(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: -)
المصطلحات الحديثية بين الاتفاق والافتراق   (راوية بنت عبد الله بن علي جابر)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: المصطلحات الحديثية بين الاتفاق والافتراق

المؤلف: د راوية بنت عبد الله بن علي جابر

رسالة: دكتوراه في قسم الشريعة والدراسات الإسلاميَّة، تخصُّص الكِتَابِ والسُّنَّةِ، كلية الآداب والعلوم الإنسانية، جامعة الملك عبد العزيز بجدة ـ المملكة العربية السعودية

إشراف: د فاتن بن حسن حلواني

العام الجامعي: 1439 هـ - 2018 م

عدد الصفحات: 625

الرسالة ناقشها د سعد بن عبد الله الحميد، وأثنى عليها ثناء كبيرا

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1440

ঐক্য ও পার্থক্যের মানদণ্ডে হাদিসের পরিভাষা   (রাবিয়া বিনতে আবদুল্লাহ বিন আলী জাবির)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


বই: ঐক্য ও পার্থক্যের মানদণ্ডে হাদিসের পরিভাষা

লেখক: ড. রাবিয়া বিনতে আবদুল্লাহ বিন আলী জাবির

গবেষণাপত্র: শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগে পিএইচডি থিসিস, কুরআন ও সুন্নাহ বিশেষায়ন, কলা ও মানবিক অনুষদ, কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, জেদ্দা — সৌদি আরব রাজতন্ত্র

তত্ত্বাবধানে: ড. ফাতেন বিনতে হাসান হালওয়ানি

শিক্ষাবর্ষ: ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২৫

গবেষণাপত্রটি ড. সাদ বিন আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ পর্যালোচনা করেছেন এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ১)
المصطلحات الحديثية بين الاتفاق والافتراق

دراسة تحليلية موضوعية

 

تأليف:

د. راوية بنت عبد الله علي جابر
হাদিসের পরিভাষাসমূহ (المصطلحات الحديثية): ঐক্যমত ও ভিন্নমতের প্রেক্ষাপটে

একটি বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা

 

রচনায়:

ড. রাবিয়া বিনতে আব্দুল্লাহ আলি জাবির
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ৩)
صورة من إجازة الكتاب علمياً لنيل درجة الدكتوراه
ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের নিমিত্তে গ্রন্থটির শাস্ত্রীয় অনুমোদনের (إجازة) একটি অনুলিপি।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ৪)
المصطلحات الحديثية بين الاتفاق والافتراق

دراسة تحليلية موضوعية

القسم الأول

 

إعداد الدكتورة:

راوية بنت عبدالله علي جابر

 

بحث مقدَّم لنيل درجة الدكتوراه في قسم الشريعة والدراسات الإسلاميَّة،

تخصُّص الكِتَابِ والسُّنَّةِ

 

إشراف:

الأستاذة الدكتورة فاتن بنت حسن بن عبدالرحمن حلواني

 

كلية الآداب والعلوم الإنسانية

جامعة الملك عبد العزيز

جدة ـ المملكة العربية السعودية

ذو الحجة 1439 هـ - أغسطس 2018 م
হাদিসশাস্ত্রীয় পরিভাষা (المصطلحات الحديثية): ঐক্য ও পার্থক্যের প্রেক্ষাপটে

একটি বস্তুনিষ্ঠ ও বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন

প্রথম অংশ

 

রচনায়: ড.

রাবিয়া বিনতে আব্দুল্লাহ আলি জাবির

 

শরিয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে উপস্থাপিত গবেষণা প্রবন্ধ,

কুরআন ও সুন্নাহ বিশেষায়ন

 

তত্ত্বাবধানে:

প্রফেসর ড. ফাতিন বিনতে হাসান বিন আব্দুর রহমান হালওয়ানি

 

কলা ও মানবিক অনুষদ

কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়

জেদ্দা — সৌদি আরব

জিলহজ ১৪৩৯ হিজরি - আগস্ট ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: -)
-[شكر وتقدير]-

أحمد اللَّه عز وجل حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، كما يحب ربنا ويرضى، وأشكره أولًا وآخرًا، وظاهرًا وباطنًا على ما منّ به عليّ من إتمام هذه الرسالة، وأتقدّم بوافر الشكر، وعظيم الامتنان لوالديّ الكريمين، فقد أغدقا عليّ وعلى أولادي بالرعاية والعناية، فتمكنتُ بعد فضل الله عز وجل، وجميل معاونتهما من إتمام هذه الرسالة، سائلة ربي أن يحفظهما، ويرزقني برِّهما، وجميل صحبتهما.

وإلى من بعثه الله في أحلك ظروف البحث؛ ليكون نعم الصاحب والرفيق، إلى زوجي الفاضل الشيخ سيف بن علي جابر، شكر الله لك حسن صحبتك.

وإلى نافذة المستقبل وثمرة الفؤاد، إلى من عاصروا يوميّات هذا البحث، وتعايشوا معه، أولادي أشكر لكم مساندتكم وتشجيعكم.

وإلى من حباها الله علماً وحلماً، ووسع بالها مرافقتي بين سطور هذا البحث وكلماته، فأعانت، وسدّدت، وصبرت، وشجّعت، إلى مشرفتي الفاضلة: الأستاذة الدكتورة: فاتن بنت حسن حلواني، حفظها الله، وبارك فيها وفي علمها، ونفع بها الإسلام والمسلمين، لكِ مني مشرفتي كل شكر وتقدير.

وإلى من تفضَّل عليّ باقتراح موضوع البحث، وشجعني على خوض غماره، الشيخ الفاضل والأستاذ القدير، الدكتور: محمد فال الشنقيطي، شكر الله لكم ما قدّمتموه، وجزاكم خير الجزاء، وأوفره.

وأختم بشكر كل من سيتكرّم ويتفضّل بقراءة رسالتي، وتقويمها، وإرشادي إلى مواطن الزلل؛ لتعديلها وتصويبها، فشكر الله للجميع ما قدموه، وجعله في ميزان حسناتهم.
-[কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ]-

আমি মহান আল্লাহ عز وجل এর অশেষ প্রশংসা করছি—এমন প্রশংসা যা প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময়, যেভাবে আমাদের প্রতিপালক পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। এই গবেষণাপত্রটি (رسالة) সম্পন্ন করার তাওফিক দান করার জন্য আমি প্রকাশ্যে ও গোপনে, শুরুতে ও শেষে তাঁরই শুকরিয়া আদায় করছি। আমি আমার সম্মানীত পিতামাতার প্রতি অশেষ ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি; তাঁরা আমাকে এবং আমার সন্তানদের অবারিত স্নেহ ও যত্ন দিয়ে আগলে রেখেছেন। মহান আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁদের চমৎকার সহযোগিতার ফলেই আমি এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। আমি আমার প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁদের হেফাযত করেন, আমাকে তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার তাওফিক দান করেন এবং তাঁদের সুন্দর সান্নিধ্য নসিব করেন।

গবেষণার অত্যন্ত কঠিন সময়ে আল্লাহ যাঁকে একজন উত্তম সঙ্গী ও সহযাত্রী হিসেবে পাঠিয়েছেন, সেই ব্যক্তিত্ব—আমার সম্মানিত স্বামী শাইখ সাইফ বিন আলী জাবের; আপনার সুন্দর সহচর্যের জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

ভবিষ্যতের বাতিঘর এবং অন্তরের মণিকোঠা—আমার সেই সন্তানদের প্রতি, যারা এই গবেষণার প্রতিটি দিন প্রত্যক্ষ করেছে এবং এর সাথে পথ চলেছে; তোমাদের সমর্থন ও উৎসাহের জন্য তোমাদের ধন্যবাদ জানাই।

এবং তাঁর প্রতি, যাঁকে আল্লাহ জ্ঞান ও ধৈর্যের সম্পদে ভূষিত করেছেন এবং এই গবেষণার প্রতিটি পংক্তি ও শব্দের মাঝে আমার সঙ্গী হয়ে যিনি প্রশস্ত হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছেন; যিনি সাহায্য করেছেন, সঠিক পথ দেখিয়েছেন, ধৈর্য ধরেছেন এবং সাহস জুগিয়েছেন—আমার শ্রদ্ধেয় তত্ত্বাবধায়ক: প্রফেসর ড. ফাতেন বিনতে হাসান হালওয়ানি (আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন, তাঁর ও তাঁর জ্ঞানের মধ্যে বরকত দান করুন এবং তাঁর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করুন)। হে আমার মুহতারামা তত্ত্বাবধায়ক, আপনার প্রতি রইল আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও বিনম্র শ্রদ্ধা।

এবং তাঁর প্রতি, যিনি এই গবেষণার বিষয়টি আমাকে প্রস্তাব করার অনুগ্রহ করেছেন এবং এর গভীর সমুদ্রে অবগাহন করতে আমাকে উৎসাহিত করেছেন—সম্মানিত শাইখ ও সুযোগ্য উস্তাদ ড. মুহাম্মদ ফাল আশ-শিনকিতি। আপনারা যা কিছু পেশ করেছেন, আল্লাহ তার জন্য আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং আপনাদের সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ জাযা দান করুন।

পরিশেষে, আমি তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি যারা অনুগ্রহপূর্বক আমার এই গবেষণাপত্রটি পাঠ করবেন, এর মূল্যায়ন করবেন এবং ভুলত্রুটি সংশোধনের লক্ষ্যে আমাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবেন; যেন তা পরিমার্জন ও সংশোধন করা যায়। আল্লাহ সকলের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং একে তাঁদের নেক আমলের পাল্লায় (ميزان) অন্তর্ভুক্ত করুন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: -)
المصطلحات الحديثية بين الاتفاق والافتراق

(دراسة تحليلية موضوعية)

 

د. راوية بنت عبدالله علي جابر

 

-[المستخلص]-

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم وبعد، فإن هذا البحث يستخدم المنهج التحليلي الاستنباطي في تحرير تعريفات اثني عشر مصطلحاً حديثياً، هي: (الصحيح، والحسن، والضعيف، والشاذ، والمنكر، والمعلل، والأفراد، وزيادة الثقة، والمضطرب، والمدرج، والمقلوب، والموضوع).

ويشتمل على مقدمة، وتمهيد - بذكر نبذة عن أهم المصنفات في علوم الحديث- واثني عشر فصلاً، كل فصل منها: يُعرِّف بمصطلح من المصطلحات الاثني عشر، ويندرج تحت كل فصل ثلاثة مباحث رئيسية: الأول: ويتضمن التعريف بالمصطلح، لغة، واصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني)، والثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها، والثالث: خلاصة تحرير التعريف.

ويهدف البحث إلى: تحرير التعريفات، واستنباط قيودها، وبيان أوجه الاتفاق أو الافتراق، وذكر الأمثلة المعزّزة لذلك، والإشارة إلى أوجه التداخل بين الأنواع والمصطلحات الحديثية، والفروق بينها، والإجابة عمّا يعرض من إشكالات أثناء تحرير هذه المصطلحات.

وتبرز أهمية الموضوع: في تيسير علوم الحديث، بتحرير مصطلحاته وأنواعه، والتمثيل لها، مما يُعين طالب هذا العلم على فهمه، والإجابة عن بعض ما يعرض له من إشكالات وتساؤلات بخصوصه.

وخُتم البحث بخاتمة ضمّت العديد من النتائج، يمكن إجمالها فيما يلي:

- إن قيود التعريف لكل مصطلح، والمستنبطة من تعريف ابن الصلاح - في معظم فصول البحث- هي قيود أغلبية تندرج تحتها معظم التعريفات السابقة لابن الصلاح واللاحقة، مع وجود استثناءات يسيرة، قد تندرج تحت التعريف اللغوي، أو تتبع مصطلحاً خاصاً لواضعه.

- أظهر البحث اتفاق أكثر التعريفات على أبرز قيود التعريف لكل مصطلح إما بالنصّ عليها في حدّ التعريف، أو تضمينها في شروطه وأقسامه، أو شواهده من الأمثلة والاستدلالات.
হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা: মিল ও অমিলের পর্যালোচনা

(একটি বিশ্লেষণধর্মী ও বিষয়ভিত্তিক গবেষণা)

 

ড. রাবিয়া বিনতে আব্দুল্লাহ আলী জাবের

 

-[সারসংক্ষেপ]-

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর। অতঃপর, এই গবেষণাটি বারোটি হাদিস শাস্ত্রীয় পরিভাষার সংজ্ঞা নির্ধারণে বিশ্লেষণমূলক ও অবরোহী (الاستنباطي) পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। সেগুলো হলো: (সহিহ (الصحيح), হাসান (الحسن), জয়িফ (الضعيف), শায (الشاذ), মুনকার (المنكر), মু'আল্লাল (المعلل), আফরাদ (الأفراد), নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة), মুদতারিব (المضطرب), মুদরাজ (المدرج), মাকলুব (المقلوب) এবং মাওজু (الموضوع))।

গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা—যাতে হাদিস শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা রয়েছে—এবং বারোটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত। প্রতিটি অধ্যায়ে ওই বারোটি পরিভাষার একটির পরিচয় দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অধ্যায় তিনটি প্রধান পরিচ্ছেদে বিভক্ত: প্রথমটি: পরিভাষাটির ভাষাগত (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) পরিচয় (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী); দ্বিতীয়টি: উদাহরণসহ সংজ্ঞাগুলোর বিশ্লেষণ; এবং তৃতীয়টি: সংজ্ঞার পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ।

গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ হলো: সংজ্ঞাগুলো পরিমার্জন করা, সেগুলোর শর্তাবলি উদঘাটন করা, মিল ও অমিলের দিকগুলো স্পষ্ট করা, এর সপক্ষে উদাহরণ পেশ করা, হাদিসের বিভিন্ন প্রকার (الأنواع) ও পরিভাষাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংমিশ্রণ ও পার্থক্যের দিকগুলো নির্দেশ করা এবং এই পরিভাষাগুলো পর্যালোচনার সময় উদ্ভূত অস্পষ্টতাগুলোর নিরসন করা।

এই বিষয়ের গুরুত্ব নিহিত রয়েছে: এর পরিভাষা ও প্রকারগুলো পরিমার্জন এবং সেগুলোর উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে হাদিস শাস্ত্রকে সহজতর করার মধ্যে, যা এই বিদ্যার শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বুঝতে এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন জটিলতা ও প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।

গবেষণাটি একটি উপসংহারের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে যাতে বেশ কিছু ফলাফল স্থান পেয়েছে, যা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

- প্রতিটি পরিভাষার সংজ্ঞার শর্তাবলি—যা গবেষণার অধিকাংশ অধ্যায়ে ইবনে সালাহ-এর সংজ্ঞা থেকে উদঘাটন করা হয়েছে—তা হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলি। ইবনে সালাহ-এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ সংজ্ঞাই এর অন্তর্ভুক্ত, তবে কিছু সামান্য ব্যতিক্রম রয়েছে যা ভাষাগত (لغة) সংজ্ঞার আওতাভুক্ত হতে পারে অথবা প্রবর্তকের নিজস্ব পারিভাষিক (اصطلاحاً) বিশেষ নিয়ম হতে পারে।

- গবেষণাটি এটি স্পষ্ট করেছে যে, প্রতিটি পরিভাষার প্রধান শর্তাবলির ব্যাপারে অধিকাংশ সংজ্ঞা একমত; যা হয় সংজ্ঞার মূল পাঠে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অথবা এর শর্তাবলি ও প্রকারভেদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, অথবা উদাহরণ ও দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ৫)
- أجاب البحث عن عدد من الإشكالات والتساؤلات فيما يظهر من تعارض بين مسائل بعض المصطلحات.

- دعّم البحث عدداً من نتائجه بالاستفادة من الأبحاث والدراسات المعاصرة، والتي: جمعت أمثلة مصطلح بعينه وتناولته بالدراسة التطبيقية، كمصطلح: الحسن، والشاذ، والمنكر، والمدرج، والمضطرب، وغيرها …

وتضمنت خاتمة البحث كذلك العديد من النتائج التفصيلية لكل مصطلح بعينه، بحيث يبرز فيها أهم المعاني لكل مصطلح، والفروق بين المصطلحات، وأوجه التداخل فيما بينها.

وتوصي الباحثة بالاهتمام بعلوم الحديث، والسعي إلى تبسيطها وتقريبها لطلبة العلم خاصة وللناس عامة.

- وتلخيص مناقشات وتساؤلات علماء الحديث واستدراكاتهم أثناء تقعيد المصطلحات، وتوجيه النظر إلى ما تحمله تلك المناقشات من إثارة لكوامن الفكر، وإثراء لمهارات التفكير.

