(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: -)
الإيضاح في علل النحو القسم: النحو والصرف
الكتاب: الإيضاح في علل النحو
المؤلف: أبو القاسم الزَّجَّاجي (ت 337 هـ)
المحقق: الدكتور مازن المبارك
الناشر: دار النفائس - بيروت
الطبعة: الخامسة، 1406 هـ -1986 م.
عدد الصفحات: 142
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الآخر 1440
আল-ইজাহ ফি ইলালিন নাহু বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: আল-ইজাহ ফি ইলালিন নাহু
লেখক: আবু আল-কাসিম আজ-জাজ্জাজি (মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি)
মুহাক্কিক (সম্পাদক): ডক্টর মাজেন আল-মুবারক
প্রকাশক: দারুন নাফায়েস - বৈরুত
সংস্করণ: পঞ্চম، ১৪০৬ হিজরি -১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪২
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবিতাতুন নুসসাখ، বাস্তবায়নে (মার্কাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (মুয়াসসাসাত সুলাইমান আল-রাজিহি আল-খাইরিয়াহ)
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউস সানি ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪১)
باب أقسام الكلامفأول ما نذكر من ذلك إجماع النحويين على أن الكلام اسم وفعل وحرف وحقق القول بذلك وسطره في كتاب سيبويه، والناس بعده غير منكرين عليه ذلك.
نبدأ بما يسأل عنه أصحاب سيبويه وما يحتج به له. يقال لأصحابه وستئر من اعتقد هذا المذهب: من أين لكم أن كلام العرب كله اسم وفعل وحرف؟ وكيف حكمتم بذلك وشهدتم بصحته من غير دليل ولا برهان وإنما ذكره سيبويه في أول كتابه حين قال: "الكلام اسم وفعل وحرفجاء لمعنى" فقال قائلون: إنما قصد/ الكلام العربي دون غيره. وقال آخرون بل أراد الكلم العربي كله والعجمي. وفي ذلك احتجاج ونظر لم نقصد له في هذا الكتاب لأنا قد شرحناه في كتاب شرح الرسالة بجميع ما فيه، ولسنا نخاطبكم إلا على أنه قصد الكلم العربي دون سائر اللغات، لأن الجواب عن ذلك أسهل عليكم وأقرب. ثم مثل سيبويه كل صنف من ذلك ولم يقرنه بدليل قاطع ولا حجة فيدل على أن الكلام ثلاثة أقسام كما ذكروا، وأنه لا رابع لهذه الأقسام ولا خامس ولا أكثر من ذلك. فإن كنتم قبلتم ذلك عنه تقليداً من غير برهان ولا حجة، فأنتم في عمياء وشبهة فما دعاكم إلى قبول ذلك منه وقد علمتم أن النحو علم قياسي ومسيار لأكثر العلوم لا يقبل إلا ببراهين وحجج. ما خلا ما لزم قبوله من علوم الشريعة بعد وضوح الدلائل وإقامة البراهين والدلائل العقلية الحقيقية على لزوم الحجة، وأنتم
কালামের (বাক্যের) প্রকারভেদ সংক্রান্ত অধ্যায়এ বিষয়ে আমরা সর্বপ্রথম যা উল্লেখ করব তা হলো ব্যাকরণবিদদের ঐকমত্য (إجماع) যে, কালাম (বাক্য) হলো বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)। সিবওয়াইহ তাঁর কিতাবে এই মতটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর পরবর্তী কেউ এটি অস্বীকার করেননি।
আমরা সেই বিষয়গুলো দিয়ে শুরু করছি যা সম্পর্কে সিবওয়াইহের অনুসারীদের প্রশ্ন করা হয় এবং যার মাধ্যমে তাঁর স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপন করা হয়। তাঁর অনুসারী এবং যারা এই মাযহাব (مذهب) পোষণ করেন তাদের সকলকে বলা হয়: আপনাদের নিকট এর কী প্রমাণ আছে যে আরবের সমগ্র কালাম (বাক্য) কেবল বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)-ই? আর আপনারা কোনো প্রমাণ (دليل) বা দলিল (برهان) ছাড়াই কীভাবে এর ওপর সিদ্ধান্ত (حكم) দিলেন এবং এর বিশুদ্ধতার (صحة) সাক্ষ্য দিলেন? অথচ সিবওয়াইহ তাঁর কিতাবের শুরুতে কেবল এটিই উল্লেখ করেছেন যখন তিনি বলেছেন: "কালাম (বাক্য) হলো বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف) যা কোনো অর্থের জন্য এসেছে।" অতঃপর জনৈক প্রবক্তাগণ বলেন: তিনি কেবল আরবি কালামই উদ্দেশ্য করেছেন, অন্য কিছু নয়। অন্যরা বলেন, বরং তিনি সমগ্র আরবি ও অনারবি শব্দই বুঝিয়েছেন। এ বিষয়ে বিতর্ক ও পর্যালোচনা (نظر) রয়েছে যা আমরা এই কিতাবে আলোচনার লক্ষ্য রাখিনি, কারণ আমরা 'শারহুর রিসালাহ' কিতাবে এর আদ্যোপান্ত ব্যাখ্যা করেছি। আমরা আপনাদের সাথে কেবল এই ভিত্তিতেই সম্বোধন করছি যে, তিনি অন্যান্য ভাষার পরিবর্তে কেবল আরবি শব্দই উদ্দেশ্য করেছেন; কারণ এর উত্তর দেওয়া আপনাদের জন্য অধিকতর সহজ এবং নিকটতর। অতঃপর সিবওয়াইহ এগুলোর প্রতিটি শ্রেণির উদাহরণ দিয়েছেন, কিন্তু এর সাথে কোনো অকাট্য প্রমাণ (دليل قاطع) বা যুক্তি (حجة) পেশ করেননি যা নির্দেশ করে যে কালাম (বাক্য) তাদের বর্ণনামতে তিন প্রকার এবং এর চতুর্থ, পঞ্চম বা ততোধিক কোনো প্রকার নেই। সুতরাং আপনারা যদি কোনো দলিল (برهان) বা যুক্তি (حجة) ছাড়াই কেবল অন্ধ অনুসরণ (تقليد) হিসেবে তাঁর থেকে এটি গ্রহণ করে থাকেন, তবে আপনারা বিভ্রান্তি ও সংশয়ের (شبهة) মধ্যে রয়েছেন। কিসে আপনাদের তাঁর থেকে এটি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করল? অথচ আপনারা জানেন যে, নাহু (ব্যাকরণ) হলো একটি যুক্তিভিত্তিক (قياسي) বিজ্ঞান এবং অধিকাংশ বিজ্ঞানের পথপ্রদর্শক, যা দলিল (برهان) ও যুক্তি (حجة) ব্যতীত গ্রহণ করা হয় না। কেবল শরীয়াহ বিজ্ঞানের (علوم الشريعة) সেই বিষয়গুলো ব্যতীত যা গ্রহণ করা আবশ্যক, যেখানে অকাট্য প্রমাণের (حجة) আবশ্যিকতার ওপর সুস্পষ্ট দলিল (دلائل) এবং প্রকৃত বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তি (برهان) ও নিদর্শনসমূহ (الدلائل) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর আপনারা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪২)
جعلتم أول قبولكم من صباحكم ما أدعاه من غير برهان ولا بيان وما نؤمنكم من أن يعارضه معارض يقول لكم: كلام العرب: أكثر من هذه الأقسام. فبأي شيء تصلون إلى بطلان دعواه وتصحيح دعوى صاحبكم؟
الجواب أن يقال له: إن من الأشياء أشياء تعرف ببديهة العقل بغير برهان ولا دليل بها يُستدل على المشكل الملبس والغامض الخفي؟ كما أنا نعلم بديهة بغير دليل أن وجود جسمٍ في حال واحدة ساكناً متحركاً محال
… إلا في حال خلق الله عز وجل كما علم ذلك استدلالاً؛ وكما أنا نعلم أن وجود جسم واحد في مكانين في حال واحدة ووقت واحد محال؛ كما أن وجوده لا في مكان محال؛ ومن الأشياء ما يُعرف بالدلائل الواضحة القريبة المنفق عليها التي لا تشكل على أحد حتى تقوم مقام ما يعرف بديهة بغير استدلال.
ونحن نعلم أن الله عز وجل إنما جعل الكلام ليعبر به العباد عما هجس في نفوسهم، وخاطب به بعضهم بعضاً بما في ضمائرهم مما لا يوقف عليه/ بإشارة ولا إيماء ولا رمز بحاجب ولا حيلة من الحيل، فإذا كان هذا معقولاً ظاهراً غير مدفوع فيبين أن المخَاطب والمخاطِب والمخبَّر عنه والمخبر (به) أجسام وأعراض تنوب في العبارة عنها أسماؤها، أو ما يعتوره معنى يدخله تحت هذا القسم من أمر أو نهي أو نداء أو نعت أو ما أشبه ذلك مما تختص به الأسماء، لأن الأمر والنهى إنما يقعان على الاسم النائب عن المسمى، فالخبر إذاً هو غير المخبر والمخبر عنه وهما داخلان تحت قسم الاسم، والخبر هو الفعل وما اشتق منه أو تضمن معناه وهو الحديث للذي ذكرناه ولابد من رباط بينهما وهو الحرف، ولن يوجد إلى معنى رابع سبيل فيكون للكلام قسم رابع، وهذا معنى قول سيبويه الكلم اسم وفعل وحرف، وقد رُوي لنا أن أول من قال ذلك أمير المؤمنين علي بن
আপনি আপনার দিন শুরু করার সময় প্রথম যা গ্রহণ করেছেন তা হলো এমন কিছু যা তিনি কোনো প্রমাণ (برهان) বা ব্যাখ্যা (بيান) ছাড়াই দাবি করেছেন। আর কিসে আমাদের আশ্বস্ত করবে যে কোনো বিরোধী ব্যক্তি এর বিরোধিতা করে বলবে না যে, আরবদের ভাষা তো এই প্রকারগুলোর চেয়েও অধিক? তখন কোন জিনিসের মাধ্যমে আপনারা তার দাবির অসারতা এবং আপনাদের সঙ্গীর দাবির সত্যতা প্রমাণ করবেন?
উত্তর হলো এই যে, তাকে বলা হবে: নিশ্চয়ই এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা কোনো প্রমাণ (برهان) বা দলিল (دليل) ছাড়াই সজ্ঞাত বুদ্ধির (بديهة العقل) মাধ্যমে জানা যায়। সেগুলোর মাধ্যমে জটিল, অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য গোপন বিষয়গুলোর দিকে দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। যেমনটি আমরা কোনো দলিল (دليل) ছাড়াই সজ্ঞাতভাবে (بديهة) জানি যে, একই অবস্থায় একটি বস্তুর একই সাথে স্থির ও গতিশীল থাকা অসম্ভব
… তবে মহান আল্লাহর সৃষ্টির ক্ষেত্রে যেমনটি তাত্ত্বিক প্রমাণের (استدلال) মাধ্যমে জানা যায়। একইভাবে আমরা জানি যে, একই অবস্থায় ও একই সময়ে একটি বস্তুর দুটি ভিন্ন স্থানে অবস্থান করা অসম্ভব; ঠিক তেমনি কোনো স্থান ছাড়া বস্তুর অবস্থান করাও অসম্ভব। আর কিছু বিষয় রয়েছে যা এমন স্পষ্ট, নিকটবর্তী ও সর্বসম্মত প্রমাণাদির (الدلائل) মাধ্যমে জানা যায় যে, তা কারো কাছে অস্পষ্ট থাকে না, এমনকি তা সজ্ঞাতভাবে লব্ধ জ্ঞানের স্থলাভিষিক্ত হয় যা কোনো তাত্ত্বিক প্রমাণের (استدلال) মুখাপেক্ষী নয়।
আর আমরা জানি যে, মহান আল্লাহ তাআলা ভাষাকে সৃষ্টি করেছেন যাতে বান্দারা তাদের মনে যা উদিত হয় তা এর মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অন্তরে যা আছে তা নিয়ে একে অপরের সাথে কথা বলতে পারে, যা কোনো ইশারা, ইঙ্গিত, ভ্রু-ভঙ্গি কিংবা অন্য কোনো কৌশলের মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সুতরাং এটি যদি সুস্পষ্ট ও অনস্বীকার্য একটি যুক্তি হয়, তবে এটি স্পষ্ট হয় যে, যাকে সম্বোধন করা হচ্ছে (المخَاطب), যে সম্বোধন করছে (المخاطِب), যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে (المخبَّر عنه) এবং যার মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে (المخبر به) - তারা মূলত সত্তা বা গুণাবলী, যাদের পরিবর্তে বর্ণনায় তাদের নাম (اسم) ব্যবহৃত হয়। অথবা এমন কোনো অর্থ যা এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয় যেমন আদেশ (أمر), নিষেধ (نهي), আহ্বান (نداء), বিশেষণ (نعت) বা অনুরূপ বিষয় যা নামগুলোর (الأسماء) বৈশিষ্ট্য। কারণ আদেশ (أمر) ও নিষেধ (نهي) মূলত সেই নামের ওপর প্রযুক্ত হয় যা নামধারী ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত হয়। অতএব, সংবাদ (الخبر) হলো সেই সংবাদ প্রদানকারী ও যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে তাদের থেকে ভিন্ন কিছু, আর তারা উভয়ই নাম বা বিশেষ্য (الاسم) নামক প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। আর সংবাদ (الخبر) হলো ক্রিয়া (الفعل) এবং যা তা থেকে উদ্ভূত বা তার অর্থ বহন করে; আর এটিই হলো হাদিস সেই কারণে যা আমরা উল্লেখ করেছি। আর এই দুইয়ের মধ্যে একটি সংযোগ থাকা আবশ্যক, যা হলো অব্যয় বা বর্ণ (الحرف)। আর চতুর্থ কোনো প্রকার বা অর্থের দিকে যাওয়ার কোনো পথ নেই যে ভাষার চতুর্থ কোনো প্রকার থাকবে। সিবওয়াইহ-এর এই কথার অর্থও এটিই যে, শব্দ (الكلم) হলো বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)। আমাদের কাছে বর্ণিত (رُوي) হয়েছে যে, সর্বপ্রথম যিনি একথা বলেছেন তিনি হলেন আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
أبي طالب صلوات الله عليه؛ أعني قوله الكلام اسم وفعل وحرف؛ ثم قال له: قد دللنا على صحة مذهب صاحبنا وأريناك أن اعتقادنا ليس تقليداً بل ببحث ونظر. والمدعى أن للكلام قسماً رابعاً أو أكثر منه مُخمن أو شاك؛ فإن كان متيقناً فليوجد لنا في جميع كلام العرب قسماً خارجاً عن أحد هذه الأقسام ليكون ذلك ناقضاً لقول سيبويه؛ ولن يجد إليه سبيلاً؛ وليس يجب علينا ترك ما قد تيقناه وعرفناه حقيقة وصح في العقول لشك من شك بغير دليل ولا برهان؛ لأن الشكوك لا تدفع الحقائق وبالله التوفيق؛
سؤال آخر على أصحاب سيبويه. يقال لهم: لم سمي سيبويه وغيره هذه الأشياء أسماء وأفعالاً وحروفاً؛ أعني قولهم رجل وزيد؛ وقام يقوم؛ ومن وإلى وما أشبه ذلك، وقد علمتم أنها كلها أفعال المتكلم لأنها كلام ونطق، والكلام يفعله المتكلم ويوجده بعد أن لم يكن، فهو فعل من أفعاله، ولستم ممن يقول إن الاسم هو المسمى لفساد ذلك عندكم/ فزيد إذاً غير من هو دال عليه. وقام في قولك قام زيد، ليست هذه اللفظة بفعل زيد إنما هي فعل المتكلم، وفعل زيد حركته وهذه عبارة عنها، وكذلك سائر هذه الأشياء إنما هي أفعال المتكلمين فلم رتبها النحويون هذه المراتب وسموها بغير استحقاقها؟
الجواب أن يقال: إن هذه الأشياء وإن كانت كما ذكرتم أفعالاً للمتكلمين الناطقين بها، فهي مختلفة المعاني متباينة المجاري في طريق الإعراب. وكل واحد منها له نحو في كلامهم ليس للآخر، ووجه ينفرد به، فلما كان ذلك كذلك وجب الفرق بينهما وأن يوسم كل جنس منها بأشكل الأشياء به، فجمع بذلك
আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী; অর্থাৎ তাঁর এই বক্তব্য যে—শব্দ বা কালাম হলো বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: আমরা আমাদের ইমামের মাযহাব বা মতবাদের নির্ভুলতা (صحة) প্রমাণ করেছি এবং আপনাকে দেখিয়েছি যে, আমাদের আকিদা বা বিশ্বাস অন্ধ অনুকরণ (تقليداً) নয়, বরং তা অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। যে দাবি করে যে কালামের চতুর্থ কোনো প্রকার আছে বা এর অধিক কিছু রয়েছে, সে মূলত অনুমানকারী অথবা সংশয়বাদী। যদি সে নিশ্চিত (متيقناً) হয়ে থাকে, তবে সে যেন সমগ্র আরবদের বাক্যালাপ থেকে এমন কোনো প্রকার আমাদের সামনে উপস্থাপন করে যা এই প্রকারভেদগুলোর বাইরে; যাতে তা সিবওয়াইহ-এর উক্তিকে খণ্ডন করতে পারে। কিন্তু সে কখনোই এর কোনো পথ পাবে না। আমরা যুক্তি ও বুদ্ধির আলোকে যা ধ্রুব সত্য হিসেবে জেনেছি এবং যা আমাদের নিকট নিশ্চিত (تيقناه) হয়েছে, কোনো দলিল (دليل) বা অকাট্য প্রমাণ (برهان) ছাড়াই কারো সংশয়ের কারণে তা পরিত্যাগ করা আমাদের জন্য আবশ্যক নয়। কারণ, সংশয় কখনো ধ্রুব সত্যকে (حقائق) প্রতিহত করতে পারে না। আর আল্লাহর তৌফিকই কাম্য।
সিবওয়াইহ-এর অনুসারীদের প্রতি অপর একটি প্রশ্ন। তাদের বলা হয়: সিবওয়াইহ এবং অন্যান্যরা কেন এই বিষয়গুলোকে বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয় হিসেবে নামকরণ করেছেন? অর্থাৎ তাদের বক্তব্য—যেমন 'রাজুল' ও 'যাইদ'; 'ক্বামা' ও 'ইয়াক্বুমু'; এবং 'মিন', 'ইলা' ও এজাতীয় শব্দসমূহ। অথচ আপনারা জানেন যে, এই সবগুলিই বক্তার কাজ, কারণ এগুলো কথা ও উচ্চারণ। কথা মূলত বক্তাই সম্পন্ন করেন এবং তা অস্তিত্বহীন থাকার পর অস্তিত্বে আনেন। সুতরাং এটি তার কাজেরই একটি অংশ। আর আপনারা তো তাদের অন্তর্ভুক্ত নন যারা মনে করেন যে, নামই হলো নামধারী (الاسم هو المسمى); কারণ আপনাদের নিকট এই ধারণাটি অসার। সুতরাং যাইদ (নামটি) সেই ব্যক্তি থেকে ভিন্ন যার প্রতি এটি ইঙ্গিত করে। আর আপনার উক্তি 'ক্বামা যাইদ'-এর মধ্যে 'ক্বামা' (দাঁড়িয়েছে) শব্দটি যাইদ-এর কাজ নয়, বরং তা বক্তার কাজ। যাইদ-এর কাজ হলো তার শারীরিক নড়াচড়া বা ক্রিয়া, আর এই শব্দটি কেবল সেই কাজের একটি বর্ণনা বা অভিব্যক্তি মাত্র। একইভাবে অন্য সকল বিষয়ও আসলে বক্তাদের কাজ। তাহলে কেন বৈয়াকরণগণ এগুলোকে এমনভাবে বিন্যস্ত করলেন এবং কেন এমন নাম দিলেন যা এগুলোর মূল প্রকৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়?
উত্তরে বলা হয়: যদিও এই বিষয়গুলো আপনাদের উল্লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী বক্তাদের কাজ, কিন্তু এগুলোর অর্থ ভিন্ন ভিন্ন এবং ব্যাকরণিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে এগুলোর গতিপথও স্বতন্ত্র। এগুলোর প্রত্যেকটির আরবী ভাষায় এমন নিজস্ব ব্যাকরণিক রীতি রয়েছে যা অন্যের নেই এবং এমন একটি দিক রয়েছে যাতে সে অনন্য। যখন বিষয়টি এমনই, তখন এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা এবং প্রতিটি শ্রেণিকে তার সাথে সর্বাধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমেই তিনি এগুলোকে সংকলিত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
أشياء، منها الفرق بين يعضها وبعض أنها وإن كانت قد جمعها أنها أفعال فهي أنواع. كما أن من أفعال العباد القيام والقعود والحركة والسكون وما أشبه ذلك ولكل نوع منها سمة ينفرد بها، وهي كلها أفعال. ومنها أن نعرف مجاريها في الإعراب، ومنها أن يسهل على متعلم العربية التوصل إليها إذا قسمت هذه الأشياء وفصلت وحصل لكل نوع منا ما ينفرد به وما يشركه فيه غيره، فلما لم يكن من ذلك بدٌ كان أولى الأشياء باللفظة الموضوعة على المسمى الدالة عليه، أن يقال لها اسم وإن كانت فعلاً لغيره، وهي دالة على المسمى بها وسمة له، فكان أولى الأشياء من هذه الأقسام الثلاثة المسمى فعلاً، ما كان عبارة عن فعل زيد وهي فعل للمتكلم فاعتورتها الفعلية من جهتين، فسميت لذلك فعلاً دون الاسم والحرف.
