(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الكتاب والسنة يجب أن يكونا مصدر القوانين في مصر ومعه «الشرع واللغة» القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: الكتاب والسُّنة يجب أن يكونا مصدر القوانين في مصر، ومعه: «الشرع واللغة»
المؤلف: أحمد بن محمد عبد القادر المعروف بأحمد شاكر (ت 1377هـ)
الناشر: دار الكتب السلفية
الطبعة: الثالثة، 1407هـ
عدد الصفحات: 94
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 ربيع الأول 1436
কুরআন ও সুন্নাহ মিশরে আইনের উৎস হওয়া আবশ্যক এবং এর সাথে «শরীয়াহ ও ভাষা» বিভাগ: সিয়াসাহ শারইয়্যাহ ও বিচারব্যবস্থা
বই: কুরআন ও সুন্নাহ মিশরে আইনের উৎস হওয়া আবশ্যক، এবং এর সাথে: «শরীয়াহ ও ভাষা»
লেখক: আহমেদ বিন মুহাম্মদ আব্দুল কাদির, যিনি আহমেদ শাকের নামে পরিচিত (মৃত্যু ১৩৭৭ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুব আস-সালাফিয়্যাহ
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪০৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
وكلمة الله هي العليا
الكتاب والسُّنة
يجب أن يكونا مصدر القوانين في مصر
"في الدعوة إلى وجوب أخذ القوانين من الكتاب والسنة، ورسم الخطة العلمية لتنفيذ ذلك."
"ومعه: الشرع واللغة"
بقلم العلامة
أحمد محمد شاكر
القاضي الشرعي وعضو المحكمة الشرعية العليا (سابقا)
(1309 - 1377)
আল্লাহর বাণীই সমুন্নত
কুরআন ও সুন্নাহ
মিসরে এই দু’টিই আইনের উৎস হওয়া আবশ্যক
"কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আইন গ্রহণের আবশ্যকতা এবং তা বাস্তবায়নের পাণ্ডিত্যপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান প্রসঙ্গে।"
"সাথে সংযোজিত: শরীয়ত ও ভাষা"
কলমে: আল্লামা
আহমদ মুহাম্মদ শাকির
শরীয়াহ বিচারক এবং উচ্চতর শরীয়াহ আদালতের সদস্য (সাবেক)
(১৩০৯ - ১৩৭৭)
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة للناشر
"بالتعاقد مع ورثة المؤلف"
الطبعة الأولى 1363هـ
الطبعة الثانية 1406هـ
الطبعة الثالثة 1407هـ
دار الكتب السلفية
مؤسسة علمية لنشر وتحقيق وتوزيع الكتاب الإسلامي
صاحبها ومديرها: شرف حجازي
القاهرة - 10 شارع الشيخ على الغاياتي - عابدين - خلف مسرح الجمهورية.
সকল স্বত্ব প্রকাশকের সংরক্ষিত
"লেখকের উত্তরাধিকারীদের সাথে চুক্তিসূত্রে"
প্রথম সংস্করণ ১৩৬৩ হিজরি
দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪০৬ হিজরি
তৃতীয় সংস্করণ ১৪০৭ হিজরি
দারুল কুতুব আস-সালাফিয়্যাহ
ইসলামি গ্রন্থ প্রকাশনা, সম্পাদন (تحقيق) ও বিতরণের একটি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান
এর স্বত্বাধিকারী ও পরিচালক: শরাফ হিজাজি
কায়রো - ১০ শেখ আলী আল-গায়াতি স্ট্রিট - আবিদীন - জুমহুরিয়া থিয়েটারের পেছনে।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
أحمد محمد شاكر "إمام المحدثين"
محمود محمد شاكر
في الساعة السادسة بعد فجر يوم السبت 26 من ذي القعدة سنة 1377 هـ =14 من يونية سنة 1958م، فقد العالم الإسلامي إماماً من أئمة علم الحديث في هذا القرن، هو الأستاذ أحمد محمد شاكر، المحدث المشهور، وهو أحد الأفذاذ القلائل الذين درسوا الحديث النبوي في زماننا دراسة وافية، قائمة على الأصول التي اشتهر بها أئمة هذا العلم في القرون الأولى. وكان له اجتهاد عُرف به في جرح الرجال وتعديلهم، أفضى به إلى مخالفة القدماء والمحدثين، ونصر رأيه بالأدلة البيِّنة، فصار له مذهب معروف بين المشتغلين بهذا العلم، على قلّتهم.
وقد تولى القضاء في مصر أكثر من ثلاثين سنة، فكانت له أحكام مشهورة في القضاء الشرعي، قضى فيها باجتهاده غير مقلّد ولا متّبع، وكان اجتهاده في الأحكام مبنياً على سعة معرفته بالسنة النبوية، التي اشتغل بدراستها منذ نشأته إلى أن لقي ربه.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
আহমাদ মুহাম্মদ শাকির "ইমামুল মুহাদ্দিসীন"
মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির
১৩৭৭ হিজরির ২৬শে জিলকদ, শনিবার ভোর ছয়টার সময়—মোতাবেক ১৪ই জুন ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ—মুসলিম বিশ্ব এই শতাব্দীর হাদিস শাস্ত্রের ইমামদের মধ্য থেকে একজন ইমামকে হারায়; তিনি হলেন বিখ্যাত মুহাদ্দিস (محدث) উস্তাদ আহমাদ মুহাম্মদ শাকির। তিনি ছিলেন আমাদের সময়ের সেই স্বল্পসংখ্যক অনন্য ব্যক্তিদের একজন, যারা অত্যন্ত নিপুণভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস অধ্যয়ন করেছেন। তাঁর এই অধ্যয়ন সেই মূলনীতির (أصول) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত ছিল, যার জন্য এই শাস্ত্রের প্রাথমিক যুগের ইমামগণ প্রসিদ্ধ ছিলেন। বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (جرح الرجال وتعديلهم) ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد) ছিল, যা তাঁকে প্রাচীন ও পরবর্তী যুগের পণ্ডিতদের থেকে ভিন্ন মতাদর্শ পোষণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি সুস্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে নিজের মতামতকে সমর্থন করতেন। ফলে এই শাস্ত্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট—যাদের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য—তাঁর এক স্বতন্ত্র মাযহাব বা পদ্ধতি পরিচিতি লাভ করে।
তিনি মিশরে ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। শরয়ি বিচার ব্যবস্থায় তাঁর এমন কিছু প্রসিদ্ধ রায় রয়েছে, যেখানে তিনি কারো অন্ধ অনুকরণ না করে নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান করেছেন। বিচারিক ক্ষেত্রে তাঁর এই ইজতিহাদ (اجتهاد) সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা তিনি শৈশব থেকে শুরু করে রবের সাথে সাক্ষাৎ (মৃত্যু) হওয়া পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অধ্যয়ন করে গেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وهو أحمد بن محمد شاكر بن أحمد بن عبد القادر من آل أبي علياء، ينتهي نسبه إلى الحسين بن علي بن أبي طالب، وأبوه الإمام العلامة الشيخ محمد شاكر وكيل الأزهر سابقاً، وجدّه لأمّه هو العالم الجليل الشيخ هارون عبد الرازق، وأبوه وأمه جميعاً من مديرية جرجا بصعيد مصر.
وَوُلِد الشيخ أحمد، رحمه الله، بعد فجر يوم الجمعة 29 من جمادى الآخرة سنة 1309، الموافق 29 من يناير سنة 1892، بمنزل والده بدرب الإنسية، بقسم الدرب الأحمر، بالقاهرة. وسماه أبوه: "أحمد شمس الأئمة، أبو الأشبال"، وكان أبوه يومئذ أميناً للفتوى مع أستاذه الشيخ العباسي المهدي، مفتي الديار المصرية.
فلما صدر الأمر بإسناده منصب قاضي قضاة السودان، إلى والده الشيخ محمد شاكر، في 10 من ذي القعدة سنة 1317هـ=11 من مارس سنة 1900م عقب خمود الثورة المهدية، رحل بولده إلى السودان، فألحق ولده "أحمد" بكلية غوردون، فبقي تلميذاً بها حتى عاد أبوه من السودان، وتولى مشيخة علماء الإسكندرية في 26 من أبريل سنة 1904، فألحق ولده من يومئذ بمعهد الإسكندرية الذي يتولاه.
وكان السيد أحمد منذ عقل وطلب العلم، محباً للأدب والشعر، كدأب الشباب في صدر أيامه، فاجتمع في الإسكندرية وأديب من
তিনি হলেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ শাকির ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল কাদির, যিনি আবু আলিয়া বংশের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর বংশপরম্পরা হুসাইন ইবনে আলি ইবনে আবি তালিবের সাথে মিলিত হয়। তাঁর পিতা হলেন প্রখ্যাত ইমাম ও আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ শাকির, যিনি আল-আজহারের সাবেক উপ-প্রধান ছিলেন। তাঁর মাতামহ ছিলেন মহান আলেম শায়খ হারুন আব্দুল রাজ্জাক। তাঁর পিতা এবং মাতা উভয়েই উচ্চ মিসরের (সা’য়িদ মিসর) গিরজা জেলার অধিবাসী ছিলেন।
শায়খ আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) ২৯ জুমাদাল আখিরা ১৩০৯ হিজরি, মোতাবেক ২৯ জানুয়ারি ১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দে শুক্রবার ফজরের পর কায়রোর আদ-দারবুল আহমার বিভাগের দারবুল ইনসিয়াহ-তে তাঁর পিতার বাসভবনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তাঁর নাম রেখেছিলেন: "আহমদ শামসুল আইম্মাহ, আবুল আশবাল"। ঐ সময়ে তাঁর পিতা তাঁর উস্তাদ শায়খ আব্বাসি মাহদি—যিনি মিসরের প্রধান মুফতি ছিলেন—তাঁর সাথে ফতোয়া সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
যখন তাঁর পিতা শায়খ মুহাম্মদ শাকিরকে ১০ জিলকদ ১৩১৭ হিজরি মোতাবেক ১১ মার্চ ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে মাহদি বিপ্লব দমনের পর সুদানের প্রধান বিচারপতির পদে নিয়োগের আদেশ জারি হয়, তখন তিনি তাঁর পুত্রকে নিয়ে সুদানে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি পুত্র আহমদকে গর্ডন কলেজে ভর্তি করান। তাঁর পিতা সুদান থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি সেখানে ছাত্র হিসেবে অবস্থান করেন। অতঃপর তাঁর পিতা ২৬ এপ্রিল ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে আলেকজান্দ্রিয়ার উলামাদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে, তিনি তাঁর পুত্রকে সেই সময় থেকে তাঁর পরিচালিত আলেকজান্দ্রিয়া ইনস্টিটিউটে ভর্তি করে দেন।
সাইয়্যিদ আহমদ যখন থেকে বোধশক্তি লাভ করেন এবং ইলম অর্জন শুরু করেন, তখন থেকেই তিনি সাহিত্য ও কবিতার প্রতি অনুরাগী ছিলেন, যেমনটি তাঁর সমসাময়িক যুবকদের স্বভাব ছিল। ফলে আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর সাথে এমন এক সাহিত্যিকের মিলন ঘটে যিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
أدباء زمانه في هذا الثغر؛ هو الشيخ عبد السلام الفقي، من أسرة الفقي المشهورة بالمنوفية، فحرضه على طلب الأدب، وحرّض معه أخاه علياً، وهو أصغر منه، وصار يقرأ لهما أصول كتب الأدب في المنزل زمناً طويلاً. ثم أراد الشيخ عبد السلام أن يختبر تلميذيه، فكلفهما إنشاء قصيدة من الشعر، فعمل علي --أطال الله بقاءه-، أبياتاً، أما أحمد فلم يستطع أن يصنع غير شطر واحد ثم عجز؛ فمن يومئذ انصرف أخوه علي إلى الأدب، وانصرف هو إلى دراسة علم الحديث بهمة لا تعرف الكلل منذ سنة 1909 إلى يوم وفاته. ولكنه لم ينقطع قط عن قراءة الآداب: حديثها وقديمها، مؤلفها ومترجمها، كما سيظهر بعد من الكتب التي تولى نشرها في حياته رحمه الله.
وكان أول شيوخه في معهد الإسكندرية الشيخ "محمود أبو دقيقة"، وهو أحد العلماء الذين تركوا في حياة الفقيد أثراً لا يمحى؛ فهو الذي حبب إليه الفقه وأصوله، ودرّبه وخرّجه في الفقه حتى تمكن منه. ولم يقتصر فضل هذا الشيخ على تعليمه الفقه، بل علمه أيضاً الفروسية وركوب الخيل، والرماية والسباحة، فتعلق السيد أحمد بركوب الخيل والرماية، ولم يتعلق بالسباحة تعلقاً يذكر.
