(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
النكاح العرفي في ميزان الإسلام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: النكاح العرفي في ميزان الإسلام
رسالة: ماجستير، كلية الشريعة (قسم الفقه) - جامعة الإيمان (باليمن)
تقديم الطالب: صلاح الدين أحمد محمد عامر
إشراف: الشيخ الدكتور/ أمين علي مقبل
عدد الصفحات: 235
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 23 ربيع الأول 1440
ইসলামি মানদণ্ডে উরফি বিবাহ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ (مسائل فقهية)
গ্রন্থ: ইসলামি মানদণ্ডে উরফি বিবাহ
থিসিস: মাস্টার্স، শরীয়াহ অনুষদ (ফিকহ বিভাগ) - আল-ঈমান বিশ্ববিদ্যালয় (ইয়েমেন)
উপস্থাপনায় (ছাত্র): সালাহ উদ্দিন আহমদ মুহাম্মদ আমির
তত্ত্বাবধানে: শায়খ ডক্টর/ আমিন আলী মুকবিল
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الجمهورية اليمنية
وزارة التعليم العالي
جامعة الإيمان
الدراسات العليا
النكاح العرفي في ميزان الإسلام
بحث مقدم لنيل درجة المشيخة (الماجستير) في كلية الشريعة قسم الفقه وأصوله
مقدم من الطالب: صلاح الدين أحمد محمد عامر
إشراف الشيخ الدكتور: أمين علي مقبل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
প্রজাতন্ত্রী ইয়েমেন
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়
আল-ইমান ইউনিভার্সিটি
উচ্চতর শিক্ষা বিভাগ
ইসলামের মানদণ্ডে উরফি (প্রথাগত) বিবাহ
শরিয়াহ অনুষদের ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ বিভাগে মাশাইখা (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র
উপস্থাপনায় ছাত্র: সালাহ উদ্দীন আহমদ মুহাম্মদ আমির
তত্ত্বাবধানে শায়খ ডক্টর: আমিন আলী মুকবিল
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
-[إهداء]-
إلى شباب الأمة إلى فتيات المسلمين
إليكم جميعا أهدي هذا العمل
-[উৎসর্গ]-
উম্মাহর যুবকদের প্রতি, মুসলিম তরুণীদের প্রতি
আপনাদের সকলের উদ্দেশ্যে আমি এই কর্মটি উৎসর্গ করছি।
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
-[شكر وعرفان]-
الشكر لله تعالى على نعمه التي لا تحصى، ثم لوالدي العزيز الذي شجعني على إنجاز هذا العمل، وأعانني عليه، والشكر أيضاً لشيخي وأستاذي الدكتور أمين علي مقبل، الذي طالما وجهني وأرشدني، وأتعب نفسه من أجل إخراج هذا العمل، كما لا أنسى أن أشكر الأستاذ الفاضل عبد السلام شماسي، الذي أجهد نفسه معي، وأعارني من وقته، والشكر موصول لكل من قدم إلي نصيحةً، أو أرشدني، في سبيل إنجاز هذا العمل.
-[কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি]-
মহান আল্লাহর অগণিত নিআমতের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি; অতঃপর আমার শ্রদ্ধেয় পিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যিনি এই কর্মটি সম্পন্ন করতে আমাকে উৎসাহিত করেছেন এবং সাহায্য করেছেন। সেই সাথে আমার শায়খ ও উস্তাদ ডক্টর আমিন আলী মুকবিলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি আমাকে প্রতিনিয়ত দিকনির্দেশনা ও সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন এবং এই কাজটি প্রকাশের জন্য যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন। আমি আরও ধন্যবাদ জানাতে চাই শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আবদুস সালাম শামাসিকে, যিনি আমার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং আমাকে তাঁর মূল্যবান সময় দিয়েছেন। পরিশেষে ঐ সকল ব্যক্তিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যারা এই কর্মটি সম্পাদনের লক্ষে আমাকে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন অথবা পথনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، محمد بن عبد الله الصادق الأمين، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين
… وبعد ..
فقد شرع الله تعالى في هذا الدين من الأحكام، ما يضمن للبشرية سعادتها في الدنيا والآخرة، ومن تلكم الأحكام الزواج، والذي نستطيع من خلاله الحفاظ على الوجود البشري والجنس الإنساني، وقد نظم الخالق سبحانه هذه الشعيرة نظاماً دقيقاً، ضمن من خلاله المصالح المشتركة بين بني البشر، وجعل العلاقة بين الزوجين علاقةً يسودها المودة والرحمة، وحرص كل الحرص على بقائها واستمرارها، وعدم انفراط عقدها، وأحاطها بسياج منيع في حالة التفكير لأي من الزوجين بخيانة الآخر، كل هذا حتى يستطيع الإنسان العيش بأمان، وعبادة ربه تعالى على ظهر هذه البسيطة، وتحقيق الخلافة فيها.
سبب اختيار الموضوعسمعنا في الآونة الأخيرة بنوع من العلاقات التي يقيمها بعض الناس - (هداهم الله) -بما يسمونه (الزواج العرفي).
فبعد النظر في مفردات هذه العلاقة، وسرعة انتشارها، وأثرها على المجتمع وخاصةً الشباب؛ قررت أن يكون هو موضوع بحثي لنيل درجة المشيخة (الماجستير) وقد وسمته بـ (النكاح العرفي في ميزان الإسلام). في محاولة مني أن أسهم في خدمة هذه الأمة بما أستطيع.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ভূমিকাসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সহাবীবৃন্দ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর... অতঃপর:
আল্লাহ তাআলা এই দ্বীনের মধ্যে এমন সব বিধান প্রবর্তন করেছেন যা মানবজাতির ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সৌভাগ্য নিশ্চিত করে। বিবাহ এই বিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম, যার মাধ্যমে আমরা মানবজাতির অস্তিত্ব ও বংশধারা রক্ষা করতে সক্ষম হই। সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই ইবাদতটিকে এক সুনিপুণ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করেছেন এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ককে মায়া-মমতা ও দয়ার ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন। তিনি এই বন্ধন বজায় রাখা ও এর স্থায়িত্বের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর বিচ্ছেদ রোধে সচেষ্ট থেকেছেন। এমনকি স্বামী বা স্ত্রীর কোনো একজনের মনে অন্যজনের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার সামান্যতম চিন্তা আসলেও এর সুরক্ষায় তিনি এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে দিয়েছেন। এই সবকিছুই করা হয়েছে যাতে মানুষ এই পৃথিবীতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, তার মহান রবের ইবাদত করতে পারে এবং এখানে তাঁর খেলাফতের দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে পারে।
বিষয়টি নির্বাচনের কারণসম্প্রতি আমরা এমন এক ধরনের সম্পর্কের কথা শুনতে পাচ্ছি যা কিছু মানুষ স্থাপন করছে—(আল্লাহ তাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন)—যাকে তারা 'উর্ফি বিবাহ' বলে অভিহিত করছে।
এই সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ও এর খুঁটিনাটি বিষয়সমূহ পর্যবেক্ষণ করে এবং এর দ্রুত বিস্তার ও সমাজের ওপর, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এটিই হবে আমার মাশায়িখ (মাস্টার্স) ডিগ্রির গবেষণার বিষয়। আমি গবেষণাপত্রটির শিরোনাম দিয়েছি 'ইসলামের মানদণ্ডে উর্ফি বিবাহ'। এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমি আমার সাধ্যমতো এই উম্মতের সেবায় সামান্য অবদান রাখার চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
أهمية الموضوعأستطيع القول أن لهذا الموضوع أهمية كبيرة في المجتمع، وذلك لأنه يتعلق برابطة هي من أهم الروابط التي تبنى عليها المجتمعات، ويتربى عليها الأجيال، بل ويتوقف عليها بقاء النوع الإنساني بأسره ألا وهي الزواج.
وبناءً على ذلك، فإنه لابد من بيان وتوضيح أحكام الشريعة فيما يستجده الناس في مفرداته، حفاظاً على المقاصد التي شرع من أجلها، وإخراجاً للمكلف عن دواعي هواه.
ونحن اليوم أمام مشكلة حقيقية، لابد لنا من مواجهتها، وهي [العلاقات بين الجنسين تحت شعار مزعوم اسمه الزواج] فإن القطاع المنتشرة فيه هو عماد المستقبل، ويجب علينا أن نمد له يد العون بالتوعية، والنصيحة، وبيان الأحكام الشرعية، حتى لا يقع فيه شباب وفتيات المسلمين؛
وأن نمد يد العون كذلك لمن تورط في مثل هذه العلاقات، إما عن جهل، أو غير قصد، أو في حال غفلة؛ فهؤلاء هم أبناؤنا، أو إخواننا، ويستحقون منا كل الاهتمام.
الدراسات السابقةبحسب علمي واطلاعي لم أجد دراسةً مفردةً لهذا الموضوع، تبين أحكامه وأنواعه وآثاره وما يتعلق به من جميع جوانبه، عدى بحوثاً مصغرةً وفتاوى منتشرةً هنا وهناك يمكن الاستفادة منها.
منهجية البحث* سلكت في هذا الدراسة المنهج الاستقرائي لمفردات الموضوع، مصحوباً ببيان الحكم الشرعي وأهم ما يمكن أن يقال من مفردات لكل نوع، كما جعلت كل ذلك مصحوباً بالقانون اليمني، تكملة للفائدة المرجوة، وقد حاولت كذلك إيجاد الحلول المناسبة للأخطاء الواقعة أو المتوقعة جراء بعض العادات والممارسات داخل المجتمع.
* كما عزوت الآيات القرآنية إلى سورها بأرقامها.
