(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: -)
خطبة الكتاب المؤمل للرد إلى الأمر الأول القسم: أصول الفقه
الكتاب: خطبة الكتاب المؤمل للرد إلى الأمر الأول
المؤلف: أبو القاسم شهاب الدين عبد الرحمن بن إسماعيل بن إبراهيم المقدسي الدمشقي المعروف بأبي شامة (ت 665هـ)
قرأه وعلق عليه: جمال عزون
الناشر: أضواء السلف
الطبعة: الأولى، 1424هـ - 2003م
عدد الصفحات: 178
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ربيع الآخر 1436
খুতবাতুল কিতাব আল-মুআম্মাল লির-রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ
বই: খুতবাতুল কিতাব আল-মুআম্মাল লির-রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল
লেখক: আবুল কাসিম শিহাবউদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আল-মাকদিসি আদ-দিমাশকি, যিনি আবু শামা নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরি)
পাঠ ও টীকা প্রদান: জামাল আজজুন
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৮
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবিতাতুন নুসাখ দল, (মার্কাজুন নুখাব আল-ইলমিয়া)-এর তত্ত্বাবধানে
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي شرفنا بكلمة التوحيد وكرمنا بالاعتقاد السديد وأيدنا باتباع كتابه وسنة نبيه أحسن تأييد وسهل انتزاع الأحكام منهما على كل مجتهد مجيد وحبب إلينا الإيمان وزينه في قلوبنا وكره إلينا طريقة كل جبار عتيد وشيطان مريد ونوع أصناف خلقه في الدنيا وحصرهم في الآخرة بين شقي وسعيد ووعدهم على طاعته وأوعدهم على معصيته فهم راجون خائفون أبدا بين وعد ووعيد سبحانه هو المبدئ المعيد الوارث الشهيد وهو الغفور الودود ذو العرش المجيد فعال لما يريد له الحمد على نعمه التي لا تحصى وقد أمر بالتحدث بنعمته وله الشكر على ما أولى من التفقه في كتابه وسنته وصلواته وسلامه على سيدنا محمد خير بريته صلاة وتسليما باقيين على التأبيد وعلى آله وصحابته وأزواجه وذريته وأشياعه وعترته كما صلى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাওহীদের বাণী দ্বারা সম্মানিত করেছেন এবং সঠিক বিশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের মর্যাদাবান করেছেন। তিনি তাঁর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের সর্বোত্তমভাবে শক্তিশালী করেছেন এবং প্রত্যেক প্রজ্ঞাবান মুজতাহিদ (مجتهد)-এর জন্য এ দুটি উৎস থেকে বিধান আহরণ করা সহজ করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তা আমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন, আর আমাদের নিকট প্রত্যেক উদ্ধত স্বৈরাচারী ও অবাধ্য শয়তানের পথকে অপছন্দনীয় করেছেন। তিনি ইহকালে তাঁর সৃষ্টিজগতকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন এবং পরকালে তাদেরকে হতভাগা ও সৌভাগ্যবানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। তিনি তাঁর আনুগত্যের ওপর পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্যতার ওপর শাস্তির ধমক দিয়েছেন; ফলে তারা সর্বদা আশা ও ভীতির মাঝে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুমকির মধ্যে অবস্থান করে। তিনি পবিত্র, তিনিই আদি স্রষ্টা ও পুনরায় জীবনদানকারী, চিরস্থায়ী উত্তরাধিকারী ও সর্বদর্শী সাক্ষী। তিনি পরম ক্ষমাশীল, প্রেমময়, মহান আরশের অধিপতি এবং তিনি যা চান তা-ই করেন। তাঁর অগণিত নিয়ামতের জন্য সকল প্রশংসা, আর তিনি তাঁর নিয়ামতসমূহ আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর কিতাব ও সুন্নাহর গভীর জ্ঞান বা ফিকহ দান করার অনুগ্রহের জন্য তাঁরই কৃতজ্ঞতা। তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর, যিনি সৃষ্টির সেরা—এমন সালাত ও সালাম যা অনন্তকাল অব্যাহত থাকবে। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, পত্নীবৃন্দ, সন্তান-সন্ততি, অনুসারী ও বংশধরদের ওপর, যেমনিভাবে তিনি রহমত বর্ষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
على إبراهيم وعلى آل إبراهيم في العالمين إنه حميد مجيد. اللهم وصل على ملائكتك وأنبيائك وسائر رسلك وأوليائك وسلم عليهم أجمعين وبارك وعلى التابعين لهم بإحسان الذين هم صفوة العبيد وألحقنا بهم بلطفك ورحمتك وإن قصرنا في محاولة طاعتك وجنبنا طرق مخالفتك وقرب علينا فيما يرضيك كل بعيد واجعلنا يا ذا المنن والطول إذ لم يكن لنا إلا بك قوة ولا حول من الذين هدوا إلى الطيب من القول وهدوا إلى صراط الحميد
/ أما بعد:
فإن العلم قد درست أعلامه وقل في هذه الأزمان إتقانه وإحكامه، وآل به الإهمال إلى أن عدم احترامه، وترك إجلاله وإعظامه، فتدارك بعد المحافظة عليه انصرامه، حتى صعب مرامه، وكاد يجهل حلاله وحرامه، هذا مع حث الشرع عليه، ونظره بعين التبجيل إليه، ووصفه العلماء القائمين به بخشيتهم إياه ورفع درجتهم وضمه لهم مع الملائكة في شهادتهم.
قال الله تعالى: {إنما يخشى الله من عباده العلماء}
وقال: {شهد الله أنه لا إله إلا هو والملائكة وأولو العلم}
وقال: {يرفع الله الذين آمنوا منكم والذين أوتوا العلم درجات}
وقال: {وتلك الأمثال نضربها للناس وما يعقلها إلا العالمون}
ইব্রাহিম এবং সারা বিশ্বে ইব্রাহিমের পরিবার-পরিজনের ওপর (রহমত বর্ষিত হোক), নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি আপনার ফেরেশতা, নবীগণ, আপনার অন্যান্য সকল রাসূল এবং আপনার প্রিয় বান্দাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁদের সকলের ওপর শান্তি ও বরকত নাযিল করুন। আর নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের (التابعين) ওপরও রহমত বর্ষণ করুন, যাঁরা হলেন আপনার বান্দাদের মধ্যে মনোনীত। আপনার অনুগ্রহ ও করুণার মাধ্যমে আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যদিও আপনার আনুগত্যের চেষ্টায় আমাদের ত্রুটি রয়েছে। আপনার অবাধ্যতার পথসমূহ থেকে আমাদের দূরে রাখুন এবং যা আপনাকে সন্তুষ্ট করে এমন প্রতিটি দূরবর্তী বিষয়কে আমাদের নিকটবর্তী করে দিন। হে মহান দাতা ও শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহকারী! যেহেতু আপনার সাহায্য ব্যতীত আমাদের কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই, তাই আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাঁদেরকে পবিত্র বাক্যের দিশা দেওয়া হয়েছে এবং যাঁদেরকে প্রশংসিত আল্লাহর সরল পথের দিশা দেওয়া হয়েছে।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইলম বা জ্ঞানের নিদর্শনসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং বর্তমান যুগে এর নিপুণতা ও সুদৃঢ় চর্চা হ্রাস পেয়েছে। অবহেলার কারণে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এর সম্মান অবশিষ্ট নেই এবং এর মর্যাদা ও মহিমা প্রদান বর্জিত হয়েছে। একে যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাব এর বিলুপ্তি ঘটিয়েছে, এমনকি এর লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে এবং এর হালাল ও হারাম সম্পর্কে মানুষ প্রায় অজ্ঞ হয়ে পড়েছে। অথচ শরীয়ত জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করেছে, একে পরম শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখেছে এবং জ্ঞানচর্চাকারী আলেমদেরকে আল্লাহর ভীতিতে গুণান্বিত বলে বর্ণনা করেছে, তাঁদের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছে এবং সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের নাম ফেরেশতাদের সাথে যুক্ত করেছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করে।}
এবং তিনি বলেন: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, এবং ফেরেশতাগণ ও জ্ঞানীগণও (এই সাক্ষ্য দিয়েছেন)।}
এবং তিনি বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন।}
এবং তিনি বলেন: {আমি মানুষের জন্য এই সকল দৃষ্টান্ত বর্ণনা করি, কিন্তু কেবল জ্ঞানীগণই তা অনুধাবন করতে পারে।}
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وقال: {بل هو آيات بَيِّنات في صدور الذين أوتوا العلم}
وقال: {والراسخون في العلم يقولون آمنا به}
وقال: {هل يستوي الذين يعلمون والذين لا يعلمون}
إلى غير ذلك من الآيات التي فاز بها العالمون.
وأخبر الرسول المصطفى صلى الله عليه وسلم بفضل العالم وأنه يوم القيامة يشفع، وقال:
((إن الملائكة لتضع أجنحتها لطالب العلم رضًا بما يصنع))
أخرج أبو عبد الله بن يزيد بن ماجه القزويني في ((سننه)) وغيره من حديث أبان بن عثمان عن أبيه عثمان بن عفان رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يشفع يوم القيامة ثلاثة: الأنبياء ثم العلماء ثم الشهداء"
وقال بعض أهل العلم: أعظم بمرتبة هي واسطة بين النبوة والشهادة بشهادة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
এবং তিনি বলেছেন: {বরং যাদেরকে জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে, তাদের অন্তরে এটি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ।}
তিনি আরও বলেছেন: {আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলে: আমরা এতে ঈমান এনেছি।}
তিনি আরও বলেছেন: {যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?}
এ জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে যার মাধ্যমে আলিমগণ সফলকাম হয়েছেন।
আর মনোনীত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জ্ঞানীর শ্রেষ্ঠত্ব এবং কিয়ামতের দিন তাঁর সুপারিশ করার বিষয়ে সংবাদ প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন:
((নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর কর্মে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়।))
আবু আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদ বিন মাজাহ আল-কাযউইনি তাঁর সুনান এবং অন্যান্য গ্রন্থে আবান বিন উসমান সূত্রে তাঁর পিতা উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস উদ্ধৃত করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন তিনজন সুপারিশ করবেন: নবীগণ, তারপর আলিমগণ, অতঃপর শহীদগণ।"
কোনো কোনো বিজ্ঞ আলিম বলেছেন: এটি কতই না মহান এক মর্যাদা, যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাক্ষ্য অনুযায়ী নবুয়ত এবং শাহাদাতের মধ্যবর্তী এক যোগসূত্র।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وأخرج أبو داود والترمذي وابن ماجه وغيرهم في سننهم بأسانيدهم عن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
"من سلك طريقًا يلتمس فيه علما سلك الله به طريقا من طرق الجنة، وإن الملائكة لتضع أجنحتها لطالب العلم، وإن فضل العالم على العابد كفضل القمر ليلة البدر على سائر الكواكب، وإن العالم ليستغفر له من في السماوات ومن في الأرض حتى الحيتان في جوف الماء، وإن العلماء ورثة الأنبياء، إن الأنبياء لم يورثوا دينارا ولا درهما، وأورثوا العلم، فمن أخذه أخذ بحظ وافر)).
