(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: -)
فقه الأولويات في الخطاب السلفي المعاصر بعد الثورة القسم: كتب عامة
الكتاب: فقه الأولويات في الخطاب السلفي المعاصر بعد الثورة
المؤلف: محمد يسري إبراهيم حسين
الناشر: دار اليسر للنشر والتوزيع، مصر
الطبعة: الثانية، 1433 هـ - 2012 م
عدد الصفحات: 202
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 رجب 1436
বিপ্লব-পরবর্তী সমসাময়িক সালাফি বক্তব্যে অগ্রাধিকারের ফিকহ বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: বিপ্লব-পরবর্তী সমসাময়িক সালাফি বক্তব্যে অগ্রাধিকারের ফিকহ
লেখক: মুহাম্মদ ইউসরি ইব্রাহিম হুসাইন
প্রকাশক: দারুল ইউসর পাবলিকেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ রজব ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: -)
فقه الأولويات
في الخطاب السلفي المعاصر بعد الثورة
تأليف
د. محمد يسري إبراهيم
الأمين العام للهيئة الشرعية للحقوق والإصلاح
دار اليسر
অগ্রাধিকারের ফিকহ (فقه الأولويات)
বিপ্লবোত্তর সমকালীন সালাফি ডিসকোর্সে
রচনায়
ড. মুহাম্মাদ ইউসরি ইব্রাহিম
অধিকার ও সংস্কার বিষয়ক শরয়ি কমিশনের মহাসচিব
দারুল ইউসর
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
الطبعة الثانية 1433 هـ - 2012 م
دار الكتب المصرية
فهرسة أثناء النشر إعداد الشئون الفنية
إبراهيم، محمد يسري.
فقه الأولويات في الخطاب السلفي المعاصر بعد الثورة
محمد يسري إبراهيم
القاهرة، دار اليسر 2012م
ص، 17سم × 24 سم.
تدمك 9789775102188
1 - الإسلام - دعوات سلفية - مصر
2 - السلفيون (دعاة)
أ- العنوان
دار اليسر
عضو اتحاد الناشرين المصريين
رقم الإيداع
7888/ 2012
ترقيم دولي
8 - 18 - 5102 - 977 - 978
فقه الأولويات
في الخطاب السلفي المعاصر بعد الثورة
دار اليسر للنشر والتوزيع غير مسئولة عن آراء وأفكار وإنما يعبر الكتاب عن آراء مؤلفه، يمنع نسخ أو استعمال أي جزء من هذا الكتاب بأية وسيلة تصويرية أو إليكترونية أو ميكانيكية، ويشمل ذلك التصوير الفوتوغرافي والتسجيل على أشرطة أو أقراص مضغوطة أو استخدام أية وسيلة نشر أخرى، بما في ذلك حفظ المعلومات واسترجاعها، دون إذن خطي من الناشر
20 ش عبد العزيز عيسى، المنطقة التاسعة
الحي الثامن، مدينة نصر، القاهرة.
تليفون: 0020224709269
فاكس: 0020224714801
محمول: 00201062276208
خدمة العملاء: 00201118006060
Email:alyousr@gmail.com
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সর্বস্বত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত
দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ
প্রকাশনা-কালীন ক্যাটালগিং প্রযুক্তিগত বিষয়াবলি বিভাগ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত
ইব্রাহিম, মুহাম্মদ ইউসরি।
বিপ্লব-পরবর্তী সমকালীন সালাফি (سلفي) বক্তব্যে অগ্রাধিকারের ফিকহ (فقه)
মুহাম্মদ ইউসরি ইব্রাহিম
কায়রো, দারুল ইউসর ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা, ১৭ সে.মি. × ২৪ সে.মি.
আইএসবিএন (تدمك) ৯৭৮৯৭৭৫১০২১৮৮
১ - ইসলাম - সালাফি (سلفية) দাওয়াতসমূহ - মিশর
২ - সালাফিগণ (আহ্বায়ক (دعاة))
ক- শিরোনাম
দারুল ইউসর
মিশরীয় প্রকাশক সমিতির সদস্য
জমাকরণ নম্বর
৭৮৮৮/ ২০১২
আন্তর্জাতিক মান সংখ্যা (ترقيم دولي)
৮ - ১৮ - ৫১০২ - ৯৭৭ - ৯৭৮
অগ্রাধিকারের ফিকহ (فقه)
বিপ্লব-পরবর্তী সমকালীন সালাফি (سلفي) বক্তব্যে
দারুল ইউসর প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা বইটির মতামত ও চিন্তাধারার জন্য দায়ী নয়, বরং বইটি কেবল তার লেখকের মতামতের প্রতিফলন ঘটায়। প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে এই বইয়ের কোনো অংশ কোনো প্রকার আলোকচিত্রীয়, ইলেকট্রনিক বা যান্ত্রিক উপায়ে অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ; এর অন্তর্ভুক্ত হলো আলোকচিত্র ধারণ, টেপ বা সিডিতে ধারণ করা অথবা অন্য কোনো প্রকাশনা পদ্ধতি ব্যবহার করা, যার মধ্যে তথ্য সংরক্ষণ ও পুনরদ্ধার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
২০ আব্দুল আজিজ ঈসা স্ট্রিট, নবম অঞ্চল
অষ্টম জেলা, নাসর সিটি, কায়রো।
টেলিফোন: 0020224709269
ফ্যাক্স: 0020224714801
মোবাইল: 00201062276208
গ্রাহক সেবা: 00201118006060
Email:alyousr@gmail.com
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةالحمد لله، وصلى الله وسلم وبارك على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن اتَّبع هداه، أما بعد:
فإن الحديث عن التيار السلفي المعاصر قد غدا بعد الثورات العربية شأنًا مهمًّا يفرض نفسه على مجالس الناس، ووسائل الإعلام في العالم بأسره، وهو حديث عن تيار متنامٍ ومترامي الأطراف، ومتعدد الصور والتجليات، ومتنوع المواقف والاجتهادات، وهذا الثَّراء يزيد من صعوبة دراسة أو بحث هذا التيار بجملته، وربما يَحُولُ هذا الاتِّساعُ دون توجيه خطاب واحد إلى مدارسه المختلفة، أو يمنعُ دون تعميمِ حكمٍ على إيجابياتٍ تُنسَبُ له، أو سلبياتٍ تُدَّعى في حقِّه! ومهما يكن من أمر فإن النقد الذاتيَّ، والنصح الداخلي للخطاب السلفي المعاصر في اللحظة الراهنة يُمَثِّلُ تسديدًا واجبًا، ودعمًا حقيقيًّا، لا يصح تجاهله، أو التشاغل عنه بحال، ومما يطرح هذا
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রাসূলের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবৃন্দ ও তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসারীদের ওপরও। অতঃপর:
নিশ্চয়ই সমসাময়িক সালাফি ধারা সম্পর্কে আলোচনা আরব বিপ্লবসমূহের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা সমগ্র বিশ্বের মানুষের মজলিস এবং গণমাধ্যমগুলোতে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। এটি এমন এক ক্রমবর্ধমান ও সুদূরপ্রসারী ধারা সম্পর্কে আলোচনা, যার রূপ ও বহিঃপ্রকাশ বহুমুখী এবং যার অবস্থান ও ইজতিহাদসমূহ বৈচিত্র্যময়। এই বৈচিত্র্য এই ধারাটিকে সামগ্রিকভাবে অধ্যয়ন বা গবেষণা করাকে কঠিন করে তোলে। সম্ভবত এই ব্যাপকতাই এর বিভিন্ন ঘরানাগুলোর প্রতি একক কোনো বার্তা বা সম্বোধন করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, অথবা এর সাথে সংশ্লিষ্ট ইতিবাচক দিক বা এর প্রতি আরোপিত নেতিবাচক দিকগুলোর ওপর ঢালাও কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, বর্তমান মুহূর্তে সমসাময়িক সালাফি চিন্তাধারার আত্ম-সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ নসিহত একটি আবশ্যিক সঠিক পদক্ষেপ এবং প্রকৃত সমর্থন হিসেবে গণ্য, যা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা বা এ থেকে বিমুখ থাকা সমীচীন নয়। আর যা এই বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে...
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
العملَ ويدعو إليه - الآن بقوةٍ - تدشينُ حربٍ عالمية على السلفية في كل صِقْعٍ ومِصرٍ، بعد أحداثِ الحادي عشر من سبتمبر 2001م، وهي حرب عالمية أيديولوجية ومسلكية في آنٍ واحد، وليس لها من سبب ظاهر إلا أن الجماعات والطوائف والرموز السلفيَّة "يهدفون إلى تطبيق الشريعة الإِسلامية! وينادُون بأن الإِسلام دينٌ ودولةٌ! " (1).
وقد استعملت في هذه الحرب ترسانةٌ من أسلحة التشويه والتشويش والتعويق والتشهير والمحاصرة والتضييق، حتى إذا أُحْكِمَتِ القبضةُ وظَنَّ الغربُ وحلفاؤهم في الداخل أنهم قادرون على الضربة القاضية انطلقَتِ الثوراتُ العربيةُ بإذن ربها! فَدَمَّرَتِ الإفكَ المفترى! وحطَّمَتْ أغلالَ الظلم والطغيان! وقيودَ الفسادِ والاستبدادِ! ووقف كثيرون مَشْدُوهِينَ أو ذاهلينَ واجمينَ! وهم يرقبون صعودَ القوى السلفيَّةِ التي تمالَؤُا عليها، وتقاسموا على تبييتها وأربابِهَا في ظل صمتٍ رهيبٍ فُرِضَ على الشعوب فَرْضًا! ومع أن المدَّ السلفيَّ قد أصبح حقيقةً واقعة، وظهر مشروعٌ سياسيٌّ لهذا التيار - وفي مصر تحديدًا - ليلحق بقاطرة الممارسة السلفية السياسية في الكويت والبحرين وغيرهما فإن الاجتماع على مراجعة الخطاب السلفي لتقويته من جهة، وتحريره من الملحوظات عليه من جهة أخرى يُعْتَبَرُ أولويةً حاضرةً الآن أمام المنتسبين إليه، والمحبين له على حدٍّ سواءٍ.
