(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: -)
صحيح ابن خزيمة   (ابن خزيمة)

القسم: كتب السنة

الكتاب: صحيح ابن خزيمة

المؤلف: إمام الأئمة، أبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة السلمي النيسابوري (ولد 223 - ت 311 هـ)

حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وقَدّم له: الدكتور: محمد مصطفى الأعظمي [ت 1439 هـ]

راجعه وحَكَم على بعض أحاديثه: العلامة: محمد ناصر الدين الألباني [ت 1420 هـ] مميزة أحكامُه عن حواشي المحقق بوضعها بين (قوسين) مذيلة بكلمة (ناصر)، وقد يقع بعض الخطأ في تنسيق ذلك؛ كما نَبّه عليه المحقق في مقدمته ص 32 - 33 [وقد خلَتْ هذه النسخة الإكترونية من الحواشي فلْتستدرَك من المطبوع]

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সহীহ ইবনে খুজাইমাহ   (ইবনে খুজাইমাহ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

গ্রন্থ: সহীহ ইবনে খুজাইমাহ

লেখক: ইমামুল আইম্মাহ, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ আস-সুলামি আন-নাইসাবুরি (জন্ম ২২৩ - মৃত্যু ৩১১ হিজরি)

তাহকিক, টীকা প্রদান, হাদিস তখরিজ এবং ভূমিকা লিখেছেন: ডক্টর: মুহাম্মাদ মোস্তফা আল-আজমি [মৃত্যু ১৪৩৯ হিজরি]

পুনর্নিরীক্ষণ এবং কিছু হাদিসের মান নির্ধারণ করেছেন: আল্লামা: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি [মৃত্যু ১৪২০ হিজরি]। তার হুকুম বা সিদ্ধান্তগুলো তাহকিককারীর টীকা থেকে পৃথক করার জন্য সেগুলোকে (বন্ধনীতে) রাখা হয়েছে এবং শেষে (নাসির) শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে। এর বিন্যাসে কিছু ভুল হতে পারে; যেমনটি তাহকিককারী তার ভূমিকার ৩২ - ৩৩ পৃষ্ঠায় সতর্ক করেছেন [এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে টীকাগুলো বাদ পড়েছে, তাই তা মুদ্রিত কপি থেকে দেখে নিতে হবে]

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামি - বৈরুত

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
صَحِيحُ ابْنِ خُزَيْمَةَ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ،

 

أَخْبَرَنَا إِمَامُ الْأَئِمَّةِ فَقِيهُ الْآفَاقِ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ النَّيْسَابُورِيُّ الْحَافِظُ رحمه الله، قَالَ:

 

كِتَابُ الْوُضُوءِ مُخْتَصَرُ الْمُخْتَصَرِ مِنَ الْمُسْنَدِ الصَّحِيحِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، بِنَقْلِ الْعَدْلِ، عِنِ الْعَدْلِ مَوْصُولًا إِلَيْهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ قَطْعٍ فِي أَثْنَاءِ الْإِسْنَادِ وَلَا جَرْحَ فِي نَاقِلِي الْأَخْبَارِ الَّتِي نَذْكُرُهَا بِمَشِيئَةِ اللَّهِ تَعَالَى.
সহীহ ইবনে খুজাইমাহ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

আইম্মায়ে কেরামের ইমাম, দিগন্তবিখ্যাত ফকিহ আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ আন-নাইসাবুরি আল-হাফিজ (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:

 

