(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
الدليل إلى القرآن   (عمرو الشرقاوي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الدليل إلى القرآن (سؤال وجواب)

المؤلف: عمرو الشرقاوي

الناشر: العصرية للنشر والتوزيع، القاهرة - مصر

الطبعة: (الإصدار الثاني) الثالثة، 1444 هـ - 2022 م

عدد الصفحات: 251

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1445

আদ-দালীল ইলাল কুরআন   (আমর আল-শারকাবি)

বিভাগ: কুরআনের উলূম (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


গ্রন্থ: আদ-দালীল ইলাল কুরআন (প্রশ্ন ও উত্তর)

লেখক: আমর আল-শারকাবি

প্রকাশক: আল-আসরিয়্যাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন، কায়রো - মিশর

সংস্করণ: (দ্বিতীয় প্রকাশ) তৃতীয় সংস্করণ، ১৪৪৪ হি. - ২০২২ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
{وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ (41) لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42)} [فصلت]
{এবং নিশ্চয়ই এটি এক মহা সম্মানিত কিতাব (৪১), এতে মিথ্যার অনুপ্রবেশ ঘটে না—না তার সম্মুখ হতে, আর না তার পশ্চাৎ হতে; এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (৪২)} [ফুসসিলাত]
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مقدِّمَةُ الإصدار الثاني

الحمد لله الكريم الوهَّاب، الرحيم التواب، غافرِ الذنبِ وقابلِ التوبِ شديد العقاب ذي الطَّوْلِ لا إله إلا هو إليه المصير، والصلاة والسلام على النَّبي الأوَّاب، مُبَلِّغِ الكتاب، وعلى الآل والأصحاب، صلاةً تدوم إلى يوم الحساب، ويكون لنا بها عند الله زُلفَى وحسن مآب، وبعد:

لقد دعت الحاجة إلى كتابة العلم لأهل العصر باللغة التي تناسبهم، وبالأسلوب الذي لا يجدون معه وحشة، وهذا ليس ببعيد عن صنيع علمائنا المُتَقَدِّمِين، قال الإمام الوَاحِدِي (ت: 468): «إني كنت قد ابتدأت بإبداع كتاب في التفسير لم أُسبق إلى مثله، وطال علي الأمر في ذلك لشرائط تقلدتها، ومواجب من حق النصيحة لكتاب الله تعالى تحملتها، ثم استعجلني قبل إتمامه والتقصِّي عمَّا لزمني من عهدة أحكامه نفر متقاصرو الرغبات … إلى إيجاز كتاب في التفسير، يقرب على من تناوله، ويسهل على من تأمَّله من أوجز ما عُمِل في بابه وأعظمه فائدة على متحفظيه وأصحابه.

وهذا كتاب أنا فيه نازل إلى درجة أهل زماننا تعجيلًا لمنفعتهم، وتحصيلًا للمثوبة في إفادتهم ما تمنَّوه طويلًا، فلم يغن عنهم أحد فتيلًا»(1).

--------------------------------------------

(1) الوجيز، للواحدي: (85)، بتصرف، وانظر: خصائص التراكيب، محمد أبو موسى: (55).
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অত্যন্ত দয়ালু, শ্রেষ্ঠ দানকারী, পরম করুণাময় ও তওবা কবুলকারী; যিনি পাপ ক্ষমা করেন, তওবা গ্রহণ করেন এবং কঠোর শাস্তিদাতা। তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং তাঁরই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই নবীর প্রতি, যিনি অধিক তওবাকারী এবং কিতাবের বার্তাবাহক; আর বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার ও সাথীদের প্রতি—এমন দরুদ যা বিচার দিবস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে এবং যার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট আমাদের নৈকট্য ও উত্তম আবাস নসিব হবে। অতঃপর:

বর্তমান যুগের মানুষের উপযোগী ভাষা এবং তাদের জন্য সাবলীল শৈলীতে জ্ঞান লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যাতে তারা তা অধ্যয়নে কোনো অস্বস্তি অনুভব না করে। এটি আমাদের পূর্বসূরি (المتقدمين) আলেমদের কর্মপন্থা থেকে ভিন্ন কিছু নয়। ইমাম ওয়াহিদি (মৃত্যু: ৪৬৮ হি.) বলেছেন: «আমি তাফসিরের ওপর এমন একটি অনন্য কিতাব রচনা শুরু করেছিলাম যার সমতুল্য পূর্বে আর কেউ রচনা করেনি। এতে আমি যেসব শর্ত ও আল্লাহর কিতাবের প্রতি নসিহত স্বরূপ যেসব দায়িত্ব নিজের ওপর অর্পণ করেছিলাম, তার ফলে কাজটি সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছিল। এরপর তা পূর্ণাঙ্গ করার এবং এর বিধানসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের আগেই অল্পে তুষ্ট একদল মানুষ আমাকে অনুরোধ করেন... যাতে আমি তাফসিরের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব প্রস্তুত করি, যা পাঠকের জন্য হবে সহজবোধ্য এবং চিন্তাশীল ব্যক্তির জন্য হবে সাবলীল; যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রচিত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং এর মুখস্থকারী ও অনুসারীদের জন্য অধিক উপকারী হবে।

এটি এমন একটি কিতাব যেখানে আমি আমাদের সমসাময়িকদের স্তরে নেমে এসেছি, যাতে দ্রুত তারা উপকৃত হতে পারে এবং তারা দীর্ঘকাল ধরে যা প্রত্যাশা করছিল তা থেকে ফায়দা হাসিলের মাধ্যমে সওয়াব অর্জিত হয়। কেননা ইতিপূর্বে কেউ তাদের সামান্যতম উপকারও করতে পারেনি»(১)।

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াজিজ, ওয়াহিদি: (৮৫), পরিমার্জিত (بتصرف); আরও দেখুন: খাসায়েসুত তরাকিব, মুহাম্মদ আবু মুসা: (৫৫)।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
ومن هنا جاء كتاب «الدليل إلى القرآن» لتقريب علوم القرآن لأهل العصر، وقد نفع الله تعالى به، وله الحمد والمنَّة، وطبع طبعات متعددة، وقرِّرَ في عدة برامج علمية، وقد دعت الحاجة إلى إعادة النظر فيه، وإزالة ما قد يوهم غير المراد عند ناظريه، وإضافة ما يثريه.

وإذ أقدمه في إصداره الثاني، فإني أقف بباب الكريم سبحانه راجيًا أن ينفع به، وأن يكتب له القبول، وأن يجعله خالصًا لوجهه الكريم سبحانه جل شأنه، والحمد لله أن جعلنا من أمة القرآن، ونسأله أن يجعلنا من أَهْلِه الذين هم أَهْلُه!

 

وكتبه

عمرو صبحي علي الشرقاوي

فجر غرة ذي الحجة لعام (1441) من الهجرة النبوية
এখান থেকেই সমসাময়িক প্রজন্মের নিকট কুরআনের জ্ঞানসমূহকে সহজবোধ্য করার লক্ষ্যেই 'আদ-দালীল ইলাল কুরআন' গ্রন্থটি সংকলিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে প্রভূত কল্যাণ দান করেছেন, সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল তাঁরই। এটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং বেশ কিছু ইলমি কর্মসূচিতে পাঠ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে গ্রন্থটি পুনর্বিবেচনা করার, এর পাঠকদের নিকট অস্পষ্ট মনে হতে পারে এমন বিষয়গুলো নিরসন করার এবং একে আরও সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

আমি যখন এর দ্বিতীয় সংস্করণ পেশ করছি, তখন মহান করুণাময় রবের দরবারে এই প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর দ্বারা কল্যাণ দান করেন, একে কবুলিয়াত দান করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত আমল হিসেবে গ্রহণ করেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের কুরআনের উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমরা তাঁর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সেই কুরআনের পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা তাঁরই একান্ত প্রিয়জন!

 

লিখেছেন

আমর সুবহি আলি আশ-শারকাবি

হিজরি ১৪৪১ সনের ১লা জিলহজ, ফজর।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مقدِّمَة الإصدار الأول

الحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب، هدىً وذكرى لأولي الألباب، وأودعه من العجائب العجب العُجاب، وجعله حاليًا بالأحرف السبعة وكمال الشرعة وفَصْل الخطاب، والصلاة والسلام على النَّبي الأوَّاب، وعلى الآل والأصحاب، صلاةً تدوم إلى يوم الحساب، ويكون لنا بها عند الله زُلْفَى وحسن مآب، وبعد:

فإنَّ ثمار التجهيل التي تمارس على الأمة الإسلامية آتت أُكْلَها، وقد نال أعظم كتاب في الكون، وأشرف دستور للعالمين، القرآن الكريم، نصيبَه من هذا التجهيل.

فصرنا نرى ونسمع من لا يعرف عن القرآن إلا اسمه، وعن المصحف إلا رسمه، لا يعرف شيئًا مما يتعلق بهذا الكتاب المجيد إلا معلومة شاردة، أو معرفة ناقصة.

وفي وسط هذا الظلام ظل أهل الحق وطلابه يسألون، وللمعرفة عن القرآن يتعطشون، ولأجل هؤلاء جاء هذا الكتاب.

حاولت عبر هذا الكتاب أن أشارك في تقريب القارئ من المشروع الحقيقي للأمة، مشروع (تلاوة القرآن)، تتميمًا لمقصد البعثة المحمدية، {وَأَنْ أَتْلُوَا الْقُرْآنَ} [النمل: 92]!
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা বুদ্ধিমানদের জন্য পথনির্দেশ ও উপদেশ; এতে তিনি বহু বিস্ময়কর রহস্য নিহিত রেখেছেন এবং একে সাত হরফ (الأحرف السبعة), পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত ও চূড়ান্ত ফয়সালাকারী বাণীর মাধ্যমে অলঙ্কৃত করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বদা আল্লাহর অভিমুখী নবীর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর; এমন দরুদ যা বিচার দিবস পর্যন্ত স্থায়ী হবে এবং যার উসিলায় আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য নৈকট্য ও উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল নসিব হবে। অতঃপর:

মুসলিম উম্মাহর ওপর মূর্খতা চাপিয়ে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, তার তিক্ত ফল ফলতে শুরু করেছে। এই মহাবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব এবং বিশ্ববাসীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনবিধান আল-কুরআনুল কারীমও এই অজ্ঞতার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকেনি।

ফলে আমরা এখন এমন সব লোক দেখছি ও তাদের কথা শুনছি, যারা কুরআন সম্পর্কে কেবল এর নাম ছাড়া আর কিছুই জানে না এবং মুসহাফ (المصحف) বলতে কেবল এর বাহ্যিক অঙ্কনটুকুই চেনে। এই মহান কিতাব সম্পর্কে কোনো বিচ্ছিন্ন তথ্য বা অসম্পূর্ণ জ্ঞান ছাড়া তারা আর কিছুই অবগত নয়।

এই অন্ধকারের মাঝেও সত্যের অনুসারী ও জ্ঞানপিপাসুরা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কুরআনের জ্ঞান অর্জনের জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে আছেন। মূলত তাদের জন্যই এই কিতাবটি রচিত হয়েছে।

এই কিতাবের মাধ্যমে আমি পাঠককে উম্মাহর প্রকৃত লক্ষ্য—অর্থাৎ 'কুরআন তিলাওয়াত' (تلاوة القرآن) প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষুদ্র প্রয়াস পেয়েছি, যা মূলত মুহাম্মদী নবুয়তের মহান উদ্দেশ্য— "এবং যেন আমি কুরআন তিলাওয়াত করি" [আন-নামল: ৯২]-এরই পরিপূরক।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
«وحقيقةُ التلاوةِ هي التلاوةُ المطلقةُ التَّامَّةُ، وهي تلاوةُ اللفظِ والمعنى؛ فتلاوةُ اللفظِ جزءُ مُسمى التلاوةِ المُطلقةِ، وحقيقةُ اللفظِ إنما هي الاتباعُ، يقال: اتلُ أثر فلانٍ، وتلوتُ أثرهُ، وقفوتُهُ وقصصتُهُ، بمعنى تَبعتُهُ، ومنه قوله تعالى: {وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا (1) وَالْقَمَرِ إِذَا تَلَاهَا (2)} [الشمس 1: 2]، أي: تَبعَها في طلوع بعد غَيبتها، ويُقال: جاءَ القومُ يتلو بعضهم بعضًا، أي: يتبع، ويُسمَّى تالي الكلام تاليًا، لأنَّهُ يُتبِعُ بعضَ الحروف بعضًا، لا يُخرجُها جُملةً واحدةً، بل يُتبِعُ بعضها بعضًا مُرتبةً، كُلَّما انقضى حرفٌ أو كلمةٌ أتبعهُ بحرفٍ آخرَ وكلمةٍ أُخرى، وهذه التّلاوةُ وسيلةٌ وطريقٌ.

والمقصودُ: التِّلاوةُ الحقيقيةُ، وهي: تلاوَةُ المعنى واتِّباعُهُ؛ تصديقًا بخبرهِ وائتمارًا بأمرهِ، وانتهاءً عن نهيهِ، وائتمامًا به، حيثُما قادكَ انقدتَ معه، فتلاوةُ القُرآنِ تتناولُ تلاوةَ لفظهِ ومعناهُ، وتلاوةُ المعنى أشرفُ من مجرَّد تلاوةِ اللفظِ، وأهلُها هم أهلُ القرآن الذين لهم الثناءُ في الدنيا والآخرة، فإنهم أهلُ تلاوةٍ ومتابعةٍ حقًّا»(1).

