(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: -)
مقارنة المرويات القسم: علوم الحديث
الكتاب: مقارنة المرويات - سلسلة نقد المرويات (3)
المؤلف: إبراهيم بن عبد الله اللاحم
الناشر: مؤسسة الريان، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 جُمادَى الأولى 1442
বর্ণনাগুলোর তুলনা বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র
কিতাব: বর্ণনাগুলোর তুলনা - বর্ণনা সমালোচনার ধারাবাহিকতা (৩)
লেখক: ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রায়্যান، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ জুমাদাল উলা ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة نقد المرويات (3)
مقارنة المرويات
بقلم
إبراهيم بن عبد الله اللاحم
الجزء الأول
مؤسسة الريان ناشرون
বর্ণনা সমালোচনা ধারা (৩)
বর্ণনা সমূহের তুলনা
রচনায়
ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম
প্রথম খণ্ড
মুয়াসসাসাতুর রাইয়ান পাবলিশার্স
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقارنة المرويات
বর্ণনাসমূহের তুলনা
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الأولى
1433 هـ - 2012 م
সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةالحمد لله، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه، وبعد:
فهذا هو القسم الثالث من سلسلة نقد المرويات: (مقارنة المرويات)، يصدر الآن في جزأين، يتضمنان ثلاثة أبواب، الباب الأول للمسائل المتعلقة بأهمية جمع الطرق، ومصادرها، وكيف يرتبها الباحث، والتعريف ببعض ما يمر بالباحث من مصطلحات، وإلمامة سريعة بوسائل النقد في عصر الرواية، وهذه كلها مقدمات لا بد أن يدركها الباحث، ويحسن التعامل معها.
ثم بعد ذلك في الباب الثاني القضايا المتعلقة بتفرد الراوي بالحديث، وفي الباب الثالث -وهو أطولها- قضايا الاختلاف، وعلل الأحاديث.
سرت في هذا القسم على الطريقة السابقة في القسمين الأولين: التعرض لأكبر قدر ممكن من قضايا النقد، والإكثار من ضرب الأمثلة في القضية المعينة، وذكر ما يقع من مخالفات للمنهج الصحيح في النقد في مناسبات ذلك، والحرص على ربط مسائل هذا العلم بعضها ببعض.
وقد سألني بعض الإخوان ممن قرأ الكتابين الأولين «الجرح والتعديل»، و «الاتصال والانقطاع»، عن منهج تخريج الأحاديث في هذه السلسلة، فبعض الأحاديث يطول تخريجها، وبعضها يقصر، ثم قد يوجد الحديث في مصادر عالية وقد ذكر في التخريج ما هو دونها ولم تذكر، فأحببت أن أوضح ذلك للقارئ.
فمنهج التخريج -باختصار- يرتكز على الاكتفاء بتخريج الحديث في
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর। অতঃপর:
এটি বর্ণনাসমূহ পর্যালোচনা সিরিজের (নাক্বদ আল-মারউইয়্যাত) তৃতীয় অংশ: (মুকারানাতুল মারউইয়্যাত বা বর্ণনাসমূহের তুলনা)। এটি বর্তমানে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হচ্ছে, যা তিনটি অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রথম অধ্যায়টি বর্ণনা সংগ্রহের গুরুত্ব, এর উৎসসমূহ, গবেষক কীভাবে তা বিন্যস্ত করবেন, গবেষকের সামনে আসে এমন কিছু পরিভাষার পরিচয় এবং বর্ণনা যুগে (আসরুর রিওয়ায়াহ) সমালোচনার পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার জন্য নির্ধারিত। এগুলো সবই এমন কিছু ভূমিকা যা গবেষকের জন্য অনুধাবন করা এবং যথাযথভাবে তা প্রয়োগ করা অপরিহার্য।
এরপর দ্বিতীয় অধ্যায়ে হাদিস বর্ণনায় বর্ণনাকারীর একক হওয়ার (তাফাররুদ) সাথে সম্পর্কিত বিষয়াদি এবং তৃতীয় অধ্যায়টি —যা দীর্ঘতম— হাদিসের বিভিন্নতা ও ত্রুটি (ইল্লাত) সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে সাজানো হয়েছে।
আমি এই অংশে প্রথম দুই খণ্ডের পূর্ববর্তী পদ্ধতিই অনুসরণ করেছি: তা হলো সমালোচনার যথাসম্ভব অধিক মাসআলা উপস্থাপন করা, নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রচুর উদাহরণ প্রদান করা, সঠিক সমালোচনা পদ্ধতির বিপরীতে যে বিচ্যুতিগুলো ঘটে তা ক্ষেত্রবিশেষে উল্লেখ করা এবং এই ইলমের মাসআলাগুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা।
যারা পূর্ববর্তী দুটি বই 'আল-জারহ ওয়াত তা'দীল' এবং 'আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা' পড়েছেন, তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ আমাকে এই সিরিজে হাদিসের উৎস নির্দেশ (তাখরিজ) পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। কেননা কিছু হাদিসের তাখরিজ দীর্ঘ হয়েছে আবার কিছু সংক্ষিপ্ত। আবার কখনো হাদিসটি উচ্চমানের উৎসে থাকা সত্ত্বেও তাখরিজে তার চেয়ে নিম্নমানের উৎস উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু উচ্চমানেরটি বাদ পড়েছে। তাই আমি পাঠকের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাই।
সংক্ষেপে তাখরিজ পদ্ধতিটি হচ্ছে কেবল হাদিসটির উৎস নির্দেশের ওপর ভিত্তি করা...
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
قضيته المقصودة عند ذكره، ولا يزاد عليها، فإذا كان المقصود طرق الحديث عن أحد رواته -مثلا-، كان التخريج لهذه الطرق فقط دون ما عداها.
يضاف إلى ذلك أن هذه الطرق إن كانت في شيء من الكتب الستة و «مسند أحمد»، فيكتفى بها، ولا يزاد عليها، مع الالتزام باستيعاب التخريج منها، وإن كان هناك طرق يحتاج إليها غير موجودة في هذه المصادر السبعة، يكون الخروج إلى غيرها من المصادر، وأذكر منها حينئذ ما يفي بالحاجة.
وعلى هذا فرب حديث في تخريجه مصادر نازلة، كالطبراني، والبيهقي، ونحوهما، مع أن الحديث موجود في مصادر عالية، مثل «مصنف عبدالرزاق»، و «مصنف ابن أبي شيبة»، و «مسند الحميدي»، وغيرها، والسبب هو ما ذكرته، أن ما في هذه المصادر من طرق موجود في الكتب الستة و «مسند أحمد»، فيكتفى بها، وما في المصادر النازلة غير موجود في هذه المصادر السبعة، فتضاف حينئذ.
وبهذين الضابطين في منهج التخريج أمكن تفادي إطالة الحواشي، فبها يتضخم الكتاب، وربما ضاع الغرض من التخريج، فعلى القارئ أن ينتبه لهذا حين يريد الاستفادة من التخريج.
وأود هنا أن أقدم شكري الجزيل للأخوين الفاضلين محمد بن صالح الدباسي، ومحمد بن عبدالله السريِّع، فقد تفضلا بقراءة هذا القسم، وتصحيحه بعد طباعته، ولفتا نظري إلى أشياء مهمة.
كما أشكر الباحثة الفاضلة الدكتورة سارة بنت عزيز الشهري، فقد كانت
এর মাধ্যমে উদ্দিষ্ট বিষয়টিই উদ্দেশ্য, এর অতিরিক্ত কিছু নয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো একজন রাবির সূত্রে হাদিসের সনদগুলো (তুরুক) উল্লেখ করা উদ্দেশ্য হয়, তবে কেবল সেই সনদগুলোরই তাখরিজ করা হয়েছে, অন্যগুলোর নয়।
এর সাথে যোগ করা যায় যে, যদি এই সনদগুলো কুতুবুস সিত্তাহ এবং 'মুসনাদে আহমাদ'-এ পাওয়া যায়, তবে তাতেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত কিছু যোগ করা হয়নি। এক্ষেত্রে উল্লিখিত উৎসগুলো থেকে পূর্ণাঙ্গ তাখরিজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আর যদি এমন কোনো সনদের প্রয়োজন হয় যা এই সাতটি উৎসে নেই, তবে অন্যান্য উৎসের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে এবং সেক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এই কারণে অনেক সময় দেখা যাবে যে, কোনো হাদিসের তাখরিজে পরবর্তী সময়ের (নাজিল) উৎস যেমন তাবারানি, বায়হাকি বা অনুরূপ কিতাবের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, অথচ হাদিসটি 'মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক', 'মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ', 'মুসনাদে হুমাইদি'র মতো উচ্চতর (আলি) উৎসগুলোতে বিদ্যমান ছিল। এর কারণ হলো যা আমি ইতিপূর্বেই উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ উচ্চতর এই উৎসগুলোর সনদগুলো কুতুবুস সিত্তাহ ও 'মুসনাদে আহমাদ'-এ বিদ্যমান থাকায় সেগুলোই যথেষ্ট বিবেচিত হয়েছে। আর পরবর্তী সময়ের উৎসগুলোতে এমন কিছু সনদ পাওয়া গেছে যা ওই সাতটি উৎসে নেই, তাই সেগুলো তখন যুক্ত করা হয়েছে।
তাখরিজ পদ্ধতির এই দুটি মূলনীতির কারণে টীকা দীর্ঘ হওয়া এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। অন্যথায় কিতাবটি অনেক বড় হয়ে যেত এবং হয়তো তাখরিজের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতো। সুতরাং পাঠক যখন তাখরিজ থেকে উপকৃত হতে চাইবেন, তখন যেন তিনি এই বিষয়টি স্মরণে রাখেন।
আমি এখানে দুই মহৎ ভাই মুহাম্মাদ বিন সালিহ আদ-দাব্বাসি এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সাররিয়্য-কে আন্তরিক শুকরিয়া জানাতে চাই; তারা অনুগ্রহ করে এই অংশটি পাঠ করেছেন এবং মুদ্রণের পর তা সংশোধন করেছেন, এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আমি আরও শুকরিয়া জানাচ্ছি শ্রদ্ধেয়া গবেষক ড. সারাহ বিনতে আজিজ আশ-শাহরি-কে, কেননা তিনি ছিলেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে...
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
لها يد خفية في إعداد هذا القسم، وقصة ذلك أنها أحسنت الظن بي، فطلبت أن أكون مشرفا على رسالتها للدكتوراه، وموضوعها: «الأحاديث التي ذكر البزار علتها في مسنده» جزء من أول الكتاب، فكان في ذلك فائدة كبيرة بالنسبة لي، فقد طورت بحرصها وجدها طريقة الإشراف على الرسائل لدي في جوانب كثيرة.
وأيضا -وهو المقصود هنا- استفدت من أسئلتها ومباحثاتها معي في إعداد هذا القسم، فكنت أتلمس فيما تسأل عنه وتناقش فيه حاجة الباحث الناظر في طرق الأحاديث والمقارنة بينها، فأضفت قضايا لم تكن موجودة، وأعدت ترتيب بعض القضايا وموضعها في الكتاب.
ثم إنني تلقيت من كثير من الإخوان بعض الملاحظات على الكتابين الأولين، فلهم مني شكري وتقديري، وآمل أن أتلقى منهم ومن غيرهم ما أسدد به هذا الكتاب أيضا، فالمرء قليل بنفسه، كثير بإخوانه.
أسأل الله تعالى للجميع التوفيق والسداد، وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه.
كتبه
إبراهيم بن عبدالله اللاحم
এই অংশটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তার একটি প্রচ্ছন্ন ভূমিকা রয়েছে। এর ইতিবৃত্ত হলো, তিনি আমার প্রতি সুধারণা পোষণ করতেন, তাই তিনি তার ডক্টরেট গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার জন্য আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল: "মুসনাদে বায্যারে ইমাম বায্যার কর্তৃক উল্লিখিত ইল্লতযুক্ত (ত্রুটিপূর্ণ) হাদিসসমূহ" যা গ্রন্থের প্রথম দিকের একটি অংশ ছিল। এটি আমার জন্য অনেক বড় উপকারের কারণ হয়েছিল; কেননা তার আগ্রহ ও পরিশ্রমের ফলে গবেষণাপত্র তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতিতে অনেক দিক থেকে উন্নয়ন ঘটেছে।
আরও—যা এখানে মূল উদ্দেশ্য—এই অংশটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমি তার প্রশ্ন ও আমার সাথে তার পর্যালোচনামূলক আলোচনা থেকে উপকৃত হয়েছি। তিনি যে বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং আলোচনা করতেন, তা থেকে আমি হাদিসের বিভিন্ন সনদ ও সেগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনাকারী একজন গবেষকের প্রয়োজনীয়তাগুলো অনুধাবন করার চেষ্টা করতাম। ফলে আমি এমন কিছু বিষয় এখানে যুক্ত করেছি যা আগে বিদ্যমান ছিল না এবং গ্রন্থের কিছু বিষয় ও তার স্থান পুনর্নির্ধারণ করেছি।
অতঃপর আমি অনেক ভাইয়ের কাছ থেকে পূর্ববর্তী কিতাব দুটির ব্যাপারে কিছু পর্যবেক্ষণ লাভ করেছি, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও মূল্যায়ন রইল। আমি আশা করি যে, তাদের ও অন্যদের থেকে এমন পরামর্শ পাব যার মাধ্যমে আমি এই কিতাবটিকেও সঠিক রূপে পেশ করতে পারব; কারণ মানুষ নিজের শক্তিতে সামান্য, কিন্তু তার ভাইদের সহযোগিতায় সে সমৃদ্ধ।
আমি মহান আল্লাহর কাছে সকলের জন্য তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
লিখেছেন
ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
تمهيديقصد بمقارنة المرويات: عرض المرويات بعضها على بعض، والتأمل فيها، وتمييز ما يتفق منها وما يختلف، بغرض الوصول إلى رأي راجح في المتن المروي عنه صلى الله عليه وسلم، هل يصح ويثبت عنه، أو لا؟ .
