(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: -)
الاقتراح في أصول النحو ط القلم   (الجلال السيوطي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: الاقتراح في أصول النحو وجدله

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

حققه وشرحه: د. محمود فجال، وسمى شرحه (الإصباح في شرح الاقتراح)

الناشر: دار القلم، دمشق

الطبعة: الأولى، 1409 - 1989 م

عدد الصفحات: 437

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 شوّال 1435

আল-ইকতিরাহ ফি উসুলিন নাহওয়, দারুল ক্বালাম সংস্করণ   (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব


বই: আল-ইকতিরাহ ফি উসুলিন নাহওয় ওয়া জাদালিহি

লেখক: আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকর, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)

সম্পাদনা ও ব্যাখ্যা: ড. মাহমুদ ফাজ্জাল, এবং তিনি তার ব্যাখ্যার নাম রেখেছেন (আল-ইসুবাহ ফি শারহিল ইকতিরাহ)

প্রকাশক: দারুল ক্বালাম, দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩৭

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ টিম, পৃষ্ঠপোষকতায় (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ শাওয়াল ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

قال العبد الفقير إلى الله تعالى، عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي:

 

الحمد لله الذي أرشد لابتكار هذا النمط وتفضل بالعفو عما صدر عن العبد على وجه السهو والغلط، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة لا وكس فيها ولا شطط، وأشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله، أفضل من عليه جبرئيل بالوحي
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দা আবদুর রহমান বিন আবু বকর আস-সুয়ূতী বলেন:

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই অভিনব শৈলী উদ্ভাবনের পথপ্রদর্শন করেছেন এবং বান্দার পক্ষ থেকে বিচ্যুতি ও ভুলবশত যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে, তা ক্ষমা করে অনুগ্রহ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যাতে কোনো প্রকার ঘাটতি বা অতিরঞ্জন নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; জিবরাঈল ওহি (وحي) নিয়ে যাঁদের নিকট অবতীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
هبط، صلى الله عليه وسلم، وعلى آله وصحبه الذين هم لأتباعه خير فرط.

 

هذا كتاب غريب الوضع، عجيب الصنع، لطيف المعنى، طريف المبنى، لم تسمح قريحة بمثاله، ولم ينسج ناسج على منواله، في علم لم أسبق إلى ترتيبه، ولم أتقدم إلى تهذيبه، وهو أصول النحو، الذي هو بالنسبة إلى النحو كأصول الفقه بالنسبة
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবতীর্ণ হয়েছেন, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর (সালাম বর্ষিত হোক), যারা তাঁর অনুসারীদের জন্য সর্বোত্তম অগ্রগামী দল।

 

এটি একটি অনন্য বিন্যাসের গ্রন্থ, নির্মাণশৈলীতে বিস্ময়কর, অর্থে অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং কাঠামোতে অভিনব। কোনো মেধাই এর সদৃশ কিছু পেশ করতে পারেনি এবং কোনো রচয়িতাই এর পদ্ধতিতে কিছু রচনা করতে সক্ষম হয়নি। এটি এমন এক শাস্ত্রের ওপর রচিত যার বিন্যাস প্রক্রিয়ায় আমার পূর্বে কেউ প্রয়াস চালায়নি এবং এর সংস্কার সাধনেও কেউ আমার আগে অগ্রণী হয়নি। আর তা হলো উসুলুন নাহু (أصول النحو), যা নাহু বা ব্যাকরণের ক্ষেত্রে ঠিক তেমন, যেমন উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) হলো ফিকহের ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
إلى الفقه، وإن وقع في متفرقات كلام بعض المؤلفين، وتشتت في أثناء كتب المصنفين، فجمعه وترتيبه صنع مخترع، وتأصيله وتبويبه وضع مبتدع، لأبرز في كل حين للطالبين، ما تبتهج به أنفس الراغبين.

وقد سميته بـ (الاقتراح في علم أصول النحو)

ورتبته على مقدمات وسبعة كتب.

واعلم أني قد استمديت في هذا الكتاب كثيرا من كتاب الخصائص لابن جني، فإنه وضعه في هذا المعنى، وسماه
ফিকহের (الفقه) প্রতি, যদিও তা বিভিন্ন লেখকের বিক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্যে পাওয়া যায় এবং গ্রন্থকারদের রচনার মাঝে ছড়িয়ে রয়েছে। সুতরাং এর সংকলন ও বিন্যাস একটি উদ্ভাবনী কর্ম, এবং এর মূলনীতি নির্ধারণ (تأصيل) ও অধ্যায় বিন্যাস (تبويب) একটি নব-উদ্ভাবিত পদ্ধতি; যাতে আমি শিক্ষার্থীদের নিকট সর্বদা এমন কিছু উপস্থাপন করতে পারি যা আগ্রহীদের অন্তরকে প্রফুল্ল করবে।

আমি এর নাম দিয়েছি 'আল-ইকতিরাহ ফি ইলমি উসুলিন নাহবি' (ব্যাকরণ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول النحو) সংক্রান্ত প্রস্তাবনা)।

আমি এটি কয়েকটি ভূমিকা ও সাতটি কিতাবে বিন্যস্ত করেছি।

আর জেনে রাখুন যে, আমি এই কিতাবে ইবনে জিন্নির 'আল-খাসাইস' গ্রন্থ থেকে প্রচুর উপাদান গ্রহণ করেছি, কেননা তিনি এই অর্থেই এটি রচনা করেছিলেন এবং এর নামকরণ করেছিলেন-
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
أصول النحو، لكن أكثره خارج عن هذا المعنى، ليس مرتبا، وفيه الغث والسمين، والاستطرادات، فلخصت منه جميع ما يتعلق بهذا المعنى، بأوجز عبارة، وأرشقها، وأوضحها، معزوا إليه، وضممت إليه نفائس أخر، ظفرت بها في متفرقات كتب اللغة، والعربية، والأدب، وأصول الفقه، وبدائع استخرجتها بفكري.

ورتبته على نحو ترتيب أصول الفقه في الأبواب والفصول والتراجم، كما ستراه واضحا بينا، إن شاء الله تعالى.

 

ثم بعد تمامه رأيت الكمال ابن الأنباري قال في كتابه (نزهة الأنباء في طبقات الأدباء):

" علوم الأدب ثمانية: اللغة،
নাহুর মূলনীতি (أصول النحو), তবে এর অধিকাংশ এই প্রসঙ্গের বহির্ভূত, এটি সুবিন্যস্ত নয় এবং এতে অসার ও সারগর্ভ (الغث والسمين) বিষয় ও অবান্তর আলোচনা (الاستطرادات) রয়েছে। তাই আমি তা থেকে এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছু অত্যন্ত সংক্ষেপে, মার্জিত ও প্রাঞ্জল ভাষায় সারসংক্ষেপ করেছি এবং তা মূল উৎসের দিকে নিসবত (معزوا إليه) করেছি। এছাড়া আমি এর সাথে আরও কিছু মূল্যবান বিষয় সংযোজন করেছি, যা আমি ভাষা, আরবি বিদ্যা, আদব এবং উসুলুল ফিকহ-এর (أصول الفقه) বিভিন্ন কিতাব থেকে সংগ্রহ করেছি, আর এতে আমার নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত কিছু চমৎকার বিষয়ও যোগ করেছি।

আর আমি একে উসুলুল ফিকহ-এর বিন্যাস অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যায় (الأبواب), পরিচ্ছেদ (الفصول) ও শিরোনামে (التراجم) বিন্যস্ত করেছি, যা আপনি ইনশাআল্লাহ স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন।

 

এরপর এটি সমাপ্ত করার পর আমি দেখলাম যে, আল-কামাল ইবনুল আম্বারি তাঁর নুজহাতুল আম্বাহ ফি তাবাকাতিল উদাবা কিতাবে বলেছেন:

"আদব বা সাহিত্যের জ্ঞান শাখা আটটি: ভাষা (اللغة),
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
والنحو، والتصريف، والعروض، والقوافي، وصنعة الشعر، وأخبار العرب، وأنسابهم ".

