(খণ্ড: ১) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: -)
كتاب العلل الواقع بآخر جامع الترمذي - ط الرسالة   (الترمذي)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: العلل الصغير

المؤلف: أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي (نحو 209 - 279 هـ)

حققه وخرج أحاديثه وعلق عليه: شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]- سعيد اللحام

الناشر: دار الرسالة العالمية

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الأجزاء: (مطبوع بآخر الجزء 6 من جامع الترمذي)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1445

জামে তিরমিযীর শেষে অবস্থিত কিতাবুল ইলাল - আর-রিসালাহ সংস্করণ   (তিরমিযী)

বিভাগ: হাদিসের ত্রুটি ও প্রশ্নাবলি


বই: আল-ইলালুস সাগীর

লেখক: আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ আত-তিরমিযী (প্রায় ২০৯ - ২৭৯ হিজরি)

তাহকীক, হাদিস বিশ্লেষণ ও টীকা প্রদান: শুআইব আল-আরনাউত [মৃত ১৪৩৮ হিজরি]- সাঈদ আল-লাহহাম

প্রকাশক: দারুর রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: (জামে তিরমিযীর ৬ষ্ঠ খণ্ডের শেষে মুদ্রিত)

[বইটির পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৪৫

(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌كتاب العلل

قال أبو القاسم الكروخي: أخبرنا القاضي أبو عامر الأزدي والشيخ أبو بكر الغُورَجي والشيخ أبو المظفَّر عبيدُ اللهِ بن علي بن ياسين بن محمد الدَّهان رحمهم الله، قالوا: أخبرنا أبو محمد الجَرَّاحي، أخبرنا أبو العباسِ المحبوبيُّ، أخبرنا أبو عيسى الحافظ الترمذي قال:

جميعُ ما في هذا الكتابِ من الحديثِ، فهو مَعمُولٌ به(1)، وقد أخذَ بهِ بعضُ أهلِ العلمِ ما خلا حَديثينِ:

حديثَ ابن عبَّاسٍ: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم جَمعَ بينَ الظُّهرِ والعَصرِ بالمدينةِ، وبين المغربِ والعشاءِ من غيرِ خَوفٍ ولا سفرٍ ولا مطرٍ(2).

وحديث النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: "إذا شَربَ الخَمْرَ، فاجْلدوهُ، فإنْ عادَ في الرَّابعةِ، فاقْتلُوه"(3). وقد بَيَّنا عِلَّةَ الحديثينِ جميعًا في الكتابِ.

--------------------------------------------

(1) قال ابن رجب: كأن مراد الترمذي رحمه الله تعالى أحاديث الأحكام.

(2) انظر الحديث في "الجامع" برقم (185) وقد بسطنا القول في هذا الحديث في "المسند" (1953) فارجع إليه، ويقول الذهبي في "المهذب" 3/ 144: ولعل البخاري إنما لم يخرجه (بزيادة: من غير خوف ولا مطر) لما فيه من الاختلاف على سعيد بن جبير في متنه، ورواية الجماعة أولى أن تكون محفوظة.

(3) انظر الحديث برقم (1510).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌কিতাবুল ইলাল (হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক গ্রন্থ)

আবুল কাসিম আল-কারুখি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু আমির আল-আযদি, শায়খ আবু বকর আল-গুরজি এবং শায়খ আবু মুজাফফর উবাইদুল্লাহ বিন আলি বিন ইয়াসিন বিন মুহাম্মদ আদ-দাহহান (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-জাররাহি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস আল-মাহবুবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা আল-হাফিজ আত-তিরমিজি, তিনি বলেছেন:

এই কিতাবে যত হাদিস রয়েছে, তার সবগুলোর ওপর আমল করা হয় এবং আলেমগণের কেউ না কেউ সেগুলো গ্রহণ করেছেন, কেবল দুটি হাদিস ব্যতীত:

ইবনে আব্বাসের হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় কোনো প্রকার ভয়-ভীতি, সফর বা বৃষ্টি ছাড়াই যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করেছেন।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস যাতে তিনি বলেছেন: "যদি কেউ মদ পান করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করো, আর যদি চতুর্থবার পুনরায় তা করে তবে তাকে হত্যা করো।" এবং আমরা কিতাবের মধ্যে এই উভয় হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) বর্ণনা করেছি।

--------------------------------------------

(১) ইবনে রজব বলেন: মনে হয় ইমাম তিরমিজি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্দেশ্য হলো আহকাম বা বিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।

(২) 'জামে' গ্রন্থে ১৮৫ নম্বর হাদিসটি দেখুন। আমরা এই হাদিস সম্পর্কে 'আল-মুসনাদ' (১৯৫৩) গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, সুতরাং সেখানে তা দেখে নিন। যাহাবি 'আল-মুহাযযাব' ৩/১৪৪ গ্রন্থে বলেন: সম্ভবত ইমাম বুখারি এটি (ভয়-ভীতি ও বৃষ্টি ব্যতীত—এই অতিরিক্ত অংশসহ) এ কারণে উদ্ধৃত করেননি যে, এর মূল পাঠে সাঈদ বিন জুবাইরের বর্ণনায় মতপার্থক্য রয়েছে, আর একদল রাবির (জামাআত) বর্ণনা সংরক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রগণ্য।

(৩) ১৫১০ নম্বর হাদিসটি দেখুন।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪০)
قال: وما ذَكَرْنا في هذا الكتابِ من اختِيارِ الفقهاءِ، فما كان فيهِ من قولِ سفيانَ الثَّوْريِّ، فأكْثرهُ ما حدَّثنا به محمدُ بنُ عثمانَ الكوفيُّ، قال: حدَّثنا عُبَيدُ اللهِ بنُ موسى، عن سفيانَ.

ومنه ما حدَّثني به أبو الفَضلِ مَكْتُومُ بنُ العبَّاسِ التَّرمذيُّ، قال: حدَّثنا محمدُ بنُ يوسفَ الفِريابيُّ، عن سفيانَ.

وما كان فيه من قولِ مالكِ بن أنسٍ، فأكْثرُه ما حدَّثنا بهِ إسحاقُ بن موسى الأنصَاريُّ، قال: حدَّثنا مَعْنُ بن عيسى القزَّازُ(1)، عن مالكِ بن أنسٍ.

وما كان فيه مِن أبوابِ الصَّومِ فأخبرنا به أبو مصْعبٍ المَدينيُّ(2)، عن مالكِ بن أنسٍ.

--------------------------------------------

(1) نسبة إلى بيع القز، وهو أبو يحيى معن بن عيسى بن دينار المدني الأشجعي مولاهم أحد رواة "الموطأ" عن مالك، لقب بعكاز مالك لأن مالكًا بعدما كبر وأسن كان يستند عليه حين خروجه إلى المسجد كثيرًا، توفي بالمدينة سنة ثمان وتسعين ومئة.

قال أبو حاتم: أثبت أصحاب مالك، وأوثقهم معن بن عيسى، وهو أحب إلي من عبد الله بن نافع بن الصائغ ومن ابن وهب.

(2) وهو أحمد بن أبي بكر بن الحارث بن زرارة بن مصعب بن عبد الرحمن بن عوف أبو مصعب الزهري المدني الفقيه الثقة، المتوفى سنة 242 هـ، وهو آخر من روى "الموطأ" عن مالك وفيه من الزيادات ما ليس في غيره، وقد طبع الموطأ بروايته بتحقيق صاحبنا الدكتور بشار عواد معروف.
তিনি বলেন: এই কিতাবে ফকীহগণের যে সব পছন্দ বা অভিমত আমরা উল্লেখ করেছি, তার মধ্যে সুফিয়ান আস-সাওরীর যে বক্তব্য রয়েছে, তার অধিকাংশই আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-কুফী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে উবায়দুল্লাহ বিন মুসা সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার কিছু অংশ আমার কাছে আবুল ফজল মাকতুম বিন আল-আব্বাস আত-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-ফিরয়াবী সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর এতে মালিক বিন আনাসের যে বক্তব্য রয়েছে, তার অধিকাংশই আমাদের কাছে ইসহাক বিন মুসা আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে মান বিন ঈসা আল-কাযযায(১) মালিক বিন আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর সিয়াম (রোজা) অধ্যায়সমূহে যা কিছু রয়েছে, তা আমাদের কাছে আবু মুসআব আল-মাদিনী(২) মালিক বিন আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) রেশম বিক্রির দিকে সম্বন্ধ করে তাকে ‘কাযযায’ বলা হয়। তিনি হলেন আবু ইয়াহইয়া মান বিন ঈসা বিন দিনার আল-মাদিনী আল-আশজাঈ (তাদের মুক্তদাস), যিনি মালিক থেকে ‘মুয়াত্তা’-র অন্যতম বর্ণনাকারী। তাকে ‘মালিকের লাঠি’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল, কারণ ইমাম মালিক যখন বৃদ্ধ ও বয়স্ক হয়ে গিয়েছিলেন, তখন মসজিদে যাওয়ার সময় প্রায়ই তার ওপর ভর দিয়ে চলতেন। তিনি ১৯৮ হিজরীতে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন।

আবু হাতিম বলেন: ইমাম মালিকের ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় এবং নির্ভরযোগ্য হলেন মান বিন ঈসা। তিনি আমার কাছে আব্দুল্লাহ বিন নাফে ইবনুস সায়েগ এবং ইবনে ওয়াহাবের তুলনায় অধিক প্রিয়।

(২) তিনি হলেন আহমদ বিন আবু বকর বিন আল-হারিস বিন যুরারাহ বিন মুসআব বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ আবু মুসআব আজ-যুহরী আল-মাদিনী, যিনি ফকীহ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, মৃত্যু ২৪২ হিজরী। তিনি ইমাম মালিক থেকে ‘মুয়াত্তা’ বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি এবং এতে এমন কিছু অতিরিক্ত অংশ রয়েছে যা অন্যদের বর্ণনায় নেই। তার বর্ণিত মুয়াত্তা আমাদের বন্ধু ডক্টর বাশার আওয়াদ মারুফের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪১)
وبعضُ كلامِ مالك ما أخبرنا به موسى بنُ حِزَامٍ، قال: أخبرنا عَبد اللهِ بن مَسْلمةَ القَعْنبيُّ، عن مالكِ بن أنسٍ.

وما كان فيه من قولِ ابنِ المُباركِ، فهو ما حدَّثنا به أحمدُ بنُ عَبْدةَ الآمُليُّ، عن أصحابِ ابن المُباركِ، عنه.

ومنه ما رُوِي عن أبي وَهْبٍ محمدِ بن مُزاحِمٍ، عن ابن المباركِ.

ومنه ما رُوِي عن عليَّ بن الحسنِ، عن عبد اللهِ بن المبارك.

ومنه ما روي عن عَبدانَ، عن سفيانَ بنِ عبد الملكِ، عن ابن المباركِ.

ومنه ما رُوي عن حِبَّانَ بن موسى، عن ابنِ المُباركِ.

ومنه ما رُوِي عن وَهْبِ بن زَمْعةَ، عن فَضالةَ النَّسويِّ، عن عبد اللهِ بن المُبَاركِ. وله رِجالٌ مُسَمَّون سِوى من ذَكَرْنا عن ابنِ المُباركِ.

وما كان فيه من قوْلِ الشَّافعيَّ، فأكْثرُه ما أخبرني الحسنُ بن محمدٍ الزَّعْفرانيُّ(1)، عن الشَّافِعيَّ.

--------------------------------------------

(1) هو الإمام العلامة الثقة شيخ الفقهاء والمحدثين أبو علي الحسن بن محمد بن الصباح البغدادي الزعفراني.

قرأ على الشافعي كتابه القديم، وكان مُقدَّمًا في الفقه والحديث، ثقة جليلًا، عالي الرواية كبير المحل.

قال ابن حبان: كان أحمد بن حنبل وأبو ثور يحضران عند الشافعي، وكان الحسن بن محمد الزعفراني هو الذي يتولى القراءة عليه.

توفي سنة ستين ومئتين وهو في عشر التسعين.
ইমাম মালিকের কিছু উক্তি এমন যা মুসা ইবনে হিজাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা আল-কানাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে।

এতে ইবনুল মুবারকের যে উক্তি রয়েছে, তা আহমদ ইবনে আবদাহ আল-আমুলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারকের ছাত্রদের সূত্রে, তাঁর থেকে।

এর কিছু অংশ আবু ওয়াহব মুহাম্মদ ইবনে মুজাহিম থেকে ইবনুল মুবারকের সূত্রে বর্ণিত।

এর কিছু অংশ আলী ইবনুল হাসান থেকে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের সূত্রে বর্ণিত।

এর কিছু অংশ আবদান থেকে, সুফিয়ান ইবনে আব্দুল মালিকের মাধ্যমে ইবনুল মুবারকের সূত্রে বর্ণিত।

এর কিছু অংশ হিব্বান ইবনে মুসা থেকে ইবনুল মুবারকের সূত্রে বর্ণিত।

এর কিছু অংশ ওয়াহব ইবনে জামআ থেকে, ফাদালা আন-নাসায়ির মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের সূত্রে বর্ণিত। ইবনুল মুবারকের সূত্রে আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তারা ছাড়াও তাঁর আরও নামধারী বর্ণনাকারী রয়েছেন।

এতে ইমাম শাফিঈর যে উক্তি রয়েছে, তার অধিকাংশ হাসান ইবনে মুহাম্মদ আজ-জাফরানি(১) আমাকে ইমাম শাফিঈর সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, নির্ভরযোগ্য, ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের শাইখ আবু আলী হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সাব্বাহ আল-বাগদাদি আজ-জাফরানি।

তিনি ইমাম শাফিঈর নিকট তাঁর প্রাচীন কিতাব (আল-কিতাব আল-কদিম) পড়ে শুনিয়েছিলেন। তিনি ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রে অগ্রগামী, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও মর্যাদাবান ছিলেন। তাঁর বর্ণনার সনদ ছিল উচ্চমানের এবং তাঁর মর্যাদা ছিল সুউচ্চ।

ইবনে হিব্বান বলেন: আহমদ ইবনে হাম্বল এবং আবু সাওর ইমাম শাফিঈর মজলিসে উপস্থিত হতেন, আর হাসান ইবনে মুহাম্মদ আজ-জাফরানি ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর নিকট পাঠ করার দায়িত্ব পালন করতেন।

তিনি ২৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল আশির কোঠায়।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪২)
وما كان فيه من الوُضُوءِ والصَّلاةِ، فحدَّثنا بهِ أبو الوليدِ المكِّيُّ، عن الشَّافعيِّ.

ومنه ما حدَّثنا أبو إسماعيلَ، حدَّثنا يوسفُ بن يحيى القُرشيُّ البُويْطيُّ، عن الشَّافِعيِّ.

وذَكرَ فيه أشياءَ عن الرَّبيعِ، عن الشَّافعيَّ، وقد أجازَ لنا الرَّبيعُ ذلك، وكَتبَ به إلينا.

وما كان فيه من قولِ أحمدَ بن حَنْبلٍ وإسحاقَ بن إبراهيمَ، فَهُوَ ما أخبرنا به إسحاقُ بنُ منصورٍ، عن أحمدَ وإسحاقَ، إلا ما في أبوابِ الحجِّ والدِّياتِ والحدودِ، فإنِّي لم أسْمعهُ مِن إسحاقَ بن منصورٍ، وأخبرني بهِ محمدُ بن موسى الأصَمُّ، عن إسحاقَ بن منصورٍ، عن أحمدَ وإسحاقَ.

وبعضُ كلامِ إسحاقَ بنِ إبراهيمَ أخبرنا به محمدُ بن أفْلحَ، عن إسحاقَ، وقد بَيَّنَّا هذا على وَجْهِه في الكتابِ الذي فيهِ الموقوفُ.

وما كان فيه من ذِكْرِ العِللِ في الأحاديثِ والرِّجالِ والتَّاريخِ، فهو ما اسْتَخْرجْتُهُ من كتابِ "التَّاريخِ"، وأكثرُ ذلكَ ما ناظرتُ به محمدَ بن إسماعيلَ، ومنه ما ناظَرْتُ به عبد اللهِ بن عبد الرحمنِ، وأبا زُرْعةَ، وأكثرُ ذلكَ عن محمدٍ، وأقلُ شيءٍ فيه عن عبدِ اللهِ وأبي زُرْعةَ، ولم أرَ أحدًا بالعراقِ ولا بِخُراسانَ في معنى العللِ والتَّاريخِ ومَعْرفةِ الأسانيدِ كَبِيرَ أحدٍ أعلمَ مِن محمدِ بن إسماعيلَ.
এতে অযু ও সালাত বিষয়ক যা কিছু রয়েছে, তা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ আল-মাক্কি, তিনি শাফিঈ থেকে।

আর এর মধ্য থেকে যা আবু ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া আল-কুরাশি আল-বুয়াইতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাফিঈ থেকে।

এবং এতে তিনি আর-রাবি'র সূত্রে শাফিঈ থেকে কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন; আর-রাবি' আমাদের এই বর্ণনাগুলোর অনুমতি প্রদান করেছেন এবং এটি আমাদের নিকট লিখে পাঠিয়েছেন।

আর এতে আহমাদ ইবনে হাম্বল ও ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমের যে সকল বক্তব্য রয়েছে, সেগুলো ইসহাক ইবনে মানসুর আমাদের জানিয়েছেন আহমাদ ও ইসহাক থেকে; তবে হজ, দিয়াত (রক্তপণ) ও হুদূদ (দণ্ডবিধি) অধ্যায়সমূহের বিষয়গুলো ব্যতীত, কারণ আমি তা ইসহাক ইবনে মানসুরের নিকট থেকে শুনিনি, বরং মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-আসাম আমাকে ইসহাক ইবনে মানসুরের সূত্রে আহমাদ ও ইসহাক থেকে তা জানিয়েছেন।

ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমের কিছু কথা মুহাম্মাদ ইবনে আফলাহ আমাদের জানিয়েছেন ইসহাক থেকে। আর আমরা এটি যথাযথভাবে সেই কিতাবে বর্ণনা করেছি যেটিতে মাওকুফ বর্ণনাগুলো রয়েছে।

আর এতে হাদিসের ইল্লাত (ত্রুটি), রিজাল (বর্ণনাকারী) ও ইতিহাস বিষয়ক যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, তা আমি "আত-তারিখ" কিতাব থেকে চয়ন করেছি। এর অধিকাংশ বিষয়েই আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের সাথে আলোচনা করেছি; আর কিছু বিষয়ে আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ও আবু জুর'আহর সাথে আলোচনা করেছি। এর বেশিরভাগই মুহাম্মাদ থেকে এবং খুব সামান্য অংশ আব্দুল্লাহ ও আবু জুর'আহ থেকে। আমি ইরাক বা খোরাসানে হাদিসের ইল্লাত, ইতিহাস ও সনদ পরিচিতির বিষয়ে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল অপেক্ষা বড় কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তিকে দেখিনি।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪৩)
وإنَّما حَملَنَا على مَا بَيَّنَّا في هذا الكتاب من قولِ الفُقهاءِ وَعِللِ الحديثِ، لأنَّا سُئلْنا عن هذا، فلم نَفْعلْهُ زمانًا، ثمَّ فَعلْناهُ، لِما رَجَوْنا فيهِ من مَنْفعةِ النَّاسِ، لِأنّا قد وَجَدْنا غيرَ واحدٍ من الأئِمةِ تَكلَّفُوا من التّصْنيفِ ما لم يُسْبقُوا إليه، منهُمْ هشامُ بن حسَّانَ، وعبد الملكِ بن عبد العزِيزِ بن جُرَيْجٍ، وسعيدُ بن أبي عَرُوبةَ، ومالكُ بن أنسٍ، وحَمَّادُ بن سَلمةَ، وعبد اللهِ بن المُبَاركِ، ويحيى بن زَكريَّا بن أبي زَائدةَ، ووكيعُ بن الجرَّاحِ، وعبد الرحمن بن مَهْديًّ، وغيرُهُم من أهلِ العلمِ والفَضلِ صَنَّفُوا، فجعلَ اللهُ في ذلكَ مَنْفعةً كثيرةً، ولهُم بذلك الثَّوَابُ الجَزيلُ عند اللهِ لِما نَفعَ اللهُ المسلمينَ بهِ، فهُم القُدوةُ فيما صَنَّفُوا.

