(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
إعلام الساجد بأحكام المساجد القسم: مسائل فقهية
الكتاب: إعلام الساجد بأحكام المساجد
المؤلف: محمد بن عبد الله الزركشي (745 - 794)
المحقق: أبو الوفا مصطفى المراغي
الناشر: المجلس الأعلى للشؤون الإسلامية - القاهرة
الطبعة: الرابعة، 1416 هـ - 1996 م
عدد الصفحات: 408
أعده للشاملة:فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 شوّال 1436
ইলামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল
বই: ইলামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-যারকাশি (৭৪৫ - ৭৯৪)
গবেষক ও সম্পাদক: আবু আল-ওয়াফা মুস্তফা আল-মারাঘি
প্রকাশক: আল-মাজলিস আল-আলা লিশ-শুউন আল-ইসলামিয়া (ইসলাম বিষয়ক উচ্চ পরিষদ) - কায়রো
সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৮
শামেলা-র জন্য প্রস্তুতকৃত:মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়া-এর তত্ত্বাবধানে রাবিতা আন-নুসসাখ দল (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়া)
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২৬ শাওয়াল ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
جمهورية مصر العربية وزارة الأوقاف
المجلس الأعلى للشئون الإسلامية لجنة إحياء التراث الإسلامي
إعلام الساجد بأحكام المساجد
تصنيف محمد بن عبد الله الزركشي
(745 - 794)
تحقيق
فضيلة الشيخ أبو الوفا مصطفى المراغي
الطبعة الخامسة
القاهرة 1420 هـ - 1999 م
আরব প্রজাতন্ত্র মিশর, ধর্মবিষয়ক (ওয়াকফ) মন্ত্রণালয়
ইসলামী বিষয়ক উচ্চতর পরিষদ, ইসলামী ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কমিটি
ই'লামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আয-যারকাশী কর্তৃক সংকলিত
(৭৪৫ - ৭৯৪)
সম্পাদনা ও গবেষণা
ফযীলাতুশ শাইখ আবুল ওয়াফা মুস্তাফা আল-মারাগী
পঞ্চম সংস্করণ
কায়রো ১৪২০ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
صلى الله على سيدنا محمد وآله صحبه وسلم
رب أسألك الإعانة
قال الشيخ العلامة المحقق، فريد عصره، بدر الدين أبو عبدالله
محمد بن بهادر بن عبد الله الزركشي المنهاجي المصري، رحمه الله تعالى بكرمه وفضله ومنته:
الحمدلله الذي جدد برفع قواعد البيت العتيق شعائر الإسلام، وأعذب الشرائع الزمزمية التي شهدت بصفوها شرائع الأحكام، وشرف الكعبة ذات الحجر والحجر والستر الذي يود زائره لو زاد فيه سواد
القلب والبصر، والأركان التي شيد أركان الحج عالي بنيانها، والميزاب الذي هطل بمياه الرحمة شاذروانها، والمقام الذي من حل به أحل
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
হে প্রতিপালক, আমি আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি।
মহান আল্লামা (العلامة), গবেষক (المحقق), নিজ যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, বদরুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে বাহাদুর ইবনে আবদুল্লাহ আজ-জারকাশি আল-মিনহাজি আল-মিসরি—আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়া, অনুগ্রহ ও দানে তাঁকে সিক্ত করুন—বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রাচীন ঘরের ভিত্তি উত্তোলনের মাধ্যমে ইসলামের নিদর্শনসমূহকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং সেই সুমিষ্ট জমজমি শরিয়ত দান করেছেন, যার স্বচ্ছতার সাক্ষ্য বিধিবিধানের (أحكام) শরিয়তসমূহ প্রদান করে। তিনি সম্মানিত করেছেন কাবা শরীফকে—যা হাজর, হিজর ও গিলাফ মণ্ডিত—যার জিয়ারতকারী কামনা করে যদি সে তার হৃদয়ের কৃষ্ণতা ও চোখের দৃষ্টি সেই গিলাফের কৃষ্ণাভায় যুক্ত করতে পারত! এবং সেই রুকনসমূহকে সম্মানিত করেছেন যার সুউচ্চ নির্মাণ হজের রুকন (أركان) সমূহকে সুদৃঢ় করেছে। আর সেই মিজাব, যার তলদেশ রহমতের বারিধারায় সিক্ত হয় এবং সেই মাকাম, যেখানে যে অবস্থান করে সে নিরাপত্তা লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
في دار المقامة، والمعالم التي من وفق لدقيق العمل فيها لم يحتج في القبول إلى علامة، وأشهد أن لا إله الا الله وحده لا شريك له شهادة من سالت محاجر عيونه على العقيق، وزادت حلاوة ذوقه بها على الرحيق، وأشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله الذي شرف قبلة الحجر بالقبلة، وارتقى من حجر التكريم إلى مقام لم يحله أحد قبله، صلى الله عليه أكمل الصلوات، ما أقيمت الصلوات ورفعت الدعوات، وعلى آله وأصحابه وأزواجه وذريته نجوم الاهتداء، وأقمار الاقتداء، ما طاف بالكعبة طائف، ووقف بعرفة واقف، وسلم تسليما كثيرا، ومجد وعظم.
أما بعد، فهذا كتاب ينزل من القلوب منزلة الجنان، ومن العيون منزلة الإنسان، لم ينسج له على منوال، ولم تسمح له قريحة بمثال، قدحه زناد الأشواق، من حراق القلب التواق، وأملاد باعث الحب المكى، عند فوات العيش الهى:
فاستملا حديث من سكن الحي
… ولا تكتباه إلا بدمعى
চিরস্থায়ী আবাসে এবং সেই সমস্ত নিদর্শনের মাঝে, যার সূক্ষ্ম কার্যাবলীতে যাকে তাওফিক দেওয়া হয়েছে, সে গ্রহণযোগ্যতার (القبول) ক্ষেত্রে কোনো চিহ্নের মুখাপেক্ষী হবে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এ সেই ব্যক্তির সাক্ষ্যদান যার চোখের কোটর থেকে আকিক পাথরের ওপর অশ্রু গড়িয়ে পড়েছে এবং এর মাধ্যমে যার স্বাদের মিষ্টতা বিশুদ্ধ সুধার চেয়েও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যিনি চুম্বনের মাধ্যমে পাথরের কিবলাকে সম্মানিত করেছেন এবং সম্মাননার স্তর থেকে এমন এক মকামে আরোহণ করেছেন যেখানে তাঁর পূর্বে আর কেউ পৌঁছাতে পারেনি। আল্লাহ তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ বর্ষণ করুন, যতক্ষণ সালাত কায়েম হবে ও দোয়া উত্তোলিত হবে; এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, পত্নীগণ ও বংশধরদের ওপর—যারা হিদায়াতের নক্ষত্র এবং অনুসরণের চন্দ্রস্বরূপ—যতক্ষণ কাবাগৃহে তাওয়াফকারী তাওয়াফ করবে এবং আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকারী অবস্থান করবে; এবং তিনি তাঁকে প্রচুর পরিমাণে সালাম, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করুন।
অতঃপর, এটি এমন একটি কিতাব যা হৃদয়ের কাছে জান্নাতের তুল্য এবং চোখের কাছে মণির তুল্য। এর পূর্বে এই আঙ্গিকে কোনো কিছু রচিত হয়নি এবং কোনো মেধা এর অনুরূপ কোনো উদাহরণ পেশ করতে সক্ষম হয়নি। প্রবল আকাঙ্ক্ষী হৃদয়ের দহন থেকে উদ্ভূত তীব্র ব্যাকুলতার স্ফুলিঙ্গ একে প্রজ্জ্বলিত করেছে এবং মক্কী ভালোবাসার প্রেরণা একে পূর্ণতা দান করেছে, যখন প্রশান্তিময় জীবন অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছিল:
সুতরাং এই জনপদে বসবাসকারী ব্যক্তির হাদিস লিপিবদ্ধ করো
… এবং তা আমার অশ্রু ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে লিখো না।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فاتني أن أرى الديار بطرفى
… فلعل أرى الديار بسمعى
يشتمل على الأحكام والفضائل المختصه بالمسجد الحرام ، وبمسجد النبي عليه أفضل الصلاة والسلام ، ومسجد الأقصى وغيرها من مساجد الإسلام ،قد أتى في هذا الباب بالعجب ، وحاز قصب السبق ما اكتسب الطرب ، وصار لقصاد الحرم ميقاتا، ولورود حياض الفضائل ماء فراتا جمعته رجاء ثواب الله ،وأهديته لخير بلاد الله ، حين لم يقتض الحال إهداء نعم ولا مال، ولله در من قال:
لا خيل عندك تهديها ولا مال
… فليسعد النطق إن لم تسعد الحال
والله أسأل أن يحرم شعرى وبشرى ولحمى ودمى على النار، وأن يغفرلي ماقدمت وما أخرت من الأوزار، إنه الرحيم الغفار.
আমি স্বচক্ষে সেই জনপদ দেখার সুযোগ হারিয়েছি
… তাই সম্ভবত শ্রবণের মাধ্যমেই আমি সেই জনপদ প্রত্যক্ষ করব।
এটি মসজিদুল হারাম, নবী (তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর মসজিদ, মসজিদে আকসা এবং ইসলামের অন্যান্য মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান (أحكام) ও মর্যাদা (فضائل) সংবলিত। এই অধ্যায়ে এক বিস্ময়কর উপস্থাপনা রয়েছে এবং এটি শ্রেষ্ঠত্বের উচ্চশিখর স্পর্শ করেছে যা বিশেষ তৃপ্তিদায়ক; এটি হারাম শরীফ অভিমুখীদের জন্য নির্ধারিত সীমা (ميقات) এবং মর্যাদার (فضائل) ঝর্ণাধারায় অবতরণকারীদের জন্য সুপেয় সলিলে পরিণত হয়েছে। আল্লাহর সওয়াবের আশায় আমি এটি সংকলন করেছি এবং আল্লাহর সর্বোত্তম নগরের প্রতি এটি উপহার হিসেবে নিবেদন করেছি, যখন পরিস্থিতি গবাদি পশু বা অর্থ উপহার দেওয়ার অনুকূলে ছিল না। কতই না চমৎকার বলেছেন সেই কবি:
তোমার কাছে উপহার দেওয়ার মতো ঘোড়া নেই এবং ধন-সম্পদও নেই
… তাই যদি আর্থিক সঙ্গতি না থাকে, তবে তোমার ভাষা যেন সুন্দর হয়।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার চুল, ত্বক, মাংস ও রক্তকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেন এবং আমার পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও অতিশয় ক্ষমাশীল।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وسميته إعلام الساجد بحكام المساجد ، ورتبته على فاتحة وأربعة أبواب:
الباب الأول فيما يتعلق بالمسجد الحرام.
الباب الثاني: فيما يتعلق بمسجد المدينة.
الباب الثالث: فيما يتعلق بالمسجد الأقصى.
الباب الرابع فيما يتعلق بسائر المساجد.
الفاتحة
أما
الفاتحة في مدلول المسجد لغة وشرعا وتوابع ذلك.