--------------------------------------------
বর্তমানে সলাফি মানহাজের বিরুদ্ধে—প্রতিটি প্রান্ত ও জনপদে—একটি বিশ্বযুদ্ধ শুরুর প্রক্রিয়া অত্যন্ত জোরালোভাবে সক্রিয় রয়েছে এবং বর্তমানে এর দিকেই আহ্বান জানানো হচ্ছে; বিশেষ করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাবলির পর থেকে। এটি একই সাথে একটি আদর্শিক ও আচরণগত বিশ্বযুদ্ধ। এর নেপথ্যে কোনো প্রকাশ্য কারণ নেই, কেবল এটি ছাড়া যে—সলাফি গোষ্ঠী, সম্প্রদায় ও নেতৃবৃন্দ "ইসলামি শরিয়াহ বাস্তবায়নের লক্ষ্য পোষণ করে! এবং তারা উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা দেয় যে, ইসলাম হলো দ্বীন ও রাষ্ট্র (উভয়ের সমন্বয়)!" (১)।
এই যুদ্ধে বিকৃতি, বিভ্রান্তি সৃষ্টি, প্রতিবন্ধকতা, অপপ্রচার, অবরোধ ও সংকীর্ণতা তৈরির এক বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি যখন বজ্রমুষ্টি সুদৃঢ় হলো এবং পশ্চিমারা ও তাদের অভ্যন্তরীণ মিত্ররা মনে করল যে তারা চূড়ান্ত আঘাত হানতে সক্ষম, তখনই তাদের রবের নির্দেশে আরব বিপ্লবসমূহ শুরু হলো! তা বানোয়াট অপবাদসমূহকে ধ্বংস করে দিল! চূর্ণ করে দিল জুলুম ও অবাধ্যতার শৃঙ্খল! এবং দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের নিগড়! অনেকে তখন বিস্ময়বিমূঢ় বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বিমর্ষ চিত্তে দাঁড়িয়ে রইল! তারা নিবিড়ভাবে সলাফি শক্তির উত্থান পর্যবেক্ষণ করছিল, যাদের বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল এবং যাদেরকে ও তাদের নেতৃবৃন্দকে রাতারাতি নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেছিল এমন এক ভয়াবহ নিস্তব্ধতার মাঝে যা জনগণের ওপর বলপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল! যদিও সলাফি জোয়ার এখন একটি বাস্তব সত্যে পরিণত হয়েছে এবং এই ধারার একটি রাজনৈতিক প্রকল্প দৃশ্যমান হয়েছে—বিশেষ করে মিসরে—যাতে তা কুয়েত, বাহরাইন ও অন্যান্য স্থানের সলাফি রাজনৈতিক অনুশীলনের ধারার সাথে যুক্ত হতে পারে; তবুও একদিকে সলাফি দাওয়াহ বা বক্তব্যকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এর পর্যালোচনা করা এবং অন্যদিকে এর ওপর বিদ্যমান পর্যবেক্ষণসমূহ থেকে একে মুক্ত করা এখন এই মানহাজের অনুসারী এবং অনুরাগী—উভয়ের কাছেই একটি বর্তমান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
على أن عين المراقب لا تخطئ - بَعْدَ هذه الثورات العربية - أن طائفة من الشباب المنتسب إلى هذا التيار في أرجاء العالم العربي والإِسلامي يَجهرُ اليومَ بما كان يَهْمِسُ به أمسِ، وَيستعلِنُ الآنَ بما كان يُخفيه قبل آنٍ!
وبغض النظر عن صحة تلك الآراء والمواقف من عدمها؛ فإن هذه النظرات النقدية تحتاج إلى فحصٍ وتمحيصٍ، وتعامُلٍ بمنهجٍ سديدٍ ووعيٍ شديدٍ، وليتأتَّى من وراء ذلك الترشيد! وما من شكٍّ في أن ضَغْطَ القاعدة الشبابية اليوم للتطوير والتغيير بإيقاعٍ سريع متلاحِقٍ قد ينطوي على مخاطرة أو مغامرة - ولو في بعض المواقع على الأقل - كما أن التثاقل في الاستجابة الواعية للمطالب قد يُفضي إلى استفحالِ المثالبِ، أو إلى خسارةٍ فادحةٍ في القواعد! ومن هنا انطلقت هذه الدراسة المعاصرة؛ لتفتح بابًا إلى المناصحة والمراجعة، ولتأخذ بزمام المبادرة في وضع هذه الملحوظات على سُلَّمِ الأولوياتِ الحاضرةِ في اللحظة الراهنة، بما يُرجَى معه أن تتنبه قياداتُ العمل السلفي المعاصر في كل ميدان قبل أن تخسر بعضَ أبنائها، أو يتساقطَ في الطريق بعضُ رُوَّادِها، أو تفوتها فرصة سانحة لتحقيق أهدافها.
وعليه؛ فإن التيارَ السلفيَّ المعاصر مدعوٌّ اليوم - وفي ظل هذه الملحوظات - إلى أن يعيد تطويرَ نفسِهِ، وأن يجدِّدَ في أساليبه وطَرْحِهِ، وأن يسعى بجهده إلى أن يحدِّدَ مواقفَ أكثرَ وضوحًا وتفصيلًا، في قضايا كان الموقف منها مجملًا أحيانًا، ومترددًا أحيانًا أخرى!! كما يُرْجَى - في خاتمة المطاف - أن يخرج التيار السلفي من
তবে একজন পর্যবেক্ষকের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এটি এড়াবে না যে—এই আরব বিপ্লবগুলোর পর—আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এই ধারার অনুসারী একদল যুবক আজ তা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করছে যা তারা গতকাল চুপিচুপি বলত, এবং তারা এখন তা প্রকাশ করছে যা তারা ইতিপূর্বে গোপন রাখত!
সেই সকল মতামত ও অবস্থানের সঠিকতা (صحيح) বা অসারতা যা-ই হোক না কেন; এই সমালোচনামূলক (نقد) দৃষ্টিভঙ্গিগুলোর গভীর পরীক্ষা ও সূক্ষ্ম যাচাই প্রয়োজন। একইসাথে প্রয়োজন একটি সঠিক পদ্ধতি (منهج) ও গভীর সচেতনতার সাথে এর মোকাবিলা করা, যাতে এর মাধ্যমে সংস্কার ও সঠিক পথনির্দেশনা নিশ্চিত হয়! এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য বর্তমান যুবসমাজের দ্রুত ও বিরামহীন চাপের মাঝে ঝুঁকি বা হঠকারিতা নিহিত থাকতে পারে—অন্তত কিছু ক্ষেত্রে তো বটেই। তেমনিভাবে, দাবিগুলোর প্রতি সচেতন সাড়া প্রদানে অলসতা বা বিলম্ব ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোকে আরও প্রকট করে তুলতে পারে, কিংবা তৃণমূল পর্যায়ে অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে! আর এই প্রেক্ষাপট থেকেই সমকালীন এই গবেষণার সূত্রপাত; যেন তা পারস্পরিক নসিহত ও পর্যালোচনার দ্বার উন্মোচন করে এবং এই পর্যবেক্ষণগুলোকে বর্তমান মুহূর্তের অগ্রাধিকার তালিকায় স্থান দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে আশা করা যায় যে, সমকালীন সালাফি কর্মতৎপরতার প্রতিটি ক্ষেত্রের নেতৃত্ব সচেতন হবে—তাদের সন্তানদের হারানোর আগে, কিংবা পথিমধ্যে কিছু অগ্রপথিকের ঝরে পড়ার আগে, অথবা তাদের লক্ষ্য অর্জনের কোনো সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আগে।
পরিশেষে, সমকালীন সালাফি ধারা আজ—এই পর্যবেক্ষণগুলোর আলোকে—নিজেদের আরও উন্নত করতে, কর্মপদ্ধতি ও উপস্থাপনায় নতুনত্ব আনতে এবং সেই সকল বিষয়ে আরও স্পষ্ট ও বিস্তারিত অবস্থান গ্রহণ করতে সচেষ্ট হতে আহ্বান জানানো হচ্ছে, যে সকল বিষয়ে ইতিপূর্বে তাদের অবস্থান কখনো সংক্ষিপ্ত (مجمل) ছিল, আবার কখনো ছিল দ্বিধাগ্রস্ত!! তেমনিভাবে—পরিশেষে—আশা করা যায় যে, সালাফি ধারাটি যেন বের হয়ে আসতে পারে...
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
حالة الانقسام إلى حال الاجتماع والوئام، وأن يَبْرُزَ كيانٌ عالمي يمثل هذا التيارَ، وينسق بين مجموعاته وجمعياته بما يمهد لقيام مرجعية سلفية عالمية، تَضبِطُ الاجتهاداتِ، وتتدارك الملحوظاتِ، وتُسدد المسيرةَ، وتُصحح الأخطاءَ الإداريةَ والمنهجيةَ التي تَصدر من بعض التجمعات السلفية هنا أو هناك، كما يَسعى لحلِّ الخلافاتِ السلفية، وإيجادِ المخارجِ الشرعية للمشاكلِ والنوازِل الاقتصادية والسياسية والاجتماعيةِ المُحْدِقَةِ بمجتمعات المسلمين اليوم، لا سيما بعد ارتفاعِ سقفِ الحرية، وسقوطِ الأنظمةِ الديكتاتورية، وهذا بدوره يُمهد إلى الخروج من ضِيقِ التحَزُّباتِ الجزئية إلى سَعَةِ الأمة الجامعة، ويعين على الانتقال من انتماء الوسائل إلى انتماء الغايات، قال تعالى: {إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 92].
وبناءً على ما سبق فقد جاءت هذه الدراسةُ معتمِدَةً منهجًا توصيفيًّا، وخطابًا نقديًّا للحالة السلفية الراهنة - في مصرَ خاصة، وفي الوطن الإِسلامي عامة - ثم تفكيرًا ارتياديًّا للخروج من تلك المضايق، بوضع أولويات الخطاب السلفي المعاصر أمام أهله ورواده اليوم.
وقد اكتملت هذه الدراسة عبر فصولٍ أربعةٍ، تناول الأوّل منها: مفهوم الخطاب السلفي المعاصر، وتناول الثاني: لماذا الحديث عن أولويات الخطاب السلفي؟، فيما بحث الفصل الثالث: مشكلات الخطاب السلفي وعوائقه، وانتهى الفصل الرابع والأخير إلى تقديم أولويات متعددة المجالات، ومتنوعة
বিভক্তি ও অনৈক্যের অবস্থা থেকে ঐক্য ও সম্প্রীতির অবস্থায় রূপান্তর এবং এই আদর্শের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বৈশ্বিক সত্তার আত্মপ্রকাশ ঘটানো, যা এর বিভিন্ন দল ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে। এটি একটি বৈশ্বিক সালাফি মারজা’িয়্যাত (مرجعية) বা নির্দেশনা কেন্দ্র গঠনের পথ প্রশস্ত করবে, যা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তসমূহ (الاجتهادات) নিয়ন্ত্রণ করবে, পর্যবেক্ষণসমূহ পর্যালোচনা করবে, কর্মপন্থাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে এবং এখানে-সেখানে কিছু সালাফি সংগঠনের পক্ষ থেকে সংঘটিত প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত (المنهجية) ভুলগুলো সংশোধন করবে। পাশাপাশি এটি সালাফিদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিরসনে সচেষ্ট হবে এবং বর্তমান মুসলিম সমাজকে ঘিরে থাকা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা ও উদ্ভূত পরিস্থিতিগুলোর (النوازل) শরয়ী সমাধান খুঁজে বের করবে; বিশেষ করে স্বাধীনতার পরিসর বৃদ্ধি এবং স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পতনের প্রেক্ষাপটে। এটি আংশিক উপদলীয়তার (التحزبات) সংকীর্ণতা থেকে উম্মাহর সামগ্রিক বিশালতার দিকে বেরিয়ে আসার পথ প্রশস্ত করবে এবং উপকরণের প্রতি সম্পৃক্ততার পরিবর্তে লক্ষ্যের প্রতি সম্পৃক্ততার দিকে উত্তরণে সহায়তা করবে। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো।" [আল-আম্বিয়া: ৯২]।
উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে, এই গবেষণাটি বর্তমান সালাফি পরিস্থিতির—বিশেষ করে মিশরে এবং সাধারণভাবে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে—একটি বর্ণনামূলক পদ্ধতি (منهجًا توصيفيًّا) ও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। অতঃপর সেই সংকটগুলো থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অগ্রগামী চিন্তাধারা পেশ করা হয়েছে, যেখানে সমকালীন সালাফি আদর্শিক আহ্বানের (الخطاب) অগ্রাধিকারসমূহ এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নেতৃবৃন্দের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই গবেষণাটি মোট চারটি অধ্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে; প্রথম অধ্যায়ে সমকালীন সালাফি আদর্শিক আহ্বানের (الخطاب) ধারণা আলোচিত হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে: কেন সালাফি আদর্শিক আহ্বানের (الخطاب) অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন? তৃতীয় অধ্যায়ে সালাফি আদর্শিক আহ্বানের (الخطاب) সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে এবং চতুর্থ ও শেষ অধ্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় অগ্রাধিকারসমূহ উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
التخصصات والسمات؛ ليدخل من خلالها التيارُ السلفيُّ إلى مرحلةٍ تاريخيَّةٍ بالغةِ الخطورةِ في إثبات جدارتهِ وأهليته للقيادةِ والريادةِ، وحملِ التبعة، والقيامِ بالأمانة في هذه الأمة.
