(খণ্ড: ১)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب العلل الواقع بآخر جامع الترمذي - ط الرسالة القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: العلل الصغير
المؤلف: أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي (نحو 209 - 279 هـ)
حققه وخرج أحاديثه وعلق عليه: شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]- سعيد اللحام
الناشر: دار الرسالة العالمية
الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م
عدد الأجزاء: (مطبوع بآخر الجزء 6 من جامع الترمذي)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1445
জামে তিরমিযীর শেষে অবস্থিত কিতাবুল ইলাল - আর-রিসালাহ সংস্করণ বিভাগ: হাদিসের ত্রুটি ও প্রশ্নাবলি
বই: আল-ইলালুস সাগীর
লেখক: আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ আত-তিরমিযী (প্রায় ২০৯ - ২৭৯ হিজরি)
তাহকীক, হাদিস বিশ্লেষণ ও টীকা প্রদান: শুআইব আল-আরনাউত [মৃত ১৪৩৮ হিজরি]- সাঈদ আল-লাহহাম
প্রকাশক: দারুর রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: (জামে তিরমিযীর ৬ষ্ঠ খণ্ডের শেষে মুদ্রিত)
[বইটির পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৪৫
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
كتاب العللقال أبو القاسم الكروخي: أخبرنا القاضي أبو عامر الأزدي والشيخ أبو بكر الغُورَجي والشيخ أبو المظفَّر عبيدُ اللهِ بن علي بن ياسين بن محمد الدَّهان رحمهم الله، قالوا: أخبرنا أبو محمد الجَرَّاحي، أخبرنا أبو العباسِ المحبوبيُّ، أخبرنا أبو عيسى الحافظ الترمذي قال:
جميعُ ما في هذا الكتابِ من الحديثِ، فهو مَعمُولٌ به
(1)، وقد أخذَ بهِ بعضُ أهلِ العلمِ ما خلا حَديثينِ:
حديثَ ابن عبَّاسٍ: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم جَمعَ بينَ الظُّهرِ والعَصرِ بالمدينةِ، وبين المغربِ والعشاءِ من غيرِ خَوفٍ ولا سفرٍ ولا مطرٍ
(2).
وحديث النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: "إذا شَربَ الخَمْرَ، فاجْلدوهُ، فإنْ عادَ في الرَّابعةِ، فاقْتلُوه"
(3). وقد بَيَّنا عِلَّةَ الحديثينِ جميعًا في الكتابِ.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
কিতাবুল ইলাল (হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক গ্রন্থ)আবুল কাসিম আল-কারুখি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু আমির আল-আযদি, শায়খ আবু বকর আল-গুরজি এবং শায়খ আবু মুজাফফর উবাইদুল্লাহ বিন আলি বিন ইয়াসিন বিন মুহাম্মদ আদ-দাহহান (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-জাররাহি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস আল-মাহবুবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা আল-হাফিজ আত-তিরমিজি, তিনি বলেছেন:
এই কিতাবে যত হাদিস রয়েছে, তার সবগুলোর ওপর আমল করা হয় এবং আলেমগণের কেউ না কেউ সেগুলো গ্রহণ করেছেন, কেবল দুটি হাদিস ব্যতীত:
ইবনে আব্বাসের হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় কোনো প্রকার ভয়-ভীতি, সফর বা বৃষ্টি ছাড়াই যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করেছেন।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস যাতে তিনি বলেছেন: "যদি কেউ মদ পান করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করো, আর যদি চতুর্থবার পুনরায় তা করে তবে তাকে হত্যা করো।" এবং আমরা কিতাবের মধ্যে এই উভয় হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) বর্ণনা করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪০)
قال: وما ذَكَرْنا في هذا الكتابِ من اختِيارِ الفقهاءِ، فما كان فيهِ من قولِ سفيانَ الثَّوْريِّ، فأكْثرهُ ما حدَّثنا به محمدُ بنُ عثمانَ الكوفيُّ، قال: حدَّثنا عُبَيدُ اللهِ بنُ موسى، عن سفيانَ.
ومنه ما حدَّثني به أبو الفَضلِ مَكْتُومُ بنُ العبَّاسِ التَّرمذيُّ، قال: حدَّثنا محمدُ بنُ يوسفَ الفِريابيُّ، عن سفيانَ.
وما كان فيه من قولِ مالكِ بن أنسٍ، فأكْثرُه ما حدَّثنا بهِ إسحاقُ بن موسى الأنصَاريُّ، قال: حدَّثنا مَعْنُ بن عيسى القزَّازُ
(1)، عن مالكِ بن أنسٍ.
وما كان فيه مِن أبوابِ الصَّومِ فأخبرنا به أبو مصْعبٍ المَدينيُّ
(2)، عن مالكِ بن أنسٍ.
--------------------------------------------
তিনি বলেন: এই কিতাবে ফকীহগণের যে সব পছন্দ বা অভিমত আমরা উল্লেখ করেছি, তার মধ্যে সুফিয়ান আস-সাওরীর যে বক্তব্য রয়েছে, তার অধিকাংশই আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-কুফী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে উবায়দুল্লাহ বিন মুসা সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন।
তার কিছু অংশ আমার কাছে আবুল ফজল মাকতুম বিন আল-আব্বাস আত-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-ফিরয়াবী সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর এতে মালিক বিন আনাসের যে বক্তব্য রয়েছে, তার অধিকাংশই আমাদের কাছে ইসহাক বিন মুসা আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে মান বিন ঈসা আল-কাযযায
(১) মালিক বিন আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর সিয়াম (রোজা) অধ্যায়সমূহে যা কিছু রয়েছে, তা আমাদের কাছে আবু মুসআব আল-মাদিনী
(২) মালিক বিন আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪১)
وبعضُ كلامِ مالك ما أخبرنا به موسى بنُ حِزَامٍ، قال: أخبرنا عَبد اللهِ بن مَسْلمةَ القَعْنبيُّ، عن مالكِ بن أنسٍ.
وما كان فيه من قولِ ابنِ المُباركِ، فهو ما حدَّثنا به أحمدُ بنُ عَبْدةَ الآمُليُّ، عن أصحابِ ابن المُباركِ، عنه.
ومنه ما رُوِي عن أبي وَهْبٍ محمدِ بن مُزاحِمٍ، عن ابن المباركِ.
ومنه ما رُوِي عن عليَّ بن الحسنِ، عن عبد اللهِ بن المبارك.
ومنه ما روي عن عَبدانَ، عن سفيانَ بنِ عبد الملكِ، عن ابن المباركِ.
ومنه ما رُوي عن حِبَّانَ بن موسى، عن ابنِ المُباركِ.
ومنه ما رُوِي عن وَهْبِ بن زَمْعةَ، عن فَضالةَ النَّسويِّ، عن عبد اللهِ بن المُبَاركِ. وله رِجالٌ مُسَمَّون سِوى من ذَكَرْنا عن ابنِ المُباركِ.
وما كان فيه من قوْلِ الشَّافعيَّ، فأكْثرُه ما أخبرني الحسنُ بن محمدٍ الزَّعْفرانيُّ
(1)، عن الشَّافِعيَّ.
--------------------------------------------
ইমাম মালিকের কিছু উক্তি এমন যা মুসা ইবনে হিজাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা আল-কানাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে।
এতে ইবনুল মুবারকের যে উক্তি রয়েছে, তা আহমদ ইবনে আবদাহ আল-আমুলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারকের ছাত্রদের সূত্রে, তাঁর থেকে।
এর কিছু অংশ আবু ওয়াহব মুহাম্মদ ইবনে মুজাহিম থেকে ইবনুল মুবারকের সূত্রে বর্ণিত।
এর কিছু অংশ আলী ইবনুল হাসান থেকে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের সূত্রে বর্ণিত।
এর কিছু অংশ আবদান থেকে, সুফিয়ান ইবনে আব্দুল মালিকের মাধ্যমে ইবনুল মুবারকের সূত্রে বর্ণিত।
এর কিছু অংশ হিব্বান ইবনে মুসা থেকে ইবনুল মুবারকের সূত্রে বর্ণিত।
এর কিছু অংশ ওয়াহব ইবনে জামআ থেকে, ফাদালা আন-নাসায়ির মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের সূত্রে বর্ণিত। ইবনুল মুবারকের সূত্রে আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তারা ছাড়াও তাঁর আরও নামধারী বর্ণনাকারী রয়েছেন।
এতে ইমাম শাফিঈর যে উক্তি রয়েছে, তার অধিকাংশ হাসান ইবনে মুহাম্মদ আজ-জাফরানি
(১) আমাকে ইমাম শাফিঈর সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪২)
وما كان فيه من الوُضُوءِ والصَّلاةِ، فحدَّثنا بهِ أبو الوليدِ المكِّيُّ، عن الشَّافعيِّ.
ومنه ما حدَّثنا أبو إسماعيلَ، حدَّثنا يوسفُ بن يحيى القُرشيُّ البُويْطيُّ، عن الشَّافِعيِّ.
وذَكرَ فيه أشياءَ عن الرَّبيعِ، عن الشَّافعيَّ، وقد أجازَ لنا الرَّبيعُ ذلك، وكَتبَ به إلينا.
وما كان فيه من قولِ أحمدَ بن حَنْبلٍ وإسحاقَ بن إبراهيمَ، فَهُوَ ما أخبرنا به إسحاقُ بنُ منصورٍ، عن أحمدَ وإسحاقَ، إلا ما في أبوابِ الحجِّ والدِّياتِ والحدودِ، فإنِّي لم أسْمعهُ مِن إسحاقَ بن منصورٍ، وأخبرني بهِ محمدُ بن موسى الأصَمُّ، عن إسحاقَ بن منصورٍ، عن أحمدَ وإسحاقَ.
وبعضُ كلامِ إسحاقَ بنِ إبراهيمَ أخبرنا به محمدُ بن أفْلحَ، عن إسحاقَ، وقد بَيَّنَّا هذا على وَجْهِه في الكتابِ الذي فيهِ الموقوفُ.
وما كان فيه من ذِكْرِ العِللِ في الأحاديثِ والرِّجالِ والتَّاريخِ، فهو ما اسْتَخْرجْتُهُ من كتابِ "التَّاريخِ"، وأكثرُ ذلكَ ما ناظرتُ به محمدَ بن إسماعيلَ، ومنه ما ناظَرْتُ به عبد اللهِ بن عبد الرحمنِ، وأبا زُرْعةَ، وأكثرُ ذلكَ عن محمدٍ، وأقلُ شيءٍ فيه عن عبدِ اللهِ وأبي زُرْعةَ، ولم أرَ أحدًا بالعراقِ ولا بِخُراسانَ في معنى العللِ والتَّاريخِ ومَعْرفةِ الأسانيدِ كَبِيرَ أحدٍ أعلمَ مِن محمدِ بن إسماعيلَ.
