(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: -)
تنزيه الشريعة المرفوعة عن الأخبار الشنيعة الموضوعة القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: تنزيه الشريعة المرفوعة عن الأخبار الشنيعة الموضوعة
المؤلف: نور الدين، علي بن محمد بن علي بن عبد الرحمن ابن عراق الكناني (ت 963هـ)
المحقق: عبد الوهاب عبد اللطيف , عبد الله محمد الصديق الغماري
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1399 هـ
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তানজিহুশ শারিয়াতিল মারফুআ আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ (উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন শরীয়তকে বানোয়াট ও জঘন্য বর্ণনা থেকে পবিত্রকরণ) বিভাগ: হাদিসের ত্রুটিসমূহ ও প্রশ্নাবলি
বই: তানজিহুশ শারিয়াতিল মারফুআ আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
লেখক: নুর উদ্দিন، আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আব্দুর রহমান ইবনে ইরাক আল-কিনানি (ওফাত ৯৬৩ হিজরি)
সম্পাদক: আব্দুল ওয়াহহাব আব্দুল লতিফ, আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আস-সিদ্দিক আল-গুমারি
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৩৯৯ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِوَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ (قَالَ) الْفَقِيرُ إِلَى عَفْوِ الْخَلاقِ، عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَرَاقٍ، الشَّافِعِيُّ:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي مَنَّ بِتَنْزِيهِ الشَّرِيعَةِ عَنْ كُلِّ حَدِيثٍ مُفْتَرًى، وَهَتَكَ حِجَابَ الْكَاذِبِ عَلَيْهَا فَلا يُلْقَى إِلا سَاقِطًا مُزْدَرًى، أَحْمَدُهُ وَأَشْكُرُهُ وَأَدْعُوهُ وَأَسْتَغْفِرُهُ، وَأَلُوذُ بِهِ مُعْتَصِمًا وَمُنْتَصِرًا، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ شَهَادَةً لَا شَكَّ فِيهَا وَلا امْتِرَا، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ الْمَبْعُوثُ بِالْحَقِّ بشيراً ومنذراً، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ سَادَةِ الْوَرَى، وَأَئِمَّةِ الأَمْصَارِ وَالْقُرَى، مَا غَبَّرَ جُيُوشُ الْحَقِّ فِي وُجُوهِ الْمُبْطِلِينَ حَتَّى رَجَعُوا الْقَهْقَرَى (وَبَعْدُ) فَإِنَّ مِنَ الْمُهِمَّاتِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَالتُّقَى، مَعْرِفَةَ الأَحَادِيثِ الْمَوْضُوعَةِ عَلَى سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ لِتُتَّقَى، وَلِلإِمَامِ الْحَافِظِ أَبى الْفرج ابْن الْجَوْزِيِّ فِيهَا كِتَابٌ جَامِعٌ، إِلا أَنَّ عَلَيْهِ مُؤَاخَذَاتٍ وَمُنَاقَشَاتٍ فِي مَوَاضِعَ، وَقَدِ اعْتَنَى شَيْخُ شُيُوخِنَا الإِمَامُ الْحَافِظُ جَلالُ الدِّينِ عَبْدُ الرَّحْمَن ابْن أَبِي بَكْرٍ الأَسْيُوطِيُّ بِكِتَابِ ابْنِ الْجَوْزِيِّ الْمَذْكُورِ فَاخْتَصَرَهُ وَتَعَقَّبَهُ فِي كِتَابٍ سَمَّاهُ اللَّآلِي الْمَصْنُوعَةُ، فِي الأَحَادِيثِ الْمَوْضُوعَةِ، ثُمَّ عَمِلَ ذَيْلا ذَكَرَ فِيهِ أَحَادِيثَ مَوْضُوعَةً فَاتَتِ ابْنَ الْجَوْزِيِّ وَأَفْرَدَ أَكْثَرَ الْمَوَاضِعِ الْمُتَعَقَّبَةِ بِكِتَابٍ سَمَّاهُ " النُّكَتُ الْبَدِيعَاتُ " وَهَذَا كِتَابٌ لَخَّصْتُ فِيهِ هَذِهِ الْمُؤَلَّفَاتِ، بِحَيْثُ لَمْ يَبْقَ لِمُحَصِّلِهِ إِلَى مَا سِوَاهُ الْتِفَاتٌ، وَبَالَغْتُ فِي اخْتِصَارِهِ، وَتَهْذِيبِهِ، وَتَبِعْتُ اللَّآلِيَ فِي تَرَاجِمِهِ وَتَرْتِيبِهِ، وَجَعَلْتُ كُلَّ تَرْجَمَةٍ غَيْرَ كِتَابِ الْمَنَاقِبِ فِي ثَلاثَةِ فُصُولٍ:
(الأَوَّلُ) فِيمَا حَكَمَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ بِوَضْعِهِ وَلَمْ يُخَالَفْ فِيهِ.
(وَالثَّانِي) فِيمَا حَكَمَ بِوَضْعِهِ وَتُعُقِّبَ فِيهِ.
(وَالثَّالِثُ) فِيمَا زَادَهُ الأَسْيُوطِيُّ عَلَى ابْنِ الْجَوْزِيِّ حَيْثُ كَانَتْ لَهُ فِي تِلْكَ التَّرْجَمَةِ زِيَادَةٌ وَقَدْ أَخَلَّ السُّيُوطِيُّ فِي زِيَادَاتِهِ بِبَعْضِ تَرَاجِمِ أَصْلِهِ، وَأَوْرَدَ فِي الْكتاب الْجَامِع آخر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। (বলছেন) মহান স্রষ্টার ক্ষমার মুখাপেক্ষী দরিদ্র আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন ইরাক আশ-শাফিঈ:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি মিথ্যা হাদীস থেকে শরীয়তকে পবিত্র করে অনুগ্রহ করেছেন এবং শরীয়তের বিরুদ্ধে মিথ্যাবাদীদের পর্দা উন্মোচন করেছেন, ফলে তাদের কেবল অধপতিত ও অবজ্ঞাত রূপেই দেখা যায়। আমি তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি সুরক্ষা ও সাহায্যের জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য দিচ্ছি যাতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপরও রহমত বর্ষিত হোক যারা সৃষ্টির নেতা এবং শহর ও জনপদসমূহের ইমাম; যতক্ষণ না সত্যের বাহিনী বাতিলপন্থীদের মুখে ধুলো ছিটিয়ে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। (অতঃপর) নিশ্চয়ই জ্ঞানী ও আল্লাহভীরুদের নিকট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাসূলদের নেতার নামে উদ্ভাবিত জাল হাদীসসমূহ চিনে নেওয়া যাতে সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা যায়। ইমাম হাফেজ আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওযীর এ বিষয়ে একটি বিস্তৃত কিতাব রয়েছে, তবে এতে কিছু জায়গায় আপত্তি ও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। আমাদের শিক্ষকদের শিক্ষক ইমাম হাফেজ জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর আল-আসয়ূতী ইবনুল জাওযীর উক্ত কিতাবটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এর পর্যালোচনা করে 'আল-লাআলি আল-মাসনুআ ফিল আহাদিসিল মাউদুআ' নামক একটি কিতাব রচনা করেছেন। এরপর তিনি একটি পরিশিষ্ট তৈরি করেছেন যাতে এমন সব জাল হাদীস উল্লেখ করেছেন যা ইবনুল জাওযী থেকে বাদ পড়েছিল। আর অধিকাংশ পর্যালোচনার বিষয়গুলোকে তিনি 'আন-নুকাাত আল-বাদিআত' নামক একটি কিতাবে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেছেন। এটি এমন একটি কিতাব যেখানে আমি এই সমস্ত রচনাগুলোকে সংক্ষেপিত করেছি, যাতে এর পাঠকদের অন্য কোনো কিতাবের দিকে মনোনিবেশ করতে না হয়। আমি এটি সংক্ষিপ্তকরণ ও পরিমার্জনে চূড়ান্ত প্রয়াস চালিয়েছি এবং এর শিরোনাম ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে 'আল-লাআলি' কিতাবকে অনুসরণ করেছি। আর আমি (মর্যাদা অধ্যায় ব্যতীত) প্রতিটি শিরোনামকে তিনটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছি:
(প্রথম) ঐ সকল বর্ণনার ক্ষেত্রে যেগুলোকে ইবনুল জাওযী জাল বলে রায় দিয়েছেন এবং তাতে তাঁর বিরোধিতা করা হয়নি।
(দ্বিতীয়) ঐ সকল বর্ণনার ক্ষেত্রে যেগুলোকে তিনি জাল বলে রায় দিয়েছেন কিন্তু তাতে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
(তৃতীয়) ঐ সকল বর্ণনার ক্ষেত্রে যা আল-আসয়ূতী ইবনুল জাওযীর ওপর সংযোজন করেছেন যেখানে তাঁর অতিরিক্ত সংযোজন ছিল। সুয়ূতী তাঁর সংযোজনসমূহে মূল কিতাবের কিছু শিরোনাম বাদ দিয়েছেন এবং কিতাবের শেষে অন্য বিষয়াবলী উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الْكِتَابِ مَا حَقُّهُ أَنْ يُفْرَدَ بِالتَّرْجَمَةِ الْمَتْرُوكَةِ وَيُورَدَ فِيهَا، فَأَنَا نَقَلْتُ ذَلِكَ مِنَ الْكِتَابِ الْجَامِعِ وَأَوْرَدْتُهُ فِي التَّرَاجِمِ اللَّائِقِ بِهَا فِي ثَالِثِ فُصُولِهَا، أَمَّا كِتَابُ الْمَنَاقِبِ فَفِيهِ أَبْوَابٌ وَفِي كُلِّ بَابٍ مِنْهَا الْفُصُولُ الْمَذْكُورَةُ وَحَيْثُ لَمْ يَكُنْ فِي فَصْلٍ مِنْهَا شَيْءٌ قُلْتُ: وَالْفَصْلُ الْفُلانِيُّ خَالٍ؛ وَجَعَلْتُ أَوَائِلَ الأَحَادِيثِ فِي أَوَائِلِ السُّطُورِ تَسْهِيلا لِلْكَشْفِ وَالظَّفَرِ بِالْحَدِيثِ الْمَطْلُوبِ، وَإِذَا كَانَ الْحَدِيثُ مَرْفُوعًا قُلْتُ: حَدِيثُ كَذَا، وَاللَّفْظُ الْمُضَافُ إِلَيْهِ لَفْظَةُ حَدِيثٍ هُوَ اللَّفْظُ الْمَرْفُوعُ، وَبَعْدَ تَخَرُّجِهِ أَذْكُرُ صَحَابِيَّهُ الْمَنْسُوبَ إِلَيْهِ بِقَوْلِي: مِنْ حَدِيثِ فُلانٍ، إِلا أَنْ يَكُونَ فِي الحَدِيث حِكَايَة مُخَاطبَة مِنْهُ لِمُعَيَّنٍ أَوْ مُرَاجَعَةٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ غَيْرِهِ أَوْ حِكَايَةُ مُخَاطَبَةِ جِبْرِيلَ لَهُ والحاكى غير النَّبِي، أَوْ حِكَايَةُ قِصَّةٍ لَيْسَتْ مِنْ لفظ النَّبِي فَأُضِيفَ لَفْظَةُ " حَدِيثٍ " إِلَى اسْمِ الصَّحَابِيِّ أَوِ التَّابِعِيِّ الَّذِي نُسِبَ إِلَيْهِ الْحَدِيثُ وَإِذَا كَانَ الْحَدِيثُ مَوْقُوفًا قُلْتُ أَثَرُ فُلانٍ وَأَتْبَعْتُهُ لَفْظَهُ، ثُمَّ أَعْقَبَ كُلا بِذِكْرِ مُخَرِّجِهِ ثُمَّ بَيَانُ عِلَّتِهِ، وَمَا فِي زِيَادَاتِ السُّيُوطِيِّ مِمَّا لَمْ يُبَيِّنْ عِلَّتَهُ ذَكَرْتُ عِلَّتَهُ إِنْ لاحَتْ لِي، وَمَوَادُّ ابْنِ الْجَوْزِيِّ الَّتِي يُسْنِدُ الأَحَادِيثَ مِنْ طَرِيقِهَا غَالِبًا: الْكَامِلُ لابْنِ عَدِيٍّ وَالضُّعَفَاءُ لِابْنِ خبان وَلِلْعُقَيْلِيِّ وَلِلأَزْدِيِّ وَتَفْسِيرُ ابْنِ مَرْدَوَيْهِ وَمَعَاجِمُ الطَّبَرَانِيِّ وَالأَفْرَادُ لِلدَّارَقُطْنِيِّ وَتَصَانِيفُ الْخَطِيبِ وَتَصَانِيفُ ابْنِ شَاهِينَ وَالْحِلْيَةُ وَتَارِيخُ أَصْبَهَانَ وَغَيْرُهُمَا مِنْ مُصَنَّفَاتِ أَبِي نُعَيْمٍ وَتَارِيخُ نَيْسَابُورَ وَغَيْرُهُ مِنْ مُصَنَّفَاتِ الْحَاكِمِ وَالأَبَاطِيلُ لِلْجَوْزِقَانِيِّ، وَقَدْ جَعَلْتُ لِكُلِّ عَلامَةٍ لِلاخْتِصَارِ فَلابْنِ عَدِيٍّ (عد) ، وَلابْنِ حِبَّانَ (حب) وَلِلْعُقَيْلِيِّ (عق) وَلأَبِي الْفَتْحِ الأَزْدِيِّ (فت) وَلابْنِ مَرْدَوَيْهِ (مر) وَلِلطَّبَرَانِيِّ (طب) وَلِلدَّارَقُطْنِيِّ (قطّ) وَلِلْخَطِيبِ (خطّ) وَلابْنِ شَاهِينَ (شا) وَلأَبِي نُعَيْمٍ (نع) وَلِلْحَاكِمِ (حا) وَلِلْجَوْزِقَانِيِّ (قا) وَمَا كَانَ مِنْ غَيْرِ الْكُتُبِ الْمَذْكُورَةِ سَمَّيْتُ مَنْ رَوَاهُ إِنْ عَرَفْتُهُ وَإِلا نَسَبْتُهُ لابْنِ الْجَوْزِيِّ، وَمَوَادُّ السُّيُوطِيِّ هِيَ مَوَادُّ أَصْلِهِ وَزَادَ تَارِيخَ ابْنِ عَسَاكِرَ وَتَارِيخَ ابْنِ النَّجَّارِ وَمُسْنَدَ الْفِرْدَوْسِ لِلدَّيْلَمِيِّ وَتَصَانِيفَ أَبِي الشَّيْخِ، فَأَعْلَمْتُ لابْنِ عَسَاكِرَ (كرّ) وَلابْنِ النَّجَّارِ (نجا) وَلِلدَّيْلَمِيِّ (مي) وَلأَبِي الشَّيْخِ (يخ) وَإِذَا قُلْتُ قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ أَوِ السُّيُوطِيُّ فَلَسْتُ أَعْنِي عِبَارَتَهُمَا بِلَفْظِهَا وَإِنَّمَا أَعْنِي مُلَخَّصَهَا وَمَحْصُولَهَا، وَإِذَا قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي حَدِيثٍ لَا يَصِحُّ أَوْ مُنْكَرٌ وَنَحْوَهُمَا أَوْرَدْتُ لَفْظَهُ فِي ذَلِكَ فَإِنْ صَرَّحَ بِكَوْنِهِ مَوْضُوعًا أَوْ بَاطِلا أَوْ كَذِبًا أَحَدٌ مِمَّن بعد ابْن
কিতাবটির মধ্যে যা কিছু বাদ পড়া শিরোনাম হিসেবে আলাদা করার যোগ্য ছিল এবং সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল, তা আমি মূল সংকলিত গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছি এবং তার উপযুক্ত শিরোনামের অধীনে তৃতীয় পরিচ্ছেদে নিয়ে এসেছি। আর মানাকিব (মর্যাদা) বিষয়ক অধ্যায়ের কথা বললে, তাতে অনেকগুলো পরিচ্ছেদ রয়েছে এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদে উল্লিখিত অনুচ্ছেদগুলো রয়েছে। যদি কোনো অনুচ্ছেদে কোনো কিছু না থাকে, তবে আমি বলেছি: "অমুক অনুচ্ছেদটি খালি"; এবং কাঙ্ক্ষিত হাদিসটি সহজে খুঁজে পাওয়া ও লাভ করার সুবিধার্থে আমি হাদিসগুলোর শুরু অংশকে লাইনের শুরুতে রেখেছি। আর হাদিসটি যদি মারফূ হয়, তবে আমি বলেছি: "অমুক হাদিস", এবং "হাদিস" শব্দের সাথে যা যুক্ত হয়েছে তা হলো সেই মারফূ শব্দ। এর তাখরীজ করার পর, আমি সেই হাদিসটি যে সাহাবীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত তার কথা উল্লেখ করি এভাবে: "অমুকের হাদিস থেকে"; তবে যদি হাদিসে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সাথে তাঁর সম্বোধনের বিবরণ থাকে, অথবা তাঁর ও অন্য কারোর মধ্যে কথোপকথন থাকে, অথবা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এর সাথে তাঁর সম্বোধনের বিবরণ থাকে এবং বর্ণনাকারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া অন্য কেউ হন, অথবা এমন কোনো গল্পের বিবরণ হয় যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিজের কথা নয়, তবে আমি "হাদিস" শব্দটিকে সেই সাহাবী বা তাবিঈর নামের সাথে সম্বন্ধ করি যার দিকে হাদিসটি সম্বন্ধযুক্ত। আর হাদিসটি যদি মাওকূফ হয়, তবে আমি বলি: "অমুকের আসার (বর্ণনা)" এবং এরপর তার শব্দগুলো উল্লেখ করি। অতঃপর প্রতিটির শেষে এর সংকলকের নাম উল্লেখ করি এবং তারপর এর ত্রুটি বর্ণনা করি। সুয়ূতী (রহ.)-এর অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহের মধ্যে যেগুলোর ত্রুটি তিনি স্পষ্ট করেননি, আমি সেগুলো যদি আমার কাছে স্পষ্ট হয় তবে তার ত্রুটি উল্লেখ করেছি। ইবনুল জাওযী (রহ.) সাধারণত যে সকল উৎসের মাধ্যমে হাদিসগুলোর সনদ বর্ণনা করেন সেগুলো হলো: ইবনে আদীর আল-কামিল, ইবনে হিব্বান, উকাইলী ও আযদীর আদ-দুয়াফা, ইবনে মারদাওয়াইহ-এর তাফসীর, তাবারানীর মু'জামসমূহ, দারা কুতনীর আল-আফরাদ, আল-খতীবের রচনাবলি, ইবনে শাহীনের রচনাবলি, আবু নুআইমের আল-হিলয়াহ ও তারিখ আসবাহানসহ অন্যান্য গ্রন্থ, হাকিমের তারিখ নাইসাবুরসহ অন্যান্য গ্রন্থ এবং জাওযাকানীর আল-আবাতীল। আমি সংক্ষিপ্ত করার জন্য প্রতিটি গ্রন্থের জন্য সংকেত নির্ধারণ করেছি; ইবনে আদীর জন্য (আদ), ইবনে হিব্বানের জন্য (হাব), উকাইলীর জন্য (উক), আবুল ফাতহ আযদীর জন্য (ফাত), ইবনে মারদাওয়াইহের জন্য (মার), তাবারানীর জন্য (তাব), দারা কুতনীর জন্য (কাত), খতীবের জন্য (খাত), ইবনে শাহীনের জন্য (শা), আবু নুআইমের জন্য (নু), হাকিমের জন্য (হা) এবং জাওযাকানীর জন্য (কা)। আর যা উল্লিখিত গ্রন্থসমূহের বাইরে থেকে এসেছে, তা কে বর্ণনা করেছেন তা জানা থাকলে আমি তার নাম উল্লেখ করেছি, অন্যথায় তা ইবনুল জাওযীর দিকে সম্বন্ধ করেছি। সুয়ূতীর উৎসগুলো হলো তাঁর মূল গ্রন্থের উৎসসমূহ, এর সাথে তিনি যোগ করেছেন ইবনে আসাকিরের তারিখ, ইবনে নাজ্জারের তারিখ, দাইলামীর মুসনাদুল ফিরদাউস এবং আবুশ শাইখের রচনাবলি। আমি ইবনে আসাকিরের জন্য (কার), ইবনে নাজ্জারের জন্য (নাজা), দাইলামীর জন্য (মি) এবং আবুশ শাইখের জন্য (খা) চিহ্ন দিয়েছি। আর আমি যখন বলি "ইবনুল জাওযী বলেছেন" বা "সুয়ূতী বলেছেন", তখন এর দ্বারা আমি তাঁদের হুবহু ভাষ্য উদ্দেশ্য করি না, বরং এর দ্বারা তাঁদের কথার সারসংক্ষেপ ও ফলাফল উদ্দেশ্য করি। আর ইবনুল জাওযী যখন কোনো হাদিস সম্পর্কে বলেন "সহিহ নয়" অথবা "মুনকার" বা এই জাতীয় কিছু, তখন আমি সে ব্যাপারে তাঁর শব্দগুলোই উল্লেখ করি। আর ইবনুল জাওযীর পরবর্তী কেউ যদি সেটিকে জাল, বাতিল বা মিথ্যা বলে স্পষ্ট করেন...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الْجَوْزِيِّ ذَكَرْتُهُ، فَإِنْ كَانَ فِي أَوَّلِهِ قُلْتُ، فَمِنْ زِيَادَتِي وَإِلا فَمِنْ مُؤَلَّفِ السُّيُوطِيِّ، فَأَمَّا إِذَا قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ مَوْضُوع أَولا أَصْلَ لَهُ أَوْ كَذِبٌ فَلا أَذْكُرُ ذَلِكَ غَالِبًا اخْتِصَارًا، وَلأَنَّ مَوْضُوعَ الْكِتَابِ بَيَانُ الْمَوْضُوعِ فَهُوَ كَافٍ فِي الْحُكْمِ عَلَيْهِ بِذَلِكَ، إِلا أَنْ يُقَالَ ذَلِكَ فِي حَدِيثٍ لَمْ يُصَرَّحْ بِوَصْفِ أَحَدٍ مِنْ رُوَاتِهِ بِكَذِبٍ وَلا وَضْعٍ فَأَذْكُرُهُ، وَرَاجَعْتُ حَالَ جَمْعِي لِهَذَا التَّلْخِيصِ مَوْضُوعَاتِ ابْنِ الْجَوْزِيِّ وَالْعِلَلَ الْمُتَنَاهِيَةَ لَهُ، وَتَلْخِيصَهُمَا لِلْحَافِظِ الذَّهَبِيِّ وَتَلْخِيصَ مَوْضُوعَاتِ الْجَوْزِقَانِيِّ وَالْمِيزَانَ لِلذَّهَبِيِّ أَيْضًا، وَلِسَانَ الْمِيزَانِ وَتَخْرِيجَ الرَّافِعِيِّ وَتَخْرِيجَ الْكَشَّافِ وَالْمَطَالِبَ الْعَالِيَةِ وَتَسْدِيدَ الْقَوْسِ وَزَهْرَ الْفِرْدَوْسِ السِّتَّةَ لِلْحَافِظِ ابْنِ حَجَرٍ، وَتَخْرِيجَ الإِحْيَاءِ لِلْحَافِظِ الْعِرَاقِيِّ وَالأَمَالِي لَهُ وَتَلْخِيصَ الْمَوْضُوعَاتِ لِلْعَلامَةِ جَلالِ الدِّينِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ إِدْرِيسَ بْنِ دِرْبَاسَ، فَرُبَّمَا أَزِيدُ مِنْ هَذِهِ الْكُتُبِ وَغَيرهَا مَا يحْتَاج إِلَيْهِ وَأمين مَا أَزِيدُهُ غَالِبًا بِقَوْلِي فِي أَوَّلِهِ، قُلْتُ، وَفِي آخِرِهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ، وَقَدَّمْتُ قَبْلَ الْخَوْضِ فِي الْمَقْصُودِ فُصُولا نَافِعَةً فِي مَعْرِفَةِ مِقْدَارِ هَذَا الْفَنِّ لِطَالِبِيهِ (وَسَمَّيْتُهُ) " تَنْزِيهَ الشَّرِيعَةِ الْمَرْفُوعَةِ، عَنِ الأَخْبَارِ الشنيعة الْمَوْضُوعَة، وَالله المسؤل أَنْ يَجْعَلَهُ خَالِصًا لِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ، وَأَنْ يَنْفَعَنِي بِهِ وَمَنْ طَالَعَهُ بِنِيَّةٍ صَادِقَةٍ وَقَلْبٍ سَلِيمٍ.
