(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
فقه أشراط الساعة القسم: العقيدة
الكتاب: فقه أشراط الساعة
المؤلف: محمد بن أحمد بن إسماعيل المقدم
الناشر: الدار العالمية للنشر والتوزيع
الطبعة: السادسة، 1429 هـ - 2008 م
عدد الصفحات: 363
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 ربيع الأول 1436
কিয়ামতের আলামতসমূহের ফিকহ বিভাগ: আক্বীদাহ
গ্রন্থ: কিয়ামতের আলামতসমূহের ফিকহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম
প্রকাশক: আদ-দারুল আলামিয়্যাহ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযি
সংস্করণ: ষষ্ঠ، ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৩৬৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশনার তারিখ: ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১)
فقه أشراطِ السَّاعَة
تأليف
محمد بن أحمد بن إسماعيل المقدَّم
عفا الله عنه
الدار العالمية للنشر والتوزيع
কিয়ামতের আলামতসমূহের ফিকহ
রচনায়
মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন
আদ-দার আল-আলামিয়্যাহ প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
فقه أشراط الساعة
كُل الحقوق محفوظة
الدار العالمية للنشر والتوزيع
الطبعة السادسة
1429 هـ - 2008 م
رقم الإيداع: 4721/ 2006
কিয়ামতের আলামতসমূহের ফিকহ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আদ-দার আল-আলামিয়্যাহ প্রকাশনা ও বিতরণ
ষষ্ঠ সংস্করণ
১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
জমাদান নম্বর: ৪৭২১/ ২০০৬
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
عن أبي قتادة رضي الله عنه قال: سمعت رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إِيَّاكُمْ وَكثْرَةَ الحدِيثِ عَنِّي، مَنْ قَالَ عَلَيَّ فَلَا يَقُولَنَّ إِلَّا حَقًّا أَوْ صِدْقًا، فَمَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ" (*).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আবু কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আমার পক্ষ থেকে অধিক হাদিস বর্ণনা করার ব্যাপারে তোমরা সতর্ক থাকো। যে ব্যক্তি আমার উদ্ধৃতি দিয়ে কিছু বলবে, সে যেন কেবল সত্য বা সঠিক কথাই বলে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু বলল যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।" (*).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
وليِّ المتقين
والحمد لله رب العالمين، لا يهدي كيد الخائنين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده، لا شريك له، قاصمُ ظهر الماكرين، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، سيدُ ولدِ آدمَ أجمعين.
اللهم صَلِّ وسلم وبارك عليه، وعلى آله وصحابته، ومن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدين.
في عالم الأفكار-كما في عالم الأزياء- "صيحات"، و"تقاليع" تُفْرَضُ -بفعل فاعل- لتستلفت أنظار الناس بعيدًا عن خطر حقيقي، وتستقطب اهتمام الطليعة الفعالة في الأمة بعيدًا عما ينبغي أن يشتغلوا به من واجب الوقت، أو تَفْرِضُ نفسها على الساحة الفكرية، التي صارت في كثير من البلدان خاوية إلا من الصحف المسمومة، أو المطبوعات التي لا تخضع لرقابة "فقهية شرعية"؛ فتفجر قضايا يتابعها الناس بنهم، وتشغل الحاضر والبادي، ومع غياب العلماء، أو تغييبهم يُفتقد الانضباط، ويكثر اللغط، ويُدلي كلٌّ بدلوه، وتُبْتَذَل القضايا الكبرى حين ينطق فيها الرويبضة (1)، ويتصدر للخوض فيها من ليس للكلام أهلًا، ويُكْثِر اللغطَ من كان يحبس لسانه في فمه وَجَلًا.
--------------------------------------------
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
যিনি মুত্তাকীদের অভিভাবক।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, তিনি বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্ত সফল হতে দেন না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের মেরুদণ্ড চূর্ণকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তিনি সমস্ত আদম সন্তানের সরদার।
হে আল্লাহ! তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবাগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
চিন্তার জগতে—পোশাক-পরিচ্ছদের জগতের মতোই—কিছু "হুজুগ" ও "নতুন ধারা" সুপরিকল্পিতভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়, যাতে মানুষের দৃষ্টি প্রকৃত বিপদ থেকে সরিয়ে নেওয়া যায়। এগুলো উম্মাহর সক্রিয় অগ্রজ শ্রেণির মনোযোগকে সেই কর্তব্য থেকে বিচ্যুত করে ফেলে, যা সময়ের দাবি হিসেবে তাদের করা উচিত ছিল। অথবা এগুলো নিজেকে এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করে, যা অনেক দেশেই বিষাক্ত সংবাদপত্র কিংবা এমন সব প্রকাশনা ছাড়া শূন্য হয়ে পড়েছে, যেগুলোর ওপর কোনো "শরয়ি ফিকহি" তদারকি নেই। ফলে এমন সব ইস্যু ফেটে পড়ে যা মানুষ অত্যন্ত আগ্রহের সাথে অনুসরণ করে এবং যা শহর ও গ্রাম উভয় জনপদকে ব্যস্ত করে রাখে। আর আলেমদের অনুপস্থিতি বা তাঁদের অনুপস্থিত রাখার কারণে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দেয়, হট্টগোল বেড়ে যায় এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ মতামত পেশ করতে থাকে। বড় বড় বিষয়গুলো তখন তুচ্ছ হয়ে পড়ে যখন তাতে ‘রুওয়াইবিদা’ (১) কথা বলতে শুরু করে, আর যারা কথা বলার যোগ্য নয় তারা আলোচনার সামনে চলে আসে; এমনকি যারা আগে ভয়ে নিজের জিহ্বা সংবরণ করত, তারাও আজ অনেক বেশি শোরগোল শুরু করে দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
نُبِّئْتُ أنَّ النارَ بعدك أُوقِدتْ
… وأستبَّ بعدك يا كُلَيبُ المجلسُ
وتحدثوا في أمرِ كلِّ عظيمةٍ
… لو كنتَ حاضِرَهُمْ بها لم ينبسوا
ولعل أحدث هذه "الصيحات"، وآخر "التقاليع" ما نسميه "ظاهرة العبث بأشراط الساعة"، فقد قذفت المطابع -ولا تزال- بعشرات الكتب والمقالات -بَلْهَ الخطب والمحاضرات- تُفيض في الحديث عن أشراط الساعة، بمنهج مبتدَع دخيل، وأسلوب عجيب غريب، وتهافَتَ الناس على اقتنائها، والتعويل على ما فيها، الأمر الذي يشي بمدى تفشي "الأمية الدينية" بين عامة المثقفين فضلًا عمن دونهم.
ولعل أبرز ما يميز "رءوس" هذه الظاهرة ومقلِّديهم فشو داء التعالم، والقول على الله بغير علم، والجرأة على الخوض بالظن في التوقعات المستقبلة، والاعتماد في الاستدلال على مرويات شاذة غريبة، وآثار مطمورة مهجورة، بَلْهَ الأحاديث الضعيفة والموضوعة، والإسرائيليات، وفيهم يصدق ما رواه أبو هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ، يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ، وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ، لَا يُضِلُّونَكُمْ، وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ» (1).
لقد صار الخوض في أشراط الساعة -وهي غيب- كلأً مباحًا يتناوله كل من هبَّ ودَبَّ، فأفرز مجازفات وشطحات تقشعر منها الجلود، وها
--------------------------------------------
আমাকে জানানো হয়েছে যে তোমার পরে আগুন জ্বালানো হয়েছে
… আর হে কুলাইব, তোমার পরে মজলিসগুলো গালমন্দ আর বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে।
তারা প্রতিটি গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে
… যদি তুমি সেখানে উপস্থিত থাকতে, তবে তারা টুঁ শব্দটিও করত না।
সম্ভবত এই সব "চিৎকার" এবং সাম্প্রতিক "প্রথাগুলোর" মধ্যে আধুনিকতম হলো যা আমরা "কিয়ামতের আলামত নিয়ে তামাশার প্রপঞ্চ" বলে অভিহিত করি। ছাপাখানাগুলো থেকে কিয়ামতের আলামত নিয়ে আলোচনা সমৃদ্ধ কয়েক ডজন বই এবং নিবন্ধ—এমনকি খুতবা ও বক্তৃতাও—বেরিয়েছে এবং এখনো বের হচ্ছে। এগুলো এক অভিনব ও বিজাতীয় পদ্ধতি এবং অদ্ভুত ও আজগুবি ভঙ্গিতে রচিত। সাধারণ মানুষ এগুলো সংগ্রহ করতে এবং এতে যা আছে তার ওপর নির্ভর করতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এ বিষয়টি সাধারণ শিক্ষিতদের মধ্যে, এমনকি তাদের নিচের স্তরের মানুষদের মধ্যে "ধর্মীয় নিরক্ষরতা" কতটা ছড়িয়ে পড়েছে তারই ইঙ্গিত দেয়।
সম্ভবত এই প্রপঞ্চের "হোতা" এবং তাদের অনুসারীদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো পাণ্ডিত্যের ভান করার ব্যাধি ছড়িয়ে পড়া, জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলা, ভবিষ্যতের পূর্বাভাস সম্পর্কে অনুমাননির্ভর আলোচনায় লিপ্ত হওয়ার দুঃসাহস দেখানো এবং দলিল হিসেবে অস্বাভাবিক ও অদ্ভুত বর্ণনা, এবং বিলুপ্ত ও পরিত্যক্ত আছার বা বর্ণনার ওপর নির্ভর করা; এমনকি দুর্বল ও জাল হাদিস এবং ইসরাঈলি রেওয়ায়েত তো আছেই। তাদের ক্ষেত্রেই আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক আল্লাহর রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি সত্য প্রমাণিত হয় যে, তিনি বলেছেন: «শেষ জামানায় এমন কিছু প্রতারক ও মিথ্যুক দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে, যারা তোমাদের কাছে এমন সব কথা নিয়ে আসবে যা তোমরা শোনোনি এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরাও শোনেনি। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সাবধান থেকো এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রেখো, যাতে তারা তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে না পারে এবং তোমাদের ফিতনায় ফেলতে না পারে» (১)।
কিয়ামতের আলামত নিয়ে আলোচনা করা—যা অদৃশ্যের বিষয়—তা এখন উন্মুক্ত চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে যেখানে যে কেউ হস্তক্ষেপ করছে। এর ফলে এমন সব ঝুঁকি ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যা শুনলে শরীর শিউরে ওঠে, আর এই যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
هو ذا واقع الأحداث يأتي على بنيانها من القواعد، ويهدمها هدمًا، ويكشف زيفها للناظرين.
