(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: -)
فتح المعبود في الرد على ابن محمود   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: فتح المعبود في الرد على ابن محمود

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الناشر: مطبعة المدينة، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1399 هـ - 1979 م

عدد الصفحات: 187

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 جُمادَى الآخرة 1436

ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনে মাহমুদ   (হামুদ বিন আবদুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরি)

বিভাগ: দল-উপদল এবং খণ্ডনতত্ত্ব


গ্রন্থ: ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনে মাহমুদ (ইবনে মাহমুদের খণ্ডনে উপাস্য প্রভুর বিজয়দান)

লেখক: হামুদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামুদ বিন আবদুর রহমান আত-তুওয়াইজিরি (মৃত্যু: ১৪১৩ হিজরি)

প্রকাশক: মাতবাআতুল মদিনা, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬ হিজরি

(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: -)
فتحُ المعبود فِي الرَّد على ابْن مَحْمُود

 

تأليف

الشَّيْخ حمود بن عبد اللهِ التويجري الْمُتَوفَّى 1413 هـ

 

مطبعة الْمَدِينَة
ইবনে মাহমুদের খণ্ডনে ফাতহুল মাবূদ

 

রচনায়

শায়খ হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজরী (মৃত্যু ১৪১৩ হিজরী)

 

মদীনা মুদ্রণালয়
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تقديم

للشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز

الرئيس العام لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهداه، أما بعد:

فقد اطلعت على ما كتبه أخونا العلامة فضيلة الشيخ حمود بن عبد الله التويجري وفقه الله من التعقيب على ما كتبه فضيلة الشيخ عبد الله بن زيد بن محمود في الإيمان بالقدر وفي بيان الفرق بين الرسول والنبي وأنه ليس كل نبي رسولا، وفي الذب عن أبي ذر رضي الله عنه، وفي الفرق بين الإسلام والإيمان فألفيته قد أجاد وأفاد وأوضح الأخطاء التي وقع فيها فضيلة الشيخ عبد الله المذكور بالأدلة الواضحة من الكتاب والسنة.

ومن ذلك خطأه في تأويل كتابة القدر بأنها نفس العلم. والصواب أنها غير العلم بل مرتبة ثانية بعد العلم، ومن ذلك زعمه أن كل نبي رسول، والصواب ما أوضحه فضيلة الشيخ حمود من الفرق بينهما بالأدلة الصحيحة الصريحة من الكتاب
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপস্থাপনা

শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায-এর পক্ষ থেকে

বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ফতোয়া, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা বিষয়ক সাধারণ দপ্তরের প্রধান

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার, তাঁর সাহাবীগণ ও যারা তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসরণ করেন তাদের ওপর। অতপর:

আমি আমাদের ভাই আল্লামা ফযীলাতুশ শাইখ হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন) কর্তৃক রচিত সেই পর্যালোচনাটি অবগত হয়েছি, যা তিনি ফযীলাতুশ শাইখ আব্দুল্লাহ বিন যাইদ বিন মাহমুদের লেখনীর ওপর করেছেন। এটি তাকদীরে বিশ্বাস, রাসূল ও নবীর মধ্যে পার্থক্যের বর্ণনা (এবং এটি যে প্রত্যেক নবী রাসূল নন), আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতিরক্ষা এবং ইসলাম ও ঈমানের মধ্যকার পার্থক্য বিষয়ক। আমি তাঁকে অত্যন্ত নিপুণ ও তথ্যবহুল পেয়েছি এবং তিনি কিতাব ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট দলীল দ্বারা উল্লেখিত ফযীলাতুশ শাইখ আব্দুল্লাহ যে ভুলগুলো করেছেন তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে তাকদীর লিপিবদ্ধ হওয়াকে কেবল 'ইলম' বা জ্ঞানের সমার্থক হিসেবে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তাঁর ভুল। অথচ সঠিক হলো যে এটি ইলম থেকে ভিন্ন, বরং ইলমের পরবর্তী এটি দ্বিতীয় স্তর। এর মধ্যে আরও রয়েছে তাঁর এই দাবি যে প্রত্যেক নবীই রাসূল; অথচ সঠিক হলো যা ফযীলাতুশ শাইখ হামুদ কিতাবুল্লাহর সঠিক ও দ্ব্যর্থহীন দলীল দ্বারা তাদের মধ্যকার পার্থক্যের ব্যাপারে স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৪)
والسنة. وهو أن كل رسول نبي وليس كل نبي رسولا كما يتضح ذلك جليا لكل من راجع الأدلة التي أوضحها الشيخ حمود المذكور وبينها أهل العلم قبله، وهكذا ما أوضحه فضيلة الشيخ حمود من الفرق بين الإسلام والإيمان عند الاقتران وأنه ليس كل مسلم مؤمنا على الكمال؛ بل كل مؤمن مسلم ولا ينعكس للأدلة التي أوضحها فضيلته وبسطها قبله أهل العلم كشيخ الإسلام ابن تيمية والحافظ ابن كثير والحافظ ابن رجب وغيرهم.

فجزاه الله خيرا وشكر له سعيه وأجزل مثوبته.

كما نسأله سبحانه أن يوفق أخانا فضيلة الشيخ عبد الله بن زيد لمراجعة الحق فإن ذلك خير من التمادي في الخطأ وكل إنسان يخطئ ويصيب إلا الرسل عليهم الصلاة والسلام فقد عصمهم الله من الخطأ فيما يبلغونه عنه من الرسالات ومن نبل العالم وفضله أن يرجع إلى الحق متى نُبه على خطئه.

والله أسأل أن يوفقنا جميعا للفقه في الدين والثبات عليه وأن يعيذنا جميعا من مضلات الفتن وأن يرينا الحق حقا ويرزقنا ابتاعه ويرينا الباطل باطلا ويمن علينا باجتنابه، إنه ولي ذلك والقادر عليه. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه …

 

عبد العزيز بن عبد الله بن باز

الرئيس العام

لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد
এবং সুন্নাহ। আর তা হলো প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন; যেমনটি সেই ব্যক্তির নিকট স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যে উল্লিখিত শায়খ হামূদ কর্তৃক সুস্পষ্টকৃত এবং তাঁর পূর্ববর্তী জ্ঞানীদের দ্বারা বর্ণিত প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে। অনুরূপভাবে, ইসলাম ও ঈমান একত্রে উল্লিখিত হওয়ার ক্ষেত্রে এদের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে শ্রদ্ধেয় শায়খ হামূদ যা স্পষ্ট করেছেন—অর্থাৎ প্রত্যেক মুসলিমই পূর্ণাঙ্গ মুমিন নন; বরং প্রত্যেক মুমিনই মুসলিম, কিন্তু এর বিপরীতটি (অর্থাৎ প্রত্যেক মুসলিমই মুমিন হওয়া) অনিবার্য নয়। এটি সেই সকল দলিলের ভিত্তিতে যা তাঁর মহোদয় স্পষ্ট করেছেন এবং তাঁর পূর্বে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, হাফেজ ইবনে কাসীর, হাফেজ ইবনে রজব ও অন্যান্য আলেমগণ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাঁর সওয়াবকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিন।

তদ্রূপ আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ভাই শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল্লাহ বিন যায়েদকে সত্যের পথে ফিরে আসার তাওফীক দান করেন; কেননা ভুলের ওপর অবিচল থাকার চেয়ে সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করাই শ্রেয়। আর রাসূলগণ (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ব্যতীত প্রত্যেক মানুষই ভুল করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়; আল্লাহ তাআলা রাসূলগণকে তাঁর রিসালাতের বাণী প্রচারের ক্ষেত্রে ভুল থেকে সুরক্ষা দান করেছেন। একজন আলেমের আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক হলো, যখনই তাঁকে তাঁর ভুল সম্পর্কে সতর্ক করা হয়, তখনই সত্যের দিকে ফিরে আসা।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক বুঝ এবং এর ওপর অবিচল থাকার তাওফীক দান করেন। তিনি যেন আমাদের সকলকে বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে আশ্রয় দেন এবং আমাদের নিকট সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিভাত করেন ও তা অনুসরণের তাওফীক দান করেন, আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে প্রতিভাত করেন ও তা বর্জনের তাওফীক দিয়ে আমাদের ধন্য করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক ও সর্ববিষয়ে সক্ষম। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক ...

 

আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ

মহাপরিচালক

বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াত ও ইরশাদ বিভাগসমূহ
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تقديم

للشيخ عبد الله بن محمد بن حميد

رئيس مجلس القضاء الأعلى

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وأصحابه ومن والاه. وبعد:

فقد قرأ عليَّ فضيلة الشيخ حمود بن عبد الله التويجري مؤلفه القيم الذي سماه (فتح المعبود في الرد على ابن محمود).

أجاد فيه وأفاد وأوضح فيه مذهب أهل السنة والجماعة في القضاء والقدر وما عليه المحققون من الفرق بين الإيمان والإسلام وبين النبي والرسول بالبراهين الواضحة، وبين غلط الشيخ ابن محمود في القضاء والقدر حيث زعم ابن محمود أن الكتابة في قوله صلى الله عليه وسلم: إن الله كتب مقادير الخلائق قبل أن يخلق السموات والأرض، هي عبارة عن العلم القائم بذات الله وهو معنى قول أحدنا قدر الله وما شاء فعل وهذا خطأ بين فإن كتابة الشيء غير سابق علم الله فقد جاءت الأحاديث الكثيرة بأن أول ما خلق الله القلم ف له: أكتب فجرى في تلك الساعة بما هو كائن إلى يوم القيامة. ولم يقل أحد من أهل السنة فيما علمت أن كتابة المقادير هي العلم القائم بذاته سبحانه وتعالى، فعلى هذا لا معنى لقوله صلى الله عليه وسلم: «إن الله كتب مقادير الخلائق
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপস্থাপনা

শায়খ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হুমাইদ-এর পক্ষ হতে

প্রধান, উচ্চতর বিচার বিভাগীয় পরিষদ

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছে তাদের ওপর। অতঃপর:

শ্রদ্ধেয় শায়খ হামুদ বিন আবদুল্লাহ আত-তুওয়াইজরী তাঁর মূল্যবান গ্রন্থটি আমার সামনে পাঠ করেছেন, যার নাম তিনি দিয়েছেন (ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনে মাহমুদ)।

তিনি এতে অত্যন্ত নিপুণতা প্রদর্শন করেছেন এবং অনেক ফায়দা প্রদান করেছেন। এতে তিনি অকাট্য দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে কাজা ও কদর (তকদির) বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব এবং ঈমান ও ইসলামের পার্থক্য ও নবী ও রাসূলের পার্থক্যের ক্ষেত্রে মুহাক্কিক ওলামায়ে কেরামের অনুসৃত পথ সুস্পষ্ট করেছেন। এছাড়াও তিনি কাজা ও কদরের বিষয়ে শায়খ ইবনে মাহমুদের ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন। কেননা ইবনে মাহমুদ দাবি করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী— "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে সৃষ্টিজগতের ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন"— এতে 'লিখন' বলতে আল্লাহর সত্তাগত জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে; যা আমাদের কারো এই উক্তির সমার্থবোধক যে, ‘আল্লাহ তকদিরে রেখেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে’। এটি একটি সুস্পষ্ট ভুল, কারণ কোনো কিছু লিপিবদ্ধ হওয়া আল্লাহর অনাদি জ্ঞানের চেয়ে ভিন্ন বিষয়। কেননা বহু হাদিসে এসেছে যে, আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। এরপর তাকে বললেন: ‘লেখ’। তখন সেই মুহূর্তেই কিয়ামত পর্যন্ত যা ঘটবে তা লিপিবদ্ধ হয়ে গেল। আমার জানামতে আহলুস সুন্নাহর কোনো আলিমই এমন কথা বলেননি যে, ভাগ্যলিপি লিখন মানেই হলো মহান আল্লাহর সত্তাগত জ্ঞান। এরুপ ব্যাখ্যা গ্রহণ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কোনো অর্থই থাকে না যে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতের ভাগ্যসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন..."।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৬)
قبل أن يخلق السموات والأرض …» الحديث لكونه فسر الكتابة بسابق علم الله، ولا يخفى فساد هذا.

قال ابن القيم ما معناه مراتب القضاء والقدر أربع مراتب:

الأولى: علم الرب سبحانه بالأشياء قبل كونها.

الثانية: كتابة ذلك عنده في الأزل قبل خلق السموات والأرض.

الثالثة: مشيئة المتناولة لكل موجود، فلا خروج لكائن كما لا خروج له عن علمه.

الرابعة: خلقه لها، وإيجاده وتكوينه؛ فالله خالق كل شيء وما سواه مخلوق.

ثانيا: زعم ابن محمود أن القدر هو خلقه للأشياء بنظام واتقان ثابت لا يتغير بتغير الزمان كل شيء بحسبه، وهذا مخالف لما في الأحاديث الصحيحة.

فتقدير الله للأشياء هو علمه بمقاديرها وأحوالها وأزمانها قبل إيجادها ثم أوجد منها ما سبق في علمه أنه يوجده على نحو ما سبق في علمه، فلا محدث في العالم العلوي والسفلي إلا هو صادر عن علمه تعالى وقدرته وإرادته هذا هو المعلوم من دين السلف الماضين الذين دلت عليه البراهين.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: مذهب أهل السنة في هذا الباب وغيره ما دل عليه الكتاب والسنة، وما عليه السابقون الأولون من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان، وهو أن الله خالق كل شيء وربه ومليكه، وقد دخل في ذلك جميع الأعيان القائمة بأنفسها وصفاتها القائمة بها من أفعال العباد وغير أفعال العباد، وأنه سبحانه ما شاء كان وما لم يشأ لم يكن، فلا يكون في الوجود شيء إلا بمشيئته وقدرته لا يمتنع
«...আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে ...» হাদীসটি; কারণ তিনি এখানে 'লিখন' বা কিতাবাতকে আল্লাহর পূর্বজ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন, আর এই ব্যাখ্যার অসারতা কারো নিকট অস্পষ্ট নয়।

ইবনুল কায়্যিম (রহ.) এর বক্তব্যের মর্মার্থ হলো, ক্বাযা ও ক্বদরের স্তর চারটি:

প্রথমত: বস্তুসমূহ সৃষ্টির পূর্বে সেগুলো সম্পর্কে মহান রবের জ্ঞান।

দ্বিতীয়ত: আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে অনাদিকাল থেকে তাঁর নিকট সেগুলো লিখে রাখা।

তৃতীয়ত: তাঁর এমন এক ইচ্ছা যা প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে। ফলে কোনো অস্তিত্বশীল বিষয় যেমন তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়, তেমনি তাঁর ইচ্ছারও বাইরে নয়।

চতুর্থত: সেগুলো সৃষ্টি করা, অস্তিত্ব দান করা এবং গঠন করা; কেননা আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা এবং তিনি ছাড়া যা কিছু আছে সবই তাঁর সৃষ্টি।

দ্বিতীয়ত: ইবনে মাহমুদ দাবি করেছেন যে, ক্বদর হলো বস্তুসমূহকে একটি সুসংহত ও সুদৃঢ় নিয়মে সৃষ্টি করা যা সময়ের আবর্তনে পরিবর্তন হয় না, বরং প্রতিটি বস্তু তার নিজ অবস্থা অনুযায়ী বহাল থাকে। এটি সহীহ হাদীসসমূহের পরিপন্থী।

বস্তুত বস্তুসমূহের ব্যাপারে আল্লাহর ক্বদর (তাকদীর) হলো—সেগুলো সৃষ্টির পূর্বেই সেগুলোর পরিমাণ, অবস্থা ও সময় সম্পর্কে তাঁর সম্যক জ্ঞান। অতঃপর তিনি তাঁর সেই পূর্বজ্ঞান অনুযায়ী সেগুলো সৃষ্টি করেছেন যা তিনি সৃষ্টি করবেন বলে স্থির করেছিলেন। সুতরাং ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতে যা কিছু সংঘটিত হয়, তা মহান আল্লাহর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছার মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়। সালাফে সালেহীন বা পূর্ববর্তী মনীষীদের অনুসৃত দ্বীন থেকে এটাই সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, যার স্বপক্ষে অকাট্য দলিল বিদ্যমান।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: এই বিষয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাযহাব হলো তা-ই, যা কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশ করে এবং যার ওপর মুহাজির, আনসার ও নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী অগ্রবর্তী ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আর তা হলো—নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা, প্রতিপালক ও মালিক। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সকল স্বতন্ত্র সত্তা এবং সেগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত গুণাবলি, চাই তা বান্দার কর্ম হোক বা অন্য কিছু। আর সুবহানাহু ওয়া তাআলা যা চান তা হয় এবং যা তিনি চান না তা হয় না। সুতরাং তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতা ব্যতিরেকে মহাবিশ্বে কোনো কিছুই অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না এবং কোনো কিছুই তাঁকে প্রতিহত করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৭)
عليه شيء شاءه، بل هو قادر على كل شيء، ولا يشاء شيئا إلا وهو قادر عليه، وأنه سبحانه يعلم ما كان، وما يكون، وما لم يكون لو كان كيف يكون، فقد دخل في ذلك أفعال العباد وغيرها، وقد قدر مقادير الخلائق قبل أن يخلقهم، قدر أرزاقهم وآجالهم وأعمالهم، وكتب ذلك، وكتب ما يصيرون إليه من سعادة وشقاوة، فهم يؤمنون بخلقه لكل شيء وقدرته على كل شيء ومشيئته لكل ما كان وعلمه بالأشياء قبل أن تكون وتقديره لها وكتابته إياها قبل أن تكون.

