(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: -)
مسائل العقيدة في كتاب التوحيد من صحيح البخاري   (يوسف الحوشان)

القسم: العقيدة


الكتاب: مسائل العقيدة في كتاب التوحيد من صحيح الإمام البخاري «عرض ودراسة»

رسالة: ماجستير في العقيدة، جامعة الملك سعود - كلية التربية - قسم الثقافة الإسلامية

إعداد: يوسف بن حمود حوشان الحوشان

إشراف: أ. د. عبد العزيز سيف النصر عبد العزيز

العام الجامعي: 1417 هـ - 1418 هـ

عدد الصفحات: 254

[الرسالة معدة من ملف إلكتروني أرسله الباحث - جزاه الله خيرا -]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1440

সহীহ বুখারীর কিতাবুত তাওহীদে বর্ণিত আকীদার মাসায়েলসমূহ   (ইউসুফ আল-হাওশান)

বিভাগ: আকীদা


বই: ইমাম বুখারীর সহীহ গ্রন্থের কিতাবুত তাওহীদে বর্ণিত আকীদার মাসায়েলসমূহ «উপস্থাপনা ও অধ্যয়ন»

থিসিস: আকীদায় মাস্টার্স, কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি - শিক্ষা অনুষদ - ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ

প্রস্তুতকারী: ইউসুফ বিন হামুদ হাওশান আল-হাওশান

তত্ত্বাবধায়ক: প্রফেসর ড. আব্দুল আজিজ সাইফুন নাসর আব্দুল আজিজ

শিক্ষাবর্ষ: ১৪১৭ হিজরী - ১৪১৮ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৪

[গবেষকের পাঠানো একটি ইলেকট্রনিক ফাইল থেকে থিসিসটি প্রস্তুত করা হয়েছে - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন -]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১)
جامعة الملك سعود

كلية التربية

قسم الثقافة الإسلامية

 

مسائل العقيدة في كتاب التوحيد

من صحيح الإمام البخاري

(عرض ودراسة)

 

- بحث تكميلي لنيل درجة الماجستير في العقيدة -

 

إعداد الطالب

يوسف بن حمود حوشان الحوشان

 

إشراف

 

أ. د. عبد العزيز سيف النصر عبد العزيز

1417 هـ - 1418 هـ
কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি

শিক্ষা অনুষদ

ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ

 

সহীহ ইমাম বুখারীর কিতাবুত তাওহীদের আকিদাগত মাসয়ালাসমূহ

(উপস্থাপন ও পর্যালোচনা)

 

- আকিদাহ বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য একটি সম্পূরক গবেষণাপত্র -

 

প্রস্তুতকারক ছাত্র

ইউসুফ বিন হামুদ হাওশান আল-হাওশান

 

তত্ত্বাবধানে

 

প্রফেসর ড. আব্দুল আজিজ সাইফুন নাসর আব্দুল আজিজ

১৪১৭ হিজরি - ১৪১৮ হিজরি
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المقدمة

الحمد لله الذي أكمل لنا الدين، وأرسل إلينا أفضل الأنبياء والمرسلين، وجعلنا من خير أمة أخرجت للناس.

والصلاة والسلام على عبده ورسوله الذي لا ينطق عن الهوى، إن هو إلاّ وحي يوحى. وبعد؛

فقد كان المسلمون حتى وفاة النبي صلى الله عليه وسلم وصدر من عصر الصحابة -رضوان الله عليهم- على منهاج واحد، وسبيل متحد في الاعتقاد والأحكام، ولهذا كان بينهم من الوفاق العلمي والاتفاق العملي ما يجعلهم قدوة الأمة، يعض على أقوالهم بالنواجذ.

مصدرهم الذي يعتمدون: الكتاب والسنة؛ عنهما يصدرون، وإليهما يتحاكمون، وبهما يحتجون، لم يعرضوا عن نصوص الوحي، ولم يعارضوها، ولم يعطلوها ولم يحرفوها، ولا يقبلون من أحد - ولو علت في النفوس منزلته - مقالة في الدين حتى يأتي بشاهدين: الكتاب والسنة.

وقد أكمل الله لهم الدين فلم يزيدوه، وقد أتمه لهم فلم ينقصوه، وقد رضيه لهم فلم يسخطوه، وأصل الدين وأساسه معرفة الله تعالى بأسمائه وصفاته، ومعرفة ما يجب له على عباده.

ولا يجوز لأحد أن يظن برسول الله صلى الله عليه وسلم أنه لم يبين ما يجب على المؤمن اعتقاده بربه، لأن هذا هو الذي أُمر بتبليغه، قال شيخ الإسلام رحمه الله " من المحال في العقل والدين أن يكون السراج المنير الذي أخرج الله به الناس من الظلمات إلى النور، وأنزل معه الكتاب بالحق؛ ليحكم بين الناس فيما اختلفوا فيه أن يكون قد ترك باب الإيمان بالله والعلم به ملتبساً مشتبها، ولم يميز بين ما يجب لله من الأسماء الحسنى والصفات العليا، وما يجوز عليه، وما يمتنع
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছেন, আমাদের নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং আমাদেরকে মানুষের মধ্য হতে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে আবির্ভূত করেছেন।

আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূলের প্রতি, যিনি প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না; বরং এটি তাঁর নিকট প্রেরিত ওহী ব্যতীত অন্য কিছু নয়। অতঃপর;

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু পর্যন্ত এবং সাহাবীগণের—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—যুগের প্রথম ভাগ পর্যন্ত মুসলিমগণ আকিদা ও বিধানের ক্ষেত্রে একই মানহাজ ও অভিন্ন পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। একারণেই তাঁদের মধ্যে জ্ঞানগত সংহতি ও কর্মগত ঐক্য এমন স্তরে ছিল যা তাঁদেরকে উম্মতের আদর্শ হিসেবে সাব্যস্ত করে, যাঁদের কথাকে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে আঁকড়ে রাখা হয়।

তাঁদের নির্ভরযোগ্য উৎস ছিল: কুরআন ও সুন্নাহ; তা থেকেই তাঁরা সমাধান গ্রহণ করতেন, তার নিকটই বিচার নিয়ে যেতেন এবং তার মাধ্যমেই দলিল পেশ করতেন। তাঁরা ওহীর পাঠসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি, সেগুলোর বিরোধিতা করেননি, সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করেননি এবং বিকৃতও করেননি। তাঁরা কারোর নিকট থেকেই—মানুষের অন্তরে তাঁর মর্যাদা যত সুউচ্চই হোক না কেন—দ্বীনের বিষয়ে কোনো কথা গ্রহণ করতেন না যতক্ষণ না তিনি কুরআন ও সুন্নাহ হতে দু'টি সাক্ষী বা প্রমাণ পেশ করবেন।

আল্লাহ তাঁদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছেন বিধায় তাঁরা তাতে কোনো বৃদ্ধি করেননি, তিনি তা সম্পূর্ণ করেছেন বিধায় তাঁরা তাতে কোনো ঘাটতি করেননি এবং তিনি তা তাঁদের জন্য মনোনীত করেছেন বিধায় তাঁরা তাতে অসন্তুষ্ট হননি। আর দ্বীনের মূল ও ভিত্তি হলো আল্লাহ তাআলাকে তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাধ্যমে চেনা এবং তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর যে অধিকার রয়েছে তা জানা।

আর কারও জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এরূপ ধারণা পোষণ করা বৈধ নয় যে, মুমিনের স্বীয় রব সম্পর্কে যা বিশ্বাস করা আবশ্যক, তিনি তা বর্ণনা করেননি। কেননা এ বিষয়ের তাবলিগ বা পৌঁছানোর জন্যই তাঁকে আদেশ করা হয়েছিল। শায়খুল ইসলাম রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "যুক্তি ও দ্বীনের বিচারে এটা অসম্ভব যে, সেই প্রদীপ্ত চেরাগ—যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন এবং যাঁর সাথে সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন যাতে তিনি মানুষের মাঝে মতভেদপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করেন—তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর পরিচয়ের বিষয়টি অস্পষ্ট ও সন্দেহযুক্ত রেখে যাবেন। আর আল্লাহর জন্য যে সকল সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলি আবশ্যক এবং যা তাঁর জন্য সম্ভব আর যা অসম্ভব, তার মধ্যে তিনি পার্থক্য করবেন না—এটি হতে পারে না।"
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৩)
عليه، فإن معرفة هذا أصل الدين، وأساس الهداية وأفضل الأعمال، فكيف يكون القرآن والرسول والصحابة، وهم أفضل الخلق بعد النبيين - لم يحكموا هذا الباب اعتقاداً وقولاً". (1)

ولما بدأ الانحراف عن هذا المنهج كان لورثة الأنبياء الأئمة العلماء مقاومة لهذا الانحراف وتقويماً له وكان أول أعمالهم بعد جمع القرآن، جمع الأحاديث النبوية والآثار السلفية عن أصحاب وتابعي خير البرية، ويصف ذلك العلامة المباركفوري بقوله: " إن أول عمل عمله العلماء التابعون المحدثون في هذه الأيام المظلمة أن دونوا علوم الحديث على الأصول الصحيحة، وألفوا وصنفوا". (2)

ومن كبار علماء أهل السنة وأئمة الهدى الجامعين لميراث خير الورى، أمير المؤمنين في الحديث (أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري) المتوفى سنة 256 هـ.

فإنه أجهد نفسه في جمع ما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وبوبه وهذبه وصنفه على ابتكار عجيب وفقه بزَّ به من قبله وأعجز من بعده، حتى قيل:

أعيا فحول العلم حلّ رموز ما أبداه في الأبواب من أسرار

وأفراد لمهمات العقيدة أبواباً، كان من أهمها كتاب التوحيد، وهو آخر جامعه الصحيح. وقد اشتمل على مسائل كثيرة نهج في ترتيبها نهجاً فريداً في التبويب بآية أو حديث ويتبعه بما يستنبطه منه بإيراد حديث أو أثر يدل على ترجمة الباب، وقد حوى هذا الكتاب ثمانية وخمسين باباً (58) اشتملت على إحدى وثمانين ومأتي حديث وأثر (281).

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوي ابن تيمية 5/ 6 " بتصرف ".

(2) سيرة الإمام البخاري لصفي الدين المباركفوري صـ 225.
...এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, কারণ এটি জানা দ্বীনের মূল, হিদায়াতের ভিত্তি এবং সর্বোত্তম আমল। সুতরাং কীভাবে সম্ভব যে কুরআন, রাসূল এবং সাহাবীগণ—যারা নবীদের পরে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ—বিশ্বাস ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি সুসংহত করেননি?" (১)

যখন এই মানহাজ (পদ্ধতি) থেকে বিচ্যুতি শুরু হলো, তখন নবীদের উত্তরাধিকারী ইমাম ও আলিমগণ এই বিচ্যুতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং একে সংশোধন করেন। কুরআন সংকলনের পর তাদের প্রথম কাজ ছিল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে বর্ণিত নববী হাদীস ও সালাফদের আসার (বর্ণনা) সংগ্রহ করা। আল্লামা মুবারকপুরী একে বর্ণনা করে বলেন: "সেই অন্ধকার দিনগুলোতে তাবিঈ আলিম ও মুহাদ্দিসদের প্রথম কাজ ছিল সঠিক মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান লিপিবদ্ধ করা এবং গ্রন্থনা ও সংকলন করা।" (২)

আহলুস সুন্নাহর বড় আলিম এবং হিদায়াতের ইমামগণের মধ্যে—যারা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠের মিরাস বা উত্তরাধিকার সংগ্রহ করেছেন—অন্যতম হলেন হাদীস শাস্ত্রে আমীরুল মুমিনীন (আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী), যিনি ২৫৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে তা সংগ্রহ করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তিনি অত্যন্ত চমৎকার উদ্ভাবনী শৈলী ও ফিকহী প্রজ্ঞার সাথে সেগুলোকে অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাজিয়েছেন, পরিমার্জিত করেছেন এবং সংকলন করেছেন, যা তার পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে গেছে এবং পরবর্তীদের জন্য তা অর্জন করা দুঃসাধ্য করে তুলেছে। এমনকি বলা হয়েছে:

জ্ঞানের মহীরুহগণ তার অনুচ্ছেদগুলোতে প্রকাশিত রহস্যের সংকেত উন্মোচনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন

তিনি আকিদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর জন্য স্বতন্ত্র অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল 'কিতাবুত তাওহীদ', যা তার জামে সহীহ-এর সর্বশেষ কিতাব। এটি অনেক মাসআলা বা বিষয়ের ওপর পরিবেষ্টিত। তিনি এর বিন্যাসে এক অনন্য পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন; তা হলো কোনো আয়াত বা হাদীসের মাধ্যমে অনুচ্ছেদের শিরোনাম নির্ধারণ করা এবং এরপর সেখান থেকে যা উদ্ভাবিত হয়েছে তা প্রমাণের জন্য এমন হাদীস বা আসার (বর্ণনা) উল্লেখ করা যা সেই শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই কিতাবটি আটান্নটি (৫৮) অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত, যাতে দুইশত একাশিটি (২৮১) হাদীস ও আসার রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ৫/৬ "সংক্ষেপিত"।

(২) সিরাতুল ইমাম আল-বুখারী, সফিউদ্দীন মুবারকপুরী, পৃষ্ঠা ২২৫।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৪)
ولا يخفى ما لهذا الجامع العظيم من شروح كثيرة واختصارات وحواش جاوزت الـ (115) ما بين مطبوع ومخطوط. (1)

وكتاب التوحيد داخل ضمن هذه المنظومة العظيمة، ولكن كثيراً مِمَن تولى شرحه يلاحظ عليه عدم الالتزام بمنهج البخاري في مسائل العقيدة، فكثيرٌ من الصفات التي يثبتها البخاري مستدلاً عليها بنص من كتاب الله أو سنة رسوله صلى الله عليه وسلم، غالب الشراح يحاولون ردها، إما بتأويلها، أو بدعوة في الإجماع على خلافها، أو التصرف بمنهج البخاري: كرد حديث الآحاد في العقيدة، ونحو ذلك.

