0/0
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: -)
الاتصال والانقطاع   (إبراهيم اللاحم)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الاتصال والانقطاع - سلسلة نقد المرويات (2)

المؤلف: إبراهيم بن عبد الله اللاحم

الناشر: مكتبة الرشد، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 485

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 جُمادَى الأولى 1442

আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা' (সূত্র-সংযুক্তি ও বিচ্ছিন্নতা)   (ইব্রাহিম আল-লাহিম)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


বই: আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা' - বর্ণনা সমালোচনা সিরিজ (২)

লেখক: ইব্রাহিম বিন আবদুল্লাহ আল-লাহিম

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ، রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ জুমাদাল উলা ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة نقد المرويات

(2)

 

الاتصال والانقطاع

 

بقلم

إبراهيم بن عبدالله اللاحم

 

1425 هـ
বর্ণনাসমূহ সমালোচনার ধারাবাহিকতা

(২)

 

নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) ও বিচ্ছিন্নতা (انقطاع)

 

রচনায়

ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম

 

১৪২৫ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه، وبعد:

فهذا هو القسم الثاني من سلسلة (نقد المرويات)، يتعلق بمباحث اتصال الإسناد وانقطاعه، سرت فيه على الطريقة التي سرت عليها في القسم الأول (الجرح والتعديل)، وذلك فيما يتصل بشمول البحث لأكبر قدر ممكن من المسائل التي تندرج تحت هذا الموضوع، مع مراعاة الحيز المخصص لكل منها، بحيث ينسجم ذلك مع القدر المخصص للموضوع كله، فغير خاف أن بحث هذه المسائل مجتمعة، يختلف عنه في حال إفراد كل مسألة منها ببحث يختص بها.

وقد كنت أثناء كتابتي للقسم الأول يثور دائماً في نفسي هاجس الخوف من التعمق في بحث جزئياته، والتشعب في تناولها، بحيث يؤدي ذلك إلى الحيلولة دون فهم القارئ لما يكتب، أو ملله، فاجتهدت ما أمكنني في تفادي هذه المشكلة التي قد يقع فيها الباحث دون أن يشعر.

وفي هذا القسم لا أتردد في القول بأن هذا الهاجس قد ارتفعت وتيرته، وزادت حدته، لسبب بسيط جداً، سيدركه القارئ لأول وهلة، وهو أن المسائل المندرجة تحت باب (الاتصال والانقطاع) تفوق - بكثير - في الدقة والعمق والتداخل ما يتصل بـ (الجرح والتعديل)، مع أن طرق هذا الموضوع والبحث في قواعده من قبل الأئمة والباحثين لا يقارن به في الكثرة طرقهم لموضوع (الاتصال والانقطاع).

ومع أنني بذلت أقصى جهدي في الكتابة بطريقة سهلة ميسرة، متجنباً
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর:

এটি হলো 'নকদুল মারউইয়্যাত' (বর্ণনা সমালোচনা) সিরিজের দ্বিতীয় অংশ, যা সনদের (إسناد) অবিচ্ছিন্নতা (اتصال) এবং বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) সংক্রান্ত আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট। এতে আমি সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছি যা আমি প্রথম অংশ অর্থাৎ জারহ ও তা’দীল (الجرح والتعديل) এর ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছিলাম। আর তা হলো, এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত মাসআলাহগুলোর যতটা সম্ভব বড় অংশকে আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য বরাদ্দকৃত পরিসরের প্রতি লক্ষ্য রাখা, যাতে তা পুরো বিষয়ের জন্য নির্ধারিত সীমার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কারণ এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই মাসআলাহগুলো সম্মিলিতভাবে আলোচনা করা আর প্রতিটি মাসআলাহকে স্বতন্ত্রভাবে বিশেষ গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

প্রথম অংশটি লেখার সময় আমার মনে সর্বদা এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে অতি গভীরে যাওয়া এবং বিস্তারিত আলোচনায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে এক ধরণের ভয় কাজ করছিল; পাছে তা পাঠকের বুঝার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় কিংবা তাকে ক্লান্ত করে তোলে। তাই একজন গবেষক অজান্তেই যে সমস্যায় নিপতিত হতে পারেন, তা এড়িয়ে চলার জন্য আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

আর এই অংশে আমি বলতে দ্বিধা করছি না যে, এই আশঙ্কার মাত্রা ও তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ খুবই সহজ, যা পাঠক প্রথম দর্শনেই অনুধাবন করতে পারবেন; আর তা হলো, অবিচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতা (الاتصال والانقطاع) অধ্যায়ের অধীনে আলোচিত মাসআলাহগুলো সূক্ষ্মতা, গভীরতা ও পারস্পরিক সংশ্লিষ্টতার দিক থেকে জারহ ও তা’দীল (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত বিষয়গুলোর চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক। যদিও ইমামগণ ও গবেষকদের নিকট জারহ ও তা’দীল বিষয়ের চর্চা ও এর নীতিমালা (قواعد) নিয়ে গবেষণার আধিক্য, অবিচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতা (الاتصال والانقطاع) বিষয়ের তুলনায় অনেক বেশি।

আমি সহজ ও সাবলীল পদ্ধতিতে লেখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা সত্ত্বেও, এড়িয়ে চলেছি...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ৬)
الخوض في بعض الدقائق التي رأيت أن صرف النظر عن البحث فيها ضمن هذا المشروع هو الأنسب، إلا أنني مع ذلك آمل من القارئ الكريم - عطفاً على ما تقدم - أن يلتمس لي بعض العذر، إن وجد فيه مباحث أطلت فيها، أو كان تناولي لها بصفة حالت بين القارئ وفهمها.

كما آمل من القارئ الكريم أن يلتفت إلى نفسه أيضاً، فالبحث - أي بحث - لا شك أن المقصود به القارئ، وعليه أيضاً يقع جزء من التبعة في فهم واستيعاب ما يقرأ، وأعني بذلك أن الباحث مطالب بالاقتراب ما أمكن من القارئ، لكن لا يجوز له أبداً أن يهبط ويضعف في تناول جزئيات بحثه، إذ يقع على القارئ النصف الباقي من الطريق إلى نقطة الالتقاء، وعليه أن يبذل جهده في قطع هذا الجزء من الطريق، ليلتقي بالباحث الذي يقرأ له.

ولست أعني بما قلت أن القارئ لابد أن يوافق الباحث فيما وصل إليه، وإلا فقد أخلّ بمسؤولياته، فهذا لا يمكن لأحد أن يقر به، أو يقول به، وإن سلكه بعض الباحثين في بحوثهم، فتجده يأخذ بتلابيب القارئ، ويتهدده ويتوعده إن لم يوافقه على ما يقول، بل وصل الأمر ببعضهم إلى إقحام قضايا الابتداع ومخالفة أهل السنة في مسائل علمية بحتة.

وإنما الذي أعنيه أن يكون القارئ لديه ملكة يستطيع بها فهم القاعدة التي تقرر، والربط بينها وبين ما يساق لها من أدلة، أو ما يضرب لها من أمثلة، والمتن في التطابق بينهما، والتوقف فيما يوجب التوقف، والقدرة على المناقشة وتحرير موضعها، وحسن السؤال عن ذلك، فهذا هو المفترض في القارئ، ولا يتم ذلك كله إلا بالاستعداد النفسي، والقراءة المتأنية، بل وتكرار القراءة أحياناً، وتفريغ الذهن من المشاغل ما أمكن.
আমি কিছু সূক্ষ্ম বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা থেকে বিরত থাকাকেই এই প্রকল্পের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেছি। তবে এর পাশাপাশি আমি সম্মানিত পাঠকের কাছে—পূর্বালোচনার প্রেক্ষিতে—এই অনুরোধ রাখছি যেন তিনি আমাকে কিছুটা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন, যদি তিনি এখানে এমন কোনো আলোচনা পান যা আমি দীর্ঘায়িত করেছি অথবা আমার উপস্থাপনা এমন হয়েছে যা পাঠকের বুঝার ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে।

আমি আরও আশা করি যে পাঠক নিজের দায়িত্বের প্রতিও সচেতন হবেন। কারণ যেকোনো গবেষণার লক্ষ্যই হলো পাঠক; আর যা পাঠ করা হচ্ছে তা অনুধাবন ও আত্মস্থ করার দায়ভারের একটি অংশ তাঁর ওপরও বর্তায়। এর দ্বারা আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে, গবেষকের দায়িত্ব হলো পাঠকের যতটা সম্ভব নিকটবর্তী হওয়া, কিন্তু তাঁর পক্ষে গবেষণার সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর আলোচনায় মান কমিয়ে আনা বা দুর্বলতা প্রকাশ করা মোটেও সমীচীন নয়। কারণ মিলনবিন্দুতে পৌঁছানোর পথের বাকি অর্ধেকটা পাঠকের ওপর নির্ভর করে; তাঁকে নিজের পক্ষ থেকে সচেষ্ট হয়ে সেই পথটুকু পাড়ি দিতে হবে যাতে তিনি সেই গবেষকের সাথে মিলিত হতে পারেন যাঁর লেখা তিনি পাঠ করছেন।

আমার একথার অর্থ এই নয় যে পাঠককে গবেষকের সিদ্ধান্তের সাথে একমত হতেই হবে, অন্যথায় তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন বলে গণ্য হবেন। এ কথা কেউ স্বীকার করতে পারে না এবং বলাও সম্ভব নয়; যদিও কোনো কোনো গবেষক তাঁদের গবেষণায় এমন পথ অবলম্বন করেন যেখানে তাঁরা পাঠকের টুঁটি চেপে ধরেন এবং তাঁদের কথার সাথে একমত না হলে হুমকি ও শাসানি প্রদান করেন। এমনকি কারো কারো ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাঁরা নিছক তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক বিষয়েও বিদআত (بدعة) বা আহলুস সুন্নাহর বিরোধিতার মতো প্রসঙ্গের অবতারণা করেন।

বরং আমি যা বুঝাতে চাচ্ছি তা হলো—পাঠকের মাঝে এমন এক প্রজ্ঞা বা দক্ষতা থাকা প্রয়োজন যার মাধ্যমে তিনি নির্ধারিত মূলনীতি বা কায়দা (قاعدة) অনুধাবন করতে পারেন এবং সেই নীতির সাথে উপস্থাপিত প্রমাণাদি কিংবা উদাহরণের যোগসূত্র স্থাপন করতে পারেন। সেই সঙ্গে উভয়ের মধ্যকার সামঞ্জস্য নিরূপণ করা, যেখানে স্থগিত রাখা বা থামার প্রয়োজন সেখানে বিরতি (توقف) নেওয়া, আলোচনা ও তার প্রেক্ষিত বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা রাখা এবং যথাযথ প্রশ্ন উত্থাপন করা—এগুলোই একজন পাঠকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত। আর এই পুরো বিষয়টি কেবল মানসিক প্রস্তুতি, ধীরলয়ে পাঠ করা, এমনকি কখনো বারংবার পাঠ করা এবং মনকে অন্যান্য ব্যস্ততা থেকে যথাসম্ভব মুক্ত রাখার মাধ্যমেই সম্ভব।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ৭)
وعندي أمل كبير أن يكون القارئ - بعد قراءته للقسم الأول (الجرح والتعديل) - قد تهيأ للقسم الثاني هذا، فهذا العلم - كغيره من العلوم - حلقاته مترابطة، يأخذ بعضها بزمام بعض، فكثير من تقسيمات العلوم ألجأ إليها حاجة التعليم والتفهيم.

أسأل الله تعالى أن يوفقنا جميعاً للسداد والرشاد، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.

كتبه

إبراهيم بن عبد الله اللاحم

بريد إلكتروني:

IBRAHIMALLAHEM 3@hotmail.com
আমার গভীর আশা যে পাঠক—প্রথম খণ্ড অর্থাৎ সমালোচনা ও গুণাবলি বিশ্লেষণ (الجرح والتعديل) পাঠ করার পর—এই দ্বিতীয় খণ্ডের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছেন। এই শাস্ত্রটি—অন্যান্য শাস্ত্রের মতোই—পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ধারায় বিন্যস্ত, যার একটি অংশ অন্যটিকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে। প্রকৃতপক্ষে শাস্ত্রীয় অনেক বিভাজন কেবল শিক্ষাদান ও সহজবোধ্য করার প্রয়োজনেই গ্রহণ করা হয়েছে।

আমি মহান আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলকে সঠিক পথ ও সত্যের ওপর অটল থাকার তাওফিক দান করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

লিখেছেন

ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম

ইমেইল:

IBRAHIMALLAHEM 3@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ৯)
تمهيد

اتصال الإسناد أحد الشروط الخمسة المعروفة لصحة الحديث، مع أن حقيقة هذا الشرط تعود إلى شرطين آخرين وهما عدالة الرواة، وضبطهم، إذ الإسناد المنقطع لم يتحقق فيه وجود هذين الشرطين، فقد يكون الساقط غير عدل، أو غير ضابط، وحينئذٍ فالنص على شرط الاتصال إنما هو - فيما أرى - من باب التأكيد.

وقد تضافرت نصوص النقاد في اشتراط اتصال الإسناد، فروى حماد بن زيد، عن هشام بن حسان، عن ابن سيرين، عن عائشة حديث: "كان النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لا يصلي في ملاحفنا "، ثم قال حماد: "سمعت سعيد بن أبي صدقة قال: سألت محمداً عنه فلم يحدثني، وقال: سمعته منذ زمان، ولا أدري أسمعته من ثبت أم لا؟ فسلوا عنه"(1).

وقال يحيى بن سعيد القطان: "ينبغي لكتبة الحديث أن يكون ثبت الأخذ، ويفهم ما يقال له، ويبصر الرجل - يعني المحدث -، ثم يتعاهد ذلك منه - يعني نطقه - يقول: حدثنا، أو سمعت، أو يرسله، فقد قال هشام بن عروة: إذا حدثك رجل بحديث فقل: عمن هذا؟ أو ممن سمعته؟ فإن الرجل يحدث عن آخر دونه - يعني دونه في الإتقان والصدق -، قال يحيى: فعجبت من فطنته"(2).

--------------------------------------------

(1). "سنن أبي داود" حديث (368).

(2). "الجرح والتعديل" 2: 34.
ভূমিকা

সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال الإسناد) হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة الحديث) জন্য স্বীকৃত পাঁচটি শর্তের অন্যতম। যদিও এই শর্তের প্রকৃত স্বরূপ অন্য দুটি শর্তের ওপর নির্ভরশীল, আর তা হলো বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة الرواة) ও তাদের ধারণক্ষমতা বা হেফজ (ضبط)। কেননা বিচ্ছিন্ন (منقطع) সনদে এই দুটি শর্তের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায় না; কারণ সনদ থেকে বাদ পড়া ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ (عدل) না-ও হতে পারেন, অথবা তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) না-ও হতে পারেন। এমতাবস্থায়, নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال) শর্তটি আলাদাভাবে উল্লেখ করা—আমার দৃষ্টিতে—কেবল গুরুত্বারোপের (تأكيد) জন্য।

সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال الإسناد) শর্ত হওয়ার ব্যাপারে হাদিস সমালোচকদের (نقاد) বক্তব্যসমূহ সুসংবদ্ধ হয়েছে। হাম্মাদ ইবনে যাইদ হিশাম ইবনে হাসসান থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে এই হাদিস বর্ণনা করেছেন যে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের লেপ বা চাদর পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতেন না।" এরপর হাম্মাদ বলেন: "আমি সাঈদ ইবনে আবি সাদাকাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি মুহাম্মদ (ইবনে সিরিন)-কে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমার কাছে তা বর্ণনা করেননি। তিনি বললেন: আমি অনেক আগে এটি শুনেছিলাম, কিন্তু আমি জানি না যে আমি এটি কোনো নির্ভরযোগ্য (ثبت) ব্যক্তির কাছ থেকে শুনেছি কি না? সুতরাং তোমরা এ বিষয়ে (অন্যদের) জিজ্ঞাসা করো।"(1).