وفي هذه الدراسة نسلِّطُ الضوء على ظاهرة "العبث بأشراط الساعة" وصفًا وتحليلًا، ونحاول أن نستخلص منها ضوابط التعامل مع نصوص أشراط الساعة، مع ربط ذلك بواقع الأمة في هذا العصر، والله تعالى من وراء القصد، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله محمدٍ، وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.
محمد بن أحمد إسماعيل المقدَّم
الإسكندرية
في السبت 10 ذي القعدة 1424 هـ
الموافق 3 يناير 2004 م
ঘটনার বাস্তবতা এর কাঠামোর ভিত্তিমূল থেকেই আঘাত হানছে, একে সমূলে বিনাশ করছে এবং দর্শকদের নিকট এর অসারতা উন্মোচিত করছে।
এই গবেষণায় আমরা "কিয়ামতের আলামত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা"র প্রপঞ্চটির ওপর বর্ণনা ও বিশ্লেষণধর্মী আলোকপাত করেছি। আমরা কিয়ামতের আলামত সংক্রান্ত দলিলের সাথে আচরণের নীতিমালা নির্যাস করার চেষ্টা করেছি এবং বর্তমান যুগে উম্মাহর বাস্তব অবস্থার সাথে তা সংশ্লিষ্ট করেছি। মহান আল্লাহই একমাত্র লক্ষ্য, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
মুহাম্মদ বিন আহমাদ ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম
আলেকজান্দ্রিয়া
শনিবার, ১০ যুল-কাদাহ ১৪২৪ হিজরি
মোতাবেক ৩ জানুয়ারি ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الباب الأول
الفصل الأولفي التحذير من التعالم الكاذب، والولع بالغرائبقال الله تعالى: {فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} [الأنعام: 144].
إن التعالم الكاذب هو عتبة الدخول على جريمة القول على الله بغير علم، المحرمة لذاتها تحريمًا أبديًّا في جميع الشرائع، وهذا مما عُلِم من الدين بالضرورة، وهو مما حَذَّرَناه رسولُ الله صلى الله عليه وسلم أشد التحذير.
عن عبد الله وأبي موسى رضي الله عنهما قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ لَأَيَّامًا، يَنْزِلُ فِيهَا الجَهْلُ، وَيُرْفَعُ فِيهَا العِلْمُ، وَيَكْثُرُ فِيهَا الهَرْجُ» وَالهَرْجُ: القَتْلُ (1) الحديث.
وعن أنس رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ: أَنْ يَقِلَّ العِلْمُ، وَيَظْهَرَ الجَهْلُ، " (2).
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়প্রথম পরিচ্ছেদমিথ্যা পাণ্ডিত্য প্রদর্শন এবং অদ্ভুত বিষয়ের প্রতি আসক্তি সম্পর্কে সতর্কীকরণ প্রসঙ্গেআল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে মানুষকে বিনাজ্ঞানে বিভ্রান্ত করার জন্য আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়? নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না।} [আল-আনআম: ১৪৪]।
নিশ্চয়ই মিথ্যা পাণ্ডিত্য প্রদর্শন হলো বিনাজ্ঞানে আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলার মতো অপরাধে প্রবেশের দোরগোড়া, যা সকল শরীয়তেই স্বতন্ত্রভাবে এবং চিরস্থায়ীভাবে হারাম করা হয়েছে। এটি দ্বীনের এমন এক অনস্বীকার্য বিষয় যা সকলের জানা থাকা আবশ্যক, এবং এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।
আবদুল্লাহ এবং আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের প্রাক্কালে এমন কিছু দিন আসবে, যখন মূর্খতা অবতীর্ণ হবে এবং ইলম বা জ্ঞান উঠিয়ে নেওয়া হবে, আর 'হারজ' বৃদ্ধি পাবে।» আর 'হারজ' হলো হত্যাকাণ্ড (১)।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে: ইলম বা জ্ঞান কমে যাওয়া এবং মূর্খতা প্রকাশ পাওয়া," (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وعن مالك قال: أَخْبَرَنِي رَجُلٌ " أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَوَجَدَهُ يَبْكِي، فَقَالَ لَهُ: مَا يُبْكِيكَ؟ وَارْتَاعَ لِبُكَائِهِ فَقَالَ لَهُ: أَمُصِيبَةٌ دَخَلَتْ عَلَيْكَ؟ فَقَالَ: لَا، وَلَكِنِ اسْتُفْتِيَ مَنْ لَا عِلْمَ لَهُ وَظَهَرَ فِي الْإِسْلَامِ أَمْرٌ عَظِيمٌ، قَالَ رَبِيعَةُ: وَلَبَعْضُ مَنْ يُفْتِي هَا هُنَا أَحَقُّ بِالسَّجْنِ مِنَ السُّرَّاقِ " (1).
وقال القاسم بن محمد: "لَأن يعيش الرجل جاهلًا؛ خير من أن يقول على الله ما لايعلم".
وأفضح ما يكون للمرء: دعواه بما لا يقوم به، وقد عاب العلماء ذلك قديمًا وحديثًا:
قال الإمام ابن حزم -رحمه الله تعالى-: "لا آفة على العلوم وأهلها أضر من الدخلاء فيها، وهم من غير أهلها، فإنهم يجهلون، ويظنون أنهم يعلمون، ويُفسِدون، ويُقَدِّرون أنهم يصلحون".
وقال الحافظ ابن حجر -رحمه الله تعالى-: "إذا تكلم المرء في غير فنه، أتى بهذه العجائب".
خلق الله للحروب رجالًا
… ورجالًا لقصعةٍ وثريدِ
قال بعض المصنفين: "والانفراد عن أهل العلم برأي في الشرع والقول بما لم يقل به أحد فيه، ينبئان عن خلل في العقل".
قال زُفَرُ بن الهذيل: "إني لا أناظر أحدًا حتى يسكت، بل أناظره حتى يُجَنَّ"، قالوا: كيف ذلك؟ قال: "يقول بما لم يقل به أحد".
--------------------------------------------
এবং ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে এক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রবীয়া ইবনে আবি আব্দুর রহমানের নিকট প্রবেশ করে তাকে কাঁদতে দেখলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনাকে কিসে কাঁদাচ্ছে?" তিনি তার কান্নায় বিচলিত হলেন এবং তাকে বললেন: "আপনার ওপর কি কোনো বিপদ এসেছে?" তিনি বললেন: "না, বরং যার ইলম নেই তার কাছে ফতোয়া চাওয়া হয়েছে এবং ইসলামে এক মহা বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।" রবীয়া বললেন: "এখানে যারা ফতোয়া দিচ্ছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ চোরদের চেয়েও জেলখানায় থাকার অধিক যোগ্য।" (১)।
এবং কাসিম ইবন মুহাম্মাদ বলেন: "কোনো ব্যক্তির মূর্খ হয়ে বেঁচে থাকা এর চেয়ে উত্তম যে, সে আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলবে যা সে জানে না।"
আর মানুষের জন্য সবচেয়ে কলঙ্কজনক বিষয় হলো: এমন কিছুর দাবি করা যা করার সক্ষমতা তার নেই। প্রাচীন ও আধুনিক কালের আলেমগণ এর নিন্দা করেছেন:
ইমাম ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: "ইলম ও আহলে ইলমদের জন্য অনধিকার প্রবেশকারীদের চেয়ে ক্ষতিকর কোনো আপদ নেই। তারা ইলমের জগতের লোক নয়, অথচ তারা অজ্ঞ হয়েও মনে করে যে তারা জানে; তারা বিপর্যয় সৃষ্টি করে আর ধারণা করে যে তারা সংস্কার করছে।"
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: "যখন কোনো ব্যক্তি তার নিজস্ব বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ে কথা বলে, তখন সে এই সব অদ্ভুত ও আজগুবি কথা নিয়ে আসে।"
আল্লাহ যুদ্ধের জন্য একদল পুরুষ সৃষ্টি করেছেন
… আর অন্য একদলকে সৃষ্টি করেছেন খাদ্যপূর্ণ পাত্র ও সারীদের (ঝোল-রুটির খাবার) জন্য।
জনৈক লেখক বলেন: "শরীয়তের বিষয়ে আহলে ইলমদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজস্ব রায় প্রদান করা এবং এমন কথা বলা যা ইতিপূর্বে কেউ বলেনি—এই বিষয় দুটি বুদ্ধিবৃত্তিক ত্রুটির পরিচায়ক।"
যুফার ইবনুল হুযাইল বলেন: "আমি কারো সাথে ততক্ষণ বিতর্ক করি না যতক্ষণ না সে চুপ হয়ে যায়, বরং আমি তার সাথে ততক্ষণ বিতর্ক করি যতক্ষণ না সে পাগলপ্রায় হয়ে যায়।" তারা জিজ্ঞেস করল: তা কীভাবে? তিনি বললেন: "সে এমন কথা বলে যা ইতিপূর্বে কেউ বলেনি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقال علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب: "ليس ما لا يُعْرف من العلم، إنما العلم ما عُرِف، وتواطأت عليه الألسن".