فليعلم أن العلم- كما قيل-:
أنفس ما طلبه الطالبون، وأجلُّ شيء رغب فيه الراغبون، وأفضل فضيلة سعى لها الفاضلون، باستثماره سعد الصالحون، وبانتحاء مناره فاز الفائزون، اتفق على شرفه الأمم وتطابقت، وتظاهرت الأدلة على تفضيله وتناصرت، فهو ساعد السعادة، وأس السيادة، والمرقاة إلى النجاة إلى في الدار الآخرة التي هي مطمح أمال الستبصرين، وغاية مضمار الموفقين.
আবু দাউদ, তিরমিযি, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্যরা তাঁদের সুনান গ্রন্থসমূহে তাঁদের নিজস্ব সনদসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
"যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পথসমূহের মধ্য থেকে একটি পথে পরিচালিত করেন। নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। একজন ইবাদতকারীর তুলনায় একজন আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব হলো সমস্ত তারকারাজির ওপর পূর্ণিমার চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, এমনকি পানির অভ্যন্তরের মাছও আলেমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। ওলামায়ে কেরাম হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন জ্ঞান। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক বিশাল সৌভাগ্যের অংশ লাভ করল।"
অতএব জেনে রাখা উচিত যে, জ্ঞান—যেমনটি বলা হয়েছে—:
অন্বেষণকারীদের অন্বেষণ করা সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু, আগ্রহীদের আগ্রহের সবচেয়ে মহান বিষয় এবং গুণীদের প্রচেষ্টার সর্বোত্তম গুণ। এর ব্যবহারের মাধ্যমেই নেককারগণ সৌভাগ্যবান হয়েছেন এবং এর আলোকবর্তিকার পথ অনুসরণের মাধ্যমেই সফলকামরা সফল হয়েছেন। সকল জাতি এর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে একমত হয়েছে এবং এর মর্যাদার বিষয়ে দলীলসমূহ (أدلة) সুস্পষ্ট ও সুসংহত হয়েছে। এটিই হলো সৌভাগ্যের সহায়ক, শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তি এবং পরকালে মুক্তির সোপান—যা দূরদৃষ্টিসম্পন্নদের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু এবং সফলকামদের প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত লক্ষ্য।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫১)
ومن كلام السلف:
لولا العلم لكان الناس كالبهائم.
مثل العالم في البلدة كالعين العذبة نفعها دائم.
قال ابو مسلم الخولاني رحمه الله: مثل العلماء في الأرض مثل النجوم في السماء
إذا بدت للناس اهتدوا، وإذا خفيت عليهم تحيروا. ومثل الصالحين مثل الأميال في الأرض ينجوا بها السالك من الضلالة.
وقال ميمون بن مهران: بنفسي العلماء، وجدت صلاح قلبي في مجالستهم، هم بغيتي في أرض غربة، وهم ضالتي إذا لم أجدهم.
وقال عمرو بن الحارث المصري: الشرف شرفان: شرف العلم، وشرف السلطان، وشرف العلم أشرفهما.
وقال يحيى بن أكثم: فلان عن فلان قال: قال: لا. قال: لكني أعرفه: رجل في
حلقة يقول: حدثنا فلان بن فلان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت: يا أمير المؤمنين هذا خير منك وأنت ابن عم رسول الله وولي عهد المسلمين؟ قال:
এবং সালাফ (سلف) গণের বাণীসমূহের মধ্যে রয়েছে:
যদি ইলম না থাকত, তবে মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় হতো।
কোনো জনপদে একজন আলেম (عالم) এর দৃষ্টান্ত হলো একটি সুপেয় ঝরনার ন্যায়, যার উপকারিতা চিরস্থায়ী।
আবু মুসলিম আল-খাওলানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: জমিনে আলেম (عالم) গণের দৃষ্টান্ত আসমানের নক্ষত্ররাজির ন্যায়
যখন সেগুলো মানুষের নিকট প্রকাশ পায়, তারা সঠিক পথ খুঁজে পায়; আর যখন সেগুলো তাদের নিকট আচ্ছন্ন হয়ে যায়, তারা বিভ্রান্তিতে পড়ে। আর নেককার (صالحين) ব্যক্তিদের দৃষ্টান্ত হলো জমিনের মাইলফলকসমূহের ন্যায়, যার মাধ্যমে পথচারী পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্তি পায়।
মাইমুন বিন মিহরান বলেছেন: আলেম (عالم) গণের জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গিত হোক, তাঁদের মজলিসে আমি আমার অন্তরের সংশোধন খুঁজে পেয়েছি; প্রবাসের ভূমিতে তাঁরাই আমার অন্বেষণ এবং যখন তাঁদের খুঁজে পাই না, তখন তাঁরাই আমার হারানো সম্পদ।
আমর ইবনুল হারিস আল-মিসরি বলেছেন: মর্যাদা দুই প্রকার: ইলমের মর্যাদা এবং সুলতান বা ক্ষমতার মর্যাদা; আর ইলমের মর্যাদাই এ দুটির মধ্যে অধিক শ্রেষ্ঠ।
ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম বলেছেন: অমুক ব্যক্তি অমুক হতে (عن) বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন: তিনি কি বলেছেন? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: কিন্তু আমি তাকে চিনি: মজলিসের একটি হালকায় বসা এক ব্যক্তি বলছেন: অমুকের পুত্র অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন... আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, এই ব্যক্তি কি আপনার চেয়েও উত্তম, অথচ আপনি রাসূলুল্লাহর চাচাতো ভাই এবং মুসলিমদের উত্তরাধিকারী? তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫২)
نعم، ويلك هذا خير مني لأن اسمه مقترن باسم رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يموت أبدًا نحن نموت ونفنى والعلماء باقون / ما بقي الدهر.
وقال ذو النون المصري:
الناس كلهم موتى إلا العلماء، والعلماء كلهم نيام إلا العاملين، والعاملون كلهم مغترون إلا المخلصين، والمخلصون، والمخلصون على خطر عظيم.
[قال الله تعالى: {ليسأل الصادقين عن صدقهم}]
ما أحسن هذا الكلام، وما أوقعه في قلوب الموفقين من سامعيه، نسأل الله تعالى العمل بالعلم والإخلاص فيه.
ويروي للقاضي أبي محمد عبد الوهاب المالكي رحمه الله تعالى:
وا لهف نفسي على شيئين لو جمعا
… عندي لكنت امراءاً من أسعد البشر
كفاف عيش كفاني ذل مسألة
… وخدمة العلم حتى ينقضي عمري
হ্যাঁ, ধিক তোমার প্রতি! এ ব্যক্তি আমার চেয়েও শ্রেষ্ঠ; কারণ তাঁর নাম রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামের সাথে যুক্ত হয়ে আছে, যা কখনো বিলীন হবে না। আমরা মারা যাব ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব, কিন্তু আলেমগণ অবশিষ্ট থাকবেন যতদিন মহাকাল অবশিষ্ট থাকবে।
এবং যুন-নুন আল-মিসরি বলেছেন:
সকল মানুষই মৃত সমান কেবল আলেমগণ ব্যতীত, আর সকল আলেমই সুপ্ত কেবল আমলকারীগণ ব্যতীত, আর সকল আমলকারীই মোহগ্রস্ত কেবল মুখলিসগণ ব্যতীত, আর মুখলিসগণ এক মহান আশঙ্কার ওপর রয়েছেন।
[মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যাতে তিনি সত্যবাদীদের তাঁদের সত্যবাদিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন}]
কতই না চমৎকার এই বাণী! আর শ্রবণকারীদের মধ্যে যারা তাওফিকপ্রাপ্ত, তাদের অন্তরে এটি কতই না গভীর প্রভাব বিস্তার করে! আমরা মহান আল্লাহর কাছে ইলম অনুযায়ী আমল করার এবং তাতে ইখলাস বজায় রাখার তাওফিক প্রার্থনা করছি।
কাজি আবু মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব আল-মালিকি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে:
হায় আফসোস আমার প্রাণের প্রতি! দুটি বিষয় যদি আমার কাছে একত্রিত হতো
… তবে আমি হতাম মানবজাতির মধ্যে পরম সৌভাগ্যবান এক ব্যক্তি।
জীবন ধারণের জন্য পর্যাপ্ত জীবিকা—যা আমাকে অন্যের কাছে হাত পাতার লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি দেবে
… আর আমৃত্যু ইলমের খিদমত।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
وللعلامة أبي القاسم الزمخشري:
وكل فضيلة فيها سناء
… وجدت العلم من هاتيك أسمى
فلا تعتد غير العلم ذخرا
… فإن العلم كنز ليس يفنى
فصل
وانضم إلى شرف العلم أن طلبه من أحسن العبادات وأفضلها، والتقرب به إلى الله تعالى من القربات وأكملها.
جاء عن إمامنا أبي عبد الله محمد بن إدريس الشافعي رحمه الله عليه أنه قال:
ما تقرب إلى الله عز وجل بعد أداء الفريضة بأفضل من طلب العلم.
هذه رواية حرملة بن يحي عنه.
وفي رواية الربيع بن سليمان عنه قال: طلب العلم أفضل من صلاة النافلة.
وفي رواية أخرى عنه: ليس بعد أداء الفرائض شيء أفضل من طلب العلم
قيل: ولا الجهاد في سبيل الله؟ قال: ولا الجهاد في سبيل الله.
আল্লামা আবুল কাসিম আল-জামাখশারী বলেন:
প্রতিটি ফযিলত যাতে মহিমা বিদ্যমান
… আমি ইলমকে সেগুলোর মাঝে সর্বোচ্চ পেয়েছি
সুতরাং ইলম ছাড়া অন্য কিছুকে সঞ্চয় মনে করো না
… কেননা ইলম এমন এক ধনভাণ্ডার যা কখনো নিঃশেষ হয় না
পরিচ্ছেদ
ইলমের মর্যাদার সাথে এই বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে যে, এটি অন্বেষণ করা সর্বোত্তম ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করা নৈকট্য লাভের মাধ্যমসমূহের মধ্যে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ।
আমাদের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:
ফরজ ইবাদতসমূহ পালনের পর ইলম অন্বেষণের চেয়ে উত্তম আর কোনো কিছুর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় না।
এটি তাঁর নিকট থেকে হারমালা ইবনে ইয়াহইয়ার বর্ণনা (رواية)।
তাঁর থেকে রাবি ইবনে সুলায়মানের বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেছেন: ইলম অন্বেষণ নফল নামাজের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: ফরজসমূহ আদায়ের পর ইলম অন্বেষণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই।
জিজ্ঞাসা করা হলো: আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়? তিনি বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদও নয়।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
وروي معنى ذلك عمن تقدم الشافعي من التابعين وأتباهم رضي الله عنهم.
جا. عن الحسن البصري أنه قال: ما أعلم شيئا أفضل من الجهاد في سبيل الله إلا أن يكون طلب العلم فإنه أفضل من الجهاد في سبيل.
وقال الإمام أبو عبد الله سفيان من سعيد الثوري: لا أعلم شيئا من الاعمال
أفضل من طلب الحديث لمن حسنت نيته فيه.
وروي مثله عن صاحبه عبد الله بن المبارك.
/ وقال الإمام أبو عمرو الاوزاعي: من تعلم بابا من العلم كان أفضل من عبادة
حول يصام نهاره، ويقام ليله.
وقال سليمان التيمي: كنا في مجلس نتذاكر فيه الفقه والسنن ومعنا أبو مجلز،
فقال رجل: لو قرأتم سورة. فقال أبو مجلز: ما نرى أن قراءة سورة أفضل مما نحن فيه.
