(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث التي أعل الإمام البخاري متونها بالتناقض القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: الأحاديث التي أعل الإمام البخاري متونها بالتناقض
المؤلف: بسام بن عبد الله بن صالح الغانم العطاوي
الناشر: بحث ضمن العدد 34 من مجلة الحكمة الصادر في محرم 1428 [وهي مجلة علمية شرعية محكمة نصف سنوية تعنى بالبحوث والدراسات الإسلامية وتحقيق المخطوطات]
عدد الأجزاء: 1
أعده للشاملة: محمود الجيزي، مع المقابلة على أصله المطبوع مرتين
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 جُمادَى الأولى 1436
সেই হাদিসসমূহ যেগুলোর মতনকে (মূল পাঠকে) ইমাম বুখারী বৈপরীত্যের কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন বিভাগ: হাদিসের ত্রুটি (ইলাল) ও প্রশ্নাবলি
বই: সেই হাদিসসমূহ যেগুলোর মতনকে (মূল পাঠকে) ইমাম বুখারী বৈপরীত্যের কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন
লেখক: বাসসাম বিন আব্দুল্লাহ বিন সালেহ আল-গানিম আল-আতাউয়ি
প্রকাশক: হিকমাহ জার্নালের ৩৪তম সংখ্যায় প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ, যা ১৪২৮ হিজরির মহররম মাসে প্রকাশিত হয়েছে [এটি একটি দ্বিবার্ষিক পিয়ার-রিভিউড শরয়ী বৈজ্ঞানিক জার্নাল যা ইসলামি গবেষণা, অধ্যয়ন এবং পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা নিয়ে কাজ করে]
খণ্ড সংখ্যা: ১
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: মাহমুদ আল-জিজি، মূল মুদ্রিত কপির সাথে দুইবার যাচাইপূর্বক
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ জুমাদাল উলা ১৪৩৬ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث
التي أعل الإمام البخاري متونها بالتناقض
للدكتور
بسام بن عبد الله بن صالح الغانم العطاوي (معاصر)
رئيس قسم الدراسات الإسلامية في كلية المعلمين في الدمام
بحث ضمن العدد 34 من مجلة الحكمة (*)
الصادر في محرم 1428
[الترقيم موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
أعده للشاملة مع المقابلة على أصله المطبوع مرتين:
//محمود الجيزي - عفا الله عنه//
--------------------------------------------
হাদীসসমূহ
যার মতন ইমাম বুখারী বৈপরীত্যের কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন
ডক্টর
বাসসাম বিন আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আল-গানিম আল-আতাউয়ী (সমসাময়িক)
দাম্মাম টিচার্স কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান
মাজাল্লাতুল হিকমাহ-র ৩৪তম সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত গবেষণা (*)
যা মুহাররম ১৪২৮ হিজরিতে প্রকাশিত
[পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
মূল মুদ্রণ কপির সাথে দুইবার যাচাইপূর্বক এটি শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন:
//মাহমুদ আল-জিজি - আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন//
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسلام الأتمان الأكملان علي رسوله الأمين وعلي آله وأصحابه وأتباعه بإحسان إلي يوم الدين.
أما بعد:
فإنّ الله تعالي وعد بحفظ هذا الدين فقال: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (9)} [الحجر: 9]، وقد صدق الله وعده،
{وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ} [التوبة: 111]، فحفظ لنا دينه، وأتمّ علينا نعمته.
وإن مما حفظ الله به الدين أولئك العلماء الحفاظ الذين أفنوا أعمارهم، وبذلوا مُهجهم وأموالهم لحفظ الدين وصيانة الشريعة.
وإن من أعظم أولئك الأعلام الإمام أبا عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم البخاري، المتوفي ليلة عيد الفطر سنة ست وخمسين ومائتين، صاحب «الصحيح» الذي هو أصحّ مصنّف في الحديث.
وثناء الأئمة علي الإمام البخاري في دينه وفضله، وشهادتهم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য। এবং তাঁর বিশ্বস্ত রাসুলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই দ্বীন সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষণকারী।} [হিজর: ৯]। আর আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য করেছেন,
{আর আল্লাহর চেয়ে তাঁর অঙ্গীকার পালনে অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে?} [তাওবাহ: ১১১]। ফলে তিনি আমাদের জন্য তাঁর দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন এবং আমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন।
আর আল্লাহ যে উপায়ে দ্বীন সংরক্ষণ করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল আলেম ও হাফেজগণ, যারা এই দ্বীন সংরক্ষণ এবং শরীয়তের হেফাযতের জন্য নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং নিজেদের প্রাণ ও সম্পদ ব্যয় করেছেন।
আর সেই সকল মহান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আল-বুখারী, যিনি ২৫৬ হিজরী সনের ঈদুল ফিতরের রাতে মৃত্যুবরণ করেন; তিনি ‘সহীহ’ (গ্রন্থের) সংকলক, যা হাদীস শাস্ত্রের সর্বাধিক বিশুদ্ধ সংকলন।
ইমাম বুখারীর দ্বীনদারি ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে ইমামগণের প্রশংসা এবং তাঁদের সাক্ষ্য...
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
برسوخه في العلم عموما وفي الحديث خصوصا كثير جدًا، وهو مذكور في مظانّه المعروفة.
قال النووي رحمه الله في أول شرحه علي «صحيح البخاري»: واعلم أن وصف البخاري رضي الله تعالي عنه بارتفاع المحل والتقدم في هذا العلم علي الأماثل والأقران متفق عليه فيما تأخر وتقدم من الأزمان، ويكفي في فضله أن معظم من أثني عليه ونشر مناقبه شيوخه الأعلام المبرزون والحذاق المتقنون
… إلي أن قال: ويوضح لك ذلك ما أشرت إليه من أقوال أعلام أئمة المسلمين أولي الورع والدين، والحفاظ النقاد المتقنين، الذين لا يجازفون في العبارات بل يتأملونها، ويحررونها، ويحافظون علي صيانتها أشد المحافظات (1).
وقال ابن حجر رحمه الله بعد أن ذكر جملة من أقوال الأئمة المتقدمين في الثناء علي الإمام البخاري: ولو فتحت باب ثناء الأئمة عليه ممن تأخر عن عصره لفني القرطاس، ونفدت الأنفاس؛ فذاك بحر لا ساحل له (2).
وهذا كله يبين ما لأحكام البخاري علي الأحاديث من المنزلة الرفيعة والشأن العظيم والنصيب الأوفي من الصواب.
قال ابن حجر: لا ريب في تقديم البخاري ثم مسلم علي أهل عصرهما ومن بعده من أئمة هذا الفن في معرفة الصحيح والمعلل (3).
وقد أردت في هذا البحث أن أبرز أحد الأسس التي يقوم عليها منهج الإمام البخاري رحمه الله في نقد متن الحديث، وهو التحقق من سلامة معني المتن من مناقضة الأمور الثابتة في الكتاب أو السنة ومخالفة الحقائق التاريخية والعقلية؛ إذ لا يمكن أن يكون الحديث صحيحًا مع وجود تلك المناقضة أو المخالفة في متنه.
وقد جمعت من كتب الإمام البخاري
--------------------------------------------
সাধারণভাবে ইলমে এবং বিশেষভাবে ইলমে হাদিসে তাঁর গভীর বুৎপত্তি অত্যন্ত বেশি এবং তা সুপরিচিত উৎসগুলোতে বর্ণিত আছে।
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'সহীহ বুখারী'র ব্যাখ্যার শুরুতে বলেন: "জেনে রাখুন, ইমাম বুখারী (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু)-এর উচ্চ মর্যাদা এবং এই বিদ্যায় তাঁর সমসাময়িক ও অগ্রজদের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি অতীত ও বর্তমান সর্বকালের আলেমদের নিকট ঐকমত্যপূর্ণ। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, যারা তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর গুণাবলি প্রচার করেছেন, তাদের অধিকাংশ ছিলেন তাঁরই প্রখ্যাত শিক্ষকবৃন্দ এবং সুদক্ষ বিশেষজ্ঞগণ
… এরপর তিনি বলেন: "মুসলিম উম্মাহর পরহেযগার ও ধর্মপ্রাণ ইমামগণ এবং সুদক্ষ হাফেজ ও সমালোচকদের বাণী থেকে আমি যা উল্লেখ করেছি, তা আপনার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেবে; যারা কথাবার্তায় অতিরঞ্জন করেন না, বরং তা গভীরভাবে চিন্তা করেন, পরিমার্জিত করেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তা সংরক্ষণ করেন" (১)।
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম বুখারীর প্রশংসায় পূর্ববর্তী ইমামদের একগুচ্ছ বক্তব্য উল্লেখ করার পর বলেন: "যদি আমি তাঁর পরবর্তী যুগের ইমামদের তাঁর প্রশংসার দ্বার উন্মোচন করতাম, তবে কাগজ ফুরিয়ে যেত এবং নিশ্বাস শেষ হয়ে যেত; কারণ সেটি এমন এক সমুদ্র যার কোনো তীর নেই" (২)।
এই সবকিছুই হাদিসের ওপর ইমাম বুখারীর সিদ্ধান্তের সুউচ্চ মর্যাদা, মহান গুরুত্ব এবং সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর বিশাল অংশকে সুস্পষ্ট করে।
ইবনে হাজার বলেন: "সহীহ এবং ত্রুটিযুক্ত (মুআল্লাল) হাদিস চেনার ক্ষেত্রে বুখারী এবং এরপর মুসলিমকে তাঁদের সমসাময়িক এবং তাঁদের পরবর্তী এই শাস্ত্রের ইমামদের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই" (৩)।
আমি এই গবেষণায় ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর হাদিসের মতন (মূল পাঠ) পর্যালোচনার পদ্ধতির অন্যতম একটি ভিত্তি তুলে ধরতে চেয়েছি। আর তা হলো—কুরআন বা সুন্নাহর সুসাব্যস্ত বিষয়ের সাথে মতনের অর্থের বৈপরীত্য এবং ঐতিহাসিক ও যৌক্তিক সত্যের পরিপন্থী হওয়া থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টি যাচাই করা। কারণ, মতনের মধ্যে এই ধরনের বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি বিদ্যমান থাকলে সেই হাদিস সহীহ হওয়া সম্ভব নয়।
আমি ইমাম বুখারীর কিতাবসমূহ থেকে সংগ্রহ করেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৭)
الأحاديث والآثار التي أعلّها مصرحا بعلة في متنها من جهة المعني، تمنع من الحكم عليها بالصحة، لمناقضتها ما ثبت في موضوع ذلك المتن.
وذكرت تلك الأحاديث في هذا البحث دون الأحاديث التي أعلّها بعلة في متنها، أشار إليها دون تصريح بها. فقد يعلّ البخاري حديثا بعبارة مجملة يفهم منها أهل هذا العلم - بحكم الخبرة والممارسة - أن البخاري يشير إلي علة في المتن. وغالب الأحاديث التي أعلّها البخاري من جهة متنها أعلّها أيضا من جهة سندها، وهذا يدل علي ما بين صحة المتن وصحة السند من ملازمة، بمعني أن وجود علة في المتن يقتضي وجود علة في السند، وقد تكون واضحة، وقد تكون خفية لا يفطن لها إلا الراسخون في هذا العلم. وذلك أن العلة في المتن لا بد لها من مصدر، ومصدرها لا بد أن يكون من رواة هذا المتن، ورواة المتن هم السند.
وقد جعلت الأحاديث التي أعلّها البخاري خمسة أقسام، وهي:-
القسم الأول: الأحاديث التي أعلّها البخاري بمناقضة متونها السنة الصحيحة.
القسم الثاني: الأحاديث التي أعلّها البخاري بمناقضة متونها ما صح من رواية أصحابها أنفسهم.
القسم الثالث: الأحاديث التي أعلّها البخاري بمناقضة متونها عمل الصحابة.
القسم الرابع: الأحاديث التي أعلّها البخاري بمناقضة متونها رأي من رواها ومذهبه.
القسم الخامس: الأحاديث التي أعلّها البخاري بمناقضة متونها الواقع.
وخصصت القسم السادس للآثار التي أعلّها البخاري بمناقضة متونها ما ثبت عن أصحابها.
সেই সব হাদীস ও আসার যেগুলোকে তিনি অর্থের দিক থেকে সেগুলোর মতনে (মূল পাঠে) বিদ্যমান ত্রুটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন, সেগুলোকে সহীহ হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়; কারণ সেগুলো উক্ত মতনের বিষয়ে যা প্রমাণিত তার সাথে সাংঘর্ষিক।
এই গবেষণায় কেবল সেই হাদীসগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলোর মতনের ত্রুটি তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন; তবে সেই হাদীসগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি যেগুলোর মতনের ত্রুটির দিকে তিনি কেবল ইঙ্গিত করেছেন কিন্তু স্পষ্টভাবে বলেননি। কেননা ইমাম বুখারী কখনও কোনো হাদীসকে এমন কিছু সংক্ষিপ্ত শব্দ দ্বারা ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেন যা থেকে এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ—দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও নিরন্তর চর্চার মাধ্যমে—বুঝতে পারেন যে ইমাম বুখারী এখানে মতনের কোনো একটি ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করছেন। ইমাম বুখারী মতনের দিক থেকে যেসব হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন, সেগুলোর অধিকাংশকেই তিনি সনদের দিক থেকেও ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। এটি মতনের বিশুদ্ধতা এবং সনদের বিশুদ্ধতার মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের প্রমাণ দেয়। অর্থাৎ মতনে কোনো ত্রুটি থাকার অর্থই হলো সনদেও কোনো ত্রুটি বিদ্যমান থাকা; যা কখনও স্পষ্ট হতে পারে, আবার কখনও এতটাই সূক্ষ্ম হতে পারে যে এই বিদ্যায় অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা অনুধাবন করতে পারে না। এর কারণ হলো, মতনের ত্রুটির অবশ্যই কোনো উৎস থাকে, আর সেই উৎস অবশ্যই এই মতনের বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকেই কেউ হবে; আর এই বর্ণনাকারীদের ধারাটিই হলো সনদ।
ইমাম বুখারী যেসব হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন, আমি সেগুলোকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছি, যথা:-
প্রথম ভাগ: যেসব হাদীসের মতন সহীহ সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে ইমাম বুখারী সেগুলোকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন।
দ্বিতীয় ভাগ: যেসব হাদীসের মতন স্বয়ং ওই বর্ণনাকারীদের থেকে প্রমাণিত সহীহ বর্ণনার পরিপন্থী হওয়ার কারণে ইমাম বুখারী সেগুলোকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন।
তৃতীয় ভাগ: যেসব হাদীসের মতন সাহাবায়ে কেরামের আমলের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে ইমাম বুখারী সেগুলোকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন।
চতুর্থ ভাগ: যেসব হাদীসের মতন বর্ণনাকারীর নিজস্ব মতামত ও মাযহাবের পরিপন্থী হওয়ার কারণে ইমাম বুখারী সেগুলোকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন।
পঞ্চম ভাগ: যেসব হাদীসের মতন বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে ইমাম বুখারী সেগুলোকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন।
আর ষষ্ঠ ভাগটি আমি সেই সব আসারের জন্য নির্দিষ্ট করেছি যেগুলোর মতন সেগুলোর বর্ণনাকারীদের থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে তার পরিপন্থী হওয়ার কারণে ইমাম বুখারী সেগুলোকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৮)
وقد خرّجت الأحاديث، وبيّنت وجه إعلال البخاري إياها، وذكرت علل أسانيدها، ونقلت من كلام الأئمة في ذلك كله ما رأيت الحاجة داعية إلي نقله لبيان مقصود البحث.