ثم قال: " وألحقنا بالعلوم الثمانية علمين وضعناهما: علم الجدل في النحو، وعلم أصول النحو، فيعرف به القياس وتركيبه وأقسامه، من قياس العله، وقياس الشبه، وقياس الطرد، إلى غير ذلك على حد أصول الفقه، فإن بينهما من المناسبة ما لا خفاء به، لأن النحو معقول من منقول، كما أن الفقه معقول من منقول ".

هذه عبارته.
"...এবং ব্যাকরণ, রূপতত্ত্ব, ছন্দপ্রকরণ, অন্ত্যানুপ্রাস, কাব্যশিল্প, আরবদের ইতিহাস ও তাদের বংশবৃত্তান্ত।"

অতঃপর তিনি বলেন: "আমরা (পূর্বোক্ত) আটটি শাস্ত্রের সাথে আরও দুটি শাস্ত্র যুক্ত করেছি যা আমরা উদ্ভাবন করেছি: ব্যাকরণশাস্ত্রীয় বিতর্কবিদ্যা এবং ব্যাকরণশাস্ত্রের মূলনীতি; যার মাধ্যমে কিয়াস (قياس), এর গঠন ও এর প্রকারভেদ জানা যায়—যেমন কারণভিত্তিক কিয়াস (قياس العلة), সাদৃশ্যমূলক কিয়াস (قياس الشبه) ও ধারাবাহিক কিয়াস (قياس الطرد) ইত্যাদি; যা ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতির (أصول الفقه) আদলে বিন্যস্ত। নিশ্চয়ই এই দুটির মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে যা অত্যন্ত স্পষ্ট। কারণ ব্যাকরণ হলো উদ্ধৃতিমূলক (منقول) উৎস থেকে প্রাপ্ত যৌক্তিক (معقول) জ্ঞান, ঠিক যেমন ফিকহ হলো উদ্ধৃতিমূলক (منقول) উৎস থেকে প্রাপ্ত যৌক্তিক (معقول) জ্ঞান।"

এটিই তাঁর বক্তব্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
فتطلبت هذين الكتابين، حتى وقفت عليهما فإذا هما لطيفان جدا، وإذا في كتابي هذا من القواعد الفقهيه والفوائد، ما لم يسبق إليه أحد، ولم يعرج في واحد منهما عليه.

فأما الذي في أصول النحو، فإنه في كراستين صغيرتين، سماه (لمع الأدلة) ورتبه على ثلاثين فصلا:

الأول: في معنى أصول النحو وفائدته.

الثاني: في أقسام أدلة النحو.

الثالث: في النقل.

الرابع: في انقسام النقل.

الخامس: في شرط نقل المتواتر.

السادس: في شرط نقل الآحاد.

السابع: في قبول نقل أهل الأهواء.

الثامن: في قبول المرسل والمجهول.

التاسع: في جواز الإجازة.

العاشر: في القياس.

الحادي عشر: في تركيب القياس.

الثاني عشر: في الرد على من أنكر القياس.
আমি এই দুটি কিতাব অন্বেষণ করেছি, শেষ পর্যন্ত আমি সেগুলোর সন্ধান পেয়েছি। আমি দেখলাম যে সেগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও চমৎকার। আর আমার এই কিতাবে এমন কিছু ফিকহি মূলনীতি ও উপকারিতা রয়েছে, যা ইতিপূর্বে কেউ বর্ণনা করেনি এবং ঐ কিতাব দুটির কোনোটিতেই সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়নি।

আর নাহুর মূলনীতি (أصول النحو) সংক্রান্ত যে কিতাবটি রয়েছে, তা মূলত দুটি ছোট পুস্তিকায় বিন্যস্ত। তিনি এর নাম রেখেছেন লুমাউল আদিল্লাহ এবং একে ত্রিশটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন:

প্রথম: নাহুর মূলনীতির (أصول النحو) অর্থ ও উপকারিতা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয়: নাহুর দলীলসমূহের প্রকারভেদ প্রসঙ্গে।

第三: শ্রুতি বা বর্ণনা (النقل) প্রসঙ্গে।

চতুর্থ: বর্ণনার (النقل) প্রকারভেদ প্রসঙ্গে।

পঞ্চম: মুতাওয়াতির (المتواتر) বর্ণনার শর্ত প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ: আহাদ (الآحاد) বর্ণনার শর্ত প্রসঙ্গে।

সপ্তম: প্রবৃত্তি পূজারিদের বর্ণনা গ্রহণ করা প্রসঙ্গে।

অষ্টম: মুরসাল (المرسل) এবং অজ্ঞাত (المجهول) বর্ণনা গ্রহণ করা প্রসঙ্গে।

নবম: ইজাজত (الإجازة) বা অনুমতি প্রদানের বৈধতা প্রসঙ্গে।

দশম: কিয়াস (القياس) প্রসঙ্গে।

একাদশ: কিয়াসের (القياس) গঠন বিন্যাস প্রসঙ্গে।

দ্বাদশ: যারা কিয়াস (القياس) অস্বীকার করে তাদের খণ্ডন প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
الثالث عشر: في حل شبه تورد على القياس.

الرابع عشر: في أقسام القياس.

الخامس عشر: في قياس الطرد.

السادس عشر: في كون الطرد شرطا في العله.

السابع عشر: في كون العكس شرطا في العله.

الثامن عشر: في جواز تعليل الحكم بعلتين فصاعدا.

التاسع عشر: في إثبات الحكم في محل النقل، بماذا يثبت: بالنقل أم بالقياس؟

العشرون: في العلة القاصرة.

الحادي والعشرون: في إبراز الإخالة والمبارزة عند المطالبة.

الثاني والعشرون: في الأصل الذي يرد إليه الفرع، إذا كان مختلفا فيه.

الثالث والعشرون: في إلحاق الوصف بالعلة مع عدم الإخالة.

الرابع والعشرون: في ذكر ما يلحق بالقياس، ويتفرع عليه من وجوه الاستدلال.

الخامس والعشرون: في الاستحسان.

السادس والعشرون: في المعارضة.

السابع والعشرون: في معارضة النقل بالنقل.

الثامن والعشرون: في معارضة القياس بالقياس.

التاسع والعشرون: في استصحاب الحال.
ত্রয়োদশ: কিয়াসের (القياس) ওপর উত্থাপিত সংশয়সমূহ নিরসন প্রসঙ্গে।

চতুর্দশ: কিয়াসের (القياس) প্রকারভেদ প্রসঙ্গে।

পঞ্চদশ: তরদ ভিত্তিক কিয়াস (قياس الطرد) প্রসঙ্গে।

ষোড়শ: ইল্লতের (العله) ক্ষেত্রে তরদ (الطرد) শর্ত হওয়া প্রসঙ্গে।

সপ্তদশ: ইল্লতের (العله) ক্ষেত্রে আকস (العكس) শর্ত হওয়া প্রসঙ্গে।

অষ্টাদশ: একই বিধানকে দুই বা ততোধিক ইল্লত (العله) দ্বারা সাব্যস্ত করার বৈধতা প্রসঙ্গে।

ঊনবিংশ: বর্ণনার (النقل) ক্ষেত্রে বিধান সাব্যস্ত করা; তা কিসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হবে: বর্ণনা (النقل) নাকি কিয়াস (القياس) দ্বারা?