أما أعظم شيوخه أثراُ في حياته، فهو والده الشيخ "محمد شاكر"؛ فقد قرأ له ولإخوانه التفسير مرتين، مرة في تفسير البغوي، وأخرى في تفسير النسفي، وقرأ لهم صحيح مسلم، وسنن الترمذي والشمائل،
এই অঞ্চলের সমসাময়িক সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শায়খ আবদুস সালাম আল-ফিকি; তিনি মনোফিয়ার বিখ্যাত ফিকি পরিবারের সদস্য ছিলেন। তিনি তাঁকে সাহিত্য চর্চায় উৎসাহিত করেন এবং তাঁর সাথে তাঁর ছোট ভাই আলীকেও উদ্বুদ্ধ করেন, যিনি ছিলেন তাঁর থেকে বয়সে ছোট। তিনি দীর্ঘকাল গৃহে অবস্থান করে তাঁদের উভয়কে সাহিত্যের মূল গ্রন্থাবলি পাঠ করাতেন। অতঃপর শায়খ আবদুস সালাম তাঁর দুই ছাত্রকে পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন এবং তাঁদের একটি কবিতা রচনা করার দায়িত্ব প্রদান করলেন। আলী—আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন—কয়েকটি পঙক্তি রচনা করলেন, কিন্তু আহমদ এক ছত্রের বেশি লিখতে পারলেন না এবং অক্ষমতা প্রকাশ করলেন। সেই দিন থেকেই তাঁর ভাই আলী সাহিত্যের দিকে মনোনিবেশ করলেন, আর তিনি ১৯০৯ সাল থেকে আমৃত্যু অক্লান্ত পরিশ্রমে হাদিস শাস্ত্র অধ্যয়নে আত্মনিয়োগ করলেন। তবে তিনি কখনোই সাহিত্য পাঠ থেকে বিচ্ছিন্ন হননি; চাই তা প্রাচীন হোক বা আধুনিক, মৌলিক হোক কিংবা অনূদিত—যা পরবর্তীতে তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত গ্রন্থাবলি থেকে স্পষ্ট হবে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
আলেকজান্দ্রিয়া ইনস্টিটিউটে তাঁর প্রথম শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন শায়খ মাহমুদ আবু দাকিকা; তিনি ছিলেন সেইসব আলেমদের অন্যতম যাঁরা মরহুমের জীবনে এক অনপনেয় প্রভাব রেখে গেছেন। তিনিই তাঁর মনে ফিকহ এবং এর উসুল (أصول)-এর প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাঁকে ফিকহ শাস্ত্রে এমনভাবে প্রশিক্ষণ ও পাঠদান করেছিলেন যে তিনি এতে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন। এই শায়খের অনুগ্রহ কেবল ফিকহ শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি তাঁকে বীরত্বব্যঞ্জক অশ্বারোহণ, তিরন্দাজি এবং সাঁতারও শিখিয়েছিলেন। ফলে সাইয়্যেদ আহমদ ঘোড়সওয়ারি ও তিরন্দাজির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন, তবে সাঁতারের প্রতি তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো আগ্রহ ছিল না।
তবে তাঁর জীবনে সবচেয়ে প্রভাবশালী উস্তাদ ছিলেন তাঁর পিতা শায়খ মুহাম্মদ শাকের; তিনি তাঁকে এবং তাঁর ভাইদের দুইবার তাফসির পাঠ করিয়েছিলেন; একবার তাফসির আল-বাগাউয়ি এবং অন্যবার তাফসির আন-নাসাফি। এছাড়া তিনি তাঁদের সহিহ মুসলিম, সুনানে তিরমিজি এবং আশ-শামায়েল পাঠ করান।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وبعض صحيح البخاري. وقرأ لهم في الأصول: جمع الجوامع، وشرح الأسنوي على المنهاج، وقرأ لهم في المنطق: شرح الخبيصي، وشرح القطب على الشمسية، وقرأ لهم في البيان: الرسالة البيانية، وقرأ لهم في فقه الحنفية كتاب الهداية على طريقة السلف في استقلال الرأي وحرية الفكر، ونبذ العصبية لمذهب معين. وكثيراً ما خالف والده في هذه الدروس مذهب الحنفية عند استعراض الآراء وتحكيم الحجة والبرهان، ورجح ما نصره الدليل الصحيح. هكذا قال السيد أحمد في ترجمة والده. وقد ظهر أثر والده هذا ظهوراً بيناً في دراسة الشيخ أحمد للحديث، وفي أحكامه التي قضى بها في مدة توليه القضاء بمصر.
وكان لوالده أعظم الأثر في توجيهه إلى دراسة علم الحديث منذ سنة 1909، فلما كانت سنة 1911 اهتم، السيد أحمد، بقراءة مسند أحمد بن محمد بن حنبل رحمه الله، وظل منذ ذلك اليوم مشغولاً بدراسته حتى ابتدأ في طبع شرحه على المسند سنة 1365 من الهجرة = سنة 1946 من الميلاد، كما بين ذلك مختصراً في مقدمة المسند.
ولما انتقل والده من الإسكندرية إلى القاهرة وكيلاً لمشيخة الأزهر في ربيع الآخر سنة 1327هـ 29 من أبريل سنة 1909، التحق السيد أحمد، هو وأخوه السيد علي بالأزهر، فكانت إقامته في القاهرة بدء عهد جديد في حياته، فاتصل بعلمائها ورجالها، وعرف الطريق إلى دور
এবং সহিহ বুখারির কিছু অংশ। তিনি তাদের উসুল বা মূলনীতি (الأصول) শাস্ত্রে পাঠ দান করেন: জামউল জাওয়ামি এবং মিনহাজ-এর ওপর আসনাউয়ির শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ); যুক্তিবিদ্যায় পড়িয়েছেন: শারহুল খাবিসি এবং শামসিয়া-এর ওপর কুতুবের শারহ; অলঙ্কারশাস্ত্রে পড়িয়েছেন: আর-রিসালাতুল বায়ানিয়্যাহ। হানাফি ফিকহে তিনি তাদের হিদায়াহ গ্রন্থটি সালাফদের পদ্ধতিতে পড়িয়েছেন, যা ছিল স্বাধীন বিচারবুদ্ধি এবং চিন্তার স্বাধীনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের প্রতি অন্ধ পক্ষপাত পরিহারকারী। এই পাঠদানকালে মতামতের পর্যালোচনা এবং দলিল ও প্রমাণের বিচারে প্রায়শই তার পিতা হানাফি মাযহাবের বিরোধিতা করতেন এবং সহিহ (صحيح) দলিল দ্বারা সমর্থিত মতকেই প্রাধান্য (رجح) দিতেন। সায়্যিদ আহমদ তার পিতার জীবনীগ্রন্থে এভাবেই উল্লেখ করেছেন। শায়খ আহমদের হাদিস চর্চায় এবং মিশরে বিচারপতির দায়িত্ব পালনকালে তার প্রদত্ত রায়সমূহে পিতার এই প্রভাব সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
১৯০৯ সাল থেকে তাকে হাদিস শাস্ত্রের অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তার পিতার ছিল সুদূরপ্রসারী প্রভাব। এরপর ১৯১১ সালে সায়্যিদ আহমদ, ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল (রহ.)-এর মুসনাদ অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন এবং সেদিন থেকে তিনি এর অধ্যয়নে নিরন্তর নিমগ্ন থাকেন, এমনকি ১৩৬৫ হিজরি মোতাবেক ১৯৪۶ খ্রিস্টাব্দে মুসনাদ-এর ওপর তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ মুদ্রণ শুরু হওয়া পর্যন্ত; যা তিনি মুসনাদ-এর মুখবন্ধে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।
যখন তার পিতা ১৩২৭ হিজরির রবিউস সানি মাসে অর্থাৎ ১৯০৯ সালের ২৯ এপ্রিল আলেকজান্দ্রিয়া থেকে কায়রোতে আল-আজহারের প্রতিনিধি হিসেবে স্থানান্তরিত হন, তখন সায়্যিদ আহমদ ও তার ভাই সায়্যিদ আলি আল-আজহারে ভর্তি হন। ফলে কায়রোতে তার অবস্থান তার জীবনে এক নতুন যুগের সূচনা করে; সেখানে তিনি আলিম ও মনীষীদের সংস্পর্শে আসেন এবং বিভিন্ন জ্ঞানকেন্দ্রের পথ চিনে নেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
كتبها في مساجدها وغير مساجدها. وتنقل بين دكاكين الكتبية. وكانت القاهرة يومئذ مستراداً لعلماء البلاد الإسلامية، وكان من التوفيق أن حضر إلى القاهرة من المغرب الأقصى السيد عبد الله بن إدريس السنوسي، عالم المغرب ومحدثها، فتلقى عنه طائفة كبيرة من صحيح البخاري، فأجازه هو وأخاه برواية البخاري، ورواية باقي الكتب الستة. ولقي بها أيضاً الشيخ محمد بن أمين الشنقيطي، فأخذ عنه كتاب بلوغ المرام، وأجازه به وبالكتب الستة، ولقي أيضاً الشيخ أحمد بن الشمس الشنقيطي، عالم القبائل الملثمة، فأجازه هو وأخاه بجميع علمه. وتلقى أيضاً من الشيخ شاكر العراقي. وكان أسلوبه في التحديث أن يسأله أحد طلابه عن مسألة، فيروي عندئذ كل ما ورد فيها من الأحاديث في جميع كتب السنة بإسنادها، مع بيان اختلاف روايتها. فأجازه وأجاز علياً بجميع كتب السنة. ولقي أيضاً في القاهرة من علماء السنة الشيخ "طاهر" الجزائري عالم سورية المتنقل، والسيد "محمد رشيد رضا" صاحب المنار، ولقي كثيراً غير هؤلاء من علماء السنة يطول ذكرهم بالتفصيل.
وهذا اللقاء المتتابع للعلماء، هو الذي مهّد لهذا العالم أن يستقلّ بمذهب في علم الحديث، حتى استطاع أخيراً أن يقف في منتصف هذا القرن علماً مشهوراً لا ينازعه في إمارة التحديث إلا قليل.
* * *
তিনি এগুলো এর মসজিদসমূহে এবং মসজিদের বাইরেও লিখেছেন। তিনি বইয়ের দোকানগুলোতেও যাতায়াত করতেন। সে সময় কায়রো ছিল ইসলামি দেশগুলোর আলেমদের মিলনস্থল। এটি ছিল একটি সৌভাগ্যের বিষয় যে, সুদূর মরক্কো থেকে মরক্কোর আলেম ও হাদিস বিশারদ (محدث) সৈয়দ আব্দুল্লাহ বিন ইদ্রিস আল-সেনুসি কায়রোতে আগমন করেন। তিনি তার কাছ থেকে সহিহ বুখারির একটি বড় অংশ পাঠ করেন। এরপর তিনি তাকে ও তার ভাইকে সহিহ বুখারি এবং বাকি ছয়টি কিতাব বর্ণনার (رواية) অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন। তিনি সেখানে শেখ মুহাম্মদ বিন আমিন আল-শানকিতির সাথেও সাক্ষাৎ করেন এবং তার কাছ থেকে বুলুগুল মারাম কিতাবটি গ্রহণ করেন। তিনি তাকে এই কিতাব এবং ছয়টি কিতাবের অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন। তিনি 'তপ্ত মরুভূমির গোত্রীয়' আলেম শেখ আহমদ বিন আল-শামস আল-শানকিতির সাথেও সাক্ষাৎ করেন এবং তিনি তাকে ও তার ভাইকে তার সমস্ত ইলমের অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন। তিনি শেখ শাকির আল-ইরাকির কাছ থেকেও ইলম হাসিল করেন। হাদিস বর্ণনার (تحديث) ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি ছিল এমন যে, যদি তার কোনো ছাত্র তাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করত, তবে তিনি সেই সংক্রান্ত সকল হাদিস সুন্নাহর সমস্ত কিতাব থেকে সেগুলোর সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করতেন এবং সেগুলোর বর্ণনার (رواية) ভিন্নতাও স্পষ্ট করতেন। তিনি তাকে এবং আলীকে সুন্নাহর সমস্ত কিতাবের অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন। কায়রোতে তিনি সুন্নাহর আলেমদের মধ্যে সিরিয়ার ভ্রমণশীল আলেম শেখ 'তাহের' আল-জাজাইরি এবং আল-মানার পত্রিকার পরিচালক সৈয়দ 'মুহাম্মদ রশিদ রিদা'র সাথেও সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও তিনি সুন্নাহর আরও অনেক আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন যাদের বিস্তারিত আলোচনা দীর্ঘ হবে।
বিদ্বানদের সাথে এই ধারাবাহিক সাক্ষাৎই এই আলেমের জন্য হাদিস বিজ্ঞানে (علم الحديث) একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরির পথ সুগম করে দিয়েছিল, যার ফলে অবশেষে তিনি এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে একজন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন, যার হাদিস বর্ণনার নেতৃত্বে (إمارة التحديث) প্রতিদ্বন্দ্বী করার মতো খুব অল্প সংখ্যক লোকই ছিলেন।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولما حاز شهادة العالمية من الأزهر في سنة 1917، عُين مدرساً بمدرسة ماهر، ولكن لم يبق بها غير أربعة أشهر، ثم عين موظفاً قضائياً ثم قاضياً، وظل في القضاء حتى أحيل إلى المعاش في سنة 1951 عضواً بالمحكمة العليا، ولكنه لم ينقطع في خلال ذلك عن دراساته، وعن المشاركة في نشر التراث الإسلامي، في الحديث والفقه والأدب.
وأول كتاب عرف به الشيخ "أحمد محمد شاكر" وعرف به إتقانه وتفوقه، هو نشره رسالة الإمام الشافعي، عن أصل تلميذه الربيع بن سليمان، الذي كتبه بخطه في حياة الشافعي من إملائه. ونشره رسالة الشافعي يعدّ من أعظم الآثار التي تولى العلماء نشرها في هذا العصر.
ثم شرح سنن الترمذي شرحاً دقيقاً، ولكنه لم يتمه، وشارك في نشر شرح "سنن أبي داود"، ونشر كتاب جماع العلم للشافعي، وشارك أيضاً في نشر المحلى لابن حزم، وشرح صحيح ابن حبان، ولم ينشر منه غير الجزء الأول.
أما عمله الذي استولى به على الغايات فهو شرحه على مسند أحمد بن حنبل، أصدر منه خمسة عشر جزءاً فيها من البحث والفقه والمعرفة ما لم يلحقه فيه أحد في زمانه هذا.
