(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: -)
التخريج عند الفقهاء والأصوليين القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: التخريج عند الفقهاء والأصوليين (دراسة نظرية تطبيقية تأصيلية)
المؤلف: يعقوب بن عبد الوهاب الباحسين، الأستاذ المشارك بقسم أصول الفقه بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
الناشر: مكتبة الرشد - الرياض
عام النشر: 1414 هـ
عدد الصفحات: 395
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 شوّال 1435
ফকিহ ও উসুলবিদদের নিকট তাখরিজ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ
বই: ফকিহ ও উসুলবিদদের নিকট তাখরিজ (একটি তাত্ত্বিক, প্রায়োগিক ও মৌলিক গবেষণা)
লেখক: ইয়াকুব বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-বাহুসাইন, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুল ফিকহ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ
প্রকাশকাল: ১৪১৪ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৫
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: নাসাখ অ্যাসোসিয়েশন দল, সৌজন্যে (সায়েন্টিফিক এলিট সেন্টার)
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ শাওয়াল ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
التخريج
عند الفقهاء والأصوليين
(دراسة نظرية تطبيقية تأصيلية)
الدكتور
يعقوب بن عبد الوهاب الباحسين
الأستاذ المشارك بقسم أصول الفقه
بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
مكتبة الرشد
الرياض
আত-তাখরিজ
ফকিহ ও উসুলবিদগণের নিকট
(একটি তাত্ত্বিক, প্রায়োগিক ও মূলনীতি-ভিত্তিক গবেষণা)
ডক্টর
ইয়াকুব বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-বাহুসাইন
উসুলুল ফিকহ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে
মাকতাবাতুর রুশদ
রিয়াদ
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةالحمد لله على كثير فضله وعظيم آلائه، والصلاة والسلام على نبينا محمد خاتم رسله وأنبيائه.
وبعد:
فمنذ سنوات غير قليلة، بل منذ أن أقرت جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية تدريس موضوع (تخريج الفروع على الأصول) على طلبة الدراسات العليا، وأنا أقوم بتدريس هذه المادة، وحينما بدأت لم يكن هناك منهج محدد، ولا معالم معينة لهذا الموضوع، وقد قمت بالاتصال بجهات عدة، وبذلت جهوداً شخصية لدى عدد من أساتذة الجامعات الإسلامية، وطلبة الدراسات العليا فيها، ممن كان لهم سبق زمني في إقرار تدريس هذه المادة، فلم أظفر من ذلك بطائل، ولا وجدت ما يشفي الغليل، لكني وجدت أنّ منهج الدراسات العليا في جامعة أم القرى، اشتمل على أمرين:
الأمر الأول: كان يضم تمهيداً في التعريف بعلم تخريج الفروع على الأصول، وأهميته، ونشأته وتطوره ومصادره والتعريف بها، وعلاقة هذا العلم بعلم الأصول، والفرق بينه وبين علمي الأشباه والنظائر والفروق.
كما ضم البحث عن أسباب الاختلاف في الفروع.
والأمر الثاني: كان قسماً تطبيقياً يتضمن دراسة عدد من الموضوعات، منها ما هو قواعد مختلف فيها، ومنها ما هي أدلة مختلف فيها.
ولم أردت أن أعرف طبيعة ما درس في موضوعات الأمر الأول، لم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর অগাধ অনুগ্রহ ও মহান নিয়ামতসমূহের ওপর, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর, যিনি তাঁর সকল রাসূল ও নবীগণের সমাপ্তিকারী।
অতঃপর:
বেশ কয়েক বছর আগে থেকে, বরং ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় যখন থেকে উচ্চতর গবেষণার শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মূলনীতির আলোকে শাখাগত মাসআলার বিন্যাস’ (তাখরিজুল ফুরু আলাল উসুল) বিষয়টি পাঠদান অনুমোদন করেছে, তখন থেকেই আমি এই বিষয়টি পড়িয়ে আসছি। আমি যখন এটি শুরু করি, তখন এই বিষয়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম বা সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না। আমি বিভিন্ন পক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু অধ্যাপক ও উচ্চতর গবেষণার শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যক্তিগতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছি—যাদের এই বিষয়টি পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা ছিল—কিন্তু আমি তাতে বিশেষ কোনো ফল পাইনি এবং এমন কিছু খুঁজে পাইনি যা জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে। তবে আমি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণার পাঠ্যক্রমে দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত পেয়েছি:
প্রথম বিষয়: এতে ‘মূলনীতির আলোকে শাখাগত মাসআলার বিন্যাস’ শাস্ত্রের পরিচিতি, এর গুরুত্ব, উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ ও এর উৎসসমূহ এবং তাদের পরিচিতি, এবং উসুল শাস্ত্রের সাথে এই শাস্ত্রের সম্পর্ক এবং ‘সদৃশ ও সমজাতীয় বিষয়াবলি’ (আশবাহ ও নাযাইর) ও ‘পার্থক্য’ (ফুরুক) শাস্ত্রদ্বয়ের সাথে এর পার্থক্যের ওপর একটি উপক্রমণিকা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পাশাপাশি এতে শাখাগত মাসআলায় মতভেদের কারণসমূহ নিয়ে গবেষণাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দ্বিতীয় বিষয়: এটি ছিল একটি প্রায়োগিক অংশ যাতে বেশ কিছু বিষয়ের অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল; যার মধ্যে কিছু ছিল মতভেদপূর্ণ মূলনীতি এবং কিছু ছিল মতভেদপূর্ণ দলিলসমূহ।
আর যখন আমি প্রথম বিষয়ের অন্তর্গত বিষয়গুলোতে যা পড়ানো হয়েছে তার প্রকৃতি জানতে চাইলাম, তখন আমি...
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
أجد هناك مادة مدروسة تحدد العلم، وتبين نطاقه ومشتملاته، ولهذا فقد اتخذت من تصوراتي منطلقاً لبيان أبعاد هذا الموضوع. وكانت هذه التصورات في بداية الأمر، محدودة، تقتصر على تخريج الفروع على الأصول، متخذة من منهج الزنجاني، وتصوراته مثالاً يحتذى، غير أني لاحت عند ممارستي تدريس هذا العلم، والنظر في جوانبه المختلفة، أن نطاق التخريج أوسع من ذلك، وتكشفت لي خلال سنوات التدريس قضايا كثيرة، اضطررت معها إلى تغيير خطتي التدريسية، وإلى تنويع التخريج بحسب نتائجه وأصوله التي استند إليها، فتميزت لديّ ثلاثة أنواع من التخريج، هي:
الأول: تخريج الأصول من الفروع، وهو الأساس في تأسيس أصول فقه الأئمة الذين لم يدونوا أصولاً، ولم ينصوا على قواعدهم في الاستنباط، أو نصوا على قسم منها، ولم ينقل عنهم شيء بشأن قسمها الآخر.
الثاني: تخريج الفروع على الأصول، وهو النمط الظاهر في كتاب تخريج الفروع على الأصول للزنجاني، وما أشبهه من الكتب التي نحت هذا المنحى.
الثالث: تخريج الفروع على الفروع، وهو النوع الذي حظي بعناية الفقهاء والأصوليين أكثر من غيره، سواء كان في الكتب المفردة عن الافتاء، أو في الكتب الأصولية في مباحث الاجتهاد والتقليد، أو في مواضع منثورة من كتب الفقهاء.
ولم أجد دراسة نظرية تؤصل علم التخريج، وتبين لنا حدوده ومعالمه، ولكني أشيد بما نشره الزميل د/ عياض بن نامي السلمي في بحثه المنشور في مجلة جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية (1)، بعنوان: 0تحرير المقال فيما تصح نسبته للمجتهد من أقوال) ولكنه لم يبحث إلا في النوع الثالث من
--------------------------------------------
আমি সেখানে কোনো সুবিন্যস্ত বিষয়বস্তু পাইনি যা এই ইলমকে (বিজ্ঞানকে) সংজ্ঞায়িত করে এবং এর পরিধি ও বিষয়বস্তু বর্ণনা করে। এ কারণে আমি এই বিষয়ের দিকগুলো স্পষ্ট করার জন্য আমার নিজস্ব চিন্তাধারাকে প্রারম্ভিক বিন্দু হিসেবে গ্রহণ করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে এই চিন্তাধারা ছিল সীমাবদ্ধ, যা কেবল উসুলের (মূলনীতি) ভিত্তিতে ফুরু’ (শাখা মাসআলা) বের করার (তখরিজ) মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এক্ষেত্রে যিনজানির পদ্ধতি এবং তার ধারণাকে অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে এই ইলমটি পাঠদান এবং এর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার সময় আমার কাছে প্রতিভাত হলো যে, তখরিজের পরিধি এর চেয়েও ব্যাপক। শিক্ষকতার বছরগুলোতে আমার সামনে এমন অনেক বিষয় উন্মোচিত হয়েছে, যার ফলে আমি আমার পাঠদান পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে এবং তখরিজের ফলাফল ও এর ভিত্তিস্বরূপ উসুলের ধরন অনুযায়ী একে বৈচিত্র্যময় করতে বাধ্য হয়েছি। ফলে আমার কাছে তখরিজের তিনটি প্রকার সুস্পষ্ট হয়েছে, সেগুলো হলো:
প্রথম: ফুরু’ (শাখা মাসআলা) থেকে উসুল (মূলনীতি) বের করা। এটি মূলত সেই সমস্ত ইমামদের উসুলুল ফিকহ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি, যারা স্বতন্ত্রভাবে কোনো উসুল সংকলন করেননি এবং ইস্তিম্বাত বা বিধান আহরণের নিয়মাবলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি; অথবা কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন কিন্তু বাকি অংশ সম্পর্কে তাদের থেকে কিছুই বর্ণিত হয়নি।
দ্বিতীয়: উসুলের ভিত্তিতে ফুরু’ বের করা। এটি যিনজানি রচিত ‘তখরিজুল ফুরু’ আলাল উসুল’ এবং এই ধারায় রচিত অনুরূপ গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান একটি সুস্পষ্ট পদ্ধতি।
তৃতীয়: ফুরু’র ভিত্তিতে ফুরু’ বের করা। এটি এমন এক প্রকার যা ফকিহ ও উসুলিবিদগণের নিকট অন্য সব প্রকারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে; চাই তা ফতোয়া বিষয়ক স্বতন্ত্র গ্রন্থাবলিতে হোক, অথবা উসুলুল ফিকহের কিতাবসমূহের ইজতিহাদ ও তাকলিদ অধ্যায়ে হোক, কিংবা ফকিহগণের কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আলোচনার মধ্যে হোক।
আমি এমন কোনো তাত্ত্বিক গবেষণা পাইনি যা ‘ইলমুত তখরিজ’-এর তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপন করে এবং এর সীমানা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ আমাদের সামনে তুলে ধরে। তবে সহকর্মী ড. ইয়াদ বিন নামি আস-সুলামি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকীতে (১) প্রকাশিত তার গবেষণায় যা পেশ করেছেন, আমি তার প্রশংসা করি। গবেষণার শিরোনাম ছিল: ‘তাহরিরুল মাকাল ফিমা তাসিহ্হু নিসবাতুহু লিল মুজতাহিদি মিন আকওয়াল’ (মুজতাহিদের প্রতি যেসব উক্তি নিসবত করা সঠিক, সে সম্পর্কিত আলোচনার পরিশুদ্ধি)। তবে তিনি কেবল তৃতীয় প্রকারটি নিয়েই আলোচনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
التخريج، مقتصراً على بحث صحة نسبة الأقوال المخرجة إلى الأئمة، دون أن يوضح معالم هذا العلم، ولكنه كان لبنة قيمة في هذا المجال.
وقد أدى هذا التصور للتخريج أن أجري طائفة من التغييرات على ما كنت أعده من محاضرات بهذا الشأن، وعدلت فيما كنت أطرحه من آراء، فأصبحت أنظر إلى التخريج على أنه أنواع من العلوم، يشملها جنس واحد هو التخريج.
ومن الملاحظ أن الأنواع الثلاثة من التخريج التي ذكرتها آنفاً تمثل نوعين متعاكسين من التخريج، أحدهما يتجه إلى تخريج القواعد والضوابط الكلية من الفروع والجزئيات، وثانيهما يتجه، على العكس من ذلك، إلى تخريج الفروع والجزئيات، إما ببنائها على القواعد الكلية، أو ببنائها على جزئيات مثلها.