বিংশ: অ-সঞ্চরণশীল কার্যকারণ (العلة القاصرة) প্রসঙ্গে।

একবিংশ: দাবির প্রেক্ষিতে ইখালা (الإخالة) ও যুক্তি প্রদর্শন প্রসঙ্গে।

দ্বাবিংশ: সেই মূলনীতি (الأصل) প্রসঙ্গে যার দিকে শাখাকে (الفرع) প্রত্যাবর্তিত করা হয়, যখন মূলনীতিটি মতপার্থক্যপূর্ণ হয়।

ত্রয়োবিংশ: ইখালা (الإخالة) বা যৌক্তিক উপযোগিতা অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কোনো গুণকে ইল্লতের (العله) সাথে সংযুক্ত করা প্রসঙ্গে।

চতুর্বিংশ: কিয়াসের (القياس) অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ এবং তা থেকে উদ্ভূত দলিল উপস্থাপনের (الاستدلال) পদ্ধতিসমূহ প্রসঙ্গে।

পঞ্চবিংশ: ইস্তিহসান (الاستحسان) প্রসঙ্গে।

ষড়বিংশ: মুয়ারাজাহ (المعارضة) বা দালিলিক বৈপরীত্য প্রসঙ্গে।

সপ্তবিংশ: বর্ণনার (النقل) সাথে বর্ণনার (النقل) বৈপরীত্য প্রসঙ্গে।

অষ্টবিংশ: কিয়াসের (القياس) সাথে কিয়াসের (القياس) বৈপরীত্য প্রসঙ্গে।

ঊনত্রিংশ: ইস্তিশাবুল হাল (استصحاب الحال) বা পূর্বাবস্থা বহাল রাখা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ২০)
الثلاثون: في الاستدلال بعدم الدليل بالشيء على نفيه.

وأما الذي في جدل النحو، فإنه في كراسة لطيفة، سماه بـ (الإغراب في جدل الإعراب) ورتبه علىثني عشر فصلا:

 

الأول: في السؤال.

الثاني: في وصف السائل.

الثالث: في وصف المسئول به.

الرابع: في وصف المسئول منه.

الخامس: في وصف المسئول عنه.

السادس: في الجواب.

السابع: في الاستدلال.

الثامن: في الاعتراض علىلاستدلال بالنقل.

التاسع: في الاعتراض على الاستدلال بالنقل.

العاشر: في الاعتراض على الاستدلال باستصحاب الحال.

الحادي عشر: في ترتيب الأسئلة.

الثاني عشر: في ترجيح الأدلة.

انتهى.
তিরিশতম: কোনো বিষয়ে দলীলের অনুপস্থিতির মাধ্যমে তা অস্বীকার করার প্রমাণ উপস্থাপন (استدلال) প্রসঙ্গে।

আর নাহু শাস্ত্রীয় বিতর্কের বিষয়ে যা রয়েছে, তা একটি চমৎকার পুস্তিকায় সংকলিত, তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘আল-ইগরাব ফি জাদালিল ইরাব’ এবং একে বারোটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন:

 

প্রথম: প্রশ্ন প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয়: প্রশ্নকারীর বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে।

তৃতীয়: যার মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয় তার বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে।

চতুর্থ: যাকে প্রশ্ন করা হয় তার বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে।

পঞ্চম: যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় তার বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ: উত্তর প্রসঙ্গে।

সপ্তম: প্রমাণ উপস্থাপন (استدلال) প্রসঙ্গে।

অষ্টম: বর্ণনা বা উদ্ধৃতির (نقل) মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের ওপর আপত্তি প্রসঙ্গে।

নবম: বর্ণনা বা উদ্ধৃতির (نقل) মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের ওপর আপত্তি প্রসঙ্গে।

দশম: বর্তমান অবস্থা বহাল রাখার (استصحاب الحال) মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের ওপর আপত্তি প্রসঙ্গে।

একাদশ: প্রশ্নাবলির ধারাবাহিকতা প্রসঙ্গে।

দ্বাদশ: দলীলসমূহের প্রাধান্য (ترجيح) নিরূপণ প্রসঙ্গে।

সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد أخذت من الكتاب الأول اللباب وأدخلته معزوا إليه في خلل هذا الكتاب، وضممت خلاصة الثاني في مباحث العلة.

وضممت إليه من كتابه الثاني (الأنصاف في مباحث الخلاف) جملة.

ولم أنقل من كتابه حرفا إلا مقرونا بالعزو إليه ليعرف مقام كتاب من كتابه ويتميز عند أولي التمييز جليل نصابه.

وإلى الله الضراعة في حسن الختام والقبول، فلا ينفع العبد إلا ما من بقبوله، والسلام.
আমি প্রথম গ্রন্থটি থেকে সারনির্যাস গ্রহণ করেছি এবং তা সংশ্লিষ্ট উদ্ধৃতিসহ এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করেছি; আর দ্বিতীয় গ্রন্থের সারসংক্ষেপ গোপন ত্রুটি (العلة) বিষয়ক আলোচনায় যুক্ত করেছি।

এছাড়া আমি তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ (আল-ইনসাফ ফি মাবাহিথ আল-খিলাফ) থেকে একটি অংশ এতে সংযুক্ত করেছি।

আমি তাঁর গ্রন্থ থেকে একটি বর্ণও উদ্ধৃতি প্রদান ব্যতিরেকে গ্রহণ করিনি, যাতে তাঁর গ্রন্থের তুলনায় এই গ্রন্থের অবস্থান সম্পর্কে অবগত হওয়া যায় এবং বিচক্ষণ ব্যক্তিদের নিকট এর সুমহান মর্যাদা সুস্পষ্ট হয়।

আল্লাহর কাছেই শুভ সমাপ্তি ও কবুলিয়াতের জন্য বিনীত প্রার্থনা করছি; কেননা বান্দার জন্য সেই আমল ছাড়া আর কিছুই ফলপ্রসূ হয় না, যা তিনি অনুগ্রহপূর্বক কবুল করে নেন। ওয়াস-সালাম।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
الكلام في‌‌ المقدمات

فيها مسائل
আলোচনা উপক্রমণিকা (المقدمات) প্রসঙ্গে

এতে বেশ কিছু মাসআলা (مسائل) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
الأولى

أصول النحو: علم يبحث فيه عن أدلة النحو الإجمالية، من حيث هي أدلته، وكيفية الاستدلال بها، وحال المستدل.

 

فقولي (علم) ، أي صناعة فلا يرد ما أورد على التعليل به في حد أصول الفقه، من كونه يلزم عليه فقده، إذا فقد العالم به، لأنه صناعة مدونة، مقررة وجد العالم به، أم لا.

وقولي (عن أدلة النحو) يخرج كل صناعة سواه، وسوى النحو.
প্রথম

ব্যাকরণের মূলনীতি (أصول النحو): এটি এমন একটি শাস্ত্র (علم) যাতে ব্যাকরণের সামগ্রিক প্রমাণাদি (أدلة) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়—সেগুলো প্রমাণ হওয়ার দিক থেকে, তা থেকে দলিল পেশ করার (استدلال) পদ্ধতি এবং দলিল পেশকারীর (مستدل) অবস্থা সম্পর্কে।

 

আমার উক্তি ‘শাস্ত্র’ (علم) এর অর্থ হলো এটি একটি শিল্প বা কারিগরি বিদ্যা (صناعة); সুতরাং ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)-এর সংজ্ঞায় একে ‘ইলম’ হিসেবে অভিহিত করার কারণে যে আপত্তি উত্থাপিত হয়, তা এখানে প্রযোজ্য হবে না। সেই আপত্তিটি ছিল এই যে—যদি উক্ত বিষয়ের কোনো বিশেষজ্ঞ না থাকেন, তবে শাস্ত্রটিরও বিলুপ্তি আবশ্যক হয়ে পড়ে। কারণ এটি একটি সংকলিত (مدونة) ও সুপ্রতিষ্ঠিত (مقررة) শাস্ত্র, যা বিশেষজ্ঞ বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক, সর্বদা বিদ্যমান থাকে।

আর আমার উক্তি ‘ব্যাকরণের প্রমাণাদি সম্পর্কে’ (عن أدلة النحو) বলার মাধ্যমে ব্যাকরণ ও তার মূলনীতি ব্যতীত অন্য সকল শাস্ত্রকে এর সংজ্ঞা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وأدلة النحو الغالبة أربعة.

قال ابن جني في الخصائص: " أدلة النحو ثلاثة: السماع، والإجماع، والقياس ".

وقال ابن الأنباري في أصوله:" أدلة النحو ثلاثة: نقل، وقياس، واستصحاب حال ".

