(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: -)
الإنجاد في أبواب الجهاد القسم: الفقه العام
الكتاب: الإنجاد في أبواب الجهاد وتفصيل فرائضه وسننه وذكر جمل من آدابه ولواحق أحكامه
المؤلف: محمد بن عيسى بن محمد بن أصبغ، أبو عبد الله بن المناصف الأزدي القرطبي (ت 620هـ)
المحقق: (مشهور بن حسن آل سلمان ومحمد بن زكريا أبو غازي) (ضبط نصه وعلق عليه ووثق نصوصه وخرج أحاديثه وآثاره)
الناشر: دار الإمام مالك، مؤسسة الريان
عدد الصفحات: 685
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইনজাদ ফি আবওয়াবিল জিহাদ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
কিতাব: আল-ইনজাদ ফি আবওয়াবিল জিহাদ ওয়া তাফসিলু ফরাইদিহি ওয়া সুনানিহি ওয়া যিকরু জুমালিন মিন আদাবিহি ওয়া লাওয়াহিকি আহকামিহি
লেখক: মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আসবাগ, আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-মুনাসিফ আল-আজদি আল-কুরতুবি (মৃত্যু ৬২০ হিজরি)
গবেষক (মুহাক্কিক): (মাশহুর বিন হাসান আল সালমান এবং মুহাম্মদ বিন জাকারিয়া আবু গাজি) (মূল পাঠ বিন্যাস করেছেন, এর ওপর টীকা প্রদান করেছেন, এর বর্ণনাগুলোর প্রামাণ্যতা যাচাই (توثيق) করেছেন এবং এর হাদিস ও আছার (آثار) সমূহের তাখরিজ (تخريج) করেছেন)
প্রকাশক: দারুল ইমাম মালেক, মুয়াসসাসাতুর রায়য়ান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب
الانجاد
في أبواب الجهاد
تصنيف
الإمام المجاهد
أبي عبد الله محمد بن عيسى بن محمد بن أصبغ الأزدي القرطبي
المعروف
بابن المناصف -رحمه الله تعالى-
(563-620هـ)
ضبط نصّه وعلّق عليه ووثق نصوصه وخرّج أحاديثه وآثاره
مشهور بن حسن آل سلمان ومحمد بن زكريا أبو غازي
কিতাব
আল-ইনজাদ
জিহাদের অধ্যায়সমূহ প্রসঙ্গে
রচনা
ইমাম ও মুজাহিদ
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আসবাগ আল-আজদি আল-কুরতুবি
পরিচিত
ইবনুল মুনাসিফ হিসেবে -রহমাতুল্লাহি তাআলা-
(৫৬৩-৬২০ হিজরি)
মূল পাঠের সম্পাদনা, টীকা প্রদান, পাঠ্যের নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) যাচাই এবং এর হাদিস ও আসারসমূহের সূত্র নির্দেশ (تخريج) সম্পন্ন করেছেন
মাশহুর বিন হাসান আল-সালমান এবং মুহাম্মদ বিন জাকারিয়া আবু গাজি
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
صلّى الله على سيّدنا محمّد، وعلى آله وسلَّم تسليماً
الحمد للِّه ربِّ العالمين، وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت؛ وإليه أنيب، وحسبنا الله ونعم الوكيل.
ونسألُ الله الصلاة على رسول الله وخاتم النبيين، وعلى آله الطيبين الطاهرين، ورضي الله عن الإمام المهدي (1) ، وعن الأئمة الخلفاء الراشدين.
أمَّا بعد:
فإن تقوى الله والتزام أمره هو جماع الخير، ومِلاكُ الأمر، وفوزٌ في الدَّارين، {وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَاّ الَّذِينَ صَبَرُواْ وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَاّ ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ} [فصلت: 35] .
ولمَّا آتى الله في ذلك عبده: السيّد الأجل، المجاهد في سبيل الله، الحريص (2) في التزام حدود الله أبا عبد الله ابن السيّد الأجلِّ أبي حفصٍ ابن الإمام الخليفة أمير المؤمنين رضي الله عنهم، أوفر حظٍّ، وهداه من ذلك إلى أرشد سبيل، فاعتصم -في مراقبة حدود الشرع فيما يأتي ويذر (3) - بالعُروة التي لا انفصام لها، وكان مما يسَّره الله له واستعمله فيه ملازمة أجلّ الأعمال، وأفضل أنواع الطاعات: جهاد عدو الله في عقر دورهم، وحراسة المسلمين في أقصى ثغورهم، تقبَّل الله قصده وعمله، وأبلغه من مراتب السعادة أمله؛ أجدّ في العزم، وأحفى في الإرشاد على تقييد مجموعٍ في الجهاد وأبوابه، وتفصيل فرائضه وسننه، وذكر
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী (خاتم النبيين), তাঁর পুত-পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ইমাম মাহদী (১) ও খুলাফায়ে রাশিদিন (الأئمة الخلفاء الراشدين) ইমামদের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহভীতি (تقوى الله) এবং তাঁর নির্দেশ পালন করাই সকল কল্যাণের আধার, দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং উভয় জগতে সাফল্য। {আর এটি কেবল তারাই প্রাপ্ত হয় যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং কেবল তারাই এটি প্রাপ্ত হয় যারা মহা ভাগ্যবান।} [সূরা ফুসসিলাত: ৩৫]।
যখন আল্লাহ এই ক্ষেত্রে তাঁর বান্দাকে—যিনি সুমহান নেতা, আল্লাহর পথে মুজাহিদ, আল্লাহর সীমারেখা রক্ষায় অত্যন্ত যত্নশীল, আবু আব্দুল্লাহ বিন সুমহান নেতা আবু হাফস বিন ইমাম খলিফা আমিরুল মুমিনিন (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—প্রচুর সৌভাগ্য দান করেছেন এবং তাঁকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। ফলে তিনি শরিয়তের বিধিবিধান পালনে ও বর্জনে তীক্ষ্ণ নজর রাখার মাধ্যমে এমন এক মজবুত রজ্জুকে ধারণ করেছেন যা ছিন্ন হওয়ার নয়। আল্লাহ তাঁর জন্য যা সহজ করে দিয়েছেন এবং যে কাজে তাঁকে নিয়োজিত করেছেন তার মধ্যে রয়েছে মহানতম আমল ও শ্রেষ্ঠতম ইবাদতসমূহে অবিচল থাকা: আর তা হলো আল্লাহর শত্রুদের তাদের নিজ ভূখণ্ডে গিয়ে মোকাবিলা করা এবং মুসলিমদের দূরবর্তী সীমান্তসমূহ রক্ষা করা। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য ও কর্ম কবুল করুন এবং তাঁর কাঙ্ক্ষিত সৌভাগ্যের উচ্চ মাকামে তাঁকে পৌঁছে দিন। তিনি সুদৃঢ় সংকল্প এবং যথাযথ নির্দেশনার মাধ্যমে জিহাদ ও এর সংশ্লিষ্ট অধ্যায়সমূহ, এর ফরজ (فرائض) ও সুন্নাহ (سنن) সমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং এর আলোচনা সংবলিত একটি সংকলন প্রস্তুত করার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
جُملٍ من آدابه ولواحق أحكامه، استظهاراً على ما يخصه من ذلك فيما وليه وأخلص فيه عمله، وسباقاً لإحراز الأجرين والجمع بين الحسنيين.
فانتدبت لذلك موجهاً قصدي وعملي في سبيل الله، ومشاركاً قدر وسعي ولو بالنية والقول في جهاد عدو الله، وأضرع مع ذلك إلى الله ربنا جل جلاله في قبول ذلك لوجهه الكريم، وأن يوفر (1) الأجر، ويجزل المثوبة لسيدنا المبارك، فيما دعا من ذلك إليه، ودلَّ برأيه الموفق عليه، فجمع له بكرمه -تعالى- فضيلة
العلم إلى الجهاد، وتوخّي القول في الطاعة إلى العمل {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحاً} [فصلت: 33] .
ومِنَ الله ربِّنا جلَّت قدرته نرجوا الإجابة وكمال الزُّلْفَى (2) بِمَنِّه.
ولمّا توخيتُ أن يكون هذا المجموع مبنياً على دلائل الكتاب والسُّنّة، مُنزَّهاً عن شبه التقليد واتباع مذهبٍ بغير دليل، قدّمت في عُمَدِ أبوابه، وأصول مسائله، ذِكْرَ ما بُنِيَتْ عليه من الكتاب والسنة وتجرَّد، وما يكون فيه من ذلك خلافٌ سَوْقَ (3) المشهور من مذاهب العلماء، والإشارةَ إلى مستند كل فريقٍ من وجوه الأدلة، بأقرب اختصار يمكن، وربما نَبَّهتُ في مواضع من ذلك على الأرجح عندي، ووجه الترجيح متى أمكن، مالم تدع في كشف وجهِ الترجيح الضرورة لإطالةٍ، أو لم يظهر عندي للترجيح وجهٌ، فأترك القول فيه، وقد أقْتَصِر تارة في فروع المسائل، فلا أتعرض في بعضها لذكر الخلاف، إمّا لأن المذكور أظهر دليلاً، وتتبع الخلاف فيه يُفْضي إلى التطويل، وإما لأن خلافاً في ذلك لا أقف عليه، وهو مع ذلك حَرِيٌّ أن يكون؛ لأن ما لا خلاف فيه: إما لأنه إجماع، أو لأنَّ الخلاف في مثله غير معروف عند أهل العلم، فقد أُنبّه على أنه كذلك -إن شاء الله-.
