(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: -)
مرشد الحيران إلى معرفة أحوال الإنسان   (محمد قدري باشا)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: مرشد الحيران إلى معرفة أحوال الإنسان

المؤلف: محمد قدري باشا [ت 1306 هـ]

الناشر: المطبعة الكبرى الأميرية ببولاق

الطبعة: الثانية، 1308 هـ - 1891 م

عدد الصفحات: 157

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 ربيع الآخر 1436

মানুষের অবস্থা পরিজ্ঞাত হওয়ার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তদের পথপ্রদর্শক   (মুহাম্মদ কাদরী পাশা)

বিভাগ: হানাফী ফিকহ


বই: মানুষের অবস্থা পরিজ্ঞাত হওয়ার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তদের পথপ্রদর্শক

লেখক: মুহাম্মদ কাদরী পাশা [মৃত্যু ১৩০৬ হিজরি]

প্রকাশক: বুলাকস্থ আল-মাতবাআতুল কুবরা আল-আমিরিয়াহ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩০৮ হিজরি - ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৭

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: সায়েন্টিফিক এলিট সেন্টারের (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ) পৃষ্ঠপোষকতায় রাবেতাতুন নুসসাখ (অনুলিপিকারক সংঘ) দল

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১)
كتاب

مرشد الحيران إلى معرفة أحوال الإنسان

في المعاملات الشرعية على مذهب الإمام الأعظم أبي حنيفة النعمان

ملائما لعرف الديار المصرية وسائر الأمم الإسلامية

لمؤلفه المغفور له (محمد قدري باشا)

قررت نظارة المعارف العمومية بتاريخ 10 سبتمبر سنة 1890 نمرة 164

لزوم طبع هذا الكتاب واستعماله بالمدارس الأميرية

وذلك بعد تصديق اللجنة المشكلة من حضرة الأستاذ الفاضل مفتي الديار المصرية

وحضرة الشيخ حسونه النواوي مدرس الشريعة الإسلامية بمدرستي دار العلوم والحقوق

كما يعلم من صور المكاتبات التي جرت بشأن ذلك المندرجة في أول هذا الكتاب

حقوق الطبع محفوظة لنظارة المعارف العمومية

(الطبعة الثانية)

بالمطبعة الكبرى الأميرية ببولاق مصر المحمية

سنة 1308 هجرية

1891 إفرنجية
কিতাব

মানুষের অবস্থাদি পরিজ্ঞাত হওয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্তদের পথপ্রদর্শক

ইমামে আযম আবু হানিফা আল-নু’মানের মাযহাব অনুযায়ী শরয়ি লেনদেন প্রসঙ্গে

মিশরীয় ভূখণ্ড এবং অপরাপর সকল ইসলামি উম্মাহর প্রচলিত প্রথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ

এর রচয়িতা মরহুম (মুহাম্মাদ কাদরি পাশা)

জনশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৮৯০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তারিখে ১৬৪ নম্বর স্মারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে

এই কিতাবটি মুদ্রণ এবং সরকারি বিদ্যালয়সমূহে ব্যবহারের আবশ্যকতা সম্পর্কে

আর এটি মিশরীয় ভূখণ্ডের শ্রদ্ধেয় বিজ্ঞ মুফতি সাহেবের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির অনুমোদনের পর

এবং দারুল উলূম ও আইন বিদ্যালয়দ্বয়ের ইসলামি শরয়ি আইনের শিক্ষক শ্রদ্ধেয় শায়খ হাসুনা আল-নাওয়াওয়ি সাহেবের (অনুমোদনের পর)

যেমনটি এই কিতাবের শুরুতে সন্নিবেশিত এ সংক্রান্ত পত্রালাপের অনুলিপিগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়

মুদ্রণ স্বত্ব জনশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত

(দ্বিতীয় সংস্করণ)

সংরক্ষিত মিশরের বুলাকের আল-মাতবাআতুল কুবরা আল-আমিরিয়া (বৃহৎ সরকারি প্রেসে) মুদ্রিত

১৩০৮ হিজরি সন

১৮৯১ ঈসায়ী সন
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه الرجا وثقتي والمصطفى وسيلتي

 

‌‌الكتاب الأول

في الأموال

‌‌الباب الأول

(في أنواع الأموال)

(مادة 1)

المال ما يمكن ادخاره لوقت الحاجة وهو نوعان عقار ومنقول

(مادة 2)

العقار كل ما له أصل ثابت لا يمكن نقله وتحويله

(مادة 3)

المنقول يطلق على كل مال يمكن نقله وتحويله فيشمل العروض والحيوانات والمكيلات

والموزونات والذهب والفضة ويشمل البناء والغراس القائمين في أرض مملوكة أو موقوفة

(مادة 4)

الحقوق التي بها يكون التصرف والانتفاع بالأعيان على ثلاثة أنواع

الأول- حق ملك رقبة العين ومنفعتها

الثاني- حق ملك الانتفاع بالعين دون الرقبة

الثالث- حق الشرب والمسيل والمرور والتعلى ونحو ذلك من الحقوق
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁরই ওপর আশা ও আমার ভরসা, আর মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার উসিলা।

 

‌‌প্রথম কিতাব

সম্পদ প্রসঙ্গে

‌‌প্রথম অধ্যায়

(সম্পদের প্রকারভেদ প্রসঙ্গে)

(ধারা ১)

সম্পদ হলো তা, যা প্রয়োজনের সময়ের জন্য সঞ্চয় করা সম্ভব এবং তা দুই প্রকার: স্থাবর ও অস্থাবর।

(ধারা ২)

স্থাবর সম্পদ হলো এমন প্রতিটি বস্তু যার মূল ভিত্তি স্থায়ী এবং যা স্থানান্তর বা রূপান্তর করা সম্ভব নয়।

(ধারা ৩)

অস্থাবর সম্পদ বলতে এমন প্রতিটি সম্পদকে বোঝায় যা স্থানান্তর ও রূপান্তর করা সম্ভব; ফলে এর অন্তর্ভুক্ত হবে পণ্যসামগ্রী, গবাদিপশু, পরিমাপযোগ্য বস্তু, ওজনযোগ্য বস্তু, স্বর্ণ ও রৌপ্য। এছাড়া মালিকানাধীন বা ওয়াকফকৃত ভূমিতে দণ্ডায়মান ইমারত ও গাছপালাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

(ধারা ৪)

যেসব অধিকারের মাধ্যমে বস্তুর ওপর নিয়ন্ত্রণ ও উপযোগিতা লাভ করা যায়, তা তিন প্রকার:

প্রথম- মূল বস্তুর সত্তার মালিকানা ও তার উপযোগিতার অধিকার।

দ্বিতীয়- মূল সত্তা ব্যতিরেকে শুধু বস্তুর উপযোগিতা ভোগের মালিকানার অধিকার।

তৃতীয়- সেচকার্য, পানি নিষ্কাশন, যাতায়াত, ঊর্ধ্বস্তরের ব্যবহার এবং এ জাতীয় অন্যান্য অধিকার।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৪)
(مادة 5)

الأعيان المملوكة الرقبة والمنفعة هي ما كان لملاكها حق التصرف فيها عينًا ومنفعة ومنها الأراضي العشرية فتباع وتؤجر وتعار وتوهب وتوقف وترهن وتورث

(مادة 6)

أراضي مصر خراجية مملوكة في الأصل لأربابها وما آل منها إلى بيت المال بسبب موت ملاكه مثلاً بلا وارث فرقبته مملوكة لبيت المال وللإمام أن يجعل منفعته إلى المزارعين في نظير إعطاء الخراج

(مادة 7)

الأراضي الأميرية التي يبيعها ولي الأمر بمسوغ بيعها ويملك رقبتها للمشترين متى تحققت المصلحة في بيعها تكون مملوكة رقبة ومنفعة لمشتريها

(مادة 8)

العقارات الموقوفة سواء كان وقفاً أهلياً ابتداء أو على جهة بر لا تنقطع لا تملك فلا تباع ولا توهب ولا ترهن ولا تورث بل تصرف منفعتها وغلتها إلى الجهات الموقوفة عليها مع مراعاة شروط الواقفين

(مادة 9)

الاستحكامات والمرافئ وغيرها من المحلات المعدة لحفظ الحدود والثغور لا تملك لأحد

(مادة 10)

القناطر والطرق النافذة والشوارع العامة التي ليست بملك لعين لا يجوز لأحد أن يختص بها ولا أن يمنع غيره من الانتفاع بها بل تبقى لمنفعة العامة

 

‌‌الباب الثاني

(في الملكية)

(مادة 11)

الملك التام من شأنه أن يتصرف به المالك تصرفًا مطلقًا فيما يملكه عينًا ومنفعة واستغلالا فينتفع بالعين المملوكة وبغلتها وثمارها ونتاجها ويتصرف في عينها بجميع التصرفات الجائزة
(ধারা ৫)

যে সকল সম্পত্তির মূল সত্তা এবং উপযোগ মালিকানাধীন, সেগুলোতে মালিকের বস্তুগত ও উপযোগগতভাবে সকল প্রকার ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার থাকে। উশরী ভূমি এর অন্তর্ভুক্ত, যা বিক্রয় করা যায়, ইজারা দেওয়া যায়, ধার দেওয়া যায়, দান করা যায়, ওয়াকফ করা যায়, বন্ধক রাখা যায় এবং যা উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হয়।

(ধারা ৬)

মিশরের ভূমি মূলত খারাযী এবং তা মূল মালিকদের মালিকানাধীন। আর এর মধ্য থেকে যা ওয়ারিশহীন অবস্থায় মালিকের মৃত্যুর কারণে বা অনুরূপ কোনো কারণে বায়তুল মালের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তার মূল সত্তার মালিকানা বায়তুল মালের। রাষ্ট্রপ্রধান বা ইমাম খারায প্রদানের বিনিময়ে তার উপযোগ বা ব্যবহারের অধিকার কৃষকদের প্রদান করতে পারেন।

(ধারা ৭)

আমীরী (রাষ্ট্রীয়) ভূমি যা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ যৌক্তিক কারণে বিক্রয় করেন এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত হওয়ার প্রেক্ষিতে ক্রেতাদের নিকট তার মূল সত্তার মালিকানা হস্তান্তর করেন, তা ক্রেতার জন্য মূল সত্তা ও উপযোগ উভয় দিক থেকেই মালিকানাধীন গণ্য হবে।

(ধারা ৮)

ওয়াকফকৃত স্থাবর সম্পত্তি—তা শুরু থেকেই পারিবারিক ওয়াকফ হোক বা নিরবচ্ছিন্ন কোনো জনকল্যাণমূলক খাতের জন্য হোক—তা কারো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হয় না। সুতরাং তা বিক্রয়, দান, বন্ধক বা উত্তরাধিকার হিসেবে বণ্টন করা যায় না। বরং ওয়াকফকারীর শর্তাবলি বিবেচনা করে তার উপযোগ ও লভ্যাংশ যে খাতের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে সেখানে ব্যয় করা হবে।

(ধারা ৯)

সীমানা ও সীমান্ত রক্ষার জন্য প্রস্তুতকৃত দুর্গ, বন্দর এবং এই জাতীয় অন্যান্য স্থানসমূহ কারো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হতে পারে না।

(ধারা ১০)

সেতু, চলাচলের সাধারণ পথ এবং জনপথ—যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন নয়—তাতে কারো একক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা কিংবা অন্যকে তা থেকে উপকৃত হতে বাধা প্রদান করা জায়েয নয়; বরং তা জনস্বার্থে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(মালিকানা প্রসঙ্গে)

(ধারা ১১)

পূর্ণ মালিকানার বৈশিষ্ট্য হলো, মালিক তার মালিকানাধীন বস্তুর মূল সত্তা, উপযোগ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। ফলে তিনি মালিকানাধীন বস্তুর মূল সত্তা, এর লভ্যাংশ, ফল ও উৎপন্ন দ্রব্য ভোগ করবেন এবং এর মূল সত্তার ক্ষেত্রে সকল প্রকার শরয়ি বৈধ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন।

(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৫)
(مادة 12)

إذا كانت العين مشتركة بين اثنين أو أكثر فلكل واحد من الشركاء حق الانتفاع بحصته والتصرف فيها تصرفاً لا يضر بالشريك وله استغلالها وبيعها مشاعة حيث كانت معلومة القدر بغير إذن الشريك

 

‌‌الباب الثالث

(في ملك المنفعة وحق الانتفاع)

(مادة 13)

الانتفاع الجائز هو حق المنتفع في استعمال العين واستغلالها ما دامت قائمة على حالها وإن لم تكن رقبتها مملوكة.

(مادة 14)

يصح أن تملك منافع الأعيان دون رقبتها سواء كانت عقاراً أو منقولاً.

(مادة 15)

قد تملك المنفعة بعوض وبغير عوض

(مادة 16)

يصح أن يكون تمليك المنفعة قاصراً على الاستغلال أو على السكنى أو شاملاً لهما معاً.

(مادة 17)

يجوز أن تجعل منافع الأعيان الموقوفة لنفس واقفها فينتفع بها إن اشترط ذلك لنفسه مدة حياته ومن بعده تنتقل إلى الجهة التي اشترطها لها.

ويصح أن تجعل تلك المنافع لشخص معين أو لعدة أشخاص معينين سواء كانوا من أولاد الواقف أو من أقاربه أو أجانب منه.

ويجوز جعلها لشخص قبل وجوده بشرط أن يكون آخرها في كل الأحوال لجهة بر لا تنقطع.

(مادة 18)

يجوز أن يوصى بمنفعة العين لشخص معين مع بقاء رقبتها لورثة الموصي كما تجوز الوصية بالرقبة لشخص وبمنفعتها لشخص آخر كلاهما أجنبيان من المتبرع ولا يجوز استثناء منفعة العين من الوصية برقبتها لشخص أجنبي لتبقى المنفعة على ملك الورثة.
(ধারা ১২)

যদি কোনো সম্পদ দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে যৌথ মালিকানাধীন হয়, তবে প্রত্যেক অংশীদারের নিজ অংশে ভোগদখল করার এবং তাতে এমনভাবে হস্তক্ষেপ করার অধিকার থাকবে যা অন্য অংশীদারের কোনো ক্ষতি করে না। অংশীদারের অনুমতি ছাড়াই তার জন্য ওই অংশ থেকে সুবিধা গ্রহণ করা এবং অবিভক্ত অবস্থায় তা বিক্রি করা বৈধ, যদি তার পরিমাণ নির্ধারিত থাকে।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(উপযোগের মালিকানা এবং ভোগদখলের অধিকার প্রসঙ্গে)

(ধারা ১৩)

বৈধ ভোগদখল হলো কোনো বস্তু বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তা ব্যবহার এবং তা থেকে উপযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে ভোগকারীর অধিকার, যদিও বস্তুটির মূল স্বত্ব মালিকানাধীন না হয়।

(ধারা ১৪)

স্থাবর হোক বা অস্থাবর, কোনো বস্তুর মূল স্বত্ব ছাড়াই কেবল তার উপযোগের মালিক হওয়া বৈধ।

(ধারা ১৫)

উপযোগের মালিকানা বিনিময়মূল্য সহকারে অথবা বিনিময়মূল্য ছাড়াই অর্জিত হতে পারে।

(ধারা ১৬)

উপযোগের মালিকানা প্রদান কেবল সম্পদ আহরণ বা কেবল বসবাসের জন্য সীমিত হওয়া বৈধ, অথবা উভয়ের জন্যই হওয়া বৈধ।

(ধারা ১৭)

ওয়াকফকৃত সম্পদের উপযোগ স্বয়ং ওয়াকফকারীর জন্য সাব্যস্ত করা জায়েজ; ফলে তিনি তা ভোগ করতে পারবেন যদি তিনি নিজের জন্য আজীবন তা ভোগের শর্ত করেন। অতঃপর তার মৃত্যুর পর তা সেই খাতে স্থানান্তরিত হবে যার জন্য তিনি শর্ত করেছেন।

উক্ত উপযোগসমূহ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা একাধিক নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নির্ধারণ করা বৈধ, তারা ওয়াকফকারীর সন্তান হোক বা আত্মীয়, কিংবা অন্য কেউ।

অস্তিত্বহীন ব্যক্তির জন্যও এটি নির্ধারণ করা জায়েজ, তবে শর্ত হলো সর্বাবস্থায় এর চূড়ান্ত পরিণতি যেন কোনো নিরবচ্ছিন্ন জনকল্যাণমূলক খাতের জন্য হয়।

(ধারা ১৮)

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির অনুকূলে কোনো সম্পদের উপযোগের অসিয়ত করা জায়েজ, যেখানে সম্পদের মূল স্বত্ব অসিয়তকারীর ওয়ারিশদের কাছে থাকবে। তেমনিভাবে একজনের জন্য মূল স্বত্ব এবং অন্যজনের জন্য উপযোগের অসিয়ত করাও জায়েজ, এমনকি তারা উভয়ে দাতার অনাত্মীয় হলেও। তবে কোনো অনাত্মীয় ব্যক্তির অনুকূলে মূল স্বত্বের অসিয়ত করার সময় উপযোগকে অসিয়ত থেকে পৃথক রাখা জায়েজ নয়, যাতে উপযোগ ওয়ারিশদের মালিকানায় অবশিষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৬)
(مادة 19)

يجب أن تراعى شروط عقد المتبرع المترتب عليه حق الانتفاع بالنظر لحقوق المنتفع ولما يجب عليه من الواجبات.

(مادة 20)

من استحق بعقد وصية غلة أرض أو بستان فله الغلة القائمة وقت موت الموصي والغلة التي تحدث في المستقبل فينتفع بها مدة حياته إن نص في العقد على الأبد أو أطلق بدون تعيين مدة ولو أوصى بثمرته وأطلق فله الثمرة القائمة فقط دون ما يحدث وإن قيدت بمدة فله الانتفاع بالغلة والثمرة على انقضاء تلك المدة وبعدها ترد الغلة والثمرة إلى من له الرقبة.

والمراد بالغلة كل ما يحصل من ريع الأرض وكرائها وثمرة البستان.

(مادة 21)

المنقولات الموقوفة كالمكيلات والموزونات إذا جرى العرف بوقفها يجوز بيعها ودفع ثمنها مضاربة أو بضاعة كما تدفع النقود الموقوفة لذلك ويعطى نماؤها للموقوف عليه.

(مادة 22)

للمنتفع أن يستهلك ما استعاره من المنقولات التي لا يمكن الانتفاع بها إلا باستهلاك عينها كالنقدين والمكيلات والموزونات ونحوها وعليه رد مثلها أو قيمتها بعد الانتفاع ويكون عليه ضمانها إذا هلكت قبل الانتفاع بها ولو بغير تعدية لكونها قرضاً.

(مادة 23)

إذا مات المنتفع بالمنقولات المتقدم ذكرها قبل أن يردها لصاحبها فعليه ضمان مثلها أو قيمتها في تركته.