ولما استقر ذلك عندي، بدا لي أن أضيف إليه أمراً ذا صلة بالتخريج، هو صفات المجتهد وشروط العلماء الذين يقومون به، ومنزلتهم بين طبقات الفقهاء، ومراتب الأقوال التي يخرجونها، وتسميتها وصفاتها.
وتحت إلحاح الكثيرين من أخواني الأساتذة والعلماء، ومن أبنائي طلبة الدراسات العليا، رأيت إخراج ما تجمع لدي من معلومات عن هذا العلم، مع ثقتي بأنه في حاجة إلى زيادة تنقيح، وربما إلى إضافة ما يمكن أن يدخل في نطاقه. على أنه مهما يكن من أمر، فقد بذلت جهداً غير قليل في تأصيل هذا العلم، وإقامته على سوقه، وربما كانت هذه أول دراسة تأصيلية نظرية تطبيقية له. ولهذا فإن الباحث في حاجة إلى معرفة وجهات نظر العلماء وملحوظاتهم، من أجل تقويم هذا البحث وتلافي ما فيه من هنات.
وقد رتبت هذا البحث على تمهيد وبابين وخاتمة.
التمهيد: في تعريف التخريج لغة واصطلاحاً وبيان أنواعه.
الباب الأول: في أنواع التخريج، ويشتمل على ثلاثة فصول:-
তাখরিজ, যা ইমামগণের প্রতি আরোপিত উক্তিগুলোর বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের গবেষণায় সীমাবদ্ধ ছিল, এই বিদ্যার রূপরেখা স্পষ্ট না করেই; তবে এটি এই ক্ষেত্রে একটি মূল্যবান ভিত্তিপ্রস্তর ছিল।
তাখরিজ সম্পর্কে এই ধারণাটি আমাকে এই বিষয়ে প্রস্তুতকৃত লেকচারগুলোতে একগুচ্ছ পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে এবং আমি আমার উপস্থাপিত মতামতে সংশোধনী এনেছি। ফলে আমি এখন তাখরিজকে এমন এক ধরনের বিদ্যা হিসেবে দেখি যা বিভিন্ন প্রকার বিদ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর এর মূল সাধারণ শ্রেণীটি হলো তাখরিজ।
লক্ষ্যণীয় যে, পূর্বে আমি তাখরিজের যে তিনটি প্রকার উল্লেখ করেছি তা তাখরিজের দুটি বিপরীতমুখী ধারাকে উপস্থাপন করে। এর একটির লক্ষ্য হলো শাখা-প্রশাখা ও আংশিক বিষয় থেকে সামষ্টিক মূলনীতি ও নিয়মাবলি বের করা, আর দ্বিতীয়টির লক্ষ্য এর বিপরীত; অর্থাৎ শাখা-প্রশাখা ও আংশিক বিষয়গুলো বের করা—হয় সেগুলোকে সামষ্টিক মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে, অথবা অনুরূপ অন্য কোনো আংশিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে।
যখন বিষয়টি আমার কাছে সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন আমার কাছে মনে হলো যে এর সাথে তাখরিজ সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বিষয় যোগ করা উচিত; তা হলো মুজতাহিদের গুণাবলি এবং যে উলামায়ে কেরাম এই কাজ আঞ্জাম দেন তাদের শর্তাবলি, ফকিহদের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে তাদের অবস্থান, এবং তারা যে উক্তিগুলো তাখরিজ করেন সেগুলোর মানদণ্ড, নামকরণ ও বৈশিষ্ট্য।
আমার অনেক সহকর্মী অধ্যাপক ও আলিম এবং আমার উচ্চতর গবেষণারত ছাত্রবৃন্দের পীড়াপীড়িতে আমি এই বিদ্যা সম্পর্কে আমার কাছে জমা হওয়া তথ্যগুলো প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও আমার বিশ্বাস যে এতে আরও পরিমার্জন প্রয়োজন এবং সম্ভবত এর পরিধিতে আসতে পারে এমন আরও কিছু সংযোজন করা দরকার। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি এই বিদ্যার তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপনে এবং একে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি। সম্ভবত এটিই এই বিষয়ের প্রথম মৌলিক তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক গবেষণা। এই কারণে গবেষকদের জন্য উলামায়ে কেরামের দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণগুলো জানা প্রয়োজন, যাতে এই গবেষণাকে মূল্যায়ন করা যায় এবং এর ভুলত্রুটিগুলো কাটিয়ে ওঠা যায়।
আমি এই গবেষণাকর্মটিকে একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।
ভূমিকা: তাখরিজের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা এবং এর প্রকারভেদের বর্ণনায়।
প্রথম অধ্যায়: তাখরিজের প্রকারভেদ সম্পর্কে, যা তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:-
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الأول: في تخريج الأصول من الفروع.
الفصل الثاني: في تخريج الفروع على الأصول.
الفصل الثالث: في تخريج الفروع على الفروع.
الباب الثاني: ويشتمل على ثلاثة فصول:
الفصل الأول: في مراتب المخرجين بين طبقات الفقهاء.
الفصل الثاني: في شروط وصفات علماء التخريج.
الفصل الثالث: في أنواع الأحكام المخرجة وصفاتها.
والخاتمة: في ذكر أحكام بعض الوقائع المعاصرة المخرجة على أصول وفروع الأئمة.
هذا والله أسأل أن يسدد على طريق الحق خطاي، وأن يلهمني، في ما أذهب إليه، الصواب .. وأن يريني الحق حقاً ويرزقني اتباعه، وأن يريني الباطل باطلاً ويرزقني اجتنابه.
وصلى الله على نبينا محمد
…
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফুরু (শাখা) হতে উসুল (মূলনীতি) উদ্ভাবন প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উসুল (মূলনীতি)-এর ভিত্তিতে ফুরু (শাখা) উদ্ভাবন প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফুরু (শাখা)-এর ভিত্তিতে ফুরু (শাখা) উদ্ভাবন প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি তিনটি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফকিহগণের স্তরের মধ্যে তাখরিজকারীগণের পর্যায়সমূহ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাখরিজ বিশেষজ্ঞ আলেমগণের শর্তাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উদ্ভাবিত বিধানসমূহের প্রকারভেদ ও সেগুলোর বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে।
উপসংহার: ইমামগণের উসুল ও ফুরুর ভিত্তিতে উদ্ভাবিত সমসাময়িক কিছু ঘটনার বিধান উল্লেখ প্রসঙ্গে।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি সত্যের পথে আমার পদযাত্রাকে সুদৃঢ় করেন, এবং আমি যে পথে চলি তাতে তিনি আমাকে সঠিক বিষয়ের অনুপ্রেরণা দান করেন.. আর তিনি যেন আমাকে সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তার অনুসরণের তাওফিক দান করেন, এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান ও তা বর্জনের তাওফিক দান করেন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক
…
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
تمهيدفي تعريف التخريج وبيان أنواعهمعناه في اللغة: قال ابن فارس: الخاء والراء والجيم أصلان.
قال: وقد يمكن الجمع فيهما:
فالأول: النفاذ عن الشيء.
والثاني: اختلاف لونين (1).
ويبدو من خلال تتبع معاني المادة في المعاجم أن المعنى الأول هو الأكثر استعمالاً، فالخروج عن الشيء هو النفاذ عنه وتجاوزه، ومنه خراج الأرض وهو غلتها.
ويبدو أن هذا المعنى هو الأقرب لما نحن فيه، فالتخريج مصدر للفعل خرج المضعف، وهوي فيد التعدية بأن لا يكون الخروج ذاتياً، بل من خارج عنه، ومثله أخرج الشيء واستخرجه فإنهما بمعنى استنبطه، وطلب إليه أن يخرج (2).
ويقال أيضاً خرج فلاناً في العلم أو الصناعة دربه وعلمه، والمصدر تخريج (3).
معناه في الاصطلاح:
وقد استعمل لفظ (التخريج) في طائفة من العلوم، فأصبحت
--------------------------------------------
ভূমিকাতাখরীজ-এর সংজ্ঞা এবং এর প্রকারভেদের বর্ণনায়ভাষাগত অর্থ: ইবনে ফারিস বলেন: খা, রা এবং জীম হলো দু’টি মূল অর্থবোধক শব্দ।
তিনি বলেন: আর এই দু’টির মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব:
প্রথমটি: কোনো কিছু থেকে বের হওয়া বা নির্গত হওয়া।
দ্বিতীয়টি: দু’টি বর্ণের ভিন্নতা বা বৈচিত্র্য (১)।
অভিধানগুলোতে এই মূলশব্দটির অর্থসমূহ অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, প্রথম অর্থটিই অধিক ব্যবহৃত। সুতরাং কোনো কিছু থেকে বের হওয়া (খুরুজ) হলো তা থেকে নির্গত হওয়া এবং তা অতিক্রম করা। আর এর থেকেই এসেছে ভূমির 'খারাজ', যা হলো এর উৎপন্ন ফসল।
আর এটিই প্রতীয়মান হয় যে, এই অর্থটিই আমাদের আলোচ্য বিষয়ের অধিক নিকটতর। কেননা 'তাখরীজ' হলো তশদীদযুক্ত 'খাররাজা' ক্রিয়ার মাসদার (মূলরূপ), যা সকর্মকতা বা অন্যের মাধ্যমে সম্পাদিত হওয়া বুঝায়—অর্থাৎ বের হওয়াটা স্বয়ংক্রিয় নয়, বরং বাইরের কারো মাধ্যমে হওয়া। এর অনুরূপ হলো 'আখরাজা' এবং 'ইসতাখরাজা', যা কোনো কিছু উদ্ভাবন করা বা বের করে আনার চেষ্টা করা অর্থে ব্যবহৃত হয় (২)।
আরও বলা হয়, অমুক ব্যক্তিকে জ্ঞান বা শিল্পে 'খাররাজা' করা হয়েছে, অর্থাৎ তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষা দেওয়া হয়েছে; আর এর মাসদার হলো 'তাখরীজ' (৩)।
পারিভাষিক অর্থ:
আর 'তাখরীজ' শব্দটি বিভিন্ন শাস্ত্রের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে এটি পরিণত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
استعمالاته عندهم تعني مصطلحاً خاصاً، كما هو الشأن عند علماء الحديث، وعلماء الفقه والأصول، وسنذكر فيما يأتي معناه عندهم:
1 - معناه عند المحدثين:
أطلق المحدثون التخريج على ذكر المؤلف الحديث بإسناده في كتابه (1). ومنه قولهم: هذا الحديث خرجه أو أخرجه فلان بمعنى واحد هو ما ذكرناه.
وذكر بعضهم أنه عند المحدثين (إيراد الحديث من طريق أو طرق أخر تشهد بصحته، ولابد من موافقتها له لفظاً ومعنى) (2).
وحده بعضهم بأنه "عزو الحديث إلى مصدره أو مصادره من كتب السنة المشرفة، وتتبع طرقه وأسانيده وحال رجاله وبيان درجته قوة وضعفاً" (3).
وعلى هذا فالتخريج لا يقتصر على ذكر الأسانيد، بل لابد من بيان أمر رجال الحديث وقوة أسانيده، والحكم عليه قوة وضعفاً، وبيان صحته أو عدمها.
ولتخريج الأحاديث طرق متعددة، وفوائد كثيرة، لعل من أهمها جمع الطرق التي جاء الحديث منها، وجمع ألفاظ متن الحديث (4).