وَفَّقَ اللهُ تعالى الدعاةَ الحداةَ، والعلماءَ الهداةَ من كلِّ اتجاهٍ لإقامة ديينا، وتَرْكِ التفرُّقِ في مِلَّتِنا، وجَمَعَ على الحقِّ كلمتَنا، وهدَى مسيرتَنَا، وسَدَّدَ أعمالنا، وأعانَ على ذكره وشكره وحسنِ عبادته، وجَعَلنا وأمتنا الحبيبة أهلًا للنصر والتمكين، إنه أكرمُ الأكرمين، وأرحمُ الراحمين، والحمدُ لله ربِّ العالمين.
وكتبه
د. محمد يسري إبراهيم
الأمين العام للهيئة الشرعية للحقوق والإصلاح
القاهرة: الاثنين 2/ 6/ 1433 هـ
الموافق 23/ 4/ 12012 م
বিশেষায়িত ক্ষেত্র ও বৈশিষ্ট্যসমূহ; যার মাধ্যমে সালাফি ধারা এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ঐতিহাসিক পর্যায়ে প্রবেশ করবে, যেখানে তারা এই উম্মতের নেতৃত্ব ও পথপ্রদর্শনের যোগ্যতা এবং অর্পিত আমানত ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা প্রমাণ করবে।
আল্লাহ তাআলা সকল মতাদর্শের অগ্রগামী দাঈ এবং পথপ্রদর্শক আলেমদের আমাদের দ্বীন কায়েম করার এবং আমাদের মিল্লাতের বিভেদ বর্জনের তাওফিক দান করুন। তিনি আমাদের ঐক্যকে হকের ওপর সুসংহত করুন, আমাদের পথচলাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমাদের আমলসমূহকে কবুল করুন এবং তাঁর জিকির, শোকর ও উত্তম ইবাদতে আমাদের সাহায্য করুন। তিনি আমাদের এবং আমাদের প্রিয় উম্মতকে বিজয় ও সুদৃঢ় প্রতিষ্ঠার যোগ্য করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা ও পরম দয়ালু। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন
ড. মুহাম্মদ ইউসরি ইব্রাহিম
সাধারণ সম্পাদক, শরিয়াহ কাউন্সিল ফর রাইটস অ্যান্ড রিফর্ম
কায়রো: সোমবার ২/ ৬/ ১৪৩৩ হিজরি
মোতাবেক ২৩/ ৪/ ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأولمفهوم الخطاب السلفيوخصائصه وأولوياته
প্রথম পরিচ্ছেদসালাফি চিন্তাধারার স্বরূপএর বৈশিষ্ট্য ও অগ্রাধিকারসমূহ
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مفهوم الخطاب السلفي، وخصائصه وأولوياته
تحديد مفهوم الخطاب السلفي اليوم من الأهمية بمكان، وهو فرع عن تحديد مفهوم الخطاب الإِسلامي، وما يشمله هذا المصطلح من ممارسات، ثم من الذين يخاطبون باسم التيار السلفي دون غيرهم؟ وما هي أهم خصائصهم ومميزاتهم؟ وأخيرًا فلا بد من تحديد مفهوم الأولويات بشكل عام، وفقه الأولويات في الخطاب الإِسلامي بشكل خاص، وهذا ما يحاول هذا الفصل أن يلقي أضواءً عليه، ويحاول الإجابة عن تساؤلاته، وذلك عبر المباحث التالية:
সালাফি ভাষ্যের ধারণা, এর বৈশিষ্ট্য এবং অগ্রাধিকারসমূহ
বর্তমান সময়ে সালাফি ভাষ্যের স্বরূপ নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মূলত ইসলামি ভাষ্যের স্বরূপ নির্ধারণ এবং এই পরিভাষার আওতাভুক্ত প্রায়োগিক দিকসমূহেরই একটি শাখা। এছাড়া, অন্যদের বাদ দিয়ে মূলত কাদেরকে সালাফি ধারার প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হবে? তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্যগুলো কী কী? পরিশেষে, সাধারণভাবে অগ্রাধিকারের ধারণা এবং বিশেষভাবে ইসলামি ভাষ্যে অগ্রাধিকারের ফিকহ (فقه) নির্ধারণ করা আবশ্যক। এই অধ্যায়টি মূলত এসব বিষয়ের ওপর আলোকপাত করার এবং নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদানের চেষ্টা করবে:
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الأوّلمفهوم الخطاب الإسلامي السلفيفي لغة العرب يدور مفهوم الخطاب والمخاطبة على مراجعة الكلام، وتوجيهه إلى الأنام بقصد الإفهام، فكل كلام لا يراد به الإعلام والإفهام لا يعتبر خطابًا في لسان العرب.
وقد يطلق الخطاب ويراد به مضمون الكلام ومحتواه، وقد يطلق ويراد به الطريقة التي يُؤدَّى بها الكلام؛ ولهذا سُمِّي الكلامُ المنثور المسجوع خطبة (1).
وقد وردت لفظة: (خطاب) في كتاب الله تعالى في ثلاثةِ مواضعَ، هي: قوله تعالى: {رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الرَّحْمَنِ لَا يَمْلِكُونَ مِنْهُ خِطَابًا} [النبأ: 37]، وقوله تعالى: {إِنَّ هَذَا أَخِي لَهُ تِسْعٌ وَتِسْعُونَ نَعْجَةً وَلِيَ نَعْجَةٌ وَاحِدَةٌ فَقَالَ أَكْفِلْنِيهَا وَعَزَّنِي فِي الْخِطَابِ} [ص: 23]، وقوله تعالى: {وَشَدَدْنَا مُلْكَهُ وَآتَيْنَاهُ الْحِكْمَةَ وَفَصْلَ الْخِطَابِ} [ص: 20].
وفصل الخطاب هو فرقان ما بين الحق والباطل والصواب والخطأ، وهو بحسب سياق الآية الكريمة قد اقترن بالحكمة؛ فيه يُتَبَيَّنُ الحق على الوجه الذي ينبغي.
ومصطلح الخطاب الإِسلامي، أو المديني مُرَكَّبٌ وصفيٌّ غَدَتْ له دلالة معاصرة تَتَّسع - لدى البعض - لتشمل الدعوة الإِسلامية
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদসালাফি ইসলামি ভাষ্যের (خطاب) ধারণাআরবি ভাষায় ভাষ্য (خطاب) এবং সম্বোধনের (مخاطبة) ধারণাটি কথোপকথন এবং বুঝানোর উদ্দেশ্যে মানুষের প্রতি বাক্য পরিচালনার ওপর আবর্তিত হয়। সুতরাং যে বাক্যের মাধ্যমে তথ্য প্রদান বা বোধোদয় ঘটানো উদ্দেশ্য নয়, আরবি ভাষায় তাকে ভাষ্য (خطاب) হিসেবে গণ্য করা হয় না।
কখনও কখনও ভাষ্য (خطاب) শব্দটি দ্বারা বক্তব্যের বিষয়বস্তু ও সারমর্মকে বোঝানো হয়, আবার কখনও এটি দ্বারা বক্তব্য উপস্থাপনের পদ্ধতিকে বোঝানো হয়; এই কারণেই ছন্দময় ও অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্যকে খুতবাহ (خطبة) বলা হয় (১)।
আল্লাহ তাআলার কিতাবে 'ভাষ্য' (خطاب) শব্দটি তিনটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো হলো: মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি আসমানসমূহ, জমিন ও এ দু’টির মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, পরম দয়াময়; তাঁর সম্মুখে কথা বলার (خطاب) কোনো অধিকার কারো থাকবে না।} [আন-নাবা: ৩৭], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় এই আমার ভাই। তার নিরানব্বইটি দুম্বা রয়েছে এবং আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা। সে বলল, ওটি আমাকে দিয়ে দাও এবং সে বিতর্কে বা ভাষ্যে (الخطاب) আমার ওপর প্রবল হয়ে গেল।} [সোয়াদ: ২৩], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তার রাজত্বকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে হিকমাহ ও ফয়সালাকারী ভাষ্য (فصل الخطاب) দান করেছিলাম।} [সোয়াদ: ২০]।
ফয়সালাকারী ভাষ্য (فصل الخطাব) হলো সত্য ও মিথ্যা এবং সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্যকারী। পবিত্র আয়াতের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এটি হিকমাহ বা প্রজ্ঞার সাথে যুক্ত হয়েছে; এর মাধ্যমেই সত্য যথাযথভাবে উদ্ভাসিত হয়।
ইসলামি ভাষ্য পরিভাষাটি একটি বর্ণনামূলক যৌগিক শব্দ, যা বর্তমানে এমন এক সমসাময়িক অর্থ পরিগ্রহ করেছে যার পরিধি—কারো কারো নিকট—ইসলামি দাওয়াহ পর্যন্ত বিস্তৃত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بمناشطها المتنوعة، ووسائلها المتعددة، ومناهجها المختلفة (1).
وقريب من هذا المنحى التعبير عن الخطاب الإِسلامي بأنّه البيان الذي يوجه باسم الإِسلام إلى الناس؛ مسلمين، أو غير مسلمين، لدعوتهم إلى الإِسلام، أو تعليمه لهم، وتربيتهم عليه، عقيدةً وشريعةً، عبادةً ومعاملةً، فكرًا وسلوكًا، أو لشرح موقف الإِسلام من قضايا الحياة والإنسان والعالم: فرديةً أو اجتماعيةً، روحيةً أو ماديةً، نظريةً أو عمليةً (2).
وعليه؛ فإن الخطاب الإِسلامي المقصود هنا أعمُّ من المضمون والشكل، وأوسع من القول أو الفعل، وأشمل من التحرك الجماعي أو الفردي، وأدخل في الحياة بمناشطها السياسية والاجتماعية والثقافية والاقتصادية، وذلك بشرط استناده إلى الإِسلام في قاعدة المرجعية، وارتباطه بعلوم الكتاب العزيز، والسنة النبوية المطهرة.
والخطاب الإِسلامي على هذا النحو مهيعٌ فسيحٌ وميدانٌ وسيعٌ، تتنوع أشكاله، وتتعدد صوره وألوانه، وتتغير وسائله وأدواته بتغير الزمان والمكان وبني الإنسان! قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ} [إبراهيم: 4].