ওযুর অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত সহীহ মুসনাদের সংক্ষিপ্ততম সার-সংক্ষেপ; যা একজন ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারী থেকে অপর একজন ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারী কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত, যার সনদের ধারাক্রমের মাঝে কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা যে সকল বর্ণনা উল্লেখ করব তার বর্ণনাকারীদের মাঝে কোনো ত্রুটি বা সমালোচনা নেই।
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌كِتَابُ الْوُضُوءِ «مُخْتَصَرُ الْمُخْتَصَرِ مِنَ الْمُسْنَدِ الصَّحِيحِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَقْلِ الْعَدْلِ عَنِ الْعَدْلِ مَوْصُولًا إِلَيْهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ قَطْعٍ فِي أَثْنَاءِ الْإِسْنَادِ وَلَا جَرْحٍ فِي نَاقِلِي الْأَخْبَارِ الَّتِي نَذْكُرُهَا بِمَشِيئَةِ اللَّهِ تَعَالَى»
উযুর অধ্যায় «সহীহ মুসনাদ থেকে সংক্ষেপিতের সংক্ষিপ্তসার; যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী কর্তৃক অপর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে হস্তান্তরের মাধ্যমে বর্ণিত এবং যা সনদের মাঝখানে কোনো প্রকার বিচ্ছিন্নতা কিংবা সংবাদ বর্ণনাকারীদের মধ্যে কোনো সমালোচনা ছাড়াই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে, যা আমরা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় উল্লেখ করব»
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌بَابُ ذِكْرِ الْخَبَرِ الثَّابِتِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِأَنَّ إِتْمَامَ الْوُضُوءِ مِنَ الْإِسْلَامِ
অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত সুসাব্যস্ত বর্ণনার উল্লেখ যে, পূর্ণাঙ্গরূপে ওযু করা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌1 - حَدَّثَنَا أَبُو يَعْقُوبَ يُوسُفُ بْنُ وَاضِحٍ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ قَالَ: قُلْتُ: - يَعْنِي - لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّ أَقْوَامًا يَزْعُمُونَ أَنْ لَيْسَ قَدَرٌ قَالَ: هَلْ عِنْدَنَا مِنْهُمْ أَحَدٌ؟ قُلْتُ: لَا قَالَ: فَأَبْلِغْهُمْ عَنِّي إِذَا لَقِيتَهُمْ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ يَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ مِنْكُمْ، وَأَنْتُمْ بُرَآءُ مِنْهُ، ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أُنَاسٍ، إِذْ جَاءَ رَجُلٌ لَيْسَ عَلَيْهِ سَحْنَاءُ سَفَرٍ، وَلَيْسَ مِنْ أَهْلِ الْبَلَدِ يَتَخَطَّى حَتَّى وَرَدَ، فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَأَنْ تُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ وَتَعْتَمِرَ، وَتَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ، وَأَنْ تُتِمَّ الْوُضُوءَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ» . قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُسْلِمٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: صَدَقْتَ «وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ فِي السُّؤَالِ عَنِ الْإِيمَانِ وَالْإِحْسَانِ وَالسَّاعَةِ»
১ - আমাদের নিকট আবু ইয়াকুব ইউসুফ ইবনে ওয়াদিহ আল-হাশিমী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুতামির ইবনে সুলায়মান হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে বললাম—অর্থাৎ—হে আবু আব্দুর রহমান! নিশ্চয়ই এমন কিছু সম্প্রদায় রয়েছে যারা দাবি করে যে, তাকদীর বা ভাগ্যলিপি বলে কিছু নেই। তিনি বললেন: আমাদের নিকট তাদের কেউ কি আছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে তুমি যখন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন আমার পক্ষ থেকে তাদের জানিয়ে দিও যে, ইবনে উমর আল্লাহর কাছে তোমাদের থেকে সম্পর্কহীন এবং তোমরাও তার থেকে সম্পর্কহীন। অতঃপর তিনি বললেন: আমার নিকট উমর ইবনুল খাত্তাব হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু লোকের মাঝে উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি আসলেন যার মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন ছিল না এবং তিনি এই জনপদের লোকও ছিলেন না। তিনি লোকদের অতিক্রম করে সামনে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে বসলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! ইসলাম কী? তিনি বললেন: «ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ ও উমরাহ করা, জানাবাত থেকে গোসল করা, ওযু পূর্ণরূপে সম্পন্ন করা এবং রমজানের রোজা পালন করা»। তিনি বললেন: আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুসলিম? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। অতঃপর বর্ণনাকারী ঈমান, ইহসান এবং কিয়ামত সম্পর্কিত দীর্ঘ হাদীসটি উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌بَابُ ذِكْرِ فَضَائِلِ الْوُضُوءِ يَكُونُ بَعْدَهُ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ
ওযুর সেই ফযিলত বর্ণনার পরিচ্ছেদ যার পর ফরজ সালাত আদায় করা হয়
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، وَثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ كُرَيْبٍ، ثنا أَبُو أُسَامَةَ، وَثنا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، ثنا سُفْيَانُ كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ أَنَّهُ أَخْبَرَ قَالَ: رَأَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ عَلَى الْبَلَاطِ، فَقَالَ: أُحَدِّثُكُمْ بِحَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، وَصَلَّى، غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلَاةِ الْأُخْرَى» هَذَا لَفْظُ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ "

2 - قال الأعظمي: إسناده صحيح
2 - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে বাশশার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন; এবং আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল আলা ইবনে কুরাইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু উসামাহ বর্ণনা করেছেন; এবং আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাখজুমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি হুমরান ইবনে আবান থেকে বর্ণনা করেছেন। হুমরান (ইবনে আবান) সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি উসমান ইবনে আফফানকে অজুর পানি ডাকতে দেখলাম, অতঃপর তিনি পাথরের বাঁধানো মেঝের ওপর অজু করলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি তোমাদের নিকট একটি হাদিস বর্ণনা করছি যা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি অজু করল এবং উত্তমরূপে অজু সম্পন্ন করল, এরপর সালাত আদায় করল, তবে তার এই সালাত এবং পরবর্তী সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহ) ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের বর্ণিত হাদিসের শব্দ।