وقال إبراهيم بن أبي عبلة -رحمه الله تعالى-: "من حمل شاذَّ العلم حمل شرًّا كثيرًا".
وقال الشاطبي -رحمه الله تعالى-: "قلما تقع المخالفة لعمل المتقدمين إلا ممن أدخل نفسه في أهل الاجتهاد غَلَطًا أو مغالطة".
وقال الأمير شكيب أرسلان: "ومن أعظم أسباب تأخر المسلمين: العلم الناقص، والذي هو أشد خطرًا من الجهل البسيط؛ لأن الجاهل إذا قيض الله له مرشدًا عالمًا أطاعه، ولم يتفلسف عليه، فأما صاحب العلم الناقص فهو لا يدري، ولا يقتنع بأنه لا يدري، وكما قيل: (ابتلاؤكم بمجنون خير من ابتلائكم بنصف مجنون)، وأقول: ابتلاؤكم بجاهل خير من ابتلائكم بشبه عالم" (1).
--------------------------------------------
আলি ইবনুল হুসাইন ইবনে আলি ইবনে আবি তালিব বলেন: "যা অজানা তা জ্ঞান নয়; বরং জ্ঞান তাই যা সুপরিচিত এবং যার ওপর সকলের কণ্ঠ একমত হয়েছে।"
ইব্রাহিম ইবনে আবি আবলাহ -রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা- বলেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞানের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা বিরল বিষয়সমূহ বহন করে, সে মূলত অনেক অনিষ্ট বহন করে।"
আশ-শাতিবি -রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা- বলেন: "পূর্বসূরিদের কর্মের বিরোধিতা খুব কমই ঘটে থাকে, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে ভুলবশত অথবা প্রতারণামূলকভাবে নিজেকে ইজতিহাদ করার যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছে।"
আমির শাকিব আরসালান বলেন: "মুসলিমদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো: অপূর্ণ জ্ঞান, যা সাধারণ মূর্খতার চেয়েও অধিক বিপজ্জনক; কারণ মূর্খ ব্যক্তির জন্য আল্লাহ যদি কোনো জ্ঞানী পথপ্রদর্শক নির্ধারণ করে দেন, তবে সে তার আনুগত্য করে এবং তার ওপর পাণ্ডিত্য ফলায় না। কিন্তু অপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তি নিজে জানে না, আবার সে যে জানে না—তাতেও সে সন্তুষ্ট নয়। যেমন বলা হয়ে থাকে: 'পাগলের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়া অর্ধেক পাগলের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার চেয়ে উত্তম', আর আমি বলি: মূর্খের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়া আধা-আলিমের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার চেয়ে উত্তম" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فقه أشراط الساعة
কিয়ামতের আলামতসমূহের ফিকহ
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الثانيمَن المُجتهد الذي يؤجر على اجتهاده وإن أخطأ؟
عن عمرو بن العاص رضي الله عنه أن رسول الله -صلي الله عليه وسلم- قال: «إِذَا حَكَمَ الحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ» (1).
ورد هذا الحديث في شأن القاضي، إلا أن المفتيَ ملحق به، بجامع أن كلًّا منهما مأمور بأن يَصْدُرَ عن حكم شرعي، ولذا يُعذر كلاهما في الخطأ.
والمفتي إن كان من أهل العلم، ممن اجتمعت فيه شرائط الفتيا، وبذل وُسْعَه للوصول إلى الحق، ثم أفتى بما غلب على ظنه. أنه الحق بمقتضى الأدلة؛ فأخطأ، فلا إثم عليه في الخطأ؛ لدخوله في القاعدة الذهبية التي دل عليها قوله تعالى: {وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ} [الاحزاب:5] ، ولدخوله في هذا الحديث الشريف المشار إليه.
وأجر اجتهاده باقٍ محفوظٌ لا يبطل بخطئه؛ لأن الشرع يأمره بأن يفتيَ لوجوب الإفتاء، وقد فعل ما أُمِرَ به، فاستحق بذلك الأجر "على العمل
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসেই মুজতাহিদ কে, যাকে তার ইজতিহাদের জন্য প্রতিদান দেওয়া হবে যদিও সে ভুল করে?আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো বিচারক বিচার করেন এবং ইজতিহাদ করেন, অতঃপর সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তার জন্য রয়েছে দুটি প্রতিদান। আর যখন তিনি বিচার করেন এবং ইজতিহাদ করেন, অতঃপর ভুল করেন, তবে তার জন্য রয়েছে একটি প্রতিদান।" (১)।
এই হাদিসটি বিচারকের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে, তবে মুফতিকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারণ তাদের উভয়েই শরয়ী বিধানের ভিত্তিতে ফয়সালা দিতে আদিষ্ট। তাই ভুলের ক্ষেত্রে তারা উভয়েই ক্ষমাপ্রাপ্ত।
আর মুফতি যদি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন, যার মধ্যে ফতোয়া প্রদানের শর্তাবলি বিদ্যমান রয়েছে এবং তিনি সত্যে পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছেন, অতঃপর দলিলের আলোকে তিনি যা সত্য বলে প্রবল ধারণা পোষণ করেছেন সে অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন; কিন্তু পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে, তবে সেই ভুলের জন্য তার কোনো গুনাহ হবে না। কারণ এটি সেই সোনালী মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত যার প্রতি মহান আল্লাহর বাণী নির্দেশ করে: "তোমরা যে বিষয়ে ভুল করো তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই, তবে তোমাদের অন্তর যা সংকল্প করে (তাতে অপরাধ রয়েছে)" [আল-আহযাব: ৫]। আর এটি উল্লিখিত এই সম্মানিত হাদিসেরও অন্তর্ভুক্ত।
আর তার ইজতিহাদের প্রতিদান অটুট ও সংরক্ষিত থাকবে, ভুলের কারণে তা বাতিল হবে না। কেননা শরীয়ত তাকে ফতোয়া প্রদানের বাধ্যবাধকতার কারণে ফতোয়া দিতে আদেশ করেছে। আর তিনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা পালন করেছেন, ফলে তিনি তার কাজের জন্য প্রতিদান পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الذي قام به، ولكن لا يكون أجره بقدر أجر المصيب، إذ إن المصيب دلَّ على الحق، وهذا -أي: المخطئ- لم يدل عليه.
أما إذا أفتى مَن ليس بأهلٍ للفُتيا فأخطأ، أو كان أهلًا ولم يبذل جهده لإحقاق الحق فأخطأ؛ فإنه لا يكون معذورًا بذلك، بل يكون آثمًا؛ لأنه أضلَّ عن سبيل الله، وقد قال الله تعالى: {لِيَحْمِلُوا أَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمِنْ أَوْزَارِ الَّذِينَ يُضِلُّونَهُمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ} [النحل: 25] (1).
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ العِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ العِبَادِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ العِلْمَ بِقَبْضِ العُلَمَاءِ، حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا، فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا» (2).
قال ابن المنذر -رحمه الله تعالى-: "وإنما يؤجر الحاكم إذا أخطأ إذا كان عالمًا بالاجتهاد فاجتهد، وأما إذا لم يكن عالمًا فلا".
واستدل بحديث: "الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ"، وفيه: "وقَاضٍ قَضَى بِغَيرِ حَق، فَهوَ في النَّارِ، وقَاضٍ قَضَى وهو لا يَعْلمُ؛ فَهو في النَّارِ".
وقال الخطابي -رحمه الله تعالى- في "معالم السنن": "إنما يؤجر المجتهد إذا كان جامعا لآلة الاجتهاد، فهو الذي نعذره بألخطأ، بخلاف المتكلِّفِ، فيُخاف عليه ". اهـ.
