(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: -)
عمدة الحازم في الزوائد على مختصر أبي القاسم   (ابن قدامة)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: كتاب الهادي أو «عمدة الحازم في الزوائد على مختصر أبي القاسم»

المؤلف: أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة الجماعيلي المقدسي ثم الدمشقي الحنبلي، الشهير بابن قدامة المقدسي (ت 620 هـ)

اعتنى به تحقيقا وضبطا وإخراجا: نور الدين طالب

الناشر: وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية، قطر

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 768

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 ربيع الآخر 1437

মুখতাসার আবি আল-কাসিমের পরিশিষ্টে উমদাতুল হাযিম   (ইবনে কুদামা)

বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ


বই: কিতাবুল হাদী অথবা «মুখতাসার আবি আল-কাসিমের পরিশিষ্টে উমদাতুল হাযিম»

লেখক: আবু মুহাম্মদ মুওয়াফফাকুদ্দীন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-জামাইলি আল-মাকদিসি অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলী, যিনি ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬২০ হিজরী)

তাহকীক, তাসহীহ ও প্রকাশনার দায়িত্বে: নূরুদ্দীন তালিব

প্রকাশক: আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, কাতার

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরী - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬৮

শামিলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: -)
كتاب الهادي

أو

«عمدة الحازم في الزوائد على مختصر أبي القاسم»

 

تأليف

الإمام موفق الدين عبد الله بن أحمد بن قدامة المقدسي

المولود بجماعيل سنة (541 هـ) والمتوفى بدمشق سنة (620 هـ) - رحمه الله تعالى -

 

اعتنى به تحقيقا وضبطا وإخراجا

نور الدين طالب

 

طبع على نفقة

وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية

إدارة الشؤون الإسلامية - دولة قطر
কিতাবুল হাদি

অথবা

«উমদাতুল হাজিম ফিজ জাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম»

 

রচনায়

ইমাম মুওয়াফফাকুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামাহ আল-মাকদিসি

৫৪১ হিজরি সনে জাম্মাইলে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬২০ হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন -

 

সম্পাদনা, পাঠ-যাচাই ও প্রকাশনায় বিশেষ যত্ন নিয়েছেন

নূরুদ্দীন তালিব

 

যার অর্থায়নে মুদ্রিত

ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

ইসলামি বিষয়ক বিভাগ - কাতার রাষ্ট্র
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩)
كِتَابُ الهَادِي

أو

«عُمدَةُ الحَازِمِ في الزَّوَائِدِ عَلَى مُختَصَرِ أبي القَاسِمِ»
কিতাবুল হাদি

অথবা

«আবু আল-কাসিমের সংক্ষিপ্তসারের অতিরিক্ত মাসআলাসমূহের বর্ণনায় বিচক্ষণ ব্যক্তির অবলম্বন»
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ৪)
حُقُوق الطَّبْع محَفُوظَة

لوزارة الْأَوْقَاف والشؤون الإسلامية

 

إدارة الشؤون الإسلامية

دولة قطر

الطبعة الأولى / 1428 هـ - 2007 م
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য

 

ইসলামি বিষয়ক বিভাগ

কাতার রাষ্ট্র

প্রথম সংস্করণ / ১৪২৮ হি. - ২০০৭ খ্রি.
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

المقدمة

إنَّ الحمدَ للهِ نَحْمَدُهُ، ونَسْتَعينُهُ، ونَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعوذُ بِاللهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنا، وَسيئاتِ أَعْمَالِنا، مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هَاديَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللهُ وَحْدَهُ لا شَريكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.

أما بعد:

فَإِنَّ "كتابَ الهَادي"، أو "عُمدةَ الحازِمِ في تَلخيصِ المَسَائِلِ الخارجةِ عنْ مختصرِ أَبي القَاسِم"، من مُؤلفاتِ الإِمامِ شيِخِ الإِسلامِ أبي مُحمَّدٍ عبدِ اللهِ بنِ أحمدَ بنِ قدامةَ الحنبليِّ، المتوفَّى سنة (620)؛ كتابٌ عظيمُ الفائدةِ، كثيرُ النَّفْعِ، مشهورٌ بينَ الأَصحابِ، معتمدٌ فيما يُذْكَرُ فيه من المسائِل العلميةِ.

وهوَ من جُملةِ المصادرِ التي اعتمدَ عليها، ونَقَلَ عنها علامةُ المذهبِ الحنبليِّ ومحرِّرُهُ الإِمامُ الشيخُ عليُّ بنُ سليمانَ المَرْداويُّ، في كتابِهِ "الإنصافِ" المشهورِ.

وقد لخَّصَ الإمامُ الموفَّقُ أكثرَ "عُمدةِ الحازمِ" من كتابِ "الهدايةِ"
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

ভূমিকা

নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর:

নিশ্চয় "কিতাবুল হাদি" বা "উমদাতুল হাযিম ফি তালখিসিল মাসাইলিল খারিজিয়া আন মুখতাসারি আবিল কাসিম" গ্রন্থটি ইমাম শায়খুল ইসলাম আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে কুদামা আল-হাম্বলি (মৃত ৬২০ হি.)-এর অন্যতম রচনা। এটি অত্যন্ত মহৎ ও উপকারী একটি গ্রন্থ, যা (হাম্বলি) মাযহাবের অনুসারীদের নিকট সুপ্রসিদ্ধ এবং এতে আলোচিত ইলমি মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য কিতাব।

এটি এমন সব মূল উৎসের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর হাম্বলি মাযহাবের বিজ্ঞ আলিম ও পরিমার্জনকারী ইমাম শায়খ আলি ইবনে সুলাইমান আল-মারদাভি তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব "আল-ইনসাফ"-এ নির্ভর করেছেন এবং উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

ইমাম আল-মুওয়াফফাক (ইবনে কুদামা) "উমদাতুল হাযিম"-এর অধিকাংশ মাসআলাই "আল-হিদায়া" কিতাব থেকে সংক্ষিপ্তাকারে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ৬)
للعلامةِ أَبي الخَطَّابِ محفوظٍ بنِ أَحمدَ الكَلْوَذَانيِّ تلميذِ القاضي أبي يَعلى، وشيخِ الشيخِ عبدِ القادِرٍ الجَيْلانيِّ.

وقصدَ الإِمامُ الموفَّقُ بتلخيصِ "الهِدَايةِ" بهذا المختصرِ المفيدِ، أن ينقلَ فيهِ من مَسائلِ "الهدايةِ"، المسائلَ التي لم تُذكرْ في "مُختصرِ" أبي القاسم عمرَ بنِ الحسينِ الخِرَقِيِّ، المتوفي سنة (334)؛ فجاءَ مصنفاً صغيرَ الحجْمِ، كثيرَ العِلْمِ.

ولم يصْنع فيهِ الإمامُ الموفَّقُ كَمَا صَنَعهُ في "عُمدةِ الفقْهِ"، حيثُ جعلَها على قولٍ واحد، اختارَهُ هو من الرواياتِ عن الإِمامِ أَحمدَ، بل مَشَى فيه على طريقةِ أصلِهِ، في بعضِ المواضع؛ من ذكرِ الرواياتِ عنِ الإِمامِ أَحمدَ رحمه الله والوجوهِ عن أصحابِهِ.

وقد ذكرَ في أولِ كثيرٍ من فصولهِ بعضَ الأحاديثِ الجليلةِ التي بَنى عليها مسائلَ الفَصْلِ، وهذا عملٌ صالحٌ مُنَبِّهٌ للطالبِ الذَّكيِّ على تَتَبُّعِ الأَدِلةِ، وطلِبها من مظانِّها.

ومنْ تأمَّل مِنْ أهلِ العلمِ هذا المختصرَ، علمَ أنهُ مِنْ أجمعِ المتونِ للمسائلِ العلميةِ، وأنه يُغنى عن كثيرٍ من المُختصراتِ الفقهيةِ، ولا يغُني عنهُ غيرُهُ.

فرحمَ اللهُ الإمامَ الموفقَ، لقدْ جَدَّ واجتهدَ في نَصْرِ مذهبِ إِمامِ أهلِ السُّنَّةِ أَحمدَ بنَ حنبلٍ، حتى صارتْ كتبُهُ كلُّها عمدة عندَ الحنابلةِ، وقدَّموها على غيرِها من المؤلفاتِ.

وأما مختصرُ أبي القاسمِ الخِرقِيِّ، فقد قَرَأَهُ الإمامُ الموفَقُ على شيخِهِ الشيخِ عبدِ القادرِ الجيلانيِّ، وشَرَحَهُ في كتابهِ "المغني" الذي هو
আল্লামা আবুল খাত্তাব মাহফুজ ইবনে আহমাদ আল-কালওয়াযানী (যিনি কাযী আবু ইয়া’লার ছাত্র এবং শাইখ আব্দুল কাদির জিলানীর শাইখ ছিলেন)-এর।

ইমাম মুওয়াফফাক এই উপকারী সংক্ষিপ্তসার বা মুখতাসারের মাধ্যমে "আল-হিদায়াহ" গ্রন্থের সারসংক্ষেপ করার ক্ষেত্রে এটিই উদ্দেশ্য করেছেন যে, তিনি এতে "আল-হিদায়াহ"র এমন সব মাসআলা সংকলন করবেন যা আবুল কাসিম উমর ইবনুল হুসাইন আল-খিরাকি (মৃত্যু ৩৩৪ হি.)-এর "মুখতাসার"-এ বর্ণিত হয়নি। ফলে এটি আকারে ছোট হলেও ইলমের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এক গ্রন্থ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

ইমাম মুওয়াফফাক এই গ্রন্থে তেমনটি করেননি যা তিনি "উমদাতুল ফিকহ" গ্রন্থে করেছেন; যেখানে তিনি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর মধ্য থেকে নিজের পছন্দকৃত একটি মাত্র মতের ওপর গ্রন্থটি সাজিয়েছিলেন। বরং তিনি এতে কিছু স্থানে মূল গ্রন্থের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন; যেখানে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত বিভিন্ন রিওয়ায়াত এবং তাঁর সাথীদের (হাম্বলি ফকিহদের) বিভিন্ন অভিমত বা 'উজুহ' উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি এর অনেক পরিচ্ছেদের শুরুতে এমন কিছু মহান হাদিস উল্লেখ করেছেন যার ওপর ভিত্তি করে পরিচ্ছেদের মাসআলাগুলো সাজানো হয়েছে। এটি একটি উত্তম কাজ, যা মেধাবী ছাত্রকে দলিলের অনুসন্ধান করতে এবং তা তার উৎস থেকে খুঁজে বের করতে সচেতন করে তোলে।

ইলমের অধিকারীদের মধ্যে যারা এই মুখতাসারটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তারা জানতে পারবেন যে এটি ইলমি মাসআলাসমূহের জন্য অন্যতম একটি সমৃদ্ধ সংকলন। এটি ফিকহের অনেক সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের অভাব পূরণ করে, কিন্তু অন্য কোনো গ্রন্থ এর বিকল্প হতে পারে না।

আল্লাহ তাআলা ইমাম মুওয়াফফাককে রহম করুন; তিনি আহলে সুন্নতের ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাবের সাহায্যে আপ্রাণ চেষ্টা ও পরিশ্রম করেছেন, এমনকি তাঁর সকল কিতাব হাম্বলিদের নিকট নির্ভরযোগ্য প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে এবং তারা একে অন্য সকল রচনার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।

আর আবুল কাসিম আল-খিরাকির মুখতাসারের কথা বললে—ইমাম মুওয়াফফাক এটি তাঁর শাইখ আব্দুল কাদির জিলানীর কাছে পাঠ করেছেন এবং তাঁর "আল-মুগনি" গ্রন্থে এর ব্যাখ্যা করেছেন, যা হলো
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ৭)
أكبرُ مؤلَّفاتِ الموفَّقِ، وأكثرِها علماً، وقد عُني علماءُ الحنابلةِ بهذا المختصرِ؛ بحفظِهِ وشرحِهِ ونظْمِهِ، حتى ذكر بعضُ العلماءِ أن له ثلاثمئةَ شَرْحٍ.

ومنَ العلماءِ من شَرَحَهُ بالنظمِ.