وقد تبين لي هذا من مطالعة بعض شروح البخاري المتداولة. مثال ذلك: في أول شرح للبخاري وهو (أعلام الحديث) للإمام الخطابي -رحمه الله تعالى- فعند " باب ما جاء في قوله عز وجل:

{وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا (164)} [سورة النساء: 164]

قال: وليس في هذا الكتاب حديث أشنع ظاهراً وأبشع مذاقاً من هذا الحديث - يعني حديث أنس في الإسراء والمعراج وفرض الصلاة- ورجح رحمه الله أنه حكاية من أنس أو غيره - ثم قال - وأيهما صح هذا القول عنه وأضيف إليه فقد خالفه فيه عامة السلف المتقدمين والعلماء وأهل التفسير والتأويل منهم ومن المتأخرين (2) وفي هذا تجاوز من الإمام الخطابي تجاوز الله عنا وعنه.

--------------------------------------------

(1) لتفصيل ما أجمل انظر: الإمام البخاري وصحيحه د. عبد الغني عبد الخالق صـ 230 - 245.

(2) انظر تفصيلاً أعلام الحديث للخطابي 4/ 2352 تحقيق د. محمد بن سعد.
এই মহান সংকলনের অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ, সংক্ষিপ্ত রূপ এবং টীকা রয়েছে যা মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে ১১৫টি ছাড়িয়ে গেছে—এ কথা কারো অজানা নয়। (১)

‘কিতাবুত তাওহীদ’ এই মহান গ্রন্থকাঠামোরই অন্তর্ভুক্ত, তবে এর অনেক ব্যাখ্যাকারীদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে, তারা আকিদার বিষয়গুলোতে ইমাম বুখারীর পদ্ধতির প্রতি অনুগত থাকেননি। ফলে ইমাম বুখারী আল্লাহর কিতাব বা তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর দলিল দ্বারা আল্লাহর যে সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন, অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারীই সেগুলো প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করেন। হয় সেগুলোকে রূপক ব্যাখ্যার (তাকউইল) মাধ্যমে, অথবা সেগুলোর বিপরীতে ইজমার দাবি তোলার মাধ্যমে, কিংবা ইমাম বুখারীর পদ্ধতির বিপরীতে অবস্থান নিয়ে—যেমন আকিদার ক্ষেত্রে একক সূত্রে বর্ণিত (আহাদ) হাদিস প্রত্যাখ্যান করা বা এই জাতীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে।

বুখারীর প্রচলিত কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ অধ্যয়ন করার মাধ্যমে বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। এর উদাহরণ হলো: ইমাম খাত্তাবী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর ‘আলামুল হাদিস’, যা বুখারীর প্রথম দিকের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। সেখানে মহান আল্লাহর বাণী:

“আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।” [সূরা আন-নিসা: ১৬৪] শীর্ষক অধ্যায়ে

তিনি বলেছেন: “এই গ্রন্থে বাহ্যিক দিক থেকে এর চেয়ে জঘন্য এবং স্বাদে এর চেয়ে কদর্য আর কোনো হাদিস নেই”—অর্থাৎ ইসরা, মেরাজ এবং সালাত ফরজ হওয়া সম্পর্কিত আনাসের হাদিসটি। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) প্রাধান্য দিয়েছেন যে, এটি আনাস বা অন্য কারো ব্যক্তিগত বর্ণনাভঙ্গি। অতঃপর তিনি বলেন: “তাঁর থেকে এই বক্তব্যটি যেভাবে বা যে সূত্রেই সহীহ প্রমাণিত হোক এবং তাঁর দিকে সম্পর্কিত করা হোক না কেন, পূর্ববর্তী সালাফদের সাধারণ গোষ্ঠী, আলেম সমাজ এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী তাফসীরবিদ ও ব্যাখ্যাকারগণ এর বিরোধিতা করেছেন।” (২) আর এতে ইমাম খাত্তাবীর পক্ষ থেকে সীমালঙ্ঘন ঘটেছে; আল্লাহ আমাদের ও তাকে ক্ষমা করুন।

--------------------------------------------

(১) সংক্ষিপ্ত আলোচনার বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: আল-ইমাম আল-বুখারী ওয়া সহীহুহু, ড. আব্দুল গণি আব্দুল খালিক, পৃষ্ঠা: ২৩০-২৪৫।

(২) বিস্তারিত দেখুন: খাত্তাবীর আলামুল হাদিস ৪/২৩৫২, ড. মুহাম্মদ বিন সাআদ কর্তৃক সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৫)
وكقول ابن بطال -رحمه الله تعالى- في حديث (لا شخص أغير من الله) قال: " أجمعت الأمة على أن الله تعالى لا يجوز أن يوصف بأنه شخص لأن التوقيف لم يرد به" (1)، بينما في المسألة كلام طويل، وقد بوب له البخاري -رحمه الله تعالى-.

ومثل هذا يرد في بعض الشروح وهو ما أدى إليه اجتهادهم - يرحمهم الله جميعاً-. ولكنه خلاف قول السلف فلهم أجر الاجتهاد - إن شاء الله - وهو مغمور في بحر حسناتهم الكثيرة وخدمتهم لسنة النبي عليه الصلاة والسلام، فنسأل الله لهم الرحمة والمغفرة.

قال خاتمة الحفاظ ابن حجر رحمه الله في مثل هذا: " ورد الروايات الصحيحة والطعن في أئمة الحديث الضابطين مع إمكان توجيه ما ردوا من الأمور التي أقدم عليها كثير من غير أهل الحديث، وهو يقتضي قصور فهم من فعل ذلك منهم". (2)

ويستحضر هنا دقة البخاري -رحمه الله تعالى- حينما ألف الصحيح وأن شرطه سلامة المعتقد، فقال: " كتبت عن ألف وثمانين نفساً ليس فيهم إلا صاحب حديث، وقال: لم أكتب إلا عن من قال الإيمان قول وعمل يزيد وينقص". (3)

وانتظاماً في هذا السلك المشرّف وهذا الطريق السالك لمن دعى لهم النبي عليه الصلاة والسلام بالنضارة وهم أهل السنة والحديث، حاولت السير في ركبهم باستخراج مسائل العقيدة من كتاب التوحيد في هذا الجامع العظيم وإبرازها وبيان فقه الإمام البخاري فيها لأسباب عدة بيانها فيما يلي:

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 13/ 411.

(2) فتح الباري 13/ 413.

(3) هدي الساري مقدمة فتح الباري صـ 479.
যেমন ইবনে বাত্তাল -রহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর উক্তি, (আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি নেই) হাদীসের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: "উম্মত এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলাকে 'ব্যক্তি' হিসেবে বিশেষিত করা বৈধ নয়, কারণ এর সপক্ষে কোনো শরয়ি বর্ণনা আসেনি" (১), অথচ এই মাসআলা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে এবং ইমাম বুখারী -রহিমাহুল্লাহু তাআলা- এই বিষয়ে পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন।

এই ধরণের বিষয় কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থের মধ্যে পাওয়া যায় এবং এটি তাঁদের ইজতিহাদ বা গবেষণার ফলাফল - আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি দয়া করুন। কিন্তু এটি সালাফদের বক্তব্যের পরিপন্থী, তবে তাঁদের জন্য ইজতিহাদের সওয়াব রয়েছে - ইনশাআল্লাহ - এবং এটি তাঁদের অসংখ্য নেক আমল ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর খিদমতের বিশাল সমুদ্রের মাঝে বিলীন। সুতরাং আমরা আল্লাহর কাছে তাঁদের জন্য রহমত ও মাগফিরাত প্রার্থনা করি।

হাফেজগণের শেষ প্রতিনিধি ইবনে হাজার রহিমাহুল্লাহ এই ধরণের বিষয়ে বলেছেন: "বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা এবং নির্ভরযোগ্য হাদীস বিশারদ ইমামদের সমালোচনা করা—অথচ যে বিষয়গুলো তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন সেগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব—এমন সব কাজ অনেক হাদীস বিশেষজ্ঞ নয় এমন ব্যক্তি করেছেন। যা তাঁদের বুঝের স্বল্পতাকেই নির্দেশ করে যারা এটি করেছেন।" (২)

এখানে ইমাম বুখারী -রহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর সূক্ষ্মতা স্মরণ করা প্রয়োজন যখন তিনি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থটি সংকলন করেছিলেন এবং তাঁর শর্ত ছিল আকিদার বিশুদ্ধতা। তিনি বলেছেন: "আমি এক হাজার আশি জন ব্যক্তি থেকে হাদীস লিখেছি যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদীস বিশারদ।" তিনি আরও বলেছেন: "আমি কেবল তাদের নিকট থেকেই হাদীস লিখেছি যারা বলতেন যে ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়।" (৩)

এই সম্মানিত সিলসিলা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদের চেহারার উজ্জ্বলতার জন্য দুয়া করেছেন—অর্থাৎ আহলে সুন্নাত ওয়াল হাদীস—তাদের সেই পথে অটল থেকে আমি এই মহান জামে (বুখারী) গ্রন্থের 'কিতাবুত তাওহীদ' থেকে আকিদার মাসআলাগুলো বের করার এবং ইমাম বুখারীর ফিকহকে স্পষ্ট করার জন্য তাঁদের কাফেলায় পথ চলার চেষ্টা করেছি, যার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে যা নিচে বর্ণনা করা হলো:

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী ১৩/ ৪১১।

(২) ফাতহুল বারী ১৩/ ৪১৩।

(৩) হাদীউস সারী, মুকাদ্দিমা ফাতহুল বারী পৃষ্ঠা ৪৭৯।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أهمية وأسباب اختيار الموضوع:

1 - أن الجامع الصحيح له قصب السبق في تقديمه أصلاً للاعتقاد بعد القرآن الكريم.

2 - إبراز الطريقة السلفية في الاعتقاد والاقتصار على المصدرين الأساسيين في التلقي وتفرع غيرهما عنهما.

3 - إظهار جهود الإمام البخاري في العقيدة لا محدثاً فقيهاً فقط.

4 - إظهار طريقة الإمام البخاري -رحمه الله تعالى- في استنباطه للمسائل العقدية وتميزه في ذلك.

5 - بيان مخالفة بعض الشروح لمنهج الإمام البخاري في بعض مسائل العقيدة وتوجيه ذلك على منهج السلف.

6 - إبراز الكتاب لجهد البخاري في فترة عصيبة للأمة وهي - فتنة خلق القرآن- وبيان موقفه منها، حيث ضرب بسهم وافر فيها، بل وامتحن بسببها.
বিষয়টি নির্বাচনের গুরুত্ব ও কারণসমূহ:

১ - কুরআনুল কারীমের পর আকিদাহ বা বিশ্বাসের মূল উৎস হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে 'আল-জামি আস-সহীহ'-এর অগ্রগণ্য ভূমিকা ও মর্যাদা।

২ - আকিদাহর ক্ষেত্রে সালাফী মানহাজকে ফুটিয়ে তোলা এবং জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে কেবল দুটি মৌলিক উৎসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং অন্য সব বিষয়কে এ দুটির অনুগামী হিসেবে সাব্যস্ত করা।

৩ - ইমাম বুখারীর আকিদাহ বিষয়ক প্রচেষ্টাসমূহ তুলে ধরা, কেবল একজন মুহাদ্দিস ও ফকীহ হিসেবে নয়।

৪ - আকিদাহ সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ উদ্ঘাটনে ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পদ্ধতি এবং এক্ষেত্রে তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তোলা।

৫ - আকিদাহর কিছু মাসয়ালায় ইমাম বুখারীর মানহাজের বিপরীতে কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং সালাফদের মানহাজ অনুযায়ী সেগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করা।

৬ - উম্মতের এক কঠিন সময়ে অর্থাৎ 'কুরআন সৃষ্টি'র ফিতনার যুগে ইমাম বুখারীর অবদান ফুটিয়ে তোলা এবং এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান বর্ণনা করা; যেখানে তিনি জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন, এমনকি এর কারণে তাঁকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أهداف البحث:

وهي فيما يلي:

1 - استخراج مسائل الاعتقاد من كتاب التوحيد في صحيح البخاري وتبويبها ثم الكلام عليها.

2 - إظهار مراد البخاري منها بالجمع بين ترجمة الباب والأدلة التي ساقها.

3 - دراسة هذه المسائل وبيان وجه الحق فيها والرد على المخالفين في ضوء معتقد السلف الصالح قدر الطاقة.