[فَصْلٌ]فِي حَقِيقَةِ الْمَوْضُوعِ وَأَمَارَاتِهِ وَحُكْمِهِ: الْمَوْضُوع لُغَة اسْم مفعول من وضع الشَّيْء يَضَعهُ بِالْفَتْح وضعا حطه وأسقطه، وَقَالَ الْحَافِظ ابْن دحْيَة: الْمَوْضُوع الملصق وضع فلَان على فلَان كَذَا ألصقه بِهِ، وَاصْطِلَاحا هُوَ الحَدِيث المختلق الْمَصْنُوع مَأْخُوذ من الْمَعْنى الأول، لِأَن رتبته أَن يكون مطرحا ملقى لَا يسْتَحق الرّفْع أصلا، أَو من الْمَعْنى الثَّانِي لِأَنَّهُ ملصق بِالنَّبِيِّ، وَهُوَ شَرّ أَنْوَاع الضَّعِيف، وَله أَمَارَات مِنْهَا: إِقْرَار وَاضعه بِوَضْعِهِ كَحَدِيث فَضَائِل الْقُرْآن، اعْترف بِوَضْعِهِ ميسرَة بن عبد ربه، فَيرد حَدِيثه ذَلِك سَائِر مروياته، وَلَيْسَ هَذَا قبولا لقَوْله مَعَ اعترافه بالمفسق، وَإِنَّمَا هُوَ مُؤَاخذَة لَهُ بِمُوجب إِقْرَاره كَمَا يُؤَاخذ الشَّخْص باعترافه بالزنى وَالْقَتْل وَنَحْوهمَا، واستفيد من جعلنَا هَذَا أَمارَة أَنا لَا نقطع على حَدِيثه ذَلِك بِالْوَضْعِ، لاحْتِمَال كذبه فِي إِقْرَاره، نعم إِذا انْضَمَّ إِلَى إِقْرَاره قَرَائِن تَقْتَضِي صدقه فِيهِ قَطعنَا بِهِ وَلَا سِيمَا إِذا كَانَ إخْبَاره لنا بذلك بعد تَوْبَته، وَمِنْهَا مَا ينزل منزلَة إِقْرَاره، ومثاله كَمَا قَالَ الْعَلامَة الزَّرْكَشِيّ والحافظ الْعِرَاقِيّ أَن يعين المتفرد
ইবনুল জাওযী যা উল্লেখ করেছেন, আমি তা উল্লেখ করেছি। যদি এর শুরুতে আমি বলি 'আমি বলছি' (কুলতু), তবে তা আমার পক্ষ থেকে সংযোজন, অন্যথায় তা সুয়ূতী-র মূল গ্রন্থ থেকে। তবে যখন ইবনুল জাওযী কোনো হাদিসকে 'মাওযূ' (বানোয়াট), 'ভিত্তিহীন' অথবা 'মিথ্যা' বলেন, তখন আমি সংক্ষেপ করার জন্য সাধারণত তা উল্লেখ করি না। কারণ এই কিতাবের মূল বিষয়বস্তুই হলো বানোয়াট বর্ণনা স্পষ্ট করা, তাই কোনো হাদিসের ওপর হুকুম লাগানোর জন্য কিতাবটিই যথেষ্ট। তবে যদি এমন কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে তা বলা হয় যার বর্ণনাকারীদের কাউকে স্পষ্টভাবে মিথ্যাবাদী বা জালিয়াতি করা হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি, তবে আমি তা উল্লেখ করি। এই সারসংক্ষেপটি সংকলনের সময় আমি ইবনুল জাওযীর 'মাওযূআত' ও 'আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ', হাফেয যাহাবীর এ দুটির সারসংক্ষেপ, জাওযাকানীর 'মাওযূআত'-এর সারসংক্ষেপ, হাফেয যাহাবীর 'আল-মীযান', 'লিসানুল মীযান', রাফেয়ীর 'তাখরীজ', কাশশাফের 'তাখরীজ', 'আল-মাতালিবুল আলিয়াহ', 'তাসদীদুল কাউস' এবং 'যাহরুল ফিরদাউস'—হাফেয ইবনে হাজারের এই ছয়টি গ্রন্থ, হাফেয ইরাকীর 'ইহইয়া'র 'তাখরীজ' ও তার 'আল-আমালি', এবং আল্লামা জালালুদ্দীন ইব্রাহিম বিন উসমান বিন ইদ্রিস বিন দিরবাস-এর 'মাওযূআত'-এর সারসংক্ষেপ পর্যালোচনা করেছি। সম্ভবত আমি এসব কিতাব ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করব। আমি যা বৃদ্ধি করব তার শুরুতে সাধারণত 'আমি বলছি' এবং শেষে 'আল্লাহু আলাম' (আল্লাহই সর্বজ্ঞ) বলে চিহ্নিত করব। মূল আলোচনায় প্রবেশের আগে আমি এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য এর গুরুত্ব অনুধাবনের উদ্দেশ্যে কিছু উপকারী পরিচ্ছেদ উপস্থাপন করেছি। আমি এর নাম রেখেছি "তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফূআহ, আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওযূআহ" (উচ্চমর্যাদাশীল শরীয়তকে জঘন্য ও বানোয়াট সংবাদ থেকে পবিত্রকরণ)। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে শুধুমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর দ্বারা আমাকে ও যারা এটি সত্য নিয়তে ও সুস্থ হৃদয়ে পাঠ করবে তাদের উপকৃত করেন।
[পরিচ্ছেদ]মাওযূ বা বানোয়াট হাদিসের হাকিকত, আলামত ও হুকুম প্রসঙ্গে: 'মাওযূ' শব্দটি শাব্দিকভাবে 'ওয়াযাআ' ক্রিয়ামূল থেকে 'ইসমে মাফউল', যার অর্থ কোনো কিছু নিচে রাখা বা ফেলে দেয়া। হাফেয ইবনু দাহইয়াহ বলেন: 'মাওযূ' অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট করা; অমুক ব্যক্তি অমুক ব্যক্তির প্রতি এমন কিছু আরোপ করেছে বা সংশ্লিষ্ট করেছে। পারিভাষিক অর্থে এটি হলো মিথ্যা ও মনগড়া হাদিস। এই পারিভাষিক অর্থটি প্রথম শাব্দিক অর্থ থেকে গৃহীত হয়েছে, কারণ এর মর্যাদা হলো একে ছুড়ে ফেলা হবে এবং এটি মোটেও মারফূ (নবী পর্যন্ত পৌঁছানো) হওয়ার যোগ্য নয়। অথবা এটি দ্বিতীয় অর্থ থেকে গৃহীত হয়েছে, কারণ এটি নবীজির সাথে সংশ্লিষ্ট করা বা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি যয়ীফ বা দুর্বল হাদিসের নিকৃষ্টতম প্রকার। এর কিছু আলামত বা চিহ্ন রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: জালকারীর নিজের স্বীকারোক্তি। যেমন কুরআনের ফযীলত বিষয়ক হাদিস, যা জাল করার কথা মুয়াসসারাহ ইবনে আবদু রাব্বিহি স্বীকার করেছেন। তার এই স্বীকারোক্তির কারণে উক্ত হাদিসসহ তার বর্ণিত অন্যান্য সকল হাদিসও প্রত্যাখ্যাত হবে। এটি তার পাপাচারের স্বীকারোক্তি সত্ত্বেও তার কথা গ্রহণ করা নয়, বরং এটি তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই তাকে পাকড়াও করা, যেমন কোনো ব্যক্তি যিনা বা হত্যার স্বীকারোক্তি দিলে তাকে পাকড়াও করা হয়। একে আলামত হিসেবে গণ্য করার দ্বারা এ কথা বোঝা যায় যে, আমরা তার হাদিসটিকে নিশ্চিতভাবে বানোয়াট বলব না, কারণ সে তার স্বীকারোক্তি প্রদানের ক্ষেত্রেও মিথ্যা বলতে পারে। তবে হ্যাঁ, যদি তার স্বীকারোক্তির সাথে এমন কিছু আলামত থাকে যা তার সত্যতা প্রমাণ করে, তবে আমরা তা নিশ্চিতভাবে বানোয়াট বলব; বিশেষ করে যদি সে তওবা করার পর আমাদের এই সংবাদ দেয়। আর কিছু বিষয় আছে যা স্বীকারোক্তির স্থলাভিষিক্ত হয়। এর উদাহরণ হলো, যেমন আল্লামা যারকাশী ও হাফেয ইরাকী বলেছেন যে, কোনো বর্ণনাকারী যদি এমন কোনো হাদিস বর্ণনায় একক হয়ে যায়...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بِالْحَدِيثِ تَارِيخ مولده أَو سَمَاعه بِمَا لَا يُمكن مَعَه الْأَخْذ عَن شَيْخه أَو يَقُول إِنَّه سمع فِي مَكَان يعلم أَن الشَّيْخ لم يدْخلهُ، وَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي نكت ابْن الصّلاح: الأولى أَن يمثل لهَذِهِ الأمارة بِمَا رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الْمدْخل بِسَنَدِهِ الصَّحِيح أَنهم اخْتلفُوا بِحُضُور أَحْمد ابْن عبد الله الجويباري فِي سَماع الْحسن من أبي هُرَيْرَة، فروى لَهُم بِسَنَدِهِ إِلَى النَّبِي: سمع الْحسن من أبي هُرَيْرَة، قلت: إِنَّمَا عرف كذب هَذَا الحَدِيث بالتاريخ، فَلَو قَالَ الزَّرْكَشِيّ والعراقي فِي الصُّورَة الأولى: كَأَن يكذبهُ التَّارِيخ لشمل هَذَا الْمِثَال وَالله أعلم، وَمِنْهَا: أَن يُصَرح بتكذيب رَاوِيه جمع كثير يمْتَنع فِي الْعَادة تواطؤهم على الْكَذِب أَو تَقْلِيد بَعضهم بَعْضًا، وَمِنْهَا قرينَة فِي حَال الرَّاوِي كقصة غياث بن إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ مَعَ الْمهْدي وَسَتَأْتِي، وَمِنْهَا قرينَة فِي الْمَرْوِيّ كمخالفته لمقْتَضى الْعقل بِحَيْثُ لَا يقبل التَّأْوِيل، ويلتحق بِهِ مَا يَدْفَعهُ الْحس والمشاهدة أَو الْعَادة. وكمنافاته لدلَالَة الْكتاب القطعية أَو السّنة المتواترة أَو الْإِجْمَاع الْقطعِي، قَالَ الزَّرْكَشِيّ: هَذَا إِن لم يحْتَمل أَن يكون سقط من الْمَرْوِيّ على بعض رُوَاته مَا تَزُول بِهِ الْمُنَافَاة كَحَدِيث: لَا يبْقى على ظهر الأَرْض بعد مائَة سنة نفس منفوسة. فَإِنَّهُ سقط على رَاوِيه لَفْظَة: مِنْكُم، قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر: وَتَقْيِيد السّنة بالمتواترة احْتِرَاز عَن غير المتواترة فقد أَخطَأ من حكم بِالْوَضْعِ بِمُجَرَّد مُخَالفَة السّنة مُطلقًا، وَقد أَكثر من ذَلِك الجوزقاني فِي كتاب الأباطيل. وَهَذَا إِنَّمَا يَتَأَتَّى حَيْثُ لَا يُمكن الْجمع بِوَجْه من الْوُجُوه، أما مَعَ إِمْكَان الْجمع فَلَا. وَقَالَ الشَّيْخ تَقِيّ الدَّين ابْن دَقِيق الْعِيد مُشِيرا إِلَى هَذِه الأمارة: وَكَثِيرًا مَا يحكمون بِالْوَضْعِ بِاعْتِبَار أُمُور ترجع إِلَى الْمَرْوِيّ وألفاظ الحَدِيث. وَحَاصِله يرجع إِلَى أَنه حصلت لَهُم لِكَثْرَة مزاولة أَلْفَاظ النَّبِي هَيْئَة نفسانية وملكة قَوِيَّة يعْرفُونَ بهَا مَا يجوز أَن يكون من أَلْفَاظ النُّبُوَّة وَمَا لَا يجوز، كَمَا سُئِلَ بَعضهم كَيفَ تعرف أَن الشَّيْخ كَذَّاب؟ قَالَ إِذا روى: " لَا تَأْكُلُوا الْقرعَة حَتَّى تذبحوها " علمت أَنه كَذَّاب؛ قلت وَقد استأنس بَعضهم لذَلِك بِخَبَر أبي حميد أَو أبي أسيد عَن رَسُول الله أَنه قَالَ " إِذا سَمِعْتُمْ الحَدِيث تعرفه قُلُوبكُمْ وتلين لَهُ أَشْعَاركُم وَأَبْشَاركُمْ وترون أَنه مِنْكُم قريب فَأَنا أولاكم بِهِ، وَإِذا
হাদিসের ক্ষেত্রে তার জন্মের তারিখ বা শ্রবণের সময় এমন হওয়া যার ফলে তার শাইখের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, অথবা সে এমন কোনো স্থানে হাদিস শোনার দাবি করে যেখানে জানা যায় যে উক্ত শাইখ কখনোই প্রবেশ করেননি। হাফিজ ইবনে হাজার 'নুকাত ইবনুস সালাহ' গ্রন্থে বলেছেন: এই চিহ্নের উদাহরণ হিসেবে বায়হাকি তাঁর 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে সহিহ সনদে যা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করা অধিকতর উত্তম; যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে, হাসান (বসরি) আবু হুরায়রা থেকে হাদিস শুনেছেন কি না সে বিষয়ে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জুয়াইবাতিল-এর উপস্থিতিতে লোকেরা মতভেদ করছিলেন। তখন সে তাদের সামনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত একটি সনদ উল্লেখ করে বর্ণনা করল যে: "হাসান আবু হুরায়রা থেকে শুনেছেন।" আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই হাদিসের মিথ্যা হওয়া মূলত ইতিহাসের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং যদি যারকাশি ও ইরাকি প্রথম সুরতে বলতেন: "যেন ইতিহাস তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে", তবে এই উদাহরণটি তাতে অন্তর্ভুক্ত হতো। আল্লাহই ভালো জানেন।
অন্য একটি চিহ্ন হলো: বর্ণনাকারীকে এমন এক বিশাল জনসমষ্টি কর্তৃক মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা, যাদের পক্ষে সাধারণত মিথ্যার ওপর একমত হওয়া বা একে অপরের অন্ধ অনুকরণ করা অসম্ভব। অন্যটি হলো বর্ণনাকারীর অবস্থার মধ্যে কোনো আলামত থাকা, যেমন মাহদির সাথে গিয়াস ইবনে ইবরাহিম আন-নাখায়ির ঘটনা, যা সামনে আলোচিত হবে। অন্য একটি চিহ্ন হলো বর্ণিত বিষয়ের (মতন) মধ্যে আলামত থাকা, যেমন তা আকল বা বুদ্ধির চাহিদার এমন বিরোধী হওয়া যা কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। এর সাথে সেই বিষয়গুলোও যুক্ত হবে যা ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান, পর্যবেক্ষণ বা স্বভাবজাত বিষয়ের পরিপন্থী। এবং যেমন তা কুরআনের অকাট্য দলিলাদি, মুতাওয়াতির সুন্নাহ অথবা অকাট্য ইজমার সাথে সাংঘর্ষিক হওয়া। যারকাশি বলেছেন: এটি তখন কার্যকর হবে যখন বর্ণিত বিষয়ের কোনো বর্ণনাকারীর কাছ থেকে এমন কিছু বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকবে না যার মাধ্যমে বিরোধ দূর হতে পারে; যেমন সেই হাদিসটি: "একশ বছর পর জমিনের উপরিভাগে কোনো জীবিত প্রাণী অবশিষ্ট থাকবে না।" কেননা এর বর্ণনাকারীর কাছ থেকে "তোমাদের মধ্য থেকে" শব্দটি বাদ পড়েছিল।
হাফিজ ইবনে হাজার বলেছেন: সুন্নাহকে মুতাওয়াতির দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে গায়রে মুতাওয়াতির (আহাদ) থেকে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য। কারণ যে ব্যক্তি কেবল সাধারণভাবে সুন্নাহর বিরোধিতার কারণে কোনো হাদিসকে জাল হওয়ার হুকুম দেয়, সে ভুল করেছে। জাওযাকানি তাঁর 'কিতাবুল আবাতিল' গ্রন্থে এর আধিক্য ঘটিয়েছেন। আর এটি কেবল তখনই সম্ভব যখন কোনোভাবেই সমন্বয় করা সম্ভব না হয়; কিন্তু সমন্বয় করা সম্ভব হলে জাল বলার সুযোগ নেই। শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীকুল ঈদ এই চিহ্নের দিকে ইশারা করে বলেছেন: মুহাদ্দিসগণ অনেক সময় বর্ণিত বিষয় ও হাদিসের শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে জাল হওয়ার হুকুম প্রদান করেন। এর সারকথা হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর সাথে দীর্ঘদিনের নিবিড় চর্চার ফলে তাদের মাঝে এমন এক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও শক্তিশালী প্রজ্ঞা তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারেন কোনটি নবুওয়াতের বাণী হওয়া সম্ভব আর কোনটি নবুওয়াতের বাণী হওয়া অসম্ভব। যেমন তাদের কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "আপনি কীভাবে বুঝলেন যে এই শাইখ একজন মিথ্যাবাদী?" তিনি বললেন: "যখন সে বর্ণনা করল—তোমরা কদু (লাউ) জবেহ না করে খেও না—তখনই আমি বুঝে নিলাম যে সে একজন মিথ্যাবাদী।"
আমি বলছি, কেউ কেউ এর সপক্ষে আবু হুমাইদ বা আবু উসাইদ কর্তৃক রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত এই খবরের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যখন তোমরা এমন কোনো হাদিস শুনবে যা তোমাদের অন্তর চেনে এবং তোমাদের পশম ও চামড়া তার প্রতি কোমল হয়, আর তোমরা মনে করো যে তা তোমাদের নিকটবর্তী, তবে আমিই তার অধিক হকদার। আর যখন..."
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ৭)
سَمِعْتُمْ الحَدِيث عني تنكره قُلُوبكُمْ وتنفر مِنْهُ أَشْعَاركُم وَأَبْشَاركُمْ وترون أَنه مِنْكُم بعيد فَأَنا أبعدكم مِنْهُ " رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد وَالْبَزَّار فِي مسنديهما وَسَنَده صَحِيح كَمَا قَالَه الْقُرْطُبِيّ وَغَيره وَبِقَوْلِهِ " مَا حدثتم عني مِمَّا تُنْكِرُونَهُ فَلَا تَأْخُذُوا بِهِ فَإِنِّي لَا أَقُول الْمُنكر وَلست من أَهله " رَوَاهُ ابْن الْجَوْزِيّ، وَعَن الرّبيع بن خثيم التَّابِعِيّ الْجَلِيل أَنه قَالَ: إِن للْحَدِيث ضوءا كضوء النَّهَار يعرفهُ وظلمة كظلمة اللَّيْل تنكره، وَمن أَنْوَاع هَذِه الأمارة أَن يكون الحَدِيث خَبرا عَن أَمر جسيم تتوفر الدَّوَاعِي على نَقله بِحَضْرَة الجم الْغَفِير ثمَّ لَا يَنْقُلهُ إِلَّا وَاحِد مِنْهُم (وَمِنْهَا) أَن يكون فِيمَا يلْزم الْمُكَلّفين علمه وَقطع الْعذر فِيهِ، فينفرد بِهِ وَاحِد (وَمِنْهَا) ركة لَفظه وَمَعْنَاهُ، قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر: والمدار على ركة الْمَعْنى فَحَيْثُ وجدت دلّت على الْوَضع سَوَاء انْضَمَّ إِلَيْهَا ركة اللَّفْظ أم لَا فَإِن هَذَا الدَّين كُله محَاسِن والركة ترجع إِلَى الرداءة فبينها وَبَين مَقَاصِد الدَّين مباينة، وركة اللَّفْظ وَحدهَا لَا تدل على ذَلِك لاحْتِمَال أَن يكون الرَّاوِي رَوَاهُ بِالْمَعْنَى فَعبر بِأَلْفَاظ غير فصيحة من غير أَن يخل بِالْمَعْنَى، نعم إِن صرح الرَّاوِي بِأَن هَذَا لفظ النَّبِي دلّت ركة اللَّفْظ حِينَئِذٍ على الْوَضع انْتهى قَالَ شيخ شُيُوخنَا الْبُرْهَان البقاعي: وَمِمَّا يرجع إِلَى ركة الْمَعْنى الإفراط بالوعيد الشَّديد، على الْأَمر الصَّغِير أَو بالوعد الْعَظِيم على الْفِعْل الْيَسِير، وَهَذَا كثير فِي حَدِيث الْقصاص، قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: وَإِنِّي لأَسْتَحي من وضع أَقوام وضعُوا: " من صلى كَذَا فَلهُ سَبْعُونَ دَارا فِي كل دَار سَبْعُونَ ألف بَيت فِي كل بَيت سَبْعُونَ ألف سَرِير على كل سَرِير سَبْعُونَ ألف جَارِيَة، وَإِن كَانَت الْقُدْرَة لَا تعجز وَلَكِن هَذَا تَخْلِيط قَبِيح، " وَكَذَلِكَ يَقُولُونَ: " من صَامَ يَوْمًا كَانَ كَأَجر ألف حَاج وَألف مُعْتَمر وَكَانَ لَهُ ثَوَاب أَيُّوب، " وَهَذَا يفْسد مقادير مَوَازِين الْأَعْمَال (وَمِنْهَا) مَا ذكره الإِمَام فَخر الدَّين الرَّازِيّ أَن يروي الْخَبَر فِي زمن قد استقرئت فِيهِ الْأَخْبَار ودونت فيفتش عَنهُ فَلَا يُوجد فِي صُدُور الرِّجَال وَلَا فِي بطُون الْكتب فَأَما فِي عصر الصَّحَابَة وَمَا يقرب مِنْهُ حِين لم تكن الْأَخْبَار استقرئت فَإِنَّهُ يجوز أَن يروي أحدهم مَا لَيْسَ عِنْد غَيره، قَالَ الْحَافِظ العلائى: وَهَذَا إِنَّمَا يقوم بِهِ أَي بالتفتيش عَنهُ الْحَافِظ الْكَبِير الَّذِي قد أحَاط حفظه بِجَمِيعِ الحَدِيث أَو معظمه كَالْإِمَامِ أَحْمد وَعلي بن الْمَدِينِيّ وَيحيى بن معِين وَمن بعدهمْ كالبخاري وَأبي حَاتِم وَأبي زرْعَة وَمن دونهم كَالنَّسَائِيِّ ثمَّ الدَّارَقُطْنِيّ، لِأَن المآخذ الَّتِي يحكم بهَا غَالِبا على الحَدِيث بِأَنَّهُ مَوْضُوع إِنَّمَا هِيَ جمع الطّرق والاطلاع على غَالب الْمَرْوِيّ فِي الْبلدَانِ المتنائية بِحَيْثُ يعرف بذلك مَا هُوَ من حَدِيث
তোমরা যখন আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস শুনবে যা তোমাদের অন্তর অস্বীকার করে এবং যা শুনে তোমাদের শরীরের লোম ও চামড়া আঁতকে ওঠে, আর তোমরা মনে করো যে তা তোমাদের থেকে অনেক দূরে, তবে আমি তা থেকে তোমাদের চেয়েও অনেক বেশি দূরে। ইমাম আহমাদ ও বাজ্জার তাঁদের মুসনাদদ্বয়ে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আল-কুরতুবি ও অন্যরা যেমনটি বলেছেন, এর সনদ সহিহ। এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহর) এই বাণীর মাধ্যমে: "আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করা হয় এবং তোমরা তা অস্বীকার করো, তা গ্রহণ করো না। কারণ আমি কোনো আপত্তিকর (মুনকার) কথা বলি না এবং আমি এর অন্তর্ভুক্তও নই।" এটি ইবনুল জাওজি বর্ণনা করেছেন।
প্রখ্যাত তাবেয়ি রবি বিন খুছাইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই হাদিসের দিনের আলোর মতো এমন একটি ঔজ্জ্বল্য রয়েছে যার দ্বারা তাকে চেনা যায়, আর রাতের অন্ধকারের মতো এমন একটি অন্ধকার রয়েছে যার দ্বারা তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।" এই আলামতগুলোর একটি প্রকার হলো, হাদিসটি এমন কোনো গুরুতর বিষয়ের সংবাদ হওয়া যা বিশাল এক জনসমষ্টির উপস্থিতিতে ঘটার ফলে সবার তা বর্ণনা করার ব্যাপক কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্য থেকে মাত্র একজন তা বর্ণনা করেছেন।
(তন্মধ্যে আরও রয়েছে) বিষয়টি এমন হওয়া যা জানা ও অজুহাত খণ্ডন করা সকল মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির জন্য আবশ্যক, অথচ তা বর্ণনায় একজন ব্যক্তি একাকী হয়ে পড়েছেন। (তন্মধ্যে আরও রয়েছে) এর শব্দ ও অর্থের দুর্বলতা বা অসারতা। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: মূল ভিত্তি হলো অর্থের অসারতার ওপর। সুতরাং যখনই তা (অর্থের অসারতা) পাওয়া যাবে, তা জাল হওয়ার প্রমাণ দেবে, চাই তার সাথে শব্দের দুর্বলতা থাকুক বা না থাকুক। কারণ এই দ্বীনের পুরোটাই হলো সৌন্দর্যমণ্ডিত, আর অসারতা হলো নিম্নমানের দিকে ধাবিত হওয়া; তাই এর সাথে দ্বীনের উদ্দেশ্যগুলোর বৈপরীত্য রয়েছে। শুধু শব্দের দুর্বলতা জাল হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয় না, কারণ হতে পারে বর্ণনাকারী হাদিসটি মূল অর্থ অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন এবং অর্থের কোনো ক্ষতি না করে কেবল অপ্রাঞ্জল শব্দ ব্যবহার করেছেন। হ্যাঁ, যদি বর্ণনাকারী স্পষ্টভাবে বলেন যে এটিই নবীজি (সা.)-এর মূল শব্দ ছিল, তবে সেক্ষেত্রে শব্দের অসারতা জাল হওয়ার প্রমাণ দেবে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
আমাদের শায়খদের শায়খ বুরহান আল-বিকায়ি বলেন: অর্থের অসারতার অন্তর্ভুক্ত হলো সামান্য কোনো বিষয়ে কঠোর শাস্তির বাড়াবাড়ি কিংবা অতি সামান্য কোনো আমলে বিশাল সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দেওয়া। কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনাকারীদের (কাসসাস) হাদিসে এটি প্রচুর দেখা যায়। ইবনুল জাওজি বলেন: "আমি ঐসব লোকের জাল করা বর্ণনা দেখে লজ্জাবোধ করি যারা জাল করেছে যে: 'যে ব্যক্তি এমন এমন নামাজ পড়বে, তার জন্য সত্তরটি প্রাসাদ থাকবে, প্রতিটি প্রাসাদে সত্তর হাজার ঘর থাকবে, প্রতিটি ঘরে সত্তর হাজার খাট থাকবে এবং প্রতিটি খাটে সত্তর হাজার কুমারী থাকবে।' যদিও (আল্লাহর) ক্ষমতা অক্ষম নয়, কিন্তু এটি একটি কুৎসিত বিভ্রান্তি।" তদ্রূপ তারা বলে: "যে ব্যক্তি একদিন রোজা রাখবে, সে এক হাজার হাজি ও এক হাজার উমরাকারীর সমান সওয়াব পাবে এবং তার আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-এর সমান সওয়াব হবে।" এটি আমলের পাল্লার মানদণ্ডকে নষ্ট করে দেয়।
(তন্মধ্যে আরও রয়েছে) যা ইমাম ফখরউদ্দীন আল-রাজি উল্লেখ করেছেন যে, এমন এক যুগে কোনো সংবাদ বর্ণনা করা যখন সব বর্ণনা অনুসন্ধান করা ও সংকলন করা শেষ হয়েছে, অতঃপর তা তালাশ করেও মানুষের স্মরণে বা কিতাবসমূহের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়না। কিন্তু সাহাবীগণের যুগ বা তার নিকটবর্তী সময়ে যখন বর্ণনাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে সংকলিত হয়নি, তখন এটি সম্ভব ছিল যে তাঁদের কেউ এমন কিছু বর্ণনা করবেন যা অন্যের কাছে নেই।
হাফেজ আল-আলাই বলেন: "আর এই অনুসন্ধান কেবলমাত্র সেই বড় হাফেজই করতে পারেন যাঁর মুখস্থ বা জ্ঞানের পরিধি সমস্ত হাদিস বা তার অধিকাংশকে পরিবেষ্টন করে আছে। যেমন ইমাম আহমাদ, আলি ইবনুল মাদিনি, ইয়াহইয়া ইবনে মাইন এবং তাঁদের পরবর্তী বুখারি, আবু হাতিম ও আবু জুরআ, এবং তাঁদের পরবর্তী নাসায়ি ও দারা কুতনি। কারণ, কোনো হাদিস জাল হওয়ার ব্যাপারে সাধারণত যে নীতিগুলোর মাধ্যমে হুকুম দেওয়া হয়, তা হলো বর্ণনার সমস্ত সূত্র একত্রিত করা এবং দূর-দূরান্তের জনপদগুলোতে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিস সম্পর্কে অবগত হওয়া, যার মাধ্যমে চেনা সম্ভব হয় যে কোনটি কিসের হাদিস..."
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الروَاة مِمَّا لَيْسَ من حَدِيثهمْ، وَأما من لم يصل إِلَى هَذِه الْمرتبَة فَكيف يقْضِي بِعَدَمِ وجدانه للْحَدِيث بِأَنَّهُ مَوْضُوع هَذَا مِمَّا يأباه تصرفهم انْتهى (قلت) فاستفدنا من هَذَا أَن الْحفاظ الَّذين ذكرهم وأضرا بهم إِذا قَالَ أحدهم فِي حَدِيث لَا أعرفهُ أَو لَا أصل لَهُ كفى ذَلِك فِي الحكم عَلَيْهِ بِالْوَضْعِ وَالله أعلم (قَالَ) السُّيُوطِيّ فِي شرح التَّقْرِيب: وَمن الأمارات كَون الرَّاوِي رَافِضِيًّا والْحَدِيث فِي فَضَائِل أهل الْبَيْت (قلت) أَو فِي ذمّ من حاربهم، وَذكر بعض شيوخي أَنه روى عَن شَيْخه الْحَافِظ الْمُحدث الْبُرْهَان النَّاجِي بالنُّون أَن من أَمَارَات الْمَوْضُوع أَن يكون فِيهِ: وَأعْطى ثَوَاب نَبِي أَو النَّبِيين وَنَحْوهمَا وَالله تَعَالَى أعلم (وَهل) يثبت الْوَضع بِالْبَيِّنَةِ كَأَن يرى عَدْلَانِ رجلا يصنف كلَاما ثمَّ ينْسبهُ إِلَى النَّبِي قَالَ الزَّرْكَشِيّ: يشبه أَن يجِئ فِيهِ التَّرَدُّد فِي أَن شَهَادَة الزُّور هَل تثبت بِالْبَيِّنَةِ، مَعَ الْقطع بِأَنَّهُ لَا يعْمل بِهِ، وَحكم الْمَوْضُوع أَن تحرم رِوَايَته فِي أَي معنى كَانَ بِسَنَد أَو غَيره مَعَ الْعلم بِحَالهِ إِلَّا مَقْرُونا بالإعلام بِأَنَّهُ مَوْضُوع، وَكَذَا مَعَ الظَّن لقَوْله " من حدث عني بِحَدِيث يرى أَنه كذب فَهُوَ أحد الْكَاذِبين " رَوَاهُ مُسلم، وَقَوله يرى هُوَ بِضَم الْيَاء بِمَعْنى يظنّ، وَفِي الْكَاذِبين راويتان فتح الْمُوَحدَة على إِرَادَة التَّثْنِيَة وَكسرهَا على إِرَادَة الْجمع.
[فصل]قَالَ الْحَافِظ ابْن كثير: حكى عَن بعض الْمُتَكَلِّمين إِنْكَار وُقُوع الْوَضع بِالْكُلِّيَّةِ وَهَذَا الْقَائِل إِمَّا لَا وجود لَهُ أَو هُوَ فِي غَايَة الْبعد عَن ممارسة الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة وَقد حاول بَعضهم الرَّد عَلَيْهِ بِأَنَّهُ قد ورد عَنهُ بِأَنَّهُ قد قَالَ: سيكذب عَليّ فَإِن كَانَ هَذَا صَحِيحا فسيقع الْكَذِب عَلَيْهِ لَا محَالة، وَإِن كَانَ كذبا فقد حصل الْمَطْلُوب، وَأجِيب عَن الأول بِأَنَّهُ لَا يلْزم وُقُوعه الْآن إِذْ بَقِي إِلَى يَوْم الْقِيَامَة أزمان يُمكن أَن يَقع فِيهَا مَا ذكر، وَهَذَا القَوْل وَالِاسْتِدْلَال عَلَيْهِ وَالْجَوَاب عَنهُ من أَضْعَف الْأَشْيَاء عِنْد أَئِمَّة الحَدِيث وحفاظهم الَّذين كَانُوا يتضلعون من حفظ الصِّحَاح ويحفظون أَمْثَالهَا وأضعافها من المكذوبات خشيَة أَن تروج عَلَيْهِم أَو على أحد من النَّاس.