--------------------------------------------
এর আদব (শিষ্টাচার) এবং এর আনুষঙ্গিক বিধানাবলি সম্পর্কিত বিষয়াবলি, যা তাকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে এবং সেই কাজে নিষ্ঠা প্রদর্শনে সহায়তা করবে, এবং দ্বিগুণ প্রতিদান ও দুটি কল্যাণ একসাথে অর্জনের প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে।
অতএব, আমি আল্লাহর পথে আমার সংকল্প ও কর্মকে নিবেদিত করে এই কাজে অগ্রসর হয়েছি এবং আমার সাধ্যমতো অন্তত নিয়ত ও বক্তব্যের মাধ্যমে আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদে শরিক হয়েছি। এর পাশাপাশি আমি আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এটি তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এবং পূর্ণ (১) সওয়াব দান করেন এবং আমাদের বরকতময় সাইয়্যেদকে মহত্তম প্রতিদান দান করেন, যা তিনি আহ্বান করেছেন এবং যার দিকে তিনি তাঁর সঠিক সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে তাঁর জন্য জিহাদের মর্যাদার সাথে ইলমের (জ্ঞানের) মর্যাদাকে
একত্রিত করেছেন, এবং আনুগত্যের ক্ষেত্রে কথার সাথে কাজকে যুক্ত করেছেন: {ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে এবং নেক আমল করে} [ফুসসিলাত: ৩৩]।
আর আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট, যাঁর ক্ষমতা সুমহান, তাঁর অনুগ্রহে দোয়া কবুল হওয়া এবং নৈকট্যের (২) পূর্ণতা কামনা করছি।
যেহেতু আমি এই সংকলনটিকে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করার সংকল্প করেছি, যা অন্ধ অনুকরণের সন্দেহ এবং দলিলবিহীন কোনো মাযহাবের অনুসরণ থেকে মুক্ত হবে; তাই আমি এর মূল অধ্যায়গুলো এবং মৌলিক মাসআলাসমূহের শুরুতে কুরআন ও সুন্নাহর সেই ভিত্তিগুলো উল্লেখ করেছি যার ওপর এগুলো প্রতিষ্ঠিত। আর যে সকল বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, সেখানে আলেমদের প্রসিদ্ধ মাযহাবসমূহ উপস্থাপন (৩) করেছি এবং সংক্ষিপ্ততম উপায়ে প্রতিটি পক্ষের দলিলের উৎস নির্দেশ করেছি। কোনো কোনো স্থানে আমি আমার নিকট যা অগ্রগণ্য তা উল্লেখ করেছি এবং সম্ভব হলে তার কারণও বর্ণনা করেছি; যতক্ষণ না তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হয়। আর যেখানে আমার কাছে কোনোটিই অগ্রগণ্য মনে হয়নি, সেখানে আমি কোনো মন্তব্য করিনি। কখনো কখনো আমি শাখা মাসআলাগুলোতে সংক্ষেপ করেছি, তাই কিছু ক্ষেত্রে মতভেদের কথা উল্লেখ করিনি। হয় একারণে যে, উল্লিখিত বিষয়টি দলিলে অধিকতর স্পষ্ট এবং তার মতভেদ বর্ণনা করলে তা দীর্ঘ হয়ে যাবে, অথবা একারণে যে, বিষয়টি সম্পর্কে আমার কোনো দ্বিমত জানা নেই, যদিও সম্ভাবনা থাকে যে সেখানে মতভেদ থাকতে পারে। কারণ যে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই, তা হয় সর্বসম্মতি (إجماع), অথবা আলেমদের নিকট সেই বিষয়ে কোনো মতভেদ জানা নেই। আমি ইনশাআল্লাহ সেদিকে ইঙ্গিত প্রদান করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ومهما ذكرت دليلاً أو توجيهاً لقولٍ فهو على ضربين: منه ما وقفت عليه نقلاً، ومنه ما استدللت عليه انتزاعًا من أصولهم (1) ، وإنما نبهت على هذا رفعاً لعمدة الحمل فيه.
وأكثر ما أوردته دليلاً في هذا من حديثٍ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهو حجّة ثابتة؛ لأني قد خرَّجته من «الصحيحين» : البخاري ومسلم، أو مما هو صحيحٌ من غيرهما، وإن كان قد يكون في بعضها اختلاف بين أهل الحديث في إثبات القول بصحَّته؛ لاختلافهم في بعض رجال سنده، إلاّ أن ما هذه سبيلهُ، مما لم يَتَرقَّ إلى الصِّحَّة المتفق عليها عندهم؛ فله مع ذلك درجة في العلو والحُجَّة عن كثير مما يتسامح به بعض أصحاب المذاهب في كتبهم، ثم أرجو أن يكون وقوعُ هذا النوع الذي اعتذرتُ منه في هذا المجموع قليلاً جداً، وأكثر ما يقع إن وجد في أبواب الرَّغائب والآداب، مما لا يقع مواقع الفصل في الأحكام من الحلال والحرام، والواجب والمحظور (2) .
ومع هذا؛ فأنا -إن شاء الله- أنسبُ كل حديثٍ إلى الأصل الذي نقلته منه، كالبخاري، ومسلم، والنسائي، وأبي داود، والترمذي، وغيرهم؛ ليكون ذلك سهلاً لمن أراد الوقوفَ عليه هنالك، بحول الله وقوّته، وسَمَّيْتُ هذا المجموع، ملاءمة لِقصدي، وملاحظةً لما أرجو أن تبلغ به عند الله نِيَّتي:
كتاب «الإنجاد في أبواب الجهاد» .
وقَسَّمتُ فصوله ومسائله على عشرة أبواب:
الباب الأول: في حدِّ الجهاد ووجوبه، وتفصيل أحكامه: من فرضٍ على الأعيان، وعلى الكفاية، ونَفْلٍ، وصِفَةِ مَنْ يجب ذلك عليه، وهل تجب الهجرة؟
--------------------------------------------
আমি যখনই কোনো উক্তি বা মতের স্বপক্ষে কোনো দলিল বা দিকনির্দেশনা উল্লেখ করেছি, তা দুই প্রকার: এর কোনোটি বর্ণনার (نقلاً) মাধ্যমে আমি অবগত হয়েছি, আর কোনোটি তাদের মূলনীতিসমূহ (أصولهم) থেকে নির্যাস হিসেবে উদ্ভাবন (استدلال) করেছি। এই বিষয়টি আমি কেবল এজন্যই সতর্ক করেছি যাতে এর দায়ভার বহনের বোঝা লাঘব হয়।
আর এ ক্ষেত্রে আমি প্রমাণ হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে হাদিসগুলো অধিক পরিমাণে উল্লেখ করেছি, সেগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত দলিল; কারণ আমি তা 'সহিহাইন': বুখারি ও মুসলিম থেকে অথবা অন্য কিতাবের বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস থেকে চয়ন করেছি। যদিও কোনো কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) বিষয়ে হাদিসবিশারদদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে—তাদের বর্ণনাসূত্রের (سنده) কোনো কোনো রাবির বিষয়ে ভিন্নমতের কারণে। তবে যেগুলোর অবস্থা এমন—অর্থাৎ যা তাদের নিকট সর্বসম্মত বিশুদ্ধতার (الصحة) স্তরে পৌঁছায়নি—সেগুলোরও মর্যাদা ও নির্ভরযোগ্যতা (الحجة) এমন অনেক বিষয়ের চেয়ে উচ্চতর, যা বিভিন্ন মাজহাবের অনুসারীগণ তাদের কিতাবসমূহে শিথিলভাবে গ্রহণ করে থাকেন। অতঃপর আমি আশা করি যে, এই সংকলনে আমি যে ধরনের হাদিস সম্পর্কে ওজর পেশ করেছি তা খুবই কম হবে। আর এর অধিকাংশ—যদি পাওয়া যায়—তা ফাজায়েল ও আদব (শিষ্টাচার) সম্পর্কিত অধ্যায়ে হবে, যা হালাল-হারাম এবং ওয়াজিব ও নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের (الفصل) পর্যায়ে পড়ে না।
তথাপি, আমি—ইনশাআল্লাহ—প্রত্যেকটি হাদিসকে তার মূল উৎসের সাথে সম্পৃক্ত করব যেখান থেকে আমি তা গ্রহণ করেছি; যেমন: বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং অন্যান্য কিতাব। যাতে আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে, যারা তা অনুসন্ধান করতে চায় তাদের জন্য সহজ হয়। আর আমি আমার উদ্দেশ্যের সাথে মিল রেখে এবং আল্লাহর নিকট আমার নিয়ত কবুল হওয়ার প্রত্যাশা করে এই সংকলনের নামকরণ করেছি:
কিতাব ‘আল-ইনজাদ ফি আবওয়াবিল জিহাদ’।
আমি এর পরিচ্ছেদ ও মাসআলাগুলোকে দশটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: জিহাদের সংজ্ঞা ও এর আবশ্যকতা (وجوبه), এবং এর বিধানাবলির বিস্তারিত বিবরণ: যেমন—ফরজে আইন (فرض على الأعيان), ফরজে কিফায়া (على الكفاية), নফল (نفل), এবং যাদের ওপর এটি আবশ্যক তাদের গুণাবলি, আর হিজরত কি ওয়াজিব?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الباب الثاني: في فضل الجهاد والرِّباط، والنفقة في سبيل الله، وماجاء في طلب الشهادة وأجر الشهداء.
