(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: -)
رحمة للعالمين (مترجم) - المنصورفوري   (محمد سليمان المنصورفوري)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: رحمة للعالمين

المؤلف: محمد سليمان المنصورفوري [ت 1348 هـ]

ترجمه [من الأردية]: د. سمير عبد الحميد إبراهيم

[أستاذ اللغة الأردية وآدابها بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض]

الناشر: دار السلام للنشر والتوزيع - الرياض، السعودية

الطبعة: الأولى

عدد الصفحات: 1011

أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 شوّال 1435

রহমাতুল লিল আলামিন (অনূদিত) - আল-মানসুরপুরী   (মুহাম্মাদ সুলাইমান আল-মানসুরপুরী)

বিভাগ: সিরাতুন নবী (নবীজির জীবনী)


গ্রন্থ: রহমাতুল লিল আলামিন

লেখক: মুহাম্মাদ সুলাইমান আল-মানসুরপুরী [মৃত্যু ১৩৪৮ হিজরি]

অনুবাদ করেছেন [উর্দু থেকে]: ড. সামীর আব্দুল হামিদ ইব্রাহিম

[উর্দু ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ]

প্রকাশক: দারুস সালাম প্রকাশনী ও বিতরণ - রিয়াদ، সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০১১

শামিলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাযায়িরি

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ শাওয়াল ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ১)
رحمة للعالمين

تأليف

القاضي محمد سليمان سلمان المنصور فوري

ترجمة

د. سمير عبد الحميد إبراهيم

جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض

دار السلام للنشر والتوزيع الرياض
রাহমাতুল্লিল আলামীন

রচনায়

আল-কাযী মুহাম্মদ সুলাইমান সালমান মানসুরপুরী

অনুবাদ

ড. সমীর আব্দুল হামিদ ইবরাহীম

ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ

দারুস সালাম প্রকাশনী ও বিতরণ কেন্দ্র, রিয়াদ
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ৩)
حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الأولى

دار السلام للنشر والتوزيع الرياض
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

দারুস সালাম প্রকাশনী ও বিতরণী, রিয়াদ
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌كلمة الناشر

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

لقد قطعت دار السلام للنشر والتوزيع - منذ تأسيسها - على نفسها عهدا بأن تسعى جاهدة لنشر العقيدة الصحيحة والسنة الصحيحة، إيمانا - من القائمين على إدارتها - بأن هذا هو الصراط المستقيم الذي ارتضاه الله لنا والمنهاج الذي تركه لنا رسوله صلى الله عليه وسلم.

وكما نعلم أن المهتم بالسنة يجد في صحيحها كل خير وبركة وفي سيرة صاحبها المثل الأعلى، ومن هنا رأت دار السلام أن تقدم لقرائها هذا الكتاب في السيرة النبوية أي ـ[رحمة للعالمين]ـ من تأليف العالم الجليل القاضي محمد سليمان سلمان المنصوربوري رحمه الله.

ولا شك أن الراصد والمتابع لما كتبه العلماء المسلمون قديما وحديثا في ميدان السيرة النبوية يعجب من كثرة الكتب وتنوعها، مما يدل على أهمية الموضوع، والكتاب الذي نقدم اليوم ترجمته إلى اللغة العربية، كتاب فريد من نوعه، بقلم عالم من أكابر الدعاة إلى الله، والدعاة إلى اتباع سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلم من أعلام جماعة أهل الحديث في شبه القارة الهندية الباكستانية.

ومما لا شك فيه أن قراء اللغة العربية أصبحوا يعرفون الكثير عن نشاط جماعة أهل الحديث قديما وحديثا، كما أنهم تعرفوا على مؤلفات بعض علماء الجماعة، سواء ما كتب منها بالعربية أو ما ترجم منها عن الأردية إلى العربية.

وكتاب ـ[رحمة للعالمين]ـ الذي نقدم ترجمته إلى قراء اللغة العربية، كتبه عالم جليل، استفاد من علمه الكثير من علماء شبه القارة الهندية الباكستانية وغيرها، ونذكر على سبيل المثال فضيله الشيخ أبا الحسن علي الحسني الندوي الذي قال عن الكتاب:

"تسلمت الكتاب، قرأته بشغف وشوق وانقطاع إليه وتفان فيه، وقل ما كان لكتاب آخر من التأثير على قلبي وعقلي مثل ما كان لهذا الكتاب، فكان إخلاص المؤلف وإيمانه،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌প্রকাশকের কথা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

দারুস সালাম পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন—প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই—নিজেদের ওপর এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে যে, তারা সঠিক আকিদা এবং সহিহ সুন্নাহ প্রচারের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের এই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই এটি করা হয়েছে যে, এটিই সেই সরল পথ যা আল্লাহ আমাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং সেই আদর্শ যা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন।

আমরা যেমনটি জানি যে, সুন্নাহর প্রতি অনুরাগী ব্যক্তি এর সহিহ বর্ণনাসমূহের মধ্যে যাবতীয় কল্যাণ ও বরকত খুঁজে পান এবং সুন্নাহর অধিকারীর (রাসূলুল্লাহর) সিরাতের মধ্যে সর্বোত্তম আদর্শ খুঁজে পান। এখান থেকেই দারুস সালাম তার পাঠকদের উদ্দেশ্যে সিরাতে নববীর উপর এই গ্রন্থ অর্থাৎ [রাহমাতুল্লিল আলামিন] পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা প্রখ্যাত আলেম কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান সালমান মানসুরপুরী (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক রচিত।

নিঃসন্দেহে প্রাচীন ও আধুনিক মুসলিম পণ্ডিতগণ সিরাতে নববীর ক্ষেত্রে যা কিছু লিখেছেন, তার পর্যবেক্ষক ও অনুসারীরা সেই রচনার আধিক্য ও বৈচিত্র্য দেখে বিস্মিত হবেন, যা এই বিষয়ের গুরুত্ব নির্দেশ করে। আজ আমরা যে গ্রন্থটির আরবি অনুবাদ পেশ করছি, তা তার ধরনে এক অনন্য কিতাব। এটি আল্লাহর পথে আহ্বানকারী এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণের দাওয়াতদানকারী অন্যতম মহান আলেম এবং ভারত-পাকিস্তান উপমহাদেশের আহলে হাদিস জামাতের এক প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের কলমে রচিত।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আরবি ভাষার পাঠকরা বর্তমানে প্রাচীন ও আধুনিক আহলে হাদিস জামাতের কার্যক্রম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারছেন। পাশাপাশি তারা এই জামাতের বেশ কিছু আলেমের রচনাবলির সাথেও পরিচিত হয়েছেন, যা সরাসরি আরবিতে লেখা অথবা উর্দু থেকে আরবিতে অনূদিত হয়েছে।

‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ কিতাবটি, যার অনুবাদ আমরা আরবি পাঠকদের কাছে পেশ করছি, তা এমন এক মহান আলেম লিখেছেন যার ইলম থেকে ভারত-পাকিস্তান উপমহাদেশসহ অন্যান্য অঞ্চলের বহু আলেম উপকৃত হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ আমরা শ্রদ্ধেয় শায়খ আবুল হাসান আলী হাসানী নদভীর কথা উল্লেখ করতে পারি, যিনি এই কিতাব সম্পর্কে বলেছেন:

“আমি কিতাবটি হাতে পেয়েছি, অত্যন্ত আগ্রহ, ব্যাকুলতা ও নিবিষ্টচিত্তে তা পাঠ করেছি। খুব কম কিতাবই আমার অন্তর ও মস্তিষ্কে এমন প্রভাব ফেলতে পেরেছে যা এই কিতাবটি পেরেছে। লেখকের ইখলাস ও ঈমান...”
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ৬)
وطرازه الخاص في الدعوة والتربية، وبساطة حوادث السيرة، وجمالها وتأثيرها الذي نفذ منه إلى جسمي وروحي تيار كهربائي، وأرى أن هذا الكتاب من الكتب التي لها منة جسيمة علي وأنا دائم الترحم على المؤلف والدعاء له بالقبول عند الله تعالى" [صفحة 81، 82 أبو الحسن الندوي: في مسيرة الحياة المجلد الأول].

ولا شك أن الكتاب يعد درة فريدة بين مؤلفات القاضي محمد سليمان المنصوربوري الذي ألف في التفسير والتاريخ ومقارنة الأديان والرحلات، مما جعل جريدة "الوكيل" التي تصدر من أمرتسر في عدد لها عام 1914 م تشيد بالكتاب وتذكر أنه لم يعد في الإمكان صدور كتاب عن السيرة يحمل ما لكتاب ـ[رحمة للعالمين]ـ من محاسن، كما أشار العلامة سيد سليمان الندوي أيضا إلى أهمية الكتاب لما فيه من تحليل ونقد لاعتراضات أصحاب الديانات الأخرى، وبالإضافة إلى ما ورد فيه من دراسة مقارنة لما جاء في الكتب السماوية الأخرى وما جاء في تعاليم الإسلام، فأبطل دعاوى اليهود والنصارى. وفي تقريظه للكتاب ذكر الشيخ أبو الأعلى المودودي أن الكتاب يتميز عن كتب السيرة بما فيه من تحقيق للأحداث والوقائع، وأوضح المودودي أن كتاب ـ[رحمة للعالمين]ـ يأتي على قمة كتب السيرة من حيث هذا الأمر.

وهكذا جال بخاطري تقديم ترجمة جيدة لهذا الكتاب القيم، فتوكلت على الله، وناقشت الأمر مع صديقي الدكتور سمير عبد الحميد إبراهيم أستاذ اللغة الأردية وآدابها بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية الذي رحب بالفكرة ووافق على ترجمة الكتاب.

وبتوفيق من الله تمت الترجمة والطباعة بصورة ترضي القارئ العربي ورأينا أن يصدر الكتاب في مجلد واحد رغم ضخامة حجمه، وكنا فكرنا في إصداره في ثلاث مجلدات كما هو في الأردية إلا أن الآراء اتفقت على أن تصدر الطبعة العربية في مجلد واحد.

نسأل الله العلي القدير أن يتقبل منا هذا العمل وأن يجعله في ميزان حسناتنا يوم القيامة إنه على كل شيء قدير.

 

عبدالمالك مجاهد

المدير المسئول

مكتبة دار السلام للنشر والتوزيع

ربيع الأول 1418 هـ
"...এবং দাওয়াত ও তরবিয়তের ক্ষেত্রে এর বিশেষ শৈলী, সীরাতের ঘটনাবলির সারল্য, এর সৌন্দর্য ও প্রভাব—যা থেকে আমার দেহ ও আত্মায় একটি বৈদ্যুতিক প্রবাহ সঞ্চারিত হয়েছে। আমি মনে করি, এই বইটি সেই সব বইয়ের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর আমার ওপর বিশাল অনুগ্রহ রয়েছে এবং আমি সর্বদা লেখকের জন্য রহমতের এবং মহান আল্লাহর দরবারে কবুলিয়াতের দোয়া করি।" [পৃষ্ঠা ৮১, ৮২ আবুল হাসান নদভী: ফি মাসিরাতিল হায়াত, প্রথম খণ্ড]।

নিঃসন্দেহে বইটি কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান মনসুরপুরীর রচনাবলির মধ্যে এক অনন্য মুক্তা হিসেবে গণ্য, যিনি তাফসীর, ইতিহাস, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব এবং ভ্রমণকাহিনী বিষয়ে লিখেছেন। ফলে অমৃতসর থেকে প্রকাশিত "আল-ওয়াকিল" পত্রিকা ১৯১৪ সালের একটি সংখ্যায় বইটির প্রশংসা করে উল্লেখ করেছিল যে, "রাহমাতুল লিল আলামীন" বইটির যেসব গুণাবলি রয়েছে, সীরাত বিষয়ে সেরকম কোনো বই প্রকাশ করা আর সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভীও বইটির গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, কারণ এতে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের আপত্তির বিশ্লেষণ ও সমালোচনা রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আসমানী কিতাব ও ইসলামের শিক্ষার মাঝে একটি তুলনামূলক অধ্যয়ন উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের দাবিগুলোকে অসার প্রমাণ করা হয়েছে। বইটির প্রশংসায় শেখ আবু আলা মওদুদী উল্লেখ করেছেন যে, ঘটনাবলি ও তথ্যের তাহকীক বা অনুসন্ধানের কারণে বইটি অন্যান্য সীরাত গ্রন্থ থেকে স্বতন্ত্র। মওদুদী স্পষ্ট করেছেন যে, "রাহমাতুল লিল আলামীন" বইটি এই দিক থেকে সীরাত গ্রন্থসমূহের শীর্ষে অবস্থান করছে।

এভাবে আমার মনে এই মূল্যবান বইটির একটি উত্তম অনুবাদ পেশ করার চিন্তা এল। অতঃপর আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম এবং আমার বন্ধু ডক্টর সমীর আব্দুল হামিদ ইব্রাহীমের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলাম, যিনি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক। তিনি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং বইটি অনুবাদ করতে সম্মত হন।

আল্লাহর তাওফিকে অনুবাদ ও মুদ্রণ এমনভাবে সম্পন্ন হয়েছে যা আরবি পাঠকদের সন্তুষ্ট করবে। বইটির বিশাল কলেবর সত্ত্বেও আমরা এটি এক খণ্ডে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা এটি উর্দুর মতো তিন খণ্ডে প্রকাশের কথা ভেবেছিলাম, তবে সবার অভিমত এই ছিল যে, আরবি সংস্করণটি যেন এক খণ্ডেই প্রকাশিত হয়।

আমরা সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এই আমলটি কবুল করেন এবং একে কিয়ামতের দিন আমাদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

 

আব্দুল মালেক মুজাহিদ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

মাকতাবা দারুস সালাম পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

রবিউল আউয়াল ১৪১৮ হিজরি
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة المترجم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.

حين أهداني الأخ العزيز الشيخ عبد المالك مجاهد المدير المسؤول لمكتبة دار السلام بالرياض كتاب العلامة القاضي محمد سليمان المنصوربوري ـ[رحمة للعالمين]ـ بأجزائه الثلاثة، رحت أتصفحه بداية، ثم غرقت في صفحاته، ولم أتركه لأيام، وبعدها طلبت منه الأصل بالأردية ورحت أطالعه أيضا، وبعد تفكير وتدقيق، رأيت أن أبدأ في إعداد ترجمة عربية ثانية لكتاب ـ[رحمة للعالمين]ـ وحين عرضت الأمر على الشيخ عبد المالك مجاهد وافق من فوره، وبدأت الترجمة التي استغرقت أكثر من سنتين نظرا لانشغالي بأعمال البحث في الجامعة إذ كنت أعكف على ترجمة الكتاب خلال الإجازات والعطلات الدراسية والصيفية.

وإذا كنت أدين بالشكر هنا للأخ العزيز الشيخ عبد المالك مجاهد الذي أهداني نسختي الكتاب: العربية والأردية، فإنني أدين بالشكر أيضا إلى الشيخ عبد الله بن إبراهيم الأنصاري الذي اختار هذا الكتاب، ودفع به إلى الأخ مختار أحمد الندوي المدير العام للدار السلفية في بومباي، وحثه على نقله إلى العربية، وقد قام الشيخ عبد الله بن إبراهيم الأنصاري بالإشراف على مراجعة الترجمة والمساهمة في طباعتها، فله فضل تعريف قراء العربية بهذا الكتاب القيم.

وأدين بالشكر الجزيل للأخوين العزيزين، صديقي الدكتور مقتدى حسن الأزهري، والأخ الفاضل عبد السلام عين الحق السلفي، فقد وضعت ترجمتهما القيمة أمامي دائما، وأنا أعد ترجمتي للكتاب، فاستفدت من ترجمتهما وتخريجهما لآيات القرآن الكريم والأحاديث النبوية الشريفة، وكذلك ما ورد من عبارات أصلية اقتطفاها من مراجعها العربية، ولولا ترجمتهما هذه لما تمكنت من الانتهاء من الترجمة الحالية هذه السرعة!! هذا بالإضافة إلى أنني كنت أرى ترجمتهما لبعض العبارات أدق من ترجمتي، فرحت أستفيد من أسلوبهما أيضا!!.
অনুবাদকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সহচরদের ওপর।

যখন প্রিয় ভাই রিয়াদের দারুসসালাম লাইব্রেরির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক শায়খ আব্দুল মালেক মুজাহিদ আমাকে আল্লামা কাযী মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরী রহ.-এর তিন খণ্ডের 'রাহমাতুল্লিল আলামিন' বইটি উপহার দিলেন, তখন আমি প্রথমে তা উল্টেপাল্টে দেখতে শুরু করি, এরপর এর পৃষ্ঠাগুলোতে নিমগ্ন হয়ে যাই এবং বেশ কয়েকদিন যাবৎ তা থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি। এরপর আমি তাঁর কাছে এর উর্দু মূল কপিটি চাই এবং সেটিও পাঠ করি। গভীর চিন্তা ও নিবিড় পর্যালোচনার পর আমি 'রাহমাতুল্লিল আলামিন' বইটির একটি দ্বিতীয় আরবি অনুবাদ প্রস্তুত করার কথা ভাবি। আমি যখন বিষয়টি শায়খ আব্দুল মালেক মুজাহিদের নিকট পেশ করলাম, তিনি সাথে সাথেই এতে সম্মতি দিলেন। এরপর অনুবাদ শুরু করি যা দুই বছরেরও বেশি সময় নিয়েছিল, কারণ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কাজে ব্যস্ত ছিলাম এবং ছুটির দিনগুলোতে ও শিক্ষাবর্ষের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে এই অনুবাদের কাজ করতাম।

আমি এখানে প্রিয় ভাই শায়খ আব্দুল মালেক মুজাহিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যিনি আমাকে বইটির আরবি ও উর্দু উভয় কপি উপহার দিয়েছিলেন। একই সাথে আমি শায়খ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-আনসারীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই, যিনি এই বইটি নির্বাচন করেছিলেন এবং বোম্বাইয়ের দারুস সালাফিয়ার মহাপরিচালক ভাই মুখতার আহমদ নদভীর নিকট এটি পাঠিয়েছিলেন এবং একে আরবিতে রূপান্তরের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। শায়খ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-আনসারী এই অনুবাদের পর্যালোচনা তদারকি করেছেন এবং এর মুদ্রণে অবদান রেখেছেন। আরবি পাঠকদের কাছে এই মূল্যবান গ্রন্থটির পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব তাঁরই প্রাপ্য।

আমি আমার দুই প্রিয় ভাই, বন্ধু ডক্টর মুকতাদা হাসান আল-আযহারী এবং গুণী ভাই আব্দুস সালাম আইনুল হক আস-সালাফীর নিকট বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আমি যখন বইটির অনুবাদ তৈরি করছিলাম, তখন তাঁদের মূল্যবান অনুবাদটি সবসময় আমার সামনে রেখেছিলাম। আমি তাঁদের অনুবাদ থেকে এবং কুরআনের আয়াত ও হাদিসের উৎস নির্দেশের (তাখরীজ) ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছি। এছাড়া আরবি মূল উৎস থেকে তাঁরা যেসব মূল উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন, তা থেকেও আমি সাহায্য নিয়েছি। তাঁদের এই অনুবাদ না থাকলে আমি এত দ্রুত বর্তমান অনুবাদটি শেষ করতে পারতাম না!! উপরন্তু, আমি দেখেছি যে কিছু কিছু বাক্যের ক্ষেত্রে তাঁদের অনুবাদ আমার অনুবাদের চেয়েও অনেক বেশি নির্ভুল ছিল, ফলে আমি তাঁদের প্রকাশভঙ্গি থেকেও উপকৃত হয়েছি!!
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ৮)
وأشير إلى أن الطبعة الأردية التي اعتمدت عليها في الترجمة صدرت عن " الفيصل " للنشر والتجارة في لاهور في مايو 1991 م (1) وبها مقدمة المؤلف للطبعة السادسة التي أضاف إليها بعض المعلومات، وربما اعتمد الدكتور مقتدي حسن الأزهري والشيخ عبدالسلام عين الحق السلفي على طبعة أخرى سابقة أو لاحقة لهذه الطبعة السادسة، ولهذا قد تختلف بعض العبارات بالزيادة أو بالنقص وذلك في مواضع قليلة إن لم تكن وقد أثبت هنا نبذة مختصرة عن حياة المؤلف وآثاره حتى يتعرف القراء العرب على مكانته ليكون إن شاء الله موضوع دراسات أهل العلم من المهتمين بالعلوم الإسلامية في البلاد العربية.

وقد يتعجب البعض من إقدامي على ترجمة الكتاب مرة ثانية، إلا أن الكثير من الكتب الأردية والدينية لكبار الأدباء والعلماء صدرت لها أكثر من ترجمة وهذا يرجع إلى أهمية الكتاب واهتمام الناس به، ولا مجالل هنا للتمثيل أو الإشارة، ومختصر القول إنني ما قصدت بعملي هذا إلا وجه الله وخدمة الدين وإضافة مصدر من مصادر السيرة والتاريخ الإسلامي ودراسة الأديان المقارنة إلى المكتبة العربية بعد أن شعرت بأهمية الكتاب وقيمته العظيمة للباحثين والدارسين العرب.