وقد عابَ بعضُ من لا يَفْهمُ على أهلِ الحديثِ الكلامَ في الرِّجالِ، وقد وَجَدْنا غيرَ واحدٍ من الأئِمة من التَّابِعينَ قد تَكلَّمُوا في الرِّجالِ، منهُم الحسنُ البَصريُّ، وطاووسٌ، تكَلَّما في مَعْبَدٍ الجُهنيَّ، وتَكلَّمَ سعيدُ بن جُبَيْرٍ في طَلْقِ بن حَبِيبٍ، وتكلّمَ إبراهيمُ النَّخَعيُّ وعامرٌ الشّعْبيُّ في الحارثِ الأعْوَرِ.

وهكذا رُوِي عن أيُّوبَ السَّختيانيِّ، وعبد اللهِ بن عَوْنٍ، وسليمانَ التَّيْميِّ، وشعبةَ بن الحجَّاجِ، وسفيانَ الثَّوْريِّ، ومالكِ بن أنسٍ، والأوزاعيِّ، وعبد اللهِ بن المُبَاركِ، ويحيى بن سعيدٍ القطَّانِ، ووكيعِ بن الجرَّاحِ، وعبدِ الرحمنِ بن مَهْديٍّ، وغَيرِهمْ من أهلِ العلمِ تَكلّمُوا في الرِّجالِ وضَعَّفُوا.
আমরা এই কিতাবে ফকিহগণের বক্তব্য এবং হাদিসের ত্রুটিসমূহ (ইল্লত) বর্ণনা করার ক্ষেত্রে যা করেছি, তা করার কারণ হলো—আমাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় আমরা এটি করিনি, অতঃপর আমরা এটি করেছি মানুষের উপকারের আশায়। কারণ আমরা একাধিক ইমামকে দেখেছি যে তারা এমন সব গ্রন্থ রচনায় ব্রতী হয়েছেন যাতে তাদের পূর্বে কেউ অগ্রসর হয়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন হিশাম ইবনে হাসসান, আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে জুরাইজ, সাঈদ ইবনে আবি আরুবা, মালিক ইবনে আনাস, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া ইবনে আবি যায়িদাহ, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী এবং ইলম ও ফজিলতওয়ালা অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন। আল্লাহ তাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ মুসলিমদের যে উপকার করেছেন তার জন্য আল্লাহর নিকট তাদের মহাপুরস্কার রয়েছে। সুতরাং তারা তাদের রচিত গ্রন্থসমূহের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় আদর্শ।

আর এমন কিছু ব্যক্তি যারা বিষয়টি বোঝে না, তারা রাবীদের (বর্ণনাকারী) বিষয়ে আহলুল হাদিসদের সমালোচনা করাকে ত্রুটি হিসেবে গণ্য করেছে। অথচ আমরা তাবেঈদের মধ্য থেকে একাধিক ইমামকে রাবীদের সমালোচনা করতে দেখেছি। তাদের মধ্যে হাসান বসরী ও তাউস মা’বাদ আল-জুহানি সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। সাঈদ ইবনে জুবাইর তালক ইবনে হাবিব সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন এবং ইবরাহিম নাখঈ ও আমের আশ-শা’বী আল-হারিস আল-আওয়ার সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন।

একইভাবে আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি, আব্দুল্লাহ ইবনে আউন, সুলাইমান আত-তাইমি, শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান আস-সাওরি, মালিক ইবনে আনাস, আওযায়ী, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী এবং অন্যান্য আলেমদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা রাবীদের সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন এবং তাদের দুর্বল (যয়ীফ) সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪৪)
وإنّما حَملهُم على ذلكَ عندنا - واللهُ أعلمُ - النَّصيحةُ للمسلمينَ، لا يُظنُّ بِهم أنَّهُم أرادُوا الطّعْنَ على النَّاسِ أو الغِيبةَ، إنّما أرادوا عِنْدنا أن يُبَيِّنوا ضَعْفَ هؤلاءِ لكي يُعْرَفُوا، لأنَّ بعض الّذِينَ ضُعَّفُوا كان صاحبَ بِدْعةٍ، وبَعْضهُم كان مُتّهمًا في الحديثِ، وبَعضهُم كانوا أصحابَ غَفْلةٍ وكثْرةِ خطأ، فأرادَ هؤلاءِ الأئِمةُ أنْ يُبَيِّنُوا أحوالَهُم شَفقةً على الدِّينِ وتثبُّتًا، لِأنَّ الشّهادةَ في الدِّينِ أحقُّ أنْ يُتثَبَّتَ فِيها من الشّهادةِ في الحُقُوقِ والأموالِ.

قال: وأخبرني محمدُ بن إسماعيلَ، حدَّثنا محمدُ بنُ يحيى بنِ سعيدٍ القطَّانُ، حدثني أبي، قال: سألتُ سفيانَ الثَّوريَّ وشُعبةَ ومالكَ بن أنسٍ وسفيانَ بن عُيينةَ عن الرَّجلِ تكونُ فيه تُهْمةٌ أو ضَعْفٌ، أسْكُتُ أو أُبَيِّنُ؟ قالوا: بَيَّنْ.

حدَّثنا محمدُ بن رافعٍ النَّيْسابُوريُّ، حدَّثنا يحيى بنُ آدمَ، قال: قِيل لأبي بكرِ بن عيَّاشٍ: إنَّ أُناسًا يجلسونَ ويجلسُ إليهمُ النَّاسُ، وَلا يَسْتأْهِلُونَ. قال: فقال أبو بكرِ بن عيَّاشٍ: كلُّ من جلسَ جلسَ إليه النَّاسُ، وصاحبُ السُّنَّةِ إذا ماتَ، أحيا اللهُ تعالى ذِكْرهُ، وَالمُبْتَدعُ لا يُذْكرُ.

حدَّثنا محمدُ بن عَليِّ بن الحسنِ بن شَقيقٍ، أخبرنا النَّضْرُ بن عَبد اللهِ الأصمُّ، حدَّثنا إسماعيلُ بن زكريَّا، عن عاصمٍ، عن ابن سِيرينَ، قال: كان في الزَّمنِ الأوَّلِ لا يَسْألونَ عن الإسنَادِ، فلمَّا
আমাদের নিকট—আর আল্লাহই ভালো জানেন—তাদের এই কাজের কারণ হলো মুসলিমদের প্রতি কল্যাণকামনা। তাদের ব্যাপারে এমন ধারণা করা উচিত নয় যে, তারা মানুষের নিন্দা বা গীবত করতে চেয়েছিলেন। বরং আমাদের মতে, তারা এই ব্যক্তিদের দুর্বলতা স্পষ্ট করতে চেয়েছিলেন যাতে তাদের চেনা যায়। কেননা যাদের দুর্বল বলা হয়েছে, তাদের কেউ বিদআতি ছিলেন, কেউ হাদীসের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ছিলেন, আবার কেউ ছিলেন গাফেল এবং অনেক ভুলকারী। তাই এই ইমামগণ দীনের প্রতি মমত্ববোধ এবং সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে তাদের অবস্থা বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন; কারণ অধিকার ও সম্পদের সাক্ষ্যের চেয়ে দীনের বিষয়ে সাক্ষ্যের সত্যতা যাচাই হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।

তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরী, শু’বাহ, মালিক ইবনে আনাস এবং সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ বা দুর্বলতা রয়েছে—আমি কি চুপ থাকব নাকি তা স্পষ্ট করব? তারা বললেন: স্পষ্ট করো।

মুহাম্মাদ ইবনে রাফি আন-নাইসাবুরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আইয়াশকে বলা হলো: কিছু লোক (শিক্ষাদানে) বসে এবং মানুষও তাদের নিকট গিয়ে বসে, অথচ তারা এর যোগ্য নয়। তখন আবু বকর ইবনে আইয়াশ বললেন: যে কেউ বসুক না কেন মানুষ তার নিকট বসবে। তবে সুন্নাহর অনুসারী যখন ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তার আলোচনাকে জীবিত রাখেন, আর বিদআতিকে স্মরণ করা হয় না।

মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আন-নাদর ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসাম্ম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাইল ইবনে জাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: প্রথম যুগে তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন...
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪৫)
وَقَعتِ الْفِتنةُ، سَألُوا عن الإسنادِ، لكي يَأْخُذُوا حديثَ أهلِ السُّنَّةِ، ويَدَعُوا حديثَ أهلِ البِدَعِ(1).

--------------------------------------------

(1) هذا الأثر خرجه مسلم في مقدمة "صحيحه" 1/ 15 عن محمد بن الصباح البزاز، عن إسماعيل بن زكريا بهذا الإسناد ولفظه: قال: لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة، قالوا: سموا لنا رجالكم، فيُنْظَرُ إلى أهل السنة، فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدع، فلا يؤخذ حديثهم.

قال ابن رجب في "شرح العلل" 1/ 52: وابن سيرين رضي الله عنه هو أول من انتقد من الرجال، وميز الثقات من غيرهم، وقد روي عنه من غير وجه أنه قال: إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم، وفي رواية عنه أنه قال: إن هذا الحديث دين فلينظر الرجل عمن يأخذ دينه.

قال يعقوب بن شيبة: وسمعت علي بن المديني يقول: كان مِمن ينظر في الحديث، ويُفتش عن الإسنادِ، لا نعلمُ أحدًا أوَّلَ منه مُحمَّدُ بنُ سيرين، ثم كان أيوبُ وابنُ عون، ثم كان شعبةُ، ثم كان يحيى بن سعيد وعبدُ الرحمن. قلت لعلي: فمالكُ بنُ أنس؟ فقال: أخبرني سفيانُ بن عيينة، قال: ما كان أشدَّ انتقاءَ مالكٍ الرجالَ.

وروى الإمام أحمد عن جابر بن نوح، عن الأعمش، عن إبراهيم قال: إنما سُئِلَ عن الإسناد أيَّامَ المختارِ.

قال ابن رجب، وسبب هذا أنه كثر الكذب على عليّ في تلك الأيام، كما روى شريك عن أبي إسحاق سمعت خزيمة بن نصر العبسي أيام المختار وهم يقولون ما يقولون من الكذب وكان من أصحاب علي، قال: ما لهم قاتلهم الله، أيَّ عصابة شانوا، وأيَّ حديث أفسدوا.

وروى يونس، عن أبي إسحاق، عن صلة بن زفر العبسي، قال: قاتل الله المختار، أيَّ شيعةٍ أفسد، وأيَّ حديث شانَ. خرجه الجوزجاني وقال: كان المختار يعطي الرجل الألف دينار والألفين على أن يرويَ له في تقوية أمره حديثًا. =
যখন ফিতনা দেখা দিল, তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা শুরু করলেন, যাতে তারা আহলে সুন্নতের হাদিস গ্রহণ করতে পারেন এবং বিদআতিদের হাদিস বর্জন করতে পারেন।(১)

--------------------------------------------

(১) এই বর্ণনাটি মুসলিম তার ‘সহিহ’ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় ১/১৫-তে মুহাম্মাদ ইবনুল সাবাহ আল-বাজ্জাজ থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে জাকারিয়া থেকে এই সনদে উদ্ধৃত করেছেন এবং এর শব্দগুলো হলো: তিনি বলেন: তারা আগে সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা দেখা দিল, তখন তারা বললেন: আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করো। তখন আহলে সুন্নতের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না।

ইবনে রজব ‘শারহুল ইলাল’ গ্রন্থে ১/৫২-তে বলেন: ইবনে সিরিন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করেছেন এবং নির্ভরযোগ্যদের অন্যদের থেকে পৃথক করেছেন। তাঁর থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলতেন: ‘নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য করো।’ তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে তিনি বলেন: ‘নিশ্চয়ই এই হাদিস হলো দ্বীন, সুতরাং ব্যক্তির দেখা উচিত সে কার কাছ থেকে তার দ্বীন গ্রহণ করছে।’

ইয়াকুব ইবনে শাইবা বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদিনীকে বলতে শুনেছি: হাদিস পর্যবেক্ষণ করা এবং সনদ নিয়ে তفتীশ করার ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ ইবনে সিরিনের চেয়ে অগ্রগণ্য কোনো ব্যক্তিকে আমাদের জানা নেই। এরপর আইয়ুব ও ইবনে আউন ছিলেন, তারপর শু’বা, এরপর ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ও আব্দুর রহমান। আমি আলীকে বললাম: তাহলে মালিক ইবনে আনাস? তিনি বললেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক বর্ণনাকারী নির্বাচনে কতই না কঠোর ছিলেন!

ইমাম আহমাদ জাবির ইবনে নুহ থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: কেবল মুখতারের সময়কালেই সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা শুরু হয়েছিল।

ইবনে রজব বলেন, এর কারণ হলো সে সময় আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নামে মিথ্যার সয়লাব ঘটেছিল, যেমনটি শারিক আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি মুখতারের দিনগুলোতে খুজাইমা ইবনে নাসর আল-আবসিকে বলতে শুনেছি—যখন তারা সেই সব মিথ্যা বলছিল যা তারা বলত এবং তিনি ছিলেন আলীর সাথীদের একজন—তিনি বললেন: তাদের কী হলো! আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। তারা কোন দলকে কলঙ্কিত করল এবং কোন হাদিসকে নষ্ট করে দিল!

ইউনুস আবু ইসহাক থেকে, তিনি সিলাহ ইবনে জুফার আল-আবসি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ মুখতারকে ধ্বংস করুন, সে কোন দলটিকে নষ্ট করল এবং কোন হাদিসকে কলঙ্কিত করল। আল-জাওযাজানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেন: মুখতার তার শক্তি বৃদ্ধির সপক্ষে হাদিস বর্ণনা করার জন্য লোকজনকে এক হাজার বা দুই হাজার দিনার প্রদান করত। =
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪৬)
حدَّثنا محمدُ بن عليِّ بن الحسنِ، قال: سَمِعتُ عَبْدانَ يقولُ: قال عبد اللهِ بن المُباركِ: الإِسنادُ عِنْدي من الدِّينِ، لولا الإسنادُ لقالَ من شاءَ ما شاءَ، فإذا قِيلَ له: مَنْ حَدَّثكَ؟ بَقي(1).

--------------------------------------------

= قلنا: والمختار هذا هو ابن أبي عُبيد الثقفي غلب على الكوفة في أول خلافة ابن الزبير، فأظهر محبة أهل البيت ودعا الناس إلى طلب قتلة الحسين، فتبعهم فقتل كثيرًا ممن باشر ذلك، أو أعان عليه، فأحبه الناس، ثم إنه زين له الشيطان أن ادّعى النبوة، وزعم أن جبريل يأتيه، فروى أحمد في "مسنده" (21947) بسند حسن عن رفاعة الفتياني - نسبة إلى فتيان بطن من بجيلة - قال: دخلت على المختار، فألقى لي وسادةً، وقال: لولا أن أخي جبريل قام عن هذه، لألقيتها لك، قال: فأردت أن أضرب عُنُقَه، فذكرتُ حديثًا حدثنيه أخي عمرو بن الحمق، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أيُّما مؤمِنٍ أمِنَ مؤمنًا على دمه فقتله، فأنا من القاتل بريء".

ورواه أحمد (21948) بإسناد صحيح عن رفاعة ولفظه: قال: كنت أقوم على رأس المختار، فلما عرفت كَذِبَه، هممت أن أسل سيفي، فأضرب عنقه، فذكرت حديثًا حدثناه عمرو بن الحمق، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من أمِنَ رجلًا على نفسه فقتله أعطي لواء الغدر يوم القيامة".

قال الإمام الذهبي في "ميزان الاعتدال" 4/ 80: المختار بن أبي عُبيد الثقفي الكذاب لا ينبغي أن يروى عنه شيء، لأنه ضال مضل، كان يزعم أن جبريل عليه السلام ينزل عليه، قتله مصعب بن الزبير، وقتل من أعوانه خلائق سنة 67 هـ.

ويقال: إنه الكذاب الذي أشار إليه النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث بقوله: "يخرج من ثقيف كذاب ومُبير" وهو في "صحيح مسلم" (2545).

