(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: -)
إتحاف الحثيث بإعراب ما يشكل من ألفاظ الحديث القسم: النحو والصرف
الكتاب: إتحاف الحثيث بإعراب ما يشكل من ألفاظ الحديث
المؤلف: أبو البقاء العكبري الحنبلي (ت 616 هـ)
وثقه وعلق عليه: وحيد عبد السّلام بالى، محمّد زكي عبد الديم
الناشر: دار ابن رجب
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 285
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 3 رمضان 1440
ইত্তিহাফুল হাসিছ বি-ই'রাবি মা ইয়াশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস (হাদিসের কঠিন শব্দাবলির ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের ত্বরান্বিত উপহার) বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: ইত্তিহাফুল হাসিছ বি-ই'রাবি মা ইয়াশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
লেখক: আবু আল-বাকা আল-উকবারী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৬১৬ হিজরি)
সত্যায়ন ও টীকা প্রদান করেছেন: ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালী, মুহাম্মাদ জাকি আব্দুল দাইম
প্রকাশক: দার ইবনে রজব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ অনুযায়ী করা হয়েছে]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৩ রমজান ১৪৪০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১)
إتحاف الحثيث بإعراب ما يشكل من ألفاظ الحديث
إملاء
أبي البقاء العكبري الحنبلي ت 616 هـ
وثقه وعلق عليه
وحيد عبد السّلام بالى - محمّد زكي عبد الديم
الناشر
دار ابن رجب
হাদিসের অস্পষ্ট শব্দাবলির ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ত্বরান্বিত উপহার
শ্রুতিলিপি
আবু আল-বাকা আল-উকবারি আল-হানবালি (মৃত্যু ৬১৬ হিজরী)
প্রমাণীকরণ ও টীকা প্রদান করেছেন
ওয়াহিদ আবদুস সালাম বালী - মুহাম্মদ জাকি আবদুল দায়িম
প্রকাশক
দার ইবনে রজব
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২)
"مَثَلُ الّذي يتعلم الحديث ولا يتعلم النحو مَثَلُ السرير لا رأس له".
شعبة بن الحجاج
"إن أخوف ما أخاف على طالب العلم إذا لم يعرف النحو أن يدخل في جملة قول النّبيّ صلى الله عليه وسلم: "من كذب علي فليتبوأ مقعده من النّار"؛ لأنّه لم يكن يلحن، فمهما رَوَيْتَ عنه ولَحَنْتَ فيه كَذبتَ عليه".
الأصمعي
"فحق على طالب الحديث أن يتعلم من النحو واللُّغة ما يتخلص به من شَيْنِ اللحن والتحريف ومعرتهما".
ابن الصلاح
"যে ব্যক্তি হাদিস শিক্ষা করে অথচ নাহু (ব্যাকরণ) শিখে না, তার উদাহরণ হলো এমন এক শয্যার ন্যায় যার কোনো শিয়র (মাথা) নেই।"
শুবা ইবনুল হাজ্জাজ
"ইলম অন্বেষণকারীর ব্যাপারে আমি সবচেয়ে বেশি যা আশঙ্কা করি তা হলো, সে যদি নাহু না জানে তবে সে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে: 'যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।' কারণ তিনি কখনও ব্যাকরণগত ভুল করতেন না। সুতরাং আপনি যখন তাঁর থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করবেন এবং তাতে ব্যাকরণগত ভুল করবেন, তখন আপনি তাঁর নামে মিথ্যাচার করলেন।"
আসমায়ী
"অতএব হাদিস অন্বেষণকারীর জন্য কর্তব্য হলো নাহু এবং ভাষা থেকে ততটুকু অর্জন করা, যার মাধ্যমে সে ব্যাকরণগত ভুল ও বিকৃতির কলঙ্ক এবং এর গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে পারে।"
ইবনুস সালাহ
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩)
إتحاف الحثيث بإعراب ما يشكل من ألفاظ الحديث
হাদিসের জটিল শব্দাবলির ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে জ্ঞানান্বেষীকে প্রদানকৃত উপহার।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق النشر محفوظه للناشر
الطبعة الأولى: 1418 هـ - 1998 م
الناشر
دار ابن رجب
ت: 441550/ 057
توزيع
دار أصداء المجتمع
بريدة ت: 3236333
প্রকাশকের নিকট সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ: ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশক
দার ইবনে রজব
টেলিফোন: ০৫৭ / ৪৪১৫৫০
পরিবেশক
দার আসদাউল মুজতামা
বুরাইদাহ টেলিফোন: ৩২৩৬৩৩৩
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৫)
قالوا عن العكبري:
"كان إمامًا في علوم القرآن، إمامًا في الفقه، إمامًا في اللُّغة، إمامًا في النحو، إمامًا في العروض، إمامًا في الفرائض، إمامًا في الحساب، إمامًا في معرفة المذهب، إمامًا في المسائل والنظريات".
أبو الفرج بن الحنبلي
"كان يفتي في تسعة علوم، وكان واحد زمانه في النحو واللُّغة والحساب والفرائض والجبر والمقابلة، والفقه وإعراب القرآن والقراءات الشاذة".
عبد الصمد بن أبي الجيش
" كان متفننًا في العلوم، له مصنفات حسنة في إعراب القرآن وقراءاته المشهورة، وإعراب الحديث والنحو واللُّغة، وسمعت عليه، وَنِعْمَ الشَّيْخُ كان".
ابن النجار
আল-উকবারী সম্পর্কে তারা বলেছেন:
"তিনি কুরআন বিজ্ঞানে ইমাম, ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম, ভাষাতত্ত্বে ইমাম, ব্যাকরণ শাস্ত্রে ইমাম, ছন্দশাস্ত্রে ইমাম, ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে ইমাম, গণিতশাস্ত্রে ইমাম, মাযহাব বিষয়ক জ্ঞানে ইমাম এবং মাসআলা ও তাত্ত্বিক বিষয়ে ইমাম ছিলেন।"
আবুল ফারাজ ইবনুল হাম্বলী
"তিনি নয়টি বিদ্যায় ফতোয়া প্রদান করতেন। ব্যাকরণ, ভাষাতত্ত্ব, গণিত, ফারায়েয, বীজগণিত ও মুকাবালা, ফিকহ, কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব) এবং শায কিরাতসমূহে তিনি তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন।"
আবদুস সামাদ ইবনে আবিল জাইশ
"তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। কুরআনের ইরাব ও প্রসিদ্ধ কিরাতসমূহ, হাদিসের ইরাব, ব্যাকরণ ও ভাষাতত্ত্বে তাঁর চমৎকার সব সংকলন রয়েছে। আমি তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছি এবং তিনি কতই না উত্তম শায়খ ছিলেন!"
ইবনুন নাজ্জার
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৭)
بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ!
اللَّهَ أَحْمَدُ على نعمة الإسلام، وكفئ بها نعمةً (1). وأشهد أن لا إله إِلَّا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن. حمدًا عبده ورسوله، صلّى اللَّه عليه وعلى آله وصحبه وسلم، خير من نطق الضاد، آتاه ربه جوامع الكلم وفواتحه وخواتمه. وبعد،
فلولا أن منَّ اللَّه على هذه الأمة بعلماء مخلصين حَرَصُوا على تبليغ كتاب اللَّه وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، لماتت قرونٌ، ولعاش - من عاش منهم - يتفقه على مذهب أبي مُرَّةَ لعنه الله! ! .
وإن أحدًا لا يجرؤ أن يزعم أنّه سيأتي بأفْضَلَ ممّا أتى به أئمة العلم من قبل، بَلْهَ (2) الزيادة عليه؛ فالخلف عيالٌ على السلف:
لَا تَعْرِضَنَّ بِذِكْرِنَا مَعْ ذِكْرِهِمْ
… لَيْسَ الصَّحِيحُ إِذَا مَشَى كَالْمُقْعَدِ
ولكن: كم ترك الأوّل للآخر! !
- قال ابن قتيبة رحمه الله! -: "وَلَمْ يَقْصُرِ اللَّهُ الْعِلْمَ وَالشِّعْرَ وَالْبَلَاغَةَ عَلَى عَصْرٍ دُونَ عَصْرٍ، وَلَا خَصَّ بِهَا قَوْمًا دُونَ قَوْمٍ، بَلْ جَعَلَ ذَلِكَ مُنْتَشِرًا فِي جَمِيع الأعْصَارِ .. ".
ولقد بلونا أخبار علمائنا الأعلام ممّا تركوه لنا من تراث مجيد، قل أن يوجد لأمة مثله، وأعني به مصنفاتهم، فمن مقل ومن مكثر. وأمّا في زماننا هذا فقد كثر
--------------------------------------------
হে আল্লাহ, আপনার নামে!আমি ইসলামের নিআমতের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং নিআমত হিসেবে এটিই যথেষ্ট (১)। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসুল; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। তিনি বিশুদ্ধতম আরবিভাষী, তাঁর প্রতিপালক তাঁকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী (জাওয়ামিউল কালিম) এবং কথার প্রারম্ভ ও উপসংহার দান করেছেন। অতঃপর,
আল্লাহ যদি এই উম্মতের প্রতি এমন সব একনিষ্ঠ আলেমদের মাধ্যমে অনুগ্রহ না করতেন, যারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন, তবে বহু প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যেত এবং যারা বেঁচে থাকত—তাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকত—তারা আবু মুররা (শয়তান)—আল্লাহর লানত তার ওপর—এর মতাদর্শের ওপর দ্বীন শিক্ষা করত!
পূর্ববর্তী ইলমের ইমামগণ যা নিয়ে এসেছেন, কেউ তার চেয়ে উত্তম কিছু পেশ করার দাবি করার সাহস করতে পারবে না, তদুপরি তাতে কিছু বৃদ্ধি করার তো প্রশ্নই আসে না (২); কেননা পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের ওপরই নির্ভরশীল:
আমাদের আলোচনার সাথে তাদের আলোচনার তুলনা করো না
… সুস্থ ব্যক্তি যখন হাঁটে, সে পঙ্গুর মতো হয় না।
কিন্তু: পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন!
—ইবনে কুতাইবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন—: "আল্লাহ তাআলা জ্ঞান, কবিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রকে কোনো নির্দিষ্ট যুগের জন্য সীমাবদ্ধ করেননি এবং কোনো নির্দিষ্ট জাতির জন্য খাস করেননি, বরং তিনি তা সকল যুগের জন্য বিস্তৃত করে দিয়েছেন..."।
আমরা আমাদের প্রথিতযশা আলেমদের রেখে যাওয়া গৌরবময় ঐতিহ্যের সংবাদসমূহ পরীক্ষা করে দেখেছি, যা অন্য কোনো জাতির মাঝে পাওয়া বিরল; আর আমি তা দ্বারা তাদের রচনাবলি বোঝাচ্ছি, যাদের কেউ কম লিখেছেন আবার কেউ অনেক বেশি। আর আমাদের এই যুগে তো বৃদ্ধি পেয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৮)
الأمر، وبلغ السَّيْلُ الزُّبَى؛ فكم رأينا من كتب ورسائل صنفت، حتّى إن المطابع لتلفظ بالعشرات منها يوميًّا، بحقٍّ وبِلَغْوِ، وإلى اللَّه المشتكى! .
إن هناك أسبابًا داعية لتصنيف الكتب، ذكرها غير واحد من أهل العلم، منهم ابن الوزير اليمني رحمه الله! - حيث يقول:
" وأرجو - إن شاء اللَّه تعالى - ألَّا يخلو هذا المختصر من أحد المعاني الثمانية الّتي تصنف لها العلماء، بل من كلّ واحد منها، وهي:
اختراع معدوم، أو جمع مفترق، أو تكميل ناقص، أو تفصيل مجمل، أو تهذيب مطول، أو ترتيب مخلط، أو تعيين مبهم، أو تببين خطأ. كذا عدها أبو حيان، وتمكن الزيادة فيها" (1) اهـ.
وعليه فلا خير في تصنيف يخرج عن الأسباب السابقة أو ما ينبثق منها، وقد كان في أئمتنا من لا يحب التصنيف البتة، بل دفن بعضهم كتبه؛ كما حكى ذلك عنهم الخطيب البغدادي في "تقييد العلم".
وهذه ليست مصادرة للتصنيف مطلقًا، وإنّما هي أشبه بشكوى من خروج الأمر عن حده، فأقول ناصحًا نفسي وغيري: إن أولى بمن له جهد وسعي أن يُخْرِجَ كنوز الأمة من المخطوطات المدفونة في خزائن الكتب؛ ليقدمها إلى طلاب العلم الذين أحيا اللَّه بهم السنة؛ فَللَّهِ دَرُّهُّمْ وعليه شكرهم.
ولكن هذا المجال - أيضًا - دخله الدَّخَنُ، فواللَّه كم رأيت هاجمًا على كتب التراث يحققها - بزعمه! - فزعم أنّه يحقق وما هو إِلَّا يتفَسَّق، فكان كمن أراد أن يُطِبَّ زُكامًا فَجَعَلَهُ جُذَامًا، فاللهم سلم.
يقول الشّيخ الدكتور محمود الطناحي: " .. ، ثمّ أخبرته أن مثل هذه الكتب الّتي ضني بها الأوائل، لا ينبغي أن نتواثب حولها ونركض، وأنّه يجب علينا أن نعطيها حظها من النظر والتأمل، وننظر إناها ونضجها، وأن نبذل من الجهد في
--------------------------------------------
বিষয়টি সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে; কত বই এবং পত্রাবলীই না রচিত হয়েছে, এমনকি ছাপাখানাগুলো প্রতিদিন ডজন ডজন বই বের করছে, যার মধ্যে যথার্থ বিষয়ও আছে আবার অসার কথাবার্তাও আছে, আর আল্লাহর কাছেই সব ফরিয়াদ!