والله الموفق وهو الهادي إلى سواء السبيل.

 

5 شعبان 1416 هـ

28 ديسمبر 1995 م

د. سمير عبد الحميد إبراهيم

أستاذ اللغة الأردية وآدابها بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض

--------------------------------------------

(1) وهي بحاجة إلى تصحيح ومراجعة وربما قام بهذا القائمون على دار السلام إن شاء الله.
আমি উল্লেখ করছি যে, অনুবাদের জন্য আমি যে উর্দু সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি সেটি ১৯৯১ সালের মে মাসে লাহোরের "আল-ফয়সাল" পাবলিশিং অ্যান্ড ট্রেডিং থেকে প্রকাশিত হয়েছে (১)। এতে ষষ্ঠ সংস্করণের জন্য লেখকের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেখানে তিনি কিছু নতুন তথ্য যোগ করেছেন। সম্ভবত ডক্টর মুক্তাদি হাসান আল-আজহারী এবং শেখ আবদুস সালাম আইনুল হক আস-সালাফী এই ষষ্ঠ সংস্করণের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী অন্য কোনো সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছেন, যার ফলে খুব সামান্য কিছু স্থানে শব্দ বা বাক্যের ক্ষেত্রে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। আমি এখানে লেখকের জীবন ও কর্মের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেছি যাতে আরব পাঠকরা তার মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন এবং তিনি যেন ইনশাআল্লাহ আরব দেশসমূহের ইসলামি জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী বিদ্বানদের গবেষণার বিষয়ে পরিণত হন।

কেউ কেউ হয়তো এই গ্রন্থটি দ্বিতীয়বার অনুবাদ করার ব্যাপারে আমার উদ্যোগ দেখে বিস্মিত হতে পারেন, কিন্তু বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও আলেমদের অনেক উর্দু ও ধর্মীয় গ্রন্থের একাধিক অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এর মূলে রয়েছে কিতাবটির গুরুত্ব এবং এর প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ; এখানে উদাহরণ বা বিশদ আলোচনার অবকাশ নেই। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমার এই কাজের মাধ্যমে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, দ্বীনের খিদমত এবং আরবি কিতাবখানায় সীরাত, ইসলামি ইতিহাস ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস যুক্ত করাই আমার মূল লক্ষ্য, যেহেতু আমি আরব গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই বইটির গুরুত্ব ও মহান মূল্য অনুধাবন করেছি।

আল্লাহই তাওফীক দানকারী এবং তিনিই সরল পথের দিশারি।

 

৫ শাবান ১৪১৬ হিজরি

২৮ ডিসেম্বর ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

ড. সামীর আবদুল হামিদ ইব্রাহিম

অধ্যাপক, উর্দু ভাষা ও সাহিত্য, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ

--------------------------------------------

(১) এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা প্রয়োজন এবং ইনশাআল্লাহ দারুসসালামের দায়িত্বশীলগণ সম্ভবত এই কাজটি সম্পন্ন করবেন।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌القاضي محمد سليمان المنصور بوري

حياته وآثاره

بقلم المترجم

•---------------------------------•

 

‌‌مولده ونشأته:

ولد العلامة القاضي محمد سليمان المنصوربوري سنة 1284هـ / 1867م في بلدة منصوربور (بنجاب الهند) التي كانت آنذاك من المراكز التاريخية في رئاسة بتيالة، ويطلق عليها اليوم اسم "تشينتانوالة" نشأ العلامة الجليل في أسرة عمله بالقضاء منذ القديم، وأدت واجب الدعوة الإسلامية، فقد عمل جده الأكبر بير محمد بالقضاء في دهلي في عهد سلاطين المغول، وهكذا أطلق على الأسرة لقب " قاضي "، ولا يزال خاتم القضاء الخاص بجده سابق الذكر محفوظا لدى الأسرة حتى اليوم (1)، وقد ولي جده لأبيه قاضي معز الدين القضاء من بعد بير محمد، أما جده قاضي باقي بالله فقد عمل بتبليغ الدين وراح يكسب عيشه من الزراعة، وعرف في المنطقة كلها بورعه وتقواه والتفاف تلامذته من حوله. أما والد شيخنا الجليل قاضي أحمد شاه بن قاضي باقي بالله فقد عمل موظفا في ديوان المالية برئاسة بتيالة، وهو الذي استقبل سيد أحمد خان، حين ذهب لجمع التبرعات لبناء جامعة عليكره الإسلامية، وكان والد شيخنا الجليل عالما يعمل بعلمه، يقيم ليله في العبادة، ويقضي نهاره في العمل، أدى فريضة الحج مرة بعد مرة (عام 1313 هـ وعام 1324 هـ، وانتقل من بلدة منصوربور إلى العاصمة بتيالة (على بعد 23 ميلا) وتوفي بها، وقام شيخنا الجليل العلامة القاضي محمد سليمان المنصوربوري فأهدى معظم مؤلفاته إلى أبيه (2).

اهتم الأب بتربية ولديه قاضي محمد سليمان، وقاضي عبد الرحمن تربية دينية، وكانت الأمم أحيانا ترفض أن ترضع ابنيها حتى تتوضأ، فقد كانت سيدة تقية ورعة تقضي معظم أوقاتها في عبادة الله.

--------------------------------------------

(1) قاضي عبد الباقي. سيرت سليمان سفرنامه حجاز (تاريخ الحرمين) سلمان آرت بريس: ط 2 لاهور 1986م / 1404هـ[ص:261].

(2) قاضي عبد الباقي منصوربوري. سيرت سليمان ملحق بكتاب سفرنامه حج (تاريخ حرمن) ط لاهور.
বিচারপতি মুহাম্মদ সুলাইমান আল-মানসুরপুরী

তাঁর জীবন ও কর্ম

অনুবাদকের কলমে

•---------------------------------•

 

‌‌তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

আল্লামা বিচারপতি মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরী ১২৮৪ হিজরি / ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের পাঞ্জাবের মানসুরপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মানসুরপুর তৎকালীন সময়ে পাতিয়ালা রাজ্যের ঐতিহাসিক কেন্দ্রগুলোর অন্যতম ছিল এবং বর্তমানে একে "চিনতানওয়ালা" বলা হয়। এই মহান আল্লামা এমন এক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন যাদের মধ্যে প্রাচীনকাল থেকেই বিচারিক দায়িত্ব পালনের ঐতিহ্য ছিল এবং তাঁরা ইসলামি দাওয়াতের কর্তব্য পালন করেছিলেন। তাঁর প্রপিতামহ পীর মুহাম্মদ মোগল সুলতানদের শাসনামলে দিল্লিতে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন, আর এভাবেই এই পরিবার "কাজী" উপাধিতে ভূষিত হয়। তাঁর পূর্বোক্ত প্রপিতামহের সেই বিচারিক মোহরটি আজও এই পরিবারে সংরক্ষিত আছে (১)। পীর মুহাম্মদের পর তাঁর দাদা কাজী মুইজুদ্দীন বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে তাঁর দাদা কাজী বাকি বিল্লাহ দ্বীন প্রচারের কাজ করতেন এবং কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন; তিনি পুরো অঞ্চলে তাঁর খোদাভীতি, তাকওয়া এবং তাঁর চতুর্পাশে ছাত্রদের ভিড়ের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। আমাদের মহান শায়খের পিতা কাজী আহমদ শাহ বিন কাজী বাকি বিল্লাহ পাতিয়ালা রাজ্যের অর্থ বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনিই আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতে আসা সৈয়দ আহমদ খানকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। আমাদের মহান শায়খের পিতা ছিলেন একজন আমলদার আলেম; তিনি রাত কাটাতেন ইবাদতে আর দিন কাটাতেন কর্মব্যস্ততায়। তিনি একাধিকবার হজ পালন করেছেন (১৩১৩ হিজরি এবং ১৩২৪ হিজরিতে)। তিনি মানসুরপুর শহর থেকে রাজধানী পাতিয়ালায় (যা ২৩ মাইল দূরে) স্থানান্তরিত হন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। আমাদের মহান শায়খ আল্লামা বিচারপতি মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরী তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ তাঁর পিতার নামে উৎসর্গ করেছেন (২)।

পিতা তাঁর দুই পুত্র কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান এবং কাজী আবদুর রহমানকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তাঁদের মা কখনও কখনও অজু করা ব্যতীত সন্তানদের স্তন্যদান করতে অস্বীকার করতেন; তিনি ছিলেন একজন অতিশয় মুত্তাকী ও পরহেজগার নারী, যিনি তাঁর সময়ের অধিকাংশ আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত করতেন।

--------------------------------------------

(১) কাজী আবদুল বাকি। সীরাতে সুলাইমান, সফরনামায়ে হিজাজ (তারিখুল হারামাইন), সালমান আর্ট প্রেস: ২য় সংস্করণ, লাহোর ১৯৮৬ খ্রি. / ১৪০৪ হি. [পৃষ্ঠা: ২৬১]।

(২) কাজী আবদুল বাকি মানসুরপুরী। সীরাতে সুলাইমান, সফরনামায়ে হজ (তারিখুল হারামাইন) গ্রন্থের পরিশিষ্ট, লাহোর সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌تعليمه:

درس القاضي محمد سليمان القرآن الكريم واللغة العربية على يد والده، واستفاد في دراسته للغة العربية من الشيخ العلامة عبد العزيز الذي كان يقطن بلدة كوم القريبة من لدهيانه، كما درس اللغة الفارسية على يد منشى سكهن لال أستاذ الفارسية في كلية مهندرا في بتيالة.

نال القاضي المنصوربوري درجة منشي فاضل من كلية مهندرا سنة 1352 هـ / 1884م وكان الأول على جميع طلاب الجامعة، وتقلد وظيفة في إحدى إدارات التعليم، وترقى في منصبه وعمل بالقضاء، وقد تقاعد سنة 1343 هـ / 1924 م.

 

‌‌بعض صفاته الطيبة:

أدى شيخنا الجليل رحمه الله فريضة الحج لأول مرة سنة 1339 هـ / 1921 م، ويحكى أن والي كابل أمير حبيب الله حين صلى الجمعة أثناء وجوده في مدينة بومباي أسندت مهمة ترتيب هذا الأمر إلى القاضي محمد سليمان النصور بوري الذي قام بفرش المسجد بالسجاد على نفقة حكومة الهند، وتحير مسلمو بومباي.

لقد أحبه المسلمون، وأحبه غير المسلمين أيضا، أحبه من غير المسلمين عدد كبير من الشخصيات المرموقة في الهند مثل مستر دانلوب سميث واللورد منتو واللورد كرزن الحاكم العام للهند، وجوكندرسنكه، الذي حزن كثيرا حين سمع نبأ وفاته، وأمر بصرف راتب تقاعد لابنته طوال الحياة واهتم بترقية ولده قاضي عبد العزيز، الذي تخرج في جامعة عليكره، إلى وظيفة مفتش عام المدارس.

كان القاضي سليمان رحمه الله أسمى وأرفع من كل ما كان يثار من خلافات طائفية، كان يخدم جميع الأئمة وجميع الفقهاء وجميع العلماء، وأكبر دليل على ذلك أنه رغم حبه لجماعة أهل الحديث، ورغم أنه دعي لرئاسة مؤتمر جمعية أهل الحديث لعموم الهند، إلا أنه حين قدم العلامة أسلم جيراجبوري (مرشد غلام أحمد برويز قائد جماعة إنكار السنة المسماة بأهل القرآن) إلى بتيالة لجمع التبرعات لبناء الجامعة الملية نزل ضيفا في بيت قاضي سليمان الذي أكرمه وزاد في إكرامه وبالغ في ذلك كثيرا!!
তাঁর শিক্ষা:

কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান তাঁর পিতার নিকট পবিত্র কুরআন ও আরবি ভাষা শিক্ষা করেন। আরবি ভাষা অধ্যয়নে তিনি লুধিয়ানার নিকটবর্তী কুম শহরের বাসিন্দা শায়খ আল্লামা আব্দুল আজিজের নিকট থেকে উপকৃত হন। পাশাপাশি তিনি পাতিয়ালার মহেন্দ্র কলেজের ফারসি ভাষার অধ্যাপক মুন্সী সখন লালের নিকট ফারসি ভাষা শিক্ষা করেন।

কাজী মানসুরপুরী ১৩৫২ হিজরি / ১৮৮৪ সালে মহেন্দ্র কলেজ থেকে 'মুন্সী ফাজিল' ডিগ্রি লাভ করেন এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি শিক্ষা বিভাগের একটি দপ্তরে চাকরিতে যোগদান করেন এবং পদোন্নতি পেয়ে বিচার বিভাগে (কাজী হিসেবে) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৩৪৩ হিজরি / ১৯২৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

 

তাঁর কিছু উত্তম গুণাবলী:

আমাদের মহান শায়খ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ১৩৩৯ হিজরি / ১৯২১ সালে প্রথমবারের মতো হজের ফরজ বিধান পালন করেন। বর্ণিত আছে যে, কাবুলের গভর্নর আমির হাবিবুল্লাহ যখন বোম্বে (মুম্বাই) শহরে অবস্থানকালে জুমার নামাজ আদায় করেন, তখন এই বিষয়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরীর ওপর অর্পিত হয়েছিল। তিনি ভারত সরকারের ব্যয়ে মসজিদে গালিচা বিছানোর ব্যবস্থা করেন, যা বোম্বের মুসলমানদের বিস্মিত করেছিল।

মুসলমানরা তাঁকে ভালোবাসতেন এবং অমুসলিমরাও তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন। অমুসলিমদের মধ্যে ভারতের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁকে পছন্দ করতেন, যেমন মিস্টার ডানলপ স্মিথ, লর্ড মিন্টো, ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন এবং যোগিন্দর সিং। যোগিন্দর সিং তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শুনে অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং তাঁর কন্যার জন্য আজীবন পেনশনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। এছাড়া তিনি তাঁর পুত্র কাজী আব্দুল আজিজের পদোন্নতির বিষয়েও গুরুত্ব প্রদান করেন, যিনি আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বিদ্যালয়সমূহের সাধারণ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর জেনারেল) পদে উন্নীত হয়েছিলেন।

কাজী সুলাইমান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যে কোনো প্রকার ফিরকাগত বা গোষ্ঠীগত মতভেদের অনেক ঊর্ধ্বে ছিলেন। তিনি সকল ইমাম, সকল ফকিহ এবং সকল আলেমের সেবা করতেন। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো যে, আহলে হাদিস জামাতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ থাকা সত্ত্বেও এবং নিখিল ভারত আহলে হাদিস সম্মেলনের সভাপতিত্ব করার জন্য আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও, যখন আল্লামা আসলাম জিরাজপুরী (যিনি ‘আহলে কুরআন’ নামক সুন্নাহ অস্বীকারকারী দলের নেতা গোলাম আহমদ পারভেজের দীক্ষাগুরু ছিলেন) জামিয়া মিলিয়া নির্মাণের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতে পাতিয়ালায় আসেন, তখন তিনি কাজী সুলাইমানের বাড়িতেই আতিথ্য গ্রহণ করেন। কাজী সাহেব তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করেন এবং তাঁর সেবায় কোনো ত্রুটি রাখেননি!!
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌القاضي سليمان المنصوربوري والعلامة محمد إقبال:

كان القاضي سليمان طوال حياته ملاذا لجميع أصدقائه ويحكى أنه جمع كل المجوهرات في بيته وباعها ليشد من أزر صديقه محمد حياة، الذي احترق مصنعه وهذه حكاية من حكايات عديدة، وقد ربطت أواصر المحبة بين العلامة محمد إقبال والقاضي سليمان المنصور بوري، ولا عجب في ذلك فكلاهما أديب، وكلاهما شاعر، وكلاهما عمل بالقضاء، وكلاهما حمل مسئولية الدعوة إلى الله، وكلاهما عمل على خدمة المسلمين في كل مكان.

كان القاضي سليمان المنصوربوري يحب إقبال ويقدره، وكان إقبال يحمل للقاضي سليمان احتراما خاصا، وحين توفي قاضي منصور بوري، عقدت جلسة في "صالة حبيب" لقبول العزاء ترأسها حاجي شمس الدين (جمعية حماية الإسلام) اشترك فيها الشيخ أحمد علي والشيح محمد بخش مسلم والعلامة محمد إقبال.

وقف إقبال وتحدث وأشاد بالقاضي سليمان المنصور بوري وامتدح شعره وأسمع الحاضرين بعضا من أشعار القاضي سليمان:

" يا شيخ! ماذا رأيت في الكعبة! بالله أرأيت بيت الله … ؟!

لقد رأينا حمام الحرم وكفى ماذا يحدث لو لم نر العنقاء؟! " (1)

كانت " جمعية حماية الإسلام " تعرف قدر القاضي سليمان وتحمل له كل الحب، فكانت تحرص على دعوته لحضور جلساتها كل عام والمشاركة بإلقاء كلمة مع الأعضاء، ويحكى أنه راح مرة يلقي كلمة عن " محامد الإسلام " استمرت لست ساعات!! وقال الشيخ محمد شفيع: إنني سأعطي للجمعية هدية " مبلغ 3 آلاف روبية " عن كل ساعة من الساعات التي ألقى فيها القاضي سليمان كلمته في جلسة الجمعية وهكذا نالت الجمعية مبلغ 18 ألف روبية، وتعد هذه واقعة لا مثيل لها في تاريخ الخطابة في الهند قبل التقسيم (2).

--------------------------------------------

(1) العنقاء طائر خرافي يزعم قدماء المصريين أنه يعمر خمسة قرون أو ستة وبعد أن يحرق نفسه ينبعث من رماده وهو أتم ما يكون شبابا وجمالا، ويكنى به عن الشخص أو الشيء ذي الجمال الذي لا يضارع ويزعم أهل شبه القارة الهندية أنه طائر إذا ما أظل أحدا بجناحيه رفعه إلى العرش.

(2) سيرت سليمان [ص:268].
কাজি সুলাইমান মানসুরপুরী এবং আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল:

কাজি সুলাইমান সারা জীবন তাঁর সকল বন্ধুদের জন্য এক আশ্রয়ের স্থল ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর ঘরের সমস্ত অলঙ্কার সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে দিয়েছিলেন তাঁর বন্ধু মুহাম্মদ হায়াতকে সাহায্য করার জন্য, যাঁর কারখানা পুড়ে গিয়েছিল। এটি তাঁর জীবনের অনেকগুলো ঘটনার মধ্যে একটি মাত্র। আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল এবং কাজি সুলাইমান মানসুরপুরীর মধ্যে ভালোবাসার এক সুদৃঢ় বন্ধন ছিল। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তাঁরা উভয়ই ছিলেন সাহিত্যিক, উভয়ই ছিলেন কবি, উভয়ই বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন, উভয়ই আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার দায়িত্ব বহন করেছেন এবং উভয়ই সর্বত্র মুসলমানদের সেবায় কাজ করেছেন।

কাজি সুলাইমান মানসুরপুরী ইকবালকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর কদর করতেন। অন্যদিকে ইকবালও কাজি সুলাইমানের প্রতি বিশেষ সম্মান পোষণ করতেন। যখন কাজি মানসুরপুরী ইন্তেকাল করেন, তখন শোক প্রকাশের জন্য "হাবিব হলে" একটি সভার আয়োজন করা হয়। এর সভাপতিত্ব করেন হাজি শামসুদ্দিন (জমিয়তে হিমায়াতে ইসলাম)। এতে শায়খ আহমদ আলী, শায়খ মুহাম্মদ বখশ মুসলিম এবং আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল অংশগ্রহণ করেন।

ইকবাল দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন এবং কাজি সুলাইমান মানসুরপুরীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি তাঁর কবিতার প্রশংসা করেন এবং উপস্থিতদের কাজি সুলাইমানের কিছু কবিতা শোনান:

"হে শায়খ! কাবায় আপনি কী দেখেছেন! আল্লাহর শপথ, আপনি কি আল্লাহর ঘর... দেখেছেন?!

