(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: -)
ديوان الأفوه الأودي   (الأفوه الأودي)

القسم: الشعر ودواوينه


الكتاب: ديوان الأفوه الأودي

شعر: الشاعر الجاهلي الأفوه الأودي، صَلاءة بن عمرو بن مالك اليمني (ت 560 م)

شرح وتحقيق: الدكتور محمد ألتونجي

الناشر: دار صادر - بيروت

الطبعة: الأولى، 1998 م

عدد الصفحات: 111

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الآخر 1436

আল-আফওয়াহ আল-আওদীর দিওয়ান   (আল-আফওয়াহ আল-আওদী)

বিভাগ: কবিতা ও কবিতা সংকলন


বই: আল-আফওয়াহ আল-আওদীর দিওয়ান

কবিতা: জাহেলী যুগের কবি আল-আফওয়াহ আল-আওদী, সালাআহ বিন আমর বিন মালিক আল-ইয়ামানী (মৃত্যু ৫৬০ খ্রিষ্টাব্দ)

ব্যাখ্যা ও সম্পাদনা: ডক্টর মুহাম্মদ আলতুনজী

প্রকাশক: দারু সাদির - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১

আশ-শামেলাহ-এর জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতা আন-নুসসাখ দল (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ-এর তত্ত্বাবধানে)

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে]

আশ-শামেলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউস সানি ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌قافية الألف

[1]

وقال مفتخرا بنفسه وبقومه:

[من الكامل]

وَبِرَوضَةِ السُلّانِ مِنّا مَشهَدٌ … وَالخَيلُ شاحِيَةٌ وَقد عَظُمَ الثُبى

تَحمي الجَماجِمَ وَالأَكُفَّ سُيوفُنا … وَرِماحُنا بِالطَعنِ تَنتَظِمُ الكُلى

في مَوقِفٍ ذَرِبِ الشَبا وَكَأَنَّما … فيهِ الرِجالُ عَلى الأَطائِمِ وَاللَظى
আলিফ অন্ত্যমিল

[১]

তিনি নিজের এবং নিজের সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে বলেন:

[কামিল ছন্দে]

রওজাতুস সুল্লানে আমাদের এক রণক্ষেত্র রয়েছে … যেখানে অশ্বরাজি মুখ ব্যাদান করে আছে এবং যোদ্ধাদের দলগুলো সংখ্যায় বিশাল

আমাদের তরবারিগুলো মস্তক ও কবজিগুলোকে রক্ষা করে … আর আমাদের বর্শাগুলো বিদ্ধ করার মাধ্যমে বৃক্কসমূহকে গেঁথে ফেলে

তীক্ষ্ণ অস্ত্রের সেই রণক্ষেত্রে … মানুষ যেন উত্তপ্ত প্রস্তরখণ্ড ও লেলিহান আগুনের শিখার ওপর অবস্থান করছে
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
وَكَأَنَّما أَسَلاتُهُم مَهنوأَةٌ … بِالمُهلِ مِن نَدَبِ الكَلومِ إِذا جَرى

عافوا الإِتاوَةَ وَاِستَقَت أَسلافُهُم … حَتّى اِرتَوَوا عَلَلاً بِأَذنِبَةِ الرَدى

أَضحَت قَرينَةُ قَد تَغَيَّرَ بِشرُها … وَتَجَهَّمَت بِتَحِيَّةِ القَومِ العِدى

أَلوَت بِإِصبَعِها وَقالَت إِنَّما … يَكفيكَ مِمّا لا تَرى ما قَد تَرى
তাদের বল্লমের ফলকগুলো যেন রঞ্জিত ছিল … ক্ষতচিহ্ন হতে প্রবাহিত গলিত ধাতুর ন্যায় তরল দ্বারা।

তারা কর দিতে অস্বীকার করেছিল এবং তাদের পূর্বপুরুষরা পান করেছিল … এমনকি তারা মৃত্যুর ঘাটে বারংবার পানের মাধ্যমে তৃপ্ত হয়েছিল।

সঙ্গিনীর প্রফুল্লতা এখন পরিবর্তিত হয়ে গেছে … এবং সে শত্রুদের সম্ভাষণে ভ্রূকুটি প্রদর্শন করেছে।

সে তার আঙুল দিয়ে ইশারা করল এবং বলল … যা তুমি দেখতে পাচ্ছ না, তার পরিবর্তে যা তুমি দেখছ তা-ই তোমার জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
ما بالُ عِرسي لا تَبَشُّ كَعَهدِها … لَمّا رَأَت سِرّي تَغَيَّرَ وَاِنثَنى
আমার স্ত্রীর কী হয়েছে যে সে তার পূর্ব অভ্যাসের ন্যায় প্রফুল্লতা দেখাচ্ছে না … যখন সে দেখল যে আমার নিগূঢ় অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে এবং নুয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌قافية الباء

[2]

وقال يفتخر بنفسه:

[من الطويل]

وَإِنّي لَأُعطي الحَقَّ مَن لَو ظَلَمتُهُ … أَقَرَّ وَأَعطاني الَّذي أَنا طالِبُ

وَآخُذُ حَقّي مِن رِجالٍ أَعِزَّةٍ … وَإِن كَرُمَت أَعراقُهُم وَالمَناسِبُ
বা বর্ণের অন্ত্যমিল

[২]

তিনি স্বীয় আত্মগৌরব প্রকাশ করে বলেন:

[তওয়ীল ছন্দ থেকে]

নিশ্চয়ই আমি এমন ব্যক্তিকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করি, যাকে যদি আমি জুলুম করতাম তবে সে তা স্বীকার করে নিত এবং আমি যা অন্বেষণ করছি সে আমাকে তা-ই প্রদান করত … আর আমি প্রতাপশালী ব্যক্তিদের নিকট থেকে আমার প্রাপ্য আদায় করে নেই, যদিও তাদের বংশপরম্পরা এবং আভিজাত্য অতিশয় মর্যাদাপূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
[3]