নিশ্চয়ই বই রচনার কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, যা একাধিক ইলম অন্বেষণকারী আলেম উল্লেখ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ইবনুল উজির আল-ইয়ামানি (রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম। তিনি বলেন:
"আমি আশা করি—ইনশাআল্লাহ তাআলা—এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি সেই আটটি বিষয়ের কোনো একটি থেকে খালি থাকবে না যার জন্য আলেমগণ গ্রন্থ রচনা করেন, বরং এর প্রত্যেকটিই এতে বিদ্যমান থাকবে। সেগুলো হলো:
এমন কিছু উদ্ভাবন করা যা পূর্বে ছিল না, অথবা বিক্ষিপ্ত বিষয়কে একত্রিত করা, অথবা অসম্পূর্ণ বিষয়কে পূর্ণ করা, অথবা সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দান, অথবা দীর্ঘ বিষয়কে পরিমার্জিত করা, অথবা এলোমেলো বিষয়কে সুবিন্যস্ত করা, অথবা অস্পষ্ট বিষয়কে নির্দিষ্ট করা, অথবা ভুল সংশোধন করা। আবু হাইয়ান এভাবেই এগুলো গণনা করেছেন, তবে এতে আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব।" (১) সমাপ্ত।
অতএব, এমন কোনো গ্রন্থ রচনায় কল্যাণ নেই যা উল্লিখিত কারণসমূহ বা এর থেকে উদ্ভূত কারণসমূহের বাইরে। আমাদের পূর্বসূরি ইমামদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা গ্রন্থ রচনা করা মোটেই পছন্দ করতেন না, বরং তাঁদের কেউ কেউ তাঁদের বই দাফন করে ফেলেছেন; যেমনটি খতিব আল-বাগদাদি তাঁর 'তাকয়ীদুল ইলম' গ্রন্থে তাঁদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।
এটি গ্রন্থ রচনাকে নিরঙ্কুশভাবে নিষেধ করা নয়, বরং বিষয়টি তার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে এক প্রকার অভিযোগ। তাই আমি নিজেকে এবং অন্যকে নসিহত স্বরূপ বলছি: যার প্রচেষ্টা এবং সামর্থ্য রয়েছে, তার জন্য সর্বাধিক সমীচীন হলো কিতাবখানায় দাফন হয়ে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে উম্মাহর অমূল্য সম্পদ উদ্ধার করা; যেন তা সেই ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট পেশ করা যায় যাদের মাধ্যমে আল্লাহ সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন; সুতরাং তাঁদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান এবং আল্লাহর নিকটই তাঁদের কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য।
কিন্তু এই ক্ষেত্রেও কলুষতা ঢুকে পড়েছে। আল্লাহর কসম! আমি কতজনকে দেখেছি যারা ঐতিহ্যবাহী কিতাবগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দাবি করে যে তারা সেগুলো সম্পাদনা (তাহকীক) করছে! সে দাবি করে যে সে সম্পাদনা করছে, অথচ সে কেবল বিষয়টিকে কলুষিত করছে। তার অবস্থা যেন সেই ব্যক্তির মতো যে সর্দি নিরাময় করতে চেয়েছিল কিন্তু তাকে কুষ্ঠরোগে পরিণত করে ফেলেছে। হে আল্লাহ! তুমি রক্ষা করো।
শায়খ ডক্টর মাহমুদ আত-তানাহি বলেন: "...এরপর আমি তাকে জানালাম যে, এই ধরনের বই যা পূর্বসূরিরা অতি কষ্টে ও মেহনতে তৈরি করেছেন, আমাদের উচিত নয় সেগুলোর ওপর অদক্ষভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া। বরং আমাদের উচিত সেগুলোকে পর্যাপ্ত গভীর দৃষ্টি ও চিন্তা-ভাবনা প্রদান করা এবং তার পূর্ণতা ও পরিপক্কতার দিকে নজর দেয়া, আর এতে সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৯)
إخراجها ما يقارب ما بذل في تصنيفها".
ثمّ هو يقول عن جناية الجامعيين على نصوص التراث: " .. إذ كان فريق منهم اتخذوه (يعني التحقيق) مركبًا سهلًا للحصول على الشهادات الجامعية، والترقيات العلمية، وأصبح تراث الآباء نهبًا لكل مجترئ، لا يرجو للَّه وقارًا، ولا يرعى للعلّم حرمة، وقل الصرحاء، وكثر الأدعياء، وغاب الناقد البصير، فلا رقيب ولا حسيب، والكل يحطب في هوى المال والشهادات والترقيات. واندفع بعضهم في التحقيق والنشر يقفز ويركض، ينشر ثلاثة أصول من كتب النحو والصرف في أقل من ثلاث سنوات، والناس يهللون ويكبرون؛ لأنّهم يخلطون بين النشاط، والعجلة والاستخفاف، ولا يكادون يَفْرِقُونَ بينهما، والمحقق يمشي بين النَّاس مختالًا مزهوًّا، ثاني عطفه، كهذا الّذي:
أقْبَلَ يَخْتَالُ عَلَى ظِلِّهِ
… يَذْهَبُ فِي الأَدْنَى وَفِي الأَبْعَدِ
وماذا عليه وقد حصَّل الترقية العلمية وحاز المال، وظهر اسمه يتلألأ وسيما بالطيلسان الجامعي (الدكتوراة) يكاد سنا برقه يذهب باسم صاحب الكتاب القديم.
ولا تعجب، ولا تنكر من كثرة ما ينشرون؛ فإن تحقيق كتب التراث قد صار في هذه الأيَّام من أيسر الأمور وأقربها، وهذه هي خطواته ومراحله:
1 - نسخ الكتاب. واللَّه - وحده - هو الّذي يعلم من يقوم بنسخ الكتاب.
2 - التعريف بالأعلام من كتاب خير الدين الزركلي رحمه الله وسلخ مراجعه وإحالاته.
3 - تخريج الآيات القرآنية من معجم محمّد فؤاد عبد الباقي، رحمه الله! .
4 - تخريج الأحاديث من المعجم الّذي صنعه المستشرقون.
5 - تخريج شواهد الشعر من كتاب شيخنا عبد السّلام هارون، وليته ما صنعه! .
এটি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে ততটুকুই ব্যয় করা হয়েছে যা এটি রচনার ক্ষেত্রে ব্যয় করা হয়েছিল।"
অতঃপর তিনি ঐতিহ্যের (তুরাস) পাণ্ডুলিপির ওপর বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অপরাধ সম্পর্কে বলেন: "...কেননা তাদের একদল একে (অর্থাৎ তাহকীক বা সম্পাদনাকে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অর্জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক পদোন্নতির একটি সহজ বাহন হিসেবে গ্রহণ করেছে। আর পূর্বসূরিদের এই ঐতিহ্য প্রত্যেক দুঃসাহসীর লুণ্ঠনের বস্তুতে পরিণত হয়েছে, যে আল্লাহর মর্যাদার পরোয়া করে না এবং ইলমের পবিত্রতা রক্ষা করে না; সত্যবাদীরা কমে গেছে আর ভণ্ড দাবিদাররা বেড়ে গেছে, দূরদর্শী সমালোচক উধাও হয়ে গেছে, ফলে না আছে কোনো পর্যবেক্ষক, না আছে কোনো হিসাব গ্রহণকারী; সকলেই অর্থ, সনদ ও পদোন্নতির লালসায় মেতে উঠেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাহকীক ও প্রকাশনার কাজে এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে যে সে যেন লাফিয়ে ও দৌড়ে চলছে; সে তিন বছরেরও কম সময়ে নাহু (ব্যাকরণ) ও সরফ (রূপতত্ত্ব) বিষয়ক তিনটি মূল গ্রন্থ প্রকাশ করে ফেলে, আর মানুষ আনন্দধ্বনি দেয়; কারণ তারা কর্মতৎপরতা এবং তাড়াহুড়ো ও তুচ্ছজ্ঞান করার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, তারা এ দুটির মাঝে খুব কমই পার্থক্য করতে পারে। আর মুহাক্কিক (সম্পাদক) মানুষের মধ্যে দাম্ভিকতা ও অহংকারের সাথে চলে, ঘাড় বাঁকিয়ে, ঠিক সেই ব্যক্তির মতো যে:
সে তার নিজের ছায়ার ওপর দম্ভভরে এগিয়ে আসে
… সে নিকট ও দূরে বিচরণ করে।
আর এতে তার কীই বা আসে যায় যখন সে প্রাতিষ্ঠানিক পদোন্নতি লাভ করেছে এবং অর্থ অর্জন করেছে, আর তার নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জোব্বায় (ডক্টরেট) সুশোভিত হয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, যার বিদ্যুতের চমক যেন মূল প্রাচীন গ্রন্থের লেখকের নামকেই মুছে দিতে চায়।
আর তারা যা কিছু প্রকাশ করছে তার আধিক্য দেখে আশ্চর্যান্বিত হবেন না এবং তা অস্বীকারও করবেন না; কেননা বর্তমান সময়ে ঐতিহ্যের কিতাবসমূহের তাহকীক (সম্পাদনা) অত্যন্ত সহজ ও নিকটবর্তী বিষয়ে পরিণত হয়েছে, আর এর ধাপ ও পর্যায়গুলো নিম্নরূপ:
১ - কিতাবটি নকল করা। আর আল্লাহই ভালো জানেন যে কিতাবটি কে নকল করছে।
২ - খাইরুদ্দীন আয-যিরিকলী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব থেকে ব্যক্তিবর্গের পরিচয় তুলে ধরা এবং এর তথ্যসূত্র ও হাওয়ালাগুলো হুবহু গ্রহণ করা।
৩ - মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সূচিপত্র থেকে কুরআনের আয়াতগুলোর তথ্যসূত্র বের করা।
৪ - প্রাচ্যবিদদের তৈরি করা সূচিপত্র থেকে হাদিসের তথ্যসূত্র বের করা।
৫ - আমাদের শায়খ আব্দুস সালাম হারুনের কিতাব থেকে কবিতার প্রমাণাদির (শাওয়াাহিদ) তথ্যসূত্র বের করা; আফসোস, যদি তিনি এটি তৈরি না করতেন!।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১০)
6 - صنع فهارس تقليدية ميتة باردة.
ثمّ يأتي السطو والإغارة على تعليقات الميمني (1) في (السِّمْط) وعضيمة في (المقتضب) ومن إليهما من شيوخنا الأجلاء الرواد. ولا بأس من التهويش ببعض الشروح اللغوية الّتي تعب من المعاجم عبًّا، وكثيرًا ما يقع في نقل هذه الشروح أخطاء فادحة؛ لعدم التنبه للمشترك اللفظي.
فهل في هذا ما يُعْنِتُ أوْ يُعْجِز (2)؟ !
وأقول: للَّه درك يا رجل، وكيف لو علمت بما هو أعظم من هذا وأشنع؛ إن ناسًا أعرفهم بأعينهم يسلخون رسائل ماجستير ودكتوراة كاملة، فيقصونها بعد تصويرها، ثمّ ينزلونها - بعد تعديلها - في حواشيهم على كتبهم المحققة، زعموا! - دون طقوس أو مراسم أو إشارة من قريب أو بعيد إلى مصدرهم، فيبدو عملهم للقارئ الغر كمن رأى أئمة التحقيق على الحقيقة، فيضربون (3) بأيمانهم على شمائلهم تعجبًا من علمهم وطربًا، وأمّا العالمون فيضربون بأيمانهم على شمائلهم حزنًا وأسفًا؛ لانفتاح قفل الفتنة! .
وهذه نفثة مصدور آخر، وهو الشّيخ الدكتور بكر بن عبد اللَّه أبو زيد، يقول - حفظه اللَّه! : "
… ومن التعالم: نفخ الكتاب بالترف العلّمي والتطويل الّذي ليس فيه من طائل، بل هو كالضرب في حديد بارد، وذلك في أعقاب ثورة الإنتاج الطباعي - تحت شعار التحقيق؛ بحيث يكون الأصل لو وضع في ظرف لوسعه؛ ثمّ يأتي "محضر نصوص" أو وراق نظيف (! ! ) (4) باسم التحقيق، ويزيد في الطنبور
--------------------------------------------
৬ - গতানুগতিক, প্রাণহীন ও নিরস নির্ঘণ্ট তৈরি করা।
এরপর আল-মায়মানী (১) প্রণীত 'আস-সিমত' এবং আযীমা প্রণীত 'আল-মুকতাদাব'-এর টীকা এবং আমাদের মহান অগ্রগামী শায়খদের অনুরূপ কাজের ওপর চলে দস্যুতা ও লুণ্ঠন। আর অভিধানগুলো থেকে দেদারসে আহরিত কিছু ভাষাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোতেও কোনো সমস্যা মনে করা হয় না; অথচ এসব ব্যাখ্যা উদ্ধৃত করতে গিয়ে প্রায়শই মারাত্মক ভুল সংঘটিত হয়, কারণ সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের প্রতি খেয়াল রাখা হয় না।
তাহলে এতে কি এমন কিছু আছে যা কষ্টসাধ্য বা অসাধ্য (২)?!
আমি বলি: হে লোক! তোমার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, কিন্তু তুমি যদি এর চেয়ে বড় এবং জঘন্য কিছু জানতে! আমি এমন কিছু ব্যক্তিকে চিনি যাদের আমি নিজে দেখেছি, যারা পুরো মাস্টার্স এবং পিএইচডি থিসিস হুবহু নকল করে; তারা সেগুলো ফটোকপি করার পর কেটে ছেঁটে নেয়, এরপর সামান্য পরিবর্তনের পর - তাদের দাবি অনুযায়ী - তাদের সম্পাদিত বইয়ের টীকায় বসিয়ে দেয়! কোনো প্রকার কৃতজ্ঞতা স্বীকার বা নিকটবর্তী বা দূরবর্তী কোনো সূত্রের উল্লেখ ছাড়াই। ফলে তাদের কাজ একজন অনভিজ্ঞ পাঠকের কাছে এমন মনে হয় যেন সে প্রকৃত অর্থেই সম্পাদনার ইমামদের দেখছে; তাই তারা (৩) তাদের ইলমে অভিভূত ও আনন্দিত হয়ে বিস্ময়ে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের ওপর তালি দেয়। আর জ্ঞানী ব্যক্তিরা ফিতনার দ্বার উন্মোচিত হওয়ায় দুঃখ ও আফসোস করে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের ওপর আঘাত করেন!
এটি অন্য একজন দুঃখী হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাস, তিনি হলেন শেখ ডক্টর বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়দ, তিনি বলেন - আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন! : "
… আর পাণ্ডিত্য জাহির করার একটি দিক হলো: জ্ঞানগর্ভ বিলাসিতা এবং নিরর্থক দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে কিতাবকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তোলা, যা আসলে শীতল লোহায় হাতুড়ি পেটানোর মতো। এটি প্রকাশনা শিল্পের বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে 'সম্পাদনা'-র নামে শুরু হয়েছে; অবস্থা এমন যে, মূল পাঠটি যদি কোনো খামে রাখা হতো তবে তাতে সংকুলান হয়ে যেত; কিন্তু এরপর 'পাঠ্য সংকলক' বা জনৈক পরিচ্ছন্ন নকলনবিশ (!!) (৪) সম্পাদনার নামে উপস্থিত হয় এবং অনর্থক কলেবর বৃদ্ধি করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১১)
نغمة، وكده الإثقال بالحواشي والتعليقات، متوحلًا في خضخاض من الأغلاط.
ومن العجيب أنّهم يترجمون لكل من يمر ذكره من الصّحابة والتابعين والأعلام البارزين، ويعرفون بالمواضع المشهورة كـ "مكّة" و "المدينة"
… " (1).
