(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
التعريف بالإسلام (مجموعة من المؤلفين)
القسم: كتب عامة
الكتاب: التعريف بالإسلام
المؤلف: مركز قطر للتعريف بالإسلام
وزارة الأوقاف والشؤون الدينية - بقطر
إعداد للموسوعة الشاملة: إلياس شرادي
مع التحيات إدارة موقع شباب الهدى
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 350
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামের পরিচিতি (একদল লেখক)
বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামের পরিচিতি
লেখক: কাতার ইসলামি পরিচিতি কেন্দ্র
ধর্ম বিষয়ক ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয় - কাতার
মাকতাবা শামিলার জন্য প্রস্তুতকরণ: ইলিয়াস শাররাদি
শাবাব আল-হুদা ওয়েবসাইট প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা রইল
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫০
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১)
مركز قطر للتعريف بالإسلام
কাতার ইসলাম পরিচিতি কেন্দ্র
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة الناشر (على الموسوعة الشاملة)بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد المُرسل رحمة للعالمين وبعد السلام عليكم ورحمة الله وبركاته:منذ فترة طويلة وانا محتفظ بمشروع مركز قطر للتعريف بالإسلام وعندما طالعته أعجبت به كثيراً وحينها كنت قررت نشره على موقع شباب الهدى وتم ذلك وكان ملفا قيما لقي اقبالا جيدا من زوار الموقع..وعندما تعرض الموقع لمشاكل في تلك الفترة صعب عليّ اعادة كثير من الملفات منها مشروع قطر للتعريف بالإسلام..وها هو اليوم بفضل الله يعود من جديد (وليس لي جهد في شيء منه إلا المساعدة قدر الإمكان بنشره) وهذه المرة باستخدام الموسوعة الشاملة حتى تصل لقدر كبير من المخلصين والمهتمين.وفي الأخير أطلب منكم الدعاء لي ولأمي وأبي وجدتي وأهلي جميعا ولسائر المسلمينوقد قيل: لا يحق لكم ان تستفيدوا منا ثم لا تترحموا عليناوجزى الله القائمين على هذا المشروع خيرا محبكم في الله: إلياس شراديموقع شباب الهدى الإسلاميwww.s-elhoda.comالجزائر المنورة ـ العاصمة ـ ليلة الثامن من رمضان 1431.
প্রকাশকের ভূমিকা (আল-মাকতাবা আল-শামেলা-এর ওপর ভিত্তি করে)পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মোহর, আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠানো হয়েছে। অতঃপর, আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।দীর্ঘ সময় ধরে আমি ‘কাতার সেন্টার ফর প্রেজেন্টিং ইসলাম’-এর প্রকল্পটি আমার কাছে সংরক্ষণ করছিলাম। যখন আমি এটি পাঠ করি, তখন এটি আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করে। সেই সময়েই আমি এটি ‘শাবাব আল-হুদা’ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিই এবং তা সম্পন্ন হয়। এটি ছিল একটি মূল্যবান ফাইল যা ওয়েবসাইটের দর্শকদের কাছে বেশ সমাদৃত হয়েছিল।ওই সময়ে ওয়েবসাইটটি কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হলে আমার জন্য কাতার প্রেজেন্টিং ইসলাম প্রকল্পসহ অনেক ফাইল পুনরায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল।আজ আল্লাহর অনুগ্রহে এটি পুনরায় ফিরে এসেছে (এতে আমার নিজস্ব কোনো বিশেষ শ্রম নেই, কেবল সাধ্যমতো এটি প্রকাশের মাধ্যমে সহযোগিতা করা ছাড়া)। এবার এটি আল-মাকতাবা আল-শামেলা-এর মাধ্যমে পেশ করা হচ্ছে যাতে তা বিপুল সংখ্যক একনিষ্ঠ ও আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে পারে।পরিশেষে, আমি আমার জন্য, আমার পিতা-মাতা, দাদী এবং আমার সকল পরিজনসহ সকল মুসলিমের জন্য আপনাদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।বলা হয়ে থাকে: আমাদের থেকে উপকৃত হওয়ার পর আমাদের জন্য রহমতের দোয়া না করা আপনাদের জন্য সমীচীন নয়।আল্লাহ এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে আপনাদের হিতাকাঙ্ক্ষী: ইলিয়াস শারাদিশাবাব আল-হুদা ইসলামি ওয়েবসাইটwww.s-elhoda.comআলজেরিয়া মুনাওয়ারা — রাজধানী — ৮ই রমজান দিবাগত রাত, ১৪৩১ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২)
القرآن الكريم
পবিত্র কুরআন
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
تعريف القرآن الكريم
আল-কুরআনুল কারিমের সংজ্ঞা
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
تعريف القرآن القرآن لغة: القرآن في الأصل مصدر على وزن فُعلان (بالضم) ، كالغُفران والشُكران، تقول: قرأته قرءًا وقراءة وقرآنًا بمعنى واحد، أي تلوته تلاوة، وقد جاء القرآن بهذا المعنى المصدري في قوله تعالى: (إن علينا جمعه وقرآنه فإذا قرأناه فاتبع قرآنه) (القيامة: 18) أي قراءته. والقراءة: ضم الحروف والكلمات بعضها إلى بعض في الترتيل، كما أن الكتابة ضم الألفاظ بعضها إلى بعض في الخط، ثم صار القرآن علمًا لذلك الكتاب الكريم. القرآن اصطلاحًا: هو كلام الله المنزل على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، المتعَبَّد بتلاوته، المنقول بالتواتر، المكتوب في المصاحف، من أول سورة (الفاتحة) إلى آخر سورة (الناس) .
কুরআনের পরিচয় আভিধানিক অর্থে কুরআন: কুরআন শব্দটি মূলত ‘ফুঁ’লান’ (পেশ সহযোগে) ওজনের একটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল, যেমন আল-গুফরান এবং আশ-শুকরান। আপনি বলতে পারেন: ‘ক্বারাতুহু ক্বারআন, ক্বিরাআতান ও কুরআনান’, যার অর্থ একই। অর্থাৎ আমি এটি তিলাওয়াত করেছি। আল্লাহ তাআলার বাণীতে কুরআন শব্দটি এই মাসদার বা ক্রিয়ামূল অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে: “নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।” (সূরা আল-ক্বিয়ামাহ: ১৮) অর্থাৎ এর তিলাওয়াত বা পাঠ। আর ক্বিরাআত হলো: তারতীলের সাথে অক্ষর ও শব্দসমূহকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা, যেমন লিখন বা কিতাবাত হলো হস্তাক্ষরে শব্দসমূহকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা। পরবর্তীতে ‘কুরআন’ শব্দটি সেই মহিমান্বিত কিতাবের নাম হিসেবে নির্ধারিত হয়ে যায়। পারিভাষিক অর্থে কুরআন: তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী, যা তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য, যা নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার (متواتر) মাধ্যমে প্রাপ্ত এবং যা মুসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে—সূরা আল-ফাতিহা থেকে শুরু করে সূরা আন-নাস পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
.أسماء القرآن للقرآن الكريم أسماء كثيرة، أشهرها: (القرآن) (إن هذا القرآن يهدي للتي هي أقوم) (الإسراء: 9) . (الكتاب) وهو مصدر كتب، بمعنى الجمع والضم، فبالنظر إلى أنه مقروء فهو القرآن، وبالنظر إلى أنه مكتوب فهو الكتاب، قال تعالى: (ونزلنا عليك الكتاب تبيانا لكل شيء وهدى ورحمة وبشرى للمسلمين) (النحل: 89) . (الفرقان) لأنه فارق بين الحق والباطل، قال تعالى: (تبارك الذي نزل الفرقان على عبده ليكون للعالمين نذيرًا) (الفرقان: 1) . (التنزيل) وهو مصدر أريد به المنزّل، لنزوله من عند الله تعالى: (وإنه لتنزيل رب العالمين) (الشعراء: 192) . (الذكر) سمي به القرآن لاشتماله على المواعظ والزواجر، وقيل لاشتماله على أخبار الأنبياء والأمم الماضية، وقيل من الذكر بمعنى الشرف. قال تعالى: (وإنه لذكر لك ولقومك وسوف تسألون) (الزخرف: 44) ، أي شرف لكم لأنه نزل بلغتكم، وقال تعالى: (إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون) (الحجر: 9) . والأسماء الأربعة الأخيرة هي أشهر الأسماء بعد لفظ (القرآن) ، وقد صارت أعلامًا بالغلبة على القرآن في لسان أهل الشرع وعُرفهم.