وقال في الحماسة:

[من الوافر]

وَنَحنُ المورِدونَ شَبا العَوالي … حِياضَ المَوتِ بِالعَددِ المُثابِ

تَرَكنا الأَزدَ يَبرُقُ عارِضاها … عَلى ثَجرٍ فَداراتِ النِصابِ

فَسائِل حاجِزاً عَنّا وَعَنهُم … بِبُرقَةِ ضاحِكٍ يَومَ الجَنابِ

فَأَبلِغ بِالجَنابَةِ جَمعَ قَومي … وَمَن حَلَّ الهِضابَ عَلى العِتابِ
[৩]

এবং তিনি ‘আল-হামাসা’ গ্রন্থে বলেছেন:

[ওয়াফির ছন্দ থেকে]

আমরাই সেই যারা সুউচ্চ বর্শার তীক্ষ্ণ ফলকসমূহকে উপনীত করি … মৃত্যুর জলাধারে, সুসংগঠিত বিশাল বাহিনীর মাধ্যমে।

আমরা আজদ গোত্রকে এমন অবস্থায় ফেলে এসেছি যে তাদের পার্শ্বদেশসমূহ চমকাচ্ছিল … থাজর ও দারাতুল নিসাবের প্রান্তরে।

সুতরাং হাজিজকে আমাদের ও তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো … দাহিকের প্রস্তরময় ভূমিতে জুনাবের দিবসে।

অতএব জুনাবাতে আমার স্বজাতির সমাবেশকে সংবাদ পৌঁছে দাও … এবং যারা পাহাড়ের উচ্চভূমিতে অবস্থান করছে তাদের।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
ووَلَّوا هارِبينَ بِكُلِّ فَجٍّ … كَأَنَّ خُصاهُم قِطَعُ الوِذابِ

 

[4]

قال أبو عمرو: أغارت بنو أود، وقد جمعها الأفوه، على بني عامر. فمرض الأفوه مرضا شديدا، فخرج بدله زيد بن الحارث الأودي. وأقام الأفوه حتى أفاق من وجعه. ومضى زيد بن الحارث حتى لقي بني عامر يتصارعون، وعليهم عوف بن الأحوص بن جعفر بن كلاب.

فلما التقوا عرف بعضهم بعضا. فقال لهم بنو عامر: ساندونا، فما أصبنا كان بيننا وبينكم. فقالت بنو أود، وقد أصابوا منهم رجلين: لا والله حتى نأخذ منهم بطائلتنا. فقام أخو المقتول، وهو رجل من بني كعب بن
তারা প্রতিটি গিরিপথ দিয়ে পলায়ন করল … যেন তাদের অণ্ডকোষ পিন্ডাকৃতির মাংসখণ্ড।

 

[৪]

আবু আমর বলেন: বনু আউদ গোত্র বনু আমিরের উপর আক্রমণ চালাল, আর আল-আফওয়াহ তাদের একত্রিত করেছিলেন। অতঃপর আল-আফওয়াহ ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লেন, ফলে তাঁর পরিবর্তে যায়িদ ইবনে হারিস আল-আউদী অভিযানে বের হলেন। আল-আফওয়াহ তাঁর অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করলেন। যায়িদ ইবনে হারিস অগ্রসর হলেন যতক্ষণ না তিনি বনু আমিরের দেখা পেলেন যারা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল, আর তাদের নেতৃত্বে ছিলেন আউফ ইবনুল আহওয়াস ইবনে জাফর ইবনে কিলাব।

যখন তারা মুখোমুখি হলো, তখন তারা একে অপরকে চিনতে পারল। বনু আমির তাদের বলল: আমাদের সহায়তা করো, আমরা যা কিছু গনীমত লাভ করব তা আমাদের ও তোমাদের মাঝে বন্টিত হবে। বনু আউদ—যারা ইতিমধ্যে তাদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল—বলল: আল্লাহর শপথ, কখনোই নয়! যতক্ষণ না আমরা তাদের নিকট থেকে আমাদের পাওনা (রক্তের প্রতিশোধ) গ্রহণ করি। তখন নিহত ব্যক্তির ভাই উঠে দাঁড়াল, যে ছিল বনু কাব ইবনে-এর অন্তর্ভুক্ত এক ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
أود، فقال لهم: يا بني أود، والله لتأخذن بطائلتي، أو لأنتحين على سيفي. فقتتلت وبنو عامر، فظفرت أود، وأصابت مغنما كثيرا. فقال الأفوه في ذلك:

[من الوافر]

أَلا يا لَهفِ لَو شَدَّت قَناتي … قَبائِلُ عامِرٍ يَومَ الصَبيبِ

غَداةَ تَجَمَّعَت كَعبٌ عَلَينا … جَلائِبَ بَينَ أَبناءِ الحَريبِ

فَلَمّا أَن رَأَونا في وَغاها … كَآسادِ العَرينَةِ وَالحَجيبِ
অদ; তিনি তাদেরকে বললেন: হে বনূ অদ, আল্লাহর শপথ, হয় তোমরা আমার রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, নতুবা আমি আমার তলোয়ারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ দেব। অতঃপর তারা এবং বনূ আমির যুদ্ধে লিপ্ত হলো, ফলে অদ বিজয় লাভ করল এবং প্রচুর গনীমত লাভ করল। এ প্রসঙ্গে আল-আফওয়াহ বলেন:

[ওয়াফির ছন্দ থেকে]

হায় আফসোস! যদি আস-সাবীবের দিনে আমির গোত্রসমূহ আমার বর্শার শক্তি বৃদ্ধি করত … (তবে কতই না ভালো হতো)

