(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: -)
فقه السيرة النبوية لمنير الغضبان القسم: السيرة النبوية
الكتاب: فقه السيرة النبوية
المؤلف: منير محمد الغضبان (ت 1435هـ)
الناشر: جامعة أم القرى
الطبعة: الثانية، 1413هـ - 1992 م
عدد الصفحات: 752
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
(تم تصحيح بعض الأخطاء المطبعية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 شوّال 1435
মুনির আল-গাদবানের ফীক্বহুস সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ বিভাগ: সীরাতুন নবী (সা.)
বই: ফীক্বহুস সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ
লেখক: মুনির মুহাম্মদ আল-গাদবান (মৃ. ১৪৩৫ হি.)
প্রকাশক: উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৩ হি. - ১৯৯২ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৫২
শামেলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাজায়েরি
(কিছু মুদ্রণজনিত ভুল সংশোধন করা হয়েছে)
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ শাওয়াল ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ১)
المملكة العربية السعودية
وزارة التعليم العالي
جامعة أم القرى
معهد البحوث العلمية وإحياء التراث الإسلامي
مركز بحوث الدراسات الإسلامية
مكة المكرمة
ـ[سلسلة بحوث الدراسات الإسلامية (5)]ـ
فقه السيرة النبوية
تأليف
منير غضبان
সৌদি আরব রাজ্য
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামি ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ ইনস্টিটিউট
ইসলামি শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র
মক্কা আল-মুকাররামা
[ইসলামি শিক্ষা গবেষণা সিরিজ (৫)]
ফিকহুস সিরাহ আন-নববীয়্যাহ
রচনা
মুনির গদবান
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ২)
جامعة أم القرى 1419هـ
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر.
غضبان، منير محمد
فقه السيرة النبوية- مكة المكرمة
752 ص 24. 17 سم (سلسلة بحوث الدراسات الإسلامية"5").
ردمك: 5 - 444 - 03 - 9960
1 - السيرة النبوية 2 - الحديث - أحكام أ- العنوان ب- السلسلة ديوي 239 3470/ 19
رقم الايداع 3470/ 19
ردمك: 5 - 444 - 03 - 9960
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় ১৪১৯ হিজরি
প্রকাশনা কালীন কিং ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগার তালিকাভুক্তি।
গদবান, মুনির মুহাম্মাদ
ফিকহুস সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ - মক্কা আল-মুকাররমাহ
৭৫২ পৃষ্ঠা ২৪. ১৭ সেমি (ইসলামি শিক্ষা গবেষণা সিরিজ "৫")।
আইএসবিএন: ৫ - ৪৪৪ - ০৩ - ৯৯৬০
১ - সীরাতুন নবী ২ - হাদিস - বিধানাবলী ক- শিরোনাম খ- সিরিজ ডিউই ২৩৯ ৩৪৭০/ ১৯
জমাদান নম্বর ৩৪৭০/ ১৯
আইএসবিএন: ৫ - ৪৪৪ - ০৩ - ৯৯৬০
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ৭)
بين يدي البحثالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن سار بسيرته، ودعا بدعوته إلى يوم الدين.
وبعد:
فهذا كتاب في فقه السيرة النبوية تم تأليفه وفق منهج مرسوم محدد.
حرصنا فيه على أن يحقق الهدف المرجو من وراء تأليفه. ولن أدخل بين الكتاب والقارئ إلا بمقدار ما أرسم له بعض المعالم يستضيء بها وهو يعيش معه.
1 - لا شك أن الطابع التعليمي يحكمه إذ هو معد أصلا ليكون بين يدي الدارسين.
2 - لكن هذا لا يمنع أبدا أن تشارك العاطفة العقل في العمل. فليس الحديث في السيرة عن نظرية في الكيمياء أو مسألة في الرياضيات أو بحث في تاريخ الرومان. إنه حديث عن أحب ما في هذا الوجود لقلب المسلم. والذي لا يكمل إيمانه ولا يجد لذة لهذا الإيمان إلا به. فأين تخنق العاطفة والمشاعر. وأنت تتحدث عمن هو أحب إليك من ولدك ووالدك والناس أجمعين، وحتى من نفسك التي بين جنبيك؟
গবেষণার প্রারম্ভেসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর, আর যারা তাঁর সীরাত অনুসরণ করেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর দাওয়াতের দিকে আহ্বান করেন।
অতঃপর:
এটি সীরাতুন নবীর ফিকহ বিষয়ক একটি গ্রন্থ যা একটি নির্দিষ্ট ও সুবিন্যস্ত পদ্ধতির আলোকে রচনা করা হয়েছে।
আমরা এতে সচেষ্ট হয়েছি যেন এটি রচনার পেছনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়। আমি গ্রন্থ ও পাঠকের মাঝে কেবল সেই পরিমাণেই উপস্থিত হব, যার মাধ্যমে কিছু দিকনির্দেশনা তুলে ধরা যায়, যা গ্রন্থটি অধ্যয়নের সময় পাঠককে আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহায্য করবে।
১ - এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর ওপর একটি শিক্ষামূলক ধারা প্রাধান্য পেয়েছে, যেহেতু এটি মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
২ - তবে এটি কোনোভাবেই এই কর্মতৎপরতায় বিবেকের সাথে আবেগের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে না। কারণ সীরাত বিষয়ক আলোচনা রসায়নের কোনো তত্ত্ব, গণিতের কোনো সমস্যা কিংবা রোমানদের ইতিহাস বিষয়ক কোনো গবেষণা নয়। বরং এটি এমন এক সত্তা সম্পর্কে আলোচনা, যিনি একজন মুসলিমের হৃদয়ের কাছে এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রিয়। যাঁর প্রতি ভালোবাসা ব্যতিরেকে কারও ঈমান পূর্ণতা পায় না এবং কেউ ঈমানের স্বাদও আস্বাদন করতে পারে না। সুতরাং আবেগ ও অনুভূতিকে কোথায় রুদ্ধ করা হবে, যখন আপনি এমন একজন সম্পর্কে আলোচনা করছেন যিনি আপনার কাছে আপনার সন্তান, পিতা ও সকল মানুষের চেয়েও প্রিয়, এমনকি আপনার পাঁজরের মাঝখানে বিদ্যমান আপনার নিজের জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয়?
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ৮)
3 - ولكن هذه العاطفة الموارة بقيت ضمن وهج المنهج المحدد، وحرصت على أن يكون المنبع الثر الأول هو القرآن الكريم. والمنبع الثر الثاني هو الحديث النبوي الشريف، فكان العمود الفقري لكل بحث من خلال كتب الحديث، لا كتب السيرة.
4 - وحرصت على توثيق ما أكتبه - ما وسعني ذلك - وإعادته إلى مصادره. وعندما يكون الحديث، خارج إطار كتابي إمامي المحدثين البخاري ومسلم فإني أعتمد البحث عن درجة الحديث وصحته، وقد أسعفني الجامع الصغير وتخريج الأستاذ الألباني عليه في أحاديث الكتب الستة، ثم مجمع الزوائد للهيثمي في بقية الكتب. بحيث كان جل اعتمادي على هذين المصدرين.
5 - وبعد الانتقال من رياض الحديث النبوي الشريف كنت أحرص على إتمام البناء من خلال كتب السيرة المنوعة. وكانت السيرة لابن كثير ذات الاهتمام الأول. لأنها كذلك اعتمدت كتب الحديث أساسا في العرض، وخاصة البيهقي في سننه ودلائله، ومسند الإمام أحمد.
6 - ولا شك أن ابن إسحاق رحمه الله في سيرته التي وصلتنا من خلال ابن هشام يبقى أكبر وأوسع مصدر للسيرة. وما من إمام كتب في السيرة إلا وكان ابن إسحاق عمدته، وله فضل عليه. لكني أضفت جديدا هو محاولة توثيق روآيات ابن إسحاق التي تعتمد السند، وتعتمد تصريح ابن إسحاق عمن حدث عنه. فيرتفع التدليس، وتصبح الحادثة موثقة بشكل أكثر.
৩ - কিন্তু এই উত্তাল আবেগ একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ঔজ্জ্বল্যের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং আমি সচেষ্ট ছিলাম যাতে এর প্রথম সমৃদ্ধ উৎস হয় আল-কুরআনুল কারীম। আর দ্বিতীয় সমৃদ্ধ উৎস হয় হাদিসে নববী। ফলে সীরাতগ্রন্থের পরিবর্তে হাদিসগ্রন্থসমূহের মাধ্যমেই প্রতিটি গবেষণার মূল ভিত্তি বা মেরুদণ্ড তৈরি হয়েছে।
৪ - আর আমি যা লিখি তা যথাসম্ভব প্রামাণ্য করতে এবং সেগুলোকে মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে নিতে সচেষ্ট হয়েছি। যখন কোনো হাদিস দুই ইমাম—মুহাদ্দিস বুখারি ও মুসলিমের কিতাবদ্বয়ের গণ্ডির বাইরে হয়, তখন আমি সেই হাদিসের মান ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করি। এক্ষেত্রে কুতুবে সিত্তাহর হাদিসের জন্য 'আল-জামি আস-সগির' এবং এর ওপর উস্তাদ আলবানীর তাহকিক আমাকে সাহায্য করেছে। এরপর অন্যান্য কিতাবের জন্য হাইসামীর 'মাজমাউজ যাওয়াইদ' সাহায্য করেছে। ফলে আমার অধিকাংশ নির্ভরতা ছিল এই দুটি উৎসের ওপর।
৫ - হাদিসে নববীর বাগান থেকে প্রস্থান করার পর, আমি বিভিন্ন সীরাতগ্রন্থের মাধ্যমে কাঠামোটি সম্পন্ন করতে সচেষ্ট থাকতাম। ইবনে কাসীরের সীরাতগ্রন্থটি ছিল বিশেষ গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, এটিও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে হাদিসগ্রন্থসমূহকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে, বিশেষ করে বাইহাকীর 'সুনান' ও 'দালাইল' এবং ইমাম আহমদের 'মুসনাদ'।
৬ - এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে হিশামের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছানো ইবনে ইসহাকের (রহিমাহুল্লাহ) সীরাতটি সীরাতের সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত উৎস হিসেবে গণ্য। সীরাত বিষয়ে যারাই লিখেছেন, ইবনে ইসহাক তাদের সকলেরই প্রধান ভিত্তি ছিলেন এবং তাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ রয়েছে। তবে আমি এতে নতুন কিছু যোগ করেছি, যা হলো ইবনে ইসহাকের সেই বর্ণনাগুলোকে প্রামাণ্য করার চেষ্টা করা যা সনদের ওপর নির্ভরশীল এবং যেখানে ইবনে ইসহাক কার কাছ থেকে বর্ণনা করছেন তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এর ফলে 'তাদলিস' (বর্ণনায় অস্পষ্টতা) দূর হয় এবং ঘটনাটি আরও বেশি নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ৯)
7 - ولم يمنعني بعد استيفاء البناء للحدث والحادثة أن أستأنس بروآيات غير محققة أو فيها شيء خفيف من الضعف، لا تعارض الصحيح المعتمد لتجلي جوانب مبهمة من السيرة، وتغذي التربية المطلوبة للنفس. وقد درج العلماء الثقات الأفذاذ على الأخذ بها في مجال السيرة.