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বলেন: "হাদিস অনুলিখকের উচিত হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثبت الأخذ) হওয়া এবং তাকে যা বলা হচ্ছে তা অনুধাবন করা। এছাড়া তাকে বর্ণনাকারীর—অর্থাৎ মুহাদ্দিসের—অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং তার শব্দ চয়নের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে—অর্থাৎ তিনি কি 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثنا) বলছেন, নাকি 'আমি শুনেছি' (سمعت) বলছেন, নাকি তা বিচ্ছিন্নভাবে বা মুরসাল হিসেবে (مرسل) বর্ণনা করছেন। হিশাম ইবনে উরওয়াহ বলেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি তোমার কাছে কোনো হাদিস বর্ণনা করে, তখন তাকে বলো: এটি কার থেকে? অথবা আপনি কার কাছ থেকে এটি শুনেছেন? কারণ অনেক সময় একজন ব্যক্তি এমন কারো থেকে বর্ণনা করেন যিনি তার চেয়ে নিম্নমানের—অর্থাৎ পারদর্শিতা (إتقان) ও সত্যবাদিতার (صدق) ক্ষেত্রে নিম্নস্তরের। ইয়াহইয়া বলেন: আমি তার প্রখর বুদ্ধিমত্তায় বিস্মিত হয়েছিলাম।"(2).

--------------------------------------------

(1). "সুনান আবি দাউদ" হাদিস (৩৬৮)।

(2). "আল-জারহ ওয়াত তা'দিল" ২: ৩৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ১০)
وروى إبراهيم بن عيسى الطالقاني، قال: " قلت لعبد الله بن المبارك: يا أبا عبدالرحمن، الحديث الذي جاء: "إن من البر بعد البر أن تصلي لأبويك مع صلاتك، وتصوم لهما مع صومك"، قال: فقال عبد الله: يا أبا إسحاق عمن هذا؟ قال: قلت: هذا من حديث شهاب بن خراش، فقال: ثقة، عَمَّن؟ قال: قلت: عن الحجاج بن دينار، قال: ثقة، عَمَّن؟ قال: قلت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: يا أبا إسحاق، إن بين الحجاج بن دينار وبين النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم مفاوز تنقطع فيها أعناق الإبل، ولكن ليس في الصدقة اختلاف"(1).

وقال الشافعي: "إذا اتصل الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وصح الإسناد به، فهو سنة، وليس المنقطع بشيء، ماعدا منقطع سعيد بن المسيب"(2).

وقيل لأحمد بن حنبل: حديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم مرسل برجال ثبت أحب إليك، أو حديث عن الصحابة أو عن التابعين متصل برجال ثبت؟ فقال أحمد: "عن الصحابة أعجب إليّ"(3).

وقال محمد بن يحيى الذهلي: "لا يجوز الاحتجاج إلا بالحديث الموصل غير المنقطع، الذي ليس فيه رجل مجهول، ولا رجل مجروح"(4).

وقال مسلم حكاية عن غيره مقراً له: "والمرسل من الروايات في أصل

--------------------------------------------

(1). "صحيح مسلم" 1: 16، و" الجرح والتعديل" 1: 274.

(2). "آداب الشافعي ومناقبه" ص 232، و" المراسيل" ص 6.

(3). "مسائل إسحاق" 2: 165، و" الكفاية" ص 392.

(4). "الكفاية" ص 20.
ইব্রাহিম ইবনে ঈসা আত-তালিকানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বললাম: হে আবু আবদুর রহমান, সেই হাদিসটি সম্পর্কে কী বলেন যা বর্ণিত হয়েছে: 'নিশ্চয়ই সৎকর্মের পর সৎকর্ম হলো তোমার নামাজের সাথে সাথে তোমার পিতামাতার জন্যও নামাজ পড়া এবং তোমার রোজা রাখার সাথে সাথে তাদের জন্যও রোজা রাখা'। তিনি (ইবনুল মুবারক) বললেন: হে আবু ইসহাক, এটি কার থেকে বর্ণিত? আমি বললাম: এটি শিহাব ইবনে খিরাশের হাদিস থেকে। তিনি বললেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), কার থেকে? আমি বললাম: হাজ্জাজ ইবনে দিনার থেকে। তিনি বললেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), কার থেকে? আমি বললাম: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। তিনি বললেন: হে আবু ইসহাক, নিশ্চয়ই হাজ্জাজ ইবনে দিনার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে এমন মরুপ্রান্তর রয়েছে যেখানে উটের ঘাড় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় (অর্থাৎ দীর্ঘ ব্যবধান), তবে সদকার বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ নেই"(1).

এবং ইমাম শাফিয়ী বলেছেন: "যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিসটি সংযুক্ত (اتصل) হয় এবং এর সনদ (الإسناد) সহিহ (صح) হয়, তবে তা সুন্নাহ; আর বিচ্ছিন্ন (المنقطع) বর্ণনা কোনো ধর্তব্য বিষয় নয়, কেবল সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের বিচ্ছিন্ন (منقطع) বর্ণনা ব্যতীত"(2).

এবং আহমাদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করা হলো: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এমন কোনো মুরসাল (مرسل) হাদিস যার বর্ণনাকারীগণ সুদৃঢ় (ثبت), সেটি কি আপনার কাছে অধিক পছন্দনীয়, নাকি সাহাবী বা তাবিঈদের থেকে বর্ণিত কোনো সংযুক্ত (متصل) বর্ণনা যার বর্ণনাকারীগণ সুদৃঢ় (ثبت)? আহমাদ বললেন: "সাহাবীদের থেকে বর্ণিত বর্ণনাটিই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়"(3).

এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-যুহলি বলেছেন: "দলিল পেশ (الاحتجاج) করা বৈধ নয় কেবলমাত্র সেই সংযুক্ত (الموصل) ও অবিচ্ছিন্ন (غير المنقطع) হাদিস ছাড়া, যার মধ্যে কোনো অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তি নেই এবং কোনো সমালোচিত (مجروح) ব্যক্তি নেই"(4).

এবং ইমাম মুসলিম অন্যের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তা সমর্থন করে বলেছেন: "আর বর্ণনার মধ্যে যা মুরসাল (والمرسل), তা মূলত...

--------------------------------------------

(1). "সহিহ মুসলিম" ১: ১৬, এবং "আল-জারহ ওয়াত-তাদিল" ১: ২৭৪।

(2). "আদাবুশ শাফিয়ী ওয়া মানাকিবুহু" পৃষ্ঠা ২৩২, এবং "আল-মারাসিল" পৃষ্ঠা ৬।

(3). "মাসাইলু ইসহাক" ২: ১৬৫, এবং "আল-কিফায়া" পৃষ্ঠা ৩৯২।

(4). "আল-কিফায়া" পৃষ্ঠা ২০।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ১১)
قولنا وقول أهل العلم بالأخبار ليس بحجة"(1).

وقال ابن أبي حاتم: "سمعت أبي وأبازرعة يقولان: لا يحتج بالمراسيل، ولا تقوم الحجة إلا بالأسانيد الصحاح المتصلة، وكذا أقول أنا"(2).

وقال ابن خزيمة في بيانه لشرطه في "صحيحه": "بنقل العدل عن العدل، موصولاً إليه صلى الله عليه وسلم، من غير قطع في أثناء الإسناد … "(3)

ولهذا السبب فقد بذل أئمة الحديث جهداً كبيراً في البحث عن الاتصال والانقطاع، فدرسوا كل راوٍ تقريباً، درسوا رواياته عن شيوخه، فقالوا مثلاً: فلان روايته عن فلان متصلة، فلان سمع من فلان وفلان، فلان روايته عن فلان مرسلة، فلان لم يسمع من فلان، فلان رأى فلاناً ولم يسمع منه، أو دخل عليه لكن لم يسمع منه، إلى غير ذلك، ونظروا في مراسيل المشهورين بذلك من الرواة وحكموا عليها، ووازنوا بينها، وفي كلامهم على الأحاديث التزموا هذا الشرط، فضعّفوا أحاديث كثيرة جداً بالانقطاع، وهذا أمر متقرر مشهور.

ونلاحظ في كلام النقاد على مراتب أحاديث الأقطار الإسلامية تأثير الاتصال والانقطاع في هذه المراتب(4).

وعلى الباحث أن يسلك منهج هؤلاء الأئمة في التحقق من اتصال الإسناد أو انقطاعه، وهو في سبيل ذلك عليه النظر أولاً في سماع كل راو في الإسناد ممن

--------------------------------------------

(1). "صحيح مسلم" 30: 1.

(2). "المراسيل" ص 7.

(3). "صحيح ابن خزيمة" 1: 5، وانظر أيضاً "صحيح ابن حبان" 1: 163.

(4). انظر: الجامع لأخلاق الراوي 2: 286 - 288.
"আমাদের কথা এবং সংবাদ শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের কথা কোনো প্রমাণ (حجة) নয়"(1).

ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: "আমি আমার পিতা এবং আবু জুর’আহ-কে বলতে শুনেছি: 'বিচ্ছিন্ন (مراسيل) হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যাবে না, এবং সহিহ (صحاح) ও সংযুক্ত (متصلة) সনদ (أسانيد) ব্যতীত প্রমাণ (حجة) সাব্যস্ত হবে না, আর আমিও অনুরূপ মত পোষণ করি।'"(2).

ইবনে খুজাইমা তাঁর 'সহিহ ইবনে খুজাইমা'-তে তাঁর শর্ত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: "একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী কর্তৃক অপর একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনার মাধ্যমে, সনদের (إسناد) মাঝখানে কোনো বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সংযুক্তভাবে (موصول) পৌঁছেছে..."(3)

এ কারণেই হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণ সনদের সংযুক্ততা (اتصال) ও বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) অনুসন্ধানে ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। তাঁরা প্রায় প্রত্যেক বর্ণনাকারী (راو) সম্পর্কে অধ্যয়ন করেছেন এবং তাঁদের শায়খদের নিকট থেকে তাঁদের বর্ণনাসমূহ পরীক্ষা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ তাঁরা বলেছেন: অমুকের নিকট থেকে অমুকের বর্ণনা সংযুক্ত (متصلة), অমুক ব্যক্তি অমুক ও অমুকের নিকট থেকে শুনেছেন, অমুকের নিকট থেকে অমুকের বর্ণনা বিচ্ছিন্ন (مرسلة), অমুক ব্যক্তি অমুকের নিকট থেকে শোনেননি, অমুক ব্যক্তি অমুককে দেখেছেন কিন্তু তাঁর নিকট থেকে কিছু শোনেননি, অথবা তাঁর কাছে প্রবেশ করেছেন কিন্তু তাঁর নিকট থেকে শোনেননি, ইত্যাদি। আর যেসব বর্ণনাকারী (رواة) বিচ্ছিন্ন হাদিস (مراسيل) বর্ণনার জন্য পরিচিত ছিলেন, তাঁরা তাঁদের বর্ণনাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং সেগুলোর ওপর হুকুম দিয়েছেন ও সেগুলোর মধ্যে তুলনা করেছেন। হাদিসের ওপর আলোচনার ক্ষেত্রে তাঁরা এই শর্তটি মেনে চলেছেন, ফলে তাঁরা বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) কারণে অনেক হাদিসকে দুর্বল (ضعفوا) সাব্যস্ত করেছেন; এটি একটি প্রতিষ্ঠিত ও প্রসিদ্ধ বিষয়।

আমরা ইসলামি ভূখণ্ডগুলোর হাদিসসমূহের স্তরের বিষয়ে সমালোচকগণের (نقاد) বক্তব্যে এই স্তরবিন্যাসে সনদের সংযুক্ততা (اتصال) ও বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) প্রভাব লক্ষ্য করি।(4).

গবেষকের উচিত সনদের (إسناد) সংযুক্ততা (اتصال) বা বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই ইমামগণের মানহাজ বা পদ্ধতি অনুসরণ করা। এই লক্ষ্যে তাঁকে প্রথমে সনদের (إسناد) প্রতিটি বর্ণনাকারী (راو) যার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর নিকট থেকে তাঁর শ্রবণ বা শোনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।

--------------------------------------------

(1). "সহিহ মুসলিম" ১: ৩০।

(2). "আল-মরাসিল" পৃষ্ঠা ৭।

(3). "সহিহ ইবনে খুজাইমা" ১: ৫, আরও দেখুন "সহিহ ইবনে হিব্বান" ১: ১৬৩।

(4). দেখুন: আল-জামি' লি-আখলাকির রাবি ২: ২৮৬ - ২৮৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ১২)
فوقه في الجملة، ثم سماعه لهذا الحديث بعينه منه، وكل هذا يسير فيه الباحث وفق قواعد وأصول منقولة عن أئمة النقد، أو مأخوذة من عملهم وتطبيقهم، فالأمر المتقرر في كل قضية من قضايا النقد هو النظر في عمل أئمة النقد وقواعدهم، ومتابعتهم في ذلك.

والمتأمل في عمل المشتغلين بنقد السنة في الوقت الحاضر يرى خللاً في التحقق من شرط الاتصال والانقطاع في دراستهم للأسانيد، إما لأن القاعدة لم تتحرر عند الباحث كما ينبغي، أو لأنه ذهب إلى خلافها، أو أُتي من قِبل طرده لبعض القواعد في وقت معارضة قواعد أخرى لها، وأهم مما سبق كله التقصير وعدم الاستقصاء في البحث.

والباحث يسير في عمله في التحقق من شرط الاتصال في ثلاث خطوات بارزة: الأولى: نظره في صفة الرواية للراوي عمن فوقه في الإسناد، وهل قصد الرواية عنه أو لا؟ الثانية: إذا كان قصد الرواية عنه فهل لقيه وسمع منه؟ الثالثة: إن كان قد لقيه وسمع منه فهل سمع منه هذا الحديث موضع الدراسة؟

وسأتناول هذه الخطوات الثلاث في ثلاثة فصول، أردفها بفصل رابع، أتناول فيه قضايا متفرقة تتعلق بالاتصال والانقطاع، وهي: درجات اتصال الإسناد وانقطاعه، ومصطلحات يتداولها الأئمة في كلامهم عن الاتصال والانقطاع، وحكم الباحث على الإسناد بعد فراغه من دراسة اتصاله وانقطاعه.
সামষ্টিকভাবে তার ঊর্ধ্বস্থ রাবীর থেকে, অতঃপর বিশেষভাবে তার থেকে এই হাদিসটি শ্রবণ (سماع) করা। এই সবকিছুর ক্ষেত্রে গবেষক সমালোচনা বিশেষজ্ঞ ইমামদের (أئمة النقد) থেকে বর্ণিত অথবা তাঁদের কর্মপদ্ধতি ও প্রয়োগ থেকে গৃহীত নীতিমালা (قواعد) ও উসুল (أصول) অনুযায়ী অগ্রসর হন। সমালোচনার প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো সমালোচনা বিশেষজ্ঞ ইমামদের (أئمة النقد) কর্মপদ্ধতি ও তাঁদের নীতিমালা (قواعد) পর্যালোচনা করা এবং সে ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করা।

বর্তমান সময়ে সুন্নাহর সমালোচনা বা পর্যালোচনায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাজের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, সনদসমূহ (أسانيد) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) ও বিচ্ছিন্নতা (انقطاع)-এর শর্ত যাচাইয়ে কিছু ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। এর কারণ হতে পারে যে, গবেষকের নিকট নিয়মটি যথাযথভাবে স্পষ্ট হয়নি, অথবা তিনি এর বিপরীত পথ অবলম্বন করেছেন, অথবা এক নিয়মের বিপরীতে অন্য নিয়মের উপস্থিতির সময় কোনো একটি নিয়মকে ঢালাওভাবে প্রয়োগ করার কারণে এমনটি ঘটেছে। তবে এসবের চেয়ে বড় কারণ হলো গবেষণায় অবহেলা এবং পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের অভাব।

সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) যাচাইয়ের কাজে গবেষক তিনটি প্রধান ধাপে অগ্রসর হন: প্রথমত: সনদের (إسناد) ঊর্ধ্বস্থ রাবীর বর্ণনার (رواية) ধরনটি দেখা এবং তিনি কি প্রকৃতপক্ষে তাঁর থেকে বর্ণনা (رواية) করার সংকল্প করেছেন কি না? দ্বিতীয়ত: যদি তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা (رواية) করার সংকল্প করে থাকেন, তবে কি তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ (لقاء) করেছেন এবং তাঁর থেকে শ্রবণ (سماع) করেছেন? তৃতীয়ত: যদি তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ (لقاء) করে থাকেন এবং তাঁর থেকে শ্রবণ (سماع) করে থাকেন, তবে তিনি কি আলোচ্য এই হাদিসটিই তাঁর থেকে শ্রবণ (سماع) করেছেন?