المسجد لغة:
أما لغة فهو: مفعل بالكسر اسم لمكان السجود ، وبالفتح اسم للمصدر ، قال أبو زكريا الفراء: كل ما كان على فعل يفعل كدخل يدخل فالمفعل منه بالفتح اسما كان او مصدرا ، ولا يقع فيه الفرق ' مثل دخل مدخلا، ومن الأسماء ما الزموها كسر العين ، منها المسجد، والمطلع والمغرب والمشرق وغيرها ، فجعلوا الكسر علامة للاسم ، وربما فتحه بعض العرب قد روى: المسجِد والمسجَد ، والمطلِع والمطلَع. قال: والفتح في كله جائز وإن لم نسمعه. قال في الصحاح: والمسجد بالفتح جبهة الرجل حيث يصيبه السجود. وقال أبو حفص الصقلى في كتاب تثقيف اللسان:
আমি গ্রন্থটির নামকরণ করেছি 'ইলামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ' এবং একে একটি ভূমিকা (فاتحة) ও চারটি অধ্যায়ে (أربعة أبواب) বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায় (الباب الأول): মসজিদুল হারাম সংক্রান্ত প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায় (الباب الثاني): মদিনার মসজিদ সংক্রান্ত প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অধ্যায় (الباب الثالث): মসজিদুল আকসা সংক্রান্ত প্রসঙ্গে।
চতুর্থ অধ্যায় (الباب الرابع): অন্যান্য সকল মসজিদ সংক্রান্ত প্রসঙ্গে।
ভূমিকা (الفاتحة)
পক্ষান্তরে
ভূমিকাটি (الفاتحة) হলো আভিধানিক (لغة) ও পারিভাষিক (شرعا) অর্থে মসজিদ শব্দের তাৎপর্য এবং এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলী প্রসঙ্গে।
আভিধানিক (لغة) অর্থে মসজিদ:
আভিধানিক (لغة) দিক থেকে এটি: কাসরা (كسر) যোগে 'মাফ'ইল' ওজনে সিজদাহ করার স্থানের (مكان السجود) বিশেষ্য, আর ফাতহা (فتح) যোগে এটি মাসদার (مصدر) বা ক্রিয়ামূলের নাম। আবু জাকারিয়া আল-ফাররা বলেন: 'ফাআলা ইয়াফউলু' (فعل يفعل) ওজনে আসা প্রতিটি শব্দ—যেমন 'দাখালা ইয়াদখুলু' (دخل يدخل)—এর 'মাফআল' (المفعل) রূপটি ফাতহা (فتح) যোগে গঠিত হয়, তা বিশেষ্য (اسما) হোক বা মাসদার (مصدر) হোক এবং এতে কোনো পার্থক্য করা হয় না; যেমন 'দাখালা মাখদালান' (دخل مدخلا)। আর কিছু বিশেষ্য (الأسماء) এমন রয়েছে যেগুলোতে তারা (আরবরা) আইন বর্ণের কাসরা (كسر العين) প্রদান করাকে আবশ্যক করে নিয়েছে; তার মধ্যে রয়েছে আল-মসজিদ (المسجد), আল-মাতলি (المطلع), আল-মাগরিব (المغرب), আল-মাশরিক (المشرق) ইত্যাদি। ফলে তারা কাসরাকে (الكسر) বিশেষ্যের (اسم) চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করেছে। কোনো কোনো আরব সম্ভবত এতে ফাতহা (فتح) ব্যবহার করতেন; বর্ণিত হয়েছে যে: 'আল-মসজিদ' (المسجِد) ও 'আল-মাসজাদ' (المسجَد), এবং 'আল-মাতলি' (المطلِع) ও 'আল-মাতলা' (المطلَع)। তিনি বলেন: সবগুলোতে ফাতহা (الفتح) পড়া বৈধ, যদিও আমরা তা (সচরাচর) শুনিনি। 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: ফাতহা (الفتح) যোগে 'আল-মাসজাদ' (المسجد) অর্থ হলো ব্যক্তির কপাল, যেখানে সিজদাহ (السجود) সংঘটিত হয়। আর আবু হাফস আস-সাকালি তার 'তাষকীফ আল-লিসান' গ্রন্থে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ويقال مسيد بفتح الميم حكاه غير واحد فتحصلنا فيه على الثلاث لغات والمسجد بكسر الميم: الخمرة وهي الحصير الصغير قاله العسكري في التصحيف.
المسجد شرعا: وأما شرعا فكل من الأرض لقوله صل الله عليه وسلم:"جعلت لى الأرض مسجدا" وهذا من خصائص هذة الأمة. قاله القاضي عياض لأن من كان قبلنا ، كانوا لايصلون إلا في موضع يتيقنون طهارته ، ونحن خصصنا بجواز الصلاة في جميع الأرض إلا ماتيقنا نجاسته. وقال القرطبي: هذا ماخص الله به نبيه ، وكانت الأنبياء قبله إنما ابيحت لهم الصلوات في مواضع مخصوصه كالبيع والكنائس. وقال المهلب في شرح البخاري: المخصوص به صلى الله عليه وسلم جعل الأرض طهورا
أما كونها مسجدا فلم يأت في أثر انها منعت من غيره.
وقد كان عيسى عليه الصلاة والسلام يسيح في الأرض ويصلي حيث أدركنه الصلاة فكأنه قال: جعلت لي الأرض مسجدا وطهورا ، وجعلت
এবং 'মাসইয়াদ' মিম-এর ওপর ফাতহা যোগেও উচ্চারিত হয় বলে একাধিক আলিম বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে আমরা এই শব্দটিতে তিনটি ভাষাগত রূপ (لغات) পেলাম। আর 'আল-মিসজাদ' মিম-এর নিচে কাসরা যোগে; যার অর্থ হলো ছোট মাদুর। আল-আসকারী তাঁর 'আত-তাসহিফ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
শরয়ী পরিভাষায় (شرعا) মসজিদ: আর শরীয়তের দৃষ্টিতে সমগ্র জমিনই মসজিদ, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমার জন্য সমগ্র জমিনকে সিজদাহর স্থান (مسجدا) করা হয়েছে।" এটি এই উম্মতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য (خصائص)। কাজী ইয়াদ এটি বলেছেন, কারণ আমাদের পূর্ববর্তীগণ কেবল এমন স্থানেই নামাজ আদায় করতেন যেখানে তাঁরা পবিত্রতা (طهارة) সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। আর আমাদের জন্য নাপাকি (نجاسة) নিশ্চিত হওয়া স্থান ছাড়া সমগ্র জমিনেই নামাজ পড়ার বৈধতা (جواز) প্রদানের মাধ্যমে বিশেষত্ব দান করা হয়েছে। ইমাম কুরতুবী বলেন: এটি আল্লাহ তাঁর নবীকে বিশেষভাবে দান করেছেন। তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের জন্য কেবল নির্দিষ্ট স্থানে যেমন ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ে নামাজ পড়ার অনুমতি ছিল। বুখারি-র ব্যাখ্যায় আল-মুহাল্লাব বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য যে বিশেষত্বটি এসেছে তা হলো জমিনকে পবিত্রকারী (طهورا) করা।
আর জমিন সিজদাহর স্থান হওয়া প্রসঙ্গে এমন কোনো বর্ণনা (أثر) পাওয়া যায় না যে এটি অন্য কারো জন্য নিষিদ্ধ ছিল।
আর ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম পৃথিবীতে বিচরণ করতেন এবং যেখানেই নামাজের সময় হতো সেখানেই নামাজ আদায় করে নিতেন। যেন কথাটি এমন: আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান (مسجدا) ও পবিত্রকারী (طهورا) করা হয়েছে এবং করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لغيري مسجدا ولم تجعل له طهورا" انتهى. وهذا هو الظاهر من حديث جابر وأبي هريرة في عد الطهور والمسجد في حكم الواحد. ولما كان السجود أشرف أفعال الصلاة لقرب العبد من ربه اشتق اسم المكان منه فقيل: مسجد ، ولم يقولوا مركع. ثم إن العرف خصص المسجد بالمكان المهيإ للصلوات الخمس حتى يخرج المصلى المجتمع فيه للأعياد ونحوها فلا يعطى حكمها،
وكذلك الربط والمدارس فإنها هيئت لغير ذلك.
"...অন্য কারো জন্য সিজদাহর স্থান (مسجد) এবং পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম (طهور) করা হয়নি।" সমাপ্ত। আর জাবির ও আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস থেকে এটাই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম (طهور) এবং সিজদাহর স্থানকে (مسجد) একই বিধানের (حكم) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়েছে। যেহেতু নামাজের কার্যাবলীর মধ্যে সিজদাহ (سجود) হলো শ্রেষ্ঠতম কাজ—কেননা এর মাধ্যমেই বান্দা তার রবের সর্বাধিক নৈকট্য লাভ করে—তাই স্থানের নামটিও তা থেকে উদ্ভূত হয়েছে; ফলে একে 'মসজিদ' (مسجد) বলা হয়, 'মরকা' (مركع) [রুকু করার স্থান] বলা হয় না। অতঃপর প্রচলিত প্রথা (عرف) অনুযায়ী 'মসজিদ' (مسجد) শব্দটিকে সেই স্থানের সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে যা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে করে ঈদ বা অনুরূপ সমাবেশের জন্য নির্ধারিত নামাজের স্থান (مصلى) এর বহির্ভূত থাকে এবং সেগুলোকে মসজিদের বিধান (حكم) প্রদান করা না হয়।
অনুরূপভাবে সীমান্ত ঘাঁটি বা রিবাত (ربط) এবং মাদ্রাসাগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, কেননা এগুলো ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أول مسجد وضع على الأرضوأول مسجد وضع على الأرض المسجد الحرام ، وهو مسجد كما قال تعالى:" إن اول بيت وضع للناس للذي ببكة مباركا"
وفي الصحيحين عن ابي الذر رضي الله عنه قال: سألت رول الله صل الله عليه وسلم عن أول مسجد وضع على الأرض فقال: "المسجد الحرام قلت ثم أي؟ قال: المسجد الأقصى ، قلت وكم بينهما؟ قال: أربعون عاما ، ثم الأرض لك مسجد فحيما أدركتك الصلاة فصل، وقال البخاري في بعض طرقه: أينما أدركتك الصلاة فصل فيه ، فأن الفضل فيه. خرجه في ذكر الأنبياء. وقال البزار في مسنده: لانعلم أحد يرويه عن النبي صل الله عليه وسلم إلا ابا ذر ، وقد أشكل هذا الحديث على بعضهم فقال: إنه معلوم ان سليمان بن داود صلى الله عليه وسلم هو الذي بنى المسجد الأقصى كما رواه النسائي بإسناد صحيح من حديث عبد الله بن عمرو يرفعه: إن سليمان بن داود لما بنى بيت المقدس سأل الله ثلاثا وهو بعد ابراهيم
পৃথিবীতে স্থাপিত প্রথম মসজিদআর পৃথিবীতে স্থাপিত প্রথম মসজিদ হলো মসজিদুল হারাম, এটি এমন একটি মসজিদ যার সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি স্থাপিত হয়েছে, তা মক্কায় অবস্থিত, যা বরকতময়।"
সহিহাইন গ্রন্থে আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে পৃথিবীতে স্থাপিত প্রথম মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "মসজিদুল হারাম।" আমি বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন: "মসজিদুল আকসা।" আমি বললাম, এই দুইয়ের মাঝে ব্যবধান কত? তিনি বললেন: "চল্লিশ বছর, এরপর তোমার জন্য সমগ্র পৃথিবীই মসজিদ; সুতরাং যেখানেই সালাতের সময় হবে, সেখানেই সালাত আদায় করে নিও।" বুখারি তার কোনো কোনো সূত্রে (طرق) উল্লেখ করেছেন: "যেখানেই সালাতের সময় হবে সেখানেই সালাত আদায় করে নিও, কারণ তাতে ফজিলত রয়েছে।" এটি তিনি 'আম্বিয়া' (নবীদের আলোচনা) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। আল-বাজার তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বলেছেন: আবু যার (রা.) ব্যতীত অন্য কেউ এটি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। তবে এই হাদিসটি কারো কারো নিকট অস্পষ্ট বা সমস্যাপূর্ণ (أشكل) মনে হয়েছে, তাই তারা বলেছেন: এটা সুবিদিত যে, সুলাইমান ইবনে দাউদ (আ.)-ই মসজিদুল আকসা নির্মাণ করেছিলেন, যেমনটি নাসায়ি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد) যোগে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "সুলাইমান ইবনে দাউদ যখন বাইতুল মাকদিস নির্মাণ করেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট তিনটি প্রার্থনা করেন," আর তিনি ছিলেন ইব্রাহিম (আ.)-এর পরবর্তী সময়ের।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
صلى الله عليه وسلم كما قال أهل التاريخ بأكثر من ألف عام،
وهذا القائل جهل التاريخ، فإن سليمان عليه السلام إنما كان له من المسجد الأقصى تجديده لا تأسيسه، والذي أسسه هو يعقوب بن اسحق صلى الله عليهما بعد بناء ابراهيم الكعبه بهذا القدر ، ولما ذكره الحافظ ابو حاتم ابن حبان البسنى في صحيحه المسمى ، بالتقاسيم والأنواع. قال: فيه دحض لقول من زعم ان بين اسماعيل وداود صللى الله عليهما وسلم الف سنه ، ورد على ذلك الحافظ الضياء المقدسي في استدراكاته عليه. وقال: وجه هذا الحديث أن هذين المسجدين وضعا قديما ، ثم خربا ، ثم بنيا. انتهى.
