(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أثر عمل المرأة في النفقة الزوجية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أثرُ عَملِ المرأة في النفقة الزوجية
بحث محكم قدم لحلقة البحث التي أقامها مركز التميز البحثي في فقه القضايا المعاصرة بعنوان (نفقة الزوجة في ضوء متغيرات العصر)
المؤلف: أ. د. عبد السلام بن محمد الشويعر
الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 62
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 23 ربيع الآخر 1436
বৈবাহিক ভরণপোষণের ওপর নারীর কর্মসংস্থানের প্রভাব বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: বৈবাহিক ভরণপোষণের ওপর নারীর কর্মসংস্থানের প্রভাব
সমসাময়িক বিষয়াবলির ফিকহ বিষয়ক গবেষণা শ্রেষ্ঠত্ব কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত "যুগের পরিবর্তনের আলোকে স্ত্রীর ভরণপোষণ" শীর্ষক গবেষণা চক্রের জন্য উপস্থাপিত একটি পর্যালোচিত গবেষণা।
লেখক: অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বিন মুহাম্মদ আল-শুওয়াইইর
প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المملكة العربية السعودية
وزارة التعليم العالي
جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
مركز التميز البحثي في فقه القضايا المعاصرة
أثرُ عَملِ المرأة في النفقة الزوجية
بحث محكم قدم لحلقة البحث التي أقامها مركز التميز البحثي في فقه القضايا المعاصرة بعنوان (نفقة الزوجة في ضوء متغيرات العصر)
إعداد
أ. د. عبد السلام بن محمد الشويعر
أستاذ الفقه المقارن
1433 هـ - 2011 م
সৌদি আরব সাম্রাজ্য
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সমসাময়িক বিষয়াবলির ফিকহ (الفقه) বিষয়ক গবেষণায় উৎকর্ষ কেন্দ্র
দাম্পত্য ভরণপোষণের ওপর নারীর কর্মসংস্থানের প্রভাব
সমসাময়িক বিষয়াবলির ফিকহ (الفقه) বিষয়ক গবেষণায় উৎকর্ষ কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত “(যুগের পরিবর্তনের আলোকে স্ত্রীর ভরণপোষণ)” শীর্ষক গবেষণা সেমিনারে উপস্থাপিত একটি নিরীক্ষিত (محكم) গবেষণা প্রবন্ধ
প্রস্তুতিতে
প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মদ আল-শুওয়াইর
তুলনামূলক ফিকহ (الفقه المقارن) শাস্ত্রের অধ্যাপক
১৪৩৩ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
المملكة العربية السعودية
وزارة التعليم العالي
جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
مركز التميز البحثي في فقه القضايا المعاصرة
أثرُ عَملِ المرأة في النفقة الزوجية
بحث محكم قدم لحلقة البحث التي أقامها مركز التميز البحثي في فقه القضايا المعاصرة بعنوان (نفقة الزوجة في ضوء متغيرات العصر)
إعداد
أ. د. عبد السلام بن محمد الشويعر
أستاذ الفقه المقارن
1433 هـ - 2011 م
সৌদি আরব সাম্রাজ্য
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সমসাময়িক বিষয়াবলির ফিকহ বিষয়ক গবেষণার উৎকর্ষ কেন্দ্র
দাম্পত্য ভরণপোষণের ওপর নারীর কর্মসংস্থানের প্রভাব
সমসাময়িক বিষয়াবলির ফিকহ বিষয়ক গবেষণার উৎকর্ষ কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত 'যুগের পরিবর্তনের আলোকে স্ত্রীর ভরণপোষণ' শীর্ষক গবেষণা সেমিনারে উপস্থাপিত একটি পর্যালোচিত (محكم) গবেষণা প্রবন্ধ
প্রস্তুতকরণে
প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মদ আশ-শুওয়াইর
তুলনামূলক ফিকহ (الفقه المقارن) শাস্ত্রের অধ্যাপক
১৪৩৩ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
ح جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية. 1432 هـ
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر
الشويعر، عبد السلام بن محمد
أثر عمل المرأة في النفقة الزوجية./ عبد السلام بن محمد الشويعر- الرياض، 1432 هـ.
64ص؛ 17 × 24 سم،
ردمك: 5 - 039 - 5005 - 603 - 978
1 - المرأة العاملة 2 - حقوق المرأة 3 - النفقة (فقه إسلامي)
أ. العنوان
ديوي 254.3
9556/ 1432
رقم الإيداع: 9556/ 1432
ردمك: 5 - 039 - 5005 - 603 - 978
© ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৪৩২ হিজরি
প্রকাশনা চলাকালীন কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরির গ্রন্থতালিকা ভুক্তি
আল-শুওয়াইর, আবদুস সালাম বিন মুহাম্মদ
দাম্পত্য ভরণপোষণের ওপর নারীর কর্মসংস্থানের প্রভাব। / আবদুস সালাম বিন মুহাম্মদ আল-শুওয়াইর - রিয়াদ, ১৪৩২ হিজরি।
৬৪ পৃষ্ঠা; ১৭ × ২৪ সেমি,
আইএসবিএন: ৫ - ০৩৯ - ৫০০৫ - ৬০৩ - ৯৭৮
১ - কর্মজীবী নারী ২ - নারীর অধিকার ৩ - ভরণপোষণ (ইসলামি ফিকহ)
ক. শিরোনাম
ডিউই ২৫৪.৩
৯৫৫৬/ ১৪৩২
ডিপোজিট নম্বর: ৯৫৫৬/ ১৪৩২
আইএসবিএন: ৫ - ০৩৯ - ৫০০৫ - ৬০৩ - ৯৭৮
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الطبعة الأولى
1432 هـ
حقوق الطبع محفوظة
প্রথম সংস্করণ
১৪৩২ হিজরি
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديمالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله أما بعد:
فقد دأب مركز التميّز البحثي في فقه القضايا المعاصرة على عقْدِ حلَقات بحثية متخصصة في بعض الموضوعات المعاصرة، ومن تلك الحلقاتِ حلقةُ البحث التي عقدها المركز في 8/ 6 /1432 هـ تحت عنوان "نفقة الزوجة في ضوء متغيرات العصر" وقد شارك فيها عدد من الأساتذة المتخصصين ببحوث تمت مناقشتها.
وكان من بين البحوث القيّمة التي قُدّمت في الحلقة بحث "أثر عمل المرأة في النفقة الزوجية" للأستاذ الدكتور / عبد السلام بن محمد الشويعر، وقد حظي باهتمام الأساتذة الحاضرين، ودارت حوله كثير من المناقشات، وقام المركز بتحكيمه فجاءت تقارير المحكَّمين مؤيدة ومشجعة على نشره، وها هو نقدمه للقراء الكرام. آملين أن يجدوا فيه ما يكشف غموض المسائل التي تناولها ويجلّيها، وأن ينفع الله به، ويجزل المثوبة للباحث ولكل من سعى في نشره.
والحمد لله أولًا وآخرًا ، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
لجنة البحوث والنشر
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:
সমসাময়িক বিষয়াবলির ফিকহ বিষয়ক গবেষণা উৎকর্ষ কেন্দ্র সমসাময়িক কিছু বিষয়ের ওপর বিশেষায়িত গবেষণা সেমিনার আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্র কর্তৃক ০৮/০৬/১৪৩২ হিজরি তারিখে "সমকালীন পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে স্ত্রীর ভরণপোষণ" শিরোনামে একটি গবেষণা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকবৃন্দ তাঁদের গবেষণাপত্রসহ অংশগ্রহণ করেন এবং বিষয়গুলোর ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উক্ত সেমিনারে উপস্থাপিত মূল্যবান গবেষণা প্রবন্ধগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মদ আল-শুওয়াই’ইরের "বৈবাহিক ভরণপোষণের ওপর নারীর কর্মসংস্থানের প্রভাব" শীর্ষক গবেষণাটি। এটি উপস্থিত অধ্যাপকবৃন্দের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয় এবং এটি কেন্দ্রিক অনেক আলোচনা-পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্র প্রবন্ধটি পর্যালোচনার ব্যবস্থা করলে পর্যালোচকগণের প্রতিবেদনসমূহ এর প্রকাশের পক্ষে সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান করে। আর এখন আমরা তা সুধী পাঠকদের সামনে পেশ করছি। আমরা আশা করি, তারা এতে এমন কিছু খুঁজে পাবেন যা প্রবন্ধটিতে আলোচিত বিষয়াবলির অস্পষ্টতা দূর করবে ও তা সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলবে। আল্লাহ যেন এই কাজকে ফলপ্রসূ করেন এবং গবেষক ও এই প্রবন্ধ প্রকাশের ক্ষেত্রে যারা প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।
আদ্যন্ত সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমাদের নবি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাহাবির ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
গবেষণা ও প্রকাশনা কমিটি
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمةالحمدُ لله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم. أما بعد:
فهذا بحث يتناول (أثر عمل المرأة في النفقة الزوجية).
وهذه المسألة مِن المسائل الفقهية التي لم يتطرّق لها جُلّ فقهائنا المتقدمين، ويدلّ على ذلك تسميتها عند الفقهاء الذين تكلموا عنها -وهم مِن فقهاء القرن السابع الهجري- بـ (الواقعة) (1) أي النازلة التي حدث السؤال عنها، ممَّا يَدُلُّ على قلَّة تناولها في كتابات المتقدمين.
ولعلَّ السَّبب في عدمِ تعرّضهم لهذه المسألة -مع كثرة اهتمام المعاصرين بها- هو اختلاف طبيعة العمل في الأزمنة المتقدِّمة، مقارنةً بالأزمنة المتأخرة، إضافةً لتغيّر المعايير الاجتماعية الحاكمة للعمل وطبيعته، والظروفِ الاقتصاديّة والتنظيمية التي اختلفت عن ذي قبل حتى غدا عمل المرأة حقًّا لها تكفلُهُ الأنظمة الحقوقيّة في العالَم، في حين كان العرفُ عند الأوائل أن عمل المرأةِ مِن باب التكليف والمشقّة عليها، ولذا فإنهم قرروا أنه لا يلزم الزوجة العمل إذا أمرها زوجُها; لأن هذا من باب التكسب لا مِن باب العشرة (2).