বর্ণনাকারীদের এমন সব বর্ণনা যা তাদের হাদিসের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে যারা এই স্তরে পৌঁছেননি, তারা কীভাবে কোনো হাদিস খুঁজে না পাওয়ার কারণে সেটিকে জাল বলে রায় দেবেন? এটি তাদের কর্মপদ্ধতি বিরোধী। সমাপ্ত। (আমি বলি) এখান থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, যেসব হাফেজে হাদিস এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের কেউ যদি কোনো হাদিস সম্পর্কে বলেন যে, "আমি এটি জানি না" অথবা "এর কোনো ভিত্তি নেই", তবে সেই হাদিসটিকে জাল হিসেবে গণ্য করার জন্য এটিই যথেষ্ট। আল্লাহই ভালো জানেন। (তিনি বলেন) সুয়ূতী 'শরহুত তাকরীব'-এ বলেছেন: জাল হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হলো বর্ণনাকারী রাফেযী হওয়া এবং হাদিসটি আহলে বাইতের ফযীলত সম্পর্কে হওয়া। (আমি বলি) অথবা যারা আহলে বাইতের সাথে যুদ্ধ করেছেন তাদের নিন্দা সম্পর্কে হওয়া। আমার কোনো কোনো উস্তাদ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর উস্তাদ হাফেয মুহাদ্দিস বুরহান আল-নাজী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জাল হাদিসের অন্যতম নিদর্শন হলো তাতে এমন কথা থাকা: "তাকে একজন নবীর অথবা নবীগণের ন্যায় সওয়াব দান করা হবে" এবং এই জাতীয় কথা। মহান আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন। (এবং) সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে কি জাল হওয়া প্রমাণিত হয়? যেমন দু’জন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি কোনো লোককে দেখল যে সে কোনো কথা তৈরি করছে এবং এরপর তা নবীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করছে। যারকাশী বলেছেন: এটি সেই দ্বিধার মতোই যে, মিথ্যা সাক্ষ্য কি সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়? তবে এটি নিশ্চিত যে সেই হাদিস অনুযায়ী আমল করা যাবে না। জাল হাদিসের বিধান হলো—এর অবস্থা জানা থাকলে যেকোনো অর্থেই তা বর্ণনা করা হারাম, চাই তা সনদসহ হোক বা সনদ ছাড়া, যতক্ষণ না এটি জাল হওয়ার ঘোষণা সাথে দেওয়া হয়। প্রবল ধারণার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য, কারণ তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সেও মিথ্যুকদের একজন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এখানে 'ইউরা' শব্দটি ইয়া-তে পেশসহ, যার অর্থ 'ধারণা করা'। আর 'আল-কাযিবীন' শব্দটিতে দুটি বর্ণনা রয়েছে: 'বা' বর্ণে যবর সহযোগে দ্বিবচন অর্থে, এবং 'বা' বর্ণে যের সহযোগে বহুবচন অর্থে।
[পরিচ্ছেদ]হাফেয ইবনে কাসীর বলেন: কোনো কোনো কালামশাস্ত্রবিদের পক্ষ থেকে জাল হাদিস তৈরির বিষয়টিকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করার কথা বর্ণিত হয়েছে। এই মত পোষণকারীর হয় কোনো অস্তিত্ব নেই, অথবা তিনি শরয়ী জ্ঞানচর্চা থেকে অত্যন্ত দূরে রয়েছেন। কেউ কেউ তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "শীঘ্রই আমার নামে মিথ্যা বলা হবে।" সুতরাং এটি যদি সত্য হয়, তবে তাঁর নামে অবশ্যই মিথ্যা বলা হবে। আর যদি এটিই মিথ্যা হয়, তবে তো উদ্দেশ্য হাসিল হয়েই গেল। প্রথমটির উত্তরে বলা হয়েছে যে, এখনই এমন ঘটা জরুরি নয়, কারণ কিয়ামত পর্যন্ত এমন সময় বাকি রয়েছে যখন উল্লিখিত বিষয়টি ঘটা সম্ভব। এই বক্তব্য, এর স্বপক্ষে দাখিলকৃত দলিল এবং এর উত্তর—হাদিস শাস্ত্রের ইমাম ও হাফেযদের নিকট অত্যন্ত দুর্বল বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। তারা সহীহ হাদিস মুখস্থ করার ক্ষেত্রে যেমন পারদর্শী ছিলেন, তেমনি তার সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বহুগুণ বেশি জাল হাদিস মুখস্থ রাখতেন এই ভয়ে যে, পাছে সেই জাল বর্ণনাগুলো তাদের নিকট বা অন্য কোনো মানুষের নিকট সহীহ হিসেবে প্রচলিত হয়ে না যায়।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ৯)
[فصل]صَحَّ عَن رَسُول الله أَنه قَالَ " من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار، " قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ رَوَاهُ من الصَّحَابَة ثَمَانِيَة وَتسْعُونَ نفسا مِنْهُم الْعشْرَة المبشرة وَابْن مَسْعُود وصهيب وعمار بن يَاسر ومعاذ بن جبل وَعقبَة بن عَامر والمقداد بن الْأسود وسلمان الْفَارِسِي وَعبد الله بن عمر بن الْخطاب وَعَمْرو بن عبسة وَعتبَة بن غَزوَان وَعتبَة بن عبد السّلمِيّ وَأَبُو ذَر الْغِفَارِيّ وَأَبُو قَتَادَة وَأبي بن كَعْب وَحُذَيْفَة بن الْيَمَان وَحُذَيْفَة بن أسيد وَجَابِر بن سَمُرَة وَجَابِر بن عَابس الْعَبْدي وَعبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ وسفينة والمغيرة بن شغبة وَعمْرَان بن الْحصين وَأَبُو هُرَيْرَة والبراء بن عَازِب وَزيد بن ثَابت وَزيد بن أَرقم وَسَلَمَة بن الْأَكْوَع وَرَافِع بن خديج وَأنس بن مَالك وَأَبُو سعيد الْخُدْرِيّ وَعبد الله بن عَبَّاس وَمُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان وَمُعَاوِيَة ابْن حيدة والسائب بن يزِيد وَعَمْرو بن عَوْف الْمُزنِيّ وَأُسَامَة بن زيد وَعَمْرو بن مرّة الْجُهَنِيّ وَبُرَيْدَة بن الْحصيب وجهجاه الْغِفَارِيّ وجندع بن ضَمرَة الْأنْصَارِيّ وَأَبُو كَبْشَة الْأَنمَارِي وواثلة بن الْأَسْقَع وَعبد الله بن الزبير وَقيس بن سعد بن عبَادَة وَعبد الله بن أبي أوفى وَعَمْرو بن حُرَيْث وَأَوْس بن أَوْس وَسعد بن المدحاس وَأَبُو أُمَامَة الْبَاهِلِيّ وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيّ وَأَبُو مُوسَى الغافقي وَعبد الله بن يزِيد الخطمي وَأَبُو قرصافة جندرة بن خيشنة وَأَبُو رمثة واسْمه رِفَاعَة التَّيْمِيّ وَأَبُو رَافع مولى رَسُول الله وخَالِد بن عرفطة وطارق بن الأشيم وَالِد أبي مَالك الْأَشْجَعِيّ وَعَمْرو بن الْحمق ونبيط بن شريط وَكَعب بن قُطْبَة ويعلى بن مرّة وَمرَّة الْبَهْزِي والعرس بن عميرَة وَسليمَان بن صرد وَيزِيد ابْن أَسد وَعبد الله بن زغب الْإِيَادِي وَعَفَّان بن حبيب وَعبد الله بن جَراد والمنقع ابْن الْحصين بن يزِيد التَّمِيمِي وَيزِيد بن خَالِد العصري ولاحق بن مَالك أَبُو عقيل
[পরিচ্ছেদ]রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" ইবনুল জাওযী বলেন, সাহাবীগণের মধ্যে আটানব্বই জন ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন; তাদের মধ্যে রয়েছেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী, ইবনে মাসউদ, সুহাইব, আম্মার বিন ইয়াসির, মুআয বিন জাবাল, উকবাহ বিন আমির, মিকদাদ বিন আল-আসওয়াদ, সালমান আল-ফারিসী, আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাব, আমর বিন আবাসা, উতবাহ বিন গাযওয়ান, উতবাহ বিন আবদ আস-সুলামী, আবু যর আল-গিফারী, আবু কাতাদাহ, উবাই বিন কাব, হুযাইফা বিন আল-ইয়ামান, হুযাইফা বিন আসিদ, জাবির বিন সামুরাহ, জাবির বিন আবিস আল-আবদী, আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস, সাফীনা, মুগীরাহ বিন শু’বাহ, ইমরান বিন হুসাইন, আবু হুরায়রা, বারা বিন আযিব, যায়েদ বিন সাবিত, যায়েদ বিন আরকাম, সালামা বিন আল-আকওয়া, রাফে বিন খাদীজ, আনাস বিন মালিক, আবু সাঈদ আল-খুদরী, আবদুল্লাহ বিন আব্বাস, মুআবিয়া বিন আবু সুফিয়ান, মুআবিয়া ইবনে হাইদাহ, সায়িব বিন ইয়াযীদ, আমর বিন আওফ আল-মুযানী, উসামা বিন যায়েদ, আমর বিন মুররাহ আল-জুহানী, বুরাইদাহ বিন আল-হুসাইব, জাহজাহ আল-গিফারী, জুনদু' বিন দামরাহ আল-আনসারী, আবু কাবশাহ আল-আনমারী, ওয়াসিলা বিন আল-আসকা, আবদুল্লাহ বিন আয-যুবাইর, কায়েস বিন সাদ বিন উবাদাহ, আবদুল্লাহ বিন আবু আওফা, আমর বিন হুরাইস, আওস বিন আওস, সাদ বিন আল-মিদহাস, আবু উমামা আল-বাহিলী, আবু মূসা আল-আশআরী, আবু মূসা আল-গাফেকী, আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল-খাতমী, আবু কিরসাফাহ জুনদারাহ বিন খায়শানাহ, আবু রিমসা—যার নাম রিফাআহ আত-তাইমী, রাসূলুল্লাহর মুক্তদাস আবু রাফে, খালিদ বিন উরফুতাহ, আবু মালিক আল-আশজাঈর পিতা তারিক বিন আল-আশয়াম, আমর বিন আল-হামেক, নুবাইত বিন শারীত, কাব বিন কুতবাহ, ইয়ালা বিন মুররাহ, মুররাহ আল-বাহযী, আল-আরাস বিন উমাইরাহ, সুলায়মান বিন সুরাদ, ইয়াযীদ ইবনে আসাদ, আবদুল্লাহ বিন যুগব আল-ইয়াদী, আফফান বিন হাবীব, আবদুল্লাহ বিন জারাদ, আল-মুনকে ইবনে আল-হুসাইন বিন ইয়াযীদ আত-তামীমী, ইয়াযীদ বিন খালিদ আল-আসরি এবং লাহিক বিন মালিক আবু আকীল।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وَأَبُو مَيْمُون الْأَزْدِيّ وَرجل من أسلم صَحَابِيّ وَرجل آخر صَحَابِيّ وَعَائِشَة أم الْمُؤمنِينَ وَحَفْصَة أم الْمُؤمنِينَ وَأم أَيمن حاضنة رَسُول الله، أسْند ابْن الْجَوْزِيّ أَحَادِيث هَؤُلَاءِ ثمَّ قَالَ وَرَوَاهُ أَيْضا أَبُو بكرَة وَسَهل بن الحنظلية ومعاذ بن أنس وَأَبُو هِنْد الدَّارِيّ وَسَهل بن سعد وَمَالك بن عتاهية وسبرة بن معبد وحبِيب بن حبَان وَخَوْلَة بنت حَكِيم وَلم يتهيأ لنا ذكر الْإِسْنَاد عَنْهُم انْتهى، وَذكر النَّوَوِيّ فِي مُقَدّمَة شرح مُسلم عَن بَعضهم: أَن عدَّة من رَوَاهُ من الصَّحَابَة مِائَتَان، قَالَ الْحَافِظ الْعِرَاقِيّ: وَأَنا أستبعد وُقُوع ذَلِك، وَقد جمع الْحَافِظ أَبُو الْحجَّاج الدِّمَشْقِي طرقه فَبلغ بهَا مائَة واثنين انْتهى وروى ابْن الْجَوْزِيّ عَن أبي بكر مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبد الْوَهَّاب الإِسْفِرَايِينِيّ أَنه قَالَ: " لَيْسَ فِي الدُّنْيَا حَدِيث اجْتمع عَلَيْهِ الْعشْرَة غَيره، " قَالَ الْحَافِظ زين الدَّين الْعِرَاقِيّ: وَلَيْسَ كَذَلِك فقد ذكر الْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ أَن حَدِيث رفع الْيَدَيْنِ فِي الصَّلَاة رَوَاهُ الْعشْرَة وَقَالا: لَيْسَ حَدِيث رَوَاهُ الْعشْرَة غَيره، وَذكر أَبُو الْقَاسِم بن مَنْدَه أَن حَدِيث الْمسْح على الْخُفَّيْنِ رَوَاهُ الْعشْرَة أَيْضا
[فصل]قَالَ السَّيْف أَحْمد بن أبي الْمجد: أطلق ابْن الْجَوْزِيّ الْوَضع على أَحَادِيث لكَلَام بعض النَّاس فِي رواتها كَقَوْلِه فلَان ضَعِيف أَو لَيْسَ بِالْقَوِيّ وَنَحْوهمَا، وَلَيْسَ ذَلِك الحَدِيث مِمَّا يشْهد الْقلب بِبُطْلَانِهِ وَلَا فِيهِ مُخَالفَة لكتاب وَلَا سنة وَلَا إِجْمَاع وَلَا يُنكره عقل وَلَا نقل وَلَا حجَّة مَعَه لوضعه سوى كَلَام ذَلِك الرجل فِي رُوَاته، وَهَذَا عدوان ومجازفة انْتهى نَقله شيخ شُيُوخنَا الْعَلامَة الْمُحدث شمس الدَّين السخاوي فِي شرح التَّقْرِيب، وَقَالَ عقبه: بل مُجَرّد اتهام الرَّاوِي بِالْكَذِبِ مَعَ تفرده لَا يسوغ الحكم بِالْوَضْعِ وَلذَا جعله شَيخنَا يَعْنِي الْحَافِظ ابْن حجر نوعا مُسْتقِلّا وَسَماهُ الْمَتْرُوك وَفَسرهُ بِأَن يرويهِ من يتهم بِالْكَذِبِ وَلَا يعرف ذَلِك الحَدِيث إِلَّا من جِهَته وَيكون مُخَالفا للقواعد الْمَعْلُومَة، قَالَ وَكَذَا: من عرف بِالْكَذِبِ فِي كَلَامه وَإِن لم يظْهر وُقُوعه مِنْهُ فِي الحَدِيث وَهُوَ دون الأول انْتهى، وَخرج بقوله من يتهم بِالْكَذِبِ من عرف بِالْكَذِبِ فِي الحَدِيث وروى حَدِيثا لم يروه غَيره فَإنَّا نحكم على حَدِيثه ذَلِك بِالْوَضْعِ إِذا انضمت إِلَيْهِ قرينَة تَقْتَضِي وَضعه كَمَا صرح بِهِ الْحَافِظ العلائى وَغَيره.
এবং আবু মায়মুন আল-আজদী, আসলাম গোত্রের একজন সাহাবী, অন্য একজন সাহাবী, মুমিনদের মাতা আয়েশা, মুমিনদের মাতা হাফসাহ এবং রাসূলুল্লাহর লালনকারিনী উম্মু আয়মান। ইবনুল জাওযী তাদের হাদিসসমূহ সনদে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: এটি আরও বর্ণনা করেছেন আবু বাকরাহ, সাহল ইবনুল হানজালিয়া, মুয়াজ ইবনে আনাস, আবু হিন্দ আদ-দারী, সাহল ইবনে সা'দ, মালিক ইবনে আতাহিয়াহ, সাবরাহ ইবনে মা'বাদ, হাবীব ইবনে হাব্বান এবং খাওলাহ বিনতে হাকিম। তবে আমাদের কাছে তাদের থেকে বর্ণিত সনদের উল্লেখ সম্ভব হয়নি। (সমাপ্ত) ইমাম নববী শারহু মুসলিমের ভূমিকায় কারো কারো থেকে উল্লেখ করেছেন যে, এটি বর্ণনা করেছেন এমন সাহাবীদের সংখ্যা হলো দুইশত। হাফেজ ইরাকী বলেছেন: আমার কাছে এটি ঘটা সুদূরপরাহত মনে হয়। হাফেজ আবুল হাজ্জাজ আদ-দিমাশকী এর বর্ণনাসূত্রসমূহ একত্রিত করেছেন এবং তা একশত দুই পর্যন্ত পৌঁছেছে। (সমাপ্ত) ইবনুল জাওযী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-ইসফিরায়িনী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "পৃথিবীতে এটি ছাড়া এমন কোনো হাদিস নেই যাতে আশারায়ে মুবাশশারাহ (দশ জন সাহাবী) সকলে একমত হয়ে বর্ণনা করেছেন।" হাফেজ যয়নুদ্দীন ইরাকী বলেন: বিষয়টি এমন নয়। কেননা হাকেম এবং বায়হাকী উল্লেখ করেছেন যে, সালাতে হস্তদ্বয় উত্তোলনের (রাফউল ইয়াদাইন) হাদিসটি দশ জন সাহাবীই বর্ণনা করেছেন এবং তারা বলেছেন: এটি ছাড়া আর কোনো হাদিস নেই যা দশ জন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। আবু কাসিম ইবনে মান্দাহ উল্লেখ করেছেন যে, মোজার উপর মাসেহ করার হাদিসটিও দশ জন সাহাবী বর্ণনা করেছেন।
[পরিচ্ছেদ]সাইফুল্লাহ আহমদ ইবনে আবু আল-মাজদ বলেছেন: ইবনুল জাওযী এমন কিছু হাদিসকে 'জাল' (মাউদু) বলে অভিহিত করেছেন যেগুলোর বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে কারো কারো মন্তব্য রয়েছে; যেমন কারো উক্তি: 'অমুক দুর্বল' অথবা 'সে শক্তিশালী নয়' ইত্যাদি। অথচ সেই হাদিসটি এমন নয় যে অন্তর তার অসারতার সাক্ষ্য দেয়, আর না তাতে কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমার কোনো বিরোধিতা রয়েছে। বুদ্ধি বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনা কোনোটিই একে প্রত্যাখ্যান করে না এবং বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে সেই ব্যক্তির উক্তি ব্যতীত এটি জাল হওয়ার অন্য কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই। আর এটি হলো অবিচার ও হঠকারিতা। (সমাপ্ত) এটি আমাদের শায়খদের শায়খ আল্লামা মুহাদ্দিস শামসুদ্দীন আস-সাখাভী শারহুত তাকরিব-এ উদ্ধৃত করেছেন। এবং তিনি এরপর বলেছেন: বরং বর্ণনাকারীর একাকী বর্ণনার সাথে সাথে কেবল তার প্রতি মিথ্যার অভিযোগ থাকা হাদিসটিকে 'জাল' সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। এজন্যই আমাদের শায়খ অর্থাৎ হাফেজ ইবনে হাজার একে একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'মাতরুক'। তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এটি এমন ব্যক্তি বর্ণনা করবে যে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং সেই হাদিসটি কেবল তার মাধ্যমেই পরিচিত, আর তা সুপরিচিত মূলনীতিসমূহের পরিপন্থী হবে। তিনি আরও বলেছেন: তেমনিভাবে যে ব্যক্তি তার সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যার জন্য পরিচিত, যদিও হাদিসের ক্ষেত্রে তার থেকে মিথ্যা প্রকাশ পায়নি; এটি প্রথম স্তরের নিচে। (সমাপ্ত) আর 'মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত' কথাটির দ্বারা ওই ব্যক্তি পৃথক হয়ে গেছে যে হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যায় পরিচিত। সে যদি এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি, তবে আমরা তার সেই হাদিসটিকে 'জাল' বলে রায় দেব যদি তার সাথে এমন কোনো আলামত যুক্ত হয় যা এটি জাল হওয়াকে আবশ্যক করে; যেমনটি হাফেজ আলাইয়ী এবং অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ১১)
(فصل) الوضاعون أَصْنَاف(الصِّنْف الأول) الزَّنَادِقَة وهم السَّابِقُونَ إِلَى ذَلِك والهاجمون عَلَيْهِ، حملهمْ على الْوَضع الاستخفاف بِالدّينِ والتلبيس على الْمُسلمين، كَعبد الْكَرِيم بن أبي العوجاء وَمُحَمّد بن سعيد المصلوب والْحَارث الْكذَّاب الَّذِي ادّعى النُّبُوَّة فِي زمن عبد الْملك بن مَرْوَان، والمغيرة بن سعيد الْكُوفِي، حَتَّى قَالَ حَمَّاد بن زيد: وضعت الزَّنَادِقَة على النَّبِي أَرْبَعَة عشر ألف حَدِيث رَوَاهُ الْعقيلِيّ، وَقَالَ ابْن عدي: لما أَخذ ابْن أبي العوجاء وَأتي بِهِ مُحَمَّد بن سُلَيْمَان بن عَليّ فَأمر بِضَرْب عُنُقه قَالَ: وَالله لقد وضعت فِيكُم أَرْبَعَة آلَاف حَدِيث أحرم فِيهَا الْحَلَال وَأحل فِيهَا الْحَرَام، قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: وَقد كَانَ من هَؤُلَاءِ من يتغفل الشَّيْخ فيدس فِي كِتَابه مَا لَيْسَ من حَدِيثه فيرويه ذَلِك الشَّيْخ ظنا مِنْهُ أَنه من حَدِيثه.
(الصِّنْف الثَّانِي) أَصْحَاب الْأَهْوَاء والبدع وضعُوا أَحَادِيث نصْرَة لمذاهبهم أَو ثلبا لمخالفهم، روى ابْن أبي حَاتِم فِي مُقَدّمَة كتاب الْجرْح وَالتَّعْدِيل عَن شيخ من الْخَوَارِج أَنه كَانَ يَقُول بعد مَا تَابَ: انْظُرُوا عَمَّن تأخذون دينكُمْ فَإنَّا كُنَّا إِذا هوينا أمرا صيرنا لَهُ حَدِيثا وَقَالَ الْحَاكِم أَبُو عبد الله: كَانَ مُحَمَّد بن الْقَاسِم الطَّالقَانِي من رُؤَسَاء المرجئة يضع الحَدِيث على مَذْهَبهم، وَحكى ابْن عدي أَن مُحَمَّد بن شُجَاع الثَّلْجِي بِالْمُثَلثَةِ وَالْجِيم كَانَ يضع الْأَحَادِيث الَّتِي ظَاهرهَا التجسيم وينسبها إِلَى أهل الحَدِيث يقْصد الشناعة عَلَيْهِم لما بَينه وَبينهمْ من الْعَدَاوَة المذهبية، وَقَالَ أَبُو الْعَبَّاس الْقُرْطُبِيّ صَاحب الْمُفْهم: استجاز بعض فُقَهَاء أهل الرَّأْي نِسْبَة الحكم الَّذِي دلّ عَلَيْهِ الْقيَاس إِلَى رَسُول الله نِسْبَة قولية فَيَقُول فِي ذَلِك: قَالَ رَسُول الله كَذَا، وَلِهَذَا ترى كتبهمْ مشحونة بِأَحَادِيث تشهد متونها بِأَنَّهَا مَوْضُوعَة لِأَنَّهَا تشبه فَتَاوَى الْفُقَهَاء وَلِأَنَّهُم لَا يُقِيمُونَ لَهَا سندا.
(الصِّنْف الثَّالِث) قوم اتَّخذُوا الْوَضع صناعَة وتسوقا جَرَاءَة على الله وَرَسُوله حَتَّى إِن أحدهم ليسهر عَامَّة ليله فِي وضع الحَدِيث كَأبي البخْترِي وهب بن وهب القَاضِي وَسليمَان ابْن عَمْرو النَّخعِيّ وَالْحُسَيْن بن علوان واسحق بن نجيح الْمَلْطِي، ذكر ذَلِك الامام أَبُو حَاتِم ابْن حبَان فِي مُقَدّمَة كِتَابه الضُّعَفَاء والمجروحين.