الباب الثالث: في صحة الجهاد، وما يَحِقُّ فيه من طاعة الإمام، ومياسرة الرفقاء، وما جاء في آداب الحرب، والدعوة (1) قبل القتال.
الباب الرابع: في وجوب الثبوت والصبر عند اللقاء، وحكم المبارزة، وما يحرم من الإنهزام، وهل يباح الفرار إذا كثر عدد الكفار؟
الباب الخامس: فيما يجب، وما يجوز أو يحرم من النكاية في العدو، والنيل منهم، ومعرفة أحكام الأسرى والتصرف فيهم.
الباب السادس: في الأمان وحكمه، وما يلزم من الوفاء به، والفرق بينه وبين مواقع الخديعة في الحرب، وهل تجوز المهادنة والصلح؟
الباب السابع: في الغنائم وأحكامها، ووجه القسم، ومن يستحق الإسهام، وبم يستحق، وسهمان الخيل، وما جاء في تحريم الغُلول.
الباب الثامن: في النَّفَل والسَّلَب، وأحكام الفئ والخمس، ووجوه مصارفهما، وتفصيل أحكام الأموال المستولى عليها من الكفار.
الباب التاسع: في حكم ضرب الجزية، وشرط قبولها، وممَّن يحق أن تُقبل من أصناف الكفر، ومقاديرها على الرؤوس، وما يجب لأهلها وعليهم.
الباب العاشر: في المرتدين والمحاربين، وقتال أهل البغي، وتفصيل أحكامهم، وذكر ما يتعلق بجناياتهم، ويلزم من عقوباتهم.
وبالله -تعالى- نستعين، وعليه نتوكل، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
*****
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: জিহাদ ও রিবাত (সীমান্ত পাহারা), আল্লাহর পথে ব্যয় এবং শাহাদাত অন্বেষণ ও শহীদদের প্রতিদান প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অধ্যায়: জিহাদের বিশুদ্ধতা (صحة), এতে ইমামের আনুগত্যের আবশ্যকতা, সহযোদ্ধাদের সাথে সহমর্মিতা এবং যুদ্ধের আদব ও যুদ্ধের আগে দাওয়াহ (১) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়: শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময় অবিচল থাকা ও ধৈর্য ধারণের আবশ্যকতা, দ্বন্দ্বযুদ্ধের বিধান, পরাজয় বরণ করে পলায়ন করা যা হারাম এবং কাফিরদের সংখ্যা বেশি হলে পলায়ন কি বৈধ?
পঞ্চম অধ্যায়: শত্রুকে পর্যুদস্ত করা, তাদের ওপর বিজয় লাভের ক্ষেত্রে যা ওয়াজিব, জায়েজ বা হারাম এবং যুদ্ধবন্দীদের বিধান ও তাদের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ সম্পর্কে।
ষষ্ঠ অধ্যায়: নিরাপত্তা প্রদান ও এর বিধান, তা রক্ষার আবশ্যকতা, যুদ্ধে রণকৌশলগত প্রতারণা ও নিরাপত্তার মধ্যকার পার্থক্য এবং যুদ্ধবিরতি ও সন্ধি কি জায়েজ?
সপ্তম অধ্যায়: গনিমত ও এর বিধানাবলি, বণ্টনের পদ্ধতি, কারা হিস্যা পাওয়ার যোগ্য ও কিসের ভিত্তিতে যোগ্য, ঘোড়ার হিস্যা এবং আত্মসাৎ করা হারামের বর্ণনা।
অষ্টম অধ্যায়: নফল ও সালব (নিহত শত্রুর সম্পদ), ফাই ও খুমুসের বিধান, এগুলোর ব্যয়ের খাতসমূহ এবং কাফিরদের থেকে দখলকৃত সম্পদের বিস্তারিত বিধান।
নবম অধ্যায়: জিজিয়া আরোপের বিধান, তা গ্রহণের শর্তাবলি, কুফরের কোন কোন শ্রেণী থেকে তা গ্রহণ করা যাবে, মাথাপিছু এর পরিমাণ এবং জিজিয়া প্রদানকারীদের অধিকার ও দায়িত্বাবলি।
দশম অধ্যায়: মুরতাদ ও মুহরিব (বিদ্রোহী), বাগী (বিদ্রোহী মুসলিম) দের সাথে যুদ্ধ, তাদের বিধানের বিস্তারিত বিবরণ, তাদের অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়াবলি এবং তাদের জন্য নির্ধারিত শাস্তি প্রসঙ্গে।
আর আমরা আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁরই ওপর ভরসা করছি, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
*****
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الباب الأولفي حدِّ الجهاد ووجوبه، وتفصيل أحكامه من فرض على الأعيانوعلى الكفاية، ونَفل، وصفة من يجب ذلك عليه، وهل تجب الهجرة؟
প্রথম অধ্যায়জিহাদের সংজ্ঞা ও এর আবশ্যকতা (وجوب) এবং এর বিধানসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা—ব্যক্তিগত আবশ্যকতা (فرض على الأعيان)ও সামষ্টিক আবশ্যকতা (فرض كفاية), এবং নফল (نفل) প্রসঙ্গে; এছাড়া যার ওপর এটি আবশ্যক তার বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং হিজরত (هجرة) কি আবশ্যক?
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال الله -ربنا جل جلاله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ هَلْ أَدُلُّكمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ. تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ. يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ. وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِّن اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} [الصف: 10-13] .
وخرَّج النَّسائي وأبو داود كلاهما عن أنس، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «جاهدوا المشركين بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم» ، قال النسائي: «بأموالكم وأيديكم وألسنتكم» (1) .
*****
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা —আমাদের প্রতিপালক জাল্লা জালালুহু— ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর পথে তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করবে; এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয় এবং চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম বাসস্থানেও (প্রবেশ করাবেন)। এটা মহাসাফল্য। আর অন্য আরেকটি (নেয়ামত) যা তোমরা পছন্দ করো: আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং নিকটবর্তী বিজয়; আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও।} [আস-সাফ: ১০-১৩] ।
নাসাঈ এবং আবু দাউদ উভয়ই আনাস (রা.) থেকে উদ্ধৃত (تخريج) করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদ, জীবন এবং জিহ্বা দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো।” নাসাঈর বর্ণনায় রয়েছে: “তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদ, হাত এবং জিহ্বা দিয়ে (জিহাদ করো)।” (১) ।
*****
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فصلٌ: في معنى الجهاد وحدِّه لغة وشرعاً
قال الله -تعالى-: {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ} [الحج: 78] ، وقال
-تعالى-: {وَمَن جَاهَدَ فَإِنَّمَا يُجَاهِدُ لِنَفْسِهِ إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [العنكبوت: 6] ، وقال -تعالى-: {يا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ} [التوبة: 73] .
فالجهاد في اللغة، أصله: الجَهْد (1) ، وهو: المَشَقَّة، يقال: جهدتُ الرجلَ: بَلغْتُ مشقته، وكذلك الجهاد في الله -تعالى-؛ إنما هو بذل الجهدِ في إذلالِ النفس وتذليلها في سُبلِ الشرع، والحملِ عليها بمخالفة الهوى، ومن الركون إلى الدَّعة واللذات، واتباع الشهوات (2) .
خرَّج الترمذي عن فضالة بن عُبيد: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «المجاهد من جاهد نَفْسَه» (3) .
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: জিহাদের আভিধানিক ও শরয়ি অর্থ ও সংজ্ঞা প্রসঙ্গে
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেমন জিহাদ করা উচিত} [হজ: ৭৮], এবং তিনি আরও ইরশাদ করেছেন:
{যে ব্যক্তি জিহাদ করে, সে তো নিজের কল্যাণার্থেই জিহাদ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন} [আনকাবুত: ৬], এবং তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {হে নবী! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন} [তওবা: ৭৩]।
আভিধানিক দৃষ্টিতে জিহাদের মূল হলো: আল-জাহদ, যার অর্থ: কষ্ট বা পরিশ্রম। বলা হয়ে থাকে: 'আমি লোকটিকে পরিশ্রান্ত করে ফেলেছি', অর্থাৎ আমি তাকে কষ্টের চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছি। তেমনিভাবে আল্লাহর পথে জিহাদ করার অর্থ হলো—শরয়ি পথে নফসকে দমিত ও বশীভূত করার জন্য নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা, এবং কুপ্রবৃত্তির বিরোধিতা করে এবং বিলাসিতা ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি ঝোঁক ও কামনার অনুসরণ থেকে বিমুখ করে নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
তিরমিজি ফাদালাহ ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "প্রকৃত মুজাহিদ সেই, যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وخرَّج النسائي عن سبرة بن أبي فاكِهٍ قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:..
