(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: -)
صحيح موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان   (ناصر الدين الألباني)

القسم: كتب السنة

الكتاب: صحيح موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان

المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420 هـ)

الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2002 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 شوّال 1436

সহীহ মাওয়্যারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান   (নাসিরুদ্দিন আলবানী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: সহীহ মাওয়্যারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান

লেখক: আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, ইবনুল হাজ নূহ ইবনে নাজাতি ইবনে আদম, আল-আশকুদারী আল-আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)

প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি প্রকাশনী ও বিতরণ, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২১ শাওয়াল ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: -)
صحيح موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان

مضموما إليه

«الزوائد على الموارد»

 

بقلم

العلامة المحدث الشيخ محمد ناصر الدين الألباني المتوفى سنة (1420 هـ) - رحمه الله تعالى -

 

[المجلد الأول]

 

دار الصميعي
সহীহ মাওয়ারিদুয যামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান

এর সাথে সংযুক্ত

«আয-যাওয়াইদ আলাল মাওয়ারিদ»

 

রচনায়

আল্লামা মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী, মৃত্যু সন (১৪২০ হিজরী) - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন -

 

[প্রথম খণ্ড]

 

দারুস সুমাইয়ি
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

جَمِيع حُقُوق الملكية الأدبية مَحْفُوظَة للناشر، فَلَا يسمح مُطلقًا بطبع أَو نشر أَو تَصْوِير أَو إِعَادَة تنضيد الْكتاب كَامِلا أَو مجزأ.

ويحظر تخزينه أَو برمجته أَو نسخه أَو تسجيله فِي نطاق استعادة المعلومات فِي أَي نظام كَانَ ميكانيكي أَو إلكتروني أَو غَيره يمكِّن من استرجاع الْكتاب أَو جُزْء مِنْهُ.

وَلَا يسمح بترجمة الْكتاب أَو جُزْء مِنْهُ إِلَى أَي لُغَة أُخْرَى دون الْحُصُول على إِذن خطي مسبق من الناشر.

 

جَمِيع الْحُقُوق مَحْفُوظَة للناشر

الطَّبعة الأولى 1422 هـ - 2002 م

 

دَار الصميعي للنشر والتوزيع

هَاتِف: 4262945 - 4251459 - فاكس: 4245341

الرياض - السويدي - شَارِع السويدي الْعَام

ص. ب: 4967 - الرَّمْز البريدي: 11412

المملكة الْعَرَبيَّة السعودية
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

যাবতীয় মেধা ও প্রকাশনা স্বত্ব প্রকাশকের নিকট সংরক্ষিত; তাই বইটির সম্পূর্ণ বা আংশিক মুদ্রণ, প্রকাশ, ফটোকপি বা পুনরায় বিন্যাস করা একেবারেই অনুমোদিত নয়।

যেকোনো যান্ত্রিক, ইলেকট্রনিক বা অন্য কোনো পদ্ধতির তথ্য পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার আওতায় বইটির সম্পূর্ণ বা আংশিক সংরক্ষণ, প্রোগ্রামিং, অনুলিপি বা রেকর্ড করা নিষিদ্ধ।

প্রকাশকের নিকট থেকে পূর্ব লিখিত অনুমতি গ্রহণ ব্যতিরেকে বইটির সম্পূর্ণ বা আংশিক অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করা অনুমোদিত নয়।

 

যাবতীয় স্বত্ব প্রকাশকের জন্য সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

 

দার আস-সুমাইয়ি প্রকাশনী ও পরিবেশনী

ফোন: ৪২৬২৯৪৫ - ৪২৫১৪৫৯ - ফ্যাক্স: ৪২৪৫৩৪১

রিয়াদ - আল-সুওয়াইদি - জেনারেল আল-সুওয়াইদি সড়ক

পো.ব.: ৪৯৬৭ - পোস্টাল কোড: ১১৪১২

সৌদি আরব সাম্রাজ্য
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌كَلِمَةُ النَّاشِر

الحَمْدُ للهِ رَبِّ العالَمِين، وَالصَّلاةُ وَالسَّلامُ عَلَى أَفْضَلِ المُرْسَلِين؛ نَبِيَّنا مُحَمَّدٍ؛ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِين.

أَمَّا بَعْدُ:

فَتَتَشَرَّفُ (دارُ الصُّمَيْعِيَّ للنَشْرِ وَالتَوْزِيع) بإخْراجِ هَذا الكِتَابِ القَيِّمِ "صَحِيحِ" وَ"ضَعِيفِ مَوَارِدِ الظَّمْآن" - للشَّيْخِ العَلَاّمَةِ، المُحَدِّثِ الكَبِيرِ: مُحَمَّدٍ ناصِرِ الدِّينِ الألبانِيَّ رحمه الله، وَأَدْخَلَهُ فَسِيحَ جِنانِهِ -.

وَهَذا الكِتَابُ القَيَّمُ؛ كَانَ مِنْ أَهْمَّ أَسْبابِ عَلَاقَتِي الطَّيَّبَةِ بِشَيْخِنا العَلَّامَةِ الألبانِيَّ رحمه الله؛ وَذَلِكَ بِصُحْبَةِ الشَّيْخِ الفاضِلِ: عَلِيِّ بْنِ حَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الحَمِيدِ الحَلَبِيِّ - نَفَعَ اللهُ بِهِ -، حَيْثُ تَكَلَّلَتِ الزِّيارَةُ - بِحَمْدِ اللهِ وَمِنَّتِهِ - بالتَّوْفِيقِ وَالنَّجاح.

وَلَقَدْ مَكَثْتُ عِنْدَ الشَّيْخِ رحمه الله قُرابَةَ ساعَتَينِ، كَأَنَّها - لِطِيبِ المُقام؛ عِنْدَ الإمام - دَقائِقُ مَعْدُودة، وَثَوان مَحْدُودَة.

فَمَا أرْوَعَ اسْتِقْبَالَه! وَمَا أحْسَنَ خُلُقَه! رحمه الله رَحْمَةً واسِعَةً -.

وَلَقَدْ كانَتْ آخِرَ مُكالَمَةٍ لَنَا مَعَ الشَّيْخِ رحمه الله عَقِبَ حُصُولِهِ عَلَى جائِزَةِ المَلِكِ فَيْصَلٍ لِخِدْمَةِ السُّنَّةِ النَّبَوِيَّةِ؛ لِتَهْنِئَتِهِ وَالمُبارَكَةِ لَهُ - فِيها -.

وَمِنَ المَعْلُومِ أَنَّ الشَّيْخَ لا يُجِيبُ (كُلَّ) مُتَّصِلٍ بِهِ؛ لِكَثْرَةِ المُتَّصِلِينَ عَلَيْهِ مِنْ أَنْحاءِ العالَمِ؛ وَلوَفْرَةِ انْشِغالِهِ وَأَشْغالِهِ، وَمَعَ هذا كُلَّهِ؛ فَقَدْ أَجابَ عَلَى مُكالَمَتِي، وَبَعْدَ السَّلامِ وَالدُّعاءِ - كَعَادَتِنا - اعْتَذَرَ شَيْخُنا رحمه الله مِنَّي عَنْ تأَخُّرِ انْتِهاءِ العَمَلِ في هذا الكِتَابِ - وَهَذا مِنْ أَخْلاقِهِ العالِيَةِ -؛ فَقُلْتُ لَهُ: إنَّ اتِّصالِيَ - يا شَيْخَنا - هُوَ مِنْ أَجْلِ أَن أُهَنَّئَكُمْ عَلَى حُصُولِكُمْ عَلَى جائِزَةِ المَلِكِ فَيْصَلٍ رحمه الله في الحَدِيثِ النَّبَوِيِّ؛ فَقالَ لِي - بِكُل خُشُوع وَتَواضُعٍ -: "بَشَّرَكَ اللهُ بالخَيْرِ، وَادْعُ اللهَ أَنْ يُبَشَّرَنا بِدُخُولِ الجَنَّةِ".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌প্রকাশকের কথা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর।

অতঃপর:

(দারুস সুমাইয়্যি পাবলিকেশন্স অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন) এই মূল্যবান গ্রন্থ "সহীহ" এবং "যয়ীফ মাওয়ারিদুজ জামআন" প্রকাশ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছে - যা বিশিষ্ট আল্লামা, মহান মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন)-এর রচিত।

এই মূল্যবান গ্রন্থটিই ছিল আমাদের শাইখ আল্লামা আলবানী (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন)-এর সাথে আমার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠার অন্যতম প্রধান কারণ; যা সম্ভব হয়েছিল সম্মানিত শাইখ আলী বিন হাসান বিন আলী বিন আব্দুল হামীদ আল-হালাবী (আল্লাহ তাঁকে দিয়ে উপকার করুন)-এর সাহচর্যে। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে সেই সফরটি তাওফিক ও সফলতার মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছিল।

আমি শাইখের (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন) কাছে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু ইমামের কাছে সেই অবস্থানের মাধুর্যের কারণে সময়টি মনে হয়েছিল যেন মাত্র কয়েক মিনিট বা কয়েক সেকেন্ড মাত্র।

তাঁর অভ্যর্থনা কতই না চমৎকার ছিল! আর তাঁর চরিত্র কতই না সুন্দর ছিল! আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন।

সুন্নাহর খিদমতে কিং ফয়সাল পুরস্কার পাওয়ার পর শাইখকে (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন) অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানানোর জন্য তাঁর সাথে আমাদের শেষ কথোপকথন হয়েছিল।

এটি সবারই জানা যে, শাইখ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য ফোন কল এবং তাঁর অত্যধিক ব্যস্ততার কারণে সবার কল রিসিভ করতে পারতেন না। তবুও তিনি আমার কলে সাড়া দিয়েছিলেন। সালাম বিনিময় ও দোয়ার পর—যা ছিল আমাদের নিয়ম—শাইখ (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন) এই গ্রন্থের কাজ শেষ করতে বিলম্ব হওয়ার জন্য আমার কাছে ক্ষমা চাইলেন—এটি ছিল তাঁর সুউচ্চ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। আমি তাঁকে বললাম: "হে আমাদের শাইখ, আমি কল করেছি কেবল হাদীসে নববীর ক্ষেত্রে কিং ফয়সাল পুরস্কার অর্জনের জন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাতে।" তখন তিনি অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে আমাকে বললেন: "আল্লাহ আপনাকে কল্যাণের সুসংবাদ দিন, আর আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ দান করেন।"
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৪)
رَحِمَ اللهُ شَيْخَنَا رَحْمَةً وَاسِعَةً، وَضَاعَفَ لَهُ في حَسَنَاتِهِ، وَأَدْخَلَهُ فَسِيحَ جَنَّاتِهِ، وَجَمَعَنا اللهُ وَإيَّاهُ في جَنَّاتٍ وَنَهَر؛ في مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِر.

وَلا أَنْسَى في نِهَايَةِ هَذِهِ المُقَدِّمَةِ؛ أَنْ أَتَقَدمَ بالشُّكْرِ الجَزِيلِ لِكُل مَنْ كانَ لَهُ يَدٌ - مِنْ إخْوانِنا طَلَبَةِ العِلْمِ - لِمَا كانَ لَهُمْ مِنْ جُهُودٍ مُمَيَّزَةٍ في إخْراجِ هَذا السَّفْرِ العَظِيمِ المُبارَكِ.

نَسْأَلُ اللهَ أَنْ يَنْفَعَ بهذا الكِتَابِ إخْوانَنا المُسْلِمِين، في مَشارِقِ الأَرْضِ وَمَغارِبِها، وَأَنْ يَرْحَمَ شَيْخَنا الألبانِيَّ رَحْمَةً واسِعَةً.

كَتَبَهُ

عَبدُ اللهِ بنُ حَسَنٍ الصُّمَيعِيُّ

(دار الصُّمَيعيِّ للنَّشْر وَالتّوْزِيعِ)

الرَّياض 1/ 9/ 1421 هـ ـ
আল্লাহ আমাদের শাইখকে প্রশস্ত রহমত দান করুন, তাঁর নেক আমলসমূহ বহুগুণ বৃদ্ধি করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ততায় প্রবেশ করান; আর আল্লাহ আমাদেরকে ও তাঁকে জান্নাত ও নহরসমূহে একত্রিত করুন, সর্বশক্তিমান রাজাধিরাজের নিকট সত্যের আসনে।

এই ভূমিকার শেষে আমি আমাদের তালিবে ইলম ভাইদের মধ্যে যারা এই মহান ও বরকতময় গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের অনন্য শ্রম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যাচ্ছি না।

আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মুসলিম ভাইদের এই কিতাব দ্বারা উপকৃত করেন এবং আমাদের শাইখ আলবানীকে প্রশস্ত রহমত দান করেন।

লিখেছেন

আবদুল্লাহ ইবনে হাসান আস-সুমাইয়ি

(দারুস সুমাইয়ি প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র)

রিয়াদ ১/৯/১৪২১ হিজরি
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

إِن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله؛ فلا مضل له، ومن يضلل؛ فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له.

وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

أما بعد:

فإني - انطلاقًا من مشروعي الكبير "تقريب السنَّة بين يدي الأمة"، واستمرارًا في العمل فيه، وإخراج ما يمكن إخراجه منه إلى إخواني المؤمنين حتى آخرَ رمق من حياتي -؛ فإني أقدِّم اليوم:

"صحيح موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان"

وليس يخفى على أهل العلم أهميةُ كتاب "الموارد"؛ وذلك لأن مؤلِّفه الحافظ الهيثمي - رحمه الله تعالى - قد استصفى فيه الأحاديث الزائدة على أحاديث "الصحيحين" من كتاب "صحيح ابن حبان" رحمه الله، الذي كان قد تفنَّن في ترتيبه ترتيبًا غريبًا بقصدٍ حسنٍ، وهو حضُّ طلاب العلم على حفظه كما يحفظون القرآن الكريم؛ لِتسهيل الرجوع إليه عند الحاجة! ترتيبًا فريدًا لم يُسبق إليه، وسماه: "المسند الصحيح على التقاسيم والأنواع، من غير وجود قطع
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আমি—আমার বৃহৎ প্রকল্প "উম্মাহর নিকট সুন্নাহকে সহজবোধ্যকরণ"-এর সূচনালগ্ন থেকে এবং এতে নিরবচ্ছিন্ন কাজ চালিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় এবং আমার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মুমিন ভাইদের জন্য এই প্রকল্পের যা কিছু প্রকাশ করা সম্ভব তা করার অংশ হিসেবে—আজ পেশ করছি:

"সহীহ মাওয়ারিদুয যামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান"

জ্ঞানবানদের নিকট "মাওয়ারিদ" কিতাবটির গুরুত্ব অস্পষ্ট নয়। কারণ এর সংকলক হাফেয হাইসামী—আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এতে ইমাম ইবনে হিব্বান (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলন "সহীহ ইবনে হিব্বান" থেকে এমন হাদিসগুলো বেছে নিয়েছেন যা "সহীহাইন" (বুখারি ও মুসলিম)-এ নেই। ইমাম ইবনে হিব্বান এক মহৎ উদ্দেশ্যে তাঁর কিতাবটি অত্যন্ত চমৎকার ও অভিনব পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছিলেন, আর তা হলো ইলম অন্বেষণকারীদের এটি মুখস্থ করতে উৎসাহিত করা যেমনিভাবে তারা পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে; যাতে প্রয়োজনের সময় সহজে রেফারেন্স খুঁজে পাওয়া যায়। এটি ছিল এক অনন্য বিন্যাস যার নজির আগে ছিল না। তিনি এর নামকরণ করেছিলেন: "আল-মুসনাদুস সহীহ আলাত তাকাসিম ওয়াল আনওয়া', মিন গায়রি ওজুদি কাত'" (কোনো বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই বিন্যাস ও প্রকারভেদের ভিত্তিতে সহীহ মুসনাদ)।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৬)
في سندها، ولا ثبوتِ جرحٍ في ناقليها" كما ذكر في مقدمته (1).

ولهذا الترتيب الغريب - غير المطروق - تتابع العلماء على التصريح بِعُسْر الانتفاع به؛ كالحافظ الذهبي، والحافظ العسقلاني، والإمام السيوطي، والشيخ أحمد شاكر رحمهم الله جميعًا - (2)؛ خلافًا لمن عاند، وكابر، وشغّب من المعاصرين الذي لا يستفيد من علم المتقدمين إذا خالف ما يظنه أنه من العلم، وإنما هو مجرد الإجلال، والإكبار، والتقليد لأحد الكبار، والدفاع عنه بغير علم، ولا كتاب منير (3).

من أجل ذلك؛ جاء من بعده الأمير علاء الدين أبو الحسن علي بن بَلْبَان الفارِسيُّ المصري الحنفي (ت 739)، فرتّبه على الكتب والأبواب، فكان عملًا جليلًا حقًّا؛ قرَّب الكتاب لطالبيه، وحافظ على أصله بدقة الرجل العالم الثقة الأمين، كما قال محققه الشيخ أحمد شاكر رحمه الله في مقدمته عليه (1/ 17).

وقد تبعه الحافظ الهيثمي في تيسير الانتفاع بكتابه "موارد الظمآن"، فرتبه - أَيضًا - على الكتب والأبواب الفقهية؛ كما نص عليه في المقدمة، ولكنه لم يلتزم فيها ما التزمه الأمير علاء الدين من المحافظة على كتب وأبواب أصله، وإنما ترجم لأحاديثه بما أداه إليه اجتهاده من الكتب والأبواب.

وإن مما لا شك فيه أن هذا الترتيب - دون أي شك - أنفع لعامّة الناس، وأيسر للاستفادة والتفقه والمراجعة، ولذلك قيل: فقه البخاري في تراجم أبوابه في "صحيحه"، فلا جرم أنَّه سار على هذا الدرب كبار الأئمَّة والحفاظ؛

--------------------------------------------

(1) انظر "صحيح ابن حبان" - تحقيق الشيخ العلامة أحمد شاكر رحمه الله (1/ 9، 15، 111)، و"النكت الظراف" للحافظ ابن حجر (1/ 291).

‌‌(2) انظر "سير الأعلام" للذهبي (16/ 97)، وأحمد شاكر (1/ 16).

وقال الحافظ: "رام تقريبه؛ فبعّده! "؛ نقله السخاوي (2/ 342).