وسمي القسم الثالث حرفاً لأنه حد ما بين هذين القسمين ورباط لهما، والحرف حد الشيء، فكأنه لوصله بين هذين كالحروف التي تلي ما هو متصل بها، وهذا بيّن واضح. وكان أبو العباس محمد بن يزيد المبرد يقول "أجيز أن أسميها كلها أسماء" يذهب في ذلك/ إلى أن قولنا "زيد" كلمة دالة على مسمى، وقولنا "قام" كلمة دالة على حدث في زمان، وقولنا "إن ومن ولم" وما أشبه ذلك كلمة دالة على معنى، وكل واحد منها اسم لما دل عليه. وقال: "ويجوز أن اسميها كلها حروفاً. وكأنها قطع الكلام متفرقة. ويجوز أن اسميها أفعالاً" على غير طريقة أوضاع النحو بل على الحقيقة التي قدمنا ذكرها.
وأما الاحتجاج للأولين الذين زعموا أن الكلام كله اسم وفعل وحرف.
অনেক বিষয় রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো এগুলোর একটির সাথে অন্যটির পার্থক্য; যদিও এগুলোকে ক্রিয়া (أفعال) হিসেবে একত্রিত করা হয়েছে, তবুও এগুলো বিভিন্ন প্রকার। যেমন বান্দার কাজসমূহের মধ্যে রয়েছে দণ্ডায়মান হওয়া, উপবেশন করা, নড়াচড়া করা, স্থির থাকা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এগুলোর প্রতিটি প্রকারের এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা দ্বারা তা অনন্য হয়, আর এ সবগুলোই কাজ বা ক্রিয়া। এগুলোর আরেকটি বিষয় হলো ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে (إعراب) এগুলোর প্রয়োগক্ষেত্র জানা। আরেকটি উদ্দেশ্য হলো আরবি শিক্ষার্থীর জন্য এগুলো আয়ত্ত করা সহজ করে তোলা; যখন এই বিষয়গুলোকে বিভক্ত ও বিশ্লিষ্ট করা হবে এবং প্রতিটি প্রকারের জন্য তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও অন্যটির সাথে সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো নিরূপিত হবে। যেহেতু এটি ছাড়া গত্যন্তর ছিল না, তাই উদ্দিষ্ট সংজ্ঞায়িত সত্তার উপর প্রযুক্ত ও তার পরিচয়দানকারী শব্দের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হলো তাকে বিশেষ্য (اسم) বলা, যদিও তা অন্যের জন্য ক্রিয়া। এটি তার দ্বারা সংজ্ঞায়িত বিষয়ের পরিচয় বহন করে এবং তার একটি লক্ষণ। তাই এই তিন প্রকারের মধ্যে ক্রিয়া (فعل) নামকরণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হলো যা যায়েদের কাজের বর্ণনা দেয়, যদিও এটি বক্তারও একটি কাজ। ফলে দুই দিক থেকে এর ওপর ক্রিয়াশীলতা আপতিত হয়েছে; এই কারণে একে বিশেষ্য (اسم) বা অব্যয় (حرف) না বলে ক্রিয়া (فعل) নামকরণ করা হয়েছে।
তৃতীয় প্রকারকে অব্যয় (حرف) বলা হয়েছে, কারণ এটি অন্য দুই প্রকারের মধ্যবর্তী সীমা এবং তাদের মধ্যে সংযোগকারী। আর 'হরফ' মানে কোনো জিনিসের প্রান্ত বা সীমা। যেন এই দুটির মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কারণে এটি সেই অক্ষরগুলোর মতো যা তার সাথে সংযুক্ত বিষয়ের অনুগামী হয়। বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুবররাদ বলতেন, "আমি এ সবগুলোকে বিশেষ্য (اسم) নামে অভিহিত করা বৈধ মনে করি।" তিনি এ ক্ষেত্রে এই মত পোষণ করতেন যে, আমাদের 'যায়েদ' বলা একটি শব্দ যা নির্দিষ্ট কোনো সত্তাকে নির্দেশ করে; আমাদের 'ক্বামা' বলা এমন একটি শব্দ যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ঘটা কাজকে নির্দেশ করে; এবং আমাদের 'ইন্না', 'মিন' ও 'লাম' এবং এই জাতীয় শব্দগুলো কোনো অর্থের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে। আর এগুলোর প্রতিটিই যা নির্দেশ করছে তার জন্য একেকটি নাম বা বিশেষ্য। তিনি আরও বলেছেন: "আমি এই সবগুলোকে অব্যয় (حرف) হিসেবে অভিহিত করাও বৈধ মনে করি, যেন এগুলো বাক্যের একেকটি বিচ্ছিন্ন অংশ। আবার ব্যাকরণবিদদের নির্ধারিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে বরং আমরা পূর্বে যে প্রকৃত অর্থের কথা উল্লেখ করেছি, তার ভিত্তিতে এ সবগুলোকে ক্রিয়া (فعل) হিসেবেও নামকরণ করা বৈধ।"
আর যারা দাবি করেছেন যে কালাম বা বাক্য সম্পূর্ণটাই বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) ও অব্যয় (حرف) নিয়ে গঠিত, তাদের স্বপক্ষে প্রমাণাদি নিম্নরূপ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
فجعلوا العربي وغيره في ذلك سواء، فهو بعينه الاحتجاج الذي تقدم ذكره لمذهب سيبويه، لأن الكلام إذا كان مقصوداً به الإبانة عن الضمائر ومحتاجاً إليه للخطاب والمحاورات فكل فريق يخاطب بلغته كخطاب من تأتيه في لغته. وإن كان تقدم في ذلك للعرب حسن بيان، وفضل نظم وحكمة، لما حباها الله عز وجل بذلك تخصيصاً منه وتكرمة، فإذا كان كذلك، كان مرجع ذلك كله إلى أصل واحد، وهذا غير مشكل، وقد اعتبرنا ذلك في عدة لغات عرفناها سوى العربية فوجدناه كذلك، لا ينفك كلامهم كله من اسم وفعل وحرف، ولا يكاد يوجد فيه معنى رابع ولا أكثر منه؛ وإن كان ليس له ترتيب العربي ونظمه وحسن تأليفه؛ فأما القول فيما قاله سيبويه في كتابه هذا باب علم ما الكلم من العربية، وما في ذلك من الألفاظ والوجوه؛ فقد ذكرته أجمع في كتاب أفردته لتفسير رسالة كتاب سيبويه، فكرهت تطويل هذا الكتاب.
সুতরাং তারা এক্ষেত্রে আরব এবং অনারবকে সমান গণ্য করেছেন। এটি সিবওয়াইহ-এর মাযহাবের স্বপক্ষে পূর্বে উল্লেখিত সেই একই যুক্তি (احتجاج)। কারণ, কথা বলার উদ্দেশ্য যদি হয় মনের ভাব প্রকাশ করা এবং আলাপ-আলোচনা ও কথোপকথনের জন্য এর প্রয়োজন হয়, তবে প্রতিটি দলই তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলবে, যেমনভাবে তাদের কাছে আগত ব্যক্তি তার নিজ ভাষায় কথা বলে। যদিও এ ক্ষেত্রে আরবদের চমৎকার বর্ণনাভঙ্গি, শ্রেষ্ঠ কাব্যিক বিন্যাস ও প্রজ্ঞা বিদ্যমান রয়েছে—যা মহান আল্লাহ তাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ ও সম্মান হিসেবে দান করেছেন। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে এর সবকিছুই একটি মূল (أصل) উৎসের দিকে ফিরে যায় এবং এটি কোনো সমস্যাযুক্ত (مشكل) বিষয় নয়। আমরা আরবি ব্যতীত আমাদের জানা আরও বেশ কিছু ভাষায় এটি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং সেখানেও একই রূপ পেয়েছি। তাদের সকল বাক্যই বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)-এর বাইরে নয়। সেখানে চতুর্থ কোনো প্রকার বা এর অতিরিক্ত কোনো কিছু প্রায় পাওয়া যায় না। যদিও সেগুলোর বিন্যাস, শৃঙ্খলা এবং চমৎকার গঠনশৈলী আরবির মতো নয়। সিবওয়াইহ তার কিতাবে 'এটি আরবির পদ (كلم) এবং এর শব্দ (لفظ) ও আঙ্গিকসমূহ (وجوه) জানার অধ্যায়' শিরোনামে যা বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আমি সিবওয়াইহ-এর কিতাবের ব্যাখ্যার জন্য নির্ধারিত একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। তাই আমি এই কিতাবটিকে দীর্ঘায়িত করা অপছন্দ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
باب القول في اختلاف النحويين في تحديد الاسم والفعل والحرففإن قال قائل: لم اختلف النحويون في تحديد الاسم والفعل والحرف؟ وهل يجوز أن يختلف الحد إذا كان قولاً وجيزاً يدل على طبيعة الشيء الموضوع له عند الفلاسفة؟
وعندنا الحد هو الدال على حقيقة الشيء؛ فكيف يجوز اختلاف هذا وهل يجوز أن يُحد الإنسان/ لمن سأل عن حده إلا بأن يقال له: الحي الناطق المائت؛ لأن هذا هو حده على الحقيقة وينعكس عليه بمعناه؛ كقولنا: المائت الناطق الحي هو الإنسان؛ ولا يجوز أن يحد الإنسان بغير هذا الحد؛ فإن حده بغيره إنسان كان مخطئاً؛ إلا أن يعدل عن حده إلى بعض صفاته ورسومه الدالة عليه كقولنا: الإنسان حيوان ذو رجلين منتصب القامة ضحاك؛ وما أشبه ذلك.
الجواب أن يقال: إن الحد لا يجوز أن يختلف اختلاف تضاد وتنافر؛ لأن ذلك يدعو إلى فساد المحدود وخطأ من يحده؛ ولكن ربما اختلفت ألفاظه على حسب اختلاف ما يوجد منه؛ ولا يدعو ذلك إلى تضاد المحدود؛ كما يوجد الحد تارة من الأجناس والفصول؛ وتارة من المواد والصور لأن المادة تشاكل الجنس؛ والصورة تشاكل الفصل؛ ألا ترى أن الفلاسفة الذين هم معدن هذا العلم - أعني معرفة الحدود والفصول والخواص وما أشبه ذلك - قد اختلفوا في تحديد الفلسفة
নাম (الاسم), ক্রিয়া (الفعل) এবং অব্যয় (الحرف)-এর সংজ্ঞা নির্ধারণ (تحديد) বিষয়ে বৈয়াকরণদের মতপার্থক্য সংক্রান্ত আলোচনার অধ্যায়যদি কেউ প্রশ্ন করেন: বৈয়াকরণগণ কেন নাম (الاسم), ক্রিয়া (الفعل) এবং অব্যয় (الحرف)-এর সংজ্ঞা নির্ধারণে (تحديد) ভিন্নমত পোষণ করেছেন? আর দার্শনিকদের মতে সংজ্ঞা (الحد) যদি এমন একটি সংক্ষিপ্ত উক্তি হয় যা সংজ্ঞায়িত বিষয়ের প্রকৃতি নির্দেশ করে, তবে কি সেই সংজ্ঞার (الحد) ভিন্ন হওয়া বৈধ?
আমাদের নিকট সংজ্ঞা (الحد) হলো তা-ই যা বস্তুর প্রকৃত সত্তাকে (হাকিকত) নির্দেশ করে; সুতরাং এতে মতপার্থক্য কীভাবে সম্ভব? আর যদি কেউ মানুষের সংজ্ঞা (الحد) জানতে চায়, তবে তাকে 'জীবন্ত, বাকশক্তি সম্পন্ন ও মরণশীল' বলা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কি সংজ্ঞায়িত করা বৈধ? কারণ এটিই হলো প্রকৃতপক্ষে তার সংজ্ঞা (الحد) এবং এর অর্থ বিপরীতভাবেও প্রযোজ্য হয়; যেমন আমাদের বলা: 'মরণশীল, বাকশক্তি সম্পন্ন ও জীবন্ত সত্তাই হলো মানুষ'। এই সংজ্ঞা (الحد) ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে মানুষকে সংজ্ঞায়িত করা বৈধ নয়; সুতরাং কেউ যদি একে ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করে তবে সে ভুল করবে। তবে যদি সে প্রকৃত সংজ্ঞা (الحد) পরিবর্তন করে তার কিছু গুণাবলি বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য (الرسوم) উল্লেখ করে যা তাকে নির্দেশ করে, তবে তা ভিন্ন কথা; যেমন আমাদের বলা: 'মানুষ হলো এমন এক প্রাণী যার দুটি পা আছে, সে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং সে হাস্যমুখ'; অথবা এই জাতীয় কিছু।
এর উত্তর হলো: সংজ্ঞার (الحد) ক্ষেত্রে এমন কোনো ভিন্নতা থাকা বৈধ নয় যা বৈপরীত্য বা পারস্পরিক সংঘাত সৃষ্টি করে; কারণ তা সংজ্ঞায়িত বিষয়টিকে ত্রুটিপূর্ণ করে এবং সংজ্ঞাদানকারীর ভুল সাব্যস্ত করে। কিন্তু সংজ্ঞায়িত বিষয়ের বৈচিত্র্য অনুযায়ী সংজ্ঞার শব্দগত ভিন্নতা হতে পারে; তবে তা সংজ্ঞায়িত বিষয়ের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য তৈরি করে না। যেমন কখনও সংজ্ঞা (الحد) মূল শ্রেণি (الأجناس) ও পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্য (الفصول) দ্বারা গঠিত হয়, আবার কখনও উপাদান (المواد) ও রূপ (الصور) দ্বারা গঠিত হয়। কারণ উপাদান (المواد) মূল শ্রেণির (الجنس) সমরূপ এবং রূপ (الصورة) পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্যের (الفصل) সমরূপ। আপনি কি দেখছেন না যে, দার্শনিকগণ—যারা এই বিদ্যার অর্থাৎ সংজ্ঞা (الحد), পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্য (الفصول), অনন্য বৈশিষ্ট্য (الخواص) এবং এই জাতীয় বিষয়াবলির জ্ঞানের মূল আকর—তাঁরাও দর্শনের সংজ্ঞা (الحد) নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন?
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
نفسها اختلافاً، فقال بعضهم: الفلسفة إتيان الحكمة. وقال بعضهم: الفلسفة معرفة طبيعية لجميع الأشياء الموجودة. وقال آخرون: الفلسفة معرفة الأشياء الموجودة الإلهية، ويعنون المدركة عقلاً، ومعرفة الأشياء الإنسية، يعنون الأشياء المدركة بالحواس. وقال بعضهم: الفلسفة معاناة الموت، أي تعاطي الموت، يعني إماتة الشهوات، وهذا زعموا حد أفلاطن. وقال آخرون: الفلسفة الاقتداء بالباري حسب طاقة المخلوق. وقال ارسطاطاليس: الفلسفة صناعة الصناعات وعلامة العلوم. أفلا تراهم كيف قد اختلفوا هذا الاختلاف، وليس فيه تناقض لأن كل واحد منهم قصد إلى طريقٍ ما فحدها منه، وإنما ذكرنا هذه الألفاظ في تحديد/ الفلسفة ها هنا وليس من أوضاع النحو لأن هذه المسألة تجيب عنها من يتعاطى المنطق وينظر فيه. فلم نجد بداً من مخاطبتهم من حيث يعقلون، وتفهيمم من حيث يفهمون. فكذلك يقول النحويون لهم أيضاً في تحديد الاسم والفعل والحرف، كأن لكل فريق منهم غرضاً في تحديده وقصده. فمنهم من أراد التقريب على المبتدئ، فحدها من جهة تقرب عليه. ومنهم من أراد حصر أكثرها، فأتى به. ومنهم من طلب الغاية القصوى والحد على الحقيقة، فحدها على الحقيقة على ما ذكرنا. وليس في شيء مما أتوا به ما يخرج عما ذكرناه. وذلك بين في كلامهم لمن تدبره. وهو نظير ما تقدم ذكره من تحديد الفلسفة.
দর্শন নিজেই একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ বিষয়, তাই তাদের কেউ কেউ বলেছেন: দর্শন হলো প্রজ্ঞা অর্জন। আবার কেউ কেউ বলেছেন: দর্শন হলো বিদ্যমান সকল বস্তুর প্রাকৃতিক জ্ঞান। অন্যেরা বলেছেন: দর্শন হলো বিদ্যমান ঐশ্বরিক বিষয়াবলির জ্ঞান—যা দ্বারা তারা বুদ্ধি দ্বারা অনুধাবনযোগ্য বিষয়সমূহকে বুঝিয়েছেন—এবং মানবীয় বিষয়াবলির জ্ঞান, যার দ্বারা তারা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহকে বুঝিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন: দর্শন হলো মৃত্যুর অনুশীলন, অর্থাৎ মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়া, যার অর্থ হলো প্রবৃত্তি দমন করা; আর তাদের দাবি অনুযায়ী এটি প্লেটোর দেওয়া সংজ্ঞা। আবার অন্যেরা বলেছেন: দর্শন হলো সৃষ্টির সামর্থ্য অনুযায়ী স্রষ্টার অনুকরণ করা। আর এরিস্টটল বলেছেন: দর্শন হলো সকল শিল্পের শিল্প এবং সকল বিজ্ঞানের সারাংশ। আপনি কি দেখছেন না তারা কীভাবে এই মতপার্থক্যে লিপ্ত হয়েছেন? অথচ এর মধ্যে কোনো স্ববিরোধিতা নেই, কারণ তাদের প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিকে লক্ষ্য করেছেন এবং সেই অনুযায়ী এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। আমরা এখানে দর্শনের সংজ্ঞা নির্ধারণে এই শব্দগুলো উল্লেখ করেছি যা ব্যাকরণিক বিন্যাস থেকে নয়; কারণ এটি এমন একটি প্রশ্ন যার উত্তর তারা প্রদান করেন যারা যুক্তিবিদ্যা (منطق) চর্চা করেন এবং এতে গবেষণা করেন। তাই আমরা তাদের সাথে তাদের বোধগম্য পদ্ধতিতে কথা বলা এবং তাদের অনুধাবন অনুযায়ী বুঝিয়ে বলা ছাড়া কোনো উপায় খুঁজে পাইনি। একইভাবে ব্যাকরণবিদগণও তাদের নিকট বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)-এর সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে কথা বলেন, যেন তাদের প্রতিটি দলেরই সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নবাগতদের জন্য বিষয়টি সহজ করতে চেয়েছেন, ফলে তিনি সেভাবেই সংজ্ঞা দিয়েছেন যা তার জন্য সহজবোধ্য হয়। আবার কেউ কেউ এর অধিকাংশ দিককে পরিবেষ্টন করতে চেয়েছেন এবং সেভাবেই তা উপস্থাপন করেছেন। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং প্রকৃত সংজ্ঞা অন্বেষণ করেছেন, ফলে তিনি আমাদের উল্লিখিত আলোচনার ন্যায় এর প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তারা যা কিছু পেশ করেছেন, তার কোনো কিছুই আমাদের উল্লিখিত আলোচনার বাইরে নয়। আর যারা তাদের বক্তব্য নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবেন, তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট। এটি দর্শনের সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তারই অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
باب معرفة حد الاسم والفعل والحرفقد حد النحويون هذه الأشياء على ضروب. وذكر كلها يطول ويطيل الكتاب، وقد شرطنا الاختصار والإيجاز، فنذكر أجود ما قيل في ذلك، والمختار منه، وما يلزم من خالف، وما اخترناه، وبالله التوفيق.
حد الاسم
الاسم في كلام العرب ما كان فاعلاً أو مفعولاً أو واقعاً في حيز الفاعل والمفعول به. هذا الحد داخل في مقاييس النحو وأوضاعه، وليس يخرج عنه اسم البته. ولا يدخل فيه ما ليس باسم، وإنما قلنا في كلام العرب، لأنا له نقصد، وعليه نتكلم، ولأن المنطقيين وبعض النحويين قد حدوه حداً خارجاً عن أوضاع النحو، فقالوا: الاسم صوت موضوع دال باتفاق على معنى غير مقرون بزمان. وليس هذا من ألفاظ النحويين ولا أوضاعهم، وإنما هو من كلام المنطقيين وإن كان قد تعلق به جماعة من النحويين. وهو صحيح على أوضاع المنطقيين ومذهبهم لأن غرضهم غير غرضنا، ومغزاهم غير مغزانا، وهو عندنا على أوضاع النحو غير صحيح، لأنه يلزم منه أنه يكون كثير من الحروف أسماء، لأن من الحروف ما يدل على معنى دلالة غير مقرونة بزمان، نحو إن ولكن وما أشبه ذلك.