فزاد الاستصحاب ولم يذكر الإجماع، فكأنه لم ير الاحتجاج به في العربية، كما هو رأي قوم.

وقد تحصل مما ذكراه أربعة، وقد عقدت لها أربعة كتب.

وكل من الإجماع والقياس لا بد له من مستند من السماع كما هما في الفقه كذلك، ودونها الاستقراء والاستحسان، وعدم النظير، وعدم الدليل، المعقود لها الكتاب الخامس.
ব্যাকরণের প্রচলিত প্রমাণসমূহ চারটি।

ইবনে জিন্নি তার আল-খাসাইস গ্রন্থে বলেছেন: "ব্যাকরণের প্রমাণ তিনটি: শ্রুতি (السماع), ঐক্যমত (الإجماع) এবং অনুমান (القياس)।"

ইবনে আল-আনবারি তার উসুল গ্রন্থে বলেছেন: "ব্যাকরণের প্রমাণ তিনটি: বর্ণনা (نقل), অনুমান (القياس) এবং পূর্বাবস্থার ধারাবাহিকতা (استصحاب حال)।"

তিনি ইস্তিসহাব বা পূর্বাবস্থার ধারাবাহিকতাকে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করেছেন এবং ঐক্যমতের কথা উল্লেখ করেননি; এতে মনে হয় তিনি আরবি ব্যাকরণে একে দলীল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা সমীচীন মনে করেননি, যেমনটি একদল বিশেষজ্ঞের অভিমত।

তাঁদের দুজনের আলোচনা থেকে মোট চারটি প্রমাণ পাওয়া যায় এবং আমি এগুলোর জন্য চারটি পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছি।

ঐক্যমত (الإجماع) এবং অনুমান (القياس) —উভয়টির জন্যই শ্রুতি বা শ্রবণের ভিত্তি থাকা আবশ্যক, যেমনটি ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এগুলোর পরে রয়েছে আরোহ পদ্ধতি (الاستقراء), যুক্তিযুক্ত অগ্রাধিকার (الاستحسان), নজিরবিহীনতা (عدم النظير) এবং দলীলের অনুপস্থিতি (عدم الدليل), যা পঞ্চম গ্রন্থে আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقولي (الإجمالية) احتراز في البحث عن التفصيلية، كالبحث عن دليل خاص بجواز العطف على الضمير المجرور من غير إعادة الجار، وبجواز الإضمار قبل

الذكر في باب الفاعل والمفعول، وبجواز مجيء التمييز مؤكدا، ونحو ذلك، فهذه وظيفة علم النحو نفسه، لا أصوله.

وقولي (من حيث هي أدلته) بيان لجهة البحث عنها، أي البحث عن القرآن بأنه حجة في النحو، لأنه أفصح الكلام، سواء كان متواترا أم آحادا، وعن السنة كذلك بشرطتها الآتي، وعن كلام من يوثق بعربيته كذلك وعن إجماع أهل البلين كذلك، أي إن كلا مما ذكر يجوز الاحتجاج به دون غيره، وعن القياس وما يجوز من العلل فيه وما لا يجوز.
আমার উক্তি (সামগ্রিক) শব্দটি বিস্তারিত বিষয়াদি সম্পর্কে অনুসন্ধান থেকে বেঁচে থাকার জন্য একটি সতর্কতা। যেমন: অব্যয় পুনরাবৃত্তি না করে মাজরুর সর্বনামের ওপর আতফ করার বৈধতার বিষয়ে বিশেষ দলীলের অনুসন্ধান করা; অথবা ফায়েল ও মাফুল অধ্যায়ে কোনো কিছু উল্লেখ করার পূর্বে

ইযমার করার বৈধতা, কিংবা তামীয তাকিদ হিসেবে আসার বৈধতা এবং এই জাতীয় বিষয়াদি। মূলত এগুলো খোদ নাহব শাস্ত্রেরই কাজ, তার উসুলের (মূলনীতি) বিষয় নয়।

আর আমার উক্তি (প্রমাণাদি হওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে) দ্বারা আলোচনার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ নাহব শাস্ত্রে কুরআন মাজীদ একটি প্রমাণ (حجة) হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা; কারণ এটি সর্বাধিক প্রাঞ্জল বাণী, চাই তা মুতাওয়াতির (متواتر) হোক কিংবা আহাদ (آحاد)। একইভাবে সুন্নাহ তথা হাদিস সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য যা পরবর্তীতে উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষে বিবেচিত হবে। তদ্রূপ যাদের আরবী ভাষার ওপর আস্থা রাখা যায় তাদের বক্তব্য এবং দুই শহরবাসীর (বসরা ও কুফা) ঐকমত্য (إجماع) সম্পর্কে আলোচনাও এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ যা কিছু উল্লেখ করা হলো তার প্রত্যেকটিই দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য, অন্য কিছু নয়। তদ্রূপ কিয়াস (قياس) এবং এতে যে সকল কারণসমূহ (علل) গ্রহণযোগ্য এবং যা অগ্রহণযোগ্য সেসব বিষয়ে আলোচনা করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقولي (وكيفية الاستدلال بها) ، أي عند تعارضها ونحوه، كتقديم السماع على القياس واللغة الحجازية على التميمية إلا لمانع، وأقوى العلتين على أضعفهما، وأخف الأقبحين على أشدهما قبحا، إلى غير ذلك. وهذا هو المعقود له من الكتاب السادس.

 

وقولي (وحال المستدل) ، أي المستنبط للمسائل من الأدلة المذكورة، أي صفاته وشروطه، وما يتبع ذلك من صفة المقلد والسائل. وهذا هو الموضوع له الكتاب السابع.

 

وبعد أن حررت هذا الحد بفكري وشرحته، وجدت ابن الأنباري قال: " أصول النحو أدلة النحو التي تفرعت منها فروعه وأصوله، كما أن أصول الفقه أدلة الفقه التي تنوعت عنها جملته وتفصيله.
এবং আমার কথা (সেগুলো থেকে দলীল পেশের পদ্ধতি (الاستدلال)), অর্থাৎ যখন সেগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য (تعارض) বা অনুরূপ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়; যেমন কোনো বিশেষ বাধা না থাকলে অনুমান বা সাদৃশ্যের (القياس) ওপর শ্রবণলব্ধ প্রমাণের (السماع) প্রাধান্য প্রদান করা, তামিমি উপভাষার ওপর হিজাজি উপভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া, দুর্বল কারণের (علة) চেয়ে শক্তিশালী কারণকে (علة) অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দুটি মন্দ বিষয়ের মধ্যে তুলনামূলক কম মন্দটিকে কঠিনতরটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া ইত্যাদি। ষষ্ঠ খণ্ডে এই বিষয়টিই বিস্তারিতভাবে সংকলিত হয়েছে।

 

এবং আমার কথা (দলীল পেশকারীর (المستدل) অবস্থা), অর্থাৎ উল্লিখিত দলীলসমূহ (أدلة) থেকে যিনি মাসআলাসমূহ উদ্ভাবন (المستنبط) করেন তাঁর অবস্থা; অর্থাৎ তাঁর গুণাবলি ও শর্তাবলি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট তকলীদকারী বা অনুসারী (المقلد) ও প্রশ্নকারীর অবস্থা। সপ্তম খণ্ডটি এই বিষয়ের জন্যই নিবেদিত।

 

আমি যখন আমার চিন্তাশক্তির মাধ্যমে এই সংজ্ঞাটিকে (الحد) পরিমার্জিত করলাম এবং এর ব্যাখ্যা প্রদান করলাম, তখন দেখলাম ইবনুল আম্বারি বলেছেন: "ব্যাকরণের মূলনীতি (أصول النحو) হলো ব্যাকরণ শাস্ত্রের সেই সব দলীল (أدلة), যেখান থেকে এর শাখা-প্রশাখা ও মূল বিষয়গুলো বের হয়েছে; ঠিক যেমন ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) হলো ফিকহের সেই সব দলীল (أدلة), যা থেকে এর সামগ্রিক ও বিস্তারিত রূপ তৈরি হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وفائدته التعويل في إثبات الحكم على الحجة والتعليل والارتفاع عن حضيض التقليد إلى يفاع الاطلاع على الديل، فإن المخلد إلى التقليد لا يعرف وجه الخطأ من الصواب، ولاينفك في أكثر الأمر عن عوارض الشك والارتياب ".

