(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: -)
الإحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام وتصرفات القاضي والإمام   (القرافي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الإحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام وتصرفات القاضي والإمام

المؤلف: القرافي شهاب الدين أبو العباس أحمد بن إدريس المصري المالكي (626 - 684 هـ)

اعتنى به: عبد الفتاح أبو غدة

الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الثانية، 1416 هـ - 1995 م

عدد الصفحات: 324

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو الحجة 1436

ফতোয়া ও বিচারবিভাগীয় আহকাম এবং বিচারক ও রাষ্ট্রপ্রধানের কার্যাবলির মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণে আল-ইহকাম   (আল-কারাফি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


কিতাব: ফতোয়া ও বিচারবিভাগীয় আহকাম এবং বিচারক ও রাষ্ট্রপ্রধানের কার্যাবলির মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণে আল-ইহকাম

লেখক: আল-কারাফি শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ বিন ইদরিস আল-মিসরি আল-মালিকি (৬২৬ - ৬৮৪ হিজরি)

সম্পাদনায়: আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ জিলহজ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: -)
الإحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام وتصرفات القاضي والإمام

 

تأليف

الإمام القرافي شهاب الدين أبي العباس أحمد بن إدريس المصري المالكي

(ولد سنة 626 هـ وتوفي سنة 684 هـ) رحمه الله تعالى

 

اعتنى به

عبد الفتاح أبو غدة
ফতোয়া, বিচারিক রায় এবং বিচারক ও রাষ্ট্রপ্রধানের কর্মকাণ্ডের মধ্যকার পার্থক্যের বিধানসমূহ

 

রচনায়

ইমাম আল-কারাফি শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইদ্রিস আল-মিসরি আল-মালিকি

(জন্ম হিজরি ৬২৬ সাল এবং মৃত্যু হিজরি ৬৮৪ সাল) আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন

 

সম্পাদনায়

আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৩)
الإحكام

في تمييز الفتاوى عن الأحكام وتصرفات القاضي والإمام
আল-ইহকাম

ফতোয়াকে বিচারিক রায় এবং বিচারক ও ইমামের কর্মকাণ্ড থেকে পৃথক করার বর্ণনায়
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৪)
حُقوُق الطّبع محَفُوظة

للمعتَني به

 

الطبعة الأولى بحلب 1387 هـ - 1967 م

الطبعة الثانية ببيروت 1416 هـ - 1995 م

 

قامَت بطباعَته وإخراجه

دار البشائر الإسلامية للطبَاعَة وَالنشرَ والتَّوزيع

بَيروت - لبنان - ص. ب: 5955 - 14
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

তত্ত্বাবধায়কের জন্য

 

প্রথম সংস্করণ, আলেপ্পো ১৩৮৭ হিজরি - ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ

দ্বিতীয় সংস্করণ, বৈরুত ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

 

মুদ্রণ ও প্রকাশনায়

দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র

বৈরুত - লেবানন - পোস্ট বক্স: ৫৯৫৫ - ১৪
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تقدمة الطبعة الثانية:

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمدُ لله المنعم الكريم الوهاب، المتفضل على عباده الموفقين لخدمة دينه بمزيد الثواب، المحسن إلى من أطاعه وإليه أناب. والصلاةُ والسلام على سيدنا ونبينا ورسولنا محمد العبد الأوَّاب، الهادي بشريعته إلى طريق الحق والصّواب، وعلى صحابته الغُرّ الميامين الأنجاب، أكرَمِ الأصحاب وأوفى الأتباع والأحباب، وعلى من تبعهم بإحسان إلى يوم الحساب.

أما بعد فهذه الطبعة الثانية من كتاب "الِإحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام وتصرُّفات القاضي والإِمام" للِإمام أبي العباس أحمد بن إدريس القَرَافي، الصِّنْهاجيِّ المغربيِّ الأصل، المصريّ المولد والمنشأ والوفاة، إمامِ السادة المالكية في عصره رحمه الله تعالى.

وقد أنعم الله تعالى عليَّ بإعادة طبعه، مزيداً من التحقيق والتَّعليق، ومنقحاً من التصحيف والتحريف الذي بقي في طبعته الأولى، مع ما كنتُ بذلته من أقصى الجهد في تنقيحها وتصحيحها، فالحمدُ لله الذي يسَّر وأعان، وأمَدَّ في العمر إلى أن طُبع هذا الكتاب مرةً ثانية بمزيد من الِإتقان، وقد كان بين الطبعة الأولى وهذه الطبعة الثانية قُرَابةُ ثلاثين سنة، فالأولى طُبعَتْ بحلب سنة 1387 - 1967، وهذه طُبعت ببيروت سنة 1414 = 1994، وذلك من فضل الله وكرمه سبحانه.

وكنتُ في طبعته الأولى التي خدمتُها، رجوتُ من الله تعالى أن ييسِّرَ لي العثورَ على نسخة صحيحة قويمة، لأستدرك بها ما بقي في الكتاب من تحريف
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা:

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পরম দাতা, অতি দানশীল এবং মহাবদান্য। তিনি তাঁর দ্বীনের সেবায় তাওফীকপ্রাপ্ত বান্দাদের ওপর অতিরিক্ত সওয়াবের মাধ্যমে অনুগ্রহকারী এবং তাঁর অনুগত ও প্রত্যাবর্তনকারী বান্দাদের প্রতি ইহসানকারী। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা, আমাদের নবী এবং আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি অত্যন্ত আল্লাহ-অভিমুখী বান্দা এবং যিনি তাঁর শরীয়তের মাধ্যমে সত্য ও সঠিক পথের দিশারি। আরও বর্ষিত হোক তাঁর উন্নত মর্তবার সম্ভ্রান্ত ও নেককার সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা সর্বোত্তম সঙ্গী এবং সর্বাধিক বিশ্বস্ত অনুসারী ও প্রিয়জন; আর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যাঁরা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর।

অতঃপর, এটি ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইদ্রিস আল-কারাফি (রহি.) রচিত "আল-ইহকাম ফি তামিযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাজি ওয়াল ইমাম" গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ। তিনি বংশগতভাবে সিনহাজি মাগরিবি ছিলেন, কিন্তু মিসরে তাঁর জন্ম, লালন-পালন ও মৃত্যু হয়। তিনি তাঁর সমসাময়িক মালিকি মাযহাবের ইমাম ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

আল্লাহ তাআলা আমাকে গ্রন্থটি পুনরায় ছাপানোর নেয়ামত দান করেছেন, যাতে আগের চেয়ে অধিকতর তাহকীক (গবেষণা) ও তালীক (টীকা) যুক্ত করা হয়েছে। প্রথম সংস্করণে যে সকল মুদ্রণপ্রমাদ ও বিকৃতি রয়ে গিয়েছিল, তা এতে সংশোধন করা হয়েছে; যদিও প্রথম সংস্করণের সময়ও আমি তা সংশোধন ও পরিমার্জনে সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছিলাম। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কাজটিকে সহজ করেছেন ও সাহায্য করেছেন এবং দীর্ঘ হায়াত দান করেছেন, ফলে কিতাবটি দ্বিতীয়বার অধিকতর নিখুঁতভাবে মুদ্রিত হতে পারল। প্রথম সংস্করণ ও এই দ্বিতীয় সংস্করণের মাঝে ব্যবধান প্রায় ত্রিশ বছরের। প্রথমটি ১৩৮৭ হিজরি মোতাবেক ১৯৬৭ সালে সিরিয়ার হালাবে (আলেপ্পো) মুদ্রিত হয়েছিল, আর এটি ১৪১৪ হিজরি মোতাবেক ১৯৯৪ সালে বৈরুতে মুদ্রিত হয়েছে। এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহ ও মহদাশয়তার অংশ।

প্রথম সংস্করণের সময় আমি আল্লাহর কাছে আশা করেছিলাম যেন আমি গ্রন্থটির একটি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাই, যাতে কিতাবের অবশিষ্ট বিকৃতিগুলো আমি সংশোধন করতে পারি।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৬)
وتصحيف، فأكرمني الله تعالى بذلك، ووقفتُ بأواخر سنة 1387 على نسخة مخطوطة منه في الخزانة العامة بمدينة الرباط في المغرب الحبيب، فقابلتُ بها الطبعة الأولى التي اعتمدتُ فيها على أربع نُسَخ مخطوطة، واستفدتُ منها خيرَ استفادة، وقَوَّمتُ بالإستناد إليها كل أو جُلَّ العبارات التي كانت مختلَّة معتلَّةَ في الطبعة الأولى، فغدت هذه الطبعة الثانية سليمةً مستقيمةَ إن شاء الله تعالى، وتبين فيها من المعاني الصحيحة ما لم يكن بَيِّنَ المعنى في سابقتها.

ويمكن أن أقول: إنَّ هذه الطبعة الثانية تميَّزت بمزايا رفيعة جليلة هامَّة جداً، بما حَفَّها من عناية ورعاية ممن تكرَّم بقراءتها وتصحيحها في الطبعة الأولى من الأساتذة الشيوخ الكبار، وممن تكرَّم بمقابلتها بالنسخة المخطوطة المغربية من العلماء العارفين بالمخطوطات المتقنين لقراءتها.

فقد قرأ الكتاب في طبعته الأولى عالمانِ جليلان وأستاذان كبيران، من كبار شيوخي الأجلَّة، ومنحاني ملاحظاتهما وتصويباتهما لعبارات كانت معرفة في الأصول، لم أهتدِ إلى تصويبها، أوَّلُهما الأستاذ العلامة الأَفِيْق الفقيه المحقق فضيلة الشَّيخ مصطفى الزرقا حفظه الله تعالى وأمتع به، والَآخرُ الأستاذ الجليل والعلامة الفقيه المدقق فضيلة الشيخ محمد ناجي أبو صالح - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - (1).

فكلٌّ منهما أبدى نظرَهُ في بعض جُمَلِ منه، وكان لما أبداه فضيلة الشَّيخ ناجي أبو صالح أثرٌ هام في تصويب بعض النصوص وتقويمها، فقد تفرَّغ لدرس الكتاب ورَبْطِ جُمَلِه وتقسيماته ببعضِها، فاهتدى إلى تصويب جُمَلٍ ممَّا في أصولهِ من تحريف، جزاه الله تعالى خيراً وأجزل له الأجر والرضوان. وقد عزوتُ ما أفاداه إليهما.

وتكرَّم بمقابلة الكتاب في طبعته الأولى بالنسخة المغربية المخطوطة التي في

--------------------------------------------

(1) وقد انتقل إلى رحمة الله تعالى ودار كرامته في مدينة الرياض يوم الأربعاء 21 من ذي الحجة سنة 1411، وكانت ولادته بمدينة حلب سنة 1324 رحمه الله تعالى وأسبغ عليه الإحسان والرضوان.
এবং লিপিক্রমের ভুল, অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমাকে এর মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। ১৩৮৭ হিজরি সালের শেষভাগে আমি প্রিয় মরক্কোর রাবাত শহরের সাধারণ গ্রন্থাগারে এর একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাই। এর মাধ্যমে আমি প্রথম সংস্করণের সাথে তুলনা করি যাতে আমি চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলাম এবং আমি তা থেকে সর্বোত্তম উপকার লাভ করি। এর ওপর ভিত্তি করে আমি প্রথম সংস্করণের সেই সকল বাক্যের সবটুকু বা অধিকাংশ সংশোধন করি যা অগোছালো ও ত্রুটিপূর্ণ ছিল। ফলে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় এই দ্বিতীয় সংস্করণটি ত্রুটিমুক্ত ও সঠিক হয়েছে এবং এতে এমন সব সঠিক অর্থ স্পষ্ট হয়েছে যা পূর্ববর্তী সংস্করণে স্পষ্ট ছিল না।

আমি বলতে পারি: এই দ্বিতীয় সংস্করণটি অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের, মহান ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র হয়েছে। এর কারণ হলো সেই সকল প্রবীণ শিক্ষক ও শাইখদের যত্ন ও তদারকি যারা অনুগ্রহপূর্বক প্রথম সংস্করণটি পাঠ ও সংশোধন করেছেন এবং সেই সকল বিজ্ঞ আলেমদের মাধ্যমে এর সাথে মরক্কোর পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে দেখা যারা পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে বিজ্ঞ এবং তা পাঠে অত্যন্ত পারদর্শী।

আমার মহান উস্তাদদের মধ্য থেকে দুইজন বরেণ্য আলেম ও বড় শিক্ষক প্রথম সংস্করণের বইটি পাঠ করেছেন। মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট রয়ে যাওয়া যে সকল বাক্যের সংশোধনের পথ আমি খুঁজে পাইনি, তাঁরা সেগুলোর ব্যাপারে আমাকে তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনী প্রদান করেছেন। তাঁদের প্রথমজন হলেন প্রাজ্ঞ শিক্ষক, আল্লামা, ফকিহ, মুহাক্কিক ফদিলতুশ শাইখ মুস্তাফা আজ-জারকা (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন ও তাঁর দ্বারা উপকৃত হওয়ার সুযোগ দিন), এবং অপরজন হলেন মহান শিক্ষক ও সূক্ষ্মদর্শী ফকিহ আল্লামা ফদিলতুশ শাইখ মুহাম্মাদ নাজি আবু সালিহ - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন - (১)।

তাঁদের প্রত্যেকেই এর কিছু বাক্যের ওপর নিজ নিজ মতামত প্রদান করেছেন। ফদিলতুশ শাইখ নাজি আবু সালিহ যে মতামত দিয়েছেন, তা কিছু পাঠের সংশোধন ও পরিমার্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বইটি অধ্যয়ন এবং এর বাক্য ও বিভাজনগুলোর পারম্পর্য রক্ষার জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন, ফলে তিনি মূল কপিতে বিদ্যমান বিকৃতি থেকে বেশ কিছু বাক্য সংশোধনের পথ খুঁজে পান। আল্লাহ তাআলা তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর সওয়াব ও সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করুন। তাঁরা যা প্রদান করেছেন তা আমি তাঁদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেছি।

এবং প্রথম সংস্করণের বইটিকে মরক্কোর সেই পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার অনুগ্রহ করেছেন যা আছে...

--------------------------------------------

(১) তিনি ১৪১১ হিজরি সনের ২১শে জিলহজ বুধবার রিয়াদ শহরে মহান আল্লাহ তাআলার রহমত ও তাঁর জান্নাতুল ফিরদাউসে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর জন্ম ১৩২৪ হিজরি সনে আলেপ্পো শহরে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে রহম করুন এবং তাঁর ওপর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৭)
الخزانة العامة في مدينة الرباط أمينُ المخطوطات فيها فضيلةُ الأخ الكريم والأستاذ الفاضل السيد إبراهيم الكَتَّاني - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - وأحسن إليه (1)، وسيأتي الحديث عن هذه المخطوطة.

وقد حَظِيَ هذا الكتاب: "الإِحكام" للقرافي - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -، بثناءِ وتقدير من كل من وقف عليه حين ظهر بحُلَّته القشيبة، وكتب إليَّ بذلك غيرُ واحد من العلماء الأفاضل، فأشكرهم على حسن ظنهم وجميل تقديرهم وثنائهم، وكان ممَّا حَظِيَ به في طبعته الأولى ثناءٌ وتقديرٌ كريمان، من عالم فاضل أمريكي مسلم، متخصص بدراسة الفقه المالكي، أخبرني بذلك منذ سنين بعيدة، الأخ الفاضل الأستاذ الشَّيخ نِظَام يعقوبي أحد علماء البحرين النابهين.

وكتبت له من قريب أستوضحه عن اسم هذا العالم الفاضل الأمريكي، فكتب إلي:

"في حوالي سنة 1979 - هـ 1980 م، زارنا بمدينة مونتريال في كندا، - وكان الأخ الشَّيخ نِظام في حينها متوجهاً للدراسات العلمية الكونية - الأخُ الفاضلُ الدكتور عمر فاروق عبد الله، وهو أخ مسلم أمريكي، من أسرة أمريكية عريقة من الأُسَر الأنجلوسكسونية، المشهورة في تاريخ القضاء الأمريكي، ويحمل الأخ شهادة الدكتوراه في الفقه المالكي، ورسالتُهُ تتعلق بـ (عَمَل أهل المدينة) في "موطأ مالك"، وتقع في مجلدين ضخمين باللغة الإِنجليزية، وهما عندي من أجَلِّ غُنْم.

فألقى الأخ الدكتور المذكور محاضرة في قسم الدراسات الِإسلامية بجامعتنا ماكجيل (Mc Gill)، تتعلق بالفقه الإِسلامي والفقه المالكي، وأشار ضمن المحاضرة إلى كتاب "الإِحكام" للقرافي، وقال: نتمنَّى أن تُحقَّق جميعُ كتبنا الفقهية والعلمية والتراثية، بهذا الأسلوب الذي اتبعه محققُ هذا الكتاب الشَّيخ

--------------------------------------------

(1) ولد الأستاذ السيد إبراهيم الكتاني بمدينة فاس بالمغرب 10 من رمضان سنة 1325 = 18/ 10/ 1907، وتوفي بمدينة الرباط 29 من ربيع الآخر سنة 1411 = 16/ 11/ 1990 رحمه الله تعالى وأكرمه بالفضل والإِحسان.
রাবাত শহরের সাধারণ গ্রন্থাগার (আল-খিজানাতুল আম্মা), সেখানকার পাণ্ডুলিপি রক্ষক ছিলেন সম্মানিত ভাই এবং গুণী অধ্যাপক জনাব ইব্রাহিম আল-কাত্তানি - মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন (১)। এই পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে।

আল-কারাফি - মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন - রচিত এই গ্রন্থটি: "আল-ইহকাম", যখন তার নতুন ও সুসজ্জিত রূপে আত্মপ্রকাশ করল, তখন যারা এটি দেখেছেন তারা সকলেই এর প্রশংসা ও মূল্যায়ন করেছেন। একাধিক গুণী আলেম আমাকে এ বিষয়ে পত্র লিখেছেন; তাঁদের এই সুধারণা এবং সুন্দর মূল্যায়ন ও প্রশংসার জন্য আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। প্রথম সংস্করণের সময় এটি যে প্রশংসা ও মূল্যায়ন লাভ করেছিল, তার মধ্যে ছিল মালিকি ফিকহ গবেষণায় বিশেষজ্ঞ একজন গুণী আমেরিকান মুসলিম আলেমের প্রশংসা। বহু বছর আগে বাহরাইনের বিশিষ্ট আলেমদের অন্যতম গুণী ভাই অধ্যাপক শায়খ নিজাম ইয়াকুবি আমাকে এ কথা জানিয়েছিলেন।

সম্প্রতি আমি তাঁর কাছে এই গুণী আমেরিকান আলেমের নাম জানতে চেয়ে লিখেছিলাম, তখন তিনি আমাকে লিখে পাঠালেন:

"১৯৭৯-১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ, কানাডার মন্ট্রিল শহরে আমাদের কাছে এসেছিলেন - শায়খ নিজাম তখন জাগতিক বিজ্ঞানের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেছিলেন - গুণী ভাই ডক্টর উমর ফারুক আবদুল্লাহ। তিনি একজন আমেরিকান মুসলিম ভাই, আমেরিকার বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে প্রসিদ্ধ এক প্রাচীন অ্যাংলো-স্যাক্সন পরিবারের সন্তান। এই ভাই মালিকি ফিকহ-এর উপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর গবেষণাটি ছিল 'মুয়াত্তা মালেক'-এ বর্ণিত (মদিনাবাসীদের আমল) সংক্রান্ত, যা ইংরেজি ভাষায় বিশাল দুই খণ্ডে রচিত। আমার নিকট এই দুই খণ্ড অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ।

উক্ত ডক্টর ভাই আমাদের ম্যাকগিল (Mc Gill) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শিক্ষা বিভাগে ইসলামি ফিকহ ও মালিকি ফিকহ সম্পর্কিত একটি বক্তৃতা প্রদান করেছিলেন। বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি আল-কারাফির 'আল-ইহকাম' গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: আমরা কামনা করি যে, আমাদের সমস্ত ফিকহী, বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থগুলো যেন এই গ্রন্থের সম্পাদক শায়খ যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, সেই পদ্ধতিতে সম্পাদিত হয়..."