এতে অযু ও সালাত বিষয়ক যা কিছু রয়েছে, তা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ আল-মাক্কি, তিনি শাফিঈ থেকে।
আর এর মধ্য থেকে যা আবু ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া আল-কুরাশি আল-বুয়াইতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাফিঈ থেকে।
এবং এতে তিনি আর-রাবি'র সূত্রে শাফিঈ থেকে কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন; আর-রাবি' আমাদের এই বর্ণনাগুলোর অনুমতি প্রদান করেছেন এবং এটি আমাদের নিকট লিখে পাঠিয়েছেন।
আর এতে আহমাদ ইবনে হাম্বল ও ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমের যে সকল বক্তব্য রয়েছে, সেগুলো ইসহাক ইবনে মানসুর আমাদের জানিয়েছেন আহমাদ ও ইসহাক থেকে; তবে হজ, দিয়াত (রক্তপণ) ও হুদূদ (দণ্ডবিধি) অধ্যায়সমূহের বিষয়গুলো ব্যতীত, কারণ আমি তা ইসহাক ইবনে মানসুরের নিকট থেকে শুনিনি, বরং মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-আসাম আমাকে ইসহাক ইবনে মানসুরের সূত্রে আহমাদ ও ইসহাক থেকে তা জানিয়েছেন।
ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমের কিছু কথা মুহাম্মাদ ইবনে আফলাহ আমাদের জানিয়েছেন ইসহাক থেকে। আর আমরা এটি যথাযথভাবে সেই কিতাবে বর্ণনা করেছি যেটিতে মাওকুফ বর্ণনাগুলো রয়েছে।
আর এতে হাদিসের ইল্লাত (ত্রুটি), রিজাল (বর্ণনাকারী) ও ইতিহাস বিষয়ক যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, তা আমি "আত-তারিখ" কিতাব থেকে চয়ন করেছি। এর অধিকাংশ বিষয়েই আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের সাথে আলোচনা করেছি; আর কিছু বিষয়ে আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ও আবু জুর'আহর সাথে আলোচনা করেছি। এর বেশিরভাগই মুহাম্মাদ থেকে এবং খুব সামান্য অংশ আব্দুল্লাহ ও আবু জুর'আহ থেকে। আমি ইরাক বা খোরাসানে হাদিসের ইল্লাত, ইতিহাস ও সনদ পরিচিতির বিষয়ে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল অপেক্ষা বড় কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তিকে দেখিনি।
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪৩)
وإنَّما حَملَنَا على مَا بَيَّنَّا في هذا الكتاب من قولِ الفُقهاءِ وَعِللِ الحديثِ، لأنَّا سُئلْنا عن هذا، فلم نَفْعلْهُ زمانًا، ثمَّ فَعلْناهُ، لِما رَجَوْنا فيهِ من مَنْفعةِ النَّاسِ، لِأنّا قد وَجَدْنا غيرَ واحدٍ من الأئِمةِ تَكلَّفُوا من التّصْنيفِ ما لم يُسْبقُوا إليه، منهُمْ هشامُ بن حسَّانَ، وعبد الملكِ بن عبد العزِيزِ بن جُرَيْجٍ، وسعيدُ بن أبي عَرُوبةَ، ومالكُ بن أنسٍ، وحَمَّادُ بن سَلمةَ، وعبد اللهِ بن المُبَاركِ، ويحيى بن زَكريَّا بن أبي زَائدةَ، ووكيعُ بن الجرَّاحِ، وعبد الرحمن بن مَهْديًّ، وغيرُهُم من أهلِ العلمِ والفَضلِ صَنَّفُوا، فجعلَ اللهُ في ذلكَ مَنْفعةً كثيرةً، ولهُم بذلك الثَّوَابُ الجَزيلُ عند اللهِ لِما نَفعَ اللهُ المسلمينَ بهِ، فهُم القُدوةُ فيما صَنَّفُوا.
وقد عابَ بعضُ من لا يَفْهمُ على أهلِ الحديثِ الكلامَ في الرِّجالِ، وقد وَجَدْنا غيرَ واحدٍ من الأئِمة من التَّابِعينَ قد تَكلَّمُوا في الرِّجالِ، منهُم الحسنُ البَصريُّ، وطاووسٌ، تكَلَّما في مَعْبَدٍ الجُهنيَّ، وتَكلَّمَ سعيدُ بن جُبَيْرٍ في طَلْقِ بن حَبِيبٍ، وتكلّمَ إبراهيمُ النَّخَعيُّ وعامرٌ الشّعْبيُّ في الحارثِ الأعْوَرِ.
وهكذا رُوِي عن أيُّوبَ السَّختيانيِّ، وعبد اللهِ بن عَوْنٍ، وسليمانَ التَّيْميِّ، وشعبةَ بن الحجَّاجِ، وسفيانَ الثَّوْريِّ، ومالكِ بن أنسٍ، والأوزاعيِّ، وعبد اللهِ بن المُبَاركِ، ويحيى بن سعيدٍ القطَّانِ، ووكيعِ بن الجرَّاحِ، وعبدِ الرحمنِ بن مَهْديٍّ، وغَيرِهمْ من أهلِ العلمِ تَكلّمُوا في الرِّجالِ وضَعَّفُوا.
আমরা এই কিতাবে ফকিহগণের বক্তব্য এবং হাদিসের ত্রুটিসমূহ (ইল্লত) বর্ণনা করার ক্ষেত্রে যা করেছি, তা করার কারণ হলো—আমাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় আমরা এটি করিনি, অতঃপর আমরা এটি করেছি মানুষের উপকারের আশায়। কারণ আমরা একাধিক ইমামকে দেখেছি যে তারা এমন সব গ্রন্থ রচনায় ব্রতী হয়েছেন যাতে তাদের পূর্বে কেউ অগ্রসর হয়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন হিশাম ইবনে হাসসান, আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে জুরাইজ, সাঈদ ইবনে আবি আরুবা, মালিক ইবনে আনাস, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া ইবনে আবি যায়িদাহ, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী এবং ইলম ও ফজিলতওয়ালা অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন। আল্লাহ তাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ মুসলিমদের যে উপকার করেছেন তার জন্য আল্লাহর নিকট তাদের মহাপুরস্কার রয়েছে। সুতরাং তারা তাদের রচিত গ্রন্থসমূহের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় আদর্শ।
আর এমন কিছু ব্যক্তি যারা বিষয়টি বোঝে না, তারা রাবীদের (বর্ণনাকারী) বিষয়ে আহলুল হাদিসদের সমালোচনা করাকে ত্রুটি হিসেবে গণ্য করেছে। অথচ আমরা তাবেঈদের মধ্য থেকে একাধিক ইমামকে রাবীদের সমালোচনা করতে দেখেছি। তাদের মধ্যে হাসান বসরী ও তাউস মা’বাদ আল-জুহানি সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। সাঈদ ইবনে জুবাইর তালক ইবনে হাবিব সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন এবং ইবরাহিম নাখঈ ও আমের আশ-শা’বী আল-হারিস আল-আওয়ার সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন।
একইভাবে আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি, আব্দুল্লাহ ইবনে আউন, সুলাইমান আত-তাইমি, শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান আস-সাওরি, মালিক ইবনে আনাস, আওযায়ী, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী এবং অন্যান্য আলেমদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা রাবীদের সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন এবং তাদের দুর্বল (যয়ীফ) সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪৪)
وإنّما حَملهُم على ذلكَ عندنا - واللهُ أعلمُ - النَّصيحةُ للمسلمينَ، لا يُظنُّ بِهم أنَّهُم أرادُوا الطّعْنَ على النَّاسِ أو الغِيبةَ، إنّما أرادوا عِنْدنا أن يُبَيِّنوا ضَعْفَ هؤلاءِ لكي يُعْرَفُوا، لأنَّ بعض الّذِينَ ضُعَّفُوا كان صاحبَ بِدْعةٍ، وبَعْضهُم كان مُتّهمًا في الحديثِ، وبَعضهُم كانوا أصحابَ غَفْلةٍ وكثْرةِ خطأ، فأرادَ هؤلاءِ الأئِمةُ أنْ يُبَيِّنُوا أحوالَهُم شَفقةً على الدِّينِ وتثبُّتًا، لِأنَّ الشّهادةَ في الدِّينِ أحقُّ أنْ يُتثَبَّتَ فِيها من الشّهادةِ في الحُقُوقِ والأموالِ.
قال: وأخبرني محمدُ بن إسماعيلَ، حدَّثنا محمدُ بنُ يحيى بنِ سعيدٍ القطَّانُ، حدثني أبي، قال: سألتُ سفيانَ الثَّوريَّ وشُعبةَ ومالكَ بن أنسٍ وسفيانَ بن عُيينةَ عن الرَّجلِ تكونُ فيه تُهْمةٌ أو ضَعْفٌ، أسْكُتُ أو أُبَيِّنُ؟ قالوا: بَيَّنْ.
حدَّثنا محمدُ بن رافعٍ النَّيْسابُوريُّ، حدَّثنا يحيى بنُ آدمَ، قال: قِيل لأبي بكرِ بن عيَّاشٍ: إنَّ أُناسًا يجلسونَ ويجلسُ إليهمُ النَّاسُ، وَلا يَسْتأْهِلُونَ. قال: فقال أبو بكرِ بن عيَّاشٍ: كلُّ من جلسَ جلسَ إليه النَّاسُ، وصاحبُ السُّنَّةِ إذا ماتَ، أحيا اللهُ تعالى ذِكْرهُ، وَالمُبْتَدعُ لا يُذْكرُ.