বিষয়বস্তুর গুরুত্বআমি বলতে পারি যে, সমাজে এই বিষয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এটি এমন এক সম্পর্কের সাথে সম্পৃক্ত যা সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, যার মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্ম গড়ে ওঠে, বরং যার ওপর সমগ্র মানবজাতির অস্তিত্বই নির্ভর করে—আর তা হলো বিবাহ।
এর ওপর ভিত্তি করে, বিবাহ যে উচ্চতর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد) জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে তা রক্ষা করতে এবং দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে (المكلف) তার প্রবৃত্তির তাড়না থেকে মুক্ত করার নিমিত্তে বিবাহের খুঁটিনাটি ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে উদ্ভূত নতুন বিষয়গুলোর ব্যাপারে শরয়ি বিধানসমূহ (أحكام الشريعة) স্পষ্ট করা ও ব্যাখ্যা করা অপরিহার্য।
আজ আমরা একটি বাস্তব সমস্যার সম্মুখীন, যা আমাদের মোকাবিলা করা প্রয়োজন। আর তা হলো [বিবাহ নামক তথাকথিত স্লোগানের আড়ালে নারী-পুরুষের মধ্যকার সম্পর্ক]। কারণ সমাজের যে স্তরে এটি ছড়িয়ে পড়ছে, তারাই ভবিষ্যতের মূলস্তম্ভ। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো সচেতনতা বৃদ্ধি, নসিহত প্রদান এবং শরয়ি বিধানসমূহ (أحكام الشريعة) বর্ণনার মাধ্যমে তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, যাতে মুসলিম তরুণ-তরুণীরা এতে পথভ্রষ্ট না হয়;
পাশাপাশি যারা অজ্ঞতাবশত, অনিচ্ছাকৃতভাবে বা অসতর্কতার কারণে এ ধরণের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের প্রতিও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে; কারণ তারা আমাদেরই সন্তান অথবা ভাই-বোন এবং তারা আমাদের পূর্ণ মনোযোগ পাওয়ার দাবিদার।
পূর্ববর্তী গবেষণাআমার জ্ঞান ও জানামতে, আমি এই বিষয়ের ওপর স্বতন্ত্র কোনো গবেষণা খুঁজে পাইনি যা এর বিধানসমূহ (أحكام), প্রকারভেদ, প্রভাব এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল দিক বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে; তবে এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা কিছু ক্ষুদ্র গবেষণা ও ফতোয়া (فتاوى) রয়েছে যা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব।
গবেষণা পদ্ধতি* এই গবেষণায় আমি বিষয়বস্তুর খুঁটিনাটি পর্যালোচনায় আরোহ পদ্ধতি (المنهج الاستقرائي) অনুসরণ করেছি, সাথে প্রতিটি প্রকারের ক্ষেত্রে শরয়ি বিধান (الحكم الشرعي) এবং প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি বর্ণনা করেছি। এছাড়া কাঙ্ক্ষিত সুফল লাভের উদ্দেশ্যে এই আলোচনার সাথে ইয়েমেনি আইনের সমন্বয় ঘটিয়েছি। পাশাপাশি সমাজের প্রচলিত কিছু প্রথা ও আচরণের ফলে সংঘটিত বা সম্ভাব্য ভুলগুলোর যথাযথ সমাধান খুঁজে বের করারও চেষ্টা করেছি।
* এছাড়া আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরা ও নম্বরসহ উদ্ধৃত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
* وعزوت أيضاً الأحاديث النبوية إلى مخرجيها، من أصحاب الكتب الستة، أو المصنفات حالة كون الحديث ليس موجوداً فيها، مبيناً أقوال العلماء فيها صحةً أو ضعفاً، ما استطعت إلى ذلك، مقتصراً على الشيخين أو أحدهما في حال كونهما قد أخرجا الحديث، مقتصراً في تفاصيل الإحالة على ذكر الكتاب، والجزء، والصفحة، ورقم الحديث إن وجد، وفي حال كون الكتاب يحتوي على جزأين، تختلف ترقيم صفحاته، فإني أشير إلى المجلد بـ "م" وأشير إلى الجزء بـ "ج" ثم رقم الصفحة بـ "صـ"، كما ذكرت معلومات التوثيق عند ذكر المصدر أول مرة، مرجئاً معلومات توثيق كتب السنة إلى الفهارس، طلباً للاختصار.
* كما نسبت الفتاوى إلى قائليها مبيناً مواضع ذكرها ومصادرها.
* كما أنوه على أنني استعنت بشبكة الإنترنت في بعض جزئيات البحث نظراً لحداثة وجدة الموضوع مبيناً ذلك في مواطنه.
هذا وقد قسمت البحث إلى فصل تمهيدي وفصلين بعده وخاتمة.
على النحو التالي:
* আমি নববী হাদিসসমূহকে সেগুলোর সংকলকদের দিকেও সম্পৃক্ত করেছি, চাই তা কুতুবুস সিত্তাহর রচয়িতাদের গ্রন্থ থেকে হোক অথবা হাদিসটি সেখানে না থাকলে অন্যান্য সংকলিত গ্রন্থ থেকে হোক; এক্ষেত্রে আমি হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) অথবা দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের অভিমতগুলো সাধ্যমতো বর্ণনা করেছি। শাইখাইন বা তাঁদের কোনো একজন হাদিসটি সংকলন করে থাকলে আমি তাঁদের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি। উদ্ধৃতির বিস্তারিত বিবরণে আমি কিতাব, খণ্ড, পৃষ্ঠা এবং হাদিস নম্বর (যদি থাকে) উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। যদি কোনো কিতাব এমন হয় যার দুটি অংশের পৃষ্ঠা নম্বর ভিন্ন ভিন্ন, সেক্ষেত্রে আমি ভলিউমকে ‘ম’, খণ্ডকে ‘জ’ এবং পৃষ্ঠা নম্বরকে ‘প’ দ্বারা চিহ্নিত করেছি। উৎসটি প্রথমবার উল্লেখ করার সময় আমি এর প্রামাণিক তথ্যাদি উল্লেখ করেছি এবং সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে সুন্নাহর কিতাবসমূহের প্রামাণিক তথ্যসমূহ নির্ঘণ্টের জন্য স্থগিত রেখেছি।
* তেমনিভাবে আমি ফতোয়াগুলোকে সেগুলোর প্রদানকারীদের দিকে সম্পৃক্ত করেছি এবং সেগুলোর প্রাপ্তিস্থান ও উৎসসমূহ বর্ণনা করেছি।
* আমি আরও উল্লেখ করছি যে, বিষয়ের আধুনিকতা ও নতুনত্বের কারণে আমি গবেষণার কিছু অংশে ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে তা উল্লেখ করেছি।
আমি এই গবেষণাকে একটি প্রারম্ভিক অধ্যায়, এর পরবর্তী দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।
তা নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
خطة البحثالفصل الأولـ: النكاح وصوره
وتحته ثلاثة مباحث
المبحث الأول: تعريف النكاح
وتحته ثلاثة مطالب
المطلب الأول: تعريف النكاح لغة
المطلب الثاني: تعريف النكاح اصطلاحا
المطلب الثالث: تعريف النكاح في القانون اليمني
المبحث الثاني: أهمية النكاح وحكمه
وتحته ثلاثة مطالب
المطلب الأول: أهمية النكاح وحكمته
المطلب الثاني: حكمة النكاح في القانون اليمني
المطلب الثالث: مشروعية النكاح وحكمه
المبحث الثالث: أنواع النكاح وصوره
وتحته ثلاثة مطالب
المطلب الأول: أنواع النكاح في الجاهلية
المطلب الثاني: ما أقره الإسلام منها وما أبطله
المطلب الثالث: صورة النكاح المشروع
المطلب الرابع: أركان وشروط عقد النكاح في القانون اليمني
গবেষণার রূপরেখাপ্রথম অধ্যায়: বিবাহ এবং এর বিভিন্ন রূপ
এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিবাহের সংজ্ঞা
এর অধীনে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক (لغة) অর্থে বিবাহের সংজ্ঞা
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক (اصطلاحا) অর্থে বিবাহের সংজ্ঞা
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইয়েমেনি আইনে বিবাহের সংজ্ঞা
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহের গুরুত্ব ও বিধান (حكم)
এর অধীনে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম অনুচ্ছেদ: বিবাহের গুরুত্ব ও হিকমত (حكمة)
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইয়েমেনি আইনে বিবাহের হিকমত (حكمة)
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বিবাহের বৈধতা (مشروعية) ও বিধান (حكم)
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহের প্রকারভেদ ও রূপ
এর অধীনে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম অনুচ্ছেদ: জাহেলি যুগে বিবাহের প্রকারভেদ
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইসলাম এর মধ্য থেকে যা বহাল রেখেছে এবং যা বাতিল করেছে
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বৈধ (مشروع) বিবাহের রূপ
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ইয়েমেনি আইনে বিবাহ চুক্তির রুকনসমূহ (أركان) ও শর্তাবলি (شروط)
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الثاني: النكاح العرفي
وتحته خمسة مباحث
المبحث الأول: التعريف والأنواع
وتحته ثلاثة مطالب
المطلب الأول: تعريف لفظة العرفي لغةً
المطلب الثاني: سبب تسمية هذا النكاح بالعرفي
المطلب الثالث: أنواع النكاح العرفي
المبحث الثاني: النكاح المكتمل الأركان غير الموثق
وتحته خمسة مطالب
المطلب الأول: تعريفه
المطلب الثاني: لمحة تاريخية في توثيق العقود بالكتابة
المطلب الثالث: نظرة في القانون اليمني
المطلب الرابع: شرعيته
المطلب الخامس: الآثار الشرعية المترتبة عليه مقارنة مع القانون اليمني
المبحث الثالث: النكاح بنية الطلاق (السياحي)
وتحته سبعة مطالب
المطلب الأول: تعريفه
المطلب الثاني: علاقته بالنكاح المؤقت
المطلب الثالث: أسباب الانتشار
المطلب الرابع: الآثار الناتجة عنه
المطلب الخامس: حكمه الشرعي
المطلب السادس: نظرة في القانون اليمني
المطلب السابع: الآثار الشرعية المترتبة عليه
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রচলিত (عرفي) বিবাহ (نكاح)
এর অধীনে পাঁচটি পরিচ্ছেদ (مبحث) রয়েছে
প্রথম পরিচ্ছেদ (مبحث): সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
এর অধীনে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): আভিধানিক অর্থে ‘প্রচলিত’ (عرفي) শব্দের সংজ্ঞা
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): এই বিবাহকে (نكاح) প্রচলিত (عرفي) হিসেবে নামকরণের কারণ
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): প্রচলিত (عرفي) বিবাহের (نكاح) প্রকারভেদ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (مبحث): রোকনসমূহ (أركان) পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অনিবন্ধিত বিবাহ (نكاح)
এর অধীনে পাঁচটি উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): এর সংজ্ঞা
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): লিখিতভাবে চুক্তি (عقد) নিবন্ধনের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): ইয়েমেনি আইনের একটি পর্যালোচনা
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): এর শরয়ি (شرعي) বৈধতা
পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): ইয়েমেনি আইনের সাথে তুলনামূলকভাবে এর ফলে উদ্ভূত শরয়ি (شرعي) প্রভাবসমূহ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ (مبحث): তালাকের (طلاق) নিয়তে বিবাহ (نكاح) (পর্যটন বিবাহ)
এর অধীনে সাতটি উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): এর সংজ্ঞা
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): সাময়িক (مؤقت) বিবাহের (نكاح) সাথে এর সম্পর্ক
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): প্রসারের কারণসমূহ
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): এর ফলে উদ্ভূত প্রভাবসমূহ
পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): এর শরয়ি (شرعي) বিধান (حكم)
ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): ইয়েমেনি আইনের একটি পর্যালোচনা
সপ্তম উপ-পরিচ্ছেদ (مطلب): এর উপর বর্তানো শরয়ি (شرعي) প্রভাবসমূহ
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الرابع: النكاح بغير علم الولي
وتحته ستة مطالب
المطلب الأول: تعريفه
المطلب الثاني: أسباب الانتشار
المطلب الثالث: الأضرار الناتجة عنه
المطلب الرابع: حكمه الشرعي
المطلب الخامس: نظرة في القانون اليمني
المطلب السادس: الآثار الشرعية المترتبة عليه
المبحث الخامس: النكاح السري
وتحته أربعة مطالب
المطلب الأول: تعريفه
المطلب الثاني: أقسامه وصوره
المطلب الثالث: حكمه الشرعي
المطلب الرابع: الآثار الشرعية والقانونية الناتجة عنه
চতুর্থ পরিচ্ছেদ (المبحث الرابع): অভিভাবকের (الولي) অগোচরে বিবাহ
এর অধীনে ছয়টি উপ-পরিচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الأول): এর সংজ্ঞা
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الثاني): প্রসারের কারণসমূহ
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الثالث): এর ফলে উদ্ভূত ক্ষয়ক্ষতিসমূহ
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الرابع): এর শরয়ী বিধান (حكم شرعي)
পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الخامس): ইয়েমেনি আইনের একটি পর্যালোচনা
ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب السادس): এর ওপর আপতিত শরয়ী (شرعي) প্রভাবসমূহ
পঞ্চম পরিচ্ছেদ (المبحث الخامس): গোপন বিবাহ
এর অধীনে চারটি উপ-পরিচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الأول): এর সংজ্ঞা
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الثاني): এর প্রকার ও ধরণসমূহ
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الثالث): এর শরয়ী বিধান (حكم شرعي)
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الرابع): এর ফলে উদ্ভূত শরয়ী (شرعي) ও আইনি প্রভাবসমূহ
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الثالث: نماذج، وحلول
وتحته مبحثان
المبحث الأول: نماذج ميدانية
وتحته ثلاثة مطالب
المطلب الأول: نماذج من النكاح غير الموثق
المطلب الثاني: نماذج من النكاح السياحي
المطلب الثالث: نماذج من النكاح بغير علم الولي ومن النكاح السري
المبحث الثاني: حلول مقترحة
وتحته ثلاثة مطالب
المطلب الأول: حلول للنكاح السياحي
المطلب الثاني: حلول للنكاح بغير علم الولي وللنكاح السري
المطلب الثالث: حلول عامة
الخاتمة
فهرست الآيات القرآنية
فهرست الأحاديث النبوية
فهرست الأعلام
فهرست المصادر والمراجع
তৃতীয় অধ্যায়: নমুনা ও সমাধানসমূহ
এর অধীনে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম পরিচ্ছেদ: মাঠপর্যায়ের নমুনা
এর অধীনে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: নিবন্ধনবিহীন নিকাহর নমুনা
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: পর্যটন কেন্দ্রিক নিকাহর নমুনা
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: অভিভাবকের অজান্তে সংঘটিত নিকাহ এবং গোপন নিকাহর নমুনা
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রস্তাবিত সমাধানসমূহ
এর অধীনে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: পর্যটন কেন্দ্রিক নিকাহর সমাধান
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: অভিভাবকের অজান্তে সংঘটিত নিকাহ এবং গোপন নিকাহর সমাধান
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: সাধারণ সমাধানসমূহ
উপসংহার
কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট
হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট
বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের (الأعلام) নির্ঘণ্ট
উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول
প্রথম পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
النكاح وصوره
বিবাহ এবং এর পদ্ধতিসমূহ
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تمهيدإن الزواج من أهم الروابط الاجتماعية، والتي لابد منها في حياة الإنسان، ليبقى النوع البشري والجنس الإنساني؛ وقد ميز الله تعالى الإنسان عن الحيوان بميزات عديدة، وكرمه بكرامات فريدة، أخرجه بها عن الحياة البهيمية، قال تعالى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلاً} (1) ولهذا فإن الذين يعيشون في هذه الحياة لإشباع الشهوات ونيل الرغبات فحسب، غير متقيدين بالقوانين الربانية، والتشريعات السماوية، هؤلاء يُخرجون أنفسهم عن هذا التكريم، ويأبون إلا أن يعيشوا الحياة البهيمية الحيوانية، قال تعالى: {وَالَّذِينَ كَفَرُوا يَتَمَتَّعُونَ وَيَأْكُلُونَ كَمَا تَأْكُلُ الْأَنْعَامُ وَالنَّارُ مَثْوًى لَّهُمْ} (2) وقد نظم الله تعالى رابطة الزواج نظاماً دقيقاً، ضمن الناس من خلالها اختلاط الأنساب، وظلم بعضهم بعضاً، وجعل الله تعالى اختراق هذا النظام الرباني جريمة يعاقب عليها الشرع، بما يسمى بالحدود الشرعية، حتى يتسنى لهذا الإنسان أن يعبد ربه وخالقه بعيداً عن تجاذب الشهوات والتصارع عليها، ومن ثم قيام الأسرة العفيفة والنظيفة عن الدخلاء، والأدعياء في أنسابهم وأحسابهم، ونحن نرى المجتمعات التي تفسخت أخلاقها، وانتشرت فيها الفاحشة، والرذيلة، مجتمعات متصارعة، تسودها الخيانة وعدم الثقة، وكل مجتمع تحايل أفراده على ذلك النظام الرباني المنيع، معرض للهلاك، والتصارع، ما لم يناد المصلحون، ويصحوا الغافلون، عبر الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وقد انتشرت في زمننا هذا أنواع كثيرة من الأنكحة، واختلط فيها الصحيح بالباطل، حتى التبس على كثير
من الناس أمرها، فكان لزاماً على العلماء والدعاة تبيين أمرها للناس، وتمييز الصحيح النافع من الباطل الضار، وخاصة أن هذه الأنكحة تنتشر بشكل مخيف، وبسرعة كبيرة، وكان الأمثل أن نقوم أولاً بعرض سريع، لضوابط وقوانين النظام الرباني في هذه الرابطة المقدسة، وأهم ما يمكن أن يقال في هذه الرابطة العظيمة من تعريفات، وأحكام، وصور، وهذا ما سنتكلم عنه في هذا الفصل بإذن الله تعالى.
--------------------------------------------
উপক্রমণিকানিশ্চয়ই বিবাহ হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বন্ধনগুলোর অন্যতম, যা মানবজাতির অস্তিত্ব এবং মানুষের বংশধারা টিকিয়ে রাখার জন্য মানবজীবনে অপরিহার্য; মহান আল্লাহ মানুষকে অসংখ্য বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে পশু থেকে পৃথক করেছেন এবং অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করেছেন, যার মাধ্যমে তাকে পাশবিক জীবন থেকে বের করে এনেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর আমি তো বনী আদমকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে উত্তম রিযিক দান করেছি এবং আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।} (১) এ কারণে, যারা এই জীবনে কেবল প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা এবং কামনা-বাসনা পূরণের জন্য বেঁচে থাকে, যারা ঐশী আইন এবং আসমানি বিধানের প্রতি অনুগত নয়, তারা নিজেদেরকে এই সম্মান থেকে বিচ্যুত করে এবং পাশবিক ও জান্তব জীবন যাপন করতেই সচেষ্ট থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর যারা কুফরি করে তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মতো আহার করে; আর জাহান্নামই তাদের আবাসস্থল।} (২) আর আল্লাহ তায়ালা বিবাহের বন্ধনকে একটি নিখুঁত নিয়মের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি মানুষের বংশপরম্পরার সংমিশ্রণ এবং একে অপরের প্রতি অন্যায় করা থেকে রক্ষা করেছেন। মহান আল্লাহ এই ঐশী নিয়ম লঙ্ঘন করাকে এমন এক অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছেন যার জন্য শরিয়ত শাস্তির বিধান রেখেছে, যাকে শরিয়ত নির্দেশিত দণ্ডবিধি (الحدود الشرعية) বলা হয়; যাতে মানুষ প্রবৃত্তি ও লালসার দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থেকে তার প্রতিপালক ও স্রষ্টার ইবাদত করতে পারে এবং এর ফলে এমন এক পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবার গঠিত হয় যা অনুপ্রবেশকারী এবং তাদের বংশ ও মর্যাদার মিথ্যা দাবিদারদের থেকে মুক্ত থাকে। আমরা সেই সমাজগুলোকে দেখতে পাই যাদের নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে এবং যেখানে অশ্লীলতা ও চারিত্রিক পতন ছড়িয়ে পড়েছে; সেগুলো এমন এক কলহপূর্ণ সমাজে পরিণত হয়েছে যেখানে বিশ্বাসঘাতকতা এবং অবিশ্বাসের রাজত্ব চলে। আর যে সমাজের সদস্যরা সেই সুদৃঢ় ঐশী নিয়মের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে, তারা ধ্বংস ও সংঘাতের সম্মুখীন হয়; যতক্ষণ না সংস্কারকরা আহ্বান জানায় এবং গাফেলরা ‘সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ’ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) এর মাধ্যমে জাগ্রত হয়। বর্তমান সময়ে আমাদের মাঝে অনেক ধরনের বিবাহ পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সঠিক (الصحيح) এবং বাতিল (الباطل) মিশে একাকার হয়ে গেছে, এমনকি অনেক
মানুষের কাছে এর বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। তাই আলেম ও দাঈদের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের কাছে এর স্বরূপ তুলে ধরা এবং কল্যাণকর সঠিক (الصحيح) বিষয়কে ক্ষতিকর বাতিল (الباطل) থেকে পৃথক করে দেওয়া, বিশেষ করে যখন এই বিবাহ পদ্ধতিগুলো আশঙ্কাজনকভাবে এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই সবচেয়ে উত্তম হলো—প্রথমে এই পবিত্র বন্ধনের ব্যাপারে ঐশী নিয়মের নীতিমালা (ضوابط) এবং আইনগুলোর একটি দ্রুত পর্যালোচনা উপস্থাপন করা; আর এই মহান বন্ধন সম্পর্কে যেসব সংজ্ঞা, বিধান (أحكام) ও রূপরেখা বর্ণনা করা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা করা। ইনশাআল্লাহ, এই অধ্যায়ে আমরা সেই বিষয়গুলো নিয়েই কথা বলব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الأول: تعريف النكاحوتحته ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: تعريف النكاح لغةًالنكاح في اللغة: الضم، والجمع، والاختلاط.
قال في المصباح المنير:
(يقال مأخوذٌ من نكحه الدواء إذا خامره وغلبه، أو من تناكحت الأشجارُ إذا انضم بعضها إلى بعض، أو من نكح المطر الأرض إذا اختلط بثراها). (1) وسمي النكاح نكاحاً؛ لما فيه من ضم أحد الزوجين إلى الآخر شرعاً، إما وطئاً، أو عقداً، حتى صارا فيه كمصراعي باب. (2) وتستعمل العرب لفظ النكاح بمعنى الوطء والعقد جميعاً، على سبيل الاشتراك، ويعرف المراد منهما بقرينة تدل عليه.
