(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
مسند إسحاق بن راهويه - مسند ابن عباس   (إسحاق بن راهويه)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسند إسحاق بن راهويه - مسند ابن عباس

المؤلف: أبو يعقوب إسحاق بن إبراهيم بن مخلد بن إبراهيم الحنظلي المروزي المعروف بـ ابن راهويه (ت 238هـ)

المحقق: محمد مختار ضرار المفتي

الناشر: دار الكتاب العربي

الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002

عدد الأجزاء: 1 (وهذا الكتاب الإلكتروني يحتوي على مسند ابن عباس فقط، وليس كل الكتاب الورقي)

[الكتاب مرقم آليا، وترقيم الأحاديث موافق للمطبوع]

(كل ما جاء بين قوسين في مسند ابن عباس فهو من زيادات طبعة الدار الأثرية / عمان - الأردن، بتخريج وتعليق أبي عبد الله عمر بن بسام بن الصادق)

أعده للشاملة: أحمد الخضري

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহ - মুসনাদে ইবনে আব্বাস   (ইসহাক বিন রাহওয়াইহ)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহ - মুসনাদে ইবনে আব্বাস

লেখক: আবু ইয়াকুব ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন মুখাল্লাদ বিন ইব্রাহিম আল-হানজালি আল-মারওয়াজি, যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৩৮ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ মুখতার দিরার আল-মুফতি

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২

খণ্ড সংখ্যা: ১ (এই ইলেকট্রনিক বইটিতে কেবল মুসনাদে ইবনে আব্বাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, পূর্ণাঙ্গ মুদ্রিত বইটি নয়)

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে এবং হাদিসের নম্বরসমূহ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

(মুসনাদে ইবনে আব্বাসের বন্ধনীভুক্ত সকল অংশ দারুল আসারিয়া সংস্করণ / আম্মান - জর্ডান-এর বর্ধিতাংশ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার তাখরিজ ও টীকা প্রদান করেছেন আবু আব্দুল্লাহ ওমর বিন বাসসাম বিন আস-সাদিক)

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদারি

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
ـ[مسند إسحاق بن راهويه - مسند ابن عباس]ـ

المؤلف: إسحاق بن راهويه

المحقق: محمد مختار ضرار المفتي

الناشر: دار الكتاب العربي

الطبعة: الأولى، 1423 هـ

عدد الأجزاء: 1 (وهذا الكتاب الإلكتروني يحتوي على مسند ابن عباس فقط، وليس كل الكتاب الورقي)

[ترقيم الأحاديث موافق للمطبوع]

(كل ما جاء بين قوسين في مسند ابن عباس فهو من زيادات طبعة الدار الأثرية / عمان - الأردن، بتخريج وتعليق أبي عبد الله عمر بن بسام بن الصادق)

أعده للشاملة: أحمد الخضري
—[মুসনাদ ইসহাক বিন রাহওয়াইহ - মুসনাদ ইবনে আব্বাস]—

লেখক: ইসহাক বিন রাহওয়াইহ

তাহকীক: মুহাম্মদ মুখতার দিরার আল-মুফতি

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১ (এবং এই ই-বুকটিতে শুধুমাত্র মুসনাদ ইবনে আব্বাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সম্পূর্ণ মুদ্রিত বইটি নয়)

[হাদিসের নম্বরসমূহ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

(মুসনাদ ইবনে আব্বাসের বন্ধনীতে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তা দারুল আসারিয়্যাহ / আম্মান - জর্ডান সংস্করণের বর্ধিত অংশ থেকে নেওয়া, যার তাখরীজ ও তালীক করেছেন আবু আব্দুল্লাহ ওমর বিন বাসসাম বিন আস-সাদিক)

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমদ আল-খুদারি
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
مسند ابن عباس

 

- ما يُروَى عَن رجال أهل الكوفة (مكة) :

-‌‌ ما يُروَى، عَن طاووس وغيره، عَن ابن عَبَّاس، عَن النبي صلى الله عليه وسلم:

748- أخبرنا جرير، عَن منصور، عَن مجاهد، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال يوم الفتح، فتح مكة: لا هجرة ولكن جهاد ونية، وإذا استنفرتم فانفروا.

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الفتح، فتح مكة: إن هذا البلد حرمه الله يوم خلق السماوات والأرض فهو حرام بحرمة الله إلى يوم القيامة ولم يحل القتال فيه لأحد قبلي ولم يحلل لي إلاَّ ساعة من نهار فهو حرام بحرمة الله إلى يوم القيامة لا يختلى خلاها، ولَا يعضد شوكها (شجرها) ، ولَا ينفر صيدها، ولَا يلتقط إلاَّ من عرفها فقال العباس: (يا رسول الله!) إلاَّ الإذخر إنه لقينهم وبيوتهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إلاَّ الإذخر.

749- أخبرنا يحيى بن آدم، حَدَّثَنا المفضل بن مهلهل، عَن منصور، عَن مجاهد، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم، مِثله سواء. قال: لا يلتقط لقطتها إلاَّ من عرفها.

 

750- أخبرنا جرير، عَن منصور، عَن مجاهد، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: سافر رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان (فصام) حتى بلغ عسفان، ثُم دعا بإناء فيه شراب فشربه نهارا ليراه الناس، ثُم أفطر حتى دخل مكة.
মুসনাদে ইবনে আব্বাস

 

- কুফা (মক্কা) বাসীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে:

-‌‌ যা বর্ণিত হয়েছে তাউস ও অন্যদের থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে:

৭৪৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, মানসূর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন তিনি বলেছিলেন: মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট আছে। আর যখন তোমাদের জিহাদের জন্য বের হতে বলা হবে, তখন তোমরা বের হবে।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন আরও বলেছিলেন: নিশ্চয়ই এই শহরকে আল্লাহ সেই দিনই হারাম (পবিত্র ও নিষিদ্ধ) করেছেন যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এটি আল্লাহর সম্মানে কিয়ামত পর্যন্ত হারাম। আমার পূর্বে এখানে লড়াই করা কারো জন্য বৈধ ছিল না এবং আমার জন্যও দিনের সামান্য সময় ব্যতীত তা বৈধ করা হয়নি। সুতরাং আল্লাহর সম্মানে এটি কিয়ামত পর্যন্ত হারাম; এর ঘাস কাটা যাবে না, এর কাঁটাযুক্ত গাছ (গাছপালা) উপড়ানো যাবে না, এর শিকারকে তাড়ানো যাবে না এবং এর পড়ে থাকা বস্তু কেউ তুলে নিতে পারবে না কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে এর ঘোষণা দেবে (মালিকের সন্ধান করবে)। তখন আব্বাস বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইযখির (এক প্রকার ঘাস) ব্যতীত, কারণ এটি তাদের কর্মকারদের জন্য এবং তাদের ঘরবাড়ির কাজে লাগে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইযখির ব্যতীত।

৭৪৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আদম, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুফাদ্দাল ইবনে মুহালহিল থেকে, তিনি মানসূর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে পূর্বের অনুরুপ। তিনি বলেন: এর পড়ে থাকা বস্তু কেউ তুলে নিতে পারবে না কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে এর ঘোষণা দেবে।

 

৭৫০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, মানসূর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে সফরে বের হলেন এবং তিনি রোজা রাখলেন যতক্ষণ না উসফান নামক স্থানে পৌঁছালেন। অতঃপর তিনি পানীয় ভর্তি একটি পাত্র চাইলেন এবং দিনের বেলায় তা পান করলেন যেন মানুষ তা দেখতে পায়। এরপর মক্কায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি রোজা ভঙ্গ অবস্থায় থাকলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
قال ابن عَبَّاس: قد صام رسول الله صلى الله عليه وسلم في السفر وأفطر فمن شاء صام ومن شاء أفطر.

751- أخبرنا سفيان بن عيينة، عَن عَبد الكريم الجزري ووكيع، عَن سفيان، عَن عَبد الكريم الجزري، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: لا نعيب (تعب) على من صام في السفر، ولَا على من أفطر زاد (قال) وكيع: قد صام رسول الله صلى الله عليه وسلم في السفر وأفطر.

 

752- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا الأعمش قال: سمعت مجاهدا يحدث، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: مر رسول الله صلى الله عليه وسلم على قبرين فقال: إنهما ليعذبان وما يعذبان في كبير أما أحدهما فكان يمشي بالنميمة وأما الآخر فكان لا يستتر من بوله، ثُم دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بعسيب رطب فشقه باثنين، ثُم غرس على هذا واحدا وعلى هذا واحدا وقال: لعله أن يخفف عنهما ما لم ييبسا.

753- أخبرنا جرير، عَن الأعمش، عَن مجاهد، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقبرين فقال: إنهما ليعذبان وما يعذبان في كبير، ثُم قال: بلى (وبكى) أما أحدهما، فذكر مثله.

754- أخبرنا جرير، عَن منصور، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس نحوه.

 

755- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا أُسَامة بن زيد قال: سألت طاووسا، عَن السبحة في السفر والحسن بن مسلم بن يناق جالس فقال (الحسن حدثني) طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الحضر وصلاة السفر فكما يصلى قبلها وبعدها في الحضر قال: فكذلك يصلى قبلها وبعدها في السفر.

 

756- أخبرنا سفيان، عَن سليمان الأحول، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: كان الناس ينصرفون في كل وجه فأمرهم رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يكون آخر عهدهم بالبيت.
ইবনে আব্বাস বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে রোজা রেখেছেন এবং রোজা ভেঙেছেনও। সুতরাং যে চায় সে রোজা রাখবে, আর যে চায় সে রোজা ভেঙে ফেলবে।

৭৫১- সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল কারিম আল-জাজারি থেকে এবং ওকি’ সুফিয়ান থেকে, তিনি আব্দুল কারিম আল-জাজারি থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সফরে যে রোজা রাখে তাকে আমরা দোষারোপ করি না, আর যে রোজা ভেঙে ফেলে তাকেও নয়। ওকি’ আরও বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে রোজা রেখেছেন এবং রোজা ভেঙেছেন।

 

৭৫২- ওকি’ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাশ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে তাউস থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: এই দুই কবরবাসীকে আজাব দেওয়া হচ্ছে, আর তাদের কোনো বড় বিষয়ের জন্য আজাব দেওয়া হচ্ছে না। তাদের একজন চোগলখুরি করে বেড়াত, আর অন্যজন নিজের প্রস্রাব থেকে আড়াল হতো না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কাঁচা খেজুরের ডাল চাইলেন এবং তা দুই ভাগে ছিঁড়লেন। অতঃপর এর একটি এই কবরে এবং অন্যটি ওই কবরে গেঁথে দিলেন এবং বললেন: আশা করা যায় যে, এই ডাল দুটি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের আজাব লাঘব করা হবে।

৭৫৩- জারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং বললেন: তাদের উভয়কে আজাব দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো বড় বিষয়ের জন্য আজাব দেওয়া হচ্ছে না। এরপর তিনি বললেন: কেন নয় (এবং তিনি কাঁদলেন)। তারপর তিনি আগের বর্ণনার মতোই উল্লেখ করলেন।

৭৫৪- জারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মানসুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

৭৫৫- ওকি’ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উসামা বিন যাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি তাউসকে সফর অবস্থায় নফল নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যখন হাসান বিন মুসলিম বিন ইয়ানাক সেখানে বসা ছিলেন। হাসান বললেন: তাউস ইবনে আব্বাস থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবাসে থাকাকালীন নামাজ এবং সফরের নামাজ ফরজ করেছেন। সুতরাং আবাসে থাকাকালীন নামাজের আগে ও পরে যেভাবে (নফল) নামাজ পড়া হয়, সফরের সময়ও নামাজের আগে ও পরে সেভাবেই নামাজ পড়া হবে।

 

৭৫৬- সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান আল-আহওয়াল থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মানুষ (হজ শেষে) বিভিন্ন দিকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নির্দেশ দিলেন যেন বায়তুল্লাহর সাথে (তওয়াফের মাধ্যমে) তাদের সর্বশেষ কাজ সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
757- قال سفيان: وقال ابن طاووس، عَن أبيه قال: أمروا أن يكون آخر عهدهم بالبيت إلاَّ المرأة الحائض فإنه قد رخص لها، أَو قال: خفف عنها.

758- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا مسعر، عَن عَبد الملك بن ميسرة، عَن طاووس قال: ما رأيت ابن عَبَّاس يخالفه أحد فتركه حتى يقرره فخالف جابر بن عَبد الله في المرأة تحيض بعد ما تطوف يوم النحر فقال ابن عَبَّاس: تنفر فأرسلوا إلى امرأة كان أصابها ذلك يعني (بمنى) على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فوافقت ابن عباس.

 

759- أخبرنا محمد بن جعفر، حَدَّثَنا شعبة، عَن عَبد الملك بن ميسرة، عَن طاووس قال: سئل ابن عَبَّاس، عَن هذه الآية {قل لا أسئلكم عليه أجرا إلاَّ المودة في القربى} الآية، فقال سعيد بن جبير: قربى آل محمد فقال ابن عَبَّاس: عجلت عجلت إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن بطن من بطون قريش إلاَّ كانت له فيها قرابة، فقال: أن تصلوا ما بيني وبينهم من القرابة.

 

760- أخبرنا عَبد الله بن إدريس قال: سمعت ليثا يحدث، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يسروا، ولَا تعسروا وأيسروا، ولَا تعسروا فإذا غضبت فاسكت وإذا غضبت فاسكت.

761- أخبرنا جرير، عَن ليث، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: علموا ويسروا، ولَا تعسروا علموا ويسروا، ولَا تعسروا علموا ويسروا، ولَا تعسروا، ثُم قال:، وإذا غضبت فاسكت، وإذا غضبت فاسكت، وإذا غضبت فاسكت.

 

762- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، قال: أمر الناس أن يكون آخر عهدهم بالبيت إلاَّ أنه خفف (حفف) ، عَن المرأة الحائض.

قال ابن عَبَّاس: نقول تطوف بالبيت حتى يكون آخر عهدهم بالبيت.
৭৫৭- সুফিয়ান বলেছেন: এবং ইবনে তাউস তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন বায়তুল্লাহর সাথে (তওয়াফের মাধ্যমে) তাদের সর্বশেষ সময় অতিবাহিত হয়, তবে ঋতুবতী নারীর জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে, অথবা তিনি বলেছেন: তার জন্য বিষয়টি সহজ করা হয়েছে।

৭৫৮- ওয়াকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মিসআর আমাদের বলেছেন, আব্দুল মালিক বিন মাইসারা থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে দেখিনি যে কেউ তাঁর বিরোধিতা করেছে আর তিনি তাকে ছেড়ে দিয়েছেন যতক্ষণ না তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছেন (বা সত্য স্বীকার করিয়েছেন)। তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহর সাথে সেই নারীর বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন, যে তওয়াফে যিয়ারত (কুরবানির দিনের তওয়াফ) করার পর ঋতুবতী হয়েছে। ইবনে আব্বাস বললেন: সে (বিদায়ী তওয়াফ ছাড়াই) চলে যাবে। অতঃপর তারা এমন এক মহিলার কাছে লোক পাঠালেন যার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মিনায় এমনটি ঘটেছিল, তখন তিনি ইবনে আব্বাসের মতের সাথে একমত পোষণ করলেন।

 

৭৫৯- মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শু'বা আমাদের বলেছেন, আব্দুল মালিক বিন মাইসারা থেকে, তাউস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাসকে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— {বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, কেবল আত্মীয়তার ভালোবাসা ছাড়া}। তখন সাঈদ বিন জুবাইর বললেন: (এর অর্থ) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের আত্মীয়তা। ইবনে আব্বাস বললেন: তুমি তাড়াহুড়ো করে ফেলেছ, তুমি তাড়াহুড়ো করে ফেলেছ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুরাইশ বংশের এমন কোনো শাখা ছিল না যাদের সাথে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না। তাই তিনি বলেছিলেন: তোমরা আমার ও তোমাদের মাঝে যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে তা রক্ষা করো।

 

৭৬০- আব্দুল্লাহ বিন ইদরীস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি লাইসকে তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না; এবং সহজ করো, কঠিন করো না। আর যখন তুমি রাগান্বিত হও তখন চুপ থাকো, যখন তুমি রাগান্বিত হও তখন চুপ থাকো।

৭৬১- জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, লাইস থেকে, তাউস থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তোমরা শিক্ষা দাও এবং সহজ করো, কঠিন করো না; শিক্ষা দাও এবং সহজ করো, কঠিন করো না; শিক্ষা দাও এবং সহজ করো, কঠিন করো না। অতঃপর তিনি বললেন: এবং যখন তুমি রাগান্বিত হও তখন চুপ থাকো, যখন তুমি রাগান্বিত হও তখন চুপ থাকো, যখন তুমি রাগান্বিত হও তখন চুপ থাকো।

 

৭৬২- আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা'মার আমাদের বলেছেন, ইবনে তাউস থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন বায়তুল্লাহর সাথে তাদের সর্বশেষ সময় অতিবাহিত হয়, তবে ঋতুবতী নারীর জন্য তা সহজ করা হয়েছে।

ইবনে আব্বাস বলেন: আমরা বলি, সে বায়তুল্লাহর তওয়াফ করবে যাতে বায়তুল্লাহর সাথেই তাদের সর্বশেষ সময়টি অতিবাহিত হয়।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
763- أخبرنا ابن طاووس وقال أبي: اختلف ابن عَبَّاس وزيد بن ثابت في المرأة تصدر قبل أن تطوف بالبيت وهي حائض قال ابن عَبَّاس: تنفر وقال (قال) زيد: لا تخرج حتى تطوف بالبيت فدخل زيد على عائشة فسألها فقالت: تنفر فخرج زيد وهو يبتسم ويقول: ما الأمر إلاَّ على ما قد قلت.

