(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: -)
الرسالة لابن أبي زيد القيرواني - نسخة التتائي القسم: الفقه المالكي
الكتاب: رسالة ابن أبي زيد القيرواني [ت 386 هـ]
نسخة: شمس الدين التتائي (ت 942 هـ)
جمع وتحقيق: إبراهيم أحمد إبراهيم السناري
نص الرسالة: مجموع من شرح التتائي «تنوير المقالة في حل ألفاظ الرسالة»، مع المقابلة على نسختين خطيتين للرسالة، والمقارنة بنص الرسالة في خمسة شروح أخرى
مع حاشية للمحقق (إبراهيم السناري): في بيان غريبها ونُكَتٍ من إعرابها، سماها «سبيل أهل البسالة إلى غريب الرسالة»
الناشر: معهد المخطوطات العربية - المكتبة الرقمية، السلسلة المحكمة (40)، نصوص (22)
عام النشر: 1442 هـ - 2021 م
عدد الصفحات: 350
[ترقيم الكتاب موافق للأصل]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 رمضان 1445
ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি বিরচিত আর-রিসালাহ - আত-তাতায়ি সংস্করণ বিভাগ: মালিকি ফিকহ
গ্রন্থ: ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি বিরচিত রিসালাহ [মৃত্যু ৩৮৬ হিজরি]
সংস্করণ: শামসুদ্দিন আত-তাতায়ি (মৃত্যু ৯৪২ হিজরি)
সংকলন ও সম্পাদনা: ইব্রাহিম আহমদ ইব্রাহিম আস-সিন্নারি
রিসালাহ-র মূল পাঠ: আত-তাতায়ি রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ «তানভিরুল মাকালা ফি হাল্লি আলফাজির রিসালাহ», থেকে সংগৃহীত; যা রিসালাহ-র দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার পাশাপাশি অন্য আরও পাঁচটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের পাঠের সাথে তুলনা করে প্রস্তুত করা হয়েছে।
সম্পাদকের (ইব্রাহিম আস-সিন্নারি) টীকা সহ: এতে গ্রন্থের দুর্বোধ্য শব্দাবলি ও ব্যাকরণগত সূক্ষ্ম বিষয়াদি বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যার নামকরণ করা হয়েছে «সাবিলু আহলিল বাসালা ইলা গারিবির রিসালাহ»
প্রকাশক: ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস - ডিজিটাল লাইব্রেরি, পিয়ার-রিভিউড সিরিজ (৪০), মূলপাঠ (২২)
প্রকাশকাল: ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ রমজান ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ৪)
السلسلة المحكمة (40)
نصوص (22)
نسخة شمس الدين التتائيّ (ت: 942 هـ) من الرسالة [لابن أبي زيد القيرواني]
(مجموعة من شرحه تنوير المقالة في حل ألفاظ الرسالة)
مع بيان غريبها ونُكَتٍ من إعرابها، وهي الحاشية المسماة «سبيل أهل البسالة إلى غريب الرسالة»
جمع وتحقيق: د. إبراهيم أحمد إبراهيم السناري
আল-সিলসিলাতুল মুহকামা (৪০)
মূলপাঠ (২২)
শামস আদ-দীন আত-তাতাই (ওফাত: ৯৪২ হিজরি) অনুলিখিত 'আর-রিসালা' [ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি বিরচিত] এর পাণ্ডুলিপি
(তাঁরই রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তানভীরুল মাক্বালা ফি হাল্লি আলফাজির রিসালা' থেকে সংকলিত)
এর দুর্বোধ্য শব্দাবলির ব্যাখ্যা ও ব্যাকরণিক সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ সংবলিত, যা ‘সাবিলু আহলিল বাসালা ইলা গারিবি আর-রিসালা’ নামক টীকাগ্রন্থ হিসেবে প্রসিদ্ধ
সংকলন ও সম্পাদনা: ড. ইবরাহিম আহমদ ইবরাহিম আস-সিন্নারি
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ৬)
الملخصهذا البحث جمع لنص الرسالة الذي شرحه الشمس التتائي (رحمه الله تعالى)، وقد قوبل هذا النص على نسختين خطيتين للرسالة، وقورن بنص الرسالة في خمسة شروح أخرى، وفي جمع نسخة التتائي فوائد من جهة فن التحقيق: منها التنبيه على منزلة علمائنا الشراح في هذا الفن؛ وهذا البحث مقدمة بين يديّ دراسة أُعِدُّها عن تحقيق الشراح. ومنها حكاية التتائي لاختلاف نسخ الرسالة ورواياتها، وفيه رد لتمسك بعض المحققين بنسخة معيارية للرسالة قد اتفق غير واحد من الشراح على مخالفتها في مواضع. وقد أضفت لهذه النسخة شرحًا لغريبها، وبيَّنت نكتًا من إعراب الرسالة لن تجدها مجموعة في شرح من الشروح المطبوعة.
وقد قدَّمت بين يدي النص المحقق بدراسة بيَّنتُ فيها ترجمة العالم الرباني ابن أبي زيد القيرواني، وأردفتها بترجمة صاحب هذه النسخة، وهو شمس الدين التتائي آخر قاضٍ لقضاة المالكية في مصر في عهد المماليك، ثم أعقبت ذلك بمبحث ذكرت فيه سبب تأليف الرسالة، والتأريخ لكتابتها، وأهميتها كمرجع للفقه المالكي، والمؤلفات التي دارت في فلك الرسالة من شروح ومنظومات وغيرها، ثم ختمت هذا المبحث بسبب إعادتي النظر في غريب الرسالة، ثم ختمت هذه الدراسة بذكر النسخ التي اعتمدت عليها لإخراج نسخة التتائي وذكر النسختين المخطوطتين للرسالة. ثم ذكرت النص المحقق وحاشيتي عليه، وختمت البحث بخاتمة بينت فيها أهم نتائج الدراسة.
সারসংক্ষেপএই গবেষণাটি মূলত শামস আত-তাত্তাই (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) কর্তৃক ব্যাখ্যায়িত 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থের মূল পাঠের একটি সংকলন। এই পাঠ্যটি 'আর-রিসালাহ' এর দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাই করা হয়েছে এবং আরও পাঁচটি ব্যাখ্যাগ্রন্থে বর্ণিত পাঠ্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে। আত-তাত্তাইয়ের সংস্করণটি সংকলন করার ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা বা তাহকিক শাস্ত্রের দিক থেকে অনেক উপকারিতা রয়েছে: এর মধ্যে একটি হলো এই শিল্পে আমাদের ব্যাখ্যাকার ওলামায়ে কেরামের উচ্চ মর্যাদার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা; এবং এই গবেষণাটি ব্যাখ্যাকারদের সম্পাদনা পদ্ধতি সম্পর্কে আমার প্রস্তুতকৃত একটি গবেষণার ভূমিকা স্বরূপ। এর আরেকটি দিক হলো আর-রিসালাহ-এর বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি ও বর্ণনার পার্থক্য সম্পর্কে আত-তাত্তাইয়ের বর্ণনা প্রদান করা, যা ওই সকল গবেষকদের গোঁড়ামির একটি খণ্ডন যারা আর-রিসালাহ-এর একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড সংস্করণের ওপর নির্ভর করেন, অথচ একাধিক ব্যাখ্যাকার বিভিন্ন স্থানে সেই সংস্করণের ভিন্নতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আমি এই সংস্করণে এর দুর্বোধ্য শব্দাবলির ব্যাখ্যা যুক্ত করেছি এবং আর-রিসালাহ-এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (ইরাব) এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয় বর্ণনা করেছি যা মুদ্রিত কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থে একত্রে পাওয়া যাবে না।
আমি সম্পাদিত মূল পাঠের আগে একটি পর্যালোচনামূলক আলোচনা পেশ করেছি যেখানে রব্বানি আলেম ইবনে আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানির জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর এই সংস্করণের রচয়িতা শামস আদ-দ্বীন আত-তাত্তাই-এর জীবনী যুক্ত করেছি, যিনি মামলুক যুগে মিশরের সর্বশেষ মালিকি প্রধান বিচারপতি ছিলেন। অতঃপর একটি পরিচ্ছেদে আর-রিসালাহ রচনার কারণ, এর রচনার ইতিহাস, মালিকি ফিকহের আকর গ্রন্থ হিসেবে এর গুরুত্ব এবং আর-রিসালাহ-কে কেন্দ্র করে রচিত বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও কাব্যগ্রন্থাদি সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এরপর আর-রিসালাহ-এর দুর্বোধ্য শব্দাবলি পুনরায় পর্যালোচনার কারণ উল্লেখ করে এই পরিচ্ছেদটি সমাপ্ত করেছি। অতঃপর আত-তাত্তাইয়ের সংস্করণটি প্রস্তুত করতে আমি যেসব কপির ওপর নির্ভর করেছি এবং আর-রিসালাহ-এর যে দুটি পাণ্ডুলিপি ব্যবহার করেছি, তার বর্ণনার মাধ্যমে এই আলোচনা শেষ করেছি। এরপর আমি সম্পাদিত মূল পাঠ এবং এর ওপর আমার টীকা উল্লেখ করেছি এবং গবেষণার শেষে একটি উপসংহার প্রদান করেছি যেখানে গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ৭)
شكرجزى الله خيرًا كلَّ مَنْ أسدى إليَّ معروفًا، أو تعلمتُ من خلقه أدبًا أو أفادني علمًا، وهؤلاء كثير، حفظ الله الباقين في عالمنا ورزقهم طول العمر وحسن العمل، ورحم الله مَنْ انتقل منهم إلى الدار الآخرة، وأحسن إليهم غاية الإحسان فهو الكريم الرحمن.
وأخص بالشكر هنا أستاذي فضيلة الشيخ أحمد مصطفى قاسم الطهطاوي، وهو علم السادة المالكية في صعيد مصر؛ لأنه هو الذي أتاح لي الاطلاع على نسخ "تنوير المقالة في حل ألفاظ الرسالة" للشمس التتائي، وأشركني معه في تحقيقها، فاستخرجتُ من هذه النسخِ الخطيةِ نسخةَ التتائي من الرسالة، فجزاه الله خيرًا، وجعل خدمته للعلم في ميزان حسناته، ورفع بها درجاته.
وجعل الله تعالى هذا العمل خالصًا لوجهه، نافعًا لخلقه، وجعله ورحمة ورضوانًا لوالديّ، وزيادة في أجور أساتذتي أجمعين.
কৃতজ্ঞতা স্বীকারমহান আল্লাহ সেই সকল ব্যক্তিকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, যারা আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, অথবা যাদের চরিত্র থেকে আমি শিষ্টাচার শিক্ষা লাভ করেছি কিংবা যাদের থেকে জ্ঞান অর্জন করে উপকৃত হয়েছি। তাঁদের সংখ্যা অনেক। আল্লাহ তাআলা আমাদের মাঝে জীবিতদের হিফাজত করুন এবং তাঁদের দীর্ঘায়ু ও নেক আমল নসিব করুন। আর তাঁদের মধ্য থেকে যারা পরলোকে গমন করেছেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁদের প্রতি সর্বোত্তম অনুগ্রহ প্রদর্শন করুন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও অতিশয় করুণাময়।
আমি এখানে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার উস্তাদ, সুমহান ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদ মুস্তফা কাসিম আত-তাহতাওয়ীর প্রতি, যিনি মিসরের সাঈদ অঞ্চলের মালিকি মাযহাবের উলামায়ে কেরামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। কেননা তিনিই আমাকে শামস আত-তাতায়ীর রচিত ‘তানবীরুল মাকালা ফি হাল্লি আলফাযির রিসালা’ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলো দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং এর সম্পাদনার কাজে আমাকে তাঁর সাথে সম্পৃক্ত করেছিলেন। আমি এই পাণ্ডুলিপিগুলো থেকেই ‘রিসালা’র তাতায়ী সংস্করণটি সংকলন করেছি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর ইলমি খিদমতকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন এবং এর উসিলায় তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিন।
আল্লাহ তাআলা এই কাজটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন, তাঁর সৃষ্টির জন্য কল্যাণকর করুন এবং একে আমার পিতামাতার জন্য রহমত ও সন্তুষ্টির মাধ্যম এবং আমার সকল উস্তাদের সওয়াব বৃদ্ধির উসিলা বানিয়ে দিন।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر وأعن يا كريم
مقدمةالحمد لله باري البرايا، غافر الخطايا، كاشف البلايا، عظيم العطايا، المجيد الذي تنعقد بأسمائه الحسنى وصفاته الأَلايا، اللطيف لما يشاء كم ألبس منحَه ثوبَ الرَّزايا، وجعل وحْيَه ربيعًا أَحْيَانَا به منَ المنايا، فسالت أودية بقدرها منها البحار والرَّكايا، وبعث حبيبه محمدًا خيرَ مَنْ ركب المطايا، جميلَ الخَلْقِ حسنَ الصوتِ عظيمَ السجايا، ففتح الله به عيونًا عميًا وشفى به النفوسَ الرَّذايا، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه كلِّ كريم سنايا، وأزواجِه الطاهراتِ القانتاتِ السخايا، أمهاتِنا الكريمات السَّرايا.
قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}
(1)، يا رب أنعم علينا بالتقوى والهدى حتى لا نكونَ للشياطين سبايا، وثبت قلوبنا واجعلنا لنصرة دينك جيوشًا وسرايا، وأعنَّا دائمًا على شكرِكَ وذكرِكَ في الغدايا والعشايا، واجعلنا من عبادك السعداء غير الندامى ولا الخزايا.
أما بعد.
فالحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، ومن نعمه عليَّ أني في هذا العمل قد قرأت
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে দয়াময় প্রভু! সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা, পাপসমূহ ক্ষমাশীল, বিপদাপদ দূরকারী, মহান দানশীল; সেই মহিমান্বিত সত্তা, যাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও গুণাবলীর শপথ করা হয়; তিনি যা ইচ্ছা করেন তার প্রতি পরম সদয়, তিনি কতই না তাঁর দানসমূহকে পরীক্ষার আবরণে আবৃত করেছেন; তিনি তাঁর ওহীকে বসন্তস্বরূপ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি আমাদের আধ্যাত্মিক মৃত্যু থেকে পুনর্জীবিত করেছেন, ফলে উপত্যকাসমূহ তাদের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সিক্ত হয়েছে, যা থেকে সমুদ্র ও জলাশয়সমূহ প্রবাহিত হয়েছে; এবং তিনি প্রেরণ করেছেন তাঁর প্রিয়তম মুহাম্মদ (সা.)-কে, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ আরোহী, সুঠাম দেহের অধিকারী, সুকণ্ঠের অধিকারী এবং মহান চরিত্রের অধিকারী; আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে অন্ধ চক্ষুসমূহ উন্মোচন করেছেন এবং কলুষিত আত্মাসমূহকে আরোগ্য দান করেছেন; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, এবং তাঁর পবিত্রা, অনুগতা ও দানশীলা পত্নীগণের ওপর, যারা আমাদের সম্মানিত জননী ও মহীয়সী নারী।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
(১) হে প্রতিপালক! আমাদের তাকওয়া ও হিদায়াত দ্বারা ধন্য করুন যেন আমরা শয়তানের দাসে পরিণত না হই; আমাদের অন্তরসমূহকে অটল রাখুন এবং আপনার দ্বীনের সাহায্যের জন্য আমাদের সেনাদলে পরিণত করুন; সকাল-সন্ধ্যা সর্বদা আপনার কৃতজ্ঞতা ও স্মরণে আমাদের সাহায্য করুন এবং আমাদের আপনার সেই সৌভাগ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা অনুতপ্ত বা লাঞ্ছিত নয়।
অতঃপর:
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়। আমার ওপর তাঁর অন্যতম নেয়ামত এই যে, আমি এই কর্মে অধ্যয়ন করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ৯)
الرسالة مرات، ووقفت عند حروفها والكلمات، وتدبرت معانيها وأظهرت من إعرابها نكات، وبينت اشتقاق كلماتها الغريبات، وزدت على ذلك ببيان المبهمات، وصرحت بالمراد من المضمرات؛ لتكون نسخة التتائي من الرسالة مكتفية بنفسها عن الشروح والتفريعات؛ فمَن رام الزيادة فعليه بالمطولات، وكتب الأصحاب الأمهات؛ كالمدونة والنوادر والزيادات، والمنتقى والمقدمات الممهدات، وقد قصدتُ بتنبيهاتي التحقيق لا تتبع العثرات؛ فقلَّما يخلو عملٌ من هفوات، وقاني الله وإياكَ السيئات، وستر لنا العيوب ومحا الخطيئات، ورفع لنا بفضله الدرجات؛ إنه سميع قريب مجيب الدعوات.