قال في لسان العرب:
(نكح فلان امرأةً ينكحها إذا تزوجها، ونكح ينكح إذا باضعها أيضاً) (3) وقال في القاموس المحيط: (النكاح: الوطء، والعقد له. (4) وقال صاحب العين: نكح ينكح نكحاً، وهو البضع، ويجري أيضاً مجرى التزويج). (5)
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: নিকাহ-এর সংজ্ঞাএর অধীনে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে নিকাহ-এর সংজ্ঞাশাব্দিক অর্থে নিকাহ হলো: মেলানো, একত্রিত করা এবং সংমিশ্রণ।
আল-মিসবাহুল মুনীর গ্রন্থে বলা হয়েছে:
(বলা হয়ে থাকে, এটি ‘নাকাহাহুদ দাওয়া’ থেকে গৃহীত যখন ঔষধ তাকে আচ্ছন্ন ও পরাভূত করে ফেলে, অথবা ‘তানাকাহাতিল আশজার’ থেকে যখন গাছগুলো একে অপরের সাথে মিশে যায়, অথবা ‘নাকাহাল মাতারুল আরদ্বা’ থেকে যখন বৃষ্টি মাটির আর্দ্রতার সাথে মিশে যায়)। (১) আর নিকাহকে নিকাহ বলা হয়; কারণ এতে শরিয়তসম্মতভাবে এক জীবনসঙ্গীকে অন্যজনের সাথে মেলানো হয়, তা সঙ্গম (وطء) বা চুক্তি (عقد) যে মাধ্যমেই হোক না কেন, এমনকি তারা এতে দরজার দুই কপাটের মতো হয়ে যায়। (২) আর আরবরা নিকাহ শব্দটি সঙ্গম এবং চুক্তি—উভয় অর্থেই সমভাবে ব্যবহার করে এবং এদের মধ্য থেকে উদ্দিষ্ট অর্থটি প্রাসঙ্গিক লক্ষণের মাধ্যমে বোঝা যায়।
লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে:
(অমুক ব্যক্তি কোনো মহিলাকে নিকাহ করেছে অর্থাৎ তাকে বিয়ে করেছে, আর সে নিকাহ করেছে অর্থাৎ সে তার সাথে সংগত হয়েছে) (৩) আল-কামুসুল মুহীত গ্রন্থে বলা হয়েছে: (নিকাহ: সঙ্গম এবং এর জন্য সম্পাদিত চুক্তি)। (৪) কিতাবুল আইন প্রণেতা বলেন: (সে নিকাহ করেছে, সে নিকাহ করে, নিকাহ; এটি হলো সঙ্গম এবং এটি বিয়ের স্থলাভিষিক্ত হিসেবেও ব্যবহৃত হয়)। (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال في المطلع على أبواب المقنع: قال الزجاج (1): النكاح في كلام العرب بمعنى العقد والوطء جميعاً، وموضوع (ن - ك - ح) في كلامهم للزوم الشيء راكباً عليه؛
… قال ابن جني (2): سألت أبا علي الفارسي (3)
عن قوله نكحها قال: فرقت العرب فرقاً لطيفاً تَعِرف به موضع العقد من الوطء، فإذا قالوا نكح فلانة أو بنت فلان أرادوا تزوجها وعقد عليها، وإذا قالوا نكح امرأته وزوجته لم يريدوا إلا المجامعة؛ لأن بذكر امرأته وزوجته يُستغنى عن العقد. (4) وقد قيل إن النكاح حقيقة في الوطء، مجاز في العقد؛
… قال في لسان العرب: قال الأزهري (5): أصل النكاح في كلام العرب الوطء، وقيل للتزويج نكاحاً لأنه سبب للوطء المباح. (6)
--------------------------------------------
আল-মুতলি' আ'লা আবওয়াবিল মুকনি' গ্রন্থে তিনি বলেন: আয-যাজ্জাজ (১) বলেছেন: আরবদের নিকট নিকাহ শব্দটি চুক্তি ও সহবাস উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয় এবং তাদের পরিভাষায় (ন-ক-হ) ধাতুর মূল ব্যবহার হলো কোনো কিছুর ওপর আরোহণ করে তাকে আঁকড়ে ধরা;
… ইবনে জিননি (২) বলেন: আমি আবু আলি আল-ফারিসি (৩)-কে
তার এই বক্তব্য 'সে তাকে নিকাহ করেছে' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: আরবরা এর মধ্যে এমন এক সূক্ষ্ম পার্থক্য নিরূপণ করেছে যার দ্বারা সহবাস থেকে চুক্তির প্রেক্ষিতকে আলাদা করা যায়। যখন তারা বলে 'অমুক ব্যক্তি অমুক নারী বা অমুকের মেয়েকে নিকাহ করেছে', তখন তারা তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ও চুক্তি করাকে বুঝায়। আর যখন তারা বলে 'সে তার স্ত্রীকে বা সহধর্মিণীকে নিকাহ করেছে', তখন তারা সহবাস ব্যতীত অন্য কিছু বুঝায় না; কারণ নিজের স্ত্রী বা সহধর্মিণীর উল্লেখ করার মাধ্যমে বিয়ের চুক্তির বিষয়টি আর বলার প্রয়োজন পড়ে না। (৪) আরও বলা হয়েছে যে, নিকাহ শব্দটি মূলত সহবাসের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ এবং চুক্তির ক্ষেত্রে রূপক অর্থ প্রদান করে;
… লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: আল-আযহারি (৫) বলেন: আরবদের পরিভাষায় নিকাহর মূল অর্থ হলো সহবাস, আর বিয়েকে নিকাহ বলা হয় কারণ এটি বৈধ সহবাসের মাধ্যম। (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وللنكاح أسماءٌ كثيرة عند العرب: قال الثعلبي" (1) وابن القطان (2):
له ألف اسم، وقال علي ابن جعفر اللغوي (3): له ألف وأربعون اسماً، وكثرة الأسماء تدل على شرف المسمى (4).
--------------------------------------------
আরবদের নিকট বিবাহের অনেক নাম রয়েছে। আস-সা'লাবী (১) ও ইবনুল কাত্তান (২) বলেছেন:
এর এক হাজার নাম রয়েছে। আলী ইবনে জাফর আল-লুগাভী (৩) বলেছেন: এর এক হাজার চল্লিশটি নাম রয়েছে। আর নামের আধিক্য নামধারী বস্তুর মর্যাদাকে নির্দেশ করে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الثاني: تعريف النكاح اصطلاحاًأولاً: حده
اختلفت عبارات الفقهاء في تعريف النكاح، فبعضهم يعرفه بأنه: عقد يفيد ملك المتعة قصداً. (1) وبعضهم يعرفه بقوله: عقد يتضمن إباحة وطء بلفظ إنكاح، أو تزويج، أو ترجمة. (2) وبعضهم يقول: هو عقد يُعتبر فيه لفظ انكاح أو تزويج في الجملة، والمعقود عليه منفعة الاستمتاع. (3) فظاهر هذه التعاريف الاتفاق في أن الرجلَ لا يملك المنفعة من البضع، وإنما يملك الانتفاعَ به والفرق بين ملك الانتفاع وملك المنفعة، هو أن ملك المنفعةِ يستلزم أن ينتفع الزوجُ بكل ما يترتب على البضع من المنافع، وليس كذلك. (4) توضيح ذلك، أن المرأةَ لو وُطئت بشبهة يكون المهرُ لها اتفاقاً (5)، ولا يأخذ الزوج شيئاً؛ لأنه لا يملك منفعةَ البضع، وإنما يملك الانتفاعَ به. أما إباحةُ الوطء، فإنه يلزم منه ملك الانتفاعِ للزوج؛ لأنها إباحةٌ مخصوصةٌ ومقصورةٌ عليه، فتكون التعاريف بذلك متحدةَ المعنى وإن اختلفت عباراتها. قال صاحب أنيس الفقهاء: ومعناه شرعاً، "عقدٌ موضوع لملك المتعة، أي لحل استمتاع الرجل من المرأة، وهو احترازٌ عن البيع، فإنه عقدٌ موضوع لملك اليمين" (6)
هذا هو المشهور في مذاهب الفقهاء في تعريف النكاح، في كون الرجل مختصاً بملك الانتفاع بالمرأة، وأن المعقود عليه هي المرأةُ فقط، وعلى ذلك لا يلزم الرجل وطء زوجته إلا مرةً واحدةً فقط، ولا يصح لها مطالبته بذلك، لأن ذلك يكون من حقه فقط، ولكن إذا نظرنا إلى مقصد النكاح وبقية مباحثه (7) فإنه يلزم الرجلُ إعفافَ زوجته وصونها عن الوقوع في الحرام.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নিকাহের পারিভাষিক সংজ্ঞাপ্রথমত: এর সংজ্ঞা
নিকাহের সংজ্ঞা প্রদানে ফকিহগণের অভিব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: এটি এমন একটি চুক্তি যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সম্ভোগের মালিকানা সাব্যস্ত করে। (১) আবার কেউ কেউ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এই বলে: এটি এমন একটি চুক্তি যা নিকাহ, বিবাহ বা এ জাতীয় অনুবাদের শব্দের মাধ্যমে সহবাসের বৈধতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। (২) আবার কেউ কেউ বলেন: এটি এমন একটি চুক্তি যেখানে সাধারণভাবে নিকাহ বা বিবাহ শব্দ ব্যবহার করা অপরিহার্য এবং চুক্তির মূল বিষয়বস্তু হলো উপভোগের উপযোগিতা। (৩) বাহ্যত এই সংজ্ঞাগুলো এই বিষয়ে একমত যে, পুরুষ লজ্জাস্থানের উপযোগিতার (মনফা’আ) মালিক হয় না, বরং সে কেবল তা ব্যবহারের (ইন্তিফা’) অধিকার লাভ করে। ব্যবহারের মালিকানা এবং উপযোগিতার মালিকানার মধ্যে পার্থক্য হলো, উপযোগিতার মালিকানা স্বামী লজ্জাস্থান থেকে উদ্ভূত সকল প্রকার উপযোগিতা লাভের অধিকারী হওয়াকে আবশ্যক করে, কিন্তু বিষয়টি আসলে তেমন নয়। (৪) এর ব্যাখ্যা হলো, কোনো নারী যদি সংশয়বশত সহবাসের শিকার হন, তবে সর্বসম্মতিক্রমে মোহর সেই নারীই পাবেন (৫), এবং স্বামী এর কিছুই পাবেন না; কারণ তিনি লজ্জাস্থানের উপযোগিতার মালিক নন, বরং তিনি ব্যবহারের মালিক। আর সহবাসের বৈধতার বিষয়টি স্বামীর জন্য ব্যবহারের মালিকানা সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে; কারণ এটি একটি বিশেষ এবং কেবল তার জন্যই সীমাবদ্ধ বৈধতা। ফলে শব্দগতভাবে ভিন্ন মনে হলেও সংজ্ঞাগুলোর মর্মার্থ অভিন্ন। 'আনিসুল ফুকাহা' গ্রন্থের লেখক বলেন: শরিয়তের পরিভাষায় এর অর্থ হলো, "এমন এক চুক্তি যা সম্ভোগের মালিকানার জন্য প্রণীত, অর্থাৎ নারীর কাছ থেকে পুরুষের উপভোগ হালাল করার জন্য। এটি ক্রয়-বিক্রয় থেকে ভিন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে; কারণ ক্রয়-বিক্রয় হলো স্বত্বের মালিকানার জন্য প্রণীত চুক্তি।" (৬)
নিকাহের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ফকিহগণের মাযহাবসমূহে এটিই প্রসিদ্ধ যে, পুরুষ নারীর ব্যবহারের মালিকানায় বিশিষ্টতা লাভ করে এবং এই চুক্তির বিষয়বস্তু কেবল নারী। এর ভিত্তিতে, স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর সাথে কেবল একবার সহবাস করা আবশ্যক এবং স্ত্রীর জন্য তা দাবি করার অধিকার নেই; কারণ এটি কেবল স্বামীর প্রাপ্য অধিকার। কিন্তু আমরা যদি নিকাহের উদ্দেশ্য এবং এর অন্যান্য আলোচনার (৭) দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে স্ত্রীর সতীত্ব রক্ষা করা এবং তাকে হারামে লিপ্ত হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখা স্বামীর জন্য আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وفي ذلك يقول صاحب الفقه على المذاهب الأربعة: وإن كان المشهور في المذاهب أن المعقود عليه هو الانتفاعُ بالمرأة دون الرجل كما ذُكر، ولكن ستعرف من مبحث أحكام النكاح أنه يحرم الانصرافُ عن المرأة إذا ترتب عليه إضرار بها، أو إفساد لأخلاقها، وعدم إحصانها، كما أنه يحرم على الرجل أن تتلذذ به أجنبيه عنه، فقواعد المذاهب تجعل الرجل مقصوراً على من تحل له كما تجعل المرأة مقصورة عليه، وتحتم على الرجل أن يعفها بقدر ما يستطيع، كما تحتم عليها أن تطيعه فيما يأمرها به من استمتاع إلا لعذر صحيح. (1)
