(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: -)
جامع الأحاديث   (الجلال السيوطي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: جامع الأحاديث (ويشتمل على جمع الجوامع للسيوطى والجامع الأزهر وكنوز الحقائق للمناوى، والفتح الكبير للنبهانى)

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

ضبط نصوصه وخرج أحاديثه: فريق من الباحثين بإشراف د على جمعة (مفتي الديار المصرية)

طبع على نفقة: د حسن عباس زكى

عدد الأجزاء: 13

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জামিউল আহাদিস   (জালালুদ্দিন সুয়ূতী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: জামিউল আহাদিস (এবং এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সুয়ূতীর জামউল জাওয়ামি', আল-জামি' আল-আজহার, মুনাবীর কুনুজুল হাকায়েক এবং নাবহানির আল-ফাতহুল কাবীর)

লেখক: আবদুর রহমান বিন আবু বকর، জালালুদ্দিন সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হিজরি)

মূল পাঠ সম্পাদনা ও হাদিস যাচাইকরণ: ড. আলী জুমুআর (মিসরের মুফতি) তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক

যার অর্থায়নে মুদ্রিত: ড. হাসান আব্বাস জাকি

খণ্ড সংখ্যা: ১৩

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: -)
جامع الأحاديث

ويشتمل على جمع الجوامع للإمام السيوطى

والجامع الأزهر وكنوز الحقائق للمناوى، والفتح الكبير للنبهانى

 

النسخة الوحيدة المرتبة هجائيا فى قسمي الأقوال والأفعال

منذ عهد السيوطى حتى الآن

 

قام بضبط نصوصه وتخريج أحاديثه

فريق من الباحثين بإشراف

الأستاذ الدكتور على جمعة الشافعى (مفتي الديار المصرية)

 

طبع على نفقة

الأستاذ الدكتور حسن عباس زكى

 

الطبعة الأولى

1423 هـ /2002 م
হাদিসসমূহের সংকলন

এবং এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইমাম সুয়ূতী-র 'জামউল জাওয়ামে'

আল-মুনাওয়ীর 'আল-জামেউল আযহার' ও 'কুনুযুল হাকায়েক' এবং আন-নাবহানীর 'আল-ফাতহুল কাবীর'

 

কথা ও কাজ—উভয় বিভাগে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত একমাত্র সংস্করণ

সুয়ূতীর যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত

 

এর পাঠ্যসমূহ বিন্যাস এবং হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (তাখরীজ) করেছে

একদল গবেষক, যাঁদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন

প্রফেসর ডক্টর আলী জুমা আশ-শাফিয়ী (মিশরের গ্র্যান্ড মুফতী)

 

যাঁর অর্থায়নে মুদ্রিত

প্রফেসর ডক্টর হাসান আব্বাস জাকি

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২৩ হিজরী / ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

جامع الأحاديث

ويشتمل على جمع الجوامع للإمام السيوطى

والجامع الأزهر وكنوز الحقائق للمناوى، والفتح الكبير للنبهانى

النسخة الوحيدة المرتبة هجائيا فى قسمى الأقوال والأفعال

***

‌‌مقدمة السيوطى فى الجامع الكبير

سبحان الله مُبْدِى الكواكب اللوامع، ومنشىء السحائب الهوامع (1) ، ومُعْلِى السُّنَّة الشريفة، وأربابها فى مجامع الصدور، وصدور المجامع، باعث النبى العربى بالكَلِم الجوامع، والحكم الروائع، ومؤيده بالدلائل القواطع، والبراهين السواطع، فَشَنَّفَ (2) بحديثه المسامع، وسَيَّفَ (3) من عانده فى معارك المعامع (4) ، وقطع من أهل الشرك أعناق الأعناق، ومطايا (5) المطامع،

--------------------------------------------

(1) الهوامع: الممطرة. مفردها هَمِعَة.

‌‌(2) فشنف بحديثه: أمتع الآذان به.

‌‌(3) وسَيَّف: ضرب بالسيف.

‌‌(4) المعامع: الحروب أو الفتن.

‌‌(5) المطايا فى أصل اللغة ما يتخذ للركوب والسير عليها. واحدتها: مطيَّة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

জামিউল আহাদিস

যা ইমাম সুয়ুতির 'জামউল জাওয়ামি' অন্তর্ভুক্ত করে

এবং মানাভির 'আল-জামিউল আজহার' ও 'কুনুজুল হাকায়িক', এবং নাবহানির 'আল-ফাতহুল কাবীর'

কথা ও কাজ—উভয় বিভাগে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত একমাত্র সংস্করণ

***

‌‌'আল-জামেউল কাবীর'-এ সুয়ুতির ভূমিকা

সকল মহিমা আল্লাহর, যিনি উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির উদ্ভাসক এবং বর্ষণমুখর মেঘমালার সৃষ্টিকর্তা। যিনি সম্মানিত সুন্নাহ ও এর ধারক-বাহকদের উচ্চমর্যাদা দান করেছেন অন্তরের অন্তঃস্থলে এবং সভা-সমাবেশের অগ্রভাগে। যিনি আরবি নবীকে প্রেরণ করেছেন ব্যাপক অর্থবোধক বাণী ও বিস্ময়কর প্রজ্ঞাপূর্ণ হিকমতসহ এবং তাকে শক্তিশালী করেছেন অকাট্য প্রমাণাদি ও সমুজ্জ্বল দলিলের মাধ্যমে। ফলে নবী তাঁর হাদিসের মাধ্যমে কর্ণকুহরকে পরিতৃপ্ত করেছেন এবং যুদ্ধের ভয়াবহ ময়দানে হঠকারিতা প্রদর্শনকারীদের তলোয়ারের আঘাতে পর্যুদস্ত করেছেন। আর তিনি শিরকপন্থীদের গর্দান এবং তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বাহনসমূহ ছিন্ন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-হাওয়ামি: বৃষ্টিবাহী মেঘমালা। এর একবচন হলো হামিআহ।

‌‌(২) তাঁর হাদিসের মাধ্যমে কানকে অলঙ্কৃত করেছেন: এর দ্বারা শ্রবণেন্দ্রিয়কে আনন্দ দান করেছেন।

‌‌(৩) সাইয়্যাফা: তলোয়ার দিয়ে আঘাত করা।

‌‌(৪) আল-মাআ’মি: যুদ্ধবিগ্রহ অথবা ফিতনা-ফ্যাসাদ।

‌‌(৫) আল-মাতায়া: আভিধানিক মূলে যা আরোহণ ও পথ চলার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর একবচন হলো মাতিয়াহ।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ২)
ووعدهم فى المآب (1) بالحميم من الشراب، ولهم من الحديد مقامع (2) .

صلى الله عليه، وعلى آله، وصحبه ما أُنْهِلَتْ المنابع (3) ، وانهملت عند ذكر حديثه المدامع (4) ، وسَلَّمَ تسليماً.

--------------------------------------------

(1) المآب: يوم القيامة، سمى كذلك لأن الناس يؤبون فيه إلى الله، أى: يرجعون.

‌‌(2) المقامع: جمع مِقْمَعة، وهى: حديدة أو خشبة، معوجة الرأس يضرب بها رأس الفيل ونحوه ليذل ويهان.

‌‌(3) أُنْهِلَتْ المنابع: اتخذت مناهل. والمنهل: هو كل ماء على الطريق يقرب على المسافرين الأخذ والارتواء منه.

‌‌(4) انهملت المدامع: فاضت العيون وسالت بالدموع.
এবং তিনি তাদের প্রত্যাবর্তনস্থলে (১) ফুটন্ত পানীয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর তাদের জন্য থাকবে লোহার মুগুর (২)।

আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গের ওপর এবং তাঁর সাথীদের ওপর যতক্ষণ ঝর্ণাধারাগুলো প্রবহমান থাকবে (৩) এবং তাঁর হাদীস আলোচনার সময় নেত্রপল্লব হতে অশ্রু বিগলিত হবে (৪), আর তিনি অর্পণ করুন অবারিত সালাম।

--------------------------------------------

(১) আল-মাআব: কিয়ামত দিবস, একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ মানুষ সেদিন আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে, অর্থাৎ প্রত্যাবর্তন করবে।

‌‌(২) আল-মাকামি': এটি মিকমা'আহ এর বহুবচন; যা হলো এমন লোহার বা কাঠের দণ্ড যার মাথা বাঁকানো থাকে এবং হাতি বা এজাতীয় প্রাণীর মাথায় তা দিয়ে আঘাত করা হয় যাতে তাকে বশীভূত ও লাঞ্ছিত করা যায়।

‌‌(৩) ঝর্ণাধারাগুলো প্রবহমান হওয়া: পান করার আধার হিসেবে গ্রহণ করা। মানহাল হলো পথের ধারের এমন পানির আধার যা থেকে পথিকদের পানি সংগ্রহ করা এবং তৃষ্ণা নিবারণ করা সহজ হয়।

‌‌(৪) অশ্রু বিগলিত হওয়া: চক্ষুদ্বয় অশ্রুসজল হওয়া এবং অশ্রু প্রবাহিত হওয়া।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ৩)
هذا كتاب شريف حافل (1) ، ولُباب مُنِيف رافل (2) ، بجميع الأحاديث الشريفة النبوية كافل (3) ، قصدت فيه إلى استيفاء الأحاديث النبوية، وأرصدته (4) مفتاحاً لأبواب المسانيد العلية.

وقسمته قسمين:

--------------------------------------------

(1) حافل: جامع، يقال: (حفل الماء) : اجتمع.

‌‌(2) لباب منيف رافل: اللباب: خالص كل شىء. والمنيف: المشرف على غيره من علو، يقال: قصر منيف: طويل فى ارتفاع يشرف ويعلو على غيره. وعز منيف: عالٍ تامٌّ. والرافل: الثوب السابغ الطويل ذيله. والرافل من الناس: الذى يرفل فى

ثيابه، ويجرها متبختراً. وصف كتابه بأنه بالنسبة إلى غيره من الكتب لبابها وخالصها، ينوف عليها ويعلو، ويخال عليها.

‌‌(3) كافل: ضامن.

‌‌(4) أرصدته: أعددته، وهيئته مخصِّصا له بما أرصده له.
এটি একটি মহান ও পূর্ণাঙ্গ কিতাব (১), এবং এটি উচ্চমর্যাদার এক শ্রেষ্ঠ নির্যাস (২), যা সমস্ত সম্মানিত নববী হাদিসকে ধারণকারী (৩)। এতে আমি নববী হাদিসসমূহকে পূর্ণাঙ্গভাবে সংকলন করার সংকল্প করেছি এবং একে উচ্চমর্যাদার মুসনাদসমূহের চাবিকাঠি হিসেবে প্রস্তুত করেছি (৪)।

এবং আমি একে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:

--------------------------------------------

(১) হাফিল: সংগ্রাহক; বলা হয়: (পানি জমা হওয়া): অর্থাৎ একত্রিত হওয়া।

‌‌(২) লুবাবুন মুনিফুন রাফিল: লুবাব হলো কোনো জিনিসের খাঁটি নির্যাস। মুনিফ হলো যা উচ্চতার কারণে অন্য সবকিছুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে; বলা হয়: (সুউচ্চ প্রাসাদ): এমন দীর্ঘ প্রাসাদ যা অন্য সবকিছুর ওপর মাথা তুলে দাঁড়ায় এবং উচ্চতায় ছাড়িয়ে যায়। আর (উচ্চ মর্যাদা): সুউচ্চ ও পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা। রাফিল হলো এমন প্রশস্ত পোশাক যার প্রান্তভাগ দীর্ঘ। মানুষের মধ্যে রাফিল হলো সেই ব্যক্তি, যে তার পোশাকে আভিজাত্যের সাথে হেলেদুলে পথ চলে। তিনি তার কিতাবকে অন্য সব কিতাবের তুলনায় সেগুলোর নির্যাস ও বিশুদ্ধ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা সেগুলোর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে, উচ্চতা লাভ করে এবং প্রাধান্য বিস্তার করে।

‌‌(৩) কাফিল: জিম্মাদার বা অন্তর্ভুক্তকারী।

‌‌(৪) আরসাদতুহু: আমি একে প্রস্তুত করেছি এবং সাজিয়েছি, একে সেই বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করে যা আমি এর জন্য নির্ধারণ করেছি।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ৪)
الأول: أسوق فيه لفظ المصطفى بنصه، وَأُطَوِّقُ كل خاتم منه بفصه (1) ، وأتبع متن الحديث بذكر من خَرَّجه من الأئمة أصحاب الكتب المعتبرة، ومن رواه من الصحابة رضوان الله عليهم من واحد إلى عشرة، أو أكثر من عشرة، سالكاً طريقة يعرف منها صحة الحديث، وحسنه، وضعفه، مُرَتَّباً ترتيب اللغة على حروف المعجم، مراعياً أول الكلمة فما بعده.