--------------------------------------------
এর বৈচিত্র্যময় কর্মকাণ্ড, বহুবিধ মাধ্যম এবং ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে (১)।
এই ধারার কাছাকাছি একটি দৃষ্টিভঙ্গি হলো ইসলামি খিতাব বা বক্তব্যকে এমন এক বিবৃতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা, যা ইসলামের নামে মানুষের প্রতি—মুসলিম হোক বা অমুসলিম—নির্দেশিত হয়; তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার জন্য, অথবা তাদেরকে তা শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং আকিদা (عقيدة) ও শরিয়াহ (شريعة), ইবাদত (عبادة) ও মুয়ামালাত (معاملة), চিন্তা ও আচরণের ক্ষেত্রে তাদেরকে এর ওপর গড়ে তোলার জন্য; অথবা জীবন, মানুষ এবং পৃথিবী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য: তা ব্যক্তিগত হোক বা সামাজিক, আধ্যাত্মিক হোক বা বৈষয়িক, তাত্ত্বিক হোক বা ব্যবহারিক (২)।
সুতরাং; এখানে উদ্দিষ্ট ইসলামি খিতাব বা বক্তব্য বিষয়বস্তু ও কাঠামোর চেয়েও ব্যাপক, কথা বা কাজের চেয়েও প্রশস্ত এবং সামষ্টিক বা ব্যক্তিগত তৎপরতার চেয়েও অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক। এটি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার রাখে; তবে শর্ত হলো, এর নির্দেশিকা বা রেফারেন্সের মূল ভিত্তি হিসেবে ইসলামের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে এবং মহাগ্রন্থ কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহ (سنة) -এর জ্ঞানসমূহের সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে।
এই বিচারে ইসলামি খিতাব বা বক্তব্য হলো একটি প্রশস্ত পথ এবং বিশাল ময়দান, যার রূপ বৈচিত্র্যময়, ধরন ও প্রকৃতি বহুবিধ এবং সময়, স্থান ও মানুষের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর মাধ্যম ও উপকরণসমূহ পরিবর্তিত হয়! মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {আর আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে তিনি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন} [ইব্রাহিম: ৪]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فهو خطاب يمتدُّ رُوَاقُهُ ليشمل الخَلْقَ جميعًا، ويتناول القضايا جميعًا! وهذا الخطاب هو دعوة النبيين والمرسلين، وسبيل البلاغ المبين، ومظهر تجديد الدين، وبرهان خيرية الأمة المحمدية، وسبب إقامة الشهادة على البشرية، وطريق الفلاح والنجاح للبرية.
وإذا أُضيف الخطابُ الإِسلاميُّ إلى السلف، أو وُصِف بأنه سلفي فقد أضيف إلى أشرفِ نسبةٍ، وَوُصِفَ بأكملِ نعتٍ؛ فإن ترسُّم منهج السلف من الصحابة والتابعين، ومن تبعهم بإحسان هو عين منهج النجاة والعصمة، وأساس طريق الهدى والرحمة، ومهيع الاتباع والاجتماع، وضمانة من الفرقة والابتداع، وسبب الازدهار والاستقرار، وتتابع الخيرات والبركات، وتحقيق التمكين لهذا الدين، وظهوره بالحجة والبيان، ونصره بالسيف والسنان! ومن وراء ذلك كله مرضاة الرحمن، والفوز بالجنان! قال تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} [التوبة: 100] وكل خطاب انتسب أصحابُهُ إلى هذا المنهج المبارك بحقٍّ فقد استحق هذه النسبة، وتشرف أصحابه بهذه التسمية، وإن لم
এটি এমন এক বাণী যার বিস্তৃত প্রাঙ্গণ সমগ্র সৃষ্টিজগতকে শামিল করে এবং যা সকল বিষয়কে ধারণ করে! আর এই বাণীই হলো নবী ও রাসূলগণের দাওয়াত, সুস্পষ্ট প্রচারের পথ, দ্বীন পুনর্জাগরণের স্বরূপ, উম্মতে মুহাম্মাদীয়ার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ, মানবজাতির ওপর সাক্ষ্য প্রদানের কারণ এবং সৃষ্টির জন্য কল্যাণ ও সাফল্যের পথ।
আর যখন ইসলামি সম্বোধনকে সালাফদের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়, অথবা একে 'সালাফি' হিসেবে অভিহিত করা হয়, তখন তা এক শ্রেষ্ঠতম নিসবতের সাথে যুক্ত হয় এবং পূর্ণতম বিশেষণে বিশেষিত হয়; কেননা সাহাবী (الصحابة), তাবিঈন (التابعين) এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের মানহাজ অনুসরণ করাই হলো মুক্তি ও নির্ভুলতার মূল পথ, হেদায়েত ও রহমতের রাস্তার ভিত্তি, অনুসরণ ও ঐক্যের প্রশস্ত রাজপথ, বিভেদ ও বিদআতের বিরুদ্ধে গ্যারান্টি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার কারণ, কল্যাণ ও বরকতের ধারাবাহিকতা, এই দ্বীনের সুপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিতকরণ, দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে এর প্রকাশ এবং শক্তি ও সাহসের মাধ্যমে এর বিজয় নিশ্চিতকরণ! আর এসকল কিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং জান্নাত লাভ! মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন; আর তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবে; এটাই মহাসাফল্য।} [আত-তাওবাহ: ১০০] আর যে কোনো আহ্বানের ধারকগণ যদি সত্যনিষ্ঠার সাথে এই বরকতময় মানহাজের দিকে নিজেদের নিসবত করেন, তবে তাঁরা এই নিসবতের যোগ্য এবং তাঁরা এই নামকরণের মাধ্যমে সম্মানিত হন, যদিও...
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يَدَّعوها، فكل من قام بمقتضيات هذه الدعوة الشريفة بصدقٍ فقد صار من أربابها، وإن لم يرفع لها شعارًا، أو يرتدي لها رداءً! وليس لأحدٍ - مهما علا في هذا المنهج قَدْرُهُ - أن يحتكر هذه النسبة لنفسه، أو أن يَحْرِم منها غيره، فلا يكافئ بها محبَّهُ، ولا يمنعها من مُبْغِضِهِ! فليس ثمة فردٌ ولا جماعةٌ متحزبة تمثل السلفية بمعناها الشرعي، وإنما قد يوجد من ينتسب إليها، ويسعى أن يحيا بمنهجها، وقد يصيب، وقد يخطئ، وأخطاؤه لا تنسب إلى المنهج، ولا إلى غيره من الأفراد أو الدعوات التي انتسبت إلى ذات المنهج.
...দাবি করে; সুতরাং যে ব্যক্তিই নিষ্ঠার সাথে এই মহৎ দাওয়াতের দাবিগুলো পূরণ করবে, সে-ই এর প্রকৃত অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে, যদিও সে এর স্বপক্ষে কোনো স্লোগান না দেয় কিংবা এর জন্য বিশেষ কোনো পোশাক পরিধান না করে! আর কারও জন্যই—এই নীতিধারায় (منهج) তার মর্যাদা যতই বৃদ্ধি পাক না কেন—এই সম্পৃক্ততাকে (نسبة) নিজের জন্য একচেটিয়া করে রাখা বৈধ নয়, কিংবা অন্যকে তা থেকে বঞ্চিত করাও সমীচীন নয়। সে তার কোনো প্রিয়ভাজনকে এর মাধ্যমে পুরস্কৃত করতে পারে না, আবার কোনো বিদ্বেষ পোষণকারীকে তা থেকে বঞ্চিতও করতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো একক ব্যক্তি বা দলবদ্ধ গোষ্ঠী নেই যারা শরয়ি (شرعي) অর্থে সালাফিয়াতকে প্রতিনিধিত্ব করে; বরং কেবল এমন ব্যক্তি থাকতে পারে যে নিজেকে এর সাথে সম্পৃক্ত (نسبة) করে এবং এর নীতিধারা (منهج) অনুযায়ী জীবন যাপনের প্রয়াস চালায়। সে কখনো শুদ্ধ হতে পারে, আবার কখনো ভুল করতে পারে; তবে তার ভুলগুলো এই নীতিধারার (منهج) দিকে আরোপ করা যাবে না, আর এই একই নীতিধারার (منهج) সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য ব্যক্তি বা দাওয়াতের ওপরও তার দায় চাপানো যাবে না।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الثاني التيار السلفي … النشأة والتطور" السلفية" نسبة إلى السلف، ومعنى "السلف" في اللغة يدور حول المتقدم والسبق، فالسلف هم الذين مَضَوا، والقومُ السُّلَّافُ هم المتقدمون (1).
وأما "السلف" في الاصطلاح فيطلق على المتقدمين من الصحابة والتابعين وتابعيهم، وهم المذكورون في حديثه صلى الله عليه وسلم: "خيركم قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم" (2).
ومذهب السلف هو مذهب الصحابة الكرام، والتابعين وتابعيهم من الأئمة المذكورين المشهورين (3).
ثم إن كل من التزم بعقائد وأصول هؤلاء الأئمة كان منسوبًا إليهم، وإن باعدت بينه وبينهم الأماكن والأزمان، وكل من خالفهم فليس منهم، وإن عاش بين أظهرهم، وجمعه بهم نفس المكان والزمان (4).
"ولقد بدأت الحاجة إلى الانتساب للسلف حين تَفَرَّقَتِ الأمةُ الإِسلامية، وتعددتِ الاتجاهاتُ الفكرية فيها حول أصول الدين،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সালাফি ধারা … উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ"সালাফিয়্যাহ" হলো সালাফ (سلف)-এর দিকে একটি সম্বন্ধ। আর আভিধানিক অর্থে "সালাফ" (سلف) শব্দের অর্থ হলো যা গত হয়েছে এবং যা অগ্রগামী। সুতরাং সালাফ হলেন তাঁরা যারা গত হয়েছেন, আর অগ্রগামী দলই হলো 'সুল্লাফ' বা পূর্বসূরি (১)।
আর পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে "সালাফ" বলতে সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعين) এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের অনুসারীদের (تابعي التابعين) মধ্য থেকে যারা অগ্রবর্তী ছিলেন তাঁদের বোঝায়। তাঁরাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, এরপর যারা তাদের পরবর্তী" (২)।
আর সালাফদের মাযহাব (مذهب) হলো সম্মানিত সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعين) এবং তাঁদের অনুসারী সেই সব ইমামদের অনুসৃত পথ যাঁরা প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত (৩)।
অতঃপর যে ব্যক্তিই এই ইমামগণের আকিদা ও মূলনীতি (أصول) মেনে চলবে, সে তাঁদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত হবে—যদিও স্থান ও সময়ের বিচারে তাদের মাঝে অনেক দূরত্ব থাকে। আর যে ব্যক্তিই তাঁদের বিরোধিতা করবে, সে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হবে না—যদিও সে তাঁদের মাঝেই বসবাস করে এবং একই সময় ও স্থানে তাঁদের সাথে অবস্থান করে (৪)।
"সালাফদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা মূলত তখনই শুরু হয়েছিল যখন মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং দ্বীনের মূলনীতি (أصول) বিষয়ে উম্মাহর মধ্যে নানাবিধ চিন্তাধারার উদ্ভব ঘটে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مما دعا علماءَ الأمة الأثبات وأساطينها الأعلام لتجريد أنفسهم لتلخيص وترتيب الأصول العظمى، والقواعد الكبرى للاتجاه السلفي، والمعتقد القرآني النبوي، ومن ثم نسبته إلى السلف الصالح، لقطع الباب على كل من ابتدع بدعة اعتقادية، وأراد نسبتها إليهم، حتى كانت النسبة إلى السلف رمزًا للافتخار، وعلامةً على العدالة في الاعتقاد، مما يدل على أن النسبة إلى السلف لم تكن بدعةً لفظيَّةً، ولا مجرَّدَ اصطلاحٍ كلاميٍّ، لكنه حقيقة شرعية ذاتُ مدلول محدد، ولذلك لم تؤصَّلْ قواعده، ولم تحرَّرْ موارده، إلا بقيام الحاجة في الأمة لبيانٍ متكاملٍ الصورةِ عما كان عليه أهل القرون المفضلة، المشهود لهم بالعدالة من طريقة عقدية، وسيرة توحيدية" (1).
