(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: -)
ثم أبصرت الحقيقة   (محمد سالم الخضر)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: ثم أبصرت الحقيقة

المؤلف: محمد سالم الخضر

الطبعة: الثانية، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 564

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 ربيع الآخر 1436

অতঃপর আমি সত্য প্রত্যক্ষ করলাম   (মুহাম্মদ সালেম আল-খিদর)

বিভাগ: ফিরকাহ ও খণ্ডন


গ্রন্থ: অতঃপর আমি সত্য প্রত্যক্ষ করলাম

লেখক: মুহাম্মদ সালেম আল-খিদর

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪২৮ হিজরী - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬৪

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৭ রবিউস সানি ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ১)
ثم أبصرت الحقيقة

 

تأليف

محمد سالم الخضر

 

الطبعة الثانية

1428هـ - 2007م

 

شبكة أنصار أهل البيت

WWW.ANSAR.ORG
অত:পর আমি সত্যের দেখা পেলাম

 

রচনায়

মুহাম্মদ সালিম আল-খিদর

 

দ্বিতীয় সংস্করণ

১৪২৮ হিজরী - ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ

 

আনসার আহলে বাইত নেটওয়ার্ক

WWW.ANSAR.ORG
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

الطبعة الثانية 1428هـ - 2007م

 

لمراسلة المؤلف أو المساهمة في طبع الكتاب

يمكنك التواصل معنا على العنوان التالي:

ص. ب 12421 - الشامية 71655 - الكويت

أو على البريد الالكتروني

ALBOSHRA1975@yahoo.com

 

شبكة أنصار أهل البيت

WWW.ANSAR.ORG
সর্বস্বত্ব গ্রন্থকার কর্তৃক সংরক্ষিত

দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

 

গ্রন্থকারের সাথে পত্রালাপ করতে অথবা গ্রন্থটি মুদ্রণে সহায়তা করতে

আপনি আমাদের সাথে নিম্নোক্ত ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন:

পি.ও. বক্স ১২৪২১ - আশ-শামিয়া ৭১৬৫৫ - কুয়েত

অথবা ইমেইল যোগে

ALBOSHRA1975@yahoo.com

 

আনসার আহলে বাইত নেটওয়ার্ক

WWW.ANSAR.ORG
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌إهداء

إلى رسول الله الذي أنار الله به حياتي …

إلى أهل بيته الأطهار وصحابته الكرام الذين ظلمهم المؤرخون وقصّر في حقهم أهل الأهواء …

إلى أبي الذي لم تمتلئ عيناي بالنظر إليه قبل رحيله …

إلى أمي جبل العطاء وعنوان التضحية وبرج الشموخ …

إلى كل من أسدى إليّ نصيحة أو وجّه لي نقداً بناءاً …

إلى كل مسلم يحب الحقيقة ولا يرضى باستغلال الدين ولا بالطائفية المقيتة …

إلى هؤلاء جميعاً أهدي كتابي هذا … راجياً من الله أن يلهمني الإخلاص ويجزيني عليه حسن الثواب.
উৎসর্গ

আল্লাহর রাসূলের প্রতি, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ আমার জীবনকে আলোকিত করেছেন …

তাঁর পবিত্র আহলে বাইত ও সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের প্রতি, ঐতিহাসিকগণ যাঁদের প্রতি অবিচার করেছেন এবং প্রবৃত্তি পূজারীরা যাঁদের হকের ব্যাপারে অবহেলা করেছে …

আমার পিতার প্রতি, যাঁর মহাপ্রয়াণের পূর্বে তাঁকে দুচোখ ভরে দেখে আমার তৃষ্ণা মেটেনি …

আমার মাতার প্রতি, যিনি অকৃপণ দানে অটল পাহাড়, আত্মত্যাগের মূর্ত প্রতীক এবং সুউচ্চ মিনার …

সেই প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি, যিনি আমাকে কোনো সদুপদেশ দিয়েছেন অথবা গঠনমূলক সমালোচনা করেছেন …

সেই প্রত্যেক মুসলমানের প্রতি, যিনি সত্যকে ভালোবাসেন এবং ধর্মের অপব্যবহার কিংবা জঘন্য সাম্প্রদায়িকতাকে গ্রহণ করেন না …

তাঁদের সকলের প্রতি আমি আমার এই গ্রন্থটি উৎসর্গ করছি … আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে ইখলাস (একনিষ্ঠতা) দান করেন এবং এর বিনিময়ে আমাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
((فهرس مواضيع الكتاب))

الموضوع … الصفحة

المقدمة ....................................................................... … 11

الفصل الأول: خطوات إلى الأمام

الوحدة التي نريد ............................................................. … 15

دين موروث ................................................................. … 17

حبك للشيء يعمي ويصم .................................................... … 20

هذا ديني وذاك مذهبي ....................................................... … 22

سهام رمتني وأخرى سترميني ................................................ … 23

نحن مع الحق وإن قاله خصومنا .............................................. … 26

لماذا لا نتحاور؟ ............................................................. … 29

نريده حواراً من أجل الحقيقة ................................................. … 31

من هنا كانت البداية .......................................................... … 34

في السيدة زينب .............................................................. … 41

الفصل الثاني: في حب أهل البيت

حب أهل البيت .............................................................. … 49

حبهم إيمان وتُقى وبغضهم نفاق وضلال ...................................... … 53

مَنْ هم آل البيت؟ ............................................................ … 57

أهل البيت بين الشرف والخصوصية .......................................... … 75
((গ্রন্থের বিষয়সূচি))

বিষয় … পৃষ্ঠা

ভূমিকা ....................................................................... … ১১

প্রথম অধ্যায়: সামনের দিকে পদক্ষেপ

কাঙ্ক্ষিত ঐক্য ............................................................. … ১৫

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ধর্ম ................................................................. … ১৭

কোনো কিছুর প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে অন্ধ ও বধির করে দেয় .................................................... … ২০

এটি আমার দ্বীন আর ওটি আমার মাযহাব ....................................................... … ২২

যেসব তির আমাকে বিদ্ধ করেছে এবং যেগুলো করবে ................................................ … ২৩

আমরা সত্যের সাথে আছি, যদিও তা আমাদের প্রতিপক্ষ বলে থাকে .............................................. … ২৬

আমরা কেন সংলাপে বসি না? ............................................................. … ২৯

আমরা সত্য অন্বেষণের জন্য সংলাপ চাই ................................................. … ৩১

এখান থেকেই সূচনা হয়েছিল .......................................................... … ৩৪

সায়্যিদা যয়নাব (রা.) প্রসঙ্গে .............................................................. … ৪১

দ্বিতীয় অধ্যায়: আহলে বাইতের ভালোবাসায়

আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা .............................................................. … ৪৯

তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ঈমান ও তাকওয়া এবং তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ মুনাফিকি ও পথভ্রষ্টতা ...................................... … ৫৩

আহলে বাইত কারা? ............................................................ … ৫৭

মর্যাদা ও বিশেষত্বের মাঝে আহলে বাইত .......................................... … ৭৫
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
الموضوع … الصفحة

حين ينقلب الحب بغضاً وعداوةً ............................................ … 80

تحت أي بند يُصنّف هذا الحب؟! ........................................... … 87

الغلو في أمهات كتب الشيعة ................................................ … 99

كيف ينظر كبار علماء الشيعة إلى الأئمة الإثنى عشرية؟ ....................... … 102

1 - آية الله العظمى الخميني ................................................. … 102

2 - آية الله العظمى الخوئي .................................................. … 109

3 - آية الله العظمى جواد التبريزي .......................................... … 109

4 - آية الله العظمى محمد الحسيني الشيرازي ................................. … 111

5 - آية الله العظمى محمد محمد صادق الصدر ................................ … 112

6 - آية الله العظمى وحيد خراساني .......................................... … 115

7 - آية الله العظمى ميرزا حسن الحائري الإحقاقي ........................... … 118

8 - آية الله العظمى ميرزا عبد الرسول الإحقاقي ............................ … 119

9 - آية الله العظمى محمد الحسيني الشاهرودي .............................. … 121

10 - الإمام الأكبر محمد الحسين آل كاشف الغطاء ........................... … 121

11 - العلامة جعفر التستري ............................................... … 122

الفصل الثالث: الخلافة والإمامة

الخلافة والإمامة ............................................................ … 131

المرجعيات ولغة التكفير .................................................... … 134

خطوات نحو إصلاح ما أفسدته الطائفية .................................... … 138
বিষয় … পৃষ্ঠা

যখন ভালোবাসা ঘৃণা ও শত্রুতায় পরিণত হয় ............................................ … ৮০

এই ভালোবাসা কোন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত?! ........................................... … ৮৭

শিয়াদের মৌলিক গ্রন্থসমূহে অতিরঞ্জন ................................................ … ৯৯

শিয়াদের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ বারো ইমামকে কীভাবে দেখেন? ....................... … ১০২

১ - আয়াতুল্লাহ আল-উজমা খোমেনী ................................................. … ১০২

২ - আয়াতুল্লাহ আল-উজমা আল-খোয়ী .................................................. … ১০৯

৩ - আয়াতুল্লাহ আল-উজমা জাওয়াদ আল-তাবরিজি .......................................... … ১০৯

৪ - আয়াতুল্লাহ আল-উজমা মুহাম্মদ আল-হুসাইনি আল-শিরাজি ................................. … ১১১

৫ - আয়াতুল্লাহ আল-উজমা মুহাম্মদ মুহাম্মদ সাদিক আল-সদর ................................ … ১১২

৬ - আয়াতুল্লাহ আল-উজমা ওয়াহিদ খোরসানি .......................................... … ১১৫

৭ - আয়াতুল্লাহ আল-উজমা মির্জা হাসান আল-হায়রি আল-ইহকাকি ........................... … ১১৮

৮ - আয়াতুল্লাহ আল-উজমা মির্জা আবদুর রসূল আল-ইহকাকি ............................ … ১১৯

৯ - আয়াতুল্লাহ আল-উজমা মুহাম্মদ আল-হুসাইনি আশ-শাহরুদি .............................. … ১২১

১০ - ইমামুল আকবর মুহাম্মদ আল-হুসাইন আল কাশিফ আল-গিতা ........................... … ১২১

১১ - আল্লামা জাফর আল-তুস্তারি ............................................... … ১২২

তৃতীয় অধ্যায়: খিলাফত ও ইমামত

খিলাফত ও ইমামত ............................................................ … ১৩১

ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এবং তাকফিরের ভাষা .................................................... … ১৩৪

সাম্প্রদায়িকতা যা নষ্ট করেছে তা সংস্কারের পদক্ষেপ .................................... … ১৩৮
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
الموضوع … الصفحة

لماذا لم يذكر الأئمة في القرآن؟ .............................................. … 141

الإمام والإمامة في القرآن الكريم ............................................ … 143

القرآن وعقيدة الإمامة الشيعية .............................................. … 149

القول بالإمامة الإلهية بعد النبي طعن في ختم نبوته ........................... … 151

نصوص شيعية اشترطت العدل في الحاكم لا العصمة ........................ … 159

الأحلام لا تصلح لأن تكون دستوراً ........................................ … 162

نهج البلاغة ينقض عقيدة الإمامة التي يعتقدها الشيعة ....................... … 169

عندما يمتزج وهم الإمامة النصية بالخرافة الحسية! .......................... … 173

مناقشة أدلة الإمامة عند الشيعة الإثنى عشرية ................................ … 178

مَنْ الأفضل أبو بكر أم علي؟ ............................................... … 180

الإمامية أضعف حجة قرآنية من أهل الكتاب ................................ … 196

آية {لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِين} ............................................... … 204

آية {إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا} .................................. … 232

آية {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا} ........................... … 246

آية التطهير وحديث الكساء ................................................. … 257

آية المباهلة .................................................................. … 292

آية {إِنَّمَا أَنتَ مُنذِرٌ وَلِكُلِّ قَوْمٍ هَاد} ......................................... … 300

مناقشة ما يُستدل به على الإمامة من السنة النبوية ............................. … 306

أ- حديث غدير خُم ........................................................ … 306
বিষয় … পৃষ্ঠা

কেন পবিত্র কুরআনে ইমামদের কথা উল্লেখ করা হয়নি? .............................................. … ১৪১

পবিত্র কুরআনে ইমাম ও ইমামত ............................................ … ১৪৩

কুরআন এবং শিয়া ইমামত আকিদা .............................................. … ১৪৯

নবীর পরে ঐশ্বরিক ইমামতের দাবি তাঁর নবুওয়াতের সমাপ্তির উপর আঘাত ........................... … ১৫১

শিয়া নির্ভরযোগ্য পাঠ্যসমূহ যা শাসকের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারকে শর্ত করেছে, নিষ্পাপত্ব নয় ........................ … ১৫৯

স্বপ্ন সংবিধান হওয়ার যোগ্য নয় ........................................ … ১৬২

নাহজুল বালাগাহ শিয়াদের বিশ্বাসকৃত ইমামত আকিদাকে খণ্ডন করে ....................... … ১৬৯

যখন অলীক লিখিত ইমামতের ধারণা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কুসংস্কারের সাথে মিশে যায়! .......................... … ১৭৩

দ্বাদশ ইমামি শিয়াদের ইমামতের দলীলসমূহ পর্যালোচনা ................................ … ১৭৮

কে শ্রেষ্ঠ, আবু বকর নাকি আলী? ............................................... … ১৮০

আহলে কিতাবদের তুলনায় ইমামিয়াদের কুরআনিক প্রমাণাদি অধিকতর দুর্বল ................................ … ১৯৬

আয়াত {আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের নিকট পৌঁছাবে না} ............................................... … ২০৪

আয়াত {তোমাদের অভিভাবক তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ} .................................. … ২৩২

আয়াত {অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী বানালাম আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি} ........................... … ২৪৬

পবিত্রতার আয়াত এবং চাদরের হাদীস ................................................. … ২৫৭

মুবাহালার আয়াত .................................................................. … ২৯২

আয়াত {তুমি তো কেবল একজন সতর্ককারী, আর প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে পথপ্রদর্শক} ......................................... … ৩০০

সুন্নাহ থেকে ইমামতের স্বপক্ষে পেশকৃত দলীলসমূহের পর্যালোচনা ............................. … ৩০৬

ক- গাদীরে খুমের হাদীস ........................................................ … ৩০৬
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الموضوع … الصفحة

ب- حديث الاستخلاف على المدينة ........................................ … 325

ج- حديث الطائر .......................................................... … 334

د- حديث الدار ............................................................ … 340

هـ - حديث (علي مني وأنا من علي) ........................................ … 352

و- أحاديث الإثنى عشر إماماً .............................................. … 357

لا أحاديث صحيحة في النص على الأئمة الإثنى عشر بأسمائهم ............... … 365

روايات شيعية دامغة! ...................................................... … 371

المرتضى لا يستبعد كون الأئمة أكثر من إثني عشر! ........................... … 375

اعتراف خطير للشيخ حسين المدرسي الطباطبائي ............................ … 376

واعتراف أخطر من الشيخ محمد الباقر البهبودي ............................ … 378

من هم الخلفاء الإثنى عشر؟ ............. .................................. … 379

الفصل الرابع: مع صحابة رسول الله

مع صحابة رسول الله ....................................................... … 389

حوار مع زميل ............................................................. … 390

المَرءُ على دين خليله ......................................................... … 393

ماذا عن امرأتي نوح ولوط عليهما السلام؟ .................................. … 396

حديث (قرن الشيطان) هل أُريد به عائشة رضي الله عنها؟ ................... … 399

أم المؤمنين عائشة وموقعة الجمل ............................................ … 401

مع مبغض لعمر بن الخطاب رضي الله عنه ................................... … 405
বিষয়বস্তু … পৃষ্ঠা

খ- মদিনায় স্থলাভিষিক্ত করা সংক্রান্ত হাদিস ........................................ … 325

গ- পাখির হাদিস (হাদিসে তায়ির) .......................................................... … 334

ঘ- গৃহের হাদিস (হাদিসে দার) ............................................................ … 340

ঙ - হাদিস (আলী আমা হতে এবং আমি আলী হতে) ........................................ … 352

চ- বারো ইমাম সংক্রান্ত হাদিসসমূহ .............................................. … 357

বারো ইমামের নাম নির্দিষ্ট করে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এমন কোনো সহিহ হাদিস নেই ............... … 365

অকাট্য শিয়া বর্ণনা! ...................................................... … 371

