(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: -)
المستدرك على الصحيحين - ط الرسالة   (أبو عبد الله الحاكم)

القسم: كتب السنة

الكتاب: المستدرك على الصحيحين

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن عبد الله الحاكم النيسابوري (321 - 405 هـ)

حقّقه وخرّجه وعلّق عليه: عادل مرشد (جـ 1، 4، 7 بالاشتراك، 9)، د أحمد برهوم (جـ 2)، د محمد كامل قرة بلي (جـ 3، 5، 6)، د سعيد اللحام (جـ 7 بالاشتراك، 8)

الناشر: دار الرسالة العالمية

الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م

عدد الأجزاء: 9

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1445

আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহীহাইন - আর-রিসালা সংস্করণ   (আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহীহাইন

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নাইসাবুরি (৩২১ - ৪০৫ হিজরি)

তাহকিক, তাখরিজ ও টীকা প্রদান করেছেন: আদিল মুরশিদ (খণ্ড ১، ৪، ৭ যৌথভাবে، ৯), ড. আহমদ বারহুম (খণ্ড ২), ড. মুহাম্মদ কামিল কুররা বালি (খণ্ড ৩، ৫، ৬), ড. সাঈদ আল-লাহহাম (খণ্ড ৭ যৌথভাবে، ৮)

প্রকাশক: দারুর রিসালাতিল আলামিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৯

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تقريظ العلّامة المحدِّث الشيخ شعيب الأرنؤوط رحمه الله وأجزل مثوبته

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نحمده ونستعينه، من يهده الله فلا مُضِلَّ له، ومن يُضلِل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدًا عبده ورسوله، أما بعد:

فإن كتاب الإمام الحافظ أبي عبد الله محمد بن عبد الله الحاكم النَّيسابوري ليُعَدُّ من مصنفات الحديث النبوي المهمة التي عوَّل عليها أئمة الإسلام، وعُنُوا تمام العناية بمطالعة الأحاديث والآثار منها، نظرًا لاشتماله على طرق عزيزة لأحاديثَ وآثارٍ يحتاج إليها طالبُ العلم، وذلك لسَعَة اطلاع الحاكم النيسابوري رحمه الله، وتفرده بالسماع من شيوخ لم يُقْضَ لغيره السماعُ منهم، لأحاديث ليست عند غير أولئك الشيوخ، خصوصًا في بلده نيسابور الذي قَطَنه علماءُ أجلّاءُ وحفاظٌ عظماءُ، ذكرهم الحاكمُ في كتابه الجليل "تاريخ نيسابور".

وكتابٌ بهذه المكانة الرفيعة جديرٌ بأن تُحقَّق نصوصُه، وتُخرج أحاديثُه، وأن يُقابل على أصوله الخطية العتيقة، وأن يُضبَط ما فيها من أسماء الرواة المشتبهة، وألفاظ الحديث المشكلِة، وأن يُبيَّن ما فيه إبهام أو إيهام من الأسماء والألفاظ.

وقد تصدّى للقيام بذلك كلّه ثُلّةٌ من أصحابي الأوفياء الأساتذة الذين تخرَّجوا على يديَّ في مكتب تحقيق التراث الإسلامي التابع لمؤسسة الرسالة العالمية، ممن لازَموني لأكثر من عشرين عامًا، وبعضهم تجاوز بصحبتي الثلاثين عامًا، وأفادوا مني كافَّة العلومِ التي لا يستغني عنها المحقِّق، من دراسةٍ للأصولِ الخَطيّة، ومقابلتها، ومعرفة خطوطها ورموزها، وضبط مشكلات الألفاظ، وتخريج الأحاديث
আল্লামা মুহাদ্দিস শায়খ শুআইব আল-আরনাউত (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর প্রতিদান বৃদ্ধি করুন)-এর প্রশংসামূলক অভিমত

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর:

নিশ্চয়ই ইমাম হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরী-এর কিতাবটি হাদিসে নববীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংকলন হিসেবে বিবেচিত, যার ওপর ইসলামের ইমামগণ নির্ভর করেছেন। তাঁরা এর হাদিস ও আসারসমূহ (সাহাবী ও তাবেঈদের বর্ণনা) পাঠ করার ব্যাপারে পূর্ণ যত্ন নিয়েছেন। কারণ এতে হাদিস ও আসারের এমন কিছু বিরল সূত্র রয়েছে যা ইলম অন্বেষণকারীদের প্রয়োজন হয়। এটি সম্ভব হয়েছে হাকিম আন-নিশাপুরী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর গভীর পাণ্ডিত্য এবং এমন সব শায়খদের কাছ থেকে শোনার কারণে যাদের থেকে শোনার সুযোগ অন্যদের হয়নি; এমন কিছু হাদিস যা সেই শায়খদের ছাড়া অন্য কারও নিকট ছিল না, বিশেষ করে তাঁর নিজের শহর নিশাপুরে, যেখানে মহান আলেম ও বড় বড় হাফেজগণ বসবাস করতেন, যাঁদের কথা হাকিম তাঁর গৌরবময় গ্রন্থ "তারিখে নিশাপুর"-এ উল্লেখ করেছেন।

এত উচ্চ মর্যাদার একটি গ্রন্থ এই বিষয়ের যোগ্য যে, এর মূল পাঠসমূহ (নাস) তাহকিক (সম্পাদনা) করা হবে, এর হাদিসগুলোর তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করা হবে, একে এর প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখা হবে, এতে বর্ণনাকারীদের যেসব নাম সন্দেহপূর্ণ হতে পারে তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হবে, হাদিসের কঠিন শব্দাবলি ঠিক করা হবে এবং নাম ও শব্দের মধ্যে যে অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তি থাকতে পারে তা স্পষ্ট করা হবে।

আর এই পুরো কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আমার একদল অনুগত সহযোগী শিক্ষকবৃন্দ, যাঁরা 'মুআসসাসাতুর রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ'-এর অন্তর্ভুক্ত 'মাকতাব তাহকিকুত তুরাস আল-ইসলামি'-তে আমার তত্ত্বাবধানে শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তাঁরা বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমার সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁদের কেউ কেউ আমার সাহচর্যে ত্রিশ বছর অতিবাহিত করেছেন। তাঁরা আমার নিকট থেকে সেই সমস্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন যা একজন গবেষকের (মুহাক্কিক) জন্য অপরিহার্য—যেমন পাণ্ডুলিপি অধ্যয়ন করা, সেগুলো মূলের সাথে মিলিয়ে দেখা, হস্তলিপি ও সংকেতসমূহ চেনা, শব্দগত জটিলতা নিরসন করা এবং হাদিসের তাখরিজ করা।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
النبوية، والحكم عليها، وتَنقِيد ما يَقعُ للمصنِّفين من مُؤاخذاتٍ، والتنبيه عليها، مع المعرفة بعلوم اللغة العربية، والإلمام بعلوم التفسير والفقه وأصوله.

وكنتُ على اطّلاع بمُجريَات العمل الذي قامُوا به خيرَ قيام، مُتصبِّرين على ما يَعتَرِض عملَهم في هذا الكتاب من صُعوباتٍ ومَشاقَّ، نظرًا لحاجة كثيرٍ من أحاديثه إلى تَروٍّ وأناةٍ، خصوصًا في الحكم على أسانيد الحاكم نفسِه، الأمرُ الذي تطلَّب منهم أحيانًا أن يَمكثُوا الساعاتِ الطِّوال حتى يَتَسنّى لهم إعطاءُ الحُكم المناسب على الإسناد، بعد مُشاورةٍ فيما بينهم ومُدارسةٍ.

فكان عملُهم هذا بحقٍّ عملًا فريدًا متميزًا، وقد ساروا فيه وَفْقَ ذلك المنهج العلمي المعتدل الذي أفدتُهم به ودرَّبتهم عليه لسنين طويلة، حتى غدا كلُّ واحدٍ منهم أهْلًا لأن يضطلعَ بأعباء هذا العمل المبارك مُنفردًا، وأن يُفيد الطَّلبةَ في هذا الفنِّ فائدةً عظيمةً.

فالله تعالى أسألُ أن يتمم بالصالحات أعمالَهم، وأن يُلِهمَهم الخيرَ والسدادَ، وأن يستمروا على ما أَنِستُه منهم من الدِّقّة والإتقان في العمل، وأن يُخلِصوا الله دائمًا في القول والعمل، وأن لا يألوا جهدًا في التَّشاور فيما بينهم فيما هم بصَدَدِه من الأعمال، والله وليُّ التوفيق والسَّداد، لا ربَّ غيرُه.

شعيب بن محرّم الأرنؤوط

شهر أيار/ 2016 م

الموافق لشعبان/ 1437 ه
নবুওয়াতী (হাদীসসমূহ), সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান করা, গ্রন্থকারদের যে সকল ভুল-ভ্রান্তি বা আপত্তিকর বিষয় প্রকাশ পায় সেগুলো সমালোচনা করা এবং সেগুলোর প্রতি সজাগ করা; সেই সাথে আরবি ভাষা বিজ্ঞানে পাণ্ডিত্য এবং তাফসীর, ফিকহ ও উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান রাখা।

তারা যে কাজগুলো সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করেছেন তার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম। এই কিতাবের কাজে তাদের সামনে আসা বিভিন্ন কষ্ট ও প্রতিকূলতার ওপর তারা ধৈর্য ধারণ করেছেন; কারণ এর অনেক হাদীসের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত ধীরস্থিরতা ও গভীর চিন্তার প্রয়োজন ছিল, বিশেষ করে খোদ হাকিমের সনদগুলোর ওপর হুকুম দেওয়ার ক্ষেত্রে। এই বিষয়টি অনেক সময় তাদের কাছ থেকে দীর্ঘ সময় ব্যয় করার দাবি রাখত, যাতে করে তারা পারস্পরিক পরামর্শ ও পর্যালোচনার পর সনদের ওপর উপযুক্ত সিদ্ধান্ত বা হুকুম প্রদান করতে পারেন।

বস্তুত তাদের এই কাজ ছিল একটি অনন্য ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কর্ম। তারা এতে সেই মধ্যমপন্থী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন যা আমি তাদেরকে শিখিয়েছি এবং দীর্ঘ বছর ধরে যার ওপর তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এমনকি এখন তাদের প্রত্যেকেই এই বরকতময় কাজের গুরুভার এককভাবে বহন করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন এবং তারা এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের মহান কল্যাণ সাধনে সক্ষম।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের কর্মসমূহকে নেক কাজের মাধ্যমে পূর্ণতা দান করেন, তাদেরকে কল্যাণ ও সঠিক পথের দিশা দেন এবং আমি তাদের কাজের মধ্যে যে সূক্ষ্মতা ও নিপুণতা দেখেছি তা যেন তারা অব্যাহত রাখেন। তারা যেন সর্বদা কথা ও কাজে আল্লাহর জন্য ইখলাস বজায় রাখেন এবং বর্তমানে তারা যে সকল কাজ করছেন সেগুলোর ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করতে কোনো ত্রুটি না করেন। আল্লাহই তাওফীক ও সঠিক পথ প্রদর্শনের মালিক, তিনি ছাড়া আর কোনো রব নেই।

শুআইব বিন মুহাররাম আল-আরনাউত

মে মাস/ ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ

মুতাবিক শাবান/ ১৪৩৭ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لله رب العالمين، الذي بَرَأ العبادَ وصوّرهم فأحسن صُوَرَهم، والذي أنعم عليهم بعظيم النِّعَم، وعافاهم من خَطير النِّقَم، وأجزل لهم العطاء، وامتَنَّ عليهم بمزيد السّخاء، ثم قهر العبادَ بالنقص والنسيان، والقصور عن بلوغ غاية الإتقان، ليكون هو وحدَه الربَّ المتفرِّدَ بصفات الكمال، المنزَّهَ عن صفات العيب والنقصان.

وصلَّى الله وسلَّم على سيدنا محمد بن عبد الله، صاحبِ المقام المحمود، الذي ميَّزه به ربُّه المعبود، يوم لا يغني والدٌ عن مولود، ولا وادٌّ عن مودُود، رزقنا الله شفاعته والشربَ من حَوضِه الكوثر المورود، برحمتِه سبحانَه وفضلِه المعهود، وبعدُ:

فإن كتاب أبي عبد الله الحاكم النيسابوري هذا الموسوم بـ "المستدرك على الصحيحين" لَيُعدُّ ديوانًا مهمًا من دواوين السنة النبوية المطهرة، بما اشتمل عليه من الروايات والطرق الفرائد، التي لم يسبقه إليها أحدٌ من أئمة الحديث، ولا غرو في ذلك؛ لأنه إنما استقى تلك الروايات والطُّرق الفريدة من مَوارد لم يشاركه فيها غيرُه؛ إذ كان بنيسابور، كبرى حواضر العالم الإسلامي في شتى العلوم آنذاك، ولا سيما علم الحديث، وتنقل أبو عبد الله بصبر وجَلَدٍ عزّ نظيره بين مدنها وقُراها ونواحيها، والْتقى بجمٍّ غفيرٍ من الشيوخ النيسابوريين الذين سجَّل أسماءهم في ديوانه المشهور الموسوم بـ "تاريخ نيسابور"، وترجم لكل منهم بترجمة تُظهر منزلتَه وحالَه.

وقد كان لأبي عبد الله الحاكم مصنفات جليلة في علم الحديث، وأجلُّها هذا الكتاب العظيم الذي سماه بـ "المستدرك على الصحيحين"، ولكن بالرغم من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের অবয়ব দান করেছেন ও তাদের রূপকে সর্বোত্তম করেছেন। যিনি তাদের ওপর মহান নিআমতসমূহ বর্ষণ করেছেন এবং তাদের ভয়াবহ বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত রেখেছেন। তিনি তাদের অঢেল দান করেছেন এবং অধিকতর উদারতার মাধ্যমে তাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন। অতঃপর তিনি বান্দাদের ওপর ত্রুটি ও বিস্মৃতি এবং পূর্ণতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছানোর অক্ষমতা অবধারিত করেছেন, যাতে কেবল তিনিই পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির অধিকারী অদ্বিতীয় রব হিসেবে সাব্যস্ত হন, যিনি সকল দোষ ও ত্রুটি থেকে পবিত্র।

এবং আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যিনি মাকামে মাহমুদের অধিকারী; যা দ্বারা তাঁর উপাস্য প্রতিপালক তাঁকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন সেই দিনে, যেদিন কোনো পিতা তার সন্তানের উপকারে আসবে না এবং কোনো বন্ধু তার বন্ধুর উপকারে আসবে না। আল্লাহ যেন তাঁর রহমত ও চিরাচরিত অনুগ্রহে আমাদের তাঁর শাফায়াত এবং তাঁর হাউজে কাওসার থেকে পান করার তাওফিক দান করেন। অতঃপর:

আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরীর 'আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন' নামক এই গ্রন্থটি পবিত্র সুন্নাহর সংকলনসমূহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন হিসেবে বিবেচিত। এতে এমন সব অনন্য বর্ণনা ও সূত্র রয়েছে, যার ক্ষেত্রে হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের মধ্যে কেউ তাঁর আগে যেতে পারেননি। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ তিনি সেই অনন্য বর্ণনা ও সূত্রগুলো এমন সব উৎস থেকে আহরণ করেছেন যাতে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার ছিল না। কেননা তিনি তৎকালীন ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের, বিশেষ করে হাদীস শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র নিশাপুরে অবস্থান করছিলেন। আবু আব্দুল্লাহ অতুলনীয় ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে এর শহর, গ্রাম ও জনপদগুলোতে বিচরণ করেছেন এবং বিপুল সংখ্যক নিশাপুরী শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, যাদের নাম তিনি তাঁর 'তারিখে নিশাপুর' নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং প্রত্যেকের এমন জীবনী উল্লেখ করেছেন যা তাদের মর্যাদা ও অবস্থা ফুটিয়ে তোলে।

হাদীস শাস্ত্রে আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের বহু মহান গ্রন্থ রয়েছে, আর সেগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো এই বিশাল গ্রন্থটি যার নাম তিনি দিয়েছেন 'আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন'। তবে তা সত্ত্বেও...
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
جلالة قدر هذا الكتاب فإنه لم يَنَل من العناية والتحقيق ما يستأهِلُه مثلُه من دواوين السُّنّة، فاستعنَّا بالله على خوض غِمار تحقيقه، ومقابلة أصوله الخطية، وتخريج نصوصه، وضبطه وشرحه.

وكنا قبل الشروع في تحقيق هذا الكتاب قد ظننّا باديَ الرأي - بنظرة عَجْلَى - أن الخطب فيه يسيرٌ، والعمل فيه هيِّن، ولا سيما أنّا قد حقَّقنا من قبله من كتب السنة ما ظنناه مُغنِيًا لنا عن الإطالة في هذا الكتاب؛ فعزمنا على أن نذكر عند كل حديثٍ في "المستدرك" نبذةً يَسيرةً نُظهر فيها الحُكم عليه وتخريجه من الكتب الستة مع "مسند أحمد" و "صحيح ابن حبان"، ثم نحيل القارئ إلى تحقيقاتنا لهذه الكتب السابقة، بحيث يجد فيها التوسعَ في الحكم على الحديث، والتخريجَ مستوفًى على الوجه الأتم الأكمل الذي يرتضيه أهل هذه الصناعة إن شاء الله.

ولكننا بعد قطع بعض مادّة هذا الكتاب تبيّن لنا أن الأمر بخلاف ما كنا نظنُّ، وأنَّ كثيرًا من أحاديثه هي بحاجة إلى مزيد من النظر والدراسة والبحث، ولا سيما وأن كثيرًا من رجاله الذين هم في طبقة متأخرة عن طبقة رجال الكتب الستة، يتطلب الأمر دراسة أحوالهم دراسة دقيقة وافية، وذلك أن كثيرًا منهم عثرنا على تراجمهم بعد التقصي والبحث الحثيث مبثوثةً في أثناء كتب التراجم والتاريخ والأنساب، ولم يُفرَد لهم تراجم واضحة تُظهر لنا حالتهم في رواية الحديث من حيث الضبط، خاصةً وأن كتاب "تاريخ نيسابور" لأبي عبد الله الحاكم مما لم يُعثَر عليه - حتى الآن - من كتب تراثنا الإسلامي الذي ربما يكون من جملة ما فُقِد أو تَلِف في بعض الكوائن السابقة المؤلمة التي عصفت ببلاد الإسلام؛ ككائنة التتار وغيرها.

وقد سَلِمَ لنا منه - بحمد الله - ما استصفاه الإمامُ أبو سعد السمعاني في كتابه الجليل الموسوم بـ "الأنساب الذي جعل كتاب "تاريخ نيسابور" للحاكم مِن أهم موارده في التراجم، فقد حرص على إيراد كثير من تراجم الرجال النيسابوريين
এই কিতাবটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এটি সুন্নাহর অন্যান্য সংকলনের মতো তেমন যত্ন ও সম্পাদনার (তাহকীক) মর্যাদা লাভ করেনি যার এটি দাবি রাখে। সুতরাং আমরা এর সম্পাদনার গভীরে প্রবেশ করতে, এর হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তুলনা করতে, এর পাঠ্যসমূহের উৎস নির্ণয় (তাখরীজ) করতে এবং একে সুবিন্যস্ত ও ব্যাখ্যা করতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি।

এই কিতাবটির সম্পাদনা শুরু করার পূর্বে আমরা প্রাথমিকভাবে—এক পলক দেখেই—মনে করেছিলাম যে, এর বিষয়টি সহজ এবং কাজটুকুও সাধারণ হবে; বিশেষত যেহেতু আমরা এর পূর্বে সুন্নাহর এমন কিছু কিতাব সম্পাদনা করেছি যা আমাদের ধারণা অনুযায়ী এই কিতাবে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিত। তাই আমরা সংকল্প করেছিলাম যে, 'আল-মুস্তাদরাক'-এর প্রতিটি হাদীসের ক্ষেত্রে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা প্রদান করব যাতে তার ওপর প্রদত্ত সিদ্ধান্ত (হুকুম) এবং 'কুতুবে সিত্তা' (ছয়টি প্রধান গ্রন্থ) সহ 'মুসনাদে আহমাদ' ও 'সহীহ ইবনে হিব্বান' থেকে তার উৎস বর্ণনা (তাখরীজ) করব। এরপর আমরা পাঠককে আমাদের পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর সম্পাদনার দিকে নির্দেশ করব, যাতে তিনি সেখানে হাদীসের মানের বিস্তারিত আলোচনা এবং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের নিকট গ্রহণযোগ্য পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত পদ্ধতিতে তাখরীজ খুঁজে পান, ইনশাআল্লাহ।

কিন্তু এই কিতাবের কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করার পর আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠল যে, বিষয়টি আমাদের ধারণার বিপরীত। এর অনেক হাদীসের জন্যই আরও গভীর পর্যবেক্ষণ, অধ্যয়ন ও গবেষণার প্রয়োজন। বিশেষ করে এর অনেক বর্ণনাকারী যেহেতু 'কুতুবে সিত্তা'র বর্ণনাকারীদের তুলনায় পরবর্তী স্তরের, তাই তাদের অবস্থা সম্পর্কে সূক্ষ্ম ও পর্যাপ্ত অধ্যয়ন প্রয়োজন। বিষয়টি এমন যে, তাদের অনেকের জীবনী আমরা সূক্ষ্ম অনুসন্ধান ও কঠোর প্রচেষ্টার পর বিভিন্ন জীবনীগ্রন্থ, ইতিহাস এবং বংশতালিকাবিষয়ক কিতাবসমূহের মাঝে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পেয়েছি। তাদের হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা ও নির্ভুলতার (জব্‌ত) দিকটি ফুটিয়ে তোলার মতো কোনো স্বতন্ত্র ও স্পষ্ট জীবনী তাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল না। বিশেষত ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের 'তারীখে নিশাপুর' কিতাবটি আমাদের ইসলামী ঐতিহ্যের এমন এক কিতাব যা এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি; যা সম্ভবত ইতিপূর্বে ইসলামী ভূখণ্ডে ঘটে যাওয়া তাতার আক্রমণ বা অন্যান্য বেদনাদায়ক বিপর্যয়ের ফলে হারিয়ে যাওয়া বা ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহর প্রশংসায়, সেই কিতাব থেকে আমাদের জন্য ততটুকুই সংরক্ষিত রয়েছে যা ইমাম আবু সা'দ আস-সামআনী তাঁর 'আল-আনসাব' নামক মহান গ্রন্থে চয়ন করেছেন। তিনি হাকিমের 'তারীখে নিশাপুর' কিতাবটিকে জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি নিশাপুরের অনেক বর্ণনাকারীর জীবনী উল্লেখ করার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
منه، فحفظ لنا أكثر ما نحتاجه من ذلك، ووجدنا فيه طَلِبَتَنا في كثير من الأحيان.