هذا والحمد لله رب العالمين.
- গবেষণাটি কিছু পরিভাষার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত বৈপরীত্য সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা ও প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছে।

- গবেষণাটি সমসাময়িক বিভিন্ন গবেষণা ও অধ্যয়ন থেকে উপকৃত হয়ে তার বেশ কিছু ফলাফলকে শক্তিশালী করেছে; যা নির্দিষ্ট পরিভাষার উদাহরণসমূহ সংগ্রহ করে সেগুলোকে প্রায়োগিক পর্যালোচনার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে। যেমন: হাসান (الحسن), শায (الشاذ), মুনকার (المنكر), মুদ্রাজ (المدرج), মুদতারিব (المضطرب) এবং অন্যান্য পরিভাষাগুলো …

গবেষণার উপসংহারে প্রতিটি নির্দিষ্ট পরিভাষার জন্য বেশ কিছু বিস্তারিত ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি পরিভাষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থসমূহ, পরিভাষাগুলোর মধ্যকার পার্থক্য এবং সেগুলোর পারস্পরিক ব্যাপ্তির দিকগুলো ফুটে উঠেছে।

গবেষক হাদিস বিজ্ঞানের প্রতি গুরুত্বারোপ করার এবং বিশেষ করে জ্ঞানান্বেষী শিক্ষার্থীদের জন্য ও সাধারণভাবে সাধারণ মানুষের জন্য একে সহজবোধ্য ও নিকটবর্তী করার সুপারিশ করেছেন।

- সেই সাথে পরিভাষাগুলোর মূলনীতি নির্ধারণের সময় হাদিস বিশারদগণের আলোচনা, প্রশ্ন এবং তাদের সংশোধনীগুলোর (استدراكات) সারসংক্ষেপ করা হয়েছে; এবং এই আলোচনাগুলো কীভাবে সুপ্ত চিন্তাশক্তিকে উদ্দীপ্ত করে ও চিন্তাগত দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করে সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে।

পরিশেষে, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: -)
Tradition (Hadith) terms between agreement and separation

 

(Analytical objective study)

 

Rawiah Abdullah Ali Jaber

 

-[Abstract]-

Praise be to Allah، peace and blessings be upon Allah's Prophet Muhammad. This research uses the deductive analytical methodology in editing the twleve hadith terminology definitions. Which are: (Saheeh (sound)، Hasan (good) ، Daeef (weak) ، Shaz (Isolated) ،Munkar (denounced)، Muallal (defected)، Afrad (singular narrations)، Ziadatu Thiqah (addition by a reliable reporter) ، Mutarib (Perplexed) ، Mudraj (interpolated) ، Maqloob (Turned) ، Maudu` (fabricated or forged)).

The research includes an introduction، a preface - with a brief description of the most important books in the science of Hadith - and twelve chapters. Each chapter is defined as one of the twelve terminologies. In addition، each chapter contains three main topics. The first: includes the terminology's definition، lingual definition and terminology definition (in chronological order). The second: editing definitions with their examples. The third: edited definition's summary.

The research aims to edit definitions، derive limitations، indicate agreement or divergence، provide examples which confirm that، indicate overlaps between Hadith terminologies and the types، and answer the problems posed while editing these terminologies.

The importance of the topic is highlighted in facilitating Hadith science by editing its terminologies and types، and representing it، which helps Hadith science student to understand this science and to answer some of the problems and questions that are posed to him.

The research's conclusion included many results، which can be summarized as follows:

The limitations of each term's definition which are derived from Ibn AlSalah's definition in most of the chapters of the research، are limitations of the majority in which most of the previous and later
হাদিসের পরিভাষাসমূহ: ঐক্য এবং পার্থক্যের মাঝে

 

(বিশ্লেষণাত্মক বস্তুনিষ্ঠ অধ্যয়ন)

 

রাবিয়াহ আব্দুল্লাহ আলী জাবের

 

-[সারসংক্ষেপ]-

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক। এই গবেষণাটি হাদিসের বারোটি পরিভাষার সংজ্ঞা সম্পাদনায় অবরোহী বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। সেগুলো হলো: (সহিহ (صحيح), হাসান (حسن), দুর্বল (ضعيف), শায (شاذ), মুনকার (منكر), মুআল্লাল (معلل), একক বর্ণনা (أفراد), নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة), মুদতারিব (مضطرب), মুদরাজ (مدرج), মাকলুব (مقلوب), এবং জাল (موضوع))।

গবেষণায় একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা—যাতে হাদিস শাস্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ রয়েছে—এবং বারোটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি অধ্যায় উক্ত বারোটি পরিভাষার একটির সংজ্ঞা হিসেবে নির্ধারিত। অতিরিক্তভাবে, প্রতিটি অধ্যায়ে তিনটি মূল বিষয়বস্তু রয়েছে। প্রথমত: পরিভাষার সংজ্ঞা, আভিধানিক সংজ্ঞা এবং পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক ক্রমে)। দ্বিতীয়ত: উদাহরণসহ সংজ্ঞাগুলোর সম্পাদনা। তৃতীয়ত: সম্পাদিত সংজ্ঞার সারসংক্ষেপ।

গবেষণার লক্ষ্য হলো সংজ্ঞাসমূহ সম্পাদনা করা, সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করা, ঐক্য বা পার্থক্য নির্দেশ করা, এ সংক্রান্ত উদাহরণ প্রদান করা যা তা নিশ্চিত করে, হাদিস শাস্ত্রীয় পরিভাষা ও প্রকারগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংশ্লেষ চিহ্নিত করা এবং এই পরিভাষাগুলো সম্পাদনার সময় উত্থাপিত সমস্যাবলির সমাধান করা।

পরিভাষা ও প্রকারভেদগুলো সম্পাদনা ও উপস্থাপনের মাধ্যমে হাদিস শাস্ত্রকে সহজতর করার ক্ষেত্রে এই বিষয়ের গুরুত্ব ফুটে ওঠে, যা হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের এই বিজ্ঞান বুঝতে এবং তাদের সামনে উত্থাপিত কিছু সমস্যা ও প্রশ্নের উত্তর দিতে সাহায্য করে।

গবেষণার উপসংহারে অনেকগুলো ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

গবেষণার অধিকাংশ অধ্যায়ে ইবনুল সালাহ-এর সংজ্ঞা থেকে প্রাপ্ত প্রতিটি পরিভাষার সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতাগুলো হলো জমহুর বা সংখ্যাগুরু ওলামায়ে কেরামের মানদণ্ড, যেখানে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ...
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ৭)
definitions of Ibn AlSalah's fall under it. There are minor exceptions which may fall under the lingual definition، or follow an author's special term.

The research shows that most definitions agreed on the prominent defintion's limitations of each term either by referring to it in the definition، or including it in the conditions and sections، or its evedince of examples and inferences. The research answers a number of problems and questions in the apparent contradiction between some of the terminologies issues.

The research includes examples of each definition's limitations، and supports some of the terminologies such as Hasan (good)، Shaz (isolated)، Munkar (denounced)، Mudraj (interpolated)، Mutarib (perplexed) and others …

Also، the conclusion of the research included several detailed results for each particular term، highlighting the most important meanings of each term، and the differences between the terms and the overlapping between them.

The researcher recommends to take care of Hadith sciences، and to seek to simplify it and bring it closer especially to students and generally to the public. Also، to summarize the discussions and questions of Hadith scholars and their perceptions during devloping terminology rules، and to draw attention to what these discussions carry for stirring hidden thoughts، and enriching thinking skills.

Praise be to Allah، Lord of the worlds
ইবনে আল-সালাহ-এর সংজ্ঞাসমূহ এর আওতাভুক্ত। কিছু সামান্য ব্যতিক্রম রয়েছে যা ভাষাগত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে অথবা কোনো লেখকের বিশেষ পরিভাষাকে অনুসরণ করতে পারে।

গবেষণাটি প্রদর্শন করে যে, অধিকাংশ সংজ্ঞাই প্রতিটি পরিভাষার মূল সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতার বিষয়ে একমত হয়েছে, যা সংজ্ঞার মধ্যে উল্লেখ করার মাধ্যমে, অথবা শর্তাবলি ও বিভাগগুলোর অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে, কিংবা উদাহরণ ও অনুমানের প্রমাণের মাধ্যমে করা হয়েছে। গবেষণাটি পরিভাষা সংক্রান্ত বিষয়াবলির মধ্যকার আপাত বিরোধপূর্ণ বেশ কিছু সমস্যা ও প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে।

গবেষণাটিতে প্রতিটি সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতার উদাহরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি কিছু পরিভাষাকে সমর্থন করে যেমন হাসান (حسن), শায (شاذ), মুনকার (منكر), মুদরাজ (مدرج), মুদতারিব (مضطرب) এবং অন্যান্য …

পাশাপাশি, গবেষণার উপসংহারে প্রতিটি নির্দিষ্ট পরিভাষার জন্য বেশ কিছু বিস্তারিত ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রতিটি পরিভাষার গুরুত্বপূর্ণ অর্থসমূহ এবং পরিভাষাগুলোর মধ্যকার পার্থক্য ও পারস্পরিক সংমিশ্রণের বিষয়গুলো তুলে ধরে।

গবেষক হাদিস শাস্ত্রের প্রতি যত্নবান হতে এবং একে সহজতর করে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কাছে এবং সাধারণভাবে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। এছাড়াও, পরিভাষার নীতিমালা তৈরির সময় হাদিস বিশারদগণের আলোচনা ও প্রশ্নাবলী এবং তাদের উপলব্ধিগুলোকে সারসংক্ষেপ করার এবং এই আলোচনাগুলো সুপ্ত চিন্তাকে জাগ্রত করতে ও চিন্তন দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করতে কী ভূমিকা রাখে সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المقدمة

الحمد لله حمد الشاكرين، وأصلي وأسلم على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وأصحابه الغرّ الميامين.

أما بعد:

فلا يخفى على ذي لبٍّ وبصيرة ما للسنة النبوية من مكانة عظيمة في التشريع الإسلامي؛ لذا أولاها علماؤنا الأجلاء عنايةً فائقةً، فحفظوا متونها وأسانيدها، واحتاطوا في نقلها وتمحيصها، وتوالت الأجيال على ذلك، وبرز جُلّة من العلماء والحفاظ فوضعوا قواعد وأصول تقرّب إلى الأفهام جهود السلف الصالح في نقد مرويات السنة وتمحيصها، فنتج ما يُعرف بمصطلح (1) الحديث.

وعلم مصطلح الحديث كغيره من فنون العلم، كانت بدايته مُجملةً ومنثورةً في كتب علوم الشريعة ثم أُفرِد أبوابٌ منه في تصانيف مستقلِّة، وتوالى التصنيف جمعاً لأبوابه، وتحريراً لمسائله، وضبطاً لقواعده حتى استوى كعلمٍ مُستقِلٍّ.

ويُعدُّ كتاب ابن الصلاح (2) في علوم الحديث عمدةً في ذلك حيث

--------------------------------------------

(1) معنى كلمة المصطلح: "ما جعله أهل فنٍّ أو عُرفٍ من الألفاظ خاصاً لمعنىً مرادٍ عندهم. مثل: الصحيح والحسن والمجهول والمدلس وغيرها من الاصطلاحات عند المحدثين." الليث الخيرآبادي، معجم مصطلحات الحديث وعلومه، 145.

(2) تقي الدين عثمان بن عبدالرحمن الشهرزوريّ، أبو عمرو، المعروف بابن الصلاح، أحد الفضلاء المقدمين في التفسير والحديث والفقه وأسماء الرجال، من مصنفاته: (علوم الحديث، ويعرف بمقدمة ابن الصلاح) و (معرفة المؤتلف والمختلف في أسماء الرجال) ، وغيرها. مات سنة 643 هـ. ينظر: الذهبي، سير أعلام النبلاء، 23/ 140، ابن العماد، شذرات الذهب 7/ 383، كحالة، معجم المؤلفين، 2/ 316 (8850).
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কৃতজ্ঞদের প্রশংসার যোগ্য। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল, আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি এবং তাঁর মহিমান্বিত ও বরকতময় পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি।

অতঃপর:

বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের কাছে ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহর সুউচ্চ মর্যাদা অজানা নয়; তাই আমাদের বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম একে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁরা এর মূলপাঠ (متن) ও সনদসমূহ (إسناد) মুখস্থ করেছেন এবং এর বর্ণনা ও যাঁচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ পথে বহু প্রথিতযশা আলেম ও হাফেজ আত্মপ্রকাশ করেছেন, যাঁরা সুন্নাহর বর্ণনাসমূহ সমালোচনা (نقد) ও যাঁচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের প্রচেষ্টাকে সহজবোধ্য করার জন্য কিছু নিয়ম ও মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন। এরই ফলে যা হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) হিসেবে পরিচিত, তা উদ্ভূত হয়েছে।

অন্যান্য বিজ্ঞানের ন্যায় হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের শুরুটাও ছিল শরিয়াহর বিভিন্ন কিতাবে সংক্ষিপ্ত ও বিক্ষিপ্তভাবে। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র রচনাবলীতে এর বিভিন্ন অধ্যায় স্থান পায়। এর অধ্যায়সমূহ সংকলন, মাসআলাগুলোর বিশ্লেষণ এবং নিয়ম-কানুন নির্ধারণের জন্য ধারাবাহিকভাবে কিতাব রচিত হতে থাকে, যতক্ষণ না এটি একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে পূর্ণতা লাভ করে।

আর উলূমুল হাদিসের ক্ষেত্রে ইবনুল সালাহ (২)-এর কিতাবটি একটি নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত, কারণ

--------------------------------------------

(১) পরিভাষা (اصطلاح) শব্দের অর্থ: “কোনো বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণ বা কোনো প্রথা অনুসরণকারীগণ যেসব শব্দকে তাঁদের উদ্দিষ্ট বিশেষ কোনো অর্থের জন্য নির্দিষ্ট করে নেন। যেমন: মুহাদ্দিসগণের নিকট সহিহ (صحيح), হাসান (حسن), অপরিচিত (مجهول) এবং মুদাল্লাস (مدلس) ও অন্যান্য পরিভাষাসমূহ।” আল-লাইস আল-খায়রাবাদী, মুজামু মুসতালাহাতিল হাদিসি ওয়া উলূমিহি, ১৪৫।

(২) তাকীউদ্দীন উসমান ইবনে আবদুর রহমান আশ-শাহরাযুরী, আবু আমর, যিনি ইবনুল সালাহ নামে পরিচিত। তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকহ এবং আসমাউর রিজাল (أسماء الرجال) শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে: (উলূমুল হাদিস, যা মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত) এবং (মা’রিফাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ ফী আসমাইল রিজাল) ইত্যাদি। তিনি ৬৪৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: আয-যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ২৩/ ১৪০; ইবনুল ইমাদ, শাযারাতুয যাহাব ৭/ ৩৮৩; কাহহালাহ, মুজামুল মুয়াল্লিফীন, ২/ ৩১৬ (৮৮৫০)।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ১৭)
وصفه ابن حجر (1) بقوله: "اجتمع في كتابه ما تفرق في غيره؛ فلهذا عكف الناس عليه، وساروا بسيره، فلا يحصى كم ناظم له ومختصر، ومستدرك عليه ومقتصر، ومعارض له ومنتصر" (2)، وقد ذكر فيه مؤلفه رحمه الله خمسةً وستين نوعاً من أنواع علوم الحديث، وأشار إلى أنه قابل للتنويع إلى ما لا يحصى. (3)

ولم تسلم هذه الأنواع المتعددة من وقوع التداخل بين معانيها، والمراد بها، وقد أشار إلى ذلك ابن كثير (4) - في مختصره على كتاب ابن الصلاح- فقال: "في بسطه هذه الأنواع إلى هذا العدد نظر؛ إذ يمكن إدماج بعضها في بعض، وكان أليق مما ذكره. ثم إنه فرق بين متماثلات منها بعضها عن بعض، وكان اللائق ذكر كل نوعٍ إلى جانب ما يناسبه" (5).

وقد كان للزركشي (6) - وتبعه أيضاً ابن حجر- رأي في هذا التنويع فأجابا عن ذلك بقولهما: "اُعترض عليه بأن كثيراً من هذه الأنواع متداخل، لصدق رجوع

بعضها إلى بعض: كالمتصل بالنسبة إلى الصحيح، وكالمنقطع، والمعضل، والمعنعن، والمرسل،

--------------------------------------------

(1) أحمد بن علي بن محمد الكناني العسقلاني، أبو الفضل، شهاب الدين، ابن حَجَر: من أئمة العلم والتاريخ. له مصنفات كثيرة منها: (فتح الباري بشرح صحيح البخاري) و (نخبة الفكر) و (الإصابة في تمييز الصحابة) ، وغيرها. مات سنة 852 هـ. ينظر: ابن العماد، الشذرات،9/ 395، الزِرِكْلي، الأعلام، ط 15، 1/ 178. كحالة، المؤلفين، 1/ 210 (1552).

(2) ابن حجر، نزهة النظر، 34.

(3) ينظر: ابن الصلاح، علوم الحديث، 11.

(4) إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي البصروي الدمشقيّ، أبو الفداء، عماد الدين: حافظ مؤرخ فقيه. من تصانيفه: (اختصار علوم الحديث) و (جامع المسانيد)، و (البداية والنهاية). مات سنة 774 هـ. ينظر: السيوطي، طبقات الحفاظ، 534 (1161)، ابن العماد، الشذرات، 1/ 67، الزركلي، الأعلام، 1/ 320.