المراد بنسخة التتائي:أردتُ بنسخة التتائي نصَّ الرسالة الذي شرحه شمس الدين التتائي في شرحه "تنوير المقالة في حل ألفاظ الرسالة"، وتسمية نسخة شمس الدين التتائي من الرسالة ليست بدعةً ابتدعتُها، بل استعمل مثل هذا شمسُ الدين التتائي نفسُه في قوله في باب البيوع: "وقد علمتَ ممَّا تقرَّر وجهَ نصبِ (حملًا)، وهو كذلك في نسخةِ أبي محمدٍ صالحٍ (ت 653 هـ)
(1)، وفي بعضِ النسخِ: (حمل)، والظاهرُ أنَّه بالجرِّ، والتقديرُ: ولا تجوزُ البراءةُ من الحملِ إلا من حملٍ ظاهرٍ، وقال بعضُهم: إنَّه بالرفعِ واستشكله".
وقال التتائي أيضًا: "ووقع في نسخةِ ابنِ عمرَ حذفُ النونِ من (يتأملانِه) و (يعرفان)؛ فقال: انظرْ لِمَ أسقط النونَ
(2)؟ وتعقَّب التثنيةَ بأنَّ المشتري هو الذي يتأمل".
ومنه قوله في الديات: "كذا رُوِي (الرجلين) و (العينين)، والصوابُ (الرجلان)
--------------------------------------------
আমি বারবার রিসালাহ পাঠ করেছি, এর প্রতিটি অক্ষর ও শব্দের ওপর নিবিষ্ট হয়েছি, এর মর্মার্থ নিয়ে গভীর চিন্তা করেছি এবং এর ব্যাকরণগত সূক্ষ্ম বিষয়গুলো প্রকাশ করেছি। এছাড়া এর দুর্লভ শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিগত ব্যাখ্যা প্রদান করেছি, অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করেছি এবং সর্বনামগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য সবিস্তারে বয়ান করেছি; যাতে রিসালাহ-র 'তাতাই সংস্করণ'টি অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও শাখা-প্রশাখার মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেই নিজের জন্য যথেষ্ট হয়। অতএব, যারা অধিক জ্ঞান অন্বেষণ করতে চান, তারা যেন বিস্তারিত গ্রন্থাবলি এবং (মালিকি) মাযহাবের ইমামগণের মূল কিতাবসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন; যেমন: আল-মুদাওওয়ানাহ, আন-নাওয়াদির ওয়াজ-জিয়াদাত, আল-মুনতাকা এবং আল-মুকাদ্দিমাত আল-মুমাহহিদাত। আমি আমার টীকাগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান করার ইচ্ছা করেছি, ভুল-ত্রুটি অন্বেষণ করা আমার উদ্দেশ্য নয়; কেননা কোনো কাজই বিচ্যুতিমুক্ত হওয়া বিরল। আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে মন্দ বিষয়সমূহ থেকে রক্ষা করুন, আমাদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখুন এবং পাপরাশি মার্জনা করুন। তিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদের মর্যাদা উচ্চ করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী ও দুআ কবুলকারী।
'তাতাই সংস্করণ' দ্বারা যা উদ্দেশ্য:'তাতাই সংস্করণ' বলতে আমি রিসালাহ-র সেই মূল পাঠকে (Text) উদ্দেশ্য করেছি, যার ব্যাখ্যা শামসুদ্দীন তাতাই তাঁর "তানভীরুল মাকালাহ ফী হাল্লি আলফাজিল রিসালাহ" নামক গ্রন্থে করেছেন। রিসালাহ-র কোনো সংস্করণকে শামসুদ্দীন তাতাইয়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা কোনো অভিনব বিষয় নয় যা আমি উদ্ভাবন করেছি; বরং স্বয়ং শামসুদ্দীন তাতাইও ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে তাঁর বক্তব্যে এর অনুরুপ পরিভাষা ব্যবহার করেছেন: "যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা থেকে তুমি (হমলান) শব্দটির নসব (জবর) হওয়ার কারণ জানতে পেরেছ, আর আবু মুহাম্মদ সালেহ (মৃত্যু: ৬৫৩ হিজরি)
(১)-এর সংস্করণেও তা একইভাবে বর্ণিত হয়েছে। কোনো কোনো সংস্করণে এটি (হমলুন) পেশ যোগে এসেছে, তবে বাহ্যত এটি যার (জের) হবে; এমতাবস্থায় এর অন্তর্নিহিত অর্থ দাঁড়াবে: 'প্রকাশ্য গর্ভ ছাড়া অন্য গর্ভ থেকে দায়মুক্তি জায়েয নয়'। কেউ কেউ বলেছেন যে এটি রফ' (পেশ) হবে এবং বিষয়টিকে তারা জটিল মনে করেছেন।"
তাতাই আরও বলেছেন: "ইবন উমরের সংস্করণে (ইয়াতায়াম্মালানিহি) এবং (ইয়া'রিফানি) শব্দ দুটি থেকে 'নুন' বিলুপ্ত হয়েছে; তিনি (ইবন উমর) বলেছেন: 'লক্ষ্য করুন কেন তিনি নুন বিলুপ্ত করেছেন?'
(২) এবং তিনি দ্বিবচন ব্যবহারের সমালোচনা করে বলেছেন যে, মূলত ক্রেতাই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন।"
রক্তপণ (দিয়াত) অধ্যায়ে তাঁর উক্তিও এরই অন্তর্ভুক্ত: "অনুরূপভাবে (আর-রিজলাইন) এবং (আল-আইনাইন) বর্ণিত হয়েছে, অথচ সঠিক হলো (আর-রিজলান)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ১০)
و (العينان) بالألفِ، كذا قال بعضُ مشايخي، وعلى ما قرَّرتُه لا يحتاجُ لتصويبٍ ولا لدعوى أنَّه على حذفِ الجارِ وإبقاءِ عملِه لضعفِه، واللهُ (تعالى) أعلمُ، وما ذكره بعضُ مشايخي بناءً على ما وقع في نسختِه من سقوطِ لفظةِ (في) بعدَ قولِه: "وكذلك"".
أسباب جمع نسخة التتائي:1 - دقة التتائي في حكاية ألفاظ الرسالة والاهتمام ببيان النسخ المتاحة لديه أو روايات الرسالة التي رواها عن أشياخه أو الشراح السابقين، مع بيان وجه كل نسخة أو رواية.
2 - طريقة شرح التتائي (الشرح الممزوج) جعلت شرحه مستوعبًا للرسالة كاملة
(1)، وهذه الطريقة تخالف طريقة غيره في الإتيان بقطعة من نص الرسالة، وأحيانا يختصرها بذكر أول النص فقط، ثم يتكلم على المسائل التي اشتمل عليها النص دون استيعاب لكل ألفاظ نص الرسالة، فطريقة التتائي تجعل كلامَه ونصَّ الرسالة شيئًا واحدًا، إن سقط منه شيء ظهر الخلل في المعنى، أما على طريقة غيره فما سقط من متن الرسالة قد لا يُفطَن إليه، وكذا إن زيد فيه.
3 - شيوع نسخة أبي الحسن المنوفي في كفاية الطالب حتى صارت النسخة المعيارية التي لا ينبغي أن يحاد عنها، مع أن الشراح ينبهون على اختلافٍ في نسخها ورواياتها، وأضرب لذلك مثالًا في قول التتائي: "وَالمَرْأَةُ تَمُوتُ فِي السَّفَرِ لَا نِسَاءَ مَعَهَا" ظاهرُه مسلماتٌ أو غيرُهنَّ "وَلَا" معَها "ذو مَحْرَم" منها "مِنَ الرِّجَالِ" ولا زوجَ ولا سيِّدَ، بل رجالٌ أجانبُ مؤتمنونَ سافرتْ معَهم، أو مات محرمُها الذي سافرتْ معَه "فَلْيُيَمِّمْ رَجُلٌ" منهم "وَجْهَهَا وَكَفَّيْهَا" فقط " فقد قال محقق شرح القاضي عبد الوهاب -في قوله
--------------------------------------------
এবং (আল-আইনান) আলিফ যোগে হবে, আমার কোনো কোনো উস্তাদ এমনটিই বলেছেন। আমি যা সাব্যস্ত করেছি, সেই অনুযায়ী এটি সংশোধনের প্রয়োজন নেই এবং হারফে জার উহ্য রেখে তার আমল বহাল রাখার দাবি করারও আবশ্যকতা নেই; কারণ তা দুর্বল মত। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। আমার কোনো কোনো উস্তাদ যা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত তাঁর কপিতে 'কাদালিকা' (তদ্রূপ) শব্দের পরে 'ফী' (মধ্যে) শব্দটি বাদ পড়ার ওপর ভিত্তি করে।
আত-তাতায়ীর পাণ্ডুলিপি সংকলনের কারণসমূহ:১ - 'আর-রিসালাহ'-এর শব্দাবলি বর্ণনায় আত-তাতায়ীর সূক্ষ্মতা এবং তাঁর নিকট উপলব্ধ পাণ্ডুলিপিগুলো অথবা তাঁর উস্তাদ ও পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাকারদের নিকট থেকে প্রাপ্ত 'আর-রিসালাহ'-এর বর্ণনাগুলোর বর্ণনায় গুরুত্বারোপ; সাথে প্রতিটি পাণ্ডুলিপি বা বর্ণনার যৌক্তিক দিক বিশ্লেষণ।
২ - আত-তাতায়ীর ব্যাখ্যাপদ্ধতি (মিশ্র ব্যাখ্যা বা শারহে মামজুজ) তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে সম্পূর্ণ 'আর-রিসালাহ'-এর অন্তর্ভুক্তকারী করে তুলেছে
(১)। এই পদ্ধতিটি অন্যদের পদ্ধতির বিপরীত, যারা মূল গ্রন্থের পাঠ্যের একটি অংশ নিয়ে আসেন এবং কখনও কখনও পাঠ্যের শুধু শুরুটা উল্লেখ করে সংক্ষেপ করেন, অতঃপর মূল পাঠ্যের প্রতিটি শব্দকে অন্তর্ভুক্ত না করেই তাতে বিদ্যমান মাসআলাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। আত-তাতায়ীর এই পদ্ধতি তাঁর নিজস্ব বক্তব্য এবং মূল 'রিসালাহ'-এর পাঠ্যকে একীভূত করে দিয়েছে; ফলে যদি তা থেকে কিছু বাদ পড়ে, তবে অর্থের ত্রুটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পক্ষান্তরে অন্যদের পদ্ধতিতে মূল গ্রন্থ থেকে কিছু বাদ পড়লে বা যুক্ত হলে অনেক সময় তা নজরে আসে না।
৩ - 'কিফায়াতুত তালিব' গ্রন্থে আবুল হাসান আল-মানুফীর পাণ্ডুলিপির ব্যাপক জনপ্রিয়তা, এমনকি এটি এমন এক মানদণ্ডস্বরূপ পাণ্ডুলিপিতে পরিণত হয়েছে যা থেকে বিচ্যুত হওয়া অনুচিত বলে গণ্য হয়। যদিও ব্যাখ্যাকারগণ এর বিভিন্ন কপি ও বর্ণনার পার্থক্যের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। আমি এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি আত-তাতায়ীর এই উক্তি থেকে: "এবং নারী যদি সফরে মারা যান এবং তাঁর সাথে কোনো নারী না থাকে" - এর বাহ্যিক অর্থ হলো তারা মুসলিম নারী হোক বা অন্য ধর্মের; "এবং না থাকে" তাঁর সাথে তাঁর "মাহরাম" "পুরুষদের মধ্য হতে", এবং স্বামী বা মালিকও না থাকে; বরং এমন বেগানা বিশ্বস্ত পুরুষ থাকেন যাদের সাথে তিনি সফর করেছিলেন, অথবা তাঁর সাথে সফরকারী মাহরাম ব্যক্তি মারা গেছেন; "তবে যেন তায়াম্মুম করিয়ে দেয় এক ব্যক্তি" তাদের মধ্য থেকে "তাঁর চেহারা ও দুই কবজিতে" মাত্র। এ বিষয়ে কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের ব্যাখ্যার গবেষক তাঁর বক্তব্যে বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ১১)
"ذو" من "ذو محرم"-: "ليست من الرسالة"؛ هكذا جزم! هل لأنها سقطت من نسخة أبي الحسن المنوفي ومن الرسالة الفقهية المطبوعة
(1)؟ أليس إثبات مثل القاضي عبد الوهاب لها كافيًا؟ لا سيما إن أثبتها غيرُه؛ فقد وافق القاضي عبد الوهاب على إثباتها العلامة ابن عمر الأنفاسي والتتائي وزروق
(2).
4 - وضع بعض المحققين لهذا النص المعياري للرسالة في تحقيقهم لبعض هذه الشروح دون النظر إلى شرح الشارح هل اعتمد هذا النص في شرحه أم اعتمد غيره؟ وقد مرَّ عليَّ في تحقيق تنوير المقالة مواضع كثيرة يختلف فيها نص الرسالة بين المثبت في المتن والشرح، وأذكر هنا مثالًا من قول التتائي: ""وَأَمَّا مَنْ تَوَضَّأَ بِمَاءٍ قَدْ تَغَيَّرَ لَوْنُهُ أَوْ طَعْمُهُ" بما يفارقُه من طاهرٍ أو نجسٍ "أَعَادَ صَلَاتَهُ أَبَدًا" لأنَّه صَلَّاها بوضوءٍ غيرِ جائزٍ "و" أعاد "وُضُوءَهُ" لم يذكرْ تغيُّرَ الريحِ اكتفاءً بذكرِ المتفقِ عليه"، فقد صرح التتائي بأن نص الرسالة ليس فيه ذكر الريح
(3)، وكذا قال ابن ناجي: "وظاهر كلام الشيخ أن تغيير الريح للماء لا يبطل الصلاة"
(4)، وقد جاء متن الرسالة في شرح ابن ناجي المطبوع بإثبات الريح؛ فالمذكور في متن الرسالة عنده خلاف شرحه! فالظاهر أن المحقق قلَّد متن الرسالة المطبوع بزيادة "أو ريحه"
(5).
وهذا مثال آخر قال التتائي""وَالعُهْدَةُ" مستقرةٌ "فِي الرَّقِيقِ" لا في غيرِه، وقيل: وفي
--------------------------------------------
"যু মাহরাম" শব্দগুচ্ছের "যু" অংশটি সম্পর্কে বলা হয়েছে: "এটি 'আর-রিসালা'র অন্তর্ভুক্ত নয়"; এভাবেই দৃঢ়তার সাথে দাবি করা হয়েছে! এটি কি এ কারণে যে, শব্দটি আবুল হাসান আল-মানুফী’র অনুলিপি এবং মুদ্রিত 'আর-রিসালা আল-ফিকহিয়্যাহ' থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে
(১)? কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের মতো ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে এর সপক্ষে প্রমাণ কি যথেষ্ট নয়? বিশেষত যখন অন্যরাও এটি প্রমাণ করেছেন; আল্লামা ইবনে উমর আল-আনফাসী, আত-তাত্তায়ী এবং যাররুক এটি বহাল রাখার ক্ষেত্রে কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের সাথে একমত পোষণ করেছেন
(২)।
৪ - কিছু মুহাক্কিক (গবেষক-সম্পাদক) এই ভাষ্যগুলোর কোনো কোনোটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে 'আর-রিসালা'র জন্য একটি মানদণ্ডস্বরূপ মূলপাঠ নির্ধারণ করেছেন, অথচ ব্যাখ্যাকার (শারহ-কারক) তার ব্যাখ্যায় এই মূলপাঠটি গ্রহণ করেছেন কি না তা বিবেচনা করেননি। 'তানওয়ীরুল মাকালা' সম্পাদনার সময় আমার সামনে এমন অনেক স্থান অতিবাহিত হয়েছে যেখানে মূলপাঠ এবং ব্যাখ্যার মধ্যে রিসালার পাঠে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এখানে আমি আত-তাত্তায়ীর বক্তব্য থেকে একটি উদাহরণ দিচ্ছি: ""আর যে ব্যক্তি এমন পানি দিয়ে অযু করল যার রং অথবা স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে" এমন কোনো পবিত্র বা অপবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণে যা তা থেকে পৃথক থাকে, "সে তার সালাত চিরতরে পুনরায় আদায় করবে" কারণ সে অবৈধ অযু দিয়ে সালাত আদায় করেছে, "এবং" সে তার "অযু" পুনরায় করবে; তিনি এখানে ঘ্রাণের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেননি, কারণ যা সর্বসম্মত কেবল তা উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছেন।" আত-তাত্তায়ী এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, রিসালার মূলপাঠে ঘ্রাণের (রিহ) উল্লেখ নেই
(৩)। একইভাবে ইবনে নাজি বলেছেন: "শায়খের (ইবন আবি যায়েদ) বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো, পানির ঘ্রাণ পরিবর্তন হওয়া সালাত বাতিল করে না"
(৪)। অথচ ইবনে নাজির মুদ্রিত শারহে রিসালার মূলপাঠে ঘ্রাণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; ফলে তার নিকট রিসালার মূলপাঠে যা উল্লিখিত হয়েছে তা তার ব্যাখ্যার বিপরীত! স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে যে, মুহাক্কিক এখানে "অথবা তার ঘ্রাণ" শব্দটির আধিক্যসহ মুদ্রিত রিসালার মূলপাঠের অনুকরণ করেছেন
(৫)।
এটি আরেকটি উদাহরণ, আত-তাত্তায়ী বলেছেন: ""আল-উহদাহ" (দায়বদ্ধতা) স্থিরীকৃত "ক্রীতদাসের ক্ষেত্রে", অন্য কারো ক্ষেত্রে নয়, এবং বলা হয়েছে: এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ১২)
الحيوانِ، وقولُ التادليِّ: إنَّها في كلِّ شيءٍ = أُنكِر" فمتن الرسالة في كلام التتائي واضح هو "والعهدة في الرقيق" دليله تقديره الخبر (مستقرة)، ولو صح لفظ (جائزة)
(1) عنده لكان أولى من التقدير، وكلام التتائي هنا قريب من كلام ابن عمر حيث قال: "قوله: "والعهدة" هذا مبتدأ، والخبر في الاستقرار أي: لازمة في الرقيق، أو في قوله: "فعهدة الثلاث"
(2) " فكذلك قدر ابن عمر الخبر، فكيف يكون في شرحه نص الرسالة قبل كلام ابن عمر وبعده: "والعهدة جائزة في الرقيق"؟ فلا شك أن متن الرسالة المثبت في الكتاب مدرج فيه: إما من ناسخ أو من محقق الكتاب، لكن إن كان متن الرسالة الثابت في المطبوع من قبل الناسخ فكان ينبغي على المحقق التنبيه على هذه المخالفة، وأنه وجد متن الرسالة ثابتًا في النسخ بهذا اللفظ.