كما كان للإمام الخطيب البغدادي في كتابه "تاريخ بغداد" عنايةٌ بنقل عدد من تراجم البغداديين من كتاب الحاكم "تاريخ نيسابور"، ممَّن رحل إلى نيسابور أو ورد إليها، فذكرهم الحاكمُ لأجل ذلك.

ولكن عددًا من رجال الحاكم في "المستدرك" لم نعثُر لهم على تراجم في شيء من كتب التراجم والتاريخ والأنساب، فتطلَّب ذلك منا إمضاء الساعات الطِّوال في دراسة أحوالهم؛ وذلك من خلال سَبْر مرويّات الراوي، ثم مطابقتها لروايات غيره من الثقات لمعرفة مدى ضبطه، وتَقصَّينا - بقدر الطاقة - عن الرجال الذين رَوَوا عنه وسَبَرنا أحوالهم، فتكوَّن لدينا عن كل راوٍ من هؤلاء نبذةٌ عن رواياته والرواة عنه، استطعنا من خلالها الوصول إلى حكم يناسبه إن شاء الله.

وظهر لنا أيضًا أن عددًا من طرق المصنِّف ورواياته فيها عللٌ ومخالفاتٌ، فتطلَّب الأمرُ دراستَها دراسةً دقيقةً، مما دعانا إلى التوسع في بيان الطرق والروايات لتبيين ذلك، بغية الوصول إلى الحكم الأصوب على تلك الروايات والطرق.

فنرجو من المولى سبحانه وتعالى أن نكون قد وُفِّقنا في القيام بذلك، وأن نكون قد أنجزناه على أقرب وجهٍ، وأقوَم سبيلٍ، ونرجوه سبحانه أن يتقبل ذلك العملَ منا وأن يجعله في صحائف أعمالنا، فهو الكريم الذي لا يَخِيب سائلُه، ولا يُردُّ قاصدُه.

واللهَ تعالى نسألُ التوفيقَ والسدادَ دائمًا في القول والعمل، فإن كنا قد أَحسنّا الصنيعَ فمن الله وحدَه، وإن كنا قد أخلَلْنا ببعض ذلك فمن تقصيرنا وسهونا، وله الحمدُ سبحانه في الأولى والآخرة، وهو حسبُنا ونعم الوكيل.

ونقدِّم بين يدي هذا التحقيق فصولًا ومباحث مهمّة، تعرِّف بحال المصنّف أبي عبد الله الحاكم وكتابه "المستدرك"، فنقول - وبالله الاستعانة ومنه السداد والتوفيق -:
সেখান থেকে, ফলে তিনি আমাদের জন্য এর যা প্রয়োজন তার অধিকাংশ সংরক্ষণ করেছেন এবং আমরা প্রায়শই এতে আমাদের উদ্দিষ্ট বিষয় খুঁজে পেয়েছি।

যেমন ইমাম খতীব বাগদাদী তাঁর 'তারীখ বাগদাদ' গ্রন্থে ইমাম হাকিমের 'তারীখ নিসাবুর' থেকে বেশ কিছু বাগদাদবাসীর জীবনী উদ্ধৃত করার প্রতি যত্নবান ছিলেন, যাঁরা নিসাবুরে সফর করেছিলেন বা সেখানে পৌঁছেছিলেন, ফলে হাকিম সেই কারণে তাঁদের উল্লেখ করেছিলেন।

কিন্তু 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে হাকিমের উল্লিখিত বেশ কিছু বর্ণনাকারীর জীবনী আমরা জীবনীগ্রন্থ, ইতিহাস বা বংশপরম্পরা বিষয়ক কোনো গ্রন্থে খুঁজে পাইনি। এর ফলে তাঁদের অবস্থা পর্যালোচনার জন্য আমাদের দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়েছে; আর তা বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদীসসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার মাধ্যমে, অতঃপর তাঁর স্মৃতির প্রখরতা যাচাইয়ের জন্য অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে তা মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সাধ্যানুসারে সেইসব ব্যক্তিদের সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়েছি যাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের অবস্থা বিশ্লেষণ করেছি। ফলে এই প্রত্যেক বর্ণনাকারী সম্পর্কে তাঁদের বর্ণনা এবং তাঁদের নিকট থেকে যাঁরা বর্ণনা করেছেন সে বিষয়ে আমাদের কাছে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ আমরা তাঁদের জন্য উপযুক্ত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।

আমাদের কাছে এটিও প্রতীয়মান হয়েছে যে, গ্রন্থকারের বর্ণিত বেশ কিছু সূত্র ও বর্ণনায় ত্রুটি ও বৈপরিত্য রয়েছে, যার ফলে সেগুলো সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এটি আমাদের সেই বর্ণনাসূত্র ও বর্ণনাগুলোর বিস্তারিত বিবরণে উদ্বুদ্ধ করেছে যাতে বিষয়টি স্পষ্ট করা যায়, এবং ঐ সকল বর্ণনা ও সূত্রের ব্যাপারে সর্বাধিক সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়।

সুতরাং আমরা মহান প্রভুর নিকট আশা করি যে, তিনি যেন আমাদের এই কাজে তাওফিক দান করেন এবং আমরা যেন তা সবচেয়ে যথাযথ ও সঠিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে পারি। আমরা তাঁর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের পক্ষ থেকে এই কাজ কবুল করেন এবং একে আমাদের আমলনামায় যুক্ত করেন; কারণ তিনি অত্যন্ত দয়ালু, যাঁর নিকট প্রার্থনাকারী বিমুখ হয় না এবং যাঁর কাছে কিছু চাইলে তিনি ফিরিয়ে দেন না।

আর আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট কথা ও কাজে সর্বদা তাওফিক ও সঠিক পথপ্রাপ্তির প্রার্থনা করি। যদি আমরা ভালো কিছু করে থাকি তবে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, আর যদি কোনো ত্রুটি করে থাকি তবে তা আমাদের অক্ষমতা ও বিস্মৃতির কারণেই। দুনিয়া ও আখিরাতে সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই জন্য, আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

এই তাহকীকের শুরুতে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদ ও আলোচনা উপস্থাপন করছি, যা গ্রন্থকার আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম এবং তাঁর গ্রন্থ 'আল-মুস্তাদরাক' সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেবে। আমরা বলছি—আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইছি এবং তাঁর পক্ষ থেকেই সঠিক পথ ও তাওফিক কামনা করছি—:
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الفصل الأول الإمام الحاكم النيسابوري؛ بلدُه نيسابور، وعصرُه، وسيرتُه

وفي هذا الفصل سنبتدئُ بالحديث عن إقليم نيسابور بلد الإمام الحاكم، ثم عن عصره والظروف المحيطة به من النواحي السياسية والاجتماعية والعلمية في بلده نيسابور خاصةً.

ثم نثنّي بالكلام عن شخصية الإمام الحاكم؛ عن اسمه وولادته ونشأته وأسرته، ثم عن ثقافته العلمية ورحلاته، وأبرز شيوخه الذين تلقى عنهم العلم في تلك الرحلات، ثم نذكر أبرز تلامذته الذين أفادوا منه، وبعدها نبين مكانته في أوساط علماء عصره، ونورد ثناء الأئمة عليه، ثم نُعقِب بذكر آثاره العلمية المتميزة.

وبعد ذلك نتحدّث عن مذهبه الفقهي، وعن مذهبه العقائدي.

ثم نختم بذكر وفاته رحمه الله.
প্রথম অধ্যায়: ইমাম আল-হাকিম আন-নিশাপুরী; তাঁর শহর নিশাপুর, তাঁর যুগ এবং তাঁর জীবনী

এই অধ্যায়ে আমরা ইমাম আল-হাকিমের শহর নিশাপুর অঞ্চল সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে শুরু করব, তারপর বিশেষ করে তাঁর শহর নিশাপুরের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট ও তৎসংলগ্ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করব।

অতঃপর আমরা ইমাম আল-হাকিমের ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করব; তাঁর নাম, জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং পরিবার সম্পর্কে। এরপর তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক সংস্কৃতি ও সফরসমূহ এবং সেসব সফরে তাঁর উল্লেখযোগ্য উস্তাদগণের কথা উল্লেখ করব যাঁদের কাছ থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন। তারপর তাঁর সেই প্রখ্যাত ছাত্রদের কথা উল্লেখ করব যাঁরা তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন। এর পর তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মাঝে তাঁর উচ্চমর্যাদা বর্ণনা করব এবং তাঁর সম্পর্কে ইমামগণের প্রশংসা উদ্ধৃত করব। পরিশেষে তাঁর বিশিষ্ট জ্ঞানগর্ভ রচনাবলি সম্পর্কে আলোকপাত করব।

এরপর আমরা তাঁর ফিকহি মাজহাব এবং তাঁর আকিদাগত মাজহাব নিয়ে আলোচনা করব।

সবশেষে তাঁর ইন্তেকাল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) উল্লেখ করার মাধ্যমে আমরা সমাপ্তি টানব।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الأول نيسابور بلد الإمام الحاكم، وعصره والظروف المحيطة به من النواحي السياسية والاجتماعية والعلمية

‌‌المطلب الأول: التعريف بنَيسابُور:

نَيسابُورُ: بفتح النون وسكون الياء المنقوطة من تحتها باثنتين، وفتح السين المهمَلة وبعد الألف باءٌ منقوطة بواحدةٍ، وفي آخرها الراء، وهي أحسن مدينةٍ وأجمعها للخيرات بخُراسان، إنما قيل لها: نَيسابور، لأن سابُور مَرَّ بها، فلما نظر إليها قال: هذه تَصلُح أن تكون مدينةً، فأمَر بها فقُطع قصبُها، ثم كُنِس، ثم بُنيت، فقيل لها: نيسابور، والنَّي: القَصَب، وكان فتحُها زمن عثمان بن عفان رضي الله عنه، على يد ابنِ خالته عبد الله بن عامر بن كُرَيزٍ في سنة تسع وعشرين من الهجرة‌‌(1).

وقد وصفَ ياقوتُ نيسابورَ بأنها: مدينةٌ عظيمةٌ، ذات فضائلَ جسيمةٍ، معدنُ الفضلاء ومَنبَعُ العلماء. قال: لم أرَ فيما طَوَّفتُ من البلاد مدينةً كانت مثلَها‌‌(2).

وتُعدُّ نيسابورُ إحدى كبرى المدن الأربعة بخُراسان، وهي نيسابور ومَرْو وهَرَاة وبَلْخ، وأعظمها نيسابور‌‌(3).

وكانت دارُ الإمارة أولَ الأمر في خُراسان بمَرُو وبَلْخ، إلى أيّام الطاهريّة‌‌(4)،

--------------------------------------------

‌‌(1) "الأنساب" للسمعاني، نسبة (النيسابوري). وسابُور: هو سابور بن أَرْدَشِيرَ بنَ بابَك بن ساسَان، أحدُ ملوك الفرس. "المسالك والممالك" لأبي عُبيد البَكْري 1/ 280 - 286.

‌‌(2) "معجم البلدان" 5/ 331.

‌‌(3) "المسالك والممالك" لأبي إسحاق إبراهيم بن محمد الإصطخري ص 253. وخُراسان: كلمة مركبة من "خُور" أي: شمس، و "أسان"، أي: مشرق، وكانت مقاطعةً كبيرةً من الدولة الإسلامية، تتقاسمها اليومَ عدة دول، فنيسابور في إيران، وهراة وبلخ في أفغانستان، ومرو في تركمانستان. وتقع نيسابور في جمهورية إيران شرق العاصمة طهران على بعد 760 كم منها تقريبًا.

‌‌(4) هذه النسبةُ لطاهر بن الحسين بن مصعب بن رُزَيق بن أسعد بن زاذَان، أبي طلحة الخُزاعي، =

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম হাকিমের শহর নিশাপুর, তাঁর যুগ এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে তাঁকে ঘিরে থাকা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি

প্রথম অনুচ্ছেদ: নিশাপুরের পরিচিতি:

নিশাপুর: নুন বর্ণে ফাতহাহ (যবর) এবং নিচে দুই নুকতাযুক্ত ইয়া বর্ণে সুকুন (জজম) সহ, এরপর সীন বর্ণে ফাতহাহ এবং আলিফের পরে এক নুকতাযুক্ত বা বর্ণ এবং শেষে র বর্ণ। এটি খোরাসানের সবচেয়ে সুন্দর ও সকল কল্যাণের আধার একটি শহর। একে নিশাপুর বলা হয়েছে কারণ 'সাবুর' এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি যখন এটি দেখলেন তখন বললেন: "এটি একটি শহর হওয়ার উপযুক্ত।" ফলে তিনি নির্দেশ দিলেন এবং এর নলখাগড়া কাটা হলো, এরপর ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করা হলো, তারপর এটি নির্মাণ করা হলো। তাই একে নিশাপুর বলা হলো; 'নি' অর্থ নলখাগড়া। এর বিজয় উসমান ইবন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে তাঁর খালাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবন আমির ইবন কুরাইজের হাতে হিজরি ঊনত্রিশ সালে সম্পন্ন হয়েছিল(১)।

ইয়াকুত নিশাপুরকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে এটি: "একটি মহান শহর, সুমহান মর্যাদার অধিকারী, গুণীজনদের খনি এবং আলেমদের উৎস।" তিনি আরও বলেন: "আমি দেশ ভ্রমণে এর মতো কোনো শহর দেখিনি"(২)।

নিশাপুর খোরাসানের চারটি বড় শহরের একটি হিসেবে গণ্য হয়; সেগুলো হলো: নিশাপুর, মার্ভ, হেরাত ও বলখ। এর মধ্যে নিশাপুরই শ্রেষ্ঠ(৩)।

খোরাসানের প্রশাসনিক কেন্দ্র বা রাজধানী প্রথম দিকে মার্ভ ও বলখ-এ ছিল, তাহিরি বংশের শাসনকাল পর্যন্ত(৪),

--------------------------------------------

(১) সামআনী প্রণীত 'আল-আনসাব', (আন-নিশাপুরী) সম্বন্ধীয়। আর সাবুর হলো: সাবুর ইবন আরদাশির ইবন বাবাক ইবন সাসান, পারস্যের রাজাদের একজন। আবু উবাইদ আল-বাকরীর 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' ১/২৮০-২৮৬।

(২) 'মু'জামুল বুলদান' ৫/৩৩১।

(৩) আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ আল-ইসতাখরীর 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' পৃ. ২৫৩। খোরাসান: শব্দটি 'খুর' অর্থাৎ 'সূর্য' এবং 'আসান' অর্থাৎ 'উদয়স্থল' এর সমন্বয়ে গঠিত। এটি ইসলামি সাম্রাজ্যের একটি বড় প্রদেশ ছিল, যা বর্তমানে কয়েকটি দেশের মধ্যে বিভক্ত। নিশাপুর ইরানে, হেরাত ও বলখ আফগানিস্তানে এবং মার্ভ তুর্কমেনিস্তানে অবস্থিত। নিশাপুর ইরান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৭৬০ কিমি পূর্বে অবস্থিত।

(৪) এই সম্বন্ধটি তাহির ইবনুল হুসাইন ইবন মুসআব ইবন রুযাইক ইবন আসআদ ইবন যাদান, আবু তালহা আল-খুযায়ী-এর সাথে সম্পর্কিত, =

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فنقلُوها إلى نَيسابور، فعُمِرت وكَبِرت، وكثُر مالُها مِن تَوطّنهم إيَّاها‌‌(1).

ولم يكن بخراسان مدينةٌ أصحَّ هواءً من نَيسابُور، وكان يرتفع منها من أصناف ثياب القُطن والإبريسم ما يُنقَل إلى سائر بلدان الإسلام وبعض بلاد الشِّرك، لكثرتها وجَوْدتها‌‌(2).

--------------------------------------------

= والي خُراسان، وجَّه به المأمونُ إلى بغداد لمُحاربة أخيه الأمين، فظفر به طاهرٌ وقتلَه، ولقَّبه المأمونُ ذا اليمينَين، وقد ولي أولادُه من بعده إمارةَ إقليم خراسان منهم: طلحة بن طاهر وعبد الله بن طاهر، وطاهر بن عبد الله بن طاهر ومحمد بن طاهر بن عبد الله بن طاهر. انظر "كتاب بغداد" لأبي الفضل بن طَيْفُور ص 35 و 74، و "تاريخ الطبري" 8/ 595، و "المنتظم" لابن الجوزي 13/ 103 - 102.

‌‌(1) "المسالك والممالك" للإصطخري ص 258.

‌‌(2) المصدر السابق ص 255 - 256.

তারা এটিকে নিশাপুরে স্থানান্তর করেন, ফলে তা আবাদ ও বড় হয় এবং সেখানে তাদের বসতি স্থাপনের কারণে এর ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়‌‌(১)।

আর খুরাসানে নিশাপুরের চেয়ে অধিক স্বাস্থ্যকর আবহাওয়াবিশিষ্ট কোনো শহর ছিল না। সেখান থেকে বিভিন্ন প্রকারের সুতি ও রেশমি বস্ত্র উৎপাদিত হতো, যা তার প্রাচুর্য ও উন্নত মানের কারণে অন্যান্য সকল ইসলামি দেশ ও শিরকের কিছু ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়া হতো‌‌(২)।

--------------------------------------------

= খুরাসানের গভর্নর; আল-মামুন তাকে তার ভাই আল-আমিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বাগদাদে প্রেরণ করেছিলেন। ফলে তাহের তার ওপর বিজয় লাভ করেন ও তাকে হত্যা করেন এবং আল-মামুন তাকে 'যুল ইয়ামিনাইন' উপাধিতে ভূষিত করেন। তার পরবর্তী সময়ে তার সন্তানেরা খুরাসান অঞ্চলের শাসনভার লাভ করেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: তালহা বিন তাহের, আব্দুল্লাহ বিন তাহের, তাহের বিন আব্দুল্লাহ বিন তাহের এবং মুহাম্মদ বিন তাহের বিন আব্দুল্লাহ বিন তাহের। দেখুন আবুল ফজল বিন তাইফুর রচিত "কিতাবু বাগদাদ" পৃষ্ঠা ৩৫ ও ৭৪, "তারিখুত তবারী" ৮/৫৯৫ এবং ইবনুল জাওযী রচিত "আল-মুনতাযাম" ১৩/১০৩-১০২।

‌‌(১) আল-ইস্তাখরী রচিত "আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক" পৃষ্ঠা ২৫৮।

‌‌(২) পূর্বোক্ত উৎস পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المطلب الثاني: عصرُ الحاكم، والظروف المكتنفة به من النواحي السياسية والاجتماعية والعلمية، في نيسابور خاصَّة:

‌‌أ - الظروف السياسية:

عاصر الإمام الحاكم منذ ولادته بنيسابور سنة إحدى وعشرين وثلاث مئة المرحلةَ الثانيةَ من الخلافة العباسية، تلك المرحلة التي كان فيها حُكم خلفاء بني العباس مقتصرًا على بغداد وما حولها، دون ما سواها من بلاد الإسلام التي تعدَّدت الإمارات فيها، مع إعلان أكثر تلك الإمارات للخليفة العباسيّ بالولاء والطاعة، غير أن كل إمارةٍ كانت تنفرد بحكم ما تحتها يدها من بلادٍ.

وعند ولادة الحاكم كان الخليفة العباسي آنئذٍ القاهر بالله بن المعتضد بالله، ثم تولى الخلافة بعده الراضي بالله بن المقتدر بالله، ثم المتقي بن المقتدر، ثم المستكفي بن المكتفي، ثم المطيع بن المقتدر، ثم الطائع بن المطيع، ثم القادر بالله، الذي كان آخرَ خليفة عباسيٍّ عاصره الإمامُ الحاكم.

وكانت نيسابور لدى ولادة الحاكم تحت إمارة السامانيين، فكان أمير خراسان إذ ذاك نصرُ بن أحمد بن إسماعيل الساماني، الذي كان من بيت إمارة ورياسة، إذ سبقه إلى الإمارة أبوه أحمد، ومن قبلِه جدُّه إسماعيل بن أحمد الذي ولَّاه المأمونُ بلادَ ما وراء النهر‌‌(1)، ثم امتدت إمارة السامانيين لتشمل خراسان أيضًا.