(5) ابن كثير، اختصار علوم الحديث، تحقيق: فيصل يوسف العلي، 27.

(6) محمد بن بهادر بن عبدالله الزركشي، أبو عبدالله المصري الشافعي، الإمام بدر الدين، العلامة، المُصنِّف، المُحرِّر، عالم بفقه الشافعية والأصول، من مصنفاته: (البرهان في علوم القرآن)، (النكت على مقدمة ابن الصلاح) (التذكرة في الأحاديث المشتهرة). مات سنة 794 هـ. ينظر: ابن العماد، الشذرات، الزركلي، الأعلام، 6/ 60، كحالة، المؤلفين، 3/ 174 (12474).
ইবনে হাজার (১) তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: "অন্যান্য গ্রন্থে যা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল তা তার গ্রন্থে একত্রিত হয়েছে; এ কারণে মানুষ এর প্রতি নিবিষ্ট হয়েছে এবং তার পথ অনুসরণ করেছে। একে কতজন পদ্যে রূপান্তর করেছেন, সংক্ষেপ করেছেন, পরিমার্জন (مستدرك) করেছেন, সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং কতজন এর বিরোধিতা বা পক্ষাবলম্বন করেছেন তার হিসাব নেই" (২)। এর লেখক—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—এতে হাদিস বিজ্ঞানের পঁয়ষট্টিটি প্রকার (نوع) উল্লেখ করেছেন এবং ইশারা করেছেন যে, একে অগণিত প্রকারে বিভক্ত করা সম্ভব। (৩)

বিভিন্ন প্রকারের এই আধিক্যের কারণে তাদের অর্থের মধ্যে এবং এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য—তা নিয়ে একে অপরের সাথে মিলে যাওয়া বা পারস্পরিক ব্যাপ্তির সমস্যা থেকে রেহাই পায়নি। ইবনে কাসির (৪)—ইবনে আল-সালাহ-এর কিতাবের ওপর লেখা তাঁর সংক্ষিপ্তসারে—এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: "এই প্রকারগুলোকে এই সংখ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করার বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে; কেননা এর কিছু অংশকে অন্য অংশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব এবং তা তাঁর উল্লিখিত বর্ণনার চেয়ে অধিক উপযুক্ত হতো। তদুপরি তিনি সমজাতীয় বিষয়গুলোর একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করেছেন, অথচ উচিত ছিল প্রতিটি প্রকারকে তার সংগতিপূর্ণ বিষয়ের পাশে উল্লেখ করা" (৫)।

এই শ্রেণীবিন্যাস সম্পর্কে যারকাশি (৬)—এবং তাঁর অনুসরণ করে ইবনে হাজারও—একটি মত পোষণ করেছেন। তাঁরা উভয়ে এর উত্তর দিয়ে বলেছেন: "এর ওপর আপত্তি করা হয়েছে যে, এই প্রকারগুলোর অনেকগুলোই একে অপরের সাথে মিশে যায়, কারণ কিছু প্রকার অন্য কিছু প্রকারের সাথে সম্পৃক্ত: যেমন সহিহ (صحيح)-এর সাপেক্ষে সংযুক্ত (متصل), এবং যেমন বিচ্ছিন্ন (منقطع), জটিল (معضل), 'আন' যোগে বর্ণিত (معنعن), এবং মুরসাল (مرسل),

--------------------------------------------

(১) আহমদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ আল-কিনানি আল-আসকালানি, আবু আল-ফজল, শিহাব উদ্দিন, ইবনে হাজার: ইলম ও ইতিহাসের অন্যতম ইমাম। তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে: (ফাতহুল বারি বি-শারহি সহিহিল বুখারি), (নুখবাতুল ফিকর) ও (আল-ইসাবাহ ফি তায়িযিস সাহাবাহ) অন্যতম। মৃত্যু ৮৫২ হিজরি। দেখুন: ইবনুল ইমাদ, আল-শাযারাত, ৯/ ৩৯৫; আল-যিরিকলি, আল-আলাম, সংস্করণ ১৫, ১/ ১৭৮; কাহহালাহ, আল-মুআল্লিফিন, ১/ ২১০ (১৫৫২)।

(২) ইবনে হাজার, নুজহাতুন নজর, ৩৪।

(৩) দেখুন: ইবনে আল-সালাহ, উলুমুল হাদিস, ১১।

(৪) ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসির আল-কুরাশি আল-বাসরয়ি আদ-দিমাশকি, আবু আল-ফিদা, ইমাদ উদ্দিন: হাফেজ (حافظ), ঐতিহাসিক ও ফকিহ। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে: (ইখতিসার উলুম আল-হাদিস), (জামেউল মাসানিদ) এবং (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া)। মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি। দেখুন: সুয়ুতি, তাবাকাতুল হুফফাজ, ৫৩৪ (১১৬১); ইবনুল ইমাদ, আল-শাযারাত, ১/ ৬৭; আল-যিরিকলি, আল-আলাম, ১/ ৩২০।

(৫) ইবনে কাসির, ইখতিসার উলুম আল-হাদিস, তাহকিক: ফয়সাল ইউসুফ আল-আলি, ২৭।

(৬) মুহাম্মদ ইবনে বাহাদুর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-যারকাশি, আবু আব্দুল্লাহ আল-মিসরি আশ-শাফিঈ, ইমাম বদর উদ্দিন, আল্লামা, লেখক, গবেষক, শাফিঈ ফিকহ এবং উসুল শাস্ত্রের পণ্ডিত। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে: (আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন), (আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ), (আত-তাযকিরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহিরাহ)। মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি। দেখুন: ইবনুল ইমাদ, আল-শাযারাত; আল-যিরিকলি, আল-আলাম, ৬/ ৬০; কাহহালাহ, আল-মুআল্লিফিন, ৩/ ১৭৪ (১২৪৭৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ১৮)
والشاذ، والمنكر، والمضطرب وغيرها من أقسام الضعف. والجواب عن هذا: أن المصنف لما كان في مقام تعريف الجزئيات انتفى التداخل؛ لاختلاف حقائقها في أنفسها بالنسبة إلى الاصطلاح، وإن كانت قد ترجع إلى قدر مشترك" (1).

وقد تركوا رحمهم الله في تحريراتهم ونكاتهم (2) وشروحهم ومختصراتهم درراً متناثرة حريٌّ بطالب العلم أن يجمعها، ويضم المتشابه منها، ويُعلِّل التباين إن وجد، فأحببت أن أسلك هذا الطريق، وأحرِّر تلك التعريفات ضمن سياق الاتفاق والافتراق حول أبرز قيود التعريف لكل مصطلح.

فبعد استخارة للمولى عز وجل، واستشارة لأهل الاختصاص- اخترت موضوع رسالة الدكتوراه في مسار الكتاب والسنة في تحرير اثني عشر مصطلحاً حديثياً، من أبرز ما أورده ابن الصلاح في كتابه (علوم الحديث)، ودراستها دراسة تحليلية موضوعية تحت عنوان (المصطلحات الحديثية بين الاتفاق والافتراق). (3)

 

‌‌أهمية الموضوع:

- المساهمة في تيسير علوم الحديث، وتحرير مصطلحاته وأنواعه؛ لارتباطه بالسنّة الشريفة، وتمييز صحيحها من سقيمها.

- تحرير المصطلحات والأنواع الحديثية ومحل النزاع فيها - إن وُجِد- والتمثيل لها يعين على فهمها، والإجابة عن بعض إشكالات وتساؤلات طلاب هذا العلم.

--------------------------------------------

(1) ابن حجر، النكت على كتاب ابن الصلاح، 1/ 232. نص العبارة المنقولة لابن حجر، وتتشابه إلى حد كبير مع ما ذكره الزركشي. ينظر: الزركشي، النكت على مقدمة ابن الصلاح، 1/ 56 - 57.

(2) "النكتة: هي مسألة لطيفة أخرجت بدقة نظر وإمعان، من: نكت رمحه بأرض، إذا أثر فيها، وسُمِّيت المسألة الدقيقة: نكتة؛ لتأثير الخواطر في استنباطها." الجرجاني، التعريفات، 246.

(3) أتبعت العنوان بعبارة: القسم الأول، لأنني تناولت في الدراسة اثني عشر مصطلحاً فقط، فلعل أحداً من الباحثين يرغب في سلوك هذا النهج، ويختار عدداً آخر من المصطلحات لدراستها.
এবং শায (الشاذ), মুনকার (المنكر), মুদতারিব (المضطرب) ও দুর্বলতার (الضعف) অন্যান্য প্রকারভেদ। এর উত্তর হলো: লেখক যখন খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর সংজ্ঞায়নের পর্যায়ে ছিলেন তখন পারস্পরিক অভিন্নতা বা ওভারল্যাপিং দূর হয়ে গেছে; কারণ পরিভাষাগতভাবে (اصطلاح) সেগুলোর নিজস্ব হাকিকত বা বাস্তবতা ভিন্ন ভিন্ন, যদিও সেগুলো একটি সাধারণ বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারে।" (১)।

তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) তাঁদের পরিমার্জন, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (النكت) (২), ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং সংক্ষিপ্তসারসমূহে এমন সব বিচ্ছুরিত মুক্তা রেখে গেছেন যা একজন ইলম অন্বেষীর জন্য সংগ্রহ করা, সেগুলোর সদৃশ অংশগুলো একত্রিত করা এবং বৈসাদৃশ্য পাওয়া গেলে তার কারণ ব্যাখ্যা করা একান্ত উচিত। তাই আমি এই পথটি অনুসরণ করতে চেয়েছি এবং প্রতিটি পরিভাষার সংজ্ঞার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলির আলোকে ঐক্য ও পার্থক্যের প্রেক্ষাপটে সেই সংজ্ঞাগুলোকে পরিমার্জন করতে চেয়েছি।

মহা প্রতাপশালী রবের নিকট ইস্তিখারা এবং বিশেষজ্ঞগণের সাথে পরামর্শের পর—আমি কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগে আমার পিএইচডি থিসিসের বিষয় হিসেবে বারোটি হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح حديثي) পরিমার্জন করাকে বেছে নিয়েছি। এগুলো ইবনে আস-সালাহ তাঁর 'উলুমুল হাদিস' গ্রন্থে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম প্রধান। আমি 'হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষাগুলোর মধ্যে ঐক্য ও পার্থক্য' শিরোনামের অধীনে এগুলোর একটি বিশ্লেষণাত্মক ও বস্তুনিষ্ঠ অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছি। (৩)

 

‌‌বিষয়ের গুরুত্ব:

- হাদিস শাস্ত্রের ইলম সহজীকরণে এবং এর পরিভাষা (مصطلح) ও প্রকারভেদগুলো পরিমার্জনে অবদান রাখা; যেহেতু এটি সুন্নাহর সাথে সম্পর্কিত এবং এর সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (سقيم) বর্ণনাগুলোকে পৃথক করে।

- হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح) ও প্রকারভেদ এবং সেগুলোর মধ্যে মতভেদের স্থান—যদি থাকে—তা পরিষ্কার করা এবং উদাহরণ প্রদান করা, যা এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের তা বুঝতে এবং কিছু জটিলতা ও প্রশ্নের উত্তর দিতে সহায়তা করে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার, আন-নুকাতি আলা কিতাব ইবনে আস-সালাহ, ১/ ২৩২। ইবনে হাজারের উদ্ধৃতির বয়ান এটি, যা জারকাশির বর্ণনার সাথে অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ। দেখুন: জারকাশি, আন-নুকাতি আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনে আস-সালাহ, ১/ ৫৬ - ৫৭।

(২) "নুকতাহ (النكتة): এটি এমন একটি সূক্ষ্ম বিষয় যা গভীর দৃষ্টি ও নিবিড় চিন্তার মাধ্যমে উদ্ভূত হয়েছে। যেমন বলা হয়: 'কেউ তার বর্শা দিয়ে মাটিতে আঘাত করল (نكت رمحه بأرض)' যখন সেটি সেখানে কোনো চিহ্ন তৈরি করে। আর সূক্ষ্ম বিষয়কে 'নুকতাহ' বলা হয় কারণ তা উদঘাটনে চিন্তাশক্তির প্রভাব কাজ করে।" আল-জুরজানি, আত-তারিফাত, ২৪৬।

(৩) আমি শিরোনামের পরে 'প্রথম অংশ' কথাটি যুক্ত করেছি, কারণ আমি এই গবেষণায় মাত্র বারোটি পরিভাষা নিয়ে আলোচনা করেছি। হয়তো অন্য কোনো গবেষক এই পথ অনুসরণ করতে আগ্রহী হতে পারেন এবং আলোচনার জন্য আরও কিছু পরিভাষা নির্বাচন করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌أسباب اختياره:

- الجِدَّة في طريقة عرض الموضوع، وكونه - حسب اطلاعي- لم يُسبق بالدراسة الأكاديمية على هذه الكيفية. (1)

- بناء شخصية الباحثة العلمية، خاصة وأن تحرير محل النزاع في الأنواع والمصطلحات تشحذ الذهن، وتدرّبه على الاستنباط.

- الرغبة في خوض غمار هذا العلم، وفهم المراد بمصطلحاته، والاطلاع على بعض دقائقه؛ لكونه جزءاً مهماً من تخصص الباحثة، ولتحوز قدراً من التمكّن العلمي؛ لأداء رسالتها الأكاديمية.

 

‌‌مصطلحات البحث:

- المصطلحات الحديثية: يراد بها التعريف بحدود المصطلح الحديثي وقيوده عند علماء الحديث، وعددها اثني عشر مصطلحاً مذكورةً في حدود البحث.

- الاتفاق: بيان القيود التي اجتمعوا عليها في حدود تعريف المصطلح سواء صرّحوا بذات الألفاظ أو بمعناها، أو دلّ صنيعهم عليها، وتوضيح مرادهم من هذا القيد.

- الافتراق: بيان القيود التي اختلفوا في إدراجها ضمن حدود تعريف المصطلح أو في المراد بها، وهل كان الاختلاف من باب التنوّع في العبارة مع الاتفاق في المعنى؟ أو من باب اختلاف التضاد لفظاً ومعنىً؟

اسئلة البحث:

يجيب البحث عن التساؤلات الآتية:

- ما مدى اتفاق علماء المصطلح واختلافهم في تعريف الأنواع والمصطلحات الحديثية؟

--------------------------------------------

(1) لا يعني ذلك أنني لم اُسبق بتحرير مسائل هذا العلم، بل أرجو أن يكون بحثي حلقة في سلسلة من سبقني، ومن سيلحقني في تحرير مصطلحات هذا العلم.
বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ:

- বিষয়টি উপস্থাপনের অভিনভ পদ্ধতি এবং আমার জানামতে এই আঙ্গিকে ইতোপূর্বে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা সম্পন্ন হয়নি। (১)

- গবেষকের জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব গঠন করা, বিশেষ করে প্রকারসমূহ (أنواع) এবং পরিভাষাগুলোর (مصطلحات) ক্ষেত্রে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করা মেধাকে শাণিত করে এবং তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা উদ্ভাবন (استنباط) প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

- এই শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ করার আকাঙ্ক্ষা, এর পরিভাষাগুলোর (مصطلحات) উদ্দেশ্য অনুধাবন এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া; যেহেতু এটি গবেষকের বিশেষায়িত বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এর মাধ্যমে জ্ঞানতাত্ত্বিক দক্ষতা অর্জন করা যাতে তার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়।

 

‌‌গবেষণার পরিভাষা (مصطلحات):

- হাদিস বিষয়ক পরিভাষা (مصطلحات حديثية): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাদিস শাস্ত্রবিদদের (علماء الحديث) নিকট হাদিস বিষয়ক পরিভাষার (مصطلح حديثي) সংজ্ঞা ও সীমারেখা নির্ধারণ করা। গবেষণার পরিসরে এজাতীয় বারোটি পরিভাষা (مصطلح) উল্লেখ করা হয়েছে।

- ঐক্যমত (اتفاق): পরিভাষার সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যে সকল শর্তাবলির ব্যাপারে তাঁরা একমত হয়েছেন তা বর্ণনা করা; চাই তাঁরা সরাসরি একই শব্দ ব্যবহার করুন বা একই অর্থ প্রকাশ করুন কিংবা তাঁদের কর্মপদ্ধতি দ্বারা তা প্রমাণিত হোক এবং সেই শর্ত দ্বারা তাঁদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা।

- মতপার্থক্য (افتراق): পরিভাষার সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে বা এর উদ্দেশ্য নিয়ে যে সকল শর্তাবলির ব্যাপারে তাঁরা মতভেদ করেছেন তা বর্ণনা করা। এই মতভেদ কি অর্থ ঠিক রেখে কেবল শব্দগত বৈচিত্র্য (تنوع) প্রকাশ করে? নাকি তা শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকেই বিপরীতমুখিতা (تضاد) প্রদর্শন করে?