আমি এই তিনটি ধাপ নিয়ে তিনটি অধ্যায়ে আলোচনা করব, এরপর চতুর্থ একটি অধ্যায় যুক্ত করব যেখানে নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) ও বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) সংক্রান্ত বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। সেগুলো হলো: সনদের (إسناد) নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) ও বিচ্ছিন্নতা (انقطاع)-এর স্তরসমূহ, নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) ও বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) সম্পর্কে আলোচনার সময় ইমামগণের ব্যবহৃত পরিভাষা (مصطلحات), এবং নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) ও বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) পর্যালোচনা শেষে সনদের (إسناد) ওপর গবেষকের হুকুম (حكم) বা সিদ্ধান্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأول

صفة رواية الراوي عمن روى عنه

 

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: صيغ الأداء ودلالالتها.

المبحث الثاني: الرواية عن الشخص والرواية عن قصته.
প্রথম পরিচ্ছেদ

যাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তাঁর থেকে বর্ণনাকারীর (راوٍ) বর্ণনার ধরণ

 

এতে দুটি আলোচনা রয়েছে:

প্রথম আলোচনা: বর্ণনা প্রদানের শব্দসমূহ (صيغ الأداء) এবং সেগুলোর তাৎপর্য।

দ্বিতীয় আলোচনা: ব্যক্তি থেকে বর্ণনা এবং ব্যক্তির ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الأول

صيغ الأداء ودلالالتها

تنقسم صيغ أداء الراوي للحديث قسمين رئيسين:

‌‌القسم الأول: الصيغ الصريحة في الاتصال مثل أن يقول: سمعت فلاناً يقول، أو حدثنا فلان، أو أخبرنا فلان، أو حدثني فلان، أو رأيت فلاناً فقال كذا، ونحو ذلك من العبارات الصريحة في الاتصال، فالباحث سيحكم بداية بأن الرواية بين هذا الراوي وبين من روى عنه متصلة، يحكم عليها بالاتصال بحكم أن الصيغة التي أدى بها هذا الراوي روايته تفيد ذلك، ومع هذا فإن مجرد وجود صيغة تدل بظاهرها على الاتصال لا يكفي، لكن البحث المبدئي يقتضي أن يحكم الباحث على الرواية بالاتصال، وقد يتبين له بعد ذلك خلاف ما حكم به، فقد تكون الصيغة صريحة في الاتصال ومع هذا فالإسناد منقطع، وهذا له صور:

منها ما إذا كان الراوي كذاباً، فإن كثيراً من الكذابين يدعي السماع ممن روى عنه ويصرح بالتحديث، وهو لم يسمع منه، وقد تقدم في المبحث الأول من الفصل الأول من ((الجرح والتعديل)) ذكر عدة أخبار في تصريح الكذابين بالتحديث، وإقرارهم بأنهم لم يسمعوا شيئاً.

ومن الصور أيضاً ما يستخدمه بعض الرواة من الصيغ الموهمة للسماع وهو لا يقصد ذلك، مثل خطبنا فلان، أو جاءنا فلان، أو حدثنا فلان، وهو يقصد قومه أو أهل بلده.
প্রথম পরিচ্ছেদ

বর্ণনার শব্দাবলি (صيغ الأداء) এবং সেগুলোর অর্থ বা ইঙ্গিত

একজন বর্ণনাকারীর হাদিস বর্ণনার শব্দাবলি (صيغ الأداء) প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম ভাগ: সূত্রের সংযোগের (اتصال) ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট শব্দাবলি যেমন বর্ণনাকারীর এ কথা বলা: 'আমি অমুককে বলতে শুনেছি (سمعت)', অথবা 'আমাদের নিকট অমুক বর্ণনা করেছেন (حدثنا)', অথবা 'আমাদেরকে অমুক সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)', অথবা 'আমাকে অমুক বর্ণনা করেছেন (حدثني)', অথবা 'আমি অমুককে দেখেছি এবং তিনি এরূপ বলেছেন (رأيت)', এবং সংযোগের (اتصال) ক্ষেত্রে এই জাতীয় আরও কিছু সুস্পষ্ট শব্দাবলি। এক্ষেত্রে গবেষক প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেবেন যে, বর্ণনাকারী এবং যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন তাদের মধ্যবর্তী বর্ণনাটি সংযুক্ত (متصلة)। তিনি একে সংযোগ (اتصال) হিসেবে গণ্য করবেন এই কারণে যে, বর্ণনাকারী যে শব্দের মাধ্যমে বর্ণনাটি পরিবেশন করেছেন তা সংযোগেরই অর্থ প্রদান করে। তা সত্ত্বেও, কেবল আপাতদৃষ্টিতে সংযোগ (اتصال) নির্দেশ করে এমন কোনো শব্দের উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক গবেষণা অনুযায়ী গবেষক বর্ণনাটিকে সংযুক্ত (اتصال) হিসেবে গণ্য করতে বাধ্য হন, যদিও পরবর্তীতে তাঁর নিকট প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বিপরীত কিছু প্রকাশ পেতে পারে। কেননা কোনো শব্দ সংযোগের (اتصال) ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সনদ (إسناد) বিচ্ছিন্ন (منقطع) হতে পারে। এর কয়েকটি রূপ রয়েছে:

তার মধ্যে একটি হলো—যখন বর্ণনাকারী চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) হন। কেননা অনেক চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) যার থেকে বর্ণনা করছেন তাঁর নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ (سماع) করার দাবি করেন এবং স্পষ্টভাবে সরাসরি বর্ণনার (تحديث) কথা ব্যক্ত করেন, অথচ তিনি তাঁর থেকে কিছুই শোনেননি। জারহ ওয়া তা'দিল এর প্রথম অধ্যায়ের প্রথম পরিচ্ছেদে চরম মিথ্যাবাদীদের (كذابين) স্পষ্টভাবে বর্ণনার (تحديث) দাবি করা এবং তাদের কিছুই না শোনার ব্যাপারে স্বীকারোক্তি সংক্রান্ত বেশ কিছু বর্ণনা ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

অন্যতম আরেকটি রূপ হলো—কিছু বর্ণনাকারী শ্রবণ (سماع) করার ব্যাপারে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী (موهمة) এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেন যা দ্বারা তিনি প্রকৃতপক্ষে সরাসরি শ্রবণ করা উদ্দেশ্য করেন না। যেমন—'অমুক আমাদের সামনে খুতবা দিয়েছেন', অথবা 'অমুক আমাদের নিকট এসেছেন', অথবা 'অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)', অথচ তিনি এর দ্বারা তাঁর সম্প্রদায় বা তাঁর শহরের অধিবাসীদের উদ্দেশ্য করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومنها - وهي أهمها - أخطاء الرواة، فتكون الرواية في الأصل ليس فيها تصريح بالتحديث، فيخطئ بعض رواة الأسانيد ويستبدل بها بصيغة صريحة في اللقي والسماع.

وانضم إلى ذلك منذ عصر الرواية إلى عصرنا هذا أخطاء النساخ، ثم أخطاء المطابع في العصر الحاضر، فصار لزاماً على الباحث أن يتريث في الحكم باتصال الإسناد وإن كان ظاهره الاتصال، ولا سيما إذا أخذ الإسناد من كتب غير مشهورة، مثل كتب الغرائب، وكتب الفوائد، والأجزاء الحديثية التي ليست من الكتب المشهورة، فهذه يكثر فيها وجود الأخطاء في الأسانيد، وكذلك الكتب المشهورة المنشورة دون تحقيق علمي جيد.

وسيأتي الحديث عن الصورتين الأخيرتين في المبحث الثاني من الفصل الثاني بشيء من التفصيل.

القسم الثاني: أن تأتي الرواية بصيغة محتملة للاتصال وعدمه، وهذه الصيغ كثيرة وأشهرها: عن فلان، فيقول الراوي: حدثنا فلان عن فلان، مثل أن يقول يحيى بن سعيد القطان مثلاً: حدثنا شعبة، عن قتادة، أو حدثنا شعبة، عن الحكم بن عتيبة، أو يقول الأعمش: حدثنا منصور، عن أبي وائل، عن ابن مسعود.

ومن الصيغ المحتملة للسماع وعدمه: (قال)، (ذكر)، (حكى)، (حدث)، وما يؤول إليها، مثل: أن فلاناً قال، أو أنه ذكر … الخ.

وكون هذه الصيغ - عدا (عن) - محتملة للسماع وعدمه أمر ظاهر، لأنها تستخدم في الأمرين كثيراً، فيقول الشخص حاكياً عن شخص شيئاً سمعه منه: قال فلان، ذكر فلان، كما يقول ذلك في حكاية قول شخص لم يسمعه منه، بل
এর মধ্যে একটি—এবং এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—হলো বর্ণনাকারীদের (رواة) ভুল। প্রকৃতপক্ষে মূল বর্ণনায় (رواية) বর্ণনার সুস্পষ্ট ঘোষণা (تصريح بالتحديث) থাকে না, কিন্তু সনদের (أسانيد) কোনো কোনো বর্ণনাকারী ভুলবশত এর পরিবর্তে সাক্ষাৎ (لقي) এবং শ্রবণের (سماع) সুস্পষ্ট শব্দ (صيغة صريحة) ব্যবহার করে ফেলেন।

এর সাথে বর্ণনার যুগ থেকে আমাদের এই যুগ পর্যন্ত পাণ্ডুলিপি লেখকদের ভুল এবং বর্তমান যুগে ছাপাখানার ভুলও যুক্ত হয়েছে। ফলে একজন গবেষকের জন্য এটি আবশ্যক হয়ে পড়েছে যে, তিনি যেন সনদের অবিচ্ছিন্নতার (اتصال الإسناد) হুকুম প্রদানে তাড়াহুড়ো না করেন, যদিও বাহ্যিকভাবে তা অবিচ্ছিন্ন (اتصال) মনে হয়। বিশেষ করে যখন সনদটি এমন কোনো অখ্যাত গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়, যেমন কুতুবুল গরায়েব, কুতুবুল ফাওয়াইদ এবং হাদিসের ওইসব খণ্ড যা প্রসিদ্ধ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এসব গ্রন্থে সনদের মধ্যে ভুলের উপস্থিতি অনেক বেশি থাকে। একইভাবে ওইসব প্রসিদ্ধ গ্রন্থ যা যথাযথ বৈজ্ঞানিক সম্পাদনা (تحقيق) ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে শেষোক্ত দুটি সুরত বা অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

দ্বিতীয় প্রকার: বর্ণনাটি এমন শব্দে (صيغة) আসা যা অবিচ্ছিন্নতা (اتصال) থাকা বা না থাকার উভয় সম্ভাবনা রাখে। এ জাতীয় শব্দ (صيغ) অনেক রয়েছে এবং তার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো: 'অমুক হতে' (عن فلان)। ফলে বর্ণনাকারী (راوي) বলেন: 'অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন অমুক হতে' (حدثنا فلان عن فلان); যেমন উদাহরণস্বরূপ ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বলেন: 'শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ হতে', অথবা 'শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-হাকাম ইবনে উতাইবাহ হতে', অথবা আল-আমাশ বলেন: 'মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ওয়ায়েল হতে, তিনি ইবনে মাসউদ হতে'।

শ্রবণ (سماع) ও অ-শ্রবণের উভয় সম্ভাবনা রাখে এমন শব্দগুলোর (صيغ) মধ্যে রয়েছে: 'বলেছেন' (قال), 'উল্লেখ করেছেন' (ذكر), 'বর্ণনা করেছেন' (حكى), 'কথা বলেছেন' (حدث) এবং যা এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত হয়; যেমন: 'অমুক বলেছেন' বা 'তিনি উল্লেখ করেছেন' … ইত্যাদি।

'আন' (عن) ব্যতীত এই শব্দগুলো যে শ্রবণ (سماع) ও অ-শ্রবণের সম্ভাবনা রাখে তা সুস্পষ্ট। কারণ এগুলো উভয় অর্থেই প্রচুর ব্যবহৃত হয়। একজন ব্যক্তি তার থেকে শোনা কোনো বিষয় বর্ণনা করার সময় যেমন বলেন: 'অমুক বলেছেন' (قال فلان), 'অমুক উল্লেখ করেছেন' (ذكر فلان); ঠিক একইভাবে তিনি এই শব্দগুলো এমন ব্যক্তির বক্তব্য বর্ণনার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন যার থেকে তিনি সরাসরি শোনেননি, বরং...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ১৭)
قد يكون بينه وبينه أزمان متباعدة، كما نقول نحن: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا.

وأما صيغة (عن) فإنما كانت محتملة للأمرين لأنها في الأصل ليست صيغة أداء، وإنما هي بدل عن صيغ الأداء، ثم هي قد يكون الراوي نفسه عبر بها، فيقول الأعمش - مثلاً - ابتداء: عن إبراهيم، أو عن أبي وائل، أو يقول يحيى القطان: عن سفيان الثوري … ، ويسوق الإسناد.

ومن النصوص في هذا ما ذكره أحمد، عن سفيان بن عيينة قال: "سمعت محمد بن المنكدر يقول غير مرة: عن جابر، قال: وكأني سمعته مرة يقول: أخبرني من سمع جابراً، فظننت أنه سمعه من ابن عقيل، حديث جابر: ((أن النبي عليه السلام أكل لحماً، ثم صلى ولم يتوضأ)) "(1).

وقال عمرو بن أبي سلمة: "قلت للأوزاعي في المناولة أقول فيها: حدثنا؟ قال: إن كنت حدثتك فقل، فقلت: أقول: أخبرنا؟ قال: لا، قلت: فكيف أقول؟ قال: قل: قال أبو عمرو، وعن أبي عمرو "(2).

وذكر عباس الدوري قال: "سألت يحيى بن معين عن حديث ورقاء بن عمر أنه كان يقول في أولها: عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد - فقيل له (يعني لابن معين): ترى بأساً أن يخرجها إنسان فيكتب في كل حديث: ورقاء، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد؟ قال: ليس به بأس "(3).

--------------------------------------------

(1). "مسند أحمد" 3: 307، و" مسائل أبي داود" ص 322.

(2). " تاريخ أبي زرعة الدمشقي " 1: 264، 2: 723.

(3). "الكفاية" ص 215.
তাঁর এবং তাঁর (শায়খের) মাঝে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান থাকতে পারে, যেমনটি আমরা বলি: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেছেন।

আর 'হতে' (عن) পরিভাষাটি উভয় বিষয়ের সম্ভাবনা রাখে, কারণ এটি মূলত সরাসরি কোনো বর্ণনার ভঙ্গি (صيغة أداء) নয়, বরং এটি বর্ণনার ভঙ্গিগুলোর স্থলাভিষিক্ত মাত্র। তাছাড়া এমনও হতে পারে যে, বর্ণনাকারী (الراوي) নিজেই এটি ব্যবহার করেছেন। যেমন—আমাশ শুরুর দিকে বলেন: ইব্রাহিম হতে, অথবা আবু ওয়াইল হতে; অথবা ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেন: সুফিয়ান সাওরী হতে... এভাবে তিনি সনদ (الإسنাদ) বর্ণনা করেন।

এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার উক্তিটি উল্লেখ করা যায়, তিনি বলেন: "আমি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদিরকে একাধিকবার জাবির হতে (عن) বর্ণনা করতে শুনেছি। আবার আমি তাঁকে একবার বলতে শুনেছি: আমাকে এমন এক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি জাবির থেকে শুনেছেন। তখন আমি ধারণা করলাম যে, তিনি এটি ইবনে আকিল থেকে শুনেছেন। জাবিরের হাদিসটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোশত খেয়েছিলেন, এরপর সালাত আদায় করেছিলেন এবং অজু করেননি"(1)।

আমর ইবনে আবু সালামা বলেন: "আমি ইমাম আওযায়ীকে মুনাহওয়ালাহ (المناولة) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি এতে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثنا) বলতে পারি? তিনি বললেন: যদি আমি তোমার নিকট বর্ণনা করে থাকি তবে তা বলো। আমি বললাম: আমি কি 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا) বলতে পারি? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: তবে আমি কীভাবে বলব? তিনি বললেন: বলো: আবু আমর বলেছেন, এবং আবু আমর হতে (عن)"(2)।

আব্বাস আদ-দুরী উল্লেখ করেন, তিনি বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে ওয়ারকা ইবনে ওমরের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তিনি এর শুরুতে বলতেন: ইবনে আবু নাজীহ হতে (عن), মুজাহিদ হতে (عن)। তখন ইবনে মাঈনকে বলা হলো: কোনো ব্যক্তি যদি সেভাবে বর্ণনাটি উদ্ধৃত করে এবং প্রতিটি হাদিসে লেখে: ওয়ারকা, ইবনে আবু নাজীহ হতে (عن), মুজাহিদ হতে (عن)—তবে কি আপনি এতে কোনো সমস্যা মনে করেন? তিনি বললেন: এতে কোনো সমস্যা নেই"(3)।

--------------------------------------------

(1). "মুসনাদ আহমাদ" ৩: ৩০৭, এবং "মাসায়িল আবি দাউদ" পৃ. ৩২২।

(2). "তারিখ আবি যুরআ আদ-দিমাশকি" ১: ২৬৪, ২: ৭২৩।

(3). "আল-কিফায়াহ" পৃ. ২১৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال ابن معين: "كان ابن عيينة يدلس فيقول: عن الزهري، فإذا قيل له: من دون الزهري؟ فيقول لهم: أليس لكم في الزهري مقنع؟ فيقال: بلى، فإذا استقصي عليه يقول: معمر، اكتبوا لا بارك الله فيكم"(1).