১৯১৭ সালে যখন তিনি আল-আজহার থেকে আলামিয়্যাহ সনদ লাভ করেন, তখন তাঁকে মাহের স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়; কিন্তু তিনি সেখানে মাত্র চার মাস অবস্থান করেন। এরপর তিনি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৫১ সালে উচ্চ আদালতের সদস্য হিসেবে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি বিচার বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তবে এই সময়ের মধ্যে তিনি তাঁর নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞানচর্চা এবং হাদিস, ফিকহ ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে ইসলামি ঐতিহ্য বিকাশে অংশগ্রহণ থেকে বিরত হননি।
শায়খ আহমদ মুহাম্মদ শাকির যে কিতাবটির মাধ্যমে প্রথম পরিচিতি লাভ করেন এবং যার মাধ্যমে তাঁর দক্ষতা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশিত হয়, তা হলো ইমাম শাফি'র ‘আর-রিসালা’র প্রকাশনা। এটি তিনি তাঁর ছাত্র রাবি' বিন সুলাইমানের মূল পাণ্ডুলিপি (أصل) থেকে প্রস্তুত করেন, যা তিনি ইমাম শাফি'র জীবদ্দশায় তাঁর শ্রুতিলিপি (إملاء) থেকে নিজ হাতে লিখেছিলেন। ইমাম শাফি'র ‘আর-রিসালা’র এই সম্পাদনা ও প্রকাশনা বর্তমান যুগের আলেমদের সম্পাদিত মহান কীর্তিগুলোর অন্যতম হিসেবে গণ্য হয়।
এরপর তিনি ‘সুনানে তিরমিযী’র একটি সূক্ষ্ম ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন, যদিও তিনি তা সমাপ্ত করতে পারেননি। এছাড়াও তিনি ‘সুনানে আবু দাউদ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রকাশে অংশগ্রহণ করেন এবং ইমাম শাফি'র ‘জিমায়ুল ইলম’ কিতাবটি প্রকাশ করেন। তিনি ইবনে হাজমের ‘আল-মুহাল্লা’ প্রকাশেও শরিক হন এবং ‘সহীহ ইবনে হিব্বান’-এর ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যার কেবল প্রথম খণ্ডটিই প্রকাশিত হয়েছিল।
তবে তাঁর যে কর্মটি তাঁকে সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে দিয়েছে, তা হলো ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মুসনাদ-এর ওপর তাঁর কৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। তিনি এর পনেরটি খণ্ড প্রকাশ করেছেন, যাতে এমন উচ্চতর গবেষণা, ফিকহী প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের সমাবেশ ঘটেছে, যা তাঁর সমসাময়িককালে অন্য কেউ অর্জন করতে সক্ষম হননি।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ونشر من كتب الأدب والشعر، كتاب "لباب الآداب" لأسامة بن منقذ، والشعر والشعراء لابن قتيبة، والمفضّليات للمفضل الضبي، والأصمعيات للأصمعي، وشاركه في نشرهما ابن خاله الأستاذ "عبد السلام محمد هارون"، ونشر كتاب المعرّب للجواليقي نشراً علمياً دقيقاً.
وشارك أخاه الأستاذ "محمود محمد شاكر" في تفسير الطبري، فتولى جزءاً من تخريج أحاديثه إلى الجزء التاسع، وعلق على بعضها إلى الجزء الثالث عشر، ثم وافته المنية، ولم ينظر بعد في أحاديث الجزء الرابع عشر.
وكان قبل وفاته، رحمه الله، قد شرع في اختصار تفسير القرآن لابن كثير، وسماه "عمدة التفسير"، وصل فيه إلى الجزء الخامس من عشرة أجزاء. وقد قصد فيه الإبانة عن معاني القرآن، بما يوافق حاجة المتوسطين من المثقفين، مع المحافظة على ألفاظ المؤلف ما استطاع.
أما سائر الكتب التي تولى نشرها فهي كثيرة يطول ذكرها. وله في جميع ما نشره وألفه تعليقات دافع فيها عن أحكام الإسلام وآدابه دفاعاً تفرد به، ونطق فيه بالحق الذي يراه، غير متهيب ولا متلجلج.
وأما أهم ما ألفه فهو كتاب نظام الطلاق في الإسلام دل فيه على اجتهاده وعدم تعصبه لمذهب من المذاهب، واستخرج فيه نظام الطلاق
সাহিত্য ও কবিতার বইগুলোর মধ্যে তিনি উসামা ইবনে মুনকিজ-এর 'লুবাব আল-আদাব', ইবনে কুতায়বাহ্-এর 'আশ-শি'র ওয়া আশ-শু'আরা', আল-মুফাদ্দাল আদ-দাব্বি-র 'আল-মুফাদ্দালিয়াত' এবং আল-আসমাঈ-র 'আল-আসমাইয়াত' প্রকাশ করেছেন। শেষোক্ত দুটি গ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর মামাতো ভাই উস্তাদ 'আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন' তাঁর সাথে শরীক ছিলেন। এছাড়া তিনি আল-জাওয়ালিকি-র 'আল-মু'আররাব' গ্রন্থটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন।
তিনি তাঁর ভাই উস্তাদ 'মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির'-এর সাথে তাফসিরে তাবারী-র কাজে অংশগ্রহণ করেন। তিনি এর নবম খণ্ড পর্যন্ত হাদিসসমূহের সূত্র নির্দেশ (تخريج) করার দায়িত্ব পালন করেন এবং ত্রয়োদশ খণ্ড পর্যন্ত কিছু হাদিসের ওপর টীকা প্রদান করেন। এরপর তাঁর মৃত্যু হয় এবং চতুর্দশ খণ্ডের হাদিসগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাননি।
মৃত্যুর আগে (রাহিমাহুল্লাহ) তিনি ইবনে কাসির-এর কুরআনের তাফসিরের একটি সংক্ষেপন শুরু করেছিলেন এবং এর নাম দিয়েছিলেন 'উমদাতুত তাফসির'। দশ খণ্ডের মধ্যে তিনি পঞ্চম খণ্ড পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কুরআনের মর্মার্থসমূহ এমনভাবে উপস্থাপন করা যা সাধারণ শিক্ষিত মানুষের প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, পাশাপাশি যতটুকু সম্ভব মূল লেখকের শব্দাবলি অক্ষুণ্ণ রাখা।
তিনি যেসব গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন তার তালিকা দীর্ঘ। তাঁর সম্পাদিত ও রচিত সকল গ্রন্থেই এমন কিছু টীকা রয়েছে যেখানে তিনি ইসলামের বিধান ও শিষ্টাচারের পক্ষে এক অনন্য ও বলিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে তিনি কোনো প্রকার দ্বিধা বা জড়তা ছাড়াই নিজের কাছে যা সত্য মনে হয়েছে তা ব্যক্ত করেছেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো 'নিযামুত তালাক ফিল ইসলাম' (ইসলামে তালাক ব্যবস্থা) গ্রন্থটি। এতে তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং কোনো বিশেষ মাযহাবের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতহীনতা ফুটে উঠেছে এবং এতে তিনি তালাক ব্যবস্থা উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
من نص القرآن، ومن بيان السنة في الطلاق، وكان لظهور هذا الكتاب ضجة عظيمة بين العلماء، ولكنه دافع فيه عن اجتهاده دفاعاً مؤيدا بالحجة والبرهان، ومن قرأ الكتاب عرف كيف يكون الاحتجاج في الشريعة، وظهر له فضل هذا الرجل وقدرته على ضبط الأصول الصحيحة، وضبط الاستنباط فيها ضبطاً لا يختل.
فرحم الله فقيدنا، وبعث في هذه الأمة من يخلفه للنهوض بما ابتدأه.
محمود محمد شاكر
--------------------------------------------
কুরআনের পাঠ এবং তালাক সংক্রান্ত সুন্নাহর (سنة) ব্যাখ্যা হতে প্রাপ্ত; এই গ্রন্থটি প্রকাশের ফলে আলেমদের মাঝে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তিনি এতে দলিল (حجة) ও প্রমাণের (برهان) মাধ্যমে স্বীয় গবেষণার (اجتهاد) স্বপক্ষে এমন বলিষ্ঠ প্রতিরক্ষা করেছেন যা অত্যন্ত শক্তিশালী। যে ব্যক্তি গ্রন্থটি পাঠ করবেন, তিনি শরিয়তের বিধানে প্রমাণ উপস্থাপনের (احتجاج) পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবেন এবং তার কাছে এই মনীষীর শ্রেষ্ঠত্ব এবং সঠিক মূলনীতিসমূহ (الأصول الصحيحة) আয়ত্ত করার (ضبط) ক্ষেত্রে ও সেখান থেকে মাসআলা উদঘাটনের (استنباط) ক্ষেত্রে তার এমন নির্ভুল ও সুশৃঙ্খল (ضبط) দক্ষতার বিষয়টি স্পষ্ট হবে যা কখনো বিচ্যুত হয় না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের এই মরহুমের ওপর রহম করুন এবং এই উম্মতের মাঝে এমন কাউকে প্রেরণ করুন যিনি তার শুরু করা কাজগুলো পূর্ণ করার জন্য তার স্থলাভিষিক্ত হবেন।
মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلفالحمد لله رب العالمين، صلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
لا يزال الناسُ يذكرون، ولا تزال ألسنتهم تُرَدِّدُ، الأثر السَّيء لاقتراح صاحب المعالي عبد العزيز فهمي باشا كتابةَ العربية بما يسميه "الحروف اللاتينية"، ولا يزال ينكرون عليه اقتراحه، إلَّا مَن شذَّ عن خطأ أو عن عمدً، وهم قليل نادر.
ولم يكتفِ صاحب الاقتراح بما اقترح؛ بل راح يردُّ على معارضيه في كتاب خرج في بعض مسائله إلى الإزدراء بالتشريع الإسلامي والسخرية منه، وممن يدعو إلى العمل به في هذه العصور في بلاد الإسلام.
وقد وَجَدَتِ الأُمم العربية في هذه السنين العِجَاف، سني الحرب العالمية التي بدأت في سنة 1939م ولمَّا تَضع أوزارَها، أَنها لا ينجيها عن عواقبها، ولا يحفظ عليها وجودَها، إلَّا أن تجمعها جامعة قوية تثْبُت على الدهر، هي "جامعة الأمم العربية" وقد وضع أَساسُها وثُبِّتَتْ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মানুষ আজও স্মরণ করে এবং তাদের জিহ্বা আজও সেই মন্দ প্রভাবের কথা বারবার আওড়ায়, যা মহামান্য আব্দুল আজিজ ফাহমি পাশা কর্তৃক আরবি ভাষাকে তথাকথিত "ল্যাটিন অক্ষরে" লেখার প্রস্তাবের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল। যারা ভুলবশত বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিচ্যুত (شذ) হয়েছে—এমন অতি নগণ্য সংখ্যক ব্যক্তি ব্যতীত সকলেই আজও তার এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে চলেছে।
এই প্রস্তাবক কেবল প্রস্তাব দিয়েই ক্ষান্ত হননি; বরং তিনি তার বিরোধীদের জবাব দিতে গিয়ে এমন এক কিতাব রচনা করেছেন, যেখানে তিনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইসলামি বিধানের প্রতি অবমাননা করেছেন এবং বর্তমান যুগে মুসলিম দেশগুলোতে যারা এর প্রয়োগের আহ্বান জানান, তাদেরকে উপহাস করেছেন।
আরব জাতিসমূহ এই সংকটের বছরগুলোতে—১৯৩৯ সালে শুরু হওয়া বিশ্বযুদ্ধের সেই বছরগুলোতে যা আজও শেষ হয়নি—উপলব্ধি করেছে যে, একটি শক্তিশালী ঐক্য ছাড়া এই যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচার বা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার কোনো উপায় নেই, যা কালের পরিক্রমায় অটল থাকবে; আর তা হলো "আরব রাষ্ট্র সংস্থা"। এর ভিত্তি স্থাপন ও সুসংহত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
قواعدُها في هذا العام، وسيقوم بنيانها وتعلو أركانها فيما تَستقبل من الأيام، إن شاءَ الله.
والتاريخ،. منذ اكثرَ من أَلف وثلاثمائة سنة، منذ أَن أشمرق نورُ الإسلام، يربط الإِسلام بلغة العرب أَوثق رباطٍ. فلا يستطيعُ أَحدٌ أن يتخيلَ أمة مسلمة غير عربية، ولا أن يتخيلَ لغةَ العرب منفصلة عن الإِسلام وكان ذلك من صُنع الله بالقرآن، فهو أَوثق سبب يصِل الإِسلامُ بالعروبة، لا تنفصم عُراهُ. فلا تكون أمةٌ عربيةٌ ولا أمة مسلمة إلا بهذا القرآن. والمُثُلُ متوافرةٌ فيمن مضَى وفيمن بقي.
وسيكون من أثَر اتحاد الأمم العربية اتحادُ الأمم الإسلامية، حتماً مقضياً. وإن أَبَى من أبَى، وإن كره مَن كره.، فذلك الذى تقتضيه قطرة الدين، وفطرة اللغة، ووحدةُ الروح ووحدة التفكير. {وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً}
وهذه أمم العربية تسعى أَن توحدَ طوقَ ثقافتها ومناهجَ تعليمها، حتى لا تكون بينها فوارق إلا في الجزئيات التى تقتضيها طبيعة الفرق بين إقليم وإقليم، وجوّ وجوّ، واستعدادٍ واستعدادٍ. حتى يأتي الجيل القادمُ نَسَقاً واحداً، وأمة واحدةً.
وهذه الأمم نفسها تفكر أو تسعى في وحدة التشريع أَيضاً، على
এ বছরেই এর ভিত্তি স্থাপিত হবে, এবং অনাগত দিনগুলোতে এর কাঠামো গড়ে উঠবে ও এর স্তম্ভগুলো সমুন্নত হবে, ইনশাআল্লাহ।
ইতিহাস—এক হাজার তিনশ বছরেরও বেশি সময় ধরে, যবে থেকে ইসলামের নূর উদ্ভাসিত হয়েছে—ইসলামকে আরবি ভাষার সাথে এক সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে। ফলে কেউ কোনো অনারব মুসলিম উম্মাহর কথা কল্পনা করতে পারে না, আর না পারে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো আরবি ভাষার কথা চিন্তা করতে। এটি কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহর এক সুনিপুণ কর্ম ছিল; কারণ কুরআনই হলো ইসলামকে আরবত্বের সাথে সংযুক্ত করার সবচেয়ে মজবুত মাধ্যম, যার বন্ধন কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়। সুতরাং এই কুরআন ব্যতীত কোনো আরব জাতি বা মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব সম্ভব নয়। আর এর দৃষ্টান্ত পূর্ববর্তীদের মধ্যে এবং বর্তমানদের মাঝেও পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান।
আর আরব দেশগুলোর ঐক্যের এক অনিবার্য ও অবধারিত ফল হবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য। কেউ তা অস্বীকার করুক বা অপছন্দ করুক, দ্বীনের প্রকৃতি, ভাষার প্রকৃতি এবং রূহ ও চিন্তার অভিন্নতা একেই দাবি করে। {নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত}
আর এই আরব জাতিগুলো তাদের সংস্কৃতির পরিধি ও শিক্ষা কারিকুলামকে একীভূত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে তাদের মধ্যে অঞ্চলভেদে, পরিবেশভেদে বা যোগ্যতার ভিন্নতার কারণে অপরিহার্য আংশিক পার্থক্য ছাড়া আর কোনো ব্যবধান না থাকে। যাতে আগামী প্রজন্ম একই সুশৃঙ্খল ধারায় এবং এক জাতি হিসেবে গড়ে ওঠে।
এমনকি এই জাতিগুলো বিধান প্রণয়নের ঐক্যের বিষয়েও চিন্তা বা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যার ভিত্তি...