وتتضمن هذه المقارنة وهذا العرض: النظر في طرق الحديث الواحد، وشواهده، وما في الباب من أحاديث أخرى معارضة له، وما يروى عن أحد رواته مما يعارضه ويخالفه، والنظر كذلك في معارضة القرآن له أو موافقته، وأشياء أخرى غير هذه.
وما ينقل عن غيره صلى الله عليه وسلم من الصحابة والتابعين، وكذلك الحوادث التاريخية، يطبق عليه هذا المنهج في الجملة، مع اختلاف الأصول التي يحاكم إليها النص موضع الدراسة.
والمتأمل في عمل أئمة النقد يرى بوضوح أن نقد المرويات بجميع أبوابه وقضاياه قائم على العرض والمقارنة، فما تقدم في الجرح والتعديل، وفي اتصال الإسناد وانقطاعه، أمكن الوصول إليه بهذه الطريقة، أي أن وضع الراوي في درجته اللائقة به، ومعرفة سماعه ممن فوقه، استخدم النقاد في الوصول إليه مقارنة مروياته فيما بينها، ومقارنة مروياته بمرويات غيره، لكن الذي ظهر لنا هو نتائج تلك المقارنة، وإدراك ذلك له أثره في نقد المرويات بالنسبة للمتأخر، وقد تقدمت الإشارة إلى هذه القضية في أماكن من القسمين السابقين، وتأتي
ভূমিকাবর্ণনাসমূহ তুলনামূলক পর্যালোচনার অর্থ হলো: বর্ণনাগুলোকে একে অপরের সামনে উপস্থাপন করা, সেগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা এবং সেগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সামঞ্জস্য ও বৈসাদৃশ্য চিহ্নিত করা; যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত মূল পাঠের (মতন) বিষয়ে একটি শক্তিশালী সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, সেটি কি তাঁর থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত, নাকি নয়?
এই তুলনা ও পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো: একই হাদিসের বিভিন্ন সূত্রের (তুরুক্ব) প্রতি দৃষ্টিপাত করা, তার সমর্থক বর্ণনাগুলো (শাওয়াহিদ) দেখা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এর বিরোধী অন্য কোনো হাদিস আছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা এবং কোনো বর্ণনাকারীর এমন কোনো বর্ণনা আছে কি না যা এর প্রতিকূলে যায় বা এর বিরোধিতা করে তাও খতিয়ে দেখা। তদুপরি, কুরআনের সাথে এর সংগতি বা অসংগতি লক্ষ্য করা এবং এ জাতীয় আরও অন্যান্য বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া সাহাবী ও তাবেয়ীগণের নিকট থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, এমনকি ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ক্ষেত্রেও সাধারণভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়; তবে যে মূলনীতির আলোকে আলোচ্য পাঠটিকে যাচাই করা হবে, তার ভিন্নতা থাকতে পারে।
সমালোচনা শাস্ত্রের ইমামগণের কার্যাবলি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বর্ণনাসমূহ যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিটি অধ্যায় ও বিষয়বস্তু এই তুলনা ও পর্যালোচনার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং জারহ ও তা'দীল এবং সনদের ধারাবাহিকতা ও বিচ্ছিন্নতা সংক্রান্ত যা কিছু ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমেই সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ একজন বর্ণনাকারীকে তার উপযুক্ত স্তরে স্থান দেওয়া এবং তার উর্ধ্বতন রাবীর নিকট থেকে তার শ্রবণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সমালোচকগণ তার বর্ণিত হাদিসগুলোর নিজেদের মধ্যে তুলনা এবং অন্যদের বর্ণনার সাথে তার বর্ণনার তুলনা করার পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু আমাদের সামনে যা প্রকাশিত হয়েছে তা হলো সেই তুলনামূলক পর্যালোচনার ফলাফল মাত্র। পরবর্তী যুগের আলেমদের জন্য বর্ণনাসমূহ সমালোচনার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি উপলব্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। পূর্ববর্তী দুটি পরিচ্ছেদের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে এবং সামনেও এটি আসবে।
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
الإشارة إليها أيضا، فهي قضية في غاية الأهمية، يحسن التأكيد عليها في كل مناسبة.
والباحث هناك لا يقوم بمقارنة المرويات للوصول إلى درجة الراوي، ولا إلى سماعه ممن يروي عنه، إلا في النادر جدا، لكونه قد كفي هذا الأمر، ووصلته أحكام جاهزة مبنية على تلك المقارنة.
أما الآن فالوضع مختلف، فالباحث ليس بصدد معرفة درجة الراوي بصفة عامة، ولا معرفة سماعه ممن فوقه، وإنما غرضه الآن أدق من ذلك، وهو الوصول إلى نتيجة راجحة في حديث الراوي الذي بين يديه بخصوصه، إذ النتيجة هذه لا تتوقف على معرفة رتبة الراوي، وسماعه ممن فوقه، وإنما تتوقف كذلك على النظر في حديثه هذا هل أصاب فيه أو أخطأ؟ وإذا كان قد أصاب فيه فما درجة هذا الحديث؟ وإذا كان قد أخطأ فيه فما درجة هذا الخطأ؟ .
وعقدة المسألة ترجع إلى أمر في غاية الأهمية، إذا لم يتصوره الباحث ولم يدركه فليدع النقد، وليعلم أنه وقع في هوة تتخطفه الطير، أو تهوي به الريح في مكان سحيق، وهذا الأمر هو أن الأحكام التي أطلقها النقاد على الرواة وعلى سماع بعضهم من بعض، هي أحكام مجملة، لا مانع من وجود ما يخالفها في تفاصيل أحاديث الرواة حديثا حديثا، فالنقاد يوثقون الرواة مع تجويز الخطأ عليهم، بل والنص عليه، فليس هناك أحد معصوم من الخطأ، ويضعفون الرواة، مع تجويز أن يكونوا قد حفظوا بعض حديثهم، وليس هناك من سبيل إلى معرفة الحديث الذي بين يدي الباحث هل هو مما أصاب فيه أو مما أخطأ فيه، إلا بالنظر فيه، والقيام بالمقارنة المشار إليها.
এর দিকে ইঙ্গিত করাও প্রয়োজন, কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা প্রতিটি সুযোগে জোর দেওয়া সমীচীন।
সেখানে গবেষক বর্ণনাকারীর মান বা তিনি যার কাছ থেকে বর্ণনা করছেন তার থেকে শ্রবণের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বর্ণনাগুলোর তুলনা করেন না, কেবল খুব বিরল ক্ষেত্র ছাড়া; কারণ এই কাজটি তার জন্য আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ওই তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি করা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো তার কাছে পৌঁছেছে।
কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন, কেননা গবেষক এখন সাধারণভাবে বর্ণনাকারীর মান জানা বা তার উপরের স্তরের বর্ণনাকারীর কাছ থেকে শ্রবণের বিষয়টি জানার প্রক্রিয়ায় নেই; বরং তার বর্তমান উদ্দেশ্য এর চেয়েও সূক্ষ্ম। তা হলো, তার সামনে থাকা বর্ণনাকারীর নির্দিষ্ট হাদিসটির ব্যাপারে একটি অগ্রগণ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। কারণ, এই ফলাফল কেবল বর্ণনাকারীর মর্যাদা এবং তার ঊর্ধ্বতন থেকে শোনার ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি তার এই নির্দিষ্ট হাদিসটি পর্যালোচনার ওপরও নির্ভর করে যে—তিনি এতে সঠিকতা বজায় রেখেছেন নাকি ভুল করেছেন? যদি তিনি সঠিকতা বজায় রেখে থাকেন, তবে এই হাদিসের মান কী? আর যদি ভুল করে থাকেন, তবে সেই ভুলের মাত্রা কতটুকু?।
এই সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়; গবেষক যদি এটি কল্পনা করতে বা উপলব্ধি করতে না পারেন, তবে তার উচিত সমালোচনা ত্যাগ করা এবং জেনে রাখা যে, তিনি এমন এক গহ্বরে পতিত হয়েছেন যেখানে পাখি তাকে ছিটকে নিয়ে যাবে অথবা বাতাস তাকে সুদূর কোনো স্থানে নিক্ষেপ করবে। বিষয়টি হলো, সমালোচকগণ বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে এবং একে অপরের থেকে শ্রবণের ব্যাপারে যে রায় দিয়েছেন, তা হলো সামগ্রিক রায়। বর্ণনাকারীদের হাদিসসমূহের বিস্তারিত পর্যালোচনায় প্রতিটি হাদিস স্বতন্ত্রভাবে বিচার করলে এর বিপরীত কিছু পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। কারণ, সমালোচকগণ বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য বললেও তাদের ভুলের সম্ভাবনা রাখেন, এমনকি স্পষ্টভাবে তা উল্লেখও করেন; কেননা ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ নেই। আবার তারা বর্ণনাকারীদের দুর্বল বললেও তাদের কোনো কোনো হাদিস সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা রাখেন। আর গবেষকের সামনে থাকা হাদিসটি কি বর্ণনাকারী নির্ভুলভাবে বর্ণনা করেছেন নাকি ভুল করেছেন—তা জানার কোনো পথ নেই, কেবল তা পর্যালোচনা করা এবং উল্লিখিত তুলনামূলক বিশ্লেষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা ছাড়া।
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
والأمر كذلك بالنسبة للاتصال والانقطاع، فلا يكفي معرفة سماع الراوي ممن فوقه، بل لا بد أن يترجح سماعه ذلك الحديث بعينه منه.
واتضح مما تقدم أن الغرض من المقارنة، والبحث عن طرق وروايات أخرى للحديث، ليس تقوية الحديث فقط، كما هو مترسخ في أذهان كثير من الباحثين، فيرددون في مقدمات بحوثهم العبارة التالية أو نحوها: فإن كان الإسناد صحيحا اكتفيت به، وإن كان حسنا أو ضعيفا بحثت له عن متابعات وشواهد لتقويته، فهذه عبارة تومئ إلى خلل في منهج البحث، إذ لا يصح أصلا أن يكون غرض الباحث هو التفتيش عما يرفع الضعف، ويجبره، فإن هذه تعد نتيجة قصدها الباحث، كان لها أثرها في حرص كثير من الباحثين على رفع درجة الحديث بالمتابعات والشواهد، فوق أنها تومئ إلى فهم ناقص للغرض الذي من أجله نحتاج إلى جمع الطرق والشواهد، وأحاديث الباب، يضاف إلى ذلك إغفالها أمورا أخرى لا بد من عرض الحديث عليها.