وأرجو - بما قدمت في هذا التحقيق، وما أوردته، وبالمورد الّذي توردته، ألَّا أكون كالباحث عن حتفه بظلفه، والجادع مارن أنفه بكفه، فألحق بالأخسرين أعمالًا، الذين ضل سعيهم في الحياة الدنيا وهم يحسبون أنّهم يحسنون صنعًا.
.. وبعد، فإن تحقيق تراث أمتنا يحتاج إلى همة عالية، ونية صالحة، وشدة طلب وتحرٍّ؛ فكم من مريد للحق لم يصبه. وليعلم طالب العلم أن عليه - حتّى يكون علمًا بارزًا - أن يكون: "تقِيًا، ذكيًّا، نَحْوِيًّا، لغويًّا، زكيًّا، حييًّا، سلفيًّا، يكفيه أن يكتب بيديه مائتي مجلد، ويحصل من الدواوين المعتبرة خَمْسَمِائَةِ مجلد، وألا يَفْتُرَ من طلب العلم إلى الممات بنية صالحة وتواضع، وإلا فلا يَتَعَنَّ" (2).
ومن أهم ما ينقص طالب العلم في هذه الأيَّام إقامة لسانه على لسان العرب وكلامهم؛ فأنت إذا كلمك أحد طلبة العلم الآن:
رَفَعَ المُضَافَ إِلَيْهِ وَالمَفْعُولَا
أو تكلم بما لم تتكلم به العرب ولم تعرفه، فكان في لسانه عجمة وإن انتسب إلى اللسان العربي. هذا عجب! .
قال أبو الحسين أحمد بن فارس رحمه الله! -: "وقد كان النَّاس قديمًا يجتنبون اللحن اجتنابهم بعض الذنوب، وأمّا الآن فقد تجوزوا، حتّى إن المحدث يحدث فيلحن، والفقيه يؤلف فيلحن، فإذا نُبِّها قالا: ما ندري ما الإعراب،
--------------------------------------------
সুর, এবং একইভাবে টীকা ও মন্তব্যের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া, ভুলের পাঁকে নিমজ্জিত হওয়া।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা যে সকল সাহাবী, তাবিঈ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম আসে তাদের প্রত্যেকের জীবনী বর্ণনা করে, এবং ‘মক্কা’ ও ‘মদিনা’-র মতো সুপরিচিত স্থানগুলোর পরিচয় প্রদান করে... (১)।
আমি আশা করি—এই গবেষণায় আমি যা পেশ করেছি, যা উল্লেখ করেছি এবং যে উৎসের ওপর নির্ভর করেছি তার মাধ্যমে—আমি যেন সেই ব্যক্তির মতো না হই যে নিজের খুর দিয়ে নিজের মৃত্যু খুঁজে বেড়ায়, অথবা যে নিজের হাত দিয়ে নিজের নাকের কোমল অংশ কেটে ফেলে। ফলে আমি যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যাদের প্রচেষ্টা দুনিয়ার জীবনে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে অথচ তারা মনে করে যে তারা ভালো কাজই করছে।
.. অতঃপর, আমাদের উম্মাহর ঐতিহ্য (তুরাস) সম্পাদনার জন্য সুউচ্চ হিম্মত, সৎ নিয়ত এবং জ্ঞান অন্বেষণ ও অনুসন্ধানে কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন; কারণ সত্যের অনেক অন্বেষণকারীই তা লাভ করতে পারে না। ইলম অন্বেষণকারীর জানা উচিত যে, একজন বিশিষ্ট আলেম হওয়ার জন্য তাকে হতে হবে: "পরহেজগার, মেধাবী, ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, লজ্জাশীল এবং সালাফী। তার জন্য এটাই যথেষ্ট হবে যে, সে নিজ হাতে দুইশ খণ্ড লিখবে, এবং নির্ভরযোগ্য সংকলনসমূহ থেকে পাঁচশ খণ্ড সংগ্রহ করবে, আর মৃত্যু পর্যন্ত সৎ নিয়ত ও বিনয়ের সাথে ইলম অন্বেষণে অলসতা করবে না; অন্যথায় তার নিজেকে কষ্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই" (২)।
বর্তমান যুগে ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে যে জিনিসটির অভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায় তা হলো আরবদের ভাষা ও তাদের কথা অনুযায়ী জিহ্বাকে শুদ্ধ করা; কারণ বর্তমানের কোনো ছাত্র যদি আপনার সাথে কথা বলে:
তবে সে মুদাফ ইলাইহি এবং মাফউলকে ‘রাফা’ (পেশ) প্রদান করে।
অথবা এমন ভাষায় কথা বলে যা আরবরা বলেনি এবং চেনে না। ফলে তার ভাষায় অনারবীয় ভাব থেকে যায়, যদিও সে নিজেকে আরবি ভাষার সাথে সম্পৃক্ত দাবি করে। এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়! ।
আবু আল-হুসাইন আহমাদ বিন ফারিস (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "পূর্বকালে মানুষ ভাষাগত ভুল (লাহন) থেকে এমনভাবে বেঁচে চলত যেমন তারা কিছু গুনাহ থেকে বেঁচে চলত। কিন্তু বর্তমানে তারা শিথিলতা প্রদর্শন করে, এমনকি মুহাদ্দিস যখন হাদিস বর্ণনা করেন তখন ভুল করেন, ফকিহ যখন কিতাব রচনা করেন তখন ভুল করেন। আর যখন তাদের সতর্ক করা হয়, তখন তারা বলে: আমরা ব্যাকরণগত কারক (ইরাব) জানি না,"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১২)
وإنّما نحن محدثون وفقهاء. فهما يسران بما يساء به اللبيب" (1).
بقي أن يُعْلَمَ أن ابن فارس يتكلم عن أهل زمانه، . وقد مات الرَّجل سنة (395 هـ)! .
وأمّا فضل النحو وتعلمه، فإليك بعض ما قيل فيه:
قال أبو بكر بن مجاهد: قال ثعلب: يا أبا بكر! اشتغل أصحاب القرآن بالقرآن ففازوا، واشتغل أصحاب الحديث بالحديث ففازوا، واشتغل أصحاب الفقه بالفقه ففازوا، واشتغلت أنا بزيد وعمرو، فليت شعري ماذا يكون حالي في الآخرة؟ ! . فانصرفت من عنده، فرأيت النّبيّ صلى الله عليه وسلم تلك اللَّيلة في المنام، فقال لي: أقرئ أبا العباس مني السّلام وقل له: أنت صاحب العلم المستطيل.
قال أبو عبد اللَّه الرُّوذَبَارِيُّ العبد الصالح: أراد أن الكلام به يكمل، والخطاب به يجمل، وأن جميع العلوم مفتقرة إليه" (2) اهـ.
وثعلب إمام من أئمة النحو، فيا لها من بشرى!
وقيل: [الكامل]
النَّحْوُ يَبْسُطُ مِنْ لِسَان الألْكَنِ
… وَالمَرْءُ تُكْرِمُهُ إِذَا لَمْ يَلْحَنِ
فَإِذَا أَرَدْتَ مِنَ الَعُلُومِ أجَلَّهَا
… فَأَجَلُّهَا مِنْهَا مُقِيمُ الأَلْسُنِ
ومصداقًا لقول القائل: والمرء تكرمه إذا لم يلحن، أقول: إن عكس ذلك صحيح، يعني: إن المرء ليسقط من العين بلحنة يلحنها ليس له فيها عذر ولا تأويل.
--------------------------------------------
"বস্তুত আমরা হাদিসবিশারদ ও ফকিহ। বুদ্ধিমতী ব্যক্তি যাতে কষ্ট পায়, তারা তাতে আনন্দিত হয়" (১)।
অবশিষ্ট কথা হলো—ইবন ফারেস তার নিজ সময়ের লোকজনের সম্পর্কে কথা বলছেন। আর এই ব্যক্তি ৩৯৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেছেন!
আর নাহু (আরবি ব্যাকরণ) এবং তা শেখার শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে, তার কিছু নিচে দেওয়া হলো:
আবু বকর ইবনে মুজাহিদ বর্ণনা করেন, সা’লাব বলেছেন: "হে আবু বকর! কুরআন বিশেষজ্ঞগণ কুরআন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং তারা সফল হয়েছেন; হাদিস বিশেষজ্ঞগণ হাদিস নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং তারা সফল হয়েছেন; ফিকহ বিশেষজ্ঞগণ ফিকহ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং তারা সফল হয়েছেন। আর আমি ব্যস্ত ছিলাম জায়েদ ও আমর (ব্যাকরণের উদাহরণ) নিয়ে; আহা! পরকালে আমার অবস্থা কী হবে?" আবু বকর বলেন, এরপর আমি তার কাছ থেকে ফিরে এলাম। ঐ রাতে আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম। তিনি আমাকে বললেন: "আবু আব্বাসকে (সা’লাব) আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাও এবং তাকে বলো যে, তুমি হলে সুদূরপ্রসারী ইলমের অধিকারী।"
নেককার বান্দা আবু আবদুল্লাহ আর-রুজাবারি বলেন: "তিনি বুঝিয়েছেন যে, এর (নাহু) মাধ্যমে কথা পূর্ণতা পায়, সম্বোধন সুন্দর হয় এবং সমস্ত জ্ঞান এর মুখাপেক্ষী" (২) সমাপ্ত।
আর সা’লাব হলেন নাহুশাস্ত্রের অন্যতম ইমাম, সুতরাং এটি কতই না বড় সুসংবাদ!
বলা হয়েছে: [কামেল ছন্দ]
নাহু তোতলামি যুক্ত জিহ্বাকে সাবলীল করে
… আর মানুষ তোমাকে সম্মান করবে যদি তুমি ব্যাকরণগত ভুল না করো
যদি তুমি জ্ঞানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মহানটি অর্জন করতে চাও
… তবে জানবে জিহ্বাকে সংশোধনকারী জ্ঞানই হলো সবচেয়ে মহান
আর এই প্রবচনের সত্যতা প্রমাণ করে—"মানুষ তোমাকে সম্মান করবে যদি তুমি ভুল না করো"—আমি বলতে চাই: এর বিপরীতটিও সত্য, অর্থাৎ: কোনো ব্যক্তি ব্যাকরণগত এমন ভুল করার কারণে মানুষের দৃষ্টি থেকে পড়ে যায়, যার জন্য তার কোনো ওজর বা ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد أسند الخطيب البغدادي في "جامعه" عن عمر بن الخطّاب رضي الله عنه قال: تعلموا العربيّة؛ فإنها تزيد في المروءة. كما روى عن جماعة من السلف أنّهم كانوا يضربون أولادهم على اللحن.
قال الرحبي: سمعت بعض أصحابنا يقول: إذا كتب لحان، فكتب عن اللحان لحان آخر، فكتب عن اللحان لحان آخر، صار الحديث بالفارسية.
ولكن:
لا يطلب من كلّ أحد أن يتقن الخلاف بين البصريين والكوفيين؛ فهذا عَسِرٌ في هذه الأيَّام، والتخصصُ مطلوب، وقد قيل: إذا أردت أن تكون عالمًا فادخل في فن من الفنون، ، وذلك لقصر العمر وذهاب أشياخ العلم الذين يُتَنَقَّلُ بينهم؛ فلو فتح إنسان باب كلّ علم - في مثل هذا العصر - لأتاه أجله قبل أن يحصل ما يريد.
نعم، يستحب لطالب العلم أن يُلِمَّ بمختصر مفيد في كلّ علم، لكن ليس على سبيل التبحر، سيما وقد ذهب أمثال الإمام أحمد وابن تيمية والسيوطي وأضرابهم؛ فإن الأوّل قال فيه الشّافعيّ رضي الله عنه: أحمد بن حنبل إمام في ثمان خصال: إمام في الحديث، إمام في الفقه، إمام في القرآن، إمام في اللُّغة، إمام في الفقر، إمام في الزهد، إمام في الورع، إمام في السنة.
وأمّا الثّاني، فكما هو ثابت في ترجمته رحمه الله! - أنّه كان إذا تكلم في علم ظُنَّ به أنّه لا يحسن غيره، فإذا تكلم في غيره وجد بحرًا.
وأمّا الثّالث، فإنّه زعم أنّه أتقن كلّ العلوم الشرعية وعلوم اللُّغة، حتّى قال عن نفسه وشانئيه: " .. ، فإن ثَمَّ مَنْ ينفخ أشداقه ويدعي مناظرتي، وينكر عليَّ دعوى الاجتهاد والتفرد بالعلّم على رأس هذه المائة، ويزعم أنّه يعارضني، ويستجيش عليَّ بمن لو اجتمع هو وهم في صعيد واحد ونفخت عليهم نفخة صاروا
খতীব আল-বাগদাদী তাঁর "জামে" গ্রন্থে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তোমরা আরবি ভাষা শিক্ষা করো; কেননা তা ব্যক্তিত্ব ও মার্জিতবোধ বৃদ্ধি করে। যেমনটি সালাফদের এক জামাত থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা তাঁদের সন্তানদেরকে ভাষাগত ভুলের (লাহন) কারণে প্রহার করতেন।
রাহবী বলেছেন: আমি আমাদের কোনো কোনো সাথীকে বলতে শুনেছি: যখন কোনো ভুল ব্যাকরণ ব্যবহারকারী লেখে, আর সেই ভুল ব্যবহারকারীর থেকে অন্য এক ভুল ব্যবহারকারী লেখে, অতঃপর তার থেকে আবার অন্য এক ভুল ব্যবহারকারী লেখে, তখন হাদীসটি ফারসি ভাষায় রূপান্তরিত হয়ে যায়।
কিন্তু:
প্রত্যেকের নিকট এটি কাম্য নয় যে সে বসরী ও কুফী (ব্যাকরণবিদদের) মধ্যকার মতপার্থক্যসমূহে পারদর্শী হবে; কারণ বর্তমান সময়ে এটি অত্যন্ত কঠিন, আর বিশেষায়ন প্রয়োজন। বলা হয়ে থাকে: যদি তুমি আলেম হতে চাও, তবে জ্ঞানের কোনো একটি শাখায় নিবিষ্ট হও। আর তা করা হয় জীবনের সল্পতা এবং ইলমের সেই শাইখদের বিদায় নেওয়ার কারণে, যাঁদের সান্নিধ্যে যাতায়াত করা হতো; সুতরাং বর্তমানের মতো যুগে কোনো মানুষ যদি প্রতিটি শাস্ত্রের দুয়ার উন্মুক্ত করতে চায়, তবে তার লক্ষ্য অর্জনের পূর্বেই মৃত্যু তাকে গ্রাস করবে।
হ্যাঁ, ইলম অন্বেষণকারীর জন্য প্রতিটি শাস্ত্রের একটি উপকারী সংক্ষিপ্ত সার বা মূল বিষয় অবগত হওয়া মুস্তাহাব, তবে তা অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জনের পন্থায় নয়। বিশেষ করে যখন ইমাম আহমাদ, ইবনে তাইমিয়্যাহ, সুয়ূতী এবং তাঁদের সমতুল্য ব্যক্তিবর্গ চলে গেছেন; কেননা প্রথমজন সম্পর্কে শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল আটটি বিষয়ে ইমাম: হাদীসে ইমাম, ফিকহ-এ ইমাম, কুরআনে ইমাম, ভাষায় ইমাম, দারিদ্রে ইমাম, দুনিয়াবিমুখতায় (যুহদ) ইমাম, তাকওয়ায় (ওয়ারা) ইমাম এবং সুন্নাহতে ইমাম।
আর দ্বিতীয়জন সম্পর্কে তাঁর জীবনীতে যা প্রমাণিত—রহিমাহুল্লাহ!—তা হলো, তিনি যখন কোনো শাস্ত্র নিয়ে কথা বলতেন, তখন মনে হতো যে তিনি এটি ছাড়া অন্য কিছুতে পারদর্শী নন, আবার যখন তিনি অন্য বিষয়ে কথা বলতেন, তখন তাঁকে এক গভীর সমুদ্র হিসেবে পাওয়া যেত।
আর তৃতীয়জন সম্পর্কে কথা হলো, তিনি দাবি করেছেন যে তিনি সমস্ত শরয়ী ইলম এবং ভাষাগত বিদ্যায় পারদর্শী হয়েছেন, এমনকি তিনি নিজের এবং তাঁর নিন্দুকদের সম্পর্কে বলেছেন: "...সেখানে এমন লোক আছে যারা গাল ফুলিয়ে কথা বলে এবং আমার সাথে বিতর্কের দাবি করে, আর এই শতাব্দীর শুরুতে আমার ইজতিহাদ ও ইলমে একক শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে অস্বীকার করে। সে দাবি করে যে সে আমার বিরোধিতা করবে এবং আমার বিরুদ্ধে এমন লোকদের সাহায্য প্রার্থনা করে যাদেরকে সে এবং তারা সকলে মিলে যদি এক ময়দানে সমবেত হয় আর আমি তাদের ওপর একটি ফুঁ দেই, তবে তারা হয়ে পড়বে...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هباء منثورًا" (1) اهـ.