--------------------------------------------

(১) অধ্যাপক জনাব ইব্রাহিম আল-কাত্তানি মরক্কোর ফাস শহরে ১৩২৫ হিজরির ১০ই রমজান মোতাবেক ১৮/১০/১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৪১১ হিজরির ২৯শে রবিউস সানি মোতাবেক ১৬/১১/১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে রাবাত শহরে ইন্তেকাল করেন। মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে স্বীয় অনুগ্রহ ও ইহসান দ্বারা সম্মানিত করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৮)
عبد الفتاح أبو غدة. وحضر ذلك الاجتماع جميع من المستشرقين وطلبة الدراسات العليا في الجامعة.

والدكتور الفاضل يقيم الآن في المملكة العربية السعودية، وهو يُدرِّس في جامعة الملك عبد العزيز بجُدة، يدرس فيها الثقافة الإِسلامية ومقارنة الأديان".

وصفُ النسخة المخطوطة الخامسة:

وقفتُ على نسخة خامسة من الكتاب في (الخزانة العامة) بالرباط في المغرب، تحت الرقم (2657 د)، في 120 صفحة من القطع الصغير، وكانت في مكتبة الشيخ محمد عبد السلام البَنَّاني، المفتي والمدرس بكلية الشريعة في جامعة القَرَويين بفاس - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -، وجاء العنوان فيها: (الإِحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام وتصرُّفِ القاضي والإمام)، وجاء في آخرها بخط كاتبها نفسِه قولُه: (اللَّهم يا عظيم المنة، هَبْ لكاتبه ومطالعه الجنة.

إذا رأيت عَيباً فسُدَّ الخَلَلا … جَلَّ مَنْ لا فِيهِ عَيْبٌ وَعَلَى

والله أعلم). وقد رمزتُ لهذه النسخةِ بحرف (ر).

وهذه النسخة فيها سَقَطُ جُمَلٍ وكلماتٍ في مواضع كثيرة، ولا تاريخ لها. ومعها كتاب "الأُمْنِيَّة في إدراك النية" للإمام القرافي أيضاً، وكلاهما مكتوبٌ بخطِّ مشرقي، يُقدَّرُ أنَّه من مكتوبات القرن العاشر أو بعده.

وهذه النسخة - على ما ذكرتُ فيها من سَقَط - استفدتُ منها استفادة جُلَّى، في تصحيح بعض العبارات التي كانت معرفة في النُّسَخ التي اعتمدتُ عليها، كما سيرى القارئ الإشارة إلى ذلك في بعض المواضع، ولم أشر إلى كلها، فالظاهر أنها منسوخة عن نسخة قويمة صحيحة، وقع فيها بعض الأسقاط والتحريفات، فرحم الله مالكها وكاتبها وواقفها برحمتِهِ الواسعة وغفرانه العظيم.

ولما وقفتُ عليها في 25 من رمضان عام 1387، لم يكن لدي متسَعٌ من الوقت لأقابلها كلَّها بتمامها، فقابلتُ أوَّلَها، ثم رجوتُ من الأخ الكريم المفضال
আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ। সেই সভায় প্রাচ্যবিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণা বিভাগের সকল ছাত্র উপস্থিত ছিলেন।

সম্মানিত ডক্টর বর্তমানে সৌদি আরব রাজ্যে বসবাস করছেন এবং তিনি জেদ্দায় অবস্থিত কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। সেখানে তিনি ইসলামি সংস্কৃতি ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব পড়ান।"

পঞ্চম পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:

আমি মরক্কোর রাবাতের (আল-খিজানাতুল আম্মাহ) বা সাধারণ গ্রন্থাগারে বইটির একটি পঞ্চম পাণ্ডুলিপি পেয়েছি, যার নম্বর ছিল (২৬৫৭ দ)। এটি ছোট আকারের ১২০ পৃষ্ঠার ছিল। এটি ফাস শহরের আল-কারাউইয়িন বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের মুফতি ও শিক্ষক শেখ মুহাম্মদ আব্দুল সালাম আল-বান্নানি - আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন - এর ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে ছিল। এতে শিরোনাম হিসেবে উল্লেখ ছিল: (আল-ইহকাম ফি তাময়িযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফিল কাদি ওয়াল ইমাম)। এর শেষে লেখকের নিজ হাতের লেখায় ছিল: (হে মহান অনুগ্রহকারী আল্লাহ, এর লেখক ও পাঠককে জান্নাত দান করুন।

যদি কোনো ত্রুটি দেখ তবে সেই ত্রুটি সংশোধন করে দিও … মহান তিনি যার মাঝে কোনো ত্রুটি নেই এবং তিনি সুউচ্চ।

আর আল্লাহই ভালো জানেন)। আমি এই পাণ্ডুলিপিকে (র) বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

এই পাণ্ডুলিপিতে অনেক জায়গায় বাক্য ও শব্দের বিচ্যুতি রয়েছে এবং এর কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। এর সাথে ইমাম আল-কারাফির 'আল-উমনিয়াহ ফি ইদরাকিন নিয়্যাহ' নামক গ্রন্থটিও রয়েছে। উভয়টিই মাশরিকি লিপিতে লেখা, যা সম্ভবত দশম হিজরি শতক বা তার পরবর্তী সময়ের লেখা।

এই পাণ্ডুলিপিটি—এতে উল্লিখিত বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও—আমি এটি থেকে ব্যাপক উপকৃত হয়েছি। বিশেষ করে আমি যে সকল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, সেগুলোর কিছু অস্পষ্ট বা বিকৃত বাক্যের সংশোধনে এটি কাজে লেগেছে। পাঠক কিছু স্থানে এর ইঙ্গিত দেখতে পাবেন, তবে আমি সব জায়গায় তা উল্লেখ করিনি। দৃশ্যত এটি কোনো সঠিক ও নির্ভুল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছিল, যার মধ্যে পরবর্তীতে কিছু বিচ্যুতি ও বিকৃতি ঘটেছিল। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রশস্ত রহমত ও মহান ক্ষমার মাধ্যমে এর মালিক, লেখক এবং ওয়াকফকারীকে রহম করুন।

যখন আমি ১৩৮৭ হিজরির ২৫শে রমজান এটি হাতে পাই, তখন আমার কাছে এটি সম্পূর্ণ মিলিয়ে দেখার মতো পর্যাপ্ত সময় ছিল না। তাই আমি এর শুরুটা মিলিয়ে দেখি এবং এরপর সম্মানিত ও মহৎ প্রাণের অধিকারী ভাইয়ের কাছে অনুরোধ করি...
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৯)
الأستاذ الشيخ السيد إبراهيم الكتاني أمين المخطوطات في (الخِزَانة العامة بالرِّباط) آنذاك، أن يتم مقابلتها متكرِّماً متَفضلاً، فجاد بذلك وأجاد، وأحسن وأتقن، وأعاد مقابلتها من الأول حتى الآخر، وأَثبَتَ لي على حواشي نسختي المطبوعة تلك الكلمات المغايراتِ والمزيداتِ، وأشار إلى الكلمات أو الجُمَل الناقصات، وانتهى من مقابلتها في 12 من شوال سنة 1387، فجزاه الله تعالى عني خيراً وأحسَنَ إليه أكرمَ إحسان.

وقد علَّمتني هذه النسخة أنَّ تأخُّرَ نَسْخ الكتاب المخطوط، لا يُلغي موضعَه من الإعتبار والتقديم، فلا يصح أن تكون النظرة عامةَ إلى كل نسخة متأخرة النَّسْخ والتاريخ: أنها نسخةٌ ضعيفةٌ متخلفةٌ عن الثقة بها والإعتمادِ عليها لتأخرها (1).

--------------------------------------------

(1) وقديماً نيَّة الكبارُ الأماثل، إلى مقام المتأخرين الأفاضل، وذكروا أن تأخرهم في الزمان، لا يُبعدهم عن احتلال عالي المكان، فنِعَمُ الله لا تُحصَرُ ولا تُحصى، ومَكارمُهُ على عباده وخَلْقِه لا تُستقصى:

1 - قال الإمام مُسلِمُ بن الحَجاج - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -، في مقدمته لكتابه "الصحيح" 1: 54 - وقد تحدَّثَ عن تفاضل الرواة في الحفظ والضبط ومزايا بعضهم على بعض في ذلك -:

"وإنَّما مثَّلنا هؤلاء في التَّسمية، ليكونَ تمثيلُهم سِمَةَ يَصْدُرُ عن فَهْمها مَنْ غَبِيَ عليه طريقُ أهل العلم في ترتيب أهلِه، فلا يُقَصَّرُ بالرجل، العالي القَدْر عن درجتِه، ولا يُرفَعُ مُتَّضِعُ القَدْر في العلم فوقَ منزلتِه، ويُعطَى فيه كلُّ ذي حَقٍّ فيه حَقِّه، ويُنزَّلُ منزلتَه".

2 - وقال الإمام مجدُ الدين الفَيْرُوز آبادي - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -، في مقدمته لكتابه "القاموس المحيط"، وهو يَتحدَّثُ عن فضل من ألَّفَ قبله في لغة العرب كالجوهري وغيره، وعن فضل كتابه "القاموس المحيط" على كتبهم، مع تباعد زمانه، وتأخر أوانه:

"قال أبو العباس المُبرِّدُ في أول كتابه "الكامل" وهو القائلُ المُحِقّ: ليس لقِدَم العهدِ يُفَضَّلُ الفَائل - الفائلُ بالفاء: المخطئُ، ووقع في طبعة (القاموس السنة 1406 محرَّفاً إلى (القائل) بالقاف، وهو تحريف فاحش! ولكنه مأنوس!! - ولا لحِدْثانِهِ يُهتَضَمُ المصيبُ، ولكن يُعطَى كلُّ ما يَستحقّ".

3 - وقال الإمام ابنُ مالك النَّحْويُّ صاحبُ "الألفية" في النحو - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -، في أول كتابه "التسهيل" في النحو وهو يُشير إلى تأخر زمانِه عن الأئمة السابقين، وتخلُّفِ علمه عن علم =
উস্তাদ শাইখ আস-সাইয়িদ ইব্রাহিম আল-কাত্তানি—যিনি সেই সময়ে (রাবাতের আল-খিজানাতুল আম্মাহ) পাণ্ডুলিপি বিভাগের প্রধান ছিলেন—দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শনপূর্বক এর পাঠ তুলনা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও নিপুণতার সাথে এই কাজ সম্পাদন করেন এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুনরায় পাঠ তুলনা করেন। তিনি আমার মুদ্রিত কপির মার্জিনে ভিন্নতর শব্দ ও অতিরিক্ত অংশসমূহ নিশ্চিত করেন এবং বাদ পড়া শব্দ বা বাক্যের দিকে ইঙ্গিত প্রদান করেন। তিনি ১৩৮৭ হিজরির ১২ই শাওয়াল এই পাঠ তুলনার কাজ সমাপ্ত করেন। আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর প্রতি শ্রেষ্ঠতম অনুগ্রহ করুন।

এই পাণ্ডুলিপিটি আমাকে শিখিয়েছে যে, কোনো পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করার সময়কাল বিলম্বিত হওয়া তার গ্রহণযোগ্যতা ও অগ্রগণ্যতাকে নাকচ করে দেয় না। সুতরাং পরবর্তী সময়ে অনুলিপি করা বা পরবর্তী সময়ের তারিখ সম্বলিত প্রত্যেক পাণ্ডুলিপিকেই দুর্বল এবং বিলম্বে লিখিত হওয়ার কারণে নির্ভরযোগ্যতা ও নির্ভরতার অযোগ্য মনে করা—এমন সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা সঠিক নয় (১)।

--------------------------------------------

(১) প্রাচীনকাল থেকেই মহান ও শ্রেষ্ঠ মনীষীগণ পরবর্তী যুগের গুণী ব্যক্তিদের মর্যাদার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, পরবর্তী সময়ে আসা তাঁদেরকে উচ্চ আসন লাভ করা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় না। কেননা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ গণনা করে শেষ করা যায় না এবং তাঁর বান্দা ও সৃষ্টির ওপর তাঁর অনুগ্রহের সীমা নেই:

১ - ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর "সহীহ" গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় (১:৫৪)—যেখানে তিনি বর্ণনাকারীদের মুখস্থ শক্তি ও নির্ভুলতার তারতম্য এবং এ ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে আলোচনা করেছেন—বলেছেন:

"আমরা কেবল উদাহরণের জন্য তাঁদের নাম উল্লেখ করেছি, যাতে করে তাঁদের এই উদাহরণ এমন একটি নিদর্শন হয় যা থেকে ওই ব্যক্তি সঠিক বুঝ লাভ করতে পারে যে আলেমদের স্তরবিন্যাসের ক্ষেত্রে ইলমধারীদের পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞ। ফলে যেন উচ্চ মর্যাদার অধিকারীকে তাঁর স্তর থেকে নামিয়ে দেওয়া না হয়, আবার ইলমের ক্ষেত্রে নিম্ন স্তরের কাউকে তাঁর মর্যাদার ওপরে উঠিয়ে দেওয়া না হয়। বরং ইলমের ক্ষেত্রে প্রত্যেক হকদারের হক আদায় করা হবে এবং তাকে তার যথাযথ স্থানে আসীন করা হবে।"

২ - ইমাম মাজদুদ্দীন আল-ফাইরূযাবাদী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর "আল-কামূস আল-মুহীত" গ্রন্থের মুকাদ্দিমায়—যেখানে তিনি তাঁর পূর্বে আরবী ভাষা নিয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন আল-জাওহারী ও অন্যান্যদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সময় অনেক পরে হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের কিতাবসমূহের ওপর তাঁর "আল-কামূস আল-মুহীত" কিতাবের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন—বলেছেন:

"আবু আব্বাস আল-মুবররিদ তাঁর 'আল-কামিল' গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন এবং তিনিই সঠিক বক্তা: প্রাচীন হওয়ার কারণে কোনো ভুলকারীকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হবে না, আর নতুন বা আধুনিক হওয়ার কারণে কোনো সঠিককারীকে অবজ্ঞা করা হবে না। বরং প্রত্যেককেই তার প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করা হবে।" (ফাইলের বানান ফা দিয়ে, যার অর্থ ভুলকারী; যা আল-কামূসের ১৪০৬ হিজরির সংস্করণে বিকৃত হয়ে ক্বাফ দিয়ে 'কাইল' বা বক্তা হয়ে গেছে, যা একটি জঘন্য বিকৃতি! তবে এটি বহুল প্রচলিত!!)

৩ - নাহু শাস্ত্রের "আলফিয়্যাহ"র লেখক ইমাম ইবনু মালিক আন-নাহবী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর "আত-তাসহীল" গ্রন্থের শুরুতে তাঁর সময়কাল পূর্ববর্তী ইমামদের থেকে পরে হওয়া এবং তাঁদের ইলমের তুলনায় তাঁর ইলম পিছিয়ে থাকা প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে বলেন—
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১০)
ثم وقفتُ في سنة 1404 في (مجلة معهد المخطوطات بالقاهرة)، في الجزء الأول من المجلد الحادي والعشرين ص 19، على وجود نسخة من "الإِحكام" للقرافي، المكتبة الوطنية بتونس، تحت الرقم (1345)، فطلبتُ من بعض أصدقائي من علماء تونس، أن يفحصها لي، ليَرى قيمتها من الثقة والضبط والإتقان، فأفادني بأنها: نسخة ضعيفة متأخرة، فرأيتُ الإِشارة إلى ذلك هنا للعلم بهذا.

وفي الختام: أحمدُ الله تعالى، الذي يسَّر لي خدمة هذا الكتاب على أحسنِ ما استطعت، وأرجو منه سبحانه أن يتقبله عملاً صالحاً ومتجراً رابحاً، ويَنفعُ به كل مفيد ومستفيد، وهو وليُّ التوفيق، والحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلَّم.

 

في تورنتو - كندا 25 من المحرَّم 1414

وكتبه

عبد الفتاح أبو غُدّة

--------------------------------------------

= الأعلام المتقدمين، وأنَّ ذلك لا يَمنع أن يكون لديه بقايا مزايا لم يُدرِكوها، وبعضُ فتوحاتٍ في علم العربية لم يُوهَبُوها:

"وإذا كانت العلومُ مِنَحاً إلَهيَّة، ومَوَاهِبَ اختصاصيَّة، فغيرُ مستبعَدٍ أن يُدَّخَرَ لبعض المتأخرين، ما عَسُرَ على كثير من المتقدمين، نعوذُ بالله من حَسَدٍ يَسُدُّ بابَ الإنصاف، ويَصُدُّ عن جميل الأوصاف". انتهى. وما أصدق قولَ القائل:

تَرَى الرجلَ النحيفَ فتزدريه … وفي أثوابه أَسَدٌ هَصُورُ

ويُعجبُك الطَرِيرُ فتبتليه … فيُخلِفُ ظَنَّك الرجلُ الطَّرِيرُ!

فلا يُستهان بالنسخة المتأخرة، ولا يُغالَى ويُبالَغ في النسخة المتقدمة، ولكن تُقوَّمُ كلٌّ منهما بما تستحق.
এরপর ১৪০৪ হিজরীতে আমি কায়রোর (পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট সাময়িকী)-র একুশতম খণ্ডের প্রথম অংশ, পৃষ্ঠা ১৯-এ কারাফীর "আল-ইহকাম" এর একটি পাণ্ডুলিপির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারি, যা তিউনিসিয়ার জাতীয় গ্রন্থাগারে ১৩৪৫ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত ছিল। অতঃপর আমি তিউনিসিয়ার আলেম বন্ধুদের মধ্যে একজনের কাছে অনুরোধ করি যেন তিনি আমার জন্য এটি পরীক্ষা করেন, যাতে এর নির্ভরযোগ্যতা, নির্ভুলতা এবং নিখুঁত হওয়ার মান যাচাই করা যায়। তিনি আমাকে জানান যে: এটি একটি দুর্বল ও পরবর্তী সময়ের পাণ্ডুলিপি। তাই এই বিষয়ে জ্ঞাত করার জন্য আমি এখানে এটি উল্লেখ করা সমীচীন মনে করলাম।

পরিশেষে: আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাকে আমার সাধ্যমতো সর্বোত্তমভাবে এই কিতাবটির খিদমত করার তাওফীক দান করেছেন। আমি তাঁর পবিত্র সত্তার কাছে আশা করি যেন তিনি এটিকে একটি নেক আমল এবং পরকালীন মুনাফাযুক্ত ব্যবসা হিসেবে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে প্রত্যেক হিতাকাঙ্ক্ষী ও শিক্ষার্থীকে উপকৃত করেন। তিনিই তাওফীক দাতা। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

টরন্টো - কানাডা ২৫ মুহাররম ১৪১৪

লিখেছেন

আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

--------------------------------------------

= পূর্ববর্তী প্রখ্যাত আলেমগণ; আর এটি কোনোভাবেই বাধা দেয় না যে, তাঁর কাছে এমন কিছু বিশেষত্বের অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে যা তারা অনুধাবন করতে পারেননি, এবং আরবী ভাষাবিজ্ঞানে এমন কিছু নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে যা তাদের প্রদান করা হয়নি:

"আর জ্ঞান যদি হয় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রতিভা, তবে পরবর্তী যুগের কারো জন্য এমন কিছু সঞ্চিত রাখা মোটেও অসম্ভব নয়, যা পূর্ববর্তী অনেক বড় আলেমদের কাছে কঠিন বা দুর্লভ মনে হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে এমন হিংসা থেকে আশ্রয় চাই যা ন্যায়ের পথ বন্ধ করে দেয় এবং উত্তম গুণের বর্ণনা দিতে বাধা দেয়।" সমাপ্ত। আর কবির এই কথাটি কতই না সত্য:

তুমি কোনো কৃশকায় ব্যক্তিকে দেখে তাকে অবজ্ঞা করো … অথচ তার পোশাকের অন্তরালে লুকিয়ে থাকে এক শিকারি সিংহ।

আর কোনো সুশ্রী ব্যক্তি তোমাকে মুগ্ধ করে, কিন্তু যখন তুমি তাকে পরীক্ষা করো … তখন সেই সুশ্রী ব্যক্তি তোমার প্রত্যাশার বিপরীত প্রমাণিত হয়!