وقد تعاقب بنو سامان على إمارة البلاد حتى عام 387 هـ، حين تغلَّب عليهم الغزنويون، وكان ذلك على يد سُبُكْتِكين الذي تولى الحكم في خراسان، وولَّى ابنَه

--------------------------------------------

‌‌(1) بلاد ما وراء النهر: يُراد بها ما وراء نهر جِيحُون بخُراسان، فما كان في شَرقيِّهِ يقال له: بلاد الهَياطِلَة، وفي الإسلام سمَّوهُ: ما وراء النهر. "معجم البلدان" لياقوت الحموي 5/ 45. وتُعرف الآن باسم "آسيا الوسطى" الإسلامية، وتضمُّ خمس جمهوريات إسلامية كانت خاضعة للاتحاد السوفييتي سابقًا، ثم مَنَّ الله عليهم فاستقلُّوا بعد انهياره، وهذه الجمهوريات هي الآن: أوزبكستان وطاجيسكتان وقازاخستان وتركمانستان وقرغيزيا. "موجز عن الفتوحات الإسلامية" للدكتور طه عبد المقصود أبو عُبيَّة ص 7.

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম হাকিমের যুগ এবং তাকে ঘিরে থাকা রাজনৈতিক, সামাজিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে নিশাপুরে:

ক - রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

ইমাম হাকিম ৩২১ হিজরিতে নিশাপুরে জন্মগ্রহণের পর থেকে আব্বাসীয় খিলাফতের দ্বিতীয় পর্যায় প্রত্যক্ষ করেন। এটি ছিল সেই পর্যায় যখন বনু আব্বাসের খলিফাদের শাসন কেবল বাগদাদ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডের ক্ষেত্রে তা ছিল না। সেখানে বহু আমিরাত বা স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটেছিল। যদিও এই আমিরাতগুলোর অধিকাংশই আব্বাসীয় খলিফার প্রতি আনুগত্য ও বশ্যতা ঘোষণা করত, তথাপি প্রতিটি আমিরাত তাদের স্ব স্ব শাসনাধীন অঞ্চলগুলো স্বাধীনভাবে শাসন করত।

হাকিমের জন্মের সময় তৎকালীন আব্বাসীয় খলিফা ছিলেন আল-কাহির বিল্লাহ বিন আল-মুতাদিদ বিল্লাহ। এরপর পর্যায়ক্রমে খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন আর-রাদি বিল্লাহ বিন আল-মুকতাদির বিল্লাহ, এরপর আল-মুত্তাকি বিন আল-মুকতাদির, এরপর আল-মুস্তাকফি বিন আল-মুকতাফি, এরপর আল-মুতি' বিন আল-মুকতাদির, এরপর আত-তায়ি' বিন আল-মুতি' এবং সর্বশেষ আল-কাদির বিল্লাহ, যিনি ছিলেন ইমাম হাকিমের সমসাময়িক শেষ আব্বাসীয় খলিফা।

হাকিমের জন্মের সময় নিশাপুর সামানীয় আমিরাতের অধীনে ছিল। তৎকালীন খুরাসানের আমির ছিলেন নাসর বিন আহমাদ বিন ইসমাইল আস-সামানী। তিনি একটি রাজকীয় ও নেতৃস্থানীয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। কেননা তার পূর্বে আমির হিসেবে তার পিতা আহমাদ এবং তারও আগে তার দাদা ইসমাইল বিন আহমাদ দায়িত্ব পালন করেন, যাকে মামুন 'মা ওয়ারাউন নহর' অঞ্চলের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন(১)। পরবর্তী সময়ে সামানীয়দের শাসন খুরাসান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

৩৮৭ হিজরি পর্যন্ত বনু সামান এই ভূখণ্ড শাসন করে। এরপর গজনভিরা তাদের ওপর প্রবল হয়ে ওঠে এবং তা সবুক্তগিনের হাত ধরে সম্পন্ন হয়, যিনি খুরাসানের শাসনভার গ্রহণ করেন এবং তার পুত্রকে নিযুক্ত করেন...

--------------------------------------------

(১) মা ওয়ারাউন নহর: এর দ্বারা খুরাসানের জাইহুন নদীর ওপারের অঞ্চলকে বোঝানো হয়। এর পূর্ব দিকের অঞ্চলকে বলা হতো ‘বিলাদুল হাইয়াতিল্লাহ’। ইসলামি যুগে একে ‘মা ওয়ারাউন নহর’ নামকরণ করা হয়। (ইয়াকুত আল-হামাভির "মুজামুল বুলদান", ৫/৪৫)। বর্তমানে এটি ইসলামি ‘মধ্য এশিয়া’ নামে পরিচিত, যা পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে থাকা পাঁচটি মুসলিম প্রজাতন্ত্র নিয়ে গঠিত। পরবর্তীতে আল্লাহ তাদের ওপর অনুগ্রহ করেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তারা স্বাধীনতা লাভ করে। এই প্রজাতন্ত্রগুলো বর্তমানে হলো: উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কিরগিজস্তান। (ড. ত্বহা আব্দুল মাকসুদ আবু উবাইয়ার "মুজাযুন আনিল ফুতুহাতিল ইসলামিয়া", পৃষ্ঠা: ৭)।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
محمود بن سُبُكْتِكين نيسابور، وكان محمود هذا لقَّبه القادر بالله العباسي بـ "يمين الدولة"، ثم بعد وفاة والده سُبُكْتِكين آلت إمارةُ البلاد التي كانت لوالده إليه بعد أن تَغلَّب على أخويه إسماعيل ونصر ابني سُبُكْتِكين، وصفَا له الحكم سنة 389 هـ، وسيَّر له الخليفة العباسيُّ القادر بالله خلعة السَّلْطنة، واستمر في السَّلطنة حتى وفاته سنة 421 هـ أو التي بعدها‌‌(1)، ثم توفي بعده بقليل الخليفة العباسي القادر بالله‌‌(2).

وفي عهد الخليفة العباسي القادر بالله، وعهد سلطان خراسان وبلاد الهند وبلاد ما وراء النهر يمينِ الدولة محمود بن سُبُكْتِكين، كانت وفاة الإمام أبي عبد الله الحاكم، إذ توفي سنة 405 هـ رَحِمَهُ اللهُ تعالى.

 

‌‌ب - الظروف الاجتماعية:

كانت بلاد خراسان - وبخاصة نيسابور - في ذلك العصر الذي عاشه الإمام الحاكم تتمتع بتمام القوة والمنعة وكثرة الأموال، وكانت الفتوحات ولا سيما في عهد السلطان محمود بن سبكتكين قد بلغت أوجها، مما أدى إلى كثرة الغنائم والأموال في الدولة‌‌(3)، فكان يغلب على أهل تلك البلاد الغنى والثراء، وكانت لهم أسواق عامرة، وخانات كثيرة، وبساتين وارفة الظلال، وقصور فارهة‌‌(4).

وكانت حركة التجارة نشطة في تلك البلاد أيضًا، فما كانت بلدة من بلاد خراسان إلا وتشتهر بأنواع من التجارات في شتى صنوف المواد من مواد غذائية وأنواع كثيرة من الثياب، وكثير من المعادن، واشتهرت نيسابور من بين بلدان خراسان بأنواع الثياب والغزل والحديد‌‌(5).

--------------------------------------------

‌‌(1) "وفيات الأعيان" لابن خَلِّكان 5/ 175 - 181.

‌‌(2) "تاريخ بغداد" للخطيب البغدادي 5/ 61 - 64.

‌‌(3) "الكامل في التاريخ" لعز الدين بن الأثير الجزري 9/ 169 و 244 و 309 - 310 و 342 - 345.

‌‌(4) "أحسن التقاسيم في معرفة الأقاليم" لمحمد بن أحمد المقدسي البشاري ص 293 - 322.

‌‌(5) "المسالك والممالك" للإصطخري ص 258، و "أحسن التقاسيم" ص 323 - 352.

মাহমুদ বিন সুবুক্তিকিন নিশাপুর, আর এই মাহমুদকে আব্বাসীয় খলিফা আল-কাদির বিল্লাহ "ইয়ামিন উদ-দাওলা" উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। অতঃপর তাঁর পিতা সুবুক্তিকিনের মৃত্যুর পর, তাঁর দুই ভাই সুবুক্তিকিনের পুত্র ইসমাইল ও নাসরের ওপর বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে তাঁর পিতার শাসনাধীন দেশগুলোর শাসনভার তাঁর নিকট চলে আসে। ৩৮৯ হিজরিতে তাঁর শাসন নিষ্কণ্টক হয় এবং আব্বাসীয় খলিফা আল-কাদির বিল্লাহ তাঁর নিকট সুলতানি খেলাত (রাজপোশাক) প্রেরণ করেন। তিনি ৪২১ হিজরি বা তার পরবর্তী বছর মৃত্যু পর্যন্ত সুলতান পদে বহাল থাকেন‌‌(১)। অতঃপর তাঁর অল্পকাল পরেই আব্বাসীয় খলিফা আল-কাদির বিল্লাহ ইন্তেকাল করেন‌‌(২)।

আব্বাসীয় খলিফা আল-কাদির বিল্লাহর শাসনামলে এবং খুরাসান, ভারত ও মাওয়ারাউন্নাহার অঞ্চলের সুলতান ইয়ামিন উদ-দাওলা মাহমুদ বিন সুবুক্তিকিনের যুগে ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের মৃত্যু ঘটে, কেননা তিনি ৪০৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

‌‌খ - সামাজিক অবস্থা:

ইমাম হাকিম যে যুগে বেঁচে ছিলেন, তখন খুরাসান অঞ্চল—বিশেষ করে নিশাপুর—চরম শক্তি, প্রতিরক্ষা এবং প্রচুর ধন-সম্পদ উপভোগ করছিল। বিশেষ করে সুলতান মাহমুদ বিন সুবুক্তিকিনের আমলে বিজয়সমূহ তার চরম শিখরে পৌঁছেছিল, যা রাষ্ট্রে গনিমতের মাল ও ধন-সম্পদের আধিক্য ঘটিয়েছিল‌‌(৩)। ফলে সেই অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে সচ্ছলতা ও ধনাঢ্যতা প্রবল ছিল এবং তাদের ছিল জমজমাট বাজার, অসংখ্য সরাইখানা, ঘন ছায়াযুক্ত বাগান ও সুশোভিত প্রাসাদ‌‌(৪)।

সেই দেশগুলোতে বাণিজ্যিক কার্যক্রমও ছিল অত্যন্ত চাঙ্গা। খুরাসানের প্রতিটি শহরই খাদ্যসামগ্রী, বিভিন্ন প্রকার পোশাক এবং অনেক খনিজ পদার্থের মতো বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। খুরাসানের শহরগুলোর মধ্যে নিশাপুর বিভিন্ন প্রকার কাপড়, সুতা ও লোহার জন্য খ্যাতি লাভ করেছিল‌‌(৫)।

--------------------------------------------

‌‌(১) ইবন খাল্লিকান রচিত "ওয়াফায়াতুল আইয়ান" ৫/ ১৭৫ - ১৮১।

‌‌(২) খতিব বাগদাদি রচিত "তারিখে বাগদাদ" ৫/ ৬১ - ৬৪।

‌‌(৩) ইজ্জুদ্দিন ইবনুল আসির আল-জাযারি রচিত "আল-কামিল ফিত তারিখ" ৯/ ১৬৯ ও ২৪৪ ও ৩০৯ - ৩১০ ও ৩৪২ - ৩৪৫।

‌‌(৪) মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মাকদিসি আল-বাশারি রচিত "আহসানুত তাকাসিম ফি মা'রিফাতিল আকালিম" পৃ. ২৯৩ - ৩২২।

‌‌(৫) আল-ইসতাখরি রচিত "আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক" পৃ. ২৫৮, এবং "আহসানুত তাকাসিম" পৃ. ৩২৩ - ৩৫২।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وأما أَلْسِنة أهل تلك البلاد فكانت مختلفةً؛ فلسان أهل نيسابور وُصِف بأنه فصيح مفهوم، غير أنهم يكسرون أوائل الكلم، ويزيدون الياء مثل "بيكو" و "بيشو"، ويزيدون السين بلا فائدة مثل "بخردستي" و "بكفتستي" و "بخفتستي" وما يجري مجراها، وفيه رَخَاوة ولَجَاج‌‌(1).

وأما مجالسهم، فقد تميزت نيسابورُ من بين سائر بلاد خراسان بمجالس خاصة، منها:

‌‌1 - مجلس المظالم في كلّ يوم أحد وأربعاء بحضرة صاحب الجيش أو وزيره، فكلّ من رَفَع قِصَّةً قدّم إليه فأنصفه، وحولَه القاضي والرئيس والعلماء والأشراف.

‌‌2 - مجلس الحكم كل اثنين وخميس بمسجد رجاء، لا ترى في الإسلام مثلَه.

‌‌3 - مجالس على أيّام الجمعة لوجوه البلد بالغَدَوات، يجتمع فيها القرّاء يقرؤون إلى ضحًى‌‌(2).

وأما تَجمُّل أهل خراسان فكان على أوجه:

‌‌1 - أما الفقهاء والكبراء فيتطَيلَسُون ولا يَتحنَّكون إلّا من يَستحمِق.

‌‌2 - ولهم لِبْسَةٌ يتفرّدون بها في الشتاء؛ يتلبّس أحدهم ويجعل الطَّيلَسانَ فوق العَمائم، ثم يلبس مِن فوق ذلك دَرّاعة، ويرخي ما فوق العِمامة على طرف الدرّاعة من خَلْف.

‌‌3 - وأهل سِجِسْتان يُكوّرون العمائم مثل التِّيجان، ولا يَتطيلَسُ بما وراء النهر إلّا كبيرٌ، إنّما هي الأقبيةُ المفتوحة.

‌‌4 - وبمَرْو أنصاف العلماء يجعلون الطَّيالِسة على أحد أكتافهم مجتمعةً، فإذا أرادوا أن يرفعوا فقيهًا أمروه بالتَّطَيلُس‌‌(3).

--------------------------------------------

‌‌(1) "أحسن التقاسيم" ص 334.

‌‌(2) المصدر السابق ص 328.

‌‌(3) المصدر السابق. والطيلسان، ويقال له الطالسان أيضًا: ضَربٌ من الأوشحة يُلبس على =

আর সেইসব অঞ্চলের অধিবাসীদের ভাষা ছিল ভিন্ন ভিন্ন; নিশাপুরের অধিবাসীদের ভাষার বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তা প্রাঞ্জল ও বোধগম্য, তবে তারা শব্দের শুরুতে কাসরা (জের) প্রদান করে এবং 'ইয়া' বৃদ্ধি করে যেমন "বিকৌ" ও "বিশু", আর তারা অনর্থক 'সীন' যোগ করে যেমন "বিখারদাস্তি", "বিকাফতাস্তি" ও "বিখাফতাস্তি" এবং এই জাতীয় শব্দগুলোতে। আর তাদের ভাষায় কিছুটা শিথিলতা ও ঝগড়াটে ভাব রয়েছে।

আর তাদের মজলিসসমূহের ক্ষেত্রে, খোরাসানের অন্যান্য শহরের মধ্যে নিশাপুর কিছু বিশেষ মজলিসের কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল, যার মধ্যে রয়েছে:

‌‌১ - প্রতি রবিবার ও বুধবার সেনাপ্রধান অথবা তাঁর উজিরের উপস্থিতিতে অভিযোগ প্রতিকার সভা (মজলিসে মাজালিম); যে কেউ কোনো অভিযোগ উত্থাপন করত তাকে তাঁর সামনে পেশ করা হতো এবং তিনি তার ন্যায়বিচার করতেন। তাঁর চারপাশে বিচারক (কাজী), প্রধান ব্যক্তি, উলামায়ে কেরাম এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতেন।

‌‌২ - প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রাজা মসজিদে বিচারিক সভা (মজলিসে হুকম); সমগ্র ইসলামি বিশ্বে এর মতো দ্বিতীয়টি দেখা যায় না।

‌‌৩ - জুমআর দিনগুলোতে সকালবেলায় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য আয়োজিত মজলিসসমূহ, যেখানে কারীগণ একত্রিত হয়ে পূর্বাহ্ন পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন।

আর খোরাসানবাসীদের সাজসজ্জা কয়েক প্রকারের ছিল:

‌‌১ - ফকীহগণ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা 'তায়লাসান' (কাঁধের চাদর) পরিধান করতেন এবং তারা থুতনির নিচে পাগড়ির প্যাঁচ দিতেন না, কেবল নির্বোধরাই তা করত।

‌‌২ - শীতকালে তাদের বিশেষ এক ধরণের পোশাক ছিল; তাদের কেউ পোশাক পরিধান করে পাগড়ির ওপর দিয়ে 'তায়লাসান' টেনে নিত, তারপর তার ওপর দিয়ে একটি 'দাররাআ' (জুব্বা বিশেষ) পরিধান করত এবং পাগড়ির ওপরের অংশটি 'দাররাআ'র প্রান্ত দিয়ে পিছন দিকে ঝুলিয়ে দিত।

‌‌৩ - সিজিস্তানের অধিবাসীরা মুকুটের মতো করে পাগড়ি প্যাঁচাত। মা-ওয়ারাউন নাহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) অঞ্চলে কেবল উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ব্যতীত কেউ 'তায়লাসান' পরিধান করত না, সেখানে কেবল সামনের দিক খোলা আংরাখা (কাবা) প্রচলিত ছিল।

‌‌৪ - মার্ভ শহরে আধা-আলিমগণ তাদের 'তায়লাসান' এক কাঁধের ওপর গুটিয়ে রাখতেন। যখন তারা কোনো ফকীহকে সম্মান দিতে চাইতেন, তখন তাকে (সঠিকভাবে) 'তায়লাসান' পরিধানের নির্দেশ দিতেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) "আহসানুত তাকাসিম" পৃষ্ঠা ৩৩৪।

‌‌(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৩২৮।

‌‌(৩) পূর্বোক্ত উৎস। আর তায়লাসান—একে তালসানও বলা হয়—এটি এক ধরণের চাদর যা পরিধান করা হয়...

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ج - الظروف العلمية:

لقد شهدت نيسابور في العصر الذي عاش فيه الإمام أبو عبد الله الحاكم حركةً علميةً واسعة النطاق، إذ كانت زاخرةً بأهل العلم من فقهاء ومحدثين ومفسرين وغيرهم من أرباب العلوم والمعارف، فلا تكاد تَجِد فنًّا من فنون العلم إلا وللنيسابوريين منه نَصيبٌ وافرٌ، ولا سيما في ذلك العصر.

وقد اعتنى سلاطينُ أولئك البلاد من السامانيين والغزنويين مِن بعدِهم ببناء المعاهد والمدارس ودُور العلم التي كانت تزخر دَومًا بطلبة العلم في شتى العلوم، وقرَّبوا العلماء، وأنزلوهم منازلَهم التي تَليق بهم، وعظَّموهم، وأكرموهم غاية الإكرام، وخصصوا لهم الأُعطيات، مما شجعهم على المكث في تلك البلاد، حتى قاموا بإفادة الطلبة الواردين إليهم من كل حدب وصوب، ولم يَضِنّوا بنشر علومهم، وبذل معارفهم لهم.

حتى إن أوّل من حُفظ عنه أنه بَنى مدرسةً في الإسلام هم أهلُ نَيسابور‌‌(1).

ومن أهم تلك المدارس بنَيسابور: المدرسة البَيهقية، والمدرسة السعيدية التي بناها الأمير نصر بن سبكتكين أخو السلطان محمود لما كان واليًا بنيسابور، ومدرسة ثالثة بناها أبو سعد إسماعيل بن علي بن المثنى الإستراباذي الواعظ الصوفي شيخ الخطيب، ومدرسةٌ رابعة أيضًا بُنيت للأستاذ أبي إسحاق الإسفراييني التي قال عنها أبو عبد الله الحاكم: لم يُبْنَ بنيسابور قبلها مثلُها"‌‌(2). قال ابن السُّبكي: وهذا

--------------------------------------------

= الكَتِف، أو يُحيط بالبدن، خالٍ عن التفصيل والخياطة، أو هو ما يُعرَف في العامَّية بالشَّال. فارسي مُعرَّب تالسان أو تالشان. والعِمامة: ما يُلَفُّ على الرأس. والدَّرّاعة: ثَوبٌ من صوف وجُبّةٌ مشقوقةُ المُقدَّم. والأقبية: جمع قَبَاء، ثوبٌ يُلبَس فوق الثياب أو القميص، ويُتمَنْطَق عليه (أي: يُشَدُّ وسطه بشيءٍ). "المعجم الوسيط" 2/ 561 مادة (طلس)، و 2/ 629 مادة (عم)، و 1/ 280 مادة (درع)، و 2/ 713 مادة (قبو).

‌‌(1) "المواعظ والاعتبار" لتقي الدين المقريزي 4/ 199.

‌‌(2) "طبقات الشافعية الكبرى" لتاج الدين بن السُّبكي 4/ 314.