‌‌(3) انظر مقدمة "موارد الظمآن" للأخ حسين سليم الداراني (1/ 42).
এর সনদে এবং এর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে কোনো ত্রুটি বা সমালোচনা সাব্যস্ত নেই" - যেমনটি তিনি তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন (১)।

আর এই অদ্ভুত বিন্যাসের কারণে - যা সচরাচর ব্যবহৃত নয় - আলেমগণ ধারাবাহিকভাবে এর থেকে উপকৃত হওয়া কঠিন হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন; যেমন হাফেজ জাহাবি, হাফেজ আসকালানি, ইমাম সুয়ুতি এবং শেখ আহমদ শাকির (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি দয়া করুন) - (২); এটি ঐসব সমসাময়িকদের বিপরীত যারা গোঁড়ামি, অহংকার এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যারা পূর্ববর্তীদের জ্ঞান থেকে উপকৃত হয় না যখন তা তাদের ধারণাকৃত জ্ঞানের পরিপন্থী হয়। বরং এটি কেবল কোনো বড় ব্যক্তির প্রতি অতিরিক্ত সম্মান, মহত্ব এবং অন্ধ অনুকরণ মাত্র, এবং জ্ঞানহীন ও কোনো উজ্জ্বল কিতাবের প্রমাণ ছাড়াই তাঁর পক্ষ অবলম্বন করা (৩)।

একারণেই তাঁর পরে আমির আলাউদ্দিন আবুল হাসান আলী ইবনে বালবান আল-ফারিসি আল-মিসরি আল-হানাফি (মৃত্যু ৭৩৯ হি.) আসেন এবং তিনি এটিকে কিতাব ও অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন। এটি সত্যিই এক মহান কাজ ছিল; এটি জ্ঞানপিপাসুদের জন্য কিতাবটিকে সহজলভ্য করেছে এবং একজন নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত আলেম হিসেবে অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সাথে এর মূল পাঠকে সংরক্ষণ করেছেন, যেমনটি এর মুহাক্কিক শেখ আহমদ শাকির (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) তাঁর ভূমিকায় (১/১৭) বলেছেন।

আর হাফেজ হাইসামি তাঁর 'মাওয়ারিদুজ জামআন' কিতাবের মাধ্যমে উপকৃত হওয়া সহজ করার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং তিনি এটিকে ফিকহি কিতাব ও অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন; যেমনটি তিনি ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি এতে আমির আলাউদ্দিনের মতো মূল কিতাবের কিতাব ও অধ্যায়গুলো সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা বজায় রাখেননি, বরং তাঁর ইজতিহাদ অনুযায়ী হাদিসগুলোর জন্য শিরোনাম ও অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই বিন্যাস - কোনো সংশয় ছাড়াই - সাধারণ মানুষের জন্য অধিক উপকারী এবং এর থেকে ফায়দা হাসিল করা, ফিকহ অর্জন করা ও পুনরায় দেখার জন্য অধিক সহজ। একারণেই বলা হয়: বুখারির ফিকহ তাঁর 'সহিহ'-এর অধ্যায়সমূহের শিরোনামের মধ্যে নিহিত। সুতরাং বড় বড় ইমাম এবং হাফেজগণ যে এই পথ অনুসরণ করেছেন তাতে কোনো বিস্ময় নেই।

--------------------------------------------

(১) দেখুন "সহিহ ইবনে হিব্বান" - আল্লামা শেখ আহমদ শাকিরের (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) তাহকিক (১/৯, ১৫, ১১১), এবং হাফেজ ইবনে হাজারের "আন-নুকাতুজ জিরাফ" (১/২৯১)।

‌‌(২) দেখুন জাহাবির "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৬/৯৭) এবং আহমদ শাকির (১/১৬)।

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "তিনি এটিকে সহজ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু একে আরও কঠিন করে ফেলেছেন!"; যা সাখাভি উদ্ধৃত করেছেন (২/৩৪২)।

‌‌(৩) দেখুন ভাই হুসাইন সালিম আদ-দারানির "মাওয়ারিদুজ জামআন"-এর ভূমিকা (১/৪২)।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৭)
كأصحاب الكتب الستة، وابن خزيمة في "صحيحه"، وابن الجارود في "المنتقى" وغيرهم.

بل إني أقول: إنه هو الأوفق للشرع، والمتجاوب مع أمره صلى الله عليه وسلم: "يسروا، ولا تعسروا … "، متفق عليه، وهو مخرج في "الصحيحة" (1151).

 

‌‌تقويمي لكتاب "زوائد الموارد"

وإذا كان من المعروف عند أهل العلم أن للفرع حكم الأصل إيمانًا وكفرًا، وصحة وضعفًا ما لم يعرض للفرع عارض يخرجه عن أصله، ويلحقه بنقيضه، كما يشير إلى ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: "ما من مولود إلَاّ يولد على الفطرة، فأبواه يهودانه وينصرانه، كما تنتجون البهيمة، هل تجدون فيها من جدعاء؟! حتى تكونوا أنتم تجدعونها"، متفق عليه، واللفظ للبخاري "الإرواء" (5/ 49 - 50).

فلقد تكلّم علماؤنا رحمهم الله في "صحيح ابن حبان" في كتب "المصطلح" وغيرها كثير، كلٌّ حسب بحثه واجتهاده، وتوسع في ذلك بعض المتأخرين والمبالغين في تقديره وتبجيله، وبخاصة منهم العلامة الفاضل الشيخ أحمد شاكر - رحمه الله تعالى -، ولذلك فإني سوف لا أُثقل على المقدمة ببسط أقوالهم في ذلك ومناقشتها؛ فإن ذلك يتطلب مني فراغًا ووقتًا وتأليفًا لكتاب خاص في الموضوع، الأمر الذي لا أستطيعه، وأنا في صددها، والكتاب تحت الطبع.

ولذلك؛ فإني سألخّص أقوالهم بقدر ما يمكنني من التلخيص، ثم أتوجه لبيان ما هو المختار والمصطفى عندي دون أن أقلد في ذلك أحدًا، أو أداريه، أو أن أُوخذَ بسيف الرهبة، أو المفاخرة، أو المصلحة التجارية؛ كما بدا لي أن بعض المعاصرين لي فعله!
যেমন কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি কিতাব)-এর সংকলকগণ, তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে ইবনে খুজাইমাহ, "আল-মুনতাকা" গ্রন্থে ইবনে আল-জারুদ এবং অন্যান্যরা।

বরং আমি বলি: এটিই শরীয়তের সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদেশের অনুকূল: "তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না...", এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত) এবং "আস-সহীহাহ" (১১৫১) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

 

‌‌"যাওয়াইদুল মাওয়ারিদ" গ্রন্থের ব্যাপারে আমার মূল্যায়ন

যখন ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, ঈমান-কুফর এবং সহীহ-যয়ীফ হওয়ার ক্ষেত্রে শাখার হুকুম মূলের হুকুমের অনুরূপ হয়, যতক্ষণ না শাখায় এমন কোনো বিষয় উপস্থিত হয় যা তাকে তার মূল থেকে বের করে দেয় এবং তার বিপরীতের সাথে সংযুক্ত করে। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী নির্দেশ করে: "প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাতের (প্রাকৃতিক স্বভাব) ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান বানায়, যেমনটি চতুষ্পদ জন্তু যখন বাচ্চা প্রসব করে, তোমরা কি তাতে কোনো কান-কাটা প্রাণী দেখতে পাও?! যতক্ষণ না তোমরাই তাকে কান-কাটা বানিয়ে দাও।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি এবং শব্দচয়ন ইমাম বুখারীর; "আল-ইরওয়া" (৫/ ৪৯-৫০)।

নিশ্চয়ই আমাদের উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুমুল্লাহ) "সহীহ ইবনে হিব্বান" সম্পর্কে উসূলে হাদীসের কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য আরও অনেক গ্রন্থে আলোচনা করেছেন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ গবেষণা ও ইজতিহাদ অনুযায়ী। পরবর্তীকালের কেউ কেউ একে মূল্যায়ন ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা ও অতিশয়োক্তি করেছেন, বিশেষ করে ফাযেল আল্লামা শাইখ আহমদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)। তাই আমি তাঁদের বক্তব্যগুলো বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ভূমিকার কলেবর বৃদ্ধি করব না; কারণ এর জন্য অবসর, পর্যাপ্ত সময় এবং এই বিষয়ে স্বতন্ত্র একটি গ্রন্থ রচনার প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার পক্ষে সম্ভব নয়, যেখানে গ্রন্থটি মুদ্রণাধীন রয়েছে।

এজন্য আমি তাঁদের বক্তব্যগুলো যথাসম্ভব সংক্ষেপে সারসংক্ষেপ করব, অতঃপর এ বিষয়ে আমার নিকট যা অগ্রগণ্য ও মনোনীত তা বর্ণনা করব। এক্ষেত্রে আমি কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করব না, কারো তোষামোদ করব না, কিংবা কারো ভয়, গর্ব বা ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে নতিস্বীকার করব না; যেমনটি আমার সমসাময়িক কারো কারো ক্ষেত্রে হতে দেখেছি!
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৮)
وابتداءً أقول:

لست بحاجة إلى أن أنمِّق كلمات في الثناء على حافظنا (محمد بن حِبّان البستي)؛ فإنه - والحمد لله - من المتفق عليه بين العلماء والحفاظ على إجلاله، واحترامه، وحفظه، وثقته، ونبوغه، ويكفينا في ذلك قول الحافظ الذهبي المشهود له بالحفظ، والنقد، والمعرفة بمقادير الرجال ومنازلهم، لا تأخذه في ذلك لومة لائم أَنَّه:

"الحافظ، الإمام، العلامة … الثقة في نقله … " (انظر "تذكرة الحفاظ" (3/ 290)، "المغني" (564/ 5378) - وغيرهما -).

ذلك لأن بحثي ليس في شخصه، وإنما هو في كتابه "التقاسيم والأنواع" الذي منه كتابنا "موارد الظمآن"؛ حتى أتمكّن من تحقيق ما قصدت إليه من (التقويم) المشار إليه، فأقول:

أولًا: لقد صنفه بعض الحفاظ في المرتبة الثالثة من بين الكتب التي التزم مؤلفوها الصحة، فقالوا:

‌‌1 - "الصحيحان".

‌‌2 - "صحيح ابن خزيمة".

‌‌3 - "صحيح ابن حبان"، انظر مقدمة الشيخ أحمد شاكر عليه (1/ 11 - 14).

وقال الحافظ ابن كثير - فيه، وفي "صحيح ابن خزيمة" -:

"هما خير من "المستدرك" بكثير، وأنظف أسانيدَ ومتونًا": "اختصار علوم الحديث" (1/ 109 "الباعث الحثيث").

ثانيًا: وصفه بعضهم بالتساهل في التوثيق والتصحيح، وقرنوه في ذلك أو كادوا بالحاكم، فقال الحافظ ابن الصلاح في "المقدمة"، والعراقي في شرحه
প্রারম্ভে আমি বলছি:

আমাদের হাফেজ (মুহাম্মদ বিন হিব্বান আল-বুস্তি)-এর প্রশংসায় শব্দ অলঙ্কৃত করার কোনো প্রয়োজন আমার নেই; কেননা—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—তাঁর মহিমা, সম্মান, প্রখর স্মৃতিশক্তি, নির্ভরযোগ্যতা এবং শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি ওলামায়ে কেরাম ও হাফেজগণের নিকট সর্বসম্মত। এই বিষয়ে হাফেজ আল-জাহাবীর উক্তিই আমাদের জন্য যথেষ্ট, যিনি হাদিস মুখস্থ, সমালোচনা এবং বর্ণনাকারীদের মান ও মর্যাদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বজনস্বীকৃত এবং এ ক্ষেত্রে কোনো নিন্দুকের নিন্দা যাঁকে প্রভাবিত করে না; তিনি বলেন যে, ইবনে হিব্বান হলেন:

"হাফেজ, ইমাম, আল্লামা … তাঁর বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য … " (দেখুন: "তাজকিরাতুল হাফ্ফাজ" (৩/ ২৯০), "আল-মুগনী" (৫৬৪/ ৫৩৭৮) - এবং অন্যান্য -)।

এর কারণ হলো, আমার এই গবেষণা তাঁর ব্যক্তিসত্তাকে নিয়ে নয়, বরং তাঁর রচিত কিতাব "আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া" নিয়ে, যা থেকে আমাদের এই কিতাব "মাওয়ারিদুজ জামআন" সংকলিত হয়েছে; যাতে আমি আমার উদ্দিষ্ট (মূল্যায়ন) যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারি। আমি বলছি:

প্রথমত: কোনো কোনো হাফেজ একে ওই সকল কিতাবের মধ্যে তৃতীয় স্তরে স্থান দিয়েছেন যেগুলোর সংকলকগণ কেবল সহীহ হাদিস সংকলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন:

‌‌১ - "সহীহাইন" (বুখারী ও মুসলিম)।

‌‌২ - "সহীহ ইবনে খুজায়মাহ"।

‌‌৩ - "সহীহ ইবনে হিব্বান", দেখুন: এর ওপর শায়খ আহমাদ শাকিরের ভূমিকা (১/ ১১ - ১৪)।

হাফেজ ইবনে কাসীর এই কিতাব এবং "সহীহ ইবনে খুজায়মাহ" সম্পর্কে বলেছেন:

"এই কিতাব দুটি 'আল-মুস্তাদরাক' অপেক্ষা অনেক উত্তম এবং এগুলোর সনদ ও মতনসমূহ অধিকতর পরিচ্ছন্ন": "ইখতিসার উলুমিল হাদিস" (১/ ১০৯ "আল-বাইসুল হাসিস")।

দ্বিতীয়ত: কেউ কেউ বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলা (তাওসিক) এবং হাদিসকে সহীহ বলার (তাসহিহ) ক্ষেত্রে তাঁকে শিথিলতা অবলম্বনের বিশেষণে বিশেষিত করেছেন এবং এই বিষয়ে তাঁকে হাকেম-এর সমপর্যায়ের বা তাঁর কাছাকাছি গণ্য করেছেন। হাফেজ ইবনুস সালাহ তাঁর "মুকাদ্দিমাহ"-তে এবং আল-ইরাকী এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন...
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৯)
عليه (ص 18 - حلب):

"إنه يقارب الحاكم في التساهل، لكن هذا أشد تساهلًا منه".

وقال الحافظ ابن عبد الهادي تلميذ ابن تيمية في صدد رده على السبكي تقويته لحديث في الزيارة النبوية في إسناده من وثقه ابن حبان:

"ليس فيه ما يقتضي صحة الحديث الذي رواه، ولا قوته، وقد عُلم أن ابن حبان ذكر في هذا الكتاب الذي جمعه في الثقات عددًا كثيرًا، وخلقًا عظيمًا من المجهولين الذين لا يعرف هو - ولا غيره - أحوالهم، وقد صرح ابن حبان بذلك في غير موضع من هذا الكتاب … " (1).

ثالثًا: نقل الحافظ الذهبي عن الإمام أبي عمرو بن الصلاح أنه قال في ابن حبان:

"غلط الغلط الفاحش في تصرفه".

فعقب عليه الذهبي بقوله:

"وصدق أبو عمرو، وله أوهام كثيرة، تتبع بعضها الحافظ ضياء الدين".

وأقره الحافظ ابن حجر في "اللسان" (5/ 113).

وذكر الذهبي في ترجمته من "سير أعلام النبلاء" (16/ 97): "أن في "تقاسيمه" من الأقوال، والتأويلات البعيدة، والأحاديث المنكرة: عجائب" (2).

--------------------------------------------

(1) "الصارم المنكي" (ص 92 - 93). ونحوه في مقدمة "لسان الميزان" لابن حجر (1/ 14 - 15).

‌‌(2) قلت: علق عليه الشيخ شعيب بما يدل على أنه لم يفهم مراد ابن عبد الهادي، أو أنه لواه، وصرفه عما قصد إليه؛ لأنه إنما يعني منهج ابن حبان في كتابه، وليس "ما يخطئ فيه البشر، وما لا يخلو منه عالم محقق"! كما زعم! وهو - على كل حال - تحوير منه لقول الشيخ أحمد رحمه الله الآتي بيان ما فيه قريبًا - إن شاء الله -.
এর ওপর (পৃষ্ঠা ১৮ - আলেপ্পো):

"নিশ্চয়ই তিনি শিথিলতার ক্ষেত্রে আল-হাকিমের কাছাকাছি, তবে তিনি তাঁর চেয়েও অধিক শিথিল।"

ইবনু তাইমিয়্যাহর ছাত্র হাফিজ ইবনু আব্দুল হাদী, আস-সুবকী কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর যিয়ারত বিষয়ক একটি হাদীসকে শক্তিশালী করার প্রতিবাদে বলেন—যার সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছে যাকে ইবনু হিব্বান নির্ভরযোগ্য বলেছেন:

"এতে এমন কিছু নেই যা তাঁর বর্ণিত হাদীসটির বিশুদ্ধতা বা শক্তির দাবি রাখে। এটি জানা কথা যে, ইবনু হিব্বান তাঁর সংকলিত 'আস-সিকাত' গ্রন্থে এমন বিপুল সংখ্যক ও অগণিত অজ্ঞাত (মাজহুল) বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করেছেন যাদের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বা অন্য কেউ অবগত নন। ইবনু হিব্বান নিজেই এই গ্রন্থের একাধিক স্থানে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন … " (১)।

তৃতীয়ত: হাফিজ আয-যাহাবী ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনু হিব্বান সম্পর্কে বলেছেন:

"তিনি তাঁর কর্মপদ্ধতিতে অত্যন্ত জঘন্য ভুল করেছেন।"

এর পরিপ্রেক্ষিতে আয-যাহাবী বলেন:

"আবু আমর সত্যই বলেছেন, তাঁর অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে, যার কিছু অংশ হাফিজ জিয়াউদ্দীন অনুসরণ করে চিহ্নিত করেছেন।"

হাফিজ ইবনু হাজার "আল-লিসান" (৫/১১৩) গ্রন্থে এটি সমর্থন করেছেন।

আয-যাহাবী "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৬/৯৭) গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন: "তাঁর 'তাকাসিম' (সহীহ ইবনু হিব্বান) গ্রন্থে এমন কিছু বক্তব্য, দূরবর্তী ব্যাখ্যা এবং মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হাদীস রয়েছে যা আশ্চর্যজনক" (২)।

--------------------------------------------

(১) "আস-সারিমুল মুনকি" (পৃ. ৯২ - ৯৩)। অনুরূপ কথা রয়েছে ইবনু হাজার-এর "লিসানুল মিজান"-এর ভূমিকায় (১/ ১৪ - ১৫)।

‌‌(২) আমি বলছি: শায়খ শুআইব এর ওপর এমন মন্তব্য করেছেন যা নির্দেশ করে যে তিনি ইবনু আব্দুল হাদীর উদ্দেশ্য বুঝতে পারেননি, অথবা তিনি একে বিকৃত করেছেন এবং যেদিকে তিনি লক্ষ্য করেছিলেন তা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন; কেননা তিনি কেবল তাঁর কিতাবে ইবনু হিব্বানের মানহাজ বা পদ্ধতির কথা বুঝিয়েছেন, এমন কিছু নয় 'যাতে মানুষ ভুল করে থাকে এবং যা থেকে কোনো বিজ্ঞ গবেষক আলিম মুক্ত নন!' যেমনটি তিনি দাবি করেছেন। যাই হোক—এটি শায়খ আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের একটি বিকৃতি, যার স্বরূপ ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই স্পষ্ট করা হবে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১০)
إذا عرف ما ذكرت؛ فإني أرى أنه لا منافاة بين الاجتهادات والأقوال المذكورة، وذلك بعد ممارستي - والحمد لله - لهذا العلم الشريف، والتزامي لقواعده التي وضعها أساطين الحفاظ والعلماء، واستعانتي بهم على تطبيق الجزئيّات على الكليات، والفروع على الأصول، واستفادتي من تجارِبهم وممارستهم إياه أكثر من نصف قرن من الزمان، فأقول:

أولًا: هو بحق - كما ذكروا - في المرتبة الثالثة بعد "الصحيحين"، وذلك لغزارة مادته، وكثرة أحاديثه التي بلغ عددها نحو (7500) (1)، والأحاديث التي انتقدتها منه بواسطة "الموارد" لا تبلغ الأربع مئة - فيما يبدو - حتى الآن؛ لأننا لم ننته بعد من تصحيح تجارب "الضعيف" منه؛ أي: بنسبة خمسة في المئة تقريبًا، لكن ينبغي أن لا ننسى أن النسبة يمكن أن ترتفع؛ لأن قسمًا كبيرًا من "الصحيح" لم نورده في "الضعيف" لمتابعات وشواهد قويناه بها؛ وإلَاّ فهي ضعيفة الأسانيد، كما سيأتي التنبيه على ذلك - إن شاء الله تعالى -.

