(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: -)
سنن الترمذي - ت شاكر القسم: كتب السنة
الكتاب: سنن الترمذي
المؤلف: محمد بن عيسى بن سَوْرة بن موسى بن الضحاك، الترمذي، أبو عيسى (ت 279 هـ)
تحقيق وتعليق:
أحمد محمد شاكر (جـ 1، 2)
ومحمد فؤاد عبد الباقي (جـ 3)
وإبراهيم عطوة عوض المدرس في الأزهر الشريف (جـ 4، 5)
الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي - مصر
الطبعة: الثانية، 1395 هـ - 1975 م
عدد الأجزاء: 5 أجزاء
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুনান আত-তিরমিযী - তাহকীক: শাকের বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
কিতাব: সুনান আত-তিরমিযী
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা ইবনে মুসা ইবনে আদ-দাহহাক, আত-তিরমিযী, আবু ঈসা (মৃত্যু ২৭৯ হিজরী)
তাহকীক ও টীকা:
আহমাদ মুহাম্মদ শাকের (খণ্ড ১, ২)
এবং মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী (খণ্ড ৩)
এবং ইবরাহীম আতওয়াহ আওয়াদ, আল-আযহার আশ-শরীফের শিক্ষক (খণ্ড ৪, ৫)
প্রকাশক: শারিকাহ মাকতাবাহ ওয়া মাতবাআহ মুস্তফা আল-বাবী আল-হালাবী - মিসর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯৫ হিজরী - ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫ খণ্ড
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৫)
1 - أَبْوَابُ الطَّهَارَةِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১ - পবিত্রতা অধ্যায়সমূহ যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৫)
بَابُ مَا جَاءَ لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ
পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল না হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৫)
1 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، ح وحَدَّثَنَا هَنَّادٌ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ
⦗ص: 6⦘ وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ»، قَالَ هَنَّادٌ فِي حَدِيثِهِ: «إِلَّا بِطُهُورٍ». هَذَا الْحَدِيثُ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ. وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ أَبِيهِ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَنَسٍ. وَأَبُو الْمَلِيحِ بْنُ أُسَامَةَ اسْمُهُ عَامِرٌ، وَيُقَالُ: زَيْدُ بْنُ أُسَامَةَ بْنِ عُمَيْرٍ الْهُذَلِيُّ
--------------------------------------------
১ - কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন সিমাক ইবনে হারব থেকে। (হ) এবং হান্নাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকি’ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সা’দ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: “পবিত্রতা ব্যতীত কোনো সালাত কবুল করা হয় না
⦗পৃষ্ঠা: ৬⦘ এবং আত্মসাৎকৃত মালের সদকাও কবুল করা হয় না।” হান্নাদ তাঁর বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: “পবিত্রতা ব্যতীত।” এই হাদিসটি এই অধ্যায়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধ এবং উত্তম। এই বিষয়ে আবু আল-মালিহ তাঁর পিতা থেকে, আবু হুরায়রা এবং আনাস থেকেও বর্ণনা বর্ণিত আছে। আর আবু আল-মালিহ ইবনে উসামার নাম হলো আমির; আবার বলা হয়: জায়েদ ইবনে উসামা ইবনে উমাইর আল-হুযালী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৬)
بَابُ مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الطُّهُورِ
পবিত্রতার ফযীলত সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৬)
2 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الْأَنْصَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ
⦗ص: 7⦘ قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، ح وحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ، أَوِ الْمُؤْمِنُ، فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتْ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ - أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ، أَوْ نَحْوَ هَذَا - وَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتْ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ - أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ - حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ». هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهُوَ حَدِيثُ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبُو صَالِحٍ وَالِدُ سُهَيْلٍ هُوَ أَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ، وَاسْمُهُ ذَكْوَانُ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ اخْتُلِفَ فِي اسْمِهِ، فَقَالُوا: عَبْدُ شَمْسٍ، وَقَالُوا: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، وَهَكَذَا قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَهَذَا الْأَصَحُّ. وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ، وَثَوْبَانَ، وَالصُّنَابِحِيِّ، وَعَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، وَسَلْمَانَ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو،
⦗ص: 8⦘ وَالصُّنَابِحِيُّ هَذَا الَّذِي رَوَى عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، لَيْسَ لَهُ سَمَاعٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُسَيْلَةَ، وَيُكْنَى أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، رَحَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الطَّرِيقِ، وَقَدْ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ، وَالصُّنَابِحُ بْنُ الْأَعْسَرِ الْأَحْمَسِيُّ صَاحِبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، يُقَالُ لَهُ: الصُّنَابِحِيُّ أَيْضًا، وَإِنَّمَا حَدِيثُهُ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: إِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الْأُمَمَ فَلَا تَقْتَتِلُنَّ بَعْدِي
--------------------------------------------
২ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে মুসা আল-আনসারি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মা'ন ইবনে ঈসা আল-কাযযায
⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘ তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস। (অন্য সূত্রে) এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কুতায়বা, মালিক থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন কোনো মুসলিম বা মুমিন বান্দা অজু করে এবং তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার চোখ দিয়ে দেখা সমস্ত গুনাহ পানির সাথে—অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে, অথবা এই জাতীয় কিছু—তার মুখমণ্ডল থেকে বের হয়ে যায়। আর যখন সে তার দুই হাত ধৌত করে, তখন তার দুই হাত দিয়ে করা সমস্ত গুনাহ পানির সাথে—অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে—তার দুই হাত থেকে বের হয়ে যায়। পরিশেষে সে গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে বের হয়।» এই হাদিসটি হাসান সহিহ। এটি মালিকের হাদিস, যা তিনি সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। সুহাইলের পিতা আবু সালিহ হলেন আবু সালিহ আস-সাম্মান, আর তাঁর নাম জাকওয়ান। আবু হুরায়রার নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন: আবদু শামস, আবার কেউ বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর। মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল এভাবেই বলেছেন এবং এটিই অধিক সঠিক। এই বিষয়ে উসমান, সাওবান, আস-সুনাবিহি, আমর ইবনে আবাসা, সালমান এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকেও বর্ণনা রয়েছে।
⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘ আর এই আস-সুনাবিহি যিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি তাঁর কোনো শ্রবণ নেই। তাঁর নাম আবদুর রহমান ইবনে উসাইলা এবং তাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাত্রা করেছিলেন, কিন্তু তিনি পথে থাকাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। তবে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর আস-সুনাবিহ ইবনুল আসার আল-আহমাসি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবি ছিলেন। তাকেও আস-সুনাবিহি বলা হয়। তাঁর বর্ণিত হাদিস হলো, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আমি তোমাদের মাধ্যমে অন্যান্য উম্মতের ওপর আধিক্য প্রকাশ করব, সুতরাং আমার পর তোমরা একে অপরের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়ো না।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৮)
بَابُ مَا جَاءَ أَنَّ مِفْتَاحَ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ
সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা—এই মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৮)
3 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ، قَالُوا: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، ح وحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا
⦗ص: 9⦘ سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ، وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ، وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ». هَذَا الْحَدِيثُ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ. وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ هُوَ صَدُوقٌ، وَقَدْ تَكَلَّمَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ. وسَمِعْت مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ، يَقُولُ: كَانَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَالْحُمَيْدِيُّ، يَحْتَجُّونَ بِحَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَهُوَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ. وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ، وَأَبِي سَعِيدٍ
--------------------------------------------
৩ - আমাদের নিকট কুতাইবা, হান্নাদ এবং মাহমুদ ইবনে গাইলান হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ওয়াকী' সুফিয়ান থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। (সূত্র পরিবর্তন) এবং মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান
⦗পৃষ্ঠা: ৯⦘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকীল থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা, এর তাহরীম (নামাজে অন্য সব কাজ হারাম হওয়া) হলো তাকবীর এবং এর তাহলীল (নামাজ সমাপ্ত করে সব কাজ হালাল করা) হলো তাসলিম (সালাম ফিরানো)»। এ অনুচ্ছেদে এই হাদীসটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ এবং সর্বোত্তম। আর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকীল সত্যবাদী, তবে কোনো কোনো ইলম অর্জনকারী তাঁর মুখস্থ শক্তির দিক থেকে তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। এবং আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল (ইমাম বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে হানবাল, ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম এবং আল-হুমাইদী আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকীলের হাদীস দ্বারা দলিল গ্রহণ করতেন। মুহাম্মাদ বলেন: তাঁর বর্ণিত হাদীস গ্রহণযোগ্য (মুক্বারিবুল হাদীস)। এ অনুচ্ছেদে জাবির এবং আবু সাঈদ (রা.) থেকেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১০)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ زَنْجَوَيْهِ الْبَغْدَادِيُّ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ قَالُوا: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ قَرْمٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى الْقَتَّاتِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ الصَّلَاةُ، وَمِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الْوُضُوءُ»
--------------------------------------------
৪ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জানজাওয়াই আল-বাগদাদী এবং একাধিক বর্ণনাকারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সুলাইমান ইবনে কারম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আল-কাত্তাত থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জান্নাতের চাবিকাঠি হলো সালাত, আর সালাতের চাবিকাঠি হলো অজু»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১০)
بَابُ مَا يَقُولُ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ
শৌচাগারে প্রবেশের সময় যা পাঠ করতে হয় সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১০)
5 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، قَالَا: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: " كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ، قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ " قَالَ شُعْبَةُ: وَقَدْ قَالَ مَرَّةً أُخْرَى: «أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبِيثِ - أَوِ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ -».