وأسأل الله تعالي بأسمائه وصفاته أن يجعل هذا البحث خالصا لوجه نافعا لخلقة.
আমি হাদিসসমূহ তাখরিজ করেছি এবং ইমাম বুখারী সেগুলোকে যে পদ্ধতিতে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন তা বর্ণনা করেছি, তাদের বর্ণনাসূত্রসমূহের ত্রুটিগুলো উল্লেখ করেছি এবং এই সব বিষয়ে গবেষণার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি ইমামগণের বক্তব্য থেকে যা কিছু উদ্ধৃত করা প্রয়োজন মনে করেছি তা উল্লেখ করেছি।
আর আমি মহান আল্লাহর কাছে তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির অসিলায় প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই গবেষণাকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং একে তাঁর সৃষ্টির জন্য উপকারী করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৯)
القسم الأول: الأحاديث التي أعلّها البخاري بمناقضة متونها السنة الصحيحةمن المقاييس التي استعملها المحدثون في نقد المتن عرض المتن علي السنة الصحيحة (1)، فكانوا يستدلّون علي ضعف الخبر بمناقضة متنه السنة الصحيحة؛ لاستحالة وقوع التناقض في أخبار الله تعالي وأخبار رسوله صلي الله عليه وسلم كما قال تعالي: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا (82)} [النساء: 82].
قال الخطيب البغدادي: وكل خبرين عُلم أن النبي صلي الله عليه وسلم تكلّم بهما فلا يصح دخول التعارض فيهما علي وجه، وإن كان ظاهرهما متعارضين؛ لأن معني التعارض بين الخبرين والقرآن من أمر ونهي وغير ذلك أن يكون موجب أحدهما منافيا لموجب الآخر، وذلك يبطل التكليف إن كانا أمرًا ونهيًا وإباحة وحظرًا، أو يوجب كون أحدهما صدقًا والآخر كذبًا إن كانا خبرين، والنبي صلي الله عليه وسلم منزّه عن ذلك أجمع معصوم منه باتفاق الأمة (2).
وقال أيضا: "وكل خبر واحد دل العقل أو نص الكتاب أو الثابت من الأخبار أو الإجماع أو الأدلة الثابتة المعلومة علي صحته وجد خبر آخر يعارضه فإنه يجب اطراح ذلك المعارض، والعمل بالثابت الصحيح اللازم؛ لأن العمل بالمعلوم واجب علي كل حال (3).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সহীহ সুন্নাহর সাথে ভাষ্যের (মতন) বৈপরীত্যের কারণে ইমাম বুখারী যে হাদীসগুলোকে ত্রুটিযুক্ত গণ্য করেছেনহাদীস বিশারদগণ ভাষ্য (মতন) সমালোচনার ক্ষেত্রে যে সকল মানদণ্ড ব্যবহার করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো মতনকে সহীহ সুন্নাহর সামনে উপস্থাপন করা (১)। তাঁরা কোনো সংবাদের ভাষ্য সহীহ সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার মাধ্যমে সেটির দুর্বলতা সাব্যস্ত করতেন; কারণ মহান আল্লাহর সংবাদ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদে কোনো বৈপরীত্য থাকা অসম্ভব। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে অবশ্যই তারা তাতে অনেক বৈপরীত্য পেত। (৮২)} [সূরা আন-নিসা: ৮২]।
খতীব আল-বাগদাদী বলেছেন: "এমন যে কোনো দুটি সংবাদ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে কোনোভাবেই পরস্পর বিরোধিতা থাকা সঠিক নয়, যদিও বাহ্যিকভাবে সেগুলোকে পরস্পর বিরোধী মনে হয়। কারণ আদেশ, নিষেধ বা অন্য কোনো বিষয়ে দুটি সংবাদের মাঝে অথবা কুরআনের সাথে বৈপরীত্যের অর্থ হলো একটির দাবি অন্যটির দাবির পরিপন্থী হওয়া। আর সেটি যদি আদেশ, নিষেধ, বৈধতা বা নিষিদ্ধতা সংক্রান্ত বিষয় হয় তবে তা শরিয়তের দায়বদ্ধতাকে বাতিল করে দেয়; কিংবা যদি উভয়টি সংবাদ হয় তবে তা একটিকে সত্য এবং অন্যটিকে মিথ্যা হওয়া আবশ্যক করে তোলে। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের ঐকমত্যে এই সবকিছু থেকে পবিত্র ও সংরক্ষিত" (২)।
তিনি আরও বলেছেন: "এমন প্রত্যেকটি খবর-ই ওয়াহিদ যার বিশুদ্ধতার ওপর বিবেক, কিতাবের পাঠ (নস), প্রমাণিত হাদীসসমূহ, ইজমা অথবা সুনিশ্চিত প্রমাণিত দলিলসমূহ প্রমাণ দান করে, তার বিপরীতে যদি অন্য কোনো খবর পাওয়া যায় যা সেটির সাথে সাংঘর্ষিক, তবে সেই পরিপন্থী বিষয়টিকে বর্জন করা এবং সুসাব্যস্ত সঠিক ও অকাট্য দলিলের ওপর আমল করা ওয়াজিব; কারণ সুনিশ্চিত বিষয়ের ওপর আমল করা সর্বাবস্থায় কর্তব্য" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭০)
وقد أعلّ البخاري رحمه الله تعالي أحاديث كثيرة بهذه العلة، وإن كان أكثرها ضعيفا من جهة الإسناد أيضا:
1 - فقد ذكر البخاري في كتابه «الضعفاء الصغير» (1) في ترجمة حشرج بن نباتة أنه سمع سعيد بن جمهان عن سفينة أن النبي صلي الله عليه وسلم قال لأبي بكر وعمر وعثمان: «هؤلاء الخلفاء بعدي»، ثم قال البخاري: وهذا حديث لم يتابع عليه؛ لأن عمر بن الخطاب وعلي بن أبي طالب قالا: لم يستخلف النبي صلي الله عليه وسلم.
وذكر البخاري هذا أيضا في «تاريخه الكبير» (2)، وفي «تاريخه الأوسط» (3).
فقد أعلّ البخاري الحديث بمناقضته الأحاديث الصحيحة التي تنفي أن يكون النبي صلي الله عليه وسلم نص علي تعيين أحد للخلافة بعده.
فقد روى الشيخان في صحيحيهما (4) عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أنه قال: قيل لعمر: ألا تستخلف؟ قال: إن أستخلف فقد استخلف من هو خير مني: أبو بكر، وإن أترك فقد ترك من هو خير مني: رسول الله صلي الله عليه وسلم.
وروى البخاري (5) عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما أن علي بن أبي طالب رضي الله عنه خرج من عند رسول الله صلي الله عليه وسلم في وجعه الذي توفي فيه فقال الناس: يا أبا حسن، كيف أصبح رسول الله صلي الله عليه وسلم؟ فقال: أصبح بحمد الله بارئا. فأخذ بيده عباس بن عبد المطلب فقال له: أنت والله بعد ثلاث عبد العصا (6)، وإني والله لأري رسول الله صلي الله عليه وسلم سوف يتوفي من وجعه هذا؛ إني
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই ত্রুটির কারণে অনেক হাদিসকে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করেছেন, যদিও সেগুলোর অধিকাংশ সনদ বা সূত্রের দিক থেকেও দুর্বল ছিল:
১ - ইমাম বুখারি তাঁর ‘আদ-দুয়াফা আস-সগির’ (১) গ্রন্থে হাশরাজ ইবনে নুবাতাহর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সাঈদ ইবনে জুমহান থেকে, তিনি সাফিনাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকর, উমর এবং উসমান সম্পর্কে বলেছেন: “এরা আমার পরবর্তী খলিফা”, এরপর ইমাম বুখারি বলেন: এটি এমন এক হাদিস যার কোনো সমর্থক বর্ণনা নেই; কারণ উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আলী ইবনে আবি তালিব বলেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাউকে স্থলাভিষিক্ত বা খলিফা নিযুক্ত করে যাননি।
ইমাম বুখারি এটি তাঁর ‘তারিখে কাবির’ (২) এবং ‘তারিখে আওসাত’ (৩) গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন।
ইমাম বুখারি হাদিসটিকে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করেছেন কারণ এটি সেই সহিহ হাদিসগুলোর বিরোধী যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক তাঁর পরবর্তী খিলাফতের জন্য কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করার বিষয়টিকে নাকচ করে।
শাইখাইন তাঁদের সহিহদ্বয়ে (৪) আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: উমরকে বলা হলো, আপনি কি কাউকে খলিফা মনোনীত করবেন না? তিনি বললেন: আমি যদি খলিফা মনোনীত করি, তবে আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি (আবু বকর) তা করেছিলেন। আর যদি আমি তা ত্যাগ করি, তবে আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা ত্যাগ করেছিলেন।
ইমাম বুখারি (৫) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্তিম অসুস্থতার সময় তাঁর কাছ থেকে বের হয়ে এলেন। তখন লোকজন জিজ্ঞেস করল: হে আবু হাসান, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকালে কেমন আছেন? তিনি বললেন: আল্লাহর প্রশংসায় তিনি সুস্থ হয়ে সকাল অতিবাহিত করেছেন। তখন আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব তাঁর হাত ধরলেন এবং তাঁকে বললেন: আল্লাহর কসম, তিন দিন পর তুমি লাঠির দাসে (৬) পরিণত হবে। আল্লাহর কসম, আমি মনে করছি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর এই অসুস্থতাতেই ইন্তেকাল করবেন; আমি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
لأعرف وجوه بني عبد المطلب عند الموت. اذهب بنا إلي رسول الله صلي الله عليه وسلم فلنسأله فيمن هذا الأمر، إن كان فينا علمنا ذلك، وإن كان في غيرنا علمناه فأوصي بنا. فقال علي: إنا والله لئن سألناها رسول الله صلي الله عليه وسلم فمنعناها لا يعطيناها الناس بعده، وإني والله لا أسألها رسول الله صلي الله عليه وسلم.
قال البيهقي في سننه (1): وفي هذا دلالة علي أن النبي صلي الله عليه وسلم لم يستخلف أحدًا بالنص عليه.
وروى أحمد في مسنده (2) حديثا عن عبد الله بن سُبع عن علي رضي الله عنه، وفيه أنهم قالوا له: فاستخلف علينا. قال: لا، ولكن أترككم إلي ما ترككم إليه رسول الله صلي الله عليه وسلم.
وروى ابن أبي عاصم في «السنة» (3) عن أبي وائل شقيق بن سلمة قال: قيل لعلي رضي الله عنه: استخلف علينا. فقال: ما استخلف رسول الله صلي الله عليه وسلم، ولكن إن يرد الله بالناس خيرًا سيجمعهم علي خيرهم، كما جمعهم بعد نبيهم صلي الله عليه وسلم علي خيرهم.
وروى أحمد (4) بسنده عن رجل عن علي رضي الله عنه أنه قال يوم الجمل: «إن رسول الله صلي الله عليه وسلم لم يعهد إلينا عهدًا نأخذ به في الإمارة، ولكنه شيء رأيناه من قبل أنفسنا
…» الحديث (5).
--------------------------------------------
মৃত্যুকালে বনু আবদিল মুত্তালিবের মুখাবয়ব আমি চিনি। আমাদের আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে চলো, যেন আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারি যে এই বিষয়টি কার জন্য। যদি তা আমাদের মধ্যে থাকে তবে আমরা তা জানব, আর যদি তা অন্য কারো মধ্যে থাকে তবে আমরা তা জানব এবং তিনি আমাদের ব্যাপারে ওসীয়ত করবেন। আলী বললেন: আল্লাহর কসম, আমরা যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তা চাই এবং তিনি আমাদের তা না দেন, তবে তাঁর পরে মানুষ আমাদের তা দেবে না; আর আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তা চাইব না।
ইমাম বায়হাকী তাঁর সুনান (১) গ্রন্থে বলেছেন: এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে কাউকে স্থলাভিষিক্ত বা খলীফা মনোনীত করে যাননি।
ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ (২) গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে সুবা’ থেকে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে যে তারা তাঁকে বলেছিল: আপনি আমাদের জন্য কাউকে খলীফা মনোনীত করুন। তিনি বললেন: না, বরং আমি তোমাদেরকে সেই অবস্থার ওপর ছেড়ে যাচ্ছি যে অবস্থার ওপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের ছেড়ে গিয়েছিলেন।
ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' (৩) গ্রন্থে আবু ওয়ায়িল শাকীক ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলা হলো: আমাদের জন্য কাউকে খলীফা মনোনীত করুন। তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে খলীফা মনোনীত করেননি, তবে আল্লাহ যদি মানুষের কল্যাণ চান তবে তিনি অচিরেই তাদেরকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির ওপর একত্রিত করবেন, যেমনটি তিনি তাদের নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরে তাঁদেরকে তাঁদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির ওপর একত্রিত করেছিলেন।
ইমাম আহমদ (৪) তাঁর সনদে জনৈক ব্যক্তি থেকে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জঙ্গে জামালের দিন বলেছিলেন: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নেতৃত্বের ব্যাপারে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাননি যা আমরা গ্রহণ করব, বরং এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সমীচীন মনে করেছি
…» হাদীস (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭২)
وحديث سفينة الذي أعلّه البخاري هنا رواه ابن أبي عاصم في «السنة» (1)، وأبو يعلي الموصلي في مسنده (2)، والحارث بن أبي أسامة في مسنده (3)، وابن حبان في «المجروحين» (4)، وابن عدي في «الكامل» (5) كلهم من طريق حشرج بن نباتة عن سعيد بن جمهان عن سفينة قال: بني رسول الله صلي الله عليه وسلم مسجدًا، فقال لأبي بكر: «ضع حجرًا إلي جنب حجري»، ثم قال لعمر: «ضع حجرًا إلي جنب حجر أبي بكر»، ثم قال لعثمان: «ضع حجرك إلي جنب حجر عمر»، ثم قال: «هؤلاء الخلفاء من بعدي».
وقد تفرد حشرج بن نباتة بهذا الحديث. وحشرج قال فيه ابن حجر: صدوق يهم (6).
وهذا الحديث من أوهامه التي أنكرت عليه (7). فهذا الحديث يناقض الأحاديث الصحيحة التي تنفي أن يكون النبي صلي الله عليه وسلم نص علي تعيين أحد للخلافة بعده، ويناقض عمل الصحابة في اختيارهم أبا بكر وعمر وعثمان رضي الله عنهم للخلافة؛ إذ لم يذكر أحد منهم وقت الاختيار أن النبي صلي الله عليه وسلم نص علي أحد.
وقد سئلت عائشة رضي الله عنها: من كان رسول الله صلي الله عليه وسلم مستخلفا لو استخلفه؟ قالت: أبو بكر. فقيل لها: ثم من بعد أبي بكر؟. قالت: عمر.