هذا جميع ما ذكره في الفصل الأول بحروفه.

এবং এর উপকারিতা হলো কোনো বিধান (حكم) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অকাট্য প্রমাণ (حجة) ও কারণ দর্শানোর (تعليل) ওপর নির্ভর করা এবং অন্ধ অনুকরণের (تقليد) নিম্নগামিতা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে প্রমাণের (دليل) প্রজ্ঞার উচ্চতায় আরোহণ করা। কেননা, যে ব্যক্তি অন্ধ অনুকরণের (تقليد) ওপর পড়ে থাকে, সে ভ্রান্তি থেকে শুদ্ধতার (صواب) পার্থক্য নিরূপণ করতে পারে না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে সন্দেহ ও সংশয়ের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারে না।

প্রথম অধ্যায়ে তিনি যা কিছু উল্লেখ করেছেন তা হুবহু এটিই।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
المسألة الثانية

 

للنحو حدود شتى، وأليقها بهذا الكتاب قول ابن جني (في الخصائص):

" هو انتحاء سمت كلام العرب في تصرفه من إعراب وغيره كالتثنية، والجمع، والتحقير، والتكسير، والإضافة، والنسب، والتركيب، وغير ذلك ليلحق من ليس من أهل اللغة العربية بأهلها في الفصاحة، فينطق بها، وإن لم يكن منهم، وإن شد بعضهم عنها رد به إليها.

وهو في الأصل مصدر شائع، أي نحوت نحوا، كقولك، قصدت قصدا ثم خص به انتحاء هذا هذا القبيل من العلم، كما أن الفقه،
দ্বিতীয় মাসআলা (مسألة)

 

নাহুর (نحو) বিভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে, আর এই কিতাবের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হলো ইবন জিন্নির (আল-খাসাইস গ্রন্থে বর্ণিত) উক্তি:

"এটি হলো আরবদের বাকরীতির অনুসরণ করা, তাদের শব্দরূপের পরিবর্তন তথা ইরাব (إعراب) এবং অন্যান্য বিষয় যেমন: দ্বিবচন (تثنية), বহুবচন (جمع), ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ গঠন (تحقير), ভঙ্গুর বহুবচন (تكسير), সম্বন্ধ (إضافة), অন্বয় (نسب), বাক্যগঠন (تركيب) এবং এই জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে; যাতে আরবি ভাষাভাষী নয় এমন ব্যক্তিও প্রাঞ্জলতার ক্ষেত্রে আরবি ভাষাভাষীদের সমপর্যায়ে উন্নীত হতে পারে এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়েও তাদের ন্যায় কথা বলতে পারে। আর যদি কেউ এই রীতি থেকে বিচ্যুত হয়, তবে এর মাধ্যমেই তাকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনা যায়।

এটি মূলত একটি বহুল প্রচলিত মাসদার (مصدر), অর্থাৎ 'আমি কোনো পথ অনুসরণ করেছি'; যেমন আপনার বলা— 'আমি সংকল্প করেছি'। অতঃপর এই বিশেষ জ্ঞান অন্বেষণের বিষয়টিকে এই নামে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, ঠিক যেমনটি ফিকহ (فقه) শব্দের ক্ষেত্রে ঘটেছে,
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
في الأصل مصدر فقهت الشيء، أي عرفته، ثم خص به علم الشريعة من التحليل والتحريم، وكما أن بيت الله خص به الكعبة، وإن كانت البيوت كلها لله، وله نظائر في قصر ما كان شائعا في جنسه على أحد أنواعه. وقد استعملته العرب ظرفا، وأصله المصدر. انتهى.

وقال صاحب (المستوفي):" النحو صناعة علمية ينظر لها أصحابها في ألفاظ العرب من جهة ما يتألف بحسب استعمالهم لتعرف النسبة بين صيغة النظم وصورة المعنى، فيتوصل بإحداهما إلى الأخرى ".

وقال الخضراوي:

" النحو علم بأقيسة تغيير ذوات
মূলত এটি ‘ফাকাহতুল শাই’ (আমি বিষয়টি বুঝেছি) এর মূলধাতু (مصدر), অর্থাৎ আমি তা জেনেছি; পরবর্তীতে এটি শরিয়তের হালাল ও হারাম বিষয়ক ইলমের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। যেমন ‘বাইতুল্লাহ’ (আল্লাহর ঘর) বলতে বিশেষভাবে কাবাকেই বোঝানো হয়, যদিও সব ঘরই আল্লাহর; এর সগোত্রীয় আরও উদাহরণ রয়েছে যেখানে কোনো ব্যাপক অর্থবোধক বিষয়কে তার বিশেষ কোনো একটি প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়। আর আরবরা একে ক্রিয়াবিশেষণ (ظرف) হিসেবে ব্যবহার করেছে, যদিও এর উৎস হলো মূলধাতু (مصدر)। সমাপ্ত।

‘আল-মুস্তাউফি’ গ্রন্থের লেখক বলেন: “নাহু হলো একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক শিল্প, যেখানে এর বিশেষজ্ঞগণ আরবদের শব্দাবলির ব্যবহারের প্রেক্ষিতে সেগুলোর সংকলিত রূপ নিয়ে পর্যালোচনা করেন, যাতে করে বাক্যগঠনের পদ্ধতি এবং অর্থের কাঠামোর মধ্যকার সম্পর্ক জানা যায় এবং এর একটির মাধ্যমে অন্যটিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়।”

আল-খাদরাওয়ি বলেন:

“নাহু হলো শব্দের মূল সত্তার পরিবর্তনের নিয়মাবলি (أقيسة) সংক্রান্ত জ্ঞান...”
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
الكلم وأواخرها بالنسبة إلى لغة لسان العرب ".

وقال ابن عصفور:

" النحو علم مستخرج بالمقاييس المستنبطة من استقراء كلام العرب الموصلة إلى معرفة أحكام أجزائه التي ائتلف منها ".

وانتقده ابن الحاج بأنه ذكر ما يستخرج به النحو وتبيين ما يستخرج به الشيء ليس تبيينا لحقيقة النحو، وبأن فيه المقاييس شيء غير النحو، وعلم مقاييس كلام العرب هو النحو.
শব্দ এবং আরবদের ভাষারীতি অনুযায়ী তাদের শেষাবস্থা।"

এবং ইবনে আসফুর বলেছেন:

"নাহু (النحو) এমন এক শাস্ত্র যা আরবদের বাক্যালাপের নিবিড় পর্যবেক্ষণ (استقراء) হতে উদ্ভূত নীতিমালার (المقاييس) মাধ্যমে আহরিত এবং যা এর গঠনকারী অংশগুলোর বিধান (أحكام) সংক্রান্ত জ্ঞানের দিকে ধাবিত করে।"

ইবনুল হাজ্জ এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, তিনি এমন বিষয় উল্লেখ করেছেন যা দ্বারা নাহু (النحو) আহরিত হয়; আর কোনো বস্তু যা দ্বারা আহরিত হয় তার বর্ণনা প্রদান সেই বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ (حقيقة) উন্মোচন করা নয়। তদুপরি, এতে নীতিমালাকে (المقاييس) নাহু (النحو) বহির্ভূত কোনো বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, অথচ আরবদের বাক্যালাপের নীতিমালার জ্ঞানই হলো স্বয়ং নাহু (النحو)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقال صاحب (البديع):

" النحو صناعة علمية يعرف بها أحوال كلام العرب من جهة ما يصح ويفسد في التأليف ليعرف الصحيح من الفاسد ".