ونظمَهُ جعفرُ بن أحمدَ السرَّاجَ، المتوفَّى سنةَ (500)، ونظمَهُ -أيضًا- العلامةُ يحيى بن يوسفَ الصَّرْصَريُّ المتوفى سنة (656)، ولما أتمَّ نظمَهُ، نظَمَ "زوائدَ الكافي على مُختصرِ الخِرَقِي" بمنظومةٍ سَمَّاها "واسطةُ العِقْدِ الثمينِ وعُمدةُ الحَافظِ الأمينِ" قال في أوَّلها:

سَأَلْتَ هَدَاكَ اللهُ لَمَّا نَظَمْتُ مَا … رَوَى الخِرَقِيُّ مِنْ مَسَائِلِ أَحْمَدِ

وَزِدْتُ عَليها أنْ أُحَبِّرَ نَاظِماً … مَسَائِلَ لَم يُذْكَرْنَ فيهِ لِنُشَّدِ

فَوَافَقْتَ مِني للإِجَابَةِ لِلَّذِيْ … سَأَلْتَ قَبُولاً مِنْ أَخٍ مُتَوَدِّدِ

وَعَوّلتُ في نَظْمِي عَلى مَا أَفَادَهُ الـ … ـمُوفَّقُ في "الكَافِي" الكِتَابِ المُسَدَّدِ

وقالَ في آخِرِهَا:

وَعِدْتُهَا ألفَانِ كُنْ خَيْرَ آلِفٍ … لَهَا تَحْمِدِ الآثَارَ مِنْهَا وَتُحْمَدِ

تَخَيَّرْتُهَا مِما حَوَى ابنُ قُدَامَةَ الـ … ـموفَّقُ في "الكَافِي" تَخَيُّرَ مُقْتَدِ

هُمَا لَقَبَا صِدْقٍ لَهُ وَلِجَمْعِهِ … بِتَوفيقِهِ تُكْفَى الضَّلالَ وَتَهْتَدِيْ" (1)

وبعدُ ثانيةً:

فهذا ما قَدَّم بِهِ الشيخُ العلامةُ محمدُ بنُ عبد العزيزِ بِنِ مانعٍ الحنبليُّ -رحمهُ اللهُ تعالى- الطبعةَ الأولى من هذا الكتابِ لما "صَدَرَ الأمرُ

--------------------------------------------

(1) انظر: "كتاب الهادي" (طبعة العلامة ابن مانع) (ص: 3 - 4).
আল-মুয়াফফাক-এর সর্ববৃহৎ রচনা এবং এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানগর্ভ। হাম্বলি আলেমগণ এই সংক্ষিপ্ত সারটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন; এটির মুখস্থকরণ, ব্যাখ্যা এবং কাব্যাকারে রূপান্তরের মাধ্যমে। এমনকি কোনো কোনো আলেম উল্লেখ করেছেন যে, এর তিনশটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।

আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ একে কাব্যাকারে ব্যাখ্যা করেছেন।

এটি কাব্যাকারে লিপিবদ্ধ করেছেন জাফর বিন আহমাদ আস-সাররাজ (মৃত্যু: ৫০০ হিজরি)। আরও কাব্যরূপ দিয়েছেন আল্লামা ইয়াহইয়া বিন ইউসুফ আস-সারসারী (মৃত্যু: ৬৫৬ হিজরি)। যখন তিনি এর কাব্যরূপ সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি 'মুখতাসারুল খিরাকী'-এর ওপর 'আল-কাফী'-এর অতিরিক্ত মাসআলাগুলোকে একটি কাব্যগ্রন্থে রূপান্তর করেন, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন 'ওয়াসিতাতুল ইকদের সামীন ওয়া উমদাতুল হাফিজিল আমীন'। এর শুরুতে তিনি বলেন:

আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করুন, আপনি আবেদন করেছিলেন যখন আমি কাব্যাকারে সাজিয়েছিলাম যা … খিরাকী বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদের মাসআলাসমূহ থেকে।

এবং আমি এর সাথে আরও যুক্ত করেছি সুনিপুণ কাব্য বিন্যাসে এমন সব মাসআলা … যা সেখানে অন্বেষণকারীদের জন্য উল্লেখ করা হয়নি।

ফলে আপনার আবেদনের প্রেক্ষিতে একজন স্নেহশীল ভাইয়ের পক্ষ থেকে কবুলিয়াতের মাধ্যমে … আপনি আমার কাছ থেকে উত্তর পেয়েছেন।

আর আমার এই কাব্য বিন্যাসে আমি নির্ভর করেছি আল-মুয়াফফাক … তাঁর সুদৃঢ় গ্রন্থ 'আল-কাফী'-তে যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর।

তিনি এর শেষে বলেন:

এর সংখ্যা দুই হাজার; আপনি এর সর্বোত্তম অনুরাগী হোন … তবেই আপনি এর বর্ণনাগুলোর প্রশংসা করবেন এবং আপনিও প্রশংসিত হবেন।

আল-মুয়াফফাক ইবনে কুদামাহ 'আল-কাফী' গ্রন্থে যা অন্তর্ভুক্ত করেছেন … সেখান থেকেই আমি এগুলো চয়ন করেছি একজন অনুসারীর মতো।

এই দুটি তাঁর জন্য এবং তাঁর সংকলনের জন্য দুটি সত্য উপাধি … আল্লাহর তাওফিকে আপনি পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা পাবেন এবং হেদায়েত লাভ করবেন। (১)

পুনরায়:

এটিই সেই ভূমিকা যা আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মানি' আল-হাম্বলি (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) এই কিতাবের প্রথম সংস্করণে প্রদান করেছিলেন যখন আদেশ জারি করা হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "কিতাবুল হাদী" (আল্লামা ইবনে মানি'র সংস্করণ) (পৃষ্ঠা: ৩ - ৪)।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ৮)
الكريمُ من الشيخِ المعظَّمِ عليِّ بن الشيخِ عبد الله بن قاسمِ الثاني -حاكم قَطَرَ- بطبعِ "عُمدةِ الحازمِ" على نفقتِهِ، وجَعَلهُ وقفًا على طلبةِ العلمِ" (1).

أحببتُ التصديرَ بِهِ هُنا اعترافاً بفضْلِ هذا العَلَم الهُمَامِ -العلامةِ ابن مانعٍ- الذي نذرَ نفسَهُ لخدمةِ العلمِ وأهلِهِ، والسعيِ في طبع كتبهِ، وبخاصَّةٍ ما يتعلَّقُ بمذهبِ الإمامِ أحمدَ بنِ حنبلٍ رضي الله عنه.

وإشادةً بجهود حاكمِ قطرَ الأسبقِ سمو الشيخِ عليِّ بنِ عبدِ اللهِ آل ثاني -رحمه الله تعالى- في نَشْرِ كتبِ المذهبِ الحنبليِّ وغيرِها، والتي لو لم يقُمْ بتمويلِ طَبعِها على نفقتهِ الخاصَّةِ لبقيَ الكثيرُ منها متعثّراً لم يجد له من يطبعُهُ، فجزاهُ اللهُ خيراً، ورحمهُ، وغفرَ لَهُ، على ما قَدَّم وأكرم (2).

ومع أنَّ هذا الكتابَ كانَ قد طُبع سنة (1380) إلا أني تطلبتُهُ مدةً من الزمن فلم أعثرْ عليه، وسألتُ عنه المهتمينَ من الكُتبيينَ فأكثرهُم أشارَ إلى أنه لم يُنمَ إليه خبرُه، ثم وقفتُ على نسخةٍ منه، فحرَّكتْ همتي لإعادةِ تحقيقِهِ ونشرِهِ، وذلك لأسبابٍ خمسةٍ:

--------------------------------------------

(1) اقتباساً من المصدر السابق (ص: 4).

(2) وقد صَدَر كتابٌ خاصٌّ "يضمُّ مجموعةً أولى من الكتب النادرة والمخطوطة التي نشرها هذا العالمُ المحسنُ تزيدُ على 90 كتاباً، وهو يوزعُها كلها مجاناً في سبيل الله" بعنوان "فهرس مطبوعات الشيخ علي بن عبد الله الثاني حاكم قطر السابق" بعناية وإشراف الشيخ عبد البديع صقر -رحمه الله تعالى- مدير المكتبات بقطر حينَها، وطبع سنة 1387 هـ - 1967 م.
কাতারের শাসক মহান শায়খ আলী বিন শায়খ আব্দুল্লাহ বিন কাসিম আস-সানী এর পক্ষ থেকে তাঁর নিজ খরচে "উমদাতুল হাযিম" মুদ্রণের মহানুভবতা এবং তিনি এটিকে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য ওয়াকফ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন (১)।

এই মহান ব্যক্তিত্ব—আল্লামা ইবনে মানি'—এর শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ আমি এখানে এই ভূমিকাটি পেশ করা পছন্দ করেছি, যিনি নিজেকে ইলম ও ইলমের ধারক-বাহকদের সেবায় এবং কিতাব মুদ্রণের প্রচেষ্টায় নিয়োজিত করেছেন, বিশেষ করে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মাযহাব সংক্রান্ত কিতাবগুলোর ক্ষেত্রে।

এবং কাতারের সাবেক শাসক মহামান্য শায়খ আলী বিন আব্দুল্লাহ আল থানি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— এর হাম্বলী মাযহাব ও অন্যান্য মাযহাবের কিতাবসমূহ প্রকাশের প্রচেষ্টার প্রশংসাস্বরূপ; যদি তিনি তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে এগুলোর মুদ্রণ সম্পন্ন না করতেন, তবে এগুলোর অনেকগুলোই আলোর মুখ দেখত না এবং মুদ্রণের কোনো সুযোগ পেত না। সুতরাং আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন, তাঁর ওপর রহম করুন এবং তিনি যা কিছু পেশ করেছেন ও উদারতা দেখিয়েছেন তার জন্য তাঁকে ক্ষমা করুন (২)।

যদিও এই কিতাবটি ১৩৮০ হিজরি সালে মুদ্রিত হয়েছিল, তবুও আমি দীর্ঘ সময় ধরে এটি খুঁজেছি কিন্তু পাইনি। আমি গ্রন্থ সংগ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানিয়েছেন যে এর কোনো খবর তাদের কাছে নেই। অতঃপর আমি এর একটি কপির সন্ধান পাই, যা আমাকে এর পুনঃতাহকিক ও প্রকাশের প্রতি উৎসাহিত করে, আর তা পাঁচটি কারণে:

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস থেকে সংগৃহীত (পৃষ্ঠা: ৪)।

(২) এবং একটি বিশেষ কিতাব প্রকাশিত হয়েছে যা "এই দানশীল আলেমের প্রকাশিত বিরল ও পাণ্ডুলিপি কিতাবসমূহের একটি প্রথম সেটকে অন্তর্ভুক্ত করে যা ৯০টিরও বেশি কিতাব, এবং তিনি এই সবগুলো আল্লাহর পথে বিনামূল্যে বিতরণ করেন" শিরোনামে প্রকাশিত। কিতাবটির নাম "কাতারের সাবেক শাসক শায়খ আলী বিন আব্দুল্লাহ আস-সানী এর প্রকাশিত কিতাবসমূহের নির্ঘণ্ট", যা তৎকালীন কাতারের লাইব্রেরি পরিচালক শায়খ আব্দুল বদি সাক্কার —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— এর তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় ১৩৮৭ হিজরি - ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ৯)
السببُ الأولُ: أهميتُهُ، وقد ذكرَ طرفاً منها العلامةُ ابنُ مانعٍ، في مقدمتِه السابقةِ.

السببُ الثاني: نُدرةُ وجودِ المطبوعةِ بين يدي طلبةِ العلمِ.

السببُ الثالثُ: احتواءُ المطبوعِ على جملةٍ وافرةٍ من الأخطاءِ الطباعيةِ، فضلاً عن الأخطاء الأساسية الواقعةِ في أصلِ نَسْخِ المخطوط، أو قراءَتِهِ أثناءَ تحقيقِهِ.

السببُ الرابعُ: كثرةُ السِّقطِ الحاصلِ في المطبوعِ حتى بلغَ أحياناً ربعَ صفحة كاملة، مما ستراه لاحقاً أثناءَ مروركَ على النصِّ.

السببُ الخامسُ: حصولي على نسخةٍ خطيةٍ مهمةٍ هي أصلٌ للنسخةِ الخطيةِ التي اعتمدَ عليها العلامةُ ابنُ مانعٍ في مطبوعتِهِ السابِقةِ.

* عند ذلك صحتِ العزيمةُ على تحقيقِهِ ونشرِهِ، وكانتْ خُطَّةُ العملِ فيه ما يلي:

1 - نَسخُ الكتابِ من المخطوطِ الأصلِ، ثم معارضةُ هذا المنسوخِ بالمطبوعِ (مطبوعةِ العلامةِ ابنِ مانع).

2 - الإشارةُ إلى أهمِّ الفروقِ الموجودة بين المخطوطِ الأصلِ والمطبوعِ، وقد بلغتْ عامةُ الفروق ما يزيد عن (500) فرق، مما يدلُّ على كثرةِ التصحيفِ والتحريِفِ الناشئِ معظمُهُ من خللٍ في الناسخِ الذي قام باستنساخِ المخطوطِ أَصلاً.