ثانياً: موضوعه الشرعي وحقيقةُ المعنى فيه
اختلف الفقهاء في ما وضعت له كلمة (النكاح) شرعاً، هل تكون حقيقة في العقد مجازاً في الوطء، أم عكس ذلك، أم تكون مشتركاً بينهما، في أصل الوضع؟ فعند الشافعية الثلاثة الأوجه، أصحها أنها حقيقة في العقد، مجازٌ في الوطء. (2) واحتجوا بأنه لم يأتِ لفظ النكاح في القرآن إلا ويكون معناه العقد، لا الوطء، قالوا: ولا يرد على ذلك قوله تعالى: {فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىَ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللهِ وَتِلْكَ حُدُودُ اللهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} (3) لأن المراد بها العقد، والوطء مستفادٌ من خبر (4) الصحيحين (5) قالوا: ومحالٌ أن يكون في الأصل للجماع، ثم اُستعير للعقد؛ لأن أسماء الجماع كلها كنايات لاستقباحهم ذكره كتعاطيه، ومحال أن يستعملوا ما يستعظمونه لما يستحسنونه. (6)
--------------------------------------------
এই বিষয়ে 'আল-ফিকহ আলাল মাজাহিবিল আরবাআ' গ্রন্থের লেখক বলেন: যদিও মাযহাবগুলোর মধ্যে এটি প্রসিদ্ধ যে, চুক্তিকৃত বিষয়টি হলো নারীর মাধ্যমে উপকৃত হওয়া, পুরুষের মাধ্যমে নয়—যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে; কিন্তু আপনি বিবাহের বিধান অধ্যায় থেকে জানতে পারবেন যে, স্ত্রীর কাছ থেকে বিমুখ হওয়া হারাম যদি তার ফলে তার ক্ষতি হয়, অথবা তার চরিত্রের অবক্ষয় ঘটে এবং তার সতীত্ব রক্ষার অভাব দেখা দেয়। একইভাবে পুরুষের জন্য কোনো পরনারী কর্তৃক আনন্দ লাভ করা হারাম। সুতরাং মাযহাবগুলোর মূলনীতিসমূহ পুরুষকে কেবল তার জন্য যারা বৈধ তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে, যেমনভাবে নারীকেও তার স্বামীর জন্য সীমাবদ্ধ রাখে। আর পুরুষের ওপর এটি আবশ্যক করে যে, সে তার সাধ্যানুযায়ী স্ত্রীর সতীত্ব রক্ষা করবে, ঠিক তেমনি নারীর ওপর আবশ্যক করে যে, সে উপভোগের ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করবে—যদি না কোনো সঠিক ওজব বা কারণ থাকে। (১)
দ্বিতীয়ত: এর শরয়ি বিষয়বস্তু এবং এর প্রকৃত অর্থের স্বরূপ
শরয়ি পরিভাষায় 'নিকাহ' শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয় সে সম্পর্কে ফকিহগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। এটি কি চুক্তির ক্ষেত্রে মূল অর্থে (حقيقة) এবং সহবাসের ক্ষেত্রে রূপক অর্থে (مجاز) ব্যবহৃত হয়, নাকি এর উল্টোটা? অথবা মূল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কি এটি উভয় অর্থের মধ্যেই সাধারণ (مشترك)? শাফেয়ীগণের মতে এ বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে অধিক সঠিক (أصح) অভিমত হলো এটি চুক্তির ক্ষেত্রে মূল অর্থে (حقيقة) এবং সহবাসের ক্ষেত্রে রূপক অর্থে (مجاز) ব্যবহৃত হয়। (২) তারা দলিল পেশ করেছেন যে, কুরআনে নিকাহ শব্দটি চুক্তির অর্থ ছাড়া অন্য কোনো অর্থে আসেনি, সহবাসের অর্থে নয়। তারা বলেন: আল্লাহর এই বাণী—{অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে সে তার জন্য আর হালাল হবে না যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে নিকাহ করবে; এরপর যদি সে তাকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে তাদের উভয়ের পুনরায় মিলিত হওয়াতে কোনো গুনাহ নেই, যদি তারা মনে করে যে আল্লাহর বিধানসমূহ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা, যা তিনি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য বর্ণনা করেন} (৩)—এই আয়াত তাদের দাবির পরিপন্থী নয়; কারণ এখানে নিকাহ দ্বারা চুক্তিই উদ্দেশ্য, আর সহবাসের বিষয়টি সহীহাইন-এর একটি বর্ণনা (خبر) (৪) থেকে জানা যায়। (৫) তারা আরও বলেন: এটি অসম্ভব যে শব্দটি মূলত সহবাসের জন্য ছিল এবং পরে চুক্তির জন্য রূপক হিসেবে ধার করা হয়েছে; কারণ সহবাসের সকল শব্দই হলো পরোক্ষ ইঙ্গিত মাত্র, কারণ তারা সহবাসের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করাকে অপছন্দ করত যেভাবে তারা তা সম্পাদন করাকে প্রকাশ করা অপছন্দ করত। আর তারা যা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মনে করে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বিষয়ের জন্য ব্যবহার করা অসম্ভব। (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وعند الحنفية، أن النكاح حقيقةٌ في الوطء، مجازٌ في العقد. (1) واحتجوا بقوله تعالى:
… {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّىَ إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُم مِّنْهُمْ رُشْداً فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ} (2) يعني الاحتلام، فالمحتلم يرى في منامه صورة الوطء. وقوله تعالى: {الزَّانِي لَا يَنكِحُ إلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً} (3) والمراد الوطء، أما في الآيات التي ترد فيها ويكون معناها العقد، فذلك لدليل اقترن بها من ذكر العقد، أو خطاب الأولياء، كما في قوله تعالى: {وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ} (4) أو اشتراط إذن الأهل، كما في قوله تعالى: {فَانكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ}. (5)
أما عند أحمد، فالنكاح لفظ مشترك بين العقد والوطء على سبيل الحقيقة فيهما جميعاً. قال أبن هبيرة: وقال مالك وأحمد رحمهما الله تعالى: هو حقيقة في العقد والوطء جميعاً، وليس أحدهما أخص منه بالآخر (6)
--------------------------------------------
হানাফিদের মতে, নিকাহ শব্দটি সহবাসের (الوطء) ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة) অর্থে এবং বিয়ের চুক্তির (العقد) ক্ষেত্রে রূপক (مجاز) অর্থে ব্যবহৃত হয়। (১) তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন:
… {আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করো, যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছায়; অতঃপর যদি তাদের মধ্যে সঠিক বিচারবুদ্ধির পরিচয় পাও, তবে তাদের সম্পদ তাদের নিকট ফিরিয়ে দাও} (২) এখানে নিকাহ বলতে স্বপ্নদোষ (الاحتلام) বোঝানো হয়েছে; কারণ স্বপ্নদোষ হওয়া ব্যক্তি স্বপ্নে সহবাসের (الوطء) চিত্র দেখতে পায়। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী অথবা মুশরিক নারীকেই বিয়ে (সঙ্গম) করে} (৩) আর এখানে উদ্দেশ্য হলো সহবাস (الوطء)। পক্ষান্তরে যেসকল আয়াতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং তার অর্থ বিয়ের চুক্তি (العقد) করা হয়েছে, তা মূলত চুক্তির (العقد) উল্লেখ থাকার কারণে অথবা অভিভাবকদের প্রতি সম্বোধনের ন্যায় কোনো দলিলের সংশ্লিষ্টতার কারণে হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিতদের এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস-দাসীদের বিয়ের ব্যবস্থা করো} (৪) অথবা পরিবারের অনুমতির শর্তারোপের কারণে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা তাদের পরিবারের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে করো}। (৫)
অন্যদিকে ইমাম আহমদের মতে, নিকাহ শব্দটি বিয়ের চুক্তি (العقد) এবং সহবাস (الوطء) উভয়ের মধ্যেই প্রকৃত (حقيقة) অর্থের ক্ষেত্রে একটি দ্ব্যর্থবোধক শব্দ (لفظ مشترك)। ইবনে হুবাইরা বলেন: ইমাম মালিক এবং আহমদ (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেছেন— এটি বিয়ের চুক্তি (العقد) এবং সহবাস (الوطء) উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রকৃত (حقيقة) অর্থ প্রদান করে এবং এদের কোনটিই অপরটির চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট নয়। (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
فائدة الخلاف
تظهر فائدة الخلاف بين الشافعية ومن وافقهم، والأحناف ومن وافقهم؛ في كون من زنى بامرأةٍ فإنها لا تحرمُ على والده ولا على ولده، عند الشافعية؛ لأنه وطءٌ بغير عقد، ولا يكون التحريم إلا بالعقد، فالنكاح عندهم في قوله تعالى: {وَلَا تَنكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاء إِلَاّ مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتاً وَسَاء سَبِيلاً} (1) بمعنى العقد؛ وعند الأحناف تحرم لأن النكاح في الآية بمعنى الوطء، فيتناول الوطءَ بعقد أو بغيره (2)، أما عند مالك ففي الموطأ عنه (3) مثلَ قول الشافعي، وروى عنه ابنُ القاسم مثلَ قول أبي حنيفة (4)، وأما الحنابلة فالآيةُ عندهم تتناول من وطء بعقد، أو بغير عقد، مثل قول أبي حنيفة؛ لأن لفظ النكاح عندهم لفظٌ مشترك بين العقد والوطء، فيثبت التحريم (5).