সুতরাং পরবর্তী সময়ের পাণ্ডুলিপিকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়, আবার প্রাচীন পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি করা ঠিক নয়। বরং তাদের প্রত্যেকটিরই মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাদের যোগ্য ও যথাযথ মান অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تقدمة الطبعة الأولى:

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمدُ لله رب العالمين حمدَ الشاكرين، والصلاةُ والسلامُ على سيدنا محمد وعلى آلِهِ وصحبِهِ وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد فهذا كتابُ رفيعٌ فريدٌ في بابه، أجاد فيه مؤلِّفه الِإمامُ القَرافي أيَّما إجادة، وشرَحَ به حقائقَ من العلم كانت عَصِيَّة شاردةً تستعصي على فحولِ العلماء قبلَه، فطوَّعها وجعَلَها سهلةَ مأنوسةَ منضبطة، وألَّفها أحسنَ تأليف، ويسَّرَ منالَها لطُلابها بأسلوبِ سَهْل جَزْل، وجاء بالجديدِ الكثير من العلم الذي لم يكن مطروقاً من قبل، في الفقهِ والأصولِ وتاريخ التَّشريع، وملأ فراغاً لم يَقُم بمَلئِهِ سواه، ولا ينهضُ للقيام به إلَّا الأئمة الأفذاذ الموهوبون أمثالُ الِإمام القرافي - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -.

وتحدَّث في فاتحته عن سببِ تأليفِهِ فقال: "قد وقع بيني وبين الفضلاء مع تطاولِ الأيَّام مَباحِثُ في أمر الفَرْق بين الفُتْيَا التي تبقى معها فُتْيَا المُخالِف، وبين الحكم الذي لا يَنقُضُه المخالِف، وبين تصرُّفاتِ الحُكَّام وتصرُّفاتِ الأئمة … ، والْفَرْقِ بين الفتيا والحكم … ، وما حقيقةُ الحكمِ الذي يُنقَض والحكمِ الذي لا يُنقَض، وهل هو نفساني أم لِساني؟ وهل هو إخبار أم إنشاء؟ … ونظائرُ هذه المسائل كثير، يقَعُ السؤال عنها، فلا يُوجَدُ من يُجيبُ عن ذلك محرَّراً.

فأردتُ أن أضعَ هذا الكتابَ مشتمِلاً على تحرير هذه المطالب، وأوردُها أسئلةَ كما وقعَتْ بيني وبينهم. ويكونُ جوابُ كل سؤال عَقِيبَه، وأُنبِّهُ على غوامض تلك المواضع وفروعِها في الأحكام والفتاوى وتصرفات الأئمة. وسمَّيتُ هذا
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, কৃতজ্ঞদের ন্যায় তাঁর প্রশংসা করছি। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।

অতঃপর, এটি স্বীয় বিষয়ের এক সুউচ্চ ও অনন্য কিতাব, যাতে এর লেখক ইমাম কারাফি অত্যন্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ইলমের এমন কিছু বাস্তবতা ব্যাখ্যা করেছেন যা ইতিপূর্বে বড় বড় আলেমদের নিকটও ছিল দুরূহ ও অগোচর। তিনি সেগুলোকে সহজবোধ্য, সুশৃঙ্খল ও আয়ত্তাধীন করেছেন। তিনি একে সর্বোত্তমভাবে সংকলিত করেছেন এবং অত্যন্ত সাবলীল ও বলিষ্ঠ শৈলীতে শিক্ষার্থীদের জন্য তা অর্জন করা সহজ করে দিয়েছেন। তিনি ফিকহ, উসুল এবং শরীয়তের ইতিহাসের এমন অনেক নতুন ইলম নিয়ে এসেছেন যা আগে আলোচিত হয়নি। তিনি এমন এক শূন্যস্থান পূরণ করেছেন যা তিনি ব্যতীত অন্য কেউ করতে সক্ষম হয়নি; আর ইমাম কারাফি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতো বিরল ও প্রতিভাবান ইমামগণ ব্যতীত এ ধরণের কাজ আঞ্জাম দেয়া সম্ভবও নয়।

তিনি এর ভূমিকায় কিতাবটি রচনার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে আমার কিছু বিষয়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। যেমন—এমন ফাতওয়া যার সাথে বিরোধীর ফাতওয়াও বহাল থাকে, আর এমন বিচারবিভাগীয় রায় (হুকুম) যা বিরোধী পক্ষ নাকচ করতে পারে না—এ দুয়ের মধ্যকার পার্থক্য; বিচারকদের কার্যাবলি ও শাসকদের কার্যাবলির মধ্যকার পার্থক্য … , এবং ফাতওয়া ও হুকুমের মধ্যে পার্থক্য … , এছাড়া যে হুকুম নাকচ করা যায় এবং যে হুকুম নাকচ করা যায় না তার প্রকৃত রূপ কী? সেটি কি মনস্তাত্ত্বিক নাকি ভাষাগত? সেটি কি তথ্য প্রদানকারী (ইখবার) নাকি সৃষ্টিমূলক (ইনশা)? … এ ধরণের মাসআলার উদাহরণ অনেক, যা সম্পর্কে প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা হয়, অথচ এমন কাউকেও পাওয়া যায় না যিনি এর সুসংহত ও সুবিন্যস্ত উত্তর দিতে পারেন।

তাই আমি এই কিতাবটি রচনা করার সংকল্প করলাম যাতে এই বিষয়গুলোর সুসংহত বর্ণনা থাকবে। আমি এগুলোকে প্রশ্ন আকারে উপস্থাপন করেছি ঠিক যেভাবে আমাদের মাঝে আলোচিত হয়েছিল। প্রতিটি প্রশ্নের পর তার উত্তর উল্লেখ করেছি। বিচারিক রায়, ফাতওয়া এবং শাসকদের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ওই সকল বিষয়ের অস্পষ্টতা ও সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহ সম্পর্কে আমি সজাগ করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১২)
الكتابَ كتابَ "الإحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام وتصرُّفاتِ القاضي والإِمام". وعدَدُ الأسئلة أربعون سؤالاً". انتهى ملخصًا.

فهو كتابٌ في الذروة من العلم والبحث، على مستوى الأئمة الكبار من القضاة والمفتين وأعلام الدين. ومن أجل هذا أحببتُ خدمتَهُ والعناية به وإخراجَه للناس، في حُلَّة بهية تلاقي مقامَ الكتاب ومؤلِّفه، "وتُحلُّه المنزلةَ اللائقةَ به من نفوس أهل العلم. وأرجو أن أكون قد وُفقت إلى ما قصدتُ بفضل الله تعالى وعونه. وقد كان إخراجُه أُمنيَّةَ غالية في نفسي من حين أَن قرأته منذ عشر سنوات، حتى مَنَّ الله تعالى بذلك ويسَّر الأسباب، فله الحمدُ والشكر على فضله وتوفيقه.

 

‌‌أصول الكتاب وعملي فيه

لهذه الطبعة التي بين يديك أربعة أصولٍ خطية، أُجمِلُ وصفَها فيما يلي:

1 - مخطوطة مكتبة شيخ الِإسلام عارف حكمت - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - في المدينة المنورة. ورقمها فيها 3 فتاوى، في مجلد لطيف بقطع صغير في 50 ورقة، مذهَّبةَ العنوان تذهيباً خزائنياً. وهي بخطِّ إبراهيم بن نباتة، وعليها في كثير من حواشيها بلاغات تفيد أنها قُرئت وقُوبلت مرتين. وجاء في غير موضع منها على الحاشية لفظُ "وفي نسخة … "، ممَّا يفيد أنَّه كان بيد كاتبها نسختان. وقد بحثتُ طويلاً عن ترجمة له فلم أقف على شيء. ويُقدَّر أنها من مخطوطات القرن الثامن أو بعده بقليل، والله أعلم.

وهي مخطوطة جيدة صحيحة جداً، يَنْدُرُ فيها الخطأ أو التحريف، قابلتُ بها نسختي المستخلَصة المصححة من مخطوطة الأحمدية والأزهر ودار الكتب المصرية، فكانت هي أصحَّ منها جميعاً. قابلتُها بمعاونة ابن أخي الأستاذ الناهض البارع النجيب الشيخ عبد الستار أبو عدة في ثمانية مجالس، آخرها يوم الأحد 25 من ذي الحجة سنة 1385 في المدينة المنورة على ساكنها أفضل الصلاة والسلام. وهي من حيث الصحةُ والجودةُ تأتي في المرتبة الأولى.
বইটি হলো "আল-ইহকাম ফি তামিযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদি ওয়াল ইমাম" (বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্ত থেকে ফতোয়া এবং বিচারক ও রাষ্ট্রপ্রধানের কার্যাবলীর পার্থক্য নিরূপণ সংক্রান্ত বিধান)। প্রশ্নের সংখ্যা হলো চল্লিশটি।" সংক্ষেপে সমাপ্ত।

এটি জ্ঞান ও গবেষণার এক অনন্য উচ্চমার্গীয় গ্রন্থ, যা বড় মাপের ইমাম, বিচারক, মুফতি ও দ্বীনের দিকপালদের মানের উপযোগী। এই কারণেই আমি এর সেবা করতে, যত্ন নিতে এবং জনগণের সামনে এটি প্রকাশ করতে চেয়েছি, এমন এক সুন্দর অবয়বে যা গ্রন্থ ও এর লেখকের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং যা আলেমদের অন্তরে এর উপযুক্ত স্থান করে দেয়। আমি আশা করি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্যে আমি যা উদ্দেশ্য করেছি তাতে সফল হয়েছি। এটি প্রকাশ করা দশ বছর আগে এটি পড়ার সময় থেকেই আমার মনের একটি অত্যন্ত মূল্যবান আকাঙ্ক্ষা ছিল, অবশেষে মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং এর উপায়সমূহ সহজ করে দিয়েছেন। তাঁর করুণা ও তাওফীকের জন্য সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই প্রাপ্য।

 

‌‌গ্রন্থের মূল পাণ্ডুলিপিসমূহ এবং এতে আমার কাজ

আপনার হাতে থাকা এই সংস্করণটির জন্য চারটি পাণ্ডুলিপি ব্যবহৃত হয়েছে, যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

১ - মদিনা মুনাওয়ারার শায়খুল ইসলাম আরিফ হিকমত -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি। এর ক্যাটালগ নম্বর হলো ৩ ফতোয়া, এটি একটি ছোট আকারের সুন্দর ৫০ পৃষ্ঠার খণ্ডে সংরক্ষিত, যার শিরোনাম রাজকীয় কারুকার্যখচিত সোনালী বর্ণের। এটি ইব্রাহিম বিন নুবাতার হস্তাক্ষরে লিখিত, এবং এর অনেক পার্শ্বটীকায় এমন সব পাঠ-সংকেত রয়েছে যা নির্দেশ করে যে এটি দুবার মূলের সাথে মিলিয়ে পাঠ করা হয়েছে। এর টীকায় একাধিক স্থানে "অন্য একটি কপিতে..." শব্দগুচ্ছটি এসেছে, যা প্রমাণ করে যে লেখকের কাছে দুটি কপি বিদ্যমান ছিল। আমি দীর্ঘ সময় এই লেখকের জীবনী অনুসন্ধান করেছি কিন্তু কিছুই পাইনি। ধারণা করা হয় এটি অষ্টম হিজরি শতাব্দীর বা তার কিছু পরের পাণ্ডুলিপি, আল্লাহ ভালো জানেন।

এটি একটি অত্যন্ত উন্নত ও সঠিক পাণ্ডুলিপি, যাতে ভুল বা বিকৃতি অত্যন্ত বিরল। আমি আহমাদিয়া, আল-আজহার এবং মিশরের দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি থেকে প্রস্তুতকৃত আমার সংশোধিত পাঠ্যের সাথে এটি মিলিয়েছি, এবং এটি সেগুলোর সবগুলোর চেয়ে অনেক বেশি সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। আমি আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, বিচক্ষণ ও মেধাবী উস্তাদ শেখ আবদুস সাত্তার আবু গুদ্দাহর সহযোগিতায় আটটি মজলিসে এটি মিলিয়ে দেখেছি, যার সর্বশেষটি ছিল ১৩৮৫ হিজরির ২৫শে জিলহজ রবিবার মদিনা মুনাওয়ারায়—যার অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। নির্ভুলতা ও গুণগত মানের দিক থেকে এটি প্রথম স্থানে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
2 - مخطوطة المكتبة الأحمدية في بلدنا حلب. وهي ضمن مجموع في كتب الحديث الشريف، رقمه 306. جاء في آخرها: "وكان الفراغُ من تعليقه في شهر صفر من شهور سنة ثمان وثلاثين وسبع مئة، والحمد لله رب العالمين، وصلواته وسلامه على سيدنا محمد". وبجانبه في الصفحة ذاتها بقلم ناسخها نفسِهِ وبحبرِ مغاير ما صورته "بلغَتْ المُعَارضَةُ له مطالعةَ مع مراجعةِ المنقولِ منه، وكان فيه سُقمٌ، فصَحَّتْ هذه النسخة بحسب الإِمكان ولله الحمد والمنة".

وناسخُها قد كتَبَ اسمَه في آخر كتابِ "الأمنيَّة في إدراكِ النيَّة" للقرافي أيضاً، الذي هو في المجموع المذكور بخطّه أيضاً بعلى كتاب "الإِحكام"، فقال: "ووافَقَ الفراغُ منه ليلةَ الخميس المبارك من شهرِ صفر، من شهور سنة ثمان وثلاثين وسبع مئة، وكتبه العبد الفقير إلى الله تعالى عبدُ الرحمن بنُ عباس بن عبد الرحمن".

فهو قد نسَخَ هذين الكتابين: "الإِحكام" و"الأُمنية" في شهر واحد هو صَفَر، كانسَخَ قبلَهما في الشهر الذي قبله المحرَّم: كتابَ "تأويل مختلِف الحديث" لابن قتيبة، وهو أوَّلُ كتابِ في المجموع المذكور، جاء فيه باسم "كتابُ الردّ على من قال بتناقُضِ الحديث وعابَ أهلَهُ". وفَرَغ منه كما قال: "ووافق الفراغُ منه في شهر الله المحرَّم من شهور سنة ثمان وثلاثين وسبع مئة". وقد بحثت كثيراً عن ترجمة له فلم أقف على شيء. فلعله كان ناسخاً محترفاً؟ والله أعلم.

وهذا ما يَغلِبُ على الظنّ، فقد وَقَفْتُ له على كتابِ بخطه أيضاً، في زيارتي للمغرب في صيف عام 1388، في خزانة الأستاذ السيد ناصر الكتاني - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -، في مدينة الرباط بالمغرب الأقصى، وهو "شرح مقدمة ابن الحاجب في النحو". وقد كتبه كلَّه بخطه وفَرَغ منه كما قال في آخره: "تمَّ شَرْحُ المقدمة في النحو بحمدِ الله وحسن توفيقه، والصلاةِ والسلام على خير خلقه محمدِ وآلِهِ أجمعين، عام 748 ثاني ذي الحجة بحلب المحروسة". انتهى.
২ - আমাদের শহর আলেপ্পোর (হালাব) আহমাদিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি। এটি হাদিস শরিফের কিতাবসমূহের একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত, যার নম্বর ৩০৬। এর শেষে বর্ণিত হয়েছে: "এটি অনুলিপি করার কাজ সমাপ্ত হয়েছে সাতশত আটত্রিশ হিজরি সনের সফর মাসে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর।" একই পৃষ্ঠায় এর পার্শ্বে খোদ অনুলিপিকারীর কলমে ভিন্ন কালিতে যা লেখা আছে তার অনুলিপি হলো: "মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে এর পাঠ ও পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে কিছু ত্রুটি ছিল, ফলে সাধ্যানুযায়ী এই পাণ্ডুলিপিটি সংশোধন করা হয়েছে। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ।"

অনুলিপিকারি কারাফি রচিত 'আল-উমনিয়্যাহ ফি ইদরাকিন নিয়্যাহ' কিতাবটির শেষেও নিজের নাম লিখেছেন, যা উক্ত সংকলনে 'আল-ইহকাম' কিতাবটির সাথে তাঁর নিজের হাতের লেখাতেই বিদ্যমান। তিনি বলেছেন: "এটি লিখে শেষ করার সময়টি ছিল সাতশত আটত্রিশ হিজরি সনের বরকতময় সফর মাসের বৃহস্পতিবার রাত। এটি লিখেছেন মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা আবদুর রহমান বিন আব্বাস বিন আবদুর রহমান।"

সুতরাং তিনি এই দুটি কিতাব—'আল-ইহকাম' ও 'আল-উমনিয়্যাহ'—একই মাসে অর্থাৎ সফর মাসে অনুলিপি করেছেন। যেভাবে তিনি এর পূর্ববর্তী মাস মহররমে ইবনে কুতাইবাহ রচিত 'তাউইলু মুখতালিফিল হাদিস' কিতাবটি অনুলিপি করেছিলেন। এটি উক্ত সংকলনের প্রথম কিতাব, যা সেখানে 'কিতাবুর রাদ্দি আলা মান কালা বিতানাকুদিল হাদিসি ওয়া আবা আহলাহু' (হাদিসের বৈপরীত্যের প্রবক্তা ও হাদিসবিদদের সমালোচকদের জবাব) নামে এসেছে। তিনি এটি শেষ করার ব্যাপারে যেমনটি বলেছেন: "এটি সম্পন্ন করার সময়টি ছিল সাতশত আটত্রিশ হিজরি সনের আল্লাহর মাস মহররম।" আমি তাঁর জীবনী সম্পর্কে অনেক অনুসন্ধান করেছি কিন্তু কিছুই পাইনি। সম্ভবত তিনি একজন পেশাদার অনুলিপিকারি ছিলেন? আল্লাহই ভালো জানেন।

এটিই প্রবল ধারণা। কেননা আমি ১৩৮৮ হিজরির গ্রীষ্মকালে মরক্কো সফরকালে রাবাত শহরে উস্তাদ সাইয়্যেদ নাসের আল-কাত্তানি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—এর পাঠাগারে তাঁর হাতের লেখা আরেকটি কিতাব পেয়েছি। সেটি হলো নাহু শাস্ত্রের 'শারহু মুকাদ্দিমাতি ইবনিল হাজিব'। তিনি এটি সম্পূর্ণ নিজের হাতে লিখেছেন এবং এর শেষে যেমনটি বলেছেন সে অনুযায়ী এটি শেষ করেছেন: "আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর উত্তম তাওফিকে নাহু শাস্ত্রের মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যা সম্পন্ন হলো। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ এবং তাঁর সকল পরিজনের ওপর। এটি ৭৪৮ হিজরি সনের ২রা জিলহজ সুরক্ষিত শহর আলেপ্পোতে (হালাব) সম্পন্ন হয়েছে।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولم يَذكُر فيه اسمَه كما هو ظاهر، غيرَ أن الورَقَ وحَجْمَه وتلوينَهُ ونوعَهُ والخَطَّ وقاعدَتَهُ كلها مماثلةٌ تمامَ المماثلة لما في مجموعِ الأحمدية المشار إليه.

ومخطوطةُ الأحمدية هذه عدَدُ صفحاتها 75 صفحة من القطع الصغير، وخطُّها جيد، يَندُرُ فيها الخطأ، وتغلبُ عليها الصحة، ووقع فيها نقصُ ورقة قبل الصفحة الأخيرة من الكتاب. وهي من حيث الصحةُ والجودةُ تأتي في المرتبة الثانية. وهي قريبةُ العهد بالمؤلف بين نَسْخِها ووفاتِهِ 54 سنة. وقد استفدتُ منها كثيراً في تصحيح الأغلاط، واستدراك الأسقاط، وتصويب التحاريف.