আমরা তো হারামের কবুতর দেখেছি এবং এটিই যথেষ্ট; আমরা যদি রূপকথার আনকা পাখি না দেখি তবে তাতে কী বা আসে যায়?!" (১)

"জমিয়তে হিমায়াতে ইসলাম" কাজি সুলাইমানের মর্যাদা জানত এবং তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করত। তাই তারা প্রতি বছর তাদের সভাগুলোতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতে এবং সদস্যদের সামনে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ করে দিতে সচেষ্ট থাকত। বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার "ইসলামের গুণাবলি" বিষয়ে এক বক্তব্য দিতে শুরু করেন যা টানা ছয় ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল!! শায়খ মুহাম্মদ শাফি বলেছিলেন: "কাজি সুলাইমান জমিয়তের সভায় যে কয় ঘণ্টা বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতি ঘণ্টার জন্য আমি জমিয়তকে ৩ হাজার রুপি করে হাদিয়া দেব।" এভাবে জমিয়ত ১৮ হাজার রুপি লাভ করে। দেশভাগের পূর্ববর্তী ভারতের বক্তৃতার ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত (২)।

--------------------------------------------

(১) আনকা হলো একটি কাল্পনিক পাখি। প্রাচীন মিশরীয়দের ধারণা ছিল যে, এটি পাঁচ বা ছয় শতাব্দী পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবং নিজেকে জ্বালিয়ে দেওয়ার পর তার ছাই থেকে পুনর্জন্ম লাভ করে, তখন সেটি পূর্ণ যৌবন ও সৌন্দর্যের অধিকারী হয়। এটি এমন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয় যার সৌন্দর্য অতুলনীয়। ভারতীয় উপমহাদেশের লোকদের ধারণা যে, এটি এমন একটি পাখি যা যদি তার ডানা দিয়ে কাউকে ছায়া দেয়, তবে তাকে আরশ বা রাজসিংহাসন পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।

(২) সিরাতে সুলাইমান [পৃষ্ঠা: ২৬৮]।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ১২)
وكان القاضي رحمه الله يمد يد العون والمساعدة ويساهم في جمع التبرعات لندوة العلماء في لكهنو وكذلك لحركة المجاهدين في الهند.

 

‌‌القاضي محمد سليمان المنصور بوري والمغفور له الملك عبد العزيز:

كان القاضي محمد سليمان المنصور بوري لا يحب التحدث عن نفسه ولا يحب الظهور، ولا الإعلان عن نفسه، وكان التواضع من أبرز صفاته، حين سافر رحمه الله إلى الحج سنة 1930 م كان رئيسا لجمعية أهل الحديث، ورغم هذا لم يشأ أن يخبر السلطان عبد العزيز بذلك (1).

ويقال إن الملك عبد العزيز رحمه الله تأثر كثيرا بلقائه الأول مع الشيخ القاضي محمد سليمان المنصور بوري حتى أنه طلب منه أن يكتب كتابا عن تاريخ نجد، فجعل القاضي محمد سليمان الحديث مع السلطان عن تاريخ نجد وقدم السلطان (جلالة الملك) عبد العزيز للشيخ عددا كبيرا من المصادر العربية حتى يقوم بكتابة كتاب عن تاريخ نجد حين يعود إلى الهند.

وقد أهداه الملك عبد العزيز قطعة من غطاء الكعبة بقدر أربعة أقدام مربعة مكتوب عليها بخط طغري سورة (الإخلاص) قل هو الله أحد ومكتوب عليها "يا الله" أربع مرات ويقول الشيخ الجليل القاضي سليمان: "حين تلقيت من جلالته هذه الهدية المباركة قلت له: هذا أثمن عندي من الدنيا وما فيها" (2).

 

‌‌وفاته:

ذكر الدكتور مقتدى حسن الأزهري في مقدمته عن حياة العلامة الشيخ محمد سليمان المنصوربوري (الجزء الأول من الترجمة العربية) ما يلي:

"وفاه الأجل المحتوم في عودته من حج بيت الله الحرام في المرة الثانية حينما كان على الباخرة في البحر في طريقه إلى الهند في يوم 8 محرم 1349 هـ المصادف 6 يونيو 1930 م (3) وذكر القاضي عبد الباقي قدسي في "سيرت سليمان" أن وفاة الشيخ

--------------------------------------------

(1) سيرت سليمان [ص:270].

(2) سفر نامه حجاز ط2 1986م / 1404 هـ[ص:79].

(3) الجزء الأول ط أولى، الدار السلفية بومباي 1410 هـ (1989 م) [ص:12].
এবং কাজী (রাহিমাহুল্লাহ) সাহায্যের হাত প্রসারিত করতেন এবং লখনউয়ের নদওয়াতুল উলামা ও ভারতের মুজাহিদ আন্দোলনের জন্য অনুদান সংগ্রহে অবদান রাখতেন।

 

‌‌কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরী এবং মরহুম বাদশাহ আব্দুল আজিজ:

কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরী নিজের সম্পর্কে কথা বলতে পছন্দ করতেন না এবং লোকচক্ষুর সামনে আসা কিংবা নিজের প্রচারণা চালানোও পছন্দ করতেন না। বিনয় ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। যখন তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ১৯৩০ সালে হজের উদ্দেশ্যে সফর করেন, তখন তিনি জমিয়তে আহলে হাদিসের সভাপতি ছিলেন, তা সত্ত্বেও তিনি সুলতান আব্দুল আজিজকে এ সম্পর্কে অবহিত করতে চাননি (১)।

বলা হয়ে থাকে যে, বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) শাইখ কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরীর সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাতে অত্যন্ত প্রভাবিত হয়েছিলেন, এমনকি তিনি তাঁকে নজদের ইতিহাসের ওপর একটি বই লেখার জন্য অনুরোধ করেন। ফলে কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান সুলতানের সাথে নজদের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন এবং সুলতান (মহামান্য বাদশাহ) আব্দুল আজিজ শাইখকে প্রচুর পরিমাণে আরবি উৎসগ্রন্থ প্রদান করেন যেন তিনি ভারতে ফিরে নজদের ইতিহাসের ওপর একটি বই লিখতে পারেন।

বাদশাহ আব্দুল আজিজ তাঁকে কাবা শরীফের গিলাফের চার বর্গফুট আয়তনের একটি টুকরো উপহার দিয়েছিলেন, যাতে তুগরা লিপিতে সূরা আল-ইখলাস (কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ) এবং চারবার "ইয়া আল্লাহ" লেখা ছিল। মহান শাইখ কাজী সুলাইমান বলেন: "যখন আমি মহামান্য বাদশাহর পক্ষ থেকে এই বরকতময় উপহারটি গ্রহণ করলাম, তখন আমি তাঁকে বললাম: এটি আমার কাছে পৃথিবী ও এর মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে বেশি মূল্যবান" (২)।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

ডক্টর মুক্তাদা হাসান আজহারী আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরীর জীবনী নিয়ে তাঁর ভূমিকায় (আরবি অনুবাদের প্রথম খণ্ড) নিম্নোক্ত তথ্য উল্লেখ করেছেন:

"দ্বিতীয়বার আল্লাহর পবিত্র ঘর হজ করে ফেরার পথে ভারতগামী জাহাজে সমুদ্রের মাঝে ৮ই মহরম ১৩৪৯ হিজরি মোতাবেক ৬ই জুন ১৯৩০ সালে তাঁর মৃত্যু হয় (৩)। কাজী আব্দুল বাকি কুদসী 'সীরাতে সুলাইমান'-এ উল্লেখ করেছেন যে শাইখের মৃত্যু..."

--------------------------------------------

(১) সীরাতে সুলাইমান [পৃষ্ঠা: ২৭০]।

(২) সফরনামায়ে হিজাজ, ২য় সংস্করণ, ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ / ১৪০৪ হিজরি [পৃষ্ঠা: ৭৯]।

(৩) প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ, আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ বোম্বে, ১৪১০ হিজরি (১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ) [পৃষ্ঠা: ১২]।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ১৩)
رحمه الله كانت أول محرم الحرام 1349 هـ الموافق 30 مايو 1935 م في يوم الجمعة المبارك، وقد أم صلاة الجنازة سيد محمد إسماعيل الغزنوي، وكان ذلك بالقرب من يلملم داخل حدود الحرم (1).

وقد رجع كاتب هذه السطور لما كتبه العلامة المحقق غلام رسول مهر عن رحلته للحج عام 1348 هـ / 1930 م التي نشرها في جريدة انقلاب، وأعاد طباعتها الدكتور أبو سلمان الشاهجهان بوري في كتاب عام 1405 هـ / 1984 م.

ويهمنا هنا المقال الذي نشر بجريدة انقلاب في 23 يوليو 1930 م وهو آخر فصل في الكتاب الذي نشره الدكتور أبو سلمان، جاء تحت عنوان: "مؤلف ـ[رحمة للعالمين]ـ في رحمة الله، تفصيل اللحظات التي سبقت وفاة المرحوم العلامة القاضي محمد سليمان المنصوربوري هكذا":

" كانت أفجع حادثة في سفر العودة هي وفاة العلامة القاضي محمد سليمان المنصوربوري مؤلف كتاب السيرة ـ[رحمة للعالمين]ـ والعديد من الكتب الإسلامية الأخرى".

وبعد أن كتب العلامة غلام رسول مهر عن مرض القاضي محمد سليمان في مكة وزيارته وعيادته له، ولقاءاته به أيام الحج، كتب أيضا عن اللمحات الأخيرة للعالم الجليل:

" … وفي لحظات بدأ يأخذ نفسا طويلا واحدا بعد الآخر، بدأت شفتاه ترتعشان، وخرج من حلقه صوت خافت وصدرت عن يده حركة كالتي تصدر عن يد الإنسان وهو يكتب، كانت هذه هي آخر لحظة من لحظات اليأس، ولم يستطع أحد رفاقه الصبر، فانخرط يجهش بالبكاء قائلا: "انطفأ سراج الهند" فانهمرت دموعنا جميعا رغما عنا، في تلك الفترة بدأت ملامح النهاية تظهر على جبين القاضي سليمان للحظة واحدة، وبعدها بلحظة أخرى انقطع النفس، ونظرنا فإذا شمس العلم والفضل والزهد والتقوى قد غربت وإلى الأبد … يداه انعقدتا على صدره دون أن يحركهما أحد وكأنه في صلاة … وبقينا لدقائق نبكي بكاء مرا .. واشترك مئات المسافرين في صلاة الجنازة

--------------------------------------------

(1) سفرنامة حجاز (تاريخ الحرمين) ط ثانية سلمان آرت بريس، لاهور 1404 هـ / 1986 م [ص:279].
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তাঁর ইন্তেকাল ছিল ১৩৪৯ হিজরীর ১লা মুহররমুল হারাম, যা ১৯৩৫ সালের ৩০শে মে মুবারক জুমাবার ছিল। সাইয়্যেদ মুহাম্মদ ইসমাইল গজনভী জানাজার নামাজের ইমামতি করেন এবং তা হারামের সীমানার ভেতরে ইয়ালামলামের নিকটে সংঘটিত হয়েছিল (১)।

এই পঙ্ক্তিগুলোর লেখক মুহাক্কিক আল্লামা গুলাম রসূল মেহেরের হজ্জ সফর (১৩৪৮ হি./১৯৩০ খ্রি.) সংক্রান্ত বিবরণটি অনুসরণ করেছেন, যা তিনি ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ১৪০৫ হিজরী/১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ড. আবু সালমান শাহজাহানপুরী একটি কিতাব আকারে তা পুনঃমুদ্রণ করেন।

আমাদের জন্য এখানে সেই প্রবন্ধটি গুরুত্বপূর্ণ যা ১৯৩০ সালের ২৩শে জুলাই ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এটি ড. আবু সালমান কর্তৃক প্রকাশিত কিতাবের সর্বশেষ পরিচ্ছেদ, যা এই শিরোনামে এসেছে: " 'রাহমাতুল্লিল আলামীন'-এর লেখক আল্লাহর রহমতে (ইন্তেকাল করেছেন), মরহুম আল্লামা কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান মনসুরপুরীর ওফাতের পূর্ব মুহূর্তগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:"

"প্রত্যাবর্তন সফরের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল সীরাত গ্রন্থ 'রাহমাতুল্লিল আলামীন' ও অন্যান্য অনেক ইসলামি কিতাবের লেখক আল্লামা কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান মনসুরপুরীর ইন্তেকাল।"

আল্লামা গুলাম রসূল মেহের মক্কায় কাজী মুহাম্মদ সুলাইমানের অসুস্থতা, তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁর সেবাশুশ্রূষা এবং হজ্জের দিনগুলোতে তাঁর সাথে কাটানো সময় সম্পর্কে লেখার পর এই মহান আলেমের শেষ মুহূর্তগুলো সম্পর্কেও লিখেছেন:

" … এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তিনি একের পর এক দীর্ঘশ্বাস নিতে শুরু করলেন, তাঁর ঠোঁট দুটি কাঁপতে শুরু করল, তাঁর কণ্ঠ থেকে এক ক্ষীণ আওয়াজ নির্গত হলো এবং তাঁর হাত থেকে এমন এক নড়াচড়া প্রকাশ পেল যা মানুষ লেখার সময় করে থাকে। এটি ছিল চরম মুহূর্ত, তাঁর এক সঙ্গী ধৈর্য ধরতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এবং বললেন: 'ভারতের প্রদীপ নিভে গেল'। আমাদের সবার চোখ থেকে অজান্তেই অশ্রু বিগলিত হলো। সেই সময় কাজী সুলাইমানের কপালে এক মুহূর্তের জন্য শেষ বিদায়ের ছাপ ফুটে উঠল এবং পরের মুহূর্তেই শ্বাস বন্ধ হয়ে গেল। আমরা তাকিয়ে দেখলাম যে ইলম, ফযীলত, যুহদ ও তাকওয়ার সূর্য চিরতরে অস্তমিত হয়ে গেছে… কারো নাড়ানো ছাড়াই তাঁর হাত দুটি বুকের ওপর এমনভাবে ভাজ হয়ে থাকল যেন তিনি নামাজে রত আছেন… আমরা কয়েক মিনিট যাবৎ অঝোরে কাঁদতে থাকলাম… শত শত যাত্রী জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করলেন।"

--------------------------------------------

(১) সফরনামায়ে হেজাজ (তারীখুল হারামাইন) ২য় সংস্করণ, সালমান আর্ট প্রেস, লাহোর ১৪০৪ হি. / ১৯৮৬ খ্রি. [পৃষ্ঠা: ২৭৯]।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقام إسماعيل بإمامتهم وظل يدعو للميت وهو يبكي … أنزلنا الميت البحر ووقف جميع الركاب يشاهدون هذا المشهد وهكذا غاب عنا هذا الجسد الطاهر ولفته أمواج البحر الأحمر، كانت السنة الهجرية قد انتهت وبدأ يوم سنة جديدة، وكان اليوم هو يوم الجمعة، وحدثت الوفاة في الساعة الحادية عشرة وتم إسقاط الجثة في البحر في وقت صلاة الجمعة … . ".

وهكذا فإن وفاة شيخنا الجليل كانت ظهر الأول من محرم الحرام عام 1348 هـ الموافق للثلاثين من مايو عام 1930 م.

 

‌‌مؤلفاته:

ترك القاضي محمد سليمان عددا من الكتب والرسائل بعضها مطبوع وبعضها لم يطبع حتى الآن وبعضها مفقود ويأتي كتابه ـ[رحمة للعالمين]ـ على رأس قائمة مؤلفاته التي نشير إليها باختصار فيما يلي:

- سفرنامه حجاز (تاريخ الحرمين) طبع لأول مرة سنة 1342 هـ / 1924 م ثم صدرت له طبعة ثانية كتب بتعليقاتها وحواشيها وترجم العبارات الفارسية والعربية الواردة في الكتاب إلى الأردية القاضي عبد الباري المنصوربوري وبهذه الطبعة ملحق عن سيرة المؤلف بقلم القاضي عبد الباقي المنصوربوري.

ويعد كتاب سفرنامه حجاز من الكتب الهامة التي تلقي الضوء على تاريخ الجزيرة العربية ومعالمها الحضارية والعمرانية في ذلك الوقت وكذلك جوانب الحياة الثقافية والعلمية هذا بالإضافة إلى ما يفيد القراء من موضوعات تتعلق بمقارنة الأديان كما يستفيد من الكتاب كل حاج يريد أن يحج كما حج رسول الله صلى الله عليه وسلم.

- تفسير سورة يوسف وقد سماه "الجمال والكمال".

- تاريخ المشاهير، سلسلة من المقالات كتبها لجريدة الوكيل التي كانت تصدر بالأردية.

- أصحاب بدر وقد كتبه المؤلف بعد أن لاحظ أن والده كان مشغولا بعمل فهارس لأسماء أصحاب بدر، فكتب القاضي سليمان هذا الكتاب عن الموضوع ذاته.

- الصلاة والسلام، ترجمة لكتاب حافظ ابن القيم جلاء الأفهام.
আর ইসমাইল তাদের ইমামতি করলেন এবং তিনি কাঁদতে কাঁদতে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে থাকলেন ... আমরা মৃত ব্যক্তিকে সমুদ্রে নামিয়ে দিলাম এবং সকল যাত্রী দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে লাগলেন। এভাবে এই পবিত্র দেহটি আমাদের নিকট থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল এবং লোহিত সাগরের ঢেউ তাকে জড়িয়ে নিল। হিজরি বছর শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং নতুন বছরের দিন শুরু হয়েছিল। দিনটি ছিল জুমাবার। এগারোটার সময় মৃত্যু ঘটেছিল এবং জুমার নামাজের সময় মৃতদেহ সমুদ্রে নামানো হয়েছিল ... । ".

এভাবে আমাদের মহান শায়খের মৃত্যু হয়েছিল ১৩৪৮ হিজরি সনের ১লা মহররম হারাম দুপুরে, যা ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে মে তারিখের সাথে মিল সম্পন্ন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

কাজী মুহাম্মদ সুলাইমান বেশ কিছু কিতাব ও রিসালাহ রেখে গেছেন, যার কিছু মুদ্রিত, কিছু এখন পর্যন্ত মুদ্রিত হয়নি এবং কিছু হারিয়ে গেছে। তাঁর রচনাবলির তালিকার শীর্ষে রয়েছে তাঁর কিতাব —[রাহমাতুল্লিল আলামীন]— যা নিচে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:

- সফরনামা হিজাজ (হারামাইন শরিফাইনের ইতিহাস) এটি প্রথমবার ১৩৪২ হিজরি / ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়। অতঃপর এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়, যার টীকা ও পাদটীকা লিখেছেন এবং কিতাবে বর্ণিত ফারসি ও আরবি বাক্যগুলো উর্দুতে অনুবাদ করেছেন কাজী আব্দুল বারী মানসুরপুরী। এই সংস্করণে কাজী আব্দুল বাকী মানসুরপুরীর কলমে লেখকের জীবনী সম্পর্কে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত রয়েছে।

সফরনামা হিজাজ কিতাবটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয়, যা তৎকালীন আরব উপদ্বীপের ইতিহাস এবং এর তمدুনিক ও স্থাপত্য নির্দশনাবলির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক জীবনের বিভিন্ন দিকের ওপর আলোকপাত করে। এছাড়াও পাঠকদের জন্য এতে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক তথ্য রয়েছে। একইভাবে প্রত্যেক হাজি, যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হজের ন্যায় হজ করতে চান, তিনি এই কিতাব থেকে উপকৃত হতে পারবেন।

- সূরা ইউসুফের তাফসির, যার নাম তিনি দিয়েছেন "আল-জামাল ওয়াল কামাল"।

- তারিখুল মাশাহির (বিখ্যাত ব্যক্তিদের ইতিহাস), এটি প্রবন্ধের একটি সংকলন যা তিনি উর্দুতে প্রকাশিত 'আল-ওয়াকিল' পত্রিকার জন্য লিখেছিলেন।

- আসহাবে বদর; লেখক এটি তখন লিখেছিলেন যখন তিনি লক্ষ্য করলেন যে, তাঁর পিতা বদরের সাহাবিগণের নামের তালিকা তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই কাজী সুলাইমান এই একই বিষয়ে কিতাবটি রচনা করেন।

- আস-সালাতু ওয়াস-সালাম, এটি হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিমের 'জালাউল আফহাম' কিতাবের অনুবাদ।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ১৫)
- تأييد الإسلام. وهو في رد القاديانية وقد نشره المؤلف سنة 1310 هـ ومعه قصيدة في حمد الله تبارك وتعالى (1).

- غاية المرام وهو أيضا في رد القاديانية.

- الاستقامة.

- البرهان.

- ابن الله في الأناجيل.

- رد على طلب.

وهذه الكتب تتعلق بالنصرانية.

- مهر النبوة. كتاب في السيرة النبوية للأطفال.

- تفسير سورة الفلق. وهذه ترجمة أردية لتفسير السورة المذكورة للإمام الرازي.

- حجة الله البالغة. ترجمة إلى الأردية ولم تطبع المسودة وفقدت فيما بعد.

- المسح على الجورب، وهذه ترجمة رسالة كتبها العلامة جلال الدين السيوطي، وهي مفقودة.

- مكاتيب سلمان ونشرت بعد وفاته

- خطبات سلمان ونشرت أيضا بعد وفاته.

- الصلاة (مترجم)

- تبيان الحج وقد أثبتت مع رحلته للحج الطبعة الثانية [ص:249] وما بعدها وهي رسالة صغيرة تتضمن موضوع أداء مناسك الحج والعمرة والزيارة الشرعية.

- شرح أسماء الله الحسنى وهو آخر مؤلفاته.

- مرآة التصوف. ترجمة لما كتبه الإمام الغزالي.