--------------------------------------------
সাফিনার যে হাদিসটিকে বুখারি এখানে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন, সেটি বর্ণনা করেছেন ইবন আবি আসিম ‘আস-সুন্নাহ’ (১) গ্রন্থে, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি তার ‘মুসনাদ’ (২) গ্রন্থে, আল-হারিস ইবন আবি উসামা তার ‘মুসনাদ’ (৩) গ্রন্থে, ইবন হিব্বান ‘আল-মাজরুহিন’ (৪) গ্রন্থে এবং ইবন আদি ‘আল-কামিল’ (৫) গ্রন্থে। তারা সকলেই হাশরাজ ইবন নুবাতাহ-এর সূত্রে, তিনি সাঈদ ইবন জুমহান থেকে এবং তিনি সাফিনা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সাফিনা বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি মসজিদ নির্মাণ করলেন। অতঃপর তিনি আবু বকরকে বললেন: “আমার পাথরের পাশে একটি পাথর রাখো।” এরপর উমরকে বললেন: “আবু বকরের পাথরের পাশে একটি পাথর রাখো।” এরপর উসমানকে বললেন: “উমরের পাথরের পাশে তোমার পাথরটি রাখো।” অতঃপর তিনি বললেন: “এরাই আমার পরবর্তী খলিফাগণ।”
হাশরাজ ইবন নুবাতাহ এককভাবে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। হাশরাজ সম্পর্কে ইবন হাজার বলেছেন: তিনি সত্যবাদী, তবে ভুল করেন (৬)।
এই হাদিসটি তার সেই সব ভুলের অন্তর্ভুক্ত যা তার ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে (৭)। এই হাদিসটি ঐসব সহিহ হাদিসের পরিপন্থী যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁর পরবর্তী খিলাফতের জন্য সুনির্দিষ্ট কাউকে মনোনীত করার বিষয়টি অস্বীকার করে। এটি আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.)-কে খিলাফতের জন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের কর্মপদ্ধতিরও বিরোধী; কেননা নির্বাচনের সময় তাদের কেউ উল্লেখ করেননি যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাউকে সুনির্দিষ্ট করে গেছেন।
আয়িশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি কাউকে স্থলাভিষিক্ত করতেন, তবে কাকে করতেন? তিনি বললেন: আবু বকরকে। তাকে বলা হলো: আবু বকরের পর কে? তিনি বললেন: উমর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৩)
ثم قيل لها: من بعد عمر؟. قالت: أبو عبيدة بن الجراح. ثم انتهت إلي هذا (1).
قال النووي: وفيه دلالة لأهل السنة أن خلافة أبي بكر ليست بنص من النبي صلي الله عليه وسلم علي خلافته صريحا، بل أجمعت الصحابة علي عقد الخلافة له وتقديمه؛ لفضيلته. ولو كان هناك نص عليه أو علي غيره لم تقع المنازعة من الأنصار وغيرهم أولا، ولذكر حافظ النص ما معه، ولرجعوا إليه؛ لكن تنازعوا أولا ولم يكن هناك نص، ثم اتفقوا علي أبي بكر واستقرّ الأمر (2).
2 - وروى البخاري في «التاريخ الأوسط» (3) قال: حدثنا آدم قال: حدثنا شعبة عن الحكم قلت لمقسم: إني أوتر بثلاث؟ فقال: لا إلا بخمس أو سبع. فقلت: عمن؟ قال: عن الثقة عن عائشة وميمونة عن النبي صلي الله عليه وسلم.
وقال سفيان: عن منصور عن الحكم عن مقسم عن أم سلمة عن النبي صلي الله عليه وسلم.
ثم قال البخاري مضعفا هذا الحديث: ولا يعرف لمقسم سماع من أم سلمة، ولا ميمونة، ولا عائشة. وقال ابن عمر عن النبي صلي الله عليه وسلم: «صلاة الليل مثني مثني، والوتر ركعة من آخر الليل». وحديث ابن عمر أثبت، وقول النبي صلي الله عليه وسلم ألزم. حدثنا عبد الله بن يوسف قال: أخبرنا مالك عن نافع وعبد الله بن دينار عن عبد الله بن عمر أن رجلا سأل النبي صلي الله عليه وسلم عن صلاة الليل، فقال: «مثني مثني، فإذا خشي أحدكم الصبح صلّي ركعة توتر له ما قد صلّي».
فقد أعلّ البخاري حديث مقسم الذي يمنع من الوتر بثلاث بانقطاع سنده، وبمخالفة متنه السنة الصحيحة التي تصرح بجواز ذلك.
وحديث مقسم رواه أحمد في مسنده (4) قال: حدثنا يحيى عن شعبة
--------------------------------------------
এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: ওমরের পর কে? তিনি বললেন: আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ। এরপর তিনি এখানেই শেষ করলেন (১)।
ইমাম নববী বলেন: এতে আহলে সুন্নতের জন্য এই দলিল রয়েছে যে, আবু বকরের খিলাফত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাঁর খিলাফতের ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট ভাষ্যের (নস) মাধ্যমে ছিল না; বরং সাহাবীগণ তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাঁকে খিলাফতের দায়িত্ব প্রদান এবং অগ্রগণ্য করার ব্যাপারে ঐকমত্য (ইজমা) পোষণ করেছিলেন। যদি তাঁর বা অন্য কারও ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট ভাষ্য (নস) থাকত, তবে আনসার ও অন্যদের পক্ষ থেকে শুরুতে কোনো মতপার্থক্য তৈরি হতো না। আর যাঁর কাছে নস সংরক্ষিত থাকত, তিনি তা উল্লেখ করতেন এবং তাঁরা সকলে সেদিকেই ফিরে যেতেন; কিন্তু তাঁরা শুরুতে মতভেদ করেছিলেন এবং সেখানে কোনো নস ছিল না, এরপর তাঁরা আবু বকরের ব্যাপারে একমত হন এবং বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হয় (২)।
২ - এবং ইমাম বুখারী তাঁর ‘আত-তারীখুল আওসাত’ গ্রন্থে (৩) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের নিকট হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন, আমি মিকসামকে বললাম: আমি কি তিন রাকাত বিতর পড়তে পারি? তিনি বললেন: না, পাঁচ বা সাত রাকাত ছাড়া নয়। আমি বললাম: কার থেকে (বর্ণিত)? তিনি বললেন: একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে, তিনি আয়িশা ও মাইমুনাহ থেকে, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
সুফিয়ান বলেন: মানসুর থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি মিকসাম থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
এরপর ইমাম বুখারী এই হাদিসটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করে বলেন: উম্মে সালামাহ, মাইমুনাহ বা আয়িশা থেকে মিকসামের কোনো শ্রবণ (সিমায়ু) প্রমাণিত নয়। আর ইবনে ওমর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "রাতের সালাত দুই রাকাত দুই রাকাত করে, আর বিতর হলো রাতের শেষভাগে এক রাকাত।" ইবনে ওমরের হাদিসটি অধিকতর সাব্যস্ত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী অধিকতর অনুসরণযোগ্য। আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট নাফে ও আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: "দুই রাকাত দুই রাকাত করে, আর যখন তোমাদের কেউ সুবহে সাদেকের আশঙ্কা করবে, তখন সে যেন এক রাকাত পড়ে নেয়, যা তার পঠিত সালাতকে বিতরে পরিণত করবে।"
সুতরাং ইমাম বুখারী মিকসামের সেই হাদিসটিকে দোষযুক্ত (ইল্লতযুক্ত) সাব্যস্ত করেছেন যা তিন রাকাত বিতর পড়তে নিষেধ করে—তার সনদের বিচ্ছিন্নতা এবং এর মূলপাঠ (মতন) সহীহ সুন্নাহর পরিপন্থী হওয়ার কারণে, যা তিন রাকাতের বৈধতাকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে।
আর মিকসামের হাদিসটি ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৪) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট শু’বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৪)
قال: حدثني الحكم قال: قلت لمقسم: أوتر بثلاث، ثم أخرج إلي الصلاة؛ مخافة أن تفوتني؟ قال: لا وتر إلا بخمس أو سبع. قال: فذكرت ذلك ليحيى بن الجزار ومجاهد، فقالا لي: سله عمن؟ فقلت له، فقال: عن الثقة عن عائشة وميمونة عن النبي صلي الله عليه وسلم.
وأخرجه النسائي (1) من طريق سفيان بن الحسين عن الحكم عن مقسم قال: الوتر سبع فلا أقل من خمس. فذكرت ذلك لإبراهيم فقال: عمن ذكره؟ قلت: لا أدري. قال الحكم: فحججت فلقيت مقسما، فقلت له: عمن؟ قال: عن الثقة عن عائشة وعن ميمونة.
وهذا سند ضعيف، بسبب الرجل المبهم الذي وصفه الحكم بأنه ثقة. وحديث المبهم لا يقبل ولو أبهم بلفظ التعديل كما هو موضح في كتب علوم الحديث (2).
3 - وذكر البخاري في «التاريخ الأوسط» (3) حديث الحكم عن مقسم عن ابن عباس: وقف النبي صلي الله عليه وسلم، وردفه الفضل بعرفة، ثم أفاض فلم أرها (4) رافعة يدها عادية حتي أتي جمعا (5)، قال أسامة: ثم أردفني، ووقف جمعا وردفه أسامة، ثم أفاض يبادر طلوع الشمس فلم أرها رافعة يدها حتي أتي مني، قال: ونحن علي حُمرات لنا، فجعل يضرب أفخاذنا، ويقول: «بني، أفيضوا، ولا ترموا الجمرة حتي تطلع الشمس».
وهذا الحديث رواه أحمد في مسنده (6) عن عثمان بن أبي شيبة عن جرير عن الأعمش عن الحكم عن مقسم عن ابن عباس به بنحوه.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: হাকাম আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মিকসামকে বললাম: আমি কি তিন রাকাআত বিতর পড়ব, তারপর (ফজরের) সালাতের জন্য বেরিয়ে পড়ব এই ভয়ে যে তা আমার ছুটে যেতে পারে? তিনি বললেন: পাঁচ বা সাত রাকাআত ছাড়া কোনো বিতর নেই। তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন আল-জাযযার ও মুজাহিদকে বিষয়টি জানালাম। তাঁরা আমাকে বললেন: তাঁকে জিজ্ঞেস করো, তিনি এটি কার থেকে বর্ণনা করেছেন? আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন: একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে, তিনি আয়েশা ও মাইমুনা থেকে, তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আন-নাসায়ী এটি (১) সুফিয়ান ইবনে আল-হুসাইন-এর সূত্রে হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মিকসাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: বিতর হলো সাত রাকাআত, আর পাঁচ রাকাআতের কম নয়। আমি ইব্রাহিমকে বিষয়টি জানালাম, তিনি বললেন: তিনি এটি কার থেকে উল্লেখ করেছেন? আমি বললাম: আমি জানি না। হাকাম বললেন: এরপর আমি হজ করলাম এবং মিকসামের সাথে দেখা করলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: কার থেকে? তিনি বললেন: একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে, তিনি আয়েশা ও মাইমুনা থেকে।
এটি একটি দুর্বল সনদ, কারণ এতে একজন অস্পষ্ট ব্যক্তি রয়েছে যাকে হাকাম ‘নির্ভরযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। অস্পষ্ট ব্যক্তির হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়, যদিও তাকে নির্ভরযোগ্যতা সূচক শব্দ দ্বারা অস্পষ্ট রাখা হয়, যেমনটি উলূমুল হাদিস বা হাদিস বিজ্ঞানের কিতাবসমূহে (২) বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
৩ - ইমাম বুখারি ‘আত-তারীখুল আওসাত’ (৩) গ্রন্থে হাকাম-এর সূত্রে মিকসাম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফায় অবস্থান করলেন এবং ফাযল তাঁর পেছনে বসা ছিলেন। এরপর তিনি রওনা হলেন। আমি উটনীকে (৪) তার হাত (সামনের পা) উঁচিয়ে দ্রুতবেগে চলতে দেখিনি যতক্ষণ না তিনি জাম’ (৫) পর্যন্ত পৌঁছালেন। উসামা বললেন: এরপর তিনি আমাকে তাঁর পেছনে বসালেন এবং তিনি জাম’-এ অবস্থান করলেন এবং উসামা তাঁর পেছনে বসা ছিলেন। এরপর তিনি সূর্যোদয়ের আগে দ্রুত রওনা হলেন। আমি উটনীকে তার হাত তুলতে দেখিনি যতক্ষণ না তিনি মিনায় পৌঁছালেন। তিনি বললেন: আমরা আমাদের ছোট গাধার পিঠে ছিলাম। তিনি আমাদের উরুতে মৃদু আঘাত করতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন: ‘হে বৎসরা! তোমরা রওনা হও, কিন্তু সূর্যোদয়ের আগে জামরাহতে পাথর নিক্ষেপ করো না’।
এই হাদিসটি ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৬) উসমান ইবনে আবু শায়বাহ-এর সূত্রে জারীর থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি মিকসাম থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ অর্থে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৫)
ثم قال البخاري مضعفا هذا الحديث: والمستفيض عن ابن عباس أن النبي صلي الله عليه وسلم أردف أسامة من عرفة إلي جمع. وكذلك قال أسامة: أردفني النبي صلي الله عليه وسلم، فقلت: الصلاة. فقال: «الصلاة أمامك»، ثم أردف الفضل من جمع إلي مني (1).
ثم قال البخاري: وحديث الحكم هذا عن مقسم مضطرب؛ لما وصفنا. ولا يدري الحكم سمع هذا من مقسم أم لا؟
ثم ذكر البخاري خمسة أحاديث تثبت أنهم رموا الجمرة قبل طلوع الشمس:
- حديث شعبة مولي ابن عباس عن ابن عباس: بعثني النبي صلي الله عليه وسلم مع أهله إلي مني يوم النحر فرمينا الجمرة مع طلوع الفجر (2).
- وحديث عائشة بنت طلحة عن خالتها عائشة أم المؤمنين أن النبي صلي الله عليه وسلم أمر إحدى نسائه، وهي سودة، أن تنفر من جمع ليلة جمع، فتأتي جمرة العقبة، فترميها، فتصبح في منزلها (3).
- وحديث عبد الله مولي أسماء أنها ارتحلت من جمع حين غاب القمر، فمضينا حتي رمت الجمرة، ثم رجعت، فصلّت الصبح، فقلت لها، فقالت: إن رسول الله صلي الله عليه وسلم أذن للظعن (4).
- وحديث سالم عن ابن عمر قال: فمنهم من تقدم مني ليلا ومنهم من
--------------------------------------------
এরপর ইমাম বুখারী এই হাদীসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করে বলেছেন: ইবনে আব্বাস থেকে প্রসিদ্ধ বর্ণনা এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাত থেকে মুজদালিফা পর্যন্ত উসামাকে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়েছিলেন। একইভাবে উসামা বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়েছিলেন, তখন আমি বললাম: সালাত। তিনি বললেন: "সালাত তোমার সামনে", এরপর তিনি মুজদালিফা থেকে মিনা পর্যন্ত ফযলকে তাঁর পেছনে বসিয়েছিলেন (১)।
এরপর ইমাম বুখারী বলেছেন: হাকামের বর্ণিত মিকসাম থেকে এই হাদীসটি 'মুততারিব' (অসংগতিপূর্ণ); যা আমরা বর্ণনা করেছি সেই কারণে। আর এটি জানা যায়নি যে, হাকাম এই হাদীসটি মিকসাম থেকে শুনেছেন কি না?