ثانيًا: هو متساهل في التوثيق والتصحيح دون ما شك أو ريب، وهو مما سيأتي تفصيل القول فيه - بإذنه - تعالى -.

ثالثًا: الأحاديث المنكرة فيه، يلتقي تمامًا مع ما قبله، وبخاصة إذا فُسَّرَ الحديث المنكر بما تفرد به الضعيف، سواءً خالف أو لم يخالف - كما هو مذهب أحمد وغيره -.

والذي يهمني في هذه المقدمة؛ إنما هو تحقيق القول في تساهله المذكور، وتقويم مصدريه، إلَاّ وهما كتاباه "الثقات"، و"الصحيح"؛ لأنه عليهما قام كتاب "موارد الظمآن"، فأقول:

--------------------------------------------

(1) وهو - على التحديد؛ كما في طبعة المؤسسة -: (7491)؛ وهو - في طبعة دار الكتب العلمية/ بيروت -: (7448).

والأول أدق، وأصح، وأوثق.
যা উল্লেখ করেছি তা জানার পর; আমি মনে করি উল্লিখিত ইজতিহাদ ও উক্তিগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। আর তা হচ্ছে—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—এই মহান শাস্ত্র চর্চা করার পর, এবং হাফেজ ও উলামায়ে কেরামের বড় বড় ইমামদের নির্ধারণ করে দেওয়া মূলনীতিসমূহের প্রতি আমার অবিচল থাকার পর, এবং আংশিক বিষয়গুলোকে সামগ্রিক বিষয়ের ওপর এবং শাখাগুলোকে মূলনীতির ওপর প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে তাঁদের সাহায্য গ্রহণ করার পর। সেই সাথে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও চর্চা থেকে আমার উপকৃত হওয়ার পর, আমি বলছি:

প্রথমত: এটি যথাযথভাবে—যেমনটি তাঁরা উল্লেখ করেছেন—‘সহীহাইন’ (বুখারী ও মুসলিম)-এর পর তৃতীয় স্তরে অবস্থিত। এর কারণ হলো এর বিষয়ের প্রাচুর্য এবং এর হাদিসসমূহের আধিক্য, যার সংখ্যা প্রায় ৭,৫০০ (১)। ‘আল-মাওয়ারিদ’-এর মাধ্যমে আমি এর মধ্য থেকে যে হাদিসগুলোর সমালোচনা করেছি তা—এখন পর্যন্ত যা মনে হয়—চারশোর বেশি হবে না; কারণ আমরা এখনো এর ‘যঈফ’ (দুর্বল) অংশের প্রুফ সংশোধনের কাজ শেষ করিনি। অর্থাৎ এটি আনুমানিক শতকরা পাঁচ ভাগ। তবে ভুলে যাওয়া উচিত হবে না যে এই হার আরও বাড়তে পারে; কারণ ‘সহীহ’ অংশের একটি বড় অংশ আমরা ‘যঈফ’ অংশে অন্তর্ভুক্ত করিনি ওইসব মুতাবাআত (সমর্থক বর্ণনা) ও শাওয়াহিদ (সাক্ষ্য)-এর কারণে যার মাধ্যমে আমরা সেগুলোকে শক্তিশালী করেছি। অন্যথায় সেগুলোর সনদ বা বর্ণনাসূত্র দুর্বল। আল্লাহ তাআলা চাহেন তো সামনে এ বিষয়ে সতর্ক করা হবে।

দ্বিতীয়ত: বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (তাওসিক) ও হাদিস সহীহ নির্ণয়ের (তাসহিহ) ক্ষেত্রে তিনি নিঃসন্দেহে শিথিলতা প্রদর্শনকারী (মুতাসাহিল)। এটি এমন বিষয় যা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় সামনে আসবে।

তৃতীয়ত: এতে বিদ্যমান ‘মুনকার’ (অস্বীকৃত) হাদিসগুলো আগের বিষয়ের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়; বিশেষ করে যখন মুনকার হাদিসের ব্যাখ্যা এভাবে করা হয় যে, যা কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন, চাই তা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করুক বা না করুক—যেমনটি ইমাম আহমাদ ও অন্যদের অভিমত।

এই ভূমিকায় আমার কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো তাঁর উল্লিখিত শিথিলতার বিষয়ে গবেষণালব্ধ বক্তব্য প্রদান করা এবং তাঁর দুটি মূল উৎস তথা তাঁর ‘আত-সিকাত’ ও ‘আস-সহীহ’ গ্রন্থদ্বয়ের মূল্যায়ন করা। কেননা এই দুটি গ্রন্থের ওপরই ‘মাওয়ারিদুজ জামআন’ গ্রন্থটি প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং আমি বলছি:

--------------------------------------------

(১) আর এটি—সঠিকভাবে, যেমনটি মুআসসাসাহ সংস্করণে রয়েছে—: (৭৪৯১); আর দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ/ বৈরুত সংস্করণে রয়েছে—: (৭৪৪৮)। প্রথমটি অধিক সূক্ষ্ম, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌(الفصل الأول): تقويم كتاب "الثقات"

ابتداءً؛ يكفينا الاستشهاد على تساهله فيه قول أعرَف الحفاظ بالرجال بعد الحافظ الذهبي؛ ألا وهو الحافظ أحمد بن حجر العسقلاني رحمه الله؛ فإنه قال في مقدمة كتابه "لسان الميزان" (1/ 14):

"قال ابن حبان: من كان منكر الحديث على قلته؛ لا يجوز تعديله إلَّا بعد السبر، ولو كان ممن يروي المناكير، ووافق الثقات في الأخبار؛ لَكان عدلًا مقبول الرواية، إذ الناس في أحوالهم (1) على الصلاح والعدالة؛ حتى يتبين منهم ما يوجب القدح، هذا حكم المجاهيل الذين لم يرو عنهم إلَاّ الضعفاء، فهم متروكون على الأحوال كلها".

قال الحافظ عقبه:

"قلت: وهذا الذي ذهب إليه ابن حبان؛ من أن الرجل إذا انتفت جهالة عينه؛ كان على العدالة إلى أن يتبين جرحه: مذهب عجيب، والجمهور على خلافه، وهو مسلك ابن حبان في "كتاب الثقات" الذي ألَّفه؛ فإنه يذكر خلقًا ممن نص عليهم أبو حاتم - وغيره - على أنهم مجهولون، وكأَن عند ابن حبان أن جهالة العين ترتفع برواية واحد مشهور، وهو مذهب شيخه ابن خزيمة، ولكن جهالة حاله باقية عند غيره، وقد أفصح ابن حبان بقاعدته، فقال:

(العدل من لم يعرف فيه الجرح؛ إذ التجريح ضد التعديل، فمن لم

--------------------------------------------

(1) الأصل: "أقوالهم"! والتصويب من "الضعفاء" (2/ 192 - 193).
‌‌(প্রথম পরিচ্ছেদ): "কিতাবুত থিকাত"-এর মূল্যায়ন

শুরুতেই, এই কিতাবের ক্ষেত্রে তার শিথিলতার প্রমাণ হিসেবে হাফেজ যাহাবীর পর বর্ণনাকারীদের (রিজাল) সম্পর্কে সবচেয়ে বিজ্ঞ হাফেজের উক্তিই আমাদের জন্য যথেষ্ট; আর তিনি হলেন হাফেজ আহমদ বিন হাজার আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি তাঁর "লিসানুল মিজান" (১/ ১৪) কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন:

"ইবনে হিব্বান বলেন: কেউ যদি অল্প হাদিস বর্ণনা করা সত্ত্বেও 'মুনকারুল হাদিস' (অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী) হয়, তবে সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ব্যতীত তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করা জায়েয নয়। আর যদি কেউ 'মুনকার' বর্ণনা করা সত্ত্বেও অন্যান্য সংবাদের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যদের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে, তবে সে নির্ভরযোগ্য এবং তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হবে। কেননা মানুষের অবস্থা (১) মূলত সততা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর প্রতিষ্ঠিত; যতক্ষণ না তাদের মধ্যে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা দোষারোপের কারণ হয়। এটি সেই সব অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিধান, যাদের থেকে কেবল দুর্বল বর্ণনাকারীরাই বর্ণনা করেছেন; ফলে তারা সব অবস্থাতেই বর্জনীয়।"

এর পরপরই হাফেজ ইবনে হাজার বলেন:

"আমি বলি: ইবনে হিব্বান যে মতটি গ্রহণ করেছেন—অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিচয় নিশ্চিত হয়ে গেলে সে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে যতক্ষণ না তার কোনো দোষ প্রকাশ পায়—তা একটি অদ্ভুত মত। অধিকাংশ আলেম এর বিপরীত মত পোষণ করেন। এটিই ইবনে হিব্বানের পদ্ধতি তাঁর রচিত 'কিতাবুত থিকাত'-এ; সেখানে তিনি এমন অসংখ্য বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেছেন যাদের সম্পর্কে আবু হাতিম ও অন্যান্যরা 'অজ্ঞাত' হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন। ইবনে হিব্বানের নিকট সম্ভবত কোনো ব্যক্তির সত্তাগত অজ্ঞতা দূর হয়ে যায় একজন প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে, যা তাঁর শিক্ষক ইবনে খুজায়মারও মত। কিন্তু অন্যদের নিকট তার অবস্থার অজ্ঞতা বজায় থাকে। ইবনে হিব্বান তাঁর মূলনীতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে বলেছেন:

(নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি সে-ই যার মধ্যে কোনো দোষ জানা নেই; যেহেতু দোষারোপ করা হলো নির্ভরযোগ্য বলার বিপরীত, তাই যার সম্পর্কে...

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে রয়েছে: "তাদের কথাগুলো"! সংশোধনীটি নেওয়া হয়েছে "আদ-দুয়াফা" (২/ ১৯২ - ১৯৩) থেকে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১২)
يجرح؛ فهو عدل حتى يتبيّن جرحه؛ إذ لم يكلف الناس ما غاب عنهم) (1).

قال الحافظ - عَقِبَهُ -:

"وقال في ضابط الحديث الذي يحتج به: (إذا تعرَّى راويه من أن يكون مجروحًا، أو فوقه مجروح، أو دونه مجروح، أو كان سنده مرسلًا، أو منقطعًا، أو كان المتن منكرًا) (2).

هكذا نقله الحافظ شمس الدين ابن عبد الهادي في "الصارم المنكي"، وقد تصرف في عبارة ابن حبان، لكنه أتى بمقصده، وسياق بعض كلامه في (أيوب) - آخِرِ مذكور في حرف الألف -.

قال الخطيب: أقل ما يرتفع به الجهالة أن يروي عن الرجل اثنان فصاعداً من المشهورين بالعلم؛ إلَاّ أَنَّه لا يثبت له حكم العدالة بروايتهما".

قلت: ونص كلام ابن حبان رحمه الله في مقدمة كتابه "الثقات" (1/ 11):

"ولا أذكر في هذا الكتاب إلَاّ الثقات الذين يجوز الاحتجاج بخبرهم".

ثم أكد ذلك بقوله (ص 11 - 12):

"فكل من أذكره في هذا الكتاب؛ فهو صدوق يجوز الاحتجاج بخبره إذا تعرى خبره عن خصال خمس، فإذا وجد خبر منكر عن واحد ممن أذكره في كتابي هذا؛ فإن ذلك الخبر لا ينفك من إحدى خمس خصال: إما أن يكون فوقه رجل ضعيف، أو دونه، أو يكون إسناده مرسلًا، أو منقطعًا، أو فيه رجل مدلس لم

--------------------------------------------

(1) قلت: هذا كلام ابن حبان في مقدمة "الثقات" (1/ 13).

‌‌(2) الذي في مقدمة "الثقات" (1/ 12) - مكان الخصلة الخامسة -: "أو أن يكون في الإسناد رجل يدلس لم يبين سماعه".

وهكذا هو في "الصارم المنكي" (93 - 94)، وليس فيه قوله: "راويه من أن يكون مجروحًا"! وهو خطأ - كما سأبيَّنه -.
জারাহ (ত্রুটিযুক্ত) করা হয়েছে; সুতরাং সে আদল (ন্যায়পরায়ণ) হিসেবেই গণ্য হবে যতক্ষণ না তার জারাহ প্রকাশ পায়; কারণ মানুষকে তাদের অগোচরে থাকা বিষয় সম্পর্কে বাধ্য করা হয়নি) (১)।

হাফিজ তার পরপরই বলেছেন:

"এবং তিনি দলিল হিসেবে পেশযোগ্য হাদিসের মানদণ্ড সম্পর্কে বলেছেন: (যখন এর রাবি বা বর্ণনাকারী জারাহ হওয়া থেকে মুক্ত হয়, অথবা তার উপরে কেউ জারাহযুক্ত হওয়া থেকে, অথবা তার নিচে কেউ জারাহযুক্ত হওয়া থেকে, অথবা তার সনদ মুরসাল হওয়া থেকে, অথবা মুনকাতি হওয়া থেকে, অথবা মতনটি মুনকার হওয়া থেকে) (২)।

হাফিজ শামসুদ্দিন ইবনে আব্দুল হাদি এভাবেই 'আস-সারিমুল মুনকি' গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি ইবনে হিব্বানের শব্দের গঠনে কিছুটা পরিবর্তন করেছেন, তবে তিনি তার মূল উদ্দেশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন। তার বক্তব্যের কিছু প্রাসঙ্গিক অংশ (আইয়ুব)-এর আলোচনায় রয়েছে—যিনি আলিফ বর্ণের শেষে উল্লিখিত হয়েছেন।

খতিব বলেছেন: জাহালাত (অপরিচিতি) দূর হওয়ার সর্বনিম্ন মানদণ্ড হলো সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে ইলমের জন্য প্রসিদ্ধ অন্তত দুইজন বা তার বেশি ব্যক্তি বর্ণনা করবেন; তবে শুধুমাত্র তাদের দুজনের বর্ণনার মাধ্যমে তার ন্যায়পরায়ণতার (আদালাত) বিধান সাব্যস্ত হবে না।"

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'আস-সিকাত' (১/১১)-এর ভূমিকা থেকে মূল পাঠ হলো:

"এবং আমি এই কিতাবে কেবল সেই সকল সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বর্ণনাকারীদেরই উল্লেখ করব যাদের খবর বা বর্ণনাকে দলিল হিসেবে পেশ করা জায়েজ।"

অতঃপর তিনি এটি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন এই বলে (পৃষ্ঠা ১১-১২):

"সুতরাং এই কিতাবে আমি যাদের কথা উল্লেখ করছি, তারা প্রত্যেকেই সাদুক (সত্যবাদী), তাদের খবরকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা জায়েজ যদি তাদের খবর পাঁচটি বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত থাকে। অতএব, আমি আমার এই কিতাবে যাদের উল্লেখ করেছি তাদের মধ্য থেকে কারও বর্ণনায় যদি কোনো মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) খবর পাওয়া যায়, তবে সেই খবরটি এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কোনো একটি থেকে মুক্ত থাকবে না: হয় তার উপরে কোনো যঈফ (দুর্বল) ব্যক্তি থাকবে, অথবা তার নিচে, অথবা তার ইসনাদটি মুরসাল হবে, অথবা মুনকাতি হবে, অথবা তাতে এমন একজন মুদাল্লিস ব্যক্তি থাকবে যে

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: এটি 'আস-সিকাত' (১/১৩) গ্রন্থের ভূমিকায় ইবনে হিব্বানের বক্তব্য।

‌‌(২) 'আস-সিকাত' (১/১২) গ্রন্থের ভূমিকায় যা রয়েছে—পঞ্চম বৈশিষ্ট্যের স্থানে—তাহলো: "অথবা সনদে এমন একজন ব্যক্তি থাকা যে তাদलीस করে এবং নিজের শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেনি।"

এবং এটিই 'আস-সারিমুল মুনকি' (৯৩-৯৪) গ্রন্থে রয়েছে, আর তাতে "তার বর্ণনাকারী জারাহ হওয়া থেকে মুক্ত" এই কথাটি নেই! এটি একটি ভুল—যেমনটি আমি সামনে স্পষ্ট করব।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৩)
يبين سماعه". انتهى باختصار.

فكنت أود أن ينقله الحافظ مع ما نقل؛ لأنه أعم وأشمل في بيان منهج ابن حبان في "ثقاته" أولًا، ثم هو يبين خطأ ما نقله عن ابن عبد الهادي ثانيًا؛ إذ ليس فيه: "راويه من أن يكون مجروحًا" - كما تقدم -؛ لأن الخصال الخمس هي عنده في غيره كما هو ظاهر؛ لأنه عنده ثقة يحتج بخبره إذا سلم إسناده من خصلة من تلك الخصال الخمس، وما يقع مثل هذا الخطإ إلَاّ من التلخيص، وسرعة النقل! ومن الغرائب أن الحافظ السخاوي قد نقله عن شيخه الحافظ ابن حجر، لكن بعبارة أخرى في صدد بيان اصطلاح ابن حبان في "صحيحه"؛ نصها في "فتح المغيث" (1/ 37):

"فإنه يخرّج في "الصحيح" ما كان راويه ثقة، غير مدلس، ولم يكن هناك إرسال، ولا انقطاع، ولم يكن في الراوي جرح ولا تعديل (!)، وكان كل من شيخه، والراوي عنه ثقة، ولم يأت بحديث منكر، فهو عنده ثقة".

قلت: فهذا خلط آخر ينسب إلى ابن حبان، وهو منه بريء، يدلك عليه أن أول المنسوب إليه هنا إنما هو في شروط الحديث الصحيح، وآخره فيمن هو الثقة عنده!

والأول هو الذي يدلُّ عليه كلامه الذي نقلته عنه آنفًا؛ أن الشروط المذكورة إنما هي في حديث الثقة عنده، وليس فيمن هو الثقة؟ فتأمل!

والظاهر أن الحافظ السيوطي تنبه لهذا الخطإ، فنقل ما عزاه السخاوي لابن حجر، لكن السيوطي لم يسمه؛ بل أشار إلى تمريضه بقوله في "تدريب الراوي" (1/ 108): "قيل … "!