গবেষণার প্রশ্নসমূহ:

এই গবেষণাটি নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করে:

- হাদিসের প্রকারসমূহ (أنواع) এবং পরিভাষাগুলোর (مصطلحات) সংজ্ঞায় পরিভাষা বিশেষজ্ঞদের (علماء المصطلح) ঐক্যমত ও মতপার্থক্যের পরিধি কতটুকু?

--------------------------------------------

(১) এর অর্থ এই নয় যে, এই শাস্ত্রের মাসআলাগুলো পর্যালোচনায় আমার পূর্বে কেউ কাজ করেননি; বরং আমি আশা করি এই শাস্ত্রের পরিভাষাগুলোর (مصطلحات) পর্যালোচনায় আমার এই গবেষণাটি পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের কাজের ধারায় একটি সংযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ২০)
- ما مدى التداخل بين الأنواع الحديثية، وهل هناك أمثلة على ذلك؟

- ما مدى انطباق الأمثلة المذكورة للنوع أو المصطلح الحديثي على التعريفات التي وضعت له؟

 

‌‌أهداف البحث:

يهدف البحث إلى:

- جمع ما يتعلّق بتعريفات المصطلحات الحديثية (المذكورة في حدود البحث)، وسردها حسب الترتيب الزمني قدر الإمكان.

- تحرير تعريف المصطلحات الحديثية واستنباط قيود التعريف لكل مصطلح، بحيث يكون تعريف ابن الصلاح - في الغالب- هو المحور الذي يُرتكز عليه في ذلك.

- تعزيز هذه القيود بذكر الأمثلة من كتب مصطلح الحديث، وغيرها من كتب السنة حسب الحاجة.

- بيان مدى الاتفاق أو الافتراق بين أهل الحديث في قيود هذه التعريفات.

- بيان أثر هذا الاتفاق أو الافتراق في التداخل بين الأنواع والمصطلحات الحديثية، والفروق بينها.

- الإجابة عمّا يعرض من إشكالات أثناء تحرير هذه المصطلحات.

 

‌‌الدراسات السابقة:

عند وضع خطة البحث، ومراسلة كل من: مركز الملك فيصل للبحوث والدراسات الإسلامية، ومكتبة الملك فهد الوطنية؛ حصلت منهما على إفادة بعدم وجود دراسة سابقة لهذا الموضوع على هذه الكيفية، ولم تُسجّل لديهم رسالة علمية بعنوان مشابه أو مقارب، وإنما هناك دراسات بحثت في الاختلاف بين المحدثين أسبابه وآثاره، منها:

1 - رسالة بعنوان: (أسباب الاختلاف في قبول الأحاديث وردها عند المحدثين) للباحث خلدون ابن محمد الأحدب، وهي رسالة قدّمت لنيل درجة الماجستير في السنة النبوية من
- হাদিসের প্রকারভেদগুলোর (الأنواع الحديثية) মধ্যে কতটুকু আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান এবং এর কোনো উদাহরণ আছে কি?

- হাদিসশাস্ত্রীয় প্রকার (النوع الحديثي) বা পরিভাষার (المصطلح الحديثي) জন্য উল্লিখিত উদাহরণগুলো সেগুলোর জন্য নির্ধারিত সংজ্ঞাগুলোর (التعريفات) সাথে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ?

 

‌‌গবেষণার লক্ষ্যসমূহ:

গবেষণার লক্ষ্যসমূহ নিম্নরূপ:

- হাদিসশাস্ত্রীয় পরিভাষাগুলোর (المصطلحات الحديثية) সংজ্ঞা (গবেষণার সীমানার মধ্যে উল্লিখিত) সংক্রান্ত বিষয়াবলি সংগ্রহ করা এবং সম্ভব হলে সময়ানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী তা উপস্থাপন করা।

- হাদিসশাস্ত্রীয় পরিভাষাগুলোর (المصطلحات الحديثية) সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করা এবং প্রতিটি পরিভাষার জন্য সংজ্ঞাগত শর্তাবলি (قيود التعريف) বের করা; এক্ষেত্রে ইবনে আস-সালাহ-এর সংজ্ঞাকেই মূলত ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।

- মুসতালাহ আল-হাদিস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সুন্নাহর অন্যান্য গ্রন্থ থেকে উদাহরণ উল্লেখ করার মাধ্যমে এই শর্তাবলিকে (القيود) শক্তিশালী করা।

- এই সংজ্ঞাগুলোর শর্তাবলির (قيود التعريفات) ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) মাঝে মতৈক্য বা মতভেদের মাত্রা স্পষ্ট করা।

- হাদিসের প্রকারভেদ (الأنواع الحديثية) ও পরিভাষাগুলোর (المصطلحات الحديثية) মধ্যকার পারস্পরিক প্রবেশ বা আন্তঃসম্পর্ক এবং সেগুলোর পার্থক্যের ক্ষেত্রে এই মতৈক্য বা মতভেদের প্রভাব বর্ণনা করা।

- এই পরিভাষাগুলো (المصطلحات) বিশ্লেষণের সময় উদ্ভূত সমস্যাবলির উত্তর প্রদান করা।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

গবেষণার পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ও কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরির সাথে যোগাযোগের পর উভয় পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই পদ্ধতিতে এই বিষয়ের ওপর কোনো পূর্ববর্তী গবেষণা নেই এবং তাদের কাছে এই শিরোনামে বা এর কাছাকাছি কোনো শিরোনামে কোনো উচ্চতর গবেষণাপত্র (رسالة علمية) নিবন্ধিত হয়নি। তবে মুহাদ্দিসদের (المحدثين) মধ্যকার মতভেদের কারণ ও প্রভাব বিষয়ে কিছু গবেষণা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

১ - একটি গবেষণাপত্র যার শিরোনাম: (মুহাদ্দিসদের (المحدثين) নিকট হাদিস গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে মতভেদের কারণসমূহ)। এটি গবেষক খালদুন ইবনে মুহাম্মদ আল-আহদাব কর্তৃক প্রণীত এবং সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ-তে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য উপস্থাপিত একটি গবেষণাপত্র (رسالة)।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ২১)
كلية أصول الدين بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية لعام 1402 هـ، وقد طُبعت في مجلدين بعنوان (أسباب اختلاف المحدثين دراسة نقدية مقارنة حول أسباب الاختلاف في قبول الأحاديث وردها)، وقدّ تناول البحث القواعد والأصول الحديثية التي اختلف المحدثون وغيرهم من الفقهاء والأصوليين فيها، وأثر هذا الاختلاف في قبول الأحاديث أو ردّها، وركّز البحث على إظهار حقيقتين علميتين هما:

أولاً: أن الاختلاف بين العلماء في قبول الأحاديث وردّها حقيقة علمية، وهي نتيجة لازمة لمقدمات سبقتها.

ثانياً: أن هذا الاختلاف في القَبول والرّد هو اختلاف منضبط، تحكمه مجموعة ضوابط وأصول راسخة.

2 - رسالة بعنوان: (القواعد والمسائل الحديثية المختلف فيها بين المحدثين والأصوليين وأثر ذلك في قبول الأحاديث وردها) للباحثة أميرة بنت علي الصاعدي، وهي رسالة قدّمت لنيل درجة الماجستير في الكتاب والسنة من كلية الدعوة وأصول الدين بجامعة أم القرى لعام 1414 هـ، وقد تناولت الاختلاف بين منهج المحدثين ومنهج بعض الأصوليين في بعض القواعد الحديثية، وما ترتب على ذلك من أثر في قبول الأحاديث والعمل بها، مع دراسة مذهب كل فريق وأدلته ثم المناقشة والترجيح والمسائل التطبيقية.

وهاتان الرسالتان ركزتا على ذكر أسباب الاختلاف بين المحدثين وغيرهم في القواعد والأصول الحديثية وأثر ذلك على قبول الأحاديث أو ردّها.

في حين أن هذا البحث تناول تحرير تعريفات مصطلحات من علوم الحديث، وبيان أوجه الاتفاق والافتراق والتداخل بين هذه المصطلحات، وبيان مدى انطباق المثال المذكور للمصطلح على تعريفه.

3 - وأثناء البحث على الشبكة العنكبوتية، وجدت بحثاً للدكتور محمد بن عمر بازمُول، يذكر فيه الأنواع الحديثية المتداخلة مع الحديث المقلوب وعنوانه (الأنواع والمصطلحات
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দীন অনুষদ থেকে ১৪০২ হিজরি সালে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি (মুহাদ্দিসগণের মতভেদের কারণসমূহ: হাদিস গ্রহণ ও বর্জনের কারণ সংক্রান্ত একটি সমালোচনামূলক তুলনামূলক অধ্যয়ন) শিরোনামে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। এই গবেষণায় সেই সমস্ত হাদিসশাস্ত্রীয় বিধি ও মূলনীতি (الأصول الحديثية) আলোচনা করা হয়েছে যেগুলোতে মুহাদ্দিসগণ এবং অন্যান্য ফকিহ ও উসুলবিদগণ মতভেদ করেছেন এবং হাদিস গ্রহণ (قبول) বা বর্জনের (رد) ক্ষেত্রে এই মতভেদের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণাটি দুটি বৈজ্ঞানিক সত্য প্রকাশের ওপর আলোকপাত করেছে, সেগুলো হলো:

প্রথমত: হাদিস গ্রহণ (قبول) ও বর্জনের (رد) ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যাকার মতভেদ একটি বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা এবং এটি পূর্ববর্তী কিছু প্রেক্ষাপটের অনিবার্য ফলাফল।

দ্বিতীয়ত: গ্রহণ (قبول) ও বর্জনের (رد) ক্ষেত্রে এই মতভেদটি একটি সুশৃঙ্খল মতভেদ, যা একগুচ্ছ সুপ্রতিষ্ঠিত নীতিমালা ও মূলনীতি (أصول) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

2 - গবেষিকা আমিরাহ বিনতে আলী আস-সাঈদী কর্তৃক রচিত একটি থিসিস, যার শিরোনাম: (মুহাদ্দিস ও উসুলবিদদের মাঝে মতভেদপূর্ণ হাদিসতাত্ত্বিক বিধি ও মাসআলাসমূহ এবং হাদিস গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে তার প্রভাব)। এটি ১৪১৪ হিজরি সালে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুল আদ-দীন অনুষদ থেকে কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য পেশ করা একটি থিসিস। এতে কিছু হাদিসশাস্ত্রীয় মূলনীতির ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসদের মানহাজ (منهج) এবং কিছু উসুলবিদদের মানহাজের (منهج) মধ্যকার পার্থক্য এবং হাদিস গ্রহণ (قبول) ও তার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সেই সাথে প্রতিটি পক্ষের মাযহাব (مذهب) ও তাদের দলিলসমূহ পর্যালোচনা করার পর আলোচনা, প্রাধান্য দান (ترجيح) এবং প্রায়োগিক মাসআলাসমূহ তুলে ধরা হয়েছে।

এই দুটি থিসিস প্রধানত মুহাদ্দিস ও অন্যদের মাঝে হাদিসশাস্ত্রীয় বিধি ও মূলনীতি (الأصول الحديثية) এর মতভেদের কারণ এবং হাদিস গ্রহণ (قبول) বা বর্জনের (رد) ওপর এর প্রভাব বর্ণনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

যেখানে বর্তমান এই গবেষণাটি হাদিস বিজ্ঞানের পরিভাষাগুলোর (مصطلحات) সংজ্ঞা নির্ধারণ, এই পরিভাষাগুলোর মধ্যে মিল, অমিল ও পারস্পরিক সংমিশ্রণের দিকগুলো স্পষ্টকরণ এবং কোনো পরিভাষার (مصطلح) জন্য উল্লিখিত উদাহরণটি তার সংজ্ঞার সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা পর্যালোচনার ওপর আলোকপাত করেছে।

3 - ইন্টারনেট অনুসন্ধানের সময় আমি ডক্টর মুহাম্মদ বিন ওমর বাযমূলের একটি প্রবন্ধ খুঁজে পেয়েছি, যেখানে তিনি উল্টানো (مقلوب) হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিসশাস্ত্রীয় প্রকারভেদগুলো (الأنواع الحديثية) উল্লেখ করেছেন। এর শিরোনাম হলো (আল-আনওয়া ওয়াল মুসতালাহাত (الأنواع والمصطلحات)
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ২২)
الحديثية التي تتداخل مع الحديث المقلوب) حيث قام الباحث برصد واستقراء علاقة التداخل الموجودة بين الحديث المقلوب، والأنواع والمصطلحات الحديثية، حيث يذكر النوع أو المصطلح ثم يبيّن محل التداخل وصورته، وقدّم بين يدي ذلك تعريفاً موجزاً للحديث المقلوب، ويقع بحثه في حوالي ستين صفحة يُركِّز فيها على قضية التداخل بين المصطلحات- التي أوصلها إلى ثلاثين مصطلحاً أو نوعاً حديثيّاً- وبين الحديث المقلوب فقط؛ فهو يقترب من هذه الدراسة في فكرة إبراز التداخل بين المصطلحات، ولكنه يختلف من حيث الطريقة والمضمون، حيث اشتمل بحثي على اثني عشر مصطلحاً من ضمنها الحديث المقلوب، وتحريرها وفق قيود تعريف ابن الصلاح - في الغالب- وبيان أوجه الاتفاق والافتراق بين التعريفات.

كان ما سبق ذكره أثناء وضعي لخطة البحث، أما مع مكابدة فصول هذا البحث ومباحثه، فإنني قد اطّلعت على عدد لا بأس به من البحوث الأكاديمية، والمحكّمة، والتي تتعرّض لتحرير أنواع من هذه المصطلحات بشكل موسّع - وفي الغالب يكون مصطلحاً واحداً في كل بحث-، وقد استفدت مما اطّلعت عليه من هذه البحوث، وأشرت لذلك أثناء البحث.

 

‌‌حدود البحث:

تناول البحث دراسة اثني عشر مصطلحاً حديثياً من أبرز المصطلحات التي ذكرها ابن الصلاح في كتابه علوم الحديث وهي: (الصحيح، والحسن، والضعيف، والشاذ، والمنكر، والمعلل، والأفراد، وزيادة الثقة، والمضطرب، والمدرج، والمقلوب، والموضوع) (1)

--------------------------------------------

(1) كونها رسالة علمية محدودة بزمن، ويصعب استيعاب جميع الأنواع المذكورة في كتاب ابن الصلاح، فقد اخترت بناءً على الاستقراء المبدئي - أثناء وضع خطة البحث- أبرز هذه المصطلحات، فبدأت بالأنواع الثلاثة الأولى التي بدأ بها ابن الصلاح، وألحقتها بما له علاقة وتداخل في تعريفاتها، فانتفاء الشذوذ والنكارة والعلة له علاقة بتعريف الصحيح والحسن، والأفراد لها علاقة بالشذوذ، وزيادة الثقة لها علاقة بالأفراد، والاضطراب والإدراج والقلب والوضع من أنواع الضعيف.
(হাদিস শাস্ত্রের এমন বিষয়গুলো যা পরিবর্তিত হাদিস (الحديث المقلوب)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ/ওতপ্রোতভাবে জড়িত); যেখানে গবেষক পরিবর্তিত হাদিস (الحديث المقلوب) এবং অন্যান্য হাদিস শাস্ত্রের প্রকার ও পরিভাষাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সম্পর্কের অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি প্রথমে প্রকার বা পরিভাষাটি উল্লেখ করেন এবং এরপর তার সাথে সংশ্লিষ্ট সাদৃশ্যের ক্ষেত্র ও স্বরূপ ব্যাখ্যা করেন। এর আগে তিনি পরিবর্তিত হাদিস (الحديث المقلوب)-এর একটি সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তাঁর এই গবেষণাটি প্রায় ষাট পৃষ্ঠার, যেখানে তিনি শুধুমাত্র পরিভাষাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন—যাকে তিনি ত্রিশটি পরিভাষা বা হাদিস শাস্ত্রের প্রকার পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন—এবং শুধুমাত্র পরিবর্তিত হাদিস (الحديث المقلوب)-এর মধ্যকার সম্পর্ক দেখিয়েছেন। সুতরাং, এই গবেষণাটি পরিভাষাগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরার ধারণার দিক থেকে বর্তমান অধ্যয়নের কাছাকাছি হলেও পদ্ধতি ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে ভিন্ন। কেননা, আমার এই গবেষণায় বারোটি পরিভাষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যার মধ্যে পরিবর্তিত হাদিস (الحديث المقلوب)-ও রয়েছে। এছাড়া এগুলোকে মূলত—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—ইবনে আস-সালাহ-এর সংজ্ঞার মানদণ্ড অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং সংজ্ঞাগুলোর মধ্যকার ঐক্য ও পার্থক্যের দিকগুলো স্পষ্ট করা হয়েছে।

গবেষণার পরিকল্পনা করার সময় উপরের বিষয়গুলো নির্ধারিত ছিল। তবে এই গবেষণার অধ্যায় ও অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করার সময় আমি বেশ কিছু একাডেমিক ও পর্যালোচিত (Peer-reviewed) গবেষণাপত্র দেখার সুযোগ পেয়েছি, যেগুলোতে এই পরিভাষাগুলোর বিভিন্ন প্রকার বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে—সাধারণত প্রতিটি গবেষণাপত্রে একটি মাত্র পরিভাষা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমি সেই গবেষণাপত্রগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি এবং গবেষণার যথাস্থানে সেগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।

 

‌‌গবেষণার সীমাবদ্ধতা:

এই গবেষণায় হাদিস শাস্ত্রের বারোটি পরিভাষা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা ইবনে আস-সালাহ তাঁর ‘উলুমুল হাদিস’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো: (সহিহ (الصحيح), হাসান (الحسن), দুর্বল (الضعيف), শায (الشاذ), মুনকার (المنكر), ত্রুটিযুক্ত (المعلل), একক বর্ণনা (الأفراد), নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য (زيادة الثقة), সংঘাতপূর্ণ (المضطرب), প্রক্ষিপ্ত (المدرج), পরিবর্তিত (المقلوب) এবং জাল (الموضوع)) (১)

--------------------------------------------

(১) এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ একাডেমিক থিসিস হওয়ায় ইবনে আস-সালাহ-এর কিতাবে বর্ণিত সকল প্রকারগুলো আয়ত্ত করা কঠিন ছিল। তাই আমি প্রাথমিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে—গবেষণা পরিকল্পনা তৈরির সময়—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাগুলো নির্বাচন করেছি। আমি ইবনে আস-সালাহ যে তিনটি প্রকার দিয়ে শুরু করেছিলেন তা দিয়েই শুরু করেছি এবং এরপর সেগুলোর সাথে এমন সব পরিভাষা যুক্ত করেছি যেগুলোর সংজ্ঞায় পারস্পরিক সম্পর্ক ও সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা শায হওয়া (الشذوذ), মুনকার হওয়া (النكارة) এবং সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة) না থাকা সহিহ (الصحيح) ও হাসান (الحسن) হাদিসের সংজ্ঞার সাথে সংশ্লিষ্ট। একক বর্ণনা (الأفراد) পরিভাষাটি শায হওয়া (الشذوذ)-এর সাথে সম্পর্কিত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য (زيادة الثقة) একক বর্ণনা (الأفراد)-এর সাথে সম্পর্কিত এবং সংঘাতপূর্ণ হওয়া (الاضطراب), প্রক্ষিপ্ত হওয়া (الإدراج), পরিবর্তিত হওয়া (القلب) ও জাল হওয়া (الوضع) মূলত দুর্বল (الضعيف) হাদিসের প্রকারভেদ।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌مخطط البحث:

اشتمل البحث على المقدمة، وتمهيد، واثني عشر فصلاً، وخاتمة.