আল-মুরতজা ইমামদের সংখ্যা বারোজনের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি! ........................... … 375

শেখ হোসেন আল-মুদাররেসি তাবাতাবাঈ-এর একটি গুরুতর স্বীকৃতি ............................ … 376

এবং শেখ মুহাম্মদ বাকের আল-বেহবুদি-র এর চেয়েও গুরুতর একটি স্বীকৃতি ............................ … 378

বারোজন খলিফা আসলে কারা? ............. .................................. … 379

চতুর্থ অধ্যায়: রাসুলুল্লাহর সাহাবীগণের প্রসঙ্গে

রাসুলুল্লাহর সাহাবীগণের প্রসঙ্গে ....................................................... … 389

একজন সহকর্মীর সাথে কথোপকথন ............................................................. … 390

মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের অনুসারী হয় ......................................................... … 393

নুহ এবং লুত (আলাইহিমাস সালাম)-এর স্ত্রীদ্বয় সম্পর্কে কী বক্তব্য? .................................. … 396

'শয়তানের শিং' সংক্রান্ত হাদিস দ্বারা কি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বোঝানো হয়েছে? ................... … 399

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা এবং জঙ্গে জামাল (উটের যুদ্ধ) ............................................ … 401

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীর সাথে ................................... … 405
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الموضوع … الصفحة

شرعنة الكذب وعقلنة اللا معقول .......................................... … 409

مخلوقات في كواكب أخرى … لكنها تتبرأ من أبي بكر وعمر! ................ … 410

المحقق الثاني وعادة لعن الشيخين (أبي بكر وعمر)!! ........................ … 411

أحسن طريقة لسب صحابة نبيك!! ......................................... … 412

{قُلْ بِئْسَمَا يَامُرُكُمْ بِهِ إِيمَانُكُمْ إِن كُنتُمْ مُّؤْمِنِين} ............................... … 414

تشبيه الاسترابادي أم المؤمنين عائشة بحيوان! ............................... … 417

سب صحابة رسول الله كفر عند أئمة أهل البيت ............................ … 421

الإمام علي بن الحسين (زين العابدين) يتبرأ من مبغضي الصحابة ............. … 422

من هو جد الإمام جعفر الصادق؟ .......................................... … 423

حب الإمام عليّ للصحابة ................................................... … 425

نهج البلاغة والثناء العطر على عمر بن الخطاب .............................. … 426

هل يُسمّي الرجل أبناءه بأسماء أعدائه؟! ................................... … 430

مالك الأشتر والشيخين أبو بكر وعمر ...................................... … 432

بيعة الرضوان تشهد لعثمان بن عفان بالرضوان .............................. … 433

شرف صحبة رسول الله .................................................... … 435

المقدّس الأردبيلي - من الذي قدّسه؟ ....................................... … 438

صحابة رسول الله كما تصورهم كتب الشيعة وعلمائها ...................... … 439

صورتان متضادتان ........................................................ … 442

الطعن في الصحابة يستلزم الطعن في الدين الذي نقلوه لهذه الأمة ............. … 447
বিষয় … পৃষ্ঠা

মিথ্যাকে বৈধতা দান এবং অযৌক্তিককে যুক্তিসিদ্ধ করা .......................................... … 409

অন্য গ্রহে বসবাসকারী সৃষ্টি... তবে তারা আবু বকর ও উমর থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করে! ................ … 410

আল-মুহাক্কিক আল-সানি এবং শাইখাইন (আবু বকর ও উমর)-কে অভিশাপ দেওয়ার অভ্যাস!! ........................ … 411

আপনার নবীর সাহাবীদের গালি দেওয়ার সর্বোত্তম পন্থা!! ......................................... … 412

{বলুন, যদি তোমরা মুমিন হও তবে তোমাদের ঈমান তোমাদেরকে যে নির্দেশ দেয় তা কতই না নিকৃষ্ট} ............................... … 414

আস্তরাবাদীর উম্মুল মুমিনীন আয়িশাকে প্রাণীর সাথে তুলনা করা! ............................... … 417

রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের গালি দেওয়া আহলে বাইতের ইমামগণের নিকট কুফরি ............................ … 421

ইমাম আলী বিন হুসাইন (যাইনুল আবেদিন) সাহাবী-বিদ্বেষীদের থেকে দায়মুক্ত ............. … 422

ইমাম জাফর আস-সাদিকের দাদা কে? .......................................... … 423

সাহাবীদের প্রতি ইমাম আলীর ভালোবাসা ................................................... … 425

নাহজুল বালাগা এবং উমর ইবনুল খাত্তাবের প্রতি সুগন্ধিময় প্রশংসা .............................. … 426

মানুষ কি তার সন্তানদের নাম শত্রুদের নামে রাখে?! ................................... … 430

মালিক আল-আশতার এবং শাইখাইন আবু বকর ও উমর ...................................... … 432

বাইয়াতে রিদওয়ান উসমান বিন আফফানের জন্য সন্তুষ্টির সাক্ষ্য দেয় .............................. … 433

রাসূলুল্লাহর সাহচর্য লাভের মর্যাদা .................................................... … 435

আল-মুকাদ্দাস আল-আরদাবিলি - তাঁকে কে পবিত্র ঘোষণা করেছে? ....................................... … 438

শিয়া গ্রন্থ এবং তাদের আলেমদের দৃষ্টিতে রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণ ...................... … 439

দুটি বিপরীতমুখী চিত্র ........................................................ … 442

সাহাবীদের সমালোচনা করা মানে তারা এই উম্মতের কাছে যে দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন তার সমালোচনা করা ............. … 447
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
الموضوع … الصفحة

لابد من التمييز بين الصحبة اللغوية والصحبة الشرعية ...................... … 456

هل في الصحابة منافقون؟ .................................................. … 460

عدالة الصحابة ............................................................. … 475

منقلبون على أعقابهم ومرتدون مِنْ أجل ماذا؟! ............................. … 506

من المرتد - صحابة رسول الله أم هؤلاء؟ ................................... … 509

هل بَشَّر القرآن الصحابة بردتهم وكفرهم؟ .................................. … 512

نموذجان حيّان للمزاجية في تفسير النصوص الشرعية ....................... … 514

أ- آية آل عمران ...................................................... … 514

ب- حديث المذادة عن الحوض ........................................ … 530

التعامل مع الصحابة من خلال أخطائهم .................................... … 539

وبالمكيال الذي تكيل يُكال لك .............................................. … 541

رؤية ناصبيّ للإمام علي ..................................................... … 542

خاتمة ....................................................................... … 548

المراجع ..................................................................... … 550
বিষয়বস্তু … পৃষ্ঠা

ভাষাগত সাহচর্য এবং শরয়ী সাহচর্যের মধ্যে পার্থক্য করা অপরিহার্য ...................... … 456

সাহাবীদের মধ্যে কি মুনাফিক ছিল? .................................................. … 460

সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা (আদালাহ) ............................................................. … 475

পশ্চাদপসরণকারী এবং ধর্মত্যাগী কিসের জন্য?! ............................. … 506

ধর্মত্যাগী কে - আল্লাহর রাসূলের সাহাবীগণ নাকি এরা? ................................... … 509

কুরআন কি সাহাবীদেরকে তাদের ধর্মত্যাগ ও কুফরের সংবাদ দিয়েছে? .................................. … 512

শরয়ী ভাষ্য ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে খামখেয়ালিপনার দুটি জীবন্ত উদাহরণ ....................... … 514

ক- সূরা আলে ইমরানের আয়াত ...................................................... … 514

খ- হাউজ (কাউসার) থেকে বিতাড়িত করার হাদিস ........................................ … 530

সাহাবীদের ভুলত্রুটির নিরিখে তাদের বিচার করা .................................... … 539

যে মাপকাঠিতে তুমি মাপো, তোমাকেও সেই মাপকাঠিতে মাপা হবে .............................................. … 541

ইমাম আলীর প্রতি একজন নাসিবীর দৃষ্টিভঙ্গি ..................................................... … 542

উপসংহার ....................................................................... … 548

তথ্যসূত্র ..................................................................... … 550
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مقدمة

لا أدري أترى وريقاتي هذه فجراً تشرق بعده أم تبقى حبيسة الدفتر فأُحرم أجرها وبركتها؟

لقد مرت عليّ السنون وأنا أقلب صفحات الكتب .. أتفكر وأتساءل .. أقرأ وأدوّن .. أضيف وأمحو .. تلتها أخرى عجاف أملت عليّ أن تبقى خواطري وأفكاري بعيدة عن القلم الذي يدوّنها ويصيغها ويسبك عباراتها.

فكنت أتصفح كل يوم ما دوّنته في دفتري لعل الله الفتاح العليم يفتح على قلبي فتحاً تجيش به مشاعري وتتوقد فيه أفكاري فأسل قلمي من غمده وأسطر ما أختزنته حافظتي بالأريحية التي ينبغي أن أسطرها به.

ثم شاء الله تعالى أن تتجمع لدي الخواطر من جديد، ويسيل حبر القلم على الورق ليسطر لك أيها القارئ هذه الكلمات.

فهذه رسالة نسجتها لك الزهور، عنوانها المحبة وموضوعها طلب الحقيقة.

فالحقيقة اليوم ومنذ زمن بعيد باتتْ حبيسة التعصب والإدعاء ..

وكلٌّ يدّعي وصلاً بليلى وليلى لا تُقر لهم بذاك

وأحسب أنّ كتابي هذا سيُرضي أقواماً ويسخط آخرين، شأنه شأن الحقيقة المجردة ترضي الباحثين المتجردين وتُسخط المتعصبين المنحازين.

لكني على يقين مِنْ أَنَّ الكلمة الحرة التي لا تعرف الزيف هي شمعة تضيء أبداً .. فإن كُتِب لي أن أُعادى فأي صاحب كلمة حق يَسلم في زماننا فضلاً عن من مضى.

محمد الخضر
ভূমিকা

আমি জানি না আমার এই নাতিদীর্ঘ পাণ্ডুলিপিগুলো এমন কোনো উষালোকের মুখ দেখবে কি না যার পর সূর্যোদয় ঘটবে, নাকি এগুলো খাতায় বন্দি হয়েই রবে আর আমি এর সওয়াব ও বরকত থেকে বঞ্চিত হব?

দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়েছে কিতাবের পাতা উল্টাতে উল্টাতে... চিন্তামগ্ন হয়েছি, প্রশ্ন জেগেছে মনে... পাঠ করেছি ও তা লিপিবদ্ধ করেছি... কখনো নতুন কিছু যুক্ত করেছি, কখনোবা মুছে ফেলেছি। অতঃপর এল কিছু রুক্ষ ও অনুর্বর সময়, যা আমাকে বাধ্য করল যেন আমার ভাবনা ও চিন্তাগুলো সেই কলম থেকে দূরে থাকে যা সেগুলোকে নথিবদ্ধ করে, সুশৃঙ্খল রূপ দান করে এবং শব্দশৈলীতে গেঁথে তোলে।

প্রতিদিন আমি আমার খাতায় লিপিবদ্ধ কথাগুলো উল্টে দেখতাম, এই আশায় যে—হয়তো মহাজ্ঞানী ও মহাবিজয়ী আল্লাহ আমার হৃদয়ে এমন এক প্রজ্ঞার দুয়ার উন্মোচন করবেন, যাতে আমার অনুভূতিগুলো উথলে উঠবে এবং চিন্তাগুলো প্রজ্জ্বলিত হবে; ফলে আমি আমার কলমকে কোষমুক্ত করব এবং আমার স্মৃতিতে সঞ্চিত জ্ঞানকে সেই স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে লিপিবদ্ধ করব, যা কাম্য।

অতঃপর আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় আমার চিন্তাগুলো পুনরায় পুঞ্জীভূত হলো এবং কলমের কালি কাগজের বুকে ঝরতে শুরু করল—হে পাঠক! আপনার জন্য এই শব্দমালা রচনা করতে।

এটি এমন এক পত্র যা আপনার জন্য পুষ্পরাজি দিয়ে গাঁথা হয়েছে; যার শিরোনাম হলো ‘ভালোবাসা’ আর বিষয়বস্তু হলো ‘সত্যের অন্বেষণ’।

কেননা সত্য আজ এবং সুদীর্ঘকাল যাবৎ গোঁড়ামি ও অসার দাবির বেড়াজালে বন্দি হয়ে আছে...

প্রত্যেকেই লায়লার সাথে সম্পর্কের দাবি করে, অথচ লায়লা তাদের কারো দাবি স্বীকার করে না।

আমি মনে করি, আমার এই গ্রন্থটি একদল মানুষকে সন্তুষ্ট করবে আর অন্যদের করবে রুষ্ট। এটিই হলো নিরাবরণ সত্যের ধর্ম—যা নিরপেক্ষ গবেষকদের তুষ্ট করে আর পক্ষপাতদুষ্ট সংকীর্ণমনাদের ক্ষুব্ধ করে।

তবে আমি নিশ্চিত যে, কৃত্রিমতামুক্ত স্বাধীন বাক্য হলো এমন এক প্রদীপ যা চিরকাল আলোকবর্তিকা হয়ে থাকে। আর যদি আমার ভাগ্যে শত্রুতার শিকার হওয়া লেখা থাকে, তবে বর্তমান যুগে সত্যের পথে চলা কোন ব্যক্তিটিই বা নিরাপদ রয়েছে? পূর্বসূরিদের কথা তো বলাই বাহুল্য।

মুহাম্মদ আল-খিদর
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌خطوات إلى الأمام …

(ينبغي من كل مكلّف أن يطرح العصبية ويصحح النية ويستعمل النظر بالفطرة التي فطر الله الناس عليها ولا يقدّم عليها ما لقنه أهل مذهبه)

 

الإمام ابن الوزير
সামনের দিকে পদক্ষেপ …

(প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) উচিত অন্ধ গোঁড়ামি বর্জন করা, নিয়ত পরিশুদ্ধ করা এবং সেই ফিতরাত বা স্বভাবজাত বুদ্ধিকে কাজে লাগানো যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন; আর স্বীয় মাযহাবের অনুসারীদের শেখানো বুলি বা মতাদর্শকে যেন এর ওপর প্রাধান্য না দেয়।)

 

ইমাম ইবনুল উযীর
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الوحدة التي نريد ..

ننادي بالوحدة فلا نجني إلا الفرقة، وننشد الاجتماع فلا نجني إلا الشتات.

ها نحن نزرع الشوك فلا نحصد إلا الألم … ونشتكي من عمق جراحات الأمة ونحن السكين التي تُقطّع أوصالها.

كأيِّ مسلم .. حُق لي أن أتحسر على تاريخ عظيم وبطولات وتضحيات قادتنا بالأمس إلى الرفعة فتناسيناها وما عدنا نذكرها إلا في كتبنا المدرسية أو مسابقاتنا الرمضانية أو وسائلنا الإعلامية كمسلسلات وتمثيليات هي إلى تشويه التاريخ والرموز أقرب منها إلى النطق بالحقيقة.

حُق لي أن أتحسر على همم عالية تربت في أحضان الإسلام فأخرجت لنا جهابذة الناس على مر التاريخ وفي شتى الميادين، لكنها باتت اليوم أمجاداً نتغنى بها ونذرف عليها الدموع في أحسن أحوالنا.

نعم .. حُق لي ولك أن نحزن، وأن نستحث إيماننا وهمتنا وعاطفتنا للعودة إلى الصدارة من جديد.

لقد كانت عيناي تتطلعان إلى الوحدة … تترقبان اليوم الذي تنكشف فيه عن الأمة الغمة …

تمنيت لو أنّ بيدي أن أجمّع هذا الشتات .. وأنّ أحل عقدة لم يجرؤ مسلمو اليوم على حلها حتى الآن ..

لكن صوتي كان ضعيفاً .. تماماً كإدراكي لأسباب هذه الفرقة … كنت عاطفياً جداً .. أريد لوضع الأمة أن يتغير بغمضة عين .. كأنّ الفرقة والاختلاف على قضايا هامشية يُمكن أن تُهمّش وأن تُطرح بعيداً عن الطريق.
আমরা যে ঐক্য চাই ..