فالانتساب إلى أهل السنة والجماعة والسلف الصالح، يعني: الانتساب إلى الإِسلام الصافي عن شوائب البدع، ومخالفات الفِرَقِ.
وإنَّ كل من رضي بالله ربًّا، وبالإسلام دينًا، وبمحمد صلى الله عليه وسلم نبيًّا ورسولًا، مقبلًا على الالتزام بالإِسلام جملة، وعلى تحكيم شريعته استسلامًا وانقيادًا، وبرئ من تبني مذهب بدعي، أو
--------------------------------------------
যা উম্মাহর নির্ভরযোগ্য (ثبت) আলেমগণ এবং প্রখ্যাত শ্রেষ্ঠ মনীষীদের উদ্বুদ্ধ করেছে যাতে তাঁরা সালাফী ধারার মহান মূলনীতি ও বৃহৎ নিয়মাবলী এবং কুরআনী ও নববী আকিদাহকে সারসংক্ষেপ ও বিন্যস্ত করার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেন; অতঃপর একে সালাফে সালেহীন বা নেককার পূর্বসূরীদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন, যাতে যারা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে নব উদ্ভাবিত প্রথা বা বিদআত (بدعة) তৈরি করে এবং তা তাঁদের দিকে সম্বন্ধ করার অপচেষ্টা চালায় তাদের পথ রুদ্ধ করা যায়। এমনকি সালাফদের দিকে এই সম্পৃক্তি গৌরবের প্রতীকে পরিণত হয়েছে এবং আকিদাহর ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) একটি চিহ্ন হিসেবে গণ্য হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, সালাফদের প্রতি এই সম্পৃক্তি কেবল কোনো শাব্দিক বিদআত (بدعة) ছিল না, কিংবা নিছক কোনো কালামশাস্ত্রীয় পরিভাষা ছিল না; বরং এটি ছিল সুনির্দিষ্ট অর্থবহ একটি শরয়ি বাস্তবতা। এই কারণেই এর নিয়মাবলী এবং এর উৎসগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত ও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি, যতক্ষণ না উম্মাহর মধ্যে সেই সকল শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের লোকদের আকিদাহর পদ্ধতি ও তাওহীদী জীবনধারা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল, যাদের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। (১)
অতএব, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং সালাফে সালেহীনের প্রতি সম্পৃক্ত হওয়ার অর্থ হলো: বিদআত (بدعة) এর কলুষতা এবং বিভিন্ন উপদলের বিরোধপূর্ণ মতবাদ থেকে মুক্ত স্বচ্ছ ইসলামের প্রতি নিবদ্ধ হওয়া।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী ও রাসূল হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছে, পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামের আনুগত্য গ্রহণে সচেষ্ট হয়েছে এবং আত্মসমর্পণ ও অনুবর্তিতার মাধ্যমে ইসলামের শরীয়াহর শাসন মেনে নিয়েছে, আর কোনো বিদআতী (بدعة) মাযহাব গ্রহণ করা থেকে মুক্ত থেকেছে, অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الانتسابِ إلى فرقة ضالة، أو اعتمادِ أصلٍ كليٍّ من أصول البدع، فهو من أهل السنة والجماعة إجمالًا، وهذا يشمل عوامَّ المسلمين الذين لم ينضووا تحت راية بدعية، ولم يكثِّروا سوادَ فرقةٍ غيرِ مرضية.
فهذا القَدْرُ يحقق انتسابًا إجماليًّا تصحُّ به النسبة إلى أهل السنة والجماعة.
فالنسبة إلى السلف هي نسبة إلى أهل السنة والجماعة الذين تميزوا عن غيرهم بفهمهم لكتاب ربهم، وسنة نبيهم بفهم سلفهم الصالح، من الصحابة والتابعين ومن تبعهم بإحسان، رضي الله عنهم أجمعين.
وعليه؛ فإن الدعوة إلى اتباع السلف، إنما هى دعوة إلى الإِسلام والسنة، ولا غضاضة في ذلك، بحال من الأحوال.
قال شيخ الإِسلام رحمه الله: "لا عيب على من أظهر مذهب السلف، وانتسب إليه، واعتزى إليه، بل يجب قبول ذلك منه؛ فإن مذهب السلف لا يكون إلا حقًّا" (1).
والحديث عن السلفيين في الواقع المعاصر هو حديث عن أفراد وجماعات، فمنهم: أفراد معتبرون يمثلون مرجعيات علمية أحيانًا، وقيادات عملية شعبية أحيانًا أخرى، وفي كثير من الأحوال يكون لهؤلاء وأولئك من يلوذ بهم من العامة، ومن يتلقَّى عنهم من طلبة
--------------------------------------------
কোনো বিভ্রান্ত (ضالة) দলের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া কিংবা বিদআতের কোনো মৌলিক মূলনীতি গ্রহণ করা থেকে মুক্ত থাকলে সে সামগ্রিকভাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে; এটি সেই সকল সাধারণ মুসলিমদেরও অন্তর্ভুক্ত করে যারা কোনো বিদআতী (بدعية) পতাকাতলে সমবেত হয়নি এবং কোনো অগ্রহণযোগ্য দলের সংখ্যা বৃদ্ধি করেনি।
এই পরিমাণটিই এমন একটি সামগ্রিক সম্বন্ধ নিশ্চিত করে যার মাধ্যমে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া সঠিক হয়।
বস্তুত সালাফদের প্রতি সম্বন্ধ করা হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রতি সম্বন্ধ করা, যারা তাদের রবের কিতাব এবং তাদের নবীর সুন্নাহকে তাদের নেককার পূর্বসূরি (السلف الصالح) তথা সাহাবী, তাবেয়ী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন—তাঁদের বুঝ অনুযায়ী অনুধাবনের মাধ্যমে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র হয়েছেন; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
অতএব; সালাফদের অনুসরণের প্রতি আহ্বান মূলত ইসলাম ও সুন্নাহর প্রতিই আহ্বান, এবং এতে কোনো অবস্থাতেই কোনো প্রকার দোষ নেই।
শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাফদের মাযহাব (مذهب) প্রকাশ করে, তার দিকে নিজেকে সম্বন্ধযুক্ত করে এবং তার দিকে নিজেকে নিসবত করে, তার কোনো দোষ নেই; বরং এটি তার থেকে গ্রহণ করা ওয়াজিব (واجب)। কেননা সালাফদের মাযহাব (مذهب) সত্য ভিন্ন অন্য কিছু নয়" (১)।
সমকালীন প্রেক্ষাপটে সালাফীদের নিয়ে আলোচনা মূলত এমন কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা যাদের মধ্যে রয়েছেন: নির্ভরযোগ্য (معتبر) ব্যক্তিবর্গ যারা কখনো ইলমি মারজা হিসেবে কাজ করেন, আবার কখনো সামাজিক ও বাস্তব নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ তাদের আশ্রয় গ্রহণ করে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
العلم، ومنهم: جماعات بعضها منظم تُرخِّصُ بعضُ الدول بوجودها، وتُقَنِّنُ أعمالها، بل وتتعاون معها أحيانًا! وجماعات أخرى منظَّمة لا تُقِرُّ بعضُ الدول بقانونيتها، بل وَتُضَيِّقُ عليها غالبًا! وبالجملة فالظاهرة السلفية المعاصرة لا تخرج - في الغالب وبالاستقراء - عن أشكال أربعة:
1 - جماعات وجمعيات منظَّمة ومرخَّصة رسميًّا.
2 - جماعات منظَّمة غيرُ مرخَّصة.
3 - مشايخُ علمٍ وتربية ترتبط بهم جموع من الطلاب، والخاصَّة.
4 - مشايخُ خطابةٍ ودعوة تجتمع عليهم العامة، وجمهور الأمة.
والأمثلة كثيرة ماثلة للعيان في طول العالم الإِسلامي وعرضه لهذه الأنماط الأربعة، وكثيرًا ما وُجدت تلك الصور جميعًا في البلد والقطر الواحد.
وعن هذه الصور تصدر أنشطة شتى، وتأتلف جموع كبرى، ويجري نهرُ خيرٍ دافقٌ في الأمة بأسرها.
জ্ঞান, এবং তাদের মধ্যে: এমন কিছু সুসংগঠিত দল রয়েছে যাদের উপস্থিতিকে কিছু রাষ্ট্র অনুমতি প্রদান করে, তাদের কার্যক্রমকে আইনি রূপ দান করে, এমনকি কখনো কখনো তাদের সাথে সহযোগিতাও করে! আবার অন্য কিছু সুসংগঠিত দল রয়েছে যাদের বৈধতাকে কিছু রাষ্ট্র স্বীকার করে না, বরং অধিকাংশ সময় তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধতা আরোপ করে! মোটের ওপর, সমসাময়িক সালাফি ধারাটি — অধিকাংশ ক্ষেত্রে এবং পর্যালোচনার ভিত্তিতে — চারটি কাঠামোর বাইরে যায় না:
১ - রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদিত সুসংগঠিত দল ও সংগঠনসমূহ।
২ - অননুমোদিত সুসংগঠিত দলসমূহ।
৩ - ইলম ও তরবিয়তের এমন শায়খগণ যাদের সাথে একদল শিক্ষার্থী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সম্পৃক্ত।
৪ - বক্তব্য ও দাওয়াতের এমন শায়খগণ যাদের কাছে সাধারণ মানুষ এবং উম্মাহর সর্বস্তরের জনগণ সমবেত হয়।
এই চারটি কাঠামোর অসংখ্য চাক্ষুষ উদাহরণ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ জুড়ে বিদ্যমান, এবং অনেক সময় একই দেশ বা অঞ্চলে এই সবকটি রূপই একত্রে পরিলক্ষিত হয়।
এই মাধ্যমগুলো থেকেই নানাবিধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, বিশাল জনসমষ্টি ঐক্যবদ্ধ হয় এবং এর ফলে সমগ্র উম্মাহর মাঝে কল্যাণের এক প্রবহমান ধারা প্রবাহিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الثالثخصائص التيار السلفي المعاصريتمتع التيار السلفي الواسعُ الأطيافِ بخصائصَ كثيرةٍ تجعل له أهميةً بالغةً، ومن بين تلك الخصائص:
أولًا: المرجعية العلمية والولاية الشرعية:يتميز التيار السلفي المعاصر في الجملة بتربُّعِهِ على عرش المرجعية الشرعية، وتهَيُّئِهِ لولاية الأمور العلمية، وعنايَتهِ بالشئون التعليمية؛ يتجلى ذلك في المساجد والفضائيات، والمعاهد الشرعية، والجامعات، وتصدِّي رموزهِ للفُتْيَا والدعوة والإرشاد، سواء في ذلك من انخرط منهم في المؤسسات الدينية للدولة، أو من بقي داخل دوائر العمل الخيرية والأهلية.