المقدمة: وفيها: أهمية الموضوع وأسباب اختياره، ومشكلة البحث وأهدافه، وحدود البحث، والدراسات السابقة، ومخطط البحث، ومنهجه، وإجراءاته.

التمهيد: وفيه: نشأة علم مصطلح الحديث، وأهم المصنفات فيه.

الفصل الأول: الحديث الصحيح، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الصحيح لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها.

المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.

الفصل الثاني: الحديث الحسن، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الحسن لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها:

المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.

الفصل الثالث: الحديث الضعيف، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الضعيف لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها:

المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.

الفصل الرابع: الحديث الشاذ، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الشاذ لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.
গবেষণার রূপরেখা:

গবেষণাটিতে ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, বারোটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভূমিকা: এতে রয়েছে: বিষয়ের গুরুত্ব ও তা নির্বাচনের কারণসমূহ, গবেষণার সমস্যা ও এর লক্ষ্যসমূহ, গবেষণার পরিধি, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, গবেষণার রূপরেখা, পদ্ধতি এবং এর কার্যপ্রণালী।

উপক্রমণিকা: এতে রয়েছে: হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞানের (مصطلح الحديث) উদ্ভব এবং এই বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ।

প্রথম অধ্যায়: সহিহ (صحيح) হাদিস, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সহিহ (صحيح)-এর সংজ্ঞা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশ্লেষণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞা বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: হাসান (حسن) হাদিস, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে হাসান (حسن)-এর সংজ্ঞা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশ্লেষণ:

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞা বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।

তৃতীয় অধ্যায়: দুর্বল (ضعيف) হাদিস, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে দুর্বল (ضعيف)-এর সংজ্ঞা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশ্লেষণ:

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞা বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।

চতুর্থ অধ্যায়: শায (شاذ) হাদিস, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে শায (شاذ)-এর সংজ্ঞা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ২৪)
المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها:

المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.

الفصل الخامس: الحديث المنكر، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف المنكر لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها:

المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.

الفصل السادس: الحديث المعلل، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف المعلل لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها:

المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.

الفصل السابع: زيادة الثقة، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف زيادة الثقة لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها:

المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.

الفصل الثامن: الأفراد، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الأفراد لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এর শাব্দিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশদ বিশ্লেষণ:

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সংজ্ঞার বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।

পঞ্চম অধ্যায়: বর্জনীয় (المنكر) হাদিস, এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: বর্জনীয় (المنكر)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা, এবং এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এর শাব্দিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশদ বিশ্লেষণ:

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সংজ্ঞার বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।

ষষ্ঠ অধ্যায়: ত্রুটিযুক্ত (المعلل) হাদিস, এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ত্রুটিযুক্ত (المعلل)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা, এবং এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এর শাব্দিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশদ বিশ্লেষণ:

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সংজ্ঞার বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।

সপ্তম অধ্যায়: নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة), এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা, এবং এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এর শাব্দিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশদ বিশ্লেষণ:

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সংজ্ঞার বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।

অষ্টম অধ্যায়: একক বর্ণনা (الأفراد), এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: একক বর্ণনা (الأفراد)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা, এবং এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এর শাব্দিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশদ বিশ্লেষণ:
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.

الفصل التاسع: الحديث المضطرب، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف المضطرب لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها:

المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.

الفصل العاشر: الحديث المدرج، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف المدرج لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها:

المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.

الفصل الحادي عشر: الحديث المقلوب، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف المقلوب لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها:

المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.

الفصل الثاني عشر: الموضوع، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الموضوع لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: تعريفه لغة، المطلب الثاني: تعريفه اصطلاحاً (حسب الترتيب الزمني).

المبحث الثاني: تحرير التعريفات مع أمثلتها:

المبحث الثالث: خلاصة تحرير التعريف.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞা বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।

নবম অধ্যায়: অস্থিরতাযুক্ত (المضطرب) হাদিস, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে অস্থিরতাযুক্ত (المضطرب) এর সংজ্ঞা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: এর আভিধানিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশ্লেষণ:

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞা বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।

দশম অধ্যায়: অনুপ্রবিষ্ট (المدرج) হাদিস, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে অনুপ্রবিষ্ট (المدرج) এর সংজ্ঞা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: এর আভিধানিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশ্লেষণ:

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞা বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।

একাদশ অধ্যায়: পরিবর্তিত (المقلوب) হাদিস, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে পরিবর্তিত (المقلوب) এর সংজ্ঞা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: এর আভিধানিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশ্লেষণ:

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞা বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।

দ্বাদশ অধ্যায়: জাল (الموضوع), এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে জাল (الموضوع) এর সংজ্ঞা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: এর আভিধানিক সংজ্ঞা, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উদাহরণসহ সংজ্ঞাসমূহের বিশ্লেষণ:

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞা বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ২৬)
ثم الخاتمة: تناولت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها في هذا البحث، مع ذكر بعض التوصيات.

ثم الفهارس: أدرجت في آخره بعض الفهارس الفنية، التي تتناسب مع طبيعة البحث، وتكشف عن مضمونه، وتسهل الوصول إلى محتوياته.

 

‌‌منهج البحث:

المنهج الذي سلكته هو المنهج الاستقرائي التحليلي الاستنباطي (1).

استقرائي: باستقراء كتب مصطلح الحديث، وجمع التعاريف لكل نوع أو مصطلح من علوم الحديث محل الدراسة.

تحليلي: بتحليل التعريفات وتحرير قيودها.

الاستنباطي: ببيان أوجه الاتفاق أو الاختلاف بين التعريفات، ومدى التداخل بين المصطلحات.

 

‌‌إجراءات البحث:

وفيه عدّة نقاط:

- عند التعريف الاصطلاحي للنوع أو المصطلح الحديثي، فإنني قمت بسرد التعريفات الاصطلاحية وفق الترتيب الزمني لوفاة صاحبها- خاصة فيمن سبق ابن الصلاح- سواء كان التعريف بالنصّ على حد التعريف أو حقيقته، أو ذكراً لأنواع هذا المصطلح وأقسامه، أو شروطه.

--------------------------------------------

(1) ينظر: قلعه جي، طرق البحث في الدراسات الإسلامية، 18 - 19.
অতঃপর উপসংহার: এতে আমি এই গবেষণায় প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ বর্ণনা করেছি এবং সেই সাথে কিছু সুপারিশমালা উল্লেখ করেছি।

অতঃপর নির্ঘণ্টসমূহ: আমি এর শেষে কিছু প্রায়োগিক নির্ঘণ্ট সংযোজন করেছি যা গবেষণার প্রকৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, এর বিষয়বস্তু উন্মোচন করে এবং এর বিষয়বস্তু খুঁজে পাওয়া সহজতর করে।

 

‌‌গবেষণার পদ্ধতি:

আমি যে পদ্ধতিটি অনুসরণ করেছি তা হলো আরোহী (الاستقرائي), বিশ্লেষণধর্মী (التحليلي) এবং অবরোহী (الاستنباطي) পদ্ধতি (১)।

আরোহী (استقرائي): হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে এবং গবেষণাধীন হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) প্রতিটি প্রকার (نوع) বা পরিভাষার (مصطلح) সংজ্ঞাসমূহ সংগ্রহের মাধ্যমে।

বিশ্লেষণধর্মী (تحليلي): সংজ্ঞাসমূহ বিশ্লেষণ এবং সেগুলোর সীমাবদ্ধতা বা শর্তাবলি (قيود) সুনির্দিষ্ট করার মাধ্যমে।

অবরোহী (الاستنباطي): সংজ্ঞাসমূহের মধ্যে মিল ও অমিলের দিকসমূহ এবং পরিভাষাগুলোর (المصطلحات) মধ্যে পারস্পরিক ব্যাপ্তির স্বরূপ বর্ণনার মাধ্যমে।

 

‌‌গবেষণার পদক্ষেপসমূহ:

এতে বেশ কয়েকটি বিষয় রয়েছে:

- কোনো হাদিস বিষয়ক প্রকার বা পরিভাষার (المصطلح الحديثي) পারিভাষিক সংজ্ঞা (التعريف الاصطلاحي) প্রদানের ক্ষেত্রে, আমি প্রণেতাদের মৃত্যু তারিখের কালানুক্রম অনুযায়ী পারিভাষিক সংজ্ঞাসমূহ (التعريفات الاصطلاحية) ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছি—বিশেষ করে যারা ইবনুস সালাহ-এর পূর্বে গত হয়েছেন—তা সংজ্ঞাটির সুনির্দিষ্ট পাঠ বা এর প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনার মাধ্যমেই হোক, অথবা সেই পরিভাষার প্রকারভেদ, শ্রেণিবিভাগ বা শর্তাবলি (شروط) উল্লেখের মাধ্যমেই হোক।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: কালাআজি, তুরুক আল-বাহস ফি আদ-দিরাসাত আল-ইসলামিয়্যাহ, ১৮ - ১৯।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ২৭)
أما من جاء بعد ابن الصلاح فقد تمت الإشارة إلى تعريفاتهم حسب موافقتها لتعريف ابن الصلاح أو تلخيصها أو استدراكها، وتم التصريح بأبرز هذه التعريفات مما فيه إضافة على ماسبق (1).

- عزوت الآيات القرآنية في الهامش بذكر اسم السورة، ورقم الآية.

- خرّجت الأحاديث من كتب السنة حسب الحاجة، فإن كان في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بذلك، أو خرّجته من بقية الكتب الستة، فإن لم أجده، ففي بقيّة التسعة، أو فيما وقفت عليه من مصادر.

- ترجمت للأعلام الوارد ذكرهم في البحث ترجمة مختصرة، بحيث يُترجم لكل علم منهم عند ذكره لأول مرة، باستثناء مشاهير الأعلام، وهم: الخلفاء الراشدون الأربعة، وأصحاب كتب الحديث الستة: (البخاري، ومسلم، وأبو داود، والترمذي، والنسائيّ، وابن ماجة)، وأصحاب المذاهب الفقهية الأربعة: (أبو حنيفة، ومالك، والشافعيّ، وأحمد)، فلا تُذكر ترجمتهم لشهرتهم.

- شرحت الألفاظ الغريبة بالرجوع إلى كتب غريب الحديث ثمّ إلى معاجم اللغة.

- عرّفت بالمصطلحات الواردة في أثناء البحث - قدر الإمكان- وذلك من كتب الفن الذي يتبعه المصطلح، أو كتب المصطلحات المعتمدة.

- ما نقلته حرفيّاً من أي مرجع وضعته بين علامتي تنصيص " " مع توثيقه بذكر المصدر في الحاشية، وما لم يُوضع بين علامتي تنصيص فالنقل فيه ليس حرفياً، وصدّرته بعبارة (يُنظر).

--------------------------------------------

(1) في الغالب كنت أتوقف عند أشهر مؤلفات تلاميذ ابن حجر (البقاعي، والسخاوي، والسيوطي)، ما لم أجد في تعريفات من بعدهم إضافة مؤثرة في قيود التعريف.
ইবনে আস-সালাহ-এর পরবর্তী আলেমগণ যেসব সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, সেগুলো ইবনে আস-সালাহ-এর সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যতা, এর সারসংক্ষেপ অথবা সংশোধনের (استدراك) নিরিখে নির্দেশ করা হয়েছে। যে সংজ্ঞাগুলোতে পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর অতিরিক্ত সংযোজন ছিল, সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞাগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে (১)।

- পাদটীকায় কুরআনের আয়াতগুলোর উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে সূরার নাম এবং আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি।

- প্রয়োজন অনুযায়ী সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিসগুলোর উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি। হাদিসটি যদি সহীহাইন অথবা এর যেকোনো একটিতে থাকে, তবে আমি তার ওপরই নির্ভর করেছি। অন্যথায় অবশিষ্ট কুতুবে সিত্তাহ থেকে এর উৎস নির্দেশ করেছি। সেখানে না পাওয়া গেলে অবশিষ্ট কুতুবে তিস'আহ অথবা লভ্য অন্যান্য উৎস থেকে তা সংগ্রহ করেছি।

- গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) উপস্থাপন করেছি। প্রতিটি ব্যক্তিত্বের আলোচনা প্রথমবার আসার সময় তাঁর জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সুপরিচিত ব্যক্তিবর্গ—অর্থাৎ চার খলিফা, হাদিসের ছয়টি গ্রন্থের (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ) লেখক এবং চার ফিকহি মাযহাবের ইমামগণ (আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ ও আহমদ)—এর জীবনী তাদের প্রসিদ্ধির কারণে উল্লেখ করা হয়নি।

- হাদিসের দুর্ভোধ্য শব্দসমূহ (غريب الحديث) ব্যাখ্যা করার জন্য প্রথমে 'গরীবুল হাদিস' বিষয়ক গ্রন্থাবলি এবং পরবর্তীতে অভিধানের সহায়তা নিয়েছি।

- গবেষণায় ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর (مصطلحات) পরিচয়—সাধ্যানুযায়ী—সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের মূল গ্রন্থ অথবা নির্ভরযোগ্য পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থাবলি থেকে প্রদান করেছি।

- কোনো উৎস থেকে যা আমি হুবহু উদ্ধৃত করেছি, তা উদ্ধৃতি চিহ্নের " " মধ্যে রেখে পাদটীকায় উৎসের নামসহ উল্লেখ করেছি। আর যা হুবহু উদ্ধৃত নয়, সে ক্ষেত্রে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার না করে শুরুতে 'দ্রষ্টব্য' (ينظر) শব্দটির প্রয়োগ করেছি।

--------------------------------------------

(১) অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি ইবনে হাজার-এর ছাত্রদের (বিকাঈ, সাখাভী ও সুয়ূতী) প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলো পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকেছি; যদি না তাদের পরবর্তী কোনো আলেমের সংজ্ঞায় সংজ্ঞার শর্তাবলির (قيود) ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো প্রভাব বিস্তারকারী সংযোজন পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ২৮)
- رجعت في كثير من كتب المصطلح إلى طبعتين أو أكثر أحياناً، وذلك لأنني جعلت نسخة المكتبة الشاملة المصوّرة هي الأساس؛ لتنقّلها معي وتوفّرها على جهاز الحاسوب أثناء كتابة البحث، وحيث إن بعضها طبعات قديمة، أوغير محقَّقة، أو أن تحقيقها يعتريه بعض السقط والتصحيف؛ لذا فإنني عمدتُ إلى الاستفادة من تحقيقات وطبعات أخرى، ووثقت ذلك في الحاشية.