فإن قال المحتج منهم: هذا غير لازم لأنا إذا قلنا "زيد" فقد دل على مسمى تحته دلالة غير مقرونة بزمان، وإذا قلنا "أن ولكن" لم يدل على شيء؛ ولم
বিশেষ্য (الاسم), ক্রিয়া (الفعل) এবং অব্যয়ের (الحرف) সংজ্ঞা (حد) পরিচ্ছেদব্যাকরণবিদগণ (النحويون) এই বিষয়গুলোকে বিভিন্ন প্রকারে সংজ্ঞায়িত করেছেন। সেগুলোর সব উল্লেখ করা দীর্ঘসাধ্য এবং তা কিতাবটিকেও কলেবরে বৃদ্ধি করবে, অথচ আমরা সংক্ষেপণ ও সারসংক্ষেপের শর্ত আরোপ করেছি। তাই আমরা এই বিষয়ে যা সবচেয়ে উত্তম বলা হয়েছে, যা পছন্দনীয় (المختار), বিরোধিতাকারীদের জন্য যা আবশ্যক এবং আমরা যা নির্বাচন করেছি তা উল্লেখ করব; আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।
বিশেষ্যের (الاسم) সংজ্ঞা (حد)
আরবদের ভাষায় বিশেষ্য (الاسم) হলো তা যা কর্তা (فاعل) বা কর্ম (مفعول) হয় অথবা কর্তা ও কর্মের স্থলাভিষিক্ত হয়। এই সংজ্ঞাটি (حد) ব্যাকরণের (النحو) মাপকাঠি ও বিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত এবং কোনো বিশেষ্যই (اسم) এর বাইরে নয়। আর যা বিশেষ্য (اسم) নয় তা এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয় না। আমরা "আরবদের ভাষায়" কথাটি বলেছি কারণ আমরা এটিকেই উদ্দেশ্য করেছি এবং এর ওপর ভিত্তি করেই আলোচনা করছি। কেননা যুক্তিবিদগণ (المنطقيون) এবং কিছু ব্যাকরণবিদ (النحويون) একে ব্যাকরণের বিন্যাস বহির্ভূত একটি সংজ্ঞা (حد) দিয়েছেন। তারা বলেছেন: বিশেষ্য (الاسم) হলো এমন একটি গঠিত ধ্বনি (صوت موضوع) যা কোনো সময়ের (زمان) সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়ে এককভাবে একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে। এটি ব্যাকরণবিদদের (النحويون) পরিভাষা বা বিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি যুক্তিবিদদের (المنطقيون) কথা, যদিও একদল ব্যাকরণবিদ (النحويون) এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন। যুক্তিবিদদের (المنطقيون) বিন্যাস ও মাযহাব (مذهب) অনুযায়ী এটি সঠিক, কারণ তাদের উদ্দেশ্য আমাদের উদ্দেশ্য থেকে ভিন্ন এবং তাদের লক্ষ্য আমাদের লক্ষ্য থেকে আলাদা। তবে ব্যাকরণের (النحو) বিন্যাস অনুযায়ী আমাদের নিকট এটি সঠিক নয়; কারণ এর ফলে অনেক অব্যয়ও (الحروف) বিশেষ্য (أسماء) হয়ে যাবে। কেননা অব্যয়সমূহের (الحروف) মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা সময়ের (زمان) সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়েই অর্থের ওপর নির্দেশ করে, যেমন: ‘ইন্না’ (إن), ‘লাকিন্না’ (لكن) এবং এই জাতীয় শব্দ।
তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদকারী যদি বলেন: এটি অপরিহার্য নয়, কারণ আমরা যখন "যায়েদ" বলি, তখন তা সময়ের (زمان) সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়েই একটি সত্তার ওপর নির্দেশ করে। কিন্তু যখন আমরা "আন" (أن) বা "লাকিন্না" (لكن) বলি, তখন তা কোনো কিছুর ওপর নির্দেশ করে না; এবং অবশিষ্টাংশ...
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
يكن كلاماً حتى يقرن بجملة. قيل له: الاسم يدل على مسماه كما ذكرت، ولا تحصل منه فائدة مفرداً حتى نقرنه باسم مثله، أو فعل، أو جملة، وإلا كان ذكرك له لغواً وهذراً غير مفيد. وكذلك الحرف إذا ذكرته دل على المعنى الموضوع له، ثم لم تكمل الفائدة بذكرك إياه حتى تقرنه بما تكمل به فائدته، فهو والاسم في هذا سواء لا فرق بينهما.
وقال آخرون: الاسم صوت موضوع دال باتفاق على معنى بلا زمان، ولا يدل جزؤه على شيء من معناه. وهذا أيضاً من كلام القوم، وإن كانت فيه هذه الزيادة اليسيرة، وقد مضى القول فيه.
وأما سيبويه فلم يحد الاسم حداً يفصله من غيره، ولكن مثله فقال "والاسم رجل وفرس". فقال أصحابه ترك تحديده ظناً منه أنه غير مشكل، وحد الفعل لأنه عنده أصعب من الاسم. ونحن نذكر ما حده به في موضعه.
وقال الأخفش سعيد بن مسعدة: الاسم ما جاز فيه نفعني وضرني. يعني ما جاز أن يخبر عنه، وإنما أراد التقريب على المبتدئ كما ذكرت لك فيما مضى ولم يرد التحقيق. وفساد هذا الحد بين، لأن من الأسماء ما لا يجوز الإخبار عنه نحو كيف وأين ومتى وأنى وأيان، لا يجوز الإخبار عن شيء منها، وهي داخلة في حدنا الذي قدمنا ذكره لأنها في حيز المفعول به لأن "كيف" سؤال عن الحال، والحال مفعول بها عند البصريين، وعند الكسائي هي مضارعة للوقت
এটি ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না একে একটি বাক্যের সাথে যুক্ত করা হয়। তাকে বলা হয়েছে: নাম তার নামীয় সত্তাকেই নির্দেশ করে যেমনটি আপনি উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এটি এককভাবে কোনো উপযোগিতা প্রদান করে না যতক্ষণ না আমরা একে তার অনুরূপ কোনো নাম, অথবা ক্রিয়া, অথবা কোনো পূর্ণ বাক্যের সাথে যুক্ত করি। অন্যথায় আপনার এই নামকরণ হবে অসার এবং অর্থহীন প্রলাপ যা কোনো উপকারে আসে না। অনুরূপভাবে অব্যয়, যখন আপনি তা উল্লেখ করেন, তখন তা তার জন্য নির্ধারিত অর্থের ওপর নির্দেশ করে, কিন্তু আপনি যতক্ষণ না এর সাথে এমন কিছু যুক্ত করছেন যা দ্বারা এর উপযোগিতা পূর্ণ হয়, ততক্ষণ এর দ্বারা কোনো ফায়দা হাসিল হয় না। সুতরাং এই ক্ষেত্রে নাম এবং অব্যয় উভয়ই সমান, তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
অন্য অনেকে বলেছেন: নাম হলো এমন একটি নির্ধারিত ধ্বনি যা কোনো কাল বা সময়ের সম্পৃক্ততা ছাড়াই পরিভাষাগতভাবে একটি সুনির্দিষ্ট অর্থের ওপর নির্দেশ করে এবং এর কোনো অংশ তার সামগ্রিক অর্থের কোনো অংশের ওপর আলাদাভাবে নির্দেশ করে না। এটিও ওই সম্প্রদায়েরই বক্তব্য, যদিও এতে সামান্য কিছু অতিরিক্ত সংযোজন রয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিপূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে।
আর সিবওয়াইহ-র ক্ষেত্রে কথা হলো, তিনি নামের এমন কোনো তাত্ত্বিক সংজ্ঞা প্রদান করেননি যা একে অন্য থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করে দেয়, বরং তিনি কেবল এর উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, "নাম হলো যেমন—ব্যক্তি এবং ঘোড়া।" তাঁর অনুসারীরা বলেছেন যে, তিনি এটি অস্পষ্ট নয় মনে করেই এর সংজ্ঞা প্রদান করা বর্জন করেছেন, আর তিনি ক্রিয়ার সংজ্ঞা প্রদান করেছেন কারণ তাঁর নিকট এটি নামের তুলনায় অধিক জটিল ছিল। আমরা যথাস্থানে তাঁর প্রদত্ত সংজ্ঞাটি উল্লেখ করব।
আল-আখফাশ সাঈদ ইবনে মাসআদাহ বলেছেন: নাম হলো তা-ই যার ক্ষেত্রে 'সে আমাকে উপকৃত করেছে' এবং 'সে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে' বলা ব্যাকরণগতভাবে বৈধ। অর্থাৎ যার সম্পর্কে সংবাদ বা তথ্য প্রদান করা বৈধ। যেমনটি আমি ইতিপূর্বে আপনার কাছে উল্লেখ করেছি, তিনি এর দ্বারা কেবল একজন শিক্ষানবিশের জন্য বিষয়টিকে সহজবোধ্য করতে চেয়েছেন, এর প্রকৃত তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। আর এই সংজ্ঞার ত্রুটি সুস্পষ্ট, কারণ নামসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করা বৈধ নয়, যেমন: 'কাইফা' (কিভাবে), 'আইনা' (কোথায়), 'মাতা' (কখন), 'আন্না' (কোথা থেকে) এবং 'আইয়ানা' (কখন)। এগুলোর কোনোটি সম্পর্কেই সংবাদ প্রদান করা বৈধ নয়, অথচ এগুলো আমাদের ইতিপূর্বে উল্লিখিত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। কারণ এগুলো কর্মকারকের পর্যায়ভুক্ত; কেননা 'কাইফা' শব্দটি অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য ব্যবহৃত হয়, আর বসরী ব্যাকরণবিদদের মতে অবস্থা হলো এক প্রকার কর্ম, আর কিসায়ীর মতে এটি সময়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫০)
والوقت مفعول فيه. وهي عند الفراء بمعنى الجزاء الممكن وغير الممكن. وله في ذلك شرح طويل، إلا أنه لا يتبع الفعل بعد الفاعل إلا مفعول، أو ما كان في حيزه. و "أين" وأخواتها ظروف، والظروف كلها مفعول فيها، وقال آخرون: الاسم ما دل على مسمى. وهذا وصف له لا حد.
وقال أبو بكر بن السراج: الاسم ما دل على معنى، وذلك المعنى يكون شخصاً وغير شخص. وهذا أيضاً حد غير صحيح، لأن قوله الاسم ما دل على معنى يلزمه منه أن يكون ما دل من حروف المعاني على معنى واحد اسماً نحو أن ولم وما أشبه ذلك. وليس قوله وذلك المعنى يكون شخصاً وغير شخص، بمخرج له عما ذكرنا، بل يؤكد عليه الإلزام، لأنه إن جعل أحد قسمي المعنى الذي دل على الاسم واقعاً على غير شخص، فحروف المعاني داخلة معه، وهذا لازم له.
وكان مما اختاره أبو الحسن بن كيسان عند تحصيله وتحقيقه أن قال حاكياً عن بعض النحويين: الأسماء ما أبانت عن الأشخاص، وتضمنت معانيها نحو رجل وفرس، ثم قال: وهذا قول جامع. وعوار هذا الحد أظهر من أن نكثر الكلام فيه، لأن من الأسماء ما لا يقع على الأشخاص وهي المصادر كلها. ولابن كيسان في كتبه حدود للاسم غير هذا هي من جنس حدود النحويين. وحده في الكتاب المختار بمثل الحد الذي ذكرناه من كلام المنطقيين.
এবং সময় হলো আধার (مفعول فيه)। আল-ফাররার মতে, এটি সম্ভাব্য ও অসম্ভব প্রতিদানের অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ বিষয়ে তার দীর্ঘ ব্যাখ্যা রয়েছে, তবে কর্তা (فاعل)-এর পরে ক্রিয়াকে কোনো কর্ম (مفعول) বা তার পর্যায়ভুক্ত বিষয় ছাড়া অনুসরণ করা হয় না। আর "কোথায়" এবং এর সমগোত্রীয় শব্দগুলো হলো স্থান-কাল বাচক অব্যয় (ظروف), এবং সমস্ত স্থান-কাল বাচক অব্যয়ই আধার (مفعول فيه)-এর অন্তর্ভুক্ত। অন্যেরা বলেছেন: বিশেষ্য (الاسم) হলো তা যা নামধারী সত্তাকে (مسمى) নির্দেশ করে। এটি এর একটি বিবরণ মাত্র, কোনো সংজ্ঞায়ন (حد) নয়।
আবু বকর ইবনে আস-সাররাজ বলেছেন: বিশেষ্য (الاسم) হলো তা যা কোনো অর্থের (معنى) প্রতি নির্দেশ করে, আর সেই অর্থ ব্যক্তি হতে পারে আবার ব্যক্তি ছাড়াও অন্য কিছু হতে পারে। এটিও একটি সঠিক সংজ্ঞায়ন (حد) নয়, কারণ তার উক্তি "বিশেষ্য হলো তা যা কোনো অর্থের প্রতি নির্দেশ করে" হতে এটি অনিবার্য হয়ে পড়ে যে, অর্থবোধক অব্যয়সমূহের (حروف المعاني) মধ্যে যা একটি মাত্র অর্থের প্রতি নির্দেশ করে তাও বিশেষ্য হবে, যেমন: "আন" ও "লাম" এবং এ জাতীয় শব্দসমূহ। আর তার উক্তি "সেই অর্থ ব্যক্তি হতে পারে আবার ব্যক্তি ছাড়াও অন্য কিছু হতে পারে"—তাকে আমাদের উল্লিখিত আপত্তি থেকে মুক্তি দেয় না, বরং এটি সেই অনিবার্য সিদ্ধান্তকেই আরও জোরালো করে। কারণ তিনি যদি বিশেষ্যের নির্দেশিত অর্থের দুই প্রকারের একটিকে ব্যক্তির বহির্ভূত কিছু গণ্য করেন, তবে অর্থবোধক অব্যয়সমূহও (حروف المعاني) এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে, আর এটি তার জন্য অপরিহার্য ফল।
আবু আল-হাসান ইবনে কিসান তার সংকলন ও গবেষণাকালে যা নির্বাচন করেছিলেন তা হলো, তিনি কিছু ব্যাকরণবিদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: বিশেষ্য (الأسماء) হলো সেই সকল শব্দ যা ব্যক্তি বা বস্তুকে সুস্পষ্ট করে এবং তাদের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন: "ব্যক্তি" ও "ঘোড়া"। এরপর তিনি বললেন: এটি একটি সামগ্রিক (جامع) কথা। তবে এই সংজ্ঞার (الحد) ত্রুটি এতোটাই স্পষ্ট যে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই; কারণ এমন কিছু বিশেষ্য রয়েছে যা কোনো ব্যক্তির ওপর প্রযুক্ত হয় না, আর সেগুলো হলো সকল ক্রিয়ামূল (المصادر)। ইবনে কিসানের গ্রন্থসমূহে বিশেষ্যের (الاسم) আরও কিছু সংজ্ঞা (حدود) রয়েছে যা ব্যাকরণবিদদের সংজ্ঞার অনুরূপ। তিনি আল-কিতাব আল-মুখতার গ্রন্থে যুক্তিবিদদের (المنطقيين) সংজ্ঞার অনুরূপ সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫১)
فأما حد أبي العباس المبرد للاسم فهو الذي ذكره في أول المقتضب، حين قال الاسم ما كان واقعاً على معنى، نحو رجل وفرس وزيد وعمرو وما أشبه ذلك، ويعتبر الاسم بواحده كل ما دخل عليه حرفٌ من حروف الخفض فهو اسم، فإن امتنع من ذلك فليس باسم. وليس غرض أبي العباس ها هنا تحديد الاسم على الحقيقة، وإنما قصد التقريب على المبتدئ، فذكر أكثر ما يعم الأسماء المتمكنة. وقوله ما دل على معنى هو الذي أخذه ابن السراج وقسمه قسمين حين قال: وذلك المعنى يكون شخصاً وغير شخص. وقد ذكرنا ما يلزمه.
وقد أخذ على المبرد أيضاً في هذا الحد قوله: ما دخل عليه حرف خفض فهو اسم، وما امتنع منه فليس باسم. وقيل: إن من الأسماء ما لا تدخل عليه حروف الخفض، نحو: كيف، وصه، ومه، وما أشبه ذلك. وللمناضل عن أبي العباس في هذا جوابان: أحدهما ما قدمنا ذكره، وهو أنه قصد الإبانة عن الأسماء المتمكنة الجارية بالإعراب، أو المستحقة له، وهي لا تنفك مما ذكرته، ولم يرد الإحاطة بالأسماء كلها.
والجواب الآخر هو ما احتججت به أنا عنه، واستخرجته له، ولم أر أحداً من أصحابنا ذكره. أقول: إن حد أبي العباس هذا في قوله تعتبر الأسماء بدخول حروف الخفض عليها، غير فاسد، لأن الشيء قد يكون له أصل مجتمع عليه، ثم يخرج منه بعضه لعلة تدخل عليه، فلا يكون ذلك ناقضاً للباب، بل يخرج منه ما خرج بعلته، ويبقى الثاني على حاله. ألا ترى أن إجماع النحويين كلهم على أن أصل الإعراب للأسماء، وأصل البناء للحروف والأفعال، غير طائفة زعموا
আবু আল-আব্বাস আল-মুবররাদ প্রদত্ত বিশেষ্যের (اسم) সংজ্ঞা (حد) হলো সেটি, যা তিনি আল-মুকতাদাব গ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করেছেন। যখন তিনি বলেন: বিশেষ্য (اسم) হলো তা যা কোনো অর্থের ওপর প্রযুক্ত হয়, যেমন—পুরুষ, ঘোড়া, যাইদ, আমর এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। বিশেষ্যকে (اسم) চেনার উপায় হলো, যার ওপর হুরুফে খফদ (حروف الخفض) এর মধ্য হতে কোনো একটি অক্ষর প্রবেশ করে তা-ই বিশেষ্য (اسم); আর যা তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে তা বিশেষ্য (اسم) নয়। এখানে আবু আল-আব্বাসের উদ্দেশ্য বিশেষ্যের (اسم) প্রকৃত স্বরূপ নির্ধারণ করা ছিল না, বরং তিনি কেবল নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি সহজবোধ্য করতে চেয়েছেন। তাই তিনি অধিকাংশ ইসম মুতামাক্কিন (الأسماء المتمكنة)-এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করেছেন। আর তার এই কথা—‘যা কোনো অর্থের ওপর দালালত (دلالة) করে’—সেটি ইবনে আস-সাররাজ গ্রহণ করেছেন এবং একে দুই ভাগে বিভক্ত করে বলেছেন: ‘সেই অর্থটি সত্তা হতে পারে অথবা সত্তা বহির্ভূতও হতে পারে’। এ বিষয়ে যা যা আবশ্যক তা আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি।
আল-মুবররাদের এই সংজ্ঞার (حد) ওপর আরও একটি আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে তার এই বক্তব্যের কারণে: ‘যার ওপর হুরুফে খফদ (حروف الخفض) প্রবেশ করে তা বিশেষ্য (اسم), আর যা তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে তা বিশেষ্য (اسم) নয়।’ বলা হয়েছে যে: এমন কিছু বিশেষ্য (اسم) রয়েছে যেগুলোর শুরুতে হুরুফে খফদ (حروف الخفض) প্রবেশ করে না, যেমন: কাইফা, সাহ, মাহ এবং এ জাতীয় শব্দসমূহ। আবু আল-আব্বাসের পক্ষ অবলম্বনকারীদের নিকট এর দুটি উত্তর রয়েছে: একটি হলো যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ তিনি কেবল ওই সকল ইসম মুতামাক্কিন (الأسماء المتمكنة) সম্পর্কে বর্ণনা করতে চেয়েছেন যেগুলো ইরাব (إعراب) অনুযায়ী পরিচালিত হয় অথবা ইরাব (إعراب) গ্রহণের যোগ্যতা রাখে, আর এই শব্দগুলো যা তিনি উল্লেখ করেছেন তা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তিনি এখানে সমস্ত বিশেষ্যকে (اسم) পরিবেষ্টন করার ইচ্ছা করেননি।
দ্বিতীয় উত্তরটি হলো যা আমি তার পক্ষ থেকে দলীল (حجة) হিসেবে পেশ করেছি এবং গবেষণা করে বের করেছি, যা আমাদের সঙ্গীদের মধ্য থেকে কাউকে উল্লেখ করতে দেখিনি। আমি বলি: আবু আল-আব্বাসের এই সংজ্ঞা (حد)—যেখানে তিনি হুরুফে খফদ (حروف الخفض) প্রবেশের মাধ্যমে বিশেষ্যের (اسم) পরিচয় নির্ধারণ করেছেন—তা ত্রুটিযুক্ত নয়। কেননা, কোনো বিষয়ের এমন একটি আসল (أصل) থাকতে পারে যার ওপর ইজমা (إجماع) বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত, অতঃপর কোনো একটি ইল্লত (علة) বা কারণের দরুন তার কিছু অংশ সেই নিয়মের বাইরে চলে যেতে পারে। এতে করে মূল বিষয়টি ক্ষুণ্ণ হয় না, বরং যা কোনো ইল্লত (علة) বা সংগত কারণে বেরিয়ে গেছে তা স্বতন্ত্র থাকে এবং অবশিষ্ট বিষয়গুলো আপন অবস্থায় বহাল থাকে। আপনি কি দেখেন না যে, সকল ব্যাকরণবিদের ইজমা (إجماع) রয়েছে যে, মূলত ইরাব (إعراب) হলো বিশেষ্যের (اسم) জন্য এবং মূলত বিনা (بناء) হলো হরফ (حروف) ও ফেল (أفعال)-এর জন্য; কেবল একটি দল ব্যতীত যারা দাবি করেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫২)
أن الأفعال أيضاً مستحقة في الأصل للإعراب، إلا أنهم مجمعون على أن الأسماء كلها مستحقة في الأصل للإعراب، ثم نرى كثيراً منها غير مُعرب لعلل فيها، ولا يكون ذلك مخرجاً لها عن الاسمية. وكذلك الأفعال عند البصريين خاصة، كلها مستحقة للبناء لعللٍ نذكرها في موضعها من هذا الباب، ثم قد رأينا جنساً منها مُعرباً لسبب أوجب له ذلك، وليس ذلك بمُخرجِ له من الفعلية. ولهذا نظائر كثيرة. وكذلك الأسماء مستحقة لدخول حروف الخفض عليها في الأصول، ثم إن عرض لبعضها علة تمنعه من ذلك، فليس ذلك يناقض لحدها واستحقاقها. وهذا بين لمن تدبره.