--------------------------------------------
তাদের নিকট এর ব্যবহার একটি বিশেষ পরিভাষাকে নির্দেশ করে, যেমনটি হাদিস বিশারদ, ফিকহবিদ এবং উসুলবিদদের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। আমরা নিম্নে তাদের নিকট এর অর্থ উল্লেখ করছি:
১ - মুহাদ্দিসগণের নিকট এর অর্থ:
মুহাদ্দিসগণ 'তাখরিজ' পরিভাষাটি লেখকের তার নিজস্ব গ্রন্থে সনদের সাথে হাদিস উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন (১)। আর এখান থেকেই তাদের এই উক্তিটি এসেছে যে: "এই হাদিসটি অমুক ব্যক্তি তাখরিজ করেছেন বা বের করেছেন", যা আমরা উল্লেখ করেছি সেই একই অর্থে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, মুহাদ্দিসগণের নিকট এটি হলো (হাদিসকে এক বা একাধিক ভিন্ন সূত্রে উপস্থাপন করা যা এর বিশুদ্ধতার সাক্ষ্য দেয়, এবং অবশ্যই শব্দ ও অর্থের দিক থেকে এর সাথে সেই সূত্রের সামঞ্জস্য থাকতে হবে) (২)।
তাদের কেউ কেউ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে, "হাদিসকে সুন্নাহর সম্মানিত গ্রন্থসমূহ হতে এর মূল উৎস বা উৎসসমূহের দিকে সম্বন্ধ করা, এবং এর বিভিন্ন সূত্র, সনদ ও রাবিদের অবস্থা অনুসন্ধান করা এবং এর সবলতা ও দুর্বলতার মান বর্ণনা করা" (৩)।
এই প্রেক্ষিতে, তাখরিজ কেবল সনদ উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং হাদিসের রাবিদের অবস্থা এবং সনদের সবলতা বর্ণনা করা এবং এর সবলতা ও দুর্বলতার ব্যাপারে হুকুম প্রদান করা এবং এর বিশুদ্ধতা বা অবিশুদ্ধতা স্পষ্ট করা আবশ্যক।
হাদিস তাখরিজ করার অনেক পদ্ধতি এবং বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে সম্ভবত সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো—হাদিসটি যেসব সূত্রে এসেছে তা একত্রিত করা এবং হাদিসের মূল পাঠের (মতন) শব্দাবলি সংগ্রহ করা (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
كما أطلق المحدثون التخريج على الإشارة إلى كتابة الساقط من المتن في الحواشي وهو المسمى اللحق، أو التنبيه على شرح أو غلط أو اختلاف رواية أو نسخة أو غير ذلك (1). ولهم في بيان كيفية تخريج السقط ضوابط خاصة.
2 - معناه عند الفقهاء والأصوليين:
وإذا تأملنا استعمالات الفقهاء والأصوليين، وجدنا أن مصطلح التخريج يدور في أكثر من نطاق، وأنهم لم يستعملوه بمعنى واحد، وإن كان بين هذه المعاني تقارب وتلاحم، فمن تلك الاستعمالات:
--------------------------------------------
যেমন হাদিস বিশারদগণ (মুহাদ্দিসগণ) মূল পাঠ (মাতন) থেকে বাদ পড়া অংশ পার্শ্বটীকায় (হাশিয়া) লিখে রাখার প্রতি ইঙ্গিত করার ক্ষেত্রেও 'তাখরিজ' শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যাকে 'লাহাক' বলা হয়। অথবা কোনো ব্যাখ্যা, ভুল, বর্ণনার ভিন্নতা বা পাণ্ডুলিপির পার্থক্য ইত্যাদির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয় (১)। বাদ পড়া অংশ কীভাবে 'তাখরিজ' করতে হয়, সে বিষয়ে তাঁদের বিশেষ কিছু নীতিমালা রয়েছে।
২ - ফকিহ ও উসুলবিদগণের নিকট এর অর্থ:
আমরা যদি ফকিহ ও উসুলবিদগণের প্রয়োগশৈলী লক্ষ্য করি, তবে দেখতে পাই যে 'তাখরিজ' পরিভাষাটি একাধিক ক্ষেত্রে আবর্তিত হয়। তাঁরা এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহার করেননি, যদিও এই অর্থগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সামঞ্জস্য রয়েছে। সেই প্রয়োগগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
ما توصلوا إليه من أحكام، في المسائل الفقهية المنقولة عنهم، وذلك من خلال تتبع تلك الفروع الفقهية واستقرائها استقراء شاملاً يجعل المخرج يطمئن إلى ما توصل إليه، فيحكم بنسبة الأصل إلى ذلك الإمام.
ب) إطلاق التخريج على رد الخلافات الفقهية إلى القواعد الأصولية، على نمط ما في كتاب (تخريج الفروع على الأصول) للزنجاني، أو التمهيد في تخريج الفروع على الأصول) للأسنوي، أو (القواعد، والفوائد الأصولية والفقهية) لابن اللحام.
وهو بهذا المعنى يتصل اتصالاً واضحاً بالجدل وبأسباب اختلاف الفقهاء، إذ هو في حقيقته يتناول واحداً من تلك الأسباب، وهو الاختلاف في القواعد الأصولية، وما ينبني على ذلك الاختلاف من اختلاف في الفروع الفقهية، سواء كانت في إطار مذهب معين، أو في إطار المذاهب المختلفة، وقد يتسع هذا المجال فيشمل من أسباب الاختلاف ما هو خلاف في الضوابط أو بعض القواعد الفقهية، كما هو الشأن في كتاب (تأسيس النظر) المنسوب إلى أبي زيد الدبوسي. وهذا هو ما اصطلح عليه بـ: (تخريج الفروع على الأصول).
ج) وقد يكون التخريج - وهذا هو غالب استعمال الفقهاء - بمعنى الاستنباط المقيد، أي بيان رأي الإمام في المسائل الجزئية التي لم يرد عنه فيها نص، عن طريق إلحاقها بما يشبهها من المسائل المروية عنه، أو بإدخالها تحت قاعدة من قواعده، والتخريج بهذا المعنى هو ما تكلم عنه الفقهاء والأصوليون في مباحث الاجتهاد والتقليد، وفي الكتب المتعلقة بأحكام الفتوى.
د) وقد يطلقون التخريج بمعنى التعليل، أو توجيه الآراء المنقولة عن الأئمة وبيان مآخذهم فيها، عن طريق استخراج واستنباط العلة وإضافة الحكم إليها (1). بحسب اجتهاد المخرج، وهو في حقيقته راجع إلى المعاني
--------------------------------------------
তাদের থেকে বর্ণিত ফিকহি মাসআলাগুলোতে তারা যে সকল হুকুম বা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, তা হলো সেই ফিকহি শাখাগুলোকে অনুসরণ এবং এমন এক ব্যাপক পর্যালোচনার মাধ্যমে যা কোনো গবেষককে (মুখাররিজ) তার প্রাপ্ত ফলাফলের ব্যাপারে নিশ্চিত করে, ফলে তিনি সেই মূলনীতিটিকে উক্ত ইমামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার ফয়সালা প্রদান করেন।
খ) ফিকহি মতভেদগুলোকে উসুলি (মূলনীতিগত) কায়দাগুলোর দিকে ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ‘তাখরিজ’ শব্দের প্রয়োগ; যেমনটি জানজানি-র ‘তাখরিজুল ফুরু আলাল উসুল’, অথবা আসনাভি-র ‘আত-তামহিদ ফি তাখরিজিল ফুরু আলাল উসুল’, অথবা ইবনুল লাহহাম-এর ‘আল-কাওয়াইদ ওয়াল ফাওয়াইদুল উসুলিইয়াহ ওয়াল ফিকহিইয়াহ’ গ্রন্থসমূহের পদ্ধতিতে দেখা যায়।
এই অর্থে এটি বিতর্কশাস্ত্র (জাদাল) এবং ফকিহগণের মতভেদের কারণসমূহের (আসবাবুত ইখতিলাফ) সাথে সুস্পষ্টভাবে সম্পৃক্ত। কেননা এটি মূলত সেই সকল কারণের একটিকে নিয়ে আলোচনা করে, আর তা হলো উসুলি কায়দাগুলাতে মতভেদ এবং সেই মতভেদের ওপর ভিত্তি করে ফিকহি শাখাগুলোতে যে মতভেদ সৃষ্টি হয়—চাই তা কোনো নির্দিষ্ট মাজহাবের গণ্ডিতে হোক অথবা বিভিন্ন মাজহাবের প্রেক্ষাপটে। এই ক্ষেত্রটি আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং মতভেদের কারণ হিসেবে ‘দওয়াবিত’ (সুনির্দিষ্ট নীতিমালা) বা কিছু ফিকহি কায়দার মতভেদকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, যেমনটি আবু যায়েদ আদ-দাব্বুসি-র দিকে নিসবতকৃত ‘তাসিসুন নাযার’ নামক গ্রন্থে দেখা যায়। আর এটিকেই পরিভাষায় বলা হয়: ‘তাখরিজুল ফুরু আলাল উসুল’।
গ) আবার তাখরিজ—যা ফকিহগণের নিকট অধিক প্রচলিত ব্যবহার—সীমিত ইস্তিম্বাত বা গবেষণার অর্থেও হতে পারে; অর্থাৎ যে সকল আংশিক মাসআলায় ইমামের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য বর্ণিত নেই, সেগুলোতে তাঁর মতামত স্পষ্ট করা। এটি করা হয় উক্ত মাসআলাগুলোকে তাঁর থেকে বর্ণিত সদৃশ মাসআলাগুলোর সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যমে, অথবা তাঁর কোনো মূলনীতির অধীনে সেগুলোকে দাখিল করার মাধ্যমে। এই অর্থে ‘তাখরিজ’ সম্পর্কেই ফকিহ এবং উসুলবিদগণ ইজতিহাদ ও তাকলিদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদগুলোতে এবং ফতোয়া প্রদান সংক্রান্ত বিধিবিধানের বইগুলোতে আলোচনা করেছেন।
ঘ) কখনো কখনো তারা তাখরিজ শব্দটিকে ‘তালিল’ (কারণ বর্ণনা) অথবা ইমামগণের থেকে বর্ণিত মতগুলোর যৌক্তিক ব্যাখ্যা এবং সেগুলোর উৎস বর্ণনার অর্থেও ব্যবহার করেন। আর তা করা হয় ‘ইল্লত’ বা কার্যকর কারণ উদঘাটন ও ইস্তিম্বাত করে হুকুমটিকে সেই ইল্লতের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে (১)। এটি মুখাররিজ বা গবেষকের ইজতিহাদ অনুযায়ী হয়ে থাকে, যা মূলত অর্থগত দিকগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
السابقة، لأن تلك المعاني لا يتحقق أي منها دون التعليل والتوجيه، ومن هذا القبيل ما يسمى (تخريج المناط).
لكن الذي نهتم به من إطلاقات التخريج، هو ما يصلح أن يكون عنواناً لعلم مستقل، نسعى لتأصيله، وبيان مقوماته، ومن هذا المنطلق، يمكن القول إن التخريج يتنوع إلى الآتي:
1 - تخريج الأصول من الفروع.
2 - تخريج الفروع على الأصول.
3 - تخريج الفروع من الفروع.
ونظراً إلى مثل هذا الاختلاف في معنى التخريج عند الفقهاء والأصوليين (1)، فإنه من الصعب أن نعطي عن نشأة التخريج بكل هذه المعاني تاريخاً واحداً، أو أن نتحدث عنها بكلام واحد، ولهذا فإننا سنتحدث عن كل منها على انفراد، مبينين ما يتعلق بها نشأة وتاريخاً وأحكاماً.