ইমাম শাফিঈর পূর্ববর্তী তাবিঈ (التابعين) এবং তাঁদের অনুসারীদের (أتباعهم) (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে অনুরূপ অর্থ বর্ণিত হয়েছে।
হাসান বসরী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো কাজ সম্পর্কে আমার জানা নেই, তবে ইলম অন্বেষণ করা ব্যতীত; কেননা এটি আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।"
এবং ইমাম আবু আবদুল্লাহ সুফিয়ান ইবনে সাঈদ সাওরি বলেছেন: "আমি আমলসমূহের মধ্যে এমন কিছু জানি না
যা সেই ব্যক্তির জন্য হাদিস অন্বেষণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যার নিয়ত বা সংকল্প সঠিক হয়েছে।"
এবং তাঁর সহচর আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
এবং ইমাম আবু আমর আওযাঈ বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইলমের একটি অধ্যায় শিক্ষা করল, তা এমন এক বছরের ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ
যার দিনে রোজা রাখা হয় এবং রাতে কিয়াম করা (নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা) হয়।"
সুলাইমান আত-তাইমি বলেন: "আমরা একটি মজলিসে ফিকহ (الفقه) এবং সুন্নাহ (السنن) নিয়ে আলোচনা করছিলাম এবং আমাদের সাথে আবু মিজলাযও ছিলেন।
তখন এক ব্যক্তি বলল: 'আপনারা যদি একটি সূরা তিলাওয়াত করতেন'। তখন আবু মিজলায বললেন: 'আমরা মনে করি না যে একটি সূরা তিলাওয়াত করা আমরা যে কাজে লিপ্ত আছি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ'।"
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
وقال ابن عبد الحكم: كنت عند مالك أقرأ عليه العلم، فدخل وقت الظهر، فجمعت الكتب لأصلي فقال: يا هذا ما الذي قمت إليه بأفضل مما كنت فيه إذا صحت النية.
يعني قيامه لأحراز فضيلة أول الوقت والله أعلم.
وصح عن الإمام أبي عبد الله أحمد بن حنبل أنه قال لابنه عبد الله لما قدم أبو زرعة الرازي من الري إلى بغداد: يا يبني قد اعتضت عن نوافلي بمذاكرة هذا الشيخ.
وكل هؤلاء من أئمة الهدى، الذين بهم يقتدى، وجاء مثل ذلك عن الصحابة رضي الله عنهم موقوفاً ومرفوعاَ.
قال ابن عباس: مذاكرة العلم ساعة خير من إحياء ليلة.
ইবনে আবদিল হাকাম বর্ণনা করেন: আমি ইমাম মালিকের নিকট ইলম পাঠ করছিলাম, এমন সময় যোহরের ওয়াক্ত হলো। আমি সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে কিতাবগুলো গুছিয়ে নিলাম। তখন তিনি বললেন: হে লোক! যদি তোমার নিয়ত সঠিক (صحت) হয়, তবে তুমি যে কাজের (সালাতের) দিকে অগ্রসর হচ্ছ তা তুমি যে কাজে (ইলম চর্চায়) নিযুক্ত ছিলে তার চেয়ে অধিক উত্তম নয়।
অর্থাৎ, ওয়াক্তের শুরুর ফজিলত অর্জনের জন্য তাঁর দণ্ডায়মান হওয়া; আর আল্লাহই ভালো জানেন।
ইমাম আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন আবু যুরআ আর-রাজি রাই থেকে বাগদাদে এলেন, তখন তিনি তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে বললেন: হে বৎস! আমি আমার নফল ইবাদতের পরিবর্তে এই শাইখের সাথে ইলমি মুজাকারা বা জ্ঞানগর্ভ আলোচনাকে গ্রহণ করে নিয়েছি।
তাঁরা সকলেই হিদায়াতের ইমাম, যাঁদের অনুসরণ করা হয়। সাহাবীগণ থেকে এ ধরনের বর্ণনা মওকুফ (موقوف) এবং মারফু (مرفوع) উভয় সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে আব্বাস বলেন: এক মুহূর্তের ইলমি মুজাকারা এক রাত জেগে ইবাদত করার চেয়ে উত্তম।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وقال ابن مسعود: لأن أجلس في مجلس فقه ساعة أحب إلي من صيام يوم وقيام ليلة.
وروي مرفوعاَ إلى النبي صلى الله عليه وسلم: ((فضل العلم خير من فضل العبادة، وخير دينكم الورع)).
وقال أبو سلمة بن عبد الرحمن: قال أبو هريرة وأبو ذر: باب من العلم نتعلمه أحب إلينا من ألف ركعة تطوع، وباب نعلمه عملنا به أو لم نعمل أحب إلينا من مائة ركعة تطوعا. وقالا: سمعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إلى إذا جاء طالب العلم وهو على هذه الحال مات وهو شهيد.
ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: ফিকহের (আইনশাস্ত্রের) মজলিসে এক মুহূর্ত বসা আমার কাছে একদিনের রোজা এবং এক রাতের কিয়াম অপেক্ষা অধিক প্রিয়।
এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফূ (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: "জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব ইবাদতের শ্রেষ্ঠত্বের চেয়ে উত্তম, এবং তোমাদের দ্বীনের শ্রেষ্ঠ বিষয় হলো পরহেজগারি (الورع)।"
আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান হতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা ও আবু যার (রা.) বলেন: ইলমের একটি অধ্যায় যা আমরা শিখব, তা আমাদের নিকট এক হাজার রাকাত নফল (تطوع) ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয়; আর ইলমের একটি অধ্যায় যা আমরা শিক্ষা দেব—চাই তা দ্বারা আমাদের আমল অর্জিত হোক বা না হোক—তা আমাদের নিকট একশত রাকাত নফল (تطوع) ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয়। তাঁরা আরও বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যখন কোনো ইলম অন্বেষণকারীর নিকট এই অবস্থায় মৃত্যু আসে, তখন সে শহীদ (شهيد) হিসেবে মৃত্যুবরণ করে।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
وعن أبي بكر الهذلي، عن عون بن عبد الله أن رجلا جاء إلى أبي ذر فقال له: يا أبا ذر إني أريد أن أتعلم العلم وأخاف أن أضيعه. قال له: تعلم العلم فإنك إن مت عالما خير لك من أن تموت جاهلا. ثم جاء إلى أبي الدرداء فقال له: يا أبا الدرداء إني أريد أن أتعلم العلم وأخاف أن أضيعه. فقال / له: تعلم العلم فإنك أن توسد العلم خير من أن توسد الجهل. ثم جاء إلى أبي هريرة فقال: [يا أبا هريرة إني أريد أن أتعلم العلم وأخاف أن أضيعه].
فقال له أبو هريرة: تعلم العلم فإنك لن تجد له إضاعة أشد من تركه.
وفي روا ية قال أبو ذر: إنك أن توسد العلم خير من أن توسد الجهل.
وقال أبو الدرداء: إن الناس يبعثون من قبورهم على ما ماتوا عليه، فيبعث العالم عالما والجاهل جاهلا. وقال أبو هريرة ما أنت بواجد شيئا أضيع له من تركه.
আবু বকর আল-হুজালি থেকে বর্ণিত, তিনি আউন বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি আবু যার (রা.)-এর নিকট এসে তাকে বললেন: হে আবু যার, আমি ইলম অর্জন করতে চাই কিন্তু আমি তা হারিয়ে ফেলার ভয় করি। তিনি তাকে বললেন: তুমি ইলম অর্জন করো, কারণ আলেম (عالم) হিসেবে তোমার মৃত্যুবরণ করা জাহেল (جاهل) হিসেবে মৃত্যুবরণ করার চেয়ে অনেক উত্তম। অতঃপর তিনি আবু দারদা (রা.)-এর নিকট এসে তাকে বললেন: হে আবু দারদা, আমি ইলম অর্জন করতে চাই কিন্তু আমি তা হারিয়ে ফেলার ভয় করি। তিনি তাকে বললেন: তুমি ইলম অর্জন করো, কারণ ইলমকে শিয়রে ধারণ করা মূর্খতাকে শিয়রে ধারণ করার চেয়ে উত্তম। অতঃপর তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-এর নিকট এসে বললেন: [হে আবু হুরায়রা, আমি ইলম অর্জন করতে চাই কিন্তু আমি তা হারিয়ে ফেলার ভয় করি]।
অতঃপর আবু হুরায়রা (রা.) তাকে বললেন: তুমি ইলম অর্জন করো, কেননা ইলম বর্জন করার চেয়ে বড় কোনো অপচয় তুমি আর খুঁজে পাবে না।
অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) আবু যার (রা.) বলেন: তোমার জন্য ইলমকে শিয়রে ধারণ করা মূর্খতাকে শিয়রে ধারণ করার চেয়ে উত্তম।
আবু দারদা (রা.) বলেন: মানুষকে তাদের কবরের ভেতর থেকে সে অবস্থাতেই পুনরুত্থিত করা হবে যে অবস্থায় তারা মৃত্যুবরণ করেছে; ফলে আলেম (عالم) আলেম রূপেই এবং জাহেল (جاهل) জাহেল রূপেই পুনরুত্থিত হবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: তুমি ইলম বর্জন করার চেয়ে এর জন্য অধিক ক্ষতিকর আর কিছু পাবে না।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وفي رواية قال أبو ذر: إن تفترش العلم خير من أن تفترش الجهل. وقال أبو هريرة: كفى بترك العلم إضاعة. قال الحسن البصري: وكان أبو هريرة من أحسن القوم كلاماً.
صدق وبر فإنا مأمورون بالعلم وبالعمل، فلا ينبغي أن يحملنا تقصيرنا في العمل على أن نقصر في تحصيل العلم، فنكون قد خالفنا الأمر فيهما، مع أنه يرجى من بركة العلم النافع أنه يفضى بصاحبه إلى العمل، فقد جاء عن جماعة من أكابر التابعين وأتباعهم في العلم والدين أنهم قالوا: تعلمنا العلم لغير الله فأبى أن يكون إلا لله.
وقال بعضهم: تعلمنا العلم وما لنا فيه كبير نية ثم رزقنا الله النية بعد.
فهذا تفسير قول من قال: ((تعلمناه لغير الله فأبى أن يكون إلا لله)) أى فحصلت النية.
এক বর্ণনায় (رواية) আবু যার (রা.) বলেন: ইলমকে শয্যা বানানো অজ্ঞতাকে শয্যা বানানো অপেক্ষা উত্তম। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন: ইলম অর্জন বর্জন করাই তা বিনষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। হাসান বসরী (রহ.) বলেন: আবু হুরাইরা (রা.) ছিলেন লোকেদের মাঝে সর্বাধিক সুন্দর বাচনভঙ্গির অধিকারী।
তিনি সত্য ও ন্যায়সঙ্গত বলেছেন; কেননা আমরা ইলম অর্জন এবং আমল করার জন্য আদিষ্ট। সুতরাং আমলের ক্ষেত্রে আমাদের শিথিলতা যেন ইলম অর্জনে অবহেলা করতে আমাদের প্ররোচিত না করে, অন্যথায় আমরা উভয় ক্ষেত্রেই নির্দেশ লঙ্ঘনকারী সাব্যস্ত হব। অথচ উপকারী ইলমের বরকত থেকে এই আশা করা হয় যে, এটি তার অধিকারীকে আমলের দিকে ধাবিত করবে। ইলম ও দ্বীনের ক্ষেত্রে একদল মহান তাবেয়ী (تابعين) এবং তাঁদের অনুসারী তাবে-তাবেয়ীদের (أتباع التابعين) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা বলেছিলেন: আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করেছিলাম, কিন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে হতে ইলম তা অস্বীকার করল।
তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: আমরা যখন ইলম অর্জন করি তখন আমাদের তাতে বিশেষ কোনো নিয়ত ছিল না, অতঃপর আল্লাহ পরবর্তীতে আমাদের নিয়ত দান করেছেন।
এটিই হলো সেই উক্তির ব্যাখ্যা যারা বলেছেন: "আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে ইলম শিখেছিলাম, কিন্তু এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হতে অস্বীকৃতি জানালো", অর্থাৎ পরবর্তীতে নিয়ত হাসিল হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
وذكر الغزالي في ((كتاب الأحياء)) أن بعضهم قال: معناه أن العلم أبى وامتنع علينا فلم تنكشف لنا حقيقته، وإنما حصل لنا حديثه وألفاظه.