ومن مؤلفاته أيضا: معراج المؤمنين، الإسلام والسيف. تبليغ الإسلام، نصيحة

--------------------------------------------

(1) انظر سفرنامه حجاز ط2 [ص:15].
- তায়িদুল ইসলাম। এটি কাদিয়ানী মতবাদ খণ্ডন প্রসঙ্গে এবং লেখক এটি ১৩১০ হিজরিতে প্রকাশ করেছেন এবং এর সাথে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার প্রশংসায় একটি কাসিদা রয়েছে (১)।

- গায়াতুল মারাম, এটিও কাদিয়ানী মতবাদ খণ্ডন প্রসঙ্গে।

- আল-ইসতিকামাহ।

- আল-বুরহান।

- ইঞ্জিলসমূহে আল্লাহর পুত্র।

- একটি অনুরোধের খণ্ডন।

আর এই বইগুলো খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কিত।

- মোহরে নবুওয়াত। শিশুদের জন্য সীরাতুন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিষয়ক একটি বই।

- সূরা ফালাকের তাফসীর। এটি ইমাম রাযী কর্তৃক উক্ত সূরার তাফসীরের উর্দু অনুবাদ।

- হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ। উর্দুতে অনুবাদ, তবে এর পাণ্ডুলিপিটি মুদ্রিত হয়নি এবং পরবর্তীতে হারিয়ে গেছে।

- মোজার উপর মাসাহ করা; এটি আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতী কর্তৃক লিখিত একটি রিসালার অনুবাদ এবং এটি হারিয়ে গেছে।

- মাকাতিবে সালমান, এটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে।

- খুতবাতে সালমান, এটিও তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে।

- আস-সালাত (অনূদিত)।

- তিবইয়ানুল হজ। এটি তাঁর হজ ভ্রমণের বিবরণের দ্বিতীয় সংস্করণে [পৃষ্ঠা: ২৪৯] এবং পরবর্তী অংশে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি ছোট পুস্তিকা যা হজ, উমরাহ পালন এবং শরীয়তসম্মত যিয়ারতের নিয়মাবলি সংক্রান্ত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করে।

- শরহু আসমাইল্লাহিল হুসনা (আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ব্যাখ্যা), এটি তাঁর সর্বশেষ রচনা।

- মিরআতুত তাসাউফ। ইমাম গাজালী যা লিখেছিলেন তার অনুবাদ।

তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে: মেরাজুল মুমিনীন, ইসলাম ও তলোয়ার, তাবলিগে ইসলাম, নাসীহাত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন সফরনামায়ে হিজাজ, ২য় সংস্করণ [পৃষ্ঠা: ১৫]।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ১৬)
الدعاة، أحوال كربلا، الأسوة الحسنة، سيد البشر. ومقارنة بين القرآن والتوراة والإنجيل (1).

 

‌‌رحمة للعالمين:

تمتع القاضي سليمان منصور بوري بأسلوب أدبي رائع، ومن المعروف أنه نظم شعرا في جميع الفنون فله شعر في الحمد والشكر، وله شعر في المدائح النبوية كما نظم في فن القصيدة والنظم والغزل، وكتب أشعاره بالأردية والفارسية وترجم أشعارا عن العربية، ومن أشهرها. قصيدة حسان بن ثابت في رثائه لرسول الله صلى الله عليه وسلم وقد نظمها القاضي منصوربوري بالفارسية وله قصيدة عن فاطمة الفتاة الليبية التي استشهدت وهي تسقي جرحى المسلمين في حرب طرابلس عام 1930 هـ / 1912 م ومن الجدير بالذكر أن للشاعر محمد إقبال قصيدة في نفس الموضوع أيضا. إلا أن الشيخ منصور بوري لم يهتم بالشعر ولم يكن يريد أن يعرفه الناس كشاعر، بل شغف بالقرآن الكريم درسا وتدريسا وكان الناس يعجبون به كثيرا حين يلقى دروسه القرآنية عليهم (2).

وقد أشاد الشيخ أبو الحسن الندوي بعلمه وقدرته الكاملة على اللغة العربية وعلوم الدين، واطلاعه على العهد القديم والجديد بما يمكنه من خدمة هدف الحوار مع غير المسلمين (3).

ومن هنا جاء كتابه ـ[رحمة للعالمين]ـ على مستوى علمي دقيق، موثقا بالمراجع والمصادر الأصيلة التي جعلت منه مصدرا لكل من يبحث في السيرة النبوية في شبه القارة الهندية وفي غيرها بعد أن ترجم الكتاب إلي اللغة العربية.

وقد بلغ هذا الكتاب شهرة واسعة في الهند حتى كان الجميع يتهافتون على الحصول عليه وقراءته ولا أجد ما أكتبه عن هذا الكتاب القيم أكثر مما ذكره الشيخ أبو الحسن علي

--------------------------------------------

(1) وهذه الكتب الأخيرة مذكورة في الصفحات الخاصة بحياة العلامة النصوربوري للدكتور مقتدى حسن ياسين في مقدمته للترجمة العربية للكتاب التي صدرت عن الدار السلفية في بومباي ط أولى 0 1410هـ / 1989م [ص:13].

(2) انظر المصدر السابق، الترجمة العربية للدكتور مقتدى الأزهري، [ص:12].

(3) المصدر نفسه [ص:14].
দাওয়াত দানকারীগণ, কারবালার ঘটনাবলি, উত্তম আদর্শ, মানবজাতির সরদার। এবং কুরআন, তাওরাত ও ইঞ্জিলের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা (১)।

 

‌‌রাহমাতুল্লিল আলামিন:

কাজী সুলায়মান মনসুরপুরী এক চমৎকার সাহিত্যশৈলীর অধিকারী ছিলেন। এটি সুবিদিত যে, তিনি সাহিত্যের সকল শাখায় কাব্যচর্চা করেছেন; তাঁর কবিতার মধ্যে আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নবিজির প্রশংসামূলক কবিতা। এ ছাড়াও তিনি কাসিদা, নাজম ও গজল রচনা করেছেন। তিনি তাঁর কবিতাগুলো উর্দু ও ফারসি ভাষায় লিখেছেন এবং আরবি কবিতা থেকেও অনুবাদ করেছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতে হাসান ইবনে সাবিত (রা.)-এর রচিত শোকগাথা, যা কাজী মনসুরপুরী ফারসি ভাষায় কাব্যানুবাদ করেন। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩০ হিজরি) ত্রিপোলির যুদ্ধে আহত মুসলিম সেনাদের পানি পান করানোর সময় শহীদ হওয়া লিবীয় কিশোরী ফাতিমাকে নিয়েও তাঁর একটি কবিতা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, কবি মুহাম্মদ ইকবালও একই বিষয়ে একটি কবিতা লিখেছেন। তবে শায়খ মনসুরপুরী কবিতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেননি এবং তিনি কবি হিসেবে পরিচিত হতে চাননি; বরং কুরআনুল কারিমের অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার প্রতিই তাঁর প্রবল অনুরাগ ছিল। তিনি যখন কুরআনের দরস প্রদান করতেন, তখন মানুষ তাঁর প্রতি অত্যন্ত মুগ্ধ হতো (২)।

শায়খ আবুল হাসান নদভী তাঁর ইলম এবং আরবি ভাষা ও দ্বীনি উলুমের ওপর তাঁর পূর্ণ দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে বাইবেলের পুরাতন ও নতুন নিয়মের ওপর তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য তাঁকে অমুসলিমদের সাথে সংলাপের লক্ষ্য পূরণে সক্ষম করে তুলেছিল (৩)।

এই প্রেক্ষাপটেই তাঁর 'রাহমাতুল্লিল আলামিন' গ্রন্থটি একটি সূক্ষ্ম ও উচ্চতর তাত্ত্বিক মানে রচিত হয়েছে। এটি মৌলিক তথ্যসূত্র ও উৎস দ্বারা এমনভাবে সমৃদ্ধ করা হয়েছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশ ও এর বাইরে সীরাত-গবেষকদের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য দলিলে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে গ্রন্থটি আরবি ভাষায় অনূদিত হওয়ার পর।

এই গ্রন্থটি ভারতে এতো ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিল যে, তা সংগ্রহ ও পাঠ করার জন্য সর্বস্তরের মানুষ ব্যাকুল হয়ে উঠত। এই মূল্যবান গ্রন্থটি সম্পর্কে শায়খ আবুল হাসান আলী যা লিখেছেন, তার চেয়ে বেশি কিছু লেখার প্রয়োজন বোধ করছি না—

--------------------------------------------

(১) এই শেষোক্ত বইগুলো আল্লামা মনসুরপুরীর জীবনী সংক্রান্ত আলোচনায় ড. মুকতাদা হাসান ইয়াসিন উল্লেখ করেছেন, যা মুম্বাইয়ের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ থেকে ১৪১০ হিজরি / ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত এই গ্রন্থের আরবি অনুবাদের প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় স্থান পেয়েছে [পৃষ্ঠা: ১৩]।

(২) প্রাগুক্ত উৎস দেখুন, ড. মুকতাদা আল-আযহারীর করা আরবি অনুবাদ, [পৃষ্ঠা: ১২]।

(৩) একই উৎস [পৃষ্ঠা: ১৪]।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ১৭)
الندوي في كتابه "في مسيرة الحياة".

" … وقع نظري على اسم كتاب " رحمة للعالمين " في قائمة مكتبة شبلي التجارية في لكهنو للقاضي محمد سليمان منصور بوري، ووجدت في نفسي فور قراءة اسمه شوقا إليه. فطلبت الكتاب بالبريد، وجاء الكتاب، ولم يكن عند والدتي ما تدفع به ثمن الكتاب، فاعتذرت عن تسلم الكتاب، ولجأت إلى البكاء وهو ملجأ الأطفال الأخير. وتطوع أحد الأقارب الشيوخ فدفع الثمن حتى تسلمت الكتاب، وقرأته في شغف وشوق وانقطاع إليه وتفان فيه، وقل ما كان لكتاب آخر من التأثير في قلبي وعقلي مثل ما كان لهذا الكتاب، فكان إخلاص المؤلف وإيمانه، وطرازه الخاص في الدعوة والتربية وبساطة حوادث السيرة وجمالها وتأثيرها كتيار كهربائي نفذ منه إلى جسمي وروحي، وأرى أن هذا الكتاب من الكتب التي لها منة جسيمة علي … " (1).

--------------------------------------------

(1) أبو الحسن الندوي، في مسيرة الحياة ط أول 1407 هـ / 1987م دار القلم دمشق [ص:81]، 82 وانظر أيضا ما كتبه في كتاب "شخصيات وكتب" ط ندوة العلماء لكهنو الهند الصفحات الخاصة بـ "الكتب التي عشت فيها".
নদভী তাঁর "ফি মাসিরাতিল হায়াত" গ্রন্থে লিখেছেন।

" … লখনউয়ের শিবলী কমার্শিয়াল লাইব্রেরির তালিকায় কাজি মুহাম্মদ সুলাইমান মনসুরপুরীর 'রাহমাতুল্লিল আলামিন' বইটির নামের ওপর আমার দৃষ্টি পড়ল এবং নাম পড়ামাত্রই আমার অন্তরে এর প্রতি এক প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলো। আমি ডাকযোগে বইটি পাঠাতে বললাম এবং বইটি এল। কিন্তু আমার মায়ের কাছে বইটির মূল্য পরিশোধ করার মতো কোনো অর্থ ছিল না, ফলে তিনি বইটি গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করলেন। তখন আমি কান্নার আশ্রয় নিলাম, যা শিশুদের শেষ অবলম্বন। পরিবারের জনৈক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এগিয়ে এলেন এবং মূল্য পরিশোধ করলেন, ফলে আমি বইটি হাতে পেলাম। আমি অত্যন্ত আগ্রহ, ব্যাকুলতা ও একনিষ্ঠতার সাথে এটি পাঠ করলাম। খুব কম বই-ই আমার হৃদয়ে ও মস্তিষ্কে এই বইটির মতো প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। লেখকের নিষ্ঠা ও ঈমান, দাওয়াত ও তারবিয়াতের বিশেষ শৈলী এবং সীরাতের ঘটনাবলির সারল্য, সৌন্দর্য ও প্রভাব যেন একটি বিদ্যুৎ তরঙ্গের মতো আমার দেহ ও আত্মায় সঞ্চারিত হলো। আমি মনে করি, এই বইটি এমন সব গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত যার আমার ওপর বিশাল ঋণ রয়েছে … " (১)।

--------------------------------------------

(১) আবুল হাসান নদভী, ফি মাসিরাতিল হায়াত, প্রথম সংস্করণ ১৪০৭ হিজরি / ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ, দারুল কলম, দামেস্ক [পৃষ্ঠা: ৮১], ৮২; আরও দেখুন তিনি যা লিখেছেন "শখসিয়াত ওয়া কুতুব" (ব্যক্তিত্ব ও গ্রন্থসমূহ) গ্রন্থে, নদওয়াতুল উলামা সংস্করণ, লখনউ, ভারত, "যেসব বইয়ের মাঝে আমি জীবন কাটিয়েছি" শীর্ষক নির্দিষ্ট পৃষ্ঠাগুলো।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌مقدمة

يذكر أنه قبل المسيح بألفي عام تقريبا وصلت مملكة بابل إلى أوج قوتها، وكانت أمور المملكة المالية قد استحكمت، وقوتها العسكرية قد اكتملت، فملأت وفرة المال مع توفر الأمن عقل الملك بالنخوة والغرور حتى أنه أمر بصناعة تمثال له داخل معبد المملكة الأعظم، وأمر الخلق أن يسجدوا له وأن يطلبوا منه قضاء حاجاتهم.

فبعث رب العالمين إبراهيم عليه السلام لهدايتهم، وتصل سلسلة نسبه عليه السلام إلى نوح بتسع حلقات، لم يعجب الملك بدعوة التوحيد لأن قبولها يعني نزوله من درجة الألوهية ليصير عبدا، ولهذا غضب من إبراهيم عليه السلام، وكان بيته على صلة بالملك، فهاجر سيدنا إبراهيم بعد أن رأى معارضة القوم له وهاجرت معه سارة زوجه ولوط بن فاران ابن أخيه.

قام إبراهيم عليه السلام بتربية الغنم ليكسب من ذلك قوت يومه، فبارك الله له فيها فتكاثرت وزاد عددها.

وحين تحولت المراعي التي ترعى فيها قطعان غنمه إلى صحراء جرداء لتوقف الأمطار، تحول عنها سيدنا إبراهيم ومضى إلى أن وصل مصر. وكان عليها آنذاك حاكم يدعى "رقيون" (1) وكان أصلا من أهل بابل، (ومن الممكن أن يكون هذا ما دعا سيدنا إبراهيم للتفكير في الذهاب إلى مصر).

وأراد ملك مصر أن يستأثر السيدة سارة لنفسه بعد أن عرف أنها من نساء وطنه، ولكن الله اطلعه فورا على أنها زوجهة نبي الله المختار، وقام الملك بتكريم إبراهيم عليه

--------------------------------------------

(1) خطبات أحمدية [ص:109]. كتب د. حسن إبراهيم حسن - في كتابه عمرو بن العاص ط. مطبعة السعادة بمصر مجلد 2 [ص:182]- أن أسم ذلك الملك كان طوطيس بن ماليا، وكتب أن عاصمة ملكه كانت منف، ويفهم مما ذكره في [ص:183] أن طوطيس لقب للملك ومن هنا يكون الاسم الأصلي هو رقيون وطوطيس هو لقبه - وكتب المؤرخ سابق الذكر أن هذا الملك قد حفر ترعة تصل النيل بالبحر الأحمر لإيصال محاصيل مصر إلى السيدة هاجرة وقد جدد كل من قيصر ونيخوس ودارا حفر هذه الترعة، وكانت هذه الترعة هي نفسها التي اكتشفها عمر الفاروق من جديد.
ভূমিকা

উল্লেখ্য যে, ঈসা আলাইহিস সালামের প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে ব্যাবিলন সাম্রাজ্য তার শক্তির চরম শিখরে পৌঁছেছিল। সাম্রাজ্যের আর্থিক বিষয়াদি সুসংহত হয়েছিল এবং এর সামরিক শক্তি পূর্ণতা লাভ করেছিল। সম্পদের প্রাচুর্য ও নিরাপত্তার সহজলভ্যতা রাজার মনকে অহংকার ও ঔদ্ধত্যে পরিপূর্ণ করে দিয়েছিল, এমনকি তিনি সাম্রাজ্যের প্রধান উপাসনালয়ের ভেতরে নিজের একটি মূর্তি তৈরির নির্দেশ দেন এবং প্রজাসাধারণকে তাকে সিজদা করার ও তার কাছে নিজেদের প্রয়োজন পূরণের প্রার্থনা করার নির্দেশ দেন।

অতঃপর রাব্বুল আলামীন তাদের হেদায়েতের জন্য ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করেন। তাঁর বংশপরম্পরা নয়টি স্তরের মাধ্যমে নূহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। তাওহীদের দাওয়াত রাজার নিকট পছন্দনীয় হয়নি, কারণ তা গ্রহণ করার অর্থ ছিল উপাস্যের মর্যাদা থেকে নেমে এসে একজন বান্দায় পরিণত হওয়া। একারণে তিনি ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ওপর রাগান্বিত হন। তাঁর পরিবার রাজার সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিল। কওমের পক্ষ থেকে বিরোধিতা দেখার পর আমাদের নেতা ইবরাহীম হিজরত করেন এবং তাঁর সাথে তাঁর স্ত্রী সারা ও তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র লূত বিন ফারান হিজরত করেন।

ইবরাহীম আলাইহিস সালাম জীবিকা নির্বাহের জন্য মেষপালন শুরু করেন। আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন, ফলে সেগুলোর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায়।

যখন বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার কারণে তাঁর মেষপালের চারণভূমিগুলো ধূ ধূ মরুভূমিতে পরিণত হলো, তখন আমাদের নেতা ইবরাহীম সেখান থেকে প্রস্থান করেন এবং মিসরে গিয়ে পৌঁছান। তখন সেখানে "রিকইউন" (১) নামক এক শাসক ছিলেন, যিনি মূলত ব্যাবিলন অধিবাসী ছিলেন। (সম্ভবত একারণেই আমাদের নেতা ইবরাহীম মিসরে যাওয়ার কথা চিন্তা করেছিলেন)।

মিসরের রাজা সাইয়্যেদা সারাকে নিজের করে নিতে চেয়েছিলেন যখন তিনি জানতে পারলেন যে তিনি তাঁর স্বদেশেরই একজন নারী। কিন্তু আল্লাহ তখনই তাঁকে অবগত করেন যে, তিনি আল্লাহর মনোনীত নবীর স্ত্রী। তখন রাজা ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে সম্মান প্রদর্শন করেন...

--------------------------------------------

(১) খুতবাতে আহমাদিয়া [পৃষ্ঠা: ১০৯]। ড. হাসান ইবরাহীম হাসান—তাঁর কিতাব 'আমর ইবনুল আস', মিসরের মাতবাআতুস সাআদাহ হতে প্রকাশিত, ২য় খণ্ড [পৃষ্ঠা: ১৮২]-এ লিখেছেন যে, সেই রাজার নাম ছিল তুতাইস বিন মালিয়া এবং তিনি লিখেছেন যে, তাঁর সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল মেম্ফিস (মান্ফ)। ১৮৩ পৃষ্ঠায় তাঁর কৃত আলোচনা হতে বোঝা যায় যে, 'তুতাইস' ছিল রাজার উপাধি; সুতরাং মূল নাম হলো রিকইউন এবং তুতাইস হলো তাঁর উপাধি। উক্ত ঐতিহাসিক আরও লিখেছেন যে, এই রাজা নীল নদ থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত একটি খাল খনন করেছিলেন যাতে মিসরের ফসল সাইয়্যেদা হাজেরার নিকট পৌঁছানো যায়। কায়সার, নিখো এবং দারা—প্রত্যেকেই এই খালটি পুনরায় খনন করেছিলেন। আর এই খালটিই ছিল সেটি যা ওমর আল-ফারুক নতুনভাবে আবিষ্কার করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ১৯)
السلام حتى إنه حين هم بالعودة إلى وطنه أرسل معه ابنته هاجرة (1) حتى تتربى في هذه الأسرة الصالحة، وتتزوج في وطنه واحدا من أهله الأصليين. وقام إبراهيم عليه السلام فتزوج من هاجرة حتى يحقق للملك المضياف أمنيته الطيبة. وقد وهبه الله منها باكورة أولاده فسمي إسماعيل عليه السلام.

وولدت السيدة سارة الابن الثاني لإبراهيم عليه السلام فسماه إسحاق (عليه لسلام) وكان الله قد أخبر خليله إبراهيم أن هذين الولدين (2) مباركان تخرج من ضلعهما أمم عظيمة، ويكثر أولادهما حتى إنه يصعب حصر عددهم، ولهذا قسم الأب الملك بينهما بناء على أمر الله ورغبة الأهل، فأعطى إسحاق بلاد الشام لأن مملكة بابل كانت تقع شرقها وهذا يقرب إسحاق من أخواله.

وأعطى إسماعيل بلاد العرب لأن مصر كانت تقع غربها وهذا يقرب إسماعيل من أخواله أيضا، وهكذا عاش الأخوان لا يفصل بينهما بلد ثالث حتى يمكن أن يعاون الأخ أخاه في بلديهما إذا ما اقتضى الأمر ذلك (3).