--------------------------------------------
যা তিনি সম্পাদন করেছেন, তবে তার পুরস্কার সঠিক সিদ্ধান্তদানকারীর পুরস্কারের সমপরিমাণ হবে না; কারণ সঠিক সিদ্ধান্তদানকারী সত্যের দিশা দিয়েছেন, আর এই ব্যক্তি —অর্থাৎ ভুলকারী— সত্যের দিশা দিতে পারেননি।
পক্ষান্তরে যদি এমন কেউ ফতোয়া প্রদান করে যে ফতোয়া প্রদানের যোগ্য নয় এবং সে ভুল করে, অথবা যে ব্যক্তি যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যথাযথ প্রচেষ্টা ব্যয় না করে ভুল করে; তবে সে ক্ষেত্রে সে ওজরপ্রাপ্ত বা ক্ষমাযোগ্য হবে না, বরং সে গুনাহগার হবে। কারণ সে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করেছে। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যাতে কিয়ামতের দিন তারা নিজেদের পূর্ণ পাপের বোঝা বহন করে এবং যাদেরকে তারা জ্ঞানহীনভাবে পথভ্রষ্ট করে তাদের পাপের বোঝারও একাংশ বহন করে। দেখ, তারা যা বহন করে তা কতই না নিকৃষ্ট!} [নাহল: ২৫] (১)।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের থেকে ইলম ছিনিয়ে নিয়ে তা উঠিয়ে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের মৃত্যু প্রদানের মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হবে, তখন তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে» (২)।
ইবনুল মুনজির —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— বলেছেন: "বিচারক ভুল করলেও কেবল তখনই সওয়াব পাবেন যখন তিনি ইজতিহাদ করার বিষয়ে অভিজ্ঞ হবেন এবং ইজতিহাদ করবেন। আর যদি তিনি অভিজ্ঞ না হন, তবে সওয়াব পাবেন না।"
তিনি এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "বিচারক তিন প্রকার", তাতে রয়েছে: "এবং এমন বিচারক যে সত্য ব্যতিরেকে বিচার করেছে, সে জাহান্নামে যাবে; আর এমন বিচারক যে না জেনে বিচার করেছে, সেও জাহান্নামে যাবে।"
খাত্তাবি —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— 'মাআলিমুস সুনান' গ্রন্থে বলেছেন: "মুজতাহিদ কেবল তখনই সওয়াব পাবেন যখন তার মধ্যে ইজতিহাদের সমস্ত উপকরণ বিদ্যমান থাকবে। ভুলের ক্ষেত্রে কেবল তাকেই আমরা ক্ষমা করতে পারি। পক্ষান্তরে অযোগ্য ব্যক্তি যদি এই দুঃসাহস দেখায়, তবে তার ব্যাপারে আশঙ্কা রয়েছে।" সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال الحافظ ابن حجر -رحمه الله تعالى-: "لا يلزم من رد حكمه أو فتواه إذا اجتهد فأخطأ أن يأثم بذلك، بل إذا بذل وُسْعَه أُجِر، فإن أصاب ضُوعف أجرُه، لكن لو أقدم فحكم أو أفتى بغير، علم لحقه الإثمُ" (1).
وقال محيي السنة البغوي -رحمه الله تعالى-: (2) وقوله في الحديث: "وَإِذَا اجْتَهَدَ فَأَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ" لم يُرد به أنه يؤجر على الخطأ، بل يؤجر في اجتهاده في طلب الحق؛ لأن اجتهاده عبادة، والإثم في الخطأ عنه موضوع إذا لم يألُ جهدَه، وهذا فيمن كان جامعًا لآلة الاجتهاد، فأما من لم يكن محلًّا للاجتهاد، فهو متكلِّفٌ لا يُعْذَرُ بالخطأ في الحكم، بل يُخاف عليه أعظم الوزر،
رُويَ عن بريدة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ: وَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ، وَاثْنَانِ فِي النَّارِ، فَأَمَّا الَّذِي فِي الْجَنَّةِ فَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ، وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَجَارَ فِي الْحُكْمِ، فَهُوَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِي النَّارِ " (3).
--------------------------------------------
এবং হাফেজ ইবনে হাজার -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- বলেছেন: "যদি কেউ ইজতিহাদ করে এবং ভুল করে, তবে তার বিচার বা ফতোয়া প্রত্যাখ্যান করার কারণে সে গুনাহগার হবে এমনটি অনিবার্য নয়। বরং সে যদি তার সাধ্য ব্যয় করে তবে সওয়াব পাবে, আর যদি সে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয় তবে তার সওয়াব দ্বিগুণ হবে। কিন্তু যদি সে জ্ঞান ছাড়াই বিচার করতে বা ফতোয়া দিতে অগ্রসর হয়, তবে তাকে গুনাহ বহন করতে হবে" (১)।
এবং মুহিউস সুন্নাহ আল-বাগাভী -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- বলেছেন: (২) এবং হাদিসে তাঁর বাণী: "আর যখন সে ইজতিহাদ করে এবং ভুল করে তখন তার জন্য সওয়াব রয়েছে"—এর দ্বারা এটি উদ্দেশ্য নয় যে ভুলের জন্য তাকে সওয়াব দেওয়া হবে, বরং সত্য অন্বেষণে তার ইজতিহাদের জন্য তাকে সওয়াব দেওয়া হবে; কারণ তার ইজতিহাদ একটি ইবাদত। আর সে যদি সাধ্যমতো চেষ্টা করে থাকে তবে ভুলের গুনাহ তার থেকে রহিত হবে। এটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার মধ্যে ইজতিহাদের যোগ্যতা বিদ্যমান। কিন্তু যে ব্যক্তি ইজতিহাদের উপযুক্ত নয়, সে অনধিকার চর্চাকারী, বিচারের ক্ষেত্রে তার ভুলের জন্য তাকে ক্ষমা করা হবে না, বরং তার ব্যাপারে কবীরা গুনাহর আশঙ্কা রয়েছে।
বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বিচারক তিন প্রকার: একজন জান্নাতে এবং দুইজন জাহান্নামে। যে জান্নাতি সে হলো সেই ব্যক্তি যে সত্যকে চিনেছে এবং সে অনুযায়ী ফয়সালা করেছে। আর যে ব্যক্তি সত্যকে জেনেও বিচারের ক্ষেত্রে জুলুম করেছে সে জাহান্নামী। আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত মানুষের মাঝে ফয়সালা করেছে সেও জাহান্নামী" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فارغ
খালি
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الثالثفي معنى "أشراط الساعة"
الشَرَطُ -بفتحتين-: هو العلامة، جمعه: أشراط، وأشراط الشيء: أوائله، ومنه: شُرَط السلطان، وهم نُخْبَةُ أصحابه الذين يقدمهم على غيرهم من جنده، ومنه: الاشتراط الذي يشترطه الناس بعضهم على بعض، فالشرط علامة على المشروط (1).
الساعة لغةً
جزء من أجزاء الليل والنهار، جمعها: ساعات، وساع، والليل والنهار معًا أربع وعشرون ساعة.
وأشراط الساعة: علاماتها (2)، قال تعالى: {فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً فَقَدْ جَاءَ أَشْرَاطُهَا} [محمد: 18].
قال الحافظ ابن حجر: "هي العلامات التي يعقبها قيام الساعة" (3).
وقد أطلق بعض العلماء على "الأشراط" اسم "الآيات"؛ و"الآيات" هي الأمارات الدالة على الشيء، كالأمارات التي تُنصبُ في الصحراء؛ دالة على الطريق، أو توضع على الشاطئ؛ لتهديَ السفن، أو توضع في طريق المسافرين؛ لتدلهم على ما يقصدون من الأماكن.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ"আশরাতুস সা'আহ" (কিয়ামতের আলামতসমূহ)-এর অর্থ প্রসঙ্গে'আশ-শারাতু' -উভয় বর্ণে ফাতহা বা জবরসহ-: এর অর্থ হলো চিহ্ন বা আলামত, এর বহুবচন: 'আশরাত'। কোনো বস্তুর 'আশরাত' বলতে তার প্রারম্ভিক অংশসমূহকে বোঝায়। এ থেকেই 'শুরাতুস সুলতান' শব্দটি এসেছে; তাঁরা হলেন সুলতানের বাহিনীর সেই বিশেষ দল যাদেরকে তিনি অন্যান্য সৈন্যদের আগে অগ্রবর্তী করেন। এ থেকেই 'আল-ইশতিরাত' (শর্তারোপ করা) শব্দটি এসেছে যা মানুষ একে অপরের সাথে করে থাকে। সুতরাং শর্ত (শার্ত) হলো যার ওপর শর্তারোপ করা হয়েছে (মাশরূত) তার ওপর একটি চিহ্নস্বরূপ (১)।
আভিধানিক অর্থে 'সা'আহ'
রাত ও দিনের একটি অংশ, এর বহুবচন হলো: সা'আত এবং সা'উ। রাত ও দিন একত্রে চব্বিশ ঘণ্টা (সা'আহ)।
আর 'আশরাতুস সা'আহ' হলো কিয়ামতের আলামত বা চিহ্নসমূহ (২)। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তবে কি তারা কেবল কিয়ামতেরই অপেক্ষা করছে যে, তা তাদের নিকট হঠাৎ এসে পড়ুক? অথচ কিয়ামতের আলামতসমূহ তো এসেই পড়েছে} [সূরা মুহাম্মদ: ১৮]।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন: "এগুলো হলো সেই সকল আলামত যার পরপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে" (৩)।
কোনো কোনো আলেম 'আশরাত'-কে 'আয়াত' (নিদর্শন) নামে অভিহিত করেছেন; আর 'আয়াত' হলো এমন সব নিদর্শন যা কোনো বিষয়ের প্রতি দিকনির্দেশ করে। যেমন মরুভূমিতে পথ দেখানোর জন্য স্থাপিত চিহ্নসমূহ; যা পথের দিশা দেয়, অথবা সমুদ্র উপকূলে স্থাপিত সংকেত; যা জাহাজকে পথ দেখায়, কিংবা মুসাফিরদের গন্তব্যস্থলের পথ বাতলে দেওয়ার জন্য রাস্তার ধারে রাখা নিদর্শনসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قال الطيبي: "الآيات: أماراتٌ للساعة، إما على قربها، وإما على حصولها؛ فمن الأول: الدجال، ونزول عيسى، ويأجوج ومأجوج، والخسف، ومن الثاني: الدخان، وطلوع الشمس من مغربها، وخروج الدابة، والنار التي تحشر الناس" (1).
معنى "الساعة" اصطلاحًا
الوقت الذي تقوم فيه القيامة، وسُمّيَتْ بذلك لسرعة الحساب فيها، أو لأنها تفجأ الناس في ساعة، فيموت الخلق كلهم بصيحةٍ واحدة (2). وقال الراغب في "المفردات": [الساعة: جزء من أجزاء الزمان، وُيعبَّر به عن القيامة، قال تعالى: {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ} [القمر: 1]، وقال سبحانه: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ} [الأعراف: 187]، وقال عز وجل: {وَعِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ} [الزخرف: 85].
