(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: -)
شرط القراءة على الشيوخ للسلفي القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرط القراءة على الشيوخ للسلفي (مطبوع مع فوائد حسان للسلفي)
المؤلف: أبو طاهر أحمد بن محمد بن أحمد السلفي الأصبهاني (ت 576 هـ)
قرأهما وعلق عليهما وخرج أحاديثهما: أبو عبيدة محمد بن فريد زريوح
الناشر: دار التوحيد للنشر - الرياض
الطبعة: الأولى، 1429 هـ -2008 م
عدد الصفحات: 63
مصدر الكتاب: مكتبة «يا باغي الخير أقبل» - ملتقى أهل الحديث
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مقابَل على المطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1440
শাইখদের নিকট পাঠ করার শর্ত - আস-সিলাফী বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান
গ্রন্থ: শাইখদের নিকট পাঠ করার শর্ত - আস-সিলাফী (আস-সিলাফী রচিত ফাওয়াইদে হাসান-এর সাথে মুদ্রিত)
লেখক: আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সিলাফী আল-আসবাহানী (মৃত্যু ৫৭৬ হি.)
পাঠ, টীকা প্রদান ও হাদিস বিশ্লেষণ (تخريج): আবু উবাইদাহ মুহাম্মদ ইবনে ফরিদ জারিউহ
প্রকাশক: দারুত তাওহীদ লিন-নাশর - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৯ হি. - ২০০৮ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩
গ্রন্থের উৎস: মাকতাবাতু «ইয়া বাগিয়াল খাইর আকবিল» - মুলতাকা আহলিল হাদিস
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি মুদ্রিত কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে]
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: -)
شرط القراءة على الشيوخ
للحافظ المسند أبي طاهر أحمد بن محمد بن أحمد السلفي الأصبهاني
(576 هـ)
ويليه
فوائد حسان
له
بانتقاء الحافظ أبي محمد عبد القادر بن عبد الله الرهاوي الحنبلي
(612 هـ)
قرأهما وعلق عليهما وخرج أحاديثهما
أبو عبيدة محمد بن فريد زريوح
دار التوحيد للنشر
الرياض
الطبعة الأولى
1429 هـ -2008 م
শায়খদের নিকট পাঠের (القراءة) শর্তাবলী
হাফিজ (الحافظ) ও মুসনিদ (المসند) আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সিলাফি আল-আসবাহানির রচিত
(৫৭৬ হিজরি)
এবং এর সাথে রয়েছে
উত্তম (حسان) ফায়দাহসমূহ
তাঁর
হাফিজ (الحافظ) আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বিন আব্দুল্লাহ আর-রাহাউয়ি আল-হাম্বলির চয়নকৃত
(৬১২ হিজরি)
গ্রন্থদ্বয় পাঠ করেছেন, এতে তালীক (تعليق) যুক্ত করেছেন এবং এগুলোর হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) করেছেন
আবু উবাইদাহ মুহাম্মদ বিন ফারিদ জুরইউহ
দারুত তাওহীদ প্রকাশনী
রিয়াদ
প্রথম সংস্করণ
১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
شرط القراءة على الشيوخ للحافظ أبي طاهر السلفي رحمه الله
হাফেজ (الحافظ) আবু তাহের আল-সিলাফি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর শায়খদের নিকট পাঠ করার (القراءة على الشيوخ) শর্ত (شرط)
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
بسم الله الرحمن الرحيم صلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وسلم تسليماً
أخبرنا الشيخ الفقيه الأجل الإمام قال:
الحمد لله على إنعامه وإفضاله، والصلاة على المصطفى محمدٍ وآله، وعلى أصحابه المقتدين به وبخصاله، في جميع أفعاله وأقواله.
وبعد، إخواني -يرحمهم الله-:
فقد جرى في هذه الأيام من أشهر سنة تسعٍ وخمسمائة، عند قدومي مدينتكم دمشق -حرسها الله على الإسلام والمسلمين، وصرف عنها كيد الكفار والملحدين- تاراتٍ وكراتٍ، أذكرها وأحصرها، في مجالس الحديث التي كنت أحضرها، ذكر القراءة على المتصدي للرواية، هل يجب للقارئ عليه أن يريه صورة سماعه في الجزء حتى ينظره؟
أو يقتصر على إعلامه أنه عن من سمعه، وإن لم يقف الشيخ على
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও পরিপূর্ণ শান্তি বর্ষণ করুন।
সুমহান ইমাম, ফকিহ এবং শায়খ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর নেয়ামত ও অনুগ্রহের ওপর। দরুদ বর্ষিত হোক মনোনীত মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর এবং তাঁর সেই সকল সাহাবীদের ওপর যারা তাঁদের সকল কাজে ও কথায় তাঁকে এবং তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহকে অনুসরণ করেছেন।
অতঃপর, হে আমার ভাইয়েরা—আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন—:
পাঁচশ নয় হিজরি সনের মাসগুলোর দিনগুলোতে, আপনাদের শহর দামেস্কে আমার আগমনের সময়—আল্লাহ একে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য হেফাযত করুন এবং কাফের ও নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র থেকে একে রক্ষা করুন—আমি যেসব হাদিস মজলিসে উপস্থিত হতাম, সেখানে বারবার একটি বিষয় আলোচিত ও পর্যালোচিত হয়েছে; আর তা হলো বর্ণনার (رواية) দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট পাঠ করার সময় পাঠকারীর জন্য কি এটি আবশ্যক যে, সে তাকে তার শ্রবণের (سماع) বিষয়টি পাণ্ডুলিপির অংশে (جزء) প্রদর্শন করবে যাতে তিনি তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন?
নাকি সে কেবল তাকে এটি জানিয়ে দেওয়ার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে যে, সে কার নিকট থেকে এটি শ্রবণ (سماع) করেছে, যদিও শায়খ বিষয়টি চাক্ষুষ না করেন...
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
اسم نفسه في تلك الحالة ولم يبصره، واعتمد على قول المفيد عنه، أو قرئ عليه من فرعٍ منقولٍ من الأصل، صح هذا السماع أو لم يصح؟
وكنت أمتنع عن تحرير الجواب وتقريره، احتراماً لعلمائها وفضلائها، وحفظاً للأدب في حق نبهائها وفقهائها.
فقد كتبت بالإسناد عن بعض المتقدمين أنه قال: ((من حدث في بلدةٍ وبها من أولى بالرواية منه فهو مختل)).
সে অবস্থায় নিজের নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি তা প্রত্যক্ষ করেননি এবং এ বিষয়ে মুফিদ (المفيد)-এর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন, অথবা মূল পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত কোনো শাখা বা অনুলিপি থেকে তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে; এমতাবস্থায় এই শ্রবণ (سماع) কি বিশুদ্ধ (صحيح) হবে নাকি হবে না?
আমি সেখানকার আলিম ও গুণীজনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক এবং সেখানকার প্রাজ্ঞ ও ফকীহদের প্রতি শিষ্টাচার বজায় রাখার খাতিরে এই উত্তরটি লিপিবদ্ধ ও চূড়ান্ত করা থেকে বিরত থাকতাম।
আমি পূর্বসূরিদের কারো কারো থেকে সনদ (إسناد) সহকারে লিখেছি যে তিনি বলেছেন: ((যে ব্যক্তি এমন কোনো শহরে হাদিস বর্ণনা করল যেখানে তার অপেক্ষা বর্ণনার (رواية) জন্য অধিকতর যোগ্য ব্যক্তি বর্তমান রয়েছেন, সে ব্যক্তি ত্রুটিযুক্ত (مختل)।))
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
وسئل الإمام أبو بكر القفال الشاشي عند حلوله بظاهر ثغر خوي -حماه الله- عن مسألةٍ، فأمسك عن الجواب لأجل عمر بن يمن الخويي، وأحال في الحال عليه، هذا أو معناه.
والحكاية عندي في أجزاء أذربيجان بالإسناد.
وكان القفال رحمه الله قد قدم تلك الناحية مجتازاً إلى الروم غازياً، وقصته مع كلب الروم -متملكها هناك- قصةٌ مشهورةٌ معروفة.
ইমাম আবু বকর আল-কাফফাল আশ-শাশী যখন খুই—আল্লাহ একে হিফাজত করুন—সীমান্তের উপকণ্ঠে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁকে একটি মাসআলা (مسألة) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি উমর বিন ইয়ামান আল-খুয়ি-এর উপস্থিতির কারণে উত্তর প্রদান থেকে বিরত থাকলেন এবং তৎক্ষণাৎ বিষয়টি তাঁর নিকট সোপর্দ করলেন; এটিই সেই ঘটনা বা এর সমমর্মী কোনো বর্ণনা।
এই কাহিনীটি আমার নিকট আজারবাইজান বিষয়ক সংকলনের খণ্ডসমূহের (أجزاء) মধ্যে সনদ (إسناد) সহ সংরক্ষিত আছে।
ইমাম আল-কাফফাল (রহিমাহুল্লাহ) যোদ্ধা হিসেবে রোম সাম্রাজ্যের দিকে গমনের পথে ওই অঞ্চলে পৌঁছেছিলেন। সেখানে রোম সম্রাটের সাথে তাঁর ঘটনাটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
وسمعت القاضي أبو الحسن علي بن أحمد بن المفضض بشروان يقول:
((أمسك القاضي أبو بكر أحمد بن سهل بن السري الهمذاني عن الفتوى حين ورد القاضي أبو القاسم الحسن بن ممشاذ الأصبهاني -المعروف بـ (الزرندي) - شروان، إكراماً له وإجلالاً، وقال: هو أولى بذلك مني)).
هذا أو قريبٌ من معناه، وهو مروي في مسموعات شروان على لفظه.
وفي المثل السائر: ((أدب النفس خيرٌ من أدب الدرس)).