--------------------------------------------

(1) لم تنل هاجرة شرف كونها بنت ملك فقط بل يفهم من التوراة أن منزلتها عند الله أيضا عاليه، ففي سفر التكوين 16/ 7 - 11، 21/ 17 ورد أن ملائكة الرب كانت تمثل أمام هاجرة وتبلغها بأمر الله، ولكن أيا من الملائكة لم يحضر أمام سارة أبدا. وثبت مما جاء في سفر التكوين 10/ 18 أن الملك بشر سارة بطفلها بواسطة إبراهيم.

(2) يمكن التعرف على تساوي إسماعيل عليه السلام وإسحاق عليه السلام في الدرجة والبركة من مطالعة المواضيع التالية في سفر التكوين:

أ - سمع الله تضرع هاجرة 16/ 11.

سمع الله تضرع سارة 18/ 14.

ب - سمى الله ولد هاجرة إسماعيل 16/ 11.

سمى الله ولد سارة إسحاق 17/ 19

ج - بارك الله في ولد هاجرة إسماعيل 17/ 20

بارك الله في ولد سارة إسحاق 17/ 19

د - كان الله عونا لإسماعيل 21/ 20

كان الله عونا لإسحاق 26/ 24.

هـ - سيكون إسماعيل أبا للأم والملوك 25/ 16

سيكون إسحاق أبا للأم والملوك 17/ 6

(3) جاء في سفر التكوين 25/ 9 أن إبراهيم دفنه ولداه إسحاق وإسماعيل - وهذا يدل على أن الأخوين ظلا معا شريكين في السراء والضراء.
সালাম। এমনকি তিনি যখন নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তাঁর সাথে নিজের কন্যা হাজেরাকে (১) পাঠালেন যাতে সে এই পুণ্যবান পরিবারে লালিত-পালিত হতে পারে এবং তাঁর দেশে তাঁর আদি অধিবাসীদের একজনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। অতঃপর ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম হাজেরাকে বিবাহ করলেন যাতে সেই আতিথেয়তাপরায়ণ বাদশাহর সৎ ইচ্ছা পূরণ হয়। আল্লাহ তাঁকে হাজেরার গর্ভে তাঁর প্রথম সন্তান দান করলেন এবং তাঁর নাম রাখা হলো ইসমাইল আলাইহিস সালাম।

এবং সাইয়্যেদা সারা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের দ্বিতীয় পুত্রকে জন্ম দিলেন এবং তিনি তাঁর নাম রাখলেন ইসহাক (আলাইহিস সালাম)। আল্লাহ তাঁর খলিল ইব্রাহিমকে জানিয়েছিলেন যে এই দুই পুত্র (২) বরকতময়, যাঁদের বংশধর থেকে মহান জাতিসমূহ বের হবে এবং তাঁদের সন্তান-সন্ততি এত বৃদ্ধি পাবে যে তাঁদের সংখ্যা গণনা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই কারণে পিতা আল্লাহর নির্দেশ এবং পরিবারের ইচ্ছার ভিত্তিতে তাঁদের উভয়ের মধ্যে রাজত্ব বণ্টন করে দিলেন। তিনি ইসহাককে শাম (সিরিয়া) অঞ্চল প্রদান করলেন কারণ ব্যাবিলন সাম্রাজ্য এর পূর্বে অবস্থিত ছিল এবং এটি ইসহাককে তাঁর মামার বংশের নিকটবর্তী করে দেয়।

এবং তিনি ইসমাইলকে আরব ভূখণ্ড দান করলেন কারণ মিসর এর পশ্চিমে অবস্থিত ছিল এবং এটি ইসমাইলকেও তাঁর মামার বংশের নিকটবর্তী করে দেয়। এভাবেই দুই ভাই এমনভাবে বসবাস করতে লাগলেন যে তাঁদের মাঝে তৃতীয় কোনো দেশ ব্যবধান হয়ে দাঁড়ায়নি, যাতে প্রয়োজনে এক ভাই অন্য ভাইকে তাঁদের নিজ নিজ দেশে সহযোগিতা করতে পারেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) হাজেরা কেবল একজন বাদশাহর কন্যা হওয়ার সম্মানই লাভ করেননি, বরং তাওরাত থেকে বোঝা যায় যে আল্লাহর নিকট তাঁর মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ ছিল। ‘বুক অব জেনেসিস’ (পয়দায়েশ)-এর ১৬/৭-১১ এবং ২১/১৭ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে যে প্রভুর ফেরেশতারা হাজেরার সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁকে আল্লাহর নির্দেশ জানাতেন, কিন্তু কোনো ফেরেশতাই কখনো সারার সামনে উপস্থিত হননি। আর জেনেসিসের ১০/১৮ (বা ১৮/১০) থেকে প্রমাণিত হয় যে বাদশাহ ইব্রাহিমের মাধ্যমে সারার নিকট সন্তানের সুসংবাদ দিয়েছিলেন।

(২) ইসমাইল আলাইহিস সালাম এবং ইসহাক আলাইহিস সালামের মর্যাদা ও বরকতের সমতা জেনেসিসের নিম্নলিখিত বিষয়গুলো পাঠ করলে অনুধাবন করা যায়:

ক - আল্লাহ হাজেরার প্রার্থনা শুনেছেন (১৬/১১)।

আল্লাহ সারার প্রার্থনা শুনেছেন (১৮/১৪)।

খ - আল্লাহ হাজেরার সন্তানের নাম রেখেছেন ইসমাইল (১৬/১১)।

আল্লাহ সারার সন্তানের নাম রেখেছেন ইসহাক (১৭/১৯)।

গ - আল্লাহ হাজেরার সন্তান ইসমাইলের ওপর বরকত দান করেছেন (১৭/২০)।

আল্লাহ সারার সন্তান ইসহাকের ওপর বরকত দান করেছেন (১৭/১৯)।

ঘ - আল্লাহ ইসমাইলের সাহায্যকারী ছিলেন (২১/২০)।

আল্লাহ ইসহাকের সাহায্যকারী ছিলেন (২৬/২৪)।

ঙ - ইসমাইল হবেন জাতিসমূহ ও রাজাদের পিতা (২৫/১৬)।

ইসহাক হবেন জাতিসমূহ ও রাজাদের পিতা (১৭/৬)।

(৩) জেনেসিসের ২৫/৯ অধ্যায়ে এসেছে যে ইব্রাহিমকে তাঁর দুই পুত্র ইসহাক ও ইসমাইল দাফন করেছিলেন—এটি প্রমাণ করে যে দুই ভাই সুখে-দুখে পরস্পর অংশীদার হিসেবে সর্বদা একসাথেই ছিলেন।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ২০)
كان زواج إسماعيل من ابنة مضاض سيد بني جرهم، وبنو جرهم من القبائل القديمة التي حكمت في العرب، وكان مضاض هو الحاكم الأوحد لمنطقته (1)، هذا بينما كان زواج إسحاق في بيت أخواله وهكذا ظلت الشقة تتسع بين أبناء النسل الواحد، ولكن رب العالمين كان يقرب بينهم من حين لآخر عن طريق الاتصال والتعاون بين الاثنين.

حين فر موسى عليه السلام خوفا من فرعون، لجأ إلى العرب وحين حرر بني إسرائيل وأخرجهم من مصر قضى بين العرب أربعين سنة كاملة، وهكذا حين خرج داود عليه السلام من وطنه خوفا من الملك صموئيل، قدم إلى العرب وأقام بينهم، وحين دمر بخت نصر بني إسرائيل قام معد بن عدنان بإسكانهم بين العرب معززين مكرمين، والأنبياء الذين ظهروا من أولاد إسحاق عليه السلام أشاروا في إلهاماتهم إلى بني إسماعيل.

وما أقصده هنا هو أن أكتب فقط شيئا عن إسماعيل عليه السلام.

كان إبراهيم عليه السلام قد أسكنه ووالدته في تلك البقعة التي توجد فيها مكة الآن، وقام الأب الصالح مع ولده الجليل ببناء مسجد (مكعب الشكل) في ذلك المقام، ودعا الله سبحانه وتعالى مالك الملك أن يرزق أهل هذا المكان المجدب رزقا، وأن يهيئ لهم من الثمرات رزقا (2)، وأن يبعث في هذا المقام رسولا عظيما يهدميهم ويرشدهم.

كان لإسماعيل اثنا عشر ولدا (3) اقتسموا أرض العرب فيما بينهم، وقد انتشروا

--------------------------------------------

(1) بروفيسر سيديو: خلاصة تاريخ العرب [ص:23]

(2) يتعجب من يذهب إلى مكة لأمرين: الأول، أن أرض مكة لا زرع فيها ولا نبات ولا محاصيل والثاني أن أسواق مكة مليئة بالفاكهة الطازجة والخضروات، وهي متوافرة ورخيصة، ويفهم من هذا أن الله تبارك وتعالى استجاب دعاء إبراهيم عليه السلام، ثم يأتي الدليل على قبول الله للدعاء في شطره الثاني وهو بعثة الرسول صلى الله عليه وسلم وقد جاء في التوراة (كتاب التثنية 17، 18، 19 أن النبي الموعود يظهر من نسل إسماعيل - وثبت من كتاب التثنية 23/ 2 أن ظهوره يكون من مكة (فاران).

(3) كان ليعقوب بن إسحاق عليهما السلام اثنا عشر ولدا، ستة من بطن زوجته لياه (راوبين، شمعون، لاوي، يهوذا، يساك، زبلون) ومن بطن زوجه راخيل اثنان (يوسف، بن يامين) ومن بطن زلفه وكانت جارية لزوجه لياه اثنان (جاد، آشير) ومن بطن بلهه وكانت جارية لزوجه راحيل اثنان (دان، نفتالي) سفر التكوين 29، 30.

ومن هؤلاء الأولاد الإثنى عشر كانت قبائل بني إسرائيل الإثنى عشرة، وهي التي باركها يعقوب =
ইসমাঈলের বিবাহ হয়েছিল বনী জুরহুমের সর্দার মুদাদের কন্যার সাথে। বনী জুরহুম ছিল প্রাচীন আরব গোত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত যারা আরব শাসন করত। মুদাদ ছিলেন তাঁর অঞ্চলের একচ্ছত্র শাসক (১)। পক্ষান্তরে ইসহাকের বিবাহ হয়েছিল তাঁর মামার বাড়িতে। এভাবে একই বংশের সন্তানদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে, কিন্তু বিশ্বজগতের প্রতিপালক সময়ের ব্যবধানে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে নৈকট্য তৈরি করে দিতেন।

যখন মূসা (আলাইহিস সালাম) ফেরাউনের ভয়ে পলায়ন করেন, তখন তিনি আরবদের কাছে আশ্রয় নেন। আর যখন তিনি বনী ইসরাঈলকে মুক্ত করে মিসর থেকে বের করে আনেন, তখন তিনি আরবদের মাঝে পূর্ণ চল্লিশ বছর অতিবাহিত করেন। একইভাবে যখন দাউদ (আলাইহিস সালাম) রাজা সামুয়েলের ভয়ে নিজ দেশ ত্যাগ করেন, তখন তিনি আরবদের নিকট আগমন করেন এবং তাদের মাঝে অবস্থান করেন। যখন বুখত নাসর বনী ইসরাঈলকে ধ্বংস করে দেয়, তখন মা’আদ বিন আদনান তাদেরকে আরবদের মাঝে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সাথে বসবাস করার সুযোগ করে দেন। আর ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরদের মধ্য থেকে যেসব নবী আবির্ভূত হয়েছিলেন, তাঁরা তাঁদের ঐশী বাণীতে বনী ইসমাঈলের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন।

এখানে আমার উদ্দেশ্য হলো কেবল ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে কিছু লেখা।

ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁকে এবং তাঁর মাতাকে সেই স্থানে বসবাস করতে দিয়েছিলেন যেখানে বর্তমানে মক্কা অবস্থিত। সেই পুণ্যবান পিতা তাঁর মহিমান্বিত পুত্রের সাথে মিলে সেই স্থানে একটি মসজিদ (ঘনক আকৃতির) নির্মাণ করেন। তিনি মহান আল্লাহ, রাজাধিরাজের নিকট দু’আ করেন যেন তিনি এই অনুর্বর স্থানের অধিবাসীদের জীবিকা দান করেন এবং ফলমূল থেকে তাদের জন্য রিযিকের ব্যবস্থা করেন (২), আর এই স্থানে একজন মহান রাসূল প্রেরণ করেন যিনি তাদের হেদায়াত দেবেন ও সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন।

ইসমাঈলের বারোজন পুত্র ছিল (৩) তাঁরা আরব ভূখণ্ডকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিলেন এবং তাঁরা ছড়িয়ে পড়েছিলেন

--------------------------------------------

(১) অধ্যাপক সেদিও: আরবের ইতিহাসের সারসংক্ষেপ [পৃষ্ঠা: ২৩]

(২) যে ব্যক্তি মক্কায় যায় সে দুটি বিষয়ে বিস্মিত হয়: প্রথমত, মক্কার ভূমি চাষাবাদ, উদ্ভিদ বা ফসলহীন; দ্বিতীয়ত, মক্কার বাজারগুলো টাটকা ফল ও শাকসবজিতে ভরপুর, যা পর্যাপ্ত এবং সস্তা। এ থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর দু’আ কবুল করেছেন। অতঃপর দু’আ কবুলের দ্বিতীয় প্রমাণ হলো রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রেরণ। তাওরাতে (দ্বিতীয় বিবরণ ১৭, ১৮, ১৯) এসেছে যে, প্রতিশ্রুত নবী ইসমাঈলের বংশ থেকে আবির্ভূত হবেন—এবং দ্বিতীয় বিবরণ ২৩/২ থেকে প্রমাণিত হয় যে, তাঁর আবির্ভাব হবে মক্কা (ফারান) থেকে।

(৩) ইয়াকুব বিন ইসহাক (আলাইহিমাস সালাম)-এর বারোজন পুত্র ছিল। তাঁর স্ত্রী লিয়ার গর্ভে ছয়জন (রাউবেন, শামউন, লাবি, ইয়াহুদা, ইয়াসাক, জাবুলুন), স্ত্রী রাহীলের গর্ভে দুইজন (ইউসুফ, বিন ইয়ামিন), লিয়ার দাসী যিলফাহর গর্ভে দুইজন (জাদ, আশির) এবং রাহীলের দাসী বিলহাহর গর্ভে দুইজন (দান, নাফতালি)। আদিপুস্তক ২৯, ৩০। এই বারোজন পুত্র থেকেই বনী ইসরাঈলের বারোটি গোত্রের উৎপত্তি হয়েছে, যাদেরকে ইয়াকুব আশিষ দিয়েছিলেন =
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ২১)
بسرعة كبيرة حتى وصلوا غربا إلى مصر حيث أخوالهم، ووصلت خيامهم إلى اليمن جنوبا حيث أسكن الأب إخوانهم بني قطورة، واتصلت قراهم بالشام شمالا حيث سكن إخوانهم بنو إسحاق.

وهكذا ورث أولاد أب واحد علم بابل ومصر القديم وحضارتهما وسيطروا على مواني المحيط الهندي والبحر الأحمر التي كانت تتحكم في تجارة العالم المتمدن آنذاك، كما دان لهم أيضا وسط الجزيرة العربية، والذي كان دائما حصنا منيعا في وجه الأمم الأخرى.

اشتهر من أولاد إسماعيل عليه السلام ابنه الثاني قيدار شهرة واسعة، فقد سكن أولاده في مكة وحفظوا - كأبيهم - لهذا المسجد المقدس حقوقه وشأنه على الدوام، وهو المسجد الذي كان مدرسة التوحيد الأولى للدنيا أجمع.

بعد الجيل السابع والثلاثين لأولاد قيدار، ولد عدنان الأول وكان من أولي العزم، قام أخوه الأصغر ويدعى عك بتأسيس دولة في اليمن. وبعد عدنان غلبت قبيلة بني جرهم بني إسماعيل ورغم أنهم أخوالهم إلا أنهم أخرجوهم من مكة سنة 207 م لأن بني إسماعيل لم يوافقوهم حتى ذلك الوقت على عبادة الأصنام، ولكن قصي، وهو من الجيل الخامس عشر لعدنان الثاني، استولى على مكة، وأسس فيها سنة 440 م حكما مشتركا وأقام المناصب التالية:

1 - الرفادة.

2 - السقاية.

3 - الحجابة.

4 - القيادة.

5 - وأنشأ رمزا قوميا أطلق عليها "اللواء".

--------------------------------------------

= عليه السلام وموسى عليه السلام وداود عليه السلام والمسيح عليه السلام ويوحنا. وإذا اعتبرنا قول النصارى بأن السيدة هاجرة كانت جارية للسيدة سارة التي وهبتها لزوجها فتزوجها، فإن هذا أيضا لا يمكن أن يكون مدعاة للاعتراض على بني إسماعيل مثلما لا يوجه أي اعتراض على جاد وأشتر ودان ونفتالي وعلى أولادهم الذين هم أولاد بلهه وزلفه وكانتا أمتين.
অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তারা পশ্চিমে মিশরে পৌঁছে যান যেখানে তাদের মামাতো গোত্র ছিল, এবং তাদের তাঁবু দক্ষিণে ইয়ামেন পর্যন্ত পৌঁছেছিল যেখানে পিতা তাদের ভাই বনু কাতুরাকে বসতি স্থাপন করিয়েছিলেন। আর উত্তরে শামের সাথে তাদের গ্রামগুলো সংযুক্ত ছিল যেখানে তাদের ভাই বনু ইসহাক বসবাস করতেন।

এভাবে এক পিতার সন্তানগণ ব্যাবিলন ও প্রাচীন মিশরের জ্ঞান ও তাদের সভ্যতা উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেন এবং তারা ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগরের বন্দরসমূহের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন, যা তৎকালীন সভ্য বিশ্বের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। তেমনিভাবে মধ্য আরব উপদ্বীপও তাদের অনুগত হয়েছিল, যা অন্যান্য জাতির মোকাবেলায় সর্বদা এক দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে বিবেচিত ছিল।

ইসমাইল আলাইহিস সালামের সন্তানদের মধ্যে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র কায়দার ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর সন্তানরা মক্কায় বসবাস করতেন এবং তারা - তাদের পিতার মতোই - এই পবিত্র মসজিদের অধিকার ও মর্যাদা সর্বদা রক্ষা করেছেন। এটি সেই মসজিদ যা সমগ্র বিশ্বের জন্য তাওহীদের প্রথম শিক্ষালয় ছিল।

কায়দারের সন্তানদের সাইত্রিশতম প্রজন্মের পর প্রথম আদনান জন্মগ্রহণ করেন, তিনি ছিলেন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর ছোট ভাই, যাঁর নাম ছিল 'আক্ক, ইয়ামেনে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। আদনানের পর বনু জুরহুম গোত্র বনু ইসমাইলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। যদিও তারা তাদের মামার বংশীয় ছিল, তবুও তারা ২০৭ খ্রিস্টাব্দে তাদের মক্কা থেকে বহিষ্কার করে, কারণ বনু ইসমাইল সেই সময় পর্যন্ত মূর্তিপূজার বিষয়ে তাদের সাথে একমত হয়নি। তবে কুসাই, যিনি দ্বিতীয় আদনানের পনেরোতম প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি মক্কা দখল করেন এবং সেখানে ৪৪০ খ্রিস্টাব্দে একটি সম্মিলিত শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিম্নোক্ত পদসমূহ প্রবর্তন করেন:

১ - রিফাদা (হাজীদের মেহমানদারি)।

২ - সিকায়া (হাজীদের পানি পান করানো)।

৩ - হিজাবা (কাবা ঘরের চাবিকাঠি রক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ)।

৪ - কিয়াদা (সেনাপতিত্ব)।

৫ - এবং তিনি একটি জাতীয় প্রতীক তৈরি করেন যার নাম দেন "লিওয়া" (পতাকা)।

--------------------------------------------

= আলাইহিস সালাম এবং মুসা আলাইহিস সালাম, দাউদ আলাইহিস সালাম, মাসীহ (ঈসা) আলাইহিস সালাম ও ইউহান্না। আর যদি আমরা খ্রিস্টানদের এই বক্তব্য বিবেচনা করি যে, সাইয়িদা হাজেরা সাইয়িদা সারার একজন দাসী ছিলেন যাকে তিনি তাঁর স্বামীকে দান করেছিলেন এবং তিনি তাঁকে বিবাহ করেছিলেন, তবে এটিও বনু ইসমাইলের বিরুদ্ধে আপত্তির কারণ হতে পারে না, ঠিক যেমনটি জাদ, আশার, দান ও নাফতালি এবং তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি উত্থাপন করা হয় না, যারা বিলহা ও জিলপার সন্তান ছিলেন এবং তারা উভয়ই দাসী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ২২)
6 - وأقام مجلسا قوميا أطلق عليه " الندوة " أو " دار الندوة ".