 

‌‌الباب الرابع

(في حق السكنى)

(مادة 24)

من استحق سكنى دار موقوفة فله أن يسكنها مدة حياته بأهله وحشمه وخدمه وله أن يسكنها غيره بغير عوض ولو أجنبياً وبعد موته ينتقل حق السكنى إلى ولده إن كان الواقف قد جعله له وإلا فإلى المصرف الذي جعلها الواقف له.
(ধারা ১৯)

দাতার চুক্তির শর্তাবলী যা থেকে ভোগাধিকার বা ব্যবহারের অধিকার তৈরি হয়, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে; এক্ষেত্রে ভোগাধিকারীর অধিকার এবং তার ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ বিবেচনা করতে হবে।

(ধারা ২০)

যদি কেউ অসিয়তনামা বা উইলের মাধ্যমে কোনো জমি বা বাগানের ফসলের অধিকারী হয়, তবে অসিয়তকারীর মৃত্যুর সময় বিদ্যমান ফসল এবং ভবিষ্যতে উৎপাদিত ফসল সে লাভ করবে। যদি চুক্তিতে স্থায়ীত্বের কথা উল্লেখ থাকে অথবা কোনো মেয়াদের উল্লেখ না থাকে, তবে সে আজীবন তা ভোগ করবে। কিন্তু যদি কেবল ফলের অসিয়ত করা হয় এবং মেয়াদের উল্লেখ না থাকে, তবে সে কেবল বিদ্যমান ফলই পাবে, ভবিষ্যতে উৎপাদিত ফল নয়। আর যদি তা কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে ওই মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত সে ফসল ও ফল ভোগ করতে পারবে; এরপর সেই ফসল ও ফল মূল মালিকের কাছে ফিরে যাবে।

ফসল বলতে জমির খাজনা, ভাড়া এবং বাগানের ফলমূলসহ যা কিছু অর্জিত হয় তার সবটুকুকে বোঝানো হয়েছে।

(ধারা ২১)

পরিমাপযোগ্য বা ওজনযোগ্য অস্থাবর সম্পত্তি যদি ওয়াকফ করার প্রচলন থাকে, তবে সেগুলো বিক্রি করা এবং সেগুলোর মূল্য মুদারাবা বা ব্যবসায়িক পুঁজি হিসেবে নিয়োগ করা বৈধ, যেমনটা ওয়াকফকৃত নগদ অর্থের ক্ষেত্রে করা হয়। আর এর থেকে প্রাপ্ত মুনাফা ওয়াকফের সুবিধাভোগীকে প্রদান করা হবে।

(ধারা ২২)

ভোগাধিকারীর জন্য এমন সব অস্থাবর বস্তু ব্যয় বা নিঃশেষ করার অনুমতি রয়েছে, যা তার মূল সত্তা নিঃশেষ করা ছাড়া ভোগ করা সম্ভব নয়, যেমন—নগদ অর্থ, পরিমাপযোগ্য ও ওজনযোগ্য বস্তু এবং অনুরূপ দ্রব্যাদি। ব্যবহারের পর তাকে সমপরিমাণ বস্তু বা তার সমমূল্য ফেরত দিতে হবে। ব্যবহারের আগেই যদি বস্তুগুলো নষ্ট হয়ে যায়, তবে তা ঋণ হিসেবে গণ্য হওয়ার কারণে তার ক্ষতিপূরণ প্রদান করা তার ওপর বাধ্যতামূলক হবে, এমনকি যদি তার পক্ষ থেকে কোনো সীমালঙ্ঘন না-ও থাকে।

(ধারা ২৩)

উল্লিখিত অস্থাবর বস্তুগুলোর ভোগাধিকারী ব্যক্তি যদি তা মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আগেই মারা যান, তবে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে সমপরিমাণ বস্তু বা তার সমমূল্যের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা বাধ্যতামূলক হবে।

 

‌‌চতুর্থ অধ্যায়

(বসবাসের অধিকার প্রসঙ্গে)

(ধারা ২৪)

যে ব্যক্তি কোনো ওয়াকফকৃত বাড়িতে বসবাসের অধিকার লাভ করে, সে তার পরিবার-পরিজন, অনুসারী ও সেবকসহ আজীবন সেখানে বসবাস করতে পারবে। সে কোনো বিনিময় গ্রহণ ছাড়াই অন্য কাউকে—এমনকি সে অপরিচিত হলেও—সেখানে বসবাস করার অনুমতি দিতে পারবে। তার মৃত্যুর পর বসবাসের এই অধিকার তার সন্তানের কাছে হস্তান্তরিত হবে, যদি ওয়াকফকারী তাদের জন্য তা নির্দিষ্ট করে থাকেন; অন্যথায় ওয়াকফকারী যে খাতের জন্য তা নির্ধারণ করেছেন, সেখানে এই অধিকার স্থানান্তরিত হবে।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৭)
(مادة 25)

من استحق بعقد وصية سكنى دار فإن كانت رقبة الدار تخرج من ثلث مال الموصي فله أن يسكنها بعياله وحشمه وخدمه مدة حياته إن كانت الوصية مطلقة أو منصوصاً فيها على الأبد أو يسكنها على انقضاء المدة إن كانت مدة الانتفاع معينة وبعد ذلك يرد حق السكنى إلى ورثة الموصي فإن لم تخرج رقبة الدار من الثلث فللموصى له أن يسكن في مقدار ما يخرج من الثلث إن لم تجز الورثة الوصية بالكل وللورثة الانتفاع بما زاد على ما يخرج من ثلث التركة.

ومع ذلك فليس للورثة أن يبيعوا ما في أيديهم من الدار

ولو اقتسموا الدار مهايأة بحسب الزمان صح والأول أعدل.

(مادة 26)

إذا تعدد المستحقون في سكنى دار موقوفة عليهم سكناها وكانت الدار كبيرة ذات مساكن لها أبواب تغلق عليها جاز للرجال المستحقين أن يسكنوا أزوجاتهم معهم وللنساء المستحقات أن يسكن أزواجهن معهن فإن كانت الدار صغيرة لا توجد بها أماكن كافية للسكنى فلا يسكنها إلا المستحقون من الرجال دون نسائهم أو من النساء دون رجالهن.

(مادة 27)

إذا احتاجت الدار الموقوفة للسكنى للعمارة فعمارتها على من له حق السكنى من ماله ويكون ما يبنيه من ماله ملكاً له ولورثته من بعده وإن امتنع من تعميرها فللقاضي أن يدفعها لغيره بطريق الإجارة ويعمرها بأجرتها وبعد مضي المدة يردها لصاحب السكنى.

 

‌‌فصل

(فيما يجوز لصاحب المنفعة من التصرف وما يجب عليه من الضمان)

(مادة 28)

يجب على صاحب المنفعة أن يعتني بحفظ العين المنتفع بها صيانة لها.

(مادة 29)

لمالك المنفعة دون العين بعقد تبرع أو إجارة أن يتصرف في العين المنتفع بها التصرف المعتاد إذا كان عقد المنفعة مطلقاً غير مقيد بقيد.

فإن كان مقيدا بقيد فله أن يستوفيه بعينه أو يستوفي مثله أو ما دونه وليس له أن يتجاوزه إلى ما فوقه.
(ধারা ২৫)

যদি কেউ ওসিয়ত চুক্তির মাধ্যমে কোনো বাড়িতে বসবাসের অধিকার লাভ করে, তবে বাড়িটির মূল মালিকানা যদি ওসিয়তকারীর মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে সংকুলান হয়, তবে তার জন্য নিজ পরিবার, পরিজন ও খাদেমদের নিয়ে সেখানে বসবাস করার অধিকার থাকবে—যদি ওসিয়তটি সাধারণ হয় অথবা তাতে স্থায়ীত্বের কথা উল্লেখ থাকে তার সারাজীবনের জন্য; অথবা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বসবাস করবে যদি ব্যবহারের মেয়াদ নির্দিষ্ট করা থাকে। এরপর বসবাসের অধিকার ওসিয়তকারীর ওয়ারিশদের কাছে ফিরে যাবে। আর যদি বাড়িটির মূল মালিকানা এক-তৃতীয়াংশ থেকে সংকুলান না হয়, তবে ওসিয়তকৃত ব্যক্তির জন্য এক-তৃতীয়াংশের সমপরিমাণ অংশে বসবাস করার অধিকার থাকবে, যদি ওয়ারিশরা সম্পূর্ণ ওসিয়তটি কার্যকর করতে সম্মত না হয়। আর পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত অংশে ওয়ারিশদের ব্যবহারের অধিকার থাকবে।

তা সত্ত্বেও, ওয়ারিশদের জন্য তাদের অধীনে থাকা বাড়ির অংশ বিক্রি করার অধিকার থাকবে না।

যদি তারা সময়ের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বাড়িটি ভাগ করে নেয় তবে তা সঠিক হবে, তবে প্রথম পদ্ধতিটি অধিকতর ন্যায়সঙ্গত।

(ধারা ২৬)

যদি তাদের ওপর ওয়াকফকৃত কোনো বাড়িতে বসবাসের অধিকারীর সংখ্যা একাধিক হয় এবং বাড়িটি যদি বড় হয় ও তাতে দরজা বিশিষ্ট পৃথক পৃথক কামরা থাকে, তবে পুরুষ অধিকারীদের জন্য তাদের স্ত্রীদের নিয়ে এবং নারী অধিকারীদের জন্য তাদের স্বামীদের নিয়ে সেখানে বসবাস করা বৈধ। কিন্তু বাড়িটি যদি ছোট হয় এবং তাতে বসবাসের জন্য পর্যাপ্ত স্থান না থাকে, তবে সেখানে পুরুষ অধিকারীরা তাদের স্ত্রী ছাড়া এবং নারী অধিকারীরা তাদের স্বামী ছাড়া বসবাস করবে।

(ধারা ২৭)

যদি বসবাসের জন্য ওয়াকফকৃত বাড়িটি সংস্কারের প্রয়োজন হয়, তবে সংস্কারের দায়িত্ব যার বসবাসের অধিকার রয়েছে তার ওপর এবং তা তার নিজস্ব সম্পদ থেকে করতে হবে। সে তার নিজের সম্পদ দিয়ে যা নির্মাণ করবে, তা তার এবং তার পরবর্তী ওয়ারিশদের মালিকানাধীন হবে। যদি সে তা সংস্কার করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে বিচারক বাড়িটি ভাড়ার মাধ্যমে অন্য কাউকে প্রদান করতে পারেন এবং প্রাপ্ত ভাড়ার টাকা দিয়ে তা সংস্কার করবেন। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি তা পুনরায় বসবাসের অধিকারীর কাছে ফিরিয়ে দেবেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

(উপযোগভোগকারীর জন্য যে সকল ব্যবহার বৈধ এবং যে সকল ক্ষতিপূরণ তার ওপর আবশ্যক)

(ধারা ২৮)

উপযোগভোগকারীর ওপর কর্তব্য হলো ব্যবহৃত বস্তুটির সুরক্ষার জন্য সেটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা।

(ধারা ২৯)

দান বা ভাড়া চুক্তির মাধ্যমে যিনি কেবল বস্তুর ব্যবহারের বা উপযোগের (মূল বস্তুর মালিকানা ছাড়া) মালিক হয়েছেন, তিনি বস্তুটিকে স্বাভাবিক নিয়মে ব্যবহার করতে পারবেন, যদি উপযোগের চুক্তিটি কোনো শর্ত ছাড়াই সাধারণ হয়।

আর যদি তা কোনো শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তিনি হুবহু সেই নির্দিষ্ট উপায়ে অথবা তার সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে কম মাত্রার উপায়ে তা ভোগ করতে পারবেন। কিন্তু নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে তার চেয়ে উচ্চতর কোনো পন্থায় তা ব্যবহার করার অধিকার তার থাকবে না।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৮)
(مادة 30)

لا يجوز لمالك المنفعة بعقد تبرع أن يؤجر العين التي له حق سكانها ولا أن يرهنها وإنما يجوز له إعارتها.

(مادة 31)

المصاريف اللازمة لمؤنة العين المنتفع بها وحفظها تلزم صاحب المنفعة والكسوة على المالك.

(مادة 32)

إذا كانت منفعة الأرض موصى بها لشخص ورقبتها لشخص آخر فإن كان يوجد بالأرض شيء يستغل يكون عشرها أو خراجها وما يلزم من المصاريف لسقيها وإصلاحها على صاحب المنفعة وإن لم يكن لها شيء يستغل فنفقتها على صاحب الرقبة.

(مادة 33)

إذا تلفت العين المنتفع بها أو هلكت بدون تعدي المنتفع أو تقصيره في المحافظة عليها فلا ضمان عليه.

(مادة 34)

إذا كانت المنفعة مقيدة بمدة معلومة وأمسك المنتفع العين بعد انقضاء تلك المدة ولم يردها لمالكها مع إمكان الرد فهلكت فعليه ضمان قيمتها ولو لم يستعملها بعد انقضاء المدة وإن لم يطلبها المالك.

 

‌‌فصل

(في انتهاء حق الانتفاع)

(مادة 35)

ينتهي حق الانتفاع بموت المنتفع وبانقضاء المدة المعينة له إن كان له مدة وبهلاك العين المنتفع بها.

(مادة 36)

إذا انقضت المدة المعينة للانتفاع أو مات المنتفع في أثنائها وكانت الأرض مشغولة بزرعه والزرع بقل لم يدرك يترك الزرع له في الصورة الأولى ولورثته في الصورة الثانية إلى حين إدراكه وحصاده بأجر المثل إلا إن كان المنتفع مستأجراً فإنه يترك الزرع لورثته في الصورة الثانية بالمسمى إلى حين إدراكه وحصاده.
(ধারা ৩০)

দানসূত্রে প্রাপ্ত ব্যবহারের অধিকারের অধিকারী ব্যক্তি (স্বত্বাধিকারী) যে সম্পদ ব্যবহারের বা যে বাড়িতে বসবাসের অধিকার লাভ করেছেন, তা ভাড়া দিতে পারবেন না এবং বন্ধকও রাখতে পারবেন না; তবে তিনি তা অন্যকে ব্যবহারের জন্য ধার দিতে পারবেন।

(ধারা ৩১)

ব্যবহৃদ সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও সাধারণ ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার স্বত্বাধিকারীর ওপর বর্তাবে, আর এর কাঠামোগত স্থায়িত্বের ব্যয় মূল মালিকের ওপর ন্যস্ত হবে।

(ধারা ৩২)

যদি কোনো জমির ব্যবহারের অধিকার (মানফায়াত) একজনের নামে এবং জমির মূল মালিকানা (রাকাবা) অন্যজনের নামে অসিয়ত করা হয়, তবে জমিটি যদি উৎপাদনশীল হয়, তবে তার উশর বা খারাজ এবং সেচ ও সংস্কারের যাবতীয় খরচ স্বত্বাধিকারীর ওপর ন্যস্ত হবে। আর জমিটি যদি উৎপাদনশীল না হয়, তবে তার ব্যয়ের দায়ভার মূল মালিকের ওপর বর্তাবে।

(ধারা ৩৩)

যদি ব্যবহৃদ সম্পদটি স্বত্বাধিকারীর কোনো সীমালঙ্ঘন বা রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা ছাড়াই নষ্ট বা ধ্বংস হয়ে যায়, তবে এর জন্য তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ বা দায় বহন করতে হবে না।

(ধারা ৩৪)

ব্যবহারের অধিকার যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সম্পদটি ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বত্বাধিকারী তা মূল মালিককে ফেরত না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন এবং এমতাবস্থায় তা ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তাকে তার মূল্য পরিশোধের দায় বহন করতে হবে; যদিও তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা ব্যবহার না করে থাকেন এবং মালিক তা দাবি না-ও করে থাকেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

(ব্যবহারের অধিকার সমাপ্ত হওয়া প্রসঙ্গে)

(ধারা ৩৫)

স্বত্বাধিকারীর মৃত্যু, ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত মেয়াদের সমাপ্তি এবং ব্যবহৃদ সম্পদটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ব্যবহারের অধিকার সমাপ্ত হয়ে যায়।

(ধারা ৩৬)

যদি ব্যবহারের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যায় অথবা মেয়াদের মাঝপথেই স্বত্বাধিকারী মারা যান এবং জমিতে তার বপনকৃত ফসল থাকে যা তখনও পরিপক্ক হয়নি, তবে প্রথম ক্ষেত্রে তাকে এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তার উত্তরাধিকারীদের ফসল পাকা ও সংগ্রহ করা পর্যন্ত প্রচলিত বাজারমূল্যের ভাড়ার বিনিময়ে জমিতে ফসল রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে স্বত্বাধিকারী যদি ইজারাদার হয়ে থাকেন, তবে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তার উত্তরাধিকারীদের জন্য চুক্তিতে নির্ধারিত ভাড়ার বিনিময়ে ফসল পাকা ও সংগ্রহ করা পর্যন্ত তা জমিতে রাখার অনুমতি দেওয়া হবে।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الباب الخامس

(في حقوق الارتفاق)

‌‌الفصل الأول

(في الشرب)

(مادة 37)

الارتفاق هو حق مقرر على عقار لمنفعة عقار لشخص آخر.

(مادة 38)

الشرب هو نوبة الانتفاع بالماء سقياً للأرض أو الشجر أو الزرع.

(مادة 39)

مياه النهر الأعظم وفروعه والترع ذوات المنفعة العامة التي ليست مملوكة لأحد مباحة لكل أحد حق في أن يسقي منها دوابه وأرضه وأن يشق منها جدولاً لسقي أرضه ما لم يكن ذلك مضراً بالعامة.

(مادة 40)

الترع والمجاري المملوكة ملكاً عاماً أو خاصاً يجوز لكل أحد أن يسقي دوابه منها إلا إذا خيف تخريبها لكثرتها وليس لأحد من غير الشركاء أن يسقي أرضه منها إلا بإذن أصحابها وليس لأحد من الشركاء أن يشق منها بربخاً أو ينصب عليها آلة بخارية أو تابوتاً بلا رضا بقية الشركاء إلا آلة وضعت في ملكه وكانت حافتا النهر وبطندله [؟] ولا يضر بنهر وماء.

(مادة 41)

الماء المحرز في الأواني كالحياض والصهاريج المملوكة لا حق لأحد في الانتفاع به إلا بإذن صاحبه.

(مادة 42)

من أنشأ ترعة من ماله لسقي أرضه فله الانتفاع بما فيها كيف شاء وليس لغيره أن يسقي أرضه منها إلا بإذن المنشئ وللغير أن يشرب منها ويسقى دابته.

(مادة 43)

حق استعمال مياه الترع العمومية وتوزيعها يكون بقدر الأراضي المقتضى ريها مع مراعاة عدم الضرر بالعامة.
পঞ্চম অধ্যায়

(ব্যবহারাধিকার প্রসঙ্গে)

প্রথম পরিচ্ছেদ

(সেচাধিকার প্রসঙ্গে)

(ধারা ৩৭)

ব্যবহারাধিকার হলো অন্য এক ব্যক্তির স্থাবর সম্পত্তির সুবিধার জন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তির ওপর নির্ধারিত একটি অধিকার।

(ধারা ৩৮)

সেচাধিকার হলো জমি, বৃক্ষ বা ফসলে পানি সেচ দেওয়ার মাধ্যমে পানি ব্যবহারের অধিকারের পালা।

(ধারা ৩৯)

প্রধান নদী, তার শাখাসমূহ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে সকল খাল কারো মালিকানাধীন নয়, তার পানি সবার জন্য উন্মুক্ত; প্রত্যেকেরই অধিকার আছে তা থেকে নিজ গবাদি পশু ও জমিতে পানি দেওয়ার এবং নিজ জমিতে সেচের জন্য তা থেকে নালা খনন করার, যতক্ষণ পর্যন্ত তা সাধারণ জনগণের জন্য ক্ষতিকর না হয়।

(ধারা ৪০)

সাধারণ বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন খাল ও জলপথসমূহ থেকে প্রত্যেকের জন্য নিজ গবাদি পশুকে পানি পান করানো বৈধ, তবে যদি আধিক্যের কারণে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে ভিন্ন কথা। অংশীদারগণ ব্যতীত অন্য কারো জন্য মালিকদের অনুমতি ছাড়া সেখান থেকে নিজ জমিতে পানি সেচ দেওয়া বৈধ নয়। অংশীদারদের কারো জন্যই অন্য অংশীদারদের সম্মতি ব্যতীত সেখান থেকে কালভার্ট তৈরি করা অথবা সেখানে বাষ্পীয় ইঞ্জিন বা পানি উত্তোলনের চাকা স্থাপন করা বৈধ নয়; তবে যদি সেই যন্ত্রটি তার নিজ মালিকানাধীন জায়গায় স্থাপন করা হয় এবং নদীর দুই তীর ও তলদেশ তার মালিকানাধীন হয় এবং নদী ও পানির কোনো ক্ষতি না করে, তবে তা বৈধ।

(ধারা ৪১)

পাত্রে সংরক্ষিত পানি, যেমন মালিকানাধীন হাউজ ও জলাধারের পানির ক্ষেত্রে মালিকের অনুমতি ছাড়া তা থেকে উপকৃত হওয়ার অধিকার কারো নেই।

(ধারা ৪২)

যে ব্যক্তি নিজ জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নিজ অর্থ ব্যয়ে কোনো খাল খনন করেছে, সে তাতে যেভাবে ইচ্ছা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। খননকারীর অনুমতি ছাড়া অন্য কারো জন্য সেখান থেকে নিজ জমিতে পানি সেচ দেওয়া বৈধ নয়। তবে অন্যদের জন্য সেখান থেকে পানি পান করা এবং গবাদি পশুকে পানি পান করানোর অধিকার থাকবে।

(ধারা ৪৩)

সাধারণ খালের পানি ব্যবহার ও বণ্টনের অধিকার সেচযোগ্য জমির পরিমাণ অনুযায়ী হবে, তবে সাধারণ জনগণের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১০)
مادة (44)

ليس لصاحب الأرض التي تسقى بالآلات أو الترع أن يجبر أصحاب الأراضي التي دونه على تصريف مياهه في أراضيهم إن لم يكن له حق المسيل فيها.

(مادة 45)

إذا كان لأحد مسقى جار بحق في أرض آخر فليس لرب الأرض أن يمنعه عن إجرائه في أرضه.

(مادة 46)

من سقى أرضه سقياً معتاداً تتحمله أرضه فسال منها الماء في أرض غيره فأتلف زرعه فلا ضمان عليه وإن سقاها سقياً غير معتاد فعليه الضمان.

(مادة 47)

حق الشرب يورث ويوصي بالانتفاع به ولا يباع إلا تبعا للأرض كحق المسيل ولا يوهب ولا يؤجر.

 

‌‌الفصل الثاني

(في حق المرور والمجرى والمسيل)

(مادة 48)

القديم يبقى على قدمه في حق المرور والمجرى والمسيل ما لم يكن غير مشروع من أصله فإن كان كذلك فلا اعتبار له ويزال إن كان فيه ضرر بين.