আমরা ঐক্যের ডাক দিই, অথচ ফল হিসেবে পাই কেবল বিভেদ; আমরা সংহতি খুঁজি, অথচ লাভ করি কেবল বিচ্ছিন্নতা।

এই তো আমরা কাঁটা রোপণ করছি, তাই যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই কাটছি না … আমরা উম্মাহর ক্ষতের গভীরতা নিয়ে অভিযোগ করি, অথচ আমরাই সেই ছুরি যা এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করছে।

যেকোনো মুসলমানের মতো আমারও সেই মহান ইতিহাস, বীরত্ব ও ত্যাগের জন্য আফসোস করার অধিকার আছে, যা অতীতে আমাদের উচ্চ শিখরে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা তা ভুলে গিয়েছি এবং এখন কেবল পাঠ্যপুস্তক, রমজানের প্রতিযোগিতা কিংবা সংবাদমাধ্যমে সিরিয়াল ও নাটকের মধ্যেই সেগুলোর চর্চা করি; অথচ এগুলো সত্য প্রকাশের চেয়ে ইতিহাস ও মহান ব্যক্তিদের বিকৃতিরূপ উপস্থাপনেরই বেশি কাছাকাছি।

আমার অধিকার আছে সেই সুউচ্চ সংকল্পের জন্য আক্ষেপ করার, যা ইসলামের ক্রোড়ে লালিত হয়েছিল এবং ইতিহাসের পরিক্রমায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের জন্য প্রাজ্ঞ মনীষীদের উপহার দিয়েছিল। কিন্তু আজ সেগুলো কেবলই আমাদের গুণগান গাইবার ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে এবং বড়জোর আমরা সেগুলোর জন্য অশ্রুপাত করি।

হ্যাঁ, আমার ও আপনার দুঃখিত হওয়ার অধিকার আছে; আর পুনরায় শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন হওয়ার জন্য আমাদের ঈমান, সংকল্প ও আবেগকে জাগ্রত করা প্রয়োজন।

আমার দুই চোখ ঐক্যের পানে চেয়ে ছিল … সেই দিনের অপেক্ষায় ছিল যখন এই উম্মাহর ওপর থেকে দুর্যোগের মেঘ অপসারিত হবে …

আমি যদি পারতাম তবে এই ছিন্নভিন্ন অবস্থাকে একত্রিত করতাম... এবং এমন এক জট খুলতাম যা খোলার সাহস বর্তমান যুগের মুসলমানরা আজও করতে পারেনি...

কিন্তু আমার কণ্ঠ ছিল দুর্বল... ঠিক যেমন এই বিভেদের কারণগুলো সম্পর্কে আমার উপলব্ধি ছিল সীমিত … আমি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ছিলাম; আমি চেয়েছিলাম চোখের পলকে উম্মাহর অবস্থার পরিবর্তন হোক। যেন প্রান্তিক বা গৌণ বিষয় নিয়ে বিভেদ ও মতপার্থক্যগুলোকে একপাশে সরিয়ে রাখা যায় এবং পথ থেকে দূরে নিক্ষেপ করা যায়।
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
كبرت وكبر معي هذا الهم .. وبت أدرك ما لم أدركه من قبل .. وبت أتساءل عن الوحدة التي نتكلم عنها ونتطلع إليها .. أهي الوحدة الصورية التي نعيشها للحظة ونفتقدها طوال العمر أم تلك التي تضمن لبنياننا البقاء متماسكاً وصلباً أمام التحديات؟

أهي الوحدة التي تكون مبنية على كتاب الله عز وجل وسنة نبيه عليه الصلاة والسلام أم تلك التي تكون على حساب كتاب الله وسنة نبيه؟!

لقد كُنتُ أستحضر أمامي دائماً علاقتنا مع أهل الكتاب الذين أنزل الله عليهم الكتب وأرسل إليهم الرسل، عندما انحرفوا عن دين أنبيائهم ووصايا ربهم، جاءهم الإسلام مصححاً لما ورثوه من الضلال، داعياً إياهم إلى تصحيح المسار وإلى الاندماج في لواء الحق فلم يرتض ما هم عليه من الضلال بحجة أنهم أتباع أنبياء بل دعاهم إلى المصارحة مع النفس وإلى عرض عقائدهم على وحي السماء.

فللوحدة مقاييس شرعية … وإذا أراد المنتسبون إلى الإسلام من شتى الفرق الاتحاد مع بعضهم البعض فلا بد أن تكون الوحدة على عقيدة الإسلام التي جاء بها محمد صلى الله عليه وآله وسلم لا على عقائد شتى لا تمت للإسلام بصلة.

وتأمل قول الله عز وجل للمؤمنين عنهم {فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنتُم بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوا وَّإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} (1) وتأمل سيرة النبي صلى الله عليه وآله وسلم، ففيها العبرة والعظة.

ففي زمن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم كانت فئة ممن تتلبس بلباس الإسلام وتنطق بالشهادتين نطقاً دون أن تعيش معنى تلك الشهادتين في حياتها … كان لتلك الفئة

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة آية 137
বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমার এই উদ্বেগও বেড়েছে... এবং আমি এমন কিছু উপলব্ধি করতে শুরু করেছি যা আগে বুঝিনি... এবং আমি সেই ঐক্য সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করেছি যেটির কথা আমরা বলি এবং যেটির প্রত্যাশা করি... এটি কি কেবল সেই বাহ্যিক বা লৌকিক ঐক্য যা আমরা মুহূর্তের জন্য উপভোগ করি আর সারা জীবন তার অভাব বোধ করি, নাকি সেই ঐক্য যা আমাদের ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে সুসংহত ও সুদৃঢ় রাখার নিশ্চয়তা দেয়?

এটি কি সেই ঐক্য যা মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত, নাকি সেই ঐক্য যা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহকে বিসর্জন দিয়ে অর্জিত হয়?!

আমি সবসময় আহলে কিতাবদের সাথে আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি স্মরণে রাখতাম, যাদের কাছে আল্লাহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং রাসুল পাঠিয়েছেন। তারা যখন তাদের নবীদের ধর্ম এবং তাদের রবের উপদেশ থেকে বিচ্যুত হলো, তখন ইসলাম তাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিভ্রান্তিগুলো সংশোধন করতে এবং তাদের সঠিক পথে ফিরে আসার ও সত্যের পতাকাতলে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাতে এলো। তারা নবীদের অনুসারী—কেবল এই অজুহাতে ইসলাম তাদের ভ্রান্তির ওপর সন্তুষ্ট থাকেনি, বরং তাদের নিজেদের সাথে অকপট হতে এবং তাদের আকিদা বা বিশ্বাসসমূহকে আসমানী ওহীর কষ্টিপাথরে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।

সুতরাং ঐক্যের সুনির্দিষ্ট শরয়ী মানদণ্ড রয়েছে … এবং যদি ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দলের লোকজন একে অপরের সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে চায়, তবে সেই ঐক্য অবশ্যই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যে ইসলামি আকিদা নিয়ে এসেছেন তার ওপর ভিত্তি করে হতে হবে, এমন কোনো বিচিত্র আকিদার ওপর নয় যার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।

তাদের সম্পর্কে মুমিনদের প্রতি মহান আল্লাহর বাণীটি লক্ষ্য করুন: {অতএব তোমরা যে বিষয়ে ঈমান এনেছ, তারাও যদি তদ্রূপ ঈমান আনে, তবে তারা অবশ্যই সুপথ পাবে; আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা কেবল বিরোধেই লিপ্ত থাকবে। সুতরাং তাদের মোকাবিলায় আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} (১) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত বা জীবনচরিত পর্যবেক্ষণ করুন, এতে রয়েছে শিক্ষা ও নসিহত।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে এমন একটি দল ছিল যারা ইসলামের লেবাস ধারণ করত এবং মুখে শাহাদাতাইন (কালিমা) উচ্চারণ করত, অথচ তাদের জীবনে সেই শাহাদাতাইনের মর্মার্থ প্রতিফলিত হতো না … সেই দলটির জন্য ছিল

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৩৭
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
من يستمع لها من المؤمنين إحساناً للظن بها، فقال الله عز وجل {لَوْخَرَجُوا فِيكُم مَّا زَادُوكُمْ إِلَاّ خَبَالاً ولأَوْضَعُوا خِلَالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ وَاللهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ} (1)

لكننا نغفل عن هذه الحقيقة أو نتغافل عنها فنجعل عواطفنا هي الحكم، والإسلام هو التبع لهذه العواطف …

 

‌‌دين موروث ..

لو وُلدت في منطقة (النجف) أو (القطيف) أو (قُم) فإنك حتماً ستكون شيعياً إثنى عشرياً، لأنّ البيئة التي نشأتَ بها هي بيئة شيعية وأبواك بلا شك كذلك شئت أم أبيت والحال معك كذلك لو أنك وُلدت في (الرياض) أو (القاهرة) أو (وهران)، فإنك حتماً ستكون سنياً، لأنّ البيئة والأسرة أملتْ عليك أن تكون كذلك.

لكن أترى الحق فيما تحدده لنا بيئتنا؟ أم بما يعرفه المرء من دلائل وبراهين؟

حاول أن تتفكر إن كنت سنياً بزميل شيعي إثني عشري يُكثر جدالك ومحاجتك ويتهمك بالنصب وبغض أهل البيت، لو أنّ هذا الشيعي وُلد لأبوين سنيين وفي بلد سني، ألا ترى أنه سيكون أول مَنْ يساندك ويشد على عضديك وربما يتحمس للرد على الشيعة الإثني عشرية أكثر منك!، في حين أنه اليوم أشد الناس جدالاً لك وعصبية في حوارك؟

ألا ترى أننا نبني قناعاتنا الدينية مِن منطلق ما وجدنا عليه آباءنا لا مِن منطلق التجرد للحق واتباعه؟

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة آية 47
মুমিনদের মধ্যে যারা তাদের কথা শ্রবণ করে তাদের প্রতি সুধারণার বশবর্তী হয়ে, তখন মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তারা তোমাদের সাথে বের হতো, তবে তোমাদের বিপর্যয়ই বৃদ্ধি করত এবং তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা ছুটাছুটি করত; আর তোমাদের মধ্যে তাদের কথা শোনার মতো লোক রয়েছে। আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।} (১)

কিন্তু আমরা এই সত্য সম্পর্কে গাফেল থাকি অথবা তা উপেক্ষা করি, ফলে আমরা আমাদের আবেগকেই বিচারক বানিয়ে ফেলি এবং ইসলাম এই আবেগের অনুগামী হয়ে পড়ে …

 

‌‌উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ধর্ম ..

আপনি যদি নাজাফ, কাতিফ অথবা কোম অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করতেন, তবে আপনি অবধারিতভাবেই একজন বারো ইমামী শিয়া হতেন। কারণ আপনি যে পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন তা ছিল শিয়া পরিবেশ এবং আপনার পিতামাতাও নিঃসন্দেহে তাই ছিলেন, চাই আপনি তা পছন্দ করুন বা না করুন। একইভাবে আপনি যদি রিয়াদ, কায়রো অথবা ওরানে জন্মগ্রহণ করতেন, তবে আপনি অবশ্যই একজন সুন্নি হতেন, কারণ পরিবেশ ও পরিবার আপনাকে তাই হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

কিন্তু আপনি কি মনে করেন যে, সত্য আমাদের পরিবেশ দ্বারা নির্ধারিত হয়? নাকি একজন মানুষ যা দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে জানতে পারে তার দ্বারা?

আপনি যদি সুন্নি হয়ে থাকেন, তবে আপনার একজন বারো ইমামী শিয়া সহকর্মীর কথা চিন্তা করার চেষ্টা করুন, যে আপনার সাথে প্রচুর বিতর্ক ও যুক্তি প্রদান করে এবং আপনার বিরুদ্ধে আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণার অভিযোগ আনে। এই শিয়া ব্যক্তিটি যদি সুন্নি পিতামাতার ঘরে এবং সুন্নি দেশে জন্ম নিতেন, তবে আপনি কি দেখতেন না যে, তিনি আপনাকে সমর্থনকারী ও আপনার শক্তি বৃদ্ধিকারী প্রথম ব্যক্তি হতেন? এমনকি সম্ভবত তিনি আপনার চেয়েও বেশি উৎসাহের সাথে বারো ইমামী শিয়াদের খণ্ডন করতে আপনার চেয়েও অগ্রণী হতেন! অথচ আজ তিনি আপনার সাথে বিতর্কে সবচেয়ে কঠোর এবং আপনার সাথে আলাপে অত্যন্ত উগ্র?

আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের অনুসরণের ভিত্তিতে গড়ে তুলছি, সত্যের অন্বেষণ ও তার অনুসরণের উদ্দেশ্যে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়?

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ্, আয়াত ৪৭
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأنّ حديث (كل مولود يولد على الفطرة فأبواه يُهوِّدانِهِ أو يُنصِّرانِهِ أو يُمَجِّسانِهِ …) (1) ينطبق أحياناً على قناعاتنا المذهبية؟

الدين والمذهب بالنسبة لكثير من المسلمين اليوم كأثاث المنزل أو كالأموال والأراضي .. ورثوه عن آبائهم وأجدادهم .. وهم على خطاهم سائرون .. هذا إن لم يكن الدين في حياتهم أقل من الدينار والدرهم ومتاع الدنيا الزائل.

بالأمس كانت الأمم السابقة المكذّبة للرسل تجابه الحق الذي جاءت به الرسل قائلة {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِم مُّقْتَدُونَ} (2)

فكان جواب الرسول {قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُم بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدتُّمْ عَلَيْهِ آبَاءكُمْ} فكان رد هؤلاء المتعصبين لباطلهم، الجاهلين لحقيقة أمرهم هو {إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ كَافِرُونَ}!

المشهد يتكرر، لكن ليس بين رسل الله وبين قوم كفار وثنيين، وإنما بين كلمة حق وبين متعصبين ألفوا ما وجدوا عليه آباءهم، فردّوا الحق وتشبثوا بالباطل.

وللأمير الصنعاني رحمه الله كلمات جميلة في هذا المعنى يقول فيها: (ولنقدم قبل المقصود أصلاً مهماً وهو أنّ الله تبارك وتعالى قد أخبر عن الكفار بأنّ نظرهم مقصور على اتباع الآباء في كتابه العزيز في غير آية عايباً عليهم ذلك، مثل: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئاً وَلَا يَهْتَدُونَ} (3)، {قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في صحيحه - كتاب الجنائز - باب (ما قيل في أولاد المشركين) - حديث رقم (1385) وذكره ابن بابويه القمي في كتابه (علل الشرائع 2/ 376 باب (العلة التي من أجلها سقطت الجزية عن النساء والمقعد والأعمى والشيخ الفاني والولدان ورفعت عنهم) - رواية رقم (2).

(2) سورة الزخرف آية 23

(3) سورة البقرة آية 170
এবং "প্রতিটি নবজাতক ফিতরাত (সহজাত ধর্মবিশ্বাস)-এর ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার মাতা-পিতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান অথবা অগ্নিউপাসক হিসেবে গড়ে তোলে..." (১) এই হাদিসটি কি মাঝেমধ্যে আমাদের মাযহাবী বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় না?

বর্তমানকালের অনেক মুসলমানের কাছে ধর্ম ও মাযহাব ঘরের আসবাবপত্র কিংবা ধন-সম্পদ ও ভূ-সম্পত্তির মতো; যা তারা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে এবং তারা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছে। উপরন্তু, অনেকের জীবনে ধর্মের গুরুত্ব দিনার-দিরহাম কিংবা পার্থিব নশ্বর ভোগবিলাসের চেয়েও কম।

অতীতে রাসুলদের অস্বীকারকারী জাতিসমূহ তাদের আনীত সত্যের মোকাবিলা করত এই বলে যে, {নিশ্চয়ই আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।} (২)

তখন রাসুলের উত্তর হতো—{তিনি বলতেন, আমি কি তোমাদের কাছে এমন কিছু নিয়ে আসব যা তোমাদের পিতৃপুরুষদের অনুসৃত পথের চেয়েও উৎকৃষ্ট হিদায়াত?} তখন নিজ বাতিল মতাদর্শের প্রতি গোঁড়া এবং নিজ অবস্থার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিরা বলত—{নিশ্চয়ই তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ, তা আমরা অস্বীকার করি!}!

সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, তবে আল্লাহর রাসুল ও মূর্তিপূজারী কাফির সম্প্রদায়ের মধ্যে নয়; বরং সত্য বাণী এবং এমন একদল গোঁড়া মানুষের মধ্যে যারা তাদের পূর্বপুরুষদের রীতিনীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, ফলে তারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করছে এবং বাতিলের ওপর অবিচল রয়েছে।

আমির আস-সানআনী (রহ.) এ বিষয়ে অতি চমৎকার কিছু কথা বলেছেন। তিনি বলেন: (মূল আলোচনায় প্রবেশের আগে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি উপস্থাপন করছি, আর তা হলো—আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর মহাগ্রন্থের একাধিক আয়াতে কাফিরদের এই স্বভাবের নিন্দা করে জানিয়েছেন যে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেবল পূর্বপুরুষদের অনুকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যেমন: {যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অনুসরণ করো, তখন তারা বলে—না, বরং আমরা তা-ই অনুসরণ করব যার ওপর আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি। যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই বুঝত না এবং তারা সৎপথেও ছিল না।} (৩), {তার বিলাসী ব্যক্তিরা বলেছিল—নিশ্চয়ই আমরা...

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারিতে বর্ণিত—জানাজা অধ্যায়—পরিচ্ছেদ (মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে)—হাদিস নং (১৩৮৫)। ইবনে বাবুওয়াইহ আল-কুম্মী তাঁর 'ইলালুশ শারাঈ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন (২/৩৭৬, পরিচ্ছেদ: যে কারণে নারী, পঙ্গু, অন্ধ, জরাগ্রস্ত বৃদ্ধ ও শিশুদের ওপর থেকে জিজিয়া রহিত করা হয়েছে)—বর্ণনা নং (২)।

(২) সুরা আয-যুখরুফ, আয়াত ২৩

(৩) সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৭০
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَجَدْنَا آبَاءنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِم مُّقْتَدُون} (1)، {مَا يَعْبُدُونَ إِلَاّ كَمَا يَعْبُدُ آبَاؤُهُم مِّن قَبْلُ} (2) أي ليس لهم مستند سوى ذلك {قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءنَا كَذَلِكَ يَفْعَلُونَ} (3)، {قَالُوا أَجِئْتَنَا لِتَلْفِتَنَا عَمَّا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا} (4) فهم في جميع الآيات قاصرون نظرهم على اتباع الآباء لحسن الظن بهم حتى صار ذلك عادة لهم بل فخراً يُعَيّرون به مَنْ خالفهم، ويضربون به المثل حتى سمّوا محمداً صلى الله عليه وآله وسلم ابن أبي كبشة، لأنه عبد ما لم يعبد آباؤه كما عبد أبو كبشة الشِّعرى (5)، وحتى ذكرّوا بذلك أبا طالب وهو في طريق الموت وقالوا له: أترغب عن ملة عبد المطلب؟!

ولذلك خص الأبوين في الإخبار عن تغيير الفطرة "وإنما يهودانه أو ينصرانه" ولذلك مقت الله الذين اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أرباباً من دون الله، وفسَّر رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم اتخاذهم بأنهم كانوا إذا أحلوا لهم شيئاً استحلوه وإذا حَرَّموا عليهم شيئاً حرموه كما أخرجه الترمذي عن عَدِّي بن حاتم رضي الله عنه.

فمن عقل وأنصف فلينظر إلى جميع بني آدم في القديم والحديث في الملل الكفرية ثم المذاهب الإسلامية! بعد إخراجه للأنبياء صلى الله عليهم ومن سار على سيرتهم من السابقين

--------------------------------------------

(1) سورة الزخرف آية 23

(2) سورة هود آية 109

(3) سورة الشعراء آية 74

(4) سورة يونس آية 78

(5) كانت خزاعة تعبد (الشِّعرى) وهو نجم من نجوم برج الجوزاء شديد الضياء، وأول من سَنَّ لهم ذلك رجل من أشرافهم يُقال له (أبوكبشة) عبدها، وقال: لأنّ النجوم تقطع السماء عرضاً والشِّعرى طولاً فهي مخالفة لها فعبدتها خزاعة، فلما خرج رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم على خلاف العرب في الدين سمّوه (ابن أبي كبشة) لخلافه إياهم كخلاف أبي كبشة في عبادة الشِّعرى.
{আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি} (১), {তারা কেবল তারই ইবাদত করে, তাদের পিতৃপুরুষরা ইতিপূর্বে যার ইবাদত করত} (২) অর্থাৎ এর বাইরে তাদের কাছে অন্য কোনো প্রমাণ নেই {তারা বলল, বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এরূপই করতে দেখেছি} (৩), {তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যে, আমাদের পিতৃপুরুষদের যে আদর্শের ওপর পেয়েছি তা থেকে আমাদের বিচ্যুত করবে?} (৪) সুতরাং এই সকল আয়াতে দেখা যায় যে, তাদের দৃষ্টি কেবল পূর্বপুরুষদের প্রতি সুধারণার বশবর্তী হয়ে তাদের অনুসরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এমনকি তা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল; বরং এটি তাদের নিকট একটি গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়েছিল যার মাধ্যমে তারা বিরোধীদের লজ্জিত করত। তারা একে দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করত, এমনকি তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে ‘ইবনে আবি কাবশাহ’ বলে ডাকত। কারণ, তিনি এমন কিছুর ইবাদত করতেন যার ইবাদত তাঁর পিতৃপুরুষরা করত না, যেমনটি আবু কাবশাহ ‘শি’রা’ নক্ষত্রের ইবাদত করেছিল (৫)। এমনকি আবু তালিবের মৃত্যুর সময়ও তারা তাকে এই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল এবং তাকে বলেছিল: ‘তুমি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মাদর্শ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ?’

এ কারণেই ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতি পরিবর্তনের বর্ণনায় পিতা-মাতাকে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে যে, "তার পিতা-মাতাই তাকে ইহুদি বা নাসারা বানায়।" আর একারণেই আল্লাহ তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন যারা তাদের ধর্মগুরু ও সংসারবিরাগীদের আল্লাহর পরিবর্তে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাদের প্রভু হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাখ্যা এই দিয়েছেন যে, তারা যখন তাদের জন্য কোনো কিছু হালাল ঘোষণা করত তখন তারা সেটাকে হালাল মনে করত এবং যখন তারা তাদের ওপর কোনো কিছু হারাম করত তখন তারা সেটাকে হারাম মনে করত; যেমনটি ইমাম তিরমিজি আদি ইবনে হাতিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং যার বিবেক ও ন্যায়বোধ আছে, সে যেন নবীগণ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিম) এবং পূর্ববর্তীদের মধ্যে যারা তাঁদের পথে চলেছেন তাঁদের বাদে, প্রাচীন ও আধুনিককালের সকল বনী আদমের প্রতি কুফরি ধর্মাদর্শ ও ইসলামী মাযহাবসমূহের ক্ষেত্রে দৃষ্টিপাত করে!

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত ২৩

(২) সূরা হুদ, আয়াত ১০৯

(৩) সূরা আশ-শুআরা, আয়াত ৭৪

(৪) সূরা ইউনুস, আয়াত ৭৮

(৫) খুযাআ গোত্র ‘শি’রা’ (লুব্ধক) নক্ষত্রের পূজা করত, যা ছিল মিথুন রাশির অত্যন্ত উজ্জ্বল একটি নক্ষত্র। তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম তাদের এক উচ্চবংশীয় ব্যক্তি এই প্রথা চালু করেন যাকে ‘আবু কাবশাহ’ বলা হতো; তিনি এর পূজা করেছিলেন। তিনি বলতেন: নক্ষত্রসমূহ আকাশকে আড়াআড়িভাবে অতিক্রম করে, কিন্তু শি’রা নক্ষত্র লম্বালম্বিভাবে অতিক্রম করে, তাই এটি অন্যদের চেয়ে আলাদা। ফলে খুযাআ গোত্র এর ইবাদত শুরু করে। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ধর্মের ব্যাপারে আরবদের প্রচলিত রীতির বিপরীতে আত্মপ্রকাশ করলেন, তখন আরবরা তাঁকে ‘ইবনে আবি কাবশাহ’ বলে ডাকতে শুরু করল, কারণ তিনি তাদের মতাদর্শের বিরোধিতা করেছিলেন যেমনটি আবু কাবশাহ শি’রা নক্ষত্রের ইবাদতের মাধ্যমে প্রচলিত রীতির বিরোধিতা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
والتابعين وقليل ما هم بالنظر إلى الخليقة، فإنه يجد الناسَ تبعاً لما ألفوه من اتباع الآباء بمجرد تقليد وهوى ومحبة للجمود على دين الآباء!!) (1)

 

‌‌حبك للشيء يعمي ويصم ..

إنّ ورقة بيضاء تضعها أمام عينيك كفيلة بأن تحجب عنك رؤية العالم بأسره … هذا العالم الفسيح المترامي الأطراف الذي عجز الإنس والجان عن اختراقه والوصول إلى أقصاه يمكن أن تحجبه قصاصة ورق صغيرة بحجم كف اليدِّ إذا ما وُضعت أمام العينين … كذلك هو الوهم يحجب ما وراءه.

وما مِنْ وهم أعظم وأشأم على صاحبه من وهم الحب، (فإنه إذا استحكم الحب وقوي أسكر المحب) (2).

فالعاشق الولهان لا يرى في معشوقته إلا الكمال والتمام ولا يقف على عيب فيها يُنكره لأجل ذلك عَرَّّف الفيلسوف أرسطاطاليس (3) العشق بأنه (عمى الحس عن إدراك عيوب المحبوب).

--------------------------------------------

(1) إيقاظ الفكرة لمراجعة الفطرة 45 - 50

(2) روضة المحبين ونزهة المشتاقين 1/ 152

(3) يعتبر أرسطاطاليس أحد أفضل حكماء زمانه وأعلمهم، أخذ الحكمة عن أفلاطون تلميذ سقراط، وعُرِف عنه مخالفته لأستاذه في مسائل عدة، فلما سُئِل عن ذلك أجاب: أفلاطون صديق، والحقّ صديق، إلا أنّ الحقّ أولى بالصداقة منه.
...এবং অনুসারীগণ, আর সৃষ্টির তুলনায় তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য। কেননা তিনি মানুষকে তাদের পিতৃপুরুষদের অনুসরণে অভ্যস্ত হতে দেখেন, যা কেবল অন্ধ অনুকরণ, খেয়ালখুশি এবং পিতৃপুরুষদের ধর্মের ওপর স্থবির থাকার আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত!!) (১)

 

‌‌কোনো বস্তুর প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে অন্ধ ও বধির করে দেয় ..

তোমার চোখের সামনে রাখা একটি সাদা কাগজ সমগ্র বিশ্ব দেখা থেকে তোমাকে বঞ্চিত করার জন্য যথেষ্ট … এই বিশাল ও বিস্তৃত পৃথিবী, যা পাড়ি দিতে এবং যার শেষ সীমানায় পৌঁছাতে মানুষ ও জিন জাতি অক্ষম হয়েছে, তা হাতের তালুর সমান একটি ক্ষুদ্র কাগজের টুকরো দ্বারা আড়াল হয়ে যেতে পারে যদি তা চোখের সামনে রাখা হয় … মোহ বা বিভ্রমও ঠিক তদ্রূপ, যা তার অন্তরালে থাকা সত্যকে আড়াল করে রাখে।

আর মানুষের জন্য ভালোবাসার মোহের চেয়ে বড় এবং অমঙ্গলজনক কোনো মোহ নেই, (কেননা ভালোবাসা যখন বদ্ধমূল ও শক্তিশালী হয়, তখন তা প্রেমিককে মোহগ্রস্ত করে ফেলে) (২)।

পাগলপারা প্রেমিক তার প্রিয়ার মধ্যে কেবল পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্বই দেখে এবং তার এমন কোনো খুঁত তার চোখে পড়ে না যা সে অস্বীকার করবে। এই কারণেই দার্শনিক অ্যারিস্টটল (৩) প্রেমকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে, তা হলো (প্রিয়জনের দোষত্রুটি অনুধাবন করার ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়সমূহের অন্ধত্ব)।

--------------------------------------------

(১) ইঁক্বজুল ফিকরা লি-মুরাজাআতিল ফিতরাহ ৪৫ - ৫০

(২) রওদাতুল মুহিব্বীন ওয়া নুজহাতুল মুশতাক্বীন ১/ ১৫২

(৩) অ্যারিস্টটল তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাজ্ঞ ও মহাজ্ঞানী হিসেবে গণ্য হন। তিনি সক্রেটিসের ছাত্র প্লেটোর নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করেন। বিভিন্ন বিষয়ে নিজ শিক্ষকের সাথে তাঁর মতবিরোধের বিষয়টি সুবিদিত। যখন এ সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, তিনি উত্তর দিলেন: "প্লেটো আমার বন্ধু এবং সত্যও আমার বন্ধু, তবে প্লেটোর চেয়ে সত্যই বন্ধুত্বের অধিক দাবিদার।"
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
هذا في العشق، والخَطْبُ في العقائد أشد وأنكى، فإنّ المرء يرتبط بعقيدته ارتباطاً مصيرياً لا يكاد يُتصور في غيره، ولعل الحروب العقائدية بين أهل الملل والمساجلات الكلامية فيما بينهم خير شاهد على ذلك.

وحديث النبي صلى الله عليه وآله وسلم الذي رواه أبو داود في "السنن": (حُبُّكَ للشيء يُعمي ويُصِمّ) (1) أحسن ما في هذا الباب، وفيه ما يفيد معنى زائداً على كلام الحكماء، فإنّ حب الشيء والتعلق به قد لا يعمي البصر فحسب بل يصمّ الآذان عن سماع عيوب المحبوب ولو نبهه إليها منبّه!

يقول أبو الطيب محمد شمس الحق في شرح الحديث: (أي يجعلك أعمى عن رؤية معايب الشيء المحبوب بحيث لا تبصر فيه عيباً ويجعلك أصم عن سماع قبائحه بحيث لا تسمع فيه كلاماً قبيحاً لاستيلاء سلطان المحبة على فؤادك) (2).

ولما سُئِل اللغوي ثعلب عن معنى الحديث قال: يَعمي العين عن النظر إلى مساويه ويصم الأذن عن سماع العذل فيه، وأنشأ يقول:

--------------------------------------------

(1) سنن أبي داود – كتاب الأدب – باب في الهوى – حديث رقم (5130)، والحديث ضعّفه من ضعّفه من المحدّثين لأجل أبي بكر بن أبي مريم فإنه ضعيف وهو وإن لم يُتهم بالكذب لكنه كان رديء الحفظ كثير الغرائب، فالحديث مظنة أن يكون من غرائبه ومنفرداته التي لا تُقبل، غير أني وقفت على إسناد آخر للحديث ليس فيه ابن أبي مريم، فقد روى الأصبهاني في "الأمثال في الحديث النبوي ص153" بسند حسن عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير عن أبيه قال: (كنا في قافلة فخرج علينا بلال بن أبي الدرداء فقطع علينا الحديث، فقلنا: ابن صاحب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، وقال: سمعت أبي يقول: سمعت رسول الله يقول: حبك الشيء يعمي ويصم).

(2) عون المعبود في شرح سنن أبي داود 14/ 28
এটি তো অনুরাগের (ইশক) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে আকিদাহ বা বিশ্বাসের বিষয়টি আরও গভীর ও ভয়াবহ। কেননা মানুষ তার আকিদাহর সাথে এমন এক নিয়তিনির্ধারক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, যা অন্য কোনো ক্ষেত্রে কল্পনা করাও কঠিন। সম্ভবত বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যকার আদর্শিক যুদ্ধ এবং তাদের পারস্পরিক কালামশাস্ত্রীয় বিতর্কসমূহ এর সর্বোত্তম প্রমাণ।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের হাদিস, যা আবু দাউদ 'আস-সুনান'-এ বর্ণনা করেছেন: (কোনো বস্তুর প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে অন্ধ ও বধির করে দেয়) (১)—তা এই বিষয়ে বর্ণিত শ্রেষ্ঠ বক্তব্য। এতে প্রজ্ঞাবানদের বাণীর চেয়েও অতিরিক্ত এক গভীর অর্থ বিদ্যমান; কেননা কোনো বস্তুর প্রতি ভালোবাসা ও আসক্তি কেবল দৃষ্টিকেই অন্ধ করে না, বরং প্রিয়তমের দোষত্রুটি শোনার ব্যাপারে কানকেও বধির করে দেয়, যদিও কোনো সতর্ককারী তাকে সে বিষয়ে সতর্ক করে!