 

‌‌منهج البحث:

المنهج الاستقرائي للمسائل والتحليلي للنصوص، وهنا لابد من التمسك بغرض البخاري من الترجمة إذ بدون ذلك لا يمكن حصر مسائل العقيدة من جميع النصوص في رسالة واحدة، بل في عدة رسائل، فالموضوعات كثيرة، والشواهد كثيرة جداً - من حيث هي نصوص - وسأقتصر على تبويب البخاري وغرضه من الترجمة حتى يمكن حصر الموضوع، وأرجو أن أتمكن من ذلك - بإذن الله-.،
‌‌গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:

তা নিম্নরূপ:

১ - সহীহ আল-বুখারীর কিতাবুত তাওহীদ থেকে আকিদাহ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ বের করা, সেগুলোকে বিন্যস্ত করা এবং এরপর সেগুলোর ওপর আলোচনা করা।

২ - অধ্যায়ের শিরোনাম এবং ইমাম বুখারী যেসকল দলিল পেশ করেছেন, উভয়টির সমন্বয়ের মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা।

৩ - এই মাসআলাগুলো নিয়ে গবেষণা করা, এ বিষয়ে সত্যের দিকটি তুলে ধরা এবং যথাসম্ভব সালাফে সালেহীনের আকিদাহর আলোকে বিরোধীদের খণ্ডন করা।

 

‌‌গবেষণার পদ্ধতি:

মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে আরোহী (Inductive) পদ্ধতি এবং পাঠ্যসমূহের (Texts) ক্ষেত্রে বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতি। এক্ষেত্রে অধ্যায়ের শিরোনামে ইমাম বুখারীর যে উদ্দেশ্য রয়েছে তার ওপর অটল থাকা অপরিহার্য; কারণ তা ব্যতীত সমস্ত নস (পাঠ্য) থেকে আকিদাহর মাসআলাসমূহ একটি গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য একাধিক গবেষণাপত্রের প্রয়োজন হবে। কারণ বিষয়বস্তু অনেক এবং নস হিসেবে এর প্রমাণাদিও প্রচুর। বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ রাখার স্বার্থে আমি ইমাম বুখারীর অধ্যায় বিন্যাস এবং শিরোনামের মাধ্যমে তাঁর যে উদ্দেশ্য রয়েছে, তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব। আল্লাহর ইচ্ছায় আমি এটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হব বলে আশা রাখি।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌خطة البحث:

تتكون خطة البحث من مقدمة وتمهيد وبابين وملحق وخاتمة وفهارس متعددة.

المقدمة: وقد سبق بيانها.

التمهيد: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: حياة البخاري وفيه ثمانية مطالب:

المطلب الأول: اسمه ونسبه ومولده

المطلب الثاني: نشأته وسيرته العلمية.

المطلب الثالث: شيوخه وتلاميذه.

المطلب الرابع: مؤلفاته.

المطلب الخامس: شمائله.

المطلب السادس: علمه وثناء الأئمة عليه.

المطلب السابع: محنته في مسالة اللفظ.

المطلب الثامن: وفاته.

المبحث الثاني: التعريف بالجامع الصحيح وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: اسمه وموضوعه.

المطلب الثاني: سبب ومدة ومكان تأليفه.
গবেষণা পরিকল্পনা:

গবেষণা পরিকল্পনাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, দুইটি অধ্যায়, একটি পরিশিষ্ট, একটি উপসংহার এবং বিভিন্ন নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে গঠিত।

ভূমিকা: এর বিবরণ ইতিপূর্বে প্রদান করা হয়েছে।

উপক্রমণিকা: এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারীর জীবন এবং এতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর লালন-পালন ও ইলমী জীবন।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদ ও ছাত্রবৃন্দ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর সম্পর্কে ইমামগণের প্রশংসা।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: লফয (কুরআনের শব্দ উচ্চারণ) মাসআলায় তাঁর পরীক্ষা।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-জামেউস সহীহ-এর পরিচয় এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এর নাম ও বিষয়বস্তু।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এটি রচনার কারণ, সময়কাল ও স্থান।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৯)
المطلب الثالث: منهج البخاري في تصنيف الجامع ومكانته.

المطلب الرابع: قيمة كتاب التوحيد بين أبواب الجامع وعناية العلماء به.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল-জামে সংকলনে ইমাম বুখারীর মানহাজ এবং এর মর্যাদা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল-জামের অধ্যায়সমূহের মাঝে কিতাবুত তাওহীদের গুরুত্ব এবং এর প্রতি আলেমদের বিশেষ যত্ন।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১০)
الباب الأول: دراسة مسائل العقيدة في كتاب التوحيد

وفيه أربعة فصول

الفصل الأول: التوحيد والرد على الجهمية

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: جهود العلماء في التأليف فيه.

المبحث الثاني: تعريف التوحيد.

المبحث الثالث: تعريف الجهمية.

 

الفصل الثاني: أول واجب على المكلفين.

 

الفصل الثالث: الأسماء الحسنى وفيه خمسة مباحث.

المبحث الأول: إثبات الأسماء الحسنى، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: إثباتها وأقسامها.

المطلب الثاني: دلالتها على الذات

المبحث الثاني: مسألة الاسم والمسمى.

المبحث الثالث: عَدّ الأسماء الحسنى وإحصاؤها.

المبحث الرابع: الأسماء التي ذكرها البخاري.

المبحث الخامس: إطلاق بعض النعوت على الله وفيه أربعة مطالب:
প্রথম অধ্যায়: কিতাবুত তাওহীদে আকীদা সংক্রান্ত বিষয়সমূহের পর্যালোচনা

এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহীদ এবং জাহমিয়াদের খণ্ডন

এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় আলেমগণের প্রচেষ্টা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাওহীদের সংজ্ঞা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জাহমিয়াদের পরিচয়।

 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুকাল্লাফদের ওপর প্রথম ওয়াজিব।

 

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল-আসমাউল হুসনা এবং এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল-আসমাউল হুসনা সাব্যস্তকরণ, এবং এতে দুটি দাবি রয়েছে:

প্রথম দাবি: নামসমূহ সাব্যস্ত করা ও এগুলোর প্রকারভেদ।

দ্বিতীয় দাবি: সত্তার ওপর এগুলোর প্রমাণ

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নাম ও নামী সংক্রান্ত মাসআলা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আল-আসমাউল হুসনা গণনা ও সংখ্যা নিরূপণ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ইমাম বুখারী যে নামসমূহ উল্লেখ করেছেন।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি কিছু গুণাবলী আরোপ এবং এতে চারটি দাবি রয়েছে:
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১১)
المطلب الأول: إطلاق الذات على الله

المطلب الثاني: إطلاق النفس على الله

المطلب الثالث: إطلاق الشيء على الله

المطلب الرابع: إطلاق الشخص على الله

 

الفصل الرابع: من أحكام الأسماء الحسنى وفيه مبحثان:

المبحث الأول: السؤال بالأسماء الحسنى والاستعاذة بها.

المبحث الثاني: الحلف بالأسماء الحسنى.
প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি ‘জাত’ (সত্তা) শব্দের প্রয়োগ

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি ‘নাফস’ (সত্তা) শব্দের প্রয়োগ

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি ‘শাই’ (বস্তু) শব্দের প্রয়োগ

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি ‘শাখস’ (ব্যক্তি) শব্দের প্রয়োগ

 

চতুর্থ অধ্যায়: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের বিধিবিধান এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে প্রার্থনা করা এবং এর দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে শপথ করা।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১২)
الباب الثاني: الصفات الإلهية

ويشتمل على تمهيد وخمسة فصول:

التمهيد: تعريف الصفة وأقسام الناس فيها.

الفصل الأول: الصفات الذاتية وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: ما ورد في السمع والبصر.

المبحث الثاني: ما ورد في العلم والقدرة وفيه مطلبان:

المطلب الأول: ما ورد في العلم.

المطلب الثاني: ما ورد في القدرة.

المبحث الثالث: ما ورد في المشيئة والإرادة.

المبحث الرابع: الصفات (الخبرية) وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: ما ورد في الوجه.

المطلب الثاني: ما ورد في العين.

المطب الثالث: ما ورد في اليدين والأصابع.

 

الفصل الثاني: الصفات الفعلية وفيه مباحث:

المبحث الأول: الصفات الاختيارية [شبة قيام الحوادث بذاته تعالى].

المبحث الثاني: ما ورد في الاستواء على العرش.

المبحث الثالث: ما ورد في العلو.
দ্বিতীয় অধ্যায়: আল্লাহ তাআলার গুণাবলি

এটি একটি ভূমিকা এবং পাঁচটি পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত:

ভূমিকা: সিফাত বা গুণের সংজ্ঞা এবং এ বিষয়ে মানুষের প্রকারভেদ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: সত্তাগত গুণাবলি, এতে চারটি আলোচনা রয়েছে:

প্রথম আলোচনা: শ্রবণ ও দর্শন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় আলোচনা: জ্ঞান ও ক্ষমতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে এবং এতে দুটি বিষয় রয়েছে:

প্রথম বিষয়: জ্ঞান সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় বিষয়: ক্ষমতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় আলোচনা: ইচ্ছা ও অভিপ্রায় সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থ আলোচনা: সংবাদলব্ধ গুণাবলি (খাবারিইয়্যাহ), এতে তিনটি বিষয় রয়েছে:

প্রথম বিষয়: আল্লাহর চেহারা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় বিষয়: আল্লাহর চোখ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় বিষয়: আল্লাহর দুই হাত এবং আঙ্গুলসমূহ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কর্মগত গুণাবলি, এতে কয়েকটি আলোচনা রয়েছে:

প্রথম আলোচনা: ঐচ্ছিক গুণাবলি [আল্লাহ তাআলার সত্তার সাথে নশ্বর কার্যাবলি সম্পৃক্ত হওয়ার সংশয়]।

দ্বিতীয় আলোচনা: আরশের উপর উঠা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় আলোচনা: উচ্চতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الثالث: ما ورد في الرؤية.

الفصل الرابع: ما ورد في صفة الكلام.

الفصل الخامس: ما ورد في أفعال العباد.

ملحق في بيان منهج البخاري رحمه الله في بيان مسائل العقيدة وردّه على المخالفين.

- الخاتمة: وفيها أهم النتائج وبعض التوصيات.

- المراجع.

- الفهارس المتنوعة.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: (আল্লাহর) দর্শন সংক্রান্ত বর্ণনা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কথা বলার গুণ সংক্রান্ত বর্ণনা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বান্দাদের কর্ম সংক্রান্ত বর্ণনা।

পরিশিষ্ট: আকিদার বিষয়সমূহ বর্ণনায় এবং বিরোধীদের খণ্ডনে ইমাম বুখারী রহ.-এর মানহাজ।

- উপসংহার: এতে রয়েছে প্রধান ফলাফলসমূহ এবং কিছু সুপারিশ।

- তথ্যসূত্রসমূহ।

- বিবিধ নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৪)
بعض الضوابط التي سرت عليها:

1 - خرجت الآيات من القرآن الكريم.

2 - خرجت الأحاديث التي في غير البخاري؛ أما ما كان في البخاري فلم أتعرض لما كان في كتاب التوحيد لأنه مجال البحث ولا تخلو منه صفحة وأما ما كان في غيره أبين مكانه (وإيراد الجميع مؤذنٌ بصحته إذ أجمعت الأمة على قبول ما في الصحيح) ويكون أتعزو برقم الحديث في المصادر الأخرى.

3 - ما يورده البخاري معلقاً أشير إلى من وصله أن كان مما وقع فيه الخلاف خاصة أن ابن حجر قد تولى وصل جميع المعلقات في الصحيح في كتابه تغليق التعليق.

4 - ترجمت لغير المشهورين من الأعلام خاصة من لهم صلة في المباحث وعرفت بالطوائف والبلدان المبهمة والألفاظ الغريبة.

5 - أكثرت من النقول عن أئمة السلف في توضيح مسائل العقيدة لبيان موافقة البخاري لهم، خاصة من تقدمه منهم وصدرت كلامهم إذ أن مجال العقيدة مما يخشى أن يزل به بنان أو يعجز عنه البيان مع التوضيح والمناقشة عند الحاجة.

6 - اكتفيت في تفصيل بعض المسائل المشهورة إلى الإحالة إلى المصادر التي تناولتها.

7 - أخرت البيان المتعلق بالمصادر والمراجع إلى الفهرس المخصص لها حتى لا تتضخم الحواشي.

8 - لكثرة النقل عن الإمام ابن حجر الشافعي رحمه الله اكتفي بقول (قال الحافظ).
কিছু নীতিমালা যা আমি অনুসরণ করেছি:

১ - কুরআন মাজীদ থেকে আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।

২ - বুখারী ব্যতীত অন্য কিতাবের হাদীসগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করেছি; আর বুখারীর হাদীসগুলোর মধ্যে যা ‘কিতাবুত তাওহীদ’-এ রয়েছে তার উদ্ধৃতি প্রদানের চেষ্টা করিনি, কারণ এটিই গবেষণার মূল ক্ষেত্র এবং এর প্রতিটি পৃষ্ঠাই এই সংক্রান্ত হাদীসে পূর্ণ। তবে এর বাইরে যা আছে তার স্থান স্পষ্ট করেছি (আর সব হাদীস এখানে আনয়ন করার অর্থই হলো এর বিশুদ্ধতা ঘোষণা করা, কেননা উম্মত ‘সহীহ’ (বুখারী)-এর বিষয়বস্তু গ্রহণ করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে) এবং অন্যান্য উৎসের ক্ষেত্রে হাদীস নম্বরের মাধ্যমে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।

৩ - বুখারী যা ‘মুয়াল্লাক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তার সনদ কে নিরবচ্ছিন্ন করেছেন তা নির্দেশ করেছি যদি তাতে কোনো মতভেদ থেকে থাকে; বিশেষ করে ইবনে হাজার তাঁর ‘তাগলীকুত তা’লীক’ গ্রন্থে সহীহ বুখারীর সমস্ত ‘মুয়াল্লাক’ বর্ণনাকে নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করার দায়িত্ব নিয়েছেন।

৪ - অখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জীবনী উল্লেখ করেছি, বিশেষ করে গবেষণার বিষয়বস্তুর সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়া অস্পষ্ট বিভিন্ন দল, জনপদ ও দুর্বোধ্য শব্দাবলির পরিচয় প্রদান করেছি।

৫ - ইমাম বুখারী যে সালাফে সালেহীনের সাথে একমত তা স্পষ্ট করার জন্য আকীদার মাসআলাগুলোর ব্যাখ্যায় সালাফ ইমামগণের উদ্ধৃতি অধিক পরিমাণে প্রদান করেছি, বিশেষ করে যারা তাঁর পূর্ববর্তী ছিলেন এবং তাঁদের বক্তব্যকেই অগ্রগণ্য করেছি। কারণ আকীদার বিষয়টি এমন যেখানে লেখনী বিচ্যুত হওয়ার বা বর্ণনায় অক্ষম হওয়ার আশঙ্কা থাকে; সেই সাথে প্রয়োজনে ব্যাখ্যা ও পর্যালোচনাও যুক্ত করেছি।

৬ - কিছু সুপরিচিত মাসআলার বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রে সেগুলো যে উৎসসমূহে আলোচিত হয়েছে তার প্রতি নির্দেশ করেই ক্ষান্ত হয়েছি।

৭ - তথ্যসূত্র ও উৎস সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোকে এর জন্য নির্ধারিত তালিকার জন্য বাকি রেখেছি যাতে পাদটীকাগুলো অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয়ে যায়।

৮ - ইমাম ইবনে হাজার শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে অধিক উদ্ধৃতি দেওয়ার কারণে শুধু (হাফিজ বলেছেন) বলাই যথেষ্ট মনে করেছি।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وفي الختام أحمد الله وهو للحمد أهل أن أعانني على إكمال هذا البحث على ما فيه من ضعف البشر وقصر النظر فما فيه من صواب فهو محض فضله سبحانه وتعالى على عبده المسكين وأسأل الله أن يعفو عن الزلل.