--------------------------------------------
মতভেদের ফলশ্রুতি
শাফেঈ ও তাদের অনুসারী এবং হানাফী ও তাদের অনুসারীদের মধ্যকার মতভেদের ফলশ্রুতি এখানে প্রকাশ পায় যে; শাফেঈদের মতে, কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর সাথে ব্যভিচার (زنى) করলে, উক্ত নারী সেই ব্যক্তির পিতা বা পুত্রের জন্য হারাম হয়ে যায় না। কারণ এটি বিবাহ বন্ধন (عقد) ব্যতীত যৌনসঙ্গম (وطء), আর বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা (تحريم) কেবল বিবাহের চুক্তির মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। তাই তাদের নিকট মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের পিতারা যে নারীদের বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না, তবে যা অতীতে হয়ে গেছে তা স্বতন্ত্র। নিশ্চয় এটি অশ্লীলতা, ঘৃণ্য কাজ ও নিকৃষ্ট পথ।} (১) —এখানে বিবাহ (نكاح) শব্দটি বিবাহ বন্ধন (عقد) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। পক্ষান্তরে হানাফীদের মতে, উক্ত নারী হারাম হয়ে যায়; কেননা আয়াতে বিবাহ (نكاح) শব্দটি যৌনসঙ্গম (وطء) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে এটি বিবাহের চুক্তির মাধ্যমে হোক বা চুক্তি ব্যতীত (ব্যভিচার)—উভয় প্রকার যৌনসঙ্গমকেই অন্তর্ভুক্ত করে (২)। ইমাম মালিকের ক্ষেত্রে মুওয়াত্তায় তাঁর থেকে বর্ণিত মতটি (৩) ইমাম শাফেঈর মতের অনুরূপ; তবে ইবনুল কাসিম তাঁর থেকে ইমাম আবু হানিফার মতের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন (৪)। আর হাম্বলীগণের মতে, এ আয়াতটি বিবাহের চুক্তিসহ বা চুক্তি ব্যতীত—উভয় প্রকার যৌনসঙ্গমকেই শামিল করে, যা ইমাম আবু হানিফার মতের অনুরূপ; কেননা তাদের নিকট বিবাহ (نكاح) শব্দটি বিবাহ বন্ধন (عقد) ও যৌনসঙ্গম (وطء) উভয় অর্থের মধ্যেই একটি বহু অর্থবোধক (مشترك) শব্দ। ফলে এর মাধ্যমে বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা (تحريم) সাব্যস্ত হয় (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
المطلب الثالث: تعريف النكاح في القانون اليمنيقال في الأحوال الشخصية:
الزواج هو ارتباط بين زوجين، بعقد شرعي تحل به المرأةُ للرجل شرعاً (1)، فنحن نرى أن القانون يعرف النكاح بتعريف لا يختلف فيه مع التعاريف السابقة الذكر، بل يتوافق معها في كون المرأةِ هي المعقودُ عليها، وأنه يحل للرجل الاستمتاعُ والانتفاع بها. (2)
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইয়েমেনি আইনে বিবাহের (النكاح) সংজ্ঞাব্যক্তিগত আইন (الأحوال الشخصية) সংক্রান্ত গ্রন্থে বলা হয়েছে:
বিবাহ (الزواج) হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার এমন একটি বন্ধন, যা একটি শরয়ি চুক্তির (عقد شرعي) মাধ্যমে সম্পাদিত হয় এবং যার মাধ্যমে নারী শরয়িভাবে (شرعاً) পুরুষের জন্য বৈধ হয় (১)। আমরা লক্ষ্য করছি যে, আইন বিবাহের (النকাহ) এমন একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছে যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত সংজ্ঞাসমূহ থেকে ভিন্ন কিছু নয়, বরং এটি এই বিষয়ে আগের সংজ্ঞাগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, নারীই হলো এখানে চুক্তিকৃত পক্ষ (المعقود عليها), এবং এর মাধ্যমে পুরুষের জন্য তার থেকে আনন্দ ও উপকার লাভ (الاستمتاع والانتفاع) বৈধ হয়। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الثاني: أهمية النكاح وحكمهوتحته ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: أهمية النكاح وحكمتهأولاً: أهمية النكاح
اقتضت حكمة الله تعالى أن يجعل الإنسانَ خليفته في الأرض، قال تعالى: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَةً} (1) وهذه الخلافةُ لا يمكن تحقيقها على وجه الاستدامة إلا ببقاء الجنس الإنساني؛ ولمّا كان ذلك متوقفاً على التناسل والتكاثر، كان ذلك دليلاً على أهمية التناسل لتحقيق تلك الخلافة؛ ولولا هذا التناسل لانقرض النوعُ البشري وفني الإنسان ولهذا عبر الفقهاء عنه بأنه إحدى الضروريات الخمس، المراعاةُ في كل ملة، والضروريات معناها أنه لابد منها في قيام مصالح الدين، والدنيا، بحيثُ إذا فُقدت لم تجر مصالح الدنيا على استقامة، بل على فساد، وتهارج وفوت حياة، وفي الآخرة فوتُ النجاة والنعيم، والرجوع بالخسران المبين. (2) لذلك جعله الله تعالى فطرةً بين البشر، يميل الرجلُ إلى المرأة والمرأةُ إلى الرجل، بفطرة فطر الله الجميع عليها، بل جعل ذلك الميلَ مصحوباً بشهوة، ورغبة عارمة لكلا النوعين، الرجلُ والمرأة؛ وما ذلك إلا ليكون طريق بقاء الجنس الإنساني وسيلةً سهلة ميسورة على بني البشر، بل مرغوبةً عندهم، ولنتأمل قوله تعالى: {زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاء وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاللهُ عِندَهُ حُسْنُ الْمَآبِ} (3)
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহের গুরুত্ব ও এর বিধান (حكم)এর অধীনে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: বিবাহের গুরুত্ব ও এর অন্তর্নিহিত হিকমতপ্রথমত: বিবাহের গুরুত্ব
আল্লাহ তায়ালার হিকমত দাবি করে যে, তিনি মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করবেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি’} (১)। আর এই খিলাফত বা প্রতিনিধিত্বের ধারা স্থায়িত্বের সাথে অর্জন করা মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষা ব্যতীত সম্ভব নয়; যেহেতু এটি সন্তান উৎপাদন ও বংশবৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল, তাই এটি সেই প্রতিনিধিত্ব অর্জনে বংশবৃদ্ধির গুরুত্বের প্রমাণ। আর যদি এই বংশবৃদ্ধি না থাকত, তবে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং মানুষ ধ্বংস হয়ে যেত। এজন্য ফকিহগণ (الفقهاء) বিষয়টিকে মৌলিক পঞ্চ-প্রয়োজন (الضروريات الخمس)-এর অন্যতম হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা প্রতিটি ধর্মাদর্শে সংরক্ষিত। আর 'অপরিহার্য বিষয়সমূহ' (الضروريات) বলতে বোঝায়— দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণসমূহ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য যা আবশ্যক; ফলে এগুলো যদি হারিয়ে যায় তবে দুনিয়ার কল্যাণসমূহ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে না, বরং তা বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও জীবননাশের দিকে ধাবিত হবে; আর আখিরাতে তা মুক্তি ও নেয়ামত হারানোর কারণ হবে এবং সুস্পষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। (২) এজন্য মহান আল্লাহ একে মানুষের মধ্যে স্বভাবজাত প্রকৃতি (فطرة) হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, ফলে পুরুষ নারীর প্রতি এবং নারী পুরুষের প্রতি ঝুঁকে পড়ে—এমন এক স্বভাবের ওপর ভিত্তি করে যার ওপর আল্লাহ সকলকে সৃষ্টি করেছেন। বরং তিনি এই আকর্ষণকে এক প্রবল কামনা ও আকাঙ্ক্ষার সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন উভয় শ্রেণির জন্য—পুরুষ ও নারী। আর এটি করা হয়েছে যাতে মানবজাতি টিকে থাকার পথটি মানবসন্তানদের জন্য সহজ ও সুগম হয়, এমনকি তাদের নিকট আকাঙ্ক্ষিত হয়। মহান আল্লাহর বাণীটি লক্ষ্য করা যাক: {মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু ও ক্ষেত-খামারের ন্যায় কাম্য বস্তুসমূহের প্রতি আসক্তি। এসবই পার্থিব জীবনের ভোগ্য সামগ্রী; আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।} (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وفي الحديث قال: صلى الله عليه وسلم "حبب إلي من الدنيا النساء، والطيب، وجُعلت قرة عيني في الصلاة (1) "
وهذا التزيين والتحبيبُ، اللذان جعلهما الله تعالى بين الجنسين، يدل على رحمة الله
… تعالى لهذا الإنسان الضعيف، حيث جعل طريقَ التناسل وبقاء النوع الإنساني محبباً مزيناً لهم، ثم إن هذا الاستخلاف لا يمكن أن يتحقق على الوجه المطلوب إلا إذا كان هذا النسل منظماً ومبنياً على قوانين سماوية لا يتطرقُ إليها الخلل، وإلا فمجرد بقاء النسل يمكن تحقيقه بأي اتصال بين الرجل والمرأة، ولكنَّ مثلَ هذا النسل لا يمكنه تحقيقُ الهدف، والغاية التي من أجلها خلق الله الإنسان؛ فالنسلُ المطلوب إذاً هو ذلك النسل الناتج عن اجتماع بين الجنسين، مباركٌ هذا الاجتماع بقوانين سماوية، وحكم ربانية وهو ما يسمى بـ (الزواج).
ثانياً: حكمة النكاح
الحفاظ على النسل إحدى الضروريات الخمس، التي قيل أنها مراعاةٌ في كل ملة، وبالنسل يمكن الحفاظُ على الدين، إذ لو انعدم النسلُ لانعدم التدين، والحفاظ عليه يكون من جانبين:
1) ما يقيم أركانه ويثبت قواعده، وهو ما يعبر عنه بالحفاظ عليه من جانب الوجود.
2) ما يدرأ الاختلال الواقع أوالمتوقع عنه، وهو ما يعبر عنه بالحفاظ عليه من جانب العدم. (2) فبالزواج تتحقق إقامةُ النسل، وتتثبت أركانه وقواعده، وهذا من الجانب الأول؛ وبالعشرة الحسنة للنساء، والصبر عليهن يتحقق الحفاظُ على النسل من الجانب الآخر؛ إذاً فالزواج طريق إلى حفظ مقصد ضروري من المقاصد الخمسة، ألا وهو بقاء النسل. وإذا تكلمنا عن حِكم النكاح، إنما نقصد الحِكم الناتجة عن النكاح الشرعي، إذ أن النكاح غير الشرعي، أو السفاح، لا حكم من ورائه، بل ينتج عنه أضرارٌ تحل محل تلك الحكم؛ وإن كنا لا نستطيع إحصاءً لتلك الحكم على سبيل الحصر، لكننا سنذكر أهمها على سبيل الإشارة، فمنها: ـ
--------------------------------------------
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পার্থিব জগতের বস্তুসমূহের মধ্যে নারী এবং সুগন্ধি আমার নিকট প্রিয় করা হয়েছে, আর সালাতের মধ্যে আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে (১)।"
উভয় লিঙ্গের মধ্যে মহান আল্লাহ যে আকর্ষণ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন, তা এই দুর্বল মানুষের প্রতি মহান আল্লাহর অনুগ্রহেরই পরিচয় বহন করে। কারণ, তিনি বংশবৃদ্ধি এবং মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পথকে তাদের কাছে প্রিয় ও সুশোভন করে দিয়েছেন। আরও কথা হলো, এই প্রতিনিধিত্ব (খিলাফত) যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব নয় যতক্ষণ না এই বংশধারা সুশৃঙ্খল এবং কোনো ত্রুটিমুক্ত আসমানি আইনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। অন্যথায়, বংশরক্ষা তো নারী ও পুরুষের যেকোনো সম্পর্কের মাধ্যমেই সম্ভব ছিল, কিন্তু তেমন বংশধারা সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম নয় যার জন্য আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব, কাঙ্ক্ষিত বংশধারা হলো সেই বংশধারা যা নারী ও পুরুষের এমন এক মিলনের মাধ্যমে অর্জিত হয়, যা আসমানি আইন ও রব্বানি হিকমত দ্বারা বরকতময়; আর একেই 'বিবাহ' বলা হয়।
দ্বিতীয়ত: বিবাহের হিকমত
বংশধারা সংরক্ষণ করা পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজনের (আদ-দারুরিয়্যাতুল খামস) একটি, যা প্রতিটি ধর্মাদর্শে সংরক্ষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বংশধারার মাধ্যমেই দ্বীন রক্ষা করা সম্ভব, কারণ বংশধারা বিলুপ্ত হলে দ্বীন পালনের লোকও থাকবে না। এই সুরক্ষা দুইভাবে হতে পারে:
১) যা এর স্তম্ভসমূহকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং এর মূলনীতিগুলোকে সুদৃঢ় করে, যাকে অস্তিত্বের দিক থেকে সংরক্ষণ বলে অভিহিত করা হয়।
২) যা এর মধ্যে ঘটা বা ঘটার সম্ভাবনা থাকা বিশৃঙ্খলা দূর করে, যাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার দিক হিসেবে অভিহিত করা হয়। (২) সুতরাং বিবাহের মাধ্যমে বংশধারা অর্জিত হয় এবং এর ভিত্তি ও মূলনীতিসমূহ সুদৃঢ় হয়, যা প্রথম দিকের অন্তর্ভুক্ত। আর স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণ এবং তাদের প্রতি ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে অপর দিক থেকে বংশধারার সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। অতএব, বিবাহ হলো পাঁচটি মৌলিক উদ্দেশ্যের (মাকাসিদ) মধ্যে একটি অপরিহার্য উদ্দেশ্য সংরক্ষণের মাধ্যম, আর তা হলো বংশধারা রক্ষা। আমরা যখন বিবাহের হিকমত বা প্রজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করি, তখন কেবল শরয়ি বা বৈধ বিবাহের হিকমতগুলোই আমাদের উদ্দেশ্য। কেননা অবৈধ বিবাহ বা ব্যভিচারের পেছনে কোনো হিকমত নেই, বরং এর মাধ্যমে এমন সব ক্ষতি জন্ম নেয় যা সেই হিকমতগুলোর জায়গা দখল করে নেয়। যদিও আমরা সেই হিকমতগুলোকে সীমাবদ্ধভাবে গণনা করতে সক্ষম নই, তবুও আমরা ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার প্রধান কয়েকটি উল্লেখ করব। সেগুলো হলো: —
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أولاً: تحقيقُ عبادة الله تعالى، وإعمارُ الأرض ببقاء النسل، إذ لو انعدم النسلُ لانعدم التدين من بني البشر، كما بينا.