وزعم بعصهم ان اول من بنى البيت آدم وان غيره من ولده رفع بيت المقدس بعده بأربعين عاما. حكاه ابن الجوزى وغيره. وذكر ابن هشام في كتاب التيجان: أن آدم عليه السلام لما بنى البيت أمره جبريل بالمسير الى بيت المقدس وأن يبنيه فبناه ونسك فيه ، وروى البيهقي في دلائل النبوة من طريق ابن لهيعة عن يزيز بن ابي حبيب عن ابي الخير عن عبد الله بن عمرو بن العاص مرفوعا. بعث الله جبريل الى آدم وحواء فأمرهما ببناء الكعبة فبناه آدم ثم أمره بالطواف به ، وقيل له:
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যেমনটি ঐতিহাসিকগণ বলেছেন, এক হাজার বছরেরও বেশি সময়।
এই বক্তা ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন; কারণ সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) কেবল মসজিদুল আকসার সংস্কার করেছিলেন, এর ভিত্তি স্থাপন করেননি। আর যিনি এর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি হলেন ইয়াকুব ইবনে ইসহাক (আলাইহিমাস সালাম), ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক কাবা নির্মাণের ঠিক এই পরিমাণ সময় পরে। হাফিজ আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি যখন তার 'আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া' নামক সহীহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: এতে সেই ব্যক্তির উক্তির খণ্ডন রয়েছে যে দাবি করে যে, ইসমাইল ও দাউদ (আলাইহিমাস সালাম)-এর মাঝে এক হাজার বছরের ব্যবধান ছিল। হাফিজ জিয়া আল-মাকদিসি তার ওপর লিখিত 'ইসতিদরাকাত'-এ এর উত্তর দিয়েছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসের ব্যাখ্যা হলো যে, এই দুটি মসজিদ প্রাচীনকালেই স্থাপন করা হয়েছিল, এরপর সেগুলো ধ্বংস হয়ে যায় এবং পুনরায় নির্মাণ করা হয়। সমাপ্ত।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, সর্বপ্রথম আদম (আলাইহিস সালাম) কাবা ঘর নির্মাণ করেছিলেন এবং তার সন্তানদের মধ্যে অন্য কেউ তার চল্লিশ বছর পর বাইতুল মাকদিস নির্মাণ করেছিলেন। ইবনুল জাওজি ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিশাম তার 'কিতাবুত তিজান' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: আদম (আলাইহিস সালাম) যখন কাবা ঘর নির্মাণ করলেন, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাকে বাইতুল মাকদিসের দিকে যাত্রা করার এবং তা নির্মাণ করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি সেটি নির্মাণ করলেন এবং সেখানে ইবাদত করলেন। বায়হাকি 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে ইবনে লাহিয়াহ-এর সূত্রে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহ জিবরাঈলকে আদম ও হাওয়ার নিকট প্রেরণ করলেন এবং তাদের উভয়কে কাবা নির্মাণের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আদম তা নির্মাণ করলেন এবং এরপর তাকে তা তাওয়াফ করার নির্দেশ দেওয়া হলো, আর তাকে বলা হলো:
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أنت اول الناس. وهذا أول بيت وضع للناس ، ابن لهيعة متكلم فيه
وقال البيهقي أيضا في الدلائل: أخبرنا ابو عبد الله الحافظ ، ثنابكر ابن محمد الصيرفي، ثنا أحمد بن حبان بن ملاعب ثنا عبيد الله ين موسى ومحمد بن ساره، قالا: ثنا اسرائيل. ثنا سماك بن حرب عن خالد ابن عرعرة قال: سأل رجل عليا: ن أول بيت وضع للناس للذي ببكة مباركا أهو أول بيت بننى في الأرض؟ قال: لا. كان نوح قبله وكان في البيوت ، وكان ابراهيم قبله ، وكان في البيوت ، ولكنه اول بيت وضع فيه البركة والهدى. ومن دخله كان آمنا، فبين على كرم الله وجهه ان الوضع غير البناء وهو مخالف لما تقدم ، وصحح بعض المتأخرين هذا القول بأنه أول بيت وضع على وجه الأرض مطلقا عن السدى فقط.
وقال الجوزي في تلقيح فهوم أهل الأثر " أول من بنى مسجدا في الأسلام عمار بن ياسر" قلت: وهو مسجد قباء. ذكره ابن الأثير وأول من بنى المدارس في الاسلام الوزير قوام الدين نظام الملك الطوسى الحسن بن علي وكان وزير السلطان ألب أرسلان السلجوقي عشر سنين ثم وزر لولده ملكشاه عشرين سنة. وكان يحب الفقهاء والصوفية ويكرمهك ويؤثرهم. بنى المدرسة النظامية ببغداد، وشرع فيها
আপনি মানুষের মধ্যে প্রথম। আর এটিই মানুষের জন্য স্থাপিত প্রথম ঘর; (তবে এর বর্ণনাকারী) ইবনে লাহিয়াহ সমালোচিত (متكلم فيه)।
আল-বায়হাকি আদ-দালাইল গ্রন্থে আরও বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ হাফিজ (الحافظ), আমাদের বর্ণনা করেছেন বকর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাইরাফি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে হিব্বান ইবনে মিলায়িব, আমাদের বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা এবং মুহাম্মদ ইবনে সারাহ, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন ইসরাইল। আমাদের বর্ণনা করেছেন সিমাক ইবনে হারব, তিনি খালিদ ইবনে আরআরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আলীকে জিজ্ঞাসা করলেন: বরকতময় বাক্কায় মানুষের জন্য স্থাপিত প্রথম ঘরটি কি জমিনে নির্মিত সর্বপ্রথম ঘর? তিনি বললেন: না। এর পূর্বে নূহ ছিলেন এবং তিনি ঘরবাড়িতে বসবাস করতেন, আর ইবরাহিমও এর পূর্বে ছিলেন এবং তিনিও ঘরবাড়িতে বসবাস করতেন। তবে এটিই প্রথম ঘর যাতে বরকত ও হেদায়াত রাখা হয়েছে। আর যে এতে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ থাকবে। অতঃপর আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) স্পষ্ট করেছেন যে, ‘স্থাপন’ ও ‘নির্মাণ’ এক বিষয় নয় এবং এটি পূর্ববর্তী আলোচনার পরিপন্থী। পরবর্তী যুগের কিছু আলেম এই বক্তব্যকে বিশুদ্ধ বলেছেন (صحح) যে, কেবল আস-সুদ্দির বর্ণনা ব্যতীত এটিই পৃথিবীর বুকে সাধারণভাবে স্থাপিত প্রথম ঘর।
ইবনুল জাওজি তালকিহ ফুহুম আহলুল আসার (أهل الأثر) গ্রন্থে বলেছেন: “ইসলামে সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন আম্মার ইবনে ইয়াসির।” আমি বলছি: সেটি হলো কুবা মসজিদ। ইবনুল আসির এটি উল্লেখ করেছেন। আর ইসলামে সর্বপ্রথম মাদরাসা নির্মাণ করেন উজির কিওয়ামুদ্দিন নিজামুল মুলক আত-তুসি আল-হাসান ইবনে আলী। তিনি সুলতান আল্প আরসালান সেলজুকির উজির হিসেবে দশ বছর দায়িত্ব পালন করেন, অতঃপর তাঁর পুত্র মালিকশাহর উজির হিসেবে বিশ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ফকিহ ও সুফিদের ভালোবাসতেন, তাঁদের সম্মান করতেন এবং তাঁদের অগ্রাধিকার দিতেন। তিনি বাগদাদে মাদরাসাতুন নিজামিয়্যাহ নির্মাণ করেন এবং সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
في سنة سبع وخمسين وأربعمائة ونجزت سنة تسع وخمسين وجمع الناس على طبقاتهم فيها يوم السبت عاشر ذي ابقعدة ليدرس فيها الشيخ الرباني أبو إسحق الشيرازي فلم يحصر فيقال: لقيه صيس فقال: كيف تدرس في مكان مغصوب فوشوشه فاختفى؟ فلما أيسوا من حضوره ذكر الدرس بها الشيخ أبو نصر بن الصباغ عشرين يوما.
ولما وصل الخبر إلى الوزير احتال على الشيخ أبي اسحاق زلك يزل يرفق به حتى درس بها وحضر يوم السبت مستهل ذي الحجة وألقى الدرس بها الى أن توفى وقيل: إنه كان يخرج منها أوقات الصلاة فيصلي بمسجد خارجها احتياطا ولما مات الشيخ ابو إسحق تولاها أبو سعد المتولى ثم صرف في سنة ست وسبعين، وأعيد المتولى الى أن مات. وبنى أيضا مدرسة بنيسابور تسمى النظامية درس بها إمام الحرمين فاقتدى به الناس في بناء المدارس، وعمد العمد الى قبر الامام ابي حنيفة وبنى عليه قبة عظيمة أنفق عليها أموالا كثيرة ، نعم أنكر الحافظ شمس الدين الذهبي في تاريخ الإسلام على من زعم أن نظام الملك أول من بنى المدارس، وقال قد كانت المدرسة البيهقية بنيسابور قبل أن يولد نظام الملك، والمدرسة السعدية بنيسابور ايضا بناها
৪৫৭ হিজরি সালে [মাদ্রাসাটির নির্মাণ কাজ] শুরু হয় এবং ৪৫৯ হিজরি সালে তা সমাপ্ত হয়। ৪৫৯ হিজরি সালের যিলকদ মাসের দশ তারিখ শনিবার সর্বস্তরের মানুষকে তাদের নিজ নিজ স্তর (طبقات) অনুযায়ী সেখানে সমবেত করা হয়েছিল যেন রব্বানী শায়খ আবু ইসহাক আল-শিরাজি সেখানে পাঠদান করেন। কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। বলা হয়ে থাকে যে, এক বালক তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বলেছিল: "আপনি কীভাবে একটি জবরদখল করা স্থানে পাঠদান করবেন?" এই কথাটি তাঁর মনে সংশয় তৈরি করায় তিনি আত্মগোপন করেন। যখন তাঁর উপস্থিতির ব্যাপারে সকলে হতাশ হয়ে পড়ল, তখন শায়খ আবু নাসর বিন আল-সাব্বাগ সেখানে বিশ দিন পাঠদান করেন।
যখন উজিরের কাছে এই খবর পৌঁছাল, তখন তিনি শায়খ আবু ইসহাকের সাথে কৌশল অবলম্বন করেন এবং তাঁর প্রতি কোমল আচরণ করতে থাকেন যতক্ষণ না তিনি সেখানে পাঠদান করতে সম্মত হন। যিলহজ মাসের শুরুতে শনিবার তিনি সেখানে উপস্থিত হন এবং ইন্তেকাল পর্যন্ত সেখানে পাঠদান করেন। বলা হয় যে, তিনি নামাজের সময় সেখান থেকে বের হয়ে আসতেন এবং সতর্কতাবশত বাইরের একটি মসজিদে নামাজ আদায় করতেন। যখন শায়খ আবু ইসহাক ইন্তেকাল করেন, তখন আবু সাদ আল-মুতাওয়াল্লি এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, এরপর ৪৭৬ হিজরি সালে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং পুনরায় আল-মুতাওয়াল্লিকে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয় যা তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তিনি নিশাপুরেও নিযামিয়া নামক একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন যেখানে ইমামুল হারামাইন পাঠদান করতেন। ফলে মাদ্রাসা নির্মাণের ক্ষেত্রে মানুষ তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করে। তিনি ইমাম আবু হানিফার কবরের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং তার ওপর একটি বিশাল গম্বুজ নির্মাণ করেন যার পেছনে তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। তবে হাফিজ (الحافظ) শামসুদ্দিন আয-যাহাবি তাঁর তারিখুল ইসলাম গ্রন্থে ঐ ব্যক্তির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে মনে করে নিযামুল মুলকই সর্বপ্রথম মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, নিযামুল মুলকের জন্মের পূর্বেই নিশাপুরে বায়হাকিয়া মাদ্রাসা বিদ্যমান ছিল এবং নিশাপুরের সাদিয়া মাদ্রাসাও [পূর্বেই] নির্মিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الأمير نصر بن سبكتين أخو السلطان محمود لما كان واليا بنيسابور ومدرسة ثالثة بنيسابور بناها ابو سعد اسماعيل بن علي بن المثنى الإستراباذي الواعظ الصوفي شيخ الخطيب ، ومدرسة رابعة بنيسابور أيضا بنيت للأستاذ ابي اسحق الشيرازي.
قال الحاكم في ترجمة الأستاذ ابي اسحق لم تبين بنيسابور مدرسة قبلها مثلها وهذا صريح في انه بنى قبلها غيرها.
وقال القاضي تاج الدين السبكي في طبقاته الكبرى: قد ادرت فكرى، وغلب على ظني ان نظام الملك أول من رتب فيها المعاليم للطلبة. فإنه لم يصح لي هل كانت للمدارس قبله معالم أم لا؟ والظاهر أنه لم يكن لهم معلوم انتهى.
