نسخ) প্রযোজ্য হবে না, বরং এটি পরিস্থিতির ওপর এবং কাফেরদের প্রতিরোধে যা যা করা আবশ্যক তার ওপর নির্ভরশীল। আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ (أرجح) মত, আল্লাহই ভালো জানেন। কেননা কোনো প্রামাণিক নির্দেশ (توقيف) বা এমন কোনো অপরিহার্যতা ব্যতিরেকে রহিতকরণ (نسخ)-এর আশ্রয় নেওয়া যায় না, যেখানে দুটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং সেই সাথে পরবর্তী বিষয়টিও জানা থাকে, তখন সেটি রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে গণ্য হয়; অন্যথায় নয়।

উভয় মত অনুযায়ী, জিহাদের বিধান সামগ্রিকভাবে ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) হিসেবে নির্ধারিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। মুসলমানদের মধ্য থেকে যারা এটি পালন করে, তারা বাকিদের পক্ষ থেকে দায়ভার বহন করে। এটিই সেই প্রসিদ্ধ ও পরিচিত বিষয় যার ওপর আলেমদের জামাত একমত। (১) .

--------------------------------------------

(১) ইমাম শাফেয়ী 'আল-উম্ম' (৪/১৭৬) গ্রন্থে বলেছেন:

«আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেছেন: {তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে} [বাকারা: ২১৬], সাথে অন্যান্য আয়াতেও যুদ্ধ ফরজ করার বিষয়ে যা অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন: জিহাদের বিধানটি—সালাত বা অন্যান্য ফরজের মতো—সাধারণ (عام) হওয়ার সম্ভাবনা রাখত, আবার সাধারণ (عام) না হওয়ারও সম্ভাবনা রাখত। কিন্তু আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ প্রমাণ করে যে, জিহাদ ফরজ হওয়ার বিষয়টি মূলত এমন যে, এটি পালনে সক্ষম পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক তা সম্পাদন করবে, যতক্ষণ না দুটি বিষয় একত্রিত হয়:

এক: শত্রুর মোকাবিলায় এবং মুসলমানদের আশঙ্কার মুখে এমন কেউ থাকবে যে তাদের প্রতিরোধ করবে।

দুই: মুসলমানদের পক্ষ থেকে এমন পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক জিহাদ করবে, যাতে মূর্তিপূজারিরা আত্মসমর্পণ করে অথবা আহলে কিতাবরা জিজিয়া প্রদান করে।

যখন মুসলমানদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সংখ্যক লোক তা সম্পন্ন করবে, তখন যারা অংশগ্রহণ করেনি তারা গুনাহ থেকে অব্যাহতি পাবে। আর যারা জিহাদে লিপ্ত ছিল, তাদের মর্যাদা যারা অংশগ্রহণ করেনি তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব পাবে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেছেন: {মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে—অক্ষম ব্যক্তি ছাড়া—তারা এবং যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়...} থেকে {আল্লাহ প্রত্যেককে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন} [নিসা: ৯৫] পর্যন্ত। শাফেয়ী বলেন: আল্লাহ যখন ঘরে বসে থাকা সক্ষম মুমিনদের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তখন স্পষ্ট হয় যে, তারা যুদ্ধে না যাওয়ার কারণে গুনাহগার হবে না; বরং যুদ্ধে না যাওয়া সত্ত্বেও তাদের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মূলত যুদ্ধে না যাওয়ার অবকাশ থাকা সত্ত্বেও তাদের কল্যাণের ওয়াদা করা হয়েছে, যদি তারা মুমিন হয়ে থাকে এবং কোনো সন্দেহ বা অসৎ উদ্দেশ্যে ঘরে বসে না থাকে, যদিও তারা যুদ্ধে যাওয়ার ফজিলত বর্জন করেছে। শাফেয়ী বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন অথচ তাতে কেউ না কেউ পেছনে রয়ে যায়নি—এমনটি আমার জানা নেই। তিনি বদরে যুদ্ধ করেছেন অথচ পরিচিত কিছু লোক তাতে অনুপস্থিত ছিলেন। একইভাবে মক্কা বিজয়ের বছর এবং অন্যান্য যুদ্ধেও অনেকে পেছনে ছিলেন।