سؤال على أصحاب المبرد وغيره. إن قال قائل: فما العلة التي منعت هذه الأسماء من دخول حروف الخفض عليها، وقد ذكرت أن الأسماء كلها مستحقة لدخول حروف الخفض عليها وأنه لا يمتنع من ذلك إلا ما دخلته علة؟
الجواب أن يقال: أما "كيف" فإنما امتنعت من ذلك لأنها سؤال عن حال، والحال لا يسوغ دخول حروف الخفض عليها في قولك هذا عبد الله صحيحاً وذاك عبد الله منطلقاً، وأقبل زيد راكباً، فكان ما وُضع موضع الحال ممتنعاً مما امتنعت منه. أما "صه ومه" فإنهما واقعان موقع فعل الأمر. فمعنى صه اسكت ومعنى مه اكفف، ودخول حروف الخفض على الفعل محال، لعلل تذكر في موضعها من هذا الكتاب، فلذلك لا تدخل على ما وقع موقعه. وقد حُدت الأسماء بحدود كثيرة غير هذا، كرهنا الإطالة بذكرها، لأن فيما ذكرنا دليلاً عليها.
حد الفعل
الفعل على أوضاع النحويين، ما دل على حدث، وزمان ماض أو مستقبل
প্রকৃতপক্ষে ক্রিয়াসমূহও (الأفعাল) মূলত ই’রাব বা রূপান্তরের (إعراب) দাবি রাখে। তবে তারা এ বিষয়ে একমত যে, সমস্ত বিশেষ্য (الأسماء) মূলত ই’রাব বা রূপান্তরের (إعراب) হকদার। এরপর আমরা সেগুলোর মধ্যে অনেককে কোনো নির্দিষ্ট কারণের (علل) ফলে ই’রাবহীন (غير مُعرب) দেখি, তবে তা সেগুলোকে বিশেষ্যত্ব (الاسمية) থেকে বের করে দেয় না। একইভাবে বিশেষ করে বসরী (البصريين) ব্যাকরণবিদদের মতে, সমস্ত ক্রিয়া মূলত বিনাই বা অপরিবর্তনীয় (بناء) হওয়ার দাবি রাখে এমন সব কারণের (علل) ভিত্তিতে যা আমরা এই অধ্যায়ের যথাস্থানে উল্লেখ করব। অতঃপর আমরা তাদের এক প্রকারকে রূপান্তরশীল (مُعرب) হিসেবে দেখি এমন এক সাববে বা কারণের (سبب) জন্য যা একে আবশ্যক করেছে, এবং এটি তাকে ক্রিয়াশীলতা (الفعلية) থেকে বের করে দেয় না। এর অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। অনুরূপভাবে, বিশেষ্যসমূহ (الأسماء) মূলগতভাবে নিজেদের ওপর অব্যয় বা হরফে খফদ (حروف الخفض) প্রবেশের দাবি রাখে। এরপর যদি তাদের কোনোটির ক্ষেত্রে এমন কোনো কারণ (علة) দেখা দেয় যা তাকে তা থেকে বিরত রাখে, তবে এটি তার সংজ্ঞা ও যোগ্যতার পরিপন্থী নয়। যারা এটি নিবিড়ভাবে চিন্তা করেন তাদের কাছে এটি সুস্পষ্ট।
আল-মুবাররাদ ও অন্যদের অনুসারীদের প্রতি প্রশ্ন: যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: এই বিশেষ্যগুলোকে (الأسماء) তাদের ওপর অব্যয় বা হরফে খফদ (حروف الخفض) প্রবেশ করা থেকে কোন কারণটি (العلة) বাধা প্রদান করেছে, অথচ আপনি উল্লেখ করেছেন যে সমস্ত বিশেষ্য (الأسماء) মূলত তাদের ওপর অব্যয় বা হরফে খফদ (حروف الخفض) প্রবেশের দাবি রাখে এবং কোনো কারণ (علة) ব্যতিরেকে তা থেকে বঞ্চিত হয় না?
উত্তরে বলা হবে: ‘কাইফা’ (كيف) এর কথা যদি ধরি, তবে এটি তা থেকে বিরত থাকে কারণ এটি অবস্থা (حال) সম্পর্কে প্রশ্ন। আর অবস্থা বা হাল (الحال) এর ওপর অব্যয় বা হরফে খফদ (حروف الخفض) প্রবেশ করা বৈধ নয়; যেমন আপনার উক্তি— ‘হাযা আবদুল্লাহি সাহীহান’ (এটি আবদুল্লাহ সুস্থ অবস্থায়) এবং ‘যালিকা আবদুল্লাহি মুনতালিকান’ (ঐটি আবদুল্লাহ প্রস্থানরত অবস্থায়) এবং ‘আকবালা যাইদুন রাকিবান’ (যাইদ আরোহী অবস্থায় উপস্থিত হলো)। সুতরাং যা হাল বা অবস্থার স্থলাভিষিক্ত হয়, তা ঐসব বিষয় থেকে বিরত থাকে যা থেকে হাল (الحال) বিরত থাকে। আর ‘সাহ’ (صه) ও ‘মাহ’ (مه) এর ব্যাপার হলো, তারা অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়া বা ফে’লে আমরের (فعل الأمر) স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং ‘সাহ’ এর অর্থ হলো ‘চুপ করো’ (اسكت) এবং ‘মাহ’ এর অর্থ হলো ‘বিরত থাকো’ (اكفف)। আর ক্রিয়ার (الفعل) ওপর অব্যয় বা হরফে খফদ (حروف الخفض) প্রবেশ করা অসম্ভব এমন সব কারণের (علل) জন্য যা এই কিতাবের যথাস্থানে বর্ণিত হবে। অতএব যা ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয় তার ওপরও তা (অব্যয়) প্রবেশ করবে না। এছাড়া বিশেষ্যের (الأسماء) আরও অনেক সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে যা দীর্ঘায়িত হওয়ার ভয়ে আমরা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম, কারণ আমরা যা উল্লেখ করেছি তার মধ্যেই সেগুলোর দলিল বিদ্যমান।
ক্রিয়ার (الفعل) সংজ্ঞা
ব্যাকরণবিদদের (النحويين) পরিভাষায় ক্রিয়া (الفعل) হলো যা কোনো ঘটনা বা কাজ (حدث) এবং অতীত কাল (زمان ماض) বা ভবিষ্যৎ (مستقبل) নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
نحو قام يقوم: وقعد يقعد، وما أشبه ذلك. والحدث المصدر. فكل شيء دل على ما ذكرناه معاً فهو فعل. فإن دل على حدث وحده فهو مصدر؛ نحو الضرب والحمد والقتل. وإن دل على زمان فقط فهو ظرف من زمان. وهذا معنى قول سيبويه "وأما الفعل فأمثلة أخذت من لفظ أحداث الأسماء وبُنيت لما مضى ولما يكون ولما هو كائن لم ينقطع". وقد أشبعت المعنى في تفسير كلام سيبويه هذا، في تفسير رسالته فكرهت الإطالة بإعادته ها هنا، لأنه ليس موضعه.
وحد بعض النحويين الفعل بأن قال: هو ما كان صفة غير موصوف؛ نحو قولك: هذا رجل يقوم. فيقول صفة لرجل؛ ولا يجوز أن تصف يقوم بشيء. قيل له فإن الظروف قد تكون صفات للأسماء، ولا توصف هي. فقال: الظروف واقعة مواقع الأفعال، فالأفعال على الحقيقة هي التي يوصف بها. وليس ما قاله بشيء، لأنا قد نرى الظروف توصف في قولنا: مكاناً طيباً، ومكاناً حسناً وجلسنا مجلساً واسعاً، وما أشبه ذلك.
وقد ذكرنا أن الأفعال عبارة عن حركات الفاعلين، وليست في الحقيقة أفعالاً للفاعلين، إنما هي عبارة عن أفعالهم، وأفعال المعبرين عن تلك الأفعال. وإن كان ذلك كما ذكرنا، والحركة لا تبقى وقتين، بطل من ذلك أن يكون فعل دائم. فمحال قول من قال من الكوفيين فعل دائم. ونحن نذكر حقيقة القول في فعل الحال في موضعه إن شاء الله.
যেমন ক্বামা ইয়াক্বূমু এবং ক্বা‘আদা ইয়াক্বউদু এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। আর কাজ বা ঘটনা (حدث) হলো ক্রিয়ামূল (مصدر)। অতএব যা কিছু আমরা একত্রে উল্লেখ করেছি তা যদি কোনো কিছুকে নির্দেশ করে তবে তা ক্রিয়া (فعل)। আর যদি তা কেবল কোনো কাজ বা ঘটনাকে (حدث) নির্দেশ করে তবে তা ক্রিয়ামূল (مصدر); যেমন প্রহার (الضرب), প্রশংসা (الحمد) এবং হত্যা (القتل)। আর যদি তা কেবল সময়কে নির্দেশ করে তবে তা কালবাচক পাত্র (ظرف زمان)। সিবওয়াইয়ের বক্তব্যের মর্মার্থ এটাই যে, "আর ক্রিয়া (فعل) হলো এমন কিছু রূপ বা উদাহরণ যা বিশেষ্যের কাজের শব্দমূল থেকে গৃহীত হয়েছে এবং যা অতীত, ভবিষ্যৎ এবং এমন বর্তমানের জন্য গঠিত হয়েছে যা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান।" আমি সিবওয়াইয়ের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় এবং তাঁর রিসালাহ-এর ব্যাখ্যায় এই অর্থটিকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি, তাই এখানে তা পুনরায় উল্লেখ করে দীর্ঘ করতে চাচ্ছি না, কারণ এটি তার উপযুক্ত স্থান নয়।
কিছু ব্যাকরণবিদ ক্রিয়াকে (فعل) সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: এটি এমন যা নিজে বিশেষণ (صفة) হয় কিন্তু তার কোনো বিশেষিত (موصوف) রূপ থাকে না; যেমন আপনার কথা: 'এই লোকটি দাঁড়াচ্ছে'। এখানে 'দাঁড়াচ্ছে' শব্দটি লোকটির বিশেষণ (صفة); আর 'দাঁড়াচ্ছে' শব্দটিকে অন্য কিছু দ্বারা বিশেষিত করা বৈধ নয়। তাকে বলা হলো যে, স্থান-কালবাচক শব্দগুলোও (الظروف) বিশেষ্যের বিশেষণ (صفة) হতে পারে, অথচ সেগুলো নিজে বিশেষিত হয় না। তিনি উত্তরে বললেন: স্থান-কালবাচক শব্দগুলো (الظروف) ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়, তাই মূলত ক্রিয়াগুলোই (الأفعال) প্রকৃত অর্থে বিশেষণ (صفة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে তাঁর এই বক্তব্য সঠিক নয়, কারণ আমরা স্থান-কালবাচক শব্দগুলোকেও (الظروف) বিশেষিত হতে দেখি, যেমন আমাদের কথা: 'উত্তম স্থান', 'সুন্দর স্থান' এবং 'আমরা একটি প্রশস্ত মজলিসে বসেছি' এবং এই জাতীয় উদাহরণ।
আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, ক্রিয়াগুলো (الأفعال) মূলত কর্তাদের (فاعلين) গতির বহিঃপ্রকাশ মাত্র। প্রকৃতপক্ষে সেগুলো কর্তাদের কাজ নয়, বরং সেগুলো তাদের কাজের এবং সেই কাজগুলোকে যারা ব্যক্ত করে তাদের কাজের একটি অভিব্যক্তি। আর বিষয়টি যদি আমাদের বর্ণনামতো হয়, এবং যেহেতু গতি বা নড়াচড়া দুই সময়ব্যাপী স্থায়ী হয় না, তাই 'স্থায়ী ক্রিয়া' (فعل دائم) থাকার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়। সুতরাং কুফাবাসীদের মধ্যে যারা 'স্থায়ী ক্রিয়া' (فعل دائم) এর প্রবক্তা, তাদের কথা অসম্ভব। আর আমরা বর্তমান কালের ক্রিয়া (فعل الحال) সম্পর্কিত বক্তব্যের প্রকৃত তত্ত্ব ইনশাআল্লাহ তার যথোপযুক্ত স্থানে আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
وأما القول في الفعل والمصدر، وأيهما مأخوذ من صاحبه، فإنا نذكره بعقب هذا الباب إن شاء الله.
حد الحرف
الحروف على ثلاثة أضرب، حروف المعجم التي هي أصل مدار الألسن عربيها وعجميها، وحروف الأسماء والأفعال. والحروف التي هي أبعاضها نحو العين من جعفر والضاد من ضرب وما أشبه ذلك، ونحو النون من أن واللام من لم وما أشبه ذلك. وحروف المعاني التي تجئ مع الأسماء والأفعال لمعان.
فأما حروف المعجم فهي أصوات غير متوافقة، ولا مقترنة، ولا دالة على معنى من معاني الأسماء والأفعال والحروف، إلا أنها أصل تركيبها.
وأما الحروف التي هي أبعاض الكلم، فالبعض حد منسوب إلى ما هو أكثر منه، كما أن الكل منسوب إلى ما هو أصغر منه.
وأما حد حروف المعاني وهو الذي يلتمسه النحويون، فهو أن يقال: الحرف ما دل على معنى في غيره، نحو من وإلى وثم وما أشبه ذلك. وشرحه أن "من" تدخل في الكلام للتبعيض، فهي تدل على تبعيض غيرها، لا على تبعيضها نفسها، وكذلك إذا كانت لابتداء الغاية، كانت غاية غيرها. وكذلك سائر وجوهها. وكذلك "إلى" تدل على المنتهى، فهي تدل على منتهى غيرها، لا على منتهاها نفسها، وكذلك سائر حروف المعاني.
আর ক্রিয়া ও মূলক্রিয়া এবং এদের কোনটি অপরটি থেকে গৃহীত, সে সম্পর্কিত আলোচনা আমরা ইনশাআল্লাহ এই অধ্যায়ের পরেই উল্লেখ করব।
অব্যয়ের (حرف) সংজ্ঞা (حد)
অব্যয়সমূহ তিন প্রকার: বর্ণমালার বর্ণসমূহ যা আরবি ও অনারবি সকল ভাষার আবর্তনের মূল (أصل), এবং বিশেষ্য ও ক্রিয়ার বর্ণসমূহ। আর ঐসব বর্ণ যা শব্দের অংশ বিশেষ, যেমন 'জাফর' শব্দের 'আইন' এবং 'দারা-বা' শব্দের 'দাদ' ও এর অনুরূপ বর্ণসমূহ, এবং 'আন' শব্দের 'নুন' ও 'লাম' শব্দের 'লাম' এবং এর অনুরূপ বর্ণসমূহ। আর রয়েছে অর্থবোধক অব্যয়সমূহ যা বিশেষ্য ও ক্রিয়ার সাথে কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থের জন্য আসে।
বর্ণমালার বর্ণসমূহের ক্ষেত্রে কথা হলো, এগুলো এমন কিছু ধ্বনি যা একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যুক্তও নয় এবং যা বিশেষ্য, ক্রিয়া বা অব্যয়ের কোনো অর্থের ওপর প্রমাণ দেয় না; তবে এগুলোই হলো শব্দ গঠনের মূল (أصل) ভিত্তি।
আর যেসব বর্ণ শব্দের অংশ হিসেবে থাকে, সেক্ষেত্রে 'অংশ' হলো এমন এক সংজ্ঞা (حد) যা তার চেয়ে বৃহত্তর কোনো কিছুর সাথে সম্পর্কিত, যেমন 'সমগ্র' তার চেয়ে ক্ষুদ্রতর কোনো বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত হয়।
আর অর্থবোধক অব্যয়ের সংজ্ঞা (حد)—যা ব্যাকরণবিদগণ অন্বেষণ করেন—তা হলো: অব্যয় (حرف) হলো এমন শব্দ যা নিজের সত্তার বাইরে অন্য কোনো শব্দে অর্থ প্রকাশ করে, যেমন: 'মিন', 'ইলা', 'সুম্মা' এবং এর অনুরূপ শব্দসমূহ। এর ব্যাখ্যা হলো, 'মিন' শব্দটি বাক্যে আংশিকতা বুঝানোর জন্য আসে, ফলে এটি অন্য কোনো কিছুর আংশিকতা বুঝায়, নিজের আংশিকতা নয়। একইভাবে এটি যখন সীমার প্রারম্ভ বুঝাতে আসে, তখন তা অন্যের সীমা বুঝায়। এর অন্যান্য দিকগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা। তেমনিভাবে 'ইলা' সমাপ্তি বুঝায়, অর্থাৎ এটি অন্যের সমাপ্তি বুঝায়, নিজের সমাপ্তি নয়। অন্যান্য সকল অর্থবোধক অব্যয়ের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
وقال بعض النحويين: الحرف ما خلا من دليل الاسم والفعل. وقال آخرون: الحرف ما لا يستغنى عن جملة يقوم بها نحو: لن يقوم زيد، وما خرج بكر، وإن أخاك شاخص، وإن محمداً في الدار. لابد أن يكون بعده إسمان، أو اسم وفعل، أو اسم وظرف. وهذا وصف للحرف صحيح ليس بحد له. وقال بعضهم: الحرف ما خلا من دليلي الاسم والفعل، فلم يسغ فيه شيء مما ساغ فيهما. وهذا وصف للحرف وليس بحد له، وحده ما ذكرته لك.
কিছু ব্যাকরণবিদ বলেছেন: অব্যয় হলো তা যা বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার আলামত থেকে মুক্ত। অন্যরা বলেছেন: অব্যয় হলো এমন বিষয় যা কোনো বাক্য ব্যতিরেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না যার মাধ্যমে এটি অর্থ প্রকাশ করে; যেমন: ‘যায়েদ কখনো দাঁড়াবে না’, ‘বকর বের হয়নি’, ‘নিশ্চয়ই তোমার ভাই উপস্থিত’ এবং ‘নিশ্চয়ই মুহাম্মদ বাড়িতে’। অব্যয়ের পরে অবশ্যই দুটি বিশেষ্য, অথবা একটি বিশেষ্য ও একটি ক্রিয়া, অথবা একটি বিশেষ্য ও একটি স্থান বা কালবাচক বিশেষ্য থাকতে হবে। এটি অব্যয়ের একটি সঠিক (صحيح) বর্ণনা, তবে এটি এর প্রকৃত সংজ্ঞা নয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: অব্যয় হলো তা যা বিশেষ্য ও ক্রিয়ার আলামতদ্বয় থেকে মুক্ত, ফলে ঐ দুটির ক্ষেত্রে যা বৈধ বা সম্ভব হয় তার কোনোটিই এতে সম্ভব হয় না। এটি অব্যয়ের একটি বর্ণনা মাত্র, এর সংজ্ঞা নয়; এর সংজ্ঞা তো সেটিই যা আমি আপনার নিকট উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
باب القول في الفعل والمصدر. أيهما مأخوذ من صاحبهقال سيبويه وجميع البصريين: الفعل مأخوذ من المصدر سابق له فهو اسم الفعل. وهذا معنى قول سيبويه "وأما الفعل فأمثلة أخذت من لفظ أحداث الأسماء" وأحداث الأسماء المصادر. وفي الكلام اختصار وحذف تقديره من لفظ أحداث أصحاب الأسماء. ويجوز أن يكون أقام الأسماء مقام المسميات بها في الإخبار عنها، إذ كان لا يُتوصل إليها إلا بهما كما ذكرنا، فيقول قام زيد قياماً، قام مأخوذ من القيام. وكان يجب أن يقال فعل زيد القيام. واستدل بحروف قام على الحدث، وببنائه على الزمان، وبحركاته على تسمية الفاعل بعده.
قال الفراء وجميع الكوفيين: المصدر مأخوذ من الفعل، والفعل سابق له وهو ثانٍ بعده.
نبدأ بذكر احتجاج البصريين لمذهبهم لأنه عندنا الصحيح. ونذكر بعده احتجاج الكوفيين لمذهبهم وإلزامهم البصريين ما ألزموه، وانفصال البصريين منه إن شاء الله.