والتفسير الأول إذ بعض الروايات فسر بعضا، ووقع هذا القول من جماعة أكابر لا يظن بهم سوى المعنى الأول.
قال سماك بن حرب: طلبنا هذا الأمر ونحن لا نريد الله به، فلما بلغت حاجتي دلني على ما ينفعني، وحجزني عما يضرني.
فهذا معنى ما ذهبوا إليه يرحمهم الله.
/فصل
ثم أفضل العلوم بعد معرفة الله تعالى معرفة أحكامه وتكاليفه التي بعث بها الرسل، وأوضح لها السبل، وهي المعالم الدينية. ثم علم الفقه المستخرج من ذينك الأصلين، الكافل لمن قام به على الوجه المأمور به فضلا بل فضلين، وإلى
ইমাম আল-গাজালি ‘কিতাবুল ইহয়া’-তে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো ইলম আমাদের কাছে ধরা দিতে অস্বীকার ও বিমুখতা প্রকাশ করেছে, ফলে এর প্রকৃত বাস্তবতা আমাদের নিকট উন্মোচিত হয়নি; বরং আমাদের কাছে কেবল এর হাদিস ও শব্দাবলিই পৌঁছেছে।
আর প্রথম ব্যাখ্যাটিই অগ্রগণ্য, যেহেতু বর্ণনার (روايات) একাংশ অন্য অংশকে ব্যাখ্যা করে। আর এই উক্তিটি এমন একদল মহান মনীষীর পক্ষ থেকে এসেছে যাদের ব্যাপারে প্রথম অর্থটি ব্যতীত অন্য কিছু ধারণা করা যায় না।
সিমাক ইবনে হারব বলেন: আমরা এই ইলম অন্বেষণ করেছি এমন অবস্থায় যখন আমরা এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্প করিনি। অতঃপর যখন আমি আমার উদ্দেশ্যস্থলে পৌঁছলাম, তখন তা আমাকে আমার জন্য যা উপকারী তার দিকে পথপ্রদর্শন করল এবং যা ক্ষতিকর তা থেকে আমাকে বিরত রাখল।
তাদের অবলম্বিত মতাদর্শের সারমর্ম এটাই, আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন।
/পরিচ্ছেদ
অতঃপর আল্লাহ তাআলার মারেফাত বা পরিচয় লাভের পর সর্বোত্তম জ্ঞান হলো তাঁর বিধানসমূহ (أحكام) এবং সেই অর্পিত দায়িত্বসমূহ (تكاليف) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যা নিয়ে রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছেন এবং যার পথসমূহ তিনি সুস্পষ্ট করেছেন; আর এগুলোই হলো দ্বীনি নিদর্শন। এরপর হলো সেই ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের জ্ঞান যা উক্ত দুটি মূলনীতি (أصلين) থেকে উৎসারিত, যা নির্দেশিত পন্থায় যথাযথভাবে পালনকারীর জন্য একটি নয় বরং দুটি শ্রেষ্ঠত্বের নিশ্চয়তা প্রদান করে। এবং...
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬০)
ذلك الإشارة بقوله صلى الله عليه وسلم في حديث عبد الله بن عمرو بن العاص: ((العلم ثلاثة وما سوى ذلك فضل: آية محكمة، وسنة قائمة وفريضة عادلة)) أخرجه أبو داود وابن ماجة في سننهما.
وفي الصحيحين من حديث معاوية أبن أبي سفيان قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين)) وفيهما أيضا من حديث أبي هريرة قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((الناس معادن خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا))
وفي جامع الترمذي عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((خصلتان لا تجتمعان في منافق: حسن سمت، وفقه في الدين)).
এটিই নির্দেশিত হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে: ((জ্ঞান তিন প্রকার এবং এছাড়া যা আছে তা অতিরিক্ত: সুস্পষ্ট আয়াত (آية محكمة), প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ (سنة قائمة) এবং ন্যায়সঙ্গত ফরজ (فريضة عادلة)))। এটি আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ তাঁদের সুনান গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
এবং সহিহাইন-এ মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: ((আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (فقه) দান করেন))। এবং উক্ত গ্রন্থদ্বয়ে আবু হুরায়রার হাদিসে আরও এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((মানুষ হলো খনির মতো; তাদের মধ্যে যারা জাহেলি যুগে শ্রেষ্ঠ ছিল, ইসলামেও তারা শ্রেষ্ঠ যদি তারা গভীর প্রজ্ঞা (فقه) অর্জন করে))।
এবং জামে তিরমিজিতে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
((দুটি গুণ কোনো মুনাফিকের (منافق) মধ্যে একত্র হয় না: সুন্দর আচরণ এবং দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (فقه)))।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وفي الحديث:
((فقيه واحد أشد على الشيطان من ألف عابد. لكل شيء عماد وعماد الدين الفقه. ما عبد الله بشيء أفضل من فقه في الدين)).
وعن عمر بن علي بن أبي طالب رفعه: ((نعم الرجل الفقيه إن احتيج إليه انتفع به، وإن استغنى عنه أغنى نفسه)).
وقال علي الأزدي: سألت ابن عباس عن الجهاد؟ فقال: ألا أدلك على ما هو خير لك من الجهاد؟ تبنى مسجدا فتعلم فيه القرآن والفقه في الدين أو قال السنة.
وعن كعب أن الحواريين قالوا لعيسى بن مريم عليهما السلام: يا روح الله هل بعدنا من أمة؟ قال: نعم أمة أحمد، حكماء علماء، أبرار أتقياء، كأنهم
আর একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
((শয়তানের নিকট এক হাজার ইবাদতকারীর চেয়ে একজন ফকিহ (فقيه) তথা ফিকহবিদ ব্যক্তি অধিক কঠোর। প্রত্যেক বিষয়ের একটি স্তম্ভ রয়েছে এবং দ্বীনের স্তম্ভ হলো ফিকহ (الفقه)। দ্বীনের প্রজ্ঞা বা ফিকহ অপেক্ষা উত্তম আর কোনো বিষয়ের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি।))
আর উমর ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব হতে মারফু (رفعه) সূত্রে বর্ণিত: ((ফকিহ (الفقيه) ব্যক্তি কতই না চমৎকার! যদি তার প্রয়োজন হয় তবে তার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, আর যদি তার প্রয়োজন না থাকে তবে সে নিজেই নিজের জন্য যথেষ্ট হয়।))
আলী আল-আজদি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে জিহাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে এমন কাজের সন্ধান দেব না যা তোমার জন্য জিহাদের চেয়েও উত্তম? তুমি একটি মসজিদ নির্মাণ করবে এবং সেখানে কুরআন ও দ্বীনের ফিকহ (الفقه) অথবা তিনি বললেন সুন্নাহ (السنة) শিক্ষা দেবে।
আর কাব হতে বর্ণিত যে, হাওয়ারিগণ ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-কে বললেন: হে রুহুল্লাহ! আমাদের পরে কি আর কোনো উম্মত আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আহমদের উম্মত; তারা প্রজ্ঞাবান, আলেম (علماء), পুণ্যবান ও মুত্তাকি (أتقياء), তারা যেন...
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬২)
من الفقه أنبياء، يرضون من الله باليسير من الرزق، ويرضى الله منهم باليسير من العمل.
وقال سفيان بن عيينة:/ لم يعط أحد بعد النبوة شيئاً أفضل من العلم والفقه.
والله در القائل:
كل العلوم سوى القرآن مشغلة
… إلا الحديث والفقه في الدين
ولقد أحسن الآخر في قوله:
غاية العلم بعيد غورها
… إنما العلم بحور زاخرة
فعليك الفقه منه تحتوي
… شرف الدنيا والآخرة
فالفقه عميم الفائدة عظيم الجدوى، وإليه المرجع في الأحكام والفتوى،
فليطلب بفضل عناية مصحوبة بالتقوى، فهو ثمرة تلك الأصول المباركة والطريقة
المثلى.
واعلم أن استخراج مسائل الفقه وتحقيقها متوقف على إحكام علم أصول الفقه، وإتقان كل هذه العلوم متوقف على التبحر في معرفة علم اللسان العربي، من وجوهه وطرقه ومجازه ومجازي استعماله؛ ولهذا ضل كثير ممن
ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) অর্জনকারীদের মধ্যে নবীদের বৈশিষ্ট্য থাকে, তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে যৎসামান্য রিযিকেই সন্তুষ্ট থাকেন এবং আল্লাহও তাঁদের পক্ষ থেকে সামান্য আমলেই সন্তুষ্ট হন।
সুফিয়ান বিন উয়াইনা বলেছেন: নবুয়তের পর কাউকে ইলম (জ্ঞান) এবং ফিকহ-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু প্রদান করা হয়নি।
আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক সেই কবির ওপর যিনি বলেছেন:
কুরআন ব্যতীত যাবতীয় শাস্ত্রই কেবল চিত্তবিক্ষেপ
… কেবল হাদিস এবং দ্বীনের ফিকহ ব্যতীত।
অন্য একজন কবির উক্তিটিও কত চমৎকার:
জ্ঞানের গভীরতা পরিমাপ করা দুঃসাধ্য
… ইলম তো এক উত্তাল সমুদ্র।
সুতরাং তুমি ফিকহ অর্জন করো, এর মাধ্যমেই তুমি লাভ করবে
… দুনিয়া ও আখেরাতের মর্যাদা।
ফিকহ-এর উপকারিতা অত্যন্ত ব্যাপক এবং এর সুফল অতি মহৎ, আর যাবতীয় বিধান ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে এটিই হলো মূল নির্ভরস্থল।
অতএব, তাকওয়ার সাথে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে তা অন্বেষণ করা উচিত; কেননা এটিই হলো সেই বরকতময় মূলনীতিসমূহের (أصول) ফল এবং সর্বোত্তম পন্থা।
জেনে রাখুন যে, ফিকহের মাসআলাসমূহ উদ্ভাবন এবং সেগুলোর সঠিক বিশ্লেষণ (تحقيق) উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জনের ওপর নির্ভরশীল। আর এই সকল বিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করা আরবি ভাষার জ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জনের ওপর নির্ভরশীল—সেটির বিভিন্ন দিক, প্রয়োগরীতি, রূপক (مجاز) এবং আলঙ্কারিক ব্যবহার সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া প্রয়োজন। আর এই কারণেই এমন অনেকেই পথভ্রষ্ট হয়েছেন যারা...