وهذا مثال ثالث في قول الرسالة: "وَعَلَى القَاذِفِ الحُرِّ الحَدُّ ثَمَانُونَ"
(3) هذه نسخة التتائي وغيره، ونسخة ابن عمر تخالف هذا؛ فقد جاءت بالنصب (ثمانين) لهذا يقول ابن عمر: "قوله: "ثمانين" صوابه ثمانون وقد روي بذلك، وعلى رواية النصف
(4) قيل: "تمييز""
(5)، وقد تابع أبو الحسن المنوفي رواية ابن عمر بالنصب، وذكر كلام ابن عمر وتصويبه الرفع، ومع هذا جاءت نسخة الرسالة في المطبوع من شرح ابن عمر على
--------------------------------------------
প্রাণী, এবং আল-তাদিলির উক্তি: "নিশ্চয়ই এটি প্রতিটি জিনিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য" = তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সুতরাং আল-তাতায়ির বক্তব্যে আর-রিসালাহ-এর মূল পাঠ স্পষ্ট যে তা হলো "এবং ক্রীতদাসের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা (আল-উহদাহ)", যার প্রমাণ হলো তার পক্ষ থেকে উহ্য খবরের (বিধেয়) প্রাক্কলন "স্থায়ী/সাব্যস্ত" (মুস্তাকিররাহ)। যদি তার নিকট "বৈধ/প্রচলিত" (জায়েযাহ)
(১) শব্দটি সঠিক হতো, তবে তা উহ্য প্রাক্কলনের চেয়ে অধিক সমীচীন হতো। এখানে আল-তাতায়ির বক্তব্য ইবনে উমরের বক্তব্যের কাছাকাছি, যেখানে তিনি বলেছেন: "তার উক্তি: 'এবং দায়বদ্ধতা (আল-উহদাহ)' এটি একটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য), আর খবর (বিধেয়) উহ্য রয়েছে যা হলো স্থায়িত্ব/সাব্যস্ততা; অর্থাৎ: ক্রীতদাসের ক্ষেত্রে তা আবশ্যকীয়। অথবা তা তার এই উক্তিতে রয়েছে: 'অতঃপর তিন দিনের দায়বদ্ধতা'
(২)"। এভাবেই ইবনে উমর খবরটিকে প্রাক্কলন করেছেন। তাহলে ইবনে উমরের বক্তব্যের আগে এবং পরে তার ব্যাখ্যায় আর-রিসালাহ-এর পাঠ কীভাবে এমন হতে পারে: "আর ক্রীতদাসের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা বৈধ/প্রচলিত (জায়েযাহ)"? এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, গ্রন্থে সংস্থাপিত আর-রিসালাহ-এর মূল পাঠটি প্রক্ষিপ্ত: হয় লিপিকারের পক্ষ থেকে অথবা গ্রন্থটির সম্পাদকের পক্ষ থেকে। কিন্তু যদি মুদ্রিত কপির মূল পাঠটি লিপিকারের পক্ষ থেকে সাব্যস্ত হয়ে থাকে, তবে সম্পাদকের উচিত ছিল এই বৈসাদৃশ্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং এটি স্পষ্ট করা যে তিনি অনুলিপিগুলোতে আর-রিসালাহ-এর মূল পাঠ এই শব্দেই সাব্যস্ত পেয়েছেন।
আর এটি একটি তৃতীয় উদাহরণ আর-রিসালাহ-এর এই উক্তিতে: "এবং স্বাধীন অপবাদকারীর ওপর শাস্তি হলো আশি (সামানুন)"
(৩)। এটি আল-তাতায়ি এবং অন্যদের অনুলিপি, কিন্তু ইবনে উমরের অনুলিপি এর বিপরীত; সেখানে নসব অবস্থায় "আশি (সামানিন)" এসেছে। এই কারণেই ইবনে উমর বলেন: "তার উক্তি: 'আশি (সামানিন)', এর সঠিক রূপ হলো 'আশি (সামানুন)' এবং সেভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আর নসবের (সামানিন) বর্ণনা অনুযায়ী বলা হয়েছে: এটি 'তাময়ীয' (পার্থক্যকারী)"
(৫)। আবু আল-হাসান আল-মানুফি নসবের ক্ষেত্রে ইবনে উমরের বর্ণনা অনুসরণ করেছেন এবং ইবনে উমরের বক্তব্য ও রফ’ (পেশ) অবস্থাকে সঠিক করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এতদসত্ত্বেও ইবনে উমরের ব্যাখ্যাগ্রন্থের মুদ্রিত কপিতে আর-রিসালাহ-এর পাঠটি এসেছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الجادة مخالفة لرواية ابن عمر التي عليها شرحه.
5 - جمع الرسالة لابن أبي زيد من تنوير المقالة في حل ألفاظ الرسالة للشمس التتائي فيه تنويه بمكانة أئمتنا شراح العلوم من فن التحقيق؛ فكل واجب على المحقق -كما في اصطلاح المحدَثين من المحققين- تجد علماءنا الشراح قائمين به على أكمل وجه؛ ويمكن القول بأن كتب الشروح التي تملأ المكتبات العربية والإسلامية في شتى العلوم هي مدارس لفن التحقيق، نستطيع أن نخرج منها بما يجب على المحقق فعله وما يستحب وما لا يجوز.
6 - جمع الرسالة من تنوير المقالة فيه إظهار لمزية شرح التتائي، وفيه -أيضًا- إظهار لمكانة الشمس التتائي من التحقيق والرواية.
وأزيد هنا سببًا شخصيًّا لجمع هذه الرسالة المباركة، وهو رغبتي في خدمة كتاب لعالم رباني شهد له أئمة الإسلام بالفضل والعلم وإحياء السنة ومحاربة البدعة، وسار ذكره الطيب في الأمصار مع اختلاف الأعصار؛ وكتابه هذا رسالة مباركة يشهد لها مرُّ الأيام والليالي، وفي فضلها يقول القلشاني: "ولهذا يقال: إن مَنْ حفظها واعتنى بها وهبه الله (تعالى) ثلاثًا أو واحدة من الثلاثة: العلم والصلاح والمال الطيب"
(1)، رب إني لِمَا أنزلت إليَّ من خير فقير.
أهمية نسخة التتائي:1 - الثقة بها؛ إذ لم أكن أولَ من شعر بأهمية نسخة التتائي للرسالة، بل أثارت ذهن العلامة العدوي فنقل عنها ثقة بها في غير موضع؛ منها قوله: "قوله: "ولا يحصن به الزوجين" كذا فيما بيدي من نسخ هذا الشارح، وهو غير صواب، ونسخة التحقيق:
--------------------------------------------
প্রচলিত রীতি ইবনে উমরের সেই বর্ণনার পরিপন্থী, যার ওপর ভিত্তি করে তিনি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
৫ - শামস আত-তাতায়ি বিরচিত 'তানওয়িরুল মাকালা ফি হাল্লি আলফাযির রিসালা' থেকে ইবনে আবি যায়িদের 'রিসালা' সংগ্রহ করার মধ্যে আমাদের সেই সকল ইমাম ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যাকারীদের উচ্চ মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, যারা তাহকিক বা গবেষণা শিল্পে পারদর্শী ছিলেন। আধুনিক গবেষকদের পরিভাষায় একজন মুহাক্কিকের (গবেষকের) ওপর যা যা দায়িত্ব অর্পিত হয়, আমাদের ব্যাখ্যাকারী আলেমগণ তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পালন করেছেন। এ কথা বলা যেতে পারে যে, আরবি ও ইসলামি লাইব্রেরিগুলোতে বিভিন্ন শাস্ত্রের ওপর বিদ্যমান ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থগুলো মূলত গবেষণা শিল্পের একেকটি আদর্শ পাঠশালা। আমরা সেখান থেকে একজন মুহাক্কিকের জন্য কী করণীয়, কী মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) এবং কী অনুচিত, তা বিস্তারিতভাবে জানতে পারি।
৬ - 'তানওয়িরুল মাকালা' থেকে রিসালাটি সংগ্রহ করার মাধ্যমে তাতায়ির ব্যাখ্যার বিশেষত্ব প্রকাশ পায় এবং এতে তাহকিক (গবেষণা) ও রিওয়ায়াতের (বর্ণনা) ক্ষেত্রে শামস আত-তাতায়ির সুউচ্চ অবস্থানের বিষয়টিও প্রতিফলিত হয়।
এই বরকতময় রিসালাটি সংগ্রহ করার পেছনে আমি এখানে একটি ব্যক্তিগত কারণও যুক্ত করছি। তা হলো এমন একজন রব্বানি আলেমের কিতাবের সেবা করার আকাঙ্ক্ষা, যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, জ্ঞান, সুন্নাহর পুনর্জাগরণ এবং বিদআত নির্মূলের প্রচেষ্টার ব্যাপারে ইসলামের মহান ইমামগণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। যুগে যুগে বিভিন্ন জনপদে তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর এই কিতাবটি একটি বরকতময় গ্রন্থ, মহাকালের আবর্তন যার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেয়। এর ফযিলত সম্পর্কে আল-কালশানি বলেন: "এ কারণেই বলা হয় যে, যে ব্যক্তি এটি মুখস্থ করবে এবং এর প্রতি যত্নবান হবে, আল্লাহ তাআলা তাকে তিনটি নেয়ামত অথবা সেই তিনটির অন্তত একটি দান করবেন: ইলম (জ্ঞান), সালাহ (তাকওয়া) এবং হালাল রিযিক।"
(১) হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ অবতীর্ণ করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।
তাতায়ির পাণ্ডুলিপির গুরুত্ব:১ - এর নির্ভরযোগ্যতা; কেননা রিসালার ক্ষেত্রে তাতায়ির পাণ্ডুলিপির গুরুত্ব কেবল আমিই অনুভব করিনি, বরং এটি আল্লামা আল-আদাউয়ির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তিনি এর নির্ভরযোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে বিভিন্ন স্থানে তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি হলো তাঁর উক্তি: "তাঁর বক্তব্য: 'এটি দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর ইহসান সাব্যস্ত হবে না'—আমার নিকট থাকা এই ব্যাখ্যাকারীর পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, যা সঠিক নয়। পক্ষান্তরে সম্পাদিত মূল পাঠটি হলো:"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
"ولا يحصن به الزوجان"، وهو الصواب، وأفاد (تت) أن للمصنف نسختين النسخة التي في التحقيق، ونسخة: "ولا يحصن الزوجين" بإسقاط (به)، وهي ظاهرة أيضًا"
(1).
ومنه قول العدوي" قَوْلُهُ: بِ {وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا} [سورة الشمس، آية 1] أَيْ فِي الثَّانِيَةِ، وَقَوْلُهُ: وَبِ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى} [سورة الأعلى، آية 1] أَيْ فِي الْأُولَى، كَذَا فِي بَعْضِ النُّسَخِ، كَذَا ذَكَرَهُ التَّتَّائِيُّ مَتْنًا وَشَرْحًا بِتَقْدِيمِ الشَّمْسِ وَتَأْخِيرِ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ} "
(2).
2 - حكاية اختلاف النسخ التي بين يديه أو رواها عن شراح الرسالة كقوله: ""وَيَحِقُّ عَلَى مَنْ لَهُ مَا" أي شاءٌ "يُوصِي فِيهِ" وفي نسخةٍ: "مَالٌ" موضعَ "ما"" فهذا الموضع لم أجد عند ابن عمر ولا ابن ناجي ولا أبي الحسن المنوفي مَنْ حكى خلافًا في روايته
(3)، ومن الجدير بالذكر أن أبا الحسن المنوفي فسَّر لفظ الرسالة "ما" بقوله: "أي مال"، وكذا فعل النفراوي
(4)، وقد فسر التتائي (رحمه الله تعالى) هذه اللفظة بتفسيرين: الأول لغوي ف (ما) نكرة موصوفة بالجملة بعدها؛ لذا فسرها ب (شيء)، ثم فسرها بنسخة أخرى للرسالة، وهذا من علو قدره في العلم واهتمامه بالأصول؛ فإنَّ منَ الأصولِ تفسيرَ قولِ المتكلمِ من كلامه، وحملَ المجملِ من قوله على تفصيله في موضع آخر، وهذه قاعدة تجدها في أصول التفسير، يذكرها المفسرون باسم: "تفسير القرآن بالقرآن".