دليل البصريين على أن المصدر قبل الفعل. قالوا: من الدليل على أن الفعل مأخوذ من المصدر أن المصدر اسم الفعل. وقد اتفقا جميعاً على أن الاسم سابق الفعل، فوجب أن تكون المصادر سابقة للأفعال. ألا ترى أنا نفعل الضرب
ক্রিয়া এবং ক্রিয়ামূল সংক্রান্ত আলোচনা। তাদের মধ্যে কোনটি অপরটি থেকে উদ্ভূতসিবাওয়াইহ এবং সকল বসরীয় বলেছেন: ক্রিয়া ক্রিয়ামূল থেকে গৃহীত এবং ক্রিয়ামূল তার অগ্রবর্তী, সুতরাং সেটি ক্রিয়ার নাম। আর এটিই সিবাওয়াইহর এই বক্তব্যের মর্ম: "আর ক্রিয়া হলো এমন সব রূপান্তর যা নামসমূহের ঘটনার শব্দরূপ থেকে গৃহীত হয়েছে," আর নামসমূহের ঘটনা বলতে ক্রিয়ামূলসমূহকে বোঝানো হয়েছে। এই বক্তব্যে সংক্ষিপ্তকরণ ও বিলোপ রয়েছে যার প্রাক্কলিত রূপ হলো: 'নামের অধিকারীদের ঘটনার শব্দরূপ থেকে'। এটিও সম্ভব যে, তিনি নামসমূহকে সেগুলোর দ্বারা যা নামাঙ্কিত হয়েছে সেগুলোর স্থলাভিষিক্ত করেছেন তাদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে, যেহেতু আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি যে এ দুটির মাধ্যম ব্যতীত সেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সুতরাং কেউ যখন বলে 'যায়েদ দণ্ডায়মান হওয়ার মতো দণ্ডায়মান হয়েছে', তখন 'দণ্ডায়মান হয়েছে' শব্দটি 'দণ্ডায়মান হওয়া' থেকে গৃহীত। অথচ সেখানে 'যায়েদ দণ্ডায়মান হওয়ার কাজ করেছে' বলা আবশ্যক ছিল। তিনি 'ক্বামা' শব্দের বর্ণসমূহ দ্বারা ঘটনার ওপর, এর কাঠামোর দ্বারা কালের ওপর এবং এর স্বরচিহ্নসমূহ দ্বারা পরবর্তী কর্তার নামকরণের ওপর প্রমাণ পেশ করেছেন।
আল-ফাররা এবং সকল কুফীয় বলেছেন: ক্রিয়ামূল ক্রিয়া থেকে গৃহীত, এবং ক্রিয়া তার পূর্বে ও ক্রিয়ামূল তার পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকে।
আমরা বসরীয়দের মতবাদের সপক্ষে তাদের যুক্তিসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করব, কারণ আমাদের নিকট এটিই সঠিক (صحيح)। ইনশাআল্লাহ, এরপর আমরা কুফীয়দের মতবাদের সপক্ষে তাদের যুক্তি, বসরীয়দের ওপর তাদের আরোপিত বিষয়াবলী এবং বসরীয়দের পক্ষ থেকে সেগুলোর নিরসন উল্লেখ করব।
ক্রিয়ামূল ক্রিয়ার পূর্বে হওয়ার বিষয়ে বসরীয়দের দলিল। তারা বলেন: ক্রিয়া যে ক্রিয়ামূল থেকে গৃহীত তার অন্যতম দলিল হলো ক্রিয়ামূল হলো ক্রিয়ার নাম। আর এই বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছেন যে, বিশেষ্য ক্রিয়ার পূর্বে থাকে, ফলে ক্রিয়ামূলসমূহ ক্রিয়াগুলোর পূর্বে হওয়া আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে। আপনি কি দেখেন না যে, আমরা 'প্রহার' করি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
والخروج والأكل وما أشبه ذلك قبل فعل زيدٍ له، ثم يفعله زيد فيخبر عنه بذلك، ولولا أنا نفعله ونعرفه لم نفهم الإخبار عنه. والمصدر الحدث، لأنه الحدث الذي أحدثه زيد، ثم حُدث عنه، والفعل حديث عنه، والحدث سابق للحديث عنه
اعتراض على من احتج منهم. قيل له: ليس الأمر كما ذهبت إليه، ولسنا نقول: إن الأسماء قبل الأفعال مطلقاً، بل نقول إن الاسم قبل فعله الذي يفعله، وقد اصطلحنا على أن نريد بالاسم المسمى في هذا الفصل لأنه ينوب عنه في الإخبار فنقول زيد سابق لفعله الذي يفعله، وليس يجب من هذا أن يكون سابقاً لفعل غيره، وإذا كان هذا كما ذكرنا فليس يجب أن يكون المصدر، إذا كان اسماً لفعل، أن يكون سابقاً له، لأنا لا نطلق أيضاً أن يكون الاسم سابقاً للمسمى، ولا موجوداً بعده، بل اسمه لازم له موجود معه حين وجوده، وإنما نريد بالاسم معنى استحقاقه التسمية، ألا ترى شخصاً ما حين وجوده يجوز أن تسميه زيداً، ثم تنقله عنه فتسميه بكراً، ثم تنقله عنه فتسميه عمراً، واستحقاقه للاسمية لم ينتقل عنه وهو موجود بوجوده، ألا ترى أنه يقع عليه شيء ولا يفارقه، فهو شيء على كل الأحوال. ولذلك غلط قوم فتوهموا أن الاسم هو المسمى. وقد يسمي بعضهم المعدوم شيئاً. وأباه آخرون. واحتج الأولون بقول الله عز وجل (كسراب بقيعةٍ يحسبه الظمآن ماءً، حتى إذا جاءه لم يجده شيئاً) فقالوا قد سمى المعدوم شيئاً. وقال مخالفوهم ليس كذلك لأن السراب ليس بمعدوم على الحقيقة لأنه لمعان الشمس على الحصا في اشتداد الحر عند الهاجرة. ولمعان الشمس هو شيء ما، ليس بمعدوم فلما نظر إليه العطشان من بُعد، لم يكن في قوة بصره إدراكه على الحقيقة، فظن لمعان الشمس ضوء الماء فلما قرب منه وتبينه لم يجده كما توهمه. فقوله عز وجل "لم يجده شيئاً" [يعني شيئاً] توهمه أو شيئاً ينفعه. والله أعلم.
বের হওয়া, আহার করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো জায়েদ কর্তৃক তা সম্পাদিত হওয়ার পূর্বেই বিদ্যমান থাকে, অতঃপর জায়েদ তা সম্পাদন করে এবং সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়। আমরা যদি নিজেরা তা না করতাম এবং না জানতাম, তবে সে সম্পর্কিত সংবাদ আমরা বুঝতে পারতাম না। আর মূল উৎস (المصدر) হলো ঘটনা (الحدث), কারণ এটি এমন একটি ঘটনা যা জায়েদ ঘটিয়েছে, অতঃপর তা নিয়ে আলোচনা বা বর্ণনা করা হয়েছে। আর ক্রিয়া (الفعل) হলো সে সম্পর্কে একটি বিবরণ (حديث), আর মূল ঘটনাটি (الحدث) সে সম্পর্কিত বিবরণের (الحديث) পূর্ববর্তী।
যারা এ বিষয়ে যুক্তি পেশ করেছে তাদের প্রতি আপত্তি। তাকে বলা হয়েছে: বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি আপনি মনে করেছেন। আমরা এ কথা বলি না যে, নামগুলো (الأسماء) নিরঙ্কুশভাবে কর্মসমূহের (الأفعال) পূর্বে আসে; বরং আমরা বলি যে, নাম (الاسم) তার সম্পাদিত কর্মের (فعله) পূর্বে আসে। এই পরিচ্ছেদে আমরা ‘নাম’ (الاسم) বলতে ‘নামধারী’ (المسمى) বোঝানোর ব্যাপারে একমত হয়েছি, কারণ সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে এটি তার স্থলাভিষিক্ত হয়। তাই আমরা বলি, জায়েদ তার সম্পাদিত কর্মের পূর্ববর্তী। এর মানে এই নয় যে, সে অন্যের কর্মের পূর্ববর্তী হওয়া আবশ্যক। বিষয়টি যেহেতু আমরা উল্লেখ করেছি তেমন, তাই এটি আবশ্যক নয় যে, মূল উৎস (المصدر) যখন কোনো কর্মের নাম হবে তখন তাকে সেই কর্মের পূর্ববর্তী হতে হবে। কারণ আমরা এটিও সাধারণভাবে বলি না যে, নাম (الاسم) নামধারীর (المسمى) পূর্ববর্তী হবে, কিংবা তার পরে বিদ্যমান হবে; বরং নাম তার সাথে অপরিহার্য এবং তার অস্তিত্ব থাকাকালীন তার সাথেই বিদ্যমান থাকে। আমরা ‘নাম’ (الاسم) দ্বারা কেবল নামকরণের যোগ্য হওয়ার অর্থটি উদ্দেশ্য করি। আপনি কি দেখেন না যে, কোনো ব্যক্তি যখন বিদ্যমান হয় তখন তাকে ‘জায়েদ’ নাম দেওয়া বৈধ হয়, অতঃপর আপনি তা পরিবর্তন করে ‘বকর’ নাম দেন, পুনরায় তা পরিবর্তন করে ‘আমর’ নাম দেন? তার নাম হওয়ার যোগ্যতা কিন্তু তার থেকে অপসারিত হয়নি এবং সেটি তার অস্তিত্বের সাথেই বিদ্যমান থাকে। আপনি কি দেখেন না যে, তার ওপর কোনো কিছু আপতিত হয় কিন্তু তা তাকে ছেড়ে যায় না, ফলে সে সর্বাবস্থায় একটি বস্তু (شيء)। এই কারণেই একদল লোক ভুল করেছে এবং ধারণা করেছে যে, নামই (الاسم) হলো নামধারী (المسمى)। তাদের কেউ কেউ অনুপস্থিত বা অনস্তিত্বশীল (المعدوم) বিষয়কেও বস্তু (شيئاً) বলে অভিহিত করেছেন। অন্যরা তা অস্বীকার করেছেন। প্রথম পক্ষ মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: “(তাদের কর্ম) মরুভূমির মরিচীকার মতো, যাকে তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে, কিন্তু যখন সে তার কাছে পৌঁছায় তখন সেটিকে কিছুই (شيئاً) পায় না।” তারা বললেন, এখানে অনস্তিত্বশীল বিষয়কে বস্তু (شيئاً) বলা হয়েছে। তাদের বিরোধীরা বললেন, বিষয়টি তেমন নয়। কারণ মরিচীকা প্রকৃতপক্ষে অনস্তিত্বশীল কিছু নয়, বরং তা হলো দ্বিপ্রহরের প্রচণ্ড উত্তাপে কঙ্করের ওপর সূর্যের বিচ্ছুরিত আলো। সূর্যের এই বিচ্ছুরণ একটি বস্তু (شيء), তা অনস্তিত্বশীল নয়। তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি যখন দূর থেকে তা দেখে, তখন তার দৃষ্টিশক্তিতে এর প্রকৃত রূপ ধরা পড়ে না, ফলে সে সূর্যের বিচ্ছুরণকে পানির আলোকচ্ছটা মনে করে। যখন সে তার কাছে যায় এবং তা স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করে, তখন সেটিকে তার ধারণার মতো পায় না। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: “সেটিকে কিছুই (شيئاً) পায় না” এর অর্থ হলো এমন কিছু পায় না যা সে ধারণা করেছিল অথবা এমন কিছু পায় না যা তার উপকারে আসে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وليس يجوز أن تعود هذه الكنايات كلها على غير شيء في الحقيقة. ومثل هذا رجل رأى شخصاً من بعيد، فشبهه بإنسان يعرفه فقال هذا فلان، فلما قرب منه تبينه، فهذا مثله وإن كان ذلك أخفى، فإذا قد ثبت أن الاسم لا يسبق المسمى، فقد بطل احتجاجكم بسبق المصدر الفعل لأنه اسمه، وأنه واجب من ذلك أن يكون قبله سابقاً له.
الجواب. يقال لمن احتج بهذا وعارض به: وليس أيضاً ما قلتموه مسلماً لكم من أن الاسم لا يسبق المسمى ولا يتأخر عنه. فقد علمتم أنكم مخالفون في ذلك. وليس غرضنا إثبات حقيقة تقدم الاسم والمسمى، وإنما نحن في مجاري الخطاب وكلام العرب، ولا خلاف بيننا أن في كلام العرب وأوضاع النحويين الاسم قبل الفعل حسب ما تقدم اتفاقنا عليه، فنحن ندع ما فيه الخلاف من ذلك ونرجع إلى المتفق عليه في مجاري الإعراب وأوضاع النحو لأنه غرضنا الذي نتكلم عليه ونجادل عنه. فقد صح أن الاسم قبل الفعل، والمصدر اسم فقد صح أنه قبل الفعل وبالله التوفيق.
دليل آخر للبصريين. قالوا: من الدليل أيضاً على أن المصدر قبل الفعل وأن الفعل منه، أن المصدر في اللغة هو المكان الذي يصدر عنه، كقولنا هذا مصدر الإبل للمكان الذي تصدر عنه، فعلى ما توجبه حقيقة اللغة هو الشيء الذي يصدر عنه الفعل. ولو كان هو صدر عن الفعل سُمي صادراً لا مصدراً وهذا بين واضح.
دليل آخر للبصريين، كان شيخنا أبو إسحق الزجاج رحمه الله، يستدل به، قال: لو كان المصدر بعد الفعل، وكان مأخوذاً من الفعل، لوجب أن يكون لكل مصدر فعل قد أخذ منه، لا محيص عن ذلك ولا مهرب منه. فلما رأينا في كلام العرب مصادر كثيرة لا أفعال لها البتة مثل العبودية والرجولية والبنوة والأمومة
আর এটা বৈধ নয় যে, এই সকল সর্বনাম (كناية) বাস্তবে এমন কিছুর দিকে ফিরে আসবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই। এর উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো, যে দূর থেকে কোনো এক অবয়ব দেখে তাকে পরিচিত কেউ মনে করে বলল 'ইনি অমুক'; অতঃপর যখন সে নিকটবর্তী হলো তখন তাকে চিনতে পারল। এটিও তদ্রূপ, যদিও তা ছিল অধিকতর অস্পষ্ট। সুতরাং যেহেতু এটি সাব্যস্ত হলো যে নাম (اسم) তার নামকরণকৃত সত্তার (مسمى) আগে আসে না, তাই 'মূলধাতু' (مصدر) ক্রিয়ার (فعل) আগে আসার ব্যাপারে আপনাদের যুক্তি অসার হয়ে গেল; কারণ এটি তার নাম (اسم), আর সে কারণে এটি অপরিহার্য যে তা তার আগে থাকবে এবং তার অগ্রগামী হবে।
উত্তর: যারা এই যুক্তি পেশ করেছেন এবং এর মাধ্যমে বিরোধিতা করেছেন তাদের বলা হবে: আপনারা যা বলেছেন যে নাম (اسم) তার নামকরণকৃত সত্তার (مسمى) আগে আসে না কিংবা পরে আসে না—তা আপনাদের জন্য সর্বজনস্বীকৃত কোনো বিষয় নয়। আপনারা তো জানেন যে এ বিষয়ে আপনাদের বিরোধীরাও রয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নাম (اسم) ও নামকরণকৃত সত্তার (مسمى) আগে-পরের প্রকৃত বাস্তবতা প্রমাণ করা নয়, বরং আমরা এখানে আরব্য বাকপদ্ধতি এবং ভাষাশৈলী নিয়ে আলোচনা করছি। আমাদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, আরব্য ভাষায় এবং বৈয়াকরণদের পরিভাষায় ক্রিয়ার (فعل) পূর্বে নাম (اسم) আসে, যেমনটি ইতিপূর্বে আমাদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং আমরা এ বিষয়ক মতভেদপূর্ণ দিকগুলো বর্জন করে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ এবং নাহুর প্রতিষ্ঠিত নিয়মের দিকে ফিরে যাই; কারণ এটাই আমাদের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য এবং যার সপক্ষে আমরা বিতর্ক করছি। অতএব, এটি সাব্যস্ত হলো যে ক্রিয়ার (فعل) পূর্বে নামের (اسم) অবস্থান, আর মূলধাতু (مصدر) যেহেতু একটি নাম (اسم), তাই এটিও প্রমাণিত হলো যে তা ক্রিয়ার (فعل) পূর্বে অবস্থিত। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক কাম্য।
বসরাবাসীদের আরেকটি দলীল: তারা বলেন, মূলধাতু (مصدر) যে ক্রিয়ার (فعل) আগে এবং ক্রিয়া (فعل) যে তা থেকে নির্গত, তার আরেকটি প্রমাণ হলো—ভাষাগত দিক থেকে মূলধাতু (مصدر) হলো এমন স্থান যেখান থেকে কোনো কিছু নির্গত হয়। যেমন আমাদের উক্তি: 'এটি উটের প্রত্যাবর্তনের স্থান (مصدر)', অর্থাৎ এমন স্থান যেখান থেকে সেগুলো ফিরে আসে। সুতরাং আভিধানিক বাস্তবতা যা দাবি করে তা হলো, এটি এমন একটি বিষয় যা থেকে ক্রিয়া (فعل) নির্গত হয়। আর যদি তা ক্রিয়া (فعل) থেকে নির্গত হতো, তবে তাকে 'উৎসারিত বস্তু' (صادر) বলা হতো, 'মূলধাতু' (مصدر) নয়। আর এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার।
বসরাবাসীদের আরেকটি দলীল, যা আমাদের শাইখ আবু ইসহাক আল-যাজ্জাজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পেশ করতেন। তিনি বলতেন: যদি মূলধাতু (مصدر) ক্রিয়ার (فعل) পরে হতো এবং তা ক্রিয়া (فعل) থেকে গৃহীত হতো, তবে প্রতিটি মূলধাতুর (مصدر) জন্য এমন একটি ক্রিয়া (فعل) থাকা অপরিহার্য হতো যেখান থেকে তা গ্রহণ করা হয়েছে; এ থেকে নিস্তার পাওয়ার কোনো উপায় থাকত না। অথচ আমরা আরবদের কথাবার্তায় এমন অনেক মূলধাতু (مصدر) দেখতে পাই যেগুলোর কোনো ক্রিয়া (فعل) নেই, যেমন: দাসত্ব (العبودية), পুরুষত্ব (الرجولية), পুত্রত্ব (البنوة) এবং মাতৃত্ব (الأمومة)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
والأموة وما أشبه ذلك مما يطول تعداده من المصادر التي لم تؤخذ من الأفعال. ورأينا في كلامها أيضاً مصادر جارية على غير ألفاظ أفعالها، نحو الكرامة والعطاء وما أشبه ذلك، علمنا أنه ليست الأفعال أصولاً للمصادر إذ كانت المصادر توجد بغير أفعال، وعلمنا أن المصادر هي الأصول فمنها ما أخذ منه فعل، ومنها ما لم يؤخذ منه فعل. وهذا بين واضح.
دليل آخر للبصريين. كان أبو بكر بن السراج يستدل به. قال: لو كانت المصادر مأخوذة من الأفعال جارية عليها، لوجب ألا تختلف كما لا تختلف أسماء الفاعلين والمفعولين الجارية على أفعال، نحو ضارب ومضروب وشاتم ومشتوم ومُكرِم ومُكرَم وما أشبه ذلك مما لا ينكسر. ورأينا المصادر مختلفها أكثر مما جاء منها على الفعل، كقولنا شرب شُرباً وشَربا ومشربا وشرابا وعدل عن الحق عدلا وعُدولا وما أشبه ذلك، علمنا أنها غير جارية على الأفعال وأن الأفعال ليست بأصولها
دليل آخر للبصريين. قال بعض أهل النظر منهم، الدليل على أن المصدر أصل الفعل، أنه يوجد لفظه وحروفه في جميع أنواع الفعل كيف صرف، كقولنا خرج يخرج وأخرج واستخرج ويخارج. وقتل يقتل وقاتل وتقتل واستقتل، فلفظ المصدر الذي هو أصله موجود فيه في جميع فنونه فعلمنا أنه أصله ومادته. ألا ترى أن الفضة أصل لجميع ما يصاغ منها، فهي موجودة المعنى فيه، فإن صغت كوزاً أو إبريقا أو خاتما وقُلبا وخلخالا وغير ذلك فمعناها موجود في جميع ما يصاغ منها، وليس معاني ما يصاغ منها موجوداً فيها مُفردة، فكذلك معنى المصدر موجود في جميع الأفعال المشتقة منه وليس معنى فعل واحد منها موجوداً في المصدر
এবং মাতৃত্ব (الأموة) এবং এই জাতীয় অসংখ্য উদাহরণ যা গণনা করা দীর্ঘ হবে, এমন সব ক্রিয়ামূল (المصادر) যা ক্রিয়া (الأفعال) থেকে গৃহীত হয়নি। আমরা তাদের ভাষার ব্যবহারে এমন সব ক্রিয়ামূলও (مصادر) দেখতে পাই যা তাদের ক্রিয়ার (أفعال) রূপ অনুযায়ী গঠিত হয়নি, যেমন: সম্মান (الكرامة) এবং দান (العطاء) ও এই জাতীয় শব্দ। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, ক্রিয়া (الأفعাল) ক্রিয়ামূলের (المصادر) মূল উৎস (أصولاً) নয়, যেহেতু ক্রিয়া (أفعال) ছাড়াই ক্রিয়ামূলের (المصادر) অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বরং আমরা জানতে পারলাম যে, ক্রিয়ামূলসমূহ (المصادر) হলো আসল উৎস; তার মধ্য থেকে কোনটি থেকে ক্রিয়া (فعل) গঠিত হয়েছে, আবার কোনটি থেকে ক্রিয়া (فعل) গঠিত হয়নি। আর এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার।
বসরার ব্যাকরণবিদদের পক্ষে অন্য একটি দলিল। আবু বকর ইবনে আস-সাররাজ এটি দ্বারা দলিল পেশ করতেন। তিনি বলতেন: যদি ক্রিয়ামূলসমূহ (المصادر) ক্রিয়া (الأفعال) থেকে গৃহীত হতো এবং তার রূপ অনুযায়ী চলত, তবে সেগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য থাকা অনুচিত ছিল, যেমনটি ক্রিয়া (أفعال) অনুযায়ী গঠিত কর্তৃবাচক বিশেষ্যসমূহ (أسماء الفاعلين) এবং কর্মবাচক বিশেষ্যসমূহের (المفعولين) ক্ষেত্রে কোনো বৈচিত্র্য বা ব্যতিক্রম হয় না; যেমন: প্রহারকারী (ضارب), প্রহৃত (مضروب), গালিদাতা (شاتম), গালিমন্দকৃত (مشتوم), সম্মানকারী (مُكرم), সম্মানিত (مُكرم) এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দ যা মূল কাঠামো থেকে বিচ্যুত (لا ينكسر) হয় না। অথচ আমরা দেখি যে, ক্রিয়ামূলের (المصادر) মধ্যে বৈচিত্র্য ক্রিয়ার (الفعل) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রূপের চেয়ে অনেক বেশি; যেমন আমাদের কথা—সে পান করেছে: পান করা (شُرباً), (شَربا), (مشربا) এবং (شرابا); এবং সে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে: বিচ্যুত হওয়া (عدلا) এবং (عُدولا) ও এই জাতীয় শব্দ। এতে আমরা জানতে পারলাম যে, সেগুলো ক্রিয়ার (الأفعাল) অনুগামী নয় এবং ক্রিয়া (الأفعাল) সেগুলোর মূল উৎস (أصولها) নয়।
বসরার ব্যাকরণবিদদের পক্ষে আরও একটি দলিল। তাদের মধ্যকার জনৈক গবেষক বলেছেন, ক্রিয়ামূল (المصدر) যে ক্রিয়ার (الفعل) মূল উৎস (أصل), তার প্রমাণ হলো—ক্রিয়াকে (الفعل) যেভাবে এবং যে রূপেই রূপান্তর (صرف) করা হোক না কেন, ক্রিয়ামূলের (المصدر) শব্দ ও বর্ণসমূহ তাতে বিদ্যমান থাকে। যেমন আমাদের কথা: সে বের হয়েছে (خرج), সে বের হচ্ছে (يخرج), বের হও (أخرج), সে বের হতে চেয়েছে (استخرج) এবং সে একে অপরের সাথে বের হয়েছে (يخارج)। তদ্রূপ সে হত্যা করেছে (قتل), সে হত্যা করছে (يقتل), সে লড়াই করেছে (قاتল), সে নিহত হয়েছে (تقتل), সে মৃত্যু কামনা করেছে (استقتل)। সুতরাং ক্রিয়ামূলের (المصدر) যে শব্দগত রূপ—যা তার আসল সত্তা—তা তার সকল রূপের মধ্যে বিদ্যমান। ফলে আমরা জানতে পারলাম যে এটিই তার উৎস (أصل) ও মূল উপাদান (مادة)। আপনি কি দেখেন না যে, রৌপ্য (الفضة) হলো তা থেকে প্রস্তুতকৃত সকল জিনিসের উৎস, তাই তার মূল সত্তা সেটির মধ্যে বিদ্যমান থাকে। আপনি যদি তা দিয়ে একটি পানপাত্র (كوزاً), জগ (إبريقا), আংটি (خاتما), চুড়ি (قُلبا), নূপুর (خلخالا) এবং অন্য কিছু তৈরি করেন, তবে সেগুলোর সবকিছুর মধ্যেই তার মূল সত্তা বিদ্যমান থাকে। কিন্তু সেই জিনিসগুলোর কোনো একটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য এককভাবে মূল রৌপ্যের মধ্যে বিদ্যমান থাকে না। ঠিক তেমনিভাবে, ক্রিয়ামূলের (المصدر) অর্থ তা থেকে নির্গত সকল ক্রিয়ার (الأفعাল) মধ্যে বিদ্যমান থাকে, কিন্তু কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্রিয়ার (فعل) অর্থ এককভাবে ক্রিয়ামূলের (المصدر) মধ্যে বিদ্যমান থাকে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬০)
نفسه، ألا ترى أنه ليس في الضرب معنى فعل ماض ولا مستقبل موجوداً فهذا أحسن ما قيل في هذا وأدقه وألطفه.