 

هذا وأحمد الله على عونه وتيسيره، وأسأله سبحانه التوفيق والسداد، وأن يجعل عملي خالصاً لوجهه الكريم، نافعاً يوم العرض عليه، إنه ولي ذلك والقادر عليه.

وصلّى الله وسلَّم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
পরিভাষা (اصطلاح) সংক্রান্ত অনেক কিতাবের ক্ষেত্রে আমি মাঝেমধ্যে দুই বা ততোধিক সংস্করণের শরণাপন্ন হয়েছি। এর কারণ হলো, আমি ‘মাকতাবা শামিলা’-এর স্ক্যানকৃত সংস্করণটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি; যেন গবেষণাপত্রটি লেখার সময় এটি আমার সাথে থাকে এবং কম্পিউটারে সহজলভ্য হয়। যেহেতু এগুলোর মধ্যে কিছু সংস্করণ ছিল প্রাচীন অথবা অসম্পাদিত (غير محقق), কিংবা সেগুলোর সম্পাদনায় কিছু বিচ্যুতি (سقط) ও শব্দগত বিকৃতি (تصحيف) পরিলক্ষিত হয়; তাই আমি অন্যান্য সম্পাদনা ও সংস্করণ থেকে উপকৃত হওয়ার সচেষ্ট হয়েছি এবং তা পাদটীকায় নথিভুক্ত করেছি।

 

সবশেষে, আমি আল্লাহর সাহায্যের ও সহজীকরণের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি। আমি তাঁর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি; তিনি যেন আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁর মহিমান্বিত সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং তাঁর সামনে উপস্থাপনের দিনে একে উপকারী বানান। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সঙ্গী (صحابة)-দের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌تمهيد

نشأ علم مصطلح الحديث تبعاً للسُّنّة الشريفة، وخدمةً لها، يجلو عنها الدخيل، ويميز الصحيح من السقيم، ومرّ خلال نشوئه إلى يومنا هذا بمراحل وأطوار يجدر التعريج عليها، وذكر نبذة مختصرة عنها، والإشارة إلى أبرز المصنفات فيها؛ تمهيداً للولوج في فصول البحث، وتحرير مصطلحاته، وبعون الله وتيسيره أبدأ في الشروع بذلك.

 

‌‌نشأة علم مصطلح الحديث، وأبرز المصنفات فيه:

يُعدُّ علم مصطلح الحديث من العلوم التي أولاها علماء المسلمين عنايةً واهتماماً؛ لشرفه المُستمدِّ من سنة المصطفى صلى الله عليه وسلم، وارتباط نشأته بها، فقد جاءت أسسه في كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، حيث أمر الله عزّوجلّ عباده المؤمنين في كتابه الكريم بالتثبت عند تلقّي الأخبار ونقلها، والتدقيق في عدالة ناقليها، فقال جل جلاله: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} (1)، وجاءت السنة المطهّرة مُؤكِّدة على استيعاب الخبر وضبطه عند نقله للآخرين،

حيث قال صلى الله عليه وسلم: ((نضَّر الله امرأً سمع منا شيئا فبلَّغه كما سمع، فرُبَّ مُبَلَّغٍ أوعى من سامع)) (2).

--------------------------------------------

(1) سورة الحجرات، الآية: 6.

(2) أخرجه الترمذي في سننه كتاب العلم، باب ما جاء في الحث على تبليغ السماع، 4/ 331 ح (2657)، وقال: هذا حديث حسن صحيح، وابن ماجة في سننه كتاب الإيمان والعلم، باب من بلّغ علماً، 1/ 85 ح (232)، كلاهما من حديث ابن مسعود، واللفظ للترمذي.
ভূমিকা

মহান সুন্নাহর অনুগামী হিসেবে এবং তার খিদমতের উদ্দেশ্যেই হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (علم مصطلح الحديث) সংক্রান্ত জ্ঞানের উদ্ভব হয়েছে, যা এই শাস্ত্র থেকে বিজাতীয় বিষয়সমূহ দূর করে এবং বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনাকে ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) বর্ণনা থেকে পৃথক করে। এর সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি বিভিন্ন পর্যায় ও ধাপ অতিক্রম করেছে যা আলোচনা করা প্রয়োজন। গবেষণার পরিচ্ছেদগুলোতে প্রবেশের পূর্বে এবং এর পারিভাষিক শব্দগুলো বিশ্লেষণের ভূমিকা হিসেবে এখানে এই শাস্ত্রের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করা হলো। আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকেই আমি তা শুরু করছি।

 

হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার (علم مصطلح الحديث) উদ্ভব এবং এই বিষয়ের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:

হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (علم مصطلح الحديث) সংক্রান্ত জ্ঞান এমন এক শাস্ত্র যা মুসলিম মনিষীগণ অত্যন্ত গুরুত্ব ও যত্নের সাথে বিবেচনা করেছেন; কারণ এর মর্যাদা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ হতে গৃহীত এবং এর উদ্ভবও সুন্নাহর সাথেই সম্পৃক্ত। এর মূলভিত্তি মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহর মধ্যেই নিহিত। মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে মুমিন বান্দাদের সংবাদ গ্রহণ ও তা বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই (تبين) করে নিবে, যাতে অজ্ঞাতসারে তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করে বসো, ফলে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়।} (১)। আর পবিত্র সুন্নাহ সংবাদ উপলব্ধি করা এবং অন্যদের নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার সময় যথাযথভাবে সংরক্ষণ (ضبط) করার ওপর জোর দিয়েছে,

যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমার নিকট থেকে কোনো কিছু শুনেছে এবং তা ঠিক যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে। কেননা, অনেক সময় যাকে পৌঁছে দেওয়া হয় সে সরাসরি শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক স্মৃতিধর বা সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।" (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৬।

(২) তিরমিজি তার সুনান গ্রন্থের কিতাবুল ইলম-এর 'শ্রবণকৃত বিষয় পৌঁছে দেওয়ার উৎসাহ প্রদান' নামক অনুচ্ছেদে এটি বর্ণনা করেছেন, ৪/৩৩১, হাদিস নং (২৬৫৭)। তিনি বলেছেন: এটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস। ইবনে মাজাহ তার সুনান গ্রন্থের কিতাবুল ঈমান ও ইলম-এর 'যিনি জ্ঞান পৌঁছে দেন' নামক অনুচ্ছেদে এটি বর্ণনা করেছেন, ১/৮৫, হাদিস নং (২৩২)। উভয়ই ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিস থেকে গৃহীত এবং শব্দচয়ন তিরমিজির।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقد امتثل الصحابة الكرام رضي الله عنهم لما جاء في الكتاب والسنة من الأمر بالتثبت في نقل الأخبار، والتدقيق فيها، والسؤال عن إسناد الخبر ونقلته، واسّتنَّ بهم من جاء بعدهم من السلف الصالح خاصةً بعد وقوع الفتن بين المسلمين، وظهور أهل الأهواء والبدع- فكانوا لا يأخذون الحديث إلا من أهل الحق والصدق.

فقد أسند الإمام مسلم إلى التابعي الجليل محمد بن سيرين (1) قوله: (إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم) (2)، وأسند عنه أيضاً قوله: (لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة، قالوا: سموا لنا رجالكم، فيُنظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، ويُنظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم) (3)، "فقوله رحمه الله: (سمّوا لنا رجالكم) قاعدة أصيلة في طلب الإسناد والتفتيش عن الرواة، وقوله (فيُنظر إلى أهل السنة فيؤخذ

حديثهم، ويُنظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم) قاعدة تؤسس لعلم الجرح والتعديل ودراسة الأسانيد." (4)

"ومن أعظم القواعد التي يقوم عليها علم الحديث، قول الإمام ابن المبارك (5) رحمه الله:

--------------------------------------------

(1) محمد بن سيرين مات سنة: 110 هـ. المراجع: ينظر: الذهبي، الكاشف، 2/ 178 (4898)، ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، 483 (5947).

(2) أخرجه مسلم في مقدمة صحيحه. 1/ 14.

(3) أخرجه مسلم في مقدمة صحيحه، 1/ 15، والترمذي في آخر السنن (ويسمّى بالعلل الصغير)، 6/ 234 ح (4052).

(4) آل عجين، المفيد في تقعيد علوم الحديث، 28.

(5) عبدالله بن المبارك بن واضح الحنظلى التميمى مولاهم، أبو عبدالرحمن المروزي، قال الذهبي: "شيخ خراسان"، وقال ابن حجر: "ثقة ثبت فقيه عالم جواد مجاهد، جُمعت فيه خصال الخير"، مات سنة: 181 هـ. ينظر: الذهبي، الكاشف، 1/ 591 (2935)، ابن حجر، التقريب، 320 (3570).
সম্মানীত সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কিতাব ও সুন্নাহর সংবাদ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন, তাতে সূক্ষ্মতা বজায় রাখা এবং সংবাদের সনদ (إسناد) ও এর বর্ণনাকারীদের (نقلة) সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের যে নির্দেশ এসেছে, তা যথাযথভাবে পালন করেছেন। তাঁদের পরবর্তী যুগের সালাফে সালেহীনও এই নীতি অনুসরণ করেছেন, বিশেষ করে মুসলিমদের মাঝে ফিতনা বা গৃহযুদ্ধ দেখা দেওয়ার পর এবং প্রবৃত্তি পূজারি ও বিদআতিদের আবির্ভাবের পর। ফলে তাঁরা সত্যপন্থী ও সত্যবাদী লোক ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করতেন না।

ইমাম মুসলিম মহান তাবেয়ী মুহাম্মদ ইবনে সিরীন (১) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই জ্ঞান (হাদিস শাস্ত্র) হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ, তা দেখে নাও।" (২) তিনি তাঁর থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "পূর্ববর্তীরা সনদ (إسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা শুরু হলো, তখন তারা বলতে লাগলেন: 'তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো'। তখন সুন্নাহর অনুসারীদের যাচাই করে তাঁদের হাদিস গ্রহণ করা হতো এবং বিদআতিদের যাচাই করে তাঁদের হাদিস বর্জন করা হতো।" (৩) তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) এই উক্তি: 'তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো' হলো সনদ (إسناد) অন্বেষণ এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) ব্যাপারে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক নীতি। আর তাঁর কথা: 'সুন্নাহর অনুসারীদের যাচাই করে তাঁদের হাদিস গ্রহণ করা হতো এবং বিদআতিদের যাচাই করে তাঁদের হাদিস বর্জন করা হতো'—এটি জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র এবং সনদ (أسانيد) পর্যালোচনার ভিত্তি স্থাপনকারী একটি মূলনীতি।" (৪)

"আর হাদিস শাস্ত্র যে সকল মহান মূলনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ইমাম ইবনুল মুবারক (৫) (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি:

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ ইবনে সিরীন ১১০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। সূত্রসমূহ: দ্রষ্টব্য: যাহাবি, আল-কাশিফ, ২/১৭৮ (৪৮৯৮); ইবনে হাজার আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, ৪৮৩ (৫৯৪৭)।

(২) মুসলিম তাঁর সহিহ-এর মুকাদ্দিমায় এটি বর্ণনা করেছেন, ১/১৪।

(৩) মুসলিম তাঁর সহিহ-এর মুকাদ্দিমায় এটি বর্ণনা করেছেন, ১/১৫; এবং তিরমিজি তাঁর সুনান-এর শেষে (যা ইলালুস সাগির নামে পরিচিত) বর্ণনা করেছেন, ৬/২৩৪, হাদিস নং (৪০৫২)।

(৪) আল-আজন, আল-মুফিদ ফি তাকইদ উলুমিল হাদিস, ২৮।

(৫) আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ইবনে ওয়াদিহ আল-হানজালি আত-তামিমি, তাঁদের মুক্তদাস, আবু আবদির রহমান আল-মারওয়াযি। যাহাবি বলেন: "খুরাসানের শায়খ", আর ইবনে হাজার বলেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), ফকিহ, আলিম, দানবীর ও মুজাহিদ; তাঁর মাঝে সমস্ত কল্যাণকর গুণাবলী একত্রিত হয়েছিল"। তিনি ১৮১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: যাহাবি, আল-কাশিফ, ১/৫৯১ (২৯৩৫); ইবনে হাজার, তাকরিব, ৩২০ (৩৫৭০)।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ৩১)
(الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء) (1) " (2).

ومن فضل الله على هذه الأمّة أن هيّأ لها من يقوم بواجب الدفاع عن الدين، والذَّبِّ عن سنة المصطفى الأمين صلى الله عليه وسلم من العلماء الجهابذة النقّاد، والذين تصدّوا لأهل الأهواء، وميّزوا بين صحيح المرويات وسقيمها، ووضعوا لذلك ضوابط وشروطاً، يتذاكرونها ويتناقلونها مشافهةً فيما بينهم، وتحفظها صدورهم، وكان منهم من سجّل شيئاً من هذه القواعد ممزوجاً بغيره من علوم الشريعة، "فبدأ تدوين مبادئ هذا العلم، وتسجيل مسائله:

ببدء تدوين التاريخ للرجال والتصنيف للحديث في الكتب، وكان قبل ذلك محفوظاً في الصدور متردداً على الألسنة" (3).

فكان ما كتبه الشافعي (ت 204 هـ) في (الرسالة) (4) - من مباحث تتضمن شروط الحديث الصحيح، وشروط الراوي العدل، وحجية خبر الآحاد، ونحو ذلك- "أول ما بلغنا من علوم الحديث مدوناً في كتاب (5)، و"خلال القرن الثالث اتضحت معالم هذا العلم، بما ذُكِر من مسائله في كتب الرجال، أو في كتب الحديث، أو في كتب مستقلّة ذات موضوع واحد،

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في مقدمة صحيحه، 1/ 15، والترمذي في آخر السنن، 6/ 235 ح (4053).

(2) آل عجين، المرجع السابق، 29.

"الإسناد، وتاريخ الرواة والرجال، ونقد الرواة وبيان حالهم من تزكية وجرح، وسبر متن الحديث ومعناه، وعلم الجرح والتعديل، هي شعب كبرى من (علم مصطلح الحديث) فهو المَقسِم العام، وتلك أقسام منه." أبو غدّة، 100 - 101.

(3) أبو غدّة، المرجع السابق، 101.

(4) ينظر: الشافعي، الرسالة، 370 - 380، 401، 461 - 464، "ولعل تأليف الإمام الشافعي رحمه الله لكتاب (الرسالة) كان نقطة تحوّل في التقعيد الحديثي حيث أنه أول من دوّن تلك القواعد". آل عجين، المفيد في التقعيد، 30.

(5) عتر، منهج النقد، 61، ينظر: أبو غدّة، تاريخ السنة، 106.
(ইসনদ (الإسناد) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, আর ইসনদ (الإسناد) না থাকলে যে কেউ যা ইচ্ছা তা-ই বলত) (১) " (২)।

আর এটি এই উম্মতের ওপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ যে, তিনি তাদের জন্য এমন বিদগ্ধ সমালোচক (النقّاد) আলেমদের প্রস্তুত করেছেন, যারা দ্বীন রক্ষার এবং বিশ্বস্ত মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর হিফাযতের আবশ্যিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা প্রবৃত্তি পূজারীদের মোকাবিলা করেছেন এবং বর্ণিত বিষয়াবলির মধ্যে সঠিক (صحيহ) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم)-এর মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। তারা এর জন্য কিছু মূলনীতি (ضوابط) ও শর্তাবলি (شروط) নির্ধারণ করেছেন, যা তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতেন এবং মৌখিকভাবে আদান-প্রদান করতেন এবং তাদের অন্তরসমূহ তা সংরক্ষণ করত। তাদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা এই নিয়মাবলির কিছু অংশ অন্যান্য শরিয়ত সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় লিপিবদ্ধ করেছিলেন, "অতঃপর এই ইলমের মূলনীতিসমূহ সংকলন এবং এর মাসআলাসমূহ লিপিবদ্ধ করার কাজ শুরু হয়:

রাবীদের (الرجال) ইতিহাস লিখন এবং কিতাবসমূহে হাদিস সংকলনের মাধ্যমে; যা এর পূর্বে অন্তরে সংরক্ষিত ছিল এবং মুখে মুখে আবর্তিত হতো" (৩)।

অতঃপর ইমাম শাফিঈ (মৃ. ২০৪ হি.) তাঁর আর-রিসালা গ্রন্থে (৪) যা লিখেছেন—যেমন সহিহ (صحيح) হাদিসের শর্তাবলি, ন্যায়পরায়ণ (العدল) বর্ণনাকারীর (الراوي) শর্তাবলি, একক সূত্রের বর্ণনার (الآحاد) প্রামাণ্যতা এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি—তা "হাদিস শাস্ত্রের মধ্যে কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ হয়ে আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রথম কাজ (৫)। আর "তৃতীয় শতাব্দীর সময়কালে এই ইলমের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা রাবীদের (الرجال) জীবনী বিষয়ক কিতাবে, অথবা হাদিসের কিতাবে, কিংবা একক বিষয়ের ওপর রচিত স্বতন্ত্র কিতাবে উল্লিখিত মাসআলাসমূহের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে,

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহিহ-এর মুকাদ্দিমায় এটি বর্ণনা করেছেন, ১/ ১৫; এবং তিরমিজি তাঁর সুনান-এর শেষে, ৬/ ২৩৫ হাদিস নং (৪০৫৩)।

(২) আল-আজিন, প্রাগুক্ত, ২৯।

"ইসনদ (الإسناد), বর্ণনাকারী ও রাবীদের (الرجال) ইতিহাস, বর্ণনাকারীদের (الرواة) সমালোচনা (نقد) এবং তাদের প্রশংসা (تزكية) ও ত্রুটি (جرح) বর্ণনার মাধ্যমে তাদের অবস্থা স্পষ্ট করা, হাদিসের মতন (متن) ও এর অর্থ বিশ্লেষণ করা এবং জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র—এগুলো হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) নামক ইলমের বড় বড় শাখা। এটি একটি সাধারণ বিভাজন এবং ওই বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত অংশ।" আবু গুদ্দাহ, ১০০ - ১০১।

(৩) আবু গুদ্দাহ, প্রাগুক্ত, 101।

(৪) দ্রষ্টব্য: শাফিঈ, আর-রিসালা, ৩৭০ - ৩৮০, ৪০১, ৪৬১ - ৪৬৪, "সম্ভবত ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর আর-রিসালা কিতাবটি রচনা করা হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তনের মুহূর্ত ছিল, কেননা তিনিই প্রথম এই নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করেছিলেন"। আল-আজিন, আল-মুফিদ ফিত তাকঈদ, ৩০।

(৫) ইতর, মানহাজুন নাকদ, ৬১, দ্রষ্টব্য: আবু গুদ্দাহ, তারিখুস সুন্নাহ, ১০৬।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ৩২)
مثل كتب الإمام علي بن المديني (1) (ت 234 هـ) " (2)؛ إذ كان أول من ألّف في بعض بحوثه بشكل مستقل (3)، وقد ذكر الإمام الحاكم

علم: الحاكم" (4) في كتابه (معرفة علوم الحديث) جملة من تلك الكتب، ليستدلّ بها على مكانة هذا الإمام وتقدّمه في هذا العلم (5)،

وذكر الخطيب البغدادي (6) في كتابه (الجامع لأخلاق الراوي) أن جميع هذه الكتب قد انقرضت، ولم يقف إلا على أربعة أو خمسة منها فحسب (7).