حدَّثنا محمدُ بن عَليِّ بن الحسنِ بن شَقيقٍ، أخبرنا النَّضْرُ بن عَبد اللهِ الأصمُّ، حدَّثنا إسماعيلُ بن زكريَّا، عن عاصمٍ، عن ابن سِيرينَ، قال: كان في الزَّمنِ الأوَّلِ لا يَسْألونَ عن الإسنَادِ، فلمَّا
আমাদের নিকট—আর আল্লাহই ভালো জানেন—তাদের এই কাজের কারণ হলো মুসলিমদের প্রতি কল্যাণকামনা। তাদের ব্যাপারে এমন ধারণা করা উচিত নয় যে, তারা মানুষের নিন্দা বা গীবত করতে চেয়েছিলেন। বরং আমাদের মতে, তারা এই ব্যক্তিদের দুর্বলতা স্পষ্ট করতে চেয়েছিলেন যাতে তাদের চেনা যায়। কেননা যাদের দুর্বল বলা হয়েছে, তাদের কেউ বিদআতি ছিলেন, কেউ হাদীসের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ছিলেন, আবার কেউ ছিলেন গাফেল এবং অনেক ভুলকারী। তাই এই ইমামগণ দীনের প্রতি মমত্ববোধ এবং সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে তাদের অবস্থা বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন; কারণ অধিকার ও সম্পদের সাক্ষ্যের চেয়ে দীনের বিষয়ে সাক্ষ্যের সত্যতা যাচাই হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।
তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরী, শু’বাহ, মালিক ইবনে আনাস এবং সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ বা দুর্বলতা রয়েছে—আমি কি চুপ থাকব নাকি তা স্পষ্ট করব? তারা বললেন: স্পষ্ট করো।
মুহাম্মাদ ইবনে রাফি আন-নাইসাবুরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আইয়াশকে বলা হলো: কিছু লোক (শিক্ষাদানে) বসে এবং মানুষও তাদের নিকট গিয়ে বসে, অথচ তারা এর যোগ্য নয়। তখন আবু বকর ইবনে আইয়াশ বললেন: যে কেউ বসুক না কেন মানুষ তার নিকট বসবে। তবে সুন্নাহর অনুসারী যখন ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তার আলোচনাকে জীবিত রাখেন, আর বিদআতিকে স্মরণ করা হয় না।
মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আন-নাদর ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসাম্ম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাইল ইবনে জাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: প্রথম যুগে তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন...
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪৫)
وَقَعتِ الْفِتنةُ، سَألُوا عن الإسنادِ، لكي يَأْخُذُوا حديثَ أهلِ السُّنَّةِ، ويَدَعُوا حديثَ أهلِ البِدَعِ
(1).
--------------------------------------------
যখন ফিতনা দেখা দিল, তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা শুরু করলেন, যাতে তারা আহলে সুন্নতের হাদিস গ্রহণ করতে পারেন এবং বিদআতিদের হাদিস বর্জন করতে পারেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪৬)
حدَّثنا محمدُ بن عليِّ بن الحسنِ، قال: سَمِعتُ عَبْدانَ يقولُ: قال عبد اللهِ بن المُباركِ: الإِسنادُ عِنْدي من الدِّينِ، لولا الإسنادُ لقالَ من شاءَ ما شاءَ، فإذا قِيلَ له: مَنْ حَدَّثكَ؟ بَقي
(1).
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদানকে বলতে শুনেছি: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেছেন: ইসনাদ (সূত্রের পরম্পরা) আমার নিকট দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যে যা খুশি তা-ই বলত। আর যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়: আপনার নিকট কে বর্ণনা করেছে? তখন সে নির্বাক
(১) হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪৭)
حدَّثنا محمدُ بن عليٍّ، أخبرنا حِبَّانُ بن موسى، قال: ذُكرَ لعبد اللهِ بن المُباركِ حديثٌ، فقال: يُحْتاجُ لهذا أركانٌ من آجُرٍّ. قال أبو عيسى: يعني: أنَّهُ ضَعَّفَ إسنادَه.
حدَّثنا أحمدُ بن عَبْدةَ، حدَّثنا وَهْبُ بن زَمْعةَ، عن عبد اللهِ بن المُبَاركِ: أنَّهُ تَركَ حديثَ الحسنِ بن عُمارةَ، والحسنِ بن دِينارٍ، وإبراهيمَ بن محمدٍ الأسْلميِّ، ومُقاتلِ بن سُليمانَ، وعثمانَ البُرِّيِّ، ورَوْحِ بن مُسافرٍ، وأبي شَيْبةَ الوَاسِطيِّ، وعمرِو بن ثابتٍ، وأيُّوبَ بن خُوطٍ، وأيُّوبَ بن سُوَيدٍ، وَنَصْرِ بن طَريفٍ أبي جَزْءٍ، والحكمِ، وحُبَيِّب
(1). الحكمُ رَوَى له حديثًا في كتابِ الرقائق، ثُمَّ تَركهُ، وحُبَيِّب لا أدري.
قال أحمدُ بن عَبدةَ: وسَمِعتُ عَبْدانَ، قال: كان عبد اللهِ بن المُبَاركِ قرأ أحاديثَ بَكْرِ بن خُنَيْسٍ، فكان أخيرًا إذا أتى عليها، أعْرضَ عنها، وكان لا يَذْكُره.
قال أحمدُ: وحدَّثنا أبو وَهْبٍ، قال: سَمَّوْا لعبد اللهِ بن المُبَاركِ رجلًا يُتَّهمُ
(2) في الحديثِ، فقال: لأَنْ أقْطَعَ الطَّرِيقَ أحَبُّ إليَّ مِن أنْ أُحَدِّثَ عنه.
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবনে আলী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হিব্বান ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের নিকট একটি হাদিসের কথা উল্লেখ করা হলো, তখন তিনি বললেন: "এর জন্য ইটের তৈরি স্তম্ভ প্রয়োজন।" আবু ঈসা বলেন: এর অর্থ হলো তিনি এর সনদকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।
আহমাদ ইবনে আবদাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ওয়াহব ইবনে জামআ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত: তিনি হাসান ইবনে উমারা, হাসান ইবনে দিনার, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-আসলামি, মুকাতিল ইবনে সুলাইমান, উসমান আল-বুররি, রাওহ ইবনে মুসাফির, আবু শাইবা আল-ওয়াসিতি, আমর ইবনে সাবিত, আইয়ুব ইবনে খুওয়াত, আইয়ুব ইবনে সুওয়াইদ, নাসর ইবনে তারিফ আবু জায, আল-হাকাম এবং হুবাইবের হাদিস বর্জন করেছেন। আল-হাকাম থেকে তিনি 'কিতাবুর রিকাক'-এ একটি হাদিস বর্ণনা করেছিলেন, পরবর্তীতে সেটি ত্যাগ করেছেন; আর হুবাইবের বিষয়টি আমি জানি না।
আহমাদ ইবনে আবদাহ বলেন: আমি আবদানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বকর ইবনে খুনাইসের হাদিসগুলো পাঠ করতেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি যখনই সেগুলোর নিকট আসতেন, তখন তা থেকে বিমুখ হতেন এবং তা আর উল্লেখ করতেন না।
আহমাদ বলেন: আবু ওয়াহব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের নিকট এমন এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেন যার বিরুদ্ধে হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যার অভিযোগ ছিল, তখন তিনি বললেন: "তার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করার চেয়ে আমার কাছে পথিমধ্যে ডাকাতি করা অধিক পছন্দনীয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪৮)
قال: وأخبرني موسى بن حِزامٍ، قال: سَمِعتُ يزيدَ بن هارونَ يقولُ: لا يَحلُّ لأحدٍ أنْ يَرْويَ عن سليمانَ بن عمرٍو النَّخعيِّ الكوفيِّ.
[حدَّثنا محمودُ بن غَيلانَ، حدَّثنا أبو يحيى الحِمَّانيُّ، سَمِعتُ أبا حَنِيفةَ يقولُ: مَا رَأيْتُ أحدًا أكْذبَ من جابرٍ الجُعفيِّ، ولا أفضلَ من عطاءِ بن أبي رباحٍ.
سَمِعتُ الجارودَ يقولُ: سَمِعتُ وكيعًا يقولُ: لولا جابرٌ الجُعفيُّ لكان أهلُ الكوفةِ بِغَيْرِ حديثٍ، ولولا حَمَّادٌ لكان أهلُ الكُوفةِ بِغَيْرِ فقهٍ]
(1).
وسَمِعتُ أحمدَ بن الحسنِ يقولُ: كُنَّا عند أحمدَ بن حَنبلٍ، فذكَرُوا من تَجبُ عليه الجُمُعةُ، فذكر فيه عن بعضِ أهلِ العلمِ من التَّابِعينَ وغَيرِهم، فقلتُ: فيهِ عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم حديثٌ، فقال: عن النّبيِّ صلى الله عليه وسلم؟ قلتُ: نعم، حدَّثنا حجَّاجُ بن نُصَيْرٍ، قال: حدَّثنا المُعارِكُ بن عَبَّادٍ، عن عبد اللهِ بن سَعيدٍ المَقْبُريِّ، عن أبيه، عن أبي هُريرةَ، قال: قال رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: الجُمُعةُ على من آواهُ اللَّيْل إلى أهْلهِ"
(2)، قال: فَغضبَ أحمدُ بن حَنبلٍ وقال: اسْتَغْفِرْ رَبّكَ. مَرَّتَيْنِ.
--------------------------------------------
তিনি বলেন: আমাকে মূসা ইবনে হিযাম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াযীদ ইবনে হারুনকে বলতে শুনেছি: সুলাইমান ইবনে আমর আন-নাখায়ি আল-কুফি থেকে বর্ণনা করা কারো জন্য বৈধ নয়।
[আমাদের নিকট মাহমুদ ইবনে গাইলান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু ইয়াহইয়া আল-হিমানি বর্ণনা করেছেন, আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: আমি জাবির আল-জু’ফি অপেক্ষা অধিক মিথ্যাবাদী এবং আতা ইবনে আবি রাবাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখিনি।
আমি আল-জারুদকে বলতে শুনেছি: আমি ওয়াকি’কে বলতে শুনেছি: যদি জাবির আল-জু’ফি না থাকতেন তবে কুফাবাসী হাদিসবঞ্চিত থাকত, আর যদি হাম্মাদ না থাকতেন তবে কুফাবাসী ফিকহবঞ্চিত থাকত]
(১)।
এবং আমি আহমদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনেছি: আমরা আহমদ ইবনে হাম্বলের নিকটে ছিলাম, অতঃপর তাঁরা এমন ব্যক্তিদের কথা আলোচনা করলেন যাদের ওপর জুমুআ ওয়াজিব হয়। সেখানে তাবিঈ এবং অন্যদের মধ্য হতে কিছু আলেমদের থেকে (বক্তব্য) উল্লেখ করা হলো। আমি বললাম: এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদিস রয়েছে। তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে? আমি বললাম: হ্যাঁ, আমাদের নিকট হাজ্জাজ ইবনে নুসায়ের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মুআরিক ইবনে আব্বাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জুমুআ তার ওপর ওয়াজিব যাকে রাত তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়", তিনি বলেন: তখন আহমদ ইবনে হাম্বল রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: তোমার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি এটি দুইবার বললেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪৯)
قال أبو عيسى: إنّما فَعلَ هذا أحمدُ بن حَنبلٍ، لأنّهُ لم يُصدِّقْ هذا عن النّبيِّ صلى الله عليه وسلم لضعفِ إسناده، لأنَّهُ لم يَعْرِفه عن النّبيِّ صلى الله عليه وسلم، والحجَّاجُ بن نُصَيْرٍ يُضعَّفُ في الحديثِ، وعبد اللهِ بن سعيدٍ المَقْبُريُّ ضَعَّفهُ يحيى بن سعيدٍ القطّانُ جِدًّا في الحديثِ.