8 - لا بد أن أشير إلى أن الخطأ والنقص قرينان للنفس البشرية، فقد يكون الزلل في فهم أو استنتاج أو عرض أو رؤية لا أعلمه ويعلمه إخوان آخرون مضطلعون في هذا العلم، فأرجو أن يسعفوني بنصحهم وملاحظاتم، ورحم الله امرءا أهدى إلي عيوبي.
9 - "ومن لا يشكر الناس لا يشكر الله " (1)؛ فللمسؤولين في جامعة أم القرى، وافر الشكر والتقدير على ما هيأوا لي من مصادر ومراجع وتوجيهات، وعلى رأسهم معالي مديرها الدكتور راشد الراجح حفظه الله، وللمسؤولين في معهد البحوث العلمية في الجامعة وافر الشكر والتقدير كذلك وعلى رأسهم سعادة الدكتور حمزة الفعر عميد المعهد، على ما أولاني من عناية ورعاية ليأخذ هذا البحث طريقه إلى النور. وسعادة الدكتور رويعي الرحيلي مدير مركز الدراسات الإسلامية، الذي ذلل الصعوبات وبذل جهده متابعا حتى تمت طباعة الكتاب.
10 - وأخيرا أرجو الله جلت قدرته أن يجعل هذا الكتاب في صحيفة حسناتي
--------------------------------------------
৭ - ঘটনা ও পরিস্থিতির বর্ণনা যথাযথভাবে সম্পন্ন করার পর, এমন সব বর্ণনা দ্বারা সহায়তা গ্রহণ করতে আমি দ্বিধাবোধ করিনি যা অতটা যাচাইকৃত নয় কিংবা যাতে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে, তবে শর্ত হলো সেগুলো যেন সীরাতের অস্পষ্ট দিকগুলো উন্মোচনের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য সহীহ বর্ণনার বিরোধী না হয় এবং মনের জন্য প্রয়োজনীয় চারিত্রিক ও আধ্যাত্মিক খোরাক যোগায়। নির্ভরযোগ্য ও বরেণ্য আলেমগণ সীরাতের ক্ষেত্রে এই নীতি অনুসরণেরই রীতি রক্ষা করে চলেছেন।
৮ - আমাকে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে, ভুল ও অপূর্ণতা মানব সত্তার চিরসঙ্গী। তাই বুঝা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উপস্থাপনা কিংবা দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে এমন কোনো বিচ্যুতি থেকে যাওয়া অসম্ভব নয় যা আমার অগোচরে রয়ে গেছে, কিন্তু এই শাস্ত্রে পারদর্শী অন্য ভাইয়েরা হয়তো তা জানেন। তাই আমি আশা করি তারা তাদের নসিহত ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমাকে ঋণী করবেন। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যিনি আমার ত্রুটিগুলো আমার সামনে উপহার হিসেবে পেশ করেন।
৯ - “যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না” (১); উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলদের প্রতি রইল আমার অঢেল কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা, তারা আমাকে যে সকল উৎস-উপকরণ, তথ্যসূত্র ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তার জন্য। তাদের শীর্ষে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত পরিচালক ডক্টর রাশেদ আল-রাজেহ (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইন্সটিটিউটের দায়িত্বশীলদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা, বিশেষ করে ইন্সটিটিউটের ডিন ডক্টর হামযা আল-ফায়র-এর প্রতি, এই গবেষণাকর্মটিকে আলোর মুখ দেখাতে তিনি যে যত্ন ও সহযোগিতা করেছেন তার জন্য। এছাড়া ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক ডক্টর রুওয়াইঈ আল-রুহাইলি-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা, যিনি যাবতীয় প্রতিকূলতা দূর করেছেন এবং বইটির মুদ্রণ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত নিরলসভাবে তদারকি করেছেন।
১০ - পরিশেষে, আমি মহান মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কিতাবটিকে আমার নেক আমলের খাতায় লিপিবদ্ধ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ১০)
يوم القيامة يوم تعز الحسنات، وأن ينفع به ويكون خالصا لوجهه سبحانه، ويغفر لي ما به من زلات، فلا معصوم إلا المصطفى صلوات الله عليه.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين،،،
الباحث في جامعة أم القرى
منير محمد غضبان
في 10/ 2/ 1408 هـ
কিয়ামত দিবস এমন এক দিন যখন নেক আমলসমূহ অত্যন্ত দুর্লভ হবে; (প্রার্থনা করি) আল্লাহ যেন এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং একে তাঁর মহান সত্তার জন্য একনিষ্ঠ করেন, আর আমার ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেন; কেননা মুস্তফা (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ছাড়া আর কেউ নিষ্পাপ নয়।
আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক
মুনীর মুহাম্মদ গদবান
১০/ ০২/ ১৪০৮ হিজরি
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ৯)
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الأولمعنى السيرة النبوية وأهميتها
تعريف بالسيرة النبوية:السيرة لغة: السنة والطريقة والهيئة والحالة التي يكون عليها الإنسان وغيره.
والسيرة النبوية وكتب السيرة: مأخوذة من السيرة بمعنى الطريقة، وأدخل فيها الغزوات وغير ذلك. ويقال قرأت سيرة فلان: أي تاريخ حياته (1).
السيرة النبوية المطهرة تبحث:
- أولا: في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ إرهاصات مولده حتى انتقاله إلى الرفيق الأعلى.
- ثانيا: في حياة صحابته الذين جاهدوا معه، وصدقوا ما عاهدوا الله عليه.
- ثالثا: في تاريخ انتشار هذا الدين الذي ابتدأ بكلمة اقرأ في غار حراء نزل بها الأمين جبريل عليه السلام على الأمين محمد صلى الله عليه وسلم إلى أن دانت الجزيرة العربية به، ودخل الناس في دين الله أفواجا.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়সীরাতে নববীর অর্থ ও এর গুরুত্বসীরাতে নববীর পরিচয়:আভিধানিক অর্থে সীরাত: সুন্নাহ, পদ্ধতি, অবয়ব এবং মানুষ ও অন্যদের অবস্থা যা সে অবলম্বন করে থাকে।
আর সীরাতে নববী ও সীরাতের কিতাবসমূহ: এটি 'পদ্ধতি' অর্থে সীরাত শব্দ থেকে গৃহীত হয়েছে এবং এর মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ ও অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর বলা হয় 'আমি অমুকের সীরাত পড়েছি' অর্থাৎ তার জীবনের ইতিহাস (১)।
পবিত্র সীরাতে নববী আলোচনা করে:
- প্রথমত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন সম্পর্কে, তাঁর জন্মের প্রাক্কালের নিদর্শনসমূহ থেকে শুরু করে রফীকে আলার নিকট প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত।
- দ্বিতীয়ত: তাঁর সেই সকল সাহাবীর জীবন সম্পর্কে যারা তাঁর সাথে জিহাদ করেছেন এবং আল্লাহর সাথে করা তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছেন।
- তৃতীয়ত: এই দ্বীন প্রসারের ইতিহাস সম্পর্কে যা হেরা গুহায় 'ইকরা' শব্দের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, বিশ্বস্ত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তা নিয়ে বিশ্বস্ত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট অবতীর্ণ হয়েছিলেন, যে পর্যন্ত না সমগ্র আরব উপদ্বীপ এর অনুগত হয়েছে এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أهمية السيرة النبوية:أما الموضوع الأول؛ وهو حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم فيمثل حياة سيد ولد آدم على ظهر هذه المعمووة «أنا سيد ولد آدم يوم القيامة ولا فخر، وبيدي لواء الحمد ولا فخر، وما من نبي يومنذ آدم فمن سواه إلا تحت لوائي، وأنا أول شافع، وأول مشفع، ولا فخر» (1).
وهل في الدنيا حدث أعظم من حياة سيد ولد آدم فيها، ندرسه ونطلع عليه ونتابع كل صغيرة وكبيرة فيه؟!
والموضوع الثاني وهو حياة صحابته الذين جاهدوا معه، فهم الذين شهد الله تعالى لهم أنهم خير أمة أخرجت للناس {كنتم خير أمة أخرجت للناس تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر وتؤمنون بالله ..} (2).
وشهد لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله: «خيركم قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم
…» (3).
والموضموع الثالث وهو انتشمار الإسلام على هذه الأرض؛ الإسلام الذي كمله الله تعالى ورضيه لهذه الأمة إلى يوم القيامة، كما يقول عز وجل:
--------------------------------------------
সীরাতুন নববীর গুরুত্ব:প্রথম বিষয়টি হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন; যা এই পৃথিবীর বুকে আদম সন্তানদের সরদারের জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে। "কিয়ামতের দিন আমিই হব আদম সন্তানদের সরদার, এতে কোনো অহংকার নেই। আমার হাতেই থাকবে প্রশংসার ঝাণ্ডা, এতে কোনো অহংকার নেই। আদম থেকে শুরু করে সকল নবী সেদিন আমার ঝাণ্ডার নিচেই থাকবেন। আমিই হব প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম ব্যক্তি যার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে, এতে কোনো অহংকার নেই" (১)।
দুনিয়াতে কি আদম সন্তানদের সরদারের জীবনের চেয়ে মহত্তর কোনো ঘটনা আছে যা আমরা অধ্যয়ন করব, সে সম্পর্কে অবগত হব এবং যার প্রতিটি ছোট-বড় বিষয় অনুসরণ করব?!
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো তাঁর সেই সকল সাহাবীর জীবন যারা তাঁর সাথে জিহাদ করেছেন; তাঁরাই সেই দল যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তাঁরাই মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ করো এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো...} (২)।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোকেরা, এরপর যারা তাদের পরবর্তী, এরপর যারা তাদের পরবর্তী
..." (৩)।
তৃতীয় বিষয়টি হলো এই জমিনে ইসলামের প্রসার; সেই ইসলাম যাকে আল্লাহ তাআলা পূর্ণতা দান করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই উম্মতের জন্য মনোনীত করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
{
… اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام دينا
…} (1).
فنحن إذا حين ندرس السيرة النبوية المطهرة. ندرس سيرة خير نبى اصطفاه ربه، وندرس سيرة خير أمة أخرجت للناس، وندرس تاريخ خير رسالة أنزلت للناس.
دراسة السيرة عبادة:يقول تعالى: {لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة لمن كان يرجو الله واليوم الآخر وذكر الله كثيرا} (2).
فنحن مكلفون بالاقتداء برسول الله صلى الله عليه وسلم ولن نتمكن من الاقتداء والتأسي به ما لم نفقه سيرته وندرسها ونتعرف عليها.
وإن كانت السيرة النبوية هي ما ورد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة، فأفعال النبي صلى الله عليه وسلم تبرز أكثر ما يكون في السيرة.