--------------------------------------------

(1) على بن عبدالله بن جعفر بن نجيح السعدي، مولاهم، أبو الحسن ابن المديني البصري ثقة ثبت إمام، أعلم أهل عصره بالحديث وعلله، قال البخاري: ما استصغرت نفسي إلا بين يدي علي، وقال شيخه ابن مهدي: علي بن المديني أعلم الناس بحديث رسول الله. ينظر: الذهبي، الكاشف، 2/ 42 (3937)، ابن حجر، التقريب، 403 (4760).

(2) أبو غدّة، المرجع السابق، 107.

(3) ينظر: السباعي، السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي، 128.

(4) محمد بن عبدالله بن حمدويه بن نعيم الضبي، الطّهماني النيسابورىّ، الشهير بالحاكم، من أكابر حفاظ الحديث، صنف كتبا كثيرة جدا منها: (المستدرك علي الصحيحين) و (المدخل إلى علم الصحيح) و (معرفة علوم الحديث) وغيرها. مات سنة 405 هـ. ينظر: الذهبي، السير، 17/ 162، ابن العماد، الشذرات، 5/ 33، الزركلي، الأعلام، 6/ 227

(5) قال الحاكم: "هذه أسامي مصنفات علي بن المديني، كتاب الأسامي والكنى، ثمانية أجزاء، كتاب الضعفاء عشرة أجزاء، كتاب المدلسين خمسة أجزاء، كتاب أول من نظر في الرجال وفحص عنهم جزء، كتاب الطبقات عشرة أجزاء، كتاب من روى عن رجل لم يره جزء، كتاب علل المسند ثلاثون جزءا، كتاب العلل لإسماعيل القاضي أربعة عشر جزءا، كتاب علل حديث ابن عيينة ثلاثة عشر جزءا، كتاب من لا يحتج بحديثه ولا يسقط جزءان، كتاب الكنى خمسة أجزاء، كتاب الوهم والخطأ خمسة أجزاء، كتاب قبائل العرب عشرة أجزاء، كتاب من نزل من الصحابة سائر البلدان خمسة أجزاء، كتاب التاريخ عشرة أجزاء، كتاب العرض على المحدث جزءان، كتاب من حدث ثم رجع عنه جزءان، كتاب يحيى وعبد الرحمن في الرجال خمسة أجزاء، كتاب سؤالاته يحيى جزءان، كتاب الثقات والمثبتين عشرة أجزاء، كتاب اختلاف الحديث خمسة أجزاء كتاب الأسامي الشاذة ثلاثة أجزاء، كتاب الأشربة ثلاثة أجزاء، كتاب تفسير غريب الحديث خمسة أجزاء، كتاب الإخوة والأخوات ثلاثة أجزاء، كتاب من تعرف باسم دون اسم أبيه جزءان، كتاب من يعرف باللقب جزء، وكتاب العلل المتفرقة ثلاثون جزءا، وكتاب مذاهب المحدثين جزءان قال الحاكم: إنما اقتصرنا على فهرست مصنفاته في هذا الموضع ليستدل به على تبحره وتقدمه، وكماله." الحاكم، معرفة علوم الحديث، 71 - 72.

(6) أحمد بن علي بن ثابت البغدادي، أبو بكر، الخطيب الحافظ، كان من أكثر أهل عصره معرفة، وإثباتا، وضبطا لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتفننا في علله وأسانيده ، من مصنفاته: (الكفاية في علم الرواية)، و (شرف أصحاب الحديث)، و (اقتضاء العلم العمل)، وغير ذلك من المصنفات. مات سنة 463 هـ. ينظر: الذهبي، السير، 18/ 270، ابن العماد، الشذرات، ، 1/ 38، الزركلي، الأعلام، ، 1/ 172.

(7) ينظر: الخطيب البغدادي، الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع، 2/ 301.
যেমন ইমাম আলি ইবনুল মাদিনি (১) (মৃত্যু ২৩৪ হি.)-এর গ্রন্থসমূহ; যেহেতু তিনি ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এর কিছু গবেষণাক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে গ্রন্থ রচনা করেছেন (৩), এবং ইমাম আল-হাকিম

ইলম: আল-হাকিম" (৪) তাঁর কিতাব (মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস)-এ এই গ্রন্থগুলোর একটি তালিকা উল্লেখ করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে এই ইমামের মর্যাদা এবং এই জ্ঞানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতার প্রমাণ পাওয়া যায় (৫),

এবং খতিব আল-বাগদাদি (৬) তাঁর কিতাব (আল-জামি লি-আখলাকির রাওয়ি)-তে উল্লেখ করেছেন যে, এই সমস্ত গ্রন্থই বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং তিনি এগুলোর মধ্যে মাত্র চার বা পাঁচটি গ্রন্থই দেখতে পেয়েছেন (৭)।

--------------------------------------------

(১) আলি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে নাজিহ আস-সাদি, তাঁদের মুক্তদাস, আবুল হাসান ইবনুল মাদিনি আল-বাসরি; তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت) ও ইমাম (إمام), এবং তাঁর যুগের মানুষের মধ্যে হাদিস ও এর ত্রুটিসমূহ (علل) সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী। ইমাম বুখারি বলেছেন: "আলি [ইবনুল মাদিনি]-এর সামনে ছাড়া আমি নিজেকে কখনো ছোট মনে করিনি।" তাঁর উস্তাদ ইবনে মাহদি বলেছেন: "আলি ইবনুল মাদিনি আল্লাহর রাসুলের হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী।" দেখুন: আয-যাহাবি, আল-কাশিফ, ২/ ৪২ (৩৯৩৭); ইবনে হাজার, আত-তাকরিব, ৪০৩ (৪৭৬০)।

(২) আবু গুদ্দাহ, প্রাগুক্ত উৎস, ১০৭।

(৩) দেখুন: আস-সিবাঈ, আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিঈল ইসলামি, ১২৮।

(৪) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হামদুয়াইহ ইবনে নুয়াইম আদ-দাব্বি আত-তাহমানি আন-নিসাবুরি, যিনি আল-হাকিম নামে প্রসিদ্ধ; তিনি হাদিস হাফিজদের (حفاظ) মধ্যে অন্যতম বড় ব্যক্তিত্ব। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: (আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন), (আল-মাদখাল ইলা ইলমিস সহিহ), (মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস) এবং অন্যান্য। তিনি ৪০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আয-যাহাবি, আস-সিয়ার, ১৭/ ১৬২; ইবনুল ইমাদ, আশ-শাযারাত, ৫/ ৩৩; আয-যিরিকলি, আল-আ'লাম, ৬/ ২২৭।

(৫) ইমাম আল-হাকিম বলেন: "এগুলো হলো আলি ইবনুল মাদিনির রচিত গ্রন্থাবলির নাম: কিতাবুল আসামী ওয়াল কুনা (আট খণ্ড), কিতাবুজ জুয়াফা (দশ খণ্ড), কিতাবুল মুদাল্লিসীন (পাঁচ খণ্ড), কিতাবুল আউয়ালি মান নাজারা ফির রিজাল (এক খণ্ড), কিতাবুত তাবাকাত (দশ খণ্ড), কিতাবুল মান রাওয়া আন রাজুলিন লাম ইয়াহু (এক খণ্ড), কিতাবুল ইলালিল মুসনাদ (ত্রিশ খণ্ড), কিতাবুল ইলাল লি-ইসমাইল আল-কাদি (চৌদ্দ খণ্ড), কিতাবুল ইলালি হাদিস ইবনে উইয়াইনাহ (তেরো খণ্ড), কিতাবুল মান লা ইয়ুহ্তাজ্জু বি-হাদিসিহি ওয়া লা ইউসকাতু (দুই খণ্ড), কিতাবুল কুনা (পাঁচ খণ্ড), কিতাবুল ওয়াহমি ওয়াল খাতা (পাঁচ খণ্ড), কিতাবুল কাবাইলিল আরাব (দশ খণ্ড), কিতাবুল মান নাজালা মিনাস সাহাবাহ সাইরাল বুলদান (পাঁচ খণ্ড), কিতাবুত তারিখ (দশ খণ্ড), কিতাবুল আরদি আলার মুহাদ্দিস (দুই খণ্ড), কিতাবুল মান হাদ্দাসা ছুম্মা রাজায়া আনহু (দুই খণ্ড), কিতাবুল ইয়াহইয়া ওয়া আব্দুর রহমান ফির রিজাল (পাঁচ খণ্ড), কিতাবুল সুয়ালাতিহি ইয়াহইয়া (দুই খণ্ড), কিতাবুত থিকাত ওয়াল মুসব্বাতিন (দশ খণ্ড), কিতাবুল ইখতিলাফিল হাদিস (পাঁচ খণ্ড), কিতাবুল আসামী আশ-শাযযাহ (তিন খণ্ড), কিতাবুল আশরিবাহ (তিন খণ্ড), কিতাবুত তাফসিরি গারিবিল হাদিস (পাঁচ খণ্ড), কিতাবুল ইখওয়াতি ওয়াল আখাওয়াত (তিন খণ্ড), কিতাবুল মান তু'রাফু বি-ইসমিন দুনা ইসমিল আবিহ (দুই খণ্ড), কিতাবুল মান ইউ'রাফু বিল লাকাব (এক খণ্ড), কিতাবুল ইলালিল মুতাফাররিকাহ (ত্রিশ খণ্ড) এবং কিতাবুল মাজাহিবিল মুহাদ্দিসিন (দুই খণ্ড)। আল-হাকিম বলেন: আমরা এই স্থানে তাঁর গ্রন্থাবলির তালিকা কেবল একারণেই উল্লেখ করেছি যাতে এর মাধ্যমে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য, শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতার প্রমাণ পাওয়া যায়।" আল-হাকিম, মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস, ৭১ - ৭২।

(৬) আহমদ ইবনে আলি ইবনে সাবিত আল-বাগদাদি, আবু বকর, খতিব আল-হাফিজ (الحافظ); তিনি তাঁর যুগের মানুষের মধ্যে আল্লাহর রাসুলের হাদিস সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানসম্পন্ন, নির্ভরযোগ্য (إثباتا) এবং সংরক্ষণ (ضبطا) ক্ষমতায় সুদৃঢ় ছিলেন এবং হাদিসের ত্রুটিসমূহ (علل) ও সনদসমূহের (أسانيد) বিন্যাসে পারদর্শী ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: (আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়াইয়াহ), (শারাফু আসহাবিল হাদিস), (ইক্তিদাউল ইলমিল আমাল) এবং অন্যান্য গ্রন্থ। তিনি ৪৬৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আয-যাহাবি, আস-সিয়ার, ১৮/ ২৭০; ইবনুল ইমাদ, আশ-শাযারাত, ১/ ৩৮; আয-যিরিকলি, আল-আ'লাম, ১/ ১৭২।

(৭) দেখুন: খতিব আল-বাগদাদি, আল-জামি লি-আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি, ২/ ৩০১।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وكثُر المدونون لمسائل علم الحديث، منهم: الإمام مسلم (ت 261 هـ) حيث تكلّم في مقدمة صحيحه عن تقسيم الأخبار، وتقسيم طبقات الرواة من حيث الحفظ والإتقان، وتكلم عن الحديث المنكر، وعن تفرد الرواة، وغيرها من مباحث متنوعة في علوم الحديث (1)، ومثله

الإمام الترمذي (ت 297 هـ) حيث ضمّن آخر كتابه الجامع (2) - وهو الجزء المسّمى (بالعلل الصغير) - قواعد مهمة في علوم الحديث، فنقل اختلاف العلماء في جواز الجرح والتعديل، ورجّح وجوب نقد الرجال، وقسّم أجناس الرواة من حيث الضبط وعدمه، وتكلم عن تفاوت الرواة في ذلك، وتكلم عن مفهوم الحديث الحسن عنده، وغير ذلك (3).

وكذلك ذكر الحافظ ابن حبان (4) (ت 354 هـ) بعضاً من مسائل مصطلح الحديث في عدد من مقدمات كتبه منها: كتاب (الثقات) (5)، وكتاب (المجروحين) (6)، ثم كان هناك عدد من العلماء أكبّوا على تصانيف من سبقهم، فجمعوا ما تفرّق في مؤلفات الفن الواحد، واستدركوا عليها - وامتدّ ذلك من منتصف القرن الرابع إلى أوائل القرن السابع (7) - وكان "أول من صنف في هذا الفن تصنيفا علمياً بحيث جمع كل أبوابه وبحوثه في مصنف

--------------------------------------------

(1) ينظر: مسلم، صحيح مسلم، 1/ 5 - 7، أبو غدّة، تاريخ السنة، 107.

(2) "يسمى: بالسنن أيضا خلافاً لمن ظن أنهما كتابان". الكتاني، الرسالة المستطرفة 11.

(3) ينظر: الترمذي، سنن الترمذي، 6/ 230 - 259.

(4) محمد بن حبان بن أحمد التميمي البُستي، أبو حاتم، ويقال له ابن حبان: شيخ خراسان، كان عالماً في الفقه، واللغة، والحديث، والوعظ، وهو أحد المكثرين من التصنيف، من كتبه: (الأنواع والتقاسيم المعروف بالصحيح) و (الثقات) و (كتاب المجروحين) وغيرها. مات سنة 354 هـ ينظر: الذهبي، السير، ، 16/ 92. السبكي، طبقات الشافعية الكبرى، 3/ 131. الزركلي، الأعلام، ، 6/ 78.

(5) ينظر: ابن حبان، الثقات، 1/ 10 - 13.

(6) ينظر: ابن حبان، المجروحين 1، /62 - 95.