--------------------------------------------
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:
এটি একটি গবেষণা যা 'দাম্পত্য খোরপোশের ক্ষেত্রে নারীর কর্মসংস্থানের প্রভাব' নিয়ে আলোচনা করে।
এই বিষয়টি এমন একটি ফিকহি মাসআলা যার আলোচনা আমাদের পূর্বসূরি (متقدمين) ফকিহদের অধিকাংশের লেখায় আসেনি। এর প্রমাণ হলো, হিজরি সপ্তম শতাব্দীর যে সকল ফকিহ এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা এটিকে 'সমসাময়িক ঘটনা (واقعة)' (১) তথা এমন এক 'উদ্ভূত সমস্যা (نازلة)' হিসেবে অভিহিত করেছেন যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, পূর্বসূরিদের লেখায় এই প্রসঙ্গের আলোচনা অত্যন্ত নগণ্য ছিল।
সম্ভবত পূর্বসূরিদের এই মাসআলার অবতারণা না করার কারণ হলো—বর্তমানে সমসাময়িকদের নিকট এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও—অতীতের কর্মসংস্থানের প্রকৃতি বর্তমানকালের তুলনায় ভিন্ন ছিল। এর পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও এর প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণকারী সামাজিক মানদণ্ড এবং অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও এর একটি কারণ, যা পূর্বের তুলনায় এখন অনেক ভিন্ন। এমনকি বর্তমানে নারীর কর্মসংস্থান একটি অধিকারে পরিণত হয়েছে যা বিশ্বের আইনি ব্যবস্থাসমূহ নিশ্চিত করে। অন্যদিকে পূর্ববর্তীদের নিকট প্রথাগত রীতি ছিল যে, নারীর কাজ করা একটি কষ্টকর দায়িত্ব ও শ্রমের বিষয়। এই কারণেই তারা সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যে, স্বামী আদেশ দিলেও স্ত্রীর জন্য কাজ করা আবশ্যক নয়; কারণ এটি উপার্জনমূলক কাজ, দাম্পত্য 'সহাবস্থানের (عشرة)' (২) অন্তর্ভুক্ত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وفي المقابل نجد أن المعاصرين الذين كتبوا في المائة سنة الأخيرة عن هذا الموضوع قد أطالوا في الحديث عنه (1) ، وإن كان الغالبُ على مَن كتب في هذا الموضوع النقلَ عن المتقدّم وتكرارَ ما ذكرَه، حتى رأى بعضهم أن هذا الرأي المتكررَ في كتبهم إجماعٌ، وأن الخروج عليه إنما هو جائزٌ استثناءً مِن باب السياسة الشرعيّة (2).
وسأتناول هذا الموضوع من جانبٍ آخرَ مغايرٍ لجميع مَن كتب فيه، إذ سأتناول المسائل التي يُخرّج عليها الحُكم مما نصّ عليه الفقهاء، ومِن ثمّ مناقشةُ المناط الذي تُخرّج عليه المسألة.
ثم أُتبع ذلك بالآراءِ في هذه المسألة، مع الترجيح بينها.
ثم أختم بذكر الشروط التي تُستفاد من نصوص الفقهاء وأصولهم، مع التوسع في تحقيق مناط بعض الشروط بما يناسب الحال.
وقد جعلت هذه الدراسة في ثلاثة مباحث، على النحو التالي:
1. المبحث الأول: علة إسقاط النفقة عند الفقهاء (ما تُخرّج عليه المسألة)
وفيه مطلبان:
1. 1. نفقة المرأة الناشز.
1. 2. تشطير النفقة بتبعّض النشوز.
2. المبحث الثاني: آراءُ الفقهاء في إسقاط نفقة الزوجية بعمل المرأة
3. المبحث الثالث: نطاق رأي الفقهاء في هذه المسألة
--------------------------------------------
বিপরীতে আমরা দেখতে পাই যে, সমসাময়িক যারা গত একশ বছরে এই বিষয়ে লিখেছেন তারা এ সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন (১), যদিও এই বিষয়ে যারা লিখেছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশের বৈশিষ্ট্য হলো পূর্ববর্তীদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান এবং তাদের উল্লিখিত কথার পুনরাবৃত্তি করা। এমনকি তাদের কেউ কেউ মনে করেছেন যে, তাদের বইগুলোতে এই বারবার উল্লিখিত মতটিই হলো সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع), এবং এর থেকে বিচ্যুত হওয়া কেবল শরয়ী নীতিমালার (السياسة الشرعية) আলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে বৈধ (২)।
আর আমি এই বিষয়টি যারা এতে লিখেছেন তাদের সকলের চেয়ে ভিন্ন এক দিক থেকে আলোচনা করব। যেহেতু আমি সেই মাসআলাগুলো নিয়ে আলোচনা করব যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে ফকিহগণ হুকুম বের করেছেন এবং এরপর যে ভিত্তি (مناط)-এর ওপর মাসআলাটি উদ্ভাবিত হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করব।
তারপর আমি এই মাসআলার বিভিন্ন মতামত তুলে ধরব এবং সেগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদান করব।
অতঃপর আমি ফকিহগণের বক্তব্য ও মূলনীতিসমূহ থেকে প্রাপ্ত শর্তাবলি উল্লেখ করে সমাপ্তি টানব এবং পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কিছু শর্তের ভিত্তি যাচাই (تحقيق مناط) করার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করব।
আমি এই গবেষণাকে নিম্নোক্তভাবে তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:
1. প্রথম পরিচ্ছেদ: ফকিহগণের নিকট ভরণপোষণ বাতিল হওয়ার কারণ (علة) (যে বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মাসআলাটি উদ্ভাবিত)
এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
1. ১. অবাধ্য (ناشز) নারীর ভরণপোষণ।
1. ২. অবাধ্যতার আংশিকতার কারণে ভরণপোষণ বিভক্ত করা।
2. দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নারীর কর্মসংস্থানের কারণে দাম্পত্য ভরণপোষণ বাতিল হওয়ার ব্যাপারে ফকিহগণের মতামত
3. তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় ফকিহগণের মতামতের পরিধি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وفيه ثلاثة مطالب:
3. 1. الشروط التي يلزم توفرها للحُكم بتشطير نفقة المرأة العاملة.
3. 2. مسقطات النفقة على المرأة العاملة بالكُلية.
3. 3. الأسباب التي تُوجب النفقة كاملةً للمرأة العاملة.
أسأل الله أن يخلص لنا النيّة، ويرشدنا للصواب، وأن ينفع بهذا العمل كاتبه وقارئه ..
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
3. 1. কর্মজীবী নারীর ভরণপোষণ দ্বিখণ্ডিত করার বিধান প্রদানের জন্য যেসব শর্তাবলি পূরণ হওয়া আবশ্যক।
3. 2. কর্মজীবী নারীর ভরণপোষণ সম্পূর্ণরূপে রহিত হওয়ার কারণসমূহ।
3. 3. যেসব কারণে কর্মজীবী নারীর জন্য পূর্ণ ভরণপোষণ প্রদান করা আবশ্যক হয়।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের নিয়তকে বিশুদ্ধ করেন, আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং এই রচনার মাধ্যমে এর লেখক ও পাঠক উভয়কে উপকৃত করেন ..
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الأول علة إسقاط النفقة عند الفقهاء
تمهيد:الأصلُ عند الفقهاء أن علّة وجوب النفقة الزوجيّة هو المقابلة بينَ ما تبذله المرأةُ مما وَجَبَ عَليها مِن آثار عقد النكاح (1) ، وبين ما يجب على الرّجلِ مِن الحقوق الزوجيّة، والأصل في ذلك قول الله تعالى: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} (2).
فكما يجب على الزوج حقوقٌ -أحدها النفقة-، فإن المرأة تجبُ عليها حقوقٌ كذلك. بخلاف النفقة على الأبناءِ والقرابات فإنها تجب بناءً على الصّفة فلذا فإنها لا تنقطع إلا بالكفاية، بخلاف النفقة الزوجيّة فإنها تنقطع بعدد من الموانع.
فإذا أخلّ أحدُ الزوجين بمَا عليه مِن التزامٍ بالعقد مِن غير عذرٍ جاز للآخر الامتناع مِن أداء ما وجب عليه في مقابله، وهذا مطّردٌ في سائر الحقوق الزوجيّة المتنوعة.
ولذا تطرق الفقهاء لمسألة مَا يُقابل النفقةَ الواجبةَ على الزوج، مِن الحق الواجب على الزوجة; لإظهار المقابلة بينهما فإذا أخلّ أحد الزوجين بحقّ صاحبه
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফকিহগণের নিকট ভরণপোষণ বাতিলের কারণ (علة)
উপক্রমণিকা:ফকিহগণের নিকট মূলনীতি হলো, বৈবাহিক ভরণপোষণ ওয়াজিব হওয়ার কারণ (علة) হলো বিবাহ চুক্তির আসর বা প্রভাব স্বরূপ স্ত্রীর ওপর যা ওয়াজিব হয়েছে তার এবং স্বামীর ওপর অর্পিত বৈবাহিক অধিকারসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক বিনিময়। এ বিষয়ে মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর নারীদেরও তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে, যেমন তাদের ওপর পুরুষদের অধিকার রয়েছে} (২)।
সুতরাং স্বামীর ওপর যেমন কিছু অধিকার ওয়াজিব—যার একটি হলো ভরণপোষণ—তেমনি স্ত্রীর ওপরও অধিকারসমূহ ওয়াজিব রয়েছে। সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের ভরণপোষণের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম; কেননা তা বিশেষ গুণের ভিত্তিতে ওয়াজিব হয়, ফলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তা বন্ধ হয় না। পক্ষান্তরে বৈবাহিক ভরণপোষণ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে বন্ধ হয়ে যায়।
যদি স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজন সঙ্গত কারণ ছাড়া চুক্তিবদ্ধ কোনো দায়বদ্ধতা পালনে ত্রুটি করেন, তবে অপর পক্ষের জন্য তার বিনিময়ে ওয়াজিব হওয়া অধিকার আদায় থেকে বিরত থাকা বৈধ। আর এটি বিবিধ বৈবাহিক অধিকারের ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম।
এ কারণেই ফকিহগণ স্ত্রীর ওপর ওয়াজিব হওয়া অধিকারের বিপরীতে স্বামীর ওপর যে ভরণপোষণ ওয়াজিব হয় সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন; যাতে উভয়ের মধ্যকার পারস্পরিক বিনিময়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এমতাবস্থায় যদি স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজন অপরজনের অধিকার পালনে ত্রুটি করেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
عليه جاز للآخر منعه مِن الحق الذي يُقابله.
*
موجِب النفقة عند الفقهاء:موجِب النفقة هو ما يَلزَم عندَ تحققِه إيجابُ النفقة على الزوج. فإذا انتفى
الموجبُ كان ذلك علّةَ إسقاط النفقة.
وللفقهاء مسلكان في بيان موجِب النفقة:
1: فمِنهم مَن يَرَى أن النفقةَ واجبةٌ بالعَقد فقط، وأنها ليست في مقابل منفعةٍ تبذلُها المرأة. وهو قولٌ عند الحنفيّة (1) ، وأحد قولي الشافعية (2) ، وقولٌ عند المالكية (3)، وإحدى الروايتين عن أحمد (4) ، ورأي الظاهرية (5).
وعلّة ذلك عندَهم أن العقد سببُ الوجوب فيرتب الحُكمُ عليه، وما زاد على ذلك إنما هو أثرٌ مِن آثار العقد ولا يلزم من تخلفه سقوطُ باقي الآثار ومنها النفقة.
2: ومِن الفقهاء مَن يَرَى أن النفقة واجبةٌ للمرأة في مُقابل أمرٍ زائدٍ على العقد - وهذا هو رأي جمهور الفقهاء (6) -، إذ العقدُ وحدَه لا يُوجِبُ النَّفقَةَ، بل هو مُوجبٌ للمهر.
