(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: -)
المعجم الكبير للطبراني من جـ 21   (الطبراني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المُعْجَمُ الكَبِير للطبراني قِطْعَةٌ مِنَ المُجَلَّدِ الحَادِي والعِشْرِينَ (يَتَضَمَّنُ جُزْءًا مِنْ مُسْنَدِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ)

المؤلف: سليمان بن أحمد بن أيوب بن مطير اللخمي الشامي، أبو القاسم الطبراني (ت 360هـ)

تحقيق: فريق من الباحثين بإشراف وعناية: د/ سعد بن عبد الله الحميد و د/ خالد بن عبد الرحمن الجريسي

الطبعة: الأولى: 1427هـ - 2006 م

عدد الأجزاء: 1 (قطعة من جـ 21 من المعجم الكبير)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তবারানির আল-মু'জামুল কাবীর, খণ্ড ২১ থেকে   (তবারানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: তবারানির আল-মু'জামুল কাবীর, একুশতম খণ্ডের একটি অংশ (নুমান ইবনে বাশিরের মুসনাদের একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত)

লেখক: সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব বিন মুতায়ের আল-লাখমি আশ-শামি, আবুল কাসিম আত-তবারানি (মৃত্যু: ৩৬০ হিজরি)

তাহকিক: গবেষক দলের তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায়: ড/ সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমায়েদ এবং ড/ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরায়সি

সংস্করণ: প্রথম: ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১ (আল-মু'জামুল কাবীরের ২১তম খণ্ডের একটি অংশ)

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ١)
المُعْجَمُ الكَبِير

للحافظ أبي القاسم سُلَيْمان بن أحمد الطَّبَرَاني

(260- 360هـ)

قِطْعَةٌ مِنَ المُجَلَّدِ الحَادِي والعِشْرِينَ (يَتَضَمَّنُ جُزْءًا مِنْ مُسْنَدِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ)

تحقيق

فريق من الباحثين

بإشراف وعناية

د/ سعد بن عبد الله الحميد

ود/ خالد بن عبد الرحمن الجريسي
আল-মু'জামুল কাবীর

হাফেজ আবুল কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি প্রণীত

(২৬০- ৩৬০ হিজরি)

একবিংশ খণ্ডের একটি অংশ (নুমান ইবনে বাশীরের মুসনাদের একটি অংশ সম্বলিত)

সম্পাদনা

একদল গবেষক

তত্ত্বাবধান ও যত্নে

ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ

এবং ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরায়সী
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مُقَدِّمَةُ التَّحْقِيقِ

الحمدُ لِلَّهِ وكَفَى، وصَلَوَاتُ اللهِ وسَلَامُهُ على عَبْدِهِ المصْطَفَى، نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وعَلَى آلِهِ وصَحْبِهِ أَهْلِ الْوَفَى، وسَلَّمَ تسليمًا كثيرًا.

أمَّا بعدُ:

فإنَّ كِتَابَ "الْمُعْجَمِ الْكَبِيرِ" للإمامِ أبي القاسمِ سُلَيْمَانَ بنِ أحمدَ الطَّبَرَانِيِّ (ت360هـ) مِنْ أُمَّهاتِ الكُتُبِ الحديثيَّةِ الْمَشْهُورة، وقَدْ كان حَقَّقَهُ وأخرَجَ ما وَقَفَ عليه مِنْ أُصُولِهِ الخَطِّيَّةِ الشيخُ حَمْدِي بن عبد الْمَجِيد السَّلَفِيُّ- حفظه الله- وبَقِيَ في الكتابِ نَقْصٌ لم يَقِفِ الشيخُ على أُصُولِهِ مع كَثْرَةِ البحثِ وطُولِ التَّفْتِيش، وطُبِعَ أولَ مَرَّةٍ مِنْ زُهاءِ ثلاثينَ سنةً؛ في خَمْسَةٍ وعشرين مُجَلَّدًا، مَعَ نَقْصِ المجلَّداتِ ذاتِ الأرقامِ: (13 و14 و15 و16 و21) ، ثم عَثَرَ الشيخُ بعد ذلك على قِطْعةٍ مِنَ المجلَّدِ الثالثَ عَشَرَ؛ فأخْرَجَهَا اعتمادًا على نسختَيْنِ يُكَمِّلُ كُلٌّ منهما نَقْصَ الأخرى.

وقد أَتْحَفَنَا الشيخُ- وفَّقه اللهُ- بقطعةٍ مَخْطُوطَةٍ مِنَ المجلَّدِ الحادي والعشرين، وَقَفَ عليها بِأَخَرَةٍ؛ تَتضَمَّنُ هذه القِطْعَةُ جُزْءًا من مسندِ النُّعْمَان بن بَشِير رضي الله عنه، وهي التي نَضَعُهَا بين يَدَيْكَ- أخي القارئَ- بَعْدَ أنْ قُمْنَا بِتَحْقِيقِهَا عَلَى وجهٍ نرجو أنْ يكونَ أقرَبَ إلى مُرَادِ مؤلِّفه رحمه الله.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌সম্পাদনার ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দা, আমাদের নবি মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও বিশ্বস্ত সাথীদের উপর। আর বর্ষিত হোক অবারিত শান্তি।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ইমাম আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ তাবারানি (ওফাত: ৩৬০ হিজরি) রচিত "আল-মু'জাম আল-কাবির" গ্রন্থটি হাদিসের প্রসিদ্ধ মৌলিক গ্রন্থগুলোর অন্যতম। শাইখ হামদি বিন আব্দুল মাজিদ আস-সালাফি—আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন—তার প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলোর উপর ভিত্তি করে এটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছিলেন। তবে প্রচুর অনুসন্ধান ও দীর্ঘ তল্লাশি সত্ত্বেও শাইখ এর মূল পাণ্ডুলিপিগুলো না পাওয়ায় গ্রন্থটিতে কিছু অপূর্ণতা থেকে গিয়েছিল। এটি প্রথমবার প্রায় ৩০ বছর আগে ২৫ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছিল, যেখানে ১৩, ১৪, ১৫, ১৬ এবং ২১ নম্বর খণ্ডগুলো নিখোঁজ ছিল। এরপর শাইখ ১৩তম খণ্ডের একটি অংশ খুঁজে পান; অতঃপর তিনি দুটি পাণ্ডুলিপির উপর নির্ভর করে এটি প্রকাশ করেন, যার একটি অপরটির অভাব পূরণ করে।

শাইখ—আল্লাহ তাকে তাওফিক দিন—সম্প্রতি ২১তম খণ্ডের একটি পাণ্ডুলিপির অংশ বিশেষ আমাদের উপহার দিয়েছেন। এই অংশটিতে নুমান বিন বাশির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদের একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হে পাঠক ভাই! এটিই সেই অংশ যা আমরা আপনার সামনে উপস্থাপন করছি, এটি এমনভাবে সম্পাদনা করার পর যা লেখকের—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—উদ্দেশ্যের নিকটতর হবে বলে আমরা আশা করি।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٦)
وقد اعتمَدْنَا في إخراجِ هذه القِطْعَةِ على نُسْخَةٍ واحدة، وهذا وصفُهَا:

تقعُ هذه القطعةُ ضِمْنَ مجلَّدٍ مِنْ محفوظاتِ المكتبة الوَطَنيَّة في باريس بِرَقْم (2011) ، وجاء على صفحةِ غِلَافِهِ ما نَصُّهُ: «الجُزْءُ الرابعُ مِنْ كتابِ الْمُعْجَمِ الكَبِيرِ، تأليف الإمام الحافظ أبي القاسم سُلَيْمان بن أحمد بن أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيّ رحمه الله» ، وعليه وَقْفٌ وتَمَلُّكٌ، ولكنْ ضُرِبَ عليه كما يَتَّضِحُ مِنْ مُصَوَّرَتِهِ(1) .

ويَبْدَأُ هذا المجلَّدُ بالقطعةِ التي نَشَرَهَا الشيخُ حَمْدِي السَّلَفِيّ من الجُزْءِ الثالثَ عَشَرَ من "المعجم الكبير"، وهي مِنْ مُسْنَدِ عبد الله بن عَمْرِو بن العاص رضي الله عنهما، ثم مُسْنَدِ عبد الله بن جَعْفَر بن أبي طالب رضي الله عنهما، ثم قطعةٍ مِنْ مُسْنَدِ عبد الله بن الزُّبَيْر بن العَوَّامِ رضي الله عنهما، ثم يَنْخَرِمُ باقي مسندِهِ مِنْ هذه النُّسْخة، مع ما بعده، بما فيه أَوَّلُ مُسْنَدِِ النُّعْمَانِ بنِ بَشِيرٍ رضي الله عنهما، ثم يَبْدَأُ مُسْنَدُ النُّعْمَانِ فيها بحديثٍ ذَهَبَ سَنَدُهُ، وبقي مَتْنُهُ- وهو الحديثُ الأوَّلُ من هذه القِطْعة التي نَنْشُرُهَا- ثم يتلوه باقي مُسْنَدِ النُّعْمَانِ إلى نهايتِهِ، حيثُ يَبْدَأُ بعده مُسْنَدُ وائلِ بنِ حُجْرٍ رضي الله عنه وهو بدايةُ الجزءِ الثاني والعِشْرِين مِنْ نَشْرةِ الشيخِ حمدي السلفي- ثم يتلوه باقي الكتابِ إلى خاتمتِهِ.

ويقعُ هذا المجلَّد في (337) ورقةً، في كُلِّ ورقةٍ صفحتان، وفي

--------------------------------------------

(1) انظر (ص 13) .
আমরা এই অংশটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে একটিমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

এই অংশটি প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরির সংরক্ষিত সংগ্রহশালার (২০১১) নম্বরভুক্ত একটি খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় যা লিখিত আছে তা হলো: "ইমাম হাফেজ আবুল কাসিম সুলায়মান ইবন আহমদ ইবন আইয়ুব তাবারানী রাহিমাহুল্লাহ প্রণীত কিতাবুল মু'জামুল কাবীরের চতুর্থ খণ্ড"। এর ওপর ওয়াকফ ও মালিকানার বিবরণ ছিল, কিন্তু তা কেটে দেওয়া হয়েছে, যা এর আলোকচিত্র থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়(১)।

এই খণ্ডটি সেই অংশ দিয়ে শুরু হয়েছে যা শেখ হামদি আস-সালাফি 'মু'জামুল কাবীর'-এর ত্রয়োদশ খণ্ড থেকে প্রকাশ করেছেন, যা আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার মুসনাদ থেকে সংগৃহীত। এরপর আব্দুল্লাহ ইবন জাফর ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমার মুসনাদ, এরপর আব্দুল্লাহ ইবনুন জুবাইর ইবনুল আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহুমার মুসনাদের একটি অংশ। এরপর এই পাণ্ডুলিপি থেকে তাঁর অবশিষ্ট মুসনাদ এবং এর পরবর্তী অংশগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যার মধ্যে নু'মান ইবন বশির রাদিয়াল্লাহু আনহুমার মুসনাদের শুরুর অংশও রয়েছে। এরপর এতে নু'মান (রা.)-এর মুসনাদ এমন একটি হাদিস দিয়ে শুরু হয়েছে যার সনদ বা সূত্র হারিয়ে গেছে কিন্তু এর মতন বা মূল পাঠটি রয়ে গেছে—আর এটিই হলো আমাদের প্রকাশিত এই অংশের প্রথম হাদিস। এরপর নু'মান (রা.)-এর অবশিষ্ট মুসনাদ তার শেষ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে, যার পর শুরু হয়েছে ওয়াইল ইবন হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুসনাদ; যা শেখ হামদি আস-সালাফি প্রকাশিত সংস্করণের ২২তম খণ্ডের শুরু। এরপর কিতাবটির বাকি অংশ তার সমাপ্তি পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে।

এই খণ্ডটি (৩৩৭) পত্রে বিন্যস্ত, যার প্রতি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে এবং...

--------------------------------------------

(১) দেখুন (পৃষ্ঠা ১৩)।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٧)
الصفحةِ (29) سطرًا، وهو بخطٍّ نَسْخِيٍّ جيِّدٍ مقروء، وناسخُهُ هو أبو بكرِ بنُ عليٍّ الأنصاريُّ البَهْنَسِيُّ الشافعيُّ، وقد فَرَغَ مِنْ نسخه في يومِ الإثنين الرابعَ عَشَرَ من المحرَّم، سنةَ ثمانٍ وعشرين وسبعِ مِئَةٍ؛ فقد جاء في آخرِهِ ما نصُّه: «واللهُ أعلمُ، وصلَّى اللهُ على سيِّدنا محمَّد، وآلِهِ وصَحْبِهِ وسلَّم. آخِرُ كتابِ "الْمُعْجَمِ" للطبراني رحمه الله، نَسَخَهُ مِنْ أولِهِ إلى آخِرِهِ في ستةِ أجزاء: العبدُ الفقيرُ إلى اللهِ تعالى، أبو بكرِ بنُ علي الأنصاري البَهْنَسِيّ الشافعيّ عفا الله عنه، وغفَرَ له ولوالدَيْهِ ولذُرِّيَّتِهِ ولجميعِ المسلمين، ووافَقَ فراغُهُ مِنْ تكملته صبيحةَ الإثنين رابعَ عَشَرَ شهرِ اللهِ المحرَّمِ، غُرَّةَ عامِ ثمانٍ وعشرين وسبعِ مِئَةٍ» .

وفي آخر المجلَّد سماعاتٌ لَحِقَهَا التَّلَفُ، وبقي جزءٌ منها.