جاء هذا الكتاب ليرفع عنَّا قشرة الجهل بهذا الكتاب، لكي يكون هاديًا مع الهداة للدلالة على هذا الكتاب المجيد.

وقد جعلته في سؤال وجواب، اتِّباعًا لسنة جبريل عليه السلام، في سؤاله النَّبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام والإيمان والإحسان، وإثارة للذهن، ودفعًا للسآمة والملل، وجاء مختصرًا موجزًا في عبارته، وتوخيت - قدر وسعي - أن تكون عبارته ميسرة ليصلح لعموم القراء.

--------------------------------------------

(1) مفتاح دار السعادة، ابن القيم: (1/ 202).
«তেলাওয়াতের প্রকৃত বাস্তবতা হলো নিরঙ্কুশ ও পূর্ণাঙ্গ তেলাওয়াত, আর তা হলো শব্দ এবং অর্থের তেলাওয়াত; ফলে শব্দের তেলাওয়াত হলো নিরঙ্কুশ তেলাওয়াত নামক পূর্ণ সত্তার একটি অংশ। মূলত শব্দের প্রকৃত অর্থই হলো অনুসরণ করা; বলা হয়ে থাকে: ‘অমুকের পদাঙ্ক অনুসরণ করো’, ‘আমি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি’, ‘আমি তার পেছনে চলেছি’ এবং ‘আমি তার চিহ্ন ধরে চলেছি’—সবই অনুসরণ করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {শপথ সূর্যের ও তার উজ্জ্বল কিরণের (১) এবং শপথ চন্দ্রের, যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে (২)} [আশ-শামস ১: ২], অর্থাৎ: সূর্য যখন তার অদৃশ্য হওয়ার পর উদিত হয় তখন চন্দ্র তার অনুসরণ করে। আরও বলা হয়: ‘লোকেরা একে অপরের অনুসরণ করে আসছে’, অর্থাৎ অনুগামী হওয়া। আর বাণী পাঠকারীকে ‘তালি’ (তেলাওয়াতকারী) বলা হয় কারণ সে একটি বর্ণের পর আরেকটি বর্ণকে অনুসরণ করে, সেগুলোকে একেবারে একসাথে বের না করে বরং ক্রমান্বয়ে একটির পর আরেকটি নিয়ে আসে; যখনই কোনো বর্ণ বা শব্দ শেষ হয়, তখন সেটিকে অন্য একটি বর্ণ বা শব্দ দ্বারা অনুসরণ করে। আর এই তেলাওয়াত হলো একটি মাধ্যম ও পথ।

আর উদ্দেশ্য হলো: প্রকৃত তেলাওয়াত, যা হলো অর্থের তেলাওয়াত এবং তার অনুসরণ; খবরের (خبر) সত্যয়ন, আদেশের আনুগত্য, নিষেধ বর্জন এবং তাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে; এটি আপনাকে যেখানেই নিয়ে যায়, আপনি তার সাথে পরিচালিত হবেন। সুতরাং কুরআনের তেলাওয়াত এর শব্দ ও অর্থ উভয়কেই শামিল করে। আর অর্থের তেলাওয়াত কেবল শব্দের তেলাওয়াতের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ। যারা অর্থের তেলাওয়াতকারী, তারাই হলো কুরআনের প্রকৃত ধারক-বাহক (আহলুল কুরআন), যাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে প্রশংসা রয়েছে; কেননা তারাই প্রকৃত তেলাওয়াত ও অনুসরণের অধিকারী»(১).

এই কিতাবটি আমাদের থেকে এই কিতাব সংক্রান্ত অজ্ঞতার আবরণ দূর করার জন্য এসেছে, যাতে করে এটি হিদায়াতপ্রাপ্তদের সাথে এই মহিমান্বিত কিতাবের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে।

আমি একে প্রশ্ন ও উত্তর আকারে বিন্যস্ত করেছি, যা জিবরাইল আলাইহিস সালামের সুন্নাহর (سنة) অনুসরণস্বরূপ, যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন; এটি চিন্তাশক্তিকে উদ্দীপ্ত করার এবং একঘেয়েমি ও ক্লান্তি দূর করার জন্য। এর ভাষা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ করা হয়েছে। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এর ভাষা সহজবোধ্য করতে, যাতে এটি সাধারণ পাঠকদের জন্য উপযোগী হয়।

--------------------------------------------

(১) মিফতাহু দারি আস-সাআদাহ, ইবনুল কাইয়্যিম: (১/ ২০২)।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولولا أن عنوان «الطريق إلى القرآن» قد سبق به الحبيب الأستاذ إبراهيم السكران، وجعله عنوان كتابه، وهو من أجمل الكتب التي تحدثت عن القرآن = لجعلته عنوان كتابي، والذي أرجو أن يسهم في تقريب كثير من المفاهيم التي ينبغي معرفتها عن كتاب الله إلى عموم الناس، مؤمنهم وكافرهم، كبيرهم وصغيرهم، ذكرهم وأنثاهم.

ولذا سميته: «الدليل إلى القرآن»(1).

وقد قسمته إلى ثمانية أقسام، وفي كل قسم عددٌ من الأسئلة، والأقسام هي:

أولًا: القرآن .. مصدريته .. وتاريخه.

ثانيًا: علوم القرآن.

ثالثًا: إعجاز القرآن.

رابعًا: التفسير .. التدبر .. التأثر.

خامسًا: حفظ القرآن .. وتجويده.

سادسًا: أحكام فقهية تتعلق بالقرآن المجيد.

سابعًا: كتب الدراسات القرآنية.

ثامنًا: أفياء .. منشورات قرآنية.

--------------------------------------------

(1) يقال: دل على الشيء، ودل إليه، وعليه: فلا بأس من استخدام حرف الجر (إلى) مع الفعل (دل)، إما على الجواز الأصلي، وإما على تضمينه معنى (هدى)، انظر: المصباح المنير: (1/ 199)، ومعجم الصواب اللغوي: (1/ 367).
যদি 'আল-তারিক ইলাল কুরআন' শিরোনামটি প্রিয় উস্তাদ ইব্রাহিম আল-সাকরান আগে ব্যবহার না করতেন এবং এটিকে তাঁর বইয়ের শিরোনাম হিসেবে নির্ধারণ না করতেন—যা কুরআন সম্পর্কে রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ বই—তবে আমি এটিকেই আমার কিতাবের শিরোনাম হিসেবে গ্রহণ করতাম। আমি আশা করি এই কিতাবটি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে যে বিষয়গুলো জানা আবশ্যক, সেই ধারণাগুলোকে সাধারণ মানুষের নিকটবর্তী করতে সহায়তা করবে; চাই তারা মুমিন হোক বা কাফির, বড় হোক বা ছোট, নারী হোক বা পুরুষ।

আর একারণেই আমি এর নামকরণ করেছি: 'আদ-দালিল ইলাল কুরআন'(১)।

আমি একে আটটি ভাগে ভাগ করেছি এবং প্রতিটি ভাগে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। ভাগগুলো হলো:

প্রথমত: কুরআন... এর উৎস... এবং ইতিহাস।

দ্বিতীয়ত: কুরআনের জ্ঞানসমূহ (علوم القرآن)।

তৃতীয়ত: কুরআনের অলৌকিকতা (إعجاز القرآن)।

চতুর্থত: তাফসির (التفسير)... অনুধাবন (التدبر)... প্রভাবান্বিত হওয়া।

পঞ্চমত: কুরআন হিফজ... এবং তাজবিদ (تجويد)।

ষষ্ঠত: কুরআন মাজীদ সংশ্লিষ্ট ফিকহী বিধানসমূহ (أحكام فقهية)।

সপ্তমত: কুরআন বিষয়ক অধ্যয়ন বা গবেষণামূলক গ্রন্থসমূহ।

অষ্টমত: ছায়াতল... কুরআন বিষয়ক বিভিন্ন লেখা।

--------------------------------------------

(১) বলা হয়ে থাকে: কোনো বিষয়ের প্রতি পথপ্রদর্শন করা অর্থে 'দাল্লা আলা', 'দাল্লা ইলাইহি' এবং 'দাল্লা আলাইহি'—সবগুলোই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং 'দাল্লা' ক্রিয়াপদের সাথে অব্যয় 'ইলা' (إلى) ব্যবহারে কোনো অসুবিধা নেই; এটি হয় তো মৌলিকভাবে ব্যবহারের বৈধতার কারণে, অথবা এতে 'পথপ্রদর্শন' (هدى) এর অর্থ নিহিত থাকার কারণে। দেখুন: আল-মিসবাহুল মুনীর: (১/ ১৯৯), এবং মু'জামুস সাওয়াব আল-লুগাভী: (১/ ৩৬৭)।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد انتفعت بتوجيهات من تفضل بقراءة الكتاب قبل طباعته، وهم عدد من أهل العلم والفضل، واستفدت كثيرًا من توجيهاتهم في تقويم الكتاب، وتصحيح ما وقع فيهم، فلهم جميعًا أهدي ثمرة مجهودهم، وشكر الله لهم، وجزاهم خيرًا، وجعلنا وإياهم من المشتركين في الأجر، ومن المتنعمين بنور الكتاب.

وأسأل الله أن يقربنا من كتابه، وأن يجعله ربيع قلوبنا، وأن ينفع بهذا الكتاب، وأن يجعله محققًا للرغبة التي بعثتني على كتابته، وأن يجد قارئه ما يمكن أن يكون قد مر على خاطره، وسأل عنه حول القرآن وما يتعلق به، وإني لأرجو ممن قرأه ألا يبخل علي بنصح إن رآه، فإنَّ النصيحة من الدين، وإني لها - إن شاء الله - لممتثل، وأرجو من أهل العلم أن يسامحوا ما وقع فيه من خلل، فإنه لغيرهم، ومثل هذا يعفى عنه إن شاء الله، وإني بنصحهم مسترشد، والحمد لله رب العالمين(1).

عمرو الشرقاوي

amr.alsharqawi@gmail.com

--------------------------------------------

(1) لم أثبت شيئًا من مراجع الكتاب، لطبيعته، وأهم مراجع الكتاب التي رجعت لها:

1 - المقدمات الأساسية في علوم القرآن، د. عبد الله الجديع، ط. مؤسسة الريان.

2 - مدخل إلى التعريف بالمصحف الشريف، د. حازم حيدر، ط. معهد الإمام الشاطبي.

3 - المحرر في علوم القرآن، د. مساعد الطيار، ط. معهد الإمام الشاطبي.

4 - محاضرات في علوم القرآن، د. غانم قدوري، ط. دار عمار.

5 - مناهل العرفان، العلَّامة الزرقاني، ط. إحياء الكتب العربية.
আর আমি সেই সব জ্ঞান ও ফযীলতের অধিকারী ব্যক্তিদের নির্দেশনার দ্বারা উপকৃত হয়েছি, যাঁরা বইটি মুদ্রণের পূর্বে পাঠ করার অনুগ্রহ করেছেন। বইটির সংস্কার এবং এতে বিদ্যমান ভুলত্রুটি সংশোধনে আমি তাঁদের দিকনির্দেশনা থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি। আমি তাঁদের সকলের প্রতি তাঁদের এই শ্রমের ফসল উৎসর্গ করছি। আল্লাহ তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ হোন এবং তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন। তিনি আমাদের ও তাঁদেরকে সওয়াবের অংশীদার করুন এবং কিতাবের নূরে ধন্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাঁর কিতাবের নিকটবর্তী করেন, একে আমাদের হৃদয়ের বসন্ত বানান, এই কিতাবের মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন এবং একে সেই উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যম বানান যা আমাকে এটি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে। আর পাঠক যেন এতে কুরআন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সম্পর্কে তাঁর মনে উদিত হওয়া সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পান। আমি প্রত্যেক পাঠকের নিকট আশা করি যে, তিনি যদি কোনো ভুল দেখেন তবে যেন আমাকে উপদেশ দিতে কার্পণ্য না করেন; কারণ উপদেশ হলো দ্বীনের অংশ। আর ইনশাআল্লাহ আমি তা মেনে চলব। আমি আলেম সমাজের নিকট অনুরোধ করি যেন তাঁরা এতে ঘটে যাওয়া বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করেন; কারণ এটি মূলত তাঁদের জন্য নয় (বরং সাধারণ পাঠকদের জন্য) এবং এ ধরনের ভুল ইনশাআল্লাহ ক্ষমার যোগ্য। আমি তাঁদের উপদেশের মাধ্যমে সঠিক পথ নির্দেশিকা কামনা করছি। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য(১)।

আমর আশ-শারকাওয়ী

amr.alsharqawi@gmail.com

--------------------------------------------

(১) বইটির বিশেষ প্রকৃতির কারণে আমি এতে কোনো তথ্যসূত্র উল্লেখ করিনি। আমি যেসব প্রধান গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি, সেগুলো হলো:

১ - আল-মুকাদ্দিমাত আল-আসাসিয়্যাহ ফি উলুমিল কুরআন, ড. আবদুল্লাহ আল-জুদিয়ি, আর-রাইয়ান প্রকাশনী।

২ - মাদখাল ইলাত তারিফ বিল মুসহাফ আশ-শারিফ, ড. হাযিম হায়দার, মা'হাদ আল-ইমাম আশ-শাতবি।

৩ - আল-মুহাররার ফি উলুমিল কুরআন, ড. মুসাআদ আত-তাইয়্যার, মা'হাদ আল-ইমাম আশ-শাতবি।

৪ - মুহাদ্বারাত ফি উলুমিল কুরআন, ড. গানিম কাদ্দুরি, দার আম্মার।

৫ - মানাহিলুল ইরফান, আল্লামা যারকানি, ইহইয়াউল কুতুব আল-আরাবিয়্যাহ প্রকাশনী।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌أولًا: القرآن .. مصدريته .. وتاريخه

{وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ (192) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (195)}

 

‌‌[سورة: الشعراء]
প্রথমত: কুরআন.. এর উৎস.. এবং এর ইতিহাস

{আর নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (১৯২) তা নিয়ে অবতরণ করেছেন নির্ভরযোগ্য রূহ (১৯৩) আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন (১৯৪) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় (১৯৫)}

 

[সূরা: আশ-শুআরা]
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌ما القُرآن؟

إنَّ أنسب ما نتعرف به على القرآن هو القرآن نفسه، وقد أخبرنا المتكلم بالقرآن سبحانه وبحمده أنَّه كلام الله، وأخبر أنَّه نزل بواسطة أمين الوحي جبريل، على قلب محمد صلى الله عليه وسلم، بلسان عربي مبينٍ واضحٍ لا لبس فيه، يقول الله تعالى: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ (192) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (195)} [سورة: الشعراء].