আবু তায়্যিব মুহাম্মদ শামসুল হক হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: (অর্থাৎ তা তোমাকে প্রিয় বস্তুর দোষ দেখা থেকে অন্ধ করে দেয়, ফলে তুমি তাতে কোনো খুঁত দেখতে পাও না; এবং তার কুৎসিত দিকগুলো শোনা থেকে তোমাকে বধির করে দেয়, ফলে তোমার হৃদয়ে ভালোবাসার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে তুমি সে বিষয়ে কোনো মন্দ কথা শুনতে পাও না) (২)।

ভাষাবিদ ছা’লাবকে যখন হাদিসটির অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: এটি চোখকে তার মন্দ দিকগুলো দেখা থেকে অন্ধ করে দেয় এবং কানকে সেই বিষয়ে তিরস্কার শোনা থেকে বধির করে দেয়। এরপর তিনি পংক্তি আবৃত্তি করে বললেন:

--------------------------------------------

(১) সুনানে আবু দাউদ—শিষ্টাচার অধ্যায়—প্রবৃত্তি বিষয়ক অনুচ্ছেদ—হাদিস নং (৫১৩০)। মুহাদ্দিসগণের মধ্যে যারা একে দুর্বল বলেছেন, তারা আবু বকর ইবনে আবি মারইয়ামের কারণে দুর্বল বলেছেন; কেননা তিনি দুর্বল বর্ণনাকারী। যদিও তার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ নেই, তবে তার স্মৃতিশক্তি ছিল দুর্বল এবং তিনি অনেক অদ্ভুত বর্ণনা করতেন। ফলে হাদিসটি তার এমন কোনো অনির্ভরযোগ্য একক বর্ণনা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল যা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আমি এই হাদিসের এমন একটি ভিন্ন সূত্র পেয়েছি যাতে ইবনে আবি মারইয়াম নেই। আসবাহানি 'আল-আমছাল ফিল হাদিসিন নববী' (পৃষ্ঠা ১৫৩)-তে হাসান সনদে আবদুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফায়ের থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আমরা একটি কাফেলার সাথে ছিলাম, তখন বিলাল ইবনে আবি দারদা আমাদের কাছে এলেন এবং আমাদের কথোপকথন থামিয়ে দিলেন। আমরা বললাম: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীর পুত্র। তিনি বললেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: কোনো বস্তুর প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে অন্ধ ও বধির করে দেয়)।

(২) আওনুল মাবুদ ফি শারহি সুনানি আবি দাউদ ১৪/ ২৮
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وكَذَّبت طرفي فيك والطرفُ صادقٌ … وأَسْمعتُ أذني فيك ما ليس يسمع (1)

ولكي يتحرر عقل الإنسان من الانقياد لغير الحق، ومن العمى الذي يحجبه عن الحقيقة فلا بد له أن يقتصد في عاطفته، فلا يُطلق لها العنان لتقوده إلى مهاوي الردى ولا يتجاهلها فيصير جاف الطبع صلب الفؤاد بل يريها بعيني البصيرة ما لا تراه بعيني البصر.

 

‌‌هذا ديني وذاك مذهبي (2)

فإن سألتني عن ديني ومذهبي أجبتك بقولي: (اللهم إنه لا مذهب لي إلا دين الإسلام فمن شمله فهو صاحبي وأخي، ومن كان قدوة فيه عرفت له حقه، وشكرت له صنعه، غير غال فيه ولا مقصر، فإن استبان لي الدليل، واستنار لي السبيل، كنت غنياً عنهم في ذلك المطلب، وإن ألجأتني الضرورة إلى الرجوع إليهم وضعتهم موضع الإمارة على الحق واقتفيت الأقرب في نفسي إلى الصواب بحسب الحادثة، بريئاً من الانتساب إلى إمام معين، يكفيني أني من المسلمين، فإن ألجأني إلى ذلك الله، ولم يبق لي من إجابتهم بد، قلت: مسلم مؤمن، فإن مزّقوا أديمي، وأكلوا لحمي، وبالغوا في الأذى، واستحلوا البذا، قلت {سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِي الْجَاهِلِينَ} (3)، {لَا ضَيْرَ إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ} (4)، وأجعلك اللهم في نحورهم، وأعوذ

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه

(2) المراد بالمذهب هنا المذهب العقدي لا الفقهي

(3) سورة القصص آية 55

(4) سورة الشعراء آية 50
আমি তোমার ব্যাপারে আমার চক্ষুকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছি অথচ চক্ষু সত্যবাদী … এবং তোমার বিষয়ে আমি আমার কানকে এমন কিছু শুনিয়েছি যা সে শোনে না (১)

সত্যের বিপরীত কিছুর আনুগত্য এবং সত্যকে আড়ালকারী অন্ধত্ব থেকে মানুষের বিবেককে মুক্ত করতে হলে তাকে অবশ্যই নিজের আবেগের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখতে হবে। আবেগের লাগাম এমনভাবে ছেড়ে দেওয়া যাবে না যাতে তা তাকে ধ্বংসের গহ্বরে নিয়ে যায়, আবার তাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করাও যাবে না যাতে সে রুক্ষ স্বভাব ও পাষাণ হৃদয়ের অধিকারী হয়ে পড়ে; বরং অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে তাকে এমন কিছু দেখাতে হবে যা চর্মচক্ষু দেখতে পায় না।

 

‌‌এটিই আমার দীন এবং ওটিই আমার মাযহাব (২)

যদি আপনি আমাকে আমার দীন ও মাযহাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তবে আমি এই বলে উত্তর দেব: (হে আল্লাহ! ইসলাম ধর্ম ব্যতীত আমার অন্য কোনো মাযহাব নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি এই ধর্মের অন্তর্ভুক্ত, সে-ই আমার সঙ্গী ও ভাই। আর যারা এতে আদর্শস্থানীয়, আমি তাদের অধিকার স্বীকার করি এবং তাদের কর্মের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি; তাদের ব্যাপারে কোনো বাড়াবাড়ি করি না এবং অবজ্ঞাও করি না। অতঃপর যদি আমার নিকট দলিল সুস্পষ্ট হয় এবং পথ আলোকিত হয়ে ওঠে, তবে সেই বিষয়ে আমি তাদের মুখাপেক্ষী থাকি না। আর যদি তাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে আমি বাধ্য হই, তবে আমি তাদের সত্যের দিশারি হিসেবে গণ্য করি এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি অনুযায়ী যা আমার নিকট সঠিকের সবচেয়ে কাছাকাছি মনে হয়, আমি তারই অনুসরণ করি। কোনো নির্দিষ্ট ইমামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়া থেকে আমি মুক্ত; আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। যদি আল্লাহ আমাকে এর প্রতি বাধ্য করেন এবং তাদের উত্তর দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় না থাকে, তবে আমি বলি: আমি একজন মুমিন মুসলিম। এরপরও যদি তারা আমার চামড়া ছিঁড়ে ফেলে, আমার গোশত ভক্ষণ করে, আমাকে চরম কষ্ট দেয় এবং গালিগালাজকে বৈধ মনে করে, তবে আমি বলি {তোমাদের প্রতি সালাম, আমরা জাহেলদের সাহচর্য চাই না} (৩), {কোনো ক্ষতি নেই, নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী} (৪); হে আল্লাহ! আমি আপনাকে তাদের কণ্ঠনালীতে (প্রতিবন্ধক হিসেবে) পেশ করছি এবং আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি...

--------------------------------------------

(১) একই উৎস

(২) এখানে মাযহাব বলতে আকিদাগত মাযহাব বা মতাদর্শ উদ্দেশ্য, ফিকহগত মাযহাব নয়

(৩) সূরা আল-কাসাস, আয়াত ৫৫

(৪) সূরা আশ-শুআরা, আয়াত ৫০
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
بك من شرورهم، رب نجني مما فعله المفرّقون لدينك، وألحقني بخير القرون من حزب أمينك صلى الله عليه وآله وسلم (1)

 

‌‌سهام رمتني وأخرى سترميني ..

لا يستطيع أحد أن يدعو إلى إصلاح فكر أو ثورة على موروث باطل دون أن يُرمى بسهم أو يُجرح بكلمة.

هذا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أكرم الخلق وأتقاهم لم يسلم من بهت الباهتين وظلم الظالمين، قيل عنه: كاهن .. ساحر .. مجنون .. شاعر، فمن أكون أنا وأنت حتى نستكبر أن يُقال في حقنا ما هو دون ما قيل في حقه صلى الله عليه وآله وسلم وهو النبي المرسل؟!

مَنْ خلال معايشتي وحواراتي مع المتعصبة من شتى الطوائف نلت الكثير من الأذى فأعظم الأذى أن يُتهم المرء في دينه وصدق انتمائه إليه.

فلما كنت أحاور بعض الجفاة مظهراً حبي لأهل البيت، راداً على من يُقلل من شأنهم بالأحاديث الصحيحة الثابتة أو بما عُرف من حقهم في شرع الله، قيل عني: (رافضي)!

ولما كنت أحاور بعض الشيعة منتقداً طرحهم المغالي في أهل البيت، قيل عني: ناصبي كبير … فلست ناصبياً فحسب بل عريق في النصب ولا حول ولا قوة إلا بالله!

--------------------------------------------

(1) العلم الشامخ في تفضيل الحق على الآباء والمشايخ ص7
আপনার নিকট তাদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। হে প্রতিপালক! তোমার দ্বীনকে যারা খণ্ডিত করেছে তাদের কৃতকর্ম থেকে আমাকে উদ্ধার করো এবং আমাকে তোমার বিশ্বস্ত ব্যক্তির (আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) দলভুক্ত করে সর্বোত্তম যুগের মানুষের সাথে মিলিত করো (১)

 

‌‌কিছু তীর আমাকে বিদ্ধ করেছে এবং আরও কিছু ভবিষ্যতে বিদ্ধ করবে... ..

কোনো চিন্তাধারার সংস্কার বা বাতিল ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে বিপ্লবের ডাক দেওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয় এমনটি না হয়ে যে, তাকে কোনো তীরের আঘাতে বিদ্ধ হতে হবে অথবা কোনো তিক্ত কথার মাধ্যমে আহত হতে হবে।

এই তো আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)—সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে পরহেজগার হওয়া সত্ত্বেও তিনি অপবাদ দানকারীদের অপবাদ এবং জালেমদের জুলুম থেকে রেহাই পাননি। তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: গণক... জাদুকর... পাগল... কবি। তাহলে আমি আর আপনি কে যে, তাঁর (আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) শানে যা বলা হয়েছে তার চেয়েও নগণ্য কিছু আমাদের সম্পর্কে বলা হলে আমরা তা মেনে নিতে অহংকার বোধ করব, অথচ তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত নবী?!

বিভিন্ন দলের কট্টরপন্থীদের সাথে আমার মেলামেশা ও আলোচনার মাধ্যমে আমি অনেক কষ্ট সহ্য করেছি। আর সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো যখন কোনো ব্যক্তিকে তার দ্বীন এবং তার প্রতি তার নিষ্ঠার ব্যাপারে অভিযুক্ত করা হয়।

যখন আমি আহলে বাইতের প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করে কিছু রূঢ় স্বভাবের লোকের সাথে আলোচনা করছিলাম এবং সহীহ সাব্যস্ত হাদিস কিংবা আল্লাহর শরীয়তে তাঁদের যে অধিকার স্বীকৃত তা দিয়ে তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারীদের প্রতিবাদ করছিলাম, তখন আমার সম্পর্কে বলা হলো: (রাফেজি)!

আবার যখন আমি কিছু শিয়াদের সাথে তাঁদের আহলে বাইত সংক্রান্ত অতিরঞ্জিত দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে আলোচনা করছিলাম, তখন আমার সম্পর্কে বলা হলো: বড় নাসিবি … আমি নাকি শুধু নাসিবিই নই, বরং নাসিবি মতবাদে অত্যন্ত পুরনো ও পাকাপোক্ত! আর আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

--------------------------------------------

(১) আল-ইলমুশ শামিখ ফি তাফদিলিল হাক্কি আলাল আবায়ি ওয়াল মাশায়িখ, পৃষ্ঠা ৭
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولما تحاورت مع بعض المتصوفة حول غلوهم في رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم مستدلاً بأحاديث صحيحة ثابتة في بيان حقه صلوات الله وسلامه عليه تدعو إلى محبته وحفظ حقه بأبي هو وأمي، من غير غلو ولا جفاء، قيل عني: مبغض لرسول الله!

وهكذا صرت بين المتعصبة جامعاً لكل النقائض.

رافضي مبغض لصحابة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ومغالٍ في أهل البيت … وناصبي مبغض لأهل البيت ومغالٍ في الصحابة .. ومبغض لرسول الله ومن باب أولى مبغض لأهل بيته ولأصحابه.

وما حصل لي حصل للإمام المُقبلي رحمه الله أكثر منه بكثير، ومثلي لا يُقارن بمثله فضلاً وعلماً وتضحية، فأين جهد ذاك الإمام الجهبذ من جهد المقل؟

فقد تجرع رحمه الله مرارة التعصب المذهبي وناله الأذى فصبر ومضى في طريقه غير آبه للتخذيل ولا للتحذير.

حرص على إعلان تنصُّله من الإنتماء إلى أي من المذاهب الإسلامية والتأكيد على براءته من التعصُّب لها في معظم مؤلفاته شعراً ونثراً، ومن ذلك قوله:

برئت من التمذهب طول عمري … وآثرت الكتاب على الصحاب

ومالي والتمذهب وهو شيء … يروح لدى المماري والمحابي

 

كرَّس جهده ووقته لمحاربة الجمود والتعصُّب الفكري، فلقي من مقلِّدي ومتعصِّبي عصره أذى شديداً، وناصبوه العداء، واتَّهموه بأنه ناصبي، معادٍ لمذهب أهل البيت (المذهب الزيدي)، مما اضطره إلى بيع ممتلكاته والرحيل بأهله إلى مكة (1080هـ) فجاور بها وانقطع فيها للعلم والتأليف والدعوة إلى التجديد وإشاعة روح التسامح ونبذ الفرقة والتقليد
যখন আমি কিছু সুফিপন্থীর সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে তাঁদের অতিরঞ্জন (গুলু) নিয়ে আলোচনা করলাম এবং তাঁর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) অধিকার বর্ণনায় প্রমাণিত সহীহ হাদীসসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করলাম—যা তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণ এবং অতিরঞ্জন ও অবহেলা ব্যতিরেকে তাঁর অধিকার সংরক্ষণের আহ্বান জানায় (আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোক)—তখন আমার সম্পর্কে বলা হলো: রাসূলুল্লাহর বিদ্বেষী!

এভাবেই আমি গোঁড়াপন্থীদের নিকট সকল পরস্পরবিরোধী বৈশিষ্ট্যের আধার হয়ে দাঁড়ালাম।

রাফেজি, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী এবং আহলে বাইতের ব্যাপারে অতিরঞ্জনকারী … আবার নাসিবী, যে আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী এবং সাহাবীগণের ব্যাপারে অতিরঞ্জনকারী... আবার রাসূলুল্লাহর বিদ্বেষী, এবং স্বাভাবিকভাবেই তাঁর আহলে বাইত ও সাহাবীগণেরও বিদ্বেষী।

আমার সাথে যা ঘটেছে, ইমাম মুকবেলী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে তার চেয়েও অনেক বেশি ঘটেছিল। আর ফযীলত, ইলম ও ত্যাগের বিচারে আমার মতো ব্যক্তি তাঁর মতো মহান ব্যক্তিত্বের সাথে তুলনীয় নয়; সেই প্রাজ্ঞ ইমামের প্রচেষ্টার তুলনায় এই সামান্য প্রচেষ্টাকারীর অবস্থানই বা কোথায়?