--------------------------------------------
এর ভিত্তিতে অন্যের জন্য তার বিপরীতে প্রাপ্য অধিকার থেকে তাকে বিরত রাখা বৈধ।
*
ফকিহগণের নিকট ভরণপোষণের কারণ (موجب):ভরণপোষণের কারণ (موجب) হলো এমন কিছু যা সাব্যস্ত হলে স্বামীর ওপর ভরণপোষণ প্রদান অবশ্যপালনীয় (واجب) হয়। সুতরাং যদি এই কারণটি অনুপস্থিত থাকে, তবে তা ভরণপোষণ বাতিলের কারণ হিসেবে গণ্য হবে।
ভরণপোষণের কারণ বর্ণনায় ফকিহগণের দুটি পন্থা রয়েছে:
১: তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, ভরণপোষণ কেবল বিবাহের চুক্তির মাধ্যমেই অবশ্যপালনীয় (واجب) হয়ে যায় এবং এটি নারী কর্তৃক প্রদত্ত কোনো উপকারের বিনিময়ে নয়। এটি হানাফি মাযহাবের একটি মত (১), শাফেয়ি মাযহাবের দুটি মতের একটি (২), মালেকি মাযহাবের একটি মত (৩), আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি (৪) এবং জাহেরি মাযহাবের অভিমত (৫)।
তাদের নিকট এর কারণ হলো, বিবাহ বন্ধনই হলো ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার মূল কারণ, ফলে এর ওপর ভিত্তি করেই বিধান নির্ধারিত হয়। এর অতিরিক্ত যা কিছু রয়েছে তা কেবল চুক্তিরই অন্যতম প্রভাব এবং সেই প্রভাবের কোনো একটির অনুপস্থিতি অন্য প্রভাবগুলো—যার মধ্যে ভরণপোষণও অন্তর্ভুক্ত—বাতিল হওয়া আবশ্যক করে না।
২: আবার ফকিহগণের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, স্ত্রীর জন্য ভরণপোষণ অবশ্যপালনীয় (واجب) হওয়া চুক্তির অতিরিক্ত একটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল—আর এটিই সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) ফকিহগণের অভিমত (৬)—কেননা শুধু বিবাহ বন্ধন ভরণপোষণ সাব্যস্ত করে না, বরং এটি মোহর সাব্যস্ত করার কারণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فلا بُدّ مِن أثرٍ مِن آثار العقد يكون في مقابل أثر النفقة. واختُلف في تحديد هذا الأمر:
أ/ فقيل: إن النفقة في مُقابل الاحتباس فقط، وهو قول الحنفيّة (1).
ب/ وقيل: إنها في مقابل التمكين (2). وهو قولٌ عند المالكية (3) ، ومذهب الشافعية (4).
ج/ وقيل: بل بمجموع الأمرين; التمكين والاحتباس معًا. وهو قول عند المالكية (5) ، ومذهب الحنابلة (6) ويُعبّرون عنه بـ (التمكين التام) ، وهذا القول هو الأقرب -والله أعلم-.
وبناءً على ذلك فإن الإخلال بهذا الموجِب يُعدُّ مُسقِطًا للنفقة، ويُسمّى
--------------------------------------------
সুতরাং বিবাহের চুক্তির একটি ফলাফল থাকা আবশ্যক যা ভরণপোষণের বিনিময়ে সাব্যস্ত হবে। আর এ বিষয়টি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে:
ক/ কেউ কেউ বলেছেন: ভরণপোষণ কেবল অবরুদ্ধ থাকার (الاحتبাস) বিনিময়ে সাব্যস্ত হয়; আর এটি হানাফিদের অভিমত (১)।
খ/ আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি আনুগত্য ও সুযোগ প্রদানের (التمكين) বিনিময়ে সাব্যস্ত হয় (২)। এটি মালিকি মাযহাবের একটি অভিমত (৩) এবং শাফেয়ি মাযহাবের সিদ্ধান্ত (৪)।
গ/ অন্যমতে: বরং উভয় বিষয়ের সমষ্টির বিনিময়ে; অর্থাৎ আনুগত্য ও সুযোগ প্রদান (التمكين) এবং অবরুদ্ধ থাকা (الاحتباس) উভয়টির কারণে। এটি মালিকিদের একটি অভিমত (৫) এবং হাম্বলিদের মাযহাব (৬)। তারা এটিকে 'পূর্ণাঙ্গ সুযোগ প্রদান' (التمكين التام) হিসেবে ব্যক্ত করেন। আর এই অভিমতটিই অধিকতর সঠিক -আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন-।
এর ওপর ভিত্তি করে, এই আবশ্যকীয় বিষয়ে ব্যত্যয় ঘটলে তা ভরণপোষণ বাতিলকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং একে বলা হয়—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
"نشُوزًا"، فإذا نشزت المرأةُ بتركها التمكين أو الاحتباس سقطت نفقتها. وهذا التقريرٌ واضحٌ تفريعًا على الرأي الثاني.
وأمّا أصحابُ القول الأول (وهم القائلون بأن موجِب النفقة هو العقد) فإنّ منهم مَن يَرَى أن النشوز لا يكون مُسقِطًا للنفقة -وهم الظاهرية-; لتحقق الموجِب (1).
وأمّا مَن عدا الظاهرية فيرون أن العقد موجِبٌ للنفقة، وأن النشوز مُسقِط لها (2).
أو يقولون: إن وجوب النفقةِ مشروطٌ بعدم النشوز (3). وعلى ذلك فإنهم يوافقون أصحاب الرأي الثاني في كون النشوزِ علّةَ إسقاط النفقة، ويَرون أن إخلال المرأة بهذا الأمر (وهو التمكين، أو الاحتباس) وتقصيرَها في أدائِه يُعدُّ نشوزًا (4).
وَبذا يَتبيّن أن علّة إسقاط النفقة عند الفقهاء هي (النشوز) وهذا معنى قولِهم: إن نفقة المرأة لا تسقط عن زوجها بشيءٍ غير النشوز (5).
--------------------------------------------
"অবাধ্যতা (نشوز)", সুতরাং যদি স্ত্রী সহবাসে সক্ষমতা প্রদান (تمكين) না করে অথবা স্বামীর জন্য নিজেকে সান্নিধ্যে (احتباس) না রেখে অবাধ্যতা (نشوز) প্রদর্শন করে, তবে তার খোরপোশ বাতিল হয়ে যাবে। এই বর্ণনাটি দ্বিতীয় মতের শাখা হিসেবে অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
আর প্রথম মতাবলম্বীদের (যারা মনে করেন খোরপোশ ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো বিবাহ চুক্তি) ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যারা মনে করেন অবাধ্যতা (نشوز) খোরপোশ বাতিলকারী নয়—তারা হলেন যাহেরি মাজহাবের অনুসারী; কারণ খোরপোশ ওয়াজিব হওয়ার কারণটি বিদ্যমান রয়েছে (১)।
আর যাহেরিগণ ব্যতীত অন্যান্য ফকিহগণ মনে করেন যে, বিবাহ চুক্তি খোরপোশ ওয়াজিবকারী এবং অবাধ্যতা (نشوز) তা বাতিলকারী (২)।
অথবা তারা বলেন: খোরপোশ ওয়াজিব হওয়া অবাধ্যতা (نشوز) না হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত (৩)। সেই অনুযায়ী, তারা অবাধ্যতা (نشوز) খোরপোশ বাতিলের কারণ হওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মতাবলম্বীদের সাথে একমত পোষণ করেন। তারা মনে করেন যে, স্ত্রী কর্তৃক এই বিষয়ে (অর্থাৎ সহবাসে সক্ষমতা প্রদান (تمكين) বা স্বামীর সান্নিধ্যে থাকা (احتبাস)) ব্যাঘাত ঘটানো এবং তা পালনে অবহেলা করাকে অবাধ্যতা (نشوز) হিসেবে গণ্য করা হবে (৪)।
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, ফকিহগণের নিকট খোরপোশ বাতিলের কারণ হলো 'অবাধ্যতা (نشوز)'। আর তাদের এই কথার অর্থ এটাই যে: অবাধ্যতা (نشوز) ছাড়া অন্য কোনো কারণে স্ত্রীর খোরপোশ স্বামীর ওপর থেকে রহিত হয় না (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
*
علاقة عمل المرأة بمسألة النشوز:نشوز المرأة وكونه مسقطًا للنفقة هي المسألة التي يُخرّج عليها عمل المرأة. إذ لا يُسقط النفقة شيءٌ غير النشوز (1).
والفقهاء عند تعديدهم لصور النشوز التي تُسقط النفقة نصُّوا على أن مِن صورِه: انتقال (2) المرأة مِن منزل الزوج، أو سفرها بدون إذنه أو بدون حاجة (3).
فنزّلوا على هذا التصرّف أحكام النشوز، ومنه سقوط النفقة.
ومن نصوصهم في ذلك:
- قال الحدادي (ت 800 هـ) من الحنفية: (النشوز: خروجها من بيته بغير إذنه بغير حق) (4).
- وقال ابن الحاجب (ت 646 هـ) من المالكيّة: (تسقط النفقة بالنشوز وهو منع الوطء أو الاستمتاع والخروج بغير إذنه) (5).
- وقال الغزالي (ت 505 هـ) من الشافعية: (لو خرجت بغير إذنه فهي ناشزة ولو
--------------------------------------------
অবাধ্যতার (نشوز) বিষয়ের সাথে নারীর কর্মসংস্থানের সম্পর্ক:নারীর অবাধ্যতা (نشوز) এবং এর ফলে ভরণপোষণ (نفقة) রহিত হওয়া হলো সেই বিষয় যার ওপর ভিত্তি করে নারীর কর্মসংস্থানের বিধান নিরূপণ করা হয়। কেননা অবাধ্যতা (نشوز) ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই ভরণপোষণ (نفقة) রহিত করে না (১)।
ফকিহগণ ভরণপোষণ (نفقة) রহিতকারী অবাধ্যতার (نشوز) বিভিন্ন ধরণ বর্ণনা করতে গিয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এর অন্যতম ধরণ হলো: নারীর স্বামীর ঘর থেকে স্থানান্তর (انتقال) (২) হওয়া, অথবা তার অনুমতি ব্যতীত কিংবা প্রয়োজন ব্যতীত সফর করা (৩)।
তারা এই আচরণের ওপর অবাধ্যতার (نشوز) বিধানাবলী প্রয়োগ করেছেন, যার একটি হলো ভরণপোষণ (نفقة) রহিত হওয়া।
এ বিষয়ে তাদের কতিপয় উদ্ধৃতি (نصوص):
- হানাফি মাজহাবের আল-হাদ্দাদি (মৃত্যু ৮০০ হিজরি) বলেছেন: (অবাধ্যতা (نشوز) হলো: কোনো যথার্থ কারণ ছাড়া স্বামীর অনুমতি ব্যতীত তার ঘর থেকে বের হওয়া) (৪)।
- মালিকি মাজহাবের ইবনুল হাজিব (মৃত্যু ৬৪৬ হিজরি) বলেছেন: (অবাধ্যতার (نشوز) কারণে ভরণপোষণ (نفقة) রহিত হয়; আর তা হলো সহবাস বা সম্ভোগে বাধা দেওয়া এবং তার অনুমতি ব্যতীত বের হওয়া) (৫)।
- শাফেয়ি মাজহাবের আল-গাযালি (মৃত্যু ৫০৫ হিজরি) বলেছেন: (যদি সে তার অনুমতি ব্যতীত বের হয় তবে সে অবাধ্য (ناشزة) বলে গণ্য হবে, যদিও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خرجت في حاجته بإذنه فلا) (1).
- وقال الحجّاوي (ت 968 هـ) من الحنابلة: (مَن امتنعت من فراشه أو الانتقال معه إلى مسكن مثلها أو خرجت أو سافرت أو انتقلت من منزله بغير إذنه .. فهي ناشز) (2).