আমি কাজী আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন আল-মুফাদদাদকে শিরওয়ানে বলতে শুনেছি:
((কাজী আবু বকর আহমদ বিন সহল বিন আস-সারী আল-হামদানি যখন কাজী আবুল কাসিম আল-হাসান বিন মামশাদ আল-আসবাহানি—যিনি আল-যারান্দি নামে পরিচিত—শিরওয়ানে আগমন করলেন, তখন তাঁর প্রতি সম্মান ও মহিমা প্রদর্শনার্থে ফতোয়া প্রদান থেকে বিরত থাকেন এবং বলেন: "তিনি এ কাজের জন্য আমার অপেক্ষা অধিকতর যোগ্য"))।
এটিই অথবা এর কাছাকাছি কোনো শব্দ, যা শিরওয়ানের মাসমুআত (مسموعات)-এ হুবহু তাঁর বর্ণিত (مروي) শব্দেই সংরক্ষিত।
আর প্রচলিত প্রবাদে রয়েছে: "আত্মিক শিষ্টাচার পাঠগত শিষ্টাচার অপেক্ষা উত্তম।"
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
وقد سمعت أبا الحسن علي بن محمد بن علي العلاف ببغداد يقول: سمعت أبا الحسن علي بن أحمد بن عمر المقرئ -المعروف بالحمامي- يقول: سمعت أبا إسحاق إبراهيم بن أحمد بن مهران القرميسيني يقول: سمعت أحمد ابن صالح البزاز الواسطي يقول: قال ابن عائشة:
((ولد لكسرى مولودٌ، فجيء ببعض أهل الأدب، وجيء بالمولود، فوضع بين يديه، فقال له كسرى: ما خير ما أوتي هذا المولود؟ قال: عقلٌ يولد معه، قال: فإن عدمه؟ قال: مالٌ يستر، قال: فإن عدمه ذاك؟ قال: أدبٌ حسنٌ يعيش به بين الناس، قال: فإن عدمه ذاك؟ قال: صاعقةٌ محرقةٌ! )).
وسمعت الشيخ الشهيد والدي أبا أحمد محمد بن أحمد بن محمد بن إبراهيم السلفي الطوفي رضي الله عنه بأصبهان يقول:
((لا تتقدمن على من هو أولى بالتقدم منك، فإن ذلك مما يزري بك وبحقك، ويحط من قدرك)).
ذكر هذا رحمه الله في جملة وصاياه لي، فجزاه الله عن وصيته ونصيحته خيراً، ورفع له بها قدراً، فلقد نَصح نُصح من طب -والله- لمن حب.
وما أحسن النصيحة، خاصةً من الموفي حق نفسه، حتى يؤثر بعد في غيره.
كما روي في الآثار -وهو عندي بالإسناد-: ((أن الله تعالى أوحى إلى عيسى ابن مريم: يا عيسى عظ نفسك، فإن اتعظت فعظ الناس، وإلا فاستحيي مني)).
আমি বাগদাদে আবুল হাসান আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আল-আল্লাফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল হাসান আলি ইবনে আহমদ ইবনে উমর আল-মুকরি—যিনি আল-হামামি নামে পরিচিত—তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে মিহরান আল-কিরমিসিনিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবনে সালিহ আল-বাজজাজ আল-ওয়াসিতিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবনে আইশাহ বলেছেন:
“কিসরার (পারস্য সম্রাট) এক সন্তান জন্মগ্রহণ করল। তখন জনৈক শিষ্টাচারী ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হলো এবং নবজাতককে তার সামনে রাখা হলো। কিসরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন: এই নবজাতককে দেওয়া সর্বোত্তম বস্তু কী? তিনি বললেন: জন্মগত বুদ্ধি। কিসরা বললেন: যদি তার তা না থাকে? তিনি বললেন: সম্পদ, যা তাকে আবৃত করে রাখবে। কিসরা বললেন: যদি তার সেটিও না থাকে? তিনি বললেন: উত্তম শিষ্টাচার, যার মাধ্যমে সে মানুষের মাঝে জীবন যাপন করবে। কিসরা বললেন: যদি তার সেটিও না থাকে? তিনি বললেন: একটি দহনকারী বজ্রপাত!”
আর আমি ইসফাহানে শহিদ শায়খ, আমার পিতা আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আস-সালাফি আত-তুফি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-কে বলতে শুনেছি:
“তোমার চেয়ে অগ্রগণ্য হওয়ার অধিক যোগ্য যে ব্যক্তি, তার আগে অগ্রসর হয়ো না; কারণ এটি তোমার এবং তোমার হকের মানহানি ঘটায় এবং তোমার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।”
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) আমাকে দেওয়া তাঁর উপদেশমালার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে এটি উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর এই উপদেশ ও নসিহতের জন্য তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং এর মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। আল্লাহর কসম! তিনি তাঁর প্রিয়জনকে একজন দক্ষ চিকিৎসকের ন্যায় সুপরামর্শ দিয়েছেন।
আর উপদেশ কতই না সুন্দর, বিশেষ করে এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে যিনি নিজের হকের ব্যাপারে যত্নবান, ফলে তা পরবর্তীতে অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
যেমনটি আছার (آثار) সমূহে বর্ণিত হয়েছে—আর এটি আমার কাছে সনদ (إسناد) সহ সংরক্ষিত—নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ ঈসা ইবনে মারইয়ামের প্রতি ওহি প্রেরণ করেছিলেন যে: “হে ঈসা! আগে নিজেকে উপদেশ দাও; যদি তুমি নিজে উপদেশ গ্রহণ করো তবে মানুষকে উপদেশ দাও, অন্যথায় আমাকে লজ্জা করো।”
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
وأخبرنا أبو العباس أحمد بن عبد الغفار بن أشته الأصبهاني، أخبرنا محمد بن عمر بن زيله، أنا عبد الله بن أحمد بن القاسم حدثنا عبد الله ابن محمد بن عبد الكريم قال: سمعت محمد بن حرب يقول: سمعت ابن أبي أويس يقول: سمعت مالكاً يقول:
((من ليس في نفسه خيرٌ، فلا خير للناس فيه)).
ورواته إلى عبد الله بن محمد بن عبد الكريم بن يزيد بن فروخ الرازي -ابن أخي أبي زرعة- أصبهانيون ثقات، وعبد الله أيضاً يكنى أبا القاسم، مات عندنا بأصبهان سنة عشرين وثلاثمائة.
وقد نظمت أنا في هذا المعنى مقطعاتٍ، منها قطعةٌ بالعراق سنة سبعٍ وتسعين وأربعمائة، أول ما قلت الشعر، وهي:
من كان يأمر غيره بطريقةٍ
… ويحيد عنها ضلةً فيما سلك
فسبيله كسبيل مرشد أمةٍ
… وتراه في سبل العماية قد هلك
كيف استقامة أمر قومٍ رأسهم
… ورئيسهم متخلفٌ لا أم لك
أخبرني أبو الحسن مكي بن منصور بن علان الكرخي -قدم علينا أصبهان- أنا القاضي أبو بكر أحمد بن الحسن بن أحمد الحرشي الحيري بنيسابور، حدثنا أبو العباس محمد بن يعقوب بن يوسف الأصم، ثنا زكريا ابن يحيى عن
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে আবদ আল-গাফফার ইবনে আশতাহ আল-আসবাহানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে জাইলাহ, আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আল-কাসিম, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল-কারীম, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে হারবকে বলতে শুনেছি: আমি ইবনে আবি উয়াইসকে বলতে শুনেছি: আমি মালিককে বলতে শুনেছি:
((যার নিজের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, তার মধ্যে মানুষের জন্য কোনো কল্যাণ নেই))।
আর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল-কারীম ইবনে ইয়াজিদ ইবনে ফাররুখ আর-রাজি —যিনি আবু জুরআ-এর ভ্রাতুষ্পুত্র— পর্যন্ত এর বর্ণনাকারীরা হলেন আসবাহানি এবং নির্ভরযোগ্য (ثقات); আবদুল্লাহর উপনামও ছিল আবু আল-কাসিম, তিনি আমাদের নিকট আসবাহানে ৩২০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
আর আমি এই বিষয়ে কিছু কাব্যখণ্ড রচনা করেছি, যার মধ্যে একটি অংশ ইরাকে ৪৯৭ হিজরি সনে রচিত, যখন আমি প্রথম কবিতা বলতে শুরু করি, আর তা হলো:
যে ব্যক্তি অন্যকে কোনো পথের নির্দেশ দেয়
… অথচ সে নিজে পথভ্রষ্ট হয়ে তা থেকে বিচ্যুত হয়
তার অবস্থা সেই জাতির পথপ্রদর্শকের ন্যায়
… যাকে তুমি বিভ্রান্তির পথে ধ্বংস হতে দেখছো
সেই জাতির বিষয়াদি কীভাবে সঠিক হতে পারে যাদের নেতা
… এবং প্রধানই অযোগ্য ও পশ্চাৎপদ
আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান মক্কি ইবনে মানসুর ইবনে আল্লান আল-কারখি —তিনি আমাদের নিকট আসবাহানে এসেছিলেন—, আমাদের জানিয়েছেন বিচারক আবু বকর আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আহমদ আল-হারাশি আল-হাইরি নিশাপুরে, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ আল-আসাম্ম, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি... থেকে।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٤١)
سفيان بن عيينة عن زياد بن علاقة، سمع جرير بن عبد الله رضي الله عنه يقول:
((بايعت النبي صلى الله عليه وسلم على النصح لكل مسلم)).