ولابن محمود عدة أخطاء في رسالته المردود عليها التي سماها الإيمان بالقضاء والقدر على طريقة أهل السنة والأثر كما أشار إلى ذلك الشيخ حمود جزاه الله خيرا، وبارك فيه وفي علومه.

والذي نحبه لأخينا الشيخ ابن محمود أن تكون كتاباته معالجة لمشاكل العصر. والرد على فرق الضلال المنتشرة في كل مكان؛ كالماسونية والبهائية والشيوعية وأمثالها.

وتحذير المسلمين من هذه الموجة الإلحادية التي طار شررها، وعظم خطرها دون الكتابة في الفرق بين النبي والرسول وأمثال ذلك.

نسأل الله للجميع الهداية والتوفيق.

وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه، وسلم ..

 

رئيس مجلس القضاء الأعلى

عبد الله بن محمد بن حميد.
তাঁর পক্ষে কোনো কিছু করা কঠিন নয় যা তিনি ইচ্ছা করেন, বরং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা সম্পন্ন করতে তিনি সক্ষম। তিনি অতি পবিত্র ও মহান, তিনি জানেন যা হয়েছে, যা হচ্ছে এবং যা কখনো ঘটবে না তা যদি ঘটত তবে কীভাবে ঘটত। বান্দাদের কর্মসমূহ এবং অন্য সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। তিনি সৃষ্টির পূর্বেই মাখলুকাতের তকদির নির্ধারণ করেছেন; তাদের রিজিক, আয়ু ও আমলসমূহ নির্ধারণ করেছেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেছেন। তারা পরিণামে সৌভাগ্যবান হবে না কি দুর্ভাগা হবে তাও তিনি লিখে রেখেছেন। সুতরাং তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা, সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, যা কিছু ঘটে তার সবকিছুর পেছনে তাঁর ইচ্ছা সক্রিয় এবং সবকিছু ঘটার পূর্বেই তিনি তা জানেন, তার রূপরেখা নির্ধারণ করেছেন এবং তা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।

ইবনে মাহমুদের সেই খণ্ডনকৃত পুস্তিকায় বেশ কিছু ভুল রয়েছে, যেটির নাম তিনি দিয়েছিলেন 'আহলে সুন্নাহ ওয়াল আসারের পদ্ধতি অনুযায়ী কাজা ও কদরের প্রতি ঈমান'। যেমনটি শায়খ হামুদ ইঙ্গিত করেছেন—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাকে ও তাঁর ইলমের মধ্যে বরকত দান করুন।

আমাদের ভাই শায়খ ইবনে মাহমুদের প্রতি আমাদের সদিচ্ছা হলো, তাঁর লেখনি যেন সমসাময়িক সমস্যাবলির সমাধানমূলক হয় এবং সর্বত্র বিস্তৃত বিভ্রান্ত ফিরকাগুলোর জবাব সংবলিত হয়; যেমন ফ্রিম্যাসনারি, বাহাইবাদ, কমিউনিজম এবং এই জাতীয় মতবাদসমূহ।

আর মুসলমানদেরকে এই নাস্তিক্যবাদী ঢেউ থেকে সতর্ক করা উচিত যার স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে এবং যার বিপদ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে; নবী ও রাসূলের মধ্যকার পার্থক্যের মতো বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখি করার পরিবর্তে।

আমরা আল্লাহর কাছে সকলের জন্য হিদায়াত ও তাওফিক কামনা করি।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হুমাইদ।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه، ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليما كثيراً.

أما بعد: فقد اطلعت على رسالتين للشيخ عبد الله بن زيد بن محمود رئيس المحاكم القطرية، سمى إحداهما (الإيمان بالقضاء والقدر على طريقة أهل السنة والأثر)، وسمى الأخرى (إتحاف الأحفياء برسالة الأنبياء) وقد رأيت في هاتين الرسالتين عدة مواضع أخطأ فيها فرأيت من الواجب التنبيه عليها لعل الله يمن على الكاتب بالرجوع إلى الصواب فإن الرجوع إلى الصواب نبل وفضيلة، كما أن التعصب للأخطاء نقص ورذيلة.

وقد روي عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قام على المنبر فنهى الناس عن المغالاة في مهور النساء فقامت امرأة فعارضته واحتجت عليه بآية من القرآن فرجع إلى قولها، وقال وهو على المنبر: «إن امرأة خاصمت عمر فخصمته» رواه ابن المنذر بإسناد حسن، ورواه الزبير بن بكار وقال فيه: فقال عمر رضي الله عنه: «امرأة أصابت ورجل أخطأ» ورواه أبو يعلى الموصلي وقال فيه فقال: «اللهم غفرا كل الناس أفقه من عمر» قال ابن كثير: إسناده جيد قوي.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলসমূহের মন্দ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শন করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সকলের উপর অসংখ্য দরুদ ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর: আমি কাতারের আদালতসমূহের প্রধান শায়খ আবদুল্লাহ বিন যায়েদ বিন মাহমুদের দুটি পুস্তিকা পর্যালোচনা করেছি। তিনি একটির নাম রেখেছেন ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল আছারের পদ্ধতিতে কাজা ও কদরের প্রতি ঈমান’, এবং অন্যটির নাম দিয়েছেন ‘নবীদের দাওয়াতের মাধ্যমে নেককারদের উপহার’। আমি এই পুস্তিকা দুটির বেশ কিছু স্থানে ভুল লক্ষ্য করেছি। তাই আমি মনে করেছি যে, সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করা আমার কর্তব্য, যাতে আল্লাহ লেখককে সত্যের পথে ফিরে আসার তাওফিক দান করেন। কারণ সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করা একটি মহান গুণ ও মর্যাদা, আর ভুলের ওপর গোঁড়ামি করা একটি ত্রুটি ও হীনতা।

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে লোকদেরকে নারীদের মোহরের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করছিলেন। তখন এক নারী দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতিবাদ করলেন এবং কুরআনের একটি আয়াতের মাধ্যমে তাঁর বিপক্ষে দলিল পেশ করলেন। ফলে তিনি সেই নারীর বক্তব্যের দিকে ফিরে আসলেন এবং মিম্বরে থাকা অবস্থায়ই বললেন: "নিশ্চয়ই এক নারী ওমরের সাথে বিতর্ক করেছে এবং সে তর্কে বিজয়ী হয়েছে।" ইবনুল মুনজির হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। জুবাইর ইবনে বাক্কার এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে উল্লেখ করেছেন যে, ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "নারীটি সঠিক বলেছে এবং পুরুষটি ভুল করেছে।" আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন, সব মানুষই ওমরের চেয়ে বেশি বিজ্ঞ।" ইবনে কাসীর বলেন: এর সনদ উত্তম ও শক্তিশালী।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১০)
ولم ينقص اعتراف عمر رضي الله عنه بالخطأ على رءوس الملأ من قدره بل زاده ذلك شرفا ورفعة. وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «اقتدوا باللذين من بعدي أبي بكر وعمر» رواه الإمام أحمد والترمذي وابن ماجة وابن حبان في صحيحة والحاكم في مستدركه من حديث حذيفة بن اليمان رضي الله عنهما وقال الترمذي: هذا حديث حسن وصححه الحاكم ووافقه الذهبي على تصحيحه.

وروى ابن عبد البر في كتاب (جامع بيان العلم وفضله) عن محمد بن كعب القرظي قال: سأل رجل عليا رضي الله عنه عن مسألة فقال فيها، فقال: ليس كذلك يا أمير المؤمنين، ولكن كذا وكذا، فقال علي رضي الله عنه: أصبتَ وأخطأتُ {وفوق كل ذي علم عليم}.

قال ابن عبد البر: وروى سفيان بن عيينة عن ابن أبي حسين قال: اختلف ابن عباس وزيد في الحائض تنفر، فقال زيد: لا تنفر حتى يكون آخر عهدها الطواف بالبيت، فقال ابن عباس: سل نسياتك أم سليمان وصويحباتها، فذهب زيد فسألهن ثم جاء وهو يضحك، فقال: القول ما قلت.

وروى ابن عبد البر أيضا عن عبد الرحمن بن مهدي قال: ذاكرت عبيد الله بن الحسن القاضي بحديث وهو يومئذ قاص فخالفني فيه فدخلت عليه وعنده الناس سماطين، فقال لي ذلك الحديث كما قلت أنت وأرجع أنا صاغرا.

قال ابن عبد البر وأخبرني غير واحد عن أبي محمد قاسم بن أصبغ قال لما رحلت إلى المشرق نزلت القيروان فأخذت على بكر بن حماد حديث مسدد، ثم رحلت إلى بغداد ولقيت الناس فلما انصرفت عدت إليه لتمام حديث مسدد فقرأت عليه فيه يوما حديث النبي صلى الله عليه وسلم أنه قدم قوم من مضر
প্রকাশ্য মজলিসে নিজের ভুল স্বীকার করে নেওয়া হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদাকে বিন্দুমাত্র ক্ষুন্ন করেনি, বরং এটি তাঁর সম্মান ও উচ্চতাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "আমার পরে তোমরা দুইজনের অনুসরণ করো—আবু বকর ও ওমর।" ইমাম আহমদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি হাসান হাদিস, এবং হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন আর ইমাম যাহাবীও তাঁর এই মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন।

ইবনে আবদিল বার তাঁর 'জামে বায়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহ' গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাজি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি তার উত্তর দিলেন। তখন লোকটি বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, বিষয়টি এমন নয়, বরং এমন এমন। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: তুমি সঠিক বলেছ আর আমি ভুল করেছি, {প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেই রয়েছেন মহাজ্ঞানী}।

ইবনে আবদিল বার বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা ইবনে আবি হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাস ও জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা ঋতুবতী নারীর প্রস্থান সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করলেন। জায়েদ বললেন: সে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রস্থান করবে না যতক্ষণ না তার সর্বশেষ কাজ হয় বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা। ইবনে আব্বাস বললেন: তুমি তোমার ঘরের নারীদের—উম্মে সুলায়মান ও তার সঙ্গিনীদের জিজ্ঞাসা করো। জায়েদ গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর তিনি হাসতে হাসতে ফিরে এলেন এবং বললেন: আপনি যা বলেছিলেন কথা সেটাই ঠিক।

ইবনে আবদিল বার আরও বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন মাহদী থেকে, তিনি বলেন: আমি উবায়দুল্লাহ বিন হাসান আল-কাদীর সাথে একটি হাদিস নিয়ে আলোচনা করলাম, তিনি তখন বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করলেন। পরবর্তীতে আমি তাঁর কাছে গেলাম যখন তাঁর কাছে লোকেরা দুই সারিতে বসা ছিল। তখন তিনি আমাকে বললেন: সেই হাদিসটি তেমনি যেমনটি আপনি বলেছিলেন এবং আমি বিনীতভাবে আমার কথা প্রত্যাহার করছি।

ইবনে আবদিল বার বলেন: আমাকে একাধিক ব্যক্তি আবু মুহাম্মদ কাসেম বিন আসবাগ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি যখন প্রাচ্যের উদ্দেশ্যে সফর করলাম, তখন কায়রোয়ানে অবস্থান করলাম এবং বকর বিন হাম্মাদের নিকট মুসাদ্দাদের হাদিস গ্রহণ করলাম। অতঃপর আমি বাগদাদে সফর করে আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। যখন ফিরে এলাম, তখন মুসাদ্দাদের হাদিস পূর্ণ করার জন্য পুনরায় তাঁর কাছে ফিরে গেলাম। একদিন আমি তাঁর সামনে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই হাদিসটি পাঠ করলাম যে, মুদার গোত্রের একদল লোক আগমন করেছিল...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১১)
مجتابي النمار فقال لي: إنما هو مجتابي الثمار، فقلت له: إنما هو مجتابي النمار هكذا قرأته على كل من قرأته عليه بالأندلس وبالعراق فقال لي: بدخولك العراق تعارضنا وتفخر علينا أو نحو هذا، ثم قال لي: قم بنا إلى ذلك الشيخ، لشيخ كان بالمسجد فإن له بمثل هذا علما فقمنا إليه وسألناه عن ذلك فقال: إنما هو مجتابي النمار كما قلت، وهم قوم كانوا يلبسون الثياب مشققة جيوبهم أمامهم، والنمار جمع نمرة، فقال بكر بن حماد وأخذ أنفه: رغم أنفي للحق، رغم أنفي للحق. وانصرف.

قال ابن عبد البر: وذكر الحسين بن أبي سعيد في كتابه (المعرب عن المغرب) قال: حدثنا عبد الله بن سعيد بن محمد الحداد عن أبيه قال: سمعت سحنون يقول: سمعت عبد الرحمن ابن القاسم قال لمالك: ما أعلم أحدا أعلم بالبيوع من أهل مصر فقال له مالك: وبم ذلك؟ قال: بك، قال: فأنا لا أعرف البيوع فكيف يعرفونها بي؟!

قال ابن عبد البر: وروينا عن الشعبي أنه قال: ما رأيت مثلي ما أشاء أن أرى أعلم مني إلا وجدته.

قال ابن عبد البر: من بركة العلم وآدابه؛ الإنصاف فيه ومن لم ينصف لم يفهم ولم يتفهم.

وقال أيضا: ومن أفضل آداب العالم تواضعه وترك الإعجاب بعلمه ونبذ حب الرياسة عنه، وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن التواضع لا يزيد العبد إلا رفعة فتواضعوا يرفعكم الله». انتهى.

وقد ذكر الشيخ محمد بن يوسف الكافي التونسي في كتابه (المسائل الكافية) قصة عجيبة في التواضع والاعتراف بالخطأ على رءوس الملأ وبالفضل لمن حصل منه التنبيه على الخطأ، فقال ما نصه: (المسألة السابعة والخمسون) ينبغي
'মজতাবি আন-নামার' (ডোরাকাটা চাদর পরিহিত ব্যক্তি)। তিনি আমাকে বললেন: এটি আসলে 'মজতাবি আস-সুমার' (ফল আহরণকারী)। আমি তাকে বললাম: এটি 'মজতাবি আন-নামার', আমি আন্দালুস এবং ইরাকের সকল উস্তাদদের কাছে এভাবেই পড়েছি যাদের কাছে আমি পাঠ গ্রহণ করেছি। তিনি আমাকে বললেন: ইরাকে গিয়ে কি আপনি আমাদের সাথে বিরোধ করছেন এবং আমাদের ওপর অহংকার করছেন? বা এই জাতীয় কিছু বললেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন: চলুন ঐ শায়খের কাছে যাই (মসজিদে অবস্থানরত এক শায়খ), কারণ এই বিষয়ে তার গভীর জ্ঞান রয়েছে। আমরা তার কাছে গেলাম এবং বিষয়টি সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এটি 'মজতাবি আন-নামার', যেমনটি আপনি বলেছেন। তারা এমন এক সম্প্রদায় ছিল যারা তাদের সামনের দিকে চেরা কাপড় পরিধান করত। 'নামার' হলো 'নামিরাহ' শব্দের বহুবচন। তখন বকর বিন হাম্মাদ নিজের নাক স্পর্শ করে বললেন: সত্যের সামনে আমার নাক অবনত হলো, সত্যের সামনে আমার নাক অবনত হলো। এরপর তিনি চলে গেলেন।

ইবনে আবদুল বার বলেন: হুসাইন বিন আবি সাঈদ তার ‘আল-মু'রিব আনিল মাগরিব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-হাদ্দাদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি সাহনুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান ইবনুল কাসিমকে বলতে শুনেছি যে, তিনি ইমাম মালিককে বলেছিলেন: মিশরবাসীদের চেয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাসআলায় অধিক জ্ঞানী আর কাউকে আমি জানি না। মালিক তাকে বললেন: তা কিসের কারণে? তিনি বললেন: আপনার কারণে। মালিক বললেন: আমি নিজেই তো ক্রয়-বিক্রয়ের মাসআলাসমূহ (ভালোভাবে) জানি না, তবে তারা আমার মাধ্যমে কীভাবে জানবে?!

ইবনে আবদুল বার বলেন: আমরা আশ-শা’বি থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: আমি আমার মতো কাউকে দেখিনি, অর্থাৎ আমি যখনই চেয়েছি এমন কাউকে দেখতে যে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী নয়, তখনই আমি (আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী) কাউকে না কাউকে পেয়েছি।

ইবনে আবদুল বার বলেন: ইলমের বরকত ও আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো এতে ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা। যে ব্যক্তি ইনসাফ করে না, সে ইলম বোঝে না এবং তাকে বোঝানোও সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন: একজন আলেমের শ্রেষ্ঠ আদব বা শিষ্টাচার হলো তার বিনয়, নিজের ইলম নিয়ে গর্ব পরিহার করা এবং নেতৃত্বের মোহ বর্জন করা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "বিনয় বান্দার মর্যাদা কেবল বৃদ্ধিই করে, সুতরাং তোমরা বিনয়ী হও, আল্লাহ তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেবেন।" সমাপ্ত।

শায়খ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-কাফি আত-তিউনিসি তার ‘আল-মাসায়েলুল কাফিয়াহ’ গ্রন্থে বিনয়, জনসমক্ষে নিজের ভুল স্বীকার করা এবং যার মাধ্যমে ভুল সংশোধন হয়েছে তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করা সম্পর্কে একটি চমৎকার ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি যা লিখেছেন তার ভাষ্য হলো: (সাতান্নতম মাসআলা) উচিত...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১২)
لأهل الفضل أن يقدروا قدر من له قدر ويعرفوا الفضل لأهله ولا يبخسوا الناس مقاماتهم ويترفعوا عليهم بالإفك والبهتان، انظر هذه المسألة وتأمل فيها تعرف الفرق بين أهل زماننا وبين من مضي زمنهم.