فإن كان لدار مسيل قذر في الطريق العام وكان مضراً بالعامة يرفع ضرره ولو كان قديماً ولا يعتبر قدمه.

(مادة 49)

إذا كان لأحد حق المرور في أرض شخص آخر فليس لصاحبها أن يمنعه من المرور منها وله أن يقود دوابه وعربته إذا كان له هذا الحق.

(مادة 50)

للمبيح أن يرجع عن إباحته ولا يلزم بالإذن والرضا فإن لم يكن لأحد حق المرور في عرصة آخر ومر فيها مدة بإذن صاحبها فلا يترتب على مروره حق له بل لصاحب العرصة أن يمنعه من المرور متى شاء.

(مادة 51)

من كان له مرجى أو سياق ماء جار بحق قديم في ملك شخص آخر فليس لصاحبه منعه.

(مادة 52)

إذا كان لدار مسيل مطر على دار الجار من القديم فليس للجار منعه.
ধারা (৪৪)

যে জমির মালিক যন্ত্র বা খালের মাধ্যমে পানি সেচন করেন, তাঁর নিচের দিকের জমির মালিকদেরকে তাদের জমির ওপর দিয়ে তাঁর পানি নিষ্কাশন করতে বাধ্য করার অধিকার নেই, যদি তাঁর সেখানে পানি নিষ্কাশনের অধিকার না থাকে।

(ধারা ৪৫)

যদি কারও অন্য ব্যক্তির জমিতে আইনগত অধিকার অনুযায়ী পানি প্রবাহের নালা থাকে, তবে সেই ভূমির মালিক তাকে তার জমির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করতে বাধা দিতে পারবেন না।

(ধারা ৪৬)

কেউ যদি তার জমিতে স্বাভাবিকভাবে পানি সেচন করে যা তার জমি সহ্য করতে সক্ষম, অতঃপর সেখান থেকে পানি অন্য কারও জমিতে প্রবাহিত হয়ে তার ফসল নষ্ট করে দেয়, তবে তার ওপর কোনো দায় বা ক্ষতিপূরণ নেই। কিন্তু যদি সে অস্বাভাবিকভাবে পানি সেচন করে থাকে, তবে তার ওপর ক্ষতিপূরণ বর্তাবে।

(ধারা ৪৭)

পানির স্বত্ব (হাক্কুশ শুরব) উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হওয়া যায় এবং এর ব্যবহারের অসিয়ত করা যায়। এটি ভূমির অংশ হওয়া ছাড়া পৃথকভাবে বিক্রি করা যায় না, যেমনটি পানি নিষ্কাশন পথের অধিকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি দান করা বা ভাড়া দেওয়াও যায় না।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(চলাচলের পথ, জলপথ এবং নিষ্কাশন পথ প্রসঙ্গে)

(ধারা ৪৮)

চলাচলের পথ, জলপথ এবং নিষ্কাশন পথের ক্ষেত্রে প্রাচীন বিষয়সমূহ তার প্রাচীন অবস্থার ওপরই বহাল থাকবে, যতক্ষণ না তা মূলগতভাবে অবৈধ প্রমাণিত হয়। যদি তা অবৈধ হয়, তবে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না এবং যদি তাতে স্পষ্ট ক্ষতি থাকে তবে তা বিলুপ্ত করা হবে।

যদি কোনো বাড়ির নোংরা পানি নিষ্কাশনের পথ জনপথে থাকে এবং তা জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে সেই ক্ষতি দূর করা হবে, যদিও তা প্রাচীন হয়। এক্ষেত্রে এর প্রাচীনত্ব বিবেচনা করা হবে না।

(ধারা ৪৯)

যদি অন্য কোনো ব্যক্তির জমিতে কারও চলাচলের অধিকার থাকে, তবে সেই জমির মালিক তাকে যাতায়াতে বাধা দিতে পারবে না। তার যদি এই অধিকার থাকে, তবে সে তার গবাদিপশু এবং যানবাহন চালনা করে নিয়ে যেতে পারবে।

(ধারা ৫০)

অনুমতি প্রদানকারী তার অনুমতি প্রত্যাহার করে নিতে পারেন এবং তিনি অনুমতি ও সন্তুষ্টি বজায় রাখতে বাধ্য নন। যদি কারও অন্য কোনো ব্যক্তির আঙিনায় চলাচলের অধিকার না থাকে এবং সে সেখানে মালিকের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘকাল যাতায়াত করে, তবে তার এই চলাচলের ফলে কোনো স্থায়ী অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। বরং আঙিনার মালিক যখন চাইবেন তাকে চলাচলে বাধা দিতে পারবেন।

(ধারা ৫১)

কারও যদি অন্য ব্যক্তির মালিকানাধীন ভূমিতে প্রাচীন অধিকার মূলে জলপথ বা পানি প্রবাহের নালা থাকে, তবে ভূমির মালিক তাকে বাধা দিতে পারবেন না।

(ধারা ৫২)

যদি প্রাচীনকাল থেকেই কোনো বাড়ির বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে থাকে, তবে প্রতিবেশী তাকে বাধা দিতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১১)
(مادة 53)

إذا كان لأحد مجرى أو سياق ماء في دار آخر فحصل به خلل تسبب عنه للجار ضرر فللجار أن يجبر صاحبه على دفع الضرر عنه بتعميره وإصلاحه أو عدم الإجراء فيه وإذا أراد صاحبه إصلاحه فمنعه الجار من الدخول في داره يخير صاحبه الدار بين أن يتركه يدخل ويصلح وبين أن يفعل صاحب الدار ذلك بماله.

(مادة 54)

إذا كان لدار مسيل قذر في الطريق الخاص وكان مضراً بأهله يرفع ضرره ولو كان قديماً ولا يعتبر قدمه.

(مادة 55)

لا يجوز لأحد أن يجرى مسيل محله المحدث إلى دار آخر بدون إذنه إن لم يكن له حق في ذلك.

(مادة 56)

لا يجوز لأحد إحداث شيء من الميازيب ولا حفر بالوعة في طريق العامة إذا كان يضر بالعامة وأن أحدث ذلك في زقاق غير نافذ لا يجوز إلا بإذن أهله سواء أضربهم أم لا.

 

‌‌الفصل الثالث

(في حقوق المعاملات الجوارية)

(مادة 57)

للمالك أن يتصرف كيف شاء في خالص ملكه الذي ليس للغير حق فيه فيعلى حائطه ويبني ما يريده ما لم يكن تصرفه مضراً بالجار ضرراً فاحشاً.

(مادة 58)

إذا تعلق حق الغير بالملك فليس للمالك أن يتصرف فيه تصرفاً مضراً إلا بإذن صاحب الحق.

(مادة 59)

الضرر الفاحش ما يكون سبباً لوهن البناء أو هدمه أو يمنع الحوائج الأصلية أي المنافع المقصودة من البناء وأما ما يمنع المنافع التي ليست من الحوائج الأصلية فليس بضرر فاحش.

(مادة 60)

يزال الضرر الفاحش سواء كان قديماً أو حادثاً.
(ধারা ৫৩)

যদি কারও পানি চলাচলের নালা বা প্রবাহ অন্য কারও বাড়ির মধ্য দিয়ে যায় এবং তাতে এমন ত্রুটি দেখা দেয় যার ফলে প্রতিবেশীর ক্ষতি হয়, তবে প্রতিবেশী উক্ত নালা মেরামত ও সংস্কার করার জন্য অথবা তাতে পানি প্রবাহ বন্ধ করার জন্য মালিককে বাধ্য করতে পারবে। যদি মালিক তা মেরামত করতে চায় কিন্তু প্রতিবেশীর বাড়ির ভেতর দিয়ে প্রবেশে প্রতিবেশী তাকে বাধা দেয়, তবে বাড়ির মালিককে এ বিষয়ে ইখতিয়ার দেওয়া হবে যে, হয় সে তাকে প্রবেশ করতে দিয়ে মেরামত করার সুযোগ দেবে, অথবা বাড়ির মালিক নিজেই স্বীয় অর্থব্যয়ে তা সম্পন্ন করবে।

(ধারা ৫৪)

যদি কোনো ব্যক্তিগত পথে বাড়ির নোংরা পানির ড্রেন থাকে এবং তা অন্যদের জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে সেই ক্ষতি দূর করতে হবে, যদিও তা প্রাচীন হয়। এক্ষেত্রে বিষয়টি কত পুরাতন তা বিবেচনা করা হবে না।

(ধারা ৫৫)

কারও অধিকার না থাকলে অনুমতি ব্যতীত নিজের নবনির্মিত ড্রেনের প্রবাহ অন্য কারও বাড়ির দিকে চালিত করা কারও জন্য বৈধ নয়।

(ধারা ৫৬)

সাধারণ জনগণের ক্ষতি হলে সাধারণ পথে কোনো পরনলা স্থাপন করা বা ময়লা পানির গর্ত খনন করা কারও জন্য বৈধ নয়। আর যদি তা বন্ধ গলিতে (যাতায়াতের পথ নয় এমন গলি) হয়, তবে তা অধিবাসীদের অনুমতি ছাড়া বৈধ হবে না, চাই তাদের ক্ষতি হোক বা না হোক।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(প্রতিবেশী সংক্রান্ত লেনদেনের অধিকারসমূহ প্রসঙ্গে)

(ধারা ৫৭)

মালিক তার নিছক মালিকানাধীন সম্পত্তিতে, যাতে অন্যের কোনো অধিকার নেই, যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারবে। সে তার দেয়াল উঁচু করতে পারবে এবং যা ইচ্ছা নির্মাণ করতে পারবে, যতক্ষণ না তার এই ব্যবহার প্রতিবেশীর জন্য চরম ক্ষতিকর হয়।

(ধারা ৫৮)

যদি মালিকানাধীন সম্পত্তিতে অন্যের অধিকার জড়িত থাকে, তবে মালিক অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো ক্ষতিকর ব্যবহার করতে পারবে না।

(ধারা ৫৯)

চরম ক্ষতি বলতে এমন বিষয়কে বোঝায় যা ভবন দুর্বল হওয়া বা ভেঙে পড়ার কারণ হয় অথবা মৌলিক প্রয়োজনসমূহ অর্থাৎ ভবন নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য পালনে বাধা সৃষ্টি করে। আর যা মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন উপকারে বাধা দেওয়া চরম ক্ষতি বলে গণ্য হবে না।

(ধারা ৬০)

চরম ক্ষতি দূর করতে হবে, চাই তা প্রাচীন হোক বা নতুন।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১২)
(مادة 61)

سد الضياء بالكلية على الجار يعد ضرراً فاحشاً فلا يسوغ لأحد إحداث بناء يسد به شباك بيت جاره سداً يمنع الضوء عنه وإن فعل ذلك فللجار أن يكلفه رفع البناء دفعاً للضرر عنه.

(مادة 62)

رؤية المحل الذي هو مقر للنساء يعد ضرراً فاحشاً فلا يسوغ إحداث شباك أو بناء يجعل فيه شباكاً للنظر مطلاً على محل نساء جاره وأن أحدث ذلك يؤمر برفع الضرر إما بسد الشباك أو ببناء ساتر فإن كان الشبك المحدث مرتفعاً فوق قامة الإنسان فليس للجار طلب سده.

(مادة 63)

إن كان لأحد داراً يتصرف فيها تصرفاً مشروعاً فأحدث غيره بجواره بناء مجدداً فليس للمحدث أن يتضرر من شبابيك الدار القديمة ولو كانت مطلة على مقر نسائه بل هو الذي يلزمه دفع الضرر عن نفسه.

(مادة 64)

إذا كان لأحد علو ولآخر سفل فلصاحب العلو حق القرار في السفل والسقف ملك لصاحب السفل ولصاحب العلو حق الانتفاع بسطحه انتفاعاً معتاداً ولصاحب السفل حق في العلو يستره من الشمس ويقيه من المطر.

(مادة 65)

إذا كان باب السفل والعلو واحداً فلكل من صاحبيهما استعماله مشتركاً فلا يسوغ لأحدهما أن يمنع الآخر من الانتفاع به دخولاً وخروجاً.

(مادة 66)

إذا هدم صاحب السفل سفله تعديا يجب عليه تجديد بنائه ويجبر على ذلك.

(مادة 67)

إذا أنهدم السفل بلا صنع صاحبه فعليه بناؤه بلا جبر عليه فإن امتنع صاحب السفل من تعميره وعمره صاحب العلو بإذن صاحبه أو بإذن القاضي فله الرجوع على صاحب السفل بما أنفقه على العمارة بالغاً ما بلغ قدره.

وأن عمره بلا إذن صاحبه أو أذن القاضي فليس له الرجوع إلا بقيمة البناء وتقدر القيمة بمعرفة أرباب الخبرة زمن البناء لا زمن الرجوع.

ولصاحب العلو أن يمنع في الحالتين صاحب السفل من سكناه والانتفاع به حتى يوفيه حقه وله أن يؤجر بإذن القاضي ويستخلص حقه من أجرته.
(ধারা ৬১)

প্রতিবেশীর জন্য আলো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়াকে গুরুতর ক্ষতি হিসেবে গণ্য করা হয়। সুতরাং কারো জন্য এমন কোনো ইমারত নির্মাণ করা বৈধ নয় যার দ্বারা তার প্রতিবেশীর ঘরের জানালা দিয়ে আসা আলো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। যদি কেউ এমনটি করে, তবে উক্ত ক্ষতি দূর করার লক্ষ্যে প্রতিবেশীর অধিকার থাকবে তাকে সেই ইমারত অপসারণ করতে বাধ্য করার।

(ধারা ৬২)

মহিলাদের অবস্থানের জায়গা দৃষ্টিগোচর হওয়াকে গুরুতর ক্ষতি হিসেবে গণ্য করা হয়। সুতরাং প্রতিবেশীর মহিলাদের থাকার জায়গার দিকে সরাসরি দৃষ্টি পড়ে এমনভাবে কোনো জানালা তৈরি করা বা জানালাযুক্ত ইমারত নির্মাণ করা বৈধ নয়। যদি কেউ এমনটি করে, তবে তাকে জানালা বন্ধ করে অথবা কোনো আড়াল নির্মাণ করে উক্ত ক্ষতি নিরসনের নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে নবনির্মিত জানালাটি যদি মানুষের উচ্চতার চেয়েও উপরে হয়, তবে প্রতিবেশীর তা বন্ধ করার দাবি করার অধিকার থাকবে না।

(ধারা ৬৩)

যদি কোনো ব্যক্তির একটি ঘর থাকে যেখানে সে বৈধভাবে বসবাস ও ব্যবহার করছে এবং পরবর্তীতে অন্য কেউ তার পাশে নতুন ইমারত নির্মাণ করে, তবে উক্ত নবাগত ব্যক্তির জন্য পুরাতন ঘরের জানালাগুলো থেকে কোনো ক্ষতির দাবি করার অধিকার থাকবে না—যদিও সেগুলো তার মহিলাদের অবস্থানের জায়গার দিকে দৃষ্টিগোচর হয়। বরং নবাগত ব্যক্তি নিজেই নিজের ক্ষতি নিরসনে (গোপনীয়তা রক্ষায়) ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে।

(ধারা ৬৪)

যদি একজনের মালিকানায় ওপরতলা এবং অন্যজনের মালিকানায় নিচতলা থাকে, তবে ওপরতলার মালিকের জন্য নিচতলার ওপর স্থিতিশীল থাকার অধিকার থাকবে। আর মধ্যবর্তী ছাদটি নিচতলার মালিকের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে, তবে ওপরতলার মালিকের এর উপরিভাগ স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারের অধিকার থাকবে। অনুরূপভাবে, ওপরতলার দ্বারা রোদ ও বৃষ্টি থেকে সুরক্ষিত থাকার অধিকার নিচতলার মালিকের থাকবে।

(ধারা ৬৫)

যদি নিচতলা এবং ওপরতলার প্রবেশদ্বার একটিই হয়, তবে উভয় মালিকেরই তা যৌথভাবে ব্যবহার করার অধিকার থাকবে। তাদের কেউ অপরজনকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে উক্ত দ্বার ব্যবহারে বাধা দিতে পারবে না।

(ধারা ৬৬)

যদি নিচতলার মালিক অন্যায়ভাবে নিজের নিচতলাটি ভেঙে ফেলে, তবে তার ওপর পুনরায় তা নির্মাণ করা ওয়াজিব হবে এবং তাকে এর জন্য বাধ্য করা হবে।

(ধারা ৬৭)

যদি নিচতলার মালিকের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিচতলাটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তা নির্মাণ করা তার দায়িত্ব হলেও তাকে এর জন্য বাধ্য করা যাবে না। এমতাবস্থায় যদি নিচতলার মালিক তা সংস্কার করতে অস্বীকার করে এবং ওপরতলার মালিক নিচতলার মালিকের অনুমতি নিয়ে অথবা বিচারকের অনুমতি নিয়ে তা নির্মাণ করে, তবে সে উক্ত নির্মাণে ব্যয়কৃত পুরো অর্থ নিচতলার মালিকের নিকট থেকে আদায় করার অধিকার রাখবে, তার পরিমাণ যত টাকাই হোক না কেন।

আর যদি সে মালিকের অনুমতি বা বিচারকের অনুমতি ব্যতীত তা নির্মাণ করে, তবে সে কেবল ইমারতের মূল্যমানটুকুই ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখবে। এই মূল্যমান পুনর্নির্মাণের সময়ের হিসেবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে, পাওনা দাবির সময়ের হিসেবে নয়।

উভয় অবস্থায় ওপরতলার মালিকের অধিকার থাকবে নিচতলার মালিককে সেখানে বসবাস ও তা ব্যবহার করতে বাধা দেওয়ার যতক্ষণ না সে তার পাওনা পরিশোধ করে। এমনকি সে বিচারকের অনুমতি নিয়ে তা ভাড়া দিতে পারবে এবং ভাড়ার টাকা থেকে নিজের পাওনা উসুল করে নিতে পারবে।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৩)
(مادة 68)

لا يجوز لذي العلو أن يبني في علوه بناء جديداً ولا أن يزيد في ارتفاعه بغير إذن صاحب السفل إلا إذا علم أنه لا يضر بالسفل فله ذلك بغير إذن صاحب السف.

(مادة 69)

لا يجز للجار أن يجبر جاره على إقامة حائط أو غيره على حدود ملكه ولا على أن يعطيه جزأ من حائطه أو من الأرض القائم عليها الحائط.

(مادة 70)

إذا كان الحائط مشتركاً بين اثنين فلا يجوز لأحدهما أن يتصرف فيه بتعلية أو زيادة في البناء عليه بلا إذن الآخر سواء كان تصرفه مضراً بالآخر أم لا.

(مادة 71)

لكل من الشريكين في الحائط أن يضع عليه أخشاباً بقدر ما لشريكه بشرط أن لا يتجاوز كل منهما ما يتحمله الحائط وليس لأحد منهما أن يزيد في أخشابه بدون إذن الآخر كما أنه لا يجوز لأحد منهما أن يحول محل أخشابه التي على الحائط يميناً أو شمالاً ولا من أسفل إلى أعلى ولو من أعلى إلى أسفل جاز وإذا كان لكل منهما عليه أخشاب فلصاحب الأسفل أن يرفع أخشابه بحذاء صاحب الأعلى أن لم يضر بالحائط وكذا لصاحب الأعلى أن يسفل أخشابه أن لم يضر بالحائط.

 

‌‌الكتاب الثاني

(في أسباب الملك)

(مادة 72)

أسباب الملك هي العقود الموجبة لنقل العين من مالك إلى آخر كبيع أو هبة أو وصية والميراث ووضع اليد على الشيء الذي لا مالك له والشفعة.