أخبرنا أبو عبد الله القاسم بن الفضل بن أحمد بن أحمد بن محمود بأصبهان سنة ثمانٍ وثمانين وأربعمائة، ثنا أبو عبد الله محمد بن إبراهيم ابن جعفر اليزدي -المعرف بالجرجاني-أملانا أبو العباس محمد بن يعقوب ابن يوسف الأصم النيسابوري، ثنا أبو عتبة أحمد بن الفرج الحمصي، حدثنا بقية بن الوليد، عن أبي جعفر الرازي، حدثني هشام بن حسان، عن الحسن، عن تميم الداري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
((من جاء يوم القيامة بخمسٍ لم يصد وجهه عن الجنة: النصح لله، ولدينه، ولكتابه، ولرسوله ولجماعة المسلمين)).
সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ জিয়াদ ইবনে ইলাকাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন:
((“আমি প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনার (النصح) ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি”))।
আমাদের সংবাদ দান (أخبرنا) করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-কাসিম ইবনুল ফাদল ইবনে আহমাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মাহমুদ আসবাহান শহরে চারশত আটাশি হিজরি সনে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা (حدثنا) করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে জাফর আল-ইয়াযদি—যিনি আল-জুরজানি নামে পরিচিত; তিনি বলেন: আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদান (أملانا) করেছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ আল-আসাম আল-নিশাপুরী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা (حدثنا) করেছেন আবু উতবাহ আহমাদ ইবনুল ফারাজ আল-হিমসি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা (حدثنا) করেছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ, আবু জাফর আর-রাজি থেকে; তিনি বলেন: আমার নিকট হাদিস বর্ণনা (حدثني) করেছেন হিশাম ইবনে হাসান, তিনি হাসান থেকে, তিনি তামিমে দারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
((“যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন পাঁচটি বিষয় নিয়ে উপস্থিত হবে, তার চেহারা জান্নাত থেকে বিমুখ হবে না: আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা (النصح), তাঁর দ্বীনের প্রতি, তাঁর কিতাবের প্রতি, তাঁর রাসুলের প্রতি এবং মুসলিম জামাতের প্রতি আন্তরিকতা (النصح)”))।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
سمعت أبا المعالي ثابت بن بندار بن إبراهيم المقرئ ببغداد يقول: سمعت عبد العزيز بن علي بن شكر الوراق يقول: سمعت أبا بكر محمد ابن أحمد بن يعقوب الحافظ يقول: سمعت عبد الله بن أبي داود السجستاني يقول: سمعت أبي أبا داود يقول:
((الفقه يدور على خمسة أحاديث: ((الحلال بينٌ والحرام بينٌ))، وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا ضرر ولا ضرار))، وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((إنما الأعمال بالنيات، وإنما لامرئ ما نوى))، وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((الدين النصيحة))، وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ما نهيتكم عنه فاجتنبوه، وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم)).
আমি বাগদাদে আবুল মাআলী সাবিত ইবনে বানদার ইবনে ইবরাহিম আল-মুকরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল আজিজ ইবনে আলি ইবনে শুকর আল-ওয়াররাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাফেজ (الحافظ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইয়াকুবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতা আবু দাউদকে বলতে শুনেছি:
“ফিকহ পাঁচটি হাদিসের ওপর আবর্তিত হয়: ‘হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট’; এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির শিকার হওয়া যাবে না’; এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে’; এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা’; এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘আমি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করেছি তা বর্জন করো, আর যা আদেশ করেছি তা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী পালন করো’।”
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
هذا الفضل على ما ذكرت.
والغرض أني في الأول امتنعت كما بينت، وفي الأخير أحرجتني الضرورة، وأخرجتني إلى إثبات الجواب، وقد تدعو الضرورات -كما قيل- إلى سلوك ما لا يليق بالآداب.
فأقول -والله الموفق للصواب والسداد، والهادي إلى طرق الرشاد-:
اعلموا -أعلمكم الله الخير ووقاكم وجنبكم الشر- أن المتنازع فيه لا يخلو:
إما أن يكون الراوي عارفاً بما يرويه، عالماً بالذي يؤديه، أو غير عارفٍ بذلك ولا عالم.
فإن كان عالماً وبحديثه عارفاً:فاستماعه إلى القارئ وإقراره بالمقروء عليه بقوله: نعم، أو ما في معناه، مغنٍ عما عداه، سواءً كان القارئ من أهل المعرفة بدقائق المحدثين، أو لم يكن بها من العارفين، أو قرأه على الأصل أو من الفرع المنسوخ منه، فإنه يعرف حديثه ويرد عليه الخطأ والتصحيف، والخطل والتحريف، ولا يروي إلا
এই শ্রেষ্ঠত্ব আমি যা উল্লেখ করেছি তার ওপর ভিত্তি করে।
আর উদ্দেশ্য হলো এই যে, আমি প্রথমে বিরত ছিলাম যেমনটি আমি স্পষ্ট করেছি, কিন্তু পরিশেষে প্রয়োজনীয়তা আমাকে বাধ্য করেছে এবং উত্তর প্রদানের দিকে ধাবিত করেছে। আর যেমনটি বলা হয়—কখনো কখনো আবশ্যকতা এমন পথে চলতে বাধ্য করে যা শিষ্টাচারের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
অতএব আমি বলছি—আর আল্লাহই সঠিক ও নির্ভুল কর্মের তৌফিকদাতা এবং সত্যপথের দিশারী:
আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের কল্যাণ দান করুন, আপনাদের রক্ষা করুন এবং অনিষ্ট থেকে দূরে রাখুন—বিতর্কিত বিষয়টি নিম্নোক্ত অবস্থার বাইরে নয়:
হয় বর্ণনাকারী (راوي) যা বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত এবং যা উপস্থাপন করছেন সে বিষয়ে জ্ঞানী হবেন, অথবা তিনি এ বিষয়ে অবহিত ও জ্ঞানী হবেন না।
যদি তিনি জ্ঞানী হন এবং নিজের হাদিস সম্পর্কে সম্যক অবহিত হন:তবে পাঠকের (قارئ) পাঠ শ্রবণ করা এবং যা তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে তার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘হ্যাঁ’ বা অনুরূপ শব্দ বলা অন্য সবকিছুর জন্য যথেষ্ট হবে। পাঠক মুহাদ্দিসগণের (محدثين) সূক্ষ্ম বিষয়াদি সম্পর্কে পারদর্শী হোন বা না হোন, কিংবা তিনি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ করুন অথবা মূল থেকে সংগৃহীত শাখা পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ করুন—তা সমান। কেননা তিনি নিজের হাদিস চেনেন এবং ভুল, লিখনগত বিকৃতি (تصحيف), ভ্রান্তি ও শব্দগত বিকৃতি (تحريف) নিরসন করেন। আর তিনি বর্ণনা করেন না কেবল...
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
على شرط الصحة.
هذا ظاهر بينٌ.
وإن كان الراوي شيخاً صحيح السماع، إلا أنه لا يعرف حديثه:فالاعتماد في روايته على المفيد عنه لا عليه، يقلده السامعون فيما يقرؤه وينتخبه، بعد تيقنهم أنه ثقةٌ عارفٌ بحديث الشيخ، غير منحرفٍ في أركان الحديث وقواعد الرواية والتحديث عن نهج الصواب والطريق المهيع.
إلا أنه مع ذلك كله لا يستغني عن إعلام الشيخ حال القراءة أن الجزء عمن سمعه ومن الذي به حدثه.
وإن كان تخريجاً عن شيوخٍ (شتى)، وفوائد من رواياتٍ متفاوتةٍ:فلا بد أيضاً من أن يتوقف في ابتداء حديث كل شيخٍ على حدة، ويتأنى في ذكر اسمه من غير إدراجٍ ولا إدغامٍ -كما يتأتى له، وجرت به عادة
বিশুদ্ধতার (صحة) শর্তানুযায়ী।
এটি সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য।
আর বর্ণনাকারী (راوي) যদি এমন একজন শায়খ (شيخ) হন যার শ্রবণ (سماع) বিশুদ্ধ (صحيح), কিন্তু তিনি নিজের বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে সম্যক অবগত নন:এমতাবস্থায় তার বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে নির্ভরতা থাকবে তার ছাত্র বা সহযোগীর (المفيد) ওপর, তার নিজের ওপর নয়; শ্রবণকারীগণ তার পঠিত ও নির্বাচিত পাঠের ক্ষেত্রে তাকেই অনুসরণ করবেন, যখন তারা নিশ্চিত হবেন যে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং শায়খের হাদিস সম্পর্কে বিজ্ঞ, যিনি হাদিসের স্তম্ভসমূহ (أركان) এবং বর্ণনা (رواية) ও বর্ণনাদান (تحديث) প্রক্রিয়ার নিয়মাবলীতে সঠিক পথ ও সুগম পন্থা থেকে বিচ্যুত নন।
তবে এতদসত্ত্বেও, পাঠের (قراءة) সময় শায়খকে অবহিত করা থেকে বিরত থাকা যাবে না যে, এই অংশটি (جزء) তিনি কার থেকে শুনেছেন এবং কে তাকে এটি বর্ণনা (حدثه) করেছেন।
আর যদি এটি বিভিন্ন শায়খদের (شيوخ) থেকে সংগৃহীত (تخريج) হয় এবং ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা (روايات) থেকে প্রাপ্ত বিশেষ তথ্যাদি (فوائد) হয়:তবে অবশ্যই প্রত্যেক শায়খের (شيخ) হাদিস পৃথকভাবে শুরু করার সময় বিরতি নিতে হবে এবং কোনো প্রকার অনুপ্রবেশ (إدراج) বা সংমিশ্রণ (إدغام) ছাড়াই ধীরস্থিরভাবে তার নাম উল্লেখ করতে হবে - যেভাবে তার পক্ষে সম্ভব হয় এবং যেমনটি রীতি হিসেবে চলে আসছে।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
القراء- بحديثٍ في أثناء القراءة، حتى يعلم الشيخ من ابتداء الجزء إلى انتهائه بإعلامه إياه.
وهذا القدر كافٍ لا يحتاج معه إلى ما هو أكثر منه أصلاً.