ورمزت للبخارى: (خ) ، ولمسلم: (م) ، ولابن حبان: (حب) ، وللحاكم فى المستدرك: (ك) ، والضياء المقدسى فى المختارة: (ض) . وجميع ما فى هذه الخمسة صحيح، فالعزو إليها مُعْلِمٌ بالصحة، سوى ما فى المستدرك من المتعقب، فأنبه عليه (2) . وكذا ما فى موطأ مالك، وصحيح ابن خزيمة، وأبى عوانة، وابن السكن، والمنتقى لابن الجارود، والمستخرجات، فالعزو إليها مُعْلِم بالصحة أيضاً.

--------------------------------------------

(1) أى: ألبس كل خاتم فصَّه الذى يناسبه.

‌‌(2) لم يطرد على هذا فى النسخة التى بين أيدينا. وقد قمنا بنقل كلام الذهبى.
প্রথম: এতে আমি নবী মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী হুবহু বর্ণনা করব এবং এর প্রতিটি আংটিকে তার উপযুক্ত রত্ন দ্বারা সুশোভিত করব (১)। হাদিসের মূল পাঠের (মতন) পর আমি নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের রচয়িতা ওই সকল ইমামগণের নাম উল্লেখ করব যারা এটি সংকলন করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্য থেকে যারা এটি বর্ণনা করেছেন—তাঁদের সংখ্যা এক থেকে দশ কিংবা দশের অধিক যাই হোক না কেন। এতে আমি এমন এক পদ্ধতি অবলম্বন করেছি যার মাধ্যমে হাদিসের বিশুদ্ধতা (সহিহ), উত্তমতা (হাসান) এবং দুর্বলতা (জঈফ) সম্পর্কে জানা যায়। এটি অভিধানের বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যেখানে শব্দের প্রথম অক্ষর এবং তার পরবর্তী অক্ষরসমূহের ক্রম রক্ষা করা হয়েছে।

আমি বুখারীর জন্য: (খ), মুসলিমের জন্য: (ম), ইবনে হিব্বানের জন্য: (হাব), মুস্তাদরাক গ্রন্থে হাকিমের জন্য: (কাফ) এবং আল-মুখতারাহ গ্রন্থে যিয়া আল-মাকদিসীর জন্য: (যাদ) সংকেত ব্যবহার করেছি। এই পাঁচটি কিতাবের অন্তর্ভুক্ত সকল হাদিসই সহিহ (বিশুদ্ধ)। সুতরাং এগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান হাদিসটি সহিহ হওয়ারই প্রমাণ বহন করে; কেবল মুস্তাদরাক গ্রন্থের সেই হাদিসগুলো ব্যতীত যেগুলোর ওপর সমালোচনা করা হয়েছে, আমি সে বিষয়ে সতর্ক করে দেব (২)। একইভাবে ইমাম মালিকের মুয়াত্তা, সহিহ ইবনে খুজাইমা, আবু আওয়ানা, ইবনে সাকান, ইবনে জারুদের আল-মুনতাকা এবং মুস্তাখরাজাত গ্রন্থসমূহের উদ্ধৃতি দেওয়াও হাদিসটির বিশুদ্ধতারই পরিচায়ক।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: আমি প্রতিটি আংটিকে তার সাথে মানানসই পাথর দ্বারা সুসজ্জিত করব।

‌‌(২) আমাদের নিকট বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিতে এই নিয়মটি সর্বদা অনুসৃত হয়নি। আমরা ইমাম যাহাবীর বক্তব্য এখানে উদ্ধৃত করেছি।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ৫)
ورمزت لأبى داود: (د) ، فما سكت عليه فهو صالح، وما بَيَّنَ ضعفه نقلته عنه. وللترمذى: (ت) ، وأنقل كلامه على الحديث (1) . وللنسائى: (ن) ، ولابن ماجه: (هـ) ، ولأبى داود الطيالسى: (ط) ، ولأحمد: (حم) ، ولزيادات ابنه عبد الله: (عم) ، ولعبد الرزاق: (عب) ، ولسعيد بن منصور: (ص) ، ولابن أبى شيبة: (ش) ، ولأبى يعلى: (ع) ، وللطبرانى فى الكبير: (طب) ، وفى الأوسط: (طس) ، وفى الصغير: (طص) ، وللدارقطنى: (قط) ، فإن كان فى السنن أطلقت، وإلا بَيَّنْتُه. ولأبى نعيم فى الحلية: (حل) ، وللبيهقى: (ق) . فإن كان فى السنن أطلقت، وإلا بَيَّنْتُه. وله فى شعب الإيمان: (هب) . وهذه فيها الصحيح، والحسن، والضعيف فأُبَيِّنَه غالباً (2) ، وكل ما كان فى مسند

--------------------------------------------

(1) لم يطرد على هذا أيضاً فى النسخة التى بين أيدينا. وقد قمنا بنقل كلام الترمذى جميعه.

‌‌(2) يقل الكلام على الأحاديث تصحيحًا وتضعيفًا فى النسخة التى اعتمدنا عليها.
আমি আবু দাউদের জন্য সংকেত প্রদান করেছি: (দ), সুতরাং যে বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন তা গ্রহণযোগ্য, আর যেটির দুর্বলতা তিনি বর্ণনা করেছেন তা আমি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছি। তিরমিযীর জন্য: (ত), এবং হাদীসের ওপর আমি তাঁর মন্তব্য উদ্ধৃত করি (১)। নাসাঈর জন্য: (ন), ইবনে মাজাহর জন্য: (হ), আবু দাউদ তায়ালিসীর জন্য: (তা), আহমাদের জন্য: (আ), তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর অতিরিক্ত বর্ণনার জন্য: (আম), আবদুর রাজ্জাকের জন্য: (আব), সাঈদ বিন মানসুরের জন্য: (সা), ইবনে আবি শায়বার জন্য: (শ), আবু ইয়ালার জন্য: (আ-ই), তাবারানীর জন্য ‘আল-কাবীর’-এ: (ত-ক), ‘আল-আওসাত’-এ: (ত-আ), ‘আস-সাগীর’-এ: (ত-সা), এবং দারাকুতনীর জন্য: (দা); যদি তা তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে থাকে তবে আমি সরাসরি উল্লেখ করেছি, অন্যথায় বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। আবু নুআয়মের জন্য ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে: (হিল), এবং বায়হাকীর জন্য: (ব); যদি তা তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে থাকে তবে আমি সরাসরি উল্লেখ করেছি, অন্যথায় বিস্তারিত বলেছি। আর ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে তাঁর বর্ণনার জন্য: (শু)। এগুলোর মধ্যে সহীহ, হাসান এবং যঈফ হাদীস রয়েছে, যা আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পষ্ট করে দিয়েছি (২)। আর যা কিছু মুসনাদে রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) আমাদের নিকট বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিতে এটিও ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। আমরা ইমাম তিরমিযীর সকল বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি।

‌‌(২) আমাদের ওপর নির্ভরশীল পাণ্ডুলিপিতে হাদীসগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা বিষয়ক আলোচনা কম রয়েছে।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ৬)
أحمد فهو مقبول، فإن الضعيف الذى فيه يقرب من الحَسَن.

وللعقيلى فى الضعفاء: (عق) ، ولابن عدى فى الكامل: (عد) ، وللخطيب: (خط) ، فإن كان فى تاريخه أطلقت، وإلا بينته. ولابن عساكر فى تاريخه: (كر) ، وكل ما عُزِىَ لهؤلاء الأربعة، أو للحكيم الترمذى فى نوادر الأصول، أو الحاكم فى تاريخه، أو الديلمى فى مسند الفردوس، فهو ضعيف فليستغن بالعزو إليها، أو إلى بعضها عن بيان ضعفه (1) . وإذا أطلقتُ العزو إلى ابن جرير فهو فى تهذيب الآثار، فإن كان فى تفسيره، أو تاريخه بَيَّنْتُه.

--------------------------------------------

(1) مراده فيما انفردوا به من أحاديث، دون المصادر العالية.
আহমদ-এর দিকে সম্বন্ধ করা হলে তা গ্রহণযোগ্য, কারণ তাতে যে দুর্বলতা রয়েছে তা ‘হাসান’ পর্যায়ের নিকটবর্তী।

আর আদ-দুয়াফা গ্রন্থে উকাইলির জন্য: (উক), আল-কামিল গ্রন্থে ইবনে আদির জন্য: (আদি), এবং খতিবের জন্য: (খতিব); যদি তা তার তারিখ গ্রন্থে হয় তবে আমি তা সাধারণভাবে উল্লেখ করি, অন্যথা আমি তা স্পষ্ট করে দিই। আর ইবনে আসাকিরের তারিখের জন্য: (কর); আর এই চারজনের প্রতি, অথবা নাওয়াদিরুল উসুল গ্রন্থে হাকিম তিরমিযীর প্রতি, অথবা হাকিমের তারিখের প্রতি, অথবা মুসনাদুল ফিরদাউস গ্রন্থে দাইলামীর প্রতি যা কিছুই সম্বন্ধ করা হয়েছে, তা দুর্বল। সুতরাং এগুলোর দিকে বা এগুলোর কোনোটির দিকে সম্বন্ধ করাই তার দুর্বলতা বর্ণনা করার পরিবর্তে যথেষ্ট (১)। আর আমি যখন ইবনে জারীরের প্রতি সম্বন্ধ করাকে নিঃশর্তভাবে রাখি, তখন তা তাহযীবুল আসার গ্রন্থে বুঝতে হবে; আর যদি তা তার তাফসীর বা ইতিহাস গ্রন্থে হয় তবে আমি তা স্পষ্ট করে দিই।

--------------------------------------------

(১) তাঁর উদ্দেশ্য হলো সেই সকল হাদিস যেগুলোতে তারা একক হয়েছেন, উচ্চতর উৎসসমূহ ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ৭)
وحيث أطلق فى هذا القسم أبو بكر فهو الصديق، أو عمر فهو ابن الخطاب، أو عثمان فابن عفان، أو على فابن أبى طالب، أو سعد فابن أبى وقاص، أو أنس فابن مالك، أو البراء فابن عازب، أو بلال فابن رباح، أو جابر فابن عبد الله، أو حذيفة فابن اليمان، أو معاذ فابن جبل، أو معاوية فابن أبى سفيان، أو أبو أمامة فالباهلى، أو أبو سعيد فالخدرى، أو العباس فابن عبد المطلب، أو عبادة فابن الصامت، أو عمار فابن ياسر.