 

‌‌الفصل الأول

(في العقود)

(مادة 73)

يصح أن تملك الأعيان بعضو وبغير عوض سواء كانت عقاراً أو منقولاً.
(ধারা ৬৮)

উপরের তলার মালিকের জন্য তার অংশে নতুন কোনো নির্মাণ কাজ করা বা উচ্চতা বৃদ্ধি করা বৈধ নয় নিচের তলার মালিকের অনুমতি ব্যতীত; তবে যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে এতে নিচের তলার কোনো ক্ষতি হবে না, তবে সে নিচের তলার মালিকের অনুমতি ছাড়াই তা করতে পারে।

(ধারা ৬৯)

কোনো প্রতিবেশীর জন্য তার প্রতিবেশীকে নিজ সীমানায় দেয়াল বা অন্য কিছু নির্মাণ করতে বাধ্য করা বৈধ নয়, আর না তাকে তার দেয়ালের কোনো অংশ বা দেয়ালটি যে ভূমির ওপর অবস্থিত তার কোনো অংশ প্রদান করতে বাধ্য করা বৈধ।

(ধারা ৭০)

যদি কোনো দেয়াল দুই ব্যক্তির মধ্যে যৌথ হয়, তবে তাদের কারো জন্যই অপরজনের অনুমতি ছাড়া দেয়ালটি উঁচু করা বা তার ওপর কোনো বর্ধিত নির্মাণ কাজের মাধ্যমে কোনো রূপ হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়, চাই সেই হস্তক্ষেপ অপরজনের জন্য ক্ষতিকর হোক বা না হোক।

(ধারা ৭১)

যৌথ দেয়ালের অংশীদারদের প্রত্যেকের জন্য অপর অংশীদারের সমপরিমাণ কাঠ স্থাপন করার অধিকার রয়েছে, তবে শর্ত হলো তাদের কেউই দেয়ালের সহনক্ষমতার অতিরিক্ত কিছু করবে না। তাদের কারো জন্যই অপরজনের অনুমতি ছাড়া কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধি করা বৈধ নয়। তেমনিভাবে তাদের কারো জন্য দেয়ালের ওপর স্থাপিত তার কাঠের অবস্থান ডানে বা বামে সরানো, কিংবা নিচ থেকে উপরে সরানো বৈধ নয়; তবে উপর থেকে নিচে সরানো বৈধ। যদি উভয়েরই দেয়ালের ওপর কাঠ থাকে, তবে নিচের কাঠের মালিক তার কাঠগুলোকে উপরের কাঠের সমান উচ্চতায় তুলতে পারে যদি তা দেয়ালের কোনো ক্ষতি না করে। অনুরূপভাবে উপরের কাঠের মালিক তার কাঠ নিচে নামাতে পারে যদি তা দেয়ালের কোনো ক্ষতি না করে।

 

‌‌দ্বিতীয় কিতাব

(মালিকানা লাভের কারণসমূহ প্রসঙ্গে)

(ধারা ৭২)

মালিকানা লাভের কারণসমূহ হলো সেই সকল চুক্তি যা কোনো বস্তুর সত্তাকে এক মালিক থেকে অন্য মালিকে স্থানান্তরের আবশ্যকতা তৈরি করে, যেমন ক্রয়-বিক্রয়, দান বা অসিয়ত; এবং উত্তরাধিকার, মালিকহীন কোনো বস্তুর ওপর দখল প্রতিষ্ঠা এবং অগ্রক্রয়াধিকার।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

(চুক্তি প্রসঙ্গে)

(ধারা ৭৩)

বিনিময়সহ বা বিনিময় ছাড়া কোনো বস্তুর মালিক হওয়া বৈধ, চাই তা স্থাবর সম্পত্তি হোক বা অস্থাবর।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৪)
(مادة 74)

ينتقل ملك العين المبيعة للمشتري بمجرد حصول عقد المعاوضة ووقوعه صحيحاً باتاً نافذاً لازماً سواء كان عقاراً أو منقولاً.

(مادة 75)

للمشتري أن يتصرف في العين المبيعة بالبيع قبل استلامها إن كانت عقاراً لا يخشى هلاكه وليس له أن يؤجرها قبل قبضها كما أنه ليس له أن يتصرف في المبيع قبل قبضه لا بيعاً ولا إجارة إن كان منقولاً.

(مادة 76)

إذا استلم المشتري العين المبيعة عقاراً كانت أو منقولاً على أنها مملوكة للبائع فله أن يتصرف فيها بجميع التصرفات ولا يمنع تصرفه من استرداد العين لمستحقها إذا ظهر أنها مستحقة للغير وثبت حقه فيها.

 

‌‌الفصل الثاني

(في الهبة)
… (راجع الأحوال الشخصية)

(مادة 77)

الهبة تمليك العين بلا عوض وقد تكون بعوض.

(مادة 78)

يشترط في صحة الهبة أن يكون الوهاب حراً بالغاً عاقلاً مالكاً للعين التي يتبرع بها غير محجور عليه.

(مادة 79)

إذا كان المالك أهلا للتربع ولم يكن محجوراً عليه بدين أو سفه جاز له أن يهب وهو في حال صحته كل ماله أو بعضه لمن يشاء.

(مادة 80)

لا يثبت ملك العين للموهوب له إلا إذا قبض العين الموهوبة قبضاً كاملاً في محوز مقسوم أو مشاع لا يحتمل القسمة.

(مادة 81)

إذا كان الموهوب مشاعاً يحتمل القسمة في تفيد هبته الملك بالقبض إلا إذا قسم الواهب
(ধারা ৭৪)

বিক্রিত বস্তুর মালিকানা ক্রেতার নিকট হস্তান্তরিত হয় যখনই বিনিময় চুক্তি সম্পাদিত হয় এবং তা সহিহ, চূড়ান্ত, কার্যকর ও বাধ্যতামূলকভাবে সংঘটিত হয়; চাই তা স্থাবর সম্পত্তি হোক বা অস্থাবর।

(ধারা ৭৫)

ক্রেতার জন্য বিক্রিত বস্তু হস্তগত করার আগেই তা বিক্রয় করার মাধ্যমে হস্তান্তর করার অধিকার রয়েছে যদি তা এমন স্থাবর সম্পত্তি হয় যার ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে কবজ বা হস্তগত করার পূর্বে তা ইজারা দেওয়ার অধিকার তার নেই। অনুরূপভাবে, যদি বিক্রিত বস্তু অস্থাবর হয়, তবে হস্তগত করার পূর্বে তা বিক্রয় বা ইজারা—কোনোভাবেই হস্তান্তর করার অধিকার তার নেই।

(ধারা ৭৬)

ক্রেতা যদি বিক্রিত বস্তু—তা স্থাবর হোক বা অস্থাবর—এই ভিত্তিতে গ্রহণ করে যে তা বিক্রেতার মালিকানাধীন, তবে সে তাতে সব ধরনের ব্যবহারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। তবে তার এই কর্মকাণ্ড সেই বস্তুর প্রকৃত মালিক কর্তৃক তা পুনরুদ্ধার করতে বাধা হবে না, যদি প্রকাশ পায় যে তা অন্যের প্রাপ্য ছিল এবং তাতে তার অধিকার প্রমাণিত হয়।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(হিবা বা দান প্রসঙ্গে)
… (ব্যক্তিগত আইন দ্রষ্টব্য)

(ধারা ৭৭)

হিবা হলো কোনো বস্তুর মালিকানা বিনিময় ব্যতীত প্রদান করা; তবে কখনো কখনো তা বিনিময়ের শর্তেও হতে পারে।

(ধারা ৭৮)

হিবা সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো, দাতা স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং দানকৃত বস্তুর মালিক হতে হবে, এবং তিনি যেন সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আইনত নিষিদ্ধ ব্যক্তি না হন।

(ধারা ৭৯)

যদি মালিক দান করার যোগ্য হন এবং ঋণ বা নির্বুদ্ধিতার কারণে সম্পদ ব্যয়ে নিষিদ্ধ না হন, তবে সুস্থ অবস্থায় তিনি তার সমুদয় সম্পদ বা তার অংশবিশেষ যাকে ইচ্ছা দান করতে পারেন।

(ধারা ৮০)

দানকৃত বস্তুর মালিকানা গ্রহীতার জন্য সাব্যস্ত হয় না যতক্ষণ না সে দানকৃত বস্তুটি পূর্ণরূপে হস্তগত করে, তা বিভাজিত পৃথক অবস্থায় হোক কিংবা এমন অবিভক্ত অবস্থায় হোক যা বিভাজনযোগ্য নয়।

(ধারা ৮১)

যদি দানকৃত বস্তু এমন অবিভক্ত হয় যা বিভাজনযোগ্য, তবে কেবল হস্তগত করার মাধ্যমে মালিকানা অর্জিত হবে না, যতক্ষণ না দাতা তা বিভাজন করে দেন।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৫)
الموهوب وسلمه مفرزاً عن غير الموهوب لا متصلاً به ولا مشغولاً لا بملكه فإن سلمه شائعاً للموهوب له فلا يملكه ولا ينفذ تصرفه فيه ويضمنه أن هلك أو استهلك.

ويكون للواهب حق التصرف فيه واسترداده هو أو ورثته.

(مادة 82)

إذا مات الواهب قبل تسليم العين للموهوب له بطلت الهبة.

(مادة 83)

إذا مات الموهوب له قبل استلامه العين الموهوبة بطلت الهبة ولا حق لورثته فيها.

(مادة 84)

إذا وهب شخص هبة لمن ليس أهلاً للقبول جاز لوليه أو وصية أو من هو في حجره أن يقبل الهبة ويقبضها عنه.

وإذا كان الصبي الموهوب له مميزاً فقبوله وقبضه معتبران ولو مع وجود أبيه.

(مادة 85)

حكم الهبة في مرض الموت بعد استيفاء شرائطها قبله كحكم الوصية في اعتبارها من الثلث وتوقفها لو لأحد الورثة.

 

‌‌الفصل الثالث

(في الوصية)
… (راجع الأحوال الشخصية)

(مادة 86)

الوصية تمليك مضاف إلى ما بعد الموت بطريق التبرع.

(مادة 87)

يشترط لصحة الوصية كون الموصي حراً بالغاً عاقلاً مختاراً أهلاً للتبرع والموصى له حياً تحقيقاً أو تقديراً والموصي به قابلاً للتمليك بعد موت الموصى.

(مادة 88)

يجوز لمن لا دين عليه ولا وارث له أن يوصى بماله كله أو بعضه لمن يشاء.

(مادة 89)

من كان عليه دين مستغرق لما له فلا يجوز وصيته ألا أن يبرئه غرماؤه.
দানকৃত বস্তু দানগ্রহীতার নিকট হস্তান্তর করতে হবে অন্য কোনো অ-দানকৃত বস্তু থেকে পৃথক অবস্থায়, তার সাথে সংযুক্ত বা তার মালিকানা দ্বারা দখলকৃত অবস্থায় নয়। যদি দাতা দানকৃত বস্তু দানগ্রহীতাকে অবিভক্ত অবস্থায় হস্তান্তর করে, তবে সে তার মালিক হবে না এবং তাতে তার কোনো হস্তক্ষেপ কার্যকর হবে না। আর যদি তা ধ্বংস হয়ে যায় বা নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে সে তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।

এবং দাতা অথবা তার ওয়ারিশদের তাতে হস্তক্ষেপ করার এবং তা ফেরত নেওয়ার অধিকার থাকবে।

(ধারা ৮২)

দানকৃত বস্তু দানগ্রহীতাকে হস্তান্তরের পূর্বে যদি দাতা মৃত্যুবরণ করেন, তবে দান বাতিল হয়ে যাবে।

(ধারা ৮৩)

দানকৃত বস্তু হস্তগত করার পূর্বে যদি দানগ্রহীতা মৃত্যুবরণ করেন, তবে দান বাতিল হয়ে যাবে এবং তাতে তার ওয়ারিশদের কোনো অধিকার থাকবে না।

(ধারা ৮৪)

যদি কোনো ব্যক্তি এমন কাউকে কিছু দান করেন যে গ্রহণের অযোগ্য, তবে তার অভিভাবক বা অছি অথবা যার তত্ত্বাবধানে সে রয়েছে, তার পক্ষ থেকে দান গ্রহণ ও হস্তগত করা বৈধ।

আর দানগ্রহীতা শিশুটি যদি সমঝদার হয়, তবে তার পিতার উপস্থিতিতেও তার গ্রহণ এবং হস্তগত করা গ্রহণযোগ্য হবে।

(ধারা ৮৫)

মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন দানের বিধান—পূর্ববর্তী শর্তাবলি পূর্ণ হওয়ার পর—অসিয়তের বিধানের ন্যায় হবে; অর্থাৎ তা এক-তৃতীয়াংশ মাল থেকে গণ্য হবে এবং কোনো ওয়ারিশের অনুকূলে হলে তা কার্যকর হওয়া স্থগিত থাকবে।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(অসিয়ত প্রসঙ্গে)
… (ব্যক্তিগত আইন দ্রষ্টব্য)

(ধারা ৮৬)

অসিয়ত হলো মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট দানস্বরূপ মালিকানা প্রদান।

(ধারা ৮৭)

অসিয়ত শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো: অসিয়তকারীকে স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন, স্বেচ্ছায় কাজ করার অধিকারী এবং দান করার যোগ্য হতে হবে। অসিয়তকৃত ব্যক্তিকে প্রকৃতপক্ষে অথবা সম্ভাব্যভাবে জীবিত হতে হবে এবং অসিয়তকৃত বস্তু অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর মালিকানা হস্তান্তরের যোগ্য হতে হবে।

(ধারা ৮৮)

যার কোনো ঋণ নেই এবং কোনো ওয়ারিশ নেই, সে তার সমস্ত মাল বা তার অংশবিশেষ যাকে ইচ্ছা অসিয়ত করতে পারে।

(ধারা ৮৯)

যার ওপর এমন ঋণ রয়েছে যা তার সমস্ত সম্পদকে পরিবেষ্টন করে আছে, তার অসিয়ত বৈধ নয়; তবে ঋণদাতারা যদি তাকে দায়মুক্ত করে দেয়।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৬)
(مادة 90)

لا تجوز الوصية لوارث إلا إذا أجازتها الورثة الأخر بعد موت الموصى وهم من أهل التبرع.

(مادة 91)

تجوز الوصية بالثلث للأجنبي عند عدم المانع من غير إجازة الورثة ولا تجوز بما زاد على الثلث إلا إذا أجازته الورثة بعد موت الموصى وهم من أهل التبرع ولا عبرة بإجازتهم في حال حياته.

(مادة 92)

اختلاف الدين والملة لا يمنع صحة الوصية فتجوز الوصية من المسلم للذمي والمستأمن ومنهما للمسلم.

(مادة 93)

لا يملك الموصى به إلا بقبول الوصية صراحة أو دلالة كموت الموصى له بعد موت الموصى بلا قبول ولا رد ولا يصح قبولها إلا بعد موت الموصى فإن قبل الموصى له بعد موت الموصى بثلث له ملك الموصى به سواء قبضه أو لم يقبضه.

فإن موت بعد موت الموصى قبل القبول أو الرد انتقل الموصى به على ملك ورثته.

 

‌‌الفصل الرابع

(في الميراث)

(مادة 94)

يتبع في الميراث أحكام الشريعة الإسلامية في حق المسلمين وأما الذميون فيتبع في مواريثهم أحكام أحوالهم الشخصية وأن تراضوا وترافعوا إليها يحكم بينهم بحكم الإسلام.

 

‌‌كتاب الشفعة

‌‌الفصل الأول

(في تعريفها وأسبابها واستحقاقها)

(مادة 95)

الشفعة هي حق تملك العقار المبيع أو بعضه ولو جبرا على المشتري بما قام عليه من الثمن والمؤن.
(ধারা ৯০)

উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না মুসি (অসিয়তকারী)-র মৃত্যুর পর অন্য উত্তরাধিকারীরা তা অনুমোদন করে এবং তারা দান করার যোগ্য (আহলে তাবাররু) হয়।

(ধারা ৯১)

কোনো বাধা না থাকলে উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তির জন্য উত্তরাধিকারীদের অনুমতি ছাড়াই এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত অসিয়ত করা বৈধ। এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত অসিয়ত বৈধ নয়, যদি না মুসি-র মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা তা অনুমোদন করে এবং তারা দান করার যোগ্য হয়। অসিয়তকারীর জীবদ্দশায় তাদের অনুমোদনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

(ধারা ৯২)

ধর্ম ও মিল্লাতের ভিন্নতা অসিয়ত সহীহ হওয়ার পথে অন্তরায় নয়। সুতরাং মুসলিম থেকে জিম্মি ও মুস্তামিন এবং তাদের থেকে মুসলিমের অনুকূলে অসিয়ত করা বৈধ।

(ধারা ৯৩)

অসিয়তকৃত বস্তুর মালিকানা অর্জিত হয় না যতক্ষণ না স্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে (যেমন মুসি-র মৃত্যুর পর মুসা-লাহু বা যার অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছে, তার গ্রহণ বা বর্জন করার পূর্বেই মারা যাওয়া) অসিয়ত কবুল করা হয়। মুসি-র মৃত্যুর আগে অসিয়ত কবুল করা সহীহ নয়। যদি মুসা-লাহু মুসি-র মৃত্যুর পর তা কবুল করে, তবে সে অসিয়তকৃত বস্তুর মালিক হয়ে যাবে, চাই সে তা কব্জা (দখল) করুক বা না করুক।

আর যদি মুসি-র মৃত্যুর পর গ্রহণ বা বর্জন করার পূর্বেই মুসা-লাহু মারা যায়, তবে অসিয়তকৃত বস্তু তার উত্তরাধিকারীদের মালিকানায় স্থানান্তরিত হবে।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ

(উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে)

(ধারা ৯৪)

মুসলমানদের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারের বিষয়ে ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুসরণ করা হবে। আর জিম্মিদের ক্ষেত্রে তাদের উত্তরাধিকারের বিষয়ে তাদের ব্যক্তিগত আইন অনুসরণ করা হবে। তবে তারা যদি পারস্পরিক সম্মতিতে ইসলামী আদালতের শরণাপন্ন হয়, তবে তাদের মধ্যে ইসলামের বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করা হবে।

 

‌‌শুফ’আ অধ্যায়

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

(এর সংজ্ঞা, কারণ এবং অধিকার প্রসঙ্গে)

(ধারা ৯৫)

শুফ’আ হলো বিক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি বা তার অংশবিশেষের মালিকানা লাভ করার এমন এক অধিকার, যা ক্রেতার ওপর বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হয়—মূল্য ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের বিনিময়ে।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৭)
(مادة 96)

سبب الشفعة هو اتصال ملك الشفيع بالعقار المبيع اتصال شركة أو اتصال جوار.

(مادة 97)

الشركة في الشفعة على نوعين شركة في نفس العقار المبيع وشركة في حقوقه.

(مادة 98)

الشركة في نفس العقار المبيع أن يكون للشفيع حصة شائعة فيه قليلة كانت أو كثيرة فإن كانت له حصة مفرزة عن العقار فلا يكون شريكاً فيه.

والمشارك في أرض حائط الدار يعتبر مشاركاً في نفس العقار.

(مادة 99)

الشركة في حقوق العقار للمبيع هي عبارة عن الشركة في حق الشرب الخاص أو الطريق الخاص سواء كان الطريق خاصاً بدار واحدة أو بجملة دور مفتوحة أبوابها في زقاق غير نافذ فإذا بيعت دار في زقاق غير نافذ فجميع أهله شفعاء يستوي فيه الملاصق والمقابل والأعلى والأسفل.

(مادة 100)

الجار الملاصق هو من له عقار متصل بالعقار المبيع أما لو كان عقار الجار منفصلاً عن العقار المبيع انفصالاً تاماً ولو بقدر شبر أو أقل فلا يكون جاراً مستحقاً للشفعة.

فإذا بيع بيت من دار فالملاصق للبيت ولأقصى الدار في الشفعة سواء لكونه ملاصقاً حكماً.

(مادة 101)

إذا كان السفل لشخص والعلو لآخر يعتبر كل منهما جاراً ملاصقاً.

وكذلك من كانت له خشبة موضوعة على حائط لا ملك فيه أو كان شريكاً في خشبة موضوعة على حائط يعتبر جاراً ملاصقاً لا شريكاً.

(مادة 102)

الطريق العام لا شفعة به لصاحب الملك المقابل للعقار المبيع ولو تقاربت الأبواب وإنما تكون الشفعة للجار الملاصق سواء كان باب داره في هذه الطريق أو في غيره.