3 - جاءت نسخة التتائي بزيادات مؤثرة في معاني الفقه، ومن هذه الزيادات المؤثرة في المعنى: قوله في ذكر نافلة الظهر: "ويتنفَّلُ بَعْدَها، ويُستحَبُّ لَهُ أنْ يتنفَّلَ بأربعِ
--------------------------------------------
"এবং এর মাধ্যমে দম্পতি মুহসান (পবিত্রতা বা চারিত্রিক সুরক্ষা) লাভ করবে না", আর এটিই সঠিক মত। তাতাই (তাত) উল্লেখ করেছেন যে, লেখকের দুটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে: একটি যা এই গবেষণালব্ধ সংস্করণে বিদ্যমান, এবং অপরটি হলো: "দম্পতিকে মুহসান করবে না" যেখানে (এর মাধ্যমে) শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে, আর এটিও সুস্পষ্ট
(১)।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল-আদাওয়ির বক্তব্য: "তার উক্তি: {শপথ সূর্যের এবং তার কিরণের} [সূরা আশ-শামস, আয়াত ১] অর্থাৎ দ্বিতীয় রাকাআতে, এবং তার উক্তি: ও {তোমার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করো} [সূরা আল-আ'লা, আয়াত ১] অর্থাৎ প্রথম রাকাআতে। কিছু পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই রয়েছে; আল-তাতাই মূল পাঠ (মাতন) এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) উভয় স্থানে এভাবেই উল্লেখ করেছেন—যেখানে আশ-শামস-কে আগে এবং সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ'লা-কে পরে রাখা হয়েছে"
(২)।
২ - তাঁর নিকট বিদ্যমান পাণ্ডুলিপি সমূহের পাঠভেদ বর্ণনা করা অথবা যা তিনি 'রিসালা'-র ব্যাখ্যাকারকদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। যেমন তাঁর উক্তি: "এবং যে ব্যক্তির এমন কিছু আছে যা সে দান করার অসিয়ত করতে চায়, তার উপর তা করা আবশ্যক।" এখানে 'কিছু' (মা) এর স্থলে একটি সংস্করণে 'সম্পদ' (মালুন) রয়েছে। এই স্থানটিতে আমি ইবনে উমর, ইবনে নাজি কিংবা আবুল হাসান আল-মানুফী—কারো নিকটই বর্ণনার কোনো পার্থক্য পাইনি
(৩)। উল্লেখ্য যে, আবুল হাসান আল-মানুফী 'রিসালা'-র শব্দ 'মা' (যা)-কে 'মাল' (সম্পদ) দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন এবং আন-নাফরাওয়িও তদ্রূপ করেছেন
(৪)। আল-তাতাই (রহিমাহুল্লাহ) এই শব্দটির দুটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন: প্রথমটি আভিধানিক, যেখানে 'মা' শব্দটি পরবর্তী বাক্য দ্বারা বিশেষায়িত অনির্দিষ্ট বিশেষ্য; ফলে তিনি একে 'বস্তু' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অতঃপর তিনি 'রিসালা'-র অন্য একটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এর ব্যাখ্যা করেছেন। এটি তাঁর ইলমের উচ্চমর্যাদা এবং মূল উৎসের (উসুল) প্রতি গুরুত্বারোপের প্রমাণ দেয়। কেননা উসুলের একটি নিয়ম হলো বক্তার কথাকে তাঁর অন্য কথার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা এবং অস্পষ্ট বক্তব্যকে অন্য স্থানের বিস্তারিত বর্ণনার আলোকে বিশ্লেষণ করা। এটি এমন একটি নীতি যা আপনি তাফসির শাস্ত্রের মূলনীতিতে পাবেন, মুফাসসিরগণ একে "কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসির" নামে অভিহিত করেন।
৩ - আল-তাতাইয়ের পাণ্ডুলিপিতে এমন কিছু পরিবর্ধন এসেছে যা ফিকহী অর্থের ওপর প্রভাব ফেলে। অর্থগত প্রভাব বিস্তারকারী এই পরিবর্ধনগুলোর মধ্যে একটি হলো যোহরের নফল সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "এবং যোহরের পর নফল পড়বে, আর তার জন্য মুস্তাহাব হলো চার রাকাআত নফল পড়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ركعاتٍ قبلَها، يُسَلِّمُ من كلِّ ركعتَيْنِ" فقوله: (قبلها) سقطت من نسخ الشراح -الذين وقفت على كلامهم- سوى التتائي، ويظهر لي موافقة النفراوي على صحة هذه الزيادة فقد نقلها، لكن محقق المطبوع من شرحه، لم يدخل هذه اللفظة في متن الرسالة
(1)، أو لم تقع له نسخة تدخلها فيه، وذلك في قوله: "ويُستحَبُّ لَهُ أنْ يتنفَّلَ بأربعِ ركعاتٍ قبلَها أي الظهر وبعد الزوال"؛ فظاهره أن (قبلها) من متن الرسالة، ثم فسر الضمير بقوله أي الظهر، ولو كان الكلام كله له لكان أولى أن يقول: "أي قبل الظهر وبعد الزوال" فهو أظهر وأحسن، والله تعالى أعلم.
ومنها قول الرسالة: " وَمَنْ الْتَذَّ فِي نَهَارِ رَمَضَانَ بِمُبَاشَرَةٍ أَوْ قُبْلَةٍ فَأَمْذَى لِذَلِكَ فَعَلَيْهِ القَضَاءُ. وَإِنْ تَعَمَّدَ ذَلِكَ حَتَّى أَمْنَى فَعَلَيْهِ القَضَاءُ وَالكَفَّارَةُ " فقوله (القضاء) زيادة في بعض نسخ الرسالة أثبتها التتائي في نسخته، ولا تحتاج الرسالة بإثباتها إلى تقدير لبيان المعنى المراد كما فعل غيره من الشراح
(2).
4 - معرفة ترتيب النص إذا اختلفت النسخ في ترتيبه؛ فلا شك أن ترتيب الشراح أو اتباعهم ترتيبًا معينًا كأنه حكم منهم على عدم الثقة في النسخ المخالفة؛ لأن نسخة الشراح هي ذروة سنام الثقة، لا سيما إن وجدنا متنًا قد تعاقب الشراح على شرحه، وقد أجمعوا على ترتيب معين للكتاب، ثم نجد نسخًا لهذا المتن تخالف هذا الترتيب، فلا شك أن هذه النسخ المخالفة لنسخة الشراح تشعر الباحث بريبة عظيمة، خاصة إن وجدنا المحتوى مخالفًا للترجمة، كما في آخر باب جمل من الفرائض والسنن، فقد انتهى الباب عند قوله: "وفي مبادرة ما عسى أن يكون قد اقترب من
--------------------------------------------
"তার পূর্বে চার রাকাত, প্রতি দুই রাকাত অন্তর তিনি সালাম ফিরাবেন" - তাঁর এই উক্তি: (তার পূর্বে) শব্দটি ব্যাখ্যাকারীদের অনুলিপি থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে—যাঁদের বক্তব্যের ব্যাপারে আমি অবগত হয়েছি—কেবল আত-তাতায়ী ব্যতীত। আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আন-নাফরাওয়ি এই অতিরিক্ত অংশটি সঠিক হওয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন, কেননা তিনি এটি উদ্ধৃত করেছেন। কিন্তু তাঁর শারহ্-এর মুদ্রিত কপির সম্পাদক এই শব্দটিকে রিসালার মূল পাঠের (মাতন) অন্তর্ভুক্ত করেননি
(১), অথবা তিনি এমন কোনো অনুলিপি পাননি যাতে এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর তা তাঁর এই উক্তিতে: "আর তাঁর জন্য মুস্তাহাব হলো জোহরের পূর্বে এবং সূর্য ঢলে যাওয়ার পর চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করা"; এখানে বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, (তার পূর্বে) শব্দটি রিসালার মূল পাঠের অংশ, এরপর তিনি সর্বনামটির ব্যাখ্যায় বলেছেন 'অর্থাৎ জোহর'। যদি পুরো বক্তব্যটি তাঁর নিজস্ব হতো, তবে 'অর্থাৎ জোহরের পূর্বে এবং সূর্য ঢলে যাওয়ার পর' বলাটাই অধিকতর স্পষ্ট ও উত্তম হতো। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
এগুলোর মধ্যে রিসালার আরেকটি বক্তব্য হলো: "আর রমজানের দিনে যে ব্যক্তি স্পর্শ বা চুম্বনের মাধ্যমে আনন্দ লাভ করল এবং এর ফলে তার মজি নির্গত হলো, তবে তার ওপর কাজা ওয়াজিব। আর যদি সে ইচ্ছা করে তা করে এবং তার ফলে মনি নির্গত হয়, তবে তার ওপর কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব।" এখানে (কাজা) শব্দটি রিসালার কিছু অনুলিপিতে অতিরিক্ত হিসেবে রয়েছে যা আত-তাতায়ী তাঁর অনুলিপিতে সাব্যস্ত করেছেন। এই শব্দটি সাব্যস্ত করার ফলে রিসালার উদ্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট করার জন্য অন্য ব্যাখ্যাকারীদের মতো আর কোনো উহ্য শব্দ অনুমানের প্রয়োজন পড়ে না
(২)।
৪ - পাঠ্যের বিন্যাস সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যখন অনুলিপিগুলোর বিন্যাসে ভিন্নতা দেখা দেয়; এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ব্যাখ্যাকারীদের বিন্যাস বা তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট বিন্যাস অনুসরণ করা যেন তাঁদের পক্ষ থেকে এমন একটি সিদ্ধান্ত যে ভিন্ন বিন্যাসের অনুলিপিগুলো নির্ভরযোগ্য নয়; কারণ ব্যাখ্যাকারীদের নিকট রক্ষিত অনুলিপিই হলো নির্ভরযোগ্যতার শীর্ষবিন্দু। বিশেষ করে যখন আমরা এমন একটি মূল পাঠ (মাতন) পাই যা পর্যায়ক্রমে একাধিক ব্যাখ্যাকারী ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাঁরা কিতাবটির একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসের ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন, অথচ আমরা উক্ত পাঠের এমন কিছু অনুলিপি পাই যা এই বিন্যাসের পরিপন্থী, তখন নিঃসন্দেহে এই ভিন্নতর অনুলিপিগুলো গবেষকের মনে প্রবল সন্দেহের উদ্রেক করে। বিশেষ করে যখন বিষয়বস্তুটি সংশ্লিষ্ট শিরোনামের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যেমনটি 'ফারায়েজ ও সুনান সংক্রান্ত বিবিধ মাসায়েল' অধ্যায়ের শেষে দেখা যায়। সেখানে অধ্যায়টি তাঁর এই উক্তিতে শেষ হয়েছে: "এবং দ্রুত সম্পাদন করার ক্ষেত্রে যা হয়তো নিকটবর্তী হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أجلك" كذا هو في مخطوط الرسالة ج لوحة (108، 109) وفي الشروح التي بين أيدينا
(1)، لكن جاء في الرسالة الفقهية المطبوعة بعده زيادة أولها: "ولا تخرج امرأة إلا مستترة"
(2)، وهذه الزيادة جاءت في وسط "باب في الفطرة والختان وحلق الشعر واللباس" عند الشراح لتعلقها بأحكام (اللباس).
ومن ذلك أيضًا ما جاء في باب البيوع من قوله: "وَمَنِ ابْتَاعَ عَبْدًا فَوَجَدَ بِهِ عَيْبًا فَلَهُ أَنْ يَحْبِسَهُ وَلَا شَيْءَ لَهُ، أَوْ يَرُدَّهُ وَيَأْخُذَ ثَمَنَهُ"
(3)، هذه الفقرة جاءت بعد قول الرسالة مباشرة: "وَلَا أَنْ يَكْتُمَ مِنْ أَمْرِ سِلْعَتِهِ مَا إِذَا ذَكَرَهُ البَائِعُ كَرِهَهُ المُبْتَاعُ أَوْ كَانَ ذِكْرُهُ لَهُ أَبْخَسَ فِي الثَّمَنِ"
(4) في نسخة الشراح
(5)، وبين هاتين الفقرتين ما يقارب الصفحة في الرسالة الفقهية المطبوعة.
5 - الحكم على زيادات النسخ: كذلك نفيد من نسخ الشراح في الحكم على زيادات النسخ ومثال هذا في أول كتاب البيوع من الرسالة الفقهية زيادة الآيتين (275 - 276) من سورة البقرة
(6)، لكننا لا نجد في الشروح التي بين أيدينا شرح هاتين الآيتين أو حتى مجرد ذكرهما كاملتين
(7)، ولا في مخطوط الرسالة ج لوحة (70)، وإنما
--------------------------------------------
"অজলাকা" (তোমার জন্য) - এভাবেই 'আর-রিসালাহ' পাণ্ডুলিপি 'জিম'-এর পত্র (১০৮, ১০৯) এবং আমাদের নিকট বিদ্যমান ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে রয়েছে
(১), তবে এরপর মুদ্রিত 'রিসালাহ ফিকহিয়্যাহ'-তে একটি অতিরিক্ত অংশ এসেছে যার শুরু হলো: "আর কোনো নারী পর্দারত অবস্থা ছাড়া বের হবে না"
(২)। এই অতিরিক্ত অংশটি ব্যাখ্যাকারদের নিকট "ফিতরাত, খতনা, চুল মুণ্ডন ও পোশাক সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ"-এর মাঝখানে এসেছে, কারণ এটি পোশাকের (লেবাস) বিধিবিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট।
এর আরেকটি উদাহরণ হলো ক্রয়-বিক্রয় পরিচ্ছেদে তাঁর এই উক্তি: "আর যে ব্যক্তি কোনো দাস ক্রয় করল এবং তাতে কোনো ত্রুটি পেল, তবে সে চাইলে তাকে রেখে দিতে পারে এবং এতে তার জন্য (মূল্য হ্রাসের) কিছু প্রাপ্য হবে না, অথবা সে তাকে ফেরত দিয়ে তার মূল্য বুঝে নিতে পারে"
(৩)। এই অনুচ্ছেদটি ব্যাখ্যাকারদের কপিতে
(৫) 'রিসালাহ'-র এই বক্তব্যের ঠিক পরেই এসেছে: "আর বিক্রেতা তার পণ্যের এমন কোনো বিষয় গোপন করবে না যা বিক্রেতা উল্লেখ করলে ক্রেতা অপছন্দ করত অথবা যা উল্লেখ করলে দাম কমে যেত"
(৪)। অথচ মুদ্রিত 'রিসালাহ ফিকহিয়্যাহ'-তে এই দুটি অনুচ্ছেদের মাঝে প্রায় এক পৃষ্ঠার ব্যবধান রয়েছে।
৫ - বিভিন্ন কপির অতিরিক্ত অংশগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রদান: একইভাবে আমরা বিভিন্ন কপির অতিরিক্ত অংশগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যাখ্যাকারদের কপিগুলো থেকে উপকৃত হই। এর একটি উদাহরণ হলো 'রিসালাহ ফিকহিয়্যাহ'-র ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ের শুরুতে সূরা আল-বাকারাহ’র (২৭৫ - ২৭৬) নম্বর আয়াত দুটির সংযোজন
(৬)। কিন্তু আমাদের হাতে থাকা ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে এই আয়াত দুটির ব্যাখ্যা বা এমনকি সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ উল্লেখও আমরা পাই না
(৭), এমনকি 'রিসালাহ' পাণ্ডুলিপি 'জিম'-এর পত্র (৭০)-তেও তা নেই, বরং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
اقتصرت الرسالة على محل الشاهد من الآيتين، وهذا هو المعهود من أسلوب الرسالة؛ لأنها مختصر.
ولا يلزم أن تكون كل الفروق مؤثرة في المعنى الفقهي، لكنها قد تكون مؤكدة للرواية المشهورة كقوله في الطلاق: "وَطَلَاقُ السُّنَّةِ مُبَاحٌ، وَهُوَ أَنْ يُطَلِّقَهَا فِي طُهْرٍ لَمْ يَمَسَّهَا فِيهِ" فقد جاءت العبارة في كفاية الطالب: "لم يقربها فيه"
(1) وهو مرادف لقوله: "لَمْ يَمَسَّهَا"، وكلاهما تعبير قرآني، وابن أبي زيد حريص على ألفاظ الوحيين.
ومن وقوع الترادف بين نسخة التتائي ونسخة أبي الحسن المنوفي قول الرسالة: "وَمَنْ أَوْلَدَ أَمَتَهُ فَلَهُ أَنْ يَسْتَمْتِعَ بِهَا فِي حَيَاتِهِ، وَتُعتَقُ مِنْ رَأْسِ مَالِهِ بَعْدَ وَفَاتِهِ
(2) " فقد جاءت في نسخة أبي الحسن: "بعد مماته"
(3)، وهو الموافق لمخطوط الرسالة (79 ب)، لكن لاحظ أن نسخة أبي الحسن استعملت (منها)
(4) جارًا ومجرورًا متعلقًا ب (يستمتع) بدلًا من (بها)، والجادة في هذا الفعل تعديته بحرف الباء
(5).
عملي في الكتاب:1 - أثبت نص الرسالة الذي أجمعت عليه نسخ شرح التتائي في أصل الكتاب، أو ما وافق شرح التتائي منها.