فذكر حديثاً طويلاً في وسوسة الشيطان للمؤمن، وفيه: «ثم قعد له بطريق الجهاد، فقال: تجاهد. فهو جهد النفس والمال
… » (1) الحديث.
والجهاد في الشرع يقع على ثلاثة أنْحاء: جهادٍ بالقلب، وجهادٍ باللسان، وجهادٍ باليد.
والدليلُ على هذه القسمة، وتسمية كل واحدٍ منها جهاداً: ماخرَّجه مسلم (2) ، عن عبد الله بن مسعود، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «مامن نبي بعثه الله في أمة قبلي إلا كان له من أمته حواريون، وأصحابٌ، يأخذون بسُنَّته، ويقتدون بأمره، ثم إنها تخْلفُ من بعدهم خُلوفٌ، يقولون مالايفعلون، ويفعلون مالايؤمرون، فمن
--------------------------------------------
নাসাঈ সাবরা বিন আবি ফাকিহ থেকে বর্ণনা (خرج) করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:..
অতঃপর তিনি মুমিনের প্রতি শয়তানের কুমন্ত্রণা সম্পর্কে একটি দীর্ঘ হাদিস উল্লেখ করেছেন, যাতে রয়েছে: «অতঃপর সে জিহাদের পথে তার জন্য ওত পেতে বসল এবং বলল: তুমি কি জিহাদ করবে? অথচ এটি হলো জান ও মালের পরিশ্রম
… » (১) হাদিসটির শেষ পর্যন্ত।
শরিয়তের পরিভাষায় জিহাদ তিন প্রকারের হয়ে থাকে: অন্তরের মাধ্যমে জিহাদ, জিহ্বার মাধ্যমে জিহাদ এবং হাতের মাধ্যমে জিহাদ।
এই বিভাজন এবং প্রত্যেকটিকে জিহাদ হিসেবে নামকরণের দলিল হলো যা মুসলিম বর্ণনা (خرج) করেছেন (২), আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার পূর্বে আল্লাহ কোনো উম্মতের মধ্যে এমন কোনো নবী পাঠাননি যার উম্মতের মধ্যে তার এমন কিছু একনিষ্ঠ সহচর ও সাথী ছিল না, যারা তার সুন্নাতকে গ্রহণ করত এবং তার আদেশ অনুসরণ করত। অতঃপর তাদের পরে এমন কিছু অপদার্থ উত্তরসূরি আসে, যারা যা বলে তা করে না এবং যা করে তা করার জন্য আদিষ্ট নয়। সুতরাং যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
جاهدهم بيده فهو مؤمن، ومن جاهدهم بلسانه فهو مؤمن، ومن جاهدهم بقلبه فهو مؤمن، وليس وراءَ ذلك من الإيمان حبَّة خَرْدل» (1) .
فالقول أولاً: في معنى جهاد القلب، وذلك راجعٌ إلى مغالبة الهوى، ومدافعة الشيطان، وكراهية ما خالف حدود الشرع، والعقدِ على إنكار ذلك، حيث لا يستطيع القيام في تغييره بقول ولا فعل، وهذا الضرب واجب على كل مسلم إجماعاً، وهو مما يتناوله قوله -تعالى-: {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ} [الحج: 78] ، وقوله -سبحانه-: {وَمَن جَاهَدَ فَإِنَّمَا يُجَاهِدُ لِنَفْسِهِ} [العنكبوت: 6] ، وقال -سبحانه-: {وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى} [النازعات: 40] ، وقوله صلى الله عليه وسلم: «ومن جاهدهم
بقلبه فهو مؤمن، وليس وراء ذلك من الإيمان حبَّة خردل» (2) .
الثاني: جهادٌ باللسان، وذلك كالأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر (3) ، وزجرِ
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ হাত দিয়ে জিহাদ করে সে মুমিন, আর যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ জিহ্বা দিয়ে জিহাদ করে সে মুমিন, এবং যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ অন্তর দিয়ে জিহাদ করে সে মুমিন। আর এর ঊর্ধ্বে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান নেই» (১) ।
প্রথমত আলোচনা হলো: অন্তরের জিহাদের মর্ম নিয়ে। আর এটি কুপ্রবৃত্তির ওপর বিজয় অর্জন, শয়তানকে প্রতিরোধ করা, শরয়ি সীমার পরিপন্থী বিষয়কে ঘৃণা করা এবং সেই কাজকে মনে মনে অস্বীকার করার দৃঢ় সংকল্পের দিকে প্রত্যাবর্তন করে; যখন সে কথা বা কাজের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করার সামর্থ্য রাখে না। এই প্রকারটি সকল মুসলিমের ওপর ঐকমত্যে (إجماع) ওয়াজিব। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো, যেমন জিহাদ করা উচিত} [হজ: ৭৮], এবং তাঁর বাণী: {আর যে জিহাদ করে, সে তো তার নিজের কল্যাণেই জিহাদ করে} [আনকাবুত: ৬]। তিনি আরও বলেছেন: {এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নফসকে বিরত রাখে} [নাযিয়াত: ৪০]। এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: «আর যে তাদের বিরুদ্ধে নিজ অন্তর দিয়ে জিহাদ করে সে মুমিন, আর এর ঊর্ধ্বে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান নেই» (২) ।
দ্বিতীয়ত: জিহ্বা দ্বারা জিহাদ। যেমন সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা (৩) , এবং তিরস্কার করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أهل الباطل، والإغلاظ عليهم، وما أشبه ذلك، مما يجب إبراء القول فيه.
وهذا الضرب واجب على المكلَّف بشروط:
منها: أن يكون عالماً بطرق الإنكار، ووجه القيام في ذلك، من التَرَفُّقِ تارة، والغلظة أخرى، بحسب المُنكر في نفسه، والأحوال التي تَعترض، فإنْ لم يكن كذلك لم يجب، بل قد يحرم عليه القيام؛ لأنه ربما وقع في أَشدّ مما أنكر (1) ،
قال
--------------------------------------------
ভ্রান্ত পথের অনুসারী (أهل الباطل), তাদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়, যেগুলোর ক্ষেত্রে সত্য প্রকাশ করা ওয়াজিব।
আর এই বিষয়টি মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) ওপর কতিপয় শর্তসাপেক্ষে ওয়াজিব:
তার মধ্যে একটি হলো: অন্যায় প্রতিরোধ (إنكار المنكر) করার পদ্ধতি এবং তা কার্যকর করার উপায় সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। কখনো কোমলতা অবলম্বনের মাধ্যমে, আবার কখনো কঠোরতার মাধ্যমে—যা মূলত সেই অন্যায় (المنكر) এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। যদি বিষয়টি এমন না হয় (অর্থাৎ সে অভিজ্ঞ না হয়), তবে তা ওয়াজিব হবে না, বরং অনেক সময় তা করা হারামও হতে পারে; কারণ এতে হয়তো সে যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে চাচ্ছে, তার চেয়েও বড় কোনো অন্যায়ে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (১)।
তিনি বলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الله -تعالى-: {كُونُواْ قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ} [النساء: 135] ، وقال -سبحانه-: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ} [الأعراف: 199] .
ومنها: أن تكون له قوة في نفسه، وحالة يأمن معها أن يُسْطَاع ذلك، فإن لم يكن كذلك لم يجب عليه، لكنه إن فعل صابراً محتسباً قيامه في ذلك عند الله عز وجل: صحَّ، وكان مأجوراً. قال الله عز وجل: {وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ} [البقرة: 207] ، وقال -تعالى-: {وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الأُمُورِ} [لقمان: 17] .
وخرَّج الترمذي عن أبي سعيد الخدري أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن من أعظم الجهاد كلمة عدلٍ عند سلطان جائر» (1) ، قال فيه: حسن غريب.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো} [আন-নিসা: ১৩৫], এবং তিনি সুবহানাহু বলেছেন: {তুমি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করো, সৎকাজের আদেশ দাও এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলো} [আল-আরাফ: ১৯৯]।
এর মধ্যে একটি হলো: তার নিজের মধ্যে শক্তি থাকা এবং এমন অবস্থা থাকা যাতে সে নিরাপদ বোধ করে যে এটি করতে সক্ষম হবে। যদি এমনটি না হয় তবে তার জন্য এটি আবশ্যক নয়। কিন্তু যদি সে ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় সওয়াব লাভের নিয়তে তার এই অবস্থানে অটল থাকে, তবে তা সঠিক হবে এবং সে পুরস্কৃত হবে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়} [আল-বাকারা: ২০৭]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে বাধা দাও এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ করো; নিশ্চয়ই এটি দৃঢ় সংকল্পের কাজ} [লুকমান: ১৭]।
ইমাম তিরমিজি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «অত্যাচারী শাসকের সামনে হকের কথা বলাই হলো সর্বোত্তম জিহাদ» (১), তিনি এই হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: সুন্দর ও একক (حسن غريب)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومنها: أن يرجو في قيامه كَفَّ ذلك المنكر وإزالته، فإن أَيِسَ من ذلك، فقد قيل: لا يجب عليه -أيضاً- إلا تبرُّعاً.