على أن قول الحافظ: "ولم يكن في الراوي جرح ولا تعديل" لا يستقيم مع كلام ابن حبان أولًا؛ لأنه غير مذكور في شروطه كما رأيت، وهذا مثل لو قال:
তাঁর শ্রুতি সাব্যস্ত করে।" সংক্ষেপে সমাপ্ত।

আমি চেয়েছিলাম যে হাফিজ যা উদ্ধৃত করেছেন তার সাথে যেন এটিও উদ্ধৃত করতেন; কারণ এটি প্রথমত ইবনে হিব্বানের ‘থিকাত’ গ্রন্থে তাঁর মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি বর্ণনায় অধিক ব্যাপক ও বিস্তৃত। দ্বিতীয়ত, এটি ইবনে আব্দুল হাদী থেকে তিনি যা উদ্ধৃত করেছেন তার ভুলটিও স্পষ্ট করে দেয়; কারণ সেখানে এমন কথা নেই যে: "তার বর্ণনাকারী জরাহ বা ত্রুটিযুক্ত হওয়া থেকে মুক্ত থাকবে" - যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে -; কারণ তাঁর নিকট সেই পাঁচটি বৈশিষ্ট্য অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমনটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। কেননা তাঁর নিকট সেই ব্যক্তিই নির্ভরযোগ্য (থিকাহ) যার বর্ণনা দ্বারা দলীল পেশ করা যাবে, যখন তার সনদ সেই পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কোনো একটি থেকে মুক্ত থাকবে। আর এ ধরণের ভুল সাধারণত সারসংক্ষেপ করতে গিয়ে এবং দ্রুত উদ্ধৃতি প্রদান করার কারণেই ঘটে থাকে! আর বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, হাফিজ সাখাভী এটি তাঁর উস্তাদ হাফিজ ইবনে হাজারের নিকট থেকে উদ্ধৃত করেছেন, কিন্তু ইবনে হিব্বানের তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে ব্যবহৃত পরিভাষা বর্ণনার প্রসঙ্গে ভিন্ন শব্দে; ‘ফাতহুল মুগীস’ (১/৩৭) গ্রন্থে তার পাঠ হলো:

"নিশ্চয়ই তিনি তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে সেই সব হাদিস বর্ণনা করেন যার বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, মুদাল্লিস নয়, আর তাতে কোনো ইরসাল (সনদ মাঝখানে বাদ পড়া) বা ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) নেই, এবং বর্ণনাকারীর ব্যাপারে কোনো জরাহ (দোষারোপ) বা তাদিল (প্রশংসা) নেই (!), আর তাঁর উস্তাদ ও তাঁর থেকে গ্রহণকারী বর্ণনাকারী উভয়েই নির্ভরযোগ্য, এবং তিনি কোনো মুনকার হাদিস বর্ণনা করেননি; তবে তিনি তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য (থিকাহ)।"

আমি বলি: এটি ইবনে হিব্বানের প্রতি আরোপিত অন্য একটি বিভ্রান্তি, যা থেকে তিনি মুক্ত। এটি আপনার নিকট স্পষ্ট করে দেবে যে, এখানে শুরুতে তাঁর প্রতি যা কিছু নিসবত বা আরোপ করা হয়েছে তা মূলত সহীহ হাদিসের শর্তাবলী সম্পর্কে, আর শেষাংশ হলো তাঁর নিকট ‘থিকাহ’ বা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি কে—সে সম্পর্কে!

আর প্রথম বিষয়টিই তাঁর সেই বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যা আমি একটু আগেই তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছি; অর্থাৎ উল্লেখিত শর্তাবলী কেবল তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির হাদিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কে নির্ভরযোগ্য—সে বিষয়ে নয়। সুতরাং গভীরভাবে ভেবে দেখুন!

দৃশ্যত মনে হয় যে হাফিজ সুয়ূতী এই ভুলটি সম্পর্কে সচেতন হয়েছিলেন। তাই সাখাভী ইবনে হাজারের দিকে যা নিসবত করেছেন তিনি তা উদ্ধৃত করেছেন, কিন্তু সুয়ূতী তাঁর নাম উল্লেখ করেননি; বরং তিনি ‘তাদরিবুর রাবী’ (১/১০৮) গ্রন্থে "বলা হয়েছে … " বলার মাধ্যমে এর দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন!

তাছাড়া হাফিজের এই উক্তি: "আর বর্ণনাকারীর ব্যাপারে কোনো জরাহ বা তাদিল নেই" এটি প্রথমত ইবনে হিব্বানের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; কারণ আপনি যেমনটি দেখলেন, এটি তাঁর শর্তাবলীর মধ্যে উল্লিখিত নেই। এটি ঠিক তেমনি যেমন যদি কেউ বলে:
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৪)
"مجهول"، وهذا ينافي من جهة أخرى قول ابن حبان المتقدم: "العدل من لم يعرف فيه الجرح … " إلخ، فمن ليس فيه جرح؛ فهو عنده عدل، ولذلك انتقده الحافظ - كما سبق -، فكيف يدخل في شروطه التي ينبغي أن يكون إسناد الثقة عنده سالمًا منها من كان عنده ثقة عدلًا؟! والصواب أن يذكر مكانه: "ضعيف" - كما تقدم في نص ابن حبان - نفسه -.

ثم إن قول الحافظ: "ولم يأت بحديث منكر" ينبغي أن يُحمل على أحد رواة إسناد الثقة عنده، وليس كما فهمه بعض الجهلة المدعين المعرفة بهذا العلم؛ حيث قال:

"يَشترط ابن حبان في الراوي الذي يكون ثقة - حسب تعريفه - أن لا يأتي بخبر منكر؛ لكي يدخله في (الثقات) " (1)!!

وعزا ذلك في الحاشية لكتاب "فتح المغيث"، و"تدريب الراوي" بالجزء والصفحة، وهو كذب عليهما! وهو مما يؤكد جهله وقلة علمه؛ فإنه ليس من شرط الثقة أن لا يروي حديثًا منكرًا؛ لأن معنى ذلك أن يكون معصومًا من الخطإ، وهل يقول هذا عاقل يفهم ما يلفظه لسانه، أو يجري قلمه؟! وإنما يكون شرطًا فيه أن لا تكثر المناكير في رواياته، ولذلك فرقوا بين من قيل فيه: "يروي المناكير"، وبين من قيل فيه: "منكر الحديث"، فهذا ضعيف بخلاف الأول، وقد سبق (ص 11) في كلام ابن حبان ما يشهد لهذا التفريق، وهو أمر معروف في علم المصطلح.

ومعذرة إلى القراء الكرام؛ فقد ابتعدت قليلًا عن موضوع البحث بسبب

--------------------------------------------

(1) انظر "إقامة البرهان على ضعف حديث: (استعينوا على إنجاح الحوائج بالكتمان) " للمدعو خالد أحمد المؤذن؛ وفيه أوهام وجهالات؛ لو تفرغ له عالم ناقد؛ لَكان منه مجلد، وما ذكرت الآن كافٍ - إن شاء الله تعالى -.
"অজ্ঞাত", এবং এটি অন্যদিক থেকে ইবনে হিব্বানের পূর্বে উল্লিখিত উক্তির পরিপন্থী: "ন্যায়পরায়ণ (আদল) সে-ই যার মধ্যে কোনো সমালোচনা (জারহ) জানা নেই … " ইত্যাদি। সুতরাং যার মধ্যে কোনো সমালোচনা নেই, সে তার নিকট ন্যায়পরায়ণ (আদল); এই কারণেই হাফেজ তার সমালোচনা করেছেন—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব, যে ব্যক্তি তার নিকট বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ, সে কীভাবে তার শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যা থেকে কোনো বিশ্বস্ত রাবীর সনদ মুক্ত হওয়া উচিত?! সঠিক বিষয় হলো তার স্থলে "দুর্বল" উল্লেখ করা—যেমনটি ইবনে হিব্বানের নিজের বক্তব্যে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

অতঃপর হাফেজের উক্তি: "এবং সে কোনো বর্জনীয় (মুনকার) হাদিস বর্ণনা করেনি"—এটি তার নিকট কোনো বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর সনদের কোনো একজন বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি এই শাস্ত্রের জ্ঞানের দাবিদার কিছু মূর্খ বুঝেছে; যেখানে সে বলেছে:

"ইবনে হিব্বান এমন বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে—তার সংজ্ঞা অনুযায়ী—যিনি বিশ্বস্ত (সিকাহ) হবেন, এই শর্তারোপ করেন যে, তিনি যেন কোনো বর্জনীয় (মুনকার) সংবাদ নিয়ে না আসেন; যাতে করে তিনি তাকে (আস-সিকাত) কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন" (১)!!

এবং সে টীকায় এর উদ্ধৃতি দিয়েছে "ফাতহুল মুগিস" এবং "তাদরীবুর রাবী" কিতাবের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ, যা এই কিতাবদ্বয়ের ওপর একটি মিথ্যাচার! এটিই তার অজ্ঞতা ও জ্ঞানের স্বল্পতাকে নিশ্চিত করে; কেননা বিশ্বস্ত (সিকাহ) হওয়ার জন্য কোনো বর্জনীয় (মুনকার) হাদিস বর্ণনা না করা শর্ত নয়; কারণ এর অর্থ দাঁড়াবে তাকে ভুলভ্রান্তি থেকে নিষ্পাপ হতে হবে। আর কোনো সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি কি এমন কথা বলতে পারে যে তার মুখ দিয়ে কী বের হচ্ছে বা তার কলম দিয়ে কী লেখা হচ্ছে তা বোঝে?! বরং শর্ত হলো তার বর্ণনায় যেন বর্জনীয় (মুনকার) বিষয়ের আধিক্য না ঘটে। এই কারণেই তারা পার্থক্য করেছেন যার সম্পর্কে বলা হয়: "সে বর্জনীয় (মুনকার) হাদিস বর্ণনা করে" এবং যার সম্পর্কে বলা হয়: "সে মুনকারুল হাদিস (পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী)"। সুতরাং শেষোক্ত ব্যক্তি দুর্বল, প্রথম ব্যক্তির ক্ষেত্রটি ভিন্ন। ইতিপূর্বে (পৃষ্ঠা ১১) ইবনে হিব্বানের বক্তব্যে এই পার্থক্যের সপক্ষে প্রমাণ অতিবাহিত হয়েছে এবং এটি পরিভাষা শাস্ত্রে একটি সুপরিচিত বিষয়।

সম্মানিত পাঠকদের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি; কেননা আলোচনার বিষয়বস্তু থেকে আমি কিছুটা দূরে সরে গিয়েছি কারণ

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: খালেদ আহমদ আল-মুআজ্জিন নামক ব্যক্তির রচিত "ইকামাতুল বুরহান আলা দয়িফি হাদিস: (প্রয়োজনসমূহ সফল করতে গোপনীয়তার সাহায্য নাও)"; এতে অনেক বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতা রয়েছে; যদি কোনো সমালোচক আলেম এর পেছনে সময় ব্যয় করতেন, তবে এ নিয়ে এক বিশাল খণ্ড রচিত হতো। আমি এখন যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট—ইনশাআল্লাহ তাআলা।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৫)
بيان بعض الأوهام التي وقعت حول مذهب ابن حبان في كتابه "الثقات".

ومجمل القول فيه: أنه شذ في تعريفه (العدل) بأنه من لم يعرف بجرح عن الحفاظ الذين دُوِّنَتْ أقوالهم في مبسوطات كتب العلماء، ولخصت فوائدها في (علم مصطلح الحديث)، الذي صار مرجعًا لكل باحث متبع، لا يحيد عنه إلَاّ ذو هوى ومبتدع، أو جاهل مُدّعٍ مغرض، كما شذ في قوله أنه لم يذكر في "ثقاته" إلَّا الذين يجوز الاحتجاج بخبرهم؛ بل إنه تناقض في ذلك كل التناقض، وهاك البيان:

 

‌‌1 - أما شذوذه في تعريف (العدل)؛ فقد اتفق العلماء على أن (العدل):

هو المسلم البالغ، العاقل الذي سلم من أسباب الفسق، وخوارم المروءة، على ما حقق في (باب الشهادات) من كتب الفقه؛ إلَاّ أن الرواية تخالف الشهادة في شرط الحرية، والذكورة، وتعداد الراوي.

هذا نص كلام الشيخ أحمد شاكر رحمه الله في "الباعث الحثيث شرح اختصار علوم الحديث" لابن كثير (ص 102 - بتحقيقه)، آثرته بالذكر؛ لأنه من المبالغين في الاعتداد بِـ "الثقات" كما يدل عليه تعليقاته في "صحيح ابن حبان"، و"مسند أحمد"، و"سنن الترمذي" وغيرها، ولي معه في ذلك قصة؛ لعلِّي حكيتها في بعض ما كتبت، فإنْ تذكرت مكانها؛ أشرت إليه.

وكأني بشيخ الإسلام ابن تيمية عنى ابن حبان بالرد عليه بقوله في "الفتاوى" (5/ 357):

"وأما قول من يقول: الأصل في المسلمين العدالة؛ فهو باطل؛ بل الأصل في بني آدم الظلم والجهل؛ كما قال تعالى: {وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا} ومجرد التكلم بالشهادتين لا يوجب انتقال الإنسان من الظلم والجهل إلى العدل".
ইবনে হিব্বানের 'কিতাবুস সিকাত'-এ তার কর্মপন্থা সম্পর্কে যে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে তার বর্ণনা।

এর সারকথা হলো: তিনি 'আদল' (ন্যায়পরায়ণতা)-এর সংজ্ঞায় বিচ্ছিন্ন মত পোষণ করেছেন যে, আদল হলো ঐ ব্যক্তি যার ব্যাপারে ঐসব হাফিজদের পক্ষ থেকে কোনো সমালোচনা জানা নেই যাদের বক্তব্য উলামাদের সুবিস্তৃত কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং যার সারনির্যাস 'হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা' (ইলমে মুসতালাহিল হাদীস)-এ সংক্ষেপিত হয়েছে, যা প্রত্যেক অনুসরণকারী গবেষকের জন্য একটি মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রবৃত্তিপূজারী, বিদআতী অথবা সংকীর্ণমনা অজ্ঞ দাবিদার ছাড়া কেউ এটি থেকে বিচ্যুত হয় না। অনুরূপভাবে তিনি তার এই দাবিতেও বিচ্ছিন্ন যে, তিনি তার 'সিকাত' গ্রন্থে শুধুমাত্র তাদেরকেই উল্লেখ করেছেন যাদের বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয; বরং তিনি এক্ষেত্রে চরম বৈপরীত্যে লিপ্ত হয়েছেন। এর বিস্তারিত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:

 

‌‌১ - 'আদল'-এর সংজ্ঞায় তার বিচ্ছিন্ন অবস্থান; উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে 'আদল' হলেন:

এমন মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি যিনি পাপাচারের কারণসমূহ এবং ব্যক্তিত্ব হানিকর বিষয় থেকে মুক্ত থাকেন, যেমনটি ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের 'সাক্ষ্য প্রদান অধ্যায়'-এ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে; তবে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রটি স্বাধীন হওয়া, পুরুষ হওয়া এবং বর্ণনাকারীর সংখ্যার শর্তের দিক থেকে সাক্ষ্য প্রদানের চেয়ে ভিন্ন।

এটি শায়খ আহমাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ইবনে কাসীরের 'আল-বাঈসুল হাসিস শারহু ইখতিসারি উলূমিল হাদীস' (পৃষ্ঠা ১০২ - তাঁর তাহকীককৃত)-এর মূল বক্তব্য। আমি এটি উল্লেখ করাকে প্রাধান্য দিয়েছি কারণ তিনি 'কিতাবুস সিকাত'-এর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যেমনটি 'সহীহ ইবনে হিব্বান', 'মুসনাদে আহমাদ' ও 'সুনানে তিরমিযী' ইত্যাদিতে তাঁর টীকা থেকে প্রতীয়মান হয়। এ বিষয়ে তাঁর সাথে আমার একটি ঘটনা আছে; সম্ভবত আমি আমার কোনো লেখায় তা বর্ণনা করেছি, যদি স্থানটি মনে পড়ে তবে সেদিকে ইঙ্গিত করব।

আর আমার কাছে মনে হয় শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর 'ফাতাওয়া' (৫/৩৫৭)-তে নিম্নোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে ইবনে হিব্বানকেই খণ্ডন করতে চেয়েছেন:

"আর যারা বলে যে, মুসলিমদের ক্ষেত্রে মূল অবস্থা হলো ন্যায়পরায়ণতা (আদালত); তাদের এই বক্তব্য বাতিল। বরং বনী আদমের ক্ষেত্রে মূল অবস্থা হলো জুলুম ও অজ্ঞতা; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর মানুষ তা বহন করল, নিশ্চয়ই সে বড়ই জালেম ও অত্যন্ত অজ্ঞ}। আর কেবল শাহাদাতাইন (কালিমা) পাঠ করাই কোনো মানুষকে জুলুম ও অজ্ঞতা থেকে বের করে ন্যায়পরায়ণতার স্তরে নিয়ে আসা আবশ্যক করে না।"
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৬)
وله تفصيل جيد جدًّا في من تقبل شهادته، فليراجعه من شاء استفادته.

 

‌‌2 - وأما تناقض ابن حبان في (العدل)؛ فقد قال في شروط رواة "صحيحه" - كما في مقدمته المذكورة في طبعات "الإحسان" (1/ 112 - شاكر) -:

"والعدالة في الإنسان: هو أن يكون أكثر أحواله طاعة الله؛ لأنا متى ما لم نجعل العدل إلَّا من لم يوجد معه معصية بحال؛ أدَّانا ذلك إلى أن ليس في الدنيا عدل؛ إذ الناس لا تخلو أحوالهم من ورود خلل الشيطان فيها".

قلت: فهذا يلتقي تمامًا مع تعريف العلماء للعدل؛ فإنه التزم فيه التعرف على أحواله في طاعة الله، وابتعاده عن معاصيه؛ إلَاّ أنه استثنى منها ما لا ينجو منه أحد، فبطل بذلك قوله: أن العدل من لم يعرف بجرح!

على أنه تناقض مرَّة أخرى؛ فإنه لم يفِ بالتزام هذا الشرط في "صحيحه"، ولا بالشروط الأخرى التي ذكرها معه - وقد سبق ذكرها في الكثير من أحاديثه -، خلافًا لمن قال بأنه وفَّى - كما سيأتي بيان ذلك عند الكلام على "صحيحه" إن شاء اللَّه تعالى -.

 

‌‌إخلال ابن حبان في "ثقاته" بشرط الصدق:

وإنما عليَّ الآن الإتيان بالدليل القاطع على إخلاله بشرطه المتقدم أنه لا يذكر في "ثقاته" إلَاّ الصدوق الذي يجوز الاحتجاج بخبره، فضلًا عن ذكره فيه عشرات - إن لم أقل: مئات الضعفاء والمجهولين عنده هو - بَلْهَ عند غيره -، ثم أتبع ذلك ببيان تناقضه من كلامه هو - عفا الله عنا وعنه -.

أما من أخلَّ بشرطه فيهم؛ فهم على قسمين:

الأول: المجهولون الذين صرح بأنه لا يعرفهم، وقد كنت ذكرت نماذج منهم لا بأس بها في بعض المؤلفات؛ مثل "تمام المنَّة" (ص 20 - 25) تحت
যার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য সে বিষয়ে তাঁর অত্যন্ত চমৎকার বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে; তাই যে ব্যক্তি এ থেকে উপকৃত হতে চায় সে যেন তা দেখে নেয়।

 

‌‌২ - আর 'আদল' (ন্যায়নিষ্ঠতা)-এর ক্ষেত্রে ইবনে হিব্বানের স্ববিরোধিতা প্রসঙ্গে; তিনি তাঁর 'সহীহ'-এর বর্ণনাকারীদের শর্তাবলি সম্পর্কে বলেছেন - যেমনটি 'আল-ইহসান'-এর মুদ্রণসমূহে উল্লিখিত তাঁর মুকাদ্দিমায় রয়েছে (১/১১২ - শাকের) -:

"মানুষের মধ্যে ন্যায়নিষ্ঠতা (আদালাত) হলো: তার অধিকাংশ অবস্থা আল্লাহর আনুগত্যে অতিবাহিত হওয়া; কারণ আমরা যখনই কেবল তাকেই ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করব যার দ্বারা কোনো অবস্থাতেই কোনো গুনাহ সংঘটিত হয়নি, তবে তা আমাদের এই পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে যে পৃথিবীতে কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিই নেই; যেহেতু মানুষের অবস্থা শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্ত নয়।"

আমি বলি: এটি ন্যায়নিষ্ঠতার (আদল) বিষয়ে আলেমগণের সংজ্ঞার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়; কেননা এতে তিনি আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে জানা এবং পাপাচার থেকে তার দূরে থাকাকে আবশ্যক করেছেন; তবে তিনি এমন বিষয়কে এর থেকে ব্যতিক্রম করেছেন যা থেকে কেউ রক্ষা পায় না। ফলে এর মাধ্যমে তাঁর এই কথাটি বাতিল হয়ে গেল যে: ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি সেই যার সম্পর্কে কোনো দোষ (জারহ) জানা নেই!