ويَقَعُ مُسْنَدُ النُّعْمان في (17) ورقةً مِنْ هذا المجلَّد، بَدْءًا بِالوَجْهِ الثاني مِنَ الوَرَقَةِ رَقْم (20) ، حتى الوَجْهِ الأوَّلِ مِنَ الورقةِ رَقْم (36) ، لكنَّه لم يَأْخُذْ مِنْ هذا الوَجْهِ سِوَى خمسةِ أسطُرٍ فقطْ.
প্রতিটি পৃষ্ঠায় (২৯)টি করে লাইন রয়েছে। এটি সুন্দর ও সুপাঠ্য নাসখ্ লিপিতে লিখিত। এর অনুলিপিকারক হলেন আবু বকর বিন আলি আল-আনসারি আল-বাহনাসি আশ-শাফিঈ। তিনি এর অনুলিপি সম্পন্ন করেন সাতশ আটাশ হিজরি সনের মহররম মাসের চৌদ্দ তারিখ সোমবার। এর শেষে যা বর্ণিত হয়েছে তার পাঠ হলো: "আল্লাহ সর্বজ্ঞ। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবিগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। ইমাম তাবারানি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর 'আল-মু'জাম' গ্রন্থের সমাপ্তি। এটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছয় খণ্ডে অনুলিপি করেছেন মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা আবু বকর বিন আলি আনসারি আল-বাহনাসি আশ-শাফিঈ—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে, তাঁর বংশধরদের এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দিন। এটি পূর্ণ করার কাজটি সমাপ্ত হয়েছে সাতশ আটাশ হিজরি সনের আল্লাহর মাস মহররমের চৌদ্দ তারিখ সোমবার সকালে।"

এই খণ্ডের শেষে কিছু শ্রুতিলিপি (সামা'আত) রয়েছে যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটির কেবল কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে।

এই খণ্ডে 'মুসনাদুন নু'মান' (১৭)টি পাতাজুড়ে রয়েছে, যা ২০ নম্বর পাতার দ্বিতীয় পার্শ্ব থেকে শুরু হয়ে ৩৬ নম্বর পাতার প্রথম পার্শ্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে ৩৬ নম্বর পাতার এই পার্শ্ব থেকে মাত্র পাঁচটি লাইন এতে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌خُطَّةُ العَمَلِ فِي تحقيقِ الكِتَابِ

سِرْنَا في تحقيقِ الكِتَابِ وإخراجِهِ وَفْقَ الخُطَّةِ التاليةِ:

أوَّلاً: أَبْقَيْنَا على رَسْمِ الناسخِ ما أمكَنَ، إلا ما رأينا تَعْدِيلَهُ؛ إمَّا لِكَوْنِهِ خَطَأً مِنَ الناسخِ، أو لمخالفتِهِ ما اسْتَقَرَّ عليه الاصطلاحُ في الرَّسْمِ الإملائيِّ الحديث؛ عَلَى ما هو مُقَرَّرٌ عند المحقِّقين.

ثانيًا: عَزَوْنَا الآياتِ إلى سُوَرِهَا، بِذِكْرِ رَقْمِ الآيَةِ، واسْمِ السُّورةِ، وجَعَلْنَا ذلك في الحاشية.

ثالثًا: قُمْنَا بتخريجِ الأحاديثِ والآثَارِ حَسَبَ الطاقةِ، مِنْ غَيْرِ حُكْمٍ عليها، مَعَ مراعاةِ الإسناد؛ فالحديثُ الذي يُورِدُهُ الطَّبَرَانِيُّ مِنْ أكثَرَ مِنْ طريق، نُخَرِّجُ كُلَّ طريقٍ منه على حِدَة؛ بِتَقْدِيمِ المتابعةِ التَّامَّة، ثُمَّ القاصرة.

رابعًا: مَيَّزْنَا الرُّوَاةَ الذين قد يَلْتَبِسُونَ بِغَيْرِهِمْ؛ بِسَبَبِ عَدَمِ نِسْبتِهِمْ، أو لِكَوْنِهِمْ ذُكِرُوا بِكُنَاهُمْ، أو بأَلْقابِهِمْ، أو غيرِ ذلك.

خامسًا: فَسَّرْنَا الألفاظَ الغريبة؛ بِالرُّجُوعِ إلى كُتُبِ اللغةِ وغريبِ الحديثِ وشروحِ كُتُبِ السُّنَّة.

سادسًا: وَجَدْنَا في الكتابِ بَعْضَ العباراتِ التي جاءتْ على خلافِ المشهورِ مِنْ قَوَاعِدِ اللُّغَةِ والنَّحْوِ؛ مِمَّا يَتَوَهَّمُهُ الْمُتَوَهِّمُ لَحْنًا وخَطَأً- وقد وقَعَ ذلك في مُتُونِ الأحاديثِ والآثار، وفي أَسَانِيدِهِمَا-
কিতাবটি সম্পাদনার কর্মপরিকল্পনা

আমরা কিতাবটি সম্পাদনা ও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করেছি:

প্রথমত: আমরা যথাসম্ভব লিপিকারের লিখনশৈলী বজায় রেখেছি, কেবল সেই বিষয়গুলো ব্যতীত যা আমরা সংশোধন করা আবশ্যক মনে করেছি; হয় তা লিপিকারের ভুল হওয়ার কারণে, অথবা আধুনিক বানানরীতির সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়মের পরিপন্থী হওয়ার কারণে; যেমনটি গবেষকদের নিকট স্বীকৃত।

দ্বিতীয়ত: আমরা আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার দিকে নিসবত করেছি এবং আয়াতের নম্বর ও সূরার নাম উল্লেখ করে তা পাদটীকায় যুক্ত করেছি।

তৃতীয়ত: আমরা সাধ্যানুযায়ী হাদিস ও আছারসমূহের তাখরিজ (উৎস চিহ্নিতকরণ) করেছি সেগুলোর ওপর কোনো হুকুম বা রায় প্রদান করা ছাড়াই, তবে সনদের বিন্যাসের প্রতি লক্ষ্য রেখেছি; ফলে তাবারানি যে হাদিসটি একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আমরা তার প্রতিটি সূত্রকে পৃথকভাবে উল্লেখ করেছি; এক্ষেত্রে প্রথমে মুতাবাআত তাম্মাহ (পূর্ণাঙ্গ সমর্থনকারী সূত্র) এবং এরপর মুতাবাআত কাসিরাহ (আংশিক সমর্থনকারী সূত্র) ধারাবাহিকভাবে এনেছি।

চতুর্থত: আমরা সেই সব রাবি বা বর্ণনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট করেছি যাদের ব্যাপারে অন্যদের সাথে সংশয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তাদের সাথে বংশীয় নিসবত না থাকা, অথবা তাদের উপনাম, উপাধি বা অন্য কোনোভাবে উল্লেখ করার কারণে।

পঞ্চমত: আমরা অভিধানের কিতাবসমূহ, গারিবুল হাদিসের কিতাবসমূহ এবং সুন্নাহর কিতাবসমূহের ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাহায্যে কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

ষষ্ঠত: আমরা কিতাবটিতে এমন কিছু বাক্য পেয়েছি যা ভাষা ও ব্যাকরণের (নাহু) প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী; যা কোনো ভ্রান্ত ধারণা পোষণকারী ব্যক্তি ভুল হিসেবে গণ্য করতে পারেন—আর এটি হাদিস ও আছারসমূহের মূল পাঠ (মতন) এবং সনদ—উভয় ক্ষেত্রেই ঘটেছে—
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٩)
فأَثْبَتْنَاهُ في صُلْبِ الكتابِ كما هو، ولم نُغَيِّرْ منه شَيْئًا؛ وقد اجتَهَدْنَا في تَوْجِيهِ ما وقَعَ مِنْ ذلك وتخريجِهِ على ما اقتَضَتْهُ صِنَاعَةُ العربيَّة، مَعَ المقارنةِ بِمَا في مصادرِ التخريجِ غالبًا، وهذا المنهجُ- وهو الإبْقَاءُ على ما في الأُصُولِ الخَطِّيَّة كما هو، مع تَوْجِيهِهِ مِنْ جهةِ الروايةِ والعَرَبِيَّة- هو طريقةُ المحقِّقين من المتقدِّمِينَ والمتأخِّرِين؛ وهو المنهجُ الْمَرْضِيُّ الذي جَرَى عليه أَهْلُ العِلْمِ، وطَبَّقُوهُ في مُؤَلَّفَاتِهِمْ وتَحْقِيقَاتِهِمْ، على اختلافِ الفُنُونِ والعلوم(1) .

سابعًا: رَقَّمْنَا أَحاديثَ الكتابِ تَرْقِيمًا مُتَسَلْسِلاً يبدأُ بالرَّقْم (1) ؛ لأنَّ المجلَّدَ الحاديَ والعشرين يَبْدَأُ بِمَنِ اسمُهُ نافعٌ، وأوَّلُهُ: «نافعُ بنُ عُقْبَةَ بنِ أبي وَقَّاص» ؛ كما تَدُلُّ عليه خاتمةُ المجلَّد العشرين؛ فلا يستقيمُ مَعَهُ استمرارُ الترقيمِ مِنْ حيثُ انتهى المجلَّدُ العِشْرون.

ثامنًا: قَدَّمْنَا لِلْكِتَابِ بِهَذِهِ الْمُقَدِّمَةِ الْمُخْتَصَرَة؛ وقد ذَكَرْنَا فيها وَصْفَ النُّسْخَةِ الْمُعْتَمَدَةِ في التَّحْقِيق، وخُطَّةَ العَمَلِ في هذا الجُزْءِ، وَوَضَعْنَا في نهايتِهَا صُوَرًا خَطِّيَّةً لبعضِ صَفَحَاتِ الْمَخْطُوط.

تاسعًا: صَنَعْنَا فهارسَ تُعِينُ الباحثَ على الوقوفِ على بُغْيَتِهِ مِنَ الكتابِ، وجَعَلْنَا الإحالاتِ فيها على أَرْقَامِ الأحاديثِ، عدا فِهْرِسِ الموضوعاتِ؛ فقد أَحَلْنَا فِيهِ على أرقامِ الصَّفَحَات؛ وهذه

--------------------------------------------

(1) انظر توضيحَ ذلك في مقدِّمتنا لكتابِ "العِلَل" لابن أبي حاتم (1/342- 347) ، (1/355- 365/ التنبيه الثامن) .
আমরা একে মূল পাণ্ডুলিপিতে ঠিক যেভাবে আছে সেভাবেই বহাল রেখেছি এবং এতে কোনো কিছুই পরিবর্তন করিনি। আরবি ব্যাকরণ ও ভাষাশৈলীর চাহিদা অনুযায়ী এতে বিদ্যমান বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূল উৎসগুলোর সাথে তুলনা করে তার উৎস সন্ধানে (তাখরিজ) আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আর এই পদ্ধতিটি—অর্থাৎ মূল পাণ্ডুলিপির পাঠকে অবিকৃত রাখা এবং বর্ণনা ও আরবি ভাষার দিক থেকে তার ব্যাখ্যা প্রদান করা—প্রাচীন ও আধুনিক যুগের মুহাক্কিক বা গবেষক-সম্পাদকদের অনুসৃত পথ। এটিই সেই সন্তোষজনক পদ্ধতি যা বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম অনুসরণ করেছেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁদের রচিত গ্রন্থ ও সম্পাদিত পাণ্ডুলিপিগুলোতে তা প্রয়োগ করেছেন(১) ।

সপ্তম: আমরা কিতাবটির হাদিসসমূহকে ১ নম্বর থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি; কারণ একুশতম খণ্ডটি এমন ব্যক্তিদের বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে যাদের নাম 'নাফে', আর তার প্রথম ব্যক্তি হলেন: «নাফে ইবনে উকবাহ ইবনে আবি ওয়াক্কাস»; যেমনটি বিশতম খণ্ডের সমাপ্তি দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। সুতরাং বিশতম খণ্ড যেখানে শেষ হয়েছে সেখান থেকে ক্রমিক নম্বর অব্যাহত রাখা সংগতিপূর্ণ হয় না।

অষ্টম: আমরা এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার মাধ্যমে কিতাবটি উপস্থাপন করেছি; এতে আমরা সম্পাদনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির বর্ণনা এবং এই অংশের কর্মপরিকল্পনা উল্লেখ করেছি। এছাড়া এর শেষে পাণ্ডুলিপির কিছু পৃষ্ঠার প্রতিলিপি যুক্ত করেছি।

নবম: আমরা এমন কিছু নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি যা গবেষককে কিতাব থেকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্ট ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা হাদিস নম্বরের মাধ্যমে উদ্ধৃতি প্রদান করেছি; আর বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্টের ক্ষেত্রে আমরা পৃষ্ঠা নম্বরের উদ্ধৃতি দিয়েছি; আর এইগুলো—

--------------------------------------------

(১) এর বিশদ ব্যাখ্যা দেখুন ইবনু আবি হাতিম রচিত "আল-ইলাল" কিতাবের আমাদের লিখিত ভূমিকায় (১/৩৪২-৩৪৭), (১/৩৫৫-৩৬৫/ অষ্টম সতর্কতা)।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ١٠)
الفهارسُ هي:

أ) فِهْرِسُ الآياتِ القرآنيَّةِ.

ب) فِهْرِسُ الأحاديثِ النَّبَوِيَّة والآثارِ.

ج) فِهْرِسُ الرُّوَاةِ عن النُّعْمَانِ بنِ بَشِيرٍ رضي الله عنهما.

د) فِهْرِسُ غَرِيبِ اللُّغَةِ.

هـ) فِهْرِسُ مَسَائِلِ العَرَبِيَّةِ.

و) فِهْرِسُ الْمَوْضُوعَاتِ.

ولم نترجم لأبي القاسم الطبراني رحمه الله؛ لأن هذا جزء من عمل ابتدأه الشيخ حمدي السلفي حفظه الله، وقد ترجم للطبراني في مقدمته، وألحق بخاتمة الكتاب (في نهاية الجزء 25) جزءًا في ترجمة الطبراني لابن منده رحمه الله.

نسأله تعالى أن يُهَيِّئَ أسباب العثور على ما فُقِد من هذا الكتاب الذي لاتخفى أهميته وفائدته، وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه وسلم.