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هذا النهج، ولكنها تخطئ الطريق، تريد أن تبني على ما اقتبسنا من تشريع الإفرنج، رقد نُهينا عنه. وعندنا تشريع كامل، أمرنا أن نتبعه، وأن نرضى به وحده، مؤمنين مخلصين. وهو تشريع دقيق، صالح في كل زمان وكل مكان. فلئن كان هذا، ولن يكون، فَقَدَتْ هذه الأممُ أَقوى مقوماتها، وهو روح التشريع الواحد المخالط للقلوب، وهو هَديُ القرآن.
وطالما دعونا للهدَي غيرَ وَانِينَ ولا غافلين، وكنتُ أَحدَ الداعين، على ما وسع جُهدي. فلما أَنْ ثار عبد العزيز باشا فهمى باللغة وبالتشريع يزجرههما زجراً عنيفاً، غير عالم أنهما لن يَزُلَا حتى تزولَ الجبال: وجدتُ الفرصة سانحةً لأَن أستأنف دعوتي، فأرُدَّ عملَ معالي الباشا إلى مصادره وبواعثه، أو إلى نتائجه وعواقبه، وأعيدَ نشر محاضرةٍ كنتُ قد أعددتها منذ بضع سنين، في أَنَّ "الكتاب والسنة يجب أَن يكونا مصدرَ القوانين في مصر". لأبثَّ دعوتي، في سبيل الله، وفي سبيل الخير لأمتى.
فهذا هو الكتاب.
وكنت قد وضعتُ في المحاضرة خطة عملية لاقتباس القوانين من الشريعة، أَجملتها أجمالا، رجاء أن تُفَصَّل عند وضعها موضعَ التنفيذ. فرأيت أن أُفصلها بعضَ التفصيل، في آخر الكتاب، حتى لا يكونَ لمعتذر عذر، بعدَ أن وَضَحتِ الطريقُ واستنارتِ السبلُ.
এই পন্থা, কিন্তু এটি ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে; এটি ইউরোপীয়দের নিকট থেকে আমরা যে আইনবিধান (تشريع) গ্রহণ করেছি তার ওপর ভিত্তি করতে চায়, অথচ আমাদের তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আমাদের নিকট রয়েছে এক পূর্ণাঙ্গ আইনবিধান (تشريع), যা অনুসরণ করার এবং একনিষ্ঠ মুমিন হিসেবে কেবল তাতেই সন্তুষ্ট থাকার জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি এক সূক্ষ্ম আইনবিধান (تشريع), যা সর্বকাল ও সর্বস্থানে উপযোগী। যদি এমনটি হয়—আর তা কখনো হবে না—তবে এই জাতিসমূহ তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তিটি হারিয়ে ফেলবে, আর তা হলো হৃদয়ে প্রোথিত এক অভিন্ন আইনি চেতনা এবং কুরআনের হিদায়াত।
আমরা দীর্ঘকাল ধরে কোনো প্রকার অলসতা বা গাফলতি না করে এই হিদায়াতের দিকে আহ্বান জানিয়ে আসছি এবং আমি আমার সাধ্যমতো সেই আহ্বানকারীদেরই একজন ছিলাম। যখন আবদুল আজিজ পাশা ফাহমি ভাষা ও আইনবিধানের (تشريع) ওপর চড়াও হলেন এবং সেগুলোকে কঠোরভাবে আক্রমণ করলেন—এটা না জেনেই যে পাহাড় অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত এ দুটি অপসারিত হবে না—তখন আমি আমার দাওয়াহ পুনরায় শুরু করার এক সুবর্ণ সুযোগ পেলাম। ফলে আমি মাননীয় পাশার কর্মকাণ্ডকে তার উৎস ও প্রেক্ষাপটের দিকে অথবা তার ফলাফল ও পরিণতির দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার এবং কয়েক বছর আগে প্রস্তুত করা একটি বক্তৃতার পুনপ্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিলাম, যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল: "মিশরের আইনের উৎস হতে হবে কিতাব ও সুন্নাহ (سنة)"। আমি আল্লাহর পথে এবং আমার উম্মতের কল্যাণে আমার এই দাওয়াহ প্রচার করতে চাই।
এটাই সেই গ্রন্থ।
আমি সেই বক্তৃতায় শরীয়ত (شريعة) থেকে আইন গ্রহণের একটি প্রায়োগিক পরিকল্পনা পেশ করেছিলাম, যা আমি অত্যন্ত সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছিলাম; এই আশায় যে, বাস্তবায়নের সময় তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। তাই আমি গ্রন্থটির শেষে এর কিছুটা বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা সমীচীন মনে করেছি, যাতে পথ সুস্পষ্ট ও আলোকিত হওয়ার পর কোনো ওজর পেশকারীর আর কোনো অজুহাত অবশিষ্ট না থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فلعل اللهَ أن يوفق بعضَ قادة الفكر إلى الجدّ فى هذه السبيل، ودرسِ هذه الخطة، وتنقيحها بما يستبينُ من البحث وتبادل الآراء، ثم وضعِها موضعَ التنفيذ، فالفرصةُ مواتية، والتواني مضيعة. ورسولُ الله يقولُ ما أَمره الله أن يقولَ: {وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ} وقد بَلَّغكم وأَنذركم.
هدانا الله بهدايته.
أحمد محمد شاكر
الأحد 25 ذي الحجة سنة 1363
12 نوفمبر سنة 1944
হয়তো আল্লাহ চিন্তাশীল নেতৃবৃন্দের কাউকে এই পথে নিষ্ঠার সাথে ব্রতী হওয়ার, এই পরিকল্পনাটি অধ্যয়ন করার এবং গবেষণা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে তা পরিমার্জন করার তাওফিক দান করবেন, অতঃপর একে বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। বর্তমান সুযোগটি অনুকূল, আর শৈথিল্য প্রদর্শন হবে স্রেফ সুযোগের অপচয়। আল্লাহর রাসূল তা-ই বলেন যা আল্লাহ তাঁকে বলার নির্দেশ দিয়েছেন: {আর এই কুরআন আমার নিকট ওহী করা হয়েছে যেন আমি এর দ্বারা তোমাদের এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাদের সতর্ক করি}। তিনি আপনাদের নিকট বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন।
আল্লাহ আমাদের তাঁর হেদায়েত দ্বারা পরিচালিত করুন।
আহমাদ মুহাম্মদ শাকির
রবিবার, ২৫ যিলহজ, ১৩৬৩ হিজরি
১২ নভেম্বর, ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الكتاب والسنة، يجب أن يكونا مصدر القوانين في مصرأيها السادة!
تشرفت اليوم بالمثول بين أيديكم لأتحدث إليكم في موضوع من أشد المواضيع خطورة في حياتنا الماضية والمستقبلة، والكتاب -كما يقولون -يُعرف من عنوانه. وعنوان كلمتي محدود مُحرر، صريح بيّن
(الكتاب والسنة يجب أن يكونا مصدر القوانين في مصر).
نعم، ومصر بلد إسلامي، وهي تقعد الآن بين الأمم مقعد الصدارة في ممالك الإسلام، وإلى ما تصنع ينظر المسلمون في أنحاء الأرض، وبها يقتدون، فيهتدون أو يضلون، ومعاذ الله أن تضل مصر بعد أن ملكت أمرها، استقلت بشؤونها، فتحمل إثم العالم الإسلامي كله، ورسول الله يقول: "من سن في الإسلام سنة سيئة كان عليه وزرها ووزر من عمل بها من بعده، من غير أن ينقص من أوزارهم شيء".
أيها السادة!
إن الله أرسل محمداً هادياً وبشيراً ونذيراً، وحاكما بين الناس بما أنزله عليه أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله،
কুরআন ও সুন্নাহ (سنة), মিশরের আইনের উৎস হওয়া আবশ্যকসুধীবৃন্দ!
আমাদের অতীত ও ভবিষ্যৎ জীবনের অন্যতম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আমি আজ নিজেকে ধন্য মনে করছি। যেমনটি বলা হয়ে থাকে— প্রচ্ছদ দেখেই গ্রন্থ পরিচয়। আমার বক্তব্যের শিরোনাম সুনির্দিষ্ট, পরিমার্জিত এবং অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল:
(কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) অবশ্যই মিশরের আইনের উৎস হতে হবে)।
হ্যাঁ, মিশর একটি ইসলামি রাষ্ট্র। বর্তমানে এটি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নেতৃস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানরা মিশরের কর্মকাণ্ডের দিকেই তাকিয়ে থাকে এবং তাকেই অনুসরণ করে। ফলে তারা হয় সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়, না হয় বিভ্রান্ত হয়। আল্লাহ রক্ষা করুন যেন মিশর তার নিজ বিষয়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব ও স্বাধীনতা লাভের পর পথভ্রষ্ট না হয়; অন্যথায় তাকে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের পাপের বোঝা বহন করতে হবে। আর আল্লাহর রাসূল বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির (سنة) প্রচলন করবে, তার ওপর সেই রীতির পাপ এবং পরবর্তীতে যারা তা অনুসরণ করবে তাদের পাপও বর্তাবে, তবে তাদের পাপের পরিমাণে কোনো ঘাটতি হবে না।"
সুধীবৃন্দ!
নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-কে পথপ্রদর্শক, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহ তাঁর ওপর যা অবতীর্ণ করেছেন সেই অনুযায়ী মানুষের মাঝে ফয়সালাকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ودعا الناس إلى طاعته في جميع أمورهم، في دينهم ودنياهم، عباداتهم ومعاملتهم. وأنزل عليه شريعة كاملة، لم تَسْمُ إليها شريعة من الشرائع قبلها، ولن يأتي أحد من بعده بخير منها ولا بمثلها. ذلك بأن الله خلق الخلق وهو أعلم بهم، وذلك بأن محمداً خاتم النبيين.
شرع الله هذه الشريعة الكاملة للناس كافة، وفي كل زمان ومكان، بعموم بعثة الرسول الأمين، وبختم النبوة والرسالة به. فكانت الباقية على الدهر، ونسخت جميع الشرائع. ولم تكن خاصة بأمة دون أمة، ولا بعصر دون عصر. ولذلك كانت العبادات مفصلة بجزئياتها، لأن العبادة لا تتغير باختلاف الدهور والعصور. وكان ما سواها من شؤون الفرد والمجتمع، في المعاملات المدنية، والمسائل السياسية، ونظام الحكومات، والقواعد القضائية، والعقوبات، وما إلى ذلك، قواعد كلية سامية، لم ينص على تفاصيل الفروع فيها، إلا على القليل النادر، في الأمر الخطير، مما لا يتأثر باختلاف الزمان والمكان.
فقام سلفنا الصالح، المسلمون الأولون، بإبلاغ هذه الشريعة والعمل بها، في أنفسهم وفيما دخل من البلدان في سلطانهم، فنفذوا أحكامها على الناس كافة، وفي جميع الأحوال، واجتهدوا في تطبيق قواعدها على الوقائع والحوادث، واستنبطوا منها الفروع الدقيقة، والقواعد الأصولية والفقهية، بما آتاهم الله من بسطة في العلم، وإخلاص
তিনি মানুষকে তাদের সকল বিষয়ে—তাদের দ্বীন ও দুনিয়া, তাদের ইবাদত (عبادات) ও পারস্পরিক লেনদেনের (معاملات) ক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্যের প্রতি আহ্বান করেছেন। তিনি তাঁর প্রতি এক পূর্ণাঙ্গ শরীয়াহ অবতীর্ণ করেছেন, যার উচ্চতায় এর পূর্ববর্তী কোনো শরীয়াহ কখনও পৌঁছাতে পারেনি এবং তাঁর পরে কেউ এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিংবা এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে পারবে না। এর কারণ হলো, আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত, আর মুহাম্মদ হলেন শেষ নবী (خاتم النبيين)।
আল্লাহ এই পূর্ণাঙ্গ শরীয়াহ সকল মানুষের জন্য এবং সকল কাল ও পাত্রের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন বিশ্বস্ত রাসুলের সর্বজনীন নবুওয়াত এবং তাঁর মাধ্যমে নবুওয়াত (النبوة) ও রিসালাতের (الرسالة) পরিসমাপ্তির দ্বারা। ফলে এটি মহাকালের জন্য শাশ্বত রূপ লাভ করেছে এবং পূর্ববর্তী সকল শরীয়াহকে রহিত (نسخ) করেছে। এটি কোনো বিশেষ জাতি বা বিশেষ কোনো যুগের জন্য নির্দিষ্ট (خاص) ছিল না। এ কারণেই ইবাদতসমূহ এর খুঁটিনাটি বিষয়সহ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, কারণ মহাকালের বিবর্তনে ইবাদত (عبادة) পরিবর্তিত হয় না। পক্ষান্তরে ব্যক্তি ও সমাজের অন্যান্য বিষয়—যেমন দেওয়ানি লেনদেন, রাজনৈতিক বিষয়াবলি, শাসনব্যবস্থা, বিচারিক নীতিমালা, দণ্ডবিধি এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোকে সুমহান সামষ্টিক মূলনীতি হিসেবে রাখা হয়েছে। অতি নগণ্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া এগুলোর শাখা-প্রশাখার (فروع) বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়নি, যা সময় ও স্থানের পরিবর্তনে প্রভাবিত হয় না।
অতঃপর আমাদের পুণ্যবান পূর্বসূরিগণ (سلفنا الصالح), তথা প্রথম যুগের মুসলিমগণ, এই শরীয়াহর বাণী পৌঁছে দেওয়া এবং নিজের জীবনে ও তাদের কর্তৃত্বাধীন দেশসমূহে তা কার্যকর করার ব্রত গ্রহণ করেছিলেন। তারা সর্বস্তরের মানুষের ওপর এবং সকল পরিস্থিতিতে এর বিধানাবলি (أحكام) বাস্তবায়ন করেছেন এবং বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির ওপর এর মূলনীতিগুলো প্রয়োগ করতে যথাসাধ্য গবেষণা (اجتهاد) করেছেন। আল্লাহ প্রদত্ত অগাধ জ্ঞান ও ইখলাসের মাধ্যমে তারা তা থেকে সূক্ষ্ম শাখা-প্রশাখা (فروع) এবং উসূল বা মূলনীতি সংক্রান্ত (الأصولية) ও ফিকহি (الفقهية) নিয়মাবলি উদ্ভাবন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
في الدين، حتى تركوا لنا ثروة تشريعية، لا نجد لها مثيلاً في شرائع الأمم، وحتى كان من بعدهم عالة عليهم.