3 - مخطوطة مكتبة الأزهر، رَقْمُها فيها في فقه السادة المالكية 1766، عروسي عمومية 42298، كتبها محمد بن محمد بن عبد الباقي الخالدي المالكي سنة 1005 من الهجرة، في 55 ورقة، ومسطرتها 21 سطراً 20 سم. وهي نسخة جيدة مصححة بعناية، كما كتبه لي الأستاذ الدكتور الشيخ نور الدين عِتر الحلبي، وقد رجوت منه أن يقابل نسختي المقابلة بمخطوطة الأحمدية بالنسختين المحفوظتين في مكتبة الأزهر، فتفضل مشكوراً بمقابلتها بالنسخة المذكورة. وقال عن النسخة الثانية التي رقمها في فقه السادة المالكية أيضاً 801، عمومية 12601 المكتوبة سنة 1238 في 42 ورقة،: "قابلتُ بها صدرَ الكتاب لأسطر معدودة، ولم أتابع المقابلة بها لكثرة غلطهما وقربِ عهد كتابتها". وتأتي مخطوطةُ الأزهر التي جرت المقابلة بها من حيث الصحة والجودة في المرتبة الثالثة.

4 - مخطوطةُ دار الكتب المصرية ذات الرقم الخصوصي 21، والعمومي 1850 من كتب فقه السادة المالكية، قلمُها عادي، وفرغ منها ناسخها الذي لم يُسمَّ في 11 من صفر سنة 1173. وهي نسخة سقيمة جداً، مملوءة بالأغلاط الفاحشة والتحريضات العجيبة والسَّقْطِ الكثير بحيث لا تخلو صفحة من صفحاتها عن ذلك. وهي من حيث الصحة والجودة تأتي في المرتبة الرابعة والأخيرة.

وعن هذه النسخة طُبع الكتاب منذ ثلاثين سنة، في عام 1357 بمطبعة الأنوار بالقاهرة، وقام بطبعه الأستاذ عزَّت العطَّار، واشتغل بتحقيقه الأستاذ
সেখানে স্পষ্টতই তার নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে কাগজ, এর আকার, রং, ধরন, লিপি এবং এর মূল ভিত্তি—সবই উল্লিখিত আহমাদিয়া সংকলনের সঙ্গে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

এই আহমাদিয়া পাণ্ডুলিপিটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ৭৫, যা ছোট আকারের। এর লিপি সুন্দর, এতে ভুল নেই বললেই চলে এবং এর শুদ্ধতার বিষয়টিই প্রবল। তবে গ্রন্থের শেষ পৃষ্ঠার আগে একটি পাতার ঘাটতি রয়েছে। শুদ্ধতা ও গুণগত মানের দিক থেকে এটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এটি লেখকের সময়ের কাছাকাছি সময়ের; এর অনুলিপি তৈরি এবং লেখকের মৃত্যুর মধ্যে ব্যবধান ৫৪ বছর। ভুল সংশোধন, বাদ পড়া অংশ সংযোজন এবং বিকৃতি সংশোধনের ক্ষেত্রে আমি এটি থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি।

৩ - আজহার লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি। মালিকি ফিকহ বিভাগে এর নম্বর ১৭৬৬, আরুসি সাধারণ নম্বর ৪২২৯৮। হিজরি ১০০৫ সালে মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-খালিদি আল-মালিকি এটি লিখেছিলেন। এটি ৫৫টি পাতায় বিন্যস্ত এবং এর প্রতি পৃষ্ঠায় ২১টি লাইন ও ২০ সেমি দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট। এটি একটি উন্নত মানের কপি যা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংশোধন করা হয়েছে, যেমনটি আমাকে প্রফেসর ডক্টর শায়খ নূরুদ্দীন ইতর আল-হালাবি লিখেছেন। আমি তাকে অনুরোধ করেছিলাম যেন তিনি আমার কপিটি—যা আহমাদিয়া পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছিল—আজহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেন। তিনি অনুগ্রহ করে উল্লেখিত পাণ্ডুলিপিটির সাথে এটি মিলিয়ে দেন। তিনি দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি সম্পর্কে বলেন—মালিকি ফিকহ বিভাগে যার নম্বর ৮০১ এবং সাধারণ নম্বর ১২৬০১, যা ১২৩৮ হিজরিতে ৪২টি পাতায় লেখা হয়েছিল—: "আমি এর সাথে বইয়ের শুরুর মাত্র কয়েক লাইন মিলিয়ে দেখেছি, কিন্তু প্রচুর ভুল এবং এটি সাম্প্রতিক সময়ের লেখা হওয়ার কারণে আমি মেলানোর কাজ আর চালিয়ে যাইনি।" আজহারের যে পাণ্ডুলিপিটির সাথে মেলানো হয়েছে, সেটি শুদ্ধতা ও গুণগত মানের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

৪ - দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপি। মালিকি ফিকহ বিভাগে এর বিশেষ নম্বর ২১ এবং সাধারণ নম্বর ১৮৫০। এর লিপি সাধারণ। ১১৭৩ হিজরির ১১ই সফর জনৈক অজ্ঞাতনামা লিপিকার এর কাজ শেষ করেন। এটি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ একটি কপি, যা জঘন্য ভুল, অদ্ভুত বিকৃতি এবং প্রচুর বাদ পড়া অংশে পরিপূর্ণ; এমনকি এর কোনো পৃষ্ঠাই এসব থেকে মুক্ত নয়। শুদ্ধতা ও গুণগত মানের দিক থেকে এটি চতুর্থ তথা সর্বশেষ স্থানে রয়েছে।

এই কপিটি থেকেই আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে ১৩৫৭ হিজরিতে কায়রোর আনোয়ার প্রেসে বইটি মুদ্রিত হয়েছিল। এটি প্রকাশ করেছিলেন উস্তাদ ইজ্জাত আল-আত্তার এবং এর তাহকিকের কাজে নিয়োজিত ছিলেন উস্তাদ...
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
القاضي الشيخ محمود عرنوس - رَحِمَهُمَا اللهُ تَعَالَى -. وقد اعتذر الشيخ عرنوس في ختام المطبوعة عما وقع فيها من تحريفات وأخطاء بقوله: "صادفتنا عقبات أثناء طبع الكتاب لقلة أصوله، وكثرة التحريف في الموجود منها، لذلك كله نعتذر إلى حضرات القراء إذا صادفهم ما يؤاخذ عليه".

وعلى كل حال فالفضل ثابت لهما بإخراج الكتاب من عالم المخطوطات إلى أيدي القراء وأنظارهم، فجزاهما الله خيراً وإحساناً على ذلك. وبلغت صفحات تلك الطبعة 81 صفحة من القطع الكبير.

وقد وازنت بين هذه الأصول الأربعة عند اختلافها، واخترت أصحَّها وأجودها فأثبته، وتركت ما عداه ممَّا هو خطأ أو ضعيف. ولم أستحسن أن أعتمد نسخة بعينها ثم أشير إلى المغايرات بينها وبين غيرها كما يفعله بعضهم، فإن الغاية أن يقدَّم للقارئ نسخة صحيحة أو أقربُ ما تكون إلى الصحة، لا تقديمُ نسخة بعينها ومَلْءُ الحواشي بذكر مغايرات سواها، ويكون فيها الغثُّ والسمين والغلطُ والصحيح، ممَّا يَقطع على القارئ فكرَهُ ويشوش عليه فَهْمَه.

وأشرت في بعض المواضع إلى توافق النسخ في الخطأ أو التكرار أو النقص أو التقديم والتأخير، وأغفلت الإشارة في مواضع أخرى وقع فيها أحَدُ هذه الأنواع من الخَلَل، لئلا أثقل على الحواشي بما لا فائدة فيه للقارئ سوى أن يلمح الجهود التي بذلها المعتني بإخراج الكتاب.

وكثرةُ التوافق بين الأصول الأربعة في الخطأ … تشير إلى أنها هي أو أصولها نُسخت من أمّ واحدة، ثم ازدادت تلك الفروع سلامةً أو تحريفًا، بحسب ماتيشَر لها من عالم نابه أو ناسخ ماسخ. ولذا كثيراً ما تركتُ ما جاء في الأصول كلها، وأثبتُ ما هو الصواب ونبهتُ على ذلك كما تراه في ص 158 و 192 و 199 و 200 وغيرها.

وقد صحَّحتُ بعضَ الأخطاء الواقعة في الأصول من النقول المأخوذة عن هذا الكتاب في "تبصرة الحكام" لإبن فرحون و "مُعين الحكام" لعلاء الدين
বিচারক শেখ মাহমুদ আরনাস - আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন। শেখ আরনাস মুদ্রিত সংস্করণের শেষে এতে থাকা বিকৃতি ও ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছেন: "পাণ্ডুলিপির স্বল্পতা এবং বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলোতে প্রচুর বিকৃতি থাকার কারণে বইটি মুদ্রণের সময় আমরা অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছি। তাই পাঠকদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী যদি তারা এমন কিছুর সম্মুখীন হন যা ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়।"

যা-ই হোক, পাণ্ডুলিপির জগত থেকে বইটি বের করে পাঠকদের হাতে এবং দৃষ্টির সামনে নিয়ে আসার কৃতিত্ব তাঁদের প্রাপ্য। আল্লাহ তাঁদের এর জন্য কল্যাণ ও উত্তম প্রতিদান দান করুন। সেই সংস্করণের পৃষ্ঠাসংখ্যা ছিল বড় আকারের ৮১ পৃষ্ঠা।

আমি এই চারটি মূল পাণ্ডুলিপির মধ্যে পার্থক্যের সময় সেগুলোর মধ্যে তুলনা করেছি এবং সবচেয়ে সঠিক ও উন্নত পাঠটি বেছে নিয়ে তা সাব্যস্ত করেছি। ভুল বা দুর্বল পাঠগুলো বর্জন করেছি। আমি কোনো একটি নির্দিষ্ট পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করে অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তার পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করাকে সমীচীন মনে করিনি, যেমনটি কেউ কেউ করে থাকেন। কারণ মূল লক্ষ্য হলো পাঠকের কাছে একটি নির্ভুল অথবা নির্ভুলতার সবচেয়ে নিকটবর্তী পাঠ উপস্থাপন করা; কোনো একটি নির্দিষ্ট পাণ্ডুলিপি উপস্থাপন করে পাদটীকাগুলোকে অন্যান্য পাঠভেদে ভরিয়ে দেওয়া নয়, যেখানে অসার ও সারগর্ভ এবং ভুল ও শুদ্ধ উভয়ই বিদ্যমান থাকে, যা পাঠকের চিন্তাধারাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং তার উপলব্ধিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

আমি কিছু স্থানে পাণ্ডুলিপিগুলোর ভুল, পুনরাবৃত্তি, ঘাটতি কিংবা আগে-পিছে হওয়ার ক্ষেত্রে ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছি। আবার অন্য কিছু স্থানে এই ধরনের ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি, যাতে পাদটীকাগুলোতে এমন বিষয়ের বোঝা না বাড়ে যাতে পাঠকের জন্য কোনো উপকার নেই; কেবল বইটি সম্পাদনায় নিয়োজিত ব্যক্তির প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেওয়া ছাড়া।

ভুল পাঠের ক্ষেত্রে এই চারটি মূল পাণ্ডুলিপির মধ্যে অধিক মিল থাকার বিষয়টি … নির্দেশ করে যে, এই পাণ্ডুলিপিগুলো অথবা এগুলোর মূল কপিগুলো একটিমাত্র মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই শাখাগুলো কোনো বিজ্ঞ আলিম কিংবা কোনো অযোগ্য লিপিকারের হাতে পড়ার ওপর ভিত্তি করে উত্তরোত্তর নির্ভুলতা অথবা বিকৃতির দিকে এগিয়েছে। এই কারণে অনেক ক্ষেত্রেই আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর পাঠ বর্জন করে সঠিকটি সাব্যস্ত করেছি এবং সে বিষয়ে সতর্ক করেছি, যেমনটি আপনি ১৫৮, ১৯২, ১৯৯, ২০০ এবং অন্যান্য পৃষ্ঠায় দেখতে পাবেন।

আমি ইবনে ফারহুন রচিত "তাবসিরাতুল হুক্কাম" এবং আলাউদ্দীন রচিত "মুঈনুল হুক্কাম" গ্রন্থদ্বয়ে এই কিতাবটি থেকে নেওয়া উদ্ধৃতিগুলোর সাহায্যে পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান কিছু ভুল সংশোধন করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
الطرابلسي. وما يزال في الكتاب أخطاء لم أهتد إليها أو لم أوفق إلى تصويبها، وقد أشرتُ إلى بعضها، وعسى الله أن ييسر لي الوصول إلى نسخة مخطوطة معتمدة أصح من النسخ التي وقفت عليها؟ فأستدرك ما بقي في الكتاب من أخطاء في طبعته الثانية، إن شاء الله تعالى.

وقد تمَّ ذلك التصويبُ والتصحيحُ بفضل الله وعونه، إذْ يسَّر لي الوقوف على النسخة الخامسة، التي تقدم وصفُها في (تقدمة الطبعة الثانية) في ص 8، فأغناني ذكرُ حالها هناك عن ذكر حالها هنا.
আত-তরাবুলুসি। আর এই কিতাবে এখনও এমন কিছু ভুল রয়ে গেছে যা আমি খুঁজে পাইনি অথবা সেগুলো সংশোধন করতে সক্ষম হইনি, আর আমি সেগুলোর কিছু অংশের দিকে ইঙ্গিত করেছি। আশা করি আল্লাহ আমার জন্য এমন একটি নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি অর্জন সহজ করে দেবেন যা আমার কাছে বিদ্যমান কপিগুলোর চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ হবে? ফলে আমি কিতাবে অবশিষ্ট ভুলগুলো এর দ্বিতীয় মুদ্রণে সংশোধন করে নেব, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

আর আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর সাহায্যে সেই সংশোধন ও পরিমার্জন সম্পন্ন হয়েছে, যেহেতু তিনি আমার জন্য পঞ্চম পাণ্ডুলিপিটি পাওয়া সহজ করে দিয়েছেন, যার বর্ণনা ৮ নম্বর পৃষ্ঠায় (দ্বিতীয় মুদ্রণের ভূমিকা)-তে গত হয়েছে, ফলে সেখানে এর অবস্থার বর্ণনা আমাকে এখানে তা উল্লেখ করা থেকে অমুখাপেক্ষী করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌تسمية الكتاب وتاريخ تأليفه

اختلفت العبارات في تسميته اختلافاً كثيراً، فجاء الإسمُ في فواتح أكثر النسخ المخطوطة وخواتمها هكذا: "الإِحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام وتصرُّفِ القاضي والإمام". وجاء في "الفروق" للمؤلِّف على أنحاء متعددة، ففي 1: 3 و 51، و 2: 104، و 4: 6 "الإِحكام في الفَرْق بين الفتاوى والأحكام وتصرُّفِ القاضي والإمام"، وجاء مثله تماماً في آواخر كتابه "شرح تنقيح الفصول في الأصول" ص 196 في "الفصل السابع في نقض الإجتهاد".

وجاء في "الفروق" أيضاً 2: 106 و 4: 48 "الإِحكام في الفَرْق بين الفتاوى والأحكام". ومثلُه في "التبصرة" لإبن فرحون طبعة سنة 1321، 1: 16 و 2: 60، و "مُعين الحكام" للطرابلسي طبعة سنة 1300 ص 126. وفي 4: 54 من "الفروق" أيضاً "الإحكام في الفتاوى والأحكام وتصرُّفِ القاضي والإِمام".

وجاء في "التبصرة" أيضاً 1: 56 و 58 و 281، و "معين الحكام" ص 27 "الإحكام في تمييز الفتاوى والأحكام". وجاء في فتاوى الشيخ عِليش المسماة "فتح العلي المالك" 1: 58 "الإحكام في تمييز الفُتْيَا عن الأحكام وتصرُّفِ القاضي والإِمام".

وظاهر أن أكثر هذه التسميات يقوم على الرمز والإشارة إلى اسم الكتاب، لا على تحقيق اسمه الكامل. وأتمُّ هذه التسميات وأدقُّها الصيغةُ الأولى التي جاءت في فواتح أكثر النسخ المخطوطة وخواتمها. وأتمُّ منها دقةً ما جاء في فاتحة مخطوطة دار الكتب المصرية وهو "الإحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام وتصرُّفاتِ القاضي والإمام". وهي التي اخترتُ إثباتها على وجه الكتاب، لما فيها
গ্রন্থের নামকরণ এবং এর রচনার ইতিহাস

গ্রন্থটির নামকরণের বর্ণনায় প্রচুর মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। অধিকাংশ পাণ্ডুলিপির প্রারম্ভে এবং শেষে নামটিকে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: "ফাতওয়া হতে বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ এবং বিচারক ও ইমামের কার্যপরিধির পার্থক্য নিরূপণে আল-ইহকাম"। লেখকের "আল-ফুরুক" গ্রন্থে এটি বিভিন্নভাবে এসেছে; যথা ১: ৩ ও ৫১, ২: ১০৪ এবং ৪: ৬ পৃষ্ঠায় এসেছে: "ফাতওয়া ও বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ এবং বিচারক ও ইমামের কার্যপরিধির পার্থক্যের বিবরণে আল-ইহকাম"। একইভাবে তাঁর "শারহু তানকিহিল ফুসুল ফিল উসুল" গ্রন্থের শেষভাগে ১৯৬ পৃষ্ঠায় "ইজতিহাদ বাতিল হওয়া সংক্রান্ত সপ্তম পরিচ্ছেদে" এটি অবিকল একইভাবে এসেছে।

"আল-ফুরুক"-এর ২: ১০৬ এবং ৪: ৪৮ পৃষ্ঠায় আরও এসেছে "ফাতওয়া ও বিচারিক সিদ্ধান্তের পার্থক্যের বিবরণে আল-ইহকাম"। ইবন ফারহুনের "আত-তাবসিরাহ" (১৩২১ হিজরি মুদ্রণ), ১: ১৬ ও ২: ৬০ পৃষ্ঠায় এবং তারাবলুসীর "মুইনুল হুককাম" (১৩০০ হিজরি মুদ্রণ), ১২৬ পৃষ্ঠায়ও অনুরূপ এসেছে। এছাড়া "আল-ফুরুক"-এর ৪: ৫৪ পৃষ্ঠায় এসেছে "ফাতওয়া, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং বিচারক ও ইমামের কার্যপরিধি বিষয়ক আল-ইহকাম"।

"আত-তাবসিরাহ"-এর ১: ৫৬, ৫৮ ও ২৮১ পৃষ্ঠায় এবং "মুইনুল হুককাম"-এর ২৭ পৃষ্ঠায় এসেছে "ফাতওয়া ও বিচারিক সিদ্ধান্তের পার্থক্য নিরূপণে আল-ইহকাম"। শেখ ইলিশের ফাতাওয়া যা "ফাতহুল আলি আল-মালিক" নামে অভিহিত, তার ১: ৫৮ পৃষ্ঠায় এসেছে "বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং বিচারক ও ইমামের কার্যপরিধি হতে ফাতওয়াকে পৃথকীকরণে আল-ইহকাম"।

স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, এই নামগুলোর অধিকাংশ গ্রন্থের নামের প্রতি ইঙ্গিত বা ইশারা মাত্র, নামের পূর্ণাঙ্গ রূপের যাচাই নয়। এই নামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক হলো প্রথম রূপটি, যা অধিকাংশ পাণ্ডুলিপির প্রারম্ভে ও শেষে উল্লেখ করা হয়েছে। এর চেয়েও নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ হলো মিসরীয় দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপির শুরুতে যা এসেছে, তা হলো: "ফাতওয়া হতে বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ এবং বিচারক ও ইমামের কার্যাবলীর পার্থক্য নিরূপণে আল-ইহকাম"। আমি এটিকেই গ্রন্থের শিরোনাম হিসেবে সাব্যস্ত করার জন্য নির্বাচন করেছি, কারণ এতে...
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
من جمعِ (التصرُّفاتِ) المفيدِ تنويعاً ما لا يفيده لفظُ (التصرُّفِ) بالإِفراد والمنسجِم مع الجمع في قولهِ: (في تمييز الفتاوى عن الأحكام)، والله أعلم.