وقال أيضًا: وما أعلم أحد على ظهر الأرض أعلم بالعربيّة مني.
ومع أن أولئك الضخام كانوا أوعية علم، إِلَّا أن بعضهم لم يفتح عليه في بعض العلوم؛ فقد تعاصت بعض العلوم على بعض الأعلام المشاهير، ومنهم من صرح بذلك، "منهم الأصمعي في علم العروض، والرُّهَاوي المحدث في الخط، وابن الصلاح في المنطق، وأبو مسلم النحوي في علم التصريف، والسيوطي في الحساب
… " (2).
وعليه، فيطلب من طالب العلم أن يتقي بوجهه ولسانه سوء اللحن في عربيته، ويبتعد عن أمثلة التعقيد والتقعر، فيكفيه أن يرفع المرفوع، وينصب المنصوب، ويخفض المخفوض، ويجزم المجزوم، وإياه وأمثال:
ظننت وظنَّاني شاخصًا الزيدين شاخصين، أو مثل: أعلمت وأعلمانيهما إياهما الزيدين العَمْرَيْنِ منطلقين، أو مثل: أزيدًا لم يضربه إِلَّا هو، أو: أأنت عبد اللَّه ضربته، أو مثل قول الفرزدق: [الطويل]
وَمَا مِثْلُهُ فِي النَّاسِ إِلَّا مُمَلَّكًا
… أبُو أُمِّهِ حَيٌّ أبُوهُ يُقَارِبُهْ
أو مثل ما ذكره أبو حيان في "تذكرة النحاة" (1/ 116) من قولهم: أَيُّ أَيٍّ إن يَضْرِبْكَ أَيُّهُمْ إنْ يأتْنِا نكرِمْه تضرِبْه نَضْرِبْه.! ! ! .
قال العلّامة ابن رجب الحنبلي ت (795 هـ) رحمه الله! -: "
… ،
وكذلك التوسع في علم العربيّة لغة ونحوًا هو ممّا يشغل عن العلم الأهم، والوقوف
--------------------------------------------
বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা" (১) সমাপ্ত।
তিনি আরও বলেছেন: "ভূপৃষ্ঠে আমার চেয়ে আরবি ভাষা সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ আর কেউ আছে বলে আমি জানি না।"
যদিও সেই মহান ব্যক্তিত্বগণ ইলমের ভাণ্ডার ছিলেন, তবুও তাঁদের কারো কারো জন্য কিছু কিছু শাস্ত্র উন্মোচন করা হয়নি; ফলে কিছু শাস্ত্র বেশ কিছু জগৎবিখ্যাত পণ্ডিতদের নিকটও দুর্বোধ্য রয়ে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তা স্পষ্ট করেই উল্লেখ করেছেন, "তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ছন্দশাস্ত্রে আসমায়ী, হস্তলিপিশাস্ত্রে মুহাদ্দিস রুহাওয়ী, যুক্তিবিদ্যায় ইবনে সালাহ, রূপতত্ত্বে নাহবী আবু মুসলিম এবং গণিতশাস্ত্রে সুয়ূতী..." (২)।
অতএব, ইলম অন্বেষণকারীর নিকট কাম্য হলো সে যেন তার মুখ ও জিহ্বাকে তার আরবি উচ্চারণে ভুল থেকে রক্ষা করে এবং জটিল ও কৃত্রিম বাক্যরীতি পরিহার করে। তার জন্য মারফূ-কে পেশ প্রদান, মানসূব-কে যবর প্রদান, মাখফূদ-কে যের প্রদান এবং মাজযূম-কে জযম প্রদান করাই যথেষ্ট। আর সে যেন নিম্নোক্ত উদাহরণের মতো বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকে:
"যনন্তু ওয়া যন্নানী শাখিসান আয-যাইদাইনি শাখিসাইন", অথবা "আ'লামতু ওয়া আ'লামানিহুমা ইয়াহুমা আয-যাইদাইনি আল-আমরাইনি মুনতালিকাইন", অথবা "আ-যাইদান লাম ইয়াদরিবহু ইল্লা হুয়া", অথবা "আ-আংতা আবদুল্লাহি দরাবতাহু", কিংবা যেমন ফারাযদাকের উক্তি: [তবীল ছন্দ]
মানুষের মধ্যে তাঁর মতো কেউ নেই, তবে সেই শাসক ব্যতীত... যার মায়ের পিতা হলেন জীবিত, আর তার পিতা তাঁর নিকটাত্মীয়।
অথবা আবু হাইয়ান তার "তাযকিরাতুন নুহাত" (১/১১৬) গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন: "আইয়্যু আইয়্যিন ইন ইয়াদরিবকা আইয়্যুহুম ইন ইয়া'তিনা নুকরিমহু তাদরিবহু নাদরিবহু...!!!"
আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলী (মৃত্যু ৭৯৫ হি.) -রাহিমাহুল্লাহ- বলেছেন: "
অনুরূপভাবে, অভিধান ও ব্যাকরণ শাস্ত্রে আরবির ব্যাপক গভীরে প্রবেশ করা এমন একটি বিষয় যা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ইলম অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে এবং..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
معه يحرم علمًا نافعًا. وقد كره القاسم بن مخيمرة علم النحو وقال: أوله شغل وآخره بغي. وأراد به التوسع فيه.
وكذلك كره أحمد التوسع في معرفة اللُّغة وغريبها، وأنكر على أبي عبيدة توسعه في ذلك، وقال: هو يشغل عما هو أهم منه.
قال ابن رجب: ولهذا يقال: إن العربيّة في الكلام كالملح في الطّعام. يعني أنّه يؤخذ منها ما يصلح الكلام كما يؤخذ من الملح ما يصلح الطّعام، وما زاد على ذلك فإنّه يفسده" (1) اهـ.
ثمّ ليعلم - بعد هذا - أن الأصل في ضبط كلام النّبيّ صلى الله عليه وسلم إنّما هو السماع والتلقي، يُسْنِدُهُ الراوي عن غيره إلى منتهاه ضابًطا له، مقيمًا لنحوه ولغته. ولهذا قيل: الإسناد من الدين. فربَّ حديث يروى على غير وجهه، والسر فيه أن راويًا لحن فيه، فنقله غَيْرُهُ عنه كما رواه له، وهكذا حتّى يصير الحديث بالفارسية كما قال الرحبي.
ولأن السماع مضى وانتهى، تعذَّر ضبط الحديث إِلَّا بالقواعد النحوية المعروفة، فَحَلَّ ضبط المطابع محل قول أمثال الأصمعي والخليل وأبي عمرو بن العلّاء: سمعت العرب تقول كذا، أو مثل قول المحدثين: حدّثنا، وسمعت، وعن، وأن. إن سيبويه - على مكانته - شكا حماد بن سلمة إلى شيخه الخليل بن أحمد؛ قال: سألته عن رجل رَعُفَ - هكذا - فقال لي: أخطات، بل هو رَعَفَ.
فقال الخليل: صدق، أتلقى أبا سَلَمَةَ بمثل هذا (2)؟ !
فأين نحن من أولئك، وأين نحن من هؤلاء؟ !
--------------------------------------------
এর ফলে (সে) উপকারী জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয়। কাসিম ইবন মুখাইমিরা নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র অপছন্দ করতেন এবং বলতেন: এর শুরু হলো ব্যস্ততা আর শেষ হলো সীমালঙ্ঘন। এর দ্বারা তিনি এতে মাত্রাতিরিক্ত গভীরতাকে বুঝিয়েছেন।
একইভাবে ইমাম আহমাদ ভাষা ও এর দুর্লভ শব্দাবলি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনকে অপছন্দ করতেন। তিনি আবু উবাইদাহর এ বিষয়ে অতি-গভীরতাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন: এটি এমন বিষয় থেকে বিমুখ করে রাখে যা এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইবন রজব বলেন: এজন্যই বলা হয়: কথায় আরবির অবস্থান খাবারে লবণের মতো। অর্থাৎ, কথাকে সুন্দর করার জন্য ততটুকুই আরবি ব্যাকরণ গ্রহণ করা হবে যতটুকু খাবার সুস্বাদু করার জন্য লবণ গ্রহণ করা হয়; এর অতিরিক্ত হলে তা একে নষ্ট করে দেয়" (১) সমাপ্ত।
এরপর জেনে রাখা উচিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী সংরক্ষণের মূল ভিত্তি হলো শ্রবণ ও সরাসরি গ্রহণ (তালক্কি)। বর্ণনাকারী এটি অন্যের কাছ থেকে নির্ভুলভাবে আয়ত্ত করে এবং এর ব্যাকরণ ও ভাষাগত দিক ঠিক রেখে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেন। এজন্যই বলা হয়েছে: ইসনাদ বা বর্ণনা পরম্পরা দ্বীনের অংশ। অনেক সময় কোনো হাদিস তার সঠিক রূপের বিপরীতে বর্ণিত হয়; এর পেছনের রহস্য হলো কোনো বর্ণনাকারী ব্যাকরণে ভুল করেছেন, ফলে অন্য কেউ তার কাছ থেকে সেভাবেই বর্ণনা করেছেন যেভাবে তিনি শুনেছেন। এভাবে চলতে চলতে এক সময় হাদিসটি ফারসি ভাষায় পরিণত হয় (অর্থাৎ এর রূপ বিকৃত হয়), যেমনটি রাহবি বলেছেন।
যেহেতু সরাসরি শ্রবণের যুগ শেষ হয়ে গিয়েছে, তাই সুপরিচিত ব্যাকরণিক নিয়মাবলি ছাড়া হাদিস সংরক্ষণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে মুদ্রণযন্ত্রের বিশুদ্ধতা এখন আসমায়ি, খলিল এবং আবু আমর ইবনুল আলা-এর মতো ইমামদের বাণীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যারা বলতেন: ‘আমি আরবদের এভাবে বলতে শুনেছি’; অথবা মুহাদ্দিসদের এই পরিভাষাগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে: ‘আমাদের বর্ণনা করেছেন’, ‘আমি শুনেছি’, ‘হতে’, ‘যে’। এমনকি সিবওয়াইহ—তার সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও—হাম্মাদ ইবন সালামার ব্যাপারে তার উস্তাদ খলিল ইবন আহমদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বললেন: আমি তাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল (রাউফা)—এভাবে—তখন তিনি আমাকে বললেন: তুমি ভুল করেছ, বরং এটি হবে ‘রাআফা’।
তখন খলিল বললেন: তিনি সত্য বলেছেন, তুমি কি আবু সালামার (হাম্মাদ ইবন সালামার) সাথে এমন আচরণ করছ (২)? !
তাদের তুলনায় আমরা কোথায়, আর আমাদের তুলনায় তারাই বা কোথায়? !
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أُولَئِكَ آبَائِي فَجِئْنِي بِمِثْلِهمْ
… إِذَا جَمَعَتْنَا يَا جَرِيرُ المَجَامِعُ
لقد حكى الأستاذ محمّد عوامة في كتابه "أثر الحديث الشريف في اختلاف الأئمة" قصة تبين أن الأصل في ضبط الحديث النبوي إنّما هو السماع لا ضبط المطابع المعاصرة، يقول:
" .. ، لكن دعاني إليه ما أحكيه للقراء (من المضحك المبكي) نقلًا عن شيخنا علامة حِمْص ونادرتها - رحمه اللَّه تعالى - حكى لي ذلك من قرابة تسع سنوات في منزلي بـ "حلب"، قال: دخل على المسجد قبل أذان الظهر رجل لا أعرفه، ثمّ سُمِّي لي .. ، فجلس ينتظر الأذان، فلما قال المؤذن: اللَّه أكَبْرَ اللَّهُ أكَبْرَ - بفتح الراء - قال هذا الرَّجل بانتفاضة وغضب: هذا خطأ، هذا بدعة. فقال شيخنا: ما هو الخطا والبدعة؟ فقال: هذا مخالف لما في "صحيح مسلم". فكرر عليه شيخنا السؤال: ماذا في "صحيح مسلم"؟ فقال الرَّجل: الّذي في "صحيح مسلم": اللَّه أكبر اللَّه أكبر - بضم الراء - فقال له شيخنا بأدبه المعروف وسكونه: تلقيتم "صحيح مسلم" عن شيوخكم عن شيوخهم إلى الإمام مسلم أنّه روى الحديث بضم الراء؟ أو هو ضبط المطبعة؟ ! قال شيخنا: فسكتَ وسكتُّ، وصلّى وانصرف" (1).