ومن الفقهاء مَن تلطّف في اللفظ وعبّر بأن هذا الفعل شَبيهٌ بالنشوز (3). والمؤدّى واحد.
وعندما نبحث في نفقة المرأة العاملة نجدُ أن المناطَ الفقهيَّ لهذه المسألة إنما هو في خروجها من بيت الزوجيّة بدون إذن -باتفاقٍ-، وليس المناط هو في ذات العمل أو طبيعته.
وعلى ذلك فإن المرأة العاملة تكون قد أخلّت بالتزام عقد الزوجيّة وهو (التمكين التام). فيكون خروجُها مِن بيتها مِن غير إذن زوجها ملحقًا بالصور التي ذكرها الفقهاء للنشوز; كما سبق.
وقبل التطرق لمسألة (أثر عمل المرأة على النفقة الزوجية) ، فإنه لا بُدّ من التعرض لمسألتين فقهيتين مهمتين تُبنى عليهما هذه المسألة، وهما:
المسألة الأولى: نفقة النَّاشِز.
والمسألة الثانية: تبعيض النشوز.
والتنزيل على هَاتين المسألتين متوالٍ، إذ لا يتصوّر التخريج على المسألة الثانية إلا عندَ أخذ أحد الرأيين في الأولى; كما سيظهر.
--------------------------------------------
(যদি সে তার প্রয়োজনে তার অনুমতি নিয়ে বের হয় তবে না) (১)।
- হাম্বলি মাজহাবের আল-হাজ্জাবি (মৃত্যু ৯৬৮ হিজরি) বলেন: (যে নারী তার শয্যা পরিহার করে অথবা তার সমপর্যায়ের কোনো বাসস্থানে তার সাথে স্থানান্তরিত হতে অস্বীকার করে অথবা অনুমতি ব্যতিরেকে ঘর থেকে বের হয় কিংবা সফর করে অথবা স্বামীর ঘর থেকে অন্য কোথাও চলে যায়... তবে সে অবাধ্য (ناشز)) (২)।
ফকিহগণের মধ্যে কেউ কেউ এই শব্দের ক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রদর্শন করেছেন এবং ব্যক্ত করেছেন যে, এই কাজটি অবাধ্যতার (النشوز) সদৃশ (৩)। আর এর ফলাফল বা মর্ম একই।
যখন আমরা কর্মজীবী নারীর খোরপোশ (نفقة) নিয়ে আলোচনা করি, তখন আমরা দেখতে পাই যে, এই মাসআলার ফিকহি ভিত্তি (المناط الفقهي) হলো সর্বসম্মতিক্রমে অনুমতি ব্যতিরেকে বৈবাহিক গৃহ থেকে তার বের হওয়া; কাজের সত্তা বা এর প্রকৃতি এখানে মূল ভিত্তি নয়।
এর ভিত্তিতে, কর্মজীবী নারী বিয়ের চুক্তির (عقد الزوجية) একটি দায়বদ্ধতা ভঙ্গ করেছেন, আর তা হলো (পূর্ণ সুযোগ প্রদান বা আল-তামকিন আল-তাম - التمكين التام)। ফলে স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে তার ঘর থেকে বের হওয়াকে ফকিহগণ অবাধ্যতার (النشوز) যে রূপগুলো বর্ণনা করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হবে; যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে।
কর্মজীবী নারীর কাজের প্রভাব বৈবাহিক খোরপোশের ওপর কী হবে সে বিষয়ে আলোচনার পূর্বে, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি মাসআলা আলোচনা করা প্রয়োজন যেগুলোর ওপর এই মাসআলাটি ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, সেগুলো হলো:
প্রথম মাসআলা: অবাধ্য (ناشز) নারীর খোরপোশ (نفقة)।
দ্বিতীয় মাসআলা: অবাধ্যতার (النشوز) বিভাজন।
এই দুটি মাসআলার প্রয়োগ পর্যায়ক্রমিক, যেহেতু প্রথম মাসআলার যে কোনো একটি মত গ্রহণ করা ছাড়া দ্বিতীয় মাসআলা থেকে সমাধান বের করা (التخريج) সম্ভব নয়; যেমনটি সামনে প্রকাশ পাবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وبمعرفة الخلاف في هاتين المسألتين يمكننا معرفةَ الآراء الفقهيّة المنصوصِ عليها والمخرّجة في مسألة نفقة المرأة العاملة، والتي سأذكرها في المطلبين التاليين إن شاءَ اللهُ تعالى.
এই দুটি বিষয়ের মতভেদ জানার মাধ্যমে আমরা কর্মজীবী নারীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্টভাবে বর্ণিত এবং উদ্ভাবিত ফিকহি অভিমতগুলো জানতে পারব, যা আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তী দুটি পরিচ্ছেদে উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
1. 1. نفقة المرأة الناشز(النشوز) هو: (معصية المرأة زوجَها فيما يجب له عليها من حقوق النكاح) (1).
وهذا الحدُّ يَشمَلُ سائر أسباب النشوز وصورِه. وقد توسّع الفقهاء في ذكر هذه الصور في موضعها من كتب الفقه.
*
الاختلاف الفقهي في المسألة:اختلف الفقهاء في لزوم نفقة المرأة حالَ نشوزها وامتناعها مِن أداء الحقِّ الواجب عليها بالنكاح على قولين:
القول الأول: أن المرأة إذا نشزت فإنه لا نفقةَ لها، وهو قولُ جمهور الفقهاء (2).
وحُكِي إجماعًا (3) وفيه نظر ظاهرٌ بالقول الثاني.
القول الثاني: أن النشوز لا يُسقط النفقة، بل تجب لها النفقة، وبه قال بعضُ
--------------------------------------------
১. ১. অবাধ্য (نشوز) স্ত্রীর ভরণপোষণ(অবাধ্যতা/نشوز) হলো: (বৈবাহিক অধিকারের মধ্যে যা স্বামীর জন্য আবশ্যক তা আদায়ে স্ত্রীর অবাধ্য হওয়া) (১)।
এই সংজ্ঞাটি অবাধ্যতার (نشوز) যাবতীয় কারণ ও ধরণকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফকিহগণ ফিকহশাস্ত্রের কিতাবসমূহে সংশ্লিষ্ট স্থানে এই ধরণগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
*
বিষয়টি নিয়ে ফিকহি মতভেদ:স্ত্রী অবাধ্য (نشوز) থাকাকালীন এবং বিবাহের মাধ্যমে তার ওপর অর্পিত আবশ্যক অধিকারসমূহ আদায়ে বিরত থাকলে তার ভরণপোষণ কি আবশ্যক হবে? এ বিষয়ে ফকিহদের মাঝে দুটি মত রয়েছে:
প্রথম মত: স্ত্রী যদি অবাধ্য (نشوز) হয়, তবে তার জন্য কোনো ভরণপোষণ নেই। এটিই জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ ফকিহর মত (২)।
এ বিষয়ে ইজমা (إجماع) বর্ণনা করা হয়েছে (৩), তবে দ্বিতীয় মতটির উপস্থিতিতে এতে স্পষ্টত সংশয় রয়েছে।
দ্বিতীয় মত: অবাধ্যতা (نشوز) ভরণপোষণকে রহিত করে না, বরং তার ভরণপোষণ ওয়াজিব হিসেবে বাকি থাকে। এটি কোনো কোনো আলিমের মত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفقهاء; كالحَكم بن عُتيبة (ت 115 هـ) (1) ، وابنِ حزم (ت 456 هـ) (2) ، وهو قولٌ عند المالكية (3).
وقد يُبنَى الخلاف في هذه المسألة على مسألة النفقةِ هل تجبُ بالعقدِ، أم بالتمكين -كما سبق-.
ولعلّ قولَ الجمهور هو الأقربُ بناءً على أن النفقةَ لا تجب دُفعةً واحدةً، وإنما تجب كُلّ يومٍ على حِدَةٍ بلا خلاف (4) ، مما يدلّ على أنها متعلقةٌ بكلٍ يومٍ على استقلاله فيما يُقابله مِن التمكين ونحوه (5).
وقول الجمهور هذا هو ما سَنسير عليه في هذا البحث وسيكون عليه التفريع.
--------------------------------------------
ফকিহগণ (الفقهاء); যেমন আল-হাকাম বিন উতাইবাহ (মৃ. ১১৫ হি.) (১), এবং ইবন হাজম (মৃ. ৪৫৬ হি.) (২), আর এটি মালেকী মাজহাবের একটি অভিমত (৩)।
এই মাসআলায় মতপার্থক্যটি (الخلاف) এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হতে পারে যে, ভরণপোষণ (النفقة) কি কেবল বিবাহের চুক্তির (العقد) মাধ্যমে ওয়াজিব (تجب) হয়, নাকি দাম্পত্য অধিকারে আত্মসমর্পণের (التمكين) মাধ্যমে—যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
সম্ভবত সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকিহদের (الجمهور) মতটিই দলিলগতভাবে অধিকতর নিকটতর (الأقرب)। এর ভিত্তি হলো, কোনো মতভেদ ছাড়াই (بلا خلاف) ভরণপোষণ এককালীন ওয়াজিব (تجب) হয় না, বরং তা প্রতিদিন পৃথক পৃথকভাবে ওয়াজিব (تجب) হয় (৪); যা নির্দেশ করে যে, তা প্রতিদিনের স্বতন্ত্র দাম্পত্য আত্মসমর্পণ (التمكين) বা অনুরূপ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট (৫)।
সংখ্যাগরিষ্ঠের (الجمهور) এই মতটিই আমরা এই গবেষণায় অনুসরণ করব এবং এর ওপর ভিত্তি করেই শাখা মাসআলা নির্ধারণ (التفريع) করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
1. 2. تشطير النفقة بتبعّض النشوز(التبعيض) هو التفريق والتجزئة (1).
والمراد بـ (تبعيض النشوز): أي أن لا يتحقق مِن الزوجة التمكين التام في كُلّ الأوقات، بل يحصل التمكين التام بعض اليوم، وتفوّته في باقيه.
وقيدنا ذلك باليوم الواحد; لأن النفقة الزوجيّة متعلقة بكُل يومٍ على استقلال -كما سبق-.
ويتصوّر تبعّض النشوز فيما إذا كانت المرأةُ تخرج نهارًا بدون إذنِ زوجها، وتأوي إلى بيت الزوجيّةِ ليلًا. فيَظهر لنا هنا أنه قد تبعّض النشوزُ -بخروجها دون إذن- بعضَ اليوم، لا كُلّه.
وأمّا (التشطير): فهو تنصيف الشيء إلى نصفين (2).
والمراد بـ (تشطير النفقة): أن يُنقص مِن مقدار النفقةِ الواجبةِ على الزوج بسببِ تبعّض التمكين التام (3).
ويكون تشطير النفقة باستحقاق المرأة لبعض نفقتها دون باقيه، وذلك بناءً على
التقدير العُرفي للنفقة، ثُمّ يُشطّر بعد ذلك.