ثانيًا: الثبات المنهجي والاستقرار الفكري:إنه - وبشكل عام - قد يتميز السلفيون في جملتهم بالمرابطة على الثغور المنهجية، وحراسة الثوابت العلمية والعملية، وصيانة منهج أهل السنة والجماعة، والتصدي للمناهج الزائفة والمذاهب المنحرفة، ومقاومة تيارات البدع، والإلحاد، والتغريب، والعلمنة جميعًا. ثالثًا: الثراء في الكفاءات والتنوع في القيادات: تتنوع القيادات السلفية - داخل هذا التيار - من القيادات
তৃতীয় পরিচ্ছেদসমকালীন সালাফি ধারার বৈশিষ্ট্যসমূহবিস্তৃত মতাদর্শের অধিকারী সালাফি ধারাটি এমন অনেক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা একে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত: ইলমি মারজায়িয়াত (তাত্ত্বিক উৎস) এবং শরয়ি কর্তৃত্ব:সমকালীন সালাফি ধারাটি সাধারণভাবে শরয়ি মারজায়িয়াত বা নির্দেশনার মূল কেন্দ্রে আসীন হওয়া, ইলমি বিষয়াবলির অভিভাবকত্ব গ্রহণ এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতি বিশেষ যত্নের মাধ্যমে স্বতন্ত্র রূপ লাভ করেছে। মসজিদ, স্যাটেলাইট চ্যানেল, শরয়ি ইনস্টিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এর প্রতিফলন দেখা যায়। পাশাপাশি তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ফতোয়া প্রদান, দাওয়াহ এবং দিকনির্দেশনার কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন; চাই তারা রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যুক্ত হোন অথবা বিভিন্ন চ্যারিটেবল ও বেসরকারি সংস্থার পরিমণ্ডলে কর্মরত থাকুন।
দ্বিতীয়ত: মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির অবিচলতা এবং চিন্তাগত স্থিতিশীলতা:সাধারণভাবে সালাফিগণ সামগ্রিকভাবে মানহাজগত সীমান্ত পাহারায় সচেষ্ট থাকা, ইলমি ও আমলি মূলনীতিসমূহের সুরক্ষা প্রদান, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ সংরক্ষণ এবং ভ্রান্ত পথ ও বিচ্যুত মতবাদসমূহের মোকাবিলা করার মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এছাড়াও তারা বিদআত (بدعة), নাস্তিক্যবাদ, পশ্চিমা সংস্কৃতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতার সকল ধারার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তৃতীয়ত: দক্ষ জনশক্তির প্রাচুর্য এবং নেতৃত্বের বৈচিত্র্য: এই ধারার অভ্যন্তরে সালাফি নেতৃত্বের মাঝে বৈচিত্র্য বিদ্যমান—সেই সকল নেতৃত্ব থেকে...
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
العلمية الشرعية إلى العلمية التقنية، ومن الدعوية إلى الاجتماعية، ومن الإدارية إلى السياسية، ومن الاقتصادية إلى القانونية، فلا يكاد يخلو مجال إلا وللتيار السلفي فيه حضور بكفاءات ثرية، وقيادات غنية، على تفاوُتٍ ملحوظ في الأعداد بين هذه المجالات.
رابعًا: الحضور الإعلامي العام: وقد تمثَّل هذا بقوة في العقد المنصرم، حيث لا تخلو فضائية عربية - دينية أو غير دينية - من وجود ملحوظ لهم، ومن مشاركة معلومة، ومن أنشطة وجهود مشهورة ومشكورة، وقد انفتح المجال الإعلامي واسعًا بعد الثورات العربية ليلج السلفيون إلى آفاق رحيبة في التواصل من خلال الصحف المقروءة، والمجلات السَّيَّارة، والقنوات الفضائية الطيّارة! خامسًا: القدرة على الحشد الجماهيري: يتمتع التيار السلفي - عند اجتماع طوائفه وحال اتفاق رموزه - بزَخَمٍ شعبي، ومقدرة هائلة على الحشد الجماهيري، بدا هذا واضحًا في دروس جماهيرية، ومؤتمراتٍ حاشدةٍ، وملتقياتٍ موسعة، ووقفات ثورية مليونية مشهودة، وإن كانت هذه المقدرة إنما تتحقق عند اجتماعه على قضية اتفاقية، وليست خلافية.
سادسًا: صعود سياسي متنامٍ: ويبدو هذا الصعود على مستوى تجارب برلمانية اكتملت في الكويت والبحرين وباكستان وغيرها، وعلى مستوى تجارب
শরয়ি জ্ঞান থেকে কারিগরি জ্ঞান, দাওয়াহ কার্যক্রম থেকে সামাজিক ক্ষেত্র এবং প্রশাসনিক থেকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক থেকে আইনি ক্ষেত্র পর্যন্ত—এমন কোনো ক্ষেত্র নেই বললেই চলে যেখানে সালাফি ধারার সমৃদ্ধ দক্ষ জনবল এবং যোগ্য নেতৃত্বের উপস্থিতি নেই; যদিও এসব ক্ষেত্রে সংখ্যার বিচারে লক্ষণীয় তারতম্য রয়েছে।
চতুর্থত: সাধারণ গণমাধ্যমে উপস্থিতি: বিগত দশকে এটি অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, যেখানে ধর্মীয় বা অ-ধর্মীয় কোনো আরব স্যাটেলাইট চ্যানেলই তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি, সুপরিচিত অংশগ্রহণ এবং প্রসিদ্ধ ও প্রশংসিত তৎপরতা থেকে মুক্ত নয়। আরব বিপ্লবের পর গণমাধ্যমের পথ প্রশস্ত হয়েছে, যার ফলে সালাফিগণ মুদ্রিত সংবাদপত্র, সাময়িকী এবং স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগের এক সুবিস্তৃত দিগন্তে প্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছে। পঞ্চমত: জনসমাবেশ করার সক্ষমতা: সালাফি ধারা—যখন তাদের বিভিন্ন উপদলগুলো সমবেত হয় এবং তাদের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা একমত হন—তখন তারা এক প্রবল জনসমর্থন এবং জনসমাবেশ করার বিশাল সক্ষমতা প্রদর্শন করে। এটি তাদের বিশাল জনদরস, জনাকীর্ণ সম্মেলন, বিস্তৃত সমাবেশ এবং বিপ্লবকালীন লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে; যদিও এই সক্ষমতা তখনই সফল হয় যখন তারা কোনো ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়ে একত্রিত হয়, কোনো মতভেদপূর্ণ বিষয়ে নয়।
ষষ্ঠত: ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্থান: কুয়েত, বাহরাইন, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশে সম্পন্ন হওয়া সংসদীয় অভিজ্ঞতার স্তরে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে এই উত্থান স্পষ্ট প্রতীয়মান।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بدأت في مصر، وليبيا، وغيرها.
وأما على صعيد الاتحادات الطلابية، والنقابات المهنية، والمجالس المحلية والبلدية، وجماعات الضغط السياسية فَحَدِّثْ عن صعود القوى السياسية السلفية ولا حرج! سابعًا: المصداقية الأخلاقية والسلوكية:
لا شك أن التيار السلفي - وإن بدا كظاهرةٍ سياسية، أو تجلَّى في سياقٍ اجتماعي، أو ديني - لا تفارقه مصداقيته الأخلاقية، ولا يغادره انضباطه السلوكي، ولا تُبرِّرُ فيه الغايةُ الصالحةُ الوسيلةَ الطالحةَ.
ثامنًا: الريادة التاريخية والحضارية:
إن التيارات السلفية المعاصرة اليوم مشدودة العرى بالرموز السلفية في الجيل الماضي، والأجيال السابقة؛ فلا تنتهي في مرجعيتها عند شيخ الإِسلام ابن تيمية رحمه الله، ولا تقف عند حدود الأئمة الأربعة عامة، ولا تتمحور حول الإمام أحمد خاصة، وإنما تظل مرتبطة بالمدرسة الأولى، ومنتمية إلى الرعيل المقدَّمِ، من القرون المفضلة، والسادات المبجلة، من أصحاب خاتم النبيين وإمام المرسلين صلى الله عليه وسلم، وتمتد حتى تصل إلى الكبار من المعاصرين، فالسلفية مدرسة منهجية، تقبس نورها من مشكاة أهل السنة والجماعة، وتستمد قوتها من معين الفِرقة الناجية، والطائفة المنصورة.
মিশর, লিবিয়া এবং অন্যান্য দেশে এটি শুরু হয়েছে।
আর ছাত্র সংসদ, পেশাজীবী ইউনিয়ন, স্থানীয় ও পৌর পরিষদ এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেত্রে সালাফি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উত্থান সম্পর্কে আপনি নির্দ্বিধায় বলতে পারেন। সপ্তম: নৈতিক ও আচরণগত বিশ্বাসযোগ্যতা:
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সালাফি ধারা—যদিও তা রাজনৈতিক প্রপঞ্চ হিসেবে দৃশ্যমান হয় অথবা সামাজিক বা ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত হয়—তা কখনোই তার নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ত্যাগ করে না এবং তার আচরণগত সুশৃঙ্খলতা থেকে বিচ্যুত হয় না। তাদের নিকট সৎ উদ্দেশ্য কোনো অসৎ মাধ্যমকে বৈধতা দান করে না।
অষ্টম: ঐতিহাসিক ও সভ্যতার নেতৃত্ব:
বর্তমান সময়ের সালাফি ধারাগুলো বিগত প্রজন্মের এবং পূর্ববর্তী প্রজন্মের সালাফি মনীষীদের সাথে সুদৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। তাদের প্রামাণিকতা কেবল শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-তে গিয়ে শেষ হয় না, কিংবা সাধারণভাবে চার ইমামের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, অথবা বিশেষভাবে ইমাম আহমাদের মাঝেও সীমাবদ্ধ নয়। বরং তা সর্বদা প্রথম মাদরাসার সাথে সম্পৃক্ত থাকে এবং শ্রেষ্ঠ যুগসমূহের (القرون المفضلة) সেই অগ্রবর্তী কাফেলার অন্তর্ভুক্ত থাকে, যারা নবীগণের মোহর ও রাসূলদের ইমাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানিত ও মহান সাহাবী ছিলেন। এটি বর্তমান সময়ের বিদগ্ধ আলেমদের পর্যন্ত বিস্তৃত। মূলত সালাফিয়্যাত হলো একটি পদ্ধতিগত আদর্শ, যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের (أهل السنة والجماعة) প্রদীপ থেকে আলো গ্রহণ করে এবং নাজাতপ্রাপ্ত দলের (الفرقة الناجية) ও সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) ঝরনাধারা থেকে শক্তি সঞ্চয় করে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الرابعفقه الأولويات في الخطاب السلفي (1)
ينطلق فقه الأولويات في الخطاب السلفي من قواعد السياسة الشرعية، ومن المقاصد الكلية للدعوة الإِسلامية، فهو إدراكٌ شرعيٌّ مقاصديٌّ واقعي لِرُتَبِ الأقوال والأعمال، وترتيبِهَا نظريًّا وعمليًّا، وذلك من حيث الأهميةُ والتقديمُ والأرجحية.
وهذا الفقه علَّمه الله تعالى لعباده ببيان التفاوت بين الأعمال ورُتَبِها، سواء أكانت صالحة، أم طالحة.
{يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَدٌّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِنْدَ اللَّهِ وَالْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ وَلَا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّى يَرُدُّوكُمْ عَنْ دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (217)} [البقرة: 217] قال تعالى: {أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَوُونَ عِنْدَ اللَّهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (19) الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদসালাফি দাওয়াহর ক্ষেত্রে অগ্রগণ্যতার বোধ (فقه الأولويات) (১)
সালাফি দাওয়াহর (বক্তব্যে) অগ্রগণ্যতার বোধ (فقه الأولويات) শরয়ি রাজনীতির (السياسة الشرعية) মূলনীতিসমূহ এবং ইসলামি দাওয়াহর সামগ্রিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد الكلية) থেকে উৎসারিত। এটি হলো কথা ও কাজের স্তরসমূহ এবং তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব, অগ্রাধিকার ও শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে সেগুলোকে বিন্যস্ত করার একটি শরয়ি, লক্ষ্যভিত্তিক (مقاصدي) ও বাস্তবসম্মত উপলব্ধি।
আল্লাহ তাআলা আমলসমূহের মধ্যকার পার্থক্য ও সেগুলোর স্তর বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের এই বোধ (فقه) শিক্ষা দিয়েছেন; চাই তা সৎ (صالح) আমল হোক কিংবা অসৎ (طالح)।
{তারা আপনাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন: তাতে যুদ্ধ করা বড় (كبير) গুনাহ। কিন্তু আল্লাহর পথে বাধা দান করা, তাঁর সাথে কুফরি (كفر) করা, মসজিদে হারামে বাধা দেওয়া এবং তার বাসিন্দাদের সেখান থেকে বহিষ্কার করা আল্লাহর নিকট আরও বড় (أكبر) অপরাধ। আর ফিতনা (فتنة) হত্যার চেয়েও বড় (أكبر) অপরাধ। তারা সর্বদা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দেয়—যদি তারা সক্ষম হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফির (كافر) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল (حبطت) হয়ে যাবে। তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। (২১৭)} [সূরা আল-বাকারাহ: ২১৭] আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো ও মসজিদে হারাম আবাদ করাকে সেই ব্যক্তির সমান মনে করো, যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে? আল্লাহর নিকট তারা সমান নয়। আর আল্লাহ জালিম (ظالم) সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। (১৯) যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ (20)} [التوبة: 19، 20] كما عَلَّمَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم أصحابَهُ رُتَبَ الأعمالِ الدعوية، وما حَقُّهُ التقديمُ منها؛ فحين أَرسل معاذًا داعيًا ومعلمًا قال له صلى الله عليه وسلم: "إنك تَقْدَمُ على قوم من أهل الكتاب؛ فليكن أول ما تدعوهم إلى أن يوحدوا الله تعالى، فإذا عرفوا ذلك، فأخبرْهم أن الله قد فرض عليهم خمسَ صلوات في يومهم وليلتهم، فإذا صَلَّوا، فأخبرهم أن الله افترض عليهم زكاة في أموالهم؛ تؤخذ من غنيهم، فتُرَدُّ على فقيرهم، فإذا أقروا بذلك، فخذ منهم وتوقَّ كرائمَ أموال الناس" (1).
وعن نبينا صلى الله عليه وسلم أخذ عمرُ رضي الله عنه ما كتبه لأبي موسى الأشعري رضي الله عنه موجهًا ومفقِّهًا، فقال رضي الله عنه: "إن القضاء فريضة محكمة، وسنة متبعة، افهم إذا أُدلي إليك؛ فإنه لا ينفع كلمة حق لا نفاذَ له، آسِ بين الناس في وجهك ومجلسك وعدلك؛ حتى لا يطمعَ شريف في حيفك، ولا يخافَ ضعيف من جورك" (2).
وعن كتاب ربنا، وسنة نبينا وهدي سلفنا قَرَّر العلماء قواعدَ الأولويات بين الضروريَّات والحاجيَّات والتحسينيَّات، كما أَصَّلُوا للتفاوت بين الواجبات والمندوبات، والمحرمات والمكروهات؛ في ذاتها تارةً، وعند التزاحم والتعارض أخرى.
--------------------------------------------
{নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে, আল্লাহর নিকট তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ এবং তারাই সফলকাম (২০)} [আত-তাওবাহ: ১৯, ২০] যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে দাওয়াতি কাজের পর্যায়ক্রম এবং সেগুলোর মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকারযোগ্য তা শিক্ষা দিয়েছেন; যখন তিনি মুয়াজকে (রা.) একজন দাঈ ও শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেন, তখন তাকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ; তাই তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান যেন হয় আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের প্রতি। যখন তারা এটি জানবে, তখন তাদের সংবাদ দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যখন তারা নামাজ আদায় করবে, তখন তাদের জানাও যে, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ করেছেন; যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। যখন তারা এটি স্বীকার করে নেবে, তখন তাদের থেকে তা গ্রহণ করো এবং মানুষের সর্বোত্তম সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকো।" (১)।
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকেই উমর (রা.) সেই নির্দেশনা লাভ করেছিলেন যা তিনি আবু মুসা আল-আশআরী (রা.)-এর কাছে দিকনির্দেশক ও ফকিহ হিসেবে লিখেছিলেন। তিনি (রা.) বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই বিচারকার্য একটি সুনিশ্চিত ফরজ (فريضة محكمة) এবং অনুসরণযোগ্য সুন্নাহ (سنة متبعة)। তোমার কাছে যখন কোনো বিষয় পেশ করা হবে তখন তা গভীরভাবে উপলব্ধি করো; কারণ সত্য কথা কার্যকর না হলে তার কোনো উপকারিতা নেই। তোমার চেহারা, মজলিস এবং বিচারে মানুষের মাঝে সমতা রক্ষা করো; যেন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি তোমার পক্ষপাতের আশা না করে এবং কোনো দুর্বল ব্যক্তি তোমার অন্যায়ের ভয় না পায়।" (২)।
আমাদের রবের কিতাব, নবীর সুন্নাহ এবং সালাফদের নির্দেশনার আলোকে আলেমগণ জরুরি (ضروريات), প্রয়োজনীয় (حاجيات) এবং পরিপূরক (تحسينيات) বিষয়গুলোর মধ্যে অগ্রাধিকারের মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। একইভাবে তারা ওয়াজিব (واجبات), মুস্তাহাব (مندوبات), হারাম (محرمات) এবং মাকরুহ (مكروهات)-এর মধ্যকার পার্থক্যের ভিত্তি স্থাপন করেছেন; কখনো সেগুলোর নিজস্ব সত্তার বিচারে, আবার কখনো সেগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত (تزاحم) ও দ্বন্দ্বের (تعارض) সময়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وهذا الفقه الدعويُّ يقتضي موازنةً في الخطاب بين المصالح والمفاسد، ومقابلةً بين المنافع والمضارِّ عند التزاحم، كما يقتضي إدراكًا لمقاصد الشريعة ومعانيها الكليةِ التي لأجلها شُرِعَتِ الأحكامُ، والتي على أساسها تترتب مصالحُ الأنام.
وجهات الأولوية متعددة متنوعة، فالأعمال المطلوبة من حيث الزمان تتفاوت رتبها؛ بناءً على إدراك واجب الوقت، وفريضة العمر، وشرف الزمان والدهر.
كما تتفاوت من حيث المكان، وما يتعلق به من عمل، رعايةً لفضله، أو تقديرًا لعُرْفِ أهله، كما تتفاوت من حيث ما يطرأ من أَمْرٍ استثنائيٍّ، أو يعرض من حال خاصة، أو ما يقع مما يَعْسُرُ الاحترازُ عنه، أو تعمُّ البلوى به.
وكذلك فإن الأعمال والتصرفات - سواءً أكانت قلبية، أم قولية، أم فعلية - تتفاوت في ذاتها، كما تفاوتت باعتباراتٍ من خارجها.
فمعيار إدراك الأولويات - في الدرجة الأولى - شرعيٌّ، وميزان الترجيح بينها نقليٌّ؛ إذ هو المصدر المعصوم، والصدور عنه فرضٌ محتومٌ، ثم ما استند إليه من إجماع موثَّق، أو قياس محقق.
ثم تأتي - في الدرجة التالية - المقاصد الشرعية، والمصالح المرعية، ومصادر التشريع الثانوية؛ كسَدِّ الذرائع، أو فتحها
… وغيرها.
وأخيرًا تأتي المشتركات العامة؛ مِن تجارب الدعاة من لدن أنبياء
এবং এই দাওয়াহ-ভিত্তিক ফিকহ বা গভীর উপলব্ধি বক্তব্যের ক্ষেত্রে কল্যাণ (المصالح) ও অকল্যাণের (المفاسد) মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং যখন পারস্পরিক সংঘাত সৃষ্টি হয় তখন সুবিধা ও অসুবিধার মধ্যে তুলনা করার দাবি রাখে। পাশাপাশি এটি শরিয়তের উচ্চতর লক্ষ্যসমূহ (مقاصد الشريعة) এবং এর সেই সকল সামগ্রিক তাৎপর্য অনুধাবনের দাবি রাখে, যার জন্য বিধানসমূহ প্রণীত হয়েছে এবং যার ভিত্তিতে মানুষের জনকল্যাণ সুসংগঠিত হয়।
অগ্রাধিকারের দিকগুলো বহুমুখী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। সময়ের প্রেক্ষিতে কাঙ্ক্ষিত আমলসমূহের স্তর ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; আর তা মূলত সময়ের দাবি (واجب الوقت), জীবনের আবশ্যিক কর্তব্য এবং সময় ও যুগের মর্যাদার উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
অনুরূপভাবে স্থানের প্রেক্ষিতে এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট আমলের বিচারেও এগুলোর মর্যাদায় তারতম্য ঘটে; যা সেই স্থানের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি লক্ষ্য রেখে অথবা সেখানকার অধিবাসীদের প্রথা (عرف)-কে মূল্যায়ন করে করা হয়। এছাড়া কোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া, বিশেষ অবস্থার উদ্ভব ঘটা কিংবা যা থেকে বেঁচে থাকা কঠিন অথবা যা ব্যাপক সমস্যা (عموم البلوى) হিসেবে দেখা দেয়—তার বিচারেও এগুলোর মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
তেমনিভাবে আমল ও কার্যাবলি—তা অন্তরের হোক, মৌখিক হোক কিংবা শারীরিক হোক—স্বকীয় সত্তার বিচারে যেমন ভিন্ন হয়, বাহ্যিক বিবেচনার কারণেও তেমনি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
মূলত অগ্রাধিকার উপলব্ধির মানদণ্ড—প্রথমত—শরিয়তসম্মত এবং এগুলোর মধ্যে প্রাধান্য নির্ধারণের (الترجيح) মানদণ্ড হলো উদ্ধৃতিমূলক (نقلي); যেহেতু এটি একটি সংরক্ষিত উৎস এবং এর অনুসরণ করা একটি অনিবার্য ফরজ। এরপর স্থান পায় নির্ভরযোগ্য ঐকমত্য (إجماع) কিংবা সুপ্রতিষ্ঠিত যৌক্তিক তুলনা (قياس)।
অতঃপর পরবর্তী পর্যায়ে আসে শরিয়তের উচ্চতর লক্ষ্যসমূহ (مقاصد الشريعة), সংরক্ষিত জনস্বার্থ এবং বিধান প্রণয়নের গৌণ উৎসসমূহ; যেমন অনিষ্টের উপায় রুদ্ধকরণ (سد الذرائع) কিংবা তা উন্মুক্তকরণ
… এবং অন্যান্য বিষয়।
সর্বশেষে আসে সাধারণ সাধারণ বিষয়সমূহ; যা নবীগণের যুগ থেকে দাঈদের অভিজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الله تعالى وإلى اليوم.
ثم إن المقاصد الشرعية، والمصالح المرعية، والمشتركات الدعوية تتعلق جميعًا بالواقع، وترتبط بالحياة، وبقدر رعاية الخطاب السلفي لخصائص الواقع، ومجريات أحداثه ومؤثراته؛ تتعاظم فاعليته، وتتجلى ثمراته ونتائجه.