2 - إن كان هناك خلاف بين نسخ تنوير المقالة في لفظ الرسالة حكيت الخلاف في
--------------------------------------------
রিসালাহটি (গ্রন্থটি) কেবল আয়াতদ্বয়ের প্রাসঙ্গিক অংশের (মাহাল্লুশ শাহেদ) ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছে; আর এটিই রিসালাহর শৈলী হিসেবে সুপরিচিত; কেননা এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ।
এটা আবশ্যক নয় যে সকল পার্থক্যই ফিকহী অর্থের ওপর প্রভাব ফেলবে, তবে সেগুলো প্রসিদ্ধ বর্ণনাকে দৃঢ়কারী হতে পারে। যেমন তালাক প্রসঙ্গে তাঁর উক্তি: "সুন্নাহসম্মত তালাক হলো বৈধ, আর তা হলো তাকে এমন পবিত্র অবস্থায় তালাক দেওয়া যাতে সে তাকে স্পর্শ করেনি।" কিফায়াতুত তালিব গ্রন্থে এই বাক্যটি এভাবে এসেছে: "সে তার নিকটবর্তী হয়নি", যা তাঁর উক্তি "সে তাকে স্পর্শ করেনি"-এর সমার্থক। আর উভয়টিই কুরআনী পরিভাষা, এবং ইবনে আবি যায়েদ ওহীর শব্দাবলি ব্যবহারের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল।
তাতাঈ-এর অনুলিপি এবং আবুল হাসান আল-মানুফী-এর অনুলিপির মধ্যে সমার্থক শব্দ ব্যবহারের একটি দৃষ্টান্ত হলো রিসালাহ-এর এই উক্তি: "যে ব্যক্তি তার দাসীর গর্ভে সন্তান জন্ম দিল, তার জন্য আমৃত্যু সেই দাসীর মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তার মৃত্যুর পর সে তার মূল সম্পদ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।" আবুল হাসানের অনুলিপিতে এটি "তার ইন্তেকালের পর" শব্দে এসেছে, যা রিসালাহ-এর পাণ্ডুলিপির (৭৯ খ) সাথে সংগতিপূর্ণ। তবে লক্ষ্যণীয় যে, আবুল হাসানের অনুলিপিতে 'বিহা'-এর পরিবর্তে 'মিনহা' অব্যয়টি 'ইয়াসতামতিউ' ক্রিয়ার সাথে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ এই ক্রিয়ার ক্ষেত্রে 'বা' বর্ণ যোগে ব্যবহার করাই প্রচলিত নিয়ম।
গ্রন্থ সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি:১ - আমি মূল গ্রন্থে রিসালাহর সেই পাঠটিই সাব্যস্ত করেছি যার ওপর তাতাঈ-এর ভাষ্যের অনুলিপিগুলো একমত হয়েছে, অথবা যেগুলো তাতাঈ-এর ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২ - যদি রিসালাহর শব্দের ক্ষেত্রে 'তানউয়ীরুল মাক্বালাহ'-এর অনুলিপিগুলোর মধ্যে কোনো মতভেদ থাকে, তবে আমি সেই মতভেদ উল্লেখ করেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
حاشية التحقيق، وأثبت الراجح منه في أصل الكتاب، والترجيح لأسباب:
1 - لدلالة سياق شرح التتائي.
2 - أو لدليل لغوي ومعنى فقهي.
3 - أو لموافقة ألفاظ الرسالة في الشروح الأخرى؛ فليس معنى جمعي لنسخة التتائي أنني حريص على إثبات مخالفة النسخة لألفاظ الرسالة في الشروح الأخرى، فمثل هذا الحرص لا يقوم عليه عمل علمي، بل الموافقة حميدة تؤكد مدى دقة علمائنا الرواة والشراح، كما أن وجود هذه الاختلافات مزية يُظهِر اللهُ تعالى بها فضلَ العلماء المحققين المنقحين الذين يجمعون بين هذه الوجوه المختلفة بصورة قد تبهر العقول، أو يرجحون بعضًا منها على بعض.
3 - راجعت نص الرسالة على نسختين مخطوطتين لها سيأتي في الدراسة وصفهما، وقد أدرجت في النص بداية الورقة من المخطوط أ، وقد جعلت رقم الورقة بين هاتين العلامتين//؛ فأكتب مثلًا/ أ 80/ ليسهل الرجوع إليها، فذكرت في حاشية التحقيق موافقة هاتين النسختين لنسخ التتائي أو غيره من الشراح، وتركت ذكر بعض هذه الفروق التي ترجح عندي أنها من قبيل السهو لمخالفتها لنسخ الشراح التي بين يدي رغبةً في تقليل الحواشي على الكتاب.
4 - وقد جعلت في بداية كل باب من أبواب الرسالة رقم الورقة التي يبدأ فيها كلام الرسالة من النسخة (خ) من نسخ تنوير المقالة للتتائي، فتجدها هكذا/ خ 65 ب/.
5 - حاولت جاهدًا أن أجعل كلام ابن أبي زيد فقرات متتالية، ترتبط عباراتُ كلِّ
সম্পাদনা টিকা, এবং আমি মূল গ্রন্থে এর মধ্য থেকে অগ্রগণ্য পাঠটি সাব্যস্ত করেছি। আর এই অগ্রাধিকার প্রদানের কারণগুলো নিম্নরূপ:
১ - আত-তাতায়ি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিতের কারণে।
২ - অথবা ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণ ও ফিকহী অর্থের কারণে।
৩ - অথবা অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থে ‘আর-রিসালাহ’-এর শব্দাবলির সাথে মিল থাকার কারণে; কেননা আত-তাতায়ি-র পাণ্ডুলিপি সংকলনের অর্থ এই নয় যে, আমি অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের ‘আর-রিসালাহ’-এর শব্দের সাথে এই পাণ্ডুলিপির বৈপরীত্য প্রমাণে আগ্রহী। কেননা এ ধরণের আগ্রহ কোনো বৈজ্ঞানিক কর্মের ভিত্তি হতে পারে না। বরং মিল থাকাটাই প্রশংসনীয়, যা আমাদের বর্ণনাকারী ও ব্যাখ্যাকার আলেমদের সূক্ষ্মতার প্রমাণ দেয়। একইভাবে, এই মতপার্থক্যগুলোর বিদ্যমান থাকা একটি বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সেই সকল নিপুণ গবেষক ও পরিমার্জনাকারী আলেমদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করেন, যারা এই বিভিন্ন দিকগুলোকে এমনভাবে সমন্বয় করেন যা বুদ্ধিকে বিমোহিত করে, অথবা একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেন।
৩ - আমি ‘আর-রিসালাহ’-এর পাঠটি এর দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি, যেগুলোর বর্ণনা সামনে গবেষণামূলক অংশে আসবে। আমি মূল পাঠের ভেতর পাণ্ডুলিপি ‘আলিফ’ (অ)-এর পৃষ্ঠার শুরু অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং পৃষ্ঠা নম্বরকে এই দুটি চিহ্নের // মাঝে রেখেছি। উদাহরণস্বরূপ আমি লিখেছি /অ ৮০/, যাতে তা খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। আমি সম্পাদনা টিকায় আত-তাতায়ি-র অনুলিপি বা অন্যান্য ব্যাখ্যাকারদের অনুলিপির সাথে এই দুটি পাণ্ডুলিপির সামঞ্জস্যের কথা উল্লেখ করেছি। আর কিছু পার্থক্য আমি উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি যেগুলো আমার নিকট নিছক বিচ্যুতি বলে মনে হয়েছে, কারণ সেগুলো আমার নিকট থাকা ব্যাখ্যাকারদের অনুলিপিগুলোর পরিপন্থী ছিল; এটি করেছি গ্রন্থে টীকার পরিমাণ কমানোর উদ্দেশ্যে।
৪ - আমি ‘আর-রিসালাহ’-এর প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে আত-তাতায়ি-র ‘তানভিরুল মাকালাহ’-এর (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে ‘আর-রিসালাহ’-এর বক্তব্য যে পৃষ্ঠা থেকে শুরু হয়েছে তার নম্বর প্রদান করেছি। আপনি তা এভাবে পাবেন /খ ৬৫ খ/।
৫ - আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি ইবনে আবি যায়িদের বক্তব্যকে ধারাবাহিক অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করতে, যেখানে প্রতিটি অনুচ্ছেদের বাক্যগুলো একে অপরের সাথে সংশ্লিষ্ট...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فقرةٍ بعضها ببعض، لكن طريقة الاختصار قد تحول دون ذلك الوئام التام، فستجد في الفقرة الواحدة عددًا من الأحكام والمسائل، وهذا أحسن من تقطيع الرسالة إلى مسائل، وكل مسألة في جملة منعزلة في فقرة مستقلة.
6 - وضعت تراجم للمسائل الأمهات داخل الأبواب، وميزتها بالمعقوفين [] ليعلم أنها من قبل المحقق، ليسهل الرجوع لمسائل الرسالة وفهرستها، وأكثر هذه التراجم من كلام التتائي في شرحه أو معنى كلامه أو تقسيمه لمسائل الرسالة.
7 - قمت ببيان غريب الرسالة في حاشية التحقيق، وقد التزمت بما ذكره التتائي في ضبط ألفاظ الرسالة وشرح غريبها، فإن لم أجد شفاء في كلامه نقلت عن غيره من الشراح أو ذكرت تفسيرها من المعاجم.
8 - ذكرت نكتًا من إعراب الرسالة، وأوجه ضبط بعض ألفاظها مما ذكره التتائي أو غيره من الشراح، أو مما ضبطه بعض المحققين وما تعقبتُ به كلام بعضهم؛ لأنه لا ينبغي للفقيه أن يهمل المعاني التي تؤدي إليها وجوه الإعراب.
9 - خرجت الآيات القرآنية في حاشية التحقيق، ولم أجد حاجة إلى تخريج الأحاديث والآثار التي ضمنها ابن أبي زيد (رحمه الله تعالى) في عباراته حرصًا على الإيجاز في كتاب أراد مؤلفه الاختصار، وتخريج آثار الرسالة قد ألف فيه الحافظ أحمد بن الصديق الغماري كتابه مسالك الدلالة على مسائل الرسالة، وهو مطبوع.
10 - قدمت بين يدي الكتاب بدراسة ذكرت فيها ترجمة العالم الرباني ابن أبي زيد القيرواني صاحب الرسالة، والتعريف بالشمس التتائي راوي هذه النسخة، ثم ذكرت التعريف بهذه الرسالة المباركة، والنسخ التي اعتمدت عليها في تحقيق نسخة التتائي.
وقد اشتملت هذه الدراسة على مقدمة وأربعة مباحث:
المبحث الأول- في التعريف بابن أبي زيد القيرواني. وفيه مطالب:
অনুচ্ছেদগুলোর পারম্পর্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে সংক্ষেপণের পদ্ধতির কারণে সেই পূর্ণ সামঞ্জস্য রক্ষায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই আপনি একই অনুচ্ছেদে একাধিক বিধান ও মাসয়ালা দেখতে পাবেন। রিসালাহ্-কে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাসয়ালায় বিভক্ত করে প্রতিটি মাসয়ালাকে আলাদা অনুচ্ছেদে একটি বিচ্ছিন্ন বাক্যে উপস্থাপন করার চেয়ে এটিই উত্তম।
৬ - পরিচ্ছেদগুলোর অভ্যন্তরে মূল মাসয়ালাগুলোর জন্য শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেগুলোকে তৃতীয় বন্ধনী [] দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে যাতে বোঝা যায় যে এগুলো গবেষক (মুহাক্কিক)-এর পক্ষ থেকে। এর উদ্দেশ্য হলো রিসালাহ্র মাসয়ালাগুলো খুঁজে পাওয়া এবং সেগুলোর নির্ঘণ্ট তৈরি করা সহজতর করা। এই শিরোনামগুলোর অধিকাংশ আল-তাত্তাঈ-এর ভাষ্য, তাঁর ব্যাখ্যার সারমর্ম অথবা রিসালাহ্র মাসয়ালাসমূহের বিন্যাস থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
৭ - আমি সম্পাদনার পাদটীকায় রিসালাহ্র কঠিন শব্দাবলির (গারীব) ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। রিসালাহ্র শব্দগুলোর নির্ভুল উচ্চারণ এবং কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমি আল-তাত্তাঈ কর্তৃক বর্ণিত পদ্ধতির অনুসরণ করেছি। যদি তাঁর বক্তব্যে পর্যাপ্ত সমাধান না পাওয়া গিয়ে থাকে, তবে আমি অন্যান্য ব্যাখ্যাকারকদের থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি অথবা অভিধান থেকে সেগুলোর অর্থ উল্লেখ করেছি।
৮ - আমি রিসালাহ্র ব্যাকরণগত (ই'রাব) সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ এবং কিছু শব্দের উচ্চারণের রূপসমূহ উল্লেখ করেছি, যা আল-তাত্তাঈ বা অন্যান্য ব্যাখ্যাকারগণ বর্ণনা করেছেন, অথবা যা কিছু গবেষক নির্ধারণ করেছেন এবং যার ওপর আমি পর্যালোচনা পেশ করেছি; কারণ একজন ফকীহ্ বা আইনবিদের জন্য ব্যাকরণগত বৈচিত্র্যের ফলে উদ্ভূত অর্থসমূহ উপেক্ষা করা সমীচীন নয়।
৯ - আমি সম্পাদনার পাদটীকায় কুরআনের আয়াতসমূহের উৎস নির্দেশ (তাখরীজ) করেছি। ইবনে আবি যায়দ (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা) তাঁর বক্তব্যের মধ্যে যেসব হাদীস ও আসার অন্তর্ভুক্ত করেছেন, গ্রন্থটির সংক্ষিপ্ততা বজায় রাখার স্বার্থে সেগুলোর উৎস নির্দেশ করার প্রয়োজন বোধ করিনি; কারণ লেখক নিজেই একে সংক্ষিপ্ত রাখতে চেয়েছিলেন। রিসালাহ্র আসারসমূহের উৎস নির্দেশের ক্ষেত্রে হাফেয আহমাদ বিন আল-সিদ্দীক আল-গুমারী ‘মাসালিকুদ দিলালাহ আলা মাসাইলির রিসালাহ’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা বর্তমানে মুদ্রিত আকারে বিদ্যমান।
১০ - মূল গ্রন্থের পূর্বে আমি একটি গবেষণা উপস্থাপন করেছি, যেখানে রিসালাহ্-র রচয়িতা আল্লাহভীরু আলিম ইবনে আবি যায়দ আল-কায়রাওয়ানির জীবনী এবং এই পাণ্ডুলিপির বর্ণনাকারী শামসুদ্দীন আল-তাত্তাঈ-র পরিচয় তুলে ধরেছি। এরপর এই বরকতময় রিসালাহ্-র পরিচয় এবং আল-তাত্তাঈ-র সংস্করণটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি যেসব পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, তার বিবরণ প্রদান করেছি।
এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা এবং চারটি পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে আবি যায়দ আল-কায়রাওয়ানির পরিচয় প্রসঙ্গে। এতে কয়েকটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الثاني- في التعريف بشمس الدين التتائي. وفيه مطالب:
المبحث الثالث- في التعريف برسالة ابن زيد. وفيه مطالب:
المبحث الرابع- وصف النسخ التي اعتمدت عليها في استخراج نسخة التتائي:
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শামস আদ-দীন আত-তাতায়ীর পরিচয়। এতে কয়েকটি উপ-আলোচনা রয়েছে:
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে যায়েদের রিসালাহর পরিচয়। এতে কয়েকটি উপ-আলোচনা রয়েছে:
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আত-তাতায়ীর পাণ্ডুলিপিটি উদ্ধারে আমি যেসব মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি সেগুলোর বিবরণ:
আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الأول- التعريف بابن أبي زيد القيرواني
المطلب الأول- عصر ابن أبي زيد:عاش ابن أبي زيد في زمان سيطرة دولة العبيدين على المغرب الإسلامي، وهو زمان كثرت فيه الفتن، بل قُتِل عدد من شيوخ ابن أبي زيد في حرب العبيدين، وقد رسم لنا القاضي عياض صورة من فظائع هؤلاء بقوله: "كان أهل السنة بالقيروان أيام بني عبيد، في حالة شديدة من الاهتضام والتستر كأنهم ذمة، تجري عليهم في كثرة الأيام محن شديدة، ولما أظهر بنو عبيد أمرهم، ونصبوا حسينًا الأعمى السبّاب لعنه الله تعالى في الأسواق للسب بأسجاعٍ لُقِّنها يوصل منها إلى سب النبي صلى الله عليه وسلم، في ألفاظ حفظها كقوله لعنه الله: العنوا الغار وما وعى، والكساء وما حوى، وغير ذلك. وعُلِّقت رؤوس الأكباش والحمر على أبواب الحوانيت عليها قراطيس معلقة مكتوب فيها أسماء الصحابة = اشتد الأمر على أهل السنة؛ فمن تكلم أو تحرك قُتِل ومُثِّل به. وذلك في أيام الثالث من بني عبيد، وهو إسماعيل الملقب بالمنصور، لعنه الله تعالى، سنة إحدى وثلاثين وثلاثمائة"
(1).