ومَن يذهب لتشطير النفقة لهم رأيان: أحدهما: أن تشطير النفقة يكون بالأزمان، وعلى ذلك يُحسب عدد الساعات التي لم يحصل فيها التمكين التام، ويُنظر
--------------------------------------------
১. ২. অবাধ্যতার আংশিকতার (تبعض النشوز) কারণে ভরণপোষণ বিভক্তিকরণ (تشطير النفقة)অংশবিশেষ করা (التبعيض) হলো পৃথকীকরণ ও খণ্ডিতকরণ (১)।
আর ‘অবাধ্যতার আংশিকতা’ (تبعض النشوز) বলতে উদ্দেশ্য হলো: স্ত্রীর পক্ষ থেকে সকল সময়ে পূর্ণ সান্নিধ্য (التمكين التام) অর্জিত না হওয়া; বরং দিনের কিছু অংশে পূর্ণ সান্নিধ্য অর্জিত হওয়া এবং অবশিষ্ট সময়ে তা না হওয়া।
আমরা একে একদিনের সাথে সীমাবদ্ধ করেছি; কারণ স্ত্রীর ভরণপোষণ প্রতিটি দিনের সাথে স্বতন্ত্রভাবে সংশ্লিষ্ট—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
অবাধ্যতার আংশিকতা (تبعض النشوز) তখনই কল্পনা করা যায়, যখন স্ত্রী তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত দিনের বেলা বাইরে চলে যায় এবং রাতে বৈবাহিক আবাসে ফিরে আসে। এক্ষেত্রে আমাদের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, অনুমতি ব্যতীত বাইরে যাওয়ার কারণে অবাধ্যতা (نشوز) দিনের কিছু অংশে প্রকাশ পেয়েছে, পুরো দিনে নয়।
আর ‘বিভক্তিকরণ’ (التشطير) হলো কোনো বস্তুকে দুই অর্ধাংশে বিভক্ত করা (২)।
‘ভরণপোষণ বিভক্তিকরণ’ (تشطير النفقة) বলতে উদ্দেশ্য হলো: পূর্ণ সান্নিধ্য (التمكين التাম) আংশিক হওয়ার কারণে স্বামীর ওপর ওয়াজিব হওয়া ভরণপোষণের পরিমাণ হ্রাস করা (৩)।
ভরণপোষণ বিভক্তিকরণ (تشطير النفقة) এভাবে হয় যে, স্ত্রী তার প্রাপ্য ভরণপোষণের আংশিকের হকদার হবে, বাকি অংশের নয়। এটি ভরণপোষণের প্রথাগত নির্ধারণের ওপর ভিত্তি করে হবে এবং পরবর্তীতে তা বিভক্ত করা হবে।
যারা ভরণপোষণ বিভক্তিকরণের (تشطير النفقة) মত পোষণ করেন, তাদের দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি হলো: ভরণপোষণ বিভক্তিকরণ (تشطير النفقة) সময়ের ভিত্তিতে হবে। সে অনুযায়ী, যে কয় ঘণ্টা পূর্ণ সান্নিধ্য (التمكين التাম) অর্জিত হয়নি তা গণনা করা হবে এবং দেখা হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بالنسبةِ والتناسب مع مجموع ساعات اليوم.
والثاني: -وهو الأصح- أن المرأة تستحقُّ نصف نفقتها في جميع الصور، ولا تُعطى بقدر الأزمنة، لعسر التقدير بالأزمنة (1).
كما أنه لا بُدّ مِن تقييد التشطير بمَا يقبلُهُ من النفقات; فالسُّكنى غالبًا لا تقبل التشطير، بخلاف ما تُعطَاه المرأة مَالًا فإنه يَقبل التشطير، فلو كانت نفقةُ المرأة ألفًا، فتشطيرها أن تعطى نصفَها; خمسمائة، وهكذا.
*
الخلاف في المسألة:هذه المسألة مبنيةٌ على الخلاف في المسألة الأولى، إذ إنما تتفرّعُ على قول الجمهور بسقوط نفقةِ الناشز.
وقد اختلف الفقهاء في تشطير نفقة المرأة عند تبعّض نشوزها على رأيين:
القول الأول: أن نفقتها تسقط بالكُليّة، ولا تتشطّر. وهو قول الحنفية (2)، والشافعية (3) ، ورواية عند الحنابلة (4).
وهذا مبنيٌّ على أن موجب النفقة إنما هو التمكين الكامل، فلا يتحقق التمكين إلا كاملًا، وإذا تبعّض التمكين فإنه يكون ناقصًا، فلا تجب به النفقة.
القول الثاني: أن نفقتها لا تسقط، وإنما تُشطّر النفقة. وهو الصَّحيح مِن مَذهبِ الحَنابلَة (5) ، ووجه منقولٌ عن بعض الشافعية (1).
--------------------------------------------
দিনের মোট ঘণ্টার হিসাব ও অনুপাত অনুযায়ী।
এবং দ্বিতীয়টি—যা অধিক সঠিক (الأصح)—হলো এই যে, নারী সকল অবস্থাতেই তার ভরণপোষণের অর্ধেক পাওয়ার অধিকার রাখে, তাকে সময়ের পরিমাপ অনুযায়ী ভরণপোষণ দেওয়া হবে না; কারণ সময়ের ভিত্তিতে পরিমাপ করা দুরূহ (১)।
তেমনিভাবে, অর্ধেক করার (تشطير) বিষয়টিকে এমন সব ভরণপোষণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক যা বিভাজন গ্রহণ করে; কারণ আবাসন ব্যবস্থা সাধারণত বিভাজনযোগ্য নয়, পক্ষান্তরে নারীকে অর্থ হিসেবে যা দেওয়া হয় তা বিভাজন গ্রহণ করে। সুতরাং যদি কোনো নারীর ভরণপোষণ এক হাজার হয়, তবে তা অর্ধেক করার অর্থ হলো তাকে তার অর্ধেক অর্থাৎ পাঁচশ প্রদান করা হবে, এভাবেই চলবে।
*
মাসআলাটির ক্ষেত্রে মতভেদ:এই মাসআলাটি প্রথম মাসআলার মতভেদের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে, যেহেতু এটি অবাধ্য স্ত্রীর ভরণপোষণ বাতিল হওয়ার ব্যাপারে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত থেকে উৎসারিত হয়েছে।
স্ত্রীর অবাধ্যতা আংশিক হওয়ার ক্ষেত্রে তার ভরণপোষণ অর্ধেক করার বিষয়ে ফকিহগণ দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথম মত: তার ভরণপোষণ পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাবে এবং তা অর্ধেক করা হবে না। এটি হানাফি (২) ও শাফিঈদের (৩) অভিমত এবং হাম্বলিদের (৪) একটি বর্ণনা (رواية)।
এটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, ভরণপোষণ ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো পূর্ণ আনুগত্য, আর আনুগত্য পূর্ণাঙ্গ হওয়া ছাড়া তা বাস্তবায়িত হয় না। যখন আনুগত্য আংশিক হয়, তখন তা ত্রুটিপূর্ণ বলে গণ্য হয়, ফলে তার কারণে ভরণপোষণ ওয়াজিব হয় না।
দ্বিতীয় মত: তার ভরণপোষণ বাতিল হবে না, বরং তা অর্ধেক করা হবে। এটিই হাম্বলি মাজহাবের সঠিক (الصحيح) অভিমত (৫) এবং কিছু শাফিঈ আলিম থেকে বর্ণিত একটি অভিমত (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وهذا القول مبنيٌّ على أن التمكينَ يُتصوّر تبعّضُه في الصورة التي سبق ذكرها، فإذا كان يمكن تصور تبعّضُه فإن مَا يجبُ مُقابلَه -وهو النفقة- يَتبعض أيضًا (1).
ولعلّ القول الثاني أقرب دليلًا، وتعليلًا; لأن المرأة لم تمتنع بالكُلية من زوجِها وإن فوّتت عليه بعض حقّه بالخروج نهارًا; ولا شكّ أن في هذا الرأي إعمالًا للمقصد الشرعي من النفقة وهو إثبات القوامة للرّجل إذ تكون يدُهُ هي العليا المنفقة فتكون له القوامة على أهله ولو قُمنَ بالعَمل أو كنّ غنيّات; كما قال جلّ وعلا: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} (2) ، فبيّن أن مِن أظهر صورِ القوامة الإنفاق على الزوجة.
والمرأة إذا كانت لم تمتنع من زوجها بالكُليّة، وإنما خرجت بعض اليوم فإن حالهما يكون داخلًا في عموم قولِ الله تعالى: {فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ} (3) ، فالزوج قد استمتع بامرأته فلزم عليه أن يؤتيها ما شُرع لها مِن الصداق والنفقة والمتعة وغير ذلك.
--------------------------------------------
এই মতটি এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে, পূর্বোল্লিখিত অবস্থায় নিজেকে সমর্পণ (التمكين) বিষয়টি আংশিক বা বিভাজনযোগ্য হওয়া সম্ভব বলে ধরা হয়; সুতরাং যদি এর বিভাজনযোগ্যতা কল্পনা করা যায়, তবে এর বিনিময়ে যা ওয়াজিব হয়—অর্থাৎ ভরণপোষণ (النفقة)—তাও বিভাজনযোগ্য হবে (১)।
সম্ভবত দ্বিতীয় মতটিই দলিল ও যুক্তির বিচারে অধিকতর শক্তিশালী; কারণ নারী তার স্বামীর থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখেনি, যদিও দিনের বেলা বাইরে যাওয়ার মাধ্যমে সে স্বামীর কিছু অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই মতটির মধ্যে ভরণপোষণের (النفقة) শরয়ি উদ্দেশ্য (المقصد الشرعي) বাস্তবায়িত হয়, আর তা হলো পুরুষের কর্তৃত্ব (القوامة) সাব্যস্ত করা; যেহেতু তার হাতই হবে ব্যয়কারী উচ্চতর হাত, ফলে তার পরিবারের ওপর তার কর্তৃত্ব (القوامة) বজায় থাকবে, তারা কর্মজীবী বা ধনী হলেও। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {পুরুষেরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল (قوّامون), কারণ আল্লাহ তাদের একের ওপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে} (২); সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কর্তৃত্বের (القوامة) অন্যতম প্রধান বহিঃপ্রকাশ হলো স্ত্রীর জন্য ব্যয় করা।
আর নারী যদি স্বামীর থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত না রাখে, বরং দিনের কিছু অংশ বাইরে কাটায়, তবে তাদের অবস্থা মহান আল্লাহর এই বাণীর সাধারণ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হবে: {সুতরাং তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা ভোগ করেছ, তাদেরকে তাদের নির্ধারিত পাওনা প্রদান করো; আর মোহর নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরের সম্মতিতে যা করবে তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই} (৩)। সুতরাং স্বামী যেহেতু তার স্ত্রীর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে, তাই তার ওপর স্ত্রীর মোহর (الصداق), ভরণপোষণ (النفقة), মুতআ বা বিদায়ী উপঢৌকন (المتعة) এবং অন্যান্য যা কিছু শরয়িভাবে নির্ধারিত রয়েছে তা প্রদান করা আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثاني آراء الفقهاء في إسقاط النفقة الزوجية بعمل المرأةمحلُّ بحث هذه المسألة إذا كانت المرأة قد خرجت للعمل بغير إذن زوجها (سواءً كانت أجيرةً في هذا العمل، أو مالكةً له فلا فرق) ، وأمّا إذا كان خروجها بإذن زوجها، أو إذا تخلّف أحد المناطات الآتية في المبحث التالي فإن الحُكم فيها يختلف; وسأتطرق له في مكانه -إن شاء الله-.