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মাযহাবী গোঁড়ামির তিক্ততা আস্বাদন করেছেন এবং বহু কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন, কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন এবং কোনো প্রকার নিরুৎসাহ বা সতর্কবার্তার তোয়াক্কা না করে নিজ পথে অটল থেকেছেন।

তিনি তাঁর অধিকাংশ কাব্য ও গদ্য রচনায় ইসলামী মাযহাবসমূহের কোনোটির সাথে সম্পৃক্ত না থাকার ঘোষণা দিতে এবং সেগুলোর প্রতি অন্ধ আনুগত্য থেকে নিজের মুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সচেষ্ট ছিলেন। যেমন তিনি বলেছেন:

আমি আমার সারা জীবন মাযহাবপ্রীতি থেকে মুক্ত থেকেছি … এবং সঙ্গীদের ওপর কিতাবকেই (কুরআন) প্রাধান্য দিয়েছি

মাযহাববাদের সাথে আমার কী কাজ? এ তো এমন এক বস্তু … যা কেবল তার্কিক আর পক্ষপাতদুষ্টদের কাছেই সমাদৃত হয়

 

তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাঁর শ্রম ও সময় উৎসর্গ করেছিলেন। ফলে তিনি তৎকালীন সময়ের মুকাল্লিদ ও গোঁড়াপন্থীদের পক্ষ থেকে চরম নির্যাতনের শিকার হন। তারা তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করে এবং তাঁকে 'নাসিবী' তথা আহলে বাইতের মাযহাবের (যায়দী মাযহাব) শত্রু হিসেবে অভিযুক্ত করে। এ পরিস্থিতি তাঁকে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে ১০৮০ হিজরীতে সপরিবারে মক্কায় হিজরত করতে বাধ্য করে। সেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ইলম অর্জন, গ্রন্থ রচনা, সংস্কারের দাওয়াত প্রদান, সহনশীলতার চেতনা প্রচার এবং দলাদলি ও অন্ধ অনুকরণ বর্জনের কাজে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করেন।
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
والتعصُّب، فعلا ذكره هناك وعظُم صيته بين علماء مكة والقادمين إليها من مختلف بلدان العالم الإسلامي، وتباينت الآراء حوله بين مؤيِّد ومعارض، فنسبه المتعصبة إلى الزندقة لتمرُّده على التقليد وعدم تمسُّكه بمذهب معين، واعتماده على كتاب الله وسنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم فحسب، وخاصة بعد انتشار كتابه "العلم الشامخ في إيثار الحق على الآباء والمشائخ" لما فيه من النقد للمتعصِّبين للأسلاف، والحط من شأن التقليد والمقلِّدين، فقال قولته المشهورة: سبحان الله .. ناصبي في صنعاء وزنديق في مكة!

وهذا هو الإمام الشاطبي بدوره يحكي عن محنته مع المتعصبة فيقول: (فقامت عليّ القيامة وتواترت عليّ الملامة، وفوّق إليّ العتاب سهامه، ونُسِبتُ إلى القول بأنّ الدعاء لا ينفع، ولا فائدة فيه، كما يُعزى إلى بعض الناس بسبب أني لم ألتزم الدعاء بهيئة الاجتماع في أدبار الصلاة – حالة الإمامة - .. وتارة نُسبت إلى الرفض وبغض الصحابة رضي الله عنهم، بسبب أني لم ألتزم ذكر الخلفاء الراشدين منهم في الخطبة .. وتارة أضيف إليّ القول بجواز القيام على الأئمة، وما أضافوه إلا من عدم ذكري لهم في الخطبة .. وتارة أُحمل على التزام الحرج والتنطع في الدين، وإنما حملهم على ذلك أني التزمت في التكليف والفُتيا الحمل على مشهور المذهب الملتزم لا أتعداه، وهم يتعدونه ويفتون بما يسهل على السائل ويوافق هواه – وإن كان شاذاً-وتارة نُسبت إلى معاداة أولياء الله، وسبب ذلك أني عاديت بعض الفقراء – يقصد الصوفية – المبتدعين المخالفين للسنة، المنتصبين – بزعمهم – لهداية الخلق …) (1).

--------------------------------------------

(1) الاعتصام 1/ 27 - 28
এবং গোঁড়ামি; বস্তুত সেখানে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং মক্কার উলামায়ে কেরাম ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের মাঝে তিনি অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তাকে নিয়ে জনমত পক্ষ ও বিপক্ষ—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। অন্ধ অনুসারীরা তাকে যিন্দিক (ধর্মত্যাগী) হিসেবে অভিযুক্ত করে, কারণ তিনি অন্ধ অনুকরণের (তাকলিদ) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন এবং নির্দিষ্ট কোনো মাযহাব আঁকড়ে ধরেননি; বরং তিনি কেবল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর ওপর নির্ভর করতেন। বিশেষ করে তার রচিত গ্রন্থ "আল-আলামুশ শামিখ ফি ইছারিল হাক্কি আলাল আবাই ওয়াল মাশায়িখ" (পূর্বপুরুষ ও শায়খদের ওপর সত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সুউচ্চ জ্ঞান) ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিরোধিতা তীব্রতর হয়, কারণ এতে অন্ধভাবে পূর্বসূরীদের অনুসারীদের সমালোচনা এবং তাকলিদ ও মুকাল্লিদদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছিল। তখন তিনি তার সেই বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন: সুবহানাল্লাহ! সানআতে থাকাকালে (আমি ছিলাম) নাসিবি, আর মক্কায় এসে (হলাম) যিন্দিক!

ইমাম শাতবিও একইভাবে গোঁড়া ব্যক্তিদের হাতে তার লাঞ্ছনা ও পরীক্ষার কথা বর্ণনা করে বলেন: (আমার বিরুদ্ধে যেন কিয়ামত দাঁড়িয়ে গেল এবং বিরামহীন নিন্দা ধেয়ে আসতে লাগল, তিরস্কারের তীরগুলো আমার দিকে তাক করা হলো। আমার প্রতি এই মত আরোপ করা হলো যে, দোয়ার কোনো উপকারিতা নেই এবং এতে কোনো ফায়দা নেই—যেমনটি কিছু মানুষের প্রতি অপবাদ দেওয়া হয়। এর কারণ ছিল এই যে, আমি সালাত পরবর্তী সময়ে—ইমামতি অবস্থায়—সম্মিলিতভাবে দোয়া করার প্রথাটি আঁকড়ে ধরিনি। কখনো আমার প্রতি 'রাফয' বা সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুমদের প্রতি বিদ্বেষের অভিযোগ আনা হলো, কারণ আমি খুতবায় খোলাফায়ে রাশেদীনের নাম উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করতাম না। কখনো আমার প্রতি শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বৈধ মনে করার অভিযোগ আরোপ করা হলো, আর খুতবায় তাদের নাম উল্লেখ না করার কারণেই তারা এই অপবাদ দিয়েছিল। আবার কখনো আমাকে দ্বীনের ব্যাপারে সংকীর্ণতা ও অতি-কঠোরতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলো; মূলত এর কারণ ছিল এই যে, আমি শরয়ি বিধান ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মাযহাবের সুপ্রসিদ্ধ মতের ওপর অবিচল থাকতাম এবং তা অতিক্রম করতাম না। অথচ তারা তা লঙ্ঘন করত এবং প্রশ্নকারীর জন্য যা সহজ ও তার প্রবৃত্তির অনুকূল—তা শায বা বিরল মত হলেও—সে অনুযায়ী ফতোয়া দিত। কখনো কখনো আমাকে আল্লাহর অলিদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হলো, যার কারণ ছিল এই যে, আমি সুন্নাহর পরিপন্থী বিদয়াতি কতিপয় সুফিদের—যারা নিজেদের ধারণা মতে সৃষ্টিজগতের হিদায়াতকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল—বিরোধিতা করেছিলাম ...) (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইতিসাম ১/ ২৭ - ২৮
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ويعزّي الشاطبي نفسه بما أصاب العلامة ابن بطة مع أهل زمانه ناقلاً ما حكاه ابن بطة عن نفسه بقوله: (عجبت من حالي في سفري وحضري مع الأقربين مني والأبعدين والعارفين والمنكرين، فإني وجدت بمكة وخراسان وغيرهما من الأماكن أكثر من لقيت بها موافقاً أو مخالفاً، دعاني إلى متابعته على ما يقوله، وتصديق قوله والشهادة له. فإن كان صدقته فيما يقول وأجزت له ذلك - كما يفعله أهل هذا الزمان - سماني موافقاً. وإن وقفتُ في حرف من قوله أو في شيء من فعله سماني مخالفاً. وإن ذكرتُ في واحد منها أنّ الكتاب والسنة بخلاف ذلك وارد، سماني خارجياً. وإن قرأتُ عليه حديثاً في التوحيد سماني مشبّهاً .. وإن كان في الرؤية سماني سالمياً .. وإن كان في الإيمان سماني مرجئياً .. وإن كان في الأعمال سماني قدرياً، وإن كان في المعرفة سماني كرامياً، وإن كان في فضائل أبي بكر وعمر سمّاني ناصبياً، وإن كان في فضائل أهل البيت سماني رافضياً. وإن سكتُ عن تفسير آية أو حديث فلم أجب فيهما إلا بهما سماني ظاهرياً .. وإن أجبت بغيرهما سماني باطنياً .. وإن أجبت بتأويل سماني أشعرياً .. وإن جحدتهما سماني معتزلياً .. إلى أن يقول: (ومهما وافقت بعضهم عاداني غيره، وإن داهنت جماعتهم أسخطتُ الله تبارك وتعالى ..).

 

‌‌نحن مع الحق وإن قاله خصومنا

مشكلة الكثير من أرباب الفرق والجماعات أنهم يريدونك نسخة منهم، تنطق بما يؤمنون به هم وآباؤوهم الأولون، لا يريدون لضميرك ولعقلك أن يقول كلمته ولو على وجه التساؤل والبحث عن الحقيقة.
ইমাম আশ-শাতিবি তাঁর সমকালীন লোকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে আল্লামা ইবনে বাত্তাহর অবস্থার মাধ্যমে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। তিনি ইবনে বাত্তাহর নিজের সম্পর্কে বলা কথাগুলো উদ্ধৃত করে বলেন: (আমার সফর এবং আবাসে, নিকটজন এবং দূরজন, পরিচিত এবং অপরিচিত—সবার সাথে নিজের অবস্থা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। কেননা আমি মক্কা, খুরাসান এবং অন্যান্য স্থানে যাঁদের সাথেই দেখা করেছি—চাই তারা আমার মতের অনুসারী হোক বা বিরোধী—তাদের অধিকাংশকেই দেখেছি তারা আমাকে তাদের মতাদর্শ অনুসরণ করার, তাদের কথা সত্য বলে মেনে নেওয়ার এবং তাদের স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। যদি আমি তাদের কথায় সায় দিতাম এবং তা অনুমোদন করতাম—যেমনটি এ যুগের মানুষ করে থাকে—তবে তারা আমাকে 'অনুকূল' হিসেবে অভিহিত করত। আর যদি আমি তাদের কোনো একটি কথায় বা কাজে আপত্তি করতাম, তবে তারা আমাকে 'বিরোধী' বলে আখ্যায়িত করত। যদি আমি তাদের কোনো একটি বিষয়ে উল্লেখ করতাম যে, কুরআন ও সুন্নাহ এর বিপরীতে এসেছে, তবে তারা আমাকে 'খারেজি' বলত। যদি আমি তাদের সামনে তাওহীদ বিষয়ক কোনো হাদিস পাঠ করতাম, তবে তারা আমাকে 'মুসাব্বিহ' (সাদৃশ্যবাদী) বলত। আর যদি তা আল্লাহর দিদার সংক্রান্ত হতো, তবে তারা আমাকে 'সালেমি' বলত। আর যদি তা ঈমান সংক্রান্ত হতো, তবে তারা আমাকে 'মুরজিয়াহ' বলত। আর যদি তা আমল সংক্রান্ত হতো, তবে তারা আমাকে 'কাদারি' বলত। যদি তা আধ্যাত্মিক জ্ঞান সংক্রান্ত হতো, তবে তারা আমাকে 'কাররামি' বলত। যদি তা আবু বকর ও উমরের ফজিলত সম্পর্কে হতো, তবে তারা আমাকে 'নাসিবি' বলত। আর যদি তা আহলে বায়তের ফজিলত সম্পর্কে হতো, তবে তারা আমাকে 'রাফেজি' বলত। কোনো আয়াত বা হাদিসের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে যদি আমি মৌন থাকতাম এবং মূল পাঠ ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা উত্তর না দিতাম, তবে তারা আমাকে 'জাহেরি' বলত। আর যদি আমি তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে উত্তর দিতাম, তবে তারা আমাকে 'বাতিনি' বলত। যদি আমি ব্যাখ্যার আশ্রয় নিতাম, তবে তারা আমাকে 'আশআরি' বলত। আর যদি আমি সেগুলোকে অস্বীকার করতাম, তবে তারা আমাকে 'মুতাজিলা' বলত। এভাবে চলতে চলতে তিনি বলেন: (যখনই আমি তাদের কোনো এক দলের সাথে একমত হয়েছি, অমনি অন্য দল আমার শত্রুতে পরিণত হয়েছে। আর যদি আমি তাদের সবার সাথে তোষামোদ করতাম, তবে আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালাকেই অসন্তুষ্ট করতাম...)।

 

‌‌আমরা সত্যের সাথে, যদিও তা আমাদের বিরোধীরা বলে থাকে

বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর কর্ণধারদের অনেকের সমস্যা হলো তারা চায় আপনি যেন তাদেরই একটি প্রতিচ্ছবি হন; আপনি কেবল তা-ই উচ্চারণ করবেন যা তারা এবং তাদের পূর্বপুরুষরা বিশ্বাস করত। তারা চায় না যে আপনার বিবেক এবং বুদ্ধি সত্য অনুসন্ধান বা নিছক জিজ্ঞাসার খাতিরে হলেও তার নিজস্ব কথা বলুক।
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن آفاتهم النظر إلى المرء قبل النظر في قوله، يقولون: (مَنْ فلان حتى يعلّمنا؟) أو (أوليس هذا الذي أخطأ في مسألة كذا وكذا) فيعممون خطأه في مسألة على كل ما يقوله من صواب، فلا يستمعون إلى حجته ولا يريدون حقاً من ورائه.

وهذه النظرة الفوقية الاستعلائية تقصم ظهر صاحبها قبل الآخرين، فمن الخاسر سواه وهو يَصدُّ الناس عن الحق ويتجنبه هو في نفسه لا لشيء إلا لعصبية جاهلية ملأ بها دماغه.

والأَولى بالمرء أن يطلب الحق حيث كان، وأن لا يحجبه عن الحق كونه قد أتى من خصمه.

يقول أبو حامد الغزالي رحمه الله: (فانظر إلى مناظري زمانك، كيف يسودّ وجه أحدهم إذا اتضح الحق على لسان خصمه، وكيف يخجل به، وكيف يجتهد في مجاحدته بأقصى قدرته وكيف يذم من أفحمه طول عمره) وإنما ينبغي في المحاور (أن يكون في طلب الحق كناشد ضالة لا يفرّق بين أن تظهر على يده أو على يد من يعاونه، ويرى رفيقه معيناً لا خصماً ويشكره إذا عرّفه الخطأ وأظهر له الحق ..) (1)

ولله در الإمام مالك بن أنس إذ يقول: (ما في زماننا شيء أقل من الإنصاف) (2).

نعم والله .. إنها أزمة الإنصاف.

والإمام مالك هاهنا يتحدث عن زمانه الذي انتشر فيه العلم وسادت الفضيلة فكيف بزماننا وقد قلّّ العلماء واتخذ الناس رؤوساً جهالاً فضلوا وأضلوا، وعمّ الفساد وبيعت الذمم.