এরপর ইমাম বুখারী পাঁচটি হাদীস উল্লেখ করেছেন যা প্রমাণ করে যে, তাঁরা সূর্যোদয়ের পূর্বেই জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন:
- ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস শু'বাহর হাদীস যা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির দিন তাঁর পরিবারের সাথে আমাকে মিনায় পাঠিয়েছিলেন, ফলে আমরা ফজর উদয়ের সাথে সাথে জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেছিলাম (২)।
- এবং ত্বলহা-কন্যা আয়েশার হাদীস যা তাঁর খালা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জনৈক স্ত্রী—অর্থাৎ সাওদা—কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি মুজদালিফার রাতে মুজদালিফা থেকে প্রস্থান করেন, অতঃপর জামরাতুল আকাবায় এসে পাথর নিক্ষেপ করেন এবং ভোরে নিজ গৃহে অবস্থান করেন (৩)।
- এবং আসমার মুক্তদাস আবদুল্লাহর হাদীস যে, তিনি (আসমা) যখন চাঁদ ডুবে গেল তখন মুজদালিফা থেকে যাত্রা করলেন, অতঃপর আমরা চললাম যতক্ষণ না তিনি জামরায় পাথর নিক্ষেপ করলেন। এরপর তিনি ফিরে এলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন। আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দানশীন নারীদের অনুমতি দিয়েছেন (৪)।
- এবং ইবনে উমর থেকে সালেমের হাদীস, তিনি বলেন: তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাতে মিনার উদ্দেশ্যে আগে চলে যেতেন এবং তাদের মধ্যে কেউ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৬)
تقدم بعد ذلك، فإذا قدموا رموا الجمرة. وكان ابن عمر يقول: أرخص في أولئك رسول الله صلي الله عليه وسلم (1).
- وحديث أم سلمة رضي الله عنها أنها فعلت ذلك (2).
قال البخاري: وحديث هؤلاء أكثر في الرمي قبل طلوع الشمس وأصح.
فقد أعلّ البخاري حديث مقسم بمخالفة متنه الأحاديث الصحيحة التي تثبت أن رديف النبي صلي الله عليه وسلم من عرفة إلي مزدلفة كان أسامة بن زيد وليس الفضل، وأن الذين رخص لهم في الانصراف من مزدلفة بليل قد رموا جمرة العقبة قبل طلوع الشمس.
4 - وذكر البخاري في «التاريخ الأوسط» (3) حديث عبد الرحمن بن مغراء عن رشدين بن كريب مولي ابن عباس عن ابن عباس رفعه قال: «لا تصلّوا إلي قبر، ولا علي قبر».
ثم روى حديثا أعلّ به هذا الحديث فقال: حدثنا أبو عاصم عن سفيان عن الشيباني عن الشعبي عن ابن عباس عن النبي صلي الله عليه وسلم صلّي علي قبر (4).
ثم قال البخاري: وهذا أصح. وروى أبو هريرة (5) وغير واحد (6) أن النبي صلي الله عليه وسلم صلّي علي قبر.
--------------------------------------------
এরপর তারা অগ্রসর হন, অতঃপর যখন তারা পৌঁছেছিলেন তখন জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন। ইবনে উমর বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য এই অনুমতি দিয়েছিলেন (১)।
- আর উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা এর হাদীস যে, তিনি তা করেছিলেন (২)।
ইমাম বুখারী বলেন: সূর্যোদয়ের পূর্বে পাথর নিক্ষেপের বিষয়ে এদের বর্ণিত হাদীসগুলো অধিক প্রচলিত এবং অধিক বিশুদ্ধ।
ইমাম বুখারী মিকসামের হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন, কারণ এর মূল পাঠ (মতন) সেই সব সহীহ হাদীসের বিরোধী যা প্রমাণ করে যে, আরাফাহ থেকে মুজদালিফা পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহযাত্রী ছিলেন উসামা বিন যায়েদ, ফজল নন; এবং যাদেরকে রাতে মুজদালিফা ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তারা সূর্যোদয়ের পূর্বেই জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন।
৪ - ইমাম বুখারী 'আত-তারীখুল আওসাত'-এ (৩) আবদুর রহমান ইবনে মাগরা-এর সূত্রে রুশদীন ইবনে কুরায়ব—যিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ছিলেন—তার বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, যা ইবনে আব্বাস মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "তোমরা কবরের দিকে ফিরে সালাত আদায় করো না এবং কবরের ওপর সালাত আদায় করো না।"
এরপর তিনি একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে এই হাদীসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন; তিনি বলেন: আবু আসিম আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে, তিনি শায়বানী থেকে, তিনি শা'বী থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের ওপর সালাত আদায় করেছিলেন (৪)।
এরপর ইমাম বুখারী বলেন: আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ। আবু হুরায়রা (৫) এবং আরও একাধিক ব্যক্তি (৬) বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের ওপর সালাত আদায় করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৭)
فقد أعلّ البخاري حديث رشدين الذي ينهي عن الصلاة علي القبر، بمخالفته السنة الصحيحة التي تثبت أن النبي صلي الله عليه وسلم صلّي علي قبر.
وحديث رشدين رواه الطبراني (1) قال: حدثنا جعفر بن محمد الفريابي حدثنا سليمان بن عبد الرحمن الدمشقي حدثنا عبد الرحمن بن مغراء حدثنا رشدين بن كريب عن أبيه عن ابن عباس أن النبي صلي الله عليه وسلم قال: «لا يصلى إلي قبر، ولا علي قبر».
وهذا سند ضعيف لأجل رشدين بن كريب فإنه ضعيف، ويروي مناكير (2).
5 - وذكر البخاري في «التاريخ الكبير» (3) حديث عبد الواحد بن نافع عن عبد الرحمن بن رافع بن خديج عن أبيه أنه كان يسمع النبي صلي الله عليه وسلم يأمر بتأخير العصر.
قال البخاري: ولا يتابع عليه.
ثم روى حديثا صحيحا يخالف هذا الحديث، وهو حديث أبي النجاشي عن رافع بن خديج أنه قال: كنا نصلّي مع النبي صلي الله عليه وسلم العصر، ثم ننحر الجزور فنقسم عشر قسم، ثم نطبخ، فنأكل لحمًا نضيجا قبل أن تغرب الشمس (4).
قال البخاري: وهذا أصح.
وقد ذكر البخاري حديث عبد الواحد بن نافع هذا في «التاريخ الأوسط» (5) أيضا ثم أعلّه بقوله: وعبد الواحد لم يتبين أمره. ويروى عن النبي صلي الله عليه وسلم من وجوه أنه كان يعجل العصر. ثم ذكر حديث أبي النجاشي عن رافع بن خديج السابق، وحديث أنس رضي الله عنه قال: كنا نصلّي مع النبي العصر،
--------------------------------------------
ইমাম বুখারী রিশদিন-এর সেই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন যা কবরের ওপর সালাত আদায় করতে নিষেধ করে; কারণ এটি সহীহ সুন্নাহর পরিপন্থী যা প্রমাণ করে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের ওপর সালাত আদায় করেছেন।
আর রিশদিন-এর হাদিসটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন (১), তিনি বলেন: আমাদের নিকট জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান আদ-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন মাগরা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট রিশদিন বিন কুরাইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কবরের দিকে ফিরে সালাত আদায় করা যাবে না এবং কবরের ওপরও না।"
এই সনদটি রিশদিন বিন কুরাইব-এর কারণে দুর্বল, কেননা তিনি দুর্বল এবং তিনি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করেন (২)।
৫ - ইমাম বুখারী 'আত-তারিখুল কাবীর'-এ (৩) আব্দুল ওয়াহিদ বিন নাফি'-এর বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, যা তিনি আব্দুর রহমান বিন রাফি' বিন খাদিজ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আসরের সালাত বিলম্ব করার নির্দেশ দিতে শুনতেন।
ইমাম বুখারী বলেন: এই বর্ণনায় তাঁর কোনো অনুসরণকারী নেই।
অতঃপর তিনি এই হাদিসটির বিপরীত একটি সহীহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা হলো আবু নাজাশির হাদিস, তিনি রাফি' বিন খাদিজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে আসরের সালাত আদায় করতাম, তারপর উট যবেহ করতাম এবং তা দশ ভাগে ভাগ করতাম, তারপর রান্না করতাম এবং সূর্য ডোবার আগেই আমরা সুসিদ্ধ গোশত খেতাম (৪)।"
ইমাম বুখারী বলেন: এটিই অধিকতর সহীহ।
ইমাম বুখারী আব্দুল ওয়াহিদ বিন নাফি'-এর এই হাদিসটি 'আত-তারিখুল আওসাত'-এও (৫) উল্লেখ করেছেন এবং এরপর এটিকে এই বলে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন যে: "আব্দুল ওয়াহিদের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।" আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি আসরের সালাত দ্রুত আদায় করতেন। এরপর তিনি রাফি' বিন খাদিজ থেকে বর্ণিত আবু নাজাশির পূর্বোক্ত হাদিসটি এবং আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেন যেখানে তিনি বলেন: "আমরা নবীর সাথে আসরের সালাত আদায় করতাম,"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৮)
فيسير الراكب ستة أميال، قبل أن تغيب الشمس (1)، وحديث عائشة رضي الله عنها قالت: كان النبي صلي الله عليه وسلم يصلّي العصر، والشمس طالعة في حجرتي قبل أن يظهر الفيء (2).
فقد أعلّ البخاري حديث عبد الواحد بن نافع بمخالفته الأحاديث الصحيحة وما روي في معناها، والتي تثبت أن النبي صلي الله عليه وسلم كان يعجل صلاة العصر.
وحديث عبد الواحد أخرجه الدارقطني في «سننه» (3) من طريق أبي سلمة، والطبراني في «معجمه الكبير» (4) من طريق حرمي بن عمارة، عن عبد الواحد به بنحوه.
وقد تابع البخاري في إعلال هذا الحديث بالعلة نفسها الدارقطني، فقال: وهذا حديث ضعيف الإسناد من جهة عبد الواحد هذا؛ لأنه لم يروه عن ابن رافع بن خديج غيره. وقد اختلف في اسم ابن رافع هذا. ولا يصح هذا الحديث عن رافع ولا عين غيره من الصحابة. والصحيح عن رافع بن خديج وعن غير واحد من الصحابة عن النبي صلي الله عليه وسلم غير هذا، وهو التعجيل بصلاة العصر والتبكير بها (5).
وعبد الواحد ذكره ابن حبان في المجروحين (6) فقال: عبد الواحد بن نافع الكلاعي أبو الرماح شيخ يروي عن أهل الحجاز المقلوبات، وعن أهل
--------------------------------------------
একজন আরোহী সূর্য ডোবার আগে ছয় মাইল পথ অতিক্রম করতে পারত (১), এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য আমার কামরায় উদিত থাকত এবং ছায়া দীর্ঘ হওয়ার পূর্বেই (২)।
ইমাম বুখারি আব্দুল ওয়াহিদ বিন নাফে-এর হাদিসকে সহিহ হাদিসসমূহ এবং সেই অর্থে বর্ণিত অন্যান্য বর্ণনার পরিপন্থী হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন, যা প্রমাণ করে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত দ্রুত আদায় করতেন।
আর আব্দুল ওয়াহিদের হাদিসটি দারা কুতনি তাঁর «সুনান» (৩) গ্রন্থে আবু সালামাহ-এর সূত্রে এবং তাবারানি তাঁর «মুজামুল কাবীর» (৪) গ্রন্থে হারামি বিন উমারাহ-এর সূত্রে আব্দুল ওয়াহিদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইমাম দারা কুতনিও ইমাম বুখারির অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন: এই আব্দুল ওয়াহিদের দিক থেকে হাদিসটির সনদ দুর্বল; কেননা ইবনে রাফে বিন খাদীজ থেকে তিনি ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি। আর এই ইবনে রাফের নাম নিয়েও মতভেদ রয়েছে। রাফে কিংবা অন্য কোনো সাহাবী থেকে এই হাদিসটি সহিহভাবে প্রমাণিত নয়। বরং রাফে বিন খাদীজ এবং একাধিক সাহাবী থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে যা সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে তা এর বিপরীত, আর তা হলো আসরের সালাত দ্রুত এবং ওয়াক্তের শুরুতেই আদায় করা (৫)।
আর আব্দুল ওয়াহিদ সম্পর্কে ইবনে হিব্বান আল-মাজরুহীন (৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহিদ বিন নাফে আল-কালাঈ আবু আল-রামাহ এমন একজন শায়খ যিনি হিজাজবাসীদের থেকে উল্টোপাল্টা বর্ণনা করেন, এবং অধিবাসীদের থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৯)
الشام الموضوعات، لا يحلّ ذكره في الكتب إلا علي سبيل القدح فيه. وهو الذي روى عن عبد الله بن رافع بن خديج عن أبيه أن النبي صلي الله عليه وسلم كان يأمر بتأخير العصر.
6 - وذكر البخاري في «التاريخ الكبير» (1) حديث حرب بن عبيد الله عن خال له عن النبي صلي الله عليه وسلم قال: «ليس علي المسلمين عشور، إنما العشور علي اليهود والنصاري».
ثم قال البخاري معلاّ هذا الحديث: وقد فرض النبي صلي الله عليه وسلم العشر فيما أخرجت الأرض في خمسة أوسق.
فقد رأي البخاري حديث حرب الذي ينفي أن يكون علي المسلمين عشور مخالفا الأحاديث الصحيحة التي توجب إخراج العشر في زكاة الخارج من الأرض من الحبوب والثمار إذا بلغت النصاب، وهو خمسة أوسق، وكان مما يسقي بلا مؤونة.
ومن هذه الأحاديث الصحيحة حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أنه سمع النبي صلي الله عليه وسلم قال: «فيما سقت الأنهار والغيم العشور، وفيما سقي بالسانية نصف العشر». رواه مسلم (2).
وحديث ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلي الله عليه وسلم قال: فيما سقت السماء والعيون أو كان عثريا العشر، وما سقي بالنضح نصف العشر». رواه البخاري (3).