والحقيقة أن تناولَ الفقهاء رحمهم الله لهذه المسألة كان تناولًا عزيزًا، والنقولات عنهم فيه قليلة; حتى نصّ بعضهم على تسميتها بـ (الواقعة في الزمان) بمعنى أنه لم يتناولها أحدٌ ممن سبق هذا المفتي فيها (1).
وهذا في مقابل توسع المعاصرين في تناول هذه المسألة، وحرصهم على بحثها عند الحديث عن النفقات -وإن كان غالبُه للأسف مكررًا-.
وسأحرص على أن تكون الأقوال التي أذكرها إمّا مِن منصوص فقهائنا المتقدمين، أو مفهومةً منها (إيماءً) ، أو مخرّجةً عليها، مع بيان بعض مَن وافق هذه الآراء من المعاصرين.
ويحسن التنبيه هنا إلى أن بعض المعاصرين قد أشار إلى أنّ الفقهاءَ متفقون على أن الزوجة المحترِفَة (العاملة) لا نفقةَ لها إذا لم يرضَ الزوج باحترافها وعملها، وطَلَبَ منها عدمَ العمل ولم تمتثل له (2).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নারীর কর্মসংস্থানের কারণে দাম্পত্য ভরণপোষণ বাতিল হওয়ার বিষয়ে ফকিহগণের (الفقهاء) মতামতএই মাসআলার আলোচনার প্রেক্ষাপট হলো যখন নারী তার স্বামীর অনুমতি (إذن) ব্যতীত কাজের জন্য বাইরে বের হয় (সে এই কাজে বেতনভুক্ত (أجيرة) হোক অথবা তার মালিক (مالكة) হোক, এতে কোনো পার্থক্য নেই)। তবে যদি তার বের হওয়া স্বামীর অনুমতি (إذن) সাপেক্ষে হয়, অথবা পরবর্তী পরিচ্ছেদে উল্লিখিত কোনো মানদণ্ড অনুপস্থিত থাকে, তবে সেক্ষেত্রে বিধান (الحُكم) ভিন্ন হবে; আমি যথাস্থানে ইনশাআল্লাহ তা নিয়ে আলোচনা করব।
বাস্তবতা হলো, ফকিহগণ (الفقهاء) (রাহিমাহুমুল্লাহ) কর্তৃক এই মাসআলার পর্যালোচনা অত্যন্ত সীমিত ছিল এবং তাদের থেকে এ সংক্রান্ত উদ্ধৃতিও কম। এমনকি তাদের কেউ কেউ এটিকে 'যমানার ঘটনা' (الواقعة في الزمان) হিসেবে নামকরণ করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা (نصّ) দিয়েছেন; যার অর্থ হলো, সেই মুফতির পূর্ববর্তী কেউ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেননি (১)।
এটি বর্তমানকালের আলেমদের এই মাসআলাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার বিপরীত চিত্র এবং তারা ভরণপোষণ (النفقات) নিয়ে আলোচনার সময় এই বিষয়টি পর্যালোচনায় আগ্রহী থাকেন—যদিও দুঃখজনকভাবে এর অধিকাংশ আলোচনা পুনরাবৃত্তিমূলক।
আমি চেষ্টা করব যেন আমার উল্লিখিত মতামতসমূহ (الأقوال) হয় আমাদের পূর্বসূরি (المتقدمين) ফকিহগণের বর্ণিত পাঠ থেকে, অথবা তা থেকে ইঙ্গিত (إيماءً) হিসেবে বোধগম্য হয়, অথবা তার ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত (مخرّجة) হয়। সাথে সাথে সমসাময়িকদের মধ্য থেকে যারা এই মতগুলোর সাথে একমত পোষণ করেছেন তাদেরও উল্লেখ করব।
এখানে একটি বিষয়ে সতর্ক করা সমীচীন যে, কিছু সমসাময়িক গবেষক উল্লেখ করেছেন যে ফকিহগণ (الفقهاء) এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন (متفقون) যে, পেশাজীবী (المحترِفَة) স্ত্রীর জন্য কোনো ভরণপোষণ (النفقة) নেই যদি স্বামী তার পেশা ও কাজে সন্তুষ্ট না থাকেন এবং তাকে কাজ না করতে বলেন, আর সে তা পালন না করে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وهذا الاتفاقَ الذي نقلَهَ هو في الحقيقة في غير محلّه; لأنه بالنظر للنصوص الفقهيّة التي أشار لهَا الباحثُ الكريم وغيره نجد أنها نوعان من النصوص (1).
أحدهما: نصوصٌ منقولةٌ عن بعض فقهاء الحنفيّة في إسقاط نفقة المرأة المحترفة. وهذه لا غُبار عليها; لأنها اجتهادٌ منهم، وهو أحدُ الأقوال في المسألة.
والنوع الثاني من النقول: عن المذاهب الفقهيَّةِ الأخرى بسقوط النفقة عن المرأة الناشز، أو المرأة المسافرة. وهذه النقول لا تدلّ على مسألتنا; لأنها ليست صريحةً فيها، ولأن المناط مختلف كما سَبَقَ; لأن هذه المسألة لا تتعلّق بصورة سفر المرأة وإنما بالخروج النهاري للعمل فقط.
*
الخلاف في المسألة:يَظهَر مِن تتبعِ كلام أهلِ العلم -قديمًا وحديثًا- أن في مسألة نفقة المرأة العاملة بدون إذن زوجها ثلاثةَ آراء فقهيّة (2) مبنيّة على الخلاف المذكور في المبحث الأول، وهي على النحو التالي:
القول الأول: أن نفقة المرأة العاملة تسقطُ حالَ عَمَلِها بدون إذن زوجها بشروطٍ ستأتي (3).
وهذا قولُ عددٍ من فقهاء الحنفيّة. وأهم نصين لهم في ذلك:
--------------------------------------------
তিনি যে ঐকমত্যের (الاتفاق) কথা উল্লেখ করেছেন তা আসলে যথোপযুক্ত নয়; কারণ সম্মানিত গবেষক ও অন্যান্যরা যে ফিকহি ভাষ্যগুলোর (النصوص الفقهية) দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে সেগুলো মূলত দুই প্রকারের ভাষ্য (১)।
প্রথমত: পেশাজীবী নারীর ভরণপোষণ রহিত করার বিষয়ে কতিপয় হানাফি ফকিহর পক্ষ থেকে বর্ণিত ভাষ্যসমূহ। আর এগুলোতে কোনো অস্পষ্টতা নেই; কারণ এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি ইজতিহাদ (اجتهاد), যা এই বিষয়ের অন্যতম একটি অভিমত।
আর দ্বিতীয় প্রকারের উদ্ধৃতিগুলো হলো: অন্যান্য ফিকহি মাজহাব (المذاهب الفقهية) থেকে অবাধ্য নারী (الناشز) অথবা সফরকারী নারীর ভরণপোষণ রহিত হওয়া সংক্রান্ত। আর এই উদ্ধৃতিগুলো আমাদের আলোচ্য বিষয়ের ওপর কোনো প্রমাণ বহন করে না; কেননা এগুলো এই বিষয়ে স্পষ্ট নয় এবং পূর্বেই যেমন আলোচিত হয়েছে যে এর মানাত (المناط) বা কারণ ভিন্ন; কারণ এই বিষয়টি নারীর সফরের সুরতের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং শুধুমাত্র কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে দিনের বেলায় বের হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট।
*
বিষয়ের মতভেদ (الخلاف):প্রাচীন ও আধুনিক আলেমদের বক্তব্য পর্যালোচনায় এটি প্রতীয়মান হয় যে, স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে কর্মজীবী নারীর ভরণপোষণের বিষয়ে তিনটি ফিকহি মত রয়েছে (২), যা প্রথম পরিচ্ছেদে বর্ণিত মতভেদের (الخلاف) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত; আর সেগুলো নিম্নরূপ:
প্রথম মত: স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে কাজ করার অবস্থায় কর্মজীবী নারীর ভরণপোষণ রহিত হয়ে যাবে, তবে এর কিছু শর্ত রয়েছে যা সামনে আলোচিত হবে (৩)।
আর এটি বেশ কয়েকজন হানাফি ফকিহর অভিমত। এ বিষয়ে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ভাষ্য হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
1/ قال في (المجتبى) (1): (وبه عُرف جوابُ واقعةٍ في زماننا أنه لو تزوج من المُحترِفَات التي تكون بالنهار في مصالحها وبالليل عندَه فلا نفقة لها).
ونقله عنه جماعةٌ من فقهاء الحنفية واقتصروا عليه (2).
2/ وقال محمد قدري بَاشَا (ت 1306 هـ): (الزوجة المحترفة التي تكون خارج البيت نهارًا وعند الزوج ليلًا إذا منعها من الخروج وعصته وخرجت فلا نفقة لها ما دامت خارجةً (3)) (4).
وهذا الرأي مبنيٌّ على أنّ الناشز تسقط نفقتُها، وأن خروج المرأة مِن بيتها لحِرفتها وعملها بدون إذن الزوج يُعدّ نشوزًا، ويمنع من الاحتباس، والعلّة عند فقهاء الحنفيّة هي الاحتباس.
كما أنّ هذا الرأي قد يُخرّج على قول الشافعيّة; لأنهم لا يَرَون تشطير النفقة بتبعّض الخروج بدون إذن.
--------------------------------------------
1/ আল-মুজতাবা (১)-এ বলা হয়েছে: (এর মাধ্যমে আমাদের সময়ের একটি ঘটনার সমাধান জানা যায় যে, যদি কেউ এমন কোনো পেশাজীবী নারীকে বিয়ে করে যে দিনের বেলা নিজের প্রয়োজনে নিয়োজিত থাকে এবং রাতে স্বামীর কাছে থাকে, তবে তার কোনো ভরণপোষণ নেই)।
হানাফি ফকিহদের একটি দল তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তারা এরই ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন (২)।
২/ এবং মুহাম্মদ কদরি পাশা (মৃত্যু ১৩০৬ হিজরি) বলেছেন: (যে পেশাজীবী স্ত্রী দিনের বেলা ঘরের বাইরে থাকে এবং রাতে স্বামীর সান্নিধ্যে থাকে, স্বামী যদি তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করেন এবং সে তার অবাধ্য হয়ে বাইরে যায়, তবে যতক্ষণ সে অবাধ্যতার কারণে বাইরে (خارجة) থাকবে ততক্ষণ তার কোনো ভরণপোষণ নেই (৩)) (৪)।
এই মতটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, অবাধ্যচারিণী (ناشز) স্ত্রীর ভরণপোষণ রহিত হয়ে যায়, এবং স্বামীর অনুমতি ছাড়া নারীর স্বীয় পেশা বা কাজের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া অবাধ্যতা (نشوز) হিসেবে গণ্য হয়, যা সান্নিধ্যকে (احتباس) বাধাগ্রস্ত করে; আর হানাফি ফকিহদের নিকট মূল কারণ (علة) হলো সান্নিধ্য (احتبাস)।
তদ্রূপ এই মতটি শাফেয়ি মাজহাবের মতের ওপরও প্রয়োগ করা যেতে পারে; কারণ তারা অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়ার কারণে ভরণপোষণকে খণ্ডিত করা সমর্থন করেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولكن لا بُدّ من الانتباه إلى أنّ هذا القولَ لا يُسقِطُ نفقةَ المرأةِ عن زوجها بالكُليّة، وإنما يُسقطه في الأيام التي تخرُجُ فيها للعمل، فأيامُ الإجازات ونحوها يَلزم الرجلَ النفقةُ على المرأة فيها; لأن النفقةَ مُقدّرة باليوم، ولكل يومٍ حكمٌ يخصّه (1).