(مادة 103)

إذا اجتمعت أسباب الشفعة يقدم الأقوى فالأقوى فيقدم الشريك في نفس العقار ثم الشريك
(ধারা ৯৬)

শুফআর (অগ্রক্রয়াধিকার) কারণ হলো বিক্রিত স্থাবর সম্পত্তির সাথে শাফি’র (অগ্রক্রয়াধিকারীর) মালিকানার সংযোগ, চাই তা অংশীদারিত্বের সংযোগ হোক অথবা প্রতিবেশিত্বের সংযোগ।

(ধারা ৯৭)

শুফআর ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব দুই প্রকার: বিক্রিত মূল স্থাবর সম্পত্তিতে অংশীদারিত্ব এবং এর অধিকারসমূহে অংশীদারিত্ব।

(ধারা ৯৮)

মূল স্থাবর সম্পত্তিতে অংশীদারিত্ব বলতে বুঝায় যে, তাতে শাফি’র কোনো অবিভক্ত অংশ থাকবে, তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি। তবে যদি স্থাবর সম্পত্তি থেকে তার অংশটি পৃথক ও চিহ্নিত থাকে, তবে সে তাতে অংশীদার হিসেবে গণ্য হবে না।

আর ঘরের দেয়ালের ভূমিতে অংশীদার ব্যক্তি মূল সম্পত্তিতে অংশীদার হিসেবেই গণ্য হবে।

(ধারা ৯৯)

বিক্রিত স্থাবর সম্পত্তির অধিকারসমূহে অংশীদারিত্ব বলতে বিশেষ সেচ অধিকার অথবা বিশেষ রাস্তায় অংশীদারিত্বকে বুঝায়। রাস্তাটি একটি মাত্র বাড়ির জন্য নির্ধারিত হোক বা এমন কতগুলো বাড়ির জন্য হোক যাদের প্রবেশদ্বার কোনো একটি বন্ধ গলিতে উন্মুক্ত। সুতরাং যদি কোনো বন্ধ গলির একটি বাড়ি বিক্রি হয়, তবে ওই গলির সকল অধিবাসীই শাফি’ হিসেবে গণ্য হবে; এক্ষেত্রে সংলগ্ন, সম্মুখস্থ, উপরের অংশ বা নিচের অংশের সবাই সমান।

(ধারা ১০০)

সংলগ্ন প্রতিবেশী বলতে তাকে বুঝায় যার স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিত স্থাবর সম্পত্তির সাথে সংযুক্ত। পক্ষান্তরে যদি প্রতিবেশীর সম্পত্তি বিক্রিত সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়, এমনকি এক বিঘত বা তার কম পরিমাণও হয়, তবে সে শুফআর অধিকারী প্রতিবেশী হবে না।

যখন কোনো বাড়ির একটি অংশ (ঘর) বিক্রি হয়, তখন ওই ঘরের সংলগ্ন ব্যক্তি এবং বাড়ির শেষ প্রান্তের ব্যক্তি শুফআর ক্ষেত্রে সমান হবে; কেননা সে বিধানগতভাবে সংলগ্ন।

(ধারা ১০১)

যদি নিচের তলা একজনের এবং উপরের তলা অন্যজনের হয়, তবে তাদের প্রত্যেকেই পরস্পরের সংলগ্ন প্রতিবেশী হিসেবে গণ্য হবে।

অনুরূপভাবে, যার কোনো কড়িকাঠ এমন কোনো দেয়ালের ওপর রাখা আছে যাতে তার মালিকানা নেই, অথবা সে ওই দেয়ালের ওপর রাখা কোনো কড়িকাঠে অংশীদার হয়, তবে তাকে সংলগ্ন প্রতিবেশী হিসেবে গণ্য করা হবে, অংশীদার হিসেবে নয়।

(ধারা ১০২)

সাধারণ রাস্তার কারণে বিক্রিত স্থাবর সম্পত্তির সম্মুখস্থ মালিকের জন্য কোনো শুফআর অধিকার সাব্যস্ত হবে না, যদিও তাদের প্রবেশদ্বারগুলো কাছাকাছি হয়। বরং শুফআর অধিকার কেবল সংলগ্ন প্রতিবেশীর জন্য হবে, চাই তার বাড়ির দরজা এই রাস্তায় হোক বা অন্য রাস্তায়।

(ধারা ১০৩)

যখন শুফআর একাধিক কারণ একত্রিত হয়, তখন অপেক্ষাকৃত অধিক শক্তিশালী কারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সুতরাং প্রথমে মূল স্থাবর সম্পত্তিতে অংশীদারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, অতঃপর অংশীদার...
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৮)
في أرض الحائط المشترك ثم الشريك في حقوق المبيع الخاصة ثم الجار الملاصق.

وأي ترك الشفعة أو سقط حقه فيها تنتقل الشفعة إلى من يليه في الرتبة.

(مادة 104)

استحقاق الشفعة للشركاء يكون بقدر رؤوسهم لا بقدر أنصباتهم في الملك فإذا باع أحد الشركاء حصته لأحد منهم يحسب المشتري واحداً منهم في الشفعة وتقسم الحصة المبيعة بينهم.

 

‌‌الفصل الثاني

(فيما تثبت فيه الشفعة وما لا تثبت)

(مادة 105)

لا تثبت الشفعة إلا بعد البيع مع وجود السبب الموجب لها.

(مادة 106)

يشترط في المبيع الذي تثبت فيه الشفعة أن يكون عقاراً مملوكاً ولو غير قابل للقسمة وأن يكون بيعه صحيحاً نافذاً أو فاسداً انقطع فيه حق الفسخ خالياً عن خيار شرط للبائع وأن يكون العوض مالاً ولا فرق في العقار بين أن يكون داراً أو حانوتاً أو أرضاً أو كرماً أو علواً أو سفلاً.

(مادة 107)

يشترط أن يكون العقار المشفوع به ملكاً للشفيع وقت شراء العقار المشفوع وأن لا يصدر من الشفيع رضاء بالبيع لا صراحة ولا دلالة.

(مادة 108)

لا شفعة فيما ملك بهبة بلا عوض مشروط فيها أو صدقة أو إرث أو وصية ولا في عقار ملك ببدل ليس بمال كما لو استأجر شيئاً بدار أو حانوت.

(مادة 109)

لا شفعة في البناء والشجر المبيع قصداً بدون الأرض القائم عليها فإذا بيع البناء والشجر تبعا للأرض تثبت فيه الشفعة.

(مادة 110)

لا شفعة في البناء والشجر القائمين في أرض محتكرة أو في الأراضي الأميرية.
যৌথ দেয়ালের ভূমিতে, তারপর বিক্রিত বস্তুর বিশেষ হকের অংশীদার, তারপর সংলগ্ন প্রতিবেশী।

যে কেউ শুফআ ত্যাগ করলে অথবা তাতে তার অধিকার রহিত হয়ে গেলে, শুফআর অধিকার তার পরবর্তী স্তরের ব্যক্তির কাছে স্থানান্তরিত হবে।

(ধারা ১০৪)

অংশীদারদের শুফআর অধিকার তাদের সংখ্যার ভিত্তিতে হবে, মালিকানায় তাদের হিস্যার পরিমাণ অনুযায়ী নয়। সুতরাং যদি অংশীদারদের একজন তার অংশ তাদেরই একজনের কাছে বিক্রি করে, তবে শুফআর ক্ষেত্রে ক্রেতাকে তাদেরই একজন গণ্য করা হবে এবং বিক্রিত অংশটি তাদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হবে।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

(যেসব বিষয়ে শুফআ সাব্যস্ত হয় এবং যেগুলোতে হয় না)

(ধারা ১০৫)

বিক্রয় সম্পন্ন হওয়া এবং শুফআ ওয়াজিব হওয়ার কারণ বিদ্যমান থাকা ছাড়া শুফআ সাব্যস্ত হয় না।

(ধারা ১০৬)

যে বিক্রিত বস্তুতে শুফআ সাব্যস্ত হয়, তার জন্য শর্ত হলো সেটি মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি হতে হবে, যদিও তা বিভাজনযোগ্য না হয়। এছাড়া বিক্রয়টি সহীহ ও কার্যকর হতে হবে অথবা এমন ফাসিদ বিক্রয় হতে হবে যাতে বাতিল করার অধিকার রহিত হয়ে গেছে এবং বিক্রেতার জন্য কোনো শর্তাধীন ইখতিয়ার থাকবে না। আরও শর্ত হলো এর বিনিময় সম্পদ হতে হবে। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে তা বাড়ি, দোকান, জমি, আঙুর বাগান, ভবনের উপরের তলা বা নিচের তলা হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

(ধারা ১০৭)

শর্ত হলো, যে সম্পত্তির মাধ্যমে শুফআ দাবি করা হচ্ছে তা বিক্রিত সম্পত্তি ক্রয়ের সময় শফী’র মালিকানায় থাকতে হবে এবং শফী’র পক্ষ থেকে বিক্রয়ের ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট বা ইঙ্গিতবহ সম্মতি প্রকাশ পেতে পারবে না।

(ধারা ১০৮)

বিনিময় শর্তহীন দান, সদকা, উত্তরাধিকার বা ওসিয়তের মাধ্যমে প্রাপ্ত মালিকানায় শুফআ নেই। এছাড়া এমন স্থাবর সম্পত্তিতেও শুফআ নেই যার বিনিময় সম্পদ নয়; যেমন কেউ যদি কোনো বস্তুর ভাড়ার বিনিময়ে বাড়ি বা দোকান প্রদান করে।

(ধারা ১০৯)

জমি ছাড়া শুধুমাত্র তার উপর দণ্ডায়মান স্থাপনা বা বৃক্ষ বিক্রয় করলে তাতে শুফআ নেই। তবে যদি স্থাপনা ও বৃক্ষ জমির অনুষঙ্গ হিসেবে বিক্রি করা হয়, তবে তাতে শুফআ সাব্যস্ত হবে।

(ধারা ১১০)

ইজারাকৃত জমি বা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত স্থাপনা ও বৃক্ষের ওপর কোনো শুফআ নেই।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৯)
(مادة 111)

الأراضي الأميرية التي بأيدي المستحقين لمنفعتها لا يصبح بيعهم لها فلا شفعة فيها.

(مادة 112)

إذا باع ولي الأمر شيئا من الأراضي الأميرية التي ليست في يد أحد من الزراع أو باع للزراع شيئاً من الأراضي التي في أيديهم بمسوغ شرعي كوصي اليتيم فبيعه صحيح تثبت فيه الشفعة.

(مادة 113)

لا شفعة في الوقف ولا له فإذا بيع عقار مجاور لوقف أو كان بعض المبيع ملكاً وبعضه وقفاً وبيع الملك فلا شفعة للوقف.

(مادة 114)

لا تجرى الشفعة في القسمة فإذا قسمت دار أو أرض مشتركة بين اثنين فلا يكون الجار شفيعاً فيها.

(مادة 115)

لا شفعة فيما بيع بيعاً فاسداً إلا إذا انقطع حق البائع عنه بأن قبضه المشتري وتصرف فيه تصرفاً يمنع فسخ البيع كأن وهبه أو بنى أو غرس فيه.

(مادة 116)

لا شفعة فيما بيع بشرط الخيار للبائع إلا إذا أسقط البائع خياره حتى لزم البيع فتجب فيه الشفعة للشفيع أن طلبها عند البيع بشروطها.

 

‌‌الفصل الثالث

(في طلب الشفعة)

(مادة 117)

طلب الشفعة على ثلاثة أوجه طلب مواثبة وطلب إشهاد وتقرير وطلب تملك.

(مادة 118)

طلب المواثبة هو أن يبادر الشفيع بطلب الشفعة فوراً في مجلس علمه بالبيع والمشتري والثمن ولو علم بذلك بعد حين بدون أن يصدر منه ما يدل على الأعراض وأن يشهد على طلبه خشية جحود المشتري لا لزوماً.
(ধারা ১১১)

রাষ্ট্রীয় ভূমি (আরাজি আমিরিয়া) যা এর ব্যবহারের অধিকারী ব্যক্তিদের হাতে রয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে তা বিক্রয় করা বৈধ নয়; সুতরাং তাতে অগ্রক্রয়াধিকার (শুফ’আ) কার্যকর হবে না।

(ধারা ১১২)

যদি শাসক (ওয়ালিউল আমর) রাষ্ট্রীয় ভূমির এমন কিছু বিক্রয় করেন যা কোনো কৃষকের দখলে নেই, অথবা কৃষকদের দখলে থাকা ভূমির কিছু অংশ কোনো শরয়ি কারণে (যেমন এতিমের অভিভাবকের ন্যায়) তাদের নিকট বিক্রয় করেন, তবে সেই বিক্রয় সঠিক হবে এবং তাতে অগ্রক্রয়াধিকার সাব্যস্ত হবে।

(ধারা ১১৩)

ওয়াকফ সম্পত্তিতে কোনো অগ্রক্রয়াধিকার নেই এবং ওয়াকফ সম্পত্তির সপক্ষেও কোনো অগ্রক্রয়াধিকার নেই। সুতরাং যদি ওয়াকফ সংলগ্ন কোনো স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করা হয়, অথবা বিক্রিত মালের কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং কিছু অংশ ওয়াকফ হয় এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশটি বিক্রয় করা হয়, তবে ওয়াকফ সম্পত্তির জন্য কোনো অগ্রক্রয়াধিকার থাকবে না।

(ধারা ১১৪)

বণ্টনের ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়াধিকার চলে না। সুতরাং যদি কোনো বাড়ি বা জমি দুইজনের মধ্যে বণ্টিত হয়, তবে প্রতিবেশী তাতে অগ্রক্রয়াধিকারের দাবিদার হতে পারবে না।

(ধারা ১১৫)

ফাসেদ (ত্রুটিযুক্ত) বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়াধিকার নেই, যতক্ষণ না বিক্রেতার অধিকার তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। আর তা বিচ্ছিন্ন হয় ক্রেতা কর্তৃক তা হস্তগত করার মাধ্যমে এবং তাতে এমন কোনো নিষ্পত্তি করার মাধ্যমে যা বিক্রয় বাতিল করার পথ বন্ধ করে দেয়, যেমন: তা দান করা, তাতে ইমারত নির্মাণ করা বা বৃক্ষরোপণ করা।

(ধারা ১১৬)

বিক্রেতার ইখতিয়ারের (পছন্দের সুযোগ) শর্তে বিক্রিত সম্পত্তিতে অগ্রক্রয়াধিকার নেই, যতক্ষণ না বিক্রেতা তার ইখতিয়ার বিলুপ্ত করেন এবং বিক্রয়টি চূড়ান্ত হয়। বিক্রয় চূড়ান্ত হলে শর্তানুসারে অগ্রক্রয়কারী দাবি জানালে তার অগ্রক্রয়াধিকার সাব্যস্ত হবে।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

(অগ্রক্রয়াধিকারের দাবি প্রসঙ্গে)

(ধারা ১১৭)

অগ্রক্রয়াধিকারের দাবি তিন প্রকার: তাৎক্ষণিক দাবি (তালাবে মুওয়াসিবাত), সাক্ষী নির্ধারণ ও নিশ্চিতকরণের দাবি (তালাবে ইশহাদ ওয়া তাকরির) এবং মালিকানা অর্জনের দাবি (তালাবে তামাল্লুক)।

(ধারা ১১৮)

তাৎক্ষণিক দাবি (তালাবে মুওয়াসিবাত) হলো, অগ্রক্রয়কারী বিক্রয়, ক্রেতা এবং মূল্য সম্পর্কে যে মজলিসে জানতে পারবে, সেখানেই বিলম্ব না করে তৎক্ষণাৎ অগ্রক্রয়াধিকারের দাবি জানানো; যদিও সে এই সংবাদ কিছুকাল পরে লাভ করে। তবে শর্ত হলো, তার পক্ষ থেকে বিমুখতা বা অধিকার ত্যাগের লক্ষণ প্রকাশ পায় এমন কিছু ঘটবে না। আর ক্রেতার অস্বীকৃতির ভয়ে দাবির ওপর সাক্ষী রাখা উত্তম, তবে তা আবশ্যকীয় নয়।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২০)
(مادة 119)

طلب التقرير هو أن يشهد الشفيع على البائع أن كان العقار المبيع في يده أو على المشتري وإن لم يكن العقار في يده أو عند المبيع بأنه طلب ويطلب فيه الشفعة الآن والمدة الفاصلة بين هذا الطلب والطلب الأول مقدرة بالتمكن منه فإن تمكن بكتاب أو رسول ولم يشهد بطلت شفعته وإن لم يتمكن منه فلا تسقط.

وأن أشهد الشفيع في طلب المواثبة عند أحد من هؤلاء المذكورين كفاه ذلك الإشهاد فقام مقام الطلبين.

(مادة 120)

طلب التملك هو طلب المخاصمة والمرافعة عند القاضي فإذا أخره الشفيع بعد طلب المواثبة والتقرير شهراً واحداً بلا عذر بطلت شفعته وإن أخره بعذر مقبول فلا تسقط.

(مادة 121)

لولي الصبي أو وصية أن يأخذ له بالشفعة فإن لم يطلبها وبلغ الصبي فلا شفعة له بعد البلوغ فإن لم يكن للصبي ولي ولا وصي ينصب له القاضي قيماً ليأخذ له بالشفعة فإن لم ينصب له قيماً فإنه يبقى على شفعته حتى يبلغ فيأخذه ولو مضى على بيع العقار المشفوع سنون.

(مادة 122)

الخصم للشفيع في إثبات الشفعة كل من المشتري والبائع قبل تسليم المبيع للمشتري وبعد تسليمه إليه فالخصم هو المشتري فقط.

(مادة 123)

إذا كان المبيع في يد البائع وترافع الشفيع معه فلا تسمع البينة عليه حتى يحضر المشتري ومتى ثبتت الشفعة مستوفية شرائطها يفسخ القاضي شراء المشتري ويقضي للشفيع بالعقار المشفوع بطلب الشفيع.

(مادة 124)

إذا كان أحد الشريكين غائباً فلا ينتظر قدومه ولا يوقف له نصيب بل يقضي للحاضر بجميع المبيع فإن حضر الغائب وطلب الشفعة مستوفياً شرائط الطلب يقضي له بحقه إن لم يوجد مسقط له فإن كان مثل الأول يقضي له بالنصف وإن كان فوقه يقضي له بجميع المبيع وتبطل شفعة الأول وإن كان دونه يمنع.
(ধারা ১১৯)

সাক্ষ্য তলব (তালাবে তাকরির) হলো অগ্রক্রয়কারী কর্তৃক বিক্রেতার ওপর সাক্ষ্য রাখা যদি বিক্রিত স্থাবর সম্পত্তি তার হাতে থাকে, অথবা ক্রেতার ওপর সাক্ষ্য রাখা যদিও স্থাবর সম্পত্তি তার হাতে না থাকে, অথবা বিক্রিত বস্তুর নিকট এই মর্মে সাক্ষ্য রাখা যে, সে অগ্রক্রয় দাবি করেছে এবং বর্তমানেও তা দাবি করছে। এই তলব এবং প্রথম তলবের মধ্যবর্তী সময়কাল সক্ষমতা দ্বারা নির্ধারিত। সুতরাং সে যদি পত্র বা দূতের মাধ্যমে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও সাক্ষ্য না রাখে, তবে তার অগ্রক্রয়াধিকার বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি সে সক্ষম না হয় তবে তা রহিত হবে না।

যদি অগ্রক্রয়কারী তাৎক্ষণিক তলবের (তালাবে মুওয়াছাবাত) সময় উল্লিখিত ব্যক্তিদের কারো নিকট সাক্ষ্য রাখে, তবে সেই সাক্ষ্যই তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তা উভয় তলবের স্থলাভিষিক্ত হবে।

(ধারা ১২০)

মালিকানা তলব (তালাবে তামাল্লুক) হলো বিচারকের নিকট মামলা ও নালিশ পেশ করা। অগ্রক্রয়কারী যদি তাৎক্ষণিক তলব ও সাক্ষ্য তলবের পর কোনো ওজর ছাড়াই এক মাস বিলম্ব করে, তবে তার অগ্রক্রয়াধিকার বাতিল হয়ে যাবে। তবে গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে বিলম্ব করলে তা রহিত হবে না।

(ধারা ১২১)

শিশুর অভিভাবক বা তার অছির অধিকার রয়েছে তার পক্ষ থেকে অগ্রক্রয়াধিকার প্রয়োগ করার। যদি তারা তা দাবি না করে এবং শিশুটি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায়, তবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তার আর কোনো অগ্রক্রয়াধিকার থাকবে না। যদি শিশুর কোনো অভিভাবক বা অছি না থাকে, তবে বিচারক তার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করবেন যাতে সে তার পক্ষ থেকে অগ্রক্রয়াধিকার গ্রহণ করতে পারে। যদি তার জন্য কোনো তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা না হয়, তবে সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত তার অগ্রক্রয়াধিকার বহাল থাকবে এবং সে তখন তা গ্রহণ করতে পারবে, যদিও বিক্রিত স্থাবর সম্পত্তির ওপর অনেক বছর অতিবাহিত হয়ে থাকে।

(ধারা ১২২)

অগ্রক্রয়াধিকার প্রমাণের ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়কারীর প্রতিপক্ষ হলো ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ই যতক্ষণ না বিক্রিত বস্তু ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আর ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়ার পর প্রতিপক্ষ হবে কেবল ক্রেতা।

(ধারা ১২৩)

যদি বিক্রিত বস্তু বিক্রেতার হাতে থাকে এবং অগ্রক্রয়কারী তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, তবে ক্রেতা উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। যখন অগ্রক্রয়াধিকার তার সমস্ত শর্তসহ সাব্যস্ত হবে, তখন বিচারক ক্রেতার ক্রয়চুক্তি বাতিল করবেন এবং অগ্রক্রয়কারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তার অনুকূলে বিক্রিত স্থাবর সম্পত্তির ফয়সালা প্রদান করবেন।

(ধারা ১২৪)

যদি দুই অংশীদারের একজন অনুপস্থিত থাকে, তবে তার আগমনের অপেক্ষা করা হবে না এবং তার জন্য কোনো অংশ স্থগিত রাখা হবে না, বরং উপস্থিত ব্যক্তির অনুকূলে সম্পূর্ণ বিক্রিত বস্তুর ফয়সালা দেওয়া হবে। অতঃপর যদি অনুপস্থিত ব্যক্তি ফিরে আসে এবং তলবের শর্তাবলি পূরণ করে অগ্রক্রয়াধিকার দাবি করে, তবে তার অধিকার রহিতকারী কোনো কারণ না থাকলে তার হকের ফয়সালা দেওয়া হবে। যদি সে প্রথম ব্যক্তির সমপর্যায়ের হয় তবে তাকে অর্ধেকের ফয়সালা দেওয়া হবে। যদি সে তার উচ্চপর্যায়ের হয় তবে তাকে সম্পূর্ণ বিক্রিত বস্তুর ফয়সালা দেওয়া হবে এবং প্রথম ব্যক্তির অগ্রক্রয়াধিকার বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি সে তার নিম্নপর্যায়ের হয় তবে তাকে বাধা দেওয়া হবে।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الفصل الرابع

(في حكم الشفعة)

(مادة 125)

لا يثبت الملك للشفيع في البيع إلا بقضاء القاضي أو بأخذ من المشتري بالتراضي.