তিনি তাবুক যুদ্ধের সময় এবং রোমানদের বিরুদ্ধে সৈন্য প্রস্তুতির সময় বলেছিলেন: «প্রতি দুইজনের মধ্যে একজন যুদ্ধে বের হবে, আর অবশিষ্টজন যুদ্ধে গমনকারীর পরিবার ও সম্পদের দেখাশোনা করবে», শাফেয়ী বলেন: জিহাদের বিধানটি আমি যেভাবে বর্ণনা করেছি ঠিক সেভাবেই; অর্থাৎ পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক এটি পালন করলে যারা অংশ নেয়নি তারা গুনাহ থেকে মুক্ত হবে, কিন্তু যদি সবাই একসাথে পেছনে রয়ে যায়, তবে তারা সবাই গুনাহগার হবে» তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত। রহেমাহুল্লাহ। =
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
يحكي القاضي أبو محمد عبد الوهاب (1) أنه لا خلاف بين الأمة في وجوب الجهاد، يعني: على الكفاية. وقد نقل غيره في ذلك قولين شاذين:

أحدهما: أنه فَرْضُ عينٍ مرّةً في العُمر على كل مستطيع كالحج.

قال أبو بكر بن المنذر: روينا عن داود بن أبي عاصمٍ أنه قال: الغزو واجبٌ على الناس أجمعين، غزوة كهيئة الحج (2) .

قال ابن المنذر: وقال مَعْمر: كان مكحول يستقبل القبلة، ثم يَحلِف عشر أيمان: أنَّ الغزو واجب، ثم يقول: إن شِئتُم زِدتكم.

--------------------------------------------

= وقال الإمام أبو عبد الله محمد بن نَصْر المروزي في كتابه «السنة» (132) بعد كلام:

« … فوجدنا الكتاب والسنة قد دلا على أن الجهاد غير مفروض على كل مسلم في خاص نفسه، فقال: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُواْ فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُواْ قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُواْ إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122] ، فدل ذلك على أن فرض الجهاد إنما هو على أن ينفر من فيه الكفاية، فإذا نفر من فيه الكفاية سقط المأثم عنهم جميعاً، وإن لم ينفر من فيه الكفاية أثموا معاً؛ لقوله: {إِلَاّ تَنفِرُواْ يُعَذِّبْكُمْ عَذَاباً أَلِيماً} [التوبة: 39] . قال بعض أهل العلم: يعني: إنكم إن تركتم النفير كلكم عذبتكم» .

وانظر: «رسالة الإرشاد إلى بيان الحق في أحكام الجهاد» لأحمد بن يحيى النَّجمي (ص 62- وما بعدها) .

وانظر: «أحكام القرآن» (4/372-373) للجصاص، «تحرير الأحكام في تدبير أهل الإسلام» لبدر الدين بن جماعة (ص 154) .

(1) في كتابه «المعونة» (1/601، 602) .

وانظر: «التلقين» له (1/238) ، و «التفريع» لابن الجلَاّب (1/357) ، و «الرسالة» لابن أبي زيد القيرواني (189) ، «فتاوى البرزلي» (2/8) ، و «بداية المجتهد» لابن رشد (6/5) ، و «مراتب الإجماع» لابن حزم (ص 119) .

(2) أخرجه عبد الرزاق في «المصنف» (5/171/رقم 9272) عن ابن جريج عن داود بن أبي عاصم، به.

وهو مذهب سعيد بن المسيب. انظر: «مصنف ابن أبي شيبة» (5/351) ، «المغني» (13/6) ، و «النوادر والزيادات» (3/18) ، و «الذخيرة» (3/385) ، «فتاوى البرزلي» (2/7، 8) .
কাযী আবু মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব (১) বর্ণনা করেছেন যে, জিহাদ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে উম্মতের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, অর্থাৎ: তা সামষ্টিকভাবে আবশ্যক (على الكفاية) হওয়ার ভিত্তিতে। তবে অন্য উলামাগণ এই বিষয়ে দুটি বিচ্ছিন্ন (شاذين) মত বর্ণনা করেছেন:

তার একটি হলো: হজের মতো প্রত্যেক সামর্থ্যবানের ওপর জীবনে একবার এটি ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (فرض عين)।