 

764- أخبرنا سفيان، عَن هشام بن حجير، عَن طاووس، أَو غيره، عَن ابن عَبَّاس، قال: الحجر من البيت لأن الله قال: {وليطوفوا بالبيت العتيق} فطاف رسول الله صلى الله عليه وسلم (من) وراء الحجر.

765- أخبرنا جرير، عَن ليث بن أبي سليم، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، عَن النبي صلى الله عليه وسلم. وعن نافع، عَن ابن عُمَر، عَن النبي صلى الله عليه وسلم قال: خمس هم (هن) فواسق، يقتلن في الحرم (الحل) ويقتلهن الرجل وهو محرم: الفأرة والعقرب والكلب العقور والحدأة (والحدية) والغراب.

 

766- أخبرنا إسماعيل بن إبراهيم، عَن ليث، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم لبى حتى رمى الجمرة يوم النحر.

767- أخبرنا جرير، عَن عطاء بن السائب، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال جرير: وعن (وغير) عطاء لم يرفعه قال: الطواف بالبيت مثل الصلاة إلاَّ أنكم تتكلمون فيه فلا يتكلمن أحدكم إلاَّ بخير.

 

768- أخبرنا محمد بن بكر، أَخْبَرنا ابن جرير أخبرني أبو الزبير أنه سمع طاووسا وعكرمة مولى ابن عَبَّاس، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن ضباعة بنت الزبير بن عَبد المطلب أتت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: إني امرأة ثقيلة وإني أريد الحج فما تأمرني؟ فقال: أهلي بالحج واشترطي أن محلي حيث تحبسني قال: فأدركت.
৭৬৩- ইবনে তাউস আমাদের জানিয়েছেন এবং আমার পিতা বলেছেন: ঋতুবতী অবস্থায় বায়তুল্লাহর বিদায়ী তাওয়াফ করার পূর্বেই নারী প্রস্থান করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে ইবনে আব্বাস এবং যাইদ বিন সাবিত (রা.) মতভেদ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: সে প্রস্থান করবে। আর যাইদ (রা.) বললেন: বায়তুল্লাহর তাওয়াফ না করা পর্যন্ত সে বের হবে না। অতঃপর যাইদ (রা.) আয়েশা (রা.)-এর কাছে প্রবেশ করে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: সে প্রস্থান করবে। তখন যাইদ (রা.) মুচকি হাসতে হাসতে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন: বিষয়টি আমি যা বলেছি তা ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

৭৬৪- সুফিয়ান আমাদের জানিয়েছেন, হিশাম বিন হুজাইর থেকে, তিনি তাউস অথবা অন্য কারো থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হাতিম (হিজর) বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তারা যেন প্রাচীন গৃহের (কাবা) তাওয়াফ করে।" তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতিমের বাহির দিয়ে তাওয়াফ করেছেন।

৭৬৫- জারীর আমাদের জানিয়েছেন, লাইস বিন আবি সুলাইম থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। এবং নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: পাঁচটি প্রাণী ক্ষতিকর, হারামের সীমানায় (ও বাইরে) সেগুলোকে হত্যা করা হবে এবং ইহরাম অবস্থায়ও ব্যক্তি সেগুলোকে হত্যা করবে: ইঁদুর, বিচ্ছু, হিংস্র কুকুর, চিল এবং কাক।

 

৭৬৬- ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আমাদের জানিয়েছেন, লাইস থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানির দিন জামরায় পাথর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করেছেন।

৭৬৭- জারীর আমাদের জানিয়েছেন, আতা বিন সায়িব থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। জারীর বলেন: এবং আতা ব্যতীত অন্য কেউ একে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে দেননি (বরং ইবনে আব্বাসের উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন)। তিনি বলেছেন: বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সালাতের মতোই, তবে পার্থক্য হলো এতে তোমরা কথা বলো। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন সেখানে কল্যাণকর কথা ব্যতীত অন্য কিছু না বলে।

 

৭৬৮- মুহাম্মাদ বিন বকর আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের জানিয়েছেন, আবু যুবাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাউস এবং ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ থেকে শুনেছেন, তারা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে; যুবাইর বিন আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা দুবাআহ (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: আমি একজন স্থূলকায় নারী এবং আমি হজের ইচ্ছা পোষণ করছি, এমতাবস্থায় আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেন: তুমি হজের ইহরাম বাঁধো এবং এ শর্ত করো যে, "আমি সেখানেই হালাল হব যেখানে আপনি আমাকে আটকে দেবেন (অর্থাৎ কোনো বাধার কারণে আর অগ্রসর হতে না পারলে সেখানেই আমার ইহরাম শেষ হবে)।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তা লাভ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
769- أخبرنا جرير، عَن ليث، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: وقت رسول الله صلى الله عليه وسلم لأهل المدينة ذا الحليفة ولأهل الشام الجحفة ولأهل نجد قرنا ولأهل اليمن يلملم وقال: من كان أهله دون الميقات فمن حيث يتبدى.

قال طاووس: وذات عرق فوق قرن إلى مكة وجعل عرق مكان قرن.

 

770- أخبرنا سليمان بن حرب، عَن حماد بن زيد، عَن عمرو بن دينار، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: وقت رسول الله صلى الله عليه وسلم لأهل المدينة ذات الحليفة ولأهل الشام الجحفة ولأهل اليمن يلملم، أَو الملم (ألملم) ، وقال: هذه المواقيت لأهلهن فمن كان أهله دون الميقات فمن حيث يخرج وقال: هذه لأهلهن ومن أتى عليهن من غير أهلهن حتى يأتي ذلك على أهل مكة.

771- أخبرنا سفيان، عَن عمرو، عَن طاووس قال: وقت رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر، مِثله، وقال: من كان أهله دون الميقات فمن حيث بنى.

 

772- أخبرنا جرير، عَن ليث، عَن عطاء وطاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: إنما رمل رسول الله صلى الله عليه وسلم بالبيت وبالصفا والمروة ليراه المشركون لأن المشركين تحدثوا أن بمحمد وبأصحابه جهدا فرمل ليريهم ذلك.

 

773- أخبرنا عَبد الله بن نمير، عَن إسماعيل بن مسلم، عَن عمرو بن دينار، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رجلا طاهر (ظاهر) من امرأته، ثُم رآها في القمر فأعجبته فوقع عليها فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبره فقال: أليس قال الله عز وجل {من قبل أن يتماسا} فقال: رأيتها فأعجبتني فقال: امسك حتى تكفر.

774- أخبرنا عَبد الله بن إدريس قال: سمعت محمد بن إسحاق يحدث، عَن محمد بن عمرو، عَن سليمان بن يسار، عَن سلمة بن صخر قال: ظاهرت من امرأتي، ثُم واقعتها فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فأمرني أن أطعم ستين مسكينا.
৭৬৯- জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লায়স থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনাবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা, শামবাসীদের জন্য জুহফা, নজদবাসীদের জন্য কারন এবং ইয়েমেনবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম মিকাত নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন: "যারা মিকাতের ভেতরে বসবাস করে, তারা যেখান থেকে যাত্রা শুরু করবে (সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধবে)।"

তাউস বলেন: যাতু ইর্ক মক্কার পথে কারনের উপরে অবস্থিত এবং তিনি কারনের স্থলে ইর্ককে নির্ধারণ করেছেন।

 

৭৭০- সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনাবাসীদের জন্য যাতুল-হুলাইফা, শামবাসীদের জন্য জুহফা এবং ইয়েমেনবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম বা আল-মালাম মিকাত নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "এই মিকাতগুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য এবং তাদের জন্য যারা অন্য অঞ্চল থেকে এই পথ দিয়ে আসবে। আর যারা মিকাতের ভেতরে বসবাস করে, তারা যেখান থেকে বের হবে সেখান থেকেই (ইহরাম বাঁধবে), এমনকি মক্কাবাসীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।"

৭৭১- সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিকাত নির্ধারণ করেছেন—অতঃপর তিনি পূর্বরূপ উল্লেখ করেন এবং বলেন: "যারা মিকাতের ভেতরে বসবাস করে, তারা যেখানে বসতি স্থাপন করেছে (বসবাস করছে) সেখান থেকেই (ইহরাম বাঁধবে)।"

 

৭৭২- জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লায়স থেকে, তিনি আতা ও তাউস থেকে, তাঁরা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বায়তুল্লাহ এবং সাফা ও মারওয়ায় কেবল একারণেই 'রমল' (দ্রুতপদে চলা) করেছিলেন যাতে মুশরিকরা তা দেখতে পায়। কারণ মুশরিকরা বলাবলি করছিল যে, মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাই তিনি তাদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য রমল করেছিলেন।

 

৭৭৩- আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন; এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে 'যিহার' করেছিল। অতঃপর একদিন চাঁদের আলোতে সে তাকে দেখল এবং তাকে তার ভালো লাগল, ফলে সে তার সাথে মিলিত হলো। এরপর সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন: "আল্লাহ কি বলেননি {একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে}?" সে বলল: "আমি তাকে দেখেছিলাম এবং সে আমার ভালো লেগেছিল।" তিনি বললেন: "তুমি বিরত থাকো যতক্ষণ না কাফফারা আদায় করো।"

৭৭৪- আবদুল্লাহ ইবনে ইদরীস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাককে বর্ণনা করতে শুনেছি মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি সালামা ইবনে সাখর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার স্ত্রীর সাথে 'যিহার' করেছিলাম, অতঃপর তার সাথে মিলিত হয়ে পড়লাম। এরপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলে তিনি আমাকে ষাট জন মিসকিনকে আহার করানোর নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
775- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، قال: كان الطلاق على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وسنتين من إمارة عُمَر طلاق الثلاث واحدة فقال عُمَر: قد كانت لكم أناة في الطلاق فقد استعجلتم أناة لكم (أناتكم) ، وقد أجزنا عليكم ما استعجلتم.

776- أخبرنا سليمان بن حرب، عَن حماد بن زيد، عَن أيوب السختياني، عَن إبراهيم بن ميسرة، عَن طاووس أن أبا الصهباء قال لابن عَبَّاس: هات من هناتك ألم يكن طلاق الثلاث على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر واحدة قد كان ذاك فلما كان في عهد عُمَر تتابع الناس في الطلاق فأجازه عليهم.

 

777- أخبرنا روح بن عبادة، حَدَّثَنا ابن جُرَيج أخبرني ابن طاووس، عَن أبيه أن أبا الصهباء قال لابن عَبَّاس: أما علمت أن طلاق الثلاث (كان) على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وثلاثا من إمارة عُمَر واحدة فقال ابن عَبَّاس: نعم.

778- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا ابن جُرَيج أخبرني الحسن بن مسلم، عَن ابن شهاب، عَن ابن عَبَّاس أنه قال: التي لم يدخل بها إذا جمع الثلاث عليها وقعن عليها.

779- قال الحسن: فذكرت ذلك لطاووس فقال: أشهد أني سمعت ابن عَبَّاس يجعلها واحدة قال: وقال عُمَر: واحدة وإن جمعهن.

780- قال ابن جُرَيج: أخبرني داود بن أبي هند، عَن يزيد بن أبي مريم، عَن أبي عياض، عَن ابن عَبَّاس أنه قال: التي لم يدخل بها والتي قد دخل بها في الثلاث سواء.

 

781- أخبرنا عَبد الله بن إدريس قال: سمعت عُبَيد الله بن الوليد يحدث، عَن داود بن إبراهيم، عَن (بن) عبادة بن الصامت قال: طلق رجل من أجدادي امرأته ألفا فأنفذه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: إن أباكم لم يتق الله فيجعل له مخرجا، بانت منه ثلاثا وسائرهن عدوان، اتخذ آيات الله هزوا.
৭৭৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বর্ণনা করেছেন মা'মার থেকে, তিনি ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এবং উমরের খিলাফতের প্রথম দুই বছর তিন তালাক এক তালাক হিসেবে গণ্য হতো। অতঃপর উমর বললেন: তালাকের ক্ষেত্রে তোমাদের জন্য ধীরস্থিরতার সুযোগ ছিল, কিন্তু তোমরা তোমাদের সেই ধীরস্থিরতার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে ফেলেছ; তাই তোমাদের সেই তাড়াহুড়োকে আমরা তোমাদের ওপর (তিন তালাক হিসেবেই) কার্যকর করে দিলাম।

৭৭৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান বিন হারব, তিনি বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ থেকে, তিনি আইয়ুব সাখতিয়ানি থেকে, তিনি ইবরাহিম বিন মাইসারা থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন যে, আবুস সাহবা ইবনে আব্বাসকে বললেন: আপনার বিশেষ জ্ঞান থেকে কিছু বলুন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এবং আবু বকরের যুগে কি তিন তালাক এক তালাক ছিল না? (ইবনে আব্বাস বললেন) বিষয়টি এমনই ছিল। অতঃপর যখন উমরের যুগ এলো, তখন মানুষ লাগাতার তালাক দিতে শুরু করল, তখন তিনি তা তাদের ওপর কার্যকর করে দিলেন।

 

৭৭৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাওহ বিন উবাদাহ, তিনি বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আবুস সাহবা ইবনে আব্বাসকে বললেন: আপনি কি জানেন না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে, আবু বকরের যুগে এবং উমরের খিলাফতের প্রথম তিন বছর তিন তালাক এক তালাক হিসেবেই গণ্য হতো? ইবনে আব্বাস বললেন: হ্যাঁ।

৭৭৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি হাসান বিন মুসলিম থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যার সাথে বাসর সম্পন্ন হয়নি, তাকে যদি একত্রে তিন তালাক দেওয়া হয়, তবে তা তার ওপর (তিন তালাক হিসেবেই) কার্যকর হবে।

৭৭৯- হাসান বলেন: আমি বিষয়টি তাউসের কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি ইবনে আব্বাসকে তা এক তালাক হিসেবে গণ্য করতে শুনেছি। তিনি আরও বলেন: উমরও বলেছিলেন: তা এক তালাক, যদিও তা একত্রে দেওয়া হয়।

৭৮০- ইবনে জুরাইজ বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন দাউদ বিন আবু হিন্দ, তিনি বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন আবু মারইয়াম থেকে, তিনি আবু ইয়াদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যার সাথে বাসর সম্পন্ন হয়নি এবং যার সাথে বাসর সম্পন্ন হয়েছে, তিন তালাকের ক্ষেত্রে উভয়ই সমান।

 

৭৮১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন ইদ্রিস, তিনি বলেন: আমি উবায়দুল্লাহ বিন ওয়ালিদকে দাউদ বিন ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি উবাদাহ বিন সামিত থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার এক পূর্বপুরুষ তার স্ত্রীকে এক হাজার তালাক দিয়েছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কার্যকর করলেন এবং বললেন: তোমাদের পিতা আল্লাহকে ভয় করেনি যে তিনি তার জন্য কোনো পথ বের করে দেবেন; তিন তালাকের মাধ্যমেই স্ত্রী তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট তালাকগুলো সীমা লঙ্ঘন, সে আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসে পরিণত করেছে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
782- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا سفيان، عَن ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من ابتاع طعاما فلا يبعه حتى يكتاله.

قلت لابن عَبَّاس: لم؟ قال: ألا تراهم يبايعون بالذهب والطعام مرجا (مرجأ) ؟!

783- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا سفيان، عَن عمرو بن دينار، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: أما الذي نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يباع حتى يقبض فالطعام.

وقال ابن عَبَّاس: ولَا أحسب كل شيء إلاَّ بمنزلة الطعام.

 

784- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من ابتاع طعاما فلا يبعه حتى يقبضه.

قال ابن عَبَّاس: فأحسب كل شيء بمنزلة الطعام.

785- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تتلقى الركبان.

 

786- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه نهى أن يبيع حاضر لباد قال: فقلت لابن عَبَّاس: ما قوله: لا يبيع حاضر لباد؟ قال: لا يكن له سمسارا.

787- أخبرنا وكيع، عَن سفيان، عَن عمرو بن دينار قال: سمعت ابن عُمَر يقول: كنا نخابر فلا نرى بذلك بأسا حتى زعم رافع بن خديج أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عنه.

788- قال عمرو: (و) فذكرت ذلك لطاووس فقال: قال ابن عَبَّاس إنما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لأن يمنح أحدكم أخاه الأرض خير له من أن يأخذ لها خرجا معلوما.
৭৮২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, ইবনে তাউস থেকে, তাঁর পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে, সে যেন তা পরিমাপ করার আগে বিক্রি না করে।

আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: কেন? তিনি বললেন: তুমি কি দেখছ না যে তারা স্বর্ণের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করছে অথচ খাদ্যদ্রব্যটি স্থগিত (বাকি) রয়ে গেছে?!

৭৮৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আমর ইবনে দিনার থেকে, তাউস থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হস্তগত করার পূর্বে যা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন তা হলো খাদ্যদ্রব্য।

ইবনে আব্বাস বলেন: আর আমি সবকিছুকেই খাদ্যদ্রব্যের পর্যায়ভুক্ত মনে করি।

 

৭৮৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার, ইবনে তাউস থেকে, তাঁর পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে, সে যেন তা হস্তগত করার আগে বিক্রি না করে।

ইবনে আব্বাস বললেন: সুতরাং আমি সবকিছুকেই খাদ্যদ্রব্যের পর্যায়ভুক্ত মনে করি।

৭৮৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার, ইবনে তাউস থেকে, তাঁর পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পণ্যবাহী) কাফেলার সাথে এগিয়ে গিয়ে (বাজারে পৌঁছার আগে) সাক্ষাৎ করতে নিষেধ করেছেন।

 

৭৮৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার, ইবনে তাউস থেকে, তাঁর পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি কোনো শহরবাসীকে কোনো গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি (তাউস) বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করলাম: তাঁর এই উক্তির মর্ম কী যে—শহরবাসী গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রি করবে না? তিনি বললেন: সে যেন তার জন্য দালাল (বা মধ্যস্থতাকারী) না হয়।

৭৮৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকি, সুফিয়ান থেকে, আমর ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি: আমরা ‘মুখাবারা’ (বর্গা চাষ) করতাম এবং তাতে কোনো দোষ মনে করতাম না, যতক্ষণ না রাফে ইবনে খাদীজ দাবি করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা থেকে নিষেধ করেছেন।

৭৮৮- আমর বলেন: (এবং) আমি তাউসের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম, তখন তিনি বললেন: ইবনে আব্বাস বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল এটাই বলেছেন যে: তোমাদের কারো জন্য তার ভাইকে জমি (ব্যবহারের জন্য) দান করা, তার কাছ থেকে নির্দিষ্ট কর (বা ভাড়া) গ্রহণ করার চেয়ে উত্তম।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
789- أخبرنا بشر بن عُمَر بن الزهراني، حَدَّثَنا مالك بن أنس، عَن أبي الزبير المكي، عَن طاووس اليماني، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يعلمهم هذا الدعاء كما يعلمهم السورة من القرآن اللهم (إني) أعوذ بك من عذاب جهنم وأعوذ بك من عذاب القبر وأعوذ بك من فتنة المسيح الدجال وأعوذ بك من فتنة المحيا والممات.

 

790- أخبرنا أبو عامر العقدي، حَدَّثَنا شعبة، عَن عمرو بن دينار، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: أمر نبيكم أن يسجد على سبعة أعظم، ولَا يكف شعرا، ولَا ثوبا.

قال شعبة: وقال عمرو مرة أخرى: قال النبي صلى الله عليه وسلم: أمرت أن أسجد على سبعة أعظم وأمرت أن لا أكف شعرا، ولَا ثوبا.

791- أخبرنا … (بشر) ، حَدَّثَنا شعبة ومعاذ (وحماد) بن سلمة كلاهما، عَن عمرو بن دينار، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: أمر النبي صلى الله عليه وسلم أن يسجد على سبعة أعظم، ولَا يكف شعرا، ولَا ثوبا.

792- أخبرنا سفيان، عَن ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، قال: أمر النبي صلى الله عليه وسلم أن يسجد على سبعة أعضاء، ولَا يكف شعرا، ولَا ثوبا.

قال: وقال إبراهيم بن ميسرة: سألت طاووسا، عَن السجود على الأنف، فقال: هو خير.

قال إسحاق: أي الجبهة والأنف شيء واحد.

 

793- أخبرنا المؤمل، حَدَّثَنا سفيان، عَن ابن جُرَيج، عَن الحسن بن مسلم، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم العيدين، ثُم خطب وصلى أبو بكر كذلك، ثُم خطب وصلى عُمَر كذلك، ثُم خطب وصلى عثمان كذلك، ثُم خطب بغير أذان، ولَا إقامة.

قال المؤمل: نقول (يقول) : كلهم صلوا العيدين بغير أذان، ولَا إقامة.
৭৮৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশর বিন উমর আল-জাহরানী, তিনি মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি আবুয যুবাইর আল-মাক্কী থেকে, তিনি তাউস আল-ইয়ামানী থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে এই দুআটি শিক্ষা দিতেন যেভাবে তিনি তাঁদেরকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন: হে আল্লাহ! (আমি) আপনার কাছে জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাইছি, কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইছি, মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাইছি এবং জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি।

 

৭৯০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমির আল-আকাদী, তিনি শু’বা থেকে, তিনি আমর বিন দীনার থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তোমাদের নবীকে সাতটি হাড়ের ওপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর তিনি যেন চুল বা কাপড় না গুটিয়ে রাখেন।

শু’বা বলেন: আমর অন্য এক সময় বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমাকে সাতটি হাড়ের ওপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং চুল ও কাপড় না গোটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৭৯১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন … (বিশর), তিনি শু’বা এবং মুআয ও (হাম্মাদ) বিন সালামাহ্ উভয়ের সূত্রে, তাঁরা আমর বিন দীনার থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাতটি হাড়ের ওপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর তিনি যেন চুল বা কাপড় না গুটিয়ে রাখেন।

৭৯২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর তিনি যেন চুল বা কাপড় না গুটিয়ে রাখেন।

তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন মাইসারাহ্ বলেছেন: আমি তাউসকে নাকের ওপর সিজদা করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: এটি উত্তম।

ইসহাক বলেন: অর্থাৎ কপাল ও নাক একই বিষয়।

 

৭৯৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মুআম্মাল, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি হাসান বিন মুসলিম থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঈদের সালাত আদায় করলেন, এরপর খুতবা দিলেন। আবু বকরও অনুরূপ করলেন এবং এরপর খুতবা দিলেন। উমরও অনুরূপ করলেন এবং এরপর খুতবা দিলেন। উসমানও অনুরূপ করলেন এবং এরপর খুতবা দিলেন; আযান ও ইকামাহ্ ছাড়াই।

আল-মুআম্মাল বলেন: আমরা বলি (তিনি বলেন): তাঁরা সকলেই আযান ও ইকামাহ্ ছাড়াই দুই ঈদের সালাত আদায় করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
794- أخبرنا محمد بن بكر، أَخْبَرنا ابن جُرَيج أخبرني سليمان الأحول أن طاووسا أخبره أنه سمع ابن عَبَّاس يقول: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا تهجد من الليل يقول: اللهم لك الحمد أنت نور السماوات والأرض (ولك الحمد أنت قيم السماوات والأرض ولك الحمد أنت رب السماوات والأرض) ومن فيهن أنت الحق ووعدك حق ولقاؤك حق وقولك حق والنار حق والجنة حق والساعة حق اللهم بك آمنت ولك أسلمت وعليك توكلت وإليك أنبت وبك خاصمت وإليك حاكمت أنت الذي (إلهي) لا إله إلاَّ أنت.

795- أخبرنا يحيى بن آدم، حَدَّثَنا سفيان، عَن ابن جُرَيج، عَن سليمان الأحول، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعو إذا تهجد من الليل يقول: اللهم لك الحمد فذكر، مِثله، سواء.

 

796- أخبرنا روح بن عبادة وعبد الرَّزَّاق قالا: حَدَّثَنا ابن جُرَيج أخبرني سليمان الأحول أنه سمع طاووسا يخبر، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن النبي (رسول الله) صلى الله عليه وسلم مر وهو يطوف بالكعبة بإنسان يقود إنسانا بخزامة في أنفه فقطعه بيده، ثُم أمره أن يأخذ بيده.

797- أخبرنا أبو عامر العقدي - عَبد الملك بن عمرو، حَدَّثَنا محمد بن طلحة بن مصرف، عَن حميد بن وهب، عَن ابن طاووس، عَن إبراهيم (أبيه) ، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر برجل قد خضب بالحناء فقال: ما أحسن هذا، ثُم مر بآخر قد خضب بالحناء والكتم فقال: هذا أحسن من هذا؟ ، ثُم مر بآخر قد خضب بالصفرة فقال: هذا أحسن من هذا كله.

قال: فكان طاووس يخضب بصفرة (بالصفرة) .

 

798- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: اقسم المال بين أهل الفرائض على كتاب الله فما بقي فلأولي ذكر.
৭৯৪- মুহাম্মদ ইবনে বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলায়মান আল-আহওয়াল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তাউস তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে তাহাজ্জুদ পড়তেন তখন বলতেন: হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমানসমূহ ও জমিনের নূর (এবং আপনারই সকল প্রশংসা, আপনি আসমানসমূহ ও জমিনের রক্ষক এবং আপনারই সকল প্রশংসা, আপনি আসমানসমূহ, জমিন ও এর মধ্যে যা কিছু আছে সবার প্রতিপালক)। আপনি সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাথে সাক্ষাৎ সত্য, আপনার বাণী সত্য, জাহান্নাম সত্য, জান্নাত সত্য এবং কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আপনার প্রতিই আমি ঈমান এনেছি, আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার ওপরই ভরসা করেছি, আপনার দিকেই রুজু করেছি, আপনার সাহায্যেই বিতর্ক করেছি এবং আপনার কাছেই বিচার পেশ করেছি। আপনিই সেই সত্তা (আমার ইলাহ), আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।

৭৯৫- ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে, সুলায়মান আল-আহওয়াল থেকে, তাউস থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদ পড়ার সময় দুআ করতেন এবং বলতেন: হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনারই... অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

 

৭৯৬- রাওহ ইবনে উবাদাহ এবং আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেন: ইবনে জুরাইজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান আল-আহওয়াল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তাউসকে সংবাদ দিতে শুনেছেন, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত; নবী (রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা তাওয়াফ করার সময় এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে অন্য এক ব্যক্তিকে তার নাকের লাগাম ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি নিজ হাতে তা কেটে দিলেন, অতঃপর তাকে তার হাত ধরার নির্দেশ দিলেন।

৭৯৭- আবু আমির আল-আকাদী - আবদুল মালিক ইবনে আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে তালহা ইবনে মুসাররিফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ ইবনে ওয়াহাব থেকে, ইবনে তাউস থেকে, তার পিতা (ইব্রাহিম) থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে মেহেদি দিয়ে খিজাব করেছিল, তিনি বললেন: এটি কতই না সুন্দর! অতঃপর তিনি অন্য একজনের পাশ দিয়ে গেলেন যে মেহেদি ও কাতাম দিয়ে খিজাব করেছিল, তিনি বললেন: এটি তার চেয়েও সুন্দর। এরপর তিনি অন্য একজনের পাশ দিয়ে গেলেন যে হলুদ বর্ণে খিজাব করেছিল, তিনি বললেন: এটি এই সবগুলোর চেয়ে সুন্দর।

বর্ণনাকারী বলেন: তাউস হলুদ বর্ণ দিয়ে খিজাব করতেন।

 

৭৯৮- আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা’মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে তাউস থেকে, তার পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্ধারিত অংশীদারদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করো, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের প্রাপ্য।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
799- أخبرنا المخزومي، حَدَّثَنا وهيب، حَدَّثَنا عَبد الله بن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ألحقوا الفرائض أهلها (بأهلها) فما تركت الفرائض فهو لأولى رجل ذكر.

800- أخبرنا عَبد الله بن شيرويه، حَدَّثَنا عَبد الله بن معاوية الجمحي، حَدَّثَنا وهيب، بهذا الإسناد نحوه. قال إسحاق: يعني من قبل الذكر لأن العصبة لا تكون (إلا) منهم.

 

801- أخبرنا المخزومي، حَدَّثَنا وهيب، حَدَّثَنا عَبد الله بن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: العائد في هبته كالكلب يقىء، ثُم يعود في قيئه (فيه) .

802- أخبرنا عيسى بن يونس، حَدَّثَنا الأوزاعي، عَن أبي جعفر - محمد بن علي -، عَن سعيد بن المُسَيَّب، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: العائد في هبته كالكلب يقىء، ثُم يعود فيه.

 

803- أخبرنا عيسى بن يونس، حَدَّثَنا حسين المعلم، عَن عمرو بن شعيب، عَن طاووس، عَن ابن عمرو وابن عَبَّاس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يحل لأحد أن يعطي عطيه فيعود فيها إلاَّ الوالد فيما يعطي ولده ومثل الذي يعطي العطية، ثُم يعود فيها كمثل الكلب يقىء، ثُم يعود في قيئه (فيه) .

804- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا إبراهيم بن نافع، عَن الحسن بن مسلم، عَن طاووس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يحل لأحد أن يعطي عطية فيرجع فيها إلاَّ الوالد.

 

805- أخبرنا المخزومي، حَدَّثَنا وهيب، حَدَّثَنا عَبد الله بن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نكح ميمونة وهو حرام.
৭৯৯- আমাদের অবহিত করেছেন মাখযূমী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উহাইব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন তাউস, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তোমরা ফারায়েয (নির্ধারিত অংশসমূহ) তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, আর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।

৮০০- আমাদের অবহিত করেছেন আবদুল্লাহ বিন শিরওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুআবিয়া আল-জুমাহী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উহাইব, এই একই সনদে অনুরূপ। ইসহাক বলেন: অর্থাৎ পুরুষের পক্ষ থেকে, কারণ আসাবাহ (উত্তরাধিকারী) কেবল তাদের মধ্য থেকেই হয়।

 

৮০১- আমাদের অবহিত করেছেন মাখযূমী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উহাইব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন তাউস, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের দান করা বস্তু ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মতো যে বমি করে পুনরায় তা ভক্ষণ করে।

৮০২- আমাদের অবহিত করেছেন ঈসা বিন ইউনুস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ী, তিনি আবু জাফর - মুহাম্মদ বিন আলী - থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: দান ফিরিয়ে গ্রহণকারী ঐ কুকুরের মতো যে বমি করে পুনরায় তা ভক্ষণ করে।

 

৮০৩- আমাদের অবহিত করেছেন ঈসা বিন ইউনুস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন আল-মুআল্লিম, তিনি আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আমর ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কারও জন্য বৈধ নয় যে সে কোনো কিছু দান করে তা পুনরায় ফিরিয়ে নেবে, তবে পিতা তার সন্তানকে যা দান করে তার বিষয়টি ভিন্ন। আর যে ব্যক্তি কোনো কিছু দান করে তা পুনরায় ফিরিয়ে নেয়, তার উদাহরণ ঐ কুকুরের মতো যে বমি করে পুনরায় তা ভক্ষণ করে।

৮০৪- আমাদের অবহিত করেছেন ওয়াকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন নাফি, তিনি হাসান বিন মুসলিম থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কোনো ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে সে কোনো কিছু দান করে তা পুনরায় ফিরিয়ে নেবে, কেবল পিতা ব্যতীত।

 

৮০৫- আমাদের অবহিত করেছেন মাখযূমী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উহাইব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন তাউস, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাইমূনাহকে বিবাহ করেছিলেন যখন তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
806- أخبرنا المخزومي، حَدَّثَنا وهيب، عَن (حَدَّثَنا) عَبد الله بن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم احتجم وأعطى الحجام أجره.

807- أخبرنا المخزومي، حَدَّثَنا وهيب، حَدَّثَنا عَبد الله بن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم نكح ميمونة وهو حرام (احتجم واستعط) .

 

808- أخبرنا المخزومي، حَدَّثَنا وهيب، حَدَّثَنا عَبد الله بن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم احتجم وأعطى الحجام أجره.

809- أخبرنا المخزومي، حَدَّثَنا وهيب، حَدَّثَنا عَبد الله بن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم احتجم واستعط.

810- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا سفيان، عَن جابر، عَن أبي جعفر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم استعط بالسمسم.

 

811- أخبرنا محمد بن بكر، أَخْبَرنا ابن جُرَيج أخبرني الحسن بن مسلم، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: قدم زيد بن أرقم فقال له ابن عَبَّاس وهو يذاكر (يذاكره) : كيف أخبرتني أن لحما أهدي للنبي صلى الله عليه وسلم حراما؟ فقال له (قال) : نعم أهدى له رجل عضو لحم صيد فرده وقال: إنا لا نأكله إنا (أنا) حرم.

812- أخبرنا سفيان، عَن الزهري، عَن عُبَيد الله بن عَبد الله، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن الصعب بن جثامة أهدى لرسول الله صلى الله عليه وسلم لحم حمار وحشي وهو محرم فرده فلما رأى الكراهية في وجهه قال: ليس بنا رد عليك ولكنا حرم.

 

813- أخبرنا محمد بن بكر، أَخْبَرنا ابن جُرَيج أخبرني أبو الزبير أنه سمع طاووسا يقول: قلنا لابن عَبَّاس في الإقعاء على القدمين فقال: هو سنة، قلنا: فما ترى ذلك من الحسن (الجفاء) إذا فعله الرجل؟ فقال: بلى هو سنة نبيك.
৮০৬- মাখযূমী আমাদের জানিয়েছেন, উহাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে তাউস থেকে, তাঁর পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে; যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিঙা লাগিয়েছেন এবং সিঙা প্রদানকারীকে তাঁর পারিশ্রমিক দিয়েছেন।

৮০৭- মাখযূমী আমাদের জানিয়েছেন, উহাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে তাউস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁর পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে; যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমুনাকে বিবাহ করেছেন এমতাবস্থায় যে তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন (তিনি সিঙা লাগিয়েছেন এবং নাকে ওষুধ ব্যবহার করেছেন)।

 

৮০৮- মাখযূমী আমাদের জানিয়েছেন, উহাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে তাউস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁর পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে; যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিঙা লাগিয়েছেন এবং সিঙা প্রদানকারীকে তাঁর পারিশ্রমিক দিয়েছেন।

৮০৯- মাখযূমী আমাদের জানিয়েছেন, উহাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে তাউস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁর পিতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে; যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিঙা লাগিয়েছেন এবং নাকে ওষুধ ব্যবহার করেছেন।

৮১০- ওয়াকী আমাদের জানিয়েছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাবির থেকে, আবু জাফর থেকে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিল (এর তেল) দ্বারা নাকে ওষুধ ব্যবহার করেছেন।

 

৮১১- মুহাম্মদ ইবনে বকর আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের জানিয়েছেন, হাসান ইবনে মুসলিম আমাকে জানিয়েছেন, তাউস থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি বলেন: যায়েদ ইবনে আরকাম আসলেন, তখন ইবনে আব্বাস তাঁকে আলোচনাচ্ছলে বললেন: আপনি আমাকে কীভাবে জানিয়েছিলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইহরাম অবস্থায় গোশত উপহার দেওয়া হয়েছিল? তখন তিনি (যায়েদ) বললেন: হ্যাঁ, এক ব্যক্তি তাঁকে শিকার করা পশুর একটি অঙ্গের গোশত উপহার দিয়েছিল, তখন তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আমরা তা খাই না, আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি।

৮১২- সুফিয়ান আমাদের জানিয়েছেন, যুহরী থেকে, উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে; যে সা'ব ইবনে জাসসামা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি বুনো গাধার গোশত উপহার দিলেন এমতাবস্থায় যে তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, তখন তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন। এরপর যখন তিনি তাঁর (সা'বের) চেহারায় বিষণ্ণতা দেখলেন, তখন বললেন: আপনার উপহার ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি।

 

৮১৩- মুহাম্মদ ইবনে বকর আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের জানিয়েছেন, আবু যুবাইর আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি তাউসকে বলতে শুনেছেন: আমরা ইবনে আব্বাসকে দুই পায়ের পাতার ওপর বসা (ইক'আ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: এটি সুন্নাত। আমরা বললাম: যখন কোনো ব্যক্তি এটি করে তখন তো আমরা একে শিষ্টাচার বহির্ভূত বা রুক্ষতা মনে করি? তিনি বললেন: না, বরং এটি তোমার নবীর সুন্নাত।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
814- أخبرنا المخزومي، حَدَّثَنا وهيب، حَدَّثَنا عَبد الله بن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قيل له (فى) الذبح والحلق والرمي في التقديم والتأخير فقال: لا حرج.

 

815- أخبرنا المخزومي، حَدَّثَنا وهيب حدثني ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، قال: كان أهل الجاهلية يرون العمرة في شهور الحج من أفجر فجور (الفجور) يقولون: إذا برأ الدبر وعفا الأثر وانسلخ صفر. حلت العمرة لمن اعتمر. فقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه صبح رابعة مهلين بالحج فأمرهم أن يحلوا لعمرة (بعمرة) فعظم ذلك عليهم فقالوا: يارسول الله صلى الله عليه وسلم : أي الحل؟ فقال: الحل كله.

 

816- أخبرنا يحيى بن آدم، حَدَّثَنا وهيب، بهذا الإسناد، مِثله، وقال يحيى: لأنهم كانوا لا يعرفون إلاَّ العمرة ألا ترى أنه يقول: قدمنا لا نرى إلاَّ الحج.

817- أخبرنا محمد بن بكر، أَخْبَرنا ابن جُرَيج أخبرني الحسن بن مسلم، عَن طاووس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: حق على كل مسلم بلغ الحلم أن يتطهر لله في كل سبعة أيام يوما وإن لم يكن جنبا يغسل رأسه وجلده يوم الجمعة.

818- قال ابن جُرَيج: أخبرني إبراهيم بن ميسرة أنه سمع طاووسا يخبر، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر الغسل يوم الجمعة.

قال طاووسٌ: فقلت لابن عَبَّاس: أفيمن (أيمس) طيبا، أَو دهنا إن كان عند أهله؟ قال: لا أعلمه.
৮১৪- মাখযুমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ওহাইব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে তাউস তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁকে কুরবানি করা, মাথা মুণ্ডানো এবং পাথর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে আগে-পরে করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "কোনো অসুবিধা নেই।"

 

৮১৫- মাখযুমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ওহাইব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে তাউস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জাহেলি যুগের লোকেরা হজ্বের মাসসমূহে উমরা করাকে চরম পাপাচার মনে করত। তারা বলত: যখন (উটের) পিঠের ক্ষত সেরে যাবে, পদচিহ্ন মিটে যাবে এবং সফর মাস অতিক্রান্ত হবে, তখন উমরাকারীর জন্য উমরা করা হালাল হবে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ চতুর্থ তারিখ সকালে হজ্বের তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় আগমন করলেন। তখন তিনি তাঁদেরকে ইহরাম খুলে উমরা করার নির্দেশ দিলেন। বিষয়টি তাঁদের কাছে অত্যন্ত কঠিন মনে হলো। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), ইহরাম থেকে হালাল হওয়া বলতে কীরূপ হালাল হওয়া? তিনি বললেন: "পূর্ণাঙ্গরূপে হালাল হওয়া।"

 

৮১৬- ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ওহাইব আমাদের কাছে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া বলেন: কারণ তাঁরা (হজ্বের মাসে) উমরা ছাড়া আর কিছু জানতেন না; আপনি কি দেখেন না যে তিনি বলছেন: "আমরা আগমন করলাম এমতাবস্থায় যে আমরা কেবল হজ্বকেই উদ্দেশ্য হিসেবে দেখছিলাম।"

৮১৭- মুহাম্মদ ইবনে বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের জানিয়েছেন, হাসান ইবনে মুসলিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন তাউস থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর আল্লাহর জন্য প্রতি সাত দিনে একদিন পবিত্রতা অর্জন করা আবশ্যক, যদিও সে অপবিত্র অবস্থায় না থাকে; সে জুমার দিন তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে।"

৮১৮- ইবনে জুরাইজ বলেন: ইব্রাহিম ইবনে মাইসারা আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি তাউসকে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিনের গোসলের কথা উল্লেখ করেছেন।

তাউস বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: সে কি সুগন্ধি অথবা তেল ব্যবহার করবে যদি তা তার পরিবারের কাছে থাকে? তিনি বললেন: আমি এ বিষয়ে জানি না।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
819- أخبرنا المخزومي، حَدَّثَنا وهيب، حَدَّثَنا ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، قال: وقت رسول الله صلى الله عليه وسلم لأهل المدينة ذا الحليفة ولأهل الشام الجحفة ولأهل نجد قرن المنازل ولأهل اليمن: ألملم (يلملم) هم (هن) لأهلهن ولمن أتى عليهن من غير أهلهن ممن أراد الحج والعمرة ومن كان أهله دون ذلك فمن حيث أنشأ حتى أهل مكة من مكة.

 

820- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، قال: كنا نحفظ الحديث فقط من (والحديث يحفظ عن) رسول الله صلى الله عليه وسلم فأما إذ ركبتم كل صعب وذلول فهيهات.

821- أخبرنا يحيى بن آدم، حَدَّثَنا عَبد الرحمن بن حميد (حميد بن عَبد الرحمن) الرؤاسي، حَدَّثَنا أبو الزبير، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا التشهد كما يعلمنا السورة من القرآن.

 

822- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن طاووس، عَن أبيه قال مرة، عَن ابن عَبَّاس، قال عَبد الرَّزَّاق: فقلت لمعمر: فلم تجاوز (يجاوز) به طاووسا فقال: بلى هو، عَن ابن عَبَّاس، قال: ثُم سمعته يذكر ما لا أحصيه فلا يذكر: عَن ابن عَبَّاس، قال: وقت رسول الله صلى الله عليه وسلم لأهل المدينة ذا الحليفة، ولأهل الشام الجحفة، ولأهل نجد قرنًا، ولأهل اليمن ألملم (يلملم) ، وهن لهن، ولمن أتى عليهن من غير أهلهن، ممن أراد الحج، أو (و) العمرة، ومن كان أهله دون الميقات فإنه يهل من بيته، حتى أهل مكة من مكة.
৮১৯- মাখজুমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ওহাইব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে তাউস তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাবাসীর জন্য যুল হুলাইফা, সিরিয়াবাসীর জন্য আল-জুহফা, নজদবাসীর জন্য কারনুল মানাযিল এবং ইয়েমেনবাসীর জন্য ইয়ালামলাম মিকাত নির্ধারণ করেছেন। এই স্থানগুলো সেই সকল অধিবাসীদের জন্য এবং তাদের জন্য যারা হজ্জ ও ওমরাহর উদ্দেশ্যে ওই পথগুলো দিয়ে অতিক্রম করবে। আর যারা মিকাতের ভেতরে অবস্থান করে, তারা যেখান থেকে (যাত্রা) শুরু করবে সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধবে, এমনকি মক্কাবাসী মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে।

 

৮২০- আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা'মার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা কেবল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসই সংরক্ষণ (মুখস্থ) করতাম। কিন্তু যখন তোমরা সব ধরণের কঠিন ও সহজ বিষয়ে আরোহণ করেছ (অর্থাৎ হাদীস বর্ণনায় শিথিলতা এনেছ), তখন তো তা অনেক দূরের ব্যাপার।

৮২১- ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনে হুমাইদ আর-রুয়াসি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু যুবায়ের থেকে, তিনি তাউস থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন যেভাবে তিনি আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন।

 

৮২২- আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা'মার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে—একবার তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবদুর রাজ্জাক বলেন: আমি মা'মারকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি এটি বর্ণনায় তাউসকে অতিক্রম করেছেন (অর্থাৎ ইবনে আব্বাস পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন করেছেন)? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। মা'মার বলেন: এরপর আমি তাঁকে অসংখ্যবার এটি বর্ণনা করতে শুনেছি যেখানে তিনি (ইবনে আব্বাসের নাম) উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাবাসীর জন্য যুল হুলাইফা, সিরিয়াবাসীর জন্য আল-জুহফা, নজদবাসীর জন্য কারন এবং ইয়েমেনবাসীর জন্য ইয়ালামলাম মিকাত নির্ধারণ করেছেন। এই স্থানগুলো ওই সব অধিবাসীদের জন্য এবং যারা হজ্জ অথবা ওমরাহর উদ্দেশ্যে ওই পথ দিয়ে আসবে তাদের জন্য। আর যারা মিকাতের ভেতরে অবস্থান করে, তারা নিজ বাড়ি থেকেই ইহরাম বাঁধবে, এমনকি মক্কাবাসী মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
823- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، عَن أبي هريرة أنه قال، يعني رسول (الله صلى الله عليه وسلم : من أدرك ركعة (الركعتين) من العصر قبل أن تغرب الشمس فقد أدركها ومن أدرك ركعة من الصبح قبل أن تطلع الشمس وركعة بعد ما تطلع فقد أدركها.

824- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن طاووس، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس أنه سمع رجلا يقول: الشر ليس بقدر فقال ابن عَبَّاس: بيننا وبين أهل القدر {سيقول الذين أشركوا لو شاء الله ما أشركنا ولَا آباؤنا} تلا إلى قوله (إلى) (فلو شاء لهداكم أجمعين} فقال (قال) ابن عَبَّاس: والعجز والكيس من القدر.

 

825- قال ابن طاووس: والمتكلمان في القدر يقولان بغير علم (فاجتنبوا) الكلام في القدر. قال: ولقي إبليس عيسى بن مريم فقال له: أليس قد علمت أنه لا يصيبك إلاَّ ما قدر عليك فارق بذروة الجبل فتردى منه فانظر أتعيش أم لا؟ فقال عيسى: إن الله يقول: إن العبد لا ينبغي أن يجربني وما شئت فعلت.

826- قال: وقال الزهري: لقي إبليس عيسى بن مريم فذكر، مِثله، وقال: قال عيسى له: إن العبد لا يبتلى ربه ولكن الله يبتلى عبده فخصمه.

 

827- أخبرنا أبو معاوية حدثنا الحجاج، عَن أبي الزبير، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس، قال: العمرى لمن أعمرها والرقبى لمن أرقبها والعائد في هبته كالعائد في قيئه.

828- قال الحجاج: وقال عطاء: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: العائد في هبته كالعائد في قيئة.
৮২৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার, ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাত (বা দুই রাকাত) পেল, সে তা পেয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকাত পেল এবং সূর্যোদয়ের পর এক রাকাত পেল, সে-ও তা পেয়ে গেল।

৮২৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার, ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: "মন্দ তাকদির (নির্ধারিত ভাগ্য) অনুযায়ী নয়।" তখন ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: আমাদের এবং তাকদির অস্বীকারকারীদের মাঝে মীমাংসা হলো এই আয়াত— {মুশরিকরা শীঘ্রই বলবে যে, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমরা শিরক করতাম না এবং আমাদের বাপ-দাদারাও করত না} তিনি এই আয়াত থেকে {যদি তিনি চাইতেন তবে তোমাদের সকলকেই হেদায়াত দান করতেন} পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: অক্ষমতা এবং বুদ্ধিমত্তা—উভয়ই তাকদিরের অন্তর্ভুক্ত।

 

৮২৫- ইবনে তাউস বলেন: তাকদির নিয়ে যারা বিতর্ক করে তারা জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে, (অতএব) তোমরা তাকদির নিয়ে কথা বলা পরিহার করো। তিনি বলেন: ইবলিস ঈসা ইবনে মারইয়ামের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে বলল: "আপনি কি জানেন না যে, আপনার ভাগ্যে যা নির্ধারিত আছে তা ছাড়া আপনার অন্য কিছু ঘটবে না? তাহলে আপনি পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে ঝাঁপ দিন, অতঃপর দেখুন আপনি জীবিত থাকেন কি না।" ঈসা (আ.) বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেন: বান্দার জন্য শোভা পায় না যে সে আমাকে পরীক্ষা করবে, বরং আমি যা চাই তাই করি।"

৮২৬- তিনি বলেন, যুহরি বলেছেন: ইবলিস ঈসা ইবনে মারইয়ামের সাথে সাক্ষাৎ করল—অতঃপর তিনি অনুরূপ ঘটনা বর্ণনা করেন। ঈসা (আ.) তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই বান্দা তার রবের পরীক্ষা নেয় না, বরং আল্লাহ তাঁর বান্দার পরীক্ষা নেন।" ফলে তিনি তাকে পরাস্ত করলেন।

 

৮২৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুয়াবিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ, আবু যুবায়ের থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমরা (আজীবন ভোগাধিকার) তার জন্য যাকে তা প্রদান করা হয়েছে এবং রুকবাও (শর্তাধীন দান) তার জন্য যাকে তা প্রদান করা হয়েছে। আর নিজ দান ফেরত গ্রহণকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো যে নিজের বমি পুনরায় ভক্ষণ করে।

৮২৮- হাজ্জাজ বলেন: আতা বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিজ দান ফেরত গ্রহণকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো যে নিজের বমি পুনরায় ভক্ষণ করে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
829- أخبرنا سفيان، عَن سليمان بن سحيم، عَن إبراهيم بن عَبد الله بن معبد، عَن أبيه، عَن ابن عَبَّاس، قال: كشف رسول الله صلى الله عليه وسلم الستارة والناس صفوف خلف أبي بكر فقال: إنه لم يبق من مبشرات النبوة إلاَّ الرؤيا الصالحة يراها المسلم، أَو ترى له، ثُم قال: ألا إني نهيت أن أقرأ راكعا و (أو) ساجدا أما الركوع فعظموا فيه الرب وأما السجود فاجتهدوا في الدعاء فقمن أن يستجاب لكم.

 

830- أخبرنا سفيان، عَن عمرو، عَن سعيد بن الحويرث أنه سمع ابن عَبَّاس يقول: كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرج من الغائط وأتي (فأتى) بطعام فقيل له: ألا توضأ؟ فقال: لم؟ أصلي فأتوضأ.

831- أخبرنا النضر، حَدَّثَنا حماد بن سلمة، عَن عمرو، بهذا الإسناد، مِثله.

 

832- أخبرنا إسماعيل بن إبراهيم الأسدي، وهو ابن علية، عَن عَبد الله بن أبي نجيح، عَن عَبد الله بن كثير، عَن أبي المنهال، عَن ابن عَبَّاس، قال: قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم يعني المدينة والناس يسلفون في الثمار الصاع والصاعين، أَو الثلاثة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من أسلم في تمر فبكيل (ثمر فليسلم فى كيل) معلوم إلى أجل معلوم.

833- أخبرنا الملائي، حَدَّثَنا سفيان، عَن ابن أبي نجيح، بهذا الإسناد، مِثله.

834- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن أبي نجيح، بهذا الإسناد، مِثله.

835- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا مَعْمَر، عَن ابن أبي نجيح، عَن أبي المنهال، عَن ابن عَبَّاس مثل ذلك.
৮২৯- সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলায়মান বিন সুহাইম থেকে, তিনি ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মাবাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দা সরিয়ে দিলেন এমতাবস্থায় যে লোকেরা আবু বকরের পিছনে কাতারে দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি বললেন: নবুওয়তের সুসংবাদগুলোর মধ্যে কেবল নেক স্বপ্নই অবশিষ্ট রয়েছে, যা একজন মুসলিম নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়। অতঃপর তিনি বললেন: জেনে রেখো, আমাকে রুকু এবং সিজদাহ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং রুকুতে তোমরা রবের মহিমা ঘোষণা করো এবং সিজদাহতে তোমরা দোয়ায় সচেষ্ট হও, কারণ তখন তা কবুল হওয়ার অধিক উপযুক্ত।

 

৮৩০- সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-হুওয়াইরিস থেকে যে, তিনি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। অতঃপর তিনি শৌচাগার থেকে বের হলেন এবং তাঁর নিকট খাবার আনা হলো। তাঁকে বলা হলো: আপনি কি ওযু করবেন না? তিনি বললেন: কেন? আমি কি সালাত আদায় করব যে ওযু করতে হবে?

৮৩১- নাযর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর থেকে, এই সনদে অনুরূপ।

 

৮৩২- ইসমাঈল বিন ইবরাহিম আল-আসাদী (যিনি ইবনে উলাইয়্যাহ নামে পরিচিত) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আবী নাজীহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন কাসীর থেকে, তিনি আবুল মিনহাল থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসলেন এমতাবস্থায় যে, মানুষ এক বছর, দুই বছর বা তিন বছরের জন্য ফলের অগ্রিম কেনাবেচা করত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে ব্যক্তি খেজুরের অগ্রিম কেনাবেচা করবে, সে যেন নির্ধারিত পরিমাপ এবং নির্ধারিত মেয়াদের ভিত্তিতে অগ্রিম কেনাবেচা করে।

৮৩৩- আল-মুলাইয়্যাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবী নাজীহ থেকে, এই সনদে অনুরূপ।

৮৩৪- আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা’মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবী নাজীহ থেকে, এই সনদে অনুরূপ।

৮৩৫- আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা’মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবী নাজীহ থেকে, তিনি আবুল মিনহাল থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
836- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا زكريا بن إسحاق المكي، عَن يحيى بن عَبد الله بن صيفي، عَن أبي معبد، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بعث معاذا إلى اليمن قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنك تأتي قوما أهل كتاب فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلاَّ الله فإن هم أجابوا لذلك فأعلمهم أن الله قد افترض عليهم صدقة في أموالهم تؤخذ من أغنيائهم فترد في فقرائهم فإن هم أجابوك لذلك فإياك وكرائم أموالهم وإياك ودعوة المظلوم فإنها ليس بينهما وبين الله حجاب.

 

837- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا صالح بن رستم، وهو أبو عامر الخزاز، عَن ابن أبي مُلَيكة، عَن ابن عَبَّاس، قال: أقيمت الصلاة ولم أكن صليت ركعتين قبل (ركعتى) الغداة فقمت أصليها (أصليهما) فمر بي (فنهرنى) وقال: أتصلي الصبح أربعا قيل لصالح: من قال؟ قال: النبي صلى الله عليه وسلم.

838- أخبرني الثقفي، حَدَّثَنا أيوب، عَن ابن أبي مُلَيكة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لرجل فذكر مثله.

 

839- أخبرنا جرير، عَن عَبد العزيز بن رفيع، عَن ابن أبي مُلَيكة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الشريك شفيع والشفعة في كل شيء.

فقال عطاء: إنما ذلك في الأرض فقال ابن أبي مُلَيكة: لا أم (لك) وما يدريك.

840- أخبرنا محمد بن جعفر، حَدَّثَنا شعبة، حَدَّثَنا عَبد العزيز بن رفيع قال: سمعت ابن أبي مُلَيكة يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الشفعة في العبد وفي كل شيء.

841- أخبرنا الفضل بن موسى، حَدَّثَنا أبو حمزة السكري، عَن عَبد العزيز بن رفيع، عَن ابن أبي مُلَيكة، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: الشريك شفيع والشفعة في كل شيء.
836- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জাকারিয়া বিন ইসহাক আল-মাক্কী, ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন সাইফী হতে, তিনি আবু মা’বাদ হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মুয়াজকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ, সুতরাং তুমি তাদের এই সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তারা যদি তাতে সম্মত হয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের সম্পদে সদকা (যাকাত) ফরয করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে। তারা যদি এই বিষয়েও তোমার আনুগত্য করে, তবে তাদের দামী ও পছন্দনীয় সম্পদসমূহ গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো এবং মজলুমের বদদোয়া হতে বেঁচে থেকো; কেননা মজলুমের দুআ এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।"

 

837- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সালিহ বিন রুস্তম, আর তিনি হলেন আবু আমির আল-খাযযায, ইবনে আবি মুলাইকাহ হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নামাযের ইকামত হয়ে গেল অথচ আমি ফজরের আগের দুই রাকাত পড়িনি। তাই আমি তা পড়ার জন্য দাঁড়ালাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় (আমাকে ধমক দিলেন এবং) বললেন: "তুমি কি ফজরের নামায চার রাকাত পড়ছ?" সালিহকে জিজ্ঞেস করা হলো: এ কথা কে বলেছেন? তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

838- আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আস-সাকাফী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব, ইবনে আবি মুলাইকাহ হতে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে এর অনুরূপ বলেছেন।

 

839- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, আব্দুল আজিজ বিন রফী হতে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "অংশীদারই হলো অগ্রক্রয়াধিকারী এবং শুফআ (অগ্রক্রয়াধিকার) সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে।" অতঃপর আতা বললেন: "এটি কেবল ভূমির ক্ষেত্রে।" তখন ইবনে আবি মুলাইকাহ বললেন: "তোমার মা তোমাকে হারাক (ধিক তোমাকে), তুমি কী জানো?"

840- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন জাফর, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শুবা, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন রফী, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবি মুলাইকাহকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "শুফআ দাসের ক্ষেত্রে এবং সবকিছুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।"

841- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফাদল বিন মুসা, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হামজা আস-সুক্কারী, আব্দুল আজিজ বিন রফী হতে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "অংশীদারই হলো অগ্রক্রয়াধিকারী এবং শুফআ সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
842- أخبرنا شبابة، حَدَّثَنا عَبد الرحمن بن أبي مُلَيكة، عَن ابن أبي مُلَيكة، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: دعوتان يستجاب للعبد فيهما دعوة المظلوم ودعوة المسلم لأخيه بظهر الغيب.

 

843- أخبرنا سفيان، عَن عمرو أنه سمع أبا معبد يقول: سمعت ابن عَبَّاس يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب يقول: ألا لا يخلون رجل بامرأة إلاَّ ومعها ذو محرم، ولَا تسافر امرأة إلاَّ ومعها ذو محرم قال: فقال رجل: إني اكتتبت في غزوة كذا وكذا وانطلقت امرأتي حاجة قال: فانطلق فاحجج مع امرأتك.

 

844- أخبرنا محمد بن بكر، أَخْبَرنا ابن جُرَيج أخبرني عمرو بن دينار أنه سمع أبا معبد يخبر، عَن ابن عَبَّاس أنه قال: لا تسافر امرأة إلاَّ ومعها ذو محرم. فقال (قال) عمرو في حديثه، عَن أبي معبد قال: وقال رجل: يارسول الله إني اكتتبت في غزوة كذا وكذا وخرجت امرأتي حاجة قال: اذهب فحج معها.

 

845- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا ابن جُرَيج أخبرني عمرو بن دينار، عَن عِكرِمَة وعن أبي معبد، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رجلا جاء إلى المدينة فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: أين نزلت؟ قال: على فلانة فقال: أغلقت عليها بابك؟ مرتين، وقال: لا يخلون رجل (تخلون) بامرأة إلاَّ ومعها ذو محرم.

 

846- أخبرنا سفيان، عَن عمرو بن دينار، عَن أبي معبد قال: صلى ابن عَبَّاس على جنازة فكبر، ثُم قرأ بفاتحة الكتاب وجهر بها، ثُم كبر بعد ذلك ثلاثا فقال: إني إنما جهرت لتعلموا أنها سنة.

847- أخبرنا يحيى بن آدم، حَدَّثَنا سفيان بن عيينة، عَن عمرو بن دينار، عَن أبي معبد، عَن ابن عَبَّاس، قال: كنا نعرف انقضاء صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالتكبير.
842- শাবাবাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনে আবি মুলাইকাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "দুটি দোয়া রয়েছে যা বান্দার পক্ষ থেকে কবুল করা হয়; মজলুমের দোয়া এবং কোনো মুসলিমের দোয়া তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে।"

 

843- সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর থেকে, তিনি আবু মা'বাদকে বলতে শুনেছেন যে, আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুতবা দিতে শুনেছেন যে, তিনি বলছেন: "সাবধান! কোনো পুরুষ যেন কোনো মহিলার সাথে একাকী না হয় যতক্ষণ না তার সাথে কোনো মাহরাম থাকে, এবং কোনো মহিলা যেন সফর না করে যতক্ষণ না তার সাথে কোনো মাহরাম থাকে।" তিনি বলেন: তখন এক ব্যক্তি বলল: "আমি অমুক অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি, আর আমার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে।" তিনি বললেন: "তুমি চলে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্জ সম্পন্ন করো।"

 

844- মুহাম্মদ ইবনে বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর ইবনে দীনার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু মা'বাদকে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন: "কোনো মহিলা যেন সফর না করে যতক্ষণ না তার সাথে মাহরাম থাকে।" এরপর আমর তার হাদিসে আবু মা'বাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি এবং আমার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে।" তিনি বললেন: "যাও, তার সাথে হজ্জ করো।"

 

845- আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দীনার আমাকে ইকরিমাহ ও আবু মা'বাদ থেকে এবং তারা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; এক ব্যক্তি মদিনায় আসলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "তুমি কোথায় অবস্থান করেছ?" তিনি বললেন: "অমুক মহিলার নিকট।" তখন তিনি বললেন: "তুমি কি তার ওপর তোমার দরজা বন্ধ করেছ?" —এ কথাটি তিনি দুইবার বললেন। এবং তিনি বললেন: "কোনো পুরুষ যেন কোনো মহিলার সাথে একাকী না হয় যতক্ষণ না তার সাথে কোনো মাহরাম থাকে।"

 

846- সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি আবু মা'বাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে আব্বাস একটি জানাজার সালাত আদায় করলেন এবং তাকবির দিলেন। এরপর তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন এবং তা উচ্চস্বরে পাঠ করলেন। তারপর আরও তিনটি তাকবির দিলেন। এরপর তিনি বললেন: "আমি কেবল এজন্যই উচ্চস্বরে পাঠ করেছি যেন তোমরা জানতে পারো যে এটি সুন্নাহ।"

847- ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি আবু মা'বাদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমরা তাকবিরের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত সমাপ্ত হওয়া সম্পর্কে জানতে পারতাম।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
848- أخبرنا روح بن عبادة، حَدَّثَنا ابن جُرَيج أخبرني ابن أبي مُلَيكة أن امرأتين كانتا تخرزان في البيت وليس في البيت معهما غيرهما وفي الحجرة … (حداث) فطعنت إحداهما الأخرى في كفها بأشفا حتى خرجت من ظهر كفها تقول: طعنتها الأخرى (وتنكر الأخرى) فكتبت إلى ابن عَبَّاس فيها وأخبرته فقال: لا توطأ (تعطى) إلاَّ ببينة فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لو أعطي الناس بدعواهم لادعى رجال دماء قوم وأموالهم ولكن اليمين على المدعى عليه فادعهما فاقرأ عليهما القرآن واقرأ (إن الذين يشترون بعهد الله وأيمانهم ثمنا قليلا} الآية قال: ففعلت فاعترفت.

 

849- أخبرنا يحيى بن آدم، حَدَّثَنا جرير بن حازم قال: سمعت ابن أبي مُلَيكة يحدث، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رجلا قال له: ما بلغ هم يوسف؟ قال: فوصف شيئا لم نحفظه فقال ابن عَبَّاس: نظر يوسف في سقف البيت فرأى يعقوب عاضا على يده فقال له: أتريد أن تعمل عمل السفهاء وأنت مكتوب في الأنبياء فخرجت كل شهوة كانت في جسده وخرج يسعى نحو الباب فسعت وراءه وشقت قميصه.

 

850- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا رافع (نافع) بن (عمر) الجمحي، عَن ابن أبي مُلَيكة قال: سئل ابن عَبَّاس، عَن ما (عما) بلغ من هم يوسف؟ قال: حل الهميان فنودي فلم يسمع فقيل له:يا ابن يعقوب: أتريد أن تزني فتكون كالطير ينتف ريشه فلا ريش له.

851- أخبرنا أبو الوليد، حَدَّثَنا نافع بن عُمَر، عَن ابن أبي مُلَيكة قال: سئل ابن عَبَّاس، عَن الولدان أفي الجنة هم؟ قال: حسبك ما اختصم فيه موسى والخضر.

 

852- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا سفيان، عَن جابر، عَن ابن أبي مُلَيكة، عَن ابن عَبَّاس: {وشهد شاهد من أهلها} قال: كان من خاصة الملك.

853- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا إسرائيل، عَن سِمَاك بن حرب، عَن عِكرِمَة، عَن ابن عَبَّاس، قال: كان ذا لحية.
৮৪৮- রওহ ইবনে উবাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে আবি মুলাইকাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, দুইজন মহিলা একটি ঘরের ভেতরে সেলাইয়ের কাজ করছিল। সেই ঘরে তারা ছাড়া আর কেউ ছিল না এবং প্রাঙ্গণে তখন ... (অস্পষ্ট শব্দ)। তাদের একজন অপরজনের হাতের তালুতে বড় সুঁই (আশফা) দিয়ে আঘাত করল, যা তার হাতের পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গেল। সে দাবি করল যে অপরজন তাকে আঘাত করেছে (আর অপরজন তা অস্বীকার করল)। তখন এ বিষয়ে ইবনে আব্বাসের নিকট পত্র লেখা হলো এবং তাঁকে বিষয়টি জানানো হলো। তিনি বললেন: প্রমাণ ছাড়া কাউকে কিছু দেওয়া হবে না (বা কারো ওপর দণ্ড কার্যকর করা হবে না)। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি মানুষকে তাদের দাবির ভিত্তিতেই দিয়ে দেওয়া হতো, তবে একদল মানুষ অন্য সম্প্রদায়ের রক্ত ও সম্পদের দাবি করে বসত। কিন্তু শপথ করার দায়িত্ব বিবাদীর ওপর।" অতঃপর ইবনে আব্বাস বললেন: তাদের ডাকো এবং তাদের সামনে কুরআন পাঠ করো, বিশেষ করে এই আয়াতটি পাঠ করো: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে...}। বর্ণনাকারী বলেন: আমি তা-ই করলাম, তখন সে (আঘাতকারী মহিলা) তার অপরাধ স্বীকার করল।

 

৮৪৯- ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জারীর ইবনে হাযিম আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবি মুলাইকাহকে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি; এক ব্যক্তি তাঁকে ইউসুফের সংকল্প (হাম্ম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। ইবনে আব্বাস এমন কিছু বর্ণনা করলেন যা আমাদের স্মরণে নেই। অতঃপর ইবনে আব্বাস বললেন: ইউসুফ ঘরের ছাদের দিকে তাকালেন এবং ইয়াকুবকে নিজের হাত কামড়ে ধরা অবস্থায় দেখতে পেলেন। ইয়াকুব তাকে বললেন: "তুমি কি নির্বোধদের মতো কাজ করতে চাও, অথচ তোমার নাম নবীদের তালিকায় লিখিত আছে?" তখন তাঁর শরীর থেকে সকল কামনা দূর হয়ে গেল এবং তিনি দরজার দিকে দৌড়ে পালালেন। মহিলাটিও তাঁর পেছনে ছুটল এবং তাঁর জামা ছিঁড়ে ফেলল।

 

৮৫০- ওয়াকি' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, নাফে' ইবনে উমর আল-জুমাহি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণনা করেন: ইবনে আব্বাসকে ইউসুফের সংকল্প (হাম্ম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: তিনি কোমরবন্ধ আলগা করেছিলেন, তখন তাঁকে আহ্বান করা হলো কিন্তু তিনি তা শুনতে পেলেন না। অতঃপর তাঁকে বলা হলো: হে ইয়াকুবের পুত্র! তুমি কি ব্যভিচার করতে চাও? তবে তুমি এমন পাখির মতো হয়ে যাবে যার পালক উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং যার আর কোনো পালক অবশিষ্ট নেই।

৮৫১- আবু আল-ওয়ালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, নাফে' ইবনে উমর আমাদের জানিয়েছেন, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণনা করেন: ইবনে আব্বাসকে শিশুদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তারা কি জান্নাতে থাকবে? তিনি বললেন: মূসা ও খিজির যে বিষয়ে বিতর্ক করেছিলেন তা-ই তোমার জন্য যথেষ্ট।

 

৮৫২- ওয়াকি' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ান আমাদের জানিয়েছেন, জাবির থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: {এবং তার পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল} - ইবনে আব্বাস বলেন: সে ব্যক্তি ছিল রাজার ঘনিষ্ঠজনদের একজন।

৮৫৩- ওয়াকি' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসরাঈল আমাদের জানিয়েছেন, সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সে (সাক্ষীটি) দাড়িওয়ালা ছিল।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
854- أخبرنا عَبد الرَّزَّاق، حَدَّثَنا إسرائيل، بهذا الإسناد، مِثله.

 

855- أخبرنا الفضل بن موسى، حَدَّثَنا عثمان بن الأسود، عَن عَبد الرحمن بن أبي مُلَيكة (1) ، قال: جاء رجل إلى ابن عَبَّاس فقال: من أين جئت؟ فقال: شربت من ماء زمزم، فقال: أشربت كما ينبغي؟ قال: كيف (وكيف) ينبغي؟ قال: إذا أردت أن تشرب من ماء زمزم فاستقبل القبلة، ثُم اذكر اسم الله، ثُم تنفس ثلاثا، ثُم تضلع منه فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إنه ما بيننا وبين المنافقين أنهم لا يتضلعون من ماء زمزم.

--------------------------------------------

حاشية

_________

(1) قال البخاري: قال لي إِسْحَاق: أخبرنا الفَضْل، حدَّثنا عُثْمان ، عن عَبْد الرَّحمَن بن أَبي مُلَيْكة.

وقال لي يُوسُف: أخبرنا الفَضْل، قال: أخبرنا عُثْمان ، عن ابن أَبي مُلَيْكة.

وقال عَبْد الرَّزَّاق: أخبرنا عَبْد الرَّحمَن بن بُوذَوَيْه ، قال: حدَّثنا عُثْمان، عن ابن أَبي مُلَيْكة.

وقال مُحَمد بن صَبَّاح: حدَّثنا إِسْمَاعِيل بن زكريا ، عن عُثْمان ، قال: حدَّثنا عَبْد اللهِ بن أَبي مُلَيْكة. "التاريخ الكبير" 1/157.

وقال البيهقي: رَوَاهُ الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى السِّينَانِيُّ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الأَسْوَدِ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ. "السنن الكبرى" 5/147.

 

856- أخبرنا النضر بن شميل، حَدَّثَنا أبو عامر الخزاز، وهو صالح بن رستم، عَن ابن أبي مُلَيكة، عَن ابن عَبَّاس، قال: قمت أصلي الركعتين، وقد أقيمت الصلاة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أتصلي الصبح أربعا.

 

857- أخبرنا عيسى بن يونس، حَدَّثَنا ابن جُرَيج أخبرني عُبَيد الله بن أبي يزيد أنه سمع ابن عَبَّاس يقول: كنت فيمن قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم في الثقل.
৮৫৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইসরাইল, এই সনদেই, অনুরূপ।

 

৮৫৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফজল ইবনে মুসা, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উসমান ইবনে আসওয়াদ, আবদুর রহমান ইবনে আবি মুলাইকা (১) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের নিকট আসলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কোথা থেকে এসেছেন? তিনি বললেন: আমি জমজমের পানি পান করে এসেছি। তিনি বললেন: আপনি কি যেভাবে পান করা উচিত সেভাবে পান করেছেন? তিনি বললেন: তা কীভাবে (কীভাবে পান করা উচিত)? তিনি বললেন: যখন আপনি জমজমের পানি পান করতে চাইবেন, তখন কিবলামুখী হবেন, এরপর আল্লাহর নাম স্মরণ করবেন (বিসমিল্লাহ বলবেন), এরপর তিন নিঃশ্বাসে পান করবেন এবং তৃপ্তিসহকারে (পেট ভরে) পান করবেন। কেননা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমাদের এবং মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্য হলো তারা জমজমের পানি তৃপ্তিসহকারে পান করে না।

--------------------------------------------

টীকা

_________

(১) বুখারি বলেছেন: ইসহাক আমাকে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফজল, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উসমান, আবদুর রহমান ইবনে আবি মুলাইকা থেকে।

এবং ইউসুফ আমাকে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফজল, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান, ইবনে আবি মুলাইকা থেকে।

এবং আবদুর রাজ্জাক বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে বুজাওয়াইহ, তিনি বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উসমান, ইবনে আবি মুলাইকা থেকে।

এবং মুহাম্মদ ইবনে সাব্বাহ বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইসমাইল ইবনে জাকারিয়া, উসমান থেকে, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা। "আত-তারিখুল কাবীর" ১/১৫৭।

এবং বায়হাকি বলেছেন: এটি বর্ণনা করেছেন ফজল ইবনে মুসা আস-সিনানি, উসমান ইবনে আসওয়াদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি মুলাইকা থেকে। "আস-সুনানুল কুবরা" ৫/১৪৭।

 

৮৫৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নজর ইবনে শুমাইল, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আমির আল-খাজ্জাজ—যিনি সলিহ ইবনে রুস্তম—ইবনে আবি মুলাইকা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি দুই রাকাত (সুন্নত) সালাত আদায় করতে দাঁড়ালাম অথচ তখন (ফরজ) সালাতের ইকামত হয়ে গেছে। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি কি ফজরের সালাত চার রাকাত পড়ছ?

 

৮৫৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ঈসা ইবনে ইউনুস, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনে জুরাইজ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াজিদ যে, তিনি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছেন: আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যাদের আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্বল ও পরিশ্রান্তদের কাফেলার সাথে আগে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
858- قال ابن جُرَيج وأخبرني عطاء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أذن للناس في النزول من جمع إلى منى آخر الليل.

859- قال ابن جُرَيج وأخبرني نافع: أن ابن عُمَر (كان) يبعث بنيه وهم صبيان حتى يصلوا بهم صلاة الصبح بمنى.

 

860- أخبرنا عَبد الله بن الحارث المخزومي، حَدَّثَنا سيف بن سليمان المكي، عَن قيس بن سعد، عَن عمرو بن دينار، عَن ابن عَبَّاس، قال: قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم باليمين مع الشاهد.

قال عمرو: ذلك في الأموال: قال أبو محمد: ليس في هذا الباب حديث أصح من هذا.

 

861- أخبرنا عيسى بن يونس، حَدَّثَنا ابن جُرَيج أخبرني عمرو بن دينار، عَن ابن عَبَّاس، قال: كان ذو المجاز وعكاظ متجري الناس في الجاهلية فلما جاء الإسلام كأنهم كرهوا ذلك فأنزل الله عز وجل: {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلاً مِنْ رَبِّكُمْ} فِي مَوَاسِمِ الْحَجِّ.

862- قال ابن جُرَيج: وسئل عطاء، عَن المحرم أيبيع ويبتاع؟ فقال: كانوا يتقون ذلك حتى نزلت: {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلاً مِنْ رَبِّكُمْ} فِي مَوَاسِمِ الْحَجِّ.

قال: وفي قراءة ابن مسعود: في مواسم الحج فابتغوا حينئذ.

 

863- أخبرنا الملائي، حَدَّثَنا مندل، عَن ابن جُرَيج، عَن عمرو بن دينار، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إذا أهدي لأحدكم هدية وعنده قوم فهم شركاء فيها.

864- أخبرنا سفيان، عَن عمرو بن دينار: أنه سمع ابن عَبَّاس يكبر يوم العيدين (الصدر) .

قال عمرو: ولَا (لا) أدري أي الأمرين يريد قول الله عز وجل {فإذا قضيتم مناسككم فاذكروا الله} الآية أم قوله {واذكروا الله في أيام معدودات} .

 

-‌‌ ما يُروَى، عَن مجاهد بن جبر أبي الحجاج المكي، عَن ابن عَبَّاس، عَن النبي صلى الله عليه وسلم:
858- ইবনে জুরায়জ বলেন এবং আমাকে আতা সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের শেষ ভাগে মুজদালিফা থেকে মিনায় চলে আসার জন্য মানুষকে অনুমতি দিয়েছিলেন।

859- ইবনে জুরায়জ বলেন এবং আমাকে নাফে সংবাদ দিয়েছেন: ইবনে উমর (রা.) তাঁর সন্তানদের শৈশবে মিনায় পাঠাতেন যাতে তাঁরা সেখানে ফজরের সালাত আদায় করতে পারেন।

 

860- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস আল-মাখজুমি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাইফ ইবনে সুলাইমান আল-মাক্কি, কায়েস ইবনে সাদ থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাক্ষীর সাথে কসমের মাধ্যমে ফয়সালা করেছেন।

আমর বলেন: এটি কেবল ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে। আবু মুহাম্মদ বলেন: এই অধ্যায়ে এর চেয়ে বিশুদ্ধ কোনো হাদীস নেই।

 

861- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ঈসা ইবনে ইউনুস, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে জুরায়জ, আমাকে আমর ইবনে দিনার সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জাহেলিয়াতের যুগে যুল-মাজায এবং উকাজ ছিল মানুষের ব্যবসার বাজার। যখন ইসলাম এল, তখন তারা সেখানে ব্যবসা করা অপছন্দ করতে লাগল। ফলে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {তোমাদের ওপর কোনো পাপ নেই যদি তোমরা হজের মৌসুমে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ অন্বেষণ করো}।

862- ইবনে জুরায়জ বলেন: আতাকে ইহরামকারী ব্যক্তির ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: তারা তা থেকে বিরত থাকত যতক্ষণ না অবতীর্ণ হলো: {তোমাদের ওপর কোনো পাপ নেই যদি তোমরা হজের মৌসুমে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ অন্বেষণ করো}।

তিনি বলেন: ইবনে মাসউদের কিরাআতে রয়েছে: "হজের মৌসুমে, তখন তোমরা অন্বেষণ করো।"

 

863- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মুলাইয়ী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মানদাল, ইবনে জুরায়জ থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন তোমাদের কাউকে কোনো উপহার দেওয়া হয় এবং তার পাশে কিছু লোক উপস্থিত থাকে, তবে তারা তাতে অংশীদার।

864- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, আমর ইবনে দিনার থেকে: তিনি ইবনে আব্বাস (রা.)-কে দুই ঈদের দিনে (উচ্চস্বরে) তাকবীর দিতে শুনেছেন।

আমর বলেন: আমি জানি না তিনি মহান আল্লাহর এই দুই নির্দেশের কোনটি উদ্দেশ্য করেছেন— {যখন তোমরা তোমাদের হজের কার্যাদি সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহকে স্মরণ করো} এই আয়াতটি, নাকি তাঁর এই বাণী {আর তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো}।

 

-‌‌ যা বর্ণিত হয়েছে মুজাহিদ ইবনে জাবর আবু আল-হাজ্জাজ আল-মাক্কি থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে:
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
865- أخبرنا بقية بن الوليد، حَدَّثَنا الأوزاعي، عَن العلاء بن عتبة، عَن محمد بن عُبَيد المكي، عَن ابن عَبَّاس أنه قيل له: إن رجلا قدم علينا يتكلم في القدر فقال ابن عَبَّاس: أرونيه آخذ برأسه فوالله لئن وقعت رقبته في يدي لأدقنها ولئن وقع أنفه في فمي لأعضنه فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: كأني بنساء بني فهم يطفن بالخزرج تصطك ألياهن (ألا ياهن) مشركات وهذا أول شرك في الإسلام والله لا ينتهي بهم سوء رأيهم حتى يخرجوا الله من أن يقدر الخير كما أخرجوه من أن يقدر الشر.

866- قال بقية: فلقيت العلاء بن عتبة فحدثني به، عَن محمد بن عُبَيد، عَن مجاهد بن جبر، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم بمثله.

 

867- أخبرنا جرير، عَن يزيد بن أبي زياد، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أعطيت خمسا لم يعطهن نبي قبلي، ولَا فخر بعثت إلى الأحمر والأسود، وَكان النبي قبلي يبعث إلى قومه خاصة وبعثت إلى الناس عامة ونصرت بالرعب فهو أمامي مسيرة شهر وجعلت لي الأرض مسجدا وطهورا وأحلت لي الغنائم ولم تحل لأحد قبلي وأعطيت الشفاعة فادخرتها (فذخرتها) لأمتي فهي نائلة من لا يشرك بالله شيئا.

868- أخبرنا جرير، عَن الأعمش، عَن مجاهد، عَن عُبَيد بن عمير، عَن أبي ذر نحوه. قال: وكان مجاهد يقول: الأحمر والأسود: الجن والإنس.

 

869- أخبرنا النضر بن شميل، حَدَّثَنا شعبة، عَن الحكم قال: سمعت مجاهدا يحدث، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: هذه عمرة استمتعنا بها فمن لم يكن معه هدى فليحل، فقيل له: أي الحل؟ قال: الحل كله، فقال: قد دخلت العمرة في الحج إلى يوم القيامة.
৮৬৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বাক্বিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযাঈ, তিনি আলা ইবনুল উতবাহ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ আল-মাক্কী থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাকে বলা হলো: এক ব্যক্তি আমাদের নিকট এসেছে যে তাকদীর সম্পর্কে (ভ্রান্ত) কথা বলে। তখন ইবনে আব্বাস বললেন: আমাকে তাকে দেখাও যেন আমি তার মাথা ধরতে পারি। আল্লাহর কসম! যদি তার ঘাড় আমার হাতে আসত তবে আমি তা মটকে দিতাম। আর যদি তার নাক আমার মুখে আসত তবে আমি তাতে কামড় দিতাম। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: আমি যেন বনু ফাহম গোত্রের নারীদের দেখছি তারা খাযরাজের (মূর্তির) চারপাশে তওয়াফ করছে এবং তাদের নিতম্বসমূহ একে অপরের সাথে ধাক্কা খাচ্ছে; আর এটাই হলো ইসলামের প্রথম শিরক। আল্লাহর কসম! তাদের এই মন্দ চিন্তাভাবনা ততক্ষণ শেষ হবে না যতক্ষণ না তারা আল্লাহকে কল্যাণ নির্ধারণ করা থেকে বের করে দেয়, যেমনটা তারা তাকে অকল্যাণ নির্ধারণ করা থেকে বের করে দিয়েছে।

৮৬৬- বাক্বিয়্যাহ বলেন: অতঃপর আমি আলা ইবনুল উতবাহর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তিনি আমার নিকট এটি বর্ণনা করলেন মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি মুজাহিদ ইবনে জাবর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

৮৬৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবি যিয়াদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমাকে পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি, আর এতে কোনো অহংকার নেই; আমি লাল ও কালোর নিকট প্রেরিত হয়েছি, অথচ আমার পূর্ববর্তী নবীগণ কেবল তাদের নিজ জাতির নিকট বিশেষভাবে প্রেরিত হতেন, কিন্তু আমি সাধারণভাবে সকল মানুষের নিকট প্রেরিত হয়েছি। আমাকে ভীতি দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে যা আমার সামনে এক মাসের পথের দূরত্বে থাকে। আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রকারী করা হয়েছে। আমার জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল ছিল না। আর আমাকে শাফাআত (সুপারিশ) করার অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা আমি আমার উম্মতের জন্য জমিয়ে রেখেছি; এটি সেই ব্যক্তি লাভ করবে যে আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করেনি।

৮৬৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি উবাইদ ইবনে উমাইর থেকে, তিনি আবু যর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুজাহিদ বলতেন: লাল ও কালো হলো জিন ও মানুষ।

 

৮৬৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাযর ইবনে শুমাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, তিনি হাকাম থেকে, তিনি বলেন আমি মুজাহিদকে বর্ণনা করতে শুনেছি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: এটি একটি উমরাহ যা থেকে আমরা উপকৃত হয়েছি, সুতরাং যার সাথে হাদঈ (কুরবানীর পশু) নেই সে যেন হালাল হয়ে যায় (ইহরাম মুক্ত হয়)। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: কোন ধরণের হালাল? তিনি বললেন: সকল প্রকার হালাল। অতঃপর তিনি বললেন: কিয়ামত পর্যন্ত উমরাহ হজ্জের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
قال إسحاق: يعني أن العمرة جائزة في أشهر الحج إلى يوم القيامة وذلك أن (أهل) الجاهلية كانوا لا يرون العمرة في أشهر الحج.

870- أخبرنا جرير، عَن يزيد بن أبي زياد، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، قال: قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه حجاجا فقال: ياأيها الناس أحلوا إلاَّ من كان معه هدي فإني لو استقبلت من أمري ما استدبرت ما صنعت هذا دخلت العمرة في الحج إلى يوم القيامة.

 

871- أخبرنا جرير، حَدَّثَنا (عن) منصور، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، قال: مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بحائط من حيطان مكة، أَو المدينة فسمع صوت إنسانين يعذبان في قبريهما فقال: إنهما ليعذبان وما يعذبان في كبير: كان أحدهما يمشي بالنميمة والآخر لا يستتر من بوله، ثُم أخذ جريدة فكسرها كسرتين فجعل على كل قبر منهما كسرة فقيل: يا رسول الله لم فعلت هذا؟ فقال: لعله أن يخفف عنهما ما لم ييبسا، أَو إلى أن ييبسا.

 

872- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا أبو عوانة، عَن بكير بن الأخنس، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، قال: فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الحضر أربعا والسفر ركعتين والخوف ركعة.

873- أخبرنا المخزومي، حَدَّثَنا أبو عوانة، عَن بكير بن الأخنس، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، قال: فرض الله على لسان بيكم (نبيكم) : صلاة الحضر أربعا والسفر ركعتين والخوف ركعة.

 

874- أخبرنا جرير، عَن ليث، عَن مجاهد ويحيى بن عباد، أَو أحدهما، عَن ابن عَبَّاس، قال: نمت (بت) عند خالتي ميمونة فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل فتسوك، ثُم أتى القربة فتوضأ، ثُم قمت أنا فتوضأت. قال: ولَا أدري أذكر السواك، ثُم قمت، عَن شماله فأخذني فأدارني حتى جعلني، عَن يمينه وجعل يمسح رأسي، ثُم صلى أربعا، ثُم أوتر، ثُم صلى ركعتي الفجر، ثُم خرج إلى صلاة الفجر.
ইসহাক বলেন: এর অর্থ হলো হজ্জের মাসসমূহে উমরা করা কিয়ামত পর্যন্ত বৈধ। আর এটি এই কারণে যে, জাহেলিয়াতের যুগের লোকেরা হজ্জের মাসসমূহে উমরা করা বৈধ মনে করত না।

৮৭০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, ইয়াজিদ ইবনে আবি যিয়াদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে আসলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে লোকসকল! তোমরা ইহরাম মুক্ত হয়ে যাও, তবে যার সাথে কোরবানির পশু রয়েছে সে ব্যতীত। কেননা আমি যদি আগে জানতাম যা পরে জেনেছি, তবে আমি এরূপ করতাম না। হজ্জের মধ্যে উমরা কিয়ামত পর্যন্ত প্রবেশ করেছে।

 

৮৭১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মানসুর, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা অথবা মদীনার একটি বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি দুই ব্যক্তির আওয়াজ শুনতে পেলেন যাদের তাদের কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন: এদের দুজনকে আযাব দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো বড় বিষয়ের কারণে তাদের আযাব দেওয়া হচ্ছে না। তাদের একজন চোগলখুরি করে বেড়াত আর অন্যজন নিজের পেশাব থেকে আড়াল করত না। অতঃপর তিনি একটি খেজুরের ডাল নিলেন এবং তা দুই টুকরো করলেন এবং তাদের প্রত্যেকের কবরের ওপর একটি করে টুকরো রাখলেন। জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন এটি করলেন? তিনি বললেন: সম্ভবত তাদের আযাব লাঘব করা হবে যতক্ষণ না এই দুটি শুকিয়ে যায়, অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা শুকায়।

 

৮৭২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওকী', আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানাহ, বুকাইর ইবনে আখনেস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বদেশে অবস্থানের নামায চার রাকাত, সফরের নামায দুই রাকাত এবং ভয়ের নামায এক রাকাত ফরয করেছেন।

৮৭৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাখযূমী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানাহ, বুকাইর ইবনে আখনেস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তোমাদের নবীর মুখে ফরয করেছেন: স্বদেশে অবস্থানের নামায চার রাকাত, সফরের নামায দুই রাকাত এবং ভয়ের নামায এক রাকাত।

 

৮৭৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ ও ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ থেকে, অথবা তাঁদের একজনের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার খালা মায়মুনার নিকট রাত অতিবাহিত করলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে উঠলেন এবং মিসওয়াক করলেন, অতঃপর তিনি চামড়ার পানির পাত্রের কাছে আসলেন এবং উযূ করলেন। তারপর আমিও উঠলাম এবং উযূ করলাম। বর্ণনাকারী বলেন: আমি জানি না তিনি (আমার উযূর ক্ষেত্রেও) মিসওয়াকের কথা উল্লেখ করেছিলেন কি না। তারপর আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম, তখন তিনি আমাকে ধরে ঘুরিয়ে নিলেন এবং তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। তিনি আমার মাথায় হাত বুলাতে লাগলেন। অতঃপর তিনি চার রাকাত নামায পড়লেন, তারপর বিতর পড়লেন, এরপর ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) পড়লেন, অতঃপর ফজরের নামাযের জন্য বের হলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
875- أخبرنا جرير، عَن مسلم الأعور، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لولا أن تضيعوا لأمرتكم بالسواك عند كل صلاة.

876- أخبرنا الفضل بن موسى، عَن ابن الحارث - وهو مجابر (رجاء) -، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: خيركن أيسركن (خيركم أيسركم) صداقا.

قال: فكان مجاهد يقول: إن كان درهما فهو حلال.

 

877- أخبرنا وهب بن جرير حدثني أبي قال: سمعت محمد بن غسحاق (إسحاق) يحدث، عَن عَبد الله بن أبي نجيح وأبان بن صالح أن مجاهدا حدثهم، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم تزوجها وهو حرام يعني ميمونة.

وكان ابن عُمَر وسعيد بن المُسَيَّب ينكران ذلك.

878- أخبرنا وكيع، حَدَّثَنا شعبة، عَن الحكم بن عتبة (عتيبه) ، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: نصرت بالصبا وأهلكت عاد بالدبور.

879- أخبرنا النضر، حَدَّثَنا شعبة، عَن الحكم قال: سمعت مجاهدا يحدث، عَن ابن عَبَّاس، عَن النبي صلى الله عليه وسلم مثله.

 

880- أخبرنا يحيى بن آدم، حَدَّثَنا إسرائيل، عَن عثمان بن المغيرة الثقفي، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: رأيت إبراهيم وموسى وعيسى: فأما عيسى: فعريض الصدر وأما موسى: فآدم سبط كان (كأنه) من رجال الزط، فقيل له: فإبراهيم؟ قال: شبه (شبيه) صاحبكم.

881- أخبرنا عمرو بن محمد، حَدَّثَنا سفيان، (الثورى ، عن عثمان) بهذا الإسناد، مِثله، وقال: أما عيسى: فجعد أحمر عريض الصدر، وقال: فأشبه صاحبكم يعني نفسه.
৮৭৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, তিনি মুসলিম আল-আওয়ার থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: যদি তোমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে আমি তোমাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।

৮৭৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফাযল ইবনে মূসা, তিনি ইবনে আল-হারিস - যিনি মুজাবির (রাজা) - থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম (সেই নারী উত্তম) যার মোহরানা সবচেয়ে সহজ (স্বল্প)।

বর্ণনাকারী বলেন: মুজাহিদ বলতেন: যদি তা এক দিরহামও হয়, তবে তা হালাল।

 

৮৭৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াহাব ইবনে জারীর, তিনি বলেন: আমাকে আমার পিতা হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাককে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবী নাজীহ এবং আবান ইবনে সালিহ থেকে, তারা মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (মায়মুনাকে) ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন—অর্থাৎ মায়মুনাকে।

আর ইবনে উমর এবং সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব একে অস্বীকার করতেন।

৮৭৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকী, তিনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শু'বা থেকে, তিনি আল-হাকাম ইবনে উতাইবা থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমাকে ‘সাবা’ (পূর্বাঞ্চলীয় বায়ু) দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে এবং ‘আদ’ জাতিকে ‘দাবুর’ (পশ্চিমাঞ্চলীয় বায়ু) দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে।

৮৭৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আন-নাযর, তিনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শু'বা থেকে, তিনি আল-হাকাম থেকে, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

৮৮০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আদম, তিনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসরাঈল থেকে, তিনি উসমান ইবনে আল-মুগীরা আস-সাকাফী থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি ইব্রাহিম, মূসা এবং ঈসাকে দেখেছি। ঈসা ছিলেন প্রশস্ত বক্ষ বিশিষ্ট। আর মূসা ছিলেন বাদামী বর্ণের এবং সোজা চুল বিশিষ্ট, যেন তিনি যুত সম্প্রদায়ের লোকদের একজন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আর ইব্রাহিম? তিনি বললেন: তোমাদের এই সাথীর (অর্থাৎ নিজের) সদৃশ।

৮৮১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে মুহাম্মদ, তিনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান (আস-সাওরী, উসমান থেকে) এই একই সনদে অনুরূপভাবে। তিনি বলেছেন: ঈসা ছিলেন কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট, লালচে এবং প্রশস্ত বক্ষ বিশিষ্ট। আর তিনি বলেছেন: (ইব্রাহিম) তোমাদের সাথীর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ—অর্থাৎ তিনি নিজেকে বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
882- أخبرنا يحيى بن آدم وإسرائيل، عَن أبي يحيى القتات، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم فخذ رجل فقال له: غط فخذك فإن فخذ الرجل من عورته.

883- أخبرنا جرير، عَن ليث بن أبي سليم، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، قال: أحسبه رفعه قال: منهومان لا يقضي أحدهما نهمته منهوم في طلب العلم لا يقضي نهمته ومنهوم في طلب المال لا يقضي نهمته.

 

884- أخبرنا جرير، عَن يزيد بن أبي زياد، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إن مكة حرم حرمها الله يوم خلق السماوات والأرض (والشمس ولبقمر وجعل الأخشبين لا يحل فيه القتال لأحد قبلى) ، ولَا يحل بعدي ولم تحل لي إلاَّ ساعة من نهار، ثُم عادت لا يختلى خلاها، ولَا يعضد شجرها، ولَا يخاف صيدها، ولَا ترفع لقطتها إلاَّ لمنشد. فقال العباس: يارسول الله إلاَّ الإذخر فإنه لا غنى لأهل مكة عنه، قال: إلاَّ الإذخر.

قال جرير: ومعنى قوله: لا ترفع اللقطة إلاَّ لمن كان سمع ناشدا قبل ذلك فهو يحبسها عليه، ولَا يحكم للقطة مكة كما يحكم للقطة سائر البلدان.

 

885- أخبرنا وهب بن جرير حدثني أبي قال: سمعت محمد بن إسحاق يقول: حدثني عَبد الله بن أبي نجيح، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، قال: حلق رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجته فحلق ناس وقصر آخرون فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يرحم الله المحلقين فقالوا: يارسول الله: والمقصرين؟ فقال: يرحم الله المحلقين فقالوا: يارسول الله والمقصرين؟ فقال: والمقصرين، فقالوا: يارسول الله ما بال المحلقين؟ لم ظاهرت لهم الترحم قال: إنهم لَمْ يَشُكُّوا.
৮৮২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আদম এবং ইসরাঈল, তাঁরা আবু ইয়াহইয়া আল-কাত্তাত থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ব্যক্তির উরু দেখতে পেলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: তোমার উরু ঢেকে রাখো, কেননা পুরুষের উরু সতর বা গোপনীয় অঙ্গের অন্তর্ভুক্ত।

৮৮৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, তিনি লাইস ইবনে আবি সুলাইম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (রাবী) বলেন: আমি মনে করি তিনি এটি মারফু হিসেবে (রাসূলুল্লাহর বাণী হিসেবে) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: দুই প্রকারের লোভী ব্যক্তি আছে যাদের আকাঙ্ক্ষা কখনো মেটে না; একজন হলো জ্ঞান অন্বেষণের লোভী যার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয় না এবং অন্যজন হলো সম্পদ অন্বেষণের লোভী যার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয় না।

 

৮৮৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, তিনি ইয়াজীদ ইবনে আবি জিয়াদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই মক্কা এক পবিত্র ভূমি, আল্লাহ একে সেই দিনই হারাম (মর্যাদাপূর্ণ ও নিষিদ্ধ) করেছেন যেদিন তিনি আসমান ও জমিন (এবং সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন এবং দুই আখশাব পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানকে পবিত্র করেছেন; আমার পূর্বে কারো জন্য এখানে লড়াই করা বৈধ ছিল না) এবং আমার পরেও বৈধ নয়। আমার জন্য দিনের সামান্য সময়ের জন্য এটি বৈধ করা হয়েছিল, অতঃপর তা পুনরায় তার আগের মর্যাদায় ফিরে এসেছে। এর ঘাস কাটা যাবে না, এর গাছ কাটা যাবে না, এর শিকারকে তাড়িয়ে দেওয়া বা ভয় দেখানো যাবে না এবং এর পড়ে থাকা বস্তু কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ উঠাতে পারবে না যে তার ঘোষণা প্রচার করবে। তখন আব্বাস বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইযখির ঘাস ব্যতীত, কারণ মক্কাবাসীদের জন্য এর অপরিহার্যতা রয়েছে। তিনি বললেন: ইযখির ব্যতীত।

জারীর বলেন: তাঁর এই বাণীর অর্থ হলো: পড়ে থাকা বস্তু কেবল সেই ব্যক্তিই উঠাবে যে ইতিপূর্বে কোনো ঘোষণাকারীর ডাক শুনেছে, ফলে সে তা তার (মালিকের) জন্য সংরক্ষণ করবে। মক্কায় পড়ে থাকা বস্তুর বিধান অন্যান্য শহরের পড়ে থাকা বস্তুর বিধানের মতো নয়।

 

৮৮৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াহব ইবনে জারীর, তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি নাজীহ বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হজের সময় মাথা মুণ্ডন করেছিলেন। তখন কিছু লোক মাথা মুণ্ডন করল এবং অন্যরা চুল ছোট করল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আল্লাহ মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি দয়া করুন। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আর যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও কি নয়? তিনি আবার বললেন: আল্লাহ মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি দয়া করুন। তারা পুনরায় বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আর যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও কি নয়? তখন তিনি বললেন: এবং যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। তারা জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! মাথা মুণ্ডনকারীদের ব্যাপারটি এমন কেন যে আপনি তাদের জন্য রহমতের দোয়াকে এভাবে প্রাধান্য দিলেন? তিনি বললেন: কারণ তারা (আল্লাহর নির্দেশের ব্যাপারে) কোনো প্রকার দ্বিধাবোধ করেনি।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
886- أخبرنا أحمد بن أيوب الضبي، عَن أبي حمزة، عَن جابر، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من أذن سبع سنين محتسبا كتبت له براءة من النار.

887- قال جابر: وقال عامر، عَن سعد بن أبي وقاص أنه قال: لأن أقوى على الأذان محتسبا (أحب) إلي من الجهاد والحج والعمرة.

 

888- أخبرنا الملائي، حَدَّثَنا إسرائيل، عَن عَبد الله بن مسلم بن هرمز، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبل الركن اليماني ويضع خده عليه.

889- أخبرنا جرير، عَن يزيد بن أبي زياد، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، قال: كانوا يكرهون أن يدخلوا في حجهم التجارة حتى نزلت هذه الآية: {ليس عليكم جناح أن تبتغوا فضلا من ربكم} .

890- أخبرنا الملائي، حَدَّثَنا سفيان، عَن يزيد بن أبي زياد، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، قال: كانوا يتقون البيوع والتجارة في أيام الموسم يقولون: أيام ذكر فأنزل الله عز وجل: {ليس عليكم جناح أن تبتغوا فضلا من ربكم} .

 

891- أخبرنا سفيان، عَن عمرو بن دينار، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، قال: كان في بني إسرائيل القصاص ولم يكن فيهم الدية فقال الله عز وجل لهذه الأمة: {كتب عليكم القصاص في القتلى الحر بالحر} حتى بلغ {فمن عفي له من أخيه شيء} قال: عفوه: قبوله الدية. فاتباع بالمعروف قال: يطلبه بمعروف ويوصي (ويؤدى) إليه بإحسان.

زاد، عَن سفيان قال {ذلك تخفيف من ربكم ورحمة} . قال: أخذ الدية من العمد.

892- أخبرنا محمد بن بشر، حَدَّثَنا شعبة، عَن عمرو بن مرة، عَن مجاهد، عَن ابن عَبَّاس، عَن سجدة ص، قال: توبة عَبد، أَو توبة نبي فأمر الله محمدا صلى الله عليه وسلم أن يقتدي به.

 

-‌‌ ما يُروَى، عَن عطاء بن أبي رباح، عَن ابن عَبَّاس، عَن النبي صلى الله عليه وسلم
৮৮৬- আহমাদ বিন আইয়ুব আদ-দাব্বী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামযাহ থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় সাত বছর আজান দেবে, তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরোয়ানা লিখে দেয়া হবে।

৮৮৭- জাবির বলেন: আমির সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: সওয়াবের আশায় আজান দিতে সক্ষম হওয়া আমার কাছে জিহাদ, হজ এবং উমরাহ করার চেয়ে অধিক প্রিয়।

 

৮৮৮- আল-মুলায়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসরাঈল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন হুরমুয থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকনে ইয়ামানী চুম্বন করতেন এবং এর ওপর নিজের গাল রাখতেন।

৮৮৯- জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযীদ বিন আবি যিয়াদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা তাদের হজের সময় ব্যবসা-বাণিজ্য করাকে অপছন্দ করতেন, যতক্ষণ না এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {তোমাদের জন্য তোমাদের রবের অনুগ্রহ অন্বেষণ করাতে কোনো পাপ নেই}।

৮৯০- আল-মুলায়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াযীদ বিন আবি যিয়াদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা (হজের) মৌসুমি দিনগুলোতে ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে বেঁচে চলতেন; তারা বলতেন: এগুলো যিকিরের দিন। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল অবতীর্ণ করলেন: {তোমাদের জন্য তোমাদের রবের অনুগ্রহ অন্বেষণ করাতে কোনো পাপ নেই}।

 

৮৯১- সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর বিন দীনার থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলের মধ্যে কিসাস (প্রতিশোধ) প্রচলিত ছিল কিন্তু তাদের মধ্যে দিয়াত (রক্তপণ) ছিল না। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এই উম্মতের উদ্দেশ্যে বললেন: {তোমাদের জন্য নিহতদের ব্যাপারে কিসাস বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি} শেষ পর্যন্ত {অতঃপর যার জন্য তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কিছু ক্ষমা করা হয়}। তিনি বলেন: 'ক্ষমা করা' মানে হলো রক্তপণ গ্রহণ করা। 'সদাচারের সাথে অনুসরণ করা' সম্পর্কে তিনি বলেন: সে উত্তম পন্থায় তা দাবি করবে এবং তার প্রতি ইহসানের সাথে তা আদায় করা হবে।

সুফিয়ান থেকে বর্ণিত অতিরিক্ত অংশে বলা হয়েছে, {এটি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে একটি শিথিলতা ও রহমত}। তিনি বলেন: এর অর্থ হলো ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে রক্তপণ গ্রহণ করা।

৮৯২- মুহাম্মাদ বিন বিশর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শু’বাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে ‘সোয়াদ’ (ص) সূরার সাজদাহ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এটি ছিল একজন বান্দার তাওবা অথবা একজন নবীর তাওবা, অতঃপর আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

-‌‌ যা আতা বিন আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
893- أخبرنا سفيان، عَن عمرو بن دينار، وعَن ابن جُرَيج، عَن عطاء، عَن ابن عَبَّاس، قال: أذن (أخر) رسول الله صلى الله عليه وسلم العشاء ذات ليلة فناداه عُمَر: الصلاة فقد رقد النساء والوالدان فخرج ورأسه يقطر وهو يقول: إنه الوقت لولا أن أشق على أمتي.

قال سفيان: … (أحدهما) يريد (يزيد) … (على أخيه) .

 

894- أخبرنا محمد بن بكر، أَخْبَرنا ابن جُرَيج قال: قلت لعطاء: أي ساعة أحب إليك أن أصلي العتمة إماما وخلوا. فقال: سمعت ابن عَبَّاس يقول: أعتم رسول الله صلى الله عليه وسلم في العتمة ذات ليلة حتى رقد الناس، ثُم استيقظوا، ثُم رقدوا، ثُم استيقظوا، ثُم رقدوا فقام عُمَر فقال: الصلاة الصلاة فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال ابن عَبَّاس: فكأني أنظر إليه ورأسه يقطر ماء واضع يده على رأسه وهو يقول: لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم أن يصلوا كذلك.

 

895- أخبرنا جرير ووكيع، عَن ابن أبي ليلى، عَن عطاء، عَن ابن عَبَّاس؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لبى حتى رمى جمرة العقبة.

896- أخبرنا يحيى بن آدم، حَدَّثَنا زهير، أَو (أبو) خيثمة، عَن محمد بن عَبد الرحمن، وهو ابن أبي ليلى، عَن عطاء، عَن ابن عَبَّاس؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لبى للعمرة حتى استلم الحجر، وللحج حتى رمى الجمرة.

897- أخبرنا وكيع، عَن سفيان، عَن حبيب بن أبي ثابت، عَن سعيد بن جبير، عَن ابن عَبَّاس؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لبى حتى رمى الجمرة.
৮৯৩- সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমর বিন দিনার ও ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক রাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এশার সালাত বিলম্বিত করলেন, তখন উমর (রা.) তাঁকে ডেকে বললেন: সালাত! নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। এরপর তিনি বের হয়ে আসলেন, তখন তাঁর মাথা থেকে পানি ঝরছিল এবং তিনি বলছিলেন: যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টসাধ্য না হতো, তবে এটাই ছিল সালাতের উপযুক্ত সময়।

সুফিয়ান বলেন: … (তাদের একজন) … (অন্যজনের চেয়ে) বেশি বর্ণনা করেছেন।

 

৮৯৪- মুহাম্মদ বিন বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আতাকে বললাম: ইমাম হিসেবে অথবা একাকী এশার সালাত আদায় করার জন্য আপনার কাছে কোন সময়টি অধিক পছন্দনীয়? তিনি বললেন: আমি ইবনে আব্বাসকে (রা.) বলতে শুনেছি: এক রাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এশার সালাত আদায়ে অনেক বিলম্ব করলেন, এমনকি মানুষ ঘুমিয়ে পড়ল, তারপর জাগ্রত হলো, পুনরায় ঘুমিয়ে পড়ল, তারপর আবার জাগ্রত হলো, পুনরায় আবার ঘুমিয়ে পড়ল। তখন উমর (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন: সালাত! সালাত! এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হয়ে আসলেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: আমি যেন এখনও তাঁর দিকে তাকিয়ে আছি, তাঁর মাথা থেকে পানি ঝরছিল এবং তিনি তাঁর হাত নিজের মাথার ওপর রেখেছিলেন। আর তিনি বলছিলেন: যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টসাধ্য না হতো, তবে আমি তাদের এভাবেই সালাত আদায়ের নির্দেশ দিতাম।

 

৮৯৫- জারীর ও ওয়াকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জমারাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করেছেন।

৮৯৬- ইয়াহইয়া বিন আদম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জুহাইর অথবা (আবু) খাইসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান থেকে—যিনি ইবনে আবি লায়লা—তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমরার জন্য হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা পর্যন্ত এবং হজের জন্য জমরায় পাথর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করেছেন।

৮৯৭- ওয়াকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ান থেকে, তিনি হাবিব বিন আবি সাবিত থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জমরায় পাথর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
898- أخبرنا وهب بن جرير بن حازم حدثني أبي قال: سمعت محمد بن إسحاق يحدث قال: حدثني عَبد الله بن أبي نجيح، عَن عطاء، عَن ابن عَبَّاس، قال: افترض الله عليهم أن يقاتل الواحد العشرة فثقل ذلك عليهم وشق ذلك عليهم فوضع الله عنهم ذلك إلى أن يقاتل الواحد الرجلين فأنزل الله عز وجل {إن يكن منكم عشرون صابرون يغلبوا مِئَتين} تلا إلى قوله إلى آخر الآيات، ثُم قال {لولا كتاب من الله سبق لمسكم فيما أخذتم عذاب عظيم} يعني: غنائم بدر يقول: لولا أني لا أعذب من عصاني حتى أتقدم إليه، ثُم قال {ياأيها النبي قل لمن في أيديكم من الأسرى إن يعلم الله في قلوبكم خيرا} الآية.

قال العباس: في نزلت حين أخبرت رسول الله صلى الله عليه وسلم بإسلامي وسألته أن لا يحاسبني بالعشرين أوقية (الأوقيه) التي أخذت مني فأعطاني عشرين عبدا كلهم قد تاجر بمال في يده مع ما ادخره (أرجوه) من مغفرة الله.

 

899- أخبرنا سفيان، عَن عمرو، عَن عطاء وطاووس، عَن ابن عَبَّاس؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم احتجم وهو محرم.هـ.

قال إسحاق: قيل لي: إن سفيان قال: فقد (وقد) قال عمرو مرة، عَن عطاء، عَن ابن عَبَّاس وقال مرة، عَن طاووس، عَن ابن عَبَّاس فلا أدري أسمعه منهما، أَو كان وهما منه.

 

900- أخبرنا سفيان، عَن عمرو، عَن عطاء، عَن ابن عَبَّاس، عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إذا أكل أحدكم طعاما فلا يمسح يده حتى يلعقها، أَو يلعقها.

901- أخبرنا جرير، عَن ابن أبي ليلى، (عن عطاء) عَن ابن عَبَّاس، قال: أفضت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الإفاضتين فكان (وكان) يفيض وعليه السكينة.
৮৯৮- ওয়াহাব ইবনে জারীর ইবনে হাযিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাককে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবী নাজীহ আতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাদের ওপর এটি ফরয করেছিলেন যে, একজন ব্যক্তি দশজনের সাথে যুদ্ধ করবে। এটি তাদের ওপর অত্যন্ত ভারী ও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ালো। তখন আল্লাহ তাদের থেকে এই বিধান লাঘব করে দিলেন যে, একজন ব্যক্তি দুইজনের সাথে যুদ্ধ করবে। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নাযিল করলেন: {তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন ধৈর্যশীল থাকে, তবে তারা দুইশ জনের ওপর বিজয়ী হবে} তিনি আয়াতের শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। এরপর বললেন: {যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ব-নির্ধারিত বিধান না থাকত, তবে তোমরা যা গ্রহণ করেছ সে জন্য তোমাদের ওপর মহা আযাব আপতিত হতো} অর্থাৎ: বদরের গনীমত। তিনি বলেন: এর অর্থ হলো, যদি আমার পক্ষ থেকে এই নিয়ম না থাকত যে, আমি আমার অবাধ্য ব্যক্তিকে ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি দিই না যতক্ষণ না আমি তাকে সতর্ক করি। এরপর তিনি বললেন: {হে নবী! তোমাদের হাতে যে যুদ্ধবন্দিরা রয়েছে তাদের বলে দিন, যদি আল্লাহ তোমাদের অন্তরে কোনো কল্যাণ আছে বলে জানেন...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

আব্বাস বলেন: এই আয়াতটি আমার ব্যাপারে নাযিল হয়েছিল যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ দিলাম এবং তাঁর নিকট আবেদন করলাম যেন তিনি আমার থেকে নেওয়া বিশ উকিয়া (স্বর্ণের) হিসাব না নেন। ফলে তিনি আমাকে বিশ জন দাস দান করলেন যাদের প্রত্যেকের হাতে ব্যবসার সম্পদ ছিল। এর পাশাপাশি আমি আল্লাহর নিকট হতে ক্ষমার আশা রাখি।

 

৮৯৯- সুফিয়ান আমরের নিকট থেকে, তিনি আতা ও তাউস থেকে এবং তাঁরা ইবনে আব্বাস থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় শিঙা লাগিয়েছিলেন। সমাপ্ত।

ইসহাক বলেন: আমাকে বলা হয়েছে যে সুফিয়ান বলেছেন: আমর কখনো আতা থেকে ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আবার কখনো তাউস থেকে ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাই আমি জানি না তিনি কি এটি উভয়ের নিকট থেকেই শুনেছেন নাকি এটি তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বিভ্রম ছিল।

 

৯০০- সুফিয়ান আমরের নিকট থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন খাবার খাবে, তখন সে যেন নিজের হাত না মোছে যতক্ষণ না সে তা চাটবে অথবা অন্যকে দিয়ে চাটাবে।

৯০১- জারীর ইবনে আবী লায়লা থেকে, (আতা থেকে) এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দুইবার প্রত্যাবর্তন করেছি এবং তিনি অত্যন্ত প্রশান্তির সাথে প্রত্যাবর্তন করছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইসহাক বিন রাহওয়াইহি - মুসনাদু ইবনে আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
902- أخبرنا المقرىء، حَدَّثَنا نوح بن جعونة الخرساني، عَن مقاتل بن حيان، عَن عطاء، عَن ابن عَبَّاس، قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما إلى المسجد وهو يقول بيده هكذا فنكس المقرىء بيده هكذا وهو يقول: من أنظر معسرا، أَو وضع عنه وقاه الله فيح جهنم ألا إن عمل الجنة حزن بربوة ثلاثا ألا وإن عمل النار سهل بسهوة (بشهوه) والسعيد من وقى نفسه (الفتنه) وما من جرعة أحب إلى الله من جرعة غيظ يكظمها عَبد الله ما كظمها عَبد الله إلاَّ إلا ملأ الله جوفه إيمانا.

 

903- أخبرنا سفيان، عَن عمرو، عَن عطاء، عَن ابن عَبَّاس، قال: التحصيب ليس بشيء إنما هو منزل نزله رسول الله صلى الله عليه وسلم.

904- أخبرنا عَبد الأعلى، حَدَّثَنا هشام - وهو ابن حسان القردوسي -، عَن عطاء ابن أبي رباح، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعثه مع الثقل من جمع بليل إلى منى.

 

905- أخبرنا أبو عامر العقدي، حَدَّثَنا أَيُّوبُ بْنُ سِنَانٍ (1) ، عَن عطاء، عَن ابن عَبَّاس، قال: لم يرخص لأحد أن يبيت عَن مِنًى، إلاَّ للعباس بن عَبد المطلب، من أجل سقايته.

906- أخبرنا عيسى بن يونس، حَدَّثَنا عُبَيد الله، عَن نافع، عَن ابن عُمَر؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رخص للعباس بن عَبد المطلب أن يبيت بمكة أيام منى من أجل سقايته.

907- أخبرنا أبو عامر العقدي، حَدَّثَنا رباح، وهو ابن أبي معروف المكي، عَن عطاء بن أبي رباح، عَن ابن عَبَّاس؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر ضباعة أن حجي واشترطي؛ أن محلي حيث تحبسني.

--------------------------------------------

حاشية

_________

(1) في المطبوع: "أَيُّوبُ بْنُ سيار"، وأثبتناه عن "المطالب العالية" 1254.
902- আমাদের অবহিত করেছেন আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নূহ বিন জাউনা আল-খুরাসানি, তিনি মুকাতিল বিন হাইয়্যান থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন মসজিদের দিকে বের হলেন এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করছিলেন - বর্ণনাকারী আল-মুকরি তাঁর হাত দিয়ে এভাবে নিচু করে ইশারা করলেন - এবং তিনি বলছিলেন: যে ব্যক্তি কোনো ঋণগ্রস্ত অভাবীকে অবকাশ দিবে অথবা তার ঋণ মাফ করে দিবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের উত্তাপ থেকে রক্ষা করবেন। জেনে রেখো, জান্নাতের আমল হচ্ছে উঁচু টিলার ওপর বন্ধুর পথের মতো (কথাটি তিনি তিনবার বললেন)। জেনে রেখো, জাহান্নামের আমল হচ্ছে সমতল ভূমিতে প্রবৃত্তির অনুকূল সহজ পথের মতো। আর সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে নিজেকে ফিতনা থেকে রক্ষা করেছে। আল্লাহর কাছে রাগের ঢোক গেলা অপেক্ষা অধিক প্রিয় কোনো ঢোক নেই যা আল্লাহর কোনো বান্দা হজম করে; কোনো বান্দা যখনই তা হজম করে, আল্লাহ তার অন্তর ঈমান দিয়ে পূর্ণ করে দেন।

 

903- আমাদের অবহিত করেছেন সুফিয়ান, তিনি আমর থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল-তাহসিব (মুহাসসাবে অবস্থান করা) বিশেষ কিছু নয়, এটি কেবল একটি স্থান যেখানে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবতরণ করেছিলেন।

904- আমাদের অবহিত করেছেন আবদ আল-আলা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম - তিনি ইবনে হাসসান আল-কারদুসি -, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে রাতের বেলা জাম' (মুযদালিফা) থেকে আসবাবপত্র ও দুর্বল লোকদের সাথে মিনায় পাঠিয়েছিলেন।

 

905- আমাদের অবহিত করেছেন আবু আমির আল-আকাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব বিন সিনান, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব ব্যতীত অন্য কাউকে তাঁর হাজীদের পানি পান করানোর দায়িত্বের কারণে মিনার বাইরে রাত যাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

906- আমাদের অবহিত করেছেন ঈসা বিন ইউনুস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবকে তাঁর পানি পান করানোর দায়িত্বের কারণে মিনার দিনগুলোতে মক্কায় রাত যাপনের অনুমতি দিয়েছিলেন।

907- আমাদের অবহিত করেছেন আবু আমির আল-আকাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবাহ - তিনি ইবনে আবি মারুফ আল-মাক্কি -, তিনি আতা বিন আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুবাআহ (রা.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তুমি হজ করো এবং এই শর্ত করো যে: "হে আল্লাহ, আমি সেখানেই ইহরামমুক্ত হব যেখানে আপনি আমাকে আটকে দিবেন।"

--------------------------------------------

টীকা

_________

(১) মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "আইয়ুব বিন সাইয়ার", তবে আমরা তা "আল-মাতালিব আল-আলিয়াহ" ১২৫৪ থেকে "আইয়ুব বিন সিনান" হিসেবে সাব্যস্ত করেছি।