--------------------------------------------
পূর্বোক্ত [অর্থসমূহ], কারণ এই অর্থগুলোর কোনটিই কারণ দর্শানো (তা'লীল) এবং দিকনির্দেশনা (তাওজীহ) ব্যতীত অর্জিত হয় না। আর এই জাতীয় বিষয়গুলোকেই বলা হয় ‘তাখরীজুল মানাত’ (মানাতের নির্যাস বের করা)।
কিন্তু ‘তাখরীজ’ শব্দের প্রয়োগগুলোর মধ্যে আমরা যে বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি, তা হলো যা একটি স্বতন্ত্র ইলম বা শাস্ত্রের শিরোনাম হওয়ার উপযোগ রাখে, যার মূলনীতি নির্ধারণ এবং উপাদানসমূহ বর্ণনার জন্য আমরা সচেষ্ট। আর এই প্রেক্ষাপট থেকে বলা যায় যে, তাখরীজ নিম্নোক্ত প্রকারে বিভক্ত হয়:
১ - ফুরু’ (শাখা মাসয়ালা) থেকে উসুল (মূলনীতি) উদ্ভাবন।
২ - উসুলের (মূলনীতি) ভিত্তিতে ফুরু’ (শাখা মাসয়ালা) প্রয়োগ বা সমাধান বের করা।
৩ - ফুরু’ (শাখা মাসয়ালা) থেকে ফুরু’ (শাখা মাসয়ালা) উদ্ভাবন করা।
ফকীহ ও উসুলবিদগণের নিকট তাখরীজের অর্থের ক্ষেত্রে এ জাতীয় পার্থক্যের প্রেক্ষাপটে (১), এই সমস্ত অর্থকে সামনে রেখে তাখরীজের উদ্ভব সম্পর্কে একক কোনো ইতিহাস প্রদান করা অথবা অভিন্ন ভাষায় তা আলোচনা করা কঠিন। এই কারণে আমরা এর প্রত্যেকটি সম্পর্কে পৃথকভাবে আলোচনা করব এবং এগুলোর উদ্ভব, ইতিহাস ও বিধানাবলি বর্ণনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الباب الأولفي أنواع التخريجالفصل الأول: تخريج الأصول من الفروع
الفصل الثاني: تخريج الفروع على الأصول
الفصل الثالث: تخريج الفروع من الفروع
প্রথম অধ্যায়তাখরিজ-এর প্রকারভেদ সম্পর্কেপ্রথম পরিচ্ছেদ: ফুরু (শাখা) থেকে উসুল (মূলনীতি) উদ্ভাবন
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উসুল (মূলনীতি)-এর ভিত্তিতে ফুরু (শাখা) নির্ধারণ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফুরু (শাখা) থেকে ফুরু (শাখা) নির্ধারণ
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأولتخريج الأصول من الفروعتمهيد في:
تعريفه وبيان موضوعه ومباحثه والعلوم التي استمد منها وفائدته
المبحث الأول: نشأته وتطوره
المبحث الثاني: أمثلة لبعض الأصول المخرجة
المبحث الثالث: حكم نسبة الأصول المخرجة إلى الأئمة
প্রথম পরিচ্ছেদশাখা মাসয়ালা হতে মূলনীতি আহরণউপক্রমণিকা:
এর সংজ্ঞা, আলোচ্য বিষয়, গবেষণার বিষয়বস্তুসমূহ, যেসব জ্ঞানশাখা থেকে এটি গৃহীত এবং এর উপকারিতা বর্ণনা
প্রথম অনুচ্ছেদ: এর উদ্ভব ও বিকাশ
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আহরিত কিছু মূলনীতির উদাহরণ
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আহরিত মূলনীতিসমূহ ইমামগণের প্রতি সম্বন্ধ করার বিধান
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تعريفه – وبيان موضوعه ومباحثه
والعلوم التي استمد منها وفائدته
تعريفه:
ذكرنا أن من أنواع التخريج التوصل إلى أصول الأئمة وقواعدهم من خلال استقراء وتتبع الفروع الفقهية المروية عنهم، واكتشاف عللها وما بينها من علاقات وقلنا إنه من الممكن أن نطلق على ذلك (تخريج الأصول من الفروع)، وفي الحق إن التخريج بالمعنى المذكور (1) ليس علماً محدداً، ولكن ثمرته هي أصول الفقه وقواعده الكلية، كما أنه ليس علم أصول الفقه نفسه، لأن ثمرة الشيء خارجة عن حقيقته وماهيته، وإذا أردنا أن نضع تعريفاً تقريباً له، قلنا: إنه (العلم الذي يكشف عن أصول وقواعد الأئمة من خلال فروعهم الفقهية وتعليلاتهم للأحكام).
فقولنا: (العلم) كالجنس يشمل المعرف وغيره.
وقولنا: (الذي يكشف عن أصول
…) قيد أخرج ما ليس كذلك،
--------------------------------------------
এর সংজ্ঞা - এবং এর বিষয়বস্তু, আলোচ্য বিষয়সমূহ, যেসব উৎস থেকে এটি গৃহীত এবং এর উপকারিতার বর্ণনা
এর সংজ্ঞা:
আমরা উল্লেখ করেছি যে, তাখরিজের অন্যতম একটি প্রকার হলো ইমামদের থেকে বর্ণিত ফিকহী শাখাগুলো (ফুরু) পর্যালোচনার মাধ্যমে তাঁদের মূলনীতি (উসূল) ও নিয়মাবলী (কাওয়াইদ) পর্যন্ত পৌঁছানো এবং সেগুলোর কারণ (ইল্লাত) ও পারস্পরিক সম্পর্কগুলো উদঘাটন করা। আমরা বলেছি যে, একে ‘শাখা থেকে মূলনীতি নির্ধারণ’ (তাখরিজুল উসূল মিনাল ফুরু) হিসেবে অভিহিত করা সম্ভব। বস্তুত উল্লিখিত অর্থে তাখরিজ (১) কোনো নির্দিষ্ট স্বতন্ত্র বিজ্ঞান নয়, বরং এর ফল হলো উসূলুল ফিকহ ও এর সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ। তেমনিভাবে এটি স্বয়ং উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রও নয়, কারণ কোনো বিষয়ের ফল তার প্রকৃত সত্তা ও সারমর্ম থেকে পৃথক হয়ে থাকে। আমরা যদি এর একটি প্রায়োগিক সংজ্ঞা প্রদান করতে চাই, তবে বলব: এটি হলো ‘এমন এক বিদ্যা যা ইমামগণের ফিকহী শাখা এবং বিধানসমূহের কারণ বর্ণনার (তা’লীল) মধ্য দিয়ে তাঁদের মূলনীতি ও নিয়মাবলী উন্মোচন করে’।
আমাদের উক্তি: ‘বিদ্যা’ (আল-ইলম) শব্দটি এখানে সাধারণ বর্গ (জিনস) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা সংজ্ঞায়িত বিষয় এবং অন্যান্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে।
আর আমাদের উক্তি: ‘যা মূলনীতিসমূহ উন্মোচন করে
...’ এটি একটি বিশেষ শর্ত যা এমন বিষয়গুলোকে বাদ দেয় যা এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
كالفقه الذي يكشف عن الأحكام الفرعية العملية، والأصول التي هي القواعد نفسها والتي تعد ثمرة ونتيجة لهذا التخريج.
وقولنا: (من خلال تتبع فروعهم ..) قيد ثان أخرج الأصول المصرح بها من قبل الأئمة أنفسهم، لأنها لا تعد أصولاً مخرجة، وإنما هي من المنصوص عليه من قبلهم.
موضوعه (1):
إن بيان موضوع كل علم، يُعد المميز له عن سائر العلوم، كما أن تعيينه وتميزه عن غيره يُعد من الوسائل الهامة التي توضح مجالات العلوم. ويقصدون بموضوع العلم ما يبحث في ذلك العلم عن عوارضه الذاتية، كبدن الإنسان لعلم الطب. فإنه يبحث فيه عن أحواله من حيث الصحة والمرض، وكالكلمة لعلم النحو، فنه يبحث فيه عن أحوالها من حيث الإعراب والبناء
… إلخ) (2).
والعوارض الذاتية هي الخارجة عن الشيء الذي يحمل عليه، وكونها ذاتية يعني أن منشأها الذات (3)، بأن كانت تلحق الشيء لذاته أو تلحقه لجزئه، أو تلحقه بواسطة أمر آخر خارج عنه مساوٍ له.
وفائدة التقييد يكون الأعراض ذاتية الاحتراز عن الأعراض الغريبة، هي العارضة للشيء لأمر خارج عنه، أعم منه أو أخص منه أو مباين له (4).
ومعنى البحث عن العوارض الذاتية للموضوع حملها عليه وإثباتها له كقولنا: الكتاب يثبت به الحكم، أو حملها على أنواعه، كقولنا: العام يفيد
--------------------------------------------
যেমন ফিকহ, যা ব্যবহারিক শাখা-প্রশাখাগত আহকামসমূহ উন্মোচন করে, এবং উসুল, যা মূলত সেই সকল মূলনীতি যা এই তাখরিজ বা আহকাম আহরণের ফল ও নির্যাস হিসেবে গণ্য।
এবং আমাদের উক্তি: (তাদের শাখা-প্রশাখা অনুসরণের মাধ্যমে...) হলো একটি দ্বিতীয় শর্ত, যা ইমামদের পক্ষ থেকে সরাসরি বর্ণিত উসুল বা মূলনীতিসমূহকে বাদ দেয়। কারণ, সেগুলো 'তাখরিজকৃত উসুল' (অধিভুক্ত মূলনীতি) হিসেবে গণ্য নয়, বরং সেগুলো তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি নির্দেশিত বা বর্ণিত।
এর আলোচ্য বিষয় (১):
প্রতিটি ইলম বা শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় বর্ণনা করা তাকে অন্যান্য শাস্ত্র থেকে পৃথককারী হিসেবে গণ্য হয়। তেমনিভাবে একে নির্দিষ্ট করা এবং অন্যদের থেকে আলাদা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়, যা শাস্ত্রসমূহের ক্ষেত্রগুলো স্পষ্ট করে। শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় দ্বারা তারা উদ্দেশ্য গ্রহণ করেন এমন বিষয়কে, যা সেই শাস্ত্রে তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বা অপরিহার্য অবস্থা (আওয়ারিজে জাতিয়্যাহ) সম্পর্কে আলোচনা করে; যেমন চিকিৎসা শাস্ত্রের জন্য মানুষের শরীর। কেননা এতে মানুষের শরীরের সুস্থতা ও অসুস্থতা সংক্রান্ত অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। আর যেমন নাহু শাস্ত্রের (ব্যাকরণ) জন্য 'কালিমা' (শব্দ); কারণ এতে শব্দের ইরাব (বিভক্তি) ও বিনা (অপরিবর্তনীয়তা) সংক্রান্ত অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়... ইত্যাদি) (২)।
স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বা অপরিহার্য অবস্থা (আওয়ারিজে জাতিয়্যাহ) হলো এমন বিষয় যা সেই বস্তু থেকে পৃথক যার উপর তা আরোপ করা হয়। আর এটি স্বকীয় হওয়ার অর্থ হলো এর উৎস খোদ সেই সত্তা (৩); এভাবে যে, তা বস্তুর সাথে সংযুক্ত হয় তার সত্তাগত কারণে, অথবা তার অংশের কারণে, অথবা এমন কোনো বাহ্যিক বিষয়ের মাধ্যমে যা তার সমপর্যায়ের।
বৈশিষ্ট্যসমূহকে স্বকীয় (জাতিয়্যাহ) হওয়ার শর্ত আরোপের উপকারিতা হলো 'আওয়ারিজে গারিবাহ' (আগন্তুক বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য) থেকে বেঁচে থাকা। যা বস্তুর ওপর এমন কোনো বাহ্যিক কারণে আপতিত হয়, যা সেই বস্তু থেকে অধিক ব্যাপক, অধিক সংকীর্ণ অথবা তার থেকে ভিন্নতর (৪)।
আলোচ্য বিষয়ের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য (আওয়ারিজে জাতিয়্যাহ) নিয়ে আলোচনার অর্থ হলো সেই বিষয়ের ওপর উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহকে আরোপ করা এবং তার জন্য তা সাব্যস্ত করা; যেমন আমাদের উক্তি: 'কিতাব' (কুরআন) দ্বারা বিধান সাব্যস্ত হয়, অথবা একে তার প্রকারভেদের ওপর আরোপ করা; যেমন আমাদের উক্তি: 'আম' (সাধারণ শব্দ) প্রদান করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
القطع، أو على أنواع أعراضه الذاتية كقولنا: العام الذي خُص منه البعض يفيد الظن (1).
ومن خلال هذا البيان لمعنى الموضوع، ومن التعريف السالف لهذا العلم، ندرك أن موضوعه هو نصوص الأئمة المجتهدين، وأفعالهم وتقريراتهم، من حيث دلالتها على المعاني الرابطة فيما بينها، وما يجمعها من علاقات، وعلى الأسباب الباعثة للأئمة على الأخذ بما اخذوا به من آراء.
مباحثه ومسائله (2):
ومباحثه ومسائله هي معرفة الأحوال العارضة لموضوعه هذا، أي البحث في الأحوال العارضة لنصوص وأفعال الأئمة، لأن المباحث والمسائل ذات صلة وثيقة بموضوع العلم نفسه، على ما هو معلوم في مصطلحاتهم.
استمداده:
والمعين الذي يستمد منه هذا العلم مادته، هو نصوص وأفعال وتقريرات الأئمة، والدراية بعلوم العربية، وبالقرآن الكريم، والحديث الشريف.