আবু বকর ইবনুল মুনযির বলেন: আমরা দাউদ ইবনে আবি আসিম থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: যুদ্ধ সকল মানুষের ওপর ওয়াজিব, হজের পদ্ধতির ন্যায় একটি যুদ্ধ (২)।

ইবনুল মুনযির বলেন: মা'মার বলেছেন: মাকহুল কিবলামুখী হতেন, তারপর দশটি শপথ নিতেন যে: নিশ্চয়ই যুদ্ধ ওয়াজিব, এরপর বলতেন: তোমরা চাইলে আমি আরও বাড়িয়ে শপথ করতে পারি।

--------------------------------------------

= এবং ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী তার 'আস-সুন্নাহ' (১৩২) কিতাবে কিছু আলোচনার পর বলেছেন:

« … আমরা কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহকে এ নির্দেশ দিতে পেয়েছি যে, জিহাদ প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ব্যক্তিগতভাবে ফরয করা হয়নি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর মুমিনদের সকলের একসাথে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের কওমের কাছে ফিরে আসবে তখন তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সাবধান হয়} [আত-তাওবাহ: ১২২]। এটি প্রমাণ করে যে, জিহাদের বিধান কেবল পর্যাপ্ত সংখ্যক (كفاية) লোকের অভিযানে বের হওয়ার ওপর ন্যস্ত। সুতরাং যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক অভিযানে বের হবে, তখন তাদের সকলের ওপর থেকে গুনাহ রহিত হয়ে যাবে। আর যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক অভিযানে বের না হয়, তবে তারা সকলে গুনাহগার হবে; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেবেন} [আত-তাওবাহ: ৩৯]। জনৈক আলেম বলেছেন: অর্থাৎ যদি তোমরা সকলে মিলে অভিযান বর্জন করো তবে তিনি তোমাদের শাস্তি দেবেন। »

আরও দেখুন: আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আন-নাজমী রচিত 'রিসালাতুল ইরশাদ ইলা বায়ানিল হাক্কি ফী আহকামিল জিহাদ' (পৃ. ৬২ এবং পরবর্তী)।

আরও দেখুন: জাসসাস রচিত 'আহকামুল কুরআন' (৪/৩৭২-৩৭৩), বদরুদ্দিন ইবনে জামাআহ রচিত 'তাহরিরুল আহকাম ফী তদবিরি আহলিল ইসলাম' (পৃ. ১৫৪)।

(1) তাঁর রচিত 'আল-মাউনা' (১/৬০১, ৬০২) কিতাবে।

আরও দেখুন: তাঁর রচিত 'আত-তালকিন' (১/২৩৮), ইবনুল জাল্লাব রচিত 'আত-তাফরি' (১/৩৫৭), ইবনে আবি যায়দ আল-কায়রাওয়ানি রচিত 'আর-রিসালাহ' (১৮৯), 'ফাতাওয়া আল-বারযালী' (২/৮), ইবনে রুশদ রচিত 'বিদায়াতুল মুজতাহিদ' (৬/৫), ইবনে হাযম রচিত 'মারাতিবুল ইজমা' (পৃ. ১১৯)।

(2) আব্দুর রাজ্জাক এটি 'আল-মুসান্নাফ' (৫/১৭১/নং ৯২৭২) গ্রন্থে ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি দাউদ ইবনে আবি আসিম থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

এটি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের মাযহাব। দেখুন: 'মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ' (৫/৩৫১), 'আল-মুগনি' (১৩/৬), 'আন-নাওয়াদির ওয়াজ-জিয়াদাত' (৩/১৮), 'আয-যাখিরাহ' (৩/৩৮৫), 'ফাতাওয়া আল-বারযালী' (২/৭, ৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال ابن المنذر: وهذا لايصح عن مكحول؛ لأن بين معمر وبين مكحول رجلاً. حدثناه إسحاق، عن عبد الرزاق، عن معمر، عن رجلٍ، عن مكحول: أنه قال ذلك (1) .

والقول الآخر: أن الجهاد نَفْلٌ. قال النَّحَّاس (2) : هو قول ابن عمر، وابن

--------------------------------------------

(1) أخرجه عبد الرزاق (5/174 رقم9281) عن رجل، عن مكحول. ثم قال عبد الرزاق: وسمعت الأوزاعي -أو: أخبرتُ عنه- أنه سمعه من مكحول.