والثانى: الأحاديث الفعلية المحضة، أو المشتملة على قول وفعل، أو سبب، أو مراجعة، أو نحو ذلك مرتبًا على مسانيد الصحابة، على ما يأتى بيانه فى أول القسم الثانى. وقد سميته:

جمع الجوامع

واللهَ أسأل المعونة على جمعه، والمن بقبوله ونفعه، فهو البر الرحيم، والجواد الكريم.
যেখানে এই বিভাগে সাধারণভাবে আবু বকর বলা হবে, তিনি হলেন সিদ্দিক; অথবা উমর বললে তিনি খাত্তাবের পুত্র; অথবা উসমান বললে তিনি আফফানের পুত্র; অথবা আলী বললে তিনি আবু তালিবের পুত্র; অথবা সাদ বললে তিনি আবু ওয়াক্কাসের পুত্র; অথবা আনাস বললে তিনি মালিকের পুত্র; অথবা বারা বললে তিনি আযিবের পুত্র; অথবা বিলাল বললে তিনি রাবাহের পুত্র; অথবা জাবির বললে তিনি আবদুল্লাহর পুত্র; অথবা হুযাইফা বললে তিনি ইয়ামানের পুত্র; অথবা মুআয বললে তিনি জাবালের পুত্র; অথবা মুয়াবিয়া বললে তিনি আবু সুফিয়ানের পুত্র; অথবা আবু উমামা বললে তিনি বাহিলী; অথবা আবু সাঈদ বললে তিনি খুদরী; অথবা আব্বাস বললে তিনি আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র; অথবা উবাদাহ বললে তিনি সামিতের পুত্র; অথবা আম্মার বললে তিনি ইয়াসিরের পুত্র।

এবং দ্বিতীয় (বিভাগ): নিছক কর্মগত হাদিসসমূহ, অথবা যা কথা ও কাজ উভয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, অথবা পটভূমি, অথবা পর্যালোচনা বা এজাতীয় বিষয়, যা সাহাবায়ে কেরামের মুসনাদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে, যার বর্ণনা দ্বিতীয় বিভাগের শুরুতে আসবে। আর আমি এর নাম দিয়েছি:

জামউল জাওয়ামি

আমি আল্লাহর কাছে এটি সংকলনে সাহায্য প্রার্থনা করছি, এবং তা কবুল করার ও এর মাধ্যমে উপকার সাধনের অনুগ্রহ যাচনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা, অতি দয়ালু এবং মহান দানশীল ও করুণাময়।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ৮)
روى ابن عساكر فى تاريخه (1) عن أبى العباس المرادى قال: رأيت أبا زرعة فى النوم، فقلت: ما فعل الله بك؟ قال: لقيت ربى، فقال لى: يا أبا زرعة إنى أوتى بالطفل فآمر به إلى الجنة، فكيف بمن حفظ السنن على عبادى، تبوَّأْ من الجنة حيث شئتَ.

وروى (2) أيضاً عن حفص بن عبد الله قال: رأيت أبا زرعة فى النوم بعد موته، يصلى فى سماء الدنيا بالملائكة، قلت: بم نلت هذا؟ قال: كتبت بيدى ألف ألف حديث، فأقول فيها عن النبى صلى الله عليه وسلم وقد قال النبى صلى الله عليه وسلم: من صلى علىَّ صلاة صلى الله عليه عشرًا.

***

--------------------------------------------

(1) تاريخ دمشق (38/39) .

‌‌(2) تاريخ دمشق (38/ 38، 39) .
ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাসে (১) আবুল আব্বাস আল-মুরাদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু যুরআহকে স্বপ্নে দেখেছি, তখন আমি বললাম: আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: আমি আমার রবের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তখন তিনি আমাকে বললেন: হে আবু যুরআহ! নিশ্চয়ই আমার নিকট শিশুকে আনা হয় এবং আমি তাকে জান্নাতের নির্দেশ দেই; তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে যে আমার বান্দাদের জন্য সুন্নাহসমূহ সংরক্ষণ করেছে? জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা তুমি সেখানে তোমার স্থান গ্রহণ করো।

তিনি (২) হাফস ইবনে আব্দুল্লাহ থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু যুরআহকে তাঁর মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখেছি, তিনি নিকটতম আকাশে ফেরেশতাদের সাথে সালাত আদায় করছেন। আমি বললাম: আপনি কিসের বিনিময়ে এটি লাভ করেছেন? তিনি বললেন: আমি নিজ হাতে দশ লক্ষ হাদিস লিখেছি এবং তাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা উল্লেখ করেছি; আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করবেন।

***

--------------------------------------------

(১) তারিখু দামিশক (৩৮/৩৯)।

(২) তারিখু দামিশক (৩৮/৩৮, ৩৯)।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌عملنا فى الكتاب

1) قمنا بمراجعة وتصحيح النص على النسخة المصورة، وما أشكل علينا قمنا بمراجعته على مصادر الحديث المختلفة.

2) قمنا بضبط الضرورى من غريب الأحاديث وشرحه على سبيل الاختصار.

3) إذا وقفنا على مصدر آخر فى تخريج الحديث غير المصادر التى ذكرها السيوطى نقوم بالتنبيه على ذلك بقولنا: ((وأخرجه أيضاً: فلان وفلان)) ، وربما كان طرف الحديث فى تلك المصادر الأخرى مغايراً بعض مغايرة لما ذكره السيوطى.

4) إذا عزا السيوطى إلى مصدر لم يتوفر لنا كمسند الفردوس، أو تفسير ابن مردويه ولم نقف على الحديث فى مصدر آخر فنقوم بتوثيق تخريج الحديث من المصادر الوسيطة الأخرى.

5) الأحاديث التى زادها المناوى فى الجامع الأزهر على الجامع الكبير نميزها بقولنا فى آخر متن الحديث [المناوى] ، والتى زادها فى كنوز الحقائق ميزناها بقولنا: [كنوز الحقائق] ، وكذلك الأحاديث التى نقف عليها فى الفتح الكبير فى ضم الزيادة إلى الجامع الصغير، ولا نجدها فى الجامع الكبير، نميزها بقولنا فى آخر المتن [الفتح] . أما إذا زادت بعض هذه الأصول مصادر للحديث على ما ذكره السيوطى، فنضيفه فى ترتيبه.

6) ربما وقفنا على بعض الأحاديث التى لم يذكرها السيوطى فى جامعه الكبير، ولا استدركها المناوى فى الجامع الأزهر، ولا ذكرت فى كنوز الحقائق، ولا فى الفتح الكبير، فنميزها بقولنا فى آخر المتن [ز] ، أى من زياداتنا.

7) قمنا بترتيب الأحاديث هجائيا فى قسم الأقوال، وقد أنجز هذا بفضل الله تعالى لأول مرة منذ عهد السيوطى حتى الآن، لأنه من المقرر لدى الباحثين أنه حدث خلط وتقليب فى ترتيب الجامع الكبير مما يؤدى إلى بذل جهد كبير للوصول إلى الحديث، وقد قمنا أيضا بالترتيب الهجائى للأحاديث داخل كل مسند فى قسم الأفعال، ومن المعلوم أن البحث فى قسم الأفعال يكاد يصل إلى درجة الاستحالة خاصة فى المسانيد الكبيرة كمسند أبى هريرة وعائشة وغيرهما من المكثرين، وهذا يعد إنجازا علميا كبيرا.
এই কিতাবে আমাদের কর্মপদ্ধতি

১) আমরা মূল পাণ্ডুলিপির ফটোকপির সাথে পাঠ্যটি পর্যালোচনা ও সংশোধন করেছি এবং আমাদের কাছে যা অস্পষ্ট মনে হয়েছে তা বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থের আলোকে যাচাই করেছি।

২) হাদিসের অপরিচিত শব্দগুলোর (গারিব) প্রয়োজনীয় হরকত প্রদান করেছি এবং সংক্ষেপে সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

৩) ইমাম সুয়ূতী উল্লিখিত উৎস ব্যতীত অন্য কোনো উৎসে যদি আমরা হাদিসের তাখরিজ পেয়েছি, তবে আমরা "অমুক ও অমুকও এটি বর্ণনা করেছেন" বলে তা নির্দেশ করেছি; সম্ভবত ওই সব উৎসে হাদিসের প্রথমাংশ সুয়ূতী বর্ণিত পাঠ থেকে কিছুটা ভিন্ন ছিল।

৪) সুয়ূতী যদি এমন কোনো উৎসের উদ্ধৃতি দেন যা আমাদের কাছে সহজলভ্য ছিল না, যেমন: মুসনাদুল ফিরদাউস বা তাফসিরে ইবনে মারদুওয়াহ, এবং আমরা যদি অন্য কোনো মূলে হাদিসটি খুঁজে না পাই, তবে আমরা অন্যান্য মধ্যবর্তী উৎসসমূহ থেকে হাদিসটির তাখরিজ নিশ্চিত করেছি।

৫) আল-মুনাউয়ি 'আল-জামেউল আজহার' গ্রন্থে 'আল-জামেউল কাবীর'-এর অতিরিক্ত যেসব হাদিস যুক্ত করেছেন, সেগুলোকে আমরা হাদিসের মূল পাঠের শেষে [মুনাউয়ি] লিখে চিহ্নিত করেছি। আর যেগুলো তিনি 'কুনুযুল হাকায়েক' গ্রন্থে বৃদ্ধি করেছেন সেগুলোকে আমরা [কুনুযুল হাকায়েক] লিখে চিহ্নিত করেছি। একইভাবে যেসব হাদিস আমরা 'আল-ফাতহুল কাবীর' গ্রন্থে (জামেউস সাগিরের পরিশিষ্ট হিসেবে) পেয়েছি কিন্তু 'আল-জামেউল কাবীর' গ্রন্থে পাইনি, সেগুলোকে আমরা মূল পাঠের শেষে [ফাতহ] লিখে চিহ্নিত করেছি। তবে এই মূল উৎসগুলো যদি সুয়ূতীর উল্লিখিত উৎসের অতিরিক্ত কোনো উৎসের উদ্ধৃতি দেয়, তবে আমরা তা ক্রমানুসারে যোগ করেছি।

৬) সম্ভবত আমরা এমন কিছু হাদিস পেয়েছি যা সুয়ূতী তার 'জামেউল কাবীর' গ্রন্থে উল্লেখ করেননি, মুনাউয়িও 'জামেউল আজহার' গ্রন্থে সেগুলোর পরিশিষ্ট আনেননি এবং 'কুনুযুল হাকায়েক' বা 'আল-ফাতহুল কাবীর' গ্রন্থেও যার উল্লেখ নেই; সেগুলোকে আমরা মূল পাঠের শেষে [য] অর্থাৎ আমাদের সংযোজন হিসেবে চিহ্নিত করেছি।

৭) আমরা 'আকওয়াল' (বাণী) অংশে হাদিসগুলোকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি। আল্লাহর অনুগ্রহে ইমাম সুয়ূতীর যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রথমবারের মতো এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কারণ গবেষকদের নিকট এটি সুনিশ্চিত যে, 'আল-জামেউল কাবীর'-এর বিন্যাসে বিশৃঙ্খলা ও ওলটপালট ঘটেছিল, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত হাদিসে পৌঁছাতে প্রচুর শ্রম ব্যয় করতে হতো। এ ছাড়াও আমরা 'আফআল' (কর্ম) অংশের প্রতিটি মুসনাদের অন্তর্গত হাদিসগুলোকেও বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি। এটি সর্বজনবিদিত যে, 'আফআল' অংশে হাদিস অনুসন্ধান করা প্রায় অসম্ভব ছিল, বিশেষ করে আবু হুরায়রা ও আয়েশা (রা.)-এর মতো অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের বড় মুসনাদগুলোর ক্ষেত্রে। এটি একটি বিশাল জ্ঞানতাত্ত্বিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌حرف الهمزة

 

ذكر‌‌ الهمزة مع الألف

‌‌1- آتِى باب الجنة فأسْتَفْتِح فيقول الخازنُ مَن أنت فأقول محمدٌ فيقول بك أُمرتُ أن لا أفتح لأحد قبلك (أحمد، وعبد بن حميد، ومسلم عن أنس)

أخرجه أحمد (3/136، رقم 12420) ، وعبد بن حميد (ص 379، رقم 1271) ، ومسلم (1/188، رقم 197) . وأخرجه أيضًا: ابن منده فى الإيمان (2/838، رقم 867) ، وأبو عوانة (1/138، رقم 418) .
হামযাহ বর্ণ

 

উল্লেখ আলিফ-এর সাথে হামযাহ্-র

১- আমি জান্নাতের দরজায় এসে তা খোলার আবেদন করব, তখন দ্বাররক্ষী জিজ্ঞেস করবেন, "আপনি কে?" আমি বলব, "মুহাম্মাদ।" তখন তিনি বলবেন, "আপনার ব্যাপারেই আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আপনার আগে কারো জন্য তা না খুলি।" (আহমাদ, আবদ বিন হুমাইদ এবং মুসলিম; আনাস থেকে বর্ণিত)

এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৩/১৩৬, নং ১২৪২০), আবদ বিন হুমাইদ (পৃ. ৩৭৯, নং ১২৭১) এবং মুসলিম (১/১৮৮, নং ১৯৭)। এটি আরও বর্ণনা করেছেন: ইবন মানদাহ ‘আল-ঈমান’ গ্রন্থে (২/৮৩৮, নং ৮৬৭) এবং আবু আওয়ানাহ (১/১৩৮, নং ৪১৮)।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌2- آتى جهنم فأضرب بابها فيفتح لى فأدخلها فأَحْمَد الله بمحامد ما حَمِدَه أحد قبلى مثلها ولا يَحْمَده أحد بعدى ثم أُخْرِجُ منها مَن قال لا إله إلا الله مُخْلِصًا فيقوم إلىَّ أناس من قريش فيَنْتَسِبون لى فأعرف نَسَبَهم ولا أعرف وجوهَهم وأتركهم فى النار (الطبرانى فى الأوسط عن أبى هريرة) [المناوى]

أخرجه الطبرانى فى الأوسط (4/151، رقم 3845) . قال ابن رجب الحنبلى فى التخويف من النار (ص 63) : إسناده ضعيف. وقال الهيثمى (10/379) : فيه على بن سعيد الرازى فيه لين، وفيه من لم أعرفه.
২- আমি জাহান্নামের নিকট আসব এবং এর দরজায় করাঘাত করব, তখন আমার জন্য তা খুলে দেওয়া হবে। এরপর আমি তাতে প্রবেশ করব এবং আল্লাহর এমন সব প্রশংসাবাক্য দ্বারা তাঁর প্রশংসা করব যা আমার পূর্বে আর কেউ করেনি এবং আমার পরেও আর কেউ করবে না। অতঃপর আমি সেখান থেকে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে বের করে আনব যে একনিষ্ঠভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে। এরপর কুরাইশদের কিছু লোক আমার সামনে দাঁড়াবে এবং তারা আমার সাথে তাদের বংশীয় সম্পর্কের পরিচয় দেবে। আমি তাদের বংশ পরিচয় চিনতে পারব কিন্তু তাদের চেহারা চিনতে পারব না, এবং আমি তাদের আগুনেই রেখে দেব। (তাবারানি ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন) [মুনাউয়ি]

এটি তাবারানি তাঁর ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৪/১৫১, নম্বর ৩৮৪৫)। ইবনে রজব আল-হাম্বলি ‘আত-তাখউইফ মিনান নার’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৬৩) বলেছেন: এর সনদ দুর্বল। আল-হাইসামি (১০/৩৭৯) বলেছেন: এতে আলি বিন সাঈদ আল-রাজি রয়েছেন যার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে, এবং এতে এমন বর্ণনাকারীও রয়েছেন যাঁকে আমি চিনি না।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌3- آتِى يوم القيامة باب الجنة فيُفتح لى فأرى ربى وهو على كُرْسِيِّه فيتجلَّى لى فأَخِرّ ساجدًا (عثمان بن سعيد الدارمى فى كتاب النقض على بشر المريسى، وابن النجار عن ابن عباس)

أخرجه عثمان بن سعيد الدارمى فى كتاب النقض على بشر المريسى العنيد (ص 30، رقم 19) .

وسيأتى الحديث فى مسند ابن عباس فى قسم الأفعال.

‌‌4- آجالُ البهائم كلها من القُمَّل والبراغيث والجراد والخيل والبغال والدواب كلها والبقر وغير ذلك آجالها فى التسبيح فإذا انقضى تسبيحها قبض الله أرواحَها وليس إلى مَلَك الموت من ذلك شىء (العقيلى، وأبو الشيخ فى العظمة عن أنس، [قال] العقيلى: لا أصل له، وأورده ابن الجوزى فى الموضوعات)
‌৩- কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় আসব এবং তা আমার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তখন আমি আমার প্রতিপালককে তাঁর কুরসির ওপর দেখব। এরপর তিনি আমার সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং আমি সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ব। (উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি তাঁর ‘কিতাবুন নাকজ আলা বিশরিল মারিসি’ গ্রন্থে এবং ইবনুন নাজ্জার ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন)

এটি উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি তাঁর ‘কিতাবুন নাকজ আলা বিশরিল মারিসি আল-আনিদ’ (পৃষ্ঠা ৩০, নম্বর ১৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

হাদিসটি সামনে ‘মুসনাদে ইবনে আব্বাস’-এর ‘ক্রিয়া’ (আফ‘আল) পরিচ্ছেদে আসবে।

‌‌৪- উকুন, ফ্লি, পঙ্গপাল, ঘোড়া, খচ্চর, চতুষ্পদ জন্তু, গরু এবং অন্য সকল পশুর আয়ু তাদের তাসবিহ পাঠের ওপর নির্ভরশীল। যখন তাদের তাসবিহ শেষ হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাদের আত্মা কবজ করেন এবং এক্ষেত্রে মৃত্যুর ফেরেশতার কোনো হাত নেই। (আকিলি এবং আবুশ শাইখ ‘আল-আজমা’ গ্রন্থে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আকিলি বলেন: এর কোনো ভিত্তি নেই এবং ইবনুল জাওজি এটি ‘মাওজুআত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন)
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ১২)
أخرجه العقيلى (4/321، ترجمة 1923 الوليد بن موسى الدمشقى) ، وقال: أحاديثه بواطيل لا أصول لها. وأبو الشيخ (5/1735 رقم 1210) ، وابن الجوزى فى الموضوعات (3/524، رقم 1750) . وقال: هذا حديث موضوع، والمتهم به الوليد، يعنى ابن موسى الدمشقى. وأخرجه أيضًا: الديلمى (1/418، رقم 1695) . وقال الحافظ فى اللسان بعد أن ذكر الحديث فى ترجمة الوليد هذا (6/227، ترجمة 807) : منكر جدًّا. ونص على أنه موضوع كل من: الشوكانى فى الفوائد المجموعة (ص271) ، والحافظ أحمد الغمارى فى المغير (ص 6) .

‌‌5- آجرتُ نفسى من خديجةَ سَفْرَتَيْنِ بقَلُوص (البيهقى عن جابر)

أخرجه البيهقى (6/118، رقم 11422) .

وسيأتى الحديث فى مسند جابر بأطراف منها: "استأجرت".

ومن غريب الحديث: "القلوص": الفتية من الإبل مثل الجارية الشابة من النساء.
আল-উকাইলি এটি বর্ণনা করেছেন (৪/৩২১, অনুবাদ ১৯২৩ আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসা আদ-দিমাশকি), এবং তিনি বলেছেন: তার বর্ণিত হাদিসসমূহ বাতিল, এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। এবং আবুশ শায়খ (৫/১৭৩৫ নং ১২১০), এবং ইবনুল জাওজি 'আল-মাওদুআত'-এ (৩/৫২৪, নং ১৭৫০)। এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি জাল হাদিস, আর এর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন ওয়ালিদ, অর্থাৎ ইবনে মুসা আদ-দিমাশকি। আদ-দাইলামিও এটি বর্ণনা করেছেন (১/৪১৮, নং ১৬৯৫)। হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-লিসান'-এ এই ওয়ালিদ-এর জীবনীতে হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন (৬/২২৭, অনুবাদ ৮০৭): এটি অত্যন্ত মুনকার (অস্বীকৃত)। এবং এটি যে জাল, সে ব্যাপারে স্পষ্টভাবে মত ব্যক্ত করেছেন: আশ-শাওকানি 'আল-ফাওয়ায়িদ আল-মাজমুআহ'-তে (পৃষ্ঠা ২৭১), এবং হাফেজ আহমদ আল-গুমারি 'আল-মুগির'-এ (পৃষ্ঠা ৬)।

‌৫- আমি খাদিজার নিকট একটি তরুণ উটনীর বিনিময়ে দুই সফরের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছিলাম। (আল-বাইহাকি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন)

আল-বাইহাকি এটি বর্ণনা করেছেন (৬/১১৮, নং ১১৪২২)।

এবং হাদিসটি অচিরেই মুসনাদে জাবিরে এর বিভিন্ন সূত্রসহ আসবে, যার মধ্যে রয়েছে: "আমি নিজেকে ভাড়ায় নিয়োজিত করেছিলাম"।

হাদিসের দুর্লভ শব্দাবলি থেকে: "আল-কালুস": উটজাতীয় পশুর মধ্যে তরুণ উটনী, যেমন মানুষের মধ্যে যুবতী তরুণী।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌6- آخر أربعاء فى الشهر يوم نَحْسٍ مستمر (وكيع فى الغُرَر، وابن مردويه فى تفسيره، والخطيب عن ابن عباس، وفيه مَسْلَمَة بن الصَّلْت متروك، وأورده ابن الجوزى فى الموضوعات، ورواه الطيورى من وجه آخر عن ابن عباس موقوفا)

حديث ابن عباس المرفوع: أخرجه الخطيب (14/405) وحكم ابن الجوزى بوضعه (2/345، رقم 917-918) ، وأعله بمسلمة بن الصلت، ووافقه المصنف فى اللآلئ (1/485) وابن عَرَّاق (2/55) والحافظ أحمد الغمارى فى المداوى (1/23: 29) ، والألبانى فى الضعيفة (4/83، رقم 1581) .

حديث ابن عباس الموقوف: عزاه ابن عَرَّاق (2/55) للطيورى. وفيه: الأبزارى (الحسن أو الحسين بن عبيد الله) ، وهو كذاب قليل الحياء، كما فى الميزان (2/250، ترجمة 1885) .