(مادة 126)

تملك العقار قضاء كان أو رضاء يعتبر شراء جديداً في حق الشفيع فله خيار الرؤية والعيب وأن اشترط المشتري مع بائعه البراءة منها.

(مادة 127)

إذا قضى للشفيع بالمبيع وكان ثمنه مؤجلاً على المشتري يأخذه الشفيع بثمن حال فإن أداه للبائع سقط الثمن عن المشتري وأن أداه للمشتري فليس للبائع أن يطالب المشتري به قبل حلول الأجل المتفق عليه.

(مادة 128)

إذا قضى للشفيع بالعقار المشفوع فأدى ثمنه ثم استحق المبيع فإن كان أداه للمشتري فعليه ضمانه سواء استحق قبل تسليمه إليه أو بعده وإن كان أداه للبائع واستحق المبيع وهو في يده فعليه ضمان الثمن للشفيع.

(مادة 129)

للشفيع أن ينقض جميع تصرفات المشتري حتى لو وقف العقار المشفوع أو جعله مسجداً فله نقضه.

(مادة 130)

إذا بنى المشتري بناء في الدار أو الأرض المشفوعة أو غرس فيها أشجاراً فالشفيع بالخيار إن شاء تركها وإن شاء أخذها بالثمن المسمى ودفع قيمة البناء والشجر مستحق القلع أو يكلف المشتري قلعهما وإذا زاد المشتري على العقار المشفوع شيئاً من ماله بان بيضه أو صبغه بألوان فإن الشفيع يكون بالخيار إن شاء تركه وإن شاء أخذه بالثمن وقيمة الزيادة.

(مادة 131)

إذا هدم المشتري بناء الدار المشفوعة أو هدمه غيره أو قلع الأشجار التي كانت مغروسة في الأرض المشفوعة يأخذ الشفيع العرصة أو الأرض بحصتها من الثمن بأن يقسم الثمن على قيمة العرصة أو الأرض وقيمة البناء أو الشجر وما خص العرصة أو الأرض منه يدفعه الشفيع وتكون الأنقاض والأخشاب للمشتري.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ

(শুফআ বা অগ্রক্রয়াধিকারের বিধান প্রসঙ্গে)

(ধারা ১২৫)

বিক্রিত বস্তুতে অগ্রক্রয়াধিকারীর (শুফআকারী) মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না, তবে বিচারকের রায় অথবা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ক্রেতার কাছ থেকে গ্রহণের মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত হয়।

(ধারা ১২৬)

বিচারকের রায় বা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা লাভ করা অগ্রক্রয়াধিকারীর পক্ষে একটি নতুন ক্রয় হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং তার জন্য দর্শনের ইখতিয়ার (খিয়ারুর রুইয়াত) এবং ত্রুটির ইখতিয়ার (খিয়ারুল আইব) বহাল থাকবে, যদিও ক্রেতা তার বিক্রেতার সাথে এই সকল দায় থেকে মুক্ত থাকার শর্তারোপ করে থাকে।

(ধারা ১২৭)

যদি অগ্রক্রয়াধিকারীর অনুকূলে বিক্রিত বস্তুর ফয়সালা করা হয় এবং ক্রেতার ওপর উক্ত মূল্য পরিশোধের সময়টি নির্ধারিত (বাকি) থাকে, তবে অগ্রক্রয়াধিকারীকে তা নগদ মূল্যে গ্রহণ করতে হবে। যদি সে বিক্রেতাকে মূল্য পরিশোধ করে দেয়, তবে ক্রেতার জিম্মা থেকে মূল্য পরিশোধের দায় রহিত হয়ে যাবে। আর যদি সে ক্রেতাকে মূল্য পরিশোধ করে, তবে বিক্রেতার জন্য নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে ক্রেতার নিকট তা দাবি করার অধিকার থাকবে না।

(ধারা ১২৮)

যদি অগ্রক্রয়াধিকারীর অনুকূলে স্থাবর সম্পত্তির ফয়সালা করা হয় এবং সে তার মূল্য পরিশোধ করে দেয়, অতঃপর যদি বিক্রিত বস্তুটি অন্যের হক বলে প্রমাণিত হয়, তবে সে যদি মূল্য ক্রেতাকে পরিশোধ করে থাকে তবে তার জিম্মাদারি ক্রেতার ওপর বর্তাবে; তা হস্তান্তরের পূর্বে হোক বা পরে। আর যদি সে মূল্য বিক্রেতাকে পরিশোধ করে থাকে এবং বিক্রেতার হাতে থাকা অবস্থায় বস্তুটি অন্যের হক বলে প্রমাণিত হয়, তবে বিক্রেতার ওপর অগ্রক্রয়াধিকারীকে মূল্য ফেরত দেওয়ার দায়ভার বর্তাবে।

(ধারা ১২৯)

অগ্রক্রয়াধিকারীর অধিকার রয়েছে ক্রেতার সকল প্রকার পদক্ষেপ বা ব্যবহার বাতিল করে দেওয়ার। এমনকি ক্রেতা যদি উক্ত স্থাবর সম্পত্তি ওয়াকফ করে দেয় বা মসজিদ বানিয়ে ফেলে, তবুও অগ্রক্রয়াধিকারীর তা বাতিল করার অধিকার থাকবে।

(ধারা ১৩০)

যদি ক্রেতা অগ্রক্রয়াধিকারভুক্ত বাড়ি বা জমিতে কোনো দালান নির্মাণ করে বা বৃক্ষ রোপণ করে, তবে অগ্রক্রয়াধিকারীর ইখতিয়ার থাকবে; সে চাইলে তা ছেড়ে দিতে পারে, আর চাইলে নির্ধারিত মূল্যে তা গ্রহণ করতে পারে এবং দালান বা বৃক্ষের উপড়ানো অবস্থার মূল্য পরিশোধ করবে, অথবা সে ক্রেতাকে তা উপড়ে ফেলার নির্দেশ দেবে। আর যদি ক্রেতা নিজ সম্পদ থেকে স্থাবর সম্পত্তিতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করে, যেমন চুনকাম করা বা রঙ করা, তবে অগ্রক্রয়াধিকারীর ইখতিয়ার থাকবে; সে চাইলে তা ছেড়ে দিতে পারে, আর চাইলে মূল দাম ও অতিরিক্ত কাজের মূল্য পরিশোধ করে তা গ্রহণ করতে পারে।

(ধারা ১৩১)

যদি ক্রেতা অথবা অন্য কেউ অগ্রক্রয়াধিকারভুক্ত বাড়ির দালান ভেঙে ফেলে কিংবা জমিতে রোপণকৃত বৃক্ষ উপড়ে ফেলে, তবে অগ্রক্রয়াধিকারীকে খালি জমি বা ভূমির জন্য নির্ধারিত আনুপাতিক মূল্য দিয়ে তা গ্রহণ করতে হবে। এর পদ্ধতি হলো—মোট মূল্যকে খালি জমি এবং দালান বা বৃক্ষের মূল্যের ওপর আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হবে; অতঃপর জমির অংশে যে মূল্য পড়বে তা অগ্রক্রয়াধিকারীকে পরিশোধ করতে হবে এবং ধ্বংসাবশেষ ও কাঠ ক্রেতার মালিকানাধীন থাকবে।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২২)
(مادة 132)

إذا تخربت الدار المشفوعة أو جفت أشجار البستان المشفوع بلا تعدي أحد عليها يأخذها الشفيع بالثمن المسمى.

فإن كان بها أنقاض أو خشب وأخذه المشتري تسقط حصته من الثمن بأن يقسم الثمن على قيمة الدار أو البستان يوم العقد وقيمة الانقضاض والخشب يوم الأخذ.

(مادة 133)

إذا تلف بعض الأرض المشفوعة بغرق أو نحوه سقطت حصة التالف من أصل الثمن.

(مادة 134)

إذا أخذ الشفيع العقار المشفوع وبنى فيه بناء أو غرس فيه أشجاراً ثم استحق العقار فإنه يرجع بالثمن فقط ولا رجوع له بقيمة البناء والشجر على أحد بمعنى أنه لا يرجع بما نقص بالقلع.

(مادة 135)

الشفعة لا تقبل التجزئة فليس للشفيع أن يأخذ بعض العقار المشفوع ويترك بعضه جبراً على المشتري إنما إذا تعدد المشترون واتحد البائع وقبضوا المبيع منه أو لم يقبضوه ودفعوا له الثمن فللشفيع أن يأخذ نصيب بعضهم ويترك الباقي.

 

‌‌الفصل الخامس

(فيما يسقط الشفعة ويبطلها)

(مادة 136)

تبطل الشفعة بترك طلب المواثبة أو باختلال شرط من شروط صحته وتسقط أيضاً بترك طلب التقرير والإشهاد مع إمكانه والقدرة عليه وبتأخير طلب المخاصمة شهراً بلا عذر.

(مادة 137)

 

إذا أسقط الشفيع حقه في الشفعة وتركه قبل الحكم سقط حقه وللشفعاء الأخر أن يأخذوا العقار المبيع أن طلبوا الشفعة بشروطها وأن أسقط حقه بعد الحكم له فلا يسقط ولا يكون لأحد حق فيه.
(ধারা ১৩২)

যদি প্রি-এম্পশনভুক্ত (শুকফা) বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায় অথবা বাগানটির গাছ শুকিয়ে যায় এবং এতে কারও কোনো সীমা লঙ্ঘন না থাকে, তবে প্রি-এম্পটর (শুফআকারী) নির্ধারিত মূল্যে তা গ্রহণ করবে।

তবে যদি তাতে ধ্বংসাবশেষ বা কাঠ থাকে এবং ক্রেতা তা গ্রহণ করে নেয়, তবে মূল্যের মধ্য হতে তার অংশ হ্রাস পাবে; এ ক্ষেত্রে চুক্তির দিন বাড়ি বা বাগানের মূল্য এবং গ্রহণের দিন ধ্বংসাবশেষ ও কাঠের মূল্যের ভিত্তিতে মূল্যটি বণ্টন করা হবে।

(ধারা ১৩৩)

যদি প্রি-এম্পশনভুক্ত জমির কিছু অংশ প্লাবন বা এজাতীয় কারণে নষ্ট হয়ে যায়, তবে মূল মূল্য হতে নষ্ট হওয়া অংশের আনুপাতিক মূল্য কর্তন করা হবে।

(ধারা ১৩৪)

যদি প্রি-এম্পটর প্রি-এম্পশনভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করে তাতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করে বা গাছ রোপণ করে, আর এরপর সম্পত্তিটি অন্য কারও হক বলে প্রমাণিত হয়, তবে সে কেবল মূল মূল্যই ফেরত পাবে। স্থাপনা বা গাছের মূল্যের জন্য সে কারও কাছে প্রত্যাবর্তন করতে পারবে না, অর্থাৎ উচ্ছেদের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য সে কোনো দাবি করতে পারবে না।

(ধারা ১৩৫)

শুকফা বা প্রি-এম্পশন বিভাজনযোগ্য নয়। সুতরাং ক্রেতাকে বাধ্য করে প্রি-এম্পশনভুক্ত সম্পত্তির আংশিক গ্রহণ করা এবং আংশিক বর্জন করা প্রি-এম্পটরের জন্য বৈধ নয়। তবে যদি ক্রেতা একাধিক হয় এবং বিক্রেতা একজন হয়, আর তারা বিক্রিত বস্তু হস্তগত করে থাকুক বা না থাকুক কিন্তু মূল্য পরিশোধ করে থাকে, তবে প্রি-এম্পটরের জন্য তাদের মধ্য থেকে কারও অংশ গ্রহণ করা এবং অবশিষ্ট অংশ ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ

(যেসব কারণে শুকফা বাতিল বা রহিত হয়)

(ধারা ১৩৬)

তাৎক্ষণিক দাবির (তালাবে মুওয়াছাবাত) বর্জন অথবা এর কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে শুকফা বাতিল হয়ে যায়। এ ছাড়া সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সাক্ষ্যসহ দাবির দৃঢ়তা (তালাবে তাকরীর ও ইশহাদ) বর্জন করলে এবং কোনো ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া মোকদ্দমা দায়ের (তালাবে মুখাসামাত) এক মাস বিলম্ব করলে শুকফার অধিকার রহিত হয়ে যায়।

(ধারা ১৩৭)

 

যদি প্রি-এম্পটর আদালতের রায়ের পূর্বে তার শুকফার অধিকার ত্যাগ করে বা ছেড়ে দেয়, তবে তার অধিকার রহিত হয়ে যাবে এবং অন্যান্য প্রি-এম্পটরগণ যদি শর্তানুসারে শুকফার দাবি করে তবে তারা বিক্রিত সম্পত্তিটি গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু যদি আদালতের রায়ের পর সে তার অধিকার ত্যাগ করে, তবে তা রহিত হবে না এবং তাতে অন্য কারও অধিকার থাকবে না।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৩)
(مادة 138)

يشترط لصحة الشفعة أن يطلب الشفيع كل المبيع فإن طلب أحد الشريكين نصفه بناء على أنه يستحق النصف فقط بطلت شفعته.

(مادة 139)

لا تبطل الشفعة بموت المشترى.

(مادة 140)

تبطل الشفعة بموت الشفيع قبل تملكه العقار المشفوع بالقضاء أو الرضاء سواء كان موته قبل الطلب أو بعده ولا ينتقل حقه فيها إلى ورثته.

(مادة 141)

إذا باع الشفيع العقار المشفوع به أو وقفه أو جعله مسجداً قبل تملكه العقار المشفوع بطلت شفعته.

(مادة 142)

إذا اشترى الشفيع العقار المشفوع من المشتري سقطت شفعته وإذا سقطت شفعته فلمن دونه أو مثله في الدرجة من الشفعاء أن يأخذه بالعقد.

(مادة 143)

إذا استأجر الشفيع المبيع أو ساومه بيعاً أو إجارة أو طلب من المشتري بيعه له تولية أي بمثل الثمن الأول سقطت شفعته.

(مادة 144)

إذا أخبر الشفيع بمقدار الثمن فاستكثره فسلم في الشفعة ثم تحقق له أن الثمن أقل مما أخبر به فله حق الشفعة.

(مادة 145)

إذا علم باسم المشتري فسلم في الشفعة ثم بان له أن المشتري هو غير من سمى فله حق الشفعة.

(مادة 146)

إذا بلغ الشفيع شراء نصف العقار المشفوع فسلم في الشفعة ثم تحقق له شراء كل المبيع فله الشفعة وفي عكسه لا شفعة له.
(ধারা ১৩৮)

শুফআহ সঠিক হওয়ার জন্য শর্ত হলো শফী বিক্রিত মালের সম্পূর্ণ অংশ দাবি করবে। যদি অংশীদারদের একজন কেবল অর্ধেকের দাবি করে এই ভিত্তিতে যে সে কেবল অর্ধেকেরই হকদার, তবে তার শুফআহ বাতিল হয়ে যাবে।

(ধারা ১৩৯)

ক্রেতার মৃত্যুতে শুফআহ বাতিল হয় না।

(ধারা ১৪০)

আদালতের ফয়সালা বা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে শুফআহকৃত স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা লাভের পূর্বেই যদি শফীর মৃত্যু হয়, তবে তার শুফআহ বাতিল হয়ে যাবে; তার এই মৃত্যু দাবির পূর্বে হোক বা পরে। আর এতে তার অধিকার উত্তরাধিকারীদের নিকট স্থানান্তরিত হবে না।

(ধারা ১৪১)

যদি শফী শুফআহকৃত সম্পত্তির মালিক হওয়ার পূর্বেই নিজের সেই স্থাবর সম্পত্তি (যার মাধ্যমে সে শুফআহ দাবি করছে) বিক্রি করে দেয়, অথবা ওয়াকফ করে দেয় কিংবা মসজিদে পরিণত করে, তবে তার শুফআহ বাতিল হয়ে যাবে।

(ধারা ১৪২)

যদি শফী ক্রেতার নিকট থেকে শুফআহকৃত স্থাবর সম্পত্তিটি ক্রয় করে নেয়, তবে তার শুফআহ রহিত হয়ে যাবে। আর যদি তার শুফআহ রহিত হয়ে যায়, তবে তার পরবর্তী স্তরের বা সমস্তরের শফীদের জন্য উক্ত চুক্তির ভিত্তিতে তা গ্রহণ করার অধিকার থাকবে।

(ধারা ১৪৩)

যদি শফী বিক্রিত পণ্যটি ভাড়া নেয়, অথবা তা ক্রয় বা ভাড়া নেওয়ার জন্য দরদাম করে, কিংবা ক্রেতার নিকট তা 'তাউলিয়া' অর্থাৎ প্রথম মূল্যের সমপরিমাণ মূল্যে বিক্রির অনুরোধ করে, তবে তার শুফআহ রহিত হয়ে যাবে।

(ধারা ১৪৪)

যদি শফীকে মূল্য সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং সে তা অতিরিক্ত মনে করে শুফআহ ছেড়ে দেয়, অতঃপর তার নিকট প্রমাণিত হয় যে প্রকৃত মূল্য অবহিত করা মূল্যের চেয়ে কম ছিল, তবে তার শুফআহর অধিকার বহাল থাকবে।

(ধারা ১৪৫)

যদি সে ক্রেতার নাম জানার পর শুফআহ ছেড়ে দেয়, অতঃপর তার নিকট স্পষ্ট হয় যে ক্রেতা সেই ব্যক্তি নয় যার নাম বলা হয়েছিল, তবে তার শুফআহর অধিকার থাকবে।

(ধারা ১৪৬)

যদি শফীর নিকট খবর পৌঁছে যে স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বিক্রি হয়েছে এবং সে শুফআহ ছেড়ে দেয়, অতঃপর তার নিকট নিশ্চিত হয় যে সম্পূর্ণ সম্পত্তিই বিক্রি হয়েছে, তবে তার শুফআহ করার অধিকার থাকবে। আর এর বিপরীত অবস্থায় তার কোনো শুফআহ থাকবে না।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌باب

(في التملك بوضع اليد على الأموال المباحة)

(مادة 147)

 

الأراضي الموات أي المباحة التي لا ينتفع بها وليست في ملك أحد تكون ملكاً لمن وضع يده عليها وأحياها بإذن ولي الأمر مسلما كان أو ذمياً لا مستأمناً.

فمن أذن له بإحياء أرض موات وكان واحداً منهما وأحياها بأن زرعها أو غرس أو بنى فيها فقد ملكها ولا تنزع منه بل يربط عليها العشر إن كانت أقرب إلى أرض العشر وكان المحيي مسلماً وإلا فالخراج.

(مادة 148)

إذا وجد في أرض عشرية أو خراجية مملوكة لشخص معين معدن ذهب أو فضة أو حديد أو نحاس أو نحوه من الجوامد التي تنطبع بالنار فإنه يكون ملكاً لمالك الأرض وعليه الخمس للحكومة.

وإن وجدت في أرض مملوكة لغير مغين كأراضي الحكومة تكون كلها للحكومة.

(مادة 149)

من وجد في أرض من الأراضي المباحة كالجبال والمفاوز كنزاً مدفوناً وعليه علامة أو نقش عملة الجاهلية فله أربعة أخماسه وخمسة للحكومة.

وإن كان عليه نقش من النقوش الإسلامية فهو لمالك الأرض التي وجد فيها إن ادعى ملكه وإلا فهو لقطة.

(مادة 150)

الصيد مباح براً وبحراً ويجوز اتخاذه حرفة.