ولم يكن الفقهاء والحكام والقضاة في العصور الأولى مقلدين ولا جامدين، بل كانوا سادة مجتهدين. ثم فشا التقليد بين أكثر العلماء، إلا أفراداً كانوا مصابيح الهدى في كل جيل. ومع ذلك فقد كان المقلدون من العلماء يحسنون التطبيق والاستنباط في تقليدهم. وكان الملوك والأمراء والقواد والزعماء علماء بدينهم متمسكين به، إلى أن جاء عصر ضعف المسلمين، بضعف العلماء واستبداد الأمراء الجاهلين. فتتايع (1) الناس في التقليد، واشتد تعصبهم لأقوال الفقهاء المتأخرين، في فروع ليست منصوصة في الكتاب والسنة، ولعل كثيرا منها مما استنبطه العلماء بني على عرف معين، أو لظروف يجب على العالم مراعاتها عند الاجتهاد، بل لعل بعضها مما أخطأ فيه قائله، بأنه ليس بمعصوم.
وكثر الحرج واشتد الضيق، إلى أن جاء الجيل الذي سبق جيلنا، والأمر ظلمات بعضها فوق بعض، والعلماء -أو أكثرهم- يزدادون جموداً وعصبية، والزمن يجري إلى تطور سريع، يقعد بهم تقليدهم عن
--------------------------------------------
দ্বীনের ক্ষেত্রে, এমনকি তারা আমাদের জন্য এমন এক আইনি সম্পদ রেখে গেছেন, যার কোনো দৃষ্টান্ত আমরা অন্য কোনো জাতির আইনের মধ্যে খুঁজে পাই না। এমনকি তাদের পরবর্তী সকলে তাদের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।
প্রথম যুগের ফকিহ, শাসক ও বিচারকগণ অন্ধ অনুসারী (مقلدون) বা স্থবির ছিলেন না; বরং তারা ছিলেন স্বাধীন গবেষক (مجتهدون) নেতা। অতঃপর অধিকাংশ আলেমদের মধ্যে অন্ধ অনুকরণের (التقليد) প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে, তবে কিছু ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত যারা প্রতিটি প্রজন্মে হেদায়েতের প্রদীপ স্বরূপ ছিলেন। তা সত্ত্বেও, আলেমদের মধ্যে যারা অনুসারী (المقلدون) ছিলেন, তারা তাদের অনুকরণের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ এবং মাসয়ালা উদ্ভাবন বা ইস্তিম্বাত (الاستنباط) এর ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিতেন। রাজা, বাদশাহ, সেনাপতি ও নেতৃবৃন্দ তাদের দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানী ছিলেন এবং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখতেন; যতক্ষণ না আলেমদের দুর্বলতা এবং মূর্খ শাসকদের স্বৈরাচারের দরুন মুসলিমদের দুর্বলতার যুগ উপস্থিত হলো। ফলে মানুষ মন্দের দিকে একে অপরের অনুগামী হতে লাগল (১) এবং অন্ধ অনুকরণে (التقليد) লিপ্ত হলো। পরবর্তী ফকিহদের মতামতের প্রতি তাদের গোঁড়ামি তীব্রতর হলো, বিশেষ করে এমন সব শাখা-প্রশাখার (فروع) ক্ষেত্রে যেগুলোর ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহর কোনো স্পষ্ট বিধান (منصوصة) নেই। সম্ভবত এগুলোর অনেক কিছুই আলেমগণ নির্দিষ্ট কোনো প্রথা বা রীতির ওপর ভিত্তি করে ইস্তিম্বাত করেছিলেন, অথবা এমন পরিস্থিতির কারণে যা একজন আলেমের জন্য গবেষণার (الاجتهاد) সময় বিবেচনা করা আবশ্যক ছিল। এমনকি হতে পারে এর কোনো কোনোটিতে বক্তা ভুল করেছিলেন, কারণ তিনি নিষ্পাপ ছিলেন না।
জটিলতা বৃদ্ধি পেল এবং সংকীর্ণতা তীব্র হলো, এমনকি আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের সময় ঘনিয়ে এল। তখন অবস্থা ছিল ঘনঘোর অন্ধকার। আলেমগণ—অথবা তাদের অধিকাংশ—ক্রমান্বয়ে জড়তা ও গোঁড়ামিতে লিপ্ত হচ্ছিলেন, আর সময় দ্রুত বিবর্তনের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। তাদের অন্ধ অনুকরণ (تقليد) তাদের অক্ষম করে দিচ্ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مسايرته، فضلا عن سبقه. حتى لقد عرض بعض الأمراء في الجيل الماضي على العلماء أن يضعوا للناس قانوناً شرعياً، يقتبسونه من المذاهب الأربعة، حرصاً على ما ألفوا من التقليد، وهو طلب متواضع، قد يكون علاجاً وقتياً، فأبوا واستنكروا، فأعرض عنهم.
ثم دخلت علينا في بلادنا هذه القوانين الإفرنجية المترجمة، نقلت نقلا حرفيا عن أمم لا صلة لنا بها، من دين أو عادة أو عرف، فدخلت لتشوه عقائدنا وتمسخ من عاداتنا، وتلبسنا قشوراً زائفة تسمى المدنية!!.
ثم جاءت النهضة العلمية الإسلامية الحاضرة، وقد نفخ في روحها رجال كانوا نبراس عصرهم، وفي مقدمتهم جمال الدين الأفغاني، ومحمد عبده، ومحمد رشيد رضا. ووضع أصولها عمليا، وأرسى قواعدها، ووثق بنيانها: والدي محمد شاكر، رضي الله عنهم جميعاً. فاستيقظت العقول، وثارت النفوس على التقليد، ونبغ في العلماء من يذهب إلى وجوب الاجتهاد، وقد يكون اجتهاداً مبتسراً، وقد يكون اجتهاداً فيه خطأ كثير، ولكنه خير من الجمود، وأجدى إن شاء الله على الأمة والدين.
أيها السادة!
إننا جميعاً مسلمون، نحرص على ديننا، ونزعم أننا لا نبغي به
তার সাথে তাল মিলিয়ে চলা, এমনকি তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া তো দূরের কথা। এমনকি গত প্রজন্মে কিছু আমির আলেমদের কাছে প্রস্তাব করেছিলেন যেন তারা জনগণের জন্য একটি শরয়ী আইন প্রণয়ন করেন, যা তারা চার মাযহাব থেকে গ্রহণ করবেন, তাদের অভ্যস্ত অন্ধ অনুকরণ (تقليد) রক্ষার তাগিদে। এটি ছিল একটি বিনীত অনুরোধ, যা সাময়িক সমাধান হতে পারত, কিন্তু তারা তা অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করলেন, ফলে তিনি তাদের থেকে বিমুখ হলেন।
অতঃপর আমাদের এই দেশগুলোতে অনূদিত এই ইউরোপীয় আইনগুলো প্রবেশ করল, যা এমন সব জাতি থেকে আক্ষরিকভাবে অনুলিপি করা হয়েছে যাদের সাথে দ্বীন, সংস্কৃতি বা রীতিনীতির কোনো দিক থেকে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো আমাদের আকিদা-বিশ্বাসকে বিকৃত করতে, আমাদের সংস্কৃতিকে বিজাতীয় রূপ দিতে এবং আমাদের তথাকথিত 'সভ্যতা' নামক মেকি আবরণে আবৃত করতে প্রবেশ করেছে!!
এরপর বর্তমান ইসলামি জ্ঞানতাত্ত্বিক রেনেসাঁ বা জাগরণ এল, আর এর প্রাণশক্তিতে ফুঁক দিয়েছিলেন এমন কিছু ব্যক্তি যারা ছিলেন তাদের যুগের আলোকবর্তিকা। তাদের অগ্রভাগে ছিলেন জামাল উদ্দিন আফগানি, মুহাম্মদ আবদুহু এবং মুহাম্মদ রশিদ রিদা। আর এর মূলনীতিগুলো (أصول) ব্যবহারিকভাবে প্রণয়ন করেছেন, এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এবং এর কাঠামোকে মজবুত করেছেন: আমার পিতা মুহাম্মদ শাকির, আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। ফলে বিবেকসমূহ জাগ্রত হলো, মন-মানসিকতা অন্ধ অনুকরণ (تقليد)-এর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল এবং আলেমদের মধ্যে এমন সব প্রতিভাধরদের আবির্ভাব ঘটল যারা ইজতিহাদ (اجتهاد) করা আবশ্যক হওয়ার মত পোষণ করেন। এই ইজতিহাদ (اجتهاد) হয়তো কিছুটা অপরিপক্ক হতে পারে, আবার এতে অনেক ভুলও থাকতে পারে, কিন্তু তা স্থবিরতার চেয়ে উত্তম এবং ইনশাআল্লাহ উম্মত ও দ্বীনের জন্য অধিকতর ফলপ্রসূ।
হে সুধীবৃন্দ!
আমরা সকলেই মুসলিম, আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল এবং আমরা দাবি করি যে আমরা এর পরিবর্তে অন্য কিছু কামনা করি না।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بدلاً، ولكننا نخطئ فهم الدين، ونظن أنه لا يتجاوز ما يقام فينا من شعائر العبادة، وما يهتف به الوعاظ والخطباء من الدعوة إلى الأخلاق الفاضلة، ويخيل إلى كثير منا أنه لا شأن للدين بالمعاملات المدنية، والحقوق الاجتماعية، والعقوبات والتعزير، ولا صلة له بشؤون الحرب، ولا بالسياسة الداخلية والخارجية. كلا، إن الإسلام ليس على ما يظنون. الإسلام دين وسياسة، وتشريع وحكم وسلطان. وهو لا يرضى من متبعيه إلا أن يأخذوه كله، ويخضعوا لجميع أحكامه، فمن أبى من الرضا ببعض أحكامه فقد أباه كله.
اسمعوا كلام الله ثم اختاروا لأنفسكم ما تريدون.
(وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالاً مُّبِيناً) (1).
(وَيَقُولُونَ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِّنْهُم مِّن بَعْدِ ذَلِكَ وَمَا أُوْلَئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ، وَإِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُم مُّعْرِضُونَ، وَإِن يَكُن لَّهُمُ الْحَقُّ يَأْتُوا إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ، أَفِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ أَمِ ارْتَابُوا أَمْ يَخَافُونَ أَن يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ بَلْ أُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ، إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا
--------------------------------------------
পরিবর্তে, কিন্তু আমরা দ্বীন অনুধাবনের ক্ষেত্রে ভুল করছি এবং আমরা মনে করি যে এটি কেবল আমাদের মাঝে পালিত ইবাদতের রীতিনীতি এবং ওয়ায়েজ ও খতিবদের দেওয়া সচ্চরিত্রের আহ্বানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমাদের অনেকের মনে এমন ধারণার উদ্রেক হয় যে, নাগরিক লেনদেন, সামাজিক অধিকার, দণ্ডবিধি ও তাজীর, যুদ্ধবিগ্রহ এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক রাজনীতির সাথে দ্বীনের কোনো সম্পর্ক নেই। কখনোই না, ইসলাম তেমন নয় যেমনটি তারা মনে করে। ইসলাম হলো দ্বীন ও রাজনীতি, এবং বিধান প্রণয়ন, শাসন ও কর্তৃত্ব। এটি এর অনুসারীদের কাছ থেকে কেবল এটাই চায় যে, তারা একে পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করবে এবং এর সকল বিধানের অনুগত হবে। সুতরাং, যে ব্যক্তি এর কোনো বিধান সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করতে অস্বীকার করল, সে প্রকৃতপক্ষে একে পূর্ণাঙ্গভাবেই অস্বীকার করল।
আল্লাহর কালাম শ্রবণ করুন, অতঃপর আপনাদের নিজেদের জন্য যা পছন্দ করেন তা বেছে নিন।
(আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো) (১)।
(এবং তারা বলে, 'আমরা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আনুগত্য করেছি'; অতঃপর তাদের একটি দল এরপরেও মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তারা মুমিন নয়। যখন তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যেন তিনি তাদের মাঝে ফয়সালা করে দেন, তখনই তাদের একটি দল বিমুখ হয়ে যায়। আর যদি সত্য তাদের অনুকূলে থাকে, তবে তারা বিনীতভাবে তাঁর কাছে ছুটে আসে। তাদের অন্তরে কি ব্যাধি রয়েছে? নাকি তারা সন্দেহে পতিত হয়েছে? নাকি তারা ভয় পায় যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি অবিচার করবেন? বরং তারাই তো জালিম। মুমিনদের কথা তো কেবল এটাই, যখন তাদের ডাকা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَن يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ) (1).
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً، أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُواْ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُواْ إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُواْ أَن يَكْفُرُواْ بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلَالاً بَعِيداً، وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْاْ إِلَى مَا أَنزَلَ اللهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُوداً، فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَآؤُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَاّ إِحْسَاناً وَتَوْفِيقاً، أُولَئِكَ الَّذِينَ يَعْلَمُ اللهُ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِي أَنفُسِهِمْ قَوْلاً بَلِيغاً، وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَاّ لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُواْ أَنفُسَهُمْ جَآؤُوكَ فَاسْتَغْفَرُواْ اللهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُواْ اللهَ تَوَّاباً رَّحِيماً، فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجاً مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيماً) (2).