সেদিন সকালে যখন কা’ব গোত্র আমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছিল … আল-হারীবের সন্তানদের মধ্য থেকে আসা এক সংগৃহীত বাহিনী নিয়ে

অতঃপর তারা যখন যুদ্ধের ময়দানে আমাদের দেখল … যেন আমরা গহন অরণ্য ও আল-হাজীবের বিক্রমী সিংহ।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৬০)
تَداعَوا ثُمَّ مالوا في ذُراها … كَفِعلِ مُعانِتٍ أَمِنَ الرَجيبِ

وَطاروا كالنَعامِ بِبَطنِ قَوِّ … مُواءَلَةً عَلى حَذَرِ الرَقيبِ

مَنَعنا الغَيلَ مِمَّن حَلَّ فيهِ … إِلى بَطنِ الجَريبِ إِلى الكَثيبِ

وَخَيلٍ عالِكاتِ اللُجمِ فينا … كَأَنَّ كُماتَها أُسدُ الضَريبِ
তারা একে অপরকে আহ্বান করল, অতঃপর তার শিখরসমূহে হেলে পড়ল … এমন এক হঠকারীর ন্যায় যে পর্যবেক্ষকের ভয় হতে নিরাপদ হয়েছে।

তারা ‘কাউ’ উপত্যকায় উটপাখির ন্যায় দ্রুতবেগে ধাবিত হলো … পাহারাদারের ভয়ে ভীত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে।

আমরা ‘গাইল’ ভূমিকে সেখানে অনুপ্রবেশকারীদের থেকে রক্ষা করেছি … ‘জারীব’-এর অভ্যন্তরভাগ হতে বালিয়াড়ি পর্যন্ত।

এবং আমাদের মাঝে ছিল এমন সব ঘোড়া যারা লাগাম চিবোচ্ছিল … যেন তাদের বর্মধারী বীর যোদ্ধারা ছিল ‘দারীব’ অরণ্যের সিংহ।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَجُردٌ جَمعُها بيضٌ خِفافٌ … عَلى جَنبَي تُضارِعَ فَاللَهيبِ

هُمُ سَدّوا عَلَيكُم بَطنَ نَجدٍ … وَضَرّاتِ الجُبابَةِ وَالهَضيبِ

قَتَلنا مِنهُمُ أَسلافَ صِدقٍ … وَأُبنا بِالأُسارى وَالقَعيبِ
এবং স্বল্পলোমশ শ্বেতবর্ণের ক্ষিপ্রগতির অশ্বসমূহ … তুদারি' ও লাহীবের উভয় পার্শ্বে।

তারাই তোমাদের জন্য নজদের অভ্যন্তরভাগ … এবং জুবাবাহ ও হদীবের উচ্চভূমি রুদ্ধ করে দিয়েছিল।

আমরা তাদের মধ্য থেকে বহু সত্যনিষ্ঠ পূর্বসূরীকে হত্যা করেছি … এবং আমরা যুদ্ধবন্দী ও লুণ্ঠিত ধনসম্পদসহ প্রত্যাবর্তন করেছি।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৬২)
‌‌قافية الجيم

[5]

وقال في نبح الكلاب السحاب من وصف الغنم:

[من الطويل]

لَهُ هَيدَبٌ دانٍ وَرَعدٌ وَلَجَّةٌ … وَبَرقٌ تَراهُ ساطِعاً يَتَبَلَّجُ

فَباتَت كِلابُ الحَيِّ يَنبَحنَ مُزنَهُ … وَأَضحَت بَناتُ الماءِ فيها تَمَعَّجُ
জীম অক্ষরের অন্ত্যানুপ্রাস

[৫]

এবং তিনি ছাগলপালের বর্ণনার প্রসঙ্গে মেঘের দিকে তাকিয়ে কুকুরের ঘেউ ঘেউ করার বিষয়ে বলেছেন:

[তবীল ছন্দ হতে]

এর রয়েছে নিচু হয়ে আসা মেঘের প্রান্ত, বজ্রধ্বনি এবং ঘোর গর্জন … আর বিজলিকে দেখবে তা উজ্জ্বলভাবে উদ্ভাসিত হচ্ছে

লোকালয়ের কুকুরগুলো সারা রাত সেই মেঘের পানে তাকিয়ে ঘেউ ঘেউ করছিল … আর ভোরে জলজ প্রাণীরা তাতে কিলবিল করতে লাগল
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌قافية الحاء

[6]

وقال يفتخر:

[من الوافر]

لَنا بِالدُحرُضَينِ مَحَلُّ مَجدٍ … وَأَحسابٌ مُؤَثَّلَةٌ طِماحُ

وَأَفراسٌ مُدَلَّلَةٌ وَبيضٌ … كَأَنَّ مُتونَها فيها الوَجاحُ
হা বর্ণযুক্ত অন্ত্যমিল

[৬]

তিনি গর্বভরে বলেন:

[ওয়াফির ছন্দ থেকে]

দুহরুজাইন দ্বয়ের নিকট আমাদের গৌরবের আবাস রয়েছে … এবং রয়েছে সুপ্রাচীন ও সুউচ্চ আভিজাত্য

আর রয়েছে সুশিক্ষিত ঘোড়াসমূহ এবং শ্বেতশুভ্র তরবারি … যেগুলোর পৃষ্ঠদেশ যেন স্বচ্ছ আয়নার মতো উজ্জ্বল।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌قافية الدال

[7]

قال معبرا عن ضيقه من تصرف قومه:

[من البسيط]

فينا مَعاشِرُ لَم يَبنوا لِقِومِهِمُ … وَإِنَّ بَني قَومِهِم ما أَفسَدوا عادوا

لا يَرشُدون وَلَن يَرعوا لِمُرشِدِهم … فَالغَيُّ مِنهُم مَعاً وَالجَهلُ ميعادُ
‘দাল’ বর্ণের অন্ত্যমিল