২ - আল-আজমি বলেছেন: এর সনদ সহিহ
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌بَابُ ذِكْرِ فَضْلِ الْوُضُوءِ ثَلَاثًا ثَلَاثًا يَكُونُ بَعْدَهُ صَلَاةُ تَطَوُّعٍ، لَا يُحَدِّثُ الْمُصَلِّي فِيهَا نَفْسَهُ
তিনবার করে ওযু করার ফজিলত বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, যার পরে এমন নফল সালাত আদায় করা হয় যাতে সালাত আদায়কারী নিজের মনে মনে কোনো কথা বলে না
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌3 - ثنا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّدَفِيُّ، ثنا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، وَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، أَنَّ ابْنَ وَهْبٍ أَخْبَرَهُمْ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَزِيدَ اللَّيْثِيَّ أَخْبَرَهُ، أَنَّ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ «دَعَا يَوْمًا بِوَضُوءٍ، فَتَوَضَّأَ، فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَاسْتَنْثَرَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ» ، ثُمَّ قَالَ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا» ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ» قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: " وَكَانَ عُلَمَاؤُنَا يَقُولُونَ: هَذَا الْوُضُوءُ أَسْبَغُ مَا يَتَوَضَّأَ بِهِ أَحَدٌ لِلصَّلَاةِ "
‌৩ - ইউনুস বিন আবদিল আ’লা আস-সাদাফী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনুল ওয়াহাব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইউনুস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, এবং মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদিল হাকাম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনুল ওয়াহাব তাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে যে, আতা বিন ইয়াজিদ আল-লাইসী তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উসমানের মুক্ত দাস হুমরান তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উসমান বিন আফফান «একদা ওযুর পানি চাইলেন, এরপর ওযু করলেন; তিনি তাঁর দুই হাতের কবজি তিনবার ধৌত করলেন এবং নাক ঝাড়লেন, এরপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন, এরপর তাঁর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন, এরপর তাঁর বাম হাতও অনুরূপভাবে ধৌত করলেন, এরপর তাঁর মাথা মাসহ করলেন, এরপর তাঁর ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন এবং তাঁর বাম পা-ও অনুরূপভাবে ধৌত করলেন», এরপর তিনি বললেন: «আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করতে দেখেছি», এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে, অতঃপর দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং তাতে নিজের মনের সাথে কথা বলবে না, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।» ইবনে শিহাব বলেন: "আমাদের উলামাগণ বলতেন: এই ওযু হলো সালাতের জন্য কোনো ব্যক্তির করা ওযুসমূহের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ।"
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌بَابُ ذِكْرِ حَطِّ الْخَطَايَا بِالْوُضُوءِ مِنْ غَيْرِ ذِكْرِ صَلَاةٍ تَكُونُ بَعْدَهُ
এরপর কোনো সালাতের উল্লেখ ছাড়াই ওযূর মাধ্যমে পাপ মোচনের বর্ণনার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌4 - ثنا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّدَفِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَنَّ مَالِكًا حَدَّثَهُ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوِ الْمُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتْ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ، فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ كَانَ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ، فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ»
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে আবদিল আ’লা আস-সাদাফী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনু ওয়াহাব যে, ইমাম মালিক তাঁকে হাদীস শুনিয়েছেন সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন কোনো মুসলিম বা মুমিন বান্দা অজু করে এবং তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার মুখমণ্ডল থেকে ঐ সকল গুনাহ ঝরে যায় যা সে তার দুই চোখ দিয়ে দেখার মাধ্যমে করেছিল। এরপর যখন সে তার দুই হাত ধৌত করে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার হাত দুটি থেকে ঐ সকল গুনাহ ঝরে যায় যা তার দুই হাত করেছিল। এরপর যখন সে তার দুই পা ধৌত করে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার দুই পা থেকে ঐ সকল গুনাহ ঝরে যায় যার দিকে তার পা দুটি হেঁটে গিয়েছিল; এভাবে পরিশেষে সে গুনাহসমূহ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে বের হয়।»
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌بَابُ ذِكْرِ حَطِّ الْخَطَايَا، وَرَفْعِ الدَّرَجَاتِ فِي الْجَنَّةِ بِإِسْبَاغِ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ، وَإِعْطَاءِ مُنْتَظِرِ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ أَجْرَ الْمُرَابِطِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
কষ্টকর পরিস্থিতিতে পূর্ণরূপে ওযু করার মাধ্যমে গুনাহ মোচন ও জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধি এবং এক সালাতের পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষাকারীকে আল্লাহর পথে পাহারাদারের সওয়াব প্রদানের বর্ণনার অধ্যায়
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌5 - ثنا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، ثنا إِسْمَاعِيلُ يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ، ثنا الْعَلَاءُ وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَحَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَقَدِيُّ، ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ثنا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، ثنا الْعَلَاءُ، وَحَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَنَّ مَالِكًا حَدَّثَهُ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا، وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ؟» قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ، فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ، فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ» لَفْظًا وَاحِدًا، غَيْرُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ حُجْرٍ قَالَ: فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ مَرَّةً، وَقَالَ يُونُسُ فِي حَدِيثِهِ: أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا، وَلَمْ يَقُلْ: قَالُوا: بَلَى "