وأما حديث حرب فأخرجه أبو داود (4) قال: حدثنا مسدد حدثنا أبو الأحوص حدثنا عطاء بن السائب عن حرب بن عبيد الله عن جده أبي أمه
--------------------------------------------
শামের জাল হাদিসসমূহ। একে কিতাবসমূহে উল্লেখ করা বৈধ নয়, কেবল তার দোষ-ত্রুটি বর্ণনার উদ্দেশ্য ব্যতীত। আর তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি আবদুল্লাহ ইবন রাফে‘ ইবন খাদিজ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামাজ দেরিতে পড়ার নির্দেশ দিতেন।
৬ - ইমাম বুখারি 'আত-তারিখুল কাবির' গ্রন্থে (১) হারব ইবন উবাইদুল্লাহর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, যা তিনি তাঁর এক মামার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "মুসলমানদের ওপর উশর (দশমাংশ কর) নেই; উশর কেবল ইহুদি ও নাসারাদের ওপর।"
অতঃপর ইমাম বুখারি এই হাদিসটির ত্রুটি বর্ণনা করে বলেছেন: অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসলের ওপর পাঁচ ওসাক পরিমাণ হলে উশর ফরজ করেছেন।
সুতরাং ইমাম বুখারি হারবের হাদিসটিকে—যা মুসলমানদের ওপর উশর থাকাকে অস্বীকার করে—ঐসব সহিহ হাদিসের পরিপন্থী মনে করেছেন, যা ভূমি থেকে উৎপাদিত শস্য ও ফলের জাকাত হিসেবে উশর প্রদানকে ওয়াজিব করে, যখন তা নিসাব অর্থাৎ পাঁচ ওসাক পরিমাণ হয় এবং যা বিনা খরচে সেচকৃত হয়।
এই সহিহ হাদিসগুলোর অন্যতম হলো জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "নদী ও মেঘ (বৃষ্টির পানি) দ্বারা যা সেচ করা হয় তাতে উশর (দশমাংশ), আর যা উটের সাহায্যে সেচ করা হয় তাতে নিসফ-উশর (বিংশতাংশ)।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)।
এবং ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আকাশের পানি ও ঝরনা দ্বারা যা সেচ করা হয় অথবা যা শিকড় দিয়ে পানি শোষণ করে তাতে উশর, আর যা সেচযন্ত্রের সাহায্যে সেচ করা হয় তাতে নিসফ-উশর।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (৩)।
আর হারবের হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (৪)। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবুল আহওয়াস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আতা ইবনুস সাইব বর্ণনা করেছেন হারব ইবন উবাইদুল্লাহর সূত্রে, তিনি তাঁর মাতামহের সূত্রে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮০)
عن أبيه قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: «إنما العشور علي اليهود والنصاري، وليس علي المسلمين عشور».
وهذا حديث ضعيف؛ فحرب بن عبيد الله قال فيه ابن حجر: لين الحديث (1). وقد وقع في إسناد هذا الحديث اضطرب كثير (2).
وذكر الترمذي أنه سأل البخاري عن هذا الحديث فقال: هذا حديث فيه اضطراب. ولا يصح هذا الحديث (3).
وقال عبد الحق الإشبيلي: هو حديث في إسناده اختلاف، ولا أعلمه من طريق يحتج به (4).
7 - وذكر البخاري في «التاريخ الكبير» (5) حديث الأخنسي عن جدته حكيمة بنت أمية عن أم سلمة أنها سمعت النبي صلي الله عليه وسلم يقول: «من أهلّ بحجة أو عمرة من المسجد الأقصي إلي المسجد الحرام غفر له ما تقدم من ذنبه».
ثم أعلّ البخاري هذا الحديث فقال: ولا يتابع في هذا الحديث؛ لما وقت النبي صلي الله عليه وسلم ذا الحليفة والجحفة، واختار أن أهلّ النبي صلي الله عليه وسلم من ذي الحليفة.
فقد رأي البخاري حديث الأخنسي الذي فيه الترغيب في الإهلال بالحج أو العمرة من المسجد الأقصي يناقض أحاديث المواقيت التي وقتها رسول الله صلي الله عليه وسلم، وأمر بالإحرام منها، وأحرم هو صلي الله عليه وسلم من ذي الحليفة ميقات أهل المدينة، فلو كان الإحرام من المسجد الأقصي أفضل لفعله النبي صلي الله عليه وسلم.
وقد بوّب البخاري علي ذلك في كتاب الحج من صحيحه فقال: باب
--------------------------------------------
তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই উশর (দশমাংশ কর) কেবল ইয়াহুদী ও নাসারাদের ওপর, আর মুসলিমদের ওপর কোনো উশর নেই।"
আর এটি একটি দুর্বল হাদিস; হারব বিন উবাইদুল্লাহ সম্পর্কে ইবনে হাজার বলেছেন: তিনি হাদিস বর্ণনায় শিথিল (১)। আর এই হাদিসের সনদে অনেক অস্থিরতা (ইযতিরাব) পরিলক্ষিত হয়েছে (২)।
তিরমিযী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বুখারীকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: এটি এমন একটি হাদিস যাতে অস্থিরতা (ইযতিরাব) রয়েছে। আর এই হাদিসটি সহীহ নয় (৩)।
এবং আব্দুল হক আল-ইশবিলি বলেছেন: এটি এমন একটি হাদিস যার সনদে মতভেদ রয়েছে, এবং আমার জানামতে এমন কোনো সূত্র নেই যা দ্বারা এটি দলীল হিসেবে পেশ করা যায় (৪)।
৭ - আর বুখারী ‘আত-তারীখুল কাবীর’ (৫)-এ আখনাদী থেকে তাঁর দাদী হাকীমা বিনতে উমাইয়া-এর সূত্রে উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি মসজিদুল আকসা থেকে মসজিদুল হারাম পর্যন্ত হজ বা উমরার ইহরাম বাঁধবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
অতঃপর বুখারী এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি অনুসরণযোগ্য নয়; যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুল-হুলাইফা ও জুহফাকে মীকাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বয়ং যুল-হুলাইফা থেকে ইহরাম বাঁধাকে বেছে নিয়েছেন।
ইমাম বুখারী মনে করেছেন যে, আখনাদীর বর্ণিত হাদিসটি—যাতে মসজিদুল আকসা থেকে হজ বা উমরার ইহরাম বাঁধার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে—তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্ধারিত মীকাত সংক্রান্ত হাদিসগুলোর সাথে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে, যেখানে তিনি সেই মীকাতগুলো থেকে ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজে মদীনার অধিবাসীদের মীকাত যুল-হুলাইফা থেকে ইহরাম বেঁধেছেন। সুতরাং যদি মসজিদুল আকসা থেকে ইহরাম বাঁধা উত্তম হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবশ্যই তা করতেন।
আর ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'কিতাবুল হজ'-এ এই বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং বলেছেন: পরিচ্ছেদ—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮১)
ميقات أهل المدينة ولا يهلّون قبل ذي الحليفة. وروى بسنده عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلي الله عليه وسلم قال: «يهلّ أهل المدينة من ذي الحليفة، ويهلّ أهل الشام من الجحفة، وأهل نجد من قرن» (1). ثم روى بعد ذلك في باب الإهلال عند مسجد ذي الحليفة (2) بسنده عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه قال: ما أهلّ رسول الله صلي الله عليه وسلم إلا من عند المسجد، يعني مسجد ذي الحليفة.
أما حديث الأخنسي فرواه أبو داود (3) قال: حدثنا أحمد بن صالح حدثنا ابن أبي فديك عن عبد الله بن عبد الرحمن بن يحنس عن يحيى بن أبي سفيان الأخنسي عن جدته حكيمة عن أم سلمة زوج النبي صلي الله عليه وسلم أنها سمعت رسول الله صلي الله عليه وسلم يقول: «من أهلّ بحجة أو عمرة من المسجد الأقصي إلي المسجد الحرام غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر» أو «وجبت له الجنة» شك عبد الله أيتهما.
ورواه ابن ماجه (4) من طريق محمد بن إسحاق عن يحيى بن أبي سفيان عن أمه أم حكيم بنت أمية عن أم سلمة به بلفظ: «من أهلّ بعمرة من بيت المقدس كانت له كفارة لما قبلها من الذنوب».
وهذا سند ضعيف. قال ابن حزم: أما هذان الأثران فلا يشتغل بهما من له أدني علم بالحديث؛ لأن يحيى بن أبي سفيان الأخنسي وجدته حكيمة وأم حكيم بنت أمية لا يدري من هم من الناس. ولا يجوز مخالفة ما صحّ بيقين بمثل هذه المجهولات التي لا تصح قط (5).
--------------------------------------------
মদীনার অধিবাসীদের মীকাত এবং তারা যুল হুলাইফার আগে ইহরাম বাঁধবে না। তিনি তাঁর সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মদীনাবাসী যুল হুলাইফা থেকে ইহরাম বাঁধবে, শামবাসী জুহফা থেকে এবং নজদবাসী কারন থেকে ইহরাম বাঁধবে» (১)। এরপর তিনি যুল হুলাইফা মসজিদের নিকট ইহরাম বাঁধার পরিচ্ছেদে (২) তাঁর সনদে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল মসজিদের নিকট থেকেই ইহরাম বেঁধেছেন, অর্থাৎ যুল হুলাইফার মসজিদ।
আর আখনাফীর হাদীসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (৩)। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনে আবি ফুদাইক বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইউহানুস থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুফিয়ান আল-আখনাফী থেকে, তিনি তাঁর দাদী হাকীমা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: «যে ব্যক্তি মসজিদে আকসা থেকে মসজিদে হারাম পর্যন্ত হজ বা উমরার ইহরাম বাঁধবে, তার পূর্বের ও পরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে» অথবা «তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে» - আব্দুল্লাহ সন্দেহ করেছেন এর মধ্যে কোনটি।
ইবনে মাজাহ (৪) এটি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক-এর সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে, তিনি তাঁর মা উম্মে হাকীম বিনতে উমাইয়্যাহ থেকে, তিনি উম্মে সালামা থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «যে ব্যক্তি বাইতুল মাকদিস থেকে উমরার ইহরাম বাঁধবে, তা তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা হবে»।
আর এটি একটি দুর্বল সনদ। ইবনে হাযম বলেছেন: এই দুটি বর্ণনার প্রতি হাদীস সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিও ভ্রুক্ষেপ করবে না; কারণ ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুফিয়ান আল-আখনাফী, তাঁর দাদী হাকীমা এবং উম্মে হাকীম বিনতে উমাইয়্যাহ - তারা কারা তা জানা যায় না। আর এমন সব অজ্ঞাত বর্ণনার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত সহীহ বিষয়ের বিরোধিতা করা জায়েয নয়, যা কখনোই সহীহ হয় না (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮২)
وقال المنذري: قد اختلف الرواة في متنه وإسناده اختلافا كثيرا (1).
8 - وذكر البخاري في «التاريخ الكبير» (2) حديث الحارث بن عمرو السهمي قال: شهدت مع النبي صلي الله عليه وسلم حجة الوداع قال: «من شاء عتر، ومن شاء لم يعتر». ثم أشار البخاري إلي ضعفه فقال: وقال أبو هريرة عن النبي صلي الله عليه وسلم: «لا فرع ولا عتيرة»، وهذا أصح.
فقد أعلّ البخاري حديث الحارث الذي يرخص في العتيرة بالحديث الصحيح الذي يمنع من ذلك، وهو حديث أبي هريرة الذي أخرجه البخاري (3)، ومسلم (4) من طريق الزهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلي الله عليه وسلم قال: «لا فرع ولا عتيرة». والفرع أول النتاج كانوا يذبحونه لطواغيتهم، والعتيرة في رجب.
وأما حديث الحارث فقد أخرجه النسائي (5) قال: أخبرنا سويد بن نصر قال: أنبأنا عبد الله يعني ابن المبارك عن يحيى وهو ابن زرارة بن كريم بن الحارث بن عمرو الباهلي قال: سمعت أبي يذكر أنه سمع جده الحارث بن عمرو يحدّث أنه لقي رسول الله صلي الله عليه وسلم في حجة الوداع، وهو علي ناقته العضباء، فأتيته من أحد شقّيه فقلت: يا رسول الله بأبي أنت وأمي استغفر لي، فقال: «غفر الله لكم». ثم أتيته من الشق الآخر أرجو أن يخصّني دونهم، فقلت: يا رسول الله استغفر لي، فقال بيده: «غفر الله لكم».فقال رجل من الناس: يا رسول الله، العتائر والفرائع؟ قال: «من شاء عتر، ومن شاء لم يعتر. ومن شاء فرع، ومن شاء لم يفرع. في الغنم أضحيتها» وقبض أصابعه إلا واحدة.
--------------------------------------------
আর আল-মুনজিরি বলেছেন: বর্ণনাকারীরা এর মতন (মূল পাঠ) এবং ইসনাদ (বর্ণনাসূত্র) নিয়ে অনেক মতভেদ করেছেন (১)।
৮ - এবং আল-বুখারি ‘আত-তারিখুল কাবির’ (২)-এ হারিস ইবনে আমর আস-সাহমি-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিদায় হজে উপস্থিত ছিলাম, তিনি বলেছিলেন: "যে চায় সে আতিরা (কুরবানি) করুক, আর যে চায় সে না করুক।" এরপর আল-বুখারি এর দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: আর আবু হুরায়রা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "কোনো ফারা নেই এবং কোনো আতিরা নেই", আর এটিই অধিকতর সহিহ (বিশুদ্ধ)।
সুতরাং আল-বুখারি আতিরা করার অনুমতি প্রদানকারী হারিসের হাদিসটিকে সেই সহিহ হাদিসের মাধ্যমে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন যা তা করতে নিষেধ করে। আর সেটি হলো আবু হুরায়রার হাদিস যা বুখারি (৩) ও মুসলিম (৪) জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "কোনো ফারা নেই এবং কোনো আতিরা নেই।" আর ‘ফারা’ হলো পশুর প্রথম বাচ্চা যা তারা তাদের তাগুতদের (মূর্তি/উপাস্যদের) উদ্দেশ্যে জবেহ করত, আর ‘আতিরা’ হলো রজব মাসে জবেহ করা পশু।
আর হারিসের হাদিসটি আন-নাসাঈ (৫) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুওয়াইদ ইবনে নাসর, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া থেকে—যিনি যুরারা ইবনে কারিম ইবনে হারিস ইবনে আমর আল-বাহিলির পুত্র—তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, তিনি তার দাদা হারিস ইবনে আমরকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বিদায় হজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন যখন তিনি তার আদবা নামক উটনীর পিঠে ছিলেন। আমি তার এক পাশ দিয়ে আসলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন।" এরপর আমি অন্য পাশ দিয়ে আসলাম এই আশায় যে তিনি তাদের বাদ দিয়ে বিশেষভাবে আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তখন তিনি তার হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন: "আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন।" তখন লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আতিরা এবং ফারা সম্পর্কে কী হুকুম? তিনি বললেন: "যে চায় সে আতিরা করুক, আর যে চায় সে না করুক। আর যে চায় সে ফারা জবেহ করুক, আর যে চায় সে না করুক। বকরির ক্ষেত্রে তার কোরবানিই যথেষ্ট।" আর তিনি একটি ব্যতীত তার অন্য সব আঙুল মুষ্টিবদ্ধ করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৩)
وهذا سند ضعيف؛ وقد ضعفه عبد الحق الإشبيلي وقال: زرارة هذا لا يحتج بحديثه. قال ابن القطان: يعني بذلك أنه لا تعرف حاله. ثم ذكر ابن القطان أن ابنه يحيى أيضا لا تعرف حاله (1).