فالباحث إذن وهو يجمع طرق الحديث وشواهده، وما يلزم النظر فيه، لا يصح أن يكون غرضه محددا، فغرضه الصحيح هو انتظار النتيجة المناسبة في النهاية، وليس البحث عنها، ولو كان هناك نتيجة يصح البحث عنها مسبقا لكانت بضد ما في أذهان هؤلاء الباحثين، ألا وهي البحث عما يضعف الحديث، لأسباب ليس هذا موضع شرحها، ويهمنا منها هنا كلام أئمة النقد، كما في قول عبدالرحمن بن مهدي: «لأن أعرف علة حديث هو عندي، أحب إلي من أن
সনদ নিরবচ্ছিন্ন হওয়া এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টিও একই রূপ। অর্থাৎ, বর্ণনাকারী তার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারীর নিকট থেকে শুনেছেন—কেবল এটুকুই যথেষ্ট নয়, বরং ওই নির্দিষ্ট হাদিসটিই তিনি সরাসরি তার নিকট থেকে শুনেছেন বলে প্রমাণিত হওয়া জরুরি।
পূর্বালোচনার মাধ্যমে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং হাদিসের অন্যান্য সূত্র ও বর্ণনা অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য কেবল হাদিসকে শক্তিশালী করা নয়, যেমনটি অনেক গবেষকের মনে বদ্ধমূল হয়ে আছে। ফলে তারা তাদের গবেষণার ভূমিকায় এ জাতীয় কথা বা এর কাছাকাছি কথা বলে থাকেন: “যদি সনদ সহিহ হয় তবে আমি তাতেই সন্তুষ্ট থাকি, আর যদি তা হাসান বা দুর্বল হয় তবে আমি এটিকে শক্তিশালী করার জন্য সমর্থক ও সাক্ষ্য বর্ণনা অনুসন্ধান করি।” এই কথাটি গবেষণা পদ্ধতির একটি ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করে। কেননা, মূলত গবেষকের উদ্দেশ্য এমনটি হওয়া আদৌ সঠিক নয় যে, তিনি কেবল দুর্বলতা দূরকারী এবং এর প্রতিকারমূলক বিষয়গুলোই তালাশ করবেন। কারণ, এটি এমন একটি ফলাফল যা গবেষক নিজে আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। এটি অনেক গবেষকের মধ্যে কেবল সমর্থক ও সাক্ষ্য বর্ণনার মাধ্যমে হাদিসের মান উন্নত করার প্রচেষ্টার ওপর প্রভাব ফেলে। এছাড়া এটি সেই উদ্দেশ্যের ব্যাপারে একটি অসম্পূর্ণ উপলব্ধির দিকেও নির্দেশ করে, যার জন্য আমরা হাদিসের বিভিন্ন সূত্র, সাক্ষ্য বর্ণনা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের হাদিসসমূহ একত্রিত করার প্রয়োজন বোধ করি। এর পাশাপাশি এটি এমন আরও কিছু বিষয়কে উপেক্ষা করে যার আলোকে হাদিসটিকে যাচাই করা অপরিহার্য।
সুতরাং, একজন গবেষক যখন হাদিসের বিভিন্ন সূত্র ও সাক্ষ্য বর্ণনা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় একত্রিত করবেন, তখন তার উদ্দেশ্য আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট হওয়া সঠিক নয়। বরং তার সঠিক কাজ হবে চূড়ান্তভাবে একটি যথাযথ ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা, কোনো নির্দিষ্ট ফলাফলের পেছনে ছোটা নয়। যদি আগে থেকেই অনুসন্ধান করার মতো কোনো ফলাফল থেকে থাকে, তবে তা হবে এই গবেষকদের ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত; আর তা হলো হাদিসের ত্রুটি অনুসন্ধান করা—এমন সব কারণে যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নেই। এখানে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো সমালোচনা বিশেষজ্ঞ ইমামদের বক্তব্য, যেমন আবদুর রহমান ইবনে মাহদী বলেছেন: “আমার নিকট থাকা কোনো হাদিসের ত্রুটি সম্পর্কে জানতে পারা আমার কাছে এর চেয়েও প্রিয় যে...”
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
أكتب حديثا ليس عندي»
(1).
وفي لفظ له: «لأن أعرف علة حديث هو عندي، أحب إلي من أكتب عشرين حديثا ليس عندي»
(2).
ولهذا السبب استحب أئمة النقد الإكثار من كتابة الحديث، وكتابة الجميع دون انتقاء وانتخاب، مسند الحديث، ومرسله، مرفوعه وموقوفه، ومقطوعه، وأحاديث الضعفاء، ليعرض بعضه على بعض، فيتبين الصواب من الخطأ.
قال ابن المبارك: «ما جاء من منتقٍ -يعني منتقي الحديث- خير قط»
(3).
وقال أيضا: «ما انتخبت على عالم قط إلا ندمت»
(4).
وقال أيضا: «إذا أردت أن يصح لك الحديث فاضرب بعضه ببعض»
(5).
وروى الميموني، قال: «تعجب إلي أبو عبدالله -يعني أحمد بن حنبل- ممن يكتب الإسناد، ويدع المنقطع، ثم قال: وربما كان المنقطع أقوى إسنادا وأكبر، قلت: بينه لي، كيف؟ قال: يكتب الإسناد متصلا وهو ضعيف، ويكون المنقطع أقوى إسنادا منه، وهو يرفعه ثم يسنده، وقد كتبه هو على أنه متصل، وهو يزعم
--------------------------------------------
আমি এমন একটি হাদিস লিখি যা আমার কাছে নেই»
(১)।
তাঁর একটি বর্ণনায় রয়েছে: «আমার কাছে থাকা একটি হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) জানতে পারা আমার কাছে বিশটি এমন হাদিস লেখার চেয়ে অধিক প্রিয় যা আমার কাছে নেই»
(২)।
এই কারণেই সমালোচক ইমামগণ অধিক পরিমাণে হাদিস লেখা এবং কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই বা নির্বাচন না করে সব ধরণের হাদিস—হাদিসের মুসনাদ, মুরসাল, মারফু, মাওকুফ, মাকতু এবং দুর্বল বর্ণনাকারীদের হাদিসসমূহ—লেখাকে মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় মনে করেছেন; যেন একটি হাদিসকে অন্যটির সাথে তুলনা করা যায়, ফলে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইবনুল মুবারক বলেন: «বাছাইকারী—অর্থাৎ হাদিস বাছাইকারী—ব্যক্তির পক্ষ থেকে কখনোই ভালো কিছু আসেনি»
(৩)।
তিনি আরও বলেন: «আমি যখনই কোনো আলেমের নিকট থেকে হাদিস নির্বাচন (বাছাই) করেছি, তখনই অনুতপ্ত হয়েছি»
(৪)।
তিনি আরও বলেন: «যদি তুমি চাও যে তোমার কাছে হাদিসটি বিশুদ্ধ হোক, তবে একটির সাথে অন্যটির তুলনা করো»
(৫)।
মাইমুনি বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আবু আব্দুল্লাহ—অর্থাৎ আহমাদ ইবনে হাম্বল—সেসব ব্যক্তির ওপর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যারা (কেবল) মুত্তাসিল সনদ লেখে এবং মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) সনদ ছেড়ে দেয়। অতঃপর তিনি বললেন: অনেক সময় মুনকাতি সনদটি (কোনো মুত্তাসিল) সনদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও বড় হতে পারে। আমি বললাম: আমার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করুন, কীভাবে? তিনি বললেন: সে একটি মুত্তাসিল সনদ লেখে অথচ সেটি দুর্বল, আবার একটি মুনকাতি সনদ এর চেয়েও অধিক শক্তিশালী হতে পারে; সে এটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করে অতঃপর সনদযুক্ত করে দেয়, অথচ সে নিজে একে মুত্তাসিল হিসেবে লিখেছে এবং সে দাবি করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
أنه لا يكتب إلا ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، معناه: لو كتب الإسنادين جميعا عرف المتصل من المنقطع، يعني ضعف ذا، وقوة ذا»
(1).
ومراده أن الحديث الواحد يختلف على أحد رواته، فيروى عنه مرة متصلا، ومرة منقطعا، وقد يكون المنقطع أقوى إسنادا إليه، فإذا لم يكتب الإسناد المنقطع وكتب المتصل فقط لم تتبين هذه العلة.
وذكر أحمد بعض قرنائه في الطلب، ومتى عرفهم، فذكر إسحاق بن راهويه، فقال: «عند عبدالرزاق، وكان ربما انتخب الكتب، ثم أعود أنا فأكتب ما تركه»
(2).
وقال يحيى بن معين: «اكتب الحديث خمسين مرة، فإن له آفات كثيرة»
(3).
وقال أيضا: «لو لم نكتب الشيء من ثلاثين وجها ما عقلناه»
(4).
وقال أيضا: «من لم يكتب حديث معاوية بن سلام مسنده ومنقطعه فليس هو صاحب حديث»
(5).
وقال ابن المديني: «الباب إذا لم تجمع طرقه لم يتبين لك خطؤه»
(6).
وهكذا يقال في فهم الحديث والاستنباط منه، هو بحاجة إلى جمع طرقه
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত কিছুই লিখতেন না—এর অর্থ হলো: যদি তিনি উভয় প্রকার সনদই (সূত্র) একত্রে লিখতেন, তবে বিচ্ছিন্ন সনদ থেকে নিরবচ্ছিন্ন সনদকে আলাদা করে চেনা যেত; অর্থাৎ এটির দুর্বলতা এবং ওটির সবলতা স্পষ্ট হতো»
(১).
তাঁর উদ্দেশ্য হলো, একটি হাদিস এর কোনো একজন রাবির বর্ণনায় ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে; কখনও তাঁর থেকে এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হয়, আবার কখনও বিচ্ছিন্নভাবে। কখনও কখনও বিচ্ছিন্ন সনদটিই তাঁর নিকট অধিক শক্তিশালী হতে পারে। সুতরাং যদি বিচ্ছিন্ন সনদটি না লিখে কেবল নিরবচ্ছিন্ন সনদটিই লেখা হয়, তবে এই ত্রুটি (ইল্লত) পরিস্ফুট হবে না।
আহমাদ ইলম অর্জনের পথে তাঁর সমসাময়িক কিছু সাথীর কথা এবং কখন তাঁদের সাথে তাঁর জানাশোনা হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। তিনি ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-র কথা উল্লেখ করে বলেন: «আবদুর রাজ্জাকের সান্নিধ্যে থাকাকালীন তিনি (ইসহাক) অনেক সময় কিতাবসমূহ থেকে হাদিস নির্বাচন করতেন, এরপর আমি ফিরে এসে তিনি যা বাদ দিতেন তা লিখে নিতাম»
(২).
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: «হাদিস পঞ্চাশবার লেখো, কারণ এতে অনেক ত্রুটি বিদ্যমান থাকে»
(৩).
তিনি আরও বলেন: «যদি আমরা কোনো বিষয়কে ত্রিশটি ভিন্ন সূত্র থেকে না লিখতাম, তবে আমরা তা বুঝতে পারতাম না»
(৪).
তিনি আরও বলেন: «যে ব্যক্তি মুয়াবিয়া ইবনে সালামের হাদিস—চাই তা মুসনাদ (নিরবচ্ছিন্ন) হোক বা মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)—সংগ্রহ না করেছে, সে হাদিস বিশারদ নয়»
(৫).
ইবনুল মাদিনী বলেন: «কোনো অধ্যায়ের সমস্ত সূত্র যদি একত্রিত না করা হয়, তবে এর ভুল তোমার নিকট স্পষ্ট হবে না»
(৬).
হাদিস অনুধাবন এবং তা থেকে মাসআলা উদ্ভাবনের (ইস্তিনবাত) ক্ষেত্রেও অনুরূপ কথা প্রযোজ্য; এটি এর সমস্ত সূত্র একত্রিত করার মুখাপেক্ষী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ورواياته، كما قال أحمد: «الحديث إذا لم تجمع طرقه لم تفهمه، والحديث يفسر بعضه بعضا»
(1).
والأصل عندهم هو الكتابة عن الراوي جميع ما عنده، ويسمونه الكتابة على الاستيعاب، أو على الوجه، أو على الولاء، وهو بضد الانتخاب والانتقاء، وإنما يحسن الانتخاب والانتقاء في مواضع، وقد لخص الخطيب البغدادي ذلك بقوله: «إذا كان المحدث مكثرا، وفي الرواية متعسرا، فينبغي للطالب أن ينتقي حديثه، وينتخبه، فيكتب عنه ما لا يجده عند غيره، ويتجنب المعاد من رواياته، وهذا حكم الواردين من الغرباء، الذين لا يمكنهم طول الإقامة والثواء.
وأما من لم يتميز للطالب معاد حديثه من غيره، وما يشارك في روايته مما يتفرد به، فالأولى أن يكتب حديثه على الاستيعاب، دون الانتقاء والانتخاب»
(2).
واليوم قد ذهب عصر الكتابة والحفظ، ولم يبق إلا البديل عنه، وهو التفتيش عن الطرق والروايات، وأحاديث الباب الموافقة والمخالفة، والنظر فيها، ثم عرض الحديث على أصول أخرى غير الحديث، وهذه القضايا لها وسائل لتحقيقها، ولها أيضا قواعد يسير عليها الباحث.