‌‌৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে হুজর আস-সাদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল অর্থাৎ ইবনে জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আলা—যিনি ইবনে আবদুর রহমান। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে মুআয আল-আকাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে যুরাই, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাওহ ইবনুল কাসিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আলা। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে আবদিল আলা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব যে, মালিক তাকে আল-আলা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি কি তোমাদের এমন কিছু বাতলে দেব না যার দ্বারা আল্লাহ পাপসমূহ মোচন করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন?" তারা বললেন: "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন: "কষ্টকর পরিস্থিতিতেও পূর্ণাঙ্গভাবে অজু সম্পাদন করা, মসজিদের দিকে অধিক পদচারণা করা এবং এক সালাতের পর পরবর্তী সালাতের জন্য অপেক্ষা করা; আর এটাই হলো রিবাত, এটাই হলো রিবাত।" সকলের শব্দার্থ অভিন্ন, তবে আলি ইবনে হুজর "এটাই হলো রিবাত" কথাটি একবার বলেছেন। আর ইউনুস তার বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: "আমি কি তোমাদের সংবাদ দেব না যার দ্বারা আল্লাহ পাপসমূহ মোচন করেন?" তবে তিনি "তারা বললেন: অবশ্যই" —এই অংশটি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌بَابُ ذِكْرِ عَلَامَةِ أُمَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الَّذِينَ جَعَلَهُمُ اللَّهُ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ للِنَّاسِ بِآثَارِ الْوُضُوءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَامَةً يُعْرَفُونَ بِهَا فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ
পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের নিদর্শনের আলোচনা, যাদেরকে আল্লাহ মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন; কিয়ামত দিবসে ওযুর চিহ্নের মাধ্যমে তাদের পরিচিত হওয়ার নিদর্শন প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌6 - ثنا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، ثنا إِسْمَاعِيلُ يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ، ثنا الْعَلَاءُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَحَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَنَّ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ حَدَّثَهُ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَحَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْعَلَاءِ، وَحَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ: سَمِعْتُ الْعَلَاءَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَحَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ رَوْحِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَقْبَرَةِ فَسَلَّمَ عَلَى أَهْلِهَا وَقَالَ: «سَلَامٌ عَلَيْكُمْ أَهْلَ دَارِ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ، وَإِنَّا إِنَّ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ، وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا» . قَالُوا: أَوَلَسْنَا بِإِخْوَانِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «أَنْتُمْ أَصْحَابِي، وَإِخْوَانِي قَوْمٌ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ، وَأَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ» . قَالُوا: وَكَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأْتِ بَعْدُ مِنْ أُمَّتِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ رَجُلًا لَهُ خَيْلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَيْ خَيْلٍ بُهْمٍ دُهْمٍ أَلَا يَعْرِفُ خَيْلَهُ؟» قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: " فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ أَثَرِ الْوُضُوءِ، وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ، أَلَا لَيُذَادَنَّ رِجَالٌ عَنْ حَوْضِي كَمَا يُذَادُ الْبَعِيرُ الضَّالُّ، أُنَادِيهِمْ أَلَا هَلُمَّ، فَيُقَالَ: إِنَّهُمْ قَدْ أَحْدَثُوا بَعْدَكَ، وَأَقُولُ سُحْقًا، سُحْقًا «هَذَا لَفْظُ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ»
6 - আলী ইবনে হুজর আস-সাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল অর্থাৎ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আলা' তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে মালিক ইবনে আনাস তাঁর নিকট আল-আলা' ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং বুন্দার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু’বা আল-আলা' থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং আবু মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, শু’বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল-আলা'-কে তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি; এবং ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আদ-দাওরাকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে উলাইয়্যাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাওহ ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি আল-আলা' ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াকুব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে বের হলেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের সালাম প্রদান করে বললেন: «হে মুমিন সম্প্রদায়ের গৃহের অধিবাসীগণ, আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর আমরা ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি। আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমরা যদি আমাদের ভাইদের দেখতে পেতাম!» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন: «তোমরা তো আমার সাথী (সাহাবী), আর আমার ভাই হলো তারা যারা এখনো আসেনি। আর আমি হাউজে (কাউসারে) তোমাদের অগ্রগামী থাকব»। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উম্মতের যারা এখনো আসেনি আপনি তাদের কিভাবে চিনবেন? তিনি বললেন: «তোমরা কি মনে করো, যদি কোনো ব্যক্তির এমন কিছু ঘোড়া থাকে যার কপাল ও পা উজ্জ্বল শুভ্র এবং তা অনেকগুলো কুচকুচে কালো ঘোড়ার মধ্যে থাকে, তবে কি সে তার ঘোড়াগুলো চিনতে পারবে না?» তাঁরা বললেন: অবশ্যই পারবেন হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: «তারাও ওযূর প্রভাবে কিয়ামতের দিন উজ্জ্বল শুভ্র কপাল ও হাত-পা নিয়ে উপস্থিত হবে। আর আমি হাউজে তাদের অগ্রগামী থাকব। সাবধান! অবশ্যই কিছু লোককে আমার হাউজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে যেভাবে হারানো উটকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। আমি তাদের ডেকে বলব: সাবধান, এদিকে এসো! তখন বলা হবে: তারা আপনার পর (দ্বীনে) নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছিল। তখন আমি বলব: দূর হও, দূর হও।» এটি ইবনে উলাইয়্যাহর বর্ণিত হাদীসের শব্দ।
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌بَابُ اسْتِحْبَابِ تَطْوِيلِ التَّحْجِيلِ بِغَسْلِ الْعَضُدَيْنِ فِي الْوُضُوءِ «إِذِ الْحِلْيَةُ تَبْلُغُ مَوَاضِعَ الْوُضُوءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِحُكْمِ النَّبِيِّ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم»
পরিচ্ছেদ: ওজুতে দুই বাহু ধৌত করার মাধ্যমে ‘তাহজীল’ (উজ্জ্বলতা) দীর্ঘায়িত করা মুস্তাহাব হওয়া; যেহেতু কিয়ামতের দিন ওজুর স্থানসমূহ পর্যন্ত অলংকার পৌঁছাবে—মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষণা অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌7 - ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ الصَّيْرَفِيُّ الْكُوفِيُّ، ثنا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ قَالَ: رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَتَوَضَّأُ فَجَعَلَ يَبْلُغُ بِالْوَضُوءِ قَرِيبًا مِنْ إِبْطِهِ، فَقُلْتُ لَهُ، فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ الْحِلْيَةَ تَبْلُغُ مَوَاضِعَ الطُّهُورِ»
৭ - ইব্রাহীম বিন ইউসুফ আস-সাইরাফী আল-কূফী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবন ইদরীস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ মালিক আল-আশজাঈ থেকে, তিনি আবূ হাযিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবূ হুরায়রাকে ওযু করতে দেখলাম, তিনি ওযুর পানি বগলের কাছাকাছি পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছিলেন। তখন আমি তাঁকে এ বিষয়ে বললে তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই জান্নাতের অলঙ্কার ওযুর স্থানসমূহ পর্যন্ত পৌঁছাবে।"
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌بَابُ نَفْيِ قَبُولِ الصَّلَاةِ بِغَيْرِ وُضُوءٍ بِذِكْرِ خَبَرٍ مُجْمَلٍ غَيْرِ مُفَسِّرٍ
অনুচ্ছেদ: ওযু ব্যতীত সালাত কবুল না হওয়ার বর্ণনা; একটি সংক্ষিপ্ত ও অব্যাখ্যায়িত হাদীস উল্লেখ করার মাধ্যমে
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌8 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَحَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الذَّارِعُ، ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، ثنا أَبُو دَاوُدَ قَالُوا جَمِيعًا: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ - وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ بُنْدَارٍ - عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: مَرِضَ ابْنُ عَامِرٍ فَجَعَلُوا يُثْنُونَ عَلَيْهِ، وَابْنُ عُمَرَ سَاكِتٌ فَقَالَ: أَمَا إِنِّي لَسْتُ بِأَغَشِّهِمْ، وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةً بِغَيْرِ طُهُورٍ، وَلَا صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ»
৮ - মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আয-যারি‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবনে যুরাই‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং ইয়াহইয়া ইবনে হাকীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলে বলেছেন: শু‘বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আর এটি বুন্দারের হাদিসের শব্দ—সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আমির অসুস্থ হলেন, তখন উপস্থিত লোকেরা তাঁর প্রশংসা করতে লাগল, আর ইবনে উমর চুপ ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: শোনো, আমি তাদের তুলনায় তোমার প্রতি কম হিতাকাঙ্ক্ষী নই, কিন্তু আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন: «পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাৎকৃত মাল থেকে কোনো সদকা গ্রহণ করেন না।»
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌9 - ثنا الْحَسَنُ بْنُ سَعِيدٍ أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَزَّازُ الْفَارِسِيُّ سَكَنَ بَغْدَادَ بِخَبَرٍ غَرِيبِ الْإِسْنَادِ قَالَ: ثنا غَسَّانُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمَوْصِلِيُّ، ثنا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ إِلَّا بِطُهُورٍ، وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ»
৯ - আমাদের নিকট আল-হাসান ইবনে সাঈদ আবু মুহাম্মাদ আল-কাযযায আল-ফারিসি একটি গরিব সনদের সূত্রের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করেছেন—যিনি বাগদাদে বসবাস করতেন—তিনি বলেন: আমাদের নিকট গাসসান ইবনে উবাইদ আল-মাওসিলি হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইকরিমা ইবনে আম্মার হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «পবিত্রতা ব্যতীত কোনো সালাত কবুল করা হয় না এবং আত্মসাৎকৃত মালের সদকা কবুল করা হয় না।»
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌10 - ثنا أَبُو عَمَّارٍ الْحَسَنُ بْنُ حُرَيْثٍ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ كَثِيرٍ وَهُوَ ابْنُ يَزِيدَ، عَنِ الْوَلِيدِ وَهُوَ ابْنُ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةً بِغَيْرِ طُهُورٍ، وَلَا صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ»