دليل الكوفيين على أن المصدر مأخوذ من الفعل. قالوا: الدليل على أن المصدر مأخوذ من الفعل، وأن الفعل أصل للمصدر أن المصدر يعتل إذا اعتل الفعل، ويصح إذا صح، فتقول: قام زيد قياما، فتعل القيام لاعتلال قام. وكذلك تقول: وعد يعد عدة فتعل عدة لاعتلال يعد. وتقول عور الرجل يعور عوراً وحول حولا، ورصيد البعير صيداً، فيصح المصدر لصحة فعله، فعلنا بذلك أن المصادر بعد الأفعال، تابعة لها، وأن الأفعال هي الأصول التي أخذت منها فلذلك تبعتها في التصحيح والاعتلال.
إفساده والجواب عنه. قال لهم البصريون ومن يحتج عنهم ويقول بمذهبم لو كان اعتلال الفعل يوجب اعتلال مصدره، لوجب ألا يوجد فعل معتل إلا ومصدره معتل، ولا يوجد لفعل معتل مصدر صحيح. فلما رأينا الأفعال تعتل وتصح مصادرها كقولنا وعد وعداً، ووزن وزناً، وقام قومه، وكال يكيل كيلاً، ومال يميل ميلاً، وما أشبه ذلك مما يطول تعداده من الأفعال المعتلة التي صحت مصادرها، علمنا أنه ليس اعتلال الأفعال علة موجبة لاعتلال المصادر، وإنما يعتل من المصادر ما لزمه من الثقل ما لزم الفعل، وما لم يلزمه ذلك صح معناه فلم يجب من ذلك أن تكون المصادر مشتقة من الأفعال كما زعمتم لمفارقتها لها في الاعتلال الذي جعلتموه دليلكم.
دليل آخر للكوفيين: قال أبو بكر بن الأنباري يذكر أنه هو استخرجه
নিজে থেকে; আপনি কি দেখেন না যে, ‘আদ-দারব’ (প্রহার করা) এর মধ্যে অতীতকাল (ماض) বা ভবিষ্যৎকাল (مستقبل) বিদ্যমান থাকার কোনো অর্থ নেই? এই বিষয়ে এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ, সুক্ষ্মতম এবং চমৎকার বক্তব্য।
মাসদার (مصدر) যে ক্রিয়া (فعل) থেকে গৃহীত, সে বিষয়ে কুফাবাসীদের দলিল। তারা বলেন: মাসদার (مصدر) যে ক্রিয়া (فعل) থেকে গৃহীত এবং ক্রিয়া (فعل) যে মাসদারের (مصدر) মূল (أصل), তার প্রমাণ হলো—ক্রিয়া যখন রূপান্তরিত (يعتل) হয় তখন মাসদারও রূপান্তরিত (يعتل) হয়, আর ক্রিয়া যখন সহিহ (يصح) থাকে তখন মাসদারও সহিহ (يصح) থাকে। যেমন আপনি বলেন: ‘কামা যায়দুন কিয়ামান’ (যায়দ দাঁড়াল); এখানে ‘কামা’ (قام) এর রূপান্তরের কারণে ‘কিয়াম’ শব্দটি রূপান্তরিত (تعل) হয়েছে। একইভাবে আপনি বলেন: ‘ওয়াদা-ইয়াইদু-ইদাতান’; এখানে ‘ইয়াইদু’ (يعد) রূপান্তরিত হওয়ার কারণে ‘ইদাতান’ (عدة) শব্দটি রূপান্তরিত (تعل) হয়েছে। আবার আপনি বলেন: ‘আওয়িরা’, ‘হাবিলা’ এবং উটের ক্ষেত্রে ‘রসিদা’; এক্ষেত্রে ক্রিয়া সহিহ (صحة) হওয়ার কারণে মাসদারও সহিহ (يصح) হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, মাসদারসমূহ (المصادر) ক্রিয়ার (الأفعال) অনুগামী, আর ক্রিয়াগুলোই (الأفعال) হলো সেই মূল (الأصول) যা থেকে এগুলো গৃহীত হয়েছে। এই কারণেই সহিহ (التصحيح) থাকা এবং রূপান্তরিত (الاعتلال) হওয়ার ক্ষেত্রে মাসদার ক্রিয়াকে অনুসরণ করে।
এই দলিলের অসারতা এবং তার উত্তর। বসরাবাসীরা এবং যারা তাদের পক্ষ অবলম্বন করেন ও তাদের মাযহাব অনুসরণ করেন, তারা বলেন: যদি ক্রিয়ার রূপান্তর (اعتلال) তার মাসদারের রূপান্তরকে অপরিহার্য করত, তবে এমন কোনো রূপান্তরিত ক্রিয়া (فعل معتل) পাওয়া যেত না যার মাসদার রূপান্তরিত নয়, এবং কোনো রূপান্তরিত ক্রিয়ার জন্য সহিহ মাসদার (مصدر صحيح) পাওয়া যেত না। কিন্তু যখন আমরা দেখলাম যে, ক্রিয়াসমূহ রূপান্তরিত (تعتل) হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর মাসদার সহিহ (تصح) থাকছে—যেমন আমাদের কথা: ‘ওয়াদা-ওয়া’দান’, ‘ওয়াযানা-ওয়াযনান’, ‘কামা-কাওমাতান’, ‘কালা-কাইলান’, ‘মালা-মাইলান’ এবং এজাতীয় অসংখ্য রূপান্তরিত ক্রিয়া (الأفعال المعتلة) যেগুলোর মাসদার সহিহ (صحت) হয়েছে—তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে, ক্রিয়ার রূপান্তর (اعتلال الأفعال) মাসদারের রূপান্তরের জন্য কোনো অপরিহার্য কারণ (علة) নয়। বরং মাসদারের মধ্যে কেবল তখনই রূপান্তর ঘটে যখন তাতে ক্রিয়ার মতো শব্দগত ভার সৃষ্টি হয়, আর যেখানে সেই ভার থাকে না সেখানে তার অর্থ সহিহ (صح) থাকে। সুতরাং আপনাদের দাবি অনুযায়ী মাসদারসমূহ ক্রিয়া থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتقة) হওয়া আবশ্যক নয়; কারণ রূপান্তরের (الاعتلال) ক্ষেত্রে মাসদার ক্রিয়া থেকে ভিন্নতা প্রদর্শন করেছে, যাকে আপনারা দলিল হিসেবে পেশ করেছিলেন।
কুফাবাসীদের অন্য একটি দলিল: আবু বকর ইবনে আল-আনবারি উল্লেখ করেছেন যে, এটি তিনি নিজেই উদ্ভাবন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬১)
ويحتج به ويعتمد عليه ويردد ذكره في كتبه، قال: الدليل على أن المصادر بعد الأفعال، وأنها مأخوذة منها أن المصادر تكون توكيداً للأفعال كقولك ضرب زيد ضربا، وخرج خروجاً، وقعد قعوداً وما أشبه ذلك، فلا خلاف في أن المصادر ها هنا توكيد للأفعال. والتوكيد تابع للمؤكد ثانٍ بعده، والمؤكد سابق له، فدل ذلك على أن المصدر تابع للفعل، مأخوذ منه، وأن الفعل هو الأصل الذي أخذ منه.
القول في إفساد هذا الحجاج والرد عليه. قلت أنا للمحتج من الكوفيين بهذا الاحتجاج: ليس الأمر كما ذهب إليه، وذلك أن المصدر إنما سمي هنا توكيداً للفعل من قولنا ضرب زيد ضربا؛ لأنه لا فائدة فيه أكثر مما في الفعل؛ وكذلك قام زيد قياماً وما أشبه ذلك، فليس فيه فائدة أكثر مما في قام، وإنما قام النحويون تقدير أن يكون أراد أن يقول قام قام، وضرب ضرب، فيكون للفعل تشديداً وتوكيداً فاستقبحوا ذلك، فبدلوا أحد اللفظين مصدراً ليكون أحسن. وليس هو بتوكيد يتبع المؤكد على الحقيقة كتواكيد الأسماء التي تتبع المؤكد نحو قولك نفسه وعينه وأجمع واكتع. والدليل على صحة ما قلناه إجماع الكوفيين والبصريين على إجازتهم قياماً قمت، وضرباً ضربت زيدا، فيقدمون المصدر على الفعل، ولو كان توكيدا له على الحقيقة، تابعا كتواكيد الأسماء، لما جاز تقديمه عليه كما لا يجيزون نفسه ضربت زيدا. وهذا بين واضح. ومع ذلك فليس في كلام العرب توكيد مشتق من لفظ المؤكد، مأخوذ منه، فيكون المصدر ملحقا به في أن يكون مشتقاً من الفعل توكيدا له. وهذا واضح.
مسألة جرت بيني وبين أبي بكر بن الأنباري في المصدر. قلت: له مرة:
এবং এটি দ্বারা দলিল পেশ করা হয়, এর ওপর নির্ভর করা হয় এবং তাঁর গ্রন্থসমূহে বারবার এর উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি বলেন: ক্রিয়াসমূহের পরে ক্রিয়ামূলসমূহ (مصادر) আসার এবং সেগুলো থেকে গৃহীত হওয়ার প্রমাণ হলো এই যে, ক্রিয়ামূলসমূহ (المصادر) ক্রিয়াসমূহের তাকিদ বা নিশ্চয়তা প্রদানকারী (توكيد) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন আপনার উক্তি: ‘যায়দ কঠোরভাবে প্রহার করেছে (ضرب زيد ضربا)’, ‘সে বের হয়ে গেল (خرج خروجاً)’, ‘সে বসল (قعد قعوداً)’ এবং এই জাতীয় উদাহরণ। সুতরাং এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, এখানে ক্রিয়ামূলসমূহ (المصادر) ক্রিয়াসমূহের জন্য তাকিদ (توكيد) হিসেবে এসেছে। আর তাকিদ (توكيد) সর্বদা মুআক্কাদ (المؤكد) বা যার তাকিদ দেওয়া হচ্ছে তার অনুগামী এবং পরে আসে, আর মুআক্কাদ (المؤكد) তার পূর্বে থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, ক্রিয়ামূল (مصدر) ক্রিয়ার অনুগামী ও তা থেকে গৃহীত, এবং ক্রিয়াই হলো মূল (أصل) যা থেকে এটি গৃহীত হয়েছে।
এই যুক্তির অসারতা প্রমাণ এবং এর খণ্ডন প্রসঙ্গে আলোচনা। আমি এই যুক্তি প্রদানকারী কুফীবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেছি: বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তিনি মনে করেছেন। কারণ, আমাদের বাক্য ‘যায়দ কঠোরভাবে প্রহার করেছে (ضرب زيد ضربا)’ এর মধ্যে ক্রিয়ামূলকে (مصدر) ক্রিয়ার তাকিদ (توكيد) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে এই কারণে যে, এতে ক্রিয়া অপেক্ষা অতিরিক্ত কোনো অর্থ বা ফায়দা নেই। অনুরূপভাবে ‘যায়দ দাঁড়িয়েছে (قام زيد قياماً)’ এবং এই জাতীয় উদাহরণের ক্ষেত্রেও ‘قام’ (দাঁড়িয়েছে) ক্রিয়ার অতিরিক্ত কোনো ফায়দা নেই। মূলত ব্যাকরণবিদগণ (النحويون) বিষয়টি এভাবে অনুমান করেছেন যে, বক্তা হয়তো বলতে চেয়েছিলেন ‘قام قام’ (দাঁড়িয়েছে দাঁড়িয়েছে) অথবা ‘ضرب ضرب’ (প্রহার করেছে প্রহার করেছে), যাতে ক্রিয়ার ওপর জোর বা তাকিদ (توكيد) প্রদান করা যায়। কিন্তু তারা একে শ্রুতিকটু মনে করেছেন, তাই সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে একটি শব্দের পরিবর্তে ক্রিয়ামূল (مصدر) ব্যবহার করেছেন। এটি আসলে প্রকৃত অর্থে মুআক্কাদ (المؤكد)-এর অনুগামী কোনো তাকিদ (توكيد) নয়, যেমনটি বিশেষ্যের তাকিদসমূহের (تواكيد الأسماء) ক্ষেত্রে দেখা যায় যা মুআক্কাদ (المؤكد)-কে অনুসরণ করে; যেমন আপনার উক্তি: ‘সে নিজে (نفسه)’, ‘সে স্বয়ং (عينه)’, ‘সকলে (أجمع)’ এবং ‘একত্রিতভাবে (أكتع)’। আমাদের বক্তব্যের সঠিকতার প্রমাণ হলো কুফী ও বসরী উভয় ঘরানার পণ্ডিতদের ঐকমত্য (إجماع) যে, তারা ‘قياماً قمت’ এবং ‘ضرباً ضربت زيدا’ বলা বৈধ মনে করেন। অর্থাৎ তারা ক্রিয়ামূলকে (مصدر) ক্রিয়ার পূর্বে নিয়ে আসাকে জায়েজ মনে করেন। যদি এটি প্রকৃত অর্থেই বিশেষ্যের তাকিদ (توكيد)-এর মতো অনুগামী হতো, তবে একে ক্রিয়ার আগে আনা জায়েজ হতো না, যেমন তারা ‘نفسه ضربت زيدا’ বলা জায়েজ মনে করেন না। বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। তদুপরি, আরবদের কালামে এমন কোনো তাকিদ (توكيد) নেই যা মুআক্কাদ (المؤكد)-এর শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتق) বা গৃহীত, যার ফলে ক্রিয়ামূলকে (مصدر) তার অন্তর্ভুক্ত করা যায় যে এটি ক্রিয়া থেকে ব্যুৎপন্ন হয়ে তার তাকিদ (توكيد) হয়েছে। এটি সুস্পষ্ট।
ক্রিয়ামূল (مصدر) সম্পর্কে আমার এবং আবু বকর ইবনুল আম্বারীর মধ্যে সংঘটিত একটি বিতর্কিত মাসআলা (مسألة)। আমি তাকে একবার বললাম:
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬২)
ما المصدر في كلام العرب من طريق اللغة؟ فقال: المصدر المكان الذي يصدر عنه، كقولنا مصدر الإبل وما أشبهه. ثم نقول مصدر الأمر والرأي تشبيها والمصدر أيضاً هو الذي يسميه النحويون مصدراً، كقولنا ضرب زيد ضربا ومضربا وقام قياما ومقاما وما أشبهه، والمفعل يكون مكانا ومصدرا. قلت له: فإذا كان كذلك فلم زعم الفراء أن المصدر مصدر الفعل؟ وبأي قياس جعله بمعنى الفاعل، وقد صح عندك أنه يكون مفعولاً به بمعنى مصدر أو مكان كما ذكرت؟ وهل يُعرف في كلام العرب مفعل بمعنى الفاعل، فيكون المصدر ملحقا به؟ فقال: ليس هو كذلك عند الفراء، إنما هو عنده بمعنى مفعول، كأنه أصدر عن الفعل، لا إنه هو صدر عنه، فهو بمعنى مفعول، كما قيل هذا مركب فاره، ومعناه مركوب فاره، ومشرب عذب، ومعناه مشروب عذب. قال الشاعر:
(وقد عاد عذب الماء بحراً فزادني
… على ظمئي أن أبحر المشرب العذب).
أراد المشروب العذب. يقال أبحر الماء واستبحر إذا صار ملحاً غليظاً. قلت له: ليس يجب أن يجعل دليله على صحة دعواه ما ينازع فيه، ولا يسلم له، ولا يجده في كلام العرب.