وقال أبوحاتم: "عبدالله بن شوذب خراساني ثقة، وقع إلى الرملة، ويقول ابن شوذب: عن الحسن، ولم يره ولم يسمع منه"(2).

وربما ذكر الراوي اسم نفسه من أجل الابتداء بـ (عن)، فيقول سفيان بن عيينة مثلاً لتلاميذه: اكتبوا: سفيان، عن عمرو بن دينار(3).

وفي الأغلب الأعم فإن التعبير بصيغة (عن فلان) إنما هو من التلميذ أو من دونه، إما لأن الراوي لم يذكر صيغة أصلاً، فقد يبتدئ باسم شيخه مباشرة، كما يفعله كثير من الرواة، وخاصة عند الإملاء، أو يكون الشيخ بين تلاميذه، فيذكر المتن، وهم يذكرون الإسناد، أو العكس، ويسمونه الترقيع.

ومن النصوص في ذلك ما رواه إبراهيم الحربي، عن أبي زرعة الرازي، عن إبراهيم بن موسى الفراء الصغير، قال: سمعت جريراً يقول: "ليس هذه الأحاديث التي أحدثكم عن الأعمش سمعتها كما أحدثكم، إنما كان الأعمش يذكر الإسناد، فيقول بعض أصحابه: خبر هذا كذا، وخبر هذا كذا، فنكتبه عنهم، ويذكر الخبر فيقول بعض أصحابه: إسناد هذا كذا وكذا، فنكتبه عنهم"، قال إبراهيم الحربي: "فحدثت بذلك ابن نمير، فقال: هكذا ينبغي أن يكون

--------------------------------------------

(1). "التمهيد" 1: 31.

(2). "المراسيل" ص 116.

(3). انظر: "التمهيد" 1: 27.
ইবনে মাঈন বলেন: "ইবনে উইয়াইনা তাদলিস করতেন (يدلس); তিনি বলতেন: যুহরি হতে (عن)। যখন তাকে বলা হতো: যুহরি ছাড়া আর কে আছে? তখন তিনি তাদের বলতেন: যুহরির বর্ণনা কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয়? বলা হতো: অবশ্যই, এরপর যখন তার কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হতো, তখন তিনি বলতেন: মা'মার; (এখন) লিখুন, আল্লাহ আপনাদের মাঝে বরকত না দিন"(1).

আবু হাতিম বলেন: "আবদুল্লাহ বিন শাওযাব ছিলেন খুরাসানি এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة), তিনি রামলায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। ইবনে শাওযাব বলতেন: হাসান হতে (عن); অথচ তিনি তাকে দেখেননি এবং তার থেকে কিছু শুনেনওনি"(2).

কখনো কখনো বর্ণনাকারী 'হতে' (عن) শব্দ দিয়ে শুরু করার উদ্দেশ্যে নিজের নাম উল্লেখ করতেন। যেমন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা তার ছাত্রদের বলতেন: লিখুন: সুফিয়ান, আমর বিন দিনার হতে (عن)(3).

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই 'অমুক হতে' (عن فلان) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকাশ করার বিষয়টি মূলত ছাত্র বা তার পরবর্তী স্তরের কারো পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। কারণ বর্ণনাকারী মূলত কোনো শব্দই উচ্চারণ করেন না; বরং তিনি সরাসরি তার উস্তাদের নাম দিয়ে শুরু করতে পারেন, যেমনটি অনেক বর্ণনাকারীই করে থাকেন, বিশেষ করে শ্রুতিলিখন (إملاء) করানোর সময়। অথবা উস্তাদ তার ছাত্রদের মাঝে অবস্থান করেন এবং তিনি মূল পাঠ (متن) বর্ণনা করেন আর তারা সনদ (إسناد) উল্লেখ করেন অথবা এর উল্টোটা ঘটে, যাকে তারা জোড়াতালি (ترقيع) বলে অভিহিত করেন।

এই প্রসঙ্গে বর্ণিত পাঠসমূহের মধ্যে একটি হলো যা ইব্রাহিম আল-হারবি বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ আর-রাজি হতে, তিনি ইব্রাহিম বিন মুসা আল-ফাররা আস-সগির হতে, তিনি বলেন: আমি জারিরকে বলতে শুনেছি: "আমাশ হতে (عن) আমি তোমাদের কাছে যে হাদিসগুলো বর্ণনা করি, সেগুলো আমি সেভাবে শুনিনি যেভাবে তোমাদের কাছে বর্ণনা করছি। আমাশ মূলত সনদ (إسناد) উল্লেখ করতেন, তখন তার কোনো কোনো সাথী বলতেন: এই খবরের পাঠ এরূপ, আর ঐ খবরের পাঠ এরূপ; তখন আমরা তাদের থেকে তা লিখে নিতাম। আবার তিনি খবরটি উল্লেখ করতেন এবং তার কোনো কোনো সাথী বলতেন: এর সনদ (إسناد) এরূপ এরূপ; তখন আমরা তাদের থেকে তা লিখে নিতাম।" ইব্রাহিম আল-হারবি বলেন: "আমি ইবনে নুমাইরের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বলেন: বিষয়টি এমনই হওয়া উচিত।"

--------------------------------------------

(1). "আত-তামহিদ" ১: ৩১।

(2). "আল-মারাসিল" পৃ. ১১৬।

(3). দেখুন: "আত-তামহিদ" ১: ২৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ১৯)
سماع أبي، وابن فضيل، ووكيع، ونظرائهم: مرقعاً، ولكن هؤلاء كتموا ذلك، وذاك تكلم به"(1).

وقال أبوداود: "سمعت أحمد سئل عن المحدث يذكر الحديث فيقال: مَنْ دون فلان؟ فيقول: فلان - هو جائز؟ قال: نعم، قلت: يؤلفه - أعني الذي يسمع هكذا -؟ قال: يؤلفه، وهل كان شريك يحدث إلا هكذا؟ كان يذكر الحديث فيقال: من ذكره؟ فيقول: فلان، فيقال: عمن؟ فيقول: فلان"(2).

وقال المروذي: "سمعت أبا عبدالله يقول: كان أبو بدر لا يقول: حدثنا، ولقد أرادوه على أن يقول: حدثنا خصيف، فأبى، وقال: أليس هو ذا أقول: خصيف؟ "(3).

وقد يكون الراوي قد ذكر صيغة حين التحديث، إما صريحة في الاتصال أو في الانقطاع، أو محتملة لهذا وهذا، والغرض حينئذٍ من التعبير بـ (عن) التخفيف على رواة الحديث وكتبته، كما قال الخطيب: "إنما استجاز كتبة الحديث الاقتصار على العنعنة لكثرة تكررها، ولحاجتهم إلى كتب الأحاديث المجملة بإسناد واحد، فتكرار القول من المحدث: حدثنا فلان، عن سماعه من فلان - يشق ويصعب، لأنه لو قال: أحدثكم عن سماعي من فلان، وروى فلان عن سماعه من فلان، حتى يأتي على أسماء جميع مسندي الخبر، إلى أن يرفع إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفي كل حديث يرد مثل ذلك الإسناد

--------------------------------------------

(1). "الكفاية" ص 71، وانظر: "المعرفة والتاريخ " 2: 829.

(2). "مسائل أبي داود" ص 281، و"الكفاية" ص 212.

(3). "علل المروذي" ص 163.
"আমার পিতা, ইবনে ফুদাইল, ওয়াকি এবং তাঁদের সমসাময়িকদের শ্রবণ (سماع) ছিল: জোড়াতালি দেওয়া (مرقعاً), কিন্তু তাঁরা তা গোপন করতেন, আর তিনি তা প্রকাশ করে দিতেন"(১).

আবু দাউদ বলেন: "আমি আহমাদকে বলতে শুনেছি, যখন জনৈক মুহাদ্দিস (محدث) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি হাদিস উল্লেখ করেন কিন্তু বলা হয়: অমুকের আগে কে? তিনি বলেন: অমুক - এটা কি অনুমোদিত (جائز)? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: তিনি কি তা সংকলন করবেন - অর্থাৎ যিনি এভাবে শ্রবণ (سماع) করেন? তিনি বললেন: তিনি তা সংকলন করবেন। আর শারীক কি এভাবে ছাড়া হাদিস বর্ণনা (يحدث) করতেন? তিনি হাদিস উল্লেখ করতেন তখন বলা হতো: এটি কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বলতেন: অমুক। তারপর বলা হতো: কার থেকে? তিনি বলতেন: অমুক"(২).

আল-মাররুযী বলেন: "আমি আবু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি: আবু বদর 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)' বলতেন না। তারা চেয়েছিলেন যে তিনি যেন বলেন: 'খুসাইফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)', কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন এবং বলেন: আমি কি বলছি না যে: খুসাইফ?"(৩).

কখনও কখনও বর্ণনাকারী (راوي) হাদিস বর্ণনার (التحديث) সময় এমন একটি শব্দসমষ্টি (صيغة) উল্লেখ করেন যা হয় স্পষ্টত সংযুক্ততা (اتصال) বুঝায় অথবা বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) বুঝায়, অথবা উভয়ের সম্ভাবনা রাখে। এমতাবস্থায় 'হতে (عن)' শব্দ ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো হাদিস বর্ণনাকারী এবং লেখকদের জন্য সহজ করা। যেমন খতিব বলেছেন: "হাদিস লেখকরা কেবল বারবার পুনরাবৃত্তির কারণে এবং একটিমাত্র সনদ (إسناد) দিয়ে সংক্ষিপ্ত হাদিসসমূহ লেখার প্রয়োজনীয়তার দরুন 'আনআনা' (عنعنة) ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। কারণ মুহাদ্দিসের (محدث) পক্ষ থেকে বারবার এ কথা বলা যে: 'অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), অমুকের নিকট তাঁর শ্রবণ (سماع) হতে' - অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও কঠিন। কেননা যদি তিনি বলতেন: 'আমি তোমাদের নিকট বর্ণনা করছি অমুকের নিকট আমার শ্রবণ (سماع) হতে, এবং অমুক বর্ণনা করেছেন অমুকের নিকট তাঁর শ্রবণ (سماع) হতে', যতক্ষণ না সংবাদের সকল সনদ বর্ণনাকারীদের (مسندي) নাম শেষ হয় এবং তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে, এবং প্রতিটি হাদিসেই যদি অনুরূপ সনদ (إسناد) ফিরে আসে

--------------------------------------------

(১). আল-কিফায়াহ, পৃষ্ঠা ৭১, এবং দেখুন: আল-মারিফাহ ওয়াত তারিখ ২: ৮২৯।

(২). মাসায়েল আবি দাউদ, পৃষ্ঠা ২৮১, এবং আল-কিফায়াহ, পৃষ্ঠা ২১২।

(৩). ইলাল আল-মাররুযী, পৃষ্ঠা ১৬৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ২০)
- لطال وأضجر، وربما كثر رجال الإسناد حتى يبلغوا عشرة وزيادة على ذلك، وفيه إضرار بكتبة الحديث، وخاصة المقلين منهم(1)، والحاملين لحديثهم في الأسفار، ويذهب بذكر ما مثلناه مدة من الزمان، فساغ لهم لأجل هذه الضرورة استعمال: عن فلان"(2).

وما أشار إليه الخطيب فيه نصوص كثيرة عن الأئمة، من ذلك قول الوليد: "كان الأوزاعي إذا حدثنا يقول: حدثنا يحيى، قال: حدثنا فلان، قال: حدثنا فلان، حتى ينتهي، قال الوليد: فربما حدثت كما حدثني، وربما قلت: عن، عن، عن، تخففاً من الأخبار"(3).

وروى أحمد بن محرز قال: "سمعت يحيى بن معين يقول: قال يحيى بن سعيد القطان: كل حديث سمعته من سفيان قال: حدثني وحدثنا إلا حديثين: سماك عن عكرمة، ومغيرة عن إبراهيم - ذكر يحيى بن معين الحديثين فنسيتهما-، وكل حديث شعبة قال: حدثني وأخبرني، وكل حديث عبيدالله قال: حدثني وأخبرني، فإذا حدثتك عن أحد منهم فلا تحتاج أن أقول لك: حدثني ولا أخبرني، ولا حدثنا ولا أخبرنا، فقال حبيش بن مبشر - يفسر ذلك بحضرة يحيى بن معين -: هذا بمنزلة رجلٍ قال: حدثنا يزيد بن هارون، قال: حدثنا يحيى بن سعيد، فإذا قال بعد ذلك: حدثنا يزيد بن هارون، عن يحيى بن سعيد، لم يحتج أن يقول: حدثنا يزيد، قال: حدثنا يحيى بن سعيد، وقال عبدالله بن

--------------------------------------------

(1). يعني بالمقلين من هو قليل المال.

(2). "الكفاية" ص 390.

(3). "المعرفة والتاريخ" 2: 464، و"الكفاية" ص 390.
এটি দীর্ঘ ও বিরক্তিকর হতো; সম্ভবত সনদের (إسناد) ব্যক্তিবর্গের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দশ বা তারও বেশি হয়ে যেত। এতে হাদিস লেখকগণের জন্য অসুবিধা হতো, বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে যারা অভাবী (المقلين) এবং যারা সফরের সময় তাঁদের হাদিস সাথে বহন করেন। আমরা যে উদাহরণ দিয়েছি তা উল্লেখ করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার; তাই এই প্রয়োজনের খাতিরে তাঁদের জন্য 'অমুক থেকে (عن فلان)' শব্দ ব্যবহার করা বৈধ করা হয়েছে।(১)

আল-খতিব যা ইঙ্গিত করেছেন সে বিষয়ে ইমামগণের অনেক মূল বক্তব্য (نصوص) রয়েছে। তন্মধ্যে আল-ওয়ালিদের এই উক্তিটি অন্যতম: "আল-আওযাঈ যখন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন তিনি বলতেন: 'ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)', তিনি বলতেন: 'অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)', তিনি বলতেন: 'অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)', এভাবে শেষ পর্যন্ত। আল-ওয়ালিদ বলেন: 'কখনও আমি সেভাবেই বর্ণনা করতাম যেভাবে তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবার কখনও বর্ণনাগুলোকে (الأخبار) সংক্ষিপ্ত করার জন্য আমি বলতাম: থেকে (عن), থেকে (عن), থেকে (عن)'।"(২)

আহমাদ ইবনে মাহরায বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বলেছেন: 'আমি সুফিয়ান থেকে যে সকল হাদিস শুনেছি, তিনি সেগুলোতে বলেছেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); কেবল দুটি হাদিস ব্যতীত: সিমাক 'ইকরিমা থেকে (عن), এবং মুগীরা ইবরাহীম থেকে (عن) - ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন হাদিস দুটি উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু আমি তা ভুলে গিয়েছি। আর শু'বাহর প্রতিটি হাদিসে তিনি বলেছেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), এবং উবাইদুল্লাহর প্রতিটি হাদিসে তিনি বলেছেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني)। সুতরাং আমি যখন তোমাদের নিকট তাঁদের কারো পক্ষ থেকে বর্ণনা করব, তখন আমার জন্য 'আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)' বা 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني)' অথবা 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)' বা 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)' বলার প্রয়োজন নেই'।" এরপর হুবায়শ ইবনে মুবাশশির - ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের উপস্থিতিতে এর ব্যাখ্যা করে - বলেন: "এটি সেই ব্যক্তির ন্যায় যে বলল: 'ইয়াযীদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বললেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)'। এরপর যদি সে বলে: 'ইয়াযীদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে (عن)', তবে তার জন্য পুনরায় 'ইয়াযীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' বলার প্রয়োজন নেই।" এবং আব্দুল্লাহ ইবনে...