তদুপরি তিনি পুনরায় স্ববিরোধিতা করেছেন; কেননা তিনি তাঁর 'সহীহ'-তে এই শর্তটি পালন করেননি, আর এর সাথে উল্লিখিত অন্যান্য শর্তাবলিও রক্ষা করেননি - যা ইতিপূর্বে তাঁর অনেক হাদিসের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে -। এটি তাদের মতের বিপরীত যারা বলেন যে তিনি শর্ত পূরণ করেছেন - যেমনটি ইনশাআল্লাহ তাআলা তাঁর 'সহীহ' সম্পর্কে আলোচনার সময় সামনে আসবে -।

 

‌‌ইবনে হিব্বানের তাঁর 'সিকাত' গ্রন্থে সত্যবাদিতার শর্ত লঙ্ঘন:

এখন আমাকে তাঁর উল্লিখিত সেই শর্ত লঙ্ঘনের ব্যাপারে অকাট্য দলিল উপস্থাপন করতে হবে যে তিনি তাঁর 'সিকাত' গ্রন্থে কেবল এমন সত্যবাদী বর্ণনাকারীর কথাই উল্লেখ করেন যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ। অথচ সেখানে তিনি এমন কয়েক ডজন - আমি যদি শত শত না বলি - দুর্বল ও অজ্ঞাত (মাজহুল) বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করেছেন যারা তাঁর নিজের নিকটই দুর্বল ও অজ্ঞাত ছিল, অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য। এরপর আমি তাঁর নিজের বক্তব্য থেকেই তাঁর এই স্ববিরোধিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব - আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন -।

যাদের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর শর্ত ভঙ্গ করেছেন, তারা দুই প্রকার:

প্রথম: অজ্ঞাত বর্ণনাকারীগণ যাদের ব্যাপারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তিনি তাদের চেনেন না। আমি ইতিপূর্বে আমার কিছু কিতাবে তাদের বেশ কিছু নমুনা উল্লেখ করেছি; যেমন 'তামামুল মিন্নাহ' (পৃষ্ঠা ২০ - ২৫)-এর অধীনে...
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৭)
عنوان "القاعدة الخامسة: عدم الاعتماد على توثيق ابن حبان" (الطبعة الثانية/ سنة 1408)، و"الرد على التعقيب الحثيث" (ص 18 - 21)، وغيرهما (1).

ولذلك فلا أريد أن أثقل على هذه المقدمة بذكرها إلَاّ بما لا بد منه؛ لتقريب الأمر وتوضيحه، ثم أتبع ذلك بأمثلة أخرى هي أقوى منها، لم يسبق لي أن ذكرتها، ولا غيري - فيما أعلم -:

المثال الأول: (حميد بن علي بن هارون القيسي)، ذكر له بعض المناكير، ثم قال: "فلا يجوز الاحتجاج به بعد روايته مثل هذه الأشياء عن هؤلاء الثقات، وهذا شيخ ليس يعرفه كبير أحد".

ومثله كثير، وكثير جدًّا ممن يقول فيهم عبارته التقليدية: "لا أعرفه"، ويزيد تارة: "ولا أعرف أباه".

--------------------------------------------

(1) طُبع هذا الرد سنة (1377 هـ)؛ أي: قبل نحو أربعين سنة، وفي ظنّي أنني كنت - في العصر الحاضر - من أشاع بين طلاب العلم حقيقة توثيق ابن حبان: كتابة، ومحاضرة، وتدريسًا في (الجامعة الإسلامية) في المدينة النبويّة، وفي المجالس العلمية وغيرها؛ حتى تنبّه لذلك من طلاب العلم مَنْ شاء الله.

ثم ابتلينا ببعضهم ممن جازانا (جزاء سِنّمار)! فنسبني إلى قلة الفهم لتوثيق ابن حبان، والاضطراب فيه، مع تظاهره بالاحترام والتبجيل! لكن القول لا يغني عن العمل: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ}؟!

وإن من جنفه وظلمه: أنه أخذ تخريج الحديث الذي انتقدني فيه - بجميع طرقه ورواياته - من تخريجي إياه في "الصحيحة"؛ دون أن يشير إلى ذلك أدنى إشارة؛ حتى أوهم القراء - ومنهم من قَرَّظ كتابه من إخواننا الدعاة السلفيين - أنه من كدِّه وعرق جبينه! والله عز وجل يقول: {وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ}، وهو - مع ذلك - حَوَّاش قمّاش، لم يتحصرم بعدُ! حشى كتابه وضخَّمه بنقول، لم يفهم الكثير منها، وكان التناقض في بعضها جليًّا، الأمر الذي يتطلب بيانه مجلدًا ضخمًا، وهو - في النهاية - مخطئ في تضعيفه للحديث الذي جوَّدت إسناده ثمة (1453)، والرد عليه وبيان أوهامه! وذلك يتطلب كتابة مجلد (وهذا الميت لا يستحق هذا العزاء)؛ كما يقال في بعض البلاد.
শিরোনাম "পঞ্চম মূলনীতি: ইবনে হিব্বানের তাউসিকের (নির্ভরযোগ্যতা প্রদান) ওপর নির্ভর না করা" (দ্বিতীয় সংস্করণ/ ১৪০৮ হিজরি), এবং "আর-রাদ্দু আলাত তা'কীবিল হাসীস" (পৃষ্ঠা ১৮-২১), এবং অন্যান্য (১)।

তাই আমি এই ভূমিকাটিকে সেগুলোর আলোচনার মাধ্যমে ভারাক্রান্ত করতে চাই না, কেবল যতটুকু অপরিহার্য ততটুকু ছাড়া; যাতে বিষয়টি সহজবোধ্য এবং স্পষ্ট হয়। অতঃপর আমি এর সাথে আরও কিছু উদাহরণ যোগ করব যা এগুলোর চেয়েও শক্তিশালী, যা ইতিপূর্বে আমি উল্লেখ করিনি এবং আমার জানামতে অন্য কেউও করেনি:

প্রথম উদাহরণ: (হুমাইদ ইবনে আলী ইবনে হারুন আল-কাইসী), তার সম্পর্কে কিছু 'মুনকার' (অস্বীকৃত) বর্ণনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর তিনি (ইবনে হিব্বান) বলেছেন: "এই সকল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতিতে এই ধরণের বিষয়গুলো বর্ণনা করার পর তার দ্বারা দলিল গ্রহণ করা জায়েয নয়। আর তিনি এমন একজন শায়খ যাকে বড় কেউ চেনে না।"

তার মতো আরও অনেক, বরং অসংখ্য বর্ণনাকারী রয়েছে যাদের সম্পর্কে তিনি তার প্রথাগত উক্তিটি ব্যবহার করেন: "আমি তাকে চিনি না", এবং কখনও বাড়িয়ে বলেন: "আমি তার বাবাকেও চিনি না।"

--------------------------------------------

(১) এই খণ্ডনমূলক লেখাটি ১৩৭৭ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছিল; অর্থাৎ: প্রায় চল্লিশ বছর পূর্বে। আমার ধারণা মতে, বর্তমান যুগে আমিই ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে লেখালেখি, বক্তৃতা এবং মদিনা নববীর 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ পাঠদান এবং ইলমী মজলিসসমূহে ইবনে হিব্বানের তাউসিকের প্রকৃত স্বরূপ প্রচার করেছি; ফলে আল্লাহ যাদের চেয়েছেন সেই ইলম অন্বেষণকারীরা এ ব্যাপারে সচেতন হয়েছেন।

অতঃপর আমি তাদের কয়েকজনের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছি যারা আমাকে সিনিনমারের মতো প্রতিদান (অকৃতজ্ঞতা) দিয়েছে! সে সম্মান ও শ্রদ্ধার ভান করা সত্ত্বেও আমাকে ইবনে হিব্বানের তাউসিক বুঝতে অক্ষম হওয়া এবং এতে অস্থিরমতি হওয়ার অপবাদ দিয়েছে! কিন্তু কথা কাজের বিকল্প হয় না: "হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো?"

তার পক্ষপাতের ও জুলুমের একটি দৃষ্টান্ত হলো: সে যে হাদীসটির তাখরীজ নিয়ে আমার সমালোচনা করেছে—তার সকল সূত্র ও বর্ণনা সহ—তা সে আমার "আস-সহীহাহ" এর তাখরীজ থেকে গ্রহণ করেছে; অথচ সেদিকে সামান্যতম ইঙ্গিতও করেনি! এমনকি সে পাঠকদের মনে—যাদের মধ্যে আমাদের সালাফী দাঈ ভাইদের মধ্য থেকে যারা তার বইটির প্রশংসা লিখেছেন তারাও আছেন—এই ধারণা দিয়েছে যে, এটি তার নিজের কঠোর পরিশ্রম ও ঘামের ফসল! অথচ মহান আল্লাহ বলছেন: "আর তোমরা মানুষকে তাদের বস্তুসমূহ কম দিও না এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না।" তা সত্ত্বেও সে একজন খড়কুটো সংগ্রাহক, যে এখনো পরিপক্কতা লাভ করেনি! সে তার বইকে এমন সব উদ্ধৃতি দিয়ে পরিপূর্ণ ও স্থূল করেছে যার অনেকগুলোই সে বোঝেনি, আর সেগুলোর কোনো কোনোটির মাঝে বৈপরীত্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। বিষয়টি এমন যা স্পষ্ট করার জন্য একটি বিশাল খণ্ডের প্রয়োজন। পরিশেষে, সে ওই হাদীসটি দুর্বল প্রমাণের ক্ষেত্রে ভুল করেছে যার সনদকে আমি সেখানে (১৪৫৩) শক্তিশালী বলেছি। তার প্রতিবাদ ও ভুলগুলো স্পষ্ট করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ খণ্ড রচনার প্রয়োজন (তবে এই মৃত ব্যক্তি এমন শোকগাথার যোগ্য নয়); যেমনটি কিছু দেশে বলা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد أحصيت منهم حتى الآن في كتابي الجديد "التيسير" (1) قرابة مائة راوٍ، والحبل جرار!

المثال الآخر: (عبد الله بن أبي يعلى الأنصاري)، قال:

"مجهول، لا أعلم له شيئًا غير هذا الحرف المنكر الذي يشهد إجماع المسلمين قاطبة ببطلانه".

وأمَّا الأمثلة الأخرى - والأقوى - التي أشرت إليها آنفًا؛ فأكتفي منها بمثالين - أيضًا -:

الأول: قال (5/ 472):

" (نافع)، شيخ، جهدت جهدي، فلم أقف على (نافع) هذا؛ من هو؟ "!

والآخر: (فرع شهيد القادسية)، قال: (7/ 326):

"لست أعرفه، ولا أعرف أباه، وإنما ذكرته للمعرفة، لا للاعتماد على ما يرويه"!

قلت: وهذا منه نص هام جدًّا جدًّا، وشهادة منه - لا أقوى منها - على أن كتابه "الثقات" ليس خاصًّا بهم، وإنما هو لمعرفتهم، ومعرفة غيرهم من المجهولين، والضعفاء ونحوهم -؛ فهو يبطل إبطالًا لا مرد له كُلِّيَّتَهُ المتقدمة:

أن كل من ذكره في كتابه "الثقات" صدوق، يجوز الاحتجاج بخبره! ومثله في الدلالة على إبطاله قوله المتقدم في ترجمة (حميد بن علي القيسي).

--------------------------------------------

(1) "تيسير انتفاع الخلان بثقات ابن حبان"؛ رتبته على الحروف؛ مع اختصار شيوخ المترجمين، والاحتفاظ بأسماء الرواة عنهم - ولو بواحد منهم -؛ مع الإشارة إلى غيره إذا وجد، والحرص على ذكر ما قاله المؤلف فيهم - وهذا منه نادر -، وكذا الاحتفاظ على طبقاتهم؛ مع فوائد وتعليقات رائقات؛ غالبها يتعلق بالتوثيق والتجريح؛ وهو على وشك التمام، أو قد تمَّ - إِن شاء الله تعالى -.
আমি এখন পর্যন্ত আমার নতুন বই "আত-তায়সীর"-এ (১) প্রায় একশত বর্ণনাকারীকে গণনা করেছি, এবং এই সিলসিলা চলতেই থাকবে!

অন্য উদাহরণ: (আবদুল্লাহ বিন আবি ইয়ালা আল-আনসারী), তিনি বলেছেন:

"সে মাজহুল (অপরিচিত), আমি তার এই একটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বক্তব্য ছাড়া আর কিছু জানি না, যার বাতিল হওয়ার ব্যাপারে সমস্ত মুসলিমদের ইজমা (ঐক্যমত) সাক্ষ্য দেয়।"

আর অন্যান্য উদাহরণের ক্ষেত্রে—যা অধিক শক্তিশালী—যেগুলোর দিকে আমি ইতিপূর্বে ইশারা করেছি; সেখান থেকেও আমি কেবল দুটি উদাহরণেই সীমাবদ্ধ থাকছি:

প্রথমটি: তিনি বলেছেন (৫/ ৪৭২):

" (নাফি'), একজন শায়খ, আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, কিন্তু এই (নাফি') কে, তা আমি জানতে পারিনি; সে কে?"!

এবং অপরটি: (ফির' শহীদ আল-কাদিসিয়াহ), তিনি বলেছেন: (৭/ ৩২৬):

"আমি তাকে চিনি না, তার পিতাকেও চিনি না, আমি তাকে কেবল পরিচিতির জন্য উল্লেখ করেছি, তার বর্ণিত বিষয়ের ওপর নির্ভর করার জন্য নয়!"

আমি বলছি: এটি তাঁর পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বক্তব্য এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি জোরালো সাক্ষ্য যে, তাঁর "আস-সিকাত" গ্রন্থটি কেবল নির্ভরযোগ্যদের জন্য নির্ধারিত নয়; বরং এটি তাদের চেনার জন্য এবং তাদের পাশাপাশি অন্যান্য মাজহুল (অপরিচিত), যয়ীফ (দুর্বল) ও অনুরূপ বর্ণনাকারীদের চেনার জন্য। সুতরাং এটি তাঁর পূর্বে উল্লিখিত সেই মূলনীতিকে অকাট্যভাবে বাতিল করে দেয়:

যে, তিনি তাঁর "আস-সিকাত" গ্রন্থে যাকে উল্লেখ করেছেন সে-ই সদুক (সত্যবাদী), এবং তার বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা জায়েজ! এর বাতিলের প্রমাণ হিসেবে অনুরূপ বক্তব্য ইতিপূর্বে (হুমায়দ বিন আলী আল-কায়সী)-এর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) "তায়সীরু ইনতিফায়িল খিলান বি সিকাত ইবনে হিব্বান"; আমি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি; জীবনীকারদের উস্তাদদের নাম সংক্ষেপ করেছি এবং তাদের থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের নাম সংরক্ষণ করেছি—যদিও তা একজনের হোক না কেন। অন্য কেউ থাকলে সেদিকেও ইশারা করেছি এবং তাদের সম্পর্কে লেখক যা বলেছেন তা উল্লেখ করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি—যা লেখকের পক্ষ থেকে বিরল। পাশাপাশি তাদের স্তরও (তাবাকাত) সংরক্ষণ করেছি; সাথে রয়েছে চমৎকার কিছু ফায়দা ও টীকা, যার অধিকাংশই জারহ ও তা'দীল (বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) সংক্রান্ত। এটি সমাপ্তির পথে, অথবা সমাপ্ত হয়েছে—ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৯)
غير أَنَّ هذا النصَّ زاد عليه أنه أعلمنا أنه يذكر هؤلاء للمعرفة، لا على أنهم من الثقات الذين يحتج بخبرهم عنده.

القسم الآخر ممن أخل بشرطه: من صرح هو بضعفه، أو بما يعنيه، أو يؤدي إليه:

 

‌‌1 - (مصعب بن ثابت بن عبد الله بن الزبير بن العوام)، قال في آخر ترجمته (7/ 478):

"وقد أدخلته في "الضعفاء"، وهو ممن أَستخير الله فيه".

 

‌‌2 - (مالك بن سليمان بن مرة النهشلي الهروي)، قال فيه (9/ 165):

"يخطئ كثيرًا، على أنه من (1) جملة الضعفاء أدخل - إن شاء الله -، وهو ممّن أستخير الله فيه".

وقد فعل، فأدخلهما في "الضعفاء".

وأما ما في معناه؛ فهو على أنواع:

الأول: من قال فيه: "يخطئ كثيرًا"، وهم نحو عشرة، غير (مالك بن سليمان) المتقدم، وبعضهم في "الصحيحين"، فضلًا عن "صحيحه" هو، وسأورد منهم اثنين، هما بالضعفاء أولى:

أحدهما: (ربيعة بن سيف المعافري)، قال فيه (6/ 301):

"كان يخطئ كثيرًا" (2).

ومع ذلك أخرج له في "صحيحه" حديث: "لو بلغت معهم الكدى؛ ما

--------------------------------------------

(1) كذا الأصل! وفي "ترتيب الثقات" للهيثمي: "في"؛ ولعله أقرب.

‌‌(2) تناقض فيه قول الشيخ شعيب في تعليقه على "الإحسان"؛ وفي المجلد الواحد! فمرةً ضعّفه، وأخرى صدّقه! كما سيأتي في "الجنائز".
তবে এই পাঠ্যটি এতে আরও যোগ করেছে যে, তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি এদের উল্লেখ করেন কেবল পরিচিতি প্রদানের জন্য; এই ভিত্তিতে নয় যে তারা এমন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী যাদের বর্ণনাকে তাঁর নিকট দলিল হিসেবে পেশ করা যায়।

তাঁর শর্ত লঙ্ঘনকারী বর্ণনাকারীদের অন্য অংশ: যাদের দুর্বলতার কথা তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, অথবা এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন যা এর অর্থ বহন করে বা এর দিকে ধাবিত করে:

 

‌‌১ - (মুসআব বিন সাবিত বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-যুবাইর বিন আল-আওয়াম), তাঁর জীবনীর শেষে (৭/৪৭৮) তিনি বলেছেন:

"আমি তাকে 'আয-যুআফা' (দুর্বল বর্ণনাকারী)-দের অন্তর্ভুক্ত করেছি, এবং সে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করছি।"

 

‌‌২ - (মালিক বিন সুলাইমান বিন মুররাহ আন-নাহশালী আল-হারাউয়ি), তাঁর সম্পর্কে (৯/১৬৫) তিনি বলেছেন:

"সে প্রচুর ভুল করে, ইনশাআল্লাহ তাকে দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, আর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করছি।"

আর তিনি তা করেছেন, ফলে তাদের উভয়কে 'আয-যুআফা' (দুর্বলদের) কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

আর যা এর সমার্থক; তা কয়েক প্রকারের:

প্রথম প্রকার: যাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "সে প্রচুর ভুল করে", তারা সংখ্যায় প্রায় দশজন—পূর্বোক্ত (মালিক বিন সুলাইমান) ব্যতীত—যাদের মধ্যে কেউ কেউ 'সহীহাইন'-এ বিদ্যমান, তাঁর নিজ 'সহীহ' গ্রন্থের কথা তো বলাই বাহুল্য। আমি তাদের মধ্য থেকে দুজনকে উল্লেখ করব, যারা দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অধিক যোগ্য:

তাদের একজন: (রাবিআহ বিন সাইফ আল-মাআফিরি), তাঁর সম্পর্কে তিনি (৬/৩০১) বলেছেন:

"সে প্রচুর ভুল করত" (২)।

তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে তার থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: "তুমি যদি তাদের সাথে পাহাড়ে পৌঁছাতে; তবে...