--------------------------------------------
(আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি যেন তিনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেন, তখন তাদের উক্তি তো কেবল এই হয় যে, তারা বলে: "আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।" আর এরাই হলো সফলকাম।) (১)।
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল)-দেরও। অতঃপর যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান পোষণ করো। এটিই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট। আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা দাবি করে যে আপনার প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা নাজিল করা হয়েছে তার ওপর তারা ঈমান এনেছে? অথচ তারা বিচার নিয়ে যেতে চায় তাগুতের কাছে, যদিও তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করতে। আর শয়তান চায় তাদের চরম বিভ্রান্তিতে লিপ্ত করতে। আর যখন তাদের বলা হয়, "আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে এসো", তখন আপনি মুনাফিকদের দেখবেন আপনার থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিতে। তবে কেমন হবে যখন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ওপর কোনো বিপদ আসবে? তখন তারা আপনার কাছে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে আসবে যে, "আমরা কেবল কল্যাণ ও সম্প্রীতিই চেয়েছিলাম।" এরাই তারা, যাদের অন্তরের বিষয়বস্তু আল্লাহ জানেন। সুতরাং আপনি তাদের উপেক্ষা করুন, তাদের নসিহত করুন এবং তাদের উদ্দেশ্যে এমন মর্মস্পর্শী কথা বলুন যা তাদের জন্য কার্যকর হয়। আর আমি কোনো রাসূলকেই প্রেরণ করিনি কেবল আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করার জন্য। আর যদি তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করার পর আপনার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত আর রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত। সুতরাং না, আপনার রবের কসম! তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, এরপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে বিষয়ে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أيها السادة!
هذه آيات الله وأوامره، قد سمعتموها كثيراً، وقرأتموها كثيراً. ولست الآن بصدد تفسيرها أو شرحها، فهي آيات محكمة صريحة بينة، فيها عبرة لكم وعظة لو تأملتموها، وفكرتم في حالكم من طاعتها أو عصيانها، وفيما يجب عليكم حيالها، وأنتم تحكمون بقوانين لا تمت إلى الإسلام بصلة، بل هي تنافيه في كثير من أحكامها وتناقضه، بل لا أكون مغاليا إذا صرحت أنها إلى النصرانية الحاضرة أقرب منها إلى الإسلام، ذلك أنها ترجمت ونقلت كما هي عن قوانين وثنية، عُدّلت ثم وضعت لأمم تنتسب إلى المسيحية، فكانت، وإن لم توضع عندهم وضعاً دينياُ، أقرب إلى عقائدهم وعاداتهم وعرفهم، وأبعد عنا في كل هذا. وقد ضربت علينا هذه القوانين في عصر كان كله ظلمات، وكانت الأمة لا تملك لنفسها شيئاً، وكان علماؤها مستضعفين جامدين.
هذه القوانين كادت تصبغ النفوس كلها بصبغة غير إسلامية، وقد دخلت قواعدها على النفوس فأُشربتها، حتى كادت تفتنها عن دينها، وصارت القواعد الإسلامية في كثير من الأمور منكرة مستنكرة، وحتى صار الداعي إلى وضع التشريع على الأساس الإسلامي يجبن ويضعف، أو يخجل فينكمش، مما يلاقي من هزء وسخرية!! ذلك أنه يدعوهم
হে সুধীবৃন্দ!
এগুলো আল্লাহর আয়াত এবং তাঁর নির্দেশাবলি, যা আপনারা বহুবার শুনেছেন এবং বহুবার পড়েছেন। আমি এখন এগুলোর তাফসির বা ব্যাখ্যা করার পর্যায়ে নেই, কেননা এগুলো সুস্পষ্ট (محكمة), দ্ব্যর্থহীন ও প্রদীপ্ত আয়াত। এতে আপনাদের জন্য শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে যদি আপনারা এগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন, এবং এগুলোর আনুগত্য বা অবাধ্যতার ক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থা এবং এগুলোর ব্যাপারে আপনাদের ওপর কী আবশ্যক (واجب) সে সম্পর্কে ভেবে দেখেন। অথচ আপনারা এমন সব আইন দিয়ে শাসন পরিচালনা করছেন যেগুলোর সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এগুলো এর অনেক বিধানের (أحكام) সাথে সাংঘর্ষিক এবং এর পরিপন্থী। এমনকি আমি যদি স্পষ্টভাবে বলি যে এগুলো ইসলামের চেয়ে বর্তমান খ্রিস্টধর্মের অধিক নিকটবর্তী, তবে তা অতিরঞ্জিত হবে না। কারণ এগুলো পৌত্তলিক আইন থেকে সরাসরি অনুবাদ ও স্থানান্তরিত হয়েছে, যা সংশোধন করার পর এমন সব জাতির জন্য প্রণীত হয়েছিল যারা খ্রিস্টধর্মের অনুসারী। ফলে সেগুলো তাদের কাছে ধর্মীয়ভাবে প্রণীত না হলেও তাদের আকিদা, অভ্যাস ও প্রথার (عرف) অধিক নিকটবর্তী ছিল এবং এ সবকিছুর ক্ষেত্রে আমাদের থেকে ছিল অনেক দূরে। এই আইনগুলো আমাদের ওপর এমন এক যুগে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল যা ছিল পুরোপুরি অন্ধকারাচ্ছন্ন, যখন উম্মাহর নিজের জন্য করার কিছুই ছিল না এবং তার আলিমগণ ছিলেন মজলুম ও স্থবির।
এই আইনগুলো প্রায় সমস্ত আত্মাকেই এক অনৈসলামিক রঙে রঞ্জিত করে ফেলেছিল। এগুলোর মূলনীতিগুলো মানুষের অন্তরে এমনভাবে প্রবেশ করেছিল যে তা আত্মস্থ হয়ে গিয়েছিল, এমনকি এগুলো মানুষকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার উপক্রম করেছিল। ফলে অনেক বিষয়ে ইসলামি মূলনীতিগুলো প্রত্যাখ্যাত (منكر) ও নিন্দনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ইসলামি ভিত্তিতে আইন প্রণয়নের (تشريع) আহ্বানকারী ব্যক্তি বিদ্রূপ ও উপহাসের সম্মুখীন হওয়ার কারণে ভীরু ও দুর্বল হয়ে পড়ে, অথবা লজ্জায় গুটিয়ে যায়!! কারণ সে তাদের আহ্বান জানায়...
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
-في نظرهم- إلى الرجوع القهقري ثلاثة عشر قرناً، إلى تشريع يزعمون أنه وضع لأمة بادية جاهلة!!
لا تظنوا -أيها السادة- أني أذهب فيما أصف مذهب الغلو أو الإسراف في القول، فإني جعلت هذه الدعوة هجيراي وديدني، وجادلت وحاججت، ورأيت وسمعت. ولو شئت أن أسمي لسميت لكم أسماء ممن نجل ونحترم، ونعرف لهم فضلا وذكاء وعلماً.
ألا تعجبون إن ذكرتكم بأن مصر كلها فرحت حين أمكن مندوبيها في مؤتمر من مؤتمرات أوربة، منذ بضع سنين، أن يقنعوا المؤتمرين ليصدروا قراراً بأن (الشريعة الإسلامية تصلح أن تكون مصدراً من مصادر القوانين) وظنت أنها أوتيت فتحاً مبيناً! نعم هو فتح مبين هناك، ولكنه في بلادنا ضعف وهوان، لأن شريعتنا يجب أن تكون وحدها هي مصدر القوانين في البلاد الإسلامية.
إني أرى أن هذه القوانين الأجنبية إليها يرجع أكثر ما نشكو من علل، في أخلاقنا، في معاملتنا، في ديننا، في ثقافتنا، في رجولتنا، إلى غير ذلك. وسأقص عليكم بعض المثل من آثارها مما أرى:
كان لها أثر بيّن بارز في التعليم، فقسمت المتعلمين المثقفين منا قسمين، أو جعلتهم معسكرين: فالذين علموا تعليما مدنياً، وربوا
-তাদের দৃষ্টিতে- তেরো শতাব্দী পেছনে এক পশ্চাদমুখী প্রত্যাবর্তনের শামিল, এমন এক বিধানের দিকে যা তারা দাবি করে যে এক মরুবাসী ও অজ্ঞ জাতির জন্য প্রণীত হয়েছিল!!
হে সুধী মণ্ডলী! আপনারা মনে করবেন না যে আমি যা বর্ণনা করছি তাতে অতিরঞ্জন (غلو) বা অতিকথনের পথ অবলম্বন করছি। কেননা আমি এই আহ্বানকে আমার জীবনের ব্রত ও অবিচ্ছেদ্য অভ্যাসে পরিণত করেছি; আমি এ নিয়ে বিতর্ক করেছি, অকাট্য যুক্তি পেশ করেছি এবং নিজে প্রত্যক্ষ করেছি ও শুনেছি। আমি যদি নাম উল্লেখ করতে চাইতাম, তবে আপনাদের সামনে এমন সব ব্যক্তিদের নাম বলতাম যাদেরকে আমরা শ্রদ্ধা ও সম্মান করি এবং যাদের প্রজ্ঞা, মেধা ও জ্ঞান সম্পর্কে আমরা সুপরিজ্ঞাত।
আপনারা কি বিস্মিত হবেন না যদি আমি আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিই যে, সমগ্র মিসর তখন উল্লাস প্রকাশ করেছিল যখন কয়েক বছর আগে ইউরোপের একটি সম্মেলনে তার প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিতদের এই মর্মে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছিল যে, "ইসলামি শরিয়াহ আইনের অন্যতম উৎস হওয়ার যোগ্যতা রাখে"? তখন মিসর মনে করেছিল যে সে এক সুস্পষ্ট বিজয় অর্জন করেছে! হ্যাঁ, সেখানে এটি হয়তো এক সুস্পষ্ট বিজয়, কিন্তু আমাদের দেশে এটি হীনম্মন্যতা ও লাঞ্ছনা; কারণ মুসলিম দেশগুলোতে আমাদের শরিয়াহই একমাত্র আইনের উৎস হওয়া আবশ্যক।
আমি মনে করি যে আমরা আমাদের চরিত্রে, পারস্পরিক লেনদেনে, ধর্মে, সংস্কৃতিতে, এমনকি আমাদের পৌরুষে যেসব ত্রুটি বা ব্যাধির (علل) অভিযোগ করি, তার অধিকাংশের মূলে রয়েছে এই বিজাতীয় আইনগুলো। আমি এখন আপনাদের সামনে আমার দেখা সেগুলোর প্রভাবের কিছু নমুনা তুলে ধরব:
শিক্ষার ক্ষেত্রে এর এক সুস্পষ্ট ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব ছিল। এটি আমাদের মধ্যকার শিক্ষিত ও সুধী সমাজকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে, অথবা তাদের দুটি শিবিরে পরিণত করেছে: একদল তারা যারা আধুনিক শিক্ষা লাভ করেছে এবং লালিত-পালিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تربية أجنبية، يعظمون هذه القوانين وينتصرون لها ولما وضعت من نظم ومبادئ وقواعد، ويرون أنهم أهل العلم والمعرفة والتقدم. وكثير منهم يسرف في العصبية لها، والإنكار لما خالفها من شريعته الإسلامية، حتى ما كان منصوصاً محكما قطعيا في القرآن، وحتى بديهيات الإسلام المعلومة من الدين بالضرورة. ويزدري الفريق الآخر ويستضعفهم، واخترعوا له اسما اقتبسوه مما رأوا أو سمعوا في أوربة المسيحية، فسموهم (رجال الدين) وليس في الإسلام شيء يسمى (رجال الدين) بل كل مسلم يجب عليه أن يكون رجل الدين والدنيا. ثم عزلوهم عن كل أعمال الحياة وأعمال الدولة، واحتكروا لأنفسهم مناصبها، زعماً منهم أن (رجال الدين) لا يصلحون لشيء من أعمال الدنيا، أيا كان مبلغهم من العلم والثقافة والمعرفة، وحصروا الألوف من العلماء المثقفين فيما سموه المناصب الدينية، حتى لا متنفس لهم، فإن ضجوا أو تذمروا حجوهم بأنهم رجال الدين، زعموهم رهباناً، ولا رهبانية في الإسلام.
وابتدعوا شيئاً لم يستطيعوا إلى الآن أن يحدوه حداً علمياً صحيحاً، فسموه (الأحوال الشخصية) وقصروا عليها القضاء الإسلامي، وسموه القضاء الشرعي. ثم وضعوه في الدولة غير موضعه، وذهبوا ينتقصون من أطرافه، ويحدون من سلطانه، وظنوا أن لفظة (الشرع) قاصرة على الأمور الداخلة في اختصاص المحاكم الشرعية، وأن ما عداها خارج
বৈদেশিক শিক্ষা ও দীক্ষায় লালিত-পালিত হয়ে তারা এই আইনগুলোকে অতিমূল্যায়ন করে এবং এগুলোর প্রতি ও এগুলোর মাধ্যমে প্রবর্তিত নিয়ম-নীতি, আদর্শ ও মূলনীতিসমূহের প্রতি অনুগত থাকে। তারা মনে করে যে তারাই একমাত্র জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অগ্রগতির অধিকারী। তাদের অনেকেই এগুলোর প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব (عصبية) প্রদর্শনে চরম বাড়াবাড়ি করে এবং এর বিপরীতে যা কিছু ইসলামি শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত তার অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি কুরআনের সেই সব সুস্পষ্ট (محكم) ও অকাট্য (قطعي) নির্দেশিত বিধান এবং ইসলামের সেই সব স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে অকাট্যভাবে পরিজ্ঞাত (المعلومة من الدين بالضرورة), সেগুলোর ক্ষেত্রেও তারা এই রূপ আচরণ করে। তারা অপর পক্ষকে তুচ্ছজ্ঞান করে ও হীন মনে করে। তারা তাদের জন্য এমন একটি নাম উদ্ভাবন করেছে যা তারা খ্রিস্টান ইউরোপে দেখা বা শোনার ভিত্তিতে গ্রহণ করেছে; ফলে তারা তাদের ‘ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ’ (رجال الدين) বলে অভিহিত করেছে। অথচ ইসলামে ‘ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ’ বলে কোনো বিশেষ শ্রেণী নেই, বরং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দ্বীন ও দুনিয়া—উভয় ক্ষেত্রেই পারদর্শী হওয়া আবশ্যক। অতঃপর তারা তাদের জীবনের সকল কর্মতৎপরতা ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় পদসমূহ নিজেদের জন্য কুক্ষিগত করে নিয়েছে। তাদের দাবি হলো—এই ‘ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ’ পার্থিব কোনো কাজের যোগ্য নয়, তাদের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও প্রজ্ঞা যে স্তরেরই হোক না কেন। তারা হাজার হাজার সুশিক্ষিত আলেমকে তথাকথিত ‘ধর্মীয় পদ’গুলোর গণ্ডিতে এমনভাবে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে যাতে তাদের নিশ্বাস ফেলার কোনো অবকাশ না থাকে। যদি তারা উচ্চবাচ্য বা অভিযোগ করে, তবে এই বলে তাদের নিবৃত্ত করা হয় যে তারা ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ; তারা তাদের সন্ন্যাসী (رهبان) হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, অথচ ইসলামে কোনো বৈরাগ্য বা সন্ন্যাসবাদ (رهبانية) নেই।
তারা এমন এক নতুন বিষয়ের অবতারণা করেছে যার কোনো সঠিক জ্ঞানতাত্ত্বিক সীমা আজ পর্যন্ত তারা নির্ধারণ করতে পারেনি। তারা একে ‘ব্যক্তিগত আইন’ (الأحوال الشخصية) হিসেবে নামকরণ করেছে এবং ইসলামি বিচারিক কার্যক্রমকে কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে এবং এর নাম দিয়েছে ‘শরয়ি বিচারব্যবস্থা’। অতঃপর তারা রাষ্ট্রব্যবস্থায় একে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করেছে এবং পর্যায়ক্রমে এর বিভিন্ন দিক খর্ব করতে শুরু করেছে ও এর কর্তৃত্বকে সংকুচিত করে দিয়েছে। তারা ধারণা করে নিয়েছে যে, ‘শরিয়ত’ শব্দটি কেবল সেই সব বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট যা শরয়ি আদালতগুলোর এখতিয়ারভুক্ত, আর এর বাইরের সবকিছুই এর বহির্ভূত।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عن الشرع، ثم ذهب بهم الوهم إلى أن هذه الكلمة تطلق على هذا النوع المعين من الاختصاص، سواء أكان للشريعة الإسلامية أم لغيرها! حتى لقد رأيت في بعض التعبير الرسمي كلمة "شرعاً" في أمور خاصة بالمجالس المِلّيّة، مع أن البديهي الذي لا ينبغي لمسلم أن يجهله: أن "الشرع" في ألفاظ المسلمين وعرف بلاد الإسلام لا يكون إلا الشرع الإسلامي. وما ضربت هذا المثل إلا لأريكم أثر التشبع بهذه القوانين في النفوس والعقول.