 

‌‌باب

(في وضع اليد وعدم سماع الدعوى بمرور الزمان)

(مادة 151)

من كان واضعاً يده على عقاراً أو غيره ومتصرفاً فيه تصرف الملاك بلا منازع ولا معارض مدة 15 سنة فلا تسمع عليه دعوى الملك بغير الإرث من أحد ليس بذي عذر شرعي إن كان منكراً
‌‌পরিচ্ছেদ

(উন্মুক্ত সম্পদের ওপর দখল লাভের মাধ্যমে মালিকানা অর্জন প্রসঙ্গে)

(ধারা ১৪৭)

 

মৃত ভূমি অর্থাৎ সেই সব উন্মুক্ত ভূমি যা দ্বারা কোনো উপকার লাভ করা হয় না এবং যা কারো মালিকানাধীন নয়, তা এমন ব্যক্তির মালিকানাধীন হবে যে তার ওপর দখল প্রতিষ্ঠা করবে এবং রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতিক্রমে তা আবাদ করবে; চাই সে মুসলিম হোক বা জিম্মি হোক, তবে কোনো নিরাপত্তা প্রাপ্ত বিদেশি (মুস্তামিন) নয়।

সুতরাং যাকে মৃত ভূমি আবাদ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সে উক্ত দুই শ্রেণির কোনো এক শ্রেণিভুক্ত হয় এবং সে চাষাবাদ করে অথবা গাছ রোপণ করে অথবা তাতে কোনো নির্মাণ কাজ করে তা আবাদ করে, তবে সে তার মালিক হয়ে যাবে এবং তা তার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে না। বরং যদি সেটি উশরি ভূমির নিকটবর্তী হয় এবং আবাদকারী মুসলিম হয় তবে তাতে উশর ধার্য করা হবে, অন্যথায় খারাজ ধার্য হবে।

(ধারা ১৪৮)

যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মালিকানাধীন উশরি বা খারাজি ভূমিতে সোনা, রুপা, লোহা, তামা বা এ জাতীয় আগুনের তাপে গলানো যায় এমন কোনো কঠিন খনিজ দ্রব্য পাওয়া যায়, তবে তা জমির মালিকের মালিকানাভুক্ত হবে এবং তার ওপর সরকারের জন্য এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা আবশ্যক হবে।

আর যদি তা কোনো অনির্দিষ্ট মালিকানাধীন ভূমিতে পাওয়া যায়, যেমন সরকারি ভূমি, তবে তা সম্পূর্ণভাবে সরকারের প্রাপ্য হবে।

(ধারা ১৪৯)

যে ব্যক্তি কোনো উন্মুক্ত ভূমিতে যেমন পাহাড় বা মরুভূমিতে দাফনকৃত গুপ্তধন খুঁজে পায় এবং তাতে জাহেলি আমলের কোনো চিহ্ন বা মুদ্রার ছাপ থাকে, তবে তার চার-পঞ্চমাংশ সে পাবে এবং এক-পঞ্চমাংশ সরকারের প্রাপ্য হবে।

আর যদি তাতে ইসলামি আমলের কোনো নকশা থাকে, তবে তা সেই ভূমির মালিকের হবে যেখানে সেটি পাওয়া গেছে, যদি সে তার মালিকানা দাবি করে; অন্যথায় তা কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু হিসেবে গণ্য হবে।

(ধারা ১৫০)

জলে এবং স্থলে শিকার করা বৈধ এবং একে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা জায়েজ।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

(দখল প্রতিষ্ঠা এবং সময়ের ব্যবধানে দাবি গ্রহণযোগ্য না হওয়া প্রসঙ্গে)

(ধারা ১৫১)

যে ব্যক্তি কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা অন্য কিছুর ওপর দখলদার এবং কোনো বিবাদ বা আপত্তি ছাড়াই ১৫ বছর যাবৎ মালিকের ন্যায় তাতে ভোগ-দখল করে আসছে, তবে উত্তরাধিকার ব্যতিরেকে অন্য কোনো মালিকানার দাবি তার বিরুদ্ধে শোনা হবে না এমন কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে যার কোনো শারয়ি ওজর নেই, যদি দখলদার ব্যক্তি বিষয়টি অস্বীকার করে।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৫)
(مادة 152)

من كان واضعاً يده على عقار متصرفاً فيه تصرف الملاك بلا منازع مدة ثلاث وثلاثين سنة فلا تسمع عليه بعدها دعوى الإرث ولا دعوى أصل الوقف إلا لعذر شرعي.

(مادة 153)

لواضع اليد على العقار أن يضم إلى مدة وضع يده مدة وضع يد من انتقل منه العقار إليه سواء كان انتقاله بشراء أو هبة أو وصية أو إرث أو غير ذلك فإن جمعت المدتان وبلغت المدة المحددة لمنع سماع الدعوى فلا تسمع على واضع اليد دعوى الملك المطلق ولا دعوى الإرث ولا الوقف.

(مادة 154)

الاستيام والاستيداع والاستئجار والاستعارة والاستهياب تعتبر إقرار بعدم الملك لمباشر ذلك فلا تسمع دعواه لنفسه على واضع اليد ولو لم يمض على وضع اليد المدة المحددة لمنع سماع الدعوى.

(مادة 155)

من كان واضعاً يده على عقار بطريق الإجارة أو الإعارة وهو مقر بالإجارة أو العار فليس له أب يتمسك بمرور خمس عشرة سنة على وضع يده في منع دعوى المؤجر أو المعير عليه فإن كان منكراً للإجارة أو العارية جميع تلك المدة والمدعى حاضر وهو تارك للدعوى عليه مع التمكن منها ووجود المقتضى لها فلا تسمع دعواه بعد ذلك.

 

(مادة 156)

إنما لا تسمع دعوى الملك أو الإرث أو الوقف على واضع اليد إذا تحقق ترك الدعوى بلا عذر شرعي في المدة المحددة.

(مادة 157)

إذا تركت الدعوى لعذر من الأعذار الشرعية في المدة المحددة كأن كان المدعى غائباً أو قاصراً أو مجنوناً ولا ولي لهما ولا وصي فلا مانع من سماع دعوى الملك أو الإرث أو الوقف ما لم يحضر الغائب ويبلغ الصبي ويفق المجنون ويترك الدعوى بعد حضوره أو بلوغه أو إفاقته مدة تساوي المدة المحدودة.

(مادة 158)

وإذا ادعى في أثناء المدة في مجلس القضاء على واضع اليد ولم تفصل الدعوى فلا مانع من سماعها ثانياً ولو مضت المدة المحدودة ما لم يمض بين الدعوى الأولى والثانية المدة المحدودة.

(مادة 159)

المطالبة في أثناء المدة المحدودة في غير مجلس القضاء لا تعتبر ولو تكررت مراراً.
(ধারা ১৫২)

যে ব্যক্তি কোনো স্থাবর সম্পত্তির ওপর দখল বজায় রেখেছে এবং কোনো প্রকার বিবাদ ছাড়াই তেত্রিশ বছর যাবত মালিকানাসুলভ ভোগদখল করে আসছে, তবে উক্ত সময়ের পর তার বিরুদ্ধে উত্তরাধিকারের দাবি বা ওয়াকফের মূল দাবি শোনা হবে না, যদি না কোনো শরয়ী ওজর থাকে।

(ধারা ১৫৩)

স্থাবর সম্পত্তির দখলদারের জন্য তার দখলের মেয়াদের সাথে পূর্ববর্তী দখলদারের (যার কাছ থেকে সম্পত্তিটি তার কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে) দখলের মেয়াদ যোগ করার অধিকার রয়েছে; চাই সেই হস্তান্তর ক্রয়, দান, অসিয়ত, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো উপায়ে হোক না কেন। যদি উভয় মেয়াদ একত্রিত হয়ে মামলা শুনানি বন্ধের নির্ধারিত সীমায় পৌঁছে যায়, তবে সেই দখলদারের বিরুদ্ধে নিরঙ্কুশ মালিকানার দাবি, উত্তরাধিকারের দাবি বা ওয়াকফের দাবি শোনা হবে না।

(ধারা ১৫৪)

ইজারার প্রস্তাব দেওয়া, আমানত রাখা, ভাড়া নেওয়া, ধার নেওয়া এবং হেবা প্রার্থনা করা—এসবই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে মালিকানা না থাকার স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং দখলদারের বিরুদ্ধে সে নিজের পক্ষে কোনো দাবি করতে পারবে না, যদিও দখল বজায় রাখার নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রান্ত না হয়ে থাকে।

(ধারা ১৫৫)

যে ব্যক্তি ভাড়া বা ধারের মাধ্যমে কোনো স্থাবর সম্পত্তির দখল লাভ করেছে এবং সে ইজারা বা ধারের বিষয়টি স্বীকার করে, তবে দখল বজায় রাখার পনেরো বছর অতিক্রান্ত হওয়ার অজুহাতে মুয়াজ্জির (ভাড়াদাতা) বা ঋণদাতার মামলার বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি দেওয়ার অধিকার তার নেই। আর যদি সে পুরো সময় ইজারা বা ধারের বিষয়টি অস্বীকার করে থাকে এবং দাবিদার উপস্থিত থেকেও সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় কারণ থাকা সত্ত্বেও মামলা করা থেকে বিরত থাকে, তবে এরপর তার দাবি আর শোনা হবে না।

 

(ধারা ১৫৬)

দখলদারের বিরুদ্ধে মালিকানা, উত্তরাধিকার বা ওয়াকফের দাবি কেবল তখনই শোনা হবে না, যখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো শরয়ী ওজর ছাড়াই মামলা পরিত্যাগ করা প্রমাণিত হবে।

(ধারা ১৫৭)

যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো শরয়ী ওজরের কারণে মামলা করা থেকে বিরত থাকা হয়—যেমন দাবিদার অনুপস্থিত ছিল, অথবা নাবালেগ বা পাগল ছিল এবং তাদের কোনো অভিভাবক বা অসি ছিল না—তবে মালিকানা, উত্তরাধিকার বা ওয়াকফের দাবি শুনতে কোনো বাধা নেই। যতক্ষণ না অনুপস্থিত ব্যক্তি ফিরে আসে, নাবালেগ বালেগ হয় এবং পাগল সুস্থ হয় এবং ফিরে আসা, বালেগ হওয়া বা সুস্থ হওয়ার পর নির্ধারিত মেয়াদের সমপরিমাণ সময় তারা মামলা করা থেকে বিরত না থাকে।

(ধারা ১৫৮)

যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারালয়ে দখলদারের বিরুদ্ধে দাবি পেশ করা হয় কিন্তু মামলার নিষ্পত্তি না হয়, তবে পুনরায় সেই দাবি শুনতে কোনো বাধা নেই, যদিও নির্ধারিত মেয়াদ পার হয়ে যায়; যতক্ষণ না প্রথম দাবি এবং দ্বিতীয় দাবির মধ্যবর্তী ব্যবধান নির্ধারিত সময়কাল অতিক্রান্ত করে।

(ধারা ১৫৯)

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারালয় ব্যতীত অন্য কোথাও দাবি বা তলব করা গণ্য হবে না, যদিও তা বারবার করা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৬)
(مادة 160)

من كان واضعاً يده على عقار اشتراه فلا تسمع دعوى الملك عليه ممن كان معه في البلد وهو يعلم البيع ورآه وهو يتصرف فيه بناء وزرعاً وغير ذلك وسكت عن دعواه ولو لم تمض على وضع اليد خمس عشرة سنة ووارث من كان حاضراً يعلم البيع ويرى التصرف كمورثه في عدم سماع الدعوى منه.

(مادة 161)

لا تسمع دعوى الملك على واضع اليد من ولد البائع له ولا من أقاربه أو زوجته الذين كانوا حاضرين وقت بيع العقار له وعالمين به وسكتوا عن دعواه ولو لم يمض على بيعه خمس عشرة سنة.

 

‌‌باب

(في نزع الملك)

(مادة 162)

لا ينزع ملك أحد من يده بغير حق شرعي.

(مادة 163)

إنما ينزع الملك من يد صاحبه إذا تصرف فيه بوجه من وجوه التصرفات السالبة للملك بمجرد العقد كالبيع.

(مادة 164)

إذا كان المالك مديوناً ديناً ثابتاً عليه شرعاً يجوز نزع ملكه الزائد عن حوائجه الضرورية المحتاج إليها في الحال ومنها مسكنه الضروري إذا لم يكن له مال من جنس ما عليه من الدين الشرعي ويباع قضاء إذا امتنع عن بيعه بنفسه لقضاء دينه من ثمنه ويبدأ في البيع بالأيسر فالأيسر بقدر الدين.

(مادة 165)

إذا اقتضت المصلحة العامة أخذ ملك لتوسيع طريق العامة يؤخذ بقيمته لكن لا يؤخذ من يد صاحبه مال يؤد له ثمنه مقداراً بمعرفة من يوثق بعدالته من أهل الخبرة.
(ধারা ১৬০)

যে ব্যক্তি নিজের ক্রয়কৃত কোনো স্থাবর সম্পত্তির ওপর দখল বজায় রেখেছে, তার বিরুদ্ধে এমন ব্যক্তির মালিকানার দাবি শোনা হবে না যে ওই একই শহরে অবস্থান করছিল এবং বিক্রয় সম্পর্কে জানত ও তাকে সেখানে দালান নির্মাণ, চাষাবাদ বা অন্য কোনোভাবে ভোগদখল করতে দেখেছিল এবং নিজের দাবির ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছিল, যদিও দখলের ওপর পনের বছর অতিবাহিত না হয়। বিক্রয়ের সময় উপস্থিত ছিল এবং ভোগদখল প্রত্যক্ষ করেছে এমন ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রেও তার মূল উত্তরাধিকারীর ন্যায় একইভাবে দাবি না শোনার বিধান প্রযোজ্য হবে।

(ধারা ১৬১)

বিক্রেতার সন্তান, নিকটাত্মীয় অথবা তার স্ত্রীর পক্ষ থেকে দখলদারের বিরুদ্ধে মালিকানার দাবি শোনা হবে না, যারা ওই স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের সময় উপস্থিত ছিল এবং এ সম্পর্কে জানত এবং তাদের দাবির ব্যাপারে নীরব ছিল, যদিও বিক্রয়ের পর পনের বছর অতিবাহিত না হয়।

 

‌‌অধ্যায়

(মালিকানা বিচ্যুতি প্রসঙ্গে)

(ধারা ১৬২)

শরয়ি অধিকার ব্যতীত কারো হাত থেকে কারো মালিকানা ছিনিয়ে নেওয়া হবে না।

(ধারা ১৬৩)

মালিকের হাত থেকে মালিকানা কেবল তখনই বিচ্যুত হয় যখন সে এমন কোনো পন্থায় তা হস্তান্তর করে যা মালিকানা বিলুপ্তকারী, যেমন নিছক চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয় করা।

(ধারা ১৬৪)

যদি মালিকের ওপর শরয়িভাবে প্রমাণিত কোনো ঋণ থাকে, তবে তার তাৎক্ষণিক অপরিহার্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত মালিকানা বিচ্যুত করা জায়েজ। তার মৌলিক বাসগৃহও এর অন্তর্ভুক্ত হবে যদি তার কাছে পাওনা ঋণের সমজাতীয় অন্য কোনো সম্পদ না থাকে। মালিক যদি ঋণ পরিশোধের জন্য তা বিক্রয় করতে অস্বীকার করে, তবে বিচার বিভাগীয় আদেশে তা বিক্রয় করা হবে যেন তার বিক্রয়মূল্য থেকে ঋণ পরিশোধ করা যায়। বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যা সহজতর তা থেকে শুরু করা হবে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী।

(ধারা ১৬৫)

যদি জনস্বার্থে সাধারণ রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য কোনো সম্পত্তি গ্রহণের প্রয়োজন হয়, তবে তা মূল্যের বিনিময়ে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু নির্ভরযোগ্য ন্যায়পরায়ণ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করার পূর্বে মালিকের হাত থেকে তা গ্রহণ করা হবে না।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৭)
(مادة 166)

مصلحة الموقوف عليهم تجب رعايتها فلا يؤخذ مكان وقف لاتساع طريق للعامة إلا إذا استبدل بأحسن منه صقعاً وأكثر نفعاً وأغزر ريعاً.

(مادة 167)

إذا اقتضى الحال أخذ أرض من الأراضي الأميرية من يد من هو منتفع بزراعتها لإدخالها في طريق العامة أو لغير ذلك من المصالح العامة يرفع عن صاحبها من المال المربوط بقدر ما يؤخذ منه.

 

‌‌في العقود والمداينات والأمانات والضمانات

‌‌كتاب العقود على العموم

‌‌الباب الأول

(في ماهية العقد وشرائطه)

(مادة 168)

العقد هو عبارة عن ارتباط الإيجاب الصادر من أحد العاقدين بقبول الآخر على وجه يثبت أثره في المعقود عليه.

ويترتب على العقد التزام كل واحد من العاقدين بما وجب به للآخر.

(مادة 169)

يصح أن يرد العقد على الأعيان منقولة كانت أو عقار لتمليكها بعوض أو بغير عوض.

(مادة 170)

يصح أن يراد العقد على الأعيان لحفظها وديعة أو لاستهلاكها بالانتفاع بها قرضاً ورد بدلها.

(مادة 171)

يجوز ورود العقد على منافع الأعيان للانتفاع بها بعوض إجارة أو بغير عوض إعارة ورد عينها لصاحبها.

(مادة 172)

يصح أن يرد العقد على عمل معين من الأعمال الصناعية أو على خدمة معينة.
(ধারা ১৬৬)

ওয়াকফকৃত সম্পত্তির উপকারভোগীদের স্বার্থ রক্ষা করা আবশ্যক। সুতরাং সাধারণের চলাচলের রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য কোনো ওয়াকফকৃত স্থান গ্রহণ করা যাবে না, যদি না তার পরিবর্তে এর চেয়ে উৎকৃষ্ট অবস্থান সম্পন্ন, অধিক কল্যাণকর এবং বেশি আয়প্রদানকারী কোনো বিকল্প প্রদান করা হয়।

(ধারা ১৬৭)

যদি কোনো কৃষিজীবী ব্যক্তির নিকট থেকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জমি জনপথ বা অন্য কোনো জনস্বার্থমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর ধার্যকৃত করের পরিমাণ যতটুকু জমি নেওয়া হয়েছে সেই অনুপাতে হ্রাস করা হবে।

 

‌‌চুক্তি, ঋণ লেনদেন, আমানত এবং জামানত প্রসঙ্গে

‌‌সাধারণ চুক্তি অধ্যায়

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

(চুক্তির স্বরূপ ও তার শর্তাবলী প্রসঙ্গে)

(ধারা ১৬৮)

চুক্তি হলো চুক্তিবদ্ধ দুই পক্ষের এক পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাব (ইজাব) অন্য পক্ষের সম্মতির (কবুল) সাথে এমনভাবে যুক্ত হওয়া, যার প্রভাব চুক্তিকৃত বিষয়ের ওপর সাব্যস্ত হয়।

চুক্তির ফলে প্রত্যেক পক্ষ অন্যের প্রতি তার ওপর অর্পিত দায়বদ্ধতা পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

(ধারা ১৬৯)

স্থাবর বা অস্থাবর যেকোনো মূলবস্তুর মালিকানা বিনিময়মূল্যের বিনিময়ে অথবা বিনিময়মূল্য ছাড়া হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে চুক্তি করা বৈধ।

(ধারা ১৭০)

মূলবস্তুসমূহ আমানত হিসেবে সংরক্ষণের জন্য অথবা ঋণ হিসেবে গ্রহণের পর ব্যবহারের মাধ্যমে নিঃশেষ করা এবং পরবর্তীতে তার সমপরিমাণ ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে চুক্তি করা বৈধ।

(ধারা ১৭১)

কোনো মূলবস্তুর উপযোগিতা বা মুনাফা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিনিময়মূল্যের বিনিময়ে (ইজারা) অথবা বিনিময়মূল্য ছাড়া (আরিয়াত) চুক্তি করা বৈধ, এবং ব্যবহারের পর মূলবস্তুটি তার মালিকের নিকট ফেরত দিতে হবে।

(ধারা ১৭২)

কোনো নির্দিষ্ট শিল্পকর্ম বা সুনির্দিষ্ট কোনো সেবার ওপর চুক্তি করা বৈধ।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৮)
(مادة 173)

يشترط لتحقق كل عقد توفر ثلاثة أشياء وهي العاقدان وصيغة العقد ومحل يضاف إليه ويشترط لصحة أي عقد أهلية العاقدين وكون العقد مفيداً وكون المحل قابلاً لحكم العقد وكونه مما يقصد شرعاً.

 

‌‌الفصل الأول

(في أهلية العاقدين)

(مادة 174)

يشترط لانعقاد عقود البيع والشراء والإيجار والاستئجار والشركة والحوالة والرهن والوكالة ونحوها من التصرفات الدائرة بين النفع والضرر أن يكون كل من العاقدين مميزاً يعقل معنى العقد ويقصده ولا يشترط بلوغهما غير أن عقودهما لا تكون نافذة أن كانا محجوراً عليهما (راجع المادة الآتية وما بعدها)

(مادة 175)

المحجور عليه لصغر سنه وعدم تمييزه تصرفاته وعقوده باطلة لا تنعقد أصلاً سواء كانت نافعة له أو مضرة أو دائرة بين النفع والضرر.

والكبير المجنون جنوناً غالباً على عقله حكمه حكم الصغير الذي لا يعقل فلا تصحح عقوده التي يعقدها حال جنونه بل تكون باطلة أيضاً فإن كان يجن تارة ويفيق أخرى فعقوده التي يعقدها حال إفاقته وهو تام العقل تكون صحيحة نافذة.