نعم، لقد رحل السماع وانتهى، إِلَّا بقية من ضبط بعض أهل العلم الذين حفظوا لنا وعلينا حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، أمثال أبي سليمان الخطابي في "إصلاح غلط المحدثين"، والقاضي عياض في "مشارق الأنوار"، وابن حجر والبدر العيني في شرحيهما للبخاري، والقرطبي والنووي في شرحيهما لمسلم، وغيرهم ممّن عُنُوا بضبط الأحاديث كتابة في مصنفاتهم، إِلَّا أن الأمر لم يكن مستوعبًا،
--------------------------------------------
তারা হলেন আমার পূর্বপুরুষ, সুতরাং হে জারির, তুমি তাদের মতো কাউকে নিয়ে এসো, যখন কোনো মজলিস আমাদের একত্রিত করবে
… উস্তাদ মুহাম্মদ আওয়ামাহ তাঁর ‘আসারুল হাদিসিশ শরিফ ফি ইখতিলাফিল আইম্মাহ’ গ্রন্থে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন যা স্পষ্ট করে যে, নবিজির হাদিস সংরক্ষণের মূল ভিত্তি হলো শ্রবণ (সামা‘), আধুনিক ছাপাখানাগুলোর মুদ্রণ নয়। তিনি বলেন:
"...তবে পাঠকদের সামনে যা বর্ণনা করছি (যা একাধারে হাস্যকর ও বেদনাদায়ক) তা আমাদের শাইখ, হিমসের আল্লামা এবং সেখানকার বিরল ব্যক্তিত্ব — আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন — এর নিকট থেকে বর্ণনার ভিত্তিতে আমাকে প্ররোচিত করেছে। প্রায় নয় বছর আগে তিনি আমার হালবের বাড়িতে এটি আমাকে বলেছিলেন। তিনি বলেন: যোহরের আজানের আগে মসজিদে এমন এক ব্যক্তি প্রবেশ করল যাকে আমি চিনতাম না, পরে তার নাম জানা গেল...। সে আজানের অপেক্ষায় বসল। যখন মুয়াজ্জিন বললেন: ‘আল্লাহু আকবারা আল্লাহু আকবারা’ — রা বর্ণে ফাতহা (যবর) দিয়ে — তখন সেই ব্যক্তি উত্তেজিত ও রাগান্বিত হয়ে বলল: ‘এটা ভুল, এটা বিদআত’। আমাদের শাইখ বললেন: ‘ভুল এবং বিদআত কোনটি?’ সে বলল: ‘এটি সহিহ মুসলিমের পরিপন্থী’। আমাদের শাইখ পুনরায় প্রশ্ন করলেন: ‘সহিহ মুসলিমে কী আছে?’ লোকটি বলল: ‘সহিহ মুসলিমে আছে: আল্লাহু আকবারু আল্লাহু আকবারু — রা বর্ণে যম্মাহ (পেশ) দিয়ে’। তখন শাইখ তাঁর পরিচিত শিষ্টাচার ও গাম্ভীর্যের সাথে বললেন: ‘আপনারা কি আপনাদের শাইখদের মাধ্যমে তাঁদের উস্তাদদের থেকে ইমাম মুসলিম পর্যন্ত এই শ্রবণ-পরম্পরা লাভ করেছেন যে, তিনি হাদিসটি রা-তে যম্মাহ দিয়ে বর্ণনা করেছেন? নাকি এটি ছাপাখানার মুদ্রণ?’ শাইখ বলেন: ‘অতঃপর সেও চুপ হয়ে গেল আর আমিও চুপ রইলাম। সে নামাজ পড়ল এবং চলে গেল’" (১)।
হ্যাঁ, শ্রবণের সেই ধারা আজ বিদায় নিয়েছে ও শেষ হয়ে গেছে, তবে অবশিষ্ট কিছু আলেমদের সংরক্ষণ ছাড়া যারা আমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসকে সুরক্ষিত রেখেছেন। যেমন ‘ইসলাহু গালাতিল মুহাদ্দিসিন’ গ্রন্থে আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি, ‘মাশারিকুল আনোয়ার’ গ্রন্থে কাজি ইয়াজ, বুখারির দুই ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইবনে হাজার ও বদরুদ্দিন আল-আইনি, মুসলিমের দুই ব্যাখ্যাগ্রন্থে কুরতুবি ও নববি এবং অন্যান্যরা যারা তাঁদের গ্রন্থগুলোতে হাদিসের শব্দগত নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে বিষয়টি পুরোপুরিভাবে সকল ক্ষেত্রে আয়ত্ত করা সম্ভব হয়নি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فكانت الكلمة بعد الكلمة، وإلا فلماذا وُجِدَ أمثال العكبري والسيوطي؟
إن ضبط الحديث وإعرابه - وخاصة مُشْكِلَهُ - لم يجدا - فيما أعلم - حَظَّهُمَا من تراث هذه الأمة على ضخامته، فلم يصل إلى أيدينا إِلَّا عملان يتيمان مختصَّانِ، كان أحدهما صنعة أبي البقاء العكبري، على ما سيأتي توضيحه بعد، والآخر كان للحافظ السيوطيّ رحمه الله! - بالإضافة إلى تلك اللمحات المنتقاة الّتي تعرض لها جمال الدين بن مالك صاحب الألفية المشهورة في النحو، وذلك في كتابه العظيم: "شواهد التوضيح والتصحيح لمشكلات الجامع الصّحيح" (1).
وأمّا مُصَنَّفُ السيوطيّ، فيعرف بـ "عقود الزبرجد على مسند الإمام أحمد"، ويصرح الإمام السيوطيّ في مقدمته أن العلماء: "لم يتعرضوا في إعراب الحديث النبوي سوى إمامين: أحدهما: أبو البقاء العكبري؛ فإنّه لما ألف إعراب القرآن المشهور أردفه بتأليف لطيف في إعراب الحديث الشريف، ، والثّاني: جمال الدين ابن مالك؛ فإنّه ألف في ذلك تأليفًا خاصًّا بصحيح البخاريّ يسمى "التوضيح والتصحيح لمشكلات الجامع الصّحيح .. ".
"ولما رأى السيوطيّ أن كتاب العكبري لا يروي الغليل ولا يشفي العلّيل، نهض لتأليف كتاب في إعراب الحديث الشريف على مسند أحمد؛ قال في مقدمته: "
… ، وقد استخرتُ اللَّهَ - تعالى - في تأليف كتاب في إعراب الحديث، مستوعب جامع، وغيث على رياض المسانيد والجوامع، جامع شامل للفوائد البدائع، شاف كافل بالنقول والنصوص كاف، أنْظِمُ فيه كلّ فريدة، وأسْفِرُ فيه النقاب عن وجه كلّ خريدة، وأجعله على مسند أحمد، مع ما أضمه إليه من الأحاديث المزيدة، وأرتبه على حروف المعجم في مسانيد الصّحابة، وأنشئ له من بحار كتب العربيّة كلّ سحابة" (2).
--------------------------------------------
ফলে শব্দে শব্দে বিন্যাস হয়েছে, অন্যথায় আল-উাকবারি এবং আস-সুয়ুতির মতো পণ্ডিতদের কেন পাওয়া যেত?
হাদিসের শব্দ বিন্যাস ও এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ইরাব) - বিশেষ করে এর জটিল বিষয়গুলো - আমার জানা মতে, এই উম্মাহর বিশাল ঐতিহ্যের মধ্যে তাদের যথাযোগ্য গুরুত্ব পায়নি। ফলে আমাদের হাতে এ বিষয়ে বিশেষায়িত মাত্র দুটি একক কাজ পৌঁছেছে; যার একটি আবু আল-বাকা আল-উাকবারির সৃষ্টি, যার ব্যাখ্যা সামনে আসবে, এবং অন্যটি হাফিজ আস-সুয়ুতি (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন)-র। এর পাশাপাশি ব্যাকরণ শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ আলফিয়া-র রচয়িতা জামালুদ্দিন ইবনে মালিক তাঁর মহান গ্রন্থ: "শাওয়াাহিদুত তাওদিহ ওয়াত তাসহিহ লি মুশকিলাতিল জামিইস সহিহ"-এ কিছু নির্বাচিত বিষয়ের অবতারণা করেছেন (১)।
আর আস-সুয়ুতির গ্রন্থটি "উকুুদুজ জাবারজাদ আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ" নামে পরিচিত। ইমাম আস-সুয়ুতি তাঁর ভূমিকার স্পষ্ট করেছেন যে, উলামায়ে কেরাম: "হাদিসে নববীর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কেবল দুইজন ইমাম ছাড়া আর কারো কথা উল্লেখ করেননি: তাঁদের একজন হলেন আবু আল-বাকা আল-উাকবারি; কেননা তিনি যখন কুরআনের প্রসিদ্ধ ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন, তখন এর সাথে হাদিসে শরিফের ব্যাকরণ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ও সুন্দর সংকলন যুক্ত করেন। দ্বিতীয়জন হলেন জামালুদ্দিন ইবনে মালিক; কেননা তিনি এ বিষয়ে সহিহ বুখারির জন্য একটি বিশেষ গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম 'আত-তাওদিহ ওয়াত তাসহিহ লি মুশকিলাতিল জামিইস সহিহ'..."।
যখন আস-সুয়ুতি দেখলেন যে, আল-উাকবারির কিতাবটি জ্ঞানপিপাসা নিবারণ করে না এবং পর্যাপ্ত সমাধান দেয় না, তখন তিনি মুসনাদে আহমাদ-এর ওপর ভিত্তি করে হাদিসে শরিফের ব্যাকরণ নিয়ে একটি কিতাব রচনায় সচেষ্ট হলেন। তিনি তাঁর ভূমিকায় বলেছেন: "
… , আমি হাদিসের ব্যাকরণ বিষয়ে একটি ব্যাপক ও সংকলিত কিতাব রচনার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করেছি, যা হবে মুসনাদ ও জামে গ্রন্থসমূহের উদ্যানের ওপর বর্ষিত বারিবিন্দু স্বরূপ। এটি চমৎকার সব উপকারিতার এক পূর্ণাঙ্গ সংকলন হবে, যা উদ্ধৃতি ও মূলপাঠের বর্ণনায় পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য হবে। আমি এতে প্রতিটি দুর্লভ বিষয়কে সুবিন্যস্ত করব এবং প্রতিটি অনন্য বিষয়ের মুখাবয়ব থেকে পর্দা উন্মোচন করব। আমি একে মুসনাদে আহমাদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করব, যার সাথে অতিরিক্ত কিছু হাদিসও যুক্ত করব। আমি একে সাহাবীদের মুসনাদ অনুযায়ী বর্ণানুক্রমে সাজাব এবং আরবি সাহিত্যের বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার থেকে এর জন্য প্রতিটি মেঘমালা সঞ্চার করব" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
إِلَّا أن السيوطيّ فاته - فيما أزعم - بعض كتابات لأئمة فحول، اوْدَعُوهَا بطون مصنفاتهم، منها: ما صنعه الإمام الفاضل القاضي عياض المالكي المتوفي سنة (544 هـ)، وذلك في كتابه الفذ "مشارق الأنوار على صحاح الآثار"، حيث عقد في أواخر كتابه بابًا في "ألفاظ وجمل في هذه الأصول (1) يحتاج إلى تعريف صوابها وتقويم إعرابها وتفهيم المؤخر من المقدم من ألفاظها وبيان إضماراتٍ مشكلة وعلى ما يعود المراد بها" (2).
ومنها: ما أشار إليه القرطبي (3) أبو العباس أحمد بن عمر في شرحه على "صحيح مسلم"، المسمى "المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم"، وذلك في نبذ نحوية متناثرة.
ومنها: ما أبدعه أحد علماء الحنابلة، وهو الإمام ابن قيم الجوزية، المتوفى سنة (751 هـ) رحمه الله! - وذلك في كلامه على بعض المسائل النحوية والبلاغية في كتابه البديع: "بدائع الفوائد".
إِلَّا أن السيوطيّ رحمه الله! قد يكون معذورًا بسبب أنّه عنى انفراد الكتاب المصنِّف بإعراب الحديث دون التعرض لشيء سواه (4).
ولعلّه من نافلة القول أن أقول: إن النحويين - كغيرهم إِلَّا من رحم اللَّه - لا يبالون بقوة الحديث من ضعفه، فيروون في كتبهم ما يَعْضُدُ مذهبهم من أحاديث (5)
--------------------------------------------
তবে সুয়ূতী—আমার দাবি অনুযায়ী—কিছু শ্রেষ্ঠ ইমামদের এমন কিছু লেখা থেকে গাফেল থেকেছেন যা তাঁরা তাঁদের গ্রন্থের অভ্যন্তরে নিহিত রেখেছেন। তার মধ্যে রয়েছে: ফাযেল ইমাম কাজী ইয়ায মালিকী (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরি) যা করেছেন, তাঁর অনন্য গ্রন্থ 'মাশারিকুল আনওয়ার আলা সিহাহিল আসার'-এ। যেখানে তিনি তাঁর গ্রন্থের শেষের দিকে একটি অধ্যায় নিবেদন করেছেন "এই মূল উৎসগুলোর (১) শব্দ ও বাক্যসমূহ যার সঠিক পরিচয় জানা, তার ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ সংশোধন করা, তার শব্দগুলোর অগ্র-পশ্চাৎ অনুধাবন করা এবং অস্পষ্ট উহ্য বিষয়াবলি ও তার দ্বারা উদ্দীষ্ট বিষয় কিসের দিকে প্রত্যাবর্তন করে তা স্পষ্ট করার" বিষয়ে (২)।
তার মধ্যে আরও রয়েছে: যার দিকে কুরতুবী (৩) আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ওমর তাঁর 'সহীহ মুসলিম'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ—যার নাম 'আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিস কিতাব মুসলিম'—তাতে বিক্ষিপ্ত ব্যাকরণিক আলোচনার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন।
তার মধ্যে আরও রয়েছে: হাম্বলী আলেমদের অন্যতম একজন যা নিপুণভাবে উপস্থাপন করেছেন, আর তিনি হলেন ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন!—তাঁর চমৎকার গ্রন্থ 'বাদায়িউল ফাওয়াইদ'-এ কিছু ব্যাকরণিক ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় মাসআলার আলোচনার ক্ষেত্রে।
তবে সুয়ূতী—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন!—সম্ভবত এই কারণে ওযরযোগ্য হতে পারেন যে, তিনি হাদীসের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের জন্য এককভাবে রচিত স্বতন্ত্র গ্রন্থের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, অন্য কিছুর অবতারণা ছাড়াই (৪)।
আর সম্ভবত এটি বলা বাহুল্য হবে যে: ব্যাকরণবিদগণ—অন্যান্যদের মতোই, আল্লাহ যাদের ওপর রহম করেছেন তারা ব্যতীত—হাদীসের সবলতা বা দুর্বলতার তোয়াক্কা করেন না; ফলে তারা তাদের কিতাবসমূহে এমন সব হাদীস বর্ণনা করেন যা তাদের ব্যাকরণিক মতবাদকে সমর্থন করে (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
غير مستوثقين منها، ومثال ذلك: احتجاجهم بما زعم أنّه حديث، من قولهم: "نِعْمَ الْعَبْدُ صُهَيْبٌ؛ لَوْ لَمْ يَخَفِ اللَّهَ لَمْ يَعْصِهِ":
قال السخاوي في "الفتاوي الحديثية" (2/ 12): "قد اشتهر في كلام الأولين وأصحاب المعاني والعربيّة من حديث عمر بن الخطّاب. وذكر الشّيخ بهاء الدين السبكي أنّه لم يظفر به في شيء من الكتب. وكذا قال جمع من أهل اللُّغة، ثمّ رأيت بخط شيخنا رحمه الله أنّه ظفر به في "مشكل الحديث" لأبي محمّد ابن قتيبة، لكن لم يذكر له ابن قتيبة إسنادًا، وقال: أراد أن صهيبًا إنّما لم يعص اللَّه حياء لا لمخافة عذابه" (1) اهـ.