সুলতান মাহমুদের ভ্রাতা আমির নাসের বিন সবুক্তগিন যখন নিশাপুরের গভর্নর ছিলেন। নিশাপুরের তৃতীয় একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেছিলেন খতিব-এর শায়খ, ওয়ায়েজ ও সুফি আবু সা’দ ইসমাইল বিন আলী বিন আল-মুসান্না আল-ইস্তারাবাদী; এবং নিশাপুরের চতুর্থ একটি মাদ্রাসাটিও উস্তাদ আবু ইসহাক আল-শিরাজীর জন্য নির্মিত হয়েছিল।
আল-হাকিম উস্তাদ আবু ইসহাকের জীবনীতে (ترجمة) বলেন, “নিশাপুরে এর পূর্বে এর সদৃশ কোনো মাদ্রাসা নির্মিত হয়নি।” এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এর পূর্বেও অন্যান্য মাদ্রাসা নির্মিত হয়েছিল।
কাযী তাজউদ্দীন আস-সুবকী তাঁর তাবাকাত আল-কুবরা গ্রন্থে বলেন: “আমি এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছি এবং আমার প্রবল ধারণা এই যে, নিজামুল মুলক-ই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন। কারণ, তাঁর পূর্বে মাদ্রাসাগুলোতে কোনো শিক্ষা-ভাতা নির্ধারিত ছিল কি না, তা আমার নিকট প্রমাণিত (يصح) হয়নি। বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, তাঁদের জন্য কোনো নির্ধারিত ভাতা ছিল না।” সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أول بيت وضع للناس بالقاهرةواول بيت وضع للناس بالقاهرة ، الجامع الأزهر وبناه جوهر القائد لما اختط القاهرة وفرغ من بنائه لسبع خلون من رمضان، واقيمت فيه الجمعة في شهر رمضان سنة إحدى وستين وثلثمائة، وكان بناء القاهرة سنة ثمان وخمسين وثلمائة ثم أتى العزيز بن المعز فجدد فيه أشياء وعمر به عدة أماكن قال الشيخ شمس الدين الجزري ومن خطته نقلت في كتابه الجمان: ويقال إن به طلسما لا يسكنه عصفور ولا يفرخ به وعلوا منارته في أيام قاضى القضاة صدر الدين موهوب الجزري وكان به تنوران فضة وسبعة وعشرون قنديلا فضة. وكانت له اوقاف كثيرة وفيه أشياء غريبة، فلما احترقت مصر في سنة اربع وستين وخمسمائه تغيرت هذه المعالم وجهلت واستمرت الخطبة في الجامع الأزهر حتى بنى الجامع الحاكمي سنة ثلاث وتسعين وثلاثمائة فخطب به، وانقطعت الخطبة بالجامع الأزهر مائه سنة لأن الغز ملكوا مصر واستولوا عليها
কায়রোতে মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রথম ঘরকায়রোতে মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রথম ঘর হলো আল-আজহার মসজিদ। সেনাপতি জওহর এটি নির্মাণ করেন যখন তিনি কায়রো নগরীর পত্তন করেন। রমজান মাসের সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। ৩৬১ হিজরি সালের রমজান মাসে সেখানে জুমুআর নামাজ কায়েম করা হয়। কায়রো নগরীর নির্মাণকাল ছিল ৩৫৮ হিজরি সাল। এরপর আল-আজিজ বিন আল-মুইজ্জ আগমন করেন এবং এতে বিভিন্ন বিষয়ের সংস্কার করেন এবং বেশ কিছু স্থান আবাদ করেন। শায়খ শামসুদ্দিন আল-জাজারি বলেন—যা তাঁর হস্তলিপি থেকে আমি তাঁর আল-জুমান নামক কিতাবে উদ্ধৃত করেছি: বলা হয়ে থাকে যে, এতে এমন একটি তিলসম (طلسم) রয়েছে যার প্রভাবে কোনো চড়ুই পাখি সেখানে বাস করে না এবং সেখানে বংশবিস্তারও করে না। প্রধান বিচারপতির (قاضى القضاة) আমলে এর মিনার উঁচুকরণ করা হয়, যিনি ছিলেন সদরুদ্দিন মাওহুব আল-জাজারি। সেখানে রুপার দুটি বড় প্রদীপাধার এবং সাতাশটি রুপার প্রদীপ ছিল। এর অধীনে প্রচুর ওয়াকফ (أوقاف) সম্পদ ছিল এবং এতে বহু আশ্চর্যজনক বিষয় ছিল। অতঃপর যখন ৫৬৪ হিজরি সালে মিসর অগ্নিদগ্ধ হলো, তখন এই নিদর্শনগুলো পরিবর্তিত হয়ে গেল এবং অপরিচিত হয়ে পড়ল। আল-আজহার মসজিদে খুতবা (الخطبة) প্রদান অব্যাহত ছিল যতক্ষণ না ৩৯৩ হিজরি সালে আল-হাকিমি মসজিদ নির্মিত হলো এবং সেখানে খুতবা (الخطبة) প্রদান করা শুরু হলো। এরপর আল-আজহার মসজিদে খুতবা (الخطبة) প্রদান একশত বছরের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কারণ ঘুজ বংশীয়রা মিসর জয় করেছিল এবং এর ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
في سنة أربع وستين وخمسمائة فلما ملك الملك الظاهر ركن الدين بيبرس الديار المصرية أمر بإقامة الجمعة بالجامع الأزهر وكان ذلك في سنة خمس وستين وستمائة فأصر قاضي القضاة تاج الدين بنت الأعز على أنه لا تجوز إقامة جمعتين وأفتى قاضي القضاة شمس الدين الحنبلي بالجواز وتوقف الناس في ذلك. لإصرار القاضي تاج الدين ثم أقيمت فيه الجمعة يوم الجمعة ثامن عشر ربيع الأول سنة خمس وستين وستمائة. وحضر الصلاة الصاحب بهاء الدين بن حنا وجماعة من الفقهاء والأمراء، وصلى السلطان في ذلك اليوم في جامع القلعة، ومن عجائب الاتفاقات أن الحاكم قصد ببناء جامعه أن يخطب له ولولده الظاهر من بعده ولذريته وقطع الخطبة بالجامع الأزهر، فقدر الله تعالى أن هذا الجامع الحاكمى ما خطب به إلا للخليفة الحاكم، ثم من بعده لم يخطب إلا للملك الظاهر، وهذه الظاهر، وهذه شذرة من أخباره ذكرتها لعزتها.
৫৬৪ হিজরি সালে, অতঃপর যখন সুলতান আল-মালিক আল-জাহির রুকনুদ্দীন বাইবার্স মিসরীয় ভূখণ্ডের রাজত্ব লাভ করলেন, তখন তিনি জামে আল-আযহারে জুমার নামাজ কায়েম করার নির্দেশ প্রদান করেন। এটি ছিল ৬৬৫ হিজরি সালের ঘটনা। তখন প্রধান বিচারপতি তাজউদ্দীন বিনত আল-আ’য এই বিষয়ে অনড় থাকেন যে, একই জনপদে দুই স্থানে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়া বৈধ নয়। পক্ষান্তরে প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দীন হাম্বলি এর বৈধতার পক্ষে ফতোয়া প্রদান করেন। বিচারপতি তাজউদ্দীনের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষ এই বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অবশেষে ৬৬৫ হিজরি সালের ১৮ই রবিউল আউয়াল জুমার দিনে সেখানে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। উক্ত সালাতে সাহেব বাহাউদ্দীন ইবনে হান্না এবং একদল ফকিহ (فقهاء) ও আমীর উপস্থিত ছিলেন। সুলতান ঐ দিন কেল্লার জামে মসজিদে নামাজ আদায় করেন। এক বিস্ময়কর সমাপতন এই যে, আল-হাকিম তার জামে মসজিদটি নির্মাণের মাধ্যমে ইচ্ছা করেছিলেন যেন সেখানে তার নিজের জন্য, তার পরবর্তী পুত্র আল-জাহির এবং তার বংশধরদের জন্য খুতবা পাঠ করা হয় এবং আল-আযহার মসজিদের খুতবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু মহান আল্লাহ নির্ধারণ করেছিলেন যে, এই হাকেমি জামে মসজিদে কেবল খলিফা আল-হাকিমের জন্যই খুতবা পাঠ করা হয়েছিল, আর দীর্ঘকাল পর তা কেবল মালিক আল-জাহিরের জন্যই পাঠ করা হলো। এটি তার ইতিবৃত্তের একটি দুর্লভ অংশ যা এর গুরুত্বের কারণে আমি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فصل بناء المساجدقال الله تعالى: " في بيوت أذن الله أن ترفع ويذكر فيها اسمه " اي تبنى كقوله: " وإذ يرفع ايراهيم القواعد من البيت ". فالرفع هنا، إما حقيقي. أو مجازي كالتطهير في قوله: " وطهر بيتي " قال العلماء: والمراد بالبيوت هنا المساجد وقيل: المساجد بيوت الله تضئ لأهل السماء كما تضئ النجوم لأهل الأرض وفي صحيح مسلم عن عثمان بن عفان رضي الله عنه أراد بناء المسجد فكره الناس ذلك وأحبوا أن يدعه على هيئته فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من بنى مسجدا لله بنى الله له بيتا في الجنة مثله. وفي الصحيحين من حديث عبيد الله الخولاني أنه سمع عثمان بن عفان يقول عند قول الناس فيه. حين بنى مسجد النبي صلى الله عليه وسلم: إنكم أكثرتم. وإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من بنى مسجدا يبتغي به وجه الله بنى الله له بيتا في الجنة قال النووي: قوله: مثله يحتمل وجهين. أحدهما
মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদমহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "সে সকল গৃহে যেগুলোকে উন্নত করার এবং যেখানে তাঁর নাম স্মরণ করার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন।" অর্থাৎ নির্মাণ করা; যেমন তাঁর এই বাণী: "আর যখন ইব্রাহিম কাবার ভিত্তি উত্তোলন করছিলেন।" এখানে 'উন্নত করা' বা 'উত্তোলন' বিষয়টি হয় প্রকৃত অর্থে, অথবা রূপক অর্থে—যেমন "আমার গৃহকে পবিত্র করো" বাণীতে পবিত্রকরণের অর্থ হয়েছে। উলামায়ে কেরাম বলেন: এখানে 'গৃহসমূহ' দ্বারা মসজিদসমূহ উদ্দেশ্য। আরও বলা হয়েছে: মসজিদসমূহ হলো আল্লাহর ঘর, যা আসমানবাসীদের নিকট তেমনিভাবে দীপ্তি দান করে যেমন করে নক্ষত্ররাজি পৃথিবীবাসীদের জন্য দীপ্তি দান করে। সহিহ মুসলিম-এ উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মসজিদ নির্মাণ করতে চাইলেন কিন্তু মানুষ তা অপছন্দ করল এবং তারা চাইল যেন তিনি তা তার পূর্বের অবয়বেই রেখে দেন। তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে তার অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" সহিহাইন-এ উবাইদুল্লাহ আল-খাওলানি বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.)-এর মসজিদ নির্মাণের সময় যখন মানুষ উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর সমালোচনা করছিল, তখন তিনি তাদের বললেন: "তোমরা অনেক বেশি কথা বলছ। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" ইমাম নববী বলেন: তাঁর (সা.) বাণী "তার অনুরূপ" এর দুইটি অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার একটি হলো-
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
أن يكون معناه (بنى له بيتا في الجنة فضله على ما سواه من بيوت الجنة كفضل المسجد على بيوت الدنيا والثاني أن يكون معناه) مثله في مسمى البيت، وأما حقيقة صفته في السعة وغيرها فمعلوم فضلها وعظمها.
وقال القرطبي: هذه المثلية ليست على ظاهرها ولكن المعنى، أنه يبنى له بثوابه بناء أشرف وأعظم وأرفع، وكذلك الرواية الأخرى. من بنى لله بيتا ولم يسمه مسجدا وهذا البيت والله أعلم مثل بيت خديجة الذي قال فيه: من قصب لا صخب فيه ولا نصب، يريد من قصب الزمرد والياقوت ويحتمل أن يريد مثله في الاسم لا المقدار، أي أن يبنى له بيتا كما بنى بيتا لأن الأعمال الحسنة جزاؤها الضعف، وعلى هذا اقتصر ابن الجوزي قال: وقوله: لله. يريد به الإخلاص، في الفعل، ومن بنى مسجدا فكتب اسمه عليه فهو بعيد من الإخلاص، لأن المخلص يكتفي برؤية المعمول منه.
وقد كان حسان بن أبي سنان يشتري أهل البيت فيعتقهم ولا يخبرهم من هو. وعن عائشة رضي الله عنها قالت: أمر رسول الله صلى الله عليه
এর অর্থ হতে পারে যে, (জান্নাতে তার জন্য এমন একটি ঘর নির্মাণ করা হবে যার শ্রেষ্ঠত্ব জান্নাতের অন্যান্য ঘরের ওপর এমন হবে যেমন মসজিদের শ্রেষ্ঠত্ব দুনিয়ার ঘরসমূহের ওপর। দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে যে,) ঘর নামের দিক থেকে এটি দুনিয়ার ঘরের মতো হবে, তবে প্রশস্ততা ও অন্যান্য গুণের প্রকৃত রূপের ক্ষেত্রে এর শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশালতা সুপরিচিত।
আল-কুরতুবী বলেন: এই সাদৃশ্য তার বাহ্যিক অর্থে নয়, বরং এর অর্থ হলো, তার সওয়াবের বিনিময়ে তার জন্য আরও মর্যাদাশীল, মহান ও সুউচ্চ একটি অট্টালিকা নির্মাণ করা হবে। একইভাবে অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-তেও এসেছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি ঘর নির্মাণ করল" অথচ সেটিকে মসজিদ হিসেবে অভিহিত করল না। আর এই ঘরটি—আল্লাহই ভালো জানেন—খাদিজা (রা.)-এর ঘরের মতো, যার সম্পর্কে বলা হয়েছে: "তা হবে মণি-মুক্তার তৈরি, যাতে কোনো হট্টগোল বা ক্লান্তি নেই।" এখানে মণি-মুক্তা বলতে পান্না ও ইয়াকুত বোঝানো হয়েছে। এটিও সম্ভব যে, এখানে নামের দিক থেকে সাদৃশ্য বোঝানো হয়েছে, পরিমাপের দিক থেকে নয়। অর্থাৎ সে একটি ঘর নির্মাণ করেছে বলে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে, কারণ নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। ইবনুল জাওযী এই ব্যাখ্যার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং বলেছেন: "আল্লাহর জন্য" কথাটির দ্বারা কাজের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠতা (إخلاص) বোঝানো হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণ করে তার ওপর নিজের নাম লিখে রাখে, সে একনিষ্ঠতা (إخلاص) থেকে দূরে অবস্থান করছে; কারণ একনিষ্ঠ (مخلص) ব্যক্তি যার জন্য আমল করা হয়েছে তাঁর অবলোকনের ওপরই সন্তুষ্ট থাকেন।
হাসান ইবনে আবি সিনান কোনো পরিবারের সদস্যদের ক্রয় করে তাদের মুক্ত করে দিতেন এবং তিনি কে তা তাদের জানাতেন না। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وسلم ببناء المساجد في الدور وأن تنظف وتطيب وفي رواية لآبن وضاح في مصنفه عنها مرفوعا: من بنى مسجدا لله ولو مفحص قطاة بنى الله له بيتا في الجنة. قلت: يا رسول الله، وهذه المساجد التي بطريق مكة،
قال: وتلك. ورواه ابن ماجه في سننه بإسناد صحيح من حديث جابر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من بنى لله مسجدا كمفحص قطاة أو أصغر بنى الله له بيتا في الجنة.