--------------------------------------------

(১). অভাবী (المقلين) বলতে এখানে স্বল্প সম্পদের অধিকারীকে বোঝানো হয়েছে।

(২). "আল-কিফায়াহ" পৃষ্ঠা ৩৯০।

(৩). "আল-মা'রিফাহ ওয়াত তারিখ" ২: ৪৬৪, এবং "আল-কিফায়াহ" পৃষ্ঠা ৩৯০।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ২১)
رومي اليمامي بحضرة ابن معين: هو أن يقول فيه: حدثنا، قال: حدثنا، ثم إذا قال: فلان عن فلان، كان كله حدثنا"(1).

وقال محمد بن عبدالله بن عمار: "قلت له: (يعني لحفص بن غياث) ما لكم حديثكم عن الأعمش إنما هو: عن فلان، عن فلان، ليس فيه حدثنا، ولا سمعت؟ قال: فقال: حدثنا الأعمش، قال: سمعت أبا عمار، عن حذيفة يقول … ، قال: وذكر حديثاً آخر مثله، قال: وكان عامة حديث الأعمش عند حفص بن غياث على الخبر والسماع"(2).

وقال أبو زرعة: "سألت أحمد بن حنبل عن حديث أسباط، عن الشيباني، عن إبراهيم، قال: سمعت ابن عباس، فقال: عن ابن عباس، فقلت: إن أسباط هكذا يقول، فقال: قد علمت، ولكن إذا قلت: عن فقد خلصته، وخلصت نفسي، أو نحو هذا المعنى"(3).

ومراد أحمد أن أسباط يخطئ في جعله رواية إبراهيم سماعاً من ابن عباس، فأبدل بها أحمد صيغة عن، ستراً عليه، ولكي لا يظن موافقته على الخطأ.

وقال أحمد في محمد بن سيرين: "لم يسمع من ابن عباس شيئاً، كلها يقول: نبئت عن ابن عباس"(4)، والموجود في رواياته عن ابن عباس أكثره بالعنعنة أو

--------------------------------------------

(1). "معرفة الرجال" ص 215، وانظر: "تاريخ الدوري" 1: 306.

(2). تهذيب الكمال" 7: 63.

(3). "أسئلة البرذعي لأبي زرعة" ص 768، وانظر: " مسند أحمد " حديث (2049).

(4). "العلل ومعرفة الرجال" 1: 487، 2: 595، و"المراسيل" ص 186.
রুমী আল-ইয়ামামী ইবনে মাঈনের উপস্থিতিতে বলেন: “তা হলো তিনি (বর্ণনাকারী) বলবেন: ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)’, তিনি বললেন: ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)’। অতঃপর যখন তিনি বলবেন: ‘অমুক অমুক থেকে (عن)’, তখন তার পুরোটাই ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)’ হিসেবে গণ্য হবে।”(1).

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আম্মার বলেন: “আমি তাকে (অর্থাৎ হাফস ইবনে গিয়াসকে) বললাম: আ’মাশ থেকে আপনাদের বর্ণিত হাদিসগুলো কেন কেবল ‘অমুক থেকে (عن), অমুক থেকে (عن)’? তাতে তো ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)’ কিংবা ‘আমি শুনেছি (سمعت)’ নেই। তিনি বলেন: তখন তিনি বললেন: আ’মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বললেন: আমি আবু আম্মার থেকে শুনেছি (سمعت), তিনি হুজায়ফা থেকে বর্ণনা করেন … , তিনি বলেন: এভাবে তিনি আরেকটি অনুরূপ হাদিস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন: হাফস ইবনে গিয়াসের নিকট আ’মাশ থেকে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিসই বর্ণনা (الخبر) ও শ্রবণ (السماع) এর ভিত্তিতে ছিল।”(2).

আবু জুরআহ বলেন: “আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে আসবাত-এর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যা তিনি শায়বানী থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন; সেখানে ইব্রাহিম বলেছেন: ‘আমি ইবনে আব্বাস থেকে শুনেছি (سمعت)’। তখন ইমাম আহমদ বললেন: ‘ইবনে আব্বাস থেকে (عن)’। আমি বললাম: আসবাত তো এভাবেই (আমি শুনেছি বলে) বর্ণনা করেন। তিনি বললেন: আমি জানি, তবে আমি যখন ‘থেকে (عن)’ শব্দটি বলি, তখন আমি তাকে (ভুল থেকে) মুক্ত করি এবং নিজেকেও মুক্ত করি—বা এই জাতীয় কোনো অর্থ।”(3).

ইমাম আহমদের উদ্দেশ্য হলো, আসবাত ইব্রাহিমের বর্ণনাকে ইবনে আব্বাস থেকে সরাসরি শ্রবণ (سماعاً) হিসেবে উল্লেখ করে ভুল করছেন। তাই ইমাম আহমদ তার ভুল ঢেকে রাখার জন্য এবং আহমদ তাকে এই ভুলের ওপর সমর্থন করছেন—এমনটি যেন মনে না করা হয়, সে কারণে ‘থেকে (عن)’ শব্দ দ্বারা তা পরিবর্তন করে দিয়েছেন।

মুহাম্মদ ইবনে সিরিন সম্পর্কে ইমাম আহমদ বলেন: “তিনি ইবনে আব্বাস থেকে কিছুই শুনেননি (سمع), তিনি সবসময় বলেন: আমাকে ইবনে আব্বাস থেকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে (نبئت)।”(4), আর ইবনে আব্বাস থেকে তার বর্ণিত হাদিসগুলোর অধিকাংশই আনআনা (العنعنة) বা

--------------------------------------------

(1). মারিফাতুর রিজাল, পৃ. ২১৫; আরও দেখুন: তারিখুদ দুরী ১: ৩০৬।

(2). তাহজিবুল কামাল ৭: ৬৩।

(3). আসইলাতুল বারযাঈ লি-আবি জুরআহ, পৃ. ৭৬৮; আরও দেখুন: মুসনাদে আহমদ, হাদিস (২০৪৯)।

(4). আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল ১: ৪৮৭, ২: ৫৯৫; এবং আল-মারাসিল, পৃ. ১৮৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ২২)
بصيغة (أن)، والقليل منه فيه ما ذكره أحمد(1).

وقال عبدالله بن أحمد: "قال أبي: رأيت سنيداً عند حجاج بن محمد، وهو يسمع منه كتاب "الجامع" - يعني لابن جريج -، فكان في الكتاب: ابن جريج قال: أخبرت عن يحيى بن سعيد، وأخبرت عن الزهري، وأخبرت عن صفوان بن سليم، فجعل سنيد يقول لحجاج: قل يا أبا محمد: ابن جريج، عن الزهري، وابن جريج، عن يحيى بن سعيد، وابن جريج، عن صفوان بن سليم، فكان يقول له هكذا.

ولم يحمده أبي فيما رآه يصنع بحجاج، وذمَّه على ذلك، قال أبي: وبعض هذه الأحاديث التي كان يرسلها ابن جريج أحاديث موضوعة، كان ابن جريج لا يبالي من أين يأخذه؟ يعني قوله: أخبرت وحدثت عن فلان"(2).

قال ابن حجر بعد أن ذكر هذه القصة: "وحكى الخلال عن الأثرم نحو ذلك. ثم قال الخلال: وروي أن حجاجاً كان منه هذا في وقت تغيره، ويرى أن أحاديث الناس عن حجاج صحاح، إلا ما روى سنيد"(3).

وروى المروذي قال: " قال أحمد: كان ابن إسحاق يدلس، إلا أن كتاب إبراهيم بن سعد يبين، إذا كان سماعاً قال: حدثني، وإذا لم يكن قال: قال، ثم قال: يقول: قال أبو الزناد، قال فلان، قال: وتنظر في كتاب يزيد بن هارون: عن

--------------------------------------------

(1). انظر: "تحفة الأشراف" 5: 231، و" أطراف المسند" 2: 272، 3: 260.

(2). "العلل ومعرفة الرجال" 2: 551.

(3). "تهذيب التهذيب" 4: 244.
"আন" (أن) শব্দযোগে (صيغة), এবং এর মধ্যে অল্প কিছু বর্ণনা রয়েছে যা আহমাদ(১) উল্লেখ করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন: "আমার পিতা বলেছেন: আমি হজ্জাজ ইবনে মুহাম্মাদের নিকট সুনাইদকে দেখেছি, যখন সে তার কাছ থেকে 'আল-জামি' বইটি শুনছিল—অর্থাৎ ইবনে জুরাইজের কিতাব। কিতাবটিতে ছিল: ইবনে জুরাইজ বলেছেন: 'আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে' (أخبرت), 'আমাকে যুহরি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে' (أخبرت), এবং 'আমাকে সাফওয়ান ইবনে সুলাইম সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে' (أخبرت)। তখন সুনাইদ হজ্জাজকে বলতে লাগলেন: 'হে আবু মুহাম্মাদ, আপনি বলুন: ইবনে জুরাইজ, যুহরি থেকে (عن), ইবনে জুরাইজ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে (عن), এবং ইবনে জুরাইজ, সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে (عن)'। তিনি তাকে এভাবেই বলতে বলতেন।

হজ্জাজের সাথে তিনি যা করছিলেন, তাতে আমার পিতা তার প্রশংসা করেননি এবং এর জন্য তার নিন্দা করেছেন। আমার পিতা বলেছেন: ইবনে জুরাইজ যে হাদিসগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (مرسل) করতেন, তার মধ্যে কিছু জাল (موضوع) হাদিস ছিল। ইবনে জুরাইজ পরোয়া করতেন না যে তিনি কার কাছ থেকে তা গ্রহণ করছেন? অর্থাৎ তার এই কথা: 'আমাকে অমুক সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে' (أخبرت) বা 'আমার কাছে অমুক থেকে বর্ণনা করা হয়েছে' (حدثت)"(২)।

ইবনে হাজার এই ঘটনাটি উল্লেখ করার পর বলেন: "আল-খাল্লাল আল-আছরাম থেকে এই রূপই বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আল-খাল্লাল বলেন: বর্ণিত আছে যে, হজ্জাজ যখন স্মৃতিবিভ্রাটের (تغير) শিকার হয়েছিলেন, তখন তার থেকে এমনটি ঘটেছিল। আর এটিই মনে করা হয় যে, হজ্জাজ থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো বিশুদ্ধ (صحيح), কেবল সুনাইদ যা বর্ণনা করেছেন তা ব্যতিরেকে"(৩)।

আল-মারওয়াজি বর্ণনা করেন যে: "আহমাদ বলেছেন: ইবনে ইসহাক তাদলিস (تدليس) করতেন, তবে ইব্রাহিম ইবনে সা'দের কিতাবে এটি স্পষ্ট হয়ে যায়। যখন সরাসরি শ্রবণ (سماع) হতো, তিনি বলতেন: 'তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثني), আর যখন তা হতো না, তিনি বলতেন: 'তিনি বলেছেন' (قال)। অতঃপর তিনি বলেন: তিনি বলতেন: আবুয যিনাদ বলেছেন, অমুক বলেছেন। তিনি আরও বলেন: আপনি ইয়াজিদ ইবনে হারুনের কিতাবে দেখুন: থেকে (عن)...

--------------------------------------------

(১). দেখুন: "তুহফাতুল আশরাফ" ৫: ২৩১, এবং "আতরাফুল মুসনাদ" ২: ২৭২, ৩: ২৬০।

(২). "আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল" ২: ৫৫১।

(৩). "তাহজিবুত তাহজিব" ৪: ২৪৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ২৩)
أبي الزناد، كلها"(1).

وقد جاء في نص واحد عن حماد بن زيد الابتداء بها من المحدث، والتعبير بها عن صيغة أخرى للشيخ، فقال عفان: "جاء جرير بن حازم إلى حماد بن زيد فجعل يقول: حدثنا محمد قال: سمعت شريحاً، حدثنا محمد قال: سمعت شريحاً، فجعل حماد يقول: يا أباالنضر: عن محمد، عن شريح، عن محمد، عن شريح"(2).

فاتضح مما تقدم أن صيغة (عن) محتملة للسماع وعدمه، إذ قد تكون هي أصل الرواية فهي في نفسها محتملة للسماع وعدمه، وقد تكون مبدلة عن صيغ صريحة في الاتصال أو الانقطاع أو عن صيغ محتملة.

وقد تحدث المعلمي عن استخدام (عن) في الرواية فذكر أنها كلها من تعبير من دون الراوي(3)، والذي يظهر ما تقدم آنفاً أنها قد تكون من إنشاء الراوي نفسه، وإن كان الأغلب الأعم أنها من تعبير من دونه.

وذكر أيضاً أنها مبدلة إما من صيغة صريحة كحدثنا، وسمعت، أو من صيغة محتملة كحدث وقال، ولا يحتمل أن تكون مبدلة من صيغة صريحة في الانقطاع مثل بلغني عن فلان، لأن فعل هذا من تدليس التسوية، لكن المعلمي رجع مرة أخرى فسلَّم بوقوع ذلك، حيث يكون الراوي معروفاً بالتدليس، فالراوي إذا كان كذلك، لا فرق بين أن تكون روايته بـ (عن)، أو مصرحاً

--------------------------------------------

(1). "علل المروذي" ص 38.

(2). "العلل ومعرفة الرجال" 3: 79، وانظر أيضاً: 2: 536.

(3). "التنكيل" 1: 82.
আবিয যিনাদ, সবগুলিই।"(1).

হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে বর্ণিত একটি পাঠে মুহাদ্দিসের পক্ষ থেকে এটি (আন/عن) ব্যবহারের সূচনা এবং শাইখের অন্য কোনো পরিভাষার (صيغة) পরিবর্তে এটি ব্যবহারের বিষয়টি পাওয়া যায়। আফফান বলেন: "জারির ইবনে হাযিম হাম্মাদ ইবনে যাইদের নিকট এসে বলতে লাগলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমি শুরাইহ থেকে শুনেছি (سمعت); আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমি শুরাইহ থেকে শুনেছি (سمعت)। তখন হাম্মাদ বলতে লাগলেন: হে আবু আন-নাদর! বরং বলো: মুহাম্মাদ থেকে (عن), শুরাইহ থেকে (عن), মুহাম্মাদ থেকে (عن), শুরাইহ থেকে (عن) [এভাবে]।"(2).

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হলো যে, 'আন' (عن) পরিভাষাটি শ্রবণের (سماع) এবং শ্রবণ না হওয়ার—উভয় সম্ভাবনা রাখে। কেননা এটি মূল বর্ণনার শব্দ হতে পারে, যা স্বয়ং শ্রবণ (سماع) এবং না হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। আবার এটি এমন কোনো পরিভাষার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে যা সরাসরি সুসংযুক্ততা (اتصال) বা বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) প্রকাশ করে, অথবা অন্য কোনো সম্ভাব্য পরিভাষার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে।

আল-মুআল্লিমি বর্ণনার ক্ষেত্রে 'আন' (عن) ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এই সবগুলিই বর্ণনাকারীর (راوي) পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের ব্যবহৃত শব্দ। তবে ইতিপূর্বে যা আলোচনা করা হয়েছে তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এটি কখনো বর্ণনাকারীর (راوي) নিজস্ব প্রকাশভঙ্গিও হতে পারে, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি তার পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের ব্যবহৃত শব্দ।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এটি হয় কোনো স্পষ্ট পরিভাষা—যেমন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) এবং আমি শুনেছি (سمعت)—এর স্থলাভিষিক্ত হয়, অথবা কোনো সম্ভাব্য পরিভাষা—যেমন: বর্ণনা করেছেন (حدث) ও বলেছেন (قال)—এর স্থলাভিষিক্ত হয়। এটি কোনো বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) জ্ঞাপক স্পষ্ট পরিভাষা—যেমন: 'অমুক থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে'—এর স্থলাভিষিক্ত হওয়া সম্ভব নয়, কারণ এরূপ করা তাদলিসুত তাসবিয়াহ (تدليس التسوية) এর অন্তর্ভুক্ত। তবে আল-মুআল্লিমি পুনরায় বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এমনটি ঘটা সম্ভব, বিশেষ করে যখন বর্ণনাকারী (راوي) তাদলিস (تدليس) করার জন্য পরিচিত হন। সুতরাং বর্ণনাকারী (راوي) যদি এমন হন, তবে তার বর্ণনা 'আন' (عن) শব্দে হোক বা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত (مصرحاً) করা হোক—তাতে কোনো পার্থক্য থাকে না।

--------------------------------------------

(1). "ইলালুল মারওয়াযি", পৃষ্ঠা ৩৮।

(2). "আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল", ৩: ৭৯; আরও দেখুন: ২: ৫৩৬।

(3). "আত-তানকিল", ১: ৮২।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ২৪)
بالانقطاع(1).