ثانياً: بناء الأسرة التي هي مأوى الرجل من عنائه وتعبه، وهي محلُ استقراره ومحط رحاله، وإفراغ عواطفه، قال الله تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجاً لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} (1) ، وهي كذلك الحصنُ الذي تلوذ به المرأةُ من ذئاب البشر، فتحتمي بحماها وتستظل بظلالها، وهي كذلك المدرسةُ التي من خلالها يتربى الأجيال، ويتعلم الأبناء.
ثالثاً: إشباعُ الفطرة، وتحصين الفرج، فهذه الفطرة التي أودعها الله في الرجل والمرأة، والتي تجعل كلاً منهما يميل إلى الآخر قسراً؛ بالزواج تُشبع، وعن طريقه تتحصن الفروج والجوارح، فإنه عندما يشعر كلٌ من الرجل والمرأة، أنه تحت تصرف صاحبه، ورغبته، تهدأ نفسه، وتسكن شهوته، وفي ذلك يقول المصطفى صلى الله عليه وسلم: "يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج، فإنه أغض للبصر وأحصنُ للفرج ومن لم يستطع فعليه بالصوم فإنه له وجاء" (2) وبالتالي يكون النكاحُ قيداً وثيقاً للثوران الجنسي في الرجل والمرأة.
رابعاً: تكثيرُ الأمة بالتناسل، والتكاثر، ليعلو هذا الدين، وتتحقق بذلك مباهاةُ نبينا صلى الله عليه وأله وسلم لسائر الأمم يومَ القيامة إذ يقول صلى الله عليه وسلم: " تزوجوا الولود الودود فإني مكاثر بكم الأمم يوم القيامة". (3)
خامساً: تقوية الروابط بين المسلمين بالمصاهرة، الحاصلة من وراء الزواج قال تعالى: {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ مِنَ الْمَاء بَشَراً فَجَعَلَهُ نَسَباً وَصِهْراً وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيراً}. (4)
--------------------------------------------
প্রথমত: আল্লাহ তাআলার ইবাদত সম্পন্ন করা এবং বংশধারা রক্ষার মাধ্যমে পৃথিবী আবাদ করা; কেননা যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি যে, বংশধারা বিলুপ্ত হলে মানবজাতির মধ্য থেকে ধর্মপরায়ণতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত: পরিবার গঠন করা, যা পুরুষের ক্লান্তি ও অবসাদের আশ্রয়স্থল এবং তার স্থিতি, বিশ্রামের স্থান ও আবেগ প্রকাশের কেন্দ্র। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে} (১)। তদ্রূপ এটি এমন একটি দুর্গ যেখানে নারী মানুষেরূপী নেকড়েদের থেকে আশ্রয় গ্রহণ করে, এর আশ্রয়ে সুরক্ষিত থাকে এবং এর ছায়াতলে অবস্থান করে। তদ্রূপ এটি এমন এক শিক্ষালয় যার মাধ্যমে প্রজন্ম গড়ে ওঠে এবং সন্তানরা শিক্ষা লাভ করে।
তৃতীয়ত: স্বভাবজাত প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা এবং লজ্জাস্থান হেফাযত করা। এই স্বভাবজাত প্রবৃত্তি যা আল্লাহ পুরুষ ও নারীর মধ্যে নিহিত রেখেছেন এবং যা তাদের একে অপরের প্রতি অনিবার্যভাবে অনুরাগী করে তোলে; বিবাহের মাধ্যমেই তা পূর্ণতা পায় এবং এর মাধ্যমেই লজ্জাস্থান ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুরক্ষিত হয়। কারণ যখন নারী ও পুরুষ প্রত্যেকেই অনুভব করে যে, সে তার সঙ্গীর আয়ত্তে ও ইচ্ছার অধীনে রয়েছে, তখন তার নফস শান্ত হয় এবং কামস্পৃহা প্রশমিত হয়। এই প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: "হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য রয়েছে সে যেন বিবাহ করে, কেননা তা দৃষ্টিকে অতিশয় অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে অধিকতর হেফাযত করে। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা রাখে, কারণ তা তার জন্য কামস্পৃহা দমনের মাধ্যম" (২)। ফলশ্রুতিতে বিবাহ নারী ও পুরুষের যৌন উত্তেজনার ক্ষেত্রে একটি সুদৃঢ় বন্ধন হিসেবে কাজ করে।
চতুর্থত: বংশবিস্তার ও প্রজননের মাধ্যমে উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, যাতে এই দ্বীন সমুন্নত হয় এবং এর মাধ্যমে কিয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের সামনে আমাদের নবী (সা.)-এর গর্ব করার বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়। কেননা তিনি (সা.) বলেছেন: "তোমরা এমন নারীকে বিবাহ করো যে অধিক সন্তানপ্রসূ এবং অধিক প্রেমময়ী; কারণ আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের আধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব" (৩)।
পঞ্চমত: বিবাহের মাধ্যমে সৃষ্ট বৈবাহিক সম্পর্কের দ্বারা মুসলিমদের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বংশগত ও বৈবাহিক আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। আর তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান} (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
سادساً: تحصيل السعادةِ، والزينة، وقرة العين، وأنواع اللذائذ، لهذا الإنسان في هذا الكون من خلال الزواج وإنجاب الأبناء قال تعالى: {الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَاباً وَخَيْرٌ أَمَلاً} (1) وقال صلى الله عليه وسلم: " الدنيا متاع وخير متاعها المرأة الصالحة". (2)
وبعد ..
فإن الذين يجعلون هذه الشعيرةَ عبارة عن طريق لقضاء الشهوات، ونيل الأوطار وحصول اللذائذ فحسب ـ ضاربين بالحكم الشرعية ومقاصد الشريعة عرض الحائط ـ ويتخذون الحيل التي تفوت المصالح الشرعية، والمقاصد الربانية، سبيلاً وسلماً لهم لتحقيق الشهوات، وإشباع الغرائز، هؤلاء نقول لهم، اتقوا الله في أنفسكم وأمتكم قال تعالى: {فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْراً يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرّاً يَرَهُ}. (3)
--------------------------------------------
ষষ্ঠত: এই মহাবিশ্বে মানুষের জন্য বিবাহ এবং সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে সুখ, সৌন্দর্য, নয়নপ্রীতি ও বিভিন্ন প্রকার স্বাদ আস্বাদন অর্জন করা। মহান আল্লাহ বলেন: {ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী নেক আমলসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান হিসেবে শ্রেষ্ঠ এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রেও উত্তম।} (১) এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দুনিয়া হলো উপভোগের বস্তু এবং দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ উপভোগের সম্পদ হলো পুণ্যবতী (صالحة) নারী।" (২)
অতঃপর ..
যারা এই ইবাদতকে কেবল প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা, প্রয়োজন পূরণ ও স্বাদ আস্বাদনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে—শরিয়তের বিধান ও শরিয়তের উদ্দেশ্যসমূহকে অবজ্ঞা করে—এবং এমন সব কলাকৌশল অবলম্বন করে যা শরয়ি কল্যাণসমূহ ও রব্বানি উদ্দেশ্যসমূহকে নস্যাৎ করে দেয়, কেবল প্রবৃত্তি পূরণ ও কামনা-বাসনা মেটানোর উপায় হিসেবে তা ব্যবহার করে; তাদের প্রতি আমাদের কথা হলো, নিজেদের ব্যাপারে এবং তোমাদের উম্মতের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে সে তা দেখতে পাবে, আর যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তা দেখতে পাবে।} (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المطلب الثاني: حكمة النكاح في القانون اليمنيقال: في الأحوال الشخصية
"وغايته تحصينُ الفرج وإنشاءُ أسرة قوامها حسن العشرة " (1)
فالواضح أن القانونَ يحدد هدفاً من هذه العلاقة بين الرجل والمرأة، ولا يجعلها علاقة قائمة على قضاء الوطر، ونيل اللذة فحسب.
فتحصين الفرج من مقاصد الشريعة الغراء التي جاءت من عند الخالق، الذي خلق هذا الإنسان، ويعلم ما يصلح له من الأحكام؛ لأنه الذي خلق فهو الذي يعلم، ولا يمكن تحصين الفروج على الوجه المطلوب إلا بالنكاح الذي يكون على سبيل الديمومة والبقاء، لذلك حافظ الشرع على العلاقة والعشرة الزوجية حفاظاً عظيماً (2) ، وجعل سبيلَ فكاك رباطها حلاً أخيراً واضطرارياً، بعد نفاد السبل كلها لتفادي الفرقة (3).