(مادة 176)

إذا كان المحجر عليه صبياً مميزاً أو كبيراً معتوهاً تصح تصرفاته وعقوده التي تكون نافعة له نفعاً محضاً وتنفذ ولو لم يجزها الولي أو الوصي وأما تصرفاته وعقوده المضرة بمصلحته ضرراً محضاً فهي كتصرفات الصبي الغير مميز وعقوده لا تصح أصلاً ولو أجازها الولي أو الوصي.

(مادة 177)

المحجور عليه سواء كان صبياً مميزاً أو كبيراً ذاعته أو رقيقاً إذا عقد عقداً من العقود الدائرة بين النفع والضرر التي لا يشترط البلوغ لصحة انعقادها فلا ينفذ عقده ولا يترتب عليه حكم إلا إذا أجازه الولي أو الوصي أو المولي إجازة معتبرة فإن أجازه جاز ونفذت أحكامه وإن لم يجزه أو أجازه وكان فيه ضرر كأن كان فيه غبن فاحش زيادة أو نقصاً فلا يجوز ولا ينفذ أصلاً.
(ধারা ১৭৩)

প্রতিটি চুক্তি সংঘটিত হওয়ার জন্য তিনটি বিষয় বিদ্যমান থাকা শর্ত। আর সেগুলো হলো: চুক্তিকারী পক্ষদ্বয়, চুক্তির শব্দাবলি (সিগাহ) এবং চুক্তির বিষয়বস্তু যার সাথে চুক্তিটি সংশ্লিষ্ট হয়। যেকোনো চুক্তি শুদ্ধ হওয়ার জন্য চুক্তিকারী পক্ষদ্বয়ের যোগ্যতা থাকা, চুক্তিটি ফলপ্রসূ হওয়া, বিষয়বস্তু চুক্তির বিধান গ্রহণ করার যোগ্য হওয়া এবং বিষয়টি শরয়িভাবে কাম্য বা স্বীকৃত হওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

(চুক্তিকারী পক্ষদ্বয়ের যোগ্যতা প্রসঙ্গে)

(ধারা ১৭৪)

ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা ও ভাড়া দেওয়া, অংশীদারি কারবার, ঋণ স্থানান্তর (হাওয়ালা), বন্ধক, প্রতিনিধিত্ব (ওকালাত) এবং অনুরূপ লেনদেনসমূহ যা লাভ ও ক্ষতির মধ্যে আবর্তিত হয়, সেগুলো সংঘটিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো চুক্তিকারী উভয় পক্ষকে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন (মুমাইয়্যিজ) হতে হবে, যারা চুক্তির মর্ম বুঝতে সক্ষম এবং চুক্তির সংকল্প রাখে। তাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া শর্ত নয়; তবে তারা যদি লেনদেনে বাধাগ্রস্ত (মাহজুর) হয়, তবে তাদের চুক্তি কার্যকর হবে না। (পরবর্তী ধারা ও তার পরবর্তী অংশসমূহ দেখুন)।

(ধারা ১৭৫)

অল্প বয়স এবং বিচারবুদ্ধি না থাকার কারণে যে ব্যক্তি লেনদেনে বাধাগ্রস্ত, তার কার্যক্রম ও চুক্তিসমূহ বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তা আদৌ সংঘটিত হবে না; চাই তা তার জন্য উপকারী হোক বা ক্ষতিকর হোক কিংবা লাভ ও ক্ষতির মাঝে আবর্তিত হোক।

আর যে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উন্মাদ এবং যার বিবেকের ওপর উম্মাদনা প্রবল থাকে, তার বিধান বিচারবুদ্ধিহীন শিশুর বিধানের অনুরূপ। সুতরাং উম্মাদাবস্থায় তার সম্পাদিত চুক্তিগুলো শুদ্ধ হবে না, বরং সেগুলোও বাতিল হবে। তবে যদি সে মাঝে মাঝে উন্মাদ হয় এবং মাঝে মাঝে সুস্থ হয়, তবে সুস্থ থাকা অবস্থায় যখন তার বুদ্ধি পূর্ণ থাকে, তখন সম্পাদিত চুক্তিগুলো সহিহ ও কার্যকর হবে।

(ধারা ১৭৬)

যদি লেনদেনে বাধাগ্রস্ত ব্যক্তি বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন শিশু অথবা কোনো নির্বোধ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি হয়, তবে তার এমন সব কারবার ও চুক্তি শুদ্ধ হবে যা তার জন্য নিছক উপকারী। আর তা কার্যকর হবে যদিও অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়ক (ওলি বা ওসি) তাতে অনুমতি না দেন। পক্ষান্তরে, তার এমন সব কারবার ও চুক্তি যা তার স্বার্থের জন্য নিছক ক্ষতিকর, তা বিচারবুদ্ধিহীন শিশুর কারবারের মতোই এবং তা আদৌ শুদ্ধ হবে না, যদিও অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়ক তাতে অনুমতি প্রদান করেন।

(ধারা ১৭৭)

লেনদেনে বাধাগ্রস্ত ব্যক্তি চাই সে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন শিশু হোক বা নির্বোধ প্রাপ্তবয়স্ক হোক অথবা দাস হোক, সে যদি লাভ ও ক্ষতির মাঝে আবর্তিত এমন কোনো চুক্তি করে যার শুদ্ধতার জন্য প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া শর্ত নয়, তবে তার চুক্তি কার্যকর হবে না এবং এর ওপর কোনো বিধান প্রযোজ্য হবে না যতক্ষণ না অভিভাবক, তত্ত্বাবধায়ক বা মালিক তাকে আইনত গ্রহণযোগ্য অনুমতি প্রদান করেন। যদি তিনি অনুমতি দেন তবে তা অনুমোদিত হবে এবং তার বিধান কার্যকর হবে। আর যদি তিনি অনুমতি না দেন অথবা অনুমতি দেন কিন্তু তাতে ক্ষতি নিহিত থাকে—যেমন তাতে মূল্যের চরম কমবেশি হওয়ার কারণে মারাত্মক প্রতারণা বা লোকসান থাকে—তবে তা বৈধ হবে না এবং আদৌ কার্যকর হবে না।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৯)
(مادة 178)

الصبي أو العبد المأذون له بالتجارة تصح عقود بيعه وشرائه وتوكيله غيره بالبيع والشراء وإجارته واستئجاره ومزارعته ومساقاته ورهنه وارتهانه ويجوز إقراره بدين أو عين لم تقبل شهادته له أو عارية أو وديعة وحطه م الثمن بعيب قدر ما يحط التجار وتجوز له المحاباة وتأجيل الدين والصلح عن دين له على بعضه إن لم تكن له بينة وليس له أن يقرض ولا يهب ولا يكفل عن غيره.

(مادة 179)

المحجور عليه حجراً قضائياً بسفه وسوء تصرف في ماله حكمه حكم الصبي المميز في التصرفات التي تحتمل الفسخ ويبطلها الهزل كالبيع والإجارة ونحوهما فلا تنفذ عقوده فيها إلا إذا أجازها القاضي فإن أجازها نفذت وإن ردها بطلت.

وإنما تصح تصرفاته التي لا تحتمل الفسخ كالنكاح والطلاق والإعتاق والاستيلاد والتدبير وهو في وجوب زكاة وفطرة وحج وعبادات وزوال ولاية أبيه أوجده وفي صحة إقراره بالعقوبات وفي الإنفاق على من تلزمه نفقتهم وفي وصاياه بالقرب من ثلث ماله إن كان له وارث كبالغ.

(مادة 180)

يشترط لصحة عقود التبرعات كالهبة والصدقة والوصية أن يكون المتبرع عاقلاً بالغاً مطلق التصرف في ماله ولا يشترط العقل والبلوغ في المتبرع له بهبة أو صدقة أو وصية.

(مادة 181)

يشترط لصحة عقود الضمانات ووجوب حفظ الودائع والأمانات والالتزام بأداء الدين المحال به في المداينات أن يكون كل من الضامن والمستودع والملتزم بوفاء الدين المحال به عليه عاقلاً بالغاً غير محجور عليه ولا يشترط العقل والبلوغ في صاحب الدين المضمون أو المحال به ولا في صاحب الوديعة إلا إذا باشر كل منهما العقد بنفسه وهو غير عاقل أو عاقل غير مأذون فإنه لا ينعقد في الأول ولا ينفذ في الثاني إلا إذا أجازه الولي أو الوصي.

(مادة 182)

يشترط لنفاذ عقود المعاوضات الواردة على الأعيان المالية أو على منافعها أن يكون المتصرف في العين الوارد عليها العقد مالكاً لها أو وكيلاً عن مالكها إن كان عاقلاً بالغاً أو ولياً أو وصياً عليه إن كان صغيراً أو كبيراً مجنوناً أو معتوهاً وأن لا يتعلق بالعين حق لغير المتصرف فيها.
(ধারা ১৭৮)

ব্যবসায়ে অনুমতিপ্রাপ্ত শিশু বা ক্রীতদাসের ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি, ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগ, ইজারা প্রদান ও গ্রহণ, বর্গাচাষ, সেচ-চুক্তি এবং বন্ধক রাখা ও বন্ধক নেওয়া সহিহ। তার ঋণের স্বীকৃতি প্রদান অথবা এমন বস্তুর স্বীকৃতি প্রদান যার জন্য তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি, অথবা ধার দেওয়া বস্তু বা আমানতের স্বীকৃতি দেওয়া বৈধ। এছাড়া ত্রুটির কারণে পণ্যের মূল্য থেকে ব্যবসায়ীদের ন্যায় ছাড় দেওয়া তার জন্য জায়েজ। তার জন্য পক্ষপাতমূলক লেনদেন, ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং প্রমাণের অভাবে ঋণের আংশিক মওকুফ করে আপস করা বৈধ। তবে সে কাউকে ঋণ দিতে পারবে না, দান করতে পারবে না এবং অন্যের জন্য জামিন হতে পারবে না।

(ধারা ১৭৯)

নির্বুদ্ধিতা ও নিজ সম্পদের অপচয়ের কারণে আদালতের মাধ্যমে যার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যেসব চুক্তিতে বাতিল হওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং উপহাসের মাধ্যমে যা বাতিল হয়ে যায় (যেমন ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা ইত্যাদি), সেসবের ক্ষেত্রে তার হুকুম হচ্ছে সমঝদার শিশুর মতো। অতএব বিচারকের অনুমতি ব্যতীত এসব চুক্তি কার্যকর হবে না; বিচারক অনুমতি দিলে তা কার্যকর হবে এবং প্রত্যাখ্যান করলে বাতিল হয়ে যাবে।

তবে যেসব বিষয় বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই, যেমন নিকাহ, তালাক, দাসমুক্তি, উম্মে ওয়ালাদ বানানো এবং তাদবির (মৃত্যুর পর মুক্তির ঘোষণা), সেসব ক্ষেত্রে তার কর্মকাণ্ড সহিহ। এছাড়া জাকাত, ফিতরা, হজ ও অন্যান্য ইবাদত ফরজ হওয়া এবং বাবা বা দাদার অভিভাবকত্ব বিলোপ হওয়া, দণ্ডবিধি সংক্রান্ত অপরাধের স্বীকৃতির গ্রহণযোগ্যতা, যাদের ভরণপোষণ তার ওপর আবশ্যক তাদের খরচ প্রদান এবং ওয়ারিশ থাকলে সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে নেকির কাজে অসিয়ত করার ক্ষেত্রে সে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ন্যায় গণ্য হবে।

(ধারা ১৮০)

দানামূলক চুক্তি যেমন হেবা, সদকা এবং অসিয়ত সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো দাতা সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজ সম্পদে নিরঙ্কুশ হস্তক্ষেপের অধিকারী হবেন। তবে যার অনুকূলে হেবা, সদকা বা অসিয়ত করা হচ্ছে, তার জন্য সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া শর্ত নয়।

(ধারা ১৮১)

জামানত চুক্তি সহিহ হওয়া, আমানত ও গচ্ছিত সম্পদ হিফাজত করা এবং ঋণের দায়ভার গ্রহণের জন্য শর্ত হলো জামিনদার, আমানত গ্রহণকারী এবং দায় গ্রহণকারী ব্যক্তিকে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক ও আইনত বিধি-নিষেধমুক্ত হতে হবে। পাওনাদার বা আমানতদাতার ক্ষেত্রে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া শর্ত নয়, তবে তারা যদি নিজে চুক্তিতে অংশগ্রহণ করে এবং সে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন না হয় তবে চুক্তি সংঘটিত হবে না, আর যদি সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন কিন্তু অনুমতিপ্রাপ্ত না হয় তবে অভিভাবক বা অসি অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত তা কার্যকর হবে না।

(ধারা ১৮২)

আর্থিক সম্পদ বা তার উপযোগিতা সংক্রান্ত বিনিময়মূলক চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য শর্ত হলো, উক্ত সম্পদ ব্যবহারকারী ব্যক্তি যেন তার মালিক হন, অথবা মালিক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার প্রতিনিধি হন, অথবা মালিক শিশু, উন্মাদ বা বিকৃত মস্তিষ্কসম্পন্ন হলে তার অভিভাবক বা অসি হন। এছাড়া উক্ত সম্পদে অন্য কোনো ব্যক্তির অধিকার সংশ্লিষ্ট থাকতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) মুরশিদুল হায়রান ইলা মাআরিফাতি আহওয়াইল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৩০)
(مادة 183)

يشترط للزوم عقود المعاوضات الواردة على الأعيان أو على منافعها أن تكون عارية عن الخيارات.

(مادة 184)

يجوز للحر العاقل البالغ غير المحجور عليه أن يباشر أي عقد كان بنفسه أو يوكل به غيره فمن باشر عقداً من العقود بنفسه لنفسه فهو الملزوم دون غيره بما يترتب عليه من الحقوق والأحكام.

(مادة 185)

من باشر بطريق الوكالة عن غيره عقد هبة أو صدقة أو إعارة أو إيداع أو رهن أو قرض فإن كان وكيلاً من جهة مريداً لتمليك يصح العقد على الموكل مطلقاً سواء أضاف الوكيل العقد لموكله أو لنفسه.

وإن كان وكيلاً من جهة طالب التمليك فإن أضاف العقد إلى نفسه يقع العقد له لا للموكل وإن أضاف العقد للموكل العقد للموكل وتتعلق به الحقوق في غير القرض إلا إذا بلغ على سبيل الرسالة.

(مادة 186)

من باشر بالتوكيل عن غيره عقداً من عقود المعاوضات المالية كالبيع والشراء والإجارة والصلح عن إقرار يقع العقد للموكل سواء أضاف الوكيل العقد إلى نفسه أو إلى الموكل.

(مادة 187)

إذا أضاف الوكيل عقد المعاوضة المالية إلى نفسه تعود حقوق العقد كلها إليه فإن كان لبيع أو إجارة أو صلح من جهة المدعى يكون هو المطالب بتسليم ما باعه أو آجره ويكون له المطالبة بالثمن والأجرة وبد الصلح وإذا استحق المبيع أو المؤجر أو المصالح عنه يكون للمشتري أو المستأجر أو المدعى عليه المصالح الرجوع عليه بالثمن أو الأجرة أو بدل الصلح.

وإن كان وكيلاً بشراء شيء أو استئجاره أو المصالحة عنه من جهة المدعى عليه فله قبض ما اشتراه أو استأجره وعليه دفع ثمنه أو أجرته وبدل ما صالح عنه.

فإن أضاف العقد إلى موكله عادت كل حقوقه على موكله فلا مطالبة للوكيل ولا عليه مما يترتب على العقد من الحقوق والواجبات.

(مادة 188)

الأب المستور حاله إذا تصرف في مال ولده الصغير أو الكبير المجنون أو المعتوه ببيع أو إجارة
(ধারা ১৮৩)

দ্রব্য বা সেবার উপযোগিতার বিনিময়ে সম্পাদিত চুক্তিসমূহ (মুআওয়াদাত) বাধ্যতামূলক হওয়ার জন্য শর্ত হলো, সেগুলো সকল প্রকার ইখতিয়ার (চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের অধিকার) থেকে মুক্ত হতে হবে।

(ধারা ১৮৪)

এমন প্রত্যেক স্বাধীন, বুদ্ধিমান ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি—যার ওপর আইনগত কোনো বিধি-নিষেধ (হাজর) নেই—তার জন্য যেকোনো চুক্তি নিজেই সম্পাদন করা অথবা অন্যকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা বৈধ। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের জন্য নিজেই কোনো চুক্তি সম্পাদন করে, সেই চুক্তির ফলে উদ্ভূত অধিকার ও বিধানসমূহের জন্য সে নিজেই দায়বদ্ধ থাকবে, অন্য কেউ নয়।

(ধারা ১৮৫)

যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের প্রতিনিধি হিসেবে হেবা (দান), সদকা, কোনো বস্তু ধারে প্রদান (ইআরত), আমানত রাখা, বন্ধক রাখা অথবা কর্জ প্রদানের চুক্তি সম্পাদন করে, তবে সে যদি মালিকানা হস্তান্তরে ইচ্ছুক পক্ষের প্রতিনিধি হয়, তবে চুক্তিটি সর্বাবস্থায় মূল আদিষ্ট ব্যক্তির (মুওয়াক্কিল) পক্ষেই সহিহ হবে; চাই প্রতিনিধি চুক্তিটি তার মুওয়াক্কিলের দিকে নিসবত করুক কিংবা নিজের দিকে।

আর সে যদি মালিকানা গ্রহণে ইচ্ছুক পক্ষের প্রতিনিধি হয়, তবে সে যদি চুক্তিটি নিজের দিকে নিসবত করে, তবে চুক্তিটি তার নিজের পক্ষেই কার্যকর হবে, মুওয়াক্কিলের পক্ষে নয়। কিন্তু যদি সে চুক্তিটি মুওয়াক্কিলের দিকে নিসবত করে, তবে চুক্তিটি মুওয়াক্কিলের পক্ষেই হবে এবং কর্জ বা ঋণ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে এর সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ মুওয়াক্কিলের সাথেই যুক্ত হবে—যদি না সেটি কেবল একজন বার্তাবাহক হিসেবে পৌঁছানো হয়।

(ধারা ১৮৬)

যদি কেউ অন্যের প্রতিনিধি হিসেবে কোনো আর্থিক বিনিময় চুক্তি সম্পাদন করে, যেমন: ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা (ভাড়া) এবং স্বীকৃতির ভিত্তিতে সন্ধি (সুলহ), তবে চুক্তিটি মুওয়াক্কিলের পক্ষেই কার্যকর হবে—চাই প্রতিনিধি চুক্তিটি নিজের দিকে নিসবত করুক বা মুওয়াক্কিলের দিকে।

(ধারা ১৮৭)

যদি প্রতিনিধি আর্থিক বিনিময় চুক্তিটিকে নিজের দিকে নিসবত করে, তবে চুক্তির সকল অধিকার তার দিকেই বর্তাবে। সুতরাং যদি তা বিক্রয়, ইজারা অথবা বাদীর পক্ষ থেকে সন্ধি হয়, তবে সে-ই তার বিক্রিত বা ভাড়াকৃত বস্তু বুঝিয়ে দিতে দায়বদ্ধ থাকবে এবং সে-ই মূল্য, ভাড়া ও সন্ধির বিনিময় দাবি করার অধিকার লাভ করবে। আর যদি বিক্রিত বস্তু, ভাড়াকৃত বস্তু বা সন্ধিকৃত বস্তুর ওপর অন্য কারো স্বত্ব প্রমাণিত হয়, তবে ক্রেতা, ইজারাদার বা বিবাদী (যার সাথে সন্ধি হয়েছে) উক্ত প্রতিনিধির কাছেই মূল্য, ভাড়া বা সন্ধির বিনিময় ফেরতের দাবি জানাবে।

আর যদি সে বিবাদীর পক্ষ থেকে কোনো বস্তু ক্রয়, ইজারা বা সন্ধির প্রতিনিধি হয়, তবে তার অধিকার থাকবে ক্রয়কৃত বা ভাড়াকৃত বস্তু কবজা (দখল) করার এবং তার ওপরই তার মূল্য, ভাড়া বা সন্ধির বিনিময় পরিশোধ করা আবশ্যক হবে।

কিন্তু যদি সে চুক্তিটিকে তার মুওয়াক্কিলের দিকে নিসবত করে, তবে চুক্তির সকল অধিকার তার মুওয়াক্কিলের দিকেই বর্তাবে। এমতাবস্থায় চুক্তির ফলে উদ্ভূত কোনো অধিকার বা কর্তব্যের জন্য প্রতিনিধির ওপর কোনো দাবি থাকবে না এবং তার নিজেরও কোনো দাবি করার সুযোগ থাকবে না।

(ধারা ১৮৮)

যে পিতার অবস্থা অজ্ঞাত (অর্থাৎ যার বিশ্বস্ততা বা অযোগ্যতা সুস্পষ্ট নয়), তিনি যদি তার নাবালক সন্তান কিংবা পাগল বা নির্বোধ সাবালক সন্তানের সম্পদ বিক্রয় বা ইজারার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেন...