(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: -)
نيل الابتهاج بتطريز الديباج القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: نيل الابتهاج بتطريز الديباج
المؤلف: أحمد بابا بن أحمد بن الفقيه الحاج أحمد بن عمر بن محمد التكروري التنبكتي السوداني، أبو العباس (ت 1036 هـ)
عناية وتقديم: الدكتور عبد الحميد عبد الله الهرامة
الناشر: دار الكاتب، طرابلس - ليبيا
الطبعة: الثانية، 2000 م
عدد الصفحات: 641
أعده للشاملة:فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو الحجة 1436
নায়লুল ইবতিহাজ বি-তাতরিজিদ দিবাজ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: নায়লুল ইবতিহাজ বি-তাতরিজিদ দিবাজ
লেখক: আহমদ বাবা বিন আহমদ বিন আল-ফকিহ আল-হাজ্জ আহমদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ আত-তাকরুরি আত-তিম্বুকতি আস-সুদানি, আবুল আব্বাস (মৃত্যু ১০৩৬ হিজরি)
তত্ত্বাবধান ও উপস্থাপনা: ডক্টর আব্দুল হামিদ আব্দুল্লাহ আল-হারামা
প্রকাশক: দারুল কাতিব, ত্রিপোলি - লিবিয়া
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসাখ দল, মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ (সায়েন্টিফিক এলিট সেন্টার)-এর পৃষ্ঠপোষকতায়
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জিলহজ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: -)
نيل الابتهاج بتطريز الديباج
تأليف
أحمد بابا التنبكتي (963 هـ - 1036 هـ)
عناية وتقديم
الدكتور عبد الحميد عبد الله الهرامة
নাইলুল ইবতিহাজ বি তাতরিযিদ দীবাজ
রচনায়
আহমদ বাবা আত-তিম্বুকতি (৯৬৩ হি. - ১০৩৬ হি.)
সম্পাদনা ও উপস্থাপনায়
ডক্টর আব্দুল হামিদ আব্দুল্লাহ আল-হারামা
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٢)
جميع الحقوق محفوظة للمؤلف
الطبعة الثانية
2000 إفرنجي
الجماهيرية العربية الليبية الشعبية الاشتراكية العظمى
دار الكتاب هاتف: 6/ 4/ 4806563، فاكس: 4806483
ص ب: 84557 البريد المركزي - طرابلس
সকল স্বত্ব গ্রন্থকার কর্তৃক সংরক্ষিত
দ্বিতীয় সংস্করণ
২০০০ খ্রিস্টাব্দ
মহান সমাজতান্ত্রিক গণলিবীয় আরব জামাহিরিয়া
দারুল কিতাব টেলিফোন: ৬/ ৪/ ৪৮০৬৫৬৩, ফ্যাক্স: ৪৮০৬৪৮৩
পি.ও. বক্স: ৮৪৫৫৭ কেন্দ্রীয় ডাকঘর - ত্রিপোলি
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٣)
نيل الابتهاج بتطريز الديباج
আদ-দিবাজকে অলঙ্কৃত করার মাধ্যমে আনন্দ লাভ।
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانيةتكتسي هذه الطبعة من نيل الابتهاج طابع الاستعجال لأنها جاءت استجابة لطلب محدد الوقت من إخوة أفاضل في جمهورية مالي الشقيقة، وهم يرون في هذا الكتاب مصدرا من مصادر تاريخهم الثقافي والاجتماعي المهمة، وهو كذلك فعلا، لهم ولجميع المتساكنين على جانبي الصحراء الكبرى.
وعلى الرغم من ذلك الاستعجال فإن هذه النشرة قد صححت كثيرًا من الأخطاء التي وجدت في النشرة الأولى، بل في غيرها من الطبعات السابقة، فقد أدت طباعة النص سابقًا اعتمادًا على أصل وحيد، وخروج النص في بلد آخر دون مراجعة وتصحيح المشرف، إلى وقوع أخطاء في أسماء الأعلام، والنصوص الشعرية على وجه الخصوص، وكان ذلك سببًا في ظهور تلك النشرة خِلْوًا من فهارس القوافي والألقاب، وهي مفتاح مهم لمادة الكتاب تيسرت إضافته في هذه الطبعة، بحمد اللَّه.
ولقد عوضنا عن عدم توفر نسخ المخطوط بالرجوع التي ست نسخ من كتاب "كفاية المحتاج" وهو مختصر "نيل الابتهاج" تم جلبها من: مالي، والنيجر والمغرب، بالإضافة التي نسختين من ليبيا، ونسخة من "نيل الابتهاج" نفسه، ونسخة من "وجه الابتهاج" الذي كان يُظَنُّ بأنه نسخة أخرى من "نيل الابتهاج"، وهو يحتوي على اضافات واختصارات تجعله أشبه ما يكون بكتاب
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকানাইলুল ইবতিহাজ-এর এই সংস্করণটি জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে, কারণ এটি ভ্রাতৃপ্রতিম মালি প্রজাতন্ত্রের কিছু সম্মানিত ভাইয়ের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করা অনুরোধের প্রেক্ষিতে প্রকাশিত হচ্ছে। তারা এই গ্রন্থটিকে তাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করেন। প্রকৃতপক্ষে এটি তাদের জন্য এবং সাহারা মরুভূমির উভয় প্রান্তের সকল অধিবাসীর জন্য তেমনই একটি উৎস।
তাড়াহুড়ো থাকা সত্ত্বেও, এই প্রকাশনাটিতে প্রথম সংস্করণে, এমনকি আগের অন্যান্য মুদ্রণে থাকা অনেক ভুল সংশোধন করা হয়েছে। ইতিপূর্বে কেবল একটি মূল পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে পাঠ্যটি মুদ্রিত হওয়ায় এবং তত্ত্বাবধায়কের পর্যালোচনা ও সংশোধন ছাড়াই অন্য দেশে তা প্রকাশিত হওয়ায় বিশেষ করে নাম এবং কাব্যিক উদ্ধৃতিগুলোতে ভুল রয়ে গিয়েছিল। এ কারণেই সেই সংস্করণটি ছন্দ ও উপাধির নির্ঘণ্ট ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছিল। আল্লাহর প্রশংসায়, এই সংস্করণে সেই গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠিগুলো যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
পাণ্ডুলিপির পর্যাপ্ত কপির অভাব দূর করতে আমরা 'কিফায়াতুল মুহ্তাজ' গ্রন্থের ছয়টি কপির সাহায্য নিয়েছি, যা মূলত 'নাইলুল ইবতিহাজ'-এর একটি সংক্ষেপিত রূপ। এই কপিগুলো মালি, নাইজার ও মরক্কো থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া লিবিয়া থেকে সংগৃহীত দুটি কপি এবং খোদ 'নাইলুল ইবতিহাজ'-এর একটি কপি ও 'ওয়াজহুল ইবতিহাজ'-এর একটি কপিও ব্যবহার করা হয়েছে। ধারণা করা হতো যে 'ওয়াজহুল ইবতিহাজ' হলো 'নাইলুল ইবতিহাজ'-এরই আরেকটি সংস্করণ, তবে এটিতে এমন কিছু সংযোজন এবং সংক্ষেপণ রয়েছে যা এটিকে প্রায় স্বতন্ত্র একটি গ্রন্থের মতো করে তুলেছে।
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٦)
آخر لولا الاشتراك الكبير بين الكتابين، واعتماد ثانيهما في كتابته على الأول، شأن اعتماد الكفاية على النيل.
وقد أشرت إلى هذه المصادر في التصحيحات العجلي التي أجريتها على هذه الطبعة، برموز أثبتها فيما بعد، دون أن أسمي ما قمت به تحقيقا علميا، لأن ذلك يستدعي وجود المتوفر من نسخ المخطوط وهو ما لم يتيسر لي في هذه النشرة.
الرموز المستخدمة:نيل الابتهاج - نسخة الخزانة الحسنية رقم 2193. . . . . . . ح
وجه الابتهاج - بتذييل الديباج. . . . . . .
وكفاية المحتاج - نسخة مركز جهاد الليبيين: 1194. . . . . أ
كفاية المحتاج - نسخة أخرى في المركز برقم 1195. . . . . ب
كفاية المحتاج - نسخة معهد البحوث بالنيجر. . . . . هـ
كفاية المحتاج - نسخة الخزانة الكتانية بالخزانة العامة بالمغرب. . . . . ج
كفاية المحتاج - نسخة الخزانة الملكية بالمغرب. . . . . د
كفاية المحتاج - نسخة مركز أحمد بابا التنبكتي بمالي. . . . . ز
وأنتهز هذه الفرصة لشكر الذين أسهموا في التعجيل بإصدار هذه الطبعة، وأخص منهم بالذكر (دار الكتاب) التي تفضل صاحبها الصديق الدكتور عارف على النايض بتحمل تكاليف النشر، راجيًا له ولداره الفتية كلَّ التوفيق في إصدار الكتب النفيسة خدمة للعلم والتراث الإسلامي والحاضر الثقافي.
واللَّه ولي التوفيق
عبد الحميد عبد اللَّه الهرَّامة
طرابلس: في 3/ 3 / 1993
অন্যথায়, যদি বই দুটির মধ্যে বিশাল মিল না থাকত এবং দ্বিতীয়টির রচনার ক্ষেত্রে প্রথমটির উপর নির্ভরতা না থাকত, যেভাবে 'আল-কিফায়া' 'আন-নাইল'-এর উপর নির্ভরশীল।
আর আমি এই সংস্করণে যে দ্রুত সংশোধনগুলো করেছি তাতে এই উৎসগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছি সেই প্রতীকের মাধ্যমে যা আমি পরবর্তীতে স্থির করেছি। আমি যা করেছি তাকে আমি 'বৈজ্ঞানিক তাহকিক' (গবেষণামূলক সম্পাদনা) বলব না, কারণ তার জন্য পাণ্ডুলিপির পর্যাপ্ত কপি থাকা প্রয়োজন যা এই সংস্করণে আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
ব্যবহৃত প্রতীকসমূহ:নাইলুল ইবতিহাজ - খাজানা আল-হাসানিয়া কপি নম্বর ২১৯৩. . . . . . . হা
ওয়াজহুল ইবতিহাজ - বিতাযয়িল আদ-দিবাজ. . . . . . .
এবং কিফায়াতুল মুহতাজ - লিবিয়ান জিহাদ সেন্টার কপি: ১১৯৪. . . . . আলিফ
কিফায়াতুল মুহতাজ - উক্ত সেন্টারে থাকা অন্য একটি কপি নম্বর ১১৯৫. . . . . বা
কিফায়াতুল মুহতাজ - নাইজার গবেষণা ইনস্টিটিউট কপি. . . . . হা (গোল)
কিফায়াতুল মুহতাজ - মরক্কোর সাধারণ গ্রন্থাগারের আল-খাজানা আল-কাত্তানিয়া কপি. . . . . জিম
কিফায়াতুল মুহতাজ - মরক্কোর রাজকীয় গ্রন্থাগার (আল-খাজানা আল-মালাকিয়া) কপি. . . . . দাল
কিফায়াতুল মুহতাজ - মালির আহমাদ বাবা আল-তিম্বাকতি সেন্টার কপি. . . . . যা
আর আমি এই সুযোগে তাদের শুকরিয়া আদায় করছি যারা এই সংস্করণের দ্রুত প্রকাশে অবদান রেখেছেন। আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি (দারুল কিতাব)-এর কথা, যার স্বত্বাধিকারী বন্ধু ডক্টর আরিফ আলী নায়েদ প্রকাশনা ব্যয় বহনের মহানুভবতা দেখিয়েছেন। আমি তার এবং তার এই নবীন প্রতিষ্ঠানের জন্য জ্ঞান, ইসলামি ঐতিহ্য এবং বর্তমান সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সেবায় মূল্যবান কিতাবসমূহ প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করছি।
আর আল্লাহই তাওফিক দাতা।
আব্দুল হামিদ আব্দুল্লাহ আল-হাররামা
ত্রিপোলি: ৩/ ৩ / ১৯৯৩ তারিখে।
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٧)
شكر وتقديرأذكر بالشكر والعرفان كلَّ الذين أسدوا لهذا العمل أياديَ كريمةً عجلت في إخراجه في طبعته الأولى. وليسمحوا لي أن أخص بالذكر منهم الأخ الأستاذ المهندس:
الصديق بشير نصر
الذي أدين له بالفضل لمعاناته في المراجعة، ولما أسداه من ملاحظات قيمة وآراء صائبة.
فجزاهم اللَّه جميعًا خير الجزاء على حسن تعاونهم وكريم فضلهم.
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতিআমি শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতার সাথে সেই সকল ব্যক্তিদের স্মরণ করছি যারা এই কাজটির প্রথম সংস্করণ দ্রুত প্রকাশের ক্ষেত্রে উদার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁরা যেন আমাকে তাঁদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে এই ভাই ও প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) মহোদয়ের নাম উল্লেখ করার অনুমতি দেন:
আস-সিদ্দিক বশীর নাসর
যার নিকট আমি ঋণী তাঁর পর্যালোচনার কষ্টসাধ্য শ্রম এবং তাঁর প্রদানকৃত মূল্যবান পর্যবেক্ষণ ও সঠিক মতামতের জন্য।
আল্লাহ তাঁদের সকলকে তাঁদের উত্তম সহযোগিতা ও মহানুভবতার জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الأولىالحمد للَّه المتفضل على عباده بالتوفيق، الميسر لهم سبل التقدم بنور العلم وهدي المعرفة. . .
أما بعد. . .
فلا تخفى أهمية كتب التراجم في كونها تسجيلًا لحياة الأفراد الممتازين على اختلاف ميادين بروزهم، ودرجات تفوقهم، حين تعتبر كتب التاريخ العام تسجيلًا لأطوار الدول، وحياة الملوك. ولذا فلن تجد في الثانية ما تجده في الأولى من اهتمام بحياة الشعوب في تفاصيلها الدقيقة، وجوانبها المتنوعة، كبيان معارفهم، ووصف عاداتهم ومعتقداتهم، وربما خرافاتهم أيضًا.
وهي مع ذلك لا تهمل الأحداث التاريخية في عصر المترجم لهم وان أوردتها في إشارات عجلى وإيماءات سريعة، قد تكون غاية في الأهمية للمؤرخ العام.
وكتاب "نيل الابتهاج" مما يصدق عليه اعتباره ضمن كتب التراجم، لأنه يترجم فعلًا لفئة من الناس تجمعها صفة الاهتمام بالدراسات الدينية والعربية، وتتميز تراجمه بدقة الوصف وامتاعه، مع قدرة فائقة على إيراد التفاصيل تتمثل بخاصة في تراجم من عاصرهم المؤلف وأطال عشرتهم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রথম সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর তাওফীক প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন, এবং ইলমের আলো ও জ্ঞানের হেদায়েতের মাধ্যমে তাঁদের জন্য অগ্রগতির পথসমূহকে সহজ করে দিয়েছেন...
অতঃপর...
জীবনীগ্রন্থসমূহের (তরাজিম) গুরুত্ব কারো কাছে অস্পষ্ট নয়, কারণ তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনের এক প্রামাণিক দলিল হিসেবে কাজ করে, যেখানে তাঁদের কৃতিত্বের বৈচিত্র্য ও শ্রেষ্ঠত্বের স্তরসমূহ ফুটে ওঠে। পক্ষান্তরে সাধারণ ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ রাষ্ট্রসমূহের বিবর্তন এবং রাজন্যবর্গের জীবনের দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। আর এই কারণেই, দ্বিতীয় প্রকারের বইগুলোতে আপনি সাধারণ মানুষের জীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিবরণ এবং বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তেমন গুরুত্বারোপ পাবেন না যা প্রথম প্রকারে পাওয়া যায়; যেমন—তাঁদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের বর্ণনা, আচার-আচরণ ও বিশ্বাসের বিবরণ, এমনকি কখনও কখনও তাঁদের কুসংস্কারের বর্ণনাও সেখানে স্থান পায়।
তা সত্ত্বেও, এই গ্রন্থগুলো যাদের জীবনী বর্ণিত হচ্ছে তাঁদের সমসাময়িক ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে অবহেলা করে না, যদিও তা সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত ও দ্রুত ইশারায় উপস্থাপিত হয়, যা একজন সাধারণ ঐতিহাসিকের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আর "নাইলুল ইবতিহাজ" গ্রন্থটি জীবনীমূলক গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা রাখে, কারণ এটি মূলত এমন একদল মানুষের জীবনী বর্ণনা করে যাঁদেরকে ধর্মীয় ও আরবি জ্ঞানচর্চার বিশেষ গুণটি একত্রিত করেছে। এর জীবনীসমূহ বর্ণনার সূক্ষ্মতা ও উপভোগ্যতার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, সেই সাথে বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপনের এক অসাধারণ ক্ষমতা এতে বিদ্যমান, যা বিশেষ করে সেই সব ব্যক্তিদের জীবনীর ক্ষেত্রে ফুটে উঠেছে যাঁদের লেখক সচক্ষে দেখেছেন এবং যাঁদের সাথে তাঁর দীর্ঘ সাহচর্য ছিল।
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
والكتاب مع ذلك لرجل من افريقيا الغربية، أسهم بقسط وفير في ربط وشائج بلاده مع الأقطار الإسلامية بصفة عامة والبلاد الافريقية الشمالية على وجه الخصوص، وقد وجد فيه طلاب كلية الدعوة الإسلامية -وأغلبهم من افريقيا- عددًا من الأمور العلمية، ومستغلقات المسائل التي يواجهها الباحث حين مباشرته لتحقيق المخطوطات، أو عند كتابته للبحوث العلمية الأخرى، ولقوا نصيبًا مما يلاقيه ذلك الباحث من العناء، وجرّبوا بعض ما يجرب من الحلول.
ولما كان هذا الكتاب ذا أهمية بالغة في بابه لتعلقه بتاريخنا الثقافي والاجتماعي، ونظرًا لنفاد طبعاته القديمة غير المحققة رأت كلية الدعوة الإسلامية أن تقدمه إلى الباحثين، وأن تطلعهم من خلاله على جانب من جهود طلابها في دراساتهم التطبيقية، شعورًا منها بأهمية هذا الجانب، في إكمال الغاية من العملية التعليمية.
وإذا كان هذا الوقف يدعو إلى الشكر فإن هذه الكلية جديرة به، يشاركهِا في الفضل أولئك الطلاب الذين عكفوا على العناية بهذا الكتاب شهورًا طويلة، ترجموا خلالها لأعلامه كلها، وخرّجوا كثيرًا من نصوصه، وعرفوا ببلدانه.
غير أن العمل بتلك الصورة -مع دلالته على الجهود المبذولة وفائدته في الدراسة التطبيقية- كان عبئًا في مرحلة الراجعة ومرحلة الطباعة ولذا رأينا عدم إثقال النص الأصلي بالتعليقات والشروح والتعريفات الإضافية، والاكتفاء بالإشارة إلى بعض المصادر لزيد التعريف بالمترجم لهم دون غيرهم، آملين أن يستكمل تحقيق الكتاب، وتستوفى العناية به في فرصة أخرى إن شاء اللَّه.
وقد يقرأ الكتاب من يرى في بعض صفحاته ما يخالف وجهة نظره، وبخاصة عند تراجم المتصوفة، فيسيء إلى قيمة الكتاب غير عابيء بما تضمنه من معارف نفيسة، وأخبار نادرة، اختص بها دون غيره من المصادر، ولذا
তদুপরি এই গ্রন্থটি পশ্চিম আফ্রিকার এক ব্যক্তির লেখা, যিনি সাধারণভাবে ইসলামি দেশগুলোর সাথে এবং বিশেষভাবে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে তাঁর দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। কুল্লিয়াতু আদ-দাওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ (ইসলামি দাওয়াহ অনুষদ)-এর শিক্ষার্থীরা—যাদের অধিকাংশ আফ্রিকার—এতে বেশ কিছু ইলমি বিষয় এবং এমন সব জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছেন, যার সম্মুখীন একজন গবেষক পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (তাহকিক) করার সময় অথবা অন্যান্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা লেখার সময় হয়ে থাকেন। একজন গবেষক যে কষ্টের মুখোমুখি হন, তাঁরাও তার অংশবিশেষের স্বাদ পেয়েছেন এবং সম্ভাব্য সমাধানগুলোর কিছু প্রয়োগ করে দেখেছেন।
যেহেতু এই গ্রন্থটি আমাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে নিজ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর পুরাতন ও অসম্পাদিত সংস্করণগুলো ফুরিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে, কুল্লিয়াতু আদ-দাওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ এটি গবেষকদের সামনে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে অনুষদ তাদের প্রায়োগিক অধ্যয়নে ছাত্রদের প্রচেষ্টার একটি দিক সম্পর্কে গবেষকদের অবগত করতে চায়; কারণ কর্তৃপক্ষ শিক্ষা কার্যক্রমের লক্ষ্য পূরণে এই দিকের গুরুত্ব অনুভব করেছে।
যদি এই মহৎ কাজ কৃতজ্ঞতার দাবি রাখে, তবে এই অনুষদ অবশ্যই তার যোগ্য; আর এই ফযিলতে সেই সমস্ত ছাত্ররাও অংশীদার, যারা দীর্ঘ মাসব্যাপী এই গ্রন্থের পরিচর্যায় আত্মনিয়োগ করেছিল, যে সময়ে তারা এর সমস্ত ব্যক্তিবর্গের জীবনী রচনা করেছে, এর অনেক উদ্ধৃতি যাচাই-বাছাই করেছে এবং এতে উল্লিখিত জনপদগুলোর পরিচয় তুলে ধরেছে।
তবে সেই আঙ্গিকে কাজ করা—যদিও তা ব্যয়িত শ্রমের প্রমাণ বহন করে এবং প্রায়োগিক অধ্যয়নে এর উপকারিতা রয়েছে—তা সত্ত্বেও পুনর্নিরীক্ষণ ও মুদ্রণ পর্যায়ে এটি একটি অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই আমরা মূল পাঠ্যকে অতিরিক্ত টীকা, ব্যাখ্যা ও পরিচয় প্রদান করে ভারাক্রান্ত না করাই সমীচীন মনে করেছি এবং কেবল যাদের জীবনী উল্লেখ করা হয়েছে তাদের অধিকতর পরিচয়ের জন্য কিছু উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হয়েছি। আমরা আশা রাখি যে, ইনশাআল্লাহ অন্য কোনো সুযোগে এই গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ সম্পাদনা (তাহকিক) সম্পন্ন করা হবে এবং এর প্রতি যথাযথ যত্ন নেওয়া হবে।
সম্ভবত কেউ বইটি পাঠ করবেন এবং এর কোনো কোনো পৃষ্ঠায় নিজের মতাদর্শের পরিপন্থী কিছু দেখতে পাবেন, বিশেষ করে সুফিদের জীবনী আলোচনার ক্ষেত্রে; ফলে তিনি এতে বিদ্যমান মূল্যবান জ্ঞান ও দুর্লভ তথ্যাবলি—যা অন্য কোনো উৎসে পাওয়া যায় না—সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করেই গ্রন্থের গুরুত্বকে খাটো করে দেখবেন। আর তাই...
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ١١)
فالكتاب مقدّم لمن يعرف قيمته في صورته الإجمالية، وينصف كاتبه باعتباره أحد البارزين في هذا الميدان. وهو فوق ذلك جانب من تاريخنا الثقافي بأضوائه وظلاله، نقدمه للدارسين من أجل بحث النسيج الكون لثقافتنا العامة بمفهومها الواسع، من عادات وتقاليد وآداب وقيم، ومعتقدات.
ولا يخفى ما في الكتاب من شطحات صوفية مخالفة لمنطق العقل وظاهر الشريعة، ومبالغات أخرى ليس من بقائها بدٌ لأنها من محتويات النص الأصلي، ولم نر ضرورة للتعليق عليها منفردة في مواضعها، فأثبتنا هنا إشارة عامة، يدركها عند المطالعة القارئ العابر، بله الناقد الحصيف.
ومما قد يؤخذ على المؤلف، ولا يمكن تتبعه داخل الكتاب تصرفه في الاقتباسات تصرفًا ظاهرًا ينحو فيه غالبًا منحى الاختصار، وقد يهدف إلى تغيير الأسلوب أو تصويب العبارة، ويكون في النادر مخلًا بالمعنى مسيئًا إلى الخبر المنقول.
على أن الكتاب ذو أهمية قصوى في نواح بعينها من اهتمامات الباحثين العاصرين، فهو جدير بمراجعة المهتمين بطرق التدريس وتطورها والمعتنين بالتاريخ العام شمال وغرب افريقيا الأندلس والراصدين لطبيعة الحياة الاقتصادية والاجتماعية في هذه المناطق.
هذا، فضلًا عن عنايته بالحياة العقلية في فترات مجهولة من تاريخنا، وتركيزه على ما اعتراها من تأثيرات علمية أو صوفية أو أدبية، وما انتابها من هزات بفعل الانقلاب الحضاري الكبير الذي حل بها بعد القرن الثامن الهجري.
نرجو أن يجد فيه كل هؤلاء المهتمن غايتهم واللَّه المستعان على الكمال.
এই গ্রন্থটি তাদের উদ্দেশ্যে পেশ করা হয়েছে যারা এর সামগ্রিক রূপের গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং এর লেখককে এই ক্ষেত্রের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করেন। তদুপরি, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি দিক—তার আলো ও ছায়াসহ; যা আমরা গবেষকদের নিকট উপস্থাপন করছি যাতে আমাদের সাধারণ সংস্কৃতির বিস্তৃত কাঠামোর অন্তর্গত আচার-আচরণ, ঐতিহ্য, আদব, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসসমূহ অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়।
বইটিতে এমন কিছু সুফিবাদী অতিকথন (শাতহাত) রয়েছে যা যুক্তির পরিপন্থী এবং শরীয়তের প্রকাশ্য বিধানের বিরোধী; এছাড়া অন্যান্য অতিরঞ্জনও এতে বিদ্যমান যা মূল পাণ্ডুলিপির অংশ হওয়ায় তা অবিকৃত রাখা অপরিহার্য ছিল। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে মন্তব্য করা প্রয়োজনীয় মনে করিনি, বরং এখানে একটি সাধারণ ইঙ্গিত প্রদান করছি যা সাধারণ পাঠক তো বটেই, এমনকি বিচক্ষণ সমালোচকও পাঠকালে সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন।
লেখকের ওপর যে বিষয়ে আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে এবং যা বইটির ভেতরে ধারাবাহিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়, তা হলো উদ্ধৃতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁর সুস্পষ্ট হস্তক্ষেপ। তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্ষেপণের পথ অবলম্বন করেছেন, যা সম্ভবত শৈলী পরিবর্তন বা বক্তব্য সংশোধনের উদ্দেশ্যে হতে পারে; তবে কদাচিৎ ক্ষেত্রে তা অর্থের বিকৃতি ঘটিয়েছে এবং বর্ণিত তথ্যের চ্যুতি ঘটিয়েছে।
তা সত্ত্বেও, বর্তমান সময়ের গবেষকদের নির্দিষ্ট কিছু আগ্রহের ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে যারা শিক্ষাদান পদ্ধতি ও এর বিবর্তন নিয়ে আগ্রহী, যারা উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকা এবং আন্দালুসের সাধারণ ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং যারা এই অঞ্চলগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছেন, তাদের নিকট এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে।
এর পাশাপাশি, এটি আমাদের ইতিহাসের কিছু অজ্ঞাত সময়ের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের প্রতি বিশেষ যত্নশীল এবং সে সময়ের ওপর আপতিত বৈজ্ঞানিক, সুফিবাদী বা সাহিত্যিক প্রভাবগুলোর ওপর আলোকপাত করে। এছাড়াও অষ্টম হিজরি শতাব্দীর পরবর্তী সময়ে যে বিশাল সভ্যতাগত পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতাগুলো এই অঞ্চলে দেখা দিয়েছিল, তাও এতে গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে।
আমরা আশা করি যে, সংশ্লিষ্ট সকল আগ্রহী ব্যক্তি এই গ্রন্থে তাদের কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য খুঁজে পাবেন। আর পূর্ণতা অর্জনে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
تعريف بالمؤلف *- هو أبو العباس أحمد بابا بن أحمد بن أحمد بن عمر بن محمد بن أقيت بن عمر بن علي بن يحيى بن كدالة بن مكي بن نيق بن لف بن يحيى بن تشت بن تنفر بن حيراي بن النجر بن أبي بكر بن عمر الصنهاجي الماسني السوداني التكروري التنكبتي (1).
ولد ونشأ في تنبكتو عام 963 هـ (1556 م) في اسرة من بني أقيت المسوفيين المعروفين بانتسابهم إلى العلم، وحظوة أغلبهم بمكانة اجتماعية عالية
--------------------------------------------
লেখকের পরিচিতি *- তিনি হলেন আবুল আব্বাস আহমাদ বাবা বিন আহমাদ বিন আহমাদ বিন উমর বিন মুহাম্মাদ বিন আকিত বিন উমর বিন আলী বিন ইয়াহইয়া বিন কাদাল্লা বিন মাক্কি বিন নিক বিন লাফ বিন ইয়াহইয়া বিন তাশত বিন তানফার বিন হাইরাই বিন আন-নাজর বিন আবু বকর বিন উমর আস-সানহাজি আল-মাসিনি আস-সুদানি আত-তাকরুরি আত-তিমবাক্তি (১)।
তিনি ৯৬৩ হিজরি (১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ) সালে তিমবাক্তুতে বনু আকিত আল-মাসুফি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তাদের পরিবার ইলম বা জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ততার জন্য সুপরিচিত ছিল এবং তাদের অধিকাংশ সদস্যই উচ্চ সামাজিক মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
بين سكان الإقليم لاشتغالهم بالقضاء والتعليم واعتبارهم من أهل الفتيا والشورى والوجاهة (1).
تلقى التنبكتي تعليمه في البيئة السودانية التكرورية على يد والده (2) الذي أخذ عنه الحديث سماعًا، والمنطق وكان مما درس عليه الصحيحان وكتاب الشفاء للقاضي عياض وغيرها. وأخذ النحو عن عمه أبي بكر بن أقيت (3) وقرأ على القاضي العاقب بن الشيخ أبي الثناء محمود بن عمر (4) وأجازه، كما أجازه من مكة الشيخ يحيى بن محمد الحطاب (5) وأجازه الشيخ محمد بن محمد المعروف بمحمد خادم الغلاني (6) على أن أبرز أساتذته وأكثرهم تأثيرًا في حياته شيخه محمد بغيغ (7) الذى لازمه سنتين قرأ عليه فيهما علوم التفسير والحديث والفقه والأصول والعربية والبيان والتصوف والتنجيم والمنطق والعروض وغيره من كتب تعد أمهات في بابها يزيد عددها عن أربعة وعشرين كتابًا ذكرها مفصلة ضمن ترجمته الواردة في كتابه كفاية المحتاج (8) وفيها وصف بطبيعة دراسته على شيخه كقوله: "فقرأت عليه بلفظي. . . قراءة بحث وتحقيق وتحرير". وقوله: "وختمت عليه الموطأ قراعة تفهم". وقوله: "سمعت بقراءته هو. . . وبقراءة
--------------------------------------------
সেই অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম ও শিক্ষাদানে লিপ্ত থাকা এবং ফতোয়া প্রদানকারী, পরামর্শক ও প্রভাবশালী হিসেবে গণ্য হওয়ার কারণে (১)।
তিম্বুকতি তার শিক্ষা লাভ করেছেন সুদানি তাকরুরি পরিবেশে তার পিতার নিকট (২), যাঁর কাছ থেকে তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং যুক্তিবিদ্যা শিখেছেন। তিনি তাঁর কাছে যে কিতাবগুলো পড়েছেন তার মধ্যে রয়েছে সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং কাজী আয়াজের কিতাব আল-শিফা সহ আরও অন্যান্য গ্রন্থ। তিনি তার চাচা আবু বকর ইবন আকিত (৩) এর কাছে নাহু (আরবি ব্যাকরণ) শিখেছেন। তিনি কাজী আল-আকিব ইবন শেখ আবু আল-ছানা মাহমুদ ইবন উমর (৪) এর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তাকে ইজাজত প্রদান করেছেন। একইভাবে মক্কা থেকে শেখ ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ আল-হাততাব (৫) তাকে ইজাজত দিয়েছেন এবং শেখ মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ—যিনি মুহাম্মদ খাদিম আল-গুলানি (৬) নামে পরিচিত—তাকে ইজাজত দিয়েছেন। তবে তার শিক্ষকদের মধ্যে সবচাইতে বিশিষ্ট এবং তার জীবনে সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী ছিলেন তার উস্তাদ মুহাম্মদ বাগির (৭), যাঁর সান্নিধ্যে তিনি দুই বছর অতিবাহিত করেছেন। এই সময়ে তিনি তাঁর কাছে তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসুল, আরবি ভাষা, ইলমে বায়ান, তাসাউফ, জ্যোতির্বিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা, ইলমে আরুজ এবং অন্যান্য মৌলিক ও আকর গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত কিতাবাদি অধ্যয়ন করেন। এগুলোর সংখ্যা চব্বিশটিরও বেশি, যা তিনি তার কিতাব কিফায়াত আল-মুহতাজ (৮)-এ নিজের জীবনী অংশে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি তার উস্তাদের কাছে তার পড়ার ধরন বর্ণনা করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন: "আমি তার সামনে নিজ কণ্ঠে পাঠ করেছি... যা ছিল গভীর গবেষণা, যাচাই-বাছাই ও সম্পাদনা সম্বলিত পাঠ।" এবং তার উক্তি: "আমি তার নিকট অনুধাবনমূলক পাঠের মাধ্যমে মুয়াত্তা সম্পন্ন করেছি।" এবং তার উক্তি: "আমি তাঁর নিজের পাঠ থেকে শুনেছি... এবং পাঠের মাধ্যমে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
غيري. . ." وذكر أنه باحثه في المشكلات وراجعه في المهمات ثم قال: "وبالجملة فهو شيخي وأستاذي ما انتفعت بأحد انتفاعي به وبكتبه".
محنه:عاش التنبكتي حتى أواخر العقد الثالث من عمره في أسرة تتمتع بالرئاسة والجاه، ثم حلّت به محن شداد (1) طبعت حياته الباقية بطابع الحزن كما يبدو من قراءة سيرته ومؤلفاته.
ففي السابعة والعشرين من عمره فقد والده وهو أستاذه الأول، وفي التاسعة والثلاثين حاصر القائد المغربي محمد بن زرقون عشيرته بني أقيت فيما يسميه المؤلف بالكائنة العظمى (2) لما لحقهم فيها من التنكيل والعذاب إذ سيقوا موثقين بالقيود إلى مراكش، حيث أودعوا السجن من أول رمضان عام 1002 حتى يوم الأحد الحادي عشر من رمضان سنة 1004 هـ وفي الطريق إليها سقط الشيخ عن ظهر الجمل فكسرت ساقه، وفقد في هذه المحنة ستمائة وألف مجلد من كتبه (3) وفي ذروة هذه المحن أصيبت عشيرته بوباء الطاعون فمات معظم أفرادها فيما يروي المؤرخون (4) وفي هذه الفترة العصيبة فقد من أقاربه الأدنين ابنه محمدًا (5) وعمه عبد اللَّه بن محمود بن أقيت (6).
إن هذه المحن تفسر ضيق أحمد بابا بمراكش حتى قال عند مغادرتها: "لا ردّني اللَّه إلى هذا المعاد، ولا رجعني إلى هذه البلاد" (7). وهو ما يؤكد أن
--------------------------------------------
...অন্য কেউ।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জটিল বিষয়গুলোতে তাঁর সাথে আলোচনা করতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর শরণাপন্ন হতেন। অতঃপর তিনি বলেন: "সারকথা হলো, তিনি আমার শায়খ এবং আমার উস্তাদ; আমি তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর কিতাবসমূহের মাধ্যমে যতটুকু উপকৃত হয়েছি, অন্য কারো দ্বারা তেমন হইনি।"
তাঁর পরীক্ষা ও বিপদাপদ:তিম্বুকতি তাঁর জীবনের তৃতীয় দশকের শেষভাগ পর্যন্ত এমন এক পরিবারে বসবাস করেছেন যারা নেতৃত্ব ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। এরপর তাঁর ওপর কঠিন পরীক্ষা ও বিপদ নেমে আসে (১), যা তাঁর অবশিষ্ট জীবনকে দুঃখের ছাপ দিয়ে চিহ্নিত করে দেয়, যেমনটি তাঁর জীবনী ও রচনাবলী পাঠ করলে স্পষ্ট হয়।
সাতাশ বছর বয়সে তিনি তাঁর পিতাকে হারান, যিনি ছিলেন তাঁর প্রথম উস্তাদ। উনচল্লিশ বছর বয়সে মরক্কোর সেনাপতি মুহাম্মদ বিন যারকুন তাঁর গোত্র বনী আকিতকে অবরোধ করেন, যে ঘটনাকে লেখক ‘মহাবিপদ’ (২) বলে অভিহিত করেছেন। কারণ সেখানে তাদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন ও কষ্ট নেমে এসেছিল; তাদের শেকলবদ্ধ অবস্থায় মারাকেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ১০০২ হিজরীর পহেলা রমজান থেকে ১০০৪ হিজরীর ১১ই রমজান রবিবার পর্যন্ত তাদের কারাগারে বন্দি রাখা হয়। পথে যাওয়ার সময় শায়খ উটের পিঠ থেকে পড়ে যান এবং তাঁর পা ভেঙে যায়। এই বিপদের সময় তিনি তাঁর সংগ্রহে থাকা এক হাজার ছয়শ খণ্ড কিতাব হারান (৩)। এসব বিপদের চরম মুহূর্তে তাঁর গোত্র প্লেগ মহামারীতে আক্রান্ত হয়, ফলে ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী তাদের অধিকাংশ সদস্য মৃত্যুবরণ করেন (৪)। এই কঠিন সময়ে তিনি তাঁর নিকটাত্মীয়দের মধ্যে তাঁর পুত্র মুহাম্মদ (৫) এবং তাঁর চাচা আবদুল্লাহ বিন মাহমুদ বিন আকিতকে (৬) হারান।
এই সমস্ত পরীক্ষা ও বিপদাপদ আহমদ বাবার মারাকেশের প্রতি বিতৃষ্ণার কারণ ব্যাখ্যা করে, এমনকি তিনি সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় বলেছিলেন: "আল্লাহ যেন আমাকে আর এই অবস্থায় না ফেরান এবং এই দেশে আর ফিরিয়ে না আনেন" (৭)। যা নিশ্চিত করে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
إقامته في مراكش بعد إطلاق سراحه ما كانت باختياره كما جاء في رواية ابن شنب وبروفنسال بدائرة المعارف الإسلامية في طبعتها الأولى والثانية (1) بل كانت إقامة قسرية كما قال السلاوي فيما نصه: "ولم يزل بمراكش إلى أن مات المنصور، لأنه ما سرحهم حتى شرط عليهم السكنى بمراكش، ولما توفي أذن ابنه زيدان لآل أقيت في الرجوع إلى بلادهم (2) ".
وعلى الرغم من شدة المحن التي ابتلي بها الكاتب في هذه السنوات المراكشية كانت تلك من أغنى فترات حياته عطاء وشهرة. ففيها ختم بعض كتبه سنة 1004 هـ (3) وأكمل أشهرها وهو "نيل الابتهاج" سنة 1005 هـ (4)، واختصره في "كفاية المحتاج" الذي تعود إحدى نسخه الكاملة إلى صفر من سنة 1012 هـ (5) هذا فضلًا عن جلوسه للتدريس بعد خروجه من السجن وازدحام الطلاب من حوله ودوران الفتيا عليه لفظًا وكتابة، بحيث لا تتوجه غالبًا إلا إليه (6) وأشار في "النيل" إلى أن اللَّه قد جبر عليه فعادت له بعض كتبه بعد دخوله لمراكش (7).
عودته ووفاته:عاد التنبكتي إلى بلاده اثر وفاة السلطان المنصور الذهبي وبعد أن أذن ابنه التولي بعده في رحيل آل أقيت عن مراكش وقد حدد موعد عودتهم في دائرة المعارف الإسلامية بسنة 1014 هـ. وفي كتاب الأعلام بمن حل مراكش وأغمات من الأعلام ما يؤكد هذا التحديد (8) غير أن الأحداث التاريخية تشير
--------------------------------------------
মুক্তি পাওয়ার পর মারাক্কেশে তাঁর অবস্থান তাঁর নিজের পছন্দে ছিল না, যেমনটি ইবনে শানাব এবং প্রোভেনসালের বর্ণনায় ‘দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া’ (ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া)-এর প্রথম ও দ্বিতীয় মুদ্রণে (১) এসেছে। বরং এটি ছিল একটি বাধ্যতামূলক অবস্থান, যেমনটি আস-সালাউই তাঁর বক্তব্যে বলেছেন: "তিনি মারাক্কেশে অবস্থান করতে থাকেন যতক্ষণ না আল-মনসুর মারা যান। কারণ তিনি তাদের মুক্তি দেননি যতক্ষণ না তাদের উপর মারাক্কেশে বসবাসের শর্তারোপ করেন। যখন তিনি মারা গেলেন, তাঁর পুত্র জাইদান আকিত পরিবারকে তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন (২)।"
মারাক্কেশে কাটানো এই বছরগুলোতে লেখক যে চরম পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা সত্ত্বেও এটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম সমৃদ্ধ সময়, অবদান ও খ্যাতির দিক থেকে। এই সময়েই তিনি ১০০৪ হিজরিতে (৩) তাঁর কিছু বই শেষ করেন এবং ১০০৫ হিজরিতে (৪) তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ ‘নাইলুল ইবতিহাজ’ সম্পন্ন করেন। তিনি এটিকে ‘কিফায়াতুল মুহতাজ’ নামে সংক্ষেপ করেন, যার একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি ১০১২ হিজরির সফর মাসের (৫)। এর পাশাপাশি কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তাঁর পাঠদানের আসরে বসা, তাঁর চারপাশে ছাত্রদের ভিড় এবং মৌখিক ও লিখিত উভয়ভাবে ফতোয়ার জন্য তাঁর শরণাপন্ন হওয়া—এমনকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফতোয়া কেবল তাঁর দিকেই নীত হতো (৬)। তিনি ‘নাইল’ গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন যে, আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং মারাক্কেশে প্রবেশের পর তাঁর কিছু বই তাঁর কাছে ফিরে এসেছে (৭)।
তাঁর প্রত্যাবর্তন ও মৃত্যু:সুলতান আল-মনসুর আদ-দাহাবির মৃত্যুর পর এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত পুত্র আকিত পরিবারকে মারাক্কেশ ত্যাগের অনুমতি দেওয়ার পর তিম্বুকতি তাঁর দেশে ফিরে আসেন। ‘দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া’-তে তাঁদের প্রত্যাবর্তনের সময়কাল ১০১৪ হিজরি নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘আল-আলামু বি-মান হাল্লা মারাক্কেশ ওয়া আগমাত মিনাল আলাম’ গ্রন্থেও এই সময়কালের সমর্থন পাওয়া যায় (৮)। তবে ঐতিহাসিক ঘটনাবলি নির্দেশ করে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
إلى أن سيطرة زيدان بن المنصور على مراكش لم تتم حتى سنة 1015 هـ، حيث دخلها في أواخر هذه السنة (1) فليتأمل.
وفي تنبكتو قضى المؤلف العشرين سنة الأخيرة من حياته في التعليم حيث انتقل إلى الرفيق الأعلى يوم الخميس السادس من شعبان سنة 1036 هـ/ 1627 م (2). وفي رواية أخرى أن وفاته كانت سنة 1032 هـ (3).
بيئته الثقافية:شهد عصر التنبكتي في بيئته التكرورية والمغربية اهتمامًا خاصًّا بالعلوم الشرعية، وعناية بالغة بجمع الكتب، ففي تنبكتو مكان ميلاد أحمد بابا وموطن تعليمه نجد إقبالًا عظيمًا على جمع المخطوطات، يفهم من قوله في كفاية المحتاج: "وأنا أقل عشيرتي كتبًا نهب لي ألف وستمائة مجلد" (4).
ومهما يكن في قوله من مبالغة أو مطابقة فإن في وصف افريقيا للوزان المتوفى سنة 957 هـ ما يؤازره، حيث جاء فيه عن تنبكتو ما نصه: "إن المخطوطات الكثيرة من بلاد (المغاربة) كانت تباع وتدر على أصحابها أرباحًا تفوق أرباح سائر البضائع (5) فإذا عرفنا أن عشيرة المؤلف من وجوه البلاد وعلمائها وقضاتها ترجح صدق ما ذكره المؤلف عن كثرة كتبهم. قال السلاوي: "وتوارثوا رئاسة العلم مدة طويلة تقرب من مائتي سنة وكانوا من أهل اليسار والسؤدد والدين" (6). فالمظنون إذن أن تكون أنفس وأغلب الكتب
--------------------------------------------
যাইদান বিন আল-মানসুরের মারাকেশের উপর আধিপত্য ১০১৫ হিজরি সাল পর্যন্ত পূর্ণ হয়নি, কারণ তিনি এই বছরের শেষের দিকে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন (১); অতএব বিষয়টি প্রণিধানযোগ্য।
এবং তিম্বাকতুতে লেখক তাঁর জীবনের শেষ বিশ বছর শিক্ষকতায় অতিবাহিত করেন এবং তিনি ১০৩৬ হিজরি সালের ৬ই শাবান, মোতাবেক ১৬২৭ খ্রিস্টাব্দের বৃহস্পতিবার মহান বন্ধুর (আল্লাহর) সান্নিধ্যে পাড়ি জমান (২)। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে, তাঁর মৃত্যু ১০৩২ হিজরি সালে হয়েছিল (৩)।
তাঁর সাংস্কৃতিক পরিবেশ:তিম্বাকতীর যুগে তাঁর তকরুর ও মরক্কোর পরিবেশে শরয়ি ইলমসমূহের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব এবং কিতাব সংগ্রহের প্রতি অত্যধিক যত্ন লক্ষ্য করা যায়। আহমাদ বাবার জন্মস্থান ও শিক্ষাজীবনের কেন্দ্র তিম্বাকতুতে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের ক্ষেত্রে এক বিশাল আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়, যা তাঁর 'কিফায়াতুল মুহ্তাজ' গ্রন্থের এই উক্তি থেকে বোঝা যায়: "আমার বংশের লোকেদের মধ্যে আমার কাছেই সবচেয়ে কম কিতাব ছিল, আর আমার এক হাজার ছয়শত খণ্ড কিতাব লুট করা হয়েছিল" (৪)।
তাঁর এই উক্তিতে অতিশয়োক্তি থাকুক বা তা বাস্তবসম্মত হোক না কেন, ৯৫৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল-ওয়াজ্জানের 'আফ্রিকার বর্ণনা' গ্রন্থে এর সমর্থন পাওয়া যায়। সেখানে তিম্বাকতু সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার পাঠ হলো: "(মরক্কো) অঞ্চল থেকে আসা প্রচুর পাণ্ডুলিপি বিক্রি করা হতো এবং তা মালিকদের জন্য অন্যান্য সকল পণ্যের চেয়েও বেশি মুনাফা বয়ে আনত (৫)। যখন আমরা জানতে পারি যে লেখকের বংশের লোকেরা ছিল দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি, আলেম ও বিচারক, তখন তাদের কিতাবের প্রাচুর্য সম্পর্কে লেখক যা বলেছেন তার সত্যতার সম্ভাবনা জোরালো হয়। আস-সালাভি বলেন: "তারা দীর্ঘকাল ধরে, প্রায় দুইশ বছর পর্যন্ত ইলমি নেতৃত্ব উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছিলেন এবং তারা ছিলেন সচ্ছলতা, মর্যাদা ও দ্বীনদারির অধিকারী" (৬)। অতএব ধারণা করা যায় যে, সবচেয়ে মূল্যবান ও অধিকাংশ কিতাবসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
التي أشار إليها الوزان المتوفى قبل ولادة المترجم له بست سنوات، قد استقرت في خزائنهم.
وفي البيئة المغربية صادفت وجود الرجل هناك فترة مزدهرة من حياة الدولة السعدية، إذ تزامن وجوده مع عصر المنصور الذهبي 986 هـ - 1012 هـ وهو العصر الذي حظي من المنصور بدعم خاص للجهود العلمية، وتنافس العلماء أثناءه في التأليف، حتى ألفت برسم خزانته مئات الكتب وألفت عن حياته كتب منها: "المنتقى المقصور" لابن القاضي، و"المدود والمقصور" لابن عيسى، و"مناهل الصفا" للفشتالي (1).
وقد جاء التنبكتي إلى هذه البيئة وعمره يناهز الأربعين سنة فأسهم فيها بالتأليف والتعليم والإفتاء كما تقدم، وكان أستاذًا لجماعة من علمائها المشاهير من أمثال ابن القاضي صاحب "جذوة الاقتباس" (2) ومحمد بن يعقوب صاحب فهرسة أشاد فيها بفهم التنبكتي وحسن تصنيفه (3)، وأحمد المقري صاحب روضة الآس (4) والقاضي أبو النعيم الغساني والمفتي الشيخ الرجراجي وغيرهم وهم كثر.
مؤلفاته:أكثر التنبكتي من التأليف حتى قال تلميذه محمد بن يعقوب: "كان أخونا أحمد بابا. . . مطبوعًا على التأليف" (5) وكانت مؤلفاته موزعة بين الفقه والتراجم
--------------------------------------------
যা আল-ওয়াযযান নির্দেশ করেছেন, যিনি জীবনীভুক্ত ব্যক্তির জন্মের ছয় বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তা তাদের গ্রন্থাগারে স্থিতি লাভ করেছে।
মরক্কোর পরিবেশে সেখানে এই ব্যক্তির অবস্থান সাদিদ সালতানাতের একটি সমৃদ্ধ সময়ের সাথে মিলে যায়, কারণ তার অবস্থান আল-মনসুর আয-যাহাবীর (৯৮৬ হিজরী - ১০১২ হিজরী) যুগের সাথে সমসাময়িক ছিল। এটি এমন একটি যুগ ছিল যা আল-মনসুরের কাছ থেকে বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার জন্য বিশেষ সমর্থন লাভ করেছিল এবং এই সময়ে উলামায়ে কেরাম গ্রন্থ রচনার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিলেন, এমনকি তার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারের জন্য শত শত গ্রন্থ রচিত হয়েছিল এবং তার জীবনীর ওপরও বিভিন্ন গ্রন্থ রচিত হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে: ইবনুল কাদীর "আল-মুনতাকা আল-মাকসুর", ইবনু ঈসার "আল-মাদুদ ওয়াল মাকসুর" এবং আল-ফিশতালীর "মানাহিলুস সাফা" (১)।
আত-তিনবুকতি এই পরিবেশে আগমন করেন যখন তার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি ছিল, অতঃপর তিনি সেখানে গ্রন্থ রচনা, শিক্ষাদান এবং ফতোয়া প্রদানের মাধ্যমে অবদান রাখেন যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সেখানকার একদল বিখ্যাত উলামায়ে কেরামের শিক্ষক ছিলেন, যেমন "জাযওয়াতুল ইক্তিবাস"-এর লেখক ইবনুল কাদী (২), মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব যিনি একটি নির্ঘণ্টের (ফিহরিস) লেখক যেখানে তিনি আত-তিনবুকতির প্রজ্ঞা ও তার উন্নত রচনাশৈলীর প্রশংসা করেছেন (৩), "রাওজাতুল আস" (৪)-এর লেখক আহমাদ আল-মাক্কারি, বিচারক আবু নুয়াইম আল-গাসসানি, মুফতি শেখ আর-রাজরাজি এবং আরও অনেকে যারা সংখ্যায় প্রচুর।
তার রচনাবলী:আত-তিনবুকতি এত অধিক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যে তার ছাত্র মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব বলেছেন: "আমাদের ভাই আহমাদ বাবা... গ্রন্থ রচনার প্রতি প্রাকৃতিকভাবেই অনুরাগী ছিলেন" (৫)। তার রচনাবলী ফিকহ এবং জীবনীগ্রন্থসমূহের মধ্যে বিস্তৃত ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
"والنحو والحديث والتصوف وغيرها، في كتب ورسائل تزيد عن الأربعين حتى مستهل صفر عام 1012 هـ على ما أورده التنبكتي نفسه في كفاية المحتاج. ومن هذه المؤلفات:
1 - المقصد في الشرح على مختصر خليل.
2 - حاشية منن الجليل على مهمات تحرير الشيخ خليل.
3 - نيل الابتهاج بتطريز الديباج.
4 - كفاية المحتاج لمعرفة من ليس في الديباج.
5 - النكت الوفية بشرح الألفية.
6 - التحديث والتأنيس في الاحتجاج بابن ادريس.
7 - اختصار شرح المقدمة الصغرى.
8 - تنبيه الواقف على تحرير نية الحالف.
9 - جلب النعمة ودفع النقمة بمجانبة الظلمة أولي الظلمة.
10 - ترتيب جامع المعيار للونشريسي.
11 - نيل الأمل في تفضيل النية على العمل.
12 - اللآلي السندسية، مختصر عن المواهب القدسية لمحمد الملالي.
13 - غاية الأمل في تفضيل النية على العمل (2).
14 - غاية الإجادة في مساواة الفاعل للمبتدأ في شرط الإفادة.
15 - تعليق على مواضع من خليل ومواضع من ابن الحاجب.
16 - مسائل متضمنة فنونًا في صورة أسئلة.
17 - فتح المحيي في مسألة حي.
18 - المسك الأنم إلى معرفة هلم.
19 - منور الحالك في شرح بيتي ابن مالك.
20 - المطلب والمأرب في أعظم أسماء الرب.
21 - جزء في تكفير الكبائر بالأعمال الصالحة.
--------------------------------------------
এবং নাহু, হাদিস, তাসাউফ ও অন্যান্য বিষয়ে চল্লিশটিরও বেশি গ্রন্থ ও পুস্তিকা রয়েছে ১০১২ হিজরির সফর মাসের শুরু পর্যন্ত, যা তিমবুকতি নিজেই 'কিফায়াতুল মুহতাজ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর এসব রচনার মধ্যে রয়েছে:
১ - মুখতাসার খলিলের ব্যাখ্যা গ্রন্থ 'আল-মাকসাদ'।
২ - শাইখ খলিলের 'তাহরির' এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলির ওপর 'মিনানুল জলিল' নামক টীকা।
৩ - 'আদ-দিবাজ' গ্রন্থের অলংকরণে 'নাইলুল ইবতিহাজ'।
৪ - 'আদ-দিবাজ' গ্রন্থে যাদের উল্লেখ নেই তাদের পরিচিতির জন্য 'কিফায়াতুল মুহতাজ'।
৫ - আলফিয়াহর ব্যাখ্যায় 'আন-নুকাতুল ওয়াফিয়াহ'।
৬ - ইবনে ইদ্রিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে 'আত-তাহদিস ওয়াত-তানিইস'।
৭ - 'মুকাদ্দিমাতুস সগরা'র ব্যাখ্যার সংক্ষিপ্তসার।
৮ - শপথকারীর নিয়ত বর্ণনার ক্ষেত্রে 'তানবিহুল ওয়াকিফ'।
৯ - অন্ধকারাচ্ছন্ন জালেমদের বর্জন করার মাধ্যমে নেয়ামত লাভ এবং বিপদ দূরীকরণ।
১০ - ওয়ানশারিশির 'জামি’উল মি’ইয়ার' গ্রন্থের বিন্যাস।
১১ - আমলের ওপর নিয়তের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ে 'নাইলুল আমাল'।
১২ - 'আল-লাআলিস সুন্দুসিয়াহ', যা মুহাম্মদ আল-মালালির 'মাওয়াহিবুল কুদসিয়াহ' গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার।
১৩ - আমলের ওপর নিয়তের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ে 'গায়াতুল আমাল' (২)।
১৪ - উপকারিতার শর্তে মুবতাদার সাথে ফায়িলের সমতা বিধানে 'গায়াতুল ইজাদাহ'।
১৫ - খলিল এবং ইবনুল হাজিবের কিছু বিষয়ের ওপর টীকা।
১৬ - প্রশ্নোত্তর আকারে বিভিন্ন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত মাসয়ালাসমূহ।
১৭ - 'হাই' সংক্রান্ত মাসআলায় 'ফাতহুল মুহয়ি'।
১৮ - 'হালুম্মা' চেনার জন্য 'আল-মিসকুল আনাম'।
১৯ - ইবনে মালিকের দুটি পঙক্তির ব্যাখ্যায় 'মুনাওগিরুল হালিক'।
২০ - রবের মহান নামসমূহের ক্ষেত্রে 'আল-মাতলাবু ওয়াল মা-রাবু'।
২১ - নেক আমলের মাধ্যমে কবিরা গুনাহ মোচন সংক্রান্ত একটি অংশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
22 - نشر العبر.
23 - خمائل الزهر.
24 - الدر النضر، وهذه الكتب الثلاثة ذات الأرقام (22 - 23 - 24) في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم.
25 - رسائل نثرية مودعة في المكتبة الجزائرية.
26 - فوائد النكاح على مختصر كتاب الوشاح للسيوطي.
27 - معراج الصعود، أشار إليه السلاوي في الاستقصا (1).
28 - استطراد الظرفاء، ذكره مؤلف "بذل الناصحة" وأشار إلى أنه أخفاه إلى أن سافر إلى بلده (2).
29 - تحفة الفضلاء ببعض فضائل العلماء، منه نسخة في الخزانة العامة بالرباط، وثلاث نسخ في الخزانة الملكية (3).
30 - مرآة التعريف بفضل العلم الشريف (4).
--------------------------------------------
২২ - নাশরুল ইবার।
২৩ - খামাইলুয যাহর।
২৪ - আদ-দুররুন নাযির; এবং এই তিনটি বই (২২, ২৩ ও ২৪ নম্বর) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠের বিষয়ে রচিত।
২৫ - আলজেরীয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত গদ্য পত্রাবলি।
২৬ - আস-সুয়ুতির 'কিতাবুল উশাহ' গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসারের ওপর 'ফাওয়াইদুন নিকাহ' (বিবাহের উপকারিতা)।
২৭ - মি'রাজুস সুউদ; আস-সালাওয়ি 'আল-ইস্তিকসা' গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন (১)।
২৮ - ইস্তিতরাদুয যারাফা; 'বাযলুন নাসিহা' গ্রন্থের লেখক এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি স্বদেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এটি গোপন রেখেছিলেন (২)।
২৯ - তুহফাতুল ফুদলা বি-বাদি ফাদাইলিল উলামা (ওলামায়ে কেরামের কিছু ফযিলত বিষয়ে গুণীজনদের উপহার); এর একটি পাণ্ডুলিপি রাবাতের আল-খিজানাতুল আম্মাহ-তে (সাধারণ গ্রন্থাগার) এবং তিনটি পাণ্ডুলিপি আল-খিজানাতুল মালিকিয়্যাহ-তে (রাজকীয় গ্রন্থাগার) রয়েছে (৩)।
৩০ - মিরআতুত তারিফ বি-ফাদলিল ইলমিশ শারিফ (মর্যাদাপূর্ণ ইলমের ফযিলত পরিচিতির দর্পণ) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
تعريف بالكتابسمي هذا الكتاب بأسماء مختلفة حسب ورودها في عناوين النسخ الباقية منه حتى الآن، ففي إحداها كان عنوانه "نيل الابتهاج في التذييل على الديباج" وفي نسخة ثانية "وجه الابتهاج في الذيل على الديباج" (*) وفي الثالثة "نيل الابتهاج بتطريز الديباج". ويقع الكتاب في عدد من الصفحات يختلف باختلاف النسخ المخطوطة التي تتراوح ما بين 90 و 286 ورقة، ويشير الناسخ في خاتمة بعضها إلى تمام كتابها بدرب عبيد اللَّه من مدينة مراكش في 17 من جمادى الأولى سنة 1005 هـ (1).
وقد وضع كتاب "نيل الابتهاج" ليكون ذيلا على كتاب "الديباج المذهب في معرفة أعيان علماء المذهب". لابن فرحون المدني المتوفى سنة 799 هـ. وبذلك كان مشاركًا له في موضوعه، موفيًا ما نقص من مادته ومضيفًا عليه من جاء بعده من أعيان الفقهاء حتى عصر المؤلف.
أما سبب تأليفه فيوضحه أحمد بابا بقوله: "لما كان علم التاريخ ومعرفة
--------------------------------------------
গ্রন্থ পরিচিতিএই গ্রন্থটি এখন পর্যন্ত বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিসমূহের শিরোনামে যেভাবে এসেছে সেই অনুযায়ী বিভিন্ন নামে নামাঙ্কিত হয়েছে। একটি পাণ্ডুলিপিতে এর শিরোনাম ছিল "নাইলুল ইবতিহাজ ফিত তাজয়ীল আলাদ দিবাজ", দ্বিতীয়টিতে "ওয়াজহুল ইবতিহাজ ফিজ জাইল আলাদ দিবাজ" (*) এবং তৃতীয়টিতে "নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরিজিদ দিবাজ"। পাণ্ডুলিপিভেদে গ্রন্থটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে, যা ৯০ থেকে ২৮৬ পত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপির শেষে অনুলিপিকার উল্লেখ করেছেন যে, ১০০৫ হিজরির ১৭ই জুমাদাল উলা তারিখে মাররাকেশ শহরের ‘দারবে উবাইদুল্লাহ’ নামক স্থানে এর লিখন কাজ সম্পন্ন হয়েছে (১)।
মূলত "নাইলুল ইবতিহাজ" গ্রন্থটি ইবনে ফারহুন আল-মাদানি (মৃত্যু ৭৯৯ হি.) রচিত "আদ-দিবাজুল মুযাহহাব ফি মারিফাতি আয়ানি উলামাইল মাযহাব" গ্রন্থের পরিশিষ্ট হিসেবে সংকলন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এটি মূল গ্রন্থের বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়েছে, তার তথ্যের অপূর্ণতা পূরণ করেছে এবং লেখকের সময় পর্যন্ত পরবর্তীকালের বিশিষ্ট ফকীহগণের জীবনী এতে যুক্ত করেছে।
গ্রন্থটি রচনার কারণ সম্পর্কে আহমাদ বাবা স্পষ্ট করে বলেন: "যেহেতু ইতিহাস চর্চা এবং জ্ঞান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
الأئمة. . . من الأمور العلية، ويعتني به كل ذي همة ذكية. . . اعتنى به الأئمة قديمًا وحديثًا. وذكر جماعة من العلماء الذين سبقوه في موضوع كتابه حتى انتهى إلى ابن فرحون وكتابه، ثم قال: فما زالت نفسي تحدثني من قديم الزمان وفي كثير من ساعات الأوان باستدراكي عليه ببعض ما فاته أو جاء بعده من الأئمة الأعيان" (1).
وخصص جانبًا من آخر كتابه لمصادره (2) وذكر منها في "كفاية المحتاج" أربعين مرجعًا بعضها لم يعرف سبيله إلى النشر ومنها ما لم يعثر عليه حتى كتابة هذه الأوراق، وأبرز مؤلفي مصادره ابن الأبار والتادلي وابن الزبير والتجيبي وابن فرحون والمقري والحضرمي وابن الخطيب وابن خلدون وأبو زكريا السراج وابن الأحمر والمنتوري وابن مرزوق الحفيد والسيوطي، مع مؤلفي الرحلات الغربية من أمثال القلصاري والعبدري والقسنطيني والقتوري ومنهم جامعو الفهارس والكناشات، ومؤلفو الكتب الفقهية. واعتمد بالإضافة إلى هذه المصادر المكتوبة على مصادر شفهية ممن عاصرهم من الشيوخ، كما اعتمد على صلاته الواسعة ببعض من ترجم لهم من معاصريه.
وقد أشاد جماعة من الكتاب بأحمد بابا التنبكتي وكتابه وأشاروا إلى أنه كان ثقة فيما يرويه عنِ معاصريه (3) وأخذ عليه بعضهم نقله عن غيره دون إشارة إلى المصدر أحيانًا، فقد استنتج عبد الجليل التميمي في مقال له عن "نيل الابتهاج" أن المعلومات الببليوغرافية المتعلقة بالقرن العاشر وأوائل الحادي عشر الهجرى تكاد تكون سليمة وصحيحة وموثوق بها، بخلاف ما أورده حول أعلام القرون الأولى من الرصيد المكتبي (4) وقال: "إن الكتاب يعتبر أساسًا سجلًا للأعلام الأندلسيين والتونسيين والمغاربة والجزائريين والطرابلسيين" واعتبر بروفنسال هذا الكتاب من أهم المصادر المغربية المتعلقة
--------------------------------------------
ইমামগণ... উচ্চমর্যাদাপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, এবং প্রতিটি প্রখর ধীসম্পন্ন ব্যক্তি এ বিষয়ে যত্নবান হন... প্রাচীন ও আধুনিক কালের ইমামগণ এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি তাঁর গ্রন্থের বিষয়বস্তুতে তাঁর পূর্ববর্তী একদল আলেমকে উল্লেখ করেছেন, শেষ পর্যন্ত ইবনে ফারহুন ও তাঁর গ্রন্থ পর্যন্ত পৌঁছেছেন। এরপর তিনি বলেন: "দীর্ঘকাল ধরে এবং সময়ের অনেক ক্ষণে আমার মন আমাকে প্ররোচিত করছিল যে, আমি যেন তাঁর বাদ পড়া বিষয়গুলো অথবা তাঁর পরবর্তী বিশিষ্ট ইমামদের সম্পর্কে যা কিছু এসেছে, তা দিয়ে একটি পরিশিষ্ট বা সংশোধনমূলক কাজ করি" (১)।
তিনি তাঁর গ্রন্থের শেষাংশের একটি অংশ তাঁর উৎসসমূহের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন (২) এবং তাতে 'কিফায়াতুল মুহতাজ'-এ চল্লিশটি তথ্যসূত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে কিছু প্রকাশের পথ খুঁজে পায়নি এবং কিছু এই লেখাটি প্রস্তুত করার সময় পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর উৎসসমূহের রচয়িতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইবনে আল-আববার, আত-তাদালি, ইবনুল জুবায়ের, আত-তুজিবি, ইবনে ফারহুন, আল-মাক্কারি, আল-হাদরামি, ইবনুল খাতিব, ইবনে খালদুন, আবু জাকারিয়া আস-সাররাজ, ইবনুল আহমার, আল-মানতুরি, ইবনে মারজুক আল-হাফিদ এবং আস-সুয়ুতি। এর পাশাপাশি আল-কালাসারি, আল-আবদারি, আল-কুসান্তিনি এবং আল-কাতুরি এর মতো পশ্চিমা ভ্রমণকাহিনী লেখকদের এবং তাদের মধ্যে যারা ক্যাটালগ ও নোটবুক সংকলক এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাব রচয়িতাদের উল্লেখ করেছেন। এই লিখিত উৎসগুলো ছাড়াও তিনি তাঁর সমসাময়িক শাইখদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মৌখিক উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, এবং যে সকল সমসাময়িক ব্যক্তিত্বের জীবনী তিনি লিখেছেন তাদের সাথে তাঁর বিস্তৃত সম্পর্কের ওপরও নির্ভর করেছেন।
একদল লেখক আহমদ বাবা আত-তিম্বুক্তি এবং তাঁর গ্রন্থের প্রশংসা করেছেন এবং ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি তাঁর সমসাময়িকদের কাছ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন (৩)। তাঁদের কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কখনো কখনো উৎসের উল্লেখ না করেই অন্যদের থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার সমালোচনা করেছেন। আব্দুল জলিল আত-তামিমি 'নাইল আল-ইবতিহাজ' সম্পর্কে তাঁর একটি প্রবন্ধে উপসংহারে পৌঁছেছেন যে, দশম এবং একাদশ হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকের গ্রন্থপঞ্জি সংক্রান্ত তথ্যগুলো প্রায় ত্রুটিমুক্ত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য; তবে প্রাচীন যুগের ব্যক্তিবর্গের বিষয়ে লাইব্রেরি রেকর্ড থেকে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা এর বিপরীত (৪)। তিনি বলেন: "এই গ্রন্থটিকে মূলত আন্দালুসিয়ান, তিউনিসিয়ান, মরক্কান, আলজেরিয়ান এবং ত্রিপোলিয়ান বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের একটি নথি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।" লেভি প্রোভেনসাল এই গ্রন্থটিকে মরক্কোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে গণ্য করেছেন যা সংক্রান্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
بالتراجم وقال: "إن أحمد بابا التنبكتي جدير بأن يسجل اسمه ضمن المؤرخين غير المباشرين للمغرب أواخر القرن السادس عشر الميلادي" (1).
وجاء في دائرة المعارف الإسلامية أن كتاب النيل هذا من المصادر العمدة في استعراضه المراجع التي تحدثت عن الغرب وأعلامه حتى القرن السادس عشر الميلادي (2).
أما السملالي فقد اتهم المؤلف بأنه يختصر كلام صاحب الجذوة ولا ينسبه إليه في تراجم المتأخرين. وقال: "إنه قد يزيد في بعض المواضع عما في الجذوة" (3). ويؤكد محمد الهيلة في تعريفه بالإمام البرزلي أن التنبكتي اكتفى بنقل ما كتبه ابن مريم ونسب لنفسه ما نقله عنه، ثم أورد مقارنة بين نص ابن مريم التالي: "قلت: ذكر بعض أصحابنا وفاته سنة 842 هـ وكذا رأيته مقيدًا في بعض المواضع". وبين قول أحمد بابا. قلت: "ورأيت في بعض التقاييد أن وفاته سنة 842 هـ (4) ولا تثبت المقارنة كما نرى تهمة النقل الحَرْفِي غير الموثّق.
وأشار كاتب آخر إلى أن التنبكتي قد نقل من كتاب الفهرس لابن منجور ما يتعلق بعمر الوزان (5)، وقد نبه أحمد بابا نفسه أنه أفاد من فهارس الشيوخ ولم ينكر الأخذ من فهرس ابن منجور.
طُبع نيل الابتهاج عدة طبعات غير محققة أكثرها على حاشية الديباج فمن طبعاته تلك طبعة فاس سنة 1317 هـ والقاهرة سنة 1329 هـ وطبعة العاهد سنة 1335 هـ.
أما اختصارات وذيول هذا الكتاب فقد بدأها المؤلف نفسه باختصاره
--------------------------------------------
জীবনীসমূহ সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "ষোড়শ খ্রিস্টীয় শতাব্দীর শেষভাগে মরক্কোর পরোক্ষ ঐতিহাসিকদের তালিকায় আহমদ বাবা আত-তিম্বুকতির নাম নথিভুক্ত করা যথার্থ" (১)।
ইসলামি বিশ্বকোষে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই 'নাইল' গ্রন্থটি ষোড়শ খ্রিস্টীয় শতাব্দী পর্যন্ত মাগরেব এবং এর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে রচিত তথ্যসূত্র পর্যালোচনার ক্ষেত্রে একটি প্রধান উৎস (২)।
অন্যদিকে, আস-সামলালি লেখকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, তিনি 'আল-জাযওয়া' গ্রন্থের রচয়িতার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং পরবর্তী আলেমদের জীবনীর ক্ষেত্রে তা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেননি। তিনি আরও বলেছেন: "তিনি কোনো কোনো স্থানে জাযওয়া-তে যা আছে তার চেয়ে বেশিও যোগ করেছেন" (৩)। মুহাম্মদ আল-হাইলা ইমাম আল-বারজালি-এর পরিচিতিতে জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিম্বুকতি ইবনে মারইয়ামের লেখা উদ্ধৃত করেই সন্তুষ্ট ছিলেন এবং যা তাঁর কাছ থেকে নকল করেছেন তা নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছেন। এরপর তিনি ইবনে মারইয়ামের নিম্নোক্ত পাঠের সাথে তুলনা করেছেন: "আমি বলছি: আমাদের কিছু সাথী তাঁর মৃত্যু ৮৪২ হিজরিতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন এবং আমি কিছু স্থানে এটি লিপিবদ্ধ দেখেছি।" এবং আহমদ বাবার উক্তির মধ্যে—আমি বলছি: "এবং আমি কিছু নথিপত্রে দেখেছি যে তাঁর মৃত্যু ৮৪২ হিজরিতে" (৪)। তবে এই তুলনা, যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি, তথ্যসূত্রবিহীন হুবহু নকলের অভিযোগকে প্রমাণ করে না।
অন্য একজন লেখক ইঙ্গিত করেছেন যে, তিম্বুকতি উমর আল-ওয়াযান সংক্রান্ত বিষয়গুলো ইবনে মানজুরের 'আল-ফিহরিস' গ্রন্থ থেকে নকল করেছেন (৫)। আহমদ বাবা নিজেও উল্লেখ করেছেন যে তিনি শায়েখদের ফিরিস্তিগুলো থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং ইবনে মানজুরের ফিরিস্তি থেকে গ্রহণ করার বিষয়টি অস্বীকার করেননি।
'নাইলুল ইবতিহাজ' বেশ কয়েকবার অ-সম্পাদিত সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে, যার অধিকাংশই 'আদ-দিবাজ'-এর টীকা হিসেবে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩১৭ হিজরিতে ফাস সংস্করণ, ১৩২৯ হিজরিতে কায়রো সংস্করণ এবং ১৩৩৫ হিজরিতে আল-আহদ সংস্করণ।
এই গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার এবং পরিশিষ্টের কথা বলতে গেলে, লেখক নিজেই এটি সংক্ষেপ করার মাধ্যমে তা শুরু করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
المسمى "كفاية المحتاج لمعرفة من ليس في الديباج" وقدمه بقوله: "وبعد فهذا جزء اختصرته من الذيل الذي ذيلت به كتاب الديباج المُذهب في معرفة أعيان المذهب". وأضاف أنه اقتصر فيه على مشاهير الأئمة وأولي التصانيف دون غيرهم غالبًا فبدأ بترجمة الأحمدين وتبع الترتيب الهجائي الذي سار عليه في الأصل، ثم ختمه بترجمتين لم يذكرا في ذلك الأصل، ثم عَرَّف بنفسه وذكر مصادر كتابه (1).
وفي عصر المؤلف كُتب مختصر آخر لمصنف مجهول لا زالت منه نسخة في الخزانة العامة بالرباط (2) وهناك نسختان من مختصر صغير منه لمصنف مجهول أيضًا مودعتان في الخزانة الملكية بالمغرب (3) ويعد كتاب اليواقيت الثمينة في أعيان مذهب عالم المدينة لمحمد بن بشير بن ظافر المدني توفي 1909 م. ذيلًا على نيل الابتهاج (4).
وكما حظي نيل الابتهاج بذيول ومختصرات وجد مختصره كفاية المحتاج من يعمل على تذييله وتكميله، فقد ألف محمد بن الطيب القادري الحسني كتابًا بعنوان "الاكليل والتاج" في تذييل كفاية المحتاج لمعرفة من ليس في الديباج يقع في مائة ورقة تمت كتابتها في ربيع الثاني سنة 1217 هـ (5).
--------------------------------------------
"কিফায়াতুল মুহতাজ লি-মা'রিফাতি মান লাইসা ফিদ-দীবাজ" নামক গ্রন্থটি; তিনি এর ভূমিকা প্রদান করেছেন এই বলে: "অতঃপর, এটি একটি অংশ যা আমি সেই পরিশিষ্ট থেকে সংক্ষেপ করেছি, যা দ্বারা আমি 'আদ-দীবাজুল মুযাহহাব ফি মা'রিফাতি আ'য়ানিল মাযহাব' গ্রন্থটির পরিশিষ্ট লিখেছিলাম।" তিনি আরও যোগ করেছেন যে, এতে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ইমাম এবং গ্রন্থকারদের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন, অন্যদের বাদ দিয়ে। তিনি 'আহমাদ' নামধারী ব্যক্তিদের জীবনী দিয়ে শুরু করেছেন এবং মূল গ্রন্থে অনুসৃত বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এরপর তিনি এমন দুটি জীবনী দিয়ে এটি শেষ করেছেন যা মূল গ্রন্থে উল্লিখিত হয়নি। অতঃপর তিনি নিজের পরিচয় দিয়েছেন এবং তার গ্রন্থের উৎসসমূহ উল্লেখ করেছেন (১)।
লেখকের যুগে একজন অজ্ঞাত লেখকের আরেকটি সংক্ষিপ্তসার লেখা হয়েছিল, যার একটি পাণ্ডুলিপি এখনও রাবাতের সাধারণ গ্রন্থাগারে (আল-খিজানাতুল আম্মাহ) বিদ্যমান (২)। এছাড়া একজন অজ্ঞাত লেখকের করা আরও একটি ছোট সংক্ষিপ্তসারের দুটি পাণ্ডুলিপি মরক্কোর রাজকীয় গ্রন্থাগারে (আল-খিজানাতুল মালিকিয়্যাহ) সংরক্ষিত আছে (৩)। আর ১৯০৯ সালে মৃত্যুবরণকারী মুহাম্মদ বিন বাশির বিন জাফির আল-মাদানি রচিত 'আল-ইয়াওয়াকিতুস সামিনাহ ফি আ'য়ানি মাযহাবি আলিমিল মদিনাহ' গ্রন্থটিকে 'নাইলুল ইবতিহাজ' এর একটি পরিশিষ্ট হিসেবে গণ্য করা হয় (৪)।
'নাইলুল ইবতিহাজ' যেমন বিভিন্ন পরিশিষ্ট ও সংক্ষিপ্তসার লাভ করেছে, তেমনি এর সংক্ষিপ্তসার 'কিফায়াতুল মুহতাজ'-এর ক্ষেত্রেও এমন ব্যক্তি পাওয়া যায় যারা এর পরিশিষ্ট ও পরিপূরক রচনার কাজ করেছেন। মুহাম্মদ বিন তাইয়িব আল-কাদিরি আল-হাসানি 'কিফায়াতুল মুহতাজ লি-মা'রিফাতি মান লাইসা ফিদ-দীবাজ' এর পরিশিষ্ট হিসেবে 'আল-ইকলিল ওয়াত-তাজ' শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা ১০০ পৃষ্ঠা সম্বলিত এবং ১২১৭ হিজরির রবিউস সানি মাসে এর লিখন সম্পন্ন হয় (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
نيل الابتهاج بتطريز الديباج
আদ-দিবাজকে অলঙ্কৃত করার মাধ্যমে আনন্দ লাভ।
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة
الحمد للَّه المنفرد (1) بالبقاء، الحاكم على سواه بالفناء، المختص بالإحاطة والإحصاء. والصلاة والسلام على سيدنا محمد المرسل بالحنيفية الغراء، وعلى آله وصحبه أنجم الاقتداء، وبدور الاهتداء، وحافظي الشريعة بعدهم مصابيح الاقتداء، ما كرّ ظلام بالليل، وبالنهار ضياء.
وبعد. . .
فيقول الفقير لرحمة ربه القدير، أحمد بن أحمد بن أحمد بن عمر بن محمد أقيت عرف ببابا التكروري ثم التنبكتي المالكي -وفقه اللَّه لرضاه، وأناله حلاوة تقواه-:
لما كان علم التاريخ ومعرفة الأئمة من علماء الملة، من الأمور العلية، يعتني به كل ذي همة زكية، إذ هم نقلة الدين وحملة الشريعة المحمدية، وبه يتميز الصالح من الطالح، والمسخوط من المقبول، ويعرف ذو العدل منهم ومن هو مجهول، فيعطي كل ذي حق حقه، كما ورد به أمر من الرسول، اعتنى الأئمة قديمًا وحديثًا بالوضع فيها على أنحاء متفاوتة، وأضرب متباينة، فبعضهم عرف المحدِّثين والرواة جرحًا وعدالة، وبعضهم عرف أهل الفقه ومن لهم فيه مقالة، أو انتسب إلى حملته وانتحى له، وكان ممن سعى في ذلك من أهل مذهبنا المالكية سعيًا حثيثًا، وجمع فيه ما تفرق عند غيره قديمًا
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অবিনশ্বরতায় অদ্বিতীয় (১), যিনি নিজ সত্তা ব্যতীত অন্য সকলের জন্য নশ্বরতার ফয়সালাকারী, এবং যিনি সব কিছু পরিবেষ্টন ও গণনায় বিশেষিত। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যাকে উজ্জ্বল ও একনিষ্ঠ দ্বীনসহ প্রেরণ করা হয়েছে; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর, যারা অনুসরণের নক্ষত্রতুল্য এবং হিদায়াতের পূর্ণচন্দ্র; আর তাঁদের পরবর্তী শরীয়ত হেফাজতকারীদের ওপর, যারা অনুসরণের প্রদীপস্বরূপ; যতদিন রাতের আঁধার ও দিনের আলো আবর্তিত হবে।
অতপর...
স্বীয় সর্বশক্তিমান রবের রহমতের মুখাপেক্ষী আহমাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আহমাদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ আকিত—যিনি বাবা আত-তাকরুরি এবং পরবর্তীতে আত-তিম্বুকতি আল-মালিকি নামে পরিচিত (আল্লাহ তাকে তাঁর সন্তুষ্টির তাওফিক দান করুন এবং তাকওয়ার মিষ্টতা আস্বাদন করান)—তিনি বলেন:
যেহেতু ইতিহাস শাস্ত্র এবং এই উম্মাহর আলেম ইমামদের সম্পর্কে জ্ঞান রাখা উচ্চতর বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার প্রতি প্রত্যেক উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী ব্যক্তি গুরুত্বারোপ করে; কেননা তাঁরাই দ্বীনের বর্ণনাকারী এবং মুহাম্মাদী শরীয়তের ধারক-বাহক; এবং এর মাধ্যমেই সৎ ও অসৎ, প্রত্যাখ্যাত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করা যায়, এবং ন্যায়পরায়ণ ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের চেনা যায়, যাতে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার তাকে প্রদান করা সম্ভব হয়, যেমনটি রাসূলুল্লাহ থেকে নির্দেশিত হয়েছে; তাই প্রাচীন ও আধুনিক কালের ইমামগণ এ বিষয়ে বিভিন্ন পদ্ধতি ও বিচিত্র ধারায় গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেছেন। তাদের কেউ কেউ মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারীদের পরিচয় তুলে ধরেছেন তাদের নির্ভরযোগ্যতা ও ত্রুটি বর্ণনার মাধ্যমে, আবার কেউ কেউ ফিকহশাস্ত্রের পণ্ডিত ও বিশেষজ্ঞ এবং যারা এর ধারক-বাহকদের সাথে সম্পৃক্ত তাদের পরিচয় তুলে ধরেছেন। আর আমাদের মালিকি মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে যারা এ বিষয়ে অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং প্রাচীনদের নিকট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তথ্যাবলিকে একত্রিত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وحديثًا، الإمام الكامل، الجليل الفاضل، أبو الفضل عياض (1)، ملأ اللَّه تعالى ثراه من رحماه أزاهير رياض. ثم تابعه جماعة اختصروا من مداركه بعض ما تيسر كابن حماد (2) وابن رشيق وابن علوان (3)، وغيرهم من فضلاء الأعيان. ثم جاء الإمام العلامة الحافظ القدوة أبو إسحاق إبراهيم بن فرحون المدني، أدخل اللَّه على رمسه الريح الهني، فقطف من كلامه بعض ما ذكر، واستدرك عليه جماعة ممن عنه تأخر، فرتبه على حروف المعجم، وبين فيه بعض من قد يخفى أو يبهم، فهو وإن لم يوف من ذلك مطلوب الغرض، فلقد قام ببعض الحق المفترض.
فما زالت نفسي تحدثني من قديم الزمان، وفي كثير من ساعات الأوان، باستدراكي عليه ببعض ما فاته أو جاء بعده من الأئمة الأعيان، فقيّدت فيه بحسب الإمكان، حين كنت ببلد بعيدة عن نيل المقصد من ذلك، لبعدها عن مدن العلم وكتب هذا الشأن، فقصر بي الحال مع عدم مساعدة الزمان، لما بلينا به من حوادث الوقت وفتنة تشغل عن كل فرض، وترمي بشرر كالقصر في الطول والعرض.
هذا مع أن المجتهد في هذا الغرض مقصر، والطيل مختصر؛ إذ ما يذكر! أقل من معشار ما يغفل، وما ينقل لا نسبة بينه وبين ما يجهل، فبحار المدارك مسجورة، وغايات الإحسان على الإنسان مهجورة، وحسبك في صعوبة الحال إنا لم نجد أحدًا تعرض لجمع ذلك بعد ابن فرحون، أو تصدّى لذلك في جدّ أو مجون، إلا رجلًا واحدًا من أهل العصر، ذكر في مجموع نحو ثلاثمائة رجل، بيّض لتراجم منهم لم يجد لمعرفتهم سبيلًا، ولا ذكر من حالهم كثيرًا ولا
--------------------------------------------
সম্প্রতি, পূর্ণাঙ্গ ইমাম, মহান ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, আবু আল-ফজল ইয়াদ (১), আল্লাহ তাআলা তাঁর কবরকে তাঁর রহমতের বাগিচার পুষ্পরাজি দ্বারা সিক্ত করুন। অতঃপর একদল লোক তাঁকে অনুসরণ করেছেন যারা তাঁর ‘মাদারিক’ থেকে সহজলভ্য কিছু অংশ সংক্ষেপ করেছেন, যেমন ইবন হাম্মাদ (২), ইবন রাশিক ও ইবন আলওয়ান (৩) এবং অন্যান্য বিশিষ্ট শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ। এরপর এলেন আল্লামা ইমাম, হাফিজ ও আদর্শ পুরুষ আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবন ফারহুন আল-মাদানি; আল্লাহ তাঁর কবরে প্রশান্তিদায়ক সুবাস প্রবেশ করান। তিনি তাঁর (ইমাম ইয়াদের) আলোচনা থেকে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার কিছু অংশ চয়ন করেছেন। আর তাঁর পরবর্তী একদল আলেম তাঁর কাজের ওপর পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করেছেন। তিনি এটি বর্ণানুসারে সাজিয়েছেন এবং এতে এমন কিছু ব্যক্তির পরিচয় স্পষ্ট করেছেন যারা হয়তো অস্পষ্ট বা অজানা ছিলেন। যদিও এটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পুরোপুরি পূরণ করেনি, তবুও এটি আবশ্যকীয় হকের কিয়দংশ আদায় করেছে।
সুদীর্ঘকাল ধরে এবং সময়ের অনেক মুহূর্তে আমার মন আমাকে প্ররোচিত করছিল তাঁর (ইবন ফারহুনের) কাজে যা বাদ পড়েছে অথবা তাঁর পরবর্তী যে সকল বিশিষ্ট ইমামগণ এসেছেন, তাদের যুক্ত করে একটি পরিশিষ্ট তৈরি করতে। তাই আমি সাধ্যানুযায়ী তা লিপিবদ্ধ করেছি এমন এক সময়ে যখন আমি এই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য এক দূরবর্তী জনপদে ছিলাম, যা ইলমের শহরগুলো এবং এই শাস্ত্রের কিতাবাদি থেকে অনেক দূরে ছিল। সময়ের প্রতিকূলতা এবং পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতা আমাকে বাধাগ্রস্ত করেছে, কারণ আমরা সমসাময়িক দুর্যোগ ও ফিতনার শিকার হয়েছিলাম যা প্রতিটি আবশ্যকীয় কাজ থেকে বিমুখ করে রাখে এবং যা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে প্রাসাদের মতো স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করে।
এতৎসত্ত্বেও, এই উদ্দেশ্যে প্রচেষ্টাকারী ব্যক্তি আসলে অসম্পূর্ণ আর তার সময় সংক্ষিপ্ত; কেননা যা উল্লেখ করা হয় তা যা বাদ পড়ে যায় তার দশ ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম! আর যা বর্ণিত হয় তার সাথে যা অজানা রয়ে যায় তার কোনো তুলনাই হয় না। জ্ঞানের সমুদ্র উত্তাল, আর মানুষের প্রতি ইহসানের লক্ষ্যসমূহ পরিত্যক্ত। পরিস্থিতির কাঠিন্য বুঝার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, ইবন ফারহুনের পর আমরা কাউকে দেখিনি যিনি গুরুত্বের সাথে বা অন্য কোনোভাবে এটি সংকলনের উদ্যোগ নিয়েছেন; কেবল বর্তমান যুগের এক ব্যক্তি ব্যতীত, যিনি একটি সংকলনে প্রায় তিনশ ব্যক্তিকে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাদের কিছু জীবনী অসম্পূর্ণ রেখেছিলেন যেগুলোর তথ্য সংগ্রহের কোনো পথ তিনি খুঁজে পাননি, আর তাদের অবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু উল্লেখ করেননি এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
قليلًا، مع أنه من أهل مصر والقاهرة، وله حظ من الرياسة الظاهرة، وعنده من الكتب، على ما قيل، ما لا يحصى، لما ناله من السعادة الباهرة، وقِدْمًا قيل "نعم العون على العلم الرياسة"، فما الظن بمن في طرف من آخر المعمور، خال عن العلم وأدواته، خادع نفسه بسراب التمني والغرور؟ ولولا فضل المولى ذي الفضل والإحسان، الذي يفتح على من يشاء من عباده بما شاء من أنواع الامتنان، ما جمعت في هذه الكراريس ما تيسر لي من ذلك ممن ليس في ديباج ابن فرحون مذكورة، وزدت في بعض تراجم من ذكره ما ترك من أوصافه المشكورة، فجاء -بحمد اللَّه تعالى- فوق ما أردت، وزائدًا على ما نويت وقصدت، وسميته بـ (نيل الابتهاج، بتطريز الديباج)، جعله اللَّه تعالى خالصًا لكريم وجهه، وموجب الفوز لديه بفضله.
مقدمة:قال بعضهم نقلًا عن "أبي شامة" (1) قال "أبو مصعب الزبيدي": ما رأيت أحدًا أعلم بأيام العرب، بل بأيام الناس من الشافعي. ويروى عنه. أنه أقام على تعلم أيام الناس والأدب عشرين سنة، وقال ما أردت بذلك إلا الاستعانة على القلب، وفي كتاب اللَّه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، من أخبار الأمم السالفة ما فيه عبر لذوي البصائر. قال تعالى -وهو أصدق القائلين-: {وَكُلًّا نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ وَجَاءَكَ فِي هَذِهِ الْحَقُّ وَمَوْعِظَةٌ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ} (سورة هود، الآية 120)، وقال تعالى: {وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنَ الْأَنْبَاءِ مَا فِيهِ مُزْدَجَرٌ (4) حِكْمَةٌ بَالِغَةٌ} (سورة القمر، الآية 4، 5).
وحدّث النبي صلى الله عليه وسلم بحديث أم زرع وغيره لما جرى في الجاهلية والإسلام، والأحاديث الإسرائيلية، وحكى عجائب الإسراء والمعراج، وقال: "حدِّثوا عن بني إسرائيل ولا حرج". وفي صحيح مسلم من حديث جابر بن
--------------------------------------------
সামান্যই, অথচ তিনি মিসর ও কায়রোর অধিবাসী ছিলেন এবং তাঁর প্রকাশ্য নেতৃত্বের প্রভাব ছিল। তাঁর নিকট এত অধিক কিতাব ছিল যে, বলা হয়ে থাকে তা গণনা করা অসম্ভব, যা তিনি তাঁর উজ্জ্বল সৌভাগ্যের কারণে অর্জন করেছিলেন। পূর্বেই বলা হয়েছে, "নেতৃত্ব ইলম অর্জনে কতই না উত্তম সাহায্যকারী।" তাহলে পৃথিবীর শেষ প্রান্তের এমন ব্যক্তির অবস্থা কী হতে পারে, যার কাছে না আছে ইলম, না আছে ইলম অর্জনের উপকরণ, বরং সে কেবল মিথ্যা আশা আর অহংকারের মরীচিকায় নিজেকে ধোঁকা দিচ্ছে? যদি অনুগ্রহ ও ইহসানের মালিক মহান রবের অনুগ্রহ না থাকত—যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বিভিন্ন প্রকার অনুগ্রহের মাধ্যমে ইলমের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন—তবে আমি এই পুস্তিকাগুলোতে যা সহজসাধ্য হয়েছে তা সংগ্রহ করতে পারতাম না, যার কথা ইবনুল ফারহুনের 'দিবাঝ' গ্রন্থে উল্লেখ নেই। আর তিনি যাদের জীবনী উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির জীবনীতে আমি এমন কিছু প্রশংসনীয় গুণাবলি যোগ করেছি যা তিনি ছেড়ে গিয়েছিলেন। ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি আমার সংকল্প ও উদ্দেশ্যের চেয়েও উত্তম ও সমৃদ্ধ হয়েছে। আমি এর নামকরণ করেছি 'নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরিজিদ দিবাঝ' (দিবাঝের অলংকরণে আনন্দের প্রাপ্তি)। আল্লাহ তাআলা একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন এবং তাঁর অনুগ্রহে এর মাধ্যমে সফলতার অধিকারী করুন।
ভূমিকা:কেউ কেউ 'আবু শামাহ' (১) থেকে উদ্ধৃত করে বলেন যে, আবু মুসআব আজ-ঝুবাইদি বলেছেন: আমি ইমাম শাফিয়ীর চেয়ে আরবদের ইতিহাস, বরং মানুষের ইতিহাস সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে দেখিনি। তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বিশ বছর পর্যন্ত মানুষের ইতিহাস এবং সাহিত্য শিখতে মগ্ন ছিলেন। তিনি বলেছিলেন: আমি এর মাধ্যমে কেবল অনুধাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা চেয়েছি। আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর মধ্যে অতীত জাতিসমূহের এমন সংবাদ রয়েছে যাতে চক্ষুষ্মানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—আর তিনি সত্যবাদীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ—: {আর রাসূলগণের সংবাদের মধ্য থেকে আমি আপনার কাছে এমন সব বর্ণনা করছি যা দিয়ে আমি আপনার অন্তরকে দৃঢ় করি। আর এতে আপনার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও স্মরণিকা।} (সূরা হুদ, আয়াত ১২০)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর অবশ্যই তাদের কাছে এমন সব সংবাদ এসেছে যাতে রয়েছে কঠোর সতর্কতা, যা এক পূর্ণাঙ্গ হিকমত।} (সূরা ক্বামার, আয়াত ৪-৫)।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেলিয়াত ও ইসলামের ঘটনাবলি নিয়ে উম্মে যার'-এর হাদীস এবং অন্যান্য হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বনী ইসরাঈলের সংবাদসমূহ এবং ইসরা ও মি'রাজের বিস্ময়কর ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।" সহীহ মুসলিমে জাবির ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
سمرة "لا يقوم صلى الله عليه وسلم من مصلاه الذي صلى فيه الصبح حتى تطلع، وكانوا يتحدثون ويأخذون في أمر الجاهلية ويضحكون ويتبسمون". وفي أبي داود من حديث ابن عمر كان صلى الله عليه وسلم يحدثنا عن بني إسرائيل حتى يصبح (*) وقال: والجاهل بالتاريخ راكب عمياء، وخابط خبط عشواء، ينسب إلى من تقدم أخبار من تأخر، ويعكس ذلك ولا يتدبر. ولقد رأيت مجلسًا جمع ثلاثة عشر مدرسًا، ومنهم قاضي قضاة ذلك الزمان، وغيره من الأعيان، فجرى بينهم وأنا أسمع ذكر من تحرم عليه الصدقة، وهم ذوو القربى المذكورون في القرآن، فقالوا: هم بنو عبد المطلب وأن عبد المطلب هو هاشم، فما أحقهم بلوم كل لائم! إذ هو أصل من أصول الشريعة أهملوه، وباب من أبواب العلم أغفلوه اهـ.
وقال من فوائد التاريخ واقعة رئيس الرؤساء مع اليهودي الذي أظهر كتابًا فيه أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أمر بإسقاط الجزية عن أهل خيبر وفيه شهادة الصحابة منهم علي بن أبي طالب رضي الله عنه فحمل الكتاب إلى رئيس الرؤساء، ووقع الناس في حيرة عظيمة من شأنه، فعرض على الحافظ أبي بكر الخطيب (1) فتأمله وقال: هذا مزور فقيل: من أين ذلك؟ فقال: فيه شهادة معاوية، وهو أسلم عام الفتح، وفح خيبر سنة سبع، وشهادة سعد بن معاذ، وسعد مات يوم بني قريظة قبل فتح خيبر، ففرج بذلك عن الناس غمًا- اهـ. قال الجلال السيوطي بعد نقله ما تقدم: وقال الولي العراقي (2): قد وقع الاستدلال بالتاريخ في الكتاب العزيز، قال تعالى: {يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ
--------------------------------------------
সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করার পর সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সালাতের স্থান থেকে উঠতেন না। তাঁরা (সাহাবীগণ) জাহেলিয়াত আমলের বিষয়ে কথা বলতেন এবং আলোচনা করতেন, আর তাঁরা হাসতেন এবং তিনি মুচকি হাসতেন।" আর আবু দাউদে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর হাদিসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল হওয়া পর্যন্ত আমাদের নিকট বনী ইসরাঈল সম্পর্কে আলোচনা করতেন (*)। এবং তিনি বলেন: ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি অন্ধ আরোহীর মতো এবং লক্ষ্যহীনভাবে পথ চলা ব্যক্তির ন্যায়; সে পরবর্তীকালের সংবাদকে পূর্ববর্তীদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে এবং এর বিপরীতটাও করে থাকে, আর সে মোটেই চিন্তাভাবনা করে না। আমি এমন একটি মজলিস দেখেছি যেখানে তেরোজন শিক্ষক সমবেত ছিলেন, যাদের মধ্যে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ছিলেন। আমি শুনছিলাম যে, তাদের মধ্যে কাদের জন্য সদকা হারাম সেই আলোচনা চলছিল—আর তাঁরা হলেন কুরআনে বর্ণিত নিকটাত্মীয়গণ। তাঁরা বললেন: তাঁরা হলো বনু আব্দুল মুত্তালিব এবং আব্দুল মুত্তালিবই হলো হাশিম। প্রত্যেক ভর্ৎসনাকারীর পক্ষ থেকে ভর্ৎসনা পাওয়ার কতই না উপযুক্ত তাঁরা! যেহেতু এটি শরীয়তের মূলনীতিসমূহের একটি মূলনীতি যা তাঁরা অবহেলা করেছেন এবং ইলমের দরজাগুলোর একটি দরজা যা তাঁরা উপেক্ষা করেছেন—সমাপ্ত।
তিনি ইতিহাসের উপকারিতা সম্পর্কে রাইসুস রুয়াসা-এর সাথে সেই ইহুদির ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যে একটি লিপি প্রকাশ করেছিল যাতে দাবি করা হয়েছিল যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারবাসীদের থেকে জিজিয়া মওকুফ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাতে আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ সাহাবায়ে কেরামের সাক্ষ্য ছিল। লিপিটি রাইসুস রুয়াসা-এর কাছে নিয়ে যাওয়া হলো এবং মানুষ এ বিষয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে গেল। অতঃপর এটি হাফিজ আবু বকর আল-খাতিব (১)-এর নিকট পেশ করা হলো। তিনি এটি পর্যবেক্ষণ করে বললেন: এটি জাল। জিজ্ঞেস করা হলো: এটি কীভাবে? তিনি বললেন: এতে মুয়াবিয়ার সাক্ষ্য রয়েছে, অথচ তিনি মক্কা বিজয়ের বছর ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আর খায়বার বিজয় হয়েছে হিজরি সপ্তম সনে। আবার এতে সাদ ইবনে মুআয-এর সাক্ষ্য রয়েছে, অথচ সাদ খায়বার বিজয়ের পূর্বে বনু কুরাইযা যুদ্ধের দিন ইন্তেকাল করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করলেন—সমাপ্ত। জালালুদ্দিন সুয়ূতী উপরের কথাগুলো উদ্ধৃত করার পর বলেন: আল-ওয়ালী আল-ইরাকী (২) বলেছেন: কিতাবে আজিজে (কুরআনে) ইতিহাস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে আহলে কিতাবগণ! কেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
تُحَاجُّونَ فِي إِبْرَاهِيمَ وَمَا أُنْزِلَتِ التَّوْرَاةُ وَالْإِنْجِيلُ إِلَّا مِنْ بَعْدِهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} (سورة آل عمران، الآية 65). فاستدل على بطلان دعوى اليهود في إبراهيم أنه يهودي، ودعوى النصارى أنه نصراني بقوله: {وَمَا أُنْزِلَتِ التَّوْرَاةُ وَالْإِنْجِيلُ إِلَّا مِنْ بَعْدِهِ}. وهذا من لطائف الاستدلالات ومقايسها.