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
جهله فزلوا في علم الأصول والفروع أنواعاً من الزلل، وأخطؤوا فيها ضروباً من الخطأ والخطل. قال أبو عبيد: سمعت الأصمعي يقول: سمعت الخليل بن أحمد يقول سمعت أيوب السختياني يقول: عامة من تزندق بالعراق لجهلهم بالعربية.
وقال الزهري: إنما أخطأ الناس في كثير من تأويل القرآن لجهلهم بلغة العرب.
قلت:
وسبب الخطأ حمل الألفاظ مطلقاً على ظواهرها، وانصراف الأذهان عن مجاري كلام العرب، والغفلة عن كثرة تصرفاته تفننه ومذاهبه التي لا يعقلها إلا العالمون به. وهو لغة صاحب الشريعة المنزل على لغته كلام مرسله، المبلغ ما أنزل إليه من ربه المبين له صلى الله عليه وسلم.
وكل علم من هذه العلوم بحر زاخر، لا يحصل على درره إلا كل سابح ٍ غواصٍ ماهرٍ، ولا سبيل إلى الإحاطة بجميعها لفاضل، فليمتثل ما / أشار إليه القائل:
ما حوى العلم جميعا أحد
… لا ولو مارسه ألف سنه
إنما العلم بعيد غوره
… فخذوا من كل شيء أحسنه
قيل لبعض الحكماء: من يعرف كل العلم؟ فقال: كل الناس.
يعني كل العلم الذي آتاه الله خلقه لا يعرفه إلا جميعهم، ولا يعرف العلم بأسره مطلقاً إلا خالقهم عز وجل.
তারা এটি সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল, যার ফলে তারা মূলনীতি (الأصول) এবং শাখা-প্রশাখা (الفروع) সংক্রান্ত জ্ঞানে বিভিন্ন প্রকার পদস্খলনের শিকার হয়েছে এবং তাতে নানাবিধ ভুল ও ভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়েছে। আবু উবাইদ বলেন: আমি আসমায়িকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি খলিল ইবনে আহমদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আইয়ুব সাখতিয়ানিকে বলতে শুনেছি: ইরাকে যারা ধর্মদ্রোহিতায় (تزندق) লিপ্ত হয়েছে, তাদের অধিকাংশের মূল কারণ ছিল আরবি ভাষা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা।
ইমাম যুহরি বলেন: মানুষ কুরআনের অনেক ব্যাখ্যা (تأويل) করতে গিয়ে ভুল করেছে কেবল আরবদের ভাষা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে।
আমি বলি:
এই ভুলের কারণ হলো শব্দাবলিকে ঢালাওভাবে তার বাহ্যিক অর্থের (ظواهرها) ওপর প্রয়োগ করা, আরবদের বাকপদ্ধতি থেকে মনোযোগ বিচ্যুত হওয়া এবং ভাষার বহুবিধ ব্যবহার, কলাকৌশল ও বৈচিত্র্যময় শৈলী সম্পর্কে উদাসীন থাকা—যা কেবল বিজ্ঞ পণ্ডিতগণই উপলব্ধি করতে পারেন। অথচ এটিই হলো শরয়ি বিধানদাতার ভাষা, যাঁর ভাষায় তাঁর প্রেরকের কালাম অবতীর্ণ হয়েছে; যিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচারকারী এবং সুস্পষ্টকারী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
এই ইলমসমূহের প্রতিটিই এক একটি উত্তাল সমুদ্র। দক্ষ ডুবুরি ছাড়া কেউ এর মুক্তা আহরণ করতে পারে না। কোনো গুণী ব্যক্তির পক্ষেই এ সবগুলোকে পূর্ণাঙ্গরূপে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। সুতরাং কবি যা / ইঙ্গিত করেছেন, তা যেন অনুসরণ করা হয়:
সমস্ত ইলম কেউই একত্রে আয়ত্ত করতে পারেনি
… এমনকি সে যদি এক হাজার বছর ধরে তা চর্চা করে।
ইলমের গভীরতা তো অত্যন্ত অতলস্পর্শী
… তাই তোমরা প্রতিটি বিষয় থেকে তার শ্রেষ্ঠ অংশটুকু গ্রহণ করো।
জনৈক প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হলো: কে সমস্ত ইলম জানে? তিনি বললেন: সব মানুষ মিলে।
অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতকে যে পরিমাণ ইলম দান করেছেন, তা কেবল তাদের সবাই মিলেই জানে। আর সামগ্রিকভাবে সমস্ত ইলম সম্পর্কে নিরঙ্কুশভাবে কেবল তাদের স্রষ্টা মহান আল্লাহই অবগত।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
فصل
والفقه كان شعار أكثر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين صحبوه ولازموه، ورزقوا فهم ما تلقوه عنه وسمعوه، كالخلفاء الأربعة وباقي العشرة وابن مسعود ومعاذ وأبي وزيد بن ثابت وأبي موسى وأبي الدرداء وعائشة وابن عمر وابن عباس وبن عمرو وابن الزبير وأبي سعيد وأبي هريرة وجابر بن عبد الله وغيرهم.
ونقل الفقه أيضاً عن غيرهم في مواضع قليلة كأبي ذر وعمار وحذيفة وسلمان وعبادة بن الصامت وأبي مسعود وفضالة وواثلة وخالد ومعاوية وعمرو بن العاص وأم سلمة وأسماء بنت أبي بكر الصديق والحسن والحسين رضي الله عنهم أجمعين.
والأولون اشتهروا به وكثرت فتاويهم فيه، وأكثرهم في ذلك تسعة: عمر وعلى وابن مسعود وأبي وزيد وأبو موسى وعائشة وابن عمر وابن وعباس رضي الله عنهم.
والذين اشتهروا من هؤلاء بكثرة الأصحاب ثلاثة: عبد الله بن مسعود وزيد بن ثابت وعبد الله بن عباس.
واعتماد أهل المدينة في الفقه على رأي زيد بن ثابت وعبد الله بن عمر.
পরিচ্ছেদ
ফিকহ (فقه) তথা গভীর প্রজ্ঞা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকাংশ সাহাবীর বৈশিষ্ট্য, যাঁরা তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং তাঁর সাথে সার্বক্ষণিক অবস্থান করেছিলেন। তাঁরা যা কিছু তাঁর কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন এবং শুনেছেন, সেগুলোর মর্ম উপলব্ধির তৌফিক প্রাপ্ত হয়েছিলেন। যেমন: চার খলিফা, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত অবশিষ্ট দশজন সাহাবী, ইবনে মাসউদ, মুআজ, উবাই, জায়েদ বিন সাবিত, আবু মুসা, আবু দর্দা, আয়েশা, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস, ইবনে আমর, ইবনে জুবায়ের, আবু সাঈদ, আবু হুরায়রা ও জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং অন্যান্যরা।
স্বল্প পরিসরে অন্যান্যদের থেকেও ফিকহ (فقه) বর্ণিত হয়েছে, যেমন: আবু জর, আম্মার, হুজাইফা, সালমান, উবাদা ইবনে সামিত, আবু মাসউদ, ফাদালা, ওয়াসিলা, খালিদ, মুয়াবিয়া, আমর ইবনুল আস, উম্মে সালামা, আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক এবং হাসান ও হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন।
প্রথমোক্ত সাহাবীগণ ফিকহের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং এই শাস্ত্রে তাঁদের ফতোয়া (فتاوى) ছিল প্রচুর। তাঁদের মধ্যে নয়জন ছিলেন এ বিষয়ে সর্বাধিক অগ্রগণ্য: উমর, আলী, ইবনে মাসউদ, উবাই, জায়েদ, আবু মুসা, আয়েশা, ইবনে উমর এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম।
এঁদের মধ্যে যাঁরা বিপুল সংখ্যক অনুসারী বা ছাত্র (أصحاب) থাকার কারণে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন তাঁরা হলেন তিন জন: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, জায়েদ বিন সাবিত এবং আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস।
ফিকহের (فقه) ক্ষেত্রে মদিনাবাসীদের নির্ভরতা ছিল জায়েদ বিন সাবিত এবং আব্দুল্লাহ বিন উমরের মতামতের ওপর।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
واعتماد أهل مكة على رأي ابن عباس.
واعتماد أهل الكوفة على رأي علي وعبد الله بن مسعود.
واعتماد أهل البصرة على رأي أبي موسى وعمران بن حصين وغيرهما.
وكان بالشام معاذ وأبو الدرداء وغيرهما.
ثم انتقل الفقه إلى التابعين فمن بعدهم:
فكان بالمدينة سعيد بن المسيب وعروة بن الزبير والقاسم بن محمد وخارجة بن زيد / وسليمان بن يسار وعبيد الله بن عبد الله وأبو بكر بن عبد الرحمن، وهؤلاء هم فقهاء المدينة السبعة المشهورون بهذه العبارة.
وقد جمعوا في بيت قال ناظمه:
ألا كل من لا يقتدي بأئمة
… فقسمته ضيزى عن الحق خارجه
فخذهم عبيد الله عروة قاسم
… سعيد أبو بكر سليمان خارجه
ومن جملة فقهاء المدينة أيضاً من التابعين:
سالم بن عبد الله وأبو سلمة بن عبد الرحمن وأبان بن عثمان وقبيصة بن ذؤيب وغيرهم من كبار تابعي المدينة.
ولحقهم من تابعيها أيضاً عمر بن عبد العزيز وعلي بن الحسين ويحي بن سعيد وأبو الزناد والزهري وربيعة وغيرهم.
মক্কাবাসীদের নির্ভরতা ছিল ইবনে আব্বাসের মতের ওপর।
কুফাবাসীদের নির্ভরতা ছিল আলী ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের মতের ওপর।
বসরার অধিবাসীদের নির্ভরতা ছিল আবু মুসা, ইমরান বিন হুসাইন এবং অন্যান্যদের মতের ওপর।
সিরিয়ায় ছিলেন মুয়াজ, আবু দারদা এবং অন্যান্যরা।
অতঃপর ফিকহ তাবিঈগণ (التابعين) এবং তাঁদের পরবর্তীদের কাছে স্থানান্তরিত হয়:
মদিনায় ছিলেন সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব, উরওয়াহ ইবনে যুবাইর, কাসিম ইবনে মুহাম্মদ, খারিজাহ ইবনে যায়েদ / এবং সুলাইমান ইবনে ইয়াসার, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ও আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান; এই ব্যক্তিরাই হলেন মদিনার সেই সাত ফকিহ (فقهاء), যারা এই অভিধায় সুপরিচিত।
তাঁদেরকে একটি পঙক্তিতে একত্রিত করা হয়েছে, যার রচয়িতা বলেছেন:
জেনে রেখো, যে ব্যক্তি ইমামদের (أئمة) অনুসরণ করে না
… তার বণ্টন ইনসাফহীন ও সত্য থেকে বিচ্যুত।
সুতরাং তুমি তাঁদের গ্রহণ করো: উবাইদুল্লাহ, উরওয়াহ, কাসিম
… সাঈদ, আবু বকর, সুলাইমান ও খারিজাহ।
মদিনার তাবিঈ (التابعين) ফকিহদের (فقهاء) অন্তর্ভুক্ত আরও ছিলেন:
সালেম ইবনে আবদুল্লাহ, আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান, আবান ইবনে উসমান, কাবিদাহ ইবনে জুয়াইব এবং মদিনার অন্যান্য জ্যেষ্ঠ তাবিঈ (تابعي)।
তাঁদের পরবর্তীতে মদিনার তাবিঈদের (تابعي) মধ্য থেকে আরও ছিলেন ওমর ইবনে আবদুল আজিজ, আলী ইবনে হুসাইন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আবুয যিনাদ, যুহরি, রাবিয়াহ এবং অন্যান্যরা।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
ثم انتقل إلى أتباع التابعين كابن أبي ذئب والماجشون والإمام مالك بن وأصحابه.