(1) أي: بقي ساكتًا أو حائرًا.
মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদানকে বলতে শুনেছি: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেছেন: ইসনাদ (সূত্রের পরম্পরা) আমার নিকট দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যে যা খুশি তা-ই বলত। আর যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়: আপনার নিকট কে বর্ণনা করেছে? তখন সে নির্বাক(১) হয়ে যায়।

--------------------------------------------

আমরা বলি: এই মুখতার হলো ইবনে আবি উবাইদ আস-সাকাফি, যে ইবনে জুবায়েরের খিলাফতের শুরুতে কুফার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। সে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে এবং হোসাইনের হত্যাকারীদের তালাশ করার জন্য মানুষকে আহ্বান জানায়। ফলে সে তাদের পিছু নেয় এবং যারা সরাসরি এতে লিপ্ত ছিল বা এতে সহযোগিতা করেছিল তাদের অনেককেই সে হত্যা করে। এর ফলে মানুষ তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। এরপর শয়তান তার নিকট বিষয়টিকে সুশোভিত করে দেয় ফলে সে নবুওয়াত দাবি করে এবং ধারণা করে যে জিবরাঈল তার নিকট আসেন। ইমাম আহমাদ তাঁর "মুসনাদ"-এ (২১৯৪৭) রিফাআহ আল-ফিতইয়ানি—যিনি বিজিলা গোত্রের একটি শাখা ফিতইয়ান-এর বংশোদ্ভূত—থেকে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুখতারের নিকট প্রবেশ করলাম, তখন সে আমার জন্য একটি বালিশ রাখল এবং বলল: আমার ভাই জিবরাঈল যদি এই স্থানটি ছেড়ে না উঠতেন, তবে আমি এটি আপনার জন্যই রাখতাম। বর্ণনাকারী বলেন: আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিতে চাইলাম, তখন আমার ভাই আমর ইবনুল হামাক কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসের কথা আমার স্মরণে এলো; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে মুমিন অন্য কোনো মুমিনকে তার জীবনের নিরাপত্তা দেয় এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যা করে, তবে আমি সেই হত্যাকারী থেকে দায়মুক্ত।"

ইমাম আহমাদ (২১৯৪৮) সহিহ সনদে রিফাআহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দমালা হলো: তিনি বলেন: আমি মুখতারের শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকতাম; যখন আমি তার মিথ্যা বুঝতে পারলাম, তখন আমি তলোয়ার বের করে তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার সংকল্প করলাম। কিন্তু আমর ইবনুল হামাক কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিস আমার স্মরণে এলো; তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি কোনো মানুষকে তার জীবনের নিরাপত্তা দেয় এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যা করে, কিয়ামতের দিন তাকে বিশ্বাসঘাতকতার ঝান্ডা প্রদান করা হবে।"

ইমাম জাহাবি "মিজানুল ইতিদাল" (৪/৮০)-এ বলেছেন: মুখতার ইবনে আবি উবাইদ আস-সাকাফি একজন চরম মিথ্যাবাদী, তার থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করা সমীচীন নয়; কেননা সে পথভ্রষ্ট এবং পথভ্রষ্টকারী। সে দাবি করত যে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তার নিকট অবতীর্ণ হন। মুসআব ইবনুল জুবায়ের তাকে হত্যা করেন এবং ৬৭ হিজরি সনে তার অসংখ্য সহযোগীকেও হত্যা করা হয়।

বলা হয়ে থাকে যে: সেই হলো ওই মিথ্যাবাদী যার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে এই বলে ইঙ্গিত করেছেন: "সাকাফি গোত্র থেকে একজন বড় মিথ্যাবাদী এবং একজন ধ্বংসকারী (রক্তপিপাসু) বের হবে।" এটি "সহিহ মুসলিম"-এ (২৫৪৫) বর্ণিত হয়েছে।

(১) অর্থাৎ: সে চুপ হয়ে যায় অথবা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪৭)
حدَّثنا محمدُ بن عليٍّ، أخبرنا حِبَّانُ بن موسى، قال: ذُكرَ لعبد اللهِ بن المُباركِ حديثٌ، فقال: يُحْتاجُ لهذا أركانٌ من آجُرٍّ. قال أبو عيسى: يعني: أنَّهُ ضَعَّفَ إسنادَه.

حدَّثنا أحمدُ بن عَبْدةَ، حدَّثنا وَهْبُ بن زَمْعةَ، عن عبد اللهِ بن المُبَاركِ: أنَّهُ تَركَ حديثَ الحسنِ بن عُمارةَ، والحسنِ بن دِينارٍ، وإبراهيمَ بن محمدٍ الأسْلميِّ، ومُقاتلِ بن سُليمانَ، وعثمانَ البُرِّيِّ، ورَوْحِ بن مُسافرٍ، وأبي شَيْبةَ الوَاسِطيِّ، وعمرِو بن ثابتٍ، وأيُّوبَ بن خُوطٍ، وأيُّوبَ بن سُوَيدٍ، وَنَصْرِ بن طَريفٍ أبي جَزْءٍ، والحكمِ، وحُبَيِّب(1). الحكمُ رَوَى له حديثًا في كتابِ الرقائق، ثُمَّ تَركهُ، وحُبَيِّب لا أدري.

قال أحمدُ بن عَبدةَ: وسَمِعتُ عَبْدانَ، قال: كان عبد اللهِ بن المُبَاركِ قرأ أحاديثَ بَكْرِ بن خُنَيْسٍ، فكان أخيرًا إذا أتى عليها، أعْرضَ عنها، وكان لا يَذْكُره.

قال أحمدُ: وحدَّثنا أبو وَهْبٍ، قال: سَمَّوْا لعبد اللهِ بن المُبَاركِ رجلًا يُتَّهمُ(2) في الحديثِ، فقال: لأَنْ أقْطَعَ الطَّرِيقَ أحَبُّ إليَّ مِن أنْ أُحَدِّثَ عنه.

--------------------------------------------

(1) هو حُبَيِّب بن حجر القيسي روى عنه جمع، ونقل ابن شاهين في "تاريخه" (227) عن يحيى بن معين أنه قال فيه: ليس به بأس، وذكره ابن حبان في "الثقات" 6/ 249، وقد حسَّنّا حديثه في "مسند أحمد" (12896) و (13380).

(2) في أصولنا الخطية: يهم، والمثبت من "شرح العلل" لابن رجب الحنبلي.
মুহাম্মদ ইবনে আলী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হিব্বান ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের নিকট একটি হাদিসের কথা উল্লেখ করা হলো, তখন তিনি বললেন: "এর জন্য ইটের তৈরি স্তম্ভ প্রয়োজন।" আবু ঈসা বলেন: এর অর্থ হলো তিনি এর সনদকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।

আহমাদ ইবনে আবদাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ওয়াহব ইবনে জামআ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত: তিনি হাসান ইবনে উমারা, হাসান ইবনে দিনার, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-আসলামি, মুকাতিল ইবনে সুলাইমান, উসমান আল-বুররি, রাওহ ইবনে মুসাফির, আবু শাইবা আল-ওয়াসিতি, আমর ইবনে সাবিত, আইয়ুব ইবনে খুওয়াত, আইয়ুব ইবনে সুওয়াইদ, নাসর ইবনে তারিফ আবু জায, আল-হাকাম এবং হুবাইবের হাদিস বর্জন করেছেন। আল-হাকাম থেকে তিনি 'কিতাবুর রিকাক'-এ একটি হাদিস বর্ণনা করেছিলেন, পরবর্তীতে সেটি ত্যাগ করেছেন; আর হুবাইবের বিষয়টি আমি জানি না।

আহমাদ ইবনে আবদাহ বলেন: আমি আবদানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বকর ইবনে খুনাইসের হাদিসগুলো পাঠ করতেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি যখনই সেগুলোর নিকট আসতেন, তখন তা থেকে বিমুখ হতেন এবং তা আর উল্লেখ করতেন না।

আহমাদ বলেন: আবু ওয়াহব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের নিকট এমন এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেন যার বিরুদ্ধে হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যার অভিযোগ ছিল, তখন তিনি বললেন: "তার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করার চেয়ে আমার কাছে পথিমধ্যে ডাকাতি করা অধিক পছন্দনীয়।"

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন হুবাইব ইবনে হাজার আল-কায়সি, একদল রাবী তার থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে শাহীন তার "তারিখ" (২২৭)-এ ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তার ব্যাপারে বলেছেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।" ইবনে হিব্বান তাকে "আস-সিকাত" (৬/২৪৯)-এ উল্লেখ করেছেন এবং আমরা "মুসনাদে আহমাদ" (১২৮৯৬) ও (১৩৩৮০)-এ তার হাদিসকে হাসান সাব্যস্ত করেছি।

(২) আমাদের মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ইয়াহিমু" (তিনি ভুল করেন), আর পাঠে যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা ইবনে রজব আল-হাম্বলির "শারহুল ইলাল" থেকে নেওয়া।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪৮)
قال: وأخبرني موسى بن حِزامٍ، قال: سَمِعتُ يزيدَ بن هارونَ يقولُ: لا يَحلُّ لأحدٍ أنْ يَرْويَ عن سليمانَ بن عمرٍو النَّخعيِّ الكوفيِّ.

[حدَّثنا محمودُ بن غَيلانَ، حدَّثنا أبو يحيى الحِمَّانيُّ، سَمِعتُ أبا حَنِيفةَ يقولُ: مَا رَأيْتُ أحدًا أكْذبَ من جابرٍ الجُعفيِّ، ولا أفضلَ من عطاءِ بن أبي رباحٍ.

سَمِعتُ الجارودَ يقولُ: سَمِعتُ وكيعًا يقولُ: لولا جابرٌ الجُعفيُّ لكان أهلُ الكوفةِ بِغَيْرِ حديثٍ، ولولا حَمَّادٌ لكان أهلُ الكُوفةِ بِغَيْرِ فقهٍ](1).

وسَمِعتُ أحمدَ بن الحسنِ يقولُ: كُنَّا عند أحمدَ بن حَنبلٍ، فذكَرُوا من تَجبُ عليه الجُمُعةُ، فذكر فيه عن بعضِ أهلِ العلمِ من التَّابِعينَ وغَيرِهم، فقلتُ: فيهِ عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم حديثٌ، فقال: عن النّبيِّ صلى الله عليه وسلم؟ قلتُ: نعم، حدَّثنا حجَّاجُ بن نُصَيْرٍ، قال: حدَّثنا المُعارِكُ بن عَبَّادٍ، عن عبد اللهِ بن سَعيدٍ المَقْبُريِّ، عن أبيه، عن أبي هُريرةَ، قال: قال رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: الجُمُعةُ على من آواهُ اللَّيْل إلى أهْلهِ"(2)، قال: فَغضبَ أحمدُ بن حَنبلٍ وقال: اسْتَغْفِرْ رَبّكَ. مَرَّتَيْنِ.

--------------------------------------------

(1) ما بين حاصرتين لم يرد في أصولنا الخطية، وأثبتناه من شرح ابن رجب لـ "العلل" 1/ 69، ثم قال ابن رجب: هذا يوجد في بعض النسخ ولا يوجد في بعض.

(2) أخرجه المصنف في "الجامع" (508).
তিনি বলেন: আমাকে মূসা ইবনে হিযাম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াযীদ ইবনে হারুনকে বলতে শুনেছি: সুলাইমান ইবনে আমর আন-নাখায়ি আল-কুফি থেকে বর্ণনা করা কারো জন্য বৈধ নয়।

[আমাদের নিকট মাহমুদ ইবনে গাইলান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু ইয়াহইয়া আল-হিমানি বর্ণনা করেছেন, আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: আমি জাবির আল-জু’ফি অপেক্ষা অধিক মিথ্যাবাদী এবং আতা ইবনে আবি রাবাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখিনি।

আমি আল-জারুদকে বলতে শুনেছি: আমি ওয়াকি’কে বলতে শুনেছি: যদি জাবির আল-জু’ফি না থাকতেন তবে কুফাবাসী হাদিসবঞ্চিত থাকত, আর যদি হাম্মাদ না থাকতেন তবে কুফাবাসী ফিকহবঞ্চিত থাকত](১)।

এবং আমি আহমদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনেছি: আমরা আহমদ ইবনে হাম্বলের নিকটে ছিলাম, অতঃপর তাঁরা এমন ব্যক্তিদের কথা আলোচনা করলেন যাদের ওপর জুমুআ ওয়াজিব হয়। সেখানে তাবিঈ এবং অন্যদের মধ্য হতে কিছু আলেমদের থেকে (বক্তব্য) উল্লেখ করা হলো। আমি বললাম: এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদিস রয়েছে। তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে? আমি বললাম: হ্যাঁ, আমাদের নিকট হাজ্জাজ ইবনে নুসায়ের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মুআরিক ইবনে আব্বাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জুমুআ তার ওপর ওয়াজিব যাকে রাত তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়", তিনি বলেন: তখন আহমদ ইবনে হাম্বল রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: তোমার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি এটি দুইবার বললেন।

--------------------------------------------

(১) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু আমাদের মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে নেই, আমরা এটি ইবনে রজবের "ইলাল"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (১/৬৯) থেকে সাব্যস্ত করেছি। অতঃপর ইবনে রজব বলেছেন: এটি কিছু পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায় এবং কিছু পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায় না।

(২) গ্রন্থকার এটি "আল-জামি" (৫০৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪৯)
قال أبو عيسى: إنّما فَعلَ هذا أحمدُ بن حَنبلٍ، لأنّهُ لم يُصدِّقْ هذا عن النّبيِّ صلى الله عليه وسلم لضعفِ إسناده، لأنَّهُ لم يَعْرِفه عن النّبيِّ صلى الله عليه وسلم، والحجَّاجُ بن نُصَيْرٍ يُضعَّفُ في الحديثِ، وعبد اللهِ بن سعيدٍ المَقْبُريُّ ضَعَّفهُ يحيى بن سعيدٍ القطّانُ جِدًّا في الحديثِ.

فكلُّ من رُوِي عنه حديثٌ مِمن يُتَّهمُ، أو يُضعَّفُ لِغَفْلته وكثرةِ خَطئه، ولا يُعرفُ ذلك الحديثُ إلا من حديثهِ، فلا يُحْتجُّ به.

وقد رَوَى غيرُ واحدٍ من الأئمَّةِ عن الضُّعفاءِ، وبَيَّنُوا أحوالَهُم للنَّاسِ.

حدَّثنا إبراهيم بن عبد اللهِ بن المُنْذرِ الباهِليُّ، حدَّثنا يَعْلى بن عُبيدٍ، قال: قال لنا سفيانُ الثَّوريُّ: اتَّقُوا الكَلْبيَّ. فقيلَ له: فإنَّكَ تَرْوي عنه. قال: أنا أعرفُ صِدْقَهُ من كَذبهِ.

وأخبرني محمدُ بن إسماعيلَ، حدَّثني يحيى بن مَعِينٍ، حدَّثني عَفّانُ، عن أبي عوانةَ، قال: لمَّا ماتَ الحسنُ البَصْريُّ، اشْتَهيْتُ كلامَهُ، فَتتبَّعْتُه عن أصحابِ الحسنِ، فأتَيْتُ به أبانَ بن أبي عَيَّاشٍ، فقرأهُ عليَّ كُلَّه عن الحسنِ، فَما أسْتَحِلُّ أنْ أرْوِيَ عنه شيئًا.

قال أبو عيسى: وقد رَوَى عن أبانَ بن أبي عَيَّاشٍ غيرُ واحدٍ من الأئمةِ، وإنْ كان فيه من الضَّعْفِ والغَفْلةِ ما وَصَفَه أبو عوانةَ وغيرُه، فلا يُغْترُّ بِروايةِ الثِّقَاتِ عن النَّاسِ، لأنَّهُ يُرْوى عن ابن سِيرينَ قال: إنَّ الرَّجلَ ليحَدَّثُني فما أتّهمُه، ولكن أتّهمُ من فَوقَه.
আবু ঈসা বলেন: আহমদ ইবনে হাম্বল এটি এ কারণেই করেছিলেন যে, সনদের দুর্বলতার দরুন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই হাদিসটিকে নির্ভরযোগ্য মনে করেননি; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি তাঁর নিকট পরিচিত ছিল না। আর হাজ্জাজ ইবনে নুসাইর হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল হিসেবে বিবেচিত, এবং আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-মাকবুরিকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান হাদীসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন।

সুতরাং অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি থেকে যদি হাদীস বর্ণিত হয়, অথবা অসতর্কতা ও অধিক ভুলের কারণে তাকে দুর্বল বলা হয়, এবং সেই হাদীসটি কেবল তার সূত্রেই পরিচিত হয়, তবে তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

অনেক ইমামই দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং মানুষের কাছে তাদের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুনজির আল-বাহিলি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়ালা ইবনে উবাইদ আমাদের বলেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের বলেছেন: তোমরা কালবী থেকে সতর্ক থাকো। তাকে বলা হলো: আপনি তো নিজেই তার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বললেন: আমি তার সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য অবগত আছি।

মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আমাকে অবহিত করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান আবু আওয়ানা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন হাসান বসরী ইন্তেকাল করলেন, আমি তাঁর বাণীসমূহ সংগ্রহের আকাঙ্ক্ষা করলাম। আমি হাসানের সাথীদের কাছে সেগুলো অনুসন্ধান করতে লাগলাম। অতঃপর আমি আবান ইবনে আবু আইয়াশের কাছে আসলাম এবং তিনি হাসানের সূত্রে সবগুলি বাণী আমার সামনে পাঠ করলেন। (কিন্তু তার অবস্থা জানার পর) আমি তার থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করা বৈধ মনে করি না।

আবু ঈসা বলেন: আবান ইবনে আবু আইয়াশ থেকে একাধিক ইমাম বর্ণনা করেছেন, যদিও তাঁর মাঝে সেই দুর্বলতা ও অসতর্কতা বিদ্যমান ছিল যা আবু আওয়ানা ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের বর্ণনা দেখে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। কেননা ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যখন আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করে, তখন আমি তাকে অভিযুক্ত করি না, বরং আমি তার ঊর্ধ্বতনের ব্যাপারে সন্দিহান হই।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫০)
وقد روى غيرُ واحدٍ عن إبراهيمَ النَّخَعيِّ، عن عبد اللهِ بن مسعودٍ أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم كان يَقنُتُ في وِتْرِه قَبلَ الرُّكوعِ.

وَرَوَى أبانُ بن أبي عيَّاشٍ، عن إبراهيمَ النَّخَعيِّ، عن عَلْقمةَ، عن عبد اللهِ بن مسعودٍ: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم كان يَقْنُتُ في وِتْرِه قَبْلَ الرُّكُوعِ(1). هكذا رَوَى سفيانُ الثَّوريُّ، عن أبانَ بن أبي عيَّاشٍ.

ورَوَى بَعضُهُم عن أبانَ بن أبي عيَّاشٍ بهذا الإسنادِ نحو هذا، وزادَ فيه: قال عبد اللهِ بن مسعودٍ: أخْبرتْني أُمِّي: أنّها باتَتْ عند النّبيِّ صلى الله عليه وسلم، فَرَأتِ النّبيَّ صلى الله عليه وسلم قَنتَ في وِتْرِه قَبْلَ الرُّكوعِ(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن أبي شيبة 2/ 302، والدارقطني (1662)، والبيهقي 3/ 41 من طريق يزيد بن هارون عن أبان، بهذا الإسناد. قال الدارقطني: أبان متروك، وقال البيهقي: ومدار الحديث على أبان وهو متروك.

قال ابن رجب في "شرح العلل" 1/ 98: وكان أبان لسوء حفظه يرفع الموقوف ويصل المرسل.

قال أبو زرعة: لم يكن يتعمد الكذب، كان يسمع الحديث من أنس ومن شهر بن حوشب ومن الحسن، فلا يميز بينهم.

(2) أخرجه الدارقطني (1663) من طريق سفيان به، وقال: أبان بن أبي عياش متروك.