وهكذا سَمَّاه الإمامُ أحمدُ بن يَحْيَى الوَنْشَرِيشيُّ في كتابه "المِعيار المُعْرِب" 12: 6، فقال: " … ذكره القرافي في كتاب الإِحكام، في تمييز الفتاوى عن الأحكام، وتصرُّفاتِ القاضي والإِمام"، ثم نَقَلَ منه السؤالَ الثَّاني والعشرين.

وقد عَبَّرَ المؤلفُ نفسُه في مقدمة الكتاب بلفظ (التصرُّفات) أكثَرَ من مرَّة، فقال: "وقد وقع بيني وبين الفضلاء مباحثُ في أمر الفَرْقِ بين تصرُّفاتِ الحُكَّام وتصرُّفاتِ الأئمة"، ثم قال في آخر المقدمة: "وأُنبِّهُ على غوامضِ تلك المواضع وفروعها في الأحكام والفتاوى وتصرُّفاتِ الأئمة". انتهى فهذا منه يَدْعَمُ إثباتَ لفظِ (وتصرُّفاتِ الِإمام) بالجمع بَدَلَ (وتصرُّفِ …). والله أعلم.

ثم إنَّ تسمية هذا الكتاب وإن طالت، ليست من باب الإطالة المعهودة في بعض كتب ساداتنا المالكية والمغاربة، بل كل لفظِ فيها له دلالة مستقلة لا يغني عنها سواه وذلك مستحسنٌ منه لإفادته (1).

أما تاريخُ تأليف الكتاب فلم يُذكَر في النسخ المخطوطة التي وقفت عليها، ولكنَّ الجزم قائم بأنه ألَّفه قبل كتابه "الفروق"، فقد ذكره في مواضع منه وسمَّاه كتابًا وأثنى عليه ثناء كريماً. فقال في 1: 3 "وتقدَّمَ لي قبل هذا - أي قبلَ كتابِ

--------------------------------------------

(1) وإليك عناوين بعض الكتب التي طالت فيها الأسماء حتى لا يمكن استظهارُها كاملةَ: فللِإمام الوَنْشَرِيشي التِّلِمْسَاني أحمد بن يَحْيَى، المولود سنة 834، والمتوفى سنة 914 - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - كتابُ: "المَنْهَجُ الفائق، والمَنْهَلُ الرائق، والمَعْنَى اللائق، بأدَبِ المُوَثِّق وأحكام الوَثَائق"، وللحافظ الكَلَاعي سليمان بن موسى الأندلسي المتوفى سنة 634 "مَيْدَانُ السابقين، وحَلْبَةُ الصادقين المصدَّقين، في ذكر الصحابة الأكرمين، ومن في عِدادِهم بإدراك العهد الكريم، من أكابر التّابعين"، و "مُفاوَضَةُ القلب العليل، ومُنَابَذَةُ الأمَل الطَّويل، على طريقة أبي العلاء المَعَرِّي في مَلْقَى السبيل"، وقد حُرِّفَ اسمُ هذين الكتابين تحريفًا فاحشاً في "الاكتفا في مَغازي المصطفى" ص (ط)، بتحقيق الأستاذ مصطفى عبد الواحد وفي "الديباج المُذْهَب" 1: 386 بتحقيق الدكتور محمد الأحمدي.
'তসররুফাত' (পদক্ষেপসমূহ) শব্দটিকে বহুবচনে ব্যবহারের মাধ্যমে এমন এক বৈচিত্র্যময় অর্থ অর্জিত হয় যা শব্দটিকে একবচনে ব্যবহার করলে অর্জিত হতো না। এটি তাঁর ‘ফতোয়াকে বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্ত থেকে পৃথকীকরণ’ বক্তব্যের বহুবচন ব্যবহারের সাথেও সংগতিপূর্ণ। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

ইমাম আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারীশী তাঁর ‘আল-মি‘ইয়ার আল-মুরিবে’ (১২:৬) কিতাবটির এই নামকরণই করেছেন। তিনি বলেছেন: “ … কারাফী এটি আল-ইহকাম কিতাবে উল্লেখ করেছেন, যা ফতোয়াকে বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্ত এবং কাজী ও ইমামের পদক্ষেপসমূহ (তসররুফাত) থেকে পৃথকীকরণ বিষয়ে রচিত।” অতঃপর তিনি সেখান থেকে বাইশতম মাসয়ালাটি উদ্ধৃত করেছেন।

স্বয়ং লেখকও কিতাবের ভূমিকায় একাধিকবার ‘তসররুফাত’ (পদক্ষেপসমূহ) শব্দটি বহুবচনে ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন: “বিচারকদের পদক্ষেপসমূহ এবং ইমামদের পদক্ষেপসমূহের মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে আমার ও বিজ্ঞজনদের মাঝে আলোচনা হয়েছে।” অতঃপর ভূমিকার শেষে তিনি বলেছেন: “এবং আমি বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্ত, ফতোয়া এবং ইমামদের পদক্ষেপসমূহের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর অস্পষ্টতা ও তার শাখা-প্রশাখাগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। সুতরাং লেখকের এই বক্তব্য ‘ওয়াতাসাররুফাতিল ইমাম’ (ইমামের পদক্ষেপসমূহ) অংশটিকে একবচনের পরিবর্তে বহুবচনে … সাব্যস্ত করার বিষয়টিকেই সমর্থন করে। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

অধিকন্তু, এই কিতাবের নাম দীর্ঘ হলেও তা আমাদের মালেকী মাশায়েখ ও মাগরেবের পণ্ডিতদের কিছু কিতাবে সচরাচর দেখা যাওয়া দীর্ঘ নামকরণের মতো নিছক দীর্ঘায়ন নয়; বরং এর প্রতিটি শব্দের স্বতন্ত্র অর্থ রয়েছে যা অন্য কোনো শব্দ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। লেখকের পক্ষ থেকে এটি একটি উত্তম কাজ হয়েছে, কারণ এটি অত্যন্ত তথ্যবহুল (১)।

কিতাবটি রচনার তারিখের কথা বলতে গেলে, আমি যে পাণ্ডুলিপিগুলো দেখেছি সেগুলোতে তার উল্লেখ নেই। তবে বিষয়টি সুনিশ্চিত যে, তিনি এটি তাঁর ‘আল-ফুরূক’ কিতাবের পূর্বে রচনা করেছেন। কেননা তিনি উক্ত কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এর উল্লেখ করেছেন, একে একটি স্বতন্ত্র কিতাব হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর প্রভূত প্রশংসা করেছেন। তিনি ১:৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন, “এর পূর্বে আমার পক্ষ থেকে অতিক্রান্ত হয়েছে—অর্থাৎ এই কিতাবের পূর্বে—”

--------------------------------------------

(১) এখানে এমন কিছু কিতাবের শিরোনাম দেওয়া হলো যেগুলোর নাম এতো দীর্ঘ যে তা পূর্ণাঙ্গভাবে মুখস্থ রাখা সম্ভব নয়: ইমাম ওয়ানশারীশী তিলিমসানী আহমাদ বিন ইয়াহইয়া (জন্ম ৮৩৪ হি., মৃত্যু ৯১৪ হি. - আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন) এর কিতাব: ‘আল-মানহাজুল ফাইক, ওয়াল মানহালুর রাইক, ওয়াল মানাল লাইক, বি-আদাবিল মুওয়াসসিক ওয়া আহকামিল ওসায়িক’। এবং হাফেজ কালা‘ঈ সুলাইমান বিন মুসা আল-আন্দালুসী (মৃত্যু ৬৩৪ হি.) এর কিতাব: ‘মাইদানুস সাবিকীন, ওয়া হালবাতুস সাদিকীনাল মুসাদ্দিকীন, ফী জিকরিস সাহাবাতিল আকরামীন, ওয়া মান ফী ইদাদিহিম বি-ইদরাকিল আহদিল কারীম, মিন আকাবিরিত তাবি‘ঈন’। এবং ‘মুফাওয়াজাতুল কালবিল আলীল, ওয়া মুনাবাজাতুল আমালিত তউীল, আলা তরীকতি আবিল ‘আলা আল-মা‘আররী ফী মালকাস সাবীল’। ‘আল-ইকতিফা ফী মাগাজিল মুসতফা’ (পৃষ্ঠা - ত্ব) কিতাবে—যা উস্তাদ মুস্তাফা আব্দুল ওয়াহিদ সম্পাদনা করেছেন—এবং ডক্টর মুহাম্মদ আল-আহমাদীর সম্পাদনায় ‘আদ-দিবাজুল মুজাহহাব’ (১:৩৮৬) কিতাবে এই শেষোক্ত কিতাব দুটির নাম মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
الفروق - كتابٌ لي سمَّيته كتاب الإِحكام في الفرق بين الفتاوى والأحكام وتصرُّفِ القاضي والإمام، ذكررتُ فيه أربعين مسألة جامعة لأسرار الفروق، وهو كتاب مستقل يُستغنَى به عن الإِعادة هنا، فمن شاء طالع ذلك الكتاب فهو حسَنٌ في بابه".

وقال في 1: 51 و 4: 6 - 7 "وهو كتاب نفيس". وفي 2: 104 - 105 "وهو كتاب جليل في هذا المعنى" أي المعنى الذي تضمَّنه اسمُ الكتاب. وفي 2: 106 " … ومن فَهِمَ الفرقَ بين المفتي والحاكم، وأنَ حُكمَ الحاكم … لكن لما كان الفرق خفياً جداً، حتى إنِّي لم أجد أحداً يحققه … فهذا هو الفرق بين قاعدة الخلاف قبل الحكم وبين قاعدته بعد الحكم. ومن أراد استيعابه فليقف على كتاب "الإِحكام في الفرق بين الفتاوى والأحكام" فليس في ذلك الكتاب إلَّا هذا الفرق، لكنَّه مبسوط في أربعين مسألة منوعة، حتى صار المعنى في غاية الضبط والجلاء". انتهى. وكتابُهُ "الفروق" خالٍ من تاريخ فراغِهِ من تأليفِهِ في النسخةِ المطبوعة.

وجاء في آخر كتابه "شرح تنقيح الفصول في الأصول" قولُه: "وكان الفراغ من تأليفه يوم الإثنين لتسعِ ليالٍ مَضَتْ من شهرِ شعبان سنة سبع وسبعين وسِتِّ مئة". انتهى. فيكون تأليفُهُ كتابَ "الإِحكام" قبلَ سنة 677، وقد كانت وفاته سنة 684 - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -.

وقد رأيتُ من المناسب أثناء اشتغالي بخدمة الكتاب أن أربط بينه وبين كتاب "الفروق"، فأشرتُ إلى كثير من المواطن التي تتلاقى فيها أبحاثُ الكتابين إذا كان في ذلك فائدة للقارئ المستزيد، وعلَّقتُ بعض عبارات "الفروق، في بعض المواطن، إذ رأيتُ من الأفيدِ نقلَها، وعزوتُها إلى مواضعها من الكتاب المذكور.

وربطتُ بين هذا الكتاب والكتب التي نقَلَتْ عنه وخاصة كتابَ "تبصرة الحكام في أصول الأقضية ومناهج الأحكام" للقاضي ابن فرحون المدني المالكي المتوفى سنة 799 - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -، وكتابَ "مُعين الحكام فيما يتردد بين الخصمين من الأحكام" للقاضي علاء الدين الطرابلسي الحنفي المتوفى سنة 844
আল-ফুরূক - আমার একটি কিতাব রয়েছে যার নাম আমি দিয়েছি ‘কিতাবুল ইহকাম ফীল ফারকি বাইনাল ফাতাওয়া ওয়াল আহকাম ওয়া তাসাররুফিল কাদি ওয়াল ইমাম’ (ফতোয়া, বিচারিক রায় এবং বিচারক ও ইমামের কর্মপদ্ধতির মধ্যকার পার্থক্যের বিধানসমূহ)। এতে আমি চল্লিশটি মাসআলা উল্লেখ করেছি যা পার্থক্যের রহস্যগুলোকে একত্রিত করেছে। এটি একটি স্বতন্ত্র কিতাব যা এখানে পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে; সুতরাং যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে সে যেন ঐ কিতাবটি পাঠ করে, এটি তার নিজ বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকার।"

এবং তিনি ১: ৫১ এবং ৪: ৬-৭ এ বলেছেন, "এটি একটি মূল্যবান কিতাব"। এবং ২: ১০৪-১০৫ এ বলেছেন, "এটি এই বিষয়ে একটি মহান কিতাব", অর্থাৎ কিতাবটির নামের অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে। এবং ২: ১০৬ এ বলেছেন, " … আর যে ব্যক্তি মুফতি এবং বিচারকের মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে পেরেছে, এবং বিচারকের রায় যে … কিন্তু যেহেতু এই পার্থক্যটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিল, এমনকি আমি একে সুচারুভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেন এমন কাউকে পাইনি … মূলত এটিই বিচারিক রায়ের পূর্বের মতভেদের মূলনীতি এবং রায়ের পরের মূলনীতির মধ্যকার পার্থক্য। আর যে ব্যক্তি এটি পূর্ণাঙ্গভাবে জানতে চায় সে যেন ‘আল-ইহকাম ফীল ফারকি বাইনাল ফাতাওয়া ওয়াল আহকাম’ কিতাবটি অধ্যয়ন করে। কেননা ঐ কিতাবে কেবল এই পার্থক্যটিই রয়েছে, তবে তা চল্লিশটি বিবিধ মাসআলায় বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, যার ফলে বিষয়টি অত্যন্ত সুসংহত ও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।" সমাপ্ত। আর তার ‘আল-ফুরূক’ কিতাবটির মুদ্রিত কপিতে এটি রচনার সমাপ্তির কোনো তারিখ নেই।

তার ‘শারহু তানকীহিল ফুসুল ফিল উসুল’ কিতাবের শেষে তার এই উক্তিটি এসেছে: "এটি রচনা সমাপ্ত হয়েছিল ৬৭৭ হিজরি সনের শাবান মাসের নয় রাত অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিনে।" সমাপ্ত। সুতরাং ‘আল-ইহকাম’ কিতাবটি রচনা করা হয়েছে ৬৭৭ হিজরির পূর্বে, আর তার মৃত্যু হয়েছিল ৬৮৪ হিজরি সনে - আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

আর এই কিতাবটি নিয়ে কাজ করার সময় আমি সংগত মনে করেছি যে, এর সাথে ‘আল-ফুরূক’ কিতাবটির একটি যোগসূত্র স্থাপন করি। তাই আমি এমন অনেক স্থানের প্রতি ইঙ্গিত করেছি যেখানে উভয় কিতাবের আলোচনাগুলো পরস্পর মিলে যায়, যদি তাতে অধিক অনুসন্ধিৎসু পাঠকের জন্য কোনো উপকার থাকে। এবং আমি কিছু স্থানে ‘আল-ফুরূক’ এর কিছু উদ্ধৃতির ওপর টীকা প্রদান করেছি যখন আমি সেটির বর্ণনা দেওয়া অধিক উপকারী মনে করেছি, এবং সেগুলোকে উল্লিখিত কিতাবের মূল অনুচ্ছেদের সাথে সম্পৃক্ত করেছি।

এবং আমি এই কিতাবের সাথে ঐ সকল কিতাবের যোগসূত্র স্থাপন করেছি যেগুলো এখান থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছে, বিশেষ করে কাদি ইবনে ফারহুন মাদানি মালিকি (মৃত্যু ৭৯৯ হি.) - আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন - রচিত ‘তাবসিরাতুল হুক্কাম ফী উসূলিল আকদিয়্যা ওয়া মানাহিযিল আহকাম’ এবং কাদি আলাউদ্দীন তারাবলুসি হানাফি (মৃত্যু ৮৪৪ হি.) রচিত ‘মুঈনুল হুক্কাম ফীমা ইয়াতারাদ্দাদু বাইনাল খাসমাইন মিনাল আহকাম’ কিতাবটির সাথে।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২০)
- رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -. وأشرت إلى النقول المأخوذة فيهما عن كتاب "الإحكام"، ففي ذلك فائدة حسنة للباحثين. وقد سطا الطرابلسي - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - على كثير من أبحاث كتاب ابن فرحون دون أن يعزوها إليه، كما أشرتُ إلى ذلك في مواضع متعددة من التعليقات، فسامحه الله وإيانا.

والعزو إلى هذين الكتابين يتبعه رقمانِ بينهما فاصلة، فالرقمُ الأول بعد "تبصرة الحكام" يشار به إلى الطبعة البهية المطبوعة بالقاهرة سنة 1302، والرقمُ الثاني بعد الفاصلة يشار به إلى طبعة مطبعة التقدم العلمية المطبوعة بالقاهرة سنة 1321 على حواشي فتاوى الشيخ عِليش المسماة "فتح العلي المالك". والرقمُ الأول بعد "مُعين الحكام" يشار به إلى الطبعة البولاقية المطبوعة بالقاهرة سنة 1300، والرقمُ الثاني بعد الفاصلة يشار به إلى الطبعة الميمنية المطبوعة بالقاهرة سنة 1310. وإذا لم يكن بعد الكتابين المذكورين أو أحدهما إلَّا رقم واحد فمُفادُه اتحادُ الطبعتين في رقم الصفحة المشار إليها. وإنَّما فعلتُ هذا تيسيراً على مقتني إحدى الطبعتين من هذين الكتابين.

وعلَّقتُ بإيجاز حيناً وبإسهاب حيناً على مواضع من الكتاب موضِّحاً أو مصححاً. وعزوتُ الآياتِ الكريمة إلى سُوَرها، وخرَّجتُ الأحاديث الشريفة من مصادرها، وبيَّنتُ منزلتها من الصحة والثبوت، وترجمتُ للأعلام الذين ورد ذكرهم في الكتاب، ليكون القارئ على استنارة بمعرفة منزلة العالم الذي يقول رأياً لنفسه، أو يحكي رأياً عن غيره، وصحَّحتُ ما وقع فيه من تحريف أو خَلَل ما أمكنني ذلك.