وأبواب هذا الكتاب بفصولها الغرض منها شرح كيفية جمع الطرق، وأحاديث الباب، وكيفية عرض المرويات ومقارنتها، وما يحكم ذلك من قواعد
--------------------------------------------
এবং এর বর্ণনাগুলো সম্পর্কে ইমাম আহমাদ যেমন বলেছেন: "হাদিসের সকল সূত্র বা পথ একত্রিত না করলে তা বোঝা সম্ভব নয়, এবং হাদিসের এক অংশ অপর অংশের ব্যাখ্যা প্রদান করে।"
(১)তাদের নিকট মূলনীতি হলো রাবীর নিকট থাকা সমস্ত কিছু লিখে নেওয়া। তারা একে 'আল-ইসতিয়াব' (পূর্ণাঙ্গরূপে লেখা), 'আলাল ওয়াজহ' অথবা 'আলাল ওয়ালা' বলে অভিহিত করেন। এটি মূলত হাদীস চয়ন বা নির্বাচনের বিপরীত পদ্ধতি। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে হাদীস চয়ন বা নির্বাচন করা সমীচীন। আল-খাতীব আল-বাগদাদী এ বিষয়টি সংক্ষেপে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "যদি মুহাদ্দিস অনেক বর্ণনার অধিকারী হন এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে কঠোর হন, তবে ছাত্রের উচিত তার হাদীসসমূহ থেকে বাছাই করে নেওয়া এবং সেখান থেকে এমন হাদীসগুলো লিখে নেওয়া যা অন্য কারো কাছে পাওয়া যায় না। এছাড়া পুনরাবৃত্ত হওয়া বর্ণনাগুলো পরিহার করা উচিত। এটি মূলত সেই সকল বহিরাগতদের জন্য নিয়ম, যাদের পক্ষে দীর্ঘকাল অবস্থান করা সম্ভব নয়।
পক্ষান্তরে, যে শিক্ষার্থীর কাছে কোনো হাদীসের পুনরাবৃত্তি বা অন্য বর্ণনার সাথে এর পার্থক্য এবং কোনো রাবীর একক বর্ণনা ও তার সহযোগী বর্ণনার মাঝে পার্থক্য স্পষ্ট নয়, তার জন্য চয়ন বা নির্বাচন না করে বরং পূর্ণাঙ্গরূপে হাদীস লিখে নেওয়াটাই উত্তম।"
(২)বর্তমানে হাদীস লিখন ও মুখস্থকরণের যুগ গত হয়েছে। এখন কেবল এর বিকল্পই অবশিষ্ট রয়েছে, আর তা হলো—হাদীসের বিভিন্ন সূত্র ও বর্ণনাসমূহ অনুসন্ধান করা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সপক্ষ ও বিপক্ষ হাদীসসমূহ খুঁজে বের করা এবং সেগুলোতে গভীর দৃষ্টিপাত করা। এরপর হাদীসটিকে হাদীস শাস্ত্র ব্যতীত অন্যান্য মূলনীতির আলোকে যাচাই করা। এই বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট কিছু মাধ্যম রয়েছে এবং কিছু মূলনীতিও রয়েছে যা গবেষক অনুসরণ করে থাকেন।
এই বইটির বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্য হলো—হাদীসের সূত্রসমূহ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের হাদীসসমূহ সংগ্রহের পদ্ধতি, বর্ণনাগুলো উপস্থাপন ও সেগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনার পদ্ধতি এবং এ সংক্রান্ত নিয়ম-কানুনগুলো ব্যাখ্যা করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وضوابط، حرصت فيها على الإكثار من الأمثلة التطبيقية لكل قضية أتناولها، تكون مفتاحا لطالب العلم، ينطلق منها إلى التطبيق على أمثلة أخرى قد تمر به في بحوثه، فإن مجرد التنظير وشرح القواعد والضوابط غير كاف أبدا، فلا بد -بعد معرفتها- من طول الممارسة، والصبر، والأناة، لتتكون لدى الباحث ملكة يستطيع بها معرفة اختلاف الأسانيد واتفاقها، ثم كيفية عرض هذه الأسانيد وهذه الطرق للقارئ، مع فهم كلام النقاد حولها، وحسن الاستدلال به في موضعه، فإن نقد المرويات ذوق يرزقه الشخص إذا أخذ بأسبابه، وهو الذي كان النقاد يعبرون عنه بأنه إلهام أو كهانة
(1)، ويقصدون به أنه مجموعة من المعارف يتم توظيفها في لحظة معينة، للحكم على حديث، وغير المشارك لهم في هذه المعارف لا يتقبل ذهنه ما يصدر عنهم من أحكام، أو ما يسيرون عليه من قواعد.
فالمطلوب إذن من الناقد للسنة في العصور المتأخرة هو النظر في الطرق، وكثرة الممارسة، وإدمان القراءة في كتب النقاد، ليستطيع مشاركة النقاد في هذا العلم، بالقدر الذي تؤدي إليه الأسباب الممكنة، وهو -كما تقدم- إدراك الاتفاق والاختلاف في الأسانيد، وتشعبها، وعرض الروايات بعضها على بعض، وحسن عرض ذلك وتلخيصه عند الحاجة، مع فهم كلام النقاد، وعدم النفرة منه، ووضعه في مكانه المناسب له، وترتيبه، وشرحه، والاستدلال له، وقد يحتاج الباحث إلى تطبيق قواعدهم وما يسيرون عليه في مواقف لم يجد لهم فيها
--------------------------------------------
এবং বিধিমালা, যাতে আমি প্রতিটি আলোচ্য বিষয়ের জন্য অধিক পরিমাণে প্রায়োগিক উদাহরণ দেওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি, যা জ্ঞানান্বেষীর জন্য এমন এক চাবিকাঠি হবে যা থেকে সে তার গবেষণায় সামনে আসা অন্যান্য উদাহরণের ক্ষেত্রে প্রয়োগের সূচনা করতে পারবে। কারণ কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা এবং নিয়ম ও বিধিমালার ব্যাখ্যা কখনোই যথেষ্ট নয়। বরং এগুলো জানার পর দীর্ঘ অনুশীলন, ধৈর্য এবং স্থৈর্যের প্রয়োজন, যাতে গবেষকের মধ্যে এমন এক প্রজ্ঞা গড়ে ওঠে যার মাধ্যমে সে সনদসমূহের বিভিন্নতা ও ঐকমত্য চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। এরপর এই সনদ ও সূত্রগুলো পাঠকের সামনে কীভাবে উপস্থাপন করতে হয় তা বুঝতে পারে এবং সেগুলোর ব্যাপারে সমালোচকদের বক্তব্য অনুধাবন করে যথাস্থানে তা থেকে দলিল গ্রহণের দক্ষতা লাভ করে। বর্ণনাগুলোর সমালোচনা মূলত একটি রসবোধ যা ব্যক্তিকে তখন দান করা হয় যখন সে এর যথাযথ উপায়-উপকরণ অবলম্বন করে। আর এটিকেই সমালোচকগণ ইলহাম বা অতীন্দ্রিয় জ্ঞান হিসেবে অভিহিত করতেন
(১)। এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো, এটি একগুচ্ছ জ্ঞানের সমষ্টি যা কোনো হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের জন্য একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে প্রয়োগ করা হয়। যারা এই জ্ঞানসমূহে তাদের সাথে অংশীদার নয়, তাদের মস্তিস্ক সমালোচকদের থেকে প্রকাশিত হুকুমসমূহ বা তারা যে সকল নিয়ম অনুসরণ করেন, তা সহজে গ্রহণ করতে পারে না।
সুতরাং পরবর্তী যুগের সুন্নাহর সমালোচকদের জন্য যা কাম্য তা হলো, সনদসূত্রগুলোর ওপর দৃষ্টি রাখা, অধিক অনুশীলন এবং সমালোচকগণের কিতাবসমূহ নিয়মিত অধ্যয়ন করা, যাতে সম্ভবপর উপায় অবলম্বন করে সে এই বিদ্যায় সমালোচকদের কাতারে শামিল হতে পারে। আর এটিই হলো—যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে—সনদসমূহের ঐকমত্য ও ভিন্নতা অনুধাবন করা, সেগুলোর শাখা-প্রশাখা জানা এবং বর্ণনাগুলোকে একে অপরের সাথে মিলিয়ে দেখা। সেই সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোর উত্তম উপস্থাপন ও সারসংক্ষেপ করা এবং সমালোচকদের বক্তব্য সঠিকভাবে অনুধাবন করা ও তা থেকে বিমুখ না হওয়া। পাশাপাশি সেই বক্তব্যকে তার উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা, বিন্যস্ত করা, ব্যাখ্যা করা এবং এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করা। অনেক সময় গবেষক এমন সব ক্ষেত্রে তাদের নিয়মাবলী ও কর্মপদ্ধতি প্রয়োগের প্রয়োজন বোধ করেন যেখানে তিনি তাদের সরাসরি কোনো বক্তব্য খুঁজে পান না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كلاما، مع الحذر الشديد، ومزيد اليقظة والانتباه.
قال الخطيب البغدادي: «أشبه الأشياء بعلم الحديث: معرفة الصرف، ونقد الدنانير والدراهم، فإنه لا يعرف جودة الدينار والدرهم بلون، ولا مَسٍّ، ولا طراوة، ولا دنس، ولا نقش، ولا صفة تعود إلى صغر أو كبر، ولا إلى ضيق أو سعة، وإنما يعرفه الناقد عند المعاينة، فيعرف البهرج والزائف، والخالص والمغشوش، وكذلك تمييز الحديث، فإنه علم يخلقه الله تعالى في القلوب، بعد طول الممارسة له، والاعتناء به»
(1).
وقال ابن رجب: «لا بد في هذا العلم من طول الممارسة، وكثرة المذاكرة، فإذا عدم المذاكرة به فليكثر طالبه المطالعة في كلام الأئمة العارفين، كيحيى القطان، ومن تلقى عنه، كأحمد، وابن المديني، وغيرهما، فمن رزق مطالعة ذلك، وفهمه، وفقهت نفسه فيه، وصارت له فيه قوة نفس وملكة - صلح له أن يتكلم فيه»
(2).
وقال السخاوي: «الله تعالى بلطيف عنايته أقام لعلم الحديث رجالا نقادا، تفرغوا وأفنوا أعمارهم في تحصيله، والبحث عن غوامضه وعلله ورجاله، ومعرفة مراتبهم في القوة واللين، فتقليدهم، والمشي وراءهم، وإمعان النظر في تواليفهم، وكثرة مجالسة حفاظ الوقت، مع الفهم، وجودة التصور، ومداومة الاشتغال، وملازمة التقوى والتواضع، يوجب لك -إن شاء الله- معرفة السنن
--------------------------------------------
অত্যন্ত সতর্কতা, গভীর সজাগতা এবং মনোযোগের সাথে কথা বলা।
খতিব আল-বাগদাদি বলেন: "হাদিস শাস্ত্রের সাথে সবচেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয় হলো: মুদ্রার বিনিময় এবং দিনার ও দিরহামের মান যাচাই করা। কারণ, দিনার ও দিরহামের গুণাগুণ তার রং, স্পর্শ, উজ্জ্বলতা, মলিনতা, নকশা কিংবা ছোট-বড় অথবা সংকীর্ণতা বা প্রশস্ততার দ্বারা চেনা যায় না। বরং একজন অভিজ্ঞ সমঝদার ব্যক্তি কেবল তা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই চিনতে পারেন; ফলে তিনি মেকি ও কৃত্রিম এবং খাঁটি ও ভেজাল মিশ্রিত মুদ্রার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন। অনুরূপভাবে হাদিসের বিশুদ্ধতা নিরূপণও এমন একটি জ্ঞান যা মহান আল্লাহ দীর্ঘ অনুশীলন এবং এর প্রতি গভীর মনোনিবেশের পর অন্তরে সৃষ্টি করে দেন।"
(১)ইবনে রজব বলেন: "এই শাস্ত্রে দীর্ঘ অনুশীলন এবং প্রচুর আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। যদি আলোচনার সুযোগ না থাকে, তবে জ্ঞানান্বেষী যেন অভিজ্ঞ ইমামগণের বক্তব্যের ওপর অধিক পঠন ও অধ্যয়ন করেন; যেমন ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এবং তাঁর থেকে যারা জ্ঞান লাভ করেছেন, যেমন আহমাদ, ইবনুল মাদিনি ও অন্যান্যগণ। ফলে যাকে এই অধ্যয়ন ও বোঝার তৌফিক দেওয়া হয়েছে এবং যার অন্তরে এ বিষয়ে গভীর প্রজ্ঞা ও দক্ষতা সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্যই কেবল এ বিষয়ে কথা বলা সংগত।"
(২)সাখাভি বলেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁর সূক্ষ্ম অনুগ্রহে হাদিস শাস্ত্রের জন্য এমন কিছু সমালোচক ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছেন, যারা নিজেদেরকে এর জন্য উৎসর্গ করেছেন এবং এর অর্জন, এর নিগূঢ় রহস্য, ত্রুটি ও বর্ণনাকারীদের সন্ধানে এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতার স্তর নির্ণয়ে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেছেন। সুতরাং তাঁদের অনুসরণ করা, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলা, তাঁদের রচনাবলি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং সমকালীন হাফেজদের সান্নিধ্যে অধিক সময় অতিবাহিত করার সাথে সাথে সঠিক বুঝ, উত্তম উপলব্ধি, নিরবচ্ছিন্ন সাধনা এবং তাকওয়া ও বিনয় অবলম্বন করলে—ইনশাআল্লাহ—সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
النبوية، ولا قوة إلا بالله»
(1).
والغرض من هذه النقول هنا التأكيد على طول الممارسة، وكثرة المطالعة في كتب النقاد الأوائل، ليستطيع فهم كلامهم، وعدم إنكاره، والسير على طريقتهم.
وسيأتي في مناسبات عديدة مزيد تأكيد على هذه القضية، وبيان القدر الذي يشارك الباحث فيه أئمة النقد.
* * *
--------------------------------------------
নবুওয়াতী, আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই»
(১).
এখানে এই উদ্ধৃতিসমূহ উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিনের অনুশীলন এবং পূর্ববর্তী সমালোচক ইমামগণের গ্রন্থসমূহ অধিক পাঠ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা, যাতে তিনি তাঁদের বক্তব্য বুঝতে সক্ষম হন, তা অস্বীকার না করেন এবং তাঁদের পদ্ধতি অনুযায়ী চলতে পারেন।
এই বিষয়ের ওপর আরও অধিক গুরুত্বারোপ এবং একজন গবেষক সমালোচক ইমামগণের সাথে কতটুকু অংশীদার হতে পারেন তার বিবরণ সামনের বিভিন্ন প্রসঙ্গে আসবে।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الباب الأولمقدمات في مقارنة المروياتوفيه أربعة فصول:
الفصل الأول: مصادر طرق الأحاديث واختلافها كثرة وقلة.
الفصل الثاني: مصطلحات في مقارنة المرويات.
الفصل الثالث: الرسم التوضيحي لأسانيد الحديث.