بعد قصي جاء ابنه عبد مناف (1)، ومن بعده ابنه هاشم (2) ثم ابنه عبدالمطلب (3) (المولود سنة 497 م) ثم ابنه أبو طالب وكانوا جميعا رؤساء مكة المحترمين كل في زمانه، وكان سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم الذي يتناورا طذا الكتاب سيرته العطرة حفيدا لعبدالمطلب. وهكذا اتضح من الصفحات السابقة من كانوا يسكنون في الجزيرة العربية، وكيف كانت علاقتهم بالبلاد المجاورة لهم، ولكن أرى لزاما علي أن أوضح الحديث عن بلاد العرب.

يفهم من مشاهدة الخارطة أن بلاد العرب هي شبه الجزيرة التي يحدها البحر الأحمر من الغرب والمحيط الهندي من الجنوب والخليج العربي من الشرق وبلاد الشام من الشمال، ويفصلها عن الشام سلسلة الجبال الممتدة شمالا، كما تفصلها عن مصر قناة السويس كما يفصل بحر العرب بين الهند والجزيرة العربية.

ومساحة الجزيرة العربية ضعف مساحة فرنسا تقريبا، وتمتاز كل منطقة فيها بخصائص فريدة، فوادي اليمن وجبال الطائف تضارع في خضرتها أحسن مافي شبه القارة الهندية الباكستانية، وتخلو بطاح الحجر وصحراء وسط الجزيرة الواسعة، من الماء والعشب مثلما هو الحال في صحراء إفريقيا العظمى، أما الحالة السياسية والأخلاقية التي كانت عليها جزيرة العرب وقت مولد رسول الله صلى الله عليه وسلم يهلا فكانت كما يلي:

في جنوب الجزيرة وجدت دولة الأحباش، وفي الجزء الشرقي إمبراطورية الفرس وفي القطاع الشمالي الإمبراطورية الرومانية الشرقية التي كانت تسيطر على القسطنطينية (4)، وكان وسط الجزيرة العربية حرا كما يزعمون إلا أن كل إمبراطورية كانت تسعى من جانبها إلى السيطرة عليه.

أثرت الحرية على سكان وسط الجزيرة تأثيرا سيئا للغاية، فظهرت فيهم الأنانية

--------------------------------------------

(1) كان اسمه المغيرة وقد أخذوه إلى صنم مناف بعد ولادته - تبركا - فاشتهر بعدها بعبد مناف.

(2) كان اسمه عمرو وقد هشم الثريد للفقراء وأطعمهم إياه فسمي هاشما.

(3) كان اسمه شيبة، حين ولد كان شعره أبيض، ولهذا سمته أمه شيبة (أي عجوز) وكان عمه المطلب هو الذي رباه فقد كان يتيما وتقديرا لذلك عرف طوال حياته بعبد المطلب.

(4) تاريخ العرب للبروفيسر سيديو [ص:45].
৬ - এবং তিনি একটি জাতীয় পরিষদ গঠন করেন যার নাম দেন "আন-নাদওয়া" বা "দারুন নাদওয়া"।

কুসাই-এর পর তার পুত্র আবদে মানাফ (১) আসলেন, তার পরে তার পুত্র হাশিম (২), তারপর তার পুত্র আবদুল মুত্তালিব (৩) (যিনি ৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন), তারপর তার পুত্র আবু তালিব। তারা সবাই নিজ নিজ সময়ে মক্কার সম্মানিত প্রধান ছিলেন। আর আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যার সুগন্ধিময় জীবনী এই কিতাবে আলোচিত হচ্ছে, তিনি ছিলেন আবদুল মুত্তালিবের নাতি। এভাবেই পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাগুলো থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, কারা আরব উপদ্বীপে বসবাস করত এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক কেমন ছিল। তবে আমি আরব ভূখণ্ড সম্পর্কে আলোচনা আরও স্পষ্ট করা আবশ্যক মনে করছি।

মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় যে, আরব ভূখণ্ড হলো একটি উপদ্বীপ যার পশ্চিমে লোহিত সাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে পারস্য উপসাগর এবং উত্তরে শাম দেশ (সিরিয়া অঞ্চল) অবস্থিত। উত্তরে বিস্তৃত পর্বতমালা একে শাম দেশ থেকে পৃথক করেছে, ঠিক যেমন সুয়েজ খাল একে মিসর থেকে পৃথক করেছে এবং আরব সাগর ভারত ও আরব উপদ্বীপের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে।

আরব উপদ্বীপের আয়তন ফ্রান্সের আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ। এর প্রতিটি অঞ্চল অনন্য বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত। যেমন ইয়েমেনের উপত্যকা এবং তায়েফের পাহাড়গুলো তাদের সজীবতার দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান উপমহাদেশের সেরা স্থানগুলোর সাথে পাল্লা দেয়। অন্যদিকে হিজরের পাথুরে প্রান্তর এবং উপদ্বীপের বিশাল মধ্য মরুভূমি পানি ও ঘাসহীন, যেমনটা আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির ক্ষেত্রে দেখা যায়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের সময় আরব উপদ্বীপের রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থা ছিল নিম্নরূপ:

উপদ্বীপের দক্ষিণে ছিল হাবশা (আবিসিনীয়) রাষ্ট্র, পূর্ব অংশে ছিল পারস্য সাম্রাজ্য এবং উত্তর অংশে ছিল পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য যা কনস্টান্টিনোপল (৪) শাসন করত। তারা যেমনটা দাবি করত, সে অনুযায়ী আরব উপদ্বীপের মধ্যাঞ্চল ছিল স্বাধীন, যদিও প্রতিটি সাম্রাজ্যই নিজ নিজ পক্ষ থেকে একে আধিপত্যের অধীনে আনার চেষ্টা করত।

এই স্বাধীনতা উপদ্বীপের মধ্যাঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, যার ফলে তাদের মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা দেখা দেয়।

--------------------------------------------

(১) তার নাম ছিল মুগীরা। জন্মের পর বরকত হাসিলের জন্য তাকে 'মানাফ' মূর্তির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাই পরবর্তীতে তিনি আবদে মানাফ নামে পরিচিত হন।

(২) তার নাম ছিল আমর। তিনি দরিদ্রদের জন্য রুটি গুঁড়ো করে সারীদ তৈরি করে খাইয়েছিলেন, তাই তাকে হাশিম বলা হতো।

(৩) তার নাম ছিল শায়বাহ। জন্মের সময় তার চুল সাদা ছিল, এজন্য তার মা তাকে শায়বাহ (অর্থাৎ বৃদ্ধ) নাম দিয়েছিলেন। তার চাচা মুত্তালিব তাকে লালন-পালন করেছিলেন কারণ তিনি এতিম ছিলেন, আর সেই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তিনি সারা জীবন আবদুল মুত্তালিব নামে পরিচিত ছিলেন।

(৪) হিস্ট্রি অফ দ্য অ্যারাবস, প্রফেসর সেডিও [পৃষ্ঠা: ৪৫]।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وسيطر عليهم التمرد، وجعلوا من إخوانهم هدفا لإثبات شجاعتهم وجرأتهم، فغرست البطالة والكسل فيهم عادة الخمر والميسر، حتى تأصلت في نفوسهم، وأدى بعدهم عن الدول الأخرى إلى بقاء لغتهم صافية وكذا نسلهم، إلا أن استعمالهم للفصاحة اقتصر في معظمه على التفاخر بأنفسهم وتحقير غيرهم من الأمم، أو أنهم استخدموا كل براعتهم اللغوية لإذاعة غرامهم الفاحش والتشهير بعشيقاتهم، وقد غرست فيهم حياة العزلة كراهية المصاهرة، فكانوا يقومون بوأد بناتهم شرفا وشجاعة وفخرا.

ونشر الجهل فيهم عبادة الأوثان، تلك العبادة التي سيطرت على القلوب والعقول البشرية، فجعلتهم عبدة للوهم وهكذا بدأوا في عبادة كل ما في الطبيعة، عبدوا الأحجار والأشجار، والقمر والشمس والجبال والأنهار وغيرها، وهكذا نسوا عظمة الله وجلاله ونسوا أيضا قيمتهم ومكانتهم، لأنه لم تكن هناك أي قاعدة لحفظ الحقوق الإنسانية، كما لم يكن هناك أي قانون ينظم هذه الحقوق على أساس سليم، وكانت النتيجة: قتل النفس البشرية، النهب والسلب، الأسر، والسلوك السيء، والتدخل الجائر وخطف النساء جبرا أو عن طريق الإغراء، ووأد البنات، ذلك لأن عبادة الأوثان جعلت الإنسان في أعينهم أحقر الموجودات.

وصور جمود السنوات بل جمود الأجيال والقرون، لعقولهم وقلوبهم أنهم على أحسن حال، وأنه لا توجد مدنية تفوق مدنيتهم، ولا توجد ديانة أفضل من ديانتهم. ونتيجة لاتصال مختلف الحكومات والسلاطين بمختلف بقاع الجزيرة العربية، وجدت فيها ديانات مختلفة أخرى. ومن يعرف اليهودية (1)، والنصرانية (2) والصابئة وغيرها قد يخدع ظنا منه أن أولئك الناس يمثلون محاسن هذه الديانات، لكن الحقيقة هي أنهم أفسدوا الدين بدلا من أن يصلحوا بالدين أنفسهم، ولو رآهم موسى وعيسى

--------------------------------------------

(1) حين أخرج اليونانيون والسريانيون اليهود من مناطقهم، وفدوا إلى جزيرة العرب فرحب بهم بنو إسماعيل (فهم أبناء عمومتهم وإخوانهم) وانتشرت ديانتهم بسرعة في الحجاز ونواحي خيبر والمدينة (كتاب خلاصة تاريخ العرب [ص:38]).

(2) قبل بنو غسان النصرانية سنة 230 م وانتشرت النصرانية في العراق والجزيرة العربية والبحرين وصحراء فاران ودومة الجندل وشواطئ دجلة والفرات وعمل على نشرها معا كل من نجاشي الحبشة وقيصر الروم، وفيما بين سنتي 513 م و 395 م وبذلت جهود كبيرة لنشرها وانتشرت الأناجيل بكثرة في اليمن. (المصدر السابق [ص:39]).
বিদ্রোহ তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং তারা নিজেদের বীরত্ব ও সাহস প্রমাণের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল তাদের নিজেদের ভাইদেরই। ফলে বেকারত্ব ও অলسতা তাদের মাঝে মদ্যপান ও জুয়ার অভ্যাস রোপণ করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাদের অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল। অন্যান্য রাষ্ট্র থেকে তাদের ভৌগোলিক দূরত্ব তাদের ভাষাকে বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করেছিল এবং তেমনিভাবে তাদের বংশধারাকেও। তবে তাদের বাগ্মিতার ব্যবহার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল নিজেদের নিয়ে গর্ব করা এবং অন্য জাতিগুলোকে তুচ্ছজ্ঞান করার মধ্যে; অথবা তারা তাদের যাবতীয় ভাষাগত দক্ষতা ব্যয় করত তাদের অশ্লীল প্রেম প্রচার করতে এবং তাদের প্রেমিকাদের নিয়ে জনসমক্ষে কুরুচিপূর্ণ আলোচনা করতে। আর তাদের একাকীত্বপূর্ণ জীবন তাদের মধ্যে বৈবাহিক আত্মীয়তার প্রতি ঘৃণা রোপণ করেছিল, ফলে তারা মর্যাদা, সাহস ও গর্বের খাতিরে তাদের কন্যাসন্তানদের জীবন্ত কবর দিত।

আর মূর্খতা তাদের মাঝে মূর্তিপূজা ছড়িয়ে দিয়েছিল; সেই ইবাদত যা মানুষের অন্তর ও মস্তিকের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল, ফলে তা তাদেরকে অলীক কল্পনার দাসে পরিণত করেছিল। এভাবেই তারা প্রকৃতির প্রতিটি জিনিসের পূজা শুরু করেছিল; তারা পাথর, গাছপালা, চাঁদ, সূর্য, পাহাড়, নদী এবং আরও অনেক কিছুর পূজা করত। এভাবেই তারা আল্লাহর মহানত্ব ও মহিমা ভুলে গিয়েছিল এবং তারা নিজেদের মূল্য ও মর্যাদাও ভুলে গিয়েছিল। কারণ সেখানে মানবাধিকার সংরক্ষণের কোনো নীতিমালা ছিল না, তেমনিভাবে এই অধিকারগুলোকে সঠিক ভিত্তিতে সুশৃঙ্খল করার জন্য কোনো আইনও ছিল না। আর এর ফলাফল ছিল: নরহত্যা, লুণ্ঠন ও ডাকাতি, বন্দিকরণ, অসদাচরণ, অন্যায় হস্তক্ষেপ এবং জোরপূর্বক অথবা প্রলোভন দেখিয়ে নারী অপহরণ এবং কন্যাসন্তানদের জীবন্ত দাফন করা। কারণ মূর্তিপূজা মানুষকে তাদের দৃষ্টিতে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে নিকৃষ্ট বস্তুতে পরিণত করেছিল।

বহু বছরের স্থবিরতা, বরং বহু প্রজন্ম ও শতাব্দীর স্থবিরতা তাদের বুদ্ধি ও হৃদয়ে এই চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিল যে, তারা সর্বোত্তম অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের সভ্যতার ঊর্ধ্বে কোনো সভ্যতা নেই, আর তাদের ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো ধর্ম নেই। আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে বিভিন্ন সরকার ও সুলতানদের যোগাযোগের ফলে সেখানে আরও অন্যান্য ধর্মের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। আর যারা ইহুদি ধর্ম (১), খ্রিস্টধর্ম (২), সাবেয়ি ধর্ম এবং অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে জানে, তারা হয়তো এই ধারণা করে প্রতারিত হতে পারে যে, ওই লোকেরা এই ধর্মগুলোর সৌন্দর্যকেই তুলে ধরছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা ধর্মের মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করার পরিবর্তে ধর্মকেই বিকৃত করেছিল। আর মূসা ও ঈসা যদি তাদের দেখতেন...

--------------------------------------------

(১) যখন গ্রিক ও সুরয়ানিরা ইহুদিদের তাদের অঞ্চল থেকে বহিষ্কার করেছিল, তখন তারা আরব উপদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিল এবং বনু ইসমাঈল তাদের স্বাগত জানিয়েছিল (যেহেতু তারা তাদের চাচাতো ভাই ও ভ্রাতৃতুল্য ছিল)। ফলে হিজাজ, খয়বর ও মদিনার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তাদের ধর্ম দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। (কিতাব খুলাসাতু তারিখিল আরব [পৃষ্ঠা: ৩৮])।

(২) বনু গাসসান ২৩০ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং খ্রিস্টধর্ম ইরাক, আরব উপদ্বীপ, বাহরাইন, ফারান মরুভূমি, দুমাতুল জানদাল এবং দজলা ও ফোরাত নদীর তীরে ছড়িয়ে পড়েছিল। হাবশার নাজ্জাশি এবং রোমের কায়সার উভয়েই একত্রে এটি প্রচারে কাজ করেছিলেন। ৫১৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এটি প্রচারের জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং ইয়েমেনে প্রচুর পরিমাণে ইঞ্জিল ছড়িয়ে পড়েছিল। (পূর্বোক্ত উৎস [পৃষ্ঠা: ৩৯])।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وشعيب وصالح عليهم السلام، لما عرفوا أبدا أنهم من أتباع ملتهم الذين يتبعون تعاليمهم، فإذا كان عامة النصارى يقولون أن المسيح ابن الله، فنصارى العرب يقولون أن مريم زوجة الله وأن الملائكة بنات الله، وعبدة الأوثان يقولون أن اللات والعزى أنثى الله (اللات تأنيث الله، والعزى تأنيث أعز).

وعامة اليهود في ذلك الزمان كانوا يقولون: عزير ابن الله لأنه كتب التوراة عن ظهر قلب (لأنه كان يحفظها كلها) إلا أن يهود العرب كانوا يقولون إن رجالهم ونساء هم هم أبناء الله وأحباؤه، وبنات الله وخليلاته.

وعبدة النار "لمجوس" كانوا غالبا ما يحبسون بناتهم وأخواتهم داخل البيوت، إلا أن ملحدي العرب كانوا يتخذون من جميع زوجات آبائهم - ما عدا أمهاتهم - إماء لهم، وجميع الأمم في جزيرة العرب (باستثناء بعض الأفراد) كانت مم جاهلة لا تعرف القراءة ولا الكتابة، ليس لديها نصيب من العلوم، ولا تدري شيئا عن الفنون أو التمدن، ولا تفقه شيئا من معاني الصفح والعفو والتسامح.

لقد سكن جزيرة العرب الملاحدة والدهريون أيضا الذين ظنوا أن الموت والحياة مجرد صدفة ونسبوا كل شيء إلى الدهر، وبالتالي نسبوا إليه كل تغير يطرأ على هذا العالم، وكان الإقرار بوجود الله، ونظرية الثواب والعقاب، وما يترتب على العمل الصالح والعمل الطالح من نتائج طيبة وأخرى سيئة، كان كل هذا عندهم مدعاة للسخرية والاستهزاء.

وهكذا كانت الجزيرة العربية ملتقى جميع الأديان الباطلة والأفكار الفاسدة نظرا لما ضمت من مساوئ سبق ذكرها.

 

‌‌موقع عرب:

إذا نظرنا إلى الجزيرة العربية على خريطة الكرة الأرضية لعرفنا من موقعها (1) أن الله

--------------------------------------------

(1) إذا نظرنا إلى قارات الكرة الأرضية لعرفنا أنها تقع في الجنوب على خط عرض 40 درجة وفي الشمال على 80 درجة على أكثر تقدير ويكون مجموعهما 120 درجة نصفها 60 درجة وإذا طرحنا 60 من ثمانين درجة (شمالا) فالناتج هو 20 وإذا طرحنا 40 درجة (جنوبا) من 60 درجة فالناتج هو 20 ولما كانت مكة المكرمة تقع على (خط 21 ونصف درجة) لهذا فهي تمثل وسط ومركز الكرة الأرضية. ونلاحظ ما يلي: =
শুআইব ও সালিহ (আলাইহিমুস সালাম), তারা কখনই তাদের মিল্লাতের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন না যারা তাদের শিক্ষা অনুসরণ করে। সাধারণ খ্রিস্টানরা যদি বলে যে মসীহ আল্লাহর পুত্র, তবে আরবের খ্রিস্টানরা বলত যে মারইয়াম আল্লাহর স্ত্রী এবং ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। আর মূর্তিপূজারিরা বলত যে লাত ও উযযা আল্লাহর নারী রূপ (লাত হলো আল্লাহর স্ত্রীবাচক রূপ এবং উযযা হলো আ'আয-এর স্ত্রীবাচক রূপ)।

সেই সময়ের সাধারণ ইয়াহুদিরা বলত: উযাইর আল্লাহর পুত্র, কারণ তিনি মুখস্থ তাওরাত লিখেছিলেন (যেহেতু তিনি পুরোটা মুখস্থ করেছিলেন)। তবে আরবের ইয়াহুদিরা বলত যে, তাদের পুরুষ ও নারীরাই আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়পাত্র এবং আল্লাহর কন্যা ও তাঁর সখী।

অগ্নিপূজারি "মাজুস"রা প্রায়ই তাদের কন্যা ও বোনদের ঘরের ভেতরে বন্দি করে রাখত। তবে আরবের নাস্তিকরা তাদের পিতাদের সমস্ত স্ত্রীদের—তাদের মা ছাড়া—নিজেদের দাসী হিসেবে গ্রহণ করত। আর আরব উপদ্বীপের সমস্ত জাতি (কিছু ব্যক্তি বিশেষ ছাড়া) ছিল মূর্খ, যারা পড়তে বা লিখতে জানত না। বিজ্ঞানের কোনো অংশই তাদের কাছে ছিল না এবং তারা শিল্পকলা বা সভ্যতা সম্পর্কে কিছুই জানত না, এমনকি ক্ষমা, মার্জনা ও সহনশীলতার অর্থও বুঝত না।

আরব উপদ্বীপে নাস্তিক ও বস্তুবাদীরাও (দাহরি) বসবাস করত যারা মনে করত যে জীবন ও মৃত্যু নিছক একটি কাকতালীয় বিষয় এবং তারা সবকিছুকে মহাকালের (দাহর) দিকে নিসবত করত। ফলে এই বিশ্বে ঘটে যাওয়া প্রতিটি পরিবর্তনকে তারা এর সাথেই সম্পৃক্ত করত। আল্লাহর অস্তিত্বের স্বীকৃতি, পুরস্কার ও শাস্তির তত্ত্ব এবং সৎ কাজ ও অসৎ কাজের ফলে উদ্ভূত ভালো-মন্দ ফলাফল—এসবই তাদের কাছে উপহাস ও বিদ্রূপের বিষয় ছিল।

এভাবেই আরব উপদ্বীপ পূর্বে বর্ণিত মন্দ বিষয়গুলোর কারণে সমস্ত বাতিল ধর্ম ও ভ্রান্ত চিন্তাধারার মিলনস্থলে পরিণত হয়েছিল।

 

‌‌আরবের অবস্থান:

আমরা যদি পৃথিবীর মানচিত্রে আরব উপদ্বীপের দিকে তাকাই, তবে এর অবস্থান থেকে জানতে পারব যে (১) আল্লাহ

--------------------------------------------

(১) আমরা যদি পৃথিবীর মহাদেশগুলোর দিকে তাকাই, তবে আমরা দেখতে পাই যে সেগুলো দক্ষিণে ৪০ ডিগ্রি অক্ষাংশ এবং উত্তরে সর্বোচ্চ ৮০ ডিগ্রি অক্ষাংশে অবস্থিত। এই দুইয়ের যোগফল হলো ১২০ ডিগ্রি, যার অর্ধেক ৬০ ডিগ্রি। আমরা যদি ৮০ ডিগ্রি (উত্তর) থেকে ৬০ বিয়োগ করি তবে ফল হয় ২০। আবার যদি ৬০ ডিগ্রি থেকে ৪০ ডিগ্রি (দক্ষিণ) বিয়োগ করি তবে ফল হয় ২০। যেহেতু মক্কা মুকাররমা (২১.৫ ডিগ্রি অক্ষাংশে) অবস্থিত, তাই এটি পৃথিবীর মধ্যস্থল ও কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করি: =
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ২৫)
جعلها وسط قارات آسيا وأوربا وإفريقيا، وهي حين تربط الدنيا بيمينها وشمالها برا وبحرا تجعلها وحدة واحدة ولهذا يمكن أن يفهم كيف وصلت جميع أديان العالم إلى هذه البلاد وكيف فسدت تحت تأثير سيطرة الجهل وهكذا يمكن أن يفهم أيضا أنه إذا ما اختير مكان ما لتأسيس مركز لهداية العالم أجمع فإن الجزيرة العربية هي أنسب وأصلح مكان لذلك، وخاصة إذا نظرنا إلى ذلك الزمان لأمكننا القول بأنه إذا كانت الدول الكبرى في إفريقيا وأوربا وآسيا على صلة بالجزيرة العربية فإن السبل كانت متوفرة لإيصال صوت الجزيرة العربية بأسرع ما يمكن إلى القارات الثلاث.