10 - قال الأعظي: قال الهيثمي في المجمع:

رواه البزار وفيه كثير بن زيد الأسلمي وثقه ابن حبان وابن معين في رواية وقال أبو زرعة: صدوق فيه لين وضعفه النسائي وقال محمد بن عبد الله بن عمار الموصلي: ثقة
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আম্মার আল-হাসান ইবনে হুরাইস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে আবি হাজিম, কাসির (যিনি ইবনে ইয়াজিদ) থেকে, ওয়ালিদ (যিনি ইবনে রাবাহ) থেকে, আবু হুরায়রা থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ পবিত্রতা ব্যতীত কোনো সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাৎকৃত মাল থেকে কোনো সদকা গ্রহণ করেন না।»

১০ - আল-আজমি বলেছেন: আল-হাইসামি 'আল-মাজমা' গ্রন্থে বলেছেন:

এটি আল-বাজার বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে কাসির ইবনে যায়েদ আল-আসলামি রয়েছেন। ইবনে হিব্বান এবং এক বর্ণনায় ইবনে মাইন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু যুরআ বলেছেন: তিনি সত্যবাদী তবে তার মাঝে শিথিলতা রয়েছে এবং নাসায়ি তাকে দুর্বল বলেছেন। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মার আল-মাওসিলি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌بَابُ ذِكْرِ الْخَبَرِ الْمُفَسِّرِ لِلَّفْظَةِ الْمُجْمَلَةِ الَّتِي ذَكَرْتُهَا، وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا نَفَى قَبُولَ الصَّلَاةِ لِغَيْرِ الْمُتَوَضِّئِ الْمُحْدِثِ الَّذِي قَدْ أحَدَثَ حَدَثًا يُوجِبُ الْوُضُوءَ، لَا كُلِّ قَائِمٍ إِلَى الصَّلَاةِ، وَإِنْ كَانَ غَيْرَ مُحْدِثٍ حَدَثًا يُوجِبُ الْوُضُوءَ
পরিচ্ছেদ: আমার উল্লিখিত অস্পষ্ট শব্দের ব্যাখ্যামূলক বর্ণনার উল্লেখ এবং এর প্রমাণ যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল সেই অপবিত্র ব্যক্তির সালাত কবুল হওয়াকে নাকচ করেছেন যে এমন অপবিত্রতায় লিপ্ত হয়েছে যা অজুকে আবশ্যক করে, সালাতে দণ্ডায়মান প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে নয়, যদিও সে অজু আবশ্যককারী কোনো অপবিত্রতায় লিপ্ত না হয়।
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌11 - ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ، وَعَمِّي إِسْمَاعِيلُ بْنُ خُزَيْمَةَ قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ»
১১ - আব্দুর রহমান ইবনে বিশর ইবনুল হাকাম এবং আমার চাচা ইসমাইল ইবনে খুযাইমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন মা‘মার থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন অপবিত্র হয়, যতক্ষণ না সে অজু করে তার সালাত কবুল করা হবে না।»
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
بَابُ ذِكْرِ الدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ اللَّهَ عز وجل إِنَّمَا أَوْجَبَ الْوُضُوءَ عَلَى بَعْضِ الْقَائِمِينَ إِلَى الصَّلَاةِ لَا عَلَى كُلِّ قَائِمٍ إِلَى الصَّلَاةِ " فِي قَوْلِهِ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ} [المائدة: 6] الْآيَةَ، إِذِ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا وَلَّى نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم بَيَانَ مَا أَنْزَلَ عَلَيْهِ خَاصًّا وَعَامًّا، فَبَيَّنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِسُنَّتِهِ أَنَّ اللَّهَ إِنَّمَا أَمَرَ بِالْوُضُوءِ بَعْضَ الْقَائِمِينَ إِلَى الصَّلَاةِ، لَا كُلَّهُمْ، كَمَا بَيَّنَ عليه السلام أَنَّ اللَّهَ عز وجل أَرَادَ بِقَوْلِهِ: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً} [التوبة: 103] بَعْضَ الْأَمْوَالِ لَا كُلَّهَا، وَكَمَا بَيَّنَ بِقِسْمَةِ سَهْمِ ذِي الْقُرْبَى ِ بَيْنَ بَنِي هَاشِمٍ، وَبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، أَنَّ اللَّهَ أَرَادَ بِقَوْلِهِ: {ذِي الْقُرْبَى} [النساء: 36] بَعْضَ قَرَابَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دُونَ جَمِيعِهِمْ، وَكَمَا بَيَّنَ أَنَّ اللَّهَ أَرَادَ بِقَوْلِهِ: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} [المائدة: 38] بَعْضَ السُّرَّاقِ دُونَ جَمِيعِهِمْ، إِذْ سَارِقُ دِرْهَمٍ فَمَا دُونَهُ يَقَعُ عَلَيْهِ اسْمُ سَارِقٍ، فَبَيَّنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَوْلِهِ: «الْقَطْعُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا» ، أَنَّ اللَّهَ إِنَّمَا أَرَادَ بَعْضَ السُّرَّاقِ دُونَ بَعْضٍ بِقَوْلِهِ: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} [المائدة: 38] الْآيَةَ قَالَ اللَّهُ عز وجل لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ للِنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44] "