(পরিচ্ছেদ) হাদীস জালকারীদের শ্রেণীবিভাগ(প্রথম শ্রেণী) যিনদীক সম্প্রদায়। তারা ছিল এ কাজে অগ্রগামী এবং এতে চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শনকারী। দ্বীনকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং মুসলিমদের বিভ্রান্ত করাই ছিল তাদের জালিয়াতির মূল উদ্দেশ্য, যেমন: আব্দুল করীম ইবনে আবিল আওজা, মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আল-মাসলুব, হারিস আল-কাযযাব (মিথ্যাবাদী) যে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের যুগে নবুওয়াতের দাবি করেছিল এবং মুগীরা ইবনে সাঈদ আল-কুফী। এমনকি হাম্মাদ ইবনে যায়দ বলেছেন: যিনদীকরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামে চৌদ্দ হাজার হাদীস জাল করেছে, যা আল-উকায়লী বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদী বলেছেন: যখন ইবনে আবিল আওজাকে পাকড়াও করা হলো এবং মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান ইবনে আলীর নিকট আনা হলো, তখন তিনি তার শিরচ্ছেদের নির্দেশ দিলেন। সে (ইবনে আবিল আওজা) বলল: "আল্লাহর কসম, আমি আপনাদের মাঝে চার হাজার হাদীস জাল করে ঢুকিয়ে দিয়েছি, যাতে আমি হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল করেছি।" ইবনে আল-জাওযী বলেন: তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা কোনো শায়খের অসতর্কতার সুযোগ নিত এবং তার কিতাবে এমন কিছু ঢুকিয়ে দিত যা তার বর্ণিত হাদীস নয়, ফলে সেই শায়খ নিজের হাদীস মনে করে তা বর্ণনা করতেন।
(দ্বিতীয় শ্রেণী) কুপ্রবৃত্তি ও বিদআতের অনুসারীগণ। তারা তাদের মাযহাবের সমর্থনে অথবা বিরোধীদের কুৎসা রটানোর জন্য হাদীস জাল করত। ইবনে আবি হাতিম তাঁর 'কিতাবুল জারহি ওয়াত তা'দীল'-এর ভূমিকায় একজন খারিজি শায়খ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সে তওবা করার পর বলত: "তোমরা লক্ষ্য করো কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ। কারণ আমরা যখনই কোনো মতাদর্শের প্রতি অনুরাগী হতাম, তখন সেটাকে হাদীসে রূপ দিতাম।" হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বলেন: মুরজিয়াদের অন্যতম নেতা মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম আত-তাকানি তাদের মাযহাব অনুযায়ী হাদীস জাল করত। ইবনে আদী উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মাদ ইবনে শুজা আস-সালজী এমন সব হাদীস জাল করত যার বাহ্যিক অর্থ আল্লাহর শরীরের ধারণা (তাজসিম) প্রকাশ করে এবং সেগুলোকে আহলে হাদীসদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করত। তাদের সাথে মাযহাবগত শত্রুতার কারণে তাদের অপদস্থ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। 'আল-মুফহিম' কিতাবের লেখক আবুল আব্বাস আল-কুরতুবী বলেন: আহলে রায়ের কিছু ফকীহ কিয়াসের মাধ্যমে প্রাপ্ত কোনো হুকুমকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাচনিক উক্তি হিসেবে নিসবত করা বৈধ মনে করতেন। ফলে তারা সেই বিষয়ে বলতেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) এমনটি বলেছেন। এ কারণেই আপনি তাদের কিতাবসমূহ এমন সব হাদীসে পূর্ণ পাবেন যেগুলোর মতন (মূল পাঠ) সাক্ষ্য দেয় যে সেগুলো জাল; কারণ সেগুলো ফকীহদের ফতোয়ার সদৃশ এবং তারা সেগুলোর কোনো সনদ উপস্থাপন করে না।
(তৃতীয় শ্রেণী) এমন একদল লোক যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর দুঃসাহস প্রদর্শন করে হাদীস জাল করাকে পেশা ও ব্যবসার মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছিল। এমনকি তাদের কেউ কেউ হাদীস জাল করার জন্য প্রায় সারারাত জেগে থাকত; যেমন: আবু আল-বাখতারী ওয়াহাব ইবনে ওয়াহাব আল-কাদী, সুলাইমান ইবনে আমর আন-নাখায়ী, আল-হুসাইন ইবনে আলওয়ান এবং ইসহাক ইবনে নাজহ আল-মালাতী। ইমাম আবু হাতিম ইবনে হিব্বান তাঁর 'আদ-দুয়াফা ওয়াল মাজরুহীন' কিতাবের ভূমিকায় এ কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ১২)
(الصِّنْف الرَّابِع) قوم ينسبون إِلَى الزّهْد حملهمْ التدين النَّاشِئ عَن الْجَهْل على وضع أَحَادِيث فِي التَّرْغِيب والترهيب ليحثوا النَّاس بزعمهم على الْخَيْر ويزجروهم عَن الشَّرّ، وَقد جوز ذَلِك الكرامية وَكَذَا بعض المتصوفة كَمَا قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر، قَالَ حجَّة الْإِسْلَام الْغَزالِيّ: وَهَذَا من نزغات الشَّيْطَان فَفِي الصدْق مندوحة عَن الْكَذِب وَفِيمَا ذكر الله وَرَسُوله غنية عَن الاختراع فِي الْوَعْظ، وَقَالَ شيخ الْإِسْلَام النَّوَوِيّ: خالفوا فِي ذَلِك إِجْمَاع الْمُسلمين الَّذين يعْتد بهم على تَحْرِيم تعمد الْكَذِب على رَسُول الله وعَلى أَنه من الْكَبَائِر لخَبر " من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار " بل بَالغ الشَّيْخ أَبُو مُحَمَّد الْجُوَيْنِيّ فَكفر بِهِ (قلت) وَنقل الْحَافِظ عماد الدَّين ابْن كثير عَن أبي الْفضل الهمذاني شيخ ابْن عقيل من الْحَنَابِلَة أَنه وَافق الْجُوَيْنِيّ على هَذِه الْمقَالة، وَقَالَ الْحَافِظ الذَّهَبِيّ فِي كتاب الْكَبَائِر لَهُ: وَلَا ريب أَن تعمد الْكَذِب على الله تَعَالَى وَرَسُول الله فِي تَحْرِيم حَلَال أَو تَحْلِيل حرَام كفر مَحْض، وَإِنَّمَا الشَّأْن فِي الْكَذِب عَلَيْهِمَا فِي مَا سوى ذَلِك وَالله أعلم، وَلَا يلْتَفت إِلَى مَا تعلقوا بِهِ من الشّبَه الْبَاطِلَة فِي تَأْوِيل هَذَا الحَدِيث من أَنه إِنَّمَا ورد فِي رجل معِين ذهب إِلَى قوم وَادّعى أَنه رَسُول رَسُول الله إِلَيْهِم يحكم فِي دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالهمْ فَبلغ ذَلِك رَسُول الله فَأمر بقتْله وَقَالَ هَذَا، أَو أَنه فِي حق من كذب عَلَيْهِ شَيْئا يقْصد بِهِ عَيبه أَو شين الْإِسْلَام وتعلقوا فِي ذَلِك بِمَا رُوِيَ عَن أبي أُمَامَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله " من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده بَين عَيْني جَهَنَّم " قَالَ: فشق ذَلِك على أَصْحَابه حَتَّى عرف فِي وُجُوههم
(চতুর্থ শ্রেণী) একদল লোক যারা নিজেদের যুহদ বা সংসারবিরাগের দিকে সম্বন্ধিত করে; অজ্ঞতাপ্রসূত ধার্মিকতা তাদেরকে সওয়াবের আশা ও শাস্তির ভয় প্রদর্শন (তারগীব ও তারহীব) বিষয়ক হাদীস জাল করার প্রতি প্ররোচিত করেছে, যাতে তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী মানুষকে কল্যাণের দিকে উৎসাহিত করতে পারে এবং অকল্যাণ থেকে বিরত রাখতে পারে। কাররামিয়াহ ফেরকা এবং অনুরূপভাবে কিছু সূফী একে বৈধ মনে করেছে, যেমনটি হাফিয ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন। হুজ্জাতুল ইসলাম আল-গাযালী বলেছেন: "এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা মাত্র; কেননা সত্যের মধ্যেই মিথ্যার বিকল্প প্রশস্ততা রয়েছে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা উল্লেখ করেছেন, তা উপদেশের ক্ষেত্রে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা থেকে যথেষ্ট।" শাইখুল ইসলাম আন-নবাবী বলেছেন: "তারা এই বিষয়ে ঐ সকল গ্রহণযোগ্য মুসলিমদের ঐকমত্যের (ইজমা) বিরোধিতা করেছে যারা রাসূলুল্লাহর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপ করা হারাম এবং কবীরা গুনাহ হওয়ার ওপর একমত পোষণ করেছেন। এর কারণ হলো এই হাদীসটি: 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নিল।' বরং শাইখ আবু মুহাম্মাদ আল-জুওয়াইনী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং একে কুফরি আখ্যা দিয়েছেন।" (আমি বলছি) হাফিয ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসীর হাম্বলী মাযহাবের ইবনে আকীলের উস্তাদ আবুল ফযল আল-হামাযানী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এই বক্তব্যের ক্ষেত্রে আল-জুওয়াইনীর সাথে একমত পোষণ করেছেন। হাফিয আয-যাহাবী তাঁর 'কিতাবুল কাবায়ির'-এ বলেছেন: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হালালকে হারাম করা বা হারামকে হালাল করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপ করা স্পষ্ট কুফর। তবে এছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে তাঁদের ওপর মিথ্যা বলার বিষয়টি ভিন্ন, আল্লাহই সর্বজ্ঞ।" তারা এই হাদীসের অপব্যাখ্যায় যেসব বাতিল সংশয়ের আশ্রয় নিয়েছে তার প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপ করা হবে না; যেমন তাদের দাবি— এটি কেবল জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল যে একটি গোত্রের নিকট গিয়ে নিজেকে রাসূলুল্লাহর দূত হিসেবে দাবি করেছিল যাতে সে তাদের রক্ত ও সম্পদের বিষয়ে ফয়সালা করতে পারে; রাসূলুল্লাহর নিকট যখন এ সংবাদ পৌঁছাল তখন তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন এবং এই কথাটি বললেন। অথবা এটি কেবল ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে তাঁর ওপর এমন কোনো মিথ্যা আরোপ করে যার উদ্দেশ্য হলো তাঁর দোষ অনুসন্ধান করা কিংবা ইসলামের অবমাননা করা। তারা এ বিষয়ে আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনার আশ্রয় নিয়েছে যেখানে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামের দুই চোখের মাঝখানে তার ঠিকানা বানিয়ে নিল।" তিনি বলেন: বিষয়টি সাহাবীগণের নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হলো, এমনকি তা তাঁদের চেহারায় ফুটে উঠল।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَقَالُوا يَا رَسُول الله قلت هَذَا وَنحن نسْمع مِنْك الحَدِيث فنزيد وننقص ونقدم ونؤخر فَقَالَ: لم أعن ذَلِك وَلَكِن عنيت من كذب عَليّ يُرِيد عيبي وشين الْإِسْلَام، أَو: أَنه إِذا كَانَ الْكَذِب فِي التَّرْغِيب والترهيب فَهُوَ كذب للنبى لَا عَلَيْهِ أَو: أَنه ورد فِي بعض طرق الحَدِيث " من كذب عَليّ مُتَعَمدا ليضل بِهِ النَّاس فليتبوآ مَقْعَده من النَّار، " فَتحمل الرِّوَايَات الْمُطلقَة عَلَيْهِ، لأَنا نجيب عَن شبهتهم الأولى بِأَن السَّبَب الْمَذْكُور لم يثبت إِسْنَاده وَبِتَقْدِير ثُبُوته فَالْعِبْرَة بِعُمُوم اللَّفْظ لَا بِخُصُوص السَّبَب، وَعَن الثَّانِيَة بِأَن الحَدِيث بَاطِل كَمَا قَالَه الْحَاكِم وَفِي إِسْنَاده مُحَمَّد بن الْفضل بن عَطِيَّة اتَّفقُوا على تَكْذِيبه، وَقَالَ صَالح جزرة كَانَ يضع الحَدِيث، وَعَن الثَّالِثَة أَنه كذب عَلَيْهِ فِي وضع الْأَحْكَام فَإِن الْمَنْدُوب قسم مِنْهَا وَفِي الْإِخْبَار عَن الله عز وجل فِي الْوَعْد على ذَلِك الْعَمَل بذلك الثَّوَاب، وَعَن الرَّابِعَة بِاتِّفَاق أَئِمَّة الحَدِيث على أَن زِيَادَة: ليضل بِهِ النَّاس ضَعِيفَة، وَبِتَقْدِير صِحَّتهَا لَا تعلق لَهُم بهَا لِأَن اللَّام فِي قَوْله ليضل لَام الْعَاقِبَة لَا. لَام التَّعْلِيل أَو هِيَ للتَّأْكِيد وَلَا مَفْهُوم لَهَا وعَلى هذَيْن الْوَجْهَيْنِ خرج قَوْله تَعَالَى: {فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِيُضِلَّ النَّاس بِغَيْر علم} لِأَن افتراء الْكَذِب على الله محرم مُطلقًا سَوَاء قصد بِهِ الإضلال أم لَا.
(الصِّنْف الْخَامِس) أَصْحَاب الْأَغْرَاض الدُّنْيَوِيَّة كَالْقصاصِ والشحاذين وَأَصْحَاب الْأُمَرَاء وأمثلة ذَلِك كَثِيرَة (فَمن) أَمْثِلَة الأول مَا أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي مُقَدّمَة كِتَابه قَالَ: صنف بعض قصاص زَمَاننَا كتابا فَذكر فِيهِ أَن الْحسن وَالْحُسَيْن رضي الله عنهما دخلا على عمر بن الْخطاب رضي الله عنه وَهُوَ مَشْغُول فَلَمَّا فرغ من شغله رفع رَأسه فرآهما فَقَامَ فقبلهما ووهب لكل وَاحِد مِنْهُمَا ألفا وَقَالَ لَهما: اجعلانى فِي حل، فَمَا عرفت دخولكما فَرَجَعَا وشكراه بَين يَدي أَبِيهِمَا عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه، فَقَالَ سَمِعت رَسُول الله يَقُول " عمر بن الْخطاب نور فِي الْإِسْلَام سراج لأهل الْجنَّة " فَرَجَعَا فحدثاه فَدَعَا بِدَوَاةٍ وَقِرْطَاس وَكتب فِيهِ: بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم حَدثنِي سيدا شباب أهل الْجنَّة عَن أَبِيهِمَا المرتضى عَن جدهما الْمُصْطَفى أَنه قَالَ " عمر نور فِي الْإِسْلَام سراج لأهل الْجنَّة " وَأوصى أَن يَجْعَل فِي كَفنه على صَدره فَوضع فَلَمَّا أَصْبحُوا وجدوه على قَبره، " وَفِيه صدق الْحسن وَالْحُسَيْن وَصدق أَبوهُمَا وَصدق رَسُول الله، عمر نور الْإِسْلَام وسراج أهل الْجنَّة
এবং তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এই কথা বলছেন অথচ আমরা আপনার থেকে হাদিস শুনি এবং তাতে বৃদ্ধি করি, হ্রাস করি, আগে আনি বা পরে নিয়ে যাই। তিনি বললেন: আমি তা উদ্দেশ্য করিনি, বরং আমি তাকে উদ্দেশ্য করেছি যে আমার নামে মিথ্যা আরোপ করে এবং এর মাধ্যমে আমার দোষ অন্বেষণ ও ইসলামের অবমাননা করতে চায়। অথবা: যখন মিথ্যা প্রচার উৎসাহ প্রদান (তারগিব) এবং ভীতি প্রদর্শন (তারহিব)-এর ক্ষেত্রে হয়, তখন তা নবীর সপক্ষে মিথ্যা, তাঁর বিরুদ্ধে নয়। অথবা: হাদিসের কোনো কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে— "যে ব্যক্তি মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" অতএব, সাধারণ বর্ণনাগুলোকে এর ওপর প্রয়োগ করা হবে। কারণ আমরা তাদের প্রথম সন্দেহের উত্তরে বলব যে, উল্লিখিত কারণটির (সবব) সনদ সাব্যস্ত নয়; আর যদি তা সাব্যস্ত ধরেও নেওয়া হয়, তবুও মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শব্দের ব্যাপকতা, কারণের বিশেষত্ব নয়। দ্বিতীয়টির উত্তরে বলব যে, হাদিসটি বাতিল যেমনটি আল-হাকিম বলেছেন, আর এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনুল ফজল ইবনে আতিয়্যাহ রয়েছে, যার মিথ্যাবাদী হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছেন; সালেহ জাযারা বলেছেন যে সে হাদিস জাল করত। আর তৃতীয়টির উত্তরে বলব যে, এটি বিধান (আহকাম) প্রবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর মিথ্যাচার, কেননা মুস্তাহাব (মানদুব) বিধানের একটি অংশ এবং এটি সেই আমলের সওয়াবের প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের অন্তর্ভুক্ত। আর চতুর্থটির উত্তরে বলব যে, হাদিস বিশারদ ইমামগণের ঐকমত্য অনুযায়ী "মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য" এই অতিরিক্ত অংশটি দুর্বল (যয়িফ)। আর যদি এর বিশুদ্ধতা ধরেও নেওয়া হয়, তবে এতে তাদের জন্য কোনো দলিল নেই, কারণ "যাতে বিভ্রান্ত করা যায়" বাক্যে ব্যবহৃত ‘লাম’ অক্ষরটি পরিণামজ্ঞাপক (লামুল আকিবাহ), কারণ দর্শানো (লামুত তায়লিল) নয়; অথবা এটি গুরুত্বারোপের জন্য এবং এর কোনো ভিন্ন অর্থ (মাফহুম) নেই। আর এই দুই পদ্ধতি অনুযায়ী আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যা করা হয়েছে: {তবে তার চেয়ে বড় জালেম আর কে আছে, যে মানুষকে বিনা ইলমে বিভ্রান্ত করার জন্য আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেয়?} কেননা আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া নিরঙ্কুশভাবে হারাম, চাই তা বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে হোক বা না হোক।
(পঞ্চম শ্রেণি) দুনিয়াবি উদ্দেশ্য হাসিলকারী ব্যক্তিগণ, যেমন কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনাকারী, ভিক্ষুক, আমীর-ওমরাহদের চাটুকার এবং এদের উদাহরণ অনেক। প্রথম শ্রেণির উদাহরণ হলো যা ইবনুল জাওজি তাঁর কিতাবের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সময়ের জনৈক কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনাকারী একটি বই সংকলন করেছেন এবং তাতে উল্লেখ করেছেন যে, হাসান ও হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে প্রবেশ করলেন যখন তিনি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। যখন তিনি কাজ শেষ করলেন, তখন মাথা তুলে তাঁদের দেখলেন এবং দাঁড়িয়ে তাঁদের চুম্বন করলেন। এরপর তাঁদের প্রত্যেককে এক হাজার করে দান করলেন এবং তাঁদের বললেন: তোমরা আমাকে ক্ষমা করো, আমি তোমাদের আসার কথা বুঝতে পারিনি। এরপর তাঁরা ফিরে গিয়ে তাঁদের পিতা আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সামনে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি "উমর ইবনুল খাত্তাব ইসলামে একটি নূর এবং জান্নাতবাসীদের জন্য প্রদীপ।" তাঁরা ফিরে গিয়ে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তা জানালেন। তখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দোয়াতি ও কাগজ আনালেন এবং তাতে লিখলেন: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। জান্নাতী যুবকদের দুই নেতা তাঁদের পিতা মুরতাজা থেকে এবং তিনি তাঁদের দাদা মুস্তাফা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন, "উমর ইসলামে একটি নূর এবং জান্নাতবাসীদের জন্য প্রদীপ।" এরপর তিনি অসিয়ত করলেন যেন এটি তাঁর কাফনের ভেতরে তাঁর সিনা বা বুকের ওপর রাখা হয়। সুতরাং তা রাখা হলো। যখন ভোর হলো, তারা সেটি তাঁর কবরের ওপর পেলেন এবং তাতে লেখা ছিল: হাসান ও হুসাইন সত্য বলেছেন, তাঁদের পিতা সত্য বলেছেন এবং আল্লাহর রাসূল সত্য বলেছেন; উমর ইসলামের নূর এবং জান্নাতবাসীদের প্রদীপ।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(وَمن أَمْثِلَة) الثَّانِي مَا رَوَاهُ ابْن الْجَوْزِيّ بِسَنَدِهِ إِلَى جَعْفَر بن مُحَمَّد الطَّيَالِسِيّ قَالَ: صلى أَحْمد بن حَنْبَل وَيحيى بن معِين فِي مَسْجِد الرصافة فَقَامَ بَين أَيْديهم قاص فَقَالَ حَدثنَا أَحْمد بن حَنْبَل وَيحيى بن معِين قَالَا حَدثنَا عبد الرَّزَّاق عَن معمر عَن قَتَادَة عَن أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله: " من قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله خلق الله من كل كلمة مِنْهَا طيرا منقاره من ذهب وريشه من مرجان، وَأخذ فِي قصَّة نَحوا من عشْرين ورقة، فَجعل أَحْمد بن حَنْبَل ينظر إِلَى يحيى بن معِين وَيحيى ينظر إِلَى أَحْمد، فَقَالَ لَهُ أَنْت حدثته بِهَذَا فَيَقُول وَالله مَا سَمِعت بِهَذَا إِلَّا السَّاعَة فَلَمَّا فرغ من قصصه، وَأخذ القطيعات ثمَّ قعد ينْتَظر بقيتها قَالَ لَهُ يحيى بن معِين بِيَدِهِ تعال، فجَاء مُتَوَهمًا لنوال فَقَالَ لَهُ يحيى: من حَدثَك بِهَذَا الحَدِيث؟ قَالَ أَحْمد بن حَنْبَل وَيحيى بن معِين، فَقَالَ أَنا يحيى بن معِين وَهَذَا أَحْمد بن حَنْبَل مَا سمعنَا بِهَذَا قطّ فِي حَدِيث رَسُول الله، فَقَالَ: لم أزل أسمع أَن يحيى بن معِين أَحمَق مَا تحققته إِلَّا السَّاعَة كَأَن لَيْسَ فِي الدُّنْيَا يحيى بن معِين وَأحمد بن حَنْبَل غيركما، قد كتبت عَن سَبْعَة عشر أَحْمد بن حَنْبَل وَيحيى بن معِين، فَوضع أَحْمد كمه على وَجهه وَقَالَ دَعه يقوم فَقَامَ كَالْمُسْتَهْزِئِ بهما (قلت) أقرّ ابْن حبَان ثمَّ ابْن الْجَوْزِيّ هَذِه الْحِكَايَة وَلم يطعنا فِي إسنادها وأنكرها الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان فِي تَرْجَمَة إِبْرَاهِيم بن عبد الْوَاحِد الْبكْرِيّ: فَقَالَ لَا أَدْرِي من ذَا أَتَى بحكاية مُنكرَة أَخَاف أَن تكون من وَضعه فَذكر الْحِكَايَة الْمَذْكُورَة وَالله تَعَالَى أعلم (وَمن) أمثلته أَيْضا مَا رَوَاهُ ابْن حبَان أَيْضا فِي مُقَدّمَة كتاب الضُّعَفَاء والمجروحين عَن مُؤَمل بن إهَاب قَالَ قَامَ رجل يسْأَل النَّاس فَلم يُعْط شَيْئا فَقَالَ: حَدثنَا يزِيد بن هرون عَن شريك عَن مُغيرَة عَن إِبْرَاهِيم قَالَ: " إِذا سَأَلَ السَّائِل ثَلَاثًا فَلم يُعْط، فَكبر عَلَيْهِم ثَلَاثًا وَجعل يَقُول الله أكبر الله أكبر الله أكبر ثمَّ مر فَذكر ذَلِك ليزِيد بن هرون فَقَالَ كذب عَليّ الْخَبيث مَا سَمِعت بِهَذَا قطّ (وَمن أَمْثِلَة الثَّالِث) قصَّة غياث بن إِبْرَاهِيم مَعَ الْمهْدي ذكرهَا ابْن أبي خَيْثَمَة فِي تَارِيخه وهى: أَنه دخل على الْمهْدي وَكَانَ الْمهْدي يحب الْحمام ويلعب بهَا فَإِذا قدامه حمام فَقيل لَهُ
(দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণসমূহের মধ্যে) রয়েছে যা ইবনুল জাওজি তার সনদে জাফর বিন মুহাম্মদ আত-তায়ালিসি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন রুসাফা মসজিদে সালাত আদায় করলেন। তখন তাদের সামনে একজন কিচ্ছাকারক দাঁড়িয়ে বলল: আমাদের নিকট আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বর্ণনা করেছেন, তারা বলেছেন: আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: "যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, আল্লাহ তার প্রতিটি শব্দ থেকে একটি করে পাখি সৃষ্টি করবেন যার ঠোঁট হবে সোনার এবং পালক হবে মারজানের।" এরপর সে প্রায় বিশ পৃষ্ঠা ব্যাপী কিচ্ছা বলতে লাগল। এমতাবস্থায় আহমাদ বিন হাম্বল ইয়াহইয়া বিন মাঈনের দিকে তাকাতে লাগলেন এবং ইয়াহইয়া আহমাদের দিকে তাকাতে লাগলেন। তিনি তাকে বললেন, আপনি কি তাকে এটি বর্ণনা করেছেন? ইয়াহইয়া বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এইমাত্র এটি শুনলাম। যখন সে তার কিচ্ছা শেষ করল এবং কিছু দান গ্রহণ করল, এরপর বাকিটার অপেক্ষায় বসল, তখন ইয়াহইয়া বিন মাঈন হাতের ইশারায় তাকে বললেন কাছে আসো। সে কিছু পাওয়ার আশায় এগিয়ে এল। ইয়াহইয়া তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমাকে এই হাদিস কে বর্ণনা করেছে? সে বলল: আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন। তখন তিনি বললেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈন এবং এই ব্যক্তি আহমাদ বিন হাম্বল; আমরা রাসূলুল্লাহর হাদিসে কখনোই এটি শুনিনি। সে বলল: আমি সব সময় শুনতাম যে ইয়াহইয়া বিন মাঈন একজন নির্বোধ, কিন্তু এইমাত্র তা নিশ্চিত হলাম। যেন দুনিয়াতে তোমরা দুজন ছাড়া আর কোনো ইয়াহইয়া বিন মাঈন এবং আহমাদ বিন হাম্বল নেই? আমি সতেরো জন আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈনের নিকট থেকে হাদিস লিখেছি। তখন আহমাদ নিজের আস্তিন দিয়ে মুখ ঢেকে নিলেন এবং বললেন, তাকে যেতে দাও। সে তাদের প্রতি উপহাস করতে করতে উঠে চলে গেল। (আমি বলি) ইবনু হিব্বান এবং পরবর্তীতে ইবনুল জাওজি এই কাহিনীটি সমর্থন করেছেন এবং এর সনদের ওপর কোনো আপত্তি করেননি। তবে আয-যাহাবি ‘আল-মিজান’ গ্রন্থে ইব্রাহিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বকরি-এর জীবনীতে এটি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: আমি জানি না কে এই আপত্তিকর কাহিনীটি এনেছে, আমার ভয় হচ্ছে এটি হয়তো তারই বানানো। এরপর তিনি উল্লিখিত কাহিনীটি বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞাত। (আরও) একটি উদাহরণ হলো যা ইবনু হিব্বান তার ‘কিতাবুদ দুয়াফা ওয়াল মাজরুহিন’ গ্রন্থের ভূমিকায় মুয়াম্মাল বিন ইহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাইল, কিন্তু তাকে কিছুই দেওয়া হলো না। তখন সে বলল: আমাদের নিকট ইয়াজিদ বিন হারুন বর্ণনা করেছেন শারিক থেকে, তিনি মুগিরা থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "যখন কোনো সাহায্যপ্রার্থী তিনবার চাইল কিন্তু তাকে দেওয়া হলো না, তখন সে যেন তাদের ওপর তিনবার তাকবির পাঠ করে এবং বলতে থাকে আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।" অতঃপর সে চলে গেল। পরে ইয়াজিদ বিন হারুনের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: ওই খবিস আমার নামে মিথ্যা বলেছে, আমি কখনোই এ কথা শুনিনি। (তৃতীয় প্রকারের উদাহরণসমূহের মধ্যে) হলো আল-মাহদির সাথে গিয়াস বিন ইব্রাহিমের কাহিনী। ইবনু আবি খাইসামা তার ইতিহাসে এটি উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো: সে আল-মাহদির নিকট প্রবেশ করল, আর আল-মাহদি কবুতর ভালোবাসতেন এবং সেগুলো নিয়ে খেলতেন। তখন তার সামনে কবুতর ছিল, এমতাবস্থায় তাকে বলা হলো...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
حدث أَمِير الْمُؤمنِينَ فَقَالَ: " حَدثنَا فلَان عَن فلَان أَن النَّبِي قَالَ لَا سبق إِلَّا فِي نصل أَو خف أَو حافر أَو جنَاح، فَأمر لَهُ الْمهْدي ببدرة فَلَمَّا قَامَ قَالَ: أشهد على قفاك أَنه قفا كَذَّاب على رَسُول الله، ثمَّ قَالَ الْمهْدي: أَنا حَملته على ذَلِك ثمَّ أَمر بِذبح الْحمام ورفض مَا كَانَ فِيهِ ".
(الصِّنْف السَّادِس) قوم حملهمْ الشره ومحبة الظُّهُور على الْوَضع، فَجعل بَعضهم لذِي الْإِسْنَاد الضَّعِيف إِسْنَادًا صَحِيحا مَشْهُورا، وَجعل بَعضهم للْحَدِيث إِسْنَادًا غير إِسْنَاده الْمَشْهُور ليستغرب وَيطْلب، قَالَ الْحَاكِم أَبُو عبد الله: وَمن هَؤُلَاءِ إِبْرَاهِيم بن اليسع وَهُوَ ابْن أبي حَيَّة كَانَ يحدث عَن جَعْفَر الصَّادِق وَهِشَام بن عُرْوَة فيركب حَدِيث هَذَا على حَدِيث ذَاك لتستغرب تِلْكَ الْأَحَادِيث بِتِلْكَ الْأَسَانِيد قَالَ: وَمِنْهُم حَمَّاد بن عَمْرو النصيبي وبهلول بن عبيد وأصرم بن حَوْشَب، قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر: وَهَذَا دَاخل فِي قسم المقلوب، وَقَالَ القَاضِي تَاج الدَّين السُّبْكِيّ فِي طَبَقَات الشَّافِعِيَّة الْكُبْرَى نقلا عَن السؤالات الحديثية الَّتِي سَأَلَ الْحَافِظ أَبُو سَعْدَان عَلَيْك عَنْهَا الْأُسْتَاذ أَبَا إِسْحَق الإِسْفِرَايِينِيّ: إِن من قلب الْإِسْنَاد ليستغرب حَدِيثه ويرغب فِيهِ يصير دجالًا كذابا تسْقط بِهِ جَمِيع أَحَادِيثه وَإِن رَوَاهَا على وَجههَا وَمِنْهُم من كَانَ يَدعِي سَماع مَا لم يسمع، قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: حدث عبد الله بن إِسْحَق الْكرْمَانِي عَن مُحَمَّد بن يَعْقُوب فَقيل لَهُ مَاتَ مُحَمَّد قبل أَن تولد بتسع سِنِين، وَحدث مُحَمَّد بن حَاتِم الْكشِّي عَن عبد بن حميد، فَقَالَ أَبُو عبد الله الْحَاكِم: هَذَا الشَّيْخ سمع من عبد بن حميد بعد مَوته بِثَلَاث عشرَة سنة.