ولهذا (وحسبما أفهم) بعث الله سيدنا محمدا (1) رسول الله صلى الله عليه وسلم في جزيرة العرب، وكلفه بتبليغ دعوة الهداية إلى أمته، وبلده، والعالم أجمع بالترتيب.

وسوف يستطيع القارئ بمطالعته لهذا الكتاب أن يعرف كم كانت صعوبة العمل الذي اطلع به النبي صلى الله عليه وسلم، وكيف أدى هذا الواجب بأسلوب جميل، وصبر وحلم، وثبات وتحمل، لينشر بذلك الحضارة والمدنية والعلم والأخلاق ويوحد الأمم والبلاد، كيف رفع مكانة الإنسان ونشر رسالة التوحيد، وأشعر قلوب البشر بعظمة الله وكبريائه فأثبت أن جميع الموجودات خلقت لخدمة الإنسان.

وسوف يستطيع القارئ أيضا أن يعرف كيف وحد الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم بين بني البشر وجعلهم سواسية وساوى بينهم في العقيدة والفكر، وذلك رغم فوارق النسل والجنس والقومية وتباين الأوطان والبلاد، وامتيازات الغنى والفقر وتفاوت ظروف المنتصر والمنهزم، واختلاف اللغات والألوان وما إلى ذلك.

--------------------------------------------

= أ - اسم مكة في كتب اللغة يعني "سرة الأرض" وسرة الإنسان لا تكون وسطه بالضبط بل تكون قريبا في وسط جسمه وهذا هو السبب في أن مكة تقع في أقرب منطقة للوسط والفرق نصف درجة يثبت أن مكة هي "سرة الأرض."

ب - وليفهم الآن أن بلاد العرب تقع ما بين درجتي خطي عرض 15 و35 شمالا، وبينهما تقطن الأجناس الشهيرة في العالم، ففي الشرق القبائل الآرية والمنغولية، وفي الغرب الأحباش والحاميون والهنود الحمر (سكان أمريكا الأصليون)، وحين تظهر مسألة الدعوة بين الأمم جميعا تكون الجزيرة العربية هي مركز الدعوة، ولهذا جاء في القرآن الكريم: {جعلناكم أمة وسطا لتكونوا شهداء}.

(1) لفظ محمد اسم مفعول من حمد والمضاعف للمبالغة وأحمد أيضا من حمد، وهو
তিনি ইহাকে (আরব ভূখণ্ডকে) এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের কেন্দ্রে স্থাপন করেছেন। এটি যখন জল ও স্থলপথে পৃথিবীর ডান ও বাম পার্শ্বকে সংযুক্ত করে, তখন একে একটি একক সত্তায় পরিণত করে। এ কারণেই অনুধাবন করা সম্ভব হয় যে, কীভাবে বিশ্বের সকল ধর্ম এই ভূখণ্ডে পৌঁছেছিল এবং কীভাবে অজ্ঞতার অন্ধকারের প্রভাবে তা কলুষিত হয়েছিল। একইভাবে ইহাও বোঝা সম্ভব যে, যদি সমগ্র বিশ্বকে হেদায়েতের পথে ডাকার জন্য কোনো কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার স্থান নির্বাচন করতে হয়, তবে আরব উপদ্বীপই তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও যোগ্যতম স্থান। বিশেষত সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে আমরা বলতে পারি যে, আফ্রিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহ যখন আরব উপদ্বীপের সাথে সংযুক্ত ছিল, তখন আরব উপদ্বীপের আহ্বানকে অতি দ্রুত এই তিন মহাদেশে পৌঁছে দেওয়ার সকল পথ উন্মুক্ত ছিল।

এবং এই কারণে (আমি যা বুঝি সেই অনুযায়ী), আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর রাসূল হিসেবে আরব উপদ্বীপে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁকে তাঁর জাতি, তাঁর দেশ ও পর্যায়ক্রমে সমগ্র বিশ্বের কাছে হেদায়েতের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।

পাঠক এই কিতাবটি অধ্যয়নের মাধ্যমে জানতে পারবেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে মহান দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তা সম্পাদন করা কতটা কঠিন ছিল এবং কীভাবে তিনি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে, ধৈর্য, সহনশীলতা, অটলতা ও সহিষ্ণুতার সাথে এই কর্তব্য পালন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সভ্যতা, সংস্কৃতি, জ্ঞান ও নৈতিকতা প্রচার করেছেন এবং বিভিন্ন জাতি ও দেশসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তিনি কীভাবে মানুষের মর্যাদা সমুন্নত করেছেন এবং তাওহীদের বাণী প্রচার করেছেন, আর মানুষের অন্তরে আল্লাহর মহানত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি জাগ্রত করেছেন, যার ফলে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সমস্ত সৃষ্টিজগত মানুষের সেবার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।

পাঠক আরও জানতে পারবেন যে, কীভাবে সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবজাতির মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং বংশ, বর্ণ ও জাতীয়তার পার্থক্য এবং দেশ ও ভূখণ্ডের বৈচিত্র্য সত্ত্বেও তাদেরকে সমান স্তরে নিয়ে এসেছেন এবং তাদের আকিদাহ ও চিন্তাধারার মধ্যে সমতা স্থাপন করেছেন। এমনকি ধনী-দরিদ্রের বিশেষাধিকার, বিজয়ী ও বিজিতের ব্যবধান এবং ভাষা ও গায়ের রঙের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তিনি এই সাম্য প্রতিষ্ঠা করেছেন।

--------------------------------------------

= ক - ভাষা বা অভিধানের কিতাবসমূহে মক্কার নামের অর্থ হলো "পৃথিবীর নাভি"। মানুষের নাভি ঠিক শরীরের মাঝখানে থাকে না, বরং শরীরের মাঝামাঝি অংশের কাছাকাছি থাকে। এই কারণেই মক্কা পৃথিবীর মধ্যবর্তী অঞ্চলের সবচেয়ে নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং মাত্র আধা ডিগ্রির ব্যবধান প্রমাণ করে যে মক্কাই হলো "পৃথিবীর নাভি।"

খ - এখন এটি অনুধাবন করা উচিত যে, আরব দেশসমূহ উত্তর অক্ষাংশের ১৫ ও ৩৫ ডিগ্রির মধ্যে অবস্থিত এবং এদের মাঝখানেই বিশ্বের বিখ্যাত জাতিসমূহ বসবাস করে। পূর্বে আর্য ও মঙ্গোলীয় জাতিসমূহ এবং পশ্চিমে হাবশী, হামীয় ও রেড ইন্ডিয়ানরা (আমেরিকার আদি অধিবাসী) রয়েছে। যখন সকল জাতির মধ্যে দাওয়াতের বিষয়টি উপস্থিত হয়, তখন আরব উপদ্বীপই হয় দাওয়াতের মূল কেন্দ্র। এ কারণেই পবিত্র কুরআনে এসেছে: "আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে তৈরি করেছি যাতে তোমরা সাক্ষী হতে পারো।"

(১) মুহাম্মদ শব্দটি 'হামদ' (প্রশংসা) ধাতু থেকে উদ্ভূত একটি কর্মবাচক বিশেষ্য (ইসমে মাফউল) এবং এর দ্বিত্ব বর্ণটি আধিক্য বা অতিশয়োক্িত বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আহমদ শব্দটিও 'হামদ' থেকে উদ্ভূত, এবং এটি...
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌أثر دعرة الرسول صلى الله عليه وسلم -:

حين أتم رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا العمل العظيم، قرب العباد من الله، وقرب الأمم من الأمم، وأثبت النصر والأخوة مكان البغضاء والعداوة، وأخرج الظلمة والجهالة لينير القلوب والعقول بنور الصدق والعلم، وهكذا رحل عن هذا العالم فارغ البال قرير العين فرحا مسرورا.

وحتى يمكن للقارئ أن يقدر عمل النبي صلى الله عليه وسلم العظيم عليه أن ينظر: كيف بذرت بذرة الإسلام في القلوب الطاهرة فأثمرت ثمارا طيبة؟ فكان النجاشي ملك الحبشة، وجيفر ملك عمان وأكيدر رئيس دومة الجندل يفخرون بالوقوف جنبا إلى جنب مع بدو نجد وتهامة وفقراء اليمن، وترك عبد الله بن سلام الإمامة في اليهودية، وكذا ترك ورقه بن نوفل الإمامة في النصرانية وعثمان بن طلحة في الإبراهيمية وشرفوا بأن يكونوا في خدمة الإسلام، أما سلمان الفارسي العبد المملوك لليهود فقد فاز بالدرجة الرفيعة التي أنزلها إياه رسول الله (سلمان منا أهل البيت)، وبلال الحبشي العبد المملوك للوثنيين، كان عمر الفاروق الأعظم الذي يخاف سطوته وهيبته قيصر وكسرى، يقول له: سيدنا سيدنا، وهكذا - في ظل الإسلام - انتهت امتيازات اختلاف الألوان وتباين الألسنة، والتفرقة الوطنية حتى صار مجرد ذكر شرف الحسب والنسب دليلا على النذالة، فالدين جعلهم جميعا أمة واحدة، فتوحدت العواطف في القلوب والغيرة في الطبائع، والفكر في العقول، وعلى الألسن نداء واحد هو نداء التوحيد.

انقلب العدو صديقا، وصار القاتل مدافعا عن الإسلام فها هو عمرو بن العاص الذي ذهب إلى النجاشي في الحبشة سفيرا لقريش، ليعتقل المسلمين - كمجرمين - ها هو بعد عدة سنوات يذهب إلى ملك عمان داعيا إلى الإسلام، ويعود إلى النبي صلى الله عليه وسلم يبشره بإسلام الآلاف من الناس.

وها هو خالد بن الوليد الذي قاد جيش المشركين في غزوة أحد جاعلا من القضاء على المسلمين أسمى أهداف حياته، ها هو بعد فترة يدخل رحاب الإسلام، فيهدم بيديه معابد اللات والعزى، ويكون قائدا مظفرا في جيش الفتوحات الإسلامية.

وها هو عروة بن مسعود رضي الله عنه الذي كان سفيرا لقريش في الحديبية جاء ليمنع رسول الله صلى الله عليه وسلم من دخول مكة، فإذا به هو نفسه يأتي المدينة ويستأذن رسول الله
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের প্রভাব -:

যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মহান কাজ সম্পন্ন করলেন, তিনি বান্দাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করলেন এবং জাতিগুলোকে জাতিগুলোর নিকটবর্তী করলেন। তিনি ঘৃণা ও শত্রুতার স্থলে বিজয় ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন এবং অন্ধকার ও মূর্খতাকে দূরীভূত করে সত্য ও জ্ঞানের আলো দিয়ে অন্তর ও মস্তিষ্ককে আলোকিত করলেন। এভাবেই তিনি প্রশান্ত চিত্তে ও প্রফুল্ল হৃদয়ে আনন্দিত হয়ে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন।

পাঠক যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান কর্মের মূল্যায়ন করতে পারেন, সেজন্য তাকে লক্ষ্য করতে হবে: কীভাবে পবিত্র অন্তরগুলোতে ইসলামের বীজ বপন করা হয়েছিল এবং তা থেকে কতই না উত্তম ফল উৎপন্ন হয়েছিল? আবিসিনিয়ার রাজা নাজ্জাশি, ওমানের রাজা জয়ফর এবং দুমাতুল জান্দালের প্রধান উকীদার নজদ ও তিহামার বেদুইন এবং ইয়েমেনের দরিদ্রদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে গর্ববোধ করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম ইহুদি ধর্মের নেতৃত্ব ত্যাগ করেছিলেন, একইভাবে ওরাকা ইবনে নাওফাল খ্রিস্টধর্মে এবং উসমান ইবনে তালহা ইব্রাহিমি ধর্মে নেতৃত্ব ত্যাগ করেছিলেন এবং ইসলামের সেবায় নিয়োজিত হওয়াকে সম্মানের বিষয় মনে করেছিলেন। আর সালমান ফারসি, যিনি ইহুদিদের মালিকানাধীন দাস ছিলেন, তিনি সেই উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রদান করেছিলেন (সালমান আমাদের অর্থাৎ আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত)। এবং বিলাল হাবশি, যিনি মূর্তিপূজকদের মালিকানাধীন দাস ছিলেন, উমর ফারুক আল-আজম—যাঁর প্রতাপ ও গাম্ভীর্যকে কায়সার ও কিসরা ভয় পেত—তিনি তাঁকে বলতেন: "আমাদের নেতা, আমাদের নেতা"। এভাবেই—ইসলামের ছায়াতলে—বর্ণবৈষম্য, ভাষার ভিন্নতা এবং জাতীয়তাবাদী বিভেদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা শেষ হয়ে গিয়েছিল, এমনকি কেবল বংশীয় আভিজাত্যের উল্লেখ করাও হীনতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে লাগল। দ্বীন তাদের সকলকে এক উম্মতে পরিণত করেছিল। ফলে অন্তরে আবেগ, স্বভাবে উদ্দীপনা এবং মস্তিষ্কে চিন্তা একীভূত হয়েছিল, আর জিহ্বায় একটিই ধ্বনি ছিল—তা হলো তাওহীদের আহ্বান।

শত্রু বন্ধুতে রূপান্তরিত হলো এবং হত্যাকারী ইসলামের রক্ষক হয়ে গেল। এই তো সেই আমর ইবনুল আস, যিনি কুরাইশদের প্রতিনিধি হিসেবে আবিসিনিয়ায় নাজ্জাশির কাছে গিয়েছিলেন মুসলমানদের—অপরাধী হিসেবে—গ্রেফতার করতে; কয়েক বছর পর তিনিই ওমানের রাজার কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যাচ্ছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে এসে হাজার হাজার মানুষের ইসলাম গ্রহণের সুসংবাদ দিচ্ছেন।

এই তো সেই খালিদ বিন ওয়ালিদ, যিনি উহুদ যুদ্ধে মুশরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং মুসলমানদের নির্মূল করাকে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানিয়েছিলেন; কিছুকাল পরেই তিনি ইসলামের আঙিনায় প্রবেশ করেন এবং নিজ হাতে লাত ও উজ্জার উপাসনালয় ভেঙে ফেলেন এবং ইসলামী বিজয়াভিযানের বাহিনীতে একজন বিজয়ী সেনাপতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

এই তো উরওয়া বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি হুদায়বিয়াতে কুরাইশদের প্রতিনিধি ছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কায় প্রবেশে বাধা দিতে এসেছিলেন, তিনিই আবার মদিনায় এসে রাসুলুল্লাহর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করছেন।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ২৭)
لنشر الدعوة الإسلامية بين أهله، ويضحي بنفسه في سبيل الدعوة.

وها هو سهيل بن عمرو رئيس وفد المشركين في معاهدة الحديبية الذي رفض كتابة عبارة "رسول الله" بعد محمد اسم الرسول المبارك في الاتفاقية، ها هو بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم يقف في بيت الله يلقي خطبة رائعة في بيان مصداقية الإسلام وتأييد دين الله الحق. فتمتلئ مئات القلوب بالسكينة والإيمان.

وها هو عمر بن الخطاب رضي الله عنه الذي حمل سيفه وخرج من بيته لقتل رسول الله صلى الله عليه وسلم، ها هو نفسه يوم وفاة الرسول يشهر سيفه قائلا: من قال إن محمدا قد مات ضربت عنقه.

وها هو وحشي الذي قتل حمزة رضي الله عنه وأخرج كبده ومزق أعضاءه ومثل بجثته، يسلم بعد أيام، فلا يرفع وجهه أمامه خجلا وندامة ثم يكفر عن جريمته السابقة بقتل مسيلمة الكذاب، وأبو سفيان بن حارث بن عبد المطلب وهو ابن العم الشقيق للنبي صلى الله عليه وسلم يستمر في فرض الشعر في هجاء النبي، هداه الله للإسلام فشوهد يمسك بزمام الركاب النبوي وحده في ميدان المعركة في غزوة حنين.

وها هو أبو سفيان بن حرب الذي ظل يؤلب الجيوش ضد النبي صلى الله عليه وسلم سبع سنوات ويلهب نار الحرب ضد المسلمين في جميع البلاد، يعلن الإسلام ويرسل حاكما على منطقة نجران النصرانية.

وطفيل الدوسي رضي الله عنه الذي كان يمضي في مكة وقد سد أذنيه بندف القطن حتى لا يصل صوت محمد صلى الله عليه وسلم إليه، يدور في النهاية على كل بيت في وطنه لإبلاغ صوت محمد صلى الله عليه وسلم.

وعبد ياليل الثقفي الذي كان قد أرسل العبيد والغلمان خلف رسول الله في الطائف ليرموه بالحجارة، يحضر في النهاية إلى المدينة ومنها حمل إلى قومه جواهر الإيمان واليقين.