قال العلامة ابن العربي في أحكامه: أخبرني محمد بن قاسم العثماني غير مرة، قال: وصلت الفسطاط فجئت مجلس أبي الفضل الجوهري فكان مما قال أن النبي صلى الله عليه وسلم طلق وظاهر وآلى، فلما خرج تبعته حتى بلغ منزله في جماعة فجلس معنا في الدهليز وعرفهم غيري فإنه رأى شارة الغربة فلما انفض عنه أكثرهم، قال لي: أراك غريبا، هل لك من كلام؟ قلت: نعم، قال لجلسائه: أفرجوا له عن كلامه، فقاموا فقلت له: حضرت المجلس متبركا بك وسمعتك تقول: آلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وصدقت وطلق وصدقت وظاهر ولم يكن ولا يصح أن يكون لأن الظهار منكر من القول وزور، وذلك لا يجوز أن يقع من النبي صلى الله عليه وسلم فضمني إلى نفسه وقبَّل رأسي، وقال: أنا تائب من ذلك، جزاك الله من معلم خيراً، ثم انقلبت عنه وبكرت في الغد إليه فألفيته قد جلس على المنبر فلما دخلت الجامع ورآني ناداني بأعلى صوته مرحبا بمعلمي، أفسحوا لمعلمي، فتطاولت الأعناق إليَّ وتحدقت الأبصار نحوي - وتعرفني يا أبا بكر؟ يشير إلى عظيم حيائه فإنه كان إذا سلم عليه أحد أو فاجأه بكلام خجل وأحمر كأن وجهه طُلي بجلنار - قال: وتبادر الناس إلي يرفعونني على الأيدي ويتدافعونني حتى بلغت المنبر وأنا لعظيم الحياء لا أعلم في أي بقعة أنا والجامع غاص بأهله وأسال الحياء بدني عرقا وأقبل الشيخ على الخلق فقال لهم: أنا معلمكم، وهذا معلمي، لما كان بالأمس قلت لكم كذا وكذا فما كان أحد منكم فقه عني ولا رد علي فاتبعني إلى منزلي وقال لي: كذا وأعاد ما جرى بيني وبينه، وأنا تائب من قولي بالأمس راجع عنه
গুণী ব্যক্তিদের কর্তব্য হলো মর্যাদাবানদের মর্যাদাকে মূল্যায়ন করা এবং গুণীদের শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকৃতি প্রদান করা; তারা যেন মানুষের অবস্থানকে খাটো করে না দেখে এবং মিথ্যা ও অপবাদের মাধ্যমে তাদের ওপর প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা না করে। এই বিষয়টি লক্ষ্য করুন এবং এতে গভীরভাবে চিন্তা করুন, তাহলে আমাদের বর্তমান সময়ের মানুষ এবং পূর্ববর্তী যুগের মনীষীদের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা অনুধাবন করতে পারবেন।

আল্লামা ইবনুল আরাবী তাঁর ‘আহকাম’ গ্রন্থে বলেন: মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আল-উসমানী আমাকে একাধিকবার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ফুস্তাতে (পুরাতন কায়রো) পৌঁছলাম এবং আবু আল-ফজল আল-জাওহারীর মজলিসে উপস্থিত হলাম। তিনি তখন যা আলোচনা করছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তালাক দিয়েছেন, ‘জিহার’ করেছেন এবং ‘ঈলা’ করেছেন। তিনি যখন মজলিস থেকে বের হলেন, আমি একটি দলের সাথে তাঁর পিছু নিলাম যতক্ষণ না তিনি নিজ গৃহে পৌঁছলেন। তিনি আমাদের নিয়ে বহিঃকক্ষে বসলেন। তিনি অন্যদের চিনলেও আমাকে চিনতেন না, কারণ আমার মধ্যে প্রবাসীর ছাপ দেখতে পেয়েছিলেন। যখন উপস্থিতদের অধিকাংশ চলে গেলেন, তিনি আমাকে বললেন: আমি তোমাকে ভিনদেশী বলে মনে করছি, তোমার কি কিছু বলার আছে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন: তাকে কথা বলার সুযোগ দাও। তখন তারা উঠে দাঁড়ালেন। আমি তাঁকে বললাম: আমি আপনার নিকট হতে বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে মজলিসে উপস্থিত হয়েছিলাম। আমি আপনাকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘ঈলা’ করেছেন এবং আপনি সত্য বলেছেন; তিনি তালাক দিয়েছেন এবং আপনি সত্য বলেছেন। কিন্তু আপনি বলেছেন তিনি ‘জিহার’ করেছেন, অথচ এমনটি ঘটেনি এবং ঘটা সমীচীনও নয়। কারণ ‘জিহার’ হলো একটি অপছন্দনীয় কথা এবং মিথ্যাচার, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব। একথা শুনে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং আমার কপালে চুম্বন করলেন। তিনি বললেন: আমি এই বক্তব্য থেকে তওবা করছি; মহান আল্লাহ আপনাকে একজন শিক্ষক হিসেবে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এরপর আমি সেখান থেকে চলে এলাম এবং পরদিন ভোরে পুনরায় তাঁর কাছে গেলাম। গিয়ে দেখলাম তিনি মিম্বরে উপবিষ্ট আছেন। আমি যখন মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং তিনি আমাকে দেখলেন, তখন উচ্চস্বরে আমাকে ডেকে বললেন: আমার শিক্ষকের জন্য স্বাগতম! আমার শিক্ষকের জন্য পথ ছেড়ে দাও! (এ ডাক শুনে) সবার ঘাড় আমার দিকে ফিরে গেল এবং উৎসুক দৃষ্টি আমার দিকে নিবদ্ধ হলো। —হে আবু বকর, আপনি তো আমাকে চেনেন? (বর্ণনাকারী তাঁর নিজের অত্যধিক লজ্জাশীলতার দিকে ইঙ্গিত করছেন, কারণ কেউ তাঁকে সালাম দিলে বা আকস্মিকভাবে কিছু বললে তিনি লজ্জিত হয়ে পড়তেন এবং তাঁর মুখমন্ডল ডালিম ফুলের মতো রক্তিম বর্ণ ধারণ করত) — তিনি বললেন: মানুষজন দ্রুত আমার দিকে এগিয়ে এল এবং আমাকে কাঁধে তুলে নিতে লাগল। তারা আমাকে একজনের হাত থেকে অন্যজনের হাতে পার করে মিম্বর পর্যন্ত নিয়ে গেল। অত্যধিক লজ্জায় আমি বুঝতে পারছিলাম না যে আমি কোথায় আছি, আর মসজিদ তখন মুসল্লিতে ভরপুর ছিল। লজ্জায় আমার সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে গেল। অতঃপর শায়খ উপস্থিত জনমন্ডলীর দিকে ফিরে বললেন: আমি তোমাদের শিক্ষক, আর ইনি আমার শিক্ষক। গতকাল আমি তোমাদের সামনে এমন এমন কথা বলেছিলাম, কিন্তু তোমাদের কেউ আমার ভুল ধরতে পারোনি বা প্রতিবাদ করোনি। এই ব্যক্তি আমার পিছু পিছু আমার ঘর পর্যন্ত গিয়েছিলেন এবং আমাকে এই এই কথা বলেছিলেন (তিনি আমাদের মধ্যকার কথোপকথন পুনরায় বর্ণনা করলেন)। আমি গতকালের সেই বক্তব্য থেকে তওবা করছি এবং তা প্রত্যাহার করছি।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
إلى الحق فمن سمعه ممن حضر فلا يعود إليه ومن غاب فليبلغه من حضر فجزاه الله خيرا وجعل يحتفل لي في الدعاء والخلق يؤمنون.

فانظروا رحمكم الله إلى هذا الدين المتين والاعتراف بالعلم لأهله على رءوس الملأ من رجل ظهرت رياسته واشتهرت نفاسته لغريب مجهول العين لا يعرف من هو؟ ولا من أين؟ واقتدوا به ترشدوا. انتهى.

وما أعظم الفرق بين ما فعله أبو الفضل الجوهري مع الرجل الذي نبهه على خطئه وبين ما يفعله بعض المنتسبين إلى العلم في زماننا، فإن بعضهم إذا نبهه بعض العلماء على أخطائه اشمأز وتحامل على الذي نبهه ورماه بالجهل والتعصب، وغير ذلك مما يرى أنه يشينه، ولا شك أن هذا من الكبر الذي قال فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الكبر بطر الحق وغمط الناس» بطر الحق رده وغمط الناس احتقارهم.

ومن أعظم ما يبتلى به المرء إعجابه بنفسه وترفعه على أقرانه وبني جنسه، قال ابن عبد البر: وقال ابن عبدوس: كلما توقر العالم وارتفع كان العجب إليه أسرع إلا من عصمه الله بتوفيقه وطرح حب الرياسة عن نفسه.

وروى ابن عبد البر عن كعب أنه قال لرجل رآه يتتبع الأحاديث: اتق الله وارض بالدون من المجلس ولا تؤذ أحدا فإنه لو ملأ علمك ما بين السماء والأرض مع العجب ما زادك الله به إلا سفالا ونقصانا.

وروى ابن عبد البر أيضا عن عمر رضي الله عنه أنه قال: «أخوف ما أخاف عليكم أن تهلكوا فيه ثلاث خلال: شح مطاع وهوى متبع وإعجاب المرء بنفسه».
...সত্যের পানে। উপস্থিতদের মধ্যে যারা এটি শুনেছেন, তারা যেন পুনরায় সেই ভুলের দিকে ফিরে না যান; আর যারা অনুপস্থিত ছিলেন, উপস্থিতগণ যেন তাদের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এরপর তিনি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দোয়া করতে লাগলেন এবং উপস্থিত জনতা 'আমীন' বলতে থাকল।

অতএব, হে পাঠক! আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন, আপনারা এই সুদৃঢ় দ্বীন এবং জনসমক্ষে প্রকৃত জ্ঞানীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদানের এই দৃষ্টান্তটি লক্ষ্য করুন। এটি এমন এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে সম্পাদিত হয়েছে যার নেতৃত্ব ছিল সুপ্রতিষ্ঠিত এবং যার শ্রেষ্ঠত্ব ছিল সুবিদিত; অথচ তিনি এক অপরিচিত এবং অখ্যাত ব্যক্তির প্রতি এমন বিনয় প্রদর্শন করেছেন যার পরিচয় বা নিবাস কারো জানা ছিল না। আপনারাও তার অনুসরণ করুন, তবেই সঠিক পথ প্রাপ্ত হবেন। সমাপ্ত।

আবু আল-ফজল আল-জাওহারি তার ভুল সংশোধনকারী ব্যক্তির সাথে যে আচরণ করেছেন, আর বর্তমান সময়ের ইলমের সাথে সম্পৃক্ত কিছু মানুষ যা করে থাকে—উভয়ের মাঝে কতই না আকাশ-পাতাল ব্যবধান! আমাদের যুগের একদল লোক এমন যে, যখন কোনো আলেম তাদের ভুল ধরিয়ে দেন, তখন তারা বিরক্তি প্রকাশ করে এবং সংশোধনকারীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। তারা তাকে মূর্খতা ও গোঁড়ামির অপবাদ দেয় এবং এমন সব বিষয়ে লিপ্ত হয় যা তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে। নিঃসন্দেহে এটি সেই অহংকারের অন্তর্ভুক্ত যার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।" সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা বলতে তা গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দেওয়া এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা বলতে তাদের অবজ্ঞা করা বোঝায়।

মানুষ যে সমস্ত বিষয়ের দ্বারা পরীক্ষায় পতিত হয়, তার মধ্যে অন্যতম বড় আপদ হলো নিজের প্রতি আত্মমুগ্ধতা এবং নিজ সমকক্ষ ও সমজাতীয়দের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা। ইবনে আব্দুল বার বলেন: ইবনে আব্দুস বলেছেন: "একজন আলেম যত বেশি গাম্ভীর্যপূর্ণ ও উচ্চাসীন হন, আত্মমুগ্ধতা তত দ্রুত তার দিকে ধাবিত হয়; তবে আল্লাহ যাকে তাঁর তাওফিকের মাধ্যমে রক্ষা করেন এবং যে ব্যক্তি নিজ অন্তর থেকে নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দেয়, সে ব্যতীত।"

ইবনে আব্দুল বার কাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে হাদিস অন্বেষণ করতে দেখে বললেন: "আল্লাহকে ভয় করো, মজলিসের সাধারণ বা নিম্ন সারির আসনে বসেই সন্তুষ্ট থাকো এবং কাউকে কষ্ট দিও না। কেননা, তোমার ইলম যদি আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে ফেলে কিন্তু তার সাথে আত্মমুগ্ধতা মিশে থাকে, তবে আল্লাহ এর দ্বারা তোমার হীনতা ও অপূর্ণতা ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করবেন না।"

ইবনে আব্দুল বার আরও বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.) বলেছেন: "আমি তোমাদের ব্যাপারে যে তিনটি স্বভাবের কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা করি তা হলো: লালসা বা কৃপণতা যা মান্য করা হয়, প্রবৃত্তির চাহিদা যার অনুসরণ করা হয় এবং মানুষের নিজের প্রতি নিজে মুগ্ধ হওয়া বা আত্মমুগ্ধতা।"
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وروى ابن عبد البر أيضا عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ثلاث مهلكات وثلاث منجيات، فأما المهلكات: فشح مطاع، وهوى متبع، وإعجاب المرء بنفسه، والثلاث المنجيات: تقوى الله في السر والعلانية ،وكلمة الحق في الرضا والسخط، والاقتصاد في الغنى والفقر».

قال ابن عبد البر: وقال إبراهيم بن الأشعث: سألت الفضيل بن عياض عن التواضع، فقال: أن تخضع للحق وتنقاد له ممن سمعته ولو كان أجهل الناس لزمك أن تقبله منه.

وروى ابن عبد البر أيضا عن مسروق أنه قال: كفى بالمرء علما أن يخشى الله، وكفى بالمرء جهلا أن يعجب بعلمه، قال أبو عمر: إنما أعرفه بعمله، قال: وقال أبو الدرداء: علامة الجهل ثلاث: العجب، وكثرة المنطق فيما لا يعنيه، وأن ينهي عن الشيء ويأتيه. وقالوا العجب يهدم المحاسن، وعن علي رضي الله عنه أنه قال: الإعجاب آفة الألباب، وقال غيره: إعجاب المرء بنفسه دليل على ضعف عقله، ولقد أحسن علي بن ثابت حيث يقول:

المال آفته التبذير والنهب … والعلم آفته الإعجاب والغضب

 

وقالوا: من أعجب برأيه ضل، ومن استغنى بعقله زل، ومن تكبر على الناس ذل، ومن خالط الأنذال حقر، ومن جالس العلماء وقر.

وقال الفضيل بن عياض: ما من أحد أحبَّ الرياسة إلا حسد وبغى وتبع عيوب الناس وكره أن يذكر أحد بخير، وقال أبو نعيم: والله ما هلك من هلك إلا بحب الرياسة، وقال آخر:

حب الرياسة داء لا دواء له … وقلَّ ما تجد الراضين بالقسم
ইবনে আবদিল বার আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তিনটি বিষয় ধ্বংসাত্মক এবং তিনটি বিষয় মুক্তিদাতা। ধ্বংসাত্মক বিষয়গুলো হলো: লালসা বা কৃপণতা যার অনুসরণ করা হয়, প্রবৃত্তি যার পেছনে চলা হয় এবং ব্যক্তির নিজের প্রতি নিজের মুগ্ধতা (আত্মমুগ্ধতা)। আর তিনটি মুক্তিদাতা বিষয় হলো: গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা, সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি উভয় অবস্থায় সত্য কথা বলা এবং সচ্ছলতা ও দারিদ্র্য উভয় অবস্থায় মিতব্যয়িতা অবলম্বন করা।»

ইবনে আবদিল বার বলেন: ইব্রাহিম ইবনে আশআস বলেছেন: আমি ফুযাইল ইবনে ইয়াদকে বিনয় (তওয়াযু) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: সত্যের সামনে মস্তক অবনত করা এবং যার কাছ থেকেই তা শোনো না কেন তার অনুগত হওয়া; এমনকি যদি সে লোক সর্বাপেক্ষা মূর্খও হয়, তবুও তোমার জন্য তা গ্রহণ করা আবশ্যক।

ইবনে আবদিল বার মাসরুক থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তির জ্ঞানের জন্য এটাই যথেষ্ট যে সে আল্লাহকে ভয় করে, আর কোনো ব্যক্তির মূর্খতার জন্য এটাই যথেষ্ট যে সে নিজের অর্জিত জ্ঞানে মুগ্ধ হয়। আবু উমর বলেন: আমি এটি 'আমল' (কর্ম) শব্দেই জানি। তিনি বলেন: আবু দারদা (রা.) বলেছেন: মূর্খতার লক্ষণ তিনটি: আত্মমুগ্ধতা, অনর্থক বিষয়ে অধিক কথা বলা এবং কোনো কাজ থেকে অন্যকে নিষেধ করে নিজেই তা করা। বিজ্ঞজনেরা বলেন, আত্মমুগ্ধতা ভালো গুণাবলিকে ধ্বংস করে দেয়। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আত্মমুগ্ধতা হলো বুদ্ধিবৃত্তির আপদ। অন্যজন বলেন: নিজের প্রতি নিজের মুগ্ধতা তার বুদ্ধির দুর্বলতার প্রমাণ। আলী ইবনে সাবিত কতই না সুন্দর বলেছেন:

সম্পদের আপদ হলো অপব্যয় ও লুণ্ঠন … আর জ্ঞানের আপদ হলো আত্মমুগ্ধতা ও ক্রোধ

 

বিদ্বানগণ বলেন: যে ব্যক্তি নিজের মতে মুগ্ধ থাকে সে পথভ্রষ্ট হয়, যে নিজের বুদ্ধিকে যথেষ্ট মনে করে সে পদস্খলিত হয়, যে মানুষের সাথে অহঙ্কার করে সে অপদস্থ হয়, যে নীচ লোকদের সাথে মেশে সে লাঞ্ছিত হয় এবং যে ওলামাদের সংস্রবে থাকে সে মর্যাদাবান হয়।

ফুযাইল ইবনে ইয়াদ বলেন: এমন কেউ নেই যে নেতৃত্ব পছন্দ করে অথচ সে হিংসা ও বিদ্রোহে লিপ্ত হয় না, মানুষের দোষ অন্বেষণ করে না এবং অন্য কারও প্রশংসা করা হোক তা অপছন্দ করে না। আবু নুয়াইম বলেন: আল্লাহর কসম, যারা ধ্বংস হয়েছে তারা নেতৃত্বের মোহের কারণেই ধ্বংস হয়েছে। অন্য একজন বলেন:

নেতৃত্বের মোহ এমন এক ব্যাধি যার কোনো ওষুধ নেই … আর খুব কম লোককেই পাওয়া যায় যারা তাকদীরের বন্টনে সন্তুষ্ট।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وروى ابن عبد البر أيضا عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: (إن من العلم أن تقول لما لا تعلم: الله أعلم، قال الله تبارك وتعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم: «قل ما أسألكم عليه من أجر وما أنا من المتكلفين».