قلنا: روى ابن أبي شيبة 2/ 302 عن يزيد بن هارون، عن هشام الدستوائي، عن حماد، عن إبراهيم، عن علقمة: أن ابن مسعود وأصحاب النبي صلى الله عليه وسلم كانوا يقنتون في الوتر قبل الركوع. وهذا إسناد صحيح موقوف على ابن مسعود، وحسن إسناده الحافظ في "الدراية" 1/ 194. =
একাধিক বর্ণনাকারী ইবরাহীম আন-নাখায়ি থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বিতরের সালাতে রুকুর আগে কুনুত পড়তেন।

আবান ইবনে আবি আইয়াশ ইবরাহীম আন-নাখায়ি থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বিতরের সালাতে রুকুর আগে কুনুত পড়তেন(১)। সুফিয়ান আস-সাওরি এভাবেই আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত যোগ করেছেন যে: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন, আমার মা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট রাত কাটিয়েছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর বিতরের সালাতে রুকুর আগে কুনুত পড়তে দেখেছেন(২)।

--------------------------------------------

(১) এটি ইবনে আবি শায়বা ২/৩০২, দারা কুতনি (১৬৬২) এবং বায়হাকি ৩/৪১ গ্রন্থে ইয়াযিদ ইবনে হারুন সূত্রে আবান থেকে এই সনদে বর্ণনা করেছেন। দারা কুতনি বলেন: আবান মাতরুক (পরিত্যক্ত), এবং বায়হাকি বলেন: হাদিসটির মূল ভিত্তি আবান এবং তিনি মাতরুক।

ইবনে রজব "শারহুল ইলাল" ১/৯৮-এ বলেছেন: আবান তাঁর মুখস্থ শক্তির দুর্বলতার কারণে মাওকুফ হাদিসকে মারফু হিসেবে এবং মুরসাল হাদিসকে মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করতেন।

আবু যুরআ বলেন: তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলতেন না; তিনি আনাস, শাহর ইবনে হাওশাব এবং হাসান থেকে হাদিস শুনতেন, ফলে তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন না।

(২) এটি দারা কুতনি (১৬৬৩) সুফিয়ান সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আবান ইবনে আবি আইয়াশ মাতরুক।

আমরা বলি: ইবনে আবি শায়বা ২/৩০২-এ ইয়াযিদ ইবনে হারুন থেকে, তিনি হিশাম আদ-দুস্তুওয়ায়ি থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে এবং তিনি আলকামা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: ইবনে মাসউদ এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ বিতরের সালাতে রুকুর আগে কুনুত পড়তেন। এটি একটি সহীহ সনদ যা ইবনে মাসউদের উপর মাওকুফ (স্থগিত), এবং হাফেজ ইবনে হাজার "আদ-দিরায়া" ১/১৯৪-এ এর সনদকে হাসান বলেছেন। =
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫১)
قال أبو عيسى: وأبانُ بن أبي عيَّاشٍ وإنْ كان قد وُصفَ بالعبادةِ والاجتهادِ، فهذا حَالُه في الحديثِ، والقومُ كانوا أصحابَ حِفْظٍ، فَرُبَّ رجلٍ وإنْ كان صالحًا لا يُقيمُ الشَّهادةَ، ولا يَحْفَظُها، فكُلُّ من كان مُتَّهمًا في الحديثِ في الكذب، أو كان مُغفَّلًا يُخْطِئُ الكثيرَ، فالّذي اختارَه أكثرُ أهلِ الحديثِ مِن الأئمَّةِ أنْ لا يُشْتَغَلَ بالرِّوايةِ عنه، ألا تَرَى أنَّ عبد اللهِ بن المُبَاركِ حَدَّثَ عن قَومٍ من أهلِ العلمِ، فلمَّا تَبيَّنَ له أمرُهُم، تَركَ الرِّوايةَ عَنهُم.

[أخبرني موسى بن حِزامٍ، سَمِعتُ صالحَ بن عبد اللهِ يقولُ: كُنَّا عندَ أبي مُقاتلٍ السَّمرقنْديِّ(1)، فجعلَ يَرْوِي عن عَوْنِ بن أبي شَدَّادٍ الأحاديثَ الطِّوالَ التي كانت تُروى في وَصيَّةِ لُقْمانَ، وقَتْلِ سعيدِ بن

--------------------------------------------

= وأخرج الطبراني في "الكبير" (9165) أن ابن مسعود كان لا يقنت في شيءٍ من الصلوات إلا في الوتر قبل الركوع. قال الحافظ في "الدراية" 1/ 193: إسناده صحيح، وأورده الهيثمي في "المجمع" 2/ 137، ونسبه للطبراني، وحسن إسناده.

(1) اسمه حفص بن سلم السمرقندي يروي عن الكوفيين والحجازيين، وهّاه قتيبة شديدًا، وكذبه ابن مهدي، وقال الذهبي في الكنى من "الميزان": هو أحد التلفى، وفي "لسان الميزان": حدث عن مسعر وأيوب وعُبيد الله بن عمر المناكير وكذبه وكيع، ووهاه الدارقطني، وقال ابن عدي: ليس هو ممن يُعتمد على رواياته، وذكره ابن حبان في "الضعفاء" 1/ 251 - 252 فقال: كان صاحب تقشف وعبادة، ولكنه كان يأتي بالأشياء المنكرةِ التي يَعلَم مَنْ كتب الحديثَ أنه ليس لها أصل يرجع إليه، سئل ابن المُبارك عنه، فقال: خذوا عن أبي مقاتل عبادته وحسبكم.
আবু ঈসা বলেন: আবান ইবনে আবি আইয়াশ যদিও ইবাদত ও কঠোর সাধনার গুণে গুণান্বিত ছিলেন, কিন্তু হাদিসের ক্ষেত্রে এটিই ছিল তার অবস্থা। সেকালের লোকেরা হিফজ বা মুখস্থবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। অনেক লোক এমন আছেন যারা সৎ হওয়া সত্ত্বেও সাক্ষ্য সঠিকভাবে প্রদান করতে পারেন না এবং তা মুখস্থও রাখতে পারেন না। সুতরাং হাদিসের ক্ষেত্রে যারা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত অথবা যারা অত্যন্ত অমনোযোগী হওয়ার কারণে অনেক ভুল করেন, ইমামগণের মধ্য থেকে অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণ তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আপনি কি দেখেননি যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক একদল আলেমের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছিলেন, কিন্তু যখন তাদের অবস্থা তার কাছে স্পষ্ট হলো, তখন তিনি তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা করা বর্জন করলেন।

[মুসা ইবনে হিজাম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমি সালেহ ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি: আমরা আবু মুকাতিল আস-সামারকান্দির নিকট ছিলাম(১), তখন তিনি আউন ইবনে আবি শাদ্দাদ থেকে লুকমানের অসিয়ত এবং সাঈদ ইবনে... এর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসগুলো বর্ণনা করতে শুরু করলেন।

--------------------------------------------

= এবং তাবরানি 'আল-কাবির' (৯১৬৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে মাসউদ বিতরের রুকুর পূর্বের সময়টুকু ছাড়া অন্য কোনো নামাজে কুনুত পড়তেন না। হাফেজ 'আদ-দিরায়া' ১/১৯৩ গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ সহিহ। হাইসামি এটি 'আল-মাজমা' ২/১৩৭ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তাবরানির দিকে সম্বন্ধিত করেছেন এবং এর সনদকে হাসান বলেছেন।

(১) তার নাম হাফস ইবনে সালাম আস-সামারকান্দি। তিনি কুফাবাসী ও হিজাজবাসীদের থেকে বর্ণনা করেন। কুতাইবাহ তাকে কঠোরভাবে দুর্বল বলেছেন এবং ইবনে মাহদি তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন। যাহাবি 'মিজান' গ্রন্থের 'কুনা' অংশে বলেছেন: তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত বর্ণনাকারীদের একজন। 'লিসানুল মিজান' গ্রন্থে আছে: তিনি মিসআর, আইয়ুব এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে উমরের সূত্রে মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করেছেন। ওকি তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন এবং দারাকুতনি তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনে আদি বলেন: তিনি এমন কেউ নন যার বর্ণনার ওপর নির্ভর করা যায়। ইবনে হিব্বান তাকে 'আদ-দুয়াফা' ১/২৫১-২৫২ গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি অনাড়ম্বর জীবনযাপন ও ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন, কিন্তু তিনি এমন সব মুনকার বিষয় নিয়ে আসতেন যা হাদিস লেখকদের জানা আছে যে সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। ইবনে মুবারককে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তোমরা আবু মুকাতিলের থেকে কেবল তার ইবাদতটুকুই গ্রহণ করো এবং তোমাদের জন্য সেটুকুই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫২)
جبَيْرٍ، وما أشْبَهَ هذه الأحاديثَ، فقال ابنُ أخ لأبي مُقاتلٍ: يا عَمَّ لا تقُلْ: حدَّثَنا، فإنّكَ لم تَسْمعْ هذه الأشياءَ. قال: يا بُنيَّ هو كلامٌ حسنٌ.

وسمعتُ الجارودَ يقولُ: كُنَّا عند أبي مُعاويةَ، فذُكرَ له حديث أبي مُقاتلٍ، عن سفيانَ الثَّوريِّ، عن الأعمَشِ، عن أبي ظبيانَ، قال: سُئلَ عليٌّ عن كور الزَّنابيرِ، قال: لا بأسَ به، هو بِمنزلةِ صَيْد البحر. فقال أبو معاويةَ: ما أقول: إنَّ صاحبَكُم كذّاب، ولكن هذا الحديث كَذِبٌ](1).

وقد تكلَّمَ بعضُ أهلِ الحديثِ في قومٍ من أجِلَّةِ أهلِ العلمِ، وضَعَّفُوهُم من قِبَلِ حِفْظِهمْ، ووَثَّقهُمْ آخرُونَ من الأئمةِ لِجَلالَتهم وصِدْقِهمْ، وإنْ كانوا قد وَهمُوا في بعضِ ما رَوَوْا، قد تَكلَّمَ يحيى بن سَعيدٍ القطّانُ في محمدِ بن عمرٍو، ثُمَّ رَوَى عنه.

حدَّثنا أبو بكرٍ عَبد القدُّوس بن محمدٍ العطَّارُ البَصْريُّ، حدَّثنا عليُّ بن المَدِينيَّ، قال: سَألْتُ يحيى بن سعيدِ عن محمدِ بن عمرِو بن عَلْقمةَ، فقال: تُرِيدُ العَفْوَ أو تُشدَّدُ؟ فقلتُ: لا، بل أُشدَّدُ. فقال: ليس هو ممن تُريدُ، كان يقولُ: حدثنا أشياخُنا أبو سَلمةَ ويحيى بن عبد الرحمنِ بن حاطبٍ(2).

--------------------------------------------

(1) ما بين حاصرتين أثبتناه من النسخة التي اعتمدها الحافظ ابن رجب في "شرحه" 1/ 78 - 79، ولم ترد في أصولنا الخطية.

(2) محمد بن عمرو بن علقمة حسن الحديث كما قال الإمام الذهبي، فقد وثقه النسائي وابن معين في أكثر الروايات، وقال يحيى بن سعد القطان: صالح، ليس بأحفظ الناس للحديث، وقال أبو حاتم: صالح الحديث، يكتب حديثه =
জুবায়ের এবং এই জাতীয় হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে আবু মুকাতিলের এক ভ্রাতুষ্পুত্র তাকে বললেন: হে চাচা! আপনি ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’ বলবেন না, কারণ আপনি এই বিষয়গুলো শ্রবণ করেননি। তিনি বললেন: হে বৎস! এটি তো একটি উত্তম কথা।

আমি জারুদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা আবু মুআবিয়ার নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তার কাছে সুফিয়ান সাওরি, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু জাবিয়ান থেকে বর্ণিত আবু মুকাতিলের একটি হাদিস উল্লেখ করা হলো। তিনি বলেন: আলীকে (রা.) ভীমরুলের বাসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বললেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই, এটি সমুদ্রের শিকারের সমপর্যায়ভুক্ত। তখন আবু মুআবিয়া বললেন: আমি এটি বলছি না যে তোমাদের সঙ্গী মিথ্যাবাদী, বরং এই হাদিসটিই মিথ্যা।(১)

মুহাদ্দিসগণের কেউ কেউ ইলমে দ্বীনের একদল মহান ব্যক্তি সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন এবং তাদের মুখস্থশক্তির দিক থেকে তাদের দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। আবার অন্য ইমামগণ তাদের মর্যাদা ও সত্যবাদিতার কারণে তাদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন, যদিও তারা তাদের বর্ণিত কিছু হাদিসে বিভ্রমে পতিত হয়েছেন। যেমন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান মুহাম্মদ ইবনে আমর সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন, আবার পরবর্তীতে তার থেকেই হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আবু বকর আবদুল কুদ্দুস ইবনে মুহাম্মদ আল-আত্তার আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি ইবনে আল-মাদিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তুমি কি শিথিলতা চাও নাকি কঠোরতা? আমি বললাম: না, বরং আমি কঠোরতা চাই। তিনি বললেন: তিনি সেই পর্যায়ের (নির্ভরযোগ্য) নন যেমনটি তুমি চাচ্ছো। তিনি বলতেন: আমাদের নিকট আমাদের শায়খ আবু সালামাহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হাতিব বর্ণনা করেছেন।(২)

--------------------------------------------

(১) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটি আমরা হাফেজ ইবনে রজব কর্তৃক তার ‘শরহ’ (১/৭৮-৭৯) গ্রন্থে ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপি থেকে গ্রহণ করেছি, যা আমাদের মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে বিদ্যমান ছিল না।

(২) ইমাম জাহাবি যেমনটি বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা ‘হাসান’ হাদিস বর্ণনাকারী। নাসাঈ এবং ইবনে মাইন অধিকাংশ বর্ণনায় তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বলেছেন: তিনি সৎ (সলিহ), তবে হাদিস মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তিনি মানুষের মাঝে সবচেয়ে দক্ষ নন। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে সৎ, তার হাদিস লিখে রাখা যায়।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৩)
قال يحيى: وسَألْتُ مالكَ بنَ أنسٍ عن محمدِ بن عمرٍو، فقال فيه نحو ما قلتُ. قال عليٌّ: قال يحيى: ومحمدُ بن عمرٍو أعلى مِن سُهَيْلِ بن أبي صالحٍ، وهو عندي فوقَ عبدِ الرحمنِ بن حَرْملةَ(1). قال عليٌّ: فقلتُ ليحيى: ما رأيتَ مِن عبدِ الرحمنِ بن حَرْملةَ؟ فقال: لو شِئْتُ أنْ أُلَقَّنَه لفَعلْتُ. قلتُ: كان يُلقَّنُ؟ قال: نعم(2).

--------------------------------------------

= وهو شيخ، وقال ابن عدي: له حديث صالح، وقد حدث عنه جماعة من الثقات … وأرجو أنه لا بأس به، وقد تكلم فيه بعضهم من قبل حفظه، وإنما روى له البخاري مقرونًا بغيره، ومسلم في المتابعات.

(1) هو عبد الرحمن بن حرملة بن عمرو بن سَنَّة الأسلمي أبو حرملة المدني روى له مسلم في "صحيحه" وأصحاب "السنن"، وهو صدوق حسن الحديث، فقد وثقه ابن نمير وابن معين واحتج به مسلم، وقال النسائي: ليس به بأس، وقال ابن عدي: لم أر له في أحاديثه حديثًا منكرًا، وسأل عبد الله بن أحمد أباه عن يزيد بن عبد الله بن قسيط وابن حرملة، فقال: ما أقربهما. ويزيد ثقة من رجال الشيخين، وقال أبو حاتم وحده: يكتب حديثه ولا يحتج به، وسئل يحيى بن سعيد القطان عنه، فضعفه ولم يرفعه، وقال أحمد بن سعد عن يحيى بن معين: ثقة، وروى عنه يحيى بن سعيد نحوًا من مئة حديث، وقال ابن المديني: راددتُ يحيى بن سعيد في ابن حرملة، فقال. ليس هو عندي مثل يحيى بن سعيد الأنصاري، فيفهم من هذا أنه ليس عنده من أهل الطبقة العليا من المتقين الأثبات، لا أنه ضعيف.

(2) التلقين كما في "الفتح" 7/ 138: أن يقول الطالب للشيخ: قل: حدثنا فلان بكذا، فيحدث به من غير أن يكون عارفًا به حديثه ولا بعدالة الطالب، فلا يؤمن أن لا يكون ذلك الطالب ضابطًا لذلك القدر، فيدل على تساهل الشيخ، فلذلك عابوه على من فعله. وأما الحافظ الذي نسي فلُقِّنَ حتى ذكر، أو تذكر حديثه من كتاب فرجع إليه حفظه الذي كان نسيه، فحكمه حكم الحافظ.
ইয়াহিয়া বলেন: আমি মালিক ইবন আনাসকে মুহাম্মদ ইবন আমর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি তার ব্যাপারে আমি যা বলেছি তার অনুরূপ কথাই বললেন। আলী বলেন: ইয়াহিয়া বলেছেন: মুহাম্মদ ইবন আমর সুহাইল ইবন আবি সালিহ-এর চেয়ে উঁচু স্তরের, এবং তিনি আমার নিকট আবদুর রহমান ইবন হারমালাহ-এর উপরে(১)। আলী বলেন: আমি ইয়াহিয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি আবদুর রহমান ইবন হারমালাহ-এর মাঝে কী দেখেছেন? তিনি বললেন: আমি যদি তাকে তালকিন করতে (কথা মুখে তুলে দিতে) চাইতাম, তবে তা পারতাম। আমি বললাম: তাকে কি তালকিন করা হতো? তিনি বললেন: হ্যাঁ(২)।

--------------------------------------------

= তিনি একজন শাইখ, এবং ইবন আদি বলেছেন: তার হাদিস গ্রহণযোগ্য, এবং একদল নির্ভরযোগ্য রাবি তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন … এবং আমি আশা করি যে এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে তাদের কেউ কেউ তার মুখস্থ শক্তির দিক থেকে তার সমালোচনা করেছেন। ইমাম বুখারি তার থেকে কেবল অন্য রাবির সাথে মিলিতভাবে (মাকরুনান) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম কেবল মুতাবাআতের (সমর্থনমূলক বর্ণনায়) ক্ষেত্রে তার হাদিস এনেছেন।

(১) তিনি হলেন আবদুর রহমান ইবন হারমালাহ ইবন আমর ইবন সান্নাহ আল-আসলামি আবু হারমালাহ আল-মাদানি। ইমাম মুসলিম তার 'সহিহ'-এ এবং 'সুনান' গ্রন্থকারগণ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি সত্যবাদী এবং উত্তম হাদিস বর্ণনাকারী; কেননা ইবন নুমাইর ও ইবন মাইন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইমাম মুসলিম তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ইমাম নাসাঈ বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। ইবন আদি বলেছেন: আমি তার হাদিসসমূহের মধ্যে কোনো মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস দেখিনি। আবদুল্লাহ ইবন আহমদ তার পিতার কাছে ইয়াজিদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কুসাইত এবং ইবন হারমালাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তারা উভয়েই কাছাকাছি মানের। ইয়াজিদ শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর রাবিদের অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। কেবল আবু হাতিম বলেছেন: তার হাদিস লেখা হবে কিন্তু দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। ইয়াহিয়া ইবন সাইদ আল-কাত্তানকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন এবং তাকে উঁচু মর্যাদা দেননি। আহমদ ইবন সাদ ইয়াহিয়া ইবন মাইন থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। ইয়াহিয়া ইবন সাইদ তার থেকে প্রায় একশত হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মাদিনি বলেন: আমি ইবন হারমালাহ-এর ব্যাপারে ইয়াহিয়া ইবন সাইদকে বারবার প্রশ্ন করলে তিনি বললেন: তিনি আমার নিকট ইয়াহিয়া ইবন সাইদ আল-আনসারির মতো নন; এ থেকে বোঝা যায় যে, তিনি তার নিকট সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের প্রথম স্তরের অন্তর্ভুক্ত নন, এর অর্থ এই নয় যে তিনি দুর্বল।

(২) 'ফাতহুল বারী' (৭/১৩৮)-এ বর্ণিত তালকিন হলো: ছাত্র কর্তৃক শিক্ষককে বলা: 'বলুন যে, অমুক আমাদের নিকট এভাবে হাদিস বর্ণনা করেছেন', ফলে শিক্ষক সেই হাদিসটি সম্পর্কে অবগত না থেকে কিংবা ছাত্রের বিশ্বস্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই তা বর্ণনা করেন। এমতাবস্থায় সেই ছাত্র উক্ত বিষয়টি কতটুকু নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করেছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় না, যা শিক্ষকের অসতর্কতা প্রমাণ করে। একারণেই বিজ্ঞজনরা এমন কাজ যারা করেন তাদের সমালোচনা করেছেন। তবে এমন কোনো হাফিজ যিনি কোনো বিষয় ভুলে গেছেন, অতঃপর তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার (তালকিন) ফলে তিনি তা মনে করতে পেরেছেন, অথবা কিতাব দেখে নিজের হাদিস পুনরায় স্মরণ করেছেন যা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন, তবে তার হুকুম হাফিজের হুকুমের মতোই হবে।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৪)
قال عليٌّ: ولم يَرْوِ يحيى عن شَرِيكٍ، ولا عن أبي بكرِ بن عيَّاشٍ، ولا عن الرَّبيعِ بن صَبِيحٍ، ولا عن المُبَاركِ بن فَضالةَ.