‌গ - জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট:

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম যে যুগে বসবাস করতেন, সেই যুগে নিশাপুর এক ব্যাপক জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের সাক্ষী ছিল। নিশাপুর তখন ফকিহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির এবং অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শী বহু আলিম দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে সেই যুগে এমন কোনো শাস্ত্র ছিল না, যাতে নিশাপুরবাসীদের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল না।

সেই অঞ্চলের সামানি এবং তাদের পরবর্তী গজনবি সুলতানগণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র নির্মাণের প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন, যা সর্বদা বিভিন্ন শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের দ্বারা মুখরিত থাকত। তাঁরা আলিমদের নিকটবর্তী করতেন, তাঁদের যোগ্য মর্যাদায় আসীন করতেন, তাঁদের অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করতেন। এটি তাঁদেরকে সেই অঞ্চলে অবস্থান করতে উৎসাহিত করত, যার ফলে তাঁরা চারদিক থেকে আসা শিক্ষার্থীদের উপকৃত করতেন এবং নিজেদের অর্জিত জ্ঞান ও শিক্ষা প্রসারে কোনো কার্পণ্য করতেন না।

এমনকি ঐতিহাসিকভাবে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ইসলামের ইতিহাসে যারা সর্বপ্রথম মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন, তারা হলেন নিশাপুরবাসী‌‌(১)।

নিশাপুরের সেই সকল মাদ্রাসার মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল: বাইহাকিয়া মাদ্রাসা, সাঈদীয়া মাদ্রাসা—যা সুলতান মাহমুদের ভাই আমির নাসর বিন সুবুক্তিগিন নিশাপুরের গভর্নর থাকাকালে নির্মাণ করেছিলেন; তৃতীয় একটি মাদ্রাসা, যা খতিব বাগদাদির উস্তাদ সূফি ওয়ায়েজ আবু সা'দ ইসমাইল বিন আলী বিন আল-মুসান্না আল-ইস্তরাবাদি নির্মাণ করেছিলেন; এবং চতুর্থ আরেকটি মাদ্রাসা যা উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনির জন্য নির্মিত হয়েছিল, যার সম্পর্কে আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেছিলেন: "নিশাপুরে এর পূর্বে এর মতো কোনো মাদ্রাসা নির্মিত হয়নি"‌‌(২)। ইবনে আস-সুবকি বলেন: এটি...

--------------------------------------------

= কাঁধ বা পুরো শরীর ঢেকে রাখা এক ধরনের কাপড়, যাতে সেলাই বা জোড়া থাকে না; অথবা সাধারণ ভাষায় একে শাল বলা হয়। এটি ফারসি শব্দ 'তালসান' বা 'তালশান' এর আরবিকরণ। আল-ইমামাহ (পাগড়ি): যা মাথায় পেঁচানো হয়। আদ-দাররাআহ: পশমের তৈরি পোশাক বা সামনের দিকে চেরা জুব্বা। আল-আকবিয়াহ: 'কাবা' শব্দের বহুবচন, যা অন্যান্য পোশাক বা কামিসের ওপর পরা হয় এবং কোমরে কিছু দিয়ে বাঁধা হয়। "আল-মুজাম আল-ওয়াসিত" ২/৫৬১ (ত-ল-স অনুচ্ছেদ), ২/৬২৯ (আইন-মীম অনুচ্ছেদ), ১/২৮০ (দাল-রা-আইন অনুচ্ছেদ), এবং ২/৭১৩ (কাফ-বা-ওয়া অনুচ্ছেদ)।

‌‌(১) তাকিউদ্দিন আল-মাকরিজি রচিত "আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল-ই'তিবার" ৪/১৯৯।

‌‌(২) তাজউদ্দিন ইবনে আস-সুবকি রচিত "তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা" ৪/৩১৪।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
صريحٌ في أنه بُني قبلَها غيرُها‌‌(1).

قلتُ: ومن مدارس نيسابور كذلك: مدرسة دار السُّنّة التي كان أبو عبد الله الحاكم يتولى أوقافها‌‌(2)، والظاهر أنها المدرسة التي عناها الحاكمُ بقوله في حديث النَّوّاس بن سِمعان في ذكر الدجال‌‌(3): حدّثنا أبو العباس محمد بن يعقوب إملاءً في الجامع قبل بناء الدار للشيخ الإمام في شعبان سنة ثلاثين وثلاث مئة …

ومنها المدرسة النِّظَامية التي أنشأها الوزير نظام الملك الطُّوْسي‌‌(4).

ومن مدارسها المعروفة أيضًا: مدرسة سهل الصُّعْلُوكي، ومدرسة السُّيُوري، ومدرسة أبي العباس المشطي، ومدرسة إسماعيل الصابوني، ومدرسة أحمد الثعالبي، ومدرسة الحدَّاد، والمدرسة العمادية ومدرسة أصحاب الشافعي، والمدرسة القُشيرية، ومدرسة الشَّحّامي، إلى غيرها من المدارس التي انتشرت في أنحاء نيسابور‌‌(5).

وكان كثير من أهل العلم من بلاد ما وراء النهر ممن يقصد الحج والعمرة، أو مَن يريد الرحلةَ في طلب العلم إلى بعض بلاد الإسلام، كبغداد والشام ومصر والحجاز، يمرُّون في طريقهم على بلاد خراسان، فيهتَبِلُون فرصة مرورهم بها؛ فيلتقون بأهل العلم والمعرفة فيها بغية، تحصيل ما لديهم من فوائد علمية، ولا سيما نيسابور، التي كانت - كما قدّمنا - حاضرةً من كبرى حواضر العالم الإسلامي

--------------------------------------------

‌‌(1) المصدر السابق 4/ 314.

‌‌(2) "المنتخب من كتاب السياق التاريخ نيسابور" ص 16.

‌‌(3) "المستدرك" (8718).

‌‌(4) المصدر السابق ص 61 و 146، و "سير أعلام النبلاء" للذهبي 19/ 94. وقد أشار الحاكمُ إلى هذه المدرسة في ترجمته لأبي منصور محمد بن محمد بن سمعان الحِيْريّ المذكِّر، وفي ترجمة حاجب بن أحمد الطوسي، كما في "الأنساب" للسمعاني نسبة (السمعاني) و (الطوسي).

‌‌(5) "المنتخب من كتاب السياق لتاريخ نيسابور" ص 53 و 58 و 59 و 60 و 91 و 101 و 125 و 153 و 255 و 397 و 452 و 458 و 476 و 503 و 508 و 521.

এটি সুস্পষ্ট যে, এর পূর্বে অন্যান্য মাদরাসা নির্মিত হয়েছিল‌‌(১)।

আমি বলব: নিশাপুরের মাদরাসাসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে: মাদরাসা দারুস সুন্নাহ, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম যার ওয়াকফ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন‌‌(২)। প্রতীয়মান হয় যে, এটিই সেই মাদরাসা যাকে হাকিম দাজ্জালের বর্ণনায় নাওয়াস বিন সামআন-এর হাদীসের প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন‌‌(৩): "শেখ ইমামের জন্য গৃহ নির্মাণের পূর্বে ৩৩০ হিজরীর শাবান মাসে জামে মসজিদে আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদান করেছেন..."

এগুলোর মধ্যে রয়েছে নিযামিয়া মাদরাসা, যা উজির নিযামুল মুলক আল-তুসী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন‌‌(৪)।

এর সুপরিচিত মাদরাসাসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে: সাহল আল-সুলুকি মাদরাসা, আল-সুয়ুরি মাদরাসা, আবু আল-আব্বাস আল-মাশতি মাদরাসা, ইসমাইল আস-সাবুনী মাদরাসা, আহমদ আল-সালাবী মাদরাসা, আল-হাদ্দাদ মাদরাসা, আল-ইমাদিয়া মাদরাসা, আশ-শাফেয়ী অনুসারীদের মাদরাসা, আল-কুশায়রিয়া মাদরাসা এবং আল-শাহামি মাদরাসা; এ ছাড়াও নিশাপুরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আরও অসংখ্য মাদরাসা‌‌(৫)।

মা-ওয়ারাউন নহর অঞ্চলের বহু আলেম, যারা হজ ও ওমরাহর উদ্দেশ্যে বের হতেন, অথবা যারা বাগদাদ, শাম, মিসর ও হিজাজের মতো ইসলামের বিভিন্ন দেশে ইলম অন্বেষণের জন্য সফরের ইচ্ছা পোষণ করতেন, তারা তাদের যাত্রাপথে খোরাসান অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যেতেন। তারা সেখানে যাত্রাবিরতির এই সুযোগকে কাজে লাগাতেন এবং তাদের কাছ থেকে ইলমি ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে সেখানকার জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন। বিশেষ করে নিশাপুর, যা - যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি - ছিল ইসলামি বিশ্বের অন্যতম প্রধান একটি মহানগরী।

--------------------------------------------

‌‌(১) পূর্বোক্ত উৎস, ৪/৩১৪।

‌‌(২) "আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লি-তারীখি নিসাবুর", পৃষ্ঠা ১৬।

‌‌(৩) "আল-মুস্তাদরাক" (৮৭১৮)।

‌‌(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৬১ ও ১৪৬; এবং যাহাবীর "সিয়ারু আলামিন নুবালা", ১৯/৯৪। হাকিম এই মাদরাসার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন আবু মানসুর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সামআন আল-হীরি আল-মুযাক্কিরের জীবনীতে এবং হাজিব বিন আহমদ আল-তুসীর জীবনীতে, যেমনটি সামআনীর "আল-আনসাব"-এ (সামআনী) ও (তুসী) সম্পর্কের অধীনে বর্ণিত হয়েছে।

‌‌(৫) "আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লি-তারীখি নিসাবুর", পৃষ্ঠা ৫৩, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৯১, ১০১, ১২৫, ১৫৩, ২৫৫, ৩৯৭, ৪৫২, ৪৫৮, ৪৭৬, ৫০৩, ৫০৮ ও ৫২১।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
في شتى العلوم، وبخاصة علوم الحديث، فقد قَطَنها عددٌ غير قليل من أولئك المحدِّثين الأفذاذ الذين كان يُشار إليهم بالبنان، ويُشاد بفضلهم في كل مكان.

وقد أورد الحاكم ذكرَ النيسابوريين من أهل العلم والرواية في كتابه الجليل "تاريخ نيسابور"، وهو من جُملة ما فُقد كما قدَّمنا، لكن سَلِم لنا - بحمد الله - مُلخّصه الذي صنعه أحمد بن محمد بن الحسن بن أحمد المعروف بالخليفة النَّيسابوري، حيث جاء في هذا المُلخَّص سَرْدُ أسماء أولئك النيسابوريين مُقسَّمين إلى طبقاتٍ.

وسنفرد إن شاء الله مطلبًا في ذكر أهم العلماء النيسابوريين الذين أدركهم الإمام أبو عبد الله الحاكم، ونَهَل من مَعِين مَعارفِهم، واستنزف ما لديهم من علوم، حتى بلغ تلك المكانة السامقة في أوساط علماء عصره.
বিভিন্ন শাস্ত্রে, বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রে, সেখানে এমন অনেক অদ্বিতীয় মুহাদ্দিস বসবাস করতেন যাদের প্রতি আঙুল নির্দেশ করা হতো এবং সর্বত্র যাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করা হতো।

ইমাম হাকিম তাঁর মহান গ্রন্থ "তারিখে নাইসাবুর"-এ নাইসাবুরের ইলম ও রেওয়ায়েত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করেছেন। আমরা আগে যেমনটি উল্লেখ করেছি, এটি সেই সব কিতাবের অন্তর্ভুক্ত যা হারিয়ে গেছে, তবে আল্লাহর প্রশংসায়—এর সারসংক্ষেপটি আমাদের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে, যা আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমদ, যিনি খলিফা আল-নাইসাবুরি নামে পরিচিত, তিনি প্রস্তুত করেছেন। এই সারসংক্ষেপে সেই নাইসাবুরিদের নাম স্তর অনুযায়ী বিন্যস্ত করে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমরা ইনশাআল্লাহ নাইসাবুরের সেই প্রধান আলেমদের আলোচনায় একটি পৃথক পরিচ্ছেদ নিবেদন করব, যাঁদের সান্নিধ্য ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম লাভ করেছিলেন এবং যাঁদের জ্ঞানের ঝরনাধারা থেকে তিনি পান করেছিলেন এবং তাঁদের নিকট থাকা জ্ঞানরাজি সম্পূর্ণভাবে আহরণ করেছিলেন, এমনকি তিনি তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে এক সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المبحث الثاني التعريف بشخصية الإمام الحاكم، وثقافته العلمية، ورحلاته، وشيوخه، وتلامذته، وثناء الأئمة عليه، وآثاره العلمية، ومذهبه الفقهي، ومذهبه العقائدي، ووفاته

‌‌المطلب الأول: شخصية الإمام الحاكم: اسمه وولادته ونشأته وأُسرته:

هو محمد بن عبد الله بن محمد بن حَمْدَوَيهِ بن نُعيم بن الحَكَم، الضَّبِّي الطَّهْماني، أبو عبد الله الحافظ، الحاكم، النَّيسابُوري، المعروف بابن البَيِّع‌‌(1).

ولد بنيسابور صبيحة يوم الاثنين، الثالث من شهر ربيع الأول، سنة إحدى وعشرين وثلاث مئة‌‌(2). وكان هو نفسُه يصرِّح بولادته في تلك السنة، كما في ترجمته لأبي بكر محمد بن عبد الله بن محمد الجَوْزَقي‌‌(3).

وقد كان أبوه عبد الله بن محمد بن حَمدَويه مؤذِّنًا، أذَّن ثلاثًا وثلاثين سنة، وغزا اثنتين وعشرين غَزاة، وكان يُديم الصلاة بالليل، وأنفق على العلماء والزهاد

--------------------------------------------

‌‌(1) يقال له: الضَّبِّي، لأن جدَّ جدته: هو عيسى بن عبد الرحمن بن سليمان الضَّبِّي، وأم عيسى بن عبد الرحمن: هي متويه بنت إبراهيم بن طَهْمان الزاهد الفقيه، فلذلك يقال له: الطُّهْماني. "المنتخب من كتاب السياق التاريخ نيسابور" لأبي إسحاق الصَّرِيفيني ص 15.

ويقال له: ابن البَيِّع، بفتح الباء الموحدة وكسر الياء المشددة آخر الحروف، وفي آخرها العين المهملة، هذه اللفظة لمن يتولى البِيَاعةَ والتوسُّطَ في الخانات بين البائع والمشتري من التجار للأمتعة. "الأنساب" للسمعاني رسم (البيّع).

وعُرف بالحاكم لتقلُّده القضاء بنَسَا كما في "تبيين كذب المفتري" لابن عساكر ص 229، وليس بنيسابور كما وقع في "وفيات الأعيان" لابن خلكان 4/ 281!

‌‌(2) "تاريخ بغداد" للخطيب 3/ 509، و "كتاب الأربعين المرتبة على طبقات الأربعين" لعلي بن المفضَّل المقدسي ص 406، و "تبيين كذب المفتري فيما نسب إلى الإمام الأشعري" لابن عساكر ص 227، و "وفيات الأعيان" لابن خلكان 4/ 281.

‌‌(3) "الأنساب" للسمعاني نسبة (الجوزقي).

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম হাকিমের ব্যক্তিত্ব, তাঁর ইলমী পাণ্ডিত্য, তাঁর সফরসমূহ, তাঁর শিক্ষকগণ, তাঁর ছাত্রগণ, তাঁর প্রতি ইমামগণের প্রশংসা, তাঁর ইলমী অবদানসমূহ, তাঁর ফিকহী মাযহাব, তাঁর আকিদাগত মাযহাব এবং তাঁর মৃত্যু সম্পর্কিত পরিচিতি

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম হাকিমের ব্যক্তিত্ব: তাঁর নাম, জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং তাঁর পরিবার:

তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হামদাউইয়াহ বিন নুয়াইম বিন আল-হাকাম, আদ-দাব্বী আত-তাহমানী, আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, আল-হাকিম, আন-নাইসাবুরী; যিনি ইবনুল বাইয়ি' নামে পরিচিত(১)।

তিনি ৩২১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ৩ তারিখ সোমবার সকালে নাইসাবুরে জন্মগ্রহণ করেন(২)। তিনি নিজেও এই বছরে তাঁর জন্মের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি তিনি আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-জাওযাকীর জীবনী আলোচনা করার সময় করেছেন(৩)।

তাঁর পিতা আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হামদাউইয়াহ একজন মুয়াজ্জিন ছিলেন; তিনি তেত্রিশ বছর আজান দিয়েছেন এবং বাইশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি নিয়মিত তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতেন এবং আলেম ও দুনিয়াবিমুখ যাহিদদের পেছনে ব্যয় করতেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁকে 'আদ-দাব্বী' বলা হয়, কারণ তাঁর দাদীর দাদা হলেন ঈসা বিন আবদুর রহমান বিন সুলাইমান আদ-দাব্বী। আর ঈসা বিন আবদুর রহমানের মা হলেন মাতওয়াহ বিনতে ইব্রাহিম বিন তাহমান, যিনি ছিলেন একজন যাহিদ ও ফকিহ; এই কারণে তাঁকে 'আত-তাহমানী' বলা হয়। আবু ইসহাক আস-সারিফীনি রচিত "আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক তারীখি নাইসাবুর", পৃষ্ঠা ১৫।

তাঁকে 'ইবনুল বাইয়ি' বলা হয়, 'বা' বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং 'ইয়া' বর্ণে কাসরাসহ (যের) তাশদীদ সহযোগে; এই শব্দটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যে ব্যবসায়ী ও পণ্যদ্রব্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে সরাইখানাগুলোতে বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে মধ্যস্থতা করে। আস-সামআনী রচিত "আল-আনসাব", 'আল-বাইয়ি' ভুক্তি।

তিনি 'আল-হাকিম' নামে পরিচিতি লাভ করেন কারণ তিনি 'নাসা' অঞ্চলে বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যেমনটি ইবনে আসাকিরের "তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী" (পৃষ্ঠা ২২৯) গ্রন্থে এসেছে। তিনি নাইসাবুরে বিচারক ছিলেন না, যা ইবনে খাল্লিকানের "ওয়াফায়াতুল আইয়ান" (৪/২৮১) গ্রন্থে ভুলবশত উল্লেখ করা হয়েছে!

(২) আল-খতীবের "তারীখু বাগদাদ" ৩/৫০৯; আলী বিন মুফাদ্বল আল-মাকদিসীর "কিতাবুল আরবাঈন আল-মুরাত্তাবাহ আলা তবাকাতিল আরবাঈন" পৃষ্ঠা ৪০৬; ইবনে আসাকিরের "তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল ইমামিল আশআরী" পৃষ্ঠা ২২৭ এবং ইবনে খাল্লিকানের "ওয়াফায়াতুল আইয়ান" ৪/২৮১।

(৩) আস-সামআনী রচিত "আল-আনসাব", 'আল-জাওযাকী' ভুক্তি।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
مئة ألف درهم، وقد رأى عبدَ الله بن أحمد، ومسلمَ بن الحجّاج، وروى عن ابن خُزيمة وغيره، وتوفي سنة سبع وثلاثين وثلاث مئة، وهو ابن ثلاث وتسعين سنة‌‌(1). وهذا يعني أنه توفي ولابنه أبي عبد الله من العُمر ست عشرة سنة.

وكان لأبي عبد الله الحاكم أخٌ أكبر منه اسمه محمد أيضًا، ذكره الحاكم في "تاريخه"، وذكر أنه سمع الكثير من الحافظ أبي محمد جعفر بن أحمد الحَصِيري، وأن الحَصِيري هذا هو جدُّ أخيه‌‌(2). قلنا: يعني جدَّه لأمه، فهو إذًا أخوه من أبيه.

وكان لأخيه هذا ابنٌ اسمه محمد كذلك، وكنيته أبو سهل، وهو أكبر من أبي عبد الله الحاكم، قال عنه الحاكم: سمع الكثير قبلي ومعي، وكتب بخطه جملةً، وحدّث، وكان أكبرَ مني بخمس عشرة سنة. توفي سنة اثنتين وتسعين في جمادى الآخرة، وله سبع وثمانون سنة رحمه الله‌‌(3). فإذا كان ابن أخي الحاكم يكبره بخمس عشرة سنة، فهذا يدل على أن أخاه محمدًا أكبر منه بكثير، وأن الحاكم من أصغر إخوته، وأن والدهما تزوَّج بأكثر من امرأةٍ.

وذكر الحاكم في "تاريخه" في الطبقة السادسة من شيوخه الذين أدركَهم ورُزق السماعَ منهم بنيسابور: عبدَ الله بنَ محمد بن عبد الله بن محمد بن حمدويه بن نُعيم أبا الحسن، الضَّبيِّ النَّيسابوري‌‌(4). وهذا يُحتمل أن يكون أخًا آخرَ للحاكم، أو ابنًا لأخيه محمدٍ الذي قدَّمنا ذِكرَه، والله أعلم.

وكان لأبي عبد الله الحاكم خالٌ من أهل الفضل، وهو أبو علي محمد بن علي بن محمد بن نَصْرويه المقرئ المؤذِّن النَّصرويّ، ذكره الحاكم في "تاريخه" فقال:

--------------------------------------------

‌‌(1) "المنتظم" لابن الجوزي 14/ 73. وقد ذكر أبو عبد الله الحاكم والدَه في كتاب "تارخ نيسابور" كما في "تلخيصه" للخليفة النيسابوري ص 91.