وروى أيضا عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه أنه قال: (أي سماء تظلني وأي أرض تقلني؛ إذا قلت في كتاب الله بغير علم).

وروى أيضا عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه نحوه.

وروي أيضا عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه سئل عن شيء فقال: لا أدري فلما ولى الرجل قال نعما قال عبد الله بن عمر: سئل عما لا يعلم فقال لا علم لي به، قال وقال وهب: سمعت مالكا يحدث عن عبد الله بن زيد بن هرمز قال: إني لأحب أن يكون من بقايا العالم بعده لا أدري ليأخذ به من بعده.

وروى أيضا عن مجاهد قال: سئل ابن عمر رضي الله عنهما عن فريضة من الصلب فقال لا أدري: فقيل له ما يمنعك أن تجيبه فقال: سئل ابن عمر عما لا يدري فقال: لا أدري.

وروي أيضا عن أيوب قال: تكاثروا على القاسم بن محمد يوما بمنى فجعلوا يسألونه فيقول: لا أدري ثم قال: إنا والله ما نعلم كل ما يسألونا عنه ولو علمنا ما كتمناكم ولا حل لنا أن نكتمكم.

وروى أيضا عن عبد الملك بن أبي سليمان قال: سئل سعيد ابن جبير عن شيء فقال لا أعلم ثم قال: ويل للذي يقول: لما لا يعلم إني أعلم.
ইবনে আবদিল বার ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইলম বা জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলো তুমি যা জানো না সে সম্পর্কে বলা যে—'আল্লাহই সর্বজ্ঞ'। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর নবী (সা.)-কে লক্ষ্য করে বলেছেন: 'বলো, আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না এবং আমি লৌকিকতাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই'।"

তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "কোন আকাশ আমাকে ছায়া দেবে এবং কোন জমিন আমাকে ধারণ করবে, যদি আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে না জেনে কোনো কথা বলি?"

তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

নাফে ইবনে উমর (রা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমি জানি না।" লোকটি যখন চলে গেল, তখন তিনি বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর কতই না চমৎকার কথা বলেছেন! তাঁকে এমন কিছু জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা তিনি জানতেন না, তখন তিনি বলেছেন: "এ বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই।" ওহাব বলেন: আমি মালেককে আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ ইবনে হরমোজ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: "আমি পছন্দ করি যে, একজন আলেমের বিদায়ের পর তার উত্তরসূরিদের জন্য 'আমি জানি না' কথাটি অবশিষ্ট থাকুক, যাতে তার পরবর্তী প্রজন্ম তা অনুসরণ করতে পারে।"

মুজাহিদ থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: ইবনে উমর (রা.)-কে মিরাসের একটি অংশ (সরাসরি উত্তরাধিকার) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন: "আমি জানি না।" তাকে বলা হলো, উত্তর দিতে আপনাকে কিসে বাধা দিচ্ছে? তিনি বললেন: "ইবনে উমরকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা সে জানে না, তাই সে বলেছে: 'আমি জানি না'।"

আইয়ুব থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: মিনায় একদিন কাসেম ইবনে মুহাম্মদের নিকট অনেক মানুষ ভিড় জমাল এবং তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে লাগল। তিনি বলছিলেন: "আমি জানি না।" এরপর তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম! আমাদের যা জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তার সবকিছু আমরা জানি না। যদি আমরা জানতাম তবে তোমাদের কাছে গোপন করতাম না, আর তোমাদের কাছে তা গোপন রাখা আমাদের জন্য বৈধও নয়।"

আবদুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমি জানি না।" এরপর তিনি বলেন: "সেই ব্যক্তির জন্য ধ্বংস অনিবার্য, যে যা জানে না সে সম্পর্কে বলে: 'আমি জানি'।"
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
قال وذكر الشعبي عن علي رضي الله عنه أنه خرج عليهم وهو يقول: ما أردها على الكبد، فقيل له: وما ذلك؟ قال: أن تقول للشيء لا تعلمه الله أعلم.

قال وذكر الحسن بن علي الحلواني وساق بإسناده عن القاسم قال: يا أهل العراق أنا والله لا نعلم كثيرا مما تسألونا عنه ولأن يعيش المرء جاهلا لا يعلم ما افترض عليه خير له من أن يقول على الله ورسوله مالا يعلم.

قال وقال الحسن: حدثنا نعيم بن حماد، قال: سمعت بعض أصحاب ابن عون أظنه حسين بن حسين عن ابن عون، قال: كنت عند القاسم بن محمد إذ جاءه رجل فسأله عن شيء فقال القاسم: لا أحسنه فجعل الرجل يقول: إني دفعت إليك لا أعرف غيرك فقال القاسم: لا تنظر إلى طول لحيتي؛ وكثرة الناس حولي؛ والله ما أحسنه، فقال شيخ من قريش جالس إلى جنبه: يا ابن أخي الزمها فوالله ما رأيتك في مجلس أنبل منك اليوم فقال القاسم: والله لأن يقطع لساني أحب إلي من أن أتكلم بما لا علم لي به.

وروي أيضا عن مالك قال: سأل عبد الله بن نافع أيوب السختياني عن شيء فلم يجبه فقال له لا أراك فهمت ما سألتك عنه قال: بلى، قال: فلم لا تجيبني، قال: لا أعلمه.

وروى أيضا عن عبد الرحمن بن مهدي قال: كنا عند مالك بن أنس، فجاءه رجل فقال له: يا أبا عبد الله جئتك من مسيرة ستة أشهر حملني أهل بلدي مسألة أسالك عنها، قال: سل فسأله الرجل عن المسألة، فقال: لا أحسنها، قال: فبهت الرجل كأنه قد جاء إلى من يعلم كل شيء فقال: أي شيء أقول لأهل بلدي إذا رجعت إليهم، قال: تقول لهم: قال مالك: لا أحسن.

قال: وذكر ابن وهب في كتاب المجالس، قال: سمعت مالكا يقول: ينبغي للعالم أن يألف فيما أُشْكِل قول لا أدري فإنه عسى
তিনি বলেন, আশ-শাবি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাদের সামনে বেরিয়ে আসলেন এবং বলছিলেন: "কলিজার জন্য এর চেয়ে শীতল আর কিছু নেই।" তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "সেটি কী?" তিনি বললেন, "যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে 'আল্লাহই ভালো জানেন' বলা।"

তিনি বলেন, হাসান বিন আলী আল-হুলওয়ানি তাঁর সনদে কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (কাসিম) বলেছেন: "হে ইরাকবাসী! আল্লাহর কসম, তোমরা আমাদের যা জিজ্ঞাসা করো তার অনেক কিছুই আমরা জানি না। আর একজন মানুষের জন্য তার ওপর যা ফরয করা হয়েছে তা না জেনে মূর্খ অবস্থায় বেঁচে থাকা অনেক উত্তম ওই ব্যক্তির চেয়ে, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ভিত্তিহীন (অজ্ঞাত) কথা বলে।"

তিনি বলেন, হাসান বলেছেন: নুয়াইম বিন হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আউনের কোনো এক সঙ্গীকে (আমার ধারণা তিনি হুসাইন বিন হুসাইন) ইবনে আউন থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি কাসিম বিন মুহাম্মাদের কাছে ছিলাম যখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল। তখন কাসিম বললেন: "আমি এটি ভালোভাবে জানি না।" লোকটি বলতে লাগল: "আমি আপনার কাছেই এসেছি, কারণ আমি অন্য কাউকে চিনি না।" তখন কাসিম বললেন: "আমার লম্বা দাড়ি এবং আমার চারপাশের মানুষের আধিক্যের দিকে তাকাবেন না; আল্লাহর কসম, আমি এটি জানি না।" তখন তাঁর পাশে বসা কুরাইশ গোত্রের এক বৃদ্ধ বললেন: "হে ভ্রাতুষ্পুত্র! এই নীতিই আঁকড়ে ধরো; আল্লাহর কসম, আজকের মজলিসে তোমার চেয়ে মহান আর কাউকে আমি দেখিনি।" তখন কাসিম বললেন: "আল্লাহর কসম, আমার জিহ্বা কেটে ফেলা আমার কাছে অধিকতর প্রিয় সেই বিষয়ে কথা বলার চেয়ে যে বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই।"

ইমাম মালিক থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন নাফে আইয়ুব আস-সাখতিয়ানিকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু তিনি তাকে কোনো উত্তর দিলেন না। তখন তিনি তাকে বললেন: "আমার মনে হচ্ছে আপনি আমার প্রশ্নটি বুঝতে পারেননি।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ (বুঝেছি)।" তিনি বললেন: "তাহলে আপনি আমাকে উত্তর দিচ্ছেন না কেন?" তিনি বললেন: "আমি এটি জানি না।"

আব্দুর রহমান বিন মাহদি থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমরা মালিক বিন আনাসের নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললেন: "হে আবু আবদুল্লাহ! আমি ছয় মাসের পথ অতিক্রম করে আপনার কাছে এসেছি। আমার এলাকার মানুষ আমাকে একটি মাসআলা নিয়ে পাঠিয়েছে আপনাকে জিজ্ঞাসা করার জন্য।" তিনি বললেন: "জিজ্ঞাসা করো।" তখন লোকটি তাকে মাসআলাটি জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: "আমি এটি জানি না।" তখন লোকটি হতভম্ব হয়ে গেল, যেন সে এমন একজনের কাছে এসেছে যিনি সব জানেন। সে বলল: "আমি যখন আমার এলাকায় ফিরে যাব, তখন আমার এলাকার মানুষকে কী বলব?" তিনি বললেন: "তাদের বলবে যে, মালিক বলেছে: আমি এটি জানি না।"

তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব 'কিতাবুল মাজালিস'-এ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: কোনো আলেম যখন কোনো জটিল সমস্যার সম্মুখীন হন, তখন তাঁর উচিত 'আমি জানি না' বলার অভ্যাস করা; কারণ সম্ভবত...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أن يهيأ له خير، قال ابن وهب: وكنت أسمعه كثيرا ما يقول لا أدري، وقال في موضع آخر: لو كتبنا عن مالك لا أدري لملأنا الألواح، قال ابن وهب: وسمعت مالكا وذكر قول القاسم بن محمد لأن يعيش الرجل جاهلا خير من أن يقول على الله مالا يعلم، ثم قال: هذا أبو بكر الصديق وقد خصه الله بما خصه به من الفضل يقول لا أدري.

قال ابن وهب: وحدثني مالك قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إمام المسلمين وسيد العالمين يسأل عن الشيء فلا يجيب حتى يأتيه الوحي. وذكر عبد الرحمن بن مهدي عن مالك بعض هذا، وفي روايته هذه الملائكة قد قالت: (لا علم لنا).

قال: وذكر أبو داود في تصنيفه لحديث مالك حدثنا عباس العنبري، قال: حدثنا عبد الرزاق، قال: قال مالك: كان ابن عباس رضي الله عنهما يقول إذا أخطأ العالم لا أدري أصيبت مقاتله، وفي رواية إذا ترك العالم لا أعلم فقد أصيبت مقاتله.

وقال: وحدثنا أحمد بن حنبل، قال: حدثنا محمد بن إدريس، قال: سمعت مالكا يقول: سمعت ابن عجلان يقول: إذا أخطأ العالم لا أدري أصيبت مقاتله.

وروى ابن عبد البر عن عقبة بن مسلم قال: صحبت ابن عمر رضي الله عنهما أربعة وثلاثين شهراً فكان كثيراً ما يسأل فيقول لا أدري ثم يلتفت إليَّ فيقول: أتدري ما يريد هؤلاء؟ يريدون أن يجعلوا ظهورنا جسراً إلى جهنم.

قال: وقال أبو الدرداء رضي الله عنه: قول الرجل فيما لا يعلم لا أعلم نصف العالم.
যাতে তার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত হয়। ইবন ওয়াহাব বলেন: আমি তাঁকে প্রায়ই 'আমি জানি না' বলতে শুনতাম। তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: আমরা যদি মালিকের কাছ থেকে 'আমি জানি না' উক্তিটি লিখে রাখতাম, তবে আমরা বহু তখতি (লিখন ফলক) পূর্ণ করে ফেলতাম। ইবন ওয়াহাব বলেন: আমি মালিককে কাসিম ইবন মুহাম্মাদের একটি উক্তি উল্লেখ করতে শুনেছি যে, একজন মানুষের মূর্খ হিসেবে বেঁচে থাকা আল্লাহর ব্যাপারে না জেনে কথা বলার চেয়ে শ্রেয়। এরপর তিনি বললেন: ইনি আবু বকর সিদ্দিক, যাঁকে আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, তিনিও 'আমি জানি না' বলতেন।

ইবন ওয়াহাব বলেন: মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের ইমাম এবং বিশ্বজাহানের সরদার হওয়া সত্ত্বেও যখন তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তিনি ওহী না আসা পর্যন্ত উত্তর দিতেন না। আব্দুর রহমান ইবন মাহদী মালিকের সূত্রে এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বর্ণনায় রয়েছে যে, এই ফেরেশতারাও বলেছিলেন: (আমাদের কোনো জ্ঞান নেই)।

তিনি বলেন: আবু দাউদ তাঁর ইমাম মালিকের হাদীস সংকলনে উল্লেখ করেছেন—আব্বাস আল-আনবারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক বলেছেন: ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলতেন—যখন আলেম 'আমি জানি না' বলতে ভুল করেন (অনিচ্ছা প্রকাশ করেন), তখন তিনি তার ধ্বংসের স্থানে নিক্ষিপ্ত হন। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: যখন আলেম 'আমি জানি না' বলা পরিত্যাগ করেন, তখন তিনি ধ্বংসের মুখে পতিত হন।

এবং তিনি বলেন: আহমাদ ইবন হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন ইদরীস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি—আমি ইবন আজলানকে বলতে শুনেছি: যখন আলেম 'আমি জানি না' বলায় ভুল করেন, তখন তিনি তার ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করেন।

ইবন আব্দুল বারর উকবা ইবন মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি চৌত্রিশ মাস ইবন উমরের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সাহচর্যে ছিলাম। তাঁকে প্রায়ই কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন 'আমি জানি না'। এরপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বলতেন: তুমি কি জানো এরা কী চায়? তারা আমাদের পিঠকে জাহান্নামের সেতু বানাতে চায়।

তিনি বলেন: আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: কোনো মানুষের অজানা বিষয়ে 'আমি জানি না' বলা হলো অর্ধেক জ্ঞান।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال الراجز:

فإن جهلت ما سُئلت عنه … ولم يكن عندك علم منه

فلا تقل فيه بغير فهم … إن الخطأ مزرٍ بأهل العلم

وقل إذا أعياك ذاك الأمر … مالي بما تسأل عنه خبر

فذاك شطر العلم عند العلما … كذاك ما زالت تقول الحكما

 

وقال غيره:

إذا ما قتلت الأمر علما فقل به

… وإياك والأمر الذي أنت جاهله

وروي أيضا عن أبي الذيال قال: تعلم لا أدري ولا تعلم أدري فإنك إن قلت لا أدري علموك حتى تدري، وإن قلت أدري سألوك حتى لا تدري.

وروي أيضا عن الأعمش عن أبي وائل عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: (أن من يفتي الناس في كل ما يستفتونه لمجنون) قال الأعمش فذكرت ذلك للحكم بن عتيبة فقال: لو سمعت هذا منك قبل اليوم ما كنت أفتي في كل ما أفتي.