قال: فأين وجه المنازعة ها هنا؟ قلت له: اجتماع النحويين كلهم على أن المفعل (يكون بمعنى المصدر والمكان. فالمأكل) يكون بمعنى الأكل والمكان والمشرب بمعنى الشرب والمكان، ومنه قيل رجل مقنع أي مقنوع به، وليس في كلام العرب مفعل للمفعول به ليس فيه مَكرم بمعنى مُكرم، ولا معطى
আরবি ভাষায় ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেকে ‘মাসদার’ (المصدر) এর অর্থ কী? তিনি বললেন: ‘মাসদার’ হলো এমন স্থান যেখান থেকে কোনো কিছু নির্গত বা উৎসারিত হয়; যেমন আমাদের কথা—উট নির্গত হওয়ার স্থান এবং এর সমজাতীয় উদাহরণসমূহ। অতঃপর আমরা রূপক অর্থে কোনো বিষয় বা মতামতের উৎসকে (مصدر) বলে থাকি। এছাড়া ব্যাকরণবিদগণ যাকে ‘মাসদার’ (المصدر) বলে অভিহিত করেন সেটিও এর অন্তর্ভুক্ত; যেমন আমাদের বক্তব্য: ‘যাইদ প্রহার করেছে প্রহার করা’ (ضربا ও مضربا) এবং ‘সে দাঁড়িয়েছে দাঁড়ানো’ (قياما ও مقاما) এবং এর সমরূপ উদাহরণসমূহ। আর ‘মাফআল’ (المفعل) ওজনটি স্থান এবং মাসদার (المصدر)—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আমি তাঁকে বললাম: যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে আল-ফাররা কেন দাবি করেছেন যে, ‘মাসদার’ হলো ক্রিয়ার (الفعل) উৎস? এবং কোন যুক্তিতে তিনি একে ‘ফায়িল’ বা কর্তার (الفاعل) অর্থে গ্রহণ করেছেন, যেখানে আপনার কাছে এটি প্রমাণিত যে এটি ‘মাফউল বিহি’ (مفعول به) হিসেবে মাসদার (المصدر) বা স্থানের অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি আপনি উল্লেখ করেছেন? এবং আরবদের কথায় কি ‘মাফআল’ (مفعل) ওজনকে ‘ফায়িল’ বা কর্তার (الفاعل) অর্থে ব্যবহারের কোনো নজির আছে, যার ভিত্তিতে ‘মাসদার’কে তার সাথে সংযুক্ত করা যায়? তিনি বললেন: আল-ফাররার নিকট বিষয়টি তেমন নয়; বরং তাঁর মতে এটি ‘মাফউল’ (مفعول) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেন এটি ক্রিয়া (الفعل) থেকে নির্গত হয়েছে, এটি নিজে ক্রিয়া নির্গত হওয়ার উৎস নয়। অতএব এটি ‘মাফউল’ (مفعول) এর অর্থে; যেমন বলা হয়: ‘এটি একটি দ্রুতগামী সওয়ারি’ (مركب فاره), যার অর্থ হলো ‘আরোহণকৃত দ্রুতগামী সওয়ারি’ (مركوب فاره), এবং ‘সুমিষ্ট পানীয়’ (مشرب عذب), যার অর্থ ‘পানকৃত সুমিষ্ট পানীয়’ (مشروب عذب)। কবি বলেছেন:
(সুমিষ্ট পানি সমুদ্রে পরিণত হয়েছে, ফলে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় আমার পিপাসা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে যে, সুমিষ্ট পানীয় লোনা পানিতে পরিণত হয়েছে)।
এখানে তিনি ‘পানকৃত সুমিষ্ট পানীয়’ (المشروب العذب) বুঝিয়েছেন। বলা হয়ে থাকে ‘পানি সমুদ্রে পরিণত হয়েছে’ (أبحر الماء) বা ‘বিস্তৃত হয়েছে’ (استبحر) যখন তা লবণাক্ত ও ঘন হয়ে যায়। আমি তাঁকে বললাম: নিজের দাবির সত্যতা প্রমাণের জন্য এমন কিছুকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয় যা বিতর্কিত, সর্বসম্মত নয় এবং যা আরবদের কথায় পাওয়া যায় না।
তিনি বললেন: এখানে বিতর্কের অবকাশ কোথায়? আমি তাঁকে বললাম: সকল ব্যাকরণবিদের ঐক্যমত্য হলো ‘মাফআল’ (المفعل) ওজনটি মাসদার (المصدر) এবং স্থানের অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ‘মা’কাল’ (المأكل) শব্দটি খাওয়ার কাজ (الأكل) এবং খাওয়ার স্থান—উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়; এবং ‘মাশরাব’ (المشرب) শব্দটি পান করার কাজ (الشرب) ও পান করার স্থান অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ থেকেই বলা হয় ‘মুক্বনা’ (مقنع) ব্যক্তি, অর্থাৎ যার ওপর সন্তুষ্ট হওয়া হয়েছে (مقنوع به)। আরবদের ভাষায় ‘মাফআল’ (مفعل) ওজনটি ‘মাফউল বিহি’ (مفعول به) এর অর্থে ব্যবহৃত হয় না; যেমন ‘মাকরাম’ (مَكرم) শব্দটি ‘মুকরাম’ (مُكرم) অর্থে ব্যবহৃত হয় না, আর না ‘মু’ত্বা’ (معطى) ওজনে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
بمعنى مُعطى، ولا مفعل بمعنى مُفعل، إنما يجيء المفعل بمعنى المفعول، فهل تعرف أنت في كلامهم، أو تذكر له شاهداً من شعر أو غيره أو رواية أو قياساً يُعمل عليه؟ قال: إن أصحابنا يقولون المصدر جاء بمعنى مفعل شاذاً ولا يقاس عليه إنما هو اختصاص غير مقيس عليه، والشواذ في كلامهم غير مدفوعة. قلت له: أما إذا صاروا إلى باب السهول والدعاوي بغير برهان، فالكلام/ بيننا ساقط. فأما من الشهوات والدعاوي بغير برهان، فأما الشواذ فإنما نقبل ما نقلته الرواة وسمع منها في شعر أو شاهد كلام لا ما يدعيه المدعون قياساً. قال؛ فقد قال بعض أصحابنا إن المصدر بمعنى الانصدار، كأنه ذو الانصدار منه، كما قيل المسلم المؤمن، ومعناه السلامة. قلت له: فقد رجع القول بنا إلى أنه في معنى فاعل وقد مضى القول فيه.
فذكرت ما جرى لأبي بكر بن الخياط فقال: هذه أشياء يولدها من عنده على مذاهب القوم، ليست محكية عن الفراء، ولا موجودة في كتبه، ولكنها مما يرى أنها تؤيد المذهب وتنصره. ثم رأيته بعد ذلك بمدة بعيدة قد ذكر هذه الاحتياجات أو قريباً منها في بعض كتبه ولم يرجع عنها.
'মুতা' (مُعطى) এর অর্থে, আর 'মুফআল' শব্দটি 'মুফইল' এর অর্থে ব্যবহৃত হয় না; বরং 'মুফআল' শব্দটি কর্ম (المفعول) বা কর্মবাচক কৃদন্ত পদের অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আপনি কি তাদের (আরবদের) ভাষায় এমন কোনো ব্যবহার জানেন, অথবা এর অনুকূলে কবিতা বা অন্য কিছু থেকে কোনো প্রমাণ (شاهد), কিংবা কোনো বর্ণনা (رواية), অথবা যার ওপর আমল করা যায় এমন কোনো অনুমান (قياس) উল্লেখ করতে পারবেন? তিনি বললেন: আমাদের সাথীরা বলেন যে, মূল বিশেষ্য (المصدر) শব্দটি 'মুফআল' এর অর্থে ব্যতিক্রমধর্মী (شاذاً) হিসেবে এসেছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে কোনো অনুমান (قياس) করা যাবে না। এটি একটি বিশেষ ক্ষেত্র যা অনুমানের (قياس) আওতাভুক্ত নয়, আর তাদের ভাষায় এমন বিরল রূপগুলো (الشواذ) অস্বীকার করার মতো নয়। আমি তাকে বললাম: তারা যদি প্রমাণহীনভাবে শিথিলতা ও নিছক দাবির দিকে ধাবিত হয়, তবে আমাদের মধ্যকার আলোচনা নিরর্থক। আর লালসা ও প্রমাণহীন দাবির বিষয়ে কথা হলো, বিরল রূপগুলোর (الشواذ) ক্ষেত্রে আমরা কেবল বর্ণনাকারীগণ (الرواة) যা বর্ণনা করেছেন এবং কবিতা বা ভাষার প্রমাণ (شاهد) হিসেবে যা শোনা গেছে তা-ই গ্রহণ করি; দাবিদাররা অনুমানের (قياس) ভিত্তিতে যা দাবি করে তা নয়। তিনি বললেন: আমাদের কোনো কোনো সাথী বলেছেন যে, মূল বিশেষ্য (المصدر) শব্দটি এখানে নির্গমন বা বিচ্ছুরণ (الانصدار) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেন তা থেকে নির্গমন ঘটছে; যেমন বলা হয় 'মুসলিম' বা 'মুমিন', যার অর্থ হলো সালামত বা নিরাপত্তা। আমি তাকে বললাম: তবে তো বিষয়টি পুনরায় সেই কর্তা (فاعل) এর অর্থেই ফিরে গেল এবং সে বিষয়ে আলোচনা ইতিপূর্বেই শেষ হয়েছে।
আবু বকর ইবনুল খাইয়াতের সাথে যা ঘটেছিল আমি তা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: এগুলো এমন বিষয় যা তিনি সেই সম্প্রদায়ের মতাদর্শের ভিত্তিতে নিজের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন করেছেন; এগুলো আল-ফাররা থেকে বর্ণিত নয় এবং তার কিতাবসমূহেও বিদ্যমান নেই। তবে তিনি মনে করেন যে, এগুলো তার মতাদর্শকে সমর্থন ও শক্তিশালী করে। এরপর দীর্ঘ সময় পর আমি তাকে দেখলাম যে, তিনি তার কোনো কোনো কিতাবে এই যুক্তিগুলো বা এর কাছাকাছি বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন এবং তিনি তা থেকে ফিরে আসেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
باب القول في علل النحوأقول أولاً إن علل النحو ليست موجبة، وإنما هي مستنبطة أوضاعاً ومقاييس، وليست كالعلل الموجبة للأشياء المعلولة بها، ليس هذا من تلك الطريق.
وعلل النحو بعد هذا على ثلاثة أضرب: علل تعليمية، وعلل قياسية، وعلل جدلية نظرية.
فأما التعليمية فهي التي يتوصل بها إلى تعلم كلام العرب، لأنا لم نسمع نحن ولا غيرنا كل كلامها منها لفظاً، وإنما سمعنا بعضاً فقسنا عليه نظيره، مثال ذلك أنا لما سمعنا قام زيد فهو قائم، وركب فهو راكب، عرفنا اسم الفاعل فقلنا ذهب فهو ذاهب، وأكل فهو آكل وما شبه ذلك، وهذا كثير جداً وفي الإيماء إليه كفاية لمن نظر في هذا العلم. فمن هذا النوع من العلل قولنا إن زيداً قائم، إن قيل: بم نصبتم زيداً؟ قلنا: بإن: لأنها تنصب الاسم وترفع الخبر لأنا كذلك علمناه ونعلمه. وكذلك قام زيد. إن قيل: لم رفعتم زيداً؟ قلنا: لأنه فاعل اشتغل فعله به فرفعه. فهذا وما أشبهه من نوع التعليم، وبه ضبط كلام العرب.
فأما العلة القياسية فأن يقال لمن قال نصبت زيداً بإن، في قوله إن زيداً قائم: ولم وجب أن تنصب "إن" الاسم؟ فالجواب في ذلك أن يقول: لأنها وأخواتها ضارعت الفعل المتعدي إلى مفعول، فحُملت عليه فأعملت إعماله لما ضارعته، فالمنصوب بها مشبه بالمفعول لفظاً، والمرفوع بها مشبه بالفاعل لفظاً، فهي تشبه من الأفعال ما قُدم مفعوله على فاعله، نحو ضرب أخاك محمدٌ وما أشبه ذلك.
নাহুর কারণসমূহ (علل النحو) সম্পর্কিত পরিচ্ছেদআমি প্রথমেই বলব যে, নাহুর কারণসমূহ (علل) কোনো আবশ্যিক বিষয় (موجبة) নয়, বরং এগুলো হলো উদ্ভাবিত (مستنبطة) কিছু রীতি ও পরিমাপ (مقاييس)। এগুলো সেইসব আবশ্যিক কারণের (العلل الموجبة) মতো নয় যার মাধ্যমে কোনো কার্যকারণ সম্পন্ন হওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে; এই বিষয়টি সেই পর্যায়ের নয়।
এরপর নাহুর কারণসমূহ (علل النحو) তিন প্রকার: শিক্ষামূলক কারণসমূহ (علল تعليمية), তুলনামূলক কারণসমূহ (علل قياسية) এবং তাত্ত্বিক ও বিতর্কগত কারণসমূহ (علل جدلية نظرية)।
শিক্ষামূলক কারণসমূহ (التعليمية) হলো সেগুলো যার মাধ্যমে আরবদের ভাষা শেখা সম্ভব হয়। কারণ আমরা বা অন্য কেউ তাদের সকল কথা শব্দে শব্দে সরাসরি শুনিনি। বরং আমরা কিছু অংশ শুনেছি এবং তার ওপর ভিত্তি করে একই ধরণের অন্য শব্দের অনুমান (قسنا) করেছি। উদাহরণস্বরূপ, যখন আমরা শুনেছি 'ক্বামা যাইদুন ফাহুওয়া ক্বা-ইমুন' (যাইদ দাঁড়িয়েছে, অতএব সে দণ্ডায়মান) এবং 'রাকিবা ফাহুওয়া রা-কিবুন' (সে আরোহণ করেছে, অতএব সে আরোহী), তখন আমরা কর্তাবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) চিনতে পেরেছি এবং বলেছি 'যাহাবা ফাহুওয়া যা-হিবুন' (সে গিয়েছে, অতএব সে গমনকারী), 'আকালা ফাহুওয়া আ-কিলুন' (সে খেয়েছে, অতএব সে ভক্ষণকারী) ইত্যাদি। এই ধরণের উদাহরণ প্রচুর এবং যারা এই শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেন তাদের জন্য সামান্য ইঙ্গিতই যথেষ্ট। এই শ্রেণির কারণসমূহের (العلل) অন্তর্ভুক্ত হলো আমাদের এই কথা: 'ইন্না যাইদান ক্বা-ইমুন'। যদি প্রশ্ন করা হয়: আপনারা কেন 'যাইদ' শব্দটিকে নসব (نصب) প্রদান করলেন? আমরা উত্তরে বলব: 'ইন্না'-এর কারণে; কারণ এটি ইসিমকে নসব (نصب) দেয় এবং খবরকে রফ (رفع) দেয়। কেননা এভাবেই আমরা তা শিখেছি এবং শেখাচ্ছি। অনুরূপভাবে 'ক্বামা যাইদুন' বাক্যে যদি প্রশ্ন করা হয়: আপনারা কেন 'যাইদ' শব্দটিকে রফ (رفع) প্রদান করলেন? আমরা বলব: কারণ সে হলো কর্তা (فاعل), যার সাথে তার ক্রিয়াটি সংশ্লিষ্ট হয়ে তাকে রফ (رفع) প্রদান করেছে। এটি এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো শিক্ষামূলক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত এবং এর মাধ্যমেই আরবদের ভাষা সংরক্ষিত হয়েছে।
আর তুলনামূলক কারণ (العلة القياسية) হলো—যে ব্যক্তি 'ইন্না যাইদান ক্বা-ইমুন' বাক্যে 'ইন্না' দ্বারা যাইদকে নসব (نصب) প্রদান করেছে, তাকে যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন 'ইন্না' শব্দটির জন্য ইসিমকে নসব (نصب) দেওয়া আবশ্যক (وجب) হলো? এর উত্তরে সে বলবে: কারণ 'ইন্না' এবং এর সমজাতীয় অব্যয়গুলো কর্মের (مفعول) দিকে ধাবিত সকর্মক ক্রিয়ার (فعل متعدي) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ (ضارعت)। ফলে একে সেই ক্রিয়ার ওপর অনুমান করা হয়েছে এবং সাদৃশ্যের কারণে ক্রিয়ার ন্যায় আমল প্রদান করা হয়েছে। তাই এর দ্বারা নসবপ্রাপ্ত (منصوب) শব্দটি শব্দগতভাবে কর্মের (مفعول) সদৃশ এবং রফপ্রাপ্ত (مرفوع) শব্দটি শব্দগতভাবে কর্তার (فاعل) সদৃশ। সুতরাং এটি সেই সকল ক্রিয়ার সদৃশ যার কর্মকে (مفعول) তার কর্তার (فاعل) আগে নিয়ে আসা হয়, যেমন: 'দরাবা আখাকা মুহাম্মাদুন' (মুহাম্মদ তোমার ভাইকে প্রহার করেছে) এবং এর সদৃশ উদাহরণগুলো।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
وأما العلة الجدلية النظرية فكل ما يُعتل به في باب "إن" بعد هذا. مثل أن يقال: فمن أي جهة شابهت هذه الحروف الأفعال؟ وبأي الأفعال شبهتموها؟ أبالماضية، أم المستقبلة، أم الحادثة في الحال، أم المتراخية، أم المنقضية بلا مهلة؟ (وحين) شبهتموها بالأفعال لأي شيء عدلتم بها إلى ما قُدم مفعوله على فاعله نحو ضرب زيداً عمرو، وهلا شبهتموها بما قُدم فاعله على مفعوله لأنه هو الأصل وذاك فرع ثان؟ فأي علة دعتكم إلى إلحاقها بالفروع دون الأصول، وأي قياس أطرد لكم في ذلك؟ وحين شبهتموها بما قدم مفعوله على فاعله، هلا أجزتم تقديم فاعليها على مفعوليها كما أجزتم ذلك في المشبه به في قولكم ضرب أخاك محمد وضرب محمد أخاك؟ وهلا حين امتنعت من ذلك لعلةٍ لزمتموه ولم ترجعوا عنه فتجيزوه في بعض المواضع في قولكم إن خلفك زيداً وإن أمامك بكراً وما أشبه ذلك؟ وهلا حين مثلتم عملها بعمل الفعل المتعدي إلى مفعول واحد نحو ضرب زيداً عمرو، امتنعتم من إجازة وقوع الجمل في موضع فاعلها في قولكم أن زيداً أبوه قائم، وإن زيداً ماله كثير، والفاعل لا يكون جملة؟ ولم أجزتم وقوع الفعل موقع فاعلها في قولكم إن زيداً يركب، وإن عبد الله ركب أرأيتم فعلاً وقع موقع الفاعل بدلاً منه نائباً عنه؟ ما أرى كلامكم إلا ينقض بعضه بعضاً.
وكل شيء اعتل به المسئول جواباً عن هذه المسائل، فهو داخل في الجدل والنظر. وفي باب "إن" سؤلات كثيرة عن هذا سنذكرها مع الجواب عن هذه المسائل في باب ذكر علل "إن" إن شاء الله.
وذكر بعض شيوخنا أن الخليل بن أحمد رحمه الله، سئل عن العلل التي يعتل بها في النحو، فقيل له: عن العرب أخذتها أم اخترعتها من نفسك؟ فقال:
আর তাত্ত্বিক বিতর্কিত কারণ (العلة الجدلية النظرية) হলো সেই সবকিছু, যা এরপর 'ইন্না' (إن) এর অধ্যায়ে যুক্তি হিসেবে পেশ করা হবে। যেমন বলা হয়ে থাকে: কোন দিক থেকে এই হরফগুলো ক্রিয়ার (الأفعال) সদৃশ? এবং কোন ধরনের ক্রিয়ার সাথে আপনারা এগুলোর তুলনা করেছেন? অতীতকালীন (الماضية), নাকি ভবিষ্যৎকালীন (المستقبلة), নাকি বর্তমানে (الحادثة في الحال) ঘটছে এমন, নাকি বিলম্বিত (المتরাখية), নাকি কোনো বিরতি ছাড়াই শেষ হয়ে যাওয়া (المنقضية بلا مهلة) ক্রিয়ার সাথে? আর যখন আপনারা এগুলোকে ক্রিয়ার সাথে তুলনা করলেন, তখন কেন এমন একটি রূপ বেছে নিলেন যেখানে কর্ম (مفعول) তার কর্তার (فاعل) আগে আসে—যেমন: 'দারাবা জাইদান আমরুন'? কেন আপনারা সেটির সাথে তুলনা করলেন না যেখানে কর্তা তার কর্মের আগে আসে? কারণ সেটিই হলো মূল (الأصل) এবং অপরটি তার শাখা (فرع)। কোন কারণটি আপনাদেরকে মূল (الأصول) বাদ দিয়ে শাখার (الفروع) সাথে যুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করল এবং এ ক্ষেত্রে আপনাদের জন্য কোন কিয়াস (القياس) প্রযোজ্য হলো? আর যখন আপনারা সেটিকে এমন ক্রিয়ার সাথে তুলনা করলেন যার কর্ম কর্তার আগে আসে, তখন কেন আপনারা 'ইন্না'র কর্তাকে তার কর্মের আগে আসা বৈধ করলেন না, যেমনটি আপনারা তুলনীয় মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে বৈধ করেছেন—যেমন আপনাদের কথা: 'দারাবা আখাকা মুহাম্মাদুন' এবং 'দারাবা মুহাম্মাদুন আখাকা'? আর যখন কোনো কারণবশত (علة) আপনারা তা করতে নিষেধ করলেন, তখন কেন সেই নিয়মে অটল থাকলেন না এবং তা থেকে বিচ্যুত হয়ে কিছু ক্ষেত্রে তা বৈধ করে দিলেন—যেমন আপনাদের কথা: 'ইন্না খালফাকা জাইদান' এবং 'ইন্না আমামাকা বাকরান' এবং এই জাতীয় বাক্যগুলো? আর যখন আপনারা এর কার্যকারিতাকে এমন সকর্মক ক্রিয়ার সাথে তুলনা করলেন যা একটি মাত্র কর্ম গ্রহণ করে—যেমন: 'দারাবা জাইদান আমরুন', তখন কেন আপনারা কর্তার স্থানে পূর্ণ বাক্য (جملة) হওয়াকে অবৈধ করলেন না—যেমন আপনাদের কথা: 'ইন্না জাইদান আবুহু ক্বায়িমুন' এবং 'ইন্না জাইদান মালুহু কাসীরুন', অথচ কর্তা (الفاعل) কখনও পূর্ণ বাক্য (جملة) হয় না? এবং কেন আপনারা কর্তার স্থলে ক্রিয়ার অবস্থানকে বৈধ মনে করলেন—যেমন আপনাদের কথা: 'ইন্না জাইদান ইয়ারকাব' এবং 'ইন্না আব্দুল্লাহি রাকিব'? আপনারা কি কখনও এমন কোনো ক্রিয়া দেখেছেন যা কর্তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে তার জায়গায় বসেছে? আমি তো দেখছি আপনাদের কথাগুলো একে অপরের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরে উত্তরদাতা যা কিছু যুক্তি হিসেবে পেশ করবেন, তা বিতর্ক ও তাত্ত্বিক আলোচনার (الجدل والنظر) অন্তর্ভুক্ত হবে। 'ইন্না' অধ্যায়ে এ সম্পর্কে আরও অনেক প্রশ্ন রয়েছে যা আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তরসহ 'ইন্না'র কারণসমূহ (علل إن) আলোচনা করার সময় ইনশাআল্লাহ উল্লেখ করব।
আমাদের কিছু শায়খ (شيوخنا) উল্লেখ করেছেন যে, খলীল ইবন আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে ব্যাকরণের সেই কারণসমূহ (العلل) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা তিনি বর্ণনা করেন। তাঁকে বলা হয়েছিল: আপনি কি এগুলো আরবদের থেকে গ্রহণ করেছেন নাকি নিজের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন করেছেন? তিনি উত্তরে বললেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
"إن العرب نطقت على سجيتها وطباعها. وعرفت مواقع كلامها، وقام في عقولها علله، وإن لم يُنقل ذلك عنها، واعتللت أنا بما عندي أنه علة لما عللته منه. فإن أكن أصبت العلة فهو الذي التمست. وإن تكن هناك علة له فمثلي في ذلك مثل رجل حكيم دخل داراً محكمة البناء؛ عجيبة النظم والأقسام؛ وقد صحت عنده حكمة بانيها، بالخبر الصادق أو بالبراهين الواضحة والحجج اللائحة، فكلما وقف هذا الرجل في الدار على شيء منها قال: إنما فعل هذا هكذا لعلة كذا وكذا، ولسبب كذا وكذا. سنحت له وخطرت بباله محتملة لذلك، فجائز أن يكون الحكيم الباني للدار فعل ذلك للعلة التي ذكرها هذا الذي دخل الدار، وجائز أن يكون فعله لغير تلك العلة، إلا أن ذلك مما ذكره هذا الرجل محتمل أن يكون علة لذلك. فإن سنح لغيري علة لما عللته من النحو هو أليق مما ذكرته بالمعاول فليأت بها". وهذا كلام مستقيم، وإنصاف من الخليل رحمة الله عليه.