3 - اعتمادُ النصِّ المخطوطِ أصلًا إلا في مواضعَ يسيرةٍ جداً، كان الصوابُ فيها مع ما جاء في المطبوع، فأثبتُّهُ في صُلبِ النصِّ، وأشرتُ
প্রথম কারণ: এর গুরুত্ব; আল্লামা ইবনে মানি' তাঁর পূর্ববর্তী ভূমিকায় এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয় কারণ: ইলম অন্বেষণকারীদের হাতে এর মুদ্রিত কপির দুষ্প্রাপ্যতা।

তৃতীয় কারণ: মুদ্রিত কপিতে প্রচুর পরিমাণে মুদ্রণজনিত ত্রুটি বিদ্যমান থাকা; এর পাশাপাশি পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করার সময় মূল কপিতে ঘটা মৌলিক ভুলসমূহ অথবা এর তাহকিকের (সম্পাদনার) সময় পাঠোদ্ধারে ভুল তো রয়েছেই।

চতুর্থ কারণ: মুদ্রিত কপিতে বিপুল পরিমাণ অংশ বাদ পড়ে যাওয়া, যা কখনও কখনও পূর্ণ এক-চতুর্থাংশ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পৌঁছেছে; যা আপনি পরবর্তীতে মূল পাঠটি পড়ার সময় দেখতে পাবেন।

পঞ্চম কারণ: আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি, যা আল্লামা ইবনে মানি' তাঁর পূর্ববর্তী মুদ্রিত সংস্করণে যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলেন, সেটির মূল উৎস।

* এমতাবস্থায় এটি তাহকিক ও প্রকাশের সংকল্প দৃঢ় হয় এবং এর কর্মপরিকল্পনা ছিল নিম্নরূপ:

১ - মূল পাণ্ডুলিপি থেকে কিতাবটি অনুলিপি করা, অতঃপর সেই অনুলিপিটিকে মুদ্রিত কপির (আল্লামা ইবনে মানি'র মুদ্রিত সংস্করণ) সাথে মিলিয়ে দেখা।

২ - মূল পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপির মধ্যে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যসমূহ চিহ্নিত করা; সাধারণ পার্থক্যসমূহের সংখ্যা ৫০০-এর অধিক ছিল, যা বিপুল পরিমাণ শব্দবিকৃতি ও বিকৃতি ঘটার প্রমাণ দেয়, যার অধিকাংশের উদ্ভব হয়েছে সেই অনুলিপিকারীর ত্রুটির কারণে যিনি মূলত পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছিলেন।

৩ - পাণ্ডুলিপির পাঠকেই মূল হিসেবে গ্রহণ করা, তবে অতি সামান্য কিছু স্থান ব্যতীত যেখানে মুদ্রিত কপির পাঠটিই সঠিক ছিল; এমতাবস্থায় আমি সেটিকেই মূল পাঠে অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং ইঙ্গিত প্রদান করেছি...
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ১০)
إلى الخلاف مع المخطوط في الحاشيةِ، وذلك رغبةً في وقوفِ طالبِ العلم على نصٍّ كاملٍ صحيحٍ أثناءَ قراءَتِهِ للكتابِ أو دراستِهِ له، ومنشئُ الخطأ في المخطوط مردُّه -كما هو معروفٌ لدى الخُبَراءِ- إلى فسادِ نقلِ الناسخِ من الأصلِ الذي نقلَ عنهُ.

4 - ضبطُ النصِّ بالشكلِ الكاملِ، حتى تَسْهُلَ على طالبِ العلم قراءتُهُ دونَ توقُّفٍ.

5 - تخريجُ الأحاديثِ والآثارِ الواردة في النصِّ، وذلكَ بذكرِ راوي الحديثِ، وذكرِ الكتابِ والبابِ ورقم الحَديثِ، فإن كان الحديثُ في الصحيحين اقتصرتُ على العزو لهما، وإلا ففي السننِ الأربعةِ، ثم باقي الكُتبِ الحديثيةِ.

6 - كتابةُ مقدمةٍ للكتابِ.

7 - إدراج ترجمةٍ للمؤلفِ، بقلم الإِمام ابن رجب الحنبلي.

8 - صناعةُ فهرسٍ خاصٍّ بالموضوعاتِ.

* أما النسخة الخطيةُ فهي من محفوظاتِ المكتبةِ المحموديةِ بالمدينةِ النبويَّةِ، وتقعُ في (155) ورقة، برقم (66 فقه حنبلي)، نُسخت سنة (838)، وهي نسخةٌ متوسطةُ الجودةِ والصِّحةِ، لكن يغفِر لها أنها الوحيدةُ بتاريخِها وقدمِها.

وقد جاء في صدر النسخة: "كتابُ الهادي على مذهبِ الإمامِ المبجَّلِ أبي عبدِ اللهِ أحمدِ بنِ محمدِ بنِ حنبلٍ الشيبانيِّ قدسَ اللهُ وجهَهُ ونوَّرَ ضريحَهُ، وأثابَهُ الجنةَ بمنِّهِ، آمين. وهو زوائدُ الهدايةِ على
পাণ্ডুলিপির সাথে বিদ্যমান ভিন্নতাগুলো টীকা বা পাদটীকায় উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ইলম অন্বেষণকারী শিক্ষার্থী কিতাবটি পাঠ বা অধ্যয়নের সময় একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিশুদ্ধ পাঠ লাভ করতে পারেন। পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান ভুলের উৎস মূলত—বিশেষজ্ঞদের নিকট যেমনটি পরিচিত—মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিখনের সময় লিপিকারের অনুলিখনের ত্রুটি।

৪ - মূল পাঠকে পূর্ণাঙ্গ হরকত বা স্বরচিহ্ন দ্বারা সুবিন্যস্ত করা, যাতে ইলম অন্বেষণকারী শিক্ষার্থীর জন্য কোনো প্রকার বিরতি ছাড়াই পাঠ করা সহজ হয়।

৫ - মূল পাঠে উল্লিখিত হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করা; আর তা হাদিসের বর্ণনাকারী, কিতাব, অধ্যায় ও হাদিস নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে করা হয়েছে। হাদিসটি যদি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ থাকে, তবে কেবল সেই দুটির উদ্ধৃতির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে, অন্যথায় চার সুনান গ্রন্থ এবং এরপর অন্যান্য হাদিস গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।

৬ - কিতাবটির জন্য একটি ভূমিকা লিখন।

৭ - ইমাম ইবনে রজব আল-হাম্বলীর কলমে লেখকের একটি জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা।

৮ - বিষয়ভিত্তিক একটি বিশেষ সূচিপত্র তৈরি করা।

* আর হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির বিষয়টি হলো, এটি মদিনা মুনাওয়ারার মাকতাবাতুল মাহমুদিয়ার সংরক্ষিত সংগ্রহশালাভুক্ত, যা ১৫৫ পৃষ্ঠা সম্বলিত এবং যার নম্বর (৬৬ ফিকহে হাম্বলী)। এটি ৮৩৮ হিজরি সালে অনুলিখিত হয়েছে। এটি মান ও বিশুদ্ধতার দিক থেকে মাঝারি মানের একটি পাণ্ডুলিপি, তবে এর প্রাচীনত্ব এবং ইতিহাসের বিচারে এটিই একমাত্র কপি হওয়ায় এর সীমাবদ্ধতাগুলো গ্রহণযোগ্য।

পাণ্ডুলিপির শুরুতে বর্ণিত হয়েছে: "কিতাবুল হাদি, যা সুমহান ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানী—আল্লাহ তাঁর সত্তাকে পবিত্র করুন, তাঁর কবরকে আলোকিত করুন এবং নিজ অনুগ্রহে তাঁকে জান্নাত দান করুন, আমিন—এর মাযহাব অনুযায়ী রচিত। এটি হলো আল-হিদায়াহ কিতাবের অতিরিক্ত বিষয়াবলি যা..."
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ১১)
الخِرَقِي، جمعُ شيخِ الإِسلامِ موفقِ الدينِ أبي محمدٍ عبدِ اللهِ بنِ أحمدَ ابنِ قُدامَةَ المقدسيِّ رضي الله عنه".

وجاء في ختامها: " … في أصح الروايتينِ، آخرُهُ والحمدُ لله ربِّ العالمينَ، وكانَ الفراغُ من تتمةِ هذا الكتابِ المباركِ بتاريخِ ثامنِ من [كذا] شهر جُمادى الأولى، سنةَ ثمانٍ وثلاثين وثمانمئة".

* * *

هذا وأسألُ الله تعالى أن يتقبل هذا العَمل، ويجعلَه خالصاً لوجهِهِ الكريمِ، وصلى الله على نبينا محمدٍ، وعلى آلهِ وصحبهِ أجمعين.

وَكتبه

نور الدين طالب

سوريا - دمشق - دومة

16 ربيع الأول 1427 هـ
খিরাকী, শাইখুল ইসলাম মুওয়াফফাকুদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কর্তৃক সংগৃহীত।

এর সমাপ্তিতে বর্ণিত হয়েছে: “ … দুই বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধটি অনুযায়ী, এর সমাপ্তি এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এই বরকতময় কিতাবটির পরিশিষ্ট সমাপ্ত করার কাজ ৮৩৮ হিজরী সনের জুমাদাল উলা মাসের আট তারিখে [এইরূপই আছে] সম্পন্ন হয়েছে।”

* * *

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর কাছে এই আমলটি কবুল করার এবং একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করার প্রার্থনা করছি। আর আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন

নুরুদ্দিন তালিব

সিরিয়া - দামেস্ক - দুমা

১৬ রবিউল আউয়াল ১৪২৭ হিজরী
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌ترجَمَة

الإمام ابن قدامة المقدسي

بقلم

الإمام ابن رجب الحنبلي (1)

هو: عبدُ الله بنُ أحمدَ بنِ محمدَ بن قُدَامةَ بن مِقْدامِ بنِ نصرِ بنِ عبدِ اللهِ، المقدسيُّ، ثم الدِّمشقيُّ، الصَّالحيُّ، الفقيهُ، الزاهدُ، الإمامُ، شيخُ الإِسلامِ، وأحدُ الأعلامِ، موفَّقُ الدِّينِ، أبو محمدٍ.

وُلد في شعبان سنةَ إحدى وأربعين وخمس مئة، بـ: "جَمَّاعيل".

وقدم دمشق مع أهله وله عشرُ سنين، فقرأ القرآن، وحفظ "مختصر الخرقي"، واشتغل، وسمع من والده، وأبي المكارم بن هلال، وأبي المعالي بن صابر، وغيرهم.

ورحل إلى بغداد هو وابنُ خالَته الحافظُ عبد الغني سنة إحدى وستين، وسمعا الكثير من هبة الله الدَّقاق، وابن البَطِّيّ، وسعد الله

--------------------------------------------

(1) نقلًا مختصرًا من "الذيل على طبقات الحنابلة" للإمام ابن رجب الحنبلي (1/ 133 - 149)، وانظر مزيداً من ترجمته في: "سير أعلام النبلاء" (22/ 165)، و"العبر" (3/ 180)، و"فوات الوفيات" (2/ 158)، و"الوافي بالوفيات" (17/ 23)، و"البداية والنهاية" (13/ 99)، و"المقصد الأرشد" (2/ 15)، و"المنهج الأحمد" (4/ 148)، و"شذرات الذهب" (5/ 88)، وغيرها.
জীবনী

ইমাম ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি

লিখনীতে

ইমাম ইবনে রজব আল-হাম্বালি (১)

তিনি হলেন: আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামা বিন মিকদাম বিন নাসর বিন আব্দুল্লাহ, আল-মাকদিসি, অতঃপর আদ-দিমাশকি, আস-সালিহি, ফকিহ, যাহিদ, ইমাম, শাইখুল ইসলাম এবং অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ।

তিনি পাঁচশত একচল্লিশ হিজরির শাবান মাসে "জাম্মাঈল"-এ জন্মগ্রহণ করেন।

দশ বছর বয়সে তিনি তাঁর পরিবারের সাথে দামেশকে আসেন, সেখানে তিনি কুরআন পাঠ করেন, "মুখতাসারুল খিরাকি" মুখস্থ করেন এবং জ্ঞানার্জনে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি তাঁর পিতা, আবুল মাকারিম বিন হিলাল, আবুল মাআলি বিন সাবির এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন।

তিনি এবং তাঁর খালাতো ভাই হাফিজ আব্দুল গনি পাঁচশত একষট্টি হিজরি সালে বাগদাদ সফর করেন এবং সেখানে হিবাতুল্লাহ আদ-দাক্কাক, ইবনুল বাত্তি এবং সা’দুল্লাহর নিকট থেকে প্রচুর ইলম অর্জন করেন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম ইবনে রজব আল-হাম্বালির "আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলা" (১/ ১৩৩ - ১৪৯) থেকে সংক্ষেপে সংগৃহীত। তাঁর জীবনীর আরও বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: "সিয়ারু আ’লামিন নুবালা" (২২/ ১৬৫), "আল-ইবার" (৩/ ১৮০), "ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত" (২/ ১৫৮), "আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত" (১৭/ ২৩), "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" (১৩/ ৯৯), "আল-মাকসাদুল আরশাদ" (২/ ১৫), "আল-মানহাজুল আহমাদ" (৪/ ১৪৮), "শাযারাতুয যাহাব" (৫/ ৮৮) এবং অন্যান্য গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
الدجاجي، والشيخ عبد القادر، وابن تاج الفراء، وابن شافع، وأبي زرعة، ويحيى بن ثابت، والمبارك بن خضير، وأبي بكر بن النقور، وشُهد، وخلق كثير، وسمع بمكة من المبارك بن الطَّبَّاخ، وبالموصل من خطيبها أبي الفضل.