وروي أيضا عن نعيم بن حماد قال: سمعت ابن عينية يقول: أجسر الناس على الفتيا أقلهم علما.

وروى أيضا عن يزيد بن أبي حبيب قال: إن من فتنة العالم أن يكون الكلام أحب إليه من الاستماع، قال: وفي الاستماع سلامة وزيادة في العلم والمستمع شريك المتكلم، وفي الكلام
এবং জনৈক রাজেয বলেছেন:

যদি তুমি সে বিষয়ে অজ্ঞ হও যা তোমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে … এবং তোমার কাছে সেই বিষয়ে কোনো জ্ঞান না থাকে

তবে সম্যক উপলব্ধি ব্যতিরেকে সে বিষয়ে কিছু বলো না … কেননা ভুল করা জ্ঞানীদের জন্য মর্যাদাহানিকর

আর যখন কোনো বিষয় তোমাকে পরিশ্রান্ত বা দিশেহারা করে দেয়, তখন বলো … ‘তুমি যা জিজ্ঞাসা করছ সে সম্পর্কে আমার কোনো অবগতি নেই’

কেননা আলেমদের নিকট তা-ই হলো জ্ঞানের অর্ধেক … প্রজ্ঞাবানগণ সর্বদা এমনটাই বলে আসছেন

 

এবং অন্যজন বলেছেন:

যখন তুমি কোনো বিষয়কে জ্ঞানের দ্বারা সম্যক আয়ত্ত করবে, তখন তা নিয়ে কথা বলো

… আর সেই বিষয় থেকে সাবধান থেকো যা সম্পর্কে তুমি অজ্ঞ

আবু আল-যায়্যাল থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: ‘আমি জানি না’ বলা শেখো এবং ‘আমি জানি’ বলা শিখো না; কেননা তুমি যদি বলো ‘আমি জানি না’, তবে তারা তোমাকে শেখাবে যতক্ষণ না তুমি জানবে। আর যদি তুমি বলো ‘আমি জানি’, তবে তারা তোমাকে প্রশ্ন করতে থাকবে যতক্ষণ না তুমি নিরুত্তর হয়ে যাবে।

আল-আ’মাশ থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মানুষকে তাদের জিজ্ঞাসিত প্রতিটি বিষয়েই ফতোয়া প্রদান করে, সে একজন উন্মাদ।” আল-আ’মাশ বলেন, আমি হাকাম ইবনে উতাইবাহর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: “যদি আজকের দিনের আগে আমি আপনার নিকট থেকে এটি শুনতাম, তবে আমি যা কিছু ফতোয়া প্রদান করি তার সবগুলোতে ফতোয়া দিতাম না।”

নুআইম ইবনে হাম্মাদ থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি ইবনে উয়াইনাহকে বলতে শুনেছি: ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে সবচেয়ে সাহসী তারাই, যাদের জ্ঞান সবচেয়ে কম।

ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই কোনো আলেমের জন্য এটি একটি পরীক্ষা যে, কথা বলা তার নিকট শোনার চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া। তিনি বলেন: শোনার মাঝে রয়েছে নিরাপত্তা এবং জ্ঞানের সমৃদ্ধি, আর শ্রোতা হলো বক্তার অংশীদার; আর কথার মাঝে...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
تهون وتزين وزيادة ونقصان، قال: ومن العلماء من يرى أنه أحق بالكلام من غيره ومنهم من يزدري المساكن ولا يراهم لذلك موضعا، ومنهم من يخزن علمه ويرى أن تعليمه ضعة، ومنهم من يحب أن لا يوجد العلم إلا عنده، ومنهم من يأخذ في علمه مأخذ السلطان حتى يغضب أن يرد عليه شيء من قوله أو يغفل عن شيء من حقه، ومنهم من ينصب نفسه للفتيا فلعله يؤتي بأمر لا علم له به فيستحي أن يقول لا علم لي فيرجم فيكتب من المتكلفين، ومنهم من يروي كل ما سمع حتى يروي كلام اليهود والنصارى إرادة أن يغزر علمه.

قال أبو عمر: روي مثل قول يزيد بن أبي حبيب هذا كله من أوله إلى آخره عن معاذ بن جبل رضي الله عنه من وجوه منقطعة يذم فيها كل من كان في هذه الطبقات من العلماء ويتوعدهم على ذالك بالنار انتهى ما ذكره ابن عبد البر مخلصا.

فليتأمل ما ذكره عن أهل الورع من الإحجام عن القول بغير علم، والابتعاد عن التكلف الذي قد وقع فيه كثير من الناس في زماننا حتى آل الأمر ببعضهم إلى قبول البدع والضلالات، والإكثار من التخرصات والجهالات، ومخالفة أهل السنة والجماعة في بعض المعتقدات، فلا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم وهو حسبنا ونعم الوكيل.
তুচ্ছতা, সৌন্দর্যমন্ডিত করা এবং বৃদ্ধি ও হ্রাস সম্পর্কে তিনি বলেন: আলেমদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যিনি মনে করেন যে তিনি অন্যের চেয়ে কথা বলার অধিক হকদার। তাদের মধ্যে কেউ আছেন যারা নিঃস্বদের অবজ্ঞা করেন এবং তাদেরকে এই জ্ঞানের উপযুক্ত মনে করেন না। আবার তাদের মধ্যে কেউ এমন আছেন যারা ইলমকে কুক্ষিগত করে রাখেন এবং মনে করেন যে তা শিক্ষা দেওয়া হীনতা বা অমর্যাদার কাজ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পছন্দ করেন যে ইলম বা জ্ঞান কেবল তাদের কাছেই থাকুক। আবার কেউ কেউ ইলমের ক্ষেত্রে স্বৈরাচারী শাসকের ন্যায় আচরণ করেন, এমনকি তাঁর কোনো মত খন্ডন করা হলে অথবা তাঁর কোনো প্রাপ্য অধিকারে অবহেলা করা হলে তিনি রাগান্বিত হন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেকে ফতোয়া প্রদানের কাজে নিয়োজিত করেন, অথচ তাঁর কাছে এমন বিষয় আসতে পারে যে সম্পর্কে তাঁর কোনো জ্ঞান নেই, কিন্তু তিনি 'আমি জানি না' বলতে লজ্জাবোধ করেন; ফলে তিনি না জেনেই মন্তব্য করেন এবং লৌকিকতাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পরিগণিত হন। আবার তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যিনি যা শোনেন তাই বর্ণনা করেন, এমনকি নিজের পাণ্ডিত্যের গভীরতা প্রদর্শনের নিমিত্তে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উক্তিও বর্ণনা করে থাকেন।

আবু ওমর বলেন: ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিবের এই বক্তব্যের ন্যায় আদ্যোপান্ত সবকিছু মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে এই বিভিন্ন স্তরের আলেমদের নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে এবং এর জন্য তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইবনে আব্দুল বার কর্তৃক সংক্ষেপে যা বর্ণিত হয়েছে তা এখানেই সমাপ্ত।

সুতরাং পরহেজগার ব্যক্তিদের সেই আচরণের প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত যে, কীভাবে তারা না জেনে কথা বলা থেকে বিরত থাকতেন এবং সেই লৌকিকতা বা কৃত্রিমতা থেকে দূরে থাকতেন যার মধ্যে বর্তমান যুগের অনেক মানুষ পতিত হয়েছে। এমনকি এর পরিণাম কাউকে কাউকে বিদআত ও ভ্রষ্টতা গ্রহণ করা, প্রভূত আন্দাজ-অনুমান ও মূর্খতাসূলভ উক্তি করা এবং কিছু আকিদাগত বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিরুদ্ধাচরণ করার দিকে নিয়ে গেছে। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপায় ও শক্তি নেই; তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২০)
(فصل)

وقد جعلت التنبيهات على رسالتي ابن محمود في فصلين.

الأول: فيما يتعلق بالقضاء والقدر.

والثاني: فيما يتعلق بالرسالة والنبوة، فأما ما يتعلق بالقضاء والقدر فالتنبيه عليه يتلخص في خمسة أشياء: الأول في بيانه لمعنى القضاء والقدر، والثاني في تغليطه للمفسرين الذين قالوا في قول الله تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} أنها نزلت في القضاء والقدر.

والثالث في نفيه لكتابة المقادير وزعمه أنها عبارة عن سبق علم الله.

والرابع في زعمه أن الحديث في احتجاج آدم وموسى من مشكل الآثار، والخامس في تخليطه في الكلام على حديث ابن مسعود رضي الله عنه في كتابة ما يتعلق بالجنين وهو في بطن أمه.

فأما الأول: فقال في صفحة 9 ما ملخصه:

(حقيقة القدر) ونحن وإن قلنا: إن القدر يرجع إلى تقدير الله للأشياء بنظام وأنه يرجع إلى قدرة الله وأنه على كل شيء قدير وفعال لما يريد، أو أنه يرجع إلى سبق علم الله بالأشياء قبل وقوعها، وأنه يعلم ما كان وما سيكون كيف يكون فكل هذه من الصفات الداخلة في قدر الله، وحسب الشخص أن يؤمن بكل ما أخبر الله به من صنع خلقه وسبق علمه بكل شيء وأنه على كل شيء قدير وفعال لما يريد، ولما سئل الإمام أحمد عن القدر أجاب قائلا: (القدر قدرة الرحمن).

وأقول أما القدر الذي جاء ذكره في سؤال جبريل للنبي صلى الله عليه وسلم وفي غيره من الأحاديث التي يذكر فيها
(পরিচ্ছেদ)

আমি ইবনে মাহমুদের রিসালাদ্বয়ের ওপর সতর্কীকরণসমূহকে দুইটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি।

প্রথমটি: ভাগ্যলিপি ও পূর্বনির্ধারণ (কাজা ও কদর) সংক্রান্ত বিষয়ে।

দ্বিতীয়টি: রিসালাত ও নবুওয়ত সংক্রান্ত বিষয়ে। অতঃপর কাজা ও কদর সংক্রান্ত সতর্কীকরণগুলো পাঁচটি বিষয়ে সারসংক্ষেপ করা যায়: প্রথমটি: কাজা ও কদরের অর্থের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়টি: সেই সকল মুফাসসিরদের ভুল সাব্যস্ত করার বিষয়ে যারা মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে} এর ক্ষেত্রে বলেছেন যে, এটি কাজা ও কদর প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে।

তৃতীয়টি: ভাগ্যলিপি লিখনের বিষয়টি অস্বীকার করার ব্যাপারে এবং তাঁর এই দাবির বিষয়ে যে, এটি কেবল আল্লাহর চিরন্তন বা পূর্ব-জ্ঞানেরই নামান্তর।

চতুর্থটি: আদম ও মূসার (আলাইহিমাস সালাম) বাদানুবাদ সংক্রান্ত হাদিসটি 'মুশকিলুল আসার' (জটিল হাদিসসমূহ)-এর অন্তর্ভুক্ত বলে তাঁর দাবির বিষয়ে। পঞ্চমটি: মাতৃগর্ভে থাকাকালীন ভ্রূণ সংক্রান্ত বিষয়াদি লিপিবদ্ধ করা নিয়ে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের আলোচনায় তাঁর বিভ্রান্তিকর সংমিশ্রণ প্রসঙ্গে।

প্রথম বিষয়টি সম্পর্কে তিনি ৯ পৃষ্ঠায় যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো:

(কদরের হাকিকত) যদিও আমরা বলি যে, কদর বলতে আল্লাহ কর্তৃক সুশৃঙ্খলভাবে বস্তুসমূহের পরিমাপ নির্ধারণ করা বোঝায়, এবং এটি আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান ও যা ইচ্ছা তা-ই সম্পাদনকারী; অথবা এটি বস্তুসমূহ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে আল্লাহর চিরন্তন জ্ঞানের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আর তিনি জানেন যা হয়েছে এবং যা হবে তা কীভাবে হবে—এসবই আল্লাহর কদরের অন্তর্ভুক্ত গুণাবলি। একজন ব্যক্তির জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কারুকার্য এবং সব বিষয়ে তাঁর পূর্ব-জ্ঞান সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি যে সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান ও যা ইচ্ছা তা-ই সম্পাদনকারী, তাতে বিশ্বাস স্থাপন করা। ইমাম আহমদকে যখন কদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: (কদর হলো দয়াময় আল্লাহর কুদরত)।

আমি বলব, জিবরাইল কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে করা প্রশ্নে এবং অন্যান্য যে সকল হাদিসে কদরের উল্লেখ এসেছে সে প্রসঙ্গে...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২১)
وجوب الإيمان بالقدر وأنه ركن من أركان الإيمان، فالمراد به ما قدره الله وقضاه وسبق به علمه وإرادته وفرغ من كتابته قبل خلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة، وقد جاء ذلك في أحاديث كثيرة، منها حديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «قدر الله المقادير قبل أن يخلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة» رواه الأمام أحمد والترمذي وعبد الله بن الإمام أحمد في كتاب السنة وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح غريب، وقد رواه مسلم في صحيحه ولفظه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «كتب الله مقادير الخلائق قبل أن يخلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة، قال: وعرشه على الماء».

ورواه أبو بكر الآجري في كتاب الشريعة بإسناد صحيح ولفظه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «فرغ الله عز وجل من مقادير الخلق قبل أن يخلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة وكان عرشه على الماء» ورواه أيضا بنحو رواية مسلم وإسناده صحيح أيضا.

وروى الإمام أحمد ومسلم في صحيحه عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: جاء سراقة بن مالك بن جعشم فقال: يا رسول الله بين لنا ديننا كأنا خلقنا الآن فيم العمل اليوم أفيما جفت به الأقلام وجرت به المقادير أم فيما نستقبل؟ قال: «لا بل جفت به الأقلام وجرت به المقادير» قال: ففيم العمل؟ فقال: «اعملوا فكل ميسر» وقد رواه أبو داود الطياليسي، وابن حبان في صحيحه، وعبد الله بن الإمام أحمد في كتاب السنة، وأبو بكر الآجري في كتاب الشريعة بنحوه، وزاد ابن حبان قال سراقة: فلا أكون أبدا أشد اجتهادا في العمل مني الآن.
তকদীরের (ভাগ্যের) ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এটি ঈমানের অন্যতম একটি রুকন। তকদীর বলতে উদ্দেশ্য হলো যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন, ফয়সালা করেছেন এবং যা তাঁর অনাদি জ্ঞান ও ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে যা তিনি লিখে সমাপ্ত করেছেন। এ বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি অন্যতম; তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সমস্ত কিছুর ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন।" এটি ইমাম আহমদ, তিরমিযী এবং ইমাম আহমদের পুত্র আব্দুল্লাহ তার 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ গরিব। ইমাম মুসলিমও এটি তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তার শব্দ হলো: তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের তকদীরসমূহ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে লিপিবদ্ধ করেছেন; তিনি আরও বলেন: এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর।"

আবু বকর আল-আজুরি তার 'কিতাবুস শারীয়াহ' গ্রন্থে সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো: তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টির তকদীর নির্ধারণ সম্পন্ন করেছেন এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর।" তিনি এটি ইমাম মুসলিমের বর্ণনার অনুরূপও বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদও সহীহ।

ইমাম আহমদ এবং ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুরাকা ইবনে মালিক ইবনে জুশাম (রা.) এসে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য আমাদের দ্বীনকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করুন যেন আমরা কেবল এখনই সৃষ্টি হয়েছি। আমাদের আজকের কর্ম কিসের ভিত্তিতে হবে? যা কলম লিখে শুকিয়ে গেছে এবং তকদীর যা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে গেছে তার ভিত্তিতে, নাকি ভবিষ্যতে আমরা যা করব তার ভিত্তিতে?" তিনি বললেন: "না, বরং যা কলম লিখে শুকিয়ে গেছে এবং তকদীর যা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে গেছে তার ভিত্তিতেই কর্ম হচ্ছে।" তিনি বললেন: "তাহলে আমল করার সার্থকতা কী?" তখন তিনি বললেন: "তোমরা আমল করতে থাকো, কারণ প্রত্যেকের জন্যই তার গন্তব্য সহজ করে দেওয়া হয়েছে।" এটি আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে, আব্দুল্লাহ ইবনে ইমাম আহমদ 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে এবং আবু বকর আল-আজুরি 'কিতাবুস শারীয়াহ' গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান আরও একটি অংশ যোগ করেছেন, সুরাকা বললেন: "আমি আমলের ক্ষেত্রে বর্তমানের চেয়ে অধিক সচেষ্ট আর কখনো থাকব না।"
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২২)
وروي الإمام أحمد أيضا بإسناد صحيح عن عمران بن حصين رضي الله عنهما أن رجلا من جهينة أو من مزينة أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله أرأيت ما يعمل الناس اليوم ويكدحون فيه شيء قضى عليهم ومضى عليهم في قدر قد سبق، أو فيما يستقبلون مما أتاهم به نبيهم صلى الله عليه وسلم واتخذت عليهم به الحجة قال: «بل شيء قضى عليهم ومضى عليهم» قال: فلمَ يعملون إذا يا رسول الله؟ قال: «من كان الله عز وجل خلقه لواحدة من المنزلتين بهيئة لعملها وتصديق ذلك في كتاب الله عز وجل {وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا * فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا}» وقد رواه أبو داود الطيالسي بإسناد صحيح، ومسلم بنحوه وفيه عند مسلم قصة لأبي الأسود الدؤلي مع عمران بن حصين رضي الله عنهما وسيأتي ذكرها إن شاء الله تعالى.