وبهذا يعلم أن المراد بالعلم المصدر به حدود العلوم: الصناعة، ويندفع الإيراد الأخير على كلام ابن عصفور.

وقال ابن السراج في (الأصول):

" النحو علم استخرجه المتقدمون من استقراء كلام العرب ".
'আল-বাদি' গ্রন্থের লেখক বলেছেন:

"নাহু এমন এক তাত্ত্বিক শিল্প যার মাধ্যমে বাক্য বিন্যাসের ক্ষেত্রে কোনটি শুদ্ধ এবং কোনটি অশুদ্ধ—সেই দিক থেকে আরবি বক্তব্যের অবস্থা জানা যায়, যাতে অশুদ্ধ থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) রূপটিকে পৃথকভাবে চেনা যায়।"

এর মাধ্যমে জানা যায় যে, বিভিন্ন শাস্ত্রের সংজ্ঞার প্রারম্ভে ব্যবহৃত 'জ্ঞান' শব্দ দ্বারা 'শিল্প' বা পদ্ধতি উদ্দেশ্য; এবং এর মাধ্যমে ইবনে উসফুর-এর বক্তব্যের ওপর উত্থাপিত সর্বশেষ আপত্তিটি নিরসন হয়।

ইবনে সাররাজ 'আল-উসুল' গ্রন্থে বলেছেন:

"নাহু হলো এমন এক বিদ্যা যা পূর্ববর্তী পণ্ডিতগণ আরবি বক্তব্যের ব্যাপক পর্যালোচনার মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
المسألة الثالثة

 

(حد اللغة، وهل هي بوضع الله أو البشر)

 

قال في (الخصاص):

" حد اللغة: أصوات يعبر بها كل قوم عن أغراضهم ".

واختلف هل هي بوضع الله أو البشر؟ على مذاهب:

أحدها: وهو مذهب الأشعري أنها بوضع الله.

واختلف على هذا: هل وصل إلينا علمها بالوحي إلى نبي من أنبيائه، أو بخلق أصوات في بعض الأجسام تدل عليها، واسماعها لمن عرفها ونقلها، أو بخلق العلم الضروري في بعض العباد بها؟

على ثلاثة مذاهب، أرجحها الأول، ويدل له ولأصل المذهب قوله تعالى: وعلم آدم الأسماء كلها، أي أسماء المسميات.
তৃতীয় মাসআলা

 

(ভাষার সংজ্ঞা (حد), এবং তা কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (وضع) নাকি মানবসৃষ্ট)

 

খাসাইস গ্রন্থে বলা হয়েছে:

"ভাষার সংজ্ঞা (حد): এমন কিছু ধ্বনি যার মাধ্যমে প্রতিটি জাতি তাদের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে।"

এটি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (وضع) নাকি মানুষের পক্ষ থেকে? এ বিষয়ে কয়েকটি মতভেদ রয়েছে:

প্রথমটি: এটি আশআরী মাযহাব যে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (وضع)।

এর ওপর ভিত্তি করে আবার মতভেদ হয়েছে: এর জ্ঞান কি তাঁর নবীদের মধ্যে কোনো এক নবীর নিকট ওহী (وحي)-এর মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছেছে, নাকি কোনো জড় পদার্থের মধ্যে এমন শব্দ সৃষ্টির মাধ্যমে যা তার অর্থ নির্দেশ করে এবং যারা তা চিনেছে ও বর্ণনা করেছে তাদের তা শ্রবণ করানোর মাধ্যমে, নাকি কোনো বান্দার মধ্যে এ সংক্রান্ত আবশ্যকীয় জ্ঞান (العلم الضروري) সৃষ্টির মাধ্যমে?

এ বিষয়ে তিনটি মত রয়েছে, যার মধ্যে প্রথমটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য (أرجح); এই মতের সপক্ষে এবং মূল মাযহাবের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন", অর্থাৎ নামধারী বস্তুসমূহের নামসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
قال ابن عباس: علمه اسم الصحفة، والقدر، حتى الفسوة والفسية.

وفي رواية عنه: عرض عليه أسماء ولده إنسانا إنسانا، والدواب فقيل: هذا الحمار، هذا الجمل، هذا الفرس.

أخرجهما ابن أبي حاتم في تفسيره.

وتعليمه تعالى دال على أن الواضع دون البشر، وأن وصولها بالوحي إلى آدم.

ومال إلى هذا القول ابن جني، ونقله عن شيخه أبي علي الفارسي، وهما من المعتزلة.

والمذهب الثاني: أنها اصطلاحية، وضعها البشر، ثم قيل: وضعها آدم.

وتأول ابن جني الآية على أن معنى (علم آدم): أقدره على وضعها.
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: আল্লাহ তাকে বড় পাত্র ও হাঁড়ির নাম, এমনকি বায়ু নির্গমনের ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সব নাম শিক্ষা দিয়েছেন।

তার পক্ষ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: তার সামনে তার সন্তানদের নাম একে একে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং জীবজন্তুর নামসমূহও; অতঃপর বলা হয়েছে: এটি গাধা, এটি উট, এটি ঘোড়া।

ইবনে আবি হাতিম তার তাফসিরে এই দুটি বর্ণনা উদ্ধৃত (أخرجهما) করেছেন।

আর মহান আল্লাহর এই শিক্ষা প্রদান একথার প্রমাণ বহন করে যে, ভাষার প্রবর্তক মানুষ নয় বরং এটি ওহির (وحي) মাধ্যমে আদমের নিকট পৌঁছেছে।

ইবনে জিন্নি এই মতের দিকে ঝুঁকেছেন এবং তিনি এটি তার উস্তাদ আবু আলি আল-ফারিসি থেকে বর্ণনা (نقله) করেছেন; আর তারা উভয়েই মুতাজিলা মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন।

দ্বিতীয় মত (المذهب) হলো: ভাষা একটি পারিভাষিক (اصطلاحية) বিষয় যা মানুষ তৈরি করেছে; তবে কেউ কেউ বলেছেন: এটি আদম (আ.) প্রবর্তন করেছেন।

ইবনে জিন্নি আয়াতটির ব্যাখ্যা (تأول) করেছেন যে, 'আদমকে শিক্ষা দিয়েছেন' কথাটির অর্থ হলো: তিনি তাকে ভাষা প্রবর্তনের সক্ষমতা প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقيل: لعله كان يجتمع حكيمان، أو ثلاثة فصاعدا، فيحتاجون إلى الإبانة عن الأشياء المعلومة، فوضعوا لكل واحد منها لفظا، إذا ذكر عرف به.

وقيل: أصل اللغات كلها من الأصوات المسموعات، كدوي الريح والرعد، وخرير الماء، ونعيق الغراب، وصهيل الفرس، ونهيق الحمار، ونحو ذلك، ثم ولدت اللغات عن ذلك فيما بعد.

واستحسنه ابن جني.

والمذهب الثالث: الوقف، أي لا يدري: أهي من وضع الله أو البشر لعدم دليل قاطع في ذلك.

وهو الذي اختاره ابن جني أخيرا.