[৭]

তিনি নিজের সম্প্রদায়ের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

[বাসীত ছন্দ হতে]

আমাদের মাঝে এমন কিছু গোষ্ঠী রয়েছে যারা তাদের জাতির জন্য কোনো কল্যাণ গড়ে তোলেনি … অথচ তাদের স্বজাতীয়রা যা কিছু ধ্বংস করেছে, তারা পুনরায় সেই পথেই ফিরে এসেছে।

তারা সুপথ পায় না এবং তাদের পথপ্রদর্শকের কথাও গ্রাহ্য করে না … সুতরাং পথভ্রষ্টতা ও মূর্খতাই হলো তাদের উভয়ের নির্ধারিত মিলনস্থল।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
كَانوا كَمِثلِ لُقَيمٍ في عَشيرَتِهِ … إذ أُهلِكَت بِالَّذي قَد قَدَّمَت عادُ

أَو بَعدَه كِقُدارٍ حينَ تابَعَهُ … عَلى الغِوايَةِ أَقوامٌ فَقَد بادوا

وَالبَيتُ لا يُبتَنى إِلّا لَهُ عَمَدٌ … وَلا عِمادَ إِذا لَم تُرسَ أَوتادُ
তারা তাদের গোত্রের মাঝে ছিল লুকাইমের ন্যায় … যখন আদ সম্প্রদায় তাদের কৃতকর্মের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল

কিংবা তার পরবর্তী কুদারের ন্যায়, যখন বিভ্রান্তির পথে একদল লোক তাকে অনুসরণ করেছিল … ফলে তারা বিলুপ্ত হয়ে গেল

আর খুঁটি ব্যতিরেকে কোনো ঘর নির্মিত হয় না … আর কোনো খুঁটি থাকে না যদি পেরেকসমূহ দৃঢ়ভাবে প্রোথিত না হয়
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
فَإِن تَجَمَّعَ أَوتادٌ وَأَعمِدَةٌ … وَساكِنٌ بَلَغوا الأَمرَ الَّذي كادوا

وَإِن تَجَمَّعَ أَقوامٌ ذَوو حَسَبٍ … اِصطادَ أَمرَهُمُ بِالرُشدِ مُصطادُ

لا يَصلُحُ الناسُ فَوضى لا سَراةَ لَهُم … وَلا سَراةَ إِذا جُهّالُهُم سادوا

تُلفى الأُمورُ بِأَهلِ الرُشدِ ما صَلَحَت … فَإِن تَوَلَّوا فَبِالأَشرارِ تَنقادُ

إِذا تَوَلّى سَراةُ القَومِ أَمرَهُمُ … نَما عَلى ذاك أَمرُ القَومِ فَاِزدادوا
যখন খুঁটি ও স্তম্ভসমূহ একত্রিত হয় … এবং সাথে একজন অধিবাসী থাকে, তখন তারা তাদের অভিপ্রেত লক্ষ্যে উপনীত হয়।

আর যখন আভিজাত্যের অধিকারী একদল লোক একত্রিত হয়, … তখন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি সঠিক পথের নির্দেশনায় তাদের বিষয়গুলো গুছিয়ে আনেন।

নেতৃত্বহীন বিশৃঙ্খল অবস্থায় মানুষের কল্যাণ হতে পারে না, … আর যদি মূর্খরা আধিপত্য লাভ করে, তবে কোনো যোগ্য নেতৃত্ব থাকে না।

বিষয়গুলো সঠিক পথের অনুসারীদের মাধ্যমেই সুচারুভাবে সম্পাদিত হয়, … কিন্তু তারা যদি বিমুখ হয়, তবে তা দুষ্টদের হাতে পরিচালিত হতে থাকে।

যখন সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা তাদের কার্যাবলীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন, … তখন সেই জাতির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি ঘটে।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
أَمارَةُ الغَيِّ أَن تَلقى الجَميعَ لَدى ال … إِبرامِ لِلأَمرِ وَالأَذنابُ أَكتادُ

كَيفَ الرَشادُ إِذا ما كُنتَ في نَفَرٍ … لَهُم عَنِ الرُشدِ أَغلالٌ وَأَقيادُ

أَعطَوا غُواتَهَمُ جَهلاً مَقادَتَهُم … فَكُلُّهُم في حِبالِ الغَيِّ مُنقادُ

حانَ الرَحيلُ إِلى قَومٍ وَإِن بَعُدوا … فيهِم صَلاحٌ لِمُرتادٍ وَإِرشادُ
পথভ্রষ্টতার নিদর্শন এই যে, তুমি সকলকে পাবে … বিষয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকালে, যখন অনুসারীরা কেবল ভারবাহী স্কন্ধের ন্যায়।

সুপথের দিশা কীভাবে সম্ভব যখন তুমি এমন এক জনসমষ্টির মাঝে রয়েছ … যাদের জন্য সুপথ হতে বিমুখ রাখতে রয়েছে শৃঙ্খল ও বেড়ি?