وأخرجه أبو عبيد في «الناسخ والمنسوخ» (ص 204 رقم 382) -ومن طريقه الجصاص في «أحكام القرآن» (4/312) - من طريق ابن جريج، قال: قال معمر: كان مكحول يستقبل القبلة … إلخ، فلم يذكر رجلاً بين معمر ومكحول.

وكلام ابن المنذر المذكور لم أجده في كتبه المطبوعة إلى غاية تدوين هذه السطور، وهي: «الأوسط» ، و «الإشراف» ، و «الاقناع» ، و «التفسير» .

وانظر: «أحكام القرآن» (4/311-312) للجصاص، «مصنف ابن أبي شيبة» (5/351) ، «تكملة المجموع الثالثة» (19/269) ، «فقه مكحول» (181) .

(2) في «الناسخ والمنسوخ» (ص 38) . وزاد: ومن حجتهم قول النبي صلى الله عليه وسلم. رواه ابن عمر: «بني الإسلام على خمس.. الحديث» . وفيه أن رجلاً سأله فقال: ألا تغز؟ قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: فذكر الحديث -وأصله في البخاري-. ثم قال: قال أبو جعفر -يعني نفسه-: وهذا لا حجة فيه؛ لأنه قد روي عن ابن عمر أنه قال: استنبطت ذلك، ولم يَرْفَعْهُ، ولو كان رَفْعُهُ صحيحاً لما كان فيه -أيضاً- حجة؛ لأنه يجوز أن يترك ذكر الجهاد ها هنا؛ لأنه مذكور في القرآن.. إلى آخر كلامه رحمه الله.

وانظر: «أحكام الجصاص» (4/314) ، «فتاوى البرزلي» (2/7) .

وذكر ابن أبي زيد القيرواني في «النوادر والزيادات» (3/13) قال: وروى ابن وهب قال: قال نافع في تخلُّف ابن عمر عن الغزو ولزومه الحج: إنه إنما ترك الغزو لوصايا عمر، ولِصبْيةٍ وضَيْعَةٍ كثيرة لا يصلحها إلا التعاهد، وقد كان يُغزي بنيه، ويرى أن الجهاد أفضل الأعمال بعد الصلاة.

ومذهب سفيان الثوري، ذكره أبو عبيد في «الناسخ والمنسوخ» (ص 205 رقم 384) ولم يسنده؛ قال: وأما سفيان الثوري فكان يقول: ليس بفرض، ولكن لايسع الناس أن يجمعوا على تركه، ويجزئ فيه بعضهم عن بعض.

قال أبو عبيد -بعد أن ارتضى هذا القول-: وإنما وسعهم هذا للآية الأخرى، قوله: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَافَّةً} [التوبة: 122] فإنه فيما يقال: ناسخة لفرض الجهاد. ا. هـ كلامه. =
ইবনুল মুনজির বলেছেন: এটি মাকহুল থেকে বিশুদ্ধ (يصح) নয়; কারণ মা’মার এবং মাকহুলের মাঝে একজন ব্যক্তি রয়েছেন। ইসহাক আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি মাকহুল থেকে যে, তিনি এটি বলেছেন (১)।

আর দ্বিতীয় মতটি হলো: জিহাদ নফল (نفل)। নাহহাস (২) বলেন: এটি ইবনে উমর এবং ইবনে...

--------------------------------------------

(১) আব্দুর রাজ্জাক (৫/১৭৪, নং ৯২৮১) জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি মাকহুল থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আব্দুর রাজ্জাক বলেন: আমি আওযাঈকে বলতে শুনেছি -অথবা তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে- যে তিনি মাকহুল থেকে এটি শুনেছেন।

আবু উবাইদ ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ’ (পৃ. ২০৪, নং ৩৮২) গ্রন্থে -এবং তাঁর সূত্রে জাসসাস ‘আহকামুল কুরআন’ (৪/৩১২) গ্রন্থে- ইবনে জুরাইজের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মা’মার বলেছেন: মাকহুল কিবলার দিকে মুখ করতেন... (ইত্যাদি), সেখানে তিনি মা’মার এবং মাকহুলের মাঝে কোনো ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেননি।