تنبيهان:

الأول: زعم بعضهم أنه لا فائدة لهذا الخلاف. وليس كذلك، بل ذكر له فائدتان:

الأولى: فقهية، ولذا ذكرت هذه المسألة في أصوله.
বলা হয়ে থাকে যে, সম্ভবত দুই বা ততোধিক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি একত্রিত হয়েছিলেন এবং তাঁরা পরিচিত বিষয়াবলি ব্যক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। ফলে তাঁরা সেগুলোর প্রত্যেকটির জন্য এমন একটি শব্দ নির্ধারণ করেন, যা উল্লেখ করলে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি চেনা যায়।

আরও বলা হয়েছে যে, সকল ভাষার মূল হলো শ্রুত ধ্বনিসমূহ; যেমন বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ, বজ্রের গর্জন, পানির কলতান, কাকের ডাক, ঘোড়ার ডাক, গাধার ডাক এবং এই জাতীয় শব্দ। পরবর্তীকালে এগুলোর মাধ্যমেই ভাষা জন্মলাভ করেছে।

ইবনে জিন্নি এই অভিমতটিকে পছন্দ করেছেন।

তৃতীয় মতটি হলো: বিরতি গ্রহণ (الوقف), অর্থাৎ এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত দলিল (دليل قاطع) না থাকার কারণে এটি জানা যায় না যে, ভাষা কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত নাকি মানুষের তৈরি।

এটিই সেই মত যা ইবনে জিন্নি সর্বশেষ গ্রহণ করেছেন।

দুটি সতর্কতা (تنبيهان):

প্রথমটি: কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এই মতভেদের কোনো উপকারিতা নেই। বিষয়টি এমন নয়, বরং এর দুটি উপকারিতা উল্লেখ করা হয়েছে:

প্রথমটি: ফিকহ সংক্রান্ত, আর এ কারণেই এই মাসআলাটি এর উসুল (أصول) শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
والأخرى: نحوية، ولهذا ذكرها في أصوله تبعا لابن جني في (الخصائص) ، وهي جواز قلب اللغة، فإن قلنا: أنها اصطلاحية جاز، وإلا فلا.

وإطباق أكثر النحاة على أن المصحفات ليست بكلام ينبغي أن يكون في هذا الأصل.

الثاني: قال ابن جني:

الصواب، وهو رأي أبي الحسن الأخفش، سواء قلنا بالتوقيف أن بالاصطلاح – أن اللغة لم توضع كلها في وقت واحد، بل وقعت متلاحقة متتابعة.

قال الأخفش: اختلاف لغات العرب إنما جاء من قبل أن أول ما وضع منها وضع على خلاف، وإن كان كله مسوقا على
অন্যটি হলো ব্যাকরণিক (নাহু) সংক্রান্ত; এই কারণেই তিনি ইবনে জিন্নি-এর আল-খাসাইস গ্রন্থের অনুসরণে তাঁর মূলনীতিমালায় এটি উল্লেখ করেছেন। আর সেটি হলো ভাষার রূপান্তরের বৈধতা। যদি আমরা বলি যে ভাষা পারিভাষিক (اصطلاحية), তবে তা বৈধ হবে, অন্যথায় নয়।

অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের সর্বসম্মত ঐকমত্য (إطباق) হলো, বিকৃত শব্দাবলি (المصحفات) কোনো বিধিবদ্ধ বক্তব্য নয়—এই বিষয়টি এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

দ্বিতীয়ত: ইবনে জিন্নি বলেছেন:

সঠিক মত হলো—যা আবুল হাসান আল-আখফাশ-এরও অভিমত, আমরা ভাষাকে ঐশী নির্দেশিত (توقيف) বলি কিংবা পারিভাষিক (اصطلاح)—ভাষা সম্পূর্ণটি এক সময়ে প্রবর্তিত হয়নি, বরং তা ধারাবাহিকভাবে এবং পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হয়েছে।

আল-আখফাশ বলেছেন: আরবদের বিভিন্ন ভাষার বৈচিত্র্য মূলত এই কারণে সৃষ্টি হয়েছে যে, এগুলোর প্রারম্ভিক উদ্ভাবনই হয়েছিল ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে, যদিও তার সবটুকুই পরিচালিত হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৮)
صحة وقياس، ثم أحدثوا من بعد أشياء كثيرة لا حاجة إليها، غير أنها على قياس ما كان وضع في الأصل مختلفا.

قال: وبجوز أن يكون الموضوع الأول ضربا واحدا، ثم رأى من جاء من بعد أن خالف قياس الأول إلى قياس ثان جار في الصحة مجرى الأول.

قال وأما أي الأجناس الثلاثة: الاسم، والفعل، والحرف، وضع قبل؟ فلا يدرى ذلك، ويحتمل في كل من الثلاثة وضع قبل.

وبه صرح أبو علي.

قال: وكان الأخفش يذهب إلى أن ما غير لكثرة استعماله، إنما تصورته العرب قبل وضعه، وعلمت أنه لابد من كثرة استعمالها إياه، فابتدءوا بتغييره، علما بأن لابد من كثرته الداعيه إلى تغييره.
শুদ্ধতা (صحة) ও বিধিবদ্ধ নিয়ম (قياس); এরপর তারা পরবর্তীতে এমন অনেক অপ্রয়োজনীয় বিষয় উদ্ভাবন করেছে যা মূলত ভিন্নভাবে প্রবর্তিত আদি নিয়মের (قياس) ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন: এটি সম্ভব যে প্রথম প্রবর্তিত বিষয়টি এক প্রকারের ছিল, অতঃপর পরবর্তীগণ প্রথম অনুমিতি (قياس) থেকে বিচ্যুত হয়ে দ্বিতীয় কোনো অনুমিতি (قياس) গ্রহণ করা সমীচীন মনে করলেন, যা শুদ্ধতার (صحة) নিরিখে প্রথমটির মতোই সাব্যস্ত হয়।

তিনি বলেন: আর বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) ও অব্যয় (حرف)—এই তিন প্রকারের মধ্যে কোনটি আগে প্রবর্তিত হয়েছে? তা জানা যায় না; এবং এই তিনটির প্রত্যেকটিরই আগে প্রবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান।

আবু আলী এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন: আল-আখফাশ এই মত পোষণ করতেন যে, অধিক ব্যবহারের কারণে যে শব্দগুলো পরিবর্তিত হয়েছে, আরবরা তা শব্দ প্রবর্তনের পূর্বেই কল্পনা করেছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল যে এর অত্যধিক ব্যবহার অনিবার্য, তাই তারা শুরুতেই তা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রবর্তন করেছিল; কারণ তারা জানত যে ব্যবহারের আধিক্যই একে পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৯)
قال: ويجوز أن يكون كانت قديما معربة، فلما كثرت غيرت فيما بعد.

قال: والقول عندي هو الأول، لأنه أدل على حكمتها وأشهد لها بعلمها بمصاير أمرها، فتركوا بعض الكلام مبنيا غير معرب، نحو: أمس، وأين، وكيف، وكم، وإذا، وحيث، وفبل، علما بأنهم سيستكثرون منها فيما بعد، فيجب لذلك تغييرها.
তিনি বলেন: এটি সম্ভব যে সেগুলো প্রাচীনকালে বিভক্তিযুক্ত (معرب) ছিল, অতঃপর যখন এগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি পেল তখন পরবর্তীকালে সেগুলোকে পরিবর্তন করা হলো।

তিনি বলেন: আমার নিকট প্রথম মতটিই গ্রহণযোগ্য, কারণ এটি তাদের প্রজ্ঞার অধিকতর পরিচায়ক এবং পরিণাম সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের বড় সাক্ষ্য বহন করে। ফলে তারা কিছু শব্দকে অপরিবর্তনীয় (مبني) অবস্থায় রেখে দিয়েছেন এবং বিভক্তিযুক্ত (معرب) করেননি, যেমন: 'আামসি', 'আইনা', 'কাইফা', 'কাম', 'ইযা', 'হাইসু' এবং 'কাবলু'; তারা এই বিষয়ে অবগত ছিলেন যে ভবিষ্যতে তারা এগুলোর ব্যবহার অনেক বাড়িয়ে দেবেন, যার ফলে তখন এগুলোর পরিবর্তন আবশ্যক হয়ে পড়বে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৪০)
المسألة الرابعة

في مناسبة الألفاظ للمعاني

 

قال في (الخصائص):

هذا موضع شريف، نبه عليه الخليل، وسيبويه، وتلقته الجماعة بالقبول.

قال الخليل: كأنهم توهموا في صوت الجندب استطالة، فقالوا: صر، وفي صوت البازي تقطيعا، فقالوا: صرصر.