.কুরআনের নামসমূহ আল-কুরআনুল কারীমের অনেক নাম রয়েছে, যার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো: (কুরআন) "নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ়" (আল-ইসরা: ৯)। (আল-কিতাব) এটি 'কাতাবা' হতে আগত একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), যার অর্থ হলো একত্রিত করা ও জুড়ে দেওয়া। পঠিত হওয়ার দিক থেকে এটি হলো কুরআন, আর লিখিত হওয়ার দিক থেকে এটি হলো আল-কিতাব। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং মুসলিমদের জন্য হেদায়াত, রহমত ও সুসংবাদ" (আন-নাহল: ৮৯)। (আল-ফুরকান) কারণ এটি সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করে। মহান আল্লাহ বলেন: "বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন" (আল-ফুরকান: ১)। (আত-তানজিল) এটি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر) যা দ্বারা এখানে অবতীর্ণ বিষয় (المنزل) বোঝানো হয়েছে; যেহেতু এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। "নিশ্চয় এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ" (আশ-শুআরা: ১৯২)। (আয-যিকর) কুরআনকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এতে উপদেশ ও সতর্কবাণী রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এতে নবীগণের সংবাদ ও অতীত জাতিসমূহের বিবরণ থাকায় একে এই নামে ডাকা হয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটি সম্মান (الشرف) অর্থে ব্যবহৃত 'যিকর' থেকে ব্যুৎপন্ন। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় এটি আপনার জন্য এবং আপনার কওমের জন্য সম্মানের বিষয় এবং শীঘ্রই আপনাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে" (আয-যুখরুফ: ৪৪), অর্থাৎ এটি আপনাদের জন্য এক বিশেষ মর্যাদা, যেহেতু এটি আপনাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "নিশ্চয় আমিই এই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক" (আল-হিজর: ৯)। শেষোক্ত চারটি নাম 'কুরআন' শব্দের পর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ নাম। শরীয়ত বিশেষজ্ঞগণের পরিভাষা ও লোকরীতিতে ব্যবহারের আধিক্যের কারণে এগুলো কুরআনের জন্য বিশেষ নাম (أعلامًا) হিসেবে নির্ধারিত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
حفظ القرآن من التحريف يقول الشيخ محمد عبد الله دراز -في سياق تعريفه للقرآن-: (روعي في تسميته قرآنا كونه متلوًا بالألسن، كماروعي في تسميته كتابًا كونه مدونًا بالأقلام، فكلتا التسميتين من تسمية الشيء بالمعنى الواقع عليه، وفي تسميته بهذين الاسمين إشارة إلى أن من حقه العناية بحفظه في موضعين، لا في موضع واحد، أعني أنه يجب حفظه في الصدور والسطور جميعًا، فلا ثقة لنا بحفظ حافظ حتى يوافق الرسم المجمع عليه من الأصحاب، المنقول إلينا جيلاً بعد جيل، على هيئته التي وُضع عليها أول مرة. ولا ثقة لنا بكتابة كاتب حتى يوافق ما هو عند الحفاظ بالإسناد الصحيح المتواتر، وبهذه العناية المزدوجة التي بعثها الله في نفوس الأمة المحمدية اقتداءً بنبيها صلى الله عليه وسلم بقي القرآن محفوظا في حرز حريز، إنجازًا لوعد الله الذي تكفل بحفظه، حيث يقول: (إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون) (الحجر: 9) ، ولم يصبه ما أصاب الكتب الماضية من التحريف والتبديل وانقطاع السند، حيث لم يتكفل الله بحفظها، بل وكلها إلى حفظ الناس، فقال تعالى: (والربانيون والأحبار بما استحفظوا من كتاب الله) (المائدة: 44) ، أي بما طلب إليهم حفظه. والسر في هذه التفرقة أن سائر الكتب السماوية جيء بها على التوقيت لا على التأبيد، وأن هذا القرآن جيء به مصدقًا لما بين يديه من الكتب ومهيمنًا عليها، فكان جامعًا لما فيها من الحقائق الثابتة، زائدًا عليها بما شاء الله زيادته، وكان سادًّا مسدها، ولم يكن شيء منها ليسدَّ مسدَّه، فقضى الله أن يبقى حجة إلى قيام الساعة، وإذا قضى الله أمرًا يسر له أسبابه، وهو الحكيم العليم) .
বিকৃতি (تحريف) থেকে কুরআন সংরক্ষণ শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ—কুরআনের সংজ্ঞা প্রদানের প্রেক্ষাপটে—বলেন: (কুরআনকে ‘কুরআন’ হিসেবে নামকরণ করার ক্ষেত্রে এটি মুখে পঠিত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে, যেমনটি ‘কিতাব’ হিসেবে নামকরণের ক্ষেত্রে এটি কলম দ্বারা লিখিত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। উভয় নামকরণই মূলত কোনো বস্তুকে তার বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে নাম রাখার অন্তর্ভুক্ত। এই দুটি নামে নামকরণের মাধ্যমে এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, একে একটি স্থানে নয় বরং দুটি স্থানে সংরক্ষণ ও যত্ন নেওয়া এর প্রাপ্য; অর্থাৎ একে অন্তর এবং লিপি—উভয় মাধ্যমেই সমানভাবে সংরক্ষণ করা ওয়াজিব। সুতরাং কোনো হাফিজের স্মৃতির ওপর আমাদের ভরসা নেই যতক্ষণ না তা সাহাবায়ে কিরামের সর্বসম্মত এবং আমাদের কাছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ধারাবাহিকভাবে পৌঁছানো সেই লিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যে লিপিতে এটি প্রথমবার সংকলিত হয়েছিল। তদ্রূপ কোনো লেখকের লেখার ওপরও আমাদের ভরসা নেই যতক্ষণ না তা হাফিজদের কাছে থাকা সঠিক (صحيح) ও মুতাওয়াতির (متواتر) সনদ (إسناد) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আর এই দ্বিমুখী সংরক্ষণের প্রতি বিশেষ যত্ন—যা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণে উম্মতে মুহাম্মদীর অন্তরে জাগ্রত করেছেন—তার মাধ্যমেই কুরআন এক নিরাপদ দুর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। এটি মূলত আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন যেখানে তিনি এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয় আমিই এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক" (সূরা আল-হিজর: ৯)। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে যে বিকৃতি (تحريف), পরিবর্তন এবং সনদের বিচ্ছিন্নতা (انقطاع السند) ঘটেছিল, কুরআনের ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি। কারণ আল্লাহ সেই কিতাবগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি, বরং তা মানুষের সংরক্ষণের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "রব্বানী ও পণ্ডিতগণ (বিধান দিত), যেহেতু তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের সংরক্ষক করা হয়েছিল" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৪৪), অর্থাৎ তাদের কাছে যা সংরক্ষণের দাবি করা হয়েছিল। এই পার্থক্যের পেছনের রহস্য হলো, অন্যান্য সমস্ত আসমানী কিতাব একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসেছিল, চিরস্থায়ীভাবে নয়। আর এই কুরআন এসেছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর তদারককারী হিসেবে। ফলে এটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের শাশ্বত সত্যগুলোকে ধারণকারী এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী তার ওপর অতিরিক্ত বিষয়ের সমাহার। এটি ছিল পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের স্থলাভিষিক্ত, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো ছিল না। তাই আল্লাহ ফয়সালা করেছেন যে, এটি কিয়ামত পর্যন্ত প্রমাণ হিসেবে টিকে থাকবে। আর আল্লাহ যখন কোনো বিষয় ফয়সালা করেন, তখন তার উপকরণসমূহ সহজ করে দেন। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।)
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
آداب تلاوة القرآن الكريم · يجب على من يقرأ القرآن وهو ممسك بالمصحف بدون حائل أن يكون طاهرًا من الحدثين الأكبر والأصغر. · يستحب الوضوء لقراءة القرآن عن ظهر قلب، وبدون مس المصحف، فإن قرأ محدثًا جاز بالإجماع. · الجنب والحائض تحرم عليهما القراءة إلا بعد الطهارة، ويجوز لهما النظر في المصحف دون مسه، وإمرار القرآن على القلب. · يستحب للقارئ أن ينظف فاه بالسواك وغيره تعظيمًا وتطهيرًا. · يسن التعوذ قبل القراءة وصيغتها المختارة (أعوذ بالله من الشيطان الرجيم) . · يسن المحافظة على قراءة البسملة في أول كل سورة، إلا سورة التوبة فلا بسملة فيها. · يستحب أن تكون القراءة في مكان نظيف مختار، وأفضله المسجد. · يستحب للقارئ في غير الصلاة أن يستقبل القبلة، ويجلس خاشعًا بسكينة ووقار. · يسن الترتيل في قراءة القرآن، لقوله تعالى: (ورتل القرآن ترتيلا) (المزمل: 4) . · يسن تحسين الصوت بالقراءة وتزيينها، لحديث ابن حبان وغيره: (زينوا القرآن بأصواتكم) . · تسن القراءة بالتدبر والتفهم فهو المقصود الأعظم، والمطلوب الأهم وبه تنشرح الصدور. · يستحب البكاء عند قراءة القرآن والتباكي لمن لم يقدر عليه. · يستحب إذا مر بآية رحمة أن يسأل الله من فضله، وإذا مر بآية عذاب أن يستعيذ بالله من النار، وإذا مر بآية تنزيه أن ينزه الله، فيقول: سبحان الله، أو تبارك الله أو جلت عظمته. · القراءة من المصحف أفضل من القراءة عن ظهر قلب، لأن النظر في المصحف عبادة مطلوبة. · يكره قطع القراءة بالكلام (إلا لضرورة) ، لأن كلام الله لا ينبغي أن يدخل عليه كلام غيره، ويكره أيضًا الضحك والعبث والنظر إلى ما يلهي. · يسن السجود عند مواضع سجود التلاوة، مع قصر الفصل بين السجود وسببه. · ينبغي للقارئ أن يقرأ حسب ترتيب المصحف فإن خالفه جاز له ذلك.