قال أبو عيسى: وإنْ كان يحيى بن سعيدٍ قد تَركَ الرَّوايةَ عن هؤلاءِ، فلم يَتْرُكِ الرَّوايةَ عَنهُم أنَّهُ اتَّهمهُمْ بالكذبِ، ولكنَّه تَركَهُم لِحَالِ حِفْظهم.

وذُكِرَ عن يحيى بن سعيدٍ أنَّهُ كان إذا رأى الرَّجُلَ يُحدِّثُ عن حِفْظِه مرّةً هكذا ومرّةً هكذا، لا يَثْبتُ على روايةٍ واحدةٍ، تَركهُ، وقد حَدَّثَ عن هؤلاءِ الّذِينَ تَركَهُمْ يحيى بن سعيدٍ القطّانُ: عبدُ اللهِ بن المُبَاركِ، ووكيعُ بن الجرَّاحِ، وعبد الرحمنِ بن مَهْديٍّ، وغَيرُهُم من الأئمةِ.

وهكذا تَكلَّمَ بعض أهلِ الحديثِ في سُهَيلِ بن أبي صالحٍ ومحمدِ بن إسحاقَ، وحمّادِ بن سَلمةَ، ومحمدِ بن عَجْلانَ، وأشباهِ هؤلاءِ من الأئمةِ، إنّما تَكلَّمُوا فِيهم من قِبلِ حِفْظهم في بعضِ ما رَوَوْا، وقد حَدَّثَ عَنهُم الأئمةُ.

حدَّثنا الحسنُ بن عليًّ الحُلْوانيُّ، أخبرنا عليُّ بن المَدينيَّ، قال: قال سفيانُ بن عُيينةَ: كُنَّا نَعدُّ سُهَيلَ بن أبي صالحٍ(1) ثَبْتًا في الحديثِ.

--------------------------------------------

(1) أكثر الأئمة على توثيقه: سفيان بن عيينة وأحمد والترمذي وابن سعد والعجلي والنسائي في رواية، وقال في أخرى: ليس به بأس، وإنما لين أمره ابن معين وأبو حاتم وحدهما، وقد روى عنه الأئمة الكبار: السفيانان والحمادان وشعبة ومالك بن أنس، وأبو معاوية محمد بن خازم الضرير ووهيب بن خالد ويحيي بن سعيد الأنصاري، واحتج به مسلم كثيرًا في "صحيحه". =
আলী বলেন: ইয়াহইয়া শারীক থেকে, আবু বকর বিন আইয়াশ থেকে, রাবী বিন সবিহ থেকে এবং মুবারক বিন ফাদলাহ থেকে বর্ণনা করেননি।

আবু ঈসা বলেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ যদিও তাদের থেকে বর্ণনা করা ছেড়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করে বর্ণনা ত্যাগ করেননি, বরং তাদের মুখস্থ শক্তির অবস্থার কারণে তিনি তাদের বর্জন করেছিলেন।

ইয়াহইয়া বিন সাঈদ সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন দেখতেন কোনো ব্যক্তি তার মুখস্থ থেকে একবার একভাবে আর অন্যবার অন্যভাবে হাদীস বর্ণনা করছেন এবং একটি বর্ণনার ওপর স্থির থাকছেন না, তখন তিনি তাকে বর্জন করতেন। অথচ ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান যাদের বর্জন করেছিলেন, তাদের থেকে আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, ওকী' বিন জাররাহ, আব্দুর রহমান বিন মাহদী এবং অন্যান্য ইমামগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

একইভাবে হাদীস বিশারদদের কেউ কেউ সুহাইল বিন আবি সালিহ, মুহাম্মদ বিন ইসহাক, হাম্মাদ বিন সালামাহ, মুহাম্মদ বিন আজলান এবং তাদের মতো ইমামগণের ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। তারা তাদের বিষয়ে সমালোচনা করেছেন মূলত তাদের বর্ণনাকৃত কিছু হাদীসের মুখস্থ শক্তির দিক থেকে, অথচ ইমামগণ তাদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাসান বিন আলী আল-হুলওয়ানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আল-মাদীনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা বলেছেন: আমরা সুহাইল বিন আবি সালিহকে(১) হাদীসের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য গণ্য করতাম।

--------------------------------------------

(১) অধিকাংশ ইমাম তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা, আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে সাদ, আজলী এবং এক বর্ণনামতে নাসাঈ; আর অন্য বর্ণনায় তিনি বলেছেন: ‘তার মধ্যে কোনো দোষ নেই’। কেবল ইবনে মাঈন এবং আবু হাতিম তার ব্যাপারে নমনীয়তার (দুর্বলতার) কথা বলেছেন। অথচ বড় বড় ইমামগণ তার থেকে বর্ণনা করেছেন: দুই সুফিয়ান, দুই হাম্মাদ, শু’বাহ, মালিক বিন আনাস, আবু মুয়াবিয়া মুহাম্মদ বিন খাযিম আদ-দারীর, উহাইব বিন খালিদ এবং ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারী। আর ইমাম মুসলিম তার ‘সহীহ’ গ্রন্থে তার থেকে প্রচুর দলিল গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৫)
حدَّثنا ابن أبي عمرَ: قال سفيانُ بن عُيينةَ: كان محمدُ بن عَجْلانَ ثِقةً مَأْمُونًا في الحديثِ.

قال أبو عيسى: وإنَّما تَكلَّمَ يحيى بن سعيدٍ القطَّانُ عندنا في روايةِ محمدِ بن عَجْلانَ، عن سعيدٍ المَقْبُريَّ؛ حدَّثنا أبو بكرٍ، عن عليَّ بن عبد الله، قال: قال يحيى بن سعيدٍ: قال محمدُ بن عَجْلانَ: أحاديثُ سعيدٍ المقْبُريِّ: بَعضُها: سعيدٌ، عن أبي هُريرةَ، وبَعضُها: سعيدٌ، عن رجلٍ، عن أبي هُريرةَ، فاخْتلطَتْ، عليَّ فَصيَّرتُها عن سعيدٍ، عن أبي هُريرةَ. وإنما تَكلَّمَ يحيى بن سَعيدٍ عِنْدنا في ابن عَجْلانَ لهذا، وقد رَوَى يحيى عن ابن عَجْلانَ الكثيرَ(1).

--------------------------------------------

= وقال السلمي: سألت الدارقطني: لمَ ترك البخاري حديث سهيل في كتابه الصحيح؟ فقال: لا أعرف له فيه عذرًا، فقد كان النسائي إذا مر بحديث سهيل، قال: هو واللهِ خيرٌ من أبي اليمان ويحيى بنِ بُكير وغيرهما.

وقال ابن عدي: هو عندي ثبت لا بأس به مقبول الأخبار.

وقال الحافظ في "الفتح" عن حديث في سنده سهيل: إسناده صحيح على شرط مسلم.

وقد أخرج له البخاري حديثًا واحدًا في الجهاد (2840) مقرونًا بيحيى بن سعيد الأنصاري، وأخرج له حديثين آخرين متابعة في الدعوات، انظر (6329) و (6408).

(1) هو محمد بن عجلان القرشي أبو عبد الله المدني وثقه أحمد وابن معين وابن عيينة وابن سعد وأبو زرعة وأبو حاتم والنسائي، وقال يعقوب بن شيبة: صدوق وسط.

قال الذهبي في "السير" 6/ 320: حدث عنه شعبة ومالك وهو حسن الحديث وأقوى من ابن إسحاق، ولكن ما هو في قوة عُبيد الله بن عمر ونحوه. =
ইবনে আবি ওমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আজলান হাদীস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ছিলেন।

আবু ঈসা বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আজলান কর্তৃক সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে বর্ণিত বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন; আবু বকর আমাদের নিকট আলি ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আজলান বলেছিলেন: সাঈদ আল-মাকবুরীর হাদীসগুলো—তার কিছু ছিল সাঈদ সরাসরি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, আর কিছু ছিল সাঈদ জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; কিন্তু সেগুলো আমার নিকট এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল, তাই আমি সেগুলোকে 'সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে' এভাবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট ইবনে আজলানের ব্যাপারে মূলত এই কারণেই সমালোচনা করেছেন, যদিও ইয়াহইয়া নিজে ইবনে আজলান থেকে প্রচুর হাদীস বর্ণনা করেছেন(১)।

--------------------------------------------

= আস-সুলামী বলেন: আমি আদ-দারা কুতনীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম: বুখারী কেন তাঁর সহীহ গ্রন্থে সুহাইলের হাদীস বর্জন করেছেন? তিনি বললেন: এর পেছনে তাঁর কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ আমি জানি না। ইমাম নাসাঈ যখনই সুহাইলের কোনো হাদীসের পাশ দিয়ে যেতেন, বলতেন: আল্লাহর কসম, তিনি আবু আল-য়ামান, ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর এবং অন্যদের চেয়েও উত্তম।

ইবনে আদী বলেন: আমার নিকট তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত, তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই এবং তাঁর বর্ণনাগুলো গ্রহণযোগ্য।

হাফিয (ইবনে হাজার) 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে সুহাইল যে সনদে আছেন এমন একটি হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।

বুখারী জিহাদ অধ্যায়ে (২৮৪০) তাঁর একটি হাদীস ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারীর বর্ণনার সাথে যুক্ত করে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আদ-দাওয়াত অধ্যায়ে সমর্থনমূলক বর্ণনা (মুতাবায়াত) হিসেবে আরও দুটি হাদীস এনেছেন, দেখুন (৬৩২৯) ও (৬৪০৮)।

(১) তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আজলান আল-কুরাশী আবু আব্দুল্লাহ আল-মাদানী। আহমাদ, ইবনে মাঈন, ইবনে উইয়াইনা, ইবনে সাদ, আবু যুরআ, আবু হাতিম এবং নাসাঈ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ বলেছেন: তিনি সত্যবাদী ও মধ্যম মানের বর্ণনাকারী।

আদ-দাহাবী 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে (৬/৩২০) বলেছেন: তাঁর থেকে শু'বা ও মালিক বর্ণনা করেছেন। তিনি হাসান পর্যায়ের হাদীস বর্ণনাকারী এবং ইবনে ইসহাক অপেক্ষা শক্তিশালী, তবে তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর বা তাঁর সমপর্যায়ের শক্তিশালী নন। =
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৬)
قال أبو عيسى: وهكذا من تَكلَّمَ في ابن أبي ليلى(1)، إنّما تَكلَّمَ

--------------------------------------------

= وله في "صحيح مسلم" ثلاثة عشر حديثًا كلها في الشواهد، وهي بالأرقام (29) و (443) و (480) و (543) و (579) و (595) و (985) و (1399) و (1599) و (1605) و (1720) وص 1470 برقم (1709)، و (1885) و (2236) و (2398).

وخبر يحيى بن سعيد الذي أورده الترمذي هو كذلك في كتاب علي بن المديني و"تاريخ البخاري الكبير" 1/ 197، و"الأوسط" 2/ 75، لكن الخبر في "علل أحمد" (643) رواية ابنه: قال أبي: بلغني عن يحيى بن سعيد، قال: لم يقف ابن عجلان على حديث سعيد المقبري عن أبيه عن أبي هريرة، فتركها، فكان يقول: سعيد المقبري عن أبي هريرة؛ ترك أباه.

ونص ابن حبان في "الثقات" 7/ 386 - 387: قال يحيى القطان: سمعت محمد بن عجلان يقول: كان سعيد المقبري يحدث عن أبيه عن أبي هريرة، وعن أبي هريرة، فاختلط عليَّ، فجعلتها كلها عن أبي هريرة.

قال أبو حاتم: وقد سمع سعيد المقبري من أبي هريرة، وسمع من أبيه عن أبي هريرة، فلما اختلط على ابن عجلان، ولم يميز بينها، اختلط فيها وجعلها كلها عن أبي هريرة، وليس هذا مما يُوهى الإنسان به، لأن الصحيفة كلها في نفسها صحيحة، فما قال ابن عجلان: عن سعيد، عن أبيه، عن أبي هريرة، فذاك مما حمل عنه قديمًا قبل اختلاط صحيفته عليه، وما قال: عن سعيد، عن أبي هريرة، فبعضها متصل صحيح وبعضها منقطع، لأنه أسقط أباه فلا يجب الاحتجاج عند الاحتياط إلا بما يروي الثقات المتقنون عنه، عن سعيد، عن أبيه، عن أبي هريرة.

(1) هو محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى قاضي الكوفة، وكان من جلة الفقهاء المعتبرين، وله حديث كثير، وهو صدوق سيئ الحفظ، فإذا انفرد بحديث ولم يتابع عليه، لم يحتج به.
আবু ঈসা বলেন: একইভাবে যারা ইবনে আবি লায়লা(১) সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন, তারা কেবল সমালোচনা করেছেন

--------------------------------------------

= আর 'সহীহ মুসলিমে' তাঁর তেরটি হাদীস রয়েছে, যার সবগুলোই শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) হিসেবে এসেছে, এবং সেগুলো হলো (২৯), (৪৪৩), (৪৮০), (৫৪৩), (৫৭৯), (৫৯৫), (৯৮৫), (১৩৯৯), (১৫৯৯), (১৬০৫), (১৭২০) এবং ১৪৭০ পৃষ্ঠার (১৭০৯) নং হাদীস, এবং (১৮৮৫), (২২৩৬) ও (২৩৯৮) নম্বর।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সেই সংবাদটি যা তিরমিযী উল্লেখ করেছেন, সেটি একইভাবে আলী ইবনুল মাদীনীর কিতাব এবং বুখারীর 'তারীখুল কাবীর' ১/১৯৭ ও 'আল-আওসাত' ২/৭৫-এ রয়েছে। তবে আহমাদের 'ইলাল' (৬৪৩) গ্রন্থে তাঁর পুত্রের বর্ণনায় এসেছে: আমার পিতা বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: ইবনে আজলান সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে তাঁর পিতার মাধ্যমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারতেন না, তাই তিনি তা ছেড়ে দিতেন। এরপর তিনি বলতেন: সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে আবু হুরায়রা সূত্রে; অর্থাৎ তিনি তাঁর পিতাকে বাদ দিতেন।

ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' (৭/৩৮৬-৩৮৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন: ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে আজলানকে বলতে শুনেছি: সাঈদ আল-মাকবুরী তাঁর পিতার মাধ্যমে আবু হুরায়রা থেকে এবং সরাসরি আবু হুরায়রা থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন, কিন্তু তা আমার কাছে গোলমেলে হয়ে যায়, তাই আমি সেগুলোকে পুরোপুরি 'আবু হুরায়রা থেকে' করে ফেলি।

আবু হাতিম বলেন: সাঈদ আল-মাকবুরী আবু হুরায়রা থেকে শুনেছেন, আবার তাঁর পিতার মাধ্যমেও আবু হুরায়রা থেকে শুনেছেন। যখন এটি ইবনে আজলানের কাছে গোলমেলে হয়ে যায় এবং তিনি এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারছিলেন না, তখন তিনি এতে বিভ্রান্ত হন এবং এর সবগুলোকে আবু হুরায়রা থেকে করে দেন। এটি এমন কোনো বিষয় নয় যার কারণে কোনো ব্যক্তিকে দুর্বল সাব্যস্ত করা যায়, কারণ সেই সহীফা (পাণ্ডুলিপি) নিজেই সহীহ। সুতরাং ইবনে আজলান যখন বলেন: 'সাঈদ থেকে, তাঁর পিতা থেকে, আবু হুরায়রা থেকে', তখন সেটি তাঁর সেই পাণ্ডুলিপি গোলমেলে হয়ে যাওয়ার পূর্বের বর্ণনা। আর যখন তিনি বলেন: 'সাঈদ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে', তখন এর কোনোটি মুত্তাসিল সহীহ এবং কোনোটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন), কারণ তিনি তাঁর পিতাকে বাদ দিয়েছেন। তাই সতর্কতার খাতিরে সেই বর্ণনা ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা দলীল গ্রহণ করা ওয়াজিব নয়, যা নির্ভরযোগ্য দক্ষ বর্ণনাকারীগণ তাঁর থেকে 'সাঈদ থেকে, তাঁর পিতা থেকে, আবু হুরায়রা থেকে' সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(১) তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা, কুফার কাজী। তিনি উচ্চমর্যাদার নির্ভরযোগ্য ফকীহগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর বর্ণিত অনেক হাদীস রয়েছে। তিনি সত্যবাদী তবে তাঁর মুখস্থশক্তি দুর্বল ছিল। তাই তিনি যখন এককভাবে কোনো হাদীস বর্ণনা করতেন এবং তা অন্য কারো মাধ্যমে সমর্থিত হতো না, তখন তা দ্বারা দলীল গ্রহণ করা হতো না।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৭)
فيه من قِبلِ حِفْظِه. قال عليٌّ: قال يحيى بن سعيدٍ: رَوَى شُعبةُ عن ابن أبي ليلى، عن أخيه عيسى، عن عبد الرحمنِ بن أبي ليلى، عن أبي أيُّوبَ، عن النّبيَّ صلى الله عليه وسلم في العُطاسِ. قال يحيى: ثمَّ لَقيتُ ابن أبي لَيلى، فحدَّثَنا عن أخيه عيسى، عن عبد الرحمنِ بن أبي ليلى، عن عليًّ، عن النّبيَّ صلى الله عليه وسلم(1).