আর ইবনুল মুনজিরের উল্লিখিত এই বক্তব্যটি এই পঙ্ক্তিগুলো লেখা পর্যন্ত তাঁর মুদ্রিত কিতাবসমূহে আমি পাইনি, যেগুলো হলো: ‘আল-আওসাত’, ‘আল-ইশরাফ’, ‘আল-ইকনা’ এবং ‘আত-তাফসীর’।

এবং দেখুন: জাসসাস-এর ‘আহকামুল কুরআন’ (৪/৩১১-৩১২), ‘মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ’ (৫/৩৫১), ‘তাকমিলাতুল মাজমু আস-সালেসাহ’ (১৯/২৬৯), ‘ফিকহু মাকহুল’ (১৮১)।

(২) ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ’ (পৃ. ৩৮) গ্রন্থে। তিনি আরও বর্ণনা করেছেন: তাদের দলিলের অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, যা ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন: “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের ওপর... হাদিসটি”। এবং সেখানে রয়েছে যে, এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আপনি কি যুদ্ধে যাবেন না? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন -আর এর মূল বুখারি-তে রয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন: আবু জাফর -অর্থাৎ তিনি নিজে- বলেছেন: এতে কোনো দলিল নেই; কারণ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: ‘আমি এটি উদ্ভাবন করেছি’, এবং তিনি এটিকে মারফু (يرفعه) করেননি। আর যদি এর মারফু (رفعه) হওয়া সহিহ (صحيحا) হতো, তবুও এতে কোনো দলিল থাকতো না; কারণ হতে পারে এখানে জিহাদের উল্লেখ বর্জন করা হয়েছে এই কারণে যে এটি কুরআনে বর্ণিত রয়েছে... তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত (রহিমাহুল্লাহ)।

আরও দেখুন: ‘আহকামুল জাসসাস’ (৪/৩১৪), ‘ফাতাওয়া আল-বুর্জুলি’ (২/৭)।

ইবনে আবি যাইদ আল-কায়রাওয়ানি ‘আন-নাওয়াদির ওয়াজ যিয়াদাত’ (৩/১৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে: ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন যে, নাফে’ ইবনে উমরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করা এবং হজে নিয়মিত হওয়ার বিষয়ে বলেছেন: তিনি কেবল উমরের ওসিয়ত এবং অনেক ছোট সন্তান ও স্থাবর সম্পত্তির (যাতে ক্ষতির আশঙ্কা ছিল) কারণেই যুদ্ধ ছেড়েছিলেন, যা তদারকি করা ছাড়া ঠিক থাকে না। অথচ তিনি তাঁর সন্তানদের যুদ্ধে পাঠাতেন এবং বিশ্বাস করতেন যে জিহাদ সালাতের পর সর্বোত্তম আমল।

এবং সুফিয়ান সাওরির মাযহাব, যা আবু উবাইদ ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ’ (পৃ. ২০৫, নং ৩৮৪) গ্রন্থে সনদ (يسنده) উল্লেখ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আর সুফিয়ান সাওরি বলতেন: এটি ফরজ নয়, তবে মানুষের পক্ষে এটি বর্জন করার ওপর একমত হওয়া বৈধ নয়, আর এতে একদলের অংশগ্রহণ অন্যদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যায়।

আবু উবাইদ -এই মতটিকে পছন্দ করার পর- বলেন: তাদের জন্য এটি অন্য একটি আয়াতের কারণে বৈধ হয়েছে, যা হলো আল্লাহর বাণী: {আর মুমিনদের পক্ষে সম্ভব নয় যে তারা সকলে একসাথে বের হবে} [আত-তাওবাহ: ১২২]। কেননা বলা হয়ে থাকে যে: এটি জিহাদের ফরজের জন্য নাসিখ (ناسخة)। তাঁর কথা সমাপ্ত। =
(খণ্ড: ১) আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
شُبرمة، وسفيان الثوري (1) . وذُكر عن عطاء، أن الجهاد إنما كان فرضاً على

الصحابة (2) ، وهذا يحتمل أن يريد فَرْضَ عين، فلما استقرَّ الشرع، صار على الكفاية، ويحتمل أن يذهب بذلك إلى قول من زعم أنه الآن نافلة، يَعْنُون: بعد فتح مكة.