والحديث طرقه كلها واهية كما نقله المناوى فى الفيض (1/47) عن السخاوى.
৬- মাসের শেষ বুধবার হলো নিরবচ্ছিন্ন অশুভ দিন (ওয়াকি ‘আল-গুরার’ গ্রন্থে, ইবনে মারদুওয়াইহি তাঁর তাফসিরে, এবং আল-খাতিব ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; এতে মাসলামাহ ইবনুল সালত রয়েছেন যিনি পরিত্যক্ত; ইবনুল জাওজি এটি ‘আল-মাওদুআত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তায়ুরি এটি ইবনে আব্বাস থেকে অন্য সূত্রে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন)।

ইবনে আব্বাসের মারফু হাদিস: এটি আল-খাতিব (১৪/৪০৫) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল জাওজি এটি জাল হওয়ার হুকুম দিয়েছেন (২/৩৪৫, নম্বর ৯১৭-৯১৮)। তিনি এটিকে মাসলামাহ ইবনুল সালতের কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন; গ্রন্থকার ‘আল-লাআলি’ (১/৪৮৫) গ্রন্থে, ইবনে আররাক (২/৫৫), হাফেজ আহমদ আল-গুমারি ‘আল-মুদাওয়ি’ (১/২৩: ২৯) গ্রন্থে এবং আলবানি ‘আদ-দাইফাহ’ (৪/৮৩, নম্বর ১৫৮১) গ্রন্থে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

ইবনে আব্বাসের মাওকুফ হাদিস: ইবনে আররাক (২/৫৫) এটি তায়ুরির বরাতে উল্লেখ করেছেন। এতে রয়েছেন আল-আবজারি (আল-হাসান বা আল-হুসাইন বিন উবাইদুল্লাহ), যিনি একজন নির্লজ্জ চরম মিথ্যাবাদী, যেমনটি ‘আল-মিজান’ (২/২৫০, জীবনী ১৮৮৫) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসটির সকল সূত্রই অত্যন্ত দুর্বল, যেমনটি আল-মুনাওয়ি ‘আল-ফায়দ’ (১/৪৭) গ্রন্থে আস-সাখাবি থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌7- آخر أهل الجنة دخولاً رجل كان يقول اللهم زَحْزِحْنِى عن النار ولا يقول أدخلنى الجنة فإذا دخل أهلُ الجنةِ الجنةَ وأهلُ النارِ النارَ بقى ذلك الرجل فيقول يا رب ما لى هنا؟ فيقول ذاك الذى كنت تسألنى يا ابن آدم فيقول يا رب أدخلنى الجنة فيقول يا ابن آدم ألم تسألنى فيُنْشِئ اللهُ شجرةً على باب الجنة فيقول يا رب أَدْنِنِى من هذه الشجرة فآكل من ثمرها وأستظلّ بظلها فيقول يا ابن آدم ألم تكن تسألنى أن أزحزحك عن النار فلا يزال يسأل حتى يقال اذهب فلك ما بلغت قدماك ورأت عيناك (الطبرانى، والبزار عن عوف بن مالك) [المناوى]

أخرجه الطبرانى (18/77، رقم 143) ، والبزار (7/191، رقم 2760) . وأخرجه أيضًا: ابن أبى شيبة (7/36، رقم 34012) ، والمروزى فى زوائده على الزهد لابن المبارك (ص446، رقم 1265) ومداره عندهم جميعًا على: موسى بن عبيدة الربذى، وهو ضعيف كما قال الهيثمى (10/402) .
৭- জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হবে এমন এক ব্যক্তি যে বলত, "হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে নিন"; সে "আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান" এ কথা বলত না। অতঃপর যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন সেই লোকটি রয়ে যাবে। সে বলবে, "হে আমার রব! এখানে আমার জন্য কী আছে?" তিনি বলবেন, "হে আদম সন্তান! তুমি তো আমার কাছে এটাই প্রার্থনা করেছিলে।" তখন সে বলবে, "হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।" তিনি বলবেন, "হে আদম সন্তান! তুমি কি আমার কাছে (অন্য কিছু) চাওনি?" অতঃপর আল্লাহ জান্নাতের দরজায় একটি গাছ সৃষ্টি করবেন। সে বলবে, "হে আমার রব! আমাকে এই গাছের নিকটবর্তী করুন যেন আমি এর ফল খেতে পারি এবং এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারি।" তিনি বলবেন, "হে আদম সন্তান! তুমি কি আমার কাছে প্রার্থনা করোনি যে আমি যেন তোমাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দিই?" সে ক্রমাগত প্রার্থনা করতেই থাকবে, এমনকি একপর্যায়ে তাকে বলা হবে, "যাও, তোমার দুই পা যে পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং তোমার দুই চোখ যা দেখেছে, তা সবই তোমার জন্য।" (তাবারানি এবং বাযযার আউফ বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন) [মুনাবি]

তাবারানি (১৮/৭৭, হাদিস নং ১৪৩) এবং বাযযার (৭/১৯১, হাদিস নং ২৭৬০) এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি শায়বাহ (৭/৩৬, হাদিস নং ৩৪০১২) এবং আল-মারওয়াযি ইবনুল মুবারকের 'আয-যুহদ' গ্রন্থের অতিরিক্ত অংশে (পৃষ্ঠা ৪৪৬, হাদিস নং ১২৬৫) এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁদের সবার বর্ণনার কেন্দ্রবিন্দু হলো: মূসা বিন উবাইদাহ আর-রাবাজি, এবং তিনি দুর্বল—যেমনটি আল-হাইসামি (১০/৪০২) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌8- آخر رجل يدخل الجنة رجلٌ يتقلَّب على الصراط ظهرًا لبطنٍ كالغلام يضربه أبوه وهو يفر منه يعجز عنه عمله أن يسعى فيقول يا رب بَلِّغْ بى الجنة ونَجِّنِى من النار فيُوحى الله إليه عبدى إِنْ أنا نَجَّيْتُك من النار وأدخلتُك الجنةَ أتعترف لى بذنوبك وخطاياك فيقول العبد نعم يا رب وعزتك وجلالك لئن نجيتنى من النار لأعترفن لك بذنوبى وخطاياى فيجوز الجسرَ ويقول العبد فيما بينه وبين نفسه لئن اعترفتُ له بذنوبى وخطاياى ليَرُدَّنِى إلى النار
৮- জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হবে এমন একজন লোক, যে সিরাতের ওপর পেট ও পিঠের ভরে গড়াগড়ি করে চলতে থাকবে—ঠিক যেমন কোনো কিশোর তার পিতার প্রহার থেকে পলায়নকালে পর্যুদস্ত হয়। তার আমল তাকে দ্রুত চলতে অক্ষম করে দেবে। তখন সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জান্নাতে পৌঁছে দিন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন। তখন আল্লাহ তার প্রতি ওহি প্রদান করবেন: হে আমার বান্দা! আমি যদি তোমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিই এবং জান্নাতে প্রবেশ করাই, তবে কি তুমি আমার কাছে তোমার গুনাহ ও ভুলত্রুটিগুলো স্বীকার করবে? তখন বান্দা বলবে: হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! আপনার মর্যাদা ও মহিমার কসম! আপনি যদি আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেন, তবে আমি অবশ্যই আপনার নিকট আমার গুনাহ ও ভুলগুলো স্বীকার করব। অতঃপর সে পুল পার হবে এবং বান্দা নিজের মনে মনে বলবে: আমি যদি তাঁর কাছে আমার গুনাহ ও ত্রুটিগুলো স্বীকার করি, তবে তিনি হয়তো আমাকে পুনরায় জাহান্নামে ফিরিয়ে দেবেন।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ১৬)
فيوحى الله إليه عبدى اعترف لى بذنوبك وخطاياك أغفرها لك وأُدخلك الجنة فيقول العبد وعزتك وجلالك ما أذنبتُ ذنبا قط ولا أخطأتُ خطيئة قط فيوحى الله إليه عبدى إن لى عليك بَيِّنَةً فيلتفت العبد يمينًا وشمالاً فلا يرى أحدًا ممن كان شهده فى الدنيا فيقول يا رب أرنى بَيِّنَتَك فيَسْتَنْطِق اللهُ جِلْدَه بالمُحَقَّرات فإذا رأى ذلك العبد يقول يا رب عندى وعزتك العظائم المُضْمَرات فيوحى الله إليه عبدى أنا أَعْرَفُ بها منك اعترف لى بها أغفرها لك وأدُخلك الجنة فيعترف العبد بذنوبه فيدخل الجنة هذا أدنى أهل الجنة منزلة فكيف بالذى فوقه (الحكيم، والطبرانى عن أبى أمامة والحسن)

أخرجه الطبرانى (8/158، رقم 7669) عن أبى أمامة وحده. قال الهيثمى (10/402) : فيه من لم أعرفهم وضعفاء فيهم توثيق ولين.

ومن غريب الحديث: "العظائم المضمرات": الخفية التى لم يطلع عليها أحد غير الله.

অতঃপর আল্লাহ তার নিকট ওহী পাঠাবেন: "হে আমার বান্দা! আমার কাছে তোমার পাপ ও ভুলত্রুটিগুলো স্বীকার করো, আমি সেগুলো তোমার জন্য ক্ষমা করে দেব এবং তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব।" তখন বান্দা বলবে: "আপনার মর্যাদা ও মহিমার কসম! আমি কখনো কোনো পাপ করিনি এবং কখনোই কোনো ভুল করিনি।" তখন আল্লাহ তার নিকট ওহী পাঠাবেন: "হে আমার বান্দা! তোমার বিরুদ্ধে আমার নিকট প্রমাণ রয়েছে।" তখন বান্দা ডানে ও বামে তাকাবে, কিন্তু দুনিয়াতে যারা তাকে দেখেছিল তাদের কাউকেই সে দেখতে পাবে না। সে বলবে: "হে আমার রব! আমাকে আপনার সেই প্রমাণ দেখান।" তখন আল্লাহ তার চামড়াকে তুচ্ছ বিষয়সমূহ (ছোট ছোট পাপ) সম্পর্কে কথা বলার শক্তি দান করবেন। যখন বান্দা তা দেখবে, তখন সে বলবে: "হে আমার রব! আপনার মর্যাদার কসম, আমার তো আরও বড় বড় গোপন পাপ রয়েছে।" তখন আল্লাহ তার নিকট ওহী পাঠাবেন: "হে আমার বান্দা! আমি সে সম্পর্কে তোমার চেয়েও বেশি অবগত। সেগুলো আমার কাছে স্বীকার করো, আমি তোমার জন্য সেগুলো ক্ষমা করে দেব এবং তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব।" অতঃপর বান্দা তার পাপসমূহ স্বীকার করবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। এটি হলো জান্নাতীদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের ব্যক্তির অবস্থা; তাহলে যার মর্যাদা এর উপরে তার অবস্থা কেমন হবে! (আল-হাকীম এবং তাবারানি আবু উমামাহ ও হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন)।

তাবারানি এটি (৮/১৫৮, হাদিস নং ৭৬৬৯) শুধুমাত্র আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। হাইসামি (১০/৪০২) বলেছেন: এর সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যাদের আমি চিনি না এবং এমন কিছু দুর্বল বর্ণনাকারী আছেন যাদের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্যতা ও শিথিলতা উভয়ই বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসের দুর্লভ শব্দার্থ: "বড় বড় গোপন বিষয়সমূহ": ঐ সকল গোপন বিষয় যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ অবগত ছিল না।

(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌9- آخر سورة أنزلت المائدة (الترمذى عن عبد الله بن عمرو موقوفًا) [كنوز الحقائق]

أخرجه الترمذى (5/261، رقم 3063) وقال: حسن غريب. وأخرجه أيضًا: البيهقى (7/172 رقم 13757) .

‌‌10- آخر سورة نزلت كاملة براءة (النسائى عن البراء موقوفاً) [كنوز الحقائق]

أخرجه النسائى فى الكبرى (6/353، رقم 11212) . وأخرجه أيضًا: أحمد (4/298، رقم 18661) ، وابن أبى شيبة (6/147، رقم 30213) ، والبخارى (4/1586، رقم 4106) ، وأبو يعلى (3/267، رقم 1723) ، وأبو عوانة (3/441، رقم 5613) .