⦗ص: 11⦘ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ، وَزَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، وَجَابِرٍ، وَابْنِ مَسْعُودٍ. حَدِيثُ أَنَسٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ، وَحَدِيثُ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ فِي إِسْنَادِهِ اضْطِرَابٌ. رَوَى هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ، وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، فَقَالَ سَعِيدٌ: عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَوْفٍ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، وَقَالَ هِشَامٌ: عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، وَرَوَاهُ شُعْبَةُ، وَمَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، فَقَالَ شُعْبَةُ: عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، وَقَالَ مَعْمَرٌ: عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ: سَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا، فَقَالَ: يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ قَتَادَةُ رَوَى عَنْهُمَا جَمِيعًا
--------------------------------------------
৫ - কুতায়বাহ এবং হান্নাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ওয়াকী আমাদের নিকট শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল আযীয ইবনে সুহাইব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" শু'বাহ বলেন: তিনি অন্য এক সময়ে বলেছেন: «আমি আল্লাহর নিকট অপবিত্র পুরুষ জিন ও অপবিত্র নারী জিন হতে - অথবা অপবিত্রতা ও অপবিত্র বিষয়সমূহ হতে - আশ্রয় প্রার্থনা করছি»।
⦗পৃ: ১১⦘ এই অনুচ্ছেদে আলী, যায়েদ ইবনে আরকাম, জাবির এবং ইবনে মাসউদ থেকেও বর্ণনা রয়েছে। আনাস-এর হাদিসটি এই অনুচ্ছেদে সবচেয়ে বিশুদ্ধ এবং উত্তম। আর যায়েদ ইবনে আরকামের হাদিসটির সনদে ইযতিরাব (অসংগতি) রয়েছে। হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ী এবং সাঈদ ইবনে আবী আরুবাহ ক্বাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; সাঈদ বলেন: আল-কাসিম ইবনে আওফ আশ-শায়বানী থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে; আর হিশাম বলেন: ক্বাতাদাহ থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে। শু'বাহ এবং মা'মার এটি ক্বাতাদাহ থেকে, তিনি আন-নাদর ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন; শু'বাহ বলেছেন: যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে, আর মা'মার বলেছেন: আন-নাদর ইবনে আনাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে। আমি মুহাম্মাদকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: সম্ভবত ক্বাতাদাহ তাঁদের উভয় থেকেই এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১১)
6 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ الْبَصْرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم
⦗ص: 12⦘ كَانَ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ، قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ». هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
--------------------------------------------
৬ - আহমদ ইবনে আবদাহ আদ-দাব্বী আল-বাসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল আযীয ইবনে সুহাইব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট অপবিত্র পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি»। এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১২)
بَابُ مَا يَقُولُ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ
শৌচাগার থেকে বের হওয়ার সময় যা বলতে হয় সেই সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১২)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ، قَالَ: «غُفْرَانَكَ». هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ إِسْرَائِيلَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ.