وفقه الأولويات في الخطاب الإِسلامي السلفي له ركائزُ يقوم عليها، تمثل معاقد الاتفاق، وأصول الوفاق، وهي كالأصول المحكمات، بين سائر الدعاة أفرادًا أو جماعات، وعند التفصيل في إعمال التأصيل قد تتفاوت الاجتهادات، وتتنوع التخصصات، ومثل هذا لا تتفرق به الكلمة، ولا تتأتى معه في الصف الإِسلامي - بحمد الله - ثُلمة.
وقبل الدخول إلى الحديث عن فقه الأولويات في الخطاب السلفي المعاصر، تتعين الإجابة عن سؤال مهم، وهو: لماذا الحديث عن هذا الأمر الآن؟ وما الداعي إلى الاشتغال به في هذا التوقيت الذي يُلْمَسُ فيه انتعاشٌ سلفيٌّ وحضورٌ سياسيٌّ؟! وفي الفصل الآتي بيانٌ موسَّعٌ يتضمن إجابة تطوف حول معالِمَ تاريخيَّةٍ أحيانًا، وواقعيةٍ ومنهجيةٍ أحيانًا أخرى.
আল্লাহ তাআলা এবং আজ অবধি।
অতঃপর শারঈ মাকাসিদ (শরীয়তের লক্ষ্যসমূহ), স্বীকৃত জনকল্যাণসমূহ এবং দাওয়াতি সাধারণ বিষয়সমূহ সবই বাস্তবতার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। সালাফি দাওয়াতি প্রচার বাস্তবতার বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এর ঘটনাবলী ও প্রভাবকের প্রতি যতটুকু যত্নশীল হবে, এর কার্যকারিতা ততটাই বৃদ্ধি পাবে এবং এর সুফল ও ফলাফল ততটাই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ইসলামি সালাফি প্রচারে অগ্রাধিকারের ফিকহ কিছু নির্দিষ্ট স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা ঐকমত্যের ভিত্তি এবং সংহতির মূল হিসেবে বিবেচিত। এগুলো সকল দাঈদের নিকট—ব্যক্তিগতভাবে হোক বা দলগতভাবে—অকাট্য মূলনীতিসমূহের (الأصول المحكمات) ন্যায়। যখন এই মূলনীতিগুলোর প্রয়োগের বিস্তারিত বিবরণে যাওয়া হয়, তখন ইজতিহাদসমূহ (الاجتهادات) ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলো বৈচিত্র্যময় হতে পারে। এ জাতীয় বিষয়ের কারণে আদর্শিক ঐক্য বিনষ্ট হয় না এবং আল্লাহর প্রশংসায় ইসলামি সারিতে কোনো ফাটল সৃষ্টি হয় না।
সমকালীন সালাফি প্রচারে অগ্রাধিকারের ফিকহ সম্পর্কে আলোচনা শুরু করার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আবশ্যক, আর তা হলো: কেন এখন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে? আর বর্তমান সময়ে—যেখানে সালাফি জাগরণ এবং রাজনৈতিক উপস্থিতি বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে—এই বিষয় নিয়ে ব্যাপৃত হওয়ার প্রয়োজনীয়তাই বা কী? পরবর্তী অধ্যায়ে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যার উত্তরে কখনো ঐতিহাসিক নিদর্শনাবলি, আবার কখনো বাস্তব ও পদ্ধতিগত নিদর্শনাবলি আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثانىلماذا الحديث عن أولويات الخطاب السلفي؟
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসালাফি দাওয়াতের অগ্রাধিকারসমূহ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা কেন?
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
لماذا الحديث عن أولويات
الخطاب السلفي؟
أولويات الخطاب السلفي المعاصر تتعدد، وأسباب الحديث عنه اليوم تتنوع، وهذه الأسباب منها: ما هو داخلي، ومنها: ما هو خارجي، ومنها: ما هو داخلي خارجي في نفس الوقت.
وللإجابة عن هذا السؤال - الذي صُدِّرَ به هذا الفصلُ - عناصرُ متعددةٌ، نستعرضها في المباحث التالية:
কেন সালাফি দাওয়াতের অগ্রাধিকারসমূহ সংক্রান্ত
আলোচনা?
সমকালীন সালাফি দাওয়াতের অগ্রাধিকারসমূহ বহুমাত্রিক এবং বর্তমান সময়ে এই সংক্রান্ত আলোচনার কারণসমূহও বৈচিত্র্যপূর্ণ। এই কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে: কিছু অভ্যন্তরীণ, কিছু বাহ্যিক এবং কিছু একই সাথে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক।
এই প্রশ্নটির—যা দিয়ে এই অধ্যায়টি শুরু করা হয়েছে—উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে অসংখ্য উপাদান রয়েছে, যা আমরা নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহে পর্যালোচনা করব:
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المبحث الأولتدشين الحرب العالمية على السلفية (1)
لا اختلاف على أنَّه بسقوط الشيوعية، وانتهاء صلاحية شعار: (الروس قادمون) قد انتهى الجهاد والكفاح المشترك بين الغرب والعالم الإِسلامي ضد الشيوعية في أفغانستان، وليس في هذا من عجيب، وإنما العجب أنه بمجرد تحقيق هذا الهدف سارع الغرب بإعلان الإِسلام عدوًّا جديدًا! وذلك قبل أحداث الحادي عشر من سبتمبر بأكثر من عشر سنوات، وذلك حين دعاه مبكرًا داهية الغرب (نيكسون) بالخطر الأخضر الذي ينوب عن الخطر الأحمر.
ومما لا شك فيه أن الإِسلام المقصود بالحرب ليس هو إسلام العقلانية، أو العصرانية، أو الشعوذة والخرافة، أو الفِرَق أو الطرق! وليس أصحابه بطبيعة الحال من المتسوِّلين على موائد الغرب أو الشرق، وإنما هم - كما يقول نيكسون -: "المصمِّمون على استرجاع الحضارة الإِسلامية السابقة عن طريق بعث الماضي
… والذين يهدفون إلى تطبيق الشريعة الإِسلامية، وينادُون بأن الإِسلام دين ودولة، وعلى الرغم من أنهم ينظرون إلى الماضي فإنهم يتخذون منه هدايةً للمستقبل، فهم ليسوا محافظين، ولكنهم ثوارٌ! " (2).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদসালাফিয়্যাতের বিরুদ্ধে বিশ্বযুদ্ধের সূচনা (১)
এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, সমাজতন্ত্রের পতন এবং "রুশরা আসছে" স্লোগানের উপযোগিতা শেষ হওয়ার মাধ্যমে আফগানিস্তানে সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে পশ্চিম ও মুসলিম বিশ্বের যৌথ জিহাদ ও সংগ্রামের অবসান ঘটেছে। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, বরং আশ্চর্যের বিষয় হলো এই লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার সাথে সাথেই পশ্চিমারা ইসলামকে নতুন শত্রু হিসেবে ঘোষণা করতে তড়িঘড়ি করেছে! আর এটি ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনারও দশ বছরের বেশি সময় আগের কথা, যখন পশ্চিমের ধুরন্ধর রাজনীতিক নিক্সন একে ‘লাল বিপদের’ স্থলাভিষিক্ত ‘সবুজ বিপদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সতর্ক করেছিলেন।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু যে ইসলাম, তা যুক্তিবাদ, আধুনিকতাবাদ, কিংবা ঝাড়ফুঁক ও কুসংস্কার অথবা বিভিন্ন উপদল বা তরীকার ইসলাম নয়! আর স্বাভাবিকভাবেই এর অনুসারীরা প্রাচ্য বা পাশ্চাত্যের দস্তরখানের ভিখারি নয়, বরং তারা—যেমনটি নিক্সন বলেছেন—হলো: "অতীতকে পুনর্জীবিত করার মাধ্যমে পূর্ববর্তী ইসলামী সভ্যতা ফিরিয়ে আনতে সংকল্পবদ্ধ... যারা ইসলামী শরীয়াহ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রাখে এবং ঘোষণা দেয় যে ইসলাম একটি ধর্ম ও রাষ্ট্র। যদিও তারা অতীতের দিকে দৃষ্টিপাত করে, তবে তারা সেখান থেকে ভবিষ্যতের জন্য দিশা গ্রহণ করে; তাই তারা রক্ষণশীল নয়, বরং তারা বিপ্লবী!" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল আওলাউইয়াত ফিল খিতাবিস সালাফিয়্যিল মুয়াসির বাদাস সাওরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومثل هذه التصريحات تُظهر - بجلاء - أن الحرب ليست على إرهاب يُنسب إلى الإِسلام، ولا على جماعات تتبنى الجهاد، أو حتى تدين بالعنف! إنما هي حرب على إسلام العقائد والثوابت، والأصول والمبادئ بالدرجة الأولى.
إنها حرب على الإِسلام المقاوِم للهيمنة الغربية، والاستعمار، والعلمنة في جميع الميادين، وشتى مناحي الحياة! إنه الإِسلام السلفي الأصولي، كما يدعونه! وفي تقرير مؤسسة راند الأمريكية الصادر عام (2005 م) جرت المناداة بمؤتمر دولي يدشن لقيام مؤسسة دولية، لمحاربة ما أسموه "التطرف السلفي" (1)! وعلى نفس الطريق جاء التقرير التالي في (2007 م) داعيًا أن يُستخدم التيار التقليدي مع الصوفي في مواجهة الإِسلام السلفي، وأحيانًا جرى التعبير عن السلفية بـ: (الوهابية) (2).
كما نصُّوا على أن أصحاب المناهج الفلسفية والكلامية هم أقدر من غيرهم على التصدي لأهل السنة، على اختلاف أطيافهم.
وبناءً عليه؛ فإن الغرب يعتقد - وبحق - أن قاعدة التدين في
--------------------------------------------
এবং এই ধরনের ঘোষণাগুলো স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে যে, এই যুদ্ধ কেবল ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত কোনো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয়, কিংবা জিহাদের পথ অবলম্বনকারী কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, এমনকি যারা সহিংসতায় বিশ্বাসী তাদের বিরুদ্ধেও নয়! বরং এটি প্রধানত আকিদাহ ও অপরিবর্তনীয় বিষয়াবলি এবং মূলনীতি (الأصول) ও আদর্শের ইসলামের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধ।
এটি হচ্ছে সেই ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যা পশ্চিমা আধিপত্য, উপনিবেশবাদ এবং জীবনের সকল ক্ষেত্র ও দিকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রতিরোধ করে! এটি হলো তাদের ভাষায় সালাফি মৌলিকপন্থী (الأصولي) ইসলাম! ২০০৫ সালে প্রকাশিত মার্কিন র্যান্ড কর্পোরেশনের প্রতিবেদনে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আহ্বান জানানো হয়, যা তথাকথিত "সালাফি চরমপন্থা" (১) মোকাবিলার উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে।
একইভাবে ২০০৭ সালের পরবর্তী প্রতিবেদনে সালাফি ইসলামের মোকাবেলায় সুফি ধারার সাথে ঐতিহ্যবাহী ধারাকে ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয় এবং কখনো কখনো সালাফিবাদকে ওহাবিবাদ (الوهابية) (২) হিসেবেও ব্যক্ত করা হয়েছে।
তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, দর্শন ও কালামশাস্ত্রীয় পদ্ধতির অনুসারীরা আহলুস সুন্নাহর (أهل السنة) বিভিন্ন স্তরের লোকদের প্রতিহত করতে অন্যদের তুলনায় অধিক সক্ষম।
আর এর ভিত্তিতে, পশ্চিমারা বিশ্বাস করে—এবং সঙ্গতভাবেই—যে ধার্মিকতার ভিত্তি হলো...
--------------------------------------------