وأمّا ما قاله الفاضل أبو الحسنات اللَّكْنَوِىُّ ت (1304 هـ) رحمه الله في كتابه "الأجوبة الفاضلة" (ص 35)؛ حيث قال:
"فإن قلت: فما بالهم أوردوا في تصانيفهم الأحاديث الموضوعة - مع جلالتهم ونباهتهم - ولم لم ينقدوا الأسانيد مع سَعَةِ علمهم؟ !
قلت: لم يوردوا ما أوردوا مع العلم بكونه موضوعًا، بل ظنوه مرويًّا، وأحالوا نقد الأسانيد على نقاد الحديث؛ لكونهم أغنوهم عن الكشف الحثيث؛ إذ ليس من وظيفتهم البحث عن كيفية رواية الأخبار، إنّما هو من وظيفة حملة الآثار؛ فلكل مقام مقال، ولكل فن رجال".
أقول: فهذا الّذي ذكره ليس بعذر لهم؛ لأنّ القوم قبل ذلك مسلمون، والمسلم منهي عن رواية حديث لا يدري صحته؛ ألم يقل النّبيّ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ حَدَّثَ عَنَّي بِحَدِيثِ يُرَى أَنهُ كَذِبٌ، فَهُوَ أحَدُ الكَاذَبِيْنِ" (2)؟ !
--------------------------------------------
সেগুলোর প্রতি তারা সুনিশ্চিত নন, আর এর উদাহরণ হলো: তাদের এমন কিছুকে দলিল হিসেবে পেশ করা যা হাদিস বলে দাবি করা হয়েছে, যেমন তাদের উক্তি: "সুহাইব কতই না উত্তম বান্দা; সে যদি আল্লাহকে ভয় না-ও করত, তবুও তাঁর অবাধ্য হতো না।":
সাখাভী 'আল-ফাতাওয়া আল-হাদিসিয়্যাহ' (২/ ১২) গ্রন্থে বলেন: "এটি পূর্বসূরিদের কথায় এবং অর্থ ও আরবী বিশেষজ্ঞদের নিকট উমর ইবনুল খাত্তাবের বর্ণিত হাদিস হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়েছে। শায়খ বাহাউদ্দিন আস-সুবকী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কোনো কিতাবেই এর দেখা পাননি। একদল ভাষাবিদও অনুরূপ বলেছেন। অতঃপর আমি আমাদের শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর হাতের লেখায় দেখেছি যে, তিনি এটি আবু মুহাম্মদ ইবনে কুতাইবার 'মুশকিলুল হাদিস' গ্রন্থে পেয়েছেন। তবে ইবনে কুতাইবা এর কোনো সনদ উল্লেখ করেননি এবং তিনি বলেছেন: এর অর্থ হলো, সুহাইব আল্লাহর অবাধ্য হতেন না লজ্জাবোধ থেকে, তাঁর আযাবের ভয়ে নয়।" (১) সমাপ্ত।
আর বিদগ্ধ পণ্ডিত আবুল হাসানাত আল-লাখনবী (মৃত্যু ১৩০৪ হিজরি) আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর 'আল-আজউবাতুল ফাদিলা' (পৃ. ৩৫) গ্রন্থে যা বলেছেন:
"যদি আপনি বলেন: তবে তাদের সুউচ্চ মর্যাদা এবং বিচক্ষণতা সত্ত্বেও তাদের অবস্থা এমন কেন যে তারা তাদের কিতাবসমূহে জাল হাদিস উল্লেখ করেছেন? আর তাদের অগাধ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও কেন তারা সনদগুলো যাচাই করেননি?!"
"আমি উত্তরে বলব: তারা যা উল্লেখ করেছেন তা জাল জেনে উল্লেখ করেননি; বরং তারা ভেবেছিলেন যে তা বর্ণিত হয়েছে। আর তারা সনদ যাচাইয়ের বিষয়টি হাদিস বিশারদদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন; কেননা তারা (মুহাদ্দিসগণ) তাদের নিবিড় অনুসন্ধানের কষ্ট থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। কারণ বর্ণনাসমূহের সূত্র যাচাই করা তাদের দায়িত্ব নয়, বরং এটি হলো হাদিস বহনকারীদের কাজ; কেননা প্রতিটি প্রসঙ্গের জন্য স্বতন্ত্র বক্তব্য রয়েছে এবং প্রতিটি শিল্পের জন্য বিশেষজ্ঞ লোক রয়েছে।"
আমি বলছি: তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা তাদের জন্য কোনো ওজর হতে পারে না; কারণ এই ব্যক্তিবর্গ তার আগে মুসলিম। আর একজন মুসলিমের জন্য এমন হাদিস বর্ণনা করা নিষিদ্ধ যার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সে জানে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করল যা মিথ্যা বলে মনে করা হয়, তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন" (২)?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২০)
المصنِّف (*) والكتاب
أمّا شيخنا صاحب الكتاب، فهو الإمام، المفسر، الفقيه، المُقرئ، الفرضي، اللغوي، النحوي: أبو البقاء، محب الدين، عبد اللَّه بن الحسين بن عبد اللَّه بن الحسين، العكبري، الحنبلي، البغدادي، الضرير.
مولده ونشأته:ولد العكبري في سنة ثمان وثلاثين وخمسمائة، قاله غير واحد. وأمّا نشاته فلا نعرف عنها شيئًا، إِلَّا أنّه أَضَرَّ في صباه بالجدري فَعَمِيَ. والظن بمثله من أهل
--------------------------------------------
লেখক (*) ও গ্রন্থ
আমাদের শাইখ ও এই গ্রন্থের লেখক হলেন ইমাম, মুফাসসির (কুরআন গবেষক), ফকিহ (আইনবিদ), মুকরি (কুরআন তিলাওয়াত বিশেষজ্ঞ), ফারদি (উত্তরাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ), লুগাওয়ি (ভাষাবিদ) ও নাহবি (ব্যাকরণবিদ): আবুল বাকা, মুহিব্বুদ্দীন, আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন, আল-উকবরি, আল-হানবালি, আল-বাগদাদি, আদ-দারির (দৃষ্টিহীন)।
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:উকবরি পাঁচশত আটত্রিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন, যা একাধিক জীবনীকার উল্লেখ করেছেন। তাঁর বেড়ে ওঠা সম্পর্কে আমরা তেমন কিছু জানি না, তবে এতটুকু জানা যায় যে, শৈশবে তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তাঁর মতো ইলম অন্বেষণকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ধারণা করা হয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২১)
عصره أنه طلب العلم صغيرًا ورحل فيه، وسمع الحديث وفروع العلم الأخرى، حتى علا كعبه كما حكى لنا أصحاب السير.
وتحكي لنا كتب التراجم أن أبا البقاء كانت تقرأ له زوجه الكتب ليلاً بعد أن ينتهي من إملاء العلم على طلبته، ثم إذا أراد أن يصنف حَصَّل تلك القراءة في خاطره، ثم أملى ما أراد إملاءه. وظني أن امرأته كانت ممن يكتب له، فيبعد أن يأتيه خاطر ولا يرقمه، ولا يكون له كاتب حينئذ إلا امرأته التي تقرأ عليه، ونعم الزوجة كانت!
لقد تلمذ أبو البقاء لشيوخ كثيرين، أذكرهم - هنا - دون ترجمة لهم؛ لئلا يطول ذيل الترجمة:
1 - أبو الفرج ابن الجوزي، (ت 598 هـ):
وكان العكبري معيدًا لدروسه. وقد كان ابن الجوزي يفزع إلى تلميذه أبي البقاء في المسائل المشكلة في الأدب (1).
2 - أبو حكيم إبراهيم بن دينار النهرواني، ت (556 هـ):
أخذ عنه القرآن والمذهب والفرائض.
3 - القاضي أبو يعلى الفراء، ت (560 هـ):
أخذ عنه أبو البقاء المذهب الحنبلي والخلاف.
4 - ابن هبيرة (وزير المقتفي)، ت (560 هـ):
أخذ عنه الحديث.
5 - أبو الفتح بن عبد الباقي (ابن البطي)، ت (564 هـ):
سمع منه الحديث.
--------------------------------------------
তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অল্প বয়সেই জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেন এবং এর উদ্দেশ্যে দেশ-দেশান্তর সফর করেন। তিনি হাদীস ও জ্ঞানের অন্যান্য শাখা অধ্যয়ন করেন, এমনকি তিনি এই ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন, যেমনটি জীবনিকারগণ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।
জীবনীগ্রন্থগুলো আমাদের জানায় যে, আবু আল-বাকা তাঁর ছাত্রদের পাঠদান শেষ করার পর রাতে তাঁর স্ত্রী তাঁকে কিতাব পড়ে শোনাতেন। এরপর যখন তিনি কোনো গ্রন্থ রচনা করতে চাইতেন, তখন সেই পঠিত বিষয়গুলো তাঁর স্মৃতিতে গুছিয়ে নিতেন এবং যা সংকলন করতে চাইতেন তা মুখে মুখে বলতেন (ইমলা করতেন)। আমার ধারণা যে, তাঁর স্ত্রী তাঁর হয়ে লিখেও দিতেন; কারণ কোনো চিন্তা তাঁর মনে আসবে আর তিনি তা লিপিবদ্ধ করবেন না—এটা অসম্ভব, আর তখন তাঁর স্ত্রী ছাড়া তাঁর কোনো লেখক ছিল না যিনি তাঁকে পড়ে শোনাতেন। কতই না উত্তম স্ত্রী ছিলেন তিনি!
আবু আল-বাকা অনেক শাইখের নিকট শিক্ষালাভ করেছেন। জীবনীর পরিধি যাতে দীর্ঘ না হয়, তাই আমি এখানে তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ছাড়াই উল্লেখ করছি:
১ - আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী (মৃত্যু ৫৯৮ হিজরি):
আল-উকবারী তাঁর পাঠদান কার্যে পুনরাবৃত্তিকারী (মুয়ীদ) ছিলেন। ইবনুল জাওযী সাহিত্যের জটিল বিষয়গুলোতে তাঁর ছাত্র আবু আল-বাকার শরণাপন্ন হতেন (১)।
২ - আবু হাকীম ইব্রাহিম বিন দীনার আন-نাহরওয়ানী (মৃত্যু ৫৫৬ হিজরি):
তাঁর কাছ থেকে তিনি কুরআন, মাযহাব এবং উত্তরাধিকার আইন (ফারায়িয) শিক্ষা লাভ করেন।
৩ - কাযী আবু ইয়ালা আল-ফাররা (মৃত্যু ৫৬০ হিজরি):
আবু আল-বাকা তাঁর কাছ থেকে হাম্বলী মাযহাব এবং তুলনামূলক আইনশাস্ত্র (খিলাফ) গ্রহণ করেন।
৪ - ইবনে হুবায়রা (আল-মুকতাফী-র উজির) (মৃত্যু ৫৬০ হিজরি):
তাঁর নিকট থেকে তিনি হাদীস গ্রহণ করেন।
৫ - আবুল ফাতহ বিন আব্দুল বাকী (ইবনুল বাত্তি) (মৃত্যু ৫৬৪ হিজরি):
তাঁর কাছ থেকে তিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২২)
6 - أبو زرعة المقدسي، ت (566 هـ):
سمع منه الحديث.
7 - ابن الخشاب، ت (567 هـ):
وهو من أشهر شيوخ النحو في عصره.
8 - يحيى بن نجاح، ت (569 هـ):
أخذ عنه العربيّة.
9 - مهذب الدين ابن العصار، ت (576 هـ):
أخذ عنه اللُّغة.
وكما عاش العكبري حياة طالب العلم، حيا - أيضًا - حياة شيوخ العلم؛ فقد تلمذ له كثير، منهم من بلغ رتبة الأئمة الأعلام، ومن أشهرهم:
1 - ابن الدبيثي، ت (637 هـ).
2 - أبو علي النحوي، ت (637 هـ).
3 - الصريفيني، ت (641 هـ).
4 - ابن النجار، ت (643 هـ).
5 - تقي الدين البغدادي، ت (644 هـ).
6 - عبد السّلام بن تيمية، ت (652 هـ)، وهو جد ابن تيمية الإمام المفرد، وقد أخذ عن العكبري علوم: الحساب، والمقابلة، والعربيّة.
7 - علم الدين اللورقي الأندلسي، ت (661 هـ).
8 - ياقوت الحموي، ت (626 هـ)، وهو صاحب "معجم البلدان"، وقد ذكر شَيْخَهُ فيه على ما سيأتي بعد.