وقراءته عليه من أصل سماعه، أو من فرعه المنقول من الأصل المقابل به سيان.
على هذا عهدنا علماءنا عن آخرهم.
ولم يزل الحفاظ قديماً وحديثاً يخرجون للشيوخ من الأصول، فتصير تلك الفروع بعد المقابلة بها أصولاً، وهل كانت الأصول أولاً إلا فروعاً؟ !
منهم إبراهيم بن أورمة الأصبهاني، وأبو زرعة الرازي، وأبو مسعود أحمد ابن الفرات الرازي الضبي نزيل أصبهان، وعبد الرحمن بن يوسف بن خراش، وصالح بن محمد البغدادي جزرة -المقيم بما وراء النهر-، وأبو محمد البلاذري، وأبو علي النيسابوري، وأبو حاتم محمد بن حبان البستي، وأبو القاسم الطبراني الثاوي بأصبهان، وعمر بن جعفر البصري، ومحمد بن المظفر البغدادي، وأبو الحسن الدارقطني، وأبو عبد الله بن بكير، وأبو عبد الله بن منده
পাঠকারী পাঠের মধ্যস্থলে একটি হাদিস পাঠ করবেন, যাতে শায়খ খণ্ডটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবহিত আছেন তা তাঁকে অবগত করার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।
আর এই পরিমাণটুকুই যথেষ্ট, এর সাথে মূলত অতিরিক্ত অন্য কিছুর কোনো প্রয়োজন নেই।
তাঁর নিকট তাঁর শ্রবণকৃত মূল পাণ্ডুলিপি (أصل) থেকে পাঠ করা, অথবা সেই মূলের সাথে মিলিয়ে দেখা (المقابلة) হয়েছে এমন শাখা পাণ্ডুলিপি (فرع) থেকে পাঠ করা—উভয়ই সমান।
আমরা আমাদের আলেমদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত এই রীতির উপরেই পেয়েছি।
প্রাচীন ও বর্তমানকালের হাদিস বিশারদগণ (الحفاظ) সর্বদা শায়খদের জন্য মূল পাণ্ডুলিপি (الأصول) থেকে অনুলিপি তৈরি করে দিতেন, অতঃপর সেই শাখা পাণ্ডুলিপিগুলো (الفروع) মূলের সাথে মিলিয়ে দেখার (المقابلة) পর সেগুলো মূল পাণ্ডুলিপি (أصولاً) হিসেবে গণ্য হতো। আর মূল পাণ্ডুলিপিগুলো কি আদিতে শাখা পাণ্ডুলিপি (فروعاً) ছাড়া আর কিছু ছিল?!
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইব্রাহিম ইবনে আওরামাহ আল-আসবাহানি, আবু যুরআহ আল-রাজি, আবু মাসউদ আহমদ ইবনে আল-ফুরাত আল-রাজি আদ-দাব্বি—যিনি আসবাহানে অবস্থান করতেন, আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ ইবনে খিরাশ, সালিহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদি জাযারাহ—যিনি মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলে অবস্থান করতেন, আবু মুহাম্মদ আল-বালাজুরি, আবু আলী আন-নিসাবুরি, আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি, আসবাহানে বসবাসকারী আবু আল-কাসিম আত-তাবারানি, উমর ইবনে জাফর আল-বাসরি, মুহাম্মদ ইবনে আল-মুজাফফার আল-বাগদাদি, আবু আল-হাসান আদ-দারা কুতনি, আবু আবদুল্লাহ ইবনে বুকাইর এবং আবু আবদুল্লাহ ইবনে মানদাহ।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
الأصبهاني، والحاكم أبو عبد الله النيسابوري، وخلف بن محمد بن علي الواسطي، وعبد الغني بن سعيد المصري، وأبو بكر أحمد بن موسى بن مردويه وأبو نعيم الأصبهانيان، وأبو علي الوخشي البلخي، وأبو الفضل الفلكي الهمداني، وأبو نصر السجزي الوائلي، وأبو عبد الله الصوري، وأبو بكر الخطيب البغدادي، (فيمن) قبلهم، ومن بعدهم.
وكذلك قراءته عليه من الفرع المكتوب من الأصل قبل المقابلة، وأحد الحفاظ المبرزين ينظر فيه ويضبط له، حتى يصححه: بمثابة القراءة من الأصل أو الفرع المقابل المصحح، إذ القصد من ذلك كله حصول السماع على وجه الصحة.
ولعمري، إن وقوفه على اسمه في الجزء في حالة السماع منه مما لا يضر، بل ينفع! لأنه ليس بشرطٍ لا يصح السماع دونه، إذ لو كان شرطاً لذكروه في الكتب المصنفة، ولم يذكروه أصلاً والبتة.
فإما أن يكون الشيخ أمياً لا يفرق بين الصحيح من سماعه وبين السقيم:فإعطاؤه الجزء حتى ينظر اسمه، ويقال: الآن صح السماع، ومن لم يفعل ذلك عيب عليه، فهذا نوعٌ من العبث! لم نعهد عليه أحداً من حفاظ عصرنا، لا في بلدٍ دخلته، ولا في أصبهان مصرنا، ولا حكي أيضاً لنا عن أحدٍ من المتقدمين قبلنا.
আসবাহানি, হাকেম আবু আব্দুল্লাহ আন-নিশাপুরি, খালাফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-ওয়াসিতি, আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ আল-মিসরি, আবু বকর আহমদ ইবনে মুসা ইবনে মারদুওয়াইহ এবং আবু নুয়াইম আল-আসবাহানিদ্বয়, আবু আলী আল-ওয়াখশি আল-বালখি, আবু ফাদল আল-ফালাকি আল-হামাদানি, আবু নাসর আস-সিজজি আল-ওয়াইলি, আবু আব্দুল্লাহ আস-সুরি, আবু বকর আল-খতিব আল-বাগদাদি এবং তাঁদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ।
একইভাবে, মূল পাণ্ডুলিপি (أصل) থেকে অনুলিপি করা পাণ্ডুলিপিটি মূলের সাথে পাণ্ডুলিপি যাচাই (مقابلة) করার আগেই উস্তাদের কাছে পাঠ করা, এমতাবস্থায় যে কোনো একজন বিশিষ্ট হাফিজ (حافظ) সেটি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তাঁর জন্য শব্দগুলো নির্ভুলভাবে নির্ধারণ (ضبط) করে দিচ্ছেন যাতে তিনি তা সংশোধন করতে পারেন—এটি মূল পাণ্ডুলিপি (أصل) কিংবা মিলিয়ে দেখা ও সংশোধিত পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ করার সমতুল্য। কেননা এ সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো নির্ভুলভাবে শ্রবণ (سماع) সম্পন্ন হওয়া।
আমার জীবনের কসম! শ্রবণ (سماع) করার সময় কিতাবের সেই খণ্ডে নিজের নাম খুঁজে পাওয়া কোনো ক্ষতি করে না, বরং তা উপকারে আসে! কারণ এটি এমন কোনো শর্ত (شرط) নয় যার অনুপস্থিতিতে শ্রবণ (سماع) শুদ্ধ (صحيح) হবে না; যদি এটি কোনো শর্ত (شرط) হতো, তবে সংকলিত কিতাবসমূহে অবশ্যই এর উল্লেখ করা হতো, অথচ তাঁরা তা আদৌ উল্লেখ করেননি।
যদি শায়খ (شيخ) এমন নিরক্ষর হন যিনি তাঁর শ্রুত বিষয়ের সহিহ (صحيح) এবং ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) হওয়ার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না:এমতাবস্থায় তাঁকে কিতাবের সেই অংশটি দেওয়া যাতে তিনি নিজের নাম দেখতে পারেন এবং বলা হয়: "এখন শ্রবণ (سماع) শুদ্ধ (صحيح) হয়েছে", আর যে ব্যক্তি তা করল না তাকে দোষারোপ করা—এটি এক ধরণের নিরর্থক কাজ! আমরা আমাদের যুগের কোনো হাফিজের (حافظ) মধ্যে এমনটি দেখিনি—না আমার সফর করা কোনো শহরে, না আমাদের আসবাহান শহরে। এমনকি আমাদের পূর্ববর্তী কোনো ইমাম থেকেও এমন কিছু বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
ولربما أقر هذا الشيخ الأمي في بعض الأحايين لشيءٍ قرئ عليه بعد وقوفه على اسمه في طرر جزءٍ أو كتابٍ كتب عنه، فيؤدي إقراره إلى إسقاطه! -وترك الرواية عنه أولى- وإلى ضعف روايته.
هذا وقد مقل اسمه في الجزء بخط من نقل عنه.
مثلاً:
إذا كان القارئ عليه أو المنتخب له مغفلاً، غير بصيرٍ بأسباب الرواية، ولا معدوداً في جملة أرباب الدراية، وظفر بكتابٍ قرئ على شيخ من شيوخه في مجالس شتى وأوقاتٍ مختلفة، ويرى فيه علاماتٍ وبلاغاتٍ، وفي بعضها سماع هذا الشيخ مثبتٌ، فيشتبه عليه، فيترك ما هو من سماعه، ويكتب ما ليس بمسموعٍ (لم يقره) عليه، زعماً منه أنه صحيح!