وقال الصلاح الصفدي: قد يفيد التاريخ حزمًا وعزمًا وموعظة وعلمًا وهمة تذهب همًا، وبيانًا يزيل وهنًا وهمًا {وَكُلًّا نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ} (سورة هود، الآية 120) {لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ} (سورة يوسف، الآية 111). وقال التاج السبكي في (معيد النعم ومبيد التقم): المؤرخون على شفا جرف هار لأنهم يتسلطون على أعراض الناس، وربما مس أناسًا تعصبًا أو جهلًا أو اعتمادًا على نقل من لا يوثق به أو غيرها من الأسباب، فعلى المؤرخ أن يتقي اللَّه. قال الشيخ الوالد، يعني السبكي الكبير: الرأي لا يُقبَلُ مدح أو ذم من المؤرخين إلا بشروط: أن يكون صادقًا، وأن يعتمد اللفظ دون المعنى، وأن يكون عارفًا بحال من يترجمه علمًا ودينًا وغيرهما من صفاته، وهو عزيز جدًّا، وأن يكون حسن العبارة، عارفًا بمدلولات الألفاظ، حسن التصور حتى يتصور في حال ترجمته حال ذلك الشخص، ويعبر عنه بما لا يزيد ولا ينقص من حاله، وأن لا يغلبه الهوى فيطنب في مدح من يحبه أو يقصر في غيره -انتهى.
وقال الصفدي أيضًا: يبدأ في التراجم باللقب ثم بالكنية ثم بالاسم، وبالنسبة إلى البلاد ثم إلى الأصل ثم إلى المذهب في الفروع، ثم إلى الاعتقاد، ثم إلى العلم والصناعة والخلافة والسلطنة والوزارة والقضاء والإمرة والمشيخة. قلت: ولعله أخذ البداعة باللقب قبل الاسم من قوله تعالى: {الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ} وإلا فالذي عند النحاة أن الغالب تأخير اللقب عن الاسم والكنية عند الاجتماع، واللَّه أعلم.
"তোমরা ইব্রাহিম সম্পর্কে কেন বিতর্ক করছ, অথচ তাওরাত ও ইঞ্জিল তার পরেই নাজিল করা হয়েছে? তবে কি তোমরা বুঝতে পারছ না?" (সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৬৫)। সুতরাং তিনি ইয়াহুদিদের এই দাবি যে ইব্রাহিম একজন ইয়াহুদি ছিলেন এবং নাসারাদের এই দাবি যে তিনি একজন নাসারা ছিলেন, তা এই বাণীর মাধ্যমে বাতিল প্রমাণ করেছেন: "অথচ তাওরাত ও ইঞ্জিল তার পরেই নাজিল করা হয়েছে।" আর এটি দলীল পেশ করার সূক্ষ্ম ও মানসম্মত পদ্ধতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
সালাহ আস-সাফাদি বলেন: ইতিহাস কখনও দৃঢ়তা, সংকল্প, উপদেশ, জ্ঞান এবং এমন উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রদান করে যা দুশ্চিন্তা দূর করে, আর এমন সুস্পষ্ট বর্ণনা দেয় যা দুর্বলতা ও বিভ্রান্তি মিটিয়ে দেয়। "আর রাসুলদের খবরাখবর থেকে আমি আপনার কাছে এমন সব বর্ণনা করছি, যার মাধ্যমে আমি আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি" (সূরা হুদ, আয়াত ১২০)। "অবশ্যই তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে" (সূরা ইউসুফ, আয়াত ১১১)। তাজ আস-সুবকি তার 'মুয়িদুন নি'য়াম ওয়া মুবিদুন নিকাম' গ্রন্থে বলেন: ঐতিহাসিকরা এক পতনোন্মুখ গর্তের কিনারে অবস্থান করছেন, কারণ তারা মানুষের মান-সম্মানের ওপর হস্তক্ষেপ করেন। আর অনেক সময় গোঁড়ামি, মূর্খতা কিংবা অনির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করার কারণে অথবা অন্যান্য কারণে মানুষের প্রতি অন্যায় আচরণ করে থাকেন। সুতরাং ঐতিহাসিকের উচিত আল্লাহকে ভয় করা। শায়খ পিতা অর্থাৎ সুবকি আল-কাবীর বলেন: ঐতিহাসিকদের করা কোনো প্রশংসা বা সমালোচনা গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না কিছু শর্ত পূর্ণ হয়: তাকে সত্যবাদী হতে হবে, অর্থের পরিবর্তে শব্দের ওপর নির্ভর করতে হবে, যার জীবনী লেখা হচ্ছে তার জ্ঞান, দীনদারি এবং অন্যান্য গুণাবলী সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে—আর এমন মানুষ খুবই বিরল—এবং তাকে প্রাঞ্জল ভাষার অধিকারী, শব্দের তাৎপর্য সম্পর্কে জ্ঞানবান এবং উন্নত কল্পনাশক্তি সম্পন্ন হতে হবে যাতে জীবনী লেখার সময় সেই ব্যক্তির অবস্থা কল্পনা করতে পারেন এবং তার অবস্থা সম্পর্কে এমনভাবে বর্ণনা করতে পারেন যা বাড়িয়ে বা কমিয়ে বলা হবে না। আর প্রবৃত্তি যেন তার ওপর বিজয়ী না হয়, যার ফলে তিনি যাকে ভালোবাসেন তার প্রশংসায় অতিরঞ্জন করবেন অথবা অন্যের ব্যাপারে অবহেলা করবেন—সমাপ্ত।
আস-সাফাদি আরও বলেন: জীবনীতে প্রথমে উপাধি, তারপর ডাকনাম, তারপর নাম দিয়ে শুরু করা হবে। এরপর দেশের সম্বন্ধ, তারপর বংশপরিচয়, এরপর ফিকহি মাযহাব, এরপর আকিদা, এরপর জ্ঞান ও পেশা, খিলাফত, সালতানাত, উজিরতি, বিচারকার্য, নেতৃত্ব ও মাশায়েখিয়াতের ক্রমানুসারে বর্ণনা করতে হবে। আমি বলি: সম্ভবত তিনি নামের আগে উপাধি দিয়ে শুরু করার বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গ্রহণ করেছেন: "মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম"। অন্যথায় ব্যাকরণবিদদের মতে নিয়ম হলো, যখন নাম, ডাকনাম ও উপাধি একত্রে আসে, তখন সাধারণত উপাধি সবার শেষে আসে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
فائدة:وبعد تحصيل هذه المقدمة نرجع إلى المقصود مبدئًا بصاحب الأصل الذي ذيلنا عليه، وهو ابن فرحون كما اقتضاه حسن الاتفاق، ثم ترتب الأسامي بعده على ترتيبهم في الزمن والوفاة غالبًا، إذ ترتيبهم على مقدارهم في العلم والجلالة غير ممكن، وباللَّه نستعين.
জ্ঞাতব্য:এই ভূমিকাটি সম্পন্ন করার পর আমরা মূল প্রসঙ্গের দিকে ফিরে যাচ্ছি। আমরা সেই মূল গ্রন্থের রচয়িতাকে দিয়ে শুরু করছি যাঁর গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে আমরা এই পরিশিষ্ট সংযোজন করেছি, আর তিনি হলেন ইবনে ফারহুন; যেমনটি উত্তম বিন্যাস দাবি করে। অতঃপর তাঁর পরবর্তী নামগুলো সাধারণত তাঁদের সময়কাল ও মৃত্যুর ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করা হবে; যেহেতু জ্ঞান ও মর্যাদার গভীরতা অনুযায়ী তাঁদের বিন্যস্ত করা সম্ভব নয়। আমরা আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরীযিদ দীবাজ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
حرف الهمزة
1 - إبراهيم بن (*) علي بن محمد بن أبي القاسم بن محمد بن فرحون (1).
اليعمري الأُيَّاني (*) ثم الجياني الأصل المدني المولد، كان من صدور المدرسين ومن أهل التحقيق، جامعًا للفضائل، فريد وقته، يعرف ببرهان الدين، من أهل بيت علم أبوه وعمه وجده. نشأ في الاشتغال بالعلم فتدرب بعمه أبي محمد بن فرحون عالمًا بالفقه والنحو والأصول والفرائض والوثائق وعلم القضاء وعالمًا بالرجال وطبقاتهم، مشاركًا في الأسانيد، واسع العلم فصيح القلم ذا بيان، كريمٍ الأخلاق حلو المنظر، بعيدًا من التصنع والرياء، من أَرقِّ أهل زمانه طبعًا وألطفهم عبارة، كثير الأوراد والتلاوة، يحيي آخر الليل بهما إلى أن توفي، جميل الهيئة بهي المنظر معتدل القامة، يلازم الطيلسان على العمامة ولا يلبس الثياب المصقولة، يلازم بيته، قليل الاجتماع بالناس، رحل إلى مصر عدة مرات وإلى القدس ودمشق سنة اثنين وتسعين وسبعمائة، تولى القضاء بالمدينة في ربيع الآخر سنة ثلاث وتسعين فسار فيها سيرة حسنة، ولم تأخذه في اللَّه لومة لائم، وأظهر مذهب مالك بها بعد خموله،
--------------------------------------------
বর্ণ 'হামযাহ'
১ - ইবরাহীম বিন (*) আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন ফারহুন (১)।
আল-ইয়ামুরী আল-উইয়ানী (*) এরপর আল-জায়্যানী বংশোদ্ভূত, মদীনায় জন্মগ্রহণকারী। তিনি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষকদের অন্যতম এবং মুহাক্কিকদের (গবেষক) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন সদ্গুণের আধার এবং নিজ সময়ের অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি বুরহানুদ্দীন নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি এক ইলমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন—তার পিতা, চাচা এবং দাদা সকলেই আলেম ছিলেন। তিনি জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন এবং তার চাচা আবু মুহাম্মাদ বিন ফারহুনের নিকট ফিকহ, নাহু (ব্যাকরণ), উসুল, ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), দলিলাদি লিখন পদ্ধতি (ওসাইক) এবং বিচারব্যবস্থায় শিক্ষা গ্রহণ করে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। এছাড়াও তিনি রাবী পরিচিতি ও তাদের স্তর সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং উচ্চ সনদের অধিকারী ছিলেন। তার ইলম ছিল প্রশস্ত, লেখনী ছিল সাবলীল ও বর্ণনা ছিল স্পষ্ট। তিনি মহান চরিত্রের অধিকারী ও সুন্দর অবয়বের মানুষ ছিলেন এবং লৌকিকতা ও রিয়া (লোক দেখানো আমল) থেকে বহু দূরে অবস্থান করতেন। তিনি সমকালীন মানুষদের মধ্যে অত্যন্ত কোমল স্বভাবের এবং মিষ্টভাষী ছিলেন। তিনি প্রচুর পরিমাণে যিকির-আযকার ও তিলাওয়াত করতেন এবং আমৃত্যু শেষ রাতে এই আমলগুলোর মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করতেন। তার বেশভূষা ছিল সুন্দর, অবয়ব ছিল উজ্জ্বল এবং তিনি ছিলেন মাঝারি উচ্চতাসম্পন্ন। তিনি পাগড়ির ওপর সর্বদা তায়লাসান (এক ধরনের চাদর) পরিধান করতেন এবং চাকচিক্যময় পোশাক পরতেন না। তিনি সর্বদা ঘরে অবস্থান করতেন এবং মানুষের সাথে মেলামেশা কম করতেন। তিনি কয়েকবার মিসর সফর করেছেন এবং ৭৯২ হিজরীতে কুদস ও দামেস্ক ভ্রমণ করেন। ৭৯৩ হিজরীর রবিউল আখের মাসে তিনি মদীনার বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব লাভ করেন এবং সেখানে অত্যন্ত উত্তম আদর্শের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করতেন না। মদীনা মুনাওয়ারায় স্তিমিত হয়ে পড়ার পর তার মাধ্যমেই মালিকী মাযহাব পুনরায় উজ্জীবিত ও প্রকাশ লাভ করে।
--------------------------------------------