‌‌11- آخر شربة تشربها من الدنيا شربة لبن (أحمد، والطبرانى عن أبى البخترى) [المناوى]
৯- অবতীর্ণ হওয়া সর্বশেষ সূরা হলো আল-মায়িদাহ (আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে মওকুফ হিসেবে তিরমিযী বর্ণনা করেছেন) [কুনুযুল হাকায়েক]

এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন (৫/২৬১, হাদিস নং ৩০৬৩) এবং বলেছেন: হাসান গারীব। বায়হাকীও এটি বর্ণনা করেছেন (৭/১৭২, হাদিস নং ১৩৭৫৭)।

১০- পূর্ণাঙ্গভাবে অবতীর্ণ হওয়া সর্বশেষ সূরা হলো বারাআহ (বারা থেকে মওকুফ হিসেবে নাসাঈ বর্ণনা করেছেন) [কুনুযুল হাকায়েক]

নাসাঈ এটি ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৬/৩৫৩, হাদিস নং ১১২১২)। এটি আরও বর্ণনা করেছেন: আহমাদ (৪/২৯৮, হাদিস নং ১৮৬৬১), ইবনে আবি শাইবাহ (৬/১৪৭, হাদিস নং ৩০২১৩), বুখারী (৪/১৫৮৬, হাদিস নং ৪১০৬), আবু ইয়ালা (৩/২৬৭, হাদিস নং ১৭২৩) এবং আবু আওয়ানাহ (৩/৪৪১, হাদিস নং ৫৬১৩)।

১১- দুনিয়া থেকে তোমার শেষ যে পানীয়টি তুমি পান করবে, তা হলো দুধ (আবুল বাখতারি থেকে আহমাদ ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন) [আল-মুনাওয়ী]
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ১৮)
أخرجه أحمد (4/319، رقم 18900) عن أبى البخترى قال قال عمار يوم صفين: ائتونى بشربة لبن فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال … ". قال الهيثمى (7/243) : رواه أحمد والطبرانى، وبيَّن أن الذى سقاه أبو المخارق، ورجال أحمد رجال الصحيح إلا أنه منقطع. وأخرجه أيضًا: ابن أبى شيبة (7/552، رقم 37877) ، وأبو يعلى (3/188، رقم 1613) ، والحاكم (3/439، رقم 5669) وقال: صحيح على شرط الشيخين. وهذا إسناد ضعيف لانقطاعه.

وللحديث أطراف أخرى منها: "تقتلك الفئة الباغية".

‌‌12- آخر قرية من قُرَى الإسلام خَرَابًا المدينة (الترمذى - حسن غريب - عن أبى هريرة)
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (৪/৩১৯, নম্বর ১৮৯০০) আবুল বাখতারি থেকে, তিনি বলেন, আম্মার সিফফীনের যুদ্ধের দিন বলেছিলেন: "আমার জন্য এক চুমুক দুধ নিয়ে এসো, কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন … "। হাইসামি (৭/২৪৩) বলেন: আহমাদ ও তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন, এবং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাকে পান করিয়েছিলেন আবু আল-মুখারিক। আহমাদের বর্ণনাকারীগণ সহীহ-এর বর্ণনাকারী, তবে এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)। এটি আরও বর্ণনা করেছেন: ইবন আবি শায়বাহ (৭/৫৫২, নম্বর ৩৭৮৭৭), আবু ইয়ালা (৩/১৮৮, নম্বর ১৬১৩), এবং হাকিম (৩/৪৩৯, নম্বর ৫৬৬৯), এবং তিনি বলেছেন: এটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুসারে সহীহ। আর এই সনদটি এর বিচ্ছিন্নতার কারণে যয়ীফ (দুর্বল)।

এই হাদিসের অন্যান্য অংশও রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: "তোমাকে এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হত্যা করবে"।

‌‌১২- ইসলামের জনপদগুলোর মধ্যে সর্বশেষ যে জনপদটি ধ্বংস হবে তা হলো মদীনা (তিরমিযী - হাসান গারীব - আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত)
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ১৯)
أخرجه الترمذى (5/720، رقم 3919) وقال: حسن غريب. وأخرجه أيضًا: ابن حبان (15/179، رقم 6776) ، وأبو عمرو الدانى فى السنن الواردة فى الفتن (4/890، رقم 460) . قال الترمذى فى العلل الصغير (ص 377) بعد أن ذكر الحديث: سألت محمدًا (يعنى الإمام البخارى) عن هذا الحديث فلم يعرفه، وجعل يتعجب من هذا الحديث.

‌‌13- آخر ما أدرك الناس من كلام النبوة الأولى إذا لم تَسْتَحِى فاصنع ما شئتَ (ابن عساكر عن أبى مسعود البدرى)

أخرجه ابن عساكر (53/120) وأخرجه أيضًا: الطبرانى (17/237، رقم 657) ، والبيهقى فى شعب الإيمان (6/144، رقم 7736) ، وأبو بكر الإسماعيلى فى معجمه (2/630) .

وللحديث أطراف أخرى منها: "إن مما أدرك الناس".

‌‌14- آخر ما تكلم به إبراهيمُ حين أُلْقِى فى النار حسبى الله ونعم الوكيل (الخطيب عن أبى هريرة وقال: غريب. والمحفوظ عن ابن عباس موقوف، رواه الحاكم)
তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন (৫/৭২০, নম্বর ৩৯১৯) এবং বলেছেন: এটি হাসান গরিব। ইবনে হিব্বান (১৫/১৭৯, নম্বর ৬৭৭৬) এবং আবু আমর আদ-দানি তাঁর 'আস-সুনান আল-ওয়ারিদাহ ফিল ফিতান' গ্রন্থে (৪/৮৯০, নম্বর ৪৬০) এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি 'আল-ইলাল আস-সাগির' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩৭৭) হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: আমি মুহাম্মদকে (অর্থাৎ ইমাম বুখারিকে) এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু তিনি এটি চিনতে পারেননি এবং এই হাদিসটির ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করতে লাগলেন।

‌‌১৩- পূর্ববর্তী নবুওয়াতের বাণী থেকে মানুষ যা লাভ করেছে তার শেষাংশ হলো: "যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, তখন তুমি যা ইচ্ছা করো।" (ইবনে আসাকির এটি আবু মাসউদ আল-বদরি থেকে বর্ণনা করেছেন)

ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন (৫৩/১২০), তাবারানি (১৭/২৩৭, নম্বর ৬৫৭), শুআবুল ঈমানে বায়হাকি (৬/১৪৪, নম্বর ৭৭৩৬) এবং আবু বকর আল-ইসমাঈলি তাঁর 'মু'জাম'-এ (২/৬৩০) এটি বর্ণনা করেছেন।

এই হাদিসের অন্যান্য পাঠও রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: "নিশ্চয়ই মানুষ যা লাভ করেছে তার মধ্য হতে..."

‌‌১৪- ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তাঁর শেষ কথা ছিল— "আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।" (আল-খতিব এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে গরিব বলেছেন। তবে ইবনে আব্বাস থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হওয়াটিই সংরক্ষিত, যা হাকেম বর্ণনা করেছেন)
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ২০)
حديث أبى هريرة: أخرجه الخطيب (9/118) ، وقال: غريب من رواية أبى حصين عن أبى صالح عن أبى هريرة مسندًا، لا أعلم رواه غير سلام بن سليمان عن إسرائيل، والمحفوظ ما رواه الناس عن إسرائيل وأبى بكر بن عياش عن أبى حصين عن أبى الضحى عن ابن عباس قال: "لما ألقى إبراهيم فى النار …" الحديث.

حديث ابن عباس الموقوف المشار إليه: أخرجه الحاكم (2/326، رقم 3167) بلفظ: "كان آخر كلام إبراهيم حين ألقى فى النار حسبى الله ونعم الوكيل" وقال: صحيح على شرط الشيخين. وأخرجه أيضًا: البخارى (4/1662 رقم 4288) والنسائى فى الكبرى (6/316، رقم 11081) ، قال الحافظ فى الفتح (8/229) : وهم الحاكم فى استدراكه.

‌‌15- آخر من يُحشر راعيان من مُزَيْنَة يريدان المدينة يَنْعَقَانِ بغنمهما فيجدانها وحوشًا حتى إذا بَلَغَا ثَنِيَّة الوداع خَرَّا على وجوههما (الحاكم عن أبى هريرة)

أخرجه الحاكم (4/609، رقم 8690) وقال: صحيح على شرط الشيخين.
আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর হাদীস: এটি আল-খাতীব (৯/১১৮) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আবু সালেহ্ থেকে আবু হুসায়ন, তাঁর থেকে আবু হুরায়রা (রাযি.) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুসনাদ হিসেবে গারীব। সাল্লাম ইবনে সুলাইমান ব্যতীত ইসরাঈল থেকে অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। তবে সংরক্ষিত (মাহফুজ) বর্ণনা সেটিই যা সাধারণ বর্ণনাকারীগণ ইসরাঈল এবং আবু বকর ইবনে আয়্যাশ থেকে, তাঁরা আবু হুসায়ন থেকে, তিনি আবুল দুহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "যখন ইবরাহীম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হলো …" হাদীস।

উল্লিখিত ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর মাওকুফ হাদীস: এটি হাকেম (২/৩২৬, নং ৩১৬৭) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যখন ইবরাহীম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তাঁর শেষ কথা ছিল: 'আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক'।" এবং তিনি বলেছেন: এটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্ত অনুযায়ী সহীহ। এছাড়াও এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারী (৪/১৬৬২, নং ৪২৮৮) এবং নাসায়ী তাঁর 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (৬/৩১৬, নং ১১০৮১)। হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থে (৮/২২৯) বলেছেন: হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে ভুল করেছেন।

‌‌১৫- সর্বশেষে যাদেরকে হাশরে সমবেত করা হবে, তারা হলো মুজাইনা গোত্রের দুইজন রাখাল; যারা মদীনার দিকে আসার সংকল্প করবে এবং তাদের ছাগলগুলোকে হাঁকিয়ে আনবে, কিন্তু তারা সেগুলোকে বন্য প্রাণী হিসেবে দেখতে পাবে। অবশেষে যখন তারা সানিয়্যাতুল বিদা-তে পৌঁছাবে, তখন তারা উপুড় হয়ে পড়ে যাবে। (হাকেম এটি আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন)

এটি হাকেম (৪/৬০৯, নং ৮৬৯০) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্ত অনুযায়ী সহীহ।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ২১)
والحديث أصله فى الصحيح وسيأتى بأطراف منها: "تتركون المدينة".

ومن غريب الحديث: "مُزَيْنَة": قبيلة من قبائل العرب بالحجاز. "نَعَقَ بغنمه": صاح بها وزجرها. "ثَنِيَّة الوَداع": ثنية مشرفة على المدينة يمر بها المسافر إلى مكة.

‌‌16- آخر من يُحشر من هذه الأمة رجلان من قريش (ابن أبى شيبة عن وكيع عن إسماعيل عن قيس قال: أُخبرتُ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال … فذكره، وعن وكيع عن المسعودى عن سعد بن خالد عن حذيفة بن أَسِيد موقوفًا والأول صحيح؛ لأن قيس بن أبى حازم سمع من العشرة، والثانى حسن وله حكم الرفع)

طريق وكيع عن إسماعيل عن قيس المرسل: أخرجه ابن أبى شيبة (7/257، رقم 35852) بلفظ: إن آخر من يحشر من هذه الأمة رجلان من قيس.