ثم أشكره شكر العارف بنعمته وأسأله المزيد منها.

وأترحم على والدي الكريمين وأسأل الله أن يجزيهما عني خير الجزاء وألا يحرمهما جزاء ما ربيا وعلما، اللهم اغفر لهم وارحمهم وعافهم واعف عنهم.

كما أشكر القائمين على جامعة الملك سعود ممثلة بكلية التربية وقسم الثقافة الإسلامية فيها فجزى الله القائمين على ذلك خيراً.

كما أشكر أساتذتي الكرام ومشايخي الفضلاء على ما أولوه من رعاية ونصح خلال مدة الدراسة.

وأخص منهم بالذكر فضيلة الأستاذ الدكتور محمد أبو الغيط الفرت الذي كان مع هذا البحث فكرةً وبحثاً وتشجيعاً وعنايةً بالباحث فجزاه الله عنى أفضل الجزاء.

وأجد القلم عاجزاً والبيان قاصراً عن شكر أستاذي فضيلة الأستاذ الدكتور عبدا لعزيز سيف النصر المشرف على الرسالة الذي كان بحق الموجه والمشرف المتمكن علماً وتواضعاً وتشجيعاً وتذليلاً لكثير من الصعوبات التي واجهت هذا البحث فأسال الله أن يجعل ما فعله صلاحاً في نفسه وولده وأن يجزيه عني خير الجزاء وأشكر سلفاً الأستاذ الدكتور شوقي إبراهيم على تلطفه في قبول مناقشة البحث وتشجيعه المستمر وعنايته بهذا البحث.
পরিশেষে আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তিনিই প্রশংসার যোগ্য যে, মানুষের দুর্বলতা ও সীমিত দৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাকে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছেন। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে, তা একান্তই তাঁর মিসকিন বান্দার ওপর মহান সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহ। আর আমি আল্লাহর কাছে পদস্খলন থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

অতঃপর আমি তাঁর নিআমতের স্বীকৃতিদানকারীর ন্যায় তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি এবং তাঁর কাছে আরও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।

আমি আমার সম্মানিত পিতামাতার জন্য রহমত প্রার্থনা করছি এবং আল্লাহর কাছে আবেদন করছি তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাঁদের লালন-পালন ও শিক্ষার প্রতিদান থেকে তাঁদের বঞ্চিত না করেন। হে আল্লাহ, আপনি তাঁদের ক্ষমা করুন, তাঁদের ওপর রহম করুন, তাঁদেরকে সুস্থতা দান করুন এবং তাঁদের মার্জনা করুন।

সেই সাথে আমি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, বিশেষ করে শিক্ষা অনুষদ এবং এর ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগের প্রতিনিধিদের প্রতি। আল্লাহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

পড়াশোনার সময়কালে আমার সম্মানিত শিক্ষক ও মহৎ শায়খগণ যে যত্ন ও উপদেশ প্রদান করেছেন, তার জন্য আমি তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তাঁদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ আবু আল-গাইত আল-ফারত-এর নাম, যিনি এই গবেষণার পরিকল্পনা, অনুসন্ধান, উৎসাহ প্রদান এবং গবেষকের প্রতি যত্নের বিষয়ে সাথে ছিলেন। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমার গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডক্টর আবদুল আজিজ সাইফ আন-নাসর-এর শুকরিয়া আদায়ে আমি কলমকে অক্ষম এবং বর্ণনাকে অপর্যাপ্ত মনে করছি। তিনি জ্ঞান, বিনয়, উৎসাহ প্রদান এবং এই গবেষণার পথে আসা অনেক প্রতিকূলতা সহজ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষেই একজন সুদক্ষ পথপ্রদর্শক ও তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যা করেছেন তা যেন তাঁর নিজের জন্য এবং তাঁর সন্তানের জন্য কল্যাণের কারণ করে দেন এবং তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আমি অগ্রিম ধন্যবাদ জানাচ্ছি অধ্যাপক ডক্টর শাওকি ইব্রাহিমকে এই গবেষণার পর্যালোচনায় সদয় সম্মতি প্রদান, তাঁর নিরন্তর উৎসাহ এবং এই গবেষণার প্রতি তাঁর যত্নের জন্য।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৬)
كما أشكر كل من ساعدني في هذا العمل بأي وسيلة، وإن كنت خاصاً أحداً بذكر - وكلهم أهل لذلك - ففضيلة المشايخ: د. إبراهيم الصبيحي ود. عبد الرحمن المحمود ود. محمد الوهيبي.

ثم الشكر الخاص/ لأشقائي الذين كانوا الطاقة المعينة بعد الله لإكمال هذا البحث فلا حرمهم الله أجر ذلك فجز الله الجميع خير الجزاء وأجزل لهم في الدارين العطاء.

 

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.، ،
সেই সাথে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁদের প্রতি, যাঁরা আমাকে এই কাজে যেকোনোভাবে সাহায্য করেছেন। যদি আমি নির্দিষ্টভাবে কাউকে উল্লেখ করতে চাই—যদিও তাঁরা সকলেই এর যোগ্য—তবে তাঁরা হলেন সম্মানীয় শায়খগণ: ড. ইব্রাহিম আস-সুবাইহি, ড. আবদুর রহমান আল-মাহমুদ এবং ড. মুহাম্মদ আল-ওয়ুহাইবি।

অতঃপর বিশেষ কৃতজ্ঞতা আমার সহোদরদের প্রতি, যাঁরা আল্লাহর পরে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহায়ক শক্তি ছিলেন। আল্লাহ যেন তাঁদেরকে এর প্রতিদান থেকে বঞ্চিত না করেন। আল্লাহ যেন সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং উভয় জগতেই তাঁদেরকে প্রচুর নেয়ামত দান করেন।

 

আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌التمهيد

المبحث الأول: حياة البخاري

 

المطلب الأول: اسمه ونسبه ومولده

 

المطلب الثاني: نشأته وسيرته العلمية

 

المطلب الثالث: شيوخه وتلاميذه

 

المطلب الرابع: مؤلفاته

 

المطلب الخامس: شمائله

المطلب السادس: علمه وثناء الأئمة عليه

المطلب السابع: محنة الإمام البخاري في [مسألة اللفظ]

المطلب الثامن: وفاته
উপক্রমণিকা

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারীর জীবনী

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম

 

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা ও জ্ঞানগর্ভ জীবন

 

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ

 

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী

 

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর চারিত্রিক গুণাবলী

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর সম্পর্কে ইমামগণের প্রশংসা

সপ্তম অনুচ্ছেদ: [কুরআন উচ্চারণের মাসআলায়] ইমাম বুখারীর অগ্নিপরীক্ষা

অষ্টম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকাল
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المبحث الأول: حياة البخاري

‌‌المطلب الأول: اسمه ونسبه ومولده:

هو أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبة الجعفي (مولاهم) البخاري وبردزبة مجوسي مات عليها (1).

والمغيرة بن بردزبة أسلم على يدي يمان الجعفي والي بخاري فنسب إليه البخاري، لأنه مولاه من فوق ولاء إسلام - على قول من يقول بالولاء لمن أسلم -.

ووالده أبو الحسن إسماعيل بن إبراهيم، كان من العلماء الورعين ذكره ابنه الإمام البخاري في تاريخه. (2)

--------------------------------------------

(1) (*) … كتب في ترجمة البخاري الكثير.

وأقدم ترجمة له هي (شمائل البخاري) لوراقة وتلميذه: أبوجعفر محمد بن أبي حاتم البخاري وقد رواها عنه الأئمة من بعده، انظر سير أعلام النبلاء (12/ 392) وله ترجمة في: الفهرست لابن النديم 1/ 521 وتاريخ بغداد (2/ 4، 34) وطبقات الحنابلة لابي يعلى (1/ 271 - 279) والأنساب للسمعاني (3/ 268). والتهذيب في الأسماء واللغات للنووي (1/ 67 - 73) ووفايات الأعيان لابن خلكان (4/ 188)، وطبقات الشافعية للسبكي (2/ 212)، وسير أعلام النبلاء للذهبي (12/ 391)، وابن حجر في مقدمة الفتح وفي نهاية تغليق التعليق (5/ 384) وهناك من أفرد له ترجمة خاصة منها:

1 - سيرة الإمام البخاري للعلامة عبد السلام المبارك فوري ت 1342 هـ في 450 صفحة تقريباً نشرته إدارة البحوث بالجامعة السلفية بالهند - طبع مرتان الثانية 1407 هـ.

2 - الإمام البخاري وصحيحه للدكتور عبد الغني عبد الخالق - طبع عام 1405 هـ. من دار المنارة في جدة في 260 صفحة.

3 - الإمام البخاري محدثاً وفقيهاً للدكتور الحسين عبد المجيد هاشم - أمين عام مجمع البحوث الإسلامية- عن منشورات المكتبة العصرية بلبنان في 280 صفحة بدون تاريخ.

4 - حياة البخاري للشيخ جمال الدين القاسمي - طبع في حياة المؤلف أول مرة سنة (1330 هـ) عن دار الفرقان بلبنان ثم حققه محمود الأرناؤوط عن دار النفائس عام 1412 هـ في 100 صفحة.

5 - الإمام البخاري فقيه المحدثين ومحدث الفقهاء للدكتور نزار الحمداني نشرته جامعة أم القرى عام 1412 هـ في 210 صفحات.

وغيرها كثير ضمن سلاسل علمية كثيرة وما سبق أهمها وأشملها.

(2) التاريخ الكبير للبخاري 2/ 342.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারীর জীবন

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:

তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুগীরা ইবনে বারদিযবাহ আল-জু'ফী (তাদের আজাদকৃত দাস) আল-বুখারী। আর বারদিযবাহ ছিলেন একজন অগ্নিপূজক এবং তিনি সেই ধর্মেই মৃত্যুবরণ করেন (১)।

আর মুগীরা ইবনে বারদিযবাহ বুখারার গভর্নর ইয়ামান আল-জু'ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাই বুখারীকে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; কারণ তিনি ছিলেন ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর অভিভাবক (মাওলা) - সেই মতানুসারে যারা বলেন যে, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করায় তার অভিভাবকত্ব (ওয়ালা) তারই প্রাপ্য যার হাতে সে ইসলাম গ্রহণ করেছে।

তাঁর পিতা আবুল হাসান ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহিম ছিলেন একজন পরহেযগার আলেম, যাঁর কথা তাঁর পুত্র ইমাম বুখারী তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। (২)

--------------------------------------------

(১) (*) … ইমাম বুখারীর জীবনী নিয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছে।

তাঁর প্রাচীনতম জীবনী হলো তাঁর লেখক ও ছাত্র আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতেম আল-বুখারীর রচিত 'শামাইলুল বুখারী'। তাঁর পরবর্তী ইমামগণ এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৩৯২)। এছাড়া তাঁর জীবনী রয়েছে: ইবনু নাদীমের আল-ফিহরিস্ট (১/৫২১), তারিখ বাগদাদ (২/৪, ৩৪), আবু ইয়া'লার তাবাকাতুল হানাবিলাহ (১/২৭১-২৭৯), সাম'আনী রচিত আল-আনসাব (৩/২৬৮), নববীর আত-তাহযীব ফিল আসমা ওয়াল লুগাত (১/৬৭-৭৩), ইবনে খাল্লিকানের ওয়াফায়াতুল আ'ইয়ান (৪/১৮৮), সুবকীর তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ (২/২১২), যাহাবীর সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৩৯১), ইবনে হাজার আসকালানীর মুকাদ্দিমাতুল ফাতহ এবং তাগলীকুত তা'লীক এর শেষে (৫/৩৮৪)। আরও অনেকে তাঁর জন্য স্বতন্ত্র জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - আল্লামা আব্দুস সালাম মুবারকপুরী (মৃত্যু ১৩৪২ হি.) রচিত 'সীরাতুল ইমাম আল-বুখারী', যা প্রায় ৪৫০ পৃষ্ঠার। এটি ভারতের জামিয়া সালাফিয়্যার গবেষণা বিভাগ থেকে প্রকাশিত এবং দুইবার মুদ্রিত হয়েছে (দ্বিতীয়বার ১৪০৭ হি.)।

২ - ড. আব্দুল গনি আব্দুল খালিক রচিত 'আল-ইমাম আল-বুখারী ওয়া সাহিহুহু', যা ১৪০৫ হিজরিতে জেদ্দার দারুল মানারা থেকে ২৬০ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে।

৩ - ড. আল-হুসাইন আব্দুল মজিদ হাশেম (মাজমাউল বুহুস আল-ইসলামিয়্যার সাধারণ সম্পাদক) রচিত 'আল-ইমাম আল-বুখারী মুহাদ্দিসান ওয়া ফাক্কিহান', যা লেবাননের আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ থেকে ২৮০ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত (তারিখ বিহীন)।

৪ - শেখ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী রচিত 'হায়াতুল বুখারী'। এটি লেখকের জীবদ্দশায় প্রথমবার ১৩৩০ হিজরিতে লেবাননের দারুল ফুরকান থেকে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে মাহমুদ আল-আরনাউত এটি সম্পাদনা করে দারুন নাফাইস থেকে ১৪১২ হিজরিতে ১০০ পৃষ্ঠায় প্রকাশ করেন।

৫ - ড. নিযার আল-হামদানী রচিত 'আল-ইমাম আল-বুখারী ফাক্বীহুল মুহাদ্দিসীন ওয়া মুহাদ্দিসুল ফুুক্বাহা', যা উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় ১৪১২ হিজরিতে ২১০ পৃষ্ঠায় প্রকাশ করেছে।

এছাড়া আরও অনেক জ্ঞানগর্ভ ধারাবাহিকের মধ্যে অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে, তবে উপরেরগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তৃত।

(২) বুখারীর আত-তারিখুল কাবীর ২/৩৪২।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال: رأى حماد بن زيد (1)، وصافح ابن المبارك بكلتا يديه، وقد سمع من الإمام مالك بن أنس وروى عن حماد بن زيد وعبد الله المبارك.