د. سعد بن عبد الله الحُمَيِّد ود. خالد بن عبد الرحمن الجريسي
নির্ঘণ্টসমূহ হলো:

ক) কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

খ) নববী হাদিস ও আসারের নির্ঘণ্ট।

গ) নুমান ইবনে বাশির (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনাকারীদের নির্ঘণ্ট।

ঘ) বিরল ভাষাতাত্ত্বিক শব্দাবলির নির্ঘণ্ট।

ঙ) আরবি ভাষাতাত্ত্বিক মাসআলাসমূহের নির্ঘণ্ট।

চ) বিষয়াবলির নির্ঘণ্ট।

আর আমরা আবুল কাসিম আত-তাবারানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর জীবনী প্রদান করিনি; কারণ এটি শায়খ হামদি আস-সালাফি (আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন) কর্তৃক শুরু করা কাজের একটি অংশ, এবং তিনি তাঁর ভূমিকায় তাবারানির জীবনী আলোচনা করেছেন, আর গ্রন্থের পরিশিষ্টে (২৫তম খণ্ডের শেষে) ইবনে মানদাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) রচিত তাবারানির জীবনীর একটি অংশ সংযুক্ত করেছেন।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই গ্রন্থের হারিয়ে যাওয়া অংশগুলো খুঁজে পাওয়ার মাধ্যমগুলো সহজ করে দেন, যার গুরুত্ব ও উপকারিতা অনস্বীকার্য। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

ড. সা’দ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইয়িদ এবং ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইসি
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌نَمَاذِجُ مِنَ النُّسْخَةِ الخَطِّيَّةِ لِلكِتَابِ
গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির কিছু নমুনা
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ١٣)
صفحة العنوان، ويظهر فيها وقفٌ وتملُّكٌ، إلا أنَّه ضُرِبَ عليه
শিরোনাম পাতা, এতে ওয়াকফ এবং মালিকানা স্বত্ব পরিলক্ষিত হয়, তবে তা কেটে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ١٤)
بداية المجلد، ويبدأ فيه الجزء الأخير من مسند عبد الله بن عمرو بن العاص
খণ্ডের শুরু, এবং এতে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর মুসনাদের শেষ অংশ শুরু হচ্ছে।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ١٥)
بداية مسند عبد الله بن جعفر
আবদুল্লাহ ইবনে জাফরের মুসনাদের সূচনা।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ١٦)
بداية مسند عبد الله بن بن الزبير
আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের-এর মুসনাদ-এর সূচনা
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ١٧)
نهاية الموجود من مسند عبد الله بن الزبير، ويتضح فيه انخرامُ باقي مسنده وبدايةُ الموجودِ مِنْ مسند النعمان بن بشير
আবদুল্লাহ ইবনে আয-যুবায়েরের মুসনাদের বিদ্যমান অংশের সমাপ্তি; এতে তাঁর মুসনাদের অবশিষ্ট অংশের বিলুপ্তি এবং নুমান ইবনে বাশীরের মুসনাদের বিদ্যমান অংশের সূচনা স্পষ্ট হয়।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ١٨)
نهايةُ مسندِ النعمانِ بن بشير، وبدايةُ مسندِ وائلِ بن حُجْر الذي هو بداية المجلَّد (22) من المطبوع
নুমান ইবনে বাশীরের মুসনাদের সমাপ্তি, এবং ওয়ায়েল ইবনে হুজরের মুসনাদের শুরু যা মুদ্রিত সংস্করণের (২২) খণ্ডের প্রারম্ভ।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ١٩)
نهاية المجلد، وفيه اسمُ الناسخِ وتاريخُ النَّسْخ
খণ্ডের সমাপ্তি, এতে অনুলিপিকারের নাম ও অনুলিপি করার তারিখ রয়েছে।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
الورقة الأخيرة، وفيها بعضُ السماعات
সর্বশেষ পৃষ্ঠা, যাতে কিছু শ্রবণলিপি বিদ্যমান।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٢١)
المُعْجَمُ الكَبِير

للحافظ أبي القاسم سُلَيْمان بن أحمد الطَّبَرَاني

(260- 360هـ)

‌‌قِطْعَةٌ مِنْ مُسْنَدُ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ
আল-মু'জামুল কাবীর

হাফেজ আবুল কাসেম সুলায়মান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি রচিত

(২৬০- ৩৬০ হিজরি)

‌‌নু'মান ইবনে বশীরের মুসনাদ থেকে একটি অংশ
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
1 - فقال رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَكُلَّ بَنِيكَ نَحَلْتَهُ»(1) ؟ قال: لا. قال: «فَارْجِعْهُ(2) » .

--------------------------------------------

[1] من هنا ابتدأت هذه القطعة من "مسند النعمان بن بشير"، وهي من بداية الورقة (20/أ) ، والورقة قبلها من "مسند عبد الله بن الزبير" كما سبق بيانه في المقدمة.

واللفظ الموافق للفظ هذه الرواية هو: ما أخرجه النسائي في "سننه" (3674) فقال: أخبرنا محمد بن هاشم؛ قال: حدثنا الوليد بن مسلم؛ قال: حدثنا الأوزاعي، عن الزهري، عن حميد بن عبد الرحمن، وعن محمد بن النعمان، عن النعمان بن بشير: أن أباه بشير بن سعد جاء بابنه النعمان، فقال: يا رسول الله، إني نحلت ابني هذا غلامًا كان لي، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أكل بنيك نحلت؟» قال: لا. قال: «فارجعه» . اهـ. فالظاهر أن الطبراني أخرج هذا الحديث من هذا الطريق.

ومن طريق الزهري أخرجه أيضًا الإمام مالك (2/125) ، وعبد الرزاق (16491، 16492، 16493) ، والإمام أحمد (4/268 رقم18358) ، و (4/270- 271 رقم 18382) ، والبخاري (2586) ، ومسلم (1623) ، وابن ماجه (2376) ، والترمذي (1367) ، والمصنف في "مسند الشاميين" (3064) .

(1) يقال: نَحَلْتُهُ أَنْحَلُهُ نُحْلاً: أعطيتَه شيئًا من غير عِوَضٍ بطيب نفسٍ. والنُّحْل والنُّحْلَى والنِّحْلةُ: العطاء والهبة ابتداءً بلا عوضٍ. وانظر: "تهذيب اللغة" (5/64- 65/ نحل) ، و"المصباح المنير" (ص307/ نحل) ، و"تاج العروس" (15/720- 721/ نحل) .

(2) «فارْجِعْه» : بألف وصل، والفعل «رجع» يتعدَّى بنفسه في اللغة الفُصحى؛ يقال: رجَعتُه عن الشيء وإليه. وبها جاء القرآن؛ قال تعالى: {فَإِنْ رَجَعَكَ اللَّهُ إِلَى طَائِفَةٍ مِنْهُمْ … } [التّوبَة: 83] ، وهُذَيل تُعدِّيه بالهمزة؛ فيقولون: أرجَعْتُه. انظر "المصباح المنير" (ص116/ رجع) .
১ - অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে এরূপ দান করেছ?»(১) তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: «তাহলে এটি ফিরিয়ে নাও(২)»।

--------------------------------------------

[১] এখান থেকেই "মুসনাদে নুমান ইবনে বশীর"-এর এই অংশটি শুরু হয়েছে, যা (২০/ক) নম্বর পৃষ্ঠার শুরু থেকে; আর এর পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাটি ছিল "মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর" থেকে, যা ইতিপূর্বে ভূমিকায় বর্ণনা করা হয়েছে।

আর এই বর্ণনার শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দসমূহ হলো যা নাসায়ী তাঁর "সুনান"-এ (৩৬৭৪) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে হাশিম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ী, তিনি যুহরী থেকে, তিনি হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান ও মুহাম্মদ ইবনে নুমান থেকে, আর তাঁরা নুমান ইবনে বশীর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তাঁর পিতা বশীর ইবনে সাদ তাঁর পুত্র নুমানকে নিয়ে এলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আমার এই ছেলেকে একটি দাস দান করেছি যা আমার ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে দান করেছ?» তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: «তাহলে এটি ফিরিয়ে নাও»। সমাপ্ত। স্পষ্টত যে, তাবারানী এই হাদীসটি এই সূত্রেই বর্ণনা করেছেন।

এবং যুহরীর সূত্র ধরে এটি ইমাম মালিক (২/১২৫), আবদুর রাজ্জাক (১৬৪৯১, ১৬৪৯২, ১৬৪৯৩), ইমাম আহমাদ (৪/২৬৮ নং ১৮৩৫৮) এবং (৪/২৭০- ২৭১ নং ১৮৩৮২), বুখারী (২৫৮৬), মুসলিম (১৬২৩), ইবনে মাজাহ (২৩৭৬), তিরমিযী (১৩৬৭) এবং লেখক তাঁর "মুসনাদে শামিয়্যীন" (৩০৬৪)-এ বর্ণনা করেছেন।

(১) বলা হয়: 'নাহালতুহু আনহালুহু নুহলান': অর্থাৎ কোনো প্রতিদান ছাড়াই সন্তুষ্ট চিত্তে তাকে কিছু দান করা। আর 'নুহল', 'নুহলা' ও 'নিহলা' অর্থ হলো প্রতিদান ব্যতীত কোনো কিছুর সূচনা হিসেবে প্রদান ও উপহার। দেখুন: "তাহযীবুল লুগাহ" (৫/৬৪- ৬৫/ নাহল), "আল-মিসবাহুল মুনীর" (পৃ. ৩০৭/ নাহল) এবং "তাজুল আরূস" (১৫/৭২০- ৭২১/ নাহল)।

(২) «ফারজি'হু» (ফিরিয়ে নাও): এটি আলিফ ওয়াসল যোগে; এবং 'রাজায়া' ক্রিয়াটি শুদ্ধ আরবী ভাষায় সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে; বলা হয়: 'রাজাতুহু আনিশ শাই' (আমি তাকে সেই বস্তু থেকে ফিরিয়েছি)। কুরআনও এই রীতিতেই অবতীর্ণ হয়েছে; মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর আল্লাহ যদি আপনাকে তাদের কোনো এক দলের কাছে ফিরিয়ে আনেন … } [আত-তাওবাহ: ৮৩]। আর হুযাইল গোত্র একে হামযা যোগে ব্যবহার করে থাকে; তারা বলে: 'আরজাতুহু'। দেখুন "আল-মিসবাহুল মুনীর" (পৃ. ১১৬/ রাজায়া)।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌عُبَيْدُاللهِ(1) بْنُ عَبْدِاللهِ بْنِ عُتْبةَ بنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النُّعْمَانِ

2 - حدَّثنا معاذُ بنُ المُثنَّى، قال: ثنا مُسَدَّدٌ، قال: حدَّثنا يحيى ابنُ سعيدٍ، عن أبي عيسى الطحَّانِ موسى(2) ، عن عَوْنِ بنِ عبدِالله بنِ عُتْبةَ، [عن](3) أبيه- أو أخيه- عنِ النُّعمانِ بنِ بَشيرٍ، عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: «إِنَّ الَّذِينَ يَذْكُرُونَ مِنْ جَلَالِ اللهِ؛ وتَسْبِيحِهِ وتَكْبِيرِهِ وتَحْمِيدِهِ، تَنْعَطِفُ(4) حَوْلَ العَرْشِ، لَهُنَّ دَوِيٌّ كَدَوِيِّ النَّحْلِ، يَذْكُرْنَ ⦗ص: 25⦘ لِصَاحِبِهِنَّ(5) ؛ أَفَلا يُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَلاَّ يَزَالَ عِنْدَ الرَّحْمَنِ يَذْكُرْنَهُ(6) ؟» .

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، ولعلَّه أراد أنْ يُتَرْجِمَ بـ «عبد الله بن عُتْبَة» والدِ عَوْن وعُبَيْدالله؛ لأنَّ الحديثَيْنِ التاليَيْنِ رُوِيَا عن عون بن عبد الله بن عتبة، عن أبيه أو عن أخيه؛ على الشك، وأخو عون هو عبيد الله بن عبد الله بن عتبة الآتي في الترجمة التالية.

[2] أخرجه المصنف في "الدعاء" (1693) بهذا الإسناد، وقرن معه طريق عبد الله بن نمير الآتية. ومن طريق الطبراني أخرجه أبو نعيم في "الحلية" (4/269) . وأخرجه الحاكم (1/503) من طريق يحيى بن محمد بن يحيى، عن مسدد، به، وليس فيه: «أو أخيه» . وأخرجه الإمام أحمد (4/271 رقم 18388) ، وابن ماجه (3809) ؛ من طريق بكر بن خلف، عن يحيى بن سعيد، به. ووقع عند ابن ماجه: «موسى بن أبي عيسى» .

(2) في الأصل: «عن موسى» ، وهو خطأ؛ والمثبت من المواضع السابقة من «الدعاء» للمصنف و"مسند أحمد" و"الحلية". وموسى هو: ابن مسلم أبو عيسى الطحان. يعرف بالصغير.

(3) في الأصل: «و» . والتصويب من "الدعاء" للمصنف، وبقية مصادر التخريج.

(4) كذا في الأصل، وفي "الدعاء" للمصنف: «يتعطفن» ، وفي "الحلية"- من طريق المصنف-: «يتعاطفن» ، وفي "مسند أحمد": «تتعطف» ، وعند ابن ماجه: «ينعطفن» . وانظر مصادر التخريج أول الحديث. وتنعطف، أي: تدور. وفاعل «تنعطف» ضميرٌ يعود على «الأذكار» المفهومة من السياق، أي: «إن الذين يذكرون … تنعطف أذكارهم … » ولما حُذفت «أذكارهم» حذف معها الضمير الرابط بين اسم «إن» ، وهو «الذين» ، وبين جملة الخبر «تنعطف» . ⦗ص: 25⦘ وانظر تفصيل الكلام على عود الضمير إلى المفهوم من السياق، وشواهده، في: "التذييل والتكميل" (4/28- 29) ، و"الإنصاف في مسائل الخلاف" (1/96) ، و"غريب الحديث" لأبي عبيد (3/78- 79) ، و"غريب الحديث" للخطابي (2/332) ، و"معاني القرآن" (4/77) .

ويخرَّج أيضًا على تقدير مضافٍ يكونُ اسمَ «إن» ، والتقدير: «إنَّ أذكارَ الذين يَذْكُرون … » ؛ وبذلك يصحُّ الإخبار بقوله: «تنعطف» ، ويكون فاعلُ «تنعطف» ضميرًا عائدًا على اسم «إنَّ» المقدَّر؛ كما قيل نحو ذلك في قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ} [البَقَرَة: 234] ، فأعاد الضمير بالتأنيث في الخبر «يَتَرَبَّصْنَ» ، على تقدير حذف المبتدأ، أي: وأزواجُ الذين يُتَوَفَّوْنَ منكم … ودَلَّ على هذا الحذفِ في الآية قولُه: {وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا} . وهذا أحد الأقوال في هذه الآية. وهنا في هذا الحديث دل على الحذف قولُهُ: «يَذْكُرُونَ مِنْ جلال الله وتسبيحه وتحميده» . وانظر: "البحر المحيط" (2/232) .

(5) كذا في الأصل، وكذا في "الدعاء"، وفي بقية مصادر التخريج: «يُذَكِّرْنَ بِصَاحِبِهِنّ» . قال في الموضع السابق من "شرح سنن ابن ماجه": أي: تذكِّر ربَّها بحال صاحبها، فكأنها شواهدُ عليه. اهـ.

وما وقع هنا يخرج على أن المراد: يَذْكُرْنَ لصاحبهن تسبيحَه وتحميدَه وتكبيره، أي: يذكرْن له ذلك عند ربه.