ويُرْوى عن ابن أبي ليلى نَحو هذا غير شيءٍ، كان يَرْوي الشيءَ مَرَّةً هكذا ومَرَّةً هكذا، يُغيِّر الإِسنادَ، وإنّما جاءَ هذا من قِبلِ حِفْظِه، لأنَّ أكثرَ من مَضَى من أهلِ العلمِ كانوا لا يَكْتُبونَ، ومن كَتبَ مِنْهُم إنّما كان يكتبُ لهم بعد السَّماعِ.

وسَمِعتُ أحمدَ بن الحسنِ يقولُ: سَمِعتُ أحمدَ بن حنبلٍ يقولُ: ابن أبي ليلى لا يُحْتجُّ به(2).

قال: وكذلكَ من تَكلَّمَ من أهلِ العلمِ في مُجالدِ بن سعيدٍ(3) وعبد اللهِ بن لَهِيعةَ(4) وغَيرِهما، إنَّما تَكلَّمُوا فيهم من قِبلِ حِفْظهم

--------------------------------------------

(1) أخرجه المصنف في الأدب: باب كيف يُشمت العاطس (2741) وقد تكلمنا عليه هناك.

(2) يعني إذا انفرد.

(3) هو مجالد بن سعيد بن عُمير الهمداني الكوفي ليس بالحافظ وقد ضعفه غير واحد من الأئمة، وقال ابن عدي: عامةُ ما يرويه غيرُ محفوظ.

قال ابن رجب: وخرج له مسلم مقرونًا، وكان يحيى بن سعيد يُحدث عنه، وحدث ابن مهدي عن رجل عنه. ومثله يقبل في المتابعات والشواهد.

(4) هو عبد الله بن لَهِيعَة بن عُقبة الحضرمي المصري القاضي صدوق، =
এর কারণ তার হেফজ (স্মরণশক্তি)। আলী বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: শু'বা ইবনে আবি লাইলা থেকে, তিনি তার ভাই ঈসা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লাইলা থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাঁচি দেওয়া সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া বলেন: এরপর আমি ইবনে আবি লাইলার সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন তিনি আমাদের কাছে তার ভাই ঈসা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লাইলা থেকে, তিনি আলী থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করলেন(১)।

এবং ইবনে আবি লাইলা থেকে এ জাতীয় আরও অনেক কিছু বর্ণিত হয়েছে; তিনি কখনও কোনো বিষয় এভাবে বর্ণনা করতেন, আবার কখনও ওভাবে। তিনি সনদ পরিবর্তন করে ফেলতেন। মূলত তার হেফজের (দুর্বলতার) কারণেই এমনটি ঘটত, কারণ পূর্ববর্তী আলেমদের অধিকাংশরাই লিখতেন না। আর তাদের মধ্যে যারা লিখতেন, তারা সাধারণত শোনার পরই তাদের জন্য লিখে রাখতেন।

আমি আহমদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনেছি: আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: ইবনে আবি লাইলার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়(২)।

তিনি বলেন: একইভাবে আলেমগণ মুজালিদ ইবনে সাঈদ(৩) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া(৪) ও অন্যদের ব্যাপারে যে সমালোচনা করেছেন, তা মূলত তাদের হেফজ বা স্মরণশক্তির কারণেই করেছেন।

--------------------------------------------

(১) লেখক এটি আদব অধ্যায়ে সংকলন করেছেন: 'হাঁচিদাতার জবাব দেওয়ার পদ্ধতি' অনুচ্ছেদ (২৭৪১)। সেখানে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছি।

(২) অর্থাৎ যখন তিনি একা বর্ণনা করেন।

(৩) তিনি হলেন মুজালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে উমায়ের আল-হামদানি আল-কুফি। তিনি হাফেজ (নির্ভরযোগ্য স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন) ছিলেন না এবং একাধিক ইমাম তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইবনে আদি বলেন: তার বর্ণিত অধিকাংশ হাদিসই সংরক্ষিত নয়।

ইবনে রাজাব বলেন: ইমাম মুসলিম তার হাদিস অন্যের বর্ণনার সাথে মিলিয়ে (মুতাবাআত হিসেবে) গ্রহণ করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তার থেকে বর্ণনা করতেন এবং ইবনে মাহদী তার থেকে জনৈক ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তার মতো রাবি মুতাবাআত এবং শাওয়াহিদ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

(৪) তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া ইবনে উকবাহ আল-হাদরামি আল-মিসরি আল-কাদি। তিনি সত্যবাদী, =
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৮)
وكثرةِ خَطئِهم، وقد رَوَى عَنهُم غيرُ واحدٍ من الأئمَّةِ، فإذا تَفرَّدَ أحدٌ من هؤلاءِ بحديثٍ ولم يُتابعْ عليهِ، لم يُحْتجَّ بهِ، كما قال أحمدُ بن حنْبلٍ: ابن أبي ليلى لا يُحْتجُّ به، إنّما عَنَى إذا تَفرَّدَ بالشَّيءِ، وأشدُّ ما يكونُ هذا إذا لم يَحْفظِ الإسنادَ، فزادَ في الإسنادِ، أو نَقصَ، أو غَيَّرَ الإِسنادَ، أو جاء بما يَتغيَّرُ فيهِ المعنى.

فأمَّا من أقامَ الإِسنادَ وحَفظَه، وغيَّرَ اللَّفظَ، فإنَّ هذا واسعٌ عند أهلِ العلمِ إذا لم يَتغيَّر فيه المعنى.

حدَّثنا محمدُ بن بَشَّارٍ، حدَّثنا عبد الرحمنِ بن مَهْديٍّ، حدَّثنا مُعاويةُ بن صالحٍ، عن العلاءِ بن الحارثِ، عن مَكْحُولٍ، عن واثلةَ بن الأسْقَعِ، قال: إذا حَدَّثْناكُم على المعنى فحسْبُكم(1).

--------------------------------------------

= لكنه خلّط بعد احتراق كتبه، وحديثه قوي إذا روى عنه العبادلة: ابن المبارك وابن وهب وابن يزيد المقرئ وابن مسلمة القعنبي، وقد سمع منه قبل احتراق كتبه الوليد بن مزيد، وقتيبة بن سعيد والأوزاعي والثوري وشعبة وعمرو بن الحارث، وعبد الرحمن بن مهدي، والوليد بن مسلم، وإسحاق بن عيسى الطباع. خرج مسلم حديثه مقرونًا بعمرو بن الحارث، وأما البخاري والنسائي، فإذا ذكرا إسنادًا فيه ابن لهيعة وغيره سميا ذلك الغير، وكنيا عن اسم ابن لهيعة ولم يسمياه.

(1) رجاله ثقات، وأخرجه الدارمي 1/ 79، والبخاري في "تاريخه" 6/ 513، والرامهرمزي في "المحدث الفاصل" ص 533، والخطيب في "الكفاية" ص 204.
...এবং তাদের ভুলের আধিক্যের কারণে। অনেক ইমাম তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। যখন এদের কেউ কোনো হাদীস বর্ণনায় একক হয়ে যান এবং অন্য কেউ তার সমর্থন (মুতাবায়াত) না করেন, তখন তা দলিল হিসেবে গৃহীত হবে না; যেমন আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: ইবনে আবি লায়লা দলিল হিসেবে গণ্য নন। এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন—যখন তিনি কোনো বর্ণনায় একক হয়ে যান। এটি আরও গুরুতর হয় যখন তিনি সনদ মুখস্থ রাখতে পারেন না, ফলে সনদে বৃদ্ধি করেন, অথবা হ্রাস করেন, অথবা সনদ পরিবর্তন করে ফেলেন, অথবা এমন কিছু বর্ণনা করেন যাতে অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায়।

পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি সনদ ঠিক রেখেছেন এবং তা মুখস্থ করেছেন, কিন্তু শব্দে পরিবর্তন ঘটিয়েছেন, আলেমদের নিকট এটি গ্রহণযোগ্য যদি তাতে অর্থ পরিবর্তিত না হয়।

মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়া ইবনে সালিহ আল-আলা ইবনে আল-হারিস থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা যখন তোমাদের নিকট অর্থের ভিত্তিতে হাদীস বর্ণনা করি, তখন তোমাদের জন্য সেটুকুই যথেষ্ট।"(১).

--------------------------------------------

= কিন্তু তার কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ার পর তিনি হাদীস বর্ণনায় সংমিশ্রণ বা গোলমাল করতে শুরু করেন। তার বর্ণিত হাদীস শক্তিশালী হিসেবে গণ্য হয় যখন তার থেকে 'আবাদিলা'গণ (যাদের নাম আব্দুল্লাহ) বর্ণনা করেন: ইবনুল মুবারক, ইবনে ওয়াহাব, ইবনে ইয়াযীদ আল-মুকরি এবং ইবনে মাসলামাহ আল-কা'নাবি। এবং তার কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ার পূর্বে যারা তার থেকে শুনেছেন তারা হলেন—ওয়ালীদ ইবনে মাযীদ, কুতাইবা ইবনে সাঈদ, আওযায়ী, সাওরী, শু'বাহ, আমর ইবনুল হারিস, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী, ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম এবং ইসহাক ইবনে ঈসা আত-তাব্বা। ইমাম মুসলিম তার হাদীস আমর ইবনুল হারিসের বর্ণনার সাথে মিলিয়ে (মাকরুন হিসেবে) সংকলন করেছেন। আর ইমাম বুখারী ও নাসাঈ যখন এমন কোনো সনদ উল্লেখ করেন যেখানে ইবনে লাহিয়া ও অন্য কেউ আছেন, তখন তারা সেই অন্য ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন এবং ইবনে লাহিয়ার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তার উপনাম ব্যবহার করেন।

(১) এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, এবং এটি দারেমী ১/৭৯, বুখারী তাঁর 'তারিখ' ৬/৫১৩, রামাহুরমুযী 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' পৃষ্ঠা ৫৩৩ এবং খতিব 'আল-কিফায়া' পৃষ্ঠা ২০৪-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৯)
حدَّثنا يحيى بن موسى، حدَّثنا عبد الرَّزاقِ، أخبرنا مَعْمرٌ، عن أيُّوبَ، عن محمدِ بن سِيرينَ، قال: كنتُ أسْمعُ الحديثَ مِنْ عَشرةٍ، اللَّفْظُ مُخْتلفٌ والمعنى واحدٌ(1).

حدَّثنا أحمدُ بن مَنِيعٍ، حدَّثنا محمدُ بن عبد اللهِ الأنصاريُّ، عن ابن عَوْنٍ، قال: كان إبراهيمُ النَّخَعيُّ والحسنُ والشَّعْبيُّ يَأْتُونَ بالحديثِ على المعاني، وكان القاسمُ بن محمدٍ ومحمدُ بن سِيرينَ ورجاءُ بن حَيْوةَ يُعيدُونَ الحديثَ على حُروفهِ(2).

حدَّثنا عليُ بن خَشْرمٍ، أخبرنا حفصُ بن غِياثٍ، عن عاصمٍ الأحْوَلِ، قال: قلتُ لأبي عثمانَ النَّهْديِّ: إنّكَ تُحدَّثُنا بالحديثِ، ثمَّ تُحدَّثُنا به على غيرِ ما حَدَّثْتنا به. قال: عليكَ بِالسَّماعِ الأوَّلِ(3).

حدَّثنا الجارودُ، حدَّثنا وكيعٌ، عن الرَّبيعِ بن صَبِيحٍ، عن الحسنِ، قال: إذا أصَبْتَ المعنى أجْزَأكَ(4)

--------------------------------------------

(1) رجاله ثقات، وهو في "المحدث الفاصل" ص 534، و"الكفاية" ص 206.

(2) رجاله ثقات، وأخرجه الخطيب في "الكفاية" ص 206 من طريق الحسين بن إدريس، حدثنا ابن عمار، حدثنا معاذ بن معاذ العنبري، عن ابن عون.

(3) رجاله ثقات، وأبو عثمان النهدي: اسمه عبد الرحمن بن ملّ، مخضرم ثقة ثبت عابد.

(4) الربيع بن صبيح ضعيف.
ইয়াহইয়া ইবনে মুসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের আইয়ুব থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি দশজনের কাছ থেকে হাদীস শুনতাম, যাদের শব্দ ভিন্ন ভিন্ন হতো কিন্তু অর্থ অভিন্ন থাকতো(১).

আহমাদ ইবনে মানি' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আউন থেকে, তিনি বলেন: ইবরাহীম আন-নাখায়ী, হাসান এবং আশ-শা'বী হাদীসের মূল অর্থ বর্ণনা করতেন, আর কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন এবং রাজা ইবনে হাইওয়াহ হাদীসের হুবহু শব্দাবলি বর্ণনা করতেন(২).

আলী ইবনে খাশরাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাফস ইবনে গিয়াস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসেম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু উসমান আন-নাহদীকে বললাম: আপনি আমাদের নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করেন, এরপর পুনরায় যখন তা বর্ণনা করেন তখন আগের মতো করে করেন না। তিনি বললেন: তোমার জন্য প্রথম শ্রবণটিই গ্রহণীয়(৩).

আল-জারুদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন রাবী' ইবনে সাবিহ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তুমি যদি সঠিক অর্থটি আয়ত্ত করতে পারো, তবে তাই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে(৪)

--------------------------------------------

(১) এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, আর এটি "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল" পৃষ্ঠা ৫৩৪ এবং "আল-কিফায়াহ" পৃষ্ঠা ২০৬-এ রয়েছে।

(২) এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, আর খতীব এটি "আল-কিফায়াহ" পৃষ্ঠা ২০৬-এ হুসাইন ইবনে ইদ্রিসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; ইবনে আম্মার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুয়ায ইবনে মুয়ায আল-আনবারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আউন থেকে।

(৩) এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য; আর আবু উসমান আন-নাহদী: তাঁর নাম আবদুর রহমান ইবনে মাল, তিনি একজন মুখাদরাম, নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় ও ইবাদতগুজার ব্যক্তি।

(৪) রাবী' ইবনে সাবিহ দুর্বল।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬০)
حدَّثنا عليُّ بن حُجْرٍ، أخبرنا عبد الله بن المُبَاركِ، عن سَيْفٍ - هو ابن سليمانَ - قال: سَمِعتُ مُجاهدًا يَقولُ: انْقصْ من الحديثِ إنْ شِئْتَ، ولا تَزِدْ فيهِ(1).

حدَّثَنا أبو عمّارٍ الحسينُ بن حُرَيْثٍ، أخبرنا زيدُ بن الحُبابِ، عن رجلٍ، قال: خَرجَ إلينا سفيانُ الثَّوْريُّ، فقال: إنْ قلتُ لكُم: إنّي أُحدَّثُكمْ كما سَمِعتُ، فلا تُصدَّقُوني، إنّما هو المعنى(2).

أخبرنا الحسين بن حُرَيْثٍ، قال: سمعتُ وكيعًا يقولُ: إنْ لم يَكنِ المعنى واسعًا، فقد هَلكَ النَّاسُ(3).

--------------------------------------------

(1) رجاله ثقات، وهو في "المحدث الفاصل" ص 542 - 543.

(2) فيه مجهول، لكن رواه الخطيب في "الكفاية" ص 209، فقال: أخبرني أبو نصر أحمد بن الحسين القاضي بالدينور، أخبرنا أبو بكر أحمد بن محمد بن إسحاق الحافظ، حدثنا عبد الله بن محمد بن جعفر، حدثنا الحسن بن علي بن عفان، حدثنا زيد بن الحُباب، سمعت سفيان الثوري يقول: إن قلت لكم: إني أحدَّثكم كما سمعتُ فلا تصدّقوني، قال زيد: يعني أنه يُحدَّث على المعاني. ورجاله ثقات.

(3) رجاله ثقات.

قال الحافظ ابن رجب في "شرح العلل" 1/ 147: ومقصود الترمذي رحمه الله بهذا الفصل الذي ذكره ها هنا: أن مَن أقام الأسانيد وحفظها وغير المتون تغييرًا لا يغير المعنى أنه حافظ ثقة يُعتدّ بحديثه، وبنى على ذلك أن رواية الحديث بالمعنى جائزة، وحكاه عن أهل العلم. وكلامه يشعر بأنه إجماع، وليس كذلك، بل هو قول كثير من العلماء ونصَّ عليه أحمد وقال: ما زال الحفاظ يحدّثون بالمعنى. =
আলী ইবনে হুজর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইফ—যিনি ইবনে সুলাইমান—থেকে, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে বলতে শুনেছি: তুমি চাইলে হাদিস থেকে শব্দ কমিয়ে দাও, কিন্তু তাতে কিছু বৃদ্ধি করো না।(১)

আবু আম্মার আল-হুসাইন ইবনুল হুরাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়েদ ইবনুল হুবাব আমাদের জনৈক ব্যক্তি থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: আমি যদি তোমাদের বলি যে, আমি তোমাদের ঠিক তেমন ভাবেই বর্ণনা করছি যেমনটি আমি শুনেছি, তবে তোমরা আমাকে বিশ্বাস করো না; এটি মূলত মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনা।(২)

আল-হুসাইন ইবনুল হুরাইস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি: যদি মর্মার্থের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা না থাকত, তবে মানুষ ধ্বংস হয়ে যেত।(৩)

--------------------------------------------

(১) এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, এবং এটি 'আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল' পৃ. ৫৪২-৫৪৩ এ রয়েছে।

(২) এতে একজন অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছে, তবে আল-খতিব এটি 'আল-কিফায়া' পৃ. ২০৯ এ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আবু নাসর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-কাদি আদ-দিনাওয়ারি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-হাফেজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়েদ ইবনুল হুবাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি সুফিয়ান আস-সাওরীকে বলতে শুনেছি: আমি যদি তোমাদের বলি যে, আমি তোমাদের ঠিক তেমন ভাবেই বর্ণনা করছি যেমনটি আমি শুনেছি, তবে তোমরা আমাকে বিশ্বাস করো না। যায়েদ বলেন: অর্থাৎ তিনি হাদিসের মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনা করতেন। আর এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

(৩) এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

হাফেজ ইবনে রাজাব 'শারহুল ইলাল' (১/১৪৭) গ্রন্থে বলেন: ইমাম তিরমিজি (রহ.) এখানে যে অনুচ্ছেদটি উল্লেখ করেছেন তার উদ্দেশ্য হলো: যে ব্যক্তি সনদসমূহ সঠিকভাবে কায়েম করেছে ও তা মুখস্থ রেখেছে, কিন্তু হাদিসের মূল পাঠের অর্থের পরিবর্তন না করে শব্দে এমন পরিবর্তন করেছে যাতে অর্থ পরিবর্তিত হয় না, সে একজন নির্ভরযোগ্য হাফেজ এবং তার হাদিস গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। তিনি এর ওপর ভিত্তি করে এটি সাব্যস্ত করেছেন যে, হাদিসের মর্মার্থ বর্ণনা করা (রিওয়ায়াত বিল মা’না) বৈধ, এবং তিনি এটি জ্ঞানীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য এটিই প্রকাশ করে যে এটি একটি ঐক্যমত (ইজমা), কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং এটি অধিকাংশ আলেমের মত এবং ইমাম আহমাদও এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: হাফেজগণ সর্বদাই হাদিসের মর্মার্থ বর্ণনা করে আসছেন। =
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬১)
قال أبو عيسى: وإنّما تَفاضلَ أهلُ العلمِ بالحفظِ والإتقانِ والتَّثَبُّتِ عِندَ السَّماعِ مع أنَّهُ لم يَسلَمْ من الخطأ والغَلطِ كثيرُ أحدٍ من الأئمةِ مع حِفْظهم(1).