‌‌(2) "سير أعلام النبلاء" 14/ 218. وانظر "الروض الباسم في تراجم شيوخ الحاكم" لنايف بن صلاح المنصوري 1/ 32.

‌‌(3) "تاريخ الإسلام" 8/ 720. وانظر "الروض الباسم" 1/ 32.

‌‌(4) "تلخيص تاريخ نيسابور" ص 92. وانظر "الروض الباسم" 1/ 32.

এক লক্ষ দিরহাম; তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজকে দেখেছেন, এবং ইবনে খুজাইমাহ ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তিনশত সাইত্রিশ হিজরীতে তিরানব্বই বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন‌‌(১)। এর অর্থ হলো, তিনি যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন তাঁর পুত্র আবু আবদুল্লাহর বয়স ছিল ষোল বছর।

আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিমের মুহাম্মাদ নামে একজন বড় ভাইও ছিলেন। হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাফেজ আবু মুহাম্মাদ জাফর ইবনে আহমাদ আল-হাসিরি থেকে অনেক হাদিস শুনেছেন। আর এই হাসিরি ছিলেন তাঁর ভাইয়ের নানা‌‌(২)। আমরা বলি: অর্থাৎ তাঁর মাতামহ; সুতরাং তিনি তাঁর বৈমাত্রেয় ভাই।

তাঁর এই ভাইয়েরও মুহাম্মাদ নামে একজন পুত্র ছিল, যাঁর উপনাম ছিল আবু সাহল। তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিমের চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। হাকিম তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি আমার আগে এবং আমার সাথে অনেক হাদিস শুনেছেন, নিজ হাতে অনেক কিছু লিখেছেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি আমার চেয়ে পনের বছরের বড় ছিলেন। তিনি তিনশত বিরানব্বই হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে সাতাশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন‌‌(৩)। সুতরাং হাকিমের ভাতিজা যদি তাঁর চেয়ে পনের বছরের বড় হন, তবে এটি প্রমাণ করে যে তাঁর ভাই মুহাম্মাদ তাঁর চেয়ে অনেক বড় ছিলেন এবং হাকিম ছিলেন তাঁর ভাইদের মধ্যে কনিষ্ঠদের একজন, এবং তাঁদের পিতা একাধিক বিবাহ করেছিলেন।

হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে নিশাপুরে তাঁর সেই শিক্ষকদের ষষ্ঠ স্তরে যাঁদের তিনি পেয়েছেন এবং যাঁদের নিকট থেকে শোনার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হামদাওয়াইহ ইবনে নুআইম আবুল হাসান আদ-দাব্বি আন-নিশাপুরি‌‌(৪)। সম্ভাবনা রয়েছে যে ইনি হাকিমের অন্য একজন ভাই অথবা তাঁর সেই ভাই মুহাম্মাদের পুত্র যার কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিমের ফযিলতপূর্ণ একজন মামা ছিলেন, তিনি হলেন আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নাসরওয়াইহ আল-মুকরি আল-মুয়াযযিন আন-নাসরি। হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন:

--------------------------------------------

‌‌(১) ইবনুল জাওযীর "আল-মুনতাজাম" ১৪/৭৩। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর পিতার কথা "তারিখু নিশাপুর" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যেমনটি খলিফা আল-নিশাপুরি কৃত এর "তালখিস"-এর ৯১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

‌‌(২) "সিয়ারু আলামিন নুবালা" ১৪/২১৮। আরও দেখুন নায়েফ বিন সালাহ আল-মানসুরীর "আর-রাওদুল বাসিম ফি তারাজিমু শুয়ুখিল হাকিম" ১/৩২।

‌‌(৩) "তারিখুল ইসলাম" ৮/৭২০। আরও দেখুন "আর-রাওদুল বাসিম" ১/৩২।

‌‌(৪) "তালখিসু তারিখু নিশাপুর" পৃষ্ঠা ৯২। আরও দেখুন "আর-রাওদুল বাসিম" ১/৩২।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
أبو علي المؤذِّن المقرئ، كان من العُباد الصالحين، القاعدين عن التسوُّق والتصرُّف، القانِعين بميراث الآباء، حج وغزا، وأنفق على العلماء الفاضلَ من قُوتِه، وأذَّن نيِّفًا وخمسين سنةً مُحتسِبًا، وتوفي في شعبان سنة تسع وسبعين وثلاث مئة، وصلَّى عليه ابنُه، ودُفِن في مقبرة باب معمر، وتوفي وهو ابن مئةٍ وثلاث سنين‌‌(1).

ولخاله أبي علي بن نصرويه هذا ابنٌ هو عبد الله بن محمد بن علي بن محمد بن نصرويه، أبو محمد النيسابوري، سمع أبا العباس الأصمَّ وأحمد بن إسحاق الصِّبْغي، وحدَّث‌‌(2).

ولابن خاله هذا ابنٌ اسمه علي بن عبد الله بن محمد بن علي بن محمد بن نصرويه المؤذِّن الورَّاق، أبو الحسن الطَّهماني النَّيسابوري، وُصف بأنه كان محدِّثًا ثقةً من كبار المحدِّثين، كثيرَ الحديث، كثيرَ الشيوخ، وأنه كان يُفيد ويُورِّق ويُسمِع‌‌(3).

وللحاكم أيضًا ابن خالةٍ اسمه أبو سعد محمد بن عبد الله بن حَمْشَاذَ الحاسِب، من أهل نَيسابور، كان عارفًا بالحِساب، رحل إلى العراق والحجاز وبلاد ما وراء النهر، ذكره الحاكم في "تاريخه"، فقال: أبو سعد الحاسب، وهو ابن خالتي‌‌(4)، وكان أبوه من أعيان المشايخ والتجار بنيسابور، طلب أبو سعد معنا الحديثَ في صِباهُ من سنة ثلاثين وثلاث مئة إلى سنة سبع وأربعين، ثم أقام ببَلْخ وسمَرْقَند، وذُكِر بعد ذلك بالحِساب، سمع بنيسابور، ورحل معي إلى أبي النضر، ودخل بغداد قبلي، وحدَّث، وتوفي غداة يوم الخميس الثاني والعشرين من ربيع الآخر من سنة ست وثمانين وثلاث مئة، وصلَّى عليه أخوه أبو منصور، ودُفن بجنب أبيه بباب معمر‌‌(5).

--------------------------------------------

‌‌(1) "الأنساب" نسبة (النصروي) 13/ 110.

‌‌(2) "تاريخ الإسلام" 8/ 740.

‌‌(3) "المنتخب من كتاب السياق" ص 416 الترجمة (1274).

‌‌(4) وقع في بعض نسخ "الأنساب" للسمعاني نسبة (الحاسب): ابن خالي. وهو تحريف بيقينٍ، كما يظهر من تسمية خال الحاكم الذي قدَّمنا ذكرَه.

‌‌(5) "الأنساب" للسمعاني نسبة (الحاسب). وانظر "الروض الباسم" 1/ 33.

আবু আলী আল-মুআজ্জিন আল-মুকরি, তিনি ছিলেন নেককার ইবাদতগুজার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত, যারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাগতিক কারবার থেকে বিমুখ ছিলেন এবং পৈতৃক উত্তরাধিকারে সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি হজ ও জিহাদ করেছেন এবং নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ আলেমদের জন্য ব্যয় করতেন। তিনি সওয়াবের আশায় পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আজান দিয়েছেন। তিনি ৩৭৯ হিজরি সনের শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ছেলে তাঁর জানাজা পড়ান এবং তাঁকে বাব-ই মা'মার কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর‌‌(১).

আর তাঁর মামা আবু আলী ইবনে নাসরুয়াইহ-এর এক পুত্র ছিলেন, তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নাসরুয়াইহ, আবু মুহাম্মাদ আন-নিসাবুরি। তিনি আবুল আব্বাস আল-আসাম এবং আহমদ ইবনে ইসহাক আস-সিবগি থেকে হাদিস শুনেছেন এবং বর্ণনা করেছেন‌‌(২).

আর তাঁর এই মামাতো ভাইয়ের এক পুত্র ছিল যার নাম আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নাসরুয়াইহ আল-মুআজ্জিন আল-ওয়াররাক, আবু হাসান আত-তাহমানি আন-নিসাবুরি। তাঁকে বড় বড় মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি প্রচুর হাদিসের অধিকারী ও অনেক উস্তাদের সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি শিক্ষা প্রদান করতেন, পাণ্ডুলিপি লিখতেন এবং হাদিস শোনাতেন‌‌(৩).

হাকিমের এক খালাতো ভাইও ছিলেন, যার নাম আবু সাদ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হামশাজ আল-হাসিব। তিনি নিশাপুরের অধিবাসী ছিলেন এবং গণিতশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তিনি ইরাক, হিজাজ ও মা-ওয়ারাউন নহর সফর করেন। আল-হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "আবু সাদ আল-হাসিব, তিনি আমার খালাতো ভাই‌‌(৪)। তাঁর পিতা নিশাপুরের বিশিষ্ট শায়খ ও ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আবু সাদ আমাদের সাথে শৈশবে ৩৩০ হিজরি থেকে ৩৪৭ হিজরি পর্যন্ত হাদিস অন্বেষণ করেছেন। এরপর তিনি বলখ ও সমরকন্দে অবস্থান করেন এবং পরবর্তীকালে গণিতবিশারদ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি নিশাপুরে হাদিস শুনেছেন এবং আমার সাথে আবু নাদরের কাছে সফর করেছেন। তিনি আমার আগেই বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি ৩৮৬ হিজরি সনের ২২শে রবিউস সানি বৃহস্পতিবার সকালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ভাই আবু মনসুর তাঁর জানাজা পড়ান এবং তাঁকে বাব-ই মা'মারে তাঁর পিতার পাশে দাফন করা হয়"‌‌(৫).

--------------------------------------------

‌‌(১) "আল-আনসাব", (আন-নাসরুয়ি) সম্বন্ধীয় আলোচনা, ১৩/১১০।

‌‌(২) "তারিখুল ইসলাম", ৮/৭৪০।

‌‌(৩) "আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক", পৃষ্ঠা ৪১৬, জীবনী নম্বর (১২৭৪)।

‌‌(৪) সাম'আনি রচিত "আল-আনসাব" গ্রন্থের কিছু পাণ্ডুলিপিতে (আল-হাসিব) পরিচ্ছেদে 'আমার মামাতো ভাই' শব্দদ্বয় এসেছে। এটি নিশ্চিতভাবেই একটি বিকৃতি, যেমনটি আল-হাকিমের মামার নামকরণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

‌‌(৫) সাম'আনি রচিত "আল-আনসাব", (আল-হাসিব) সম্বন্ধীয় আলোচনা। আরও দেখুন "আর-রওদুল বাসিম", ১/৩৩।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وجدّة أبي عبد الله الحاكم لأمِّه، كان لها أخ اسمه عيسى، وهو أبو العباس عيسى بن محمد بن عيسى بن عبد الرحمن بن سليمان الضَّبّي، وصفه الحاكم بأنه إمام في اللغة والعلم، وأحدُ الأشراف في نفسه وآبائه وأسلافِه، ووصفه السمعاني بأنه كان ثقةً صدوقًا، وقال: مات في صفر سنة ثلاث وتسعين ومئتين‌‌(1). فهذا خال أمُّ أبي عبد الله الحاكم.

ولخال أمه هذا ابنٌ اسمه محمد، وكنيته أبو صالح، ذكره الحاكم في "تاريخه"، فقال: أبو صالح بن عيسى العارض، أحد مشايخ خراسان، ومعتمَد أولياء السلطان، وكان من العقلاء الأدباء، المحبِّين للعلماء والصالحين، المُفضِلين عليهم بماله وجاهِه، وكان يرشَّح للوزارة فيأبَى عليهم، قال الحاكم: وكان أبو صالح ابنَ خال أمي، ولنا به اختصاص القرابة والصحبة، كتبتُ عنه بنيسابور غيرَ مرّة، ثم كتبنا عنه بمَرْو، ونظرتُ في كتبه بها سنة ثلاث وأربعين، وتوفى بمَرْو ليلة الجمعة لخمس بقين من صفر، سنة أربع وأربعين وثلاث مئة‌‌(2). فهذا ابن خال أمِّه.

إذًا فلقد كان الإمام أبو عبد الله الحاكم من بيت علم وفضل وأدب، من جهة والدَيه كليهما، فرحمهم الله جميعًا.

 

‌‌المطلب الثاني: طلبه للعلم، وثقافته العلمية، ورحلاته:

-‌‌ شروعه في طلب العلم، وثقافته العلمية:

طلب أبو عبد الله الحاكم العلم مِن الصغَر باعتناء أبيه وخاله - اللذَين قدَّمْنا ذِكرَهما - فشرع أولًا بسَماع الحديث، وكان أول سماعه سنة ثلاثين‌‌(3)، كما نبَّه على ذلك هو في "تاريخه" في ترجمته لابن خالته أبي سعد الحاسب، حيث قال: طلب أبو سعد معنا الحديثَ في صِباه من سنة ثلاثين وثلاث مئة‌‌(4).

--------------------------------------------

‌‌(1) "تلخيص تاريخ نيسابور" ص 50، و "الأنساب" نسبة (الطهماني).

‌‌(2) "الأنساب" نسبة (العارض)، و "الإكمال" لابن ماكولا 1/ 71 - 72.

‌‌(3) "تاريخ بغداد" 3/ 510، و "المنتظم" 5/ 109، و "تاريخ الإسلام" 9/ 89.

‌‌(4) "الأنساب" نسبة (الحاسب).

আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের মাতামহীর (মায়ের মা) এক ভাই ছিলেন যার নাম ঈসা। তিনি হলেন আবুল আব্বাস ঈসা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে সুলায়মান আদ-দাব্বি। হাকিম তাঁকে ভাষা ও ইলমের ইমাম হিসেবে এবং নিজের ব্যক্তিত্ব, পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের দিক থেকে অন্যতম অভিজাত ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামআনি তাঁকে নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: তিনি দুইশত তিরানব্বই হিজরি সালের সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন। ইনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের মায়ের মামা।

তাঁর মায়ের এই মামার মুহাম্মাদ নামক এক পুত্র ছিলেন, যাঁর কুনিয়াত ছিল আবু সালিহ। হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করে বলেছেন: আবু সালিহ ইবনে ঈসা আল-আরিজ, খোরাসানের অন্যতম শায়খ এবং সুলতানের অনুসারীদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সাহিত্যমনা ছিলেন এবং আলেম ও নেককারদের ভালোবাসতেন; তিনি তাঁর সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি দিয়ে তাঁদের সহযোগিতা করতেন। তাঁকে উজির বা মন্ত্রিত্বের পদের জন্য মনোনীত করা হতো, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করতেন। হাকিম বলেন: আবু সালিহ ছিলেন আমার মায়ের মামাতো ভাই, তাঁর সাথে আমাদের আত্মীয়তা ও সাহচর্যের বিশেষ সম্পর্ক ছিল। আমি নিশাপুরে একাধিকবার তাঁর নিকট থেকে লিখেছি, অতঃপর আমরা মার্ভ-এ তাঁর নিকট থেকে লিখেছি এবং তিনশত তেতাল্লিশ হিজরি সালে সেখানে তাঁর কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করেছি। তিনি তিনশত চুয়াল্লিশ হিজরি সালের সফর মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে জুমার রাতে মার্ভ-এ মৃত্যুবরণ করেন। ইনি হলেন তাঁর মায়ের মামাতো ভাই।

সুতরাং ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর পিতামাতা উভয় দিক থেকেই ইলম, ফযিলত ও আদব সমৃদ্ধ এক পরিবার থেকে আগত ছিলেন। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানার্জন, তাঁর ইলমি সংস্কৃতি ও তাঁর সফরসমূহ:

-‌‌ জ্ঞানার্জন শুরু করা ও তাঁর ইলমি সংস্কৃতি:

আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম শৈশব থেকেই তাঁর পিতা ও মামার তত্ত্বাবধানে—যাঁদের কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—ইলম অন্বেষণ শুরু করেন। তিনি সর্বপ্রথম হাদিস শ্রবণ শুরু করেন এবং তাঁর প্রথম হাদিস শ্রবণ ছিল তিনশত ত্রিশ হিজরি সালে। যেমনটি তিনি নিজে তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে তাঁর খালাতো ভাই আবু সা'দ আল-হাসিবের জীবনীতে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সেখানে বলেছেন: আবু সা'দ আমাদের সাথে তাঁর কিশোর বয়সেই তিনশত ত্রিশ হিজরি সাল থেকে হাদিস অন্বেষণ করেছেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) "তালখিস তারিখ নিশাপুর" পৃষ্ঠা ৫০, এবং "আল-আনসাব" নিসবত (আত-তাহমানি)।

‌‌(২) "আল-আনসাব" নিসবত (আল-আরিজ), এবং ইবনে মাকুলার "আল-ইকমাল" ১/৭১-৭২।

‌‌(৩) "তারিখ বাগদাদ" ৩/৫১০, "আল-মুনতাজাম" ৫/১০৯ এবং "তারিখুল ইসলাম" ৯/৮৯।

‌‌(৪) "আল-আনসাব" নিসবত (আল-হাসিব)।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد وقفنا على سماعٍ للحاكم من أبي العباس محمد بن يعقوب الأصمِّ مؤرَّخ بتلك السنة، في حديثٍ رواه في "المستدرك"، وهو حديث النَّوّاس بن سِمْعان في ذكر الدجّال‌‌(1)، حيث قال: حدّثنا أبو العباس محمد بن يعقوب إملاءً في الجامع قبل بناء الدار للشيخ الإمام في شعبان سنة ثلاثين وثلاث مئة.

قلنا: وكان عُمر الحاكم وقتئذٍ تسع سنين.

ثم وقفنا له على سماع بعد ذلك من أبي إسحاق إبراهيم بن محمد المَكتُومي باستملائه على أبي العباس الأصمّ، أرّخه لنا الحاكمُ في ترجمته للمكتومي في "تاريخه" بسنة ثلاث وثلاثين وثلاث مئة‌‌(2).

وذكر في "تاريخه" أنه استَمْلَى على أبي حاتم بن حِبّان سنة أربع وثلاثين وثلاث مئة، وفي ذلك يقول: وَرَدَ نيسابورَ سنة أربع وثلاثين، وحَضَرْناهُ يومَ جمعةٍ بعد الصلاة، فلما سألْناهُ الحديثَ نظر إلى الناس، وأنا أصغرُهم سِنًّا، فقال: استَمْلِ، فقلت: نعم، فاستملَيتُ عليه‌‌(3). قلنا: كان عمره وقتَها ثلاث عشرة سنة.

ثم ذكر الحاكمُ لدى ترجمته لحاجب بن أحمد الطُّوسيّ أنه سَمِع منه في مجلسٍ له في دار السُّنّة، قرئ عليه فيه ثلاثة أجزاء من سماعاته، سنة خمس وثلاثين وثلاث مئة‌‌(4).

وفي هذه السنة كذلك ذكر أنه كتب عن أبي محمد الحسن بن محمد بن إسحاق بن الأزهر الإسْفَراييني الأزهري، ابن أخت أبي عوانة الحافظ، لدى مَقدَمِه إلى نيسابور، وأنه كان يقدم إليها كلَّ سنة‌‌(5).

وفي ترجمته لأبي حاتم أحمد بن محمد بن حاتم الفقيه الحاتِمي المزكِّي، قال:

--------------------------------------------

‌‌(1) "المستدرك" (8573).

‌‌(2) "الأنساب" نسبة (المكتومي).

‌‌(3) "الأنساب" نسبة (البستي).

‌‌(4) "الأنساب" نسبة (الطوسي).

‌‌(5) "الأنساب" نسبة (الأزهري).