(6) كذا في الأصل؛ بالنون، وفي بعض مصادر التخريج: «ألا يزال عند الرحمن ما يُذَكِّرُ به» ، وفي بعضها: « … شيء يذكر به» . وما هنا يُخرج على أن اسم «لا يزال» ضمير يعود على «أحدكم» ، والخبر جملة «يذكرنه» ، أي: لا يزال أحدكم تذكره تلك التسبيحات والتكبيرات … إلخ.
উবাইদুল্লাহ(১) বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা বিন মাসউদ, নুমান থেকে বর্ণিত

২ - আমাদের নিকট মুআয বিন আল-মুসান্না হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুসাদ্দাদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন সাইদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু ঈসা আত-তাহহান মুসা(২) থেকে, তিনি আওন বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা থেকে, [তিনি তাঁর](৩) পিতা থেকে -অথবা তাঁর ভাই থেকে- তিনি নুমান বিন বাশির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর মহিমা থেকে যা জিকির করো; তাঁর তাসবিহ (পবিত্রতা), তাকবির (বড়ত্ব) এবং তাহমিদ (প্রশংসা), সেগুলো আরশের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, তাদের মৌমাছির গুঞ্জনের মতো গুঞ্জন রয়েছে, সেগুলো তাদের ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ পাঠকারীর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়(৫); তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করো না যে, রহমানের নিকট সর্বদা এমন কিছু থাকুক যা তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে(৬)?»।

--------------------------------------------

(১) মূলে এভাবেই আছে, সম্ভবত তিনি আওন ও উবাইদুল্লাহর পিতা «আবদুল্লাহ বিন উতবা»-র জীবনী আলোচনা করতে চেয়েছেন; কারণ পরবর্তী দুটি হাদিস আওন বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা থেকে তাঁর পিতা বা ভাইয়ের সূত্রে সংশয়সহ বর্ণিত হয়েছে; আর আওনের ভাই হলেন উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা, যার বর্ণনা পরবর্তী জীবনীতে আসছে।

[২] গ্রন্থকার এটি এই সনদেই "আদ-দুআ" (১৬৯৩) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন এবং এর সাথে সামনে আগত আবদুল্লাহ বিন নুমাইরের সূত্রটি যুক্ত করেছেন। তাবারানির সূত্র হতে আবু নুয়াইম "আল-হিলয়াহ" (৪/২৬৯) গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন। হাকেম (১/৫০৩) ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া-এর সূত্র হতে মুসাদ্দাদ থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন, তবে তাতে: «অথবা তাঁর ভাই থেকে» অংশটি নেই। ইমাম আহমাদ (৪/২৭১, নং ১৮৩৮৮) এবং ইবনে মাজাহ (৩৮০৯) বকর বিন খালাফের সূত্র হতে ইয়াহইয়া বিন সাইদ থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। ইবনে মাজাহ-র বর্ণনায় এসেছে: «মুসা বিন আবি ঈসা»।

(২) মূলে আছে: «মুসা থেকে», যা ভুল; গ্রন্থকারের "আদ-দুআ", "মুসনাদে আহমাদ" এবং "আল-হিলয়াহ"-এর পূর্বোক্ত স্থানসমূহের আলোকে এটি সংশোধন করা হয়েছে। আর মুসা হলেন: ইবনে মুসলিম আবু ঈসা আত-তাহহান, যিনি ‘আস-সাগির’ নামে পরিচিত।

(৩) মূলে আছে: «এবং»। গ্রন্থকারের "আদ-দুআ" এবং তাখরিজের অন্যান্য উৎস থেকে এটি সংশোধন করা হয়েছে।

(৪) মূলে এভাবেই আছে, গ্রন্থকারের "আদ-দুআ" গ্রন্থে আছে: «য়াতাআত্তাফনা», "আল-হিলয়াহ"-তে গ্রন্থকারের সূত্র হতে আছে: «য়াতাআতাফনা», "মুসনাদে আহমাদ"-এ: «তাতাআত্তাফ» এবং ইবনে মাজাহ-র নিকট: «য়ানআতিফনা»। হাদিসের শুরুর দিকে তাখরিজের উৎসসমূহ দেখুন। ‘তানআতিফু’ অর্থ: ঘুরে বেড়ানো। ‘তানআতিফু’ ক্রিয়ার কর্তা (ফায়িল) হলো একটি সর্বনাম যা প্রেক্ষাপট থেকে অনুমিত «জিকিরসমূহ»-এর দিকে ফিরেছে, অর্থাৎ: «নিশ্চয়ই যারা জিকির করে... তাদের জিকিরগুলো ঘুরে বেড়ায়...» আর যখন «তাদের জিকিরগুলো» অংশটি উহ্য রাখা হয়েছে, তখন ‘ইন্না’-র বিশেষ্য (ইসম) «আল্লাযিনা» এবং খবরের বাক্য «তানআতিফু»-এর মধ্যকার সংযোগকারী সর্বনামটিও বিলুপ্ত হয়েছে। ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ প্রেক্ষাপট থেকে অনুমিত বিষয়ের দিকে সর্বনাম ফিরে আসার বিস্তারিত আলোচনা ও এর প্রমাণাদির জন্য দেখুন: "আত-তাযয়িল ওয়াত-তাকমিল" (৪/২৮-২৯), "আল-ইনসাফ ফি মাসাইলিল খিলাফ" (১/৯৬), আবু উবাইদের "গারিবুল হাদিস" (৩/৭৮-৭৯), খাত্তাবির "গারিবুল হাদিস" (২/৩৩২), এবং "মাআনিল কুরআন" (৪/৭৭)।

এছাড়া এটি ‘ইন্না’-র একটি উহ্য বিশেষ্য (মুদাফ) ধরেও ব্যাখ্যা করা যায়, যার মূল রূপ হবে: «নিশ্চয়ই যারা জিকির করে তাদের জিকিরগুলো...»; এর মাধ্যমে «তানআতিফু» দিয়ে খবর প্রদান সঠিক হয় এবং «তানআতিফু»-এর ফায়িল সেই উহ্য ‘ইন্না’-র ইসমের দিকে ফিরে যায়; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা প্রতীক্ষা করবে} [আল-বাকারা: ২৩৪]-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। এখানে খবর «ইয়াতারাব্বাসনা»-তে স্ত্রীলিঙ্গ সর্বনাম ফিরিয়ে আনা হয়েছে মুক্তাদা উহ্য থাকার ভিত্তিতে, অর্থাৎ: «তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের স্ত্রীরা...» আয়াতে এই উহ্য বিষয়টি {এবং স্ত্রীদের রেখে যায়} অংশটি দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। এটি এই আয়াতের অন্যতম একটি ব্যাখ্যা। আর এই হাদিসে উহ্য বিষয়টি তাঁর এই কথা দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে: «যারা আল্লাহর মহিমা, তাসবিহ এবং তাহমিদ জিকির করে»। দেখুন: "আল-বাহরুল মুহিত" (২/২৩২)।

(৫) মূলে এভাবেই আছে এবং "আদ-দুআ" গ্রন্থেও তাই। তাখরিজের অন্যান্য উৎসে আছে: «তারা তাদের পাঠকারীর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়»। "শারহু সুনানি ইবনে মাজাহ"-র পূর্বোক্ত স্থানে বলা হয়েছে: অর্থাৎ, তার পাঠকারীর অবস্থা সম্পর্কে তার প্রতিপালককে স্মরণ করিয়ে দেয়, যেন সেগুলো তার জন্য সাক্ষী স্বরূপ।

এখানে যা বর্ণিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা হলো: তারা তাদের পাঠকারীর জন্য তার তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবিরের কথা স্মরণ করে, অর্থাৎ তার রবের নিকট তারা তার জন্য তা উল্লেখ করে।

(৬) মূলে ‘নুন’ বর্ণসহ এভাবেই আছে। তাখরিজের কিছু উৎসে আছে: «রহমানের নিকট সর্বদা এমন কিছু থাকুক যা তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে», আবার কিছু উৎসে: «...এমন কিছু যা দ্বারা স্মরণ করা হয়»। এখানে যা আছে তার ব্যাখ্যা হলো, «লা ইয়াযালু»-র ইসম হলো একটি সর্বনাম যা «আহাদুকুম»-এর দিকে ফিরছে এবং খবর হলো «ইয়াযকুরুনাহু» বাক্যটি, অর্থাৎ: তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করো না যে, সেই তাসবিহ ও তাকবিরগুলো তাকে স্মরণ করতে থাকুক... ইত্যাদি।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
3 - حدَّثنا عُبَيدُ بنُ غَنَّامٍ، قال: ثنا أبو بكرِ بنُ أبي شَيبةَ، قال: ⦗ص: 26⦘ ثنا عبدُالله بنُ نُمَيرٍ، عن موسى بنِ مسلمٍ، عن عَوْن بنِ عبدِاللهِ، عن أبيه- أو أخيه- عن النُّعمانِ، قال: قال رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «الَّذِينَ يَذْكُرُونَ مِنْ جَلَالِ اللهِ؛ مِنْ تَسْبِيحِهِ وتَحْمِيدِهِ وتَكْبِيرِهِ وتَهْلِيلِهِ، يَتعَاطَفُونَ(1) حَوْلَ العَرْشِ، لَهُنَّ دَوِيٌّ كَدَوِيِّ النَّحْلِ، يَذْكُرْنَ لِصَاحِبِهِنَّ(*) ؛ أَفَلا يُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَلاَّ يَزَالَ عِنْدَ الرَّحْمَنِ يَذْكُرْنَهُ (*) ؟» .

--------------------------------------------

[3] أخرجه المصنف في "الدعاء" (1693) ، ومن طريقه أبو نعيم في "الحلية" (4/269) . وأخرجه الإمام أحمد (4/268 رقم 18362) ، وابن أبي شيبة (29906) ، (36046) ؛ عن ابن نمير، به.

وأخرجه البزار (3236) من طريق موسى بن مسلم، به. ⦗ص: 26⦘

(1) كذا في الأصل وفي "الدعاء" للمصنف: «يتعطفن» ، وفي "مسند الإمام أحمد" و"مصنف ابن أبي شيبة"، وفي "الحلية"- من طريق المصنف-: «يتعاطفن» .

قال السندي في حاشيته على "المسند": يتعاطفون، أي: يتعاطف تسبيحهم وتحميدهم؛ فهذا الضمير «الواو» في «يتعاطفون» قام مقام العائد إلى الموصول الذي هو المبتدأ؛ ومثله قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ} [البَقَرَة: 234] ، أي: أزواجهم. اهـ. ويظهر أن نسخة السندي من "المسند" فيها: «يتعاطفون» . وانظر "حاشية السندي على المسند" (الحديث رقم 18362/ طبعة الرسالة) . وانظر التعليق على الحديث السابق.

(*) انظر ما تقدم في الحديث السابق.
৩ - উবাইদ ইবনে ঘান্নাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুসা ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আওন ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা—অথবা তাঁর ভাই—থেকে, তিনি নুমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যারা আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করে; তাঁর তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) এবং তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠের মাধ্যমে, সেগুলো আরশের চারপাশে ঘুরতে থাকে, মৌমাছির গুঞ্জনের মতো সেগুলোর একটি গুনগুন শব্দ থাকে, যা তাদের পাঠকারীর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়; তোমাদের কেউ কি এটি পছন্দ করে না যে, রহমানের কাছে সর্বদা এমন কিছু থাকুক যা তার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে?»।

--------------------------------------------

[৩] গ্রন্থকার এটি ‘আদ-দুআ’ (১৬৯৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে আবু নুআইম ‘আল-হিলয়াহ’ (৪/২৬৯) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ (৪/২৬৮, নং ১৮৩৬২), ইবনে আবি শাইবাহ (২৯৯০৬, ৩৬০৪৬) ইবনে নুমাইরের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

আল-বাযযার (৩২৩৬) মুসা ইবনে মুসলিমের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘

(১) মূল কপিতে এভাবেই আছে, তবে গ্রন্থকারের ‘আদ-দুআ’ গ্রন্থে এসেছে: ‘ইয়াতাআত্তাফনা’, এবং ‘মুসনাদে ইমাম আহমাদ’, ‘মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ’ ও ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে—গ্রন্থকারের সূত্রে—এসেছে: ‘ইয়াতাআতাফনা’।

আস-সিন্দি ‘মুসনাদ’-এর হাশিয়া বা টিকায় বলেছেন: ‘ইয়াতাআতাফুন’ অর্থাৎ তাদের তাসবীহ ও তাহমীদ একে অপরের সাথে মিলিত হয়; এখানে ‘ওয়াও’ সর্বনামটি সেই ‘মাওসুল’-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে যা ‘মুবতাদা’ বা উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত; এর অনুরূপ উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা (স্ত্রীরা) অপেক্ষা করবে} [সূরা আল-বাকারাহ: ২৩৪], অর্থাৎ তাদের স্ত্রীরা। সমাপ্ত। প্রতীয়মান হয় যে, আস-সিন্দির নিকট রক্ষিত ‘মুসনাদ’-এর কপিতে ‘ইয়াতাআতাফুন’ শব্দটিই ছিল। দেখুন ‘হাশিয়াতুস সিন্দি আলাল মুসনাদ’ (হাদীস নং ১৮৩৬২/ আর-রিসালাহ সংস্করণ)। পূর্ববর্তী হাদীসের টীকাটি দেখুন।

(*) পূর্ববর্তী হাদীসে যা গত হয়েছে তা দেখুন।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌عُبَيْدُاللهِ(1) بْنُ عَبْدِاللهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ

4 - حدَّثنا عليُّ بنُ عبدِالعزيزِ، قال: ثنا القَعْنَبيُّ(2) ، عن مالكٍ، عن ضَمْرةَ بنِ سعيدٍ، عن عُبيدِالله بنِ عبدِالله بنِ عُتبةَ؛ أن الضَّحَّاكَ بنَ قيسٍ سألَ النُّعمانَ بنَ بَشيرٍ: ما كان رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقرأُ على أَثَرِ(3) سورةِ الجمعةِ؟ فقال: {هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ *} .

--------------------------------------------

(1) انظر التعليق على الترجمة السابقة.

[4] رواه الإمام مالك (1/102) ، ومن طريقه الإمام الشافعي في "مسنده" (434) ، وفي "الأم" (7/204- 205) ، والإمام أحمد (4/270 رقم 18381) ، و (4/277 رقم 18438) ، والدارمي (1607) ، وأبو داود (1123) ، والنسائي في "الكبرى" (1749، و11605) ، والطحاوي في "شرح معاني الآثار" (1/414) ، وابن حبان (2807) ، والبيهقي (3/200) ، والبغوي (1089) .