কুরআন তিলাওয়াতের আদবসমূহ · যারা কোনো আবরণ ব্যতিরেকে সরাসরি মাসহাফ (কুরআনের প্রতিলিপি) স্পর্শ করে কুরআন তিলাওয়াত করেন, তাদের জন্য বড় ও ছোট উভয় প্রকার অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকা আবশ্যক (يجب)। · মুখস্থ তিলাওয়াত এবং মাসহাফ স্পর্শ না করে তিলাওয়াতের জন্য অজু করা মুস্তাহাব (يستحب)। তবে কেউ যদি অজুহীন অবস্থায় তিলাওয়াত করে, তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) বৈধ। · অপবিত্র (গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি) এবং ঋতুবতী নারীর জন্য পবিত্রতা অর্জন না করা পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হারাম বা নিষিদ্ধ। তবে তারা মাসহাফ স্পর্শ না করে তাতে দৃষ্টিপাত করতে পারবে এবং অন্তরে কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা করতে পারবে। · তিলাওয়াতকারীর জন্য সম্মান প্রদর্শন ও পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে মেসওয়াক বা অন্য কিছুর মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার করা মুস্তাহাব (يستحب)। · তিলাওয়াত শুরুর আগে তায়াউজ (আশ্রয় প্রার্থনা) করা সুন্নাত (يسن) এবং এর পছন্দনীয় রূপ হলো (আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। · প্রত্যেক সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়ার প্রতি যত্নশীল হওয়া সুন্নাত (يسن), তবে সূরা আত-তাওবাহ এর ব্যতিক্রম, কারণ এতে কোনো বিসমিল্লাহ নেই। · তিলাওয়াত কোনো পরিচ্ছন্ন ও পছন্দনীয় স্থানে হওয়া মুস্তাহাব (يستحب), যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো মসজিদ। · নামাজের বাইরে তিলাওয়াতকারীর জন্য কিবলামুখী হওয়া এবং অত্যন্ত বিনয়, প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সাথে বসা মুস্তাহাব (يستحب)। · কুরআন তিলাওয়াতের সময় তারতীল বা ধীরস্থিরভাবে তিলাওয়াত করা সুন্নাত (يسن); মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: (আর কুরআন তিলাওয়াত করো সুবিন্যস্ত ও স্পষ্টভাবে) (সূরা আল-মুজ্জাম্মিল: ৪)। · তিলাওয়াতের সময় কণ্ঠস্বর সুন্দর করা এবং তা অলংকৃত করা সুন্নাত (يسن); ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যদের বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী: (তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বর দিয়ে কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো)। · গভীর চিন্তা (تدبر) ও অনুধাবন সহকারে তিলাওয়াত করা সুন্নাত (يسن); কারণ এটাই তিলাওয়াতের মূল লক্ষ্য ও প্রধান দাবি এবং এর মাধ্যমেই অন্তরসমূহ উন্মোচিত হয়। · কুরআন তিলাওয়াতের সময় ক্রন্দন করা মুস্তাহাব (يستحب), আর যে ক্রন্দন করতে সক্ষম নয়, তার জন্য কান্নার চেষ্টা করা মুস্তাহাব। · যখন কোনো রহমতের আয়াত অতিক্রম করবে তখন আল্লাহর অনুগ্রহ প্রার্থনা করা, যখন আজাব বা শাস্তির আয়াত অতিক্রম করবে তখন জাহান্নাম থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং যখন আল্লাহর মহিমা বা পবিত্রতা বিষয়ক আয়াত অতিক্রম করবে তখন আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করা মুস্তাহাব (يستحب); এমতাবস্থায় বলবে: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ অতি পবিত্র), অথবা তাবারাকাল্লাহ (আল্লাহ বরকতময়) অথবা জাল্লাত আজামাতুহু (তাঁর মহিমা সুমহান)। · মুখস্থ তিলাওয়াত করার চেয়ে মাসহাফ দেখে তিলাওয়াত করা উত্তম, কারণ মাসহাফের দিকে তাকানো একটি কাঙ্ক্ষিত ইবাদত। · কোনো প্রয়োজন ছাড়া কথাবার্তার মাধ্যমে তিলাওয়াত বিচ্ছিন্ন করা অপছন্দনীয় (يكره); কারণ আল্লাহর কালামের মাঝে অন্য কারো কথা প্রবেশ করানো সমীচীন নয়। তদ্রূপ হাসাহাসি করা, অনর্থক কাজ করা এবং মনোযোগ নষ্টকারী জিনিসের দিকে তাকানোও অপছন্দনীয় (يكره)। · তিলাওয়াতে সিজদার স্থানগুলোতে সিজদা করা সুন্নাত (يسن), সাথে সাথে সিজদার কারণ ও সিজদা আদায়ের মাঝে যেন দীর্ঘ বিরতি না হয়। · তিলাওয়াতকারীর উচিত মাসহাফের বিন্যাস অনুযায়ী তিলাওয়াত করা, তবে যদি এর ব্যতিক্রম করে তবে তাও তার জন্য জায়েজ।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
· المراجع: التبيان في آداب حملة القرآن، للنووي. الإتقان في علوم القرآن، للسيوطي. التحبير في علم التفسير، للسيوطي.
· তথ্যসূত্র: আল-তিবিয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন, ইমাম নববী রচিত। আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন, ইমাম সুয়ূতী রচিত। আত-তাহবির ফি ইলমিত তাফসির, ইমাম সুয়ূতী রচিত।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
منزلة القرآن الكريم القرآن الكريم مصدق للكتب السابقة ومهيمن عليها، فيقر ما فيها من حق وصدق فهي من عند الله تعالى ويكشف ما فيها من زيغ وتحريف وتبديل من البشر. القرآن الكريم رسالة الله تعالى إلى الإنسانية كافة (تبارك الذي نزل الفرقان على عبده ليكون للعالمين نذيرًا) (الفرقان: 1) . القرآن الكريم هداية الخالق لإصلاح الخلق وشريعة السماء لأهل الأرض (إن هذا القرآن يهدي للتي هي أقوم) (الإسراء) . القرآن الكريم هو التشريع العام الخالد الذي تكفل بجميع ما يحتاج إليه البشر في أمور دينهم ودنياهم (ما فرطنا في الكتاب من شيء) (الأنعام: 38) ، (ونزلنا عليك الكتاب تبيانًا لكل شيء) (النحل: 89) . القرآن الكريم هو الذي صلحت به الدنيا -ولن تصلح إلا به- وحول مجرى التاريخ وأقام أمة كانت مضرب الأمثال في الإيمان والإخاء والعدل والوفاء وفي كل شيء. هو الكتاب الذي لا تفنى ذخائره، ولا يخلق عن كثرة الرد، ولا يزداد على التكرار إلا حلاوة وطلاوة. إن كتابًا هذا بعض شأنه لجدير أن يضعه الإنسان بين عينيه، ويجعله أنيسه في خلوته، ورفيقه في سفره، وصديقه الصدوق في يسره وعسره، ومستشاره الأمين في أمور دينه ودنياه، وحجته البالغة في حياته وأخراه.
মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের মর্যাদা মহাগ্রন্থ আল-কুরআন পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর সংরক্ষক। এতে যে সত্য ও যথার্থতা রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত বলে এটি সমর্থন করে এবং মানুষের পক্ষ থেকে এতে যে বিচ্যুতি, বিকৃতি (تحريف) ও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তা উন্মোচন করে। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন সমগ্র মানবজাতির প্রতি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বার্তা: "পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।" (আল-ফুরকান: ১)। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন সৃষ্টির সংশোধনের জন্য স্রষ্টার পক্ষ থেকে হেদায়েত এবং পৃথিবীবাসীর জন্য আসমানি শরিয়ত: "নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সর্বাধিক সুদৃঢ়।" (আল-ইসরা)। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন হলো একটি শাশ্বত ও সার্বজনীন বিধান, যা মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় প্রয়োজনীয় বিষয়ের জিম্মাদার হয়েছে: "আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি।" (আল-আনআম: ৩৮); "আমি আপনার প্রতি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা সব কিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা।" (আন-নাহল: ৮৯)। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের মাধ্যমেই পৃথিবী সংশোধন হয়েছে—এবং এটি ছাড়া তা আর কখনো সংশোধিত হবে না—এটি ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করেছে এবং এমন এক উম্মাহ গঠন করেছে যারা ঈমান, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার, বিশ্বস্ততা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবাদতুল্য দৃষ্টান্ত হয়ে ছিল। এটি এমন এক কিতাব যার জ্ঞানভাণ্ডার কখনো শেষ হয় না, বারবার পাঠেও যা পুরোনো হয় না এবং পুনরাবৃত্তির ফলে যার মাধুর্য ও লাবণ্য কেবল বৃদ্ধিই পেতে থাকে। যে কিতাবের মাহাত্ম্য এরূপ, তা মানুষের জন্য এ যোগ্য যে সে একে সর্বদা নিজ চোখের সামনে রাখবে, নির্জনে একে আপন সঙ্গী বানিয়ে নেবে, সফরের সাথী হিসেবে গ্রহণ করবে এবং সুসময় ও দুঃসময়ে একে পরম বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে আঁকড়ে ধরবে। তদুপরি একে তার দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টা এবং ইহকাল ও পরকালে অকাট্য প্রমাণ (حجة) হিসেবে গ্রহণ করবে।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
فضل تلاوة القرآن الكريم · قال الله تعالى: (إن الذين يتلون كتاب الله وأقاموا الصلاة وأنفقوا مما رزقناهم سرًا وعلانية يرجون تجارة لن تبور ليوفهم أجورهم ويزيدهم من فضله إنه غفور شكور) (فاطر: 29-30) . · عن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (اقرؤوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعًا لأصحابه) (رواه مسلم) . · وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من قرأ حرفًا من كتاب الله فله به حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا أقول (الم) حرف ولكن ألف حرف ولام حرف وميم حرف) (رواه الترمذي وقال حسن صحيح) . · وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (يقال لصاحب القرآن اقرأ وارتق ورتل كما كنت ترتل في الدنيا، فإن منزلتك عند آخر آية تقرؤها) (رواه أبو داود والنسائي والترمذي وقال: حسن صحيح) . · وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (الذي يقرأ القرآن وهو ماهر به مع السفرة الكرام البررة، والذي يقرأ القرآن ويتتعتع فيه وهو عليه شاق له أجران) (رواه البخاري ومسلم) .