ونحن مكلفون باتباع خيرة هذه الأمة، وأن لا نخرج على سنتهم وهديهم {والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان رضي الله عنهم ورضوا عنه وأعد لهم جنات تجري تحتها الأنهار خالدين فيها أبدا ذلك الفوز العظيم} (3)
--------------------------------------------
{
…} আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম {
…} (১)।
সুতরাং আমরা যখন পবিত্র সীরাতুন নবী অধ্যয়ন করি, তখন আমরা তাঁর প্রতিপালক কর্তৃক মনোনীত সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর জীবনী অধ্যয়ন করি, মানবজাতির কল্যাণে নির্গত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতের ইতিহাস পাঠ করি এবং মানুষের নিকট অবতীর্ণ শ্রেষ্ঠ বাণীর ইতিহাস অধ্যয়ন করি।
সীরাত অধ্যয়ন একটি ইবাদত:মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে} (২)।
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের জন্য আদিষ্ট, আর আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর যথাযথ অনুসরণ ও অনুকরণ করতে সক্ষম হব না, যতক্ষণ না আমরা তাঁর সীরাত গভীরভাবে অনুধাবন করব, তা অধ্যয়ন করব এবং তা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করব।
যদি সীরাতুন নবী বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ, মৌনসম্মতি কিংবা গুণাবলিকে বোঝায়, তবে নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মসমূহ সীরাতের মধ্যেই সর্বাধিক স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
আর আমরা এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অনুসরণের জন্য আদিষ্ট এবং আমাদের উচিত হবে না তাঁদের সুন্নাহ ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া। {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবে। এটাই মহা সাফল্য} (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
كيف نتبع سلف هذه الأمة ما لم نطلع على أعمالهم وجهادهم وسلوكهم؟!
ومن القواعد الشرعية المقررة: إن ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب؛ وقد اهتم الجيل الأول من الصحابة والتابعين وتابعيهم بهذه السيرة، كما روى محمد ابن عمر الواقدي عن عبد الله بن عمر بن علي بن الحسين عن أبيه قال: سمعت علي بن الحسين يقول: كنا نعلم مغازي النبي صلى الله عليه وسلم كما نعلم السورة من القرآن (1).
مصادر السيرة:
أولا: القرآن الكريم:فكتاب الله تعالى الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه هو المصدر الأول والأهم والأوثق في هذا الوجود للسيرة، وما نزل من القرآن قبل الهجرة يحمل بين ثناياه صورا واضحة عن السيرة النبوية. عن طفولة النبي صلى الله عليه وسلم، وعن بعثته، وعن جهاده للمشركين، وعن الحوار المستمر بين الرسول صلى الله عليه وسلم وخصومه، ودعوتهم لدين الله تعالى، ومواقفهم من هذه الدعوة، ويعرض الجوانب النفسية والفكرية، عندهم، ويعرض صورا من ثبات المؤمنين، وتضحياتهم وإخلاصهم وجهادهم في سبيل الله بالكلمة الطيبة، وتحمل الأذى في الله ورسوله. وما نزل من القرآن بعد الهجرة كذلك يعرض صورا واضحة من السيرة.
--------------------------------------------
আমরা কীভাবে এই উম্মাহর সালাফদের অনুসরণ করব যতক্ষণ না আমরা তাদের কর্মকাণ্ড, জিহাদ এবং জীবনধারা সম্পর্কে জানতে পারছি?!
আর সুপ্রতিষ্ঠিত শরয়ী নীতিমালাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: যে বিষয় ব্যতীত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, সেই বিষয়টিও ওয়াজিব; সাহাবী, তাবিঈ এবং তাবে-তাবিঈদের প্রথম প্রজন্ম এই সীরাতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, যেমনটি মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদি, আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধাভিযানসমূহ (মাগাযী) সেভাবেই শিখতাম যেভাবে আমরা কুরআনের সূরা শিখতাম (১)।"
সীরাতের উৎসসমূহ:
প্রথমত: পবিত্র কুরআন:আল্লাহ তাআলার কিতাব, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল আসতে পারে না, তা-ই হলো সীরাতের ক্ষেত্রে এই মহাবিশ্বের প্রথম, প্রধান এবং সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস। হিজরতের পূর্বে কুরআনের যা কিছু নাযিল হয়েছে, তা সীরাতে নববী সম্পর্কে সুস্পষ্ট চিত্র বহন করে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শৈশব, তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি, মুশরিকদের বিরুদ্ধে তাঁর জিহাদ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর প্রতিপক্ষদের মধ্যকার চলমান সংলাপ, আল্লাহর দ্বীনের দিকে তাদের আহ্বান এবং এই দাওয়াতের প্রতি তাদের অবস্থান সম্পর্কে। এটি তাদের মনস্তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিকগুলো ফুটিয়ে তোলে এবং মুমিনদের দৃঢ়তা, তাদের আত্মত্যাগ, নিষ্ঠা এবং উত্তম বাক্যের মাধ্যমে আল্লাহর পথে তাদের জিহাদ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য কষ্ট সহ্য করার চিত্র তুলে ধরে। হিজরতের পরে কুরআনের যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে, তাও একইভাবে সীরাতের সুস্পষ্ট চিত্র উপস্থাপন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فمواقف اليهود من الدعوة في المدينة، والرد على افتراءاتهم ودسهم وإثارة الشبه بما عندهم من علم في الكتاب يحرفون به الكلم عن مواضعه، ويكتمون ما آتاهم الله من البينات والهدى، ويؤمنون ببعض، ويكفرون ببعض.
ومواقف المنافقين من الرسول صلى الله عليه وسلم ودعتهه والدين الذي جاء به، وتآمرهم على جماعة المؤمنين، وكيدهم لها، وإظهار الإيمان، وإبطان الكفر، وتلاحمهم في السر مع اليهود والمشركين ضد المسلمين، وأساليبهم الماكرة في الغدر وكشف هوياتهم ليكون المؤمنون منهم علاى حذر.
ومواقف المؤمنين وثباتهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكيف برزت جلية في بدر واحد والخندق والحديبية وتبوك .. كيف كان يعتريهم الضعف البشري، وتنزل بهم المحن، ثم يتداركهم الله برحمته ويصفهم بقوله: {من المؤمنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه فمنهم من قضى نحبه ومنهم من ينتظر وما بدلوا تبديلا} (1).
ثانيا كتب السنة:وهي الأصل الثاني بعد القرآن الكريم التي تستقى منها أحداث السيرة النبوية، إذ لا يوجد كتاب من الصحاح أو المسانيد إلا وأفرد للسيرة بابا يتناول فيه أحداثها وقد تم توثيقها فيما تم من نقد الأحاديث على ضوء علم مصطلح الحديث والجرح والتعديل.
هذا غير الأحاديث المتناثرة في أبواب أخرى مما يتعلق بالسيرة النبوية
--------------------------------------------
মদীয়ায় দাওয়াতের প্রতি ইয়াহূদীদের অবস্থানসমূহ এবং তাদের মিথ্যা অপবাদ, চক্রান্ত ও সংশয় সৃষ্টির দাঁতভাঙা জবাব; তারা তাদের নিকট বিদ্যমান কিতাবের জ্ঞানের মাধ্যমে আল্লাহর বাণীকে তার নির্ধারিত স্থান থেকে বিকৃত করত এবং আল্লাহ প্রদত্ত সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াতকে গোপন করত; তারা কিতাবের কিছু অংশের ওপর ঈমান আনত এবং কিছু অংশকে অস্বীকার করত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর দাওয়াত ও তিনি যে দ্বীন নিয়ে এসেছিলেন তার প্রতি মুনাফিকদের অবস্থানসমূহ; মুমিন জামাতের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত; ঈমান প্রকাশ এবং কুফর গোপন রাখা; মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইয়াহূদী ও মুশরিকদের সাথে গোপনে তাদের সংহতি এবং বিশ্বাসঘাতকতায় তাদের ধূর্ত কলাকৌশল এবং তাদের প্রকৃত পরিচয় উন্মোচন—যাতে মুমিনগণ তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পারে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মুমিনদের অবস্থান ও তাদের অবিচলতা; যা বদর, উহুদ, খন্দক, হুদাইবিয়াহ ও তাবুক যুদ্ধে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। কীভাবে তাদের ওপর মানবিক দুর্বলতা জেঁকে বসত এবং তাদের ওপর পরীক্ষা আপতিত হতো, অতঃপর আল্লাহ তাঁর রহমত দিয়ে তাদের উদ্ধার করতেন এবং তাদের বর্ণনায় বলেন: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার শপথ পূর্ণ করেছে (শহীদ হয়েছে) এবং কেউ কেউ অপেক্ষা করছে; আর তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনেনি} (১)।
দ্বিতীয়ত: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ:কুরআনুল কারীমের পর এটিই দ্বিতীয় উৎস যেখান থেকে সীরাতুত নববীর ঘটনাবলি গ্রহণ করা হয়। কারণ 'সিহাহ' বা 'মুসনাদ' গ্রন্থসমূহের মধ্যে এমন কোনো গ্রন্থ নেই যেখানে সীরাতের জন্য স্বতন্ত্র কোনো অধ্যায় রাখা হয়নি এবং ইলমে মুসতালাহুল হাদীস ও জারহ-ওয়াত তা'দীলের আলোকে হাদীস পর্যালোচনার মাধ্যমে এ বিষয়গুলো সুপ্রমাণিত করা হয়েছে।
সীরাতুত নববীর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অধ্যায়সমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাদীসসমূহ ছাড়াও এটি একটি মৌলিক উৎস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المطهرة، كتب المناقب المنبثة في كتب الحديث تعتبر رافدا رئيسيا من روافد السيرة النبوية.
وتحسن الإشارة إلى محاولتين مهمتين في مجال استخلاص السيرة من القرآن والسنة:
- الأولى: هي محاولة استخلاص السيرة النبوية من القرآن الكريم وقد قام بها الأستاذ عزة دروزة تحت عنوان: السيرة النبوية، صور مقتبسة من القرآن الكريم. ووفق في ذلك إلى حد بعيد.
ولا شك أن كتب التفسير- وخاصة الطبري وابن كثير في تفسيرهما لآيات الجهاد- والتي وردت فيها غزوات النبي صلى الله عليه وسلم قد أغنت السيرة غناء كبيرا.
ولعل ما كتبه صاحب الظلال سيد قطب رحمه الله في ظلال هذه الآيات يعتبر من أجود ما كتب في السيرة في العصر الحديث.
- الثانية: ما كتبه المحدث ابن الديبع الشيباني في السيرة وسماه حدائق الأنوار ومطالع الأسرار، اعتمد أوثق الروايات وأصحها فقط في عرض السيرة النبوية. ولكنه لم يتمكن من سد الفجوات كلها في عرض السيرة النبوية المطهرة.