--------------------------------------------

(১) মূল কপিতে এভাবেই আছে! তবে হাইসামির 'তারতীবুস সিকাত' গ্রন্থে 'মধ্যে' রয়েছে; আর সম্ভবত এটিই অধিকতর সঠিক।

‌‌(২) 'আল-ইহসান'-এর টীকায় শায়খ শুআইবের বক্তব্য এখানে পরস্পরবিরোধী হয়েছে; তাও আবার একই খণ্ডে! কখনো তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন, আবার কখনো তাকে সত্যবাদী বলেছেন! যেমনটি সামনে 'জানায়েজ' অধ্যায়ে আসবে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২০)
رأيت الجنة حتى يراها جدك؛ أبو أبيك"! وهو حديث منكر كما حققته في "ضعيف أبي داود" (560)، وسيأتي - إن شاء الله تعالى - في آخر (6 - الجنائز) من "ضعيف الموارد" على أنه من الزوائد.

والآخر: (يزيد بن درهم العجمي)، قال فيه (5/ 538):

"يخطئ كثيرًا".

وقد ضعفه المغيرة وغيره -؛ كما في "تيسير الانتفاع" وغيره.

ومثل هذا النوع من الرواة؛ قد أورد منهم عددًا وفيرًا في كتابه الآخر "الضعفاء"، أذكر اثنين منهم على سبيل المثال:

أحدهما: (أصبغ بن زيد الوراق الواسطي)، قال (1/ 174):

"يخطئ كثيرًا، لا يجوز الاحتجاج بخبره إذا انفرد".

والآخر (بشر بن ميمون أبو صيفي الواسطي)، قال (1/ 192):

"يخطئ كثيرًا، حتى خرج عن حد الاحتجاج به إذا انفرد".

بل إنه قد يقول مثل هذا فيمن وصفه بالخطإ دون الكثرة فيه، مثل:

 

‌‌1 - (إسحاق بن إبراهيم بن نِسْطاس المدني)، قال (1/ 134):

"كان يخطئ، لا يجوز الاحتجاج بخبره إذا انفرد".

 

‌‌2 - (أيمن بن نابل المكي)، قال (1/ 183):

"كان يخطئ، ويتفرد بما لا يتابع عليه، وكان ابن معين حسن الرأي فيه، والذي عندي: تَنَكُّبُ حديثه عند الاحتجاج - إلَّا ما وافق الثقات - أولى من الاحتجاج به".

وهذا النوع الأخير كثير جدًّا في "ثقاته"؛ بحيث إنه من الصعب حصره،
"আমি জান্নাত দেখেছি এমনকি তোমার দাদা; তোমার বাবার বাবাও তা দেখেছেন!" এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস যেমনটি আমি এটি "যঈফ আবি দাউদ" (৫৬০) গ্রন্থে তাহকীক করেছি। ইনশাআল্লাহ তাআলা এটি "যঈফ আল-মাওয়ারিদ" এর শেষে (৬- জানাজা) অধ্যায়ে অতিরিক্ত (যাওয়াইদ) হাদিস হিসেবে আসবে।

এবং অন্যজন হলেন: (ইয়াজিদ ইবনে দিরহাম আল-আজমি), তার সম্পর্কে তিনি (৫/ ৫৩৮) বলেছেন:

"তিনি প্রচুর ভুল করেন।"

আল-মুগীরা এবং অন্যান্যরা তাকে দুর্বল বলেছেন; যেমনটি "তৈসীর আল-ইনতিফা" এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

এবং এই ধরনের বর্ণনাকারীদের মধ্যে একটি বড় সংখ্যা তিনি তার অন্য গ্রন্থ "আদ-দুয়াফা"-তে উল্লেখ করেছেন, উদাহরণস্বরূপ আমি তাদের দুইজনকে উল্লেখ করছি:

তাদের মধ্যে একজন: (আসবাহ ইবনে জাইদ আল-ওয়াররাক আল-ওয়াসিতি), তিনি (১/ ১৭৪) বলেছেন:

"তিনি প্রচুর ভুল করেন, তিনি একক হলে তার বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা জায়েজ নয়।"

এবং অন্যজন হলেন (বিশর ইবনে মাইমুন আবু সাইফি আল-ওয়াসিতি), তিনি (১/ ১৯২) বলেছেন:

"তিনি প্রচুর ভুল করেন, এমনকি তিনি একক হলে তার দ্বারা দলিল পেশ করার সীমা থেকে বেরিয়ে গেছেন।"

এমনকি তিনি এমন ব্যক্তির সম্পর্কেও এই ধরনের কথা বলে থাকেন যাকে তিনি প্রচুর ভুলের পরিবর্তে কেবল সাধারণ ভুলের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন, যেমন:

 

‌‌১ - (ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে নিসতাস আল-মাদানি), তিনি (১/ ১৩৪) বলেছেন:

"তিনি ভুল করতেন, তিনি একক হলে তার বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা জায়েজ নয়।"

 

‌‌২ - (আয়মান ইবনে নাবিল আল-মাক্কি), তিনি (১/ ১৮৩) বলেছেন:

"তিনি ভুল করতেন, এবং এমন একক বর্ণনা দিতেন যার কোনো অনুসরণকারী (মুতাবাআত) নেই। ইবনে মাঈন তার ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা রাখতেন, তবে আমার নিকট: দলিল পেশ করার সময় তার হাদিস বর্জন করা—নির্ভরযোগ্যদের (সিকাহ) সাথে যা মিলে যায় তা বাদে—দলিল হিসেবে গ্রহণের চেয়ে অধিক উত্তম।"

এবং এই শেষোক্ত প্রকারটি তার "সিকাত" গ্রন্থে এত বেশি যে, তা সীমাবদ্ধ করা কঠিন,
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২১)
وهو - فضلًا عن الذي قبله، وهو الموصوف بكثرة الخطإ -كلاهما ممن نص في كتابه على أنهم من المجروحين عنده، فقد ذكر في مقدمته (1/ 62) أن الجرح في الضعفاء على عشرين نوعًا، ثم فصل القول في كل نوع منها تفصيلًا، والذي يهمنا هنا قوله - تحت (النوع الثالث عشر) -:

"منهم من كثر خطؤه وفحش، وكاد أن يقلب صوابه، فاستحق الترك من أجله، وإن كان ثقة في نفسه، صدوقًا في روايته؛ لأن العدل إذا ظهر عليه أكثر أمارات الجرح؛ استحق الترك، كما أن من ظهر عليه أكثر علامات التعديل؛ استتحق العدالة"!

وقال تحت عنوان: "أجناس من أحاديث الثقات التي لا يجوز الاحتجاج بها":

"الجنس الأول: من كان يخطئ الخطأ اليسير. فهؤلاء ليسوا عندي بالضعفاء على الإطلاق حتى لا يحتج بشيء من أخبارهم؛ بل الذي عندي أن لا يحتج بأخبارهم إذا انفردوا، فأما ما وافقوا الثقات في الروايات؛ فلا يجب إسقاط أخبارهم، فكل من يجيء من هذا الجنس في هذا الكتاب؛ فإني أقول بعقب ذكره: لا يعجبني الاحتجاج بخبره إذا انفرد".

وأكد هذا المعنى في ترجمة (عبد الله بن الحسين بن عطاء بن يسار)، فقال: (2/ 16):

"كان ممن يخطئ فيما يروي، فلم يكثر خطؤه حتى استحق الترك، ولا سلك سَنَنَ الثقات حتى يدخل في جملة الأثبات، فالإنصاف في أمره أن يترك ما لم يوافق الثقات من حديثه، والاعتبار بما وافق الثقات".

قلت: ومن تأمل جليًّا في هذه الأمثلة من كلام ابن حبان - رحمه الله تعالى -؛ ظهر له أمران ظاهران جدًّا:
তিনি—পূর্ববর্তী জনের পাশাপাশি, যিনি অধিক ভুলের বিশেষণে বিশেষিত—তারা উভয়েই এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে তিনি তাঁর কিতাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তারা তাঁর নিকট সমালোচিত (মাজরুহ)। তিনি তাঁর (কিতাবের) ভূমিকার (১/৬২) পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, দুর্বল বর্ণনাকারীদের সমালোচনার (জারহ) ধরণ বিশ প্রকার। এরপর তিনি প্রতিটি প্রকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আমাদের জন্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো (ত্রয়োদশ প্রকার)-এর অধীনে তাঁর বক্তব্য:

"তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন যাদের ভুল অধিক ও প্রকট হয়ে গিয়েছে এবং তা প্রায় তাদের সঠিক বর্ণনাকে উল্টে দিয়েছে; ফলে এই কারণেই তারা বর্জনীয় হওয়ার যোগ্য হয়েছেন, যদিও তারা ব্যক্তিগতভাবে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যবাদী (সদুক) ছিলেন। কারণ, একজন ন্যায়নিষ্ঠ (আদিল) বর্ণনাকারীর মাঝে যখন সমালোচনার (জারহ) লক্ষণসমূহ প্রবলভাবে প্রকাশ পায়, তখন তিনি বর্জনীয় হওয়ার যোগ্য হন; ঠিক যেমন যার মাঝে নির্ভরযোগ্যতার (তা'দীল) চিহ্নসমূহ প্রবলভাবে প্রকাশ পায়, তিনি নির্ভরযোগ্য হওয়ার যোগ্যতা লাভ করেন!"

এবং তিনি "নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সেই সকল প্রকার হাদিস যা দলিল হিসেবে পেশ করা জায়েজ নয়" শিরোনামের অধীনে বলেছেন:

"প্রথম প্রকার: যারা সামান্য ভুল করেন। আমার নিকট তারা ঢালাওভাবে দুর্বল নন যে তাদের কোনো বর্ণনা দ্বারাই দলিল পেশ করা যাবে না; বরং আমার অভিমত হলো, যখন তারা এককভাবে কোনো বর্ণনা করবেন (ইনফিরাদ), তখন তা দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না। আর বর্ণনার ক্ষেত্রে তারা যদি অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারীদের সাথে মিল রাখেন, তবে তাদের খবরগুলো বাতিল করা আবশ্যক নয়। সুতরাং এই কিতাবে এই প্রকারের যারাই আসবে, তাদের আলোচনার পরপরই আমি বলব: তিনি যখন এককভাবে কোনো বর্ণনা করবেন, তখন তা দ্বারা দলিল পেশ করা আমি পছন্দ করি না।"

এবং তিনি এই বিষয়টি (আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আতা বিন ইয়াসার)-এর জীবনী আলোচনায় সুদৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন, তিনি বলেছেন (২/১৬):

"তিনি যা বর্ণনা করতেন তাতে ভুল করতেন, তবে তার ভুল এতো অধিক ছিল না যে তিনি বর্জনীয় (মাতরুক) হওয়ার যোগ্য হবেন, আবার তিনি নির্ভরযোগ্যদের (সিকাহ) পথও অনুসরণ করেননি যে তাকে সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের (আসবাত) অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। সুতরাং তার ব্যাপারে ইনসাফ হলো—তার সেই হাদিসগুলো বর্জন করা যা নির্ভরযোগ্যদের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এবং সেগুলোকে ধর্তব্যে (ই'তিবার) নেওয়া যা নির্ভরযোগ্যদের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।"

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান (রহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর বক্তব্যের এই উদাহরণগুলো নিয়ে যে ব্যক্তি গভীরভাবে চিন্তা করবে, তার নিকট দুটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে:
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২২)
أحدهما: أن الموصوف عنده بالخطإ مطلقًا، أو مقيدًا بِـ (كثيرًا): مجروح عنده، ويجمعهما في أنه لا يحتج به إذا انفرد.

وهذا هو المهم في بحثنا هنا.

والآخر: أنه يحكم على من (يخطئ كثيرًا) بالترك دون الأول، وقد أبان عن هذا الحكم وعن سببه - أيضًا -: في ترجمته لِـ (يحيى بن سعيد التميمي المدني)، فقال (3/ 118):

"كان ممن يخطئ كثيرًا، وكان رديء الحفظ (1)، فوجب التنكب عما انفرد من الروايات، والاحتجاج بما وافق الثقات … وكل ما نقول في هذا الكتاب: أنه لا يجوز الاحتجاج بخبره إذا انفرد؛ فسبيلُه هذا السبيل: أن يترك ما أخطأ فيه، ولا يكاد يعرف ذلك إلَّا الممعن البازل في صناعة الحديث (2)، فرأينا من الاحتياط ترك الاحتجاج بما انفرد جملة؛ حتى تشتمل هذه اللفظة على ما أخطأ فيه، أو أخطئ عليه، أو أدخل عليه وهو لا يعلم، أو دخل له حديث في حديث، وما يشبه هذا من أنواع الخطإ، ويحتج بما وافق الثقات، فلهذه العلة ما قلنا لمن ذكرنا أنه لا يحتج بانفراده".

وهناك أمثلة كثيرة أخرى تلتقي مع سابقاتها في المعنى؛ أكتفي بذكر عباراته فيها دون تسمية أشخاصها مع أجزائها وصفحاتها:

 

‌‌1 - "كان يخطئ؛ على قلة روايته".

--------------------------------------------

(1) قلت: وقد رأيت في "ثقاته" (8/ 125) من قال فيه: "كان رديء الحفظ"! فتعجب منه الذهبي، وقال: "فلم يصنع جيدًا"! وله في "صحيحه" ثلاثة أحاديث، أحدها منكر، وسيأتي (297)؛ فهل يعني - بهذه الكلمة الشاذة: "رديء الحفظ" -: "كثير الخطإ"؛ كما يشعر به صنيعه هنا؟! ذلك مما يحتاج إلى بحث وتأمل!

‌‌(2) قلت: ومثل هذه الأخطاء والعلل تقع في أحاديث الثقات المعروفين؛ فضلًا عمن دونهم؛ وابن حبان ينبّه أحيانًا على بعضها، وقد فاته التنبيه على الشيء الكثير منها، وتبعه المعلقون على =
প্রথমটি হলো: তাঁর নিকট সাধারণভাবে অথবা 'অধিক' (কাসীরান) বিশেষণে বিশেষিত ভুলকারী ব্যক্তি সমালোচিত (মাজরুহ)। এই উভয় প্রকারের ক্ষেত্রে অভিন্ন বিষয়টি হলো যে, তিনি যখন এককভাবে কোনো হাদিস বর্ণনা করেন তখন তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয় না।

আর আমাদের বর্তমান আলোচনায় এটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এবং অন্যটি হলো: তিনি 'অধিক ভুলকারী' ব্যক্তির ক্ষেত্রে বর্ণনা ত্যাগের (তারক) নির্দেশ দেন, যা প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে নয়। তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আত-তামিমী আল-মাদানীর জীবনবৃত্তান্তে এই হুকুম ও এর কারণও স্পষ্ট করেছেন। তিনি (৩/১১৮) বলেন:

"তিনি অধিক ভুলকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর মুখস্থশক্তি ছিল দুর্বল (১)। ফলে তাঁর এককভাবে বর্ণিত বর্ণনাগুলো বর্জন করা এবং নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারীদের সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক... আর এই কিতাবে আমরা যা বলি যে, কোনো বর্ণনাকারী একক হলে তাঁর খবর দ্বারা দলিল গ্রহণ জায়েজ নেই; তার মূলনীতি বা পদ্ধতিও এটাই: যাতে তিনি ভুল করেছেন তা বর্জন করা। আর হাদিস শাস্ত্রের সূক্ষ্মদর্শী বিশেষজ্ঞ (২) ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এটি নির্ণয় করা প্রায় অসম্ভব। তাই আমরা সতর্কতামূলকভাবে তাঁর একক বর্ণনাগুলো সামগ্রিকভাবে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বর্জন করাই শ্রেয় মনে করেছি; যাতে এই অভিব্যক্তিটি এমন সব বিষয়কে শামিল করে যাতে তিনি ভুল করেছেন, অথবা তাঁর নামে ভুল চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথবা তাঁর অগোচরে তাঁর বর্ণনায় কোনো কিছু প্রবিষ্ট করানো হয়েছে, অথবা এক হাদিস অন্যটির সাথে মিশে গেছে এবং এই জাতীয় ভুলের প্রকারসমূহ। আর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সাথে যা মিলে যায় তা দলিল হিসেবে গৃহীত হবে। এ কারণেই আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের সম্পর্কে বলেছি যে, তাদের একক বর্ণনায় দলিল গ্রহণ করা যাবে না।"

সেখানে আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা পূর্বোক্ত উদাহরণগুলোর সাথে অর্থে মিলে যায়; আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ না করে কেবল তাঁর ব্যবহৃত বাক্যগুলো তাদের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ উল্লেখ করছি:

 

‌‌১ - "তিনি ভুল করতেন; যদিও তাঁর বর্ণনার সংখ্যা ছিল কম।"

--------------------------------------------

(১) আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আমি তাঁর ‘আস-সিকাত’ গ্রন্থে (৮/১২৫) এমন এক বর্ণনাকারী সম্পর্কে দেখেছি যার ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: "তাঁর মুখস্থশক্তি ছিল দুর্বল!" এতে ইমাম যাহাবী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি (ইবনে হিব্বান) ভালো করেননি!" তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে উক্ত বর্ণনাকারীর তিনটি হাদিস রয়েছে, যার একটি ‘মুনকার’, যা সামনে (২৯৭) আসবে; তবে কি তিনি এই শায (বিচ্ছিন্ন) শব্দ—"দুর্বল মুখস্থশক্তি"—দ্বারা "অধিক ভুলকারী" বুঝিয়েছেন? যেমনটি এখানে তাঁর কর্মপদ্ধতি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়! বিষয়টি গবেষণা ও গভীর চিন্তার দাবি রাখে।

‌‌(২) আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এ জাতীয় ভুল ও ত্রুটিগুলো (ইল্লত) সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদিসেও ঘটে থাকে; তাদের চেয়ে নিম্নস্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে তো আরও বেশি হতে পারে। ইবনে হিব্বান কখনো কখনো এর কিছু কিছুর দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তবে অনেক কিছু ইঙ্গিত করা থেকে তাঁর চোখ এড়িয়ে গেছে, আর টীকাকারগণও তাঁর অনুসরণ করেছেন...
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৩)
(5/ 399، 6/ 248، 7/ 545).

 

‌‌2 - "لا يعتبر بحديثه إذا انفرد"، وهذا كناية عن شدة ضعفه!

(5/ 379، 419، 5/ 58، 471، 9/ 58).

 

‌‌3 - "في القلب منه شيء"!

(8/ 377، 9/ 96، 292).

 

‌‌4 - "لست أعتمد عليه … "!

(5/ 399 - 401).

 

‌‌5 - "شيخ في حديثه مناكير كثيرة".

(4/ 362).

 

‌‌6 - "أمره مشتبه، له مدخل في (الثقات)، ومدخل في (الضعفاء) ".

(6/ 27).

 

‌‌7 - "هو بغير الثقات أشبه"!

(5/ 119).

 

‌‌8 - "كان يتهم بأمر سوء" (1)!

(5/ 58).

… إلى نماذج أخرى تكثر وتقل، ولعلي أستقصي ذلك في مقدمة كتابي

--------------------------------------------

= كتابه، وعلى "الموارد"، كما سيرى القراء ذلك - إن شاء الله -؛ كحديث عائشة الآتي: (كان لا يمس من وجهي شيئاً وأنا صائمة)؛ وهو في "الضعيفة" رقم (958).

‌‌(1) في "التاريخ الكبير": " .. بالزندقة"! وهذه تهمة باطلة؛ فالرجل ثقة، كما صرح بذلك أحمد، وابن معين وغيرهما.