--------------------------------------------

= وإنما يجوز ذلك لمن هو عالم بلغات العرب بصيرًا عالمًا بما يُحيل المعنى وما لا يُحيله، نصَّ على ذلك الشافعي.

قلت: الذي عليه جمهور السلف والخلف - ومنهم الأئمة الأربعة المتبوعون - جواز نقل الرواية بالمعنى في الأحاديث المرفوعة وغيرها للعدل الذي هو عارف بدلالات الألفاظ واختلاف مواقعها.

واستثني من ذلك ما تعبد بلفظه كالتشهد والقنوت ونحوهما، وما هو من جوامع كلمه صلى الله عليه وسلم التي افتخر بإنعام الله عليه بها.

ونقل القرطبي عن بعض المتأخرين أن الخلاف في هذه المسألة إنما يتصور بالنظر إلى عصر الصحابة والتابعين، لتساويهم في معرفة اللغة الجِبَّلّيَةِ الذوقية، وأما من بعدهم، فلا شك في أن ذلك لا يجوز، إذ الطباع تغيرت، والفهوم قد تباينت، والعوارف قد اختلفت. قال: وهذا هو الحق.

قلت: ويتأكد ذلك في عصرنا هذا أن الكتب المصنفة، كالسنن والمسانيد قد حُققت على أصول معتدًّ بها وتوثق منها، وضبطت ألفاظها ضبطًا صحيحًا من قبل أهل العلم الذين بلغوا الغاية في هذا المجال.

(1) قال ابن رجب في "شرح العلل" 1/ 159 تعليقًا على قول الترمذي: مع أنه لم يسلم من الخطأ والغلط كثير أحدٍ من الأئمة مع حفظهم: وهو كما قال، فقد قال ابن معين: لست أعجب ممن يُحدث فيخطئ، وإنما أعجب ممن يحدث فيصيب.

وقال ابن المبارك: ومن يسلم من الوهم؟!

وقد وهّمت عائشة رضي الله عنها جماعة من الصحابة في رواياتهم للحديث، وقد جمع بعضهم جزءًا في ذلك. =
আবু ঈসা বলেন: ইলম অর্জনকারীদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের পার্থক্য হয় তাদের মুখস্থশক্তি, নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ এবং শ্রবণের সময় দৃঢ়তার মাধ্যমে। যদিও তাদের প্রখর মুখস্থশক্তি থাকা সত্ত্বেও ইমামদের মধ্যে কেউই ভুল এবং ভ্রান্তি থেকে পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না(১)।

--------------------------------------------

= আর এটি কেবল তার জন্যই জায়েজ, যে আরব্য ভাষাসমূহে পারদর্শী এবং কোনটি অর্থের পরিবর্তন ঘটায় আর কোনটি ঘটায় না—সে বিষয়ে গভীর জ্ঞান ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। ইমাম শাফিয়ী এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেছেন।

আমি বলি: পূর্বসূরি (সালাফ) এবং উত্তরসূরিদের (খালাফ) অধিকাংশের মত—যাদের মধ্যে চার ইমামও রয়েছেন—হলো মউফূ হাদীস এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্থের মাধ্যমে বর্ণনা করা (রেওয়ায়েত বিল মা’না) জায়েজ। তবে তা এমন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য, যিনি শব্দের অর্থ ও ব্যবহারের বৈচিত্র্য সম্পর্কে সম্যক অবগত।

এর থেকে ওই বিষয়গুলো ব্যতিক্রম যার শব্দগত রূপই ইবাদত হিসেবে গণ্য, যেমন তাশাহহুদ, কুনুত এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ বাণী)-ও এর অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এক বিশেষ নেয়ামত হিসেবে গৌরবের সাথে উল্লেখ করেছেন।

আল-কুরতুবী পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এই মাসআলায় মতপার্থক্য কেবল সাহাবী ও তাবেয়ীদের যুগের সাপেক্ষে কল্পনা করা যায়; কারণ তাদের ভাষাগত প্রকৃতি ও রসবোধ ছিল সমপর্যায়ের। কিন্তু পরবর্তী যুগের লোকদের ক্ষেত্রে এটি জায়েজ না হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা মানুষের প্রকৃতি বদলে গেছে, বুঝ ও উপলব্ধিতে পার্থক্য তৈরি হয়েছে এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে ভিন্নতা এসেছে। তিনি বলেন: এটিই সঠিক কথা।

আমি বলি: বর্তমান যুগে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সংকলিত গ্রন্থসমূহ যেমন ‘সুনান’ ও ‘মুসনাদ’ সমূহ নির্ভরযোগ্য মূলনীতির ভিত্তিতে সম্পাদিত ও যাচাইকৃত হয়েছে এবং এই ময়দানের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণের দ্বারা এগুলোর শব্দাবলি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সংরক্ষিত হয়েছে।

(১) ইবনে রজব ‘শারহুল ইলাল’ (১/১৫৯) গ্রন্থে তিরমিযীর এই বক্তব্যের—‘মুখস্থ থাকা সত্ত্বেও অনেক ইমামই ভুল ও ভ্রান্তি থেকে মুক্ত ছিলেন না’—পরিপ্রেক্ষিতে বলেন: এটি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন। কেননা ইবনে মাঈন বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করে আমি তার ব্যাপারে বিস্মিত হই না, বরং আমি তার ব্যাপারে বিস্মিত হই যে বর্ণনা করতে গিয়ে নির্ভুল থাকে।’

ইবনুল মুবারক বলেন: ‘ভ্রম বা সংশয় থেকে কে-ই বা মুক্ত?!’

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা একদল সাহাবীর হাদীস বর্ণনায় ভ্রম ধরিয়ে দিয়েছিলেন এবং কেউ কেউ এই বিষয়ে স্বতন্ত্র পুস্তিকাও রচনা করেছেন। =
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬২)
حدَّثنا محمدُ بن حُمَيدٍ الرَّازيُّ، حدَّثنا جَريرٌ، عن عُمارةَ بن القَعْقَاعِ، قال: قال لي إبراهيمُ النَّخَعيُّ: إذا حَدَّثْتني فحدَّثْني عن أبي زُرْعةَ بن عمرِو بن جَريرٍ، فإنَّهُ حدَّثني مَرَّةً بحديثٍ، ثمَّ سَألْتُه بعدَ ذلك بِسنينَ، فَما أخْرمَ منه حَرْفًا.

حدَّثنا أبو حَفْصٍ عمرُو بن عَليًّ، حدَّثنا يحيى بن سعيدٍ القَطَّانُ، عن سفيان، عن منصورٍ، قال: قلتُ لإبراهيمَ: ما لِسالمِ بن أبي الجَعْدِ أتمَّ حديثًا مِنك؟ قال: لأنَّهُ كان يَكتبُ.

حدَّثنا عبد الجبارِ بن العلاءِ بن عبد الجبارِ، حدَّثنا سفيانُ، قال: قال عبد الملكِ بن عُمَيرٍ: إنَّي لأُحَدَّثُ بِالحديثِ، فما أدعُ منه حرفًا.

حدَّثنا الحسينُ بن مَهْديًّ البصريُّ، حدَّثنا عبد الرَّزاقِ، قال: أخبرنا مَعْمرٌ، عن قتادةَ، قال: ما سَمِعتْ أذُنايَ شيئًا قَطُّ إلا وعاهُ قَلْبي.

حدَّثنا سعيدُ بن عبد الرحمنِ المَخْزوميُّ، حدَّثنا سفيانُ بن عُيينةَ، عن عمرِو بن دِينارٍ، قال: ما رأيتُ أحدًا أنصَّ للحديثِ من الزُّهريّ.

حدَّثنا إبراهيمُ بن سعيدٍ الجَوْهَريُّ، حدَّثنا سفيانُ بن عُيينةَ،

--------------------------------------------

= قلت: هو كتاب "الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة" وقد طبع بتحقيق الأستاذ سعيد الأفغاني رحمه الله، ووقعت له فيه تحريفات وتصحيفات وأخطاء استدركها صاحبنا الدكتور بنيامين أورال الأستاذ بجامعة أنقرة في نشرته الجديدة للكتاب، وقد راجعته قبل أن يقدم للطبع من أوله لآخره، وكتبت له مقدمة حافلة وهي نافعة إن شاء الله في بابها، وتم طبعه في مؤسسة الرسالة.
মুহাম্মদ ইবন হুমাইদ আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমারাহ ইবনুল কাকা থেকে, তিনি বলেন: ইবরাহিম আন-নাখায়ি আমাকে বলেছেন: তুমি যখন আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করবে, তখন আবু জুরআহ ইবন আমর ইবন জারির থেকে বর্ণনা করবে; কেননা তিনি আমাকে একবার একটি হাদীস শুনিয়েছিলেন, তারপর আমি বহু বছর পর তাকে সেই বিষয়ে পুনরায় জিজ্ঞেস করলে তিনি তার একটি অক্ষরও কমবেশি করেননি।

আবু হাফস আমর ইবন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবরাহিমকে বললাম: সালিম ইবন আবিল জাদ কেন আপনার চেয়েও পূর্ণাঙ্গভাবে হাদীস বর্ণনা করেন? তিনি বললেন: কারণ তিনি লিখে রাখতেন।

আবদুল জব্বার ইবনুল আলা ইবন আবদিল জব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল মালিক ইবন উমায়ের বলেছেন: নিশ্চয়ই আমার কাছে যখন কোনো হাদীস বর্ণনা করা হয়, আমি তার থেকে একটি অক্ষরও বাদ দিই না।

হুসাইন ইবন মাহদি আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের নিকট কাতাদাহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার কান কখনো এমন কিছু শোনেনি যা আমার অন্তর সংরক্ষণ করেনি।

সাঈদ ইবন আবদুর রহমান আল-মাখজুমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান ইবন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবন দিনার থেকে, তিনি বলেন: আমি আয-যুহরি অপেক্ষা হাদীস বর্ণনায় অধিক নিপুণ আর কাউকে দেখিনি।

ইবরাহিম ইবন সাঈদ আল-জাওহারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান ইবন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,

--------------------------------------------

= আমি বলছি: এটি হলো "আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাসতাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ" নামক গ্রন্থ। এটি উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে। এতে তাঁর কিছু বিকৃতি, মুদ্রণ প্রমাদ ও ভুল সংঘটিত হয়েছিল, যা আমাদের বন্ধু আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডক্টর বুনইয়ামিন ওরালি কিতাবটির নতুন সংস্করণে সংশোধন করেছেন। এটি প্রেসে দেওয়ার আগে আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যালোচনা করেছি এবং এর জন্য একটি তথ্যবহুল ভূমিকা লিখেছি, যা ইনশাআল্লাহ এই বিষয়ে উপকারী হবে। এটি মুআসসাসাতুর রিসালাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৩)
قال: قال أيُّوبُ السَّخْتيانيُّ: ما عَلمْتُ أحدًا كان أعلمَ بِحديثِ أهلِ المدينةِ بعد الزُّهْريَّ من يحيى بن أبي كثيرٍ.

حدَّثنا محمدُ بن إسماعيلَ، حدَّثنا سليمانُ بنُ حَرْبٍ، حدَّثنا حَمَّادُ بنُ زيدٍ، قال: كان ابن عَوْنٍ يُحدَّثُ، فإذا حَدَّثْتُه عن أيُّوبَ بِخلافهِ تَركهُ، فأقولُ: قد سَمِعتَهُ، فيقولُ: إنَّ أيُّوبَ أعْلمُنا بِحديثِ محمد بن سيرينَ.

حدَّثنا أبو بكرٍ، عن عليَّ بن عبد اللهِ، قال: قلتُ ليحيى بن سعيدٍ: أيُّهُما أثْبتُ، هشامٌ الدَّسْتُوائيُّ أو مِسْعرٌ؟ قال: ما رأيتُ مِثْلَ مِسْعرٍ، كَان مِسْعرٌ من أثْبتِ النَّاسِ.

حدَّثنا أبو بكرٍ عبد القدُّوسِ بن محمدٍ، قال: حدَّثَني أبو الوليدِ، قال: سَمعتُ حَمَّادَ بن زيدٍ يقولُ: ما خَالَفني شُعبةُ في شيءٍ إلا تَركْتُه.

قال: قال أبو بكرٍ: وحدَّثني أبو الوليدِ، قال: قال لي حَمَّادُ بن سلمةَ: إنْ أرَدْتَ الحديثَ، فَعليْكَ بِشُعبةَ.

حدَّثنا عبدُ بن حُمَيدٍ، حدَّثنا أبو داودَ، قال: قال شعبةُ: ما رَوَيْتُ عن رجلٍ حديثًا واحدًا إلا أتَيتُه أكثرَ من مَرَّةٍ، والّذِي رَويْتُ عنه عَشرةَ أحاديثَ أتَيتُه أكثرَ من عَشْرِ مِرارٍ، والّذي رَوَيْتُ عنه خَمْسينَ حديثًا أتَيتُه أكْثرَ من خَمْسينَ مَرَّةً، والّذي رَوَيْتُ عنه مئةً أتَيتُه أكثرَ من مِئةِ مَرَّةٍ، إلا حَيَّانَ البارقيَّ فإنَّي سَمِعتُ منه هذه الأحاديثَ، ثمَّ عُدْتُ إليه فوجَدْتُه قد ماتَ.

حدَّثنا محمدُ بن إسماعيلَ، حدَّثنا عبد اللهِ بن أبي الأسودِ،
তিনি বলেন: আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি বলেছেন: যুহরীর পর মদিনাবাসীদের হাদিস সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের চেয়ে বেশি জ্ঞানী কাউকে আমি জানি না।

মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আউন হাদিস বর্ণনা করতেন; অতঃপর আমি যখন আইয়ুবের বরাতে তাঁর বর্ণনার বিপরীত কিছু উল্লেখ করতাম, তিনি তা বর্জন করতেন। আমি বলতাম: আপনি তো এটি শুনেছেন; তখন তিনি বলতেন: আইয়ুব আমাদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে সিরিনের হাদিস সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত।

আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে জিজ্ঞাসা করলাম: হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ী এবং মিস'আর—এই দুইজনের মধ্যে কে অধিক নির্ভরযোগ্য? তিনি বললেন: আমি মিস'আরের মতো কাউকে দেখিনি, মিস'আর ছিলেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।

আবু বকর আবদুল কুদ্দুস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাম্মাদ ইবনে যাইদকে বলতে শুনেছি: কোনো বিষয়ে শু'বাহ আমার বিরোধিতা করলে আমি তা ছেড়ে দিতাম।

তিনি বলেন: আবু বকর বলেছেন: আবুল ওয়ালিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাকে বলেছেন: তুমি যদি হাদিস অন্বেষণ করতে চাও, তবে তোমার জন্য শু'বাহকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক।

আবদ ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ বলেছেন: আমি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে একটি মাত্র হাদিসও বর্ণনা করিনি যার কাছে আমি একধিকবার যাইনি। আর যার থেকে দশটি হাদিস বর্ণনা করেছি, তার কাছে দশবারেরও বেশি গিয়েছি। যার থেকে পঞ্চাশটি হাদিস বর্ণনা করেছি, তার কাছে পঞ্চাশবারেরও বেশি গিয়েছি। আর যার থেকে একশটি হাদিস বর্ণনা করেছি, তার কাছে একশবারেরও বেশি গিয়েছি। তবে হাইয়ান আল-বারিকী ব্যতীত; কেননা আমি তাঁর থেকে এই হাদিসগুলো শুনেছি, এরপর যখন পুনরায় তাঁর কাছে ফিরে গেলাম, তখন তাঁকে মৃত অবস্থায় পেলাম।

মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবিল আসওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৪)
حدَّثنا ابن مَهْديًّ، قال: سمعتُ سفيانَ يقولُ: شُعبةُ أميرُ المؤمنينَ في الحديثِ(1).

حدَّثنا أبو بكرٍ، عن عليَّ بن عبد اللهِ، قال: سَمِعتُ يحيى بن سعيدٍ يقولُ: ليسَ أحدٌ أحبَّ إليَّ من شُعبةَ، ولا يَعْدلُهُ أحدٌ عِنْدي، وإذا خَالفَهُ سفيانُ، أخَذْتُ بقولِ سفيانَ.

قال عليٌّ: قلتُ لِيحيى: أيُّهُما كان أحفظَ للأحاديثِ الطِّوالِ، سفيانُ أو شُعبةُ؟ قال: كان شُعبةُ أمرَّ فِيها. قال يحيى: وكانَ شُعبةُ

--------------------------------------------

(1) رجاله ثقات، عبد الله بن أبي الأسود: هو عبد الله بن محمد بن أبي الأسود البصري أبو بكر ثقة حافظ احتج به البخاري، وسفيان هو الثوري، وأخرجه ابن أبي حاتم في تقدمة "الجرح والتعديل" 1/ 126 عن أبيه، عن أبي بكر عبد الله بن أبي الأسود به.

وشعبة: هو أبو بسطام شعبة بن الحجاج الواسطي ثم البصري المولود سنة 82 هـ والمتوفى سنة 160 هـ، ثقة حافظ متقن، وهو أول من فتش بالعراق عن الرجال، ووسع الكلام في الجرح والتعديل، واتصال الأسانيد وانقطاعها، ونقب عن دقائق علم العلل، وأئمة هذا الشأن من بعدُ تبعٌ له في هذا العلم، وهذا اللقب (أمير المؤمنين في الحديث) هو أعلى ألقاب الرواية عند المحدثين يعنون به أن صاحبه قد برع أهل زمانه في علم الحديث رواية ودراية، وقد فسر ابن أبي حاتم وصف شعبة بأمير المؤمنين في الحديث بقوله: يعني فوق العلماء في زمانه.