وأقام عند الشيخ عبد القادر بمدرسته مدة يسيرة، فقرأ عليه من "الخرقي"، ثم توفي الشيخ، فلازم أبا الفتح بن المنِّي، وقرأ عليه المذهب، والخلاف، والأصل، حتى برع، وأقام ببغداد نحواً من أربع سنين، ثم رجع إلى دمشق، ثم عاد إلى بغداد سنة سبع وستين.

وذكر الناصح ابن الحنبلي: أنه حج سنة أربع وسبعين، ورجع مع وفد العراق إلى بغداد، وأقام بها سنة، فسمع درسَ ابن المنِّي، قال: وكنت أنا قد دخلت بغداد سنة اثنتين وسبعين، واشتغلنا جميعًا على الشيخ أبي الفتح بن المنِّي، ثم رجع إلى دمشق، واشتغل بتصنيف كتاب "المغني في شرح الخرقي"، فبلغ الأمل في إتمامه، وهو كتاب بليغ في المذهب، عشر مجلدات، تعب عليه، وأجاد فيه، وجَمَّلَ به

المذهب، وقرأه عليه جماعة، وانتفع بعلمه طائفة كثيرة.

قال: ومشى على سمت أبيه وأخيه في الخير والعبادة، وغلب عليه الاشتغال بالفقه والعلم.

وقال سبط ابن الجوزي: كان إماماً في فنون، ولم يكن في زمانه بعد أخيه أبي عمر والعماد أزهدُ ولا أورعُ منه، وكان كثير الحياء، عزوفاً عن الدنيا وأهلها، هَيِّناً، ليناً، متواضعاً، محباً للمساكين، حسنَ الأخلاق، جواداً، سخيًا، من رَآه كأنه رأى بعض الصحابة، وكأنما
আদ-দাজাজি, শায়খ আব্দুল কাদির, ইবনে তাজ আল-ফাররা, ইবনে শাফি‘, আবু জুরআহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাবিত, আল-মুবারক ইবনে খুদাইর, আবু বকর ইবনে আন-নুক্কুর, শুহদাহ এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তির নিকট থেকে তিনি জ্ঞান লাভ করেছেন। তিনি মক্কায় আল-মুবারক ইবনে আত-তাব্বাখের নিকট এবং মোসেলে সেখানকার খতিব আবু আল-ফাদলের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন।

তিনি শায়খ আব্দুল কাদিরের মাদরাসায় তাঁর সান্নিধ্যে অল্পকাল অবস্থান করেন এবং তাঁর নিকট 'আল-খিরাকি' পাঠ করেন। এরপর শায়খ ইন্তেকাল করলে তিনি আবুল ফাতহ ইবনুল মান্নির সান্নিধ্য গ্রহণ করেন এবং তাঁর নিকট মাযহাব, মতপার্থক্য (খিলাফ) এবং মূলনীতি (উসুল) অধ্যয়ন করে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি বাগদাদে প্রায় চার বছর অবস্থান করেন, তারপর দামেস্কে ফিরে যান এবং পুনরায় সাতষট্টি হিজরি সনে বাগদাদে ফিরে আসেন।

আন-নাসিহ ইবনুল হাম্বলি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি চুয়াত্তর হিজরি সনে হজ সম্পাদন করেন এবং ইরাকি কাফেলার সাথে বাগদাদে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি এক বছর অবস্থান করে ইবনুল মান্নির পাঠে অংশ নেন। তিনি বলেন: আমি বাহাত্তর হিজরি সনে বাগদাদে প্রবেশ করেছিলাম এবং আমরা সকলে শায়খ আবুল ফাতহ ইবনুল মান্নির নিকট জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত ছিলাম। এরপর তিনি দামেস্কে ফিরে যান এবং 'আল-মুগনি ফি শারহিল খিরাকি' গ্রন্থটি রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। এটি সমাপ্ত করার মাধ্যমে তিনি তাঁর আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন। এটি মাযহাবের একটি অত্যন্ত প্রাঞ্জল গ্রন্থ, যা দশ খণ্ডে সমাপ্ত। তিনি এতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, অত্যন্ত নিপুণতার সাথে এটি সম্পন্ন করেছেন এবং এর মাধ্যমে মাযহাবকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন।

একদল লোক তাঁর নিকট এটি পাঠ করেছে এবং এক বিশাল গোষ্ঠী তাঁর ইলম দ্বারা উপকৃত হয়েছে।

তিনি বলেন: তিনি কল্যাণ ও ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর পিতা ও ভাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন এবং ফিকহ ও ইলম চর্চাই তাঁর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিল।

সিবত ইবনুল জাওযি বলেন: তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় একজন ইমাম ছিলেন। তাঁর যুগে তাঁর ভাই আবু উমর ও আল-ইমাদের পর তাঁর চেয়ে অধিক দুনিয়াবিমুখ (যাহিদ) ও পরহেজগার আর কেউ ছিল না। তিনি অত্যন্ত লাজুক প্রকৃতির ছিলেন এবং দুনিয়া ও দুনিয়াদারদের প্রতি নিস্পৃহ ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র, কোমল, বিনয়ী এবং অভাবগ্রস্তদের প্রতি দয়াময়। তিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী ও অত্যন্ত দানশীল ছিলেন। যে ব্যক্তি তাঁকে দেখত, তার মনে হতো যেন সে কোনো সাহাবীকে দেখছে, আর যেন...
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
النور يخرج من وجهه، كثير العبادة، يقرأ كل يوم وليلة سُبعاً من القرآن، ولا يصلي ركعتي السنة في الغالب إلا في بيته؛ اتِّباعاً للسنة، وكان يحضر مجالسي دائماً في جامع دمشق وقاسيون.

وقال أيضًا: شاهدتُ من الشيخ أبي عمر، وأخيه الموفق، ونسيبه العماد: ما نرويه عن الصحابة والأولياء الأفراد، فأنساني حالُهم أهلي وأوطاني، ثم عدت إليهم على نية الإقامة، عسى أن أكون معهم في دار المقامة.

وقال ابن النجار: كان الشيخ موفق الدين إمام الحنابلة بالجامع، وكان ثقةً، حُجَّةً، نبيلاً، غزيرَ الفضلِ، كامل العقل، شديد التثبت، دائم السكوت، حسن السَّمت، نزهاً، ورعاً، عَابداً، على قانون السلف، على وجهه النور، وعليه الوقار والهيبة، ينتفع الرجل برؤيته قبل أن يسمع كلامه، صنف التصانيف المليحة في المذهب والخلاف، وقصده التلامذة والأصحاب، وسار اسمه في البلاد، واشتهر ذكره، وكان حسن المعرفة بالحديث، وله يد في علم العربية.

وقال عُمرُ بنُ الحاجب الحافظ في "معجمه": هو إمام الأئمة، ومفتي الأمة، خصه الله بالفضل الوافر، والخاطر الماطر، والعلم الكامل، طنت في ذكره الأمصار، وضنت بمثله الأمصار، قد أخذ بمجامع الحقائق النقلية والعقلية؛ فأما الحديث: فهو سابق فرسانه؛ وأما الفقه: فهو فارس ميدانه، أعرف الناس بالفتيا، وله المؤلفات الغزيرة، وما أظن الزمان يسمح بمثله، متواضع عند الخاصة والعامة، حسن الاعتقاد، ذو أناة وحلم ووقار، وكان مجلسه عامراً بالفقهاء
তাঁর চেহারা থেকে নূর বিচ্ছুরিত হতো, তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার ছিলেন; তিনি প্রতিদিন দিনে ও রাতে কুরআনের এক-সপ্তমাংশ তিলাওয়াত করতেন এবং সুন্নাহর অনুসরণে সাধারণত বাড়িতেই সুন্নাত সালাত আদায় করতেন। তিনি সর্বদা দামেস্কের জামে মসজিদ এবং কাসিয়ুনে আমার মজলিসে উপস্থিত থাকতেন।

তিনি আরও বলেছেন: আমি শায়খ আবু উমর, তাঁর ভাই মুয়াফফাক এবং তাঁর আত্মীয় আল-ইমাদের মধ্যে এমন সব গুণাবলি দেখেছি যা আমরা সাহাবীগণ এবং একক ওলিদের সম্পর্কে বর্ণনা করে থাকি। তাঁদের অবস্থা আমাকে আমার পরিবার ও জন্মভূমির কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল; অতঃপর আমি স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়তে তাঁদের কাছে ফিরে আসি, এই আশায় যে—হয়তো আমি জান্নাতে তাঁদের সঙ্গী হতে পারব।

ইবনুন নাজ্জার বলেছেন: শায়খ মুয়াফফাকুদ্দীন ছিলেন জামে মসজিদের হাম্বলিদের ইমাম। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, অকাট্য দলিল স্বরূপ, মহৎ, বিপুল ফযিলতের অধিকারী, পূর্ণ প্রজ্ঞাসম্পন্ন, অত্যন্ত ধৈর্যশীল, দীর্ঘক্ষণ নীরবতা পালনকারী, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, পঙ্কিলতামুক্ত, পরহেজগার এবং সালাফদের আদর্শ অনুযায়ী ইবাদতকারী। তাঁর চেহারায় নূর এবং গাম্ভীর্য ও প্রভাব প্রকাশ পেত। মানুষ তাঁর কথা শোনার আগেই কেবল তাঁকে দেখেই উপকৃত হতো। তিনি মাযহাব ও ইখতিলাফী মাসআলার ওপর চমৎকার সব গ্রন্থ রচনা করেছেন। ছাত্র ও অনুসারীরা তাঁর কাছে ছুটে আসতেন এবং দেশ-বিদেশে তাঁর নাম ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। হাদিস শাস্ত্রে তাঁর উত্তম জ্ঞান ছিল এবং আরবি ভাষাতত্ত্বে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।

হাফেজ উমর ইবনুল হাজিব তাঁর 'মু'জাম' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ইমামদের ইমাম এবং উম্মাহর মুফতি। আল্লাহ তাঁকে অঢেল ফযিলত, প্রখর মেধা এবং পূর্ণ জ্ঞান দান করেছেন। জনপদগুলো তাঁর আলোচনায় মুখরিত হয়েছে, অথচ জনপদগুলো তাঁর মতো গুণী মানুষ উপহার দিতে কার্পণ্য করেছে। তিনি নকলী ও আকলী উভয় প্রকার জ্ঞানের মূল তত্ত্বগুলো আয়ত্ত করেছিলেন। হাদিস শাস্ত্রে তিনি ছিলেন এর অশ্বারোহীদের মধ্যে অগ্রগণ্য; আর ফিকহ শাস্ত্রে তিনি ছিলেন এই ময়দানের এক বীর। ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ। তাঁর প্রচুর রচনাবলী রয়েছে এবং আমি মনে করি না যে, সময় তাঁর মতো অন্য কাউকে উপহার দিতে পারবে। তিনি সাধারণ ও বিশিষ্ট সবার কাছে অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন, তাঁর আকিদা ছিল বিশুদ্ধ এবং তিনি ছিলেন ধৈর্য, সহনশীলতা ও গাম্ভীর্যের অধিকারী। তাঁর মজলিস সর্বদা ফকিহদের উপস্থিতিতে মুখরিত থাকত।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
والمحدثين وأهل الخير، وصار في آخر عمره يقصده كل أحد، وكان كثير العبادة، دائم التهجد، لم يُرَ مثله، ولم يَرَ مثلِ نفسِهِ.