(الصِّنْف السَّابِع) قوم وَقع الْمَوْضُوع فِي حَدِيثهمْ وَلم يتعمدوا الْوَضع، كمن يغلط فيضيف إِلَى النَّبِي كَلَام بعض الصَّحَابَة أَو غَيرهم، وَكَمن ابْتُلِيَ بِمن يدس فِي حَدِيثه مَا لَيْسَ مِنْهُ، كَمَا وَقع ذَلِك لحماد بن سَلمَة مَعَ ربيبه عبد الْكَرِيم بن أبي العوجاء وكما وَقع لِسُفْيَان بن وَكِيع مَعَ وراقه قرطمة، ولعَبْد الله بن صَالح كَاتب اللَّيْث مَعَ جَاره، وَكَمن تدخل عَلَيْهِ آفَة فِي حفظه أَو فِي بَصَره أَو فِي كِتَابه فيروي مَا لَيْسَ من حَدِيثه غالطا، قَالَ ابْن الصّلاح: وَأَشد هَذِه الْأَصْنَاف ضَرَرا أهل الزّهْد لأَنهم للثقة بهم وتوسم الْخَيْر فيهم يقبل موضوعاتهم كثير مِمَّن هُوَ على نمطهم فِي الْجَهْل ورقة فِي الدَّين، قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر ويلتحق بالزهاد فِي ذَلِك المتفقهة الَّذين استجازوا نِسْبَة مَا دلّ عَلَيْهِ الْقيَاس إِلَى النَّبِي
আমিরুল মুমিনীন বর্ণনা করলেন: "আমাদের কাছে অমুক অমুক হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'তীর নিক্ষেপ, উটের দৌড়, ঘোড়দৌড় কিংবা ডানা (কবুতর) বিশিষ্ট প্রাণী ছাড়া অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় কোনো পুরস্কার বা বাজি নেই।' তখন আল-মাহদী তাকে একটি স্বর্ণমুদ্রার থলে প্রদানের নির্দেশ দিলেন। যখন লোকটি চলে যাওয়ার জন্য দাঁড়াল, তখন তিনি বললেন: 'আমি তোমার ঘাড় দেখে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এটি আল্লাহর রাসূলের ওপর মিথ্যারোপকারীর ঘাড়।' এরপর আল-মাহদী বললেন: 'আমিই তাকে এর প্রতি প্ররোচিত করেছি।' এরপর তিনি কবুতরগুলো জবেহ করার নির্দেশ দিলেন এবং সে যা নিয়ে লিপ্ত ছিল তা বর্জন করলেন।"
(ষষ্ঠ প্রকার) এমন একদল লোক যাদের অতিশয় লোভ এবং প্রসিদ্ধি লাভের আকাঙ্ক্ষা হাদীস জালকরণের দিকে ধাবিত করেছে। ফলে তাদের কেউ কেউ দুর্বল সনদের হাদীসের জন্য একটি সহীহ ও প্রসিদ্ধ সনদ তৈরি করে দেয়। আবার কেউ কেউ হাদীসের জন্য এর প্রসিদ্ধ সনদ পরিবর্তন করে অন্য একটি সনদ যুক্ত করে যাতে তা দুর্লভ মনে হয় এবং মানুষ তা পাওয়ার জন্য আগ্রহী হয়। আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: এদেরই একজন হলো ইব্রাহিম ইবনুল ইয়াসা, সে ইবনু আবি হাইয়্যাহ নামেও পরিচিত। সে জাফর আস-সাদিক এবং হিশাম ইবনু উরওয়াহ হতে বর্ণনা করত। সে একজনের হাদীসকে অন্যজনের সনদে বসিয়ে দিত যাতে সেই সনদগুলোর মাধ্যমে হাদীসগুলোকে দুর্লভ বলে প্রচার করা যায়। তিনি বলেন: তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো হাম্মাদ ইবনু আমর আন-নাসীবী, বাহলুল ইবনু উবাইদ এবং আসরাম ইবনু হাওশাব। হাফেজ ইবনু হাজার বলেন: এটি 'মাকলুব' (পরিবর্তিত) হাদীসের প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। কাজী তাজউদ্দীন আস-সুবকী 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা' গ্রন্থে হাফেজ আবু সা'দান কর্তৃক উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফিরায়িনীকে করা হাদীস বিষয়ক প্রশ্নাবলির বরাতে উল্লেখ করেন: যে ব্যক্তি কোনো হাদীসকে দুর্লভ ও আকর্ষণীয় করার জন্য সনদ পরিবর্তন করে, সে একজন দাজ্জাল ও বড় মিথ্যাবাদী হিসেবে গণ্য হয়; এর ফলে তার বর্ণিত সকল হাদীস রহিত ও পরিত্যক্ত হবে, এমনকি যদি সে সেগুলো সঠিকভাবেও বর্ণনা করে থাকে। তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা এমন ব্যক্তির নিকট হতে শ্রবণের দাবি করত যার নিকট হতে সে শোনেনি। ইবনুল জাওযী বলেন: আবদুল্লাহ ইবনু ইসহাক আল-কিরমানী মুহাম্মদ ইবনু ইয়াকুব হতে বর্ণনা করেছেন, তখন তাকে বলা হলো যে, মুহাম্মদ আপনার জন্মের নয় বছর আগেই মারা গেছেন। মুহাম্মদ ইবনু হাতিম আল-কাশ্শী বর্ণনা করেছেন আবদ ইবনু হুমাইদ হতে, তখন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: এই শায়খ আবদ ইবনু হুমাইদের মৃত্যুর তেরো বছর পর তার নিকট হতে হাদীস শুনেছেন!
(সপ্তম প্রকার) এমন একদল লোক যাদের বর্ণনায় জাল হাদীস ঢুকে পড়েছে অথচ তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জাল করেননি। যেমন—কেউ ভুলবশত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে কোনো সাহাবী বা অন্য কারো বক্তব্য নিসবত করে দেন। আবার কেউ এমন ব্যক্তির চক্রান্তের শিকার হন যে তার হাদীসের কিতাবে এমন কিছু ঢুকিয়ে দেয় যা তার বর্ণনার অংশ নয়। যেমনটি ঘটেছিল হাম্মাদ ইবনু সালামাহর সাথে তার সৎপুত্র আব্দুল কারীম ইবনু আবিল আওজার মাধ্যমে, সুফিয়ান ইবনু ওয়াকীর সাথে তার লেখক কুরতামার মাধ্যমে এবং লাইস ইবনু সা'দের লেখক আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ এর সাথে তার প্রতিবেশীর মাধ্যমে। আবার কারো মুখস্থ শক্তিতে, দৃষ্টিশক্তিতে কিংবা পাণ্ডুলিপিতে কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, ফলে সে ভুলবশত এমন কিছু বর্ণনা করে যা প্রকৃতপক্ষে তার হাদীস নয়। ইবনুস সালাহ বলেন: এই প্রকারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো দুনিয়াবিমুখ জাহিদগণ; কারণ তাদের প্রতি মানুষের অগাধ আস্থা এবং তাদের ভেতর কল্যাণের লক্ষণ পরিলক্ষিত হওয়ায় তাদের জালকৃত বর্ণনাগুলো এমন অনেক মানুষ গ্রহণ করে নেয় যারা তাদের মতোই মূর্খ এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে শিথিল। হাফেজ ইবনু হাজার বলেন: এসকল জাহিদদের সাথে সেই সব ফকিহদেরও যুক্ত করা হবে যারা কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমান দ্বারা সাব্যস্ত বিষয়কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী হিসেবে বর্ণনা করা বৈধ মনে করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
، قَالَ: وأخفى الْأَصْنَاف الصِّنْف الْأَخير الَّذين لم يتعمدوا مَعَ وَصفهم بِالصّدقِ فَإِن الضَّرَر بهم شَدِيد، لدقة اسْتِخْرَاج ذَلِك إِلَّا من الْأَئِمَّة النقاد، وَأما بَاقِي الْأَصْنَاف فَالْأَمْر فيهم أسهل لِأَن كَون تِلْكَ الْأَحَادِيث كذبا لَا تخفى إِلَّا على الأغبياء.
[فصل]قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: لما لم يُمكن أحدا أَن يزِيد فِي الْقُرْآن أَخذ أَقوام يزِيدُونَ فِي حَدِيث رَسُول الله ويضعون عَلَيْهِ مَا لم يقل، فَأَنْشَأَ الله عُلَمَاء يَذبُّونَ عَن النَّقْل ويوضحون الصَّحِيح ويفضحون الْقَبِيح وَمَا يخلي الله مِنْهُم عصرا من الْأَعْصَار غير أَنهم قلوا فِي هَذَا الزَّمَان فصاروا أعز من عنقاء مغرب:
(وَقد كَانُوا إِذا عدوا قَلِيلا
… فقد صَارُوا أقل من الْقَلِيل)
قَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ: " الْمَلَائِكَة حراس السَّمَاء وَأَصْحَاب الحَدِيث حراس الأَرْض، " وَقَالَ يزِيد بن زُرَيْع: " لكل دين فرسَان وفرسان هَذَا الدَّين أَصْحَاب الْأَسَانِيد، " وروينا عَن ابْن الْمُبَارك أَنه قيل لَهُ: هَذِه الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة؟ فَقَالَ تعيش لَهَا الجهابذة (قلت) وَذكر الْحَافِظ الذَّهَبِيّ فِي طَبَقَات الْحفاظ أَن الرشيد أَخذ زنديقا ليَقْتُلهُ فَقَالَ: أَيْن أَنْت من ألف حَدِيث وَضَعتهَا فَقَالَ: أَيْن أَنْت يَا عَدو الله من أَبى إِسْحَق الْفَزارِيّ وَابْن الْمُبَارك يتخللانها فيخرجانها حرفا حرفا، وَقَالَ ابْن قُتَيْبَة فِي كِتَابه اخْتِلَاف الحَدِيث يمدح أهل الحَدِيث: التمسوا الْحق من وجهته وتتبعوه من مظانه، وتقربوا إِلَى الله باتبَاعهمْ سنَن رَسُول الله وطلبهم لأخباره برا وبحرا وشرقا وغربا، وَلم يزَالُوا فِي التنقير عَنْهَا والبحث لَهَا حَتَّى عرفُوا صحيحها وسقيمها، وناسخها ومنسوخها، وَعرفُوا من خالفها إِلَى الرَّأْي، فنبهوا على ذَلِك حَتَّى نجم الْحق بعد أَن كَانَ عافيا، وبسق بعد أَن كَانَ دارسا، وَاجْتمعَ بعد أَن كَانَ مُتَفَرقًا، وانقاد للسّنة من كَانَ عَنْهَا معرضًا، وتنبه عَلَيْهَا من كَانَ غافلا، وَقد يعيبهم الطاعنون بحملهم الضَّعِيف وطلبهم الْغَرِيب وَفِي الغرائب الدَّاء، وَلم يحملوا الضَّعِيف والغريب لأَنهم رأوهما حَقًا، بل جمعُوا الغث والسمين وَالصَّحِيح والسقيم ليميزوا بَينهمَا ويدلوا عَلَيْهِمَا، وَقد فعلوا ذَلِك فَقَالُوا فِي الحَدِيث الْمَرْفُوع: " شرب المَاء على الرِّيق يعْقد الشَّحْم، " وَحَدِيث ابْن عَبَّاس أَنه " كَانَ يبصق فِي الدواة وَيكْتب مِنْهَا، " موضوعان وضعهما عَاصِم الكوزي، قَالُوا: وَحَدِيث الْحسن " أَن رَسُول الله لم يجز طَلَاق الْمَرِيض، وَضعه سهل السراج، وَسَهل روى
তিনি বলেন: সবচেয়ে গোপন শ্রেণি হলো শেষোক্ত দলটি, যারা সত্যবাদিতার গুণ থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যার আশ্রয় নেয়নি। এদের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি অত্যন্ত গুরুতর, কারণ বিশেষজ্ঞ সমালোচক ইমামগণ ব্যতীত অন্যদের পক্ষ হতে এটি চিহ্নিত করা অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়। আর অন্যান্য শ্রেণির ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজ, কেননা সেসব হাদীস মিথ্যা হওয়া কেবল নির্বোধদের নিকটই অস্পষ্ট থাকে।
[পরিচ্ছেদ]ইবনুল জাওযী বলেন: যখন কারও পক্ষেই কুরআনের মধ্যে কোনো কিছু বৃদ্ধি করা সম্ভব হলো না, তখন কিছু মানুষ আল্লাহর রাসূলের হাদীসের মধ্যে বৃদ্ধি করতে শুরু করল এবং তাঁর নামে এমন কথা জাল করল যা তিনি বলেননি। অতঃপর আল্লাহ এমন কিছু আলিম সৃষ্টি করলেন যারা বর্ণনাসমূহ রক্ষা করেন, সহীহ হাদীসসমূহকে স্পষ্ট করেন এবং কদর্য হাদীসসমূহকে জনসমক্ষে উন্মোচন করেন। আল্লাহ কোনো যুগকেই তাঁদের থেকে শূন্য রাখেন না, তবে বর্তমান সময়ে তাঁদের সংখ্যা কমে গেছে, ফলে তাঁরা ‘আনকা মুগরিব’ (দুর্লভ বস্তু)-এর চেয়েও দুর্লভ হয়ে পড়েছেন:
(যখন তাঁদের সংখ্যা গণনা করা হতো, তখন তাঁরা অল্প ছিলেন
… এখন তাঁরা অল্পের চেয়েও অল্প হয়ে গেছেন)
সুফিয়ান আস-সাওরী বলেন: "ফেরেশতাগণ আসমানের পাহারাদার আর আসহাবে হাদীসগণ (মুহাদ্দিসগণ) যমীনের পাহারাদার।" ইয়াযীদ ইবনে যুরাই' বলেন: "প্রত্যেক ধর্মেরই কিছু অশ্বারোহী বীর থাকে, আর এই দ্বীনের অশ্বারোহী বীর হলেন সনদসমূহের অধিকারীগণ।" ইবনুল মুবারক থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: এই জাল হাদীসগুলোর কী হবে? তিনি বললেন: এগুলোর (মুখোশ উন্মোচনের) জন্য বিশেষজ্ঞ সমঝদারগণ বেঁচে আছেন। (আমি বলি) হাফিজ আয-যাহাবী ‘তাবাকাতুল হুফফায’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হারুনুর রশীদ একজন যিনদীককে হত্যার জন্য পাকড়াও করলেন। তখন সেই যিনদীক বলল: আমি যে এক হাজার হাদীস জাল করেছি সেগুলোর কী হবে? তিনি বললেন: হে আল্লাহর শত্রু, আবু ইসহাক আল-ফাযারী এবং ইবনুল মুবারকের ব্যাপারে তোমার কী ধারণা? তাঁরা এগুলোকে এমনভাবে যাচাই-বাছাই করবেন যে, প্রতিটি বর্ণ পর্যন্ত বের করে ফেলবেন। ইবনে কুতাইবা তাঁর ‘ইখতিলাফুল হাদীস’ গ্রন্থে আহলে হাদীসদের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন: তাঁরা সত্যকে তার সঠিক উৎস হতে সন্ধান করেছেন এবং তার উৎপত্তিস্থল থেকে তা অনুসরণ করেছেন। তাঁরা আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহর অনুসরণ এবং জলে-স্থলে, পূর্বে-পশ্চিমে তাঁর হাদীসসমূহের অন্বেষণের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেছেন। তাঁরা এগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও গবেষণায় সর্বদা রত ছিলেন, এমনকি তাঁরা হাদীসের সহীহ ও যয়ীফ এবং নাসিখ ও মানসূখ চিহ্নিত করেছেন। তাঁরা চিনেছেন কারা সুন্নাহ ছেড়ে মনগড়া মতামতের দিকে ঝুঁকেছে; ফলে তাঁরা সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যার ফলে সত্য বিলুপ্ত হওয়ার পর পুনরায় উদিত হয়েছে, মিটে যাওয়ার পর সুউচ্চ হয়েছে, এবং বিক্ষিপ্ত হওয়ার পর একত্রিত হয়েছে। যারা সুন্নাহ থেকে বিমুখ ছিল তারা এর অনুগত হয়েছে, আর যারা এ বিষয়ে গাফেল ছিল তারা সচেতন হয়েছে। সমালোচকরা হয়তো তাঁদের যয়ীফ হাদীস বহন করা এবং অখ্যাত হাদীস অন্বেষণের কারণে দোষারোপ করেন, অথচ অখ্যাত হাদীসগুলোর মধ্যেই ত্রুটি থাকে। কিন্তু তাঁরা যয়ীফ ও অখ্যাত হাদীসগুলো সত্য মনে করে গ্রহণ করেননি; বরং তাঁরা অসার ও সারগর্ভ এবং সহীহ ও যয়ীফ সবকিছুই একত্রিত করেছেন যাতে এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা যায় এবং সেগুলোর স্বরূপ নির্দেশ করা যায়। তাঁরা তা করেছেনও, যেমন তাঁরা একটি মারফূ হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: "খালি পেটে পানি পান করলে চর্বি জমে।" এবং ইবনে আব্বাসের হাদীস যে, "তিনি দোয়াতের মধ্যে থুথু ফেলতেন এবং তা দিয়ে লিখতেন।" এই দুটিই জাল হাদীস, যা আসিম আল-কূযী জাল করেছে। মুহাদ্দিসগণ বলেছেন: আর হাসানের বর্ণিত হাদীস— "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ ব্যক্তির তালাক কার্যকর করেননি," এটি সাহল আস-সাররাজ জাল করেছে, আর সাহল বর্ণনা করেছে...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
" أَنه رأى الْحسن يُصَلِّي بَين سطور الْقُبُور " وَهَذَا بَاطِل، لِأَن الْحسن روى " أَن رَسُول الله نهى عَن الصَّلَاة بَين الْقُبُور، " وَقَالُوا: وَحَدِيث أنس بن مَالك رَفعه " لَا يزَال الرجل رَاكِبًا مَا دَامَ منتعلا " وَضعه أَيُّوب بن خوط، وَحَدِيث عَمْرو بن حُرَيْث: " رَأَيْت النَّبِي يسَار يَوْم الْعِيد بَين يَدَيْهِ بالحراب، " وَحَدِيث ابْن أبي أوفى " رَأَيْت رَسُول الله يمس لحيته فِي الصَّلَاة " وضعهما الْمُنْذر بن زِيَاد، وَحَدِيث يُونُس عَن الْحسن " أَن رَسُول الله نهى عَن عشر كنى، " وَضعه أَبُو عصمَة قَاضِي مرو، وَقَالُوا فِي أَحَادِيث على أَلْسِنَة النَّاس لَيْسَ لَهَا أصل، مِنْهَا: " من سَعَادَة الْمَرْء خفَّة عارضيه وَمِنْهَا: سموهم بِأحب الْأَسْمَاء إِلَيْهِم وكنوهم بِأحب الكنى إِلَيْهِم، " وَمِنْهَا: " خير تجاراتكم الْبَز وَخير أَعمالكُم، الخرز " وَمِنْهَا: " لَو صدق السَّائِل مَا أَفْلح من رده " وَمِنْهَا: " النَّاس أكفاء إِلَّا حائك أَو حجام، " مَعَ حَدِيث كثير قد رَوَوْهُ وأبطلوه انْتهى؛ وَقَالَ ابْن حبَان أَخْبرنِي الْحسن بن عُثْمَان بن زِيَاد قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن مَنْصُور قَالَ: مر أَحْمد بن حَنْبَل على نفر من أَصْحَاب الحَدِيث وهم يعرضون كتابا لَهُم، فَقَالَ: مَا أَحسب هَؤُلَاءِ إِلَّا مِمَّن قَالَ رَسُول الله " لَا تزَال طَائِفَة من أمتِي على الْحق حَتَّى تقوم السَّاعَة " قَالَ ابْن حبَان: وَمن أَحَق بِهَذَا التَّأْوِيل من قوم فارقوا الْأَهْل والأوطان وقنعوا بِالْكَسْرِ والأطمار فِي طلب السّنَن والْآثَار، يجولون البراري والقفار وَلَا يبالون بالبؤس والإقتار، متبعين لآثار السّلف الماضين وسالكين ثبج محجة الصَّالِحين، برد الْكَذِب عَن رَسُول رب الْعَالمين وذب الزُّور عَنهُ حَتَّى وضح للْمُسلمين الْمنَار. وَتبين لَهُم الصَّحِيح من الْمَوْضُوع والزور من الْأَخْبَار.
[فصل]
فِي سرد أَسمَاء الوضاعين والكذابين وَمن كَانَ يسرق الْأَحَادِيث ويقلب الْأَخْبَار وَمن اتهمَ بِالْكَذِبِ والوضع من رُوَاة الْأَخْبَار مُلَخصا من الْمِيزَان والمغنى وذيله
"তিনি আল-হাসানকে কবরের সারির মাঝখানে সালাত আদায় করতে দেখেছেন।" এটি বাতিল, কারণ আল-হাসান নিজেই বর্ণনা করেছেন যে, "রাসূলুল্লাহ কবরের মাঝখানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।" তারা বলেছেন: আনাস বিন মালিকের মারফু হাদীস— "ব্যক্তি যতক্ষণ জুতো পরিহিত থাকে ততক্ষণ সে আরোহী হিসেবে গণ্য হয়"—এটি আইয়ুব বিন খুত জাল করেছে। আমর বিন হুরাইসের হাদীস— "আমি ঈদের দিন নবীকে দেখেছি, তাঁর সামনে বর্শা নিয়ে চলা হচ্ছিল"—এবং ইবনে আবি আওফার হাদীস— "আমি রাসূলুল্লাহকে সালাতের মধ্যে দাড়ি স্পর্শ করতে দেখেছি"—এই দুটি আল-মুনজির বিন যিয়াদ জাল করেছে। ইউনুসের সূত্রে আল-হাসান থেকে বর্ণিত হাদীস— "রাসূলুল্লাহ দশটি উপনাম (কুনিয়াত) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন"—এটি মার্ভের বিচারক আবু ইসমাহ জাল করেছে। তারা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত এমন কিছু হাদীস সম্পর্কে বলেছেন যেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই, যেমন: "দুই গালের দাড়ি হালকা হওয়া মানুষের সৌভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত।" এবং: "তাদেরকে তাদের প্রিয়তম নামে ডাকো এবং প্রিয়তম উপনামে ভূষিত করো।" এবং: "তোমাদের ব্যবসার মধ্যে কাপড় কেনাবেচা উত্তম এবং তোমাদের কাজের মধ্যে পুঁতির কাজ উত্তম।" এবং: "যদি যাচনাকারী সত্যবাদী হতো, তবে যে তাকে ফিরিয়ে দেয় সে সফল হতো না।" এবং: "তাঁতি ও রক্তমোক্ষণকারী ব্যতীত সকল মানুষ একে অপরের সমকক্ষ।"—এর সাথে আরও অনেক হাদীস যা তারা বর্ণনা করেছেন এবং বাতিল ঘোষণা করেছেন। সমাপ্ত। ইবনে হিব্বান বলেন, আল-হাসান বিন উসমান বিন যিয়াদ আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন মনসুর আমাদের বলেছেন: আহমাদ বিন হাম্বল একদল হাদীস অন্বেষণকারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা তাদের একটি কিতাব পর্যালোচনা করছিল। তখন তিনি বললেন: "আমি মনে করি না যে এরা তারা ব্যতীত অন্য কেউ যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ বলেছেন— 'আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর অটল থাকবে কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত'।" ইবনে হিব্বান বলেন: এই ব্যাখ্যার জন্য সেই জাতির চেয়ে অধিক হকদার আর কে হতে পারে যারা সুন্নাহ ও আসার সন্ধানে পরিবার-পরিজন ও স্বদেশ ত্যাগ করেছে এবং সামান্য আহার ও জীর্ণ পোশাকে সন্তুষ্ট থেকেছে? তারা মরুভূমি ও বিরাণ প্রান্তরে বিচরণ করেছে এবং দুঃখ-কষ্ট ও দারিদ্র্যের পরোয়া করেনি। তারা সালাফ তথা পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং নেককারদের প্রশস্ত রাজপথে চলেছে। তারা রাব্বুল আলামীনের রাসূলের ওপর আরোপিত মিথ্যাকে প্রতিহত করেছে এবং তাঁর প্রতি অপবাদ দূর করেছে, এমনকি মুসলমানদের কাছে সত্যের মিনার সুস্পষ্ট হয়েছে। তাদের কাছে জাল বর্ণনা থেকে সহীহ বর্ণনা এবং মিথ্যা সংবাদ থেকে সত্য সংবাদ পৃথক হয়ে গিয়েছে।
[পরিচ্ছেদ]
হাদীস জালকারী ও মিথ্যাবাদীদের নাম বর্ণনার বিবরণ এবং যারা হাদীস চুরি করত ও সংবাদ ওলটপালট করত এবং হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা মিথ্যা ও জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদের নামের তালিকা; যা 'মিযান', 'মুগনী' ও এর পরিশিষ্ট থেকে সংক্ষেপিত।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
لِلْحَافِظِ الذَّهَبِيّ ولسان الْمِيزَان لِلْحَافِظِ ابْن حجر مَعَ زَوَائِد من مَوْضُوعَات ابْن الْجَوْزِيّ مُرَتبا على حُرُوف المعجم، وغرضي من ذَلِك أَمْرَانِ، (أَحدهمَا) إِذا كَانَ فِي سَنَد حَدِيث من أَحَادِيث هَذَا الْكتاب أحد من الْمَذْكُورين مُتَّفق على تَكْذِيبه، فَإِنِّي أكتفى بقولى بعد تَخْرِيج الحَدِيث فِيهِ فلَان أَن من طَرِيق فلَان طلبا للاختصار، وهربا من التّكْرَار، وَإِن كَانَ غير مُتَّفق على تَكْذِيبه وَتَركه ذكرت من وَثَّقَهُ (وَثَانِيهمَا) عُمُوم النَّفْع بذلك فِي غير هَذَا الْكتاب حَتَّى إِذا مر بطالب الحَدِيث رجل من هَؤُلَاءِ فِي سَنَد حَدِيث توقف عَن الْعَمَل بِهِ حَتَّى ينظر إِلَى متابعاته وشواهده، وَلما مَرَرْت بحلب فِي سنة ثَلَاث وَخمسين وَتِسْعمِائَة مُتَوَجها إِلَى الْبَاب السلطاني لَا زَالَ مؤيدا بالعون الرباني، وقفت فِيهَا على كتاب لِلْحَافِظِ برهَان الدَّين الْحلَبِي سَمَّاهُ " الْكَشْف الحثيث عَمَّن رمي بِوَضْع الحَدِيث " فألحقت مِنْهُ هَهُنَا مَا ترَاهُ معزوا إِلَيْهِ، وَلم أذكر فيهم أحدا مِمَّن روى لَهُ الشَّيْخَانِ وَإِن رمي بذلك، لِأَن من رويا لَهُ فقد جَازَ القنطرة كَمَا قَالَه الإِمَام عَليّ بن الْمفضل المقدسى رحمه الله وَالله الْمُوفق.
হাফিজ যাহাবীর [মিজানুল ইতিদাল] এবং হাফিজ ইবনে হাজারের 'লিসানুল মিজান' থেকে, সাথে ইবনুল জাওযীর 'মাউজুআত' (জাল হাদিসসমূহ) থেকে কিছু অতিরিক্ত অংশ যোগ করে অভিধানের বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে। এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো দুটি বিষয়: (প্রথমত) যখন এই কিতাবের কোনো হাদিসের সনদে এমন কেউ থাকবে যার মিথ্যাবাদী হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত, তখন আমি হাদিসটির তাখরিজ বা সূত্রোল্লেখ করার পর সংক্ষেপ করার স্বার্থে এবং পুনরাবৃত্তি এড়ানোর জন্য কেবল এটুকু বলাই যথেষ্ট মনে করেছি যে—'অমুক ব্যক্তি অমুকের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন'। আর যদি তার মিথ্যাবাদী হওয়া বা তাকে বর্জন করার ব্যাপারে ঐক্যমত না থাকে, তবে আমি তাদের কথা উল্লেখ করেছি যারা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। (দ্বিতীয়ত) এই কিতাবের বাইরেও যেন এর উপকারিতা ব্যাপক হয়, যাতে কোনো হাদিস অন্বেষী যখন কোনো সনদে এই ব্যক্তিদের কাউকে পাবে, তখন যেন সে এর ওপর আমল করা থেকে বিরত থাকে যতক্ষণ না এর সমার্থক (মুতাবায়াত) ও সাক্ষ্যমূলক (শাওয়াহিদ) বর্ণনাগুলো দেখে নেয়। আর যখন আমি নয়শত তিপ্পান্ন হিজরীতে সুলতানি দরবারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে হালব (আলেপ্পো) অতিক্রম করছিলাম—যা সর্বদা রব্বানি সাহায্যে জয়যুক্ত থাকুক—তখন সেখানে আমি হাফিজ বুরহান উদ্দিন আল-হালাবীর একটি কিতাব দেখতে পাই, যার নাম ‘আল-কাশফুল হাসিস আম্মান রুমিয়া বি-ওয়াজয়িল হাদিস’। আমি সেখান থেকে যা কিছু তাঁর প্রতি সম্পর্কিত করে এখানে দেখতে পাচ্ছেন, তা সংযোজন করেছি। তবে আমি তাদের মধ্যে এমন কাউকে উল্লেখ করিনি যাদের থেকে শায়খাইন (ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম) বর্ণনা করেছেন, যদিও তাদের দিকে জাল করার অপবাদ আরোপ করা হয়ে থাকে। কারণ ইমাম আলী ইবনুল মুফাদদাল আল-মাকদিসী (রহিমাহুল্লাহ) যেমনটি বলেছেন—যাদের থেকে শায়খাইন বর্ণনা করেছেন তারা পুল পার হয়ে গেছেন। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
حرف الْهمزَة(1) أبان بن جَعْفَر النجيرمي عَن مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل الصايغ، قَالَ ابْن حبَان: كَذَّاب وضع على أبي حنيفَة أَكثر من ثلثمِائة حَدِيث، قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر صحفه ابْن حبَان وَإِنَّمَا هُوَ إباء بِهَمْزَة لَا بنُون، وخفف الْبَاء الْخَطِيب وَقَالَ ابْن مَاكُولَا هُوَ بِالتَّشْدِيدِ وَالْقصر.