وفصَّلتُ جُمَلَه وجعلته مقاطع قصيرة تيسيراً لقراءته وفهمه، وصنعتُ له محتوى للآيات والأحاديث والأعلام والمصادر والأبحاث. واجتهدت ما استطعتُ في تجويده وتزويقه وتيسيره. وها هوذا جهدي بين يدي القارئ فلا أطيلُ ببيانه، والله المسؤول أن يتقبله عملاً صالحاً لديه، وييسِّرَ النفعَ به، وأن يوفقنا سبحانه لخدمة دينه وشريعته الغراء فذلك الفضل العظيم.
- আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন -। আমি সেই দুই গ্রন্থে 'আল-ইহকাম' গ্রন্থ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতিগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, যা গবেষকদের জন্য এক উত্তম উপকার বয়ে আনবে। আত-তারাবলুসি - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন - ইবন ফারহুন-এর গ্রন্থের অনেক গবেষণালব্ধ বিষয় তার দিকে সম্বন্ধ না করেই ব্যবহার করেছেন, যেমনটি আমি টীকা-টিপ্পনীর বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছি। আল্লাহ তাকে ও আমাদের ক্ষমা করুন।

এই দুই গ্রন্থের হাওয়ালার ক্ষেত্রে দু’টি সংখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে যাদের মাঝে কমা রয়েছে। 'তাবসিরাত আল-হুক্কাম'-এর পর প্রথম সংখ্যাটি কায়রোর আল-মাতবাআ আল-বাহিয়্যাহ থেকে ১৩০২ হিজরিতে মুদ্রিত সংস্করণকে নির্দেশ করে এবং কমার পরের দ্বিতীয় সংখ্যাটি কায়রোর মাতবাআ আত-তাকাদ্দুম আল-ইলমিয়্যাহ থেকে ১৩২১ হিজরিতে শায়খ আলিশ-এর ফাতাওয়াগ্রন্থ 'ফাতহুল আলি আল-মালিক'-এর হাশিয়ায় মুদ্রিত সংস্করণকে নির্দেশ করে। 'মুঈন আল-হুক্কাম'-এর পর প্রথম সংখ্যাটি কায়রোর আল-মাতবাআ আল-বুলাকিয়্যাহ থেকে ১৩০০ হিজরিতে মুদ্রিত সংস্করণকে নির্দেশ করে এবং কমার পরের দ্বিতীয় সংখ্যাটি কায়রোর আল-মাতবাআ আল-মাইমানিয়্যাহ থেকে ১৩১০ হিজরিতে মুদ্রিত সংস্করণকে নির্দেশ করে। যদি উল্লিখিত দুই কিতাব বা তার কোনো একটির পরে কেবল একটি সংখ্যা থাকে, তবে তার অর্থ হলো উভয় সংস্করণের পৃষ্ঠা নম্বর একই। আমি এটি করেছি যাতে এই কিতাব দুটির যেকোনো একটি সংস্করণের অধিকারীদের জন্য সুবিধা হয়।

আমি বইটির বিভিন্ন স্থানে কখনো সংক্ষেপে আবার কখনো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা প্রদান বা সংশোধনের উদ্দেশ্যে টীকা যুক্ত করেছি। আমি পবিত্র আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে সম্বন্ধ করেছি এবং হাদিসগুলোকে তাদের মূল উৎস থেকে তাখরিজ করেছি এবং তাদের বিশুদ্ধতা ও প্রামাণিকতা স্পষ্ট করেছি। কিতাবে উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচিতি তুলে ধরেছি যাতে পাঠক কোনো আলেম যখন নিজস্ব মতামত প্রদান করেন বা অন্যের থেকে বর্ণনা করেন তখন তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। আমি সাধ্যমতো এর বিকৃতি বা ত্রুটিসমূহ সংশোধন করেছি।

আমি এর বাক্যগুলোকে বিন্যস্ত করেছি এবং পাঠ ও অনুধাবনের সুবিধার্থে ছোট ছোট অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি। এতে আয়াত, হাদিস, বিশিষ্ট ব্যক্তি, উৎস এবং গবেষণাসমূহের নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি। কিতাবটিকে মানসম্পন্ন, সুন্দর ও সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। পাঠকের সামনে এখন আমার এই শ্রমের ফসল বিদ্যমান, তাই এর বর্ণনায় আর দীর্ঘ করছি না। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন একে তাঁর নিকট নেক আমল হিসেবে কবুল করেন, এর দ্বারা উপকার লাভ সহজ করে দেন এবং আমাদের তাঁর দ্বীন ও উজ্জ্বল শরিয়তের খেদমতের তাওফিক দান করেন। আর সেটিই হলো মহান অনুগ্রহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌ترجمة المؤلف

هو الِإمام شهاب الدين أبو العباس أحمد بن إدريس بن عبد الرحمن الصِّهْناجيُّ الأصل، المِصريُّ القرافيُّ المالكي، الفقيه الأصولي المفسِّر المتكلِّم النَّظَّار المتفنِّن المشارك الأديب. ولد بمصر سنة 626 كما قاله في كتابه؛ العقد المنظوم في الخصوص والعموم" في الباب الثالث منه: "ونَشْأَتي ومَوْلِدي بمصر سنة 626 ست وعشرين وست مئة". ونقله العلامة محمد جُعَيط التونسي في أول حاشيته على "شرح تنقيح الفصول" 1: 7 وكما ذُكِرَ في "كشف الظنون" 1153:2 و "هدية العارفين" 1: 99.

وسببُ شهرته بالقرافي أنَّه كان إذا خرج من منزله في دَيْر الطِّين بمصر القديمة ذاهباً إلى المدرسة، مَرَّ في طريقه بمقبرة تُسمَّى: القَرافة. وحدَثَ أنَّ كاتب أسماء الطلبة في ثَبَت سماعهم للكتاب عند الفراغ منه لم يَعرف اسمَه، وكان هو حينئذٍ غائبًا، فأثبته باسم القَرافي، لإعتياده المجيء من تلك الطريق، فلزمَتْهُ هذه النسبة واشتهر بها. هذا ما حكاه ابن فرحون في ترجمته في "الديباج المُذْهَب".

وقال القرافي نفسُهُ غيرَ هذا في كتابه "العِقد المنظوم في الخصوص والعموم" إذ قال فيه: ؤالبابُ الثالثُ في صِيَغ العموم المستفادةِ من النقل العُرْفي دون الوضع الُّلغَوي، وهذا البابُ يكون العموم فيه مستفاداً من النقل خاصة، وذلك هو أسماء القبائل التي كان أصلُ تلك الأسماء فيها لأشخاصِ معينة من الآدميين، كتميم وهاشم، أو لامرأةِ كالقَرَافة، فإنَّه اسم لجَدَّةِ القَبِيلَة المسماة بالقَرَافَة.

ونزلَتْ هاته القَبِيلةُ بصُقْع من أصقاع مصر لما اختطها عَمْرو بن العاص ومن
লেখকের জীবনী

তিনি হলেন ইমাম শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইদ্রিস ইবনে আব্দুর রহমান, মূলত সিহনাজি বংশোদ্ভূত, মিশরীয়, কারাফি, মালিকি; ফকিহ, উসুলবিদ, মুফাসসির, কালামশাস্ত্রবিদ, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক, বহুবিদ্যায় পারদর্শী ও সাহিত্যিক। তিনি ৬২৬ হিজরিতে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাব ‘আল-ইকদুল মানযুম ফিল খুসুস ওয়াল উমুম’-এর তৃতীয় পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন: "আমার বেড়ে ওঠা এবং জন্ম মিশরে ৬২৬ (ছয়শত ছাব্বিশ) হিজরি সনে।" আল্লামা মুহাম্মদ জুয়াইত তিউনিসি তাঁর ‘শারহু তানকিহিল ফুসুল’-এর হাশিইয়ার শুরুতে (১: ৭) এটি উদ্ধৃত করেছেন, এবং যেভাবে এটি ‘কাশফুয যুনুন’ (২: ১১৫৩) ও ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ (১: ৯৯)-এ উল্লিখিত হয়েছে।

তাঁর 'কারাফি' হিসেবে প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো, তিনি যখন প্রাচীন মিশরের দাইরুত তীন-এ অবস্থিত তাঁর ঘর থেকে মাদরাসার উদ্দেশ্যে বের হতেন, তখন পথে ‘কারাফা’ নামক একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন। একবার এমন হলো যে, কোনো একটি কিতাব পাঠ সম্পন্ন হওয়ার পর ছাত্রদের শ্রবণ-সনদ নথিবদ্ধ করার সময় লেখক তাঁর নাম জানতেন না। তিনি তখন অনুপস্থিত ছিলেন, ফলে লেখক তাঁকে ‘কারাফি’ নামে নথিবদ্ধ করেন, যেহেতু তিনি নিয়মিত ওই পথ দিয়ে আসতেন। এরপর থেকে এই উপনামটি তাঁর নামের সাথে অবিচ্ছেদ্য হয়ে যায় এবং তিনি এতেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। ইবনে ফারহুন ‘আদ-দীবাজুল মুযাহহাব’-এ তাঁর জীবনীতে এটিই বর্ণনা করেছেন।

তবে কারাফি স্বয়ং তাঁর কিতাব ‘আল-ইকদুল মানযুম ফিল খুসুস ওয়াল উমুম’-এ এর ভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: "তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক কাঠামোর বাইরে প্রচলিত ব্যবহারের (নকলি উরফি) মাধ্যমে অর্জিত ব্যাপকতাবোধক শব্দাবলি। এই পরিচ্ছেদে শব্দের ব্যাপকতা কেবল লোকপরম্পরায় ব্যবহারের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর তা হলো এমন সব গোত্রের নাম, যাদের নামের মূল উৎস ছিল নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, যেমন তামীম ও হাশেম; অথবা কোনো নারী, যেমন কারাফা। কারণ ‘কারাফা’ হলো এই নামে পরিচিত গোত্রটির জনৈক প্রপিতামহীর নাম।"

এই গোত্রটি মিশরের একটি অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল যখন আমর ইবনুল আস এটি জয় করার পর এর পত্তন করেছিলেন এবং...
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২২)
معه من الصحابة رضي الله عنهم أجمعين -، فعُرِف ذلك الصُقع بالقرافَة، وهو الكائن بين مصر وبِركة الأشراف والمسمَّى بالقرافة الكبيرة.

واشتهاري بالقَرافي ليس لأني من سُلالة هذه القبيلة بل للسُّكنى بالبقعة الخاصة مُدَةَ يسيرة، فاتفق الإشتهارُ بذلك، وإنما أنا من صِنهاجة الكائنة في قُطر مُرَّاكش بأرض المغرب ونشأتي ومولدي بمصر". نقله العلامة جُعَيط التونسي في أول حاشيته على "شرح تنقيح الفصول" 1: 6 - 7. فهو المعتَمدُ في بيان سبب نسبته باسم القرافي لا سِوَاه.

وقد آتاه الله من المواهب الفذة النادرة ما أهَّله أن يتلقى العلم عن فحول علماء عصره، وأئمة جهابذة دهره. ومن أشهر شيوخه الِإمامُ عز الدين بن عبد السلام الشَّافعي الملقَّب بسلطان العلماء، والِإمامُ شرف الدين محمد بن عمران الشَّهير بالشريف الكَرْكي، وقاضي القضاة شمس الدين أبو بكر محمد بن إبراهيم بن عبد الواحد الِإدريسي، والشيخ شمس الدين الخُسْرُوشَاهِي، والإِمام جمال الدين ابن الحاجب، وغيرُهم - رَحِمَهُمْ اللهُ تَعَالَى -.

وقد لازَمَ الشيخَ عزِّ الدين بنَ عبد السلام وأخَذَ عنه أكثر فنونه، واقتبَسَ منه العقليةَ العلمية، والفكرَ الحُرَّ المتزنَ المستنير. وكان الشيخ عز الدين قَدِمَ من الشام إلى مصر سنة 639، وكان القرافي حينذاك في مطلع شبابه يبلغ من العمر نحو 15 عامًا، فلازمه حتى وفاته سنة 660 نحوَ عشرين سنة.

وقد مَلَك الشيخُ عليه قلبَه ولُبَّه، بغزارة علمه، وثقابة ذهنه، ومتانة دينه، وقوة شخصيته، وبسالته في نُصرة الحق، وكريم تواضعه وورعه وفضله، فألقى القرافيُّ إليه بالمقاليد، ونَهَل منه وعَلَّ، وأكثر النقلَ والحديثَ عنه في كتبه، وأثنى عليه في كل مناسبة في مواضع كثيرة من تآليفه ثناءَ المرتوي من منهله، والعابِّ من بحر علمه الغزير النَّمِير، فقال في كتابه "الفروق" 2: 197 في آخر الفرق (95) بعد أن تحدَّثَ عن قاعدة من قواعد الشريعة، ودفَعَ ما يَرِدُ عليها من إشكالات قال:
তাঁর সঙ্গে থাকা সাহাবীগণ—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর মাধ্যমে সেই অঞ্চলটি 'কারাফা' নামে পরিচিতি লাভ করে, যা মিসর এবং বিরকাতুল আশরাফের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং একে 'কারাফাতুল কুবরা' বলা হয়।

"আর 'আল-কারাফি' নামে আমার প্রসিদ্ধি এই গোত্রের বংশধর হওয়ার কারণে নয়, বরং সেই বিশেষ স্থানে সল্প সময়ের জন্য অবস্থানের কারণে। ফলে সেই নামেই আমার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে আমি মরক্কো ভূখণ্ডের মাররাকেশ অঞ্চলের সিনহাজা গোত্রের লোক, তবে আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিসরে।" আল্লামা জুআইত তিউনিসি তাঁর 'শারহু তানকিহিল ফুসুল'-এর হাশিয়ার শুরুতে (১: ৬-৭) এটি উদ্ধৃত করেছেন। আল-কারাফি নামের কারণ বর্ণনায় এটিই নির্ভরযোগ্য তথ্য, অন্য কিছু নয়।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন বিরল ও অসাধারণ প্রতিভা দান করেছিলেন যা তাঁকে তাঁর যুগের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও বিজ্ঞ ইমামদের কাছ থেকে ইলম অর্জনের যোগ্য করে তুলেছিল। তাঁর প্রসিদ্ধ উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন সুলতানুল উলামা খেতাবপ্রাপ্ত ইমাম ইজ্জুদ্দীন বিন আব্দুস সালাম আশ-শাফিয়ী, ইমাম শারফুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইমরান—যিনি শরীফ কারকি নামে পরিচিত, কাযিল কুযাত শামসুদ্দীন আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-ইদ্রিসি, শায়খ শামসুদ্দীন আল-খুসরুশাহী, ইমাম জামালুদ্দীন ইবনুল হাজিব এবং অন্যান্যরা—আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

তিনি শায়খ ইজ্জুদ্দীন বিন আব্দুস সালামের সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন এবং তাঁর কাছ থেকে অধিকাংশ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর কাছ থেকেই তিনি অর্জন করেন ইলমি প্রজ্ঞা এবং স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও আলোকিত চিন্তাচেতনা। শায়খ ইজ্জুদ্দীন ৬৩৯ হিজরিতে শাম থেকে মিসরে আগমন করেন। তখন আল-কারাফি তাঁর যৌবনের শুরুতে ছিলেন, যার বয়স ছিল প্রায় ১৫ বছর। এরপর ৬৬০ হিজরিতে শায়খের মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় বিশ বছর তিনি তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন।

শায়খ তাঁর ইলমের গভীরতা, তীক্ষ্ণ মেধা, দ্বীনের প্রতি অবিচলতা, ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা, সত্যের সমর্থনে সাহসিকতা এবং মহান বিনয়, পরহেজগারী ও শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে আল-কারাফির হৃদয় ও মন জয় করে নিয়েছিলেন। ফলে আল-কারাফি নিজেকে তাঁর কাছে সঁপে দিয়েছিলেন এবং তাঁর ইলম থেকে তৃপ্ত হয়ে বারবার পান করেছিলেন। তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহে শায়খের উদ্ধৃতি ও আলোচনা প্রচুর পরিমাণে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বিভিন্ন রচনার অসংখ্য স্থানে শায়খের এমনভাবে প্রশংসা করেছেন যেমনটি তাঁর জ্ঞান-প্রস্রবণ থেকে তৃপ্ত ব্যক্তি এবং তাঁর বিশাল জ্ঞান-সমুদ্র থেকে পানকারী ব্যক্তি করে থাকে। তিনি তাঁর 'আল-ফুরূক' গ্রন্থের ২: ১৯৭ পৃষ্ঠায় ৯৫ নম্বর পার্থক্যের শেষে শরীয়তের একটি মূলনীতি নিয়ে আলোচনার পর এবং তার ওপর আসা বিভিন্ন আপত্তির নিরসন করার পর বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
"وهو من المواطن الجليلة التي يَحتاج إليها الفقهاء، ولم أر أحداً حرَّرهُ هذا التحرير إلَّا الشيخ عز الدين بن عبد السلام رحمه الله وقدَّسَ روحَه، فلقد كان شديدَ التحرير لمواضع كثيرة في الشريعة معقولها ومنقولِها، وكان يُفتَحُ عليه بأشياء لا توجد لغيره، رحمه الله رحمة واسعة".

وقال في 4: 251 (ولقد حضرتُ يومًا عند الشيخ عز الدين بن عبد السلام، وكان من أعيان العلماء، وأولي الجِدّ في الدين، والقيام بمصالح المسلمين خاصَّةَ وعامَّة، والثبات على الكتاب والسنة، غير مكترث بالملوك فضلاً عن غيرهم، لا تأخذه في الله لومة لائم". انتهى.

فهو الشخصيَّةُ الفَذَّةُ القُدوةُ التي ملأتْ من القرافي السمعَ والبصرَ والفؤادَ جميعاً، ولذا تراه يتأسَّى به قلباً ورُوحاً وفكراً وعلماً وتأليفًا ومنهجاً. وما أكثر التشابُهَ بين هذين الإِمامين؟ - رَحِمَهُمَا اللهُ تَعَالَى -.

ولقد جَدَّ القرافي في تحصيل العلوم ومعرفتها حتى أتقن جملةَ من العلوم إتقاناً بلَّغه الِإمامة فيها، وآتاه الله براعةَ فائقة وبياناً عجيباً يأخذ بالباب الطلبة والمحصِّلين في توضيح المسائل وتحقيق الدلائل، وكشفِ المعضِلات وحل المشكلات، وخَصْمِ المخالفين، وقطع المكابرين والمبطلين، وقُدرةَ عجيبة في سرعة التأليف، فقد حرَّرَ أحَدَ عشر علماً في ثمانية أشهر.

ومما يلاحظ عليه - على إمامته في جملة من العلوم - خِفَّةُ ذات يده من علم الحديث، وقد أفصح بذلك في "الفروق" 4: 208 فقال في حديث: سألتُ عنه جماعةَ من المحدثين … فقالوا لي: لم يصح". انتهى.

ووقفتُ له على طائفة من الأحاديث بعضُها موضوع، وبعضُها يقاربه، فمن الموضوع ما في "الفروق" 4: 224 "المَعِدَةُ بيتُ الداء والحِمْيَةُ رأسُ الدواء وصلاحُ كل جسمِ ما اعتاد". ليس بحديث، هو من كلام الحارث بن كَلَدة الثَّقَفِي طبيبِ العرب. وفي 4: 264 "الناسُ كلُّهم هَلْكَى إلَّا العالِمون … " هو موضوع كما في كتب الموضوعات.
এটি সেই মহান বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত যা ফকিহগণের প্রয়োজন হয়। আমি শায়খ ইযযুদ্দিন ইবনে আব্দুস সালাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর রুহকে পবিত্র করুন) ব্যতীত অন্য কাউকে এটি এভাবে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে দেখিনি। তিনি শরয়ি বিষয়ের যুক্তিনির্ভর এবং উদ্ধৃতিমূলক—উভয় ক্ষেত্রেই বহু মাসআলার অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণকারী ছিলেন। তাঁর জন্য এমন সব বিষয় উন্মোচিত হতো যা অন্য কারো কাছে পাওয়া যেত না। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।

তিনি ৪:২৫১ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আমি একদিন শায়খ ইযযুদ্দিন ইবনে আব্দুস সালামের মজলিসে উপস্থিত হয়েছিলাম। তিনি ছিলেন প্রথিতযশা আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, দ্বীনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং মুসলিমদের সাধারণ ও বিশেষ স্বার্থ রক্ষায় সদা তৎপর। তিনি কিতাব ও সুন্নাহর ওপর অটল থাকতেন এবং রাজা-বাদশাহদের তোয়াক্কা করতেন না, অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য। আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করতেন না।" সমাপ্ত।

তিনি ছিলেন সেই অদ্বিতীয় আদর্শ ব্যক্তিত্ব যিনি কারাফির কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়কে সম্পূর্ণরূপে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন। এ কারণেই আপনি তাঁকে তাঁর অন্তরে, আত্মায়, চিন্তায়, জ্ঞানে, রচনায় এবং কর্মপদ্ধতিতে শায়খের অনুসারী হিসেবে দেখতে পাবেন। এই দুই ইমামের মধ্যে কতই না সাদৃশ্য বিদ্যমান! আল্লাহ তায়ালা তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

কারাফি ইলম অর্জন ও জ্ঞান আহরণে কঠোর সাধনা করেছেন, এমনকি তিনি বেশ কিছু বিদ্যায় এমন পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন যা তাঁকে ইমামতের সুউচ্চ মাকামে আসীন করেছিল। আল্লাহ তাঁকে অসাধারণ দক্ষতা এবং চমৎকার বাগ্মিতা দান করেছিলেন, যা মাসআলা স্পষ্টকরণ, দলীলসমূহ বিশ্লেষণ, জটিল রহস্য উম্মোচন ও সমস্যা সমাধানে এবং বিরোধীদের পরাস্ত করতে ও দাম্ভিক ও বাতিলপন্থীদের মুখ বন্ধ করতে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বিমোহিত করত। গ্রন্থ রচনার গতিতেও তাঁর বিস্ময়কর ক্ষমতা ছিল; তিনি মাত্র আট মাসে এগারোটি শাস্ত্রকে সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত করেছিলেন।

বিভিন্ন শাস্ত্রে ইমাম হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ব্যাপারে একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো হাদিস শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞানের স্বল্পতা। তিনি নিজেই "আল-ফুরুক" গ্রন্থের ৪:২০৮ পৃষ্ঠায় এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। একটি হাদিস প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: "আমি এ সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের একটি দলের নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলাম... তাঁরা আমাকে বললেন: এটি সহিহ নয়।" সমাপ্ত।

আমি তাঁর বর্ণনাকৃত এমন কিছু হাদিস দেখেছি যার মধ্যে কিছু জাল এবং কিছু জালের কাছাকাছি। জালের অন্তর্ভুক্ত হলো "আল-ফুরুক" গ্রন্থের ৪:২২৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত এই কথাটি: "পাকস্থলী হলো রোগের ঘর, আর পরিমিতাহারই সকল ওষুধের মূল এবং প্রতিটি শরীরের সুস্থতা তাতেই যা সে অভ্যস্ত।" এটি কোনো হাদিস নয়, বরং এটি আরবদের চিকিৎসক হারিস ইবনে কালাদাহ আস-সাকাফির উক্তি। আবার ৪:২৬৪ পৃষ্ঠায় রয়েছে: "আলেমগণ ব্যতীত সকল মানুষই ধ্বংসপ্রাপ্ত..." এটি জাল, যেমনটি জাল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومما يُعَدُّ من الموضوع ما جاء في 1: 76 "الطلاقُ والعَتَاقُ من أيمانِ الفُسَّاق" و "من حَلَفَ واستثنى عاد كمن لم يَحِلف" كما يُعلَم من الكشف عنهما من كتب الموضوعات وغيرِها. وفي 4: 236 "عن أبي موسى الأشعري أنَّه كان يقول: إنا لنَكْشِرُ في وجوه أقوام وإن قلوبنا لتلعنهم". هو من كلام أبي الدرداء كما في "صحيح البُخاريّ" 10: 437. وهناك غيرها وما ذكرتُهُ كنموذج. ولا غرابة في هذا، فكم من عالمٍ إمامٌ في علمٍ عاميٌّ في علم آخر، وشواهدُه كثيرة، ولا يُلحَقُ بالعالم عالب في هذا، قال الله تعالى: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا}، وقال سبحانه: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا}.