وقد كان لعلماء المسلمين مقاومة لهؤلاء العبيدين تُمدَح: منها ما كان بالسيف والسنان، ومنها ما كان بالدعاء والبيان، ومن ذلك ما يروى أن الشيخ أبا إسحاق السبائي (ت: 356 هـ) -وكان مستجاب الدعاء- كان يرقي المرضى بسور: الفاتحة والإخلاص والمعوذتين، كل ذلك يقرؤه سبعًا، ثم يقول في آخر دعائه: "ببغضي في عبيد وذريته وحبي في نبيك وأصحابه وأهل بيته اشفِ كلَّ مَنْ رقيتُه"
(2).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ- ইবন আবি যায়েদ আল-কাইরাওয়ানির পরিচিতি
প্রথম অনুচ্ছেদ- ইবন আবি যায়েদের যুগ:ইবন আবি যায়েদ ইসলামী মাগরিবে (উত্তর আফ্রিকা) উবায়দী সাম্রাজ্যের আধিপত্যের যুগে বসবাস করতেন। এটি ছিল এমন এক সময় যখন ফিতনা-বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছিল; এমনকি উবায়দীদের সাথে যুদ্ধে ইবন আবি যায়েদের বেশ কয়েকজন শিক্ষক নিহত হয়েছিলেন। কাযী ইয়ায তাদের নৃশংসতার একটি চিত্র অঙ্কন করে বলেছেন: "বনু উবায়দের শাসনকালে কাইরাওয়ানের আহলুস সুন্নাহ অত্যন্ত নিপীড়ন ও চরম আত্মগোপনমূলক অবস্থায় ছিলেন, যেন তারা জিম্মি (সংখ্যালঘু)। দিনের পর দিন তাদের ওপর কঠিন পরীক্ষা ও বিপদ অতিবাহিত হতো। যখন বনু উবায়দ তাদের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করল এবং বাজারে বাজারে হুসাইন আল-আ'মা আস-সাব্বাবকে (আল্লাহ তাকে লানত করুন) লেলিয়ে দিল—যাকে কিছু ছন্দবদ্ধ গালি শেখানো হয়েছিল যার মাধ্যমে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছাত। সে এমন সব বাক্য মুখস্থ করেছিল (আল্লাহ তাকে লানত করুন) যেমন: 'লানত দাও গারের (গুহা) ওপর এবং যা তাতে আছে (আবু বকর রাযি.), আর লানত দাও কিসার (চাদর) ওপর এবং যা তা আবৃত করে আছে'—ইত্যাদি। দোকানের দরজায় ভেড়া ও গাধার মাথা ঝুলিয়ে রাখা হতো এবং তার সাথে চিরকুট ঝুলিয়ে তাতে সাহাবায়ে কেরামের নাম লিখে রাখা হতো। এতে আহলুস সুন্নাহর ওপর পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে; যে ব্যক্তিই কথা বলত বা প্রতিবাদ করত, তাকে হত্যা করে তার লাশ বিকৃত করা হতো। এটি ছিল বনু উবায়দের তৃতীয় শাসক ইসমাইল—যিনি আল-মানসুর উপাধিতে পরিচিত (আল্লাহ তাকে লানত করুন)—তার শাসনামলের ঘটনা, হিজরি ৩৩১ সনে"
(1)।
এই উবায়দীদের বিরুদ্ধে মুসলিম উলামায়ে কেরামের প্রতিরোধ ছিল প্রশংসনীয়: যার কিছু ছিল তরবারি ও বর্শার মাধ্যমে (সশস্ত্র), আর কিছু ছিল দোয়া ও লেখনীর মাধ্যমে। এর একটি উদাহরণ হিসেবে বর্ণিত আছে যে, শায়খ আবু ইসহাক আস-সাবায়ী (মৃত্যু: ৩৫৬ হি.)—যিনি মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়) ছিলেন—তিনি রোগীদের সূরা ফাতিহা, ইখলাস ও মুআওয়িযাতাইন (ফালাক-নাস) পড়ে রুকইয়াহ বা ঝাড়ফুঁক করতেন। তিনি এগুলোর প্রতিটি সাতবার করে পাঠ করতেন এবং দোয়ার শেষে বলতেন: "উবায়দ ও তার বংশধরদের প্রতি আমার ঘৃণা এবং আপনার নবী, তাঁর সাহাবী ও আহলে বাইতের প্রতি আমার ভালোবাসার ওসিলায়, আমি যাকে ঝাড়ফুঁক করেছি তাকে আপনি সুস্থ করে দিন"
(2)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ২২)
المطلب الثاني- في اسمه وكنيته ولقبه:هو عبد الله بن أبي زيد، وأبو زيد اسمه عبد الرحمن، وكنيته أبو محمد
(1)، نفزي النسب، وقيل: اسمه عبد الله بن بلال بن عبد الرحمن بن إسحاق النفزاوي، وبلده القيروان، ونفزاوة
(2) قبيلة من قبائل إفريقية، عُرِف بمالك الصغير
(3).
المطلب الثالث- مولده:ولد ابن أبي زيد سنة عشر وثلاثمائة بالقيروان
(4).
المطلب الرابع - مشايخه:اتصل ابن أبي زيد بعدد كبير من الشيوخ، وأجازوا له رواية كتب المذهب، ومن هؤلاء:
1 - العباس بن عيسى بن محمد بن عيسى بن العباس أبو الفضل الممْسي
(5)، وهو
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ- তাঁর নাম, কুনিয়া (উপনাম) ও লকব (উপাধি) প্রসঙ্গে:তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি যায়েদ; আর আবু যায়েদ-এর নাম হলো আবদুর রহমান এবং তাঁর কুনিয়া (উপনাম) হলো আবু মুহাম্মদ
(১)। তিনি বংশগতভাবে নাফযী। কেউ কেউ বলেন: তাঁর নাম হলো আবদুল্লাহ ইবনে বিলাল ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক আল-নাফযাওয়ী। তাঁর শহর হলো কায়রাওয়ান। আর নাফযাওয়া
(২) আফ্রিকার অন্যতম একটি গোত্র। তিনি ‘ছোট মালিক’ (মালিকুস সগীর) হিসেবে পরিচিত ছিলেন
(৩)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ- তাঁর জন্ম:ইবনে আবি যায়েদ ৩১০ হিজরি সনে কায়রাওয়ানে জন্মগ্রহণ করেন
(৪)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ- তাঁর উস্তাদগণ:ইবনে আবি যায়েদ বিপুল সংখ্যক উস্তাদের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং তাঁরা তাঁকে মাযহাবের কিতাবসমূহ বর্ণনা করার অনুমতি (ইজাযত) প্রদান করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন হলেন:
১ - আব্বাস ইবনে ঈসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আব্বাস আবুল ফযল আল-মামসী
(৫), তিনি হলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
من أفاضل أهل القيروان علمًا وورعًا وصيانة، استشهد في جهاد العبيديين سنة 333 هـ، وقال فيه ابن أبي زيد: وددت أن القيروان سبيت ولم يقتل أبو الفضل
(1).
2 - أبو سليمان ربيع بن عطاء الله بن نوفل القطان فقيه عالم بالحديث متصوف، قُتِل شهيدًا رحمه الله تعالى في قتال العبيديين سنة أربع وثلاثين وثلاثمائة
(2).
3 - محمد بن محمد بن وشاح، أبو بكر بن اللباد، وهو من أهل العلم والعمل، له كتاب إثبات الحجة في بيان العصمة، وغيره، توفي سنة 333 هـ.
(3).
4 - عبد الله بن أحمد بن ابراهيم بن إسحاق، المعروف بأبي العباس الإِبِّياني بكسر الهمزة وتشديد الباء. ويقال: صوابه تخفيفها. التميمي. تفقه بيحيى بن عمر وحمديس وغيرهما، والإِبِّياني عالم إفريقية من غير مدافع، كان الشيخ أبو محمد بن أبي زيد رضي الله تعالى عنه إذا نزلت به نازلة مشكلة كتب إليه ليُبَيِّنها له، توفي سنة 352 هـ
(4).
المطلب الخامس - رحلته:قال القاضي عياض: " ورحل فحجّ، وسمع من ابن الأعرابي، وإبراهيم بن محمد بن المنذر، وأبي علي بن أبي هلال، وأحمد بن إبراهيم بن حماد القاضي. وسمع أيضًا من الحسن بن بدر، ومحمد ابن الفتح، والحسن بن نصر السوسي، ودرّاس بن إسماعيل، وعثمان بن سعيد الغرابلي، وحبيب بن أبي حبيب الجزولي، وغيرهم. واستجاز ابن
--------------------------------------------
কায়রাওয়ানের অধিবাসীদের মধ্যে ইলম, পরহেজগারি ও আত্মমর্যাদার দিক থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। ৩৩৩ হিজরি সনে ওবায়দিদের বিরুদ্ধে জিহাদে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর সম্পর্কে ইবন আবি যায়েদ বলেন: "আমি পছন্দ করতাম যে কায়রাওয়ান লুণ্ঠিত হোক, তবুও যেন আবুল ফজল
(১) নিহত না হতেন।"
২ - আবু সুলায়মান রবি ইবনে আতাউল্লাহ ইবনে নওফাল আল-কাত্তান। তিনি একজন ফকিহ, হাদিস বিশারদ এবং সুফি ছিলেন। ৩৩৪ হিজরি সনে ওবায়দিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি শহীদ হন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন
(২)।
৩ - মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উশাহ, আবু বকর ইবনুল লাবাদ। তিনি ইলম ও আমলওয়ালা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর রচিত 'ইসবাতুল হুজ্জাহ ফি বায়ানিল ইসমাহ' সহ আরও অন্যান্য কিতাব রয়েছে। ৩৩৩ হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন
(৩)।
৪ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইসহাক, যিনি আবু আব্বাস আল-ইবইয়ানি নামে পরিচিত। 'ইবইয়ানি' শব্দটি হামজায় কাসরা (জের) এবং বা-তে তাশদিদ যোগে গঠিত। মতান্তরে এর সঠিক উচ্চারণ হবে বা-তে তাশদিদ ছাড়া। তিনি তামিমি গোত্রের ছিলেন। তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ওমর, হামদিস এবং আরও অনেকের কাছে ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। আল-ইবইয়ানি ছিলেন আফ্রিকার অপ্রতিদ্বন্দ্বী আলেম। শায়খ আবু মুহাম্মদ ইবনে আবি যায়েদ (রা.) যখন কোনো জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি তা সমাধানের জন্য তাঁর নিকট লিখে পাঠাতেন। ৩৫২ হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন
(৪)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ - তাঁর সফর:কাজি আয়াজ বলেন: "তিনি সফর করেছেন এবং হজ সম্পাদন করেছেন। তিনি ইবনুল আরাবি, ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুনজির, আবু আলি ইবনে আবু হিলাল এবং কাজি আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে হাম্মাদ থেকে হাদিস শুনেছেন। এছাড়াও তিনি হাসান ইবনে বদর, মুহাম্মদ ইবনুল ফাতহ, হাসান ইবনে নাসর আস-সুসি, দাররাস ইবনে ইসমাইল, ওসমান ইবনে সাঈদ আল-গুরাবলি, হাবিব ইবনে আবু হাবিব আল-জাজুলি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শুনেছেন। তিনি ইবনে... এর থেকে অনুমতি (ইজাজাহ) গ্রহণ করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
شعبان، والأبهري، والمروزي"
(1).
المطلب السادس- تلاميذه:أخذ عن ابن أبي زيد خلق كثير
(2)، منهم أبو بكر محمد بن موهب الحصار القبري
(3) (ت: 406 هـ) وهو أول مَنْ شرح الرسالة
(4)، وأبو محمد مكي بن أبي طالب المقرئ المفسر صاحب الهداية
(5) (ت: 437 هـ)، وأبو القاسم اللبيدي (ت: 440 هـ)
(6)، وأبو القاسم البرادعي صاحب التهذيب المشهور
(7) توفي بعد سنة 430 هـ
(8).
المطلب السابع- مصنفاته:ذكر القاضي عياض شيئًا كثيرًا من ذلك، ونذكر هنا أشهرها والمطبوع منها:
1 - اختصار المدونة والمختلطة: وهو مطبوع في أربعة مجلدات، نشره مركز نجيبويه.
--------------------------------------------
শাবান, আল-আহহারী এবং আল-মারওয়াযী
(১)।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ- তাঁর ছাত্রগণ:ইবনে আবি যায়দ থেকে অসংখ্য ব্যক্তি জ্ঞান আহরণ করেছেন
(২), তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন মাওহিব আল-হাসসার আল-কবরী
(৩) (মৃত্যু: ৪০৬ হিজরি), যিনি সর্বপ্রথম ‘আর-রিসালা’র ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন
(৪); এবং ‘আল-হিদায়া’ গ্রন্থের রচয়িতা আবু মুহাম্মদ মক্কী বিন আবি তালিব আল-মুকরী আল-মুফাসসির
(৫) (মৃত্যু: ৪৩৭ হিজরি); আবু আল-কাসিম আল-লাবীদী (মৃত্যু: ৪৪০ হিজরি)
(৬) এবং প্রসিদ্ধ ‘আত-তাহযীব’ গ্রন্থের রচয়িতা আবু আল-কাসিম আল-বারাদিঈ
(৭), যিনি ৪৩০ হিজরির পর ইন্তেকাল করেন
(৮)।
সপ্তম পরিচ্ছেদ- তাঁর রচনাবলি:কাযী ইয়ায এ প্রসঙ্গে অনেক গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন, আমরা এখানে তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং মুদ্রিত গ্রন্থগুলো উল্লেখ করছি:
১ - ইখতিসারুল মুদাওয়ানা ওয়াল মুখতালিদাহ: এটি চার খণ্ডে মুদ্রিত এবং নাজিবওয়াইহ সেন্টার থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - النوادر والزيادات: وهو مطبوع في خمسة عشر مجلدًا، نشرته دار الغرب الإسلامي، قال عياض في كتابيه: اختصار المدونة والنوادر: "على كتابيه هذين المعوَّل بالمغرب في التفقه"
(1).
3 - الرسالة: وقد طبع غير مرة، منها طبعة دار الغرب الإسلامي -بيروت، وطبعة دار الفضيلة- القاهرة، وهذا الكتاب هو موضوع بحثنا.
4 - الذب عن مذهب مالك: نشره مركز الدراسات والأبحاث وإحياء التراث المغرب.
المطلب الثامن- عقيدته:قال الذهبي: "وكان رحمه الله على طريقة السلف في الأصول، لا يدري الكلام، ولا يتأول، فنسأل الله التوفيق "
(2)، قلتُ: ويتضح موافقته لطريقة السلف من قوله عن الله سبحانه تعالى: "وأنه يسمع ويرى ويقبض ويبسط، وأن يديه مبسوطتان، والأرض جميعًا قبضته يوم القيامة، والسماوات مطويات بيمينه، وأن يديه غير نعمتيه"
(3) وقد نقل القرافي هذه المسألة عن ابن أبي زيد
(4)، وهي توضح مذهبه في ترك التأويل، وهو
--------------------------------------------
২ - আন-নাওয়াদির ওয়াজ-জিয়াদাত: এটি পনেরো খণ্ডে মুদ্রিত এবং দারুল গারব আল-ইসলামি থেকে প্রকাশিত। কাজী আয়াজ তাঁর 'ইখতিসারুল মুদাওওয়ানা' এবং 'আন-নাওয়াদির' গ্রন্থদ্বয়ে বলেছেন: "মাগরেব অঞ্চলে ফিকহ চর্চার ক্ষেত্রে এই গ্রন্থ দুটির ওপরই প্রধান নির্ভরতা।"
(১)৩ - আর-রিসালাহ: এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে বৈরুতের দারুল গারব আল-ইসলামি এবং কায়রোর দারুল ফাদিলাহ-এর সংস্করণ অন্যতম। এই গ্রন্থটিই আমাদের গবেষণার মূল বিষয়।
৪ - আয-যাব্বু আন মাজহাবি মালিক: এটি মরক্কোর সেন্টার ফর স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ অ্যান্ড রিভাইভাল অফ হেরিটেজ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
অষ্টম পরিচ্ছেদ- তাঁর আকিদাহ (বিশ্বাস):ইমাম আয-যাহাবি বলেছেন: "তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সালাফদের আদর্শের অনুসারী ছিলেন। তিনি ইলমুল কালাম (দর্শনভিত্তিক ধর্মতত্ত্ব) জানতেন না এবং অপব্যাখ্যা (তাওয়িল) করতেন না। আমরা আল্লাহর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করি।"
(২) আমি (লেখক) বলছি: মহান আল্লাহ সম্পর্কে তাঁর নিম্নোক্ত বক্তব্য থেকে সালাফদের আদর্শের সাথে তাঁর সংগতি স্পষ্ট হয়। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণ করেন, দেখেন, মুষ্টিবদ্ধ করেন এবং প্রসারিত করেন। তাঁর উভয় হাত প্রসারিত। কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আসমানসমূহ ভাঁজ করা থাকবে তাঁর ডান হাতে। তাঁর হাত দুটি তাঁর নেয়ামত (অনুগ্রহ) নয়।"
(৩) আল-কারাফি ইবনে আবি যাইদ থেকে এই মাসয়ালাটি বর্ণনা করেছেন
(৪), যা রূপক ব্যাখ্যা বর্জনের ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাব বা অবস্থানকে স্পষ্ট করে। আর এটি হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مذهب السلف وأهل الحديث.