والأظهر عندي في هذا الوجه: أنه يجب عليه القول، وإن كان يائساً من
كفّ ذلك المنكر؛ لأن الإنكار أخصُّ فريضةً، لا يسقطه عدم تأثر المنكر عليه، ألا ترى أنّ إنكار القلب حيث لا يستطاع الإنكار بالقول واجبٌ باتفاق، وهو لا أثَرَ له في دفع ذلك المنكر! فكذلك يجب القول إذا أمكنه، وإن لم يؤثر، وأيضاً ففي إعلان الإنكار تقريرُ معالم الشرع، فلو وقع التَّمالؤ في مثل هذا على التَّرْكِ حيث لا [يغني الكف] (1) والإقلاع، لأوشك دروسها. قال الله عز وجل: {وَلْتَكُن مِّنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} [آل عمران: 104] ، فالقول إذا قدر عليه واجب، أثّر أو لَم يؤثر (2) .
--------------------------------------------
এবং এর মধ্যে একটি হলো: সে তার পদক্ষেপে উক্ত অসৎকাজ (منكر) রোধ ও তা দূর করার আশা করবে। যদি সে এ বিষয়ে নিরাশ হয়, তবে বলা হয়েছে: এটি তখন তার জন্য ওয়াজিব হবে না—বরং তা কেবল নফল হিসেবে গণ্য হবে।
এই দৃষ্টিভঙ্গিতে আমার নিকট অধিক স্পষ্ট মত হলো: তার জন্য প্রতিবাদ করা বা কথা বলা ওয়াজিব, যদিও সে উক্ত অসৎকাজ (منكر) রোধ করার বিষয়ে নিরাশ থাকে; কারণ প্রতিবাদ করা একটি সুনির্দিষ্ট আবশ্যিক দায়িত্ব (فريضة), যা অপকর্মকারীর ওপর প্রভাব না পড়ার কারণে রহিত হয় না। আপনি কি দেখেন না যে, যেখানে মুখে প্রতিবাদ করার সক্ষমতা থাকে না, সেখানে অন্তরের ঘৃণা বা প্রতিবাদ সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াজিব? অথচ উক্ত অসৎকাজ (منكر) প্রতিরোধে এর কোনো (দৃশ্যমান) প্রভাব নেই! একইভাবে, যখন তার পক্ষে কথা বলা সম্ভব, তখন তা ওয়াজিব হবে, যদিও তা কোনো প্রভাব না ফেলে। অধিকন্তু, প্রতিবাদের ঘোষণার মধ্যে শরীয়তের নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিহিত রয়েছে। সুতরাং, যেখানে প্রতিরোধ ও বর্জন ফলপ্রসূ হয় না, সেখানে যদি এ জাতীয় বিষয়ে প্রতিবাদ ছেড়ে দেওয়ার ওপর সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়, তবে শরীয়তের নিদর্শনসমূহ অচিরেই বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হবে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "আর তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের আদেশ দিবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে।" [আল-ইমরান: ১০৪]। সুতরাং, যখন সক্ষমতা থাকবে, তখন কথা বলা বা প্রতিবাদ করা ওয়াজিব, চাই তা প্রভাব ফেলুক বা না ফেলুক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
خرَّج مسلم، عن أبي سعيد الخدري قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من رأى منكم منكراً فليغيِّرُه بيده، فإن لَمْ يستطع فبلسانه، فإن لَمْ يستطع فبِقلْبِه، وذلك أضعف الإيمان» (1) .
وعلى هذا الضَّرب حَمَلَ جماعةٌ من العلماء ما أمر الله -تعالى- به نبيه صلى الله عليه وسلم من جهاد المنافقين في قوله -تعالى-: {جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ} [التوبة: 73] ، فهذا إنما يكون في المنافقين بالقول من الزجر والوعيد والتهديد، وما أشبه ذلك؛ لأنه صلى الله عليه وسلم لم يؤمر بقتلهم؛ لِمَا كانوا يظهرونه من الإسلام، قال ابن عباس (2) ،
--------------------------------------------
ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অন্যায় দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়। যদি তাতে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দ্বারা; আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দ্বারা। আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর» (১)।
একদল আলেম মহান আল্লাহর তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাকে এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো} [আত-তাওবাহ: ৭৩]। এটি মূলত মুনাফিকদের ক্ষেত্রে কথার মাধ্যমে শাসন করা, ধমক দেওয়া, ভীতি প্রদর্শন করা এবং এই জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের হত্যা করার জন্য আদিষ্ট হননি, যেহেতু তারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করত। ইবনে আব্বাস (২) বলেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وغيره (1) : معناه: «جاهد الكفار بالسَّيف، والمنافقين باللسان» .
وبسْط الكلام في ذلك، وفي الكفّ عن قتل المنافقين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يقتضي مأخذاً واسعاً غير ما قُصد له في هذا الباب.
الثالث: جهاد باليد، وهو أنواع:
منه ما يرجع إلى إقامة الحدود، ونحوها من التعزيرات، وذلك إنما يجب على الولاة والحُكَّام، ومنه: مايدخل في باب تغيير المناكر، وذلك يجب حيث لا يُغني التغيير بالقول، وعلى الشروط التي قدَّمنا في حق القائم في ذلك، والقيام فيه بحسب الأحوال، وتدريج الانتقال.
ومنه: قتال الكفار، والغزو. ويقتضي أنَّ لفظ الجهاد إذا أُطلق، إنما يُحمل على هذا النوع بخاصَّة، وهو الذي نُصِبَ له هذا المجموع، فَلنأْخُذ في ذلك على حسب ما يرزقنا الله فيه من الإمداد بالمعونة والتوفيق، لا ربَّ غيره.
--------------------------------------------
এবং অন্যদের (১) মতে এর অর্থ হলো: "তলোয়ারের মাধ্যমে কাফিরদের বিরুদ্ধে এবং জবানের মাধ্যমে মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো।"
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মুনাফিকদের হত্যা করা থেকে বিরত থাকার বিষয়টি এক বিস্তৃত আলোচনার দাবি রাখে, যা এই অধ্যায়ের মূল উদ্দেশ্যের বাইরে।
তৃতীয় প্রকার: হাত দ্বারা জিহাদ, আর এটি কয়েক প্রকারের:
এর একটি অংশ হলো হুদুদ (দণ্ডবিধি) কার্যকর করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (তা'যীর), যা কেবল শাসক ও বিচারকদের ওপর ওয়াজিব। আরেকটি অংশ হলো মন্দ বিষয় পরিবর্তনের (তত্-গয়ীরুল মুনকার) অন্তর্ভুক্ত, যা তখন ওয়াজিব হয় যখন মৌখিক পরিবর্তন কার্যকর হয় না। তবে এটি সেই সকল শর্ত সাপেক্ষে যা আমরা এই কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে পূর্বে উল্লেখ করেছি এবং এটি অবস্থা ভেদে ও পর্যায়ক্রমে পালনীয়।
এর আরেকটি প্রকার হলো: কাফিরদের সাথে লড়াই এবং যুদ্ধ। এর দাবি হলো, যখন জিহাদ শব্দটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি বিশেষভাবে এই প্রকারের অর্থেই ব্যবহৃত হয় এবং এই সংকলনটি মূলত এরই জন্য তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং, আমরা আল্লাহর সাহায্য ও তাওফীকের ওপর ভরসা করে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করছি, তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فصلٌ: في ابتداء الأمر بالقتال والتدريج فيه
قال الله عز وجل: {قُلْ يا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُواْ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [الأعراف:
158] ، وقال -تعالى-: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَاّ كَافَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيراً وَنَذِيراً وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [سبأ: 28] ، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أُعطيتُ خَمْساً لم يُعطهنَّ أحدٌ قبلي: كان كلّ نبيٍّ يبعث إلى قومه خاصة، وبُعثت إلى كل أحمر وأسود» الحديث. خرَّجه مسلم (1) .
فَثَبتَ بالبراهين القاطعة والآيات البيِّنة ومن الكتاب والسنَّة والإجماع القاطع المتواتر: أنَّ محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الخلق أجمعين؛ إنْسِهم وجِنِّهم، أحمرهم وأسودهم، عَربهم وعجمهم، من كان منهم في عصره، ومن يأتي بعده إلى يوم القيامة، قال الله -تعالى-: {قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لأُنذِرَكُم بِهِ وَمَن بَلَغَ} [الأنعام: 19] .