وروي الإمام أحمد أيضا وأبو داود من حديث ابن عمر رضي الله عنهما نحوه.

قال شيخ الإسلام أبو العباس بن تيمية رحمه الله تعالى في تفسير سورة (والشمس وضحاها) بعد إيراده لحديث عمران بن حصين رضي الله عنهما: فبين النبي صلى الله عليه وسلم أن تصديق ما أخبر به من القضاء قوله: {فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا} والذي في الحديث هو القدر السابق من علم الله وكتابه وكلامه، وهذا إنما تنكره غالية القدرية. وأما الذي في القرآن فهو خلق الله أفعال العباد وهذا أبلغ فإن القدرية المجوسية تنكره، فالذي في القرآن يدل على ما في الحديث وزيادة ولهذا جعله النبي صلى الله عليه وسلم مصدقا له انتهى المقصود من كلامه رحمه الله تعالى صفحة 232 ج 16 مجموع الفتاوى.
ইমাম আহমাদ একটি সহীহ সনদে ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, জুহায়না বা মুযায়না গোত্রের এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! মানুষ আজ যা করছে এবং যে পরিশ্রমে লিপ্ত আছে, সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তা কি এমন কিছু যা তাদের ওপর আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং পূর্ব-লিখিত তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে, নাকি এমন কিছু যা ভবিষ্যতে তাদের সামনে আসবে যা নিয়ে তাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে এসেছেন এবং যার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?" তিনি বললেন: "বরং তা এমন বিষয় যা তাদের ওপর নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং অতিক্রান্ত হয়েছে।" সে বলল: "তাহলে হে আল্লাহর রাসূল, তারা কেন আমল করে?" তিনি বললেন: "আল্লাহ তাআলা যাকে দুই স্তরের (জান্নাত বা জাহান্নাম) কোনো একটির জন্য সৃষ্টি করেছেন, তাকে সেই আমলের উপযোগী করে প্রস্তুত করেন। আর এর সত্যয়ন মহান আল্লাহর কিতাবে রয়েছে: {শপথ প্রাণের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন। অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও তার তাকওয়ার জ্ঞান দান করেছেন}।" আবু দাউদ তায়ালিসি এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিমও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের বর্ণনায় ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি-র একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচিত হবে।

ইমাম আহমাদ এবং আবু দাউদ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) সূরা আশ-শামসের তাফসীরে ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসটি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্পষ্ট করেছেন যে, ফায়সালা বা তকদীর সম্পর্কে তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন, তার সত্যয়ন হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও তার তাকওয়ার জ্ঞান দান করেছেন}। হাদিসে যা রয়েছে তা হলো আল্লাহর জ্ঞান, লিখন ও বাণীর অন্তর্ভুক্ত পূর্ব-নির্ধারিত তাকদীর; আর এটি কেবল চরমপন্থী কাদরিয়ারা অস্বীকার করে। অন্যদিকে কুরআনে যা রয়েছে তা হলো বান্দার কর্মসমূহ আল্লাহর সৃষ্টি হওয়া সংক্রান্ত বিষয়, যা অধিকতর গভীর ও ব্যাপক। কেননা কাদরিয়া মাজুসিরা এটি অস্বীকার করে। সুতরাং কুরআনে যা আছে তা হাদিসের বক্তব্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিষয়ের ওপরও প্রমাণ বহন করে। একারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটিকে হাদিসের সত্যয়নকারী সাব্যস্ত করেছেন। তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্যের উদ্দেশ্য এখানেই শেষ—মাজমুউল ফাতাওয়া, ১৬তম খণ্ড, ২৩২ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وروي الإمام أحمد أيضا والطبراني عن أبي الدرداء رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لكل شيء حقيقة وما بلغ عبد حقيقة الإيمان حتى يعلم أن ما أصابه لم يكن ليخطئه وما أخطأه لم يكن ليصيبه» قال الهيثمي: رجاله ثقات.

وروي الطبراني أيضا عن أبي الأسود الدؤلي أنه سأل عمران بن حصين، وعبد الله بن مسعود، وأبي بن كعب عن القدر فقال: إني قد خاصمت أهل القدر حتى أحرجوني فهل عندكم من علم فتحدثوني؟ فقالوا: (لو أن الله عز وجل عذب أهل السماء والأرض عذبهم وهو غير ظالم، ولو أدخلهم في رحمته كانت رحمته أوسع من ذنوبهم، ولكنه كما قضى يعذب من يشاء ويرحم من يشاء، فمن عذب فهو الحق ومن رحم فهو الحق، ولو كان لك مثل أحد ذهبا تنفقه في سبيل الله ما قبل منك حتى تؤمن بالقدر خيره وشره) ثم قال عمران: لأبي الأسود حين حدثه الحديث سمعت ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم وسمعه معي عبد الله - يعني ابن مسعود - وأبي بن كعب فسألهما أبو الأسود فحدثاه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال الهيثمي: رواه الطبراني بإسنادين ورجال هذه الطريق ثقات.

وروي الترمذي عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يؤمن عبد حتى يؤمن بالقدر خيره وشره حتى يعلم أن ما أصابه لم يكن ليخطئه وأن ما أخطأه لم يكن ليصيبه» قال الترمذي: هذا حديث غريب، قال: وفي الباب عن عبادة وجابر وعبد الله بن عمرو رضي الله عنهم.

وروي الإمام أحمد وأبو داود وابن ماجة واللفظ له عن ابن الديلمي قال: وقع في نفسي شيء من هذا القدر خشيت أن يفسد علي ديني وأمري فأتيت أبي بن كعب فقلت: أبا المنذر إنه قد وقع في نفسي شيء من هذا القدر فخشيت علي ديني
ইমাম আহমদ এবং তাবারানিও আবু দিরদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "প্রত্যেক জিনিসেরই একটি বাস্তব সত্য রয়েছে। কোনো বান্দা ঈমানের প্রকৃত হাকিকতে পৌঁছাতে পারে না যতক্ষণ না সে এ কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, যা তাকে স্পর্শ করেছে তা তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার ছিল না, আর যা তাকে স্পর্শ করেনি তা তাকে পাওয়ার ছিল না।" হাইসামি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

তাবারানি আবু আসওয়াদ আদ-দুয়ালি থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং উবাই ইবনে কাবকে তাকদির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: আমি তাকদিরপন্থীদের (তাকদির অস্বীকারকারী) সাথে বিতর্ক করেছি এবং তারা আমাকে কোণঠাসা করে ফেলেছে; আপনাদের কাছে কি এমন কোনো জ্ঞান আছে যা আমাকে বলবেন? তারা বললেন: "যদি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের শাস্তি দেন, তবে তিনি তাদের ওপর কোনো অবিচার না করেই শাস্তি দেবেন। আর যদি তিনি তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, তবে তাঁর রহমত তাদের পাপের তুলনায় অধিক প্রশস্ত হবে। কিন্তু তিনি যেমন ফয়সালা করেছেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা দয়া করেন। সুতরাং যাকে শাস্তি দেওয়া হয় তা ন্যায়সংগত এবং যাকে দয়া করা হয় তাও ন্যায়সংগত। আর যদি তোমার ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং তা তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করো, তবে তোমার কাছ থেকে তা ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হবে না যতক্ষণ না তুমি তাকদিরের ভালো এবং মন্দের ওপর ঈমান আনো।" অতঃপর ইমরান যখন আবু আসওয়াদকে হাদিসটি বর্ণনা করলেন তখন বললেন: আমি এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে শুনেছি এবং আমার সাথে আবদুল্লাহ—অর্থাৎ ইবনে মাসউদ—এবং উবাই ইবনে কাবও শুনেছেন। অতঃপর আবু আসওয়াদ তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরাও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করলেন। হাইসামি বলেছেন: তাবারানি এটি দুটি সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এই সূত্রের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

তিরমিজি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কোনো বান্দা ততক্ষণ মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না সে তাকদিরের ভালো ও মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং যতক্ষণ না সে জানে যে, যা তাকে পাওয়ার ছিল তা তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার ছিল না এবং যা তাকে পাওয়ার ছিল না তা তাকে স্পর্শ করার ছিল না।" তিরমিজি বলেন: এটি একটি গরীব হাদিস। তিনি আরও বলেন: এই অনুচ্ছেদে উবাদাহ, জাবির এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকেও বর্ণনা রয়েছে।

ইমাম আহমদ, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ—শব্দবিন্যাস ইবনে মাজাহর—ইবনুদ দাইলামি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাকদির সম্পর্কে আমার অন্তরে কিছু সংশয় দেখা দিল, যা আমার দ্বীন ও বিষয়াবলী নষ্ট করে দেওয়ার ভয় জাগাল। ফলে আমি উবাই ইবনে কাবের কাছে এসে বললাম: হে আবুল মুনজির! আমার অন্তরে তাকদির বিষয়ে কিছু একটা উদয় হয়েছে এবং আমি আমার দ্বীনের ব্যাপারে আশঙ্কিত হয়ে পড়েছি।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأمري فحدثني من ذلك بشيء لعل الله أن ينفعني به فقال: «لو أن الله عذب أهل سمواته وأهل أرضه لعذبهم وهو غير ظالم لهم، ولو رحمهم لكانت رحمته خيرا لهم من أعمالهم ولو كان لك مثل جبل أحد ذهبا تنفقه في سبيل الله ما قبل منك حتى تؤمن بالقدر فتعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك، وأن ما أخطأك لم يكن ليصيبك وإنك أن مت على غير هذا دخلت النار» ولا عليك أن تأتي أخي عبد الله بن مسعود فتسأله فأتيت عبد الله فسألته فذكر مثل ما قال أبي وقال لي: ولا عليك أن تأتي حذيفة فأتيت حذيفة فسألته فقال مثل ما قالا، وقال: ائت زيد بن ثابت فاسأله فأتيت زيد بن ثابت فسألته فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لو أن الله عذب أهل سمواته وأهل أرضه لعذبهم وهو غير ظالم لهم، ولو رحمهم لكانت رحمته خيرا لهم من أعمالهم، ولو كان لك مثل أحد ذهبا أو مثل جبل أحد ذهبا تنفقه في سبيل الله ما قبله منك حتى تؤمن بالقدر كله، فتعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك وما أخطأك لم يكن ليصيبك وأنك إن مت على غير هذا دخلت النار» وقد رواه ابن حبان في صحيحه مختصراً.

وسيأتي نحو ذلك في حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه.

وروي مالك في الموطأ، وأحمد في مسنده، ومسلم في صحيحه، وعبد الله بن الإمام أحمد في كتاب السنة، وأبو بكر الآجري في كتاب الشريعة، والبغوي في تفسيره عن طاوس أنه قال: أدركت ناسا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولون: (كل شيء بقدر) قال: وسمعت عبد الله بن عمر رضي الله عنهما يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كل شيء بقدر حتى العجز والكيس».
এবং আমার বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে এমন কিছু বর্ণনা করুন যাতে আল্লাহ আমাকে তার মাধ্যমে উপকৃত করেন। তিনি বললেন: «আল্লাহ যদি তাঁর আসমানসমূহের অধিবাসী এবং তাঁর জমিনের অধিবাসীদের শাস্তি প্রদান করেন, তবে তিনি তাদের প্রতি কোনো প্রকার জুলুম না করেই তাদের শাস্তি প্রদান করবেন। আর যদি তিনি তাদের প্রতি রহম করেন, তবে তাঁর সেই রহমত তাদের আমলসমূহের তুলনায় তাদের জন্য অনেক বেশি মঙ্গলজনক হবে। আর যদি তোমার কাছে ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং তুমি তা আল্লাহর পথে ব্যয় করো, তবে তাকদীরের ওপর ঈমান না আনা পর্যন্ত তিনি তা তোমার পক্ষ থেকে কবুল করবেন না। আর তা হলো তুমি এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করবে যে, তোমার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা তোমাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করার ছিল না এবং যা তোমাকে ছেড়ে গেছে তা তোমার ওপর আপতিত হওয়ার ছিল না। আর তুমি যদি এই বিশ্বাসের পরিপন্থী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো, তবে অবশ্যই তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।» এবং তোমার জন্য আমার ভাই আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করতে কোনো বাধা নেই। সুতরাং আমি আব্দুল্লাহর কাছে গেলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম; তখন তিনি আমার পিতা যা বলেছিলেন ঠিক অনুরূপই উল্লেখ করলেন এবং আমাকে বললেন: তোমার জন্য হুযায়ফার কাছে যেতে কোনো বাধা নেই। অতঃপর আমি হুযায়ফার কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনিও তাদের উভয়ের ন্যায় উত্তর দিলেন এবং বললেন: তুমি যায়িদ বিন সাবিতের কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করো। আমি যায়িদ বিন সাবিতের কাছে গিয়ে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আল্লাহ যদি তাঁর আসমানসমূহের অধিবাসী এবং তাঁর জমিনের অধিবাসীদের শাস্তি প্রদান করেন, তবে তিনি তাদের প্রতি কোনো প্রকার জুলুম না করেই তাদের শাস্তি প্রদান করবেন। আর যদি তিনি তাদের প্রতি রহম করেন, তবে তাঁর রহমত তাদের আমলসমূহের তুলনায় তাদের জন্য অনেক বেশি কল্যাণকর হবে। আর যদি তোমার ওহুদ পাহাড়ের সমান স্বর্ণ থাকে অথবা ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে যা তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করো, তবে তুমি তাকদীরের সম্পূর্ণটার ওপর ঈমান না আনা পর্যন্ত আল্লাহ তা তোমার পক্ষ থেকে কবুল করবেন না। আর তা হলো তুমি এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যে, তোমার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা তোমাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করার ছিল না এবং যা তোমাকে ছেড়ে গেছে তা তোমার ওপর আপতিত হওয়ার ছিল না। আর তুমি যদি এর বিপরীত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো, তবে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।» ইবনু হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

উবাদাহ বিন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসেও অচিরেই অনুরূপ বর্ণনা আসবে।

ইমাম মালিক ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থে, আহমাদ তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে, মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে, ইমাম আহমাদের পুত্র আব্দুল্লাহ তাঁর ‘কিতাবুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে, আবু বকর আল-আজুরী তাঁর ‘আশ-শারীআহ’ গ্রন্থে এবং আল-বাগাভী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীকে বলতে শুনেছি: (প্রত্যেকটি বিষয়ই তাকদীর অনুযায়ী নির্ধারিত)। তিনি আরও বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলতে শুনেছি, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «সবকিছুই তাকদীর বা পূর্বনির্ধারিত পরিমাপ অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, এমনকি মানুষের অক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তাও।»
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وروي البخاري في تاريخه وأبو بكر الآجري بإسناد حسن عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال: (كل شيء بقدر حتى وضعك يدك على خدك).

وروي عبد الله بن الإمام أحمد في كتاب السنة، وأبو بكر الآجري في كتاب الشريعة عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أنه ذكر عنده القدر يوما؛ فأدخل أصبعيه السبابة والوسطى في فيه وأخذ بهما من ريقه فرقم بهما في ذراعه ثم قال: «أشهد أن هاتين الرقمتين كانتا في أم الكتاب».

وسيأتي ذكر الأحاديث في القلم الذي كتبت به المقادير في التنبيه الثالث إن شاء الله تعالى.

ومما تقدم ذكره من الأحاديث وما سيأتي في التنبيه الثالث يعلم ما في تعريف ابن محمود لحقيقة القدر من التخليط بالنقص والزيادة، فأما النقص ففي إعراضه عن إثبات كتابة المقادير في اللوح المحفوظ، وهذا في الحقيقة إعراض عن الإيمان ببعض مراتب القدر إذ لابد في الإيمان به من الإيمان بعلم الله تعالى بجميع الكائنات بعلمه القديم الذي هو موصوف به أزلا، ثم كتابته لها في اللوح المحفوظ قبل خلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة، وسيأتي ذكر الأدلة على ذلك قريبا إن شاء الله تعالى وبيان أن من لم يؤمن بكتابة القدر في اللوح المحفوظ فقد وافق غلاة القدرية.

وأما الزيادة ففي قوله: إن القدر يرجع إلى تقدير الله للأشياء بنظام وإتقان، وقوله أيضا: وحسب الشخص أن يؤمن بكل ما أخبر الله به من صنع خلقه.