وكان وقت ابتداء نزوله ليلةَ القَدْر من شهر رمضان، كما قال سبحانه: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (1)} [القدر: 1]، وقال: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ} [البقرة: 185].

ولم ينزل القرآن في وقت واحد، وإنَّما نزل مفرقًا، كما قال تعالى: {وَبِالْحَقِّ أَنْزَلْنَاهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (105) وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا (106)} [سورة: الإسراء]، وقال: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلًا (32)} [سورة: الفرقان].

وقد شدَّدَ القرآن على كونه ليس من كلام البشر، بل هو كلام خالق البشر، ورد على الشبهات التي تزعم أنه من قول البشر، فالقرآن كلام الله، لا تدخل لأحد من البشر فيه، حتى ولو كان هذا التدخل من قبل محمد صلى الله عليه وسلم، يقول الله
কুরআন কী?

কুরআন সম্পর্কে জানার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম হলো খোদ কুরআন। এই কুরআনের বক্তা (মহান আল্লাহ), যিনি অত্যন্ত মহিমান্বিত ও প্রশংসিত, তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে এটি আল্লাহর বাণী (كلام الله)। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, এটি ওহীর আমানতদার (أمين الوحي) জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.)-এর হৃদয়ে, এক সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে যাতে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং নিশ্চয় এটি বিশ্বজাহানের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)। তা নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত আত্মা (الروح الأمين), আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন; সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।} [সূরা আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫]।

এর অবতরণ শুরুর সময় ছিল রমজান মাসের লাইলাতুল কদর, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় আমি এটি অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে (ليلة القدر)।} [সূরা আল-কদর: ১]। তিনি আরও বলেছেন: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (الفرقان) হিসেবে।} [সূরা আল-বাকারা: ১৮৫]।

কুরআন একবারে অবতীর্ণ হয়নি, বরং তা পর্যায়ক্রমে (مفرقًا) অবতীর্ণ হয়েছে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি সত্যসহ এটি অবতীর্ণ করেছি এবং এটি সত্যসহই অবতীর্ণ হয়েছে। আমি তো আপনাকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি। আর আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে বা পর্যায়ক্রমে (فرقناه) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি তা মানুষের কাছে বিরতি দিয়ে পাঠ করেন এবং আমি তা স্পষ্টভাবে ও পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ (تنزيلًا) করেছি।} [সূরা আল-ইসরা: ১০৫-১০৬]। তিনি আরও বলেন: {আর কাফিররা বলে, ‘তাঁর ওপর কেন কুরআন একযোগে বা একবারে (جملة واحدة) অবতীর্ণ করা হলো না?’ এভাবেই আমি আপনার অন্তরকে এর মাধ্যমে মজবুত করার জন্য তা করেছি এবং আমি তা সুবিন্যস্তভাবে ও পর্যায়ক্রমে আবৃত্তি করেছি।} [সূরা আল-ফুরকান: ৩২]।

কুরআন এই বিষয়ের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে যে, এটি কোনো মানুষের কথা নয়, বরং এটি মানুষের স্রষ্টার বাণী। এটি সেসব সংশয় নিরসন করেছে যা দাবি করে যে এটি মানুষের কথা। সুতরাং কুরআন হলো আল্লাহর কালাম (كلام الله), এতে কোনো মানুষের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ নেই; এমনকি সেই হস্তক্ষেপ যদি মুহাম্মদ (সা.)-এর পক্ষ থেকেও হয়ে থাকে (তাও অসম্ভব)। আল্লাহ তাআলা বলেন:
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
تعالى: {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ (40) وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلًا مَا تُؤْمِنُونَ (41) وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ (42) تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ (43) وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ (44) لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ (45) ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ (46) فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ (47) وَإِنَّهُ لَتَذْكِرَةٌ لِلْمُتَّقِينَ (48) وَإِنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّ مِنْكُمْ مُكَذِّبِينَ (49) وَإِنَّهُ لَحَسْرَةٌ عَلَى الْكَافِرِينَ (50) وَإِنَّهُ لَحَقُّ الْيَقِينِ (51) فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ (52)} [سورة: الحاقة].

وأخبر القرآن عن حال النَّبي صلى الله عليه وسلم حين يتنزل عليه القرآن، فقال تعالى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ (16) إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ (17) فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ (18) ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ (19)} [سورة: القيامة]، وعن ابن عباس رضي الله عنهما، في قوله: {لا تحرك به لسانك لتعجل به} [القيامة: 16]، قال: «كان النَّبي صلى الله عليه وسلم يُعالِج من التنزيل شدة كان يحرك شفتيه»، فقال ابن عباس: «أنا أحركهما كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحركهما» فقال سعيد: «أنا أحركهما كما كان ابن عباس يحركهما فحرك شفتيه» فأنزل الله تعالى: {لا تحرك به لسانك لتعجل به إن علينا جمعه وقرآنه} [القيامة: 17] قال: جمعه في صدرك ثم تقرؤه {فإذا قرأناه فاتبع قرآنه} [القيامة: 18] قال: فاستمع وأنصت، ثم إنَّ علينا أن تقرأه قال: «فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أتاه جبريل استمع، فإذا انطلق جبريل قرأه النَّبي صلى الله عليه وسلم كما أقرأه» [رواه البخاري: (5)، ومسلم: (448)، واللفظ له].

وقد حُصِرَت دعوة النَّبي صلى الله عليه وسلم في تلاوة الكتاب، يقول الله تعالى: {إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هَذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَهَا وَلَهُ كُلُّ شَيْءٍ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ (91) وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآنَ فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَا أَنَا مِنَ الْمُنْذِرِينَ (92)} [النمل: 91 - 92].
আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় এটি একজন সম্মানিত রাসূলের আনীত বাণী (৪০) আর এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব সামান্যই বিশ্বাস করো (৪১) এবং এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো (৪২) এটি রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (৪৩) আর তিনি যদি আমাদের নামে কোনো কথা রচনা করতেন (৪৪) তবে আমরা অবশ্যই তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম (৪৫) অতঃপর আমরা অবশ্যই তাঁর জীবনধমনী কেটে দিতাম (৪৬) তখন তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাঁকে রক্ষা করতে পারত (৪৭) আর নিশ্চয় এটি মুত্তাকীদের জন্য একটি উপদেশ (৪৮) আমরা অবশ্যই জানি যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মিথ্যা প্রতিপন্নকারী (৪৯) আর নিশ্চয় এটি কাফিরদের জন্য আক্ষেপের কারণ হবে (৫০) এবং নিশ্চয় এটি সুনিশ্চিত সত্য (৫১) সুতরাং আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন (৫২)} [সূরা: আল-হাক্কাহ]।

কুরআনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যখন তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হতো। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না (১৬) নিশ্চয় এটি সংরক্ষণ করা এবং তিলাওয়াত করানো আমাদেরই দায়িত্ব (১৭) সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন (১৮) অতঃপর এর বর্ণনা করার দায়িত্ব আমাদেরই (১৯)} [সূরা: আল-কিয়ামা]। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না} [আল-কিয়ামা: ১৬] প্রসঙ্গে তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী নাযিলের সময় তীব্র কষ্ট অনুভব করতেন এবং তিনি তাঁর ওষ্ঠদ্বয় নাড়াতেন।» ইবনে আব্বাস বললেন: «আমি আমার ওষ্ঠদ্বয় সেভাবেই নাড়াচ্ছি যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নাড়াতে দেখেছি।» সাঈদ বললেন: «আমি আমার ওষ্ঠদ্বয় সেভাবেই নাড়াচ্ছি যেভাবে ইবনে আব্বাসকে নাড়াতে দেখেছি» অতঃপর তিনি তাঁর ওষ্ঠদ্বয় নাড়ালেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না; নিশ্চয় এটি আপনার অন্তরে সংরক্ষণ করা এবং পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব} [আল-কিয়ামা: ۱۷]। তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন: এর অর্থ হলো তা আপনার হৃদয়ে পুঞ্জীভূত করা এবং অতঃপর আপনি তা পাঠ করবেন। {সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন} [আল-কিয়ামা: ১৮]। তিনি বলেন: অর্থাৎ কান পেতে শুনুন এবং চুপ থাকুন। অতঃপর নিশ্চয় এটি পাঠ করানো আমাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন: «অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যখন জিবরীল আসতেন, তিনি কান পেতে শুনতেন। আর জিবরীল চলে গেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেভাবেই পাঠ করতেন যেভাবে তিনি (জিবরীল) তাঁকে পাঠ করিয়েছিলেন» [বর্ণনা করেছেন বুখারী: (৫), এবং মুসলিম: (৪৪৮), শব্দবিন্যাস তাঁর]।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতকে কিতাব তিলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি তো কেবল এই নগরীর রবের ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি, যিনি একে সম্মানিত করেছেন এবং প্রতিটি বস্তু তাঁরই। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই (৯১) এবং যেন আমি কুরআন তিলাওয়াত করি। অতঃপর যে ব্যক্তি সঠিক পথ অনুসরণ করল সে তো নিজের কল্যাণের জন্যই তা করল, আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হলো তাকে বলুন, আমি তো কেবল সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত (৯২)} [আন-নামল: ৯১ - ৯২]।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد جُعِلَت تلاوة الكتاب تجارةً رابحة، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ (29)} [فاطر: 29].

وهذا القرآن لا ريب فيه، فالشك لا يتطرق إليه بأي وجه من الوجوه، فلا ريبَ في أخباره، ولا ريبَ في أحكامه، فأخباره الصدق، وأحكامه العدل، قال الله: {ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ} [البقرة: 2].

والقرآن هو النور الذي أنزله الله ليُخرِجَ الناس من الظلمات بإذن ربهم إلى صراط مستقيم، قال الله تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ (15) يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (16)} [سورة: المائدة].

والقرآن هو الموعظة، والشفاء، كما قال سبحانه: {يا أيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ (57) قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ (58)} [سورة: يونس]، ومن تمسك بهذا القرآن فإنه المبصر حقًّا، لأن القرآن بصائر، قال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ أَبْصَرَ فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ عَمِيَ فَعَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِحَفِيظٍ (104)} [سورة: الأنعام]، وقال: {وَإِذَا لَمْ تَأْتِهِمْ بِآيَةٍ قَالُوا لَوْلَا اجْتَبَيْتَهَا قُلْ إِنَّمَا أَتَّبِعُ مَا يُوحَى إِلَيَّ مِنْ رَبِّي هَذَا بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ (203)} [سورة: الأعراف]، فللقلب بصيرة هي نوره لا يصل إليها المرء إلا بالقرآن، وإلا فالعمى لازم له، وبقدر الإقبال على الكتاب يكون الأخذُ من نوره، والتبصر ببصائره، وكما أن العين لا تبصر إلا بنور قدامها، فكذلك القلب لا يبصر إلا بنور القرآن!
কিতাব তিলাওয়াতকে একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনও ধ্বংস হবে না।" [ফাতির: ২৯]

আর এই কুরআনে কোনো সন্দেহ নেই; কোনোভাবেই এতে সংশয় প্রবেশ করতে পারে না। এর সংবাদসমূহে কোনো সন্দেহ নেই এবং এর বিধানাবলীতেও কোনো সন্দেহ নেই। এর সংবাদসমূহ সত্য এবং এর বিধানসমূহ ন্যায়নিষ্ঠ। আল্লাহ বলেন: "এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই।" [আল-বাকারা: ২]

আর কুরআন হলো সেই নূর (আলো), যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষের রবের অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে সরল পথের (صراط مستقيم) দিকে নিয়ে আসা যায়। মহান আল্লাহ বলেন: "অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নূর (আলো) ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টি অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে নূরের (আলোর) দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল পথের (صراط مستقيم) দিকে পরিচালিত করেন।" [সূরা আল-মায়িদাহ]

আর কুরআন হলো উপদেশ এবং নিরাময় (شفاء), যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে মানুষ, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধির নিরাময় (شفاء) এসেছে এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত এসেছে। বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতে; সুতরাং এতেই তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। তারা যা সঞ্চয় করে এটি তার চেয়ে উত্তম।" [সূরা ইউনুস]। আর যে ব্যক্তি এই কুরআনকে আঁকড়ে ধরবে, সেই প্রকৃত চক্ষুষ্মান; কারণ কুরআন হলো অন্তর্দৃষ্টি (بصائر)। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে অন্তর্দৃষ্টির (بصائر) প্রমাণাদি এসে গেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি দেখবে সে নিজেরই কল্যাণ করবে, আর যে অন্ধ সেজে থাকবে তার দায় তার ওপরই বর্তাবে। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো সংরক্ষক নই।" [সূরা আল-আন'আম]। তিনি আরও বলেন: "আর যখন আপনি তাদের কাছে কোনো আয়াত নিয়ে আসেন না, তখন তারা বলে—আপনি কেন তা উদ্ভাবন করলেন না? আপনি বলুন—আমার রবের পক্ষ থেকে আমার কাছে যা ওহী (وحي) পাঠানো হয় আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। এটি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে অন্তর্দৃষ্টি (بصائر), হিদায়াত ও রহমত সেই কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।" [সূরা আল-আ'রাফ]। সুতরাং অন্তরের জন্য রয়েছে এক অন্তর্দৃষ্টি যা তার নূর; মানুষ কুরআন ছাড়া তা লাভ করতে পারে না, অন্যথায় অন্ধত্ব তার জন্য অবধারিত। কিতাবের প্রতি অভিনিবেশের মাত্রা অনুযায়ীই এর নূর অর্জন করা এবং এর অন্তর্দৃষ্টির (بصائر) মাধ্যমে হাকিকত অনুধাবন করা সম্ভব হয়। যেমন চোখ সামনের আলো ছাড়া দেখতে পায় না, তেমনি অন্তরও কুরআনের নূর ছাড়া দেখতে পায় না!
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
وأخبر القرآن عن حال أهل الإيمان حين تلاوته، فقال: {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُتَشَابِهًا مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ (23)} [سورة: الزمر].