والذي ظهر لي أنها تستخدم بدلاً عن الصيغ الصريحة في الانقطاع مع المدلس ومع غيره، وقد تقدم في الأمثلة آنفاً ما يوضح ذلك، ويأتي له أمثلة تطبيقية في أماكن أخرى من هذا الكتاب.

بل إنها تستخدم مع إسقاط راو في وسط الإسناد، ثم تجعل الرواية بين من دونه ومن فوقه بـ (عن)، سواء كان بقصد التدليس، كما يفعله من يدلس تدليس التسوية، وسيأتي هذا بأمثلته، أو بغير قصد التدليس، كما يفعله مالك وغيره(2).

قال الجياني بعد أن تكلم على حديث أسقط فيه وهب بن جرير بن حازم أحد رواته، وربما ذكره: " وإنما كان يسقطه وهب بن جرير بن حازم في بعض الأحايين، ويسوقه معنعناً: على طريق التخفيف، وتقريب الإسناد، أو تزيينه"(3).

وسيأتي في المبحث الثاني أنها تستخدم بغير قصد الرواية، فليست مبدلة عن صيغة أداء أصلاً.

فالخلاصة أن من قال: إن الرواة لا يبدلون (عن) إلا من صيغ صريحة في الاتصال، أو محتملة - لم يحرر قوله هذا جيداً، والله أعلم.

ولما كانت هذه الصيغ محتملة للسماع وعدمه فقد شدد بعض الأئمة، فرأوا أن لا يقبل إلا ما فيه تصريح بالتحديث، وقد حكى هذا المذهب الحارث

--------------------------------------------

(1). "التنكيل" 1: 82، 227 - 229.

(2). "النكت على كتاب ابن الصلاح" 2: 618 - 621.

(3). "تقييد المهمل" 2: 655.
বিচ্ছিন্নতার (الانقطاع) মাধ্যমে(১)।

আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয়েছে তা হলো, এটি বিচ্ছিন্নতার (الانقطاع) ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট শব্দাবলির (الصيغ الصريحة) পরিবর্তে তদ্বিসকারী (المدلس) এবং অন্যদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ইতিপূর্বে উদাহরণগুলোতে যা অতিবাহিত হয়েছে তা এটি স্পষ্ট করে এবং এই কিতাবের অন্যান্য স্থানেও এর প্রয়োগিক উদাহরণ আসবে।

বরং এটি সনদের (الإسناد) মধ্যভাগ থেকে কোনো বর্ণনাকারীকে (راو) ফেলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়; অতঃপর তার নিচের এবং উপরের বর্ণনাকারীর মাঝে 'হতে' (عن) শব্দ দ্বারা বর্ণনাটি নিয়ে আসা হয়, চাই তা তদ্বিস (التدليس) করার উদ্দেশ্যে হোক—যেমনটি 'তদ্বিসুত তাসবিয়াহ' (تدليس التسوية) কারী ব্যক্তি করে থাকেন (এর উদাহরণ সামনে আসবে)—অথবা তদ্বিস (التدليس) করার উদ্দেশ্য ছাড়া হোক, যেমনটি ইমাম মালিক এবং অন্যান্যরা করেছেন(২)।

আল-জায়ানি একটি হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করার পর বলেন, যেখানে ওয়াহাব ইবনে জারির ইবনে হাযিম তার একজন বর্ণনাকারীকে ফেলে দিয়েছেন এবং কখনো কখনো তাকে উল্লেখ করেছেন: "ওয়াহাব ইবনে জারির ইবনে হাযিম কখনো কখনো বর্ণনাকারীকে বাদ দিতেন এবং আন-আন (معنعناً) শব্দে বর্ণনা করতেন: সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে, সনদকে (الإسناد) নিকটবর্তী করার জন্য অথবা একে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার জন্য"(৩)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে (المبحث الثاني) আসবে যে, এটি বর্ণনার উদ্দেশ্য ছাড়াও ব্যবহৃত হয়, ফলে এটি মূলত কোনো আদায়ের শব্দাবলির (صيغة أداء) স্থলাভিষিক্ত নয়।

সারকথা হলো, যারা বলেন যে: বর্ণনাকারীরা নিরবচ্ছিন্নতার (الاتصال) ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বা সম্ভাব্য শব্দাবলি ছাড়া 'হতে' (عن) শব্দ দ্বারা স্থলাভিষিক্ত করেন না—তাদের এই উক্তিটি সুসংহত নয়, আল্লাহ্ই ভালো জানেন।

যেহেতু এই শব্দাবলি শ্রবণ (السماع) করা বা না করার সম্ভাবনা রাখে, তাই কোনো কোনো ইমাম কঠোরতা অবলম্বন করেছেন; তারা মনে করেন যে, যেখানে স্পষ্টভাবে বর্ণনার (بالتحديث) কথা উল্লেখ নেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। আল-হারিস এই মতটি বর্ণনা করেছেন—

--------------------------------------------

(১). "আত-তানকিল" ১: ৮২, ২২৭ - ২২৯।

(২). "আন-নুকাতি আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ" ২: ৬১৮ - ৬২১।

(৩). "তাকয়িদুল মুহমাল" ২: ৬৫৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ২৫)
المحاسبي - فيما نقله عنه ابن حجر - عن جماعة لم يسمهم، قال: "لابد أن يقول كل عدل في الإسناد: حدثني أو سمعت، إلى أن ينتهي إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فإذا لم يقولوا كلهم ذلك أو لم يقله إلا بعضهم فلا يثبت، لأنه عرف من عادتهم الرواية بالعنعنة فيما لم يسمعوه"(1).

ونقل الزركشي عن أبي العباس بن سريج حكايته عن الظاهرية أو من ذهب منهم إليه(2).

ونسبه الرامهرمزي إلى بعض المتأخرين من الفقهاء، ولم يسمهم(3).

وكذا نسبه ابن الصلاح إلى من لم يسمه فقال: "الإسناد المعنعن - وهو الذي يقال فيه: فلان عن فلان - عدّه بعض الناس من قبيل المرسل والمنقطع، حتى يتبين اتصاله بغيره"(4).

وممن اشتهر عنه هذا المذهب شعبة بن الحجاج، ومن أقواله في ذلك: "كل حديث ليس فيه حدثنا وأخبرنا فهو مثل الرجل بالفلاة معه البعير ليس له خطام"(5)، وقوله: "كل حديث ليس فيه حدثنا أو أخبرنا فهو خل وبقل"(6)،

--------------------------------------------

(1). "النكت على كتاب ابن الصلاح" 2: 584.

(2). "البحر المحيط " 4: 317.

(3). "المحدث الفاصل" ص 450، و" الكفاية" ص 290.

(4). "مقدمة ابن الصلاح" ص 152.

(5). "المجروحين" 1: 37، و "سير أعلام النبلاء" 7: 225.

(6). "الجعديات" 1: 13، و"المجروحين" 1: 92، و"الكامل 1: 89، و" المحدث الفاصل" ص 517، و"الكفاية" ص 283.
মুহাসিবী—ইবনে হাজার তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন—এমন একদল লোকের সূত্রে যাঁদের তিনি নাম উল্লেখ করেননি, বলেছেন: "সনদের (الإسناد) প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারীর জন্য অবশ্যই 'তিনি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন' (حدثني) অথবা 'আমি শুনেছি' (سمعت) বলা আবশ্যক, যতক্ষণ না তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছায়। যদি তাঁদের সবাই তা না বলেন অথবা তাঁদের কেবল কেউ কেউ তা বলেন, তবে তা সাব্যস্ত (يثبت) হবে না; কারণ তাঁদের অভ্যাস হলো যা তাঁরা সরাসরি শোনেননি তাতে 'আন্-'আন্' পদ্ধতিতে বর্ণনা (العنعنة) করা"(১).

যারকাশী আবু আল-আব্বাস বিন সুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এটি জাহিরিয়া মাযহাব বা তাদের মধ্য থেকে যারা এই মত পোষণ করেন তাঁদের থেকে উদ্ধৃত করেছেন(২).

রামহুরমুজী একে পরবর্তী যুগের কিছু ফকীহদের দিকে নিসবত করেছেন, তবে তিনি তাঁদের নাম উল্লেখ করেননি(৩).

একইভাবে ইবনুস সালাহ এটি এমন একজনের দিকে নিসবত করেছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেননি, তিনি বলেন: "মুয়ানআন সনদ (الإسناد المعنعن)—যাতে বলা হয়: অমুক হতে অমুক—একে কিছু লোক মুরসাল (المرسل) এবং বিচ্ছিন্ন (المنقطع) পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত মনে করেছেন, যতক্ষণ না অন্যভাবে এর নিরবচ্ছিন্নতা (اتصاله) স্পষ্ট হয়"(৪).

যাঁদের থেকে এই মাযহাবটি প্রসিদ্ধ হয়েছে তাঁদের অন্যতম হলেন শু'বাহ বিন হাজ্জাজ। এ বিষয়ে তাঁর অন্যতম উক্তি হলো: "যে হাদিসে 'হাদ্দাসানা' (حدثنا) এবং 'আখবারানা' (أخبرنا) নেই, তা মরুভূমিতে এমন এক ব্যক্তির মতো যার সাথে উট তো আছে কিন্তু তার কোনো লাগাম নেই"(৫), এবং তাঁর কথা: "যে হাদিসে 'হাদ্দাসানা' (حدثنا) বা 'আখবারানা' (أخبرنا) নেই, তা সিরকা এবং শাকসবজির মতো"(৬),

--------------------------------------------

(১). "আন-নুকাত আলা কিতাব ইবনিস সালাহ" ২: ৫৮৪.

(২). "আল-বাহরুল মুহিত" ৪: ৩১৭.

(৩). "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল" পৃষ্ঠা ৪৫০, এবং "আল-কিফায়াহ" পৃষ্ঠা ২৯০.

(৪). "মুকাদ্দিমাহ ইবনিস সালাহ" পৃষ্ঠা ১৫২.

(৫). "আল-মাজরুহীন" ১: ৩৭, এবং "সিয়ারু আলামিন নুবালা" ৭: ২২৫.

(৬). "আল-জা'দিয়াত" ১: ১৩, এবং "আল-মাজরুহীন" ১: ৯২, এবং "আল-কামিল" ১: ৮৯, এবং "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল" পৃষ্ঠা ৫১৭, এবং "আল-কিফায়াহ" পৃষ্ঠা ২৮৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وفي لفظ له: "كل حديث ليس فيه: سمعت، قال: سمعت - فهو خل وبقل"(1).

وكان رحمه الله قد خبر الرواة، وهاله كثرة الإرسال عندهم، فكان يقول: "لو أتيت محدثاً عنده خمسة أحاديث أصبت ثلاثة لم يسمعها"(2).

وكان يوصي بسؤال الرواة عن سماعهم، لاحتمال الإرسال، فكان يقول: "وقِّفوهم، يصدقوا أو يكذبوا"(3).

وذكر ابن عبدالبر أن شعبة رجع عن قوله هذا(4)، لكنه مع حكاية الرجوع هذه قد اشتهر بتفقد السماع في الأسانيد، كما سيأتي في المبحث الثاني من الفصل الثاني.

وروى سفيان بن عيينة قال: حدثنا عمرو بن دينار، قال: أخبرني عمرو بن أوس الثقفي، أن عبدالرحمن بن أبي بكر أخبره "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمره أن يردف عائشة ويعمرها من التنعيم"(5)، ثم قال سفيان: "وهذا بابة شعبة: أخبره، أن

--------------------------------------------

(1). "الكفاية" ص 316.

(2). "الكامل" 1: 91، و" الجامع لأخلاق الراوي" 2: 295.

(3). "الجعديات" 1: 8.

(4). "التمهيد" 1: 13.

(5). "صحيح البخاري" حديث (1784)، (2985)، و"صحيح مسلم" حديث (1212)، و"سنن الترمذي" حديث (934)، و"سنن ابن ماجه" حديث (2999)، و"مسند أحمد" 1: 197، و"مسند الحميدي" حديث (563)، و"سنن الدارمي" حديث (1869)، والإسناد عند بعضهم معنعن كله أو بعضه، وهذا مثال لما تقدم من تصرف الرواة في صيغ التحديث.
তাঁর একটি বর্ণনায় (لفظ) রয়েছে: "প্রতিটি হাদিস যাতে 'আমি শুনেছি' (سمعت) কথাটি নেই—তিনি বলতেন: 'আমি শুনেছি'—তা অন্তঃসারশূন্য (خل وبقل)"(১)。

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বর্ণনাকারীদের (رواة) সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন এবং তাঁদের মাঝে বিচ্ছিন্ন বর্ণনার (إرسال) আধিক্য দেখে শঙ্কিত হতেন। তিনি বলতেন: "আমি যদি এমন কোনো হাদিস বিশারদের (محدث) কাছে যাই যার নিকট পাঁচটি হাদিস রয়েছে, তবে আমি দেখতে পাই যে তার মধ্যে তিনটিই তিনি শ্রবণ (سماع) করেননি"(২)。

বিচ্ছিন্ন বর্ণনার (إرسال) আশঙ্কায় তিনি বর্ণনাকারীদের (رواة) তাদের শ্রবণ (سماع) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার উপদেশ দিতেন। তিনি বলতেন: "তোমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করো, যাতে তারা সত্য বলে অথবা তাদের মিথ্যা প্রকাশিত হয়"(৩)。

ইবনে আব্দুল বার উল্লেখ করেছেন যে, শু'বাহ তাঁর এই বক্তব্য থেকে ফিরে এসেছিলেন(৪), তবে প্রত্যাবর্তনের এই বর্ণনার পাশাপাশি তিনি সূত্রসমূহে (أسانيد) শ্রবণের (سماع) বিষয়টি যাচাই করার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, যেমনটি দ্বিতীয় অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সামনে আসবে।

সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে দীনার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে আউস আস-সাকাফী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর তাঁকে অবহিত করেছেন "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি আয়েশা (রা.)-কে তাঁর সওয়ারির পেছনে বসিয়ে নেন এবং তানঈম থেকে উমরাহ করান"(৫)। অতঃপর সুফিয়ান বলেন: "আর এটি শু'বাহর অনুসৃত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত: 'তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبره)', 'যে (أن)'..."

--------------------------------------------

(১). "আল-কিফায়াহ" পৃ. ৩১৬।

(২). "আল-কামিল" ১: ৯১, এবং "আল-জামি' লি আখলাকির রাওয়ি" ২: ২৯৫।

(৩). "আল-জা'দিয়্যাত" ১: ৮।

(৪). "আত-তামহিদ" ১: ১৩।

(৫). সহিহ বুখারি হাদিস (১৭৮৪), (২৯৮৫), সহিহ মুসলিম হাদিস (১২১২), সুনান তিরমিজি হাদিস (৯৩৪), সুনান ইবনে মাজাহ হাদিস (২৯৯৯), মুসনাদ আহমাদ ১: ১৯৭, মুসনাদ হুমায়দি হাদিস (٥٦٣), সুনান দারিমি হাদিস (১৮৬৯)। তাঁদের কারো কারো নিকট সনদটি (إسناد) সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে মুআনআন বা 'হতে' শব্দযোগে (معنعن) বর্ণিত, আর এটি বর্ণনাকারীদের (رواة) হাদিস বর্ণনার শব্দমালার (صيغ التحديث) ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন ও বৈচিত্র্য থাকে, এরই একটি উদাহরণ যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ২৭)
النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أمره، يقول: متصل"(1)، وفي لفظ له: "كان شعبة يعجبه مثل هذا الإسناد - يعني: أخبرني، قال: أخبرني-"(2).