فلم يفرق بين صنع المخلوقات بنظام وإتقان وبين تقدير المقادير وكتابتها قبل خلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة وجعل الجميع شيئا واحدا، وهذا في الحقيقة تخليط وتلبيس.
ইমাম বুখারি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এবং আবু বকর আল-আজুরি একটি হাসান সনদে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "সবকিছুই নির্ধারিত তকদির অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, এমনকি তোমার গালের ওপর তোমার হাত রাখাও।"

ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে এবং আবু বকর আল-আজুরি 'আশ-শরিয়াহ' গ্রন্থে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদিন তাঁর উপস্থিতিতে তাকদিরের প্রসঙ্গ আলোচিত হলো; তখন তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল নিজের মুখে প্রবেশ করালেন এবং তা থেকে কিছু লালা নিয়ে নিজের বাহুতে দুটি রেখা বা চিহ্ন আঁকলেন। এরপর বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই রেখা দুটি উম্মুল কিতাবে (মূল গ্রন্থে) লিপিবদ্ধ ছিল।"

যে কলম দিয়ে তাকদিরসমূহ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, সেই সম্পর্কিত হাদিসগুলোর আলোচনা ইনশাআল্লাহ তাআলা তৃতীয় সতর্কবাণীতে আসবে।

ইতিপূর্বে বর্ণিত এবং তৃতীয় সতর্কবাণীতে আগত হাদিসসমূহ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইবনে মাহমুদ তাকদিরের হাকিকত বা প্রকৃত স্বরূপের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তাতে হ্রাস-বৃদ্ধিজনিত বিভ্রান্তি রয়েছে। অসম্পূর্ণতা বা হ্রাসের বিষয়টি হলো—লওহে মাহফুজে তাকদিরসমূহ লিপিবদ্ধ থাকার বিষয়টি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর উপেক্ষা। এটি মূলত তাকদিরের অন্যতম একটি স্তরের প্রতি ঈমান আনার ক্ষেত্রে অনীহা; কারণ তাকদিরের প্রতি ঈমান আনার জন্য অপরিহার্য হলো—আল্লাহর সেই অনাদি ও চিরন্তন ইলম বা জ্ঞানের ওপর বিশ্বাস রাখা যার মাধ্যমে তিনি সমস্ত সৃষ্টিজগত সম্পর্কে অবগত, অতঃপর আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে লওহে মাহফুজে তা লিপিবদ্ধ করার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। এ বিষয়ের দলিলসমূহ অচিরেই ইনশাআল্লাহ বর্ণিত হবে এবং সেখানে স্পষ্ট করা হবে যে, যে ব্যক্তি লওহে মাহফুজে তাকদির লিপিবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বিশ্বাস করে না, সে মূলত চরমপন্থী কাদরিয়াদের মতবাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করল।

আর অতিরিক্ত সংযোজনের বিষয়টি তাঁর এই বক্তব্যে পরিলক্ষিত হয় যে: "তাকদির মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে বস্তুসমূহকে সুশৃঙ্খল ও নিপুণভাবে বিন্যস্ত করার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।" এবং তাঁর এই উক্তিতেও যে: "একজন ব্যক্তির জন্য আল্লাহর সৃষ্টির কারিগরি সম্পর্কে দেওয়া যাবতীয় সংবাদে ঈমান আনাই যথেষ্ট।"

তিনি সৃষ্টিজগতকে সুশৃঙ্খল ও নিপুণভাবে নির্মাণ করা এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে তাকদির নির্ধারণ ও তা লিপিবদ্ধ করার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি, বরং উভয় বিষয়কে এক করে ফেলেছেন। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিভ্রান্তিকর সংমিশ্রণ ও সত্যের অপলাপ।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وأما الإيمان بأن الله على كل شيء قدير وفعال لما يريد وأنه يعلم ما كان وما سيكون كيف يكون؛ فهو من الإيمان بالقدر؛ ولكن لا يكفي عن الإيمان بتقدير الله لجميع الأشياء وكتابته لها في اللوح المحفوظ قبل خلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة فالكل يجب الإيمان به.

وكذلك الإيمان بما أخبر الله به من صنع خلقه وتقديره للأشياء بنظام وإتقان هو من الإيمان بأن الله تعالى هو الخالق الذي أوجد جميع الكائنات وأتقنها، ولا يكفي الإيمان بذلك عن الإيمان بكتابة المقادير قبل خلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة.

وقد كان مشركو قريش مقرين بأن الله تعالى هو الخالق لجميع الأشياء كما أخبر الله بذلك عنهم في قوله: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} وقال تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ نَزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} إلى غير ذلك من الآيات في هذا المعنى. وكانوا مع إيمانهم بأن الله تعالى هو الخالق لجميع الأشياء يخاصمون رسول الله صلى الله عليه وسلم في القدر كما سيأتي بيان ذلك في الحديث الصحيح عن أبي هريرة رضي الله عنه، وقد توعدهم الله على تكذيبهم بالقدر بأنهم سيسحبون في النار على وجوههم ويقال لهم: ذوقوا مس سقر، ولم ينفعهم إيمانهم بالخلق وإتقان الأشياء وتنظيمها عن الإيمان بالقدر السابق.

وأما قول الإمام أحمد رحمه الله تعالى (القدر قدرة الله) فمعناه أن تقدير الرب تبارك وتعالى لكل ما هو كائن قبل أن يخلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة ثم إيجاده للكائنات على وفق ما قدره وقضاه يدل على قدرته العظيمة، فمن أثبت
আর আল্লাহ যে সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান, তিনি যা চান তা-ই করেন এবং যা কিছু ঘটেছে ও যা কিছু ঘটবে এবং তা কীভাবে ঘটবে সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত—এই বিশ্বাস পোষণ করা তাকদীরের প্রতি ঈমানেরই অন্তর্ভুক্ত। তবে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে মহান আল্লাহ কর্তৃক সকল বিষয় নির্ধারণ এবং লওহে মাহফুযে তা লিপিবদ্ধ করার প্রতি ঈমান আনা ব্যতীত কেবল এতটুকু যথেষ্ট নয়; বরং এ সবকিছুর প্রতিই ঈমান রাখা আবশ্যক।

অনুরূপভাবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির নিপুণতা এবং সুশৃঙ্খল ও সুচারুভাবে সবকিছুর নির্ধারণ সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন, তার প্রতি ঈমান রাখা এই বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত যে, মহান আল্লাহই সেই স্রষ্টা যিনি সকল সৃষ্টিজগতকে অস্তিত্ব দান করেছেন এবং সেগুলোকে সুনিপুণ করেছেন। তবে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে তাকদীরসমূহ লিপিবদ্ধ করার প্রতি ঈমান আনা ব্যতীত কেবল এই বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়।

আর কুরাইশ মুশরিকরা এই কথা স্বীকার করত যে, মহান আল্লাহই সকল কিছুর স্রষ্টা; যেমন আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: "আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে বশীভূত করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।" এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দিয়ে যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।"—এই মর্মে আরও অনেক আয়াত রয়েছে। মহান আল্লাহ যে সবকিছুর স্রষ্টা—এই বিশ্বাসের পাশাপাশি তারা তাকদীরের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতো, যেমনটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে সামনে আলোচিত হবে। তাকদীর অস্বীকার করার কারণে আল্লাহ তাদেরকে এই বলে সতর্ক করেছেন যে, তাদেরকে উপুড় করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নেওয়া হবে এবং বলা হবে: "সাক্বারের (জাহান্নামের) স্পর্শ আস্বাদন করো।" সৃষ্টিতত্ত্ব, বস্তুর নিপুণতা ও সুশৃঙ্খলার প্রতি তাদের বিশ্বাস পূর্বনির্ধারিত তাকদীরের প্রতি ঈমান না আনার বিপরীতে তাদের কোনো উপকারে আসেনি।

আর ইমাম আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহির উক্তি—"তাকদীর হলো আল্লাহর কুদরত (ক্ষমতা)"—এর অর্থ হলো: আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে সংঘটিতব্য সকল বিষয়ে বরকতময় ও মহান রবের নির্ধারণ এবং অতঃপর তাঁর নির্ধারিত ও ফয়সালাকৃত বিষয় অনুযায়ী সৃষ্টিজগতকে অস্তিত্ব দান করা তাঁর সুমহান কুদরতেরই প্রমাণ দেয়। সুতরাং যে ব্যক্তি সাব্যস্ত করবে...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قضاء الله وقدره السابق فقد أثبت قدرة الله ومن أنكر قضاء الله وقدره السابق فقد أنكر قدرة الله، فهذا معنى قول الإمام أحمد رحمه الله تعالى القدر قدرة الله.

قال شيخ الإسلام أبو العباس بن تيمية رحمه الله تعالى في رسالة الاحتجاج بالقدر: والقدر هو قدرة الله كما قال الإمام أحمد: وهو المقدر لكل ما هو كائن. انتهى.

وقال ابن القيم رحمه الله تعالى في كتابه (شفاء العليل):وقال الإمام أحمد القدر قدرة الله واستحسن ابن عقيل هذا الكلام جدا وقال: هذا يدل على دقة علم أحمد وتبحره في معرفة أصول الدين، وهو كما قال أبو الوفاء، فإن إنكار القدر إنكار لقدرة الرب على خلق أعمال العباد وكتابتها وتقديرها، وسلف القدرية كانوا ينكرون علمه بها وهم الذين اتفق سلف الأمة على تكفيرهم. انتهى.

وقد أورد ابن محمود في الصفحة التي أشرنا إليها قول الشاعر:

لو كنت أعجب من شيء لأعجبني … سعي الفتي وهو مخبوء له القدر

 

ونسبه لزهير وقد غلط في ذلك فإن هذا البيت لابنه كعب بن زهير رضي الله عنه ولا خلاف في ذلك عند أهل السير والأخبار، وقد ذكروا مع هذا البيت بيتين وهما:

يسعى الفتى لأمور ليس يدركها … فالنفس واحدة والهم منتشر

والمرء ما عاش ممدود له أمل … لا تنتهي العين حتى ينتهي الأثر

 

وقد صرح كعب رضي الله عنه في هذه الأبيات الحسان بالإيمان بالقدر وأن المرء قد يسعى في الأمور فلا يدركها لأنها
আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত ফয়সালা ও তকদীর মূলত আল্লাহর কুদরত বা সক্ষমতাকে প্রমাণ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত ফয়সালা ও তকদীরকে অস্বীকার করল, সে মূলত আল্লাহর কুদরতকেই অস্বীকার করল। ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি—'তকদীর হলো আল্লাহর কুদরত'—এর মর্মার্থ এটাই।

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'রিসালাতুল ইহতিজাজ বিল কদর' নামক গ্রন্থে বলেন: তকদীর হলো আল্লাহর কুদরত, যেমনটি ইমাম আহমাদ বলেছেন; আর তিনি (আল্লাহ) হচ্ছেন বিদ্যমান সকল বস্তুর পরিমাপ নির্ধারণকারী। সমাপ্ত।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'শিফাউল আলীল' গ্রন্থে বলেন: ইমাম আহমাদ বলেছেন, 'তকদীর হলো আল্লাহর কুদরত'। ইবনে আকীল এই উক্তিটির অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন: এটি ইমাম আহমাদের ইলমের সূক্ষ্মতা এবং দ্বীনের মূলনীতি সম্পর্কে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের পরিচায়ক। এটি তেমনই যেমনটি আবুল ওয়াফা বলেছেন; কেননা তকদীর অস্বীকার করা মানে হলো বান্দার আমল সৃষ্টি করা, তা লিপিবদ্ধ করা এবং তা নির্ধারণ করার বিষয়ে রবের কুদরতকে অস্বীকার করা। কাদারিয়্যা ফিরকার পূর্বসূরিরা এ বিষয়ে আল্লাহর ইলম বা জ্ঞানকে অস্বীকার করত, আর উম্মাহর সালাফগণ তাদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন। সমাপ্ত।

ইবনে মাহমুদ আমাদের নির্দেশিত পৃষ্ঠায় কবির এই পঙক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন:

যদি আমি কোনো বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হতাম, তবে যুবকের প্রচেষ্টা দেখে আশ্চর্য হতাম … অথচ তার তকদীর তার কাছে গোপন রাখা হয়েছে।

 

তিনি এটি জুহাইরের প্রতি নিসবত করেছেন, তবে এতে তিনি ভুল করেছেন। কারণ এই পঙক্তিটি তাঁর পুত্র কাব বিন জুহাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর। ইতিহাসবিদ ও বর্ণনাকারীদের নিকট এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। তাঁরা এই পঙক্তিটির সাথে আরও দুটি পঙক্তি উল্লেখ করেছেন:

যুবক এমন সব বিষয়ের জন্য সচেষ্ট হয় যা সে অর্জন করতে পারে না … কেননা জীবন তো একটাই অথচ চিন্তা-উদ্বেগ বহুধা বিভক্ত।

মানুষ যতদিন বেঁচে থাকে, তার আশা দীর্ঘায়িত হয় … তার চোখ ফেরে না যতক্ষণ না তার জীবনের চিহ্ন নিঃশেষ হয়ে যায়।

 

কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই চমৎকার পঙক্তিগুলোতে তকদীরের প্রতি ঈমান আনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং বুঝিয়েছেন যে, মানুষ কোনো বিষয়ে চেষ্টা করলেও তা অর্জন করতে পারে না, কারণ তা...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
لم تقدر له، وهذا كما قال الله تعالى: {قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا} وقول النبي صلى الله عليه وسلم: «ما أصابك لم يكن ليخطئك وما أخطأك لم يكن ليصيبك».

وقال ابن محمود في صفحة 11 و 12 و 13 ما ملخصه:

أن القدر يدل بمنطوقه ومفهومه على قدرة الرب سبحانه وعلى تقديره للأشياء بنظام وإتقان وإحكام، وكل من تتبع نصوص القرآن يجدها تدور على هذا البيان، فالقضاء في سائر استعمالاته هو بمعنى الفراغ من الشيء، فالقضاء والقدر معناهما أن الله سبحانه قد أوجد هذا العالم مقدرا بمقادير متقنة مضبوطة محكومة بسنن لا تقبل التغيير ولا التبديل وأنه قد فرغ من ذلك فراغا لا يعقبه تعديل ولا تبديل ولا زيادة ولا نقص {صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ}.

يقول الله: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} أي جعله ذا مقادير منظمة متقنة محكمة كقوله: {اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ} ومنه قوله: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} أي بتقدير ونظام متقن كل شيء بحسبه فلم يخلق شيئا بطريق الصدفة ولا الطبيعة، ونظير هذه الآية قوله: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً بِقَدَرٍ} أي بقدر حاجة الناس ليس بالكثير المنهمر المستمر فيهلك حرثهم ومواشيهم ولا قطعة واحدة فيضر البنيان، ونظيره قوله: {وَلَوْ بَسَطَ اللَّهُ الرِّزْقَ لِعِبَادِهِ لَبَغَوْا فِي الْأَرْضِ وَلَكِنْ يُنَزِّلُ بِقَدَرٍ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ بِعِبَادِهِ خَبِيرٌ بَصِيرٌ}، وقوله: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً بِقَدَرٍ} هو نظير قوله: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} لفظا ومعنى، وهو يرجع إلى قوله: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} أي جعله ذا مقادير متناسبة ثابتة: {صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ}، نظيره قوله: {وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ} أي جعلناه ذا مقادير ينزل كل
তোমার জন্য তা নির্ধারিত ছিল না। এটি আল্লাহ তাআলার বাণীর অনুরূপ: "বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন, তা ব্যতীত অন্য কিছু আমাদের ওপর আপতিত হবে না।" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তোমার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তোমাকে এড়িয়ে গেছে তা তোমার ওপর আপতিত হওয়ার ছিল না।"

এবং ইবনে মাহমুদ ১১, ১২ ও ১৩ পৃষ্ঠায় যা সারসংক্ষেপ করেছেন তা হলো:

নিশ্চয়ই 'কদর' (তাকদীর) তার শব্দগত ও মর্মগত অর্থ দ্বারা মহিমান্বিত রবের ক্ষমতা এবং সুশৃঙ্খল, নিখুঁত ও সুদৃঢ়ভাবে সমস্ত কিছুর নির্ধারণকে নির্দেশ করে। যে ব্যক্তিই কুরআনের দলীলসমূহ অনুসন্ধান করবে, সে সেগুলোকে এই বর্ণনার চারপাশেই আবর্তিত হতে দেখবে। 'কাদা' (ফয়সালা) শব্দটি এর সকল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বা তা থেকে অবসর হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং 'কাদা' ও 'কদর'-এর অর্থ হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই বিশ্বজগতকে নিখুঁত, সুনিয়ন্ত্রিত ও সুদৃঢ় পরিমাপে সৃষ্টি করেছেন, যা এমন কিছু অপরিবর্তনীয় ও অনড় নীতিমালার অধীনে পরিচালিত হয় যা কোনো রদবদল গ্রহণ করে না। আর তিনি তা থেকে এমনভাবে অবসর হয়েছেন যার পর আর কোনো সংশোধন, পরিবর্তন, বৃদ্ধি বা হ্রাস নেই। "এটি আল্লাহর কারুকার্য, যিনি সবকিছুকে সুনিপুণ করেছেন।"