ثالثا: كتب السير والتراجم:وهي المصدر المباشر الذي تستقى منه أحداث السيرة عادة. والسيرة النبوية لابن هشام تعتبر من الناحية العلمية أوفى كتاب يتداوله الناس، وأقدم
পবিত্র (সীরাত); হাদিস গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে থাকা গুণাবলি ও মর্যাদা (মানাকিব) বিষয়ক গ্রন্থসমূহকে সীরাতে নববীর অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সীরাত আহরণের ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা সমীচীন হবে:
- প্রথমটি: কুরআনুল কারীম থেকে সীরাতে নববী আহরণের প্রচেষ্টা, যা উস্তাদ ইজ্জত দারওয়াজা সম্পাদন করেছেন। তাঁর গ্রন্থের শিরোনাম: 'আস-সীরাত আন-নাবাবিয়্যাহ: সুওয়ারুন মুকতাবাসাতুন মিনাল কুরআনিল কারীম' (কুরআন থেকে গৃহীত সীরাতে নববীর চিত্রসমূহ)। এক্ষেত্রে তিনি বহুলাংশে সফল হয়েছেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাফসির গ্রন্থসমূহ—বিশেষ করে ইমাম তাবারী ও ইবনে কাসীর তাঁদের তাফসির গ্রন্থে জিহাদ সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধবিগ্রহের (গাযওয়াত) যে বিবরণ দিয়েছেন—তা সীরাত সাহিত্যকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
সম্ভবত 'ফি জিলালিল কুরআন' এর লেখক সাইয়্যেদ কুতুব (রহ.) এই আয়াতগুলোর ছায়াতলে যা লিখেছেন, তা আধুনিক যুগে সীরাত বিষয়ে লিখিত উৎকৃষ্ট রচনার অন্তর্ভুক্ত।
- দ্বিতীয়টি: মুহাদ্দিস ইবনু দাইবা আশ-শাইবানী সীরাত বিষয়ে যা লিখেছেন এবং যার নাম দিয়েছেন 'হাদাইকুল আনোয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার'। তিনি সীরাতে নববী উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কেবল নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধতম বর্ণনাগুলোর ওপর নির্ভর করেছেন। তবে পবিত্র সীরাতে নববী বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি সমস্ত শূন্যস্থান পূরণ করতে সক্ষম হননি।
তৃতীয়ত: সীরাত ও জীবনী গ্রন্থসমূহ:এগুলো হলো সীরাতের প্রত্যক্ষ উৎস যেখান থেকে সাধারণত সীরাতের ঘটনাবলী আহরণ করা হয়। ইবনে হিশামের সীরাতে নববী গ্রন্থটি তাত্ত্বিক বিচারে জনগণের মধ্যে প্রচলিত সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাচীনতম গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত...
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كتاب بين أيدينا كذلك، وسنعرض له فيما بعد ضمن الحديث عن اهتمام المسلمين بالسيرة.
وفي مجال التراجم فالطبقات الكبرى لابن سعد، والإصابة في تاريخ الصحابة هما الكتابان العمليان اللذان يرفدان السيرة النبوية في توضيح بعض الجوانب الغامضة فيها.
رابعا: كتب الدلائل والشمائل والمعجزات والخصائص:وهذه تتناول جانبا من حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، ولكنها تعرض السيرة بشكل غير مباشر وبصورة مختصرة في كثير من الأحيان، ومن أشهرها: دلائل النبوة للبيهقي، والشمائل للترمذي، والخصائص الكبرى للسيوطي.
خامسا: كتب التاريخ والأدب:وهي أكثر من أن تحصى، ومعظم كتب التاريخ الإسلامي تفرد للسيرة النبوية جزءا أو أكثر تعرضها بتسلسلها التاريخي، وإن كانت السيرة النبوية لابن كثير قد أفردت في طبعة مستقلة حققها الدكتور مصطفى عبد الواحد حفظه الله، وتتميز السيرة عند ابن جرير الطبري رحمه الله بوجود السند المتصل فيها، لكن هذه الأسانيد لم تنل حظها من العناية والتوثيق شأنها شأن كتب التاريخ الإسلامي كله.
مدى عناية المسلمين بها:لما كانت أيام معاوية، أحب أن يدون في التاريخ كتاب، فاستقدم
তেমনি একটি কিতাব আমাদের হাতে রয়েছে, এবং আমরা সীরাতের প্রতি মুসলমানদের গুরুত্বারোপের আলোচনার মধ্যে পরবর্তীতে তা উপস্থাপন করব।
আর জীবনীগ্রন্থের (তারাজিম) ক্ষেত্রে ইবনে সা’দের 'আত-তাবাকাতুল কুবরা' এবং 'আল-ইসাবাহ ফি তারিখিস সাহাবাহ' হলো এমন দুটি ব্যবহারিক কিতাব যা সীরাতে নববীর কিছু অস্পষ্ট দিক স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান করে।
চতুর্থত: দলাইল, শামায়েল, মুজিজা এবং খাসায়েস বিষয়ক গ্রন্থাবলি:এগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের একটি দিক নিয়ে আলোচনা করে, তবে এগুলো সীরাতকে পরোক্ষভাবে এবং অনেক ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করে। এর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো: বায়হাকীর 'দালাইলুন নুবুওয়াহ', তিরমিযীর 'আশ-শামায়েল' এবং সুয়ূতী-র 'আল-খাসায়েসুল কুবরা'।
পঞ্চমত: ইতিহাস ও সাহিত্যের কিতাবসমূহ:এগুলো গণনা করে শেষ করা যাবে না, এবং অধিকাংশ ইসলামী ইতিহাসের কিতাব সীরাতে নববীর জন্য এক বা একাধিক অংশ বরাদ্দ রেখেছে যা তারা ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় উপস্থাপন করে। যদিও ইবনে কাসীরের সীরাতে নববী একটি স্বতন্ত্র সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে যা ডক্টর মোস্তফা আব্দুল ওয়াহিদ (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) তাহকীক করেছেন। ইবনে জারীর তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট সীরাতের বৈশিষ্ট্য হলো এতে নিরবচ্ছিন্ন সনদ বিদ্যমান রয়েছে, তবে এই সনদগুলো অন্যান্য সকল ইসলামী ইতিহাসের কিতাবগুলোর মতোই প্রয়োজনীয় যত্ন ও প্রামাণিকতা লাভ করেনি।
এর প্রতি মুসলমানদের গুরুত্বারোপের মাত্রা:যখন মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসনকাল ছিল, তখন তিনি ইতিহাসে একটি কিতাব সংকলন করতে চাইলেন, তাই তিনি ডেকে পাঠালেন (বা আনালেন)
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ২০)
عبيد بن شرية الجرهمي من صنعاء، فكتب له كتاب الملوك لأخبار الماضين.
(بعد هذا رأينا أكثر من واحد من العلماء يتجهون إلى علم التاريخ من ناحيته الخاصة لا العامة وهي سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، ولعلهم وجدوا في تدوين ما يتعلق به عليه الصلاة والسلام شيئا يحقق ما في أنفسهم من تعلق به، وحب لتخليد آثاره، فجاء أكثر من رجل كلهم محدث، فدونوا في السيرة كتبا نذكر منهم عروة بن الزبير بن العوام (1) الفقيه المحدث، الذي مكنه نسبه من قبل أبيه الزبير وأمه أسماء بنت أبي بكر أن يروي الكثير من الأخبار والأحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم وحياة صدر الإسلام.
وحسبك أن تعلم أن ابن إسحاق، والواقدي، والطبري أكثروا من الأخذ عنه، ولا سيما فيما يتعلق بالهجرة إلى الحبشة، والمدينة، وغزوة بدر، وكانت وفاة عروة- فيما يظن- سنة 92 هـ.
ثم أبان بن عثمان بن عفان (2) المدني المتوفى سنة 105 هـ فألف في السيرة
--------------------------------------------
সানআর উবাইদ বিন শারিয়াহ আল-জুরহুমি, তিনি তার জন্য অতীতকালের সংবাদ সম্বলিত 'অতীতের সংবাদ সম্বলিত রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থ' রচনা করেছিলেন।
(এর পরে আমরা একাধিক আলিমকে ইতিহাসের সাধারণ দিকের পরিবর্তে এর বিশেষ দিক অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের দিকে ধাবিত হতে দেখেছি। সম্ভবত তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করার মধ্যে নিজেদের হৃদয়ে তাঁর প্রতি যে আসক্তি এবং তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তার প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছিলেন। ফলে একাধিক ব্যক্তি আবির্ভূত হলেন যারা সকলেই ছিলেন মুহাদ্দিস। তারা সীরাত বিষয়ে কিতাব রচনা করলেন। তাঁদের মধ্যে আমরা ফকিহ ও মুহাদ্দিস উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের ইবনুল আওয়াম (১)-এর নাম উল্লেখ করতে পারি। তাঁর বংশমর্যাদা—পিতা যুবায়ের এবং মাতা আসমা বিনতে আবু বকর—তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইসলামের শুরুর দিকের জীবন সম্পর্কে প্রচুর সংবাদ ও হাদিস বর্ণনা করার সুযোগ করে দিয়েছিল।
আপনার জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, ইবনে ইসহাক, ওয়াকিদি এবং তাবারী তাঁর কাছ থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন; বিশেষ করে হাবশা ও মদিনায় হিজরত এবং বদর যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়াবলীতে। উরওয়াহ-এর মৃত্যু সম্ভবত ৯২ হিজরিতে হয়েছিল।
অতঃপর মদিনার আবান ইবনে উসমান ইবনে আফফান (২), যিনি ১০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; তিনিও সীরাত বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ২১)
صحفا جمع فيها أحاديث حياة الرسول صلى الله عليه وسلم.
ثم وهب بن منبه (1) اليمني المتوفى سنة 110 هـ، وفي مدينة هيدلبرج بألمانيا قطعة من كتابه الذي ألفه في المغازي.
وغير هوتاء كثير، ممن قضى نحبه قرب تمام الربع الأول من القرن الثاني كشرحبيل بن سعد (2) المتوفى سنة 123 هـ، وابن شهاب الزهري (3) المتوفى سنة 124 هـ، وعاصم بن عمر بن قتادة (4) المتوفى سنة 120 هـ، ومنهم من جاوزه بسنين كعبد الله بن أبي بكر بن حزم (5) المتوفى سنة 135 هـ، وكان هوتاء الأربعة ممن عنوا بأخبار المغازي، وما يتصل بها.
ومنهم من عاش حتى أوشك أن يدرك منتصف القرن الثاني أو جاوزه بقليل؛ كموسى بن عقبة (6) المتوفى سنة 141 هـ، ثم معمر بن راشد (7) المتوفى
--------------------------------------------
এমন সহীফা (নথিপত্র) যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের হাদীসসমূহ সংকলন করা হয়েছে।
অতঃপর ইয়ামানের ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (১), যিনি ১১০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। জার্মানির হাইডেলবার্গ শহরে তাঁর রচিত যুদ্ধাভিযান (মাগাজি) বিষয়ক গ্রন্থের একটি অংশ সংরক্ষিত রয়েছে।
এঁরা ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন, যাঁরা দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশের সমাপ্তির কাছাকাছি সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন; যেমন—শুরাহবিল ইবনে সাদ (২) (মৃত্যু ১২৩ হি.), ইবনে শিহাব আল-জুহরি (৩) (মৃত্যু ১২৪ হি.) এবং আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদা (৪) (মৃত্যু ১২০ হি.)। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই সময়কাল কয়েক বছর অতিক্রম করেছিলেন, যেমন—আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে হাযম (৫) (মৃত্যু ১৩৫ হি.)। এই চারজনই যুদ্ধাভিযান (মাগাজি) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সংবাদ বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন অথবা তার থেকে কিছুটা বেশি সময় বেঁচে ছিলেন; যেমন—মুসা ইবনে উকবা (৬) (মৃত্যু ১৪১ হি.), অতঃপর মা’মার ইবনে রাশিদ (৭), যিনি মৃত্যুবরণ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ২২)
سنة 150 هـ، ثم شيخ رجال السيرة محمد بن إسحاق (1) المتوفى سنة 152 هـ.