وروى عنه أحمد بن حفص قال: دخلت عليه عند موته، فقال: لا أعلم في جميع مالي درهماً من شبهة. قال ابن حفص: فتصاغرت إلى نفسي عند ذلك.

وقد علق البخاري على قول والده بقوله: إن أصدق ما يكون المرء عند موته.

ولد الإمام رحمه الله في بيت علم وفضل وصلاح ببخارى (2) يوم الجمعة بعد الصلاة لثلاث عشرة ليلة خلت من شهر شوال سنة 194 هـ، كما سجل ذلك والده بخط يده (3) وهو يوافق 21 يوليه عام 810 م.

--------------------------------------------

(1) حماد بن زيد بن درهم أبو إسماعيل البصري: شيخ العراق في عصره من حفاظ الحديث المجودين خرَّج حديثه الأئمة الستة. ت 179 هـ، الأعلام (2/ 271).

(2) وهي من مدن (ازبكستان) في الجمهوريات الإسلامية الآن في آسيا.

(3) هدى الساري لابن حجر صـ 477.
এবং তিনি বলেছেন: তিনি হাম্মাদ বিন যায়িদকে (১) দেখেছেন এবং ইবনুল মুবারকের সাথে নিজের উভয় হাত দিয়ে মুসাফাহা করেছেন। তিনি ইমাম মালিক বিন আনাস থেকে (হাদিস) শুনেছেন এবং হাম্মাদ বিন যায়িদ ও আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর থেকে আহমাদ বিন হাফস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি তাঁর মৃত্যুশয্যায় তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি বললেন: আমার উপার্জিত সমস্ত সম্পদের মধ্যে একটি দিরহামও সন্দেহের আছে বলে আমার জানা নেই। ইবনে হাফস বলেন: তখন আমি নিজের চোখে নিজেকে খুব ছোট মনে করলাম।

বুখারি তাঁর পিতার বক্তব্যের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: মানুষ যখন মৃত্যুশয্যায় থাকে, তখনই সে সবচেয়ে বেশি সত্যবাদী হয়।

ইমাম—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—১৯৪ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের তেরো তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর জুমার দিন সালাতের শেষে বুখারা (২) শহরের একটি জ্ঞান, মর্যাদা ও নেককার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। যেমনটি তাঁর পিতা নিজ হাতে (৩) লিখে লিপিবদ্ধ করে গেছেন, যা ৮১০ খ্রিস্টাব্দের ২১ জুলাই তারিখের সাথে মিলে যায়।

--------------------------------------------

(১) হাম্মাদ বিন যায়িদ বিন দিরহাম আবু ইসমাইল আল-বাসরি: তাঁর যুগের ইরাকের শায়খ এবং সুদক্ষ হাফেজে হাদিসদের অন্যতম, যাঁর হাদিস ছয়জন ইমাম (কুতুবে সিত্তা) চয়ন করেছেন। মৃত্যু ১৭৯ হিজরি, আল-আলাম (২/২৭১)।

(২) এটি বর্তমানে এশিয়ার ইসলামি প্রজাতন্ত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত (উজবেকিস্তানের) একটি শহর।

(৩) ইবনে হাজারের হুদা আস-সারি, পৃষ্ঠা ৪৭৭।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المطلب الثاني: نشأته وسيرته العلمية

نشأ الإمام البخاري رحمه الله يتيماً في حجر أمه هو وأخوه أحمد، وقد ابتلي رحمه الله بفقد البصر صغيراً ثم رد الله بصره، فقد رأت أمه في المنام إبراهيم عليه السلام، فقال لها: يا هذه قد ردَّ الله على ابنك بصره لكثرة بكائك، أو لكثرة دعائك. فأصبح وقد رد بصره. (1)

وربما عاوده هذا البلاء في أثناء طلبه للعلم قال مرة: لما بلغت خرا سان أصيب بصري فعلمني رجل أن أحلق رأسي وأغلفه بالخطمي (2) ففعلت فرد الله علي بصري. (3)

وقد سأله وراقه محمد بن أبي حاتم (4) عن نشأته في طلب العلم، فأجاب عن نفسه فقال: ألهمت حفظ الحديث وأنا في الكتاب، قال: كم كان سنك؟ فقال: عشر سنين أو أقل ثم خرجت من الكتاب بعد العشر.

قال: وكنت أختلف إلى الفقهاء بمرو وأنا صبي، فإذا جئت استحي أن أسلم عليهم، فقال لي مؤدب من أهلها: كم كتبت اليوم؟ فقلت: اثنين أردت بذلك حديثين، فضحك من حضر المجلس، فقال شيخ منهم: لا تضحكوا، فلعله يضحك منكم يوماً.

قال: وكنت أختلف إلى الداخلي (5) وغيره. فقال يوماً فيما يقرأ للناس: سفيان عن أبي الزبير عن إبراهيم، فقلت له: إن أبا الزبير لم يرو عن إبراهيم فانتهرني، فقلت له ارجع إلى

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد للخطيب البغدادي 2/ 10.

(2) ضرب من النبات يغتسل به، لسان العرب 2/ 862.

(3) طبقات الشافعية للسبكي 2/ 216.

(4) محمد بن أبي حاتم البخاري: أبو جعفر محمد بن أبي حاتم الورَّاق النحوي.

(5) الداخلي: لم أجد له ترجمة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা ও ইলমি জীবন

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ভাই আহমাদসহ তাঁর মায়ের কোলে এতিম অবস্থায় লালিত-পালিত হয়ে বড় হয়েছেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) শৈশবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে এক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। তাঁর মা স্বপ্নে ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখেছিলেন, যিনি তাঁকে বলেছিলেন: "হে নারী! তোমার প্রচুর কান্নাকাটির কারণে—অথবা তোমার অধিক দুআর কারণে—আল্লাহ তোমার ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন।" অতঃপর সকালে দেখা গেল যে, তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে এসেছে। (১)

ইলম অন্বেষণকালেও হয়তো এই পরীক্ষা তাঁর নিকট পুনরায় ফিরে এসেছিল। তিনি একবার বলেছিলেন: "যখন আমি খোরাসানে পৌঁছলাম, তখন আমি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলি। তখন এক ব্যক্তি আমাকে মাথা মুণ্ডন করে তা খতমি (এক প্রকার উদ্ভিদ) দিয়ে প্রলেপ দেওয়ার পরামর্শ দিলেন। আমি তা-ই করলাম, ফলে আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন।" (৩)

তাঁর লিপিকার মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম (৪) তাঁকে তাঁর ইলম অন্বেষণের সূচনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি নিজের সম্পর্কে উত্তরে বলেন: "যখন আমি মক্তবে ছিলাম, তখনই আমার অন্তরে হাদীস মুখস্থ করার প্রেরণা (ইলহাম) জাগ্রত হয়।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "তখন আপনার বয়স কত ছিল?" তিনি বললেন: "দশ বছর বা তার কম। অতঃপর দশ বছর বয়সের পর আমি মক্তব থেকে বের হই।"

তিনি বলেন: "আমি শৈশবে মার্ভের ফকীহদের মজলিসে যাতায়াত করতাম। সেখানে উপস্থিত হলে তাঁদের সালাম দিতে আমি লজ্জা বোধ করতাম। সেখানকার এক শিক্ষক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: আজ তুমি কয়টি লিখেছ? আমি বললাম: দুটি—এর দ্বারা আমি দুটি হাদীস বুঝিয়েছিলাম। তখন মজলিসে উপস্থিতরা হেসে উঠলেন। তাঁদের মধ্যে একজন শায়খ বললেন: হেসো না, হয়তো একদিন সে তোমাদের দেখে হাসবে।"

তিনি বলেন: "আমি আদ-দাখেলী (৫) ও অন্যান্যদের নিকট যাতায়াত করতাম। একদিন তিনি মানুষের সামনে পড়ার সময় বললেন: 'সুফিয়ান, আবু জুবাইর থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন।' তখন আমি তাঁকে বললাম: নিশ্চয় আবু জুবাইর ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেননি। এতে তিনি আমাকে ধমক দিলেন। আমি তাঁকে বললাম, আপনি আপনার মূল পাণ্ডুলিপির দিকে ফিরে যান..."

--------------------------------------------

(১) খতীব বাগদাদী রচিত তারিখু বাগদাদ ২/১০।

(২) এক প্রকার উদ্ভিদ যা দ্বারা গোসল করা হয়, লিসানুল আরব ২/৮৬২।

(৩) সুবকী রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/২১৬।

(৪) মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম আল-বুখারী: আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম আল-ওয়াররাক আন-নাহবী।

(৫) আদ-দাখেলী: তাঁর সম্পর্কে কোনো জীবনী বা পরিচয় আমি খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২১)
الأصل فدخل فنظر فيه ثم خرج فقال لي: كيف هو يا غلام؟ قلت هو الزبير بن عدي عن إبراهيم، فأخذ القلم مني وأحكم كتابه وقال: صدقت وقد سئل البخاري ابن كم كنت حين رددت عليه، قال: ابن إحدى عشرة سنة.

قال: فلمّا طعنت في ست عشرة سنة كنت قد حفظت كتب ابن المبارك (1) ووكيع (2) وعرفت كلام هؤلاء (قال الحافظ يعني أصحاب الرأي).

قال: أبو بكر بن الأعين (3): كتبنا عن البخاري على باب محمد بن يوسف الفريابي (4) وما في وجهه شعرة فقلنا ابن كم أنت؟ قال ابن سبع عشرة سنة، ثم خرج رحمه الله إلى الحج ورجع أخوه بأمه وبقى بمكة يكتب عن علمائها، وكان ذلك سنة (210 هـ).

قال البخاري: دخلت على الحميدي (5) وأنا ابن ثمان عشرة سنة وبينه وبين آخر اختلاف في حديث، فلما بصر بي الحميدي قال: قد جاء من يفصل بيننا فعرضا عليَّ فقضيت للحميدي على من يخالفه.

قال وجعلت أصنف قضايا الصحابة والتابعين وأقاويلهم، وذلك أيام عبد الله بن موسى ثم سافرت إلى المدينة وصنفت فيها كتاب التاريخ الكبير. قال: وصنفت كتاب التاريخ إذاك

--------------------------------------------

(1) ابن المبارك: هو عبدالله بن المبارك بن واضح الحنظلي أحد الأئمة الأعلام وشيوخ الإسلام (ت 281 هـ الأعلام (4/ 115).

(2) وكيع: وكيع بن الجراح بن قليح ابو سفيان حافظ للحديث ثبت محدث العراق في وقته ت 197 هـ، الأعلام (8/ 117).

(3) أبوبكر بن الأعين: محمد بن أبي عقاب بن طريف أحد الأثبات روى عنه مسلم ووثقه ابن حبان (ت 240 هـ) التقريب (2/ 552).

(4) محمد بن يوسف الفريابي: قال عنه البخاري: كان أفضل أهل زمانه (ت 212 هـ)، (الخلاصة 365).