والعجيب: أن يخفى ذلك على ابن حبان؛ ثم هو يوثقه مع إقراره هذه التهمة! فراجع "اللسان"، و"تيسير الانتفاع".
(৫/ ৩৯৯, ৬/ ২৪৮, ৭/ ৫৪৫)।

 

‌‌২ - "তার হাদিস গ্রহণযোগ্য নয় যখন সে এককভাবে বর্ণনা করে", এবং এটি তার চরম দুর্বলতারই ইঙ্গিত!

(৫/ ৩৭৯, ৪১৯, ৫/ ৫৮, ৪৭১, ৯/ ৫৮)।

 

‌‌৩ - "তার ব্যাপারে হৃদয়ে সংশয় রয়েছে!"

(৮/ ৩৭৭, ৯/ ৯৬, ২৯২)।

 

‌‌৪ - "আমি তার ওপর নির্ভর করি না … "!

(৫/ ৩৯৯ - ৪০১)।

 

‌‌৫ - "এমন একজন শায়খ যার বর্ণিত হাদিসে অনেক মুনকার (অস্বাভাবিক) বর্ণনা রয়েছে।"

(৪/ ৩৬২)।

 

‌‌৬ - "তার বিষয়টি সন্দেহপূর্ণ, নির্ভরযোগ্যদের (সিক্বাহ) কাতারেও তার স্থান আছে, আবার দুর্বলদের (যঈফ) কাতারেও তার স্থান আছে।"

(৬/ ২৭)।

 

‌‌৭ - "সে অনির্ভরযোগ্যদের সাথেই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ!"

(৫/ ১১৯)।

 

‌‌৮ - "তার বিরুদ্ধে মন্দ বিষয়ের অভিযোগ তোলা হতো" (১)!

(৫/ ৫৮)।

… অন্যান্য নমুনা পর্যন্ত যা কমবেশি হতে পারে, এবং সম্ভবত আমি আমার বইয়ের ভূমিকায় এটি বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করব।

--------------------------------------------

= তার কিতাব, এবং "আল-মাওয়ারিদ"-এর ওপর, যেমনটি পাঠকরা দেখতে পাবেন - ইনশাআল্লাহ -; যেমন আয়েশা (রাযি.)-এর পরবর্তী হাদিসটি: (আমি রোজা থাকা অবস্থায় তিনি আমার চেহারার কিছুই স্পর্শ করতেন না); এটি "আদ-দাইফাহ" গ্রন্থের ৯৫৮ নম্বর হাদিস।

‌‌(১) "আত-তারিখুল কাবীর"-এ রয়েছে: " .. ধর্মহীনতার (যান্দাকা) অভিযোগে"! অথচ এটি একটি ভিত্তিহীন অপবাদ; কারণ ব্যক্তিটি নির্ভরযোগ্য (সিক্বাহ), যেমনটি আহমাদ, ইবনে মাঈন এবং অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

আর আশ্চর্যের বিষয় হলো: ইবনে হিব্বানের নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে; অথচ তিনি এই অভিযোগ স্বীকার করার পাশাপাশি তাকে নির্ভরযোগ্য হিসেবেও উল্লেখ করেছেন! সুতরাং "আল-লিসান" এবং "তায়সীরুল ইনতিফা" দেখুন।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৪)
"التيسير"، أو أجعله ذيلًا له - إن شاء الله تعالى -.

وهناك مثال من أغرب ما رأيت له في "الثقات"؛ حتى لقد شككت أن تكون مقحمة فيه؛ لأن محققه - جزاه الله خيرًا - أشار إلى أنه لم يرد في كل نسخ الكتاب، وإنما "من ظ وم"، وهو قوله (5/ 125 - 126):

"عبد العزيز بن سعيد بن سعد بن عبادة، يروي عن أبيه، روى عنه أبو الصباح، واسمه عبد الغفور بن عبد العزيز الواسطي، عندنا عنه نسخة بهذا الإسناد، وفيها ما لا يصح، البلية فيها من (أبي الصباح)؛ لأنه كان يخطئ ويتهم" (1).

ووجه الغرابة لا يخفى على أحد: ما دام أنه لا يعرف إلَّا من طريق هذا المتهم بالوضع، فلعله ممن لا وجود لشيخه هذا -، وإنما هو الذي اختلقه! وقد أشار إلى هذه الحقيقة ابن حبان نفسه؛ حيث قال في بعض "ضعفائه" (1/ 327 - 328):

"والشيخ إذا لم يرو عنه ثقة؛ فهو مجهول، لا يجوز الاحتجاج به، لأن رواية الضعيف لا تخرج من ليس بعدل عن حد المجهولين إلى جملة أهل العدالة؛ لأن ما روى الضعيف وما لم يروِ في الحكم سواء" (2).

ونحوه قوله فيه (2/ 193).

"وأما المجاهيل الذين لم يرو عنهم إلَاّ الضعفاء؛ فهم متروكون على الأحوال كلها".

--------------------------------------------

(1) وقال في ترجمة (أبي الصبَّاح) هذا من "الضعفاء" (2/ 148):

"كان ممن يضع الحديث على الثقات".

وقد خرَّجت له بعض الأحاديث في "الضعيفة" (383، 6830، 6831).

‌‌(2) انظر "سلسلة الأحاديث الضعيفة" رقم (504، 505).
'আত-তায়সির', অথবা আমি এটিকে সেটির একটি পরিশেষ হিসেবে তৈরি করব - ইনশাআল্লাহ তাআলা -।

'আত-থিকাত' গ্রন্থে আমি তার পক্ষ থেকে এমন একটি উদাহরণ দেখেছি যা অত্যন্ত আশ্চর্যের; এমনকি আমার সন্দেহ হয়েছে যে এটি সেখানে প্রক্ষিপ্ত কি না। কারণ এর সম্পাদক - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন - ইঙ্গিত করেছেন যে এটি কিতাবের সকল পাণ্ডুলিপিতে নেই, বরং কেবল 'জা' এবং 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে। আর তা হলো তার এই উক্তি (৫/ ১২৫-১২৬):

"আবদুল আজিজ ইবনে সাঈদ ইবনে সাদ ইবনে উবাদাহ, তিনি তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তার থেকে বর্ণনা করেছেন আবুস সাব্বাহ, যার নাম হলো আবদুল গাফুর ইবনে আবদুল আজিজ আল-ওয়াসিতি। আমাদের নিকট এই সনদে তার একটি পাণ্ডুলিপি আছে, যার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা সহিহ নয়। এর মধ্যে বিদ্যমান বিপত্তি হলো (আবুস সাব্বাহ)-এর কারণে; কারণ সে ভুল করত এবং অভিযুক্ত ছিল।" (১)।

এর আশ্চর্যের দিকটি কারও কাছে গোপন নয়: যতক্ষণ পর্যন্ত এই রাবী কেবল এই জালকরণের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির মাধ্যমেই পরিচিত, তখন সম্ভবত এই ব্যক্তির উস্তাদেরই কোনো অস্তিত্ব নেই, বরং সে-ই একে উদ্ভাবন করেছে! ইবনে হিব্বান নিজেই এই বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন; যেখানে তিনি তার 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থের কিছু স্থানে বলেছেন (১/ ৩২৭-৩২৮):

"কোনো শায়খ থেকে যদি কোনো বিশ্বস্ত রাবী বর্ণনা না করেন, তবে তিনি 'মাজহুল' (অজ্ঞাত)। তার মাধ্যমে দলিল পেশ করা জায়েজ নয়। কারণ একজন দুর্বল রাবীর বর্ণনা এমন ব্যক্তিকে অজ্ঞাতদের পর্যায় থেকে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারে না যিনি ন্যায়পরায়ণ নন। কেননা একজন দুর্বল রাবী যা বর্ণনা করেন আর যা বর্ণনা করেন না, বিধানের ক্ষেত্রে তা সমান।" (২)।

এবং অনুরূপ তার কথা সেখানে রয়েছে (২/ ১৯৩):

"আর ঐ সকল অজ্ঞাত ব্যক্তি যাদের থেকে কেবল দুর্বলরাই বর্ণনা করেছে, তারা সকল অবস্থায় পরিত্যক্ত।"

--------------------------------------------

(১) এবং তিনি এই (আবুস সাব্বাহ)-এর জীবনীতে 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে (২/ ১৪৮) বলেছেন:

"সে ছিল তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নামে হাদিস জাল করত।"

আর আমি 'আদ-দায়িফাহ' গ্রন্থে (৩৮৩, ৬৮৩০, ৬৮৩১) তার কিছু হাদিস সংকলন করেছি।

‌‌(২) দেখুন 'সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ' নম্বর (৫০৪, ৫০৫)।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৫)
قلت: وبهذا التحقيق، والتَّتَبُّعِ لهذه الأمثلة في كتاب "الثقات"، وما قاله مؤلفه فيها وفي غيرها؛ يتجلى لكل ذي بصيرة أن ما رماه الحفاظ العارفون به من التساهل في التوثيق، ومخالفة الجمهور، وأن له فيه الأوهام الكثيرة؛ كل ذلك حق لا ريب فيه؛ بل إنه أخل أيضًا بالقاعدة التي وضعها في مقدمته كما سبق: "العدل من لم يعرف بجرح"!! فأورد فيه جمهورًا كبيرًا ممن جرحهم هو نفسه فضلًا عن غيره، مما أغنانا هو عن الاستشهاد بأقوالهم فيهم!!

على أنه لا ينبغي أن يفوتني التنبيه أنه خالف جمهور المحدثين أيضًا بإخلاله في القاعدة المذكورة بشرط الحفظ والضبط في العدل، كما هو مقرر في كافة كتب المصطلح وغيرها، فقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في "الفتاوى" (18/ 45):

"الخطأ في الخبر يقع من الراوي إما عمدًا، أو سهوًا، ولهذا اشترط في الراوي (العدالة)؛ لنأمن من تعمد الكذب، و (الحفظ، والتيقظ)؛ لنأمن من السهو … ".

وقد لخص الحافظ ابن حجر ما في (المصطلح) بأوجز عبارة، فقال في رسالته النافعة الهامة: "نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر":

"وخبر الآحاد بنقل (عدلٍ)، (تام الضبط)، متصل السند، غير معلل، ولا شاذ؛ هو الصحيح لذاته، وتتفاوت رتبه بتفاوت هذه الأوصاف، ومن ثَمَّ قُدم "صحيح البخاري"، ثم "مسلم"، ثم شرطهما، فإنْ خف الضبط؛ فالحسن لذاته، وبكثرة الطرق يصحح" (1).

--------------------------------------------

(1) قلت: وهذا التعريف للحسن لذاته: هو الذي عرَّفه به ابن دحية، وهو أحسن ما عُرِّف به، كما قال الحافظ في "نكته" (1/ 404 - 405)؛ وهو الذي جريت عليه في كل تخريجاتي، والحمد لله.
আমি বলছি: এই অনুসন্ধান এবং "কিতাবুথ থিকাত"-এর এই উদাহরণগুলোর পর্যালোচনা এবং এর লেখক এই কিতাবে ও অন্যত্র যা বলেছেন তার মাধ্যমে প্রতিটি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, অভিজ্ঞ হাফেজগণ তাঁর বিষয়ে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী নির্ধারণে শিথিলতা (তাসাহুল), জমহুরের বিরোধিতা এবং তাঁর অসংখ্য ভুলভ্রান্তি থাকার যে অভিযোগ করেছেন, তার সবকিছুই নিঃসন্দেহে সত্য। বরং তিনি তাঁর নিজের ভূমিকায় উল্লেখ করা সেই মূলনীতিটিও লঙ্ঘন করেছেন যা আগে গত হয়েছে: "ন্যায়পরায়ণ (আদল) ব্যক্তি তিনি যার ব্যাপারে কোনো দোষত্রুটি (জারহ) জানা নেই"!! ফলে তিনি এতে এমন এক বিশাল সংখ্যক বর্ণনাকারীকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাদেরকে তিনি নিজেই জারহ বা দোষারোপ করেছেন, অন্যের কথা তো বাদই দিলাম; যার ফলে তাঁদের ব্যাপারে অন্যের উক্তি উদ্ধৃত করার প্রয়োজন তিনি নিজেই শেষ করে দিয়েছেন!!

তবে আমার এ বিষয়ে সতর্ক করা উচিত যে, তিনি উক্ত মূলনীতিতে আদল বা ন্যায়পরায়ণতার সাথে হিফজ ও জাবত (মুখস্থশক্তি ও নির্ভুলতা)-এর শর্তটিও বাদ দিয়ে জমহুর মুহাদ্দিসগণের বিরোধিতা করেছেন, যেমনটি উসুলে হাদিস বা পরিভাষা সংক্রান্ত সকল কিতাবে ও অন্যান্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ "আল-ফাতাওয়া" (১৮/ ৪৫)-তে বলেছেন:

"সংবাদের ক্ষেত্রে ভুল বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে হয় ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটে অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে। আর একারণেই বর্ণনাকারীর মধ্যে 'আদালাত' (ন্যায়পরায়ণতা)-এর শর্তারোপ করা হয়েছে যাতে ইচ্ছাকৃত মিথ্যারোপ থেকে নিরাপদ থাকা যায়; এবং 'হিফজ' (মুখস্থশক্তি) ও 'ত ইয়াক্কুজ' (সতর্কতা)-এর শর্তারোপ করা হয়েছে যাতে অনিচ্ছাকৃত ভুল থেকে নিরাপদ থাকা যায় … "।

হাফেজ ইবনে হাজার (উসুলে হাদিসের) বিষয়বস্তু অত্যন্ত সংক্ষেপে সারসংক্ষেপ করেছেন। তিনি তাঁর অত্যন্ত উপকারী ও গুরুত্বপূর্ণ রিসালা "নুখবাতুল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার"-এ বলেছেন:

"খবরে ওয়াহিদ যখন এমন একজন 'আদেল' (ন্যায়পরায়ণ) ও 'তামমুদ জাবত' (পরিপূর্ণ মুখস্থশক্তির অধিকারী) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত হয় যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন, তাতে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) নেই এবং তা শায (অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধী) নয়; সেটিই হলো 'সহিহ লি-যাতিহি'। আর এই গুণাগুণের তারতম্য অনুযায়ী এর স্তরভেদ হয়ে থাকে। এই কারণেই 'সহিহ বুখারী'কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, এরপর 'মুসলিম', এরপর তাঁদের শর্তানুযায়ী বর্ণিত হাদিস। আর যদি মুখস্থশক্তিতে কিছুটা দুর্বলতা থাকে তবে সেটি 'হাসান লি-যাতিহি', যা একাধিক সূত্রের আধিক্যের মাধ্যমে সহিহ স্তরে উন্নীত হয়" (১)।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: 'হাসান লি-যাতিহি'-এর এই সংজ্ঞাটিই ইবনে দিহয়া প্রদান করেছেন এবং এটিই এর সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা, যেমনটি হাফেজ (ইবনে হাজার) তাঁর "নুকাতি" (১/ ৪০৪-৪০৫) গ্রন্থে বলেছেন; আর এটিই আমি আমার সকল হাদিস তাহকিক ও তাখরিজের ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছি, আলহামদুলিল্লাহ।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৬)
وإن من العجيب حقًّا: أن ابن حبان قد التزم هذا الشرط في الخبر الذي تقوم به الحجة، ولكنه بدل أن يذكره في مقدمة "ثقاته" وضعه في مقدمة "ضعفائه"! فقال تحت عنوان: "الحث على حفظ السنن ونشرها" (ص 8):

"وأقل ما يثبت به خبر الخاصة حتى تقوم به الحجة على أهل العلم: هو خبر الواحد الثقة في دينه، المعروف بالصدق في حديثه، العاقل بما يحدث به، العالم بما يحيل معاني الحديث من اللفظ … ".

ولكنه وقع في مخالفة أخرى! وهي اشتراطه: العلم بما يحيل المعنى! وأكد ذلك في موضع آخر منه، فقال تحت "أجناس من أحاديث الثقات التي لا يجوز الاحتجاج بها" (ص 93):

"الجنس الرابع: الثقة الحافظ، إذا حدث من حفظه، وليس بفقيه؛ لا يجوز عندي الاحتجاج بخبره … ".

فيا سبحان الله! ما أشد تناقضه وتهاتره مع علمه وفضله وحفظه -! فأين هذا التعنت والتنطع في هذا الكتاب "الضعفاء" من ذاك التسامح والتساهل في ذاك الكتاب "الثقات"؟! ولو أن هذا التعنت كان صوابًا؛ لَكان الأليق أن يذكر في ذاك، وليس في هذا!

ثم هو مع مخالفته لما عليه العلماء في (المصطلح)؛ حيث لم يذكروا هذا الشرط؛ فإنه مخالف لصريح قوله عليه الصلاة والسلام:

"نضر الله امرءًا سمع منا حديثًا، فبلغه غيره، فرُبَّ حامل فقه إلى من هو أفقه منه، ورب حامل فقه ليس بفقيه … " الحديث، رواه المصنف من حديث زيد بن ثابت، وابن مسعود كما سيأتي في أول (2 العلم)، وترجم له بما يرد عليه؛ فراجعه.

كما هو مخالف لعمومات النصوص الآمرة بالتبليغ لِقوله صلى الله عليه وسلم:
এটি সত্যিই বিস্ময়কর যে: ইবনে হিব্বান সেই সংবাদের ক্ষেত্রে এই শর্তটি মেনে চলেছেন যার মাধ্যমে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়, কিন্তু তিনি এটি তাঁর 'থিকাত' (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী) গ্রন্থের ভূমিকার পরিবর্তে তাঁর 'দুয়াফা' (দুর্বল বর্ণনাকারী) গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন! তিনি "সুন্নাহ সংরক্ষণ ও প্রসারে উৎসাহ প্রদান" (পৃ. ৮) শিরোনামের অধীনে বলেছেন:

"খাস (নির্দিষ্ট) সংবাদ সাব্যস্ত হওয়ার সর্বনিম্ন পর্যায়, যার মাধ্যমে আহলে ইলমদের (বিদ্বানদের) ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়, তা হলো: এমন একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির একক বর্ণনা যা তার দ্বীনদারিতে বিশ্বস্ত, তার হাদিস বর্ণনায় সত্যবাদিতার জন্য পরিচিত, সে যা বর্ণনা করছে তা বোঝার মতো বুদ্ধিমান এবং হাদিসের শব্দাবলি থেকে অর্থ পরিবর্তনকারী বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগত … "।

কিন্তু তিনি অন্য একটি বিরোধপূর্ণ বিষয়ে পতিত হয়েছেন! আর তা হলো তাঁর এই শর্তারোপ করা যে: অর্থের পরিবর্তন ঘটে এমন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা! তিনি তাঁর গ্রন্থের অন্য এক স্থানে এটি নিশ্চিত করে বলেছেন, যেখানে তিনি "নির্ভরযোগ্যদের হাদিসের সেই সকল প্রকার যেগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করা বৈধ নয়" (পৃ. ৯৩) শিরোনামের অধীনে বলেছেন:

"চতুর্থ প্রকার: হাফেজ (স্মৃতিধর) নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, যখন তিনি তাঁর মুখস্থ থেকে হাদিস বর্ণনা করেন অথচ তিনি ফকিহ (আইনশাস্ত্রবিদ) নন; আমার নিকট তাঁর সংবাদ দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ নয় … "।

সুবহানাল্লাহ! তাঁর ইলম, মর্যাদা ও মুখস্থ শক্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই স্ববিরোধিতা ও অসংলগ্নতা কতই না প্রকট! তাঁর এই 'দুয়াফা' গ্রন্থের কঠোরতা ও বাড়াবাড়ি কোথায়, আর সেই 'থিকাত' গ্রন্থের শিথিলতা ও উদারতা কোথায়?! যদি এই কঠোরতা সঠিকও হতো, তবে তা ওই গ্রন্থে উল্লেখ করাই অধিকতর সংগত ছিল, এই গ্রন্থে নয়!