وأثر حذيفة بن أسيد الموقوف: أخرجه ابن أبى شيبة (7/257، رقم 35851) بلفظ: "قريش".
হাদিসটির মূল উৎস সহিহ গ্রন্থে রয়েছে এবং এর কিছু অংশ সামনে আসবে: "তোমরা মদিনা ছেড়ে চলে যাবে।"

হাদিসের কঠিন শব্দাবলি: "মুজায়না": হিজাজের আরব গোত্রসমূহের একটি গোত্র। "না’আকা বি-গানামিহি": সে তার বকরিগুলোকে উচ্চস্বরে ডাকল এবং হাঁকিয়ে নিল। "সানিয়্যাতুল বিদা": মদিনার নিকটবর্তী একটি উঁচু পথ যা দিয়ে মক্কায় গমনকারী মুসাফিরগণ যাতায়াত করেন।

‌১৬- এই উম্মতের মধ্য থেকে সর্বশেষ যাদের সমবেত করা হবে তারা কুরাইশ বংশের দুইজন ব্যক্তি (ইবনে আবি শাইবা ওয়াকি‘র সূত্রে, তিনি ইসমাইলের সূত্রে, তিনি কায়সের সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে জানানো হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন। আর ওয়াকি‘র সূত্রে আল-মাসউদি থেকে, তিনি সাদ বিন খালিদ থেকে, তিনি হুজাইফা বিন আসিদ থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত। প্রথমটি সহিহ; কারণ কায়স বিন আবি হাজেম দশজন জান্নাতী সাহাবীর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। দ্বিতীয়টি হাসান এবং এটি মারফু’র হুকুম রাখে।)

ইসমাইল থেকে কায়সের সূত্রে ওয়াকি‘র বর্ণিত মুরসাল হাদিসের সূত্রটি হলো: ইবনে আবি শাইবা এটি বর্ণনা করেছেন (৭/২৫৭, নম্বর ৩৫৮৫২) এই শব্দে যে: নিশ্চয়ই এই উম্মতের মধ্য থেকে সর্বশেষ যাদের সমবেত করা হবে তারা কায়স বংশের দুইজন ব্যক্তি।

হুজাইফা বিন আসিদ থেকে বর্ণিত মাওকুফ আসরটি হলো: ইবনে আবি শাইবা এটি বর্ণনা করেছেন (৭/২৫৭, নম্বর ৩৫৮৫১), যেখানে "কুরাইশ" শব্দ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌17- آخر من يخرج من النار رجلان يقول الله لأحدهما يا ابن آدم ما أعددتَ لهذا اليوم هل عملتَ خيرًا قط هل رجوتَنى فيقول لا يا رب فيؤمر به إلى النار فهو أشد أهل النار حسرة ويقول للآخر يا ابن آدم ما أعددتَ لهذا اليوم هل عملتَ خيرًا قط ورجوتنى فيقول لا يا رب إلا أنى كنت أرجوك فيُرفع له شجرةٌ فيقول أى رب أَقِرَّنِى تحت هذه الشجرة فأستظل بظلِّها وآكل من ثمرها وأشرب من مائها ويعاهده أن لا يسأله غير هذا فَيُقِرَّه تحتها ثم تُرفع له شجرةٌ أحسن من الأولى وأَغْدق ماء فيقول أى رب أَقِرَّنِى تحتها لا أسألك غيرها فأستظل بظلها وأشرب من مائها فيقول يا ابن آدم ألم تعاهدنى أن لا تسألنى غيرها فيقول أى رب هذه لا أسألك غيرها فَيُقِرَّه تحتها ثم تُرفع له شجرةٌ عند باب الجنة هى أحسن من الأُولَيَيْن وأَغْدَق ماء فيقول أى رب هذه فأَقِرَّنِى تحتها فيُدنيه منها ويعاهده أن لا يسأله غيرها فيسمع أصواتَ أهل الجنة فلا يتمالك فيقول أى رب أدخلنى
১৭- জাহান্নাম থেকে সর্বশেষে নির্গত হবে দুই ব্যক্তি। আল্লাহ তাদের একজনকে বলবেন, হে আদম সন্তান! এই দিনের জন্য তুমি কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? তুমি কি কখনো কোনো নেক আমল করেছ? তুমি কি আমার নিকট কোনো আশা পোষণ করেছিলে? সে বলবে, না, হে আমার রব। তখন তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে, আর সে হবে জাহান্নামীদের মধ্যে সর্বাধিক আক্ষেপকারী। এরপর আল্লাহ অপর ব্যক্তিকে বলবেন, হে আদম সন্তান! এই দিনের জন্য তুমি কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? তুমি কি কখনো কোনো নেক আমল করেছ এবং আমার নিকট আশা পোষণ করেছিলে? সে বলবে, না, হে আমার রব! তবে আমি আপনার নিকট আশা পোষণ করতাম। তখন তার সম্মুখে একটি গাছ তোলা হবে। সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে এই গাছের নিচে স্থান দিন যেন আমি এর ছায়াতলে থাকতে পারি, এর ফল আহার করতে পারি এবং এর পানি পান করতে পারি। সে আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করবে যে, এ ছাড়া সে আর কিছু চাইবে না। অতঃপর আল্লাহ তাকে তার নিচে স্থান দেবেন। এরপর তার সম্মুখে পূর্বেরটির চেয়েও সুন্দর এবং প্রচুর পানি সমৃদ্ধ আরেকটি গাছ তোলা হবে। সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে এর নিচে স্থান দিন, আমি এ ছাড়া আর কিছুই আপনার নিকট চাইব না, যেন আমি এর ছায়াতলে থাকতে পারি এবং এর পানি পান করতে পারি। আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! তুমি কি আমার নিকট অঙ্গীকার করোনি যে, এ ছাড়া আর কিছু চাইবে না? সে বলবে, হে আমার রব! কেবল এটিই, এরপর আমি আর কিছু চাইব না। অতঃপর আল্লাহ তাকে সেখানে স্থান দেবেন। এরপর জান্নাতের দরজার নিকট আরেকটি গাছ তোলা হবে যা পূর্বের দুটির চেয়েও অধিক সুন্দর এবং প্রচুর পানি সমৃদ্ধ। সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে এর নিচে স্থান দিন। তখন আল্লাহ তাকে তার নিকটবর্তী করবেন এবং সে পুনরায় অঙ্গীকার করবে যে, এ ছাড়া আর কিছু চাইবে না। এরপর সে জান্নাতবাসীদের শব্দ শুনতে পাবে এবং নিজেকে সংবরণ করতে না পেরে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ২৩)
الجنة فيقول الله سَلْ وتَمَنَّ فيسأل ويتمنى مقدار ثلاثة أيام من أيام الدنيا ويلقِّنه الله ما لا علم له به فيسأل ويتمنى فإذا فرغ قال لك ما سألت ومثله معه وقال أبو هريرة وعشرة أمثاله (أحمد، وعبد بن حميد عن أبى سعيد وأبى هريرة معًا)

أخرجه أحمد (3/70، رقم 11685، 3/74، رقم 11726) ، وعبد بن حميد (ص 305، رقم 991) . قال المنذرى (4/276) : رواته محتج بهم فى الصحيح، إلا على بن زيد وهو فى البخارى بنحوه. وقال الهيثمى (10/384) : رجاله رجال الصحيح غير على بن زيد وهو حسن الحديث. وزاد فى (10/400) وقد وُثِّق على ضعف فيه.

والحديث أصله فى الصحيح وسيأتى بأطراف منها: "هل تمارون".

‌‌18- آخر من يدخل الجنة رجل من جُهَيْنَة يقال له جُهَيْنَة فيقول أهل الجنة عند جُهَيْنَة الخبر اليقين سلوه هل بقى من الخلائق أحد يعذب فيقول لا (الدارقطنى فى غرائب مالك، والخطيب فى رواة مالك عن ابن عمر، وقال

الدارقطنى: باطل)
জান্নাত; অতঃপর আল্লাহ বলেন, "চাও এবং আকাঙ্ক্ষা করো।" সে তখন দুনিয়ার তিন দিনের সমপরিমাণ সময় পর্যন্ত চাইতে থাকে এবং আকাঙ্ক্ষা করতে থাকে। আল্লাহ তাকে এমন সব বিষয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন যা সম্পর্কে তার জ্ঞান ছিল না। সে চাইতে থাকে এবং আকাঙ্ক্ষা করতে থাকে। যখন সে শেষ করে, তখন আল্লাহ বলেন, "তুমি যা চেয়েছ তা তোমার জন্য এবং তার সাথে তার সমপরিমাণ আরও রয়েছে।" আবু হুরায়রা বলেন, "এবং তার দশ গুণ।" (আহমদ এবং আবদ ইবনে হুমাইদ, আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা উভয়ের সূত্রে)

এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (৩/৭০, নম্বর ১১৬৮৫; ৩/৭৪, নম্বর ১১৭২৬) এবং আবদ ইবনে হুমাইদ (পৃষ্ঠা ৩০৫, নম্বর ৯৯১)। মুনযিরি (৪/২৭৬) বলেন: এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থে দলিল হিসেবে গৃহীত, তবে আলি ইবনে যাইদ ব্যতীত; আর বুখারিতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। হাইসামি (১০/৩৮৪) বলেন: আলি ইবনে যাইদ ছাড়া এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ পর্যায়ের বর্ণনাকারী এবং তার হাদিস হাসান। তিনি (১০/৪০০) আরও বলেন যে, তার দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তাকে নির্ভরযোগ্য গণ্য করা হয়েছে।

হাদিসটির মূল অংশ সহিহ গ্রন্থে রয়েছে এবং এর বিভিন্ন দিক সামনে আসবে, যেমন: "তোমরা কি সন্দেহ পোষণ করো?"

১৮- জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী ব্যক্তি হবে জুহাইনা গোত্রের একজন লোক যাকে জুহাইনা বলা হবে। জান্নাতবাসীরা বলবে, "জুহাইনার কাছেই নিশ্চিত সংবাদ রয়েছে; তাকে জিজ্ঞাসা করো মাখলুকাতের আর কেউ কি আজাব ভোগ করছে?" সে বলবে, "না।" (দারাকুতনি 'গরাইবে মালিক' গ্রন্থে এবং খাতিব 'রুওয়াতু মালিক' গ্রন্থে ইবনে উমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং দারাকুতনি বলেছেন: এটি ভিত্তিহীন)
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ২৪)
أخرجه أيضًا: محمد بن المظفر فى غرائب مالك (ص 161، رقم 186) . وعزاه أيضًا للدارقطنى فى غرائب مالك الحافظ فى الفتح (11/459) . وقول الدارقطنى: باطل أقره عليه العراقى فى ذيل الميزان (8/151، ترجمة 542) ، والحافظ

فى اللسان (2/93، ترجمة 375) وقال العجلونى (1/14) : وفى رواية عن ابن عمر رفعه … ورواه الدارقطنى فى غريب مالك … وحكى السهيلى أنه جاء أن اسمه هناد.