⦗ص: 13⦘ وَأَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى، اسْمُهُ عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ الْأَشْعَرِيُّ، وَلَا يُعْرَفُ فِي هَذَا الْبَابِ إِلَّا حَدِيثُ عَائِشَةَ
--------------------------------------------
৭ - মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট ইসরাঈল থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে আবি বুরদাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন, তখন বলতেন: "আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি"। এই হাদিসটি হাসান গারিব। ইউসুফ ইবনে আবি বুরদাহ-এর সূত্রে ইসরাঈলের বর্ণনা ব্যতীত এটি আমরা জানি না।
⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ আর আবু বুরদাহ ইবনে আবি মুসা-এর নাম হলো আমির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়েস আল-আশআরি। এই অনুচ্ছেদে আয়েশা (রা.)-এর হাদিস ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনা জানা নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بَابٌ فِي النَّهْيِ عَنِ اسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ
মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলার সম্মুখীন হওয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৩)
8 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَتَيْتُمُ الْغَائِطَ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلَا بَوْلٍ، وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا، وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا» قَالَ أَبُو أَيُّوبَ: فَقَدِمْنَا الشَّامَ فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ قَدْ بُنِيَتْ مُسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةِ، فَنَنْحَرِفُ عَنْهَا، وَنَسْتَغْفِرُ اللَّهَ. وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ
⦗ص: 14⦘ الزُّبَيْدِيِّ، وَمَعْقِلِ بْنِ أَبِي الْهَيْثَمِ، وَيُقَالُ: مَعْقِلُ بْنُ أَبِي مَعْقِلٍ، وَأَبِي أُمَامَةَ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ. حَدِيثُ أَبِي أَيُّوبَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ. وَأَبُو أَيُّوبَ اسْمُهُ خَالِدُ بْنُ زَيْدٍ، وَالزُّهْرِيُّ اسْمُهُ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ، وَكُنْيَتُهُ أَبُو بَكْرٍ. قَالَ أَبُو الْوَلِيدِ الْمَكِّيُّ: قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ: إِنَّمَا مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلَا بَوْلٍ، وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا»، إِنَّمَا هَذَا فِي الْفَيَافِي، فَأَمَّا فِي الْكُنُفِ الْمَبْنِيَّةِ لَهُ رُخْصَةٌ فِي أَنْ يَسْتَقْبِلَهَا، وَهَكَذَا قَالَ إِسْحَاقُ، وقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: إِنَّمَا الرُّخْصَةُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي اسْتِدْبَارِ الْقِبْلَةِ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ، فَأَمَّا اسْتِقْبَالُ الْقِبْلَةِ فَلَا يَسْتَقْبِلُهَا، كَأَنَّهُ لَمْ يَرَ فِي الصَّحْرَاءِ وَلَا فِي الْكُنُفِ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ
--------------------------------------------
৮ - সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাখজুমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াযিদ আল-লাইসী থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমরা মলত্যাগ করতে যাবে, তখন মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলাকে সামনে রাখবে না এবং তার দিকে পিঠও করবে না; বরং তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করে বসবে।" আবু আইয়ুব (রা.) বলেন: এরপর আমরা শাম (সিরিয়া) দেশে আসলাম এবং সেখানে কিবলামুখী করে নির্মিত কিছু শৌচাগার পেলাম। তখন আমরা সেগুলো থেকে (বসার সময়) কিছুটা ঘুরে বসতাম এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতাম। এই অনুচ্ছেদে আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে জায
⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ আল-জুবাইদী, মা'কিল ইবনে আবিল হাইসাম—যাকে মা'কিল ইবনে আবি মা'কিলও বলা হয়—আবু উমামা, আবু হুরায়রা এবং সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.) থেকেও বর্ণনা রয়েছে। আবু আইয়ুবের বর্ণিত হাদিসটি এই অনুচ্ছেদে সবচেয়ে সুন্দর এবং সবচেয়ে বিশুদ্ধ। আবু আইয়ুবের নাম হলো খালিদ ইবনে যায়েদ। আর যুহরীর নাম হলো মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে শিহাব আয-যুহরী, তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) আবু বকর। আবুল ওয়ালীদ আল-মাক্কী বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "তোমরা মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলাকে সামনে রাখবে না এবং তার দিকে পিঠও করবে না" এর অর্থ হলো এটি খোলা ময়দান বা মরুভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু ঘরবাড়ির ভেতরে নির্মিত শৌচাগারের ক্ষেত্রে কিবলার দিকে মুখ করে বসার অনুমতি রয়েছে। ইসহাকও অনুরূপ বলেছেন। আর আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মলমূত্র ত্যাগের সময় কেবল কিবলার দিকে পিঠ করার অনুমতি রয়েছে, তবে কিবলার দিকে মুখ করা যাবে না। তিনি খোলা ময়দান হোক বা নির্মিত শৌচাগার—সর্বাবস্থায় কিবলার দিকে মুখ করাকে (বৈধ) মনে করতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بَابُ مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
এ বিষয়ে যে অনুমতির কথা বর্ণিত হয়েছে তার অনুচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৫)
9 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَا: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: «نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ بِبَوْلٍ»، فَرَأَيْتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْبَضَ بِعَامٍ يَسْتَقْبِلُهَا. وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، وَعَائِشَةَ، وَعَمَّارٍ. حَدِيثُ جَابِرٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
--------------------------------------------
৯ - মুহাম্মদ ইবনে বাশশার এবং মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ওয়াহাব ইবনে জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আবান ইবনে সালিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রস্রাব করার সময় কিবলার দিকে মুখ করতে নিষেধ করেছেন», অতঃপর আমি তাঁকে তাঁর ইন্তেকালের এক বছর আগে সেদিকে মুখ করতে দেখেছি। এই অনুচ্ছেদে আবু কাতাদা, আয়েশা এবং আম্মার থেকেও বর্ণনা রয়েছে। এই অনুচ্ছেদে জাবিরের হাদিসটি হাসান গরীব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৫)
10 - وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، «أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَبُولُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ»، أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، وَحَدِيثُ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ لَهِيعَةَ.