تشبيهًا بذلك لسرعة حسابه، كما قال عز وجل: {وَهُوَ أَسْرَعُ الْحَاسِبِينَ} [الأنعام: 62]، أو لِما نبَّه عليه بقوله تبارك وتعالى: {كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا} [النازعات: 46]، وقوله سبحانه: {لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ} [الأحقاف: 35]، وقوله عز وجل: {وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يُقْسِمُ الْمُجْرِمُونَ مَا لَبِثُوا غَيْرَ سَاعَةٍ} [الروم: 55]، فالأولى: هي القيامة، والثانية: الوقت القليل من الزمان.
وقيل: الساعات -التي هي القيامة- ثلاث:
--------------------------------------------
আত-তিবি বলেছেন: "নিদর্শনসমূহ (আয়াত) হলো কিয়ামতের আলামত, যা হয় এর নিকটবর্তী হওয়ার প্রমাণ অথবা তা সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ। প্রথম প্রকারের মধ্যে রয়েছে: দাজ্জাল, ঈসার অবতরণ, ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং ভূমিধস। দ্বিতীয় প্রকারের মধ্যে রয়েছে: ধোঁয়া, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, দাব্বাতুল আরদ (প্রাণী)-এর বহির্প্রকাশ এবং সেই আগুন যা মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে" (১)।
পারিভাষিক অর্থে "সায়াহ" (কিয়ামত)-এর অর্থ
সেই সময় যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে। একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে হিসাবের ক্ষিপ্রতার কারণে, অথবা এই জন্য যে এটি মানুষকে হঠাৎ এক মুহূর্তের মধ্যে আক্রান্ত করবে, ফলে একটি মাত্র মহানাদের মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টি মৃত্যুবরণ করবে (২)। আল-রাঘিব 'আল-মুফরাদাত'-এ বলেছেন: [সায়াহ (ঘণ্টা/সময়) হলো সময়ের একটি অংশ, যা কিয়ামত বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে} [আল-কামার: ১], সুবহানাহু বলেছেন: {তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে} [আল-আরাফ: ১৮৭], এবং আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {এবং তাঁর কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে} [আয-যুখরুফ: ৮৫]।
এর সাথে তুলনা করা হয়েছে তাঁর হিসাব গ্রহণের দ্রুততার কারণে, যেমনটি আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {এবং তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী} [আল-আনআম: ৬২]। অথবা সেই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য যা তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর বাণীতে বলেছেন: {যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন তাদের মনে হবে তারা যেন মাত্র এক সন্ধ্যা বা এক প্রভাতের বেশি অবস্থান করেনি} [আন-নাযিআত: ৪৬], এবং সুবহানাহু এর বাণী: {তারা যেন দিনের একটি মুহূর্তের বেশি অবস্থান করেনি} [আল-আহকাফ: ৩৫], এবং আজ্জা ওয়া জাল্লা এর বাণী: {যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে যে, তারা এক মুহূর্তের বেশি অবস্থান করেনি} [আর-রূম: ৫৫]। এখানে প্রথমটি (সায়াহ) হলো কিয়ামত, এবং দ্বিতীয়টি হলো সময়ের একটি স্বল্প অংশ।
বলা হয়ে থাকে: সায়াহ (কিয়ামত) তিন প্রকার:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الساعة الكبرى (1): هي بعث الناس للمحاسبة، وهي التي أشار إليها بقوله عليه السلام: "ولا تقوم الساعة حتِى يظهرَ الفُحش والتفاحُش" (2) إلى غير ذلك، وذكر أمورًا لم تحدث في زمانه ولا بعده.
والساعة الوسطى: وهي موت أهل القرن الواحد، وذلك نحو ما رُويَ أنه رأى عبد الله بن أُنَيْس (3)، فقال: "إن يَطُلْ عُمرُ هَذَا الغُلَامِ لم يمُتْ حتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ" (4).
والساعة الصغري: وهي موت الإنسان، فساعةُ كلِّ إنسانٍ موتُه، وهي المشارُ إليها بقوله: {قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً} [الأنعام:31]، ومعلوم أن هذه الحسرة تنال الإنسانَ عند موته، لقوله تعالى: {وَأَنْفِقُوا مِنْ مَا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ
--------------------------------------------
বড় কিয়ামত (১): এটি হলো হিসাব-নিকাশের জন্য মানুষকে পুনরুত্থিত করা, যা তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না অশ্লীলতা ও কদর্যতা প্রকাশ পাবে" (২) ইত্যাদি পর্যন্ত। তিনি এমন সব বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন যা তাঁর সময়ে ঘটেনি এবং তাঁর পরেও ঘটেনি।
মধ্যম কিয়ামত: এটি হলো এক প্রজন্মের লোকদের মৃত্যু। যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উনাইসকে (৩) দেখেছিলেন এবং বলেছিলেন: "যদি এই বালকের আয়ু দীর্ঘ হয়, তবে তার মৃত্যুর আগেই কিয়ামত সংঘটিত হবে" (৪)।
ছোট কিয়ামত: এটি হলো মানুষের মৃত্যু। প্রত্যেক মানুষের কিয়ামত হলো তার মৃত্যু। আর আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে এরই প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে: {নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টিকে অস্বীকার করেছে, অবশেষে যখন তাদের কাছে আকস্মিকভাবে কিয়ামত উপস্থিত হলো} [আনআম: ৩১]। আর এটি জানা কথা যে, এই অনুশোচনা মানুষের মৃত্যুর সময়ই হয়, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো তোমাদের কারো কাছে (মৃত্যু) আসার আগে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الْمَوْتُ فَيَقُولَ} الآية [المنافقون: 10]، وعلى هذا قوله: {قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُ اللَّهِ أَوْ أَتَتْكُمُ السَّاعَةُ} [الأنعام: 40].
وعن أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم وَإِذَا تَخَيَّلَتِ السَّمَاءُ، تَغَيَّرَ لَوْنُهُ، وَخَرَجَ وَدَخَلَ، وَأَقْبَلَ وَأَدْبَرَ، فَإِذَا مَطَرَتْ، سُرِّيَ عَنْهُ، فَعَرَفْتُ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: " لَعَلَّهُ، يَا عَائِشَةُ كَمَا قَالَ قَوْمُ عَادٍ: {فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا} (1) [الأحقاف: 24] اهـ (2)
وقال القرطبي -رحمه الله تعالى-: "قال علماؤنا: واعلم أن كل ميت مات فقد قامت قيامته (3)، ولكنها قيامة صغرى وكبرى، فالصغرى: هي ما يقوم كل (4) إنسان في خاصته من خروج روحه، وفراق أهله، وانقطاع سعيه، وحصوله على عمله إن كان خيرًا فخير، وإن كان شرًّا فشر، والقيامة الكبرى هي التي تعم الناس وتأخذهم أخذة واحدة" (5).
وقد ذكر الله تعالى القيامتين الصغرى والكبرى في القرآن الكريم، فتجده يذكر القيامتين في السورة الواحدة؛ كما في سورة الواقعة؛ فإنه ذكر في أولها القيامة الكبرى، فقال تعالى: {إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ (1) لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ (2) خَافِضَةٌ رَافِعَةٌ (3) إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا (4) وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا (5) فَكَانَتْ هَبَاءً مُنْبَثًّا (6) وَكُنْتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً (7)} [الواقعة: 1 - 7].
--------------------------------------------
...মৃত্যু, অতঃপর সে বলবে} আয়াত [সূরা আল-মুনাফিকুন: ১০]। এর ওপর ভিত্তি করেই তাঁর বাণী: {বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহর শাস্তি তোমাদের কাছে উপস্থিত হয় কিংবা তোমাদের কাছে কিয়ামত এসে যায়} [সূরা আল-আনআম: ৪০]।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবস্থা এমন ছিল যে, যখন আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা দিত, তখন তাঁর চেহারার রং বদলে যেত। তিনি ঘর থেকে বের হতেন এবং প্রবেশ করতেন, সামনে আসতেন এবং পেছনে যেতেন। এরপর যখন বৃষ্টি হতো, তখন তাঁর সেই অস্থিরতা দূর হয়ে যেত। আয়েশা বলেন: আমি তাঁর চেহারায় তা লক্ষ্য করতাম। আয়েশা বলেন: এরপর আমি তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: "হে আয়েশা! সম্ভবত এটি তেমনই হবে যেমন আদ জাতি বলেছিল: {যখন তারা তাদের উপত্যকার দিকে মেঘ আসতে দেখল, তখন তারা বলল—এটি এমন এক মেঘ যা আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করবে}" (১) [সূরা আল-আহকাফ: ২৪]। সমাপ্ত। (২)
ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) বলেন: "আমাদের উলামায়ে কিরাম বলেছেন: জেনে রেখো, যে ব্যক্তিই মৃত্যুবরণ করে, তার কিয়ামত কায়েম হয়ে যায় (৩), তবে তা ক্ষুদ্র কিয়ামত ও মহা কিয়ামত—এই দুই প্রকার। ক্ষুদ্র কিয়ামত হলো যা প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে তার রূহ বের হওয়া, পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, তার প্রচেষ্টার সমাপ্তি ঘটা এবং নিজ আমল অনুযায়ী প্রতিদান প্রাপ্তির মাধ্যমে ঘটে; তা যদি কল্যাণকর হয় তবে ভালো, আর মন্দ হলে মন্দ। আর মহা কিয়ামত হলো যা সকল মানুষকে শামিল করবে এবং একযোগে সবাইকে পাকড়াও করবে" (৫)।
আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ক্ষুদ্র ও মহা—উভয় কিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন। আপনি দেখতে পাবেন যে, তিনি একই সূরায় উভয় কিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন; যেমন সূরা আল-ওয়াকিআহ। এর শুরুর দিকে তিনি মহা কিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {যখন সেই মহাসংগঠিত ঘটনা (কিয়ামত) ঘটবে (১) তার ঘটার ব্যাপারে কোনো মিথ্যা নেই (২) এটি কাউকে নিচে নামিয়ে দেবে এবং কাউকে ওপরে উঠাবে (৩) যখন পৃথিবী প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে (৪) এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলিকণায় পরিণত হবে (৫) ফলে তা উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে (৬) আর তোমরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে (৭)} [সূরা আল-ওয়াকিআহ: ১ - ৭]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ثم في آخرها ذكر القيامة الصغرى، وهي الموت، فقال: {فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ (84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ (85)} [الواقعة: 83 - 85].