আল্লাহ বলেন: "তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন।" অর্থাৎ তিনি সেগুলোকে সুশৃঙ্খল, সুনিপুণ ও সুদৃঢ় পরিমাপের অধিকারী করেছেন, যেমন তাঁর বাণী: "প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং জরায়ু যা সংকুচিত ও প্রসারিত করে, আল্লাহ তা জানেন। আর তাঁর কাছে প্রতিটি বস্তুরই এক নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে।" এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তুই সৃষ্টি করেছি নির্দিষ্ট পরিমাপে।" অর্থাৎ সুনিপুণ পরিমাপ ও শৃঙ্খলার সাথে, প্রতিটি বস্তু তার নিজস্ব ধরণ অনুযায়ী; তিনি কোনো কিছুই আকস্মিকতা বা প্রকৃতির নিয়মে সৃষ্টি করেননি। এই আয়াতের অনুরূপ হলো তাঁর বাণী: "আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি নির্দিষ্ট পরিমাণে।" অর্থাৎ মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী; তা অতিশয় অবিরাম বর্ষণ নয় যে তাদের ফসল ও গবাদি পশু ধ্বংস হয়ে যাবে, আবার একবারে ঢেলে দেওয়াও নয় যে ঘরবাড়ির ক্ষতি হবে। এর অনুরূপ হলো তাঁর বাণী: "আল্লাহ যদি তাঁর বান্দাদের জন্য রিযিক প্রশস্ত করে দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত; কিন্তু তিনি যা ইচ্ছা করেন নির্দিষ্ট পরিমাণে নাযিল করেন। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত ও সর্বদ্রষ্টা।" আর তাঁর বাণী: "আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি নির্দিষ্ট পরিমাণে" শব্দ ও অর্থের দিক থেকে তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তুই সৃষ্টি করেছি নির্দিষ্ট পরিমাপে"-এর অনুরূপ। আর এটি তাঁর এই বাণীর দিকেই ফিরে যায়: "তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন।" অর্থাৎ তিনি সেগুলোকে সুসমঞ্জস্য ও অপরিবর্তনীয় পরিমাপের অধিকারী করেছেন: "এটি আল্লাহর কারুকার্য, যিনি সবকিছুকে সুনিপুণ করেছেন।" এর সদৃশ হলো তাঁর বাণী: "আর চন্দ্রের জন্য আমি নির্দিষ্ট করেছি বিভিন্ন মঞ্জিল, অবশেষে তা শুষ্ক বাঁকা খেজুর শাখার মতো হয়ে যায়।" অর্থাৎ আমি তাকে বিভিন্ন পরিমাপের অধিকারী করেছি যাতে সেটি প্রতিটি...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ليلة منزلة منها لا يتخطاها ولا يقصر عنها، ومنه قوله: {ثُمَّ جِئْتَ عَلَى قَدَرٍ يَا مُوسَى} أي على موعد قدرنا مجيئك فيه، ومثله قوله: {أَلَمْ نَخْلُقْكُمْ مِنْ مَاءٍ مَهِينٍ * فَجَعَلْنَاهُ فِي قَرَارٍ مَكِينٍ * إِلَى قَدَرٍ مَعْلُومٍ * فَقَدَرْنَا فَنِعْمَ الْقَادِرُونَ} وقرئ قدّرنا بالتشديد، أي قدرنا ذلك تقديراً متقنا فنعم القادرون، وقرئ بالتخفيف من القدرة أي قدرنا على خلقه وتصويره في أحسن صورة فنعم القادرون، فهذا حقيقة القدر المذكور في القرآن، ومنه قول الشاعر:

قدر لرجلك قبل الخطو موضعها

فمن علا زلقا عن غرة زلجا

وأما القضاء فإنه الفراغ من صنع هذه المخلوقات وقد اجتمعا في قوله تعالى: {قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْدَادًا ذَلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ * وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِلسَّائِلِينَ * ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ اِئْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ * فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} فذكر القضاء في قوله: {فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ} كما ذكر القدر في قوله: {وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا … ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} فهذا معنى حقيقة القضاء والقدر وأنه خلق الأشياء بنظام وإتقان ثابت لا يتغير بتغير الزمان كل شيء بحسبه، وهذا معنى ما في الصحيحين أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله كتب مقادير الخلائق قبل أن يخلق السموات والأرض» وهذه الكتابة هي عبارة عن العلم القائم بذات الله وهو معنى قول أحدنا، قدر الله وما شاء فعل، قدر الله أي وسابق علم الله.
একটি নির্দিষ্ট পর্যায়, যা অতিক্রম করা যায় না এবং যা থেকে কম করাও হয় না। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুসা! তুমি নির্ধারিত সময়েই উপস্থিত হয়েছ।} অর্থাৎ আমাদের নির্ধারিত সময় ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই তোমার আগমন ঘটেছে। অনুরূপভাবে আল্লাহর বাণী: {আমি কি তোমাদেরকে এক তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করিনি? অতঃপর আমি তা এক নিরাপদ আধারে স্থাপন করেছি, এক সুনিপুণভাবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত। আমি তা নির্ধারণ করেছি, আর আমি কতই না উত্তম নির্ধারণকারী।} এখানে 'কাদ্দারনা' শব্দটি দ্বিত্ব বর্ণসহ (তাসদীদযোগে) পঠিত হয়েছে, যার অর্থ হলো—আমি এটি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে নির্ধারণ করেছি, সুতরাং আমি কতই না শ্রেষ্ঠ নির্ধারণকারী। আবার এটি দ্বিত্বহীনভাবেও (তাখফীফসহ) পঠিত হয়েছে, যা ক্ষমতা বা সামর্থ্য (কুদরত) থেকে উদ্ভূত; অর্থাৎ আমি তাকে সৃষ্টি করতে এবং সর্বোত্তম অবয়বে রূপদান করতে সক্ষম হয়েছি, সুতরাং আমি কতই না শ্রেষ্ঠ ক্ষমতাশালী। এটিই হলো কুরআনে বর্ণিত 'কদর'-এর প্রকৃত তাৎপর্য। এ প্রসঙ্গে কবির উক্তিটিও প্রাসঙ্গিক:

পদক্ষেপ ফেলার আগেই তোমার পায়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করে নাও,

কেননা যে অসতর্কভাবে পিচ্ছিল পথে আরোহণ করে, সে পা পিছলে পড়ে যায়।

আর 'কাজা' (ফয়সালা) হলো এসকল মাখলুকাত বা সৃষ্টিরাজ্য নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করা। আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে এই উভয় বিষয়েরই উল্লেখ রয়েছে: {বলুন, তোমরা কি তাঁরই সাথে কুফরি করছ যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাচ্ছ? তিনি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক। তিনি পৃথিবীর উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দান করেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে খাদ্যের সংস্থান নির্ধারণ করেছেন সমানভাবে যাঞ্চাকারীদের জন্য। এরপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন যা ছিল ধোঁয়া। অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন: তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল: আমরা অনুগত হয়ে আসলাম। এরপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দুই দিনে সাত আকাশে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার বিধান ওহী করলেন। আর আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং করেছি সুরক্ষিত। এটি পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের সুনিপুণ নির্ধারণ।} এখানে তিনি {তিনি আকাশমন্ডলীকে সাত আকাশে পরিণত করলেন} এর মাধ্যমে 'কাজা' বা ফয়সালা উল্লেখ করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর বাণী {তাতে খাদ্যের সংস্থান নির্ধারণ করেছেন... এটি পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের সুনিপুণ নির্ধারণ} এর মাধ্যমে 'কদর' বা প্রাক-নির্ধারণ উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এটিই হলো কাজা ও কদরের প্রকৃত অর্থ—আর তা হলো বস্তুসমূহকে একটি সুসংবদ্ধ ও সুনিপুণ নিয়মে সৃষ্টি করা যা সময়ের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না; বরং প্রতিটি বিষয় তার নিজস্ব নির্ধারিত নিয়মেই আবর্তিত হয়। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত নবী করীম (সা.)-এর এই বাণীর মর্মার্থও এটিই: "আল্লাহ তাআলা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই সৃষ্টির ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন।" এই লিখে রাখা মূলত আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান তাঁর চিরন্তন ও শাশ্বত জ্ঞানেরই এক বহিঃপ্রকাশ। আর এটিই আমাদের এই বাক্যের অর্থ—'আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে'; অর্থাৎ আল্লাহর প্রাক-জ্ঞান অনুযায়ীই সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
هذا كلام ابن محمود في القضاء والقدر وقد صرح أن معناهما إيجاد هذا العالم مقدرا بمقادير متقنة مضبوطة محكومة بسنن لا تقبل التغيير ولا التبديل وأن الله قد فرغ من ذلك فراغا لا يعقبه تعديل ولا تبديل ولا زيادة ولا نقص {صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ}، وكلامه على الآيات التي تقدم ذكرها كله من باب واحد وهو أن القضاء والقدر معناهما خلق الأشياء بنظام وإتقان ثابت لا يتغير بتغير الزمان كل شيء بحسبه. وقد صرح أيضا في أول صفحة 13 أن القضاء هو الفراغ من صنع هذه المخلوقات وأن القدر هو ما ذكر في قوله: {وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا} وفي قوله: {ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} ثم قال: فهذا معنى حقيقة القضاء والقدر وأنه خلق الأشياء بنظام وإتقان ثابت لا يتغير بتغير الزمان كل شيء بحسبه.

وأقول: إن كلام ابن محمود الذي ذكرنا ليس فيه إيمان بالقضاء والقدر على طريقة أهل السنة والأثر وإنما فيه الإيمان بخلق الله للأشياء بنظام وإتقان ثابت لا يتغير.

وهذا القول موافق لقول الكافر القصيمي في أغلاله فإنه قال في صفحة 252 من كتابه الأغلال ما نصه وقوله: {فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ}، القضاء هنا هو القضاء الذي يقرن مع القدر.

قال الشيخ عبد الله بن علي بن يابس رحمه الله تعالى في الرد عليه:

الجواب: كلا، فإن القضاء هاهنا هو التمام والفراغ ولا معنى لأن يكون هو الكتابة.

ثم قال الملحد الخبيث في صفحة 253 ما نصه: (وإذا فالأقدار هي النظام).
এটি ইবনে মাহমুদের কাজা ও কদর সংক্রান্ত বক্তব্য, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, এই দুটির অর্থ হলো এই জগতকে এক সুনিপুণ ও সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাপে অস্তিত্ব দান করা, যা অকাট্য নিয়ম দ্বারা পরিচালিত এবং যা কোনো পরিবর্তন বা রূপান্তর গ্রহণ করে না। আল্লাহ এই কাজ এমনভাবে সম্পন্ন করেছেন যার পরে আর কোনো সংশোধন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন নেই; {আল্লাহরই কারুকার্য, যিনি সবকিছুকে সুনিপুণ করেছেন}। পূর্বে উল্লেখিত আয়াতসমূহ সম্পর্কে তাঁর সামগ্রিক বক্তব্য একই ঘরানার—আর তা হলো কাজা ও কদর বলতে বোঝায় বস্তুসমূহকে এমন এক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা ও সুদৃঢ় নিপুণতায় সৃষ্টি করা যা সময়ের আবর্তনে পরিবর্তিত হয় না, প্রতিটি বিষয় তার নিজস্ব প্রেক্ষাপট অনুযায়ী।

তিনি ১৩ নম্বর পৃষ্ঠার শুরুতে আরও স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, কাজা হলো এই সৃষ্টিজগত নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করা এবং কদর হলো তা-ই যা আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {এবং তিনি তাতে সেগুলোর খাদ্যের সংস্থান সুপরিমিত করেছেন} এবং তাঁর এই বাণীতে: {এটি মহাপরাক্রান্ত, সর্বজ্ঞের সুপরিমিত নির্ধারণ}। অতঃপর তিনি বলেছেন: এটিই কাজা ও কদরের প্রকৃত অর্থ এবং তা হলো বস্তুসমূহকে এমন এক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা ও সুদৃঢ় নিপুণতায় সৃষ্টি করা যা সময়ের আবর্তনে পরিবর্তিত হয় না, প্রতিটি বিষয় তার নিজ নিজ প্রেক্ষাপট অনুযায়ী।

আর আমি বলি: ইবনে মাহমুদের যে বক্তব্যের কথা আমরা উল্লেখ করেছি, তাতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল আছারের পথ ও পদ্ধতি অনুযায়ী কাজা ও কদরের প্রতি ঈমান নিহিত নেই; বরং এতে কেবল বস্তুসমূহকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অপরিবর্তনীয় ও সুদৃঢ় নিপুণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সৃষ্টি করার প্রতি বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে।

এই বক্তব্যটি কাফের কাসিমীর 'আগলাল' গ্রন্থে বর্ণিত মতামতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সে তার 'আল-আগলাল' গ্রন্থের ২৫২ পৃষ্ঠায় হুবহু যা বলেছে তা হলো: {অতঃপর তিনি সেগুলোকে সাতটি আকাশে বিন্যস্ত করলেন}, এখানে কাজা বলতে সেই কাজাকে বোঝানো হয়েছে যা কদরের সাথে যুক্ত থাকে।

শাইখ আবদুল্লাহ বিন আলী বিন ইয়াবিস (রহমতুল্লাহি আলাইহি) তার প্রতিবাদে বলেছেন:

উত্তর: আদপেই না, কেননা এখানে কাজা বলতে পূর্ণতা ও সমাপ্তি বোঝানো হয়েছে এবং একে 'তাকদীর লিখন' অর্থে গ্রহণ করার কোনো অবকাশ নেই।

অতঃপর সেই খবীস নাস্তিক ২৫৩ পৃষ্ঠায় বলেছে: (সুতরাং তাকদীরসমূহ হলো এক প্রকার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল মাবুদ ফির রাদ্দি আলা ইবনি মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
قال الشيخ عبد الله بن علي بن يابس رحمه الله تعالى في الرد عليه:

الجواب: أنه يرى أن القدر الذي هو ركن من أركان الإيمان هو النظام وهذا مخالف للأديان وللكتاب والسنة والإجماع فإن القدر هو تقدير الله للأشياء قبل وجودها، وهذا ما يعرفه المسلمون. انتهى.

وليعلم المطلع على كلام ابن محمود الذي تقدم ذكره في تعريف القضاء والقدر أن ابن محمود قد اعتمد على كلام عدو الله القصيمي في كتابه الأغلال ونقل بعضه بالنص وبعضه ببعض التصرف، وأنا أذكر هاهنا ملخص كلام القصيمي لتعرف مطابقته لكلام ابن محمود:

قال القصيمي في صفحة 247 من كتابه الاغلال ما نصه: (أما القدر فهو في مادته مأخوذ من التقدير أي جعل الشيء ذا مقادير أي ذا حدود يقال هذا الشيء قدر هذا أي محدود بحدوده).

ثم استدل القصيمي بآيات من القرآن منها قوله تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} وقوله تعالى: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} وقوله تعالى: {وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ}، وقد استدل ابن محمود بهذه الآيات الثلاث على نحو ما قاله القصيمي فقال في قوله تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} أي بتقدير ونظام متقن كل شيء بحسبه وقال في قوله تعالى: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} أي جعله ذا مقادير منظمة متقنة محكمة. وقال في قوله تعالى: {وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ}،أي جعلناه ذا مقادير، ثم قال بعد سياقه لهذه الآيات وغيرها ما نصه: (فهذا حقيقة القدر المذكور في القرآن) وقال القصيمي في أول كلامه: (أما القدر فهو في مادته مأخوذ من التقدير أي
শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে ইয়াবিস (রাহিমাহুল্লাহ) তার খণ্ডনে বলেছেন:

উত্তর হলো: তিনি মনে করেন যে তকদির—যা ইমানের অন্যতম একটি রোকন বা স্তম্ভ—তা হলো একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা (নিজাম)। এটি সকল ধর্ম, কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার পরিপন্থী। কেননা তকদির হলো কোনো বস্তু অস্তিত্বে আসার পূর্বেই সে সম্পর্কে আল্লাহর নির্ধারণ। মুসলমানরা তকদিরকে এভাবেই চেনে। সমাপ্ত।

কাজা ও তকদিরের সংজ্ঞায় ইবনে মাহমুদের যে বক্তব্য ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে পাঠকের জেনে রাখা উচিত যে, ইবনে মাহমুদ আল্লাহর শত্রু কাসিমির 'আল-আগলাল' গ্রন্থের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি সেখান থেকে কিছু অংশ হুবহু এবং কিছু অংশ কিছুটা পরিবর্তন করে গ্রহণ করেছেন। আমি এখানে কাসিমির বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরছি, যাতে ইবনে মাহমুদের বক্তব্যের সাথে এর মিল আপনি বুঝতে পারেন:

কাসিমি তার 'আল-আগলাল' গ্রন্থের ২৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেছেন: (তকদির শব্দটির মূল ধাতু 'তাকদির' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো কোনো বস্তুকে সুনির্দিষ্ট পরিমাপ বা সীমা দান করা। যেমন বলা হয়, 'এই বস্তুটি ঐ বস্তুটির সমপরিমাণ', অর্থাৎ এটি তার সীমার দ্বারা সীমিত।)

অতঃপর কাসিমি কুরআনের বিভিন্ন আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমি প্রত্যেক বস্তুকে সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে}, এবং আল্লাহর বাণী: {তিনি প্রত্যেক বস্তুকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেটিকে যথাযথভাবে সুনির্ধারিত করেছেন}, আর আল্লাহর বাণী: {আর চাঁদের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি বিভিন্ন মনজিল বা পর্যায়}। ইবনে মাহমুদও ঠিক কাসিমির মতো এই তিনটি আয়াত দিয়ে দলিল পেশ করেছেন। আল্লাহর বাণী—{নিশ্চয় আমি প্রত্যেক বস্তুকে সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে}—প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: অর্থাৎ প্রতিটি বস্তুর প্রকৃতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পরিমাপ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মাধ্যমে। আল্লাহর বাণী—{তিনি প্রত্যেক বস্তুকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেটিকে যথাযথভাবে সুনির্ধারিত করেছেন}—প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: অর্থাৎ তিনি সেটিকে সুশৃঙ্খল, নিখুঁত ও সুসংহত পরিমাপ দান করেছেন। আল্লাহর বাণী—{আর চাঁদের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি বিভিন্ন মনজিল বা পর্যায়}—প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: অর্থাৎ আমরা তাকে সুনির্দিষ্ট পরিমাপ দান করেছি। এরপর এই আয়াতগুলো ও অন্যান্য আয়াত উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: (কুরআনে বর্ণিত তকদিরের প্রকৃত স্বরূপ এটাই)। কাসিমি তার বক্তব্যের শুরুতে বলেছিলেন: (তকদির শব্দটির মূল ধাতু 'তাকদির' থেকে উদ্ভূত, অর্থাৎ...