وقد تحلَّت مصنَّفاتُه كلُّها بالإبتكار والتميُّز: لغةً وأسلوباً، وبحثاً وتنقيباً، ونخلاً وتحقيقاً، وجمعاً وتنسيقاً، حتى ألزَمَتْ البعيدَ والقريب بالِإذعان لِإمامته، ولو لم يكن له من التآليف سوى كتابه "الفروق" لكفى دليلاً على علو كعبه في العلم، فهو كتابٌ نَسيجُ وحدِهِ، جاء فيه بالعجب العجاب، لم يُسبَق إلى مثله، ولا أتى أحد بعده بشِبهه، فكيف ومؤلفاته أربت على عشرين مؤلَّفاً في فنون متعددة، وفيها النفائس والدُّرَر.

وكان رحمه الله رُحلةً، يَرحَل إليه العلماء من الآفاق البعيدة، ويقصدونه للقاء والمشافهة. وممن رحل إليه: الإمام أبو عبد الله محمد بن إبراهيم البقُّوري الأندلسي المراكشي المتوفَّى فيها سنة 707، صاحبُ "إكمال الِإكمال على صحيح مسلم للقاضي عياض"، رحل إليه إلى مصر وأخذ عنه، واختصر كتابه "الفروق" ورتَّبه وهذَّبه كما في "شجرة النور التركية" لمحمد مخلوف ص 211 و "الديباج المُذْهَب" لإبن فرحون ص 322.

وممن رحل إليه أيضاً: الِإمام ابن راشد محمد بن عبد الله بن راشد البكري التونسي شارح "مختصر ابن الحاجب"، كما في "نيل الابتهاج" للتُّنبُكْتِي ص 235، حَكَى عن نفسه سيرتَه في طلب العلم فقال: "أدركتُ بتونس أجلَّة من النبلاء وصدوراً من النحاة والأدباء فأخذتُ عنهم، ثم رحلتُ إلى الإسكندرية
জাল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এমন বিষয়ের মধ্যে রয়েছে যা ১: ৭৬ এ এসেছে: "তালাক এবং দাসমুক্তি হলো ফাসিকদের কসম" এবং "যে ব্যক্তি কসম খেলো এবং ইনশাআল্লাহ বললো, সে যেন কসমই করেনি।" যেমনটি এই দুটি সম্পর্কে জাল হাদীস বিষয়ক কিতাব এবং অন্যান্য উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায়। এবং ৪: ২৩৬ এ আছে "আবু মুসা আল-াশআরী থেকে বর্ণিত যে তিনি বলতেন: আমরা কিছু সম্প্রদায়ের সামনে হাসি বটে কিন্তু আমাদের অন্তর তাদেরকে লানত করে।" এটি মূলত আবু দারদা-এর কথা যেমনটি 'সহীহ বুখারী' ১০: ৪৩৭-এ বর্ণিত হয়েছে। এই জাতীয় আরও উদাহরণ রয়েছে, আমি যা উল্লেখ করেছি তা কেবল নমুনা হিসেবে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ অনেক আলেম একটি ইলমে ইমাম হলেও অন্য ইলমে সাধারণ মানুষ বা অনভিজ্ঞ হয়ে থাকেন, এর প্রমাণ অনেক। আর এ কারণে কোনো আলেমকে দোষারোপ করা যায় না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে," এবং তিনি সুবহানাহু বলেছেন: "বলো, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও।"

এবং তাঁর সকল রচনাবলি উদ্ভাবন এবং বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত ছিল: ভাষা ও শৈলীতে, গবেষণা ও অনুসন্ধানে, যাচাই ও পর্যালোচনায় এবং সংকলন ও বিন্যাসে। এমনকি তা দূর এবং নিকটবর্তীদেরকে তাঁর ইমামতের সামনে মস্তক অবনত করতে বাধ্য করেছে। যদি তাঁর রচনাবলির মধ্যে কেবল তাঁর 'আল-ফুরুক' কিতাবটি থাকতো, তবে ইলমে তাঁর উচ্চমর্যাদা প্রমাণের জন্য তা-ই যথেষ্ট হতো। এটি একটি অনন্য কিতাব, যাতে তিনি আশ্চর্যজনক বিষয়াদি নিয়ে এসেছেন। এর আগে এমন কোনো কাজ করা হয়নি এবং এর পরে কেউ এর অনুরূপ কিছু করতে পারেনি। এমতাবস্থায় তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলোর কী মর্যাদা হবে, যা বিভিন্ন বিষয়ে বিশটিরও অধিক এবং সেগুলোতে রয়েছে অমূল্য রত্নরাজি ও মুক্তো।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁর নিকট ইলম অন্বেষণে সফর করা হতো। দিগন্তের দূর-দূরান্ত থেকে উলামায়ে কেরাম তাঁর কাছে সফর করে আসতেন এবং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সরাসরি পাঠ গ্রহণের উদ্দেশ্যে তাঁকে লক্ষ্যস্থল বানাতেন। যাঁরা তাঁর কাছে সফর করে এসেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-বাক্কুরি আল-আন্দালুসি আল-মাররাকুশি (যিনি ৭০৭ হিজরিতে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন), যিনি কাজী আয়াজের 'সহীহ মুসলিম'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ইকমালুল ইকমাল'-এর রচয়িতা। তিনি মিসরে তাঁর কাছে সফর করেন এবং তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর 'আল-ফুরুক' কিতাবটি সংক্ষেপ করেন, সুবিন্যস্ত ও মার্জিত করেন, যেমনটি মুহাম্মদ মাখলুফ-এর 'শাজারাতুন নূর আয-যাকিয়্যাহ' ২১১ পৃষ্ঠায় এবং ইবনুল ফারহুন-এর 'আদ-দিবাজুল মুযাহহাব' ৩২২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

আরও যাঁরা তাঁর কাছে সফর করেছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম ইবনে রাশিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রাশিদ আল-বাকরি আত-তিউনিসি, যিনি 'মুখতাসার ইবনুল হাজিব'-এর ব্যাখ্যাকার। যেমনটি তুনবুকতির 'নাইলুল ইবতিহাজ' এর ২৩৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত। তিনি ইলম অন্বেষণে নিজের জীবনচরিত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "আমি তিউনিসিয়ায় অনেক মহান ও শ্রেষ্ঠ নাহুবিদ এবং সাহিত্যিকদের পেয়েছি এবং তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ করেছি। এরপর আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় সফর করি।"
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
فلقيت بها صدوراً أكابر وبحُوراً زواخر، كقاضي القضاة ناصر الدين ابن المنيِّر، والكمال التَّنَسِي، وناصر الدين ابن الأبياري، وضياء الدين بن العلاق، ومحيي الدين حسَّان رأسِه، فأخذتُ عنهم.

ثم رحلتُ للقاهرة إلى شيخ المالكية في وقته، فَقِيدِ الأشكال والأقران، نَسيجِ وحده وثَمَر سَعْده، ذي العقلِ الوافي، والذهنِ الصافي، الشهابِ القَرَافي، كان مُبرِّزاً على النُّظَّار، مُحرِزاً قَصَبَ السَّبْق، جامعاً للفنون، معتكفاً على التعليم على الدوام، فأحلَّني محل السوادِ من العين، والرُّوح من الجسد … ".

فهو إمامٌ رُحلة قُدوة، أُجمِعَ على إمامته في عصره من المالكية وغيرهم، قال قاضي القضاة تقي الدين ابنُ شُكر: أجمع الشافعية والمالكية على أن أفضل أهل عصرنا بالديار المصرية ثلاثة: القرافيُّ بمصر القديمة، والشيخُ ناصر الدين ابنُ المنير بالإسكندرية، والشيخ ابنُ دَقِيق العِيْد بالقاهرة المُعِزِّيَّة" نقله ابن فرحون في "الديباج المُذْهَب" ص 65.

قلت: بل قد عَدَّه الإمام السيوطي في "حسن المحاضرة" 1: 127 في طبقة من كان بمصر من المجتهدين وترجَمَهُ فيهم، ولم يترجمه في جملة العلماء الملتزمين للمذاهب الأربعة، ونقَلَ قولَ قاضي القضاة ابنِ شُكرٍ أيضاً. وهذا نظرٌ سديد من الِإمام السيوطي - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -.

وكان - إلى جانب إمامته وتبحره في علوم الشريعة وفنونها - من الفلكيين الرياضيين، النَّبَغَةِ البارعين النوادر في عمل التماثيل المتحركة في الآلاتِ الفلكية.

قال في كتابه "نفائس الأصول في شرح المحصول" 1: 108 من النسخة المخطوطة في ثلاثة أجزاء بدار الكتب المصرية، وهو يبحث في فصل (الكلام في اللغات) عن الدلالة الصوتية: هل مجرَّدُ الصوت يَدُلُّ على صاحبه؟ فبيَّن أنَّه لا يكفي أن نسمعَ الصوت فنقول: إنه لا بد من شخصٍ صاحبٍ لهذا الصوت، لأنَّ الصوت يُصنعُ في غير الإنسان. ثم قال:
সেখানে আমি বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ ও জ্ঞানের বিশাল সমুদ্রতুল্য ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, যেমন কাযিল কুযাত নাসিরুদ্দিন ইবনুল মুনাইয়ির, আল-কামাল আত-তানাসি, নাসিরুদ্দিন ইবনুল আবিয়ারি, যিয়াউদ্দিন ইবনুল আল্লাক এবং মুহিউদ্দিন হাসান রা'সিহ। আমি তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি।

অতঃপর আমি কায়রোতে সমসাময়িক মালিকি মাযহাবের শাইখ, যাঁর কোনো সমকক্ষ বা জোড়া ছিল না, আপন বৈশিষ্ট্যে অনন্য ও সৌভাগ্যের ফসল, পূর্ণ প্রজ্ঞা ও স্বচ্ছ মেধার অধিকারী শিহাব আল-কারাফির নিকট যাত্রা করি। তিনি সমকালীন গবেষকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের শিখর জয় করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং সর্বদা শিক্ষাদানে রত থাকতেন। তিনি আমাকে চোখের মণি এবং দেহের প্রাণের মতো স্থান দিয়েছিলেন … ।

তিনি ছিলেন একজন ইমাম, যাঁকে জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে সন্ধান করত এবং তিনি ছিলেন এক অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর যুগে মালিকি ও অন্যান্য মাযহাবের আলেমগণ তাঁর ইমামতের (নেতৃত্বের) ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন। কাযিল কুযাত তাকিউদ্দিন ইবনে শুকর বলেন: "শাফেয়ী ও মালিকিগণ একমত হয়েছেন যে, মিশরে আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন তিনজন: প্রাচীন মিশরে আল-কারাফি, আলেকজান্দ্রিয়ায় শাইখ নাসিরুদ্দিন ইবনুল মুনাইয়ির এবং মুইজ্জিয়া কায়রোতে শাইখ ইবনে দাকীকুল ঈদ।" ইবনে ফারহুন এটি 'আদ-দিবাজুল মুযাহহাব' গ্রন্থের ৬৫ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন।

আমি বলি: বরং ইমাম সুয়ুতী 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ১২৭ পৃষ্ঠায় তাঁকে মিশরের মুজতাহিদদের স্তরে গণ্য করেছেন এবং তাঁদের মধ্যেই তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁকে কেবল চার মাযহাব অনুসরণকারী আলেমদের কাতারে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি কাযিল কুযাত ইবনে শুকরের উক্তিটিও উদ্ধৃত করেছেন। আর এটি ইমাম সুয়ুতী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর একটি অত্যন্ত সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি।

শরীয়তের বিভিন্ন জ্ঞান ও বিজ্ঞানে তাঁর ইমামত ও অগাধ পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন দক্ষ জ্যোতির্বিদ ও গণিতবিদ। জ্যোতির্বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতিতে চলন্ত প্রতিকৃতি তৈরিতে তিনি ছিলেন এক বিরল ও অনন্য প্রতিভা।

তিনি তাঁর 'নাফায়িসুল উসুল ফি শারহিল মাহসুল' গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ১০৮ পৃষ্ঠায় (যা মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ তিন খণ্ডে পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত আছে) 'ভাষাতত্ত্ব' অধ্যায়ে শব্দের অর্থবোধকতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: কেবল শব্দই কি তার উৎসের সন্ধান দেয়? তিনি স্পষ্ট করেন যে, শুধু শব্দ শুনলেই এটি বলা যথেষ্ট নয় যে এর পিছনে অবশ্যই কোনো ব্যক্তি রয়েছে; কারণ মানুষের বাইরেও শব্দ তৈরি করা সম্ভব। অতঃপর তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
"بلغني أنَّ الملِكَ الكامل وُضِع له شَمْعَدان - هو عَمُودٌ طويلٌ من نحاس له مراكز يوضع عليها الشمعُ للإِنارة - كلما مَضَى من الليل ساعةٌ انفتح بابٌ منه، وخرج منه شخصٌ يقِفُ في خدمة الملِك، فإذا انقضَتْ عشرُ ساعات طلع الشخص على أعلى الشمعدان وقال: صبَّح الله السلطان بالخيرِ والسعادة، فيَعلمُ أن الفجر قد طلع.

قال: وقد عَمِلتُ أنا هذا الشَمْعَدَانَ، وزِدتُ فيه أنَّ الشمعة يتغيَّرُ لونُها في كل ساعة، وفيه أسَدٌ تتغيَّر عيناه من السَّوَادِ الشديد إلى البياض الشديد إلى الحُمرة الشديدة، في كل ساعة لها لون، وتَسقُطُ حَصَاتان من طائرين، ويَدخل شخصٌ ويَخرج شخصٌ غيرُه، ويُغلَقُ بابٌ ويُفتحُ باب، فإذا طلع الفجر طلع الشخص على أعلى الشمعدان، وإصبعُه على أُذُنِه يُشِيرُ إلى الأذان ولكني عَجَزْتُ عن صَنْعَةِ الكلام، ثم صَنَعْتُ صُورةَ حيوانِ يمشي ويلتفِتُ يمينًا ويساراً، ويُصَفِّرُ، ولا يتكلَّم (1).

وهذا ذكاء خارق عجيب ومهارةُ يَدٍ صَنَاعٍ فائقة من الإمام القرافي (2).

--------------------------------------------

(1) ونقله العلامة أحمد تِيمور باشا في كتابه "التصوير عند العرب" ص 79 و 104 عن ابن طولون في رسالته "قطرات الدمع فيما ورد في الشمع".

ولا يَرِدُ على الِإمام القرافي الفقيهِ العبقريِّ الفَذّ - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -: كيف صَنَع تمثالاً، والتماثيلُ محرَّمةْ في الإسلام تحريماً قاطعاً، وهو من أعلم النَّاس بذلك، لأنَّ ما صَنَعه لا يزيدُ على آلةِ ذاتِ أجزاء متقطعة - تَعملُ بحركةِ منتظِمة - لا يمكنُ أن تعيش بذلك، والقرافي إمامٌ فقيه ورعٌ، لا يمكن أن يُقدِم على صُنع شيء محرَّم بالنص قطعاً.

وانظر مقالاً ماتعاً للأستاذ عبد المجيد وافي بعنوانِ (علماء فَنَانون: الِإمام القرافي) في "مجلة الوعي الإسلامي" التي تصدرها وزارة الأوقاف الإسلامية في الكويت في عددها 40 من سنتها الرابعة سنة 1388= 1968 ص 54 - 59.