(5) الحميدي: أبوبكر عبدالله بن الزبير الأسدي، أحد الأئمة صحب الشافعي (ت 219 هـ)، (الخلاصة 197 هـ).
মূল পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং তাতে দৃষ্টিপাত করলেন, এরপর বের হয়ে আমাকে বললেন: হে বৎস, এটি কেমন? আমি বললাম: এটি ইব্রাহিম থেকে বর্ণিত জুবাইর ইবনে আদি-এর বর্ণনা। তখন তিনি আমার থেকে কলমটি নিলেন এবং তাঁর কিতাবটি সংশোধন করলেন এবং বললেন: তুমি সত্য বলেছ। বুখারিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, যখন আপনি তাঁর ভুল শুধরে দিয়েছিলেন তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: এগারো বছর।

তিনি বলেন: যখন আমি ষোল বছরে পদার্পণ করি, তখন আমি ইবনুল মুবারক (১) ও ওয়াকির (২) কিতাবসমূহ মুখস্থ করে ফেলেছিলাম এবং এই লোকদের কথা (মতামত) জেনে নিয়েছিলাম (হাফেজ বলেন অর্থাৎ আসহাবে রায় বা যুক্তিনির্ভর ফকিহগণ)।

আবু বকর ইবনুল আয়ান (৩) বলেন: আমরা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরয়াবির (৪) দরজায় বসে বুখারির নিকট থেকে হাদিস লিখেছি, অথচ তখন তাঁর মুখে দাড়ি বা লোমও গজায়নি। তখন আমরা বললাম, আপনার বয়স কত? তিনি বললেন: সতেরো বছর। এরপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) হজের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তাঁর ভাই তাঁর মাকে নিয়ে ফিরে এলেন এবং তিনি মক্কায় অবস্থান করে সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে হাদিস লিখতে লাগলেন। আর এটি ছিল ২১০ হিজরির ঘটনা।

ইমাম বুখারি বলেন: আমি আল-হুমাইদির (৫) নিকট প্রবেশ করলাম যখন আমার বয়স আঠারো বছর। তাঁর এবং অন্য একজনের মধ্যে একটি হাদিস নিয়ে মতভেদ চলছিল। যখন আল-হুমাইদি আমাকে দেখলেন, তিনি বললেন: এমন একজন এসেছেন যিনি আমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। এরপর তাঁরা বিষয়টি আমার সামনে পেশ করলেন এবং আমি আল-হুমাইদির বিপক্ষে থাকা ব্যক্তির বিপরীতে আল-হুমাইদির পক্ষেই ফয়সালা প্রদান করলাম।

তিনি বলেন: আমি সাহাবি ও তাবেয়িদের বিচারিক ফয়সালা ও তাঁদের বক্তব্যসমূহ সংকলন করতে শুরু করি। সেটি ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে মুসার সময়কার কথা। এরপর আমি মদিনায় সফর করি এবং সেখানে ‘তারিখুল কবির’ কিতাবটি রচনা করি। তিনি বলেন: আমি সেই সময়েই তারিখ কিতাবটি রচনা করেছিলাম।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল মুবারক: তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক ইবনে ওয়াদিহ আল-হানজালি, অন্যতম প্রসিদ্ধ ইমাম ও শাইখুল ইসলাম (মৃত্যু ২৮১ হি., আল-আলাম ৪/১১৫)।

(২) ওয়াকি: ওয়াকি ইবনুল জাররাহ ইবনে মালিহ আবু সুফিয়ান, হাদিসের হাফেজ, নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর সময়ের ইরাকের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, মৃত্যু ১৯৭ হি., আল-আলাম (৮/১১৭)।

(৩) আবু বকর ইবনুল আয়ান: মুহাম্মদ ইবনে আবি উক্বাব ইবনে তারিফ, অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব, ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (মৃত্যু ২৪০ হি.) আত-তাক্বরিব (২/৫৫২)।

(৪) মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরয়াবি: তাঁর সম্পর্কে ইমাম বুখারি বলেন: তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন (মৃত্যু ২১২ হি.), (আল-খুলাসাহ ৩৬৫)।

(৫) আল-হুমাইদি: আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর আল-আসাদি, অন্যতম ইমাম, তিনি ইমাম শাফিঈর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন (মৃত্যু ২১৯ হি.), (আল-খুলাসাহ ১৯৭ হি.)।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২২)
عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم في الليالي المقمرة وقلَّ اسم في التاريخ إلا وله عندي قصة، إلا أني كرهت تطويل الكتاب.

ثم واصل رحمه الله الترحال في طلب الحديث ولقاء العلماء، وكانت البصرة أول مستقر له حيث مكث فيها خمس سنين يصنف ويحصل ويحج في كل سنة ثم يرجع إلى البصرة.

قال رحمه الله: دخلت الشام ومصر والجزيرة مرتين والبصرة أربع مرات، وأقمت بالحجاز ستة أعوام، ولا أحصي كم دخلت الكوفة وبغداد مع المحدثين.

قال الحاكم (1): أول ما ورد البخاري نيسابور سنة تسع ومائتين (209 هـ)، ووردها في الأخير سنة خمسين ومائتين (250 هـ) أقام بها خمس سنين يحدث على الدوام.

وقال البخاري رحمه الله ما جلست للحديث حتى عرفت الصحيح من السقيم وحتى نظرت في عامة كتب الرأي وحتى دخلت البصرة خمس مرات أو نحوها، فما تركت بها حديثاً صحيحاً إلا كتبته إلاّ ما لم يظهر لي.

ومازال على هذه السيرة يجمع ويصنف فمن الغرب حيث الأخذ عن علماء مصر إلى المشرق حيث (مرو) وبلخ وهراة ونيسابور والري وجبال خرا سان مروراً بالحرمين والجزيرة والشام والكوفة والبصرة وبغداد، أما بخارى وسمرقند وطشقند فهي موطنه.

قال الحاكم: " فقد رحل البخاري إلى هذه البلاد المذكورة في طلب العلم وأقام في كل مدينة على مشايخها قال: وإنما سَمّيت من كل ناحية جماعة من المتقدمين ليستدل به على عالي إسناده حتى حق له أن يقول: كتبت عن ألف شيخ من العلماء وزيادة، وليس عندي حديث إلاّ أذكر إسناده.

--------------------------------------------

(1) الحاكم: محمد بن محمد أبو أحمد النيسابوري، محدِّث خراسان في عصره (ت 378)، الأعلام (7/ 244).
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের পাশে চন্দ্রালোকিত রাতগুলোতে [বসে লিখেছি]; ইতিহাসে এমন নাম খুব কমই আছে যা নিয়ে আমার কাছে কোনো ঘটনা নেই, তবে আমি কিতাব দীর্ঘ করা অপছন্দ করেছি।

অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) হাদিস অন্বেষণে এবং আলেমদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে সফর অব্যাহত রাখেন। বসরা ছিল তাঁর প্রথম স্থায়ী আবাসস্থল, যেখানে তিনি পাঁচ বছর অবস্থান করেন। সেখানে তিনি কিতাব সংকলন করতেন এবং জ্ঞান অর্জন করতেন; প্রতি বছর তিনি হজ করতেন এবং পুনরায় বসরায় ফিরে আসতেন।

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: "আমি শাম, মিশর ও জাজিরায় দুইবার এবং বসরায় চারবার প্রবেশ করেছি। হিজাজে আমি ছয় বছর অবস্থান করেছি। আর মুহাদ্দিসদের সাথে কতবার যে কুফা ও বাগদাদে প্রবেশ করেছি, তা আমি গণনা করতে পারব না।"

হাকিম (১) বলেন: "বুখারী প্রথমবার নিশাপুরে এসেছিলেন ২০৯ হিজরি সনে এবং শেষবার সেখানে আসেন ২৫০ হিজরি সনে। তিনি সেখানে পাঁচ বছর অবস্থান করে নিরন্তর হাদিস বর্ণনা করেন।"

বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: "আমি হাদিস বর্ণনা করার জন্য বসিনি যতক্ষণ না আমি অসুস্থ (দুর্বল) হাদিস থেকে সহিহ হাদিসকে চিনতে পেরেছি, এবং যতক্ষণ না আমি রায়-পন্থীদের সাধারণ কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করেছি, এমনকি আমি বসরায় পাঁচবার বা তার কাছাকাছি গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো সহিহ হাদিসই বাদ দেইনি বরং তা লিখে নিয়েছি, কেবল যা আমার কাছে প্রকাশ পায়নি তা ব্যতীত।"

তিনি এভাবেই জীবন অতিবাহিত করে হাদিস সংগ্রহ ও সংকলন করতে থাকেন; পশ্চিমে মিশরের আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা থেকে শুরু করে পূর্বে মার্ভ, বলখ, হেরাত, নিশাপুর, রায় এবং খোরাসানের পার্বত্য অঞ্চল পর্যন্ত তাঁর পদচারণা ছিল। এই যাত্রাপথে তিনি হারামাইন, জাজিরা, শাম, কুফা, বসরা ও বাগদাদ অতিক্রম করেন। আর বুখারা, সমরকন্দ এবং তাসখন্দ তো ছিল তাঁর নিজ মাতৃভূমি।

হাকিম বলেন: "বুখারী ইলম অন্বেষণে উল্লিখিত এই দেশগুলোতে সফর করেছেন এবং প্রতিটি শহরে সেখানকার শায়খদের কাছে অবস্থান করেছেন।" তিনি আরও বলেন: "আমি প্রতিটি অঞ্চল থেকে পূর্বসূরিদের একদল লোকের নাম উল্লেখ করেছি যাতে তাঁর উচ্চমানের সনদ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, এমনকি তাঁর পক্ষে এ কথা বলা যথার্থ হয়েছে যে: 'আমি এক হাজারেরও বেশি আলেম শায়খ থেকে হাদিস লিখেছি, এবং আমার কাছে এমন কোনো হাদিস নেই যার সনদ আমার স্মরণে নেই'।"

--------------------------------------------

(১) হাকিম: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আবু আহমদ আন-নিশাপুরি, তাঁর যুগের খোরাসানের মুহাদ্দিস (মৃত্যু ৩৭৮ হিজরি), আল-আ’লাম (৭/ ২৪৪)।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المطلب الثالث: شيوخه وتلاميذه

قَدّمنا كلامه رحمه الله في تعداد كثرة شيوخه، ويمكن تعدادهم ونسبتهم باعتبار الأقاليم والأمصار التي رحل إليها وجمع من علمائها.

فأول سماعه ببخارى من عبد الله بن محمد الجعفي ومحمد بن سلام وجماعة وعمرو بن عبدان بن عثمان وعلي بن شفيق وهكذا من بالكوفة وبغداد، ويمكن تقسيمهم كما ذكر الإمام النووي وابن حجر باعتبار طبقاتهم.

قال النووي: روينا عن أبي الفضل المقدسي (1) قال: الذين حدث عنهم البخاري في صحيحه خمس طبقات:

الأولى: من حدثه عن التابعين مثل محمد بن عبد الله الأنصاري، ومكي بن إبراهيم، وأبو عاصم النبيل وعبيد الله بن موسى وأبي نعيم وغيرهم.

والثانية: من كان في عصر هؤلاء لكن لم يسمع من ثقات التابعين كآدم ابن أبي إياس وأبي مسهر عبد الأعلى بن مسهر وسعيد بن أبي مريم وأمثالهم.

الثالثة: وهي الوسطى من مشايخه، وهم من لم يلق التابعين بل أخذ من كبار تبع الأتباع كسليمان بن حرب وقتيبة بن سعيد ونعيم بن حماد وعلي بن المديني ويحيى بن معين وأحمد بن

--------------------------------------------

(1) أبي الفضل المقدسي: محمد بن طاهر بن علي رحَّالة مؤرخ من حفاظ الحديث، كثير التصنيف ت 507 هـ الأعلام (6/ 171).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রগণ

আমরা তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) অধিক সংখ্যক শিক্ষক গণনার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পেশ করেছি। তিনি যেসব অঞ্চল ও জনপদে ভ্রমণ করেছেন এবং যেখানকার আলেমদের থেকে ইলম সংগ্রহ করেছেন, তার ভিত্তিতে তাঁদের সংখ্যা ও সম্বন্ধ নির্ণয় করা সম্ভব।

বুখারায় তাঁর হাদিস শ্রবণের সূচনা হয় আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-জু'ফি, মুহাম্মাদ ইবনে সালাম ও একদল উস্তাদ এবং আমর ইবনে আবদান ইবনে উসমান ও আলী ইবনে শফিকের নিকট থেকে। একইভাবে কুফা ও বাগদাদের উস্তাদদের নিকট থেকেও তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন। ইমাম নববী ও ইবনে হাজার যেভাবে উল্লেখ করেছেন, সে অনুযায়ী তাঁদের স্তরের (তাবাকাত) ভিত্তিতে তাঁদের বিভক্ত করা সম্ভব।

ইমাম নববী বলেন: আমরা আবুল ফজল আল-মাকদিসী (১) থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে যাঁদের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁরা পাঁচ স্তরের:

প্রথম স্তর: যাঁরা তাবেয়ীদের থেকে তাঁর কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন। যেমন: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী, মক্কী ইবনে ইব্রাহীম, আবু আসিম আন-নাবীল, উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা, আবু নুয়াইম এবং অন্যান্যরা।

দ্বিতীয় স্তর: যাঁরা প্রথম স্তরের সমসাময়িক ছিলেন, কিন্তু নির্ভরযোগ্য তাবেয়ীদের থেকে সরাসরি হাদিস শোনেননি। যেমন: আদম ইবনে আবি ইয়াস, আবু মুসহির আব্দুল আলা ইবনে মুসহির, সাঈদ ইবনে আবি মারিয়াম এবং তাঁদের অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ।

তৃতীয় স্তর: এটি তাঁর উস্তাদদের মধ্যম স্তর। তাঁরা হলেন ওই সকল ব্যক্তি যাঁরা তাবেয়ীদের সাক্ষাৎ পাননি, বরং বড় বড় তাবে-তাবেয়ীদের থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। যেমন: সুলাইমান ইবনে হারব, কুতাইবা ইবনে সাঈদ, নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ, আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আহমাদ ইবনে...

--------------------------------------------

(১) আবুল ফজল আল-মাকদিসী: তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে তাহির ইবনে আলী; একজন পর্যটক, ঐতিহাসিক ও হাফিজে হাদিস। তিনি বহু গ্রন্থের প্রণেতা, মৃত্যু: ৫০৭ হিজরি। আল-আ'লাম (৬/১৭১)।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৪)
حنبل وإسحاق بن راهويه وأبي بكر وعثمان ابني أبي شيبة وأمثالهم (وقد شاركه مسلم في الأخذ عنهم).

الرابعة: رفقاؤه في الطلب ومن سمع قبله قليلاً كمحمد بن يحيى الذهلي وأبي حاتم الرازي ومحمد بن عبد الرحيم الملقب بـ (صاعقة) وعبد بن حميد وقد أخرج من هؤلاء ما فاته عن مشايخه أو لم يجده عند غيرهم.

الخامسة: قوم في عداد طلبته سناً وإسناداً ووفاةً سمع منهم للفائدة، كعبد الأعلى وحسين المقدسي وابن أبي العاص الخوارزمي وغيرهم.