وقال سيبويه في المصادر التي جاءت على الفعلان: إنها تأتي للضطراب والحركة، نحو: الغليان، والغثيان، فقابلوا
চতুর্থ মাসআলা (المسألة)

শব্দ ও অর্থের পারস্পরিক সামঞ্জস্য বিধান প্রসঙ্গে

 

'আল-খাসায়েস' গ্রন্থে বলা হয়েছে:

এটি একটি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন বিষয়, যার প্রতি আল-খালিল এবং সিবওয়াইহ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং বিশেষজ্ঞ সমাজ (الجماعة) তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

আল-খালিল বলেছেন: তারা যেন ঘাসফড়িংয়ের শব্দের মাঝে দীর্ঘতা কল্পনা করেছে, তাই তারা বলেছে: 'সার্র' (صر); আর বাজপাখির ডাকের মধ্যে তারা বিরাম বা খণ্ডতা অনুভব করেছে, তাই তারা বলেছে: 'সারসার' (صرصر)।

সিবওয়াইহ সেই সকল ক্রিয়ামূল (المصادر) প্রসঙ্গে বলেছেন যা 'ফায়ালান' (الفعلان) ওজনে আসে: এগুলো মূলত অস্থিরতা ও গতির অর্থ প্রকাশের জন্য আসে, যেমন: 'আল-গালিয়ান' (তীব্র স্ফুটন) এবং 'আল-গাসায়ান' (বমি বমি ভাব)। অতঃপর তারা সামঞ্জস্য বিধান করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৪১)
بتوالي حركات المثال توالي حركات الأفعال.

قال ابن جني: وقد وجدت أشياء كثيرة من هذا النمط.

من ذلك المصادر الرباعية المضعفة، تأتي للتكرير، نحو: الزعزعة، والقلقلة، والصلصلة، والقعقعة، والقرقرة.

والفعلي تأتي للسرعة، نحو: الجمزي، والولقي.

ومن ذلك باب استفعل، جعلوه للطلب، لما فيه من تقدم حروف زائدة على الأصول، كما يتقدم الطلب الفعل، وجعلوا الأفعال الواقعة من غير طلب إنما تفجأ حروفها الأصول أو ما ضارع
উদাহরণের হরকতের (স্বরচিহ্ন) অনুক্রম ক্রিয়ার কার্যাবলির অনুক্রমের অনুগামী।

ইবনে জিন্নি বলেন: আমি এই ধরণের অনেক বিষয় পেয়েছি।

এর মধ্যে রয়েছে চর্তুঅক্ষর বিশিষ্ট দ্বিত্ব মাসদারসমূহ (ক্রিয়ামূল), যা পুনরাবৃত্তি (تكرير) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়; যেমন: যা’যা’আহ, ক্বালক্বালাহ, সালসালাহ, ক্বা’ক্বা’আহ এবং ক্বারক্বারাহ।

এবং 'ফু’আলা' (فعلى) ওজনটি দ্রুততা বোঝাতে আসে, যেমন: আল-জুমাজি এবং আল-ওয়ালাক্বি।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'ইস্তাফ’আলা' (استفعل) পরিচ্ছেদ, যা তারা প্রার্থনা বা তলবের (طلب) জন্য নির্ধারণ করেছেন; কারণ এতে মূল অক্ষরের পূর্বে অতিরিক্ত অক্ষরের আধিক্য রয়েছে, ঠিক যেমন কাজের পূর্বে প্রার্থনা বা তলব অগ্রগামী হয়। আর যেসব ক্রিয়া কোনো তলব বা প্রার্থনা ছাড়াই সংঘটিত হয়, সেগুলোর মূল অক্ষর বা তার সদৃশ অক্ষরগুলো অতর্কিতে প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৪২)
الأصول، نحو: خرج، وأكرم.

وكذلك جعلوا تكرير العين دالا على تكرير الفعل، نحو، فرح، وكسر، فجعلوا قوة اللفظ لقوة المعنى وخصوا بذلك العين، لأنها أقوى من الفاء واللام، إذ هي واسطة لهما، ومكنوفة بهما فصارا كأنهما سياج لها ومبذولان للعوارض دونها، ولذلك تجد الإعلال بالحذف فيهما دونها.

 

ومن ذلك قولهم: الخضم لأكل الرطب، والقضم لأكل اليابس، فاختاروا الخاء لرخاوتها للرطب، والقاف لصلابتها لليابس.

والنضح للماء ونحوه، والنضخ أقوى منه، فجعلوا الحاء لرقتها للماء الخفيف، والخاء لغلظتها لما هو أقوى.
মূল রূপসমূহ, যেমন: খারাজা এবং আকরামা।

অনুরূপভাবে তারা ‘আইন’ বর্ণের দ্বিত্ব হওয়াকে ক্রিয়ার পুনরাবৃত্তির পরিচায়ক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমন: ফাররাহা এবং কাসসারা। তারা শব্দের কাঠামোগত শক্তিকে অর্থের শক্তিমত্তার কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর জন্য ‘আইন’ বর্ণকেই নির্দিষ্ট করেছেন। কারণ এটি ‘ফা’ এবং ‘লাম’ বর্ণের চেয়ে শক্তিশালী; যেহেতু এটি উভয়ের মধ্যবর্তী এবং উভয় পার্শ্ব থেকে এই দুটি দ্বারা পরিবেষ্টিত। ফলে বর্ণ দুটি যেন এর জন্য একটি বেষ্টনীস্বরূপ এবং বর্ণ দুটির ওপর দিয়েই যাবতীয় পরিবর্তন অতিবাহিত হয়, এর ওপর দিয়ে নয়। আর এ কারণেই আপনি এই দুটির মধ্যেই বিলোপনজনিত রূপান্তর দেখতে পাবেন, যা এর (আইন বর্ণের) ক্ষেত্রে ঘটে না।

 

এর একটি উদাহরণ হলো তাদের উক্তি: রসালো বা সিক্ত বস্তু ভক্ষণের ক্ষেত্রে ‘আল-খাদম’ এবং শুষ্ক বস্তু ভক্ষণের ক্ষেত্রে ‘আল-কাদম’ শব্দ ব্যবহার করা। তারা ‘খা’ বর্ণকে এর কোমলতার কারণে আর্দ্র বা রসালো বস্তুর জন্য এবং ‘কাফ’ বর্ণকে এর কঠোরতার কারণে শুষ্ক বস্তুর জন্য নির্বাচন করেছেন।

তেমনিভাবে ‘আন-নাদহ’ পানি ও অনুরূপ বস্তুর হালকা ছিটার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তবে ‘আন-নাদখ’ শব্দটির অর্থ এর চেয়েও শক্তিশালী। সুতরাং তারা ‘হা’ বর্ণকে এর সূক্ষ্মতার কারণে হালকা পানির জন্য এবং ‘খা’ বর্ণকে এর স্থূলতার কারণে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী প্রবাহের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইকতিরাহ ফী উসুলিন নাহু তউ আল-কালাম (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ومن ذلك قولهم: القد طولا، والقط عرضا، لأن الطاء أحصر للصوت، وأسرع قطعا له من الدال المستطيلة، فجعلوها لقطع العرض لقربه وسرعته، والدال المستطيلة لما طال من الأثر، وهو قطعه طولا.

وهذا الباب واسع جدا، لايمكن استقصاؤه.
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের এই উক্তি: দৈর্ঘ্য বরাবর কর্তনকে 'কদ' এবং প্রস্থ বরাবর কর্তনকে 'কত্ত' বলা; কেননা 'ত্ব' বর্ণটি ধ্বনিকে অধিকতর সংকুচিত করে এবং দীর্ঘায়িত 'দাল' বর্ণের তুলনায় দ্রুততরভাবে শব্দ বিচ্ছেদ ঘটায়। ফলে তারা একে প্রস্থ বরাবর কর্তনের জন্য নির্ধারণ করেছেন—তার নৈকট্য ও দ্রুততার কারণে; আর দীর্ঘায়িত 'দাল' বর্ণকে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের জন্য রেখেছেন, যা হলো দৈর্ঘ্য বরাবর কর্তন।

আর এই বিষয়টি অত্যন্ত বিস্তৃত, যা পুরোপুরি অনুসন্ধান করে শেষ করা সম্ভব নয়।