পরিচ্ছেদ: এই বিষয়ের দলিলের বর্ণনা যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কেবল সালাতের জন্য দণ্ডায়মান কিছু ব্যক্তির ওপর অজু ওয়াজিব করেছেন, সালাতের জন্য দণ্ডায়মান প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর নয়। তাঁর এই বাণীতে: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো} [আল-মায়িদাহ: ৬] আয়াত প্রসঙ্গে; কেননা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর যা অবতীর্ণ করেছেন, তার বিশেষ এবং সাধারণ বিষয়সমূহের ব্যাখ্যার দায়িত্ব তাঁকে অর্পণ করেছেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ কেবল সালাতের জন্য দণ্ডায়মান কিছু ব্যক্তিকে অজুর নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের সকলকে নয়। যেমনিভাবে তিনি (আলাইহিস সালাম) স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর বাণী: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করো} [আত-তাওবাহ: ১০৩] দ্বারা কিছু নির্দিষ্ট সম্পদ উদ্দেশ্য করেছেন, সব সম্পদ নয়। এবং যেমন তিনি বনু হাশিম ও বনু আব্দুল মুত্তালিবের মাঝে নিকটাত্মীয়দের অংশ বণ্টনের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ তাঁর বাণী: {নিকটাত্মীয়} [আন-নিসা: ৩৬] দ্বারা নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকল আত্মীয়ের পরিবর্তে কেবল বিশেষ কিছু আত্মীয়কে উদ্দেশ্য করেছেন। এবং যেমন তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, আল্লাহ তাঁর বাণী: {চোর এবং চোরনী, তোমরা তাদের হাত কেটে দাও} [আল-মায়িদাহ: ৩৮] দ্বারা সকল চোরের পরিবর্তে কেবল বিশেষ কিছু চোরকে উদ্দেশ্য করেছেন; কেননা এক দিরহাম বা তার কম চুরি করলেও তার ওপর 'চোর' অভিধা প্রযুক্ত হয়, কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাণীর মাধ্যমে—"এক চতুর্থাংশ দিনার বা তার ঊর্ধ্বে (চুরি করলে) হাত কাটা হবে"—স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ তাঁর বাণী: {চোর এবং চোরনী, তোমরা তাদের হাত কেটে দাও} [আল-মায়িদাহ: ৩৮] আয়াত দ্বারা মূলত কিছু চোরকে উদ্দেশ্য করেছেন, সকলকে নয়। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে} [আন-নাহল: ৪৪]