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মর্যাদা · আল্লাহ তাআলা বলেন: (নিশ্চয় যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না। যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিদান দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী) (ফাতির: ২৯-৩০)। · আবু উমামা আল-বাহিলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (তোমরা কুরআন পাঠ করো, কারণ কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে) (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)। · আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার বিনিময়ে সে একটি নেকি পাবে; আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমি বলছি না যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর) (তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান (حسن) ও সহিহ (صحيح) বলেছেন)। · আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (কুরআনের অধিকারীকে বলা হবে: তুমি পাঠ করো এবং উচ্চ মর্যাদায় আরোহণ করো; আর তারতিলের সাথে পাঠ করো যেমনটি দুনিয়াতে করতে। কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পঠিত শেষ আয়াতের নিকট) (আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান (حسن) ও সহিহ (صحيح) বলেছেন)। · আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি কুরআনে দক্ষ, সে সম্মানিত ও নেককার ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে আটকে যায় ও কষ্টবোধ করে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব) (বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
خصائص القرآن الكريم
আল-কুরআনুল কারীমের বৈশিষ্ট্যসমূহ
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
خصائص تتعلق بفضله وشرفه ومكانته للقرآن الكريم خصائص كثيرة منها: 1- فضله: لا يخفى فضل القرآن عند من لديه أدنى علم شرعي، ذلكم أن القرآن الكريم (كلية الشريعة، وعمدة الملة، وينبوع الحكمة، وآية الرسالة، ونور الأبصار والبصائر، فلا طريق إلى الله سواه، ولا نجاة بغيره، ولا تمسك بشيء يخالفه) . هو كلام الله العظيم، وصراطه المستقيم، ودستوره القويم، ناط به كل سعادة، وهو رسالة الله الخالدة، ومعجزته الدائمة، ورحمته الواسعة، وحكمته البالغة، ونعمته السابغة. هو حجة الرسول صلى الله عليه وسلم الدامغة، وآيته الكبرى، شاهدة برسالته وناطقة بنبوته. هو كتاب الإسلام في عقائده وعباداته، وحكمه وأحكامه، وآدابه، وأخلاقه، وقصصه ومواعظه وأخباره. هو أساس رسالة التوحيد، والمصدر القويم للتشريع، ومنهل الحكمة والهداية والرحمة المسداة للناس، والنور المبين للأمة، والمحجة البيضاء التي لا يزيغ عنها إلا هالك. 2- شفاعته لأهله: ومن خصائص القرآن الكريم أنه يشفع لأهله يوم القيامة، ومن الأدلة على ذلك حديث أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: (اقرؤوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعاً لأصحابه) رواه مسلم. 3- أنه شفاء: قال تعالىٍ: (وننزل من القرآن ما هو شفاء ورحمة للمؤمنين) (الإسراء: 82) ، وقال سبحانه: (قل هو للذين آمنوا هدى وشفاء) (فصلت: 44) ، وقال عز وجل: (قد جاءكم موعظة من ربكم وشفاء لما في الصدور) (يونس 57) . وتدبر وصف الله للقرآن بأنه شفاء ولم يصفه بأنه دواء، لأن الشفاء هو ثمرة الدواء والهدف منه، أما الدواء فقد يفيد وقد يضر، فكان وصف القرآن بأنه شفاء تأكيد لثمرة التداوي به والقرآن شفاء للأمراض النفسية، وما أحوج مجتمعاتنا المعاصرة إلى التداوي بالقرآن لهذا الداء الوبيل، في عالم تتنازعه الأهواء المادية والشهوات الجسدية والملذات الدنيوية، لكن ينبغي أن نعلم أن الاستشفاء بالقرآن يستدعي كمال اليقين، وقوة الاعتقاد وسلامته.
তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদা ও উচ্চমর্যাদা সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যসমূহ পবিত্র কুরআনের অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১- এর শ্রেষ্ঠত্ব: যাঁদের সামান্যতম শরয়ী জ্ঞান আছে তাঁদের নিকট কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব অস্পষ্ট নয়; কারণ পবিত্র কুরআন হলো (শরীয়তের সামগ্রিক রূপ, উম্মতের মূল ভিত্তি, প্রজ্ঞার উৎস, রেসালাতের নিদর্শন, চক্ষু ও অন্তর্দৃষ্টির জ্যোতি; সুতরাং আল্লাহ তায়ালার নিকট পৌঁছানোর জন্য এটি ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই, এটি ব্যতীত মুক্তি নেই এবং এর পরিপন্থী কোনো কিছুকে অবলম্বন করার সুযোগ নেই)। এটি মহান আল্লাহর মহিমান্বিত বাণী, তাঁর সরল পথ, তাঁর সুদৃঢ় বিধান; যার সাথে সকল প্রকার সুখ ও সৌভাগ্য জড়িত। এটি আল্লাহর শাশ্বত পয়গাম, তাঁর চিরস্থায়ী মুজিজা, তাঁর ব্যাপক রহমত, তাঁর সুগভীর হিকমত এবং তাঁর পরিপূর্ণ নিয়ামত। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অকাট্য প্রমাণ এবং তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন, যা তাঁর রেসালাতের সাক্ষী এবং নবুওয়তের বার্তাবাহক। এটি আকিদা ও ইবাদত, বিধান ও আইনকানুন, আদব ও আখলাক এবং ইতিহাস, উপদেশ ও সংবাদের ক্ষেত্রে ইসলামের কিতাব। এটি তাওহীদের বাণীর মূল ভিত্তি, শরীয়ত প্রণয়নের সঠিক উৎস, প্রজ্ঞা ও হেদায়েতের ঝরনাধারা এবং মানবজাতির জন্য রহমত, উম্মতের জন্য সুস্পষ্ট নূর এবং এমন এক উজ্জ্বল পথ যা থেকে কেবল ধ্বংসপ্রাপ্তরাই বিচ্যুত হয়। ২- কুরআনের অনুসারীদের জন্য এর সুপারিশ: পবিত্র কুরআনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কিয়ামতের দিন তার অনুসারীদের জন্য সুপারিশ করবে। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো আবু উমামা আল-বাহিলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো, কেননা তা কিয়ামতের দিন তার সাথীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ৩- এটি একটি নিরাময়: আল্লাহ তায়ালা বলেন: (আর আমি কুরআন থেকে যা অবতীর্ণ করি তা মুমিনদের জন্য নিরাময় ও রহমত) (আল-ইসরা: ৮২)। তিনি আরও বলেন: (বলো, এটি ঈমানদারদের জন্য হেদায়েত ও নিরাময়) (ফুসসিলাত: ৪৪)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: (তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধির নিরাময় এসেছে) (ইউনুস: ৫৭)। আল্লাহ তায়ালা কুরআনকে 'নিরাময়' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, 'ওষুধ' হিসেবে নয়—এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন। কারণ নিরাময় হলো ওষুধের ফল ও লক্ষ্য, পক্ষান্তরে ওষুধ কখনো ফলপ্রসূ হতে পারে আবার কখনো ক্ষতিকারকও হতে পারে। তাই কুরআনকে নিরাময় হিসেবে অভিহিত করা এর মাধ্যমে আরোগ্য লাভের সুনিশ্চিত ফলকে তাকিদ প্রদান করে। কুরআন হলো মানসিক ব্যাধিসমূহের নিরাময়; বর্তমান বিশ্ব যখন জাগতিক কামনা-বাসনা, শারীরিক লালসা এবং দুনিয়াবী ভোগ-বিলাসের দ্বন্দ্বে লিপ্ত, তখন আমাদের সমকালীন সমাজগুলোর এই মারাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য কুরআনের চিকিৎসার অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে আমাদের জেনে রাখা আবশ্যক যে, কুরআনের মাধ্যমে আরোগ্য লাভের জন্য পূর্ণ একিন, সুদৃঢ় বিশ্বাস ও আকিদাগত বিশুদ্ধতা প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
خصائص عامة وهي كذلك خصائص كثيرة عديدة، منها: 1- تعهد الله بحفظه: قال تعالى: (إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون) (الحجر: 9) . وقد مرت بالقرآن أحداث عظيمة وأهوال جسيمة وعوامل خطيرة، وتكالب عليه الأعداء وتداعت عليه الأمم، ولو مر بعض ذلك على غير القرآن لأصابه ما أصاب الكتب السابقة من التحريف والتغيير والتبديل. أما القرآن فقد مر بهذه الأحوال المتماوجة والداوعي المتكالبة ولم تنل منه بغيتها، بل وصل إلينا كما أنزل الله لم يتبدل ولم يتغير، ليتم الله نوره ولو كره الكافرون. أما الكتب السابقة فلم يتعهد الله بحفظها، بل أوكل أمر حفظها إلى أهلها، فقال تعالى: (إنا أنزلنا التوارة فيها هدى ونور يحكم بها النبيون الذين أسلموا للذين هادوا والربانيون والأحبار بما استحفظوا من كتاب الله وكانوا عليه شهداء) (المادة: 44) . 2- حفظه في الصدور: من أشرف خصائص القرآن الكريم أن الله سبحانه وتعالى كلف الأمة بحفظه كله، حيث يحفظه عدد كثير يثبت به التواتر، وإلا أثمت الأمة كلها، وليس هذا لكتاب غير القرآن. فالتوارة والإنجيل ترك لأهلهما أمر الحفظ، فاكتفوا بالقراءة دون الحفظ، إلا قلة لا تكاد تذكر، ولم تتوافر الدواعي لحفظهما كما توافرت لحفظ القرآن الكريم، فلم يكن لهما ثبوت قطعي كما هو للقرآن، فسهل تحريفهما وتبديلهما. 3- اتصال السند: من المعلوم أن أغلب الذين يتعلمون تلاوة القرآن إنما يتعلمون عن طريق السماع، ولا يكتفون بتعلمه من المصاحف وحدها، ونعلم أن أساتذتهم تلقوه أيضاً بالسماع عن طريق مشايخهم، وهكذا لا تنقطع هذه الطريقة، إلى أن تصل طبقة التابعين ثم الصحابة ثم الرسول صلى الله عليه وسلم.وبهذا يكون سند القرآن في كل عصر وفي كل حين متصلاً برسول الله صلى الله عليه وسلم، وليس هذا لكتاب غير القرآن الكريم، فقد شرف الله هذه الأمة باتصال سندها برسولها صلى الله عليه وسلم.
সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ এগুলো অনেক ও বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্য, যার মধ্যে রয়েছে: ১- আল্লাহ কর্তৃক এটি সংরক্ষণের অঙ্গীকার: আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" (আল-হিজর: ৯)। কুরআন মাজিদ অনেক বড় বড় ঘটনা, ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং বিপজ্জনক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে শত্রুরা একজোট হয়েছিল এবং বিভিন্ন জাতি এর ওপর চড়াও হয়েছিল। যদি কুরআনের পরিবর্তে অন্য কোনো কিতাবের ওপর এর সামান্যতম অংশও অতিবাহিত হতো, তবে পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর মতো এটিও বিকৃতি (تحريف), পরিবর্তন (تغيير) ও পরিমার্জনের (تبديل) শিকার হতো। কিন্তু কুরআন এই তরঙ্গবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি এবং চক্রান্তকারীদের অপতৎপরতার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হলেও তারা তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পারেনি। বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল, কোনো প্রকার পরিবর্তন ও পরিমার্জন ছাড়াই সেভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছে; যাতে আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করতে পারেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। অন্যদিকে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ সংরক্ষণের অঙ্গীকার আল্লাহ নিজে করেননি, বরং সেগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব তাদের অনুসারীদের ওপর অর্পণ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে হিদায়াত ও নূর। আল্লাহর প্রতি অনুগত নবিগণ ইহুদিদের জন্য তদানুযায়ী ফয়সালা দিতেন এবং রব্বানি ও পণ্ডিতগণও, যেহেতু তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের সংরক্ষক (استحفظوا) করা হয়েছিল এবং তারা ছিল এর সাক্ষী।" (আল-মায়িদাহ: ৪৪)। ২- অন্তরে সংরক্ষণ: কুরআন মাজিদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পুরো উম্মতের ওপর এটি মুখস্থ করার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। ফলে এটি এত বিপুল সংখ্যক লোক মুখস্থ করে যার মাধ্যমে মুতাওয়াতির (التواتر) পর্যায় সাব্যস্ত হয়; অন্যথায় পুরো উম্মত গুনাহগার হবে। কুরআন ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবের ক্ষেত্রে এমনটি নেই। তাওরাত ও ইঞ্জিলের ক্ষেত্রে সংরক্ষণের দায়িত্ব তাদের অনুসারীদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, ফলে তারা মুখস্থ করার পরিবর্তে কেবল পাঠের ওপরই ক্ষান্ত ছিল—খুব নগণ্য সংখ্যক ব্যক্তি ব্যতীত। কুরআন মাজিদ সংরক্ষণের জন্য যে পরিমাণ অনুকূল পরিবেশ ও তাগিদ বিদ্যমান ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে তা ছিল না। ফলে সেগুলোর কোনো অকাট্য প্রামাণিকতা (ثبوت قطعي) ছিল না যেমনটি কুরআনের রয়েছে। তাই সেগুলোর বিকৃতি (تحريف) ও পরিবর্তন (تبديل) সহজ হয়ে পড়েছিল। ৩- নিরবচ্ছিন্ন সনদ (اتصال السند): এটা সর্বজনবিদিত যে, যারা কুরআনের তিলাওয়াত শেখে তাদের অধিকাংশই শ্রবণের (السماع) মাধ্যমে শেখে এবং তারা কেবল মুসহাফ দেখে শেখার ওপরই নির্ভর করে না। আমরা জানি যে, তাদের শিক্ষকগণও তাদের উস্তাদদের কাছ থেকে শ্রবণের (السماع) মাধ্যমে তা গ্রহণ করেছেন। এভাবে এই পদ্ধতি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে যতক্ষণ না তা তাবিঈ (التابعين), তারপর সাহাবি (الصحابة) এবং পরিশেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে। এর মাধ্যমে কুরআনের সনদ (سند) প্রতিটি যুগে ও প্রতিটি সময়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নিরবচ্ছিন্ন (متصلاً) থাকে। কুরআন মাজিদ ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবের ক্ষেত্রে এমনটি নেই। আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে তাদের রাসুলের সাথে নিরবচ্ছিন্ন সনদের (اتصال سندها) মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(من كتاب دراسات في علوم القرآن الكريم، للدكتور فهد الرومي)
(ডক্টর ফাহাদ আল-রুমী রচিত ‘দিরাসাত ফী উলূমিল কুরআন আল-কারীম’ গ্রন্থ থেকে)
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فضل تلاوة القرآن الكريم · قال الله تعالى: (إن الذين يتلون كتاب الله وأقاموا الصلاة وأنفقوا مما رزقناهم سرًا وعلانية يرجون تجارة لن تبور ليوفهم أجورهم ويزيدهم من فضله إنه غفور شكور) (فاطر: 29-30) . · عن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (اقرؤوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعًا لأصحابه) (رواه مسلم) . · وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من قرأ حرفًا من كتاب الله فله به حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا أقول (الم) حرف ولكن ألف حرف ولام حرف وميم حرف) (رواه الترمذي وقال حسن صحيح) . · وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (يقال لصاحب القرآن اقرأ وارتق ورتل كما كنت ترتل في الدنيا، فإن منزلتك عند آخر آية تقرؤها) (رواه أبو داود والنسائي والترمذي وقال: حسن صحيح) . · وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (الذي يقرأ القرآن وهو ماهر به مع السفرة الكرام البررة، والذي يقرأ القرآن ويتتعتع فيه وهو عليه شاق له أجران) (رواه البخاري ومسلم) .
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত · আল্লাহ তাআলা বলেন: (নিশ্চয় যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না। যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিদান দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম গুণগ্রাহী) (ফাতির: ২৯-৩০) । · আবু উমামাহ আল-বাহিলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (তোমরা কুরআন পাঠ করো, কারণ কিয়ামতের দিন তা তার সাথীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে) (মুসলিম বর্ণনা করেছেন) । · আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে; আর প্রতিটি নেকি দশ গুণের সমান। আমি বলছি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর) (তিরমিযি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)) । · আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: (কুরআনের সাথীকে বলা হবে: পাঠ করো এবং উচ্চ সোপানে আরোহণ করো; আর তারতিলের সাথে পাঠ করো যেমন তুমি দুনিয়াতে তারতিলের সাথে পাঠ করতে, কারণ তোমার মর্যাদা হবে সেখানেই, যেখানে তোমার শেষ আয়াতটি পাঠ করবে) (আবু দাউদ, নাসাঈ এবং তিরমিযি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)) । · আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি কুরআন পাঠে দক্ষ, সে উচ্চমর্যাদাবান পুণ্যবান ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে তোতলায় তথা তা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান) (বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন) ।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
نزول القرآن الكريم
পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়া
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
النزول الأول والثاني للقرآن للقرآن الكريم نزولان: النزول الأول: من اللوح المحفوظ إلى بيت العزة في السماء الدنيا جملةً واحدة، وهذا النزول كان في رمضان في الليلة المباركة: ليلة القدر. قال تعالى (شهر رمضان الذي أنزل فيه القرآن هدى للناس وبينات من الهدى والفرقان) (سورة البقرة: 185) . وقال تعالى: (إنا أنزلناه في ليلة القدر) (القدر:1) والإنزال أكثر ما يرد في لسان العرب فيما نزل جملة واحدة، بخلاف التنزيل فإنه يعبر به في جانب ما نزل مفرقاً. النزول الثاني للقران الكريم: من بيت العزة في السماء الدنيا إلى النبي صلى الله عليه وسلم، مفرقاً على حسب الوقائع والأحداث، بواسطة أمين الوحي جبريل عليه السلام.
কুরআনের প্রথম ও দ্বিতীয় অবতরণ (النزول) পবিত্র কুরআনের অবতরণ (النزول) দুই প্রকার: প্রথম অবতরণ (النزول): লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানের বায়তুল ইজ্জতে এককালীন (جملة واحدة) অবতীর্ণ হওয়া; এই অবতরণ (النزول) হয়েছিল রমজান মাসের এক বরকতময় রাতে, যা হলো লাইলাতুল কদর। মহান আল্লাহ বলেন, “(রমজান মাসই হলো সেই মাস) যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য পথনির্দেশ এবং হেদায়েত ও সত্য-মিথ্যা পার্থক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)। তিনি আরও বলেন, “নিশ্চয়ই আমি এটি নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে।” (সূরা আল-কদর: ১) আরবি ভাষায় ‘ইনজাল’ (الإنزال) শব্দটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এককালীন (جملة واحدة) অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, পক্ষান্তরে ‘তানজিল’ (التنزيل) শব্দটি দ্বারা যা পর্যায়ক্রমে (مفرقاً) অবতীর্ণ হয়েছে তা বোঝানো হয়। পবিত্র কুরআনের দ্বিতীয় অবতরণ (النزول): দুনিয়ার আসমানের বায়তুল ইজ্জত থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহির আমানতদার জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পর্যায়ক্রমে (مفرقاً) অবতীর্ণ হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الحكمة من نزول القران منجما (مفرقا) الحكمة الأولى: تثبيت فؤاد النبي صلى الله عليه وسلم وتقوية قلبه، وذلك من وجوه: 1. تجدد الوحي وتكرار نزول الملك من الله إلى رسوله صلى الله عليه وسلم فيه سرور يملأ قلب رسول الله صلى الله عليه وسلم وغبطة تشرح صدره. 2. التنجيم تيسير عليه من الله تعالى في حفظه وفهمه، ومعرفة أحكامه وحكمه. 3. في كل نزول معجزة جديدة يتحدى بها المخالفين، وفي هذا تأييد من الله للرسول صلى الله عليه وسلم. 4. تعهّد الله لرسوله صلى الله عليه وسلم عند اشتداد الخصام بينه وبين أعدائه بما يهون عليه، حتى لا يبالي بالمخالفين ولا يحزن ولا يضيق صدره. الحكمة الثانية: التدرج في تربية الأمة الناشئة علماً وعملاً، أو بما يسمى التدرج في التشريع، ويدخل في هذه الحكمة أمور: 1. تيسير حفظ القرآن على الأمة. 2. تسهيل فهمه عليهم. 3. التمهيد لكمال تخليهم عن الباطل والعقائد الفاسدة (فالتخلي قبل التحلي) 4. التمهيد لكمال تحليهم بالعقائد الحقة، والعبادات الصحيحة، والأخلاق الفاضلة. 5. تثبيت قلوب المؤمنين وتسليحهم بعزيمة الصبر واليقين. الحكمة الثالثة: مسايرة الحوادث والطوارئ في تجددها وتفرقها، فكلما جد جديد نزل من القرآن ما يناسبه وفصل لهم من الأحكام ما يوافقه، ويدخل في هذه أربعة أمور. 1) إجابة السائلين عن أسئلتهم عندما يوجهونها إلى الرسول صلى الله عليه وسلم. 2) مجاراة الأقضية والوقائع في حينها ببيان حكم الله فيها. 3) لفت أنظار المسلمين إلى تصحيح الأخطاء التي يقعون فيها. 4) كشف حال أعداء الله من المنافقين وغيرهم. الحكمة الرابعة: الإرشاد إلى مصدر القرآن الكريم، وأنه كلام رب العاملين وحده، وأنه لا يمكن أن يكون من كلام البشر، وبيان ذلك أن القرآن الكريم تقرأه من أوله إلى آخره فإذا هو محكم السرد، دقيق السبك متين الأسلوب، آخذ بعضه برقاب بعض، في سوره وآياته وجمله. كيف كان النبي صلى الله عليه وسلم يتلقى القرآن؟ كان النبي الله صلى الله عليه وسلم يتلقى القرآن من جبريل عليه السلام على حالتين: الحالة الأولى: أن ينسلخ الرسول صلى الله عليه وسلم من حالته البشرية العادية إلى حالة أخرى، يحصل له بها استعداد لتقلي الوحي من جبريل عليه السلام وهو على حالته الملكية، وفي هذه الحالة يأتيه الوحي مثل صلصلة الجرس. وهو صوت قوي يثير عوامل الانتباه فتتهيأ النفس بكل قواها لقبول أثره. وهذه الحالة أشد حالات الوحي على النبي صلى الله عليه وسلم. الحالة الثانية: أن يتمثل له الملك رجلاً ويأتيه في صورة بشر، فيأخذ عنه الرسول صلى الله عليه وسلم ويسمع منه.