আমরা হাকেমের একটি শ্রবণের (সামাউ) বর্ণনা পেয়েছি যা তিনি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম থেকে সেই বছর শুনেছিলেন। এটি "আল-মুস্তাদরাক"-এ বর্ণিত একটি হাদিস, যা দাজ্জালের বর্ণনায় নাওয়াস বিন সিমআন থেকে বর্ণিত‌‌(১)। সেখানে তিনি বলেছেন: আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব ৩৩০ হিজরীর শাবান মাসে শায়খ ইমামের জন্য ঘর নির্মাণের পূর্বে জামে মসজিদে আমাদের কাছে ইমলা করেছেন (অর্থাৎ মুখে বলে হাদিস লিখিয়েছেন)।

আমরা বলছি: তখন হাকেমের বয়স ছিল নয় বছর।

এরপর আমরা তাঁর জন্য আরও একটি শ্রবণের বর্ণনা পেয়েছি যা তিনি আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মাকতুমি থেকে লাভ করেছেন, যেখানে তিনি আবুল আব্বাস আল-আসামের সামনে ইমলা করেছেন। হাকেম তাঁর "তারিখ" গ্রন্থে মাকতুমির জীবনীতে ৩৩৩ হিজরীর কথা উল্লেখ করেছেন‌‌(২)।

তিনি তাঁর "তারিখ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৩৩৪ হিজরীতে আবু হাতেম বিন হিব্বানের নিকট ইমলা করেছেন (অর্থাৎ হাদিস লিখেছেন)। এই বিষয়ে তিনি বলেন: তিনি ৩৩৪ হিজরীতে নিশাপুরে আগমন করেন। আমরা জুমার নামাযের পর তাঁর মজলিসে উপস্থিত হলাম। যখন আমরা তাঁর কাছে হাদিস বর্ণনা করার আবেদন জানালাম, তিনি লোকজনের দিকে তাকালেন। তখন আমি ছিলাম সবার মধ্যে বয়সে ছোট। তিনি বললেন: তুমি লেখো (ইস্তামলি)। আমি বললাম: হ্যাঁ। এরপর আমি তাঁর নিকট থেকে ইমলা করলাম (অর্থাৎ তাঁর বলা কথাগুলো লিখলাম)‌‌(৩)। আমরা বলছি: সেই সময় তাঁর বয়স ছিল তেরো বছর।

এরপর হাকেম হাজিব বিন আহমদ আত-তুসির জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৩৩৫ হিজরীতে দারুস সুন্নাহর এক মজলিসে তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন, যেখানে তাঁর শ্রুত পাণ্ডুলিপি থেকে তিনটি অংশ তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছিল‌‌(৪)।

এই বছরই তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন আল-আজহার আল-ইসফারায়িনি আল-আজহারি (যিনি হাফেজ আবু আওয়ানার ভাগ্নে) নিশাপুরে আসার পর তাঁর থেকে লিখেছেন। আর তিনি প্রতি বছরই সেখানে আসতেন‌‌(৫)।

ফকিহ হাতিমি আল-মুজাক্কি আবু হাতেম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাতেমের জীবনীতে তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

‌‌(১) "আল-মুস্তাদরাক" (৮৫৭৩)।

‌‌(২) "আল-আনসাব" নিসবত (আল-মাকতুমি)।

‌‌(৩) "আল-আনসাব" নিসবত (আল-বুসতি)।

‌‌(৪) "আল-আনসাব" নিসবত (আত-তুসি)।

‌‌(৫) "আল-আনসাব" নিসবত (আল-আজহারি)।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
كتب معنا بنيسابور من سنة خمس وثلاثين‌‌(1).

ثم لم يزل أبو عبد الله الحاكم حريصًا على سماع الحديث في صغره، ولم يَتوانَ عن ذلك، كما يظهر لنا ذلك واضحًا من إلحاحه الشديد على الإمام أبي الطيب الصُّعلُوكيّ - وكان صديقًا لوالده - أن يُسمعه شيئًا من الحديث، فكان يأبى عليه، حتَّى توسَّط له والدُه عند أبي الطيب فأسمعه شيئًا يسيرًا، وفي ذلك يقول الحاكم في "تاريخه": سألت أبا الطيب غيرَ مرَّة أن يحدِّثني، فأبى، وكان صديقَ أبي، فمشى معي أبي إليه وسألَه، فأجاب، ثم قصدتُه بعد ذلك غير مرّة، فقال: أنا أستحيي من أبيك أن أرُدَّه إذا سألَني، فأما التحديثُ فليس إليه سبيلٌ‌‌(2). قلنا: وكان الحاكم إذ ذاك في السادسة عشر من عُمُره أو دونها، لأن أباه وأبا الطيب قد تُوفّيا جميعًا سنة سبع وثلاثين وثلاث مئة‌‌(3).

وذكر الحاكم أنه في هذه السنة - أي: سنة سبع وثلاثين وثلاث مئة - كتب عن أبي إسحاق إبراهيم بن محمد بن أحمد الفقيه البُخاري، بانتخاب أبي علي الحافظ‌‌(4)، وعن أبي الحسن عيسى بن زيد بن عيسى الطالبي العَقِيلي‌‌(5)، اللذَين تُوفَّيا في تلك السنة نفسها. وفي تلك السنة كذلك كتب عن أبي عمرو محمد بن جعفر بن محمد بن مَطَر النيسابُوري المتوفى سنة ستين وثلاث مئة‌‌(6).

وكتب كذلك سنة ثمان وثلاثين وثلاث مئة عن أبي إسحاق إبراهيم بن أحمد

--------------------------------------------

‌‌(1) "الأنساب" نسبة (الحاتمي).

‌‌(2) "الأنساب" نسبة (الصعلوكي). ونقل السمعاني عن الحاكم قوله في أبي الطيب الصُّعلُوكي: بأنه كان مُقدَّمًا في معرفة اللغة، ودرس الفقه، وأدرك الأسانيد العالية، وصنَّف في الحديث، وأَمسك عن الرواية والتحديث بعد أن عُمِّر.

‌‌(3) "المنتظم" لابن الجوزي 14/ 73، و "الأنساب" للسمعاني، نسبة (الصعلوكي).

‌‌(4) "تاريخ بغداد" 7/ 102.

‌‌(5) "الأنساب" نسبة (العقيلي).

‌‌(6) "المستدرك" (7064).

তিনি আমাদের সাথে তিনশত পঁয়ত্রিশ হিজরি সাল থেকে নিশাপুরে লিখেছেন‌‌(১)।

অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম শৈশব থেকেই হাদিস শোনার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং এ ব্যাপারে কোনো প্রকার অবহেলা করেননি। এটি ইমাম আবু তাইয়িব আস-সুলুকির নিকট হাদিস শোনার জন্য তাঁর তীব্র ব্যাকুলতা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে—আর আস-সুলুকি ছিলেন তাঁর পিতার বন্ধু। তিনি তাঁকে হাদিস শোনাতে অস্বীকৃতি জানাতেন, শেষ পর্যন্ত তাঁর পিতা আবু তাইয়িবের কাছে সুপারিশ করলে তিনি তাঁকে যৎসামান্য কিছু হাদিস শোনান। এ বিষয়ে আল-হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে বলেন: "আমি বারবার আবু তাইয়িবকে আমাকে হাদিস শোনানোর জন্য অনুরোধ করেছি, কিন্তু তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি আমার পিতার বন্ধু ছিলেন, তাই আমার পিতা আমার সাথে তাঁর কাছে গিয়ে অনুরোধ করলে তিনি তাতে সাড়া দেন। এরপর আমি আরও কয়েকবার তাঁর কাছে গিয়েছি, তখন তিনি বললেন: তোমার পিতা যখন আমার কাছে কোনো অনুরোধ করেন, তখন তাঁকে ফিরিয়ে দিতে আমি লজ্জা বোধ করি; তবে হাদিস শোনানোর তো কোনো উপায় নেই"‌‌(২)। আমরা বলি: আল-হাকিম তখন তাঁর বয়সের ষোলো বছর বা তার নিচে ছিলেন, কারণ তাঁর পিতা এবং আবু তাইয়িব উভয়েই তিনশত সাঁইত্রিশ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন‌‌(৩)।

আল-হাকিম উল্লেখ করেছেন যে, এই বছরেই—অর্থাৎ তিনশত সাঁইত্রিশ হিজরি সালে—তিনি আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-ফকিহ আল-বুখারি থেকে লিখেছেন, যা আবু আলী আল-হাফিজ চয়ন করেছিলেন‌‌(৪)। এছাড়া আবু হাসান ঈসা ইবনে যাইদ ইবনে ঈসা আত-তালিবি আল-আকিলি থেকেও লিখেছেন‌‌(৫), যাঁরা উভয়েই সেই একই বছরে ইন্তেকাল করেন। সেই বছরই তিনি আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাতার আন-নিشাপুরি থেকেও হাদিস লিখেছেন, যিনি তিনশত ষাট হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন‌‌(৬)।

তিনি তদ্রূপ তিনশত আটত্রিশ হিজরি সালে আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আহমদ থেকে লিখেছেন...

--------------------------------------------

‌‌(১) 'আল-আনসাব', (আল-হাতিমি) সম্বন্ধীয় বর্ণনা।

‌‌(২) 'আল-আনসাব', (আস-সুলুকি) সম্বন্ধীয় বর্ণনা। সামআনি আল-হাকিম থেকে আবু তাইয়িব আস-সুলুকি সম্পর্কে তাঁর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন যে: তিনি ভাষাজ্ঞানে অগ্রগণ্য ছিলেন, ফিকহ শাস্ত্রের পাঠ দান করতেন, উচ্চমানের সনদ লাভ করেছিলেন এবং হাদিস বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তবে বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর তিনি হাদিস বর্ণনা ও পাঠদান থেকে বিরত থাকেন।

‌‌(৩) ইবনুল জাওযি রচিত 'আল-মুনতাজাম' ১৪/৭৩, এবং সামআনি রচিত 'আল-আনসাব', (আস-সুলুকি) সম্বন্ধীয় বর্ণনা।

‌‌(৪) 'তারিখ বাগদাদ' ৭/১০২।

‌‌(৫) 'আল-আনসাব', (আল-আকিলি) সম্বন্ধীয় বর্ণনা।

‌‌(৬) 'আল-মুস্তাদরাক' (৭০৬৪)।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ابن محمد الرِّيوَنْدِي المكاتب في مجلس أبي بكر بن إسحاق، كما صرّح الحاكمُ بذلك في ترجمته له في "تاريخه"، وذكر أنه بلغته وفاته سنة إحدى وأربعين وثلاث مئة‌‌(1).

وفي هذه السنة - أي سنة ثمان وثلاثين وثلاث مئة - لاحَتْ على الحاكم مَخايِل النَّجابة والذَّكاء، ولم يكن وقتئذ قد تجاوز السابعة عشر من عمره، فبدأ يفتَّش في صحة سماعات الشيوخ ويحقِّق ويدقِّق، كما يُفهَم من قوله في أثناء ترجمته لأبي حامد أحمد بن علي بن الحسن بن شاذان الحَسْنَوي، وقد كان يدّعي سماعَ شُيوخ لم يسمع منهم، فيقول الحاكم: كنت أغار عليه بعد أن عَقَلتُ؛ فكنت أسأله عن لُقيّ أولئك الشيوخ. ثم قال: قصدتُ أبا حامد الحسنوي للنصف من المحرم سنة ثمان وثلاثين وثلاث مئة، فسألته عن سنّه، فقال: أنا اليوم ابن ست وثمانين سنة، قلت: في أي سنة أُدخِلتَ الشام؟ قال: أُدِخلت الشام سنة ست وستين ومئتين، قلتُ: ابنَ كم كنت؟ قال: ابن اثنتي عشرة سنة، وقد كنت سمعتُ أبا حامد يذكر مولدَه سنة ثمان وأربعين ومئتين‌‌(2).

وكان من أقدم سماعات الحاكم كذلك سماعاتُه عن شيخَيه علي بن حمشاذ المتوفى سنة ثمان وثلاثين وثلاث مئة‌‌(3)، وأبي بكر محمد بن أحمد بن بالَوَيهِ المتوفى سنة أربعين وثلاث مئة‌‌(4)، اللذين أكثر من الرواية عنهما؛ إذ زادت رواياتُه عن الأول في المستدرك على الخمس مئة روايةٍ، وهذا يدلُّ على سماع الحاكم منه وهو دون التاسعة عشر من عمره. وزادت رواياتُه عن الثاني على المئتين وتسعين روايةً، وهذا يدلُّ على سماعه منه وهو في سن التاسعة عشر أو دونها.

--------------------------------------------

‌‌(1) "الأنساب" نسبة (المكاتب).

‌‌(2) "الأنساب" نسبة (الحسنوي).

‌‌(3) "سير أعلام النبلاء" 15/ 398.

‌‌(4) "السير" 15/ 419.

ইবন মুহাম্মদ আর-রিওয়ান্দি আল-মুকাতিব আবু বকর ইবন ইসহাকের মজলিসে উপস্থিত ছিলেন, যেমনটি আল-হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, তিনশ একচল্লিশ হিজরি সালে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছেছিল‌‌(১)।

এবং এই বছরে - অর্থাৎ তিনশ আটত্রিশ হিজরিতে - আল-হাকিমের মধ্যে আভিজাত্য ও মেধার লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে, তখন তাঁর বয়স সতেরো বছর অতিক্রম করেনি। তিনি শায়েখদের শ্রুতির (সামা') নির্ভুলতা অনুসন্ধান করতে এবং যাচাই-বাছাই ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন, যেমনটি আবু হামিদ আহমদ ইবন আলী ইবন আল-হাসান ইবন শাযান আল-হাসনাওয়ি-এর জীবনী বর্ণনাকালে তাঁর উক্তি থেকে বোঝা যায়। তিনি (আবু হামিদ) এমন কিছু শায়েখদের থেকে শোনার দাবি করতেন যাদের থেকে তিনি শোনেননি। আল-হাকিম বলেন: আমি জ্ঞান হওয়ার পর তাঁর বিষয়ে সতর্ক থাকতাম; তাই আমি তাঁকে ঐ শায়েখদের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতাম। এরপর তিনি বলেন: আমি তিনশ আটত্রিশ হিজরির মহরম মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবু হামিদ আল-হাসনাওয়ি-র কাছে যাই এবং তাঁকে তাঁর বয়স সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বললেন: আজ আমার বয়স ছিয়াশি বছর। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কোন বছর সিরিয়ায় প্রবেশ করেছেন? তিনি বললেন: আমি দুইশ ছেষট্টি হিজরি সালে সিরিয়ায় প্রবেশ করেছি। আমি বললাম: তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: বারো বছর। অথচ আমি আবু হামিদকে বলতে শুনেছিলাম যে তাঁর জন্ম দুইশ আটচল্লিশ হিজরি সালে‌‌(২)।

আল-হাকিমের প্রাচীনতম শ্রুতিগুলোর মধ্যে আরও ছিল তাঁর দুই শায়েখ আলী ইবন হামশায (মৃত্যু: ৩৩৮ হিজরি) এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন বালায়উইহ (মৃত্যু: ৩৪০ হিজরি)-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত শ্রুতিসমূহ, যাঁদের থেকে তিনি প্রচুর বর্ণনা করেছেন; কেননা 'আল-মুসতাদরাক' গ্রন্থে প্রথমোক্ত ব্যক্তি থেকে তাঁর বর্ণনার সংখ্যা পাঁচশোরও বেশি। এটি প্রমাণ করে যে আল-হাকিম তাঁর কাছ থেকে উনিশ বছর বয়সের আগেই শুনেছেন। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি থেকে তাঁর বর্ণনার সংখ্যা দুইশ নব্বইয়ের অধিক, যা নির্দেশ করে যে তিনি উনিশ বছর বয়সে বা তারও আগে তাঁর কাছ থেকে শুনেছেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) "আল-আনসাব", (আল-মুকাতিব) নিসবত।

‌‌(২) "আল-আনসাব", (আল-হাসনাওয়ি) নিসবত।

‌‌(৩) "সিয়ারু আলামিন নুবালা" ১৫/ ৩৯৮।

‌‌(৪) "আস-সিয়ার" ১৫/ ৪১৯।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وذكر الحاكم في ترجمة أبي منصور محمد بن محمد بن سمعان الحِيْريّ المُذكِّر السَّمْعاني أنه كتب عنه أحاديث قبل الأربعين‌‌(1). أي: قبل سنة أربعين وثلاث مئة.

ثم بعد ذلك انصرف أبو عبد الله الحاكم إلى علومٍ أخرى:

فقرأ القرآنَ والقراءات بخراسان والعراق على قُرّاء وقته؛ فممن قرأ عليه أبو بكر أحمد بن الحسين بن مِهران الزاهد المِهراني، وأحمد بن إسماعيل الصَّرّام، وأبي بكر أحمد بن العباس ابن الإمام بخُراسان، وأبي عيسى بكّار بن أحمد ببغداد، وأبي علي الحسن بن داود النَّقّار بالكوفة، ومحمد بن الحسين بن أيوب النَّوْقاني، وأبي الحسن محمد بن محمد بن الحسن الكارِزِيّ‌‌(2).

وقرأ الفقهَ بنيسابور على أبي سهل محمد بن سليمان الصُّعلُوكي، وأبي الوليد حسان بن محمد القرشي، ثم انتقل إلى العراق، فتَفقّه على أبي علي بن أبي هُريرة‌‌(3)، حتَّى صار إمامًا في معرفة الفقه على مذهب الشافعي‌‌(4).

وبالرغم من تعدد العلوم التي عُني الحاكم أبو عبد الله بتحصيلها غير أنه أولى طلبَ الحديثِ العنايةَ الأكبر، حتَّى غلَبَ ذلك عليه، فاشتَهَر به، وسمِعَه مِن جماعةٍ لا يُحصَون كثرةً، فإن معجم شيوخه يقرب من ألفي رجل، حتَّى روى عمن عاش بعدَه لسَعِة روايته، وكثرةِ شيوخه، وصنَّف في عُلومه ما يبلغ ألفًا وخمسَ مئة جزءٍ‌‌(5).

--------------------------------------------

‌‌(1) "الأنساب" نسبة (السمعاني).

‌‌(2) "تاريخ بغداد" للخطيب 5/ 541 و 7/ 642، و "المنتخب من كتاب السياق" ص 16، و "غاية النهاية" لابن الجَزَري 2/ 184 - 185.

‌‌(3) "المنتخب من كتاب السياق" ص 16، و "طبقات الفقهاء الشافعية" لابن الصلاح 1/ 199 الترجمة (42)، و "وفيات الأعيان" 4/ 280.

‌‌(4) "الدر الثمين في أسماء المصنفين" ص 102.

‌‌(5) "الإرشاد في معرفة علماء الحديث" لأبي يعلى الخليلي 3/ 852، و "وفيات الأعيان" 4/ 280، و "تاريخ الإسلام" 9/ 89.

আল-হাকিম আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সামআন আল-হিরি আল-মুযাক্কির আস-সামআনি-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর থেকে চল্লিশের আগে হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন‌‌(১)। অর্থাৎ: ৩৪০ হিজরি সালের আগে।

এরপর আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম অন্যান্য শাস্ত্রের দিকে মনোনিবেশ করেন:

তিনি খুরাসান ও ইরাকে তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ ক্বারিগণের নিকট কুরআন ও কিরাত পাঠ করেন; যাদের কাছে তিনি পাঠ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মিহরান আয-যাহিদ আল-মিহরানি, আহমদ ইবনে ইসমাইল আস-সাররাম, খুরাসানে আবু বকর আহমদ ইবনুল আব্বাস ইবনুল ইমাম, বাগদাদে আবু ঈসা বাকার ইবনে আহমদ, কুফায় আবু আলি আল-হাসান ইবনে দাউদ আন-নাক্কার, মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আইয়ুব আন-নাওকানি এবং আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-কারিযি‌‌(২)।

তিনি নিশাপুরে আবু سهل মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আস-সুলুকি এবং আবুল ওয়ালিদ হাসসান ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরাশি-এর নিকট ফিকহ পাঠ করেন। এরপর তিনি ইরাকে স্থানান্তরিত হন এবং আবু আলি ইবনে আবি হুরায়রা-এর নিকট ফিকহ অর্জন করেন, এমনকি তিনি শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রে ইমামে পরিণত হন‌‌(৪)।

আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম বহুবিদ শাস্ত্র অর্জনে যত্নবান হওয়া সত্ত্বেও তিনি হাদিস অন্বেষণেই সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেন, এমনকি এটিই তাঁর ওপর প্রাধান্য লাভ করে এবং তিনি এর মাধ্যমেই প্রসিদ্ধি অর্জন করেন। তিনি অসংখ্য ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন; তাঁর উস্তাদদের তালিকা প্রায় দুই হাজার ব্যক্তির কাছাকাছি। এমনকি তাঁর বর্ণনার ব্যাপকতা এবং উস্তাদদের আধিক্যের কারণে তিনি এমন ব্যক্তিদের থেকেও বর্ণনা করেছেন যারা তাঁর পরবর্তী সময়ে জীবিত ছিলেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রে প্রায় এক হাজার পাঁচশত খণ্ড রচনা করেছেন‌‌(৫)।

--------------------------------------------

‌‌(১) "আল-আনসাব", (আস-সামআনি) এর নিসবাত অংশের আলোচনা।

‌‌(২) খতিবের "তারিখ বাগদাদ" ৫/ ৫৪১ এবং ৭/ ৬৪২; "আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক" পৃষ্ঠা ১৬; এবং ইবনুল জাযারির "গয়াতুন নিহায়াহ" ২/ ১৮৪ - ১৮৫।

‌‌(৩) "আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক" পৃষ্ঠা ১৬; ইবনুস সালাহ-এর "তাবাকাতুল ফুকাহাইশ শাফিইয়্যাহ" ১/ ১৯৯, জীবনী নং (৪২); এবং "ওয়াফায়াতুল আইয়ান" ৪/ ২৮০।

‌‌(৪) "আদ-দুররুস সামিন ফি আসমাইল মুসান্নিফিন" পৃষ্ঠা ১০২।

‌‌(৫) আবু ইয়ালা আল-খলিলির "আল-ইরশাদ ফি মা'রিফাতি উলামাইল হাদিস" ৩/ ৮৫২; "ওয়াফায়াতুল আইয়ান" ৪/ ২৮০; এবং "তারিখুল ইসলাম" ৯/ ৮৯।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
-‌‌ رحلاته في طلب العلم:

رحل أبو عبد الله الحاكم في سماع الحديث إلى أقطار شتى، وطَوَّف البلادَ، وقد كانت أولى رحلاته تلك إلى طُوْس، وهي من مُدن خراسان القريبة من نَيسابور بلد الحاكم، فقد ذكر أنه دخلها سنة أربعين وثلاث مئة، كما في ترجمته لأبي أحمد محمد بن محمد بن أحمد بن إسحاق الكَرَابيسي، المعروف بالحاكم أيضًا‌‌(1)، وفيها سمع من شيخِه أبي النضر محمد بن محمد بن يوسف الفقيه الذي كان بالطابَران إحدى بلدتَي طُوس‌‌(2).