القرآن هو: الفرقان، والكتاب، والذكر، والتنزيل، والقرآن: حق وصدق، وعزيز، وعظيم، وعلي، ومجيد، وقبل ذلك: إنَّه وحي!

والقرآن: رحمة، وشفاء، وكريم، ومبارك، ونور.

إنَّه النبأ العظيم!

وأدعوك في ختام هذا الجواب، أن تختم القرآن - ولو ختمة واحدة - لتتعرف عليه حق التعرف.
কুরআন তিলাওয়াতের সময় ঈমানদারদের অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন সর্বোত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব, যা সুসামঞ্জস্য এবং যা বারবার আবৃত্তি করা হয়; এতে তাদের চামড়া রোমাঞ্চিত হয় যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে নরম হয়। এটাই আল্লাহর হিদায়াত, তিনি এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। (২৩)} [সূরা আয-যুমার]।

কুরআন হলো: আল-ফুরকান, আল-কিতাব, আয-যিকর এবং আত-তানযিল। আর কুরআন হলো: সত্য ও যথার্থ, পরাক্রমশালী, মহান, সুউচ্চ ও মহিমান্বিত; আর এ সবকিছুর আগে: এটি হলো ওহী (وحي)!

আর কুরআন হলো: রহমত, নিরাময়, সম্মানিত, বরকতময় এবং নূর।

এটিই সেই মহান সংবাদ!

এই উত্তরের শেষে আমি আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, আপনি যেন অন্তত একবার হলেও পুরো কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেন, যাতে আপনি এটি সম্পর্কে যথাযথ পরিচয় লাভ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ما الحجج الدالة على أن القرآن كلام الله؟

يعبَّر عن هذه المسألة، بتعبير آخر، هو: «مصدرية القرآن»، وقد أخبر القرآن عن مصدره، كما سبق في السؤال الماضي، لكننا سننطلق في الإجابة عن هذا السؤال، بذكر الحجج التي نصل بها للإيمان بأن الله تعالى هو مصدر هذا الكتاب المجيد.

وقد لخَّصنا هذه الحجج من كتاب ممتع للعَلَّامة د. محمد دراز (ت: 1377)، وهو بعنوان: «النبأ العظيم».

 

‌‌الحجة الأولى: الإقرار.

لقد أقر النَّبي صلى الله عليه وسلم على نفسه أنَّ القرآن الذي جاء به ليس من كلامه، وإنَّما هو وحي من ربه إليه.

وحجية هذا الإقرار: أنَّ القرآن حجَّ العرب، وعجزوا أمامه، فالمصلحة تقتضي أن ينسب محمد صلى الله عليه وسلم القرآن له، لتروج زعامته، ويرتفع قدره عند هؤلاء القوم، ولم يفعل، وحاشاه أن يفعل!

وإنما لم يفعل؛ لأنَّه صادق أمين، ولم يكن ليدع الكذب على الناس ويكذب على الله.
কুরআন যে আল্লাহর কালাম, তার স্বপক্ষে প্রমাণসমূহ কী?

এই বিষয়টি অন্য এক অভিব্যক্তিতে ‘কুরআনের উৎস’ (مصدرية القرآن) হিসেবে ব্যক্ত করা হয়। কুরআন নিজের উৎসের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছে, যেমনটি গত প্রশ্নে অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে আমরা এই প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সেই প্রমাণগুলো আলোচনার মাধ্যমে শুরু করব, যার মাধ্যমে আমরা এই বিশ্বাসে উপনীত হই যে, আল্লাহ তাআলাই এই মহিমান্বিত কিতাবের উৎস।

আমরা আল্লামা ড. মুহাম্মদ দরাজ (ওফাত: ১৩৭৭ হি.)-এর একটি চমৎকার গ্রন্থ, যার শিরোনাম ‘আন-নাবাউল আজিম’, তা থেকে এই প্রমাণসমূহ সংক্ষেপে চয়ন করেছি।

 

প্রথম প্রমাণ: স্বীকারোক্তি।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং স্বীকার করেছেন যে, তিনি যে কুরআন নিয়ে এসেছেন তা তাঁর নিজস্ব কোনো বক্তব্য নয়, বরং তা তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ওহি (وحي)।

এই স্বীকারোক্তির প্রামাণিকতা হলো: কুরআন আরবদের নিরুত্তর করে দিয়েছিল এবং তারা এর সামনে অপদস্থ ও অক্ষম হয়ে পড়েছিল। এমতাবস্থায় পার্থিব স্বার্থের দাবি ছিল যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনকে নিজের রচনা হিসেবে চালিয়ে দেবেন, যাতে তাঁর নেতৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং ওই কওমের নিকট তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তিনি তা করেননি, আর তাঁর শানে এমনটি কল্পনাও করা যায় না!

তিনি মূলত একারণেই তা করেননি যে, তিনি সত্যবাদী (صادق) ও বিশ্বস্ত (أمين); যিনি মানুষের সাথে মিথ্যা বলা পরিহার করেন, তিনি আল্লাহর নামে মিথ্যা বলতে পারেন না।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
فإن قال قائل: إنَّه لم يفعل ذلك إلا ليستجلب مزيدًا من الأتباع بنسبة هذا الكلام للرب، ويستدعي لنفسه طاعة وسلطانًا.

فنقول: هذا الكلام فاسد من جهتين:

 

‌‌الجهة الأولى:

أنَّ محمدًا عليه الصلاة والسلام قد صدر عنه الكلام الذي نسبه لنفسه، والكلام الذي نسبه لربه، وأوجب القرآن على الناس طاعة محمد صلى الله عليه وسلم، وجعل طاعته من طاعة الله تعالى، فهلَّا جعل كل أقواله من كلام الله كما يقول هذا القائل.

 

‌‌الجهة الثانية:

أنَّ هذا الكلام مبني على افتراض باطل، هو: أن يكون محمد صلى الله عليه وسلم قد سوَّغ لنفسه أن يصل إلى مقصده، ولو بالكذب والتمويه.

وهذا باطل؛ لأن سيرةَ محمد صلى الله عليه وسلم، وأحوالَه تأبى ذلك.

فإنَّ صفاته وشمائله قبل النبوة وبعدها، تأبى أن يكون كاذبًا، فقد كان أعداؤه قبل أصحابه يشهدون له بالصدق، والأمانة، ولم يقل أحد منهم قط: إنَّه كاذب.

 

‌‌الحجة الثانية: أُمِّيةُ النَّبي صلى الله عليه وسلم -.

لم يكن النَّبي صلى الله عليه وسلم ممن يرجع بنفسه لكتب العلم، ودواوينه، ومن المتَّفق عليه؛ أنَّه صلى الله عليه وسلم لم يكن يمارس القراءة والكتابة قبل بعثته.

ولا يمكن أن يكون القرآن من استنباط النَّبي صلى الله عليه وسلم بالذكاء الفطري الذي كان يتمتع به؛ لأنَّ القرآن قد احتوى على ما لا يمكن أن يستنبط بالعقل ولا بالتفكير،
যদি কেউ বলে: এই কথাগুলো রবের প্রতি আরোপ (نسبة) করে তিনি কেবল অধিক অনুসারী আকৃষ্ট করার জন্য এবং নিজের জন্য আনুগত্য ও কর্তৃত্ব লাভের উদ্দেশ্যে এমনটি করেছেন।

তবে আমরা বলব: এই বক্তব্যটি দুটি দিক থেকে অসার (فاسد):

 

‌‌প্রথম দিক:

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কিছু কথা প্রকাশিত হয়েছে যা তিনি নিজের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং কিছু কথা যা তিনি তাঁর রবের প্রতি নিসবত বা আরোপ করেছেন। কুরআন মানুষের জন্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা আবশ্যক করেছে এবং তাঁর আনুগত্যকে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের অংশ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। সুতরাং উক্ত বক্তা যা দাবি করছে তা যদি সত্য হতো, তবে তিনি কেন তাঁর সকল কথাকেই আল্লাহর কালাম হিসেবে সাব্যস্ত করলেন না?

 

‌‌দ্বিতীয় দিক:

এই বক্তব্যটি একটি ভিত্তিহীন (باطل) অনুমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তা হলো: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য—এমনকি মিথ্যা (كذب) ও প্রতারণার (تمويه) মাধ্যমে হলেও—সেটিকে নিজের জন্য বৈধ করে নিয়েছিলেন।

অথচ এটি ভিত্তিহীন (باطل); কারণ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত ও তাঁর অবস্থা একে অস্বীকার করে।

কেননা নবুওয়তের পূর্বে ও পরে তাঁর গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ তাঁর মিথ্যাবাদী (كاذب) হওয়ার বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করে। তাঁর সাহাবীদের পূর্বে এমনকি তাঁর শত্রুরাও তাঁর সত্যবাদিতা (صدق) ও আমানতদারিতার সাক্ষ্য দিতেন এবং তাঁদের কেউ কখনোই বলেননি যে তিনি মিথ্যাবাদী (كاذب)।

 

‌‌দ্বিতীয় দলিল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিরক্ষরতা (أُمِّية) -।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ব্যক্তি ছিলেন না যিনি নিজে জ্ঞান-বিজ্ঞানের কিতাব ও নথিপত্র পাঠ করতেন। এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) যে, নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে তিনি পড়া বা লেখার চর্চা করতেন না।

আর এটি সম্ভব নয় যে কুরআন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সহজাত বুদ্ধিমত্তার দ্বারা উদ্ভাবিত (استنباط) যা তিনি লাভ করেছিলেন; কারণ কুরআনে এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা কেবল যুক্তি বা চিন্তাশক্তি দ্বারা উদ্ভাবন (استنباط) করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
وفيه أيضًا ما لا يدرك بالوجدان ولا بالشعور، كالوقائع التاريخية، والحقائق الدينية الغيبية، والتي جاءت في القرآن بصورة مفصلة، والإخبار بالأمور المستقبلية، والتي وقعت كما أخبر.

 

‌‌الحجة الثالثة: أنَّه لم يأخذ القرآن عن معلم.

لا يمكن أن يكون القرآن قد أُخِذَ عن معلم، لأنَّ قوم النَّبي صلى الله عليه وسلم كانوا من الجهل بحيث لا يمكن أن يكون أحدهم معلمًا لمحمد صلى الله عليه وسلم، ولو فرضنا أن فيهم من يصلح لذلك، فلم لم يأخذوا عنه كما أخذ محمد صلى الله عليه وسلم بدلًا من مقارعته بالسيوف؟!

ومن المستحيل أن يكون القرآن قد أُخِذَ عن اليهود والنصارى، ولينظر قائل تلك المقالة إلى حديث القرآن عن أهل الكتاب، وذكره لهم، وكيف يصوِّر القرآن علومهم بأنها الجهالات، وعقائدهم بأنها الخرافات، وأعمالهم بأنها الجرائم والمنكرات.

وفي القرآن ما لا يوجد في كتب أهل الكتاب، كقصة هود وشعيب عليهما السلام، فمن أين أتى بها؟!

ولا يمكن أن يكون القرآن قد أُخِذَ عن شعر بعض العرب، كأمية بن أبي الصلت وغيره، لأن القرآن نفى أن يكون شعرًا، ولأن في الشعر ما لا يوجد في القرآن، كوصف الخمر، ونحوها، ولأن العرب لم يدَّعِ أحدٌ منهم أن القرآن مسروق أو منحول من الشعر الموجود في ذلك العصر أيًّا كان قائله.

 

‌‌الحجة الرابعة: التَّحدِّي وعجز العرب.