وقال أبو شَامة: كان شيخ الحنابلة موفق الدين إمامًا من أئمة المسلمين، وعلماً من أعلام الدين في العلم والعمل، صنف كتباً حساناً في الفقه وغيره، عارفًا بمعاني الأخبار والآثار، سمعت عليه أشياء، وكان بعد موت أخيه أبي عمر هو الذي يؤم بالجامع المظفري، ويخطب يوم الجمعة إذا حضر، فإن لم يحضر، فعبد الله بن أبي عمر هو الخطيب والإمام، وأما بمحراب الحنابلة بجامع دمشق، فيصلي فيه الموفق إذا كان حاضرًا في البلد، وإذا مضى إلى الجبل، صلى العماد أخو عبد الغني، وبعد موت العماد: كان يصلي فيه أبو سليمان بن الحافظ عبد الغني، ما لم يحضر الموفق، وكان بين العشاءين يتنفل حذاء المحراب، وجاءه مرة الملك العزيز بن العادل يزوره، فصادفه يصلي، فجلس بالقرب منه إلى أن فرغ من صلاته، ثم اجتمع به، ولم يتجوز في صلاته، وكان إذا فرغ من صلاة العشاء الآخرة يمضي إلى بيته بالرصيف، ومعه من فقراء الحلقة من قدره الله تعالى، فيقدم لهم ما تيسر يأكلونه معه.

ومن أظرف ما حكي عنه: أنه كان يجعل في عمامته ورقة مصرورة فيها رمل يرمل به ما يكتبه للناس من الفتاوى والإجازات وغيرها، فاتفق ليلة خطفت عمامته، فقال لخاطفها: يا أخي! خذ من العمامة الورقة المصرورة بما فيها، ورُدَّ العمامة أغطي بها رأسي، وأنت في أوسع الحل مما في الورقة، فظن الخاطف أنها فضة، ورآها ثقيلة،
এবং মুহাদ্দিসগণ ও পুণ্যবান ব্যক্তিবর্গ। তাঁর জীবনের শেষভাগে তিনি সকলের গন্তব্যস্থলে পরিণত হন। তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার ও সর্বদা তাহাজ্জুদে মগ্ন থাকতেন। তাঁর মতো কাউকে দেখা যায়নি, এবং তিনিও নিজের মতো কাউকে দেখেননি।

আবু শামাহ বলেন: হাম্বলিদের শাইখ মুয়াফ্ফাকুদ্দীন ছিলেন মুসলিমদের ইমামদের মধ্যে অন্যতম একজন ইমাম এবং ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে দ্বীনের অন্যতম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ে বহু চমৎকার কিতাব রচনা করেছেন। তিনি হাদিস ও আসারসমূহের মর্মার্থ সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। আমি তাঁর নিকট অনেক কিছু শ্রবণ করেছি। তাঁর ভাই আবু উমরের ইন্তেকালের পর তিনি মুজাফ্ফরি জামে মসজিদে ইমামতি করতেন এবং উপস্থিত থাকলে জুমার খুতবা প্রদান করতেন। যদি তিনি উপস্থিত না থাকতেন, তবে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু উমর খতিব ও ইমামের দায়িত্ব পালন করতেন। আর দামেস্ক জামে মসজিদের হাম্বলি মেহরাবে মুয়াফ্ফাকুদ্দীন শহরে উপস্থিত থাকলে সালাত আদায় করতেন। আর যখন তিনি পাহাড়ে চলে যেতেন, তখন আব্দুল গনির ভাই ইমাদ সালাত আদায় করতেন। ইমাদের ইন্তেকালের পর হাফেজ আব্দুল গনির ছেলে আবু সুলায়মান সেখানে সালাত আদায় করতেন, যতক্ষণ না মুয়াফ্ফাকুদ্দীন উপস্থিত হতেন। তিনি মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে মেহরাবের নিকট নফল নামাজ পড়তেন। একবার বাদশাহ আজিজ বিন আদিল তাঁকে দেখতে এলেন এবং তাঁকে নামাজরত অবস্থায় পেলেন। তিনি তাঁর নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পাশেই বসে থাকলেন, এরপর তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি তাঁর নামাজ সংক্ষিপ্ত করেননি। তিনি যখন এশার নামাজ শেষ করতেন, তখন রাসিফ-এ অবস্থিত তাঁর বাড়িতে যেতেন এবং তাঁর সাথে তাঁর পাঠচক্রের সেই দরিদ্র ব্যক্তিরা থাকতেন যাদের আল্লাহ তাআলা তাওফীক দিয়েছিলেন। এরপর তিনি তাঁদের সামনে যা সহজলভ্য হতো তা পেশ করতেন এবং তাঁরা তাঁর সাথে আহার করতেন।

তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত সবচেয়ে চমৎকার গল্পগুলোর একটি হলো: তিনি তাঁর পাগড়ির মধ্যে একটি পুটলিতে কিছু বালু বেঁধে রাখতেন, যা দিয়ে তিনি মানুষের জন্য লেখা ফতোয়া, ইজাজত এবং অন্যান্য লেখার কালি শুকানোর জন্য ব্যবহার করতেন। এক রাতে ঘটনাচক্রে তাঁর পাগড়িটি ছিনতাই হয়ে যায়। তখন তিনি ছিনতাইকারীকে বললেন: হে ভাই! পাগড়ি থেকে পুটলিটি তার ভেতরে যা আছে তা সহ নিয়ে নাও, আর পাগড়িটি আমাকে ফিরিয়ে দাও যাতে আমি আমার মাথা ঢাকতে পারি। আর পুটলিতে যা আছে তা তোমার জন্য পুরোপুরি বৈধ। ছিনতাইকারী ভাবল যে সেটির ভেতরে হয়তো রূপা আছে এবং সেটিকে তার কাছে ভারী মনে হলো।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৭)
فأخذها وَرَدَّ العمامة، وكانت صغيرة عتيقة، فرأى أخذ الورقة خيراً منها بدرجات، فَخَلَّصَ الشيخُ عمامته بهذا الوجه اللطيف.

وبلغني من غير وجه عن الإِمام أبي العباس ابن تيمية -رحمه الله تعالى- أنه قال: ما دخلَ الشامَ بعدَ الأوزاعيِّ أفقَهُ من الشيخِ الموفَّقِ.

قال الضياء: كان رحمه الله إمامًا في القرآن وتفسيره، إمامًا في علم الحديث ومشكلاته، إمامًا في الفقه، بل أوحد زمانه فيه، إمامًا في علم الخلاف، أوحد زمانه في الفرائض، إمامًا في أصول الفقه، إمامًا في النحو، إمامًا في الحساب، إمامًا في النجوم السيارة والمنازل.

قال: ولما قدم بغداد، قال له الشيخ أبو الفتح بن المنِّي: اسكن هنا؛ فإن بغداد مفتقرة إليك، وأنت تخرج من بغداد ولا تخلف فيها مثلك، وكان شيخنا العماد يعظم الشيخ الموفق تعظيماً كثيرًا، ويدعو له، ويقعد بين يديه كما يقعد المتعلم من العالم.

وسمعت الإِمام المفتي شيخنا أبا بكر محمد بن معالي بن غنيمة ببغداد يقول: ما أعرف أحدًا في زماني أدرك درجة الاجتهاد إلا الموفق.

وسمعت أبا عمرو بن الصلاح المفتي يقول: ما رأيت مثل الشيخ الموفق.

وقال الشيخ عبد الله اليونيني: ما أعتقد أن شخصاً ممن رأيته حصل له من الكمال في العلوم والصفات الحميدة التي يحصل بها الكمال سواه؛ فإنه رحمه الله كان كاملًا في صورته ومعناه؛ من الحسن، والإحسان، والحلم، والسؤدد، والعلوم المختلفة،
ফলে তিনি সেটি নিলেন এবং পাগড়িটি ফেরত দিলেন, আর সেটি ছিল ছোট ও জরাজীর্ণ; তিনি ওই কাগজটি নেওয়াকে তার চেয়ে বহুগুণ উত্তম মনে করলেন। এভাবে শাইখ এক সূক্ষ্ম কৌশলে তাঁর পাগড়িটি ছাড়িয়ে নিলেন।

ইমাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—থেকে বিভিন্ন সূত্রে আমার নিকট পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: আওযায়ীর পর শামের ভূমিতে শাইখ মুওয়াফফাকের চেয়ে বড় কোনো ফকিহ প্রবেশ করেননি।

দিয়া আল-মাকদিসি বলেন: তিনি (রহিমাহুল্লাহ) কুরআন ও এর তাফসীরে ইমাম ছিলেন, ইলমে হাদিস ও এর জটিল বিষয়াবলীতে ইমাম ছিলেন, ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম ছিলেন বরং এতে তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী, মতভেদ সংক্রান্ত ইলমে ইমাম ছিলেন, ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় ছিলেন, উসূলে ফিকহে ইমাম ছিলেন, নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে ইমাম ছিলেন, গণিতশাস্ত্রে ইমাম ছিলেন এবং জ্যোতির্বিদ্যা ও গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানে ইমাম ছিলেন।

তিনি বলেন: যখন তিনি বাগদাদে এলেন, তখন শাইখ আবুল ফাতহ ইবনুল মান্নি তাঁকে বললেন: ‘এখানেই অবস্থান করুন; কারণ বাগদাদ আপনার মুখাপেক্ষী, আপনি যদি বাগদাদ ছেড়ে চলে যান তবে আপনার তুল্য কাউকে এখানে স্থলাভিষিক্ত হিসেবে রেখে যাবেন না।’ আমাদের শাইখ আল-ইমাদ শাইখ মুওয়াফফাককে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন, তাঁর জন্য দোয়া করতেন এবং তাঁর সামনে এমনভাবে বসতেন যেমন একজন ছাত্র তার শিক্ষকের সামনে বসে।

আমি বাগদাদে অবস্থানকালে ইমাম ও মুফতি আমাদের শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুয়ালি বিন গুনাইমাহকে বলতে শুনেছি: ‘আমি আমার যুগে মুওয়াফফাক ছাড়া অন্য কাউকে জানি না যিনি ইজতিহাদের স্তরে উন্নীত হয়েছেন।’

আমি মুফতি আবু আমর ইবনুস সালাহকে বলতে শুনেছি: ‘আমি শাইখ মুওয়াফফাকের মতো দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি।’

শাইখ আব্দুল্লাহ আল-ইউনিনি বলেন: ‘আমি যাঁদের দেখেছি, তাঁদের মধ্যে তিনি ছাড়া এমন কাউকে মনে করি না যিনি জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং এমন প্রশংসনীয় গুণাবলির মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছেন যার দ্বারা পূর্ণতা অর্জিত হয়। কেননা তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকেই পূর্ণাঙ্গ ছিলেন; লাবণ্য, সদাচার, ধৈর্য, শ্রেষ্ঠত্ব এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে পাণ্ডিত্যের দিক থেকে।’
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
والأخلاق الجميلة، والأمور التي ما رأيتها، كملت في غيره، وقد رأيت من كرم أخلاقه، وحسن عشرته، ووفور حلمه، وكثرة علمه، وغزير فطنته، وكمال مروءته، وكثرة حيائه، ودوام بشره، وعزوف نفسه عن الدنيا وأهلها، والمناصب وأربابها: ما قد عجز عنه كبار الأولياء؛ فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ما أنعم الله على عبد نعمة أفضل من أن يلهمه ذكره"؛ فقد ثبت بهذا أن إلهام الذكر أفضل من الكرامات، وأفضل الذكر ما يتعدى نفعه إلى العباد، وهو تعليم العلم والسنة، وأعظم من ذلك وأحسن: ما كان جِبلَّةً وطبعاً؛ كالحلم، والكرم، والعقل، والحياء، وكان الله قد جبلهَ على خُلُقٍ شريفٍ، وأفرغ عليه المكارم إفراغاً، وأسبغ عليه النعم، ولطف به في كل حال.

قال: وكان لا يناظر أحدًا إلا وهو يتبسم، حتى قال بعض الناس: هذا الشيح يقتل خصمه بتبسمه.

قال: وأقام مدة يعمل حلقة يوم الجمعة بجامع دمشق، يناظر فيها بعد الصلاة، ثم ترك ذلك في آخر عمره، وكان يشتغل عليه الناس من بكرة إلى ارتفاع النهار، ثم يقرأ عليه بعد الظهر، إما من الحديث، أو من تصانيفه إلى المغرب، وربما قرأ عليه بعد المغرب وهو يتعشى، وكان لا يُرِي لأحدٍ ضَجَراً، وربما تضرر في نفسه، ولا يقول لأحد شيئًا.