قال المقدسي: ونبهنا بهذه الطبقات المختصرة لئلا يظن من لا معرفة له إذا حدث البخاري عن مكي عن يزيد بن أبي عبيد عن سلمة ثم حدث في موضع آخر عن قتيبة عن بكر بن مضر عن عمرو بن الحارث عن بكير بن عبد الله بن الأشج عن يزيد بن أبي عبيد عن سلمة رضي الله عنه أن الإسناد الأول سقط منه شيء وعلى هذا سائر الأحاديث. (1)

قال الحافظ وعمل في الرواية عنهم مما روى عثمان بن أبي شيبة عن وكيع قال: لا يكون الرجل عالماً حتى يحدث عمن هو فوقه وعمن هو مثله. وروى المقدسي هذا عن البخاري نفسه رحمه الله. (2)

--------------------------------------------

(1) شرح النووي صـ 9.

(2) المصدر السابق صـ 10.
হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ, আবু বকর ও উসমান ইবনে আবি শাইবাহ এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ (ইমাম মুসলিমও তাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তার সাথে শরিক ছিলেন)।

চতুর্থ স্তর: ইলম অন্বেষণে তার সহকর্মীগণ এবং যারা তার সামান্য পূর্বে হাদিস শ্রবণ করেছেন, যেমন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলী, আবু হাতিম আর-রাযী, মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহীম (যিনি 'সা’ইকাহ' উপাধিতে ভূষিত ছিলেন) এবং আবদ ইবনে হুমাইদ। তিনি তাদের থেকে ওই সকল হাদিস গ্রহণ করেছেন যা তিনি তার শায়খদের থেকে সরাসরি পাননি অথবা অন্য কারও কাছে তা পাননি।

পঞ্চম স্তর: এমন একদল লোক যারা বয়স, ইসনাদ এবং মৃত্যুর সময়ের দিক থেকে তার ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি ফায়েদা অর্জনের জন্য তাদের থেকে শ্রবণ করেছেন। যেমন— আবদুল আ'লা, হুসাইন আল-মাকদিসী, ইবনে আবিল আস আল-খাওয়ারিজমী এবং অন্যান্য।

মাকদিসী বলেন: আমরা এই সংক্ষিপ্ত স্তরগুলো সম্পর্কে এই জন্য সতর্ক করেছি যাতে অনভিজ্ঞ কেউ এমনটা মনে না করে যে, ইমাম বুখারী যখন মাক্কী থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে, তিনি সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন এবং আবার অন্য স্থানে কুতাইবাহ থেকে, তিনি বাকর ইবনে মুদার থেকে, তিনি আমর ইবনুল হারিস থেকে, তিনি বুকাইর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল আশাজ থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে, তিনি সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন— তবে প্রথম ইসনাদ থেকে কোনো কিছু বাদ পড়েছে। অন্যান্য হাদিসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একইরূপ। (১)

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন, তাদের থেকে রেওয়ায়েত গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি উসমান ইবনে আবি শাইবাহ কর্তৃক ওয়াকী' থেকে বর্ণিত উক্তি অনুযায়ী আমল করেছেন। তিনি (ওয়াকী') বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত আলেম হতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার ঊর্ধ্বতন এবং তার সমকক্ষদের থেকে হাদিস বর্ণনা করে।" মাকদিসী এটি স্বয়ং ইমাম বুখারী (রহ.) থেকেও বর্ণনা করেছেন। (২)

--------------------------------------------

(১) শারহু নাওয়াবী, পৃষ্ঠা ৯।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১০।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৫)
تلاميذه:

يصعب الإحاطة بتلاميذ البخاري وبمن أخذ عنه، فقد تصدر للتحديث وهو صغير فكثر الآخذون عنه.

فأهل البصرة أول ما قدم عليهم، كانوا يَعْدون في الطرقات خلفه في طلب الحديث حتى يغلبوه على نفسه ويجلسوه في بعض الطريق فيجتمع عليه ألوف أكثرهم ممن يكتب عنه وهو إذ ذاك شاب لم يخرج وجهه (1)، ومرة أخرى يقدم البصرة فينادي المنادي يا أهل العلم قد قدم محمد بن إسماعيل، فيقومون فيرون شاباً لم يكن في لحيته شيء من البياض يصلي خلف الأسطوانة في جامع البصرة، ويسألونه الإملاء، فيجلس لهم بالغداة وقد حضر الفقهاء والمحدثون والحفاظ والنظار حتى اجتمع قريب من كذا وكذا ألف. (2)

وفي بغداد يذكر مستمليه: صالح بن محمد البغدادي فيقول: كنت استملي له ويجتمع في مجلسه أكثر من عشرين ألف، ويذكر نحو هذا محمد بن يوسف بن عاصم، فيقول: رأيت لمحمد بن إسماعيل ثلاثة مستملين ببغداد وكان قد اجتمع في مجلسه زيادة على عشرين ألف رجل. (3)

قال محمد بن يوسف الفربري (4): سمع الصحيح من البخاري تسعون ألف رجل فما بقي أحد يروي عنه غيري. (5)

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد للخطيب البغدادي 2/ 15.

(2) المصدر السابق.

(3) تاريخ بغداد 2/ 40.

(4) محمد بن يوسف الفربري: ابو عبدالله محمد بن يوسف بن مطر، سمع من البخاري الصحيح مرتين، شارك البخاري ومسلم في الرواية (ت 320 هـ) شرح النووي صـ 10.

(5) المصدر السابق 2/ 9.
তাঁর ছাত্রগণ:

ইমাম বুখারীর ছাত্র এবং যারা তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাদের সংখ্যা নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন; কেননা তিনি অল্প বয়সেই হাদীস পাঠদানের আসনে আসীন হয়েছিলেন, ফলে তাঁর নিকট থেকে গ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রচুর।

বসরার অধিবাসীদের নিকট তিনি যখন প্রথমবার আগমন করেন, তখন তারা হাদীস অন্বেষণের উদ্দেশ্যে রাস্তার মাঝে তাঁর পেছনে পেছনে দৌড়াতেন, এমনকি এক পর্যায়ে তারা তাঁকে বাধ্য করে রাস্তার কোনো এক স্থানে বসিয়ে দিতেন। তখন তাঁর নিকট হাজার হাজার মানুষ সমবেত হতো, যাদের অধিকাংশই ছিল তাঁর থেকে হাদীস লিপিবদ্ধকারী; অথচ তিনি তখন এমন এক তরুণ যার চেহারায় তখনও দাড়ি-গোঁফ পুরোপুরি ওঠেনি (১)। অন্য এক সময় তিনি যখন বসরায় আগমন করেন, তখন জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা করলেন: হে ইলমের অধিকারীগণ! মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আগমন করেছেন। তখন তারা উঠে দাঁড়ান এবং জনৈক যুবককে দেখতে পান যার দাড়িতে কোনো শুভ্রতা ছিল না, তিনি বসরার জামে মসজিদে একটি খুঁটির আড়ালে সালাত আদায় করছিলেন। তারা তাঁর নিকট হাদীস শোনানোর আবেদন জানালেন। অতঃপর তিনি সকালবেলা তাঁদের উদ্দেশ্যে বসলেন। সেখানে ফকীহগণ, মুহাদ্দিসগণ, হাফেজগণ এবং গবেষকগণ উপস্থিত হলেন, এমনকি প্রায় কয়েক হাজার লোক সমবেত হলো। (২)

আর বাগদাদে তাঁর মুস্তামলী (উচ্চস্বরে হাদীস পৌঁছে দেওয়ার সহকারী) সালেহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদী উল্লেখ করেন, তিনি বলেন: আমি তাঁর জন্য মুস্তামলীর দায়িত্ব পালন করতাম এবং তাঁর মজলিসে বিশ হাজারের বেশি মানুষ সমবেত হতো। মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আসিমও তদ্রূপ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমি বাগদাদে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈলের জন্য তিনজন মুস্তামলী দেখেছি এবং তাঁর মজলিসে বিশ হাজারেরও অধিক মানুষ সমবেত হয়েছিল। (৩)

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরী (৪) বলেন: ইমাম বুখারীর নিকট থেকে নব্বই হাজার ব্যক্তি ‘সহীহ’ গ্রন্থটি শ্রবণ করেছেন, এখন আমি ব্যতীত তাঁর থেকে বর্ণনা করার মতো আর কেউ অবশিষ্ট নেই। (৫)

--------------------------------------------

(১) আল-খতীব আল-বাগদাদী রচিত ‘তারীখে বাগদাদ’ ২/১৫।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) তারীখে বাগদাদ ২/৪০।

(৪) মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরী: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার। তিনি ইমাম বুখারীর নিকট থেকে দুইবার ‘সহীহ’ শ্রবণ করেছেন। তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে বুখারী ও মুসলিমের সাথে শরীক ছিলেন (মৃত্যু: ৩২০ হিজরী), শারহু নববী, পৃ. ১০।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস ২/৯।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وسنقتصر على من روى عنه من الأعلام رحمهم الله جميعاً.

فمنهم: الإمام مسلم بن الحجاج صاحب الصحيح (ت 261 هـ).

والإمام أبو عيسى الترمذي محمد بن عيسى بن سورة صاحب السنن (ت 279 هـ).

وأبو عبد الرحمن النسائي أحمد بن شعيب (ت 303 هـ)، وأبو حاتم وأبو زرعة الرازيان (ت 277 هـ).

والإمام أبو إسحاق إبراهيم الحربي (1) صاحب الإمام أحمد.

وصالح بن محمد (جزرة) (2)، وإمام الأئمة أبو بكر بن خزيمة (ت 311 هـ).

والإمام يحيى بن محمد بن صاعد (3) وغيرهم من الأئمة.

--------------------------------------------

(1) أبواسحاق إبراهيم بن اسحاق الحربي: شيخ الإسلام أبواسحاق، تفقَّه على الإمام أحمد وكان من أكبر أصحابه، (ت 285 هـ) الأعلام (1/ 32).

(2) صالح بن محمد (جزرة) من أئمة أهل الحديث لم يكن في خراسان في عصره أحفظ منه، (ت 293 هـ) الأعلام (3/ 195).

(3) يحيى بن محمد بن صاعد الهاشمي من اعيان حفاظ الحديث ببغداد كان عالماً بالرجال والعلل (ت 318) الأعلام (8/ 164).
আমরা কেবল সেই সমস্ত প্রখ্যাত ইমামদের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি দয়া করুন।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ, সহীহ-এর সংকলক (মৃত্যু ২৬১ হিজরি)।

এবং ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ, সুনান-এর সংকলক (মৃত্যু ২৭৯ হিজরি)।

এবং আবু আবদুর রহমান নাসায়ী আহমদ বিন শুয়াইব (মৃত্যু ৩০৩ হিজরি), এবং আবু হাতিম ও আবু যুরআহ আর-রাযিয়াইন (মৃত্যু ২৭৭ হিজরি)।

এবং ইমাম আবু ইসহাক ইব্রাহিম আল-হারবী (১), ইমাম আহমদের সহচর।

এবং সালিহ বিন মুহাম্মদ (জাযারাহ্) (২), এবং ইমামুল আইম্মাহ আবু বকর বিন খুযাইমাহ (মৃত্যু ৩১১ হিজরি)।

এবং ইমাম ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়িদ (৩) ও অন্যান্য ইমামগণ।

--------------------------------------------

(১) আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন ইসহাক আল-হারবী: শাইখুল ইসলাম আবু ইসহাক, তিনি ইমাম আহমদের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন এবং তাঁর অন্যতম প্রধান সহচর ছিলেন, (মৃত্যু ২৮৫ হিজরি) আল-আলাম (১/৩২)।

(২) সালিহ বিন মুহাম্মদ (জাযারাহ্) আহলে হাদীসের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত, তাঁর যুগে খোরাসানে তাঁর চেয়ে বড় হাফিয কেউ ছিল না, (মৃত্যু ২৯৩ হিজরি) আল-আলাম (৩/১৯৫)।

(৩) ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়িদ আল-হাশিমী বাগদাদের বিশিষ্ট হাদীস বিশারদদের (হাফিয) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি রিজাল শাস্ত্র ও ইলল (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্পর্কে পারদর্শী ছিলেন (মৃত্যু ৩১৮ হিজরি) আল-আলাম (৮/১৬৪)।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المطلب الرابع: مؤلفاته (1)

علمنا من كلامه رحمه الله تبكيره في التصنيف فقال: فلما طعنت في ثمان عشرة جعلت أصنف قضايا الصحابة والتابعين وأقاويلهم وذلك أيام عبيد الله بن موسى وصنفت كتاب التاريخ إذ ذاك عند قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم في الليالي المقمرة. (2)

وسأورد ما وقفت عليه منسوباً له مع بيان مكانه وطبعه قدر الإمكان، وسأبدأ بالكتب المطبوعة:

1 - الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه، والمعروف بصحيح البخاري وسنفرد الكلام عليه.

2 - الأدب المفرد مطبوع بتحقيق محمد فؤاد عبد الباقي ثم توالت طبعاته ثم حققه محمد هشام البرهاني عام 1401 ثم توالت عليه الشروح وآخر من اعتنى به العلامة الألباني، وله شرح بعنوان (فضل الله الصمد في توضيح الأدب المفرد لفضل الله الجيلاني، خرجه وصححه محب الدين الخطيب وآخر طبعة له سنة 1407 هـ.

3 - التاريخ الكبير:

موسوعة في أسماء الرجال وهو من أول ما صنف في هذا الفن مستوعباً للرواة من سبقه ومن عاصره وكل من جاء بعده عالة عليه وهو الذي لمّا نظر فيه الإمام إسحاق بن راهويه أدخله على الأمير عبد الله بن طاهر (3) وقال له: أيها الأمير ألا أريك سحراً؟ فنظر فيه عبد الله بن طاهر فتعجب منه وقال: لست أفهم تصنيفه وحق للعباس بن سعيد أن يقول: لو أن رجلاً كتب ثلاثين ألف حديث لما استغنى

--------------------------------------------

(1) (*) … هدي الساري (492) تاريخ التراث العربي لسزكين (1/ 205) وتاريخ الأدب العربي لبروكلمان (3/ 179).