ثم رحلَ بعدها إلى العراق سنة إحدى وأربعين وثلاث مئة‌‌(3)، وكان في تلك السنة قاصدًا الحجَّ‌‌(4)، بصحبة جماعةٍ من العلماء، منهم أبو بكر محمد بن المُؤمَّل بن الحسن الماسَرْجِسِي، الذي ذكر الحاكم أنه كان معه ببغداد والحرمين سنة إحدى وأربعين‌‌(5)، وأبو الحسن عمرو بن إسحاق بن إبراهيم بن أحمد بن السَّكَن السَّكَني الأسَدي البُخاري، الذي قال عنه الحاكم: حججتُ أنا في تلك السنة، فرأيتُ له في الطريق مُروءةً ظاهرةً، وقبولًا تامًّا في العلم، والأخذ عنه‌‌(6).

وفي رحلته تلك إلى العراق مرَّ بهَمَذان، وفيها اجتمع بأبي عبد الله محمد بن صالح بن محمد بن سعد المَعَافِري الأندلسي، كما ذكر في ترجمته له، وأنَّ ذلك كان في شوال من تلك السنة‌‌(7).

--------------------------------------------

‌‌(1) "تاريخ دمشق" 55/ 157.

‌‌(2) "الأنساب" نسبة (الطوسي)، و "معجم البلدان" الياقوت الحموي 4/ 3 و 49. وثاني البلدتَين هي نَوْقان. وتقع طُوس اليوم في جمهورية إيران، وهي شرق نيسابور، وتبعد عنها مسافة 80 كم تقريبًا.

‌‌(3) "المنتخب من كتاب السياق" ص 16.

‌‌(4) "الأنساب" نسبة (السكني).

‌‌(5) "الأنساب" نسبة (الماسرجسي).

‌‌(6) "الأنساب" نسبة (السكني).

‌‌(7) "الأنساب" نسبة (القحطاني). ومن اللطائف أن أبا عبد الله الأندلسي هذا توفي ببُخارى، وأين =

‌ইলম অর্জনে তাঁর সফরসমূহ:

আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম হাদীস শ্রবণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রান্তে সফর করেছেন এবং দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেছেন। তাঁর এই সফরগুলোর মধ্যে প্রথমটি ছিল তূস অভিমুখে, যা আল-হাকিমের শহর নিশাপুরের নিকটবর্তী খোরাসানের অন্যতম একটি শহর। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সেখানে ৩৪০ হিজরি সনে প্রবেশ করেছিলেন, যেমনটি তিনি আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক আল-কারাবিসি—যিনি আল-হাকিম নামেও পরিচিত—তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন‌‌(১)। সেখানে তিনি তাঁর উস্তাদ আবু আন-নযর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফকীহ-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেন, যিনি তূসের অন্যতম শহর তাবারানে অবস্থান করতেন‌‌(২)।

এরপর তিনি ৩৪১ হিজরি সনে ইরাক সফর করেন‌‌(৩)। সেই বছর তিনি একদল আলিমের সঙ্গে হজ পালনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন‌‌(৪)। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আল-মুয়াম্মাল ইবনে আল-হাসান আল-মাসারজিসী, যার সম্পর্কে আল-হাকিম উল্লেখ করেছেন যে তিনি ৩৪১ হিজরি সনে তাঁর সঙ্গে বাগদাদ ও হারামাইনে (মক্কা ও মদিনা) ছিলেন‌‌(৫)। আরও ছিলেন আবু আল-হাসান আমর ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে আস-সাকান আস-সাকানী আল-আসাদী আল-বুখারী, যার সম্পর্কে আল-হাকিম বলেছেন: আমি সেই বছর হজ করেছিলাম, পথে আমি তাঁর মধ্যে প্রকাশ্য সৌজন্যবোধ এবং ইলম ও তা গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা দেখেছি‌‌(৬)।

ইরাকের সেই সফরে তিনি হামাদান অতিক্রম করেন এবং সেখানে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সা'দ আল-মা'আফিরি আল-আন্দালুসি-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যেমনটি তিনি তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং এটি ছিল সেই বছরের শাওয়াল মাসে‌‌(৭)।

--------------------------------------------

‌‌(১) "তারিখু দিমাস্ক" ৫৫/১৫৭।

‌‌(2) "আল-আনসাব", (তূসী) সম্বন্ধীয় আলোচনা, এবং ইয়াকুত আল-হামাভীর "মুজামুল বুলদান" ৪/৩ ও ৪৯। দ্বিতীয় শহরটি হলো নাওকান। তূস বর্তমানে ইরান প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত, যা নিশাপুরের পূর্বে এবং সেখান থেকে প্রায় ৮০ কিমি দূরে অবস্থিত।

‌‌(৩) "আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক" পৃ. ১৬।

‌‌(৪) "আল-আনসাব", (সাকানী) সম্বন্ধীয় আলোচনা।

‌‌(৫) "আল-আনসাব", (মাসারজিসী) সম্বন্ধীয় আলোচনা।

‌‌(৬) "আল-আনসাব", (সাকানী) সম্বন্ধীয় আলোচনা।

‌‌(৭) "আল-আনসাব", (কাহতানি) সম্বন্ধীয় আলোচনা। একটি চমৎকার বিষয় হলো, এই আবু আব্দুল্লাহ আল-আন্দালুসি বুখারায় মৃত্যুবরণ করেন, আর কোথায় =

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم مرَّ الحاكم بعد ذلك بأسَدَاباذ، كما ذكر في ترجمته للزبير بن عبد الواحد الأَسَدَاباذي‌‌(1)، غير أنه ذكر التاريخ هنا على الشك، فقال: سنة إحدى أو اثنتين وأربعين. قلنا: الصحيح: إحدى وأربعين، لأن أسَدَاباذ في آخر إقليم الجبال على طريق القوافل من نيسابور إلى العراق، وإنما كانت رحلته سنة اثنتين وأربعين في بلاد خراسان كما سيأتي. اللهم إلا أن يكون شكُّه في سماعه منه في طريق الذهاب إلى العراق، أو في طريق العودة منه، لأن ذهابه إلى العراق كان في سنة إحدى وأربعين، وعودته من العراق بعد الحجِّ سنة اثنتين وأربعين.

ثم دخل في تلك السنة - أي سنة إحدى وأربعين - بغداد، كما قال في ترجمته لأبي محمد عبد الصمد بن محمد بن عبد الله بن حيَّوَيهِ البخاريّ: انصرف إلى بغداد سنة أربعين، ودخلتها وهو بها سنة إحدى وأربعين‌‌(2).

ولقي الحاكم ببغداد في تلك الرحلة جماعةً من كبار الحفاظ والمحدّثين، منهم: أبو عمرو بن السَّمَاك، وأحمد بن سلمان النَّجاد، وأبو سهل بن زياد، ودَعْلَج بن أحمد، ونحوهم من الشيوخ‌‌(3)، ومنهم كذلك أبو يعقوب يوسف بن إسماعيل بن يوسف الساوِيّ‌‌(4)، ومنهم أيضًا أبو طاهر عبد الواحد بن علي بن محمد النجار‌‌(5)، وأبو إسحاق إبراهيم بن عبد الله العَدْل الأصبهاني‌‌(6).

--------------------------------------------

= الأندلس من بُخارى، فيا لَله على تلك الهمة!!

‌‌(1) "تاريخ دمشق" لابن عساكر 18/ 331.

‌‌(2) "تاريخ دمشق" لابن عساكر 36/ 256.

‌‌(3) "تاريخ بغداد" للخطيب 3/ 509. وفي تلك السَّنة أرّخ لنا الحاكم في بغداد سماعًا له من أبي عمرو بن السَّمّاك في خبر رواه عن ابن عُمر في القادسية، أخرجه عنه البيهقي في "دلائل النبوة" 5/ 425.

‌‌(4) "الأنساب" نسبة (الساوي).

‌‌(5) "ذيل تاريخ بغداد" لابن النجار 16/ 161.

‌‌(6) "تاريخ بغداد" 7/ 45.

এরপর হাকেম তার পরে আসাদাবাদ অতিক্রম করেন, যেমনটি তিনি জুবাইর বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-আসাদাবাদীর‌‌(১) জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি এখানে তারিখের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন: একচল্লিশ বা বিয়াল্লিশ সাল। আমরা বলি: সঠিক হলো একচল্লিশ সাল; কারণ আসাদাবাদ জাবাল অঞ্চলের শেষে নিশাপুর থেকে ইরাকগামী কাফেলাগুলোর পথে অবস্থিত। আর তার খোরাসান অঞ্চলের সফর ছিল বিয়াল্লিশ সালে, যা সামনে আসবে। তবে যদি ইরাক যাওয়ার পথে কিংবা সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁর থেকে শোনার ব্যাপারে তাঁর সন্দেহ হয়ে থাকে (তবে ভিন্ন কথা)। কারণ তাঁর ইরাক গমন ছিল একচল্লিশ সালে এবং হজ শেষে ইরাক থেকে প্রত্যাবর্তন ছিল বিয়াল্লিশ সালে।

অতঃপর তিনি সেই বছর—অর্থাৎ একচল্লিশ সালে—বাগদাদে প্রবেশ করেন, যেমনটি তিনি আবু মুহাম্মদ আব্দুল সামাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাইয়াহ আল-বুখারীর জীবনীতে বলেছেন: তিনি চল্লিশ সালে বাগদাদে চলে যান, আর আমি যখন সেখানে প্রবেশ করি তখন তিনি সেখানেই ছিলেন, সেটি ছিল একচল্লিশ সাল‌‌(২)।

হাকেম সেই সফরে বাগদাদে একদল বড় হাফেজ ও মুহাদ্দিসের সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আমর বিন আস-সাম্মাক, আহমদ বিন সালমান আন-নাজ্জাদ, আবু সাহল বিন যিয়াদ, দা'লাজ বিন আহমদ এবং তাঁদের সমপর্যায়ের শায়খগণ‌‌(৩)। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন ইসমাইল বিন ইউসুফ আস-সাবী‌‌(৪), এবং আবু তাহের আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আন-নাজ্জার‌‌(৫) ও আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-আদল আল-আসবাহানী‌‌(৬)।

--------------------------------------------

= বুখারা থেকে আন্দালুস, সেই হিম্মত দেখে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি!!

‌‌(১) ইবনে আসাকিরের "তারিখে দামেশক" ১৮/৩৩১।

‌‌(২) ইবনে আসাকিরের "তারিখে দামেশক" ৩৬/২৫৬।

‌‌(৩) খাতিবের "তারিখে বাগদাদ" ৩/৫০৯। সেই বছর বাগদাদে হাকেম আমাদের নিকট আবু আমর বিন আস-সাম্মাক থেকে শোনার তারিখ বর্ণনা করেছেন কাদেসিয়া সম্পর্কে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত একটি খবরে, যা তাঁর সূত্রে বায়হাকী "দালাইলুন নুবুওয়াহ" ৫/৪২৫-এ সংকলন করেছেন।

‌‌(৪) "আল-আনসাব" (আস-সাবী) সম্বন্ধীয় বর্ণনা।

‌‌(৫) ইবনে আন-নাজ্জারের "যাইলু তারিখে বাগদাদ" ১৬/১৬১।

‌‌(৬) "তারিখে বাগদাদ" ৭/৪৫।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وفي تلك الرحلة دخل الكوفة أيضًا، وفي ذلك يقول: قد كنت دخلت الكوفة أولَ ما دخلتُها سنة إحدى وأربعين، وكان أبو الحسن بن عقبة الشَّيباني يدلُّني على مساجد الصحابة، فذهبت إلى مساجدَ كثيرةٍ منها، وهي إذ ذاك عامرةٌ، وكنا نأوي إلى مسجد جَرير بن عبد الله في بَجِيلة‌‌(1). ولقي بالكوفة في تلك الرحلة أبا الأصبغ عبد العزيز بن عبد الملك بن نصر الأندلسي، كما في ترجمته له‌‌(2).

ثم كان للحاكم بعد ذلك رحلةٌ ثالثةٌ إلى سائر بلدان خراسان سنة اثنتين وأربعين وثلاث مئة، فقد رحل في تلك السنة إلى مَرْو إحدى كبرى مدن خراسان الأربعة، كما ذكر وهو يتحدَّث عن شيخه أبي بكر بن أبي نصر - وهو محمد بن أحمد بن حاتم الدارَبردي -: رحلتُ إلى مَرْو أولَ ما دخلتُها سنة اثنتين وأربعين وثلاث مئة، وليس بها من يُقدَّم عليه في الصدق والعدالة، وكان من مُزَكِّيها‌‌(3).

وفي هذه السنة رحل إلى طُوْس، كما في ترجمته لأبي سعد أسد بن رُستم الرُّستمي الهَرَوي‌‌(4).

ثم كان له رحلةٌ أخرى إلى بلاد خراسان سنة ثلاث وأربعين وثلاث مئة، وهي التي ذكرها عبد الغافر بن إسماعيل الفارسي مقتصِرًا عليها‌‌(5)، ومن هذه البلاد طوس أيضًا، وقد أشار الحاكم إلى ذلك لدى ترجمته لأبي حاتم أحمد بن محمد بن حاتم الحاتمي، حيث قال: وأتانا بالطابَران سنة ثلاث وأربعين، وعُقِد له المجلسُ للنظر والتدريس‌‌(6). قلنا: والطابَران إحدى بلدتي طُوسٍ كما قدَّمنا.

--------------------------------------------

‌‌(1) "معرفة علوم الحديث" ص 191 - 192.

‌‌(2) "الأنساب" نسبة (الأندلسي). ومن لطيف الإشارة أن أبا الأصبغ الأندلسي هذا توفي ببُخارى أيضًا، وأين الأندلس من بُخارى، فتلك هِمة ما بعدها من هِمّة!

‌‌(3) "سؤالات السجزي لأبي عبد الله الحاكم" (293).

‌‌(4) "الأنساب" نسبة (الرستمي).

‌‌(5) "المنتخب من كتاب السياق" ص 16.

‌‌(6) "الأنساب" نسبة (الحاتمي).

এই সফরে তিনি কূফায়ও প্রবেশ করেন এবং এ সম্পর্কে তিনি বলেন: আমি প্রথমবার ৩৪১ হিজরি সনে কূফায় প্রবেশ করেছিলাম। তখন আবুল হাসান ইবনে উকবা আশ-শায়বানি আমাকে সাহাবীদের মসজিদগুলোর পথ দেখাতেন। আমি সেগুলোর মধ্য থেকে অনেক মসজিদে গিয়েছি, যা তখন আবাদ ছিল। আমরা বাজিলা গোত্রে জারীর ইবনে আব্দুল্লাহর মসজিদে অবস্থান করতাম‌‌(১)। এই সফরে তিনি কূফায় আবুল আসবাগ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে নাসর আল-আন্দালুসি-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যেমনটি তাঁর জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে‌‌(২)।

এরপর ৩৪২ হিজরি সনে খুরাসানের অন্যান্য শহরগুলোতে হাকিমের তৃতীয় সফর অনুষ্ঠিত হয়। সেই বছর তিনি খুরাসানের চারটি প্রধান শহরের অন্যতম মার্ভে সফর করেন। তিনি তাঁর উস্তাদ আবু বকর ইবনে আবি নাসর —যিনি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাতিম আদ-দারাবারদি— সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেন: আমি প্রথমবার ৩৪২ হিজরি সনে মার্ভে সফর করি। সেখানে সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতার ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে অগ্রগণ্য কেউ ছিল না এবং তিনি সেখানকার নির্ভরযোগ্যতা যাচাইকারীদের (মুজাক্কি) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন‌‌(৩)।

এই বছরই তিনি তূস অভিমুখে সফর করেন, যেমনটি আবু সাদ আসাদ ইবনে রুস্তম আর-রুস্তমি আল-হারাউয়ির জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে‌‌(৪)।

এরপর ৩৪৩ হিজরি সনে খুরাসান অঞ্চলে তাঁর আরেকটি সফর হয়, যেটির বর্ণনার ওপর আব্দুল গাফির ইবনে ইসমাইল আল-ফারিসি সীমাবদ্ধ থেকেছেন‌‌(৫)। এই শহরগুলোর মধ্যে তূস-ও ছিল। হাকিম তাঁর উস্তাদ আবু হাতিম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাতিম আল-হাতিমির জীবনীতে সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: তিনি ৩৪৩ হিজরি সনে তাবারানে আমাদের নিকট এসেছিলেন এবং তাঁর জন্য জ্ঞানচর্চা ও পাঠদানের মজলিস আয়োজন করা হয়েছিল‌‌(৬)। আমরা বলি: তাবারান হলো তূসের দুটি শহরের একটি, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

--------------------------------------------

‌‌(১) "মারিফাত উলুমিল হাদিস" পৃষ্ঠা ১৯১-১৯২।

‌‌(২) "আল-আনসাব" নিসবাত (আল-আন্দালুসি)। একটি চমৎকার বিষয় হলো এই যে, এই আবুল আসবাগ আল-আন্দালুসি বুখারায় মৃত্যুবরণ করেন। আর আন্দালুস থেকে বুখারার দূরত্ব কতই না বেশি! এটি ছিল এক সুউচ্চ হিম্মত ও মনোবল!

‌‌(৩) "সুয়ালাতুস সিজজি লি-আবি আব্দুল্লাহ আল-হাকিম" (২৯৩)।

‌‌(৪) "আল-আনসাব" নিসবাত (আর-রুস্তমি)।

‌‌(৫) "আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক" পৃষ্ঠা ১৬।

‌‌(৬) "আল-আনসাব" নিসবাত (আল-হাতিমি)।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومن بلاد خراسان التي قصدها في تلك السنة أيضًا مَرْو، نبّه على ذلك الحاكم في أثناء ترجمته لابن خالِ أمِّه أبي صالح محمد بن عيسى بن محمد بن عيسى العارض، حيث قال: كتبتُ عنه بنيسابور غيرَ مرة، ثم كتبنا عنه بمَرْو، ونظرتُ في كتبه بها سنة ثلاث وأربعين‌‌(1).

وقد بيَّن الحاكم لدى ترجمته لأبي علي الحسين بن سابُور المُفِيد، مدة إقامته في تلك الرحلة بمَرو سنة ثلاث وأربعين وثلاث مئة؛ أنها كانت سبعة أشهر‌‌(2).

ومن مدن خراسان التي شدَّ إليها الحاكمُ رحالَه في تلك السنة سَرْخَسُ، فقد قال لدى ترجمته لأبي علي زاهر بن أحمد السَّرْخَسي: دخلت سَرْخَس أولَ ما دخلتها سنة ثلاث وأربعين وثلاث مئة، ودخلتُها بعد ذلك سبعَ مرات‌‌(3).

ثم في سنة خمس وأربعين وثلاث مئة رحل الحاكم إلى العراق والحجاز رحلتَه الثانية، وذَكَر في "تاريخه" هذه الرحلة، وأنه كان إذ ذاك في طريقه للحج أيضًا، كما في ترجمته لأبي علي الحسين بن يحيى بن زكريا الإسْفِينْقاني، وترجمته لأبي محمد صالح بن محمد التِّرمذي‌‌(4)، وكما في ترجمته كذلك لأبي عبد الله محمد بن أحمد بن بشر الفقيه المزكِّي‌‌(5).

ومرَّ في تلك الرحلة بأسَدَاباذ للمرة الثانية، كما في ترجمته للزبير بن عبد الواحد الأسَدَاباذي‌‌(6)، غير أنه ذكر التاريخ فيها على الشك، فقال: سنة خمس أو ست وأربعين. قلنا: الصحيح سنة خمس وأربعين، اللهم إلا أن يكون شكُّه في

--------------------------------------------

‌‌(1) "الأنساب" نسبة (العارض).

‌‌(2) "الأنساب" نسبة (المفيد).

‌‌(3) "طبقات الشافعية" لابن السبكي 3/ 294. وسرخس هذه تقع اليوم في جمهورية تركمانستان وهي شرقيّ نيسابور، وتبعد عنها مسافة 270 كم تقريبًا؛ أي: مسيرة سبعة أيام في ذلك الزمان.

‌‌(4) "الأنساب" نسبة (الإسفينقاني) و (الترمذيّ).

‌‌(5) "الجواهر المضية في طبقات الحنفية" لعبد القادر بن محمد القرشي 2/ 8.

‌‌(6) "تاريخ دمشق" لابن عساكر 18/ 331.