لقد تحدى القرآن العرب، وكرر التحدي عليهم أن يأتوا بمثل القرآن، وظل يتدرج بهم إلى أن وصل أن يأتوا بسورة من مثل القرآن، فعجزوا.
এতে আরও এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা বুদ্ধি বা অনুভূতির দ্বারা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, যেমন ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং অদৃশ্যের ধর্মীয় সত্যসমূহ, যা কুরআনে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে; সেই সাথে ভবিষ্যতের ঘটনাবলির সংবাদ প্রদান, যা তাঁর দেওয়া সংবাদ অনুযায়ীই হুবহু সংঘটিত হয়েছে।

 

‌‌তৃতীয় দলিল: তিনি কোনো শিক্ষকের নিকট থেকে কুরআন গ্রহণ করেননি।

কুরআন কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে—এমন হওয়া অসম্ভব। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কওম অজ্ঞতার এমন স্তরে নিমজ্জিত ছিল যে তাদের কারো পক্ষে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষক হওয়া সম্ভব ছিল না। যদি আমরা ধরেও নিই যে তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল যে এ কাজের যোগ্য, তবে কেন তারা নিজেরা তা গ্রহণ করল না যেভাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রহণ করেছিলেন? কেন তারা তাঁর সাথে তরবারি দিয়ে যুদ্ধ করার পথ বেছে নিল?

আর ইহুদি ও নাসারাদের (খ্রিস্টান) কাছ থেকে কুরআন গ্রহণ করা তো একেবারেই অসম্ভব। এই কথা যে ব্যক্তি বলে, তার উচিত আহলে কিতাবদের সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনা ও তাদের বিষয়ে কুরআনের উল্লেখসমূহ গভীরভাবে দেখা। কুরআন কীভাবে তাদের জ্ঞানকে অজ্ঞতা হিসেবে, তাদের আকিদাকে কুসংস্কার হিসেবে এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ ও মন্দ কাজ (منكرات) হিসেবে চিত্রায়িত করেছে!

তাছাড়া কুরআনে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা আহলে কিতাবদের কিতাবসমূহে পাওয়া যায় না, যেমন হুদ ও শুআইব আলাইহিমাস সালাম-এর কাহিনী। তবে তিনি এগুলো কোথা থেকে নিয়ে এলেন?

আর কুরআন কোনো কোনো আরবের কবিতা (যেমন উমাইয়্যা বিন আবিস সালত ও অন্যান্য) থেকে গৃহীত হওয়াও অসম্ভব। কারণ কুরআন স্বয়ং এটি কবিতা হওয়াকে অস্বীকার করেছে। এছাড়া কবিতায় এমন অনেক বিষয় বিদ্যমান যা কুরআনে নেই, যেমন মদের গুণগান ও অনুরূপ বিষয়সমূহ। তদুপরি তৎকালীন আরবদের কেউই এমন দাবি করেনি যে, কুরআন সেই যুগের প্রচলিত কোনো কবিতা থেকে চুরি করা হয়েছে বা গৃহীত হয়েছে, চাই সেই কবিতার রচয়িতা যে-ই হোক না কেন।

 

‌‌চতুর্থ দলিল: চ্যালেঞ্জ এবং আরবদের অক্ষমতা।

কুরআন আরবদেরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং তাদের প্রতি এই চ্যালেঞ্জের পুনরাবৃত্তি করেছে যেন তারা কুরআনের মতো কিছু নিয়ে আসে। এরপর কুরআন পর্যায়ক্রমে তাদেরকে কুরআনের মতো একটি সূরা নিয়ে আসার আহ্বান জানায়, কিন্তু তারা তাতে অক্ষম প্রমাণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
فإن كان القرآن من كلام محمد صلى الله عليه وسلم، فلم عجزت العرب عنه؟!

إنَّ أحدًا منهم لم يستطع أن يجاريه، ولا أن يطعن في عربيته، ولذا: فإن أي طعن يوجه للقرآن من جهة عربيته من طاعن متأخر عن أبي جهل، وأبي لهب وأضرابهم، فاعلم أنه باطل في ذاته؛ إذ لو كان صحيحًا لما غفل عنه هؤلاء الأعداء، وهم أبصر الناس باللغة، وأحرصهم على الطعن في القرآن.

 

‌‌الحجة الخامسة: ظاهرة الوحي.

لم يكن الوحي حالة اختيارية تعتري محمدًا صلى الله عليه وسلم، بل كان حالة غير اختيارية، وهذا - لمن يؤمن بالغيب - دليل على كون القرآن من عند الله، فقوة الوحي قوة خارجية، لأنها تتصل بنفس محمد صلى الله عليه وسلم حينًا بعد حين، وهي قوة عالمة، وهي قوة أعلى من قوته، لأنها تحدث آثارًا في بدنه، وهي قوة خيرة معصومة، لا توحي إليه إلا الحق، فماذا عسى أن تكون تلك القوة إن لم تكن قوة ملك كريم؟!

ولم يكن الوحي يعكس شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم، ففي أكثر الأوقات لا يذكر عنه شيئًا، وتأمَّل - مثلًا -: حين مات عمه أبو طالب، وزوجته خديجة، وحزن لذلك حزنًا شديدًا، ومع ذلك لم يشر الوحي إلى ذلك.

بل نجد في الوحي آيات اللوم والعتاب له عليه الصلاة والسلام، كقوله سبحانه: {عَفَا اللَّهُ عَنْكَ لِمَ أَذِنْتَ لَهُمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ 43} [التوبة: 43]، وقال سبحانه: {عَبَسَ وَتَوَلَّى 1 أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى 2 وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى 3 أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنْفَعَهُ الذِّكْرَى 4 أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَى 5 فَأَنْتَ لَهُ تَصَدَّى 6 وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّى 7 وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى 8 وَهُوَ يَخْشَى 9 فَأَنْتَ عَنْهُ تَلَهَّى 10} [عبس: 1 - 10].
যদি কুরআন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী হতো, তবে আরবরা কেন তা মোকাবিলা করতে অক্ষম হলো?!

তাদের কেউ এটির সমকক্ষ হতে পারেনি এবং এর ভাষার বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। সুতরাং, আবু জাহল, আবু লাহাব ও তাদের সমগোত্রীয়দের পরবর্তী সময়ের কোনো সমালোচক যখন কুরআনের ভাষার বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো আপত্তি তোলে, তবে জেনে রাখুন যে তা তার সত্তাগতভাবেই বাতিল (باطل); কেননা যদি তা সঠিক (صحيح) হতো, তবে এই শত্রুরা কখনোই তা উপেক্ষা করত না; অথচ তারা ছিল ভাষা সম্পর্কে সবচেয়ে সম্যক অবগত এবং কুরআনের সমালোচনা করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি উদগ্রীব।

 

‌‌পঞ্চম দলিল: ওহির স্বরূপ।

ওহি কোনো ঐচ্ছিক অবস্থা ছিল না যা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর আপতিত হতো, বরং এটি ছিল একটি অনৈচ্ছিক অবস্থা। যারা অদৃশ্যে বিশ্বাসী, তাদের জন্য এটি কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার একটি দলিল। কারণ ওহির শক্তি হলো একটি বাহ্যিক শক্তি, যা সময়ে সময়ে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সত্তার সাথে সংযোগ স্থাপন করত। এটি একটি জ্ঞানময় শক্তি এবং তাঁর শক্তির চেয়েও উচ্চতর শক্তি; কারণ এটি তাঁর শরীরে প্রভাব সৃষ্টি করত। এটি একটি কল্যাণময় ও সুরক্ষিত শক্তি, যা সত্য ছাড়া অন্য কিছু তাঁর নিকট অবতীর্ণ করত না। তবে সেই শক্তি এক সম্মানিত ফেরেশতা ছাড়া আর কী হতে পারে?!

ওহি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্বকেও প্রতিফলিত করত না। অধিকাংশ সময় এতে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ থাকত না। উদাহরণস্বরূপ লক্ষ্য করুন: যখন তাঁর চাচা আবু তালিব এবং তাঁর স্ত্রী খাদিজা ইন্তেকাল করলেন এবং তিনি এতে অত্যন্ত শোকাহত হলেন, তা সত্ত্বেও ওহিতে সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত করা হয়নি।

বরং আমরা ওহিতে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি অনুযোগ ও সতর্কতামূলক আয়াতসমূহ দেখতে পাই। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন; সত্যবাদীরা আপনার নিকট সুস্পষ্ট হওয়ার এবং আপনি মিথ্যাবাদীদের (الكاذبين) চিনে নেওয়ার আগেই কেন আপনি তাদের অনুমতি দিলেন?} [তওবা: ৪৩]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {সে ভ্রুকুটি করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। কারণ তার কাছে এক অন্ধ ব্যক্তি এল। আপনি কী করে জানবেন, হয়তো সে পরিশুদ্ধ হতো? অথবা উপদেশ গ্রহণ করত এবং সেই উপদেশ তার উপকারে আসত। পক্ষান্তরে, যে বেপরোয়া, আপনি তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন। অথচ সে যদি পরিশুদ্ধ না হয়, তবে আপনার কোনো দায় নেই। আর যে আপনার কাছে ছুটে এল এবং সে ভয় করে, আপনি তাকে অবজ্ঞা করছেন।} [আবাসা: ১-১০]।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الحجة السادسة: إعجاز القرآن.

لقد جاء القرآن نموذجًا لا يبارى في الأدب العربي، إنَّه المثل الأعلى لما يمكن أن يسمى أدبًا بوجه عام، فلغته تأخذ بالقلوب، وتفحم بالحجة، وتجلب السرور الهادئ لا الصاخب.

ومما يبين إعجاز القرآن في لغته:

1 - أنَّ لغة القرآن مادة صوتية، تبعد عن طراوة لغة أهل الحضر، وخشونة لغة أهل البادية، إنها تجمع بين رقة الأولى، وجزالة الثانية.

2 - إنَّها ترتيب في مقاطع الكلمات في نظام أكثر تماسكًا من النثر، وأقل نظمًا من الشعر.

3 - كلماته منتقاة، لا توصف بالغريب إلا نادرًا، تمتاز بالإيجاز العجيب، والنقاء في التعبير.

4 - إنَّ أسلوب القرآن يجمع بين العقل والعاطفة على رغم ما بينهما من تباعد.

5 - وهو في وحدة سوره، وترتيبها، وتناسق أجزائها آية وأي آية!.

 

*‌‌ مراجع إثرائية:

1 - النبأ العظيم، د. محمد دراز، اعتناء: عمرو الشرقاوي، ط. مركز تفكر للبحوث والدراسات.

2 - تنزيه القرآن الكريم، د. منقذ السقار، ط. مركز تكوين.

3 - براهين النبوة، د. سامي عامري، ط. مركز تكوين.
‌ষষ্ঠ প্রমাণ: কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز)।

আরবি সাহিত্যে আল-কুরআন এক অতুলনীয় আদর্শ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সাধারণভাবে যাকে সাহিত্য বলা যায়, এটি তার এক সর্বোচ্চ নিদর্শন। এর ভাষা হৃদয়কে জয় করে নেয়, অকাট্য যুক্তির (حجة) মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করে দেয় এবং এক প্রশান্তিময় আনন্দ বয়ে আনে।

কুরআনের ভাষার অলৌকিকত্ব (إعجاز) যে বিষয়গুলো থেকে স্পষ্ট হয়:

1 - কুরআনের ভাষা এমন এক ধ্বনিমাধুর্যপূর্ণ উপাদানে গঠিত, যা নগরবাসীর ভাষার অতি-কোমলতা এবং মরুবাসীদের ভাষার কর্কশতা থেকে মুক্ত। এটি প্রথমোক্তের লালিত্য এবং শেষোক্তের গাম্ভীর্যের এক অনন্য সমন্বয়।

2 - এর শব্দবিন্যাস ও গঠনশৈলী গদ্যের তুলনায় অধিক সুসংহত এবং কবিতার তুলনায় কম ছন্দবদ্ধ।

3 - এর শব্দাবলি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে চয়িত, যা কদাচিৎ ব্যতিরেকে অপরিচিত (غريب) হিসেবে গণ্য হয় না। এটি বিস্ময়কর সংক্ষিপ্ততা (إيجاز) এবং প্রকাশের বিশুদ্ধতায় অনন্য।

4 - কুরআনের রচনাশৈলী বুদ্ধি ও আবেগ—উভয়ের মাঝে বিদ্যমান দূরত্ব সত্ত্বেও সেগুলোকে চমৎকারভাবে সমন্বয় করেছে।

5 - এর সূরাগুলোর একত্ব, বিন্যাস এবং অংশগুলোর সুসামঞ্জস্যতা এক অতুলনীয় নিদর্শন!

 

*‌‌ সহায়ক গ্রন্থাবলি:

1 - আন-নাবাউল আজিম, ড. মুহাম্মদ দরাজ, সম্পাদনা: আমর আশ-শারকাউয়ি, প্রকাশনী: তফাক্কুর সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ।

2 - তানজিহুল কুরআনিল কারিম, ড. মুনকিজ আস-সাক্কার, প্রকাশনী: তাকউইন সেন্টার।

3 - বারাহিনুন নুবুওয়াহ, ড. সামি আমেরি, প্রকাশনী: তাকউইন সেন্টার।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌ما مبررات وبراهين الإيمان بسلامة النص القرآني من التحريف؟

لقد اتفقت كلمة المسلمين جميعًا على أن القرآن كلام الله، وحجة من أعظم حججه على عباده، وأبلغها دلالة، ومن أكبر الحجج على صحة النص القرآني الموجود بين أيدينا:

 

‌‌الحجة الأولى: العناية بالقرآن في عهد النَّبي صلى الله عليه وسلم، وعهد الصحابة.

تمثلت العناية القصوى بالقرآن في عهد النَّبي صلى الله عليه وسلم في حفظ القرآن في قلوب الراسخين في العلم من أصحاب النَّبي صلى الله عليه وسلم، وتدوينهم له، وتلاوتهم له آناء الليل وأطراف النهار.