وجاء بعد هوتاء غيرهم، نذكر منهم زيادا البكائي (2) المتوفى سنة 183 هـ، والواقدي (3) صاحب المغازي المتوفى سنة 207 هـ، ومحمد بن سعد (4) صاحب الطبقات الكبرى المتوفي سنة 230 هـ، وقبل أن تستأثر المنية بابن سعد عدت على ابن هشام في سنة 218 وابن هشام هو الرجل الذي انتهت إليه سيرة ابن إسحاق فعرفت أو شاع ذكره بها) (5).
كلمة عن ابن إسحاق (6) وسيرته
(ولد ابن إسحاق في المدينة، وترجح كتب التاريخ أن مولده كان سنة 85 هـ أما وفاته فالأقوال فيها محصورة بين سنة 150 هـ وبين 153 هـ لا تكاد
--------------------------------------------
১৫০ হিজরি সাল, এরপর সিরাত শাস্ত্রের প্রধান ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ বিন ইসহাক (১), যিনি ১৫২ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।
তাদের পর আরও অনেকে এসেছেন, যাদের মধ্যে আমরা উল্লেখ করতে পারি যিয়াদ আল-বাক্কায়ী (২) (মৃত্যু ১৮৩ হি.), আল-মাগাযী প্রণেতা আল-ওয়াকিদি (৩) (মৃত্যু ২০৭ হি.), এবং আত-তাবাকাত আল-কুবরা প্রণেতা মুহাম্মদ বিন সাদ (৪) (মৃত্যু ২৩০ হি.)। ইবনে সাদের মৃত্যুর পূর্বে ২১৮ হিজরি সালে ইবনে হিশাম পরলোকগমন করেন। ইবনে হিশাম হলেন সেই ব্যক্তি যার কাছে ইবনে ইসহাকের সিরাত সমাপ্ত হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই তিনি পরিচিতি ও খ্যাতি লাভ করেছেন (৫)।
ইবনে ইসহাক (৬) ও তার সিরাত সম্পর্কে কিছু কথা
(ইবনে ইসহাক মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাস গ্রন্থসমূহ অনুসারে তার জন্ম সম্ভবত ৮৫ হিজরি সালে। তার মৃত্যুর ব্যাপারে মতামতগুলো ১৫০ হিজরি থেকে ১৫৩ হিজরি সালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি প্রায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تعدو هذه السنين الأربع.
ترك ابن إسحاق المدينة ورحل إلى غيرها متنقلا في أكثر من بلد، وفي ظننا أن رحلته إلى الإسكندرية التي كانت سنة 115 هـ هي أولى رحلاته التي بدأ بها. وفي الإسكندرية حدث عن جماعة من أهل مصر منهم: عبيد الله بن المغيرة، ويزيد بن أبي حبيب، وثمامة بن شغي، وعبيد الله بن أبي جعفر، والقاسم بن قزمار، والسكن بن أبي كريمة، وانفرد ابن إسحاق برواية أحاديث عنهم لم يروها لهم غيره.
ثم كانت رحلته إلى الكوفة والجزيرة والري والحيرة وبغداد، وفي بغداد على الأرجح ألقى عصا الترحال
… ورواة ابن إسحاق من هذه البلدان أكثر ممن رووا عنه من أهل المدينة، بل المعروف أنه لم يرو له من أهل المدينة غير إبراهيم ابن سعد، وعاش ببغداد ما عاش حتى وافته منيته فدفن في مقبرة الخيزران) (1).
كان ابن إسحاق من أعلام القرن الثاني، وكان له علمه الواسع، وإطلاعه الغزير في أخبار الماضين، وشاءت المقادير أن يدخل ابن إسحاق على المنصور، ببغداد- وقيل بالحيرة- وبين يديه ابنه المهدي، فقال له المنصور: أتعرف هذا يابن إسحاق؟ قال: نعم، هذا ابن أمير المؤمنين، قال: اذهب فصنف له كتابا منذ خلق الله تعالى آدم عليه السلام إلى يومك هذا.
فذهب ابن إسحاق، فصنف له هذا الكتاب، فقال له: لقد طولته
--------------------------------------------
এই চার বছর অতিক্রান্ত হয়।
ইবনে ইসহাক মদিনা ত্যাগ করেন এবং একের পর এক বিভিন্ন শহর ভ্রমণ করে অন্যত্র চলে যান। আমাদের ধারণা মতে, ১১৫ হিজরিতে আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর সফরটিই ছিল তাঁর শুরু করা প্রথম সফর। আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি মিসরের একদল লোকের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে আল-মুগিরা, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব, সুমামা ইবনে শাফি, উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি জাফর, আল-কাসিম ইবনে কাযমার এবং আস-সাকান ইবনে আবি কারিমা। ইবনে ইসহাক তাঁদের নিকট থেকে এমন কিছু হাদিস বর্ণনায় একক ছিলেন যা অন্য কেউ তাঁদের থেকে বর্ণনা করেননি।
এরপর তিনি কুফা, জাজিরা, রায়, হিরা এবং বাগদাদ সফর করেন। সম্ভবত বাগদাদেই তিনি তাঁর সফরের ইতি টানেন
… এবং মদিনাবাসীদের চেয়ে এই শহরগুলোর বর্ণনাকারীরাই তাঁর কাছ থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন। বরং এটিই সুপরিচিত যে, ইব্রাহিম ইবনে সাদ ব্যতীত মদিনার আর কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি। তিনি বাগদাদেই তাঁর অবশিষ্ট জীবন অতিবাহিত করেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়, ফলে তাঁকে খাইজুরান কবরস্থানে দাফন করা হয় (১)।
ইবনে ইসহাক ছিলেন দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর অন্যতম দিকপাল। পূর্ববর্তীদের খবরাখবর সম্পর্কে তাঁর ছিল অগাধ জ্ঞান এবং ব্যাপক পাণ্ডিত্য। তাকদিরে নির্ধারিত ছিল যে, বাগদাদে—মতান্তরে হিরায়—ইবনে ইসহাক মানসুরের দরবারে প্রবেশ করবেন। তখন মানসুরের সামনে তাঁর পুত্র আল-মাহদি উপস্থিত ছিলেন। মানসুর তাঁকে বললেন: হে ইবনে ইসহাক, তুমি কি একে চেনো? তিনি বললেন: হ্যাঁ, ইনি আমিরুল মুমিনীনের পুত্র। মানসুর বললেন: যাও, তাঁর জন্য এমন একটি কিতাব রচনা করো যেখানে মহান আল্লাহ আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টির সময় থেকে নিয়ে আজ পর্যন্তকার ইতিহাস থাকবে।
তখন ইবনে ইসহাক চলে গেলেন এবং তাঁর জন্য এই কিতাবটি রচনা করলেন। এরপর মানসুর তাঁকে বললেন: তুমি তো একে অনেক দীর্ঘ করে ফেলেছ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يابن إسحاق، اذهب فاختصره، فاختصره، وألقي الكتاب الكبير في خزانة أمير المؤمنين.
ولكن بعض الدارسين يرى أن ابن إسحاق لم يؤلف كتابه بأمر من الخليفة، ولا في بغداد أو الحيرة، وإنما ألفه في المدينة قبل إقامته لدى العباسيين.
(وتبين من سيرة ابن هشام، وما اقتطفه الطبري وغيره من سيرة ابن إسحاق أنها كانت أصلا مقسمة إلى ثلاثة أجزاء: المبتدأ، المبعث، والمغازي. أما المبتدأ فيتناول تاريخ ما قبل الإسلام، وينقسم إلى أربعة فصول: يتناول أولها تاريخ الرسالات السابقة على الإسلام، وثانيها تاريخ اليمن في الجاهلية، وثالثها تاريخ القبائل العربية وعباداتها، والرابع تاريخ مكة وأجداد الرسول صلى الله عليه وسلم. ولا يعنى ابن إسحاق في هذا الجزء بأسانيد أخباره إلا نادرا. ويستقى من الأساطير والإسرائيليات.
أما المبعث فيشمل حياة النبي صلى الله عليه وسلم في مكة، ونرى المؤلف فيه يصدر الأخبار الفردية بموجز حاو لها .. ويعنى بالترتيب الزمني للحوادث، كما تزداد عنايته بأسانيد الأخبار.
وأما المغازي، فتتناول حياة النبي في المدينة، وما جرى فيها. على أن يبدأ الخبر بموجز حاو لمحتوياته، ثم يتبعه بخبر من جميع الأقوال التي أخذها من رواته، ثم يكمله بما جمعه هو نفسه من المصادر المختلفة .. ويلتزم إيراد الإسناد، والترتيب الزمني) (1)
--------------------------------------------
হে ইবনে ইসহাক, যাও এবং এটি সংক্ষেপ করো, এটি সংক্ষেপ করো এবং বিশাল বইটি আমিরুল মুমিনিনের গ্রন্থাগারে রেখে দাও।
তবে কোনো কোনো গবেষক মনে করেন যে, ইবনে ইসহাক খলিফার আদেশে কিংবা বাগদাদ অথবা হীরায় থাকাকালীন তাঁর বইটি রচনা করেননি, বরং তিনি এটি আব্বাসীয়দের নিকট অবস্থানের পূর্বে মদিনায় থাকাকালীন রচনা করেছিলেন।
(ইবনে হিশামের সিরাত এবং ইবনে ইসহাকের সিরাত থেকে তাবারী ও অন্যান্যদের উদ্ধৃত অংশ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, এটি মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত ছিল: আল-মুবতাদা (সূচনা), আল-মাবআস (নবুওয়াত প্রাপ্তি) এবং আল-মাগাজি (যুদ্ধাভিযান)। আল-মুবতাদা অংশটি ইসলাম-পূর্ব ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করে এবং এটি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত: প্রথমটি ইসলামের পূর্ববর্তী রিসালাতসমূহের ইতিহাস নিয়ে, দ্বিতীয়টি জাহেলি যুগে ইয়ামেনের ইতিহাস নিয়ে, তৃতীয়টি আরব গোত্রসমূহ ও তাদের উপাসনা পদ্ধতি নিয়ে এবং চতুর্থটি মক্কার ইতিহাস ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে আলোচনা করে। এই অংশে ইবনে ইসহাক কদাচিৎ ছাড়া তাঁর বর্ণিত সংবাদসমূহের সনদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি। তিনি মূলত উপকথা এবং ইসরাইলি বর্ণনা থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন।
আল-মাবআস অংশটি মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং আমরা দেখতে পাই যে, লেখক এতে প্রতিটি স্বতন্ত্র সংবাদকে তার একটি সারসংক্ষেপের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন... তিনি ঘটনাপ্রবাহের কালানুক্রমিক বিন্যাসের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সংবাদের সনদের ব্যাপারেও তাঁর সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর আল-মাগাজি অংশটি মদিনায় নবীর জীবন এবং সেখানে যা ঘটেছিল তা নিয়ে আলোচনা করে। সেখানে সংবাদটি তার বিষয়বস্তুর একটি সারসংক্ষেপ দিয়ে শুরু হয়, এরপর তিনি তাঁর বর্ণনাকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত সকল বক্তব্য অনুসারে সংবাদটি উল্লেখ করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন উৎস থেকে নিজের সংগৃহীত তথ্যের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করেন... তিনি এতে সনদ উল্লেখ এবং কালানুক্রমিক বিন্যাস বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করেছেন।) (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومحمد بن إسحاق رحمه الله ثبت في الحديث عند أكثر العلماء، وأما في المغازي والسير فلا تجهل إمامته فيهما (1).