فكلُّ من رُوِي عنه حديثٌ مِمن يُتَّهمُ، أو يُضعَّفُ لِغَفْلته وكثرةِ خَطئه، ولا يُعرفُ ذلك الحديثُ إلا من حديثهِ، فلا يُحْتجُّ به.
وقد رَوَى غيرُ واحدٍ من الأئمَّةِ عن الضُّعفاءِ، وبَيَّنُوا أحوالَهُم للنَّاسِ.
حدَّثنا إبراهيم بن عبد اللهِ بن المُنْذرِ الباهِليُّ، حدَّثنا يَعْلى بن عُبيدٍ، قال: قال لنا سفيانُ الثَّوريُّ: اتَّقُوا الكَلْبيَّ. فقيلَ له: فإنَّكَ تَرْوي عنه. قال: أنا أعرفُ صِدْقَهُ من كَذبهِ.
وأخبرني محمدُ بن إسماعيلَ، حدَّثني يحيى بن مَعِينٍ، حدَّثني عَفّانُ، عن أبي عوانةَ، قال: لمَّا ماتَ الحسنُ البَصْريُّ، اشْتَهيْتُ كلامَهُ، فَتتبَّعْتُه عن أصحابِ الحسنِ، فأتَيْتُ به أبانَ بن أبي عَيَّاشٍ، فقرأهُ عليَّ كُلَّه عن الحسنِ، فَما أسْتَحِلُّ أنْ أرْوِيَ عنه شيئًا.
قال أبو عيسى: وقد رَوَى عن أبانَ بن أبي عَيَّاشٍ غيرُ واحدٍ من الأئمةِ، وإنْ كان فيه من الضَّعْفِ والغَفْلةِ ما وَصَفَه أبو عوانةَ وغيرُه، فلا يُغْترُّ بِروايةِ الثِّقَاتِ عن النَّاسِ، لأنَّهُ يُرْوى عن ابن سِيرينَ قال: إنَّ الرَّجلَ ليحَدَّثُني فما أتّهمُه، ولكن أتّهمُ من فَوقَه.
আবু ঈসা বলেন: আহমদ ইবনে হাম্বল এটি এ কারণেই করেছিলেন যে, সনদের দুর্বলতার দরুন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই হাদিসটিকে নির্ভরযোগ্য মনে করেননি; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি তাঁর নিকট পরিচিত ছিল না। আর হাজ্জাজ ইবনে নুসাইর হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল হিসেবে বিবেচিত, এবং আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-মাকবুরিকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান হাদীসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন।
সুতরাং অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি থেকে যদি হাদীস বর্ণিত হয়, অথবা অসতর্কতা ও অধিক ভুলের কারণে তাকে দুর্বল বলা হয়, এবং সেই হাদীসটি কেবল তার সূত্রেই পরিচিত হয়, তবে তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
অনেক ইমামই দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং মানুষের কাছে তাদের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুনজির আল-বাহিলি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়ালা ইবনে উবাইদ আমাদের বলেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের বলেছেন: তোমরা কালবী থেকে সতর্ক থাকো। তাকে বলা হলো: আপনি তো নিজেই তার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বললেন: আমি তার সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য অবগত আছি।
মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আমাকে অবহিত করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান আবু আওয়ানা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন হাসান বসরী ইন্তেকাল করলেন, আমি তাঁর বাণীসমূহ সংগ্রহের আকাঙ্ক্ষা করলাম। আমি হাসানের সাথীদের কাছে সেগুলো অনুসন্ধান করতে লাগলাম। অতঃপর আমি আবান ইবনে আবু আইয়াশের কাছে আসলাম এবং তিনি হাসানের সূত্রে সবগুলি বাণী আমার সামনে পাঠ করলেন। (কিন্তু তার অবস্থা জানার পর) আমি তার থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করা বৈধ মনে করি না।
আবু ঈসা বলেন: আবান ইবনে আবু আইয়াশ থেকে একাধিক ইমাম বর্ণনা করেছেন, যদিও তাঁর মাঝে সেই দুর্বলতা ও অসতর্কতা বিদ্যমান ছিল যা আবু আওয়ানা ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের বর্ণনা দেখে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। কেননা ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যখন আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করে, তখন আমি তাকে অভিযুক্ত করি না, বরং আমি তার ঊর্ধ্বতনের ব্যাপারে সন্দিহান হই।
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫০)
وقد روى غيرُ واحدٍ عن إبراهيمَ النَّخَعيِّ، عن عبد اللهِ بن مسعودٍ أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم كان يَقنُتُ في وِتْرِه قَبلَ الرُّكوعِ.
وَرَوَى أبانُ بن أبي عيَّاشٍ، عن إبراهيمَ النَّخَعيِّ، عن عَلْقمةَ، عن عبد اللهِ بن مسعودٍ: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم كان يَقْنُتُ في وِتْرِه قَبْلَ الرُّكُوعِ
(1). هكذا رَوَى سفيانُ الثَّوريُّ، عن أبانَ بن أبي عيَّاشٍ.
ورَوَى بَعضُهُم عن أبانَ بن أبي عيَّاشٍ بهذا الإسنادِ نحو هذا، وزادَ فيه: قال عبد اللهِ بن مسعودٍ: أخْبرتْني أُمِّي: أنّها باتَتْ عند النّبيِّ صلى الله عليه وسلم، فَرَأتِ النّبيَّ صلى الله عليه وسلم قَنتَ في وِتْرِه قَبْلَ الرُّكوعِ
(2).
--------------------------------------------
একাধিক বর্ণনাকারী ইবরাহীম আন-নাখায়ি থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বিতরের সালাতে রুকুর আগে কুনুত পড়তেন।
আবান ইবনে আবি আইয়াশ ইবরাহীম আন-নাখায়ি থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বিতরের সালাতে রুকুর আগে কুনুত পড়তেন
(১)। সুফিয়ান আস-সাওরি এভাবেই আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত যোগ করেছেন যে: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন, আমার মা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট রাত কাটিয়েছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর বিতরের সালাতে রুকুর আগে কুনুত পড়তে দেখেছেন
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫১)
قال أبو عيسى: وأبانُ بن أبي عيَّاشٍ وإنْ كان قد وُصفَ بالعبادةِ والاجتهادِ، فهذا حَالُه في الحديثِ، والقومُ كانوا أصحابَ حِفْظٍ، فَرُبَّ رجلٍ وإنْ كان صالحًا لا يُقيمُ الشَّهادةَ، ولا يَحْفَظُها، فكُلُّ من كان مُتَّهمًا في الحديثِ في الكذب، أو كان مُغفَّلًا يُخْطِئُ الكثيرَ، فالّذي اختارَه أكثرُ أهلِ الحديثِ مِن الأئمَّةِ أنْ لا يُشْتَغَلَ بالرِّوايةِ عنه، ألا تَرَى أنَّ عبد اللهِ بن المُبَاركِ حَدَّثَ عن قَومٍ من أهلِ العلمِ، فلمَّا تَبيَّنَ له أمرُهُم، تَركَ الرِّوايةَ عَنهُم.
[أخبرني موسى بن حِزامٍ، سَمِعتُ صالحَ بن عبد اللهِ يقولُ: كُنَّا عندَ أبي مُقاتلٍ السَّمرقنْديِّ
(1)، فجعلَ يَرْوِي عن عَوْنِ بن أبي شَدَّادٍ الأحاديثَ الطِّوالَ التي كانت تُروى في وَصيَّةِ لُقْمانَ، وقَتْلِ سعيدِ بن
--------------------------------------------
আবু ঈসা বলেন: আবান ইবনে আবি আইয়াশ যদিও ইবাদত ও কঠোর সাধনার গুণে গুণান্বিত ছিলেন, কিন্তু হাদিসের ক্ষেত্রে এটিই ছিল তার অবস্থা। সেকালের লোকেরা হিফজ বা মুখস্থবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। অনেক লোক এমন আছেন যারা সৎ হওয়া সত্ত্বেও সাক্ষ্য সঠিকভাবে প্রদান করতে পারেন না এবং তা মুখস্থও রাখতে পারেন না। সুতরাং হাদিসের ক্ষেত্রে যারা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত অথবা যারা অত্যন্ত অমনোযোগী হওয়ার কারণে অনেক ভুল করেন, ইমামগণের মধ্য থেকে অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণ তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আপনি কি দেখেননি যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক একদল আলেমের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছিলেন, কিন্তু যখন তাদের অবস্থা তার কাছে স্পষ্ট হলো, তখন তিনি তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা করা বর্জন করলেন।
[মুসা ইবনে হিজাম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমি সালেহ ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি: আমরা আবু মুকাতিল আস-সামারকান্দির নিকট ছিলাম
(১), তখন তিনি আউন ইবনে আবি শাদ্দাদ থেকে লুকমানের অসিয়ত এবং সাঈদ ইবনে... এর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসগুলো বর্ণনা করতে শুরু করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫২)
جبَيْرٍ، وما أشْبَهَ هذه الأحاديثَ، فقال ابنُ أخ لأبي مُقاتلٍ: يا عَمَّ لا تقُلْ: حدَّثَنا، فإنّكَ لم تَسْمعْ هذه الأشياءَ. قال: يا بُنيَّ هو كلامٌ حسنٌ.
وسمعتُ الجارودَ يقولُ: كُنَّا عند أبي مُعاويةَ، فذُكرَ له حديث أبي مُقاتلٍ، عن سفيانَ الثَّوريِّ، عن الأعمَشِ، عن أبي ظبيانَ، قال: سُئلَ عليٌّ عن كور الزَّنابيرِ، قال: لا بأسَ به، هو بِمنزلةِ صَيْد البحر. فقال أبو معاويةَ: ما أقول: إنَّ صاحبَكُم كذّاب، ولكن هذا الحديث كَذِبٌ]
(1).