(2) أبان بن سُفْيَان الْمَقْدِسِي وَيُقَال أبين عَن الفضيل بن عِيَاض، قَالَ ابْن حبَان: روى أَشْيَاء مَوْضُوعَة، وَقيل أبين غير أبان قَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمُغنِي: وَهُوَ الصَّحِيح وَكِلَاهُمَا لَهُ بلايا (قلت) قَوْلهم فلَان لَهُ بلايا أَو هَذَا الحَدِيث من بلايا فلَان قَالَ الْحَافِظ برهَان الدَّين الْحلَبِي: هُوَ كِنَايَة عَن الْوَضع فِيمَا أَحسب لِأَن البلية الْمُصِيبَة انْتهى وَأما قَوْلهم: لَهُ طامات وأوابد وَيَأْتِي بالعجائب، فَلَا أَدْرِي هَل يَقْتَضِي اتهام الْمَقُول فِيهِ ذَلِك بِالْكَذِبِ أم لَا يُفِيد غير وصف حَدِيثه بالنكارة، وَقد سَأَلت بعض أشياخي عَن ذَلِك فَلم يفدني فِيهِ شَيْئا، نعم رَأَيْت الْحَافِظ ابْن حجر قَالَ فِي بعض من قيل فِيهِ ذَلِك: إِنَّه لم يتهم بكذب وَالله أعلم.
(3) أبان بن أبي عَيَّاش مَتْرُوك اتهمَ بكذب.
(4) أبان بن المحبر عَن نَافِع، قَالَ ابْن حبَان: يَأْتِي عَن الثِّقَات بِمَا لَيْسَ من حَدِيثهمْ حَتَّى لَا يشك أَنه كَانَ يعملها.
(5) أبان بن نهشل، قَالَ ابْن حبَان: يروي عَن الثِّقَات مَا لَيْسَ من حَدِيثهمْ، وَقَالَ الْحَاكِم يروي عَن الْأَعْمَش وَإِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد أَحَادِيث مَوْضُوعَة.
(6) إِبْرَاهِيم بن أَحْمد الْحَرَّانِي الضَّرِير وَهُوَ إِبْرَاهِيم بن أبي حميد قَالَ أَبُو عرُوبَة: كَانَ يضع الحَدِيث.
বর্ণ: হামযাহ(১) আবান ইবনে জাফর আল-নাজাইরামি, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-সায়িগ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি চরম মিথ্যাবাদী, তিনি আবু হানিফার নামে তিনশোরও বেশি হাদীস জাল করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: ইবনে হিব্বান নামটিতে লিপি-বিভ্রাট করেছেন, এটি আসলে হামযাহ যোগে ‘ইবা’ হবে, ‘নুন’ দিয়ে নয়। আল-খাতিব ‘বা’ বর্ণটিকে হালকা (তাকফিফ) উচ্চারণ করেছেন এবং ইবনে মাকুলা বলেন এটি তাশদীদ ও কাসর সহযোগে হবে।
(২) আবান ইবনে সুফিয়ান আল-মাকদিসি, তাকে ‘আবিন’ও বলা হয়। তিনি ফুদাইল ইবনে ইয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি জাল বিষয়াদি বর্ণনা করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, আবিন এবং আবান দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি। আল-জাহাবী ‘আল-মুগনী’ গ্রন্থে বলেন: এটাই সঠিক এবং তাদের উভয়েরই ‘বালায়া’ (বিপর্যয়কর বর্ণনা) রয়েছে। (আমি বলি) মুহাদ্দিসগণের এই কথা—‘অমুকের বালায়া আছে’ অথবা ‘এই হাদীসটি অমুকের বালায়ার অন্তর্ভুক্ত’—হাফেজ বুরহান উদ্দিন আল-হালাবী বলেন: আমার ধারণামতে এটি হাদীস জাল করারই একটি ইঙ্গিত, কারণ ‘বালিয়্যাহ’ মানে হলো মুসীবত বা বিপদ। আর তাদের এই বক্তব্য: ‘তার তামাত (চরম ভ্রান্তি) ও আওয়াবীদ (অস্বাভাবিকতা) রয়েছে’ এবং ‘সে আজিব (অদ্ভূত) সব বিষয় নিয়ে আসে’—আমি জানি না এর দ্বারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর মিথ্যার অপবাদ আরোপ করা উদ্দেশ্য কি না, নাকি হাদীসটি কেবল ‘নাকারা’ বা অত্যন্ত আপত্তিকর হওয়া বুঝায়। আমি আমার জনৈক উস্তাদকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কিন্তু তিনি আমাকে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। তবে আমি দেখেছি হাফেজ ইবনে হাজার এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যার ক্ষেত্রে এই শব্দগুলো বলা হয়েছে, তিনি বলেছেন: তার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ আনা হয়নি। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
(৩) আবান ইবনে আবি আইয়াশ: তিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক), তার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ রয়েছে।
(৪) আবান ইবনে আল-মুহাব্বির, তিনি নাফে’ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য রাবীদের নামে এমন সব হাদীস নিয়ে আসতেন যা তাদের বর্ণিত হাদীস নয়, এমনকি এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহই থাকে না যে তিনি নিজেই সেগুলো তৈরি করতেন।
(৫) আবান ইবনে নাহশাল। ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য রাবীদের পক্ষ থেকে এমন হাদীস বর্ণনা করেন যা তাদের হাদীস নয়। আল-হাকিম বলেন: তিনি আল-আ’মাশ এবং ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে জাল হাদীস বর্ণনা করতেন।
(৬) ইব্রাহিম ইবনে আহমদ আল-হাররানী আল-দারীর, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আবি হুমাইদ নামেও পরিচিত। আবু আরুবাহ বলেন: তিনি হাদীস জাল করতেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ২০)
(7) إِبْرَاهِيم بن أَحْمد الْعجلِيّ الإبزاري، عَن يحيى بن أبي طَالب وَغَيره، قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ كَانَ يضع الحَدِيث.
(8) إِبْرَاهِيم بن إِسْحَق بن إِبْرَاهِيم الْحَنْظَلِي، قَالَ ابْن حبَان كَانَ يسرق الحَدِيث ويقلب الْأَخْبَار.
(9) إِبْرَاهِيم بن إِسْحَق بن إِبْرَاهِيم أَبُو أَحْمد الْبَغْدَادِيّ، اتهمه ابْن عبد الْبر فِي التَّمْهِيد.
(10) إِبْرَاهِيم بن إِسْحَق بن نخرة الصَّنْعَانِيّ عَن عبيد الله بن نَافِع اتهمه الدَّارَقُطْنِيّ.
(11) إِبْرَاهِيم بن الْبَراء بن النَّضر بن أنس بن مَالك الْأنْصَارِيّ عَن شُعْبَة والحمادين، قَالَ ابْن عدي والعقيلي وَابْن حبَان وَالْحَاكِم حدث عَن الثِّقَات بِالْبَوَاطِيل، وَقيل فِي نسبه إِبْرَاهِيم بن حَيَّان بمثناة تحتية ابْن الْبَراء بن النَّضر بن أنس بن مَالك، وَقيل إِبْرَاهِيم بن حَيَّان ابْن النجار، وَقيل إِبْرَاهِيم بن حَيَّان البخْترِي، قَالَ الْخَطِيب فِي الموضح كثر الِاخْتِلَاف فِي نسبه لضَعْفه ووهن رِوَايَته فغيروا نسبه تدليسا.
(12) إِبْرَاهِيم بن الْبَراء عَن سُلَيْمَان الشَّاذكُونِي بِخَبَر بَاطِل وَالظَّاهِر أَنه غير الأول، وجعلهما ابْن حبَان وَاحِدًا.
(13) إِبْرَاهِيم بن بكر الشَّيْبَانِيّ الْأَعْوَر الْكُوفِي وَيُقَال الوَاسِطِيّ عَن شُعْبَة، روى مهنا عَن أَحْمد بن حَنْبَل أَنه قَالَ رَأَيْته وَأَحَادِيثه مَوْضُوعَة، وَقَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمُغنِي: قَالُوا كَانَ يسرق الحَدِيث.
(14) إِبْرَاهِيم بن بيطار الْخَوَارِزْمِيّ القَاضِي، وَيُقَال لَهُ: إِبْرَاهِيم بن عبد الرَّحْمَن عَن عَاصِم الْأَحول، قَالَ ابْن حبَان حدث بِأَحَادِيث لَا أصُول لَهَا.
(15) إِبْرَاهِيم بن جريج الرهاوي عَن زيد بن أبي أنيسَة، اتهمه الدَّارَقُطْنِيّ.
(16) إِبْرَاهِيم بن جَعْفَر بن أَحْمد بن أَيُّوب الْمصْرِيّ قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ مَجْهُول أَتَى بِخَبَر بَاطِل
(17) إِبْرَاهِيم بن الْحجَّاج عَن عبد الرَّزَّاق وَعنهُ مَحْمُود بن غيلَان، نكرَة لَا يعرف، وَأكْثر الَّذِي رَوَاهُ بَاطِل وَمَا هُوَ بالشامي وَلَا بالنيلي ذَانك صدوقان.
(7) ইব্রাহিম বিন আহমাদ আল-আজলি আল-ইবজারি, ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন; ইবনুল জাওজি বলেছেন, তিনি হাদিস জাল করতেন।
(8) ইব্রাহিম বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-হানজালি; ইবনে হিব্বান বলেছেন, তিনি হাদিস চুরি করতেন এবং বর্ণনাগুলো ওলটপালট করে দিতেন।
(9) ইব্রাহিম বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আবু আহমাদ আল-বাগদাদি; ইবনে আব্দুল বার 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে তাকে অভিযুক্ত করেছেন।
(10) ইব্রাহিম বিন ইসহাক বিন নাখরা আস-সানআনি, উবাইদুল্লাহ বিন নাফে' থেকে বর্ণনা করেছেন; আদ-দারা কুতনি তাকে অভিযুক্ত করেছেন।
(11) ইব্রাহিম বিন আল-বারা বিন আন-নাজর বিন আনাস বিন মালিক আল-আনসারি, শু'বা ও দুই হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন; ইবনে আদি, আল-উকাইলি, ইবনে হিব্বান এবং আল-হাকিম বলেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের বরাতে বাতিল (মিথ্যা) কথা বর্ণনা করতেন। তার বংশপরিচয়ে 'ইব্রাহিম বিন হাইয়ান' (নিচে দুই নুক্তা বিশিষ্ট ইয়া দিয়ে) বিন আল-বারা বিন আন-নাজর বিন আনাস বিন মালিক-ও বলা হয়েছে; আবার বলা হয়েছে ইব্রাহিম বিন হাইয়ান ইবনুন নাজ্জার; আবার বলা হয়েছে ইব্রাহিম বিন হাইয়ান আল-বাখতারি। আল-খতিব 'আল-মুওয়াদিহ' গ্রন্থে বলেছেন, তার দুর্বলতা এবং বর্ণনার অসারতার কারণে তার বংশপরিচয় নিয়ে প্রচুর মতভেদ তৈরি হয়েছে, ফলে তারা জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তার বংশপরিচয় পরিবর্তন করে দিয়েছে।
(12) ইব্রাহিম বিন আল-বারা, সুলাইমান আশ-শাযকুনি থেকে একটি বাতিল সংবাদ বর্ণনা করেছেন; বাহ্যত তিনি পূর্বোক্ত ব্যক্তি নন, তবে ইবনে হিব্বান তাদের উভয়কে একই ব্যক্তি গণ্য করেছেন।
(13) ইব্রাহিম বিন বকর আশ-শাইবানি আল-আ'ওয়ার আল-কুফি, তাকে ওয়াসিতিও বলা হয়, শু'বা থেকে বর্ণনা করেছেন। মুহান্না আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমি তাকে দেখেছি, তার হাদিসগুলো জাল।" আয-যাহাবি 'আল-মুগনি' গ্রন্থে বলেছেন: তারা বলেছে যে সে হাদিস চুরি করত।
(14) ইব্রাহিম বিন বিতার আল-খাওয়ারিজমি আল-কাদি (বিচারক), তাকে ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমানও বলা হয়, আসিম আল-আহওয়াল থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান বলেছেন, তিনি এমন সব হাদিস বর্ণনা করেছেন যার কোনো ভিত্তি নেই।
(15) ইব্রাহিম বিন জুরাইজ আর-রুহাবি, যাইদ বিন আবি আনাইসা থেকে বর্ণনা করেছেন; আদ-দারা কুতনি তাকে অভিযুক্ত করেছেন।
(16) ইব্রাহিম বিন জাফর বিন আহমদ বিন আইয়ুব আল-মিসরি; আদ-দারা কুতনি বলেছেন: সে অপরিচিত, সে একটি বাতিল সংবাদ নিয়ে এসেছে।
(17) ইব্রাহিম বিন আল-হাজ্জাজ, আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে মাহমুদ বিন গাইলান বর্ণনা করেছেন; সে এক অপরিচিত ব্যক্তি যাকে চেনা যায় না। সে যা বর্ণনা করেছে তার অধিকাংশিই বাতিল। সে শামি বা নিলি নয়, কারণ তারা উভয়ই সত্যবাদী।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ২১)
(18) إِبْرَاهِيم بن الحكم بن ظهير الْكُوفِي شيعي جلد، قَالَ أَبُو حَاتِم كَذَّاب.
(19) إِبْرَاهِيم بن حميد الدينَوَرِي، روى عَن ذِي النُّون الْمصْرِيّ عَن مَالك خَبرا بَاطِلا مَتنه لم يجز الصِّرَاط أحد إِلَّا من كَانَت مَعَه بَرَاءَة بِولَايَة عَليّ بن أبي طَالب، كَذَا فِي تَارِيخ الْحَاكِم، وسمى ابْن الْجَوْزِيّ رَاوِي هَذَا الْخَبَر إِبْرَاهِيم بن عبد الله الصاعدي.
(20) إِبْرَاهِيم بن حَيَّان بمثناة تحتية ابْن حَكِيم بن عَلْقَمَة بن سعد بن معَاذ الأوسي الْمدنِي قَالَ ابْن عدي أَحَادِيثه مَوْضُوعَة.
(21) إِبْرَاهِيم بن حَيَّان بن البخْترِي تقدم.
(22) إِبْرَاهِيم بن أبي حَيَّة بِالْمُثَنَّاةِ التَّحْتِيَّة الْمُشَدّدَة، وَاسم أبي حَيَّة اليسع بن الْأَشْعَث الْمَكِّيّ قَالَ ابْن حبَان: روى عَن جَعْفَر وَهِشَام مَنَاكِير وأوابد يسْبق إِلَى الْقلب أَنه الْمُعْتَمد لَهَا انْتهى وَتقدم لَهُ ذكر فِي الصِّنْف السَّادِس من الوضاعين.
(23) إِبْرَاهِيم بن خلف بن مَنْصُور الغساني اتهمه أَبُو الْحسن بن الْقطَّان بالمجازفة وَالْكذب
(24) إِبْرَاهِيم بن رَاشد الأدمِيّ شيخ لمُحَمد بن مخلف قَالَ فِي الْمِيزَان اتهمه ابْن عدي وَقَالَ فِي اللِّسَان لم أر لَهُ فِي كَامِل ابْن عدي تَرْجَمَة.
(25) إِبْرَاهِيم بن رَجَاء عَن مَالك، لَا يعرف وَالْخَبَر كذب.
(26) إِبْرَاهِيم بن زَكَرِيَّا أَبُو إِسْحَق الْعجلِيّ الْبَصْرِيّ الضَّرِير الْمعلم وَهُوَ العبدسي وَهُوَ الوَاسِطِيّ، قَالَ ابْن عدي حدث بِالْبَوَاطِيل، وَقَالَ ابْن حبَان يَأْتِي عَن مَالك بِأَحَادِيث مَوْضُوعَة وَقيل: إِبْرَاهِيم بن زَكَرِيَّا الْعجلِيّ غير إِبْرَاهِيم بن زَكَرِيَّا الوَاسِطِيّ العبدسي وَالْعجلِي ثِقَة، قَالَ فِي اللِّسَان: وَهُوَ الصَّوَاب.
(27) إِبْرَاهِيم بن زيد التفليسي، قَالَ أَبُو نعيم الْأَصْبَهَانِيّ: حدث عَن مَالك وَابْن لَهِيعَة بالموضوعات.
(18) ইবরাহীম বিন আল-হাকাম বিন যুহাইর আল-কুফী, সে ছিল একজন কট্টর শিয়া; আবু হাতিম বলেছেন: সে একজন মিথ্যাবাদী।
(19) ইবরাহীম বিন হুমাইদ আদ-দিনাওয়ারী, সে যুন-নুন আল-মিসরীর সূত্রে ইমাম মালিক থেকে একটি বাতিল সংবাদ বর্ণনা করেছে যার মূলপাঠ হলো: "আলী বিন আবি তালিবের প্রতি আনুগত্যের ছাড়পত্র ছাড়া কেউ পুলসিরাত পার হতে পারবে না।" হাকিমের ইতিহাসে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, আর ইবনুল জাওযী এই সংবাদের বর্ণনাকারীকে ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আস-সাঈদী নামে অভিহিত করেছেন।
(20) ইবরাহীম বিন হাইয়ান (নিচে দুই নুক্তা বিশিষ্ট 'ইয়া' যোগে) বিন হাকীম বিন আলকামা বিন সা'দ বিন মুয়াজ আল-আওসী আল-মাদানী; ইবনে আদী বলেছেন: তার বর্ণিত হাদিসসমূহ জাল।
(21) ইবরাহীম বিন হাইয়ান বিন আল-বাখতারী, পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
(22) ইবরাহীম বিন আবি হাইয়্যাহ (নিচে দুই নুক্তা বিশিষ্ট তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' যোগে), আর আবু হাইয়্যাহ-এর নাম হলো আল-ইয়াসা বিন আল-আশ'আস আল-মাক্কী। ইবনে হিব্বান বলেছেন: সে জাফর এবং হিশাম থেকে এমন সব মুনকার ও অদ্ভুত বর্ণনা করেছে যা হৃদয়ে এই ধারণার জন্ম দেয় যে, সে নিজেই এগুলোর উদ্ভাবক। এখানেই তার আলোচনা সমাপ্ত। আর জালিয়াতদের ষষ্ঠ শ্রেণীতে তার কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
(23) ইবরাহীম বিন খালাফ বিন মনসুর আল-গাসসানী, আবুল হাসান বিন আল-কাত্তান তাকে অসতর্কতা ও মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
(24) ইবরাহীম বিন রাশিদ আল-আদামী, সে মুহাম্মদ বিন মুখাল্লাদের উস্তাদ। 'আল-মিযান'-এ বলা হয়েছে যে, ইবনে আদী তাকে অভিযুক্ত করেছেন; কিন্তু 'আল-লিসান'-এ বলা হয়েছে যে, আমি ইবনে আদীর 'আল-কামিল' গ্রন্থে তার কোনো জীবনী দেখিনি।
(25) ইবরাহীম বিন রাজা, সে ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছে; সে অপরিচিত এবং সংবাদটি মিথ্যা।
(26) ইবরাহীম বিন যাকারিয়া আবু ইসহাক আল-ইজলী আল-বসরী অন্ধ শিক্ষক; সে-ই আল-আবদাসী এবং সে-ই আল-ওয়াসিতী। ইবনে আদী বলেছেন: সে বাতিল বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছে। ইবনে হিব্বান বলেছেন: সে ইমাম মালিকের সূত্রে জাল হাদিস নিয়ে আসে। আবার বলা হয়েছে: ইবরাহীম বিন যাকারিয়া আল-ইজলী এবং ইবরাহীম বিন যাকারিয়া আল-ওয়াসিতী আল-আবদাসী ভিন্ন ব্যক্তি, আর আল-ইজলী নির্ভরযোগ্য। 'আল-লিসান'-এ বলা হয়েছে: এটিই সঠিক।
(27) ইবরাহীম বিন যায়েদ আত-তিফলীসী, আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী বলেছেন: সে ইমাম মালিক ও ইবনে লাহীআহ থেকে জাল বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছে।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ২২)
(28) إِبْرَاهِيم بن سَلام عَن الدَّرَاورْدِي، وَعَن ابْن صاعد، قَالَ أَبُو أَحْمد الْحَاكِم: رُبمَا روى مَا لَا أصل لَهُ.
(29) إِبْرَاهِيم بن سُلَيْمَان اتهمه الذَّهَبِيّ بِحَدِيث: كَانَ على الْحسن وَالْحُسَيْن تعويذتان فيهمَا زغب جنَاح جِبْرِيل.
(30) إِبْرَاهِيم بن شكر العثماني، مصري مُتَأَخّر كذبه الكتاني.
(31) إِبْرَاهِيم بن أبي صَالح، كذبه إِسْحَق بن رَاهَوَيْه.
(32) إِبْرَاهِيم بن صبيح الطلحي شيخ لمطين، روى عَن ابْن جريج خَبرا مَوْضُوعا هُوَ آفته.
(33) إِبْرَاهِيم بن صرمة الْأنْصَارِيّ عَن يحيى بن سعيد، قَالَ ابْن معِين: كَذَّاب خَبِيث.
(34) إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن الزبير الجُمَحِي الْكُوفِي عَن نَافِع، قَالَ الْأَزْدِيّ: مَنْسُوب إِلَى الْكَذِب.
(35) إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن خَالِد المصِّيصِي عَن وَكِيع، قَالَ ابْن حبَان يسرق الحَدِيث ويروي عَن الثِّقَات مَا لَيْسَ من حَدِيثهمْ وَقَالَ الْحَاكِم أَحَادِيثه مَوْضُوعَة.
(36) إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن مُحَمَّد بن أَيُّوب، وَرُبمَا قيل، إِبْرَاهِيم بن أَيُّوب المخرمي عَن القواريري وَسَعِيد الْجرْمِي وطبقتهما قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ لَهُ بَوَاطِيلُ.
(37) إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن همام الصَّنْعَانِيّ عَن عَمه عبد الرَّزَّاق، قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ كَذَّاب.
(38) إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن السفرقع، قَالَ أَبُو الْفَتْح بن أبي الفوارس كَذَّاب وَضاع.
(39) إِبْرَاهِيم بن عبد الله الصاعدي تقدم فِي إِبْرَاهِيم بن حميد.
(40) إِبْرَاهِيم بن عبد الْوَاحِد الْبكْرِيّ تقدم فِي الصِّنْف الْخَامِس من الوضاعين أَن الذَّهَبِيّ اتهمه بِوَضْع حِكَايَة الْقَاص مَعَ أَحْمد بن حَنْبَل وَيحيى بن معِين.
(41) إِبْرَاهِيم بن عقيل بن حبش الْقرشِي النَّحْوِيّ شيخ للخطيب، قَالَ ابْن الْأَكْفَانِيِّ كَانَ يركب الْإِسْنَاد.
(42) إِبْرَاهِيم بن عكاشة عَن الثَّوْريّ، لَا يعرف وَالْخَبَر مُنكر، وَقَالَ ابْن أَبى حَاتِم: دلّ الْخَبَر
(২৮) ইবরাহিম বিন সালাম, আদ-দারাওয়ার্দি ও ইবনু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন; আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেছেন: মাঝে মাঝে তিনি এমন কিছু বর্ণনা করেন যার কোনো ভিত্তি নেই।
(২৯) ইবরাহিম বিন সুলাইমান, আয-যাহাবি তাকে এই হাদিসের ব্যাপারে অভিযুক্ত করেছেন যে: হাসান ও হুসাইনের নিকট দুটি কবজ ছিল যাতে জিবরাইলের পাখার লোম ছিল।
(৩০) ইবরাহিম বিন শুকর আল-উসমানি, একজন পরবর্তী যুগের মিশরীয়, আল-কাত্তানি তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
(৩১) ইবরাহিম বিন আবি সালেহ, ইসহাক বিন রাওয়াইহি তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
(৩২) ইবরাহিম বিন সাবিহ আত-তালহি, মুতাইনের উস্তাদ, তিনি ইবনু জুরাইজ থেকে একটি জাল খবর বর্ণনা করেছেন যা তার বিপর্যয়ের কারণ।
(৩৩) ইবরাহিম বিন সিরমাহ আল-আনসারি, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন; ইবনু মায়িন বলেছেন: চরম মিথ্যাবাদী ও খবিশ।
(৩৪) ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবাইর আল-জুমাহি আল-কুফি, নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন; আল-আযদি বলেছেন: তিনি মিথ্যার দোষে অভিযুক্ত।
(৩৫) ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ আল-মাসিসি, ওয়াকি থেকে বর্ণনা করেছেন; ইবনু হিব্বান বলেছেন: তিনি হাদিস চুরি করেন এবং নির্ভরযোগ্য রাবিদের সূত্রে এমন সব হাদিস বর্ণনা করেন যা তাদের বর্ণিত হাদিস নয়। আল-হাকিম বলেছেন: তার হাদিসগুলো জাল।
(৩৬) ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আইয়ুব, কখনো তাকে ইবরাহিম বিন আইয়ুব আল-মাখরামি বলা হয়; তিনি আল-কাওয়ারিরি, সাঈদ আল-জারমি ও তাদের সমপর্যায়ভুক্তদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আদ-দারা কুতনি বলেছেন: তার বর্ণিত অনেক বাতিল বর্ণনা রয়েছে।
(৩৭) ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন হাম্মাম আস-সানআনি, তার চাচা আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন; আদ-দারা কুতনি বলেছেন: মিথ্যাবাদী।
(৩৮) ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আস-সাফারকা’, আবুল ফাতহ বিন আবিল ফাওয়ারিস বলেছেন: মিথ্যাবাদী ও জালকারী।
(৩৯) ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আস-সাঈদি, তার আলোচনা ইবরাহিম বিন হুমাইদ-এর অধীনে গত হয়েছে।
(৪০) ইবরাহিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বাকরি, হাদিস জালকারীদের পঞ্চম শ্রেণিতে তার আলোচনা গত হয়েছে যে, আয-যাহাবি তাকে আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মায়িন-এর সাথে সেই গল্পকারের কাহিনীটি জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
(৪১) ইবরাহিম বিন আকিল বিন হাবাশ আল-কুরাশি আন-নাহবি, আল-খতিবের উস্তাদ; ইবনুল আকফানি বলেছেন: তিনি সনদ জাল (জোড়াতালি) দিতেন।
(৪২) ইবরাহিম বিন উকাশাহ, আস-সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি পরিচিত নন এবং বর্ণনাটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য)। ইবনু আবি হাতিম বলেছেন: এই বর্ণনাটি প্রমাণ করে...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الَّذِي رَوَاهُ على أَنه لَيْسَ بصدوق، قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر: وَسَيَأْتِي إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الْعُكَّاشِي وكأنهما وَاحِد.
(43) إِبْرَاهِيم بن عَليّ الطَّائِفِي عَن بكر بن سهل، أَتَى بموضوعات.
(44) إِبْرَاهِيم بن عَليّ بن إِبْرَاهِيم أَبُو الْفَتْح الْبَغْدَادِيّ عَن مُوسَى بن نصر بن جرير وَعنهُ أَحْمد بن الْقَاسِم بن مَيْمُون الْعلوِي، قَالَ الْخَطِيب: سَاقِط أَحسب شَيْخه مُوسَى بن نصر شَيخا اختلقه.
(45) إِبْرَاهِيم بن على الآمدى ابْن الْفراء الْفَقِيه، قَالَ ابْن النجار: كَانَ مَشْهُورا باختلاق الحكايات المستحسنة فِي الْمجَالِس.
(46) إِبْرَاهِيم بن عمر بن بكر السكْسكِي، قَالَ ابْن حبَان روى عَن أَبِيه مَوْضُوعَات.
(47) إِبْرَاهِيم بن عِيسَى الْقَنْطَرِي عَن أَحْمد بن أبي الْحوَاري بِخَبَر مَوْضُوع هُوَ آفته.
(48) إِبْرَاهِيم بن الْفضل الْأَصْبَهَانِيّ الْحَافِظ أَبُو نصر البئار قَالَ ابْن طَاهِر: كَذَّاب وَقَالَ ابْن السَّمْعَانِيّ سَمِعت أَنه كَانَ يضع فِي الْحَال.
(49) إِبْرَاهِيم بن فَهد بن حَكِيم الْبَصْرِيّ، قَالَ أَبُو الشَّيْخ: قَالَ البردعي مَا رَأَيْت أكذب مِنْهُ
(50) إِبْرَاهِيم بن أبي اللَّيْث عَن عبد الله الْأَشْجَعِيّ، قَالَ إِبْرَاهِيم بن الْجُنَيْد عَن ابْن معِين كَذَّاب خَبِيث، وَقَالَ صَالح جزرة: كَانَ يكذب عشْرين سنة وأشكل أمره على أَحْمد وَعلي حَتَّى ظهر بعد.