(2) تاريخ بغداد 2/ 7.

(3) عبدالله بن طاهر بن حسين بن مصعب من أشهر ولاة العصر العباسي كان المأمون يعتمد عليه ت 230 هـ، الأعلام (4/ 266).
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী(১)

আমরা তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) কথা থেকে জানতে পারি যে, তিনি খুব অল্প বয়সেই গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তিনি বলেন: "যখন আমি আঠারো বছরে পদার্পণ করি, তখন আমি সাহাবী ও তাবেয়ীদের ফয়সালা এবং তাঁদের বক্তব্যগুলো সংকলন করতে শুরু করি। এটি ছিল উবায়দুল্লাহ বিন মুসার সময়ের কথা। সেই সময়েই আমি পূর্ণিমার রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের পাশে বসে 'কিতাবুত তারিখ' রচনা করি।" (২)

আমি তাঁর সাথে সম্পৃক্ত যে বইগুলোর সন্ধান পেয়েছি, যথাসম্ভব সেগুলোর অবস্থান ও মুদ্রণ সংক্রান্ত বিবরণসহ তা উল্লেখ করব। আমি মুদ্রিত গ্রন্থগুলো দিয়ে শুরু করছি:

১ - আল-জামিউল মুসনাদুস সহীহুল মুখতাসারু মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়্যামিহি, যা 'সহীহ বুখারী' নামে পরিচিত। আমরা এ বিষয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করব।

২ - আল-আদাবুল মুফরাদ: এটি মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকীর তাহকীকে মুদ্রিত হয়েছে। এরপর এর ধারাবাহিক অনেক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তীতে ১৪০১ হিজরীতে মুহাম্মদ হিশাম আল-বুরহানী এটি তাহকীক করেন। এরপর এর ওপর একের পর এক ব্যাখ্যাগ্রন্থও রচিত হয়েছে; সর্বশেষ যিনি এটি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি হলেন আল্লামা আলবানী। ফজলুল্লাহ আল-জিলানী রচিত 'ফজলুল্লাহিস সামাদ ফী তাওদীহিল আল-আদাবিল মুফরাদ' নামক এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার তাখরীজ ও সংশোধন করেছেন মুহিব্বুদ্দীন আল-খাতিব এবং এর সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে ১৪০৭ হিজরীতে।

৩ - আত-তারিখুল কাবীর:

এটি বর্ণনাকারীদের নামের ওপর একটি বিশ্বকোষ। এই শাস্ত্রে এটি প্রথম দিকের এমন এক সংকলন যেখানে তাঁর পূর্ববর্তী ও সমসাময়িক সকল বর্ণনাকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর পরবর্তী যারাই এসেছেন, তারা সবাই এই শাস্ত্রের জন্য তাঁর ওপর নির্ভরশীল। ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াইহ যখন এই গ্রন্থটি দেখেন, তখন তিনি এটি আমির আব্দুল্লাহ বিন তাহিরের (৩) নিকট নিয়ে যান এবং বলেন: "হে আমির, আমি কি আপনাকে একটি জাদু দেখাব না?" আব্দুল্লাহ বিন তাহির এটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বলেন: "আমি এর বিন্যাস শৈলী ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।" আব্বাস বিন সাঈদ যথার্থই বলেছেন: "যদি কোনো ব্যক্তি ত্রিশ হাজার হাদীস লিপিবদ্ধ করে থাকে, তবুও সে এই কিতাব থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারবে না।"

--------------------------------------------

(১) (*) হাদি উস-সারী (৪৯২), সেজগিনের তারিখে তুরাসিল আরাবি (১/২০৫) এবং ব্রোকলম্যানের তারিখে আদাবিল আরাবি (৩/১৭৯)।

(২) তারিখে বাগদাদ ২/৭।

(৩) আব্দুল্লাহ বিন তাহির বিন হুসাইন বিন মুসআব আব্বাসী যুগের অন্যতম প্রসিদ্ধ গভর্নর ছিলেন। খলিফা মামুন তাঁর ওপর নির্ভর করতেন। মৃত্যু ২৩০ হিজরী, আল-আলাম (৪/২৬৬)।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৮)
عن كتاب التاريخ تصنيف محمد بن إسماعيل البخاري، وقد ألفه رحمه الله عند قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم في الليالي المقمرة.

4 - التاريخ الأوسط

5 - التاريخ الصغير وطبع في الهند سنة 1306 هـ.

وقد أشار البخاري رحمه الله إلى هذه التآليف فقال: "لقد صنفت كتاب التاريخ ثلاث مرات"، ولعله يقصد هذه الثلاثة.

6 - كتاب الضعفاء، طبع في حيدر اباد الدكن في الهند سنة 1323 هـ.

ثم حققه بوران الضناوي عام 1404 هـ عن دار عالم الكتب.

7 - خلق أفعال العباد.

طبع مع العلو للذهبي سنة 1306 هـ بتحقيق شمس الحق العظيم أبادي.

ثم حققه د. عبد الرحمن عميرة وأخيراً ظهرت افضل الطبعات عناية وتحقيقاً وفهرسة للشيخ بدر البدر وطبع في الكويت أكثر من طبعة عن الدار السلفية.

قال ابن كثير: " كان قد وقع بين محمد بن يحيى الذهلي وبين البخاري في ذلك كلام وصنف البخاري في ذلك كتاب خلق أفعال العباد". (1)

8 - رفع اليدين في الصلاة:

طبع في الهند ثم في القاهرة طبعات غير معتنى بها ثم خرج تحقيق بعنوان (قرة العين في رفع اليدين في الصلاة) تحقيق أحمد الشريف عن دار الأرقم في الكويت سنة 1404 هـ.

9 - القراءة خلف الإمام:

طبع في المدينة باسم (خير الكلام في القراءة خلف الإمام) سنة 1405 هـ ثم طبع في بيروت وغيرها.

--------------------------------------------

(1) البداية والنهاية 11/ 27.
মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারি সংকলিত ইতিহাস (আত-তারিখ) গ্রন্থটি সম্পর্কে; তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) জ্যোৎস্না রাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবরের নিকট এটি রচনা করেছিলেন।

৪ - আত-তারিখুল আওসাত (মধ্যম ইতিহাস)

৫ - আত-তারিখুস সাগির (ক্ষুদ্র ইতিহাস), এটি ১৩০৬ হিজরি সনে ভারতে মুদ্রিত হয়েছে।

ইমাম বুখারি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এই সংকলনগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: "আমি তিনবার ইতিহাসের গ্রন্থ সংকলন করেছি", সম্ভবত তিনি এই তিনটি গ্রন্থকেই বুঝিয়েছেন।

৬ - কিতাবুয যুয়াফা, এটি ১৩২৩ হিজরি সনে ভারতের হায়দ্রাবাদের দাক্ষিণাত্যে মুদ্রিত হয়েছে।

পরবর্তীতে ১৪০৪ হিজরি সনে দারু আলমিল কুতুব থেকে বুরান আদ-যানাউই এটি সম্পাদনা করেছেন।

৭ - খালকু আফআলিল ইবাদ (বান্দাদের কর্মের সৃষ্টি)।

এটি ১৩০৬ হিজরি সনে শামসুল হক আজিমাবাদির সম্পাদনায় যাহাবীর 'আল-উলু' গ্রন্থের সাথে মুদ্রিত হয়েছে।

এরপর ড. আব্দুর রহমান উমাইরাহ এটি সম্পাদনা করেন এবং পরিশেষে শেখ বদর আল-বদরের বিশেষ তত্ত্বাবধান, সম্পাদনা ও নির্ঘণ্টসহ সর্বোত্তম সংস্করণটি প্রকাশিত হয়, যা কুয়েতের আদ-দারুস সালাফিয়া থেকে একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে।

ইবনে কাসির বলেছেন: "মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলি এবং বুখারির মধ্যে এ বিষয়ে কিছু কথা (মতপার্থক্য) তৈরি হয়েছিল এবং বুখারি এ বিষয়েই 'খালকু আফআলিল ইবাদ' গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন।" (১)

৮ - রাফউল ইয়াদাইন ফিস সালাত (নামাজে হাত উঠানো):

এটি ভারতে এবং পরবর্তীতে কায়রোতে অযত্নে সাধারণ মানের সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছিল। এরপর ১৪০৪ হিজরি সনে কুয়েতের দারুল আরকাম থেকে আহমদ শরীফের সম্পাদনায় 'কুররাতুল আইন ফি রাফইল ইয়াদাইন ফিস সালাত' শিরোনামে একটি সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

৯ - আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম (ইমামের পেছনে কিরাআত পাঠ):

এটি ১৪০৫ হিজরি সনে মদিনায় 'খাইরুল কালাম ফিল কিরাআতি খালফাল ইমাম' নামে মুদ্রিত হয়েছিল, পরবর্তীতে বৈরুত ও অন্যান্য স্থানেও মুদ্রিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-بداية والنهاية (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া) ১১/ ২৭।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলুল আকিদাহ ফি কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহুল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৯)
10 - الأسماء والكنى:

طبع في دائرة المعارف الهندية سنة 1360 هـ.

أما كتبه المخطوطة:

11 - التفسير الكبير:

وقد ذكره وراقة فقال: رأيته استلقى ونحن (بفربر) في تصنيف كتاب التفسير.

12 - الجامع الكبير ذكره ابن طاهر.

13 - بر الوالدين وقع لابن حجر بإسناد متصل.

14 - العلل ذكره ابن مندة

15 - الفوائد ذكره الترمذي في أثناء كتاب المناقب من جامعه (صـ 492).

16 - قضايا الصحابة والتابعين وهو من أوائل مؤلفاته وهو ابن ثمان عشرة سنة.

17 - المبسوط.

18 - الهبة: قال وراقه: عمل كتاباً في الهبة فيه نحو خمسمائة حديث.

19 - الوحدان: وهم الصحابة الذين ليس لهم إلاّ حديث واحد.

20 - الأشربة: ذكره الإمام الدارقطني في كتاب المؤتلف والمختلف (4/ 973).

21 - أخبار الصفات: ذكره فؤاد سزكين في تاريخ التراث العربي (1/ 1/259).

22 - الاعتقاد:

رواها الإمام اللالكائي من طريق عبد الرحمن البخاري، قال سمعت محمد بن إسماعيل ثم روى له معتقده، انظر شرح أصول اعتقاد أهل السنة للالكائي 1/ 193 - 197.

23 - أخبار الصفات: وهي في المكتبة الظاهرية برقم حديث 200 ذُكر في فهرس مجلة معهد المخطوطات (1/ 137).

 

قال البخاري رحمه الله: أقمت بالبصرة خمس سنين معي كتبي أصنف وأحج وأرجع من مكة إلى البصرة.
১০ - আল-আসমা ওয়াল কুনা:

এটি ১৩৬০ হিজরি সালে ভারতের দায়িরাতুল মা'আরিফ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

আর তাঁর পাণ্ডুলিপি গ্রন্থসমূহ:

১১ - আত-তাফসীর আল-কাবীর:

তাঁর অনুলিপিকারক এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আমি তাঁকে চিত হয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছি যখন আমরা ফারাবারে তাফসীর গ্রন্থটি সংকলন করছিলাম।

১২ - আল-জামি' আল-কাবীর, এটি ইবনে তাহির উল্লেখ করেছেন।

১৩ - বিররুল ওয়ালিদাইন, এটি ইবনে হাজার নিরবচ্ছিন্ন সনদসহ লাভ করেছেন।

১৪ - আল-ইলাল, এটি ইবনে মান্দাহ উল্লেখ করেছেন।

১৫ - আল-ফাওয়াইদ, ইমাম তিরমিযী তাঁর জামে গ্রন্থের কিতাবুল মানাকিব-এর মধ্যে এটি উল্লেখ করেছেন (পৃষ্ঠা ৪৯২)।

১৬ - কাদায়াস সাহাবাহ ওয়াত তাবিঈন, এটি তাঁর আঠারো বছর বয়সের প্রাথমিক সংকলনগুলোর অন্যতম।

১৭ - আল-মাবসুত।

১৮ - আল-হিবা (দান): তাঁর অনুলিপিকারক বলেছেন: তিনি দান বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করেছেন যাতে প্রায় পাঁচশত হাদীস রয়েছে।

১৯ - আল-উহদান: তাঁরা হলেন সেই সকল সাহাবী যাঁদের মাত্র একটি হাদীস বর্ণিত আছে।

২০ - আল-আশরিবা (পানীয়সমূহ): ইমাম দারাকুতনী এটি কিতাবুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (৪/৯৭৩)।

২১ - আখবারুস সিফাত (গুণাবলি সংক্রান্ত বর্ণনা): ফুয়াদ সেজগিন এটি তারীখুত তুরাসিল আরাবী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (১/১/২৫৯)।

২২ - আল-ই'তিকাদ (আক্বীদা):

ইমাম লালকায়ী এটি আবদুর রহমান আল-বুখারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি, অতঃপর তিনি তাঁর আক্বীদা বর্ণনা করেন; দেখুন: লালকায়ীর শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ১/১৯৩-১৯৭।

২৩ - আখবারুস সিফাত: এটি জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে হাদীস নম্বর ২০০ হিসেবে সংরক্ষিত এবং মা'হাদুল মাখতুতাত সাময়িকীর সূচিতে এটি উল্লেখ করা হয়েছে (১/১৩৭)।

 

বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমি বসরায় পাঁচ বছর অবস্থান করেছি, আমার সাথে আমার কিতাবসমূহ ছিল যা আমি সংকলন করতাম এবং আমি হজ সম্পাদন করতাম ও মক্কা থেকে বসরায় ফিরে আসতাম।