ولا شك أن ما ذهب إليه هؤلاء أكثر احتياطاً للسنة النبوية، وأقرب إلى التثبت فيها، ولكن اشتراط ذلك يؤدي إلى مفسدة أعظم، إذ قد كثر من الرواة - كما تقدم آنفاً - عدم التصريح بالتحديث تخففاً خشية طول الإسناد، فاشتراط ذلك حينئذٍ يؤدي إلى مفسدة عظمى، وهي طرح كثير من السنن الثابتة، قال ابن رشيد: "مقتضى النظر كان التوقف في هذا المعنعن حتى تُعلم صحةُ سماعه في كل حديث حديث، لما علم من أئمة الصناعة نقلاً من أنهم كانوا يكسلون أحياناً فيرسلون، وينشطون تارة فيسندون، لكن لما تعذر ذلك وشق تعرفه مشقة لا خفاء بها اقتنع بما ذكرناه من معرفة السماع في الجملة، مع السلامة من وصمة التدليس، معتضداً ذلك بقرينة شهادة بعضهم على بعض بقولهم: فلان عن فلان، المفهمة قصد الاتصال"(3).

وقال أيضاً: "وهذا المذهب - وهو اشتراط التحديث في كل رواية - وإن قلَّ القائل به بحيث لا يسمى ولا يعلم - فهو الأصل الذي كان يقتضيه الاحتياط … ، ولو اشترط ذلك لضاق الأمر جداً، ولم يتحصل من السنة إلا النزر اليسير، فكأن الله تعالى أتاح الإجماع عصمة لذلك، وتوسعة علينا،

--------------------------------------------

(1). "مسند الحميدي" حديث (563).

(2). "مسند الحميدي" حديث (563)، و"سنن الدارمي" حديث (1869)، و" الجعديات"

1: 14، وانظر: "حلية الأولياء" 7: 153.

(3). "السنن الأبين" ص 31.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশে, তিনি বলেন: "সংযুক্ত (متصل)"(1), এবং তাঁর একটি পাঠে রয়েছে: "শু'বাহ এই ধরনের সনদ (إسناد) পছন্দ করতেন—অর্থাৎ: তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন—"(2).

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ব্যক্তিগণ যে মত গ্রহণ করেছেন তা সুন্নাহর সংরক্ষণে অধিক সতর্কতাপূর্ণ এবং তা যাচাই-বাছাইয়ের অধিক নিকটবর্তী। কিন্তু এটি শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা অধিকতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। কেননা অনেক বর্ণনাকারী (رواة) —যেমনটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে— দীর্ঘ সনদ (إسناد) পরিহারের জন্য সরাসরি শ্রবণের শব্দ (تحديث) উল্লেখ করা ত্যাগ করতেন। এমতাবস্থায় এটি শর্ত করা হলে তা একটি বড় ধরনের ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবে, আর তা হলো অনেক সাব্যস্ত সুন্নাহকে বর্জন করা। ইবনে রুশদ বলেন: "তাত্ত্বিক গবেষণার দাবি ছিল এই মুয়ানআন (معنعن) বর্ণনার ক্ষেত্রে বিরতি নেওয়া বা সিদ্ধান্তহীন থাকা যতক্ষণ না প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে সরাসরি শ্রবণের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়। কেননা এই শাস্ত্রের ইমামগণের নিকট হতে বর্ণিত আছে যে, তারা কখনো কখনো অবসাদগ্রস্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন (مرسل) ভাবে বর্ণনা করতেন, আবার কখনো উদ্যমের সাথে সনদ (إسناد) উল্লেখ করে বর্ণনা করতেন। কিন্তু যখন বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে জানা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ল এবং এটি চেনা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াল, তখন আমরা যা উল্লেখ করেছি অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে শ্রবণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে; যদি তা তাদলিস (تدليس) এর কলঙ্ক থেকে মুক্ত থাকে। এর সমর্থনে সহায়ক হিসেবে নেওয়া হয়েছে বর্ণনাকারীদের একে অন্যের ব্যাপারে এই সাক্ষ্য প্রদানকে যে, 'অমুক অমুক হতে বর্ণনা করেছেন', যা মূলত সংযুক্ত হওয়া (اتصال) বা নিরবচ্ছিন্নতার অর্থ প্রদান করে।"(3).

তিনি আরও বলেন: "এই মাযহাব বা মতটি—যা প্রতিটি বর্ণনার ক্ষেত্রে সরাসরি শ্রবণের শব্দ (تحديث) ব্যবহার করাকে শর্ত করে—যদিও এর প্রবক্তা সংখ্যায় এতই নগণ্য যে তাদের নামও জানা যায় না, তবুও এটিই ছিল সেই মূলনীতি যা সতর্কতার দাবি রাখে...। কিন্তু যদি এটি শর্ত করা হতো তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়ত এবং সুন্নাহর অতি সামান্য অংশই অর্জিত হতো। তাই মহান আল্লাহ যেন এই বিষয়ের সুরক্ষা ও আমাদের জন্য প্রশস্ততা দানে ইজমা বা ঐকমত্যের সুযোগ করে দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(1). "মুসনাদ আল-হুমাইদি" হাদিস (৫৬৩)।

(2). "মুসনাদ আল-হুমাইদি" হাদিস (৫৬৩), এবং "সুনান আদ-দারিমি" হাদিস (১৮৬৯), এবং "আল-জাদিয়্যাত"

১: ১৪, এবং দেখুন: "হিলয়াতুল আউলিয়া" ৭: ১৫৩।

(3). "আস-সুনান আল-আবইয়ান" পৃ. ৩১।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ২৮)
والحمد لله"(1).

وقال أيضاً: "وأما من حيث النظر، فكان الأصل كما قدمنا: ألا يقبل

إلا ما علم فيه السماع حديثاً حديثاً، عند من لا يقول بالمرسل، لاحتمال الانفصال، إلا أن علماء الحديث رأوا أن تتبع طلب لفظ صريح في الاتصال يعز وجوده … "(2).

وقد حكى الإجماع على قبول الإسناد المعنعن في الجملة غير واحد من الأئمة، منهم الخطيب، وابن عبدالبر، وابن رشيد، وغيرهم(3).

وفسر ابن حجر حكاية الإجماع مع وجود الخلاف السابق بأنه إجماع بعد انقراض الخلاف(4).

وأما ابن رشيد فعكس القضية، فقال بعد أن نقل ما تقدم عن الرامهرمزي أنه قول لبعض الفقهاء المتأخرين: "وإذ بان أنه قول لبعض الفقهاء المتأخرين، فهو مسبوق بإجماع علماء الشأن"(5).

ومع هذا الإجماع فلا يزال التصريح بالتحديث أقوى من عدمه، كما قال الخطيب: "وقول المحدث: حدثنا فلان، قال: حدثنا فلان - أعلى منزلة من قوله: حدثنا فلان، عن فلان، إذ كانت (عن) مستعملة كثيراً في تدليس ما

--------------------------------------------

(1). "السنن الأبين" ص 44 - 47.

(2). "السنن الأبين" ص 62.

(3). " الكفاية " ص 291، و"التمهيد" 1: 12، 13، و"السنن الأبين" ص 47.

(4). "النكت" 2: 584.

(5). "السنن" الأبين" ص 49.
এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর"(১)।

তিনি আরও বলেন: "আর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের (النظر) দিক থেকে মূলনীতি হলো সেটিই যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি: যারা বিচ্ছিন্ন (المرسل) হাদিস গ্রহণ করেন না, তাদের নিকট প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে সরাসরি শ্রবণ (السماع) নিশ্চিত হওয়া ব্যতীত তা কবুল করা হবে না, কারণ এতে সূত্র বিচ্ছিন্নতার (الانفصال) সম্ভাবনা থাকে। তবে হাদিস বিশারদগণ লক্ষ্য করেছেন যে, সংযোগের (الاتصال) ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট শব্দাবলি অনুসন্ধান করা প্রায় দুষ্কর ..."(২)।

একাধিক ইমাম (الأئمة) সাধারণভাবে মুআনআন সনদের (الإسناد المعنعن) গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে ঐকমত্য (الإجماع) বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে আল-খাতিব, ইবনে আবদুল বারর, ইবনে রুশদ এবং অন্যান্যরা রয়েছেন(৩)।

ইবনে হাজার পূর্ববর্তী মতভেদের (الخلاف) উপস্থিতিতে ঐকমত্যের (الإجماع) বর্ণনাকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, এটি ছিল মতভেদ নিরসনের পরবর্তী সময়ের ঐকমত্য (الإجماع)(৪)।

অন্যদিকে ইবনে রুশদ বিষয়টি বিপরীতভাবে উপস্থাপন করেছেন। রামহুরমুজি থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত বিষয়টি পরবর্তী যুগের কিছু ফকিহদের (الفقهاء المتأخرين) মত হিসেবে উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: "যেহেতু এটি স্পষ্ট যে এটি পরবর্তী যুগের কিছু ফকিহদের (الفقهاء المتأخرين) উক্তি, তাই এর পূর্বে এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের ঐকমত্য (الإجماع) বিদ্যমান ছিল"(৫)।

আর এই ঐকমত্য (الإجماع) সত্ত্বেও সরাসরি শ্রবণের সুস্পষ্ট বর্ণনা (التصريح بالتحديث) না থাকার চেয়ে থাকাটা অধিক শক্তিশালী, যেমনটি আল-খাতিব বলেছেন: "মুহাদ্দিসের (المحدث) এই বক্তব্য: 'অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন'—এর মর্যাদা 'আমাদের নিকট অমুক বর্ণনা করেছেন, অমুক থেকে (عن)' এই কথার চেয়ে উচ্চতর। কারণ 'থেকে' (عن) শব্দটি প্রায়শই কোনো না কোনো ধরনের তথ্য গোপনের (تدليس) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

--------------------------------------------

(১). "আস-সুনান আল-আবইয়ান" পৃষ্ঠা ৪৪ - ৪৭।

(২). "আস-সুনান আল-আবইয়ান" পৃষ্ঠা ৬২।

(৩). "আল-কিফায়া" পৃষ্ঠা ২৯১, এবং "আত-তামহিদ" ১: ১২, ১৩, এবং "আস-সুনান আল-আবইয়ান" পৃষ্ঠা ৪৭।

(৪). "আন-নুকাত" ২: ৫৮৪।

(৫). "আস-সুনান আল-আবইয়ান" পৃষ্ঠা ৪৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ২৯)
ليس بسماع"، ثم أخرج عن بشر بن بكر قوله: "ذهب أهل العراق بحلاوة الحديث، يقولون: عن فلان، عن فلان، ولا يقولون: حدثنا ولا أخبرنا"(1).

ومثل ذلك قول أحمد في ثنائه على محدثي البصرة: "ما رأيت قوماً سود الرؤوس في هذا الشأن مثل أهل البصرة - يعني الحديث والألفاظ - كأنهم تعلموه من شعبة"(2)، وفي مقابل ذلك قوله في أهل الكوفة: "أهل الكوفة ليس لحديثهم نور، لا يذكرون الأخبار"(3).

وروى ابن محرز قال: "سمعت علي بن المديني يقول: حدثني حبان بن هلال، قال: حدثنا همام، قال: حدثنا يحيى بن أبي كثير، قال: حدثني يعلى بن حكيم، أن يوسف بن ماهك حدثه، أن عبدالله بن عصمة حدثه أن حكيم بن حزام حدثه: "أن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم نهاه عن بيع ماليس عنده"، قال حبان: هذا الدست بدست"(4).

--------------------------------------------

(1). "الكفاية" ص 289.

(2). "سؤالات أبي داود" ص 200.

(3). "سؤالات أبي داود" ص 200، وليس في المطبوع حرف النفي (لا)، وهو في المخطوطة كأنه موجود فوق السطر، وبه يتم المعنى فيما أرى.

(4). "معرفة الرجال" 2: 186.

والحديث أخرجه النسائي كما في "تحفة الأشراف" 4: 71، وابن الجارود حديث (602)، والطحاوي 4: 41، وابن حبان حديث (4983)، من طرق عن يحيى بن أبي كثير به، وانظر: "إتحاف المهرة" 4: 325.
এটি শ্রবণ (سماع) নয়", এরপর তিনি বিশর ইবনে বকর হতে তাঁর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: "ইরাকবাসীরা হাদিসের মাধুর্য নিয়ে গেছেন; তাঁরা বলেন: অমুক হতে (عن), অমুক হতে (عن), কিন্তু তাঁরা 'আমাদের বর্ণনা করেছেন' (حدثنا) কিংবা 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا) বলেন না"(1).

অনুরূপভাবে বসরার হাদিসবেত্তাদের প্রশংসায় ইমাম আহমদের উক্তি: "আমি এই বিষয়ে—অর্থাৎ হাদিস ও শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে—বসরার অধিবাসীদের মতো কালো চুলধারী (বিচক্ষণ) কোনো কওম দেখিনি; মনে হয় যেন তাঁরা তা শু'বা-এর কাছ থেকে শিখেছেন"(2)। এর বিপরীতে কুফাবাসীদের সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "কুফাবাসীদের হাদিসে কোনো জ্যোতি নেই, তাঁরা সংবাদসমূহ (الأخبار) উল্লেখ করেন না"(3).

ইবনে মুহরিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আলী ইবনুল মাদিনীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাব্বান ইবনে হিলাল আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: হাম্মাম আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইয়ালা ইবনে হাকিম আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), ইউসুফ ইবনে মাহাক তাকে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে ইসমাহ তাকে বর্ণনা করেছেন যে, হাকিম ইবনে হিযাম তাঁকে বর্ণনা করেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে যা তাঁর নিকট নেই তা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন"। হাব্বান বলেন: "এটি হস্তগত ও নিখুঁত বর্ণনাসূত্র (الدست بدست)"(4).

--------------------------------------------

(1). "আল-কিফায়া" পৃষ্ঠা ২৮৯।

(2). "সুয়ালাত আবি দাউদ" পৃষ্ঠা ২০০।

(3). "সুয়ালাত আবি দাউদ" পৃষ্ঠা ২০০; মুদ্রিত সংস্করণে না-বোধক অব্যয় (لا) নেই, তবে এটি পাণ্ডুলিপিতে লাইনের উপরে বিদ্যমান বলে মনে হয়, এবং আমার মতে এর মাধ্যমেই অর্থ পূর্ণতা পায়।

(4). "মা’রিফাতুর রিজাল" ২: ১৮৬।

হাদিসটি নাসায়ি বর্ণনা করেছেন যেমনটি "তুহফাতুল আশরাফ" ৪: ৭১-এ রয়েছে, এছাড়াও ইবনুল জারুদ হাদিস (৬০২), তাহাবি ৪: ৪১, ইবনে হিব্বান হাদিস (৪৯৮৩), ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে বিভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণিত হয়েছে, আরও দেখুন: "ইতহাফুল মাহারা" ৪: ৩২৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومعناها: يداً بيد، والدست بالفارسية: اليد(1).

--------------------------------------------

(1). "الألفاظ الفارسية المعربة" لأدي شير الأشوري، ذكر ذلك أحمد شاكر في حاشيته على كتاب "المعرب" للجواليقي ص 285.
আর এর অর্থ হলো: হাতে হাতে, এবং ফারসি ভাষায় ‘দাস্ত’ শব্দের অর্থ হলো: হাত(১).

--------------------------------------------

(১). আদ্দি শির আল-আশুরি রচিত "আল-আলফাজ আল-ফারিসিয়্যাহ আল-মুআরাব্বাহ"; আহমাদ শাকির এটি আল-জাওয়ালিকি রচিত "আল-মুআরাব" গ্রন্থের ২৮৫ পৃষ্ঠায় তাঁর টীকাভাষ্যে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المبحث الثاني

الرواية عن الشخص والرواية لقصته

أول ما يهتم به دارس الاتصال والانقطاع في الإسناد التأمل في صيغة الأداء هل قصد بها الرواية عن الشخص، أو قصد بها حكاية قصة له، فيكون ذكره في المتن لا في الإسناد؟ .