وأخرجه ابن خزيمة في صحيحه أيضا. ورواه ابن حبان في صحيحه من حديث الأعمش عن إبراهيم التيمي عن أبيه عن أبي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من بنى لله مسجدا ولو كمفحص قطاة بنى الله له بيتا في الجنة. وقال الذهبي في مختصر السنن: إسناده جيد. قلت: وقال ابن عبدالبر في الكلام على التدليس: قال سفيان وشعبة: لم يسمع الأعمش هذا الحديث من ايراهيم التيمي. ومفحص القطاة. هو موضع تبحث (عنه التراب) برجليها وتصلح موضعا لتبيض فيه بالإرضض مأخوذ من الفحص ولو هنا للتقليل، وقد أثبته من معاني لو ابن هشام الخضراوي وجعل منه، اتقوا النار ولو بشق تمرة، والظاهر أن التقليل مستفاد مما بعد لو، لا من لو، ثم المراد بالتقليل هنا، إما الزيادة، في المسجد
...মুহল্লাসমূহে মসজিদ নির্মাণ করার এবং তা পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিযুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইবনে ওয়াদদাহ তার মুসান্নাফে তার (আয়েশা রা.) থেকে বর্ণিত রসুল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) একটি বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, তা যদি তিতির পাখির ডিম পাড়ার স্থানের মতোও হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রসুল! মক্কার পথে অবস্থিত এই মসজিদগুলোও কি (এর অন্তর্ভুক্ত)?
তিনি বললেন: সেগুলোও। ইবনে মাজাহ তার সুনানে জাবির (রা.)-এর হাদিস থেকে একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য তিতির পাখির ডিম পাড়ার স্থানের মতো বা তার চেয়েও ছোট কোনো মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।
ইবনে খুজাইমাও তার সহিহ-তে এটি উদ্ধৃত করেছেন। ইবনে হিব্বান তার সহিহ-তে আমাশের হাদিস থেকে, তিনি ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, যদিও তা তিতির পাখির ডিম পাড়ার স্থানের মতো হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। ইমাম জাহাবি মুখতাসারুস সুনান গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ (إسناده) উৎকৃষ্ট (جيد)। আমি বলছি: ইবনে আবদুল বার তাদলিস বা তথ্যগোপন (التدليس) সংক্রান্ত আলোচনায় বলেছেন: সুফিয়ান ও শু'বাহ বলেছেন যে, আমাশ এই হাদিসটি ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে সরাসরি শোনেননি। আর 'মাফহাসুল ক্বাতাহ' হলো তিতির পাখির মাটি খুঁড়ে ডিম পাড়ার স্থান, যা সে তার পা দিয়ে মাটি সরিয়ে তৈরি করে। এটি 'ফাহস' শব্দ থেকে গৃহীত। আর এখানে 'লাও' শব্দটি স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। ইবনে হিশাম আল-খাদরাবি 'লাও'-এর অন্যতম অর্থ হিসেবে এটিকে সাব্যস্ত করেছেন এবং এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন— 'তোমরা জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তা খেজুরের একটি টুকরোর বিনিময়ে হয়'। তবে বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, ক্ষুদ্রতার বিষয়টি 'লাও'-এর পরবর্তী অংশ থেকে বুঝে আসে, স্বয়ং 'লাও' থেকে নয়। এরপর এখানে ক্ষুদ্রতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো— হয় মসজিদের বর্ধিত অংশ...
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
تنزيلا له منزلة ابتدائه، أو لأن الكلام خرج مخرج المبالغة، وتأمل كيف خص القطاة بالذكر دون غيرها، لأن ارب يضربون بها المثل في الصدق ففيه رمز خفي إلى المحافظة على الإخلاص في بنائه، والصدق في إنشائه، وفي صحيح البخاري في حديث طويل عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر ببناء المساجد. وفي مسلم عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، أحب البلاد إلى الله مساجدها وأبغض البلاد إلى الله أسواقها. وفيه أيضا في حديث: سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله. فقال: ورجل قلبه معلق بالمساجد.
قال النووي: معناه شديد الحب لها والملازمة للجماعة فيها وليس معناه دوام القعود فيها: قلت: فكيف حب المسجد الحرام وتعلق قلبه به؟ وروى الطبراني في أوسط معاجمه من حديث الضحاك بن مزاحم عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: تذهب الأرضون كلها يوم القيامة إلا المساجد فإنها ينضم بعضها إلى بعض. وروى الزار في مسنده عن عبد الله بن المختار عن محمد بن واسع عن أم الدرداء عن أبي الدرداء قال: لتكن المساجد مجلسك فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إن الله عزوجل ضمن لمن كانت المساجد بيته الأمن والجواز على الصراط يوم القيامة. وقال: هذا حسن الإسناد.
এটিকে তার সূচনার স্তরের মর্যাদা প্রদানের উদ্দেশ্যে, অথবা কথাটি অতিরঞ্জন (مبالغة)-এর ভঙ্গিতে বলা হয়েছে। লক্ষ্য করুন, কেন অন্য পাখির পরিবর্তে বিশেষভাবে 'কাতাত' (মরু-পাখি) পাখির কথা উল্লেখ করা হয়েছে? কারণ আরবরা এই পাখির মাধ্যমে সত্যবাদিতার উপমা পেশ করে। সুতরাং এতে মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে ইখলাস বা নিষ্ঠা রক্ষা করা এবং তা প্রতিষ্ঠায় সততা অবলম্বনের প্রতি একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে। সহীহ বুখারীতে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহর নিকট ভূখণ্ডের সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো এর মসজিদসমূহ এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় স্থান হলো এর বাজারসমূহ।" সেখানে আরও একটি হাদিসে রয়েছে: "সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।" অতঃপর তিনি বললেন: "এবং এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে।"
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: এর অর্থ হলো মসজিদের প্রতি তীব্র ভালোবাসা এবং সেখানে জামাতের সাথে সালাতে নিয়মিত উপস্থিত হওয়া; এর অর্থ সর্বদা সেখানে বসে থাকা নয়। আমি (গ্রন্থকার) বলি: তাহলে মসজিদুল হারামের প্রতি ভালোবাসা এবং তার সাথে অন্তর জুড়ে থাকার বিষয়টি কতই না মর্যাদাপূর্ণ হবে? তাবারানী তাঁর মু'জাম আল-আউসাত গ্রন্থে দাহহাক বিন মুজাহিম-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন সমস্ত জমিন বিলীন হয়ে যাবে কেবল মসজিদসমূহ ব্যতীত, কেননা সেগুলো একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে যাবে।" বাজ্জার তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আবদুল্লাহ বিন মুখতার-এর সূত্রে মুহাম্মদ বিন ওয়াসি থেকে, তিনি উম্মুদ দারদা থেকে, তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মসজিদ যেন তোমার মজলিস হয়, কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির জন্য শান্তি এবং কিয়ামতের দিন সিরাত পার হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন যার ঘর হবে মসজিদ।" তিনি (ইমাম বাজ্জার) বলেছেন: এটি উত্তম (حسن) সনদ (إسناد) বিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الباب الأولفيما يتعلق بمكة والمسجدالحرام من خصائص
প্রথম পরিচ্ছেদমক্কা ও মসজিদুলহারাম সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহ
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
ذكر أصل بناء الكعبة المعظمةأخبرنا شيخنا أبو عبدالله الحافظ رحمه الله: أنا المشايخ قاضي القضاة بدر الدين محمد بن جماعة وأبو الحسن علي بن اسماعيل ابن قريش، وأبو بكر عبدالله بن الأكرم ابن أبي البركات النعماني قراءة عليهم. أنا أبو الفضل محمد بن يوسف الغزنوي قراءة عليه: أنا أبو القاسم عبدالرحمن بن علي الطبري بمكة: أنا أبو الحسن ابن محمد الطوسي الصاهلي: أنا أبو القاسم اسماعيل الاسماعيلي: أنا أبو ابراهيم اسماعيل بن ابراهيم النصر أبادي. ح وقال الغزنوي: وأنبأنا المبارك بن الحسن بن محمد، أنبأنا أبو القاسم بن مسعدة أنا ابراهيم النصر أبادي: أنا أبو الحسن المغيرة بن عمرو: ثنا أبو سعيد الفضل بن محمد بن ابراهيم الجندي في كتابه فضائل مكة: ثنا عبدالله ابن أبي غسان الثمالي: ثنا أبو همام: ثنا محمد بن زياد عن ميمون بن مهران عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. كان البيت قبل هبوط آدم صلى الله عليه ياقوتة من يواقيت الجنة له بابان من زمرد أخضر، باب شرقي، وباب غربي، وفيه قناديل من الجنة والبيت المعمور الذي في السماء يدخله كل يوم سبعون ألف ملك لا يعودون
সম্মানিত কাবার নির্মাণের মূল বিবরণআমাদের শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرনা): প্রধান বিচারপতি বদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন জামাআহ, আবুল হাসান আলী বিন ইসমাঈল ইবনে কুরাইশ এবং আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন আল-আকরাম ইবন আবিল বারাকাত আন-নুমানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তাঁদের নিকট পাঠ করার (قراءة) মাধ্যমে। আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-গজনভী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তাঁর নিকট পাঠ করার (قراءة) মাধ্যমে: মক্কায় অবস্থিত আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন আলী আত-তাবারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আবু হাসান ইবনে মুহাম্মদ আত-তুসী আস-সাহেলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আবুল কাসিম ইসমাঈল আল-ইসমাঈলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আবু ইব্রাহিম ইসমাঈল বিন ইব্রাহিম আন-নাসরাবাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا)। রূপান্তর (ح) এবং গজনভী বলেন: আল-মুবারক বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), আবুল কাসিম বিন মাসআদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), ইব্রাহিম আন-নাসরাবাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আবুল হাসান আল-মুগীরা বিন আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আবু সাঈদ আল-ফজল বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-জুন্দী তাঁর 'ফাদাইলু মক্কা' গ্রন্থে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا): আব্দুল্লাহ ইবনে আবি গাসসান আস-সুমালী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا): আবু হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا): মুহাম্মদ বিন যিয়াদ মাইমুন বিন মেহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। আদম (আলাইহিস সালাম)-এর অবতরণের পূর্বে এই ঘর (কাবা) জান্নাতের ইয়াকুত পাথরসমূহের মধ্য হতে একটি ইয়াকুত সদৃশ ছিল। এর ছিল সবুজ পান্নার দুটি দরজা; একটি পূর্ব দিকের দরজা এবং অন্যটি পশ্চিম দিকের দরজা। তাতে জান্নাতের প্রদীপসমূহ ছিল। আর 'বাইতুল মামুর' যা আকাশে অবস্থিত, সেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন যারা আর কখনো ফিরে আসেন না।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