وبريدة بن الحصيب الأسلمي الذي خرج مع سبعين فارس للقبض على النبي صلى الله عليه وسلم بعد أن وعدته قريش بجائزة قدرها مائة من حمر النعم، نراه بعد ساعات يحمل لواء رسول الله صلى الله عليه وسلم. والخلاصة أن مثل هذه الأمثلة تحتاج إلى مجلدات ومجلدات.
তাঁর স্বজনদের মাঝে ইসলামি দাওয়াত প্রচারের জন্য এবং দাওয়াতের পথে নিজের জীবন উৎসর্গ করার জন্য।

আর এই সেই হুদায়বিয়ার সন্ধিতে মুশরিক প্রতিনিধি দলের প্রধান সুহাইল বিন আমর, যে চুক্তিনামায় রাসূলের বরকতময় নাম মুহাম্মাদের পরে "আল্লাহর রাসূল" কথাটি লিখতে অস্বীকার করেছিল; সেই ব্যক্তিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর আল্লাহর ঘরে দাঁড়িয়ে ইসলামের সত্যতা বর্ণনা এবং আল্লাহর সত্য দ্বীনের সমর্থনে এক চমৎকার ভাষণ প্রদান করেন। ফলে শত শত হৃদয় প্রশান্তি ও ঈমানে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

আর এই সেই উমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি তলোয়ার হাতে নিজের ঘর থেকে বের হয়েছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করার জন্য; সেই তিনিই রাসূলের ইন্তেকালের দিন নিজের তলোয়ার উঁচিয়ে ধরে বলছিলেন: যে ব্যক্তি বলবে মুহাম্মাদ মারা গেছেন, আমি তার ঘাড় উড়িয়ে দেব।

আর এই সেই ওয়াহশি, যে হামযাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যা করেছিল এবং তাঁর কলিজা বের করে এনেছিল, তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন করেছিল এবং লাশের বিকৃতি ঘটিয়েছিল; সে কয়েকদিন পর ইসলাম গ্রহণ করে এবং লজ্জায় ও অনুতপ্ত হয়ে তাঁর সামনে মুখ তুলত না। অতঃপর সে ভণ্ড নবী মুসায়লিমাকে হত্যা করে নিজের পূর্ববর্তী অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করে। আর আবু সুফিয়ান বিন হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আপন চাচাতো ভাই হওয়া সত্ত্বেও নবীকে ব্যঙ্গ করে কবিতা রচনা অব্যাহত রেখেছিলেন; আল্লাহ তাকে ইসলামের হেদায়েত দেন এবং এরপর তাকে হুনাইনের যুদ্ধের ময়দানে একাকী নবীর সওয়ারীর লাগাম ধরে থাকতে দেখা যায়।

আর এই সেই আবু সুফিয়ান বিন হারব, যে দীর্ঘ সাত বছর ধরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী প্ররোচিত করে আসছিল এবং সমস্ত জনপদে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে রেখেছিল; সে ইসলাম গ্রহণ করে এবং তাকে খ্রিস্টান অধ্যুষিত নাজরান অঞ্চলের শাসক হিসেবে পাঠানো হয়।

এবং তুফায়ল আদ-দাওসী রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি মক্কায় চলার সময় নিজের কানে তুলো গুঁজে রাখতেন যাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আওয়ায তাঁর কানে না পৌঁছে; শেষ পর্যন্ত তিনি নিজ দেশের প্রতিটি ঘরে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য ঘুরতে থাকেন।

আর আব্দ ইয়ালীল আস-সাকাফী, যে তায়েফে আল্লাহর রাসূলের পিছনে দাস ও কিশোরদের লেলিয়ে দিয়েছিল তাঁকে পাথর মারার জন্য; পরিশেষে সে মদিনায় উপস্থিত হয় এবং সেখান থেকে নিজ কওমের জন্য ঈমান ও ইয়াকিনের মণি-মুক্তা বহন করে নিয়ে যায়।

আর বুরাইদাহ বিন আল-হুসাইব আল-আসলামী, কুরাইশরা তাকে একশটি লাল উটের পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর যে সত্তর জন অশ্বারোহী নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বন্দি করার জন্য বের হয়েছিল; আমরা কয়েক ঘণ্টা পরেই তাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঝাণ্ডা বহন করতে দেখি। সারকথা হলো, এই ধরণের দৃষ্টান্তগুলো বর্ণনা করার জন্য খণ্ডের পর খণ্ড বই প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ২৮)
كل هذه المعجزات كانت نتيجة للتربية الطاهرة التي ظلت تمتلك القلوب تدريجيا، لقد أتى معظم الأنبياء عليهم السلام بالمعجزات مثل تحويل ماهية العصا والحيات والأحجار والبحار والنار أو سلب خاصيتها أمام الناظرين، ولكن النبي صلى الله عليه وسلم (فداه أبي وأمي) أتى بمعجزة أعظم، فقد بدل القلوب وطهر النفوس، والفرق بين الإنسان والعصا والإنسان والحية والإنسان والحجر، هو نفسه الفرق بين هذه المعجزة وبين المعجزات الأخرى، وهذا هو الأمر الذي حير حتى اليوم جميع المفكرين الذين أرادوا أن يقولوا أو يكتبوا شيئا عن النبي صلى الله عليه وسلم (رغم الاختلاف الديني) -.

ليت المسلمين يقدرون حق هذه التربية الطاهرة ليتهم يطلعون على هدف النبي صلى الله عليه وسلم الطاهر، ليتهم يعتبرون الحفاظ على الإسلام فرضا واجبا عليهم، ليتهم يعتبرون بقاء الإسلام أكثر ضرورة من بقاء أنفسهم، وأبنائهم وآبائهم وشيوخهم وعظمائهم.

أيها القارئ! إن الميزة العجيبة في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم تكمن في أنها تهدي الناس من جميع الطبقات، لقد ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم في هذه الدنيا يتيما وهكذا لازمته صفات المسكنة والفقر، وعاش سنوات عمره الأولى وسط جو ريفي وهكذا نشأت البساطة ونمت لدى رسول الله، فأمضى صباه في وقت انشغل فيه القوم بحرب الفجار وغيرها. وهكذا حاز السلم والأمن والتعاطف مع الناس اهتمام الرسول صلى الله عليه وسلم منذ البداية.

لم يتزوج الرسول صلى الله عليه وسلم حتى سن الخامسة والعشرين وعاش حياة التجرد وهو في عنفوان الشباب، بكامل العفة والعصمة، والحياء والخجل فكان بشهادة من رأوه أكثر حياء وخجلا من ذوات الخدور.

اختار صلى الله عليه وسلم التجارة وسيلة لكسب العيش فأرشد أصحاب الهمم العالية، الذين يتصفون بالثبات والاستقامة وفهم المعاملات والضرورات، والحلم والصبر، أن التجارة خير وسائل الكسب.

كان زواجه الأول من أرملة تكبره بخمس عشرة سنة مع ما كان عليه من جمال الرجولة، وعلو الحسب والنسب، وهكذا قدم مثالا رائعا على ضرورة وفضل زواج الأرامل، كما أوضح أيضا أن المرء يمكن أن يتحرر من قيد الأفكار الشهوانية حتى لو كان متأهلا.

كانت الزوجة ثرية جدا، لكن الرسول صلى الله عليه وسلم استغنى دائما عن عونها المالي وعن عون
এই সকল অলৌকিক নিদর্শন ছিল সেই পবিত্র তরবিয়তেরই ফলাফল, যা ধীরে ধীরে মানুষের অন্তরসমূহ জয় করে নিয়েছিল। অধিকাংশ নবী (আলাইহিমুস সালাম) এমন সব মুজিজা নিয়ে এসেছিলেন যা দর্শকদের চোখের সামনে লাঠি, সাপ, পাথর, সমুদ্র ও আগুনের সত্তা পরিবর্তন করে দিত অথবা সেগুলোর জন্মগত বৈশিষ্ট্য হরণ করে নিত। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) — যার জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোন — এক শ্রেষ্ঠতর মুজিজা নিয়ে এসেছিলেন। তিনি মানুষের অন্তরসমূহ পরিবর্তন করেছিলেন এবং আত্মাগুলোকে পরিশুদ্ধ করেছিলেন। মানুষ ও লাঠির মাঝে, কিংবা মানুষ ও সাপের মাঝে অথবা মানুষ ও পাথরের মাঝে যে পার্থক্য, এই মুজিজা ও অন্যান্য মুজিজার মাঝেও ঠিক সেই পার্থক্য বিদ্যমান। আর এটিই সেই বিষয় যা আজ পর্যন্ত সকল চিন্তাবিদকে বিস্মিত করে রেখেছে যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে কিছু বলতে বা লিখতে চেয়েছেন (তাঁদের ধর্মীয় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও)।

হায়! মুসলিমরা যদি এই পবিত্র তরবিয়তের যথার্থ মূল্যায়ন করত। হায়! তারা যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পবিত্র উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হতো। হায়! তারা যদি ইসলাম রক্ষা করাকে নিজেদের ওপর একটি আবশ্যকীয় ফরজ হিসেবে গণ্য করত। হায়! তারা যদি নিজেদের জীবন, সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা, শায়খ এবং মহৎ ব্যক্তিদের জীবনের চেয়ে ইসলামের টিকে থাকাকে অধিক জরুরি মনে করত।

হে পাঠক! নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতের এক আশ্চর্যজনক বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, এটি সকল স্তরের মানুষকে হেদায়েত প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই পৃথিবীতে এতিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং এভাবেই দীনতা ও অভাবের বৈশিষ্ট্যগুলো তাঁর সাথে লেপ্টে ছিল। তিনি তাঁর জীবনের প্রথম বছরগুলো গ্রাম্য পরিবেশে অতিবাহিত করেছিলেন এবং এভাবেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে সরলতা গড়ে ওঠে ও বিকশিত হয়। তিনি তাঁর কিশোর বয়স এমন এক সময়ে পার করেছিলেন যখন তাঁর কওম ফিজার যুদ্ধসহ অন্যান্য যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। এভাবেই শান্তি, নিরাপত্তা এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতা শুরু থেকেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত বিয়ে করেননি এবং যৌবনের পূর্ণ শক্তিতে থাকা অবস্থায় অত্যন্ত সতীত্ব, পবিত্রতা ও লজ্জাশীলতার সাথে নিঃসঙ্গ জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। যারা তাঁকে দেখেছিলেন তাঁদের সাক্ষ্য মতে, তিনি পর্দানশীন কুমারীদের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবিকা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবসাকে বেছে নিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের — যারা দৃঢ়তা, সততা, লেনদেন ও প্রয়োজনীয়তা বোঝার ক্ষমতা এবং সহনশীলতা ও ধৈর্যের গুণে গুণান্বিত — পথপ্রদর্শন করেছেন যে, ব্যবসাই হলো উপার্জনের সর্বোত্তম মাধ্যম।

তাঁর প্রথম বিবাহ ছিল এমন এক বিধবা নারীর সাথে যিনি বয়সে তাঁর চেয়ে পনেরো বছরের বড় ছিলেন, অথচ তাঁর পুরুষোচিত সৌন্দর্য এবং বংশমর্যাদা ছিল অত্যন্ত উচ্চ। এভাবে তিনি বিধবা বিবাহের প্রয়োজনীয়তা ও শ্রেষ্ঠত্বের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তিনি এটিও স্পষ্ট করেছিলেন যে, একজন মানুষ বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও কামুক চিন্তার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত থাকতে পারে।

তাঁর স্ত্রী অত্যন্ত ধনী ছিলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বদা তাঁর আর্থিক সাহায্য এবং অন্যদের সাহায্য থেকে অমুখাপেক্ষী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ২৯)
أسرته وذلك بما اتصف به من قناعة وزهد، وهكذا قدم نموذجا رائعا للاعتماد على النفس.

وفي مدة قصيرة أثر رسول الله صلى الله عليه وسلم بصدقه وعطفه على العرب الجفاة، وأوجد لنفسه في قلوبهم العزة والمحبة وهكذا قدم نموذجا منيرا للصادقين على أن قوة الخير والصدق يمكن أن تقهر الظلم والجهل.

أدرك رسول الله صلى الله عليه وسلم فضل وقوة التعاون والتمدن، ومهد السبيل بعقد "حلف الفضول" لاستقرار الأمن وحماية الجنس البشري وعلم الحريصين على نهضة بلادهم بإخلاص، الأصول الذهبية لإدارة شئون البلاد التي تتمثل في الاستعانة بأبنائها.

وأرشد الرسول صلى الله عليه وسلم بنصبه الحجر الأسود أنه إذا اجتمع أناس اختلفوا في الأهداف والمقاصد في مكان واحد، فيمكن جمعهم على مركز واحد، كما أثبت أيضا أن دعم السلام وتجنب مخاطر الحرب لا يحتاج إلى القوة الحربية بل يلزمه ذهن ثاقب.

وتتجلى محاسن الأنبياء جميعا في نبوته صلى الله عليه وسلم:

كذب صلى الله عليه وسلم، وأوذي كما كذب المسيح وأوذي فصبر وشكر.

وبلغ صوت الله في الصحراوات والقرى مثلما فعل يحيى عليه السلام.

وأحيى من جديد حرمة وعظمة بيت الله مثلما فعل عيسى عليه السلام.

وعاش صلى الله عليه وسلم صابرا صبر أيوب ثلاث سنوات في الشعب، ورغم ما عاناه ظل قلبه مملوءا بالشكر لله والثناء عليه وظل لسانه يلهج بالتسبيح لله.

وقام رسول الله صلى الله عليه وسلم، بدعوته قومه الأشقياء في السر والعلن، في الخفاء وعلى الملأ، في الأعياد والاجتماعات، في الطرق والممرات، في الوديان وفوق الجبال محذرا الناس من ارتكاب المعاصي والأعمال السيئة، تماما مثلما فعل نوح عليه السلام.

واعتزل رسول الله صلى الله عليه وسلم - مثله مثل إبراهيم عليه السلام عصاة قومه، وهاجر من وطنه يبحث عن أرض طيبة ليغرس فيها شجرة الإسلام الطيبة وفي ليلة الهجرة نجح صلى الله عليه وسلم في الافلات من الأعداء مثل داود عليه السلام.

ومثل يونس عليه السلام الذي قضى في بطن الحوت ثلاثة أيام حتى بلغ نداءه في
তাঁর পরিবার, এবং এটি তাঁর অল্পে তুষ্টি ও দুনিয়াবিমুখতার গুণের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল। এভাবে তিনি আত্মনির্ভরশীলতার এক চমৎকার দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন।

অল্প সময়ের মধ্যেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সত্যবাদিতা ও দয়া দ্বারা কঠোর মেজাজের আরবদের প্রভাবিত করেছিলেন এবং তাদের হৃদয়ে নিজের জন্য সম্মান ও ভালোবাসা তৈরি করেছিলেন। এভাবে তিনি সত্যবাদীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যে, কল্যাণ ও সত্যের শক্তি জুলুম ও মূর্খতাকে জয় করতে পারে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহযোগিতা ও সভ্যতার গুরুত্ব ও শক্তি অনুধাবন করেছিলেন। তিনি নিরাপত্তা স্থিতিশীল করতে এবং মানবজাতিকে রক্ষা করতে 'হিলফুল ফুজুল' চুক্তির মাধ্যমে পথ সুগম করেছিলেন। তিনি যারা নিষ্ঠার সাথে নিজ দেশের উন্নতির জন্য আগ্রহী, তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার সুবর্ণ নীতি শিক্ষা দিয়েছেন, যা মূলত দেশের সন্তানদের সাহায্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা দিয়েছেন যে, যদি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে ভিন্নমত পোষণকারী মানুষ এক স্থানে সমবেত হয়, তবে তাদের একটি কেন্দ্রে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব। তিনি আরও প্রমাণ করেছেন যে, শান্তি রক্ষা এবং যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে সামরিক শক্তির প্রয়োজন হয় না, বরং তীক্ষ্ণ বুদ্ধির প্রয়োজন হয়।

সমস্ত নবীদের গুণাবলি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়তের মাঝে প্রস্ফুটিত হয়েছে:

তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছিল এবং কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, যেমনটি মসীহ আলাইহিস সালাম-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছিল ও কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি মরুভূমি ও গ্রামগুলোতে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন যেমনটি ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম করেছিলেন।

তিনি বাইতুল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা নতুন করে পুনর্জীবিত করেছিলেন যেমনটি ঈসা আলাইহিস সালাম করেছিলেন।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শে'বে আবু তালিবে আইয়ুব আলাইহিস সালামের ন্যায় ধৈর্য ধারণ করে তিন বছর কাটিয়েছিলেন। অসহনীয় কষ্ট সত্ত্বেও তাঁর অন্তর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসায় পূর্ণ ছিল এবং তাঁর জবান আল্লাহর তাসবীহ পাঠে সিক্ত ছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হতভাগা কওমের কাছে গোপনে ও প্রকাশ্যে, নিভৃতে ও জনসম্মুখে, উৎসব ও সমাবেশগুলোতে, পথ ও অলিগলিতে, উপত্যকায় ও পাহাড়ের চূড়ায় দাওয়াত প্রদান করেছেন; মানুষকে পাপ ও মন্দ কাজ করা থেকে সতর্ক করেছেন, ঠিক যেমনটি নূহ আলাইহিস সালাম করেছিলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মতোই তাঁর জাতির অবাধ্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন এবং একটি পবিত্র ভূমির সন্ধানে নিজ দেশ ত্যাগ করে হিজরত করেছিলেন যাতে সেখানে ইসলামের পবিত্র বৃক্ষ রোপণ করতে পারেন। আর হিজরতের রাতে তিনি শত্রুদের কবল থেকে মুক্ত হতে সফল হয়েছিলেন ঠিক যেমন দাউদ আলাইহিস সালাম সফল হয়েছিলেন।

এবং ইউনুস আলাইহিস সালামের মতো যিনি মাছের পেটে তিন দিন অতিবাহিত করেছিলেন যতক্ষণ না তাঁর ডাক পৌঁছেছিল...
(খণ্ড: ১) রাহমাতুল্লিল আলামীন (মুতরজাম) - আল মনসুরপুরী (পৃষ্ঠা: ৩০)
"نينوى" مكث صلى الله عليه وسلم في بطن غار ثور ثلاثة أيام ثم رفع صوت الحق في المدينة الطيبة.

ورسول الله صلى الله عليه وسلم مثل موسى عليه السلام الذي حرر بني إسرائيل من عبودية فرعون مصر، حرر العرب في شمال الجزيرة من سيطرة ملك القسطنطينية (الروم) وحررهم في شرق الجزيرة من عبودية كسرى الفرس وحررهم في جنوب الجزيرة من استعباد ملك الحبشة، ومثل سليمان عليه السلام بنى النبي صلى الله عليه وسلم في المدينة بيتا لا يزال على الدوام يذكر فيه اسم الله، ويضيء بنور التوحيد، ولا يمكن لأي "بخت نصر" أو أمثاله أن يصيبوه بسوء.

ومثل يوسف عليه السلام أحضر المؤن من نجد (بواسطة ثمامة بن أثال) لأخوته المكيين الذين آذوه وظلموه، ثم بشرهم يوم فتح مكة ببشارة "لا تثريب عليكم اليوم" وملكهم بالإحسان بقوله "اذهبوا فأنتم الطلقاء".

وكان صلى الله عليه وسلم في وقت واحد صاحب دولة مثل موسى عليه السلام وصاحب إمامة مثل هارون.

واجتمعت في ذاته صلى الله عليه وسلم حرارة نوح عليه السلام ورقة إبراهيم عليه الصلاة والسلام، وعفو يوسف وانتصارات داوود عليه السلام، وصبر يعقوب عليه السلام، وسطوة سليمان عليه السلام، وتواضع عيسى عليه السلام، وزهد يحيى عليه السلام، وخفة روح إسماعيل عليه السلام … .

أنت يا من تملك منذ الأزل عرش السيادة تلك المحاسن التي اجتمعت في الكرام

اجتمعت فيك وحدك …

يا من جلست على عرش السيادة.

تلك المحاسن التي اجتمعت.

في الكرام …

اجتمعت فيك وحدك … .

رغم وجود جميع الألوان المقدسة في شمس الرسالة إلا أن نور ـ[رحمة للعالمين]ـ الذي احتوى بداخله جميع الأنوار، أضاء الدنيا بشعاع أبيض صاف.
"নিনাওয়া", তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গারে সওর বা সওর গুহায় তিন দিন অবস্থান করেন, এরপর মদিনা তাইয়্যেবায় হকের আওয়াজ সমুন্নত করেন।

আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর মতো, যিনি বনী ইসরায়েলকে মিশরের ফেরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিলেন; তিনি জাজিরাতুল আরবের উত্তরে আরবদের কনস্টান্টিনোপলের রাজার (রোমানদের) নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করেন, জাজিরাতুল আরবের পূর্বে পারস্যের কিসরার দাসত্ব থেকে তাদের মুক্ত করেন এবং জাজিরাতুল আরবের দক্ষিণে আবিসিনিয়ার রাজার দাসত্ব থেকে তাদের মুক্ত করেন। সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর মতো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় একটি ঘর নির্মাণ করেন যা সর্বদা আল্লাহর নামের স্মরণে মুখরিত থাকে এবং যা তাওহীদের আলোতে উদ্ভাসিত; কোনো 'বখতে নাসর' বা তার মতো কেউ এর কোনো ক্ষতি করতে সক্ষম হবে না।

ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর মতো তিনিও (সুমামাহ বিন উসালের মাধ্যমে) নজদ থেকে তাঁর মক্কাবাসী ভাইদের জন্য খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছিলেন, যারা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল ও তাঁর প্রতি জুলুম করেছিল। অতঃপর মক্কা বিজয়ের দিন তিনি তাদের এই সুসংবাদ শোনান যে, "আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই" এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে দয়ার দ্বারা তাদের জয় করেন যে, "যাও, তোমরা সবাই মুক্ত।"

আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একই সাথে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর মতো রাষ্ট্রনায়ক এবং হারুন (আলাইহিস সালাম)-এর মতো ইমামতের অধিকারী ছিলেন।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র সত্তায় নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর তেজস্বিতা, ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর কোমলতা, ইউসুফের ক্ষমা, দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর বিজয়সমূহ, ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর ধৈর্য, সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতাপ, ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর বিনয়, ইয়াহইয়া (আলাইহিস সালাম)-এর দুনিয়াবিমুখতা এবং ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর প্রশান্ত আত্মা একত্রিত হয়েছিল … ।

হে আপনি, অনাদিকাল থেকে যিনি শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসনের অধিকারী, সেই সকল গুণাবলি যা মহৎ ব্যক্তিদের মাঝে বিদ্যমান ছিল—

তা কেবল আপনার মাঝেই পুঞ্জীভূত হয়েছে …

হে শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসনে আসীন ব্যক্তি!

সেই সকল গুণাবলি যা বিদ্যমান ছিল,

মহৎ ব্যক্তিদের মাঝে …

তা কেবল আপনার মাঝেই পুঞ্জীভূত হয়েছে … ।

রিসালাতের সূর্যের মাঝে সমস্ত পবিত্র রঙের উপস্থিতি সত্ত্বেও, [রাহমাতুল্লিল আলামীন]-এর নূর—যা নিজের মাঝে সমস্ত নূরকে ধারণ করেছিল—এক শুভ্র ও স্বচ্ছ রশ্মি দ্বারা পৃথিবীকে আলোকিত করেছে।