وهذا ما شاهدته أنا في العراق، وذلك أنه كان لي بلدي صالحٌ دينٌ حريصٌ على التحصيل، رحل معي من أصبهان سنة ثلاثٍ وتسعين وأربعمائة إلى الشيخ أبي الخطاب نصر بن أحمد البطر الرازي لكتاب الدعاء وغيره من أمالي القاضي أبي عبد الله الحسين بن إسماعيل المحاملي، وكان آخر
এবং সম্ভবত এই নিরক্ষর শাইখ কোনো কোনো সময়ে তাঁর নিকট পঠিত কোনো বিষয়ের স্বীকৃতি প্রদান করেন, যখন তিনি কোনো ক্ষুদ্র সংকলন বা কিতাবের কিনারায় নিজের নাম লিখিত দেখেন। ফলে তাঁর এই স্বীকৃতি তাঁকে বর্জনের (إسقاط) পর্যায়ে নিয়ে যায় -আর তাঁর থেকে বর্ণনা (رواية) ত্যাগ করাই শ্রেয়- এবং তাঁর বর্ণনার (رواية) দুর্বলতার (ضعف) কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অথচ সেই ক্ষুদ্র সংকলনে তাঁর নামটি কেবল তাঁর থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণকারীর হস্তাক্ষরেই নিবদ্ধ ছিল।
উদাহরণস্বরূপ:
যদি তাঁর নিকট পাঠকারী অথবা তাঁর জন্য সংকলন প্রস্তুতকারী ব্যক্তি অসতর্ক হন, বর্ণনা (رواية) পদ্ধতির নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান না হন এবং অনুধাবন শাস্ত্রের (دراية) বিশেষজ্ঞ হিসেবেও গণ্য না হন; এমতাবস্থায় তিনি যদি এমন কোনো কিতাব পান যা তাঁর জনৈক শাইখের নিকট বিভিন্ন মজলিস ও সময়ে পাঠ করা হয়েছে এবং তাতে বিভিন্ন চিহ্ন ও পাঠ-সমাপ্তির টীকা দেখতে পান, যার কয়েকটিতে ঐ শাইখের শ্রবণ (سماع) সাব্যস্ত রয়েছে, তবে তিনি বিভ্রান্ত হতে পারেন। এর ফলে তিনি যা প্রকৃতপক্ষে শুনেছেন (سماع) তা বর্জন করেন এবং যা শুনেননি (যাতে শাইখ স্বীকৃতি দেননি) তা লিখে রাখেন, এই ধারণা পোষণ করে যে এটি সঠিক (صحيح)!
ইরাকে আমি স্বয়ং এমনটি প্রত্যক্ষ করেছি। আমার এক সৎ, ধর্মপ্রাণ এবং ইলম অর্জনে অত্যন্ত আগ্রহী দেশবাসী ছিলেন, যিনি চারশ তিরানব্বই হিজরি সনে আসবাহান থেকে আমার সাথে শাইখ আবু আল-খাত্তাব নাসর ইবনে আহমাদ আল-বাতার আল-রাজির নিকট 'কিতাবুদ দুআ' এবং কাযী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলির অন্যান্য আমালি শ্রবণের উদ্দেশ্যে সফর করেছিলেন। আর তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
من حدث في الدنيا بحديثه عالياً عن أبي محمد بن البيع عنه رحمهم الله
فكان يسمع بقراءتي عليه وعلى غيره من شيوخ بغداد، وأقابل معه، وأدله على المهمات والكتب الكبار التي لا أقدر أنا على نسخها في تلك الأيام، طمعاً في أن أنسخها من نسخةٍ بعد قضاء الوطر والعود إلى الوطن.
فعزم على التوجه إلى بيت الله الحرام، وإسقاط الفرض عنه في ذلك العام، إذ لم يكن قد حج بمضي.
وكتب باجتيازه بالكوفة وبعد رجوعه من الحجاز عن أبي البقاء المعمر بن محمد بن علي الحبال أجزاءً من مسند أبي عمرو أحمد ابن حازم بن أبي غرزة الغفاري، من رواية جناح بن نذير
যারা আবু মুহাম্মদ ইবনুল বায়্যি-এর সূত্রে উচ্চ মানের (عالياً) সনদে পৃথিবীতে তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন—আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহম করুন।
তিনি আমার পাঠের মাধ্যমে এবং বাগদাদের অন্যান্য শায়খদের (شيوخ) নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করতেন। আমি তাঁর সাথে পাণ্ডুলিপি মুকাবিলা করতাম এবং তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও বৃহৎ গ্রন্থাবলির নির্দেশনা দিতাম, যা সেই দিনগুলোতে আমার পক্ষে অনুলিপি (نسخ) করা সম্ভব ছিল না। আমার উদ্দেশ্য ছিল যে, প্রয়োজন পূরণ ও সদেশে ফিরে যাওয়ার পর তাঁর অনুলিপি (نسخة) থেকে আমি তা নকল করে নেব।
অতঃপর তিনি সেই বছর আল্লাহর পবিত্র ঘরে গমনের এবং তাঁর ওপর অর্পিত ফরজ (الفرض) বিধানটি পালনের সংকল্প করলেন; কারণ ইতিপূর্বে তিনি হজ পালন করেননি।
তিনি কুফা অতিক্রমকালে এবং হিজাজ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর আবুল বাকা আল-মুয়াম্মার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-হাব্বালের নিকট থেকে জুনাহ ইবনে নাযিরের বর্ণনা (رواية) সূত্রে আবু আমর আহমদ ইবনে হাযিম ইবনে আবি গারযা আল-গিফারির মুসনাদ-এর কিয়দংশ লিখে নিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
المحاربي، ورواية زيد بن أبي هاشم العلوي، جميعاً عن محمد بن علي ابن دحيم الشيباني عنه، واستجاز لي من الشيخ.
فلما وصل إلى مدينة السلام عرضها علي، وفرحت بها له ولي.
ثم إنه أقبل على النسخ والسماع على عادته المستمرة، وتمادى في المكث واللبث، إلى أن قدم علينا هذا الشيخ من الكوفة، فاجتمع عليه أصحاب الحديث لعلو سنده، ولم يك صاحب أصولٍ ولا ذا معرفةٍ بالحديث، إلا أن شيخنا أبا الغنائم محمد بن علي بن ميمون النرسي الحافظ -الملقب بأبي الكوفي- كان قد كتب له جزئين، وكانا معه.
فأحضرت تلك الأجزاء برمتها، وقرأها الشيخ أبو نصر المؤتمن بن أحمد بن علي الساجي الحافظ مع جزئه، ونسخها قومٌ، ونسخت
আল-মুহারিবি এবং যায়েদ বিন আবি হাশেম আল-আলাওয়ি-এর বর্ণনা, তাঁরা সকলেই মুহাম্মাদ বিন আলী ইবন দোহাইম আল-শায়বানি-এর সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং তিনি আমার জন্য শায়খের নিকট থেকে অনুমতি (إجازة) প্রার্থনা করেছিলেন।
অতঃপর যখন তিনি মদিনাতুস সালামে পৌঁছালেন, তখন তিনি সেগুলো আমার নিকট পেশ করলেন এবং আমি তাঁর জন্য ও নিজের জন্য এতে আনন্দিত হলাম।
এরপর তিনি তাঁর চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী অনুলিপি তৈরি (نسخ) এবং শ্রবণের (سماع) কাজে মনোনিবেশ করলেন এবং দীর্ঘকাল অবস্থান করলেন। অবশেষে কুফা থেকে এই শায়খ আমাদের নিকট আসলেন। তাঁর উচ্চস্তরের সনদ (علو السند)-এর কারণে হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) তাঁর নিকট সমবেত হলেন। যদিও তিনি মূল পাণ্ডুলিপি (أصول)-এর অধিকারী ছিলেন না এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর বিশেষ প্রজ্ঞা (معرفة) ছিল না; তবে আমাদের শায়খ আবুল গানায়েম মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাইমুন আল-নারসি আল-হাফিজ (الحافظ) —যিনি 'আবু আল-কুফি' উপাধিতে ভূষিত ছিলেন— তাঁর জন্য দুটি খণ্ড (جزئين) লিখে দিয়েছিলেন এবং সেগুলো তাঁর নিকটেই ছিল।
অতঃপর সেই খণ্ডগুলো (أجزاء) সম্পূর্ণরূপে উপস্থিত করা হলো এবং শায়খ আবু নাসর আল-মুতামিন বিন আহমাদ বিন আলী আল-সাজি আল-হাফিজ (الحافظ) তাঁর নিজস্ব খণ্ডের সাথে সেগুলো পাঠ করলেন। একদল লোক সেগুলো অনুলিপি (نسخ) করল এবং আমিও অনুলিপি করলাম।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
أنا بعضها اعتماداً على ديانة هذا الكاتب وأمانته.
فلما كانت سنة سبعٍ وتسعين، قدم الشيخ والدي بغداد مودعاً بيت الله الحرام، وتربة رسوله عليه أفضل الصلاة [والسلام]، فألح علي أن أصحبه، وبالغ في ذلك، وامتنعت لما كنت بصدده من التفقه والاشتغال بالحديث وقراءة الأدب، فأبى إلا الخروج معه! وأعانه على ذلك الشيخ الإمام أبو بكر محمد بن أبي المظفر السمعاني، إمام أصحاب الشافعي بمروٍ ونواحي خراسان.
আমি এর কিছু অংশ এই লেখকের ধার্মিকতা (ديانة) ও তাঁর বিশ্বস্ততার (أمانة) ওপর নির্ভর করে গ্রহণ করেছি।
অতঃপর যখন সাতানব্বই [৪৯৭ হিজরি] সাল এলো, তখন আমার শাইখ ও পিতা আল্লাহর পবিত্র ঘর এবং তাঁর রাসূলের—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ [ও সালাম] বর্ষিত হোক—রওজা মুবারককে বিদায় জানাতে বাগদাদে আগমন করলেন। তখন তিনি আমাকে তাঁর সফরসঙ্গী হওয়ার জন্য বারবার পিড়াপিড়ি করলেন এবং এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করলেন। আমি ফিকহ চর্চা, হাদিস নিয়ে ব্যস্ততা এবং সাহিত্য পাঠে নিমগ্ন থাকার কারণে অপারগতা প্রকাশ করলাম, কিন্তু তিনি আমাকে সাথে নেওয়া ছাড়া অন্য কিছু মানতে চাইলেন না! আর এ কাজে তাঁকে শাইখ ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আবি আল-মুজাফফর আল-সামআনি সহযোগিতা করেন, যিনি মার্ভ ও খোরাসান অঞ্চলের শাফেয়ী অনুসারীদের ইমাম ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٥١)
وكان قد قدم بغداد حاجاً ونفرٌ من حفاظ أصبهان وغيرها، فلم أستصوب مخالفتهم ولا استحسنتها، إذ كانوا يدعون إلى الخير.