فيه إلى يوم القيامة حذاء البيت الحرام، ولما أهبط الله تعالى آدم إلى موضع الكعبة وهو مثل الفلك من شدة رعدته، وأنزل عليه الحجر الأسود يتلألأ كأنه لؤلؤة بيضاء فأخذه آدم صلى الله عليه وسلم فضمه إليه تعالى من استئتاسا به، ثم أخذ الله تعالى من بنى آدم ميثاقهم فجعله في. في الحجر ثم أنزل آدم العصا ثم قال: يا آدم تخط فتخطى فإذا هو بأرض الهند فمكث ما شاء الله تعالى. ثم استوحش إلى البيت فقيل له: احجج يا آدم. فلما قدم مكة لقيته الملائكة فقالت: بر حجك يا آدم. لقد حججنا هذا البيت قبلك بألفي عام فقال: ما كنتم تقولون حوله؟ قالوا: سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر. فكان آدم صلى الله عليه وسلم إذا طاف قالهن. وكان يطوف سبعة أسابيع بالليل وخمسة أسابيع بالنهار. وقال: يا رب اجعل لهذا البيت عمارا يعمرونه من ذريتي فأوحى الله عزوجل: أن معمره نبي من ذريتك اسمه ابراهيم أقضي على يده عمارته. واستنبط له سقايته وأريه مواقفه وأعلمه مناسكه، قلت: محمد بن زياد هو اليشكري الطحان. قال احمد: كذاب خبيث وكذبه يحيى بن معين أيضا وأبو زرعة، والدارقطني، والفلاس
কেয়ামত দিবস পর্যন্ত তা পবিত্র বাইতুল হারামের সমান্তরালে থাকবে। যখন আল্লাহ তাআলা আদমকে কাবার স্থানে অবতরণ করালেন, তখন প্রবল প্রকম্পনের কারণে তা ছিল একটি নৌকার মতো। তিনি তাঁর নিকট হাজরে আসওয়াদ অবতীর্ণ করলেন যা ধবধবে সাদা মুক্তার মতো উজ্জ্বল ছিল। আদম (আলাইহিস সালাম) তা গ্রহণ করলেন এবং এর মাধ্যমে একাকীত্ব দূর করতে তা নিজের সাথে জড়িয়ে নিলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বনী আদমের নিকট থেকে তাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন এবং তা পাথরের মধ্যে গেঁথে দিলেন। এরপর আদম লাঠি নামিয়ে রাখলেন, তখন বলা হলো: হে আদম! পদক্ষেপ নিন। তিনি কদম বাড়ালেন এবং নিজেকে ভারতের মাটিতে পেলেন। সেখানে আল্লাহ তাআলা যতক্ষণ চাইলেন তিনি অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি বাইতুল্লাহর বিরহ অনুভব করলেন এবং তাঁকে বলা হলো: হে আদম! হজ পালন করুন। তিনি যখন মক্কায় আসলেন, ফেরেশতাগণ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: হে আদম! আপনার হজ কবুল হোক। আমরা আপনার দুই হাজার বছর পূর্বেই এই ঘরের হজ করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনারা এর চারপাশে কী পাঠ করতেন? তাঁরা বললেন: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার। সুতরাং আদম (আলাইহিস সালাম) যখন তাওয়াফ করতেন তখন এগুলো পাঠ করতেন। তিনি রাতে সাত বার (সাত চক্করের সেট) এবং দিনে পাঁচ বার তাওয়াফ করতেন। তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক! এই ঘরের জন্য এমন আবাদকারী নির্ধারণ করুন যারা আমার বংশধরদের মধ্য থেকে একে আবাদ করবে। তখন আল্লাহ তাআলা ওহী পাঠালেন: আপনার বংশধরদের মধ্য থেকে একজন নবী একে আবাদ করবেন যার নাম ইব্রাহিম; তাঁর হাতেই আমি একে আবাদ করার ফয়সালা করব। আমি তাঁর জন্য পানীয়ের ব্যবস্থা করব, তাঁকে হজের স্থানসমূহ দেখাব এবং হজের নিয়ম-কানুন (مناسك) শিক্ষা দেব। আমি বলছি: মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ হলেন আল-ইয়াশকরি আল-তাহহান। ইমাম আহমাদ বলেন: সে এক নিকৃষ্ট চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)। ইয়াহইয়া ইবনে মাইন, আবু যুরআহ, দারা কুতনী এবং ফাল্লাসও তাকে মিথ্যাবাদী (كذبه) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وروى عنه شيبان [بن فروخ] وفي دلائل النبوة للبيهقي من حديث عبدالله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. بعث الله عزوجل جبريل صلى الله عليه وسلم إلى آدم وحواء فقال لهما: ابنيا لي بيتا فخط لهما جبريل صلى الله عليه وسلم، فجعل آدم يحفر، وحواء تنقل حتى أصابه الماء نودي من تحته حسبك يا آدم. فلما بنياه أوحى الله عزوجل إليه أن يطوف به. وقيل له: أنت أول الناس. وهذا أول بيت.
ثم تناسخت القرون حتى حجه نوح صلى الله عليه وسلم. ثم تناسخت القرون حتى رفع (ابراهيم) القواعد منه، قال البيهقي: تفرد به ابن لهيعة هكذا مرفوعا وروى محمد بن جرير الطبري عن عطاء: أن آدم صلى الله عليه وسلم قال: أي رب، إني لأسمع أصوات الملائكة، فقال: ابط إلى الأرض فابن لي بيتا. ثم احفف به كما رأيت الملائكة تحف بيتي الذي في السماء. قال: فيزعم الناس: أنه بناه من خمسة أجبل، من حراء، وطور سيناء، وطور زيتا، والجودي و (لبنان).
ثم روى من طرق أنه لما كان زمن الطوفان رفعه الله حتى بعث ابراهيم فبناه. وقال السهيلي في الروض: وجاء في آثار مروية: أن ابراهيم بناه من خمسة أجبل، وأن الملائكة كانت تأتيه بالحجارة منها، وهي طور سيناء. وطور زيتا اللذان بالشام، والجودي وهو بالجزيرة. ولبنان
শায়বান ইবনে ফাররুখ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। বায়হাক্বীর দালায়েলুন নুবুওয়াহ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে আমরের বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মহান আল্লাহ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে আদম ও হাওয়ার কাছে পাঠালেন এবং তাঁদের বললেন: ‘তোমরা আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করো।’ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁদের জন্য একটি নকশা এঁকে দিলেন। অতঃপর আদম (আলাইহিস সালাম) খনন করতে শুরু করলেন এবং হাওয়া (আলাইহিস সালাম) মাটি সরাতে লাগলেন, যতক্ষণ না পানির সন্ধান পাওয়া গেল। নিচ থেকে তাঁকে সম্বোধন করে বলা হলো: ‘হে আদম, আপনার জন্য এটাই যথেষ্ট।’ যখন তাঁরা তা নির্মাণ সম্পন্ন করলেন, মহান আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী পাঠালেন যে, তিনি যেন এটি তাওয়াফ করেন। তাঁকে বলা হলো: ‘আপনি মানুষের মধ্যে প্রথম এবং এটিই প্রথম ঘর।’
অতঃপর যুগ যুগ অতিক্রান্ত হতে থাকল, এমনকি নূহ (আলাইহিস সালাম) এতে হজ্জ পালন করলেন। পুনরায় বহু শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার পর ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত্তি উচ্চকিত করলেন। ইমাম বায়হাক্বী বলেন: ইবনে লাহিয়াহ এককভাবে (تفرد) এটি এভাবে মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে জারির আত-তাবারী আতা থেকে বর্ণনা করেন: আদম (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: ‘হে আমার রব! আমি ফেরেশতাদের আওয়াজ শুনতে পাই।’ তখন বলা হলো: ‘তুমি জমিনে অবতরণ করো এবং আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করো। তারপর এটিকে ঘিরে প্রদক্ষিণ করো যেভাবে তুমি ফেরেশতাদের আকাশে আমার ঘর প্রদক্ষিণ করতে দেখেছ।’ তিনি বলেন: মানুষ ধারণা করে যে, তিনি এটি পাঁচটি পাহাড়ের পাথর দিয়ে নির্মাণ করেছিলেন—হেরা, তুরে সাইনা, তুরে জয়তা, জুদি এবং লেবানন।
অতঃপর বিভিন্ন সূত্রে (طرق) বর্ণিত হয়েছে যে, যখন প্লাবনের সময় এল, আল্লাহ এটিকে আসমানে উঠিয়ে নিলেন যতক্ষণ না ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে পাঠালেন এবং তিনি এটি নির্মাণ করলেন। ইমাম সুহায়লী ‘আর-রাওদ’ গ্রন্থে বলেন: বর্ণিত কিছু আসার (آثار) সূত্রে এসেছে যে, ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) পাঁচটি পাহাড় থেকে পাথর এনে এটি নির্মাণ করেছিলেন এবং ফেরেশতারা তাঁর কাছে পাথর বয়ে আনতেন; সেগুলো হলো তুরে সাইনা, সিরিয়ায় অবস্থিত তুরে জয়তা, জাজিরায় অবস্থিত জুদি এবং লেবানন।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وحراء وهما في الحرم. كل ذلك بحكمة الله كيف جعل بناءها من خمسة أجبل. فشاكل ذلك معناها إذ هي قبلة للصلوات الخمس وعمود الإسلام.
وقد بنى على خمس، وأول من بناه شيث عليه السلام .. وكان قبل أن يبنيه خيمة من ياقوتة حمراء يطوف بها آدم، ويأنس بها لأنها أنزلت من الجنة. وقيل إنه بني في أيام جرهم مرة أو مرتين، لأن السيل كان قد صدع حائطه قال: وقيل: " لم يكن بنيانا إنما كان إصلاحا لما وهي منه وجداراً أسس بينه وبين السيل. بناه عامر ابن الجادر ". وقال الأزرقي في تاريخ مكة: جعل ابراهيم صلى الله عليه وسلم طول بناء الكعبة في السماء سبعة أذرع، وطولها في الأرض ثلاثين ذراعا، وعرضها في الأرض اثنين وعشرين ذراعا، وكانت بغير سقف، ولما بنتها قريش جعلوا طولها ثماني عشرة ذراعا في السماء، ونقصوا من طولها في الأرض ستة أذرع وشبرا، تركوها في الحجر. ولما بناها ابن الزبير جعل طولها في السماء سبعة وعشرين ذراعا.
ولم يغير الحجاج طولها حين هدمها وهي إلى الآن (على ما) بناها ابن الزبير لما كانت عائشة ترويه، ولأنه لما نصب عليها المنجنيق الحصين بن نمير وهت جدرانها. وقيل: بل طارت شرارة من مجمرة
এবং হেরা, আর এই উভয়ই হারামের অন্তর্ভুক্ত। এই সবই আল্লাহর হিকমত যে, কীভাবে তিনি এর কাঠামো পাঁচটি পাহাড় দ্বারা গঠন করেছেন। এর তাৎপর্য এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেহেতু এটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কিবলা এবং ইসলামের স্তম্ভ।
এটি পাঁচটি পাহাড়ের ওপর নির্মিত হয়েছে, আর এটি সর্বপ্রথম নির্মাণ করেন শীস (আলাইহিস সালাম)... এবং তিনি এটি নির্মাণের পূর্বে এটি ছিল লাল ইয়াকুত পাথরের তৈরি একটি তাবু, যার চারদিকে আদম (আলাইহিস সালাম) তাওয়াফ করতেন এবং এর মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করতেন, কারণ এটি জান্নাত থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে যে, জোরহুম গোত্রের যুগে এটি একবার বা দুবার নির্মিত হয়েছিল, কারণ প্লাবন এর দেয়ালে ফাটল ধরিয়েছিল। তিনি বলেন: এবং বলা হয়: "এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ ছিল না, বরং যা জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল তার সংস্কার মাত্র এবং প্লাবন থেকে রক্ষার জন্য একটি প্রাচীর যা এর ও প্লাবনের মাঝে ভিত্তি হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল। এটি আমির ইবনুল জাদির নির্মাণ করেন।" আজরাকী তারিখ মক্কা গ্রন্থে বলেছেন: ইব্রাহিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাবার উচ্চতা আকাশে সাত হাত নির্ধারণ করেছিলেন, জমিনে এর দৈর্ঘ্য ছিল ত্রিশ হাত এবং জমিনে এর প্রস্থ ছিল বাইশ হাত। এটি ছাদবিহীন ছিল। আর যখন কুরাইশরা এটি নির্মাণ করল, তারা এর উচ্চতা আকাশে আঠারো হাত করল এবং জমিনে এর দৈর্ঘ্য থেকে ছয় হাত এক বিঘত কমিয়ে দিল, যা তারা হিজর অংশে ছেড়ে দিয়েছিল। যখন ইবনে যুবায়ের এটি নির্মাণ করেন, তখন তিনি এর উচ্চতা আকাশে সাতাশ হাত করেন।
হাজ্জাজ এটি ধ্বংস করার সময় এর উচ্চতা পরিবর্তন করেননি এবং এটি এখন পর্যন্ত (সেই অনুযায়ী) বিদ্যমান যেভাবে ইবনে যুবায়ের নির্মাণ করেছিলেন, যা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেছেন (ترويه) তার ভিত্তিতে। আর কারণ হলো, যখন হুসাইন ইবনে নুমায়ের এর ওপর মিনজানিক স্থাপন করেছিলেন, তখন এর দেয়ালগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আবার বলা হয়: বরং ধুনুচি থেকে একটি স্ফুলিঙ্গ উড়ে এসে পড়েছিল।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
في أستارها فاحترقت، فلما أمر عبدالملك بهدمها وبناها الحجاج على البناء الأول أخبر عبدالملك أبو سلمة وغيره عن عائشة بما كان عمدة ابن الزبير في هدمها فندم لذلك وقال: ليتنا تركناه وما تولى، فلما تولى أبو جعفر الخلافة أراد أن يهدمها ويردها إلى بناء ابن الزبير فناشده مالك في ذلك وقال: "لئلا يبقي عادة الملوك ". فتركه. قال أبو العباس القرطبي في المفهم. " وما فعله عبدالله بن الزبير في البيت كان صوابا.