⦗ص: 16⦘ وَابْنُ لَهِيعَةَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ؛ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ وَغَيْرُهُ
--------------------------------------------
১০ - ইবনে লাহিয়াহ এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবুয যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ থেকে যে, «তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কিবলার দিকে মুখ করে প্রস্রাব করতে দেখেছেন», কুতায়বাহ আমাদের তা জানিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়াহ আমাদের জানিয়েছেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত জাবিরের হাদীসটি ইবনে লাহিয়াহর বর্ণিত হাদীসের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ।
⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘ আর ইবনে লাহিয়াহ হাদীস বিশারদদের নিকট দুর্বল (যঈফ); ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান ও অন্যান্যরা তাঁকে দুর্বল বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৬)
11 - حَدَّثَنَا هَنَّادٌ قال: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: رَقِيتُ يَوْمًا عَلَى بَيْتِ حَفْصَةَ، «فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى حَاجَتِهِ مُسْتَقْبِلَ الشَّامِ مُسْتَدْبِرَ الْكَعْبَةِ». هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
--------------------------------------------
১১ - হান্নাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদাহ আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান থেকে, তিনি তাঁর চাচা ওয়াসি’ ইবনে হাব্বান থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা আমি হাফসার ঘরের ছাদে আরোহণ করলাম, তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর প্রয়োজনে শামের দিকে মুখ করে এবং কাবার দিকে পিঠ দিয়ে (বসা) অবস্থায় দেখলাম। এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بَابُ النَّهْيِ عَنِ الْبَوْلِ قَائِمًا
দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা নিষেধ হওয়ার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৭)
12 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَبُولُ قَائِمًا فَلَا تُصَدِّقُوهُ، مَا كَانَ يَبُولُ إِلَّا قَاعِدًا». وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ، وَبُرَيْدَةَ، حَدِيثُ عَائِشَةَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي الْبَابِ وَأَصَحُّ، وَحَدِيثُ عُمَرَ إِنَّمَا رُوِيَ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي الْمُخَارِقِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ: رَآنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَبُولُ قَائِمًا، فَقَالَ: «يَا عُمَرُ، لَا تَبُلْ قَائِمًا»، فَمَا بُلْتُ قَائِمًا بَعْدُ. وَإِنَّمَا رَفَعَ هَذَا الْحَدِيثَ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ
⦗ص: 18⦘ أَبِي الْمُخَارِقِ، وَهُوَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ؛ ضَعَّفَهُ أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ وَتَكَلَّمَ فِيهِ. وَرَوَى عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ: «مَا بُلْتُ قَائِمًا مُنْذُ أَسْلَمْتُ»، وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْكَرِيمِ، وَحَدِيثُ بُرَيْدَةَ فِي هَذَا غَيْرُ مَحْفُوظٍ، وَمَعْنَى النَّهْيِ عَنِ الْبَوْلِ قَائِمًا عَلَى التَّأْدِيبِ لَا عَلَى التَّحْرِيمِ وَقَدْ رُوِيَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: «إِنَّ مِنَ الْجَفَاءِ أَنْ تَبُولَ وَأَنْتَ قَائِمٌ»
--------------------------------------------
১২ - আলী ইবনে হুজর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারীক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মিকদাম ইবনে শুরাইহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তোমাদের নিকট কেউ যদি বর্ণনা করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতেন, তবে তাকে সত্য মনে করো না; তিনি বসে ব্যতীত প্রস্রাব করতেন না।" এই অনুচ্ছেদে উমর এবং বুরাইদাহ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। আয়িশার হাদিসটি এই অনুচ্ছেদে সবচেয়ে উত্তম ও বিশুদ্ধতম। আর উমরের হাদিসটি মূলত আব্দুল কারীম ইবনে আবিল মুখারিক থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। উমর (রা.) বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখলেন, অতঃপর বললেন: "হে উমর! তুমি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করো না।" এরপর থেকে আমি আর কখনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি। মূলত এই হাদিসটিকে মারফু হিসেবে আব্দুল কারীম ইবনে
⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ আবিল মুখারিক বর্ণনা করেছেন, আর তিনি হাদিস বিশারদগণের নিকট দুর্বল; আইয়ুব সাখতিয়ানী তাঁকে দুর্বল বলেছেন এবং তাঁর সমালোচনা করেছেন। উবায়দুল্লাহ নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর বলেছেন: "ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে আমি কখনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি।" আর এটি আব্দুল কারীমের হাদিস অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ। আর এ বিষয়ে বুরাইদাহ বর্ণিত হাদিসটি সংরক্ষিত (মাহফুজ) নয়। দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার ব্যাপারে যে নিষেধ এসেছে তা শিষ্টাচার শেখানোর উদ্দেশ্যে, হারামের (নিষিদ্ধ হওয়ার) জন্য নয়। এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা অভদ্রতার অন্তর্ভুক্ত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بَابُ مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
এ বিষয়ে ছাড়ের বর্ণনা বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৯)
13 - حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، قال: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ، فَبَالَ عَلَيْهَا قَائِمًا، فَأَتَيْتُهُ بِوَضُوءٍ، فَذَهَبْتُ لِأَتَأَخَّرَ عَنْهُ، فَدَعَانِي حَتَّى كُنْتُ عِنْدَ عَقِبَيْهِ، فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ» وسَمِعْت الْجَارُودَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ وَكِيعًا يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، ثُمَّ قَالَ وَكِيعٌ: هَذَا أَصَحُّ حَدِيثٍ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْحِ، وسَمِعْت أَبَا عَمَّارٍ الْحُسَيْنَ بْنَ حُرَيْثٍ،
⦗ص: 20⦘ يَقُولُ: سَمِعْتُ وَكِيعًا، فَذَكَرَ نَحْوَهُ، وَهَكَذَا رَوَى مَنْصُورٌ، وَعُبَيْدَةُ الضَّبِّيُّ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، مِثْلَ رِوَايَةِ الْأَعْمَشِ، وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَعَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَحَدِيثُ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ أَصَحُّ. وَقَدْ رَخَّصَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْبَوْلِ قَائِمًا
--------------------------------------------
১৩ - হান্নাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক সম্প্রদায়ের আবর্জনার স্তূপের নিকট আসলেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। অতঃপর আমি তাঁর নিকট ওযুর পানি নিয়ে আসলাম এবং তাঁর থেকে দূরে সরে যেতে চাইলাম, তখন তিনি আমাকে ডাকলেন এমনকি আমি তাঁর দুই গোড়ালির নিকট পৌঁছালাম। অতঃপর তিনি ওযু করলেন এবং তাঁর মোজাদ্বয়ের ওপর মাসাহ করলেন»। আমি জারুদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ওয়াকি'কে আ'মাশের সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণনা করতে শুনেছি। অতঃপর ওয়াকি' বললেন: মাসাহ সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস। আমি আবু আম্মার আল-হুসাইন ইবনে হুরাইসকে
⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ওয়াকি'কে বলতে শুনেছি, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর এভাবেই মানসুর এবং উবাইদাহ আদ-দব্বী আবু ওয়াইল থেকে, তিনি হুযাইফা (রা.) থেকে আ'মাশের বর্ণনার মতোই বর্ণনা করেছেন। আর হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান এবং আসিম ইবনে বাহদালা আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে শু'বা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে আবু ওয়াইলের সূত্রে হুযাইফা (রা.)-এর হাদীসটি অধিকতর বিশুদ্ধ। আর আহলে ইলমদের একদল দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার অনুমতি দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২১)