 

•‌‌ ذكر شيء من كراماته:

قال سبط ابن الجوزي: حكى أبو عبد الله بن فضل الأعتاكي قال: قلت في نفسي: لو كان لي قدرة، لبنيت للموفق مدرسة، وأعطيته كل يوم ألف درهم، قال: فجئت بعد أيام، فسلمت عليه، فنظر إليَّ
এবং সুন্দর চরিত্র ও এমন বিষয়াবলি যা আমি অন্য কারো মাঝে পূর্ণ হতে দেখিনি। আমি তাঁর উন্নত চরিত্র, চমৎকার সাহচর্য, অগাধ ধৈর্য, প্রচুর ইলম, প্রখর বুদ্ধিমত্তা, পূর্ণ ব্যক্তিত্ব, প্রবল লজ্জা, সর্বদা হাসিখুশি থাকা এবং দুনিয়া ও দুনিয়াদারদের প্রতি বিরাগ এবং পদমর্যাদা ও পদাধিকারীদের থেকে বিমুখতা এমন দেখেছি যা বড় বড় আউলিয়াদের পক্ষেও অসম্ভব ছিল। কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ কোনো বান্দাকে তাঁর যিকিরের অনুপ্রেরণা (ইলহাম) দান করার চেয়ে উত্তম কোনো নিয়ামত দান করেননি।" এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যিকিরের ইলহাম প্রাপ্ত হওয়া অলৌকিক ঘটনা (কারামত) অপেক্ষা উত্তম। আর সর্বোত্তম যিকির হলো সেটিই যার উপকারিতা বান্দাদের নিকট পৌঁছায়, আর তা হলো ইলম ও সুন্নাহর শিক্ষা প্রদান। এর চেয়েও মহান ও সুন্দর হলো যা স্বভাবজাত ও প্রকৃতিগত; যেমন ধৈর্য, উদারতা, বুদ্ধি ও লজ্জা। আল্লাহ তাঁকে এক সম্মানিত চরিত্রের ওপর সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাঁর ওপর মহৎ গুণাবলি ঢেলে দিয়েছিলেন, তাঁকে নিয়ামত দ্বারা সিক্ত করেছিলেন এবং প্রতিটি অবস্থায় তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন।

তিনি বলেন: তিনি যখনই কারো সাথে বিতর্ক করতেন, তখন মুচকি হাসতেন। এমনকি কিছু লোক বলত: এই শায়খ তাঁর মুচকি হাসির মাধ্যমেই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে ফেলেন।

তিনি বলেন: তিনি এক সময় দামেস্কের জামে মসজিদে জুমার দিন মজলিস কায়েম করতেন, যেখানে নামাজের পর বিতর্ক অনুষ্ঠিত হতো। জীবনের শেষ দিকে তিনি তা ছেড়ে দেন। মানুষ ভোর থেকে বেলা বাড়া পর্যন্ত তাঁর কাছে জ্ঞান অর্জনে ব্যস্ত থাকত। এরপর যোহরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত তাঁর নিকট পাঠ করা হতো, হয় হাদীস থেকে অথবা তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি থেকে। কখনও কখনও মাগরিবের পর রাতের খাবার খাওয়ার সময়ও তাঁর কাছে পাঠ করা হতো। তিনি কারো প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করতেন না। কখনও কখনও নিজে কষ্ট পেতেন, তবুও কাউকে কিছু বলতেন না।

 

•‌‌ তাঁর কিছু অলৌকিক ঘটনার (কারামত) বর্ণনা:

সিবত ইবনুল জাওযী বলেন: আবু আব্দুল্লাহ বিন ফজল আল-আতাকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মনে মনে বললাম, আমার যদি সামর্থ্য থাকত তবে আমি মুওয়াফফাকের জন্য একটি মাদরাসা নির্মাণ করে দিতাম এবং প্রতিদিন তাঁকে এক হাজার দিরহাম দিতাম। তিনি বলেন: এরপর আমি কয়েক দিন পর তাঁর নিকট এসে তাঁকে সালাম দিলাম, তখন তিনি আমার দিকে তাকালেন...
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وتبسم، وقال: إذا نوى الشخصُ نية، كُتبَ له أجرُها.

وحكى أبو الحسن بن حمدان الجرائحي قال: كنت أبغض الحنابلة؛ لما شُنِّعَ عليهم من سوء الاعتقاد، فمرضت مرضاً شنج أعضائي، وأقمت سبعة عشر يوما لا أتحرك، وتمنيتُ الموت، فلما كان وقت العشاء، جاءني الموفق، وقرأ علي آيات، وقال: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} [الإسراء: 82] ، ومسح على ظهري، فاحسست بالعافية، وقام، فقلت: يا جارية! افتحي له الباب، فقال: أنا أروح من حيث جئت، وغاب عن عيني، فقمتُ من ساعتي على بيت الوضوء، فلما أصبحتُ، دخلت الجامع، فصليت الفجر خلف الموفق، وصافحته، فعصر يدي وقال: احذر أن تقول شيئًا، فقلت: أقول وأقول.

وقال قوام جامع دمشق: كان ليلة يبيت في الجامع، فتفتح له الأبواب، فيخرج ويعود، فتغلق على حالها.

وحدث العفيف كتائب بن أحمد بن مهدي البانياسي بعد موت الشيخ الموفق بأيام قال: رأيت الشيخ الموفق على حافة النهر يتوضأ، فلما توضأ أخذ قبقابه، ومشى على الماء إلى الجانب الآخر، ثم لبس القبقاب وصعد إلى المدرسة -يعني: مدرسة أخيه أبي عمر-، ثم حلف كتائب بالله لقد رأيته، وما لي في الكذب حاجة، وكتمت ذلك في حياته، فقيل له: هل رآك؟ قال: لا، ولم يكن ثَمَّ أحد، وذلك وقت الظهر. فقيل له: هل كانت رجلاه تغوص في الماء؟ قال: لا، إلا كأنه يمشي على وطاءٍ رحمه الله.
এবং তিনি মুচকি হাসলেন এবং বললেন: যখন কোনো ব্যক্তি কোনো নিয়ত করে, তখন তার জন্য তার সওয়াব লিখে দেওয়া হয়।

আবুল হাসান বিন হামদান আল-জারায়িহি বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হাম্বলিদের ঘৃণা করতাম; কারণ তাদের মন্দ আকিদাহ সম্পর্কে অপবাদ দেওয়া হতো। এরপর আমি এমন এক রোগে আক্রান্ত হলাম যাতে আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমি সতেরো দিন নড়াচড়া করতে পারলাম না এবং মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করতে লাগলাম। যখন এশার সময় হলো, আল-মুয়াফফাক আমার কাছে আসলেন এবং আমার ওপর কিছু আয়াত পাঠ করলেন। তিনি বললেন: "আর আমি কুরআনে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত" [আল-ইসরা: ৮২]। তিনি আমার পিঠে হাত বুলালেন, তখন আমি সুস্থতা অনুভব করলাম। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন, তখন আমি বললাম: হে পরিচারিকা! তাঁর জন্য দরজা খুলে দাও। তিনি বললেন: আমি যেদিক থেকে এসেছি সেদিক দিয়েই চলে যাব, এরপর তিনি আমার চোখের আড়াল হয়ে গেলেন। তৎক্ষণাৎ আমি উঠে অজুর ঘরে গেলাম। যখন ভোর হলো, আমি জামে মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং আল-মুয়াফফাকের পেছনে ফজরের সালাত আদায় করলাম। আমি তাঁর সাথে মুসাফাহ করলাম, তখন তিনি আমার হাত চেপে ধরলেন এবং বললেন: সাবধান, কোনো কিছু বলো না। আমি বললাম: আমি বলবই বলব।

দামেস্ক জামে মসজিদের খাদেম বলেন: কোনো এক রাতে তিনি মসজিদে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর জন্য দরজাগুলো খুলে যেত; ফলে তিনি বের হতেন এবং ফিরে আসতেন, আর সেগুলো আগের মতোই বন্ধ হয়ে যেত।

আল-আফিফ কাতাইব বিন আহমদ বিন মাহদি আল-বানিয়াসি শেখ মুয়াফফাকের ইন্তেকালের কয়েকদিন পর বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি শেখ মুয়াফফাককে নদীর তীরে অজু করতে দেখলাম। যখন তিনি অজু শেষ করলেন, তিনি তাঁর কাঠের জুতো হাতে নিলেন এবং পানির ওপর দিয়ে হেঁটে অপর পাড়ে চলে গেলেন। এরপর তিনি জুতো পরে মাদরাসায় আরোহণ করলেন—অর্থাৎ তাঁর ভাই আবু ওমরের মাদরাসা। এরপর কাতাইব আল্লাহর নামে শপথ করে বললেন যে, তিনি অবশ্যই তাঁকে দেখেছেন এবং মিথ্যা বলার কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই; আর তিনি তাঁর জীবদ্দশায় বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: তিনি কি আপনাকে দেখেছিলেন? তিনি বললেন: না, আর সেখানে কেউ ছিল না, সেটি ছিল যোহরের সময়। তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলো: তাঁর পা কি পানিতে ডুবে যাচ্ছিল? তিনি বললেন: না, বরং মনে হচ্ছিল যেন তিনি কোনো সমতল বিছানো জিনিসের ওপর দিয়ে হাঁটছেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ২০)
وقرأت بخط الحافظ الذهبي: سمعت رفيقنا أبا طاهر أحمد الدربي، سمعت الشيخ إبراهيم بن أحمد بن حاتم -وزرت معه قبر الشيخ الموفق-، فقال: سمعت الفقيه محمداً اليونيني شيخنا يقول: رأيت الشيخ الموفق يمشي على الماء.

 

•‌‌ ذكر تصانيفه:

صنف الشيخ الموفق رحمه الله التصانيف الكثيرة الحسنة في المذهب، فروعًا وأصولاً، وفي الحديث، واللغة، والزهد، والرقائق.

وتصانيفه في أصول الدين في غاية الحسن، أكثرها على طريقة أئمة المحدِّثين، مشحونة بالأحاديث والآثار، وبالأسانيد، كما هي طريقة الإِمام أحمد وأئمة الحديث، ولم يكن يرى الخوض مع المتكلمين في دقائق الكلام، ولو كان بالرد عليهم، وهذه طريقة الإمام أحمد والمتقدمين، وكان كثير المتابعة للمنقول في باب الأصول وغيره، لا يرى إطلاق ما لم يؤثر من العبارات، ويأمر بالإقرار والإمرار لما جاء في الكتاب والسنة من الصفات، من غير تفسير ولا تكييف، ولا تمثيل ولا تحريف، ولا تأويل ولا تعطيل.

* فمن تصانيفه في أصول الدين:

1 - "البرهان في مسألة القرآن" جزء.

2 - "جواب مسألة وردت من صرخد في القرآن" جزء.

3 - "الاعتقاد" جزء.
আমি হাফেজ জাহাবীর হস্তাক্ষরে পড়েছি: আমি আমাদের সাথী আবু তাহের আহমদ আদ-দারবীকে বলতে শুনেছি, আমি শেখ ইবরাহিম বিন আহমদ বিন হাতেমকে বলতে শুনেছি—এবং আমি তাঁর সাথে শেখ মুওয়াফফাকের কবর জিয়ারত করেছি—তিনি বললেন: আমি আমাদের শেখ ফকিহ মুহাম্মদ আল-ইউনিনিকে বলতে শুনেছি: আমি শেখ মুওয়াফফাককে পানির ওপর দিয়ে হাঁটতে দেখেছি।

 

•‌‌ তাঁর রচনাবলির বর্ণনা:

শেখ মুওয়াফফাক (রহিমাহুল্লাহ) মাযহাবের শাখা ও মূলনীতি (ফুরু ও উসুল), হাদিস, ভাষা, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) এবং রাকায়েক (হৃদয়গলানো বিষয়) সম্পর্কে অনেক চমৎকার গ্রন্থ রচনা করেছেন।

দ্বীনের মূলনীতি (উসুলুদ দ্বীন) বিষয়ে তাঁর গ্রন্থগুলো অত্যন্ত চমৎকার, যার অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতিতে রচিত এবং হাদিস, আসার ও সনদে পরিপূর্ণ, যেমনটি ছিল ইমাম আহমদ ও মুহাদ্দিস ইমামদের পদ্ধতি। তিনি মুতাকাল্লিমদের সাথে কালামশাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় লিপ্ত হওয়া পছন্দ করতেন না, এমনকি তাদের জবাব দেওয়ার উদ্দেশ্যে হলেও; আর এটাই ছিল ইমাম আহমদ ও পূর্বসূরিদের পথ। তিনি উসুল ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বর্ণিত ভাষ্যের অনুসরণে অত্যন্ত নিবিষ্ট ছিলেন; প্রাচীনদের থেকে বর্ণিত হয়নি এমন কোনো পরিভাষা প্রয়োগ তিনি সমর্থন করতেন না। তিনি কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত সিফাত বা গুণাবলিকে কোনো প্রকার ব্যাখ্যা (তাফসির), ধরন নির্ধারণ (তাকিয়িফ), সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল), বিকৃতি (তাহরিফ), অপব্যাখ্যা (তাবিল) কিংবা অস্বীকার (তাতিল) করা ছাড়াই স্বীকার করে নেওয়া এবং যেভাবে এসেছে সেভাবে বহাল রাখার (ইমরার) নির্দেশ দিতেন।

* দ্বীনের মূলনীতি বিষয়ে তাঁর কিছু গ্রন্থ:

১ - "আল-বুরহান ফি মাসআলাতিল কুরআন" এক খণ্ড।

২ - "জাওয়াবু মাসআলাতিন ওরাদাত মিন সারখাদ ফিল কুরআন" এক খণ্ড।

৩ - "আল-ইতিকাদ" এক খণ্ড।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ২১)
4 - "مسألة العلو" جزآن.