وكان بمكة عبيد بن عمير وعطاء بن أبي رباح ومجاهد وعكرمة وسعيد ابن جبير وابن أبي مليكة وعمرو بن دينار وغيرهم.
ثم انتقل إلى ابن أبي نجيح وابن جريح وسفيان بن عيينة ومسلم بن خالد وسعيد بن سالم وغيرهم.
ثم انتقل إلى الإمام أبي عبد الله الشافعي وأصحابه.
وكان بالكوفة أصحاب ابن مسعود الأكابر: علقمة وعبيدة ومسروق والأسود وعبد الرحمن ابنا يزيد وعمرو بن شرحبيل وشريح القاضي وغيرهم.
وبعدهم عامر الشعبي وإبراهيم النخعي.
وبعدهم الحكم بن عتيبة وحماد بن أبي ليلى والحسن بن صالح وشريك والإمامان أبو حنيفة وسفيان الثوري وأصحابهما.
وكان بالبصرة الحسن وابن سيرين ومطرف بن عبد الله وجابر بن زين وأبو قلابة.
ثم قتادة وأيوب ويونس وسليمان التيمي وأبن عون وعثمان البتي.
ثم الحمادان ابن زيد وابن سلمة ويحي بن سعيد وابن مهدي.
وكان بالشام أبو إدريس الخولاني / وشهور بن حوشب وابن أبي زكريا وبن حيوة وعبادة بن نسي ومكحول وغيرهم.
অতঃপর আলোচনা তাবে-তাবেয়ীগণের (أتباع التابعين) দিকে ধাবিত হয়, যেমন ইবন আবি যিব, আল-মাজিশুন, ইমাম মালিক এবং তাঁর সাথীবর্গ।
মক্কায় ছিলেন উবাইদ বিন উমাইর, আতা বিন আবি রাবাহ, মুজাহিদ, ইকরিমাহ, সাঈদ ইবন জুবাইর, ইবন আবি মুলাইকাহ, আমর বিন দিনার এবং অন্যান্যগণ।
অতঃপর আলোচনা স্থানান্তরিত হয় ইবন আবি নাজিহ, ইবন জুরাইজ, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, মুসলিম বিন খালিদ, সাঈদ বিন সালিম এবং অন্যদের দিকে।
অতঃপর ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ এবং তাঁর সাথীবর্গের প্রসঙ্গে আসা যাক।
কুফায় ছিলেন ইবন মাসউদের জ্যেষ্ঠ (الأكابر) সাথীবর্গ: আলকামা, উবাইদাহ, মাসরুক, আল-আসওয়াদ, আব্দুর রহমান (ইয়াজিদের দুই পুত্র), আমর বিন শুরাহবিল, শুরাইহ আল-কাদি এবং অন্যান্যগণ।
তাঁদের পরে ছিলেন আমির আশ-শা'বী এবং ইব্রাহিম আন-নাখায়ী।
তাঁদের পরে আল-হাকাম বিন উতাইবাহ, হাম্মাদ বিন আবি লায়লা, আল-হাসান বিন সালিহ, শারিক এবং দুই ইমাম—আবু হানিফা ও সুফিয়ান আস-সাওরী এবং তাঁদের সাথীবর্গ।
বসরায় ছিলেন আল-হাসান, ইবন সিরিন, মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ, জাবির বিন জাইন এবং আবু কিলাবাহ।
অতঃপর কাতাদাহ, আইয়ুব, ইউনুস, সুলাইমান আত-তাইমি, ইবন আউন এবং উসমান আল-বাত্তি।
অতঃপর দুই হাম্মাদ—ইবন জাইদ ও ইবন সালামাহ—এবং ইয়াহইয়া বিন সাঈদ ও ইবন মাহদি।
সিরিয়ায় (শাম) ছিলেন আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি, শাহর বিন হাওশাব, ইবন আবি জাকারিয়া, ইবন হাইওয়াহ, উবাদাহ বিন নাসি, মাকহুল এবং অন্যান্যগণ।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
ثم الإمام الأوزاعي وسعيد بن عبد العزيز وسليمان بن موسى وغيرهم.
وباليمن طاووس ووهب بن منبه وغيرهما.
وبمصر يزيد بن أبي حبيب وعمرو بن الحارث والليث بن سعد وغيرهم.
ثم أصحاب ماللك والشافعي والشافعي رحمهم الله.
وبخرسان الضحاك بن مزاحم وابراهيم الصائغ وعبد الله بن المبارك واسحاق بن راهوية.
وببغداد أصحاب أبي حنيفة والشافعي وأصحابه وأحمد بن حنبل، ثم أبو ثور وأبو عبيد القاسم بن سلام، ثم داود ومحمد بن جرير وغيرهم.
فصل:
ثم إن هؤلاء المذكورين من كل طبقة وإن كانوا مشهورين بالفقه والإمامة فبعضهم أشهر من بعض وأغلب في ذلك من بعض.
قال القاسم بن محمد: كان أبو بكر وعمر وعثمان وعلي يفتون على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم.
এরপর ইমাম (إمام) আওজায়ি, সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ, সুলাইমান বিন মুসা এবং অন্যান্যরা।
আর ইয়ামেনে তাউস, ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ এবং অন্যান্যরা।
আর মিশরে ইয়াজিদ বিন আবু হাবিব, আমর ইবনুল হারিস, লাইস বিন সাদ এবং অন্যান্যরা।
এরপর মালিক, শাফেয়ি ও শাফেয়ির অনুসারী বা ছাত্রদের (أصحاب) ওপর আল্লাহ রহম করুন।
আর খুরাসানে যাহহাক বিন মুজাহিম, ইবরাহিম আস-সাইগ, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইহ।
আর বাগদাদে আবু হানিফার অনুসারীবৃন্দ (أصحاب), শাফেয়ি ও তাঁর অনুসারীবৃন্দ (أصحاب) এবং আহমদ বিন হাম্বল; এরপর আবু সাওর ও আবু উবায়দ আল-কাসিম বিন সালাম; এরপর দাউদ ও মুহাম্মদ বিন জারির এবং অন্যান্যরা।
পরিচ্ছেদ:
অতঃপর উল্লিখিত প্রতিটি স্তরের (طبقة) ব্যক্তিবর্গ যদিও ফিকহ (فقه) ও ইমামতের (إمامة) জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, তবুও তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যের চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং এক্ষেত্রে কেউ কেউ অন্যের তুলনায় অধিক অগ্রগণ্য ছিলেন।
কাসিম বিন মুহাম্মদ বলেন: আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ফতোয়া প্রদান করতেন।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
وقال مسروق: شاممت أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم أي قاربتهم فوجدت العلم انتهى إلى ستة. وفي رواية: انتهى علم أصحاب محمد إلى ستة. وفي أخرى: كان أصحاب الفتوى. وفي أخرى: كان أصحاب القضاء من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ستة: عمر وعلي وابن مسعود وأبي مسعود وزيد وأبو موسى.
وقال الزهري: الفقهاء أربعة يعني من التابعين سعيد بن المسيب بالمدينة، والشعبي بالكوفة، والحسن بالبصرة، ومكحول بالشام.
وقال عبد الرحمن بن مهدي: العلماء عندنا أربعة يعني من تابعي التابعين سفيان الثوري ومالك والأوزاعي وحماد بن زيد.
وقال سفيان بن عيينة: لم يدرك مثل ابن عباس في زمانه، ولا مثل الشعبي في زمانه.
وفي رواية: أئمة الناس ثلاثة بعد أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم / يعني أكابر الصحابة فذكرهم: ابن عباس والشعبي والثوري.
মাসরুক বলেন: "আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের সান্নিধ্য লাভ করেছি অর্থাৎ আমি তাঁদের নিকটবর্তী হয়েছি এবং দেখেছি যে, জ্ঞান ছয়জন ব্যক্তিতে গিয়ে পর্যবসিত হয়েছে।" অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের জ্ঞান ছয়জন ব্যক্তিতে গিয়ে সমাপ্ত হয়েছে।" অন্য একটি বর্ণনায়: "তাঁরা ছিলেন ফাতাওয়া (فتوى) প্রদানের অধিকারী।" অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে বিচারকার্য (قضاء) পরিচালনাকারী ছিলেন ছয়জন: উমর, আলী, ইবনে মাসউদ, আবু মাসউদ, যায়েদ এবং আবু মুসা।"
যুহরি বলেন: "ফকিহগণ (الفقهاء) চারজন—অর্থাৎ তাবেয়ীদের (التابعين) মধ্য থেকে—মদিনায় সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, কুফায় আশ-শা'বি, বসরায় আল-হাসান এবং শামে মাকহুল।"
আবদুর রহমান ইবনে মাহদি বলেন: "আমাদের নিকট আলেমগণ (العلماء) চারজন—অর্থাৎ তাবে-তাবেয়ীদের (تابعي التابعين) মধ্য থেকে—সুফিয়ান আস-সাওরী, মালিক, আল-আওজায়ী এবং হাম্মাদ ইবনে যায়েদ।"
সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়নাহ বলেন: "ইবনে আব্বাসের সমকালে তাঁর মতো কাউকে পাওয়া যায়নি, এবং আশ-শা'বির সমকালেও তাঁর মতো কাউকে পাওয়া যায়নি।"
অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের—অর্থাৎ প্রবীণ সাহাবীদের (أكابر الصحابة)—পরে মানুষের ইমামগণ (أئمة) হলেন তিনজন; অতঃপর তিনি তাঁদের নাম উল্লেখ করলেন: ইবনে আব্বাস, আশ-শা'বি এবং আস-সাওরী।"
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
يعني أنهم أئمة الناس في هذه الأعصار الثلاثة كل واحد في عصره وهم خير القرون، عصر الصحابة بعد الأكابر منهم وعصر التابعين وأتباعهم.