তারা অজ্ঞতাবশত তাদের পথভ্রষ্টকারীদের হাতে নিজেদের নেতৃত্বের লাগাম সঁপে দিয়েছে … ফলে তারা সকলেই গোমরাহীর রশিতে আবদ্ধ হয়ে চালিত হচ্ছে।

এখন এমন এক কওমের নিকট প্রস্থানের সময় হয়েছে যারা দূরে হলেও … তাদের মাঝে সত্যান্বেষীর জন্য রয়েছে সংশোধন ও সঠিক পথের দিশা।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
فَسَوفَ أَجعَلُ بُعدَ الأَرضِ دونَكُمُ … وَإِن دَنَت رَحِمٌ مِنكُم وَميلادُ

إِنَّ النَجاةَ إِذا ما كُنتَ ذا بَصَرٍ … مِن أَجَّةِ الغَيِّ إِبعادٌ فَإِبعادُ

وَالخَيرُ تَزدادُ مِنهُ ما لَقيتَ بِهِ … وَالشَرُّ يَكفيكَ مِنهُ قَلَّ ما زادُ

[8]

وقال في النجدة:

[من الوافر]

وَسَعدٌ لَو دَعَوتَهُمُ لَثابوا … إِلَيَّ حَفيفَ غابِ نَوىً بِأُسدِ
শীঘ্রই আমি তোমাদের ও আমার মাঝে জমিনের দূরত্ব স্থাপন করব … যদিও তোমাদের পক্ষ হতে আত্মীয়তা ও জন্মসূত্রের নৈকট্য বিদ্যমান থাকে

নিশ্চয়ই মুক্তি—যদি তুমি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন হও—বিভ্রান্তির দাবদাহ থেকে উত্তরোত্তর দূরে সরে যাওয়ার মাঝেই নিহিত

আর কল্যাণ এমন বস্তু যা থেকে তুমি সর্বদা প্রবৃদ্ধি কামনা কর, পক্ষান্তরে অকল্যাণের সামান্যটুকুই তোমার জন্য যথেষ্ট

[৮]

এবং তিনি বীরত্ব প্রসঙ্গে বলেছেন:

[ওয়াফির ছন্দ হতে]

আর সা‘দ গোত্র, যদি আমি তাদের আহ্বান করতাম তবে তারা সিংহের ন্যায় ‘নাওয়া’ অরণ্যের খসখস শব্দ তুলে দ্রুত আমার নিকট ফিরে আসত
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌قافية الذال

[9]

وقال في الصداقة:

[من الكامل]

الخِلُّ راضٍ شاكِرٌ في عَهدِهِ … وَعَدُوُّهُ المَقهورُ مِنهُ آذِ

إِن عابَهُ الحُسّادُ لا تَعبَأ بِهِم … في هَذِهِ الدُنيا فَكَم مِن هاذِ

اللَهُ خَوَّلَهُ حَياةً ما لَها … كَدَرٌ وَعَيشاً طابَ في الأَلواذِ
‌'যাল' অক্ষরের অন্ত্যমিল

[৯]

এবং তিনি বন্ধুত্ব সম্পর্কে বলেছেন:

[কামিল ছন্দ থেকে]

বন্ধু তার অঙ্গীকার পালনে সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ … আর তার পরাজিত শত্রু তার দ্বারা ব্যথিত।

হিংসুকরা যদি তার নিন্দা করে তবে তাদের পরোয়া করবেন না … এই পৃথিবীতে কতই না প্রলাপকারী রয়েছে।

আল্লাহ তাকে দান করেছেন পঙ্কিলতাহীন এক জীবন … এবং নিরাপদ আশ্রয়ে এক মনোরম জীবন যাপন।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৭০)
‌‌قافية الراء

[10]

وقال يرثي نفسه:

[من الطويل]

أَلا عَلِّلاني وَاِعلَما أَنَّني غَرَر … وَما خِلتُ يُجديني الشَفاقُ وَلا الحَذَر

وَما خِلتُ يُجديني أَساتي وَقَد بَدَت … مَفاصِلُ أَوصالي وَقَد شَخَصَ البَصَر

وَجاءَ نِساءُ الحَيِّ مِن غَيرِ أَمرَةٍ … زَفيفاً كَما زَفَّت إِلى العَطَنِ البَقَر

وَجاؤوا بِماءٍ بارِدٍ وَبِغِسلَةٍ … فَيا لَكَ مِن غُسلٍ سَيتبَعُهُ عِبَر
’রা’ অন্ত্যমিল

[১০]

তিনি নিজের শোকগাথা বর্ণনা করে বললেন:

[তবিীল ছন্দে]

ওহে তোমরা আমাকে সান্ত্বনা দাও এবং জেনে রাখো যে আমি বিপন্ন ... আর আমি ভাবিনি যে মমতা কিংবা সতর্কতা আমার কোনো উপকারে আসবে।

আমি ভাবিনি যে চিকিৎসকেরা আমার কোনো উপকারে আসবে যখন আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়াগুলো শিথিল হয়ে পড়েছে এবং দৃষ্টি স্থির হয়ে গেছে।

গোত্রের নারীরা কোনো নির্দেশ ছাড়াই দ্রুতবেগে চলে এল, যেমন গবাদি পশুরা তাদের বিশ্রামের স্থানের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়।

তারা শীতল পানি এবং ধৌত করার উপকরণ নিয়ে এল; হায়, এ কেমন গোসল যার অনুগামী হবে কেবলই শিক্ষা ও উপদেশ!
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৭১)
فَنائِحَةٌ تَبكي وَلِلنَوحِ دَرسَةٌ … وَأَمرٌ لَها يَبدو وَأَمرٌ لَها يُسَر

وَمِنهُنَّ مَن قَد شَقَّقَ الخَمشُ وَجهَها … مُسَلِّبَةً قَد مَسَّ أَحشاءَها العِبَر

فَرَمّوا لَهُ أَثوابَهُ وَتفَجَّعوا … وَرَنَّ مُرِنّاتٌ وَثارَ بِه النَفَر

إِلى حُفرَةٍ يَأوي إِلَيها بِسَعيِهِ … فَذَلِكَ بَيتُ الحَقِّ لا الصوفُ وَالشَعَر

وَهالوا عَلَيه التُربَ رَطباً وَيابِساً … أَلا كُلُّ شَيءٍ ما سِوى تِلكَ يُجتَبَر