--------------------------------------------

(1) إحياء علوم الدين 1/ 64

(2) جامع بيان العلم 1/ 132
তাদের অন্যতম ব্যাধি হলো কোনো ব্যক্তির বক্তব্যের ওপর দৃষ্টি প্রদানের পূর্বে খোদ ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করা। তারা বলে: (অমুক কে যে আমাদের শেখাবে?) অথবা (এ কি সেই ব্যক্তি নয় যে অমুক অমুক বিষয়ে ভুল করেছিল?) ফলে তারা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তার ভুলকে তার বলা সকল সঠিক কথার ওপর প্রয়োগ করে। তাই তারা তার প্রমাণাদি শোনে না এবং তার মাধ্যমে সত্য অন্বেষণ করতে চায় না।

আর এই উচ্চমন্যতা ও উদ্ধত দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের পূর্বে খোদ এর অধিকারীর মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। সে ছাড়া আর কে ক্ষতিগ্রস্ত হবে? অথচ সে মানুষকে সত্য থেকে বাধা দিচ্ছে এবং নিজেও তা এড়িয়ে চলছে—কেবল জাহেলি গোঁড়ামির কারণে যা তার মস্তিষ্ককে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।

মানুষের জন্য উচিত হলো সত্য যেখানেই থাকুক না কেন তা অন্বেষণ করা, এবং সত্য প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে আসলেও যেন তা গ্রহণ করতে কোনো বাধা না থাকে।

আবু হামিদ আল-গাজালি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (তোমার সমকালীন তার্কিকদের দিকে তাকাও; যখন তাদের প্রতিপক্ষের মুখে সত্য উদ্ভাসিত হয়, তখন কীভাবে তাদের চেহারা কালো হয়ে যায়, কীভাবে তারা লজ্জিত হয় এবং কীভাবে তারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে তা অস্বীকার করার আপ্রাণ চেষ্টা করে! আর যে ব্যক্তি তাকে নির্বাক করে দিয়েছে, কীভাবে সে সারা জীবন তার নিন্দা করতে থাকে!) অথচ একজন আলোচকের উচিত (সত্য অন্বেষণে এমন হওয়া যেন সে কোনো হারানো বস্তু খুঁজছে; সত্য তার নিজের মাধ্যমে প্রকাশ পেল নাকি তার সহযোগীর মাধ্যমে, সে বিষয়ে সে কোনো পার্থক্য করবে না। সে তার সঙ্গীকে একজন সাহায্যকারী হিসেবে দেখবে, প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়। আর সঙ্গী যদি তাকে তার ভুল ধরিয়ে দেয় এবং সত্য উন্মোচন করে দেয়, তবে সে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে...) (১)

ইমাম মালিক ইবনে আনাস কতই না চমৎকার বলেছেন: (আমাদের যুগে ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠার চেয়ে দুর্লভ আর কিছু নেই।) (২)।

হ্যাঁ আল্লাহর শপথ! এটি হলো ইনসাফের সংকট।

ইমাম মালিক এখানে তাঁর সময়ের কথা বলছেন, যখন জ্ঞানের প্রচার ছিল এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের জয়জয়কার ছিল। তবে আমাদের বর্তমান যুগের অবস্থা কী হতে পারে? যখন আলিমদের সংখ্যা কমে গেছে এবং মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করেছে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে; আর চারদিকে ফিতনা-ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষের নীতি-নৈতিকতা বিকিয়ে গেছে।

--------------------------------------------

(১) ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন ১/ ৬৪

(২) জামিউ বায়ানিল ইলম ১/ ১৩২
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولتقي الدين ابن تيمية رحمه الله كلمات جميلة في وجوب تحري المرء الحق واتباعه يقول فيها: (فإنّ الإنسان لا يزال يطلب العلم والإيمان، فإذا تبين له من العلم ما كان خافياً عليه اتبعه، وليس هذا مذبذباً، بل هذا مهتد زاده الله هدى … والواجب على كل مؤمن موالاة المؤمنين وعلماء المؤمنين، وأن يقصد الحق فيتّبعه حيث وجده) (1).

ويقول: (وانتقال الإنسان من قول إلى قول لأجل ما تبيّن له من الحق هو محمود فيه بخلاف إصراره على قول لا حجة معه فيه، وترك القول الذي وضحت حجّته، أو الانتقال من قولٍ إلى قولٍ لمجرد عادة واتباع هوى فهو مذموم) (2).

فالعبرة بالحق لذاته لا بمن قاله، وعلى المسلم أن ينفض عنه غبار التعصب والتقديس لغير كلام الله وكلام رسوله صلوات الله وسلامه عليه، فإنّّ الناس لم يفترقوا ويزيغوا عن الهدى إلا لأمرين:

هوى متبع، وإعجاب كل ذي رأي برأيه.

ولسلطان العلماء العز بن عبد السلام عبارة ذهبية يقول فيها: (ولم يزل الناس يسألون من اتفق من العلماء من غير تقيد بمذهب ولا إنكار على أحد من السائلين إلى أن ظهرت هذه المذاهب ومتعصبوها من المقلّدين، فإنّ أحدهم يتبع إمامه مع بُعد مذهبه عن الأدلة، مقلّداً له فيما قال كأنه نبي أُرسل إليه، وهذا نأي عن الحق وبعد عن الصواب لا يرضى به أحد من أولي الألباب) (3).

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى 2/ 252 - 253

(2) المصدر نفسه 20/ 213 - 214

(3) الفكر السامي للحجوي 230
তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সত্য অনুসন্ধান ও তা অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে চমৎকার কিছু বক্তব্য রয়েছে যেখানে তিনি বলেন: (কেননা মানুষ সর্বদা জ্ঞান ও ঈমান অন্বেষণ করতে থাকে। অতঃপর যখন তার নিকট এমন জ্ঞান স্পষ্ট হয় যা ইতিপূর্বে তার নিকট গোপন ছিল, তখন সে তা অনুসরণ করে। এটি দোদুল্যমানতা নয়, বরং এটি হিদায়াতপ্রাপ্তি যা আল্লাহ তাকে বৃদ্ধি করে দিয়েছেন ... আর প্রত্যেক মুমিনের ওপর আবশ্যক হলো মুমিনদের ও মুমিন আলিমদের ভালোবাসা এবং সত্যের উদ্দেশ্য পোষণ করা ও তা যেখানেই পাওয়া যাক অনুসরণ করা) (১)।

তিনি আরও বলেন: (সত্য স্পষ্ট হওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তির এক মত থেকে অন্য মতে ফিরে আসা প্রশংসনীয়; এর বিপরীতে কোনো দালিলহীন মতের ওপর অটল থাকা এবং যে মতের দলিল সুস্পষ্ট তা বর্জন করা, কিংবা নিছক অভ্যাসবশত ও প্রবৃত্তির তাড়নায় এক মত থেকে অন্য মতে স্থানান্তরিত হওয়া নিন্দনীয়) (২)।

মূলত সত্য স্বয়ং তার নিজ সত্তার কারণে গ্রহণীয়, কে বলেছে তার জন্য নয়। একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী ব্যতীত অন্য সবকিছুর অন্ধ অনুকরণ ও অতিভক্তির ধূলিকণা ঝেড়ে ফেলা। কেননা মানুষ কেবল দুটি কারণেই পথভ্রষ্ট ও অনৈক্যে লিপ্ত হয়েছে:

অনুসৃত প্রবৃত্তি এবং প্রত্যেক চিন্তাশীল ব্যক্তির নিজ মতের ওপর আত্মমুগ্ধতা।

সুলতানুল উলামা ইয ইবন আবদুস সালাম একটি স্বর্ণোজ্জ্বল বাণীতে বলেন: (মানুষ সর্বদা কোনো মাযহাবে আবদ্ধ না হয়ে এবং কোনো প্রশ্নকারীর ওপর আপত্তি না তুলে যে কোনো বিজ্ঞ আলিমকে জিজ্ঞাসা করত, যতক্ষণ না এই মাযহাবসমূহ এবং সেগুলোর গোঁড়া অনুসারী মুকাল্লিদদের উদ্ভব হলো। তাদের কেউ কেউ নিজ ইমামের মাযহাব দলিল থেকে দূরবর্তী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর এমনভাবে অনুকরণ করে যেন তিনি তার নিকট প্রেরিত কোনো নবী। এটি সত্য থেকে পলায়ন এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি যা কোনো বিবেকবান ব্যক্তি পছন্দ করতে পারে না) (৩)।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া ২/ ২৫২ - ২৫৩

(২) একই উৎস ২০/ ২১৩ - ২১৪

(৩) আল-ফিকরুল সামি লিল-হাজাউই ২৩০
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وهذا الإمام الشوكاني يوجه كلامه لمتعصبي المذاهب قائلاً: (فدعوا- أرشدكم الله وإياي- كتباً كتبها لكم الأموات من أسلافكم واستبدلوا بها كتاب الله خالقهم وخالقكم ومتعبّدهم ومتعبّدكم) (1).

نعم لندع التعصب المقيت، ولنحتكم إلى كتاب الله وإلى سنة رسول الله صلوات ربي وسلامه عليه.

 

‌‌لماذا لا نتحاور؟

وإن أردت أن تعجب أكثر فاعجب من أمر مسلمي اليوم … علّمهم القرآن الحوار مع أهل الكتاب الذين شتموا الله وشتموا رسوله، وهم اليوم يستكثرون على أنفسهم الحوار مع من انتقص من هم دون الله ودون رسوله!

يأتي المتعصب السني فيقول: (لا حوار مع من شتم صحابة رسول الله، هؤلاء روافض لا ينبغي لنا حوارهم ولا حتى دعوتهم (2)!

--------------------------------------------

(1) فتح القدير ص352 - 353

(2) للأسف بعض هؤلاء المتعصبة لا يكلف نفسه حتى دعوة من يشتم الصحابة ولا الأخذ بيده، فأي موازين للدعوة هذه؟! وعلينا أن نفرّق بين فعل بعض السلف من عدم محاورة أهل البدع بغرض تحجيم فكرهم وعدم إعطائهم الفرصة لنشر باطلهم على الملأ لكونهم قلة وأرباب هوى لا طلاب حق، وبين واجب الدعوة إلى الله لكل من ضل الطريق.

وعلى فرض ثبوت مخالفة أحد من السلف لما ذكرناه فإنه لا حجة في قول أحد من الناس مع وجود المنهج القرآني القويم في الحوار ومع وجود سيرة الرسول صلى الله عليه وآله وسلم ومنهجه في الدعوة مع الكفار وأهل الكتاب على جرأتهم على الله ورسوله والمنافقين على ما يظهر منهم من التربص بالإسلام والمسلمين والأعراب على ما عُرِف فيهم من الجلافة وسوء الحوار فضلاً عن غيرهم، نعم من أراد المكابرة منهم لا يناقش ولا يُعطى المجال لكن التعميم في الحكم هو ما نستنكره.
আর এই সেই ইমাম শাওকানি, যিনি মাযহাবের অন্ধ অনুসারীদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য পেশ করে বলেন: (আল্লাহ আপনাকে ও আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন—আপনারা আপনাদের পূর্বসূরি মৃত ব্যক্তিদের লেখা কিতাবগুলো বর্জন করুন এবং তার পরিবর্তে আপনাদের ও তাদের স্রষ্টা, আপনাদের ও তাদের মা'বুদ আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ করুন) (১)।

হ্যাঁ, আসুন আমরা এই ঘৃণ্য গোঁড়ামি পরিত্যাগ করি এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে ফিরে যাই, তাঁর ওপর আমার রবের রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

‌‌আমরা কেন সংলাপে বসি না?

আর আপনি যদি আরও বেশি বিস্ময় প্রকাশ করতে চান, তবে বর্তমান সময়ের মুসলিমদের অবস্থা দেখে বিস্মিত হোন … কুরআন তাদের আহলে কিতাবদের সাথে সংলাপ করা শিখিয়েছে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে গালি দিয়েছে; অথচ আজ তারা তাদের সাথে সংলাপ করাকে নিজেদের জন্য অনেক বড় বিষয় মনে করছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের তুলনায় নিম্ন মর্যাদার অধিকারীদের অবমাননা করেছে!

সুন্নি গোঁড়ারা এসে বলে: (রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের যারা গালি দেয়, তাদের সাথে কোনো সংলাপ নেই; এরা রাফেজি, এদের সাথে সংলাপ করা তো দূরের কথা, দাওয়াত দেওয়াও আমাদের জন্য উচিত নয় (২)!

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল কাদির, পৃষ্ঠা ৩৫২ - ৩৫৩

(২) অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই সব গোঁড়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেওয়া ব্যক্তিদের দাওয়াত দেওয়ার বা তাদের হাত ধরে সঠিক পথে আনার নূন্যতম শ্রমটুকুও ব্যয় করে না। এটি দাওয়াতের কেমন মানদণ্ড?! আমাদের অবশ্যই সালাফদের (পূর্বসূরিদের) কিছু কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে—যেখানে তারা বিদআতিদের সাথে সংলাপ বর্জন করেছিলেন তাদের চিন্তাধারাকে সংকুচিত করার উদ্দেশ্যে এবং প্রকাশ্যে তাদের বাতিল মতবাদ প্রচারের সুযোগ না দেওয়ার জন্য; কারণ তারা সংখ্যায় অল্প ছিল এবং সত্য অন্বেষণকারী না হয়ে প্রবৃত্তির অনুসারী ছিল। এর বিপরীতে প্রত্যেক পথভ্রষ্ট ব্যক্তির নিকট আল্লাহর পথে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া একটি আবশ্যিক কর্তব্য।

আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, কোনো একজন পূর্বসূরি আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের বিপরীতে কোনো অবস্থান নিয়েছেন, তবুও কারও কথা দলিল হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ সংলাপের ক্ষেত্রে কুরআনের সুদৃঢ় ও সঠিক পদ্ধতি বিদ্যমান রয়েছে। পাশাপাশি কাফের ও আহলে কিতাবদের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সীরাত ও দাওয়াতি পদ্ধতি বিদ্যমান, যদিও তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছিল। তদ্রূপ মুনাফিকদের প্রতিও সীরাত বিদ্যমান, যারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল; এবং বেদুঈনদের প্রতিও, যারা রুক্ষতা ও অশালীন আচরণের জন্য পরিচিত ছিল। সুতরাং অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য। হ্যাঁ, তাদের মধ্যে যারা কেবল হঠকারিতা করতে চায়, তাদের সাথে আলোচনা করা হবে না এবং সুযোগ দেওয়া হবে না, তবে ঢালাওভাবে বিচার করার বিষয়টিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি।
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ويأتي المتعصب الشيعي فيقول: (هؤلاء نواصب (1) لا ينبغي الحوار معهم!).

وقد عايشت الفئتين، وأوذيت منهما أيما إيذاء.

--------------------------------------------

(1) هذه تهمة ليس لها من الواقع نصيب، فالثابت من تقريرات علماء الشيعة في أشرطتهم وكتبهم وكذا روايات المذهب بغض الصحابة والتفنن في لعنهم والطعن في أنساب بعضهم وستأتي الإشارة إلى هذه الفكرة في موضعها في هذا الكتاب بإذن الله، أما أهل السنة علماء وعامة، فلا يبغضون أهل البيت بل يحبونهم ويقدّرونهم، ويشهد لذلك أيضاً تقريرات علمائهم جيلاً بعد جيل، غاية ما في الأمر أنهم يفضلون أبا بكر وعمر على علي لأدلة شرعية عندهم، والمفاضلة بين الخلفاء الأربعة لا تعني بحال من الأحوال بغض أحد منهم.

ويحضرني في هذا كلام جيد قرأته للشيخ جعفر الشاخوري- وهو من شيوخ الشيعة الإثنى عشرية المعاصرين- يقول فيه: (وإنني أذكر للقارئ حادثة لا زلت أتذكرها، فقد حدث بين شخصين تلاسن بعد أن اختلفا أيهما أفضل العباس بن علي (ع) أو علي الأكبر (ع) – ولا أكتم القارئ أنني كنت من أنصار العباس في ذلك الصراع- حيث استدل الأول على أفضلية العباس بأنه آخر من استبقاه الحسين (ع) في المعركة إذ لم يعطه الرخصة في القتال، وعندما استشهد قال الحسين: الآن انكسر ظهري، مما يدل على أنه العمود الفقري، كما أنّ العباس رفض أن يشرب من الماء عندما تذكر عطش الحسين فلا بد أن يكون هو الأفضل. والشخص الثاني استدل على أفضلية (الأكبر) بأنه أشبه الناس خَلْقاً وخُلقاً برسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، وأنه أول من قدّمه الحسين في المعركة من بني هاشم، وثالثاً: لأنه أكثر من أصيب بالجراحات في كربلاء فلا بد أن يكون هو الأفضل. وسرعان ما تحول هذا الصراع إلى تلاسن وتراشق بالكلمات حتى ظننت في ذلك الوقت أنّ هناك عداءً مستحكماً بين العباس وعلي الأكبر، وكنت أتساءل لماذا تعاونا في المعركة في ذلك الوقت؟). (مرجعية المرحلة وغبار التغيير ص67)

أقول: والأمر ذاته يُقال في المفاضلة بين أبي بكر الصديق وعلي بن أبي طالب، فإنّ المتعصب المعاند هو وحده الذي يستطيع بكل سهولة إقناع نفسه بأنه هو وكيل أهل البيت في الأرض، وأنّ من سواه لا يحبهم ولا يعرف حقهم.