(2) وهذه المهارة العجيبة وأمثالُها وأشباهُها، تُوجَدُ في أفراد من العلماء الأفذاذ في الأحيان المتباعدة، يتميزون بها عن سواهم من ذوي العلم والمعارف، ولي صديقٌ عزيزٌ رَحَلَ =
আমি জানতে পেরেছি যে, সুলতান আল-মালিকুল কামিলের জন্য একটি শমদান (মোমবাতি রাখার স্ট্যান্ড) তৈরি করা হয়েছিল—যা পিতলের তৈরি একটি দীর্ঘ স্তম্ভ এবং এতে মোমবাতি জ্বালানোর জন্য নির্দিষ্ট স্থান ছিল—প্রতি রাতে এক ঘণ্টা অতিবাহিত হলে এর একটি দরজা খুলে যেত এবং সেখান থেকে একজন ব্যক্তি বের হয়ে সুলতানের সেবায় দণ্ডায়মান হতো। যখন দশ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হতো, তখন সেই ব্যক্তি শমদানটির শিখরে উঠে বলত: "আল্লাহ সুলতানকে কল্যাণ ও সৌভাগ্যের সাথে সকাল দান করুন," যার মাধ্যমে তিনি জানতে পারতেন যে ফজর উদিত হয়েছে।

তিনি (ইমাম আল-কারাফি) বলেন: আমি নিজেও এই শমদানটি তৈরি করেছি এবং এতে কিছু বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি করেছি; যেমন প্রতি ঘণ্টায় মোমবাতির রং পরিবর্তিত হয় এবং এতে একটি সিংহ রয়েছে যার চোখের রং অতিশয় কালো থেকে অতিশয় সাদা এবং এরপর অতিশয় লালে পরিবর্তিত হয়; প্রতি ঘণ্টায় এর একটি ভিন্ন রং ফুটে ওঠে। দুটি পাখি থেকে দুটি কঙ্কুর (ছোট পাথর) নিচে পড়ে, একজন ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করে এবং অন্য একজন বের হয়, একটি দরজা বন্ধ হয় এবং আরেকটি খুলে যায়। ফজর উদিত হলে সেই ব্যক্তি শমদানটির শিখরে উঠে আযানের ইশারা হিসেবে তার কানে আঙুল রাখে, কিন্তু আমি বাকশক্তি বা কথা বলানোর শিল্প তৈরিতে সক্ষম ছিলাম না। এরপর আমি একটি প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করি যা চলাফেরা করত এবং ডানে-বামে তাকাত, আর শিস দিত, কিন্তু কথা বলত না (১)।

এটি ইমাম আল-কারাফির এক অতিপ্রাকৃত বিস্ময়কর মেধা এবং তাঁর অসাধারণ শিল্পকুশলী হাতের উচ্চতর নৈপুণ্যের বহিঃপ্রকাশ (২)।

--------------------------------------------

(১) আল্লামা আহমদ তাইমুর পাশা তাঁর 'আত-তাসওয়ীর ইনদাল আরব' (আরবদের মাঝে চিত্রশিল্প) গ্রন্থের ৭৯ ও ১০৪ পৃষ্ঠায় এটি ইবনে তুলুনের রিসালাহ 'কাতরাতুত দাম ফীমা ওয়ারাদা ফিশ শাম' থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

অনন্য প্রতিভা সম্পন্ন ফকীহ ইমাম আল-কারাফি (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা)-এর ওপর এই প্রশ্ন উত্থাপিত হয় না যে—তিনি কীভাবে মূর্তি তৈরি করলেন, অথচ ইসলামে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ অকাট্যভাবে হারাম? আর তিনি এই বিষয়ে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। এর কারণ হলো, তিনি যা তৈরি করেছিলেন তা স্রেফ বিচ্ছিন্ন অংশবিশিষ্ট একটি যন্ত্রের বেশি কিছু ছিল না—যা একটি সুশৃঙ্খল নিয়মে পরিচালিত হতো—যার পক্ষে এভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আর আল-কারাফি একজন আল্লাহভীরু ফকীহ ইমাম ছিলেন, শরীয়তের অকাট্য বর্ণনা দ্বারা নিষিদ্ধ কোনো কাজে তাঁর লিপ্ত হওয়া অসম্ভব।

এ বিষয়ে উস্তাদ আব্দুল মাজীদ ওয়াফীর একটি চমৎকার নিবন্ধ দেখুন, যার শিরোনাম: (শিল্পী আলেমগণ: ইমাম আল-কারাফি); যা কুয়েতের আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত 'মাজাল্লাতুল ওয়ায়িল ইসলামি'র ১৩৮৮ হিজরি মোতাবেক ১৯৬৮ সালের চতুর্থ বর্ষের ৪০তম সংখ্যায় ৫৪-৫৯ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে।

(২) এই বিস্ময়কর নৈপুণ্য এবং এই জাতীয় প্রতিভা দীর্ঘকাল পর পর এমন কিছু বিরল আলেমদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়, যারা এর মাধ্যমে সমসাময়িক অন্যান্য জ্ঞানীদের থেকে বিশিষ্টতা লাভ করেন। আমার একজন অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু ছিলেন যিনি ইন্তেকাল করেছেন—
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وكان - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - كثيراً ما يتمثلُ - في التحذير من مناظرة الحَسَدة الفَسَدة، سَرَّاقي العلوم، ومدعي المعرفة ومختطفيها من العلماء النبلاء، وما أكثرَهم في كل عصر وبَرٍّ ومِصر - بقول القائل:

وإذا جلستَ إلى الرِّجالِ وأشرقَتْ … في جَوِّ باطنِكَ العُلُومُ الشُّرَّدُ

فاحذَرْ مناظرةَ الحسودِ فإنما … تغتاظُ أنت ويَستفيدُ ويَجحَدُ

وكان كثيرًا أيضاً ما يتمثلُ بقول محي الدين المعروفِ بحافِي رأسِه:

عتبتُ على الدنيا بتقديم جاهل … وتأخيرِ ذي علم فقالت خُذِ العُذْرَا

بنو الجهلِ أبنائي، وكل فضيلةٍ … فأبناؤها أبناءُ ضَرَّتيَ الأخرى

 

‌‌مؤلفاته مرتبة على أوائل الحروف مشاراً للمطبوع منها

1 - الأجوبة الفاخرة عن الأسئلة الفاجرة في الرد على النصارى واليهود. طُبع.

2 - الأجوبة عن الأسئلة الواردة على خطب ابن نُبَاتة.

3 - الإحتمالات المرجوحة.

4 - الإِحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام، وهو هذا الذي بين يديك.

--------------------------------------------

= إلى دار الكرامة، تميَّزَ بأعجب من هذا في دقة صُنع الآلات الدقيقة وإبداعها واستعمالها، وبحِذْقِ الرماية وإصابة الأهداف الناعمة الصغيرة جداً، هو الشيخ العالم الفاضل الصَّنَاع العجيب الأستاذ الشيخ عبد الرحمن زين العابدين الأنطاكي ثم الحلبي، المولود بأنطاكية سنة 1330، والمتوفى بحلب سنة 1410 - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -، وقد ألحقتُ بآخر هذا الكتاب في ص 280 مقالاً ضافياً عن مهارته وإبداعه، بقلم أستاذنا العلامة الكبير فضيلة الشيخ مصطفى الزرقا أمتع الله به، فانظره لزاماً، ففيه العجائب الصادقة الخارقة.
এবং তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— হিংসুক ও ভ্রষ্ট, ইলম চোর, জ্ঞানের দাবিদার এবং সুমহান আলিমদের থেকে ইলম ছিনতাইকারীদের সাথে বিতর্কের বিষয়ে সতর্ক করার ক্ষেত্রে —আর প্রতিটি যুগে, জনপদে ও শহরে তাদের সংখ্যা কতই না বেশি— প্রায়ই কবির এই উক্তিটি আবৃত্তি করতেন:

যখন তুমি গুণীজনদের মজলিসে বসো এবং তোমার অন্তরাকাশে … দুর্লভ জ্ঞানরাজি উদ্ভাসিত হয়

তখন হিংসুক ব্যক্তির সাথে বিতর্ক পরিহার করো; কেননা এর দ্বারা … তুমি কেবল রাগান্বিতই হবে, আর সে লাভবান হবে কিন্তু পরক্ষণেই তা অস্বীকার করবে

তিনি প্রায়ই 'হাফি রাসিহি' নামে পরিচিত মুহিউদ্দীনের এই পঙ্ক্তিটিও আবৃত্তি করতেন:

আমি মূর্খকে অগ্রগণ্য করা এবং আলিমকে পশ্চাৎপদ করার কারণে … দুনিয়ার ওপর অভিমান করলাম; সে তখন বলল, তুমি ওজর গ্রহণ করো

মূর্খরা হলো আমার নিজ সন্তান, আর সকল শ্রেষ্ঠত্ববান ও গুণীজন … হলো আমার সতিনের সন্তান

 

‌‌বর্ণানুক্রমে সাজানো তাঁর রচনাবলি, যেগুলি মুদ্রিত হয়েছে তার সংকেতসহ

১ - খ্রিস্টান ও ইহুদিদের খণ্ডনে পাপাচারী প্রশ্নাবলির চমৎকার উত্তরসমূহ। মুদ্রিত।

২ - ইবনে নুবাতার খুতবাগুলোর ওপর উত্থাপিত প্রশ্নাবলির উত্তরসমূহ।

৩ - আল-ইহতিমালাত আল-মারজুহাহ (দুর্বল সম্ভাবনাসমূহ)।

৪ - আল-ইহকাম ফী তাময়ীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম (বিধান থেকে ফতোয়া পৃথকীকরণের সুসংহত নিয়মাবলি); আর এটিই সেই কিতাব যা এখন আপনার হাতে রয়েছে।

--------------------------------------------

= সম্মানজনক নিবাসের পথে; তিনি সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি তৈরি, উদ্ভাবন ও ব্যবহারের নিপুণতায় এবং তিরন্দাজিতে পারদর্শিতা ও অতি ক্ষুদ্র লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষেত্রে এর চেয়েও বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি হলেন আলিম, গুণী ও চমৎকার কারিগর উস্তাদ শায়খ আবদুর রহমান যয়নুল আবেদিন আল-আন্তাকি অতঃপর আল-হালাবি, যিনি ১৩৩০ হিজরিতে আন্তাকিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৪১০ হিজরিতে আলেপ্পোতে ইন্তেকাল করেন —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—। আমি এই কিতাবের শেষে ২৮০ পৃষ্ঠায় তাঁর দক্ষতা ও উদ্ভাবন সম্পর্কে আমাদের উস্তাদ বিজ্ঞ আল্লামা ফযিলতুশ শায়খ মুস্তফা আয-যারকা (আল্লাহ তাঁর দ্বারা উপকৃত হওয়ার সুযোগ দিন)-এর কলমে একটি নাতিদীর্ঘ নিবন্ধ যুক্ত করেছি। সুতরাং আপনি তা অবশ্যই দেখবেন, কারণ তাতে সত্য ও বিস্ময়কর বিষয়াবলি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
5 - أدلة الوَحْدَانية في الرد على النصرانية.

6 - الإستبصار فيما لا يُدرَك بالأبصار (1).

7 - الإستغناء في أحكام الإستثناء. طُبع.

8 - الأمنيَّة في إدراك النيَّة. طُبع.

9 - الإنتقاد في الاعتقاد.

10 - البارز للكفاح في الميدان.

11 - البيان في تعليق الإيمان.

12 - التعليقات على المنتخب.

13 - تنقيح الفصول في الأصول. طُبع.

14 - الذخيرة في الفقه المالكي طُبع كاملًا في هذه السنة.

15 - شرح الأربعين في أصول الدين للفخر الرازي.

16 - شرح التهذيب للبَرْذَعي المالكي.

17 - شرح الجَلَّاب.

18 - شرح تنقيح الفصول. طُبع.

19 - العِقد المنظوم في الخصوص والعموم في الأصول. طُبع

20 - الفروق. ويعرف بالقواعد أيضاً، واسمُه العَلَمي: أنوار البروق في أنواء الفروق. طُبع بتونس ومصر.

21 - المنجيات والموبقات في الأدعية وما يجوز منها وما يُكره وما يَحرُم.

22 - المَناظر، في الرياضيات.

--------------------------------------------

(1) وهو في علم الكلام، ومنه نسخة مخطوطة في مكتبة أسعد أفندي في إصطنبول ورقمها فيها 1270.
৫ - নাসারাদের খণ্ডনে তাওহীদের দলীলসমূহ।

৬ - যা দৃষ্টির অগোচর সে বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টি লাভ (১)।

৭ - ইস্তিসনা বা ব্যতিক্রমের বিধিবিধানে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। এটি মুদ্রিত।

৮ - নিয়ত অনুধাবনের পরম আকাঙ্ক্ষা। এটি মুদ্রিত।

৯ - আকিদাহ বিষয়ক সমালোচনা।

১০ - রণক্ষেত্রে সংগ্রামের প্রকাশ্য রূপ।

১১ - ঈমান স্থগিত রাখার বিষয়ে বিশদ বর্ণনা।

১২ - আল-মুনতাখাব গ্রন্থের ওপর টীকা।

১৩ - উসূল শাস্ত্রের অধ্যায়সমূহের পরিমার্জন (তানকীহুল ফুসুল)। এটি মুদ্রিত।

১৪ - মালিকি ফিকহের আকর গ্রন্থ 'আয-যাখীরাহ'; এই বছর এটি পূর্ণাঙ্গভাবে মুদ্রিত হয়েছে।

১৫ - ফখর রাযী রচিত উসূলুদ্দীন বিষয়ক 'আল-আরবাঈন' গ্রন্থের ব্যাখ্যা।

১৬ - মালিকি আলেম আল-বারযায়ীর 'আত-তাহযীব' গ্রন্থের ব্যাখ্যা।

১৭ - আল-জাল্লাব গ্রন্থের ব্যাখ্যা।

১৮ - তানকীহুল ফুসুলের ব্যাখ্যা। এটি মুদ্রিত।

১৯ - উসূল শাস্ত্রের বিশেষ ও সাধারণ বিধান বিষয়ক সুশৃঙ্খল গ্রন্থ (আল-ইকদুন মানযুম)। এটি মুদ্রিত।

২০ - আল-ফুরুক। এটি 'আল-কাওয়ায়েদ' নামেও পরিচিত; এর শাস্ত্রীয় নাম হলো: আনোয়ারুল বুরূক ফী আনওয়ায়িল ফুরূক। এটি তিউনিসিয়া ও মিশরে মুদ্রিত হয়েছে।

২১ - দুআর ক্ষেত্রে মুক্তিদানকারী ও ধ্বংসাত্মক বিষয়সমূহ এবং এর মধ্যে কোনটি বৈধ, কোনটি অপছন্দনীয় এবং কোনটি নিষিদ্ধ।

২২ - আল-মানাযির, এটি গণিত শাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থ।

--------------------------------------------

(১) এটি ইলমুল কালাম (ধর্মতত্ত্ব) বিষয়ক একটি গ্রন্থ। এর একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি ইস্তাম্বুলের আসআদ এফেন্দি লাইব্রেরিতে ১২৭০ নম্বর ক্রমে সংরক্ষিত আছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
23 - نفائس الأصول في شرح المحصول.

24 - اليواقيت في أحكام المواقيت. وغيرُها.

وما زال يفيد الطالبين والعلماء حتى توفاه الله في جمادى الآخرة سنة 684، ودُفن بالقرافة - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - وأجزل مثوبته، وآخِرُ دعوانا أنِ الحمدُ لله رب العالمين.

 

حلب 24 من جمادى الآخرة سنة 1387

وكتبه

عبد الفتاح أبو غُدّة

خادم العلم بمدينة حلب

وفقه الله تعالى
২৩ - নাফাইস আল-উসুল ফি শারহিল মাহসুল।

২৪ - আল-ইয়াওয়াকিত ফি আহকামিল মাওয়াকিত। এবং অন্যান্য।

এবং তিনি ছাত্র ও আলেমদের উপকৃত করতে থাকেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে ৬৮৪ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে মৃত্যু দান করেন, এবং তাকে কারাফায় দাফন করা হয় - আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দয়া করুন - এবং তার প্রতিদানকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিন। আমাদের শেষ আহ্বান এই যে, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

আলেপ্পো, ২৪ জুমাদাল আখিরা, ১৩৮৭ হিজরী

এটি লিখেছেন

আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

আলেপ্পো শহরের ইলমের খাদেম

আল্লাহ তাআলা তাকে তাওফিক দান করুন
(খণ্ড: ১) আল-ইহকাম ফী তামীযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী ওয়াল ইমাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

يقول العبدُ الفقير إِلى عفو رَبّه أحمدُ بن إِدريس المالكيُّ عفا الله عنه:

الحمدُ لله الملِكِ المالكِ لجميعِ الأكوان، الذي من هِباتِه الممالكُ فهو الكريم المنَّان، الذي لا يكونُ قضاؤه إِلَّا بالعدلِ أو الِإحسان. أنزل الرسائل، وشَرَع الوسائل لنِعَمِه الحِسان، فظهر الحق، وعُرِفَ العدل، وزَهَق العُدوان، يُضاعِف الحسنات، ويمحو السيئات، فهو المَلِكُ الدَّيَّان. يُسْجِلُ العَطاء، ويُسبِلُ الغِطاء، ويُوالي الغُفران.

وأفضلُ صلواتِه على خير خلقه المبعوثِ مِن عدنان، القاضي الأحكم، والإِمام الأقوم، والرسولِ الأعظم، للإِنس والجان. صلى الله عليه وسلم وعلى آلهِ وأصحابِه، وأزواجِه وأنصارِه، صلاةً تُبلِّغُهم أعلى الجنان، في دار الأمان. ونَحوزُ بها من الله تعالى أفضلَ الرضوان.

أما بعد: فإنَّه قد وَقَع بيني وبين الفُضَلاءِ مع تطاول الأيامِ مَباحثُ في أمر الفَرْقِ بين الفُتْيا التي تَبْقى معها فُتْيا المخالِف، وبين الحُكم الذي لا يَنقضُه المخالِف، وبين تصرُّفاتِ الحُكام وتصرُّفاتِ الأئمة. ويُختلَفُ في إِثباتِ أهِلَّة رمضان بالشاهد الواحد، هل يَلْزَمُ ذلك من لا يَرى إِثباتَه إِلَّا بالشاهدينِ أم لا؟ ويُختَلفُ إِذا باع الحاكمُ مِن مالِ الأيتام شيئًا هل ذلك حُكمٌ بصحةِ ذلك البيع؟ فلا يَنقضُه غيرُه أم لا؟ وهل إِذا حَكَم بعدالةِ إِنسانٍ هل لغيره أن يُبطلها؟ أم ذلك حكمٌ لا يُنقَض؟ ونحوِ هذه المسائل.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

আপন রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী দরিদ্র বান্দা আহমদ ইবনে ইদরিস আল-মালিকি—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন—বলছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের অধিপতি ও মালিক, যাঁর দান থেকেই সাম্রাজ্যসমূহ প্রাপ্ত, তিনিই পরম দয়ালু ও মহান দাতা, যাঁর ফয়সালা কেবল ন্যায়বিচার অথবা অনুগ্রহ ব্যতিরেকে হয় না। তিনি কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁর সুন্দর নিয়ামতসমূহের প্রাপ্তির মাধ্যমসমূহ প্রবর্তন করেছেন, ফলে সত্য প্রকাশিত হয়েছে, ন্যায়বিচার পরিচিতি পেয়েছে এবং অন্যায়-অবিচার বিলুপ্ত হয়েছে। তিনি পুণ্যসমূহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেন এবং পাপসমূহ মোচন করেন, তিনিই বিচার দিবসের অধিপতি ও কর্মফল প্রদানকারী। তিনি অবারিত দান করেন, ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখেন এবং ক্ষমা অব্যাহত রাখেন।

আর তাঁর সর্বোত্তম দরুদ বর্ষিত হোক সৃষ্টির সেরা আদনান বংশে প্রেরিত রাসুলের প্রতি, যিনি শ্রেষ্ঠ বিচারক, সুদৃঢ় ইমাম এবং মানব ও জিনের জন্য মহান রাসুল। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, পত্নীগণ ও আনসারদের প্রতি—এমন দরুদ যা তাঁদের জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে শান্তিময় আবাসে পৌঁছে দেবে। এবং এর উসিলায় আমরা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম সন্তুষ্টি লাভ করব।

অতপর: দীর্ঘ সময় ধরে আমার ও গুণীজনদের মধ্যে এমন ফতোয়ার পার্থক্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে যেখানে ভিন্নমত পোষণকারীর ফতোয়া অবশিষ্ট থাকে, এবং এমন বিধান (হুকুম) যা ভিন্নমত পোষণকারী বাতিল করতে পারে না, এবং শাসকদের পদক্ষেপ ও ইমামদের পদক্ষেপের মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে। আর মতভেদ করা হয় একজন সাক্ষীর মাধ্যমে রমজানের চাঁদ প্রমাণের বিষয়ে—যে ব্যক্তি দুইজন সাক্ষী ব্যতীত চাঁদ প্রমাণ হওয়া স্বীকার করে না, তার ওপর কি এটি আবশ্যক হবে নাকি হবে না? আরও মতভেদ করা হয় যখন শাসক এতিমদের সম্পদ থেকে কিছু বিক্রি করেন, তখন কি সেটি সেই বিক্রয়টি সঠিক হওয়ার ফয়সালা হিসেবে গণ্য হবে? ফলে অন্য কেউ কি তা বাতিল করতে পারবে না, নাকি পারবে? এবং তিনি যখন কোনো ব্যক্তির ন্যায়নিষ্ঠতার বিষয়ে ফয়সালা দেন, তখন কি অন্য কেউ তা বাতিল করতে পারে? নাকি এটি এমন এক ফয়সালা যা রদ করা যায় না? এবং এই জাতীয় মাসআলাসমূহ।