وَقالَ الَّذينَ قَد شَجَوتُ وَساءَهُم … مَكاني وَما يُغني التَأَمُّلُ وَالنَظَر
জনৈক বিলাপকারিণী রোদন করছে এবং বিলাপের এক সুনির্দিষ্ট ধারা রয়েছে … তার কোনো বিষয় প্রকাশ পায় আর কোনো বিষয় থাকে গোপন।

তাদের মধ্যে কেউ আঁচড় দিয়ে নিজ মুখমণ্ডল রক্তাক্ত করেছে … এমন এক শোকাতুরা নারী, যার অন্তরকে অশ্রু স্পর্শ করেছে।

তারা তার বস্ত্রাদি ছিন্নভিন্ন করল এবং আক্ষেপ করতে লাগল … বিলাপকারিণীদের ক্রন্দন উচ্চকিত হলো এবং লোকদল উত্তেজিত হয়ে উঠল।

একটি গর্তের (কবর) দিকে সে নিজ গন্তব্যে ধাবিত হয় … সেটিই হলো সত্যের আবাস, পশম বা চুলের তৈরি কোনো তাঁবু নয়।

তারা তার ওপর সিক্ত ও শুষ্ক মাটি ঢেলে দিল … জেনে রেখো, সেই (মৃত্যু) ছাড়া অন্য সকল ক্ষতিই পূরণ করা সম্ভব।

যাদেরকে আমি ব্যথিত করেছি এবং যাদের নিকট আমার অবস্থান পীড়াদায়ক ছিল তারা বলল … এমতাবস্থায় চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ কোনো উপকারে আসবে না।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৭২)
قِفوا ساعَةً فَاِسَتمتِعوا مِن أَخيكُمُ … بِقُربٍ وَذِكرٍ صالِحٍ حينَ يُدَّكَر

[11]

وقال في انتصار قومه على عرب الشمال:

[من الرمل]

إِن تَرى رَأسِيَ فيهِ قَزَعٌ … وَشَواتي خَلَّةً فيها دُوارُ

أَصبَحَت مِن بَعدِ لَونٍ واحدٍ … وَهيَ لَونانِ وَفي ذاكَ اِعتِبارُ
কিছুক্ষণ থামো এবং তোমাদের ভাইয়ের সান্নিধ্য ও সুস্মৃতি থেকে আনন্দ লাভ করো … নৈকট্য ও পুণ্যময় স্মৃতির মাধ্যমে যখন তা স্মরণ করা হয়।

[১১]

এবং তিনি উত্তর আরবের ওপর তাঁর গোত্রের বিজয়ের ব্যাপারে বলেছেন:

[রামাল ছন্দ থেকে]

যদি তুমি আমার মাথায় বিক্ষিপ্ত চুল দেখো … আর আমার মাথার খুলিতে বিরলতা যাতে ঝিমঝিম অনুভূত হয়

এক রঙের থাকার পর তা পরিণত হয়েছে … দুই রঙে, আর এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ও উপদেশ।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৭৩)
فَصُروفُ الدَهرِ في أَطباقِهِ … خِلعَةٌ فيها اِرتِفاعٌ وَاِنحِدارُ

بَينَما الناسُ على عَليائِها … إِذ هَوَوا في هُوَّةٍ مِنها فَغاروا

إِنَّما نِعمَةُ قَومٍ مُتعَةٌ … وَحَياةُ المَرءِ ثَوبٌ مُستَعارُ

وَلَياليهِ إِلالٌ لِلقُوى … مِن مُداهَ تَختَليها وَشِفارُ
কালের আবর্তন তার পর্যায়ক্রমিক স্তরে … এমন এক পরিচ্ছদ যাতে রয়েছে উত্থান ও পতন।

যখন মানুষ তার সুউচ্চ শিখরে অবস্থান করে … তখনই তারা এর অতল গহ্বরে নিপতিত হয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।

বস্তুত কোনো জাতির সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কেবলই ক্ষণস্থায়ী ভোগ … আর মানুষের জীবন হলো এক যাচিত বস্ত্র।

এর রজনীসমূহ শক্তির জন্য ক্ষুরধার অস্ত্রস্বরূপ … যা তার তীক্ষ্ণ ছুরি ও ফলার মাধ্যমে তাকে কর্তন করে।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৭৪)
تَقطَعُ اللَيلَةُ مِنهُ قُوَّةً … وَكَما كَرَّت عَلَيهِ لا تُغارُ

حَتَمَ الدَهرُ عَلَينا أَنَّهُ … ظَلَفٌ ما نالَ مِنّا وَجُبارُ

فَلَهُ في كُلِّ يَومٍ عَدوَةٌ … لَيسَ عَنها لِاِمرِئٍ طارَ مَطارُ

رَيَّشَت جُرهُمُ نَبلاً فَرَمى … جُرهُماً مِنهُنَّ فوقٌ وَغِرارُ

عَلَّموا الطَعنَ مَعَدّاً في الكُلى … وَاِدِّراعَ اللَأَمِ فَالطَرفُ يَحارُ
প্রতিটি রজনী তার থেকে শক্তি হরণ করে … এবং তা যেমনভাবে তার ওপর পুনঃপৌনিকভাবে আবর্তিত হয়, তাতে কোনো শিথিলতা নেই।

মহাকাল আমাদের ওপর অবধারিত করেছে যে … আমাদের ভাগ্যে জুটেছে এক কঠোর জীবন এবং এক নিষ্ফল রক্তপাত।

প্রতিদিন তার (মহাকালের) জন্য রয়েছে এক আক্রমণ … যা থেকে কোনো পলায়নপর ব্যক্তির পলায়নের কোনো স্থান নেই।

জুরহুম গোত্র তীরসমূহ পালকযুক্ত করেছিল, অতঃপর সেই তীরগুলোরই … অগ্রভাগ ও পশ্চাৎভাগ জুরহুমদের ওপরই নিক্ষিপ্ত হলো।