5 - "ذم التأويل" جزء.

6 - "كتاب القدر" جزآن.

7 - "فضائل الصحابة" جزآن، وأظنه:

8 - "منهاج القاصدين في فضل الخلفاء الراشدين".

9 - "رسالة إلى الشيخ فخر الدين بن تيمية في تخليد أهل البدع في النار".

10 - "مسألة في تحريم النظر في كتب أهل الكلام".

* من تصانيفه في الحديث:

1 - "مختصر العلل" للخلال، مجلد ضخم.

2 - "مشيخة شيوخه" جزء، وأجزاء كثيرة خرجها.

* ومن تصانيفه في الفقه:

1 - "المغني في الفقه" عشر مجلدات.

2 - "الكافي في الفقه" أربع مجلدات.

3 - "المقنع في الفقه" مجلد.

4 - "مختصر الهداية" مجلد.

5 - "العمدة" مجلد صغير.

6 - "مناسك الحج" جزء.

7 - "ذم الوسواس" جزء.
4 - "উচ্চমর্যাদা সংক্রান্ত মাসআলা" দুই খণ্ড।

5 - "অপব্যাখ্যার নিন্দা" এক খণ্ড।

6 - "তকদীর সংক্রান্ত কিতাব" দুই খণ্ড।

7 - "সাহাবায়ে কেরামের ফজিলত" দুই খণ্ড, এবং আমার মনে হয় এটি:

8 - "খুলাফায়ে রাশেদীনের ফজিলত বর্ণনায় মিনহাজুল কাসিদীন"।

9 - "বিদআতিদের চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়া প্রসঙ্গে শেখ ফখরুদ্দিন ইবনে তাইমিয়ার নিকট প্রেরিত পত্র"।

10 - "ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের কিতাব পাঠ নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা"।

* হাদীস শাস্ত্রে তাঁর রচনাবলি:

1 - খাল্লাল কৃত "আল-ইলাল"-এর সংক্ষিপ্তসার, একটি বিশাল খণ্ড।

2 - "তাঁর শিক্ষকদের শিক্ষকগণের তালিকা" এক খণ্ড, এবং আরও অনেক খণ্ড যা তিনি সংকলন করেছেন।

* এবং ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর রচনাবলি:

1 - "আল-মুগনী ফিল ফিকহ" দশ খণ্ড।

2 - "আল-কাফী ফিল ফিকহ" চার খণ্ড।

3 - "আল-মুকনি ফিল ফিকহ" এক খণ্ড।

4 - "মুখতাসারুল হিদায়াহ" এক খণ্ড।

5 - "আল-উমদাহ" একটি ছোট খণ্ড।

6 - "হজের নিয়মাবলি" এক খণ্ড।

7 - "ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণার নিন্দা" এক খণ্ড।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ২২)
8 - "فتاوى ومسائل منثورة، ورسائل شتى كثيرة".

* ومن تصانيفه في أصول الفقه:

1 - "الروضة" مجلد.

* وله في اللغة والأنساب ونحو ذلك:

1 - "قنعة الأريب في الغريب" مجلد صغير.

2 - "التبيين في نسب القرشيين" مجلد.

3 - "الاستبصار في نسب الأنصار" مجلد.

* وله في الفضائل والزهد والرقائق ونحو ذلك:

1 - "كتاب التوابين" جزآن.

2 - "كتاب المتحابين في الله" جزآن.

3 - "كتاب الرقة والبكاء" جزآن.

4 - "فضائل عاشوراء" جزء.

5 - "فضائل العشر" جزء.

وانتفع بتصانيفه المسلمون عموماً، وأهل المذهب خصوصًا، وانتشرت واشتهرت بحسن قصده وإخلاصه في تصنيفها، ولا سيما كتاب "المغني"؛ فإنه عظم النفع به، وَكَثُرَ الثناء عليه.

قال الحافظ الضياء: رأيت الإِمام أحمد بن حنبل في النوم، وألقى عليَّ مسألة في الفقه، فقلت: هذه في "الخرقي"، فقال: ما قصر صاحبكم الموفق في شرح "الخرقي".
৮ - "বিক্ষিপ্ত ফাতাওয়া ও মাসায়েল এবং বিভিন্ন অনেক রিসালাহ।"

* উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর রচনাবলি:

১ - "আর-রওদাহ" এক খণ্ড।

* ভাষা, বংশবিদ্যা এবং এজাতীয় বিষয়ে তাঁর রচনা:

১ - "কানআতুল আরিব ফিল গারিব" ছোট এক খণ্ড।

২ - "আত-তাবয়িন ফি নাসাবিল কুরাশিয়্যিন" এক খণ্ড।

৩ - "আল-ইসতিবসার ফি নাসাবিল আনসার" এক খণ্ড।

* ফাজায়েল, যুহদ (দুনিয়া-বিমুখতা), কলব নরমকারী বর্ণনা এবং এজাতীয় বিষয়ে তাঁর রচনা:

১ - "কিতাবুত তাওয়াবিন" দুই খণ্ড।

২ - "কিতাবুল মুতাহাব্বিনা ফিল্লাহ" দুই খণ্ড।

৩ - "কিতাবুর রিক্কাহ ওয়াল বুকা" দুই খণ্ড।

৪ - "ফাজায়েলে আশুরা" এক খণ্ড।

৫ - "ফাজায়েলে আশর" (দশকের ফজিলত) এক খণ্ড।

তাঁর রচনাবলি দ্বারা সাধারণভাবে মুসলিমগণ এবং বিশেষভাবে মাযহাবের অনুসারীরা উপকৃত হয়েছেন। তাঁর উত্তম উদ্দেশ্য এবং রচনার ক্ষেত্রে তাঁর ইখলাসের (নিষ্ঠা) কারণে এগুলো চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রসিদ্ধি লাভ করে; বিশেষ করে "আল-মুগনি" কিতাবটি। কেননা এটি দ্বারা ব্যাপক উপকার সাধিত হয়েছে এবং এর প্রচুর প্রশংসা করা হয়েছে।

হাফেজ দিয়া বলেন: আমি স্বপ্নে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলকে দেখলাম। তিনি আমার কাছে একটি ফিকহি মাসআলা পেশ করলেন। আমি বললাম: এটি তো "আল-খিরাকি"-তে রয়েছে। তখন তিনি বললেন: তোমাদের সাথি আল-মুওয়াফফাক "আল-খিরাকি"-এর ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে কোনো কমতি করেননি।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقرأت بخط الحافظ الدبيثي قال: سمعت الشيخ علاء الدين المقدسي قال: سمعت شيخنا أبا العباس ابن تيمية -قال الذهبي: وأظنني سمعت من شيخنا ابن تيمية- يقول: قال لي الشيخ تاج الدين عبد الرحمن بن إبراهيم القزازي: كان الشيخ عز الدين بن عبد السلام شيخنا يرسلني أستعير له "المحلى والمجلَّى" من ابن عربي، وقال: قال الشيخ عز الدين: ما رأيت في كتب الإسلام في العلم مثل "المحلى والمجلى"، وكتاب "المغني" للشيخ موفق الدين بن قدامة؛ في جودتهما، وتحقيق ما فيهما.

ونقل عن ابن عبد السلام أيضًا أنه قال: لم تطب نفسي بالفتيا حتى صار عندي نسخة "المغني".

وللشيح يحيى الصرصري في مدح الشيخِ وكتبِهِ، في جملة القصيدة الطويلة اللامية:

وَفي عَصْرِنَا كانَ الموفقُ حُجَّةً … على فِقْهِهِ ثَبْتِ الأُصولِ مُخَوَّلِ

كَفَى الخلقَ بـ "الكافِي"، وأَقنعَ طَالباً … بـ: "مُقنعِ" فِقْهٍ عن كتابٍ مُطَوَّلِ

وأغنى بمُغنِي الفِقْهِ مَنْ كَانَ بَاحِثًا … وعُمدتُهُ مَنْ يعتمدْها يُحَصِّلِ

و"روضتُهُ" ذاتُ الأصولِ كروضةٍ … أَمَاستْ بها الأزهارُ أنفاسَ شَمأَلِ

تَدُلُّ على المنطوقِ أوفى دَلالةً … وتَحمِلُ في المفهومِ أحسنَ مَحْملِ

وللشيخ موفق الدين نظم كثير حسن، وقيل: إن له قصيدة في عويصِ اللّغةِ، طويلةً.

وله مُقَطَّعاتٌ من الشِّعرِ، فمنها قوله:

أتغفُلُ يَا بنَ أحمدَ وَالمنايا … شَوارِعُ تَخْتَرِمْكَ عَنْ قَريبِ
আমি হাফেজ আদ-দুবাইসীর নিজ হাতের লেখায় পড়েছি, তিনি বলেন: আমি শেখ আলাউদ্দিন আল-মাকদিসীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমাদের শেখ আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহকে বলতে শুনেছি—আদ-দাহাবী বলেন: আমার মনে হয় আমিও আমাদের শেখ ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে শুনেছি—তিনি বলেন: শেখ তাজউদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে ইবরাহিম আল-কাযাযী আমাকে বলেছেন: আমাদের শেখ ইজ্জুদ্দিন বিন আবদুস সালাম আমাকে ইবনে আরাবীর কাছ থেকে "আল-মুহাল্লা" এবং "আল-মুজাল্লা" ধার করে আনার জন্য পাঠাতেন। এবং তিনি বলেন: শেখ ইজ্জুদ্দিন বলেছেন: ইসলামের জ্ঞানভিত্তিক কিতাবসমূহের মধ্যে আমি শেখ মুওয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামার "আল-মুগনী" এবং (ইবনে হাজমের) "আল-মুহাল্লা ও আল-মুজাল্লা"-এর মতো শ্রেষ্ঠত্ব ও বিষয়বস্তুর সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আর কোনো কিতাব দেখিনি।

ইবনে আবদুস সালাম থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: যতক্ষণ না আমার কাছে "আল-মুগনী" কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপি এসেছে, ততক্ষণ ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে আমার মন তৃপ্ত হয়নি।

আর শেখ ইয়াহইয়া আস-সারসারী শেখ (ইবনে কুদামা) ও তাঁর কিতাবসমূহের প্রশংসায় তাঁর দীর্ঘ ‘লামিয়্যাহ’ কাসিদার মধ্যে বলেছেন:

আমাদের যুগে আল-মুওয়াফফাক ছিলেন এক অকাট্য দলিল … ফিকহ শাস্ত্রে এবং সুদৃঢ় উসূলের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন যোগ্য ও বরেণ্য।

তিনি "আল-কাফী" কিতাবের মাধ্যমে সৃষ্টিজগতকে অভাবমুক্ত করেছেন, এবং জ্ঞানপিপাসু ছাত্রকে … "আল-মুকনি" ফিকহ দ্বারা দীর্ঘ কিতাবসমূহের বিমুখ করে তুষ্ট করেছেন।

তিনি ফিকহ শাস্ত্রের "আল-মুগনী" দ্বারা অনুসন্ধানকারীকে সমৃদ্ধ করেছেন … আর তাঁর "আল-উমদাহ" এমন, যে ব্যক্তি এর ওপর নির্ভর করবে সে উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করবে।

উসূল সংক্রান্ত তাঁর "রাওদাহ" কিতাবটি এমন এক বাগানের মতো … যেখানে উত্তুরে বাতাসের হিল্লোলে ফুলগুলো দুলতে থাকে।

এটি শব্দের প্রকাশ্য অর্থের ওপর পূর্ণাঙ্গ দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে … এবং এর পরোক্ষ মর্মার্থকে সর্বোত্তম উপায়ে ধারণ করে।