(51) إِبْرَاهِيم بن مَالك الْأنْصَارِيّ الْبَصْرِيّ عَن حَمَّاد بن سَلمَة وَغَيره، قَالَ ابْن عدي أَحَادِيثه مَوْضُوعَة، قَالَ الذَّهَبِيّ: وَعِنْدِي أَنه إِبْرَاهِيم بن الْبَراء السَّابِق دلسوه ونسبوه إِلَى الْجد
(52) إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الْآمِدِيّ الْخَواص الزَّاهِد، قَالَ ابْن طَاهِر: أَحَادِيثه مَوْضُوعَة، قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر وَلَيْسَ هُوَ الزَّاهِد الْمَشْهُور، ذَاك اسْم وَالِده أَحْمد وَهُوَ ثِقَة كَمَا قَالَه ابْن الْجَوْزِيّ
(53) إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن الْحسن الأصبهانى أَبُو اسحق الطيان الملقب أَبَة، مُتَّهم.
যিনি এটি বর্ণনা করেছেন তাকে সত্যবাদী মনে করা হয় না, হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: অচিরেই ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-উক্কাশী (এর আলোচনা) আসবে এবং মনে হচ্ছে তারা উভয়ই একই ব্যক্তি।
(43) ইব্রাহিম বিন আলী আত-তায়েফী, বকর বিন সাহল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বানোয়াট বিষয়াদি নিয়ে এসেছেন।
(44) ইব্রাহিম বিন আলী বিন ইব্রাহিম আবু আল-ফাতহ আল-বাগদাদী, মূসা বিন নাসর বিন জারীর থেকে এবং তার থেকে আহমদ বিন আল-কাসিম বিন মাইমুন আল-আলাওয়ী বর্ণনা করেছেন; আল-খাতিব বলেন: তিনি পরিত্যক্ত, আমার মনে হয় তার শায়খ মূসা বিন নাসর এমন এক ব্যক্তি যাকে তিনি নিজেই উদ্ভাবন করেছেন।
(45) ইব্রাহিম বিন আলী আল-আমিদী ইবনুল ফারা আল-ফকীহ, ইবনুন নাজ্জার বলেন: তিনি মজলিসগুলোতে মনরোম কাহিনী উদ্ভাবনের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
(46) ইব্রাহিম বিন উমর বিন বকর আস-সাকসাকী, ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি তার পিতার সূত্রে বানোয়াট বর্ণনা দিয়েছেন।
(47) ইব্রাহিম বিন ঈসা আল-কান্তারী, আহমদ বিন আবুল হাওয়ারী থেকে একটি বানোয়াট সংবাদ বর্ণনা করেছেন, যা তার মাধ্যমেই (বিপর্যয় হিসেবে) এসেছে।
(48) ইব্রাহিম বিন আল-ফজল আল-আসবাহানী আল-হাফিজ আবু নাসর আল-বিয়ার, ইবনে তাহের বলেন: তিনি চরম মিথ্যাবাদী; ইবনে সামআনী বলেন: আমি শুনেছি যে তিনি উপস্থিত সময়েই হাদিস জাল করতেন।
(49) ইব্রাহিম বিন ফাহদ বিন হাকীম আল-বসরী, আবুশ শায়খ বলেন: আল-বারদাঈ বলেছেন, আমি তার চেয়ে বড় মিথ্যাবাদী দেখিনি।
(50) ইব্রাহিম বিন আবিল লায়েস, আবদুল্লাহ আল-আশজাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন; ইবনুল জুনাইদ ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেন: তিনি একজন পাপিষ্ঠ মিথ্যাবাদী; সালিহ জাযরাহ বলেন: তিনি বিশ বছর ধরে মিথ্যা বলেছেন এবং আহমদ ও আলীর কাছে তার বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল, যতক্ষণ না পরে তা প্রকাশ পায়।
(51) ইব্রাহিম বিন মালিক আল-আনসারী আল-বসরী, হাম্মাদ বিন সালামাহ ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন; ইবনে আদী বলেন: তার হাদিসগুলো বানোয়াট; আয-যাহাবী বলেন: আমার মতে তিনি পূর্বে উল্লেখিত ইব্রাহিম বিন আল-বারা, তারা তার পরিচয় অস্পষ্ট করে তাকে দাদার দিকে সম্বন্ধ করেছে।
(52) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-আমিদী আল-خাওয়াস আয-যাহিদ, ইবনে তাহের বলেন: তার হাদিসগুলো বানোয়াট; হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: তিনি সেই বিখ্যাত যাহেদ নন, সেই বিখ্যাত যাহেদের পিতার নাম আহমদ এবং তিনি নির্ভরযোগ্য, যেমনটি ইবনুল জাওযী বলেছেন।
(53) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-আসবাহানী আবু ইসহাক আত-তাইয়ান, যার উপাধি আবাহ; তিনি অভিযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(54) إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن أبي يحيى وَاسم أبي يحيى سمْعَان، ذكر ابْن الْجَوْزِيّ فِي مُقَدّمَة الموضوعات أَنه كَانَ يضع الحَدِيث جَوَابا لسائله وَنقل عَن النَّسَائِيّ أَنه قَالَ وَضاع.
(55) إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن عبد الْعَزِيز الزُّهْرِيّ الْمدنِي عَن أَبِيه، قَالَ ابْن عدي: لَا يشبه حَدِيثه حَدِيث أهل الصدْق.
(56) إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الْعُكَّاشِي، قَالَ أَحْمد بن صَالح وَالْفِرْيَابِي كَانَ كذابا.
(57) إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد أَبُو حَازِم الْحَضْرَمِيّ قَالَ يَعْقُوب بن سُفْيَان كَانَ مطين يكذبهُ.
(58) إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن مَيْمُون من أجلاد الشِّيعَة، روى عَن عَليّ بن عَابس خَبرا مَوْضُوعا.
(59) إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن سُلَيْمَان بن بِلَال بن أبي الدَّرْدَاء، سَاق ابْن عَسَاكِر لَهُ عَن أَبِيه عَن جده عَن أم الدَّرْدَاء قصَّة رحيل بِلَال إِلَى الشَّام ثمَّ مَجِيئه إِلَى الْمَدِينَة وأذانه بهَا وارتجاج الْمَدِينَة بالبكاء، وَهِي قصَّة بَيِّنَة الْوَضع.
(60) إِبْرَاهِيم بن منقوش الزبيدِيّ، قَالَ الْأَسدي كَانَ يضع الحَدِيث.
(61) إِبْرَاهِيم بن مهْدي بن عبد الرَّحْمَن الأبلي مُتَّهم بِالْوَضْعِ.
(62) إِبْرَاهِيم بن مُوسَى الْمروزِي، قَالَ أَحْمد بن حَنْبَل فِي حَدِيث من رِوَايَته عَن مَالك هَذَا كذب.
(63) إِبْرَاهِيم بن نَافِع الْجلاب الْبَصْرِيّ، قَالَ أَبُو حَاتِم كَانَ يكذب.
(64) إِبْرَاهِيم بن نَافِع النَّاجِي عَن ابْن الْمُبَارك، قَالَ أَبُو حَاتِم كَانَ يكذب، قَالَ فِي اللِّسَان وَأَظنهُ الَّذِي قبله.
(65) إِبْرَاهِيم بن نَافِع الْأمَوِي عَن فرج بن فضَالة، قَالَ أَبُو حَاتِم لَا أعرفهُ، وَالْخَبَر بَاطِل
(66) إِبْرَاهِيم بن هاني قَالَ ابْن عدي: مَجْهُول أَتَى بالبواطل.
(67) إِبْرَاهِيم بن هدبة أَبُو هدبة الْفَارِسِي ثمَّ الْبَصْرِيّ، قَالَ أَبُو حَاتِم وَغَيره كَذَّاب.
(54) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আবু ইয়াহইয়া; আর আবু ইয়াহইয়ার নাম হলো সামআন। ইবনুল জাওযী তার 'আল-মাওযুআত' (বানোয়াট হাদীসসমূহ) গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি প্রশ্নকারীর উত্তর হিসেবে হাদীস জাল করতেন। তিনি নাসাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: (তিনি একজন) মিথ্যা হাদীস প্রস্তুতকারক।
(55) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আযীয আল-যুহরী আল-মাদানী, স্বীয় পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদী বলেছেন: তার হাদীস সত্যবাদীগণের হাদীসের অনুরূপ নয়।
(56) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-উক্কাশি। আহমদ বিন সালেহ ও আল-ফিরয়াবী বলেছেন যে, তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন।
(57) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আবু হাযিম আল-হাদরামী। ইয়াকুব বিন সুফিয়ান বলেছেন যে, মুতাইয়্যান তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করতেন।
(58) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন মাইমুন; তিনি কট্টর শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আলী বিন আসিম থেকে একটি বানোয়াট সংবাদ বর্ণনা করেছেন।
(59) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান বিন বিলাল বিন আবিদ দারদা। ইবনে আসাকির তার সূত্রে, তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে এবং তিনি উম্মুদ দারদা থেকে বেলালের শামে (সিরিয়া) হিজরত, অতঃপর মদীনায় আগমন, সেখানে আযান প্রদান এবং কান্নায় মদীনা প্রকম্পিত হওয়ার যে কাহিনীটি বর্ণনা করেছেন, তা একটি সুস্পষ্ট বানোয়াট কাহিনী।
(60) ইব্রাহিম বিন মানকূশ আল-যুবাইদী। আসাদী বলেছেন যে, তিনি হাদীস জাল করতেন।
(61) ইব্রাহিম বিন মাহদী বিন আব্দুর রহমান আল-উবুল্লী। তিনি হাদীস জালের অভিযোগে অভিযুক্ত।
(62) ইব্রাহিম বিন মূসা আল-মারওয়াযী। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল মালিকের সূত্রে তার একটি বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন: এটি মিথ্যা।
(63) ইব্রাহিম বিন নাফে আল-জাল্লাব আল-বাসরী। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি মিথ্যা বলতেন।
(64) ইব্রাহিম বিন নাফে আন-নাজী, ইবনুল মুবারকের সূত্রে। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি মিথ্যা বলতেন। 'আল-লিসান' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমার ধারণা তিনি পূর্বোল্লিখিত ব্যক্তিই।
(65) ইব্রাহিম বিন নাফে আল-উমাবী, ফারাজ বিন ফাযালার সূত্রে। আবু হাতিম বলেছেন: আমি তাকে চিনি না এবং বর্ণনাটি বাতিল।
(66) ইব্রাহিম বিন হানী। ইবনে আদী বলেছেন: তিনি অপরিচিত, তিনি ভিত্তিহীন ও বাতিল বর্ণনা নিয়ে আসতেন।
(67) ইব্রাহিম বিন হুদবাহ আবু হুদবাহ আল-ফারিসী, অতঃপর আল-বাসরী। আবু হাতিম ও অন্যান্যরা বলেছেন: তিনি মিথ্যাবাদী।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
(68) إِبْرَاهِيم بن هراسة أَبُو اسحق الشَّيْبَانِيّ الْكُوفِي، قَالَ أَحْمد بن عبد الله بن صَالح الْعجلِيّ: كَذَّاب، وَقَالَ أَبُو عبيد يُطلق عَلَيْهِ الْكَذِب.
(69) إِبْرَاهِيم بن هِشَام بن يحيى الغساني، قَالَ أَبُو حَاتِم وَأَبُو زرْعَة: كَذَّاب.
(70) إِبْرَاهِيم بن الْهَيْثَم الْبَلَدِي، قَالَ ابْن عدي كذبه النَّاس فِي حَدِيث الْغَار.
(71) إِبْرَاهِيم بن يزِيد الخوزي، قَالَ فِي تَهْذِيب التَّهْذِيب قَالَ البرقي كَانَ مُتَّهمًا بِالْكَذِبِ وَقَالَ ابْن حبَان روى الْمَنَاكِير الْكَثِيرَة حَتَّى يسْبق إِلَى الْقلب أَنه الْمُتَعَمد لَهَا.
(72) إِبْرَاهِيم بن يَعْقُوب شيخ لِابْنِ عدي، تَالِف مُتَّهم بِالْكَذِبِ.
(73) إِبْرَاهِيم الشرابي مُتَّهم بِالْكَذِبِ.
(74) إِبْرَاهِيم الحوات، مُتَّهم بِالْوَضْعِ وَقَالَ السَّاجِي كَذَّاب.
(75) أبرد بن أَشْرَس، قَالَ ابْن خُزَيْمَة كَذَّاب وَضاع. أبين بن سُفْيَان تقدم فِي أبان.
(76) أبي بن نَافِع بن عَمْرو بن معدي كرب، مَجْهُول اتهمه الْحَافِظ الْعِرَاقِيّ.
(77) أجلح بن عبد الله أَبُو حجية الْكُوفِي، قَالَ الْجوزجَاني مفتر، وَذكر لَهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي مَوْضُوعَاته حَدِيثا وَقَالَ وَضعه أجلح.
(78) أَحْمد بن إِبْرَاهِيم الْبزورِي عَن الْبَغَوِيّ وَعنهُ ابْن شاهين، مَجْهُول مُتَّهم.
(79) أَحْمد بن إِبْرَاهِيم الْحلَبِي عَن قُتَيْبَة وطبقته كَذَّاب.
(80) أَحْمد بن إِبْرَاهِيم الْمُزنِيّ عَن مُحَمَّد بن كثير، قَالَ ابْن حبَان كَانَ يضع الحَدِيث.
(81) أَحْمد بن الأحجم، قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: قَالُوا كَانَ كذابا.
(82) أَحْمد بن أَحْمد بن يزِيد الْمُؤَذّن الْبَلْخِي عَن الْحسن بن عَرَفَة، مُتَّهم.
(83) أَحْمد بن إِسْحَق بن إِبْرَاهِيم بن نبيط بن شريط كَذَّاب حدث عَن أَبِيه عَن جده بنسخة فِيهَا بلايا.
(84) أَحْمد بن أَبى اسحق عَن إِسْمَاعِيل بن أبي أويس، مَجْهُول أَتَى بِخَبَر بَاطِل.
(85) أَحْمد بن إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد بن نبيه أَبُو حذافة السَّهْمِي صَاحب مَالك، قَالَ ابْن عدي حدث بِالْبَوَاطِيل.
(86) أَحْمد بن بكر وَيُقَال ابْن بكرويه البالسي، قَالَ الْأَزْدِيّ كَانَ يضع الحَدِيث.
(68) ইবরাহিম বিন হারাসা আবু ইসহাক আশ-শায়বানী আল-কুফি। আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালেহ আল-ইজলি বলেছেন: চরম মিথ্যুক। আবু উবাইদ বলেছেন: তাকে মিথ্যুক হিসেবে অভিহিত করা হয়।
(69) ইবরাহিম বিন হিশাম বিন ইয়াহইয়া আল-গাসসানি। আবু হাতিম এবং আবু যুরআ বলেছেন: চরম মিথ্যুক।
(70) ইবরাহিম বিন আল-হাইসাম আল-বালাদি। ইবনে আদি বলেছেন: 'গার' (গুহা) সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাপারে মানুষ তাকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করেছে।
(71) ইবরাহিম বিন ইয়াজিদ আল-খুজি। 'তাহজীবুত তাহজীব' গ্রন্থে আছে, আল-বারকি বলেছেন: তিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি এত অধিক পরিমাণে মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, হৃদয়ে এই ধারণা জন্মে যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই এটি করতেন।
(72) ইবরাহিম বিন ইয়াকুব, ইবনে আদির উস্তাদ; তিনি পরিত্যক্ত এবং মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত।
(73) ইবরাহিম আশ-শরাবি, মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত।
(74) ইবরাহিম আল-হাওয়াত, হাদিস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত। আস-সাজি বলেছেন: চরম মিথ্যুক।
(75) আবরাদ বিন আশরাস। ইবনে খুজাইমা বলেছেন: চরম মিথ্যুক ও জালিয়াত। আবইয়ান বিন সুফিয়ান; তার আলোচনা 'আবান' নামের অধীনে গত হয়েছে।
(76) উবাই বিন নাফে বিন আমর বিন মাদি কারিব; তিনি অজ্ঞাত (মাজহুল), হাফেজ আল-ইরাকি তাকে অভিযুক্ত করেছেন।
(77) আজলাহ বিন আব্দুল্লাহ আবু হুজাইয়্যাহ আল-কুফি। আল-জুযাজানি বলেছেন: চরম মিথ্যাবাদী। ইবনুল জাওজি তার 'মাউজুআত' গ্রন্থে তার একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেছেন: এটি আজলাহ জাল করেছে।
(78) আহমদ বিন ইবরাহিম আল-বাযুরি, তিনি আল-বাগাওয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন; তিনি অজ্ঞাত ও অভিযুক্ত।
(79) আহমদ বিন ইবরাহিম আল-হালাবি, তিনি কুতাইবা ও তার সমসাময়িকদের থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি চরম মিথ্যুক।
(80) আহমদ বিন ইবরাহিম আল-মুজানি, তিনি মুহাম্মদ বিন কাসির থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি হাদিস জাল করতেন।
(81) আহমদ বিন আল-আহজাম। ইবনুল জাওজি বলেছেন: তারা বলেছেন যে তিনি চরম মিথ্যুক ছিলেন।
(82) আহমদ বিন আহমদ বিন ইয়াজিদ আল-মুয়াজ্জিন আল-বালখি, তিনি হাসান বিন আরাফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি অভিযুক্ত।
(83) আহমদ বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন নুবাইত বিন শারিত; চরম মিথ্যুক। তিনি তার পিতা ও দাদার সূত্রে একটি পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেছেন যাতে অনেক আপত্তিকর বিষয় রয়েছে।
(84) আহমদ বিন আবু ইসহাক, তিনি ইসমাইল বিন আবু ওয়াইস থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি অজ্ঞাত এবং একটি বাতিল সংবাদ নিয়ে এসেছেন।
(85) আহমদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন নাবিহ আবু হুজাফা আস-সাহমি, ইমাম মালেকের সহচর। ইবনে আদি বলেছেন: তিনি বাতিল বিষয়াবলি বর্ণনা করতেন।
(86) আহমদ বিন বকর, তাকে ইবনে বাকারওয়াইহ আল-বালিসিও বলা হয়। আল-আযদি বলেছেন: তিনি হাদিস জাল করতেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(88) أَحْمد بن بكر بن عَليّ بن بكار المصِّيصِي، لَهُ خبر مَوْضُوع قَالَ الْمُنْذِرِيّ: لَا يعرف وَقَالَ فِي الْمِيزَان عِنْدِي أَنه الَّذِي قبله خبطوا فِي نسبه.
(89) أَحْمد بن ثَابت بن عتاب الرَّازِيّ فرخويه عَن عبد الرَّزَّاق، قَالَ ابْن أبي حَاتِم لَا يَشكونَ أَنه كَذَّاب.
(90) أَحْمد بن جَعْفَر بن عبد الله شيخ لأبي نعيم، قَالَ ابْن طَاهِر: مَشْهُور بِالْوَضْعِ.
(91) أَحْمد بن جَعْفَر بن سعيد أَبُو حَامِد الْأَشْعَرِيّ الملحمي عَن لوين وَمُحَمّد بن عباد وَعنهُ ابْن قَانِع وَغَيره، قيل كَانَ يسرق الحَدِيث.
(92) أَحْمد بن جَعْفَر بن الْفضل بن عبد الله بن يُونُس بن عبيد، روى عَنهُ الْحسن بن عَليّ بن عَمْرو الْحَافِظ وَقَالَ مَشْهُور بِالْوَضْعِ.
(93) أَحْمد بن جُمْهُور الغساني، شيخ مُتَّهم بِالْكَذِبِ.
(94) أَحْمد بن حَامِد أَبُو سَلمَة السَّمرقَنْدِي. قَالَ ابْن طَاهِر كَذَّاب.
(95) أَحْمد بن حجاج بن الصَّلْت عَن سَعْدَوَيْه وَعنهُ مُحَمَّد بن مخلد الْعَطَّار بِخَبَر بَاطِل وَهُوَ آفته.
(96) أَحْمد بن الْحسن بن أبان المضري بِضَم الْمِيم وبالضاد الْمُعْجَمَة الْأَيْلِي شيخ الطَّبَرَانِيّ كذبه الدَّارَقُطْنِيّ، وَقَالَ ابْن حبَان يضع الحَدِيث عَن الثِّقَات.
(97) أَحْمد بن الْحسن بن الْقَاسِم بن سَمُرَة الْكُوفِي عَن وَكِيع، قَالَ ابْن حبَان كَذَّاب.
(98) أَحْمد بن الْحسن أَبُو حَنش عَن يحيى بن معِين، اتهمه الْخَطِيب بِوَضْع الحَدِيث.
(99) أَحْمد بن الْحسن الْمَكِّيّ من أهل جرجان عَن الرّبيع بن سُلَيْمَان، رمي بِالْكَذِبِ.
(100) أَحْمد بن الْحسن بن سهل أَبُو الْفَتْح الْحِمصِي قيل: مُتَّهم بِوَضْع الحَدِيث حَكَاهُ الضياء المقدسى.
(88) আহমদ বিন বকর বিন আলী বিন বক্কার আল-মিসসিসী, তার একটি জাল হাদীস রয়েছে। আল-মুনযিরী বলেছেন: তাকে চেনা যায় না। আর 'মীযান' গ্রন্থে বলা হয়েছে, আমার মতে সে ওই ব্যক্তিই যার কথা এর আগে বর্ণিত হয়েছে, বর্ণনাকারীরা তার বংশ পরিচয়ে বিভ্রান্তি ঘটিয়েছে।
(89) আহমদ বিন সাবিত বিন ইত্তাব আর-রাযী ফারখুওয়াইহ, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন, তারা এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ করেন না যে সে একজন চরম মিথ্যাবাদী।
(90) আহমদ বিন জাফর বিন আবদুল্লাহ, তিনি আবু নুআইমের একজন উস্তাদ। ইবনে তাহের বলেছেন: হাদীস জাল করার জন্য সে সুপরিচিত।
(91) আহমদ বিন জাফর বিন সাঈদ আবু হামিদ আল-আশআরী আল-মুলহামি, তিনি লুওয়াইন ও মুহাম্মদ বিন আব্বাদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে ইবনে কানি‘ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। বলা হয়েছে যে, সে হাদীস চুরি করত।
(92) আহমদ বিন জাফর বিন ফাদল বিন আবদুল্লাহ বিন ইউনুস বিন উবাইদ, আল-হাসান বিন আলী বিন আমর আল-হাফিজ তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, সে হাদীস জাল করার জন্য সুপরিচিত।
(93) আহমদ বিন জুমহুর আল-গাসসানী, তিনি একজন উস্তাদ যার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ রয়েছে।
(94) আহমদ বিন হামিদ আবু সালামাহ আস-সামারকান্দী। ইবনে তাহের বলেছেন: সে চরম মিথ্যাবাদী।
(95) আহমদ বিন হাজ্জাজ বিন আস-সালত, তিনি সাদাওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার সূত্রে মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আল-আত্তার একটি বাতিল হাদীস বর্ণনা করেছেন, আর এটিই তার বড় ত্রুটি।
(96) আহমদ বিন আল-হাসান বিন আবান আল-মুদারি (মীম বর্ণে পেশ এবং দদ বর্ণের সাথে) আল-আইলী, তিনি তাবারানীর উস্তাদ। আদ-দারাকুতনী তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে হাদীস জাল করত।
(97) আহমদ বিন আল-হাসান বিন আল-কাসিম বিন সামুরাহ আল-কুফী, তিনি ওয়াকী‘ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান বলেছেন: সে চরম মিথ্যাবাদী।
(98) আহমদ বিন আল-হাসান আবু হানশ, তিনি ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-খাতিব তাকে হাদীস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
(99) আহমদ বিন আল-হাসান আল-মাক্কী, তিনি জুরজানের অধিবাসী এবং রাবী বিন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন। তার ওপর মিথ্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
(100) আহমদ বিন আল-হাসান বিন سهل আবু আল-ফাতহ আল-হিমসী। বলা হয়েছে: সে হাদীস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত, যিয়া আল-মাকদিসী এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(101) أَحْمد بن الْحُسَيْن أَبُو الْحُسَيْن بن السماك الْوَاعِظ، كذبه ابْن أبي الفوارس وَغَيره.
(102) أَحْمد بن الْحُسَيْن الشَّافِعِي الصُّوفِي مُتَّهم. روى عَن ابْن الْمقري حَدِيثا كذبا.
(103) أَحْمد بن الْحُسَيْن القَاضِي أَبُو الْعَبَّاس النهاوندي، هُوَ الْمُتَّهم بِوَضْع حِكَايَة القَاضِي واللص، وَكَانَ فِي عصر الدَّارَقُطْنِيّ.
(104) أَحْمد بن حَفْص السَّعْدِيّ شيخ ابْن عدي. اتهمه الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمَة سعيد بن عفير من الْمِيزَان بِالْوَضْعِ.
(105) أَحْمد بن خَالِد الْقرشِي لَا يعرف وأتى بِخَبَر بَاطِل.
(106) أَحْمد بن الْخَلِيل النَّوْفَلِي القومسي، قَالَ أَبُو حَاتِم كَذَّاب.
(107) أَحْمد بن دَاوُد بن عبد الْغفار أَبُو صَالح الْحَرَّانِي ثمَّ الْمصْرِيّ عَن أبي مُصعب، قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ كَذَّاب، وَقَالَ ابْن حبَان كَانَ يضع الحَدِيث.
(108) أَحْمد بن دَاوُد ابْن أُخْت عبد الرَّزَّاق هُوَ ابْن عبد الله بن دَاوُد يَأْتِي.
(109) أَحْمد بن دهثم الْأَسدي عَن مَالك، اتهمه الذَّهَبِيّ.
(110) أَحْمد بن رَاشد الْهِلَالِي، رَمَاه الذَّهَبِيّ بالاختلاق والوضع.
(111) أَحْمد بن رشدين هُوَ أَحْمد بن مُحَمَّد بن الْحجَّاج بن رشدين يَأْتِي.
(112) أَحْمد بن أبي روح الْبَغْدَادِيّ اتهمه الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان بِالْوَضْعِ.
(113) أَحْمد بن سَالم وَيُقَال ابْن سَلمَة بن خَالِد بن جَابر بن سَمُرَة أَبُو سَمُرَة، قَالَ ابْن حبَان روى عَن الثِّقَات الأوابد والطامات.
(114) أَحْمد بن سَالم أَبُو تَوْبَة الْعَسْقَلَانِي عَن عِيسَى الْجعْفِيّ، أَتَى بِخَبَر مَوْضُوع.
(১০১) আহমদ বিন আল-হুসাইন আবু আল-হুসাইন বিন আস-সাম্মাক আল-ওয়ায়েজ; ইবনে আবি আল-ফাওয়ারিস এবং অন্যান্যরা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
(১০২) আহমদ বিন আল-হুসাইন আশ-শাফিয়ী আস-সুফী; তিনি অভিযুক্ত। তিনি ইবনে আল-মুকরি থেকে একটি মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(১০৩) আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-কাদি আবু আল-আব্বাস আন-নাহাওয়ান্দি; তিনি 'কাদি ও চোর'-এর কাহিনী জাল করার দায়ে অভিযুক্ত এবং তিনি আদ-দারা কুতনীর সমসাময়িক ছিলেন।
(১০৪) আহমদ বিন হাফস আস-সাদি, ইবনে আদীর উস্তাদ। আয-যাহাবী 'আল-মিজান'-এ সাঈদ বিন উফাইরের জীবনীতে তাকে হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
(১০৫) আহমদ বিন খালিদ আল-কুরাশি; তিনি অপরিচিত এবং তিনি একটি বাতিল সংবাদ বর্ণনা করেছেন।
(১০৬) আহমদ বিন আল-খালীল আন-নাওফালী আল-কাউমাসি; আবু হাতিম তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
(১০৭) আহমদ বিন দাউদ বিন আব্দুল গাফফার আবু সালিহ আল-হাররানি, পরবর্তীতে আল-মিসরি; আবু মুসআব থেকে বর্ণনা করেছেন। আদ-দারা কুতনী তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান বলেছেন তিনি হাদিস জাল করতেন।
(১০৮) আহমদ বিন দাউদ, আব্দুর রাজ্জাকের ভাগ্নে; তিনি হলেন ইবনে আব্দুল্লাহ বিন দাউদ, যার আলোচনা সামনে আসবে।
(১০৯) আহমদ বিন দাহসাম আল-আসাদি; মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, আয-যাহাবী তাকে অভিযুক্ত করেছেন।
(১১০) আহমদ বিন রাশিদ আল-হিলালি; আয-যাহাবী তাকে উদ্ভাবন এবং হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
(১১১) আহমদ বিন রুশদীন; তিনি হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাজ্জাজ বিন রুশদীন, যার আলোচনা সামনে আসবে।
(১১২) আহমদ বিন আবি রাওহ আল-বাগদাদি; আয-যাহাবী 'আল-মিজান'-এ তাকে হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
(১১৩) আহমদ বিন সালিম, যাকে ইবনে সালামাহ বিন খালিদ বিন জাবির বিন সামুরা আবু সামুরা বলা হয়; ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে অবিশ্বাস্য এবং গুরুতর বিভ্রান্তিকর বর্ণনা দিয়েছেন।
(১১৪) আহমদ বিন সালিম আবু তাওবাহ আল-আসকালানি; ঈসা আল-জুফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি একটি জাল সংবাদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(115) أَحْمد بن سعيد بن فرقد الجدي، قَالَ الذَّهَبِيّ: روى عَن أبي حمة بِسَنَد الصَّحِيحَيْنِ حَدِيث الطير فَهُوَ الْمُتَّهم بِهِ.