وحكاية قصة لشخص ما تارة تكون بصيغة ظاهرة في ذلك، مثل أن يقول الراوي - كسعيد بن المسيب، أو عروة بن الزبير مثلاً -: جاء أبوبكر إلى النبي صلى الله عليه وسلم، أو دخل أبوبكر على النبي صلى الله عليه وسلم، أو قال أبوبكر للنبي صلى الله عليه وسلم كذا.

ومعنى الظهور هنا أن مثل هذه الصيغ لا تستخدم في الرواية عن الشخص، فلم يقصد سعيد أو عروة هنا أن يحكي القصة عن أبي بكر، وإنما هو يحكي قصة أبي بكر.

وتارة تكون بصيغة فيها شيء من الخفاء، لكونها تستخدم في الرواية عن الشخص مع تغيير يسير، وذلك في صيغة (أن فلاناً)، فهذه الصيغة تستخدم بغرض الرواية عن الشخص إذا قرنت بلفظ (قال) أو (ذكر) ونحوهما، فيقول الراوي - كالأعرج مثلاً -: أن أباهريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وتستخدم أيضاً في حكاية قصة للشخص، كما إذا قال الأعرج: أن أباهريرة سلَّم على النبي صلى الله عليه وسلم، أو دخل عليه، ونحو ذلك.

فإذا قصد بها الرواية فهي صيغة من الصيغ المحتملة للسماع وعدمه، مثل
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা (رواية) এবং ব্যক্তির ঘটনা বর্ণনা

সনদের (إسناد) সংযুক্ততা (اتصال) এবং বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) বিষয়ক গবেষক সর্বপ্রথম যে বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তা হলো বর্ণনার শব্দাবলি (صيغة الأداء) নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা; এর দ্বারা কি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা (رواية) করা উদ্দেশ্য, নাকি তার কোনো একটি ঘটনা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য, যার ফলে তার উল্লেখ কেবল মতন (متن) এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, সনদ (إسناد) এর মধ্যে নয়? .

কোনো ব্যক্তির ঘটনা বর্ণনা করা কখনও কখনও এমন শব্দরূপে হয় যা এ বিষয়ে স্পষ্ট, যেমন বর্ণনাকারী (راوي) — উদাহরণস্বরূপ সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বা উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর — বলেন: আবু বকর নবী (সা.) এর নিকট আসলেন, অথবা আবু বকর নবী (সা.) এর নিকট প্রবেশ করলেন, অথবা আবু বকর নবী (সা.)-কে এমন কথা বললেন।

এখানে স্পষ্ট হওয়ার অর্থ হলো, এই ধরণের শব্দাবলি (صيغ) কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। সুতরাং সাঈদ বা উরওয়াহ এখানে আবু বকরের নিকট থেকে কোনো কিছু বর্ণনা (رواية) করা উদ্দেশ্য করেননি, বরং তিনি আবু বকরের একটি ঘটনা বর্ণনা করছেন।

আবার কখনও এমন শব্দরূপে হয় যাতে কিছুটা অস্পষ্টতা (خفاء) থাকে, কারণ সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়; আর তা হলো ‘নিশ্চয় অমুক’ (أن فلاناً) শব্দরূপের মাধ্যমে। এই শব্দরূপটি (صيغة) ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা (رواية) করার উদ্দেশ্যে তখন ব্যবহৃত হয় যখন তা ‘বলেছেন’ (قال) বা ‘উল্লেখ করেছেন’ (ذكر) এবং এই জাতীয় শব্দের সাথে যুক্ত হয়। যেমন বর্ণনাকারী (راوي) — উদাহরণস্বরূপ আল-আরাজ — বলেন: ‘আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন (أن أباهريرة قال): রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন...’।

আবার এটি ব্যক্তির কোনো ঘটনা বর্ণনা করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন আল-আরাজ যদি বলেন: ‘আবু হুরায়রা (أن أباهريرة) নবী (সা.)-কে সালাম দিলেন’, অথবা ‘তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন’, বা এই জাতীয় কিছু।

অতএব, যদি এর দ্বারা বর্ণনা (رواية) করা উদ্দেশ্য হয়, তবে এটি এমন শব্দাবলির (صيغ) অন্তর্ভুক্ত যা শ্রবণ (سماع) করা বা না করার উভয় সম্ভাবনা রাখে, যেমন—
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ৩২)
(عن) و (قال) و (ذكر) ونحوها، وإذا قصد بها حكاية القصة فليست صيغة رواية عن الشخص، وإنما هي صيغة لحكاية قصته.

قال الخطيب في صفة الحافظ: " … ، يميز الروايات بتغاير العبارات، نحو عن فلان، وأن فلاناً، ويعرف اختلاف الحكم في ذلك، بين أن يكون المسمى صحابياً، أو تابعياً"(1).

وعلى المعنى الثاني - وهو حكاية قصة الشخص لا الرواية عنه - خرَّج الأئمة المتأخرون - كابن المَوَّاق، وابن رجب، والعراقي، وابن حجر، والسخاوي(2) - تفريق أحمد، ويعقوب بن شيبة، والبرديجي بين (عن)

و(أن)، فالتفريق بينهما يكون إذا قصد بصيغة (أن) حكاية القصة لا الرواية عن الشخص، ورد هؤلاء الأئمة على من فهم من كلام هؤلاء التفريق بينهما مطلقاً، وأن صيغة (أن) محمولة على الانقطاع أبداً(3).

فقد ذكر أبو داود أن أحمد سئل فقيل له: إن رجلاً قال: عروة أن عائشة قالت: يا رسول الله، وعن عروة، عن عائشة - سواء؟ فقال: "كيف هذا سواء؟ ليس هذا بسواء"(4).

--------------------------------------------

(1). "الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع" 2: 173.

(2). "شرح علل الترمذي" 2: 601 - 604، و"التقييد والإيضاح" ص 84 - 86، و"النكت" 2: 590 - 593، و"فتح المغيث" 1: 194 - 198.

(3). انظر: "التمهيد" 1: 26، و"مقدمة ابن الصلاح" ص 153، فقد فهما ذلك، إلا أن ابن عبدالبر لم يذكر سوى كلام البرديجي.

(4). "الكفاية" ص 408، وهو في "مسائل أبي داود " ص 427، لكن لفظه: "سمعت أحمد قيل له: إن رجلاً قال: عروة أن عائشة، وعروة، عن عائشة قالت: يا رسول الله، وعن عروة، عن عائشة: سواء؟ فقال: كيف هو سواء؟ - أي ليس هو بسواء - ".
(হতে) (عن), (বলেছেন) (قال), (উল্লেখ করেছেন) (ذكر) এবং অনুরূপ শব্দাবলি; আর যখন এর দ্বারা কোনো ঘটনা বর্ণনা করার উদ্দেশ্য থাকে, তখন এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থেকে বর্ণনার শব্দ (صيغة رواية) হিসেবে গণ্য হয় না, বরং এটি কেবল তার ঘটনা বর্ণনা করার একটি শব্দ মাত্র।

হাফিজ (الحافظ) এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে খতিব (আল-বাগদাদি) বলেন: " … তিনি বিভিন্ন শব্দবিন্যাসের পার্থক্যের মাধ্যমে বর্ণনাগুলোকে (الروايات) পৃথক করেন, যেমন: ‘অমুক হতে (عن)’, এবং ‘অমুক যে (أن)’; আর তিনি এই সংক্রান্ত বিধানের পার্থক্য নিরূপণ করেন, যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে তিনি সাহাবি (صحابي) নাকি তাবেয়ি (تابعي) তার ভিত্তিতে"(১)।

আর দ্বিতীয় অর্থের ভিত্তিতে—যা হলো ব্যক্তির ঘটনা বর্ণনা করা, তার থেকে বর্ণনা (الرواية) করা নয়—পরবর্তী যুগের ইমামগণ (الأئمة المتأخرون) যেমন: ইবনুল মাওয়াক, ইবনে রজব, ইরাকি, ইবনে হাজার এবং সাখাভি(২); ইমাম আহমদ, ইয়াকুব বিন শাইবাহ এবং বারদিজি কর্তৃক (হতে) (عن)

এবং (যে/নিশ্চয়ই) (أن) এর মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। সুতরাং এই দুটির মধ্যে পার্থক্য তখনই হবে যখন (যে/নিশ্চয়ই) (أن) শব্দ (صيغة) দ্বারা ঘটনা বর্ণনা করার উদ্দেশ্য থাকে, ব্যক্তি হতে বর্ণনা (الرواية) করা নয়। এই ইমামগণ ঐ ব্যক্তিদের প্রতিবাদ করেছেন যারা তাদের বক্তব্য থেকে এই দুটির মধ্যে নিঃশর্তভাবে পার্থক্যের বিষয়টি বুঝেছেন এবং মনে করেছেন যে (যে/নিশ্চয়ই) (أن) শব্দটি সর্বদা বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع) এর ওপর আপতিত হয়(৩)।

আবু দাউদ উল্লেখ করেছেন যে, আহমদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: এক ব্যক্তি বলেছে, ‘উরওয়াহ যে (أن) আয়েশা বলেছেন: হে আল্লাহর রাসুল’, এবং ‘উরওয়াহ হতে (عن), আয়েশা হতে (عن)’—এই দুটি কি সমান? তিনি উত্তর দিলেন: "এটি কীভাবে সমান হয়? এটি সমান নয়"(৪)।

--------------------------------------------

(১). "আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি" ২: ১৭৩।

(২). "শারহু ইলালিত তিরমিজি" ২: ৬০১ - ৬০৪, এবং "আত-তাকয়িদ ওয়াল ইজাহ" পৃষ্ঠা ৮৪ - ৮৬, এবং "আন-নুকাত" ২: ৫৯০ - ৫৯৩, এবং "ফাতহুল মুগিস" ১: ১৯৪ - ১৯৮।

(৩). দেখুন: "আত-তামহিদ" ১: ২৬, এবং "মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ" পৃষ্ঠা ১৫৩, তারা উভয়েই এটি বুঝেছেন, তবে ইবনে আবদুল বার কেবল বারদিজির বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।

(৪). "আল-কিফায়াহ" পৃষ্ঠা ৪০৮, এবং এটি "মাসায়িলে আবি দাউদ" পৃষ্ঠা ৪২৭-এ রয়েছে, তবে এর শব্দ হলো: "আমি আহমদকে বলতে শুনেছি, যখন তাকে বলা হলো: এক ব্যক্তি বলেছে: ‘উরওয়াহ যে (أن) আয়েশা’, এবং ‘উরওয়াহ, আয়েশা হতে বলেছেন: হে আল্লাহর রাসুল’, এবং ‘উরওয়াহ হতে (عن), আয়েশা হতে (عن)’: এগুলো কি সমান? তিনি বললেন: তা কীভাবে সমান হবে? —অর্থাৎ এটি সমান নয়—।"
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিসাল ওয়াল ইনকিতা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأما يعقوب بن شيبة فإنه ذكر ما رواه أبوالزبير، عن ابن الحنفية، عن عمار قال: ((أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي، فسلمت عليه، فرد عليّ السلام))، وجعله مسنداً موصولاً، وذكر رواية قيس بن سعد لذلك، عن عطاء بن أبي رباح، عن ابن الحنفية: ((أن عماراً مر بالنبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي … ))، فجعله مرسلاً(1).

--------------------------------------------

(1). "مقدمة ابن الصلاح" ص 154.

ورواية أبي الزبير، عن ابن الحنفية، عن عمار أخرجها أحمد 4: 263، وابن أبي شيبة 2: 75، وأبو يعلى حديث (1634).

 

وأخرجه البزار حديث (1415) من طريق عبد الله بن محمد بن عقيل، عن ابن الحنفية، عن عمار قال: "أتيت النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم وهو يصلي … ".

ورواية عطاء، عن ابن الحنفية أن عماراً مر بالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، أخرجها ابن قانع في "معجم الصحابة" 2: 250، وقد أخرجها النسائي حديث (1187)، وفي "الكبرى" حديث (541)، والبزار حديث (1416)، وأبو يعلى حديث (1643)، والحازمي في "الاعتبار" ص 143، عن عطاء، عن ابن الحنفية، عن عمار: "أنه سلم على النبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي فرد عليه "، ومدار الرواية عند الجميع على وهب بن جرير بن حازم، عن أبيه، عن قيس بن سعد، عن عطاء بن أبي رباح، عن محمد بن الحنفية به.

وأخرجه عبدالرزاق حديث (3587) عن ابن جريج، قال: أخبرني محمد بن علي بن الحسين: "أن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم سلم عليه عمار بن ياسر، والنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم يصلي … " الحديث، قال ابن جريج: أخبرني به عطاء، عن محمد بن علي، فلقيت محمد بن علي فسألته، فحدثني به.

وعلقه الحازمي، ص 143، عن إسحاق بن راهويه، عن ابن عيينة، عن عمرو بن دينار، عن محمد بن علي: "أن عمار بن ياسر سلَّم على النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم وهو يصلي … " الحديث.
আর ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ-এর ক্ষেত্রে বক্তব্য হলো, তিনি সেই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন যা আবু আল-জুবায়ের, ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ থেকে এবং তিনি আম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ((আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন, অতঃপর আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন))। তিনি এটিকে মুসনাদ (مسنداً) ও সংযুক্ত (موصولاً) হিসেবে গণ্য করেছেন। এবং তিনি এই বিষয়ে কাইস ইবনে সা'দ-এর বর্ণনাটি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ থেকে উল্লেখ করেছেন যে: ((আম্মার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন … ))। অতঃপর তিনি এটিকে মুরসাল (مرسلاً) হিসেবে অভিহিত করেছেন(১)।

--------------------------------------------

(১). "মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ" পৃষ্ঠা ১৫৪।

আবু আল-জুবায়েরের বর্ণনাটি ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ থেকে এবং তিনি আম্মার থেকে—এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৪: ২৬৩, ইবনে আবি শায়বাহ ২: ৭৫, এবং আবু ইয়ালা হাদিস নং (১৬৩৪)।

 

আল-বাজজার এটি বর্ণনা করেছেন হাদিস নং (১৪১৫) আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকিলের সূত্রে, তিনি ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ থেকে এবং তিনি আম্মার থেকে, আম্মার বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন … "।

আতা ইবনে আবি রাবাহ-এর বর্ণনাটি ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ থেকে যে, আম্মার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন—এটি ইবনে কানি' তার "মু'জাম আস-সাহাবাহ" ২: ২৫০ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আন-নাসায়ি হাদিস নং (১১৮৭), এবং তার "আল-কুবরা" গ্রন্থে হাদিস নং (৫৪১), আল-বাজজার হাদিস নং (১৪১৬), আবু ইয়ালা হাদিস নং (১৬৪৩), এবং আল-হাজমি "আল-ইতিবার" পৃষ্ঠা ১৪৩-এ আতা থেকে, তিনি ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ থেকে এবং তিনি আম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন: "তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিলেন যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন, অতঃপর তিনি সালামের উত্তর দিলেন"। সকল বর্ণনার ক্ষেত্রে এই বর্ণনার মূল কেন্দ্রবিন্দু (مدار) হলো ওয়াহাব ইবনে জারীর ইবনে হাজিম, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি কাইস ইবনে সা'দ থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে এবং তিনি মুহাম্মদ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আবদুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করেছেন হাদিস নং (৩৫৮৭) ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে আল-হুসাইন সংবাদ দিয়েছেন যে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আম্মার ইবনে ইয়াসির সালাম দিলেন এমতাবস্থায় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করছিলেন … " (সম্পূর্ণ হাদিস)। ইবনে জুরাইজ বলেন: আতা আমাকে মুহাম্মদ ইবনে আলি-এর সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, অতঃপর আমি মুহাম্মদ ইবনে আলির সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমার কাছে তা বর্ণনা করেন।

এবং আল-হাজমি এটি মুয়াল্লাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন (علقه), পৃষ্ঠা ১৪৩, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকে, তিনি ইবনে উয়ায়নাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আলি থেকে যে: "আম্মার ইবনে ইয়াসির নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিলেন এমতাবস্থায় যে তিনি সালাত আদায় করছিলেন … " (সম্পূর্ণ হাদিস)।