শেখ মুওয়াফফাকুদ্দিনের অনেক সুন্দর কাব্যরচনা রয়েছে; বলা হয় যে, ভাষার জটিল বিষয়াদি নিয়ে তাঁর একটি দীর্ঘ কাসিদাহ রয়েছে।

তাঁর কিছু খণ্ড কবিতাও রয়েছে, তন্মধ্যে তাঁর একটি পঙক্তি হলো:

হে আহমদের পুত্র! তুমি কি গাফেল হয়ে আছো? অথচ মৃত্যু … তোমার পথেই ওত পেতে আছে, যা শীঘ্রই তোমাকে ছিনিয়ে নেবে।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
أَغَرَّكَ أَنْ تُخَطِّيَكَ الرَّزَايا … فَكَمْ لِلْمَوتِ مِنْ سَهْمٍ مُصيبِ؟

كؤوسُ المَوتِ دائرةٌ عَلَيْنَا … وَمَا لِلْمَرءِ بُدٌّ مِنْ نَصيبِ

إلى كَمْ تَجْعَلُ التَّسْوِيفَ دَأْباً … أَمَا يكْفِيكَ إنْذَارُ المَشِيبِ؟

أَما يكفيكَ أنَّكَ كُلَّ حِيْنٍ … تمرُّ بغيرِ خِلٍّ أو حَبيبِ؟

كأنَّكَ قد لَحِقْتَ بهم قَرِيباً … ولا يُغْنيكَ إفْراطُ النَّحِيبِ

قال سِبْطُ ابنِ الجوزيِّ: وأنشدني لموفق لنفسه:

أبعدَ بياضِ الشَّعرِ أُعمِّرُ مَسكناً … سِوى القَبْرِ؟ إنِّي إنْ فَعلْتُ لأحمَقُ

يُخَبِّرُني شَيْبِي بأنيَ مَيِّمتٌ … وَشيكًا، ويَنْعَانِي إليَّ، فَيَصْدُقُ

تخرَّقَ عُمري كُلَّ يومٍ وليلةٍ … فهلْ مستطيعٌ رَفْلَ ما يَتَخَرَّقُ

كأني بجسمِي فَوقَ نَعْشِي مُمَدَّداً … فَمِنْ سَاكِتٍ أو مُعْوِلٍ يَتَحَرَّقُ

إذا سُئِلوا عَنِّي أَجَابوا وأَعْوَلُوا … وأدمُعُهم تَنْهَلُّ: هَذا المُوفَّقُ

وغُيِّبْتُ في صَدْعٍ من الأرضِ ضَيِّقٍ … وأُودعْتُ لَحْداً فوقَهُ الصَّخْرُ مُطِبْقُ

ويحثوُ عَليَّ التُّربَ أوثقُ صَاحِبٍ … ويُسْلِمُني للقبرِ مَنْ هُو مُشْفِقُ

فيا ربِّ كُنْ لي مُؤْنساً يومَ وَحْشَتي … فإِنِّي لِما أنزلْتَهُ لَمُصَدِّقُ

وَمَا ضَرَّني أَنِّي إلى اللهِ صَائِرٌ … وَمَنْ هو مِنْ أَهْلي أَبَرُّ وأَرْفَقُ

قال أبو شامة: ونقلتُ من خطه:

لا تجلسنَّ ببابِ مَنْ … يأبى عليكَ دُخولَ دَارِهْ

وَتَقُولُ حَاجَاتِي إليـ … ـه يَعُوقُهَا إن لم أُدَارِهْ

واتركْهُ وَاقْصِدْ رَبَّهَا … تُقْضَى وَرَبُّ الدَّارِ كَارِهْ
মুসিবতগুলো তোমাকে অতিক্রম করে গেছে বলে কি তুমি ধোঁকায় পড়েছ … অথচ মৃত্যুর কতই না নিশানভেদী তীর রয়েছে!

মৃত্যুর পেয়ালা আমাদের মাঝে আবর্তিত হচ্ছে … আর মানুষের জন্য তার নির্ধারিত অংশ গ্রহণ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

কতকাল তুমি দীর্ঘসূত্রিতাকে নিজের অভ্যাস বানিয়ে রাখবে … বার্ধক্যের সতর্কবাণী কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়?

তোমার জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, তুমি প্রতিটি মুহূর্ত … কোনো বন্ধু বা প্রিয়জন ছাড়াই পার করছ?

মনে হচ্ছে যেন অচিরেই তুমি তাদের সাথে মিলিত হবে … আর তখন অতিমাত্রায় বিলাপ তোমার কোনো উপকারে আসবে না।

সিবত ইবনুল জাওযী বলেন: মুয়াফফাক আমাকে তাঁর নিজের রচিত কবিতা পাঠ করে শুনিয়েছেন:

চুলের শুভ্রতার পর কি আমি আবাদ করব কোনো ঘর … কবর ছাড়া? আমি যদি তা করি, তবে আমি অবশ্যই একজন নির্বোধ।

আমার বার্ধক্য আমাকে খবর দিচ্ছে যে আমি অচিরেই মৃত হতে চলেছি … সে আমার মৃত্যু সংবাদ আমার কাছেই বয়ে আনছে এবং সে সত্য বলছে।

প্রতিটি দিন ও রাতে আমার আয়ু ক্ষয়ে যাচ্ছে … যা ক্ষয়ে যাচ্ছে তা জোড়া দেওয়ার সাধ্য কি কারো আছে?

আমি যেন দেখছি আমার দেহ খাটিয়ার ওপর শোয়ানো … কেউ নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আবার কেউবা শোকে কাতর হয়ে বিলাপ করছে।

যখন আমার সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, তারা বিলাপ করতে করতে উত্তর দেবে … আর তাদের অশ্রু প্রবাহিত হবে: "এই তো সেই মুয়াফফাক"।

আমাকে জমিনের এক সংকীর্ণ গহ্বরে লুকিয়ে ফেলা হবে … এবং এমন এক লাহদ কবরে রাখা হবে যার ওপর পাথর চাপা দেওয়া থাকবে।

আমার ওপর মাটি ছুড়ে দেবে আমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুটি … আর মমতাময়ী ব্যক্তিটিও আমাকে কবরের হাতে সঁপে দিয়ে আসবে।

হে আমার রব! আমার একাকীত্বের দিনে আপনি আমার সঙ্গী হোন … কেননা আপনি যা অবতীর্ণ করেছেন আমি তার সত্যায়নকারী।

আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া আমার কোনো ক্ষতি করবে না … যিনি আমার পরিবারের সদস্যদের চেয়েও অধিক কল্যাণকামী ও দয়ালু।

আবু শামা বলেন: আমি তাঁর স্বহস্তলিখন থেকে অনুলিপি করেছি:

তুমি এমন ব্যক্তির দরজায় বসে থেকো না যে … তোমাকে তার ঘরে প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকার করে।

আর তুমি বলছ যে, "তার কাছে আমার যে প্রয়োজন রয়েছে … আমি যদি তাকে তোষামোদ না করি তবে তাতে বিঘ্ন ঘটবে।"

তাকে বর্জন করো এবং তার রবের (আল্লাহর) মুখাপেক্ষী হও … তবে তোমার প্রয়োজন পূরণ হয়ে যাবে, যদিও গৃহস্বামী তা অপছন্দ করে।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
تفقَّه على الشيخ موفق الدين خلق كثير، منهم: ابن أخيه الشيخ شمس الدين عبد الرحمن بن أبي عمر، والمراتبي.

وسمع منه الحديث خلائق من الأئمة والحفاظ وغيرهم، وروى عنه ابن الدبيثي، والضياء، وابن خليل، والمنذري.

وحدث ببغداد، وسمع منه بها رفيقه أبو منصور عبد العزيز بن طاهر بن ثابت الخياط المقري، سنة ثمان وستين وخمس مئة.

توفي رحمه الله يوم السبت يوم عيد الفطر، سنة عشرين وست مئة، بمنزله بدمشق، وصلِّي عليه من الغد، وحُمل إلى سفح قاسيون، فدفن به، وكان له جمع عظيم، امتد الناس في طرق الجبل فملؤوه.

قال أبو المظفر سبط ابن الجوزي: حكى إسماعيل بن حماد الكاتب البغدادي، قال: رأيت ليلة عيد الفطر كأن مصحف عثمان قد رُفِعَ من جامع دمشق إلى السماء، فلحقني غم شديد، فتوفى الموفق يوم العيد.

قال: وَرَأى أحمد بن سعد، أخو محمد بن سعد الكاتب المقدسي، وكان أحمد هذا من الصالحين، قال: رأيت ليلة العيد ملائكة ينزلون من السماء جملة، وقائل يقول: انزلوا بالنوبة، فقلت: ما هذا؟ قالوا: ينقلون روح الموفق الطيبة في الجسد الطيب.

قال: وقال عبد الرحمن بن محمد العلوي: رأيت كأن النبي صلى الله عليه وسلم مات، وقُبر بقاسيون يوم عيد الفطر، قال: وكنا بجبل بني هلال، فرأينا على قاسيون ليلة العيد ضوءاً عظيمًا، فظننا أن دمشق قد احترقت،
শেখ মুওয়াফ্ফাকুদ্দীনের নিকট বিপুল সংখ্যক মানুষ ফিকহ শিক্ষা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ শামসুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবি উমর এবং আল-মারাতবি।

অসংখ্য ইমাম, হাফেজ ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইবনে আদ-দুবায়সি, আদ-দিয়া, ইবনে খলিল এবং আল-মুনজিরি।

তিনি বাগদাদে হাদিস বর্ণনা করেছেন। সেখানে পাঁচশত আটষট্টি হিজরি সনে তাঁর সহকর্মী আবু মনসুর আব্দুল আজিজ বিন তাহের বিন সাবিত আল-খাইয়াত আল-মুকরি তাঁর নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি ছয়শত বিশ হিজরি সনের ঈদুল ফিতরের দিন শনিবারে দামেস্কে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। পরের দিন তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয় এবং তাঁকে কাসিয়ুন পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় বিশাল জনসমাগম হয়েছিল; মানুষ পাহাড়ের পথগুলোতে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে তারা তা পূর্ণ করে দিয়েছিল।

আবু আল-মুজাফ্ফার সিবত ইবনে আল-জাওজি বলেন: বাগদাদী লেখক ইসমাইল বিন হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ঈদুল ফিতরের রাতে স্বপ্নে দেখলাম যেন উসমানি মুসহাফটি দামেস্কের জামে মসজিদ থেকে আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে আমি অত্যন্ত ব্যথিত হলাম। এরপর ঈদের দিন আল-মুওয়াফ্ফাক ইন্তেকাল করলেন।

তিনি বলেন: আল-মাকদিসি লেখক মুহাম্মদ বিন সাদের ভাই আহমদ বিন সাদ—যিনি একজন নেককার লোক ছিলেন—দেখেছেন। তিনি বলেন: আমি ঈদের রাতে দেখলাম দলে দলে ফেরেশতারা আকাশ থেকে নামছেন এবং একজন ঘোষক বলছেন: ‘পর্যায়ক্রমে নামুন’। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এটা কী? তারা বললেন: তাঁরা পবিত্র দেহের ভেতর থেকে আল-মুওয়াফ্ফাকের পবিত্র আত্মাকে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-আলাভি বলেছেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন এবং ঈদুল ফিতরের দিন কাসিয়ুন পাহাড়ে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন: আমরা বনু হিলাল পাহাড়ে ছিলাম, তখন ঈদের রাতে কাসিয়ুন পাহাড়ের ওপর এক বিশাল আলোকচ্ছটা দেখলাম। আমরা ভেবেছিলাম দামেস্ক হয়তো আগুনে পুড়ে যাচ্ছে।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وخرج أهل القرية ينظرون إليه، فوصل الخبر بوفاة الموفق يوم العيد، ودفن بقاسيون -رحمه الله تعالى-.

এবং গ্রামবাসী তাকে দেখার জন্য বেরিয়ে এলেন, অতঃপর ঈদের দিন আল-মুয়াফফাক-এর ইনতিকালের সংবাদ এসে পৌঁছাল এবং তাকে কাসিউন-এ দাফন করা হলো—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৭)
صور المخطوطات
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৯)
صورة غلاف النسخة الخطية
হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদের চিত্র
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩০)
صورة اللوحة الأولى من النسخة الخطية
পাণ্ডুলিপির প্রথম পত্রের চিত্র।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল হাযিম ফীয যাওয়াইদি আলা মুখতাসারি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩১)
صورة اللوحة الأخيرة من النسخة الخطية
হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পৃষ্ঠার চিত্র