(7) عتر، منهج النقد، 63.
হাদিস শাস্ত্রের বিষয়াবলী সংকলনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন: ইমাম মুসলিম (মৃত্যু: ২৬১ হিজরি)। তিনি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় সংবাদের (أخبار) প্রকারভেদ এবং মুখস্থ ও নির্ভুলতার (إتقان) মানদণ্ডে বর্ণনাকারীদের স্তরের (طبقات) বিন্যাস নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া তিনি অগ্রহণযোগ্য (منكر) হাদিস, বর্ণনাকারীদের একক বর্ণনা (تفرد) এবং হাদিস শাস্ত্রের আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন (১), এবং তাঁর মতোই

ইমাম তিরমিজি (মৃত্যু: ২৯৭ হিজরি) তাঁর 'আল-জামি' (২) গ্রন্থের শেষে—যা 'আল-ইলাল আস-সগির' নামক অংশ—হাদিস শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উসুল বা মূলনীতি সন্নিবেশিত করেছেন। সেখানে তিনি বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (الجرح والتعديل) বৈধতা বিষয়ে ওলামাদের মতভেদ বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি পর্যালোচনার আবশ্যকতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি স্মৃতিশক্তির প্রখরতা বা নির্ভুলতা (ضبط) থাকা না থাকার ভিত্তিতে বর্ণনাকারীদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের স্তরের তফাত নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া তিনি তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্য (حسن) হাদিসের সংজ্ঞা ও অন্যান্য বিষয় আলোচনা করেছেন (৩)।

একইভাবে হাফিজ ইবনে হিব্বান (৪) (মৃত্যু: ৩৫৪ হিজরি) তাঁর রচিত বেশ কিছু গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় হাদিসের পরিভাষার (مصطلح الحديث) কিছু মাসআলা উল্লেখ করেছেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'আস-সিকাত' (৫) এবং 'আল-মাজরুহিন' (৬) গ্রন্থদ্বয়। এরপর এমন একদল আলেমের আবির্ভাব ঘটে যারা তাঁদের পূর্ববর্তীদের সংকলনগুলোর ওপর নিবিড়ভাবে মনোনিবেশ করেন। তাঁরা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর লিখিত বিভিন্ন গ্রন্থে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তথ্যগুলো একত্রিত করেন এবং সেগুলোর ওপর পরিমার্জন ও পরিবর্ধন (استدراك) করেন। এই ধারাটি চতুর্থ হিজরি শতকের মধ্যভাগ থেকে সপ্তম হিজরি শতকের শুরু পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল (৭)। আর "যিনি সর্বপ্রথম এই শাস্ত্রটিকে একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংকলন করেন, যার ফলে এর সমস্ত অধ্যায় ও গবেষণার বিষয়বস্তু একটি গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: মুসলিম, সহিহ মুসলিম, ১/ ৫ - ৭, আবু গুদ্দাহ, তারিখুস সুন্নাহ, ১০৭।

(২) "একে 'সুনান'ও বলা হয়, যারা মনে করেন যে এ দুটি ভিন্ন গ্রন্থ তাদের ধারণা ভুল"। কাত্তানি, আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ ১১।

(৩) দ্রষ্টব্য: তিরমিজি, সুনান তিরমিজি, ৬/ ২৩০ - ২৫৯।

(৪) মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান ইবনে আহমাদ আত-তামিমি আল-বুস্তি, আবু হাতিম; তাঁকে ইবনে হিব্বান বলা হয়। তিনি ছিলেন খুরাসানের শায়খ। তিনি ফিকহ, ভাষা, হাদিস এবং ওয়ায-নসিহতে বিজ্ঞ আলেম ছিলেন। তিনি সর্বাধিক গ্রন্থ রচনাকারীদের একজন। তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'আল-আনওয়া ওয়াত তাকাসিম' (যা সহিহ নামে পরিচিত), 'আস-সিকাত' এবং 'কিতাবুল মাজরুহিন' প্রভৃতি। তিনি ৩৫৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: আয-যাহাবি, আস-সিয়ার, ১৬/ ৯২। সুবকি, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা, ৩/ ১৩১। যিরিকলি, আল-আলাম, ৬/ ৭৮।

(৫) দ্রষ্টব্য: ইবনে হিব্বান, আস-সিকাত, ১/ ১০ - ১৩।

(৬) দ্রষ্টব্য: ইবনে হিব্বান, আল-মাজরুহিন ১, / ৬২ - ৯৫।

(৭) ইতর, মানহাজুন নাকদ, ৬৩।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ৩৪)
واحد هو القاضي أبو محمد، الحسن بن عبدالرحمن

الرامهرمزي (1) (ت 360 هـ)، في كتابه (المُحدِّث الفاصل بين الراوي والواعي) " (2).

قال محقق الكتاب في مقدمة تحقيقه: "حفظ لنا الرامهرمزي في كتابه كثيراً من أقوال أهل العلم في بعض الأمور الحديثية ما لم يتيسر لغيره نقلها إلينا، فكان المصدر الوحيد لها، كما نقل عن آثار بعض الأئمة في الحديث وعلومه، تلك الآثار التي لم يكتب لأكثرها البقاء، فكان كتاب المحدث الفاصل خير دليل عليها، وحافظاً أميناً لبعضها … " (3) كما يُعتبر كتابه المادة الأولية لكتاب الخطيب البغدادي (ت 463 هـ)، المسمّى (الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع)، والذي صنّفه الخطيب بعد مئة عام من كتاب الرامهرمزي (4).

ومن المآخذ على كتاب الرامهرمزي أنه لم يستوعب أنواع علوم الحديث (5).

- ثم برز كتاب (معرفة علوم الحديث وكمية أجناسه) للإمام أبي عبدالله، محمد بن عبدالله الحاكم النيسابوري (ت 405 هـ)، وكان أول من نصّ على التأليف بمسمّى (علوم الحديث) (6)، وتضمن كتابه منها اثنين وخمسين نوعاً، حيث قال في مقدمة كتابه:

" أما بعد: فإني لما رأيت البدع في زماننا كثُرت، ومعرفة الناس بأصول السنن قلَّت، مع إمعانهم في كتابة الأخبار، وكثرة [طالبيها] على الإهمال والإغفال؛ دعاني ذلك إلى

--------------------------------------------

(1) الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزيّ الفارسيّ، أبو محمد: محدث حافظ متقن، من أدباء القضاة له كتاب (المحدث الفاصل بين الراويّ والواعي). ينظر: الذهبي، السير، 16/ 73 السيوطي، طبقات الحفاظ، 370. كحالة، المؤلفين، 1/ 557 (4179).

(2) السباعي، السنة ومكانتها، 128، ينظر: أبو غدة، تاريخ السنة، 109.

(3) محمد الخطيب، من مقدمة تحقيقه لكتاب المحدث الفاصل، للرامهرمزي، 34 - 35.

(4) المرجع السابق.

(5) ينظر: ابن حجر، النزهة، 29، المناوي، اليواقيت والدرر في شرح نخبة ابن حجر، 1/ 208.

(6) ينظر: أحمد فارس السلوم، "الحاكم أول من صنف في جمع علوم الحديث" من تحقيقه لكتاب أبي عبدالله الحاكم، معرفة علوم الحديث وكمية أجناسه، 11.
প্রথমজন হলেন বিচারক (কাজি) আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান

আল-রামেহুরমুজি (১) (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি), তাঁর 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাওয়ি ওয়াল ওয়ায়ি' নামক কিতাবে (২)।

কিতাবটির গবেষক (মুহাক্কিক) তাঁর পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ভূমিকায় বলেছেন: "রামেহুরমুজি তাঁর কিতাবে আমাদের জন্য ইলমের অধিকারীদের এমন অনেক বক্তব্য সংরক্ষণ করেছেন হাদিস সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে, যা অন্যদের পক্ষে আমাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে এটি সেগুলোর জন্য একমাত্র উৎস হিসেবে গণ্য হয়েছে। তেমনিভাবে তিনি হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের কতিপয় ইমামের এমন কিছু বর্ণনা (آثار) উদ্ধৃত করেছেন, যেসব বর্ণনার (آثار) অধিকাংশেরই স্থায়িত্ব নসিব হয়নি। ফলে 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' কিতাবটি সেগুলোর জন্য সর্বোত্তম দলিল এবং তার কিছু অংশের জন্য এক বিশ্বস্ত রক্ষক হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে … " (৩) তদ্রূপ তাঁর এই কিতাবটি খতিব আল-বাগদাদির (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি) 'আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি' নামক কিতাবটির প্রাথমিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়, যা খতিব আল-বাগদাদি রামেহুরমুজির কিতাব রচনার একশ বছর পর সংকলন করেছিলেন (৪)।

রামেহুরমুজির কিতাবটির অন্যতম একটি সীমাবদ্ধতা হলো এটি হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করেনি (৫)।

- অতঃপর ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরি (মৃত্যু ৪০৫ হিজরি)-র 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস ওয়া কাম্মিয়্যাতু আজনাসিহি' কিতাবটি আত্মপ্রকাশ করে। তিনি প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি স্পষ্টভাবে 'উলুমুল হাদিস' (علوم الحديث) শিরোনামে গ্রন্থ রচনার কথা উল্লেখ করেন (৬)। তাঁর এই কিতাবটিতে বায়ান্নটি প্রকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি কিতাবটির ভূমিকায় বলেছেন:

"অতঃপর, আমি যখন দেখলাম যে আমাদের জামানায় বিদআতসমূহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সুন্নাহর (السنن) মূলনীতিসমূহ (أصول) সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান কমে গেছে, অথচ তাদের সংবাদ (أخبار) লিখে রাখার প্রতি একাগ্রতা রয়েছে এবং অমনোযোগ ও অসতর্কতা সত্ত্বেও এর [অন্বেষণকারীদের] সংখ্যা অনেক; তখন এই বিষয়টি আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে...

--------------------------------------------

(১) আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আল-রামেহুরমুজি আল-ফারিসি, আবু মুহাম্মদ: হাদিস বিশারদ (محدث), হাফেজ (حافظ) এবং দক্ষ (متقن)। তিনি বিচারক সাহিত্যিকদের অন্তর্ভুক্ত, তাঁর 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাওয়ি ওয়াল ওয়ায়ি' নামক কিতাব রয়েছে। দেখুন: আজ-জাহাবি, আস-সিয়ার, ১৬/৭৩; আস-সুয়ুতি, তাবাকাতুল হুফফাজ, ৩৭০; কাহহালা, আল-মুআল্লিফিন, ১/৫৫৭ (৪১৭৯)।

(২) আস-সিবাঈ, আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা, ১২৮; দেখুন: আবু গুদ্দাহ, তারিখুস সুন্নাহ, ১০৯।

(৩) মুহাম্মদ আল-খতিব, রামেহুরমুজির 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' কিতাবের সম্পাদনার ভূমিকা থেকে, ৩৪ - ৩৫।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।

(৫) দেখুন: ইবনে হাজার, আন-নুজহা, ২৯; আল-মুনাওয়ি, আল-ইয়াওয়াকিত ওয়াদ-দুরার ফি শারহি নুখবাতি ইবনি হাজার, ১/২০৮।

(৬) দেখুন: আহমাদ ফারিস আস-সাল্লুম, আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিমের 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস ওয়া কাম্মিয়্যাতু আজনাসিহি' কিতাবের সম্পাদনা থেকে 'আল-হাকিম প্রথম ব্যক্তি যিনি উলুমুল হাদিস সংকলন করেছেন', ১১।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতালাহাতুল হাদিসিয়্যাহ বাইনাল ইত্তিফাক ওয়াল ইফতিরাক (পৃষ্ঠা: ৩৫)
تصنيف كتاب خفيف يشتمل على ذكر أنواع علم الحديث، مما يحتاج إليه طلبة الأخبار، المواظبون على كتابة الآثار، و [أعمد] في ذلك سلوك الاختصار، دون الإطناب في الإكثار، والله الموفق لما قصدته، والمانُّ في بيان ما أردته، إنه جواد كريم، رؤوف رحيم." (1) ومن المآخذ على كتابه، ما ذكره ابن حجر بقوله: وكتابه لم يهذب، ولم يُرتب. (2)

- ثم جاء الإمام أبو بكر، أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي (ت 463 هـ)، فصنف في قوانين الرواية كتابا سماه: (الكفاية في علم الرواية)، قال في مقدمته: "وأنا أذكر بمشيئة الله تعالى وتوفيقه في هذا الكتاب ما بطالب الحديث حاجة إلى معرفته، وبالمتفقه فاقة إلى حفظه ودراسته، من بيان أصول علم الحديث وشرائطه، … " (3)، وصنّف كذلك في آداب الرواية كتابا سماه: (الجامع لآداب الراوي وأخلاق السامع)، وكان للخطيب البغدادي دور واسع في مصطلح الحديث، وألف كتباً مستقلةً في أغلب فنون هذا العلم، مما حذا بابن حجر أن يقول عنه: "وقل فن من فنون الحديث إلا وقد صنف فيه كتابا مفردا؛ فكان كما قال الحافظ أبو بكر بن نقطة (4): كل من أنصف علم أن المحدثين بعد الخطيب عيال على كتبه." (5)

ثم جاء بعض من تأخر عن الخطيب، فأخذ من هذا العلم بنصيب:

--------------------------------------------

(1) الحاكم، علوم الحديث، 1 - 2، وما بين المعقوفتين من ط ابن حزم، 106 - 107.

(2) ينظر: ابن حجر، المرجع السابق.

(3) الخطيب البغدادي، الكفاية في علم الرواية، 7.

(4) محمد بن عبد الغني بن أبي بكر بن شجاع البغدادي الحنبلي، أبو بكر، المعروف بابن نقطة. أحد أئمة الحديث، من مصنفاته: (التقييد بمعرفة رواة السنن والمسانيد) و (تكملة الإكمال) وله غير ذلك. مات سنة 629 هـ. ينظر: الصفدي، الوافي بالوفيات، 3/ 219 (1310)، ابن العماد، الشذرات، 7/ 234، كحالة، المؤلفين، 3/ 417 (14103).

(5) ابن حجر، النزهة، 32 - 33.
একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করা, যাতে হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদ (أنواع علم الحديث) আলোচিত হয়েছে; যা ওইসব সংবাদ (أخبار) অন্বেষণকারীদের প্রয়োজন, যারা আসার (آثار) বা হাদিসসমূহ লিপিবদ্ধ করতে যত্নশীল। আমি এতে সংক্ষিপ্তকরণের পথ অবলম্বন করার ইচ্ছা পোষণ করেছি, বিস্তারিত আলোচনার প্রলম্বিত ধারা বর্জন করে। আল্লাহই আমার উদ্দেশের প্রতি তাওফিকদাতা এবং আমি যা চেয়েছি তা বর্ণনায় অনুগ্রহকারী; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা, অতি দয়ালু ও পরম করুণাময়।" (১) তার গ্রন্থের ওপর একটি সমালোচনা হলো যা ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন এই বলে যে: "তার গ্রন্থটি পরিমার্জিত এবং সুবিন্যস্ত ছিল না।" (২)

- এরপর এলেন ইমাম আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত খতিব বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি)। তিনি বর্ণনার (رواية) নিয়মাবলির ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেন এবং তার নামকরণ করেন: কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়াহ। তিনি এর ভূমিকায় বলেন: "আমি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও তাওফিকে এই গ্রন্থে হাদিসের একজন শিক্ষার্থীর যা জানার প্রয়োজন এবং একজন ফকিহ বা বিজ্ঞজনের যা মুখস্থ ও অধ্যয়ন করার আবশ্যকতা রয়েছে—তা উল্লেখ করছি; যার মধ্যে রয়েছে হাদিস বিজ্ঞানের মূলনীতি (أصول علم الحديث) এবং এর শর্তাবলি (شرائط) বর্ণনা করা..." (৩)। তিনি একইভাবে বর্ণনার (رواية) আদব বা শিষ্টাচারের বিষয়েও একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যার নাম দিয়েছেন: আল-জামি লি আদাবির রাবি ওয়া আখলাকিস সামি। হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রে খতিব বাগদাদীর ব্যাপক ভূমিকা ছিল। তিনি এই শাস্ত্রের অধিকাংশ শাখায় স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার ফলে ইবনে হাজার তার সম্পর্কে বলতে বাধ্য হয়েছেন: "হাদিস শাস্ত্রের এমন খুব কম শাখাই আছে যার ওপর তিনি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেননি। বিষয়টি তেমনই ছিল যেমনটি হাফেজ আবু বকর বিন নুকতাহ (৪) বলেছেন: যে ব্যক্তিই ইনসাফ করবে সে জানতে পারবে যে, খতিব বাগদাদীর পরবর্তী সকল মুহাদ্দিস (محدثين) তার গ্রন্থসমূহের মুখাপেক্ষী।" (৫)

এরপর খতিব বাগদাদীর পরবর্তী কিছু আলেম এলেন, যারা এই শাস্ত্র থেকে নিজ নিজ অংশ গ্রহণ করলেন:

--------------------------------------------

(১) হাকেম, উলুমুল হাদিস, ১ - ২; এবং বন্ধনীভুক্ত অংশটি ইবনে হাজম সংস্করণ, ১০৬ - ১০৭ থেকে।

(২) দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার, পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) খতিব বাগদাদী, কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়াহ, ৭।

(৪) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল গনি বিন আবু বকর বিন শুজা বাগদাদী হাম্বলী, আবু বকর, যিনি ইবনে নুকতাহ নামে পরিচিত। হাদিসের ইমামদের (أئمة الحديث) অন্তর্ভুক্ত একজন। তার রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে: 'তাকয়িদ বিমা'রিফাতি রুয়াতিল সুনানি ওয়াল মাসানিদ' এবং 'তাকমিলাতুল ইকমাল' এবং এর বাইরেও তার রচনা রয়েছে। তিনি ৬২৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: সাফাদি, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত, ৩/ ২১৯ (১৩১০); ইবনুল ইমাদ, আশ-শাযারাত, ৭/ ২৩৪; কাহহালাহ, আল-মুআল্লিফিন, ৩/ ৪১৭ (১৪১০৩)।

(৫) ইবনে হাজার, নুজহাতুন নাজার, ৩২ - ৩৩।