وقبح الله الحجاج وعبدالملك، لقد جهلا سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم:. وقال عبدالملك حين بلغته السنة: لو كنت سمعته قبل أن أهدمه، لتركته على بناية ابن الزبير وهو غير معذور في ذلك، فإنه كان متمكنا من التثبت بالسؤال والبحث فلم يفعل واستعجل وقضى، فالله حسبه ومجازيه على ذلك، ولقد اجترأ على بيت الله وعلى أولياته. ولما كان الرشيد أراد أن يرده على ما بناه ابن الزبير فقال له مالك: نشدتك الله يا أمير المؤمنين أن (لا) تجعل هذا البيت ملعبة للملوك، لا يشاء أحد إلا نقض البيت وبناه فتذهب هيبته من صدور الناس ". فترك ما هم به، واستحسن الناس هذا من مالك وعملوا عليه، فصار هذا كالإجماع على أنه لا يجوز التعرض له بهدم أو تغيير والله أعلم. قال السهيلي: " وكان بناؤها في الدهر خمس مرات، الأول حين بناها شيث ابن آدم، والثانية حين بناها ابراهيم على القواعد الأولى، والثالثة حين بنتها قريش قبل الإسلام بخمسة أعوام.
এর পর্দায় (আগুন লেগেছিল) এবং তা পুড়ে গিয়েছিল। এরপর যখন আব্দুল মালিক তা ভেঙে ফেলার আদেশ দিলেন এবং হাজ্জাজ একে পূর্ববর্তী কাঠামোর ওপর নির্মাণ করলেন, তখন আবু সালামাহ এবং অন্যরা আয়েশা (রা.) থেকে আব্দুল মালিককে সেই বর্ণনা সম্পর্কে অবহিত করলেন যা ইবনে আজ-জুবায়েরের ঘর পুনর্নির্মাণের মূল ভিত্তি ছিল। এতে তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং বললেন: "হায়! আমরা যদি একে এবং তিনি যা তদারকি করেছিলেন তা সেভাবেই ছেড়ে দিতাম।" অতঃপর যখন আবু জাফর খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তিনি একে ভেঙে পুনরায় ইবনে আজ-জুবায়েরের কাঠামোর ওপর ফিরিয়ে নিতে চাইলেন। তখন মালিক (ইমাম মালিক) তাকে আল্লাহর কসম দিয়ে এ বিষয়ে অনুরোধ করলেন এবং বললেন: "যাতে এটি রাজাদের অভ্যাসে পরিণত না হয়।" ফলে তিনি তা বর্জন করলেন। আবু আল-আব্বাস আল-কুরতুবি 'আল-মুফহিম' গ্রন্থে বলেছেন: "কাবা ঘরের বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আজ-জুবায়ের যা করেছিলেন তা সঠিক ছিল।"
আর আল্লাহ হাজ্জাজ ও আব্দুল মালিককে লাঞ্ছিত করুন, তারা আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন। আব্দুল মালিকের কাছে যখন সুন্নাহ (سنة) পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: 'যদি আমি এটি ধ্বংস করার আগে তা শুনতাম, তবে ইবনে আজ-জুবায়েরের নির্মাণের ওপরই একে রেখে দিতাম।' তবে এ বিষয়ে তিনি ওজরযোগ্য নন; কেননা প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সামর্থ্য তার ছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি বরং তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। সুতরাং আল্লাহই তার হিসাব গ্রহণকারী এবং এ কাজের জন্য তাকে প্রতিদান দানকারী। তিনি আল্লাহর ঘর এবং এর আদি বৈশিষ্ট্যের ওপর দুঃসাহস দেখিয়েছেন। যখন আল-রশিদ একে ইবনে আজ-জুবায়েরের নির্মাণের ওপর ফিরিয়ে নিতে চাইলেন, তখন মালিক তাকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, আপনি এই ঘরকে রাজাদের খেলনা বানাবেন না; যাতে যে কেউ চাইলেই ঘরটি ভাঙবে এবং পুনরায় নির্মাণ করবে, ফলে মানুষের অন্তর থেকে এর গাম্ভীর্য ও মর্যাদা বিলীন হয়ে যাবে।" ফলে তিনি যা সংকল্প করেছিলেন তা ত্যাগ করলেন এবং মানুষ মালিকের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাল ও এর ওপর আমল করল। অতঃপর এটি একটি ঐকমত্যের (إجماع) মতো হয়ে গেল যে, একে ধ্বংস বা পরিবর্তনের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন। আল-সুহাইলি বলেছেন: "ইতিহাসে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে পাঁচবার। প্রথমবার যখন একে শীস ইবনে আদম নির্মাণ করেন, দ্বিতীয়বার যখন ইব্রাহিম (আ.) আদি ভিত্তির ওপর একে নির্মাণ করেন এবং তৃতীয়বার যখন ইসলাম আগমনের পাঁচ বছর পূর্বে কুরাইশরা একে নির্মাণ করেছিল।"
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
والرابعة حين احترقت في عهد ابن الزبير بشررة طارت من أبي قبيس فوقعت في أستارها فاحترقت، وقيل إن امرأة أرادت أن تجمرها فطارت شررة من المجمرة في أستارها فاحترقت، فشاور ابن الزبير في هدمها من حضره فهابوا هدمها، وقالوا: نرى أن تصلح ما وهي منها والا تهدم. فقال: لو أن بيت أحدكم احترق لم يرض له إلا بأكمل إصلاح. ولا يكمل إصلاحها إلا بهدمها، فهدمها حتى أفضى إلى قواعد ابراهيم فأمرهم أن يزيدوا في الحفر فحركوا حجرا فيها فرأوا تحته نارا وهولا فأفزعهم فأمرهم أن يقروا القواعد ويبنوا من حبث انتهى الحفر. وفي الخبر أنه سترها حين وصل إلى القواعد، فطاف الناس بتلك الأستار، فلما أتم بناءها ألصق بابها بالأرض وعمل لها خلفا، أي بابا آخر من ورائها وأدخل الحجر فيها لحديث خالته عائشة رضي الله عنها، وعن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: ألم ترى قومك حين بنوا الكعبة اقتصروا على قواعد ابراهيم حين عازت بهم النفقة. ثم قال عليه الصلاة والسلام: لولا حدثان قومك بالجاهلية لهدمتها وبنيتها على قواعد إبراهيم قال ابن الزبير: فما بنا اليوم عجز عن النفقة فبناها على
চতুর্থবার (কাবা পুনর্নির্মাণ করা হয়) যখন ইবনে আল-যুবায়েরের যুগে এটি অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল। আবু কুবাইস পাহাড় থেকে একটি আগুনের স্ফুলিঙ্গ উড়ে এসে কাবার গিলাফের ওপর পড়ে এবং তা পুড়ে যায়। আবার বলা হয় যে, এক নারী কাবা শরীফে সুগন্ধি ধূপ দিতে চেয়েছিলেন, তখন ধূপদানি থেকে একটি স্ফুলিঙ্গ উড়ে গিলাফের ওপর পড়ে এবং তা পুড়ে যায়। ইবনে আল-যুবায়ের তখন উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে এটি ভেঙে ফেলার বিষয়ে পরামর্শ করলেন। কিন্তু তারা এটি ভেঙে ফেলার বিষয়ে শঙ্কিত ছিলেন এবং বললেন: ‘আমরা মনে করি এর যে অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আপনি শুধু তা মেরামত করুন, কিন্তু তা ভেঙে ফেলবেন না।’ তখন তিনি বললেন: ‘যদি তোমাদের কারো ঘর পুড়ে যেত, তবে সে সর্বোত্তম সংস্কার ছাড়া সন্তুষ্ট হতো না। আর একে পূর্ণাঙ্গভাবে ভেঙে না ফেলা পর্যন্ত এর যথাযথ সংস্কার সম্ভব নয়।’ অতঃপর তিনি তা ভেঙে ফেললেন এবং ইবরাহিমি ভিত্তি পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। তিনি তাদের খনন কাজ আরও গভীর করার নির্দেশ দিলেন। তারা যখন একটি পাথর সরালেন, তখন তার নিচে আগুন এবং এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পেলেন যা তাদের আতঙ্কিত করে তুলল। তখন তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা সেই ভিত্তিগুলো স্থির রাখে এবং যেখান পর্যন্ত খনন কাজ শেষ হয়েছে সেখান থেকেই নির্মাণ কাজ শুরু করে। এক সংবাদ (خبر)-এ বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন মূল ভিত্তিতে পৌঁছালেন তখন তা পর্দা দিয়ে আবৃত করে দিলেন এবং মানুষ সেই পর্দার বাইরে থেকেই তাওয়াফ করতে লাগল। যখন তিনি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করলেন, তখন এর দরজাটি ভূমির সমান্তরাল করে দিলেন এবং এর বিপরীত পাশে অর্থাৎ পেছনের দিকে আরও একটি দরজা তৈরি করলেন। এছাড়া তিনি হাতীমকেও কাবার অন্তর্ভুক্ত করলেন। কারণ তাঁর খালা আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছিলেন যে, তিনি (সা.) বলেছিলেন: ‘তুমি কি দেখনি যে তোমার কওম যখন কাবা নির্মাণ করেছিল, তখন অর্থের সংকটের কারণে তারা ইবরাহিমি ভিত্তির কিছু অংশ বাদ দিয়েছিল?’ এরপর নবী (সা.) বলেছিলেন: ‘যদি তোমার কওম জাহেলিয়াতের (جاهلية) যুগের নিকটবর্তী না হতো, তবে আমি অবশ্যই কাবা ভেঙে তা পুনরায় ইবরাহিমি ভিত্তির ওপর নির্মাণ করতাম।’ ইবনে আল-যুবায়ের বললেন: ‘আমাদের তো আজ অর্থের কোনো সংকট নেই।’ অতঃপর তিনি তা নির্মাণ করলেন...
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
مقتضى حديث عائشة. الخامسة عبدالملك بن مروان هدم ما بناه ابن الزبير وبناها على ما كانت عليه في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما فرغ من بنائها جاءه الحارث ابن أبي ربيعة ومعه آخر فحدثاه عن عائشة بالحديث المتقدم فندم وقال. وددت أني لو تركت ابن الزبير، وشاور في ذلك فقال له، مالك بن أنس: " أنشدك الله يا أمير المؤمنين أن (لا) تجعل هذا البيت ملعبة للملوك بعدك لا يشاء أحد منهم أن يغيره إلا غيره فتذهب هيبته من قلوب الناس فصرفه عن رأيه فيه ". وقال النووي في شرح مسلم: قاعلماء. بنى البيت خمس مرات (بنته)
الملائكة، ثم إبراهيم، ثم قريش في الجاهلية وحضر النبي صلى الله عليه وسلم هذا البناء وله خمس وثلاثون سنة وقيل: خمس وعشرون إلى، ثم ابن الزبير، ثم الحجاج، واستمر الآن، قال العلماء: ولا يغير هذا البناء. وقال البخاري في صحيحه: حدثني عبدالله عبدالله بن محمد. ثنا أبو عاصم. أخبرني ابن جريح. أخبرني عمرو بن دينار. سمعت جابرا يقول: لما بنيت الكعبة ذهب النبي صلى الله عليه وسلم وعباس ينقلان الحجارة فقال العباس للنبي صلى الله عليه وسلم: اجع إزارك على رقبتك فخر إلى الأرض وطمحت عيناه إلى السماء فقال: أرني إزاري فشده عليه. وذكر السهيلي في بقية الحديث: فسقط مغشيا عليه فضمه العباس إلى نفسه وسأله عن
আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের মর্মার্থ। পঞ্চম বিষয়টি হলো, আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান, ইবনুল জুবায়ের যা নির্মাণ করেছিলেন তা ভেঙে ফেলেন এবং আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর যুগে যেমন ছিল সেই আদলে তা পুনর্নির্মাণ করেন। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর আল-হারিস ইবনে আবি রাবিয়াহ এবং অন্য একজন তাঁর কাছে আসলেন এবং আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসটি তাঁকে শোনালেন। তখন তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং বললেন, "আমি যদি ইবনুল জুবায়েরের নির্মাণটি সেভাবেই রেখে দিতাম!" তিনি এ বিষয়ে পরামর্শ চাইলে মালেক ইবনে আনাস তাঁকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, এই ঘরকে আপনার পরবর্তী রাজাদের খেলার বস্তুতে পরিণত করবেন না; যাতে তাদের প্রত্যেকেই নিজের ইচ্ছামতো এর পরিবর্তন করতে চাইলে তা পরিবর্তন করে ফেলে, যার ফলে মানুষের অন্তর থেকে এর গাম্ভীর্য বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি তাঁর অভিমত থেকে ফিরে আসলেন।" ইমাম নববী শরহু মুসলিম-এ বলেছেন: আলেমগণ বলেছেন, কাবা গৃহ পাঁচবার নির্মাণ করা হয়েছে। (তা নির্মাণ করেছেন)
ফেরেশতাগণ, অতঃপর ইবরাহিম (আ.), অতঃপর জাহেলি যুগে কুরাইশরা—যাতে নবী (সা.) উপস্থিত ছিলেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর, মতান্তরে পঁচিশ বছর। এরপর ইবনুল জুবায়ের, তারপর হাজ্জাজ, এবং বর্তমানে তা এভাবেই বিদ্যমান। আলেমগণ বলেছেন: এই কাঠামোটি আর পরিবর্তন করা যাবে না। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ্ গ্রন্থে বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমর ইবনে দিনার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমি জাবিরকে বলতে শুনেছি: যখন কাবা নির্মিত হচ্ছিল, তখন নবী (সা.) এবং আব্বাস পাথর বহন করছিলেন। আব্বাস নবী (সা.)-কে বললেন: "আপনার পরিধেয় বস্ত্রটি আপনার কাঁধের ওপর রাখুন।" তখন তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন এবং তাঁর চোখ আকাশের দিকে স্থির হয়ে রইল। এরপর তিনি বললেন: "আমার ইজারটি আমাকে দাও", অতঃপর তিনি তা নিজের ওপর জড়িয়ে নিলেন। সুহাইলি হাদিসের অবশিষ্টাংশে উল্লেখ করেছেন: এরপর তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন, তখন আব্বাস তাঁকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলেন এবং তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন...