ولم يختلفوا أنَّ الإمام إذا اسْتَنْفَرَ أحداً للغزو، فإنه يجب ذلك عليه، لقوله صلى الله عليه وسلم: «لا هجرة بعد الفتح، ولكن جهاد ونيَّة، وإذا استُنْفِرْتُم فانفروا» . خرَّجه

--------------------------------------------

= قوله: ناسخة لفرض الجهاد، أي الجهاد الذي على الأعيان، فهو على الكفاية إلا إذا احتيج إلى الجميع، كما ذكر ذلك المصنف رحمه الله.

وقال الجصاص في «أحكام القرآن» (4/311) : «فحُكِيَ عن ابن شبرمة والثوري في آخرين أن الجهاد تطوع وليس بفرض» .

وقال ابن العربي في «أحكام القرآن» -أيضاً- (1/103) : «وقال جماعة من الفقهاء: إن الجهاد بعد فتح مكة ليس بفرض إلا أن يستنفر الإمام أحداً منهم. قاله سفيان الثوري، ومال إليه سحنون، وظنه قوم بابن عمر حين رأوه مواظباً على الحجّ تاركاً للجهاد، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا هِجرة بعد الفتح، ولكن جهاد ونيّة، وإذا استنفرتم فانفروا. ثبت ذلك عنه.

وهذا هو دليلنا؛ لأنه أخبر أن الجهاد باقٍ بعد الفتح، وإنما رفع الفتح الهجرة، وذلك لقوله

-تعالى-: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ} ؛ يعني: كفراً {وَيَكُونَ الدِّينُ لله} .

ومواظبة ابن عمر رضي الله عنه على الحجّ لأنه اعتقد الحق، وهو أن الجهاد فرضٌ على الكفاية إذا قام به بعض المسلمين سقط عن الباقين.

ويحتمل أن يكون رأى أنه لا يجاهد مع ولاة الجور.

والأول أصح؛ لأنه قد كان في زمانه عدول وجائرون، وهو في ذلك كله مُؤْثِرٌ للحج، مواظبٌ عليه» .

وقال الجصاص في «أحكامه» (4/315) بعد كلام: «وهذا يدل على أن مذهب ابن عمر في الجهاد فرض على الكفاية، وأن الرواية التي رويت عنه في نفي فرض الجهاد إنما هي على الوجه الذي ذكرنا من أنّه غير متعيّن على كل حالٍ في كل زمان» .

وانظر: «الناسخ والمنسوخ» لأبي عبيد (ص 203، 206) ، «فتح القدير» (5/189) ، «تفسير القرطبي» (3/39) ، «الذخيرة» (3/385) .

(1) ونقل ابن عبد السلام عن سحنون أنه سُنَّة، وأنكر شيخنا عليه نقله؛ لكونه غير معروف. قاله البرزلي في «فتاويه» (2/8) . ويُذكر هذا عن ابن دينار -أيضاً-. كما في «فتاويه» -أيضاً-.

(2) مضى ذكره.
শুবরুমা এবং সুফিয়ান সাওরি (১)। আতা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জিহাদ কেবল সাহাবায়ে কেরামের ওপর আবশ্যিক (فرض) ছিল (২), আর এর সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি এর দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যিক বা ফরজে আইন (فرض عين) বুঝিয়েছেন। অতঃপর যখন শরীয়ত সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন তা সামষ্টিকভাবে আবশ্যিক বা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)-তে পরিণত হলো। আবার এ-ও সম্ভাবনা রয়েছে যে, এর দ্বারা তিনি তাদের মতের দিকে গিয়েছেন যারা দাবি করেন যে এটি এখন নফল (نافلة); তাদের উদ্দেশ্য হলো: মক্কা বিজয়ের পর।

ইমাম যদি কাউকে যুদ্ধের জন্য ডাকেন, তবে তার ওপর তা আবশ্যিক হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ফকিহগণ দ্বিমত করেননি। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত বাকি আছে; আর যখন তোমাদেরকে যুদ্ধের জন্য ডাকা হবে, তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে।» এটি বর্ণনা করেছেন

--------------------------------------------

= তাঁর উক্তি: জিহাদের আবশ্যিকতাকে রহিতকারী (ناسخة); অর্থাৎ সেই জিহাদ যা প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যিক ছিল। সুতরাং তা এখন সামষ্টিকভাবে আবশ্যিক বা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), তবে যখন সকলের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তা সবার ওপর বর্তায়, যেমনটি লেখক (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন।