কুরআন পর্যায়ক্রমে (منجما) (পৃথক পৃথকভাবে (مفرقا)) অবতীর্ণ হওয়ার রহস্য প্রথম রহস্য: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরকে সুদৃঢ় করা এবং তাঁর হৃদয়কে শক্তিশালী করা; আর তা কয়েকটি দিক থেকে: ১. ওহির (وحي) নবায়ন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফেরেশতার বারবার আগমনের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তর আনন্দে পূর্ণ হয়ে যেত এবং এমন তৃপ্তি লাভ করত যা তাঁর বক্ষকে প্রশস্ত করে দিত। ২. পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হওয়া ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর জন্য হিফজ (حفظ), অনুধাবন এবং এর বিধান ও রহস্যসমূহ জানার ক্ষেত্রে সহজসাধ্য করা। ৩. প্রতিটি অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে একটি নতুন অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) থাকত যার মাধ্যমে বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ করা হতো, আর এতে ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ঐশ্বরিক সমর্থন। ৪. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর শত্রুদের মধ্যে যখন শত্রুতা চরম আকার ধারণ করত, তখন আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি এমন বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দিতেন যা তাঁর কষ্ট লাঘব করত; যাতে তিনি বিরোধীদের তোয়াক্কা না করেন, দুঃখিত না হন এবং তাঁর হৃদয় সংকুচিত না হয়। দ্বিতীয় রহস্য: নবীন উম্মাহকে জ্ঞান ও কর্মের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা, বা যাকে বলা হয় বিধান প্রবর্তনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা (التدرج في التشريع)। এই রহস্যের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো: ১. উম্মতের জন্য কুরআন মুখস্থ করা সহজ করা। ২. তাদের জন্য এটি অনুধাবন করা সহজসাধ্য করা। ৩. বাতিল এবং ভ্রান্ত আকিদা (العقائد الفاسدة) থেকে তাদের পূর্ণাঙ্গ মুক্তির পথ সুগম করা (কেননা সৌন্দর্যমন্ডিত হওয়ার পূর্বে কলুষমুক্ত হওয়া আবশ্যক)। ৪. সত্য আকিদা (العقائد الحقة), সঠিক ইবাদত (العبادات الصحيحة) এবং উন্নত চরিত্রে তাদের সুসজ্জিত করার পথ সুগম করা। ৫. মুমিনদের অন্তরকে সুদৃঢ় করা এবং ধৈর্য ও নিশ্চিত বিশ্বাসের (اليقين) দৃঢ়তায় তাদের সজ্জিত করা। তৃতীয় রহস্য: নিত্যনতুন ও বিক্ষিপ্ত ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিস্থিতির সাথে সংগতি রক্ষা করা। যখনই নতুন কিছু ঘটত, কুরআনের সেই অংশটুকু অবতীর্ণ হতো যা তার জন্য উপযোগী এবং তাদের জন্য সেই বিধানসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করত যা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর অন্তর্ভুক্ত হলো চারটি বিষয়: ১) যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রশ্ন করা হতো, তখন প্রশ্নকারীদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান। ২) বিচারকার্য এবং ঘটনাসমূহের তাৎক্ষণিক সময়ে আল্লাহর বিধান বর্ণনার মাধ্যমে সেগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলা। ৩) মুসলিমরা যেসব ভুল করত, তা সংশোধনের দিকে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। ৪) মুনাফিক (منافقين) ও অন্যদের মতো আল্লাহর শত্রুদের প্রকৃত অবস্থা উন্মোচন করা। চতুর্থ রহস্য: পবিত্র কুরআনের উৎসের দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করা যে, এটি একমাত্র রব্বুল আলামীনের কালাম (كلام), এবং এটি কোনো মানুষের কথা হওয়া সম্ভব নয়। এর বর্ণনা এই যে, আপনি যদি পবিত্র কুরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন, তবে দেখবেন এর বর্ণনাভঙ্গি অত্যন্ত সুসংহত, গাঁথুনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং শৈলী অত্যন্ত বলিষ্ঠ; যার সূরা, আয়াত এবং বাক্যসমূহ একে অপরের সাথে সুনিবিড়ভাবে গ্রথিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে কুরআন গ্রহণ করতেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-এর কাছ থেকে দুইভাবে কুরআন গ্রহণ করতেন: প্রথম অবস্থা: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাধারণ মানবিক অবস্থা থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য এক অবস্থায় উপনীত হতেন, যার মাধ্যমে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম যখন তাঁর ফেরেশতাসুলভ অবস্থায় থাকতেন, তখন তাঁর থেকে ওহি (وحي) গ্রহণের প্রস্তুতি অর্জিত হতো। এমতাবস্থায় ওহি (وحي) তাঁর কাছে ঘণ্টার ধ্বনির মতো আসত। এটি একটি তীব্র শব্দ যা মনোযোগের প্রভাবকগুলোকে জাগ্রত করে, ফলে আত্মা তার পূর্ণ শক্তি দিয়ে এর প্রভাব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়। এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ওহি (وحي) অবতীর্ণ হওয়ার সবচেয়ে কঠিন অবস্থা। দ্বিতীয় অবস্থা: ফেরেশতা তাঁর কাছে মানুষের রূপ ধারণ করে আসতেন, ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছ থেকে ওহি গ্রহণ করতেন এবং শ্রবণ করতেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أقسام الوحي الشرعي (وحي الله إلى أنبيائه) 1. تكليم الله نبيه بما يريد، إما في اليقظة كما حدث لموسى عليه وسلم السلام قال تعالى (وكلم الله موسى تكليماً) (النساء 164) ، وإما في المنام، كما في الحديث الذي رواه الترمذي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أتاني ربي في أحسن صورة) . 2. الإلهام أو القذف في القلب، بأن يلقي الله أو الملك الموكل بالوحي في قلب النبي مايريد مع تيقنه أن ما ألقي إليه من قبل الله تعالى. ومن هذا القبيل حديث (إن روح القدس نفث في روعي: لن تموت نفس حتى تستكمل رزقها وأجلها فاتقوا الله وأجملوا في الطلب) رواه الحاكم عن ابن مسعود رضي الله عنه. 3. الرؤيا في المنام: ورؤيا الأنبياء وحي من الله تعالى، مثل رؤيا إبراهيم الخليل عليه الصلاة والسلام أنه يذبح ابنه، ورؤيا الرسول صلى الله عليه وسلم أنهم سيدخلون المسجد الحرام، وقد كان. روى البخاري عن عائشة رضى الله عنها قالت: أول ما بدئ به صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصادقة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح. 4. تعليم الله أنبيائه بواسطة جبريل عليه السلام، قال تعالى: (وما كان لبشر أن يكلمه الله إلا وحيا أو من وراء حجاب أو يرسل رسولاً فيوحي بإذنه ما يشاء إنه علي حكيم) (الشورى 51) . المراجع: 1- الإتقان في علوم القرآن للإمام السيوطي. 2- البرهان في علوم القرآن للإمام الزركشي. 3- المدخل لدراسة القرآن الكريم، للدكتور محمد أبو شهبة.
শরয়ি ওহির (وحي) প্রকারভেদ (নবিগণের প্রতি আল্লাহর ওহি) ১. আল্লাহ তাঁর নবিকে যা ইচ্ছা তা বলে সম্বোধন করা; এটি হয় জাগ্রত অবস্থায়, যেমনটি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল। মহান আল্লাহ বলেন: (আর আল্লাহ মুসার সাথে কথা বলেছেন।) (আন-নিসা ১৬৪)। অথবা এটি ঘুমের মধ্যেও হতে পারে, যেমন তিরমিজিতে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আমার রব আমার কাছে অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে এসেছেন।) ২. ইলহাম (إلهام) বা অন্তরে প্রক্ষেপ করা; যার মাধ্যমে আল্লাহ অথবা ওহির (وحي) দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা নবির অন্তরে যা চান তা ঢেলে দেন এবং নবি এই মর্মে সুনিশ্চিত থাকেন যে, যা তাঁর প্রতি প্রক্ষেপ করা হয়েছে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই। এই পর্যায়ভুক্ত একটি হাদিস হলো: (নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস আমার অন্তরে ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণ তার নির্ধারিত রিজিক ও আয়ু পূর্ণ না করে মৃত্যুবরণ করবে না। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং উপার্জনের ক্ষেত্রে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো।) হাকিম এটি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। ৩. নিদ্রাবস্থায় স্বপ্ন দেখা: নবিগণের স্বপ্ন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي) স্বরূপ। যেমন ইব্রাহিম খলিল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর স্বপ্ন দেখা যে তিনি তাঁর পুত্রকে জবেহ করছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্বপ্ন দেখা যে তাঁরা অচিরেই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবেন, আর তা বাস্তবে রূপ নিয়েছিল। বুখারি আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহি (وحي) শুরুর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্ন (الرؤيا الصادقة) দেখার মাধ্যমে। তিনি এমন কোনো স্বপ্ন দেখতেন না যা প্রভাতের আলোর মতো প্রকাশ পেত না। ৪. জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবিগণকে শিক্ষা দেওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: (কোনো মানুষের জন্য এমন নয় যে আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহি (وحي) ব্যতীত অথবা পর্দার আড়াল থেকে কিংবা কোনো দূত প্রেরণ করবেন, অতঃপর সে তাঁর অনুমতিক্রমে যা তিনি চান তা ওহি (وحي) হিসেবে পৌঁছাবে। নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ, প্রজ্ঞাময়।) (আশ-শুরা ৫১)। তথ্যসূত্র: ১- ইমাম সুয়ুতির আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন। ২- ইমাম যারকাশির আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন। ৩- ডক্টর মুহাম্মদ আবু শাহবার আল-মাদখাল লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
المكي والمدني معرفة المكي والمدني من المباحث المهمة التي يحتاج إليها المفسر لكتاب الله تعالى ومن نصب نفسه للفتيا والقضاء، كي يتوصل إلى الحق والصواب. المكي: ما نزل قبل الهجرة وإن كان نزوله بغير مكة. المدني: ما نزل بعد الهجرة وإن كان نزوله بغير المدينة.