أيها السادة!
إن القوانين إذا حكمت بها أمة السنين الطوال تغلغلت في القلوب، ونكتت فيها آثاراً سوداء أو بيضاء، وصبغت بها الروح، ومرنت عليها النفس. وهذه القوانين الأجنبية أثرت أسوأ الأثر في نفوس الأمة، وصبغتها صبغة إلحادية مادية بحتة، كالتي ترتكس فيها أوربة، ونزعت من القلوب خشية الله والخوف منه. وكان التشريع الإسلامي يدخل القلوب ويرققها ويطهرها من الدنايا. فكان المسلم إذا حكم الحاكم أو قضى القاضي، علم أن دينه يأمره في دخيلة نفسه أن يسمع ويطيع، وأنه مسؤول عن ذلك بين يدي الله يوم القيامة، قبل أن يكون مسؤولا عند الناس. وعلم أنه إن عصى ما قضى به قاضيه، كان عاصيا لربه، حتى لو أيقن أن القاضي مخطئ في قضائه، وكان المقضي
শরীয়ত (الشرع) প্রসঙ্গে; অতঃপর তাদের বিভ্রম এই ধারণার দিকে নিয়ে গেল যে, এই শব্দটি এই বিশেষ ধরনের বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা ইসলামী শরীয়তের (الشريعة الإسلامية) জন্য হোক কিংবা অন্য কিছুর জন্য! এমনকি আমি কিছু দাপ্তরিক অভিব্যক্তিতে ‘শরীয়তসম্মতভাবে’ (شرعاً) শব্দটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক পরিষদগুলোর বিশেষ কার্যাবলীর ক্ষেত্রেও ব্যবহার হতে দেখেছি। অথচ এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যা কোনো মুসলমানের অজানা থাকা উচিত নয় যে, মুসলমানদের পরিভাষায় এবং ইসলামী ভূখণ্ডের প্রচলিত প্রথায় ‘শরীয়ত’ (الشرع) বলতে একমাত্র ইসলামী শরীয়তকেই বোঝায়। আমি এই উদাহরণটি কেবল এ কারণেই পেশ করেছি যাতে আমি আপনাদেরকে মানুষের মন ও মননশীলতায় এই আইনগুলোর আচ্ছন্ন হওয়ার প্রভাব দেখাতে পারি।
হে সুধীবৃন্দ!
নিশ্চয়ই কোনো জাতি যখন দীর্ঘ বছর ধরে কোনো আইন দ্বারা শাসিত হয়, তখন তা হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত হয়ে যায় এবং তাতে শুভ্র বা কৃষ্ণ দাগ রেখে যায়। এটি আত্মাকে রঞ্জিত করে এবং মনকে তার ওপর অভ্যস্ত করে তোলে। আর এই বিদেশি আইনগুলো উম্মাহর হৃদয়ে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং সেগুলোকে ইউরোপের ন্যায় নিছক বস্তুবাদী নাস্তিকতার রঙে রঞ্জিত করেছে; যা অন্তর থেকে আল্লাহর ভয় ও তাঁর প্রতি পরম ভীতিকে বিলীন করে দিয়েছে। অথচ ইসলামী বিধান ব্যবস্থা (التشريع الإسلامي) মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করত, তাকে কোমল করত এবং পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করত। ফলে একজন মুসলমান যখন দেখত যে কোনো শাসক শাসন করছেন কিংবা কোনো বিচারক ফয়সালা করছেন, তখন সে উপলব্ধি করত যে তার দ্বীন তাকে তার অন্তরের অন্তস্তল থেকে তা শ্রবণ ও আনুগত্য করার নির্দেশ দিচ্ছে। মানুষের নিকট দায়বদ্ধ হওয়ার পূর্বেই সে কিয়ামতের দিবসে মহান আল্লাহর দরবারে এ ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে বলে জানত। সে জানত যে, যদি সে তার বিচারকের ফয়সালা অমান্য করে, তবে সে আসলে তার প্রতিপালকেরই অবাধ্য হলো—এমনকি সে যদি নিশ্চিতও হতো যে বিচারক তার রায়ে ভুল করেছেন এবং ফয়সালাকৃত বিষয়টি...
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
له مأموراً من قبل دينه أن لا يأخذ ما قضي له به إن كان يعلم أنه غير حقه، كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنكم تختصمون إلي، ولعل بعضكم أن يكون ألحن بحجته من بعض، فأقضي له على نحو مما أسمع منه، فمن قطعت له من حق أخيه شيئاً فلا يأخذه، فإنما أقطع له به قطعة من النار".
هذه تربية الشريعة للأمة. فانظروا تربية القوانين المادية الأجنبية، لم يحترمها المسلمون في عقيدتهم ودينهم، وإنما رهبوها وخافوا آثارها الظاهرة، ولم يعتقدوا وجوب طاعتها في أنفسهم، فكان ما نرى من اللدد في الخصومة، والإسراف في التقاضي، واتباع المطامع، والتغالي في إطالة الإجراءات، والتفصي بالحيل القضائية عن تنفيذ الأحكام، وعم هذا كله دور القضاء، شرعية وغيرها. ذلك أن الناس مردت نفوسهم على الباطل، وفقدوا قلوبهم، فاتبعوا شهواتهم وأسلسوا لشيطان المادة مقادهم. وكان ما نرى من إباحية سافرة فاجرة، عصفت بالأخلاق السامية، والتقاليد النبيلة، حتى كادت توردنا موارد الهلكة.
أيها السادة!
إن قسم المتعلمين في الأمة إلى فريقين أو معسكرين مكن لأقواهما
একজন ব্যক্তির জন্য তার দ্বীনের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ রয়েছে যে, তার অনুকূলে কোনো ফয়সালা হয়ে থাকলেও সে যেন তা গ্রহণ না করে যদি সে জানে যে তা তার প্রকৃত অধিকার নয়। যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমার নিকট তোমাদের বিবাদ নিয়ে আসো, আর তোমাদের মধ্যে কেউ হয়তো অন্যজনের তুলনায় তার যুক্তিতে অধিক বাকপটু হতে পারে, ফলে আমি তার নিকট থেকে যা শুনি সেই অনুযায়ীই তার অনুকূলে ফয়সালা প্রদান করি। সুতরাং আমি যদি কাউকে তার ভাইয়ের হকের কোনো কিছু প্রদান করি, তবে সে যেন তা গ্রহণ না করে; কারণ আমি তাকে আগুনের একটি টুকরোই প্রদান করছি।”
এটিই হলো উম্মাহর জন্য শরীয়তের শিক্ষা। পক্ষান্তরে বিদেশি বস্তুবাদী আইনের শিক্ষা লক্ষ্য করুন; মুসলমানরা তাদের আকিদা ও দ্বীনের ক্ষেত্রে সেগুলোকে সম্মান করেনি, বরং তারা কেবল সেগুলোর প্রকাশ্য প্রভাবকে ভয় পেয়েছে। তারা অন্তরের অন্তস্তলে সেগুলোর আনুগত্য করা আবশ্যক বলে বিশ্বাস করেনি। ফলে আমরা বিবাদের ক্ষেত্রে চরম হঠকারিতা, মামলা-মোকদ্দমায় বাড়াবাড়ি, লালসার অনুসরণ, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টা এবং বিচারিক কৌশলের মারপ্যাঁচে রায় কার্যকর করা থেকে পলায়ন করার প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। এ অবস্থা শরীয়ত ভিত্তিক আদালতসহ বিচার ব্যবস্থার সকল ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। এর কারণ হলো, মানুষের নফস বাতিলের ওপর অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা তাদের হূদয় হারিয়ে ফেলেছে; ফলে তারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে এবং জড়বাদী শয়তানের নিকট নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সঁপে দিয়েছে। এর ফলে আমরা এক নগ্ন ও পাপাচারী উচ্ছৃঙ্খলতা দেখতে পাচ্ছি, যা উচ্চতর নৈতিকতা ও মহৎ ঐতিহ্যসমূহকে তছনছ করে দিয়েছে, এমনকি তা আমাদের প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে উপনীত করেছে।
হে সুধীবৃন্দ!
উম্মাহর শিক্ষিত সমাজকে দুটি দল বা শিবিরে বিভক্ত করা তাদের মধ্যে শক্তিশালী পক্ষটিকে সুযোগ করে দিয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
من أن يستأثر بالتشريع والإفتاء، فيحدوا بالأمة ويعدل بها عن سواء الصراط. ذلك أنهم أفهموا وعلموا أن مسائل التشريع ليست من الدين، وظنوا أن الدين الإسلامي كغيره من الأديان، وأن تعرض العلماء والفقهاء لهذه المسائل تعرض لما لا يعنيهم، وعصبية للاحتفاظ بسلطانهم، شبهوهم بالقسس في أوربة، وغلبت عليهم مبادئ الثورة الفرنسية في محاربة الكنيسة، فاندفعوا في عصبيتهم ضد شريعتهم ودينهم، وأبوا أن يسمعوا قولاً لقائل، أو نصحاً لناصح. وذهبوا يضعون القوانين للمسلمين، على غرار القوانين التي وضعت لغيرهم، بأنها توافق مبادئ التشريع الحديث!!
وابتلي فريق منا بهذا التشريع الحديث، فذهبوا يلعبون بدينهم، فيما عرفوا وما لم يعرفوا، فأحلوا وحرموا، وأنكروا وأقروا، واضطربوا وترددوا، وكثير منهم يؤمن بالإسلام، ويحرص على التمسك به، ولكنه أخطأ الطريق، بما أُشرب في قلبه من مبادئ التشريع الحديث. واندفع العامة والدهماء وراءهم، يقلدون سادتهم وكبراءهم، ويتبعون خطواتهم. ومرج أمر الناس واضطربوا، حتى إنهم ليحاولون علاج أمراضهم النفسية والاجتماعية بمبادئ التشريع الحديث. وبين أيديهم كتاب الله: (مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَاء لِّمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى
আইন প্রণয়ন (التشريع) এবং ফতোয়া প্রদানের (الإفتاء) ক্ষেত্রে একক আধিপত্য বিস্তার করা থেকে, যাতে তারা উম্মাহকে পরিচালিত করে এবং সরল পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়। এর কারণ হলো, তাদের বোঝানো হয়েছে এবং তারা জেনেছে যে আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা ধারণা করেছে যে ইসলাম ধর্মও অন্যান্য ধর্মের মতো, আর আলেম ও ফকিহদের এই সকল বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা মানে এমন বিষয়ে জড়ানো যা তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, এবং এটি তাদের নিজস্ব কর্তৃত্ব বজায় রাখার একটি সংকীর্ণতা মাত্র। তারা তাদের ইউরোপের পাদ্রীদের সাথে তুলনা করেছে এবং গির্জার বিরুদ্ধে ফরাসি বিপ্লবের নীতিগুলো তাদের ওপর প্রবল হয়ে উঠেছে। ফলে তারা নিজেদের শরিয়ত (الشريعة) ও দ্বীনের বিরুদ্ধে বিদ্বেষে লিপ্ত হয়েছে এবং কোনো বক্তার কথা বা কোনো উপদেশদাতার উপদেশ শুনতে অস্বীকার করেছে। তারা আধুনিক আইন প্রণয়নের (التشريع الحديث) মূলনীতির সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়ার অজুহাতে অন্যান্য জাতির জন্য প্রণীত আইনের আদলে মুসলমানদের জন্য আইন তৈরি করতে শুরু করেছে!!