وبعد نشأة أصول الفقه وتدوينه، أصبح علم الأصول من أفراد ما يستمد منه المخرج مادته أيضاً، بغية معرفة رأي الإمام في أمثال تلك القواعد التي لم يرد عنه نص بشأنها.
فائدته وغايته (3):
ينظر كثير من الباحثين إلى المصالح المترتبة على الشيء باعتبارين:
--------------------------------------------
নিশ্চিত হওয়া, অথবা এর স্বকীয় বৈশিষ্ট্যসমূহের প্রকারভেদ নিয়ে, যেমন আমাদের কথা: এমন সাধারণ (আম) শব্দ যা থেকে বিশেষ কিছুকে সুনির্দিষ্ট (খাস) করা হয়েছে, তা ধারণা (জন) প্রদান করে (১)।
বিষয়বস্তুর এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে এবং এই ইলমের পূর্বোক্ত সংজ্ঞা থেকে আমরা উপলব্ধি করি যে, এর বিষয়বস্তু হলো মুজতাহিদ ইমামগণের বক্তব্যসমূহ, তাঁদের কর্মসমূহ এবং তাঁদের মৌনসম্মতিসমূহ; সেগুলোর মধ্যবর্তী সম্পর্কযুক্ত অর্থসমূহের ওপর সেগুলোর নির্দেশনার দিক থেকে, সেগুলোকে একত্রিতকারী সম্বন্ধসমূহ এবং ইমামগণ যে সকল অভিমত গ্রহণ করেছেন তা গ্রহণের পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা কারণসমূহের দিক থেকে।
এর আলোচ্য বিষয় এবং মাসয়ালাসমূহ (২):
এর আলোচ্য বিষয় এবং মাসয়ালাসমূহ হলো এর এই বিষয়বস্তুর ওপর আপতিত অবস্থাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, অর্থাৎ ইমামগণের বক্তব্য ও কর্মের ওপর আপতিত অবস্থাসমূহ নিয়ে গবেষণা করা; কারণ আলোচ্য বিষয় ও মাসয়ালাসমূহ খোদ ইলমের বিষয়বস্তুর সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট, যেমনটি তাঁদের পরিভাষাসমূহে সুপরিচিত।
এর উৎস:
যে উৎস থেকে এই ইলম তার উপাদান গ্রহণ করে, তা হলো ইমামগণের বক্তব্য, কর্ম ও মৌনসম্মতিসমূহ এবং আরবি ভাষাতত্ত্ব, পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরিফ সংক্রান্ত প্রজ্ঞা।
উসুলুল ফিকহের উদ্ভব ও তা সংকলিত হওয়ার পর, উসুল শাস্ত্রও এমন একটি উপাদানে পরিণত হয়েছে যা থেকে তাখরিজকারী (মুখাররিজ) তার উপাদান গ্রহণ করেন; যেন সেই সকল মূলনীতির ক্ষেত্রে ইমামের অভিমত জানা যায় যে বিষয়ে তাঁর থেকে কোনো সরাসরি বক্তব্য বর্ণিত হয়নি।
এর উপকারিতা এবং লক্ষ্য (৩):
অনেক গবেষক কোনো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে অর্জিত কল্যাণসমূহকে দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
الاعتبار الأول: من حيث ابتداء التفكير في الشيء وهو المسمى عندهم بالعلة الغائية التي هي الباعث على الفعل وطلبه.
والاعتبار الثاني: من حيث النهاية، وهي آخر العمل، أو ثمرة الفعل ونتيجته، وهي المسماة عندهم بالفائدة (1).
وقد أخذ بهذا التفريق طائفة من العلماء، منهم صديق بن حسن القنوجي (ت 1307هـ) (2) في كتابه أبجد العلوم. إذ قال عن علم أصول الفقه أن (الغرض منه تحصيل ملكة استنباط الأحكام الشرعية الفرعية من أدلتها الأربعة، أعني الكتاب والسنة والإجماع والقياس. وفائدته استنباط تلك الأحكام على وجه الصحة) (3)، فهو قد فرق بين الغرض أو الباعث على الشيء وبين الفائدة التي هي الثمرة المترتبة عليه.
وبناء على هذا التوضيح لمعنى الفائدة والغاية، فإن غاية هذا العلم الأساسية، هي الكشف عن قواعد وأصول الأئمة التي بنوا عليها أحكامهم.
وأما فائدته فإنه يلتقي مع أصول الفقه في بعض فوائده المترتبة عليه، كما تتحقق منه فوائد أخر.
--------------------------------------------
প্রথম বিবেচনা: কোনো বিষয়ে চিন্তার শুরুর দিক থেকে, যাকে তাদের পরিভাষায় ‘চূড়ান্ত কারণ’ (আল-ইল্লাহ আল-গাইয়্যাহ) বলা হয়, যা মূলত কোনো কাজ করার পেছনে মূল চালিকাশক্তি ও উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয় বিবেচনা: সমাপ্তির দিক থেকে, যা হলো কাজের শেষ পর্যায় অথবা কাজের ফল ও পরিণতি, যাকে তাদের পরিভাষায় ‘উপকারিতা’ (আল-ফায়িদাহ) বলা হয় (১)।
একদল আলেম এই পার্থক্যটি গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে সিদ্দিক বিন হাসান আল-কান্নৌজি (মৃত্যু ১৩০৭ হিজরি) (২) তার ‘আবজাদুল উলুম’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র সম্পর্কে তিনি বলেন যে, (এর উদ্দেশ্য হলো চারটি দলিল অর্থাৎ কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস থেকে শাখাগত শরয়ি আহকাম উদ্ঘাটনের যোগ্যতা অর্জন করা। আর এর উপকারিতা হলো সেই আহকামসমূহ সঠিকভাবে উদ্ঘাটন করা) (৩)। সুতরাং তিনি কোনো বিষয়ের উদ্দেশ্য বা চালিকাশক্তি এবং এর ফলে অর্জিত উপকারিতা বা ফলের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।
উপকারিতা ও লক্ষ্যের অর্থের এই স্পষ্টীকরণের ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, এই শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো ইমামগণের সেই সব মূলনীতি ও উসুল উন্মোচন করা যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে তারা তাদের বিধানসমূহ প্রদান করেছেন।
আর এর উপকারিতার ক্ষেত্রে এটি উসুলুল ফিকহের সাথে এর থেকে উদ্ভূত কিছু উপকারিতার বিষয়ে একমত পোষণ করে, পাশাপাশি এর থেকে আরও অন্যান্য উপকারিতাও অর্জিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن الممكن أن نلحظ بعض هذه الفوائد فيما يأتي:
1 - إن كشف هذا العلم عن قواعد الأئمة يمكن العالم من ترجيح الأقوال واختيار أقواها، عن طريق قوة القاعدة ومتانتها.
2 - إن هذا العلم يساعد على معرفة العلاقات القائمة بين الفروع الفقهية، مما يمكن الباحث في ذلك من التعليل والفهم السليم، وضبط الفروع المروية عن الأئمة بأصولها.
3 - تمكن نتيجته العالم من تخريج المسائل والفروع غير المنصوص عليها، وفق تلك القواعد المخرجة أو أن يجد لها وجهاً أولى.
4 - كما تمكن نتيجته من معرفة أسباب اختلاف الفقهاء. وقد يقال: إن هذا العلم لم تعد له فائدة بعد أن استقر علم أصول الفقه، ودونت قواعده، وعرفت آراء العلماء واختلافاتهم بشأنها. وهو قول لا يخلو من وجاهة، ولكنه لا يمثل الحقيقة كلها، وإنما يمثل جانباً منها.
إنما الأمر الذي نفتقده في كتب الأصول، هو نسبة الآراء إلى أصحابها؛ لأن غالب ما يذكر في هذه الكتب هو نسب الآراء إلى المذاهب، دون أن يعين صاحب الرأي بعينه، وهذه الآراء خليط من آراء الإمام نفسه، ومن آراء تلاميذه، ومن آراء المخرجين الذين جاؤوا فيما بعد.
كما نفتقد في هذه الكتب السند الذي بنيت عليه القواعد التي لم يرد تصريح من الإمام بشأنها، الأمر الذي لا يساعد على تصحيح نسبة هذه القواعد إلى الإمام، وقد يكشف البحث المستفيض والاستقراء الجيد عن رأي يخالف ما نسب إليه.
وفي العلم الذي نحن بصدده إثراء لعلم الأصول بالأمثلة الجزئية وتعزيز له بالجوانب التطبيقية العملية.
আমরা এর কিছু উপকারিতা নিম্নে লক্ষ্য করতে পারি:
১ - ইমামগণের মূলনীতিসমূহ উন্মোচনের মাধ্যমে এই বিজ্ঞান একজন আলিমকে মূলনীতির শক্তি ও সুদৃঢ়তার ভিত্তিতে বিভিন্ন মতের মধ্যে প্রাধান্য দিতে এবং সবচেয়ে শক্তিশালী মতটি বেছে নিতে সক্ষম করে।
২ - এই বিজ্ঞান ফিকহী শাখা-প্রশাখাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক অনুধাবনে সাহায্য করে, যা গবেষককে মাসআলার কারণ নির্ণয় ও সঠিক উপলব্ধিতে এবং ইমামদের থেকে বর্ণিত শাখাগুলোকে তাদের মূলনীতির সাথে সুসংবদ্ধ করতে সক্ষম করে।
৩ - এর ফলাফল একজন আলিমকে সেই উদ্ভাবিত মূলনীতি অনুসারে অনুল্লিখিত মাসআলা ও শাখাগুলোর সমাধান বের করতে (তাখরীজ) সক্ষম করে অথবা সেগুলোর জন্য কোনো অধিকতর গ্রহণযোগ্য দিক খুঁজে পেতে সহায়তা করে।
৪ - পাশাপাশি এর ফলাফল ফকীহগণের মতভেদের কারণগুলো জানতেও সক্ষম করে। বলা হয়ে থাকে যে: উসূলে ফিকহ সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, এর মূলনীতিসমূহ সংকলিত হওয়ার পর এবং আলিমদের মতামত ও এ সংক্রান্ত মতভেদসমূহ পরিচিতি পাওয়ার পর এই বিজ্ঞানের আর কোনো উপকারিতা অবশিষ্ট নেই। এটি এমন একটি বক্তব্য যা যুক্তিসঙ্গত মনে হতে পারে, তবে এটি সম্পূর্ণ সত্যকে উপস্থাপন করে না, বরং সত্যের একটি দিক মাত্র তুলে ধরে।
উসূলের কিতাবগুলোতে আমরা যে বিষয়টি অনুপস্থিত পাই, তা হলো মতগুলোকে তাদের প্রকৃত প্রবক্তার দিকে সম্পর্কিত করা; কারণ এই বইগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মতগুলোকে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে সরাসরি মাযহাবের দিকে সম্পর্কিত করা হয়। অথচ এই মতগুলো খোদ ইমামের নিজস্ব মত, তাঁর ছাত্রদের মত এবং পরবর্তীতে আগত তাকরীজকারীগণের (উদ্ঘাটনকারী) মতামতের একটি মিশ্রণ।
একইভাবে আমরা এই কিতাবগুলোতে সেই দালিলিক ভিত্তি খুঁজে পাই না যার ওপর ভিত্তি করে ঐসব মূলনীতি তৈরি করা হয়েছে যে বিষয়ে ইমামের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই। এই বিষয়টি ইমামের দিকে এই মূলনীতিগুলোর সম্বন্ধ সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে না। এমনকি বিস্তারিত অনুসন্ধান ও যথাযথ পর্যালোচনার মাধ্যমে এমন কোনো মত প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে যা তাঁর দিকে সম্বন্ধকৃত মতের বিপরীত।
আর আমরা যে বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করছি, তা উসূলে ফিকহকে আংশিক উদাহরণগুলোর মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে এবং এর প্রায়োগিক ও বাস্তব দিকগুলোকে শক্তিশালী করে।
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الأولنشأته وتطورهيبدو أن التخريج بالمعنى السابق ظهر حين نشأة المذاهب، وبروز ظاهرة الاتباع ثم التقليد، فمنذ ظهرت رسالة الإمام الشافعي رحمه الله (ت: 204هـ) (1) أصبح البحث عن الأدلة والقواعد الأصولية يؤرق تلاميذ المذاهب الأخرى، سعياً على الكشف عما عند أئمتهم من قواعد في استنباطاتهم الفقهية، وإلى إبراز المبررات التي دعتهم إلى مخالفة غيرهم في أحكامهم وتدوين ذلك في رسائل أو كتب، كانت نواة التأليف الأصولي في المذاهب المختلفة.