মাক্কি (المكي) ও মাদানি (المدني) মাক্কি (المكي) ও মাদানি (المدني) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যাকারী (মুফাসসির) এবং যারা ফতোয়া প্রদান ও বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তাদের জন্য সত্য ও সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার লক্ষ্যে অপরিহার্য। মাক্কি (المكي): যা হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে, যদিও তা মক্কার বাইরে অবতীর্ণ হয়ে থাকে। মাদানি (المدني): যা হিজরতের পরে অবতীর্ণ হয়েছে, যদিও তা মদিনার বাইরে অবতীর্ণ হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
فوائد العلم بالمكي والمدني 1. يعرف به الناسخ من المنسوخ في المواضع التي يرد فيها النسخ في القرآن الكريم. 2. يعين على معرفة تاريخ التشريع وتدرجه الحكيم بوجه عام، وذلك يترتب عليه الإيمان بسمو السياسة الإسلامية في تربية الشعوب والأفراد، وتقديم الأصول على الفروع وغير ذلك. 3. الثقة بهذا القرآن بوصوله إلينا سالماً من التغيير والتحريف، ويدل على ذلك اهتمام المسلمين به حتى إنهم ليعرفون ويتناقلون ما نزل قبل الهجرة وما نزل بعدها.
মক্কী (مكي) ও মাদানী (مدني) বিষয়ক জ্ঞানের উপকারিতা 1. পবিত্র কুরআনের যেসব স্থানে রহিতকরণ (نسخ) সংঘটিত হয়েছে, সেখানে এর মাধ্যমে রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়গুলো চিহ্নিত করা যায়। 2. এটি সাধারণভাবে শরয়ি বিধান প্রণয়নের ইতিহাস এবং এর প্রজ্ঞাপূর্ণ ক্রমধারা সম্পর্কে অবগত হতে সাহায্য করে। এর ফলে জাতি ও ব্যক্তি গঠনে ইসলামি শাসনরীতির শ্রেষ্ঠত্ব এবং শাখার (فروع) তুলনায় মূলনীতিকে (أصول) অগ্রাধিকার প্রদানসহ অন্যান্য বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস সুদৃঢ় হয়। 3. এর মাধ্যমে এই কুরআনের প্রতি আস্থা তৈরি হয় যে, এটি কোনো প্রকার পরিবর্তন (تغيير) ও বিকৃতি (تحريف) ছাড়াই সুরক্ষিতভাবে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। কুরআনের প্রতি মুসলিমদের বিশেষ যত্ন ও গুরুত্বারোপই এর প্রমাণ, এমনকি হিজরতের পূর্বে এবং পরে কী নাজিল হয়েছে তাও তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতেন এবং একে অপরের নিকট বর্ণনা করতেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
الضوابط التي يعرف بها المكي والمدني لمعرفة المكي والمدني طريقان: 1. سماعي: النقل الصحيح عن الصحابة أو التابعين بأن سورة كذا أو آية كذا نزلت قبل الهجرة أو بعدها. 2. قياسي: ضوابط كلية لمعرفة كل منهما، ومبناها على التتبع والاستقراء المبني على الغالب والكثير. من ضوابط القرآن المكي: 1. كل سورة فيها يا أيها الناس، وليس فيها يا أيها الذين آمنوا، وهذا محمول على الغالب 2. كل سورة أولها حروف التهجي سوى البقرة وآل عمران، فإنهما مدنيتان بالإجماع، وفي سورة الرعد خلاف. 3. كل سورة فيها ذكر قصة آدم وإبليس سوى سورة البقرة 4. كل سورة فيها ذكر القرون الماضية. 5. كل سورة فيها سجدة، سوى الحج ففيها خلاف. من ضوابط القرآن المدني: 1. كل سورة فيها ذكر الحدود والفرائض. 2. كل سورة فيها ذكر المنافقين وأحوالهم، سوى سورة العنكبوت.
মক্কী ও মাদানী সূরা চিহ্নিত করার নীতিমালা মক্কী ও মাদানী চেনার দুইটি পথ বা পদ্ধতি রয়েছে: ১. শ্রবণনির্ভর (سماعي): সাহাবী বা তাবিঈগণের নিকট থেকে সহীহ বর্ণনা (النقل الصحيح) পাওয়া যে, অমুক সূরা বা অমুক আয়াত হিজরতের পূর্বে বা পরে অবতীর্ণ হয়েছে। ২. বিশ্লেষণধর্মী (قياسي): উভয়টি চেনার জন্য কিছু সামগ্রিক নীতিমালা, যার ভিত্তি হলো পর্যবেক্ষণ (التتبع) ও অধিকাংশের ভিত্তিতে গৃহীত সাধারণ সিদ্ধান্ত (الاستقراء)। মক্কী কুরআনের কিছু নীতিমালা: ১. যে সকল সূরায় "হে লোকসকল" আছে কিন্তু "হে মুমিনগণ" নেই; তবে এটি অধিকাংশ (الغالب) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতি। ২. যে সকল সূরার শুরুতে বিচ্ছিন্ন বর্ণ (حروف التهجي) রয়েছে, সূরা আল-বাকারাহ ও সূরা আলে ইমরান ব্যতীত; কারণ এই দুইটি সূরা সর্বসম্মতভাবে (بالإجماع) মাদানী। আর সূরা আর-রা'দ এর ক্ষেত্রে মতভেদ (خلاف) রয়েছে। ৩. যে সকল সূরায় আদম ও ইবলিসের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, সূরা আল-বাকারাহ ব্যতীত। ৪. যে সকল সূরায় পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৫. যে সকল সূরায় সিজদাহ রয়েছে, কেবল সূরা আল-হজ্জ ব্যতীত, কারণ এতে মতভেদ (خلاف) রয়েছে। মাদানী কুরআনের কিছু নীতিমালা: ১. যে সকল সূরায় দণ্ডবিধি (الحدود) ও ফরয বিধানসমূহের (الفرائض) উল্লেখ রয়েছে। ২. যে সকল সূরায় মুনাফিকদের (المنافقين) কথা এবং তাদের অবস্থার বর্ণনা রয়েছে, সূরা আল-আনকাবুত ব্যতীত।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مميزات القرآن المكي 1. الدعوة إلى أصول الإيمان من الإيمان بالله واليوم الآخر، وما فيه من البعث والحشر والجزاء، والإيمان بالرسالة، وإقامة الأدلة العقلية والكونية والنفسية على ذلك. 2. محاجة المشركين ومجادلتهم، وإقامة الحجة عليهم في بطلان عبادتهم. 3. الدعوة إلى أصول التشريعات العامة، والآداب والفضائل الثابتة التي لا تتغير، كحفظ الدين والنفس والمال والعقل والنسل (الكليات الخمس) . 4. ذكر قصص الأنبياء السابقين مع أممهم ليكون في ذلك عبرة وعظة لأولي الألباب، ولبيان أن دعوة الرسل واحدة وأنهم جميعاً جاؤوا بالتوحيد. 5. قصر أكثر آياته وسوره. 6. النهي عن العادات القبيحة عند العرب قبل البعثة، كالقتل ووأد البنات وأكل مال اليتيم وغير ذلك.
মক্কী কুরআনের বৈশিষ্ট্যসমূহ 1. ঈমানের মূলনীতি (أصول الإيمان) যেমন- আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস, আর তাতে অন্তর্ভুক্ত পুনরুত্থান (البعث), হাশর (الحشر) ও প্রতিদান (الجزاء) সংক্রান্ত বিষয়াবলি এবং রিসালাতের (الرسالة) প্রতি বিশ্বাসের দাওয়াত দেওয়া; আর এ সবকিছুর সপক্ষে যৌক্তিক, মহাজাগতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করা। 2. মুশরিকদের সাথে বিতর্ক ও যুক্তি-তর্ক করা এবং তাদের ইবাদতের অসারতার বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (الحجة) প্রতিষ্ঠা করা। 3. সাধারণ শরয়ি বিধানের মূলনীতি (أصول التشريعات), শিষ্টাচার ও চিরস্থায়ী গুণাবলির দিকে আহ্বান জানানো যা কখনো পরিবর্তিত হয় না; যেমন— দ্বীন, জীবন, সম্পদ, বুদ্ধি ও বংশ রক্ষা করা (পঞ্চ মৌলিক উদ্দেশ্য (الكليات الخمس))। 4. বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা ও উপদেশস্বরূপ পূর্ববর্তী নবিগণের সাথে তাঁদের উম্মতদের ঘটনাবলি উল্লেখ করা এবং এটি স্পষ্ট করা যে, সকল রাসুলের দাওয়াত ছিল অভিন্ন এবং তাঁরা সকলেই একত্ববাদের (التوحيد) বাণী নিয়ে এসেছিলেন। 5. এর অধিকাংশ আয়াত ও সূরাগুলো সংক্ষিপ্ত হওয়া। 6. নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে আরবদের মাঝে প্রচলিত জঘন্য কদাচারসমূহ যেমন— হত্যা, কন্যা সন্তান জীবন্ত কবর দেওয়া, এতিমের মাল ভক্ষণ করা প্রভৃতি হতে নিষেধ করা।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مميزات القرآن المدني 1. التحدث عن دقائق التشريع وتفاصيل الأحكام العملية في العبادات والمعاملات وغيرها. 2. محاجة أهل الكتاب ودعوتهم إلى الإسلام، ومناقشتهم في عقائدهم الباطلة، وبيان جنايتهم على الحق وتحريفهم لكتب الله المنزلة. 3. بيان ضلال المنافقين، وإظهار فضائحهم والكشف عن خبيئة نفوسهم، وإظهار ما بهم من سوء الطباع من الجبن والهلع وغيرها. 4. بيان قواعد التشريع الخاصة بالجهاد، وحكمة تشريعه والأحكام المتعلقة به. 5. طول أكثر آياته وسوره، لاشتمالها على الأحكام.