জাসসাস তার 'আহকামুল কুরআন' (৪/৩১১) গ্রন্থে বলেছেন: «ইবনে শুবরুমা ও সাওরি সহ আরও অনেকের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জিহাদ হলো ঐচ্ছিক (تطوع) এবং তা আবশ্যিক বা ফরজ (فرض) নয়।»

ইবনুল আরাবিও তার 'আহকামুল কুরআন' (১/১০৩) গ্রন্থে বলেছেন: «একদল ফকিহ বলেছেন: মক্কা বিজয়ের পর জিহাদ আবশ্যিক বা ফরজ (فرض) নয়, যতক্ষণ না ইমাম কাউকে যুদ্ধের জন্য ডাকেন। এটি সুফিয়ান সাওরি বলেছেন এবং সহনুন এর প্রতি ঝুঁকেছেন। একদল লোক ইবনে উমর সম্পর্কে এমনটি ধারণা করেছিলেন যখন তারা তাকে হজের প্রতি যত্নবান এবং জিহাদ বর্জন করতে দেখলেন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত বাকি আছে; আর যখন তোমাদেরকে যুদ্ধের জন্য ডাকা হবে, তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে। এটি তাঁর থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে।

আর এটিই আমাদের দলিল; কারণ তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে মক্কা বিজয়ের পরও জিহাদ অবশিষ্ট আছে, কেবল মক্কা বিজয় হিজরতের আবশ্যিকতাকে রহিত করেছে। আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {আর তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফিতনা অর্থাৎ কুফর দূরীভূত হয় এবং দ্বীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়}।

হজের ব্যাপারে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিয়মিত যত্নবান হওয়ার কারণ হলো তিনি হকের ওপর বিশ্বাসী ছিলেন, আর তা হলো: জিহাদ হলো সামষ্টিকভাবে আবশ্যিক বা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية); যদি মুসলিমদের একাংশ তা সম্পাদন করে, তবে বাকিদের ওপর থেকে তা রহিত হয়ে যায়।

আবার এ-ও সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি মনে করতেন জালেম শাসকদের সাথে জিহাদ করা যাবে না।

তবে প্রথমটিই অধিকতর সঠিক; কারণ তাঁর যুগে ন্যায়পরায়ণ (عدول) এবং অত্যাচারী—উভয় ধরনের শাসকই ছিল, আর তিনি এই সব কিছুর মধ্যেই হজের ওপর গুরুত্ব দিতেন এবং তাতে নিয়মিত যত্নবান থাকতেন।»

জাসসাস তার 'আহকাম' (৪/৩১৫) গ্রন্থে আলোচনার এক পর্যায়ে বলেছেন: «এটি নির্দেশ করে যে, জিহাদের ব্যাপারে ইবনে উমরের মাযহাব ছিল ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)। আর জিহাদের আবশ্যিকতা অস্বীকারের ব্যাপারে তাঁর থেকে যে বর্ণনাটি এসেছে, তা কেবল সেই প্রেক্ষাপটে যা আমরা উল্লেখ করেছি যে, এটি সব সময় সবার জন্য ব্যক্তিগতভাবে নির্ধারিত নয়।»

আরও দেখুন: আবু উবাইদ রচিত 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ' (পৃ. ২০৩, ২০৬), 'ফাতহুল কাদির' (৫/১৮৯), 'তাফসিরে কুরতুবি' (৩/৩৯), 'আয-যাখিরা' (৩/৩৮৫)।

(১) ইবনে আব্দুস সালাম সহনুন থেকে বর্ণনা করেছেন যে এটি সুন্নাহ (سنة), কিন্তু আমাদের শায়খ তাঁর এই বর্ণনাকে অস্বীকার করেছেন; কারণ এটি সুপরিচিত নয়। বারজালি তাঁর 'ফাতাওয়া' (২/৮) গ্রন্থে এটি বলেছেন। ইবনে দিনার থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি তাঁর 'ফাতাওয়া' গ্রন্থেই রয়েছে।

(২) ইতিপূর্বে এর উল্লেখ করা হয়েছে।