على أننا ننبه إلى أن تخريج أصول وقواعد المذاهب لم يتزامن مع أصول وقواعد الأئمة المجتهدين نفسها، لأن القواعد المذكورة لابد أن
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদএর উদ্ভব ও ক্রমবিকাশমনে হয় যে, পূর্বোক্ত অর্থে তাখরিজের বিষয়টি মাজহাবসমূহের সূচনাকালে এবং ইত্তিবা (অনুসরণ) ও পরবর্তীতে তাকলিদ (অনুকরণ) প্রবৃত্তি প্রকাশের সময় আত্মপ্রকাশ করেছে। ইমাম শাফেঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর (মৃত্যু: ২০৪ হি.) (১) ‘আর-রিসালাহ’ গ্রন্থটি প্রকাশের পর থেকে অন্য মাজহাবের অনুসারী ছাত্রদের মধ্যে দলিল ও উসুলি মূলনীতিসমূহ অনুসন্ধানের বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি ছিল মূলত তাঁদের ইমামদের ফিকহি মাসআলা উদ্ভাবনের (ইস্তিনবাত) ক্ষেত্রে কী কী মূলনীতি ছিল তা উন্মোচন করার এবং অন্যদের সাথে তাঁদের বিধানগত পার্থক্যের পেছনে যৌক্তিক কারণগুলো তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। আর এ বিষয়গুলোই তাঁরা বিভিন্ন পুস্তিকা বা কিতাবে সংকলিত করেন, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন মাজহাবের উসুলি রচনার ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়।
তবে আমরা এ বিষয়ে সতর্ক করছি যে, মাজহাবসমূহের উসুল ও মূলনীতিসমূহের তাখরিজ এবং মুজতাহিদ ইমামদের নিজস্ব উসুল ও মূলনীতিসমূহ একই সময়ে সংঘটিত হয়নি। কারণ উল্লিখিত মূলনীতিগুলো অবশ্যই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تكون أقدم من الفروع الفقهية؛ إذ من المستبعد أن نتصور أن الأئمة قد اجتهدوا دون أن تكون معالم طريقهم واضحة لهمن وعرفوا ما يستدل وما لا يستدل به، وما هي المناهج الاستنباطية المعتد بها.
غير أنه لما لم يرد عن أغلبهم التصريح بأصولهم التي اعتدوا بها عند الاجتهاد- كما هو الشأن في رسالة الإمام الشافعي – قام التلاميذ والأتباع باستنباط تلك الأصول من الفروع. وقد كانت تلك الأصول في البداية متناثرة، ولم يقم بها شخص واحد، بل كانت جهود علماء كثيرين.
وبعد ذلك انتظمت في كتب أصولية مذهبية، متدرجة في التنظيم والتنسيق والترتيب بحسب التدرج الزمني.
إن هذا المنهج الاستقرائي هو الظاهرة الطبيعية في نشأة كثير من العلوم، سواء كانت في اللغة أو غيرها، وهو الطريق السليم إلى اكتشاف الروابط والأسس بين قضايا العلوم المتناثرة والجزئية.
ويرى كثير من الباحثين أن أصول الفقه الحنفي قامت على هذا الأساس (1).
بل إن طائفة من أصول بعض الأئمة كانت كذلك (2). قال الدهلوي (3):
(واعلم أني وجدت أكثرهم يزعمون أن بناء الخلاف بين أبي
--------------------------------------------
এগুলো ফিকহী শাখা-প্রশাখা (ফুরু) অপেক্ষা প্রাচীনতর হওয়া স্বাভাবিক; কেননা এমনটি কল্পনা করা অসম্ভব যে, ইমামগণ তাঁদের পথের দিকনিশানা স্পষ্ট হওয়া ব্যতীত এবং কী দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য আর কী বর্জনীয় এবং নির্ভরযোগ্য উদ্ভাবনমূলক পদ্ধতিগুলো কী কী তা না জেনেই ইজতিহাদ করেছেন।
তবে তাঁদের অধিকাংশের পক্ষ থেকে ইজতিহাদের সময় তাঁরা যে উসুল বা মূলনীতির ওপর নির্ভর করতেন সেগুলোর সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া না যাওয়ায়—যেমনটি ইমাম শাফিঈর 'রিসালা'-র ক্ষেত্রে দেখা যায়—ছাত্র ও অনুসারীবৃন্দ সেই ফুরু (শাখা) থেকে ওইসব উসুল (মূলনীতি) উদ্ভাবন করেছেন। শুরুতে এই উসুলগুলো বিক্ষিপ্ত ছিল এবং তা কোনো একক ব্যক্তির কাজ ছিল না, বরং অনেক আলেমের প্রচেষ্টার ফসল ছিল।
পরবর্তীকালে এগুলো মাযহাব-ভিত্তিক উসুলের কিতাবসমূহে সংকলিত হয়, যা কালানুক্রমিকভাবে সংগঠন, সমন্বয় ও বিন্যাসের দিক থেকে ধাপে ধাপে পূর্ণতা লাভ করে।
এই আরোহী পদ্ধতিটি (ইন্ডাক্টিভ মেথড) ভাষা বা অন্যান্য অনেক বিজ্ঞানের উদ্ভবের ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত ও আংশিক বিষয়াবলির মধ্যে যোগসূত্র ও ভিত্তি খুঁজে বের করার এটিই সঠিক পথ।
অনেক গবেষক মনে করেন যে, হানাফী উসুলে ফিকহ এই ভিত্তির ওপরই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে (১)।
এমনকি কোনো কোনো ইমামের উসুলের একটি অংশও ছিল অনুরূপ (২)। দেহলভী (৩) বলেন:
(জেনে রেখো যে, আমি তাদের অধিকাংশকে এমন দাবি করতে দেখেছি যে, আবু [পৃষ্ঠা শেষ...]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
حنيفة (1) والشافعي- رحمهما الله- على هذه الأصول المذكورة في كتاب اليزدوي (2)، ونحوه، وغنما الحق أن أكثرها مخرجة على قولهم.
وعندي أن المسالة القائلة بأن الخاص مبين ولا يلحقه البيان، وأن الزيادة نسخ وأن العام قطعي كالخاص، وأن لا ترجيح بكثرة الرواة، وأنه لا يجب العمل بحديث غير الفقيه، إذا انسد باب الرأي، وأن لا عبرة، بمفهوم الشرط أو الوصف أصلاً، وأن موجب الأمر هو الوجوب ألبتة، وأمثال ذلك أصول مخرجة على كلام الأئمة، وأنه لا تصح رواية عن أبي حنيفة وصاحبيه) (3).
وفي أصول السرخسي (4) ما يشهد لذلك، فقد ذكر عن محمد – رحمه
--------------------------------------------
আবু হানিফা (১) ও শাফিঈ- আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন- আল-বজদবি (২) ও এই জাতীয় কিতাবসমূহে বর্ণিত এই মূলনীতিগুলোর উপর ছিলেন; বরং সত্য হলো এই যে, এগুলোর অধিকাংশ বিষয় তাঁদের উক্তি থেকে উদ্ভাবিত বা আহরিত হয়েছে।
আমার মতে, যে সকল মাসআলায় বলা হয়েছে যে: 'খাস' (নির্দিষ্ট বিধান) স্বয়ং সুস্পষ্ট এবং তা ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়, (কুরআনের ওপর হাদিসের মাধ্যমে) অতিরিক্ত বিধান সংযোজন করা মূলত পূর্ববর্তী বিধান রহিত করা (নাসখ), 'আম' (সাধারণ বিধান) 'খাস'-এর মতোই অকাট্য, বর্ণনাকারীর সংখ্যাধিক্যের কারণে কোনো বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না, রায়ের (ইজতিহাদের) পথ বন্ধ হয়ে গেলে ফকিহ নন এমন ব্যক্তির হাদিস অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব নয়, শর্ত বা গুণের মাফহুমের (ইঙ্গিতার্থের) কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, আমরের (আদেশের) দাবি হলো তা চূড়ান্তভাবে ওয়াজিব হওয়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলো মূলত ইমামগণের কালাম থেকে উদ্ভাবিত মূলনীতি। ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর দুই সাথী থেকে এ ব্যাপারে কোনো [সরাসরি] বর্ণনা বিশুদ্ধ নয় (৩)।
উসুলে সারাখসি-তে (৪) এর সপক্ষে প্রমাণ রয়েছে, তিনি মুহাম্মদ -রহিমাহুল্লাহ- থেকে উল্লেখ করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الله- وقد سأله بعضهم: أسمعت هذا كله من أبي حنيفة؟ فقال: لا. فقال أسمعت من أبي يوسف (1) فقال: لا. وإنما أخذنا ذلك مذاكرة (2).
ومثل ذلك يمكن أن يقال عن أصول الإمام مالك – رحمه الله (3) فما
--------------------------------------------
আল্লাহ- এবং তাদের কেউ কেউ তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: আপনি কি এই সব ইমাম আবু হানিফা থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন, তবে কি আপনি আবু ইউসুফ (১) থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: না। আমরা এগুলো কেবল আলোচনার (২) মাধ্যমে গ্রহণ করেছি।
এবং অনুরূপ কথা ইমাম মালিক (৩) -আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন- এর মূলনীতিসমূহ সম্পর্কেও বলা যেতে পারে। কারণ যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
في كتب المالكية من أصول منسوبة إلى هذا الإمام ليست كلها مما صرح به، بل إن منها مما خرج من مسائله الفقهية. وهكذا القول عن الإمام أحمد – رحمه الله (1) فإنه لم يدون أصولاً، وإنما جمعت أصوله مما صرح به، ومن فتاواه الفقهية وتفاسيره لبعض آي القرآن وأحاديث الرسول – صلى الله عليه وسلم – وغير ذلك.
--------------------------------------------
মালিকী মাযহাবের গ্রন্থসমূহে এই ইমামের (ইমাম মালিক) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এমন কিছু মূলনীতি (উসূল) রয়েছে, যা সব কটি তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেননি; বরং তার মধ্য থেকে কিছু বিষয় তাঁর ফিকহী মাসআলাগুলো থেকে উদ্ভাবন করা হয়েছে। ইমাম আহমাদ – রহমাতুল্লাহি আলাইহি – এর ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য (১)। কেননা তিনি কোনো স্বতন্ত্র উসূল সংকলন করে যাননি, বরং তাঁর উসূলসমূহ সংগৃহীত হয়েছে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ফিকহী ফাতাওয়া, কুরআনের কিছু আয়াতের তাফসীর, রাসূলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর হাদীসের ব্যাখ্যা এবং অন্যান্য উৎস থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الثانيأمثلة لبعض الأصول المخرجةومما يمثل تخريجات العلماء أصولاً للأئمة نكتفي بذكر عدد محدود منها لغرض توضيح هذا المنهج، وبيان طرائق العلماء فيه. فمن ذلك:
1 - إن مقتضى الأمر الذي لم يقيد، لمي رد فيه عن مالك- رحمه الله ما يفيد أنه للفور أو التراخي نصاً، أو صراحة، ولكن العلماء خرجوا له قولاً هو أنه للفور. قال ابن القصار (ت: 398هـ) (1): (ليس عن مالك رحمه الله في ذلك نص، ولكن مهبه يدل على أنها على الفور؛ لأن الحج عنده على الفور، ولم يكن ذلك كذلك إلا لأن الأمر اقتضاه) (2).