মাদানী (مدني) কুরআনের বৈশিষ্ট্যসমূহ 1. বিধান প্রণয়নের (تشريع) সূক্ষ্ম বিষয়াবলী এবং ইবাদত, লেনদেন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারিক বিধিবিধানের (أحكام) বিস্তারিত আলোচনা। 2. আহলে কিতাবদের (أهل الكتاب) সাথে বিতর্ক ও তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত প্রদান, তাদের বাতিল আকিদা নিয়ে আলোচনা এবং সত্যের বিরুদ্ধে তাদের অপরাধ ও আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ বিকৃত করার বিষয়টি বর্ণনা করা। 3. মুনাফিকদের (منافقون) পথভ্রষ্টতা বর্ণনা, তাদের অপকর্ম উন্মোচন ও অন্তরের গোপন রহস্য ফাঁস করা এবং তাদের হীন চরিত্র যেমন—ভীরুতা ও অস্থিরতা ইত্যাদি প্রকাশ করা। 4. জিহাদ (جهاد) সংক্রান্ত বিধানের (تشريع) মূলনীতিসমূহ, এর বিধান প্রবর্তনের হিকমত এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান (أحكام) বর্ণনা করা। 5. বিধিবিধান (أحكام) সংবলিত হওয়ার কারণে অধিকাংশ আয়াত (آيات) ও সূরা (سور) দীর্ঘ হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المراجع: · الإتقان في علوم القرآن للإمام السيوطي. · البرهان في علوم القرآن للإمام الزركشي. · مناهل العرفان للشيخ الزرقاني. · المدخل لدراسة القرآن الكريم للدكتور محمد أبو شهبة.
সূত্রসমূহ: · ইমাম সুয়ূতী প্রণীত আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন। · ইমাম যারকাশী প্রণীত আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন। · শায়খ যারকানী প্রণীত মানাহিলুল ইরফান। · ডক্টর মুহাম্মদ আবু শাহবাহ প্রণীত আল-মাদখাল লি দিরাসাতিল কুরআনিল কারীম।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
جمع القرآن وترتيبه
কুরআন সংকলন ও এর বিন্যাস
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مقدمةجمع القرآن يطلق تارة ويراد به حفظه وتقييده في الصدور، ويطلق تارة ويراد به كتابته في الصحف والسطور، وجمع القرآن بهذا المعنى الثاني مر بمراحل ثلاث:1. جمعه في عهد النبي صلى الله عليه وسلم.2. جمعه في عهد الخليفة الأول أبي بكر الصديق رضي الله عنه.3. جمعه في عهد الخليفة الثالث عثمان بن عفان رضي الله عنه.
ভূমিকাকুরআন সংকলন পরিভাষাটি কখনও ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় তা অন্তরে মুখস্থ রাখা ও গেঁথে নেওয়া, আবার কখনও এটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় তা পত্রক ও পঙ্ক্তিতে লিপিবদ্ধ করা। আর এই দ্বিতীয় অর্থে কুরআন সংকলন তিনটি স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে:১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এর সংকলন।২. প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে এর সংকলন।৩. তৃতীয় খলিফা উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে এর সংকলন।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীফ বিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
جمع القرآن بمعنى حفظه في الصدوركان النبي صلى الله عليه وسلم ينزل عليه القرآن فيقرؤه على صاحبته على تؤدة وتهمل كي يحفظوا لفظه ويفقهوا معناه، وكان النبي صلى الله عليه وسلم شديد العناية بحفظ القرآن وتلقيه، حتى بلغ من شدة عنايته به وحرصه عليه أنه كان يستعجل حفظ القرآن خشية أن تفلت منه كلمة أو يضيع منه حرف، ومازال كذلك حتى طمأنه الله ووعده أن يحفظه له في صدره، قال الله تعالى: (لا تحرك به لسانك لتعجل به إن علينا جمعه وقرآنه فإذا قرأناه فاتبع قرآنه ثم إن علينا بيانه) سورة القيامة (16-19) .وكان من عوامل حفظ القرآن وتثبيته في قلب النبي صلى الله عليه وسلم معارضته جبريل عليه السلام بالقرآن في رمضان من كل عام، حتى كان العام الذي توفي فيه الرسول صلى الله عليه وسلم فعارضه مرتين.أما الصحابة رضوان الله عليهم، فقد كان كتاب الله في المحل الأول من عنايتهم، يتنافسون في استظهاره وحفظه ويتسابقون إلى مدارسته وتفهمه، ويتفاضلون بينهم على مقدار ما يحفظون منه.وكانوا يهجرون لذة النوم ايثاراً للذة القيام به في الليل، والتلاوة له في الأسحار، والصلاة به والناس نيام، ومن هنا كان حفاظ القرآن في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم جماً غفيراً، وهذا هو المعول عليه في كتاب الله عز وجل، الحفظ في الصدور، حفظه الرسول صلى الله عليه وسلم وحفظه الصحابة رضوان الله عليهم، ثم حفظه من بعدهم. يقول ابن الجزري رحمه الله: الاعتماد في نقل القرآن على حفظ القلوب والصدور، لاعلى خط المصاحف والكتب. وهذه أشرف خصيصة من الله تعالى لهذه الأمة.وبعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم أتم حفظ القرآن الألوف من الصحابة، وبحسبك أن تعلم أن من قتل من القراء في موقعة اليمامة كانوا سبعمائة على ما قيل وعن الصحابة حفظه الألوف من التابعين، وهكذا تلقته طبقة عن طبقة بالحفظ والعناية والصيانة حتى وصل إلينا القرآن الكريم من غير زيادة ولا نقصان، ولا تحريف ولا تبديل، فكان تصديقاً لقول الله تعالى: (إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون) الحجر (9) .
অন্তরে সংরক্ষণের অর্থে কুরআন সংকলননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হতো এবং তিনি তা তাঁর সাহাবীদের নিকট ধীরস্থিরভাবে ও স্পষ্টভাবে পাঠ করতেন যাতে তাঁরা এর শব্দাবলি মুখস্থ করতে পারেন এবং এর অর্থ অনুধাবন করতে পারেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন মুখস্থ রাখা ও তা গ্রহণ করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। এমনকি তাঁর সতর্কতা ও আগ্রহ এতোটা চরমে পৌঁছেছিল যে, কোনো শব্দ ছুটে যাওয়ার বা কোনো বর্ণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি কুরআন মুখস্থ করার জন্য তাড়াহুড়ো করতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে আশ্বস্ত করা এবং তাঁর অন্তরে এটি সংরক্ষণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা চলতে থাকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (তাড়াহুড়ো করে মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়বেন না। নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। অতঃপর এর বর্ণনার দায়িত্বও আমাদেরই।) সূরা আল-কিয়ামাহ (১৬-১৯)।প্রতি বছর রমজানে জিবরীল আলাইহিস সালাম-এর সাথে কুরআন পুনরাবৃত্তি করা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরে কুরআন সংরক্ষিত ও সুদৃঢ় হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। এমনকি যে বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি তাঁর সাথে দুইবার কুরআন পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। অন্যদিকে সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের নিকট আল্লাহর কিতাব ছিল তাঁদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁরা তা মুখস্থ করা ও হৃদয়ে ধারণ করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করতেন এবং এর পাঠ ও অনুধাবনে একে অপরের থেকে অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা করতেন। কে কতটা কুরআন মুখস্থ করেছেন, তার ভিত্তিতে তাঁদের মধ্যে মর্যাদার তারতম্য হতো।তাঁরা রাতের বেলা ইবাদতে দাঁড়িয়ে কুরআন পাঠের মাধুর্য উপভোগের জন্য এবং শেষ রাতে তিলাওয়াত ও মানুষের ঘুমের সময়ে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘুমের স্বাদ বিসর্জন দিতেন। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় কুরআন মুখস্থকারীগণের (حفاظ) সংখ্যা ছিল বিপুল। আর মহান আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রে এটিই ছিল মূল ভিত্তি—অর্থাৎ অন্তরে মুখস্থ রাখা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা মুখস্থ করেছিলেন, সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম তা মুখস্থ করেছিলেন এবং তাঁদের পরবর্তীগণও তা মুখস্থ করেছিলেন। ইবনুল জাযারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "কুরআন স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নির্ভরতা হলো অন্তর ও স্মৃতির মুখস্থের ওপর, কেবল পাণ্ডুলিপি বা কিতাবের লেখার ওপর নয়। এটি এই উম্মতের প্রতি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য।"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর হাজার হাজার সাহাবী কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করেন। আপনার জানার জন্য এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, ইয়ামামার যুদ্ধে শহিদ হওয়া ক্বারীগণের (القراء) সংখ্যা ছিল বলা হয়ে থাকে সাতশ। আর সাহাবীদের নিকট থেকে হাজার হাজার তাবিঈগণের (التابعين) সদস্য তা মুখস্থ করেন। এভাবেই এক স্তর (طبقة) থেকে অন্য স্তরের (طبقة) মাধ্যমে হিফজ, যত্ন ও সুরক্ষার সাথে তা আমাদের কাছে পৌঁছেছে কোনো প্রকার পরিবর্ধন, পরিমার্জন, বিকৃতি বা পরিবর্তন ছাড়াই। যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীরই বাস্তবায়ন: (নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষক।) সূরা আল-হিজর (৯)।