(2) هو: عبد الله بن مسلمة.

(3) قال في "المصباح" (ص8/ أثر) : وجئتُ في «أَثَرِهِ» بفتحتين و «إِثْرِهِ» بكسر الهمزة والسكون، أي: تبعتُهُ عن قُرْبٍ. اهـ.
উবায়দুল্লাহ(১) বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ, নুমান থেকে বর্ণিত

৪ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল আজিজ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-কানাবি(২), মালিক থেকে, তিনি যামরাহ বিন সাঈদ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ থেকে বর্ণনা করেন; যে যাহহাক বিন কাইস নুমান বিন বশিরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার সূরার পরপরই(৩) কী পাঠ করতেন? তিনি বললেন: {আপনার কাছে কি আচ্ছন্নকারীর সংবাদ পৌঁছেছে? (সূরা আল-গাশিয়াহ)}।

--------------------------------------------

(১) পূর্ববর্তী জীবনীর টীকা দেখুন।

[৪] ইমাম মালিক (১/১০২) এটি বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর সূত্রে ইমাম শাফিঈ তাঁর "মুসনাদ" (৪৩৪) ও "আল-উম্ম" (৭/২০৪-২০৫) গ্রন্থে, ইমাম আহমাদ (৪/২৭০ নং ১৮৩৮১) ও (৪/২৭৭ নং ১৮৪৩৮), দারেমি (১৬০৭), আবু দাউদ (১১২৩), নাসাঈ "আল-কুবরা" গ্রন্থে (১৭৪৯ ও ১১৬০৫), ত্বহাবী "শারহু মাআনিল আসার" গ্রন্থে (১/৪১৪), ইবনে হিব্বান (২৮০৭), বায়হাকী (৩/২০০) এবং বাগাভী (১০৮৯) বর্ণনা করেছেন।

(২) তিনি হলেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ।

(৩) "আল-মিসবাহ" গ্রন্থে (পৃ. ৮/ আছর) বলা হয়েছে: "আছারিহি" (দুই জবর যোগে) এবং "ইছরিহি" (হামযাহর যের ও সুকুন যোগে) অর্থ হলো— আমি খুব কাছ থেকে তার অনুসরণ করেছি। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
5 - حدَّثنا عبدُاللهِ بنُ أحمدَ بنِ حنبلٍ، قال: حدثني أبي، قال: ثنا سفيانُ بنُ عُيَينةَ، عن ضَمْرةَ بنِ [سعيدٍ](1) ، عن عُبيدِالله بنِ عبدِالله ابن عُتبةَ؛ أن الضَّحَّاكَ بنَ قيسٍ كتب إلى النُّعمانِ بنِ بَشيرٍ يسألُه: ما كان النبيُّ صلى الله عليه وسلم يَقرأُ في الجمعةِ مع سورةِ الجمعةِ؟ فقال: ُ ً ي ى و ِ {هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ *} .

--------------------------------------------

[5] أخرجه عبد الرزاق (5236) ، ومسلم (878) ، وابن ماجه (1119) ، وابن خزيمة (1845) ، والطحاوي في «شرح معاني الآثار» (1/414) ، وأبو نعيم في "المستخرج" (1974) ، والبيهقي (3/200- 201) ؛ من طريق سفيان بن عيينة، عن ضمرة بن سعيد، به.

(1) في الأصل: «ربيعة» ، وتقدم في الإسناد السابق على الصواب، وكذا في مصادر التخريج.
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, যমরাহ ইবনে [সাঈদ](১) থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে; যাহহাক ইবনে কায়স নুমান ইবনে বশীরের নিকট এই মর্মে পত্র লিখলেন যে তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিনে সূরা জুমার সাথে আর কী পাঠ করতেন? তিনি উত্তরে বললেন: {তোমার কাছে কি আচ্ছন্নকারীর সংবাদ পৌঁছেছে?}।

--------------------------------------------

[৫] এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক (৫২৩৬), মুসলিম (৮৭৮), ইবনে মাজাহ (১১১৯), ইবনে খুজাইমাহ (১৮৪৫), ‘শারহু মাআনিল আসার’-এ তহাবী (১/৪১৪), ‘আল-মুস্তাখরাজ’-এ আবু নুয়াইম (১৯৭৪) এবং বায়হাকী (৩/২০০-২০১); সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহর সূত্রে, যমরাহ ইবনে সাঈদ থেকে।

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে ‘রাবিয়াহ’ রয়েছে, তবে পূর্ববর্তী সনদে সঠিকটি উল্লিখিত হয়েছে এবং তাখরিজ সূত্রসমূহেও এভাবেই এসেছে।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌عَامِرٌ الشَّعْبِيُّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ

بَابٌ

6 - حدَّثنا عليُّ بنُ عبدِالعزيزِ، ثنا أبو نُعيمٍ، ثنا زكريّا بنُ أبي زائدةَ، عن الشَّعبيِّ، قال: سمعتُ النعمانَ بنَ بَشيرٍ يقولُ: سمعتُ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقولُ: «الْحَلالُ بَيِّنٌ، وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُتَشَابِهَاتٌ لا يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ، كَالَّذِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى(1) يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ. أَلا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى(2) ؛ وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ» .

--------------------------------------------

[6] أخرجه الإمام أحمد (4/470 رقم 18375) ، والبخاري (52) ، والدارمي (2524) ، وابن المنذر في "الأوسط" (925) ، وأبو عوانة (5462) ، والطحاوي في "شرح مشكل الآثار" (750) ، والبيهقي (5/264) ، وفي "شعب الإيمان" (5/50 رقم 5355، 5356) ، والبغوي (2031) ؛ من طريق أبي نعيم، عن زكريا، به. اختصره بعضهم، وزاد بعضهم: «إن في الجسد مضغة … » ، وسيورد المصنف هذه الزيادة بهذا الإسناد برقم [53] . وانظر الحديث التالي.

(1) حَمَى الشيءَ يَحميه حَمْيًا وحِمًى وحِمايةً ومَحْمِيَةً: منعه ودفع عنه. والحِمَى: المَحْمِيُّ والممنوعُ. وأصلُه ما مُنع رعيُه من الأرض. وكان الملوك من العرب وغيرهم لكل ملك منهم حِمًى يحميه عن الناس ويمنعهم من دخوله، فمن دخله أوقع به العقوبة. انظر: "مشارق الأنوار" (1/201) ، و"شرح النووي" (11/28) ، و"تاج العروس" (19/343/ حمي) .

(2) قوله: «ألا وإن … » ، قال السيوطي في "عقود الزبرجد" (2/243) : «قال الكرماني: الواو عاطفة على مقدر يعلم مما تقدم، أي: ألا إن الأمر كما تقدم وإن لكل ملك حمًى. فجاء بالواو إشعارًا بأن بين الجملتين مناسبة؛ إذ هو بالحقيقة تشبيه للحرام بالحمى والمشتبه بما حوله، ولابد فيه من مشاركة بينهما» ا. هـ.
আমির আশ-শা’বি, নুমান ইবনে বাশির থেকে বর্ণিত

পরিচ্ছেদ

৬ - আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু নুআইম থেকে, তিনি যাকারিয়া ইবনে আবি যাইদাহ থেকে, তিনি শা’বি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি নুমান ইবনে বাশিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট; আর এই দুইয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহপূর্ণ বিষয়াবলী যা মানুষের মধ্যে অনেকেই জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে পবিত্র রাখল। আর যে ব্যক্তি সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে লিপ্ত হলো, সে হারামে লিপ্ত হলো; সেই রাখালের ন্যায় যে সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, অচিরেই সেখানে তার প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে। জেনে রেখো, প্রত্যেক বাদশাহর একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে; আর আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর হারামকৃত বিষয়সমূহ।»

--------------------------------------------

[৬] এটি ইমাম আহমাদ (৪/৪৭০, নং ১৮৩৭৫), বুখারি (৫২), দারেমি (২৫২৪), ইবনুল মুনযির "আল-আওসাত" গ্রন্থে (৯২৫), আবু আওয়ানা (৫৪৬২), তাহাবি "শারহু মুশকিলিল আসার" গ্রন্থে (৭৫০), বায়হাকি (৫/২৬৪) এবং "শুআবুল ঈমান" গ্রন্থে (৫/৫০, নং ৫৩৫৫, ৫৩৫৬), ও বাগাউয়ি (২০৩১) আবু নুআইমের সূত্রে যাকারিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। তাদের কেউ কেউ এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, আবার কেউ কেউ বর্ধিত অংশ উল্লেখ করেছেন: «নিশ্চয়ই শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে…», আর গ্রন্থকার এই বর্ধিত অংশটি অত্র সনদেই ৫৩ নং হাদীসে উল্লেখ করবেন। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।

(১) কোনো কিছুকে ‘হামা’ করার অর্থ হলো তা রক্ষা করা এবং তা থেকে বারণ করা ও প্রতিরোধ করা। আর ‘হিমা’ হলো রক্ষিত ও নিষিদ্ধ স্থান। এর মূল অর্থ হলো ভূমির সেই অংশ যেখানে গবাদিপশু চড়ানো নিষেধ করা হয়েছে। আরব ও অন্যদের রাজাদের রীতি ছিল যে, প্রত্যেক রাজারই একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকত যা তিনি সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ রাখতেন এবং তাদের প্রবেশে বাধা দিতেন; সুতরাং যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করত, তিনি তাকে শাস্তি দিতেন। দেখুন: "মাশারিকুল আনওয়ার" (১/২০১), "শারহু নাওয়াবি" (১১/২৮), এবং "তাজুল আরুস" (১৯/৩৪৩/ হামি)।

(২) তাঁর উক্তি: «জেনে রেখো এবং নিশ্চয়ই…», সুয়ূতি "উকুদুয যুবরজাদ" গ্রন্থে (২/২৪৩) বলেন: «কিরমানি বলেছেন: এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি একটি উহ্য বিষয়ের ওপর আতফ বা সংযুক্ত হয়েছে যা পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে অনুভূত হয়। অর্থাৎ: জেনে রেখো বিষয়টি তেমনই যেমন আগে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং নিশ্চয়ই প্রত্যেক রাজারই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। এখানে ‘ওয়াও’ আনা হয়েছে এটি বোঝাতে যে, দুটি বাক্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে; কারণ এটি মূলত হারামকে সংরক্ষিত এলাকার সাথে এবং সন্দেহযুক্ত বিষয়কে তার আশপাশের এলাকার সাথে তুলনা করা। আর এতে উভয়ের মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র থাকা আবশ্যক।» সমাপ্ত।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
7 - حدَّثنا عُبيدُ بنُ غَنَّامٍ، قال: ثنا أبو بكرِ بنُ أبي شيبةَ، ثنا وَكيعٌ، عن زكريّا(1) ، عن الشَّعبيِّ، [عن النُّعمانِ بنِ بَشيرٍ](2) ، قال: سمعتُ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم … فذكر مثلَه.

--------------------------------------------

[7] أخرجه ابن أبي شيبة (22313) - ومن طريقه مسلم (1599) - عن وكيع، عن زكريا، عن عامر، قال: سمعت النعمان بن بشير يخطب وأهوى بإصبعه إلى أذنيه … إلخ.

وأخرجه الترمذي (بعد حديث 1205) من طريق هناد، عن وكيع، به.

وأخرجه الإمام أحمد (4/270 رقم 18374) ، ومسلم (1599) ، وأبو داود (3330) ، وابن ماجه (3984) ؛ من طرق أخرى عن زكريا، به. رواه بعضهم مختصرًا، وزاد بعضهم: «إن في الجسد مضغة … » ، وسيوردها المصنف بهذا الإسناد برقم [56] ، وانظر الحديث السابق، والحديث رقم [53] .

(1) هو: ابن أبي زائدة.

(2) ما بين المعقوفين سقط من الأصل، وأثبتناه من الموضعين السابقين من "مصنف ابن أبي شيبة"، و"صحيح مسلم". ويدل عليه قوله: «قال: سمعت رسولَ الله صلى الله عليه وسلم … » ؛ فإن الشعبي لا يمكن أن يقول ذلك؛ لأنه ليس صحابيًّا. وقد تكرر هذا السقط عند المصنف أيضًا في الحديث رقم [53] ؛ حيث أورد قطعة أخرى من هذا الحديث بهذا الإسناد.
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদ বিন গান্নাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি শাইবাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওকি, যাকারিয়া(১) থেকে, তিনি শাবী থেকে, [নুমান বিন বাশির থেকে](২), তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি ... অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

[৭] এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি শাইবাহ (২২৩১৩) - এবং তাঁর মাধ্যম হয়ে মুসলিম (১৫৯৯) - ওকি থেকে, যাকারিয়া থেকে, আমির থেকে, তিনি বলেন: আমি নুমান বিন বাশিরকে খুতবা দিতে শুনেছি এবং তিনি তাঁর দুই আঙুল দিয়ে তাঁর দুই কানের দিকে ইঙ্গিত করলেন ... ইত্যাদি।

এবং এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি (১২০৫ নং হাদিসের পরে) হান্নাদের সূত্রে, ওকি থেকে, এই একই সনদে।

এবং এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ (৪/২৭০, নং ১৮৩৭৪), মুসলিম (১৫৯৯), আবু দাউদ (৩৩৩০) এবং ইবনে মাজাহ (৩৯৮৪); যাকারিয়া থেকে অন্যান্য সূত্রে, এই একই সনদে। তাদের কেউ কেউ এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং কেউ কেউ বৃদ্ধি করেছেন: «নিশ্চয়ই শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে ... », এবং লেখক অচিরেই এই সনদে [৫৬] নম্বর হাদিসে এটি উল্লেখ করবেন। আর পূর্ববর্তী হাদিস এবং [৫৩] নম্বর হাদিস দেখুন।

(১) তিনি হলেন: ইবনে আবি যাইদাহ।

(২) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছিল, আমরা তা "মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ" এবং "সহিহ মুসলিম"-এর পূর্বোক্ত দুটি স্থান থেকে সংযোজন করেছি। এর প্রমাণ হলো তাঁর এই কথাটি: «তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি ... »; কারণ শাবী এমনটি বলতে পারেন না; যেহেতু তিনি সাহাবী নন। আর লেখকের নিকট [৫৩] নম্বর হাদিসেও এই বিচ্যুতিটি পুনরায় ঘটেছে; যেখানে তিনি এই হাদিসের আরেকটি অংশ এই সনদে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
8 - حدَّثنا أبو مسلمٍ الكَشِّيُّ(1) ، قال: ثنا محمدُ بنُ عبدِاللهِ ⦗ص: 30⦘ الأنصاريُّ، وعبدُالرحمنِ بنُ حمادٍ الشُّعَثِيُّ(2) ، قالا: ثنا ابنُ عَونٍ(3) ، عن الشَّعبيِّ، قال: سمعتُ النُّعمانَ بنَ بَشيرٍ يقولُ: سمعتُ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقولُ: «إِنَّ الْحَلالَ بَيِّنٌ، وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ، وَإِنَّ بَيْنَ ذَلِكَ أُمُورً ٌ(4) مُتَشَابِهَاتٍ ٌ- وَرُبما قال: مُشْتَبِهَةً ٌ- وَسَأَضْرِبُ لَكُمْ فِي ذَلِكَ مَثَلاً: ⦗ص: 31⦘ إِنَّ اللهَ حَمَى حِمًى، وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَا حَرَّمَ، وَإِنَّهُ مَنْ يَرْعَ حَوْلَ الحِمَى يُوشِكْ أَنْ يُخَالِطَهُ الرِّيبَةُ(5) ، وَإِنَّهُ مَنْ يُخَالِطِ الرِّيبَةَ يُوشِكْ أَنْ يَجْسُرَ(6) » .