ومن غريب الحديث: "جهينة": قبيلة من قبائل العرب.
এটি মুহাম্মাদ ইবনুল মুজাফ্ফারও তাঁর 'গারাইবে মালিক' (পৃষ্ঠা ১৬১, নম্বর ১৮৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারী' (১১/৪৫৯) গ্রন্থে এটি আদ-দারা কুতনীর 'গারাইবে মালিক' গ্রন্থের প্রতিও নিসবত করেছেন। আর আদ-দারা কুতনীর উক্তি: 'বাতিল' (ভিত্তিহীন), আল-ইরাকী 'যাইলুল মিজান' (৮/১৫১, জীবনী ৫৪২) গ্রন্থে এবং হাফেজ

তাঁর 'আল-লিসান' (২/৯৩, জীবনী ৩৭৫) গ্রন্থেও এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন। আল-আজলুনী (১/১৪) বলেছেন: ইবনে উমর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত এক বর্ণনায় আছে … এবং আদ-দারা কুতনী এটি 'গারিবু মালিক' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন … আস-সুহাইলি বর্ণনা করেছেন যে, সেখানে এসেছে তাঁর নাম হান্নাদ।

হাদিসের বিরল শব্দাবলি থেকে: "জুহায়না": এটি আরবদের গোত্রসমূহের মধ্য থেকে একটি গোত্র।
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌19- آخر من يدخل الجنة رجل يمشى على الصراط فهو يمشى مرة ويَكْبُو مرة وتَسْفَعُه النار مرة فإذا جاوزها التفتَ إليها فقال تبارك الذى نجانى منك لقد أعطانى الله شيئًا ما أعطاه أحدًا من الأولين والآخرين فتُرفع له شجرةٌ فيقول أى رب أَدْنِنِى من هذه الشجرة فلأستظل بظلها وأشرب من مائها فيقول الله يا ابن آدم لَعَلِّى إن أَعْطَيْتُكَهَا سألتنى غيرها فيقول لا يا رب ويعاهده أن لا يسأله غيرها ورَبُّه يَعْذِرُهُ لأنه يرى ما لا صَبْرَ له عليه فيُدْنِيه منها فيستظل بظلها ويشرب من مائها ثم تُرفع له شجرةٌ أخرى هى أحسن من الأولى فيقول أى رب أَدْنِنِى من هذه لأشرب من مائها وأستظل بظلها لا أسألك غيرها فيقول يا ابن آدم ألم تعاهدنى أن لا تسألنى غيرها فيقول لعلى إن أدنيتك منها تسألنى غيرها فيعاهده أن لا يسأله غيرها ورَبُّه يَعْذِرُه لأنه يرى ما لا صبر له عليه فيدنيه منها فيستظل بظلها ويشرب من مائها ثم تُرفع له شجرةٌ عند باب الجنة هى
১৯- জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী হবে এমন এক ব্যক্তি, যে সিরাতের ওপর দিয়ে চলবে; সে কখনো হাঁটবে, কখনো উপুড় হয়ে পড়বে এবং কখনো আগুন তাকে দগ্ধ করবে। যখন সে তা পার হয়ে যাবে, তখন সেটির দিকে ফিরে তাকিয়ে বলবে: বরকতময় সেই সত্তা যিনি আমাকে তোমার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আল্লাহ আমাকে এমন কিছু দান করেছেন যা তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের মধ্যে কাউকে দেননি। অতঃপর তার সামনে একটি গাছ উন্মোচন করা হবে। তখন সে বলবে: হে আমার রব! আমাকে এই গাছটির নিকটবর্তী করে দিন যাতে আমি এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারি এবং এর পানি পান করতে পারি। আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান! আমি যদি তোমাকে এটি প্রদান করি, তবে সম্ভবত তুমি আমার কাছে অন্য কিছু চাইবে। সে বলবে: না, হে আমার রব! এবং সে তাঁর সাথে অঙ্গীকার করবে যে সে আর কিছু চাইবে না। তার রব তাকে মার্জনা করবেন, কারণ তিনি দেখছেন যে লোকটির এ বিষয়ে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা নেই। অতঃপর তিনি তাকে সেটির নিকটবর্তী করবেন, ফলে সে তার ছায়ায় আশ্রয় নেবে এবং তার পানি পান করবে। এরপর তার সামনে অন্য একটি গাছ উন্মোচন করা হবে যা প্রথমটির চেয়ে অধিক সুন্দর। তখন সে বলবে: হে আমার রব! আমাকে এর নিকটবর্তী করে দিন যাতে আমি এর পানি পান করতে পারি এবং এর ছায়ায় আশ্রয় নিতে পারি; আমি আপনার কাছে এছাড়া আর কিছু চাইব না। আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান! তুমি কি আমার সাথে অঙ্গীকার করনি যে তুমি আর কিছু চাইবে না? সম্ভবত আমি যদি তোমাকে এর নিকটবর্তী করি তবে তুমি অন্য কিছু চাইবে। তখন সে অঙ্গীকার করবে যে সে আর কিছু চাইবে না। তার রব তাকে মার্জনা করবেন কারণ তিনি দেখছেন যে তার ধৈর্য ধারণের শক্তি নেই। অতঃপর তিনি তাকে এর নিকটবর্তী করবেন, ফলে সে তার ছায়াতলে আশ্রয় নেবে এবং তার পানি পান করবে। এরপর জান্নাতের দরজার নিকট তার সামনে আরেকটি গাছ উন্মোচন করা হবে যা...
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ২৬)
أحسن من الأوليين فيقول أى رب أدننى من هذه فلأستظل بظلها وأشرب من مائها لا أسألك غيرها فيقول يا ابن آدم ألم تعاهدنى أن لا تسألنى غيرها قال بلى يا رب أدننى من هذه لا أسألك غيرها ورَبُّه يَعْذِرُهُ لأنه يرى ما لا صبر له عليه فيُدنيه منها فإذا أدناه منها سمع أصوات أهل الجنة فيقول أى رب أدخلنيها فيقول يا ابن آدم ما يَصْرِينِى منك أَيُرْضيك أن أُعطيك الدنيا ومثلها معها فيقول أى رب أتستهزئ منى وأنت رب العالمين فيقول إنى لا أستهزئ منك ولكنى على ما أشاء قادر (أحمد، ومسلم، والطبرانى، والبيهقى فى البعث عن ابن مسعود)

أخرجه أحمد (1/391، رقم 3714) ، ومسلم (1/174، رقم 187) ، والطبرانى (10/9، رقم 9775) ، والبيهقى فى البعث (ص 101، رقم 96) . وأخرجه أيضًا: ابن أبى عاصم فى الآحاد والمثانى (1/191، رقم 248) .

وللحديث أطراف أخرى منها: "إن آخر من يدخل الجنة".
(পূর্ববর্তী দুইটির চেয়েও) সুন্দর, তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে এর নিকটবর্তী করে দিন যাতে আমি এর ছায়ায় আশ্রয় নিতে পারি এবং এর পানি পান করতে পারি। আমি আপনার নিকট এছাড়া আর অন্য কিছু প্রার্থনা করব না। তখন আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! তুমি কি আমার সাথে অঙ্গীকার করোনি যে, তুমি এছাড়া অন্য কিছু আমার কাছে চাইবে না? সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার রব! আমাকে শুধু এর নিকটবর্তী করে দিন, এছাড়া আর অন্য কিছু আমি আপনার কাছে চাইব না। তখন তার রব তাকে ক্ষমা করবেন (বা ছাড় দেবেন), কারণ তিনি দেখছেন যে ওই ব্যক্তির পক্ষে সবর করা সম্ভব নয়। অতঃপর তিনি তাকে তার নিকটবর্তী করবেন। যখন তিনি তাকে তার নিকটবর্তী করবেন, সে জান্নাতবাসীদের আওয়াজ শুনতে পাবে। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে এতে প্রবেশ করান। তখন আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! কিসে তোমার আবেদন শেষ হবে? তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে আমি তোমাকে গোটা দুনিয়া এবং তার সাথে আরও সমপরিমাণ নিয়ামত দান করি? সে বলবে, হে আমার রব! আপনি কি আমার সাথে উপহাস করছেন অথচ আপনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক? তিনি বলবেন, আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না, বরং আমি যা ইচ্ছা তা করতে সক্ষম। (আহমাদ, মুসলিম, তাবারানি এবং বায়হাকি 'আল-বাস' গ্রন্থে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন)।

এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (১/৩৯১, নম্বর ৩৭১৪), মুসলিম (১/১৭৪, নম্বর ১৮৭), তাবারানি (১০/৯, নম্বর ৯৭৭৫) এবং বায়হাকি 'আল-বাস' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১০১, নম্বর ৯৬)। ইবনে আবি আসিমও এটি 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানি' গ্রন্থে (১/১৯১, নম্বর ২৪৮) বর্ণনা করেছেন।

এই হাদিসের আরও কিছু অংশ রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো: "নিশ্চয়ই জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী ব্যক্তি।"
(খণ্ড: ১) জামিউল আহাদীস (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن غريب الحديث: "ما يصرينى منك": ما يقطع مسألتك ويمنعك من سؤالى.

‌‌20- آدم فى السماء الدنيا تعرض عليه أعمال أمته ويوسف فى السماء الثانية وابنا الخالة يحيى وعيسى فى السماء الثالثة وإدريس فى السماء الرابعة وهارون فى السماء الخامسة وموسى فى السماء السادسة وإبراهيم فى السماء السابعة (ابن مردويه فى تفسيره عن أبى سعيد)

أخرجه أيضًا: ابن جرير (15/13) ، وابن أبى حاتم (كما فى تفسير ابن كثير 3/14) ، والبيهقى فى دلائل النبوة طبعة العلمية (2/390) ، وفيه أبو هارون العبدى متروك الحديث كما قال الشيخ الغمارى فى المداوى (1/29) ، وقال المناوى (1/49) : إسناده ضعيف، لكن المتن صحيح فإنه قطعة من حديث الإسراء الذى خرجه الشيخان عن أنس، لكن فيه خلف فى الترتيب. وله شاهد عند الطبرانى فى الأوسط (7/41، رقم 6790) عن أنس بن مالك بلفظ: "آدم فى السماء الدنيا، وعيسى ويحيى فى الثانية، ويوسف فى الثالثة، وإدريس فى الرابعة، وهارون فى
হাদীসের বিরল শব্দাবলীর মধ্য থেকে: "যা তোমাকে আমার নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন করে": অর্থাৎ যা তোমার প্রার্থনাকে ছিন্ন করে দেয় এবং আমার কাছে চাওয়া থেকে তোমাকে বিরত রাখে।

‌‌২০- আদম দুনিয়ার আসমানে, তাঁর নিকট তাঁর উম্মতের আমলসমূহ পেশ করা হয়; ইউসুফ দ্বিতীয় আসমানে; খালাতো ভাই ইয়াহইয়া ও ঈসা তৃতীয় আসমানে; ইদরীস চতুর্থ আসমানে; হারুন পঞ্চম আসমানে; মূসা ষষ্ঠ আসমানে এবং ইব্রাহীম সপ্তম আসমানে (ইবনে মারদুইয়াহ তাঁর তাফসীরে আবু সাঈদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন)।

এটি আরও বর্ণনা করেছেন: ইবনে জারীর (১৫/১৩), ইবনে আবি হাতেম (যেমনটি তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/১৪-তে রয়েছে), এবং বায়হাকী 'দালাইলুন নুবুওয়াহ'-এর ইলমিয়্যাহ সংস্করণে (২/৩৯০)। এর সনদে আবু হারুন আল-আবদী রয়েছেন যিনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত (মাতরুক), যেমনটি শেখ আল-গুমারী 'আল-মুদাওয়ী' (১/২৯) গ্রন্থে বলেছেন। আল-মুনাভী (১/৪৯) বলেছেন: এর সনদ দুর্বল, তবে মূল বক্তব্য (মতন) সহীহ, কারণ এটি ইসরা-র হাদীসের একটি অংশ যা শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে এতে ক্রমবিন্যাসের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। তাবারানী 'আল-আওসাত' (৭/৪১, নং ৬৭৯০) গ্রন্থে আনাস বিন মালিক থেকে এর একটি সমর্থনমূলক বর্ণনা (শাহিদ) এনেছেন যার শব্দবিন্যাস হলো: "আদম দুনিয়ার আসমানে, ঈসা ও ইয়াহইয়া দ্বিতীয় আসমানে, ইউসুফ তৃতীয় আসমানে, ইদরীস চতুর্থ আসমানে এবং হারুন...