وقال الزهري: قدمت على عبد الملك بن مروان فقال: من أين قدمت يا زهري؟ قلت: من مكة. قال: فمن خلفت بها يسود أهلها؟ قلت: عطاء بن أبي رباح قال: فمن العرب أم من الموالي؟ قلت: من الموالي. قال: وبم سادهم؟
قلت بالديانة والرواية. قال: إن أهل الديانة والرواية لينبغي أن يسودوا. فمن يسود أهل اليمن؟ قلت: طاووس بن كيسان. قال: فمن العرب أم من الموالي؟ قلت: من الموالي. قال: بم سادهم؟ قلت: بما سادهم به عطاء. قال: إنه لينبغي. فمن يسود أهل مصر؟ قلت: يزيد بن أبي حبيب. قال: فمن العرب أم من الموالي؟ قلت: من الموالي. قال فمن يسود أهل الشام؟ قلت مكحول. قال: فمن العرب أم من الموالي؟ قلت: من الموالي عبد نوبي أعتقته أمرأة من هذيل. قال: فمن يسود أهل الجزيرة؟ قلت ميمون بن مهران. قال: فمن العرب أم من الموالي؟ قلت: من الموالي. قال: فمن يسود أهل خراسان؟ قلت: الضحاك بن مزاحم. قال: فمن العرب أم من الموالي؟ قلت من الموالي. قال: فمن يسود أهل البصرة؟ قلت: الحسن بن أبي الحسن. قال: فمن العرب أم من الموالي قلت: من الموالي. قال: فمن يسود أهل الكوفة؟ قلت: إبراهيم النخعي. قال فمن العرب أم من الموالي؟ قلت من العرب. قال: ويلك يا
এর অর্থ হলো, তাঁরা এই তিন যুগের মানুষের ইমাম ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ যুগে। আর তাঁরাই হলেন সর্বোত্তম প্রজন্মের (خير القرون) অন্তর্ভুক্ত; অর্থাৎ জ্যেষ্ঠ সাহাবীগণের পরবর্তী সাহাবী (الصحابة) সমাজের যুগ এবং তাবেয়ী (التابعين) ও তাঁদের অনুসারী বা তাবে-তাবেয়ীদের (أتباع التابعين) যুগ।
ইমাম যুহরী বলেন: আমি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "হে যুহরী, তুমি কোথা থেকে আসছ?" আমি বললাম: "মক্কা থেকে।" তিনি বললেন: "সেখানে মক্কাবাসীদের মাঝে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কাকে স্থলাভিষিক্ত করে এসেছ?" আমি বললাম: "আতা ইবনে আবি রাবাহ।" তিনি বললেন: "তিনি কি আরব নাকি মাওয়ালিদের (মুক্তদাসের বংশধর) অন্তর্ভুক্ত?" আমি বললাম: "মাওয়ালিদের অন্তর্ভুক্ত।" তিনি বললেন: "কিসের ভিত্তিতে তিনি তাদের ওপর নেতৃত্ব দিচ্ছেন?"
আমি বললাম: "দ্বীনদারিতা এবং বর্ণনার (الرواية) যোগ্যতার ভিত্তিতে।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই যারা দ্বীনদার এবং বর্ণনার (الرواية) অধিকারী, তাদেরই নেতৃত্বের উপযুক্ত হওয়া উচিত। এরপর ইয়েমেনের লোকদের নেতৃত্ব কে দিচ্ছে?" আমি বললাম: "তাউস ইবনে কাইসান।" তিনি বললেন: "তিনি কি আরব নাকি মাওয়ালি?" আমি বললাম: "মাওয়ালি।" তিনি বললেন: "কিসের দ্বারা তিনি তাদের ওপর নেতৃত্ব দিচ্ছেন?" আমি বললাম: "আতা যে গুণের কারণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনিও ঠিক সেই কারণেই।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এটিই সমীচীন। এরপর মিসরবাসীদের নেতৃত্ব কে দিচ্ছে?" আমি বললাম: "ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব।" তিনি বললেন: "তিনি আরব না মাওয়ালি?" আমি বললাম: "মাওয়ালি।" তিনি বললেন: "শামবাসীর নেতৃত্ব কে দিচ্ছে?" আমি বললাম: "মাকহুল।" তিনি বললেন: "তিনি কি আরব নাকি মাওয়ালি?" আমি বললাম: "মাওয়ালি; তিনি একজন নুবীয় দাস ছিলেন যাকে হুযাইল গোত্রের জনৈক মহিলা মুক্ত করে দিয়েছিলেন।" তিনি বললেন: "জাজিরাবাসীর নেতৃত্ব কে দিচ্ছে?" আমি বললাম: "মায়মুন ইবনে মিহরান।" তিনি বললেন: "তিনি কি আরব না মাওয়ালি?" আমি বললাম: "মাওয়ালি।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "খুরাসানবাসীদের নেতৃত্ব কে দিচ্ছে?" আমি বললাম: "দাহহাক ইবনে মুজাহিম।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তিনি আরব না মাওয়ালি?" আমি বললাম: "মাওয়ালি।" তিনি বললেন: "বসরার অধিবাসীদের নেতৃত্ব দিচ্ছে কে?" আমি বললাম: "হাসান ইবনে আবিল হাসান।" তিনি বললেন: "তিনি কি আরব না মাওয়ালি?" আমি বললাম: "মাওয়ালি।" তিনি বললেন: "কুফাবাসীদের নেতৃত্ব কে দিচ্ছে?" আমি বললাম: "ইবরাহিম নাখয়ী।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তিনি কি আরব না মাওয়ালি?" আমি বললাম: "তিনি আরবদের মধ্য থেকে।" তিনি বললেন: "আফসোস তোমার ওপর, হে..."
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৭০)
زهري فرجت عني، والله لتسودن الموالي على العرب حتى يخطب لها على المنابر والعرب تحتها. قلت: يا أمير المؤمنين إنما هو أمر الله ودينه؛ من حفظه ساد، ومن / ضيعه سقط.
قلت:
فهكذا كان العلماء هم الأعيان يسأل عنهم ويجبلون في كل مكانٍ لجميعهم بين العلم والعمل، وإعراضهم عن المراء والجدل.
ثم إن الله تعالى شهر بالفقه أربعة أئمة اشتهرت مذاهبهم، واقتدى الناس بهم في كل الأمصار في جميع الأعصار وهم: أبو حنيفة النعمان بن ثابت، وآباء عبد الله مالك بن أنس الأصبحي، ومحمد بن إدريس الشافعي، وأحمد بن محمد الشيباني.
فهم أئمة المسلمين رضي الله عنهم أجمعين، فضائلهم ومناقبهم كثيرة، وفوائدهم وفرائدهم غزيرة، وقد صنف في مناقبهم كتب مجردة، مطولة ومقتصدة.
হে জুহরি, তুমি আমার দুশ্চিন্তা দূর করেছ; আল্লাহর কসম, অনারব (موالي) গণ অবশ্যই আরবদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে, এমনকি মিম্বরসমূহে তাদের অনুকূলে খুতবা প্রদান করা হবে আর আরবরা তাদের নিচে অবস্থান করবে। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, এটি কেবল আল্লাহর হুকুম ও তাঁর দ্বীন; যে তা হিফজ (حفظ) করবে সে-ই নেতৃত্ব লাভ করবে, আর যে তা অবহেলা করবে সে পতিত হবে।
আমি বললাম:
বস্তুত আলেম (علماء) গণ ছিলেন এমন বরণীয় ব্যক্তিত্ব যাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো এবং সকল স্থানেই তাঁরা সমাদৃত হতেন। কারণ তাঁরা ইলম ও আমলের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন এবং অসার বাদানুবাদ ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিমুখ থাকতেন।
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ফিকহ শাস্ত্রের মাধ্যমে চারজন ইমাম (أئمة)-কে প্রসিদ্ধি দান করেছেন যাদের মাযহাবসমূহ খ্যাতি লাভ করেছে এবং সকল যুগে ও সকল জনপদে মানুষ তাঁদের অনুসরণ করেছে। তাঁরা হলেন: আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত, আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস আল-আসবাহি, মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ এবং আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাইবani।
তাঁরা হলেন মুসলিম উম্মাহর ইমাম (أئمة) (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তাঁদের মর্যাদা ও গুণাবলি অসংখ্য এবং তাঁদের ইলমি উপকারিতা ও বিশেষত্বসমূহ অপরিসীম। তাঁদের গুণকীর্তনে স্বতন্ত্র বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে—যার কিছু বিস্তারিত এবং কিছু সংক্ষিপ্ত।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৭১)
فصل:
وقد كان من مضى من الأئمة المجتهدين، بجميع علوم الاجتهاد قائمين، وبنشرها في الآفاق معتنين، وهم في ذلك متفاضلون.
فمنهم المحكم لعلم الكتاب، ومنهم القائم بأمر السنة ومنهم المتبحر في العربية، ومنهم المتقن لجودة استنباط الأحكام، وقل من اجتمع فيه القيام بجميع ذلك، فكان من أجمعهم وأقومهم به أمامنا أبو عبد الله القرشي المطلبي الشافعي رضي الله عنه، جمع الله تعالى له النسب الطاهر، والعلم الباهر، وكثرة المآثر، وجل الفاخر؛ فكان فيه من المناقب والفضائل، ما فرقه في كثير من الأئمة الأفاضل وشهد له بذلك من أهل كل فن سادة أماثل.
قال المزني: سمعت الشافعي يقول: حفظت القرآن وأنا ابن سبع سنين وحفظت "الموطأ" وأنا ابن عشر سنين. قال يونس بن عبد الأعلى: كان الشافعي إذ أخذ في التفسير كأنه شهد التزيل.
পরিচ্ছেদ:
অতীতের যে সকল মুজতাহিদ (مجتهد) ইমাম অতিবাহিত হয়েছেন, তাঁরা ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর যাবতীয় জ্ঞানশাস্ত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী তা প্রসারে যত্নবান ছিলেন; তবে এ ক্ষেত্রে তাঁদের মাঝে মর্যাদাগত তারতম্য ছিল।
তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন কিতাবুল্লাহর জ্ঞানে সুনিপুণ, কেউ সুন্নাহ (سنة) পালনে ও প্রতিষ্ঠায় ব্রতী, কেউ আরবি ভাষায় সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী, আবার কেউ বিধিবিধানের সূক্ষ্ম আহকাম উদ্ভাবন (استنباط)-এ পারদর্শী। খুব অল্প সংখ্যক ব্যক্তির মাঝেই এই সকল গুণের সমাবেশ ঘটেছিল। আর তাঁদের মধ্যে যিনি এই সবকিছুর সর্বাধিক সমন্বয়কারী ও সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তিনি হলেন আমাদের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরাশি আল-মুত্তালিবী আশ-শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য পবিত্র বংশমর্যাদা, দেদীপ্যমান জ্ঞান, অগণিত কীর্তিগাথা ও সুমহান গৌরবের সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন। তাঁর মধ্যে এমন সব মর্যাদা ও গুণাবলি বিদ্যমান ছিল, যা অন্যান্য অনেক শ্রেষ্ঠ ইমামদের মধ্যে পৃথক পৃথকভাবে বিদ্যমান ছিল। প্রতিটি শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতগণ তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আল-মুযানী বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি, "আমি সাত বছর বয়সে কুরআন হিফজ করেছি এবং দশ বছর বয়সে আল-মুয়াত্তা মুখস্থ করেছি।" ইউনুস ইবনে আবদিল আলা বলেন: "শাফিঈ যখন তাফসির (تفسير) শুরু করতেন, তখন মনে হতো যেন তিনি ওহি অবতরণ (التنزيل) প্রত্যক্ষ করছেন।"
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৭২)
قال أحمد بن محمد بن بنت الشافعي: سمعت ابي وعمي يقولان: كان سفيان بن عيينة / إذا جاءه شيء من التفسير والفتيا يسأل عنها التفت إلى الشافعي فيقول: سلوا هذا.
وقال له شيخه مسلم بن خالد وهو مفتي مكة: يا أبا عبد الله أفت فقد والله آن لك ان تفتي وابن خمس عشرة سنة. وقيل: ست عشرة. وقيل ثماني عشرة. وفي أخرى: وهو ابن دون عشرين سنة. وقال الربيع: كان الشافعي يفتي وهو ابن خمس عشرة سنة، كان يحي الليل إلى أن مات.
قال أبو نعيم الحافظ: سمعت سليمان بن أحمد يقول: سمعت أحمد بن محمد الشافعي يقول: كانت الحلقة في الفتيا بمكة في المسجد الحرام لابن عباس وبعده لعطاء بن أبي رباح، وبعده ليعبد الملك بن جريح، وبعده لمسلم بن خالد، وبعده لسعيد بن سالم، وبعده لمحمد بن إدريس الشافعي وهو شاب.