--------------------------------------------

[8] أخرجه المصنف في "الأوسط" (2472) بهذا الإسناد، ومن طريقه الإِرْبِلي في "تاريخ إِرْبِلَ" (1/147) . وأخرجه أبو نعيم في "الحلية" (4/336) ، والذهبي في "السير" (6/372) ؛ من طريق أبي مسلم الكشي، به. والإربلي أيضًا (1/204) من طريق أبي مسلم الكشي، عن الشعيثي وحده، به. وابن قانع في "معجم الصحابة" (3/144) من طريق الأنصاري وحده، به.

والحديث أخرجه البخاري (2051) ، وأبو داود (3329) ، والبزار (3267، 3268) ، والنسائي (7/241) ، (8/327) ، وابن الجارود (555) ، وأبو عوانة (5463، 5464) ، وابن حبان (721) ، والطوسي في "الأربعين" (1/82) ، والبيهقي (5/334) ؛ من طرقٍ عن ابن عون، به.

(1) هو: إبراهيم بن عبد الله. ⦗ص: 30⦘

(2) كذا في الأصل، لكن دون نقط الثاء، وهو: عبد الرحمن بن حماد بن شُعَيث، ونسبته في "تهذيب الكمال" (17/69) وسائر مصادر ترجمته: «الشُّعَيْثيّ» ، وهو منسوبٌ إلى جده «شُعَيْث» ، وما وقع في الأصل جائزٌ على لغة أهل الحجاز، وهو مذهب المبرِّد والسِّيرَافي؛ فإنهما يُجِيزان في النَّسب إلى «فُعَيْلٍ» حذفَ الياء، فيقال: فُعَلِيٌّ، ولم يُجز سيبويه إلا إثبات الياء، فيقال: فُعَيْلِيٌّ، وجعل ما ورد مخالفًا لذلك شاذًّا، نحو: قُرَشِيّ وهُذَلِيّ، لكن قال السِّيرَافي: «الحذفُ في هذا خارجٌ عن الشذوذ، وهو كثير جدًّا في لغة أهل الحجاز» . اهـ. انظر: "شرح الأشموني" (3/442 طبعة دار الكتب العلمية) ، و"أوضح المسالك" (4/301- 302) .

(3) هو: عبد الله بن عون بن أرطبان.

(4) كذا في الأصل، «أمور» ، وكذلك في "الأوسط" للمصنف- وغيَّرها المحقق إلى «أمورًا» - وكذا في بعض مصادر التخريج الأخرى، وجاء في بعضها «أمورًا» . وفي بعضها «أمور» لكنْ مع إسقاط «إن» . وما وقع هنا فيه وجهان:

أحدهما: أن يكون منصوبًا اسمًا مؤخَّرًا لـ «إنَّ» - وخبرُ «إنَّ» : «بين ذلك» - لكنه كُتب دون ألف تنوين النصب على لغة ربيعة؛ فإنَّهم لا يبدلون من تنوين النصب ألفًا حال الوقف، ويقرؤونه منوَّنًا بالنصب وَصْلاً. وقد وقع نحو ذلك في "صحيح البخاري" و"صحيح مسلم"؛ قال النووي: «وهذا يفعله المحدثون كثيرًا» . وقال أيضًا في نحو هذا: «وسواءٌ كتب بالألف أم بحذفها لابد من قراءته منصوبًا [أي: في حال الوصل يكون منوَّنًا بالنصب] » . انظر: "شرح النووي" (2/227) ، (8/83، 225) ، و"سر صناعة الإعراب" (2/477- 479) ، و"الخصائص" (2/97) ، و"شواهد التوضيح" (ص89، 91، 102- 103) ، و"همع الهوامع" (3/427) .

والوجه الثاني: أن يكون مرفوعًا على أنه مبتدأ مؤخر، وخبره «بين ذلك» ، والجملة من المبتدأ والخبر في محل رفع خبر «إن» ، واسم «إن» ضميرُ شأنٍ محذوفٌ؛ والتقدير: «إنه- أي الشأن- بين ذلك أمورٌ متشابهاتٌ» ، ونَحْوُ ذلك ⦗ص: 31⦘ قولُهُ صلى الله عليه وسلم: «إنَّ مِنْ أشدِّ أهل النار يوم القيامة عذابًا المصوِّرون» . "صحيح مسلم" (2109) . وانظر تفصيل ذلك وشواهده في: "شواهد التوضيح" (ص200، 203، 205، 207) ، و"أوضح المسالك" (2/60- 63) ، و"مغني اللبيب" (1/70، 161، 284- 285) ، و"همع الهوامع" (1/272- 274) ، و"شرح النووي" (3/98) .

(5) كذا في الأصل، وفي "الأوسط" للمصنف: «يخالطه» فقط، أي: يخالط الحمى. ولم يرد فيه باقي لفظ الحديث. وفي "تاريخ إربل"- من طريق الطبراني-: «يخالط الريبة» ، وفي سائر المصادر: «يوشك أن يخالط الحمى» أو: «يوشك أن يرتع» . وما وقع هنا إن لم يكن من انتقال البصر إلى ما بعده فتكررت كلمة «الريبة» ، فإنه يحمل على معنى «يخالطُ الريبةَ» ويكون إسنادُ الفعلِ هنا إلى «الريبة» من بابِ القَلْبِ؛ كما في قوله تعالى: {وَقَدْ بَلَغَنِيَ الْكِبَرُ} [آل عِمرَان: 40] ، أي: بلغتُ الكِبَرَ. أو على أنَّ «يخالط» صيغة «مفاعلة» ومن معانيها التبادُلُ والمشاركة من الطرفين. وانظر مصادر تخريج الحديث.

(6) جَسَر على الشيء يَجْسُر جَسَارةً: أقدم. والمراد: يقرب أن يقدم على الحرام المحض. انظر: "مختار الصحاح" (ص103/ جسر) ، و"جامع العلوم والحكم" (1/73) .
৮ - আবু মুসলিম আল-কাশশি(১) আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ আল-আনসারি এবং আবদুর রহমান ইবন হাম্মাদ আল-শুআছি(২) আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: ইবন আওন(৩) আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আশ-শাবি থেকে, তিনি বলেন: আমি নুমান ইবন বাশিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট; আর এই দুইয়ের মাঝে কিছু অস্পষ্ট (৪) (সন্দেহজনক) বিষয় রয়েছে - বর্ণনাকারী কখনও বলেছেন: সন্দেহযুক্ত বিষয় - আর আমি তোমাদের সামনে এ বিষয়ে একটি উদাহরণ পেশ করছি: ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ করেছেন, আর আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর হারামকৃত (নিষিদ্ধ) বিষয়সমূহ। আর নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সংরক্ষিত এলাকার আশেপাশে চরে বেড়ায়, শীঘ্রই সে সন্দেহের সাথে মিশে যাওয়ার (৫) উপক্রম হয়। আর যে ব্যক্তি সন্দেহের সাথে মিশে যায়, অচিরেই সে (হারাম কাজে) সাহসী হয়ে ওঠার (৬) উপক্রম হয়।»

--------------------------------------------

[৮] গ্রন্থকার এটি তাঁর "আল-আওসাত" (২৪৭২) গ্রন্থে এই সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে আল-ইরবিলি "তারিখু ইরবিল" (১/১৪৭) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আবু নুআইম "আল-হিলয়াহ" (৪/৩indexed) গ্রন্থে এবং আয-যাহাবি "আস-সিয়ার" (৬/৩৭২) গ্রন্থে আবু মুসলিম আল-কাশশির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-ইরবিলিও (১/২০৪) এটি আবু মুসলিম আল-কাশশির সূত্রে শুধুমাত্র শুআছি থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইবন কানি "মুজামুস সাহাবাহ" (৩/১৪৪) গ্রন্থে এটি শুধুমাত্র আনসারির সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

হাদিসটি ইমাম বুখারি (২০৫১), আবু দাউদ (৩৩২৯), আল-বাযযার (৩২৬৭, ৩২৬৮), আন-নাসায়ি (৭/২৪১, ৮/৩২৭), ইবনুল জারুদ (৫৫৫), আবু আওয়ানাহ (৫৪৬৩, ৫৪৬৪), ইবন হিব্বান (৭২১), আত-তুসি "আল-আরবাউন" (১/৮২) গ্রন্থে এবং আল-বায়হাকি (৫/৩৩৪) গ্রন্থে ইবন আওনের সূত্রে বিভিন্ন পথে বর্ণনা করেছেন।

(১) তিনি হলেন: ইব্রাহিম ইবন আবদুল্লাহ। ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে 'ছা' বর্ণে নুকতাহ ছাড়াই। তিনি হলেন: আবদুর রহমান ইবন হাম্মাদ ইবন শুআইছ। "তাহযিবুল কামাল" (১৭/৬৯) এবং তাঁর জীবনী সংক্রান্ত অন্যান্য উৎসে তাঁর নিসবত বা বংশনাম হলো: «আল-শুআইছি», যা তাঁর দাদা «শুআইছ»-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। মূলে যা আছে তা হিজাযবাসীদের ভাষা অনুযায়ী বৈধ, যা আল-মুবররাদ এবং আস-সিরাফির অভিমত; তাঁরা «ফুআইল» ওজনের শব্দের নিসবতের ক্ষেত্রে 'ইয়া' বিলোপ করা বৈধ মনে করেন, ফলে তা «ফুআলি» হয়। তবে সিবওয়াইহ 'ইয়া' বহাল রাখা ছাড়া বৈধ বলেননি, ফলে তা «ফুআইলি» হবে; এর ব্যতিক্রম যা বর্ণিত হয়েছে সেগুলোকে তিনি শায বা বিরল বলেছেন, যেমন: কুরাশি এবং হুযালি। তবে আস-সিরাফি বলেছেন: «এ ক্ষেত্রে বিলোপ করা বিরলতার বাইরে, এটি হিজাযবাসীদের ভাষায় অত্যন্ত বেশি প্রচলিত।» সমাপ্ত। দেখুন: "শারহুল আশমুনি" (৩/৪৪২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ) এবং "আওদাহুল মাসালিক" (৪/৩০১-৩০২)।

(৩) তিনি হলেন: আবদুল্লাহ ইবন আওন ইবন আরতবান।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই (পেশ দিয়ে) «উমুরুন» এসেছে, একইভাবে গ্রন্থকারের "আল-আওসাত" গ্রন্থেও ছিল—পরবর্তীতে মুহাক্কিক (গবেষক) তা পরিবর্তন করে «উমুরান» (যবর দিয়ে) করেছেন—অন্যান্য উৎসগুলোতেও এভাবেই এসেছে। আবার কোন কোনটিতে «উমুরুন» এসেছে তবে শুরুতে «ইন্না» শব্দটি বাদ দিয়ে। এখানে যা এসেছে তার দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে:

এক: এটি «ইন্না»-এর পরবর্তী ইসম (নামপদ) হিসেবে মানসুব (যবরযুক্ত) হবে—এবং «ইন্না»-এর খবর হলো: «বাইনা যালিকা»—কিন্তু রাবিআ গোত্রের ভাষা অনুযায়ী নসবের তানভিনের আলিফ ছাড়াই এটি লেখা হয়েছে; কারণ তারা ওয়াকফ বা থামার অবস্থায় নসবের তানভিনের বদলে আলিফ উচ্চারণ করে না, তবে মিলিয়ে পড়ার সময় নসবের তানভিনসহ পড়ে। সহিহ বুখারি এবং সহিহ মুসলিমেও এমন ঘটনা ঘটেছে; ইমাম নববী বলেন: «মুহাদ্দিসগণ এটি প্রায়ই করে থাকেন।» তিনি এ জাতীয় বিষয়ে আরও বলেন: «আলিফসহ লেখা হোক বা আলিফ ছাড়া, এটি অবশ্যই মানসুব বা যবরযুক্ত পড়তে হবে [অর্থাৎ মিলিয়ে পড়ার সময় নসবের তানভিনসহ পড়তে হবে]»। দেখুন: "শারহু নববী" (২/২২৭, ৮/৮৩, ২২৫), "সিররু সিনাআতিল ইবরাব" (২/৪৭৭-৪৭৯), "আল-খাসাইস" (২/৯৭), "শাওয়া হিদুত তাওদিহ" (পৃষ্ঠা ৮৯, ৯১, ১০২-১০৩), এবং "হামউল হাওয়া মি" (৩/৪২৭)।