তারা মাআদ গোত্রকে কুক্ষিদেশে বর্শা বিদ্ধ করা শিখিয়েছে … এবং শিখিয়েছে বর্ম পরিধান করা, যার চাকচিক্যে দৃষ্টি বিভ্রান্ত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৭৫)
وَرُكوبَ الخَيلِ تَعدوالمَرَطى … قَد عَلاها نَجَدٌ فيهِ اِحمِرارُ

يا بَني هاجَرَ ساءَت خُطَّةً … أَن تَروموا النِصفَ مِنّا وَنُجارُ

إِن يَجُل مُهرِيَ فيكُم جَولَةً … فَعَلَيهِ الكَرُّ فيكُم وَالغِوارُ

كَشِهابِ القَذفِ يَرميكُم بِه … فارِسٌ في كَفِّهِ لِلحَربِ نارُ

شَنَّ مِن أَودٍ عَلَيكُم شَنَّةً … إِنَّهُ يَحمي حِماها وَيَغارُ
আর দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়া … যার ওপর আসীন এমন এক বীর যার মধ্যে রক্তিম আভা বিদ্যমান।

হে বনু হাজার! তোমাদের পরিকল্পনা অত্যন্ত মন্দ … যে তোমরা আমাদের নিকট ইনসাফ কামনা করো অথচ আমরাই তোমাদের আশ্রয়দাতা।

যদি আমার অশ্ব তোমাদের মাঝে একবার বিচরণ করে … তবে তোমাদের ওপর আক্রমণ ও হানা দেওয়াই হবে তার কাজ।

বিতাড়নকারী উল্কাপিন্ডের ন্যায় সে তোমাদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয় … এমন এক অশ্বারোহীর মাধ্যমে যার হাতে রয়েছে যুদ্ধের অগ্নি।

সে ‘আওদ’ গোত্রের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছে … নিশ্চয়ই সে তার সংরক্ষিত এলাকা রক্ষা করে এবং প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ রাখে।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
فارِسٌ صَعدَتُهُ مَسمومَةٌ … تَخضِبُ الرُمحَ إِذا طارَ الغُبارُ

مُستَطيرٌ لَيس مِن جَهلٍ وَهَل … لِأَخي الحِلمِ عَلى الحَربِ وَقارُ

يَحلُمُ الجاهِلُ لِلسِلمِ وَلا … يَقِرُ الحِلمُ إِذا ما القَومُ غاروا

نَحنُ أَودٌ وَلِأَودٍ سُنَّةٌ … شَرَفٌ لَيسَ لَنا عَنهُ قَصارُ

سُنَّةٌ أَورَثناها مَذحِجٌ … قَبلَ أَن يُنسَبَ لِلناسِ نِزارُ
এমন এক অশ্বারোহী যার বর্শার ফলক বিষাক্ত … যা বর্শাকে রঞ্জিত করে যখন যুদ্ধের ধূলি ওড়ে।

সে অত্যন্ত তেজস্বী, তবে তা মূর্খতাবশত নয়; আর … সহিষ্ণু ব্যক্তির কি যুদ্ধের ময়দানে গাম্ভীর্য বজায় থাকে?

মূর্খ ব্যক্তি সন্ধির জন্য সহিষ্ণুতা দেখায়, কিন্তু … যখন কোনো সম্প্রদায় অতর্কিত আক্রমণ করে তখন সহিষ্ণুতা আর অটল থাকে না।

আমরা হলাম আউদ গোত্র এবং আউদের রয়েছে এক ঐতিহ্য … যা এক অনন্য মর্যাদা, যা থেকে আমাদের কোনো বিচ্যুতি নেই।

এটি এমন এক ঐতিহ্য যা আমাদের নিকট মাজহিজ গোত্র হতে উত্তরাধিকার সূত্রে এসেছে … মানুষের মাঝে নিযার বংশের পরিচিতি ঘটার অনেক আগে থেকেই।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৭৭)
نَحنُ قُدنا الخَيلَ حَتّى اِنقَطَعَت … شُدُنُ الأَفلاءِ عَنها وَالمِهارُ

كُلَّما سِرنا تَرَكنا مَنزِلاً … فيهِ شَتّى مِن سِباعِ الأَرضِ غاروا

وَتَرى الطَيرَ عَلى آثارِنا … رَأيَ عَينٍ ثِقَةً أَن سَتُمارُ

جَحفَلٌ أَورَقَ فيهِ هَبوَةٌ … وَنُجومٌ تَتَلَظّى وَشَرارُ

تَرَكَ الناسُ لَنا أَكتافَهُم … وَتَوَلَّوا لاتَ لَم يُغنِ الفِرارُ
আমরা অশ্ববাহিনীকে পরিচালনা করেছি যতক্ষণ না শাবক ও তরুণ ঘোড়াগুলো তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল …

যতবারই আমরা পথ চলেছি, আমরা এমন এক মনজিল পেছনে ফেলে এসেছি … যেখানে ভূখণ্ডের বিভিন্ন হিংস্র প্রাণী হানা দিত

আর আপনি আমাদের পদচিহ্নের ওপর পাখিদের দেখতে পাবেন … চাক্ষুষ দেখার ন্যায় এই দৃঢ় বিশ্বাসে যে তারা আহার প্রাপ্ত হবে

এমন এক ধূসর বিশাল বাহিনী যাতে রয়েছে ধূলিমেঘ … এবং প্রজ্বলিত নক্ষত্ররাজি ও অগ্নিস্ফুলিঙ্গ

মানুষ আমাদের সামনে তাদের পৃষ্ঠ প্রদর্শন করল (পিঠ দেখিয়ে পালালো) … এবং তারা ফিরে গেল, অথচ পলায়ন কোনো উপকারে আসেনি
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৭৮)
مُلكُنا مُلكٌ لَقاحٌ أَوَّلٌ … وَأَبونا مِن بَني أَودٍ خِيارُ