فخرجت حاجاً معه رحمه الله.
فعند وصولنا إلى الكوفة سمعنا من أبي البقاء هذا وأبي وآخرين مروا قريباً.
ثم إني بعد قفولي عن الحجاز ووصولي إلى الكوفة شتوت بها، واستوفيت عن محدثيها، واستعرت الأصول وطالعتها.
তিনি হজ পালনকারী হিসেবে বাগদাদে এসেছিলেন এবং আস্পাহান ও অন্যান্য অঞ্চলের একদল হাফিজ (حفاظ) তাঁর সঙ্গে ছিলেন। আমি তাঁদের বিরোধিতা করা সমীচীন মনে করিনি এবং তা পছন্দও করিনি, যেহেতু তাঁরা কল্যাণের পথেই আহ্বান জানাচ্ছিলেন।
সুতরাং আমি তাঁর সাথে হজ পালনের উদ্দেশ্যে বের হলাম, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
অতঃপর যখন আমরা কুফায় পৌঁছলাম, তখন এই আবুল বাকা, আমার পিতা এবং নিকট অতীতে অতিক্রান্ত হওয়া অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ (سماع) করলাম।
এরপর হিজাজ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর এবং কুফায় পৌঁছানোর পর আমি সেখানে শীতকাল অতিবাহিত করি। আমি সেখানকার মুহাদ্দিসগণের (محدثين) নিকট থেকে পূর্ণাঙ্গরূপে হাদিস সংগ্রহ করি এবং তাঁদের মূল পাণ্ডুলিপিগুলো (أصول) ধার নিয়ে সেগুলো অধ্যয়ন করি।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
فأخرج لي الشريف عمر الموسوي النحوي في جملة ما أخرج جزءاً فيه بلاغاتٌ عن جناحٍ وابن أبي هاشم، وكان في بعض الجزء سماع المعمر عن ابن أبي هاشم.
وكان الأصبهاني المذكور آنفاً قد اشتبهت عليه البلاغات! ولم يمكنه إخراج الصحيح من ذلك، ولا راجع أبياً الحافظ، فكتب ما ليس من سماعه عن جناح، وترك ما هو سماعه عن ابن أبي هاشم!
فشكرت الله تعالى كيف بان لي الصحيح، وكتبت مسموعه من الجزء، وقرأته عليه، وكان معي منه حديثٌ في تخريج، فضربت عليه هناك بالكوفة، ومزقت بعد رجوعي إلى بغداذ ما كنت قد كتبته خطأً وغلطاً، اعتماداً على نسخ بلديي الصالح.
ولله در القائل، على الرأي الكامل لا الفائل:
وللحروب رجال يعرفون بها
… وللدواوين كتابٌ وحساب
শরিফ উমর আল-মুসাভি আল-নাহবি আমাকে যা কিছু বের করে দিয়েছিলেন তার মধ্যে এমন একটি অংশ (جزء) ছিল যাতে জুনাহ এবং ইবন আবি হাশেম থেকে প্রাপ্ত কিছু বর্ণনা (بلاغات) ছিল। সেই অংশের কিছু জায়গায় ইবন আবি হাশেম থেকে মুয়াম্মারের শ্রুতি (سماع) বিদ্যমান ছিল।
পূর্বে উল্লিখিত আসবাহানি সেই বর্ণনাগুলোর (بلاغات) ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন! তিনি সেখান থেকে সঠিক (صحيح) বর্ণনাগুলো আলাদা করতে পারেননি এবং হাফিজ (الحافظ) আবি-এর সাথেও পরামর্শ করেননি। ফলে তিনি জুনাহর কাছ থেকে এমন কিছু লিখেছিলেন যা তাঁর শ্রুতি (سماع) ছিল না, আর ইবন আবি হাশেম থেকে যা তাঁর শ্রুতি (سماع) ছিল তা বর্জন করেছিলেন!
আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম যে, আমার কাছে সঠিক (صحيح) বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেল। আমি সেই অংশটি থেকে তাঁর শ্রুত বিষয়গুলো লিখলাম এবং তাঁকে পড়ে শুনালাম। আমার কাছে এই সংক্রান্ত একটি হাদিস ছিল যা একটি তখরিজ (تخريج)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল; আমি কুফায় থাকাকালীন তা কেটে দিলাম এবং বাগদাদে ফেরার পর আমার স্বদেশী পুণ্যবান ব্যক্তির পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করে ভুলবশত যা লিখেছিলাম তা ছিঁড়ে ফেললাম।
আর সেই বক্তার উক্তি কতই না চমৎকার, যিনি ভ্রান্ত নয় বরং পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞার সাথে বলেছেন:
যুদ্ধের জন্য এমন সব বীর পুরুষ রয়েছেন যারা তা দিয়েই পরিচিত
… আর দাপ্তরিক কার্যাবলির জন্য রয়েছে লেখক ও হিসাবরক্ষক।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
وقد ذكرت أنا هذا المعنى في جملة أبيات من اللزوم ببردعة، فقلت -والله تعالى أعلى ذكراً وأقوم قيلاً-:
ترى فئةً لدى الهيجاء أسداً
… وآلافاً منازلهم حجال
وأقواماً خواطرهم جماد
… وقوماً جل شعرهم ارتجال
وللديوان كتابٌ كفاةٌ
… تعنوا في تأدبهم وجالوا
وللأخبار والسنن الجلايا
… ومعرفة الرجال كذا رجال
تعالى الله لم يخلق كفاءً
… وفي هذا البساط لنا مجال
فالأولى والأصوب في حق أمثال هؤلاء الشيوخ أن يقتصر على ما قدمته من الاعتماد على المفيد عنهم، الحافظ لسماعاتهم، المتحري عن معرفةٍ لا
আমি এই বিষয়টি বারদাআ-তে অবস্থানকালে ‘লুযুম’ ছন্দের কয়েকটি পংক্তিতে উল্লেখ করেছি। আমি বলেছি—আর আল্লাহ তাআলাই সর্বোত্তম স্মর্তব্য এবং তাঁর কথাই সর্বাধিক নির্ভুল—:
তুমি দেখবে রণক্ষেত্রে একদল লোক সিংহসম
… আবার হাজার হাজার লোক রয়েছে যাদের আবাসস্থল হলো অন্তঃপুর
এমন কিছু সম্প্রদায় আছে যাদের মেধা স্থবির
… আর এমন কিছু লোক আছে যাদের অধিকাংশ কবিতা হলো তাৎক্ষণিক মুখে মুখে রচিত (আশু)
রাজকীয় দপ্তরের জন্য রয়েছে দক্ষ সচিববৃন্দ
… যারা জ্ঞানার্জন ও শিষ্টাচার শিখতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং দেশ-বিদেশে বিচরণ করেছেন
তেমনিভাবে বিভিন্ন সংবাদ ও সুস্পষ্ট সুন্নাহসমূহ
… এবং বর্ণনাকারী পরিচিতি (معرفة الرجال) বিষয়ের জন্যও রয়েছে পারদর্শী ব্যক্তিবর্গ
আল্লাহ সুমহান, তিনি কাউকে কারো হুবহু সমান সৃষ্টি করেননি
… আর এই প্রশস্ত ময়দানে আমাদেরও বিচরণের ক্ষেত্র রয়েছে
সুতরাং এই স্তরের শায়খদের ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রগণ্য ও সঠিক পন্থা হলো আমি পূর্বে যা পেশ করেছি—অর্থাৎ তাদের ব্যাপারে সেই অভিজ্ঞ নির্দেশক (المفيد)-এর ওপর নির্ভর করা, যিনি তাদের শ্রবণকৃত হাদিসসমূহের (سماعات) অনুলিপির সংরক্ষণকারী এবং সঠিক পরিচয় (معرفة) সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন অনুসন্ধানকারী, যিনি কোনো...
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
عن تقليد من لا يستحق التقليد، والاقتداء به فيما خالف الجمهور.
وهذا هو نكتة الفصل، الذي عليه تعويل أولي الفضل في بابهم، كي لا يفتضحوا، ويقتنع منهم بقولهم: (نعم)، بعد أن عرفوا الشيوخ فيما يروون، ولا يستنطقون فيسقطون.
ومما يجب أن يعلم أن هذا كله توسلٌ من الحفاظ إلى حفظ الأسانيد وإحياء أمهات المهمات من المسانيد.
وإلا فالاحتجاج بهم وبرواية أمثالهم، مع علو حديثهم وقرب إسنادهم، ممتنعٌ جداً، إذ ليسوا من شرط الصحيح، اللهم إلا على وجه المتابعة.
ولولا رخصة العلماء لما جازت الكتابة عنهم ولا الرواية، إلا عن قومٍ منهم دون آخرين.