দ্বিতীয়ত: এটি মুবতাদা মুয়াখখার (পরবর্তী উদ্দেশ্য) হিসেবে মারফু (পেশযুক্ত) হতে পারে এবং তার খবর হলো «বাইনা যালিকা», আর মুবতাদা ও খবরের এই বাক্যটি «ইন্না»-এর খবর হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হবে। এ ক্ষেত্রে «ইন্না»-এর ইসম হবে একটি উহ্য 'শান' জমির; যার মূল অর্থ দাঁড়াবে: «বিষয়টি এমন যে—অর্থাৎ মূল ঘটনা হলো—তার মাঝে কিছু অস্পষ্ট বিষয় রয়েছে», ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ যেমনটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীতে রয়েছে: «নিশ্চয় কেয়ামতের দিন দোযখবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন আজাব হবে ছবি আঁকিয়েদের।» [সহিহ মুসলিম (২১০৯)]। এ বিষয়ে বিস্তারিত এবং এর প্রমাণাদি দেখুন: "শাওয়া হিদুত তাওদিহ" (পৃষ্ঠা ২০০, ২০৩, ২০৫, ২০৭), "আওদাহুল মাসালিক" (২/৬০-৬৩), "মুগনি আল-লাবিব" (১/৭০, ১৬১, ২৮৪-২৮৫), "হামউল হাওয়া মি" (১/২৭২-২৭৪) এবং "শারহু নববী" (৩/৯৮)।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, গ্রন্থকারের "আল-আওসাত" গ্রন্থে আছে কেবল: «ইউখালিতুহু» অর্থাৎ সংরক্ষিত এলাকার সাথে মিশে যায়। সেখানে হাদিসের বাকি অংশ উল্লেখ নেই। "তারিখু ইরবিল"-এ তাবারানির সূত্রে আছে: «ইউখালিতুর রিবাহ» (সন্দেহের সাথে মিশে যায়), আর অন্যান্য সূত্রে আছে: «ইউশিকু আন ইউখালিতাল হিমা» (সম্ভাবনা আছে যে সংরক্ষিত এলাকার ভেতর ঢুকে পড়বে) অথবা «ইউশিকু আন ইয়ারতাআ» (আশঙ্কা আছে যে সেখানে চরে বেড়াবে)। এখানে যা বর্ণিত হয়েছে তা যদি পরবর্তী শব্দের দিকে দৃষ্টি চলে যাওয়ার কারণে «রিবাহ» শব্দের পুনরাবৃত্তি না হয়ে থাকে, তবে তা «সন্দেহের সাথে মিশে যাওয়া» অর্থে গ্রহণ করা হবে এবং এখানে ক্রিয়াটিকে «সন্দেহ»-এর দিকে সম্বন্ধ করা 'কালব' (রূপক সম্বন্ধ)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {বার্ধক্য আমার নিকট পৌঁছেছে} [আলে ইমরান: ৪০], অর্থাৎ আমি বার্ধক্যে পৌঁছেছি। অথবা «ইউখালিতু» শব্দটি 'মুফায়ালাহ' ওজনে হওয়ার কারণে এটি উভয় পক্ষের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সংমিশ্রণ বোঝাতে পারে। হাদিস বর্ণনার অন্যান্য উৎসগুলো দেখুন।

(৬) কোনো বিষয়ে সাহস করা বা অগ্রসর হওয়া। এখানে উদ্দেশ্য হলো: স্পষ্ট হারামের দিকে অগ্রসর হওয়ার নিকটবর্তী হওয়া। দেখুন: "মুখতারুস সিহাহ" (পৃষ্ঠা ১০৩/জাসারা) এবং "জামিঊল উলুমি ওয়াল হিকাম" (১/৭৩)।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٣١)
9 - حدَّثنا أبو يزيدَ القَراطيسيُّ(1) ، ثنا أَسدُ بنُ موسى، ثنا شَيبانُ ⦗ص: 32⦘ أبو معاويةَ(2) ، عن عاصمِ بنِ بَهْدلةَ، عن خَيْثمةَ(3) والشَّعبيِّ، عن النُّعمانِ ابنِ بَشيرٍ، قال: قال رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «حَلالٌ بَيِّنٌ، وَحَرَامٌ بَيِّنٌ(4) ، وَشُبُهَاتٌ بَيْنَ ذَلِكَ، فَمَن تَرَكَ الشُّبُهَاتِ فَهُوَ لِلْحَرَامِ أَتْرَكُ، وَمَحَارِمُ اللهِ حِمًى، فَمَنْ أَرْتَعَ(5) حَوْلَ الْحِمَى كَانَ قَرِ َفًا(6) أَنْ يُرْتِعَ فِيهِ» .

--------------------------------------------

[9] ذكر الحافظ ابن كثير في "جامع المسانيد" (6/16 رقم 10373) رواية الطبراني هذه. والحديث أخرجه الطحاوي في "شرح مشكل الآثار" (752) عن بحر بن نصر، ثنا أسد بن موسى، به. وأخرجه الإمام أحمد (4/267 رقم 18347) ، وأبو نعيم في "الحلية" (4/125) ؛ من طريق شيبان، به. وأخرجه البزار (3270) من طريق أبي عوانة الوضاح بن عبد الله، عن عاصم، عن الشعبي وحده، به.

(1) هو: يوسف بن يزيد. ⦗ص: 32⦘

(2) هو: ابن عبد الرحمن النحوي.

(3) هو: ابن عبد الرحمن.

(4) قوله: «حلالٌ بَيِّنٌ» : «حلالٌ» مبتدأ، و «بَيِّنٌ» خبره. وقوله: «حرام بين» مثله.

وساغ الابتداء بالنكرة هنا؛ لأنها موصوفة بمقدر، أي: «حلالٌ من أمور الدين بيِّن، وحرامٌ من أمور الدين بيِّن» . ويدلُّ عليه أنه في ألفاظ الحديث في الروايات الأخرى: «الحلالُ بين والحرام بين» ، وفي بعضها: «إن الحلال بين وإن الحرام بين» . وانظر في مسوِّغات الابتداء بالنكرة: "شرح ابن عقيل" (1/203- 207) ، و"شرح الأُشْموني" (1/193) .

ويمكن أن تكون «حلال» هنا مبتدأ و «بين» صفته، والخبر مقدم مقدَّرٌ، أي: «في الدين حلالٌ بينٌ، وفي الدين حرامٌ بينٌ» .

ويحتمل أن يكون- كما قال السِّنْدي- تفصيلاً لمجمل مقدَّرٍ، أي: أمور الحل والحرمة ثلاثة: حلال بيِّن يظهر حلُّه بأدنى نظر وبحث، وحرام كذلك، وأمور مشتبهة يتردد المرء فيها. وعلى ما قاله السندي يكون: «حلال» خبرًا لمبتدأ محذوف، تقديره: الأمر الأول، و «حرام» خبرًا لمبتدأ تقديره: الأمر الثاني، و «بين» في الموضعين وصفٌ لـ «حلال» و «حرام» .

وانظر: المنقول من حاشية السندي على "مسند أحمد" في الحديث رقم (18347/ طبعة الرسالة) ، و"أوضح المسالك" (1/184) ، و"همع الهوامع" (1/381- 384) .

(5) رَتَع- كمَنَع- رَتْعًا ورُتوعًا ورِتاعًا: أكل وشرب وذهب وجاء ما شاء في خصب وَسَعَة. وأصل الرتع للبهائم، ويستعار للإنسان إذا أريد به الأكل الكثير. وأَرْتَعَ فلانٌ إبله، أي: أسامها فرتعت. "تاج العروس" (11/149/رتع) .

(6) رُسمت في الأصل: «فرقا» ونقطةُ القاف الثانية غير واضحة. وفي "مسند أحمد" و"الحلية": «قَمِنًا» ، وفي "مسند البزار": «حَرِيًّا» . والكلمات الثلاث: «قَرِفًا» و «قَمِنًا» و «حَرِيًّا» بمعنًى واحدٍ، أي: كان خَليقًا وَجَديرًا. انظر: "غريب الحديث" للحربي (2/367) ، و"تاج العروس" (12/429/قرف) .
৯ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াযিদ আল-কারাতীসী(১), তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আসাদ ইবন মুসা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শায়বান ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ আবু মুয়াবিয়া(২), তিনি আসিম ইবন বাহদালা থেকে, তিনি খায়সামাহ(৩) ও আশ-শা'বী থেকে, তিনি নুমান ইবন বাশীর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট(৪), আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহপূর্ণ বিষয়সমূহ। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহপূর্ণ বিষয়সমূহ পরিত্যাগ করল, সে হারামের ক্ষেত্রে অধিক বর্জনকারী হবে। আর আল্লাহর নিষিদ্ধ সীমাসমূহ হলো সংরক্ষিত চারণভূমি। সুতরাং যে ব্যক্তি সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়(৫), সে এর ভেতরে ঢুকে পড়ার নিকটবর্তী(৬) হয়»।

--------------------------------------------

[৯] হাফিয ইবন কাসীর 'জামিঊল মাসানীদ' (৬/১৬, নং ১০৩৭৩) গ্রন্থে তাবারানীর এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি ইমাম তাহাবী 'শারহু মুশকিলিল আসার' (৭৫২) গ্রন্থে বাহর ইবন নাসর থেকে, তিনি আসাদ ইবন মুসা থেকে, তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ (৪/২৬৭, নং ১৮৩৪৭) এবং আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' (৪/১২৫) গ্রন্থে শায়বানের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আর আল-বাযযার (৩২৭০) এটি আবু আওয়ানাহ ওয়াদদাহ ইবন আব্দুল্লাহর সূত্রে, তিনি আসিম থেকে, তিনি এককভাবে শা'বীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

(১) তিনি হলেন: ইউসুফ ইবন ইয়াযিদ। ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘

(২) তিনি হলেন: ইবন আব্দুর রহমান আন-নাহবী।

(৩) তিনি হলেন: ইবন আব্দুর রহমান।

(৪) তাঁর বাণী: «হালাল স্পষ্ট»: «হালাল» হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং «স্পষ্ট» হলো তার খবর (বিধেয়)। তাঁর বাণী «হারাম স্পষ্ট»-এর ক্ষেত্রেও একই রূপ।

এখানে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ) দ্বারা বাক্য শুরু করা বৈধ হয়েছে; কারণ এখানে একটি ঊহ্য গুণ (সিফাত) রয়েছে। অর্থাৎ: «দীনের বিষয়াবলির মধ্যে হালাল স্পষ্ট এবং হারামের বিষয়াবলির মধ্যে হারাম স্পষ্ট»। অন্যান্য বর্ণনায় হাদীসের শব্দাবলি এর প্রমাণ দেয়: «হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট» (নির্দিষ্ট পদসহ), এবং কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে: «নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং নিশ্চয়ই হারাম স্পষ্ট»। অনির্দিষ্ট বিশেষ্য দ্বারা বাক্য শুরু করার বৈধতা সম্পর্কে দেখুন: 'শারহু ইবনি আকীল' (১/২০৩-২০৭) এবং 'শারহুল আশমুনী' (১/১৯৩)।

এটিও সম্ভব যে, «হালাল» এখানে মুবতাদা এবং «স্পষ্ট» তার সিফাত বা গুণ, আর খবরটি পূর্বে ঊহ্য রয়েছে। অর্থাৎ: «দীনের মধ্যে স্পষ্ট হালাল রয়েছে এবং দীনের মধ্যে স্পষ্ট হারাম রয়েছে»।

সিনদী যেমনটি বলেছেন, এটি একটি ঊহ্য সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা হওয়াও সম্ভব। অর্থাৎ: হালাল ও হারামের বিষয়গুলো তিন প্রকার: স্পষ্ট হালাল, যার বৈধতা সামান্য চিন্তা ও গবেষণাতেই প্রকাশ পায়; অনুরূপ স্পষ্ট হারাম; আর সন্দেহপূর্ণ বিষয়সমূহ যাতে মানুষ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। সিনদীর বর্ণনা অনুযায়ী: «হালাল» শব্দটি একটি ঊহ্য মুবতাদার খবর হবে, যার সম্ভাব্য রূপ: 'প্রথম বিষয়টি', আর «হারাম» হবে অপর একটি ঊহ্য মুবতাদার খবর যার সম্ভাব্য রূপ: 'দ্বিতীয় বিষয়টি', আর উভয় স্থানে «স্পষ্ট» শব্দটি «হালাল» ও «হারাম»-এর বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

দেখুন: 'মুসনাদে আহমাদ'-এর (১৮৩৪৭ নং হাদীস, আর-রিসালাহ সংস্করণ) পাদটীকায় সিনদীর উদ্ধৃতি, এবং 'আওদাহুল মাসালিক' (১/১৮৪) ও 'হামউল হাওয়ামি' (১/৩৮১-৩৮৪)।

(৫) রাতায়া - মানাআ এর ওজনে - অর্থ: প্রচুর সচ্ছলতার মাঝে পানাহার করা এবং যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো। মূলত পশুর ঘাস খাওয়ার ক্ষেত্রে এই শব্দ ব্যবহৃত হয়, তবে মানুষের ক্ষেত্রেও রূপক হিসেবে অধিক পানাহার বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। 'অমুক ব্যক্তি তার উটগুলোকে চারণভূমিতে পাঠিয়েছে', অর্থাৎ সেগুলোকে ছেড়ে দিয়েছে যাতে তারা ঘাস খেতে পারে। 'তাজুল আরুস' (১১/১৪৯/রাতায়া)।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি «ফারাকান» লেখা হয়েছে এবং দ্বিতীয় 'কাফ' এর নুকতা স্পষ্ট নয়। 'মুসনাদে আহমাদ' ও 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে এটি «কামিনান» এবং 'মুসনাদে বাযযার'-এ «হারীয়ান» শব্দে এসেছে। এই তিনটি শব্দই: «কারিফান», «কামিনান» এবং «হারীয়ান» একই অর্থবোধক, অর্থাৎ: 'উপযুক্ত বা নিকটবর্তী হওয়া'। দেখুন: হারবীর 'গারীবুল হাদীস' (২/৩৬৭) এবং 'তাজুল আরুস' (১২/৪২৯/কারাফ)।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
10 - حدَّثنا مُعاذُ بنُ المُثَنَّى وأحمدُ بنُ داودَ المَكيُّ، قالا: ثنا محمدُ بن كَثيرٍ، قال: ثنا سفيانُ الثوريُّ، عن أبي فَرْوة الهَمْدانيِّ(1) ، عن الشَّعبيِّ، عن النُّعمانِ بنِ بَشيرٍ، عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم، بمثلِه.

--------------------------------------------

[10] أخرجه البخاري (2051) ، والبيهقي في "سننه" (5/264) ؛ من طريق محمد بن كثير، عن الثوري، به.

وأخرجه الإمام أحمد (4/275 رقم 18418) ، وأبو الشيخ في "الأمثال" (121) ، وتمام في "فوائده" (1678/الروض البسام) ؛ من طرق عن الثوري، به. وانظر الحديث التالي.