الفصل الرابع: النقد في عصر الرواية.
প্রথম অধ্যায়বর্ণনাগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনার ভূমিকাএতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসের সূত্রের উৎসসমূহ এবং সেগুলোর সংখ্যাধিক্য ও স্বল্পতাজনিত পার্থক্য।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বর্ণনাগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনার পরিভাষাসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের সনদসমূহের চিত্রলৈখিক ব্যাখ্যা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বর্ণনা যুগে সমালোচনা।
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الأولمصادر طرق الأحاديث واختلافها كثرة وقلةوفيه مبحثان:
المبحث الأول: مصادر طرق الأحاديث.
المبحث الثاني: كثرة طرق الأحاديث وقلتها.
প্রথম অধ্যায়হাদিসের বর্ণনাসূত্রের উৎসসমূহ এবং সেগুলোর আধিক্য ও স্বল্পতার ভিন্নতাএতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসের বর্ণনাসূত্রের উৎসসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের বর্ণনাসূত্রের আধিক্য ও স্বল্পতা।
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الأولمصادر طرق الأحاديثأول ما يذكر في مصادر طرق الأحاديث كتب الرواية الجامعة، وهي التي تعرف بأمّات كتب السنة، مثل الصحاح، والجوامع، والمصنفات، والسنن، والمسانيد، والمستخرجات، وما ألف على شاكلة هذه الكتب تحت مسميات أخر، مثل كتاب الطحاوي «شرح مشكل الآثار»، وكتاب الطبري «تهذيب الآثار»، وغيرها، فهذه كتب ألفت بقصد جمع السنة النبوية، وفق منهج كل مؤلف، وغرضه من تأليف كتابه، فهي إذن المصدر الأساس لطرق الأحاديث.
ويلتحق بهذه الكتب ما ألفه أئمة الحديث على طريقة الإفراد، أي إفراد موضوع معين بالتأليف، ومن أمثلة هذا النوع من المؤلفات: «الصلاة» لأبي نعيم، و «الزهد» لوكيع، ولهناد بن السري، ولأحمد، و «فضائل الصحابة» لأحمد، و «الأدب المفرد»، و «جزء القراءة خلف الإمام» للبخاري، و «الشمائل المحمدية» للترمذي، و «خصائص علي» للنسائي، و «تعظيم قدر الصلاة» للمروزي، و «الأموال» لأبي عبيد، ولابن زنجويه، و «الطهور» لأبي عبيد، و «الدعاء» للطبراني، وكتب ورسائل ابن أبي الدنيا، وغير ذلك كثير جدا.
ويتميز هذا النوع من المؤلفات بكثرة الأحاديث ووفرة طرقها، خاصة منها ما كان موضوع الكتاب فيه ضيقا، إذ المجال رحب للمؤلف ليسوق من الطرق ما يريد، لا سيما إذا تخفف من شرطه، فكتاب (الأدب) في «صحيح البخاري»،
প্রথম পরিচ্ছেদহাদিসের সূত্রসমূহের উৎসসমূহহাদিসের সূত্রসমূহের উৎসের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে যা উল্লেখ করা হয় তা হলো বর্ণনাসমৃদ্ধ মৌলিক সংকলন গ্রন্থসমূহ, যেগুলো সুন্নাহর মূল গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত; যেমন: সিহাহ, জামে, মুসান্নাফ, সুনান, মাসানিদ, মুস্তাখরাজ এবং এই ধাঁচে অন্য নামে রচিত গ্রন্থসমূহ। যেমন—তাহাবীর ‘শারহু মুশকিলিল আসার’, তাবারীর ‘তাহজিবুল আসার’ ইত্যাদি। এগুলো এমন গ্রন্থ যা প্রতিটি লেখকের নিজস্ব পদ্ধতি ও গ্রন্থ রচনার লক্ষ্য অনুযায়ী নববী সুন্নাহ সংকলনের উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে। সুতরাং এগুলোই হলো হাদিসের সূত্রসমূহের মূল উৎস।
এই বইগুলোর সাথে আরও যুক্ত হবে হাদিসের ইমামগণের একক বিষয়ভিত্তিক রচিত গ্রন্থসমূহ, অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর স্বতন্ত্রভাবে রচিত গ্রন্থ। এই ধরণের রচনার উদাহরণ হলো: আবু নুয়াইমের ‘আস-সালাত’, ওয়াকী, হান্নাদ ইবনুস সারী ও আহমদের ‘আয-যুহদ’, আহমদের ‘ফাযায়িলুস সাহাবা’, বুখারীর ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ ও ‘জুযউল কিরাআতি খালফাল ইমাম’, তিরমিযীর ‘আশ-শামাইলুল মুহাম্মাদিয়াহ’, নাসাঈর ‘খাসায়িসু আলী’, মারওয়াযীর ‘তা’জিমু কাদরিস সালাত’, আবু উবাইদ ও ইবনু যানজুওয়াইহর ‘আল-আমওয়াল’, আবু উবাইদের ‘আত-তুহুর’, তাবারানীর ‘আদ-দুআ’ এবং ইবনে আবিদ দুনিয়ার গ্রন্থ ও পুস্তিকাসমূহ। এ রকম আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে।
এই ধরণের গ্রন্থগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো হাদিসের প্রাচুর্য এবং সূত্রের ব্যাপকতা, বিশেষ করে যেগুলোর বিষয়বস্তু সুনির্দিষ্ট। কারণ তখন লেখকের জন্য তার ইচ্ছানুযায়ী বিভিন্ন সূত্র বর্ণনা করার প্রশস্ত সুযোগ থাকে, বিশেষত যদি তিনি নিজের শর্ত শিথিল করেন। যেমন—‘সহীহ বুখারী’র ‘আদাব’ অধ্যায়টি,
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
لا يقارن عدد الأحاديث وطرقها فيه بما في كتابه الآخر «الأدب المفرد»، لأن الأول في ضمن كتاب شامل للأدب وغيره، مع نزول شرطه في «الأدب المفرد»، وهكذا كتابه الآخر «جزء القراءة خلف الإمام» فيه من الأحاديث وطرقها ما يفوق بكثير ما في كتابه «الصحيح» مما يتعلق بهذه المسألة.
وهكذا يقال فيما ألف في هذا العصر -عصر الرواية- من الأجزاء الحديثية التي تجمع أحاديث صحابي واحد، أو راو واحد من رواة الحديث، أو ما ينفرد به راو، أو جمع طرق حديث معين، ونحو ذلك.
ومن مصادر الطرق أيضا ما ألف في عصر الرواية مما له صلة بعلوم أخرى، كالتفسير، والفقه، والعقائد، والتاريخ، والأدب، وغير ذلك.
ففي التفسير يذكر «تفسير الطبري»، و «تفسير ابن أبي حاتم»، و «تفسير سعيد بن منصور».
وفي الفقه مثل كتاب «الحجة على أهل المدينة» لمحمد بن الحسن، و «الأم» للشافعي، و «الأوسط» لابن المنذر، و «شرح معاني الآثار» للطحاوي، وغيرها.
وفي العقائد مثل «الشريعة» للآجري، و «السنة» لعبدالله بن أحمد، و «التوحيد» لابن خزيمة، و «الإيمان» لابن منده، و «الأسماء والصفات» للبيهقي، وغيرها.
وفي التاريخ مثل «سيرة ابن إسحاق»، و «طبقات ابن سعد»، و «تاريخ الطبري».
তাঁর অন্য গ্রন্থ ‘আল-আদাব আল-মুফরাদ’-এ বর্ণিত হাদীস ও এর সূত্রের সংখ্যার সাথে এতে (সহীহ বুখারীতে) বিদ্যমান হাদীস ও সূত্রের তুলনা চলে না। কারণ প্রথমটি আদব বা শিষ্টাচারসহ অন্যান্য বিষয়ের একটি সামগ্রিক গ্রন্থ, যেখানে ‘আল-আদাব আল-মুফরাদ’-এর শর্তাবলী অপেক্ষাকৃত শিথিল। একইভাবে তাঁর অন্য গ্রন্থ ‘জুযউল কিরাআতি খালফাল ইমাম’-এ সংশ্লিষ্ট মাসআলার হাদীস ও এর সূত্রের সংখ্যা তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে বিদ্যমান হাদীসের চেয়ে অনেক বেশি।
একইভাবে রিওয়ায়াত বা হাদীস বর্ণনার যুগে সংকলিত সেই সব হাদীস খণ্ড (আজজা হাদীসিয়্যাহ) সম্পর্কেও একই কথা বলা যায়, যা একজন সাহাবীর হাদীসসমূহ, অথবা হাদীসের কোনো একজন বর্ণনাকারীর হাদীসসমূহকে একত্রিত করেছে, অথবা যা কোনো বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট হাদীসের সকল সূত্রকে সংকলন করেছে এবং এই জাতীয় অন্যান্য সংকলন।
সূত্রের অন্যান্য উৎসের মধ্যে সেই সব গ্রন্থও রয়েছে যা বর্ণনার যুগে সংকলিত হয়েছে এবং যেগুলোর সাথে অন্যান্য জ্ঞানশাখার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যেমন: তাফসীর, ফিকহ, আকীদা, ইতিহাস, সাহিত্য ইত্যাদি।
তাফসীরের ক্ষেত্রে ‘তাফসীরে তাবারী’, ‘তাফসীরে ইবনে আবি হাতিম’ এবং ‘তাফসীরে সাঈদ ইবনে মানসুর’ উল্লেখযোগ্য।
ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে যেমন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের ‘আল-হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ’, শাফিয়ীর ‘আল-উম্ম’, ইবনুল মুনযিরের ‘আল-আওসাত’, তহাবীর ‘শারহু মাআনিল আসার’ এবং অন্যান্য।
আকীদার ক্ষেত্রে যেমন আজুরীর ‘আশ-শারীআহ’, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদের ‘আস-সুন্নাহ’, ইবনে খুযাইমাহর ‘আত-তাওহীদ’, ইবনে মানদাহর ‘আল-ঈমান’, বায়হাকীর ‘আল-আসমা ওয়াস-সিফাত’ এবং অন্যান্য।
ইতিহাসের ক্ষেত্রে যেমন ‘সীরাতে ইবনে ইসহাক’, ইবনে সা’দের ‘তাবাকাত’ এবং ‘তারীখে তাবারী’।
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن مصادر الطرق أيضا ما ألف بغرض نقد الراوي أو المروي، ويشمل ذلك شريحة واسعة جدا من الكتب، ابتداء من الكتب الأولى التي كان فيها نقد الراوي والمروي مختلطا، مثل «سؤالات أبي داود لأحمد»، و «مسائل أبي داود عن أحمد»، و «العلل ومعرفة الرجال» لأحمد، رواية عبدالله، ورواية المروذي، و «تاريخ الدوري عن ابن معين»، و «سؤالات ابن الجنيد لابن معين».
ثم الكتب المخصصة لنقد المرويات، وهي التي عرفت بكتب العلل، مثل «علل ابن المديني»، و «علل الترمذي الكبير»، و «علل ابن أبي حاتم»، و «علل الدارقطني».
والكتب المخصصة للرواة أنفسهم، مثل «التاريخ الكبير»، و «التاريخ الأوسط» وهما للبخاري، و «الضعفاء» للعقيلي، و «الكامل» لابن عدي، و «المجروحين» لابن حبان.
ويدخل في هذه الكتب تواريخ البلدان، مثل «تاريخ واسط» لبحشل، و «تاريخ جرجان» للسهمي، و «تاريخ أصبهان» لأبي نعيم، و «تاريخ بغداد» للخطيب البغدادي.
ويدخل فيها أيضا معاجم الشيوخ، مثل «معجم شيوخ الإسماعيلي»، و «المعجم الأوسط»، و «المعجم الصغير» للطبراني، وغيرها.
وخلاصة ما تقدم أن كل كتاب مما ألف في عصر الرواية فهو مصدر أصيل، يحتاجه الباحث، لا غنى له عنه.