আমাদের একটি দল এই আধুনিক আইন প্রণয়ন (التشريع الحديث) দ্বারা পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে। ফলে তারা তাদের দ্বীন নিয়ে খেলা শুরু করেছে, সে বিষয়ে তারা জানুক বা না জানুক। তারা হালাল (أحلوا) ও হারাম (حرموا) সাব্যস্ত করেছে, কোনো বিষয়কে অস্বীকার (أنكروا) ও স্বীকৃতি (أقروا) দিয়েছে এবং তারা বিভ্রান্ত ও দ্বিধান্বিত হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ইসলামের প্রতি ঈমান রাখে এবং তা আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে, কিন্তু আধুনিক আইন প্রণয়নের (التشريع الحديث) মূলনীতিগুলো তাদের অন্তরে গেঁথে যাওয়ার কারণে তারা সঠিক পথ হারিয়ে ফেলেছে। সাধারণ মানুষ ও জনতা তাদের পেছনে অন্ধভাবে ছুটেছে, তারা তাদের নেতা ও বড়দের অনুকরণ করেছে এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। মানুষের বিষয়াদি বিশৃঙ্খল ও অস্থির হয়ে পড়েছে, এমনকি তারা তাদের মানসিক ও সামাজিক ব্যাধিগুলো আধুনিক আইন প্রণয়নের (التشريع الحديث) মূলনীতি দিয়ে নিরাময়ের চেষ্টা করছে। অথচ তাদের সামনেই আল্লাহর কিতাব বিদ্যমান: (তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য ও হেদায়েত...
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ) (1) و (هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاء وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى) (2) ولكن قومنا اكتفوا من القرآن بالتغني به في المآتم والمواسم، وتركوا تدبر معانيه واتباع هديه، واتخذوا هذا القرآن مهجوراً!
ثم قد أجرمت هذه القوانين في حق الأمة والدين أكبر الجرائم، فبثت في كثير من الناس روح الإلحاد والتمرد على الدين، أو حمتها وساعدت على بقائها ونمائها. وحمت التبشير وما وراءه من منكرات ومفاسد، بما تدعيه من حرية الأديان، ولم يوجد دين يحمي حرية الأديان كما حماها الإسلام، ولم توجد أمة وسعت مخالفيها وأفسحت لهم صدروها كما فعل المسلمون. ولكن الإسلام دين ودولة معا، فهو لا يأبى على اللاجئين إليه أن يحتفظوا بعقائدهم، بل هو يحميهم من العدوان. فإن كانوا معاهدين أو محالفين وفى لهم بعهدهم، وإن كانوا رعية له كان لهم ما للمسلمين وعليهم ما عليهم. ولكنه يأبى كل الإباء أن يكونوا دولة في الدولة، يعبثون كما يشاؤون، ويفتنون الناس عن دينهم، ويدعون أن لهم حقوقاً خاصة ليست لعامة الأمة، وأن لهم أن يتقاضوا إلى قضاء غير قضائه، أو يتحاكموا إلى شريعة غير شريعته.
--------------------------------------------
...এবং মুমিনদের জন্য রহমত) (১) এবং (আপনি বলুন, এটি মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও প্রতিষেধক; আর যারা ঈমান আনে না, তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং এটি তাদের জন্য অন্ধত্ব স্বরূপ) (২) কিন্তু আমাদের জাতি কুরআনকে কেবল শোকসভা ও উৎসব-অনুষ্ঠানগুলোতে সুমধুর স্বরে তিলাওয়াত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। তারা এর মর্মার্থ নিয়ে গবেষণা করা এবং এর হেদায়েত বা দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা বর্জন করেছে এবং এই কুরআনকে পরিত্যক্ত হিসেবে গ্রহণ করেছে!
অতঃপর, এই আইনগুলো উম্মাহ ও দ্বীনের অধিকারে জঘন্যতম অপরাধ করেছে। ফলে এগুলো বহু মানুষের মাঝে নাস্তিকতা এবং দ্বীনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মানসিকতা ছড়িয়ে দিয়েছে, অথবা তাকে সুরক্ষা দিয়েছে এবং এর স্থায়িত্ব ও বিকাশে সহায়তা করেছে। এগুলো তথাকথিত ধর্মীয় স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে মিশনারি তৎপরতা এবং এর নেপথ্যের যাবতীয় গর্হিত ও প্রত্যাখ্যাত (منكرات) বিষয় এবং ফাসাদকে সুরক্ষা দিয়েছে। অথচ ইসলাম যেভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দিয়েছে, তেমনটি আর কোনো ধর্ম দেয়নি। মুসলিমরা তাদের বিরুদ্ধবাদীদের জন্য যেভাবে প্রশস্ততা ও উদারতা দেখিয়েছে, তেমনটি অন্য কোনো জাতি করেনি। কিন্তু ইসলাম একই সাথে দ্বীন ও রাষ্ট্র; তাই এটি তার নিকট আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ নিজ আকিদা বা বিশ্বাস বজায় রাখাকে অস্বীকার করে না, বরং তাদের শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। তারা যদি চুক্তিবদ্ধ বা মিত্র হয়, তবে তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করা হয়। আর যদি তারা রাষ্ট্রের প্রজা হয়, তবে মুসলিমদের ন্যায় তাদেরও সমঅধিকার ও সমদায়িত্ব থাকে। কিন্তু ইসলাম এটিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে যে, তারা রাষ্ট্রের ভেতরে আলাদা এক রাষ্ট্র হয়ে থাকবে, নিজেদের খেয়ালখুশি মতো বিশৃঙ্খলা করবে, মানুষকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার ফেতনায় ফেলবে এবং দাবি করবে যে সাধারণ জনগণের ন্যায় নয় বরং তাদের বিশেষ অধিকার রয়েছে—যাতে তারা ইসলামী বিচার ব্যবস্থা ব্যতিরেকে অন্য বিচারালয়ে বিচার প্রার্থনা করতে পারে কিংবা ইসলামী শরিয়ত ব্যতীত অন্য বিধানের কাছে বিচার চাইতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كلا، ما كان الإسلام ليرضى بشيء من هذا، لأنه لم يأت للمسلمين بالذل والهوان، وإنما جاءهم بالعز والمنعة، وأمرهم ألا يرضوا إلا أن تكون كلمة الله هي العليا. فمن دخل في الدين قبله، ومن خرج منه قتله، لأن الردة عن الإسلام شر أنواع الخيانة العظمى.
الإسلام لا يرضى أن يكون في بلاده حكم غير حكمه، ولا يعرف امتيازاً لآجنبي على رعيته، ولا لذي دين غيره في دولته، بل من شاء من غير أهله أن يكون في بلاده، منحه حمايته، ولم يعرض لعقيدته، على أن يكون خاضعاً لحكمه وقانونه في كل أمره.
أيها السادة!
كان من أثر مبادئ التشريع الحديث أن تعجز الأمة عن تربية ناشئتها على قواعد الإسلام، وأن تحاول جعل تعليم الدين إجباريا في مدارسها فلا تصل إليه، وأن توجد في البلد مدارس تربي أبناء المسلمين وتعلمهم غير دينهم، وغير لغتهم، فتسلخهم من الأمة، ثم يكونون حرباً عليها في عقائدها وآدابها. وأن يكون ذلك عن رضى المستضعفين من آبائهم؛ وأن يأبى مديرو هذه المدارس أن يسمعوا لأمر وزارة المعارف، إذ أمرتهم بتعليم الإسلام لأبناء المسلمين، بما يشعرون في أنفسهم من كبر وغرور، وبما يتوهمون فينا من ضعف ولين، وبما يظنون من حمايتهم بمبادئ التشريع الحديث.
না, ইসলাম এর কোনো কিছুতেই সন্তুষ্ট হতে পারে না; কেননা এটি মুসলমানদের জন্য লাঞ্ছনা ও অবমাননা নিয়ে আসেনি, বরং এটি তাদের জন্য নিয়ে এসেছে মর্যাদা ও শক্তি। ইসলাম তাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা ততক্ষণ সন্তুষ্ট না হয় যতক্ষণ না আল্লাহর বাণী সর্বোচ্চ হয়। সুতরাং যে এই দ্বীনে প্রবেশ করে সে তাকে গ্রহণ করে নেয়, আর যে তা থেকে বের হয়ে যায় তাকে সে মৃত্যুদণ্ড দেয়, কারণ ইসলাম থেকে স্বধর্মত্যাগ (الردة) হলো চরম পর্যায়ের দেশদ্রোহিতার নিকৃষ্টতম ধরন।
ইসলাম তার ভূখণ্ডে নিজ শাসন ব্যতীত অন্য কোনো শাসন চালু থাকাকে মেনে নেয় না এবং তার প্রজাসাধারণের ওপর কোনো বিদেশির বিশেষ অধিকারকে স্বীকার করে না, এমনকি তার রাষ্ট্রের অধীনে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্যও কোনো বিশেষ সুযোগ নেই। বরং অমুসলিমদের মধ্য থেকে যারা ইসলামি ভূখণ্ডে থাকতে চায়, ইসলাম তাদের নিরাপত্তা প্রদান করে এবং তাদের আকিদাহ (عقيدة) বা বিশ্বাসের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করে না, তবে শর্ত হলো তাকে তার যাবতীয় বিষয়ে ইসলামের শাসন ও আইনের অনুগত হতে হবে।
হে মহোদয়গণ!
আধুনিক আইন প্রণয়ন (تشريع) নীতির অন্যতম প্রভাব ছিল এই যে, উম্মাহ তার নতুন প্রজন্মকে ইসলামের মূলনীতির ওপর গড়ে তুলতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং নিজ বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা করেও তাতে সফল হতে পারে না। দেশে এমন সব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় যা মুসলিম সন্তানদের লালন-পালন করে এবং তাদের নিজ ধর্ম ও ভাষা ব্যতীত অন্য কিছু শেখায়; ফলে তারা তাদের উম্মাহ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে উম্মাহর আকিদাহ (عقيدة) ও শিষ্টাচারের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে লিপ্ত হয়। আর এটি ঘটে তাদের দুর্বলচিত্ত অভিভাবকদের সম্মতিক্রমেই। এসব বিদ্যালয়ের পরিচালকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশ মানতে অস্বীকার করে যখন তাদের মুসলিম সন্তানদের ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এটি ঘটে তাদের অন্তরে বিরাজমান অহংকার ও দম্ভের কারণে, আমাদের মধ্যে তারা যে দুর্বলতা ও নমনীয়তা কল্পনা করে তার কারণে এবং আধুনিক আইন প্রণয়ন (تشريع) নীতির মাধ্যমে তারা যে সুরক্ষার ধারণা পোষণ করে তার কারণে।
(খণ্ড: ১)
আল-কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ইয়াজিবু আন ইয়াকুনা মাসদারাল কাওয়ানীন ফী মিসর ওয়া মাআহু আশ-শারউ ওয়াল লুগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إن فرنسة، هي حامية النصرانية في الشرق، وداعية الإلحاد في الغرب، والتي قامت ثورتها الكبرى على عداء الدين، حين رأى رجلها العظيم، المارشال بيتان، عواقب ما جنى الانحلال على أمته، لم يتردد في جعل تعليم الدين إجبارياً في كل المدارس، ولم يفكر في مبادئ التشريع الحديث.
وكان من أثر التربية المدنية المادية، والغلو في تقليد أوربة وترسم خطاها، أن ظن ضعاف الإيمان أن التعليم الجامعي لا يكون صحيحاً إلا بمحاربة الدين، أو بالانسلاخ من الدين. فذهب الذين تولوا كبره منهم يذيعون هذا النغم، ويضربون على هذا الوتر، يستهوون العقول الناشئة، ويستميلون القلوب الغضة. يريدون أن يخدعوا الشباب، والشباب سياج الأمة والدين.
هذا أقرب مثل لما أقول: نشرت جريدة البلاغ قريباً (9 مارس سنة 1941م) أن اللجنة التي ألفت في وزارة المعارف للعمل على ضم دار العلوم إلى الجامعة، لا تزال أمامها مسائل تحتاج إلى البحث والتمحيص، قبل استقرار الرأي، وأن منها "مسألة الثقافة الإسلامية، وهل تجتمع مواد الدراسة في الدار على إحياء هذه الثقافة والتخصص فيها من جميع وجوهها؟ أم تفتح في المناهج ثغرة للمباحث الحرة، إلى أن تتخلص دار العلوم من لونها القديم، وتصبح جامعية في مناهجها وفكرتها"؟!
ফ্রান্স হলো প্রাচ্যে খ্রিষ্টধর্মের রক্ষক এবং পাশ্চাত্যে নাস্তিকতার আহ্বানকারী; যার মহান বিপ্লব ধর্মের সাথে শত্রুতার ওপর ভিত্তি করে সংঘটিত হয়েছিল। যখন তাদের মহান ব্যক্তি মার্শাল পেটেইন তার জাতির ওপর নৈতিক অবক্ষয়ের কুফল প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তিনি সমস্ত বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে দ্বিধা করেননি এবং আধুনিক আইন প্রণয়নের মূলনীতিগুলো নিয়ে চিন্তা করেননি।
বস্তুবাদী নাগরিক শিক্ষা এবং ইউরোপের অন্ধ অনুকরণ ও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে বাড়াবাড়ির প্রভাবেই ঈমানি দিক দিয়ে দুর্বল ব্যক্তিরা মনে করতে শুরু করেছে যে, ধর্মকে আক্রমণ করা বা ধর্ম থেকে বিচ্যুত হওয়া ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা সঠিক (صحيح) হতে পারে না। ফলে তাদের মধ্যে যারা এর অগ্রভাগে ছিল, তারা এই সুর প্রচার করতে শুরু করল এবং এই পথ অবলম্বন করে তরুণদের মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত ও কোমল হৃদয়গুলোকে প্রলুব্ধ করতে লাগল। তারা যুবসমাজকে প্রতারিত করতে চায়, অথচ এই যুবসমাজই উম্মাহ ও দ্বীনের রক্ষাকবচ।
আমি যা বলছি তার নিকটতম উদাহরণ হলো: আল-বালাগ পত্রিকা সম্প্রতি (৯ মার্চ ১৯৪১ ঈসায়ী) প্রকাশ করেছে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দারুল উলুমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একীভূত করার জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের সামনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা গবেষণা ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের মুখাপেক্ষী। তার মধ্যে একটি হলো "ইসলামি সংস্কৃতির বিষয়; আর এই সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ এবং এর সকল দিক নিয়ে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের জন্য কি মাদরাসার পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলো একত্রিত করা হবে? নাকি কারিকুলামে মুক্ত গবেষণার জন্য এমন কোনো পথ উন্মুক্ত করা হবে, যাতে দারুল উলুম তার প্রাচীন রূপ থেকে মুক্ত হয়ে তার পাঠ্যক্রম ও চিন্তাধারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদল গ্রহণ করতে পারে"?!