قلت: ويظهر دفاعه عن مذهب السلف الصالح من عدد من مؤلفاته التي ذكرها القاضي عياض، منها كتاب الاقتداء بأهل السنّة، ورسالة النهي عن الجدال، ورسالة في الرد على القدرية، ومناقضة رسالة البغدادي المعتزلي، وكتاب الاستظهار في الردّ على الفكرية، وكتاب كشف التلبيس، ورسالة في أصول التوحيد
(1)؛ ولهذا قد علقت على عقيدة الرسالة لتوضيحها مما حكاه ابن أبي زيد عن مالك في كتاب الجامع من كتابه اختصار المدونة والمختلطة؛ لأن مذهب المصنف خير ما يشرحه كلامه في غيره من كتبه.
المطلب التاسع - ثناء العلماء عليه:قال القاضي عياض: "إمام المالكية في وقته وقدوتهم، وجامع مذهب مالك وشارح أقواله، وكان واسع العلم كثير الحفظ والرواية، وكتبه تشهد له بذلك، فصيح القلم ذا بيان ومعرفة بما يقوله، ذابًّا عن مذهب مالك، قائمًا بالحجة عليه، بصيرًا بالرد على أهل الأهواء، يقول الشعر ويجيده، ويجمع إلى ذلك صلاحًا تامًّا وورعًا وعفة، وحاز رئاسة الدين والدنيا، وإليه كانت الرحلة من الأقطار، ونجب أصحابه، وكثر الآخذون عنه"
(2).
وقال الذهبي: "وكان مع عظمته في العلم والعمل ذا بر وإيثار وإنفاق على الطلبة وإحسان"
(3).
--------------------------------------------
সালাফ এবং আহলুল হাদিসের মাযহাব।
আমি বলছি: কাজি ইয়াদ কর্তৃক উল্লিখিত তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ থেকে সালাফে সালেহীনের মাযহাবের পক্ষে তাঁর প্রতিরক্ষা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এর মধ্যে রয়েছে 'কিতাবুল ইক্তিদা বি-আহলিস সুন্নাহ', 'রিসালাতুন নাহয়ি আনিল জিদাল' (বিতর্ক নিষেধ বিষয়ক পুস্তিকা), 'রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলাল কাদারিয়া' (কাদারিয়াদের খণ্ডনে পুস্তিকা), 'মুনাকাদাতু রিসালাতিল বাগদাদি আল-মুতাজিলি' (মুতাজিলি বাগদাদির পুস্তিকার প্রতিবাদ), 'কিতাবুল ইস্তিযহার ফির রাদ্দি আলাল ফিকরিয়্যাহ', 'কিতাব কাশফিত তালবিস' এবং 'রিসালাতুন ফি উসুলিত তাওহিদ'
(১); এ কারণেই আমি 'আকিদাতুর রিসালাহ'-র ওপর টীকা প্রদান করেছি যেন ইবনে আবি যায়দ তাঁর 'ইখতিসারুল মুদাওয়ানা ওয়াল মুখতালিতা' গ্রন্থের 'কিতাবুল জামি'-তে ইমাম মালিক থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায়; কেননা একজন লেখকের মাযহাব বা মতাদর্শ ব্যাখ্যা করার জন্য তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের বক্তব্যই সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট।
নবম পরিচ্ছেদ - তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:কাজি ইয়াদ বলেন: "তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের মালিকি মাযহাবের ইমাম ও তাঁদের আদর্শ, ইমাম মালিকের মাযহাবের সংকলক এবং তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যাকারী। তিনি ছিলেন বিশাল জ্ঞানের অধিকারী এবং প্রভূত স্মৃতিশক্তি ও বর্ণনার অধিকারী ছিলেন, যার সাক্ষ্য তাঁর গ্রন্থসমূহ প্রদান করে। তিনি ছিলেন সাবলীল লেখনীর অধিকারী, প্রাঞ্জল বক্তা এবং যা বলতেন সে সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন। তিনি মালিকি মাযহাবের সপক্ষে প্রতিরক্ষা এবং এর সপক্ষে দলিল উপস্থাপনে সদা সচেষ্ট ছিলেন। ভ্রান্ত মতাবলম্বীদের খণ্ডন করার ব্যাপারে তিনি ছিলেন বিচক্ষণ। তিনি কবিতা লিখতেন এবং তাতে পারদর্শী ছিলেন। এর পাশাপাশি তাঁর মাঝে পূর্ণ নিষ্ঠা, পরহেজগারি ও চারিত্রিক পবিত্রতা বিদ্যমান ছিল। তিনি দ্বীন ও দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রে নেতৃত্ব লাভ করেছিলেন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে জ্ঞানপিপাসুরা তাঁর কাছে আসত। তাঁর ছাত্ররা অত্যন্ত প্রতিভাবান ছিলেন এবং তাঁর থেকে জ্ঞান আহরণকারীর সংখ্যা ছিল অনেক"
(২)।
ইমাম যাহাবি বলেন: "ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে তাঁর মহান মর্যাদার পাশাপাশি তিনি ছিলেন অত্যন্ত পুণ্যবান, আত্মত্যাগী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অকাতরে দানকারী ও পরোপকারী"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المطلب العاشر- وفاته:قال شمس الدين التتائي في ترجمته لابن أبي زيد: "مات سنة ثمانية وثمانين، فعمره سبعون سنة"، وقال الذهبي: "قال أبو إسحاق الحبال: مات ابن أبي زيد لنصف شعبان، سنة تسع وثمانين وثلاث مائة، وكذا أرخه أبو القاسم بن منده، وأرخ موته القاضي عياض وغيره في سنة ست وثمانين وثلاث مائة" وزاد بروكلمان عامين آخرين لوفاة ابن أبي زيد، وهما 390 هـ، 396 هـ
(1).
والمشهور من هذه الأقوال ما ذكره حافظ المغرب القاضي عياض (رحمه الله تعالى) أن وفاته سنة 386 هـ، فرحم الله ابن أبي زيد، وجزاه خير الجزاء.
--------------------------------------------
দশম পরিচ্ছেদ- তাঁর মৃত্যু:শামস আদ-দীন আত-তাতাঈ ইবনে আবি যায়িদের জীবনীতে বলেছেন: "তিনি ৩৮৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স হয়েছিল সত্তর বছর।" আল-যাহাবি বলেছেন: "আবু ইসহাক আল-হাব্বাল বলেছেন: ইবনে আবি যায়িদ ৩৮৯ হিজরির শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইন্তেকাল করেন।" আবু আল-কাসিম বিন মানদাহও অনুরূপ তারিখ বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে কাজী ইয়াদ ও অন্যান্যরা তাঁর মৃত্যুর তারিখ ৩৮৬ হিজরি উল্লেখ করেছেন। ব্রোকেলম্যান ইবনে আবি যায়িদের ওফাতের ব্যাপারে আরও দুটি বছরের কথা উল্লেখ করেছেন, যা হলো ৩৯০ হিজরি ও ৩৯৬ হিজরি
(১)।
এই অভিমতগুলোর মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো মাগরিবের হাফেজ কাজী ইয়াদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) বর্ণিত মতটি যে, তাঁর মৃত্যু ৩৮৬ হিজরিতে হয়েছিল। আল্লাহ ইবনে আবি যায়িদকে রহম করুন এবং তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث الثاني- التعريف بشمس الدين التتائي
المطلب الأول- عصر الشمس التتائي:الحياة السياسية: عاش التتائي حقبة تاريخية عجيبة، فيها أفلتْ شمس دولة المماليك، وظهرت دولة الأتراك العثمانيين التي سيطرت على المشرق الإسلامي كله، ونقلت مركز القيادة الإسلامية من القاهرة إلى إسلامبول
(1).
الحياة الاجتماعية: كثرت في هذا العصر أوجه الخرافات والبدع والبعد عن النهج القويم، وعمَّ ظلم المماليك على المصريين، ومما يكشفُ لك حجمَ الفسادِ في المجتمعِ في هذه الحقبة عبارةُ السلطانِ طومان باى للقضاة الذين عيَّنهم: "أنا ما أقبل رشوة في ولاية أحد من القضاة؛ فلا تأخذوا إنتوا
(2) رشوة من الناس أبدًا" وهذا يظهر منه أن الفساد والرشوة لم تكن بعيدة عن أرقى المناصب وأشرفها.
الحياة العلمية: رغم هذه الحوادث العظيمة ظلت الحياة العلمية والثقافية في القاهرة مزدهرة في حياة التتائي، فعاصر الشمس التتائي كوكبة من العلماء الأفاضل.
المطلب الثاني- في اسمه وكنيته ولقبه:هو الإمام أبو عبد الله محمد بن إبراهيم بن خليل، ولقبه الذي اشتهر به شمس الدين التتائي.
قال الزبيدي: تَتَا بالفتْحِ مَقْصورًا: قَريةٌ بمِصْر مِنْ أَعمال المنوفية، وَمِنْهَا الشمس
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ- শামসুদ্দীন আল-তাতায়ীর পরিচিতি
প্রথম অনুচ্ছেদ- শামস আল-তাতায়ীর যুগ:রাজনৈতিক জীবন: আল-তাতায়ী এক বিস্ময়কর ঐতিহাসিক যুগে বসবাস করতেন, যখন মামলুক সালতানাতের সূর্য অস্তমিত হচ্ছিল এবং উসমানীয় তুর্কিদের উত্থান ঘটছিল, যারা সমগ্র ইসলামী প্রাচ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং ইসলামী নেতৃত্বের কেন্দ্র কায়রো থেকে ইসলামবুলে
(১) স্থানান্তরিত করেছিল।
সামাজিক জীবন: এই যুগে কুসংস্কার, বিদআত এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতির নানা দিক ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। মিশরীয়দের ওপর মামলুকদের জুলুম চরম আকার ধারণ করেছিল। তৎকালীন সমাজে দুর্নীতির ব্যাপকতা কতটুকু ছিল, তা সুলতান তুমান বাই কর্তৃক তাঁর নিযুক্ত বিচারকদের প্রতি এই উক্তি থেকে স্পষ্ট হয়: "আমি কোনো বিচারকের নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ করি না; সুতরাং তোমরাও জনগণের কাছ থেকে কখনো
(২) ঘুষ গ্রহণ করবে না।" এটি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দুর্নীতি ও ঘুষ তৎকালীন সর্বোচ্চ এবং অত্যন্ত সম্মানিত পদগুলো থেকেও দূরে ছিল না।
জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন: এসব বড় বড় ঘটনা সত্ত্বেও আল-তাতায়ীর জীবদ্দশায় কায়রোর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক জীবন ছিল সমৃদ্ধ। শামস আল-তাতায়ী সে সময়ের একঝাঁক বরেণ্য আলিমের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ- তাঁর নাম, উপনাম ও উপাধি প্রসঙ্গে:তিনি হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে খলিল, এবং তাঁর প্রসিদ্ধ উপাধি হলো শামসুদ্দীন আল-তাতায়ী।
জাবিদী বলেছেন: 'তাতা' (ত-বর্ণে ফাতহাহ বা যবর যোগে): এটি মিশরের মনুফিয়া প্রদেশের অন্তর্গত একটি গ্রাম, আর শামস (আল-তাতায়ী) এখান থেকেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
التَّتَائيّ شيخُ المالكيَّةِ فِي عَصْره
(1). وقد نسب إلى هذه القرية العديد من المالكية، ولكنْ إذا أُطلِقت النسبةُ إليها فلا ينصرفُ الذهنُ إلا إلى الشمس التتائي؛ لأنه أشهرهم
(2).
المطلب الثالث- مشايخه:أخذ التتائي علوم الشريعة عن جمعٍ من كبارِ العلماء في عصره، منهم:
1 - قاضي الأنكحة أبو العباس أحمد بن يونس القسنطيني التونسي: الإِمام الفقيه المالكي العالم الكامل المتفنن العمدة الفاضل، أخذ عن البرزلي وابن مرزوق الحفيد والْبِسَاطِيّ، ولد سنة 816 هـ، وتوفي سنة 878 هـ
(3).
2 - نور الدين أبو الحسن علي بن عبد الله السّنهوري: الإِمام الحافظ المحدّث المقرئ شيخ المالكية في وقته، أخذ عن الزين طاهر النويري والْبِسَاطِيّ وأبي القاسم النويري، له تعليق على التلقين، وشرحان للآجرومية ولد سنة 814 هـ، وتوفي في رجب سنة 889 هـ
(4).
3 - أبو الحسن علي بن محمد بن علي القرشي البَسطي، الشهير بالقَلَصَادي: فقيه مالكي، محدِّث فرضي عالم بالحساب، وهو آخر مَنْ له التآليف الكثيرة من أئمة الأندلس، وتوفي بباجة تونس، له "أشرف المسالك إلى مذهب مالك"، و"هداية الأنام في
--------------------------------------------
আত-তাতাঈ তাঁর যুগের মালিকি মাযহাবের প্রধান শাইখ ছিলেন
(১)। এই গ্রামটির সাথে সম্পৃক্ত করে অনেক মালিকি আলিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু যখন নিরঙ্কুশভাবে এই নিসবতটি (উপাধি) ব্যবহার করা হয়, তখন শামস আত-তাতাঈ ছাড়া অন্য কারো কথা মনে আসে না; কারণ তিনি তাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ
(২)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ- তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:আত-তাতাঈ তাঁর যুগের একদল প্রথিতযশা আলেমের নিকট শরীয়াহর জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
১ - বিবাহ বিষয়ক বিচারক (কাজি আল-আনকিহা) আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইউনুস আল-কুসন্তিনি আত-তূনুসি: ইমাম, মালিকি ফকীহ, পূর্ণাঙ্গ প্রাজ্ঞ আলেম, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, নির্ভরযোগ্য ও বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব; তিনি আল-বুরজুলি, ইবনে মারজুক আল-হাফিদ এবং আল-বিসাতি থেকে জ্ঞান লাভ করেছেন। তিনি ৮১৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৭৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন
(৩)।
২ - নূরুদ্দিন আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সানহুরি: ইমাম, হাফিজ, মুহাদ্দিস, ক্বারী এবং স্বীয় সময়ের মালিকি মাযহাবের প্রধান শাইখ; তিনি জাইন তাহির আন-নুওয়াইরি, আল-বিসাতি এবং আবুল কাসিম আন-নুওয়াইরি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। 'আত-তালক্বীন' গ্রন্থের ওপর তাঁর একটি টীকা এবং 'আল-আজুরুমিয়্যাহ'র দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। তিনি ৮১৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৮৯ হিজরির রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন
(৪)।
৩ - আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-কুরাশি আল-বাস্তি, যিনি আল-কালাসাদি নামে সমধিক পরিচিত: মালিকি ফকীহ, মুহাদ্দিস, মিরাস শাস্ত্রবিদ এবং গণিতবিদ। আন্দালুসের ইমামদের মধ্যে তিনিই সর্বশেষ ব্যক্তি যাঁর অসংখ্য গ্রন্থাবলি রয়েছে। তিনি তিউনিসিয়ার বাজাহ নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'আশরাফুল মাসালিক ইলা মাযহাবি মালিক' এবং 'হিদায়াতুল আনাম ফি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مختصر قواعد الإسلام"، و"الضروريّ في علم المواريث" وغيرها، توفي سنة 891 هـ
(1).
4 - برهان الدين إبراهيم بن محمد بن محمد بن عمر القاضي المغربي الأصل اللقَّاني: القاهري الأزهري المالكي، قاضي القضاة، الإِمام الفقيه العالم المحدّث العمدة المتفنن القدوة، سمع الحديث من الزركشي، وتفقه بأحمد البجائي. ولد سنة 817 هـ، وتوفي سنة 896 هـ
(2).
5 - داود بن علي القلتاوي الأزهري: الإِمام الفقيه المالكي المتفنن أخذ عن الزين طاهر وأبي القاسم النويري وغيرهما، وعنه الشمس التتائي وغيره، له شرح على مختصر خليل ومختصر ابن الحاجب الفرعي والرسالة والتنقيح والألفية وغير ذلك. توفي سنة 902 هـ
(3).
6 - محمد بن محمد بن احمد بن محمد الدمشقي القاهري، الشافعي، المعروف بسبط المارديني أو المارداني: فقيه شافعي فرضي رياضي فلكي نحوي، أصله من دمشق، وولد بالقاهرة ونشأ بها، وعُيِّن مُوقِّتًا بالجامع الأزهر، من كتبه وسيلة الطلاب ونزهة الألباب إلى معرفة الأوقات بالحساب، توفي بالقاهرة سنة 912 هـ
(4).