9 - وذكر البخاري في «التاريخ الكبير» (2) حديث زيد بن وهب عن ثابت بن وديعة الأنصاري في أكل الضب. وهو حديث رواه أبو داود (3) قال: حدثنا عمرو بن عون أخبرنا خالد عن حصين عن زيد بن وهب عن ثابت بن وديعة قال: كنا مع رسول الله صلي الله عليه وسلم في جيش فأصبنا ضبابا. قال: فشويت منها ضبا، فأتيت رسول الله صلي الله عليه وسلم، فوضعته بين يديه. قال: فأخذ عودا، فعدّ به أصابعه، ثم قال: «إن أمة من بني إسرائيل مسخت دواب في الأرض، وإني لا أدري أي الدواب هي». قال: فلم يأكل ولم ينه.
وقد تابع حصين بن عبد الرحمن كل من عدي بن ثابت ويزيد بن أبي زياد عن زيد بن وهب عن ثابت بن وديعة عن النبي صلي الله عليه وسلم به، وخالفهم الأعمش فرواه عن زيد بن وهب عن عبد الرحمن بن حسنة عن النبي صلي الله عليه وسلم (4).
وحديث الأعمش أخرجه أحمد في مسنده (5) قال: حدثنا أبو معاوية حدثنا الأعمش عن زيد بن وهب عن عبد الرحمن بن حسنة قال: كنا مع النبي صلي الله عليه وسلم في سفر، فنزلنا أرضا كثيرة الضباب. قال: فأصبنا منها وذبحنا. قال: فبينا القدور تغلي بها؛ إذ خرج علينا رسول الله صلي الله عليه وسلم فقال: «إن أمة من بني إسرائيل فقدت، وإني أخاف أن تكون هي فأكفئوها»، فأكفأناها.
--------------------------------------------
এটি একটি দুর্বল সনদ; আব্দুল হক আল-ইশবিলি একে দুর্বল বলেছেন এবং বলেছেন: এই যুরারাহ-এর হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। ইবনুল কাত্তান বলেছেন: এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, তার অবস্থা অজ্ঞাত। এরপর ইবনুল কাত্তান উল্লেখ করেছেন যে, তার পুত্র ইয়াহইয়া-এর অবস্থাও অজ্ঞাত (১)।
৯ - ইমাম বুখারি 'আত-তারিখুল কাবীর' (২)-এ সাবিত ইবনে ওয়াদিয়া আল-আনসারী থেকে বর্ণিত যায়েদ ইবনে ওয়াহাব-এর হাদিসটি গোসাপ খাওয়ার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। এটি এমন এক হাদিস যা আবু দাউদ (৩) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমর ইবনে আওন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি সাবিত ইবনে ওয়াদিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সৈন্যবাহিনীতে ছিলাম এবং আমরা কিছু গোসাপ পেলাম। তিনি বলেন: আমি তার মধ্য থেকে একটি গোসাপ ঝলসলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে আসলাম এবং তা তাঁর সামনে রাখলাম। তিনি বলেন: তখন তিনি একটি কাঠি নিলেন এবং তা দিয়ে এর আঙ্গুলগুলো গুনলেন, এরপর বললেন: «বনী ইসরাঈলের একটি সম্প্রদায়কে জমিনের বিচরণশীল প্রাণীতে রূপান্তরিত করা হয়েছিল, আর আমি জানি না তারা কোন প্রাণী ছিল।» তিনি বলেন: এরপর তিনি তা খেলেন না এবং নিষেধও করলেন না।
হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান-এর অনুসরণ করেছেন আদি ইবনে সাবিত এবং ইয়াযিদ ইবনে আবি যিয়াদ; তারা যায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি সাবিত ইবনে ওয়াদিয়া থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে আমাশ তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি যায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে হাসানা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (৪)।
আমাশ-এর বর্ণিত হাদিসটি আহমদ তার মুসনাদে (৫) সংকলন করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে হাসানা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে ছিলাম এবং আমরা প্রচুর গোসাপ সমৃদ্ধ এক জমিনে অবতরণ করলাম। তিনি বলেন: আমরা সেখান থেকে কিছু ধরলাম এবং যবেহ করলাম। তিনি বলেন: যখন পাতিলগুলো সেগুলো নিয়ে টগবগ করছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন: «বনী ইসরাঈলের একটি উম্মত হারিয়ে গিয়েছিল, আর আমি আশঙ্কা করছি যে সম্ভবত এরাই তারা, সুতরাং তোমরা এগুলো উল্টিয়ে দাও», ফলে আমরা সেগুলো উল্টিয়ে দিলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৪)
قال البخاري: ولم يعرف أن أحدا روى هذا غير الأعمش (1).
وحديث ثابت أصح، وفي نفس الحديث نظر. قال ابن عمر عن النبي صلي الله عليه وسلم: «لا آكله ولا أحرّمه». وقال ابن عباس: لو كان حراما لم يؤكل في مائدة النبي صلي الله عليه وسلم (2).
فالبخاري رجح هنا أن الحديث حديث ثابت بن وديعة كما رواه الأكثرون عن زيد بن وهب وليس حديث عبد الرحمن بن حسنة كما رواه الأعمش مخالفا لهم في السند، وفي المتن أيضا. ولهذا قال البخاري: وفي نفس الحديث نظر. يعني الأمر بإكفاء القدور الذي في رواية الأعمش فإنه يخالف ما جاء في الروايات الصحيحة الأخرى من أن النبي صلي الله عليه وسلم لم يحرم الضب، ولم ينه عنه. كحديث ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلي الله عليه وسلم قال: «الضب لست آكله ولا أحرمه» متفق عليه (3). وحديث ابن عباس رضي الله عنهما أن خالته أهدت إلي النبي صلي الله عليه وسلم أقطا وسمنا وضبا، فأكل النبي صلي الله عليه وسلم من الأقط والسمن، وترك الضب تقذرا. قال ابن عباس: فأكل علي مائدة رسول الله صلي الله عليه وسلم، ولو كان حراما ما أكل علي مائدة رسول الله صلي الله عليه وسلم. متفق عليه (4).
10 - وذكر البخاري في «التاريخ الكبير» (5) في ترجمة عبد الله بن هانئ أبي الزعراء الكوفي أنه روى عن ابن مسعود رضي الله عنه في الشفاعة: «ثم يقوم نبيكم رابعهم»، ثم قال البخاري معلاّ هذا الحديث: والمعروف عن النبي صلي الله عليه وسلم: «أنا أول شافع». قال: ولا يتابع في حديثه.
--------------------------------------------
বুখারী বলেছেন: আ'মাশ ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে জানা নেই (১)।
সাবিতের হাদিসটি অধিকতর সহীহ, আর এই হাদিসটির ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে। ইবনে উমর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: «আমি এটি খাই না, আবার হারামও করি না»। ইবনে আব্বাস বলেছেন: যদি এটি হারাম হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দস্তরখানে এটি খাওয়া হতো না (২)।
সুতরাং বুখারী এখানে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, হাদিসটি মূলত সাবিত ইবনে ওয়াদিয়া’র হাদিস যেমনটি অধিকাংশ রাবী যায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, এটি আব্দুর রহমান ইবনে হাসানাহ্-র হাদিস নয় যা আ'মাশ তাঁদের বিপরীতে সনদ ও মতনের ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন। একারণেই বুখারী বলেছেন: আর এই হাদিসটির ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে। অর্থাৎ আ'মাশের বর্ণনায় হাঁড়ি উল্টে দেওয়ার যে নির্দেশ এসেছে, তা অন্যান্য সহীহ বর্ণনার পরিপন্থী যেখানে উল্লেখ আছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দব্ব হারাম করেননি এবং তা থেকে নিষেধও করেননি। যেমন ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «দব্ব আমি খাই না এবং আমি একে হারামও করি না» মুত্তাফাকুন আলাইহি (৩)। এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস যে, তাঁর খালা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পনির, ঘি এবং দব্ব উপহার দিয়েছিলেন; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পনির ও ঘি খেয়েছিলেন এবং দব্ব অনীহাবশত ত্যাগ করেছিলেন। ইবনে আব্বাস বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দস্তরখানে তা খাওয়া হয়েছিল, যদি এটি হারাম হতো তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দস্তরখানে তা খাওয়া হতো না। মুত্তাফাকুন আলাইহি (৪)।
১০ - বুখারী «আত-তারিখুল কাবীর» (৫)-এ আব্দুল্লাহ ইবনে হানি আবুয যা'রা আল-কুফী-র জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শাফায়াত (সুপারিশ) প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: «অতঃপর তোমাদের নবী চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে দাঁড়াবেন», এরপর বুখারী এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করে বলেছেন: আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সুপরিচিত বর্ণনা হলো: «আমিই প্রথম সুপারিশকারী»। তিনি বলেছেন: তার হাদিস সমর্থিত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৫)
وحديث أبي الزعراء أخرجه النسائي في «سننه الكبري» (1) من طريق شعبة عن سلمة بن كهيل قال: سمعت أبا الزعراء قال عن عبد الله في قصة ذكرها قال: أول شافع يوم القيامة جبرائيل عليه السلام روح القدس، ثم إبراهيم خليل الرحمن عليه السلام، ثم موسي أو عيسي - قال أبو الزعراء: لا أدري أيهما - قال: قال: ثم يقوم نبيكم صلي الله عليه وسلم رابعًا فلا يشفع أحد بمثل شفاعته، وهو وعده المحمود الذي وعده.
وهذا سند ضعيف لأجل أبي الزعراء عبد الله بن هانيء؛ فإنه لم يرو عنه سوى سلمة بن كهيل، ولم يوثقه معتبر، وفي رواياته ما يستنكر (2)،
ومنها هذا الحديث، فقد أعلّه البخاري بأن متنه يناقض الأحاديث الصحيحة التي تصرح بأن النبي صلي الله عليه وسلم أول شافع يوم القيامة.
ومنها حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلي الله عليه وسلم قال: «أنا سيد ولد آدم يوم القيامة، وأول من ينشق عنه القبر، وأول شافع، وأول مشفّع» رواه مسلم (3).
وقد ذكر العقيلي في ترجمة أبي الزعراء أن في حديثه ما ليس في حديث الناس، يعني حديثه في الشفاعة (4).
وممن نبّه علي هذا أيضا الهيثمي (5) فقد قال: وهو موقوف مخالف للحديث الصحيح، وقول النبي صلي الله عليه وسلم: «أنا أول شافع».
وقال ابن كثير: حديث غريب جدا (6).
11 - وذكر البخاري في «التاريخ الكبير» حديث صفية بنت شيبة أنها
--------------------------------------------
আবু আজ-জাহরার হাদিসটি নাসায়ি তাঁর 'সুনানে কুবরা' (১)-তে শু'বাহর সূত্র ধরে সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আজ-জাহরাকে বলতে শুনেছি, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে একটি ঘটনা প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: কিয়ামতের দিন প্রথম সুপারিশকারী হবেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম (রুহুল কুদুস), এরপর ইবরাহিম খলিলুর রহমান আলাইহিস সালাম, এরপর মুসা অথবা ঈসা - আবু আজ-জাহরা বলেন: আমি জানি না তাঁদের মধ্যে কে আগে - তিনি বলেন: এরপর তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে দাঁড়াবেন এবং কেউ তাঁর মতো সুপারিশ করবে না, আর এটিই তাঁর সেই প্রশংসিত প্রতিশ্রুতি (মাকামে মাহমুদ) যার ওয়াদা তাঁকে দেওয়া হয়েছে।
আর এই সনদটি আবু আজ-জাহরা আব্দুল্লাহ ইবনে হানির কারণে দুর্বল; কেননা সালামাহ ইবনে কুহাইল ছাড়া আর কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি এবং কোনো নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ তাঁকে বিশ্বস্ত (সিকাহ) বলেননি, আর তাঁর বর্ণনার মধ্যে আপত্তিকর (মুনকার) বিষয় রয়েছে (২),
সেগুলোর মধ্যে একটি হলো এই হাদিসটি। ইমাম বুখারি একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন কারণ এর মূল পাঠ (মতন) ওই সকল সহিহ হাদিসের বিরোধী যাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের দিন প্রথম সুপারিশকারী হবেন।
সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের নেতা হব, আমিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর কবর বিদীর্ণ হবে, আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর সুপারিশ কবুল করা হবে।" এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩)।
উকাইলি আবু আজ-জাহরার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর হাদিসের মধ্যে এমন কিছু আছে যা অন্য মানুষের বর্ণনায় নেই, অর্থাৎ সুপারিশ সংক্রান্ত তাঁর এই হাদিসটি (৪)।
যাঁরা এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন তাঁদের মধ্যে হাইসামিও (৫) রয়েছেন, তিনি বলেছেন: এটি একটি মাওকুফ (সাহাবির বক্তব্য) বর্ণনা যা সহিহ হাদিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর পরিপন্থী যে: "আমিই প্রথম সুপারিশকারী।"
ইবনে কাসির বলেছেন: হাদিসটি অত্যন্ত অদ্ভুত বা গরিব (৬)।
১১ - ইমাম বুখারি 'আত-তারিখুল কাবীর'-এ সাফিয়্যাহ বিনতে শাইবাহ থেকে হাদিস উল্লেখ করেছেন যে তিনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৬)
قالت: ولد لي، فأسميته محمدًا، وأكنيته أبا القاسم، فسألت عائشة، فقالت: جاءت امرأة رجل من الأنصار فقالت: يا رسول الله، ولد لي غلام، فسميته محمدا وأكنيته أبا القاسم، فبلغني أنك تكرهه؟ فقال: «ما أحل اسمي وحرم كنيتي» أو «أحل كنيتي وحرم اسمي».
ثم قال البخاري معلاّ هذا الحديث: تلك الأحاديث أصح: «سموا باسمي، ولا تكتنوا بكنيتي».
فالبخاري رأي حديث صفية بنت شيبة الذي فيه إقرار التكنية بأبي القاسم، والتعجب من تحريمها، يناقض الأحاديث الصحيحة التي فيها النهي عن ذلك.
ومن هذه الأحاديث الصحيحة حديث أنس رضي الله عنه قال: دعا رجل بالبقيع: يا أبا القاسم! فالتفت إليه النبي صلي الله عليه وسلم، فقال: لم أعنك. قال: «سموا باسمي، ولا تكتنوا بكنيتي» متفق عليه (1).
وحديث جابر رضي الله عنه قال: ولد لرجل منا غلام، فسماه القاسم، فقالوا: لا نكنيه حتي نسأل النبي صلي الله عليه وسلم، فقال: «سمّوا باسمي ولا تكتنوا بكنيتي» متفق عليه (2).
أما حديث صفية بنت شيبة فقد أخرجه أبو داود (3) قال: حدثنا النفيلي حدثنا محمد بن عمران الحجبي عن جدته صفية بنت شيبة عن عائشة رضي الله عنها قالت: جاءت امرأة إلي رسول الله صلي الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله، إني قد ولدت غلاما، فسميته محمدا وكنيته أبا القاسم، فذكر لي أنك تكره ذلك، فقال: «ما الذي أحل اسمي وحرم كنيتي» أو «ما الذي حرم كنيتي وأحلّ اسمي».