ولما دعت الحاجة - وهي كثرة قتل القراء في موقعة اليمَامَة - كان الجمع الأول للقرآن في عهد أبي بكر رضي الله عنه.

وبعد جمع أبي بكر، بات القرآن الكريم محفوظًا في مصحف أبي بكر بين دفتين، وعدة صحف ومصاحف خاصَّة تجمع سوره وآياته كلها أو بعضها.

فأمَّا مصحف أبي بكر فقد انتقل من أبي بكر لعمر بن الخطاب، ومنه إلى بيت حفصة أم المؤمنين رضي الله عنها.
কুরআনের পাঠ বিকৃতি (تحريف) থেকে সুরক্ষিত থাকার বিষয়ে বিশ্বাসের যৌক্তিকতা ও প্রমাণসমূহ কী কী?

সমস্ত মুসলিম এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কুরআন আল্লাহর বাণী এবং তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর মহান প্রমাণসমূহের (حجة) অন্তর্ভুক্ত ও অর্থের দিক থেকে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আমাদের হাতে বিদ্যমান কুরআনের পাঠের সঠিকতা (صحة) বা বিশুদ্ধতার ওপর অন্যতম প্রধান প্রমাণসমূহ হলো:

 

‌‌প্রথম প্রমাণ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সাহাবী (الصحابة) গণের যুগে কুরআনের প্রতি বিশেষ যত্ন।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে কুরআনের প্রতি সর্বোচ্চ যত্নের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের মধ্যে যারা ইলমে পারদর্শী ছিলেন তাঁদের অন্তরে কুরআন সংরক্ষিত থাকা, তাঁদের এটি লিখে রাখা এবং দিবারাত্রি তা তিলাওয়াত করার মাধ্যমে।

যখন প্রয়োজনের দাবি দেখা দিল—আর তা ছিল ইয়ামামার যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক কারী (القراء) শহিদ হওয়া—তখন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে কুরআনের প্রথম সংকলন সম্পন্ন হয়।

আবু বকরের সংকলনের পর, পবিত্র কুরআন আবু বকরের মাসহাফে দুই মলাটের মাঝে সংরক্ষিত হয়। এছাড়া আরও বেশ কিছু ব্যক্তিগত পাণ্ডুলিপি ও মাসহাফ ছিল যেগুলোতে এর সূরা ও আয়াতসমূহ পূর্ণাঙ্গ বা আংশিকভাবে সংগৃহীত ছিল।

আবু বকরের মাসহাফটি পরবর্তীতে তাঁর নিকট থেকে উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট এবং তাঁর থেকে উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট স্থানান্তরিত হয়।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
ثم دعت الحاجة إلى جعل هذا المكتوب في مصاحف على صورة تسد باب اختلاف الذين لا يعلمون، فتمَّ جمعه والعناية الفائقة به في عهد عثمان رضي الله عنه.

وبعد ذلك حصلت عمليات تطوير خط المصحف الشريف، وظلت هذه المحاولات، وهذه الحياطة إلى زمان الطِّباعة، وانتِشَار المصاحف عبر الأقطَار الإسلامية، وانتقالها إلى المسلمين جيلًا بعد جيل.

وليس في القرآن بحمد الله خطأ استطاع أن يثبته أحدٌ كائنًا من كان من وقت تدوينه إلى زمان الناس، وما أُثير من شبهات حول الرسم، أو ما ادُّعي أنه مخالف للعربية، تصدى له علماء الإسلام بالبيان، والتمحيص، ومصنفاتهم حاضرة قريبة من طالبِ الحق والهدى.

 

‌‌الحجة الثانية: تَلَقِّي القرآن بالمشافهة.

لقد كان القرآن محفوظًا في الصدور كما هو مكتوب في الصحف، وكان الناس ولا يزالون يتلقون هذا القرآن عن أشياخهم، إلى أن يتصل السند بكبار أصحاب النَّبي صلى الله عليه وسلم، وهؤلاء الصحابة أخذوه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وهذه الحجة مما يعرف تفصيلها من كتب تاريخ القراءات، وبيان جهود العلماء المبذولة في ضبط الأوجه القرآنية التي يقرأ بها القرآن.

فمن الذي يتصور وقوع التحريف في سورة الحمد (الفاتحة)؟ وهي السورة التي تقرأ في محاريب المسلمين كل يوم عدة مرات، وكذلك سائر القرآن كان يُقرأ في محاريب المسلمين مرة بعد مرة، أيتفق كل هؤلاء على التحريف، ولا نجد إنكارًا عليهم، سبحانك هذا بهتان عظيم!
অতঃপর এই লিখিত বিষয়টিকে মুসহাফের (পাণ্ডুলিপির) এমন এক রূপে বিন্যস্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় যা অজ্ঞদের মতপার্থক্যের পথ রুদ্ধ করবে। ফলে উসমান (রা.)-এর যুগে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তা সংকলন ও এর বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

এরপর পবিত্র মুসহাফের লিপিশৈলী উন্নয়নের বিভিন্ন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। মুদ্রণকাল পর্যন্ত এবং মুসলিম ভূখণ্ডসমূহে মুসহাফের বিস্তার ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা মুসলিমদের নিকট হস্তান্তরের সময় পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকে।

আল্লাহর প্রশংসায়, কোরআন সংকলনের সময় থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত এমন কোনো ভুল নেই যা কেউ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর লিখন পদ্ধতি (রসম) নিয়ে যেসব সংশয় উত্থাপন করা হয়েছে অথবা যা আরবি ব্যাকরণের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে, ইসলামের উলামাগণ সুস্পষ্ট বর্ণনা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছেন। সত্য ও হেদায়েত অন্বেষণকারীর নিকট তাঁদের রচনাবলি বিদ্যমান ও সহজলভ্য রয়েছে।

 

‌‌দ্বিতীয় প্রমাণ: মৌখিক শ্রবণের (المشافهة) মাধ্যমে কোরআন গ্রহণ।

কোরআন যেমন পাণ্ডুলিপিতে লিখিত ছিল, তেমনি তা বক্ষসমূহে সংরক্ষিত ছিল। মানুষ তাঁদের উস্তাদদের নিকট থেকে এই কোরআন গ্রহণ করে আসছেন এবং এখনও করছেন, যতক্ষণ না এই সূত্র (السند) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রবীণ সাহাবীগণ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর এই সাহাবীগণ তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন।

এই প্রমাণের বিস্তারিত বিবরণ কিরাতসমূহের ইতিহাসের কিতাবসমূহ এবং কোরআন তিলাওয়াতের পদ্ধতিসমূহের (الأوجه) নিখুঁত বিন্যাসে উলামাগণের ব্যয়িত প্রচেষ্টার বর্ণনা থেকে জানা যায়।

সুতরাং সূরা আল-হামদ (ফাতিহা)-তে বিকৃতির (التحريف) কল্পনা কে করতে পারে? এটি এমন এক সূরা যা প্রতিদিন মুসলিমদের মিহরাবগুলোতে বহুবার পাঠ করা হয়। অনুরূপভাবে অবশিষ্ট কোরআনও মুসলিমদের মিহরাবগুলোতে বারবার তিলাওয়াত করা হতো। এই সকল মানুষ কি বিকৃতির (التحريف) ওপর একমত হতে পারে, অথচ আমরা এর কোনো প্রতিবাদ দেখতে পাই না? হে আল্লাহ, আপনি পরম পবিত্র, এটি এক গুরুতর অপবাদ!
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الحجة الثالثة: عدم وجود فجوة تاريخية في مسار القرآن.

وهذا بخلاف التوراة التي انقطع سندها بعد موسى عليه السلام بستة قرونٍ على الأقل، وتعددت نسخها، واختلفت فيما بينها، وبخلاف الإنجيل الذي ظل يُتناقل شفهيًا، وتعرض لكثير من التَّحريف حتى دوِّن متأخرًا بعد أن ناله ما ناله من التَّحريف.

لقد وصل القرآن إلينا، بلغته الأصلية التي كان عليها، فلم يتعرض لما قد تتعرض له الترجمة، من اختلاف، وكونها عرضة للاشتباه في الفهم، ونحو ذلك.

وقد نقل إلينا بالمشافهة، وتداوله عددٌ كبير من الناس، ودون في زمان النَّبي صلى الله عليه وسلم، وجمع بعده في دفتين بعد مدة وجيزة جدًّا، كما سلف، وإنَّ المطلع على المخطوطات الموجودة للمصحف الشريف، والتي هي عتيقة، وترجِع إلى العصور الأولى من نزول القرآن، يعلم كيف أن الله تعالى قد أحاط القرآن بعناية خاصَّة، لئلا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، لأنه تنزيل من حكيمٍ حميد.

ومع كل العواصف التي عصفت بأمة الإسلام إلا أنَّ أحدًا منهم لم تمتد يده للقرآن ليحرفه، بل ولم يستطع، وأنَّى له ذلك، بل إنهم على اختلافهم وتناحرهم كانوا معظمين للقرآن معتنين بشأنه، كما يعرف من تاريخ كتابة المصحف والعناية به.

وبعد؛ فإنَّ أعظم دليل على عدم تحريف القرآن، هو القرآن ذاته، فقد احتفظ القرآن بكل خصائصه التي كان عليها زمان النبوة، لقد ظل مُؤثرًا في الأمة، ومعجزًا على مر الدهور، لا يزال الناس يأخذون منه، وَيَرِدُونَه فلا تنفد عجائبه، ولا يَخْلَقُ على كثرة الرد.
‌‌তৃতীয় দলিল: কুরআনের পথপরিক্রমায় কোনো ঐতিহাসিক শূন্যতার অনুপস্থিতি।

এটি তাওরাতের বিপরীত, যার সূত্র (سند) মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর পরবর্তী অন্তত ছয় শতাব্দী পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন (انقطع) ছিল এবং এর পাণ্ডুলিপিগুলো একাধিক ছিল ও সেগুলোর মধ্যে পারস্পরিক পার্থক্য বিদ্যমান ছিল। এটি ইঞ্জিলেরও বিপরীত, যা দীর্ঘদিন মৌখিকভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং বহু বিকৃতির শিকার হয়েছে, এমনকি শেষ পর্যন্ত যখন তা লিপিবদ্ধ করা হয়, ততক্ষণে তা ব্যাপক বিকৃতির কবলে পড়েছিল।

কুরআন আমাদের কাছে তার সেই মূল ভাষায় পৌঁছেছে যেভাবে তা অবতীর্ণ হয়েছিল। ফলে এটি অনুবাদের ক্ষেত্রে ঘটা বিভিন্ন পার্থক্য কিংবা বুঝার ক্ষেত্রে সংশয় তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়নি।

এটি আমাদের কাছে সরাসরি শ্রবণের (مشافهة) মাধ্যমে বর্ণিত হয়ে এসেছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ এটি পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করেছেন। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল এবং তাঁর পরবর্তী অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তা দুই মলাটের মাঝে একত্রিত করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। পবিত্র মুসহাফের বিদ্যমান প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলো যারা পর্যবেক্ষণ করেন—যা কুরআনের অবতীর্ণ হওয়ার প্রাথমিক যুগের—তারা জানেন যে, আল্লাহ তাআলা কুরআনকে কীভাবে বিশেষ যত্ন দিয়ে পরিবেষ্টিত করে রেখেছেন, যাতে কোনো মিথ্যা এর সামনে কিংবা পেছন থেকে আসতে না পারে; কারণ এটি প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

উম্মতে ইসলামীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শত ঝড়-ঝাপটা সত্ত্বেও তাদের মধ্য থেকে কেউ কুরআনের দিকে বিকৃতির হাত বাড়ায়নি, বরং তা করার সামর্থ্যও রাখেনি; আর তা সম্ভবই বা কীভাবে? বরং তারা নিজেদের মধ্যকার মতভেদ ও সংঘাত সত্ত্বেও কুরআনকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং এর প্রতি গভীর যত্নবান ছিলেন, যা মুসহাফ লিখন ও এর সংরক্ষণের ইতিহাস থেকে জানা যায়।

পরিশেষে; কুরআনের অবিকৃত থাকার সবচেয়ে বড় দলিল হলো স্বয়ং কুরআন। নবুওয়াতের যুগে কুরআন যে সকল বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত ছিল, তা এখনও বজায় রেখেছে। এটি এই উম্মতের ওপর তার প্রভাব বজায় রেখেছে এবং যুগের পর যুগ অলৌকিক ও অপরাজেয় হিসেবে টিকে আছে। মানুষ অবিরত এ থেকে জ্ঞান আহরণ করছে এবং এর সান্নিধ্যে আসছে; এর বিস্ময়কর দিকগুলো কখনো শেষ হয় না এবং বারবার পাঠেও এর মাধুর্য পুরনো হয় না।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
*‌‌ مراجع إثرائية:

1 - مدخل إلى القرآن الكريم، د. محمد دراز، ط. دار القلم.

2 - تاريخ القرآن عند الشيعة الاثنى عشرية، د. عبد العزيز الضامر، ط. مركز تكوين.

3 - موثوقية نقل القرآن، د. عبد الله موسى رمضان، ط. مكتبة التوعية.

4 - المصاحف المنسوبة للصحابة، د. محمد الطاسان، ط. دار التدمرية.