وذكر القيامتين - أيضًا- في سورة القيامة، فقال: {لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ (1)} [القيامة: 1]، وهذه القيامة الكبرى.
ثم ذكر الموت، فقال: {كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ (26)} [القيامة: 26]، وهو القيامة الصغرى.
অতঃপর এর শেষে তিনি ছোট কিয়ামত তথা মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "তবে কেন নয়, যখন আত্মা কণ্ঠাগত হয় (৮৩) এবং তোমরা তখন চেয়ে থাকো (৮৪) আর তোমাদের তুলনায় আমরাই তার অধিক নিকটবর্তী, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না (৮৫)" [আল-ওয়াকিআহ: ৮৩-৮৫]।
এবং তিনি সূরা আল-ক্বিয়ামাহ-তেও উভয় কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমি শপথ করছি কিয়ামত দিবসের (১)" [আল-ক্বিয়ামাহ: ১], আর এটি হলো বড় কিয়ামত।
অতঃপর তিনি মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "কখনো নয়, যখন আত্মা কণ্ঠাস্থি পর্যন্ত পৌঁছে যায় (২৬)" [আল-ক্বিয়ামাহ: ২৬], আর এটি হলো ছোট কিয়ামত।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فارغ
খালি
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْفَصْل الرَّابعُثَمَرَاتُ الإِيمَانِ بِأَشْرَاطِ السَّاعَةِإن قيامَ الساعةِ الذي يعني نِهَايَةَ نِظَامِ هذا العالم، هو من أعظم الأحداث بعد خلق العالم، بل إن تغيير النظام الكوني وإيجاد نظامٍ آخر حَدَثٌ يَعْدِلُ خلق العالم أول مرة؛ ولذلك تسبقه أحداثٌ كبرى خارقةٌ للعادة، تكون كالمقدمة له.
والإيمان بأشراط الساعة داخلٌ ضمن الإيمان باليوم الآخر؛ فهو من الإيمان بالغيب؛ ولهذا الإيمان ثمرات وفوائِدُ نحاول أن نُجْمِلَهَا فيما يلي:
أولًا: تحقيق ركن من أركان الإيمان الستة، وهو الإيمان باليوم الآخر، باعتبار أن أشراط الساعة من مقدماته، كما أنه من الإيمان بالغيب الذي قال فيه عز وجل: {الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ} [البقرة: 3] ،
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا، عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ، وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللهِ» (1).
وفي الصحيح أن جبريل عليه السلام سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الإسلام والإيمان والإحسان وأمارات الساعة، وأن
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদকিয়ামতের আলামতের ওপর ঈমান আনার সুফলসমূহনিশ্চয়ই কিয়ামত সংঘটিত হওয়া, যার অর্থ এই জগতের বিদ্যমান ব্যবস্থার সমাপ্তি, তা জগৎ সৃষ্টির পর মহানতম ঘটনাবলির অন্যতম। বরং মহাজাগতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং অন্য এক নতুন ব্যবস্থা আনয়ন করা এমন এক ঘটনা যা প্রথমবার জগৎ সৃষ্টির সমতুল্য; এই কারণেই এর পূর্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অলৌকিক কিছু ঘটনা ঘটবে, যা এর ভূমিকা স্বরূপ হবে।
আর কিয়ামতের আলামতের ওপর ঈমান রাখা পরকালের ওপর ঈমান আনারই অন্তর্ভুক্ত; কেননা এটি অদৃশ্যের ওপর ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ঈমানের কিছু সুফল ও উপকারিতা রয়েছে যা আমরা নিম্নে সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করছি:
প্রথমত: ঈমানের ছয়টি রুকনের মধ্যে একটি রুকন বাস্তবায়ন করা, আর তা হলো পরকালের ওপর ঈমান আনা, যেহেতু কিয়ামতের আলামতসমূহ কিয়ামতের প্রাথমিক নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। তেমনিভাবে এটি অদৃশ্যের ওপর ঈমানের অংশ যার ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন: {যারা অদৃশ্যের ওপর ঈমান আনে} [সূরা আল-বাকারা: ৩],
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। তারা যখন এগুলো করবে, তখন তারা আমার হাত থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদকে নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাবের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর» (১)।
সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসলাম, ঈমান, ইহসান এবং কিয়ামতের আলামতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
النبي صلى الله عليه وسلم قال في آخره: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ» (1) والشاهد أنه عدَّ ما يتعلق بأمارات الساعة من الدين.
ثانيًا: إشباع الرغبة الفطريه (2) في الإنسان التي تتطلع لاستكشاف ما غاب عنه (3)، واستطلاع ما يحدث في المستقبل من وقائع وكائنات، وإذا
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শেষাংশে বলেছেন: «নিশ্চয়ই ইনি জিবরীল, তোমাদের নিকট এসেছিলেন তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে» (১) আর এখানে প্রাসঙ্গিক বিষয়টি হলো, তিনি কিয়ামতের আলামতসমূহ সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন।
দ্বিতীয়ত: মানুষের সহজাত আকাঙ্ক্ষা (২) চরিতার্থ করা যা তার নিকট অদৃশ্য বিষয়গুলো (৩) অন্বেষণ করতে এবং ভবিষ্যতে ঘটবে এমন সব ঘটনা ও সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে উদ্গ্রীব থাকে, আর যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كان الإسلام سَدَّ طُرُقَ الدجالين الذين يدَّعون الاطلاع عليها؛ كالمنجمين، والعرَّافين، والكُهَّان، ونحوهم، إلا أنه -استجابة لأشواق الفطرة- أطلعنا -من خلال نافذة الوحي- على كثير من هذه الأحداث (1).
إن إخفاء وقت الساعة له أثر بليغ في إصلاح النفس البشرية، فالأمر العظيم الذي يستيقن المرء وقوعه، ولكنه لا يدري متى يفجؤه؛ يجعل المرء مترقبًا له، متشوفًا إليه؛ لأن المجهول عنصر أساسٌ في حياة البشر، وفي تكوينهم النفسي، فلا بد من مجهول في حياتهم يتطلعون إليه، ولو كان كل شيء مكشوفًا لهم -وهم بهذه الفطرة- لَوَقَفَ نشاطهم، وأسنت حياتهم.
ثَالِثًا: أن الإخبار عن الغيوب المستقبلة -باعتبار ما فيها من خرقٍ للعادة- من أهم دلائل النبوة؛ حيث إنها تتضمن تَحَدِّيا لعقول البشر أجمعين، فهذه أمور غيبية لا تُدْرَكُ بالعقل، ولا يمكن معرفة كُنْهِها على الحقيقية إلا من خلال الوحي الصادق من الله تعالى إلى رسوله صلى الله عليه وسلم، وقد صدرت منه لا على أنها توقعات تعتمد على مقدمات تؤدي إلى نتائجها، وإنما هي حديث دقيق قاطع عن تفاصيل المستقبل المجهولِ، حديث لا يَخْرِمُهُ المستقبل، ولا في جزء
--------------------------------------------
ইসলাম সেই সব প্রতারকদের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে যারা অদৃশ্যের সংবাদ জানার দাবি করে; যেমন জ্যোতিষী, গণক, ভবিষ্যদ্বক্তা এবং তাদের সমজাতীয় ব্যক্তিরা। তবে—মানুষের স্বভাবজাত আকাঙ্ক্ষার প্রতি সাড়া দিয়ে—মহান আল্লাহ ওহীর বাতায়নের মাধ্যমে আমাদের এই সব ঘটনার অনেক কিছু সম্পর্কে অবগত করেছেন (১)।
কিয়ামতের সময় গোপন রাখার মাঝে মানবাত্মার সংশোধনের ক্ষেত্রে এক সুগভীর প্রভাব রয়েছে। কারণ, এমন এক মহাব্যাপার যার ঘটার ব্যাপারে মানুষ নিশ্চিত, কিন্তু সেটি কখন তাকে আকস্মিকভাবে গ্রাস করবে তা সে জানে না; এটি মানুষকে সেই বিষয়ের প্রতি সদা সজাগ ও প্রতীক্ষমাণ রাখে। কেননা 'অজানা' বিষয়টি মানুষের জীবনে এবং তাদের মনস্তাত্ত্বিক গঠনে এক মৌলিক উপাদান। তাদের জীবনে অবশ্যই এমন কিছু অজানা থাকতে হবে যার প্রতি তারা লক্ষ্য রাখবে। যদি তাদের কাছে সবকিছুই উন্মোচিত থাকতো—তাদের বর্তমান প্রকৃতি অনুযায়ী—তবে তাদের সকল তৎপরতা থেমে যেত এবং তাদের জীবন স্থবির হয়ে পড়ত।
তৃতীয়ত: ভবিষ্যৎ অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান—স্বাভাবিক নিয়মের বহির্ভূত হওয়ার কারণে—নবুওয়াতের অন্যতম প্রধান নিদর্শন বা দলিল; কারণ এতে সমস্ত মানব বুদ্ধিবৃত্তির প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ নিহিত রয়েছে। কেননা এগুলো হচ্ছে এমন অদৃশ্য বিষয় যা কেবল বুদ্ধির দ্বারা আয়ত্ত করা সম্ভব নয় এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রেরিত সত্য ওহী ছাড়া এগুলোর প্রকৃত স্বরূপ জানা অসম্ভব। আর এই সংবাদগুলো তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অনুমান হিসেবে আসেনি যা নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে ফলাফলে উপনীত হয়, বরং এটি হচ্ছে অজানা ভবিষ্যতের বিবরণ সম্পর্কে এক সূক্ষ্ম ও অকাট্য বক্তব্য, এমন এক বাণী যার কোনো অংশই ভবিষ্যৎ মিথ্যা বা খণ্ডন করতে পারে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
من أجزائه، وحينئذٍ فلا شَكَّ أنها النبوة، وأن صاحبها مُتَّصلٌ بالله تعالى عالم الغيب والشهادة؛ كما قال عز وجل: {عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا (26) إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا (27)} الآيتان: [الجن: 26 - 27].