৬ - আবু যুরআ আল-মাকদিসি, মৃত্যু (৫৬৬ হি.):
তিনি তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
৭ - ইবনুল খাশশব, মৃত্যু (৫৬৭ হি.):
তিনি তাঁর যুগের ব্যাকরণশাস্ত্রের অন্যতম প্রসিদ্ধ উস্তাদ ছিলেন।
৮ - ইয়াহইয়া ইবনে নাজাহ, মৃত্যু (৫৬৯ হি.):
তিনি তাঁর নিকট থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা করেছেন।
৯ - মুহাযযাব উদ্দিন ইবনুল আসসার, মৃত্যু (৫৭৬ হি.):
তিনি তাঁর নিকট থেকে ভাষাতত্ত্ব শিক্ষা করেছেন।
আর আল-উকবারী যেভাবে একজন জ্ঞানান্বেষীর জীবন অতিবাহিত করেছেন, তেমনিভাবে তিনি ইলমের উস্তাদদের জীবনও অতিবাহিত করেছেন; তাঁর নিকট অনেক ছাত্র শিক্ষা লাভ করেছেন, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বরেণ্য ইমামদের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন:
১ - ইবনুল দুবাইসি, মৃত্যু (৬৩৭ হি.)।
২ - আবু আলী আন-নাহবী, মৃত্যু (৬৩৭ হি.)।
৩ - আস-সারিফীনি, মৃত্যু (৬৪১ হি.)।
৪ - ইবনুন নাজ্জার, মৃত্যু (৬৪৩ হি.)।
৫ - তাকী উদ্দিন আল-বাগদাদী, মৃত্যু (৬৪৪ হি.)।
৬ - আবদুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, মৃত্যু (৬৫২ হি.), তিনি অনন্য ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর দাদা। তিনি আল-উকবারীর নিকট থেকে পাটিগণিত, বীজগণিত এবং আরবি ভাষা শিক্ষা করেছেন।
৭ - আলম উদ্দিন আল-লাওরাকী আল-আন্দালুসী, মৃত্যু (৬৬১ হি.)।
৮ - ইয়াকুত আল-হামাভী, মৃত্যু (৬২৬ হি.), তিনি "মুজামুল বুলদান" গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি এতে তাঁর উস্তাদের কথা উল্লেখ করেছেন যেমনটি সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
العكبريُّ (العُكْبَراوِيُّ)؟ ؟
وأمّا نسبة الإمام أبي البقاء، فيقال فيها: العكبري، و: العكبراوي، وهي نسبة صحيحة، إلى بُلَيْدَةِ "عكبرا"، وهي تقع على نهر دجلة؛ قال ياقوت: " .. بضم أوله وسكون ثانيه، وفتح الباء الموحدة، وقد يمد ويقصر، والظاهر أنّه ليس بعربي .. ، وهو اسم بليدة من نواحي (دجيل" قرب نهر "صريفين" و "أوانا"، بينها وبين "بغداد" عشرة فراسخ (1). والنسبة إليها: عكبريّ وعكبراويّ، منها شيخنا إمام عصره، محب الدين، أبو البقاء، عبد اللَّه بن الحسين، النحوي العكبري، .... وقرئ على سارية بجامع "عكبرا":
لِلَّهِ دَرُّكِ يا مَدِينَةَ عُكْبَرا
… أيَا خِيَارَ مَدِينَة فَوْقَ الثَّرَى
إنْ كُنْتِ لا أُمَّ القُرَى فَلَقَدْ أرَى
… أَهْلِيكِ أرْبَابَ السَّمَاحَةِ وَالقِرَى
هذا مقصور، ومده البحتري فقال:
ولمَّا نَزَلنَا عُكْبَرَاءَ وَلَمْ يَكُنْ
… نَبِيذٌ وَلَا كَانَتْ حَلَالًا لَنَا الخَمْرُ
دَعَوْنَا لَهَا بِشْرًا وَرُبَّ عَظِيمَةِ
… دَعَوْنَا لَهَا بِشْرًا فأصْرَخَنَا بشْرُ
… " (2)
وقد انتسب إلى هذه البلدة علماء كثيرون منذ منتصف القرن الثّاني الهجري،
--------------------------------------------
আল-উকবরি (আল-উকবরাবি)? ?
আর ইমাম আবুল বাকার নিসবত (সম্বন্ধ) সম্পর্কে বলা হয়: আল-উকবরি এবং আল-উকবরাবি। এটি একটি সঠিক নিসবত, যা 'উকবরা' নামক ছোট শহরের দিকে নির্দেশ করে; এটি দজলা নদীর তীরে অবস্থিত। ইয়াকুত বলেন: "...এর প্রথম অক্ষরে পেশ, দ্বিতীয় অক্ষরে সাকিন এবং এক নুকতা বিশিষ্ট 'বা' বর্ণে জবর। এটি দীর্ঘ (মাদ) বা হ্রস্ব (কাসর) উভয়ভাবেই পড়া যায়। বাহ্যত এটি কোনো আরবি শব্দ নয়...। এটি দাজিল অঞ্চলের একটি ছোট শহরের নাম, যা 'সারিফিন' ও 'আওয়ানা' নদীর নিকটে অবস্থিত। এর এবং বাগদাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব দশ ফারসাখ (১)। এর দিকে সম্বন্ধ করে বলা হয়: উকবরি এবং উকবরাবি। এই শহরের অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের শায়খ, তাঁর যুগের ইমাম, মুহিব্বুদ্দিন আবুল বাকা আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আন-নাহবি আল-উকবরি...। আর 'উকবরা'র জামে মসজিদের একটি স্তম্ভে খোদাই করা ছিল:
হে উকবরা শহর! তোমার মাহাত্ম্য আল্লাহর জন্য; মাটির উপরের শহরগুলোর মধ্যে তুমি কতই না শ্রেষ্ঠ!
যদি তুমি উম্মুল কুরা (মক্কা) নাও হও, তবুও আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার অধিবাসীরা উদারতা ও আতিথেয়তার অধিপতি।
এটি হ্রস্ব স্বর (মাকসুর), তবে বুহতুবি একে দীর্ঘ স্বর (মাদ) করে বলেছেন:
যখন আমরা উকবরায় অবতরণ করলাম, তখন সেখানে কোনো নাবিয (পানীয়) ছিল না এবং আমাদের জন্য মদও হালাল ছিল না।
আমরা তার জন্য বিশরকে আহ্বান করলাম, আর বহু মহাবিপদে আমরা বিশরকে ডেকেছি এবং বিশর আমাদের উদ্ধার করেছেন। (২)"
হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে অসংখ্য আলেম এই শহরের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن شاء فليراجع "تاريخ بغداد" للخطيب البغدادي أبي بكر أحمد بن ثابت المتوفى سنة (463 هـ).
آثاره الإملائيَّة:ما أحسن ما قال القائل:
إنّما المرء حديث بعده
… فكن حديثًا حسنًا لمن روى
وقد كان لصاحبنا أبي البقاء حظ ونصيب وافران من هذا القول؛ يسفر عنه ما تركه من إملاءات مفيدة تناقلها خلفه طلاب العلم، وأسرد بعضها هنا غير قاصد الإحاطة:
1 - إعراب القرآن، وهو كتاب "التبيان في إعراب القرآن".
2 - "إعراب القراءات الشواذ".
3 - "أجوبة المسائل الحلبيات".
4 - "الاستيعاب في أنواع الحساب".
5 - "الإشارة".
6 - "الترصيف في التصريف".
7 - "تعليق في الخلاف" (في الفقه).
8 - "تلخيص التنبيه" (لابن جني).
9 - "التلقين".
10 - "شرح أبيات الكتاب".
11 - "شرح الحماسة" لأبي تمام.
12 - "شرح فصيح ثعلب".
13 - "شرح لامية الشنفرى الأزدي".
14 - "شرح ما غمض من الألفاظ اللغوية من الألفاظ الحريرية" (شرح مقامات الحريري).
যে কেউ ইচ্ছা করলে ৪৬৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী খতিব আল-বাগদাদি আবু বকর আহমদ ইবন সাবিত রচিত "তারিখু বাগদাদ" দেখে নিতে পারেন।
তাঁর শ্রুতিলিখনকৃত (ইমলা) রচনাবলি:বক্তা কতই না চমৎকার বলেছেন:
মানুষ তার চলে যাওয়ার পর কেবল একটি আলোচনা হিসেবে বেঁচে থাকে... সুতরাং যারা বর্ণনা করবে তাদের জন্য একটি উত্তম আলোচনা হও।
আমাদের সঙ্গী আবু আল-বাকার এই উক্তির ক্ষেত্রে এক বিশাল সৌভাগ্য ও অংশ ছিল; তিনি যে উপকারী শ্রুতিলিখনগুলো রেখে গেছেন তা থেকেই এটি স্পষ্ট হয়, যা তাঁর পরবর্তী ইলম অন্বেষণকারীরা একে অপরের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। আমি এখানে পূর্ণাঙ্গ তালিকার উদ্দেশ্য ছাড়াই সেগুলোর কয়েকটি তুলে ধরছি:
১ - ইরাবুল কুরআন, যা হলো "আত-তিবইয়ান ফি ইরাবিল কুরআন" নামক গ্রন্থ।
২ - "ইরাবুল কিরাআত আশ-শাওয়াজ্জ"।
৩ - "আজউয়িবাতুল মাসাইল আল-হালাবিয়্যাত"।
৪ - "আল-ইস্তিআব ফি আনওয়াইল হিসাব"।
৫ - "আল-ইশারা"।
৬ - "আত-তারসিফ ফিত তাসরিফ"।
৭ - "তালিক ফিল খিলাফ" (ফিকহ শাস্ত্রীয়)।
৮ - "তালখিসুত তানবিহ" (ইবন জিন্নি রচিত গ্রন্থের সারসংক্ষেপ)।
৯ - "আত-তালকিন"।
১০ - "শারহু আবিয়াতিল কিতাব"।
১১ - আবু তাম্মাম রচিত "শারহুল হামাসাহ"।
১২ - "শারহু ফাসিহি সা'লাব"।
১৩ - "শারহু লামিয়াতুশ শানফারা আল-আজদি"।
১৪ - "শারহু মা গামাদা মিনাল আলফাজিল লুগাওয়িয়্যাহ মিনাল আলফাজিল হারিরিয়্যাহ" (শারহু মাকামাতিল হারিরি)।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
15 - "العروض والقوافي".
16 - "اللباب في علل البناء والإعراب".
17 - "مذاهب الفقهاء".
18 - "المرام في نهاية الأحكام" (فقه المذهب).
19 - "المفضل في شرح المفصل".
وله غير ذلك من الإملاءات المفيدة.
ثناء العلماء عليه:قدمت في واجهة الكتاب كلمات أهل العلم وثناءهم على العكبري؛ من مثل قول ابن الحنبلي: "كان إمامًا في علوم القرآن، إمامًا في الفقه، إمامًا في اللُّغة،
… ".
ومن قول ابن أبي الجيش: "كان يفتي في تسعة علوم،
… ".
ومن قول ابن النجار: "كان متفننًا في العلوم، .... ، وسمعت عليه، ونعم الشّيخ كان".
وترجم له ابن خَلِّكان فقال: "لم يكن في آخر عمره في عصره مثله في فنونه".
وفيه يقول الصَّفَدِيُّ: "كان رقيق القلب، سريع الدمعة".
لقد كان أبو البقاء علمًا مفردًا، زاهدًا في المناصب الدنيوية وزخرفها؛ فتذكر كتب التراجم أن الشّافعيّة في زمن أبي البقاء عرضوا عليه تدريس اللُّغة بالمدرسة النظامية مقابل أن ينخلع من المذهب الحنبلي إلى المذهب الشّافعيّ، ولكنه أبى ذلك، ورد عليهم أن: لو أقمتموني وصببتم عليَّ ذهبًا حتّى يواريني ما رجعت عن مذهبي! .
১৫ - "আল-আরূজ ওয়াল-কাওয়াফী" (ছন্দ ও অন্ত্যমিল)।
১৬ - "আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল-ইরাব"।
১৭ - "মাযাহিবুল ফুকাহা" (ফকীহগণের মাযহাবসমূহ)।
১৮ - "আল-মারাম ফী নিহায়াতিল আহকাম" (মাযহাবী ফিকহ)।
১৯ - "আল-মুফাদদাল ফী শারহিল মুফাসসাল"।
এছাড়াও তাঁর আরও অনেক উপকারী পাণ্ডুলিপি ও শ্রুতিলিপি রয়েছে।
তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা:আমি গ্রন্থের প্রারম্ভে আল-উকবারীর প্রতি আহলে ইলমদের মন্তব্য ও তাঁদের প্রশংসা তুলে ধরেছি; যেমন ইবনুল হাম্বলীর উক্তি: "তিনি উলূমুল কুরআনে একজন ইমাম ছিলেন, ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম ছিলেন, ভাষা বিজ্ঞানে ইমাম ছিলেন,
… "।
ইবনু আবিল জাইশ-এর উক্তি থেকে: "তিনি নয়টি শাস্ত্রে ফতোয়া প্রদান করতেন,
… "।
ইবনুন নাজ্জারের উক্তি থেকে: "তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন, .... , আমি তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছি, আর তিনি কতই না চমৎকার শাইখ ছিলেন"।
ইবনে খাল্লিকান তাঁর জীবনীতে বলেছেন: "তাঁর জীবনের শেষ ভাগে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে স্বীয় শাস্ত্রসমূহে তাঁর মতো কেউ ছিল না"।
তাঁর সম্পর্কে আস-সাফাদী বলেন: "তিনি কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন এবং খুব দ্রুত তাঁর চোখ অশ্রুসিক্ত হতো"।
নিশ্চয়ই আবু আল-বাকা ছিলেন এক অনন্য মনীষী, পার্থিব পদমর্যাদা ও জৌলুসের প্রতি বিমুখ; জীবনীগ্রন্থগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবু আল-বাকার সময়ে শাফেয়ীগণ তাঁকে নিযামিয়া মাদ্রাসায় ভাষা শিক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এই শর্তে যে, তাঁকে হাম্বলী মাযহাব ত্যাগ করে শাফেয়ী মাযহাবে দাখিল হতে হবে, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাঁদের উত্তরে বলেন: "যদি তোমরা আমাকে দাঁড় করিয়ে আমার ওপর স্বর্ণ ঢালতে থাক যতক্ষণ না তা আমাকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে, তবুও আমি আমার মাযহাব ত্যাগ করব না!"।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وفاته:توفي أبو البقاء رحمه الله! - ليلة الأحد، ثامن عشر ربيع الآخر من سنة (616 هـ)، وذلك ب "بغداد"، ودفن بمقبرة باب حرب، الّتي دفن فيها الإمام أحمد رحمه الله! -.
مذهبه النحوي:الرَّجل حنبلي في الفروع، غير أن مذهبه النحوي اتسع الكلام فيه وتشعب؛ فمن قائل: إنّه بصري حتّى النخاع، ومن قائل: لا، فالرجل كوفيٌّ جَلْدٌ، ومن جانح إلى أنّه بغداديٌّ من مَفْرِق رأسه وحتى أخْمَصِ قدميه.
ومهما يكن من أمر، فإنّه ينبغي ألَّا يسارع أحد بالحكم على العكبري ونسبته إلى مدرسة بعينها؛ وما ذلك إِلَّا لأنّ الرَّجل كان في عصر امتازت فيه ملامح كلّ من المدرستين البصرية والكوفية، كما أنّه قد اصطنع بعض القوم مذهبًا لنفسه منتقيًا من نحو المدرستين البارزتين، وذلك ما أطلق عليه بعد: "المدرسة البغدادية"، وكان رائدها أبو علي الفارسي، وتبعه تلميذه أبو الفتح عثمان بن جني.