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
شأنه فأخبره أنه نودي من السماء: أن اشدد عليك إزارك يا محمد: قال ابن الجوزي: ليس فيه دلالة على كشف العورة وإنما فيه كشف الجسد.
وقال ابن سعد في الطبقات: إن ذلك كان وسنه صلى الله عليه وسلم خمس وثلاثون سنة قال: وكانت الخرف مطلة على الكعبة. وكان السيل يدخل من أعلاها حتى يدخل البيت فانصدع فخافوا أن ينهدم وسرق منه حلية وغزال من ذهب كان عليه، درر وجوهر فأقبلت سفينة فيها روم. ورأسهم باقوم، وكان بانيا فخرج الوليد بن المغيرة في نفر فابتاعوا خشبها وكملوا باقوم فقدم معهم. وفي مغازي موسى بن عقبة: كان بناؤها قبل البعثة بخمس عشرة سنة.
তাঁর অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবহিত করলেন যে, আকাশ থেকে তাঁকে উদ্দেশ্য করে সম্বোধন করা হয়েছিল: হে মুহাম্মদ! তোমার পরিধেয় বস্ত্র তোমার শরীরে মজবুত করে বেঁধে নাও। ইবনুল জাওযি বলেন: এতে সতর উন্মুক্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই, বরং এতে কেবল শরীরের উপরিভাগ অনাবৃত হওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে সাদ আত-তাবাকাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনাটি তখন ঘটেছিল যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর। তিনি বলেন: উঁচু ভূমিগুলো কাবার সম্মুখভাগে অবস্থিত ছিল। বন্যার পানি ওপরের দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করত। এতে কাবার প্রাচীরে ফাটল দেখা দিলে তারা তা ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করেন। আর সেখান থেকে অলংকার ও একটি স্বর্ণের হরিণ চুরি হয়ে গিয়েছিল, যাতে মণি-মুক্তা ও রত্নরাজি খচিত ছিল। এমতাবস্থায় রোমানদের একটি জাহাজ সেখানে এসে পৌঁছাল। তাদের প্রধান ছিলেন বাকুম, যিনি একজন স্থপতি ছিলেন। ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরা একদল লোক নিয়ে বের হলেন এবং জাহাজের কাঠগুলো ক্রয় করে বাকুমের সাথে আলোচনা চূড়ান্ত করলেন; অতঃপর সে তাদের সাথে মক্কায় এল। মুসা ইবনে উকবার মাগাজি গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: কাবার এই নির্মাণ কাজ নবুওয়াত প্রাপ্তির পনের বছর পূর্বে সম্পন্ন হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
ذكر أول من كسا البيتذكر ابن إسحق في سيرته أن تبعا كان هو وقومه أصحاب أوثان يعبدونها فقصده نفر من هذيل ابن مدركة فقالوا: ألا ندلك على بيت بال داثر قال: بلى. قالوا. مكة وإنما أراد الهذليون هلاكه لما عرفوا هلاك من أراده من الملوك. فقال له حبران كانا معه: إنما أراد هؤلاء هلاكك.
قال: فماذا تأمرني قالا: تصنع عنده ما يصنع أهله، تحلق وتطوف وتنحر، ففعل وأقام بمكة ستة أيام ينحر للناس ويطعمهم فأرى في المنام أن يكسو البيت فكساه الخصف، ثم أرى أن يكسوه أحسن من ذلك فكساه الملاء والوصائل، فكان تبع فيما زعموا أول من كسا البيت. وذكر ابن قتيبة أن هذه القصة كانت قبل الإسلام بسبعمائة سنة. وفي معجم الطبراني من حديث ابن لهيعة: ثنا أبو زرعة عمرو بن حاتم: سمعت سهل بن سعد، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا تسبوا تبعا فإنه قد أسلم وقال: لا يروى عن سهل إلا بهذا الإسناد وتفرد به ابن لهيعة وفي
সর্বপ্রথম কে কাবা ঘরে গিলাফ বা আচ্ছাদন দান করেছিলেন তার বিবরণইবনে ইসহাক তাঁর সিরাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তুব্বা এবং তাঁর কওম মূর্তিপূজারী ছিল এবং তারা মূর্তির পূজা করত। এমতাবস্থায় হুযাইল ইবনে মুদরিকাহ গোত্রের একদল লোক তাঁর নিকট এসে বলল, “আমরা কি আপনাকে এমন এক প্রাচীন ঘরের সন্ধান দেব না যা জীর্ণ হয়ে পড়ে আছে?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তারা বলল, “তা মক্কায় অবস্থিত।” মূলত হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাঁর ধ্বংস চেয়েছিল, কারণ ইতিপূর্বে যে রাজারা এর অনিষ্ট করতে চেয়েছিল তাদের কী শোচনীয় পরিণতি হয়েছিল তা তারা জানত। তখন তাঁর সাথে থাকা দুই পণ্ডিত তাঁকে বললেন, “নিশ্চয়ই এরা কেবল আপনার ধ্বংস কামনা করছে।”
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তাহলে আপনারা আমাকে কী নির্দেশ দেন?” তাঁরা বললেন, “সেখানকার অধিবাসীরা যা করে আপনিও তা-ই করুন; মাথা মুণ্ডন করুন, তাওয়াফ করুন এবং পশু কোরবানি করুন।” তিনি তা-ই করলেন এবং মক্কায় ছয় দিন অবস্থান করে মানুষের জন্য পশু জবাই করলেন ও তাদের আহার করালেন। অতঃপর তিনি স্বপ্নে আদিষ্ট হলেন যেন ঘরটিকে আচ্ছাদন দান করেন, ফলে তিনি তা ‘খাসাফ’ (খেজুরের পাতার চাটাই) দিয়ে আবৃত করলেন। পুনরায় তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি যেন এর চেয়েও উত্তম কিছু দিয়ে তা আবৃত করেন, তখন তিনি তা ‘মুলা’ এবং ‘ওয়াসাইল’ (ইয়ামানি চাদর) দিয়ে আবৃত করলেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী তুব্বাই ছিলেন সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি কাবা ঘরে গিলাফ বা আচ্ছাদন দান করেছিলেন। ইবনে কুতাইবা উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনাটি ইসলামের আগমনের সাতশ বছর আগের। তাবারানির মুজাম গ্রন্থে ইবনে লাহিআহ-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: আবু যুরআ আমর ইবনে হাতিম আমাদের বর্ণনা করেছেন যে, আমি সাহল ইবনে সা’দকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তুব্বাকে গালি দিও না, কারণ তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।” তিনি (তাবারানি) বলেছেন: সাহল থেকে এই একটি নির্দিষ্ট বর্ণনাধারা (إسناد) ব্যতীত এটি বর্ণিত হয়নি এবং ইবনে লাহিআহ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন (تفرد)। এবং...
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
حديث آخر ذكره السهيلي عن همام بم منبه عن أبي هريرة رضي الله عنه: ان رسول الله قال: لا تسبوا سعدا الحميري فإنه أول من كسا البيت قال ابن اسحق إن أول من كساها الديباج الحجاج. وقال الزبير: أول من كساها الديباج عبدالله بن الزبير. وقال أبو عبدالله محمد بن إسحق الفاكهي في أخبار مكة: يقال: إن أول من كساها الديباج عبدالملك بن مروان.
وقال أبو عروبة الحراني في كتاب الأوائل له: حدثنا الحسين بن يحيى.
ثنا عثمان بن طالوت. ثنا قريش بن أنس عن الأشعث، عن الحسن قال: أول شيء كسيته الكعبة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كساها قباطي وذكر الأزرقي أن عمر رضي الله عنه كان يكسوها القباطي وكساها معاوية وابن الزبير الديباج الأحمر وكانت تكسييوم عاشوراء ثم صار معاوية يكسوها مرتين، والمأمون كان يكسوها ثلاثا: الديباج الأحمر يوم التروية، والقباطي هلال رجب، والديباج الأبيض يوم سبع وعشرين من رمضان المعظم، وأول من اتخذ لها غلقا عبدالمطلب. باب حديد من تلك الأسياف، واتخذ عبدالمطلب أيضا حوضا لزمزم يستقى منه، وكان
অন্য একটি হাদিস যা সুহায়লী হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ হতে (عن), তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে (عن) বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন: "তোমরা আস-সাদ আল-হিময়ারিকে গালি দিও না, কেননা তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি কাবা ঘরকে আচ্ছাদন পরিয়েছিলেন।" ইবনে ইসহাক বলেন যে, হাজ্জাজ (ইবনে ইউসুফ) প্রথম ব্যক্তি যিনি কাবাকে রেশমি কাপড় (দিবাজ) দিয়ে ঢেকেছিলেন। জুবায়ের বলেন: আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের প্রথম ব্যক্তি যিনি কাবাকে রেশমি কাপড় (দিবাজ) দ্বারা আচ্ছাদিত করেছিলেন। আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-ফাকিহি 'আখবার মক্কা'-তে বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান প্রথম ব্যক্তি যিনি কাবাকে রেশমি কাপড় (দিবাজ) পরিয়েছিলেন।
আবু আরুবাহ আল-হাররানি তাঁর রচিত 'কিতাব আল-আওয়াইল'-এ বলেন: হুসাইন বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)।
উসমান বিন তালুত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا)। কুরাইশ বিন আনাস আশআস হতে (عن), তিনি হাসান হতে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কাবাকে প্রথম যে জিনিসটি দ্বারা আচ্ছাদিত করা হয়েছিল তা হলো 'কাবাতি' (মিশরীয় সাদা কাপড়), যা রাসূলুল্লাহ (সা.) পরিয়েছিলেন। আল-আজরাকি উল্লেখ করেছেন (ذكر) যে, উমর (রা.) কাবাকে কাবাতি কাপড় দ্বারা আচ্ছাদিত করতেন এবং মুয়াবিয়া ও ইবনে জুবায়ের একে লাল রেশমি কাপড় (দিবাজ) দিয়ে ঢেকেছিলেন। এটি আশুরার দিনে আচ্ছাদিত করা হতো, অতঃপর মুয়াবিয়া বছরে দুইবার এটি পরাতেন। আল-মামুন বছরে তিনবার কাবাকে আচ্ছাদন করাতেন: তারবিয়াহর দিনে লাল রেশমি কাপড় (দিবাজ), রজবের চাঁদ দেখা দিলে কাবাতি কাপড় এবং মহিমান্বিত রমজানের সাতাশতম দিনে সাদা রেশমি কাপড় (দিবাজ)। আর প্রথম ব্যক্তি যিনি কাবার জন্য তালা তৈরি করেছিলেন তিনি হলেন আব্দুল মুত্তালিব। সেই তরবারিগুলো দিয়ে একটি লোহার দরজা তৈরি করা হয়েছিল এবং আব্দুল মুত্তালিব জমজম কূপের জন্য একটি হাউজও তৈরি করেছিলেন যেখান থেকে পানি পান করানো হতো এবং এটি ছিল...