وقد تكلَّمَ بعضُ أهلِ الحديثِ في قومٍ من أجِلَّةِ أهلِ العلمِ، وضَعَّفُوهُم من قِبَلِ حِفْظِهمْ، ووَثَّقهُمْ آخرُونَ من الأئمةِ لِجَلالَتهم وصِدْقِهمْ، وإنْ كانوا قد وَهمُوا في بعضِ ما رَوَوْا، قد تَكلَّمَ يحيى بن سَعيدٍ القطّانُ في محمدِ بن عمرٍو، ثُمَّ رَوَى عنه.
حدَّثنا أبو بكرٍ عَبد القدُّوس بن محمدٍ العطَّارُ البَصْريُّ، حدَّثنا عليُّ بن المَدِينيَّ، قال: سَألْتُ يحيى بن سعيدِ عن محمدِ بن عمرِو بن عَلْقمةَ، فقال: تُرِيدُ العَفْوَ أو تُشدَّدُ؟ فقلتُ: لا، بل أُشدَّدُ. فقال: ليس هو ممن تُريدُ، كان يقولُ: حدثنا أشياخُنا أبو سَلمةَ ويحيى بن عبد الرحمنِ بن حاطبٍ
(2).
--------------------------------------------
জুবায়ের এবং এই জাতীয় হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে আবু মুকাতিলের এক ভ্রাতুষ্পুত্র তাকে বললেন: হে চাচা! আপনি ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’ বলবেন না, কারণ আপনি এই বিষয়গুলো শ্রবণ করেননি। তিনি বললেন: হে বৎস! এটি তো একটি উত্তম কথা।
আমি জারুদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা আবু মুআবিয়ার নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তার কাছে সুফিয়ান সাওরি, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু জাবিয়ান থেকে বর্ণিত আবু মুকাতিলের একটি হাদিস উল্লেখ করা হলো। তিনি বলেন: আলীকে (রা.) ভীমরুলের বাসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বললেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই, এটি সমুদ্রের শিকারের সমপর্যায়ভুক্ত। তখন আবু মুআবিয়া বললেন: আমি এটি বলছি না যে তোমাদের সঙ্গী মিথ্যাবাদী, বরং এই হাদিসটিই মিথ্যা।
(১)মুহাদ্দিসগণের কেউ কেউ ইলমে দ্বীনের একদল মহান ব্যক্তি সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন এবং তাদের মুখস্থশক্তির দিক থেকে তাদের দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। আবার অন্য ইমামগণ তাদের মর্যাদা ও সত্যবাদিতার কারণে তাদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন, যদিও তারা তাদের বর্ণিত কিছু হাদিসে বিভ্রমে পতিত হয়েছেন। যেমন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান মুহাম্মদ ইবনে আমর সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন, আবার পরবর্তীতে তার থেকেই হাদিস বর্ণনা করেছেন।
আবু বকর আবদুল কুদ্দুস ইবনে মুহাম্মদ আল-আত্তার আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি ইবনে আল-মাদিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তুমি কি শিথিলতা চাও নাকি কঠোরতা? আমি বললাম: না, বরং আমি কঠোরতা চাই। তিনি বললেন: তিনি সেই পর্যায়ের (নির্ভরযোগ্য) নন যেমনটি তুমি চাচ্ছো। তিনি বলতেন: আমাদের নিকট আমাদের শায়খ আবু সালামাহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হাতিব বর্ণনা করেছেন।
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৩)
قال يحيى: وسَألْتُ مالكَ بنَ أنسٍ عن محمدِ بن عمرٍو، فقال فيه نحو ما قلتُ. قال عليٌّ: قال يحيى: ومحمدُ بن عمرٍو أعلى مِن سُهَيْلِ بن أبي صالحٍ، وهو عندي فوقَ عبدِ الرحمنِ بن حَرْملةَ
(1). قال عليٌّ: فقلتُ ليحيى: ما رأيتَ مِن عبدِ الرحمنِ بن حَرْملةَ؟ فقال: لو شِئْتُ أنْ أُلَقَّنَه لفَعلْتُ. قلتُ: كان يُلقَّنُ؟ قال: نعم
(2).
--------------------------------------------
ইয়াহিয়া বলেন: আমি মালিক ইবন আনাসকে মুহাম্মদ ইবন আমর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি তার ব্যাপারে আমি যা বলেছি তার অনুরূপ কথাই বললেন। আলী বলেন: ইয়াহিয়া বলেছেন: মুহাম্মদ ইবন আমর সুহাইল ইবন আবি সালিহ-এর চেয়ে উঁচু স্তরের, এবং তিনি আমার নিকট আবদুর রহমান ইবন হারমালাহ-এর উপরে
(১)। আলী বলেন: আমি ইয়াহিয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি আবদুর রহমান ইবন হারমালাহ-এর মাঝে কী দেখেছেন? তিনি বললেন: আমি যদি তাকে তালকিন করতে (কথা মুখে তুলে দিতে) চাইতাম, তবে তা পারতাম। আমি বললাম: তাকে কি তালকিন করা হতো? তিনি বললেন: হ্যাঁ
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৪)
قال عليٌّ: ولم يَرْوِ يحيى عن شَرِيكٍ، ولا عن أبي بكرِ بن عيَّاشٍ، ولا عن الرَّبيعِ بن صَبِيحٍ، ولا عن المُبَاركِ بن فَضالةَ.
قال أبو عيسى: وإنْ كان يحيى بن سعيدٍ قد تَركَ الرَّوايةَ عن هؤلاءِ، فلم يَتْرُكِ الرَّوايةَ عَنهُم أنَّهُ اتَّهمهُمْ بالكذبِ، ولكنَّه تَركَهُم لِحَالِ حِفْظهم.
وذُكِرَ عن يحيى بن سعيدٍ أنَّهُ كان إذا رأى الرَّجُلَ يُحدِّثُ عن حِفْظِه مرّةً هكذا ومرّةً هكذا، لا يَثْبتُ على روايةٍ واحدةٍ، تَركهُ، وقد حَدَّثَ عن هؤلاءِ الّذِينَ تَركَهُمْ يحيى بن سعيدٍ القطّانُ: عبدُ اللهِ بن المُبَاركِ، ووكيعُ بن الجرَّاحِ، وعبد الرحمنِ بن مَهْديٍّ، وغَيرُهُم من الأئمةِ.
وهكذا تَكلَّمَ بعض أهلِ الحديثِ في سُهَيلِ بن أبي صالحٍ ومحمدِ بن إسحاقَ، وحمّادِ بن سَلمةَ، ومحمدِ بن عَجْلانَ، وأشباهِ هؤلاءِ من الأئمةِ، إنّما تَكلَّمُوا فِيهم من قِبلِ حِفْظهم في بعضِ ما رَوَوْا، وقد حَدَّثَ عَنهُم الأئمةُ.
حدَّثنا الحسنُ بن عليًّ الحُلْوانيُّ، أخبرنا عليُّ بن المَدينيَّ، قال: قال سفيانُ بن عُيينةَ: كُنَّا نَعدُّ سُهَيلَ بن أبي صالحٍ
(1) ثَبْتًا في الحديثِ.
--------------------------------------------
আলী বলেন: ইয়াহইয়া শারীক থেকে, আবু বকর বিন আইয়াশ থেকে, রাবী বিন সবিহ থেকে এবং মুবারক বিন ফাদলাহ থেকে বর্ণনা করেননি।
আবু ঈসা বলেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ যদিও তাদের থেকে বর্ণনা করা ছেড়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করে বর্ণনা ত্যাগ করেননি, বরং তাদের মুখস্থ শক্তির অবস্থার কারণে তিনি তাদের বর্জন করেছিলেন।
ইয়াহইয়া বিন সাঈদ সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন দেখতেন কোনো ব্যক্তি তার মুখস্থ থেকে একবার একভাবে আর অন্যবার অন্যভাবে হাদীস বর্ণনা করছেন এবং একটি বর্ণনার ওপর স্থির থাকছেন না, তখন তিনি তাকে বর্জন করতেন। অথচ ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান যাদের বর্জন করেছিলেন, তাদের থেকে আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, ওকী' বিন জাররাহ, আব্দুর রহমান বিন মাহদী এবং অন্যান্য ইমামগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
একইভাবে হাদীস বিশারদদের কেউ কেউ সুহাইল বিন আবি সালিহ, মুহাম্মদ বিন ইসহাক, হাম্মাদ বিন সালামাহ, মুহাম্মদ বিন আজলান এবং তাদের মতো ইমামগণের ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। তারা তাদের বিষয়ে সমালোচনা করেছেন মূলত তাদের বর্ণনাকৃত কিছু হাদীসের মুখস্থ শক্তির দিক থেকে, অথচ ইমামগণ তাদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাসান বিন আলী আল-হুলওয়ানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আল-মাদীনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা বলেছেন: আমরা সুহাইল বিন আবি সালিহকে
(১) হাদীসের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য গণ্য করতাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৫)
حدَّثنا ابن أبي عمرَ: قال سفيانُ بن عُيينةَ: كان محمدُ بن عَجْلانَ ثِقةً مَأْمُونًا في الحديثِ.
قال أبو عيسى: وإنَّما تَكلَّمَ يحيى بن سعيدٍ القطَّانُ عندنا في روايةِ محمدِ بن عَجْلانَ، عن سعيدٍ المَقْبُريَّ؛ حدَّثنا أبو بكرٍ، عن عليَّ بن عبد الله، قال: قال يحيى بن سعيدٍ: قال محمدُ بن عَجْلانَ: أحاديثُ سعيدٍ المقْبُريِّ: بَعضُها: سعيدٌ، عن أبي هُريرةَ، وبَعضُها: سعيدٌ، عن رجلٍ، عن أبي هُريرةَ، فاخْتلطَتْ، عليَّ فَصيَّرتُها عن سعيدٍ، عن أبي هُريرةَ. وإنما تَكلَّمَ يحيى بن سَعيدٍ عِنْدنا في ابن عَجْلانَ لهذا، وقد رَوَى يحيى عن ابن عَجْلانَ الكثيرَ
(1).