وقال -سبحانه وتعالي-: {عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ (92)} [المؤمنون: 92].
ومن ثمرات وقوع تلك الْمغُيَّبَاتِ -على كثرتها- مُطَابِقَةً لخبر الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم أن يثبت إيمان المؤمن، ويطمئن قلبه، ويزداد يقينه، ويقول كما قص الله عن المؤمنين: {هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا (22)} [الأحزاب: 22].
ومن ثمرات ذلك أيضًا: إقامة الحجة على الكافرين، وإقناعهم بصدق نبوة ورسالة محمد صلى الله عليه وسلم إلى العالمين.
رَابِعًا: تَعَلُّمُ الكيفية الصحيحة التي دَلَّنَا عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ كي نتعامل بها مع بعض الأحداث المقبلة التي قد يلتبس علينا وجه الحق فيها.
قال تعالى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ (128)} [التوبة: 128]، وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: "كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سَفَرٍ، فَنَزَلْنَا منزلَّا
… " الحديث، وفيه: "إذ نادى منادي رسول الله صلى الله عليه وسلم: الصلاة جامعة، فاجتمعنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: " إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ قَبْلِي إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَيْهِ أَنْ يَدُلَّ أُمَّتَهُ عَلَى خَيْرِ مَا يَعْلَمُهُ لَهُمْ، وَيُنْذِرَهُمْ شَرَّ مَا يَعْلَمُهُ
এর অংশবিশেষ থেকে, আর তখন এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটিই নবুওয়াত এবং এর অধিকারী মহান আল্লাহর সাথে সংযুক্ত, যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা; যেমনটি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: "তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না। তবে তাঁর মনোনীত কোনো রাসূল ব্যতীত, সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর সামনে ও পেছনে প্রহরী নিযুক্ত করেন।" [সূরা জিন: ২৬ - ২৭]।
আর তিনি —সুবহানাহু ওয়া তায়ালা— বলেছেন: "তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তারা যা অংশীদার করে তিনি তা থেকে অনেক উর্ধ্বে।" [সূরা আল-মুমিনুন: ৯২]।
এই অগণিত অদৃশ্য বিষয়গুলো সত্যবাদী ও সত্যপ্রত্যায়িত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদ অনুযায়ী হুবহু ঘটার অন্যতম সুফল হলো মুমিনের ঈমান সুদৃঢ় হওয়া, তার অন্তর প্রশান্ত হওয়া এবং তার দৃঢ় বিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়া। সে তখন তেমনটিই বলে যেমনটি আল্লাহ মুমিনদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের যার ওয়াদা দিয়েছিলেন এটি তাই, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। এটি তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণকেই বৃদ্ধি করেছিল।" [সূরা আল-আহযাব: ২২]।
এর আরেকটি সুফল হলো: কাফেরদের বিরুদ্ধে দলিল প্রতিষ্ঠিত করা এবং বিশ্ববাসীর প্রতি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত ও রিসালাতের সত্যতা সম্পর্কে তাদের আশ্বস্ত করা।
চতুর্থত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যে সঠিক কর্মপদ্ধতি নির্দেশ করেছেন তা শিক্ষা করা; যাতে আমরা আগামীর এমন কিছু ঘটনার মোকাবিলা করতে পারি যেগুলোর ক্ষেত্রে সত্যের স্বরূপ আমাদের কাছে অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: "তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর জন্য পীড়াদায়ক, তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।" [সূরা আত-তাওবাহ: ১২৮]। আর আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম, অতঃপর আমরা এক স্থানে অবতরণ করলাম..." হাদিসটি দীর্ঘ, তাতে রয়েছে: "হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষক ঘোষণা করলেন: নামাজ সমবেতভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সমবেত হলাম। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমার পূর্ববর্তী এমন কোনো নবী ছিলেন না যার ওপর এটি কর্তব্য ছিল না যে, তিনি তাঁর উম্মতকে তাদের জন্য যা কল্যাণকর মনে করেন তার পথ দেখাবেন এবং যা তাদের জন্য অকল্যাণকর মনে করেন সে সম্পর্কে সতর্ক করবেন।"
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لَهُمْ، وَإِنَّ أُمَّتَكُمْ هَذِهِ جُعِلَ عَافِيَتُهَا فِي أَوَّلِهَا، وَسَيُصِيبُ آخِرَهَا بَلَاءٌ، وَأُمُورٌ تُنْكِرُونَهَا، وَتَجِيءُ فِتْنَةٌ فَيُرَقِّقُ بَعْضُهَا بَعْضًا، وَتَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ: هَذِهِ مُهْلِكَتِي، ثُمَّ تَنْكَشِفُ وَتَجِيءُ الْفِتْنَةُ، فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ: هَذِهِ هَذِهِ، فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ، وَيُدْخَلَ الْجَنَّةَ، فَلْتَأْتِهِ مَنِيَّتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ
… " الحديث (1).
لقد نصح رسولُ الله صلى الله عليه وسلم أصحابَه الذين عاصروه نصائحَ انتفعوا بها كثيرًا:
- فقد بَشَّرَ عثمان رضي الله عنه بالجنة، على بلوَى تصيبه.
- وأخبر عمَّارًا رضي الله عنه أنه تقتله الفئة الباغية.
- وأمر أبا ذزّ رضي الله عنه بأن يعتزلَ الفتنة، وأن لا يقاتل، ولو قُتِلَ.
- وكان حذيفَةُ رضي الله عنه يسأله عن الشر؛ مخافَةَ أن يدرِكَهُ، ودلَّه صلى الله عليه وسلم كيف يفعل في الفتن.
- ونهى المسلمين عن أخذ شيء من جبل الذهب الذي سوف ينحسر عنه الفرات.
- وبصَّر أمته بفتنة الدجال، وأفاض في وصفها، وبَيَّنَ لهم ما يعصمهم منها؛ ومِن ثَمَّ قال عبد الرحمن المحاربي: "يَنْبَغِي أَنْ يُدْفَعَ هَذَا الْحَدِيثُ (2) إِلَى الْمُؤَدِّبِ، حَتَّى يُعَلِّمَهُ الصِّبْيَانَ فِي الْكُتَّابِ." (3).
--------------------------------------------
...তাদের জন্য। আর তোমাদের এই উম্মতের নিরাপত্তা এর প্রথম ভাগে রাখা হয়েছে, আর এর শেষ ভাগে আপতিত হবে বিপদ-আপদ এবং এমন সব বিষয় যা তোমরা অপছন্দ করবে। ফিতনা আসবে এবং একটি অপরটিকে হালকা করে দিবে। একটি ফিতনা আসবে তখন মুমিন বলবে, 'এটিই আমার ধ্বংসের কারণ।' এরপর তা দূরীভূত হবে এবং পুনরায় ফিতনা আসবে, তখন মুমিন বলবে, 'এটিই সেই, এটিই সেই।' সুতরাং যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পছন্দ করে, তার মৃত্যু যেন এমন অবস্থায় আসে যে সে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে। আর মানুষের সাথে সে যেন তেমন আচরণ করে, যেমনটি সে নিজের জন্য অন্যদের নিকট থেকে পছন্দ করে
... " হাদিস (১)।
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সমসাময়িক সাহাবীগণকে এমন সব উপদেশ দিয়েছেন যা থেকে তাঁরা অনেক উপকৃত হয়েছেন:
- তিনি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর ওপর আপতিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এক বিপদের বিনিময়ে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।
- তিনি আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, একটি বিদ্রোহী দল তাঁকে হত্যা করবে।
- তিনি আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ফিতনা থেকে দূরে থাকার এবং লড়াই না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এমনকি যদি তাঁকে হত্যা করা হয় তবুও।
- হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু মন্দ বা অকল্যাণ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন এই ভয়ে যে, পাছে তা তাঁকে পেয়ে বসে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিতনার সময় কী করতে হবে সে সম্পর্কে তাঁকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
- তিনি মুসলমানদের সেই স্বর্ণের পাহাড় থেকে কোনো কিছু নিতে নিষেধ করেছেন, যা ফোরাত (ইউফ্রেটিস) নদী থেকে উম্মোচিত হবে।
- তিনি তাঁর উম্মতকে দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে সচেতন করেছেন, তার বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং তা থেকে বাঁচার উপায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আর এ কারণেই আবদুর রহমান আল-মুহারিবি বলেছেন: "এই হাদিসটি (২) মক্তবের শিক্ষকদের কাছে দেওয়া উচিত, যাতে তাঁরা মক্তবে শিশুদের তা শিক্ষা দেন।" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال السفاريني -رحمه الله تعالى-: "مما ينبغي لكل عالم: أن يبث أحاديث الدجَّال بين الأولاد، والنساء، والرجال، ولا سيما في زماننا هذا الذي اشرأبت فيه الفتن، وكثرت فيه المحن، واندرست فيه معالم السنن" (1). اهـ.