القول الثاني: أن النفقة الزوجيّة لا تَسقطُ مُطلقًا بعمل المرأة واحترافِها، ولو بدون إذن الزّوج.
وهذا الرأي مخرّج على قولِ مَن يرى أن النشوز لا يُسقط النفقة الزوجيّة; وهو قول الحكم بن عُتيبة (ت 115 هـ) (2) ، وابن القاسم (ت 191 هـ) (3) ، وابن حزم (ت 456 هـ) (4).
كما أن هذا الرأي فهمه الشيخ محمد سلام مَدكور -وهو من فقهاء الحنفيّة المعاصرين- مِن قولِ صاحب (النهر) من الحنفيّة تعليقًا على قول الزاهدي السابق: (وفيه نظر) (5).
ونصّ عبارة د. مدكور: "صاحب (النهر) أوجَبَ لها النفقة على خلاف الاتجاه الفقهي" (6).
والحقيقةُ أن نسبة هذا الرأي لصاحب (النهر) فيه نَظَر; لأن ابن عابدين فهم مِن
--------------------------------------------
কিন্তু এ বিষয়টি লক্ষ্য করা আবশ্যক যে, এই বক্তব্যটি স্বামীর ওপর থেকে স্ত্রীর ভরণপোষণ সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করে দেয় না; বরং এটি কেবল সেই দিনগুলোর ক্ষেত্রে বিলুপ্ত করে যে দিনগুলোতে তিনি কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে বের হন। সুতরাং ছুটির দিন এবং এই জাতীয় দিনগুলোতে স্ত্রীর ভরণপোষণ প্রদান করা স্বামীর ওপর আবশ্যক; কারণ ভরণপোষণ প্রতিদিনের হিসেবে নির্ধারিত হয় এবং প্রতিটি দিনের জন্য প্রতিটি দিনের স্বতন্ত্র বিধান রয়েছে (১)।
দ্বিতীয় মত: স্ত্রীর কাজ এবং পেশাগত ব্যস্ততার কারণে বৈবাহিক ভরণপোষণ কোনোভাবেই বিলুপ্ত হয় না, এমনকি তা স্বামীর অনুমতি ব্যতীত হলেও।
আর এই অভিমতটি সেই সকল ফকিহদের মতের ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত (مخرج), যাঁরা মনে করেন যে অবাধ্যতা বৈবাহিক ভরণপোষণকে বিলুপ্ত করে দেয় না। এটি হাকাম ইবনে উতাইবা (মৃত্যু ১১৫ হি.) (২), ইবনুল কাসিম (মৃত্যু ১৯১ হি.) (৩) এবং ইবনে হাজম (মৃত্যু ৪৫৬ হি.) (৪)-এর অভিমত।
একইভাবে সমকালীন হানাফি ফকিহদের অন্যতম শায়খ মুহাম্মদ সালাম মাদকার এই অভিমতটি হানাফি মাজহাবের নাহর গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য থেকে গ্রহণ করেছেন, যেখানে তিনি জাহিদি-র পূর্বোক্ত বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "এতে আপত্তির অবকাশ (فيه نظر) রয়েছে" (৫)।
ড. মাদকারের বক্তব্যের পাঠ নিম্নরূপ: "নাহর-এর লেখক প্রচলিত ফিকহি ধারার বিপরীতে গিয়ে তার জন্য ভরণপোষণ আবশ্যক করেছেন" (৬)।
প্রকৃতপক্ষে এই অভিমতটি নাহর-এর লেখকের প্রতি সম্পৃক্ত করার বিষয়টি আপত্তির অবকাশ (فيه نظر) রাখে; কারণ ইবনে আবিদিন বুঝেছেন যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عدم موافقته، اعتراضه على التعليل لا الحُكم (1).
لذا فلا يصحُّ أن يُنسب هذا القول رأيًا لأحدٍ من فقهاء الحنفيّة; لأن قواعدَهم تخالف ما بُني عليه هذا الرأي.
وقد عدد مِن الباحثين المعاصرين (2) هذا الرأي -وهو إيجاب نفقة المرأة العاملة مطلقًا-، وقيّده بعضهم بأن لا تكون طبيعة العمل منافية لمصلحة الأسرة (3).
وعندما ننظر في تعليل المعاصرين لهذا الرأي نجد أنه مختلفٌ عن تعليل الفقهاء الأوائل، وأن مأخذهم في المسألة مغاير; فإن المعاصرين بَنَو اختيارَهم على تغيّر الأحوالِ والأعرافِ عن الزمان الأول، فلا يُعدُّ الآن خروج المرأة للعمل نشوزًا، أو امتناعًا عن حقٍّ للزوج، وخصوصًا أن التشريعاتِ المعاصرةَ كَفلَت للمرأة حقّ العمل، فأصبح حقًّا مُستحقّا لها.
--------------------------------------------
তাঁর অসম্মতি, তাঁর আপত্তিটি হচ্ছে যৌক্তিক কারণ দর্শানোর (التعليل) ওপর, বিধানের (الحكم) ওপর নয় (১)।
তাই এই মতটিকে হানাফী ফকীহগণের মধ্যে কারো অভিমত হিসেবে নিসবত করা বা আরোপ করা সঠিক নয়; কারণ তাঁদের মূলনীতিসমূহ এই অভিমতটি যার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার পরিপন্থী।
সমসাময়িক অনেক গবেষক (২) এই অভিমতটিকে—যা হলো কর্মজীবী নারীর ভরণপোষণকে নিরঙ্কুশভাবে আবশ্যক করা—গণ্য করেছেন, এবং তাঁদের কেউ কেউ একে এই শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন যেন কাজের ধরন পরিবারের স্বার্থের পরিপন্থী না হয় (৩)।
যখন আমরা এই অভিমতের বিষয়ে সমসাময়িকদের যৌক্তিক কারণ দর্শানোর (التعليل) দিকে দৃষ্টিপাত করি, তখন দেখতে পাই যে এটি পূর্ববর্তী ফকীহগণের কারণ দর্শানোর পদ্ধতি থেকে ভিন্ন এবং এই মাসআলায় তাঁদের গ্রহণের উৎসও আলাদা; কেননা সমসাময়িকগণ তাঁদের পছন্দকে পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় অবস্থা ও প্রথা বা রীতিনীতির পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করেছেন। ফলে বর্তমানে নারীর কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়াকে অবাধ্যতা (نشوز) কিংবা স্বামীর প্রাপ্য অধিকার আদায়ে অস্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হয় না, বিশেষ করে সমসাময়িক আইনসমূহ যখন নারীর কর্মসংস্থানের অধিকার নিশ্চিত করেছে, যার ফলে এটি তাঁর একটি ন্যায্য অধিকারে পরিণত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فعند هؤلاء يُعتبر مُوجِبُ النفقةِ أمرًا عُرفيًّا يتغيّر بتغيّر الأزمنة والأماكن، فهو ليس ثابتًا في معياره.
والحقيقة أنّ في ذلك نظرًا; لأن الناظر للمقاصد الشرعيّة العامة في النكاح يجدُ أن مِن أظهرها السَّكن، ولذا تضافرت النصوص الشَّرعيّة الدَّالةُ على مشروعيّة لزوم المرأة لبيتها وعدم خروجها منه، وأفضلية ذلك لها. ففي القول بأن العمل حقٌّ مشروع للمرأة على إطلاقٍ دون أيِّ تقييد بإذن أو حاجةٍ مخالفةٌ بيّنة للمقاصد الجزئية الشرعيّة التي تضافرت عليها النصوص.
القول الثالث: أن المرأة العاملةَ خارج المنزل بدون إذن زوجها لا تسقطُ نفقتها بالكليّة، وإنما تتشطّر وينقصُ تقديرُها.
وهذا القوّل يمكن تخريجُه على قول فقهاء الحنابلة في مسألة تشطير النفقة; إذ إنهم قد أطلقوا الخروج من المنزل ولم يقيدوه بغرضٍ ما، وقد سبق الاستدلال له.
فهذه الأقوال هي الآراء المعروضة في هذه المسألة نصًّا، وإيماءً، وتخريجًا.
والذي أميل إليه هو القول الثالث بأن المرأة إذا كانت عاملةً خارج منزلها فلها النفقةُ ولو كانت تعمل بدون إذن زوجِها، وأن عدم إذن زوجِها مؤثرٌ في تقدير النفقة لا في إسقاطها بالكُليّة; وهذا الرأي وَسطٌ بين الرأيين الأولين وفيه إعمالٌ للمعنى الموجود في القولين معًا.
- كما أنه هو الأوفق للمقاصد الشّرعيّة; فإن النفقةَ وجبت شرعًا بسبب عقد الزوجيّة في مُقابل التمكين من الزوجة.
فإذا لم يتحقق التمكين التام، وإنما تحقق بعضُهُ فإن المعنى المقابل للنفقةِ ما زال مَوجودًا ولكنه ناقصٌ، فينقص تقدير النفقة في مُقابل نقصه; وهذا هو معنى (تشطير النفقة).