--------------------------------------------
ইবনে আবি ওমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আজলান হাদীস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ছিলেন।
আবু ঈসা বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আজলান কর্তৃক সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে বর্ণিত বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন; আবু বকর আমাদের নিকট আলি ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আজলান বলেছিলেন: সাঈদ আল-মাকবুরীর হাদীসগুলো—তার কিছু ছিল সাঈদ সরাসরি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, আর কিছু ছিল সাঈদ জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; কিন্তু সেগুলো আমার নিকট এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল, তাই আমি সেগুলোকে 'সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে' এভাবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট ইবনে আজলানের ব্যাপারে মূলত এই কারণেই সমালোচনা করেছেন, যদিও ইয়াহইয়া নিজে ইবনে আজলান থেকে প্রচুর হাদীস বর্ণনা করেছেন
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৬)
قال أبو عيسى: وهكذا من تَكلَّمَ في ابن أبي ليلى
(1)، إنّما تَكلَّمَ
--------------------------------------------
আবু ঈসা বলেন: একইভাবে যারা ইবনে আবি লায়লা
(১) সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন, তারা কেবল সমালোচনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৭)
فيه من قِبلِ حِفْظِه. قال عليٌّ: قال يحيى بن سعيدٍ: رَوَى شُعبةُ عن ابن أبي ليلى، عن أخيه عيسى، عن عبد الرحمنِ بن أبي ليلى، عن أبي أيُّوبَ، عن النّبيَّ صلى الله عليه وسلم في العُطاسِ. قال يحيى: ثمَّ لَقيتُ ابن أبي لَيلى، فحدَّثَنا عن أخيه عيسى، عن عبد الرحمنِ بن أبي ليلى، عن عليًّ، عن النّبيَّ صلى الله عليه وسلم
(1).
ويُرْوى عن ابن أبي ليلى نَحو هذا غير شيءٍ، كان يَرْوي الشيءَ مَرَّةً هكذا ومَرَّةً هكذا، يُغيِّر الإِسنادَ، وإنّما جاءَ هذا من قِبلِ حِفْظِه، لأنَّ أكثرَ من مَضَى من أهلِ العلمِ كانوا لا يَكْتُبونَ، ومن كَتبَ مِنْهُم إنّما كان يكتبُ لهم بعد السَّماعِ.
وسَمِعتُ أحمدَ بن الحسنِ يقولُ: سَمِعتُ أحمدَ بن حنبلٍ يقولُ: ابن أبي ليلى لا يُحْتجُّ به
(2).
قال: وكذلكَ من تَكلَّمَ من أهلِ العلمِ في مُجالدِ بن سعيدٍ
(3) وعبد اللهِ بن لَهِيعةَ
(4) وغَيرِهما، إنَّما تَكلَّمُوا فيهم من قِبلِ حِفْظهم
--------------------------------------------
এর কারণ তার হেফজ (স্মরণশক্তি)। আলী বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: শু'বা ইবনে আবি লাইলা থেকে, তিনি তার ভাই ঈসা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লাইলা থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাঁচি দেওয়া সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া বলেন: এরপর আমি ইবনে আবি লাইলার সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন তিনি আমাদের কাছে তার ভাই ঈসা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লাইলা থেকে, তিনি আলী থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করলেন
(১)।
এবং ইবনে আবি লাইলা থেকে এ জাতীয় আরও অনেক কিছু বর্ণিত হয়েছে; তিনি কখনও কোনো বিষয় এভাবে বর্ণনা করতেন, আবার কখনও ওভাবে। তিনি সনদ পরিবর্তন করে ফেলতেন। মূলত তার হেফজের (দুর্বলতার) কারণেই এমনটি ঘটত, কারণ পূর্ববর্তী আলেমদের অধিকাংশরাই লিখতেন না। আর তাদের মধ্যে যারা লিখতেন, তারা সাধারণত শোনার পরই তাদের জন্য লিখে রাখতেন।
আমি আহমদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনেছি: আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: ইবনে আবি লাইলার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়
(২)।
তিনি বলেন: একইভাবে আলেমগণ মুজালিদ ইবনে সাঈদ
(৩) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া
(৪) ও অন্যদের ব্যাপারে যে সমালোচনা করেছেন, তা মূলত তাদের হেফজ বা স্মরণশক্তির কারণেই করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৮)
وكثرةِ خَطئِهم، وقد رَوَى عَنهُم غيرُ واحدٍ من الأئمَّةِ، فإذا تَفرَّدَ أحدٌ من هؤلاءِ بحديثٍ ولم يُتابعْ عليهِ، لم يُحْتجَّ بهِ، كما قال أحمدُ بن حنْبلٍ: ابن أبي ليلى لا يُحْتجُّ به، إنّما عَنَى إذا تَفرَّدَ بالشَّيءِ، وأشدُّ ما يكونُ هذا إذا لم يَحْفظِ الإسنادَ، فزادَ في الإسنادِ، أو نَقصَ، أو غَيَّرَ الإِسنادَ، أو جاء بما يَتغيَّرُ فيهِ المعنى.
فأمَّا من أقامَ الإِسنادَ وحَفظَه، وغيَّرَ اللَّفظَ، فإنَّ هذا واسعٌ عند أهلِ العلمِ إذا لم يَتغيَّر فيه المعنى.
حدَّثنا محمدُ بن بَشَّارٍ، حدَّثنا عبد الرحمنِ بن مَهْديٍّ، حدَّثنا مُعاويةُ بن صالحٍ، عن العلاءِ بن الحارثِ، عن مَكْحُولٍ، عن واثلةَ بن الأسْقَعِ، قال: إذا حَدَّثْناكُم على المعنى فحسْبُكم
(1).
--------------------------------------------
...এবং তাদের ভুলের আধিক্যের কারণে। অনেক ইমাম তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। যখন এদের কেউ কোনো হাদীস বর্ণনায় একক হয়ে যান এবং অন্য কেউ তার সমর্থন (মুতাবায়াত) না করেন, তখন তা দলিল হিসেবে গৃহীত হবে না; যেমন আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: ইবনে আবি লায়লা দলিল হিসেবে গণ্য নন। এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন—যখন তিনি কোনো বর্ণনায় একক হয়ে যান। এটি আরও গুরুতর হয় যখন তিনি সনদ মুখস্থ রাখতে পারেন না, ফলে সনদে বৃদ্ধি করেন, অথবা হ্রাস করেন, অথবা সনদ পরিবর্তন করে ফেলেন, অথবা এমন কিছু বর্ণনা করেন যাতে অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায়।
পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি সনদ ঠিক রেখেছেন এবং তা মুখস্থ করেছেন, কিন্তু শব্দে পরিবর্তন ঘটিয়েছেন, আলেমদের নিকট এটি গ্রহণযোগ্য যদি তাতে অর্থ পরিবর্তিত না হয়।
মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়া ইবনে সালিহ আল-আলা ইবনে আল-হারিস থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা যখন তোমাদের নিকট অর্থের ভিত্তিতে হাদীস বর্ণনা করি, তখন তোমাদের জন্য সেটুকুই যথেষ্ট।"
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫৯)
حدَّثنا يحيى بن موسى، حدَّثنا عبد الرَّزاقِ، أخبرنا مَعْمرٌ، عن أيُّوبَ، عن محمدِ بن سِيرينَ، قال: كنتُ أسْمعُ الحديثَ مِنْ عَشرةٍ، اللَّفْظُ مُخْتلفٌ والمعنى واحدٌ
(1).
حدَّثنا أحمدُ بن مَنِيعٍ، حدَّثنا محمدُ بن عبد اللهِ الأنصاريُّ، عن ابن عَوْنٍ، قال: كان إبراهيمُ النَّخَعيُّ والحسنُ والشَّعْبيُّ يَأْتُونَ بالحديثِ على المعاني، وكان القاسمُ بن محمدٍ ومحمدُ بن سِيرينَ ورجاءُ بن حَيْوةَ يُعيدُونَ الحديثَ على حُروفهِ
(2).
حدَّثنا عليُ بن خَشْرمٍ، أخبرنا حفصُ بن غِياثٍ، عن عاصمٍ الأحْوَلِ، قال: قلتُ لأبي عثمانَ النَّهْديِّ: إنّكَ تُحدَّثُنا بالحديثِ، ثمَّ تُحدَّثُنا به على غيرِ ما حَدَّثْتنا به. قال: عليكَ بِالسَّماعِ الأوَّلِ
(3).
حدَّثنا الجارودُ، حدَّثنا وكيعٌ، عن الرَّبيعِ بن صَبِيحٍ، عن الحسنِ، قال: إذا أصَبْتَ المعنى أجْزَأكَ
(4)--------------------------------------------
ইয়াহইয়া ইবনে মুসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের আইয়ুব থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি দশজনের কাছ থেকে হাদীস শুনতাম, যাদের শব্দ ভিন্ন ভিন্ন হতো কিন্তু অর্থ অভিন্ন থাকতো
(১).
আহমাদ ইবনে মানি' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আউন থেকে, তিনি বলেন: ইবরাহীম আন-নাখায়ী, হাসান এবং আশ-শা'বী হাদীসের মূল অর্থ বর্ণনা করতেন, আর কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন এবং রাজা ইবনে হাইওয়াহ হাদীসের হুবহু শব্দাবলি বর্ণনা করতেন
(২).
আলী ইবনে খাশরাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাফস ইবনে গিয়াস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসেম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু উসমান আন-নাহদীকে বললাম: আপনি আমাদের নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করেন, এরপর পুনরায় যখন তা বর্ণনা করেন তখন আগের মতো করে করেন না। তিনি বললেন: তোমার জন্য প্রথম শ্রবণটিই গ্রহণীয়
(৩).
আল-জারুদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন রাবী' ইবনে সাবিহ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তুমি যদি সঠিক অর্থটি আয়ত্ত করতে পারো, তবে তাই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬০)
حدَّثنا عليُّ بن حُجْرٍ، أخبرنا عبد الله بن المُبَاركِ، عن سَيْفٍ - هو ابن سليمانَ - قال: سَمِعتُ مُجاهدًا يَقولُ: انْقصْ من الحديثِ إنْ شِئْتَ، ولا تَزِدْ فيهِ
(1).
حدَّثَنا أبو عمّارٍ الحسينُ بن حُرَيْثٍ، أخبرنا زيدُ بن الحُبابِ، عن رجلٍ، قال: خَرجَ إلينا سفيانُ الثَّوْريُّ، فقال: إنْ قلتُ لكُم: إنّي أُحدَّثُكمْ كما سَمِعتُ، فلا تُصدَّقُوني، إنّما هو المعنى
(2).
أخبرنا الحسين بن حُرَيْثٍ، قال: سمعتُ وكيعًا يقولُ: إنْ لم يَكنِ المعنى واسعًا، فقد هَلكَ النَّاسُ
(3).