5 - رسم المصحف، د. غانم قدوري الحمد، ط. دار عمار.
‌‌ সহায়ক গ্রন্থাবলি:

1 - মাদখাল ইলাল কুরআনিল কারিম (কুরআনুল কারিমের প্রবেশিকা), ড. মুহাম্মদ দরাজ, দার আল-কালাম প্রকাশনী।

2 - দ্বাদশী শিয়াদের নিকট কুরআনের ইতিহাস, ড. আব্দুল আজিজ আদ-দামির, মারকাজ তাকউইন প্রকাশনী।

3 - কুরআনের বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা (موثوقية), ড. আব্দুল্লাহ মুসা রমাদান, মাকতাবাতুত তাওইয়াহ প্রকাশনী।

4 - সাহাবিদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (المنسوبة) মাসহাফসমূহ, ড. মুহাম্মদ আত-তাসান, দার আত-তাদমুরিয়্যাহ প্রকাশনী।

5 - রাসমুল মাসহাফ (কুরআনের লিখনরীতি), ড. গানিম কুদ্দুরি আল-হামাদ, দার আম্মার প্রকাশনী।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌ما المراد بكلمة (الوحي)؟

الوحي المقصود هنا: هو القرآن، فالقرآن هو الوحي الذي أنزله الله بواسطة جبريل عليه السلام على قلب محمد صلى الله عليه وسلم، كما قال تعالى: {نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ وَإِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ 3} [يوسف: 3]، وقال: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنْذِرَ يَوْمَ الْجَمْعِ لَا رَيْبَ فِيهِ فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ 7} [الشورى: 7]، وقال: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ 52} [الشورى: 52].

ويطلق الوحي في اللغة على: «الإعلام في خفاءٍ وسرعةٍ»، وهو بهذا المفهوم يشمل الوحي العام، والوحي الخاص.

فالوحي قسمان: عام، وخاص.

 

‌‌القسم الأول: الوحي العام.

فالوحي العام يشمل: الإشارة، والإيماء، والإلهام، ويشمل أيضًا ما إذا كان الإعلام من الخير أو الشر.
ওহী (الوحي) শব্দ দ্বারা কী উদ্দেশ্য?

এখানে উদ্দেশ্যকৃত ওহী (الوحي) হলো কুরআন। কুরআন হলো সেই ওহী (الوحي) যা আল্লাহ তাআলা জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে নাযিল করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, আপনার কাছে এই কুরআন ওহী (الوحي) করার মাধ্যমে; যদিও এর আগে আপনি এ বিষয়ে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।} [ইউসুফ: ৩], এবং তিনি আরও বলেছেন: {এভাবেই আমি আপনার প্রতি আরবি ভাষায় কুরআন ওহী (الوحي) করেছি, যাতে আপনি মক্কাবাসী ও এর আশপাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন একত্রিত হওয়ার দিন সম্পর্কে, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; একদল জান্নাতে যাবে এবং একদল জাহান্নামে।} [আশ-শূরা: ৭], এবং তিনি আরও বলেছেন: {এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি। আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী, কিন্তু আমি একে নূর বা জ্যোতি করেছি, যা দিয়ে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করছেন।} [আশ-শূরা: ৫২]।

আভিধানিক অর্থে ওহী (الوحي) বলতে বোঝায়: «গোপনে ও দ্রুততার সাথে কোনো কিছু সংবাদ প্রদান করা»; এই অর্থ অনুযায়ী এটি সাধারণ ওহী (الوحي العام) এবং বিশেষ ওহী (الوحي الخاص)-কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ওহী (الوحي) দুই প্রকার: সাধারণ ও বিশেষ।

 

প্রথম প্রকার: সাধারণ ওহী (الوحي العام)।

সাধারণ ওহী (الوحي العام) এর অন্তর্ভুক্ত হলো: ইঙ্গিত, ইশারা এবং ইলহাম (إلهام); এছাড়া সংবাদ প্রদান করাটি কল্যাণকর হোক বা অকল্যাণকর—উভয়ই এর আওতাভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فمن أنواع الوحي العام:

1 - الإلهام، والمقصود به: الإلهام الفطري.

ومنه: ما وقع لأم موسى عليه السلام، قال تعالى: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ 7} [القصص: 7].

ومنه: ما حصل للحواريين (أصحاب عيسى عليه السلام، كما قال تعالى: {وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ أَنْ آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ 111} [المائدة: 111].

وقد يقع الإلهام لبعض المخلوقات، كما أخبر الله عن النحل، قائلًا: {وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ 68} [النحل: 68].

2 - ما يلقيه الله تعالى لملائكته، قال تعالى: {إِذْ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى الْمَلَائِكَةِ أَنِّي مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا الَّذِينَ آمَنُوا سَأُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ فَاضْرِبُوا فَوْقَ الْأَعْنَاقِ وَاضْرِبُوا مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍ 12} [الأنفال: 12].

3 - ويطلق الوحي بهذا المفهوم العام على فعل بعض المخلوقين، كما قال سبحانه عن زكريا عليه السلام، {فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا 11} [مريم: 11]، فالمعنى: أشار إليهم أن يُسَبِّحوا الله بكرة وعشيًا.

4 - ويطلق الوحي بهذا المفهوم العام على ما يلقيه الشياطين إلى أوليائهم، قال تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ 112} [الأنعام: 112].
সাধারণ ওহির (وحي) প্রকারভেদসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১ - ইলহাম (إلهام), আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: স্বভাবজাত ইলহাম (إلهام)।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যা মূসা আলাইহিস সালামের মাতার ক্ষেত্রে ঘটেছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি মূসার জননীকে ইলহাম (أوحينا) করলাম যে, তাকে দুধ পান করাও। যখন তুমি তার ব্যাপারে কোনো আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো। তুমি ভয় পেও না এবং চিন্তিতও হয়ো না। নিশ্চয়ই আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করব। ৭} [কাসাস: ৭]।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যা হাওয়ারীদের (ঈসা আলাইহিস সালামের সঙ্গীগণ) ক্ষেত্রে ঘটেছিল; যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন আমি হাওয়ারীদের ইলহাম (أوحيت) করেছিলাম যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনো। তারা বলেছিল, ‘আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা মুসলিম’। ১১১} [মায়েদা: ১১১]।

কোনো কোনো সৃষ্টির ক্ষেত্রেও ইলহাম (إلهام) হতে পারে, যেমনটি আল্লাহ মৌমাছি সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {আর আপনার প্রতিপালক মৌমাছিকে ইলহাম (أوحى) করলেন যে, তোমরা পাহাড়ে, গাছে এবং মানুষের তৈরি মাচায় নিজেদের ঘর বানিয়ে নাও। ৬৮} [নাহল: ৬৮]।

২ - আল্লাহ তাআলা যা তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি নির্দেশ হিসেবে প্রেরণ করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদের প্রতি ওহি (يوحي) পাঠালেন যে, ‘আমি তোমাদের সাথে আছি, সুতরাং তোমরা মুমিনদের অবিচল রাখো। শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করব। কাজেই তোমরা আঘাত করো তাদের গর্দানের ওপর এবং আঘাত করো তাদের প্রতিটি আঙুলের জোড়ায়’। ১২} [আনফাল: ১২]।

৩ - এই সাধারণ ধারণায় ওহি (وحي) শব্দটি কোনো কোনো সৃষ্টির কাজের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জাকারিয়া আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: {অতঃপর তিনি মেহরাব থেকে বের হয়ে স্বজাতির কাছে এলেন এবং তাদের প্রতি ইশারা (أوحى) করলেন যে, তোমরা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো। ১১} [মারইয়াম: ১১]। এখানে অর্থ হলো: তিনি তাদের প্রতি ইশারা করলেন যেন তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে।

৪ - এই সাধারণ ধারণায় ওহি (وحي) শব্দটি শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্রতি যা প্ররোচনা দেয় তার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি; তারা ধোঁকা দেওয়ার জন্য একে অপরকে চটকদার কথাবার্তার কুমন্ত্রণা (يوحي) দেয়। আপনার প্রতিপালক চাইলে তারা তা করত না। কাজেই আপনি তাদের এবং তাদের মিথ্যাচারকে বর্জন করুন। ১১২} [আনআম: ১১২]।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌القسم الثاني: الوحي بالمفهوم الشرعي.

أما الوحي بالمفهوم الشرعي، فيطلق على «إعلام الله لنبي من أنبيائه، بكيفيَّة معينةٍ، بنبوته، وما يتبعها من أوامرَ ونواهٍ وأخبار».

وهذا الوحي بالمفهوم الشرعي له أنواع متعددة، ذكر الله تعالى أعلاها في قوله: {وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ 51} [الشورى: 51].

هذه مقاماتُ الوحي بالنسبة إلى جناب الله عز وجل:

1 - فتارةً يُقذف في روع النَّبي صلى الله عليه وسلم شيءٌ لا يتمارى فيه أنه من الله عز وجل، وهذا يقع يقظة ومنامًا.

2 - وتارةً يقع بتكليم الله عز وجل مباشرة من وراء حجاب، كما حصل لموسى عليه السلام.

3 - وتارةً يقع بتكليم المَلَك، وبهذه الطريقة وقع نزول القرآن، فقد نزل به جبريل عليه السلام.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ি পরিভাষায় ওহি (وحي)।

আর শরয়ি পরিভাষায় ওহি (وحي) বলতে বুঝায়: ‘আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর কোনো নবীকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তাঁর নবুওয়াত (نبوة) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আদেশ, নিষেধ ও সংবাদ সম্পর্কে অবহিত করা।’

শরয়ি সংজ্ঞার এই ওহির (وحي) বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে এর সর্বোচ্চ স্তরগুলো উল্লেখ করেছেন: {কোনো মানুষের জন্য এমন হওয়ার অবকাশ নেই যে, আল্লাহ তার সঙ্গে কথা বলবেন ওহি (وحي) ব্যতিরেকে অথবা পর্দার আড়াল থেকে কিংবা কোনো দূত প্রেরণের মাধ্যমে, অতঃপর সে তাঁর অনুমতিক্রমে যা তিনি চান তা ওহি (وحي) হিসেবে পৌঁছে দেয়; নিশ্চয়ই তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়।} [সুরা আশ-শুরা: ৫১]।

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي) অবতীর্ণ হওয়ার স্তরগুলো নিম্নরূপ:

1 - কখনও কখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ে এমন কিছু প্রক্ষিপ্ত করা হয় যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় থাকে না। এটি জাগ্রত অবস্থায় কিংবা স্বপ্নযোগে (مناما) ঘটে থাকে।

2 - কখনও সরাসরি পর্দার আড়াল থেকে মহান আল্লাহর কথোপকথনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেমনটি মুসা আলাইহিস সালাম-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

3 - কখনও ফেরেশতার (ملك) মাধ্যমে কথোপকথনের দ্বারা হয়ে থাকে; আর এই পদ্ধতিতেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, কেননা জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌كيف كانت حال النَّبي صلى الله عليه وسلم عند نزول الوحي؟

ورد ذلك في بعض الأحاديث، والتي وصفت حال النَّبي صلى الله عليه وسلم حين ينزل عليه الوحي، ومن هذه الأحاديث:

1 - عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها، أن الحارث بن هشام رضي الله عنه سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «يا رسول الله، كيف يأتيك الوحي؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أحيانًا يأتيني مثل صلصلة الجرس، وهو أشده علي، فيفصم عني وقد وعيت عنه ما قال، وأحيانًا يتمثل لي الملك رجلًا فيكلمني فأعِي ما يقول» قالت عائشة رضي الله عنها: ولقد رأيته ينزل عليه الوحي في اليوم الشديد البرد، فيَفصِم عنه وإنَّ جبينه ليتفصد عرقًا»، [رواه البخاري: (2)].

[(صلصلة) هي صوت الحديد إذا حرك وتطلق على كل صوت له طنين. والمشبه هنا صوت الملك بالوحي. (فيفصم) يُقْلِع، ويذهب. (وعيت) فهمت وحفظت. (لَيتَفَصَّد) يسيل، مبالغة من كثرة عرقه].

2 - عن ابن عباس في قوله تعالى: {لا تحرك به لسانك لتعجل به} [القيامة: 16] قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعالِجُ من التَّنزيل شدة، وكان ممَّا يحرك شفتيه - فقال ابن عباس: فأنا أحركهما لكم كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحركهما،
ওহি (وحي) অবতীর্ণ হওয়ার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা কেমন ছিল?