(قال ابن شهاب الزهري: من أراد المغازي فعليه بابن إسحاق. ذكره البخاري في التاريخ وذكر عن سفيان بن عيينة أنه قال: ما أدركت أحدا يتهم ابن إسحاق في حديثه، وذكر أيضا عن شعبة بن الحجاج أنه قال: ابن إسحاق أمير المؤمنين، يعني في الحديث) (2).
وذكر أبو يحيى الساجي رحمه الله بإسناد له عن الزهري أنه قال: خرج
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (রহিমাহুল্লাহ) অধিকাংশ আলিমের নিকট হাদীস শাস্ত্রে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত। আর মাগাযী (যুদ্ধবিগ্রহ) ও সীরাত (জীবনী) শাস্ত্রে তাঁর ইমামত (নেতৃত্ব) কারো অজানা নয় (১)।
(ইবন শিহাব আল-যুহরী বলেছেন: যে ব্যক্তি মাগাযী শিখতে চায়, সে যেন ইবন ইসহাকের শরণাপন্ন হয়। ইমাম বুখারী এটি ‘আত-তারীখ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি সুফিয়ান ইবন উইয়াইনা থেকে আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি ইবন ইসহাকের হাদীসকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ থেকেও উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: ইবন ইসহাক হলেন আমীরুল মু'মিনীন, অর্থাৎ হাদীস শাস্ত্রে) (২)।
আবু ইয়াহইয়া আস-সাজী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর একটি সনদে আল-যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: বের হলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إلى قريته باذام، فخرج إليه طلاب الحديث، فقال لهم: أين أنتم من الغلام الأحول (يعني ابن إسحاق). وذكر عن يحيى بن معين وأحمد بن حنبل ويحيى بن سعيد أنهم وثقوا ابن إسحاق واحتجوا بحديثه. وذكر علي بن عمر الدارقطني في السنن حديث القلتين من جميع طرقه وما فيه من الاضطراب ثم قال في حديث جرى: وهذا يدل على حفظ محمد بن إسحاق وشدة إتقانه. قال الموتف: وإنما لم يخرج البخاري عنه وقد وثقه، وكذلك وثقه مسلم ابن الحجاج ولم يخرج عنه أيضا- إلا حديثا واحدا في الرجم- من أجل طعن مالك فيه. وإنما طعن فيه مالك فيما ذكر أبو عمر رحمه الله عن عبد الله ابن إدريس الأودي؛ لأنه بلغه أن ابن إسحاق قال: هاتوا حديث مالك فأنا طبيب بعلله؛ فقال مالك: وما ابن إسحاق إن هو إلا دجال من الدجاجلة أخرجناه من المدينة.
وذكر الخطيب أحمد بن علي بن ثابت في تاريخه أنه روى عن سعيد بن المسيب، والقاسم بن محمد، وأبي سلمة بن عبد الرحمن. وروى عنه سفيان الثوري والحمادان، حماد بن سلمة بن دينار، وحماد بن زيد بن درهم، وشعبة. وذكر عن الشافعي رضي الله عنه أنه قال: من أراد أن يتبحر في المغازي فهو عيال على ابن إسحاق (1).
وأما الرواة الذين رووا هذا الكتاب عنه فكثيرون منهم يونس (2) بن بكير
--------------------------------------------
তার গ্রাম বাযামে পৌঁছালে হাদিসের ছাত্ররা তার কাছে বেরিয়ে এল। তিনি তাদের বললেন: "সেই টেরা চোখের কিশোরটির (অর্থাৎ ইবন ইসহাক) ব্যাপারে তোমাদের কী অভিমত?" ইয়াহইয়া ইবন মাঈন, আহমাদ ইবন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা ইবন ইসহাককে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং তার হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আলী ইবন উমর আদ-দারাকুতনি তার 'আস-সুনান' গ্রন্থে 'কুল্লাতাইন' সংক্রান্ত হাদিসটি এর সমস্ত সূত্রসহ উল্লেখ করেছেন এবং এতে যে অস্থিরতা রয়েছে তাও বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি একটি বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: "এটি মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের প্রখর মুখস্থশক্তি এবং তার অত্যন্ত নিখুঁত পারদর্শিতার প্রমাণ দেয়।" গ্রন্থকার বলেন: ইমাম বুখারি তাকে নির্ভরযোগ্য বলা সত্ত্বেও তার থেকে হাদিস গ্রহণ করেননি। একইভাবে মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজও তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, কিন্তু—রজম সংক্রান্ত একটি হাদিস ব্যতীত—তার থেকে কোনো হাদিস গ্রহণ করেননি। এর কারণ হলো তার ব্যাপারে ইমাম মালিকের সমালোচনা। ইমাম মালিক তার ব্যাপারে সমালোচনা করেছিলেন এই কারণে—যা আবু উমর (রাহিমাহুল্লাহ) আবদুল্লাহ ইবন ইদরিস আল-আওদি থেকে উল্লেখ করেছেন—যে, তার কাছে সংবাদ পৌঁছেছিল যে ইবন ইসহাক বলেছিলেন: "তোমরা মালিকের হাদিস নিয়ে এসো, আমি সেগুলোর ত্রুটি নিরূপণে পারদর্শী।" এতে মালিক বলেছিলেন: "ইবন ইসহাক আবার কে? সে তো দাজ্জালদের মধ্যে একজন দাজ্জাল, আমরা তাকে মদিনা থেকে বের করে দিয়েছি।"
খাতিব আহমাদ ইবন আলী ইবন সাবিত তার ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, কাসিম ইবন মুহাম্মদ এবং আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে সুফিয়ান সাওরি, দুই হাম্মাদ—হাম্মাদ ইবন সালামা ইবন দিনার ও হাম্মাদ ইবন যায়েদ ইবন দিরহাম—এবং শু'বাহ বর্ণনা করেছেন। শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি মাগাযি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে ইবন ইসহাকের মুখাপেক্ষী।"
আর যারা তার থেকে এই কিতাবটি বর্ণনা করেছেন, তারা সংখ্যায় অনেক; তাদের মধ্যে ইউনুস ইবন বুকাইর অন্যতম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الشيباني، ومحمد بن فليح (1)، والبكائي، وإبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف (2)، وعبد الله بن إدريس (3)، وسلمة بن الفضل الأسدي (4).
ونذكر البكائي لأنه شيخ ابن هشام وهو: أبو محمد زياد بن عبد الله بن طفيل بن عامر القيسي العامري وهو ثقة خرج له البخاري في كتاب الجهاد، وخرج له مسلم في مواضع من كتابه، وحسبك بهذا تزكية، وقد روى زياد عن حميد الطويل، وذكر البخاري في التاريخ عن وكيع قال: زياد أشرف من أن يكذب في الحديث (5).
قام العلامة الأستاذ محمد بن حميد الله بنشر أجزاء من سيرة ابن إسحاق الأصلية والتي وجدت مخطوطاتها في المغرب ودمشق. وليس بين يدينا من سيرة ابن إسحاق إلا هذه القطع المتناثرة، وهي لم يدخلها تهذيب ابن هشام بل بقيت على الأصل، وكان هذا في عام 1396 للهجرة، ويوجد بعض المخطوطات المتناثرة يقال أنها من سيرة ابن إسحاق في قسم المخطوطات بجامعة أم القرى في مكتبة معهد البحوث العلمية تحتاج إلى تحقيق وتوثيق.
--------------------------------------------
শাইবানি, মুহাম্মাদ বিন ফুলাইহ (১), আল-বুকায়ি, ইবরাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ (২), আব্দুল্লাহ বিন ইদ্রিস (৩) এবং সালামাহ বিন আল-ফাদল আল-আসাদি (৪)।
আমরা আল-বুকায়ির কথা উল্লেখ করছি কারণ তিনি ইবনে হিশামের উস্তাদ। তিনি হলেন: আবু মুহাম্মাদ জিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ বিন তোফায়েল বিন আমির আল-কায়সি আল-আমিরি। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী, ইমাম বুখারি তাঁর থেকে ‘কিতাবুল জিহাদ’-এ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর প্রশংসার জন্য এটাই যথেষ্ট। জিয়াদ ‘হুমাইদ আত-তবিল’ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারি ‘আত-তারিখ’ গ্রন্থে ওকি’ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: জিয়াদ হাদিস বর্ণনায় মিথ্যা বলার ঊর্ধ্বে অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি (৫)।
আল্লামা উস্তাদ মুহাম্মাদ বিন হামিদুল্লাহ ইবনে ইসহাকের মূল সিরতের কিছু অংশ প্রকাশ করেছেন যার পাণ্ডুলিপি মরক্কো ও দামেস্কে পাওয়া গিয়েছিল। আমাদের হাতে ইবনে ইসহাকের সিরতের এই বিক্ষিপ্ত অংশগুলো ব্যতীত আর কিছুই নেই; আর এগুলোতে ইবনে হিশামের পরিমার্জন প্রবেশ করেনি বরং এগুলো মূল রূপেই রয়ে গেছে। এটি হিজরি ১৩৯৬ সনের ঘটনা। উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরিতে কিছু বিক্ষিপ্ত পাণ্ডুলিপি রয়েছে যেগুলোকে ইবনে ইসহাকের সিরত বলা হয়, তবে সেগুলো তাহকিক ও প্রমাণীকরণ প্রয়োজন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وكلمة عن ابن هشام وعمله في سيرة ابن إسحاق:هو أبو محمد عبد الملك بن هشام بن أيوب الحميري .. نشأ في البصرة، ثم نزل مصر .. والقول في وفاته غير مقطوع فيه برأي بين 213 هـ أو 218 هـ وكان إماما في النحو واللغة العربية، ويحدثنا عنه الذهبي وابن كثير أنه حين جاء إلى مصر اجتمع به الشافعي، وتناشدا من أشعار العرب: أشياء كثيرة.
وأما عمله في السيرة فكما قال عن نفسه: وأنا إن شاء الله مبتدئ هذا الكتاب بذكر إسماعيل بن إبراهيم ومن ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم من ولده، وأولادهم لأصلابهم، الأول فالأول، من إسماعيل إلى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، وما يعرض من حديثهم، وتارك ذكر غيرهم من ولد إسماعيل على هذه الجهة للاختصار إلى حديث أسرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتارك بعض ما يذكره ابن إسحاق في هذا الكتاب مما ليس لرسول الله صلى الله عليه وسلم فيه ذكر، ولا نزل فيه من القرآن شيء، وليس سببا لشيء من هذا الكتاب، ولا تفسيرا له ولا شاهدا عليه، لما ذكرت من الاختصار، وأشعارا ذكرها لم أر أحدا من أهل العلم بالشعر يعرفها، وأشياء بعضها يشنع الحديث به، وبعض يسوء بعض الناس ذكره، وبعض لم يقر لنا البكائي بروايته ومستقص إن شاء الله تعالى ما سوى ذلك منه بمبلغ الرواية له والعلم به.