--------------------------------------------
তিনি বলেন: আমার একটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে, আমি তার নাম রেখেছি মুহাম্মদ এবং উপনাম রেখেছি আবুল কাসিম। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আনসারদের জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমার একটি পুত্রসন্তান হয়েছে, আমি তার নাম রেখেছি মুহাম্মদ এবং উপনাম দিয়েছি আবুল কাসিম। কিন্তু আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি এটি অপছন্দ করেন? তিনি বললেন: "কোন বিষয়টি আমার নামকে বৈধ আর আমার উপনামকে অবৈধ করল?" অথবা "কোন বিষয়টি আমার উপনামকে বৈধ আর আমার নামকে অবৈধ করল?"
অতঃপর ইমাম বুখারী এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করে বলেন: সেই হাদিসগুলো অধিকতর বিশুদ্ধ: "তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার উপনামে উপনাম রেখো না।"
সুতরাং ইমাম বুখারী সফিয়্যাহ বিনতে শায়বাহর হাদিসটিকে—যেটিতে আবুল কাসিম উপনাম গ্রহণ করার স্বীকৃতি এবং এটি নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ পেয়েছে—সেটিকে সেই সহিহ হাদিসসমূহের বিরোধী মনে করেছেন যেগুলোতে এ ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে।
এসকল সহিহ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হলো আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি বাকী‘তে ডেকে উঠল: হে আবুল কাসিম! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে তাকালেন। তখন লোকটি বলল: আমি আপনাকে উদ্দেশ্য করিনি। তিনি বললেন: "তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার উপনামে উপনাম রেখো না।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি) (১)।
এবং জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস, তিনি বলেন: আমাদের এক ব্যক্তির একটি পুত্রসন্তান জন্মাল, সে তার নাম রাখল কাসিম। লোকেরা বলল: আমরা তাকে এই উপনাম দেব না যতক্ষণ না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বললেন: "তোমরা আমার নামে নাম রাখো এবং আমার উপনামে উপনাম রেখো না।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি) (২)।
অন্যদিকে সফিয়্যাহ বিনতে শায়বাহর হাদিসটি আবু দাউদ (৩) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নুফাইলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইমরান আল-হাজাবি থেকে, তিনি তাঁর দাদি সফিয়্যাহ বিনতে শায়বাহ থেকে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেছি, আমি তার নাম রেখেছি মুহাম্মদ এবং উপনাম রেখেছি আবুল কাসিম। অতঃপর আমার কাছে উল্লেখ করা হলো যে আপনি এটি অপছন্দ করেন। তিনি বললেন: "কোন বিষয়টি আমার নামকে বৈধ আর আমার উপনামকে অবৈধ করল?" অথবা "কোন বিষয়টি আমার উপনামকে অবৈধ আর আমার নামকে বৈধ করল?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৭)
وهذا سند ضعيف، فمحمد بن عمران الحجبي مجهول كما قال ابن حجر (1)، وقد استنكر حديثه هذا. قال الذهبي: له حديث، وهو منكر، وما رأيت لهم فيه جرحًا ولا تعديلا (2).
12 - وذكر البخاري في «التاريخ الكبير» (3) حديث أبي موسي رضي الله عنه عن النبي صلي الله عليه وسلم أنه قال: «إن أمتي أمة مرحومة، جعل عذابها بأيديها في الدنيا»، ثم ذكر طرق هذا الحديث، ثم قال معلاّ هذا الحديث: والخبر عن النبي صلي الله عليه وسلم في الشفاعة، وأن قوما يعذّبون ثم يخرجون أكثر وأبين وأشهر. وقال مثل هذا في «التاريخ الأوسط» (4).
وحديث أبي موسي أخرجه أبو داود (5) قال: حدثنا عثمان بن أبي شيبة حدثنا كثير بن هشام حدثنا المسعودي عن سعيد بن أبي بردة عن أبيه عن أبي موسي قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: «أمتي هذه أمة مرحوم ليس عليها عذاب في الآخرة، عذابها في الدنيا الفتن والزلازل والقتل». ورواه عبد بن حميد في مسنده (6) من طريق طلحة بن يحيى عن أبي بردة عن أبيه قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: «إن هذه الأمة أمة مرحومة عذابها بأيديها».
وسند أبي داود ضعيف لأجل المسعودي عبد الرحمن بن عبد الله فقد اختلط، وكثير بن هشام ممن روى عنه بعد الاختلاط فيما يفهم من كلام الأئمة في ترجمة المسعودي (7).
والحديث ضعيف لاضطراب أسانيده (8) كما أشار إليه البخاري في
--------------------------------------------
এটি একটি দুর্বল সনদ, কারণ ইবনে হাজার (১) যেমন বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইমরান আল-হাজাবি অজ্ঞাত (মাজহুল); এবং তিনি তাঁর এই হাদিসটিকে মুনকার (অস্বীকৃত) বলেছেন। আয-যাহাবি বলেছেন: তার একটি হাদিস রয়েছে যা মুনকার, এবং আমি তাকে নিয়ে তাদের কোনো সমালোচনা বা প্রশংসা দেখিনি (২)।
১২ - ইমাম বুখারি তাঁর ‘আত-তারিখুল কাবীর’ (৩) গ্রন্থে আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার উম্মত রহমতপ্রাপ্ত উম্মত, তাদের আযাব দুনিয়াতে তাদের নিজেদের হাতেই রাখা হয়েছে», এরপর তিনি এই হাদিসের বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করেন এবং একে ত্রুটিযুক্ত (মুআল্লাল) আখ্যা দিয়ে বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শাফায়াত এবং একদল লোক শাস্তি ভোগ করে তারপর বের হয়ে আসার বিষয়ে বর্ণিত খবরগুলো অধিকতর শক্তিশালী, স্পষ্ট এবং প্রসিদ্ধ। তিনি ‘আত-তারিখুল আওসাত’ (৪) গ্রন্থেও অনুরূপ কথা বলেছেন।
আবু মুসা বর্ণিত হাদিসটি আবু দাউদ (৫) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে উসমান ইবনে আবু শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি কাসীর ইবনে হিশাম থেকে, তিনি আল-মাসউদি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবু বুরদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার এই উম্মত রহমতপ্রাপ্ত উম্মত, পরকালে তাদের কোনো শাস্তি নেই; দুনিয়াতে তাদের শাস্তি হলো ফিতনা, ভূমিকম্প এবং হত্যাকাণ্ড।» আর আবদ ইবনে হুমাইদ তাঁর মুসনাদ (৬) গ্রন্থে তালহা ইবনে ইয়াহইয়া-এর সূত্রে আবু বুরদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই উম্মত রহমতপ্রাপ্ত উম্মত, তাদের আযাব তাদের নিজেদের হাতেই।»
আবু দাউদের সনদটি মাসউদি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহর কারণে দুর্বল, কারণ তার স্মৃতিবিভ্রম (ইখতিলাত) ঘটেছিল। আর মাসউদির জীবনীতে ইমামদের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, কাসীর ইবনে হিশাম সেই ব্যক্তিদের একজন যারা তাঁর থেকে স্মৃতিবিভ্রম ঘটার পর হাদিস শুনেছিলেন (৭)।
হাদিসটি এর সনদসমূহের অস্থিরতার (ইযতিরাব) কারণে দুর্বল (৮), যেমনটি বুখারি ইঙ্গিত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৮)
«التاريخ الكبير» (1). وذكر في «التاريخ الأوسط» (2) جملة من طرقه وقال: وفي أسانيدها نظر.
ومتنه يناقض الأحاديث الصحيحة الكثيرة في الشفاعة وإخراج الموحدين من النار كما نبّه عليه البخاري.
ومن هذه الأحاديث حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلي الله عليه وسلم قال: «يدخل أهل الجنة الجنة وأهل النار النار ثم يقول الله تعالي: أخرجوا من النار من كان في قلبه مثقال حبة من خردل من إيمان، فيخرجون منها قد اسودّوا، فيلقون في نهر الحيا أو الحياة فينبتون كما تنبت الحبة في جانب السيل، ألم تر أنها تخرج صفراء ملتوية» متفق عليه (3).
وفي إحدي روايات مسلم (4) لهذا الحديث: «حتي إذا خلص المؤمنون من النار، فو الذي نفسي بيده! ما من أحد منكم بأشد مناشدة لله في استيفاء الحق من المؤمنين لله يوم القيامة لإخوانهم الذين في النار يقولون: ربنا كانوا يصومون معنا ويصلّون ويحجون. فيقال لهم: أخرجوا من عرفتم، فتحرم صورهم علي النار، فيخرجون خلقا كثيرا قد أخذت النار إلي نصف ساقيه وإلي ركبتية. ثم يقولون: ربنا ما بقي فيها أحد ممن أمرتنا به، فيقول: ارجعوا فمن وجدتم في قلبه مثقال دينار من خير فأخرجوه، فيخرجون خلقا كثيرا. ثم يقولون: ربنا لم نذر فيها أحدا ممن أمرتنا. ثم يقول: ارجعوا فمن وجدتم في قلبه مثقال نصف دينار من خير فأخرجوه، فيخرجون خلقا كثيرا. ثم يقولون: ربنا لم نذر فيها ممن أمرتنا أحدًا. ثم
--------------------------------------------
«আত-তারিখুল কাবির» (১)। আর তিনি «আত-তারিখুল আওসাত»-এ (২) এর একদল সূত্র উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এর সনদগুলোতে ত্রুটি রয়েছে।
আর এর মূলপাঠ (মতন) সুপারিশ এবং জাহান্নাম থেকে তাওহীদপন্থীদের বের করে আনা সম্পর্কিত বহু সহীহ হাদীসের পরিপন্থী, যেমনটি ইমাম বুখারী সতর্ক করেছেন।
আর এসব হাদীসের মধ্যে রয়েছে আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «জান্নাতীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেন: যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনো। তখন তাদের সেখান থেকে বের করা হবে এমন অবস্থায় যে তারা কালো হয়ে গেছে। এরপর তাদের হায়াত বা হায়া (জীবন) নামক নদে নিক্ষেপ করা হবে। ফলে তারা প্লাবনের পাশে গজিয়ে ওঠা বীজের মতো সতেজ হয়ে উঠবে। তুমি কি দেখনি যে, তা হলুদ ও আঁকাবাঁকা হয়ে বের হয়?» (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত) (৩)।
আর এই হাদীসটির মুসলিমের (৪) একটি বর্ণনায় রয়েছে: «অবশেষে যখন মুমিনগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, তখন সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ তার নিজের পাওনা আদায়ের জন্য আল্লাহর কাছে ততটা জোরালো আবেদন করে না, যতটা কিয়ামতের দিন মুমিনগণ তাদের ঐসব ভাইদের জন্য আল্লাহর কাছে করবে যারা জাহান্নামে রয়ে গেছে। তারা বলবে: হে আমাদের রব! তারা তো আমাদের সাথে রোজা রাখত, সালাত আদায় করত এবং হজ করত। তখন তাদের বলা হবে: তোমরা যাদের চেনো তাদের বের করে নিয়ে এসো। তখন তাদের চেহারাগুলো জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেওয়া হবে। ফলে তারা বহু মানুষকে বের করে আনবে যাদের জাহান্নামের আগুন পায়ের নলার অর্ধেক পর্যন্ত কিংবা হাঁটু পর্যন্ত গ্রাস করেছিল। এরপর তারা বলবে: হে আমাদের রব! আপনি যাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে আর কেউ সেখানে অবশিষ্ট নেই। তখন তিনি বলবেন: তোমরা ফিরে যাও এবং যার অন্তরে এক দীনার পরিমাণ কল্যাণ খুঁজে পাও তাকে বের করে আনো। ফলে তারা বহু মানুষকে বের করে আনবে। তারপর তারা বলবে: হে আমাদের রব! আপনি যাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদের কাউকেও আমরা সেখানে ছাড়িনি। এরপর তিনি বলবেন: তোমরা ফিরে যাও এবং যার অন্তরে অর্ধেক দীনার পরিমাণ কল্যাণ পাবে তাকে বের করে আনো। ফলে তারা অনেক মানুষকে বের করে আনবে। তখন তারা বলবে: হে আমাদের রব! আপনি যাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদের কাউকেও আমরা আর সেখানে অবশিষ্ট রাখিনি। অতঃপর...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৯)
يقول: ارجعوا فمن وجدتم في قلبه مثقال ذرة من خير فأخرجوه، فيخرجون خلقا كثيرا ثم يقولون: ربنا لم نذر فيها خيرا» الحديث.
والأحاديث في إخراج الموحدين من النار بعد دخولهم فيها متواترة كما صرح بذلك جمع من العلماء (1).
وهذا ما جعل البخاري يعلّ حديث أبي موسي: «أمتي هذه أمة مرحومة ليس عليها عذاب في الآخرة» لمخالفة متنه ما في تلك الأحاديث المتواترة من إثبات دخول بعض المسلمين النار.
13 - وقال البخاري في «التاريخ الكبير» (2): قال لي عبد الله بن محمد: حدثنا هشام قال: حدثنا معمر عن ابن أبي ذئب عن الزهري أن رسول الله صلي الله عليه وسلم قال: «ما أدري أعزير نبيا كان أم لا، وتبّع لعينا كان أم لا، والحدود كفارات لأهلها أم لا».
ثم قال: وقال عبد الرزاق: عن معمر عن ابن أبي ذئب عن سعيد عن أبي هريرة عن النبي صلي الله عليه وسلم والأول أصح. ولا يثبت هذا عن النبي صلي الله عليه وسلم؛ لأن النبي صلي الله عليه وسلم قال: «الحدود كفارة».
والرواية الموصولة التي أشار إليها البخاري رواها أبو داود (3) قال: حدثنا محمد بن المتوكل العسقلاني ومخلد بن خالد الشعيري، المعني، قال: حدثنا عبد الرزاق أخبرنا معمر عن ابن أبي ذئب عن سعيد بن أبي سعيد عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: «ما أدري أتبع لعين هو أم لا، وما أدري أعزير نبي هو أم لا».