7 - أبو يحيي زكريا بن محمد بن أحمد بن زكريا الأنصاري السّنيكي القاهري: الفقيه الشافعي المفسر المقرئ المحدِّث الأصولي الفرضي اللغوي الأزهري، المعروف بشيخ الإسلام، أخذ أَنْوَاع الْعُلُوم عَنْ شُيُوخ عصره كالقاياتي وَابْن حجر والجلال
--------------------------------------------
"মুখতাসার কাওয়ায়িদুল ইসলাম" এবং "আদ-দারুরি ফি ইলমিল মাওয়ারিস" ও অন্যান্য গ্রন্থাবলি, তিনি ৮৯১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(১)।
৪ - বুরহানুদ্দিন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-কাদি, মূলগতভাবে মরক্কীয়, আল-লাক্কানি: কায়রোবাসী, আজহারি, মালিকি মাযহাব অনুসারী, প্রধান বিচারপতি, ইমাম, ফকিহ, বিজ্ঞ আলেম, মুহাদ্দিস, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব, বহুমাত্রিক পণ্ডিত ও অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি আজ-জারকাশি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং আহমদ আল-বাজায়ি-এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন। তিনি ৮১৭ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৯৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(২)।
৫ - দাউদ ইবনে আলি আল-কালতাওয়ি আল-আজহারি: ইমাম, মালিকি ফকিহ ও বহুবিদ্যায় পারদর্শী। তিনি যাইন তাহির, আবুল কাসিম আন-নুওয়ায়রি এবং অন্যদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁর নিকট থেকে আশ-শামস আত-তাতায়ি ও অন্যরা জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মুখতাসার খলিল, মুখতাসার ইবনুল হাজিব আল-ফারয়ি, আর-রিসালাহ, আত-তানকিহ এবং আল-আলফিয়া-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং আরও অনেক কিছু। তিনি ৯০২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(৩)।
৬ - মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি আল-কাহিরি, আশ-শাফিয়ি, যিনি সিবত আল-মারদিনি বা আল-মারদানি নামে পরিচিত: তিনি শাফিয়ি ফকিহ, ফারায়েজ শাস্ত্রবিদ, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ ও ব্যাকরণবিদ। তাঁর আদি নিবাস দামেস্ক হলেও কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন ও সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তাঁকে আল-আজহার মসজিদে সময়ের হিসাবরক্ষক (মুওয়াক্কিত) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে 'ওয়াসিলাতুত তুল্লাব' এবং 'নুযহাতুল আলবাব ইলা মারিফাতিল আওকাত বিল হিসাব' অন্যতম। তিনি ৯১২ হিজরি সনে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন
(৪)।
৭ - আবু ইয়াহিয়া জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে জাকারিয়া আল-আনসারি আস-সুনাইকি আল-কাহিরি: শাফিয়ি ফকিহ, মুফাসসির, কারি, মুহাদ্দিস, উসুলবিদ, ফারায়েজ শাস্ত্রবিদ, ভাষাবিদ ও আজহারি পণ্ডিত, যিনি শায়খুল ইসলাম নামে সুপরিচিত। তিনি তাঁর সমসাময়িক যুগের শায়খদের নিকট থেকে বিভিন্ন শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেছেন, যেমন আল-কায়াতি, ইবনে হাজার এবং আল-জালাল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الْمحلي والشرف الْمَنَاوِيّ وَغَيرهم، وتولى القضاء. توفي بالقاهرة سنة 926 هـ
(1).
المطلب الرابع- تلاميذه:تخرّج بالإمام التتائي جمع غفير من كبار العلماء، ذكرت كتب التراجم منهم: أبو عبد الله محمد بن محمد بن أحمد الفِيشي
(2). وأبو عبد الله محمد بن عبد الكريم الدميري توفي سنة 943 هـ
(3). وأبو الفتح عبد الرحيم بن أحمد، بدر الدين العباسي القاهري، ثم الإسلامبولي توفي سنة 963 هـ
(4). ومحمد بن محمد بدر الدين الكرخي الشافعي توفي سنة 1006 هـ
(5).
المطلب الخامس- مهامه ووظائفه:يذكر المترجمون للعلاّمة التتائي أنه تولى منصب القضاء، حتي صار قاضي قضاة المالكية بمصر، وذلك في عهد السلطان طومان باى في مستهل ذي القعدة من سنة 922 هـ، فأخلع عليه السلطان، وقرَّره على قضاء المالكية عوضًا عن القاضي محيي الدين بن الدميري بحكم أسره عند السلطان سليم شاه بن عثمان
(6)، وقد حفظ الله التتائي فتولى القضاء في عهد سلطانٍ أبى المظالمَ والأخذَ من أموال الناس قهرًا، وقد منع الرِّشا؛ لأن في هذه الحقبة كان بعض القضاة يصل إلى منصب القضاء بالرشوة؛ لذلك كان يقبل
--------------------------------------------
আল-মাহাল্লি, আশ-শারাফ আল-মুনাউয়ি এবং অন্যান্যদের নিকট তিনি শিক্ষালাভ করেন এবং বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৯২৬ হিজরি সনে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন
(১).
চতুর্থ পরিচ্ছেদ- তাঁর ছাত্রবৃন্দ:ইমাম তাতায়ি-র নিকট এক বিশাল সংখ্যক বরেণ্য আলেম শিক্ষা সমাপন করেছেন। জীবনীগ্রন্থগুলোতে তাদের মধ্য থেকে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ফিশি
(২)। আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আদ-দামিরি, তিনি ৯৪৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(৩)। আবু আল-ফাতহ আব্দুর রহিম বিন আহমদ, বদরুদ্দীন আল-আব্বাসি আল-কাহিরি, অতঃপর আল-ইস্তাম্বুলি, তিনি ৯৬৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(৪)। এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বদরুদ্দীন আল-কারখি আশ-শাফিয়ি, তিনি ১০০৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(৫)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ- তাঁর দায়িত্ব ও কার্যাবলি:আল্লামা তাতায়ি-র জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, এমনকি তিনি মিশরের মালিকি মাযহাবের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। এটি ছিল ৯২২ হিজরি সনের যিলকদ মাসের শুরুতে সুলতান তুমান বাই-এর শাসনামলে। সুলতান তাঁকে সম্মানসূচক পোশাক (খিলাত) প্রদান করেন এবং সুলতান সেলিম শাহ বিন উসমান কর্তৃক বন্দি হওয়ার কারণে বিচারপতি মুহিউদ্দীন বিন আদ-দামিরি-র স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তাঁকে মালিকি বিচারব্যবস্থার দায়িত্বভার অর্পণ করেন
(৬)। আল্লাহ তাআলা তাতায়ি-কে হেফাযত করেছিলেন, ফলে তিনি এমন এক সুলতানের আমলে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন যিনি সকল প্রকার যুলুম এবং জোরপূর্বক মানুষের ধন-সম্পদ কেড়ে নেওয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি উৎকোচ বা ঘুষ গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছিলেন; কেননা সেই যুগে কিছু বিচারক ঘুষের বিনিময়ে বিচারপতির পদ লাভ করতেন; তাই তিনি গ্রহণ করতেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
في عمله الرشوة؛ فكثرت المظالم، ولم يطل المقام بالشمس التتائي في هذا المنصب، فما هي إلا أيام، حتى اضطربت البلاد بدخول العثمانيين مصر، ولما استقر الأمر للسلطان سليم شاه أعاد القاضي محيي الدين بن الدميري الذي كان في أسره مرةً أخرى على قضاء المالكية
(1)، وذلك في الحادي عشر من شهر صفر من سنة 923 هـ. ومن ثمَّ تفرغ شمس الدين التتائي للتأليف والتدريس والإفادة، حتى استحقَّ أن يُنعَتَ بأنه: شيخُ المالكيَّةِ فِي عَصْره
(2).
المطلب السادس- مصنفاته:ترك العلامة التتائي العديد من الكتب والمصنفات المهمة التي صارت مرجعًا لمَن جاء بعده من العلماء، وخصوصًا ما كتبه في المذهب المالكي، ونبدأ بالمطبوع أو المحقق منها:
1 - البهجة السنية في حلّ الإشارات السنية: وهو شرح على القصيدة الغرامية في مصطلح الحديث لأبي العباس شهاب الدين أحمد بن فرح اللَّخْمِيّ الأشبيلي (ت: 699 هـ)
(3)، حققها الأستاذ عبد الرحمن جديد.
2 - تنوير المقالة في حلّ ألفاظ الرسالة: وهو شرح على رسالة ابن أبي زيد القيرواني في مذهب مالك، وقد أخرج الجزء الأول منه فضيلة الدكتور محمد عايش في رسالته للدكتوراه، ويخرج قريبًا كاملًا بعون الله (تعالى) بتحقيقي بالاشتراك مع فضيلة الشيخ أحمد مصطفى الطهطاوي.
--------------------------------------------
তাঁর কাজের মধ্যে ঘুষের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল; ফলে জুলুম-অত্যাচার বেড়ে যায়। শামস আত-তাতাই এই পদে বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেননি; মাত্র কয়েক দিন অতিক্রান্ত হতে না হতেই উসমানীয়দের মিশরে প্রবেশের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যখন সুলতান সেলিম শাহের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তিনি বিচারক মুহিউদ্দীন বিন আদ-দামিরিকে—যিনি তাঁর বন্দিদশায় ছিলেন—পুনরায় মালিকি মাযহাবের প্রধান বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করলেন
(১), আর এটি ছিল ৯২৩ হিজরি সালের ১১ই সফর। এরপর শামস আদ-দীন আত-তাতাই গ্রন্থ রচনা, অধ্যাপনা ও জ্ঞান বিতরণে আত্মনিয়োগ করেন, এমনকি তিনি তাঁর সমকালের 'মালিকি মাযহাবের শ্রেষ্ঠ ইমাম' (শায়খুল মালিকিয়্যাহ) হিসেবে অভিহিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন
(২)।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ- তাঁর রচনাবলি:আল্লামা তাতাই বহু গুরুত্বপূর্ণ কিতাব ও গ্রন্থাবলি রেখে গেছেন যা পরবর্তী আলেমদের নিকট রেফারেন্স হিসেবে পরিগণিত হয়েছে, বিশেষত মালিকি মাযহাবের ওপর তাঁর লিখিত কিতাবসমূহ। আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে মুদ্রিত বা সম্পাদিত গ্রন্থগুলো দিয়ে শুরু করছি:
১ - আল-বাহজাতুস সানিয়্যাহ ফি হাল্লিল ইশারাতিস সানিয়্যাহ: এটি হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (মুসতালাহুল হাদিস) বিষয়ক 'আল-কাসিদাতুল গারামিয়্যাহ'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। মূল কবিতাটি আবু আব্বাস শিহাব উদ্দীন আহমদ বিন ফারাহ আল-লাখমি আল-ইশবিলির (ওফাত: ৬৯৯ হিজরি) লেখা
(৩)। এটি সম্পাদনা করেছেন উস্তাদ আব্দুর রহমান জাদিদ।
২ - তানভীরুল মাকালাহ ফি হাল্লি আলফাযির রিসালাহ: এটি মালিকি মাযহাবের ওপর ইবনে আবি জায়েদ আল-কায়রাওয়ানির 'রিসালাহ' গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যা। এর প্রথম খণ্ড ডক্টর মুহাম্মদ আইশ তাঁর পিএইচডি থিসিস হিসেবে প্রকাশ করেছেন এবং অচিরেই আল্লাহর রহমতে শায়খ আহমদ মুস্তফা আত-তাতাবির সঙ্গে আমার যৌথ সম্পাদনায় এটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালা লি-ইবনি আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী - নুসখাতুত তাতায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
3 - جواهر الدرر في حل ألفاظ المختصر: للشيخ خليل في الفقه المالكي، وهو شرحه الصغير للمختصر الخليلي، وقد طبع حديثا في ثمانية أجزاء بدار ابن حزم بيروت، بتحقيق الدكتور أبي الحسن نوري حسن المسلاتي.
4 - خطط السداد والرشد بشرح نظم مقدمة ابن رشد: في الفقه المالكي، حققه أستاذنا الشيخ أحمد مصطفى الطهطاوي، ونشرته دار ابن حزم.
5 - حاشية على شرح المحلي على جمع الجوامع، في أصول الفقه.
6 - شرح على الشامل لبهرام: في الفقه، لم يُكمله.
7 - شرح على ألفية العراقي، في مصطلح الحديث.
8 - شرح على الإرشاد: وهو كتاب "إرشاد السالك" لابن عسكر البغدادي.
9 - شرح على جامع الأمهات: لابن الحاجب.
10 - فتح البديع الوهاب شرح التفريع: لابن الجلاب
(1).
11 - فتح الجليل في شرح مختصر خليل: وهو الشرح الكبير على المختصر.
7 - فهرسة شمس الدين التتائي: اشتملت على إسناد الحديث المسلسل بالأولية والجامع الصحيح والترمذي والحلية لأبي نعيم وكتاب الدعاء للمحاملي وجزء عاشوراء للمنذري والشفا والبردة وأذكار النووي وألفية ابن مالك، منه نسخة في مكتبة تشستربيتي- إيرلندا، برقم (4869)
(2).
المطلب السابع- أهمية مصنفاته في المذهب:--------------------------------------------
৩ - জাওয়াহিরুদ দুরার ফি হাল্লি আলফাযিল মুখতাসার: এটি মালিকি ফিকহ শাস্ত্রের শায়খ খলিল রচিত ‘মুখতাসার খলিলি’র ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি উক্ত মুখতাসারের ওপর তাঁর রচিত সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (শারহুস সাগির)। সম্প্রতি এটি বৈরুতের দারু ইবনি হাজম থেকে ড. আবুল হাসান নুরি হাসান আল-মাসলাতির সম্পাদনায় আট খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
৪ - খিতাতুস সাদাদি ওয়ার রুশদি বি-শারহি নাযমি মুকাদ্দিমাতি ইবনি রুশদ: এটি মালিকি ফিকহ শাস্ত্রের একটি গ্রন্থ। আমাদের উস্তাদ শায়খ আহমাদ মুস্তফা আত-তহতাবি এটি সম্পাদনা করেছেন এবং দারু ইবনি হাজম এটি প্রকাশ করেছে।
৫ - হাশিয়া আলা শারহিল মাহাল্লি আলা জামউল জাওয়ামি: এটি উসুলুল ফিকহ বা ইসলামি আইনতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থ।
৬ - শারহু আলাশ শামিল লি-বাহরাম: এটি ফিকহ শাস্ত্রের একটি গ্রন্থ, যা তিনি অসমাপ্ত রেখেছেন।
৭ - শারহু আলা আলফিয়াতিল ইরাকি: এটি হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (মুসতালাহুল হাদিস) বিষয়ক গ্রন্থ।
৮ - শারহু আলাল ইরশাদ: এটি ইবনু আসকার আল-বাগদাদির ‘ইরশাদুস সালিক’ নামক গ্রন্থের ব্যাখ্যা।
৯ - শারহু আলা জামিউল উম্মাহাত: এটি ইবনুল হাজিবের গ্রন্থের ব্যাখ্যা।
১০ - ফাতহুল বাদিউল ওয়াহহাব শারহুত তাফরি: এটি ইবনুল জাল্লাবের গ্রন্থের ব্যাখ্যা
(১)।
১১ - ফাতহুল জলিল ফি শারহি মুখতাসারি খলিল: এটি ‘মুখতাসার’ গ্রন্থের ওপর রচিত বিশদ ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহুল কাবির)।
৭ - ফিহরিসাতু শামসিদ্দিন আত-তাতায়ি: এতে হাদিসুল মুসালসাল বিল আওওয়ালিয়্যাহ, আল-জামি আস-সহিহ, তিরমিজি, আবু নুয়াইমের ‘হিলইয়াহ’, মাহামিলির ‘কিতাবুদ দুয়া’, মুনজিরির ‘জুযউ আশুরা’, ‘আশ-শিফা’, ‘আল-বুরদাহ’, ইমাম নববির ‘আযকার’ এবং ইবনে মালিকের ‘আলফিয়াহ’-এর সনদসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর একটি পাণ্ডুলিপি আয়ারল্যান্ডের চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে (৪৮৬৯) নম্বর সংগ্রহে সংরক্ষিত আছে
(২)।
সপ্তম অনুচ্ছেদ- মাযহাবের ক্ষেত্রে তাঁর রচনাবলির গুরুত্ব:--------------------------------------------