السيرة النبوية خلال القرون:كان المشتغلون بالسيرة أولا محدثين ناقلين. ثم رأينا من جاء بعدهم جامعين مبوبين، ولما استوى للمتأخرين ما جمع المتقدمون، جاء طور النقد
ইবনে হিশাম এবং ইবনে ইসহাকের সীরাতে তাঁর কাজ সম্পর্কে একটি বক্তব্য:তিনি হলেন আবু মুহাম্মাদ আবদুল মালিক ইবনে হিশাম ইবনে আইয়ুব আল-হিময়ারি... তিনি বসরায় বেড়ে ওঠেন, অতঃপর মিশরে বসতি স্থাপন করেন... তাঁর মৃত্যুর সময়কাল সম্পর্কে কোনো অকাট্য মত নেই, তবে তা ২১৩ হিজরি অথবা ২১৮ হিজরির মধ্যবর্তী কোনো এক সময়। তিনি নাহু (ব্যাকরণ) এবং আরবি ভাষায় ইমাম ছিলেন। আয-যাহাবি এবং ইবনে কাসির আমাদের জানান যে, তিনি যখন মিশরে আসেন তখন ইমাম শাফেঈর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয় এবং তাঁরা একে অপরকে আরবের অনেক কবিতা পাঠ করে শোনান।
সীরাতশাস্ত্রে তাঁর কাজ সম্পর্কে তিনি যেমনটি নিজে বলেছেন: "আমি আল্লাহ চাহেন তো এই কিতাবটি ইব্রাহিমের পুত্র ইসমাইলের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি এবং ইসমাইলের বংশধরদের মধ্য থেকে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বপুরুষ ছিলেন—তাদের পর্যায়ানুক্রমিক বর্ণনা ইসমাইল থেকে শুরু করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত নিয়ে আসছি। সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি ইসমাইলের অন্যান্য সন্তানদের বর্ণনা বাদ দিয়ে সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধরদের বর্ণনায় চলে আসছি। এছাড়া ইবনে ইসহাক এই কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্য থেকে এমন কিছু বিষয় আমি বাদ দিয়েছি যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো উল্লেখ নেই, সে সম্পর্কে কুরআনের কোনো আয়াত নাজিল হয়নি, যা এই কিতাবের কোনো বিষয়ের কারণ নয়, এর ব্যাখ্যা নয় কিংবা এর সপক্ষে কোনো প্রমাণও নয়। আমি এগুলো সংক্ষেপ করার স্বার্থেই বর্জন করেছি। এছাড়া তিনি এমন কিছু কবিতা উল্লেখ করেছেন যা কাব্য বিশেষজ্ঞদের কাউকে আমি চিনতে দেখিনি যে তাঁরা তা জানেন। আবার এমন কিছু বিষয় ছিল যা বর্ণনা করা অশোভন হতে পারে এবং কিছু বিষয় কারও কারও নিকট অপ্রীতিকর মনে হতে পারে। আর কিছু অংশ আল-বুকায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করার বিষয়টি স্বীকার করেননি। ইনশাআল্লাহ, এর বাইরে যা কিছু আছে তা আমি বর্ণনার গভীরতা ও জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।"
শতাব্দী পরম্পরায় সীরাতুন নবী:সীরাত চর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা প্রথমদিকে ছিলেন হাদিস বিশারদ ও বর্ণনাকারী। অতঃপর আমরা তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে দেখি যারা সংকলক ও বিষয়ভিত্তিক বিন্যাসকারী হিসেবে আবির্ভূত হন। আর যখন পূর্ববর্তীদের সংগৃহীত বিষয়গুলো পরবর্তীদের নিকট সুসংহত হলো, তখন শুরু হলো পর্যালোচনা ও সমালোচনার যুগ।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والتعليق وعلى سبيل المثال لا الحصر نذكر:
1 - المغازي لمحمد بن عمر الواقدي المتوفى سنة 207 هـ وقد طبعت بتحقيق الدكتور مارسذن جونس.
2 - ابن فارس اللغوي المتوفى بالري سنة 395 هـ وللسيرة التي كتبها نسختان مخطوطتان بدار الكتب المصرية ونسخة في مكتبة السليمانية باستانبول.
3 - جوامع السير لابن حزم المتوفى سنة 456 هـ.
4 - الدرر في اختصار المغازي والسير لابن عبد البر المتوفى سنة 463 هـ.
5 - الاكتفاء في مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم والثلاثة الخلفاء للكلاعي المتوفى سنة 643 هـ.
6 - ابن سيد الناس المصري الشافعي وكتابه عيون الأثر، والمتوفى سنة 734 هـ.
7 - شهاب الدين الرعيني الغرناطي المتوفى سنة 779 هـ له رسالة في السيرة والمولد النبوي بدار الكتب الوطنية بمصر.
8 - ابن جابر الأندلسي المتوفى سنة 780 هـ وكتابه رسالة في السيرة والمولد بدار الكتب المصرية.
9 - محمد بن يوسف الصالحي صاحب السيرة الشامية، ويطبعها مجمع البحوث الإسلامية في ثلاثة عشر جزءا المتوفى سنة 942 هـ.
10 - علي بن برهان الدين صاحب السيرة الحلبية والمتوفى سنة 1044 هـ.
***
এবং ব্যাখ্যামূলক আলোচনা হিসেবে, উদাহরণস্বরূপ কিন্তু সীমাবদ্ধ না রেখে আমরা উল্লেখ করছি:
১ - মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদি (মৃত্যু ২০৭ হিজরি) রচিত 'আল-মাগাজি'; এটি ডক্টর মার্সডেন জোন্স-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।
২ - ভাষাবিদ ইবনে ফারিস, মৃত্যু ৩৯৫ হিজরিতে রায় শহরে; তাঁর রচিত সীরাত গ্রন্থের দুটি পাণ্ডুলিপি মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ এবং একটি কপি ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে।
৩ - ইবনে হাজম (মৃত্যু ৪৫৬ হিজরি) রচিত 'জাওয়ামিউস সিয়ার'।
৪ - ইবনে আবদিল বার (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি) রচিত 'আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাজি ওয়াস সিয়ার'।
৫ - আল-কালাই (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি) রচিত 'আল-ইকতিফা ফি মাগাজি রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াল খুলাফা আস-সালাসাহ'।
৬ - ইবনে সাইয়্যিদুন নাস আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি এবং তাঁর রচিত গ্রন্থ 'উইউনুল আসার'; তিনি ৭৩৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
৭ - শিহাব উদ্দিন আর-রুয়াইনি আল-গারনাতি (মৃত্যু ৭৭৯ হিজরি); মিশরের জাতীয় গ্রন্থাগারে (দারুল কুতুব আল-ওয়াতানিয়্যাহ) সীরাত এবং নবীজির জন্ম (মাওলিদ) বিষয়ে তাঁর একটি রিসালাহ (প্রবন্ধ) রয়েছে।
৮ - ইবনে জাবির আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৮০ হিজরি) এবং তাঁর গ্রন্থ 'রিসালাহ ফিস সিরাহ ওয়াল মাওলিদ', যা মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ সংরক্ষিত আছে।
৯ - মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আস-সালিহি, যিনি 'আস-সিরাহ আশ-শামিয়্যাহ'-এর রচয়িতা; এটি ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি (মাজমাউল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ) থেকে ১৩ খণ্ডে মুদ্রিত হচ্ছে; তিনি ৯৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
১০ - আলী বিন বুরহান উদ্দিন, যিনি 'আস-সিরাহ আল-হালাবিয়্যাহ'-এর রচয়িতা; তিনি ১০৪৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
***
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الفصل الثانيالنبوة
حاجة البشر إلى الأنبياء:خلق الله تعالى آدم عليه السلام، وأهبطه إلى الأرض، وأهبط الشيطان معه {قلنا اهبطوا منها جميعا فإما يأتينكم مني هدى فمن تبع هداي فلا خوف عليهم ولا هم يحزنون * والذين كفروا وكذبوا بآياتنا أولئك أصحاب النار هم فيها خالدون} (1).
وإبليس منذ أن عصى ربه: {قال أنظرني إلى يوم يبعثون * قال إنك من المنظرين * قال فبما أغويتني لأقعدن لهم صراطك المستقيم * ثم لآتينهم من بين أيديهم ومن خلفهم وعن أيمانهم وعن شمائلهم ولا تجد أكثرهم شاكرين} (2).
وقد أوصى إبليس ذريته بهذه المهمة أن يفسدوا فطرة بني آدم ويضلوهم ويغووهم «.. وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم (3) عن دينهم وحرمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرتهم أن يشركوا بي ما لم أنزل به سلطانا» (4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়নবুয়ত
নবীদের প্রতি মানবজাতির প্রয়োজনীয়তা:মহান আল্লাহ আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে পৃথিবীতে নামিয়ে দিয়েছেন, আর শয়তানকেও তার সাথে নামিয়ে দিয়েছেন: "আমরা বললাম, তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো পথনির্দেশনা আসে, তবে যারা আমার পথনির্দেশ অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না। আর যারা কুফরি করে এবং আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে, তারা আগুনের (জাহান্নামের) অধিবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।" (১)।
আর ইবলিস যখন থেকে তার রবের অবাধ্য হয়েছে: "সে বলল, আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ বললেন, নিশ্চয়ই তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। সে বলল, আপনি যেহেতু আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে বসে থাকব। তারপর আমি অবশ্যই তাদের নিকট আসব তাদের সামনের দিক থেকে, তাদের পিছন দিক থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।" (২)।
আর ইবলিস তার বংশধরদের এই কাজের অসিয়ত (নির্দেশ) করেছে যে, তারা যেন আদম সন্তানদের ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি) নষ্ট করে দেয় এবং তাদেরকে পথভ্রষ্ট ও প্ররোচিত করে: "...নিশ্চয়ই আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের নিকট শয়তানরা এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দেয় (৩), আর আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছি তা তাদের জন্য হারাম করে দেয় এবং তাদেরকে নির্দেশ দেয় যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যে ব্যাপারে আমি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করিনি।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وشاءت حكمته تعالى أن لا يدع البشر نهبة للشياطين، إنما أرسل إليهم الرسل {كان الناس أمة واحدة فبعث الله النبيين مبشرين ومنذرين وأنزل معهم الكتاب بالحق ليحكم بين الناس فيما اختلفوا فيه ..} (1).
وبذلك تقوم الحجة على الخلق كافة {ولقد بعثنا في كل أمة رسولا أن اعبدوا الله واجتنبوا الطاغوت ..} (2) .. {
… وإن من أمة إلا خلا فيها نذير} (3) .. {رسلا مبشرين ومنذرين لئلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل ..} (4).
(ومن ها هنا تعلم اضطرار العباد فوق كل ضرورة إلى معرفة الرسول، وما جاء به، وتصديقه فيما أخبر به، وطاعته فيما أمر، فإنه لا سبيل إلى السعادة والفلاح لا في الدنيا ولا في الآخرة إلا على أيدي الرسل عليهم الصلاة والسلام، ولا سبيل إلى معرفة الطيب والخبيث على التفصيل إلا من جهتهم، ولا ينال رضا الله البتة إلا على أيديهم، فالطيب من الأعمال والأقوال والأخلاق ليس إلا هديهم. وما جاؤوا به، فهم الميزان الراجح الذين على أقوالهم وأعمالهم وأخلاقهم توزن الأقوال والأعمال والأخلاق، وبمتابعتهم يتميز أهل الهدى من أهل الضلال، فالضرورة إليهم أعظم من ضرورة البدن إلى روحه، والعين إلى نورها، والروح إلى حياتها، فأي ضرورة وحاجة فرضت، فضرورة العبد وحاجته إلى الرسل فوقها بكثير) (5).