وإن كان لإخراج العكبري من المدرسة البصرية وإدخاله في مدرسة بغداد بعض ما يسوغه، فليس لسلكه في سلك الكوفيين مسوغ واحد (1)، على حد تعبير الدكتور غازي مختار طليمات.
والعكبري - بعد طول النظر - في غالب أحواله بصريٌّ، تأثر بإمام النحاة في كثير من كلامه؛ فهو يشير في كتاب "التبيان" إلى سيبويه حوالي أربعين مرّة، إِلَّا أنّه - مع ذلك - يختار في بعض الأحيان مذهب الكوفيين؛ فمثلًا في "إتحاف الحثيث" الّذي معنا، يختار مذهب الكوفيين في أن "مِنْ" تستعمل لابتداء غاية الزّمان كما
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যু:আবু আল-বাকা —আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন— ৬১৬ হিজরী সনের রবিউস সানি মাসের আঠারো তারিখ রবিবার দিবাগত রাতে 'বাগদাদে' ইন্তেকাল করেন। তাঁকে বাব-ই হারব গোরস্থানে দাফন করা হয়, যেখানে ইমাম আহমাদ —আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন— সমাহিত আছেন।
তাঁর ব্যাকরণগত মাযহাব:ব্যক্তি হিসেবে তিনি ফুরু তথা শাখা বিধানের ক্ষেত্রে হাম্বলী ছিলেন। তবে তাঁর নাহু বা ব্যাকরণগত মাযহাব নিয়ে আলোচনার পরিধি বেশ বিস্তৃত ও শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত। কেউ বলেন: তিনি হাড়মজ্জা পর্যন্ত একজন বসরী। আবার কেউ বলেন: না, বরং তিনি একজন কট্টর কুফী। আবার কারো ঝোঁক এই যে, তিনি মাথার সিঁথি থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত একজন বাগদাদী।
পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, কারো উচিত হবে না আল-উকবারীর বিষয়ে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া এবং তাঁকে নির্দিষ্ট কোনো একটি ধারার দিকে সম্বন্ধ করা। এর কারণ হলো, তিনি এমন এক যুগে ছিলেন যখন বসরী ও কুফী উভয় ধারার বৈশিষ্ট্যগুলো সুস্পষ্ট ছিল। তদুপরি, কিছু লোক দুই প্রসিদ্ধ ধারার ব্যাকরণ থেকে পছন্দসই বিষয়গুলো গ্রহণ করে নিজেদের জন্য একটি স্বতন্ত্র মাযহাব তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে 'বাগদাদী ধারা' হিসেবে পরিচিতি পায়। এর অগ্রপথিক ছিলেন আবু আলী আল-ফারিসী এবং তাঁর অনুসরণ করেছিলেন তাঁর ছাত্র আবু আল-ফাতহ উসমান ইবনে জিন্নি।
ডক্টর গাজী মুখতার তুলয়মাতের বক্তব্য অনুযায়ী, আল-উকবারীকে বসরী ধারা থেকে বের করে বাগদাদী ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার যদি কিছু যৌক্তিকতা থাকেও, তবে তাঁকে কুফীদের ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো একটি যুক্তিও নেই (১)।
দীর্ঘ পর্যালোচনার পর প্রতীয়মান হয় যে, আল-উকবারী তাঁর অধিকাংশ অবস্থায় বসরী। তিনি তাঁর অনেক বক্তব্যে ইমামুন নুহাত (ব্যাকরণবিদদের ইমাম)-এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। তিনি তাঁর 'আত-তিবইয়ান' গ্রন্থে প্রায় চল্লিশ বার সীবওয়াই-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তা সত্ত্বেও, তিনি মাঝেমধ্যে কুফীদের মাযহাবও বেছে নেন। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের নিকট উপস্থিত 'ইতহাফুল হাসিছ' গ্রন্থে তিনি কুফীদের এই মাযহাবটি গ্রহণ করেছেন যে, 'মিন' অব্যয়টি সময়ের সীমার শুরুর জন্য ব্যবহৃত হয় যেমন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تستعمل في المكان؛ يقول:
"ودخول "من" لابتداء غاية الزّمان جائز عند الكوفيين، ومنعه أكثر البصريين، والأقوى عندي مذهب الكوفيين .. ".
كما أنّه استعمل - في بعض الأحيان - مصطلحات الفراء، فسمى البدل "تكريرًا" كما كان يسميه الفراء، وعبر العكبري عن المبني للمجهول بقوله: المبني لما لم يسم فاعله.
"إِلَّا أن العكبري لم يرتض - كما فعل مع البصريين - كلّ ما قاله الفراء؛ فقد رد عليه في مواطن بتضعيف آرائه. ومن ذلك رده ما ذهب إليه الفراء من جواز وقوع المعرفة تمييزًا في مثل قوله عز وجل: {وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ
نَفْسَهُ} [البقرة: 130]، فيقول: إن "نفسه" مفعول سفه"؛ لأنّ معناه "جهل"، تقديره: إِلَّا من جهل خلق نفسه أو مصيرها. وقال الفراء: هو تمييز. ثمّ يعقب العكبري قائلًا: وهو ضعيف؛ لكونه معرفة.
كما أبطل ما ذهب إليه من إعراب الكاف في "أرأيتك" اسمًا مضمرًا منصوبًا في معنى المرفوع، وأثبت أنّها حرف للخطاب وليس اسمًا" (1).
وأمّا ما نسب إليه من البغدادية، فالحق أنّه لم يكن كذلك، "وإنّما كان يتكئ على آراء البغداديين في ترجيح آراء البصريين" (2)، غير أنّه كان يأخذ بقول ابن جني في بعض المسائل، ويضرب بقول جمهور النحاة عرض الحائط؛ انظر إليه حين يقول:
"إن الضمة والفتحة والكسرة علامة الإعراب، وليست الإعراب، وهو
--------------------------------------------
স্থানে ব্যবহৃত হয়; তিনি বলেন:
"সময়ের সীমার সূচনার জন্য 'মিন' এর ব্যবহার কুফীগণের নিকট জায়েয, তবে অধিকাংশ বসরীগণ একে নিষিদ্ধ করেছেন; আমার নিকট কুফীগণের মাযহাবই অধিক শক্তিশালী..."
তেমনিভাবে তিনি ক্ষেত্রবিশেষে আল-ফাররার পরিভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি 'বদল'-কে 'তাকরীর' (পুনরাবৃত্তি) নামে অভিহিত করেছেন যেমনটি আল-ফাররা করতেন। আল-উতবারী প্যাসিভ ভয়েসকে (মাবনি লিল মাজহুল) 'যার কর্তা অনুল্লিখিত' (মাবনি লিমা লাম ইউসাম্মা ফাউলুহু) বলে ব্যক্ত করেছেন।
তবে আল-উতবারী বসরীগণের সাথে যেমন করেছেন, তেমনি আল-ফাররার প্রতিটি কথাকেও পছন্দ করেননি; বরং তিনি বিভিন্ন স্থানে তার মতামতের দুর্বলতা তুলে ধরে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো আল-ফাররার সেই মতের প্রত্যাখ্যান যাতে তিনি 'তামীজ' হিসেবে 'মারেফা' (নির্দিষ্ট বিশেষ্য) হওয়া জায়েয বলেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর ইবরাহীমের মিল্লাত থেকে কে মুখ ফিরিয়ে নেয় সে ব্যতীত যে নিজেকে নির্বোধ বানিয়েছে} [বাকারা: ১৩০]। এখানে তিনি (আল-উতবারী) বলেন: 'নাফসাহু' শব্দটি 'সাফিহা' এর মাফউল (কর্ম); কারণ এর অর্থ হলো 'জাহালা' (অজ্ঞ হওয়া), এর নিহিতার্থ হলো: যে ব্যক্তি তার নিজের সৃষ্টি বা পরিণতি সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেছে। আর আল-ফাররা বলেছেন: এটি তামীজ। এরপর আল-উতবারী মন্তব্য করেন: এটি দুর্বল; কারণ এটি একটি মারেফা (নির্দিষ্ট বিশেষ্য)।
তেমনিভাবে তিনি 'আরায়তাকা' শব্দে 'কাফ'-কে মারফুর অর্থে মানসুব যমীর (সর্বনাম) হিসেবে গণ্য করার মতটিকে বাতিল করে দিয়েছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে এটি সম্বোধনের একটি হরফ (বর্ণ), কোনো ইসম (বিশেষ্য) নয় (১)।
আর তার দিকে বাগদাদী মাযহাবের যে সম্পৃক্ততা করা হয়, প্রকৃত সত্য হলো তিনি সেরকম ছিলেন না। "বরং তিনি বসরীগণের মতকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বাগদাদীদের মতামতের ওপর নির্ভর করতেন" (২)। তবে তিনি কিছু মাসআলায় ইবনে জিন্নি-র মত গ্রহণ করতেন এবং জুমহুর (অধিকাংশ) নাহুবিদদের মতকে বর্জন করতেন; দেখুন তিনি যখন বলেন:
"নিশ্চয়ই যম্মাহ, ফাতহাহ এবং কাসরা হলো ইরাবের চিহ্ন, স্বয়ং ইরাব নয়, এবং তা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الصّحيح". وهو رأي ابن جني في "اللمع"، بل يقول - أيضًا - في كتابه "مسائل خلافية": "هو رأي أكثرهم، وليس مختارًا عندي".
وقد جوز فى قول الكميت:
.....................
… .......................... إِلَّا أوارىَّ
أن يروى جرًّا؛ قال البغدادي (خزانة الأدب 2/ 168): "وهذا ممنوع عند البصريين جائز عند الكسائي وأبي البقاء في شرح الإيضاح. وهذا رأيه أيضًا في "المتبع في شرح اللمع" (1).
وقال الشّيخ خالد الأزهري في "التصريح" (2):
"ووقع في شرح لمع ابن جِنِّي لأبي البقاء: ومن المسموح: عندي قفيزان شعيرًا؛ لأنّ القفيز عبارة عن ضرب قصبة في عشر قصبات في عرف الحساب، وهو عشر الجريب. ولم أره لغيره.".
وبعد فإني أتساءل: ألم يكن الرَّجل يفتي في تسعة فنون من العلم؟ ألم يكن فقيهًا حنبليًّا؟ ! فإن كان ذلك - ولا شك - فلم لا يجوز لمثله أن تكون له درجة الاجتهاد الّتي تخول له أن ينتقي مع احتفاظه بانتسابه - في الجملة - إلى مذهب المدرسة البصرية؟ سيما وقد علم عند الأصوليين أن هناك من يسمى بـ "مجتهد المذهب" و"المجتهد المطلق"، فالعكبري لم يكن مقلدًا على طول الخط، وإنّما كان له من الاجتهاد نصيب، وَحُقَّ له ذلك.
وأمّا كونه يأخذ بقول لأبي عليًّ الفارسي في مسألة، ولابن جني في أخرى، وللكوفيين في ثالثة، فهذا لا يعني أن الرَّجل كان بغداديًّا، وإنّما غاية
--------------------------------------------
সঠিক"। এটি "আল-লুমা" গ্রন্থে ইবন জিননির অভিমত, বরং তিনি তাঁর "মাসাইল খিলাফিয়্যাহ" গ্রন্থেও বলেছেন: "এটি তাদের অধিকাংশের অভিমত, তবে আমার নিকট এটি গ্রহণযোগ্য নয়।"
তিনি আল-কুমাইতের এই উক্তিতে বৈধতা দিয়েছেন:
.....................
… .......................... ইল্লা আওয়ারীয়া (আস্তাবলের খুঁটি ব্যতীত)
যেখানে যের (জার) দিয়ে পড়ার বর্ণনা রয়েছে; বাগদাদি বলেছেন (খিজানাতুল আদাব ২/ ১৬৮): "বসরীয়দের নিকট এটি নিষিদ্ধ, তবে আল-কিসায়ি এবং 'শারহুল ইদাহ' গ্রন্থে আবু আল-বাকা এটি বৈধ বলেছেন। আর 'আল-মুত্তাবি ফি শারহিল লুমা' গ্রন্থেও এটিই তাঁর অভিমত" (১)।
শেখ খালিদ আল-আযহারি "আত-তাসরিহ" (২) গ্রন্থে বলেছেন:
"আবু আল-বাকা কর্তৃক ইবন জিননির 'লুমা'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এসেছে: যা অনুমোদিত তার মধ্যে রয়েছে: 'আমার নিকট দুই কাফিজ যব রয়েছে'; কারণ হিসাব বিজ্ঞানের পরিভাষায় 'কাফিজ' বলতে একটি কাঠিকে দশটি কাঠিতে গুণ করা বোঝায়, যা এক জারিবের দশমাংশ। আমি এটি অন্য কারো কাছে দেখিনি।"
অতঃপর আমি প্রশ্ন করি: এই ব্যক্তি কি জ্ঞানের নয়টি শাখায় ফতোয়া দিতেন না? তিনি কি একজন হাম্বলি ফকিহ ছিলেন না?! যদি তাই হয় - আর এতে কোনো সন্দেহ নেই - তবে তাঁর মতো ব্যক্তির জন্য কেন ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানো বৈধ হবে না, যা তাকে বসরী ঘরানার মাযহাবের সাথে সামগ্রিকভাবে সম্পৃক্ত থেকেও নিজস্ব চয়ন করার অধিকার দান করে? বিশেষ করে উসুলবিদদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, সেখানে 'মুজতাহিদে মাযহাব' এবং 'মুজতাহিদে মুতলাক' নামে স্তর রয়েছে; ফলে আল-উকবারী সবক্ষেত্রে অন্ধ অনুসারী (মুকাল্লিদ) ছিলেন না, বরং ইজতিহাদে তাঁর অংশ ছিল এবং এটিই ছিল তাঁর জন্য যথাযথ।
আর কোনো মাসআলায় আবু আলী আল-ফারিসির অভিমত গ্রহণ করা, অন্যটিতে ইবন জিননির এবং তৃতীয়টিতে কুফিদের কথা গ্রহণ করার অর্থ এই নয় যে লোকটি বাগদাদী ছিলেন, বরং এর চূড়ান্ত রূপ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল হাসিস বি-ইরাবি মা ইউশকালু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأمر أنّه كان ينتقي ما يراه صوابًا دون تعسفٍ أو تعصب لأحد على أحد (1)
* * *
--------------------------------------------
বিষয়টি এমন ছিল যে, তিনি যা সঠিক মনে করতেন তা-ই বেছে নিতেন, কোনো প্রকার জোর জবরদস্তি বা কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে (১)
* * *
--------------------------------------------