بَابٌ فِي الِاسْتِتَارِ عِنْدَ الْحَاجَةِ
প্রয়োজন পূরণের সময় নিজেকে আড়াল করা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২১)
14 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ لَمْ يَرْفَعْ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنَ الْأَرْضِ». هَكَذَا رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَنَسٍ، هَذَا الْحَدِيثَ
--------------------------------------------
১৪ - কুতাইবা ইবনু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সালাম ইবনু হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচকার্যের ইচ্ছা করতেন, তখন মাটির নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত নিজের কাপড় তুলতেন না»। মুহাম্মাদ ইবনু রাবিআ আমাশ থেকে, তিনি আনাস থেকে একইভাবে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَرَوَى وَكِيعٌ، وَالْحِمَّانِيُّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، قَالَ: قَالَ ابْنُ عُمَرَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ لَمْ يَرْفَعْ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنَ الْأَرْضِ»، وَكِلَا الْحَدِيثَيْنِ مُرْسَلٌ، وَيُقَالُ: لَمْ يَسْمَعِ الْأَعْمَشُ مِنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَلَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ نَظَرَ إِلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: رَأَيْتُهُ يُصَلِّي فَذَكَرَ عَنْهُ حِكَايَةً فِي الصَّلَاةِ وَالْأَعْمَشُ اسْمُهُ سُلَيْمَانُ بْنُ مِهْرَانَ أَبُو مُحَمَّدٍ الْكَاهِلِيُّ، وَهُوَ مَوْلًى لَهُمْ. قَالَ الْأَعْمَشُ: كَانَ أَبِي حَمِيلًا فَوَرَّثَهُ مَسْرُوقٌ
ওয়াকি এবং আল-হিম্মানী আল-আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উমর বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে যেতেন, তখন মাটির নিকটবর্তী হওয়ার আগে তাঁর কাপড় তুলতেন না।" এবং উভয় হাদিসই মুরসাল। বলা হয়ে থাকে যে: আল-আমাশ আনাস ইবনে মালিক থেকে কিছু শুনেননি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকেও কারো থেকে কিছু শুনেননি। তবে তিনি আনাস ইবনে মালিককে দেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: আমি তাঁকে সালাত আদায় করতে দেখেছি, এরপর তিনি তাঁর সালাত সংক্রান্ত একটি বিবরণ উল্লেখ করেন। আর আল-আমাশের নাম হলো সুলায়মান বিন মিহরান আবু মুহাম্মদ আল-কাহিলি, এবং তিনি তাদের মুক্ত করা দাস ছিলেন। আল-আমাশ বলেছেন: আমার পিতা যুদ্ধবন্দী হিসেবে এসেছিলেন, অতঃপর মাসরুক তাঁকে উত্তরাধিকারী করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بَابٌ فِي كَرَاهَةِ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْيَمِينِ
ডান হাত দ্বারা ইস্তিনজা করা অপছন্দনীয় হওয়া বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২৩)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَمَسَّ الرَّجُلُ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ»، وَفِي الْبَاب عَنْ عَائِشَةَ، وَسَلْمَانَ، وَأبِي هُرَيْرَةَ، وَسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ. هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَأَبُو قَتَادَةَ، اسْمُهُ الْحَارِثُ بْنُ رِبْعِيٍّ، وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ: كَرِهُوا الِاسْتِنْجَاءَ بِالْيَمِينِ
--------------------------------------------
১৫ - মুহাম্মদ ইবনে আবু উমর আল-মাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু কাতাদা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ব্যক্তি তার ডান হাত দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করতে নিষেধ করেছেন।» এই অনুচ্ছেদে আয়েশা, সালমান, আবু হুরায়রা এবং সাহল ইবনে হুনাইফ থেকেও বর্ণনা রয়েছে। এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আর আবু কাতাদা—তাঁর নাম হলো আল-হারিস ইবনে রিবঈ। আলেমগণের নিকট আমল এর উপরই; তাঁরা ডান হাত দিয়ে ইস্তিনজা (শৌচকার্য) করাকে অপছন্দ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে তিরমিযী - তাখরীজ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بَابُ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْحِجَارَةِ
পাথরের মাধ্যমে ইস্তিঞ্জা করার পরিচ্ছেদ