এটি কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যা ওহি (وحي) নাজিল হওয়ার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থার বর্ণনা দেয়। সেই হাদিসগুলোর মধ্যে রয়েছে:

1 - উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, হারিস ইবনে হিশাম রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: «হে আল্লাহর রাসূল, আপনার কাছে ওহি (وحي) কীভাবে আসে?» তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «কখনো কখনো তা আমার কাছে ঘণ্টার ঝংকারের (صلصلة) মতো আসে, আর এটিই আমার ওপর সবচেয়ে কষ্টদায়ক হয়। অতঃপর তা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন (فيفصم) হয় এবং তিনি যা বলেছেন তা আমি আয়ত্ত (وعيت) করে ফেলি। আবার কখনো কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার সাথে কথা বলেন এবং তিনি যা বলেন আমি তা বুঝতে পারি।» আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: «আমি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহি (وحي) অবতীর্ণ হতে দেখেছি, যখন তা শেষ হতো তখন তাঁর কপাল থেকে ঘাম প্রবাহিত (ليتفصد) হতো।», [বুখারি বর্ণনা করেছেন: (২)]।

[ঝংকার (صلصلة) হলো লোহা নাড়ালে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তা, এবং প্রতিটি প্রতিধ্বনিযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। এখানে ওহি (وحي)-এর সময় ফেরেশতার আওয়াজকে এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হওয়া (فيفصم) অর্থ সমাপ্ত হওয়া বা চলে যাওয়া। আয়ত্ত করা (وعيت) অর্থ বুঝতে পারা এবং মুখস্থ করা। প্রবাহিত হওয়া (لَيتَفَصَّد) অর্থ ঝরা বা গড়িয়ে পড়া, ঘামের আধিক্য বুঝাতে এটি অতিশয়োক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে]।

2 - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণিত: {তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করার জন্য আপনি ওহি (وحي) অবস্থায় আপনার জবান নাড়বেন না} [কিয়ামাহ: ১৬]। তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহি (وحي) অবতীর্ণ হওয়ার সময় তীব্রতা অনুভব করতেন এবং প্রায়ই তাঁর ঠোঁট নাড়াতেন - ইবনে আব্বাস বলেন: আমি আমার ঠোঁট সেভাবেই নাড়াচ্ছি যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাড়াতেন,
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقال سعيد: أنا أحركهما كما رأيت ابن عباس يحركهما، فحرَّك شفتيه - فأنزل الله تعالى: {لا تحرك به لسانك لتعجل به إن علينا جمعه وقرآنه} [القيامة: 17] قال: جمعه لك في صدرك وتقرؤه: {فإذا قرأناه فاتبع قرآنه} [القيامة: 18] قال: فاستمع له وأنصت: {ثم إن علينا بيانه} [القيامة: 19] ثم إنَّ علينا أن تقرأه، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك إذا أتاه جبريل استمع فإذا انطلق جبريل قرأه النَّبي صلى الله عليه وسلم كما قرأه»، [رواه البخاري: (5)].

[يعالج من التنزيل شدة: يتكلف ويتحمل من تنزيل القرآن عليه شِدَّة، وسبب الشِّدَّة: هيبة الملك، وما جاء به، وثقل الوحي].
সাইদ বলেন: "আমি আমার ঠোঁট দুটি সেভাবেই নাড়াচ্ছি যেভাবে আমি ইবনে আব্বাসকে তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়াতে দেখেছি।" অতঃপর তিনি তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়ালেন—তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {তাড়াহুড়ো করে তা আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা দ্রুত নাড়াবেন না। নিশ্চয়ই তা (আপনার অন্তরে) একত্রিত করা এবং তা পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব} [ক্বিয়ামা: ১৭]। তিনি বলেন: (এর অর্থ) তা আপনার বক্ষস্থলে একত্রিত করা এবং আপনার মাধ্যমে তা পাঠ করানো। {সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন} [ক্বিয়ামা: ১৮]। তিনি বলেন: অর্থাৎ আপনি মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন এবং নিশ্চুপ থাকুন। {অতঃপর তার ব্যাখ্যা করে দেওয়া আমাদেরই দায়িত্ব} [ক্বিয়ামা: ১৯]। অর্থাৎ এরপর তা আপনার মাধ্যমে পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। এরপর থেকে যখনই জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসতেন, তিনি মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করতেন। যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) চলে যেতেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সেভাবেই পাঠ করতেন যেভাবে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) পাঠ করেছিলেন। [বুখারি বর্ণনা করেছেন: ৫]।

[তিনি ওহি অবতীর্ণ হওয়ার সময় তীব্রতা অনুভব করতেন: অর্থাৎ কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় তিনি অত্যন্ত শ্রম ও কষ্ট সহ্য করতেন। এই কষ্টের কারণ ছিল: ফেরেশতার গাম্ভীর্য, তাঁর আনীত বার্তা এবং ওহির গুরুভার]।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌صف لحظة نزول القرآن.

ورد ذلك في حديث السيدة عائشة رضي الله عنها، ولأدعك مع الحديث الجليل، لتتأمله جيدًا:

عن عائشة أم المؤمنين أنها قالت: «أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح، ثم حبب إليه الخلاء، وكان يخلو بغار حراء فيتحنث فيه - وهو التعبد - الليالي ذوات العدد قبل أن ينزع إلى أهله، ويتزود لذلك، ثم يرجع إلى خديجة فيتزود لمثلها، حتى جاءه الحق وهو في غار حراء، فجاءه الملك فقال: اقرأ، قال: «ما أنا بقارئ»، قال: (فأخذني فغطني حتى بلغ مني الجهد ثم أرسلني، فقال: اقرأ، قلت: ما أنا بقارئ، فأخذني فغطني الثانية حتى بلغ مني الجهد ثم أرسلني، فقال: اقرأ، فقلت: ما أنا بقارئ، فأخذني فغطني الثالثة ثم أرسلني، فقال: {اقرأ باسم ربك الذي خلق. خلق الإنسان من علق. اقرأ وربك الأكرم. الذي علم بالقلم. علم الإنسان ما لم يعلم} [العلق]).

فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف فؤاده، فدخل على خديجة بنت خويلد رضي الله عنها، فقال: «زملوني زملوني» فزملوه حتى ذهب عنه الروع، فقال لخديجة وأخبرها الخبر: «لقد خشيت على نفسي» فقالت خديجة: كلا والله ما
‌কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মুহূর্তের বর্ণনা।

এটি সাইয়্যিদা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। আমি সেই মহান হাদিসটি আপনার সম্মুখে উপস্থাপন করছি, যাতে আপনি তা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন:

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহি (وحي) শুরুর প্রথম পর্যায় ছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্ন (الرؤيا الصالحة) দর্শন। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোর ন্যায় প্রকাশিত হতো। অতঃপর নির্জনে অবস্থান করা তাঁর কাছে প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে পরিবারের কাছে ফিরে না এসে একটানা কয়েক রাত ইবাদত (التعبد) করতেন। এর জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পাথেয় সাথে নিতেন। পুনরায় তিনি খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য আবার পাথেয় নিয়ে যেতেন। অবশেষে হেরা গুহায় অবস্থানকালেই তাঁর নিকট সত্যের আগমন ঘটল। তাঁর নিকট ফেরেশতা এসে বললেন: ‘পাঠ করুন’। তিনি বললেন: «আমি পাঠ করতে জানি না»। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বলেন: (তখন ফেরেশতা আমাকে ধরে সজোরে আলিঙ্গন করলেন, যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: ‘পাঠ করুন’। আমি বললাম: «আমি পাঠ করতে জানি না»। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে ধরে সজোরে আলিঙ্গন করলেন, যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: ‘পাঠ করুন’। আমি বললাম: «আমি পাঠ করতে জানি না»। অতঃপর তিনি তৃতীয়বার আমাকে সজোরে আলিঙ্গন করে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ (জমাট রক্ত) থেকে। পাঠ করুন এবং আপনার পালনকর্তা মহামহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।} [সূরা আল-আলাক])।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রকম্পিত হৃদয়ে তা নিয়ে ফিরে আসলেন এবং খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করে বললেন: «আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো, আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো»। তখন তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে আবৃত করলেন, যতক্ষণ না তাঁর আতঙ্ক দূরীভূত হলো। এরপর তিনি খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে সমস্ত ঘটনা অবগত করে বললেন: «আমি নিজের প্রাণের আশঙ্কা করছি»। তখন খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: কক্ষনো নয়, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ কখনোই আপনাকে...
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
يخزيك الله أبدا، إنك لتصل الرحم، وتحمل الكل، وتكسب المعدوم، وتقري الضيف، وتعين على نوائب الحق، فانطلقت به خديجة حتى أتت به ورقة بن نوفل بن أسد بن عبد العزى ابن عم خديجة وكان امرأ تنصر في الجاهلية، وكان يكتب الكتاب العبراني، فيكتب من الإنجيل بالعبرانية ما شاء الله أن يكتب، وكان شيخًا كبيًرا قد عمي، فقالت له خديجة: يا ابن عم، اسمع من ابن أخيك، فقال له ورقة: يا ابن أخي ماذا ترى؟ فأخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم خبر ما رأى، فقال له ورقة: هذا الناموس الذي نزل الله على موسى، يا ليتني فيها جذعًا، ليتني أكون حيًّا إذ يخرجك قومك، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أو مخرجي هم»، قال: نعم، لم يأت رجل قط بمثل ما جئت به إلا عودي، وإن يدركني يومك أنصرك نصرًا مؤزرًا.

ثم لم ينشب ورقة أن توفي، وفتر الوحي صلى الله عليه وسلم، [رواه البخاري: (3)].

[غطَّني، أي: ضمه بشدة].

আল্লাহ আপনাকে কখনোই অপদস্থ করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্যের পথে আপতিত বিপদে সাহায্য করেন। অতঃপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযার নিকট গেলেন। তিনি জাহেলিয়াত যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হিব্রু লিপি লিখতে জানতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী হিব্রু ভাষায় ইনজিল থেকে অনুলিপি করতেন। তিনি তখন এক অতি বৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদিজা তাঁকে বললেন, ‘হে আমার চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।’ ওয়ারাকা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে ভাতিজা! তুমি কী দেখতে পাও?’ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা দেখেছিলেন তার বিবরণ প্রদান করলেন। তখন ওয়ারাকা তাঁকে বললেন, ‘ইনি সেই রহস্য বহনকারী দূত (الناموس), যাকে আল্লাহ মুসার নিকট অবতীর্ণ করেছিলেন। হায়! আমি যদি সেই দাওয়াতি অভিযানে যুবক থাকতাম! হায়! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যেদিন তোমার কওম তোমাকে বের করে দিবে!’ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তারা কি আমাকে সত্যিই বের করে দিবে?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছ, অতীতে যে ব্যক্তিই অনুরূপ কিছু নিয়ে এসেছেন, তাঁর সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। যদি আমি তোমার সেই দিনটি পাই, তবে তোমাকে বলিষ্ঠভাবে সাহায্য করব।’

অতঃপর অনতিবিলম্বে ওয়ারাকা ইন্তেকাল করলেন এবং ওহি (الوحي) আসাও স্থগিত হয়ে গেল। [বুখারি কর্তৃক বর্ণিত: ৩]

[আমাকে আচ্ছাদিত করলেন, অর্থাৎ: আমাকে অত্যন্ত সজোরে চেপে ধরলেন]।
(খণ্ড: ১) আদ-দালীল ইলাল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌هل نزل القرآن جملة واحدة أم نزل مفرقًا، وما فائدة تفريقه؟

نزل القرآن على النَّبي صلى الله عليه وسلم مدة ثلاثٍ وعشرين سنة، وهي مدة بعثته صلى الله عليه وسلم، قال عز وجل: {وقال الذين كفروا لولا نزل عليه القرآن جملة واحدة كذلك لنثبت به فؤادك ورتلناه ترتيلا} [الفرقان: 32].

وأما عن فوائد هذا النزول المنجم (أي: المفرق)، فمنها:

1 - تثبيت قلب النَّبي صلى الله عليه وسلم، ولقد كان تأخر الوحي عن رسول الله يقلقه كثيرًا، محبة منه لكلام ربه سبحانه وبحمده.

2 - مواكبة الحوادث والمسائل التي تقع في عصر النبوة، إذ كان القرآن ينزل بشأنها؛ تلك الحوادث والمسائل هي أسباب النزول التي صارت علمًا مُهمًّا لمن أراد أن يفسِّر القرآن.

3 - التَّدرج في التشريع وبيان الأحكام والحدود، فالشريعة لم تنزل جملة واحدة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، بل كان ينزل منها الشيء بعد الشيء من تفاصيل الأحكام والحدود حتى اكتملت الشريعة وتم الدين.
‌কুরআন কি একযোগে অবতীর্ণ হয়েছে নাকি পৃথকভাবে, এবং এর পৃথকভাবে অবতীর্ণ হওয়ার উপকারিতা কী?

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর তেইশ বছর ধরে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, যা ছিল তাঁর নবুওয়াতের (بعثته) সময়কাল। মহান আল্লাহ বলেন: {আর কাফিররা বলে, ‘তাঁর ওপর কেন কুরআন একবারে অবতীর্ণ করা হলো না?’ এভাবেই আমি আপনার অন্তরকে এর মাধ্যমে মজবুত করার জন্য এবং সুবিন্যস্তভাবে তা পাঠ করার জন্য (এভাবে অবতীর্ণ করেছি)।} [আল-ফুরকান: ৩২]।

আর এই পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ (النزول المنجم) (অর্থাৎ: পৃথকভাবে)-এর উপকারিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

1 - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরকে দৃঢ় করা; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ওহি আসতে দেরি হলে তাঁর রবের বাণীর প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে তিনি অনেক সময় বিচলিত বোধ করতেন।

2 - নবুওয়াতের যুগে ঘটে যাওয়া ঘটনা ও মাসআলাগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলা, যেহেতু কুরআন সেসব বিষয়ে অবতীর্ণ হতো; এই ঘটনা ও মাসআলাগুলোই হলো অবতরণের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول), যা কুরআন তাফসির করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যায় (علم) পরিণত হয়েছে।

3 - শরিয়ত প্রবর্তন (التشريع) এবং বিধানসমূহ (الأحكام) ও দণ্ডবিধি (الحدود) বর্ণনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা; কেননা শরিয়ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর একযোগে অবতীর্ণ হয়নি, বরং বিধানসমূহ (الأحكام) ও দণ্ডবিধি (الحدود)-এর বিস্তারিত বিবরণ একের পর এক অবতীর্ণ হয়েছে, যতক্ষণ না শরিয়ত পূর্ণতা পেয়েছে এবং দ্বীন সম্পন্ন হয়েছে।