অতঃপর তিনি হাদিস বিশারদদের 'পরিভাষা' (উসূলে হাদিস) বিষয়ে উলামায়ে কেরামের অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন; কারণ তাঁরা এই শর্তটি উল্লেখ করেননি। তদুপরি, এটি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের স্পষ্ট বাণীরও বিরোধী:

"আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের নিকট থেকে কোনো হাদিস শুনল এবং তা অন্যের নিকট পৌঁছে দিল। কেননা অনেক ফিকহ (তত্ত্ব) বহনকারী এমন আছে, যে তা নিজের চেয়ে অধিকতর ফকিহ (বুঝমান) ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়, আর অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকিহ নয় … "। হাদিসটি গ্রন্থকার জায়েদ ইবনে সাবিত এবং ইবনে মাসউদ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি সামনে (২ ইলম) অধ্যায়ের শুরুতে আসবে এবং তিনি এমন শিরোনাম দিয়েছেন যা এই মতকে খণ্ডন করে; সুতরাং তা দেখে নিন।

যেমন এটি প্রচারের নির্দেশ সম্বলিত সাধারণ দলিলেরও পরিপন্থী, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৭)
"بلغوا عني ولو آية … " الحديث، متفق عليه.

وقوله: "وليبلغ الشاهد الغائب" ونحو ذلك.

فليس هناك شرط في (العدل) إلَاّ ما يشترط في الشاهد، وإلا الحفظ والضبط، على ما تقدم.

نعم؛ لو جعل ذلك شرط كمال، وليس شرط صحة - كما هو الشأن في (شرط التلاقي) عند الجمهور -؛ لَكان له وجه مقبول! وقد أشار إليه الحافظ في تعريفه للحديث الصحيح - كما سبق -، ولعل ابن حبان رحمه الله أراد ذلك، فقصرت عبارته عن قصده؛ فإني أستبعد جدًّا عن مثله أن يخفى عليه بطلان هذا الشرط وفساده؛ لأن طلاب العلم جميعًا يعلمون أن الكتاب والسنة؛ ما رواه لنا ولا نقله إلينا إلَّا (الأميون) بنص قوله تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ}، فلم يكونوا فقهاء، ولكنهم كانوا آية في الحفظ والأداء كما هو معروف عنهم في سيرتهم وتراجمهم، ثم صاروا بما حفظوا فقهاء، ثم هم فيه ليسوا سواءً، كما هو صريح حديث النضرة المتقدم؛ بل وليسوا كذلك في الحفظ والأداء، فمنهم من له الحديث والحديثان، ومنهم من له الألوف كما هو معروف، وعلى هذا جرى من بعدهم من السلف رحمهم الله جميعًا -، فالشرط باطل، والحق كما قيل:

وكل خير في اتباع من سلف … وكل شر في ابتداع من خلف

 

‌‌تبرئة اللكنويِّ ابنَ حبَّانَ من (التساهل)، والرد عليه:

وبهذا المناسبة أقول:

ومن العجائب - أيضًا -: أن بعضهم استغل تعنت ابن حبان الذي ذكرت
"আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও…" এই হাদীসটি সর্বসম্মত (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

এবং তাঁর বাণী: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়" এবং অনুরূপ বর্ণনা।

সুতরাং একজন (ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীর) ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে—স্মৃতিশক্তি ও মুখস্থ রাখার পারঙ্গমতা এবং একজন সাক্ষীর জন্য যা যা শর্ত থাকে—তার অতিরিক্ত অন্য কোনো শর্ত নেই।

হ্যাঁ; তবে একে যদি গ্রহণযোগ্যতার শর্ত না ধরে কেবল পূর্ণতার শর্ত হিসেবে গণ্য করা হতো—যেমন জমহুর ওলামাদের নিকট (সাক্ষাতের শর্তের) বিষয়টি রয়েছে—তবে তার একটি গ্রহণযোগ্য দিক থাকতো! হাফেজ (ইবনে হাজার) সহীহ হাদীসের সংজ্ঞায় ইতিপূর্বে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্ভবত ইবনে হিব্বান (রহিমাহুল্লাহ) এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর শব্দচয়ন তাঁর উদ্দেশ্য প্রকাশে অপর্যাপ্ত ছিল; কেননা তাঁর মতো একজন ব্যক্তিত্বের কাছে এই শর্তের অসারতা ও অসংগতি গোপন থাকবে—এটা আমি অত্যন্ত সুদূরপরাহত মনে করি। কারণ ইলম অন্বেষণকারী মাত্রই জানেন যে, কিতাব ও সুন্নাহ আমাদের কাছে যারা বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁরা ছিলেন কেবল (উম্মি বা নিরক্ষর), যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: "তিনিই সেই সত্তা যিনি নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল।" সুতরাং তাঁরা সকলে (শুরুতেই) ফকীহ ছিলেন না, তবে তাঁরা মুখস্থ রাখা এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত ছিলেন, যা তাঁদের জীবনী ও ইতিহাস থেকে সুবিদিত। পরবর্তীতে তাঁরা যা মুখস্থ করেছিলেন তার মাধ্যমেই তাঁরা ফকীহ হয়েছিলেন। তবে এ ক্ষেত্রেও তাঁরা সকলে সমান স্তরের ছিলেন না, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত ‘নদরাহ’ বিষয়ক হাদীসে স্পষ্টভাবে এসেছে। এমনকি মুখস্থ রাখা ও বর্ণনার ক্ষেত্রেও তাঁরা সমান ছিলেন না; কারো কাছে একটি বা দুটি হাদীস ছিল, আবার কারো কাছে ছিল হাজার হাজার হাদীস, যেমনটি সবার জানা। তাঁদের পরবর্তী সালাফগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি দয়া করুন) নীতিও এমনই ছিল। সুতরাং ওই শর্তটি বাতিল এবং সত্য সেটাই যা বলা হয়েছে:

সমস্ত কল্যাণ নিহিত রয়েছে পূর্বসূরীদের অনুসরণে… আর সমস্ত অকল্যাণ নিহিত রয়েছে উত্তরসূরীদের নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের মধ্যে।

 

‌‌ইবনে হিব্বানকে (শিথিলতা প্রদর্শনের) অপবাদ থেকে লাখনোভীর দায়মুক্তি প্রদান এবং এর খণ্ডন:

এই প্রসঙ্গে আমি বলছি:

বিস্ময়কর বিষয়গুলোর মধ্যে এটিও একটি যে, কেউ কেউ ইবনে হিব্বানের সেই কঠোরতাকে পুঁজি করেছে যা আমি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৮)
بعضه آنفًا، غير تشدده في تضعيف بعض الثقات كما هو مذكور في كتب التراجم، وبخاصة منها "ميزان الاعتدال في نقد الرجال" للحافظ الذهبي (1)، وقد ذكره فيهم العلامة أبو الحسنات اللكنوي الحنفي في "الرفع والتكميل" (ص 119 - 120)، ثم قال (137 - 139) ما ملخصه:

"كثيرًا ما تراهم يعتمدون على "ثقات ابن حبان"، وقد التزم الحافظ ابن حجر في "تهذيب التهذيب" في جميع الرواة الذين لهم ذكر في "ثقاته" بذكر أنه ذكره ابن حبان في "الثقات" … ، وقد نسب بعضهم التساهل إلى ابن حبان، وقالوا: هو واسع الخَطْو في باب التوثيق، يوثق كثيرًا ممن يستحق الجرح، وهو قول ضعيف؛ فإنك قد عرفت سابقًا أن ابن حبان معدود ممن له تعنت وإسراف في جرح الرجال، ومن هذا حاله؛ لا يمكن أن يكون متساهلًا في تعديل الرجال"!

فأقول:

هذا الجزم بعدم الإمكان من عجائبه وغُلَوائه؛ إذ هو ممّا لا دليل عليه إلَاّ حسن ظنه به! وهذا لا ينفي بداهة أن يقع منه ما هو مستبعد أن يقع من أي حافظ من أمثاله؛ بل هو كما لو قال قائل في بعض الصالحين: لا يمكن أن يكذب أو يزني! نعم؛ استبعاد صدور ذلك وارد في المثال، وفيما نحن في صدده، لكن البحث والتحري مع الدقة والإنصاف؛ كل ذلك كشف عن أنه أمر واقع؛ ما له من دافع، كما سبق بيانه بتفصيل قد لا تراه في مكان آخر.

ولا أدلَّ على ذلك من اشتراطه في الثقة الحافظ أن يكون فقيهًا؛ وإلا لم يجز الاحتجاج بخبره! كما تقدم نقله عنه مع بيان بطلانه (ص 17 - 18)، فأي تعنت أشد من هذا؟! ولذلك لما نقل الحافظ ابن رجب الحنبلي كلامه بتمامه

--------------------------------------------

(1) من ذلك قوله (1/ 274): "قلت: ابن حبان ربَّما قَصَّبَ الثقة؛ حتى كأنه لا يدري ما يخرج من رأسه"!
...এর কিছু অংশ পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, তা ছাড়া নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের দুর্বল হিসেবে আখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কঠোরতা, যেমনটি জীবনীগ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে হাফেজ যাহাবীর ‘মিযানুল ই'তিদাল ফী নাকদির রিজাল’ (১) গ্রন্থে। আল্লামা আবুল হাসনাত লখনভী হানাফী ‘আর-রাফ' ওয়াত-তাকমীল’ (পৃ. ১১৯ - ১২০) গ্রন্থে তাঁর নাম তাদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তিনি (পৃ. ১৩৭ - ১৩৯) যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো:

“প্রায়ই দেখা যায় তারা ইবনে হিব্বানের ‘সিকাত’-এর ওপর নির্ভর করেন। হাফেজ ইবনে হাজার ‘তাহযীবুত তাহযীব’ গ্রন্থে সেই সমস্ত বর্ণনাকারী—যাদের নাম তাঁর (ইবনে হিব্বানের) ‘সিকাত’-এ রয়েছে—তাদের ক্ষেত্রে এই কথাটি উল্লেখ করার নীতি গ্রহণ করেছেন যে, ইবনে হিব্বান তাদের ‘আস-সিকাত’-এ উল্লেখ করেছেন … , কেউ কেউ ইবনে হিব্বানকে শিথিলতার অধিকারী বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন: নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তিনি অতি উদার, তিনি এমন অনেককেই নির্ভরযোগ্য বলেন যারা মূলত সমালোচনার যোগ্য। এটি একটি দুর্বল বক্তব্য; কেননা আপনি আগেই জেনেছেন যে, ইবনে হিব্বান এমন মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত যারা বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে কঠোরতা ও বাড়াবাড়ি প্রদর্শন করেন। আর যার অবস্থা এমন, বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তার শিথিল হওয়া অসম্ভব!”

আমি বলছি:

এই অসম্ভব হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে দাবি করা তাঁর এক অদ্ভুত কাজ এবং বাড়াবাড়ি; কারণ তাঁর প্রতি সুধারণা পোষণ করা ছাড়া এর অন্য কোনো প্রমাণ নেই! আর এটি স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়টিকে নাকচ করে না যে, তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু ঘটে যাওয়া সম্ভব যা তাঁর মতো অন্য হাফেজদের থেকে ঘটা সুদূরপরাহত; বরং বিষয়টি তেমনই যেমন কেউ কোনো নেককার মানুষের ব্যাপারে বলল: তাঁর পক্ষে মিথ্যা বলা বা ব্যভিচার করা অসম্ভব! হ্যাঁ, উদাহরণটিতে এমন বিষয় ঘটা সুদূরপরাহত হওয়া যুক্তিসঙ্গত, আর আমাদের আলোচ্য বিষয়েও তা-ই, তবে সূক্ষ্মতা ও ইনসাফের সাথে অনুসন্ধান ও তদন্ত একথাই স্পষ্ট করেছে যে, এটি একটি বাস্তব বিষয়; যা খণ্ডন করার কোনো উপায় নেই, যেমনটি ইতিপূর্বে বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যা আপনি হয়তো অন্য কোথাও পাবেন না।

এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর নেই যে, তিনি বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য ও হাফেজ হওয়ার জন্য ফকীহ হওয়াকে শর্ত করেছেন; অন্যথায় তাঁর বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা জায়েজ হবে না! যেমনটি তাঁর থেকে ইতিপূর্বে উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং এর অসারতাও স্পষ্ট করা হয়েছে (পৃ. ১৭ - ১৮), সুতরাং এর চেয়ে বড় কঠোরতা আর কী হতে পারে?! এ কারণেই যখন হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী তাঁর কথাটি পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধৃত করেছেন—

--------------------------------------------

(১) এর মধ্য হতে তাঁর (যাহাবীর) উক্তি (১/ ২৭৪): “আমি বলি: ইবনে হিব্বান কখনো কখনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীকে এমনভাবে ব্যবচ্ছেদ (তীব্র সমালোচনা) করেন যে, মনে হয় তিনি নিজে জানেন না তাঁর মস্তিষ্ক থেকে কী বের হচ্ছে!”
(খণ্ড: ১) সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৯)
وطوله؛ تعقبه وردَّه عليه بقوله في "شرح الترمذي" (ق 122/ 2):

"وفيما ذكره نظر، وما أظنه سُبق إليه، ولو فتح هذا الباب؛ لم يحتج بحديث انفرد به عامة حفاظ الحديث كالأعمش - وغيره -، ولا قائل به، فأما مجرد هذا الظن فيمن ظهر حفظه وإتقانه؛ فلا يكفي في رد حديثه، والله أعلم".

فكما وقع منه هذا التعنت الغريب؛ وقع منه ذاك التساهل العجيب.

وأما ما ذكره أبو الحسنات في مطلع كلامه السابق من اعتمادهم على "ثقات ابن حبان"، والتزام ابن حجر بذكر من وثقه في "تهذيبه"؛ فمما لا يفيد شيئًا ولا يجدي!

أما الاعتماد على هذا الإطلاق؛ فلأنه باطل - لما سبق -.

وأما الالتزام؛ فلأنه كتاب يجمع كل ما قيل في رجاله من تجريح وتوثيق، دون أي ترجيح أو تحقيق إلَاّ ما ندر، فهو كالتزامه أن يذكر فيه من جرحه ابن حبان أيضًا، وقد يذكر أحيانًا تناقضه في بعضهم، فهل يعني ذلك اعتماده على توثيقه أو تجريحه؟! كيف والحافظ قد صرح في "تقريب التهذيب" بجهالة كثير ممن وثقهم ابن حبان، وتارة يقول: "مستور"، وتارة: "مقبول"، وتارة: "صدوق"، وأخرى: "ثقة"؟! أصاب في بعض ذلك، وأخطأ في بعض، وتفصيل القول فيه يحتاج إلى إعداد خاص، وهو غير متيسر الآن، وكثير منه مبثوث في تعليقاتي وكتبي، وبخاصة منها "تيسير الانتفاع" أخيرًا، وهناك تجربة في "ثقات ابن حبان" وموقف الحفاظ منه، كنت أجريتها مع طلاب الجامعة الإسلامية في درس غير معهود في سائر الجامعات، إلَاّ وهو (درس الأسانيد)، وذلك سنة (1382)، كنت ذكرتها في تعليق لي على كتاب "التنكيل"، يحسن الاطلاع عليه منه (1/ 438)، فمن شاء رجع إليه.
এবং তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন; তিনি তাঁর সমালোচনা করেছেন এবং 'শারহুত তিরমিযী' (পত্র ১২২/২)-তে তাঁর বক্তব্যের প্রত্যুত্তর দিয়ে বলেছেন:

"তিনি যা উল্লেখ করেছেন তাতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে, এবং আমি মনে করি না যে এ বিষয়ে তাঁর আগে কেউ এমন কথা বলেছেন। যদি এই পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তবে আমাশ এবং অন্যান্যদের মতো সাধারণ হাদীস হাফেজদের এককভাবে বর্ণিত হাদীসগুলোকেও দলীল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না, অথচ এমন কথা কেউ বলেননি। সুতরাং যাঁর হিফয ও পাণ্ডিত্য সুস্পষ্ট, তাঁর ব্যাপারে কেবল এই ধারণা তাঁর হাদীস প্রত্যাখ্যান করার জন্য যথেষ্ট নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।"

যেমনটি তাঁর পক্ষ থেকে এই অদ্ভুত কঠোরতা প্রকাশ পেয়েছে; তেমনি তাঁর থেকে সেই বিস্ময়কর শিথিলতাও পরিলক্ষিত হয়েছে।

আর আবুল হাসনাত তাঁর পূর্ববর্তী আলোচনার শুরুতে ইবনে হিব্বানের 'আস-সিকাত'-এর ওপর তাঁদের নির্ভরতা এবং ইবনে হাজার তাঁর 'তাহযীব' গ্রন্থে যাঁদেরকে ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য বলেছেন তাঁদের উল্লেখ করার যে আবশ্যকতা দেখিয়েছেন, তা কোনো কাজে আসে না এবং ফলপ্রসূও নয়!

এই ঢালাও নির্ভরতার বিষয়টি এজন্য অসার—যা পূর্বেই আলোচিত হয়েছে।

আর উল্লেখ করার বিষয়টি এজন্য যে, এটি এমন একটি গ্রন্থ যেখানে বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে বর্ণিত জারহ (সমালোচনা) ও তা'দীল (প্রশংসা) সংক্রান্ত সবকিছুই একত্রিত করা হয়েছে, বিরল কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত কোনো প্রাধান্য প্রদান বা তাহকীক (যাচাই-বাছাই) ছাড়াই। এটি তাঁর সেই নিয়মের মতো যেখানে তিনি ইবনে হিব্বান কর্তৃক সমালোচিত ব্যক্তিদেরও এতে উল্লেখ করেছেন, এবং কখনও কখনও তিনি তাঁদের কারও কারও ক্ষেত্রে ইবনে হিব্বানের বৈপরীত্যও উল্লেখ করেছেন। তাহলে এর অর্থ কি এই যে তিনি তাঁর নির্ভরযোগ্য বলা বা সমালোচনার ওপর নির্ভর করেছেন?! কীভাবে তা হতে পারে, যেখানে হাফেজ (ইবনে হাজার) স্বয়ং 'তাক্বরীবুত তাহযীব'-এ ইবনে হিব্বান কর্তৃক নির্ভরযোগ্য ঘোষিত অনেকের ব্যাপারে 'অজ্ঞাত' হওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন? কখনও তিনি বলেছেন: "মাস্তুর", কখনও "মাকবুল", কখনও "সাদুক", আবার কখনও "সিক্বাহ"! তিনি এর কোনো কোনো ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন, যা বর্তমানে সহজসাধ্য নয়। এর অনেক অংশই আমার টীকা ও গ্রন্থাবলিতে ছড়িয়ে আছে, বিশেষ করে সম্প্রতি 'তায়সীরুল ইনতিফা' গ্রন্থে। ইবনে হিব্বানের 'আস-সিকাত' এবং এর প্রতি হাফেজগণের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি গবেষণা রয়েছে, যা আমি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে এমন একটি পাঠে পরিচালনা করেছিলাম যা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সচরাচর দেখা যায় না, আর তা হলো 'দারসুল আসানীদ' (সনদ বিশ্লেষণ পাঠ)। এটি ১৩৮২ হিজরি সালের ঘটনা। আমি 'আত-তানকীল' গ্রন্থের ওপর আমার এক টীকায় এটি উল্লেখ করেছি, যা (১/৪৩৮) থেকে দেখে নেওয়া উত্তম হবে। সুতরাং যে ইচ্ছুক সে সেখানে ফিরে যেতে পারে।