قال ابن مهدي: سمعت مالكاً يقول: ما يأتيني قرشي أفهم من هذا الفتى يعني الشافعي.
আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন বিনতে শাফিঈ বলেন: আমি আমার পিতা ও চাচাকে বলতে শুনেছি: সুফিয়ান বিন উইয়ায়নাহর নিকট যখনই তাফসির বা ফতোয়া সংক্রান্ত কোনো বিষয় আসত, তিনি শাফিঈর দিকে লক্ষ্য করে বলতেন: "একে জিজ্ঞাসা করো।"
তাঁর উস্তাদ এবং মক্কার মুফতি মুসলিম বিন খালিদ তাঁকে বলেছিলেন: "হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি ফতোয়া প্রদান করুন; আল্লাহর কসম, আপনার জন্য ফতোয়া দেওয়ার সময় হয়েছে।" তখন তাঁর বয়স ছিল পনেরো বছর। কেউ বলেছেন ষোলো বছর, আবার কেউ বলেছেন আঠারো বছর। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: তিনি তখন বিশ বছরের কম বয়সী ছিলেন। রাবি বলেন: শাফিঈ পনেরো বছর বয়স থেকেই ফতোয়া দিতেন এবং আমৃত্যু তিনি রাত জেগে ইবাদত করতেন।
হাফিজ (الحافظ) আবু নুয়াইম বলেন: আমি সুলায়মান বিন আহমদকে বলতে শুনেছি: আমি আহমদ বিন মুহাম্মদ শাফিঈকে বলতে শুনেছি: মক্কার মসজিদুল হারামে ফতোয়া প্রদানের মজলিসটি ইবনে আব্বাসের ছিল, তাঁর পরে আতা বিন আবি রাবাহর, তাঁর পরে আবদুল মালিক বিন জুরাইজের, তাঁর পরে মুসলিম বিন খালিদের, তাঁর পরে সাঈদ বিন সালিমের এবং এরপর যুবক হওয়া সত্ত্বেও মুহাম্মদ বিন ইদরিস শাফিঈর ওপর এই দায়িত্ব অর্পিত হয়।
ইবনে মাহদী বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: "আমার কাছে এই যুবকের—অর্থাৎ শাফিঈর—চেয়ে অধিক সমঝদার কোনো কুরাইশী আসেনি।"
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
قال أبو عبيد القاسم بن سلام: ما رأيت قط أعقل ولا أروع ولا أفصح من الشافعي.
قال هلال بن العلاء الرقي: أصحاب الحديث عيال على الشافعي، فتح لهم الأقفال.
قال إسحاق بن راهويه: لقيني أحمد بن حنبل بمكة فقال: تعال حتى أريك رجلاً لم تر عيناك مثله، فأراني الشافعي. قال فتناظرنا في الحديث فلم أر أعلم منه ثم تناظرنا في الفقه فلم أر أفقه منه. ثم تناظرنا في القرآن فلم أر أقرأ منه.
ثم تناظرنا في اللغة فوجدته بيت اللغة. وما رأت عيناي مثله قط.
قال: فلما فارقناه أخبرني جماعة من أهل الفهم بالقرآن أنه كان أعلم الناس في زمانه. بمعاني القرآن وأنه قد كان أوتي فهماً في القرآن.
قال أحمد بن حنبل: كان الفقهاء أطباء والمحدثون صيادلة، فجاء الشافعي /طبيباً صيدلانياً، ما مقلت العيون مثله.
আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সালাম বলেছেন: আমি শাফিঈর চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান, অধিক পরহেজগার এবং অধিক সাবলীল ভাষী আর কাউকে কখনো দেখিনি।
হিলাল ইবনুল আলা আর-রাক্কি বলেছেন: হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) শাফিঈর ওপর নির্ভরশীল; তিনি তাদের জন্য রুদ্ধ দুয়ারসমূহ উন্মোচন করে দিয়েছেন।
ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বলেছেন: মক্কায় আহমাদ ইবনে হাম্বলের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন: “আসুন, আমি আপনাকে এমন একজন ব্যক্তিকে দেখাই যার মতো আর কাউকে আপনার দুই চোখ দেখেনি।” অতঃপর তিনি আমাকে শাফিঈকে দেখালেন। তিনি বললেন: এরপর আমরা হাদিস নিয়ে আলোচনা করলাম এবং আমি তাঁর চেয়ে বড় কোনো আলিম দেখিনি। এরপর আমরা ফিকহ (الفقه) নিয়ে আলোচনা করলাম এবং আমি তাঁর চেয়ে বড় কোনো ফকিহ (فقيه) দেখিনি। এরপর আমরা কুরআন নিয়ে আলোচনা করলাম এবং আমি তাঁর চেয়ে বড় কোনো ক্বারি (مقرئ) দেখিনি।
এরপর আমরা ভাষা নিয়ে আলোচনা করলাম এবং আমি তাঁকে ভাষার ভাণ্ডার হিসেবে পেলাম। আমার দুই চোখ কখনো তাঁর মতো কাউকে দেখেনি।
তিনি বললেন: যখন আমরা তাঁর থেকে বিদায় নিলাম, তখন কুরআনের সমঝদার একদল লোক আমাকে জানালেন যে, তিনি তাঁর সময়ের মানুষের মধ্যে কুরআনের অর্থের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন এবং তাঁকে কুরআনের বিশেষ প্রজ্ঞা দান করা হয়েছিল।
আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: ফকিহগণ (الفقهاء) ছিলেন চিকিৎসকের মতো আর হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) ছিলেন ঔষধ প্রস্তুতকারকের মতো; অতঃপর শাফিঈ আসলেন একজন চিকিৎসক ও ঔষধ প্রস্তুতকারক হিসেবে। চোখ তাঁর মতো আর কাউকে প্রত্যক্ষ করেনি।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
وقال إن الله يقيض للناس في رأس كل مائة سنة من يعلمهم السنن، وينفي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الكذب، فنظرنا فإذا في رأس المائة عمر بن عبد العزيز، وفي رأس المائتين الشافعي.
وقال: إذا سئلت عن مسألة لا أعرف فيها خيراً قلت فيها بقول الشافعي؛ لأنه إمام عالم من قريش وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال:
((عالم قريش يملأ الأرض علماً)).
وقال كلام الشافعي في اللغة حجة.
وقال أبو عبيد وابن هشام صاحب "المغازي": الشافعي ممن يؤخذ عنه في اللغة
أو من أهل الفقه.
এবং তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতি শতকের শিরোভাগে মানুষের জন্য এমন একজনকে মনোনীত করেন, যিনি তাদের সুন্নাহসমূহ (السنن) শিক্ষা দেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে প্রচারিত মিথ্যা (الكذب) দূর করেন। অতঃপর আমরা পর্যবেক্ষণ করলাম এবং দেখলাম যে, প্রথম শতকের শুরুতে ছিলেন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ এবং দ্বিতীয় শতকের শুরুতে ছিলেন আশ-শাফিয়ী।
তিনি আরও বলেন: যখন আমাকে এমন কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে বিষয়ে আমার কাছে কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনা জানা থাকে না, তখন আমি আশ-শাফিয়ীর মতানুসারে কথা বলি; কারণ তিনি কুরাইশ বংশের একজন আলেম ইমাম। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন:
“কুরাইশ বংশীয় আলেম পৃথিবী জ্ঞান দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন।”
তিনি বলেন, ভাষার ক্ষেত্রে আশ-শাফিয়ীর বক্তব্য হলো অকাট্য দলিল (حجة)।
আবু উবাইদ এবং "আল-মাগাজি" এর রচয়িতা ইবনে হিশাম বলেন: আশ-শাফিয়ী এমন ব্যক্তিত্ব যাঁদের নিকট থেকে ভাষা গ্রহণ করা হয়
অথবা তিনি ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের বিজ্ঞজনদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
খুৎবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লিররাদ্দি ইলাল আমরিল আউওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
قال أبو بكر بن الأنباري" حدثني أبي، عن أبي عن عثمان المازني قال: الشافعي عندنا حجة في النحو.
قال أبو العباس المبرد: رحم الله الشافعي كان من أشعر الناس، وآدب الناس، وأعرفهم بالقرآءات.
كذا وقع وأظنه تصحيفاً إنما هو:"وأعرفهم بالقرآن" أي بمعانيه وأحكامه، أي رزق فهماً فائقاً فيه على ما سبق من كلام إسحاق بن راهويه ويونس بن عبد الأعلى وغيرهما.
قال أبو ثور بن خالد: كان الشافعي من معادن الفقه، وجهابذة الألفاظ، ونقاد المعاني.
قال الحسن بن محمد بن الصباح الزعفراني: كان أصحاب الحديث رقوداً حتى جاء الشافعي فأيقظهم فتيقظوا.
قال الحسين الكرابيسي: ما أقول في رجل ابتدأ في أفواه الناس الكتاب والسنة والاتفاق، ما كنا ندري ما الكتاب والسنة نحن ولا الأولون حتى سمعنا من الشافعي الكتاب والسنة والإجماع.
আবু বকর ইবনুল আনবারী বলেন, "আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি উসমান আল-মাযিনী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: শাফেয়ী আমাদের নিকট ব্যাকরণশাস্ত্রে একজন প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (حجة)।"
আবুল আব্বাস আল-মুবররাদ বলেন: আল্লাহ শাফেয়ীর প্রতি রহম করুন, তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন, মানুষের মধ্যে সর্বাধিক শিষ্টাচারসম্পন্ন এবং কেরাআতসমূহ (القراءات) সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
বিষয়টি এভাবেই উদ্ধৃত হয়েছে, তবে আমার মনে হয় এটি শব্দের বিকৃতি (تصحيف)। প্রকৃতপক্ষে এটি হবে: "এবং তিনি কুরআন সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত", অর্থাৎ এর অর্থ ও বিধানাবলি সম্পর্কে। তাকে এ বিষয়ে এমন এক অনন্য প্রজ্ঞা দান করা হয়েছিল যা ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, ইউনুস ইবনে আবদিল আলা এবং অন্যদের ইতিপূর্বে বর্ণিত বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়।
আবু সাওর ইবনে খালিদ বলেন: শাফেয়ী ছিলেন ফিকহ শাস্ত্রের আধার, শব্দের বিচক্ষণ বিশারদ (جهابذة) এবং অর্থ ও মর্মার্থের সূক্ষ্ম বিশ্লেষক (نقاد)।
হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাবাহ আল-জাফরানী বলেন: হাদিসের অনুসারীগণ (أصحاب الحديث) নিদ্রাচ্ছন্ন ছিলেন, যতক্ষণ না শাফেয়ী এলেন এবং তাদেরকে জাগ্রত করলেন; ফলে তারা সজাগ হলেন।
হুসাইন আল-কারাবিসী বলেন: আমি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলব যিনি মানুষের মুখে কিতাব, সুন্নাহ (السنة) এবং ঐকমত্যের (الاتفاق) বিষয়গুলো জারি করেছিলেন? আমরা কিংবা আমাদের পূর্ববর্তীরা কিতাব ও সুন্নাহ (السنة) সম্পর্কে জানতাম না, যতক্ষণ না আমরা শাফেয়ীর নিকট থেকে কিতাব, সুন্নাহ (السنة) এবং ইজমা (الإجماع) সম্পর্কে শুনতে পেলাম।