فذكر أهل العلم والنقل، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بعثه الله عز وجل -وهو على رأس أربعين سنة-، أقام بمكة يدعو إلى الله -تعالى-، ويُبيِّن عن ربه عز وجل ما أرسله به من الهدى، ويتلو عليهم القرآن، وينهاهم عن الشِّركِ وعبادة
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: যুদ্ধের নির্দেশনার সূচনা এবং এর ক্রমধারা প্রসঙ্গে
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {বলুন, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল, যাঁর রয়েছে আসমান ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই; তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যেন তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও।} [আল-আরাফ: ১৫৮], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।} [সাবা: ২৮], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে এমন পাঁচটি বস্তু দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কাউকে দেওয়া হয়নি: প্রত্যেক নবীকে কেবল তাঁর নিজ কওমের প্রতি বিশেষভাবে প্রেরণ করা হতো, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে লাল ও কালো (অর্থাৎ সকল বর্ণের) মানুষের প্রতি» — হাদিস। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
অকাট্য প্রমাণাদি, সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এবং কিতাব, সুন্নাহ ও অকাট্য মুতাওয়াতির (متواتر) ইজমার দ্বারা এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আব্দু মানাফ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর রাসূল; তাদের মানুষ ও জিন, লাল ও কালো, আরব ও অনারব—যারা তাঁর সমসাময়িক ছিল এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পরে আসবে—সবার জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আর আমার নিকট এই কুরআন ওহী হিসেবে পাঠানো হয়েছে যেন এর মাধ্যমে আমি তোমাদেরকে এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাদেরকে সতর্ক করতে পারি।} [আল-আনআম: ১৯]।
জ্ঞান ও বর্ণনার বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা প্রেরণ করেন—তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশের শুরুতে—তিনি মক্কায় অবস্থান করে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে থাকেন এবং তাঁর প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা তাঁকে যে হিদায়াত দিয়ে পাঠিয়েছেন তা বর্ণনা করতে থাকেন, তাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং তাদেরকে শিরক ও মূর্তিপূজা থেকে নিষেধ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأوثانِ، والفواحش -التي حرّم الله تعالى- مدّة طويلةً، لم يُؤمر في شيءٍ من تلك المدّة بقتال؛ بل كان يؤمر بالإعراض عنهم، وبالصَّفح الجميل، والصَّبرِ على أذاهم؛ إمهالاً من الله -تعالى-، وإبلاغاً في الحجَّة، وإعذاراً في المُدَّة.
قال الله -تعالى-: {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} [الحجر: 94] ، وقال -تعالى-: {فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ} [البقرة: 109] ، وقال -سبحانه-: {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُوْلُوا الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلا تَسْتَعْجِل لَهُمْ} [الأحقاف: 35] .
ولم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم مُعلناً بالرسالة والنَّذارة، صابراً على ما يناله في ذلك من الأَذى، ناصِحاً لهم، مُحتسباً ما أصابه فيهم، إلى أن آمن بالله وبما جاء به رسول الله صلى الله عليه وسلم مَنْ أراد الله -تعالى- به خيراً، وجعل له نوراً، وعاندَ من شاء الله
-تعالى-، وأقام رسول الله صلى الله عليه وسلم على ذلك بمكة عشر سنين، وقيل: ثلاث عشر سنة، وفي ذلك يقول أبو قيس صِرمة بن أبي أنس بن صِرمة؛ من بني النَّجار (1) :
--------------------------------------------
প্রতিমা এবং অশ্লীলতা—যা মহান আল্লাহ হারাম করেছেন—দীর্ঘ সময় ধরে এগুলোর মধ্যে থাকাকালীন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যুদ্ধের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি; বরং তাঁকে তাদের থেকে বিমুখ থাকার, সুন্দরভাবে ক্ষমা করার এবং তাদের নির্যাতনে ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবকাশ দান, অকাট্য প্রমাণ পৌঁছানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওজর পেশের সুযোগ দান।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব তোমাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে প্রচার করো এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও} [আল-হিজর: ৯৪]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {অতএব তোমরা ক্ষমা করো এবং মার্জনা করো, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর কোনো ফয়সালা নিয়ে আসেন} [আল-বাকারাহ: ১০৯]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ করো, যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসুলগণ, আর তাদের জন্য তড়িঘড়ি করো না} [আল-আহকাফ: ৩৫]।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিসালাত ও সতর্কবাণী প্রচার অব্যাহত রাখেন এবং এতে যে কষ্ট আসত তাতে ধৈর্য ধারণ করতেন। তিনি তাদের কল্যাণকামী ছিলেন এবং তাদের পক্ষ থেকে যে বিপদের সম্মুখীন হতেন তাতে আল্লাহর নিকট প্রতিদানের আশা রাখতেন। অবশেষে মহান আল্লাহ যার জন্য কল্যাণ চেয়েছেন এবং যার জন্য হেদায়াতের নূর রেখেছেন, সে আল্লাহর প্রতি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমান আনল। আর যার ব্যাপারে আল্লাহ চাইলেন সে হঠকারিতা করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেন; কেউ কেউ বলেন তেরো বছর। এই প্রসঙ্গে বনু নাজ্জারের (১) আবু কায়স সিরমা ইবনে আবি আনাস ইবনে সিরমা বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ثَوَى في قريشٍ بِضْعَ عشرةَ حِجَّةً
… يذكِّر لو يَلْقى صديقاً مُواتيا (1)
ثم لما أراد الله -تعالى- إنفاذَ الوعيد فيمن أهلكه من كفار قريش، وعظماء أهل الشرك بمكة: أذِن الله تعالى لرسوله صلى الله عليه وسلم في الهجرة منها إلى المدينة، فخرج، ولمَّا يؤمر حينئذٍ بقتال، ثم أذن له في القتال بَعْدُ.
خرّج النسائي (2) عن ابن عباس قال: لما أخرج النبي صلى الله عليه وسلم من مكة؛ قال أبو
بكر:
--------------------------------------------
তিনি কুরাইশদের মাঝে দশ বছরের কিছু অধিক কাল অবস্থান করেছিলেন
… তিনি উপদেশ দিতেন যদি কোনো অনুকূল বন্ধু খুঁজে পেতেন। (১)
অতঃপর আল্লাহ তাআলা যখন কুরাইশ কাফের এবং মক্কার অংশীবাদী নেতাদের মধ্য থেকে যাদের ধ্বংস করবেন বলে নির্ধারিত ছিল, তাদের ব্যাপারে তাঁর সতর্কবাণী বাস্তবায়নের ইচ্ছা করলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার অনুমতি দান করলেন। ফলে তিনি বের হলেন, আর তখন পর্যন্ত যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়নি, পরবর্তীতে তাঁকে যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
নাসাঈ (২) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা থেকে বের করে দেওয়া হলো, তখন আবু বকর বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
«أَخْرَجُوا نبيَّهم، إنا لله وإنا إليه راجعون، ليهلكنّ» ؛ فنزلت: {أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُواْ وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ} [الحج: 39] . قال: «فَعَرفْتُ أنه سيكون قتال» . قال ابن عباس: فهي أول آية نزلت في القتال.
وكذلك روى القاضي إسماعيل في «أحكام القرآن» (1) عن عروة بن الزبير: أنها أوَّل آيةٍ نزلت في القتال، وقاله قتادة وغيره (2) . وقد روي عن الربيع بن أنس (3) وغيرهِ أن أول آيةٍ نزلت في القتال: {وَقَاتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ
--------------------------------------------
«তারা তাদের নবীকে বের করে দিয়েছে; ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, তারা অবশ্যই ধ্বংস হবে»; অতঃপর অবতীর্ণ হলো: {যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হলো, কারণ তারা নির্যাতিত; আর আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম} [হজ্জ: ৩৯]। তিনি বলেন: «আমি বুঝতে পারলাম যে শীঘ্রই যুদ্ধ সংঘটিত হবে»। ইবনে আব্বাস বলেন: এটিই যুদ্ধের বিষয়ে অবতীর্ণ প্রথম আয়াত।
একইভাবে কাজী ইসমাইল তার ‘আহকামুল কুরআন’ (১) গ্রন্থে উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এটি যুদ্ধের বিষয়ে অবতীর্ণ প্রথম আয়াত; কাতাদাহ এবং অন্যান্যরাও (২) একই কথা বলেছেন। আর রাবি বিন আনাস (৩) এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যুদ্ধের বিষয়ে অবতীর্ণ প্রথম আয়াত হলো: {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَلَا تَعْتَدُواْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [البقرة: 190] ، أي: قاتلوا من قاتلكم، وكُفَّوا عمَّن كفَّ عنكم، لا تعتدوا بقتاله. هذا أحد التأويلات في الآية.
قال إسماعيل: إنما أَذِنَ الله -تبارك اسمه- للنبي صلى الله عليه وسلم في القتال بعد قدومه المدينة، ثم أُمِرَ صلى الله عليه وسلم بالقتال على أحوالٍ كانت؛ كان يؤمر فيها بالقتال، فمنها -والله
أعلم- هذه الآية وغيرها، يعني: قوله -تعالى-: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا} [البقرة: 190] ، ثُمَّ نسِخ ذلك كلُّه، وأمر بقتال المشركين كافَّة. وإلى ما ذكر القاضي إسماعيل ذهبَ كثيرٌ من أهل العلم في حمل الآيات الواردة في ذلك على أحوال؛ فمنها قوله -تعالى-: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُواْ} [البقرة: 190] ، فهذا لم يؤذن فيه في قتال من لم يقاتل، بل قال -تعالى-: {فَإِنِ اعْتَزَلُوكُمْ فَلَمْ يُقَاتِلُوكُمْ وَأَلْقَوْا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ فَمَا جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلاً} [النساء: 90] ، وقال -تعالى- فيمن يقاتل: {فَإِن لَّمْ يَعْتَزِلُوكُمْ وَيُلْقُواْ إِلَيْكُمُ السَّلَمَ وَيَكُفُّواْ أَيْدِيَهُمْ فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأُوْلَئِكُمْ جَعَلْنَا لَكُمْ عَلَيْهِمْ سُلْطَاناً مُّبِيناً} [النساء: 91] ، وكذلك قوله -تعالى-: {وَلَا تُقَاتِلُوهُمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّى يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ فَإِن قَاتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ} [البقرة: 191] ، فلم يؤمروا أن يبدؤوهم عند المسجد الحرام بقتال، حتى يكونوا هم يقاتلون، وكذلك قوله -تعالى-: {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ قَاتِلُواْ الَّذِينَ يَلُونَكُمْ مِّنَ الْكُفَّارِ} [التوبة: 123] ، ففي هذا بعض التوسيع عمّا تضمَّنتهُ الآي قبل هذا؛ من أنه لا يُقاتلُ إلا من قاتل، فكان الأمر هنا أعمَّ في الكفار الأدْنَين، فالآية تتضمن قتالهم على كل حال؛ قاتلوا أو لم يُقاتلوا، ثم نَسَخَ الله -تعالى- كلَّ كفٍّ ومهادنةٍ بقي في أمر الكفار بعد الإمهال والإعذار، وإيعاب البلاغ والإنذار، فقال -تعالى-: {فَإِذَا انسَلَخَ الأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُواْ الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُواْ لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ} [التوبة: 5] ، وقال -تعالى-: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ
--------------------------------------------
{আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।} [আল-বাকারা: ১৯০], অর্থাৎ: যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং যারা তোমাদের থেকে বিরত থাকে তোমরাও তাদের থেকে বিরত থাকো; তাকে হত্যার মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন করো না। এটি আয়াতের অন্যতম ব্যাখ্যা (تأويل)।
ইসমাইল বলেন: আল্লাহ — তাঁর নাম বরকতময় হোক — নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কেবল মদীনায় আগমনের পরেই যুদ্ধের অনুমতি প্রদান করেছেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বিভিন্ন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; যে সকল পরিস্থিতিতে তাঁকে যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে — আল্লাহ সর্বজ্ঞ — এই আয়াত এবং অন্যান্য আয়াতও রয়েছে। অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং সীমালঙ্ঘন করো না।} [আল-বাকারা: ১৯০]। অতঃপর এই সবকিছুই রহিত (نسخ) হয়ে যায় এবং সমস্ত মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাজী ইসমাইল যা উল্লেখ করেছেন, অনেক আলেমই এই বিষয়ে বর্ণিত আয়াতসমূহকে বিভিন্ন পরিস্থিতির ওপর প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে একই মত পোষণ করেছেন। তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং সীমালঙ্ঘন করো না।} [আল-বাকারা: ১৯০]। এখানে যারা যুদ্ধ করেনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি; বরং মহান আল্লাহ বলেছেন: {সুতরাং তারা যদি তোমাদের থেকে পৃথক থাকে (যুদ্ধ না করে) এবং তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে তোমাদের কাছে সন্ধি প্রস্তাব পাঠায়, তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে (যুদ্ধের) কোনো পথ রাখেননি।} [আন-নিসা: ৯০]। আর যারা যুদ্ধ করে তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক না হয়, তোমাদের কাছে সন্ধি প্রস্তাব না পাঠায় এবং তাদের হাত গুটিয়ে না রাখে, তবে তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাও ধরো এবং হত্যা করো। আর আমি তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ ও অধিকার দিয়েছি।} [আন-নিসা: ৯১]। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর মসজিদে হারামের নিকট তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করা পর্যন্ত তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো না। তবে যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তবে তোমরা তাদেরকে হত্যা করো।} [আল-বাকারা: ১৯১]। সুতরাং তারা যুদ্ধ শুরু না করা পর্যন্ত মসজিদে হারামের নিকট তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, কাফেরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের সাথে যুদ্ধ করো।} [আত-তাওবাহ: ১২৩]। এতে পূর্ববর্তী আয়াতগুলোর তুলনায় কিছুটা প্রশস্ততা রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে কেবল তাদের সাথেই যুদ্ধ করা যাবে যারা যুদ্ধ করে। এখানে নির্দেশটি নিকটবর্তী কাফেরদের ক্ষেত্রে ব্যাপক ছিল; ফলে আয়াতটি সকল অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে অন্তর্ভুক্ত করে, তারা যুদ্ধ করুক বা না করুক। অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবকাশ ও অজুহাত পেশের সুযোগ দেওয়ার পর এবং দাওয়াত ও সতর্কবার্তা পরিপূর্ণরূপে পৌঁছানোর পর কাফেরদের ব্যাপারে অবশিষ্ট সকল প্রকার যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা ও সন্ধিচুক্তি রহিত (نسخ) করে দেন। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের যেখানেই পাবে হত্যা করো, তাদেরকে ধরো, তাদেরকে ঘেরাও করো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওত পেতে বসে থাকো।} [আত-তাওবাহ: ৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন [আল্লাহর জন্য নির্ধারিত হয়]...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كُلُّهُ لله} [الأنفال: 39] ، وقال -تعالى-: {وَقَاتِلُواْ الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ} [التوبة: 36] (1) .
فصلٌ: في بيان ما استقرّ عليه الأمر بالجهاد
اختلف أهل العلم في مقتضى الآيات الواردة بالتشديد والتعميم في الأمر
--------------------------------------------
...সবকিছুই আল্লাহর জন্য হবে} [আল-আনফাল: ৩৯], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করো, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে। আর জেনে রাখো যে, আল্লাহ মুত্তাকীদের (সাবধানীদের) সাথে আছেন} [আত-তাওবাহ: ৩৬] (১)।
পরিচ্ছেদ: জিহাদের নির্দেশ যে বিষয়ের ওপর স্থির হয়েছে তার বর্ণনায়
আলেমগণ এই নির্দেশের কঠোরতা ও ব্যাপকতা সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াতসমূহের দাবি বা উদ্দেশ্য নিয়ে মতভেদ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بالقتال من قوله -تعالى-: {وَقَاتِلُواْ الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً} [التوبة: 36] ، وقوله
-تعالى-: {انْفِرُواْ خِفَافاً وَثِقَالاً} [التوبة: 41] ، و {إِلَاّ تَنفِرُواْ يُعَذِّبْكُمْ} [التوبة: 39] ، و {مَا كَانَ لأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَنْ حَوْلَهُمْ مِّنَ الأَعْرَابِ أَن يَتَخَلَّفُواْ عَن رَّسُولِ اللَّهِ وَلَا يَرْغبُواْ بِأَنْفُسِهِمْ عَن نَّفْسِهِ} [التوبة: 120] ؛ فقيل: كان فرض الجهاد في أول الأمر على جميع المسلمين كافة؛ إلا من عَذَرَه الله -تعالى-، ثم نسخ ذلك بالكفاية، قال الله -تعالى-: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ} [التوبة: 122] ، رُوي ذلك عن ابن عباس؛ خرَّجه عنه أبو داود (1) .