وعلى هذه الأوجه الثلاثة مدار علل النحو، فاعرف ذلك إن شاء الله.
"নিশ্চয়ই আরবরা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি এবং স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে কথা বলেছে। তারা তাদের বাক্যের যথাযথ প্রয়োগস্থল সম্পর্কে অবহিত ছিল এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিতে এর কারণসমূহ (علل) বিদ্যমান ছিল, যদিও তাদের পক্ষ থেকে তা বর্ণিত হয়নি। আর আমি আমার বিবেচনায় যা সঠিক মনে হয়েছে, সে অনুযায়ী সেসব বিষয়ের কারণ (علة) বর্ণনা করেছি যেগুলোকে আমি কারণ (علة) মনে করেছি। যদি আমি সঠিক কারণটি (العلة) নির্ণয় করতে পেরে থাকি, তবে আমি যা অন্বেষণ করছিলাম তা-ই লাভ করলাম। আর যদি সেখানে অন্য কোনো কারণ থেকে থাকে, তবে এ বিষয়ে আমার উদাহরণ সেই প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির মতো, যে এক সুদৃঢ় নির্মাণশৈলীসম্পন্ন এক প্রাসাদে প্রবেশ করল, যার বিন্যাস ও বিভাগসমূহ অত্যন্ত বিস্ময়কর। সত্য সংবাদ কিংবা সুস্পষ্ট প্রমাণ ও উজ্জ্বল দলিলের ভিত্তিতে প্রাসাদ নির্মাতার প্রজ্ঞা তার নিকট বিশুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে সেই ব্যক্তি প্রাসাদের কোনো বিষয়ের ওপর যখনই দৃষ্টিপাত করে, সে বলে: 'নিশ্চয়ই তিনি এটি এভাবে করেছেন অমুক কারণে এবং অমুক কারণে, কিংবা এই হেতু ও ওই হেতুতে।' তার মনে এমন সব যৌক্তিক সম্ভাবনা উদিত হলো যা এর অনুকূল হতে পারে। এমতাবস্থায় এটা সম্ভব যে, প্রাসাদের প্রজ্ঞাবান নির্মাতা সেই কারণটির জন্যই কাজটি করেছেন যা প্রাসাদপ্রবেশকারী ব্যক্তি উল্লেখ করেছে; আবার এও সম্ভব যে, তিনি অন্য কোনো কারণে তা করেছেন। তবে ওই ব্যক্তি যা বর্ণনা করেছে, তাও কারণ (علة) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। অতএব, ব্যাকরণ শাস্ত্রের যেসব কারণ (علة) আমি বর্ণনা করেছি, তা অপেক্ষা যদি অন্য কারো কাছে অধিকতর উপযুক্ত কোনো কারণ (علة) উদ্ভাসিত হয়, তবে সে যেন তা উপস্থাপন করে।" এটি একটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ কথা এবং খলীল রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর পক্ষ থেকে এক ইনসাফপূর্ণ বক্তব্য।
আর এই তিনটি বিষয়ের ওপরই ব্যাকরণিক কারণসমূহের (علل) আবর্তন, সুতরাং ইনশাআল্লাহ তা জেনে রাখো।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
باب القول في الإعراب والكلام. أيهما أسبقفإن قال: فأخبروني عن الإعراب والكلام أيهما أسبق؟ قيل له: إن الأشياء مراتب في التقديم والتأخير، إما بالتفاضل أو بالاستحقاق أو بالطبع أو على حسب ما يوجبه المعقول. فنقول إن الكلام سبيله أن يكون سابقاً للإعراب، لأنا قد نرى الكلام في حال غير معرب، ولا يختل معناه. ونرى الإعراب يدخل عليه ويخرج، ومعناه في ذاته غير معدوم. مثال ذلك أن الاسم نحو زيد ومحمد وجعفر وما أشبه ذلك، معرباً كان أو غير معرب، لا يزول عنه معنى الأسمية. وكذلك الفعل المضارع نحو يقوم ويذهب ويركب، معرباً كان أو غير معرب، لا يسقط منه معنى الفعلية. وإنما يدخل الإعراب لمعان تعتور هذه الأشياء. ومع هذا فقد رأينا الشيء من الكلام الذي ليس بمعرب قريباً من معربه كثرة، وذلك أن الأفعال الماضية مبنية كلها على الفتح. وفعل الأمر للمواجه إذا كان بغير اللام مبني على الوقف، نحو يا زيد اذهب واركب وما أشبه ذلك. وحروف المعاني مبنية كلها. وكثير من الأسماء بعد هذا مبني ولم تسقط دلالتها على الأسمية (ولا) معانيها عما وضعت له، فعلمنا بذلك أن الإعراب عرض داخل في الكلام لمعنى يوجده ويدل عليه، والكلام إذاً سابقه في المرتبة، والإعراب تابع من توابعه.
فإن قال: فأخبروني عن الكلام المنطوق به الذي نعرفه الآن بيننا، أتقولون إن العرب كانت نطقت به زماناً غير مُعرب ثم ادخلت عليه الإعراب، أم هكذا نطقت به في أول تبلبل ألسنتها؟ قيل له: هكذا نطقت به في أول وهلة، ولم تنطق
ই’রাব (الإعراب) এবং বাক্য (الكلام) সংক্রান্ত আলোচনা: কোনটি অগ্রবর্তী?
যদি কেউ প্রশ্ন করেন: তবে আমাকে ই’রাব (الإعراب) এবং বাক্য (الكلام) সম্পর্কে বলুন, এ দুটির মধ্যে কোনটি অগ্রবর্তী (أسبق)? তাকে বলা হবে: বিষয়াদির স্তরবিন্যাস অগ্রবর্তিতা এবং অনুবর্তিতার ভিত্তিতে হয়ে থাকে; কখনও তা শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে, কখনও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে, কখনও স্বভাবগত কারণে, আবার কখনও যুক্তিনির্ভর অপরিহার্যতা অনুযায়ী। আমরা বলব যে, বাক্য (الكلام) স্বভাবগতভাবেই ই’রাব (الإعراب) এর তুলনায় অগ্রবর্তী (سابق); কেননা আমরা বাক্যকে ই’রাবহীন (غير معرب) অবস্থায়ও দেখতে পাই অথচ তার অর্থ বিঘ্নিত হয় না। আমরা দেখি যে, বাক্যের ওপর ই’রাব (الإعراب) আপতিত হয় এবং পুনরায় তা দূরীভূত হয়, কিন্তু বাক্যের নিজস্ব সত্তাগত অর্থ কখনও বিলুপ্ত হয় না। এর উদাহরণ হলো বিশেষ্য (الاسم), যেমন ‘যায়েদ’, ‘মুহাম্মদ’, ‘জাফর’ এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ; এগুলো ই’রাবযুক্ত (معرب) হোক কিংবা না হোক, এগুলোর বিশেষ্যত্ব (الأسمية) এর অর্থ বিলীন হয় না। একইভাবে বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع), যেমন: ‘ইয়া কুমু’ (সে দাঁড়াচ্ছে), ‘ইয়াযহাবু’ (সে যাচ্ছে), ‘ইয়ারকাব’ (সে আরোহন করছে); এ শব্দগুলো ই’রাবযুক্ত (معرب) হোক বা না হোক, এগুলোর ক্রিয়াগুণ (الفعلية) এর অর্থ রহিত হয় না। বরং নির্দিষ্ট কিছু অর্থের জন্যই ই’রাব (الإعراب) এ বিষয়গুলোর ওপর প্রবিষ্ট হয় যা এগুলোকে পরিবর্তন করে। এর পাশাপাশি আমরা বাক্যের এমন অনেক অংশও দেখতে পাই যা ই’রাবহীন (غير معرب) হওয়া সত্ত্বেও ই’রাবযুক্ত শব্দের সদৃশ, আর তা হলো—সমস্ত অতীতকালীন ক্রিয়া (الأفعال الماضية) ফাতহা (الفتح) এর ওপর অপরিবর্তনীয় (مبني)। আর উপস্থিত ব্যক্তিকে নির্দেশ প্রদানকারী অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়া (فعل الأمر) যখন ‘লাম’ বিহীন হয়, তখন তা বিরাম বা স্থিরতা (الوقف) এর ওপর অপরিবর্তনীয় (مبني) থাকে, যেমন: ‘হে যায়েদ, যাও (اذهب)’ এবং ‘আরোহণ করো (اركب)’ ইত্যাদি। আর অর্থবোধক অব্যয় (حروف المعاني) সমূহের সবই অপরিবর্তনীয় (مبني)। এছাড়া অনেক বিশেষ্য (الأسماء) এর পরেও অপরিবর্তনীয় (مبني) থাকে এবং সেগুলোর বিশেষ্যত্ব (الأسمية) বা যে অর্থের জন্য তা গঠিত হয়েছে তার নির্দেশক গুণ রহিত হয় না। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, ই’রাব (الإعراب) হলো একটি আপতিক বৈশিষ্ট্য (عرض) যা বাক্যের অন্তর্ভুক্ত হয় এমন কোনো অর্থের প্রয়োজনে যা সে সৃষ্টি করে বা যার দিকে সে ইঙ্গিত করে। অতএব, বাক্য হলো স্তরের দিক থেকে অগ্রবর্তী (سابق), আর ই’রাব (الإعراب) হলো তার অনুগামী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।
যদি সে বলে: তবে আমাদের মধ্যে বর্তমানে প্রচলিত যে উচ্চারিত বাক্য (الكلام المنطوق) আমরা জানি সে সম্পর্কে বলুন—আপনারা কি মনে করেন যে আরব জাতি একটি দীর্ঘ সময় ই’রাব (الإعراب) ছাড়াই কথা বলত এবং পরবর্তীতে তারা এতে ই’রাব (الإعراب) অন্তর্ভুক্ত করেছে, নাকি তাদের ভাষার সূচনালগ্ন থেকেই তারা এভাবেই কথা বলত? তাকে বলা হবে: তারা প্রথম থেকেই এভাবেই কথা বলত, এবং তারা এটি ছাড়াই কথা বলেনি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
به زماناً غير معرب ثم أعربته. فإن قال: فمن أين حكمتم على ما سبق بعضه بعضاً وجعلتم الإعراب الذي لا تُعقل أكثر المعاني إلا به ثانياً، وقد زعمتم أنها تكلمت هكذا جملة؟ قيل له: قد عرفناك أن الأشياء تستحق المرتبة والتقديم والتأخير على ضروب، فنحكم لكل واحد منها بما يستحقه، وإن كانت لم توجد إلا مجتمعة. ألا ترى أنا نقول إن السواد عرض في الأسود، والجسم أقدم من العرض بالطبع والاستحقاق، وأن العرض قد يجوز أن يُتوهم (منفصلاً) عن الجسم والجسم باق، فنقول إن الجسم الأسود قبل السواد، ونحن لم نر الجسم الأسود خالياً من السواد الذي هو فيه، ولا رأينا السواد قط عارياً من الجسم، بل لا تجوز رؤيته، لأن المرئيات إنما هي الأجسام الملونة، ولا تدرك الألوان خالية من الأجسام ولا الأجسام غير ملونة. ولم نرد بالأسود ها هنا جسماً سُود بحضرتنا، بل ما شوهد كذلك من الأجسام. وكذلك القول في الأبيض والأحمر وما أشبه ذلك.
ومنها أنا نعلم أن الذكر في المرتبة مقدم على الأنثى، ونحن لم نشاهد العالم خالياً من أحدهما ثم حدث بعده الآخر إلا ما وقفنا عليه بالخبر الصادق من سبق خلق الذكر الأنثى في خلق آدم وحواء عليهما السلام، وأما في غيرهما فكذلك إن علم بخبرٍ صادق الإخبار بقدم كل واحد منهما صاحبه، فكذلك قوله في الكلام والإعراب، يقول إن الإعراب في الاستحقاق داخل على الكلام لما توجبه مرتبة كل واحد منهما في المعقول، وإن كانا لم يوجدا مفترقين.
ونظير ذلك أنا نقول: إن الأسماء قبل الأفعال، لأن الأفعال أحداث للأسماء، ولم توجد الأسماء زماناً ينطق بها ثم نطق بالأفعال بعدها، بل نطق بهما معاً، ولكل حقه ومرتبته. وقد أجاز بعض الناس أن تكون العرب نطقت أولاً
একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তা ব্যাকরণিক বিভক্তিহীন ছিল, অতঃপর আমি সেটিকে বিভক্তিযুক্ত করেছি। এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে: আপনারা কিসের ভিত্তিতে ভাষার এই অংশগুলোর একটির ওপর অন্যটির অগ্রগামিতার বিচার করলেন এবং কেন ব্যাকরণিক বিভক্তিকে দ্বিতীয় স্তরে স্থাপন করলেন, যা ছাড়া অধিকাংশ অর্থের গূঢ় রহস্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়? অথচ আপনারা দাবি করেছেন যে, আরবরা সামগ্রিকভাবেই (বিভক্তি ও শব্দসহ) কথা বলত। তাকে বলা হবে: আমরা আপনাকে অবগত করেছি যে, বস্তুসমূহ বিভিন্ন প্রকারে মর্যাদা এবং অগ্রগামিতা ও পশ্চাৎগামিতার দাবি রাখে। সুতরাং আমরা তাদের প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে তার প্রাপ্য মর্যাদা অনুযায়ী বিচার করি, যদিও বাস্তবে সেগুলো একত্রে বিদ্যমান থাকা ছাড়া পাওয়া যায় না। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে আমরা বলি—কৃষ্ণবর্ণ হলো কালো বস্তুর মাঝে একটি আপতিক গুণ; আর বস্তু বা দেহ তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদাগত দিক থেকে এই গুণের চেয়ে অগ্রবর্তী। আর সেই গুণটিকে বস্তু থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কল্পনা করা সম্ভব হলেও বস্তুটি অবশিষ্ট থাকে। তাই আমরা বলি যে, কৃষ্ণবর্ণের পূর্বেই কালো বস্তুটি বিদ্যমান। অথচ আমরা বাস্তবে কোনো কালো বস্তুকে তার মধ্যকার বিদ্যমান কালো রঙ ছাড়া দেখিনি, আর না কালো রঙকে কখনো বস্তু ছাড়া প্রত্যক্ষ করেছি; বরং তা দেখা সম্ভবও নয়। কারণ দৃশ্যমান বিষয়সমূহ হলো কেবল বর্ণযুক্ত বস্তু, আর বস্তু ছাড়া বর্ণকে উপলব্ধি করা যায় না, ঠিক যেমন বর্ণহীন বস্তুও প্রত্যক্ষ করা যায় না। আর এখানে ‘কালো’ বলতে আমরা এমন কোনো বস্তুকে বোঝাইনি যা আমাদের সামনে কালো করা হয়েছে, বরং যে সকল বস্তুকে ওই অবস্থায় প্রত্যক্ষ করা হয়েছে। সাদা, লাল এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
এর মধ্যে আরও একটি দিক হলো, আমরা জানি যে মর্যাদাগত দিক থেকে পুরুষ স্ত্রীর অগ্রবর্তী। অথচ আমরা আদি সৃষ্টি সম্পর্কে প্রাপ্ত সত্য সংবাদ (الخبر الصادق) ব্যতিরেকে—যেখানে আদম ও হাওয়া (আলাইহিমাস সালাম)-এর সৃষ্টির ক্ষেত্রে পুরুষের অগ্রগামিতার কথা উল্লেখ আছে—এই জগতকে তাদের কোনো একজনকে ছাড়া অন্যজন বিদ্যমান এমন অবস্থায় দেখিনি। আর তারা দুজন ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই, যদি কোনো সত্য সংবাদ (الخبر الصادق)-এর মাধ্যমে একে অপরের চেয়ে অগ্রবর্তী হওয়ার তথ্য প্রাপ্ত হওয়া যায়। অনুরূপভাবে, কথা এবং ব্যাকরণিক বিভক্তির ক্ষেত্রেও বলা যায় যে, বুদ্ধিবৃত্তিক মর্যাদার বিচারে বিভক্তি কথার ওপর প্রবিষ্ট হয়, যদিও বাস্তবে তারা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বিদ্যমান থাকে না।
এর উদাহরণ হলো আমাদের এই উক্তি: বিশেষ্যসমূহ ক্রিয়ার পূর্ববর্তী; কারণ ক্রিয়া হলো বিশেষ্যের একটি অবস্থা বা ঘটনা। এমন কোনো সময় ছিল না যখন কেবল বিশেষ্যসমূহ উচ্চারিত হতো আর তার কিছুকাল পর ক্রিয়াসমূহ উচ্চারণ করা হতো; বরং উভয়টি একসাথেই উচ্চারিত হয়েছে, তবে প্রত্যেকের নিজস্ব মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। কোনো কোনো পণ্ডিত অবশ্য এই মত পোষণ করেছেন যে, আরবরা প্রথমে কথা বলত...
(খণ্ড: ১)
আল-ইযাহ ফী ইলালিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
بالكلام غير معرب، ثم رأت اشتباه المعاني فأعربته، ثم نقل معرباً فأعربته فتتكلم به.
باب القول في الإعراب، لم دخل في الكلامفإن قال: فقد ذكرت أن الإعراب داخل في الكلام، فما الذي دعا إليه واحتج إليه من أجله؟
الجواب أن يقال: إن الأسماء لما كانت تعتورها المعاني، فتكون فاعلة ومفعولة، ومضافة، ومضافاً إليها، ولم تكن في صورها وأبنيتها أدلة على هذه المعاني بل كانت مشتركة، جُعلت حركات الإعراب فيها تنبئ عن هذه المعاني، فقالوا ضرب زيد عمراً، فدلوا برفع زيد على أن الفعل له، وبنصب عمرو على أن الفعل واقع به. وقالوا ضُرب زيد، فدلوا بتغيير أول الفعل ورفع زيد على أن الفعل ما لم يسم فاعله وأن المفعول قد ناب منابه. وقالوا هذا غلام زيد، فدلوا بخفض زيد على إضافة الغلام إليه، وكذلك سائر المعاني جعلوا هذه الحركات دلائل عليها
অব্যয়হীন (غير معرب) কথার মাধ্যমে, অতঃপর যখন অর্থের অস্পষ্টতা পরিলক্ষিত হলো তখন সেটিকে বিভক্তিযুক্ত (أعربته) করা হলো, এরপর তা বিভক্তিযুক্ত (معرباً) অবস্থায় স্থানান্তরিত হলো এবং সে অনুযায়ী কথা বলা হতে লাগল।
পরিচ্ছেদ: ই'রাব (الإعراب) সংক্রান্ত আলোচনা এবং কেন এটি কথার অন্তর্ভুক্ত হলোযদি কেউ প্রশ্ন করে: আপনি উল্লেখ করেছেন যে ই'রাব (الإعراب) কথার অন্তর্ভুক্ত, তবে কিসে একে প্রয়োজনীয় করে তুলল এবং কীসের প্রেক্ষিতে এর আবশ্যকতা সাব্যস্ত হলো?
উত্তরে বলা হবে: বিশেষ্যসমূহ যখন বিভিন্ন অর্থের আবর্তনে পড়ে, তখন সেগুলো কখনও কর্তা (فاعلة), কখনও কর্ম (مفعولة), কখনও সম্বন্ধিত (مضافة) এবং কখনও সম্বন্ধ পদ (مضافاً إليها) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাদের বাহ্যিক রূপ ও গঠনে এসব অর্থ প্রকাশের জন্য কোনো নির্দেশক ছিল না বরং তা সাধারণ (مشتركة) ছিল; তাই সেগুলোতে ই'রাবের হরকত বা স্বরচিহ্নসমূহ নির্ধারণ করা হয়েছে যা এই অর্থগুলো প্রকাশ করে। যেমন তারা বলে, 'যাইদ আমরকে প্রহার করেছে', এখানে যাইদ-এর রফ' (رفع) দ্বারা তারা নির্দেশ করেছে যে ক্রিয়াটি তার দ্বারা সম্পাদিত, আর আমরের নাসব (نصب) দ্বারা নির্দেশ করেছে যে ক্রিয়াটি তার ওপর আপতিত হয়েছে। তারা বলে, 'যাইদ প্রহৃত হয়েছে', এখানে ক্রিয়ার প্রথম বর্ণের পরিবর্তন এবং যাইদ-এর রফ' (رفع) দ্বারা তারা নির্দেশ করেছে যে এটি এমন ক্রিয়া যার কর্তা অনুল্লিখিত (ما لم يسم فاعله) এবং কর্মটি কর্তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। তারা বলে, 'এটি যাইদের গোলাম', এখানে যাইদ-এর খাফদ (خفض) দ্বারা গোলামকে তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার বিষয়টি বুঝানো হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য সকল অর্থের ক্ষেত্রে তারা এই হরকতগুলোকে নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করেছে।