সূত্রের উৎসগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে সেসব গ্রন্থ যা রাবী (বর্ণনাকারী) অথবা মারভী (বর্ণিত বিষয়) পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে। এর মধ্যে কিতাবসমূহের একটি বিশাল অংশ অন্তর্ভুক্ত, যার শুরু হয় সেই প্রাথমিক গ্রন্থগুলো থেকে যেখানে রাবী এবং মারভীর পর্যালোচনা মিশ্রিত অবস্থায় থাকত। যেমন: আহমাদ ইবনে হাম্বলের নিকট আবু দাউদের ‘সুআলাত’ (জিজ্ঞাসাসমূহ), আহমাদ থেকে বর্ণিত আবু দাউদের ‘মাসায়েল’, আব্দুল্লাহর বর্ণনা ও মাররুযীর বর্ণনায় আহমাদ ইবনে হাম্বলের ‘আল-ইলাল ওয়া মা’রিফাতুর রিজাল’, ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত ‘তারীখুদ দূরী’ এবং ইবনে মাঈনের নিকট ইবনে জুনাইদের ‘সুআলাত’।
এরপর রয়েছে সেই সব গ্রন্থ যা বিশেষভাবে বর্ণনাগুলো (মারভিয়্যাত) পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট, যেগুলো ‘ইল্লত’ (গোপন ত্রুটি) বিষয়ক গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত। যেমন: ‘ইলালু ইবনিল মাদিনী’, ‘ইলালুত তিরমিযী আল-কাবীর’, ‘ইলালু ইবনি আবি হাতিম’ এবং ‘ইলালুদ্ দারা কুতনী’।
আর সেসব গ্রন্থ যা খোদ বর্ণনাকারীদের (রাবী) পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট, যেমন: ইমাম বুখারীর ‘আত-তারীখুল কাবীর’ ও ‘আত-তারীখুল আওসাত’, উকাইলীর ‘আদ-দুআফা’, ইবনে আদী’র ‘আল-কামিল’ এবং ইবনে হিব্বানের ‘আল-মাজরুহীন’।
এই কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস গ্রন্থসমূহও। যেমন: বাহশালের ‘তারীখে ওয়াসিত’, সাহমীর ‘তারীখে জুরজান’, আবু নুয়াইমের ‘তারীখে আসবাহান’ এবং খতীব বাগদাদীর ‘তারীখে বাগদাদ’।
এর মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত হলো শিক্ষকদের অভিধান বা ‘মু’জামুশ শুয়ুখ’ গ্রন্থসমূহ। যেমন: ইসমাঈলীর ‘মু’জামু শুয়ুখ’, তাবারানীর ‘আল-মু’জামুল আওসাত’ ও ‘আল-মু’জামুস সাগীর’ এবং অন্যান্য।
পূর্বালোচনার সারকথা হলো, বর্ণনার যুগে (আসরে রেওয়ায়াত) রচিত প্রতিটি কিতাবই এক একটি মৌলিক উৎস, যা একজন গবেষকের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং যা ছাড়া তার কোনো গত্যন্তর নেই।
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثم نأتي إلى
المصادر الفرعية، وهي التي ألفت بعد عصر الرواية، أي بعد أن تحولت الرواية إلى رواية مصنفات من تقدم، وهي مصادر واسعة جدا، مثل كتب ابن الجوزي، وابن عساكر، وعبدالغني المقدسي، وابن تيمية، والذهبي، وابن القيم، وابن كثير، وابن رجب، والعراقي، وابن الملقن، وابن حجر، سواء ما كان منها يروي فيه مؤلفه أحاديثه بالأسانيد، أو مما حذفت أسانيده.
فهذا النوع من المصادر هو أيضا مورد معين لطرق الأحاديث، يحتاجه الباحث، لا يستغني عنه، فقد حفظت هذه المصادر كثيرا من الأسانيد التي فقدت مصادرها الأصلية، فكتاب «المطالب العالية في زوائد المسانيد الثمانية» لابن حجر حفظ أسانيد كثيرة لمسانيد مفقودة الآن، مثل «مسند مسدد»، و «مسند العدني».
ثم هناك جانب آخر مهم جدا يبرز أهمية هذه المصادر البديلة، وهي أنها تارة تكون نسخا أخرى لمصادر أصلية وصلت إلينا، فيوجد فيها أسانيد ليست في المصادر الأصلية، كما يستفاد منها حين يكون هناك إشكال في أسانيد الأحاديث أو متونها، فكم من إسناد في مصدر أصلي تم تصويبه من «تحفة الأشراف» للمزي، أو من «إتحاف المهرة» لابن حجر.
وفي الكلام على مصادر الأحاديث وطرقها أنبه على عدد من الأمور:
الأول: يتساءل كثير من الباحثين عن الطريقة المثلى للوصول إلى طرق الأحاديث في مصادرها، والتأكد من أن الباحث لم يفته شيء منها.
এরপর আমরা
গৌণ উৎসসমূহের আলোচনায় আসি, যেগুলো বর্ণনা যুগের পরবর্তী সময়ে সংকলিত হয়েছে; অর্থাৎ যখন হাদিস বর্ণনা পূর্ববর্তীদের সংকলিত গ্রন্থসমূহের বর্ণনার রূপে পরিবর্তিত হয়েছে। এগুলো অত্যন্ত বিস্তৃত উৎস, যেমন ইবনুল জাওযী, ইবনে আসাকির, আব্দুল গনি আল-মাকদিসী, ইবনে তাইমিয়া, আয-যাহাবী, ইবনুল কায়্যিম, ইবনে কাসীর, ইবনে রজব, আল-ইরাকী, ইবনুল মুলাক্কিন এবং ইবনে হাজারের গ্রন্থসমূহ; চাই লেখক সেখানে হাদিসসমূহ সনদসহ বর্ণনা করে থাকুন অথবা সনদ বাদ দিয়ে বর্ণনা করে থাকুন।
এই ধরণের উৎসগুলোও হাদিসের সনদসমূহের একটি বিশেষ ভাণ্ডার, যা একজন গবেষকের প্রয়োজন হয় এবং তা থেকে তিনি অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না। কেননা এই উৎসগুলো এমন অনেক সনদকে সংরক্ষণ করেছে যেগুলোর মূল উৎস বা গ্রন্থসমূহ হারিয়ে গেছে। যেমন ইবনে হাজারের ‘আল-মাতালিবুল আলিয়া ফি যাওয়াইদিল মাসানিদিস সামানিয়া’ কিতাবটি বর্তমানে বিলুপ্ত অনেক মুসনাদ গ্রন্থের সনদকে সংরক্ষণ করেছে, যেমন ‘মুসনাদে মুসাদ্দাদ’ এবং ‘মুসনাদুল আদানি’।
এরপর এই বিকল্প উৎসগুলোর গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলার মতো আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে; তা হলো, এগুলো অনেক সময় আমাদের কাছে পৌঁছানো মূল গ্রন্থগুলোরই ভিন্ন সংস্করণ বা পাণ্ডুলিপি হিসেবে কাজ করে। ফলে তাতে এমন কিছু সনদ পাওয়া যায় যা মূল উৎসগুলোতে বিদ্যমান নেই। একইভাবে এগুলো থেকে তখন উপকৃত হওয়া যায় যখন হাদিসের সনদ বা মূল পাঠে (মতন) কোনো অস্পষ্টতা দেখা দেয়। মূল উৎসের কত যে সনদ আল-মিযযীর ‘তুহফাতুল আশরাফ’ অথবা ইবনে হাজারের ‘ইতহাফুল মাহারা’ থেকে সংশোধন করা হয়েছে!
হাদিসের উৎস ও এর সনদসমূহ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আমি কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি:
প্রথমত: অনেক গবেষকই হাদিসের মূল উৎসসমূহ থেকে এর সনদগুলো খুঁজে বের করার সর্বোত্তম পদ্ধতি সম্পর্কে এবং গবেষকের অগোচরে যেন কোনো কিছু বাদ না পড়ে যায় তা নিশ্চিত করার উপায় সম্পর্কে জানতে চান।
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والإجابة عن هذا التساؤل قد تبدو ظاهرة في الوقت الحاضر، فالحاسب الآلي قد تكفل بذلك كله، خاصة بعد التوسع في إدراج المصادر المفهرسة، وشمولها للمخطوطات أيضا، فقد قضى الحاسب الآلي ببرامجه المتنوعة على الطرق القديمة، مثل «المعجم المفهرس لألفاظ الحديث النبوي»، و «مفتاح كنوز السنة»، و «تحفة الأشراف»، وغيرها من كتب الفهرسة.
وهذه الإجابة لا إشكال فيها، فلا أحد ينكر الثمرة التي جناها الباحثون من الحاسب الآلي وبرامجه، فاختصرت الوقت والجهد، ولا زالت الجهود مستمرة لإخراج برامج أكثر دقة وأوسع نطاقا.
وفي رأيي أن الباحث مع وجود هذه الخدمة لا يستغني عن الجرد المباشر للمصادر، فالبحث عن الطرق يختلف اختلافا جذريا عن مجرد تخريج متن حديث، فطرق الأحاديث ربما ذكرت في بعض المصادر دون ذكر متنها، أو مع ذكر طرف من المتن قد لا يكون هو الذي مع الباحث، وربما اعتاض المؤلف أو السائل عن سرد المتن بذكر موضوع الحديث، وقد يأتي الطريق في أثناء طرق حديث آخر، يشير إليه المؤلف لغرض استوجب ذلك.
وكل هذا موجب -فيما أرى- لقيام الباحث بالجرد المباشر للمصادر، خاصة ما كان منها ليس المقصود منه الرواية كالسؤالات، وكتب العلل، وكتب النقد بصفة عامة.
ثم ههنا أمر آخر، وهو أن برامج الحاسب الآلي قد تكون خالية من حواشي
এই প্রশ্নের উত্তর বর্তমান সময়ে স্পষ্ট প্রতীয়মান হতে পারে, কারণ কম্পিউটার এই সবকিছুর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, বিশেষ করে নির্ঘণ্টভুক্ত উৎসগুলোর অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারিত হওয়ার পর এবং এতে পাণ্ডুলিপিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার পর। কম্পিউটার তার বিবিধ প্রোগ্রামের মাধ্যমে পুরনো পদ্ধতিসমূহকে বিলুপ্ত করেছে, যেমন 'আল-মু'জামুল মুফাহরাস লি-আলফাজিল হাদিসিন নাবাবি', 'মিফতাহু কুনুযিস সুন্নাহ', 'তুহফাতুল আশরাফ' এবং অন্যান্য নির্ঘণ্ট গ্রন্থসমূহ।
এই উত্তরে কোনো সমস্যা নেই, কেননা গবেষকরা কম্পিউটার এবং এর প্রোগ্রামগুলো থেকে যে ফল লাভ করেছেন তা কেউ অস্বীকার করে না, যা সময় ও শ্রমকে সংক্ষেপিত করেছে। এবং আরও নির্ভুল ও ব্যাপক পরিধিসম্পন্ন প্রোগ্রাম তৈরির প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
আমার মতে, এই সেবা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও গবেষক মূল উৎসসমূহ সরাসরি পর্যালোচনা করা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না। কারণ হাদিসের বিভিন্ন সূত্র অনুসন্ধান করা কেবল হাদিসের মূল পাঠের তাখরিজ করার চেয়ে আমূল ভিন্ন। হাদিসের সূত্রগুলো হয়তো কোনো কোনো উৎসে মূল পাঠ উল্লেখ করা ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে, অথবা পাঠের এমন কোনো অংশ উল্লেখ করা হয়েছে যা হয়তো গবেষকের নিকট থাকা পাঠের সাথে মিলছে না। আবার কখনো লেখক বা প্রশ্নকারী মূল পাঠ বর্ণনা করার পরিবর্তে হাদিসের বিষয়টি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হন। কখনো কখনো অন্য একটি হাদিসের সূত্রের বর্ণনার মাঝখানে অন্য একটি সূত্র চলে আসে, যা লেখক কোনো বিশেষ প্রয়োজনে নির্দেশ করেন।
আর এই সবকিছুই—আমার দৃষ্টিতে—গবেষকের জন্য মূল উৎসসমূহ সরাসরি পর্যালোচনার দাবি রাখে, বিশেষ করে সেই সব উৎস যেগুলোর উদ্দেশ্য কেবল হাদিস বর্ণনা করা নয়, যেমন 'সুয়ালাত' (প্রশ্নোত্তর), 'ইলল' (ত্রুটি-বিচ্যুতি) বিষয়ক গ্রন্থ এবং সাধারণভাবে সমালোচনা বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।
এরপর এখানে আরও একটি বিষয় রয়েছে, আর তা হলো কম্পিউটার প্রোগ্রামগুলো টীকা-টিপ্পনী থেকে শূন্য হতে পারে...
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الكتب، وفي هذه الحواشي فوائد يحتاجها الباحث، ومنها ما يتعلق بجمع الطرق، فيكون المحقق قد قام بتخريج الحديث، وذكر شيئا من مصادر طرقه، وقد ينبه المحقق على أشياء في نسخ الكتاب المخطوطة هي من غرض الباحث.
ومما يجدر ذكره هنا في وسائل جمع طرق الحديث تلك الجهود العظيمة التي قام بها عدد من الباحثين في رسائلهم العلمية، للماجستير، أو للدكتوراه، خاصة ما كان منها يستلزم التوسع في جمع الطرق، وهي التي يكون موضوعها أحاديث معللة، فهي -بلا جدال- وسيلة هامة بالنسبة للباحث، تساعده في سرعة إنجاز عمله، وفي توسعه في جمع الطرق.
ومما ينبه عليه الباحث المتخصص في السنة النبوية أن يدرك تمام الإدراك أن أي وسيلة يستخدمها تساعده في الوصول إلى طرق الأحاديث في مصادرها لا ينبغي أن تتجاوز كونها وسيلة توصله إلى مقصوده، فإذا أوصلته انتهى المطلوب منها، وبقي عليه جهده في تأمل ما في المصدر، فلا يقلد تلك الوسيلة في شيء مما يتعلق بالنظر في الحديث، لا في إسناده، ولا في متنه، فالباحث هو المسؤول الأول عن كل شيء يثبته في بحثه، ومن دله على موضع طريق لحديثه وقفت مهمته عند هذا الحد.