(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌12 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، وَحَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْفَتْحِ «تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ، وَصَلَّى الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ» ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّكَ فَعَلْتَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ تَفْعَلُهُ قَالَ: «إِنِّي عَمْدًا فَعَلْتُهُ يَا عُمَرُ» هَذَا حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ "
১২ - মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আমাদের নিকট আবু মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান অর্থাৎ ইবনে মাহদী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আলক্বামাহ ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের সময় ওজু করতেন। অতঃপর মক্কা বিজয়ের দিন তিনি ওজু করলেন এবং তাঁর মোজার ওপর মাসাহ করলেন এবং এক ওজুতে সকল সালাত আদায় করলেন। তখন উমর তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এমন একটি কাজ করলেন যা আপনি ইতিপূর্বে করতেন না। তিনি বললেন: “হে উমর, আমি ইচ্ছা করেই এটি করেছি।” এটি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীর বর্ণিত হাদীস।
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌13 - ثنا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ الدِّرْهَمِيُّ - بِخَبَرٍ غَرِيبٍ غَرِيبٍ - قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ إِلَّا يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ؛ فَإِنَّهُ شُغِلَ فَجَمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ بِوَضُوءٍ وَاحِدٍ»
১৩ - আলী ইবনে আল-হুসাইন আদ-দিরহামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন — এক অত্যন্ত বিরল সংবাদের মাধ্যমে — তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুতামির বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি মুহারিব ইবনে দিসার থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের জন্য ওযু করতেন, কেবল মক্কা বিজয়ের দিন ব্যতীত; কারণ সেদিন তিনি ব্যস্ত ছিলেন এবং এক ওযুতে যোহর ও আসরের সালাত একত্রে আদায় করেছিলেন।»
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌14 - ثنا أَبُو عَمَّارٍ، ثنا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ صَلَّى الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا بِوَضُوءٍ وَاحِدٍ» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: «لَمْ يُسْنِدْ هَذَا الْخَبَرَ عَنِ الثَّوْرِيِّ أَحَدٌ نَعْلَمُهُ غَيْرُ الْمُعْتَمِرِ، وَوَكِيعٍ ورَوَاهُ أَصْحَابُ الثَّوْرِيِّ وَغَيْرُهُمَا، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَارِبٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَإِنْ كَانَ الْمُعْتَمِرُ، وَوَكِيعٌ مَعَ جَلَالَتِهِمَا حَفِظَا هَذَا الْإِسْنَادَ وَاتِّصَالَهُ فَهُوَ خَبَرٌ غَرِيبٌ غَرِيبٌ»
১৪ - আমাদের নিকট আবু আম্মার হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়াকি ইবনুল জাররাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি মুহারিব ইবনু দিসার থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনু বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করতেন; অতঃপর যখন মক্কা বিজয়ের দিন এল, তখন তিনি সকল সালাত এক উযূতে আদায় করলেন।» আবু বকর বলেন: «আমাদের জানামতে মুতামির এবং ওয়াকি ব্যতীত আর কেউ আস-সাওরী থেকে এই বর্ণনাটিকে মুসনাদ (মারফু) হিসেবে বর্ণনা করেননি। সাওরী-এর অন্যান্য অনুসারী ও অন্যরা এটি সুফিয়ান থেকে, তিনি মুহারিব থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনু বুরাইদাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মুতামির এবং ওয়াকি তাদের উচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও যদি এই সনদ এবং এর নিরবচ্ছিন্নতা (ইত্তিসাল) যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে থাকেন, তবে এটি অত্যন্ত দুর্লভ (গরীব) একটি বর্ণনা‌।»
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌بَابُ الدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ الْوُضُوءَ لَا يَجِبُ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ
পরিচ্ছেদ: হদস ব্যতীত ওযু ওয়াজিব না হওয়ার দলীল
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌15 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ أَبُو جَعْفَرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ شَوْكَرِ بْنِ رَافِعٍ الْبَغْدَادِيَّانِ قَالَا: ثنا يَعْقُوبُ وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، ثنا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ الْأَنْصَارِيُّ، ثُمَّ الْمَازِنِيُّ مَازِنُ بَنِي النَّجَّارِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قُلْتُ لَهُ: أَرَأَيْتَ وُضُوءَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ لِكُلِّ صَلَاةٍ طَاهِرًا كَانَ أَوْ غَيْرَ طَاهِرٍ عَمَّنْ هُوَ؟ قَالَ: حَدَّثَتْهُ أَسْمَاءُ بِنْتُ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي عَامِرٍ الْغَسِيلَ حَدَّثَهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ أَمَرَ بِالْوُضُوءِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ طَاهِرًا كَانَ أَوْ غَيْرَ طَاهِرٍ، فَلَمَّا شَقَّ ذَلِكَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ، وَوُضِعَ عَنْهُ الْوُضُوءُ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ «وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَرَى أَنَّ بِهِ قُوَّةً عَلَى ذَلِكَ فَفَعَلَهُ حَتَّى مَاتَ» هَذَا حَدِيثُ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، غَيْرُ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ مَنْصُورٍ قَالَ: وَكَانَ يَفْعَلُهُ حَتَّى مَاتَ "

15 - قال الأعظمي: إسناده حسن
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন মানসুর আবু জাফর এবং মুহাম্মাদ ইবন শাউকার ইবন রাফি আল-বাগদাদি, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব —যিনি ইবরাহিম ইবন সা’দ-এর পুত্র— তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হাব্বান আল-আনসারি থেকে, অতঃপর বনু নাজ্জারের মাজিন গোত্রের আল-মাজিনি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন খালিদ আল-ওয়াহবি, তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হাব্বান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি তাঁকে বললাম: “আপনি কি প্রতিটি সালাতের জন্য আবদুল্লাহ ইবন উমরের অজুর বিষয়টি দেখেছেন, তিনি পবিত্র থাকুন বা না থাকুন? এটি কার পক্ষ থেকে (বর্ণিত)?” তিনি বললেন: আসমা বিনতে যায়িদ ইবনুল খাত্তাব তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন হানজালা ইবন আবি আমির আল-গাসিল তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি সালাতের আগে অজু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, চাই তিনি পবিত্র থাকুন বা না থাকুন। অতঃপর যখন এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কষ্টকর মনে হলো, তখন তিনি প্রতিটি সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিলেন এবং অজু ভঙ্গ হওয়া (হাদাস) ব্যতীত অন্য অবস্থায় অজুর আবশ্যকতা উঠিয়ে নেওয়া হলো। আর আবদুল্লাহ (ইবন উমর) মনে করতেন যে তাঁর এটি করার শক্তি ও সামর্থ্য আছে, তাই তিনি মৃত্যু পর্যন্ত এটি করে গিয়েছেন। এটি ইয়াকুব ইবন ইবরাহিমের বর্ণিত হাদিস, তবে মুহাম্মাদ ইবন মানসুর বলেছেন: “এবং তিনি এটি মৃত্যু পর্যন্ত করতেন।”

১৫ - আল-আ'জমি বলেন: এর সনদ হাসান
(খণ্ড: ১) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌بَابُ صِفَةِ وُضُوءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى طُهْرٍ مِنْ غَيْرِ حَدَثٍ كَانَ مِمَّا يُوجِبُ الْوُضُوءَ
পরিচ্ছেদ: পবিত্র থাকা অবস্থায় এবং অজু ওয়াজিবকারী কোনো কারণ ছাড়াই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অজুর পদ্ধতি