أخبرنا أبو الخطاب نصر بن أحمد بن عبد الله بن البطر القارئ في داره بباب الغربة في شرقي بغداد، أنا أبو حفص عمر بن أحمد بن عثمان البزار بعكبرا، أنا محمد بن يحيى بن عمر الطائي، ثنا أبو جدي علي بن حرب الطائي، ثنا أبو داود، ثنا صالح بن حسان، عن محمد بن كعب قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم:
এমন কাউকে অনুসরণ (تقليد) করা এবং তাঁর অনুকরণ করার ক্ষেত্রে যিনি অনুকরণের যোগ্য নন, বিশেষত সেই সব বিষয়ে যা জমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতের পরিপন্থী।
আর এটাই হলো এই পরিচ্ছেদের গূঢ় রহস্য (نكتة), যার ওপর এই শাস্ত্রের বিজ্ঞজনরা নির্ভর করে থাকেন; যাতে তাঁরা অপদস্থ না হন। তাঁরা শায়খদের বর্ণিত হাদিসসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর কেবল তাঁদের "হ্যাঁ" সূচক উক্তিতেই সন্তুষ্ট থাকেন, তাঁদেরকে অধিক জেরা করা হয় না পাছে তাঁরা বিচ্যুত (سقط) হয়ে পড়েন।
এবং এটি জানা আবশ্যক যে, এই সবকিছুই হাফেজদের (الحفاظ) পক্ষ থেকে সনদসমূহ (الأسانيد) সংরক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মূল মুসনাদ গ্রন্থগুলোকে পুনর্জীবিত করার একটি মাধ্যম মাত্র।
অন্যথায়, তাঁদের এবং তাঁদের অনুরূপ ব্যক্তিদের বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করা (الاحتجاج) অসম্ভব, যদিও তাঁদের হাদিসের মান উচ্চ (علو) এবং সনদ (إسناد) নিকটবর্তী হয়। কেননা তাঁরা সহিহ (الصحيح) হওয়ার শর্তাবলী পূরণ করেন না; তবে কেবল মুতাবিআত (المتابعة) বা সমর্থক বর্ণনা হিসেবে তা গণ্য হতে পারে।
আর আলেমদের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুমতি (رخصة) না থাকলে তাঁদের থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করা বা বর্ণনা (الرواية) করা বৈধ হতো না, তবে তাঁদের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লোক ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
পূর্ব বাগদাদের বাবুল গুরবায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে আবু الخطাব নসর ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাতর আল-ক্বারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু হাফস ওমর ইবনে আহমদ ইবনে উসমান আল-বাযযার আমাদের উকবারায় সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ওমর আত-তাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার পিতামহ আলী ইবনে হারব আত-তাঈ আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু দাউদ আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সালেহ ইবনে হাসসান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
((لا تحدثوا إلا عمن تقبلوا شهادته)).
الحديث معلول، وسأذكر علته في المقدمة -إن شاء الله-
أخبرنا أبو الحسين المبارك بن عبد الجبار بن أحمد الصيرفي ببغداد في الجانب الغربي، أنا أبو الحسن علي بن أحمد بن علي الفالي، أنا أبو عبد الله أحمد بن إسحاق بن خربان النهاوندي، أخبرنا القاضي أبو محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي، ثنا عمر بن إسحاق الشيرازي، ثنا أبو هارون إسماعيل بن محمد الثقفي، ثنا رواد بن الجراح قال: قال
((তোমরা কেবল তাদের থেকেই বর্ণনা করো যাদের সাক্ষ্য তোমরা গ্রহণ করো।))
হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (معلول), এবং ইনশাআল্লাহ আমি এর ত্রুটি (علة) সম্পর্কে ভূমিকায় আলোচনা করব।
বাগদাদের পশ্চিম পার্শ্বে আবুল হোসেন আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে আহমদ আস-সায়রাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে আলী আল-ফালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে খারবান আন-নাহাওয়ান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাজী আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর ইবনে ইসহাক আশ-শিরাজি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু হারুন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাকাফি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, রাওয়াদ ইবনুল জাররাহ বলেছেন: তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
سفيان الثوري:
((خذ الحلال والحرام من المشهورين، وما سوى ذلك فمن المشيخة)).
سمعت أبا مسعود محمد بن عبد الله السوذرجاني -مؤذن جامع أصبهان- في آخرين قالوا: سمعنا أبا عصمة نوح بن نصر بن محمد الأخسيكتي -قدم علينا- قال: سمعت أبا نصر أحمد بن الحسن بن علي هو المراجلي يقول: سمعت أبا الحسن عبد الله بن موسى البغدادي ببخاري يقول: سمعت الفضل ابن شاطر البردعي يقول: سمعت يزيد بن مجالد المعبر يقول: سمعت يحيى بن معين يقول:
((إذا كتبت فقمش، وإذا حدثت ففتش)).
সুফিয়ান আস-সাওরী:
((হালাল (الحلال) এবং হারাম (الحরাম) সংক্রান্ত জ্ঞান প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের (المشهورين) নিকট থেকে গ্রহণ করো, আর তা ব্যতীত অন্য বিষয়গুলো শায়খদের (المشيخة) নিকট থেকে গ্রহণ করো।))
আমি আবু মাসুদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সুদারজানী—যিনি ইসফাহান জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন—সহ আরও কয়েকজনের নিকট শুনেছি, তারা বলেছেন: আমরা আবু ইসমাহ নূহ বিন নাসর বিন মুহাম্মদ আল-আখসিকাতি—যিনি আমাদের নিকট আগমন করেছিলেন—এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু নাসর আহমাদ বিন হাসান বিন আলী, যিনি আল-মারাজিলি হিসেবে পরিচিত, তাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বুখারায় আবু আল-হাসান আব্দুল্লাহ বিন মুসা আল-বাগদাদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ফজল ইবনে শাতির আল-বারদায়ীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াজিদ বিন মুজালিদ আল-মুআব্বরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে বলতে শুনেছি:
((যখন তুমি লিখবে, তখন তথ্য সংগ্রহ (قمش) করো; আর যখন তুমি বর্ণনা (حدثت) করবে, তখন যাচাই-বাছাই বা অনুসন্ধান (ففتش) করো।))
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
سمعت أبا سعد محمد بن محمد بن محمد الفقيه المطرز بأصبهان يقول: سمعت الفضل بن محمد العسال يقول: سمعت محمد بن إبراهيم بن عاصم الحافظ يقول: سمعت أحمد بن عمر يقول: سمعت ابن صاعد يقول: قال لي إبراهيم بن أورمة:
((اكتب عن كل إنسان، فإذا حدثت فأنت بالخيار)).
أخبرني محمد بن عبد العزيز بن محمد العسال بأصبهان، أنا أبو علي الحسن بن علي الحافظ الوخشي، أنا عبد العزيز بن محمد بن عبد الله الفارسي، ثنا الحسين بن إسماعيل القاضي، ثنا الفضل بن سهل الأعرج، ثنا علي بن عبد الله -هو ابن المديني- حدثني أيوب بن المتوكل عن عبد الرحمن ابن مهدي قال:
((الحفظ الإتقان، ولا يكون إماماً من حدث عن كل من رأى، ولا من حدث بكل ما سمع)).
والأصل في الطلب الأخذ عن العلماء، والإقبال على ما يرويه أعيان
আমি ইসফাহানের ফকিহ আবু সা'দ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-মুতাররিজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ফাদল বিন মুহাম্মদ আল-আসসালকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাফেজ (الحافظ) মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আসিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ বিন উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে সায়েদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন আওরামাহ আমাকে বলেছেন:
((প্রত্যেক ব্যক্তির থেকেই লিখে নাও, কিন্তু যখন তুমি বর্ণনা (حدثت) করবে, তখন তুমি নির্বাচনের এখতিয়ারের অধিকারী হবে))।
ইসফাহানের মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-আসসাল আমাকে অবহিত করেছেন, আবু আলি আল-হাসান বিন আলি হাফেজ (الحافظ) আল-ওয়াখশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফারিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুসাইন বিন ইসমাইল আল-কাজি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, ফাদল বিন সাহল আল-আরাজ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, আলি বিন আব্দুল্লাহ—যিনি ইবনে আল-মাদিনি—আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব বিন আল-মুতাওয়াক্কিল থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
((হিফজ বা মুখস্থ হলো নিপুণতা (الإتقان), আর সেই ব্যক্তি ইমাম (إمام) হতে পারে না যে তার দেখা প্রত্যেকের থেকেই হাদিস বর্ণনা (حدث) করে, এবং সেই ব্যক্তিও নয় যে যা শোনে তার সবই বর্ণনা (حدث) করে))।
আর ইলম অন্বেষণের (الطلب) মূলনীতি হলো আলেমদের নিকট থেকে গ্রহণ করা এবং বরেণ্য ব্যক্তিদের বর্ণিত (يرويه) বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করা।
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
الفقهاء، وإن كانت روايتهم نازلةٌ من حيث العد والإحصاء، فنزولهم أولى من العلو عن الجهلة على مذهب المحققين من النقلة.
كما أخبرنا الشيخ أبو الحسن المبارك بن عبد الجبار بن الطيوري بمدينة السلام، أنا أبو الحسن علي بن أحمد بن علي الفالي، أنا أحمد بن إسحاق بن خرجان النهاوندي بالبصرة، أنا الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي، حدثني صحيبٌ لنا كان معنا يقال له محمد بن أحمد بن محمد بن إسحاق الهروي قال: سمعت محمد بن إسحاق بن خزيمة النيسابوري يقول: سمعت عبد الله بن هاشم الطوسي يقول: كنا عند وكيع فقال:
((الأعمش أحب إليكم عن أبي وائل عن عبد الله؟ أو سفيان عن منصور عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله؟ )) فقلنا: الأعمش عن أبي وائل أقرب! فقال: ((الأعمش شيخ وأبو وائل شيخ، وسفيان عن منصور عن إبراهيم عن علقمة: فقيه عن فقيهٍ عن فقيهٍ عن فقيهٍ)).