ونقل عن القاضي عبد الوهاب (ت 422هـ) (3) أنه ذكر في الملخص أن
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদউদ্ভূত কিছু মূলনীতির উদাহরণআলেমগণ কর্তৃক ইমামদের মাযহাব থেকে উদ্ভাবিত মূলনীতিসমূহের মধ্য থেকে আমরা এই পদ্ধতির ব্যাখ্যা এবং এতে আলেমদের কর্মপন্থা বর্ণনার উদ্দেশ্যে সীমিত কিছু উদাহরণ উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব। তন্মধ্যে রয়েছে:
১ - কোনো শর্তহীন নির্দেশের (আমর) দাবি কী হবে, সে বিষয়ে ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে এমন কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (নস) বা বর্ণনা পাওয়া যায় না যা সরাসরি নির্দেশটি অবিলম্বে পালনের (ফাওর) জন্য নাকি বিলম্বে পালনের (তারাক্খি) জন্য—তা প্রকাশ করে। কিন্তু আলেমগণ তাঁর মাযহাব থেকে এই মতটি বের করেছেন যে, তা অবিলম্বে পালনের জন্য। ইবনুল কাসসার (মৃত্যু: ৩৯৮ হিজরি) (১) বলেন: (এ বিষয়ে ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে কোনো সুস্পষ্ট পাঠ নেই, তবে তাঁর মাযহাব একথাই নির্দেশ করে যে এটি অবিলম্বে পালনের জন্য; কারণ তাঁর নিকট হজ অবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব, আর এটি কেবল নির্দেশের দাবির কারণেই এমনটি হয়েছে) (২)।
এবং কাজী আব্দুল ওয়াহহাব (মৃত্যু: ৪২২ হিজরি) (৩) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি 'আল-মুলাখখাস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
دلالة الأمر على الفور أخذها المالكية من قول مالك بتعجيل الحج، ومنعه من تفريق الوضوء، ومن مسائل أخر (1).
2 - إن بعض العلماء خرجوا لمحمد بن الحسن (ت 189هـ) (2) قولاً يفيد أن الأمر على التراخي. وبنوا ذلك على قوله في الجامع: لو نذر أن يعتكف شهراً له أن يعتكف أي شهر شاء، ولو نذر أن يصوم شهراً. له أني صوم أي شهر شاء، وأنه لا يصير مفرطاً بتأخير أداء الزكاة وصدقة الفطر والعشر (3).
3 - وأن علماء الحنابلة خرجوا للإمام أحمد – رحمه الله –رأيين في المسألة السابقة:
أحدهما: أنه على الفور، وعد الظاهر من كلام الإمام، بناء على قوله بوجوب الحج على الفور.
وآخرهما: أنه على التراخي، وقد كان ذلك إيماء منه في رواية
--------------------------------------------
নির্দেশ তাৎক্ষণিকতা (তাৎক্ষণিকভাবে পালন করার) আবশ্যকতা জ্ঞাপন করে—এ বিষয়টি মালিকিগণ ইমাম মালিকের হজ্জ দ্রুত সম্পন্ন করার ফতোয়া, ওযুর অঙ্গ ধোয়ার ক্ষেত্রে বিরতি দেওয়া নিষিদ্ধ করা এবং অন্যান্য মাসয়ালা থেকে গ্রহণ করেছেন (১)।
২ - কিছু আলিম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (মৃত্যু: ১৮৯ হিজরি) (২)-এর জন্য এমন একটি অভিমত উদ্ভাবন (তাখরিজ) করেছেন যা নির্দেশ করে যে, নির্দেশাবলি বিলম্বে পালনের অবকাশ (তারাহি) রাখে। তারা একে তাঁর 'আল-জামি' গ্রন্থের এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে দাড় করিয়েছেন যে: কেউ যদি এক মাস ইতিকাফ করার মানত করে, তবে সে তার ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো মাসে ইতিকাফ করতে পারে। আর যদি এক মাস রোজা রাখার মানত করে, তবে সে তার ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো মাসে রোজা রাখতে পারে। এছাড়া যাকাত, সদকাতুল ফিতর এবং উশর আদায়ে দেরি করার মাধ্যমে সে অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত (মুফাররিত) হবে না (৩)।
৩ - এবং হাম্বলি আলিমগণ ইমাম আহমাদ -রাহিমাহুল্লাহ- থেকে পূর্বোক্ত মাসয়ালার ক্ষেত্রে দুটি অভিমত উদ্ভাবন (তাখরিজ) করেছেন:
এর মধ্যে একটি হলো: নির্দেশ তাৎক্ষণিকতার জন্য; এবং ইমামের বক্তব্য থেকে এটিই প্রকাশ্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, কারণ তিনি হজ্জ তাৎক্ষণিকভাবে পালন করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে মত দিয়েছেন।
অন্যটি হলো: এটি বিলম্বের অবকাশ রাখে; এবং একটি বর্ণনা অনুসারে এটি তাঁর পক্ষ থেকে ইঙ্গিতস্বরূপ পাওয়া যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الأثرم (1). فقد سئل عن قضاء رمضان يفرق؟ فقال نعم، قال الله تعالى: {فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} (البقرة/184).
قال: أبو يعلي (ت 458هـ) (2): (فظاهر هذا أنه لم يحمل الأمر على الفور لأنه لو حمله على الفور، منع التفريق) (3).
4 - وأن قول الحنفية إن دلالة العام قطعية، وأنه يقع بينه وبين الخاص التعارض قد خرجوه من طائفة من المسائل المروية عن أئمتهم. قال السرخسي (ت: 490هـ): (فعلى هذا دلت مسائل علمائنا – رحمهم الله – قال محمد- رحمه الله في الزيادات: إذا أوصى بخاتم لرجل ثم
--------------------------------------------
আল-আসরাম (১)। তাকে রমজানের কাজা রোজা পৃথকভাবে রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ, মহান আল্লাহ বলেছেন: "অন্য দিনগুলোতে সে সংখ্যা পূরণ করবে।" (সূরা আল-বাকারাহ/১৮৪)।
আবু ইয়ালা (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি) (২) বলেন: (এর বাহ্যিক অর্থ হলো তিনি এই আদেশটিকে অবিলম্বে পালনের ওপর প্রয়োগ করেননি, কারণ তিনি যদি তা অবিলম্বে পালনের ওপর প্রয়োগ করতেন, তবে পৃথকভাবে রোজা রাখার অনুমতি দিতেন না) (৩)।
৪ - আর হানাফিদের অভিমত হলো, ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের (আম) নির্দেশনা নিশ্চিত, এবং এর ও বিশেষ অর্থবোধক শব্দের (খাস) মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিতে পারে। তারা এটি তাদের ইমামদের থেকে বর্ণিত একদল মাসআলা থেকে চয়ন করেছেন। আস-সারাখসি (মৃত্যু: ৪৯০ হিজরি) বলেন: (আমাদের ওলামায়ে কেরামের —আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন— মাসআলাসমূহ একথাই নির্দেশ করে। ইমাম মুহাম্মদ —আল্লাহ তার ওপর রহম করুন— যিয়াদাত গ্রন্থে বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি এক ব্যক্তির অনুকূলে একটি আংটির ওসিয়ত করে, অতঃপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أوصى بفصه لآخر بعد ذلك، في كلام مقطوع، فالحلقة للموصى له بالخاتم، والفص بينهما نصفان، لأن الإيجاب الثاني في عين ما أوجبه للأول، لا يكون رجوعاً عن الأول، فيجتمع في الفص وصيتان أحداهما بإيجاب عام، والأخرى بإيجاب خاص. ثم إذا ثبت المساواة بينهما في الحكم يجعل الفص بينهما نصفين) (1).
ثم نقل عنه في المضاربة قوله: (إذا اختلف المضارب ورب المال في العموم والخصوص فالقول قول من يدعي العموم أيهما كان).
قال السرخسي: (فلولا المساواة بين الخاص والعام حكماً فيما يتناوله لم يصر إلى الترجيح بمقتضى العقد) (2).
وعزز السرخسي ذلك الاستدلال بقول محمد – رحمه الله – بشأن اختلاف المضارب ورب المال: (وإذا أقاما جميعاً البينة وأرخ كل منهما، آخرهما تاريخاً أولى، سواء كان مبيناً للعموم أو الخصوص) فقال: فقد جعل العام المتأخر رافعاً للخاص المتقدم، كما جعل الخاص المتأخر مخصصاً للعام المتقدم، ولا يكون ذلك إلا بعد المساواة).
5 - وإن ترجيح العام على الخاص في العمل به، وإثبات التعارض بينه وبين الخاص خرجوه رأياً لأبي حنيفة – رحمه الله – من ترجيحه قوله- صلى الله عليه وسلم: (من حفر بئراً فله مما حولها أربعون ذراعاً) (3). العام بصيغته على الخاص الوارد بشأن بئر الناضح، وتحديده ذلك بأنه ستون ذراعاً (4).
وترجيحه قوله – صلى الله عليه وسلم: (ما أخرجت الأرض ففيه العشر) (5) العام
--------------------------------------------
এরপর তিনি বিচ্ছিন্ন এক বক্তব্যে অন্য এক ব্যক্তির জন্য সেই আংটির পাথরটির ওসিয়ত করলেন। এমতাবস্থায় আংটির কাঠামোটি (হালকা) আংটির জন্য ওসিয়তকৃত ব্যক্তি পাবে, আর পাথরটি তাদের উভয়ের মাঝে অর্ধেক করে বণ্টন হবে। কারণ দ্বিতীয় প্রস্তাবটি প্রথম ব্যক্তির জন্য যা সাব্যস্ত করা হয়েছিল তার হুবহু বিষয়ের মধ্যেই নিহিত, তাই এটি প্রথমটি থেকে প্রত্যাবর্তন (রজু) হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে পাথরের ক্ষেত্রে দুটি ওসিয়ত একত্রিত হয়েছে; একটি সাধারণ প্রস্তাবের মাধ্যমে এবং অন্যটি বিশেষ প্রস্তাবের মাধ্যমে। অতঃপর যখন বিধানের ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে সমতা প্রমাণিত হলো, তখন পাথরটি তাদের মাঝে দুই ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে। (১)
অতঃপর মুদারাবাহ অধ্যায়ে তার থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে: (যদি মুদারিব ও পুঁজির মালিক সাধারণত্ব ও বিশেষত্ব নিয়ে মতবিরোধ করে, তবে যে পক্ষ সাধারণত্বের দাবি করবে তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে, সে যে-ই হোক না কেন)।
সারাখসি বলেন: (যদি অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে বিধানগতভাবে বিশেষ ও সাধারণের মধ্যে সমতা না থাকত, তবে চুক্তির দাবি অনুযায়ী কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব হতো না) (২)।
সারাখসি এই দলিলটিকে ইমাম মুহাম্মাদ – রাহিমাহুল্লাহ – এর বক্তব্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন, যা মুদারিব ও পুঁজির মালিকের মতবিরোধ সংক্রান্ত: (যদি তারা উভয়েই সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে এবং উভয়েই তারিখ উল্লেখ করে, তবে যার তারিখ পরবর্তী সময়ের, সেটিই অগ্রাধিকার পাবে; তা সাধারণ বা বিশেষ যা-ই বর্ণনা করুক না কেন)। অতঃপর তিনি বলেন: এখানে পরবর্তী সাধারণ বিষয়কে পূর্ববর্তী বিশেষ বিষয়ের রহিতকারী করা হয়েছে, যেমনটি পরবর্তী বিশেষ বিষয়কে পূর্ববর্তী সাধারণ বিষয়ের জন্য নির্দিষ্টকারী করা হয়। আর এটি সমতা থাকলেই কেবল সম্ভব হয়)।
৫ - আমলের ক্ষেত্রে বিশেষের উপর সাধারণকে প্রাধান্য দেওয়া এবং সাধারণ ও বিশেষের মধ্যে বৈপরীত্য সাব্যস্ত করাকে তারা ইমাম আবু হানিফা – রাহিমাহুল্লাহ – এর মত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এটি তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে করেছেন: (যে ব্যক্তি কূপ খনন করবে, তার জন্য এর চারপাশে চল্লিশ হাত জায়গা থাকবে) (৩)। এই সাধারণ শব্দযুক্ত বর্ণনাটি সেচ কাজের জন্য ব্যবহৃত কূপ সংক্রান্ত বিশেষ বর্ণনার উপর প্রাধান্য পেয়েছে, যাতে এর সীমা ষাট হাত নির্ধারণ করা হয়েছিল (৪)।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই সাধারণ বাণীর প্রতি তাঁর প্রাধান্য দান: (ভূমি যা উৎপন্ন করে তাতে উশর রয়েছে) (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بصيغته، على الخاص الوارد بقوله- صلى الله عليه وسلم: (ليس في الخضروات صدقة (1). ليس فيما دون خمسة أوسق صدقة) (2) ومن قوله بنسخ الخاص بالعام، فإنه – رحمه الله – في شأن بول ما يؤكل لحمه، قال بنجاسته، وجعل الحديث الخاص الوارد بشأن العرنيين (3)، منسوخاً بالعام وهو قوله- صلى الله عليه وسلم (استنزهوا عن البول فن عامة عذاب القبر منه) (4).