وفي القول بسقوط النفقة بالكُليّة -مع وجود التمكين مِن المرأة واحتباسها
এদের নিকট খোরপোশের (نفقة) আবশ্যকতা একটি প্রথাগত (عرفي) বিষয় হিসেবে বিবেচিত, যা সময় ও স্থানের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়; সুতরাং এর মানদণ্ড কোনো স্থির বিষয় নয়।
কিন্তু প্রকৃত সত্য এই যে, এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কেননা বিবাহের সাধারণ শারয়ি উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد الشرعيّة العامة) প্রতি দৃষ্টিপাতকারী দেখতে পাবেন যে, এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রশান্তি (السكن)। এই কারণেই নারীর জন্য ঘরে অবস্থান করা এবং বিনা প্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার বৈধতা ও তার শ্রেষ্ঠত্বের স্বপক্ষে বহু শারয়ি দলীল (النصوص الشَّرعيّة) বিদ্যমান। সুতরাং কোনো অনুমতি বা প্রয়োজন ছাড়াই ঘরের বাইরে কাজ করা নারীর জন্য একটি নিরঙ্কুশ বৈধ অধিকার—এই বক্তব্যের মধ্যে সেই নির্দিষ্ট শারয়ি উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد الجزئية الشرعيّة) সুস্পষ্ট বিরোধিতা রয়েছে, যার স্বপক্ষে দলীলসমূহ (النصوص) ঐক্যমত পোষণ করেছে।
তৃতীয় মত: স্বামীর অনুমতি ব্যতীত ঘরের বাইরে কর্মরতা নারীর খোরপোশ (نفقة) পুরোপুরি বাতিল (سقوط) হয়ে যাবে না, বরং তা দ্বিখণ্ডিত (تشطير) হবে এবং তার পরিমাণ হ্রাস পাবে।
এই মতটি খোরপোশ দ্বিখণ্ডিতকরণের (تشطير النفقة) মাসআলায় হাম্বলি ফকীহগণের মতের ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবন (تخريج) করা সম্ভব; যেহেতু তারা ঘর থেকে বের হওয়ার বিষয়টিকে সাধারণ রেখেছেন এবং একে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের সাথে সীমাবদ্ধ করেননি, আর এ বিষয়ে ইতিপূর্বেই দলীল প্রদান করা হয়েছে।
এই মাসআলায় স্পষ্ট পাঠ (نصًا), ইঙ্গিত (إيماءً) এবং গবেষণালব্ধ (تخريجًا) পদ্ধতিতে উপস্থাপিত মতামতগুলো হলো এগুলোই।
আমি যে মতটির প্রতি ঝুঁকছি তা হলো তৃতীয় মতটি; অর্থাৎ নারী যদি ঘরের বাইরে কর্মরত হন, তবে তিনি খোরপোশ (النفقة) পাওয়ার অধিকারী হবেন, যদিও তিনি স্বামীর অনুমতি ব্যতীত কাজ করেন। তবে স্বামীর অনুমতির অভাব খোরপোশের পরিমাণ নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে, তা পুরোপুরি বাতিল (إسقاط) করে দেবে না। এই মতটি পূর্ববর্তী দুটি মতের মাঝামাঝি এবং এতে উভয় মতের মূল ভাবার্থের সমন্বয় ঘটেছে।
- তদুপরি এটি শারয়ি উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد الشّرعيّة) সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ শারয়িভাবে খোরপোশ (النفقة) ওয়াজিব হয়েছে বৈবাহিক চুক্তির কারণে স্ত্রীর নিজেকে সমর্পণের (التمكين) বিনিময়ে।
অতএব যখন পূর্ণাঙ্গ সমর্পণ (التمكين التام) অর্জিত হয় না, বরং আংশিক অর্জিত হয়, তখন খোরপোশের বিনিময়ে প্রাপ্য বিষয়টি তখনও বিদ্যমান থাকে কিন্তু তা অপূর্ণাঙ্গ হয়। ফলে সেই অপূর্ণাঙ্গতার বিপরীতে খোরপোশের পরিমাণও হ্রাস পায়; আর এটিই হলো 'খোরপোশ দ্বিখণ্ডিতকরণের' (تشطير النفقة) অর্থ।
পক্ষান্তরে নারীর পক্ষ থেকে সমর্পণ (التمكين) এবং স্বামীর জন্য নিবদ্ধ থাকা (احتبাস) বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও খোরপোশ পুরোপুরি বাতিল (سقوط) হয়ে যাওয়ার বক্তব্যে...
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الجُزئي لمصلحةِ الزَّوج- إسقاطٌ لهذا البَذْل الذي بذلته المرأة، وإلغاءٌ له بالكُليّة، وهذا بعيدٌ مِن المعاني الشرعيّة.
- كما أنّ في ترجيح هذا الرأي توسطٌ في دفع الضرر عن الزوجين معًا، فإن المرأة إذا كانت ذاتَ تجارةٍ أو مالٍ (ولو كان يسيرًا) فإن مراعاتها له فيه مصلحةٌ بيّنة، بخلاف مَا إذا مُنعت مِن مراعاته فإن فيه إضرارًا بها. وقد يؤدي ذلك إلى تعسّف بعضِ الرِّجال في استعمال حقّه بالإذن للإضرار بالمرأة والتضييق عليها.
ومثلُهُ يتصوّر في الوظائفِ وعقودِ العمل، فقد تكون المرأة لم يبقَ لها إلا فترةٌ يسيرة وتستحق مكافأة نهاية الخدمة أو الراتب التقاعدي، ففي انقطاعها إضرارٌ بها.
وقد أشار بعض الفقهاء إلى أن المعنى في النفقة إنما هو حقّ المرأة في الأساس بحيث لا يدخل عليها إضرارٌ في مالِها بعد زواجها; قال ابن نُجيم (ت 970 هـ): (وإنما أكثرنا من هذه المسائل تنبيهًا للأزواج لما نراه في زماننا مِن تقصيرهم في حقوقهنَّ حتى إنه يأمرُها بفرشِ أمتعتها جبرًا عليها وكذلك لأضيافِه .. حتى كانت عند الدخول غنية صارت فقيرة، وهذا كله حرام لا يجوز، نعوذ بالله من شرور أنفسنا ومِن سيئات أعمالنا) (1).
وفي المقابل فإن مصلحة الزوجِ لم تُلغَ بل رُعيت بوجود التمكين والسَّكن في بعض اليوم، وخُفف عنه في قدر النفقة الواجبة شرعًا في مُقابل هذا النقص في التمكين.
- وأيضًا فإن هذا القول فيه مراعاةٌ لأعرافِ هذا الزمان، إذ معيشةُ كثيرٍ من الأُسر موغلةٌ في الكَمَاليّات والتّحسينيات التي لا يَلزَم الزوجَ أن يوفّرَها لزوجتِه في النفقة الواجبة، وإنما هي من الإحسان منه إليها. فربما كان في عمل المرأةِ وكسبِها سدادٌ لحاجتها من هذا الباب الذي أُغرق الناس فيه.
--------------------------------------------
স্বামীর স্বার্থে আংশিক [সুবিধা প্রদান]- নারীর এই ত্যাগ বা প্রচেষ্টাকে বিসর্জন দেওয়া এবং তা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার নামান্তর, যা শরয়ি (الشرعيّة) মূলনীতির পরিপন্থী।
- অনুরূপভাবে, এই মতটিকে প্রাধান্য দেওয়ার মধ্যে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ক্ষতি দূর করার ক্ষেত্রে একটি মধ্যমপন্থা বিদ্যমান। কেননা নারী যদি ব্যবসা বা সম্পদের (তা সামান্য হলেও) অধিকারিণী হন, তবে সেটি দেখাশোনা করার মধ্যে একটি স্পষ্ট কল্যাণ (مصلحة) রয়েছে; পক্ষান্তরে যদি তাকে তা দেখাশোনা করতে বাধা দেওয়া হয়, তবে তাতে তার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি কোনো কোনো পুরুষের ক্ষেত্রে অনুমতির অধিকার প্রয়োগে স্বেচ্ছাচারিতার পথ খুলে দিতে পারে, যা নারীর ক্ষতি সাধন এবং তার জীবনকে সংকুচিত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে।
চাকরি এবং কর্মচুক্তির ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিষয়টি কল্পনা করা যায়। হতে পারে নারীর চাকরির মেয়াদ শেষ হতে সামান্য সময় বাকি এবং তিনি চাকুরির শেষকালীন পারিতোষিক বা পেনশনের হকদার; এমতাবস্থায় তার কাজে বিঘ্ন ঘটানো তার জন্য ক্ষতির কারণ হবে।
কোনো কোনো ফকিহ (فقهاء) ইঙ্গিত করেছেন যে, খোরপোশ (النفقة)-এর মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর অধিকার রক্ষা করা, যাতে বিয়ের পর তার ব্যক্তিগত সম্পদের কোনো ক্ষতি না হয়। ইবনে নুজাইম (মৃ. ৯৭০ হিজরি) বলেন: (আমি স্বামীদের সতর্ক করার জন্য এই মাসআলাগুলো অধিক পরিমাণে উল্লেখ করেছি; কারণ বর্তমান যুগে আমরা তাদের হকের ব্যাপারে অনেক অবহেলা দেখতে পাই। এমনকি স্বামী তার স্ত্রীকে বাধ্য করে তার নিজের আসবাবপত্র বিছাতে এবং তার মেহমানদের আপ্যায়নে ব্যবহার করতে... ফলে বাসর রাতে যে নারী ধনী ছিল, সে পরে গরিব হয়ে যায়। এসবই হারাম এবং তা জায়েজ নয়। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই) (১)।
অপরদিকে স্বামীর কল্যাণকেও (مصلحة) উপেক্ষা করা হয়নি, বরং দিনের কিছু অংশে সান্নিধ্য (التمكين) ও অবস্থানের মাধ্যমে তা রক্ষা করা হয়েছে। সান্নিধ্যের এই ঘাটতির বিনিময়ে স্বামীর ওপর শরয়িভাবে ওয়াজিব খোরপোশ (النفقة)-এর পরিমাণও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- তদুপরি, এই মতটির মধ্যে বর্তমান সময়ের প্রথা (أعراف)-এর প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কেননা বর্তমানে অনেক পরিবারের জীবনযাত্রা বিলাসিতা ও শোভাবর্ধক বিষয়াদির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল, যা ওয়াজিব খোরপোশের (النفقة) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে স্ত্রীকে প্রদান করা স্বামীর জন্য আবশ্যক নয়; বরং তা কেবল স্বামীর পক্ষ থেকে মহানুভবতা মাত্র। সুতরাং নারীর কাজ ও উপার্জনের মাধ্যমে হয়তো সেই প্রয়োজনের সংস্থান হতে পারে, যে বিলাসিতায় মানুষ বর্তমানে নিমজ্জিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু আমালিল মারআতি ফিন নাফাক্বাতিল যাওজিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المبحث الثالث نطاق الفقهاء في هذه المسألة
تمهيد:المراد بنطاق هذه المسألة: أي متى يُحكم للمرأة العاملة بتشطير النفقة -بناءً على مَا ترجّح في هذه المسألة-.
وهذا ليس على إطلاق وإنما في نطاقٍ معيّن، ففي بعض الحالات يُحكَم على الرجل بلزوم النفقة كاملةً لزوجته العاملة. وفي حالاتٍ أخرى تسقط نفقة المرأة العاملة بالكُليّة.
وقد حاولتُ أن استقرئ عددًا من المناطات بناءً على الصور التي ذكرها الفقهاءُ وبَيَّنُوا حكمَها.
وسأتناول هذا المبحث في ثلاثة مطالب:
3. 1. الشروط التي يلزم توفرها للحُكم بتشطير نفقة المرأة العاملة.
3. 2. مسقطات النفقة على المرأة العاملة بالكُلية.
3. 3. الأسباب التي تُوجب النفقة كاملةً للمرأة العاملة.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় ফকিহগণের কর্মপরিধিভূমিকা:এই মাসআলার কর্মপরিধি বলতে উদ্দেশ্য হলো: অর্থাৎ—এই মাসআলায় যা অগ্রগণ্য (ترجّح) সাব্যস্ত হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে—কখন কর্মজীবী নারীর খোরপোশ অর্ধেক করার রায় প্রদান করা হবে।
আর এটি নিরঙ্কুশ বা ঢালাও (إطلاق) নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট পরিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ। কেননা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষের ওপর তার কর্মজীবী স্ত্রীর পূর্ণ খোরপোশ প্রদান আবশ্যক হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আবার অন্য কিছু ক্ষেত্রে কর্মজীবী নারীর খোরপোশ পুরোপুরি রহিত হয়ে যায়।
ফকিহগণ যেসব চিত্র বা স্বরূপ (صور) উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর বিধান (حكم) বর্ণনা করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করে আমি বেশ কিছু কার্যকর কারণ বা ভিত্তি (مناطات) অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি।
আমি এই পরিচ্ছেদটি তিনটি অনুচ্ছেদে আলোচনা করব:
3. ১. কর্মজীবী নারীর খোরপোশ অর্ধেক করার বিধান প্রদানের জন্য যেসব শর্তাবলি (شروط) বিদ্যমান থাকা আবশ্যক।
3. ২. কর্মজীবী নারীর খোরপোশ পুরোপুরি রহিত হওয়ার কারণসমূহ।
3. ৩. যেসব কারণে কর্মজীবী নারীর পূর্ণ খোরপোশ আবশ্যক (واجب) হয়।