(116) أَحْمد بن سعيد بن خيشنة الْحِمصِي عَن عبيد الله بن الْقَاسِم بِخَبَر مَوْضُوع، الآفة هُوَ أَو شَيْخه.
(117) أَحْمد بن سَلمَة الْكسَائي الْكُوفِي، قَالَ ابْن عدي حدث عَن الثِّقَات بالأباطيل.
(118) أَحْمد بن سَلمَة الْمَدَائِنِي عَن مَنْصُور بن عمار، مُتَّهم بِالْكَذِبِ.
(119) أَحْمد بن سُلَيْمَان الْحَرَّانِي عَن مَالك، قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ كَذَّاب يحدث عَن مَالك بالأباطيل.
(120) أَحْمد بن أبي سُلَيْمَان القواريري عَن حَمَّاد بن سَلمَة، كَذَّاب.
(121) أَحْمد بن شبويه بن يَقِين بن بشار بن حميد الْموصِلِي، مُتَّهم.
(122) أَحْمد بن صَالح الشمومي عَن عبد الله كَاتب اللَّيْث، قَالَ ابْن حبَان: يَأْتِي عَن الْأَثْبَات بالمعضلات وَقَالَ مرّة أُخْرَى: كَانَ بِمَكَّة يضع الحَدِيث.
(123) أَحْمد بن الصَّلْت هُوَ ابْن مُحَمَّد بن الصَّلْت يَأْتِي.
(124) أَحْمد بن طَاهِر بن حَرْمَلَة بن يحيى الْمصْرِيّ، قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ وَغَيره: كَذَّاب.
(125) أَحْمد بن عَامر بن سليم الطَّائِي، قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ هُوَ مَحل التُّهْمَة.
(126) أَحْمد بن الْعَبَّاس بن حمويه أَبُو بكر الْخلال، مُتَّهم.
(127) أَحْمد بن عبد الله بن حُسَيْن الضَّرِير، لَهُ عَن مُحَمَّد بن عبد الْملك الدقيقي خبر مَوْضُوع اتهمه بِهِ الْخَطِيب.
(128) أَحْمد بن عبد الله بن حَكِيم الْفرْيَابِيّ الْمروزِي عَن ابْن الْمُبَارك وَغَيره، قَالَ أَبُو نعيم كَانَ وضاعا.
(129) أَحْمد بن عبد الله الجويباري وَيُقَال الجوباري دجال وضع حَدِيثا كثيرا.
(130) أَحْمد بن عبد الله بن مُحَمَّد بن خَالِد الْكِنْدِيّ الْخُرَاسَانِي الْمَعْرُوف باللجلاج، قَالَ ابْن عدي لَهُ بَوَاطِيلُ.
(131) أَحْمد بن عبد الله بن مِسْمَار عَن أبي الرّبيع الزهْرَانِي، بِخَبَر بَاطِل فِي فضل مُعَاوِيَة وَآخر عَن الرّبيع بن سُلَيْمَان كذب فَهُوَ الآفة قَالَه الذهبى.
(১১৫) আহমাদ বিন সাঈদ বিন ফারকাদ আল-জাদ্দী, আয-যাহাবী বলেন: তিনি আবু হাম্মা থেকে সাহীহাইনের সনদে পাখির হাদিস (হাদিসুত তইর) বর্ণনা করেছেন, তাই তিনিই এতে অভিযুক্ত।
(১১৬) আহমাদ বিন সাঈদ বিন খাইশানা আল-হিমসী, উবায়দুল্লাহ বিন আল-কাসিম থেকে একটি জাল সংবাদ বর্ণনা করেছেন; এই বিপত্তিটি (আফাত) তিনি অথবা তার শিক্ষক।
(১১৭) আহমাদ বিন সালামাহ আল-কিসায়ী আল-কুফী, ইবনে আদী বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য রাবীদের পক্ষ থেকে অনেক বাতিল (ভিত্তিহীন) বর্ণনা দিয়েছেন।
(১১৮) আহমাদ বিন সালামাহ আল-মাদাঈনী, মানসুর বিন আম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত।
(১১৯) আহমাদ বিন সুলাইমান আল-হাররানী, মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। আদ-দারাকুতনী বলেন: তিনি মিথ্যাবাদী, মালিকের নামে বাতিল বর্ণনা দিয়ে থাকেন।
(১২০) আহমাদ বিন আবি সুলাইমান আল-কাওয়ারীরী, হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি একজন মিথ্যাবাদী।
(১২১) আহমাদ বিন শাবওয়াইহ বিন ইয়াকীন বিন বাশার বিন হুমাইদ আল-মাওসিলী; তিনি অভিযুক্ত।
(১২২) আহমাদ বিন সালিহ আশ-শামূমী, লাইসের লেখক আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে জটিল ও আপত্তিকর বর্ণনা নিয়ে আসতেন; তিনি অন্য সময়ে বলেছেন: তিনি মক্কায় হাদিস জাল করতেন।
(১২৩) আহমাদ বিন আস-সালত, তিনি আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আস-সালত, যার বর্ণনা সামনে আসবে।
(১২৪) আহমাদ বিন তাহির বিন হারমালা বিন ইয়াহইয়া আল-মিসরী, আদ-দারাকুতনী এবং অন্যান্যরা বলেন: তিনি একজন বড় মিথ্যাবাদী।
(১২৫) আহমাদ বিন আমির বিন সুলাইম আত-তাঈ, ইবনুল জাওজী বলেন: তিনি অভিযোগের পাত্র।
(১২৬) আহমাদ বিন আল-আব্বাস বিন হামুওয়াইহ আবু বকর আল-খাল্লাল; তিনি অভিযুক্ত।
(১২৭) আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন হুসাইন আদ-দারীর, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক আদ-দাকীকী থেকে তার একটি জাল বর্ণনা রয়েছে, আল-খাতিব তাকে এর জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
(১২৮) আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাকিম আল-ফারিইয়াবী আল-মারওয়াযী, ইবনুল মুবারক ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু নুআইম বলেন: তিনি জালকারী (ওয়াজ্জা) ছিলেন।
(১২৯) আহমাদ বিন আবদুল্লাহ আল-জুওয়াই বারী, যাকে আল-জাওবারীও বলা হয়; তিনি একজন দাজ্জাল (প্রতারক), তিনি প্রচুর হাদিস জাল করেছেন।
(১৩০) আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন খালিদ আল-কিন্দী আল-খুরাসানী, যিনি আল-লাজলাজ নামে পরিচিত। ইবনে আদী বলেন: তার অনেক বাতিল (ভিত্তিহীন) বর্ণনা রয়েছে।
(১৩১) আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন মিসমার, আবু রাবী আল-যাহরানী থেকে মুয়াবিয়া (রা.)-এর ফজিলত সম্পর্কে একটি বাতিল বর্ণনা এবং রাবী বিন সুলাইমান থেকে আরেকটি মিথ্যা বর্ণনা দিয়েছেন; আয-যাহাবী বলেন: সুতরাং এই বিপত্তিটি তিনিই।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(132) أَحْمد بن عبد الله بن ميسرَة النهاوندي الْحَرَّانِي، قَالَ ابْن حبَان وَابْن عدي: كَانَ يسرق الحَدِيث.
(133) أَحْمد بن عبد الله بن دَاوُد عَن خَاله عبد الرَّزَّاق قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ: كَذَّاب.
(134) أَحْمد بن عبد الله بن يزِيد بن الْقَاسِم الطبركي، اتهمه الذَّهَبِيّ بِوَضْع حَدِيث.
(135) أَحْمد بن عبد الله بن يزِيد الهشيمي الْمُؤَدب عَن عبد الرَّزَّاق، قَالَ ابْن عدي كَانَ يضع الحَدِيث.
(136) أَحْمد بن عبد الله بن فلَان أَبُو النَّصْر الْأنْصَارِيّ عَن الْفضل بن عبد الله بن مَسْعُود الْيَشْكُرِي، اتهمه الدَّارَقُطْنِيّ بِالْوَضْعِ.
(137) أَحْمد بن عبد الله الأبلي عَن حميد الطَّوِيل، لَا يعرف وَالْخَبَر كَأَنَّهُ عمله، قَالَه الذَّهَبِيّ
(138) أَحْمد بن عبد الله البرقي، اتهمه الذَّهَبِيّ فِي تَلْخِيص الْمُسْتَدْرك بِالْوَضْعِ.
(139) أَحْمد بن عبد الله بن مُحَمَّد الزيني ذكر فِي الْكَشْف الحثيث أَن فِي تَرْجَمَة صديق ابْن سعيد من الْمِيزَان مَا يَقْتَضِي اتهام أَحْمد الْمَذْكُور بِالْوَضْعِ، وَقَالَ يجهل حَاله. أَحْمد بن عبد الله الشَّيْبَانِيّ عَن عبد الله بن الزبير عَن مَالك عَن نَافِع عَن ابْن عمر مَرْفُوعا: لَا تتخللوا بالقصب، قَالَ فِي الْكَشْف ذكره الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمَة عبد الله بن الزبير، وَقَالَ مَوْضُوع لَعَلَّ الآفة الشَّيْبَانِيّ (قلت) هَذَا يحْتَمل أَنه الجويباري فَإِنَّهُ يُقَال لَهُ الشيبائي أَيْضا وَالله أعلم.
(139) أَحْمد بن عبد الله الشَّاشِي عَن مسعر، قَالَ الْأَزْدِيّ كَذَّاب.
(140) أَحْمد بن عبد الله النهرواني اتهمه ابْن مَاكُولَا بِحَدِيث: فِي الْجنَّة نهر زَيْت.
(141) أَحْمد بن عبد الله أَبُو الْعَزِيز كادش مَشْهُور، من شُيُوخ ابْن عَسَاكِر اعْترف بِوَضْع حَدِيث لكنه تَابَ وأناب.
(142) أَحْمد بن عبد الْجَبَّار العطاردي، قَالَ مطين: كَانَ يكذب وَقَالَ الخليلي لَيْسَ فِي حَدِيثه مَنَاكِير لكنه روى عَن القدماء فاتهموه لذَلِك.
(১৩২) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মায়সারা আন-নাহাওয়ান্দি আল-হাররানি। ইবনে হিব্বান ও ইবনে আদি বলেন: তিনি হাদিস চুরি করতেন।
(১৩৩) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ, তার মামা আব্দুর রাজ্জাকের সূত্রে বর্ণিত। আদ-দারা কুতনি বলেন: চরম মিথ্যাবাদী।
(১৩৪) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে কাসিম আত-তাবারকি। আয-যাহাবি তাকে হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
(১৩৫) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-হুশাইমি আল-মুয়াদ্দিব, আব্দুর রাজ্জাকের সূত্রে বর্ণিত। ইবনে আদি বলেন: তিনি হাদিস জাল করতেন।
(১৩৬) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে অমুক আবু আন-নাসর আল-আনসারি, ফাদল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-ইয়াশ কুরির সূত্রে বর্ণিত। আদ-দারা কুতনি তাকে হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
(১৩৭) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-উবুল্লি, হুমাইদ আত-তাবিলের সূত্রে বর্ণিত। তিনি পরিচিত নন এবং এই বর্ণনাটি যেন তারই কারসাজি; আয-যাহাবি এমনটিই বলেছেন।
(১৩৮) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বারকি। আয-যাহাবি ‘তালখিসুল মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে তাকে হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
(১৩৯) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আয-যাইনি। ‘আল-কাশফুল হাসিছ’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘মিজান’ গ্রন্থে সিদ্দিক ইবনে সাঈদের জীবনীতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা উল্লিখিত আহমাদকে জালিয়াত হিসেবে অভিযুক্ত করার দাবি রাখে; এবং তিনি বলেছেন যে তার অবস্থা অজ্ঞাত। আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শায়বানি, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরের সূত্রে, তিনি মালিকের সূত্রে, তিনি নাফে’র সূত্রে, তিনি ইবনে উমর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: “তোমরা নলখাগড়া দিয়ে দাঁত খিলাল করো না।” ‘কাশফ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: আয-যাহাবি এটি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন এটি জাল; সম্ভবত এর মূল সমস্যা হলো শায়বানি। (আমি বলব) এটি আল-জুওয়াইবারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ তাকে শায়বানিও বলা হয়। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
(১৩৯) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাশি, মিসআরের সূত্রে বর্ণিত। আল-আযদি বলেন: চরম মিথ্যাবাদী।
(১৪০) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাহরওয়ানি। ইবনে মাকুলা তাকে এই হাদিসের কারণে অভিযুক্ত করেছেন: “জান্নাতে তেলের একটি নদী রয়েছে।”
(১৪১) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আবু আল-আজিজ কাদিশ, তিনি প্রসিদ্ধ। তিনি ইবনে আসাকিরের অন্যতম শিক্ষক। তিনি হাদিস জাল করার কথা স্বীকার করেছিলেন, তবে পরবর্তীতে তাওবা ও প্রত্যাবর্তন করেছেন।
(১৪২) আহমাদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-উতারিদি। মুতায়্যিন বলেন: তিনি মিথ্যা বলতেন। আল-খলিলি বলেন: তার হাদিসে কোনো মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) বিষয় নেই, তবে তিনি প্রাচীন রাবিদের থেকে বর্ণনা করেছেন বিধায় তারা তাকে সেই কারণে অভিযুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
(143) أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن بن الْجَارُود الرقي شيخ أبي نعيم، كذبه الْخَطِيب.
(144) أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن الكفرثوتي الملقب جحدر، قَالَ ابْن عدي يسرق الحَدِيث.
(145) أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن السَّقطِي عَن يزِيد بن هرون مَجْهُول أَتَى بِخَبَر مَوْضُوع.
(146) أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن الْجِرْجَانِيّ الْهَاشِمِي، قَالَ الإدريسي كَانَ يكذب.
(147) أَحْمد بن عبد الرَّحِيم الْجِرْجَانِيّ عَن جرير بن عبد الحميد وَعنهُ عَن ابْن عدي حَدِيثه مَوْضُوع.
(148) أَحْمد بن عبد الْعَزِيز أَبُو حَاتِم الْوراق، قَالَ ابْن طَاهِر: وضع حَدِيثا.
(149) أَحْمد بن عبد الْعَزِيز الوَاسِطِيّ لَهُ حَدِيث مَوْضُوع ذكر ذَلِك الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان فِي أثْنَاء تَرْجَمته.
(150) أَحْمد بن عبد الْكَرِيم عَن خَالِد الْحِمصِي هُوَ وَشَيْخه مَجْهُولَانِ وَالْخَبَر بَاطِل
(151) أَحْمد بن عُثْمَان النهرواني هُوَ ابْن مُحَمَّد بن عُثْمَان يَأْتِي.
(152) أَحْمد بن عصمَة النَّيْسَابُورِي أَبُو الْفضل قَاضِي نيسابور، عَن إِسْحَق بن رَاهَوَيْه مُتَّهم قَالَ الذَّهَبِيّ روى خَبرا مَوْضُوعا هُوَ آفته.
(153) أَحْمد بن عَطاء الهُجَيْمِي الْبَصْرِيّ الزَّاهِد أَبُو عَمْرو قَالَ ابْن الْمَدِينِيّ رَأَيْته يحدث بِمَا لم يسمع فَقلت لَهُ فِي ذَلِك فَقَالَ أرغبهم وأقربهم إِلَى الله لَيْسَ فِيهِ حكم وَلَا سنة فَقلت لَهُ: أما تخَاف الله تقرب الْعباد إِلَى الله بِالْكَذِبِ على رَسُول الله.
(154) أَحْمد بن عَليّ بن الأفطح عَن يحيى بن زَهْدَم بطامات، قَالَ ابْن عدي لَا أَدْرِي الْبلَاء مِنْهُ أَو من شَيْخه.
(155) أَحْمد بن عَليّ بن مهْدي بن صَدَقَة الرَّمْلِيّ عَن أَبِيه عَن عَليّ بن مُوسَى الرضى، لَهُ نُسْخَة مَوْضُوعَة.
(156) أَحْمد بن على بن أُخْت عبد القدوس عَن مَالك مُتَّهم.
(157) أَحْمد بن عَليّ بن حسنويه الْمقري النَّيْسَابُورِي أَبُو حَامِد شيخ الْحَاكِم، قَالَ أَبُو زرْعَة مُحَمَّد بن يُوسُف الْجِرْجَانِيّ الْكشِّي: كَذَّاب، وَقَالَ ابْن الْجَوْزِيّ وَقد ذكر لَهُ حَدِيثا يرْوى أَن أَبَا حَامِد رَكبه على هَذَا الاسناد.
(১৪৩) আহমদ বিন আব্দুর রহমান বিন আল-জারুদ আল-রক্কি, আবু নুআইমের উস্তাদ; আল-খাতিব তাকে মিথ্যুক বলেছেন।
(১৪৪) আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-কাফরসুতি, যার উপাধি জাহদার; ইবনে আদি বলেন, সে হাদিস চুরি করত।
(১৪৫) আহমদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাকতি, ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি অপরিচিত (মাজহুল), তিনি একটি জাল সংবাদ নিয়ে এসেছেন।
(১৪৬) আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরজানি আল-হাশেমি; আল-ইদ্রিসি বলেন, সে মিথ্যা বলত।
(১৪৭) আহমদ বিন আব্দুর রহিম আল-জুরজানি, জারির বিন আব্দুল হামিদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন; তার হাদিস জাল।
(১৪৮) আহমদ বিন আব্দুল আজিজ আবু হাতিম আল-ওয়াররাক; ইবনে তাহির বলেন: সে হাদিস জাল করেছে।
(১৪৯) আহমদ বিন আব্দুল আজিজ আল-ওয়াসিতি, তার একটি জাল হাদিস রয়েছে; ইমাম আয-জাহাবি তার জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে 'আল-মিজান' গ্রন্থে তা উল্লেখ করেছেন।
(১৫০) আহমদ বিন আব্দুল কারিম, খালিদ আল-হিমসি থেকে বর্ণনা করেছেন; সে এবং তার উস্তাদ উভয়েই অপরিচিত (মাজহুল) এবং সংবাদটি বাতিল।
(১৫১) আহমদ বিন উসমান আন-নাহরওয়ানি; সে হলো ইবনে মুহাম্মদ বিন উসমান, যার আলোচনা সামনে আসবে।
(১৫২) আহমদ বিন ইসমাহ আন-নাইসাপুরি আবুল ফজল, নাইসাপুরের কাজী, ইসহাক বিন রাহওয়াই থেকে বর্ণনা করেছেন; সে অভিযুক্ত। আয-জাহাবি বলেন, সে একটি জাল সংবাদ বর্ণনা করেছে যা তারই সৃষ্টি।
(১৫৩) আহমদ বিন আতা আল-হুজাইমি আল-বাসরি আজ-জাহিদ আবু আমর; ইবনুল মাদিনি বলেন, আমি তাকে এমন বিষয় বর্ণনা করতে দেখেছি যা সে শোনেনি। আমি তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, "আমি মানুষকে এতে আগ্রহী করি এবং আল্লাহর নিকটবর্তী করি, এতে কোনো বিধান বা সুন্নাহ নেই।" তখন আমি তাকে বললাম: "আপনি কি আল্লাহকে ভয় পান না যে, আল্লাহর রাসুলের ওপর মিথ্যা আরোপ করে বান্দাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করছেন?"
(১৫৪) আহমদ বিন আলি বিন আল-আফতাহ, ইয়াহইয়া বিন জাহদাম থেকে আপত্তিকর বিষয়াবলি (তাম্মাত) বর্ণনা করেছেন; ইবনে আদি বলেন, আমি জানি না এই মুসিবত তার পক্ষ থেকে না কি তার উস্তাদের পক্ষ থেকে।
(১৫৫) আহমদ বিন আলি বিন মাহদি বিন সাদাকাহ আর-রামলি, তার পিতার সূত্রে আলি বিন মুসা আর-রিদা থেকে বর্ণনা করেছেন; তার একটি জাল পাণ্ডুলিপি (নুসখা) রয়েছে।
(১৫৬) আহমদ বিন আলি বিন উখতে আব্দুল কুদ্দুস, মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন; সে অভিযুক্ত।
(১৫৭) আহমদ বিন আলি বিন হাসনুয়াহ আল-মুকরি আন-নাইসাপুরি আবু হামিদ, আল-হাকিমের উস্তাদ; আবু জুরআ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-জুরজানি আল-কাশশি বলেন: চরম মিথ্যুক। ইবনুল জাওজি তার একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন যে, বর্ণিত আছে যে আবু হামিদ নিজেই একে এই সনদের ওপর সাজিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুশ শারীয়াতিল মারফুয়া আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওদুআ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(158) أَحْمد بن عَليّ بن سُلَيْمَان أَبُو بكر الْمروزِي عَن عَليّ بن حجر، قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ يضع الحَدِيث.
(159) أَحْمد بن عَليّ بن مسلمة الخيوطي عَن ابْن مُبشر الوَاسِطِيّ بِخَبَر مَوْضُوع.
(160) أَحْمد بن عَليّ النصيبي قَاضِي دمشق فِي الْمِائَة الْخَامِسَة، كَانَ يرْمى بِالْكَذِبِ.
(161) أَحْمد بن عَليّ النصيبي شيخ كَانَ بعد الثلثمائة، وضع حَدِيثا ركيكا فافتضح بِهِ.
(162) أَحْمد بن عَليّ أَبُو نصر الْهَبَّاري الْمقري، مُتَّهم بِالْكَذِبِ.
(163) أَحْمد بن على بن يحيى الاسد أبادى معاصر للخطيب، كذبه ابْن خيرون.
(164) أَحْمد بن عَليّ الطرابلسي شيخ الْأَهْوَازِي، لَهُ خبر مَوْضُوع فِي الصِّفَات.
(165) أَحْمد بن عَليّ بن زَكَرِيَّا أَبُو بكر الطريثيثي شيخ السلَفِي، كذبه ابْن نَاصِر.
(166) أَحْمد بن عَليّ الْبَغْدَادِيّ عَن عُثْمَان بن أبي شيبَة؛ اتهمَ بِوَضْع حَدِيث.
(167) أَحْمد بن عَليّ بن صبيح، قَالَ السلَفِي كَانَ يكذب كثيرا.
(168) أَحْمد بن عمر اليمامي هُوَ ابْن مُحَمَّد بن عمر يَأْتِي.
(169) أَحْمد بن عمرَان بن سَلمَة عَن الثَّوْريّ مَجْهُول اتهمه الذَّهَبِيّ.
(170) أَحْمد بن أبي عمرَان مُوسَى الْجِرْجَانِيّ، قَالَ أَبُو سعيد النقاش وَالْحَاكِم كَانَ يضع الحَدِيث
(171) أَحْمد بن عِيسَى بن أبي مُوسَى عَن مُحَمَّد بن الْعَلَاء بِخَبَر بَاطِل.
(172) أَحْمد بن عِيسَى بن مُحَمَّد بن عبيد الله بن عسامة الْكِنْدِيّ الْمَعْرُوف بِابْن الوشاء التنيسِي لَهُ أَحَادِيث بَاطِلَة.
(173) أَحْمد بن عِيسَى بن عَليّ بن ماهان عَن زنيج الرَّازِيّ بِخَبَر كذب.
(174) أَحْمد بن عِيسَى الخشاب قَالَ ابْن طَاهِر ومسلمة بن قَاسم كَذَّاب يضع الحَدِيث.
(175) أَحْمد بن عِيسَى بن عبيد الله الْهَاشِمِي الْعلوِي عَن ابْن أبي فديك وَغَيره، قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ كَذَّاب.
(176) أَحْمد بن الْفرج أَبُو عتبَة الْحِمصِي الْمَعْرُوف بالحجازي، كذبه مُحَمَّد بن عَوْف الطَّائِي.
(177) أَحْمد بن كَعْب الذِّرَاع الوَاسِطِيّ مُتَّهم.
(১৫৮) আহমদ বিন আলী বিন সুলাইমান আবু বকর আল-মারওয়াযী, আলী বিন হুজর থেকে বর্ণনা করেছেন; আদ-দারা কুতনী বলেছেন, সে হাদিস জাল করত।
(১৫৯) আহমদ বিন আলী বিন মাসলামাহ আল-খাইউতি, ইবন মুবাশশির আল-ওয়াসিতি থেকে একটি জাল বর্ণনা করেছেন।
(১৬০) আহমদ বিন আলী আন-নাসিবি, পঞ্চম শতাব্দীর দামেস্কের বিচারক; তার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ রয়েছে।
(১৬১) আহমদ বিন আলী আন-নাসিবি, তিনি তিনশত হিজরীর পরবর্তী একজন শায়খ; তিনি একটি দুর্বল মানের হাদিস জাল করেছিলেন যার ফলে তিনি অপদস্থ হন।
(১৬২) আহমদ বিন আলী আবু নাসর আল-হাব্বারি আল-মুকরি; তিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত।
(১৬৩) আহমদ বিন আলী বিন ইয়াহইয়া আল-আসাদাবাদি, আল-খাতিব আল-বাগদাদীর সমসাময়িক; ইবন খাইরুন তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
(১৬৪) আহমদ বিন আলী আত-তরাবুলুসি, আল-আহওয়াযীর শায়খ; সিফাত বা গুণাবলী সংক্রান্ত বিষয়ে তার একটি জাল বর্ণনা রয়েছে।
(১৬৫) আহমদ বিন আলী বিন যাকারিয়া আবু বকর আত-তুরাইথীথী, আস-সিলাফীর শায়খ; ইবন নাসির তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
(১৬৬) আহমদ বিন আলী আল-বাগদাদী, উসমান বিন আবু শায়বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; তার বিরুদ্ধে হাদিস জাল করার অভিযোগ রয়েছে।
(১৬৭) আহমদ বিন আলী বিন সাবিহ; আস-সিলাফী বলেছেন যে, সে প্রচুর মিথ্যা বলত।
(১৬৮) আহমদ বিন উমর আল-ইয়ামামী; তিনি হলেন ইবন মুহাম্মদ বিন উমর, তার আলোচনা সামনে আসবে।
(১৬৯) আহমদ বিন ইমরান বিন সালামাহ, আস-সাওরী থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি মাজহুল (অপরিচিত), আয-যাহাবী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
(১৭০) আহমদ বিন আবু ইমরান মুসা আল-জুরজানী; আবু সাঈদ আন-নাক্কাশ এবং আল-হাকিম বলেছেন, সে হাদিস জাল করত।
(১৭১) আহমদ বিন ঈসা বিন আবু মুসা, মুহাম্মদ বিন আল-আলা থেকে একটি বাতিল বর্ণনা করেছেন।
(১৭২) আহমদ বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আসামাহ আল-কিন্দি, যিনি ইবনুল ওয়াশশা আত-তিন্নিসী নামে পরিচিত; তার অনেকগুলো বাতিল হাদিস রয়েছে।
(১৭৩) আহমদ বিন ঈসা বিন আলী বিন মাহান, যুনাইয আর-রাযী থেকে একটি মিথ্যা সংবাদ বর্ণনা করেছেন।
(১৭৪) আহমদ বিন ঈসা আল-খাশশাব; ইবন তাহির এবং মাসলামাহ বিন কাসিম বলেছেন, সে একজন বড় মিথ্যাবাদী এবং হাদিস জাল করত।
(১৭৫) আহমদ বিন ঈসা বিন উবাইদুল্লাহ আল-হাশেমী আল-আলাউয়ী, ইবন আবু ফুদাইক ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন; আদ-দারা কুতনী বলেছেন, সে বড় মিথ্যাবাদী।
(১৭৬) আহমদ বিন আল-ফারাজ আবু উতবাহ আল-হিমসী, যিনি আল-হিজাযী নামে পরিচিত; মুহাম্মদ বিন আউফ আত-তাঈ তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
(১৭৭) আহমদ বিন কাব আদ-দিরা' আল-ওয়াসিতি; তিনি অভিযুক্ত।