والوسائل قد تخطئ في عزو طريق، أو في صفته، أو في صلته بالحديث، وغير ذلك، فلا حجة للباحث إذا قلدها، وعليه أن يستحضر أن توافر وسائل الدلالة على مواضع الطرق وإن كان قد اختصر الوقت والجهد، لكنه أضاف
গ্রন্থসমূহ; এই পাদটীকাগুলোতে এমন অনেক উপকারী বিষয় রয়েছে যা একজন গবেষকের প্রয়োজন হয়। এগুলোর মধ্যে হাদীসের সনদ বা সূত্রসমূহ (তুরুক) একত্রিত করার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ও রয়েছে। সেখানে মুহাক্কিক হাদীসের তাখরীজ সম্পন্ন করে থাকেন এবং হাদীসের সূত্রসমূহের কতিপয় উৎসের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও মুহাক্কিক পাণ্ডুলিপির কপিসম্মত এমন কিছু বিষয়ের প্রতি গবেষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন যা তার গবেষণার উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
হাদীসের সনদ বা সূত্রসমূহ সংগ্রহের উপায় হিসেবে এখানে গবেষকদের সেই মহান প্রচেষ্টাসমূহ উল্লেখ করা আবশ্যক যা তারা তাদের মাস্টার্স বা পিএইচডি গবেষণাপত্রসমূহে সম্পন্ন করেছেন। বিশেষ করে সেই সব গবেষণা যেখানে বিস্তারিতভাবে সনদ সংগ্রহের প্রয়োজন হয়, এবং যেগুলোর বিষয়বস্তু হলো 'ইল্লাতযুক্ত হাদীস' (আহাদীস মুআল্লালাহ)। নিঃসন্দেহে এটি একজন গবেষকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম, যা তাকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে এবং সূত্রসমূহ সংগ্রহের পরিধি বিস্তারে সহায়তা করে।
সুন্নাহ বিষয়ক বিশেষায়িত গবেষকের জন্য এটি গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে, হাদীসের উৎসসমূহে পৌঁছানোর জন্য তিনি যে মাধ্যমই ব্যবহার করুন না কেন, তা যেন কেবল উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি উপায়ের চেয়ে বেশি কিছু না হয়। যখন সেই মাধ্যমটি তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে, তখন সেটির কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপর মূল উৎসে যা রয়েছে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করা তার নিজের দায়িত্ব। হাদীসের পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়েই তিনি সেই মাধ্যমের অন্ধ অনুকরণ করবেন না; হাদীসের সনদ কিংবা মতন—কোনো ক্ষেত্রেই নয়। কেননা, গবেষক তার গবেষণায় যা কিছু লিপিবদ্ধ করবেন তার জন্য তিনি নিজেই প্রধানত দায়ী। আর যিনি তাকে কোনো হাদীসের সূত্রের সন্ধান দিয়েছেন, তার দায়িত্ব সেই সীমা পর্যন্তই নিবদ্ধ।
এই মাধ্যমগুলো কোনো একটি সনদকে নির্দিষ্ট উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে, অথবা এর গুণাগুণ বর্ণনায় কিংবা হাদীসের সাথে এর সম্পর্কের বর্ণনায় ভুল করতে পারে। সুতরাং গবেষক যদি সেগুলোকে অন্ধভাবে অনুকরণ করেন তবে তা কোনো যুক্তি বা প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না। তাকে সর্বদা স্মরণে রাখতে হবে যে, হাদীসের সূত্রসমূহের অবস্থান নির্দেশকারী মাধ্যমগুলোর সহজলভ্যতা যদিও সময় ও শ্রমকে সাশ্রয় করেছে, কিন্তু তা আরও যুক্ত করেছে...
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أعباء كثيرة على الباحثين، فالوصول إلى المعلومة جزء أولي من مهمة الباحث، والجهد الأكبر هو في التعامل مع هذه المعلومة، وسهولة الوصول إلى طرق الأحاديث وسع جدا من دائرة نظر الباحث، وزاد من أعبائه، فالتعامل مع طرق الأحاديث -قبل النظر فيها من جهة قواعد الحكم على الحديث- هو بحد ذاته فن يحتاج إلى دربة ومران، وسيأتي لذلك فصل خاص به، وهو الفصل الثالث من هذا الباب.
ثم على الباحث أن يستحضر أيضا سعة مصادر طرق الأحاديث وتنوعها، فمن المحتمل جدا أن يفوت الباحث شيء من أسانيد حديثه، رغم وجود ذلك فيما وصل إلينا من كتب ومؤلفات، فعليه أولا أن يلتمس العذر لغيره ممن فاته شيء من ذلك، ثم هو يكون سريع الاستحضار لأحاديثه التي يبحث فيها، فإذا وقف على طريق -ولو بعد حين- ألحقه بمكانه، واستفاد منه، فهكذا كان نقاد المرويات، يسير نقدها في عروقهم، وهي شغلهم الشاغل، كما قال علي بن المديني: «ربما أدركت علة حديث بعد أربعين سنة»
(1).
الأمر الثاني: تبين من عرض مصادر طرق الأحاديث سعة دائرة هذه المصادر، وتنوعها، بما لا يمكن الإحاطة به، فإذا ضممنا إلى ذلك حال هذه المصادر، من جهة روايتها عن مؤلفيها، وأن الكتاب الواحد مثل «صحيح البخاري»، و «سنن أبي داود»، و «سنن النسائي الكبرى»، يكون له عدة روايات عن مؤلفه.
--------------------------------------------
গবেষকদের ওপর অনেক দায়িত্ব রয়েছে; তথ্যে পৌঁছানো একজন গবেষকের কাজের প্রাথমিক অংশ মাত্র, কিন্তু বৃহত্তর প্রচেষ্টা ব্যয় করতে হয় এই তথ্যের ব্যবস্থাপনায়। হাদিসের সনদসমূহের (তরুক) সহজলভ্যতা গবেষকের দৃষ্টিসীমাকে অত্যন্ত বিস্তৃত করেছে এবং তার দায়িত্বের বোঝাকে বৃদ্ধি করেছে। হাদিস মূল্যায়নের নিয়মাবলির আলোকে বিচার করার পূর্বে হাদিসের সনদসমূহ পর্যালোচনা করা স্বয়ং একটি শিল্প, যার জন্য অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় সামনে আসবে, যা এই পরিচ্ছেদের তৃতীয় অধ্যায়।
অতঃপর গবেষককে হাদিসের সনদসমূহের উৎসগুলোর বিশালতা এবং বৈচিত্র্যের কথাও স্মরণে রাখতে হবে। এটা অত্যন্ত সম্ভব যে, গবেষক তার আলোচ্য হাদিসের কিছু সনদ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হতে পারেন, যদিও আমাদের কাছে পৌঁছানো গ্রন্থসমূহে তা বিদ্যমান রয়েছে। তাই প্রথমত, তার উচিত অন্যদের জন্য অজুহাত অন্বেষণ করা যারা এ জাতীয় কিছু হারিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি যে হাদিসগুলো নিয়ে গবেষণা করছেন সেগুলোর ব্যাপারে সদাসতর্ক থাকবেন; ফলে যখনই কোনো সনদের সন্ধান পাবেন—তা দীর্ঘ সময় পরেও হোক না কেন—সেটিকে যথাস্থানে যুক্ত করবেন এবং তা থেকে উপকৃত হবেন। বর্ণনার সমালোচকগণ এমনই ছিলেন; সমালোচনা যেন তাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবাহিত হতো এবং এটাই ছিল তাদের প্রধান ব্যস্ততা। যেমনটি আলী ইবনুল মাদিনী বলেছেন: «আমি হয়তো চল্লিশ বছর পর কোনো হাদিসের ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি»
(১)।
দ্বিতীয় বিষয়: হাদিসের সনদের উৎসসমূহ পর্যালোচনায় এই উৎসগুলোর ব্যাপকতা এবং বৈচিত্র্য স্পষ্ট হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করা অসম্ভব। এর সাথে যদি আমরা এই উৎসগুলোর অবস্থা যোগ করি—তাদের লেখকদের নিকট থেকে সেগুলোর বর্ণনার প্রেক্ষাপটে—তবে দেখা যায় যে, একটি গ্রন্থ যেমন «সহিহ বুখারি», «সুনানে আবু দাউদ» এবং «সুনানে নাসায়ি আল-কুবরা»-এর লেখকের নিকট থেকে এর একাধিক বর্ণনা বিদ্যমান থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم هذه الروايات مَرَّ عليها عصور متعاقبة، فصار لكل منها في بعض الأحيان فروع من الروايات، ولكل فرع نسخ متعددة.
وضممنا إلى ذلك كله حفظ هذه المصادر إلى زماننا هذا، أو فقدانها، ثم تنوع الموجود منها ما بين مخطوط ومطبوع، وتعدد طبعات الكتاب الواحد أحيانا، ومنها الطبعة الجيدة المحققة، والطبعة الرديئة.
إذا عرفنا ذلك كله -وغيره مما يتعلق بهذه المصادر- أدركنا بسهولة أن أحوال هذه المصادر من الجهات المتقدم ذكرها قد شكل علما مستقلا برأسه، يتفاوت فيه الباحثون جدا، فنحن بأمَسِّ الحاجة إلى من يولي عنايته هذا الأمر، ويخصص فيه قراءاته وبحوثه، ويكون فيه مرجعا للباحثين.
وأكثر من ذلك أن بعض مصادر السنة يمكن أن تحتمل من يتخصص فيها، فلو أخذنا -مثلا- «صحيح البخاري»، أو «موطأ مالك»، أو «سنن أبي داود» لرأينا ما يتعلق به من الجهات المتقدمة ما يحتمل أن يتوجه له بعض الباحثين، ويتخصص فيه.
ولا شك أن هناك جهودا قد بذلت لحصر مطبوعات المصادر والمؤلفات في السنة النبوية، وصدرت كتب في ذلك، كما أن هناك بعض الفضلاء من الباحثين له اهتمام بالمصادر، وما يتعلق بها من أحوال، غير أن الحاجة -فيما أرى- فوق ذلك بكثير، وفي الأقسام العلمية في الجامعات -وهذا مما يؤسف له- عزوف عن التوجه إلى هذا النوع من البحوث.
এরপর এই বর্ণনাগুলোর ওপর দিয়ে একের পর এক যুগ অতিবাহিত হয়েছে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে এগুলোর প্রতিটির বর্ণনাগত শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়েছে এবং প্রতিটি শাখার আবার একাধিক অনুলিপি বিদ্যমান রয়েছে।
এর সাথে আমরা যোগ করতে পারি বর্তমান সময় পর্যন্ত এই উৎসগুলোর সংরক্ষিত থাকা বা হারিয়ে যাওয়া; অতঃপর বিদ্যমান উৎসগুলোর পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপির বৈচিত্র্য, এবং কখনও কখনও একই বইয়ের একাধিক সংস্করণ, যার মধ্যে কোনটি মানসম্মত ও সম্পাদিত, আবার কোনটি নিম্নমানের।
আমরা যখন এই সবকিছু এবং এই উৎসগুলো সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে অবগত হই, তখন আমরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি যে, উল্লিখিত দিকগুলো থেকে এই উৎসগুলোর অবস্থা একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞানে রূপ নিয়েছে, যেখানে গবেষকদের মাঝে যোগ্যতার বিস্তর ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। অতএব, আমাদের এমন ব্যক্তির একান্ত প্রয়োজন যিনি এই বিষয়ে মনোনিবেশ করবেন, নিজের অধ্যয়ন ও গবেষণাকে এতে নিবিষ্ট করবেন এবং গবেষকদের জন্য এই ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক হবেন।
এর চেয়ে বড় কথা হলো, সুন্নাহর কিছু উৎস এমন যে তা এককভাবে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দাবি রাখে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি «সহীহুল বুখারী», «মুয়াত্তা মালিক» অথবা «সুনানে আবি দাউদ» গ্রহণ করি, তবে আমরা দেখতে পাবো যে উল্লিখিত দিকগুলো থেকে এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এমন যে কিছু গবেষক সেদিকে মনোনিবেশ করতে পারেন এবং তাতে বিশেষত্ব অর্জন করতে পারেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুন্নাহর উৎস ও গ্রন্থাবলির মুদ্রিত সংস্করণগুলো তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। তেমনিভাবে গবেষকদের মধ্যে এমন কিছু গুণী ব্যক্তি রয়েছেন যাদের এই উৎসগুলো এবং এগুলোর অবস্থা সম্পর্কে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তবে আমার দৃষ্টিতে এর প্রয়োজনীয়তা তার চেয়েও অনেক বেশি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগগুলোতে — যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় — এই ধরণের গবেষণার প্রতি বিমুখতা পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الأمر الثالث: من مصادر المرويات -وهذا قليل- ما لا يصح عمن نسب إليه، وقد تصح نسبته إليه لكنه في نفسه متهم بالكذب، مثل «المسند» المنسوب للإمام زيد بن علي، فراويه عن زيد هو عمرو بن خالد الكوفي الواسطي، وهو متروك يضع الحديث، أطبق أئمة النقد على تكذيبه، ومما قيل فيه قول وكيع: «كان في جوارنا يضع الحديث، فلما فطن له تحول إلى واسط»
(1)، وقال أحمد: «كذاب، يروي عن زيد بن علي، عن آبائه أحاديث موضوعة، يكذب»
(2).