ونرى كذلك القانون ينص على إنشاء الأسرة، التي هي نواةُ المجتمع الأولى، والركيزة الأهم في بنائه؛ فهذه غايات الزواج التي نص عليها القانون، تحصين الفرج، وإنشاء الأسرة، وذلك لا يعني انحصارها بهاتين الغايتين فحسب.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইয়েমেনি আইনে বিবাহের (النكاح) হিকমত বা প্রজ্ঞাতিনি বলেন: ব্যক্তিগত আইন প্রসঙ্গে
"এর লক্ষ্য হলো লজ্জাস্থানের সুরক্ষা (تحصين الفرج) এবং এমন একটি পরিবার গঠন করা যার ভিত্তি হবে সদ্ব্যবহার ও সুন্দর সহাবস্থান (عشرة)।" (১)
সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আইন নারী ও পুরুষের মধ্যকার এই সম্পর্কের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে এবং একে কেবল কামবৃত্তি চরিতার্থ করা কিংবা নিছক স্বাদ আস্বাদনের মাধ্যম হিসেবে সাব্যস্ত করেনি।
লজ্জাস্থানের সুরক্ষা (تحصين الفرج) মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে আগত মহিমান্বিত শরীয়াহর (الشريعة) অন্যতম উদ্দেশ্য (مقاصد)। তিনি এই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি ভালোভাবেই জানেন কোন বিধান তার জন্য কল্যাণকর; যেহেতু তিনি স্রষ্টা, তাই তিনিই সম্যক পরিজ্ঞাত। আর কাঙ্ক্ষিত পন্থায় লজ্জাস্থানের সুরক্ষা করা সম্ভব নয় কেবল সেই বিবাহের (النكاح) মাধ্যমেই যা স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্নতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। এই কারণেই শরীয়াহ বৈবাহিক সম্পর্ক ও সুন্দর সহাবস্থানের সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে (২), এবং বিচ্ছেদ এড়ানোর জন্য সমস্ত উপায় নিঃশেষ হওয়ার পর একেবারে চূড়ান্ত ও জরুরি অবস্থা (اضطراري) হিসেবে এই বন্ধন ছিন্ন করার পথ খোলা রেখেছে (৩)।
একইভাবে আমরা দেখতে পাই যে, আইন পরিবার গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে, যা সমাজের প্রাথমিক কেন্দ্র এবং এর কাঠামোর প্রধান ভিত্তি; এগুলোই হলো আইনে বর্ণিত বিবাহের লক্ষ্য—লজ্জাস্থানের সুরক্ষা এবং পরিবার গঠন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বিবাহ কেবল এই দুটি লক্ষ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المطلب الثالث: مشروعية النكاح وحكمهأولاً: مشروعية النكاح
الأصل في مشروعية النكاح الكتابُ، والسنة، وإجماع الأمة. (1)
* فمن الكتاب:
قول الله تعالى: {فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاء مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَاّ تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَلَاّ تَعُولُوا} (2) وقوله تعالى: {وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِن يَكُونُوا فُقَرَاء يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ} (3) فالأمرُ مفاده الوجوب، إلا أن يصرفه صارف، وأقل درجاته السنية، فتثبت بهذا المشروعية من باب الأولى.
*ومن السنة:
قول النبي صلى الله عليه وسلم: "يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج، فإنه أغض للبصر، وأحصن للفرج، ومن لم يستطع فعليه بالصوم فإنه له وجاء " (4) وقول النبي صلى الله عليه وسلم: "تناكحوا تكاثروا فإني مباه بكم الأمم يوم القيامة" (5) وقول النبي صلى الله عليه وسلم: "الدنيا متاع وخير متاعها المرأة الصالحة" (6) وقول النبي صلى الله عليه وسلم: " ولكني أصوم وأفطر وأتزوج النساء فمن رغب عن سنتي فليس مني" (7) وقول النبي صلى الله عليه وسلم: " من رزقه الله امرأة صالحة فقد أعانه على شطر دينه فليتق الله في الشطر الآخر" (8) وما جاء من حديث سعد أن النبي صلى الله عليه وسلم رد على عثمان ابن مضعون
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহের বৈধতা ও এর বিধানপ্রথমত: বিবাহের বৈধতা
বিবাহের বৈধতার মূল ভিত্তি হলো কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের ঐকমত্য (إجماع)। (১)
* কুরআন থেকে দলিল:
আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর নারীদের মধ্য থেকে তোমাদের যাকে পছন্দ হয় তাকে বিবাহ করো—দুই, তিন বা চার। কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না, তবে একজনকে (বিবাহ করো) অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের। এটিই তোমাদের জন্য অন্যায় না করার কাছাকাছি।} (২) এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে যারা বিবাহহীন এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্য থেকে যারা সৎকর্মশীল তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করো। যদি তারা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাঁর নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।} (৩) এখানে আদেশটি আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে, যদি না অন্য কোনো প্রমাণ একে এই অর্থ থেকে সরিয়ে দেয়; আর এর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো সুন্নাত (سنية) হওয়া। সুতরাং এর মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়।
* সুন্নাহ থেকে দলিল:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ তা দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে রক্ষা করে। আর যে সক্ষম নয়, সে যেন রোজা রাখে। কেননা তা তার জন্য ঢালস্বরূপ।" (৪) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "তোমরা বিবাহ করো এবং বংশ বৃদ্ধি করো, কেননা কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব।" (৫) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "পৃথিবী হলো এক সম্পদ এবং দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ হলো পুণ্যময়ী নারী।" (৬) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "কিন্তু আমি রোজা রাখি এবং রোজা ভঙ্গ করি, আর আমি নারীদের বিবাহ করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার দলভুক্ত নয়।" (৭) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "আল্লাহ যাকে একজন পুণ্যময়ী স্ত্রী দান করেছেন, তিনি তাকে তার দ্বীনের অর্ধেক বিষয়ে সাহায্য করেছেন। সুতরাং অবশিষ্ট অর্ধেকের ক্ষেত্রে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।" (৮) এবং সা’দ (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনে মাজউন এর (স্ত্রীত্যাগের আবেদন) প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
التبتلَ قال ولو أذن له لاختصينا" (1) وغيرها (2) قال البلقيني: النكاح شُرع من عهد آدمَ عليه السلام، واستمرت مشروعيته، بل هو مستمر في الجنة، ولا نظير له فيما يُتعبد به من العقود بعد الإيمان، قال: قلت ذلك بفتح الكريم المنان (3) وأقل درجات الأمر في هذه الأحاديث السنية، فتثبت بذلك مشروعية النكاح.
*وأما الإجماع
فقد أجمع المسلمون على أن النكاحَ مشروعٌ. (4)
--------------------------------------------
সংসারবিরাগ (التبتل); তিনি বলেন, "যদি তিনি তাকে অনুমতি দিতেন, তবে আমরা খোজা হয়ে যেতাম" (১) এবং অন্যান্য বর্ণনা (২)। আল-বুলকিনি বলেন: বিবাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-এর যুগ থেকে প্রবর্তিত হয়েছে এবং এর বৈধতা (مشروعيته) অব্যাহত রয়েছে, বরং এটি জান্নাতেও জারি থাকবে। ঈমানের পর ইবাদত হিসেবে পালিত চুক্তিগুলোর (العقود) মধ্যে এর কোনো সদৃশ নেই। তিনি বলেন: আমি ‘ফাতহুল কারিম আল-মান্নান’ গ্রন্থে এটি বলেছি (৩)। আর এই হাদিসগুলোতে নির্দেশের সর্বনিম্ন স্তর হলো সুন্নাহ (السنية), ফলে এর মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা (مشروعية) প্রমাণিত হয়।
*আর ঐকমত্য (الإجماع) প্রসঙ্গে
নিশ্চয়ই মুসলিমগণ এই মর্মে একমত (أجمع) হয়েছেন যে, বিবাহ হলো বৈধ (مشروع)। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নিকাহুল উরফি ফি মিজানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثانياً: حُكم النكاح
اختلف الفقهاءُ في حكم النكاح، وذلك حسب فهمهم لما دلت عليه نصوص الكتاب والسنة، على ثلاثة مذاهب نوجزها فيما يلي:
المذهب الأول: الوجوب
واختلف أصحاب هذا القول هل يكون واجباً عينياً، أو على سبيل الكفاية؟ فقيل هو على سبيل الكفاية، لا يسوغ لمجموع الأمة الإعراضَ عنه؛ لبقاء النسل (1) وقيل بل هو واجب على سبيل التعيين لمن قدر عليه وهو قول أهل الظاهر، (2) ورواية لأحمد. (3)
أدلتهم
احتج أصحاب هذا القول بظواهر النصوص من الكتاب والسنة، وحملوها على الإيجاب فمن *الكتاب: ـ
قول الله تعالى: {وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ} (4) وقوله تعالى:
… {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَاّ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاء مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَاّ تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَلَاّ تَعُولُوا} (5) وظاهر الأمر الإيجاب، ألا أن يصرفه صارف.
*ومن السنة: ـ
حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنهم قال: قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: " يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج، فإنه أغض للبصر، وأحصن للفرج، ومن لم يستطع فعليه بالصوم فإنه له وجاء" (6) وحديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنهم قال: أراد عثمان بن مضعون أن يتبتل فنهاه رسول الله صلى الله عليه وسلم (7) وحديث،" تزوجوا الولود الودود فإني مكاثر بكم الأمم يوم القيامة" (8) وحديث
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: বিবাহের বিধান (حكم)
ফকিহগণ বিবাহের বিধানের (حكم) ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। এটি কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহের (نصوص) মর্ম উপলব্ধি করার পার্থক্যের কারণে হয়েছে। তাদের এই মতভেদ তিনটি মাযহাবের (مذاهب) অন্তর্ভুক্ত, যা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
প্রথম মত: আবশ্যকতা (وجوب)
এই মত পোষণকারীরা পুনরায় মতভেদ করেছেন যে, এটি কি ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (واجب عيني) হবে নাকি সামষ্টিকভাবে (على سبيل الكفاية)? কারো মতে, এটি সামষ্টিকভাবে (على سبيل الكفاية) আবশ্যক; কারণ বংশধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে পুরো উম্মতের পক্ষে এটি বর্জন করা জায়েজ নয় (১)। আবার কারো মতে, বরং এটি সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (واجب على سبيل التعيين)। এটি আহলে জাহেরদের (أهل الظاهر) মত (২) এবং ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা (رواية) (৩)।
তাদের প্রমাণাদি (أدلة)
এই মতের প্রবক্তাগণ কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহের বাহ্যিক দিক (ظواهر النصوص) দিয়ে দলিল পেশ করেছেন এবং সেগুলোকে আবশ্যকতা (إيجاب) অর্থে গ্রহণ করেছেন। কুরআন থেকে প্রমাণ: —
আল্লাহ তায়ালার বাণী: {আর তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষদের বিবাহ দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও} (৪) এবং আল্লাহ তায়ালার বাণী:
… {আর যদি তোমরা ভয় করো যে, ইয়াতিমদের প্রতি ইনসাফ করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে তাকে বিবাহ করে নাও—দুই, তিন বা চার; আর যদি ভয় করো যে সমতা রক্ষা করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে তাদের। এটিই অধিকতর নিকটবর্তী যে তোমরা অবিচার করবে না} (৫)। আর নির্দেশের বাহ্যিক রূপ (ظاهر الأمر) আবশ্যকতা (إيجاب) নির্দেশ করে, যদি না অন্য কোনো প্রমাণ একে অন্য অর্থে পরিবর্তন করে।
*সুন্নাহ থেকে প্রমাণ: —
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন: "হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ এটি দৃষ্টিকে অধিক অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে অধিক সুরক্ষিত রাখে। আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে, কেননা তা তার কামভাব দমন করবে" (৬)। সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: উসমান বিন মাজউন বৈরাগ্য সাধনের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তা করতে নিষেধ করেন (৭)। এবং এই হাদিস: "তোমরা অধিক সন্তানপ্রসূ ও স্নেহময়ী নারীকে বিবাহ করো, কারণ কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের ওপর গর্ব করব" (৮)। এবং হাদিস
--------------------------------------------