وكلامنا هنا مع العقلاء أما ضيّقو العقول الذين يرشقون الناس بالتهم لمجرد الاختلاف معهم فإنه لا يأبه بهم إلا من كان على شاكلتهم.
এরপর কট্টরপন্থী শিয়া এসে বলে: (এরা তো নাসিবি (১), এদের সাথে সংলাপ করা অনুচিত!)।

আমি উভয় গোষ্ঠীর সাথেই জীবন অতিবাহিত করেছি এবং তাদের পক্ষ থেকে চরমভাবে নির্যাতিত হয়েছি।

--------------------------------------------

(১) এটি এমন এক অভিযোগ যার বাস্তবতার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, কেননা শিয়া আলেমদের অডিও রেকর্ড ও গ্রন্থসমূহে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তসমূহ এবং তাদের মাযহাবের বর্ণনাসমূহ থেকে যা সুপ্রতিষ্ঠিত তা হলো—সাহাবায়ে কেরামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ, তাঁদেরকে লানত করার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনয়ন এবং তাঁদের কারো কারো বংশমর্যাদায় কলঙ্ক লেপন। আল্লাহ চাহেন তো এই কিতাবের যথাস্থানে এই বিষয়ে ইঙ্গিত করা হবে। পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাতের আলেম ও সাধারণ জনগণ আহলে বাইতকে ঘৃণা করেন না; বরং তাঁরা তাঁদের ভালোবাসেন এবং তাঁদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করেন। যুগ যুগ ধরে তাঁদের আলেমদের সিদ্ধান্তসমূহও এর সাক্ষ্য দেয়। মূল বিষয়টি হলো, তাঁরা কিছু শরয়ী দলীলের ভিত্তিতে আবু বকর ও উমরকে আলীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন; আর চার খলিফার মধ্যে এই শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য নির্ণয় করার অর্থ কোনোভাবেই তাঁদের কাউকে ঘৃণা করা নয়।

এ প্রসঙ্গে সমসাময়িক দ্বাদশী শিয়া শায়খদের অন্যতম শায়খ জাফর আশ-শাখুরীর একটি চমৎকার বক্তব্য আমার মনে পড়ছে, যেখানে তিনি বলেছেন: ("আমি পাঠকদের সামনে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করছি যা আমার এখনও স্মরণে আছে। দুই ব্যক্তির মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছিল যখন তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল যে, আব্বাস ইবনে আলী (আ.) শ্রেষ্ঠ নাকি আলী আল-আকবর (আ.) শ্রেষ্ঠ? —আমি পাঠকদের কাছে গোপন রাখব না যে, সেই দ্বন্দ্বে আমি আব্বাসের সমর্থক ছিলাম— প্রথম ব্যক্তি আব্বাসের শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে এই দলীল পেশ করেছিলেন যে, তিনি সেই ব্যক্তি যাকে হুসাইন (আ.) যুদ্ধের ময়দানে সর্বশেষ পর্যন্ত নিজের সাথে রেখেছিলেন এবং যুদ্ধের অনুমতি দেননি। আর যখন তিনি শহীদ হলেন, তখন হুসাইন বললেন: 'এখন আমার পিঠ ভেঙে গেল', যা প্রমাণ করে যে তিনি ছিলেন তাঁর মেরুদণ্ডস্বরূপ। তদুপরি, আব্বাস হুসাইনের তৃষ্ণার কথা স্মরণ করে নিজে পানি পান করতে অস্বীকার করেছিলেন, তাই তাঁকেই শ্রেষ্ঠ হতে হবে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি 'আল-আকবর'-এর শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে দলীল দিয়েছিলেন যে, তিনি সৃষ্টিগত গঠন ও স্বভাব-চরিত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। দ্বিতীয়ত, তিনি বনু হাশেমের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যাঁকে হুসাইন যুদ্ধের ময়দানে অগ্রগামী করেছিলেন। তৃতীয়ত, কারবালায় তিনিই সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, তাই তাঁকেই শ্রেষ্ঠ হতে হবে। দ্রুতই এই দ্বন্দ্ব গালিগালাজ ও কটু মন্তব্যে রূপ নিল, এমনকি সেই সময় আমার মনে হচ্ছিল যেন আব্বাস ও আলী আল-আকবরের মধ্যে চরম শত্রুতা বিরাজমান। আমি অবাক হয়ে ভাবছিলাম, তবে তাঁরা সেই সময় যুদ্ধে একে অপরকে সহযোগিতা করেছিলেন কেন?") (মারজিয়্যাতুল মারহালা ওয়া গবারুত তাগয়ীর, পৃ. ৬৭)

আমি বলছি: আবু বকর সিদ্দিক এবং আলী বিন আবি তালিবের শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্কের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কেননা কেবল একগুঁয়ে কট্টরপন্থীই অতি সহজেই নিজেকে এই বিশ্বাস করাতে পারে যে, সে পৃথিবীতে আহলে বাইতের একমাত্র প্রতিনিধি এবং অন্য কেউ তাঁদের ভালোবাসে না বা তাঁদের অধিকার সম্পর্কে অবগত নয়।

আমাদের এই আলোচনা কেবল বুদ্ধিমানদের উদ্দেশ্যে; আর যারা সংকীর্ণমনা, যারা নিছক মতপার্থক্যের কারণে মানুষের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তাদের প্রতি কেবল তারাই ভ্রুক্ষেপ করে যারা তাদেরই সমমনা।
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
فعجباً لهذه العقول، جعلت الصحابة وأهل البيت أعظم من الله ورسوله حين تتقبل الحوار مع اليهودي والنصراني الكافر بالله ورسوله والشاتم لهما ولا تتقبل الحوار مع المخالف!

والحقيقة أننا لن نستطيع فك رموز الخلاف السني الشيعي بهذه العقول المغلقة التي لا تريد الفهم ولا التفاهم.

فإنّ الإمام علي بن أبي طالب وهو أحد فقهاء الصحابة الكبار عند السنة والشيعة، لم يجد حرجاً في التحاور مع الخوارج الذين كفّروه، فأرسل إليهم حبر الأمة وترجمان القرآن عبد الله بن عباس محاوراً، وعلي يعلم أنّ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قد وصف الخوارج بأنهم (كلاب أهل النار)، فأين هؤلاء المتعصبة من الفقه والفهم لهذه المعاني الجليلة؟

 

‌‌نريده حواراً من أجل الحقيقة

الديكة تتصارع وتتطارح أرضاً، لأنها تؤمن بلغة العضلات، أما الإنسان العاقل فاللغة التي يرتضيها لنفسه ولمجتمعه هي لغة الحوار.

والناظر في عالمنا العربي والإسلامي المعاصر والذي ابتعد في ممارسته كثيراً عن التعاليم الإسلامية القويمة، ينتابه الأسى وتعلوه المرارة، على نمط الحوار المتبع بين جميع الفئات المختلفة على جميع المستويات.

كثيرة هي الحوارات التي تجسد لنا هذا المثال … جمهور يستمع وديكان يتصارعان … كل منهما يريد الفتك بالآخر، والانتصار للرأي لا للحقيقة.

إننا لم نتعود على الموضوعية والحوار والواقعية في حواراتنا وأدبياتنا ومداخلاتنا، بل اعتدنا على الرؤية الأُحادية التي لا تتقبل رأي الآخر ولا تتفهم ما يريد، وما على الآخرين إلا
এই চিন্তাধারার জন্য সত্যিই বিস্ময় জাগে, যারা সাহাবী ও আহলে বাইতকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়েও বড় মর্যাদা দিয়ে ফেলেছে যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকারকারী ও গালি প্রদানকারী ইহুদি ও নাসারাদের সাথে সংলাপ গ্রহণ করে, অথচ নিজ ধর্মের ভিন্নমতাবলম্বীদের সাথে সংলাপ গ্রহণ করে না!

প্রকৃত সত্য হলো, এই ধরণের রুদ্ধদ্বার মানসিকতা—যা বুঝতে বা পারস্পরিক বোঝাপড়া করতে আগ্রহী নয়—তার মাধ্যমে আমরা সুন্নি-শিয়াহ বিরোধের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হব না।

নিশ্চয়ই ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব, যিনি সুন্নি ও শিয়াহ উভয়ের নিকট সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকীহ, তিনি তাকে কাফির আখ্যাদানকারী খারেজীদের সাথে সংলাপ করতে কোনো দ্বিধা করেননি। বরং তিনি উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ও কুরআনের ব্যাখ্যাকার আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে আলোচনার জন্য তাদের নিকট পাঠিয়েছিলেন। অথচ আলী জানতেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) খারেজীদের ‘জাহান্নামের কুকুর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমতাবস্থায় এই ধর্মান্ধরা এই সকল মহান বিষয়ের গভীর উপলব্ধি ও প্রজ্ঞা থেকে কত দূরে অবস্থান করছে?

 

আমরা সত্যের সন্ধানে সংলাপ চাই

মোরগরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করে এবং একে অপরকে মাটিতে আছড়ে ফেলে, কারণ তারা কেবল পেশী শক্তিতে বিশ্বাস করে। কিন্তু বিবেকবান মানুষ নিজের জন্য ও নিজের সমাজের জন্য যে ভাষাকে বেছে নেয়, তা হলো সংলাপের ভাষা।

বর্তমান আরব ও ইসলামি বিশ্বের দিকে তাকালে—যা অনুশীলনের ক্ষেত্রে সঠিক ইসলামি শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে—সকল স্তরের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে অনুসৃত সংলাপের ধরন দেখে মন বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং তিক্ততায় ভরে ওঠে।

এমন বহু সংলাপ রয়েছে যা আমাদের সামনে এই উদাহরণটিই তুলে ধরে … শ্রোতামণ্ডলী শুনছে আর দুটি মোরগ লড়াই করছে … তাদের প্রত্যেকেই অন্যকে কুপোকাত করতে চায় এবং সত্যের পরিবর্তে নিজের মতকেই বিজয়ী করতে সচেষ্ট থাকে।

আমরা আমাদের আলাপ-আলোচনা, সাহিত্য ও বক্তব্যে বস্তুনিষ্ঠতা, সংলাপ এবং বাস্তবতায় অভ্যস্ত হতে পারিনি; বরং আমরা একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি, যা অন্যের মতামত গ্রহণ করে না এবং তারা কী চায় তা বোঝার চেষ্টা করে না; আর অন্যদের ক্ষেত্রে কেবল...
(খণ্ড: ১) সুম্মা আবসারতুল হাকীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
أن يقولوا (آمين) ثمانين مرة، لا سيما إذا كان البعض منا في موقع يسمح له بفرض رأيه الواحد على الآخرين (1).

ومثل هذه الحوارات جعجعة بلا طحن .. لا يُرتجى من ورائها هداية لأحد، أو نتيجة محمودة يستفيد منها الطرفان، لأنها تفريغ مخزون آفات نعيشها في أنفسنا.

فالمظلوم عندنا يشتكي من الظالم، لأنّ السَّوط بيد الظالم .. يذكّره بالله ويدعو عليه الليل والنهار، لكن سرعان ما ينقلب المظلوم ظالماً حينما يسقط السوط من يد ظالمه وينتقل إلى يده يتناسى الرب الذي كان يخوّف الناس به، فيجور على الخلق وينتزي على حقوقهم بلا رحمة.

هكذا تجلت لي صراعات المتعصبين من أهل الطوائف.

ولكي ننهض من جديد كأمة إسلامية، ولكي نستطيع أن نتدارك بجدية الصدع الذي أضعف الأمة فانقسمت لأجله إلى فرق وطوائف متناحرة لا بد لنا من الإخلاص والصراحة، والرغبة في أن تكون راية الإسلام هي العليا لا راياتنا الطائفية.

ما أحوجنا اليوم إلى الإنصاف وإلى التجرد الذي بثه الإسلام في النفوس المؤمنة، التجرد للحقيقة لا للأشخاص.

ألم نقرأ قول الله عز وجل {قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ وَإِنَّا أَوْ إِيَّاكُمْ لَعَلَى هُدًى أَوْ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ} (2)؟

--------------------------------------------

(1) لا أدّعي بكلامي هذا أنّ العقيدة الإسلامية صارت آراء تقبل وتُرد، وإنما القصد أنّ المقدس الذي تؤمن به ليس مقدساً عند الطرف المخالف، وعليك أن تتقبل الحوار معه على هذا الأساس، أما النظرة الفوقية التي لا تتقبل الحوار مع المخالف بل تريد من الطرف المقابل الإذعان فحسب، فهذه نظرة نرجسية ليست من الإسلام في شيء.

(2) سورة سبأ آية 24
তারা যেন আশি বার 'আমীন' বলে, বিশেষ করে যখন আমাদের মধ্যে কেউ এমন অবস্থানে থাকে যা তাকে অন্যের ওপর নিজের একক মত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেয় (১)।

এই ধরনের সংলাপগুলো হলো সারবত্তাহীন আস্ফালন... এর থেকে কারও হেদায়েত বা এমন কোনো প্রশংসনীয় ফলাফলের আশা করা যায় না যা দ্বারা উভয় পক্ষ উপকৃত হবে; কারণ এগুলো আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরে লালিত দোষ-ত্রুটিগুলোর বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

আমাদের সমাজে মজলুম বা নির্যাতিত ব্যক্তি জালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, কারণ চাবুক তখন জালিমের হাতে থাকে... সে তাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দিন-রাত তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করে। কিন্তু যখনই জালিমের হাত থেকে চাবুকটি খসে তার নিজের হাতে চলে আসে, তখনই সেই মজলুম দ্রুত জালিমে রূপান্তরিত হয়। সে সেই রবকে ভুলে যায় যার ভয় সে মানুষকে দেখাত; ফলে সে সৃষ্টির ওপর জুলুম শুরু করে এবং নির্দয়ভাবে তাদের অধিকার হরণ করে।

বিভিন্ন ফিরকা বা গোষ্ঠীর গোঁড়া ব্যক্তিদের মধ্যকার সংঘাতগুলো আমার কাছে এভাবেই প্রতিভাত হয়েছে।

একটি ইসলামী উম্মাহ হিসেবে পুনরায় জেগে ওঠার জন্য এবং উম্মাহকে দুর্বল করে দেওয়া সেই ফাটলকে গুরুত্বের সাথে মেরামতের জন্য—যার কারণে উম্মাহ আজ বিবাদমান বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে—আমাদের মধ্যে ইখলাস বা নিষ্ঠা, স্পষ্টবাদিতা এবং আমাদের সাম্প্রদায়িক পতাকার পরিবর্তে ইসলামের পতাকাকে সমুন্নত রাখার আকাঙ্ক্ষা থাকা অপরিহার্য।

আজ আমাদের জন্য ইনসাফ এবং সেই নির্লিপ্ততার বড়ই প্রয়োজন যা ইসলাম মুমিনদের অন্তরে সঞ্চারিত করেছে; আর তা হলো সত্যের খাতিরে নির্লিপ্ত হওয়া, ব্যক্তিদের খাতিরে নয়।

আমরা কি মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করিনি: {বলুন, ‘কে তোমাদেরকে আসমানসমূহ ও জমিন থেকে রিযিক দান করেন?’ বলুন, ‘আল্লাহ। আর নিশ্চয় আমরা অথবা তোমরা হয় হিদায়াতের ওপর আছি অথবা স্পষ্ট গোমরাহিতে আছি।’} (২)?

--------------------------------------------

(১) আমি আমার এই কথার মাধ্যমে এটা দাবি করছি না যে ইসলামী আকিদা এমন কোনো মতামতে পরিণত হয়েছে যা গ্রহণ বা বর্জন করা যায়। বরং উদ্দেশ্য হলো, আপনি যে বিষয়টিকে পবিত্র বলে বিশ্বাস করেন, তা প্রতিপক্ষের নিকট পবিত্র নাও হতে পারে; তাই আপনাকে এই ভিত্তির ওপর ভিত্তি করেই তার সাথে সংলাপে রাজি হতে হবে। পক্ষান্তরে, এমন শ্রেষ্ঠত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি যা বিরোধীর সাথে সংলাপে রাজি নয় বরং কেবল প্রতিপক্ষের নিঃশর্ত আনুগত্য চায়, তা একটি নখদর্পী বা আত্মকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি যা ইসলামের কোনো অংশ নয়।

(২) সূরা সাবা, আয়াত ২৪