و«مغازي الواقدي»، فالواقدي نفسه -واسمه محمد بن عمر- أخباري مشهور، وهو متروك الحديث عند أئمة النقد، وصرح بعضهم بأنه يضع الحديث.
و«مسند الربيع بن حبيب»، والربيع هذا نكرة لا يعرف.
و«المجالسة» للدينوري، وهو كتاب كبير جدا، ومؤلفه أحمد بن مروان الدينوري المالكي، وثقه مسلمة بن قاسم، وأما الدارقطني فقال فيه: «هو عندي ممن كان يضع الحديث»
(3).
و«تنوير المقباس من تفسير ابن عباس»، هو من رواية صالح بن محمد الترمذي، عن محمد بن مروان السدي، عن محمد بن السائب الكلبي، عن أبي صالح، عن ابن عباس، والثلاثة الأولون كلهم متروكون، رموا بوضع
--------------------------------------------
তৃতীয় বিষয়: বর্ণনাসমূহের উৎসের মধ্যে এমন কিছু আছে—যা সংখ্যায় সামান্য—যা যাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তাঁর থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়। আবার কখনও তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করা বিশুদ্ধ হতে পারে, কিন্তু বর্ণনাকারী স্বয়ং মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত। যেমন ইমাম যাইদ ইবনে আলীর প্রতি সম্বন্ধকৃত ‘আল-মুসনাদ’। যাইদ থেকে এর বর্ণনাকারী হলেন আমর ইবনে খালিদ আল-কুফি আল-ওয়াসিতি; তিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক) এবং হাদিস জাল করতেন। সমালোচক ইমামগণ তাঁকে মিথ্যাবাদী বলার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে ওয়াকি-র একটি উক্তি হলো: “তিনি আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন এবং হাদিস জাল করতেন। যখন বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেল, তখন তিনি ওয়াসিতে চলে যান”
(১)। আহমাদ বলেন: “চরম মিথ্যাবাদী, তিনি যাইদ ইবনে আলী থেকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সূত্রে জাল হাদিস বর্ণনা করেন, তিনি মিথ্যা বলেন”
(২)।
এবং ওয়াকিদির ‘মাগাজি’। ওয়াকিদি নিজে—যার নাম মুহাম্মাদ ইবনে উমর—একজন প্রসিদ্ধ ইতিহাস বর্ণনাকারী (আখবারি)। তিনি জেরা-তাদিলের ইমামদের নিকট পরিত্যক্ত (মাতরুকুল হাদিস)। তাঁদের কেউ কেউ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তিনি হাদিস জাল করতেন।
এবং ‘মুসনাদুর রবি ইবনে হাবিব’। এই রবি জনৈক অপরিচিত ব্যক্তি, যাঁর কোনো পরিচয় জানা যায় না।
এবং দিনাওয়ারির ‘আল-মুজালাসাহ’। এটি একটি অত্যন্ত বৃহৎ কিতাব। এর রচয়িতা আহমাদ ইবনে মারওয়ান আদ-দিনাওয়ারি আল-মালিকি। মাসলামাহ ইবনে কাসিম তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। পক্ষান্তরে দারা কুতনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: “আমার নিকট তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা হাদিস জাল করত”
(৩)।
এবং ‘তানউইরুল মিকবাস মিন তাফসিরি ইবনে আব্বাস’। এটি সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আত-তিরমিযি থেকে মুহাম্মাদ ইবনে মারওয়ান আস-সুদ্দি, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সাইব আল-কালবি থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। প্রথম তিনজনই পরিত্যক্ত (মাতরুক), তাঁদের বিরুদ্ধে হাদিস জালের অভিযোগ রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الحديث، وقد جمع هذا التفسير في وقت متأخر، جمعه الفيروزآبادي من كتب التفسير التي تورد تفسير ابن عباس بهذا الإسناد.
وقد سئل أحمد عن تفسير الكلبي فقال: «من أوله إلى آخره كذب، فقيل له: يحل النظر فيه؟ قال: لا»
(1).
وهذه الكتب السابقة كلها مطبوعة، ويتساءل كثير من الباحثين عن التخريج منها والعزو إليها، وهذه صفتها، والجواب أن هذه المصادر تعامل معاملة الأسانيد التي فيها رواة متهمون، ثم يبين حالها، كما يخرج الباحث حديثا من «سنن ابن ماجه»، أو من «المعجم الأوسط» للطبراني، أو من «الكامل» لابن عدي، وفيه من نسب إلى الكذب والوضع، ثم يبين حاله، فكذلك هنا، يبين حال المؤلف أو من في الطريق إليه من رواة إسناده، فلا فرق بين تخريج حديث من «سنن ابن ماجه» في إسناده عمرو بن خالد المذكور -وقد أخرج له ابن ماجه-، ثم بيان حال عمرو، وبين تخريج حديث من «مسند زيد بن علي»، ثم بيان حال عمرو.
والذي يخشى منه أن يدع الباحث المؤلف ومن قبله، ويبدأ بنقد الإسناد بعده، اعتمادا على أنه وجد الإسناد في كتاب.
والأمر ذاته يجري في المؤلفين ومن يروي عنهم، وإن لم يصل الكلام فيهم إلى حد الترك، والرمي بالكذب، كأن يكون المؤلف أو من يروي عنه فيه ضعف، فيحتاج الباحث إلى نقد الإسناد به.
--------------------------------------------
হাদিস, আর এই তাফসিরটি পরবর্তী সময়ে সংকলন করা হয়েছে; ফিরোজাবাদি এটি সেই সব তাফসির গ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করেছেন যা এই সনদে ইবনে আব্বাসের তাফসির বর্ণনা করে।
আর আহমাদকে কালবির তাফসির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মিথ্যা। তাকে বলা হলো: এটি দেখা কি বৈধ? তিনি বললেন: না»
(১)।
আর পূর্বোক্ত এই কিতাবগুলো সবই মুদ্রিত, এবং অনেক গবেষক এগুলোর তখরিজ এবং এগুলোর দিকে কোনো বর্ণনাকে সম্বন্ধ করার বিষয়ে প্রশ্ন করেন, আর এগুলোর অবস্থা এমনই। এর উত্তর হলো, এই উৎসগুলোর সাথে সেই সব সনদের ন্যায় আচরণ করা হবে যেগুলোতে অভিযুক্ত বর্ণনাকারী রয়েছে, অতঃপর তাদের অবস্থা বর্ণনা করা হবে; যেমন একজন গবেষক «সুনান ইবনে মাজাহ», অথবা তাবারানির «আল-মু'জামুল আওসাত», অথবা ইবনে আদির «আল-কামিল» থেকে কোনো হাদিস বের করেন এবং তাতে এমন ব্যক্তি থাকেন যাকে মিথ্যা বা জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে, অতঃপর তিনি তার অবস্থা স্পষ্ট করেন। এখানেও বিষয়টি তাই; লেখক বা তার পর্যন্ত পৌঁছানোর সূত্রের বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করা হবে। সুতরাং «সুনান ইবনে মাজাহ» থেকে এমন একটি হাদিসের তখরিজ করা যার সনদে উল্লিখিত আমর ইবনে খালিদ রয়েছে —এবং ইবনে মাজাহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন— অতঃপর আমরের অবস্থা বর্ণনা করা, আর «মুসনাদ যাইদ ইবনে আলী» থেকে হাদিস তখরিজ করে আমরের অবস্থা বর্ণনা করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
আর যে বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কা করা হয় তা হলো, গবেষক হয়তো লেখক এবং তার পূর্ববর্তীদের ছেড়ে দেবেন এবং কিতাবে সনদটি পেয়েছেন এই ভরসায় এর পরবর্তী সনদের সমালোচনা শুরু করবেন।
আর একই বিষয় প্রযোজ্য হবে সেই সব লেখক এবং তাদের থেকে বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেও, যদিও তাদের ব্যাপারে সমালোচনা বর্জনীয় হওয়া বা মিথ্যার অভিযোগ পর্যন্ত না পৌঁছায়; যেমন লেখক বা তার থেকে বর্ণনাকারীর মাঝে দুর্বলতা থাকতে পারে, ফলে গবেষকের সেই কারণে সনদটি সমালোচনার প্রয়োজন হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকারানাতুল মারওয়িয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الأمر الرابع: ذكرت في تمهيد هذا الباب أن البحث عن طرق الأحاديث في مصادر السنة هو البديل عن كتابة الأسانيد في عصر الرواية، وحفظها، وأنبه هنا إلى أنه ليس المقصود بهذا أنه بمنزلته، فمن قام بجمع الطرق فهو مثل أئمة النقد في الرواية، كلا -والله- فلا يقاربه ولا يدانيه، لأسباب عديدة، منها أن وجود الحفاظ النقاد في زمن الرواية قد منحهم وسائل خاصة بهم، لا يمكن للمتأخرين مجاراتهم فيها كما سيأتي في الفصل الرابع من هذا الباب.
ومنها أن كثيرا مما ألف في السنة النبوية لم يصل إلينا، سواء ما ألف في جمع السنة، أو في نقدها، خاصة ما يتعلق بالنقد، ومقارنة المرويات، فإن أكثره مفقود
(1)، وما أكثر ما يذكر النقاد وجوها وأسانيد معلقة، ولا يقف عليها الباحث بعد جهد وتعب، وسيأتي نماذج لذلك في ثنايا هذا الكتاب.
وإنما كان البحث في المصادر الموجودة هو البديل لأنه هو الممكن، والباحث بعد تتبعه للطرق، وتفتيشه عنها، وجمعها، يعتمد -بعد اعتماده على الله تعالى- على من تهيأت لهم الأسباب، وهم أئمة النقد وحفاظه، متمما لعملهم، مستحضرا للقدر الذي هو فيه، وللوسائل الممكنة له، وسيمر بنا التأكيد على هذا في مناسباته.
ومن جانب آخر لا ينبغي أن يفهم من الحث على جمع الطرق، والتنقيب الشديد عنها في مصادرها أنه حث على التطويل في التخريج، ودراسة الأسانيد،
--------------------------------------------
চতুর্থ বিষয়: আমি এই অধ্যায়ের ভূমিকায় উল্লেখ করেছি যে, সুন্নাহর উৎসগুলোতে হাদিসের সূত্রসমূহ (তুরুক) অনুসন্ধান করা হলো বর্ণনা যুগে সনদসমূহ লেখা ও সংরক্ষণের বিকল্প। আমি এখানে সতর্ক করছি যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য এমন নয় যে এটি সেই উচ্চ মর্যাদার সমতুল্য। সুতরাং যে ব্যক্তি হাদিসের সূত্রগুলো সংগ্রহ করে সে বর্ণনার ক্ষেত্রে সমালোচনা বিশারদ ইমামগণের মতো—না, আল্লাহর কসম—সে তাদের ধারেকাছেও যেতে পারবে না এবং তাদের সমকক্ষও হবে না; এর অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো এই যে, বর্ণনা যুগে হাফেজ ও সমালোচক ইমামগণের উপস্থিতি তাঁদেরকে এমন কিছু বিশেষ মাধ্যম ও উপকরণ দান করেছিল যেগুলোতে পরবর্তীদের পক্ষে তাঁদের সমকক্ষ হওয়া সম্ভব নয়, যেমনটি এই অধ্যায়ের চতুর্থ পরিচ্ছেদে সামনে আসবে।
অন্য একটি কারণ হলো, সুন্নাহর বিষয়ে যা কিছু সংকলিত হয়েছিল তার অনেক কিছুই আমাদের কাছে পৌঁছায়নি; তা সুন্নাহ সংগ্রহের ক্ষেত্রে হোক বা তার সমালোচনার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সমালোচনামূলক ও বর্ণনাগুলোর তুলনামূলক আলোচনার সাথে যা সংশ্লিষ্ট, তার অধিকাংশই হারিয়ে গিয়েছে
(১)। আর সমালোচকগণ কতই না অসংখ্য দিক ও মুআল্লাক সনদ উল্লেখ করেন যা একজন গবেষক অনেক চেষ্টা ও পরিশ্রমের পরেও খুঁজে পান না; এই বইয়ের বিভিন্ন স্থানে এর উদাহরণ সামনে আসবে।
বিদ্যমান উৎসগুলোতে অনুসন্ধান করাই বিকল্প ছিল কারণ এটিই বর্তমানে সম্ভবপর। গবেষক হাদিসের সূত্রগুলো অনুসরণ, সন্ধান ও সংগ্রহের পর—মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করার পর—নির্ভর করেন তাঁদের ওপর যাঁদের জন্য সকল উপকরণ সহজসাধ্য ছিল, আর তাঁরা হলেন সমালোচনা ও হিফজের ইমামগণ। তিনি তাঁদের কাজের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেন এবং নিজের প্রকৃত অবস্থান ও নিজের নাগালে থাকা মাধ্যমগুলোর কথা মাথায় রাখেন। যথাস্থানে আমরা এর ওপর গুরুত্বারোপ করব।
অন্যদিক থেকে, হাদিসের সূত্রসমূহ সংগ্রহ এবং সেগুলোর উৎসগুলোতে নিবিড় অনুসন্ধানের উৎসাহ প্রদান থেকে এমনটি বোঝা উচিত নয় যে, এটি তাখরিজ ও সনদ পর্যালোচনায় দীর্ঘসূত্রতা করার নির্দেশ।
--------------------------------------------