(1) هو: عروة بن الحارث.
১০ - আমাদের কাছে মুয়াজ ইবনুল মুসান্না এবং আহমাদ ইবনে দাউদ আল-মাক্কি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে কাসির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে সুফিয়ান আস-সাওরি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ফারওয়া আল-হামদানি(১) থেকে, তিনি আশ-শা'বি থেকে, তিনি নুমান ইবনে বাশির থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

[১০] এটি বুখারি (২০৫১) এবং বায়হাকি তাঁর "সুনান" (৫/২৬৪) গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে কাসিরের সূত্রে সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমাদ (৪/২৭৫, নম্বর ১৮৪১৮), আবুশ শাইখ "আল-আমসাল" (১২১) এবং তাম্মাম তাঁর "ফাওয়ায়িদ" (১৬৭৮/আর-রাওদুল বাসসাম) গ্রন্থে সাওরি থেকে বিভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। পরবর্তী হাদিসটি দেখুন।

(১) তিনি হলেন: উরওয়াহ ইবনুল হারিস।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
11 - حدَّثنا بِشرُ بنُ موسى، ثنا الحُميديُّ، ثنا سفيانُ، ثنا أبو فَرْوة الهَمْدانيُّ(1) ، قال: سمعتُ الشعبيَّ، قال: سمعتُ النُّعمانَ بنَ بَشيرٍ على المنبرِ يقولُ: سمعتُ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقولُ: «حَلالٌ بَيِّنٌ، وَحَرَامٌ بَيِّنٌ(2) ، وَشُبُهَاتٌ بَيْنَ ذَلِكَ، مَنْ تَرَكَ مَا اشْتَبَهَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ كَانَ لِمَا اسْتَبَانَ لَهُ أَتْرَكَ، وَمَنِ اجْتَرَأَ عَلَى مَا يَشُكُّ فِيهِ يُوشِكْ ُأَنْ يُوَاقِعَ ⦗ص: 34⦘ الْحَرَامَ، وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى، وَحِمَى اللهِ فِي الأَرْضِ مَعَاصِيهِ» .

--------------------------------------------

[11] أخرجه الحميدي (918) - وبشر بن موسى هو راوي مسند الحميدي- ومن طريقه أخرجه البيهقي في "السنن الكبرى" (5/334) ، وفي "شعب الإيمان" (5357) ، و"الآداب" (485) .

وأخرجه الإمام أحمد (4/271 رقم 18384) ، والبخاري (2051) ، وأبو عوانة (5466، 5467) ؛ من طرق عن سفيان بن عيينة، به.

وأخرجه مسلم (1599) ، والبيهقي في "معرفة السنن والآثار" (20851) ؛ من طريق جرير، عن أبي فروة، به.

(1) هو: عروة بن الحارث.

(2) تقدم التعليق على مُسوِّغ الابتداء بالنكرة في هذه العبارة، في الحديث رقم [9] .
১১ - আমাদের নিকট বিশর বিন মূসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-হুমাইদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু ফারওয়াহ আল-হামদানী(১) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আশ-শা’বীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নু’মান বিন বাশীরকে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট(২), আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ। যে ব্যক্তি গুনাহ হওয়ার আশঙ্কায় সন্দেহযুক্ত বিষয়গুলো বর্জন করবে, সে যা স্পষ্ট (গুনাহ) তা আরও অধিক বর্জনকারী হবে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার সাহস করবে, অচিরেই সে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ হারামে পতিত হবে। জেনে রেখো, প্রত্যেক রাজারই একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে, আর জমিনে আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নাফরমানি বা নিষিদ্ধ কার্যাবলি»।

--------------------------------------------

[১১] এটি আল-হুমাইদী (৯১৮) বর্ণনা করেছেন - এবং বিশর বিন মূসা হলেন মুসনাদে হুমাইদীর বর্ণনাকারী - এবং তাঁর সূত্র ধরে আল-বাইহাকী ‘আস-সুনানুল কুবরা’ (৫/৩৩৪), ‘শুয়াবুল ঈমান’ (৫৩৫৭) এবং ‘আল-আদাব’ (৪৮৫) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমাদ (৪/২৭১, নম্বর ১৮৩৮৪), বুখারী (২০৫১) এবং আবু আওয়ানাহ (৫৪৬৬, ৫৪৬৭) বিভিন্ন সূত্রে সুফিয়ান বিন উয়াইনা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

মুসলিম (১৫৯৯) এবং আল-বাইহাকী ‘মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার’ (২০৮৫১) গ্রন্থে জারীরের সূত্রে আবু ফারওয়াহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(১) তিনি হলেন: উরওয়াহ বিন আল-হারিস।

(২) এই বাক্যে ‘নাকিরা’ (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) দিয়ে বাক্য শুরু করার যৌক্তিকতা সম্পর্কে ইতিপূর্বে ৯ নম্বর হাদিসের টীকায় আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ٢١٢١) আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী মিন জুয ২১ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
12 - حدَّثنا أبو زُرعةَ عبدُالرحمنِ بنُ عَمرٍو الدِّمشقيُّ وأحمدُ بنُ عبدِالقاهرِ بنِ الخَيْبَريِّ، اللَّخْميُّ، الدمشقيان(1) ؛ قَالَ(2) : ثنا مُنبِّهُ بنُ عثمانَ، قال: حدثني ثَورُ بنُ يزيدَ، قال: حدثني مُجالِدُ بنُ سعيدٍ، قال: حَدَّثني عامرٌ الشَّعبيُّ، قال: سمعتُ النعمانَ بنَ بَشيرٍ يقولُ: سمعتُ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقولُ: «الْحَلالُ بَيِّنٌ، والْحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَ الْحَلالِ وَالْحَرَامِ أُمُورٌ مُشْتَبِهَاتٌ لا يَدْرِي كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ أَمِنَ الْحَلالِ هِيَ أَمْ مِنَ الْحَرَامِ هِيَ، فَمَتَى يَدَعْهُنَّ الْمَرْءُ يَكُونُ(3) أَشَدَّ اسْتِبْرَاءً ⦗ص: 35⦘ لِعِرْضِهِ وَدِينِهِ، وَمَتَى يَقَعْ فِيهِنَّ يُوشِكْ أَنْ يَقَعَ فِي الْحَرَامِ، كَمَنْ يُرْتِعُ إِلَى جَانِبِ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يُرْتِعَ فِي الْحِمَى، أَلا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى، وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ» .

--------------------------------------------

[12] أخرجه المصنف في "المعجم الأوسط" (2264) ، و"مسند الشاميين" (511) ؛ من طريق أحمد بن عبد القاهر اللخمي فقط، به. ومن طريقه ابن عساكر في "تاريخ دمشق" (60/274) ، (70/130) .

(1) كذا في الأصل، والأولى: الدمشقي؛ فقد قال في أبي زرعة آنفًا: «الدمشقي» ، فلعله ذهل عن قوله الأول، فأراد أن ينسبهما معًا. وهما دمشقيان.

(2) كذا في الأصل، والأولى: «قالا» . ويُخرَّج ما في الأصل على أنه أراد: قال كلُّ واحدٍ منهما. أو على أنه اكتفى بفتحة اللام عن الألف؛ على لغة هَوَازِن وعُلْيَا قَيْس؛ فإنهم قد يحذفون حروف المد الثلاثة ويكتفون بالحركات نيابة عنها؛ ومن شواهد ذلك قول رؤبة بن العجاج [من الرجز] :

وَصَّانِيَ الْعَجَّاجُ فِيمَا وَصَّنِي

أي: فيما وصَّاني. وانظر تفصيل هذه اللغة وشواهدها، في: "الخصائص" (3/133- 136) ، و"سر صناعة الإعراب" (2/631- 632) ، و"اللباب" للعكبري (2/111- 112) ، و"الإنصاف" (1/385- 391) ، (2/544- 547) ، و"مغني اللبيب" (ص716- 717) ، و"همع الهوامع" (1/229- 230) .

(3) كذا في الأصل «يكون» مرفوعًا، وحقه الجزم؛ لأنه واقع في جواب شرط جازم وهو «متى» . ورفع المضارع في جواب الشرط الجازم- إذا كان فعل الشرط ⦗ص: 35⦘ مضارعًا- جائزٌ بقلة، ويخرَّج على حذف الفاء الواقعة في جواب الشرط مع إرادتها، أي: فمتى يدعْهن المرء فيكون … أو على التقديم والتأخير، أي: فيكون أشد استبراء متى يدعْهن … وانظر تفصيل ذلك وشواهده في: "الكتاب" لسيبويه (3/67) ، و"شرح التسهيل" (4/77- 79) ، و"شواهد التوضيح" (ص232- 233) ، و"مغني اللبيب" (ص717) ، و"همع الهوامع" (2/557- 559) ، و"الدر المصون" (4/43) ، وانظر: "معجم القراءات" لعبد اللطيف الخطيب (2/111) .
১২ - আমাদের নিকট আবু জুরআ আবদুর রহমান বিন আমর আদ-দিমাশকি এবং আহমাদ বিন আবদুল কাহির বিন আল-খায়বারি আল-লাখমি বর্ণনা করেছেন, তারা দুজনেই দামেস্কি(১); তিনি বলেছেন(২): আমাদের নিকট মুনাব্বিহ বিন উসমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সাওরের বিন ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুজালিদ বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আমির আশ-শাবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নুমান বিন বাশিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট; আর এ দুটির মাঝে রয়েছে অনেক অস্পষ্ট বিষয়, যা অধিকাংশ মানুষ জানে না যে সেগুলো হালাল নাকি হারাম। সুতরাং যে ব্যক্তি সেগুলো বর্জন করে, সে নিজের সম্মান ও দ্বীনকে অধিকতর পবিত্র রাখে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘। আর যে ব্যক্তি সেগুলোতে লিপ্ত হয়, সে হারামে লিপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়; যেমন সেই রাখাল যে সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, অচিরেই তার পশু সেই সংরক্ষিত চারণভূমিতে প্রবেশ করার উপক্রম হয়। সাবধান! প্রত্যেক বাদশাহর একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে, আর আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ»।

--------------------------------------------

[১২] মুসান্নিফ এটি "আল-মুজাম আল-আওসাত" (২২৬৪) এবং "মুসনাদুশ শামিয়্যিন" (৫১১)-এ শুধুমাত্র আহমাদ বিন আবদুল কাহির আল-লাখমির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর সূত্রেই ইবনে আসাকির "তারিখু দিমাকশ" (৬০/২৭৪), (৭০/১৩০)-এ বর্ণনা করেছেন।

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই আছে। তবে উত্তম ছিল: 'আদ-দিমাশকি'; কেননা তিনি এর আগে আবু জুরআ সম্পর্কে বলেছিলেন: 'আদ-দিমাশকি', সম্ভবত তিনি তাঁর পূর্বের কথাটি ভুলে গিয়েছিলেন এবং তাদের দুজনকে একসাথে নিসবত করতে চেয়েছিলেন। আর তারা দুজনেই দামেস্কি।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই আছে। তবে উত্তম ছিল: 'ক্বলা' (তারা দুইজন বলেছেন)। মূল পাঠে যা আছে তার ব্যাখ্যা হতে পারে যে, তিনি উদ্দেশ্য করেছেন: তাদের প্রত্যেক ব্যক্তিই বলেছেন। অথবা তিনি আলিফ-এর পরিবর্তে লাম-এর ওপর ফাতহা (জবর) দিয়েই যথেষ্ট মনে করেছেন; যা হাওয়াযিন এবং উলইয়া কায়স গোত্রের উপভাষা অনুযায়ী; কেননা তারা কখনও কখনও তিনটি মাদ্-এর অক্ষর বিলুপ্ত করে সেগুলোর পরিবর্তে হারাকাত (স্বরচিহ্ন) দিয়েই যথেষ্ট মনে করে; এর একটি উদাহরণ হলো রুবা বিন আল-আজজাজের এই উক্তি [রজয ছন্দ থেকে]:

আল-আজজাজ আমাকে সে বিষয়েই উপদেশ দিয়েছেন যা তিনি আমাকে দিয়েছেন

অর্থাৎ: 'ফিমা ওয়াসসানি'। এই ভাষার বিস্তারিত আলোচনা এবং এর উদাহরণগুলোর জন্য দেখুন: "আল-খাসাইস" (৩/১৩৩-১৩৬), "সিররু সিনাআতিল ইরাব" (২/৬৩১-৬৩২), আল-উকবারির "আল-লুবাব" (২/১১১-১১২), "আল-ইনসাফ" (১/৩৮৫-৩৯১), (২/৫৪৪-৫৪৭), "মুগনী আল-লাবিব" (পৃষ্ঠা ৭১৬-৭১৭), "হামউল হাওয়ামি" (১/২২৯-২৩০)।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই 'ইয়াকুনু' মারফু (পেশযুক্ত) অবস্থায় আছে, তবে নিয়ম অনুযায়ী তা মাজযুম (জজমযুক্ত) হওয়া উচিত ছিল; কারণ এটি শর্তের অব্যয় 'মাতা'-এর জাওয়াব হিসেবে এসেছে। জাজিম শর্তের জাওয়াবে মুজারি ক্রিয়াকে মারফু করা—যদি শর্তের ক্রিয়াটি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ মুজারি হয়—তা অল্প ক্ষেত্রে বৈধ, এবং এর ব্যাখ্যা এভাবে করা হয় যে, জাওয়াবুশ শারতের শুরুতে একটি 'ফা' উহ্য আছে যা মূলত সেখানে থাকার কথা ছিল, অর্থাৎ: 'ফামাতা ইয়াদাউহুন্নাল মারউ ফাইয়াকুনু...' অথবা এটি আগে-পিছে হওয়ার কারণে হয়েছে, অর্থাৎ: 'ফাইয়াকুনু আশাদ্দা ইস্তিবরাআন মাতা ইয়াদাউহুন্না...'। এর বিস্তারিত আলোচনা এবং এর উদাহরণগুলোর জন্য দেখুন: সিবওয়াইহ-এর "আল-কিতাব" (৩/৬৭), "শারহুত তাসহিল" (৪/৭৭-৭৯), "শাওয়াহিদুত তাওদিহ" (পৃষ্ঠা ২৩২-২৩৩), "মুগনী আল-লাবিব" (পৃষ্ঠা ৭১৭), "হামউল হাওয়ামি" (২/৫৫৭-৫৫৯), "আদ-দুররুল মাসুন" (৪/৪৩) এবং দেখুন: আবদুল লতিফ আল-খাতিবের "মুজামুল কিরাআত" (২/১১১)।