--------------------------------------------
আলী ইবনে হুজর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইফ—যিনি ইবনে সুলাইমান—থেকে, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে বলতে শুনেছি: তুমি চাইলে হাদিস থেকে শব্দ কমিয়ে দাও, কিন্তু তাতে কিছু বৃদ্ধি করো না।
(১)আবু আম্মার আল-হুসাইন ইবনুল হুরাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়েদ ইবনুল হুবাব আমাদের জনৈক ব্যক্তি থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: আমি যদি তোমাদের বলি যে, আমি তোমাদের ঠিক তেমন ভাবেই বর্ণনা করছি যেমনটি আমি শুনেছি, তবে তোমরা আমাকে বিশ্বাস করো না; এটি মূলত মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনা।
(২)আল-হুসাইন ইবনুল হুরাইস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি: যদি মর্মার্থের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা না থাকত, তবে মানুষ ধ্বংস হয়ে যেত।
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬১)
قال أبو عيسى: وإنّما تَفاضلَ أهلُ العلمِ بالحفظِ والإتقانِ والتَّثَبُّتِ عِندَ السَّماعِ مع أنَّهُ لم يَسلَمْ من الخطأ والغَلطِ كثيرُ أحدٍ من الأئمةِ مع حِفْظهم
(1).
--------------------------------------------
আবু ঈসা বলেন: ইলম অর্জনকারীদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের পার্থক্য হয় তাদের মুখস্থশক্তি, নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ এবং শ্রবণের সময় দৃঢ়তার মাধ্যমে। যদিও তাদের প্রখর মুখস্থশক্তি থাকা সত্ত্বেও ইমামদের মধ্যে কেউই ভুল এবং ভ্রান্তি থেকে পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬২)
حدَّثنا محمدُ بن حُمَيدٍ الرَّازيُّ، حدَّثنا جَريرٌ، عن عُمارةَ بن القَعْقَاعِ، قال: قال لي إبراهيمُ النَّخَعيُّ: إذا حَدَّثْتني فحدَّثْني عن أبي زُرْعةَ بن عمرِو بن جَريرٍ، فإنَّهُ حدَّثني مَرَّةً بحديثٍ، ثمَّ سَألْتُه بعدَ ذلك بِسنينَ، فَما أخْرمَ منه حَرْفًا.
حدَّثنا أبو حَفْصٍ عمرُو بن عَليًّ، حدَّثنا يحيى بن سعيدٍ القَطَّانُ، عن سفيان، عن منصورٍ، قال: قلتُ لإبراهيمَ: ما لِسالمِ بن أبي الجَعْدِ أتمَّ حديثًا مِنك؟ قال: لأنَّهُ كان يَكتبُ.
حدَّثنا عبد الجبارِ بن العلاءِ بن عبد الجبارِ، حدَّثنا سفيانُ، قال: قال عبد الملكِ بن عُمَيرٍ: إنَّي لأُحَدَّثُ بِالحديثِ، فما أدعُ منه حرفًا.
حدَّثنا الحسينُ بن مَهْديًّ البصريُّ، حدَّثنا عبد الرَّزاقِ، قال: أخبرنا مَعْمرٌ، عن قتادةَ، قال: ما سَمِعتْ أذُنايَ شيئًا قَطُّ إلا وعاهُ قَلْبي.
حدَّثنا سعيدُ بن عبد الرحمنِ المَخْزوميُّ، حدَّثنا سفيانُ بن عُيينةَ، عن عمرِو بن دِينارٍ، قال: ما رأيتُ أحدًا أنصَّ للحديثِ من الزُّهريّ.
حدَّثنا إبراهيمُ بن سعيدٍ الجَوْهَريُّ، حدَّثنا سفيانُ بن عُيينةَ،
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবন হুমাইদ আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমারাহ ইবনুল কাকা থেকে, তিনি বলেন: ইবরাহিম আন-নাখায়ি আমাকে বলেছেন: তুমি যখন আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করবে, তখন আবু জুরআহ ইবন আমর ইবন জারির থেকে বর্ণনা করবে; কেননা তিনি আমাকে একবার একটি হাদীস শুনিয়েছিলেন, তারপর আমি বহু বছর পর তাকে সেই বিষয়ে পুনরায় জিজ্ঞেস করলে তিনি তার একটি অক্ষরও কমবেশি করেননি।
আবু হাফস আমর ইবন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবরাহিমকে বললাম: সালিম ইবন আবিল জাদ কেন আপনার চেয়েও পূর্ণাঙ্গভাবে হাদীস বর্ণনা করেন? তিনি বললেন: কারণ তিনি লিখে রাখতেন।
আবদুল জব্বার ইবনুল আলা ইবন আবদিল জব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল মালিক ইবন উমায়ের বলেছেন: নিশ্চয়ই আমার কাছে যখন কোনো হাদীস বর্ণনা করা হয়, আমি তার থেকে একটি অক্ষরও বাদ দিই না।
হুসাইন ইবন মাহদি আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের নিকট কাতাদাহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার কান কখনো এমন কিছু শোনেনি যা আমার অন্তর সংরক্ষণ করেনি।
সাঈদ ইবন আবদুর রহমান আল-মাখজুমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান ইবন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবন দিনার থেকে, তিনি বলেন: আমি আয-যুহরি অপেক্ষা হাদীস বর্ণনায় অধিক নিপুণ আর কাউকে দেখিনি।
ইবরাহিম ইবন সাঈদ আল-জাওহারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান ইবন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৩)
قال: قال أيُّوبُ السَّخْتيانيُّ: ما عَلمْتُ أحدًا كان أعلمَ بِحديثِ أهلِ المدينةِ بعد الزُّهْريَّ من يحيى بن أبي كثيرٍ.
حدَّثنا محمدُ بن إسماعيلَ، حدَّثنا سليمانُ بنُ حَرْبٍ، حدَّثنا حَمَّادُ بنُ زيدٍ، قال: كان ابن عَوْنٍ يُحدَّثُ، فإذا حَدَّثْتُه عن أيُّوبَ بِخلافهِ تَركهُ، فأقولُ: قد سَمِعتَهُ، فيقولُ: إنَّ أيُّوبَ أعْلمُنا بِحديثِ محمد بن سيرينَ.
حدَّثنا أبو بكرٍ، عن عليَّ بن عبد اللهِ، قال: قلتُ ليحيى بن سعيدٍ: أيُّهُما أثْبتُ، هشامٌ الدَّسْتُوائيُّ أو مِسْعرٌ؟ قال: ما رأيتُ مِثْلَ مِسْعرٍ، كَان مِسْعرٌ من أثْبتِ النَّاسِ.
حدَّثنا أبو بكرٍ عبد القدُّوسِ بن محمدٍ، قال: حدَّثَني أبو الوليدِ، قال: سَمعتُ حَمَّادَ بن زيدٍ يقولُ: ما خَالَفني شُعبةُ في شيءٍ إلا تَركْتُه.
قال: قال أبو بكرٍ: وحدَّثني أبو الوليدِ، قال: قال لي حَمَّادُ بن سلمةَ: إنْ أرَدْتَ الحديثَ، فَعليْكَ بِشُعبةَ.
حدَّثنا عبدُ بن حُمَيدٍ، حدَّثنا أبو داودَ، قال: قال شعبةُ: ما رَوَيْتُ عن رجلٍ حديثًا واحدًا إلا أتَيتُه أكثرَ من مَرَّةٍ، والّذِي رَويْتُ عنه عَشرةَ أحاديثَ أتَيتُه أكثرَ من عَشْرِ مِرارٍ، والّذي رَوَيْتُ عنه خَمْسينَ حديثًا أتَيتُه أكْثرَ من خَمْسينَ مَرَّةً، والّذي رَوَيْتُ عنه مئةً أتَيتُه أكثرَ من مِئةِ مَرَّةٍ، إلا حَيَّانَ البارقيَّ فإنَّي سَمِعتُ منه هذه الأحاديثَ، ثمَّ عُدْتُ إليه فوجَدْتُه قد ماتَ.
حدَّثنا محمدُ بن إسماعيلَ، حدَّثنا عبد اللهِ بن أبي الأسودِ،
তিনি বলেন: আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি বলেছেন: যুহরীর পর মদিনাবাসীদের হাদিস সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের চেয়ে বেশি জ্ঞানী কাউকে আমি জানি না।
মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আউন হাদিস বর্ণনা করতেন; অতঃপর আমি যখন আইয়ুবের বরাতে তাঁর বর্ণনার বিপরীত কিছু উল্লেখ করতাম, তিনি তা বর্জন করতেন। আমি বলতাম: আপনি তো এটি শুনেছেন; তখন তিনি বলতেন: আইয়ুব আমাদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে সিরিনের হাদিস সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত।
আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে জিজ্ঞাসা করলাম: হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ী এবং মিস'আর—এই দুইজনের মধ্যে কে অধিক নির্ভরযোগ্য? তিনি বললেন: আমি মিস'আরের মতো কাউকে দেখিনি, মিস'আর ছিলেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।
আবু বকর আবদুল কুদ্দুস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাম্মাদ ইবনে যাইদকে বলতে শুনেছি: কোনো বিষয়ে শু'বাহ আমার বিরোধিতা করলে আমি তা ছেড়ে দিতাম।
তিনি বলেন: আবু বকর বলেছেন: আবুল ওয়ালিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাকে বলেছেন: তুমি যদি হাদিস অন্বেষণ করতে চাও, তবে তোমার জন্য শু'বাহকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক।
আবদ ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ বলেছেন: আমি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে একটি মাত্র হাদিসও বর্ণনা করিনি যার কাছে আমি একধিকবার যাইনি। আর যার থেকে দশটি হাদিস বর্ণনা করেছি, তার কাছে দশবারেরও বেশি গিয়েছি। যার থেকে পঞ্চাশটি হাদিস বর্ণনা করেছি, তার কাছে পঞ্চাশবারেরও বেশি গিয়েছি। আর যার থেকে একশটি হাদিস বর্ণনা করেছি, তার কাছে একশবারেরও বেশি গিয়েছি। তবে হাইয়ান আল-বারিকী ব্যতীত; কেননা আমি তাঁর থেকে এই হাদিসগুলো শুনেছি, এরপর যখন পুনরায় তাঁর কাছে ফিরে গেলাম, তখন তাঁকে মৃত অবস্থায় পেলাম।
মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবিল আসওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৪)
حدَّثنا ابن مَهْديًّ، قال: سمعتُ سفيانَ يقولُ: شُعبةُ أميرُ المؤمنينَ في الحديثِ
(1).
حدَّثنا أبو بكرٍ، عن عليَّ بن عبد اللهِ، قال: سَمِعتُ يحيى بن سعيدٍ يقولُ: ليسَ أحدٌ أحبَّ إليَّ من شُعبةَ، ولا يَعْدلُهُ أحدٌ عِنْدي، وإذا خَالفَهُ سفيانُ، أخَذْتُ بقولِ سفيانَ.