سمعت الشيخ أبا القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل الحافظ بأصبهان يقول:
((النزول عن نسيبك أبي الطيب حبيب بن محمد الطهراني، وأبي بكر
ফকিহগণ, যদিও বর্ণনার সূত্রের দৈর্ঘ্যের দিক থেকে তাঁদের বর্ণনা নিম্নস্তরের (نازلة) হয়, তবুও বর্ণনাকারীদের (نقلة) মধ্যে যারা গবেষক (محققين) তাঁদের নিকট অজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রাপ্ত উচ্চস্তরের (علو) সূত্রের চেয়ে এটিই অধিক উত্তম।
যেমনটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল হাসান আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনুত তুয়ূরী মদিনাতুস সালামে, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে আলী আল-ফালি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুরজান আন-নাহাওয়ান্দি বসরায়, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুযী, তিনি বলেন, আমাদের সাথে থাকা আমার এক সঙ্গী যার নাম মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-হারাবী তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ আন-নাইসাবুরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে হাশিম আত-তুসীকে বলতে শুনেছি যে, আমরা ওয়াকি’-এর নিকট ছিলাম, তখন তিনি বললেন:
“তোমাদের নিকট আমাশ-আবু ওয়াইল-আব্দুল্লাহ -এর সূত্রটি কি বেশি পছন্দনীয়? নাকি সুফিয়ান-মানসুর-ইব্রাহিম-আলকামাহ-আব্দুল্লাহ -এর সূত্রটি?” আমরা বললাম: “আমাশ-আবু ওয়াইলের সূত্রটি অধিক নিকটতর (أقرب)!” তিনি বললেন: “আমাশ একজন শিক্ষক (شيخ) এবং আবু ওয়াইলও একজন শিক্ষক (شيخ), কিন্তু সুফিয়ান-মানসুর-ইব্রাহিম-আলকামাহ-এর সূত্রটি হলো: ফকিহ (فقيه) থেকে ফকিহ (فقيه), তাঁর থেকে ফকিহ (فقيه), তাঁর থেকে ফকিহ (فقيه) -এর বর্ণনা।”
আমি আসফাহানে শায়খ আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফজল হাফেজ (حافظ)-কে বলতে শুনেছি:
“তোমার আত্মীয় আবু তাইয়্যেব হাবিব ইবনে মুহাম্মদ আত-তেহরানি এবং আবু বকর... থেকে প্রাপ্ত নিম্নস্তরের সূত্র (نزول)...”
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
محمد بن عمر بن عزيزة، وأبي أحمد حمد بن حنة المعبر، وأمثالهم من شيوخنا، أحب إلي من العلو عمن سواهم، فإنهم فقهاء ثقاتٌ يدرون ما يروون)).
سمعت عفان بن غالب الأزدي المقرئ ببغداد يقول:
((عندنا بالمغرب ربما وجد كتابٌ بالعلو عند رجلٍ، إلا أنه لا يكون عالماً بما يرويه، أو غير ثقة، فيتركونه ويقرؤونه بالنزول على فقيهٍ ثقةٍ، ويعتدون به؛ أخذ هذا المذهب خلفنا عن سلفنا علماء المغرب)).
মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আজিজাহ, আবু আহমদ হামাদ ইবনে হান্নাহ আল-মুয়াব্বির এবং তাদের মতো আমাদের উস্তাদগণ আমার নিকট অন্যদের থেকে প্রাপ্ত উচ্চ সনদ (علو)-এর চেয়ে অধিক প্রিয়; কেননা তারা হলেন ফকিহ এবং নির্ভরযোগ্য (ثقات), তারা যা বর্ণনা করেন সে সম্পর্কে তারা অবগত।
আমি বাগদাদে আফফান ইবনে গালিব আল-আজদি আল-মুকরি-কে বলতে শুনেছি:
((আমাদের মাগরিব অঞ্চলে কখনো কখনো কোনো ব্যক্তির নিকট উচ্চ সনদ (علو) সম্বলিত কোনো কিতাব পাওয়া যায়, কিন্তু তিনি যা বর্ণনা করেন সে বিষয়ে তিনি বিজ্ঞ নন অথবা তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) নন। ফলে তারা তাকে বর্জন করেন এবং একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ফকিহ-এর নিকট নিম্ন সনদ (نزول)-এর মাধ্যমে তা পাঠ করেন এবং সেটিকেই নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করেন। মাগরিবের আলেমদের মধ্যে আমাদের উত্তরসূরিরা (خلف) তাদের পূর্বসূরিদের (سلف) থেকে এই নীতি গ্রহণ করেছেন।))
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
أخبرنا أبو العباس أحمد بن محمد بن بشرويه الحافظ بأصبهان في آخرين قالوا: أنا عمر بن محمد بن الهيثم الأصبهاني، أنا أبو بكر أحمد بن محمد بن موسى الملحمي، ثنا محمد بن يحيى بن منده، ثنا محمد بن عيسى المقرئ، ثنا إسحاق بن بشر الرازي قال: قال: ابن المبارك:
((ليس جودة الحديث قرب الإسناد، جودة الحديث صحة الرجال)).
أجاز لي القاضيان أبو إسحاق إبراهيم وأبو زكريا يحيى ابنا أبي العباس الغضائري بدربند خزران مشافهةٌ قالا: كتب إلينا أبو منصور محمد بن أحمد ابن أبي القاسم الأصبهاني من ثغر آمد، أنا علي بن عبد الله بن جهضم الهمذاني بمكة، ثنا أبو بكر أحمد بن محمد بن عبد الرحمن بن خلف العصفري، ثنا أبو الحسن محمد بن عبد الله بن زفر، عن عبد الله الناقد، عن يحيى بن معين قال:
((الحديث بالنزول خيرٌ من علو عن غير ثبتٍ)).
আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বুশরওয়াইহ আল-হাফিজ আসফাহানে অন্যান্যদের সাথে আমাদের অবহিত করেছেন, তাঁরা বললেন: উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাইসাম আল-আসফাহানি আমাদের অবহিত করেছেন, আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-মুলহামি আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-মুকরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইসহাক ইবনে বিশর আর-রাজি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক বলেছেন:
((হাদিসের মান উন্নত হওয়া সনদের নৈকট্যের (قرب الإسناد) ওপর নির্ভর করে না, বরং হাদিসের মান নির্ভর করে বর্ণনাকারীদের বিশুদ্ধতার (صحة الرجال) ওপর।))
বিচারকদ্বয় আবু ইসহাক ইবরাহিম এবং আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া—আবু আল-আব্বাস আল-গাদাইরির দুই পুত্র—দরবন্দ খুজরানে মৌখিকভাবে আমাকে অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছেন। তাঁরা বললেন: আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবিল কাসিম আল-আসফাহানি আমাদ সীমান্ত থেকে আমাদের কাছে লিখেছেন, আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাহদাম আল-হামদানি মক্কায় আমাদের অবহিত করেছেন, আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে খালাফ আল-উসফুরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফার আবদুল্লাহ আন-নাকিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
((দৃঢ় নির্ভরযোগ্যতা (ثبت) বিহীন উচ্চ সনদ (علو) অপেক্ষা নিম্ন সনদের (نزول) মাধ্যমে বর্ণিত হাদিস উত্তম।))
(খণ্ড: ১)
শারতুল কিরাআহ আলাশ শুয়ূখ লিস-সালাফী
(পৃষ্ঠা: ٦١)
وأنشد محمد بن عبد الله بن زفر في معناه:
علم النزول اكتبوه فهو ينفعكم
… وترككم كتبه ضربٌ من العنت
إن النزول إذا ما كان عن ثبتٍ
… أعلى لكم من علو غير ذي ثبتٍ
هذا هذا، فأما إذا ما اجتمع في الشيخ علو الإسناد والعلم بالحديث، فهو المنى، وناهيك به نبلاً.
فقد أخبرنا أبو الفتح أحمد بن عبد الله بن أحمد السوذرجاني الأديب بأصبهان، ثنا أبو بكر أحمد بن محمد بن جعفر اليزدي، أنا عمر بن عبد الله بن أحمد الأصبهاني، ثنا يعرب بن خيران، ثنا محمد بن جعفر النيسابوري قال: سمعت أبا عبد الرحمن الطوسي يقول: سمعت محمد بن أسلم الطوسي يقول:
((قرب الإسناد قربٌ إلى الله عز وجل).
وقد نظمت بثغر جنزة -حماه الله-:
ليس حسن الحديث قرب رجالٍ
… عند أرباب علمه النقاد
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জুফর এই মর্মে কবিতা আবৃত্তি করেছেন:
তোমরা নিম্নমানের সনদ (نزول) লিখে রাখো, কেননা তা তোমাদের উপকারে আসবে
… আর তা লিপিবদ্ধ করা বর্জন করা এক প্রকার কষ্ট ও সংকীর্ণতা মাত্র।
নিশ্চয়ই নিম্নমানের সনদ (نزول) যখন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثبت) রাবির পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়
… তখন তা তোমাদের নিকট অনির্ভরযোগ্য (ثبت) উচ্চমানের সনদ (علو) অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠ।
বিষয়টি এমনই; তবে যখন কোনো শায়খের মধ্যে উচ্চমানের সনদ (علو الإسناد) এবং হাদিস বিষয়ক জ্ঞান—উভয়টিই একত্রিত হয়, তখন সেটিই হলো পরম কাম্য; এবং এর আভিজাত্য বর্ণনার জন্য তোমার কাছে এটিই যথেষ্ট।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আস-সুদারজানি আসবাহানের সাহিত্যিক; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-ইয়াযদি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-আসবাহানি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহরাব বিন খায়রান; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন জাফর আন-নিসাবুরি; তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুর রহমান আত-তুসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি মুহাম্মদ বিন আসলাম আত-তুসিকে বলতে শুনেছি:
((সনদের নৈকট্য (قرب الإسناد) মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শামিল))।
আমি গাঞ্জা সীমান্তে—আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন—কবিতা রচনা করেছি:
হাদিস বিশারদ সমালোচকগণের (النقاد) নিকট হাদিসের সৌন্দর্য কেবল বর্ণনাকারীদের সংখ্যার স্বল্পতা বা নৈকট্যের (قرب رجال) ওপর নির্ভর করে না।