খুরাসানের শহরগুলোর মধ্যে সেই বছর তিনি মার্ভেও গিয়েছিলেন। আল-হাকিম তাঁর মামাতো ভাই আবু সালিহ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-আরিদ-এর জীবনী আলোচনা করার সময় বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: “আমি তাঁর থেকে নিশাপুরে একাধিকবার লিখেছি, এরপর আমরা তাঁর থেকে মার্ভে লিখেছি এবং আমি ৩৪৩ হিজরি সালে সেখানে তাঁর কিতাবসমূহ দেখেছি”‌‌(১)।

আল-হাকিম আবু আলি আল-হুসাইন ইবনে সাবুর আল-মুফিদ-এর জীবনী বর্ণনার সময় ৩৪৩ হিজরি সালে মার্ভে তাঁর সেই সফরের অবস্থানের মেয়াদ স্পষ্ট করেছেন যে, তা ছিল সাত মাস‌‌(২)।

খুরাসানের শহরগুলোর মধ্যে আল-হাকিম সেই বছর যে শহর অভিমুখে সফর করেছিলেন তা হলো সারাখস। তিনি আবু আলি জহির ইবনে আহমদ আস-সারাখসির জীবনী বর্ণনায় বলেন: “আমি প্রথমবার সারাখসে প্রবেশ করেছি ৩৪৩ হিজরি সালে এবং এরপর আরও সাতবার সেখানে প্রবেশ করেছি”‌‌(৩)।

এরপর ৩৪৫ হিজরি সালে আল-হাকিম ইরাক ও হিজাজে তাঁর দ্বিতীয় সফরটি করেন। তিনি তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে এই সফরের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে সেই সময় তিনি হজের পথেও ছিলেন, যেমনটি আবু আলি আল-হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া আল-ইসফিনকানি এবং আবু মুহাম্মদ সালিহ ইবনে মুহাম্মদ আত-তিরমিজির জীবনীতে পাওয়া যায়‌‌(৪)। ঠিক একইভাবে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে বিশর আল-ফকিহ আল-মুজাক্কির জীবনীতেও এটি বর্ণিত হয়েছে‌‌(৫)।

সেই সফরে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো আসাদাবাদ অতিক্রম করেন, যেমনটি আজ-জুবায়ের ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-আসাদাবাদির জীবনীতে এসেছে‌‌(৬)। তবে তিনি এতে তারিখের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন: “৩৪৫ নাকি ৩৪৬ হিজরি সাল”। আমরা বলি: সঠিক হলো ৩৪৫ হিজরি সাল, তবে যদি তাঁর সন্দেহ এমন হয় যে...

--------------------------------------------

‌‌(১) ‘আল-আনসাব’, নিসবাত (আল-আরিদ)।

‌‌(২) ‘আল-আনসাব’, নিসবাত (আল-মুফিদ)।

‌‌(৩) ইবনুস সুবকি রচিত ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’, ৩/২৯৪। এই সারাখস বর্তমানে তুর্কমেনিস্তান প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত এবং এটি নিশাপুরের পূর্বে অবস্থিত। এর দূরত্ব প্রায় ২৭০ কি.মি.; অর্থাৎ তখনকার সময়ে এটি ছিল সাত দিনের পথ।

‌‌(৪) ‘আল-আনসাব’, নিসবাত (আল-ইসফিনকানি) ও (আত-তিরমিজি)।

‌‌(৫) আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরাশি রচিত ‘আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ’, ২/৮।

‌‌(৬) ইবনে আসাকির রচিত ‘তারিখু দিমাশক’, ১৮/৩৩১।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
سماعه منه في طريق الذهاب إلى العراق، أو في طريق العودة منه، لأنَّ ذهابه إلى العراق كان في سنة خمس وأربعين، وعودته منه بعد الحج كانت سنة ست وأربعين.

وذكر أنه في رحلته الثانية تلك اجتمع ببغداد بالقاضي أبي بكر محمد بن عمر الجِعَابي الحافظ، وذاكَرَه في مجالس كثيرة‌‌(1).

وفيها دخل الكوفة دخلتَه الثانيةَ، وفي ذلك يقول: ثم دخلتُها - أي: الكوفة - سنة خمس وأربعين، ومسجد ابن عُقْبة قد خرب، فكان أبو القاسم السَّكُوني يأخذ بيدي في الجامع، فيدور معي على الأسطوانات، فيقول: هذه أسطوانة جرير، وهذه أسطوانة عبد الله، وهذه أسطوانة البراء، وقد عرفتُ منها ما عَرَّفَنيهِ ذلك الشيحُ رحمه الله‌‌(2).

ثم عاد الحاكم من رحلته هذه أدراجَه إلى بلده نيسابور، ليرحل في السنة التي تليها - أي: سنة ست وأربعين وثلاث مئة - إلى مَرْو، كما أشار إلى ذلك عند ترجمته لبكر بن محمد الصَّيرفي المروزي، حيث قال: أقمتُ عليه سنَة ست وأربعين وثلاث مئة، ونظرتُ في أكثر كتبه إلى أن وَرِثَ من مولّى له مات بسَمرقند‌‌(3) ميراثًا، وتأهَّب للخروج بنفسه في طلب ذلك الميراث، فشَيَّعتُه إلى كُشْمِيهَن، وقرأت عليه بها البقايا التي كانت بقيتُ عليَّ‌‌(4). وكُشميهن: قرية كانت عظيمةً من قرى مَرْو على طرف البَرّية آخرَ عَمَل مَرُو، لمن يريدُ قَصْدَ آمَلَ جِيحُون‌‌(5). يعني أن الحاكم شيَّع شيخه بكر بن محمد الصيرفي في مسيره إلى سَمَرقند، ورافقه من مرو حتَّى كُشِميهَن التي هي إحدى قُراها.

--------------------------------------------

‌‌(1) "معرفة علوم الحديث" ص 188.

‌‌(2) "معرفة علوم الحديث" ص 192.

‌‌(3) هي بعض بلاد ما وراء النهر؛ أي: نهر جِيحُون. وتقع اليومَ في جمهورية أوزبكستان.

‌‌(4) "الأنساب" نسبة (الدخمسيني).

‌‌(5) "معجم البلدان" الياقوت 4/ 463. وقد خَرِبَت كشميهن قديمًا، خرَّبها الرمل، وبينها وبين مرو خمسة فراسخ؛ أي: 29 كم تقريبًا.

ইরাক যাওয়ার পথে অথবা সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন, কারণ তাঁর ইরাক যাত্রা হয়েছিল তিনশ পঁয়তাল্লিশ হিজরীতে এবং হজের পর সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন হয়েছিল তিনশ ছেচল্লিশ হিজরীতে।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সেই দ্বিতীয় সফরে বাগদাদে হাফেয আল-ক্বাদি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-জিয়াবি-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয় এবং অনেক মজলিসে তাঁর সাথে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন‌‌(১)।

সে বছরই তিনি দ্বিতীয়বারের মতো কুফায় প্রবেশ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: তারপর আমি তিনশ পঁয়তাল্লিশ হিজরীতে সেখানে—অর্থাৎ কুফায়—প্রবেশ করলাম, তখন ইবনে উকবা মসজিদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। আবু আল-কাসিম আস-সাকুনি জামে মসজিদে আমার হাত ধরে আমাকে বিভিন্ন পিলারের কাছে ঘুরিয়ে দেখাতেন আর বলতেন: এটি জারিরের পিলার, এটি আব্দুল্লাহর পিলার এবং এটি বারার পিলার। সেই শাইখ (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) আমাকে যা যা চিনিয়েছিলেন, তা আমি চিনে নিয়েছিলাম‌‌(২)।

এরপর আল-হাকিম তাঁর এই সফর থেকে নিজ শহর নিশাপুরে ফিরে আসেন, যাতে পরবর্তী বছরে—অর্থাৎ তিনশ ছেচল্লিশ হিজরীতে—মার্ভে সফর করতে পারেন, যেমনটি তিনি বকর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাইরাফি আল-মারওয়াযির জীবনী বর্ণনায় ইঙ্গিত করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন: আমি তিনশ ছেচল্লিশ হিজরীতে তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থান করি এবং তাঁর অধিকাংশ কিতাব অধ্যয়ন করি, যতক্ষণ না সমরকন্দে‌‌(৩) মৃত্যুবরণকারী তাঁর এক আযাদকৃত দাসের থেকে তিনি একটি উত্তরাধিকার লাভ করেন। তিনি স্বয়ং সেই উত্তরাধিকার গ্রহণের জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নেন, তখন আমি তাঁকে কুশমিহান পর্যন্ত বিদায় জানাতে যাই এবং সেখানে তাঁর কাছে অবশিষ্ট পাঠগুলো সম্পন্ন করি যা আমার পড়া বাকি ছিল‌‌(৪)। আর কুশমিহান হলো মার্ভের গ্রামগুলোর মধ্যে একটি বিশাল গ্রাম, যা মরুভূমির প্রান্তে মার্ভের সীমানার শেষভাগে অবস্থিত, তাদের জন্য যারা আমুল ও জাইহুন নদীর দিকে যেতে চায়‌‌(৫)। অর্থাৎ আল-হাকিম তাঁর শিক্ষক বকর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাইরাফিকে সমরকন্দ যাওয়ার পথে বিদায় জানাতে গিয়েছিলেন এবং মার্ভ থেকে কুশমিহান পর্যন্ত তাঁর সাথে ছিলেন, যা মার্ভের অন্যতম একটি গ্রাম।

--------------------------------------------

‌‌(১) 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস', পৃষ্ঠা ১৮৮।

‌‌(২) 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস', পৃষ্ঠা ১৯২।

‌‌(৩) এটি মা ওয়ারাউন নাহর বা জাইহুন নদীর ওপারের কিছু এলাকা; যা বর্তমানে উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত।

‌‌(৪) 'আল-আনসাব', নিসবত (আদ-দাখমাসিনি)।

‌‌(৫) ইয়াকুতের 'মু'জামুল বুলদান', ৪/৪৬৩। কুশমিহান প্রাচীনকালেই বালুচরে ধ্বংস হয়ে গেছে, মার্ভ থেকে এর দূরত্ব ছিল পাঁচ ফারসাখ; অর্থাৎ প্রায় ২৯ কিলোমিটার।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
ثم لم يسجَّل للحاكم بعد سنة ست وأربعين وثلاث مئة رحلةٌ إلى شيء من البلاد، حتَّى دخلت سنة خمس وخمسين وثلاث مئة، فالظاهر أنه بقي بنيسابور في تلك الفترة ولم يخرج منها.

ولما دخلت سنة خمس وخمسين وثلاث مئة استأنف أبو عبد الله الحاكم رحلاته، غير أنه في هذه المرّة آثَر الرحيلَ إلى بُخَارى وغيرها من بلاد ما وراء النهر - أي: نهر جيحون - كما أرّخ ذلك هو نفسه في ترجمته لأبي بكر محمد بن أحمد بن هارون الرِّيوَنْدِي، وأبي القاسم عبيد الله بن محمد بن أحمد الكَلَاباذي‌‌(1).

وقد مكث الحاكم في تلك الرحلة ببُخارى سِنِين، كما صرّح بذلك في ترجمته لأبي بكر محمد بن خالد بن الحسن المُطَوّعي البخاريّ‌‌(2).

وقال في ترجمته لأبي بكر محمد بن أحمد بن محمد بن الحسين الطُّوسي: سكن بُخارى إلى أن دفنتُه بها، وكان يسكن معنا إلى أن توفي في منزلي ببخارى ليلة الجمعة النصف من صفر سنة سبع وخمسين وثلاث مئة‌‌(3).

وقال أيضًا في ترجمته لأبي حامد أحمد بن يوسف بن عبد الرحمن الصوفي المعروف بالأشقر: آخر ما فارقتُه ببُخارى، فإنا اجتمعنا بها سنة خمس أو ست وخمسين، ثم خرج منها إلى الحج سنة سبع وخمسين، وأنا بها‌‌(4).

ثم عاد الحاكمُ بعد مَكْثه في بخارى تلك السنين إلى وطنه نيسابور، لكن لم يتبين لنا على وجه التحديد متى عاد، غير أن الغالب أنه في سنة ثمان وخمسين وثلاث مئة كان فيها.

--------------------------------------------

‌‌(1) "الأنساب" نسبة (الرِّيوَنْدي) و (الكَلاباذي). وبخارى اليوم مدينة عامرة في غرب جمهورية أوزبكستان، بينها وبين نيسابور مسافة 800 كم تقريبًا، وتقع مزو في وسط الطريق بينهما في جمهورية تركمانستان.

‌‌(2) "الأنساب" نسبة (المطوعي).

‌‌(3) "الأنساب" نسبة (المسافري).

‌‌(4) "الأنساب" نسبة (الأشقر).

অতঃপর ৩৪৬ হিজরি সালের পর আল-হাকিমের অন্য কোনো দেশে সফরের কথা লিপিবদ্ধ পাওয়া যায় না, যতক্ষণ না ৩৫৫ হিজরি সাল উপস্থিত হয়। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, তিনি উক্ত সময়ে নিশাপুরে অবস্থান করছিলেন এবং সেখান থেকে বের হননি।

যখন ৩৫৫ হিজরি সাল শুরু হলো, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম পুনরায় তার সফরসমূহ শুরু করলেন। তবে এবার তিনি বুখারা এবং মা-ওয়ারাউন নাহার (অর্থাৎ: জাইহুন নদী) অঞ্চলের অন্যান্য জনপদে সফর করাকে প্রাধান্য দিলেন। যেমনটি তিনি নিজে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হারুন আল-রিওয়ান্দি এবং আবু কাসেম উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কালাবাদি-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন‌‌(১)।

আল-হাকিম সেই সফরে বুখারায় কয়েক বছর অবস্থান করেছিলেন, যেমনটি তিনি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে হাসান আল-মুতাওয়ি আল-বুখারি-এর জীবনীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন‌‌(২)।

তিনি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-তুসি-এর জীবনীতে বলেন: তিনি বুখারায় বসবাস করতেন যতক্ষণ না আমি তাকে সেখানে দাফন করি। তিনি আমাদের সাথেই বসবাস করতেন, অবশেষে ৩৫৭ হিজরি সালের সফর মাসের মাঝামাঝি জুমার রাতে বুখারায় আমার বাড়িতেই তিনি ইন্তেকাল করেন‌‌(৩)।

তিনি আল-আশকার নামে পরিচিত আবু হামিদ আহমদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সুফি-এর জীবনীতেও বলেন: তার সাথে আমার শেষ বিদায় হয়েছিল বুখারায়। আমরা সেখানে ৩৫৫ অথবা ৩৫৬ সালে একত্রিত হয়েছিলাম। অতঃপর তিনি ৩৫৭ সালে সেখান থেকে হজের উদ্দেশ্যে বের হন, তখন আমি সেখানেই ছিলাম‌‌(৪)।

অতঃপর আল-হাকিম বুখারায় সেই কয়েক বছর অবস্থানের পর নিজ জন্মভূমি নিশাপুরে ফিরে আসেন। তবে তিনি ঠিক কখন ফিরেছিলেন তা আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়নি, তবে প্রবল ধারণা যে ৩৫৮ হিজরি সালে তিনি সেখানেই ছিলেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) "আল-আনসাব", নিসবত (আর-রিওয়ান্দি) এবং (আল-কালাবাদি)। বুখারা বর্তমানে উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমে অবস্থিত একটি সমৃদ্ধ শহর। এটি এবং নিশাপুরের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় ৮০০ কিমি, এবং মার্ভ তুর্কমেনিস্তান প্রজাতন্ত্রে এই দুইয়ের মাঝামাঝি পথে অবস্থিত।

‌‌(২) "আল-আনসাব", নিসবত (আল-মুতাওয়ি)।

‌‌(৩) "আল-আনসাব", নিসবত (আল-মুসাফিরি)।

‌‌(৪) "আল-আনসাব", নিসবত (আল-আশকার)।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাঈন - ত্বা আর-রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وذلك أنه أرّخ لنا رحيلَه من نيسابور إلى بُخارى سنة تسع وخمسين، كما في ترجمته لأبي محمد عبد الله بن علي بن عبد الله القاضي الطبري، حيث قال: ورد نيسابورَ غيرَ مرة، وآخرُها أني صحِبتُه سنة تسع وخمسين وثلاث مئة من نيسابور إلى بخارى‌‌(1). فتكون هذه رحلتَه الثانيةَ إلى بُخارى.

وجاء في ترجمته لأبي يعلى محمد بن طاهر بن علي الأصبهاني أنه كان ببخارى لما توفي أبو يعلى سنة تسع وخمسين‌‌(2).

لكن أرّخ لنا الحاكم أنه كان في سنة تسع وخمسين وثلاث مئة في مَرُو ثم في نَسَا، يعني أنه كان في خراسان في تلك السنة، فقد قال في ترجمته لأبي عمرو عثمان بن عمران بن الحارث المقدسي: آخر عهدي به في مجلس أبي العباس المحمودي بمَرْو سنة تسع وخمسين وثلاث مئة، ثم جاءنا نعيُه وأنا بنَسَا في هذه السنة‌‌(3).

وثبت أيضًا أن الحاكم في هذه السَّنة قُلّد القضاء بنَسَا في أيام السامانيّة ووزارة العُتْبِي‌‌(4). فكيف يجتمع أنه رحل من نيسابور إلى بخارى، ثم يكون في مرو ونَسَا، بل قاضيًا في نَسَا في تلك السنة نفسها؟!

فالظاهر أن الحاكم رحل أولَ تلك السنة قاصدًا بُخارى، ومرَّ في طريقه بنَسَا، حيث قُلِّد فيها القضاء لفترةٍ وجيزةٍ، ثم كأنه استَعْفَى من القضاء فأُعفِي، ليُكمل طريقَه مرورًا بمَرُو، حتَّى وصل إلى بخارى في تلك السنة، حيث بقي فيها حتَّى دخلت عليه سنة ستين وثلاث مئة، كما في ترجمته لأبي العباس أحمد بن محمد

--------------------------------------------

‌‌(1) "تبيين كذب المفتري" ص 182.

‌‌(2) "تاريخ دمشق" 53/ 280.

‌‌(3) "تاريخ دمشق" 40/ 8: قلنا: ونَسَا من مدن خراسان كذلك، وهي اليوم في جمهورية تركمانستان إلى الجنوب الغربي من عاصمتها عشق آباد على بعد 18 كم تقريبًا، وهي خَرِبة، وتقع إلى الشمال من نيسابور على مسافة 250 كم تقريبًا، وإلى الغرب من مرو على مسافة 350 كم تقريبًا.

‌‌(4) "تبيين كذب المفتري" لابن عساكر ص 229.

বিষয়টি হলো এই যে, তিনি ৩৫৯ হিজরি সনে নিশাপুর থেকে বুখারা অভিমুখে তাঁর সফরের কথা লিপিবদ্ধ করেছেন, যেমনটি তিনি আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাদি আত-তাবারির জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: “তিনি একাধিকবার নিশাপুরে এসেছিলেন, আর শেষবার আমি ৩৫৯ হিজরি সনে নিশাপুর থেকে বুখারা পর্যন্ত তাঁর সফরসঙ্গী ছিলাম।”‌‌(১) সুতরাং এটি হবে বুখারার উদ্দেশ্যে তাঁর দ্বিতীয় সফর।

আবু ইয়ালা মুহাম্মাদ ইবনে তাহির ইবনে আলী আল-আসবাহানির জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে যে, ৩৫৯ হিজরি সনে যখন আবু ইয়ালা মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি বুখারাতে অবস্থান করছিলেন।‌‌(২)

তবে হাকেম আমাদের নিকট লিপিবদ্ধ করেছেন যে, তিনি ৩৫৯ হিজরি সনে মার্ভ-এ এবং এরপর নাসায় ছিলেন। অর্থাৎ, তিনি সেই বছর খোরাসানে অবস্থান করছিলেন। তিনি আবু আমর উসমান ইবনে ইমরান ইবনে আল-হারিস আল-মাকদিসির জীবনীতে বলেছেন: “তাঁর সাথে আমার শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ৩৫৯ হিজরি সনে মার্ভ-এ আবু আল-আব্বাস আল-মাহমুদির মজলিসে; অতঃপর সেই বছরেই আমি নাসায় থাকাকালে তাঁর মৃত্যুসংবাদ আমাদের নিকট পৌঁছায়।”‌‌(৩)

এটিও প্রমাণিত যে, এই বছরেই হাকেম সামানি আমল এবং উতবির উজির থাকাকালে নাসায় বিচারক (কাযী) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তাহলে এটি কীভাবে সম্ভব যে তিনি নিশাপুর থেকে বুখারার উদ্দেশ্যে সফর করলেন, আবার একই সাথে মার্ভ ও নাসায় অবস্থান করলেন, এমনকি সেই একই বছর নাসার কাযী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করলেন?!

স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, হাকেম সেই বছরের শুরুতে বুখারার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন এবং পথিমধ্যে নাসায় যাত্রাবিরতি করেছিলেন। সেখানে তিনি অল্প সময়ের জন্য বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন, এরপর সম্ভবত তিনি অব্যাহতি প্রার্থনা করেন এবং তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়; যেন তিনি মার্ভ হয়ে তাঁর যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারেন এবং অবশেষে সেই বছরেই বুখারায় পৌঁছান। সেখানে তিনি ৩৬০ হিজরি সনের শুরু পর্যন্ত অবস্থান করেন, যেমনটি আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদের জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে...

--------------------------------------------

‌‌(১) "তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি", পৃষ্ঠা ১৮২।

‌‌(২) "তারিখে দামেশক", ৫৩/ ২৮০।

‌‌(৩) "তারিখে দামেশক", ৪০/ ৮: আমরা বলছি: নাসাও খোরাসানের শহরগুলোর অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এটি তুর্কমেনিস্তান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী আশখাবাদের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৮ কিমি দূরে অবস্থিত। এটি এখন একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থান, যা নিশাপুর থেকে উত্তরে প্রায় ২৫০ কিমি এবং মার্ভ থেকে পশ্চিমে প্রায় ৩৫০ কিমি দূরে অবস্থিত।

‌‌(৪) ইবনে আসাকিরের "তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি", পৃষ্ঠা ২২৯।