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলার প্রজ্ঞা এটাই চেয়েছে যে, তিনি মানবজাতিকে শয়তানদের শিকার হিসেবে ছেড়ে দেবেন না; বরং তিনি তাদের নিকট রাসূলদের পাঠিয়েছেন। {মানুষেরা একই উম্মতভুক্ত ছিল, অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীদের পাঠালেন এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব নাযিল করলেন, যাতে মানুষেরা যে বিষয়ে মতভেদ করছিল তা তিনি মীমাংসা করে দেন...} (১)।
আর এর মাধ্যমেই সকল সৃষ্টির ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। {আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো...} (২) .. {
... এমন কোনো জাতি নেই যার নিকট সতর্ককারী অতিক্রান্ত হয়নি} (৩) .. {রাসূলদের পাঠানো হয়েছে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, যাতে রাসূলদের (আগমনের) পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো প্রমাণ বা অজুহাত না থাকে...} (৪)।
(এখান থেকেই আপনি জানতে পারবেন যে, রাসূলকে জানা, তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা জানা, তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে সত্যায়ন করা এবং তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করার ক্ষেত্রে বান্দার মুখাপেক্ষিতা যে কোনো প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে। কেননা দুনিয়া ও আখিরাতে সুখ ও সফলতা লাভের কোনো পথ রাসূলদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) মাধ্যম ব্যতীত নেই। আর বিস্তারিতভাবে পবিত্র ও অপবিত্রের পার্থক্য নিরূপণের কোনো পথ তাদের মাধ্যম ছাড়া নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টি কোনোভাবেই তাঁদের মাধ্যম ছাড়া অর্জিত হবে না। সুতরাং উত্তম আমল, কথা ও চরিত্র কেবল তাঁদের হেদায়াত এবং তাঁরা যা নিয়ে এসেছেন তা-ই। তাঁরাই হলেন সেই নির্ভুল মানদণ্ড, যাঁদের কথা, কাজ ও চরিত্রের নিরিখে সকল কথা, কাজ ও চরিত্রকে পরিমাপ করা হবে। তাঁদের অনুসরণের মাধ্যমেই হেদায়াতপ্রাপ্তরা বিভ্রান্তদের থেকে পৃথক হয়। তাই রাসূলদের প্রতি মুখাপেক্ষিতা শরীরের জন্য রুহ, চোখের জন্য আলো এবং রুহের জন্য জীবনের প্রয়োজনীয়তার চেয়েও অনেক বড়। সুতরাং যে কোনো প্রয়োজনীয়তা বা অভাবই কল্পনা করা হোক না কেন, রাসূলদের প্রতি বান্দার প্রয়োজনীয়তা ও মুখাপেক্ষিতা তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ৩২)
حاجتهم إلى خاتم الأنبياء:وشاءت إرادته سبحانه أن يختم الأنبياء والرسل في الأرض بمحمد صلى الله عليه وسلم لأن يختم الرسالات بالإسلام الذي نزله عليه، لأن يكون بشيرا ونذيرا للناس كافة إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها.
ويوم أن كانت بعثة النبي صلى الله عليه وسلم كانت الأرض قد ظهر فيها الفساد في البر والبحر بما كسبت أيدي الناس، ونخرت الأرض بالضلالات. حتى آذن الله تعالى بإشراق شمس الإسلام التي بددت الظلمات المتكاثفة بعضها فوق بعض، وكانت البعثة النبوية إيذانا ببزوغ فجر جديد ليضيئ بنوره الخافقين «وإن الله نظر إلى أهل الأرض فمقتهم (1) عربهم وعجمهم إلا بقايا من أهل الكتاب (2) وقال: إنما بعثتك لأبتليك وأبتلي بك، وأنزلت عليك كتابا لا يغسله الماء تقرؤه نائما ويقظان ..» (3).
لقد كانت البشرية على شفا الهاوية فأنقذها الله بمحمد صلى الله عليه وسلم {
… وكنتم على شفا حفرة من النار فأنقذكم منها كذلك يبين الله لكم آياته لعلكم تهتدون} (4).
(وما ظنك بمن إن غاب عنك هديه وما جاء به طرفة عين فسد قلبك ولكن لا يحس بهذا إلا قلب حي «وما لجرح بميت إيلام»، وإذا كانت
--------------------------------------------
শেষ নবীর প্রতি তাদের প্রয়োজনীয়তা:এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছা হলো যে, তিনি পৃথিবীতে নবী ও রাসূলগণের ধারাবাহিকতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে সমাপ্ত করবেন, যাতে তাঁর ওপর অবতীর্ণ ইসলামের মাধ্যমে সকল রিসালাত পূর্ণতা পায়, এবং আল্লাহ পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হওয়া পর্যন্ত তিনি যেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হন।
আর যেদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হয়েছিলেন, সেদিন মানুষের হাতের কামাইয়ের কারণে স্থলে ও জলে বিপর্যয় প্রকাশ পেয়েছিল এবং পৃথিবী পথভ্রষ্টতায় জর্জরিত ছিল। অবশেষে মহান আল্লাহ ইসলামের সূর্যোদয়ের অনুমতি দিলেন যা স্তরে স্তরে পুঞ্জীভূত অন্ধকারকে দূরীভূত করল। নববী প্রেরন ছিল এক নতুন ভোরের সূচনা যা তার আলোতে পূর্ব ও পশ্চিমকে আলোকিত করে। "নিশ্চয়ই আল্লাহ জগদ্বাসীর দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং আহলে কিতাবদের কিছু অবশিষ্ট লোক ছাড়া তাদের আরব ও অনারব সকলের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন (১) এবং বললেন: আমি আপনাকে কেবল এজন্যই পাঠিয়েছি যেন আপনাকে পরীক্ষা করি এবং আপনার মাধ্যমে অন্যদের পরীক্ষা করি। আর আমি আপনার ওপর এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাকে পানি ধুয়ে ফেলতে পারবে না, যা আপনি নিদ্রা ও জাগ্রত উভয় অবস্থায় পাঠ করবেন..." (৩)।
মানবজাতি ধ্বংসের গহ্বরের কিনারে ছিল, অতঃপর আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে তাদের রক্ষা করলেন {... এবং তোমরা অগ্নিকুণ্ডের কিনারে ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করেছেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনাবলী বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও} (৪)।
(আর আপনার সেই সত্তা সম্পর্কে কী ধারণা, যার হেদায়েত এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা যদি এক পলকের জন্যও আপনার থেকে অনুপস্থিত থাকে তবে আপনার অন্তর কলুষিত হয়ে যাবে; কিন্তু এটি কেবল একটি জীবিত অন্তরই অনুভব করতে পারে, "মৃতের আঘাতের কোনো বেদনা নেই", এবং যদি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিমুনীরিল গাদবান
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
السعادة معلقة بهديه صلى الله عليه وسلم فيجب على كل من أحب نجاة نفسه أن يعرف هديه وسيرته وشأنه ما يخرج به من خطة الجاهلين) (1).
الإيمان هو الأصل والشرك طارئ:خلق الله تعالى الخلق كافة على الفطرة، قد جبلها الله على التوحيد {وإذ أخذ ربك من بني آدم من ظهورهم ذريتهم وأشهدهم على أنفسهم ألست بربكم قالوا بلى شهدنا أن تقولوا يوم القيامة إنا كنا عن هذا غافلين * أو تقولوا إنما أشرك آباؤنا من قبل وكنا ذرية من بعدهم أفتهلكنا بما فعل المبطلون} (2).
ولا عذر لمشرك بعد هذا الميثاق، وبعد التذكير به على لسان الرسل جميعا على مدار التاريخ والمخلوق الذي يخلق إنما يخلق حنيفا مسلما على فطرة التوحيد ابتداء «كل مولود يولد على الفطرة، حتى يعرب لسانه، فأبواه يهودانه، أو ينصرانه، أو يمجسانه» (3).
والشياطين هي التي اجتالت بني آدم وحرفتهم عن التوحيد إلى الشرك كما مر في الحديث السابق وأحلت لهم ما حرم عليهم، وحرمت عليهم ما أحل الله لهم، وأمرتهم أن يشركوا بالله ما لم ينزل به سلطانا.
ويستوي في ذلك شياطين الإنس والجن {وكذلك جعلنا لكل نبي عدوا
--------------------------------------------
সুখ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশনার সাথে সম্পৃক্ত; তাই যে ব্যক্তি নিজের মুক্তি চায়, তার জন্য আবশ্যক হলো তাঁর নির্দেশনা, সীরাত এবং অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া, যার মাধ্যমে সে মূর্খদের পথ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে (১)।
ঈমানই হলো মূল ভিত্তি এবং শিরক হলো উত্তরকালীন বিচ্যুতি:আল্লাহ তাআলা সমস্ত সৃষ্টিকে ফিতরাতের (সহজাত স্বভাব) ওপর সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাদের তাওহীদের ওপর প্রকৃতিগতভাবে তৈরি করেছেন {আর যখন আপনার রব বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদের বের করে আনলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী করলেন যে, ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম।’ যেন তোমরা কিয়ামতের দিন বলতে না পারো যে, ‘আমরা তো এ বিষয়ে অসতর্ক ছিলাম।’ অথবা তোমরা বলতে না পারো যে, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরাই তো ইতিপূর্বে শিরক করেছিল, আর আমরা ছিলাম তাদের পরবর্তী বংশধর। তবে কি আপনি বাতিলপন্থীদের কর্মের জন্য আমাদের ধ্বংস করবেন?’} (২)।
এই অঙ্গীকারের পর এবং সমগ্র ইতিহাস জুড়ে সকল রাসূলের জবানে এর স্মারক পৌঁছানোর পর কোনো মুশরিকের জন্য আর কোনো ওজর বা অজুহাত নেই। প্রতিটি সৃষ্টি জন্মলগ্নে তাওহীদের ফিতরাতের ওপর একনিষ্ঠ মুসলিম হিসেবেই জন্ম নেয়। «প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে, যতক্ষণ না তার জিহ্বা কথা বলতে শুরু করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদী বানায়, অথবা খ্রিষ্টান বানায়, অথবা অগ্নিপূজারী বানায়» (৩)।
আর শয়তানরাই বনী আদমকে বিভ্রান্ত করেছে এবং তাদের তাওহীদ থেকে বিচ্যুত করে শিরকের দিকে ধাবিত করেছে, যেমনটি পূর্ববর্তী হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তারা তাদের জন্য সেগুলোকে হালাল করেছে যা তাদের ওপর হারাম করা হয়েছিল, আর যা আল্লাহ তাদের জন্য হালাল করেছিলেন তা তাদের ওপর হারাম করেছে। আর তারা তাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি।
এ ক্ষেত্রে মানুষ ও জিন শয়তান উভয়ই সমান {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য শত্রু বানিয়েছি...
--------------------------------------------