قال عليٌّ: قلتُ لِيحيى: أيُّهُما كان أحفظَ للأحاديثِ الطِّوالِ، سفيانُ أو شُعبةُ؟ قال: كان شُعبةُ أمرَّ فِيها. قال يحيى: وكانَ شُعبةُ
--------------------------------------------
ইবনে মাহদী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি: শু'বাহ হাদীস শাস্ত্রে আমিরুল মু'মিনীন
(১)।
আবু বকর আমাদের কাছে আলী ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: শু'বাহর চেয়ে অধিক প্রিয় আমার কাছে আর কেউ নেই এবং আমার কাছে কেউ তাঁর সমকক্ষ নয়; তবে সুফিয়ান যদি তাঁর বিরোধিতা করেন, তবে আমি সুফিয়ানের বক্তব্য গ্রহণ করি।
আলী বলেন: আমি ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞেস করলাম: দীর্ঘ হাদীসসমূহ মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে কে অধিক পারদর্শী ছিলেন, সুফিয়ান না কি শু'বাহ? তিনি বললেন: শু'বাহ এই ক্ষেত্রে অধিক সুদৃঢ় ছিলেন। ইয়াহইয়া বলেন: আর শু'বাহ ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৫)
أعلمَ بالرِّجالِ؛ فُلانٌ عن فُلانٍ، وكان سفيانُ صاحبَ أبوابٍ.
حدَّثنا أبو عمَّارٍ الحسينُ بن حُرَيْثٍ، قال: سمعتُ وكيعًا يقولُ: قال شُعبةُ: سفيانُ أحفظ مِنَّي، ما حَدَّثني سفيانُ عن شَيخٍ بشيءٍ فسألْتُه إلا وجَدتُه كما حدَّثني.
[حدَّثنا عمرُو بن عليًّ، قال: سمعتُ عبد الرحمنِ بن مَهْديًّ يقولُ: الأئِمةُ في الأحاديثِ أرْبعةٌ: سفيانُ الثّوْريُّ، ومالكُ بن أنسٍ، والأوزاعيُّ
(1)، وحمَّادُ بن زيدٍ]
(2).
--------------------------------------------
তিনি বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন; অমুক থেকে অমুক সূত্রে, আর সুফিয়ান ছিলেন অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসের পারদর্শী।
আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরায়স আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াকি'কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: শু'বাহ বলেছেন: সুফিয়ান আমার চেয়েও অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (হিফযকারী)। সুফিয়ান কোনো শাইখ থেকে আমার কাছে যা বর্ণনা করেছেন, পরবর্তীতে আমি যখন সেই শাইখকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি, তখন তাকে ঠিক তেমনই পেয়েছি যেমনটি সুফিয়ান আমার নিকট বর্ণনা করেছিলেন।
[আমর ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি: হাদীস শাস্ত্রের ইমাম হলেন চারজন: সুফিয়ান আস-সাওরী, মালিক ইবনে আনাস, আওযাঈ
(১) এবং হাম্মাদ ইবনে যায়েদ]
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৬)
سمعتُ إسحاقَ بن موسى الأنصاريَّ، قال: سمعتُ مَعْنَ بن عيسى، يقولُ: كان مالكُ بن أنس يُشدَّدُ في حديثِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم في الياءِ وَالتّاءِ ونحوهما.
حدَّثنا أبو موسى، قال: حدَّثني إبراهيمُ بن عبد اللهِ بن قُريْمٍ الأنصاريُّ قَاضي المدينةِ، قال: مَرَّ مالكُ بن أنسٍ على أبي حازمٍ وهو جالسٌ، فجازه، فقيلَ له، فقال: إنَّي لم أجِدْ مَوْضعًا أجلسُ فيه، فكرهتُ أنْ آخُذَ حديثَ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وأنا قائمٌ.
حدَّثنا أبو بكرٍ، عن عليَّ بن عبد اللهِ، قال: قال يحيى بن سعيدٍ: مالكٌ، عن سعيدِ بن المُسَيّب، أحبُّ إليَّ من سفيانَ الثَّوْريَّ، عن إبراهيمَ النَّخَعيَّ.
قال يحيى: ما في القومِ أحدٌ أصحَّ حديثًا مِن مالكِ بن أنسٍ، كان مالكٌ إمامًا في الحديثِ.
سَمِعتُ أحمدَ بنَ الحَسنِ يقولُ: سَمِعتُ أحمدَ بنَ حنبلٍ يقولُ: ما رأيتُ بِعَيْنَيَّ مِثْلَ يحيى بنِ سعيدٍ القطّانِ.
قال أحمدُ: وسُئلَ أحمدُ بن حنبلٍ عن وكيعٍ وعبد الرحمنِ بن مَهْديًّ، فقال أحمدُ: وكيعٌ أكبرُ في القلبِ، وعبد الرحمنِ إمامٌ.
سَمِعتُ محمدَ بن عمرِو بن نَبْهانَ بن صَفْوانَ الثَّقَفيَّ البصريَّ يقولُ: سمِعتُ عليَّ بن المَدِينيَّ يقولُ: لو حُلَّفْتُ بين الرُّكْنِ والمقامِ، لَحَلفْتُ إنِّي لم أرَ أحدًا أعلمَ من عبد الرحمنِ بن مَهْديًّ.
আমি ইসহাক ইবন মুসা আল-আনসারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মান ইবন ঈসাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মালিক ইবন আনাস আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে 'ইয়া' এবং 'তা' কিংবা এই জাতীয় বর্ণগুলোর উচ্চারণের পার্থক্যের ব্যাপারেও অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন।
আবু মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মদিনার কাজি ইব্রাহিম ইবন আব্দুল্লাহ ইবন কুরাইম আল-আনসারি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবন আনাস আবু হাজিমের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় দেখলেন তিনি বসা আছেন, কিন্তু মালিক তাঁকে অতিক্রম করে চলে গেলেন। তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আমি বসার মতো কোনো জায়গা পাইনি, আর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস গ্রহণ করাকে আমি অপছন্দ করেছি।
আবু বকর আমাদের নিকট আলী ইবন আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ বলেছেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের সূত্রে মালিকের বর্ণনা আমার নিকট ইব্রাহিম নাখয়ির সূত্রে সুফিয়ান সাওরির বর্ণনার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।
ইয়াহইয়া বলেন: এই জামাতের মধ্যে মালিক ইবন আনাসের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ নেই; মালিক হাদিসের ক্ষেত্রে একজন ইমাম ছিলেন।
আমি আহমদ ইবন আল-হাসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার নিজের চোখে ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তানের মতো আর কাউকে দেখিনি।
আহমদ বলেন: আহমদ ইবন হাম্বলকে ওয়াকি এবং আব্দুর রহমান ইবন মাহদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন আহমদ বলেছিলেন: ওয়াকি অন্তরে অধিক মর্যাদাবান, আর আব্দুর রহমান হলেন ইমাম।
আমি মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন নাবহান ইবন সাফওয়ান আস-সাকাফি আল-বাসরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদিনিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যদি আমাকে রুকন ও মাকামের মাঝে দাঁড়িয়ে কসম করানো হতো, তবে আমি অবশ্যই কসম করে বলতাম যে, আমি আব্দুর রহমান ইবন মাহদির চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে দেখিনি।
(খণ্ড: ٦)
কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬৭)
قال أبو عيسى: والكلامُ في هذا وَالرَّوايةُ عن أهلِ العلمِ تَكْثُرُ، وإنّما بَيَّنَّا شيئًا منه على الاختصارِ لِيُسْتدَلَّ به على منازلِ أهلِ العلمِ، وتَفاضُلِ بعضهم على بعضٍ في الحِفْظِ والإِتقانِ، ومن تُكلّمَ فيه من أهلِ العلمِ لأيَّ شيءٍ تُكلَّمَ فيهِ.
والقراءةُ على العالمِ إذا كان يَحْفظُ ما يُقْرأُ عليهِ، أو يُمْسِكُ أصْلهُ فِيما يُقْرأُ عليه إذا لم يَحْفظْ، هو صحيحٌ عند أهلِ الحديثِ، مثلُ السَّماعِ
(1).
حدَّثنا حسين بن مَهْديًّ البصرِيُّ، حدَّثَنا عبد الرَّزاق، أخبرنا ابن جرَيْجٍ، قال: قَرأْتُ على عطاءِ بن أبي رَباحٍ، فقلتُ له: كيفَ أقولُ؟ فقال: قل: حدَّثنا.
حدَّثنا سُوَيدُ بن نصرٍ، أخبرنا عليُّ بن الحُسينِ بن واقدٍ، عن أبي عِصْمةَ، عن يزيدَ النَّحْويَّ، عن عِكْرمةَ: أنَّ نَفرًا قَدِمُوا على ابن عبَّاسٍ من أهلِ الطّائفِ بكتب من كُتبهِ، فجعلَ يَقْرأُ عليهم، فيُقدَّمُ
--------------------------------------------
আবু ঈসা বলেন: এ বিষয়ে আলোচনা এবং ইলমের অধিকারীদের থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েত প্রচুর। আমরা এর কিয়দাংশ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি যাতে এর মাধ্যমে ইলমের অধিকারীদের সুউচ্চ মর্যাদা এবং হিফজ (স্মৃতিশক্তি) ও ইতকান (নির্ভুলতা) এর ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে প্রমাণ গ্রহণ করা যায়; আর ইলমের অধিকারীদের মধ্যে যাদের সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে, তা ঠিক কী কারণে করা হয়েছে (তাও যেন স্পষ্ট হয়)।
কোনো আলেমের নিকট পাঠ করা—যদি তিনি যা পাঠ করা হচ্ছে তা মুখস্থ রাখেন, অথবা মুখস্থ না থাকলে পাঠের সময় নিজের নিকট মূল পাণ্ডুলিপিটি রাখেন—তবে মুহাদ্দিসগণের নিকট তা শ্রবণ করার মতোই সঠিক পদ্ধতি।
(১)আমাদের নিকট হুসাইন ইবনে মাহদী আল-বাসরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের ইবনে জুরাইজ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আতা ইবনে আবি রাবাহর নিকট পাঠ করলাম, এরপর তাঁকে বললাম: আমি (বর্ণনার সময়) কীভাবে বলব? তিনি বললেন: তুমি বল, ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’।
আমাদের নিকট সুওয়াইদ ইবনে নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসমাহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ আন-নাহবী থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে: তায়েফবাসীদের একটি দল ইবনে আব্বাসের নিকট তাঁর (বর্ণিত হাদিসের) কিছু কিতাব নিয়ে আসলেন। তখন তিনি তাদের নিকট তা পাঠ করতে লাগলেন, ফলে উপস্থাপন করা হলো
--------------------------------------------