وامتدت شفقته صلى الله عليه وسلم لتشمل إخوانه الذين يأتون من بعده، ولم يروه؛ فبذل لهم النصحَ، ودلَّهم على ما فيه نجاتهم، وحسنُ عاقبتهم (2).
فمن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "
… وَاتْرُكُوا التُّرْكَ مَا تَرَكُوكُمْ» (3) الحديث.
فمن ثم أمسك المسلمون عن استفزاز واستثارة الترك، فَسَلِمُوا من غائلتهم، إلى أن خالفوا التوجيه النبوي، قال الحافظ ابن كثير -رحمه الله تعالى-: "وقد قَتَلَ جنكيز خان من الخلائق ما لا يَعْلَمُ عددَهم إلا الذي خلقهم، ولكن كان البُداءة من خوارزم شاه، فإنه لما أرسل جنكيز خان تُجَّارًا من جهته معهم بضائعُ كثيرةٌ من بلاده، فانتهوا إلى إيرانَ، فقتلهم نائبها من جهة خوارزم شاه، وأخذ جميعَ ما كان معهم، فأرسل جنكيز خان إلى خوارزم شاه يستعلمه: هل وقع هذا الأمر عن رضًى
--------------------------------------------
আস-সাফফারিনী -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- বলেছেন: "প্রত্যেক আলেমের জন্য যা উচিত তা হলো: সন্তান-সন্ততি, নারী ও পুরুষদের মাঝে দাজ্জাল বিষয়ক হাদিসসমূহ ছড়িয়ে দেওয়া, বিশেষ করে আমাদের এই সময়ে যখন ফিতনাসমূহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, বিপদ-আপদ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সুন্নাহর নিদর্শনসমূহ বিলীন হয়ে গেছে" (১)। সমাপ্ত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মমতা ও করুণা তাঁর ঐসব ভাইদের পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে যারা তাঁর পরে আসবে এবং তাঁকে দেখেনি; তাই তিনি তাদের হিতোপদেশ দিয়েছেন এবং তাদের কিসে মুক্তি ও শুভ পরিণতি রয়েছে তার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন (২)।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী: "
… আর তোমরা তুর্কিদের ছেড়ে দাও যতক্ষণ তারা তোমাদের ছেড়ে রাখে" (৩) হাদিসের অংশ।
সে কারণেই মুসলমানরা তুর্কিদের উত্যক্ত ও উত্তেজিত করা থেকে বিরত ছিল, ফলে তারা তাদের বিপর্যয় থেকে নিরাপদ ছিল, যে পর্যন্ত না তারা নববী নির্দেশনার বিরুদ্ধাচরণ করল। হাফিজ ইবনে কাসির -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- বলেছেন: "চেঙ্গিস খান সৃষ্টিজগতের এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে হত্যা করেছে যাদের সংখ্যা তাদের স্রষ্টা ছাড়া আর কেউ জানে না। তবে এর সূচনা হয়েছিল খাওয়ারিজম শাহের পক্ষ থেকে; কেননা চেঙ্গিস খান যখন তার পক্ষ থেকে বিপুল পণ্যসামগ্রীসহ একদল বণিক পাঠিয়েছিল, তারা ইরানে পৌঁছালে খাওয়ারিজম শাহের নিযুক্ত প্রতিনিধি তাদের হত্যা করে এবং তাদের সাথে যা ছিল সব কেড়ে নেয়। তখন চেঙ্গিস খান খাওয়ারিজম শাহের নিকট এ বিষয়ে জানতে চেয়ে পাঠাল: এই ঘটনাটি কি তার সম্মতিতে ঘটেছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহু আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
منه، أو أنه لا يعلم به، فأنكره؟ وقال فيما أرسل إليه من المعهود من الملوك أن التجار لا يُقتلون؛ لأنهم عمارةُ الأقاليم، وهم الذين يحملون إلى الملوك ما فيه التحف والأشياء النفيسة، ثم إن هؤلاء التُّجَّار كانوا على دينك، فقتلهم نائبك، فإن كان أمرًا أمرتَ به، طلبنا بدمائهم، وإلا فأنت تُنْكِرُهُ، وتقتصُّ من نائبك.
فلما سمع خوارزم شاه ذلك من رسول جنكيز خان، لم يكن له جواب سوى أنه أمر بضرب عُنُقِهِ، فأساء التدبيرَ، وقد كان خَرَّفَ وكَبُرَتْ سِنُه، وقد ورد الحديث: "اتْرُكُوا الترْكَ مَا تَرَكوكمْ
… "، فلما بلغ ذلك جنكيز خان، تجهز لقتاله، وأَخْذِ بِلادِهِ، فكان بِقَدَرِ الله تعالى ما كان من الأمور التي لم يُسْمَعْ بأغرَبَ منها، ولا أبشعَ" (1).
فهنا نرى أن المسلمين لما خالفوا أمر النبي صلى الله عليه وسلم بترك التُّرك؛ جاءت العاقبةُ عنيفةً مريرةً، حيث اجتاح التتار ديار الإسلام في كارثة لم يسبق لها مثيل في التاريخ (2).
وفي أكثر من موضع ذكر الحافظ ابن كثير وقائع القتال بين المسلمين والتتار، وبيَّن أن المسلمين لم يكونوا يتعقبون التتار إذا فروا هاربين أمامهم، ولو كانت الرماحُ تنالهم؛ ومثال ذلك ما ذكره في حوادث سنة ثلاث وأربعين وستمائة: "وفي هذه السنة كانت وقعةٌ عظيمةٌ بين جيش الخليفة وبين التتار -لعنهم الله-؛ فكسرهم المسلمون كسرةً عظيمةً،
--------------------------------------------
...তা থেকে, অথবা তিনি সে সম্পর্কে জানেন না বলেই কি তা অস্বীকার করেছেন? তিনি তাঁর প্রেরিত বার্তায় রাজাদের পরিচিত রীতি অনুযায়ী বলেছিলেন যে, বণিকদের হত্যা করা হয় না; কারণ তারা জনপদসমূহের আবাদকারী এবং তারাই রাজাদের কাছে উপঢৌকন ও মূল্যবান সামগ্রী বহন করে নিয়ে আসে। তদুপরি, এই বণিকগণ আপনারই ধর্মাবলম্বী ছিল, অথচ আপনার প্রতিনিধি তাদের হত্যা করেছে। যদি এটি এমন কাজ হয়ে থাকে যার নির্দেশ আপনি দিয়েছেন, তবে আমরা তাদের রক্তের দাবি জানাচ্ছি, অন্যথায় আপনি এটি অস্বীকার করুন এবং আপনার প্রতিনিধির ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ (বিচার) করুন।
যখন খাওয়ারিজম শাহ চেঙ্গিস খানের দূতের নিকট থেকে এ কথা শুনলেন, তখন তার কাছে সেই দূতের গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া ছাড়া আর কোনো জবাব ছিল না। ফলে তিনি ভুল পদক্ষেপ নিলেন; তখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হয়ে বিচারবুদ্ধি হারিয়েছিলেন। আর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "তুর্কিরা যতক্ষণ তোমাদের ছেড়ে রাখে, তোমরাও তাদের ছেড়ে রাখো...।" যখন চেঙ্গিস খানের কাছে এ খবর পৌঁছাল, সে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিল এবং তাঁর দেশ দখল করার জন্য অগ্রসর হলো। অতঃপর আল্লাহর ফয়সালায় এমন সব ঘটনা ঘটল যার চেয়ে অদ্ভুত ও বীভৎস আর কিছু শোনা যায়নি (১)।
এখানে আমরা দেখছি যে, মুসলমানরা যখন তুর্কিদের ছেড়ে রাখার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ অমান্য করল, তখন তার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ ও তিক্ত হয়ে দেখা দিল। তাতাররা ইসলামের ভূখণ্ডগুলোতে এমন এক বিপর্যয় নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল যার কোনো নজির ইতিহাসে ইতিপূর্বে ছিল না (২)।
হাফেজ ইবনে কাসির একাধিক স্থানে মুসলিম ও তাতারদের যুদ্ধের ঘটনাবলি উল্লেখ করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, তাতাররা যখন প্রাণভয়ে পালিয়ে যেত তখন মুসলিমরা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করত না, যদিও বল্লম দিয়ে তাদের আঘাত করা সম্ভব ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ৬৪৩ হিজরির ঘটনাবলীতে তিনি উল্লেখ করেছেন: "এই বছর খলিফার সেনাবাহিনী ও তাতারদের—আল্লাহ তাদের লানত করুন—মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছিল; এতে মুসলিমরা তাদের চরমভাবে পরাজিত করেছিল,
--------------------------------------------