ورواه الحاكم في «مستدركه» (4) من طريق أحمد بن حنبل ومحمد بن رافع ومحمد بن يحيى ثلاثتهم عن عبد الرزاق به بلفظ: «ما أدري تبع أنبيا
--------------------------------------------
তিনি বলবেন: "তোমরা ফিরে যাও, অতঃপর যার অন্তরে অণু পরিমাণ কল্যাণ পাবে তাকে বের করে আনো।" ফলে তারা অসংখ্য সৃষ্টিকে বের করে আনবেন, এরপর তারা বলবেন: "হে আমাদের রব! আমরা সেখানে আর কোনো কল্যাণ অবশিষ্ট রাখিনি।" (হাদীস)।
একত্ববাদীদের জাহান্নামে প্রবেশের পর সেখান থেকে বের করে আনা সংক্রান্ত হাদীসগুলো মুতাওয়াতির, যেমনটি একদল আলেম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (১)।
আর এই বিষয়টিই ইমাম বুখারীকে আবু মুসার বর্ণিত হাদীসটিকে ত্রুটিযুক্ত (ইলালপূর্ণ) সাব্যস্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে: "আমার এই উম্মত রহমতপ্রাপ্ত উম্মত, আখিরাতে তাদের কোনো আজাব নেই।" কারণ এর মূল পাঠ (মতন) ওই মুতাওয়াতির হাদীসগুলোর পরিপন্থী, যাতে কিছু মুসলিমের জাহান্নামে প্রবেশের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
১৩ - ইমাম বুখারী 'আত-তারীখুল কাবীর'-এ (২) বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাকে বলেছেন: হিশাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের কাছে ইবনে আবি দি'ব থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি জানি না উযাইর নবী ছিলেন কি না, এবং তুব্বা অভিশপ্ত ছিলেন কি না, আর দণ্ডবিধিগুলো (হুদুদ) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কাফফারা (পাপমোচনকারী) কি না।"
অতঃপর তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন মা'মার থেকে, তিনি ইবনে আবি দি'ব থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে। তবে প্রথম বর্ণনাটিই অধিকতর বিশুদ্ধ। আর এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দণ্ডবিধিগুলো হলো কাফফারা।"
আর ইমাম বুখারী যে মুত্তাসিল (সংযুক্ত) বর্ণনার দিকে ইশারা করেছেন, তা আবু দাউদ (৩) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনুল মুতাওয়াক্কিল আল-আসকালানী এবং মাখলাদ ইবনে খালিদ আশ-শুআইরী (মর্মগতভাবে) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আবি দি'ব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি জানি না তুব্বা অভিশপ্ত কি না, আর আমি জানি না উযাইর একজন নবী কি না।"
আর ইমাম হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক'-এ (৪) আহমাদ ইবনে হাম্বল, মুহাম্মদ ইবনে রাফে' এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া—এই তিনজনের সূত্রে আবদুর রাজ্জাক থেকে একই বর্ণনায় এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আমি জানি না তুব্বা কি নবী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৯০)
كان أم لا، وما أدري ذا القرنين أنبيا كان أم لا، وما أدري الحدود كفارات لأهلها أم لا».
وقد رجح غير واحد من الأئمة الوجه المرسل الذي رواه هشام بن يوسف الصنعاني عن معمر، علي الوجه الموصول الذي رواه عبد الرزاق عن معمر؛ تقديما لهشام علي عبد الرزاق.
وقد سئل أبو زرعة الرازي عن هشام وعبد الرزاق ومحمد بن ثور فقال: كان هشام أكبرهم وأحفظهم وأتقن (1).
وذكر الذهبي في ترجمة هشام أنه من أقران عبد الرزاق لكنه أجل وأتقن (2). ولهذا رجح البخاري هنا الوجه المرسل. وممن رجح الإرسال أيضا الحنائي في «فوائده» (3).
فالحديث ضعيف لإرساله؛ ولمخالفة متنه الحديث الصحيح حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: بايعت رسول الله صلي الله عليه وسلم في رهط فقال: «أبايعكم علي أن لا تشركوا بالله شيئا، ولا تسرقوا، ولا تزنوا، ولا تقتلوا أولادكم، ولا تأتوا ببهتان تفترونه بين أيديكم وأرجلكم ولا تعصوني في معروف. فمن وفي منكم فأجره علي الله. ومن أصاب من ذلك شيئا فأخذ به في الدنيا فهو كفارة له وطهور. ومن ستره الله فذلك إلي الله إن شاء عذّبه وإن شاء غفر له» متفق عليه (4).
فقد أفاد هذا الحديث أن الحدود كفارة. وقد جزم كثير من العلماء بأن حديث عبادة هذا كان بمكة ليلة العقبة لما بايع الأنصار رسول الله صلي الله عليه وسلم البيعة الأولي بمني، وأبو هريرة إنما أسلم بعد ذلك بسبع سنين عام خيبر، فكيف ينقل عن النبي صلي الله عليه وسلم نفيه العلم بأن الحدود كفارة (5)؟!
--------------------------------------------
ছিলেন কি না, আর আমি জানি না যুল-কারনাইন নবী ছিলেন কি না, এবং আমি জানি না হদসমূহ (নির্ধারিত দণ্ডবিধি) সেগুলোর অধিকারীদের জন্য কাফফারা (পাপমোচনকারী) কি না।"
একাধিক ইমাম হিশাম ইবনে ইউসুফ আস-সানআনি কর্তৃক মা'মার থেকে বর্ণিত 'মুরসাল' বর্ণনাটিকে আবদুর রাজ্জাক কর্তৃক মা'মার থেকে বর্ণিত 'মাওসুল' (সংযুক্ত) বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন; হিশামকে আবদুর রাজ্জাকের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে।
আবু যুরআ আর-রাজিকে হিশাম, আবদুর রাজ্জাক এবং মুহাম্মদ ইবনে সাওর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: হিশাম ছিলেন তাঁদের মধ্যে বয়সে বড়, সবচেয়ে বেশি স্মৃতিধর এবং অধিক নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য (১)।
যাহাবি হিশামের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবদুর রাজ্জাকের সমসাময়িক ছিলেন, তবে তিনি অধিকতর মর্যাদাবান ও নির্ভরযোগ্য (২)। এই কারণেই বুখারি এখানে মুরসাল বর্ণনাটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আর যাঁরা মুরসাল হওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আল-হিন্নাঈ তাঁর 'ফাওয়াইদ' গ্রন্থেও এটি উল্লেখ করেছেন (৩)।
সুতরাং হাদিসটি এর মুরসাল হওয়ার কারণে দুর্বল; এবং এর মূল পাঠ (মতন) সহিহ হাদিসের বিরোধী হওয়ার কারণে। সেটি হলো উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি একদল লোকের মাঝে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বায়াত গ্রহণ করলাম। তখন তিনি বললেন: "আমি তোমাদের কাছ থেকে এই শর্তে বায়াত নিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তোমাদের হাত ও পায়ের মাঝখানে কোনো মিথ্যা অপবাদ রটনা করবে না এবং সৎ কাজে আমার অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং দুনিয়াতে তাকে এর শাস্তি প্রদান করা হবে, তবে তা তার জন্য কাফফারা ও পবিত্রতা স্বরূপ হবে। আর যার অপরাধ আল্লাহ গোপন রাখবেন, তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে ক্ষমা করে দেবেন।" এটি বুখারি ও মুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন (৪)।
এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, হদসমূহ হলো কাফফারা। অনেক আলেম নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, উবাদাহ-র এই হাদিসটি মক্কায় লাইলাতুল আকাবায় সংঘটিত হয়েছিল যখন আনসারগণ মিনায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে প্রথম বায়াত গ্রহণ করেছিলেন। আর আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার সাত বছর পর খায়বারের বছর ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই কথা বর্ণনা করবেন যে, হদ কাফফারা কি না সে বিষয়ে তিনি জানেন না (৫)?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৯১)
وممن أعلّ الحديث بحديث عبادة ابن عبد البر فقال: حديث عبادة بن الصامت عن النبي صلي الله عليه وسلم فيه أن الحدود كفارة، وهو أثبت وأصح إسنادا من حديث أبي هريرة هذا (1).
14 - وروى البخاري في «التاريخ الكبير» (2) في ترجمة عائذ بن حبيب قال: حدثني يوسف بن راشد حدثنا عائذ بن حبيب بياع الهروي حدثنا حميد عن أنس بن مالك أن النبي صلي الله عليه وسلم رأي نخامة في المسجد، فاحمرّ وجهه، فحكتها امرأة، وجعلت خلوقا، فقال: «ما أحسن هذا!».
ثم قال البخاري: وروى إسماعيل بن جعفر وحفص عن حميد ولم يقولا «الخلوق»، وقالا: «حكه النبي صلي الله عليه وسلم بيده». وهذا أصح.
فرأي البخاري أن رواية عائذ بن حبيب عن حميد تخالف رواية بقية الرواة عن حميد، ففي رواية عائذ أن امرأة هي التي حكت النخامة، وأنها جعلت مكانها خلوقا، وفي رواية بقية الرواة عن حميد أن الذي حك النخامة هو النبي صلي الله عليه وسلم، ولم يذكروا الخلوق. والحديث مخرجه واحد، ولا يمكن قبول هاتين الروايتين معا لما فيهما من التعارض، ولهذا رجح البخاري رواية الأكثر علي رواية عائذ.
ورواية عائذ أخرجها النسائي (3) قال: أخبرنا إسحق بن إبراهيم قال: حدثنا عائذ بن حبيب قال: حدثنا حميد الطويل عن أنس بن مالك قال: رأي رسول الله صلي الله عليه وسلم نخامة في قبلة المسجد، فغضب حتي احمرّ وجهه، فقامت امرأة من الأنصار، فحكتها وجعلت مكانها خلوقا، فقال رسول الله صلي الله عليه وسلم: «ما أحسن هذا».
وأخرجها ابن ماجه (4) عن محمد بن طريف عن عائذ به.
--------------------------------------------
আর উবাদার হাদিস দ্বারা যারা এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন তাদের মধ্যে ইবনে আবদিল বার রয়েছেন; তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত উবাদা ইবনে সামিতের হাদিসে উল্লেখ রয়েছে যে, দণ্ডবিধিগুলো হলো কাফফারা; আর এটি আবু হুরায়রার এই হাদিসের তুলনায় অধিক সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সনদের দিক থেকে অধিক বিশুদ্ধ (১)।
১৪ - ইমাম বুখারি 'আত-তারিখুল কবির' (২) গ্রন্থে আয়িয বিন হাবিবের জীবনীতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ বিন রাশিদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আয়িয বিন হাবিব বায়্যিউল হারাউয়ি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হুমাইদ আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে কফ দেখতে পেলেন, এতে তাঁর চেহারা (রাগে) লাল হয়ে গেল। তখন জনৈকা মহিলা সেটি ঘষে তুলে ফেললেন এবং সেখানে সুগন্ধি লাগিয়ে দিলেন। তখন তিনি বললেন: "এটি কতই না চমৎকার!"
অতঃপর ইমাম বুখারি বলেন: ইসমাইল বিন জাফর এবং হাফস হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁরা 'সুগন্ধি'র কথা উল্লেখ করেননি। তাঁরা বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিজের হাত দিয়ে ঘষে তুলেছেন।" আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ।
সুতরাং ইমাম বুখারি মনে করেন যে, হুমাইদ থেকে বর্ণিত আয়িয বিন হাবিবের বর্ণনাটি হুমাইদ থেকে বর্ণিত অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার বিপরীত। কেননা আয়িযের বর্ণনায় এসেছে যে জনৈকা মহিলা সেই কফ ঘষে পরিষ্কার করেছেন এবং সেখানে সুগন্ধি লাগিয়েছেন, অথচ হুমাইদ থেকে বর্ণিত অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় এসেছে যে, যিনি কফ ঘষে পরিষ্কার করেছেন তিনি ছিলেন স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এবং তাঁরা সুগন্ধির কথা উল্লেখ করেননি। হাদিসটির মূল সূত্র এক, এবং বিরোধপূর্ণ হওয়ার কারণে এই দুটি বর্ণনা একত্রে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এই কারণেই ইমাম বুখারি অধিকাংশের বর্ণনাকে আয়িযের বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
আয়িযের বর্ণনাটি ইমাম নাসাঈ (৩) সংকলন করেছেন; তিনি বলেন: ইসহাক বিন ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আয়িয বিন হাবিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুমাইদ আত-তবিল আনাস ইবনে মালিক থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কিবলার দিকে কফ দেখতে পেলেন, এতে তিনি রাগান্বিত হলেন এমনকি তাঁর চেহারা লাল হয়ে গেল। তখন আনসারদের মধ্য থেকে জনৈকা মহিলা উঠে দাঁড়ালেন এবং সেটি ঘষে পরিষ্কার করলেন ও সেখানে সুগন্ধি লাগিয়ে দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটি কতই না উত্তম।"
এবং ইবনে মাজাহ (৪) মুহাম্মদ বিন তারিফ থেকে, তিনি আয়িয থেকে একই সূত্রে এটি সংকলন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল্লাতি আলাল ইমামুল বুখারি মুতুনাহা বিত-তানাকুদ
(পৃষ্ঠা: ১৯২)
وأما رواية بقية الرواة عن حميد فرواية إسماعيل بن جعفر عن حميد رواها البخاري (1) قال: حدثنا قتيبة قال: حدثنا إسماعيل بن جعفر عن حميد عن أنس أن النبي صلي الله عليه وسلم رأي نخامة في القبلة، فشقّ ذلك عليه حتي رؤي في وجهه، فقام فحكه بيده، فقال: «إن أحدكم إذا قام في صلاته فإنه يناجي ربه أو إن ربه بينه وبين القبلة فلا يبزقن أحدكم قبل قبلته ولكن عن يساره أو تحت قدميه»، ثم أخذ طرف ردائه فبصق فيه، ثم ردّ بعضه علي بعض، فقال: «أو يفعل هكذا».
وتابع إسماعيل بن جعفر في روايته هذا عن حميد كل من: حفص بن غياث عند ابن أبي شيبة (2)، وزهير بن معاوية عند البخاري (3)، وسفيان عند البخاري والحميدي، ويزيد بن هارون عند أحمد والدارمي، ومحمد بن عبد الله بن المثني عند أحمد، وحماد بن سلمة عند أبي داود (4).
ولا شك أن رواية هؤلاء - وهم أكثر عددا وحفظا - مقدمة علي رواية عائذ بن حبيب عند الاختلاف، وقد قال ابن حجر فيه: صدوق (5).
--------------------------------------------
হুমাইদ থেকে অবশিষ্ট বর্ণনাকারীদের বর্ণনার ক্ষেত্রে, ইসমাঈল ইবনে জাফর কর্তৃক হুমাইদ থেকে বর্ণিত হাদিসটি বুখারি (১) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: কুতায়বা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে জাফর আমাদের কাছে হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিবলার দিকে কফ দেখতে পেলেন, যা তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টদায়ক মনে হলো, এমনকি তা তাঁর চেহারায় ফুটে উঠল। অতঃপর তিনি উঠে তা নিজ হাতে ঘষে পরিষ্কার করলেন এবং বললেন: «তোমাদের কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন সে তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে, অথবা তার রব তার এবং কিবলার মাঝখানে থাকেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন তার কিবলার দিকে থুতু না ফেলে, বরং তার বাম দিকে অথবা তার দুই পায়ের নিচে ফেলবে», অতঃপর তিনি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরলেন এবং তাতে থুতু ফেললেন, তারপর তার এক অংশ অন্য অংশের ওপর ভাঁজ করলেন এবং বললেন: «অথবা সে এভাবে করবে»।
হুমাইদ থেকে বর্ণিত এই রেওয়ায়েতে ইসমাঈল ইবনে জাফরের অনুসরণ করেছেন: ইবনে আবি শাইবায় হাফস ইবনে গিয়াস (২), বুখারিতে জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া (৩), বুখারি ও হুমাইদিতে সুফিয়ান, আহমাদ ও দারিমিতে ইয়াজিদ ইবনে হারুন, আহমাদে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুসান্না এবং আবু দাউদে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ (৪)।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এঁদের বর্ণনা—যাঁরা সংখ্যায় অধিক এবং স্মরণশক্তিতে অধিক মজবুত—মতভেদের ক্ষেত্রে আয়িজ ইবনে হাবিবের বর্ণনার ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য; ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: সত্যবাদী (৫)।
--------------------------------------------