وقد ألف صديقنا المفضال الأستاذ العلامة الشيخ عبد الفتاح أبو غدة رحمه الله رسالة وجيزة، أدرج فيها أسماء المحدثين الذين قيل في أحدهم: أمير المؤمنين في الحديث، جمع فيها من وصف بهذا اللقب، واقتصر على ذكر اسمه وتاريخ ولادته ووفاته، واسم بلده واسم الواصف له بهذا اللقب، وعلى ذكر اسم المصدر الوارد فيه ذلك، وهي نفيسة في بابها.
ইবনে মাহদী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি: শু'বাহ হাদীস শাস্ত্রে আমিরুল মু'মিনীন(১)।

আবু বকর আমাদের কাছে আলী ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: শু'বাহর চেয়ে অধিক প্রিয় আমার কাছে আর কেউ নেই এবং আমার কাছে কেউ তাঁর সমকক্ষ নয়; তবে সুফিয়ান যদি তাঁর বিরোধিতা করেন, তবে আমি সুফিয়ানের বক্তব্য গ্রহণ করি।

আলী বলেন: আমি ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞেস করলাম: দীর্ঘ হাদীসসমূহ মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে কে অধিক পারদর্শী ছিলেন, সুফিয়ান না কি শু'বাহ? তিনি বললেন: শু'বাহ এই ক্ষেত্রে অধিক সুদৃঢ় ছিলেন। ইয়াহইয়া বলেন: আর শু'বাহ ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল আসওয়াদ: তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিল আসওয়াদ আল-বাসরী আবু বকর; তিনি নির্ভরযোগ্য হাফিজ, ইমাম বুখারী তাঁর বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আর সুফিয়ান হলেন আস-সাওরী। ইবনে আবি হাতিম এটি তাঁর 'আল-জারহু ওয়াত-তাদীল' গ্রন্থের ভূমিকা ১/১২৬ পৃষ্ঠায় তাঁর পিতার সূত্রে, আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর শু'বাহ: তিনি হলেন আবু বিসতাম শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ আল-ওয়াসিতী, পরবর্তীতে আল-বাসরী; তিনি ৮২ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৬০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় হাফিজ। তিনি ইরাকে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে সর্বপ্রথম অনুসন্ধান শুরু করেন এবং জারহ-তাদীল ও সনদের নিরবচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতা বিষয়ে আলোচনা প্রসারিত করেন। তিনি ইলমে ইলাল (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান)-এর সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উদ্ঘাটন করেছেন। এই বিষয়ের পরবর্তী ইমামগণ তাঁরই অনুসারী। আর এই উপাধি (হাদীস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন) হলো মুহাদ্দিসদের নিকট বর্ণনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উপাধি; এর মাধ্যমে তাঁরা বুঝিয়েছেন যে, এর অধিকারী ব্যক্তি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে হাদীসের বর্ণনা ও গবেষণায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। ইবনে আবি হাতিম শু'বাহকে 'হাদীসে আমিরুল মুমিনীন' বলার ব্যাখ্যায় বলেছেন: অর্থাৎ তিনি তাঁর সমসাময়িক আলেমদের ঊর্ধ্বে ছিলেন।

আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় বন্ধু উস্তাদ আল্লামা শাইখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রাহিমাহুল্লাহ) একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা রচনা করেছেন, যাতে তিনি সেই সকল মুহাদ্দিসের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাদের সম্পর্কে 'হাদীসে আমিরুল মুমিনীন' বলা হয়েছে। তিনি এই উপাধিতে ভূষিত ব্যক্তিদের একত্রিত করেছেন এবং কেবল তাঁদের নাম, জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ, দেশের নাম, কে তাঁকে এই উপাধি দিয়েছেন তাঁর নাম এবং যে উৎসে এটি বর্ণিত হয়েছে তার নাম উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এটি নিজ বিষয়ের একটি অত্যন্ত মূল্যবান কাজ।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৫)
أعلمَ بالرِّجالِ؛ فُلانٌ عن فُلانٍ، وكان سفيانُ صاحبَ أبوابٍ.

حدَّثنا أبو عمَّارٍ الحسينُ بن حُرَيْثٍ، قال: سمعتُ وكيعًا يقولُ: قال شُعبةُ: سفيانُ أحفظ مِنَّي، ما حَدَّثني سفيانُ عن شَيخٍ بشيءٍ فسألْتُه إلا وجَدتُه كما حدَّثني.

[حدَّثنا عمرُو بن عليًّ، قال: سمعتُ عبد الرحمنِ بن مَهْديًّ يقولُ: الأئِمةُ في الأحاديثِ أرْبعةٌ: سفيانُ الثّوْريُّ، ومالكُ بن أنسٍ، والأوزاعيُّ(1)، وحمَّادُ بن زيدٍ](2).

--------------------------------------------

(1) هو عبد الرحمن بن عمرو بن يُحْمَد الشامي، شيخ الإسلام، وعالم أهل الشام وفقيههم، أبو عمرو الأوزاعي المولود سنة 88 هـ، كان يسكن دمشق خارج باب الفراديس (ويقال له الآن: باب العمارة) بمحلة الأوزاع وهي العُقيبة الصغيرة، ثم تحول إلى بيروت فسكنها مرابطًا إلى أن مات بها.

كان الأوزاعي من كبار أئمة الفقه المجتهدين في عصره، وكان مذهبه معمولًا به متبعًا.

قال صاحب "الإرشاد" 1/ 198: أجاب عن ثمانين ألف مسألة في الفقه من حفظه.

وقال الإمام الذهبي: كان أهل الشام ثم أهل الأندلس على مذهب الأوزاعي مدة من الدهر، ثم فني العارفون به، وبقي منه ما يوجد في كتب الخلاف.

ووصفه السيوطي في "تدريب الراوي" بأنه من أصحاب المذاهب المتبوعة، وكان له مقلدون بالشام نحوًا من مئتي سنة.

وحديثه في دواوين السنة، والمسانيد، وهو ثقة ثبت جليل مأمون، من رجال "التهذيب"، قال ابن سعد: مات سنة سبع وخمسين ومئة في آخر خلافة أبي جعفر.

(2) ما بين معقوفين لم يرد في أصولنا الخطية، وأثبتناه من النسخة التي اعتمدها الحافظ ابن رجب في شرحه لـ "العلل" 1/ 156.
তিনি বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন; অমুক থেকে অমুক সূত্রে, আর সুফিয়ান ছিলেন অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসের পারদর্শী।

আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরায়স আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াকি'কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: শু'বাহ বলেছেন: সুফিয়ান আমার চেয়েও অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (হিফযকারী)। সুফিয়ান কোনো শাইখ থেকে আমার কাছে যা বর্ণনা করেছেন, পরবর্তীতে আমি যখন সেই শাইখকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি, তখন তাকে ঠিক তেমনই পেয়েছি যেমনটি সুফিয়ান আমার নিকট বর্ণনা করেছিলেন।

[আমর ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি: হাদীস শাস্ত্রের ইমাম হলেন চারজন: সুফিয়ান আস-সাওরী, মালিক ইবনে আনাস, আওযাঈ(১) এবং হাম্মাদ ইবনে যায়েদ](২)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আব্দুর রহমান ইবনে আমর ইবনে ইউহমাদ আশ-শামী, শাইখুল ইসলাম, সিরিয়াবাসীদের আলিম ও তাদের ফকীহ, আবু আমর আল-আওযাঈ। তিনি ৮৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দামেস্কের 'বাবুল ফারাদিস'-এর বাইরে (বর্তমানে যাকে 'বাবুল আমারা' বলা হয়) আওযা' নামক মহল্লায় বসবাস করতেন, যা ছোট উকাইবা নামে পরিচিত। এরপর তিনি বৈরুতে চলে যান এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে সীমান্ত প্রহরী (মুরাবিত) হিসেবে অবস্থান করেন।

আওযাঈ তাঁর যুগের ফিকহ শাস্ত্রের বড় মুজতাহিদ ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর মাযহাব প্রচলিত ও অনুসৃত ছিল।

"আল-ইরশাদ" (১/১৯৮) প্রণেতা বলেছেন: তিনি নিজের স্মৃতিশক্তি থেকে ফিকহ শাস্ত্রের আশি হাজার মাসআলার সমাধান দিয়েছিলেন।

ইমাম যাহাবী বলেন: সিরিয়াবাসী এবং পরবর্তীতে আন্দালুসবাসীরা দীর্ঘকাল ইমাম আওযাঈর মাযহাবের ওপর ছিলেন। এরপর এই মাযহাবের অভিজ্ঞ আলিমগণ শেষ হয়ে যান এবং বর্তমানে কেবল মতবিরোধপূর্ণ মাসআলা বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে এর কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে।

সুয়ূতী 'তাদরীবুর রাবী'-তে তাঁকে অনুসৃত মাযহাবসমূহের ইমাম হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং প্রায় দুইশত বছর সিরিয়ায় তাঁর অনুসারী ছিল।

তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহ সুন্নাহর সংকলন ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান। তিনি নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, মহান ও বিশ্বস্ত। তিনি 'আত-তাহযীব' গ্রন্থের রাবীগণের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে সা'দ বলেন: তিনি ১৫৭ হিজরীতে আবু জাফরের খিলাফতের শেষ সময়ে মৃত্যুবরণ করেন।

(২) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটি আমাদের মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই। হাফিয ইবনে রজব তাঁর 'শারহু ইলাল' (১/১৫৬) গ্রন্থে যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন, তা থেকে আমরা এটি সংযোজন করেছি।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৬)
سمعتُ إسحاقَ بن موسى الأنصاريَّ، قال: سمعتُ مَعْنَ بن عيسى، يقولُ: كان مالكُ بن أنس يُشدَّدُ في حديثِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم في الياءِ وَالتّاءِ ونحوهما.

حدَّثنا أبو موسى، قال: حدَّثني إبراهيمُ بن عبد اللهِ بن قُريْمٍ الأنصاريُّ قَاضي المدينةِ، قال: مَرَّ مالكُ بن أنسٍ على أبي حازمٍ وهو جالسٌ، فجازه، فقيلَ له، فقال: إنَّي لم أجِدْ مَوْضعًا أجلسُ فيه، فكرهتُ أنْ آخُذَ حديثَ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وأنا قائمٌ.

حدَّثنا أبو بكرٍ، عن عليَّ بن عبد اللهِ، قال: قال يحيى بن سعيدٍ: مالكٌ، عن سعيدِ بن المُسَيّب، أحبُّ إليَّ من سفيانَ الثَّوْريَّ، عن إبراهيمَ النَّخَعيَّ.

قال يحيى: ما في القومِ أحدٌ أصحَّ حديثًا مِن مالكِ بن أنسٍ، كان مالكٌ إمامًا في الحديثِ.

سَمِعتُ أحمدَ بنَ الحَسنِ يقولُ: سَمِعتُ أحمدَ بنَ حنبلٍ يقولُ: ما رأيتُ بِعَيْنَيَّ مِثْلَ يحيى بنِ سعيدٍ القطّانِ.

قال أحمدُ: وسُئلَ أحمدُ بن حنبلٍ عن وكيعٍ وعبد الرحمنِ بن مَهْديًّ، فقال أحمدُ: وكيعٌ أكبرُ في القلبِ، وعبد الرحمنِ إمامٌ.

سَمِعتُ محمدَ بن عمرِو بن نَبْهانَ بن صَفْوانَ الثَّقَفيَّ البصريَّ يقولُ: سمِعتُ عليَّ بن المَدِينيَّ يقولُ: لو حُلَّفْتُ بين الرُّكْنِ والمقامِ، لَحَلفْتُ إنِّي لم أرَ أحدًا أعلمَ من عبد الرحمنِ بن مَهْديًّ.
আমি ইসহাক ইবন মুসা আল-আনসারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মান ইবন ঈসাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মালিক ইবন আনাস আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে 'ইয়া' এবং 'তা' কিংবা এই জাতীয় বর্ণগুলোর উচ্চারণের পার্থক্যের ব্যাপারেও অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন।

আবু মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মদিনার কাজি ইব্রাহিম ইবন আব্দুল্লাহ ইবন কুরাইম আল-আনসারি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবন আনাস আবু হাজিমের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় দেখলেন তিনি বসা আছেন, কিন্তু মালিক তাঁকে অতিক্রম করে চলে গেলেন। তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আমি বসার মতো কোনো জায়গা পাইনি, আর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস গ্রহণ করাকে আমি অপছন্দ করেছি।

আবু বকর আমাদের নিকট আলী ইবন আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ বলেছেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের সূত্রে মালিকের বর্ণনা আমার নিকট ইব্রাহিম নাখয়ির সূত্রে সুফিয়ান সাওরির বর্ণনার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।

ইয়াহইয়া বলেন: এই জামাতের মধ্যে মালিক ইবন আনাসের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ নেই; মালিক হাদিসের ক্ষেত্রে একজন ইমাম ছিলেন।

আমি আহমদ ইবন আল-হাসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার নিজের চোখে ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তানের মতো আর কাউকে দেখিনি।

আহমদ বলেন: আহমদ ইবন হাম্বলকে ওয়াকি এবং আব্দুর রহমান ইবন মাহদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন আহমদ বলেছিলেন: ওয়াকি অন্তরে অধিক মর্যাদাবান, আর আব্দুর রহমান হলেন ইমাম।

আমি মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন নাবহান ইবন সাফওয়ান আস-সাকাফি আল-বাসরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদিনিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যদি আমাকে রুকন ও মাকামের মাঝে দাঁড়িয়ে কসম করানো হতো, তবে আমি অবশ্যই কসম করে বলতাম যে, আমি আব্দুর রহমান ইবন মাহদির চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে দেখিনি।
(খণ্ড: ٦) কিতাবুল ইলাল আল-ওয়াকি বি-আখিরি জামিয়িত তিরমিযী - ত্ব-আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৭)
قال أبو عيسى: والكلامُ في هذا وَالرَّوايةُ عن أهلِ العلمِ تَكْثُرُ، وإنّما بَيَّنَّا شيئًا منه على الاختصارِ لِيُسْتدَلَّ به على منازلِ أهلِ العلمِ، وتَفاضُلِ بعضهم على بعضٍ في الحِفْظِ والإِتقانِ، ومن تُكلّمَ فيه من أهلِ العلمِ لأيَّ شيءٍ تُكلَّمَ فيهِ.

والقراءةُ على العالمِ إذا كان يَحْفظُ ما يُقْرأُ عليهِ، أو يُمْسِكُ أصْلهُ فِيما يُقْرأُ عليه إذا لم يَحْفظْ، هو صحيحٌ عند أهلِ الحديثِ، مثلُ السَّماعِ(1).

حدَّثنا حسين بن مَهْديًّ البصرِيُّ، حدَّثَنا عبد الرَّزاق، أخبرنا ابن جرَيْجٍ، قال: قَرأْتُ على عطاءِ بن أبي رَباحٍ، فقلتُ له: كيفَ أقولُ؟ فقال: قل: حدَّثنا.

حدَّثنا سُوَيدُ بن نصرٍ، أخبرنا عليُّ بن الحُسينِ بن واقدٍ، عن أبي عِصْمةَ، عن يزيدَ النَّحْويَّ، عن عِكْرمةَ: أنَّ نَفرًا قَدِمُوا على ابن عبَّاسٍ من أهلِ الطّائفِ بكتب من كُتبهِ، فجعلَ يَقْرأُ عليهم، فيُقدَّمُ

--------------------------------------------

(1) قال ابن رجب: وقد اشترط الترمذي لصحة العرض على العالم أن يكون العالم حافظًا لما يعرض عليه، أو يمسك أصله بيده عند العرض عليه إذا لم يكن حافظًا. ومفهوم كلامه أنه إذا لم يكن المعروض عليه حافظًا ولا أمسك بأصله أنه لا تجوز الرواية عنه بذلك العرض. وقد قال أحمد في رواية حنبل: لا بأس بالقراءة إذا كان رجل يعرف ويفهم ويبين ذلك. قال يحيى بن إسماعيل الواسطي: القراءة على مالك بن أنس مثل السماع من غيره. والضرير والأمي إذا لم يحفظا الحديث، فإنه لا تجوز الرواية عنهما ولا تَلْقِينُهُما ولا القراءةُ عليهما من كتاب.
আবু ঈসা বলেন: এ বিষয়ে আলোচনা এবং ইলমের অধিকারীদের থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েত প্রচুর। আমরা এর কিয়দাংশ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি যাতে এর মাধ্যমে ইলমের অধিকারীদের সুউচ্চ মর্যাদা এবং হিফজ (স্মৃতিশক্তি) ও ইতকান (নির্ভুলতা) এর ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে প্রমাণ গ্রহণ করা যায়; আর ইলমের অধিকারীদের মধ্যে যাদের সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে, তা ঠিক কী কারণে করা হয়েছে (তাও যেন স্পষ্ট হয়)।

কোনো আলেমের নিকট পাঠ করা—যদি তিনি যা পাঠ করা হচ্ছে তা মুখস্থ রাখেন, অথবা মুখস্থ না থাকলে পাঠের সময় নিজের নিকট মূল পাণ্ডুলিপিটি রাখেন—তবে মুহাদ্দিসগণের নিকট তা শ্রবণ করার মতোই সঠিক পদ্ধতি।(১)

আমাদের নিকট হুসাইন ইবনে মাহদী আল-বাসরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের ইবনে জুরাইজ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আতা ইবনে আবি রাবাহর নিকট পাঠ করলাম, এরপর তাঁকে বললাম: আমি (বর্ণনার সময়) কীভাবে বলব? তিনি বললেন: তুমি বল, ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’।

আমাদের নিকট সুওয়াইদ ইবনে নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসমাহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ আন-নাহবী থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে: তায়েফবাসীদের একটি দল ইবনে আব্বাসের নিকট তাঁর (বর্ণিত হাদিসের) কিছু কিতাব নিয়ে আসলেন। তখন তিনি তাদের নিকট তা পাঠ করতে লাগলেন, ফলে উপস্থাপন করা হলো

--------------------------------------------

(১) ইবনে রজব বলেন: ইমাম তিরমিযী আলেমের নিকট হাদিস পেশ করার শুদ্ধতার জন্য শর্তারোপ করেছেন যে, সেই আলেমকে তাঁর নিকট যা পেশ করা হচ্ছে তা মুখস্থ রাখতে হবে, অথবা মুখস্থ না থাকলে পেশ করার সময় মূল পাণ্ডুলিপিটি স্বহস্তে রাখতে হবে। তাঁর একথার মর্মার্থ হলো, যদি যার নিকট পেশ করা হচ্ছে তিনি হাফেজ না হন এবং পাণ্ডুলিপিও হাতে না রাখেন, তবে সেইভাবে পেশ করার মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করা জায়েজ হবে না। হাম্বল-এর বর্ণনায় ইমাম আহমাদ বলেছেন: পাঠ করাতে কোনো অসুবিধা নেই যদি সেই ব্যক্তি বিষয়টি জানেন, বোঝেন এবং তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে পারেন। ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাইল আল-ওয়াসিতি বলেন: মালিক ইবনে আনাসের নিকট পাঠ করা অন্য কারো থেকে শ্রবণের মতো। অন্ধ এবং নিরক্ষর ব্যক্তি যদি হাদিস মুখস্থ না রাখেন, তবে তাদের থেকে বর্ণনা করা জায়েজ নয়, তাদের কোনো কিছু মুখে তুলে দেওয়া যাবে না এবং কিতাব দেখে তাদের নিকট পাঠও করা যাবে না।