--------------------------------------------
যুদ্ধের নির্দেশের মাধ্যমে, মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সকলে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো} [আত-তাওবাহ: ৩৬], এবং মহান আল্লাহর বাণী:
{তোমরা অভিযানে বের হয়ে পড়ো, হালকা বা ভারী যে অবস্থাতেই থাকো না কেন} [আত-তাওবাহ: ৪১], এবং {যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন} [আত-তাওবাহ: ৩৯], এবং {মদিনাবাসী ও তাদের পার্শ্ববর্তী পল্লীবাসীদের জন্য সমীচীন নয় যে, তারা আল্লাহর রাসূলের পশ্চাতে থেকে যাবে এবং তাঁর প্রাণের চেয়ে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করবে} [আত-তাওবাহ: ১২০]; তখন বলা হয়েছে: প্রথম দিকে জিহাদ সকল মুসলিমের ওপর ব্যাপকভাবে ফরজ ছিল; কিন্তু যাদেরকে মহান আল্লাহ ওজর দিয়েছেন তারা ব্যতীত। এরপর তা 'কিফায়া' (পর্যাপ্ততা) এর বিধান দ্বারা রহিতকরণ (نسخ) করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুমিনদের পক্ষে এটা সম্ভব নয় যে, তারা সকলে একযোগে অভিযানে বের হবে; তবে কেন তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ অভিযানে বের হয় না?} [আত-তাওবাহ: ১২২]। এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে; আবু দাউদ (১) এটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وروي عن عطاء (1) ، أن الجهاد إنما كان فرضاً على الصحابة، قيل: يعني على الأعيان، فلما استقرَّ الشرعُ صار على الكفاية، وقال الجمهور: بل كذلك كان فرض القتال على الكفاية في أوّل الإسلام، وحملوا ما وقع في ذلك من التشديد والتعميم على أحوال، وذلك إذا احتيج إلى الجميع، إمَّا لقلة المسلمين، كما كان ذلك في أول الإسلام، أَوْ لما عَسَى أنْ يَعْرض، أوْ يكونَ ذلك خاصاً بأهل النَّفير
--------------------------------------------
আতা (১) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জিহাদ কেবল সাহাবীদের ওপর আবশ্যিক (فرض) ছিল; বলা হয়েছে: অর্থাৎ ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যিক (فرضاً على الأعيان), অতঃপর যখন শরিয়ত সুপ্রতিষ্ঠিত হলো তখন তা সামষ্টিক আবশ্যিকতায় (على الكفاية) পরিণত হলো। জমহুর (উলামায়ে কেরাম) বলেছেন: বরং এভাবেই জিহাদ ইসলামের প্রাথমিক যুগেও সামষ্টিক আবশ্যিক (على الكفاية) ছিল। এ বিষয়ে যে কঠোরতা ও ব্যাপকতা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোকে তাঁরা বিশেষ অবস্থার ওপর প্রয়োগ করেছেন; আর তা হলো যখন সকলের প্রয়োজন হতো—হয় মুসলমানদের সংখ্যাস্বল্পতার কারণে যেমনটা ইসলামের শুরুতে ছিল, অথবা কোনো আকস্মিক পরিস্থিতির আশঙ্কায়, কিংবা এটি কেবল যুদ্ধে আহ্বানকৃতদের (أهل النفير) জন্য নির্দিষ্ট ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الذين يُعيِّنُهمُ الإمامُ في الاستنِفار، وإذا لم يكن شيءٌ من ذلك فهو على أصل الكفاية، ولا نَسْخَ على هذا في شيءٍ من الآيات، بل هو راجعٌ إلى الأحوال، وما يجبُ في مقاومة الكفار، وهذا الأرجح، والله أعلم؛ لأن النَّسخ لا يُصارُ إليه إلا بتوقيفٍ أو اضطرار لا يمكن معه الجمع بين الأمرين، ويعلم مع
ذلك المتأخّر، فيكون هو الناسخ، وإلَاّ فلا.
وعلى كلا القولين، فلم يُختلف في أنَّ فرض الجهاد استقرَّ في الجملة على الكفاية، يحمله من قام بهِ من المسلمين عن سائرهم، هذا هو المشهور المعروف الذي عليه جماعة أهل العلم (1) .
--------------------------------------------
ইমাম যুদ্ধের ডাক (استنفار) দেওয়ার সময় যাদেরকে নির্দিষ্ট করে দেন তারা এর অন্তর্ভুক্ত, আর যদি এর কোনোটিই না থাকে তবে তা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)-র মূলনীতির ওপর বহাল থাকবে। আর এই কারণে কোনো আয়াতের ক্ষেত্রেই রহিতকরণ (نسخ) প্রযোজ্য হবে না, বরং এটি পরিস্থিতির ওপর এবং কাফেরদের প্রতিরোধে যা যা করা আবশ্যক তার ওপর নির্ভরশীল। আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ (أرجح) মত, আল্লাহই ভালো জানেন। কেননা কোনো প্রামাণিক নির্দেশ (توقيف) বা এমন কোনো অপরিহার্যতা ব্যতিরেকে রহিতকরণ (نسخ)-এর আশ্রয় নেওয়া যায় না, যেখানে দুটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং সেই সাথে পরবর্তী বিষয়টিও জানা থাকে, তখন সেটি রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে গণ্য হয়; অন্যথায় নয়।
উভয় মত অনুযায়ী, জিহাদের বিধান সামগ্রিকভাবে ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) হিসেবে নির্ধারিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। মুসলমানদের মধ্য থেকে যারা এটি পালন করে, তারা বাকিদের পক্ষ থেকে দায়ভার বহন করে। এটিই সেই প্রসিদ্ধ ও পরিচিত বিষয় যার ওপর আলেমদের জামাত একমত। (১) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يحكي القاضي أبو محمد عبد الوهاب (1) أنه لا خلاف بين الأمة في وجوب الجهاد، يعني: على الكفاية. وقد نقل غيره في ذلك قولين شاذين:
أحدهما: أنه فَرْضُ عينٍ مرّةً في العُمر على كل مستطيع كالحج.
قال أبو بكر بن المنذر: روينا عن داود بن أبي عاصمٍ أنه قال: الغزو واجبٌ على الناس أجمعين، غزوة كهيئة الحج (2) .
قال ابن المنذر: وقال مَعْمر: كان مكحول يستقبل القبلة، ثم يَحلِف عشر أيمان: أنَّ الغزو واجب، ثم يقول: إن شِئتُم زِدتكم.
--------------------------------------------
কাযী আবু মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব (১) বর্ণনা করেছেন যে, জিহাদ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে উম্মতের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, অর্থাৎ: তা সামষ্টিকভাবে আবশ্যক (على الكفاية) হওয়ার ভিত্তিতে। তবে অন্য উলামাগণ এই বিষয়ে দুটি বিচ্ছিন্ন (شاذين) মত বর্ণনা করেছেন:
তার একটি হলো: হজের মতো প্রত্যেক সামর্থ্যবানের ওপর জীবনে একবার এটি ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (فرض عين)।
আবু বকর ইবনুল মুনযির বলেন: আমরা দাউদ ইবনে আবি আসিম থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: যুদ্ধ সকল মানুষের ওপর ওয়াজিব, হজের পদ্ধতির ন্যায় একটি যুদ্ধ (২)।
ইবনুল মুনযির বলেন: মা'মার বলেছেন: মাকহুল কিবলামুখী হতেন, তারপর দশটি শপথ নিতেন যে: নিশ্চয়ই যুদ্ধ ওয়াজিব, এরপর বলতেন: তোমরা চাইলে আমি আরও বাড়িয়ে শপথ করতে পারি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال ابن المنذر: وهذا لايصح عن مكحول؛ لأن بين معمر وبين مكحول رجلاً. حدثناه إسحاق، عن عبد الرزاق، عن معمر، عن رجلٍ، عن مكحول: أنه قال ذلك (1) .
والقول الآخر: أن الجهاد نَفْلٌ. قال النَّحَّاس (2) : هو قول ابن عمر، وابن
--------------------------------------------
ইবনুল মুনজির বলেছেন: এটি মাকহুল থেকে বিশুদ্ধ (يصح) নয়; কারণ মা’মার এবং মাকহুলের মাঝে একজন ব্যক্তি রয়েছেন। ইসহাক আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি মাকহুল থেকে যে, তিনি এটি বলেছেন (১)।
আর দ্বিতীয় মতটি হলো: জিহাদ নফল (نفل)। নাহহাস (২) বলেন: এটি ইবনে উমর এবং ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনজাদ ফী আবওয়াবিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
شُبرمة، وسفيان الثوري (1) . وذُكر عن عطاء، أن الجهاد إنما كان فرضاً على
الصحابة (2) ، وهذا يحتمل أن يريد فَرْضَ عين، فلما استقرَّ الشرع، صار على الكفاية، ويحتمل أن يذهب بذلك إلى قول من زعم أنه الآن نافلة، يَعْنُون: بعد فتح مكة.
ولم يختلفوا أنَّ الإمام إذا اسْتَنْفَرَ أحداً للغزو، فإنه يجب ذلك عليه، لقوله صلى الله عليه وسلم: «لا هجرة بعد الفتح، ولكن جهاد ونيَّة، وإذا استُنْفِرْتُم فانفروا» . خرَّجه
--------------------------------------------
শুবরুমা এবং সুফিয়ান সাওরি (১)। আতা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জিহাদ কেবল সাহাবায়ে কেরামের ওপর আবশ্যিক (فرض) ছিল (২), আর এর সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি এর দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যিক বা ফরজে আইন (فرض عين) বুঝিয়েছেন। অতঃপর যখন শরীয়ত সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন তা সামষ্টিকভাবে আবশ্যিক বা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)-তে পরিণত হলো। আবার এ-ও সম্ভাবনা রয়েছে যে, এর দ্বারা তিনি তাদের মতের দিকে গিয়েছেন যারা দাবি করেন যে এটি এখন নফল (نافلة); তাদের উদ্দেশ্য হলো: মক্কা বিজয়ের পর।
ইমাম যদি কাউকে যুদ্ধের জন্য ডাকেন, তবে তার ওপর তা আবশ্যিক হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ফকিহগণ দ্বিমত করেননি। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত বাকি আছে; আর যখন তোমাদেরকে যুদ্ধের জন্য ডাকা হবে, তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে।» এটি বর্ণনা করেছেন
--------------------------------------------