6 - وإن القول بنفي المفهوم المخالف خرجه علماء الحنفية لأئمتهم من طائفة من الحكام الفرعية المنقولة عن هؤلاء الأئمة، ومن ذلك أن أبا يوسف قال: إن قوله تعالى: {وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَالاتِكَ اللَاّتِي هَاجَرْنَ مَعَكَ} (5) لا دلالة فيه على أن اللاتي لم يهاجرن معه محرمات عليه.
--------------------------------------------
এর শব্দের মাধ্যমে, সেই বিশেষ (দলিল)-এর ওপর যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর মাধ্যমে বর্ণিত: (শাকসবজিতে কোনো সদকা নেই (১)। পাঁচ ওয়াসাক-এর কম পরিমাণে কোনো সদকা নেই) (২)। এবং সাধারণ (আম) দলিল দ্বারা বিশেষ (খাস) দলিল রহিত (নাসখ) হওয়ার ব্যাপারে তাঁর মতানুসারে—নিশ্চয়ই তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ভক্ষণযোগ্য পশুর প্রস্রাবের বিষয়ে এর নাপাক হওয়ার কথা বলেছেন। আর উরাইনাহ গোত্রীয়দের (৩) ক্ষেত্রে বর্ণিত বিশেষ হাদিসটিকে তিনি সাধারণ (আম) হাদিস দ্বারা রহিত গণ্য করেছেন, যা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: (তোমরা প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করো, কেননা কবরের অধিকাংশ আজাব এর কারণেই হয়ে থাকে) (৪)।
৬ - নিশ্চয়ই 'মাফহুম আল-মুখালাফাহ' (বিপরীত অর্থ)-কে অস্বীকার করার বিষয়টি হানাফি আলেমগণ তাঁদের ইমামদের থেকে বর্ণিত একগুচ্ছ শাখা বিধান (ফুরুয়ি আহকাম) থেকে বের করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো, ইমাম আবু ইউসুফ বলেছেন: মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমার মামাতো বোন ও খালাতো বোনদের (বিবাহ করা তোমার জন্য বৈধ করা হয়েছে), যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে} (৫) - এর মধ্যে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, যারা তাঁর সাথে হিজরত করেনি তারা তাঁর জন্য হারাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ومثل ذلك ما حكاه أبو الحسن الكرخي (1) عن أبي يوسف أيضاً أنه قال في قوله تعالى: {وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَنْ تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ} (2): أنه لا دلالة فيه على أنها إذا لم تشهد لا يدرأ عنها العذاب (3). بل ذكروا عن محمد – رحمه الله – تخريجاً، أنه لا حجة فيه حتى في كلام الناس. أخذوه من قوله في السير الكبير (إذا حاصر المسلمون حصناً من حصون المشركين، فقال رجل من أهل الحصن أمنوني على أن أنزل غليكم على أن أدلكم على مائة رأس من السبي في قرية (كذا)، فأمنه المسلمون على ذلك فنزل فلم يخبر بشيء فنه يرد إلى مأمنه، لأنه لم يقل إن لم أدلكم فلا أمان لي) (4).
قال الجصاص (5): (وهذا يدل من مذهبه دلالة واضحة على أن التخصيص
--------------------------------------------
আর এর অনুরূপ হলো যা আবুল হাসান আল-কারখী (১) আবু ইউসুফ থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে বলেছেন: {এবং তার শাস্তি দূর করবে যদি সে আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য দেয়} (২): এতে এই মর্মে কোনো প্রমাণ নেই যে, সে যদি সাক্ষ্য না দেয় তবে তার থেকে শাস্তি দূর হবে না (৩)। বরং তারা মুহাম্মদ —রহিমাহুল্লাহ— থেকে একটি বিশ্লেষণ উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের কথার ক্ষেত্রেও এতে কোনো প্রমাণ নেই। তারা এটি আস-সিয়ার আল-কাবীর গ্রন্থে তাঁর এই উক্তি থেকে গ্রহণ করেছেন: (যদি মুসলমানরা মুশরিকদের কোনো দুর্গ অবরোধ করে, আর দুর্গের অধিবাসীদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি বলে যে, আমাকে নিরাপত্তা দিন এই শর্তে যে আমি আপনাদের কাছে নেমে আসব এবং আপনাদেরকে একশ জন বন্দীর সন্ধান দেব; অতঃপর মুসলমানরা তাকে এই শর্তে নিরাপত্তা দিল এবং সে নিচে নেমে এল কিন্তু কোনো কিছুর সংবাদ দিল না, তবে তাকে তার নিরাপদ স্থানে ফেরত পাঠানো হবে। কারণ সে এটি বলেনি যে, যদি আমি আপনাদের সংবাদ না দিই তবে আমার জন্য কোনো নিরাপত্তা নেই) (৪)।
আল-জাসসাস (৫) বলেন: (এটি তাঁর মাযহাব থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কোনো বিষয়কে নির্দিষ্ট করা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাখরীজু ইনদাল ফুক্বাহা ওয়াল উসুলিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بالذكر أو التعليق بالشرط لا يدل على أن ما عداه فحكمه بخلافه) (1).
7 - وأن قول الحنفية بأنه لا يجوز أن يراد من اللفظ الواحد في حالة واحدة حقيقته ومجازه، وأن الحقيقة والمجاز لا يجتمعان، أخذوه تخريجاً من طائفة من الفروع الفقهية أيضاً. منها قول علمائهم أنه لما أريد من آية الملامسة (أو لامستم النساء) الوقاع سقط اعتبار إرادة المس باليد وقول محمد بن الحسن: أنه إذا أوصى لمواليه وله موال أعتقهم ولمواليه موال أعتقوهم كانت الوصية لمواليه دون موالي مواليه.
وقوله في السير الكبير: لو استأمن أهل الحرب على آبائهم لا تدخل الأجداد في الأمان ولو استأمنوا على أمهاتهم لا يثبت الأمان في حق الجدات
… وإذا أوصى لأبكار بني فلان، لا تدخل المصابة بالفجور في حكم الوصية .. وقول علمائهم أنه لو أوصى لبني فلان وله بنون وبنو بنيه، كانت الوصية لبنيه دون بني بنيه.
وقولهم: لو حلف لا ينكح فلانة، وهي أجنبية، كان ذلك على العقد، حتى لو زنا بها لا يحنث (2).
8 - إن نسبة اشتراط انقراض العصر للاحتجاج بالإجماع إلى الإمام أحمد – رحمه الله خرجوه من ظاهر كلامه في رواية عبد الله (الحجة على من زعم أنه إذا كان أمراً مجمعاً، ثم افترقوا، أن نقف على ما أجمعوا عليه، أن أم الولد كان حكمها حكماً للأمة بإجماع، ثم أعتقهن عمر، وخالفه عليّ بعد موته، وحد الخمر ضرب أبو بكر أربعين، وعمر خالفه فزاد أربعين، ثم ضرب عليّ أربعين) فظاهر هذا الكلام اعتداده – رحمه الله – بالمخالفة، خلاف عليّ بعد عمر في أم الولد، وخلاف عمر بعد أبي بكر في حد الخمر. وهذا هو سند تخريجهم رأياً له باشتراط انقراض العصر (3).
--------------------------------------------
উল্লেখ করা বা শর্তের সাথে সম্পৃক্ত করা একথার প্রমাণ দেয় না যে, এর বাইরে যা রয়েছে তার বিধান এর বিপরীত।) (১)।
৭ - এবং হানাফীগণের এই বক্তব্য যে, একই অবস্থায় একটি শব্দ থেকে তার প্রকৃত (হাকীকী) ও রূপক (মাজাযী) উভয় অর্থ গ্রহণ করা জায়েয নয় এবং হাকীকত ও মাজায একত্রিত হয় না; এই মতটি তাঁরা ফিকহী শাখা-মাসআলার একটি গোষ্ঠী থেকেও আহরণ (তাখরীজ) করেছেন। এর মধ্যে তাঁদের আলিমগণের একটি বক্তব্য হলো, যখন স্পর্শের আয়াত (অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করেছ) থেকে যৌনমিলন উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, তখন হাত দিয়ে স্পর্শ করার বিষয়টি বিবেচনার বাইরে চলে গিয়েছে। এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের বক্তব্য: যখন কেউ তার মাওলাদের (মুক্ত করা দাস) জন্য অসিয়ত করল, এমতাবস্থায় তার এমন মাওলা রয়েছে যাদেরকে সে নিজে মুক্ত করেছে এবং তার মাওলাদেরও মাওলা রয়েছে যাদেরকে তার মাওলারা মুক্ত করেছে; তখন এই অসিয়ত কেবল তার মাওলাদের জন্য হবে, মাওলাদের মাওলাদের জন্য নয়।
এবং আস-সিয়ারুল কাবীর গ্রন্থে তাঁর বক্তব্য: যদি হারবী (শত্রুপক্ষ) তাদের পিতাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করে, তবে দাদারা এই নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত হবে না; আর যদি তারা তাদের মায়েদের জন্য নিরাপত্তা চায়, তবে নানি/দাদিদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সাব্যস্ত হবে না... এবং যদি অমুকের কুমারী কন্যাদের জন্য অসিয়ত করা হয়, তবে যারা ব্যভিচারের কারণে সতীত্ব হারিয়েছে তারা অসিয়তের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে না... এবং তাঁদের আলিমগণের বক্তব্য হলো, যদি কেউ অমুকের সন্তানদের জন্য অসিয়ত করে এবং তার নিজের সন্তান ও সন্তানের সন্তান (পৌত্র) উভয়ই থাকে, তবে অসিয়ত কেবল তার সন্তানদের জন্য হবে, সন্তানদের সন্তানদের জন্য নয়।
এবং তাঁদের বক্তব্য: যদি কেউ শপথ করে যে সে অমুককে বিবাহ (নিকাহ) করবে না, অথচ সে একজন আজনাবেয়াহ (পরনারী), তবে এই শপথ বিয়ের চুক্তির (আকদ) উপর প্রযোজ্য হবে; এমনকি সে যদি তার সাথে ব্যভিচারও করে, তবুও তার শপথ ভঙ্গ হবে না (২)।
৮ - ইজমাকে দলিল হিসেবে গ্রহণের জন্য যুগ শেষ হওয়া (ইনকিরাজুল আসর) শর্ত হওয়ার বিষয়টি ইমাম আহমাদ রহ.-এর প্রতি যে নিসবত বা সম্বন্ধ করা হয়, তা তাঁরা আব্দুল্লাহর বর্ণনায় তাঁর বক্তব্যের বাহ্যিক রূপ থেকে আহরণ করেছেন (সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দলিল যে মনে করে যে, যদি কোনো বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তারা মতভেদ করেন, তবে আমরা সেই বিষয়ের ওপরই স্থির থাকব যে বিষয়ে তারা একমত হয়েছিলেন। যেমন: উম্মুল ওয়ালাদ-এর বিধান ইজমা অনুযায়ী দাসীর বিধানের মতো ছিল, এরপর উমর রা. তাদেরকে মুক্ত করে দেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর আলী রা. তাঁর বিরোধিতা করেন। মদ্যপানের দণ্ডের ক্ষেত্রে আবু বকর রা. চল্লিশ বেত্রাঘাত করেছেন, উমর রা. তাঁর বিরোধিতা করে আরও চল্লিশ বাড়িয়ে দিয়েছেন, এরপর আলী রা. চল্লিশ বেত্রাঘাত করেছেন)। সুতরাং এই বক্তব্যের বাহ্যিক দিকটি হলো তিনি (রহিমাহুল্লাহ) পরবর্তী বিরোধিতাকে ধর্তব্য মনে করেছেন—যেমন উমর রা.-এর পর উম্মুল ওয়ালাদ বিষয়ে আলী রা.-এর বিরোধিতা এবং আবু বকর রা.-এর পর মদ্যপানের দণ্ড বিষয়ে উমর রা.-এর বিরোধিতা। আর এটিই হলো তাঁর পক্ষ থেকে যুগ শেষ হওয়া শর্ত করার মতটি আহরণ করার ভিত্তি (৩)।
--------------------------------------------