وَلَقَد كُنتُم حَديثاً زَمَعاً … وَذُنابى حَيثُ يَحتَلُّ الصَغارُ

نَحنُ أَصحابُ شَباً يَومَ شَبا … بِصِفاحِ البيضِ فيهِنَّ اِظِّفارُ

عَنكُمُ في الأَرضِ إِنّا مَذحِجٌ … وَرُوَيداً يَفضَحُ اللَيلَ النَهارُ
আমাদের রাজত্ব এক সুপ্রাচীন স্বাধীন রাজত্ব … আর আমাদের পিতা বনু আওদ গোত্রের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি।

অথচ তোমরা সম্প্রতি ছিলে নগণ্য অনুসারী মাত্র … এবং পুচ্ছদেশ সমতুল্য, যেখানে হীনতা ও লাঞ্ছনা অবস্থান করে।

আমরাই শাবাউর যুদ্ধের দিনে শাবাউর অধিপতি … শুভ্র তরবারির প্রশস্ত ফলার সাহায্যে যাতে বিজয় অর্জিত হয়।

জমিনের বুকে তোমাদের বিপরীতে আমরাই হলাম মাজহিজ গোত্র … আর শীঘ্রই দিন রাত্রির অন্ধকারকে উন্মোচিত করে দেবে।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৭৯)
[12]

وقال يفتخر:

[من الطويل]

أَبي فارِسُ الصَرماءِ عَمرُو بنُ مالِكٍ … غَداةَ الوَغى إِذ مالَ بِالجَدَّ عاثِرُ

غَداةَ أَقامَ الناسُ في حَجرَتَيهِم … ضِراباً كَما ذيدَ الخِماسُ البَواكرُ

بِضَربٍ يُطيرُ الهامَ عَن سَكِناتِهِ … وَإِصرادِ طَعنٍ وَالقَنا مُتَشاجِرُ
[১২]

এবং তিনি গর্বভরে বললেন:

[তবীল ছন্দ হতে]

আমার পিতা সারমার বীর অশ্বারোহী আমর বিন মালিক … যুদ্ধের সেই প্রভাতে যখন দুর্ভাগ্যের কারণে হোঁচট খাওয়া ব্যক্তির পতন ঘটেছিল

সেই প্রভাতে যখন লোকেরা তাদের শিবিরের আঙিনায় অবস্থান নিয়েছিল … এমন তীব্র লড়াইয়ের সম্মুখে যেমনটি তৃষ্ণার্ত উটসমূহকে ভোরবেলায় পানি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়

এমন আঘাতের মাধ্যমে যা মস্তককে তার স্কন্ধ থেকে উড়িয়ে দেয় … এবং এমন বিদ্ধকারী বর্শা নিক্ষেপের মাধ্যমে যখন বর্শাসমূহ পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৮০)
فَما غَمَرَتهُ الحَربُ إذ شَمَّرَت لَهُ … وَلا خارَ إِذ جُرَّت عَلَيهِ الجَرائِرُ

وَقَومي إِذا كَحلٌ عَلى الناسِ صَرَّحَت … وَلاذَ بِأَذراءِ البُيوتِ الأَباعِرُ

وَكانَ اِتِّياماً كُلُّ حَرفٍ غَزيرَةٍ … أَهانوا لَها الأَموالَ وَالعِرضُ وافِرُ

هُمُ صَبَّحوا أَهلَ الطِفافِ وَسِربَةٍ … بِشُعثٍ عَلَيها المُصلِتونَ المَغاوِرُ
যুদ্ধ যখন তার জন্য পূর্ণ শক্তিতে আবির্ভূত হলো, তখন তা তাকে পরাভূত করতে পারেনি … আর যখন তার ওপর বিপদসমূহ টেনে আনা হলো, তখন সে ভেঙে পড়েনি।

আর আমার সম্প্রদায় এমন যে, যখন মানুষের ওপর চরম দুর্ভিক্ষ প্রকট হয়ে ওঠে … এবং উটসমূহ ঘরবাড়ির প্রান্তভাগে আশ্রয় নেয়।

তখন প্রতিটি পুষ্ট ও দুগ্ধবতী উষ্ট্রীকে যবেহ করা ছিল তাদের রীতি … তারা এর জন্য অকাতরে সম্পদ ব্যয় করত, অথচ তাদের সম্মান ছিল পরিপূর্ণ।

তারাই ভোরে আক্রমণ চালিয়েছিল তিফাফের অধিবাসী ও একদল শত্রুর ওপর … এমন ধূলিমলিন ঘোড়াগুলোর মাধ্যমে, যার ওপর ছিল কোষমুক্ত তলোয়ারধারী দুঃসাহসী যোদ্ধারা।
(খণ্ড: ১) দীওয়ানুল আফওয়াহ আল-আওদী (পৃষ্ঠা: ৮১)
كَأَنَّ الجِيادَ الشُعثَ تَحتَ رِحالِهِم … سَمامٌ دَعاها لِلمَزاحِفِ ناجِرُ

[13]

وجاء في كتاب الحيوان:

[من الكامل]

إِنَّ المَلامَةَ لا تَزالُ بِلا … عُذرٍ أَمامَ تَفَهُّمِ العُذرِ
যেন তাদের জিনের নিচে থাকা ধূলিধূসরিত ঘোড়াগুলো … গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপ সেগুলোকে যুদ্ধের ময়দানের দিকে আহ্বান করেছে।

[১৩]

এবং কিতাবুল হাইওয়ান-এ বর্ণিত হয়েছে:

[কামিল ছন্দ হতে]

নিশ্চয়ই ওজর অনুধাবন করার পূর্বে তিরস্কার সর্বদা ওজরহীনভাবেই বিদ্যমান থাকে।